শ্রী মৃন্ময় নন্দী কর্ত্তৃক সকল ভক্ত👣চরণে👣অসংখ্যকোটি 🙇প্রণাম🙇 ক্লিক করুন 👇

শ্রী মৃন্ময় নন্দী কর্ত্তৃক সকল ভক্ত👣চরণে👣অসংখ্যকোটি 🙇প্রণাম🙇 ক্লিক করুন 👇

পদাবলী কীর্তনের ইতিহাস 🌷 তৃতীয় ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📝 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/04/podaboli3.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🔙 পূর্ব লীলা 👉 পদাবলী কীর্তনের ইতিহাস 🌷 দ্বিতীয় ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📝 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/03/podaboli2.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 👉 পদাবলী কীর্তনের ইতিহাস 🌷 তৃতীয় ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📝 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/04/podaboli3.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 👉 পদাবলী কীর্তনের ইতিহাস 🌷 তৃতীয় ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📝 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/04/podaboli3.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(২১) পদাবলী কীর্তনের ইতিহাস*
  *চর্যাগীতির গঠন ও গায়নশৈলী*

*🍀এখানে মনে রাখা উচিত যে, বৌদ্ধ-তন্ত্রসাধনা হিন্দু ও নাথধর্মের যোগানুষ্ঠানপদ্ধতি গ্রহণ করেছিল, (অবশ‍্য মঃমঃ হরপ্রসাদ শাস্ত্রী, বিনয়তোষ ভট্টাচার্য্য এবং আরও অনেকের অভিমত যে,হিন্দুতন্ত্রই বৌদ্ধতন্ত্রের নিকট ঋণী, অথবা বৌদ্ধতন্ত্রের আচার, পূজানুষ্ঠান, মন্ত্র, যন্ত্র ও দেবদেবীরা হিন্দুতন্ত্রে অনুপ্রবেশ করেছিল।অবশ‍্য এই মতবাদের অনেকেই পক্ষপাতী নন)। এবং চর্যাপদে যোগশাস্ত্রের মতো ইড়া, পিঙ্গলা ও সুষুম্না নাড়ীর উল্লেখ আছে,নদীর উজান প্রভৃতির উল্লেখ আছে।এখানে ডক্টর শশিভূষণ দাসগুপ্তের "বৌদ্ধগান চর্যাগীতি" গ্রন্থ থেকে কিছুটা উদ্ধৃতি দিলাম বিষয়টি বিশেষভাবে বোধগম্যের জন্য।তিনি লিখেছেন--, যোগসাধনার দিক হতে দেখতে পাব,আমাদের দেহের মধ্যে তিনটি প্রধান নাড়ী আছে, একটি বামগা--শ্বাসবাহী নাড়ী বা প্রাণবাহী নাড়ী, অন‍্যটি হল দক্ষিণগা-- প্রশ্বাসবাহী নাড়ীবা আপনবাহী নাড়ী, এই দুই হল দেহমধ‍্যে সর্বপ্রকার দ্বৈততত্ত্বের প্রতীক বা প্রতিনিধি,আর একটি নাড়ী আছে মধ‍্যগা নাড়ী,তাকে বৌদ্ধতন্ত্রে বলা হয় অবধূতি বা অবধূতিকা।☆ ☆ তাদের স্বাভাবিক নিম্নগা ধারাকে অবধূতিকা-পথে উর্ধ্বগা করতে পারলে অদ্বয়বোধিচিত্ত বা সহজানন্দ-রূপ মহাসুখ লাভ হয়।(পৃঃ ৯৫)।*
*🍀সিদ্ধাচার্য‍্য সরহপাদ যোগসাধনের কথা উল্লেখ করে বলেছেন---*
*🌷এত্থু সে সুরসুরি জমুণা,*
*🌷এত্থু সে গঙ্গাসাঅরু।*
*🌷এত্থু পআগ বণারসি,*
*🌷এত্থু সে চন্দ দিবাঅরু।।প্রভৃতি*
*🍀এত্থু অর্থে এখানে বা এই দেহেই সুরসুরি বা সুরসরিৎ গঙ্গা ও জমুণা বা যমুনা এবং এখানে বা এই দেহেই গঙ্গাসাগর, প্রয়াগ ও বারাণসী, চন্দ্র, সূর্য‍্য (দিবাঅরু) প্রভৃতি বিরাজিত। সুতরাং সব তীর্থে ভ্রমণ করে শান্তি নাই,আজে সহজানন্দে সুখ ও শান্তি।সরহপাদের এই চর্যাগীতি সাধক রামপ্রসাদ ও কমলাকান্তের গানের কথা স্মরণ করিয়ে দেয়। সাধক রামপ্রসাদ বলেছেন, কাশী কাঞ্চী সবই আছে শ‍্যামা-মার চরণতলে ও কমলাকান্ত বলেছেন----*
*🌷তীর্থভ্রমণ দুঃখগমন, মন-উচাটন হয়ো নারে।*
*🌷আনন্দে ত্রিবেণী স্নানে,শীতল হও না মূলাধারে।।*
*🍀ত্রিবেণী কিনা গঙ্গা,যমুনা ও সরস্বতী তথা ইড়া, পিঙ্গলা ও সুষুম্নার সঙ্গম রূপ।তিনটি নাড়ীই মূলাধারে ও সহস্রারে মিশ্রিত এবং মূলাধার ও সহস্রারই শক্তি ও শিবের স্থান এবং সামরস‍্য-আনন্দ ঐ দুটি স্থানেই সম্ভব হতে পারে।হটযোগপ্রদীপিকা, জ্ঞানসঙ্কলিনীতন্ত্র প্রভৃতিতে শিবশক্তি সামবস‍্যের উল্লেখ আছে এবং বৌদ্ধতন্ত্রেও আছে।শিবকে বিন্দুরূপে ও শক্তিকে নাদরূপে তন্ত্রে কল্পনা করা হয়েছে।শিব নিবৃত্তিতত্ত্ব ও ত্রিগুণাত্মিকা শক্তি প্রবৃত্তিতত্ত্ব।এই নিবৃত্তি-প্রবৃত্তিতত্ত্বের নিম্নগা ধারায় সংবৃতি(আবরণ),মায়া বা ভব (সংসারপ্রবাহ ও প্রবৃত্তি) এবং এদের মিলনের উর্ধ্বগা ধারায় অদ্বয়ে প্রতিষ্ঠা, এবং সহজানন্দ বা মহাসুখপ্রাপ্তি।বৌদ্ধতন্ত্রমতে, বিন্দু-- প্রজ্ঞা এবং নাদ-- উপায়, সুতরাং বিন্দু ও নাদ বা প্রজ্ঞা ও উপায়ের উর্ধধারার-মিলনে "অবধূতিকামার্গ"।এই মার্গ অনুসরণ করে স্রোতে উজান দিয়ে উল্টাসাধন করলে মহাসুখ, সহজানন্দ বা সামরস‍্য লাভ হয়।এই সামবস‍‍্য দেহের মধ্যেই থাকে,এজন‍্য বৌদ্ধ-বজ্রযানী সিদ্ধাচার্য‍্যগণ, সহজিয়াগণ ও বাউল সাধকগণ,কায়া বা কায়সাধন ও উল্টাসাধনের পক্ষপাতী।উল্টাসাধনায় চর্যারচয়িতা বৌদ্ধসাধকরা অবধূতি বা অবধূতিকাকে বা নৈরাত্মাদেবীকে (যোগিনীকে) লাভ করেন সহজানন্দ লাভের জন্য।চর্যাগীতির তত্ত্বকথা ও মর্মকথা তাই।চর্যাগীতি অধ‍্যাত্মসাধনার গান এবং "গীতগোবিন্দ" পদগান ও বৈষ্ণব-পদাবলী- কীর্তনের প্রতিষ্ঠা বা পাদভূমি।চর্যার অবধূতিকাই গীতগোবিন্দ ও পদাবলীকীর্তনের শ্রীরাধা এবং পরবর্তী গৌড়ীয় বৈষ্ণব-সাধনতত্ত্বে শ্রীকৃষ্ণ-রাধার সমন্বয়মূর্তি রসভাবঘন শ্রীচৈতন‍্য বা শ্রীগৌরাঙ্গমূর্তি।*
*🔵চর্যাগীতির গঠন ও গায়নশৈলী এখানেই বিরাম হল।*
🎻🎻🎻📯📯📯🎺🎻🎻🎻📯📯📯
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 👉 পদাবলী কীর্তনের ইতিহাস 🌷 তৃতীয় ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📝 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/04/podaboli3.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(২২)পদাবলী কীর্তনের ইতিহাস*
        *বাংলাদেশ সঙ্গীতের দেশ*

*🍀বাংলা-সাহিত‍্যে ও পদাবলীকীর্তনের ক্ষেত্রে ভৌগোলিক সীমা ও পরিবেশ এবং তার সঙ্গীতের ইতিহাস কী ধরণের ছিল সে সম্বন্ধে আমাদের কিছুটা পরিচয় থাকা উচিত এবং সঙ্গে সঙ্গে বাংলাদেশে বৈষ্ণবধর্মের ক্রমবিকাশধারার ইতিবৃত্তও আমাদের জানা উচিত। বাংলাদেশ সঙ্গীতের দেশ। বাংলার নগর ও পল্লী (নাগর ও গ্রামীণ)এই উভয় সমাজেই মানব জীবনযাত্রার প্রতিটি গতি ও ছন্দের সঙ্গে নৃত্য-গীত-বাদ‍্য বা সঙ্গীতের নিবিড় সম্পর্ক ছিল এবং এখনও আছে। বৃহত্তর-বাংলার সাহিত‍্য ও সংস্কৃতির অপরিহার্য‍্য বা অত‍্যাজ‍্য অঙ্গ ও উপাদানই ছিল গীতি বা গান-- তা সে ছড়ার আকারেই হোক,হেঁয়ালী বা প্রবাদের আকারেই হোক, ব্রতানুষ্ঠান, বিবাহ ও অন‍্যান‍্য মাঙ্গলিক অনুষ্ঠান সম্পকেই হোক।গিরিব্রজ বা বিহার, কলিঙ্গ বা উড়িষ‍্যা এবং কামরূপ বা আসাম নিয়ে অখন্ড বাংলাদেশ ছিল বৃহত্তর বাংলার রূপ,সেকথা আগেই উল্লেখ করেছি।মিথিলা ছিল তখন বৃহৎ-বঙ্গের অপরিচ্ছেদ‍্য অঙ্গ এবং দ্বারবঙ্গ (দ্বারভাঙ্গা) ছিল বাংলাদেশের প্রবেশ পথ।উৎকল বা উড়িষ‍্যার কথাও তাই।এমনকি চতুর্দশ শতক পর্যন্ত বাংলা ও উড়িষ‍্যার মধ্যে পৃথক কোন সীমারেখার অস্তিত্ব ছিল না।পঞ্চগৌড়ের মধ্যে কলিঙ্গ>উৎকল>উড়িষ‍্যা ছিল অন‍্যতম। দক্ষিণরাঢ়ের সিংহপুর ছিল একসময়ে বৃহৎ-উড়িষ‍্যার প্রধান রাষ্ট্রকেন্দ্র।গৌড়ের সীমারেখাও বিস্তৃত ছিল লক্ষ্মণাবতী বা বতর্মান মালদহ জেলা পর্যন্ত।কামসূত্রের টীকাকার যশোহরের মতে,গৌড়-বঙ্গের বিস্তৃতি ছিল কলিঙ্গদেশ বা উড়িষ‍্যা পর্যন্ত।শক্তিসঙ্গমতন্ত্রে বঙ্গের বা গৌড়বঙ্গের যে রূপের পরিচয় দেওয়া আছে তা থেকে জানা যায়,মধ‍্য ও পূর্ববাংলা থেকে শুরু করে ভুবনেশ্বর (উড়িষ‍্যা) পর্যন্ত বিশাল ভূমিখন্ডই ছিল বঙ্গদেশ বা বাংলা, কেন-না, পঞ্চগৌড় বলতে তখন বোঝাত সারস্বত বা পূর্বপাঞ্জাব,কান‍্যকুব্জ,মিথিলা (উত্তর-বিহার) ও উৎকল (উত্তর উড়িষ‍্যা)।স্কন্দ পুরাণাদিতেও এধরণের উল্লেখ পাওয়া যায়।*
*🍀বাঙলা বা বঙ্গাল শব্দ বা নামটি নিয়ে বিভিন্ন পন্ডিতদের মধ্যে ভিন্ন ভিন্ন মতবাদের সৃষ্টি হয়েছে।"আইন-ই-অকবরী" গ্রন্থে আবুল ফজল "বঙ্গ" ও "বঙ্গাল" এই দুইটি শব্দেরই উল্লেখ করেছেন।তিনি বলেছেন--The original name of Bengal was Banga. Its former Rulers raised mounds, measuring ten yeards in height and twenty in brcadth, throughout the province. Which were called al. From this suffix (al), the name Bengal took its rise and currency. (English translation)। ভারতের ইতিহাস থেকে জানা যায়, সম্রাট আকবর ও লামা তারানাথের সময়ে "আল" শব্দটি অন‍্য নামে অর্থ‍্যাৎ "ভাটি" পরিচিত ছিল।দক্ষিণভারতের ও অন‍্যান‍্য দেশের কতগুলি তাম্রলিপি ও শিলা লেখাতে দেখা যায়, "বঙ্গ বা বঙ্গলা" (বাংলা) এই শব্দ দুটিকে ভিন্ন ভিন্ন অর্থে ব‍্যবহার করা হয়েছে। খ্রীষ্টীয় এগারো শতকের আগে বঙ্গ বা বঙ্গদেশ ঠিক বাঙ্গালা বা বাঙলা নামে পরিচিত ছিল কিনা তার সুনির্দিষ্ট ঐতিহাসিক প্রমাণ পাওয়া যায় না। সুতরাং মনে করা যেত পারে যে,১১শ-১২শ শতকের বৃহৎবঙ্গের সীমা নির্দেশ ছিল-- উত্তরে হিমালয়, দক্ষিণে তাম্রলিপ্তের (বর্তমান তমলুক) সীমা বিশাল সমুদ্র, পূর্বে আরাকানের নিবিড় অরণ‍্য ও পশ্চিমে মগধের প্রান্তদেশে ছোটনাগপুরের বিস্তৃত অরণ‍্য।শোনা যায়,আরাকানের রাজ‍্যসভায় তখন বাঙালী কবি ও সাহিত‍্যিকদের আলোচনাসভার আয়োজন হত। বিভিন্ন ধর্ম ও মতবাদের সমন্বয়-নিদর্শনও বৃহৎবঙ্গের মধ্যে কম ছিল না।*
                 *ক্রমাগত*
*শ্রীজয়দেব দাঁ, বাঁশবাড়ী (নবরাত্রি কীর্তন মন্দিরের পার্শ্বে) বাঁশবাড়ী, ইংরেজ-বাজার, মালদহ।7001138871*
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 👉 পদাবলী কীর্তনের ইতিহাস 🌷 তৃতীয় ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📝 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/04/podaboli3.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(২৩)পদাবলী কীর্তনের ইতিহাস*
       *বাংলাদেশ সঙ্গীতের দেশ*

*🍀শোনা যায়,খ্রীষ্টীয় অষ্টম শতকের আরব-জাতিকে কেন্দ্র করে ইসলামীয় সুফীধর্মের সম্প্রসারণ বাংলার বুকে সম্ভব হয়েছিল। অনেকের মতে পারস‍্য,বোখারা ও সমরকন্দে সুফীমতবাদের কেন্দ্র নির্দিষ্ট থাকলেও বাংলায় প্রাচীন বৈষ্ণবদের আউল,বাউল,দরবেশ ও সাঁই (স্বামী) প্রভৃতি সম্প্রদায়ের মধ্যে সুফীমতবাদের কিছুটা অনুপ্রবেশ বা সংমিশ্রণ ঘটেছিল।(◆ডঃ মুহম্মদ এনামুল হক মনে করেন,খ্রীষ্টীয় এয়োদশ শতকের প্রথম ভাগে সুহ্- রববদীযহ (শব্দ বুঝা যাচ্ছে না)সম্প্রদায়ভুক্ত শেখ জলালুদ্দীন তববীয়ীর অভিযানের পর থেকেই বাংলাদেশ সুফীমতবাদের অনুপ্রবেশ ঘটে।অবশ‍্য এ মতের ভিন্ন মতেরও প্রচলন আছে)।কথিত যে,মুসলমান দরবীশ বা দরবেশদের মাধ‍্যমে আরবীয় সুফীধর্মের মিলন সংঘটিত হয়েছিল।(◆এ সম্বন্ধে এড্ ওয়াড জে.ব্রাউনের (E.J. Browne) Dervish গ্রন্থে আলোচনা দ্রষ্টব‍্য)। বাংলার বিচিত্র ধর্মমতের সঙ্গে এবং বিশেষ করে চারটি কেন্দ্রের মাধ‍্যমে তা সম্ভবপর হয়েছিল সেই চারটি কেন্দ্র হল--, (1)বরেন্দ্রভূমি, তথা মালদহ,দিনাজপুর,রঙ্গপুর বা রংপুর, পূর্ণিয়া,রাজমহল ও তার চারপাশের অঞ্চল।(2)রাঢ়ভূমি বা বর্ধমান, বীরভূমি বাঁকুড়া ও হুগলী (3) বঙ্গভূমি তথা পাবনা,বগুড়া,রাজশাহী, ময়মনসিংহ,ঢাকা, ফরিদপুর ও বাখরগঞ্জ এবং (5)চট্টলভূমি বা চট্টগ্রাম,ত্রিপুরা ও নোয়াখালী। অবশ‍্য এ মতবাদের সমীচীনতাও নির্ধারণ করা উচিত ঐতিহাসিক দৃষ্টির কষ্টিপাথরে।বৌদ্ধযোগ তন্ত্র (হিন্দু ও বৌদ্ধ) ও বৈদিকধর্মের সংমিশ্রণে বাংলার বৈষ্ণবধমে যে এক পরিবর্তন সাধিত হয়েছিল সে আলোচনা আগেই কিছুটা করেছি।বিশাল বঙ্গে এবং পরবর্তীকালে খন্ডিত বাংলায়ও সংস্কৃতচর্চা বনাম বিদ‍্যাচর্চার বিশেষ প্রচলন ছিল।প্রাচীন ও নব‍্য বা নতূন ন‍্যায়,মীমাংসা, স্মৃতি, অলংকার,ব‍্যাকরণ প্রভৃতি শাস্ত্রের কথা ছেড়ে দিলেও বাংলাদেশের সারস্বত (পূর্ব পাঞ্জাব)আচার-ব‍্যবহার ও সঙ্গে সঙ্গে দেশসমৃদ্ধির পরিচায়করূপে পুন্ড্রবর্ধনের অধিবাসী সন্ধ‍্যাকর নন্দী রচিত "রামচরিত" বিশেষ উল্লেখযোগ্য।'রামচরিত' গৌড়রাজ রামপালদের ও তদীয় পুত্র মদনপালদেবের অবিস্মরণীয় কীর্তিগাথা ও অবদানের ইতিকথা।এই ইতিকথার পরিপ্রেক্ষিতে পালযুগে বাংলার সামাজিক ও পরিচ্ছিন্ন সাংস্কৃতিক জীবন স্বাচ্ছন্দেরও সুস্পষ্ট পরিচয় পাওয়া যায়।নালন্দা, বিক্রমশিলা,ওদন্তপুরী প্রভৃতি বৌদ্ধ বিশ্ববিদ‍্যালয় এবং ঐ সব মহাশিক্ষাতীর্থ সংলগ্ন বৃহৎ গ্রন্থশালাগুলিও পালযুগের শিক্ষা-সংস্কৃতির জ্বলন্ত নিদর্শন।বাঙ্গালী বৌদ্ধধর্মাচার্য‍্য ও সুপন্ডিত অতীশ দীপঙ্কর,শীলভদ্র, শান্তিরক্ষিত ও অন‍্যান‍্য মণিষীদের শিক্ষা,সংস্কৃতি ও ধর্মের অবদান বাংলার ইতিহাসকে গৌরবমন্ডিত করেছে। "কবীন্দ্রসমুচ্চয়" ও 'সদুক্তিকর্ণামৃত' গ্রন্থ দুটিতে প্রাকৃতিক ও সামাজিক ঘটনা প্রবাহের অনুলিখন ছাড়াও তদানীন্তন সমাজে আদি ও ভক্তিরসাত্মক ধর্মভাব সেবিত দৈনন্দিন জীবনচর্যার পরিচয় পাওয়া যায়।*
*🍀পালরাজাদের পূর্ববর্তী গুপ্ত ও সেন-রাজাদের শাসনকাল বাংলার সমাজে শিক্ষা, সংস্কৃতি,ধর্ম ও সামাজিক জীবন দিনপঞ্জীপূর্ণ ইতিহাসের সাক্ষ‍্য দেয়।রাজা লক্ষ্মণসেনের রাজসভায় জয়দেব,ধোয়ী,উমাপতি ধর,গোবর্দ্ধন ও শরণ এই পঞ্চরত্নের কাব‍্যপ্রতিভা দ্বাদশ শতকের বাংলাকে গৌরবোজ্জ্বল করেছিল। ভক্তি ও ভক্তিবাদের প্রাণকেন্দ্র শ্রীকৃষ্ণ, বিষ্ণু বা কৃষ্ণ-বাসুদেবকে আশ্রয় করে কিভাবে বাংলাদেশে বৈষ্ণবধর্মের গোড়াপত্তন সম্ভব ও সার্থক হয়েছিল তার বিবরণ আমরা আরো কিছু পরে দেবার চেষ্টা করব।বৈষ্ণব পদাবলীকীর্তনের আলোচনায় ভক্তিতত্ত্ব ও ভক্তিরসকেন্দ্র শ্রীকৃষ্ণ বা কৃষ্ণবাসুদেবের প্রসঙ্গও অপরিহার্য।আচার্য‍্য শঙ্করের প্রমাণিত ও প্রচারিত অদ্বৈতব্রহ্মবাদ (মায়াবাদ নয়) পূর্বমীমাংসাদর্শন নির্দিষ্ট ধর্ম ও কর্ম এবং ভগবান বুদ্ধ ও পরবর্তী বৌদ্ধাচার্য‍্যগণ প্রচারিত বৌদ্ধমতকে বিশেষভাবে নিরস্ত বা বিরত করলেও ভক্তিবাদের বিরুদ্ধে কোনদিন কেউ সংগ্রাম ঘোষণা করেননি। বিশেষ করে প্রখর জ্ঞানচর্চার পাশাপাশি সরস ভক্তিচর্চার স্পর্শ বাংলার মানসক্ষেত্রে এক নতূন জীবন স্পন্দন সৃষ্টি করেছিল।আচার্য‍্য রামানুজ,নিম্বার্ক,মধ্ব, বল্লভাচার্য‍্য কিংবা দক্ষিণভারতে আলবার বা আলোয়ার সম্প্রদায় প্রচারিত ভক্তিবাদ ও বৈষ্ণবধর্ম বাংলার জনগণের মনে তত ন্রভাব বিস্তার করতে সক্ষম না হলেও শান্ডিল‍্যসূত্র, নারদীয়ভক্তিসূত্র, শ্রীমদ্ভাগবতের প্রাণকেন্দ্র বিভিন্ন পঞ্চরাত্রসংহিতা ও পুরাণসাহিত‍্য প্রতিপাদিত ঈশ্বরপ্রেম ও ভক্তিধর্ম বাঙ্গালীর সচল ও রসসিক্ত মনকে বিশেষভাবে আকৃষ্ট করেছিল।অবশ‍্য গৌড়ীয় বৈষ্ণবধর্মের নবজন্ম তখনও বাংলার বুকে সার্থক হয়ে উঠেনি। বাংলার ইতিহাসের পথযাত্রীমাত্রেরই জানা আছে যে,পরমভাগবত গুপ্তরাজাদের সময়ে বাংলায় শিব,গণপতি ও কার্তিকেয়ের মন্দির এবং জায়গা জায়গায় শক্তিপীঠ প্রতিষ্ঠিত থাকলেও সাধারণ সমাজে বিষ্ণু-উপাসনার অনুষ্ঠান ও অতি নিষ্ঠার সঙ্গে বৈষ্ণবধর্মের ভাবপ্রবাহকে অব‍্যাহত রেখেছিল।◆রাজ তরঙ্গণীকার◆ কহ্লণের ঐতিহাসিক বিবরণে পাওয়া যায়,শিব ও কার্তিকেয়ের বিভিন্ন মন্দিরে নৃত্য-গীত-অনুষ্ঠানের জন্য দেবদাসীরা নিযুক্ত থাকত এবং তাদের নৃত্যছন্দ ছিল সম্পূর্ণভাবে "ভরতের" নাট‍্যশাস্ত্র অনুমোদিত।*
              *ক্রমাগত*
*🌻শ্রীজয়দেব দাঁ, বাঁশবাড়ী নবরাত্রি কীর্তন মন্দিরের পার্শ্বে, বাঁশবাড়ী, ইংরেজ বাজার, মালদহ, 7001138871*
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 👉 পদাবলী কীর্তনের ইতিহাস 🌷 তৃতীয় ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📝 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/04/podaboli3.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(২৪)পদাবলী কীর্তনের ইতিহাস*
        *বাংলাদেশ সঙ্গীতের দেশ*

*🍀গুপ্ত ও সেন রাজাদের মধ্যে শিব ও বিষ্ণু এই উভয় দেবতারই উপাসনা প্রচলিত ছিল।তবে রাজা লক্ষ্মণসেন নিজে ছিলেন পরমবৈষ্ণব ও বিষ্ণুর উপাসক। তাঁর রাজত্বকালে বাংলার সমাজে যে রাধাকৃষ্ণলীলাসেবিত ভক্তিবাদের প্রচলন ছিল তা বাংলার ইতিহাসই বিশেষভাবে প্রমাণ করে।খ্রীষ্টীয় সপ্তম শতকে পাহাড়পুরে আবিস্কৃত কৃষ্ণলীলা বিষয়ক মূর্তির নিদর্শন সেকথা আরো বিশেষভাবে প্রমাণ করে।অবশ‍্য পাহাড়পুরে আবিস্কৃত ধ্বংসস্তূপে রাধাকৃষ্ণের মূর্তি ছাড়াও বিষ্ণু,বলরাম,ত্রিশূলধারী শিব, গণেশ,ইন্দ্র,যমুনা ও রামায়ণকাহিনীর মূর্তি পাওয়া গেছে।রায়-বাহাদুর কে.এন দীক্ষিত ১৯২০-২১,১৯২৬-২৭ এবং ১৯২৭-২৮ খ্রীষ্টাব্দের বার্ষিক প্রত্নতাত্ত্বিকী বিবরণীতে (Annual Report of the Archaeological Survey of India, ◆A.S.I◆ 1920-21,1926-27,1927-28)*
*পাহাড়পুর স্তূপের ও স্তূপ থেকে আবিস্কৃত বিচিত্র উপাদান সামগ্রী ও মূর্তির পরিচয় তিনি দিয়েছেন (Excavations of Paharpur,Bengal, Memoirs, A.S.I No 55 দ্রষ্টব‍্য)।অধুনা ডক্টর চারুচরণ দাশগুপ্ত Paharpur and Its Monuments 1961 নামক ছোট গ্রন্থে কৃষ্ণ ও রাধাকৃষ্ণ-মূর্তির পরিচয়ে গোকুলে গিরিগোবর্দ্ধনধারী কৃষ্ণ, রাধাকৃষ্ণের যুগলমূর্তি এবং বসুদেব ও শিশুকৃষ্ণমূর্তির কথা উল্লেখ করেছেন।রাধাকৃষ্ণের মূর্তি প্রসঙ্গে তিনি বলেছেন--, In the wall on south-east angle faching south there is a sculpture which represents two standing figures--one,male and the other, a female (PL. VIII,b).The right arm of the male figure clasps the female figure whose left arm clasps the male figures.The female figure has a halo behind its head. This sculpture probably reprsents Radha and krishna. It is undoubtedly one of the best sculptures that have been found at paharpur,(page 26)(অন‍্যান‍্য কৃষ্ণলীলা কাহিনীর মূর্তি সম্বন্ধে (Krishna-legend-scenes) paharpur and Its Monuments 1961, pp. 25, 27 দ্রষ্টব‍্য।পাহাড়পুরের স্তূপ থেকে আবিস্কৃত বাদ‍্যযন্ত্রের যে বিচিত্র নিদর্শন পাওয়া গেছে সে সম্বন্ধে আমরা পরে আলোচনা করব)।*
*পাহাড়পুরে আবিস্কৃত মূর্তি প্রভৃতি ছাড়া মহারাজ লক্ষ্মণসেনের রাজত্বকালে কবি জয়দেব-রচিত "গীতগোবিন্দ" পদগান শ্রীশ্রীরাধাকৃষ্ণ লীলামাধুর্য‍্যের বর্ণনায় মুখর।ডঃ শ্রীঅসিতকুমার তাঁর সুলিখিত "বাংলা সাহিত‍্যের ইতিবৃত্ত প্রথম খন্ড 1959 পৃষ্ঠা 204,তাছাড়া তাঁর বৈষ্ণবধর্মের ক্রমবিকাশধারা আলোচিত অংশটি এ প্রসঙ্গে দ্রষ্টব‍্য (সপ্তম অধ‍‍্যায় পৃঃ ২৫৮,২৭৮), গ্রন্থে শ্রীচৈতন‍্যপূর্ব যুগে বাংলাদেশে যে সব গ্রন্থ বৈষ্ণবধর্মানু প্রবেশ ও তার পরিপুষ্টির পটভূমিকা রচনা করেছিল তাদের নাম উল্লেখ করেছেন এবং সেগুলি হল--, শ্রীজয়দেবের গীতগোবিন্দ, বিল্বমঙ্গলের (লীলাশুক)কৃষ্ণকর্ণামৃত, ব্রহ্মসংহিতা,ব‍্যোপদেবের মুক্তাফল, বিষ্ণুপুরীর শ্রীশ্রীভক্তিরত্নাবলী, লক্ষ্মীধরের ভগবন্নামকৌমূদী, শ্রীধর স্বামীর ভাগবতের টীকা, শ্রীপাদ ঈশ্বরপুরীর কৃষ্ণলীলামৃত,অবশ‍্য এগুলি ছাড়াও "সংগীতমাধব", "শ্রীচৈতন‍্যচন্দ্রোদয়" প্রভৃতি গ্রন্থও উল্লেখযোগ্য।*
*🍀এখানে আলোচনার বিষয় হল প্রাক্ জয়দেব যুগে রাধাকৃষ্ণ লীলা অনুশীলনের মাধ‍্যমে বৈষ্ণবধর্ম বাংলাদেশে কতটুকু প্রসারতা লাভ করেছিল তা প্রতিপাদন করা এবং সেক্ষেত্রে "গীতগোবিন্দ" বা অষ্টপদীর কথা বাদ দিলেও গীতা, শ্রীমদ্ভাগবত ও অন‍্যান‍্য ভক্তিগ্রন্থ নির্দেশিত ভক্তিতত্ত্ব বাংলার মানসক্ষেত্রকে বিশেষভাবে রসসিঞ্চিত ও প্রবুদ্ধ বা চেতনা করেছিল।শোনা যায়,খ্রীষ্টীয় ১৪শ শতকে মাধবেন্দ্রপুরীই বাংলাদেশে শ্রীমদ্ভাগবত প্রচার করেছিলেন, সুতরাং "শ্রীমদ্ভাগবত" লিখিত বা সংকলিত হয়েছিল আনুমানিক খ্রীষ্টীয় ১৩শ-১৪শ শতকের আগে।পাহাড়পুরে আবিস্কৃত শ্রীরাধাকৃষ্ণের মূর্তিগুলি নিঃসংশয়ে বাংলার ভাগবতধর্মের প্রভাব প্রমাণ করে একথা আগেই উল্লেখ করেছি।খ্রীষ্টীয় শতকের গোড়ার দিকে রচিত পুরাণগুলিতে বর্ণিত ভক্তিতত্ত্বও বাংলার প্রেমধর্ম প্রেরণাকে প্রাণবন্ত করেছিল।সাতবাহন নরপতি হালের "গাথা সপ্তশতী" গ্রন্থে (প্রথম বা প্রথম-দ্বিতীয় শতক) রাধাকৃষ্ণের লীলা কাহিনীর বর্ণনা আছে।কবি জয়দেবের আবির্ভাব খ্রীষ্টীয় ১২শ-১৩শ শতকে।তিনি জন্মগ্রহণ করেছিলেন এমনই এক সময়ে যখন বাংলাদেশে ভাগবতধর্মের ছিল লীলাচঞ্চল যৌবনকাল।জয়দেব শ্রীশ্রীরাধাকৃষ্ণলীলাতত্ত্বের প্রচারব্রত নিয়েই যেন জন্মগ্রহণ করেছিলেন এবং একদিক থেকে বলা যায় যে, বৈষ্ণবপদাবলী কীর্তনের পটভূমিকা রচনার সূচনাও হয়েছিল ঠিক তখন থেকে বাংলাদেশে।*
                  *ক্রমাগত*
*JOYDEB DAWN*
*BANSHBARI, NEAR- BANSHBARI NABARATRI KIRTAN MANDIR.*
*ENGLISH BAZAR.*
*MALDA.*
*7001138871*
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 👉 পদাবলী কীর্তনের ইতিহাস 🌷 তৃতীয় ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📝 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/04/podaboli3.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(২৫)পদাবলী কীর্তনের ইতিহাস*
        *বাংলাদেশ সঙ্গীতের দেশ*

*🍀যদিও চর্যাগীতির অবদান পদকীর্তনের ভান্ডারে কম নয়।সংস্কৃতায়িত বাংলা পদ‍্যছন্দে রচিত জয়দেবের 'গীতগোবিন্দ' পদগানের ছত্রে ছত্রে শ্রীরাধাকৃষ্ণ লীলাতত্ত্বগানই সুস্পষ্ট।কবি নিজে তার পরিচয় দিয়ে "প্রথম সর্গের" তৃতীয় শ্লোকে বলেছেন--*
*🌷যদি হরিস্মরণে সরসং মনো যদি বিলাসকলাসু-কুতূহলম্।*
*🌷মধুরকোমলকান্তপদাবলীং শৃণু তদা জয়দেবসরস্বতীম্।।*
*🌻ভক্তজনচিত্তে কৃষ্ণভক্তি প্রেম সঞ্চারের জন্য যেন জয়দেব কবির পদ-রচনার প্রধান অভিপ্রায় ছিল।পন্ডিতপ্রবর শ্রীহরেকৃষ্ণ মুখোপাধ‍্যায় সত‍্যই বলেছেন--,মহাভারতে,পুরাণে, বিশেষ করে শ্রীমদ্ভাগবতে যে গোবিন্দলীলা বর্ণিত হয়েছে,কবি জয়দেব শ্রীগীতগোবিন্দে সেই গোবিন্দেরই লীলাই বর্ণনা করেছেন। লীলাপুরুষোত্তম শ্রীগোবিন্দই তাঁর প্রেয়সীশ্রেষ্ঠা শ্রীরাধার সঙ্গে শ্রীগীতগোবিন্দের আদ‍্যপান্ত কীর্তিত হয়েছেন।*
*🍀কাব‍্য ও সাহিত‍্যের দিক দিয়েও গীতগোবিন্দের একটি বিশেষ মূল‍্য আছে,যদিও আখ‍্যান,নাটকীয়তা ও সঙ্গীত এই ত্রিবেণীসঙ্গমের মিলিত ধারা এর মধ্যে প্রবাহিত।তাঞ্জোরের সরস্বতী-মহল-গ্রন্থাগারে গীতগোবিন্দের একটি নাট‍্যরূপ সম্বলিত পুঁথি পাওয়া গেছে এবং গ্রন্থাকারেও ছাপা হয়েছে।বিচিত্র ঘটনাপ্রবাহ গীতগোবিন্দের আখ‍্যানভাগ রচনা করেছে এবং বিচিত্র রাগ ও তাল-এর সঙ্গীতরূপ সৃষ্টি করেছেন।এজন‍্য অনেকে গীয়গোবিন্দকে বাহ‍্যতঃ "আখ‍্যানকেন্দ্রিক খন্ডকাব‍্য" বা গীতিকাগ্রন্থ বলে অভিমত প্রকাশ করেন।তবে গীতগোবিন্দে সঙ্গীতাংশে যে যোজনা আছে ও বিশেষ করে যে যে রাগগুলির পরিচয় দেওয়া আছে, গীতগোবিন্দে তাদের যাত্রাপথে ভারতীয় প্রাচীন ও নবীন রাগরূপের একটি বিবর্তনময় ধারা লক্ষ্য করা যায় এবং সেই আবর্তনের মুখে মেবারের রাণা কুম্ভা পনেরশ শতক "সঙ্গীতরাজ" গ্রন্থে গীতগোবিন্দের "রসিকপ্রিয়া" টীকার রাগগঠনে বা রাগরূপের প্রকাশশৈলীতে কিছুটা নতূনতর বিকাশের পরিচয় দিয়েছেন।অনেকে আবার মধ‍্যযুগীয় সাধু-সম্প্রদায়ের ও বিশেষ করে গৌড়ীয় বৈষ্ণবধর্মের আধার ও উৎসভূমিরূপে গণ‍্য করে গীতগোবিন্দকে "ভক্তিকাব‍্য" বলেও অভিহিত করেন।মোটকথা রাধাকৃষ্ণের আদিরসাত্মক ও উজ্জ্বলবেশাত্মক অপার্থিব লীলা বৈচিত্র্যের সাক্ষ‍্যবহনকারী এই গীতগোবিন্দ-পদগান।পুরীতে শ্রীজগন্নাথদেবের মন্দিরের শিলালিপি থেকে জানা যায়,পনেরশ শতকে কলিঙ্গসম্রাট প্রতাপরুদ্রদেব (যিনি পরে শ্রীচৈতন‍্যের কৃপাশ্রিত হয়েছিলেন)গীতগোবিন্দগান শ্রীজগন্নাথদেবের মন্দিরে প্রচলন করেছিলেন।শোনা যায়,দেবদাসীদের নৃত্য সম্বলিত হয়ে মৃদঙ্গবাদ‍্যের সহযোগে শ্রীজগন্নাথদেবের মন্দিরে গীতগোবিন্দ গান করা হত।*
*🍀লীলাশুক বা বিল্বমঙ্গল ঠাকুরের 'শ্রীকৃষ্ণকর্ণামৃত' গ্রন্থে পদগানের মাধুর্য‍্য নিয়ে আলোচনা পরে করব।তবে গীতগোবিন্দ ও কৃষ্ণকর্ণামৃত ভক্তিগ্রন্থ দুটি নিয়ে মোটামুটিভাবে অনুশীলন করলে দেখা যায় যে,গীতগোবিন্দের রচয়িতা কবি জয়দেব বিল্বমঙ্গল-রচিত কৃষ্ণকর্ণামৃতের ভাব ও কাব‍্যসম্পদ দ্বারা কিছুটা প্রভাবিত হয়েছিলেন। ডঃ অসিতকুমার বন্দ‍্যোপাধ‍্যায় এই প্রসঙ্গে লিখেছেন, জয়দেব, লীলাশুকের কৃষ্ণকর্ণামৃতের দ্বারা প্রভাবান্বিত হয়েছিলেন কিনা বুঝা যাচ্ছে না।কৃষ্ণকর্ণামৃত জয়দেবের সময়ে নিতান্ত অপরিচিত ছিল না, কারণ শ্রীধরদাস সদুক্তিকর্ণামৃতে কৃষ্ণকর্ণামৃত হতে শ্লোক উদ্ধৃত করেছিলেন।তবে লীলাশুক যেমন সখীভাবে শ্রীরাধাকৃষ্ণের সেবা করেছেন,জয়দেবের মধ্যে ঠিক সেই জাতীয় অনুভূতি পাওয়া যায় না।লীলাশুক নিজেকে কৃষ্ণলীলার সহায়তায় (মঞ্জরী ভাবের) নিয়োগ করে ধন‍্য হয়েছেন। কিন্তু গীতগোবিন্দের কবির মধ্যে ঠিক সেই জাতীয় পরিকরবৃত্তি বা সখী সাধনার ইঙ্গিত পাওয়া যায় না।(বাংলা সাহিত‍্যের ইতিবৃত্ত গ্রন্থে প্রথমখন্ডে দ্বিতীয় সংস্করণ 1963 পৃঃ 93) পাওয়া যাবে।যাইহোক,শ্রীচৈতন‍্যদেব নির্জনে নিভৃতে গম্ভীরায় "গীতগোবিন্দ" দিবারাত্র আস্বাদন করতেন বলে সহজিয়া বৈষ্ণবগণ কবি জয়দেবকে "নবরসিক" এর অন‍্যতম ও আদিগুরু বলে নির্দেশ করেছেন।তবে গীতগোবিন্দের ছন্দ,ভাব ও মাধুর্য‍্য যে পরবর্তী বৈষ্ণব ভক্তিসাহিত‍্যকে রস-ভাবসমৃদ্ধ করেছিল এ বিষয়ে কোন সন্দেহ নেই।*
*🌹এই বিষয়টি এখানে বিরাম হল।*
*🛑শ্রীজয়দেব দাঁ, বাঁশবাড়ী নবরাত্রি কীর্তন মন্দিরের পার্শ্বে, বাঁশবাড়ী, ইংরেজ বাজার,মালদহ, 7001138871।*
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 👉 পদাবলী কীর্তনের ইতিহাস 🌷 তৃতীয় ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📝 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/04/podaboli3.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(২৬) পদাবলী কীর্তনের ইতিহাস*
      *কবি জয়দেব ও গীতগোবিন্দ*

*🍀কবি জয়দেব খ্রীষ্টীয় ১২শ শতকের শেষার্ধে পশ্চিমবঙ্গের বীরভূম জেলার অন্তর্গত কেন্দুবিল্ব গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।অজয়নদের উত্তরদিকে অবস্থিত এই গ্রাম।জয়দেব একাধারে ছিলেন কবি, সঙ্গীতজ্ঞ ও ভক্ত।গীতগোবিন্দ তাঁরই রচনা, যদিও কোন কোন পন্ডিতের অভিমত যে,গীতগোবিন্দের কোন কোন অংশ অন‍্যান‍্য কবিদের যোজনা। পন্ডিত শ্রীহরেকৃষ্ণ মুখোপাধ‍্যায় তাঁর "কবি জয়দেব ও গীতগোবিন্দ" গ্রন্থের ভূমিকায় কাব‍্যকথা প্রসঙ্গে পাঁচটি যুক্তিসঙ্গত কারণ দেখিয়ে প্রমাণ করেছেন যে,সমগ্র "গীতগোবিন্দ" কাব‍্যগ্রন্থ বা পদগানগ্রন্থ কবি জয়দেবেরই রচনা।('কবি জয়দেব ও গীতগোবিন্দ' ৩য় সংস্করণ,১৩৬২,পৃঃ৬১-৬২)।তবে "জয়দেব" নামধারী ব‍্যক্তি ছিলেন আরও দুইজন ; একজন ছন্দসূত্রের প্রণেতা গীতগোবিন্দ-রচয়িতা কবি জয়দেবের পূর্ববর্তী ও অন‍্যজন "প্রসন্নরাঘব" নাটক ও "চন্দ্রলোক" নামক অলঙ্কার শাস্ত্রের প্রণেতা জয়দেব। কাশ্মীরবাসী কহ্লন "সুক্তিমুক্তাবলী" গ্রন্থে (১১৭৯ শকাব্দ) এই শেষোক্ত জয়দেবের নাম উল্লেখ করেছেন, (ঐ,পৃঃ ৪১)।*
*🍀কবি জয়দেব-রচিত গীতগোবিন্দের দ্বাদশ সর্গের ২৯ শ্লোক থেকে জানা যায়,তাঁর পিতার নাম ভোজদেব, মাতা বামাদেবী ও প্রিয়সখা অষ্টপদীগায়ক পরাশর। শ্লোকটি হল---*
*🌷শ্রীভোজদেবপ্রভবস‍্য বামাদেবীসুত শ্রীজয়দেবকস‍্য।*
*🌷পরাশরাদিপ্রিয়বন্ধুকন্ঠে শ্রীগীতগোবিন্দকবিত্বমস্তু।।*
*🌻পূজারী গোস্বামী টীকায় এর বিশ্লেষণ করে বলেছেন--, ভোজদেবনামা অস‍্য পিতা বামাদেবীনাম্নী জননী তস‍্যাঃ সুতস‍্য শ্রীজয়দেবস‍্য পরাশরাদীনাং যে প্রিয়াস্তন্মতজ্ঞাতারস্তেষ্বপি যে বান্ধবাস্তন্মতানুসারেণ শ্রীরাধামাধবরহঃকেলিজ্ঞানেন বন্ধুত্বং প্রাপ্তাস্তেষামেব কন্ঠে ভূষণবৎ সদা গীতগোবিন্দাখ‍্যং কবিত্বমস্তু। তাছাড়া প্রথম সর্গের দ্বিতীয় শ্লোকে উল্লিখিত "পদ্মাবতীচরণচারণচক্রবর্তী" এবং দশম সর্গের দশম শ্লোকে উল্লিখিত "জয়তি পদ্মাবতীরমণজয়দেবকবি" প্রভৃতি পদাংশ থেকে জয়দেব-পত্নী পদ্মাবতীর নাম পাওয়া যায় ; "তথা-নাম্নী জয়দেব-পত্নী"।কারও কারও মতে জয়দেবের পত্নীর নাম রোহিণী।পন্ডিত শ্রীহরেকৃষ্ণ মুখোপাধ‍্যায় বলেছেন, সহজিয়াগণ বলেন যে,রোহিণী কবি জয়দেবের পরকীয়া,(কবি জয়দেব গীতগোবিন্দ, পৃঃ ৯)। কিন্তু এই নাম কবি-কল্পনা বলেই মনে হয়,কেননা গীতগোবিন্দের প্রায় সব টীকা ও ভাষ‍্যকার পদ্মাবতীকেই জয়দেব-পত্নী বলে উল্লেখ করেছেন।*
*🍀জয়দেব ছিলেন বঙ্গদেশজাত বাঙ্গালী।তিনি রাঢ়ভূমি বীরভূম জেলার অন্তর্গত কেন্দুবিল্ব গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন সেকথা আগেই বলেছি।কেন্দুবিল্ব চলিত ভাষায় "কেন্দুলী" বা "কেঁদুলী" নামে পরে পরিচিত হয়।অধ‍্যাপক তারাপদ ভট্টাচার্য্য বলেন--,বীরভূম জেলার কেন্দুবিল্ব গ্রাম ইহার (কবির) জন্মভূমি বলে প্রসিদ্ধি আছে। বর্তমানে কিন্তু কেন্দুবিল্ব বা কেঁদুলী বলে কোন গ্রামের অস্তিত্ব নাই,অজয়নদের বালুকাময় তীরভূমিতে পৌষ সংক্রান্তিতে "কেঁদুলীর মেলা" নামক একটি বাৎসরিক মেলা বসতে দেখা যায় মাত্র।সেইজন‍্য মিথিলা ও উড়িষ‍্যা হতে জয়দেবকে দাবী করা হয়েছে। (তীরহুত জেলায় অবস্থিত জেঞ্ঝারপুর-শহরের কাছে কেন্দোলী নামক একটি গ্রাম আছে। মিথিলাবাসীদের মতে,জয়দেব এই কেন্দোলিগ্রামের অধিবাসী ছিলেন। উড়িষ‍্যাবাসীরাও পুরীর কাছে কেন্দুবিল্বগ্রামে জয়দেবের আবির্ভাব কল্পনা করতে চাহেন--। ডঃ শ্রীঅসিতকুমার বন্দ‍্যোপাধ‍্যায়, "বাংলা-সাহিত‍্যের ইতিবৃত্ত" প্রথম খন্ড,১৯৫৯, পৃঃ ৭৮ ।*
*যেহেতু উড়িষ‍্যার বিভিন্ন মন্দিরে অশ্লীল যৌন (উড়িষ‍্যার মন্দির-ভাস্কর্য‍্যে নগ্ন মূর্তিগুলি যথার্থভাবে যৌনভাবের প্রকাশ কিনা তা নিয়ে যথেষ্ট বিতর্কের অবসর আছে।সার্থক শিল্পী ও শিল্প সমালোচকদের সিদ্ধান্ত এসব সম্পূর্ণ ভিন্ন ; কেননা ঐগুলি আসলে আদিরস শৃঙ্গারের অভিব‍্যক্তি,মানব মনের সহজাত কামাভিব‍্যক্তির (Id) প্রতিকৃতি নয়।নাট‍্যশাস্ত্রে আদিরস শৃঙ্গার সৃষ্টি ও নির্বেদের প্রকাশক।নাট‍্যশাস্ত্রের ভাষ‍্য ও টীকাকারগণ শৃঙ্গারকে শ্রেষ্ঠ ও অপার্থিব উজ্জ্বলরস বলে বর্ণনা করেছেন)।* *ভাস্কর্য দেখা যায়,সেইজন‍্য আদিরসের কবি জয়দেব উৎকলী ছিলেন --এটিই উড়িষ‍্যাবাসীগণের যুক্তি। বলা বাহুল‍্য এ যুক্তিদুর্বল। জয়দেবকে অ-বাঙ্গালী বলবার পক্ষে যথেষ্ট যুক্তি এখনও উপস্থাপিতহয় নাই।*
               *ক্রমাগত*
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 👉 পদাবলী কীর্তনের ইতিহাস 🌷 তৃতীয় ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📝 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/04/podaboli3.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(২৭)পদাবলী কীর্তনের ইতিহাস*
     *কবি জয়দেব ও গীতগোবিন্দ*

*🍀"বাংলা সাহিত‍্যের ইতিবৃত্ত" রচয়িতা ডঃ অসিতকুমার বন্দ‍্যোপাধ‍্যায় বলেছেন--, "সংস্কৃত সাহিত‍্যে 'ছন্দসূত্র' এর রচয়িতা জয়দেব বাংলার জয়দেবের অনেক পূর্ববর্তী" "বাংলাদেশের বাইরে জয়দেবের যে কতদূর প্রতিষ্ঠা বৃদ্ধি পেয়েছিল", বাংলার কবি পদলালিত‍্যে ও উজ্জ্বলরসাত্মক ভক্তিরসামৃত-সিন্ধুতরঙ্গে বাংলার বাইরেও যে প্রেমভক্তির প্লাবন এনেছিলেন প্রভৃতি,(বাংলা সাহিত‍্যের ইতিবৃত্ত,প্রথম খন্ড,১৯৫৯, পৃঃ ৯৩-৯৪), থেকে তিনি যে কবিকে বঙ্গবাসী বলে স্বীকার করেছেন তা বোঝা যায়।তাছাড়া প্রাচীন বাংলা-সাহিত‍্যের ইতিহাস রচয়িতাদের মধ্যে ডঃ শ্রীসুশীলকুমার দে "জয়দেব ও গীতগোবিন্দ" নিবন্ধে, পন্ডিতশ্রীহরেকৃষ্ণ মুখোপাধ‍্যায় "কবি জয়দেব ও গীতগোবিন্দ " গ্রন্থে,ডঃ সুনীতি কুমার চট্টোপাধ্যায় "কবি জয়দেব" নিবন্ধে, স্বর্গীয় রসিকমোহন বিদ‍্যাভূষণ সবঙ্গানুবাদ-"শ্রীশ্রীগীতগোবিন্দম্" গ্রন্থে কবি জয়দেবকে বাঙ্গালী তথা বঙ্গদেশজাত বলেই স্বীকার করেছেন। বাংলাভাষার সাহিত‍্য-রচনার পথিকৃ‍ৎ স্বর্গীয় ডঃ দীনেশচন্দ্র সেন ও বাংলার অন‍্যান‍্য মনীষীদের সিদ্ধান্তও তাই (যদিও দক্ষিণ-ভারতীয় ও মহারাষ্ট্রদেশীয় কোন কোন লেখক শ্রীজয়দেবকে তৎতদেশীয় বলে মন্তব‍্য করেছেন। তাছাড়া উৎকলবাসী মনীষীরা শ্রীজয়দেবের "মিশ্র" পদবীও দাবী করেন)।*
*🍀কবি জয়দেব যে বীরভূমি তথা বীরভূম জেলায় জন্মগ্রহণ করেছিলেন,সেই বীরভূমির নাম-সার্থকতা নিয়েও বাদানুবাদের অন্ত নাই।বৈষ্ণব-পদাবলী-কীর্তনের ঐতিহাসিক আলোচনায় ঐ সব প্রসঙ্গ অপরিহার্য না হলেও পদ-রচয়িতাদের অন‍্যতম কবি জয়দেবের জীবনালেখ‍্যরচনায় এ সব আলোচনা ও উপাদানের সার্থকতা আছে।*
*🌹পন্ডিতবর শ্রীহরেকৃষ্ণ মুখোপাধ‍্যায় বলেন, বীরভূমির পূর্ব নাম ছিল ◆কামকোটি◆।সেকালে পূর্বে অজয়-সম্মিলিতা গঙ্গা,পশ্চিমে আরণ‍্যভূমি (ঝাড়খন্ডের ঘন-অরণ‍্য), উত্তরে পাথরের দেশ (রাজমহলের পর্বতশ্রেণী) এবং দক্ষিণে বিন্ধ‍্যপাদোদ্ভবা বহু নদ-নদী (দামোদর প্রভৃতি ) এই ভূমিখন্ডের চতুঃসীমারূপে নির্দিষ্ট হত।(কবি জয়দেব ও গীতগোবিন্দ, তৃতীয় সংস্করণ,১৩৬২, পৃঃ ১৫) আরো প্রাচীনকালে বীরভূমির ও তার চারিদিকের ভূমিখন্ড "সুহ্ম" নামে পরিচিত ছিল এবং দন্ডী,কালিদাস, বাণভট্ট,ধোয়ী প্রভৃতি কবি একথার উল্লেখ করেছেন। মহাভারতে টীকাকার নীলকন্ঠ বলেন--, "সুহ্মা রাঢ়াঃ"। শ্রীযুক্ত মুখোপাধ‍্যায়ের অনুমান যে, সেন রাজকুমাররাই তাঁদের পূর্বপুরুষ বীরসেনের নামানুসারে "বীরভূমি" নামকরণ করেন।(কবি জয়দেব ও গীতগোবিন্দ, তৃতীয় সংস্করণ,১৩৬২, পৃঃ ১৬)।তিনি আরো বলেন-- "আইন-ই-আকবরী-র মতে,বীরভূমির "লক্ষ্ণুব" (অধুনা "নগর" নামে পরিচিত)বল্লালসেনের প্রতিষ্ঠিত।লক্ষনুবের হিন্দু-শাসনদের সেকালে "বীর" উপাধি ছিল।☆ ☆ জয়দেব রাঢ়ের কবি বীরভূমের কবি।*
*🍀তন্ত্রসাধকসম্প্রদায়ের মধ্যে "বীরভূমির" নামের এক সৃষ্টিকথার প্রচলন আছে।বীরভূম জেলায় সাঁইথিয়া,লাভপুর তারাপুর বা তারাপীঠ, নলহাটী ও বক্রেশ্বর এই পাঁচটি জায়গায় পাঁচটি শক্তিপীঠের প্রতিষ্ঠা আছে।শোনা যায়,দেবীর ভিন্ন ভিন্ন অংশ ঐ পাঁচটি জায়গায় পড়ে, শক্তিতীর্থ ক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে, (শোকোন্মাদ মহাদেবের স্কন্ধলগ্ন সতীদেহকে নারায়ণ তাঁর চক্র দিয়ে বিচ্ছিন্ন করেছিলেন।সতীর দেহ একান্নটি কর্তিত অংশে বিভক্ত হয়ে ভারতের বিভিন্ন জায়গায় পড়েছিল। সেই থেকে "একান্নটি সতীপীঠ"-- লিখেছেন নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ‍্যায় "মন-মধুকর" গ্রন্থে পৃঃ ১৪১।বীরভূমির পাঁচটি শক্তি বা সতীপীঠ ঐ একান্নটি পীঠের অন্তর্গত)।এবং এই পীঠস্থানগুলি তন্ত্রসাধনার ক্ষেত্ররূপে বাংলার শুধু কেন, ভারতের ইতিহাসেও স্থান পেয়েছে।তন্ত্রসাহিত‍্যে তন্ত্রাচারী বা তন্ত্রসাধকরা চক্রানুষ্ঠানে "বীর" নামে পরিচিত।বীর এবং বীরাচার সাধনা কিন্তু সমপর্যায়ভুক্ত নয়।প্রবাদ আছে যে,তন্ত্রাচারী শক্তিসাধকদের ক্ষেত্ররূপেই "বীরভূমি"(বীরদের ভূমি) বীরভূম নামে পরিচিত।ইতিহাস কতটুকু এই নামের সার্থকতাকে মেনে নেবে জানি না, কিন্তু বঙ্গীয় তন্ত্রসাধকরা বীরভূমি বা বীরভূম নামের এই অর্থই সাধারণভাবে গ্রহণ করেন। "বঙ্গীয় তন্ত্রসাধক" বলার উদ্দেশ্য এই যে,সমগ্র তন্ত্রসাহিত‍্যকে পন্ডিতেরা মোটামুটি তিনভাগে ভাগ করেছেন। যেমন (১)বঙ্গীয় সম্প্রদায় বা 'বেঙ্গল স্কুল অফ্ তন্ত্র'--- যা নিছক আচার ও সাধনাত্মক,(২)কাশ্মীরীয় ত্রিকসম্প্রদায় বা 'ত্রিক-স্কুল অফ্ তন্ত্র'-- যা নিছক দর্শন ও তত্ত্ববিচারাত্মক, এবং (৩) দক্ষিণ ভারতীয় শ্রীবিদ‍্যাসম্প্রদায় বা "সাউথ ইন্ডিয়ান স্কুল অফ্ তন্ত্র"-- যা উভয়াত্মক হলেও সাধন ও তত্ত্বপ্রধান।তাছাড়া তন্ত্রে কাদি,হাদি ও ক-হাদি মত তিনটিরও প্রচলন আছে তন্ত্র ও বীজমন্ত্রের শ্রেণীবিভাগ নিয়ে। বাংলাদেশে তন্ত্রসাধনা যে এক সময়ে বিশেষভাবে প্রসার লাভ করেছিল তা রাঢ়দেশ বর্ধমান ও বীরভূমের অন্তর্গত তন্ত্রসাধনার পীঠস্থানগুলি লক্ষ্য করলে বুঝা যায়।বর্ধমানে সাধক কমলাকান্তের সাধনপীঠ ও পঞ্চমুন্ডির আসন আজও বিদ‍্যমান।চান্নাগ্রাম (বর্ধমান) কমলাকান্তের জন্মস্থান।*
*🍀'বীরভূম' নামের আর একটি পরিচয় দিয়েছেন সাহিত‍্যিক নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ‍্যায় "মন-মধুকর" গ্রন্থে এবং সে পরিচয় তাঁর নিজের কথায় বলাই সমীচীন মনে করি। গ্রন্থকার বীরভূম বা বীরভূমির পরিচয় দিয়েছেন কথোপকথনচ্ছলে।তিনি লিখেছেন--"আলোচনা চলেছে বীরভূম কথাটির উৎপত্তি নিয়ে। অধ‍্যাপক বলেছেন, বীরভূম নামের মূলে আছেন রাজা বীরচন্দ্র। এয়োদশ শতাব্দীর সূচনায় এই জঙ্গলাকীর্ণ অঞ্চলে তিনি রাজ‍্য স্থাপন করেন। বাংলার মুসলমান সুবেদারের বিরুদ্ধে স্বাধীনতার যুদ্ধে তিনি প্রাণ দিয়েছিলেন।☆ ☆ সিউড়ির ছয়-সাত মাইল পশ্চিমে তাঁর রাজধানীর ধ্বংসাবশেষ আছে।অদূরে গভীর ভান্ডীরবন।সেই বনের মধ্যে বিরাজ করছেন অনাদিলিঙ্গ মহাদেব ভান্ডেশ্বর।"বিদূষী বউঠান বলেন"--- "এতো হ'ল রাজকীয় নামকরণ"।এবার লৌকিক নাম শোন, বীরভূম ছিল সাঁওতালদের প্রধান অঞ্চল।☆ ☆ সাঁওতালী ভাষায় "বীর" মানে "জঙ্গল"।সাঁওতালরা তাদের ঐ জঙ্গলরাজ‍্যের নাম দিয়েছিল "বীরভূঁইয়াঁ"।সেই বীরভূঁইয়াঁই এখন হয়েছে বীরভূম। (মন-মধুকর, আনন্দধারা প্রকাশন কলকাতা--১৩,পৃঃ ১৪৯-১৫০)।অবশ‍্য এটি কিংবদন্তী বা গল্পকথা হলেও এই প্রবাদের পিছনে ঐতিহাসিক সত‍্য থাকা অসম্ভব নয়।*
*🌻এই পর্যন্ত জয়দেব-প্রসঙ্গে আলোচনা করলাম সাধক-কবির বহিরঙ্গ রূপের কথা,এবার কবির অন্তরঙ্গ-রূপ কাব‍্যগীত মিথুনাত্মক অষ্টপদী বা গীতগোবিন্দ পদগানপ্রকৃতির আলোচনায় প্রবৃত্তি হব। বাংলার কবি জয়দেবের আদিরসাত্মক "গীতগোবিন্দ" পদগানই বৈষ্ণব পদাবলীকীর্তনের অন‍্যতম সৃষ্টিক্ষেত্র ও লীলাভূমি। পরবর্তী বৈষ্ণব-পদাবলী যে ৯ম-১১শ শতকের বৌদ্ধ-চর্যাপদ এবং ১২শ-১৩শ শতকের গীতগোবিন্দের উপরই ভিত্তিভূমি রচনা করেছিল একথা নিঃসংশয়ে সকলে স্বীকার করেন।*
🌹🌹🌹🌹🌹🌹🌻🌹🌹🌹🌹🌹🌹
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 👉 পদাবলী কীর্তনের ইতিহাস 🌷 তৃতীয় ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📝 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/04/podaboli3.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(২৮)পদাবলী কীর্তনের ইতিহাস*
 *গীতগোবিন্দের পাদপীঠ ও রূপ*

*🍀খ্রীষ্টীয় দ্বাদশ শতকের শেষভাগে বাংলার মাটিতে ভক্তকবি জয়দেবের অভ‍্যুদয় হয়েছিল একথা আগেই বলেছি।কবি জয়দেব-রচিত অষ্টপদী বা গীতগোবিন্দ-পদগান শ্রীরাধাকৃষ্ণের অপার্থিব লীলামাধুর্য‍্য সম্পৃক্ত। বাংলার ঠাকুর শ্রীচৈতন‍্যদেব চন্ডীদাস ও বিদ‍্যাপতির "কৃষ্ণকীর্তন", রামানন্দ রায়ের "জগন্নাথবল্লভ নাটক", লীলাশুক বা বিল্বমঙ্গলের "শ্রীকৃষ্ণকর্ণামৃত"-এর মত জয়দেব-রচিত "গীতগোবিন্দ"-পদগানের পরমানুরাগী ছিলেন। শ্রীচৈতন‍্যচরিতামৃত গ্রন্থে শ্রদ্ধেয় কবিরাজ গোস্বামীপাদ লিখেছেন----*
*চন্ডীদাস বিদ‍্যাপতি, রায়ের নাটকগীতি,*
      *কর্ণামৃত শ্রীগীতগোবিন্দ।*
*স্বরূপ রামানন্দ সনে,মহাপ্রভু রাত্রি দিনে,*
     *গান শুনে পরম আনন্দে।।*
*🍀পুরী তথা পুরুষোত্তমে রাজগুরু কাশীমিশ্রের বাসস্থানের ছোট কক্ষের নাম "গম্ভীরা"।প্রতিদিন নীলাচলে বাসের সময় বৈষ্ণবসাধক স্বরূপদামোদর ও রায় রামানন্দের সঙ্গে গম্ভীরার গুপ্তকক্ষে মহাপ্রভু ঐ গ্রন্থগুলির পাঠ শুনতেন।স্বরূপ ও রামরায় বিদগ্ধ শাস্ত্রজ্ঞানী ও পরমভক্ত ছাড়াও ভারতীয় সঙ্গীতবিদ‍্যায় ও সঙ্গীতশাস্ত্রে পারঙ্গম ছিলেন।কবি জয়দেবের মধুর-কোমলকান্ত পদাবলী শুনে শ্রীচৈতন‍্যদেব মুহুর্মুহু মহাভাবে সমাধিস্থ হতেন। শোনা যায়,সমুদ্রের গভীর গর্জনও সেই সমাধি ও মহাভাবকে ভঙ্গ করতে পারত না।*
*🌻মরমী বৈষ্ণব-সাধকগণের মতে, গীতগোবিন্দ একটি মহাকাব‍্য।কারণ,ইহার নায়ক স্বয়ং শ্রীকৃষ্ণ এবং নায়িকা পরমেশ্বরী শ্রীরাধা বা রাধিকা। শোনা যায়,লীলাশুক বা বিল্বমঙ্গল ঠাকুর-রচিত শ্রীকৃষ্ণকর্ণামৃত অমৃতগ্রন্থের অনুকরণে কবি জয়দেব গীতগোবিন্দের পদসম্ভার রচনা করেছিলেন মহারসে ও ভাবে সমৃদ্ধ করে।গীতগোবিন্দ দ্বাদশ সর্গে বিভক্ত।এতে আশিটি শ্লোক ও চব্বিশটি গীতের সমাবেশ আছে।এদের মধ্যে বাহাত্তরটি শ্লোক বিভিন্ন বৃত্তছন্দে,একটি শ্লোক জাতিছন্দ ও অবশিষ্ট দুটি শ্লোক ও চব্বিশটি গীত অপভ্রংশ ছন্দে রচিত।(◆অধ‍্যাপক শ্রীসুধীভূষণ ভট্টাচার্য্য এম.এ, জয়দেবের ছন্দ,পন্ডিত শ্রীহরেকৃষ্ণ মুখোপাধ‍্যায়-লিখিত "কবি জয়দেব ও গীতগোবিন্দ", তৃতীয় সংস্করণ, পৃঃ ২০৯ দ্রষ্টব‍্য)।পন্ডিত শ্রীহরেকৃষ্ণ মুখোপাধ‍্যায় তাঁর গ্রন্থের ভূমিকায় সর্গবন্ধ-নিবন্ধে গীতগোবিন্দের দ্বাদশ সর্গের নাম ও প্রকৃতি-সম্বন্ধে বিস্তৃত আলোচনা করেছেন। বিশেষভাবে বাংলার চক্ষুষ্মান বৈষ্ণব-কবিগণ এই সর্গনাম ও তাদের অর্থ-সার্থকতা স্বীকার করেন।আমরা পন্ডিত মুখোপাধ‍্যায়-বর্ণিত সর্গনাম-সার্থকতার সামান্য কিছু এখানে উল্লেখ করব।তার প্রথম কারণ হল,বৈষ্ণব-পদাবলী কীর্তন প্রসঙ্গে বিদগ্ধ বৈষ্ণব-সাধকগণ সমর্থিত গীতগোবিন্দের সর্গনামের আলোচনা অপরিহার্য এবং দ্বিতীয় কারণ,গীতগোবিন্দপদগান ভক্তিরসানুভূতিরই মধুরোজ্জ্বল প্রশান্ত প্রতিচ্ছবি এবং অধ‍্যাত্মসাধক ও সৌন্দর্য‍্য-রস-লিপ্সু সাহিত‍্যিক ও কবিমাত্রেই গীতগোবিন্দের ঐ ভক্তিরস সম্পর্কিত বিবৃতির একান্ত অনুগামী।*
*পন্ডিত হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ‍্যায়ের বিবৃতির সারমর্ম হল--,(১)গীত গোবিন্দের প্রথম সর্গের নাম "সামোদ-দামোদর" শ্রীরাধার শ্রীকৃষ্ণ-দামোদর-বিরহের স্মৃতিছবি। (২)গীতগোবিন্দের দ্বিতীয় সর্গের নাম "অক্লেশকেশব"।নবকিশোর শ্রীকৃষ্ণকে লাভ করার জন্য মহাপ্রকৃতিময়ী শ্রীরাধার যেমন আকুলতা, শ্রীকৃষ্ণেরও শ্রীরাধাকে লাভের জন্য তেমনি ব‍্যাকুলতা।পারস্পরিক অপার্থিব প্রেমের বিহরের জন্য ব‍্যাকুলতা এবং মিলনের আবেগ ও উৎকণ্ঠা এই সর্গের বর্ণনাকে রসসিঞ্চিত করেছে। মুক্তিকামী ভক্ত ও মুক্তকেন্দ্র ভগবানের পারস্পরিক বিরহ ও মিলনের প্রতিচ্ছবিও এই সর্গের বিষয়বস্তু।গীতগোবিন্দের তিন-চার সর্গের নাম "মুগ্ধ-মধুসূদন" ও "স্নিগ্ধ মধুসূদন"।শ্রীমুখোপাধ‍্যায় বলেছেন--, "মধুসূদন নামের অর্থ 'ভ্রমর'। জয়দেব শ্লিষ্ট প্রয়োগে অনেক স্থানেই মধুরিপু, মধুসূদন প্রভৃতি শব্দ ব‍্যবহার করেছেন।" যেমন "অক্লেশ-কেশব" নামাঙ্কিত দ্বিতীয় সর্গের নবম শ্লোকে জয়দেব বলেছেন--, "শ্রীজয়দেবভণিত-মতিসুন্দর-মোহন- মধুরিপুরূপম"।ঐ দ্বিতীয় সর্গের সপ্তদশ শ্লোকে আছে--, "নিঃসহনিপতিত তনুলতয়া মধুসূদনমুদিতমনোজম্" এবং অষ্টাদশ শ্লোকে আছে--, শ্রীজয়দেবভণিতমিদমতিশয় মধুরিপু নিধুবনশীলম্" প্রভৃতি।তৃতীয় "মুগ্ধ- মধুসূদন-সর্গে পরমনায়ক শ্রীকৃষ্ণ পরমনায়িকা শ্রীরাধিকার জন্য ব‍্যাকুল ও চিন্তান্বিত, আর চতুর্থ সর্গে শ্রীরাধিকার সখী শ্রীকৃষ্ণের কাছে শ্রীমতীর অবস্থার কথা নিবেদন করেছে।(৫)গীতগোবিন্দের পঞ্চম সর্গের নাম "সাকাঙ্খ-পুন্ডরীকাক্ষ"। এই সর্গে পদ্মলোচন শ্রীকৃষ্ণ শ্রীরাধার অভিসারের আগমন আকাঙ্খায় অপেক্ষমান।(৬)ষষ্ঠ সর্গের নাম "ধৃষ্ট-বৈকুন্ঠ"।এই সর্গে কবি জয়দেব নায়ক শ্রীকৃষ্ণকে বলেছেন-- ধৃষ্ট, কেননা নায়িকা পথিকের দ্বারা যে সঙ্কেত-বাণী পাঠিয়েছিলেন,তা গোপরাজ নন্দের সম্মুখে ব‍্যক্ত করলেও শ্রীকৃষ্ণ অপ্রতিভ (অপ্রস্তুত বা হতবুদ্ধি) না হয়ে বরং পথিকের প্রশংসায় করেছিলেন।(৭) সপ্তম সর্গের নাম "নাগর-নারায়ণ"। বহুনায়িকাবল্লভ শ্রীকৃষ্ণের জন্য শ্রীরাধা ব‍্যাকুল এবং তাঁর বিপ্রলব্ধ অবস্থা।শ্রীকৃষ্ণের অদর্শনে শ্রীরাধার যে বাসকসজ্জা ব‍্যর্থতায় পরিণত, সেকথায় কবি জয়দেব রসপূর্ণ সাবলীল ছন্দে বর্ণনা করেছেন।(৮) অষ্টম সর্গের নাম "বিলক্ষ-লক্ষ্মীপতি"। এই সর্গে শ্রীরাধার প্রেমের পরম-উৎকর্ষ সাধিত হয়েছে। শ্রীকৃষ্ণ সজ্জিত কুঞ্জে আগমন না করায় শ্রীরাধা মানিনী এবং সেখানে তাঁকে "খন্ডিত নায়িকা" বলে কবি জয়দেব বর্ণনা করেছেন--, "শ্রীজয়দেবভণিতরতিবঞ্চিত খন্ডিতযুবতিবিলাপম্"।(৯) নবম সর্গের নাম "মুগ্ধ-মুকুন্দ"। এ সর্গে কবি জয়দেব শ্রীকৃষ্ণের চিন্তাকুল অবস্থার কথা বর্ণনা করেছেন,কেননা শ্রীরাধা এখানে মানক্লিষ্ট এবং তারজন‍্য শ্রীকৃষ্ণ সেই মান উপশমনের চিন্তায় আকুল।(১০) দশম সর্গের নাম "মুগ্ধ-মাধব"। এখানে কবি জয়দেব শ্রীকৃষ্ণকে শ্রীরাধার পদ ধারণ করিয়ে তাঁর মান অপসারণ করিয়েছেন।শ্রীকৃষ্ণের অনুনয় এখানে, "বদসি যদি কিঞ্চিদপি দন্তরুচিকৌমুদী, হরতিদরতিনিরমতিঘোরম্"। মান অপসারণ করার জন্য শ্রীকৃষ্ণ চারুশীলা প্রিয়া শ্রীরাধাকে জোড়হাত করে বারংবার অনুনয় জানিয়েছেন। (১১)একাদশ সর্গের নাম "সানন্দ-গোবিন্দ"।এই সর্গে কবি জয়দেব নায়ক ও নায়িকা যে উভয় উভয়কে লাভের সম্ভাবনায় আনন্দিত এই ভাব রসসিঞ্চিত ভাবস্নিগ্ধ ভাষায় বর্ণনা করেছেন।(১২) গীতগোবিন্দের দ্বাদশ সর্গের নাম "সুপ্রীত-পীতাম্বর"। এই সর্গে জয়দেব শ্রীকৃষ্ণ স্বয়ং শ্রীরাধার মানভঞ্জন করে তাঁর সেবাধিকার লাভে কৃতকৃতার্থ এইভাব সাবলীল ছন্দে বর্ণনা করেছেন। সুতরাং গীতগোবিন্দের সমগ্র পদ পরমনায়ক ও পরমা নায়িকা শ্রীকৃষ্ণ ও শ্রীরাধার অপার্থিব লীলামাধুর্য‍্য বর্ণনায় মুখরিত। (◆পন্ডিত হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ‍্যায় "কবি জয়দেব ও গীতগোবিন্দ" তৃতীয় সংস্করণ,১৩৬২সন, গ্রন্থে "সর্গবন্ধ" আলোচনায় পৃষ্ঠা১৭ থেকে ১৭৭, যে সর্গনাম-সার্থকতার বিস্তৃত বিশ্লেষণ করেছেন তা দ্রষ্টব‍্য)।*
                  *ক্রমাগত*
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 👉 পদাবলী কীর্তনের ইতিহাস 🌷 তৃতীয় ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📝 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/04/podaboli3.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(২৯)পদাবলী কীর্তনের ইতিহাস*
 *গীতগোবিন্দের পাদপীঠ ও রূপ*

*🍀দ্বাদশ সর্গের সপ্তবিংশতি (২৭) শ্লোকে ভক্তকবি নিজেই নিজের শ্রীকৃষ্ণৈকতানতার বর্ণনা করেছেন এবং এই শ্রীকৃষ্ণগত চিত্ত শ্রীলাভের জন্য রসিক ভক্তজনের কাছেও নিজের আবেদন জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন,*
*🌷যদ্ গান্ধর্বকলাসু কৌশলমনুধ‍্যানঞ্চ যদ্বৈষ্ণবং,*
*🌷যচ্ছৃঙ্গারবিবেকত্ত্বমপি যৎ কাব‍্যেষু লীলায়িতম্।*
*🌷তৎ সর্বং জয়দেবপন্ডিতকরেঃ কৃষ্ণৈকতানাত্মনঃ,*
*🌷সানন্দাঃ পরিশোধয়ন্তু সুধিয়ঃ শ্রীগীতগোবিন্দতঃ।।*
*🍀পদগানে লীলায়িত উজ্জ্বলবেশ দিব‍্য-শৃঙ্গাররস মহাপ্রেমরস-রূপে বিদিত।বৈষ্ণব-পদাবলীকীর্তনের মুখ‍্য বা আদি রসই শৃঙ্গার।এই আদিরস শৃঙ্গারের চরম ও পরম লক্ষ্য কামগন্ধবিহীন পরমোজ্জ্বল পুরুষ-প্রকৃতি-তত্ত্বববোধ।শ্রীকৃষ্ণরতি শ্রীকৃষ্ণপ্রেম ও শ্রীকৃষ্ণমিলনই বৈষ্ণব পদাবলীগানের মূল-উদ্দেশ‍্য।গীতগোবিন্দের দ্বাদশ সর্গের সপ্তবিংশতি শ্লোকে আলোকপাত করে টীকাকার পূজারী গোস্বামী তাই বলেছেন--,তৎ কিমিত‍্যাহ। যৎ গান্ধর্বকলাসু সংগীতশাস্ত্রোক্ত গীতরাগতালাদিসু যন্নৈপুণ‍্যং তদেব নির্বন্ধনানুসারেণ জানন্তু ইত‍্যর্থঃ।☆ ☆ তত্রাপি দুরূহগতেঃ শৃঙ্গারস‍্য মহাপ্রেমরসস‍্য বিচারে যৎ তত্ত্বং দুরূহব্রজলীলাগতং তদপ‍্যেতদনুসারেণ নিশ্চিন্বন্তু। কাব‍্যেসু যল্লীলায়িতং রসলীলাদিব‍্যঞ্জকবিশেষগ্রথনং তদপ‍্যেতদনুসারেণ নিশ্চিন্ঠন্তু। সর্বত্র হেতুঃ শ্রীকৃষ্ণে একতানঃ একাগ্রোহনন‍্যবৃত্তিরাত্মা মনো যস‍্য তস‍্য শ্রীকৃষ্ণৈকান্তভক্তস‍্যৈব সর্বগুণাশ্রয়ত্বাদিত‍্যর্থঃ। যস‍্যাস্তি ভক্তির্ভগবত‍্যকিঞ্চনেত‍্যুক্তেঃ।*
*🍀সুতরাং পদাবলীকীর্তনের পাদভূমি বা অধিষ্ঠান "গীতগোবিন্দ" পদগান মানবীয় কামরসসম্পৃক্ত(সম্পৃক্ত=মিলিত বা সংযুক্ত) নয়। অবশ‍্য গীতগোবিন্দের পাদপীঠ বা উৎসক্ষেত্র বৌদ্ধ-বজ্রযানী আচার্যগণ-রচিত চর্যাগীতি।তবে চর্যাগীতি অপেক্ষা গীতগোবিন্দের কলামাধুর্য‍্য ও সাহিত‍্য প্রসারতা আরও অনেক বেশী।অপার্থিব শ্রীকৃষ্ণতত্ত্ব বা বিশ্বকারণ পুরুষের স্বরূপার গতির ক্ষেত্রে পার্থিব রসস্পর্শের কোন সার্থকতা থাকে না।কাজেই কবি জয়দেব রচিত গীতগোবিন্দকে যাঁরা মানবীয় প্রেম তথা কন্দর্প-কামগন্ধজর্জরিত বলেন, তাঁরা "গীতগোবিন্দ"-পদগানই শুধু নয়,মহাজন-বৈষ্ণব-পদকর্তাগণ-রচিত কোন পদাবলী ও পদাবলীকীর্তনের রস-সম্ভোগ করার মোটেই অধিকারী নন।তন্ত্রে শৃঙ্গাররসপীঠ কামকলা কুন্ডলিনীশক্তিকে সর্ববন্ধনাতিরিক্ত পরমশিবের প্রসুপ্ত বা অব‍্যক্ত রূপ বলে বর্ণনা করা হয়েছে।জাগ্রতা শক্তিই নিষ্কল শিব বা মায়ালেশশূন‍্য পরব্রহ্মের স্বরূপ।কাম সেখানে বিশ্বাতীত কামনাগন্ধহীন পরমপ্রেমে উন্নীত এবং এই প্রেমাস্বাদন বা প্রেমপরিণতি মানুষের পরম আকাঙ্খিত সামগ্রী ও চরমলাভ।অদ্বৈতবেদান্তবাদী মধুসূদন সরস্বতী "ভক্তিরসায়ণ"গ্রন্থে শৃঙ্গাররসোদ্ভুত প্রেমের পরমপ্রকাশকে "ব্রহ্মাস্বাদসহোদরা" বলে বর্ণনা করেছেন। সুতরাং গীতগোবিন্দে শৃঙ্গাররস ও শৃঙ্গারবেশসেবিত রাধাকৃষ্ণলীলাতত্ত্বকে পার্থিব কামগন্ধহীন অধ‍্যাত্মতত্ত্বেরই প্রতিচ্ছবি-রূপে আমাদের দেখা ও গ্রহণ করা উচিত।চৈতন‍্যচরিতামৃতে গোস্বামী কৃষ্ণদাস কবিরাজ রায়চৈতন‍্য-সংবাদে শ্রীকৃষ্ণতত্ত্ব ও শ্রীরাধাতত্ত্বের অবতারণা করে বলেছেন---*
*🌷প্রভু কহে যাঁহা লাগি আইলাম তোমা স্থানে।*
*🌷সেই সব রসতত্ত্ব বস্তু হইল জ্ঞানে।।*
*🌷এবে সে জানিল সেব‍্য সাধ‍্যের নির্ণয়।*
*🌷আগে আর কিছু শুনিবারে মনে হয়।।*
*🌷কৃষ্ণের স্বরূপ কহ রাধার স্বরূপ।*
*🌷রস কোন্ তত্ত্ব প্রেম কোন্ তত্ত্ব রূপ।।*
*শ্রীরায় রামানন্দ শ্রীকৃষ্ণতত্ত্ব বিশ্লেষণের পর রাধাতত্ত্ব সম্বন্ধে বলেছেন----*
*🌷কৃষ্ণকে আহ্লাদে তাতে নাম আহ্লাদিনী।*
*🌷সেই শক্তি-দ্বারে সুখ আস্বাদে আপনি।।*
*🌷সুখরূপ কৃষ্ণ করে সুখ আস্বাদন।*
*🌷ভক্তগণে সুখ দিতে হ্লাদিনী কারণ।।*
*🌷হ্লাদিনীর সার অংশ প্রেম তার নাম।*
*🌷আনন্দ চিন্ময় রস প্রেমের আখ‍্যান।।*
*🌷প্রেমের পরমসার মহাভাব জানি।*
*🌷সেই মহাভাবরূপ রাধা ঠাকুরাণী।।*
   ☆ ☆ ☆
*🌷সেই মহাভাব হয় চিন্তামণি সার।*
*🌷কৃষ্ণ-বাঞ্জা পূর্ণ করে এই কার্য তাঁর।।*
*🌷মহাভাব চিন্তামণি রাধার স্বরূপ।*
*🌷ললিতাদি সখী তাঁর কায়ব‍্যূহরূপ।।*
*🌷রাধা প্রতি কৃষ্ণ-স্নেহ সুগন্ধি উদ্বর্তন।*
*🌷তাতে অতি সুগন্ধি দেহ উজ্জ্বল বরণ।।*
  ☆ ☆ ☆
*🌷কৃষ্ণের বিশুদ্ধ প্রেম রত্নের আকর।*
*🌷অনুপম গুণগণে পূর্ণ কলেবর।।*
  ☆ ☆ ☆
*🌷যার সদ্ গুণগণের কৃষ্ণ না পান পার।*
*🌷তাঁর গুণ গণিবে কেমনে জীব ছার।।*
*🌻প্রকৃতপক্ষে শ্রীরাধিকার মহাভাব কৃষ্ণরতি ও কৃষ্ণপ্রেমের চরম পরিণতি। বৈষ্ণব লীলা বা রসকীর্তনের চরম আস্বাদন যাঁরা করতে চান তাঁদের সর্বদা মনে রাখতে হবে যে,গীতগোবিন্দ ও তার পরবর্তী যাবতীয় পদগানের নায়ক নায়িকা শ্রীরাকৃষ্ণের ভাবসত্ত্বা-সম্বন্ধের সঙ্গে সঙ্গে তাঁদের পরমতত্ত্বজ্ঞানের অনুভূতি লাভই সাধক জীবনের উদ্দেশ্য,কেবলই বৌদ্ধিক শুষ্ক বিচার ও মানসিক ধারণার বিষয় পদগানতত্ত্ব নয়।তারজন‍্য বৈষ্ণব আলঙ্কারিক ও পদকর্তারা পদাবলী বা পদগানের মধ্যে নিগূঢ় শ্রীরাধাকৃষ্ণের অপার্থিব প্রেমতত্ত্বের ব‍্যাখ‍্যা ও বিশ্লেষণ করেছেন বিশ্বাতীত দৃষ্টিভঙ্গী নিয়ে।কবি জয়দেবের "গীতগোবিন্দ" পদগানের মর্মকথাও তাই।স্বর্গীয় প্রেমতত্ত্বের পরিপ্রেক্ষিতেই গীতগোবিন্দের পদগানগুলি আমাদের বিশ্লেষণ করা উচিত এবং তাদের তত্ত্বাববোধ ও রস-সম্ভোগই শিল্পী, সাহিত্যিক ও সাধকজনের মুখ‍্য-উদ্দেশ‍্য।*
🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 👉 পদাবলী কীর্তনের ইতিহাস 🌷 তৃতীয় ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📝 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/04/podaboli3.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(৩০)পদাবলী কীর্তনের ইতিহাস*
*গীতগোবিন্দের রসতত্ত্ব ও দর্শনতত্ত্ব*

*🍀গীতগোবিন্দের পদগানগুলি যে রস,ভাবানুবিদ্ধ অপার্থিব ঐশ্বরিক অনুভূতি ও স্পন্দনের সঞ্চার করে এবং তার রস-ভাব-উৎসই যে পরবর্তী বৈষ্ণব-পদাবলী-কীর্তনের সাহিত‍্যে ও সুরে রস-মন্দাকিনী প্রবাহিত করেছিলতার কিছুটা আভাস দেবার এখানে চেষ্টা করব।*
*🍀গীতগোবিন্দের গানগুলি প্রায়ই আটটি আটটি পদে বা কলিকায় রচিত বলে একে অনেকে "অষ্টপদী" নামে অভিহিত করেন।অষ্টপদীর প্রথম ও দ্বিতীয় পদদুটি পরবর্তী পদগুলির রস ও ভাবের উদ্বোধক এবং প্রতিষ্ঠাও বটে।এই দুটি পদে শ্রীকৃষ্ণ-ভগবানের দশাবতার রূপের বর্ণনা করেছেন কবি জয়দেব। অপরূপ রসনিবিড় ভাববিদগ্ধ ভাষায় ও ছন্দে।মীন,কূর্ম,বরাহ,নৃসিংহ,বামন,পরশুরাম,রামচন্দ্র,বলরাম,বুদ্ধ ও কল্কি এই দশপ্রকার রূপ প্রথম পদ বা গানের পঞ্চম থেকে চতুর্দশ শ্লোকে বর্ণিত হয়েছে এবং এই অবতারদের বলা হয়েছে "বেদানুদ্ধবতে জগন্তি বহতে" প্রভৃতি,অর্থ‍্যাৎ তাঁরা বেদের উদ্ধারকারী ও ত্রিলোক-ভারবহনকারী। পূজারী গোস্বামী ◆(পূজারী গোস্বামী "চৈতন‍্যদাস" নামেও পরিচিত ছিলেন।তিনি নাকি "ভাবার্থদীপিকা"নামে গীতগোবিন্দের আর একটি টীকা রচনা করেছিলেন।তিনি ছিলেন বাঙ্গালী ও শ্রীচৈতন‍্যদেবের কিছু পরবর্তী।পন্ডিত শ্রীহরেকৃষ্ণ মুখোপাধ‍্যায় লিখেছেন--, কবিরাজ গোস্বামী কৃষ্ণদাস শ্রীচৈতন‍্যচরিতামৃত প্রণয়নকালে শ্রীধামস্থ যে কয়জন প্রধান প্রধান বৈষ্ণবদের অনুমতি গ্রহণ করেছিলেন,চৈতন‍্যদাস তাঁদের মধ্যে অন‍্যতম এবং এই চৈতন‍্যদাসই শ্রীগীতগোবিন্দের টীকাকার পূজারী গোস্বামী।☆ ☆ শ্রীচৈতন‍্যচরিতামৃতের অষ্টম পরিচ্ছেদে বর্ণিত আছে -----*
*🌷পন্ডিত গোসাঞীঁর শিষ‍্য ভূগর্ভ গোসাঞি।*
*🌷গৌরকথা বিনা আর মুখে অন‍্য নাঞি।।*
*🌷তার শিষ্য গোবিন্দপূজক চৈতন‍্যদাস।*
*🌻চৈতন‍্যদাসই যে পূজারী গোস্বামী শ্রদ্ধেয় মুখোপাধ‍্যায় মহাশয় তার প্রমাণ দিয়েছেন গদাধর শিরোমণির দৌহিত্রবংশীয় বাঁকুড়া সোনামুখীর জমিদার স্বর্গত তিনকড়ি বন্দ‍্যোপাধ‍্যায়ের গৃহ রক্ষিত একটি প্রাচীন "বালবোধিনী-টীকার" সূচনাশ্লোক থেকে। শ্লোকটি হল---*
 ☆ ☆ ☆
*🌷স্বয়ং বোদ্ধ মভিপ্রায়ং জয়দেব-মহামতেঃ।*
*🌷টীকা চৈতন‍্যদাসেন প্রথ‍্যতে বালবোধিনী।।*
☆ ☆ ☆
*🌻🌻পুঁথির সমাপ্তি শ্লোক🌻🌻*
*🌷গোবিন্দ-পাদ-সেবায়াঃ প্রভাবাদুদিতা স্বয়ম।*
*🌷চৈতন‍্যদাসতো বালবোধিনী স‍্যাৎ সতাং মুদে।।*
*🔵কিন্তু অধুনা মুদ্রিত "বালবোধিনী" টীকার সূচনাশ্লোকের অংশ হল---*
*🌷স্বয়ং বোদ্ধ মভিপ্রায়ং জয়দেব-মহামতেঃ।*
*🌷ক্রমেণোপক্রমাদেষা গ্রথ‍্যতে বালবোধিনী।।*
*🌻তাছাড়া "অত্র ব‍্যাকরণাদীনাং গ্রন্থবাহুল‍্য ভীতিতঃ" থেকে শেষচরণ "ভাবার্থদীপিকাযাঞ্চ ভাবো ভাবার্থলোলুপৈঃ" এই রকম পাঠই আছে। সুতরাং বিশেষ বিচার করে দেখলে "সুবোধিনী-টীকাকার পূজারী গোস্বামী ও চৈতন‍্যদাস এক ও অভিন্ন ব‍্যক্তি বলে মনে হয়।তবে একথাও সত‍্য যে, বৈষ্ণব সাহিত‍্যে কয়েকজন চৈতন‍্যদাসেরও নাম পাওয়া যায়)।*
*🍀পূজারী গোস্বামী তাঁর বালবোধিনী টীকায় শ্রীকৃষ্ণের "দশাবতার" রূপকে দশবিধ রসের প্রতিষ্ঠা বা আকর বলেছেন।তিনি বলেছেন--, "অথ তৎকেলীনাং সর্বোৎকর্ষপ্রতিপাদনায়াদৌ সর্বরসাশ্রয়স‍্য শ্রীকৃষ্ণস‍্য মৎস‍্যাদ‍্যবতারত্বেন সর্বসাধিষ্ঠাতুবখিলনায়কশিরোরত্নতাং প্রতিপাদয়ন ☆ ☆ বসন্তে বাসন্তীত‍্যন্তেন। ☆ ☆ অনেন‍্যৈর মীনস‍্য বীভৎসবসাধিষ্ঠাতৃত্বংবিজ্ঞাপিতম্ "।*
*🍀পূজারী গোস্বামীর মতে, সর্বরসাশ্রয় সর্বভাবঘন শ্রীকৃষ্ণের মীনরূপ বীভৎসরসের প্রকাশক।সেরকম কূর্মাবতার অদ্ভুতরসের আশ্রয় (অনেনৈব কূর্মস‍্যাদ্ভুতরসাধিষ্ঠাতৃত্বং বিজ্ঞাপিতম্), বরাহ ভয়ানকরসের অধিষ্ঠাতা,নৃসিংহ বৎসলরসের,বামন সখ‍্যরসের,পরশুরাম রৌদ্ররসের,রামচন্দ্র করুণরসের, হলধর বা বলরাম হাস‍্যরসের, বুদ্ধ শান্তরসের এবং কল্কি-অবতার বীররসের আকর বা আশ্রয়। দশাবতারূপাশ্রয়ী শ্রীকৃষ্ণকে কবি জয়দেব তাই সর্বরসোত্তম শৃঙ্গার বা শৃঙ্গারস্বরূপ বলে বর্ণনা করেছেন।তাছাড়া পূজারী গোস্বামী দ্বিতীয় গীত---, "শ্রিতকমলাকুচমন্ডল।ধৃতকুন্ডল" প্রভৃতির প্রসঙ্গে বলেছেন--, "দশাবতারান্ কুর্বতে শ্রীকৃষ্ণায় সর্বাকর্ষণানন্দায় তুভ‍্যং নমোহস্তু। ☆ ☆ শ্রীকৃষ্ণস‍্য সর্বনায়কশিরোরত্নতাপ্রতিপাদনায় ধীরোদাত্তত্বাদিচতুর্বিধনায়কগুণ সমন্বয়েন সর্বোৎকর্ষাবিভাবনং প্রার্থয়তে শ্রিয়কময়লত‍্যাদিভিঃ"। এই প্রসঙ্গে ডক্টর শ্রীসুশীলকুমার দে Early History of the Vaishnava Faith and Movement in Bengal (1942) গ্রন্থে বলেছেন--, The opening Dasavatra-stotra, as well as the second Jaya-Jaya-Deva-Hare stotra, presents krishna in his Aisvarya aspect,not as on Avatara,but as the veritable suprime deity of many incarnations (dasakritikriti krishnaya tubhyamnamah), omitting all reference to Radha but mentioning sri or Laksmi.As the poem proceeds the Dhirodatta Nayaka becomes Dhirlalita, and all the erotic Madhurya implications of the theme are developed to their fullest exten.*
                  *ক্রমাগত*
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🔜 ক্রমাগত 👉 পদাবলী কীর্তনের ইতিহাস 🌷 চতুর্থ ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📝 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/04/podaboli4.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

    📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝
    ꧁👇📖 সূচীপত্র ✍️ শ্রী জয়দেব দাঁ 📖👇



✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧


✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

   ✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️ 
নিবাস- বাঁশবাড়ী, কীর্তন মন্দিরের পাশে, পোঃ- বাঁশবাড়ী, থানা- ইংরেজ বাজার, জেলা- মালদহ, পশ্চিমবঙ্গ, পিন কোড- ৭৩২১০১।

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

  *••••┉❀꧁👇🏠Home Page🏠👇꧂❀┅••••* 


✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

    *••••━❀꧁👇 📖 সূচীপত্র 📖 👇꧂❀┅••••* 



✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

     *••••━❀꧁👇📚 PDF গ্রন্থ 📚👇꧂❀┅••••* 


✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
    *••••┉━❀꧁ 🙏 রাধে রাধে 🙏 ꧂❀━┅••••* 
                   শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য প্রভু নিত্যানন্দ
              হরে কৃষ্ণ হরে রাম শ্রীরাধেগোবিন্দ।।
  *••••┉━❀꧁ 🙏 জয় জগন্নাথ 🙏 ꧂❀━┅••••*
              হরে কৃষ্ণ হরে কৃষ্ণ কৃষ্ণ কৃষ্ণ হরে হরে
              হরে রাম হরে রাম রাম রাম হরে হরে॥
  *••••┉━❀꧁ 🙏 জয় রাধাকান্ত 🙏 ꧂ ❀━┅••••*
   🌷❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀🌷
   🏵️❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀🏵️
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧







প্রেমঋণে শ্রীগৌরাঙ্গ মাধব 🥀 শ্রীরাধাবিনোদ সরকার 📖 দ্বিতীয় ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/04/prem2.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🔙 পূর্ব লীলা 👉 প্রেমঋণে শ্রীগৌরাঙ্গ মাধব 🥀 শ্রীরাধাবিনোদ সরকার 📖 প্রথম ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/03/prem.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 👉 প্রেমঋণে শ্রীগৌরাঙ্গ মাধব 🥀 শ্রীরাধাবিনোদ সরকার 📖 দ্বিতীয় ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/04/prem2.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 👉 প্রেমঋণে শ্রীগৌরাঙ্গ মাধব 🥀 শ্রীরাধাবিনোদ সরকার 📖 দ্বিতীয় ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/04/prem2.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(১১)👣প্রেমঋণে শ্রীগৌরাঙ্গ মাধব👣*
             *শ্রীকৃষ্ণের প্রথম বাঞ্জা*

*🍀শ্রীমতী রাধারাণী হচ্ছেন দেবী অর্থ‍্যাৎ অনন্তকোটি ব্রহ্মান্ডের সুন্দরীগণের মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠা,কৃষ্ণময়ী অর্থ‍্যাৎ "শ্রীকৃষ্ণ যাঁহার অন্তরে বাহিরে।যাহা যাহা নেত্র পড়ে তাহা কৃষ্ণ স্ফুরে।।তিনি সর্বপূজ‍্যা, সর্বপালিকা,সর্বলক্ষ্মীময়ী, সম্মোহিনী অর্থ‍্যাৎ যে কৃষ্ণ নিজরূপ মাধুর্য‍্যে সর্বজগতকে মুগ্ধ করেন,এমন গোবিন্দকেও যিনি মুগ্ধ করেছেন, সর্বকান্তি অর্থে যিনি সর্বসৌন্দর্য‍্যের আধার স্বরূপা ও পরা অর্থ‍্যাৎ সর্বপ্রকার সর্বশ্রেষ্ঠা।শ্রীচৈতন‍্যচরিতামৃতে শ্রীকৃষ্ণ নিজ শ্রীমুখে শ্রীরাধার প্রণয়মহিমা বর্ণনা করেছেন ঃ--- যথা-----*
*🌷না জানি রাধার প্রেমে আছে কতবল।*
*🌷সে বলে আমায় করে সর্বদা বিহ্বল।।*
*🌻🌻🌻বল=শক্তি🌻🌻🌻*
*🌷রাধিকার প্রেমগুরু আমি শিষ্য নট।*
*🌷সদা আমায় নানা নৃত্যে নাচায় উদ্ভট।।*
*🌻এই নৃত্যগুরু সম্বন্ধে শ্রীগোবিন্দ লীলামৃত গ্রন্থে বর্ণিত হয়েছে--*
*🌷কস্নাদ বৃন্দে,প্রিয় সখি হরে পাদমূলাৎ কুতোহসৌ।*
*🌷কন্ডারণ‍্যে কিমিহ কুরুতে নৃত্য শিক্ষা গুরু কঃ।।*
*🌷তং তন্মূতিং প্রতিতরুলতাং দিগবিদিক্ষু স্ফূরন্তী।*
*🌷শৈলষীর ভ্রমতি পরিতো নর্ত্তয়ন্তী স্বপশ্চাৎ।।*
*🌻শ্রীরাধা বললেন--বৃন্দে! কোথা হতে এলে?বৃন্দা কহিলেন-- প্রিয়সখি! আমি শ্রীহরির শ্রীচরণ দর্শন করে এলাম।শ্রীরাধা কহিলেন---এখন শ্রীকৃষ্ণ কোথায়?বৃন্দা বললেন-- তিনি এখন কুঞ্জকাননে,রাধাকুন্ডারণ‍্যে।রাধা বললেন--তিনি এখন কি করছেন?বৃন্দা বললেন--নৃত‍্যশিক্ষায় নিযুক্ত আছেন।শ্রীরাধা পুনঃ বললেন-- নৃত‍্যশিক্ষার গুরু কে? বৃন্দা কহিলেন--তোমরই মূর্তি কি দিক, কি বিদিক তরুলতাদিতে সর্বত্র স্ফূর্তিপ্রাপ্ত হয়ে শৈলষীর (নর্তকীর) মত ভ্রমণ সহকারে সেই কৃষ্ণকে আপনার পেছন পেছন নৃত্য করাচ্ছে।*
*শ্রীকৃষ্ণ শৃঙ্গার রস--সর্বস্ব শৃঙ্গার রসের ঘনীভূত মূর্তি,সেইজন‍্য তাঁর হৃদয়ে সবসময়ই শৃঙ্গার শুচি বা প্রেমদ্বারা পরমোজ্জ্বল রস পিপাসা জেগে থাকে।"নিরন্তর কামক্রীড়া যাঁহার চরিত"-- সেই কাম বা প্রেমতৃষ্ণা শান্তির জন্য শ্রীরাধিকা উজ্জ্বল শ‍্যামরসই পরিবেশন করেন।শ্রীরাধারস সুধানিধিতে শ্রীপ্রবোধানন্দ সরস্বতীপাদ শ্রীরাধাকে "শ‍্যাম মন্ডল মৌলীমন্ডল মণিঃ" বলে আখ‍্যা দিয়েছেন।শ্রীকৃষ্ণ বিষয়ক শৃঙ্গার রস হতে যে উদ্দাম প্রেমময়ী তৃষ্ণা জন্ম হয়,সেই প্রেমোন্মত্ততা রূপ মধু হচ্ছে (শ‍্যামরস মধু) শ্রীরাইধনি শ্রীশ‍্যামসুন্দরকে পরিবেশন করেন। তাই শ্রীচৈতন‍্যচরিতামৃতে বর্ণিত হয়েছে,যথা---*
*🌷কৃষ্ণবাঞ্জা পূর্ত্তিরূপ করে আরাধনে।*
*🌷অতএব রাধানাম পুরাণে-বাখানে।।*
*🌷অন‍্যত্র,কৃষ্ণকে করায় শ‍্যামরস মধুপানে।*
*🌷নিরন্তর পূর্ণ করেন কৃষ্ণের সর্বকামে।।*
*🌻ব্রজে যে "কাম" শব্দটি উচ্চারণ হয়, আমাদের পার্থিব জগতের সেই কাম নহে,আমরা কোনদিন কি কামদেবের সামনে দাঁড়িয়ে বলতে পারব,তুমি আমার তুমি আমার বশীভূত? এককথায় না, ব্রজগোপীগণ কামদেবকে নাকখত পর্যন্ত দিতে বাধ‍্য করেছিলেন।অতএব ব্রজের কাম অর্থে কৃষ্ণসুখ বাসনা।) যাইহোক,মধুর সেই বৃন্দাবনে দান,মান,রাস প্রভৃতি বিবিধ প্রেয়সী প্রেমবশ‍্যতাময়ী লীলার মধ‍্য দিয়ে শ্রীরাইধনি ধীর ললিত, নায়ক শিরোমণি প্রাণবল্লভ শ‍্যামসুন্দরকে নানাভাবে নতূন নতূন নিগূঢ় প্রেমরসই আস্বাদন করিয়েছেন।*
*নায়ক শিরোমণি রসমৌলী শ্রীকৃষ্ণের সবই প্রেমরসে ভরপূর।একদিকে নায়িকাগণ পরবধূ,তাতে "কভূ মিলে কভূ না মিলে দৈবের ঘটন",অন‍্যদিকে পৌর্ণমাসি যোগমায়া দ্বারা নায়ক-নায়িকাগণের স্বরূপ আবরিত ও বন‍্যবেশভূষায় ভূষিত হয়ে প্রকৃত নায়ক নায়িকার মত এই ভৌমবৃন্দাবনে সর্বোত্তম নরলীলার যে উচ্ছসিত প্রেম-রসের হিল্লোল,প্রেমের হুড়োহুড়ি চলেছিল এবং এখনও চলছে, সেইনিত‍্য লীলা শ্রুতিগণও অন্বেষণ করেন ; কিন্তু নির্দেশ করতে পারেন না।*
*🍀এই মধুরলীলার রসাস্বাদনের জন্য গোলোক ত‍্যাগ করে গোকুলে প্রকটাপ্রকট উভয় অবস্থাতেই বেণুকর শ্রীকৃষ্ণ রাখালবেশে গোচারণাদি লীলা ও বিদগ্ধরাজ রূপে শ্রীব্রজললনাগণের সঙ্গে ঝুলন,জলকেলি,দান প্রভৃতি লীলা করেছেন।শ্রীকৃষ্ণ রাধাকে সম্বোধন করে বলেছেন----* *(চন্ডীদাস)*
*🌷রাই! তুমি সে আমার গতি।*
*🌷তোমার কারণে রসতত্ত্ব লাগি*
             *গোকুলে আমার স্থিতি।।*
*🌷নিশি দিশি সদা গীতি আলাপনে,*
           *মুরলী লইয়া করে।*
*🌷যমুনা সিনানে তোমার কারণে,*
            *বসে থাকি তার তীরে।।*
*🌻অঘটন-ঘটন-পটীয়সী চিৎ-শক্তির পরিণতি লীলার সহায়কারিণী পৌর্ণমাসী যোগমায়া দেবী শ্রীকৃষ্ণের ইচ্ছায় শ্রীব্রজদেবদেবীগণকে পরবধূরূপে প্রতীতি (জ্ঞান বা বোধ) করাইয়েছেন বলেই মর্য‍্যাদা প্রাপ্ত কুলবধূগণের পক্ষে দুত‍্যজ‍্য ধর্মবাধা অতিক্রম করা সহজ হয়েছে।ব্রজবধূগণ যদি পরবধূরূপে লোকে বোধ না হতেন,তবে মুখে যা আসে তাইই অসঙ্কোচে শ্রীকৃষ্ণকে বলতে পারতেন না।*
                *ক্রমাগত*
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 👉 প্রেমঋণে শ্রীগৌরাঙ্গ মাধব 🥀 শ্রীরাধাবিনোদ সরকার 📖 দ্বিতীয় ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/04/prem2.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(১২)প্রেম ঋণে শ্রীগৌরাঙ্গ মাধব*
             *কৃষ্ণের প্রথম বাঞ্জা*

*দানলীলা প্রসঙ্গই তার প্রমাণ,যথা--*
*কোন গুণে তোমার সনে,*
      *পিরীতি করিব হে কানাই।*
*তুমি রাখাল, আমি রাজার ঝি,*
. *একথা শুনিলে লোকে বলবে কি?*
*রূপেতে ভ্রমর, গুণে ননীচোরা,*
     *ধনেতে ধবলি বসতি গাছে,*
*কেন ঘনায়ে ঘনায়ে আসিছ কাছে,*
 *মোরা পর পুরুষের পবন পরশে,*
       *সচেল সিনান করি।।*
*🌻রসগ্রন্থ দানকেলি কৌমুদী পাঠ করলেই বেশ বুঝতে পারা যায় যে ব্রজঙ্গনাগণ পরিহাস রসে, কৌতুক রসে,উদ্দাম ও উচ্ছাসময়ী ভাষাতে শ্রীকৃষ্ণকে রসাস্বাদনে ডুবিয়ে রেখেছেন।প্রিয়া যদি প্রিয়তমের কাছে অসঙ্কোচে মনের কথা বলতে না পারেন, তবে হৃদয়ে কেমন যেন একটা বেদনা থেকে যায়, তাই শ্রীসনাতন গোস্বামীপাদ লঘুতোষণী গ্রন্থে বলেছেন--,"পরদারতা চাস‍্যাং বাগ নির্গলতা প্রকটনায়",-- অর্থ‍্যাৎ সবসময় কথা বলবার জন্যই ইহাদের পরদারতা প্রকাশ পেয়েছে।পরকীয়াভাবে বীভাবিতা শ্রীব্রজ মৃগনয়নাগণ কারণে অকারণে শ্রীকৃষ্ণের উপর মান করেন এবং মানের প্রখরতায় প্রায়শ প্রাকৃত নায়িকার মত নায়ককে ভর্ৎসনা করতে করতে "মাধব যাহি,কেশব যাহি" বলে কুঞ্জ হতে বাহির করে দেন।আবার মান প্রকরণে শ্রীরাইধনি বিপ্রলম্ভ বসে কাতরা হয়ে বিবর্ণা হলে ললিতা সখি শ্রীকৃষ্ণকে শ্রীরাধার কাছে আনতে গিয়ে শ্রীকৃষ্ণকে সম্বোধন করলেন, "তুহু অতির্ব্বর নন্দঘোষের নন্দন"।ব্রজগোপী ছাড়া এই চৌদ্দভুবনে কি কেউ এইরকম শ্লেষযুক্ত ভর্ৎসনা করতে পেরেছেন? প্রেমময়ী তৃষ্ণার পরিবধিত্ব না হলে কি কেউ এইরকম কথা বলতে পারেন?প্রেমের সপ্তম বিলাস যে মহাভাব, সেই মহাভাব স্বরূপিনী শ্রীরাধা ঠাকুরাণী ও তাঁর যূথের সখিবৃন্দই শ্রীকৃষ্ণকে এইরকম উচ্চবাচ্চ কথা বলতে পারেন।অখিল রসামৃতসিন্ধু শ্রীকৃষ্ণ দেবতাগণের ও সর্ব যোগেশ্বরগণের স্তুতি অপেক্ষাও ব্রজগোপীগণের এই মনোহরা ভর্ৎসনায় অনেক বেশী উল্লসিত হন। "প্রিয়া যদি মান করি করয়ে ভর্ৎসন। দেবস্তুতি হৈতে হরে সেই মোর মন "।। তাই তিনি প্রেয়সীমুগ্ধ ধীরললিত নায়ক হয়ে প্রধানা গোপীকার চরণতলে বসে অশ্রুসিক্ত নয়নে বলতে থাকেন--, "দেহিপদপল্লব মুদারম্"।আবার নিধুবনে রাই রাখাল হলে তাঁর চরণতলে দাসখত লিখে দেন। স্বকীয়া নায়িকার পক্ষে এরকম বাক‍্যবিন‍্যাস সম্পূর্ণ অসম্ভব ;কারণ তাঁরা ধর্মবোধে শ্রীকৃষ্ণকে ভজনা করে থাকেন।অনুরোধময় প্রেমিক প্রেমিকার মিলন সুখদ হয় না। সুতরাং তটস্থ হয়ে বিচার করলে স্বকীয়া হতে পরকীয়ায় মধুর রসের আস্বাদন চরম-উৎকর্ষও পরাকাষ্ঠা বলে রসিকশেখরের এই পরকীয়া লীলায় অশেষ বিশেষ প্রেমরস নির্য‍্যাস আস্বাদন করাই অখিলরসামৃত মূর্তি শ্রীকৃষ্ণের চরিত্র বৈশিষ্ট্য।*
*🍀এই গোপীগণের মধ্যে শ্রীরাধা বা প্রধানা গোপিকা সর্বোত্তমা। যথা--*
*🌷সেই গোপীগণের মধ্যে উত্তমা রাধিকা।*
*🌷রূপেগুণে সৌন্দর্য‍্যে প্রেমে সর্বাধিকা।।*
*🍀শ্রীবৃন্দাবনে শ্রীচন্দ্রাবলী প্রভৃতি কৃষ্ণানুরাগিনী শত শত যূথেশ্বরীগণ থাকলেও বহুবল্লভ শ্রীকৃষ্ণ যেমন শ্রীরাধার প্রাণবন্ধু,শ্রীরাধাও সেইরকম কৃষ্ণপ্রাণের একমাত্র বন্ধু অর্থ‍্যাৎ প্রাণ রক্ষার মহৌষধি।উভয়ে যেন উভয়ের প্রাণের একমাত্র আশ্রয়।অতএব রাধাকৃষ্ণ একআত্মা তনুভেদ। যেমন কস্তরিকা ও তার গন্ধ,অগ্নি ও তার দাহিকা শক্তি,পদ্ম ও তার সৌরভ প্রভৃতি যেমন অঙ্গাঙ্গীভাবে জড়িত ও অভেদ তদ্রূপ আদ‍্যাশক্তি শ্রীরাধা ও অচিন্ত‍্য শক্তিমান শ্রীকৃষ্ণ অঙ্গাঙ্গীভাবে জড়িত তথা শক্তি ও শক্তিমানে কোন প্রভেদ নাই। লীলারস মাধুর্য‍্য আস্বাদন করতে ও রসিক ভক্তগণকে কৃপা ও আনন্দ প্রদানের জন্য এক হয়েও দুই-রূপ ধারণ করেন।যথা শ্রীচৈতন‍্যচরিতামৃতে--*
*🌷জগৎমোহন কৃষ্ণ তাহার মোহিনী।*
*🌷অতএব সমস্তের পরা ঠাকুরাণী।।*
*🌷রাধা পূর্ণ শক্তি কৃষ্ণ পূর্ণ শক্তিমান।*
*🌷দুই বস্তুর ভেদ নাহি শাস্ত্রের প্রমাণ।।*
*🌷মৃগমদ তার গন্ধ যৈছে অবিচ্ছেদ।*
*🌷অগ্নি ও জ্বালাতে যৈছে কিছু নাহি ভেদ।।*
*🌷রাধাকৃষ্ণ ঐছে সদা একই স্বরূপ।*
*🌷লীলারস আস্বাদিত ধরে দুইরূপ।।*
*🌻এই দুই বস্তু নিয়েই শ্রীঅমিয়া ব্রজলীলা।অন‍্য যা কিছু বা যে কেউ সে শুধু এই যুগল লীলার রসপুষ্টির উপকরণ মাত্র।*
*🌷রাধা সহ ক্রীড়ারস বৃদ্ধির কারণ।*
*🌷আর সব গোপীগণ রসোপকরণ।।*
                *ক্রমাগত*
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 👉 প্রেমঋণে শ্রীগৌরাঙ্গ মাধব 🥀 শ্রীরাধাবিনোদ সরকার 📖 দ্বিতীয় ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/04/prem2.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(১৩)প্রেম ঋণে শ্রীগৌরাঙ্গ মাধব*
             *শ্রীকৃষ্ণের প্রথম বাঞ্জা*

*🍀শ্রীরাধার প্রিয় সখী হলেন ললিতা ও বিশাখা এবং তাঁরা শ্রীরাধার কায়ব‍্যূহরূপা।ললিতা, বিশাখা,চিত্রা,চম্পকলতা,রঙ্গদেবী, সুদেবী,তুঙ্গবিদ‍্যা ও ইন্দুরেখা--এই অষ্টসখী রূপে গুণে সমতুল‍্যা এবং সকলেরই লক্ষ্য এক।শ্রীরাধাকৃষ্ণ যুগল সকলেরই প্রাণস্বরূপ।নায়ক শিরোমণি শ্রীকৃষ্ণের সঙ্গে নায়িকা মুকটমণি শ্রীরাইধনির মিলন সাধন করাই এই সখীগণের নিত‍্য কাম‍্য। নিজেদের সুখের প্রতি বিন্দুমাত্রও স্পৃহা বা বাসনা নাই।শ্রীরাধারাণীর সুখই সখীগণের সুখ।এই সখীগণের স্বভাব অতি দুর্বোধ‍্য ও অদ্ভুত।নায়িকা হয়ে তাঁদের শিরোমণি শ্রীকৃষ্ণের সঙ্গে স্পর্শন,আলিঙ্গন প্রভৃতি মিলনের বিন্দুমাত্র স্পৃহা নাই।এই প্রেম কারিকরগণের ব্রত হল শ্রীরাধাকৃষ্ণের মিলন সম্পাদন করা।*
*🌹প্রেম কারিকর মোরা যত সখীগণ।*
*🌹ভাঙ্গিলে গড়িতে পারি পিরীতি রতন।।*
*🍀শ্রীরাধাকৃষ্ণ প্রেমের ভাঙ্গা গড়াই হল এই প্রেম-কারিকরগণের নিত‍্যকর্ম।শ্রীকৃষ্ণের সঙ্গে মিলনে শ্রীরাইধনির মনে যে উল্লাস হয় তা হতে কোটিগুণ সুখ সখীগণ আস্বাদন করেন।*
*🌹নিজেন্দ্রিয় সুখবাঞ্জা নাহি গোপীকার।*
*🌹কৃষ্ণ সুখ দিতে করে সঙ্গম বিহার।।*
*🌻বস্তুতঃ সুখবাঞ্জা নেই,অথচ কোটিগুণ সুখাস্বাদ হয়,এটি অতি অদ্ভুত ও তাৎপর্য‍্যময় ও দুর্বোধ‍্য।অহো! সখীগণের এই নিঃস্বার্থ ও নির্বৃতি মার্গীয় প্রেমসেবা,অকৈতব, নিরুপাধি গাঢ় পিপাসাপূর্ণ প্রেম সেবন না হলে কি সূত্রসঞ্চালিত দুই পুত্তুলিকার মত শ্রীরাধাকৃষ্ণ তাদের অনুরাগ রজ্জুতে আকৃষ্ট হয়ে সখীগণের অনুগত ভাবেও ইচ্ছা অনুসারে লীলা করছেন।যার ভগবত্তা শক্তি অন‍্য নিরপেক্ষ ও স্বয়ং সিদ্ধ।তিনিও এই সমর্থাবতির সখীগণের হাতে খেলার পুতুল।এই মহাবল প্রেমের কাছে শ্রীভগবান পরাভব মেনে নতি স্বীকার করেন।দুর্বোধ‍্য,দুর্জ্ঞেয় ও নিরুপম এই গোপীপ্রেমা এ প্রেমের কাছে ভগবান ঋণী থেকে যান।প্রেমক্রীড়া সাম‍্যের পরিধিত্ব না হলে এই নিঃস্বার্থ নিবৃত্তি মার্গীয় নিরুপাধি প্রেম জন্ম হতে পারে না।তাই এই গোপী প্রেমকে শাস্ত্রে "অপ্রাকৃত কাম বা প্রেম" বলে অভিহিত হয়েছে।যথা----*
*🌹সহজ গোপীয় প্রেম নহেত প্রাকৃত কাম।*
*🌹কামক্রীড়া সাম‍্যে তাহে কহি প্রেম নাম।।*
*🌻এই সখীগণের প্রধানা ও প্রাণস্বরূপা শ্রীরাধারাণীর দেহ মাদনাখ‍্য মহাভাবরূপ উজ্জ্বল চিন্তামণি দ্বারা অলংকৃত।ললিতা বিশাখাদি সখীগণের স্নেহপূর্ণ সুসখ‍্য ভাবরূপ সুরভিত কুঙ্কুমাদি দ্বারা শ্রীমতীর দেহ সুন্দর কান্তি ধারণ করেছে।মধ‍্যাহ্নে যৌবনামৃত ধারায় ও সায়াহ্নে দেহের উজ্জ্বল ধারায় স্নান করেন।আবার বদ্ধ কেশপাশ যেরকম বসন দ্বারা আবৃত থাকে,তদ্রূপ শ্রীমতীর মাদনাখ‍্য বিপ্রলম্ভও নিজ মনের ভাবদ্বারা গোপন হেতু আবৃত হওয়ায় কারও বোধের বিষয় হয় না।কৃষ্ণ প্রেয়সী শিরোমণি ও রমণি মুকুটমণি রূপে শ্রীমতীর খ‍্যাতি,তাইই ললাটে উজ্জ্বল তিলক হাস্রিদি দ্বারা শ্রীমুখমন্ডল অন্তরের অনুরাগ প্রস্ফুটিত হয় বলে অনুরাগ রূপ তাম্বুল দ্বারা শ্রীরাধার অধরোষ্ঠ রঞ্জিত বলা হয়েছে।চক্ষু গোলকদ্বারা হৃদয়ের বাম‍্য ফা কুটিল ভাব প্রকাশিত হয় বলে প্রেম কৌটিল‍্যরূপ কজ্জল ধারণ কথিত হয়েছে।আবার প্রেম বৈচিত্র্যের এক প্রকার বিরহভেদ এটিকে মারমধ‍্যগত মণির সঙ্গে অভেদ বলায় সেটির অনুরাগ অংশে শ্রেষ্ঠত্ব ধ্বনিত হয়েছে।প্রিয়তমের কাছে থেকে অত‍্যন্ত অনুরাগ কারণ যে বিরহ-বোধ, তাইই প্রেম বৈচিত্র্য।প্রেমের আতিশয‍্যে "প্রিয়তমের সঙ্গলাভ আর বেশীক্ষণ হবে না "এইরকম ভাবও ভাবনা হতেই প্রেম বৈচিত্র্য আবির্ভাব হয়। শ‍্যামসুন্দরের বক্ষে থেকেও শ্রীরাধার---*
*🌹এই ভয় উঠে মনে এই ভয় উঠে।*
*🌹না জানি রাধার প্রেম তিলে নাহি টুটে।।চন্ডীদাস।।*
*🌻আবার পদকর্তা গোবিন্দ দাস প্রেম বৈচিত্র্য সম্বন্ধে এইভাবে গাইতেছেন----*
*🌷শ‍্যামক কোরে, যতনে ধনি শুতল,*
          *মদন আলসে দুহুঁ ভোর।*
*ভুজে ভুজে বন্ধন, নিবিড় আলিঙ্গন,*
         *যেমন কাঞ্চনমণি জোড়।।*
*কোরহি শ‍্যাম,চমকি ধনি বোলত,*
         *কব মোহে মিলব কান।*
*হৃদয়ক তাপ, তবহু-মঝু মিটিত,*
        *অমিয়া রব সিনান।।*
                      *ক্রমাগত*
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 👉 প্রেমঋণে শ্রীগৌরাঙ্গ মাধব 🥀 শ্রীরাধাবিনোদ সরকার 📖 দ্বিতীয় ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/04/prem2.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(১৪)প্রেম ঋণে শ্রীগৌরাঙ্গ মাধব*
            *শ্রীকৃষ্ণের প্রথম বাঞ্জা*

*🍀শ্রীরাধাকৃষ্ণের প্রেমের কথা একহাতে লিখে বা একমুখে বলে এককোণও অনুভব করা যাবে না।যে প্রেমে--*
*🌷না খুঁজিল দূতী না খুঁজিল আন।*
*🌷দুহুকো মিলন মধ্যে পঞ্চবান।।*
*🌻যে প্রেমে দুঁহু কোলে দুঁহু কাঁদে বিচ্ছেদ ভেবে।যে প্রেম বিরহের মধ্যে মিলনের আস্বাদন করায় ও মিলনের মধ্যে বিরহ-উৎকন্ঠা জাগায়,যে প্রেম নিত‍্য-নবায়মান অর্থ‍্যাৎ তিল তিল করে বৃদ্ধি পাচ্ছে,বাড়িবার আর জায়গা নেই, তবুও বৃদ্ধি পাচ্ছে, যে প্রেম গুণ দর্শনে গুরুত্ব প্রাপ্ত হয় না অথবা দোষ দর্শনে ক্ষয়প্রাপ্ত হয় না, যে প্রেম প্রিয়তর প্রাণাপেক্ষাও প্রাণাধিক।যথায় প্রতিদান চাই না, নির্বিচারে আকুল আগ্রহে একে অন‍্যেকে বিলিয়ে দেয়,সেই স্বতঃসিদ্ধ অকৈতব ও নিরূপাধি রাধা প্রেম ও প্রেমমহিমা ও প্রেমমাধুর্য‍্যের জয় হোক।এই প্রেম মাধুর্য‍্যের কথা শ্রীচৈতন‍্যচরিতামৃতে বর্ণিত হয়েছে।*
*🌷কৃষ্ণনাম গুণ যশ অবতংস কানে।*
*🌷কৃষ্ণনাম গুণ যশ প্রবাহ বচনে।।*
*🌷কৃষ্ণকে করায় শ‍্যামরস মধুপানে।*
*🌷নিরন্তর পূর্ণ করেন কৃষ্ণের সর্বকামে।।*
*🌹বৈষ্ণব কবি চন্ডীদাস শ্রীরাধাকৃষ্ণের প্রীতিরস এইভাবে বর্ণনা করেছেন---*
*🌷এমন পিরীতি কভু দেখি নাই শুনি।*
*🌷পরাণে পরাণে বাঁধা আপনা আপনি।।*
*🌷দুঁহু কোরে দুঁহু কাঁন্দে বিচ্ছেদ ভাবিয়া।*
*🌷তিল আধ না দেখিলে যায় সে মরিয়া।।*
*🌷জলবিনু মীন জনু কবহুঁ না জীয়ে।*
*🌷মানুষে এমন প্রেম কোথা নাহি শুনিয়ে।।*
*🌷 ভানু কমল বলি সেই হেন নহে।*
*🌷হিয়ে কমল মরে ভানু সুখে রহে।।*
*🌷 চাতক জলদ কহি সে নহে তুলনা।*
*🌷সময় নহিলে সে না দেয় এককণা।।*
*🌷 কুসুমে মধুপ কহি,সে নহে তুল।*
*🌷না আইলে ভ্রমর আপনি না যায় ফুল।।*
*🌷কি ছার চকোর চাঁদ দুঁহু সম নহে।*
*🌷ত্রিভুবনে হেন নাহি চন্ডীদাস কহে।।*
*🌻আবার পদকর্তা গোবিন্দ দাস শ্রীরাধাকৃষ্ণের নিত‍্যনব প্রেমবিলাস এইভাবে বর্ণনা করেছেন।*
*🌷দুঁহু জন নিতি নিতি নব অনুরাগ।*
*🌷দুঁহু রূপগুণ, দুহু হিয়ে জাগ।।*
*🌷দুঁহু মুখ চুম্বই দুহু করু কোর।*
*🌷দুঁহু পরিরম্ভনে দুঁহু ভেল ভোর।।*
*🌷দুঁহু দোঁহে যৈছন দারিদ হেম।*
*🌷নিতি নিতি আর নিতি নবপ্রেম।।*
*🌷নিতি নিতি ঐছন করত বিলাস।*
*🌷নিতি নিতি হেরই গোবিন্দ দাস।।*
*🌻শ্রীগোপাঙ্গনাদের সঙ্গে প্রীতিরস নির্য‍্যাস আস্বাদন করবার জন্য অচিন্ত‍্য শক্তিমান শ্রীকৃষ্ণের ইচ্ছা,তাই তাঁর ইচ্ছার গতিরোধ করবার মত সাধ‍্য চতুর্দশ ভুবনের জগমন্ডলে কারও নাই।শ্রীনন্দকিশোরের এই পরকীয়া লীলা যে কত মধুর,তা তাঁর রসিক ভক্তগণই জানেন।অনাদিরাদি গোবিন্দের পরকীয়া অভিমানিনী ব্রজঙ্গনাদের শ্রীমুখোচ্চারিত হরিকথা গীত আলাপনে ত্রিভুবনের আকাশ বাতাস পবিত্র হয়ে যাচ্ছে।সেই কৃষ্ণ প্রেয়সীগণের সঙ্গে শ্রীকৃষ্ণের এই পরকীয়া লীলা রসিক ভক্তগণকে কৃপা করবার জন্য এই ভৌমবৃন্দাবনে প্রকাশিত হয়েছে।এটি মর্ত্ত‍্যবাসীর অপরিসীম সৌভাগ্যের সূচনা করছে।শ্রীব্রজগোপীগণের সমস্ত চেষ্টা ও উদ‍্যম কেবল কৃষ্ণ-সুখের জন্য, এমন কি শ্রীকৃষ্ণের সহিত তাঁদের সঙ্গম ও বিহার প্রভৃতিও নিজ সুখের জন্য না।যেখানে শ্রীকৃষ্ণ প্রীতিলাভ করলে গোপীগণের দেহ-মন প্রফুল্লিত হয়, যেখানে তাঁদের সুখ-বাঞ্জা না থাকলেও শ্রীকৃষ্ণের সঙ্গে দেখা করা,স্পর্শন ও আলিঙ্গনে কোটিগুণ সুখ আবির্ভাব হয়ে কৃষ্ণসুখে পর্যুবসিত হয়,যেখানে কৃষ্ণপ্রাপ্তি কৃষ্ণসুখের জন্যই কেবল গোপীগণের কামনা, সেই কামই প্রেমনামে অভিহিত হয়েছে।*
*🌷প্রেমৈব গোপ রামানাং কাম ইত‍্যগমং প্রথাং।*
*🌹তথাহি গোপীপ্রেমামৃত গ্রন্থে---*
*🌷নিজাঙ্গমপি যা গোপ‍্যা মমেতি সমুপাসতে।*
*🌷তাভ‍্যাং পরং ন মে পার্থ!নিগূঢ় প্রেমভাজন্।।*
*🌻শ্রীকৃষ্ণ বললেন হে অর্জুন! যে সব গোপীগণ নিজেদের অঙ্গকেও মদীয়-ভোগ‍্য বলে যত্ন করেন,তাঁরা ছাড়া মদীয় (আমার) নিগূঢ় প্রেমভাজন আর অন‍্য কেউ নাই।যথা শ্রীচরিতামৃতে-------*
*🌷এ দেহ দর্শন স্পর্শে কৃষ্ণ সম্ভাষণ।*
*🌷এই লাগি করেন দেহের মার্জ্জন ভূষণ।।*
*🌻শ্রীব্রজগোপীগণের দর্শন ও কীর্তনাদি দ্বারা সাধক জগতে পরম কল‍্যাণ সাধিত হয়েছে।কৃষ্ণ মাধুর্য‍্যের চরম উৎকর্ষ একমাত্র শ্রীব্রজাঙ্গনাগণই অনুভব করেছেন, অন‍্য কেউই এই জাতীয় অভিনিবেশ, এই পরিমাণে প্রেমমাধুর্য‍্য আস্বাদন করতে পারেননি।*
*🙏এই গোপীগণই বা কে? দাস‍্যগণই বা কে? বাৎসল‍্যময়ী যশোদাই বা কে? এই অন্তর-তত্ত্ব সন্ধান করলে তবেই শ্রীকৃষ্ণের তত্ত্ব অনুভব হবে, নচেৎ না---।*
                      *ক্রমাগত*
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 👉 প্রেমঋণে শ্রীগৌরাঙ্গ মাধব 🥀 শ্রীরাধাবিনোদ সরকার 📖 দ্বিতীয় ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/04/prem2.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(১৫)প্রেম ঋণে শ্রীগৌরাঙ্গ মাধব*
    *শ্রীকৃষ্ণের প্রথম ও দ্বিতীয় বাঞ্জা।*

*🌻প্রথম বাঞ্ছার শেষ অংশের পর দ্বিতীয় বাঞ্জা।*
*🌹তাদের অধিরূঢ় মহাভাবের গতি-নীতি যে কত দুর্লভ,তা ভাষায় বর্ণনাতীত,গোপীপ্রেমামৃত গ্রন্থে উল্লেখ আছে ----*
*🌷ত্রৈলক‍্য পৃথিবী ধন‍্যা যত্র বৃন্দাবন পুরী।*
*🌷তত্রাপি গোপীকা পার্থ!রাধাভিধা মম।।*
*🌻শ্রীকৃষ্ণ অর্জুনকে বলেছন--হে পার্থ! বৃন্দাবন পুরী বিদ‍্যমান থাকাতেই ত্রিলোকীতলে পৃথিবী ধন‍্যা।সেই বৃন্দাবনে গোপীগণই ধন‍্যা,কেননা তারমধ‍্যে আমার প্রিয়তমা শ্রীরাধিকা রয়েছেন।*
*🍀যে ব্রজদেবীগণের চরণরেণু লালসায় ব্রহ্মা গোকুলে স্থাবর জন্ম এবং উদ্ধব মহাশয় গুল্মলতা ঔষধি জন্ম প্রার্থনা করেছেন, শ্রীকৃষ্ণের শিরঃপীড়ায় কৃষ্ণশিরে প্রলেপ করতে ত্রিভুবনে কোন ভক্তপদ রেণুলাভে বঞ্চিত হয়ে পরিশেষে যে ব্রজাঙ্গনাগণের চরণরেণু পেয়ে দেবর্ষি নারদ চমকিত হয়ে ভাবাবেশে মূর্ছিত হয়েছিলেন,যে ব্রজঙ্গনাগণের স্বজন, কুলাদি,আর্যপথ ত‍্যাজক অনুরাগময় পরকীয়া ভাব বেদ বিধির অগোচর,যে ব্রজঙ্গনাদেবীগণের মহিমা কীর্তন করতে করতে শ্রীউদ্ধব মহাশয় এমনই দৈন‍্য সাগরে ডুবে গিয়েছিলেন যে তাঁদের চরণে সাক্ষাৎ প্রণাম করতে সাহসীনা হয়ে দূর হতে কম্প ও গদগদ ভাবে বলতে লাগলেন--"বন্দে নন্দব্রজ স্ত্রীণাং অর্থ‍্যাৎ আমি দূর হতে এই নন্দব্রজস্ত্রী মাত্রেরই চরণের অসংখ্য রেণুর মধ্যে একটি রেণুকে প্রতিক্ষণই বন্দনা করি,যাঁদের শ্রীমুখোচ্চারিত শ্রীহরি কথার উচ্চৈঃস্বরে গান--"উদ্গায়তীনাং" রীতি অনুসারে এই ত্রিভুবনের আকাশ বাতাস পবিত্র করেছে,যাঁদের সম্বন্ধান্বিত হরিকথা মহাভাগবতগণ উচ্চৈঃস্বরে গান করে উর্দ্ধ,মধ‍্য ও অধঃ এই ত্রিভুবনকে পবিত্র করেছেন,সেই ব্রজদেবিগণই শ্রীকৃষ্ণের প্রাণস্বরূপ ও কৃষ্ণ হৃদয় সরোবরের প্রস্ফুটিত কমল।এই কৃষ্ণকান্তা গোপীগণের মধ্যে শ্রীরাধা কৃষ্ণকান্তা শিরোমণি, শ্রীমদ্ভাগবতে যিনি পরম গোপ‍্যা বলে ক্কাচিৎ শব্দ ব‍্যবহৃত হয়েছে।এই কাচিৎ শব্দের অর্থ পরম শ্রেষ্ঠা ও প্রেষ্ঠা,কৃষ্ণকান্তা শিরোমণি,রমণীমুকুটমণি,শ্রীরাধারাণী।ক্কাচিৎ শব্দের শ্লেষার্থেও "কে প্রেমসুখে আসমস্তাৎ চিৎ জ্ঞানং যস‍্যা", অর্থ‍্যাৎ কৃষ্ণপ্রেমে যে অখন্ড সুখ,তা যাঁর পরিপূর্ণ ভাবে উপলব্ধি আছে,তিনিই কাচিৎ, শ্রীকৃষ্ণপ্রিয়া মুকুটমণি শ্রীরাধারাণীতে মাদনাখ‍্য মহাভাব জনিত পরিপূর্ণ প্রেমসুখ অনুভব হয় বলে শ্রীরাধার একটি নাম "কাচিৎ",শ্রীকৃষ্ণের প্রতি শ্রীরাধার মধুরোচ্ছল ব্রজপ্রেম ভাষায় বর্ণনাতীত।*
*শ্রীরাধার প্রেম মহিমার গুরুত্ব আমাদের মত ক্ষুদ্র ও নশ্বর জীবের পক্ষে বর্ণনা করা সাধ‍্যের অতীত।যার ভগবত্তা শক্তি অন‍্য নিরপেক্ষ,যিনি অবতারবলী বীজ,যিনি অনাদিরাদি গোবিন্দ সেই শ্রীকৃষ্ণই মহামহিমান্বিতা শ্রীরাধার মহিমা ও গুণ বর্ণনে অসমর্থ অর্থ‍্যাৎ মহিমা বর্ণনে কুল-কিনারা পান না।যথা শ্রীচৈতন‍্যচরিতামৃতে--*
*🌷যার সৎগুণ গণের কৃষ্ণ না পায় পার?*
*🌷তার গুণ গণিবে কেমতে জীব ছার।।*

*বৃন্দাবনদাস কবিরাজ গোস্বামীর চরণ শিরে ধরি।*
*নিতাই গৌরাঙ্গ-পাদপদ্মের ভৃঙ্গ হৈয়া মধু পান করি।।*

*🙏🙏শ্রীশ‍্যামসুন্দরের দ্বিতীয় বাঞ্জা।*
♻♻♻♻♻♻♻♻♻♻♻

*"অনয়া আস্বাদ‍্যঃ যেন অদ্ভুত মাধুরিমা কীদৃশঃ বা মদীয়"--- অর্থ‍্যাৎ পূর্বে শ্রীরাধার যে প্রেম ও মহিমার কথা বলা হয়েছে,সেই প্রেম মহিমা দ্বারা শ্রীরাধা কর্তৃক আস্বাদিত আমার অসীম মাধুর্য‍্যটি কিরকম?আরও একটু বেশী আস্বাদন করলে মনে হবে যে শ্রীকৃষ্ণের লোভ কেবলমাত্র নিজ মাধুর্য‍্যের প্রতি না,শ্রীরাধা কর্তৃক আস্বাদিত নিজ মাধুর্য‍্যের লোলুপতাও বটে।দ্বিতীয় বাঞ্জাটি আস্বাদন করতে হলে শ্রীকৃষ্ণের (১)নাম মাধুর্য‍্য (২) রূপ-গুণ মাধুর্য‍্য (৩)লীলা মাধুর্য‍্য (৪)বেণু মাধুর্য‍্য ও (৫)প্রেম মাধুর্য‍্য আস্বাদন করতে হবে।এই মাধুর্য‍্য অনন‍্যসাধারণ ও অসমোর্দ্ধ। অন‍্যকোন ভগবৎস্বরূপে বা অবতার স্বরূপে এত মাধুর্য‍্য দেখা যায় না।*
           *🙏🙏নাম মাধুর্য‍্য*
*🌷নাম চিন্তামণি, কৃষ্ণশ্চৈতন‍্য রস বিগ্রহ।*
*🌷পূর্ণশুদ্ধো নিত‍‍্যমুক্তোহ ভিন্নাত্মান্নাম নামীনো।।*
*🌻নাম এবং নামীর ভেদ না থাকায় শ্রীকৃষ্ণই নামরূপে আবির্ভূত হয়েছেন।অতএব নাম কৃষ্ণস্বরূপ,নাম চৈতন‍্যরসমূর্তি,সর্ববিধ শক্তিতে পূর্ণ, মায়া বদ্ধ রহিত।নিত‍্যমুক্ত ও চিন্তামণির মত সর্বাভীষ্টপ্রদ।কলিযুগে এই তারকব্রহ্ম নামই মহামন্ত্র। "কৃষ ধাতুর অর্থ আকর্ষণ করা বা কর্ষণ করা"।এই কৃষ্ণ নাম জীবের দেহমন প্রাণাদি সর্ব ইন্দ্রিয় আকর্ষণ করেন অথবা জীব-হৃদয় কর্ষণ করে শ্রীনামবীজ বপনে উপযোগী করেন।কৃষ্ণ শব্দের নিম্নলিখিত রূপ পাওয়া যায় -----*
*🌷কৃ আছি গোপীগণের রত্ন পুষ্টি করে।*
*🌷অতএব কৃষ্ণনাম বলি যে তাহারে।।*
*🌻আবার রাম শব্দের রূপ এই ভাবে পাওয়া যায়,যথা----*
*🌷রাধিকার সঙ্গে সদা করয়ে রমণ।*
*🌷অতএব রাম নাম কহি সে কারণ।।*
*🌻কাশীর মায়াবাদী সন্ন‍্যাসী ও মহাপন্ডিত শ্রীপ্রকাশানন্দ সরস্বতী শ্রীমন্মহাপ্রভুকে বলেছিলেন--, আপনি শ্রীপাদ কেশব ভারতীর শিষ্য।সন্ন‍্যাসী হয়ে বেদান্ত পাঠ ও ধ‍্যান না করে শুধু ভাবাবেশে নৃত্য করেন,এটি সন্ন‍্যাসীর ধর্ম নয়।উত্তরে মহাপ্রভু গুরু প্রদত্ত কৃষ্ণনাম মহামন্ত্রের প্রভাব সম্বন্ধে বলেছেন---*
*🌷কিবা মন্ত্র দিলা গোসাঞি কিবা তার বল।*
*🌷জপিতে জপিতে মন্ত্র করিল পাগল।।*
*🌷হাসায় নাচায় মোরে করায় ক্রন্দন।*
*🌷এতবলি গুরু বলিলা মোরে বচন।।*
*🌷কৃষ্ণনাম মহামন্ত্রের এই ত স্বভাব।*
*🌷যেই ভজে তার কৃষ্ণে উপজয়ে ভাব।।*
                  *ক্রমাগত
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 👉 প্রেমঋণে শ্রীগৌরাঙ্গ মাধব 🥀 শ্রীরাধাবিনোদ সরকার 📖 দ্বিতীয় ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/04/prem2.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(১৬)প্রেম ঋণে শ্রীগৌরাঙ্গ মাধব*
         *শ্রীকৃষ্ণের দ্বিতীয় বাঞ্ছা*
        ◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆
*🍀নাম-মাহাত্ম‍্য সম্বন্ধে শ্রীরাধারাণী কোন সখীকে বলছেন--,হে সখী!আমার শ্রুতিমূলে বা কানে কৃষ্ণনাম প্রবেশ করতে আমার নয়ন প্রতিনিয়ত বা অহরহ অশ্রুসিক্ত হচ্ছে, আমার মন দ্রবীভূত হয়ে মনোপ্রাণ আকুল করে ফেলল সখী!কৃষ্ণ নামের এই দুইটি অক্ষর যে কত মধুময় যে আমার রসনা বা জিহ্বা ঐ নাম ছাড়তে পারছে না।এই নাম জপিতে আমার সমস্ত দেহ অবশ হয়ে অশ্রু,কম্প,পুলক প্রভৃতিতে অষ্টসাত্ত্বিক বিকারগ্রস্ত হল।বলে দাও সখী!কেমনে তাঁকে পাব,(বিদগ্ধ মাধব)।🔷বৈষ্ণব কবি চন্ডীদাস নাম মাধুর্য‍্য সম্বন্ধে বর্ণনা করেছেন-----*
*🌷সই কেবা শুনাইল শ‍্যাম নাম।*
*কানের ভিতর দিয়া,মরমে পশিল গো,*
     *আকুল করিল মোর প্রাণ।।*
*🌷না জানি কতেক মধু,শ‍্যামনামে আছে গো,*
           *বদন ছাড়িতে না পারে।*
*🌷জপিতে জপিতে নাম অবশ করিল গো,*
          *কেমনে পাইব সই তারে।।*
*🌻শ্রীপাদ শ্রীরূপগোস্বামী বিদগ্ধ মাধব নাটকে শ্রীকৃষ্ণের নাম মাধুর্য‍্য, রূপ মাধুর্য‍্য ও বেণু মাধুর্য‍্য একসঙ্গে প্রকাশ করেছেন।শ্রীরাধা বলছেন--, হে সখী!একজনের (কৃষ্ণের) এই নামের অক্ষর শুনেই আমার জ্ঞান লোপ পাচ্ছে,অন‍্য একজনের বংশীধ্বনিতে আমাকে পাগল করেছে, চিত্রপটে দেখা আর একজন (ঘনশ‍্যাম)পুরুষ আমার মনের মধ্যে চরমভাবে বিরাজিত--হায়!ধিক।কি কষ্ট!একসঙ্গে তিন পুরুষের প্রতি আমার মন ধাবিত হওয়া আমার পক্ষে মঙ্গলজনক নয় সখী! আমি এক নারী হয়ে তিনজন পুরুষকে হৃদয়ে ধারণ করলাম? ধিক,ধিক নিজেকে।তখন অন‍্যান‍্য সখী সহর্ষে বা আনন্দে উত্তর দিলেন,সখী রাধে! কিভাবে তোমার গোকুলেন্দ্র বা গোকুলচন্দ্র ছাড়া অন‍্য কারও প্রতি অনুরাগ সম্ভব হতে পারে কি?অতএব শোনো,এই তিন সেই এক মহানাগর শ্রীকৃষ্ণ।*

      *🌻🌻রূপগুণ মাধুর্য‍্য🌻🌻*
       🌹🌹🌹🌹🌹🌹🌹🌹
*🍀শ্রীকৃষ্ণের রূপ ও গুণ বর্ণনা করতে গিয়ে বৈষ্ণব কবিগণ ও তত্ত্ববিদগণ শুধু "মধুরং,মধুরং" কথায় সমাধান করে আর কিছু লিখতে সমর্থ হননি।◆তাঁর বর্ণ নীলোৎপল অপেক্ষাও সুকোমল, নীলমণি অপেক্ষা উজ্জ্বল,নবজলধর অপেক্ষাও স্নিগ্ধ বা কোমল ও মেদুর বা চিক্কণ।তাঁর মোহন চূড়ায় মনোহর ময়ূর পুচ্ছ সামান্য বামে হেলিয়া দুলছে।দেখতে মনে হচ্ছে যেন নবজলধর দর্শনে ময়ূর আনন্দে নৃত্য করছে।পদ্মপলাশের মত সুবিশাল আকর্ণ বিস্তৃত নয়ন-দুটি যেন প্রফুল্ল পুন্ডরীক বা শ্বেতপদ্ম (white lotus) প্রভাকে পরাভূত করেছে, আবার তাঁর নয়ন চকোর বদন চন্দ্রমার সুধালোভে চঞ্চল মূর্তি ধারণ করে বঙ্কিম বা বাঁকা নয়নে নয়ন-পত্র রূপ দুইটি চকোরের পাখা ক্ষণে ক্ষণে সঙ্কুচিত ও প্রসারিত করে শ্রীরাধাসহ ব্রজঙ্গনাগণকে এবং সমস্ত জগৎকে যেন সঙ্কেতে আকর্ষণ করছে।এই কটাক্ষবাণ প্রণয় মদে মত্ত হয়ে ব্রজযুবতীগণের মর্মস্থল বিদীর্ণ বা ছিন্ন-ভিন্ন করে দিচ্ছে এবং তাঁরজন‍্য অবশ হওয়ায় ব্রজবাসীগণের সর্বাঙ্গে দুঃসহ আনন্দ কম্পন-যন্ত্রণা উপস্থিত হচ্ছে।শ্রীগোবিন্দের অঙ্গ-সন্নিবেশ এত মধুর,এত সুরম‍্যাঙ্গ যে দেখলে মনে প্রশ্ন জাগে যে তাঁর দেহের কি সমস্তই শোভা,কি সমস্তই লাবণ‍্য, কি সমস্তই মাধুর্য‍্য ; কি সমস্তই সৌরভ বা কমণীয়তা, আবার বিদগ্ধ মাধবে (১|১৪) পৌর্ণমাসী দেবী নান্দীমুখীকে বলে ছিলেন---, অহো! শ্রীকৃষ্ণ কি মনোহারিণী শোভা ধারণ করেছেন,কৃষ্ণের দেহকান্তি নীলমণি অপেক্ষাও দিব‍্য প্রভায় সমুজ্জ্বল, নয়নের দীপ্তিতে বিকচ সরোজ (বিকশিত পদ্ম) প্রভা পরাভূত,অর্থ‍্যাৎ তাঁর নয়নের ভেতরে যে আলো দেখা যাচ্ছে তা সদ‍্য প্রস্ফুটিত পদ্মের সৌন্দর্যকেও পরাজয় করেছে,তাঁর পীতাম্বর (তাঁর পরিধানের বসন) শোনকুসুম বা পদ্মরাগ মণির কান্তিকেও লজ্জিত করেছে এবং কাননজাত পত্র পুষ্পাদি বিরচিত বেশভূষা দিব‍্য বেশের শোভাকে বিড়ম্বিত করেছে।তাঁর মুরলী লাঞ্ছিত নিরুপম বদনচন্দ্রমা দেখলে মনে হয় যেন বিধাতা নিখিল সৌন্দর্য্য,(বিশ্বের সমস্ত সৌন্দর্য‍্য) হরণ করে ঐ শারদ সুধাকরের মুখমন্ডলে সন্নিবেশ করাতে সৌন্দর্যের ভান্ডার শূন‍্য হয়ে গিয়েছে।শ্রীগোবিন্দদাস রূপাভিসারে বর্ণনা করেছেন---*
*🌷ও মুখমন্ডল জিতি শারদ সুধাকর,*
       *তনুরুচি তরুণ তমাল।*
*🌷চূড়া চারু শিখন্ডক মন্ডিত,*
         *মালতী মধুকর মাল।।* *ইত‍্যাদি*।
*🌻আবার কবিরাজ গোস্বামীপাদ বলেছেন----*
*🌷কৃষ্ণরূপামৃত সিন্ধু,তাহার তরঙ্গবিন্দু,*
          *এক বিন্দু জগৎ ডুবায়।*
*🌷ত্রিভুবনের যত নারী,তার চিত্ত উচ্চগিরি,*
           *তাহে ডুবায় আগে উঠি ধায়।।*
*🌻শ্রীকৃষ্ণের অধর ও ওষ্ঠ বান্ধুলী পুষ্পের ন‍্যায় রঙ্গিন।(এই বান্ধুলী পুষ্প দুপুরবেলা ফুটে ও বিকেলবেলা শুকিয়ে যায় বলে এর আরেক নাম দুপুরিয়া, এই ফুল কাল,সাদা,পীত ও লালবর্ণ ভেদে চার প্রকার।লাল বান্ধুলীর সঙ্গে সুন্দরীর অধরের তুলনা করা হয়।🌷(পরিধান পীতাম্বর অধর বান্ধুলীবর মুখ-সুধাকরে সুধাহাস)।চন্দ্র,কুন্দ পুষ্প ও মন্দার কুসুম সদৃশ(সমান) সামান্য হাস‍্যে তার সর্বাঙ্গ দেদীপ্তমান (জাজ্বল‍্যমান)।সাধারণ লোকে কথা বোলে তবে হাসে, কিন্তু শ‍্যামসুন্দর কথা বলবার আগেই এমন স্মিত মধুর হাস‍্যে উৎফুল্লিত হন, যেন মনে হয়, অমিয় বা সুধা নিছনি মধুর রক্তিম বিম্বাধর হতে নিষ্কলঙ্কচাঁদ ফেটে সুধারাশি বর্ষণ করছে।এই হাসিভরা মধুর অধর দেখলে কোন যুবতী নারী কুল রক্ষা করতে পারেন।সে মাধুরী দেখে "লক্ষ্মীর" হৃদয়ও দুলতে থাকে।*
                   *ক্রমাগত*
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 👉 প্রেমঋণে শ্রীগৌরাঙ্গ মাধব 🥀 শ্রীরাধাবিনোদ সরকার 📖 দ্বিতীয় ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/04/prem2.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(১৭)প্রেম ঋণে শ্রীগৌরাঙ্গ মাধব*
           *শ্রীকৃষ্ণের দ্বিতীয় বাঞ্ছা*
            ☆☆☆☆☆☆☆☆☆☆
*🍀শ্রীমতী বিরহে কাতরা হয়ে শ্রীকৃষ্ণের রূপমাধুর্য‍্য আস্বাদন করে বলছেন-----*
*🌷সেই সৌন্দর্য‍্যামৃত সিন্ধু,তাহার তরঙ্গ বিন্দু,*
                *ললনার চিত্তাদি ডুবায়।*
*🌷কৃষ্ণের যে নর্ম্ম কথা,শুধু সুধাময় গাথা,*
              *তরুণীর কর্ণানন্দ তায়।।*
   *🌷কহ সখী কি করি উপায়।*
*🌷কৃষ্ণের মাধুরী ছন্দে,সর্বেন্দ্রিয়গণে বাঁধে,*
               *বলে সর্বেন্দ্রিয়ে আকর্ষয়।।*
*🌻গোপীগণ শ্রীকৃষ্ণকে বললেন--, হে কৃষ্ণ! আমাদের যে চোখ তোমার কুটিল কুন্তল বিশিষ্ট শ্রীমুখ দর্শন করে,বিধাতা সেই চক্ষুতে পলকের সৃষ্টি করাতে নির্বোধ জড় বলেই বিবেচনা করি।*
*🌻এই প্রসঙ্গে শ্রীচৈতন‍্যচরিতামৃত বলেন---*
*🌷এ মাধুর্য‍্যামৃত সদা যেই পান করে।*
*🌷তৃষ্ণা শান্তি নহে তৃষ্ণা বাড়ে নিরন্তরে।।*
*🌷অতৃপ্ত হইয়া করে বিধিরে নিন্দন।*
*🌷অবিদগ্ধ বিধি ভাল না জানে সৃজন।।*
*🌷কোটি নেত্র নাহি দিল সবে দিল দুই।*
*🌷তাহাতে নিমেষ কৃষ্ণ কি দেখিব মুই।।*

*🌻এই কোটি নেত্র নাহি দিল, সত‍্য কথা বলতে কি আমরা সাধারণ গৃহস্থ ঘরের কারও মুখে এই শব্দগুলি শুনতে পাই?তাই অনন্তকোটি ব্রহ্মান্ডের মধ্যে একমাত্র ব্রজেই ব্রজরমণীগণের শ্রীমুখ হতে এই শব্দ শোনা গেছে।*
*🌹আবার অন‍্যত্র লেখা আছে--*
*🌷যে দেখিবে কৃষ্ণানন,তারে করে দ্বিনয়ন,*
             *বিধি হয়ে হেন অবিচার।*
*🌷মোর যদি বোল ধরে,কোটি আঁখি তারে করে,*
             *তবে জানি যোগ্য সৃজন তার।।*
*🌻শ্রীরূপ গোস্বামীপাদ বলেছেন--, "সৌন্দর্যেন দৃগানন্দকারী রুচির উচ‍্যতে"। অর্থ‍্যাৎ কান্তদ্বারা আনন্দকারী হলেই "রুচির" বলা হয়। কোন সোনা,রূপো, হীরের অলংকার না পরে যদি সত‍্যই রূপে আকর্ষণ হয় তাহাই প্রকৃত রূপ।*
*🌻আগে সুরম‍্যাঙ্গের উদাহরণ দিয়ে সম্পূর্ণ তৃপ্তিলাভ করতে না পেরে তিনি একটি শ্লোক পরিবেশন করেছেন।তার বঙ্গানুবাদ দেওয়া হল--, শ্রীকৃষ্ণের করদ্বয়,(হাত দুইটি) নাভি, চরণযুগল, নেত্রদ্বয় ও শ্রীমুখমন্ডল--, এই আটটি অঙ্গই পদ্ম।এই অষ্টাঙ্গের কোন একটিতে গোপীদের চঞ্চল নেত্ররূপ ভ্রমর সব কোনভাবে পতিত হয়, তবে সেই অঙ্গ কান্তিরূপ পঙ্কময় স্থান হতে আর উঠতে পারে না।তাই শ্রীরাইধনি বলে ছিলেন---*
*🌷জনম অবধি হাম ওরূপ নেহারিনু।*
*🌷নয়ন না তিরপিত ভেল।।*
*🌻বিদগ্ধ মাধব নাটকের দ্বিতীয় অঙ্কে বিশাখা সখী শ্রীরাধাকে বললেন, হে সখী!লোকগণ তোমাকে সম্পূর্ণ ধৈর্য‍্যশালী বলে থাকে তবে কেন উদ্বিগ্ন হচ্ছ?উত্তরে শ্রীরাধা বিশাখা সখীকে বললেন,সখী! সেই ধূর্ত্তই আমাকে নির্গুণে পরিণত করেছে।যাঁর সুশোভন বক্ষস্থল কুল বধূগণের ধৈর্য‍্য নদী অবরোধ করতে দক্ষ,যাঁর বদন চন্দ্রমা কুলধর্ম সঙ্কোচনে দীক্ষিত, যাঁর বাহুযুগল উন্নত ব্রীড়া-বলিদান যজ্ঞের জন্য চিরকালের জন্য উদ্গত যুপকাষ্ঠ (যজ্ঞের পশুকে যে কাঠে বেঁধে রাখা হয়) সমান,হে সখী!কি কষ্ট যে!তাঁর নেত্রভঙ্গীরূপ ভূজঙ্গিনী আমাদের সবই গ্রাস করে ফেলিল।*
*🌹শ্রীকৃষ্ণের অর্গলসমান আজানুলম্বিত বলিষ্ঠ অথচ কমনীয় বাহু দুইটি সঙ্কুচিত করে মনোরম বেণুরন্ধ্রে চপল করাঙ্গুলী গুলি সঞ্চালন করে বংশীধারী রক্তিম বিম্বাধর সুধারসে সিক্ত করাতে মধুর মুরলী "রাধা!রাধা"! বলে বাদন করে দিব‍্যরাগসব উদ্গীরণ বা বমন করছেন। শ্রীকৃষ্ণের অধর ও ওষ্ঠ বান্ধুলী ফুলের মত রঙ্গিন এবং সেটি রাধিকার কাছে অমৃতের খনি বলে শ্রীরাধার মধুর অধর স্পর্শ করবার জন্যই মনে হয় শ্রীকৃষ্ণের হৃদয়জাত অন্তঃরঙ্গ রাগ (রঙ)হতেই ঐ ওষ্ঠ রঞ্জিত হয়েছিল।*
*🌻যাঁর মনোহর,উন্নত পদাগ্রভাগের নখরাজি দর্পণ অপেক্ষাও শোভান্বিত এবং নখাবলী দ্বারা শোভমান রত্নাঙ্গুলী রূপ পত্র নিকরে তার পরম রমণীয় যুগল চরণকমল কোটি চন্দ্রের মত আভা বা আলো উদ্গীরণ করছে এবং উজ্জ্বল শ্রীচরণ পদ্মদ্বয়ের উপরিভাগে মণিময় নূপুর দীপ্তি পাচ্ছে,সেই জগন্মোহন নবকিশোর,নবকন্দর্প স্বরূপ নন্দকিশোরকে নিরীক্ষণ করলে তার নয়নদ্বয় পরিতৃপ্ত না হয়?*
*♻শ্রীকৃষ্ণের রূপ ও গুণ নিরূপম ও অচিন্ত‍্য। যিনি অচিন্ত‍্য মহাশক্তিমান, যিনি সমস্ত অবতারগুলির উৎপত্তিস্থল,যার চমৎকারী রূপগুণ-লীলা-তরঙ্গের মহাসাগরে স্নাত (স্নান) হয়ে পরমহংস মুকুটমণি শ্রীশুকদেব গোস্বামীপাদ শৌণকাদি ও সনকাদি আত্মারাম মুনিগণ নিগ্রন্থচিত্ত হয়ে অহৈতুকী ভক্তি করে থাকেন, যার বিশ্ববিমোহন রসরাজ ও বিদগ্ধরাজ মূর্তিতে গোপরামাগণের নীবিবন্ধ স্খলিত হয়ে পড়ে ও চরাচর জগতকে বিমুগ্ধ করে দেয়,যার মনোরম বংশীধ্বনিতে ত্রিভুবনের চিত্ত আকর্ষণ করে,শ্রীযমুনা তরঙ্গ ভেঙ্গে উজানে বহিতে থাকে,ও পর্বতমালা আর্দ্রীভূত হয়ে যায়, যাকে একটিমাত্র তুলসীপত্র সহ একবিন্দু জলদ্বারা আরাধনা করলে ভক্তগণের কাছে নিজেকে বিক্রয় করে মধুর প্রেমে ভূষিত করেন,যিনি বৃন্দাবনের লতা পাতাকেও বক্ষে নিয়ে চুম্বন করে মধুর প্রেমে ভূষিত করতেন,সেই অনন্ত রূপ-গুণ সমন্বিত শ্রীকৃষ্ণ মথুরায় পূর্ণ, দ্বারকাদিতে পূর্ণতর ভাবে এবং গোকুলে পূর্ণতম ভাবে প্রকাশিত হয়ে বিরাজ করছেন,সেই নিত‍্যনবায়মান ধীর ললিত,বদান‍্য,ভক্তসুহৃদ, প্রেমবশ‍্যা, সর্বশুভঙ্কর,মধুময় শ্রীগোবিন্দের চারু চরণ-কমলে ব্রজাঙ্গনাগণ ও ব্রজবাসীগণ ও রসিক ভক্তগণ মধুপান করছেন।*
*🌻শ্রীকৃষ্ণ স্বয়ং মদনমোহন মূরতি।প্রাকৃত মদন তাঁর রূপে মুগ্ধ হয়ে সম্ভোগসুখ কামনায় অসমর্থ হয়ে মূছিত হয়ে যায়।শ্রীকৃষ্ণের মধুর রূপ দর্শনে,*
*🌷পুরুষ,যোষিত কিম্বা স্থাবর জঙ্গম।*
*🌻মোহিত হয়ে যায়।শ্রীমন্মহাপ্রভু শ্রীসনাতন গোস্বামীপাদকে বলেছিলেন------*
*যে রূপের এক কোণ,ডুবায় এই ত্রিভুবন,*
           *সর্বপ্রাণী করে আকর্ষণ।*
 🛑🛑🛑ক্রমাগত🛑🛑🛑
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 👉 প্রেমঋণে শ্রীগৌরাঙ্গ মাধব 🥀 শ্রীরাধাবিনোদ সরকার 📖 দ্বিতীয় ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/04/prem2.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(১৮)প্রেম ঋণে শ্রীগৌরাঙ্গ মাধব*
         *শ্রীকৃষ্ণের দ্বিতীয় বাঞ্ছা*
          ◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆

*🌷বৃন্দাবনের অপ্রাকৃত নবীন মদন।*
*🌷কামবীজ কামগায়ত্রী যার উপাসন।।*
*🌻শ্রীকৃষ্ণের নিরূপম রূপমাধুরী এমনই চিত্তাকর্ষক ও মনোহারী যে দর্পণে বা আয়নায়,মণিস্তম্ভে অথবা মানসগঙ্গায় নবীন নাবিকবেশে নিজের প্রতিবিম্ব মূর্তি দর্শন করে নিজেই বিমোহিত হয়ে বলেন--,"আমি কি এতই সুন্দর!*
*🌷কৃষ্ণের মাধুরী কৃষ্ণে উপজয়ে লোভ।*
*🌷সম‍্যক্ আস্বাদিতে নারে মনে রহে ক্ষোভ।।*
*🌷বিচার করিয়ে যদি আস্বাদ উপায়।*
*🌷রাধিকা স্বরূপ হৈতে তবে মন ধায়।।*
*🌻নিজের অদ্ভুত,অনন্ত ও মনোহারী রূপমাধুর্য‍্য সম‍্যক (সর্বপ্রকার)আস্বাদন করতে না পেরে ক্ষুব্ধচিত্তে আশ্রয়জাতীয় সুখ আস্বাদনের মানসে শ্রীরাধার রূপ ও কান্তি ধারণ করে রসিকশেখর শ্রীশ‍্যামসুন্দর শ্রীধাম নবদ্বীপে শ্রীগৌরকিশোর রূপে অবতীর্ণ হলেন।সংসারে এমন কেউ নাই যে শ্রীকৃষ্ণের রূপ,গুণ,মাধুর্য‍্য সম‍্যক বা সর্বপ্রকার উপলব্ধি করতে পারে।ঐ সর্বাতিশয়ী মাধুরিমা সর্বাঙ্গীন ভাবে আস্বাদন করা জীবের পক্ষে সহজসাধ‍্য নয়।*
*🌷ত্রিজগতে কেহ ইহার নাহি পায় সীমা।*
*🌻শুধু তবু একজন আছেন, যিনি ঐ বিশ্ব-বিমোহন মাধুর্য‍্য সর্বতোভাবে আস্বাদন করতে পারেন, তিনি বৃষভানু রাজনন্দিনী শ্রীমতী রাধাঠাকুরাণী।*
*🌷এই প্রেমদ্বারে নিত‍্য রাধিকা একলি।*
*🌷আমার মাধুর্য‍্যামৃত আস্বাদে সকলি।।*
*শ্রীরাধা "একলি" এবং নিত‍্যই আস্বাদন করেন।এইকথা বলবার তাৎপর্য‍্য এই যে আমরা দর্পণে বা আয়নায় প্রতিবিম্ব দেখি,সেটি জড়ীয় ও মলিন।শ্রীভগবান নিজের মূর্তি দেখেন ভক্তের হৃদয় দর্পণে।জড়ীয় দর্পণ গ্রহণ করে প্রতিবিম্ব আর ভক্তহৃদয় গ্রহণ করে বিম্ব বা মূল বস্তু, কারণ ভক্তের হৃদয়ে কৃষ্ণের সবসময়ই বিশ্রাম।এ জগতে যত ভক্তের হৃদয়ে দর্পণ আছে--,স্বচ্ছ, স্বচ্ছতর ও স্বচ্ছতম, তারমধ‍্যে সর্বশ্রেষ্ঠ স্বচ্ছতমের পরাকাষ্ঠা রয়েছে শ্রীরাধার প্রেমদর্পণে বা সৎ-দর্পণে। এই সৎ-দর্পণে মলিনতার লেশমাত্রও নাই বলে সেটি নিরূপাধি।এই প্রেমদর্পণে শ্রীরাধা "একলি" শ্রীকৃষ্ণের নিরুপম রূপমাধুর্য‍্য পূর্ণাঙ্গে গ্রহণ করেন এবং শ্রীকৃষ্ণও নিজেকে সর্বতোভাবে দর্শন করেন।*
*শ্রীরাধার চিত্ত দর্পণের স্থচ্ছতা ও উজ্জ্বলতা প্রতিক্ষণেই বর্দ্ধনশীল (বেড়ে চলেছে)।শ্রীরাধার কৃষ্ণ-মাধুর্য‍্য আস্বাদনের উৎকণ্ঠাও এইরকম নিরন্তর (সবসময়ই)বেড়ে চলেছে।*
*🌷বাঢ়িতে ঠাঁই নাই' তবুও বর্দ্ধনশীল।*
*🍀এই প্রতিনিয়ত (অহরহ) বর্দ্ধনশীল ভাব অধিরূঢ় (উপরে উঠা বা চড়া)মহাভাবের বিশেষত্ব।শ্রীরাধার এই নিরুপাধি (যার উপাধি নাই বা লাভ-যশ-প্রতিষ্ঠাবিহীন কর্ম) চিত্তদর্পণের আগে কৃষ্ণ-মাধুর্য‍্য নিত‍্য নবায়মান।তাই কবিরাজ গোস্বামীপাদ বলেছেন--,*
*🌷এ দর্পণের আগে নব নব রূপে ভাসে।*
*🌺শ্রীকৃষ্ণের নিত‍্যনবায়মান মাধুর্য‍্য রয়েছে রাধাকৃষ্ণের নিবিড় মিলনে--, অর্থ‍্যাৎ শ্রীরাধার সান্নিধ্যেই শ্রীকৃষ্ণের মাধুরিমা তথা শ্রীকৃষ্ণের সান্নিধ্যেই রাধা মাধুরী বর্দ্ধনশীল।কৃষ্ণ-নিষ্ঠ মাধুর্য‍্য ও রাধা-নিষ্ঠ উৎকণ্ঠা এই দুইই অপরিসীম,যথা---*
*🌷মন্মাধুর্য‍্য রাধার দোঁহে হোড় করি।*
*🌷ক্ষণে ক্ষণে বাঢ়ে দোঁহে কেহ ধাহি হারি।।*
*🌻হোড় বলতে বোধহয়, প্রতিযোগিতা বলা হয়েছে।*
*🍀(৩)শ্রীকৃষ্ণ লীলা মাধুর্য‍্য ঃ----*
*🌹অতি সংক্ষিপ্ত ভাবে লীলা মাধুর্য‍্য বর্ণনা করবার চেষ্টা করছি মাত্র। শ্রীমদ্ভাগবতে--- "অহো। স্তনকালকূটং" ইত্যাদি শ্লোকে অর্থ‍্যাৎ যাঁকে শিশুকালে বধ করবার জন্য পূতনা স্তনে কালকূট বা বিষ দিয়ে বধ করতে চেয়েছেন।সেই শ্রীকৃষ্ণ তাকে ধাত্রীপদ যোগ্য গতিই প্রদান করেছিলেন, বল দেখি তিনি ছাড়া আর কোন দয়ালুর শরণ গ্রহণ করব", ঠাকুর শ্রীবৃন্দাবন দাস শ্রীচৈতন‍্যভাগবতে মধ‍্যখন্ডে লিখেছেন--*
*🌷রাক্ষসী পূতনা শিশু খাইতে নির্দ্দয়া।*
*🌷ঈশ্বর বধিতে গেল কালকূট লইয়া।।*
*🌷তাহারেও মাতৃপদ দিলেন ঈশ্বরে।*
*🌷না ভজে অবোধ জীব হেন দয়ালুরে।।*
*🌻শ্রীদামোদরের দামবন্ধন লীলায়--, মা যশোদা শ্রীদামোদরকে রজ্জুদ্বারা বন্ধন করবার জন্য যত্ন নিচ্ছিলেন, তখন বাৎসল‍্য ভাব প্রবণা ব্রজ গোপীগণ বলেছেন-- হে ব্রজেশ্বরী! বিধাতা তোমার পুত্রের ললাটফলকে বন্ধন লিখেননি, তুমি তো সাক্ষাতেই দেখছ যে,সুদীর্ঘ দড়ি দিয়েও তোমার পুত্রের উদর বা পেট বেষ্টিত বা ঘিরে ধরতে পারছে না, যত দড়ি যুক্ত করছ ততই কম পরছে।ইহা দ্বারা স্পষ্টই বুঝতে পারা যায় যে যখনই রাশি রাশি দড়ি দিয়ে বন্ধন হচ্ছে না তখনই বালগোপালের বিভূত্ব বা ভগবানত্ব স্বীকার করতে হবে।পরিশেষে গোপাল যখন দেখলেন যে, গোপালকে বাঁধবার জন্য পরিশ্রমী মা ঘেমে সমস্ত শরীর ভিজে গেছে, মা আর পারছেন না,মায়ের কষ্ট দেখে গোপাল নিজেই বন্ধন স্বীকার করলেন।তখন ব্রজেশ্বরী গোপালকে বাঁধলেন।ঈশ্বর বুদ্ধিহীন পুত্র বুদ্ধিতে তিনি ধরা দেন।*
                  *ক্রমাগত*
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 👉 প্রেমঋণে শ্রীগৌরাঙ্গ মাধব 🥀 শ্রীরাধাবিনোদ সরকার 📖 দ্বিতীয় ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/04/prem2.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(১৯)প্রেম ঋণে শ্রীগৌরাঙ্গ মাধব*
            *শ্রীকৃষ্ণের মাধুর্য‍্য লীলা*

*🍀নন্দ মহারাজ বিলাপ করে উদ্ধব মহাশয়কে বলেছিলেন--, অহো!বাল‍্যকাল হতেই গোপাল আমাদেরকে নানাভাবে রক্ষা করেছে।কালিয়দমন লীলায় কালিয়নাগের মাথায় যখন আমার গোপাল নাচছিল,সেই কালিয়-হ্রদের উপকূলে একটি বনের ভিতরে আমরা সব ব্রজবাসীগণ যখন নিদ্রিত ছিলাম তখন চারিদিক হতে দাবানল আমাদের গ্রাস করতে রত হলে,সেই ছড়িয়ে পড়া দাবানল আমার গোপাল ভোজনে রত হ'ল।অগ্নিও তার দাহধর্ম পরিত‍্যাগ করে সুধার মত সন্তর্পণ ধর্ম প্রকাশ করেছিল।এইভাবে দেবরাজ ইন্দ্র কর্তৃক ভীষণ ঝড়,শিলাবৃষ্টি করলে আমার গোপাল খেলার বলের মত গিরিগোবর্দ্ধনকে ধারণ করে আমাদের রক্ষা করেছিল।বৃষাসুর,সর্পাকৃতি অঘাসুর, অম্বিকাবনের অজর সাপ প্রভৃতি হতে নানাপ্রকারে আমাদেরকে রক্ষা করেছে।কৃষ্ণের কারুণ‍্যাদি প্রভাবে ও প্রেমাস্পদাদি স্বভাবে ইহা করেছে।*
*🌺ব্রজে পূর্বরাগ,মান,দান প্রভৃতি লীলা ছাড়া মুখ‍্যা অন্তরঙ্গা নিত‍্যলীলা এই ভৌম বৃন্দাবনে বতর্মানও চলছে।এই অহোরাত্র কৃতলীলাকে অষ্টকালীয়লীলা বলে।নিশান্তলীলা বিপ্রলম্ভ অর্থ‍্যাৎ বিয়োগাত্মিকা বিধায় বৈষ্ণবগণ নিশান্ত হতে আরম্ভ করে অলসলীলা পর্যন্ত শ্রীরাধামাধবের নিত‍্য মানসী সেবা করে থাকেন।এই নিত‍্যলীলা "সনৎকুমার তন্ত্রে ষটত্রিংশ‍ৎ(৩৬) পটলে" শিব-নারদ সংবাদে দেবর্ষি নারদ শিবকে কহিলেন--,ভগবন্!গুরোঃ সম্প্রতি সকল সাধনাপেক্ষা উৎকৃষ্ট ভাব মার্গ শুনতে ইচ্ছা করি।তখন শিব বললেন--, "সাধু পৃষ্টং ত্বয়া বিপ্র সর্বলোকা হিতৈষিণা ইত্যাদি শ্লোকের অনুবাদ করলেন। শিব কহিলেন--, হে বিপ্র!তুমি সব লোকের হিত কামনা কর,অতএব অতি উত্তম প্রশ্ন করেছ।আমার কথিত এই ভাবমার্গের সাধন অত‍্যন্ত গুহ‍্য ও রহস‍্যাবৃত।এই ভৌম বৃন্দাবনের শ্রীকৃষ্ণের দাস,সখা,পিতামাতা, প্রেয়সীগণ সকলেই নিত‍্য, সকলেই তাঁর তুল‍্য গুণশালী।প্রকটলীলায় শ্রীকৃষ্ণের যে রকম ব্রজবিলাস পুরাণে প্রসিদ্ধ আছে,অপ্রকট লীলাতেও ভৌমবৃন্দাবনেই তা সেইরকমই হয়ে থাকে।সেইরূপে গোচারণ জন্য প্রতিদিন বনে গমন,বয়স‍্যগণের সঙ্গে গোচারণ,আবার অপরাহ্নে বা বিকেলে গোচারণ অন্তে গৃহে আগমন,সেইরকমই অভিসার।কুঞ্জভঙ্গে বনগোষ্ঠে গমনাগমন নিত‍্যই হয়ে থাকে।নিত‍্যলীলায় শুধু অসুর নিধনাদি নৈমিত্তিক লীলা নাই।পরকীয়া অভিমানিনী কৃষ্ণপ্রেয়সীগণ সেইরকম গোপন ভাবে নির্জন নিকুঞ্জে শ্রীকৃষ্ণের সঙ্গে নিত‍্যই বিহার করছেন।*
*🌻সেই প্রেয়সীগণের মধ্যে যিনি সর্বোত্তমা মনোরমা রূপ-যৌবন সম্পন্না,প্রমদাকৃতি নানা শিল্পকলা অভিজ্ঞা, কৃষ্ণভোগানুরূপিনী সেই ভোগপরা কিশোরীর সঙ্গে লীলা বিলাস করবার জন্য শ্রীকৃষ্ণ প্রার্থনা করে থাকেন।তথায় শ্রীরাধার কিঙ্করীগণ নিত‍্যসেবা পরায়ণা হয়ে শ্রীকৃষ্ণ হতে শ্রীরাধার প্রেম-উৎকর্ষ কারণ,প্রতিদিন যত্ন সহকারে শ্রীরাধা গোবিন্দের মিলন করানো এ মিলনান্তে যুগলের সেবা-সুখ আস্বাদ মনে মনে ভাবনা করতঃ,সেই ভাবে সেবা করে থাকেন।এই নিত‍্যলীলা ব্রাহ্মমুহূর্ত্ত হতে আরম্ভ করে মহানিশা পর্যন্ত চলতে থাকে।(নিত‍্যলীলার বিস্তৃত বর্ণনা এ,বৈষ্ণদাসানুদাস কৃত "মনুষ‍্যত্বের ক্রম বিকাশে আদর্শ বৈষ্ণব গ্রন্থে দ্রষ্টব‍্য)।*
                *ক্রমাগত*
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 👉 প্রেমঋণে শ্রীগৌরাঙ্গ মাধব 🥀 শ্রীরাধাবিনোদ সরকার 📖 দ্বিতীয় ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/04/prem2.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(২০)প্রেম ঋণে শ্রীগৌরাঙ্গ মাধব*
*শ্রীকৃষ্ণের বংশী মাধুর্য‍্য ও ৩য় বাঞ্ছা*

*🌻🌻শ্রীকৃষ্ণের বংশী মাধুর্য‍্য🌻🌻*
*🍀শ্রীকৃষ্ণের মধুর মুরলী শ্রবণে শ্রীরাধা ললিতাদি সহচরীগণ সহ কৃষ্ণ-অনুরাগে গদগদ হয়ে রাজহংসীর মত হেলে দুলে দিগ বিদিক জ্ঞান শূন‍্য হয়ে কৃষ্ণ গুণগানের অবিরল অমৃতধারা বর্ষণ করতে করতে চাঁদের মালার মত কৃষ্ণাভিসারে গমন করেন।শ্রীকৃষ্ণের মধুর মুরলী মধুধারা বর্ষণ করে ব্রহ্ম ও শুককে পাগল করল।জলধরের গতিরোধ করে গন্ধর্বরাজ তুম্বরূর চমৎকারিত্ব সম্পাদন করে সনন্দাদি মুনিগণকে ধ‍্যান হতে চ‍্যুত করে, নাগরাজ বাসুকিকে আঘূর্ণিত(খানিক ঘূর্ণন) করে ব্রহ্মান্ড কটাহের আবরণের ভিত্তি(এককথায় ত্রিলোকে বংশীধ্বনি ঘুরতে লাগল,যাঁরা কৃষ্ণানুরাগী তাঁরা শ্রবণ করে পাগল হয়ে গেলেন) ভেদ করে শ্রীকৃষ্ণের মধুক্ষারা বংশীধ্বনি চারিদিকে ভ্রমণ করছে।অষ্টকর্ণপুটে মধুর মুরলী অমৃতময় ধ্বনি শুনে ধৈর্য‍্যশালী ব্রহ্মা হংসপিঠে মুহুর্মূহু গড়াগড়ি দিচ্ছেন। বংশীধ্বনি শ্রবণে ইন্দ্রের হাজার নয়ন অশ্রু প্লাবিত হয়ে বারিধারা বর্ষিত হচ্ছে।গৃহকর্মকালে গোপাঙ্গনাগণের হাত স্তব্ধ করে দিচ্ছে।এমনও দেখা গেছে যে,কোন কোন ব্রজরামাগণকে পতির কোল হতে আকর্ষণ করে তাঁদের গুরুজন সমীপেই নীবিবদ্ধ মোচন করে দিচ্ছে,অর্থ‍্যাৎ বংশীধ্বনি শ্রবণ করে অঙ্গে বসন আছে কি নেই তার কোন খেয়াল নেই।শ্রীরাইধনির কাঁচুলী (নারীবক্ষ বা স্তনাবরক বস্ত্রবন্ধনী বা কুর্ত্তি)ভিজে পিযূষধারা বর্ষিত হতে লাগিল।(◆অপ্রাকৃত লীলা প্রাকৃত বুদ্ধি দ্বারা আস্বাদন হয় না), এবং ঘন ঘন শ্বাস বহে রোমাঞ্চ পুঞ্জে অঙ্গ সব কাঁটার মত হয়ে গেল।শ্রীযমুনা তরঙ্গ ভেঙ্গে উজান বইছে।পশু পাখীগণ মূক বা বোবা হয়ে সেই অমৃতরস আস্বাদন করছে।কুসুমিত তরুলতাপাতা আনন্দে হেলে দুলে একে অন‍্যের গায়ে পড়ছে।পাষাণ মধুমাধুরী আস্বাদন করে গলে যাচ্ছে।এই হচ্ছে আমার শ্রীকৃষ্ণের বংশীধ্বনির মহিমা।*
*🌻নন্দকিশোরের তৃতীয় বাঞ্ছা🌻*
*🌷সোখ‍্যং চাস‍্যাং মদনুভবতঃ কীদৃশং বা।*
*🌻শ্রীকৃষ্ণ মাধুর্য‍্য আস্বাদন করে শ্রীরাধার সেই মাধুরিমার অনুভবটি কি প্রকার তাইই শ‍্যামসুন্দরের জানবার ইচ্ছা। তিনি স্বয়ং সুখময় হয়ে অন‍্যের সুখানুভূতির লোভ কেন?ইহা অতি বিচিত্র।শ্রীরাধার অন্তরে বিন্দুমাত্র সুখবাঞ্ছা নেই,অথচ তাঁর হৃদয়ে কোটিগুণ সুখ অনুভব হয়ে থাকে।শ্রীপাদ বিশ্বনাথ চক্রবর্তী বলেছেন----*
*🌷কারণং বিনা কার্য‍্যেৎপত্তেঃ---, সেব তৃতীয় বাঞ্ছাৎপত্তেঃ কারণমিতি।*
*🌻অর্থ‍্যাৎ কারণ বিনা কার্য‍্য হয়েছে, তাহাই তৃতীয় বাঞ্ছার হেতু।*
*🌹শ্রীরাধা রমণীমুকুটমণি এবং শ‍্যামকন্ঠ হেমমণি ও পরা।আগে বলা হয়েছে যে অনুরাগ যখন প্রেমের চরম সীমা লাভ করে তখনই মহাভাব হয়।চিত্ত সম্পূর্ণভাবে নিষ্কাম না হলে হৃদয়ের অনুরাগ মহাভাব ভূমিতে আরোহণ করতে পারে না।তাই শ্রীপাদ কবিরাজ গোস্বামী বলেছেন---*
*🌷গোপীকার প্রেম অধিরূঢ় মহাভাব নাম।*
*🌷নির্মল বিশুদ্ধ প্রেম কভু নহে কাম।।*
*🌷আত্মেন্দ্রিয় প্রীতি ইচ্ছা তারে বলি কাম।*
*🌷কৃষ্ণেন্দ্রিয় প্রীতি বাঞ্ছা ধরে প্রেম নাম।।*
*🌻গোপীগণের সম্বন্ধে কোন "কাম" শব্দ প্রয়োগ দেখলেই সেটিকে প্রেমার্থেই বুঝতে হবে।(যার ভিতরে কিঞ্চিৎ কাম ভাব রয়েছে,তারা কোনদিনই মদনের সামনে দাঁড়াতে পারবে না,যাঁরা মদনের সামনে দাঁড়িয়ে মদনকে নাকখত দিতে বাধ‍্য করেছিলেন,তাঁদের মধ্যে "কাম" কিভাবে জন্ম নিতে পারে?)*
*ব্রজাঙ্গনাগণের প্রেম যদি প্রাকৃত প্রেম হত,তবে অষ্টাদশ পুরাণাদির বহু শাস্ত্রপ্রণেতা অসাধারণ ধীমান মহর্ষি ব‍েদব‍্যাস,তাঁর পুত্র আকুমার বৈরাগ‍্যবান পরমহংস মুকুটমণি শ্রীশুকদেব গোস্বামীপাদ,পরম ধার্মিক মহারাজ পরীক্ষিৎ, দেবাদিদেবমহাদেব,দেবর্ষি নারদ প্রভৃতি বহু শাস্ত্রকারগণ মহামুনি ও তপস্বীগণ ও শ্রেষ্ঠ মানবগণ পবিত্র হবার বাসনায় এই পরম পাবনী লীলার গুণগান করতেন না। শ্রীরাধিকাদি ব্রজ গোপীগণ নিষ্কলঙ্ক পূর্ণিমা চাঁদের মত ব্রজ-গগনে উদিত হয়ে কৃষ্ণপ্রেম সুধাধারা সিঞ্চন করেছেন বা করে চলেছেন।🙏জয় শ্রীব্রজগোপীগণ।*
*যাঁর কলঙ্ক কথা, ভাগবতে কবি গাঁথা,*
      *গুরু দেন শিষ‍্যেরই কানে।*
*🌻সেই পরকীয়া পাবনী লীলা ও সেই মধুরোঞ্জল ব্রজ প্রেমের জয় হোক।শ্রীকৃষ্ণের দেহ যেরকম অপ্রাকৃত,তাঁর ধামও সেইরকম অপ্রাকৃত ; তাঁর সঙ্গীগণও তদ্রূপ অপ্রাকৃত,চিন্ময় ও নিত‍্য।রসশাস্ত্রে পরোঢ়া (পরস্ত্রী) পরকীয়া মুখ‍্য শৃঙ্গার রসে বর্জন করা হয়েছে তা প্রাকৃত নায়িকা সম্বন্ধেই বুঝতে হবে, ব্রহ্ম সংহিতায় বর্ণিত--, ◆আনন্দ চিন্ময় রস প্রতিভাবিতা কৃষ্ণবল্লভা ব্রজ গোপীগণের সম্বন্ধে নয়।শ্রীরাধা ললিতাদি ব্রজদেবীগণ শ্রীকৃষ্ণের নিত‍্য কান্তা হলেও রসিকেন্দ্র মৌলি শ্রীকৃষ্ণের ইচ্ছায় লীলাশক্তি যোগমায়া কল্পিত পরকীয়ায় ভাবের দ্বারা অবগুন্ঠিতা।এই পরকীয়া ভাব হেতু শ্রীকৃষ্ণের প্রতি অদম‍্য অনুরাগ বিশেষই ধ্বনিত হয়েছে।কৃষ্ণসুখ হেতু গোপীগণ সব ত‍্যাগ করে কৃষ্ণের প্রেমসেবা করেন।এহেন গোপীকাগণের মধ্যে যিনি সর্বোত্তমা,যাঁর সুখের মধ্যে বিন্দুমাত্র সুখবাঞ্ছা নেই,সেই নিবিড় সুখের অনুভূতির জন্য শ্রীরাধারমণের লোভ এই ব্রজদেবীগণের সকল উদ‍্যমের মূলে কৃষ্ণ-সুখ কামনা,কৃষ্ণসুখ বিধানের জন্য অদম‍্য চেষ্টা।যথা শ্রীচৈতন‍্যচরিতামৃতে পাই----*
*🌷আত্ম-সুখ গোপীকার নাহিক বিচার।*
*🌷কৃষ্ণ-সুখ হেতু চেষ্টা মনো ব‍্যবহার।।*
                   *ক্রমাগত*
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🔜 ক্রমাগত 👉 প্রেমঋণে শ্রীগৌরাঙ্গ মাধব 🥀 শ্রীরাধাবিনোদ সরকার 📖 তৃতীয় ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/04/prem3.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

    📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝
    ꧁👇📖 সূচীপত্র ✍️ শ্রী জয়দেব দাঁ 📖👇



✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧


✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

   ✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️ 
নিবাস- বাঁশবাড়ী, কীর্তন মন্দিরের পাশে, পোঃ- বাঁশবাড়ী, থানা- ইংরেজ বাজার, জেলা- মালদহ, পশ্চিমবঙ্গ, পিন কোড- ৭৩২১০১।

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

  *••••┉❀꧁👇🏠Home Page🏠👇꧂❀┅••••* 


✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

    *••••━❀꧁👇 📖 সূচীপত্র 📖 👇꧂❀┅••••* 



✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

     *••••━❀꧁👇📚 PDF গ্রন্থ 📚👇꧂❀┅••••* 


✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
    *••••┉━❀꧁ 🙏 রাধে রাধে 🙏 ꧂❀━┅••••* 
                   শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য প্রভু নিত্যানন্দ
              হরে কৃষ্ণ হরে রাম শ্রীরাধেগোবিন্দ।।
  *••••┉━❀꧁ 🙏 জয় জগন্নাথ 🙏 ꧂❀━┅••••*
              হরে কৃষ্ণ হরে কৃষ্ণ কৃষ্ণ কৃষ্ণ হরে হরে
              হরে রাম হরে রাম রাম রাম হরে হরে॥
  *••••┉━❀꧁ 🙏 জয় রাধাকান্ত 🙏 ꧂ ❀━┅••••*
   🌷❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀🌷
   🏵️❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀🏵️
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧







adds