✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
꧁ ৪১. ভগবান শ্রীকৃষ্ণের ব্রহ্মমোহন লীলা ꧂
এই লিংকে 👇👇👇🙏👇👇👇 ক্লিক করুন
꧁ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ ꧂
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
🏠Home Page🏠👇👇🙏👇👇📚PDF গ্রন্থ📚
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
*🌻ব্রহ্মমোহন লীলা, গৌরচন্দ্রিকা🌻*
*শচীর নন্দন গোরা ও চাঁদ বয়ানে*
*ধবলী শাঙলী বলি ডাকে ঘন ঘনে।।*
*না দেখয়ে সখাগণ ধেনু বৎসগণ।*
*ব্রজের ভাবে গোরা হইয়া মগন।।*
*নয়নের তারা গোরার ইতি উতি চায়।*
*তাহাদের না দেখি গোরা করে হায় হায়।।*
*ভাবিয়া অন্তরে প্রভু জানিলা সকল।*
*জ্ঞানদাস কহে সব ব্রহ্মার ছল।।*
^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^
*🌻ব্রজলীলা, ব্রহ্মমোহন লীলা বা গো-হরণ ও সখাহরণ🌻*
*********************************
*এই ব্রহ্মমোহণ লীলার দুইটি কারণ পাওয়া গেছে।* *এক,ভগবান শ্রীকৃষ্ণ নিজেই ব্রহ্মাকে মোহিত করিয়ে এইলীলা করিয়েছেন।* *দুই,তিনি* *ভক্তবৎসল,কোন ভক্ত যদি মন আর মুখ এক করে তাঁর কাছে কিছু চাহে,তা তিনি বিমুখ করেন না।*
*ব্রহ্মা,ব্রহ্মলোক হতে শ্রীকৃষ্ণের বাল্যলীলার মাধুরী দর্শন করছেন,* *যে, ভগবান শ্রীকৃষ্ণ নিজ সখাগণকে কাছে বসিয়ে তাঁদের সঙ্গে কতই না হাস্য-পরিহাস করছেন,তা দেখে ব্রহ্মা খুবই তৃপ্ত হলেন,* *বাল্যলীলা রসে দেহ মন ডুবিয়ে বাল্যলীলা মাধুর্য্যে একান্ত আত্মহারা হয়ে নানা কথা ভাবতে ভাবতে* *ব্রহ্মার মনে হল না জানি তাঁর বাল্যলীলা-রসসিন্ধুর গর্ভে না জানি আরও কত না মাধুর্য্য,ভক্তবাৎসল্য রত্ন লুকিয়ে আছে,* *ভগবান এখন সকল গোপবালকগণ নিয়ে ভোজনাদি নানাবিধ রসে ডুবে আছেন।* *এই অবসরে আমি যদি যমুনাপুলিনে অবতীর্ণ হয়ে তৃণক্ষেত্রে গো-বৎসগণকে মায়ামুগ্ধ করে অন্য কোন জায়গায় নিয়ে যায়,* *তাহলে এই বাল্যলীলারসমুগ্ধ ভগবান কেমন করে অন্বেষণ করেন এবং তাতে কি রকম তাঁর ভক্তবাৎসল্য গুণের প্রকাশ হয়,* *তা একবার পরীক্ষা করে দেখলে বোধহয় সর্বশিরোমণি ভগবান শ্রীকৃষ্ণের বাল্যলীলারসমুগ্ধতার অপরিসীম মাধুর্য্য আস্বাদন করতে পারব।* *এই মনে করে ব্রহ্মা গোহরণ করেছিলেন,তারপর যখন বনবিহার করতে গিয়ে যখন গোবৎসগণকে রাখালগণ দেখতে পেলেন না,বনে বিহাররত অবস্থায়*
*ব্রহ্মা মায়ামুগ্ধ করে তাঁদেরকেও হরণ করলেন।*
*🌻দুই, যেদিন নন্দভবনে নন্দমহোৎসব হয়েছিল,সমস্ত ব্রজের গোপরমণীগণ নন্দালয়ে এসেছিলেন।* *সেইসময় নন্দনন্দন গোপালকে দেখে তাঁদের মনে হয়েছিল,গোপাল যদি আমার পুত্র হ'ত তাহলে আমি আমাদের মনের আশা পূর্ণ করতাম।* *সকালের প্রথম নবনী গোপালকে খাওয়াইতাম,* *আর জননী বাৎসল্যপ্রেমে স্তন পান করাইতাম।* *অন্তর্য্যামী ভগবান তাঁদের অন্তরের কথা জানতে পেরে এই ব্রহ্মমোহন লীলা করেছিলেন।*
********************************
*🌻ভক্তচূড়ামণিগণ মুখে শোনা এই তত্ত্ব,""গ"" দিয়ে পাঁচটি মহা মহা অপরাধ হয়।* *প্রথম "গ" গুরুনিন্দা করা বা শোনা মহা মহা অপরাধ, দুই "গ" গোবিন্দ ভজনে বাধা দেওয়া বা গোবিন্দের নাম,গুণ-রূপ লীলা না শোনা মহা মহা অপরাধ, তিন"গ" গোহরণ বা গো হত্যা মহা মহা অপরাধ,* *চার "গ" গীতাপাঠ না করা বা গীতাপাঠ না শোনা, পঞ্চম"গ" গঙ্গায় স্নান না করা বা গঙ্গা মাকে কোন প্রকারে অপমান করা মহা মহা অপরাধ।*
*******************************
*🌻ব্রহ্মা তৃতীয় মহা মহা অপরাধের অপরাধী হয়েছিলেন🌻* *প্রথম পদ আস্বাদন করব।🌻*
^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^
*শুন হে বলাই দাদা।*
*আজি বন ভোজনে,কি হইল কাননে,*
*সকল হইল বাধা।*
*এমন কে জানে,না শুনি শ্রবণে,*
*সকল গাভী হারা।*
*এ বোল বলিতে,হেদে আচম্বিতে,*
*যুগল নয়নে ধারা।।*
*কি বলিব কায়,যশোমতী মায়,*
*হারাল সকল গাই।*
*মোরে কি বলিবে,এ মন্দ কহিবে,*
*সেই যশোমতী মাই।।*
*বলিছে রাখাল,শুন হে গোপাল,*
*আমরা কহিব গিয়া।*
*আচম্বিতে গাই,হারাল তথাই,*
*রাখি পরবোধ দিয়া।।*
*যশোদা রাণীরে,কহিব তাহারে,*
*কানুর নাহিক দোষ।*
*কালি খুঁজি বনে,বালক সকলে,*
*কানুরে না কর রোষ।।*
*সকল বালকে,খুঁজি একে একে,*
*গাভী না মিলল তাই।*
*গাভী আনি দিব, ধেনু সকল,*
*চন্ডীদাস গুণ গাই।।*
^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^
*ব্যাখ্যা=বনের ভিতরে তৃণক্ষেত্র দেখে সকল রাখালগণ সেই তৃণক্ষেত্রে গোধন রেখে এসে বিনোদ খেলায় মাতোয়ারা হলেন,খেলা অন্তে দ্বিপ্রহরে সকলে ভোজন করতে বসলেন।* *যমুনায় সুশীতল জল পান করতে গিয়ে দেখলেন তৃণক্ষেত্রে গাভীগণ ধেনু বৎসগণ নাই,* *এসে কানাইকে বললেন সকল কথা।* *কানাই চরম দুশ্চিন্তায় পড়লেন, এর পূর্বে এমন কোন দিন এইরকম ঘটনা ঘটে নাই।* *রাখালগণ কানাইর অবস্থা দেখে বললেন,কানাই তুই কোন চিন্তা করিস না, গৃহে মা যশোমতী ও বাবা নন্দমহারাজ কিছু বললে,আমরা বলব কানাইর কোন দোষ নাই,* *আমরা প্রতিদিন যেমন ভাবে গোচারণ করি আজও তাই করছিলাম,কিন্তু আচমকা দেখলাম গাভী গণ নাই,* *আজ থাক আমরা কাল সকলে মিলে গোবৎসগণকে খুঁজে বাহির করে পুনরায় নিয়ে আসব।*অতএব কানাই তুই মনে কিছু ভাবিস না।* *মা -বাপের কথা চিন্তা করে নিজেকে কষ্ট দিসনা।*
*🌻ব্রহ্মমোহন লীলার গভীর তত্ত্ব আলোচনা করি।🌻*
*ব্রহ্মা "অম্ভোজন্মজনি"অর্থ্যাৎ জলজজন্মা।*কমল হতে ব্রহ্মা জন্মগ্রহণ করেছেন এ কমল,জল হতে জন্মগ্রহণ করেছেন।* *সুতরাং ব্রহ্মার জনক কমল এবং কমলের জনক জল দুইই জড়পদার্থ।*যাঁর পিতা ও পিতামহ জড়পদার্থ।* *তিনি স্বয়ং তত্ত্বজ্ঞ হলেও তাঁর বংশানুক্রমিক জড়তা কোথায় যাবে?* *যেমন কোন নির্ধনের পুত্র ধনবান হলেও তার ধনভোগ এবং ধনব্যয়ে যথেষ্ট পরিমাণে অজ্ঞতা দেখা যায়।* *এ দৃষ্টান্ত জগতে বিরল নয়। পক্ষান্তরে ধনবানের পুত্র গরীব হলেও তার উদারতা এবং পন্ডিতের পুত্র মূর্খ হলেও তার সুবুদ্ধির দৃষ্টান্ত জগত বিরল নয়।*
*অতএব বংশানুক্রমিক দোষগুণের হাত হতে মুক্তিলাভ করা কঠিন।* *ধনুক,বাঁশের ঝাড়ের বাঁশ হতে জন্মগ্রহণ করে নানাভাবে সুরক্ষিত এবং গুণযুক্ত হয়ে মহাবীরের হস্তগত হয়।* *তার নম্রতা গুণের কোনও অভাব নাই,কিন্তু তাই বলে সে পরপীড়কদোষ হতে মুক্তিলাভ করতে পারে না।* *কারণ তা হতে বাণ নিক্ষিপ্ত হলেই কেউ না কেউ ব্যথিত হয়ে থাকে।* *ব্রহ্মাও জগতের সৃষ্টিকর্তা,চারবেদের বক্তা,* *সর্বজ্ঞ,তত্ত্বজ্ঞ এবং জগৎপূজ্য হয়েও শ্রীকৃষ্ণের বাল্যলীলামাধুর্য্যাস্বাদন করতে গিয়া বংশানুক্রমিক জড়তার বশীভূত হয়ে কৃষ্ণপার্ষদগণকে মায়ামুগ্ধ করতে চেষ্টা করলেন, ইহাও মহা অপরাধ।*আবার বৃন্দাবনে এসে সুকোমল তৃণ সৃষ্টি করে গোবৎস্যগণের ভূমিখন্ড সজ্জিত করলেন,* *যাহাতে তারা লোভ সঞ্চার করে সেইদিকে এগিয়ে যায়* *আর তাদের একটি গুহায় বন্দি করে রাখি।🌻*
*********************************
*দ্বিতীয় পদ*
*গাভী সকল,বনে না পাইয়া,*
*আকুল হইলা কানু।*
*বেণু বাঁশী পূরি,সঘনে সঘনে,*
*তবু না মিলল ধেনু।।*
*আকুল হইল,নন্দের নন্দন,*
*ধেনু হারাইয়া বনে।*
*আন নিহি চিতে,চাহি চারিভিতে,*
*আন সে নাহিক মনে।।*
*কি বোল বলিব,যশোদা মায়েরে,*
*বনে ধেনু হইল হারা।*
*এ বোল বলিতে,ফুকরি ফুকরি,*
*নয়নে গলয়ে ধারা।।*
*হায় হায় আজি,বনের ভোজনে,*
*বড়ই পাইল তাপ।*
*কি বোল বলিব,মুখা না নিঃস্বরে,*
*ভোজন হইল পাপ।।*
*এমন কে জানে,নিবে গাই বনে,*
*শাঙলী ধবলী গাই।*
*আজু আচম্বিতে *গেল কোন ভিতে,*
*কিছু না জানিল তাই।।*
*কেমনে গৃহেতে,যাইব সাক্ষাতে,*
*সেই নন্দঘোষ পাশ।*
*ধেনু বৎস বনে,হরে কোন জনে,*
*কহে দ্বিজ চন্ডীদাস।।*
*ব্যাখ্যা সংক্ষেপে=শ্রীকৃষ্ণ সখাদের কথা শুনে বললেন,ওরে সখাগণ,তোরা যমুনাপুলিনে বস আমি ধেনুগণ সন্ধান করতে চললাম।* *সখাগণদের রেখে কৃষ্ণ যখন গোবৎসগণকে খুঁজতে গেলেন* *এই ফাঁকে সমস্ত সখাগণদের ব্রহ্মা হরণ করলেন।*
*পদ তৃতীয়*
*এসো ভাই সখা,দেহ মোরে দেখা,*
*পরাণ কেমন করে।*
*কোথা আছ ভাই,খুঁজিয়া না পাই,*
*একি পরমাদ মোরে।।*
*আর কার সনে,খেলিব যতনে,*
*বনে ফিরাইব পাল।*
*আর না শুনিব,মধুর বচন,*
*বেশ না করিব ভাল।।*
*কানুর বিষাদ, রোদন বেদন,*
*শুনি পশুপাখী গণে।*
*পাষাণ গলিত,শাখি কুল যত,*
*লম্বিত চরণ পানে।।*
*আর আর ভাই,ডাকয়ে মাধাই,*
*উত্তর না দেহ কেনে।*
*দিয়া দরশন,রাখহ জীবন,*
*এত নিদারুণ কেনে।।*
*কহে চন্ডীদাসে,কানুর চরণে,*
*এক নিবেদন করি।*
*এ ব্রহ্ম গেয়ানে,দেখহ ধেয়ানে,*
*কে হেন করিল চুরি।।*
*🌻সেই সর্বেশ্বর,সর্বারাধ্য,স্বয়ং ভগবান শ্রীকৃষ্ণ,গোপবালক ও গোবৎসগণের প্রেমে আত্মহারা হয়ে নিজ প্রেমধীনতা স্বভাব পরবশ হয়ে নিজ-ভক্তবাৎসল্যগুণে নিয়ন্ত্রিয় হয়ে বনে বনে "হা শ্রীদাম" "সা সুবল"বলে কাঁদতে কাঁদতে ডেকে ডেকে বেড়াতে লাগলেন।* *কিন্তু এই পরিশ্রমও ব্যর্থ হল।*অবশেষে এইবার চিন্তামণি একেবারেই চিন্তাসিন্ধুতে নিমগ্ন হলেন।*আর পথ চলতে পারছেন না* *দেহটি যেন এলিয়ে পড়ছে,যমুনার পুলিনে বসে ভাবছেন কি করা যায়।* *হঠাৎ গগনের দিকে নজর গেল,দেখছেন গগনের আর বেশী বেলা নাই,* *আর তাঁর নাক হতে ঘন ঘন শ্বাসবায়ু প্রবাহিত হতে লাগল,* *বক্ষঃস্থল ঘন ঘন কাঁপতে লাগল।* *এবারে আর স্থির থাকতে পারলেন না,* *অনন্তকোটি ব্রহ্মান্ডের অধিপতি নয়ন মূদিত করিয়া ধ্যানে বসিলেন ও এই সকল ব্রহ্মার কর্ম জানতে পারলেন।* *মনে মনে বললেন ব্রহ্মা তোর এত স্পর্ধা তুই আমার ভক্ত ও গোবৎসগণকে হরণ করেছিস,এর উপযুক্ত শাস্তি পাবি।*
*🌻পদ চতুর্থ 🌻*
*কমল নয়ন,ধেয়ান স্মরণ,মুদিয়া নয়ন দুটি।*
*ব্রহ্ম জ্ঞানেতে দেখি হৃদয়েতে,ব্রহ্মার হেন কুটি।।*
*(কুটি মানে কুটিলতা*)
*আমায় ছলিতে,আসি বনভিতে,ঐছন তার কাজ।*
*মোর তথ্য কিছু,জানিতে নারিয়ে,*
*বুঝিব শকতি আজ।।*
*আমি কি বটিয়ে,জানিতে নারিয়ে,*
*পাইয়ে মরম ব্যথা।*
*তেঁই শিশু বৎস,হরিয়া লইল,*
*জানিল এ তথ্য কথা।।*
*ভাল ভাল বলি,জানিয়ে অন্তরে,*
*নন্দের নন্দন কান।*
*সৃজিল রাখাল,যত ধেনু পাল,*
*শাঙলী ধবলী গাই।*
*তা দেখি ব্রহ্মার,ভাঙ্গিল সংশয়,*
*ভাবিতে লাগিলা তাই।।*
*ইহ দেব হরি,দেবের দেবতা,*
*ইহাতে নাহিক আন।*
*ফাঁকর হইয়া,ধেনু বৎস লৈয়া,*
*আইল কানুর স্থান।।*
*করপুটে করি,ধরিয়া চরণে,*
*পড়িল ধরণী তলে।*
*কাঁদিতে কাঁদিতে,আকুল হইয়া,*
*কাতরে কিছুই বলে।।*
*চন্ডীদাস বলে,ব্রহ্মার আরতি,*
*বাঁধিয়া চরণ দুই।*
*বহু স্তব করে,কাঁদি উচ্চস্বরে,*
*অঝোর নয়নে রোই।।*
*🌻ব্রহ্মা বহুবার এই ভাবে হরণ করেছিলেন।* *কৃষ্ণ নিজ দেহ হতে প্রত্যহ সৃষ্টি করেন,আর ব্রহ্মা হরণ করতে থাকেন।* *(🌻নন্দ মহোৎসবকালে ব্রজের রমণীগণ গোপালকে দেখে নিজ পুত্ররূপে মনে মনে আশা করেছিলেন,সেই আশা শ্রীকৃষ্ণ তাঁদের পূরণ করলেন।* *তৎসহ গোগণ আশা করেছিলেন যে,এই পুত্রকে যদি আমার বাছা রূপে পেতাম তাহলে মনোসুখে তাঁকে দুগ্ধপান করাতাম।* *এইভাবে সকলের মনের আশা পূর্ণ করলেন।)* *এই বিষয়টি একমাত্র বলরাম জানতে পেরেছিলেন যে,এই নবলক্ষ গোবৎস ও সখাগণ কৃষ্ণের দেহ হতেই উৎপত্তি হয়েছে।* *যাইহোক* *ব্রহ্মা তাঁর নিজের ভুল বুঝতে পেরে* *ভগবানের শ্রীচরণে ক্ষমা ভিক্ষা চাইতে লাগলেন।*
*🌻বিরাম বা শেষ পদ🌻*
*কহেন কারণ,নন্দের নন্দন,*
*তুমি কি জানহ মোরে।*
*কোটি ব্রহ্মা আছে,কিবা তার কাছে,*
*গণনা আছয়ে তোরে।।*
*মুদহ নয়ন,দেখহ গেয়ান,*
*দেখাব কতেক ব্রহ্মা।*
*এক সে পলকে,দেখহ টাটকে,*
*জানহ কতেক জনা।।*
*শত মুখ দেখ,সহস্র মুখ দেখ,*
*দশমুখ পাতে কতি।*
*এ সব দেখল, মুদিত নয়ন,*
*কে জানে ঐছন গতি।।*
*মন বিচারিয়া,দেখল বেকত,*
*হইল ফাঁফর মনে।*
*চরণে পড়িয়া,স্তুতি করে কত,*
*কে তোমা মহিমা জানে।।*
*ক্ষেম অপরাধ, কর পরসাদ,*
*শুনহ গোলোক হরি।*
*আমি না জানিয়ে,অপার অগাধ,*
*এ রস মহিমা কেলি।।*
*চন্ডীদাসে কহে,দয়ার সাগর,*
*ধরিয়া এ দুই বাহে।*
*উঠ উঠ বলি,কহে বনমালী,*
*পাইয়া কিছু মোহে।।*
*🌻স্বয়ং ভগবান শ্রীকৃষ্ণ,অসংখ্য গোবালক এবং গোবৎসরূপে আত্নপ্রকাশ করে "এক বৎসর "কাল পযর্ন্ত ব্রজের গো এবং গোপীগণের প্রতিক্ষণ বাৎসল্যপ্রেমরসাস্বাদন করলেন।* *এবং তাঁদের প্রত্যেকেরই যে কৃষ্ণকে পুত্ররূপে পাবার বাসনা ছিল,* *তাহাও তিনি তাঁদের গর্ভে জন্ম না নিয়েও পূরণ করলেন।* *যাইহোক,ব্রহ্মা তার অপরাধের জন্য* * *ভগবানের শ্রীচরণে ক্ষমা প্রার্থনা চাইলেন,* *বললেন,আমি আপনার কুপুত্র, কিন্তু কুপুত্র কি পুত্র নয়? আপনি আমায় ক্ষমা করুন,* *আমি আর কোনদিন অপরাধ করব না, আপনি যেমনভাবে আদেশ করবেন আভি আপনার আদেশ মত চলব।* *ব্রহ্মা আরও বললেন,সূর্য্য যেমন আপনার অঙ্গচ্ছটায় উদ্ভাসিত হয়ে জগতের অন্ধকার দূর করে,* *সেইরূপ জগতে ভক্তচূড়মণিগণও আপনার চরণাশ্রয়ের বলে (শক্তিতে)* *গুরুশক্তি লাভ করে শাস্ত্র এবং সাধনোপদেশ দ্বারা মায়মুগ্ধ জীবের অজ্ঞানান্ধকার দূর করেন।* *সূর্য্য যেমন আপনার প্রকাশ-শক্তিতেই জগৎ-প্রকাশক,* *তা ছাড়া সূর্য্যের আর স্বতন্ত্র প্রকাশশক্তি নাই,সেইরূপ জগতেও যাঁরা গুরুরূপে শাস্ত্র ও সাধনোপদেশ দ্বারা ভ্রান্ত জীবের অজ্ঞান অন্ধকার দূর করেন,* *তাঁরাও আপনার শক্তিতে শক্তিমান।*
*অখন্ডমন্ডলাকারং ব্যাপ্তং তেন চরাচরং।*
*তৎপদং দর্শিতং যেন তস্মৈ শ্রীগুরবে নমঃ।।*
*যিনি সর্বভাবে পরিপূর্ণ ও সর্বব্যাপী পরমানন্দ স্বরূপ ভগবানের স্বরূপ জানিয়ে দেন,তিনিই গুরু,আমি তাঁর শ্রীচরণে প্রণাম করি।* *এইভাবে ব্রহ্মার চেতনা ঘটল, ব্রহ্মার কথা শোনার পর শ্রীকৃষ্ণ একটি কথা বললেন,* *তোমার মত কোটিসহস্র* *ব্রহ্মা আমি পলকে জন্ম দিতে পারি,আবার লয় করতে পারি।* *তবে তোমার কর্মফল ভোগ করতেই হবে জেনে রেখ।*
*🌻 ব্রহ্মমোহন লীলা এখানেই রইল,🌻*
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
👇👇👇এই লিখনী 📚 PDF 📚 ক্লিক করুন 👇👇👇
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
꧁ শ্রীকৃষ্ণ লীলা 🙏 সূচীপত্র ꧂
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️
꧁ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ📱7001138871꧂
নিবাস- বাঁশবাড়ী, কীর্তন মন্দিরের পাশে, পোঃ- বাঁশবাড়ী, থানা- ইংরেজ বাজার, জেলা- মালদহ, পশ্চিমবঙ্গ, পিন কোড- ৭৩২১০১।
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏
আমায় দেওয়া ওনার এই অমূল্য লিখনী সেবা, তা সকলের মধ্যে প্রকাশ করলাম। ওনার এই অমূল্য দান সমগ্র বৈষ্ণব সমাজ অনন্তকাল মনে রাখিবে।
🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
*••••┉━❀꧁ 🙏 রাধে রাধে 🙏 ꧂❀━┅••••*
*••••┉━❀꧁ 🙏 রাধে রাধে 🙏 ꧂❀━┅••••*
শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য প্রভু নিত্যানন্দ
হরে কৃষ্ণ হরে রাম শ্রীরাধেগোবিন্দ।।
*••••┉━❀꧁ 🙏 জয় জগন্নাথ 🙏 ꧂❀━┅••••*
হরে কৃষ্ণ হরে কৃষ্ণ কৃষ্ণ কৃষ্ণ হরে হরে
হরে রাম হরে রাম রাম রাম হরে হরে॥
*••••┉━❀꧁ 🙏 জয় রাধাকান্ত 🙏 ꧂ ❀━┅••••*
💮❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀💮
💮❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀💮
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧










