✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
শ্রীশ্রীজগন্নাথ লীলামৃত 🙏 প্রথম ভাগ 🙏 শ্রী মৃন্ময় নন্দী কর্ত্তৃক সকল ভক্ত চরণে অসংখ্যকোটি প্রণাম 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/03/jagannath.html
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
১. শ্রীশ্রীজগন্নাথ লীলামৃত 🙏 প্রথম ভাগ 🙏 শ্রী মৃন্ময় নন্দী কর্ত্তৃক সকল ভক্ত চরণে অসংখ্যকোটি প্রণাম 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/03/jagannath.html
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
প্রাচীন যুগ হইতে বদ্রীনাথ, রামেশ্বর, দ্বারকা, জগন্নাথ এই চারধাম শ্রেষ্ঠ ধাম রুপে পরিচিত। ভাক্তদের বিশ্বাস ভগবান বদ্রীনাথে স্নান, দ্বারকায় শৃঙ্গার, শ্রীক্ষেতে ভোজন রামেশ্বরে শয়ন করেন।
শাস্ত্র মতে সত্য যুগে শ্রীনারায়ণ রুপে বদ্রীনাথে, ত্রেতা যুগে শ্রীরামচন্দ্র রুপে রামেশ্বরে, দ্বাপর যুগে শ্রীকৃষ্ণ রুপে দ্বারকায় এবং কলি যুগে দারুব্রহ্ম রুপে শ্রীক্ষেতে পূজিত হয়। এই চারিধামের মধ্যে শ্রীক্ষেত্র বা নীলাচল বা পুরী সর্বশ্রেষ্ঠ ধামরূপে পরিগণিত কারণ এই ধামে স্বয়ং দারুব্রহ্ম রুপে ভগবান শ্রীজগন্নাথ মহাপ্রভু এবং শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য মহাপ্রভুর একত্রে বিরাজ করছেন।
স্বয়ং মহালক্ষ্মী এই ধামের অন্নদাত্রী। যেহেতু মহালক্ষ্মী "শ্রী" নামে পরিচিত এই ক্ষেত্রের নাম শ্রীক্ষেত্র। ভিন্নমতে প্রেমময়ী রাধারানীর প্রেমে এই স্থানের মাধুর্য্য প্রকটিত হয়েছে। তাই এই ধামের নাম শ্রীক্ষেত্র । এই ধামটি আকৃতি শঙ্খের ন্যায়।
দ্বাপরের শেষ পর্ব পরমপুরুষ লীলাময় ভগবান শ্রীকৃষ্ণ শবরের (ব্যাধের) হাতে দেহ রক্ষা করেন। হিন্দু প্রথা অনুসারে তাহার পার্থিব শরীরকে আত্মীয়-স্বজনের উপস্থিতিতে অগ্নি সংস্কার করা হতো। সেই সময় এই বিচিত্র পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। সারা শরীর অগ্নিদগ্ধ হলেও নাভি পিন্ডটিকে অগ্নিস্পর্শ করেনা, আত্মীয়-স্বজনের চিন্তিত হয়ে পড়েন এমন সময় দৈববাণী হয় যে----------------------
"আদগ্ধ নাভি নাভি পিন্ডটিকে সাগরে বিসর্জন দাও, এটাই কলিযুগে দারুব্রহ্ম রূপে পূজিত হবে। দারুব্রহ্ম স্বয়ং শ্রীক্ষেত্রে শ্রীজগন্নাথ রুপে পূজিত হন।
শ্রীশ্রীজগন্নাথ দেবের প্রণাম মন্ত্র :-
নীলাচলনিবাসায় নিত্যায় পরমাত্মনে।
বলভদ্র সুভদ্রাভ্যাং জগন্নাথায় তে নমঃ। ।
পরমাত্মা স্বরুপ যাঁরা নিত্যকাল নীলাচলে বসবাস করেন, সেই বলদেব, সুভদ্রাও জগন্নাথদেবকে প্রণতি নিবেদন করি।
শ্রীজগন্নাথদেবের গায়ত্রী মন্ত্র:-
শ্রীক্ষেত্র বাসায় বিদ্মহে সচিদানন্দ চ ধীমহি তন্নো জগন্নাথ প্রচোদয়াৎ।।
শ্রীজগন্নাথ স্তব:-
নিলাদ্রৌ শঙ্খমধ্যে শতদলকমলে রত্নসিংহাসনস্থ,
সর্ব্বলঙ্ক রযুক্তং নবঘনরুচীরং সংযুক্তংচাগ্রযেন।
ভদ্রয়াং বামভাগে রথচরণধৃতং ব্রহ্মরুদ্রেন্দবন্দ্যং,
দেবানাং সারযুক্তং সুমনপরিবতং ব্রহ্ম দারু নামামি।।
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
২. শ্রীশ্রীজগন্নাথ লীলামৃত 🙏 প্রথম ভাগ 🙏 শ্রী মৃন্ময় নন্দী কর্ত্তৃক সকল ভক্ত চরণে অসংখ্যকোটি প্রণাম 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/03/jagannath.html
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
*পুরীর ধামের সর্বশ্রেষ্ঠ আকর্ষণ কি ❓❓❓
*শ্রীমন্দিরের অধিষ্ঠিত বিগ্রহগণের নাম কি ❓
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
পুরী সমগ্র ভারতের মধ্যে এক বিশেষ তীর্থ তথা দর্শনীয় ক্ষেত্র, মুখ্যতঃ বঙ্গীয় সাধক শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভুর জীবনের সঙ্গে এই স্থান বিশেষভাবে জড়িত থাকার জন্য এই স্থানে ভারতের প্রত্যেক প্রান্ত থেকে সহস্রাধিক বাঙালীরা আসেন। অনেক অ-হিন্দু যাত্রীরাও বাইরে থেকে পুরীতে অবস্থিত বিভিন্ন মন্দিরের অতি সুক্ষ্ম, মনোরম কারুকার্য ও সমুদ্র দর্শন করতে আসেন ।
পুরীর সর্বশ্রেষ্ঠ আকর্ষণ হল, পুরী শহরের মধ্যস্থলে অবস্থিত মহাপ্রভু পরম ব্রহ্ম শ্রীজগন্নাথদেবের মন্দির । এই মন্দির শ্রীমন্দির নামে খ্যাত । এই মন্দির ভারতের এক প্রাচীন মন্দির, মন্দিরে অধিষ্ঠিত বিগ্রহগণ হলেন শ্রীজগন্নাথ, শ্রীবলভদ্র, শ্রীসুভদ্রা ও শ্রীসুদর্শন দেব । মহাপ্রভুশ্রীজগন্নাথ নিজ প্রিয় সহোদর (অগ্রজ) শ্রীবলদেব, ভগিনী শ্রীসুভদ্রা ও প্রিয় সুদর্শনের সঙ্গে এই মন্দিরে বিরাজিত । তাই মহাপ্রভু শ্রীজগন্নাথ চতুৰ্দ্ধা মূর্তি নামে খ্যাত । শ্রীমহাপ্রভুর করুণার ফলে এই স্থান স্বয়ং সম্পূর্ণ বিচিত্র প্রণালীতে শ্রীমহাপ্রভুদের মূর্তি গঠন করা হয়েছে । সাধারণতঃ সর্বত্র বিগ্রহদের মূর্তির সঙ্গে মানুষের সামঞ্জস্য থাকে, কিন্তু এই স্থানে তার ব্যতিক্রম ঘটেছে, বিগ্রহগণের হাত নেই, পা নেই, কান নেই, শরীর কোমর পর্যন্ত, শ্রীজগন্নাথ দেবের আঁখি বলয় বেশ বড় ও গোলাকার, তাই তাঁর নাম ‘চকাডোলা’ শ্রীজগন্নাথ দেব কৃষ্ণ বর্ণ শ্রীবলদেব শ্বেতবর্ণ ও শ্রীসুভদ্রা হলুদবর্ণ ।
অনেক ঐতিহাসিক বলে থাকেন যে, মহাপ্রভু প্রথমে অনার্যদের দ্বারা পূজিত হন । কেউ কেউ বলেন প্রথমে মহাপ্রভু ভগবান বুদ্ধরূপে পূজিত হতেন ও আর্য্যদের অধিকৃত হবার পর শ্রীজগন্নাথ রূপে পূজিত হচ্ছেন। আবার অনেকে বলেন মহাপ্রভু শ্রীজগন্নাথ অনেক যুগ থেকে সর্বদেব, কৃষ্ণ, শ্বেত ও হলুদ বর্ণ হয়ে থাকার জন্য তাঁরা সারা পৃথিবীর সর্ব বর্ণ মানুষের দেবতা রূপে পরিগণিত হন । শ্রীবিগ্রহগণ দারু কাঠ দ্বারা নির্মিত । তাই মহাপ্রভু শ্রীজগন্নাথকে দারুব্রহ্ম বলা হয় ।
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
৩. শ্রীশ্রীজগন্নাথ লীলামৃত 🙏 প্রথম ভাগ 🙏 শ্রী মৃন্ময় নন্দী কর্ত্তৃক সকল ভক্ত চরণে অসংখ্যকোটি প্রণাম 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/03/jagannath.html
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
পুরী ধামের বিভিন্ন নামগুলি কি কি ❓❓❓
পুরী ধামের মহিমা কি ❓❓❓
ভগবান শ্রীবিষ্ণুর দশবতার দর্শনে যে পুণ্য অর্জন হয় সে পুণ্য কেবল কোন বিগ্রহ দর্শন করলে সম পুণ্য অর্জন হয় ❓❓❓
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
পুরীর বিভিন্ন নাম ও মহিমা - এই পুরী ধামকে শ্রীক্ষেত্র, জগন্নাথ ধাম, নীলকন্দর, নীলাদ্রি, নিলাচল, শবরদ্বীপ, শংখক্ষেত্র, ভৌমক্ষেত্র, পুরুষোত্তম ক্ষেত্র, যমনিক তীর্থ, উড্ডয়ন পীঠ, মৰ্ত্তবৈকুন্ঠ, উচ্ছিষ্ট ক্ষেত্রাদি বলা হয় । পুরী ধামের প্রত্যেকটি নাম সম্পর্কে বিভিন্ন গ্রন্থে বিস্তৃত বর্ণনা আছে ।
শ্রীক্ষেত্রের আকার শঙ্খ সদৃশ হওয়ায় এটিকে ‘শঙ্খক্ষেত্র’ বলা হয় । এই স্থানে নীলপৰ্ব্বত অবস্থিত ছিল বলে এটি ‘নীলাচল’ বা ‘নীলাদ্রি' নামে খ্যাত । ত্রিজগতের নাথ শ্রীবিষ্ণুর ধাম বা ‘পুর’ বলে এইস্থান ‘শ্রীজগন্নাথ’ বা ‘পুরী’ নামে খ্যাত ।
যামল গ্রন্থে এই ধামকে ভূস্বর্গরূপে বর্ণনা করা হয়েছে । এমন কি ব্রহ্মপুরাণে এইক্ষেত্র সম্বন্ধে বলা হয়েছে যে এই পবিত্র ক্ষেত্র দেবতাদের পক্ষেও অত্যন্ত দুর্লভ। এই ক্ষেত্রে দেহত্যাগ করলে নিঃসন্দেহে পরম মোক্ষ প্রাপ্ত
হয় ।
পদ্মপুরাণে ভগবান স্বয়ং ব্রহ্মাকে বলেছেন সাগরের উত্তর তীরে ও মহানদীর দক্ষিণে এই ক্ষেত্র অবস্থিত । স্বয়ং মহাদেব এই পবিত্র ক্ষেত্রে পরম ব্রহ্ম দারুরূপ ধারণ করে আছেন । বেদে স্বীকার করা হয়েছে সব দুঃখ নিবারণ ও মানব জাতিকে সুখ প্রদানের জন্যে পরম দারুব্রহ্ম শ্রীক্ষেত্রে অধিষ্ঠিত । এই খানেই ভগবানের সব অবতারের উৎপত্তি ও লীলা শেষে পুনরায় ভগবান এইক্ষেত্রেই প্রত্যাগমন করেন । সেইজন্য পৌরাণিকগণ এই ক্ষেত্রকে দশাবতার ক্ষেত্র বা ভৌমক্ষেত্র বলে থাকেন । ভগবান শ্রীবিষ্ণুর দশবতার দর্শনে যে পুণ্য অর্জন হয় সে পুণ্য কেবল শ্রীজগন্নাথ দর্শনেই প্রাপ্ত হয় । কেবল তাই নয় এই পবিত্র ক্ষেত্র তীর্থরাজ, ক্ষেত্ররাজ ও দেবরাজ তিনজন মিলিতভাবে থাকার জন্য পুরুষোত্তম ক্ষেত্রের ন্যায় শ্রেষ্ঠতম তীর্থক্ষেত্র অন্যত্র আর কোথাও নেই। সেইজন্য স্বয়ং ব্রহ্মা সমুদ্র স্নানের নির্দেশ দেন ।
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
৪. শ্রীশ্রীজগন্নাথ লীলামৃত 🙏 প্রথম ভাগ 🙏 শ্রী মৃন্ময় নন্দী কর্ত্তৃক সকল ভক্ত চরণে অসংখ্যকোটি প্রণাম 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/03/jagannath.html
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
পুরীর অবস্থিতি :— পুরী বঙ্গোপসাগরের বেলাভূমিতে অবস্থিত । রেলপথে হাওড়া থেকে মাদ্রাজ যাবার পথে এই স্থানের দূরত্ব প্রায় ৫০০ কি. মি.। হাওড়া থেকে যারা রেলপথে পুরী যেতে চান তাঁরা সোজা পুরীগামী ট্রেন-এ পুরী যেতে পাবেন, আর যারা মাদ্রাজ বা হায়দ্রাবাদ গামী ট্রেনে আসবেন তাদের ভূবনেশ্বরে নামতে হবে । আবার ভুবনেশ্বর থেকে পুরী বাসে বা ট্রেনে যেতে পাবেন । ভুবনেশ্বর থেকে পুরীর দূরত্ব প্রায় ৭০ কি.মি. ভুবনেশ্বর থেকে পুরী যাবার জন্য প্রায় সব সময়ই বাস পাওয়া যায় । যারা সড়ক পথে পুরী আসতে চান তারা সরাসরি কলিকাতা, দুর্গাপুর, টাটা থেকে বাসে আসতে পারেন । কলকাতায় পুরীগামী বাস শহীদমিনার থেকে ছাড়ে । পুরীতে কোন বিমান বন্দর নেই, যারা বিমানে এই তীর্থদর্শনে আসতে চান তাদের প্রথমে বিমান যোগে ভুবনেশ্বর আসতে হবে । এই স্থানে থাকা-খাওয়ার কোন অসুবিধা নেই । বড়-ছোট সব রকমের হোটেল থেকে শুরু করে অনেক ধর্মশালাও পাওয়া যায় । পুরী শহরের মধ্যে অবস্থিত দর্শনীয় স্থান ছাড়াও পুরীর পাশাপাশি ভুবনেশ্বর নন্দনকানন, কোনারক, চিল্কা হ্রদ প্রভৃতি অনেক দর্শনীয় স্থান আছে, পুরীর বিভিন্ন হোটেল ও ধর্মশালা থেকে ট্যুরিষ্ট বাসে উপরোক্ত স্থানগুলিতে ভ্রমণ করা যায় ।
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
৫. শ্রীশ্রীজগন্নাথ লীলামৃত 🙏 প্রথম ভাগ 🙏 শ্রী মৃন্ময় নন্দী কর্ত্তৃক সকল ভক্ত চরণে অসংখ্যকোটি প্রণাম 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/03/jagannath.html
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
শ্রীবিগ্রহের উৎপত্তি (নীলমাধব):-
সারলাদাস তাঁর মহাভারতে শ্রীজগন্নাথকে শ্রীকৃষ্ণরূপে করিয়াছেন । সে লিখেছেন জারা শবরের দাদু অজর শবর মাধবকে পাষাণরূপে কালিন্দী কূলে বৃক্ষের তলায় পূজা করতেন । সেই পাষাণের বর্ণ নীল ছিল । মহাদেবের আদেশে সে নীলমাধবের প্রতিমাকে যম সঞ্জীবনী পুরে নিয়ে গিয়েছিলেন । তারপরে ভ্রমবসতঃ জারা শবর নীলবর্ণ পাষাণকে লক্ষ করে শিয়ালী লতায় সুপ্ত অবস্থায় থাকা শ্রীকৃষ্ণকে শরাঘাত করেছিল । শরাঘাতে জজ্জরিত অবস্থায় শ্রীকৃষ্ণ অৰ্জ্জুনকে ডেকে মহাপ্রয়াণের ইতিপূর্ব্বে নিজের কলা প্রদান করে দেহত্যাগ করিয়াছিলেন।
শ্রীকৃষ্ণের মৃত্যুর পরে যুধিষ্ঠির প্রভৃতি পঞ্চপাণ্ডব শ্রীকৃষ্ণের শব লইয়া সমুদ্রের পূর্ব্ব কূলে এসেছিলেন । পূর্ব্বে এই নীলাদ্রি ধামকে অপোড়া বলাহত । কারণ এই স্থানে পূৰ্ব্বে কোন মানবের বাসযোগ্য ছিলনা । তাই এই স্থান অপোড়া হওয়া স্বাভাবিক । কথিত আছে পঞ্চপাণ্ডব শ্রীকৃষ্ণের শব নিয়ে নীলাদ্রিধামে (পুরুষোত্তম) এসেছিলেন । বৰ্ত্তমান মন্দিরের উত্তর দরজার নিকটে কোইলি বৈকুণ্ঠ যেখানে আছে শ্রীকৃষ্ণের শব সেখানে দাহ করা হয়েছিল । শরিরের কোন অংশ দগ্ধ না হওয়ায় তাহা অবশেষে সমুদ্রে ভাসিয়ে দিলেন । এই দগ্ধ পিণ্ডটি বিরাট জ্যোতিরূপে সমুদ্রের মধ্যে ভাসতে থাকল । পুরী জেলার ব্রহ্মগিরী অঞ্চল পূৰ্ব্বে শবরদের বাসভূমি ছিল । সেই সময় সেই অঞ্চলের বিশ্বাবসু শবর সমুদ্রের কুলে যাওয়ার সময় এই উজ্বল জ্যোতিটিকে দেখে আশ্চর্যান্বিত হয়েছিলেন । ভাষান্বিত হয়ে জ্যোতির উদ্দেশ্যে বহু স্তুতিগান করার পর জ্যোতিটি সাগরের কূলে এসেছিল । বিশ্বাবসু শবর সেই পরম বিগ্রহকে(দগ্ধ পিণ্ডটি যা নীল রূপে বিরাজ করেছেন) নিয়ে নীলকন্দরের গুহার মধ্যে রেখে পূজার্চ্চনা করিলেন । পূর্ব্বে এই সমুদ্র বেলাভূমি উচ্চ বালুকাস্তুপে পূর্ণ ছিল। বৰ্ত্তমানও স্থানে স্থানে তাহা দেখতে পাওয়া যায়া । তাই কেউ কেউ ইহাকে বালিবন্ত বলে থাকেন ।
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
৬. শ্রীশ্রীজগন্নাথ লীলামৃত 🙏 প্রথম ভাগ 🙏 শ্রী মৃন্ময় নন্দী কর্ত্তৃক সকল ভক্ত চরণে অসংখ্যকোটি প্রণাম 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/03/jagannath.html
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
শ্রীশ্রীজগন্নাথদেবের আবির্ভাব লীলা:-
মালব দেশের রাজা ইন্দ্রদ্যুম্ন (মালবদের বংশধর) বিষ্ণু পূজার জন্য মন স্থির করিয়া চতুৰ্দ্দিকে দূত পাঠালেন বিষ্ণু প্রতিমার সন্ধানের জন্য । কিন্তু তিন দিক হইতে বিষ্ণুমূর্তি না পাইয়া দূতেরা ফিরিয়া আসিলেন । পূর্ব্ব দিকের দূত ব্রাহ্মণ বিদ্যাপতি ঘুরে শবর পল্লীতে উপস্থিত হলেন । বিশ্বাবসুর অনুপস্থিতে তাঁর কন্যা ললিতা নবাগত অতিথির যথাযথ অতিথি সৎকার করলেন । পরে বিশ্বাবসু আসিয়া বিদ্যাপতির আদর যত্নের কিছু ত্রুটি করেন নাই । বিশ্বাবসুর অনুরোধে বিদ্যাপতি কিছুদিন সেখানে থাকলেন । প্রতিদিন বিশ্বাবসু সকালে উঠিয়া জঙ্গলের ভিতর চলেযান এবং সন্ধ্যার সময় ফেরেন। একদিন বিদ্যাপতি ললিতাকে জিজ্ঞাসা করিলেন তোমার বাবা সকাল হইতে সন্ধ্যা পর্য্যন্ত কোথায় যান । উত্তরে ললিতা বলেছিল বাবা জঙ্গলের ভিতর নীলমাধবের পূজা করিতে যান । এইকথা শুনিয়া বিদ্যাপতি মনে মনে চিন্তা করিলেন এই বোধহয় সেই বিষ্ণু প্রতিমা । এইভাবে কিছুদিন অতিবাহিত হাওয়ার পর ললিতা বিদ্যাপতিকে বিবাহ করিবার ইচ্ছা তাঁহার পিতাকে বলেছিলেন । ললিতা ছিল বিশ্বাবসুর একমাত্র আদরের কন্যা । কন্যার মনের বাসনা বিশ্বাবসু বিদ্যাপতিকে বলেছিলেন । ব্রাহ্মণ হইয়া প্রথমে শবর কন্যার পাণিগ্রহণ করিতে বিদ্যাপতি অনিচ্ছুক হয়েছিলেন । কিন্তু নিজের উদ্দেশ্য সাধন করার জন্য পরে রাজি হয়েছিলেন । বিবাহকাৰ্য্য সম্পন্ন হল । এইখানে প্রথম আর্য্য ও অনার্যের মধ্যে মিলন হয়েছিল । কিছুদিন অতিবাহিত হওয়ার পর বিদ্যাপতি ললিতাকে নীলমাধব দর্শন করিবার ইচ্ছার কথা বলিয়াছিলেন । এই ইচ্ছার কথা ললিতা বিশ্বাবসুকে বলেছিলেন তাঁর সম্মতির জন্য । প্রথমে তিনি অনিচ্ছুক ছিলেন কিন্তু কন্যার বহু অনুরোধের দরুন পরে সম্মতি দিয়েছিলেন কিন্তু একটি সর্ত্তছিল বিদ্যাপতি বিশ্বাবসুর সহিত নীলমাধব দর্শন করিতে যাওয়ার সময় তাঁহার দুই চক্ষু বাঁধা থাকবে । বিদ্যাপতি সেই সর্ত্ত রাজী হয়েছিলেন । ঠাকুর দেখাবেন কিন্তু রাস্তা দেখাবেন না এটাই সর্ত্তের উদ্দেশ্য ছিল বিশ্বাবসুর । বিদ্যাপতি বিগ্রহ দর্শন করিতে যাওয়ায় সময় ললিতা কিছু সরষে কাপড়ের খুঁটে বেঁধে দিয়েছিল এবং বলেছিল যাবার সময় রাস্তার দুই ধারে তাহা ছড়িয়ে দিতে দিতে যাওয়ার জন্য । বর্ষা ঋতু আসন্ন তাই রাস্তার দুইধারে পড়েথাকা সরষে গাছে পরিণত হবে এবং রাস্তা চিনতে আর কোন ভুল হবে না । বিদ্যাপতি জঙ্গলের ভিতরে বটবৃক্ষের পাদদেশে নীলমাধবকে দর্শন করিবার পর পুনরায় তাহার দুই চক্ষু বন্ধন করিয়া বিশ্বাবসু তাহাকে তাহার নিজ গৃহে নিয়ে আসিয়া ছিলেন । কিছুদিন পর বিদ্যাপতি গৃহে প্রত্যাবর্ত্তন করিবার কথা বিশ্বাবসুকে জানাইয়াছিলেন । বিশ্বাবসু মহানন্দে বিদ্যাপতিকে কিছুদূর পর্য্যন্ত আগাইয়া দিয়া আসিয়াছিলেন ।
৭. শ্রীশ্রীজগন্নাথ লীলামৃত 🙏 প্রথম ভাগ 🙏 শ্রী মৃন্ময় নন্দী কর্ত্তৃক সকল ভক্ত চরণে অসংখ্যকোটি প্রণাম 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/03/jagannath.html
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
নীলমাধব লীলা:-
মালবদেশের রাজা ইন্দ্রদ্যুম্ন বিদ্যাপতির নিকট হইতে বিস্তারিত বিবরণ শুনিয়া সৈন্য সামন্ত লইয়া নীলকন্দরে এসেছিলেন । কিন্তু সেখানে যাবার পর নিজেকে খুব ধন্য মনে করেছিলেন । অথচ সেখানে নীলমাধবের বিগ্রহ না দেখে আশ্চর্য্য হয়েছিলেন পরে বিদ্যাপতির সহিত পরামর্শ করিয়া জানিতে পারিয়াছিলেন বিশ্বাবসু ছাড়া কেহ এই দেবতার বিগ্রহ স্থানান্তর করেন নাই । পরে বিশ্বাবসুকে ডাকিয়া রাজা ইন্দ্রদ্যুম্ন সমস্ত বিষয়ে জিজ্ঞাসা করিয়াছিলেন কিন্তু বিশ্বাবসু এই বিষয়ে কিছুই জানেন না বলিয়াছিলেন । কিন্তু রাজা কি দোষে তাকে বাঁধিয়া আনিয়াছিলেন তাহা সে নিজেও বুঝিতে পারেন নাই । বিশ্বাবসু তার মনস্কামনা মনে মনে স্তুতি দ্বারা জানাইয়াছিলেন এবং এই বিপদ থেকে উদ্ধার করার জন্য প্রভুকে প্রার্থনা করেছিলেন । তারপর আকাশবাণী হয়েছিল, “রাজা তোমার মনে অহঙ্কার হওয়ার দরুন আমি অন্তৰ্দ্ধান হয়েছিলাম । তবে এই শবরকে ক্ষমা করেদে সে নিৰ্দ্দোষ। নীলকন্দরে মন্দির তৈয়ারী করার পর যখন আমাকে পাওয়ার ইচ্ছা করবি তখন আমাকে পাবি ।” এই আদেশ শোনার পর রাজা ইন্দ্রদ্যুম্ন নিজে মনে মনে দৃঢ় প্রতিজ্ঞা করিয়াছিলেন এবং তিনি নীলমাধবের জন্যে যত্নের সহিত মন্দির নির্ম্মাণার্থে মনোনিবেশ করিয়াছিলেন ।
৮. শ্রীশ্রীজগন্নাথ লীলামৃত 🙏 প্রথম ভাগ 🙏 শ্রী মৃন্ময় নন্দী কর্ত্তৃক সকল ভক্ত চরণে অসংখ্যকোটি প্রণাম 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/03/jagannath.html
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
শ্রীমন্দির নির্মাণের বর্ণনা:-
পুরাকালে রাজা ইন্দ্রদ্যুম্ন মন্দির নির্ম্মাণের জন্য বিন্ধ্যাচল হইতে বউলশালী পাথর আনিয়া একশত কুড়ি হাত উচ্চ মন্দির নির্ম্মাণ করিয়াছিলেন । মন্দিরের পোতা নীচে ষাঠ হাত ছিল । শঙ্খনাভি মণ্ডলের উপর এই মন্দির নির্ম্মাণ করা হয়েছিল । এখানে “রামকৃষ্ণপুর” নামে এক গ্রাম রাজা ইন্দ্রদ্যুম্ন স্থাপন করেছিলেন । মন্দির নির্ম্মাণ শেষ হইবার পর রাজা নিজে ব্রহ্মার নিকট গিয়েছিলেন । ব্রহ্মাকে আনার জন্য বহুবৎসর অতিবাহিত হইয়াছিল । ইহার মধ্যে মন্দিরটি সম্পূর্ণ বালিতে চাপা হয়ে গিয়েছিল। ইহার পরবর্তীকালে গালমাধব নামে রাজা বালি সরাইয়া মন্দিরটি তাঁহার বলিয়া ইন্দ্রদ্যুম্ন রাজার নিকট দাবি করিয়াছিলেন । ইহার পরে ইন্দ্রদ্যুম্ন সরোবর স্থিত কুর্ম্ম ও চতুর্ভুজ কাকের সাক্ষী নেওয়া হয় ও মন্দির ইন্দ্রদ্যুম্ন রাজার বলিয়া প্রমাণিত হয় । কিন্তু রাজা ইন্দ্রদ্যুম্ন মন্দির হইতে নীলমাধবের অদৃশ্য হয়ে যাওয়ার কথা শুনিয়া ম্রিয়মাণ হয়েপড়েন এবং ব্রহ্মাও মন্দিরে বিগ্রহ না থাকায় প্রতিষ্ঠা করতে অরাজি হন । কিন্তু নারদের আশ্বাসনায় ‘অশ্বমেধ’ যজ্ঞের আয়োজন করিয়াছিলেন । একটি কম সহস্র অশ্বমেধ যজ্ঞের পর শেষ যজ্ঞ আরম্ভের দিন রাজা নীলমাধব স্বপ্ন দেখলেন । তাহার পর স্বয়ং জগন্নাথ রাজাকে বললেন বাঙ্কি মোহানায় যে দারু ভাসছে সেই দারু আনিয়া বিগ্রহ নির্ম্মাণ কর । রাজা ইন্দ্রদ্যুম্ন জগন্নাথের আদেশ মত বিশ্বাবসু শবরকে লইয়া দারু আনিয়া প্রথমে গুণ্ডিচা মন্দিরে রাখেন । তার পর শ্রীমন্দিরে এখন যেখানে কোইলি বৈকুণ্ঠ সেখানে বিগ্রহ নিৰ্ম্মাণ করিয়াছিলেন । ইহার পূর্ব্বে দৈববাণী হল যে স্বয়ং জগন্নাথ নিজের বিগ্রহ নিজে গড়িয়া মহাবেদীতে স্থাপন করবেন । গুপ্তভাবে মণ্ডপের মধ্যে শস্ত্রধারী জনৈক বৃদ্ধ প্রবেশ করিয়া মূর্ত্তি গঠন করিবে । বিগ্রহ নির্মাণের সময়, বাহিরে বাদ্যধ্বনী হইবে । দৈববাণীর ন্যায় সব কাজ করা হল । চতুৰ্দ্দশ দিবসে সেই মণ্ডপে বলরাম, সুভদ্রা, জগন্নাথ ও সুদর্শন এইরূপে চারটি বিগ্রহ দেখাগেল । বৃদ্ধের কোন সন্ধান পাওয়া গেলনা । পুনর্ব্বার দৈববাণীর ন্যায় রাজা চারি বিগ্রহকে পট্টবস্ত্রদ্বারা আবৃত্ত করিয়া ও চিত্রিত করাইয়া উপরিভাগে নৃসিংহের উত্তর দিগে মন্দির নির্ম্মাণ করাইয়া পূজা অর্চ্চনা আরম্ভ করাইয়াছিলেন । ইহার পরে রাজা ইন্দ্রদ্যুম্ন দৈববাণী অনুসারে চারি বিগ্রহ গঠন করিবার পর স্বয়ং ব্রহ্মা মন্দির পুনঃ প্রতিষ্ঠা করিয়াছিলেন ।
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
৯. শ্রীশ্রীজগন্নাথ লীলামৃত 🙏 প্রথম ভাগ 🙏 শ্রী মৃন্ময় নন্দী কর্ত্তৃক সকল ভক্ত চরণে অসংখ্যকোটি প্রণাম 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/03/jagannath.html
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
শ্রীমন্দির নির্মাণের বর্ণনা:-
শুদ্ধপূত ভাবে মন্দির নির্ম্মাণ এবং প্রতিষ্ঠাকার্য্য সম্পূর্ণ হওয়ার পর রাজা স্বয়ং মহাপ্রভুর সমস্ত নীতি, পূজা, অর্চ্চনা নিয়মিত ভাবে করাইয়াছিলেন । রাজা ইন্দ্রদ্যুম্নের রাণী গুণ্ডিচা দেবী গুণ্ডিচা মন্দির নির্ম্মাণ করিয়াছিলেন । তাঁহার নামানুসারে এই যজ্ঞবেদীর নাম গুণ্ডিচা মন্দির হয়েছিল । এইস্থানে শ্রীমন্দির প্রতিষ্ঠার জন্য যজ্ঞ হয়েছিল । পুরীর বলগণ্ডির নিকট প্রতিষ্ঠিত দেবী হচ্ছেন জগন্নাথের মাসীমা। তাহাকে অৰ্দ্ধশোষিনী বলা হয় । পূৰ্ব্ব কিম্বদন্তী হইতে জানাযায় যে বলগণ্ডির নিকট একটি নদী প্রবাহিত হত। এই দেবী সেই নদীর জল শুষিয়া লইয়াছিলেন । এই অৰ্দ্ধশোষিনী বা মাসীমা যজ্ঞের যূপ । সেই পরম্পরা হেতু আজ পর্য্যন্ত গুণ্ডিচা যাত্রার সময় জগন্নাথের রথ মাসীমার মন্দিরের নিকট দাঁড়ান। মাসীমা স্বয়ং জগন্নাথকে পোড়াপিঠা নিজ হাতে খেতে দেন । এই প্রথা যুগ যুগ ধরে চলে আসছে এবং পরম্পরা ক্রমে চলবে । শ্রীমন্দির প্রতিষ্ঠা করিবার পর রাজা ইন্দ্রদ্যুম্ন নীলমাধবের সেবায় নিজকে নিয়োজিত করিলেন । সেবা পূজার জন্য স্বতন্ত্র সেবক গোষ্ঠী সৃষ্টি করেছিলেন এবং তাহাদের জন্য বহু সম্পত্তি জমি দিয়েছিলেন । কালক্রমে এই মন্দির ভাঙ্গিয়া পড়ে । তাহার পর মহাভাবগুপ্ত যযাতি একটি ক্ষুদ্র মন্দিরে দারু বিগ্রহকে প্রতিষ্ঠা করিয়েছিলেন । সেই মন্দির ও কালক্রমে লোপ পাইয়াছিল । বর্তমানের শ্রীমন্দির বহু ঐতিহাসিকের মতে পুরীর মন্দির খ্রীষ্টিয় দ্বাদশ শতাব্দীর মধ্যভাগে নির্ম্মিত হয়েছিল । চোড়গঙ্গদেব এই মন্দিরের মূলভিত্তি স্থাপন করেছিলেন । পরে মহারাজ অনঙ্গভীমদেব ইহার নির্ম্মাণ কার্য্য সম্পন্ন করাইয়াছিলেন । মন্দির নির্মাণে প্রায় সাড়ে সাতকোটি টাকা ব্যয় হইয়াছিল । মহাপ্রভুর সেবা-পূজার জন্য বহু ভূসম্পত্তি দেওয়া হইয়াছিল ।
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
১০. শ্রীশ্রীজগন্নাথ লীলামৃত 🙏 প্রথম ভাগ 🙏 শ্রী মৃন্ময় নন্দী কর্ত্তৃক সকল ভক্ত চরণে অসংখ্যকোটি প্রণাম 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/03/jagannath.html
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
শ্রীমন্দিরের জমির পরিমাণ এবং অন্যান্য বর্ণনা:-
মন্দিরের বাহিরের বেড়া সমেত জমির পরিমাণ দশ একর । বাহিরের বেড়ার চারধারে যে বিশাল পাঁচিল আছে তাহার নাম “মেঘনাদ পাঁচিল” । জগন্নাথের রত্ন সিংহাসন বড় মন্দিরের ভিতরে । এই মন্দিরটি রেখা মন্দির । মন্দিরের উচ্চতা সম্বন্ধে মাদলা পঞ্জিকা বলে –
এ বিষ্ণুর অতি প্রিয়
কচ্ছহাত প্রমাণ, হাতে পায়।
বহক মাপ খণ্ডাশাল ।
পরমেশ্বন্মে মন্দির নব্বই হাত প্রমাণ ।
মাদলা পঞ্জিকার হিসাবে বড় মন্দিরের উচ্চতা প্রায় ১১৩ হাত । কিন্তু স্থানীয় লোকের মতে ইহার উচ্চতা ১২০ হাত । যাহা হউক পুরীর বড় মন্দির ভুবনেশ্বরের মন্দির হইতে উচ্চতর । কিন্তু কোণার্ক মন্দির ইহাদের মধ্যে উচ্চতম, ইহাতে সন্দেহ নাই । বড় মন্দিরের সম্মুখ ভাগকে ক্রমান্বয়ে নাটমন্দির, জগমোহন ও ভোগমণ্ডপ বলা হয় । সমগ্র জগমোহনটি দুইভাগে বিভক্ত হইয়া নাটমন্দির ও জগমোহন বলা হয় । কারণ নাটমন্দিরে দেবদাসী নৃত্যসহ গীতগোবিন্দ গান করা হয় । এই পরম্পরা বহু পূৰ্ব্ব হইতে চলিয়া আসিতেছে । কিন্তু বর্তমান ইহা লোপপাইতে বসিয়াছে । এই দেবদাসী অনুষ্ঠানটি রায় রামানন্দ দক্ষিণ হইতে এ দেশে এনেছিলেন । গোটিপুঅ এই দেবদাসী অনুষ্ঠানের নূতন সৃষ্টি । গীতগোবিন্দ আবৃত্তি (বড় মন্দিরের মধ্যে মহাপ্রভুর সম্মুখে) বিগ্রহ প্রতিষ্ঠার বহু বর্ষ পরে প্রবেশ করিয়াছে বলিয়া অনুমান করা হয় । জগমোহনটি প্রাসাদকৃতি ইহা মন্দির নয় । বহু বর্ষ পরে ভোগ মণ্ডপ মন্দিরটি ব্রহ্মচারী শঙ্করাচার্য্যের উদ্যমে নির্ম্মিত হইয়াছিল । ভোগমণ্ডপটি পীড় মন্দির নামে নামিত । নাটমন্দির হইতে উচ্চতায় কম । ভিতরের বেড়া হইতে জগমোহনে যাওয়ার জন্য সাতটি দ্বার আছে । পণ্ডাদ্বার , ভোগদ্বার, ভঅণ্ডদ্বার,মুদুলিদ্বার, সাত শিড়ীর দরজা (মন্দিরের উত্তরদিকে) ব্যতীত আর দুইটি দ্বার আছে । অদ্যাবদ্ধি ছয়টি দ্বার কার্য্যকারী এবং একটি দ্বার বন্দ আছে । মুক্তিমণ্ডপ হইতে মন্দিরের ভিতরে যাওয়ার দ্বারের নাম “বেহরণদ্বার” ।
জগমোহনের পর জয়বিজয় দ্বার । সিংহাসনের নিকটের দ্বারের নাম “কলারাট দ্বার”, কলারাট দ্বারের পর মহাপ্রভুর রত্নসিংহাসন । সিংহাসনে সুদর্শন, বলরাম, সুভদ্রা, জগন্নাথ দারু বিগ্রহ বিরাজিত ।
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
🔜 ক্রমাগত 👉 ১১. শ্রীশ্রীজগন্নাথ লীলামৃত 📝 দ্বিতীয় ভাগ 📝 শ্রী মৃন্ময় নন্দী কর্ত্তৃক সকল ভক্ত চরণে অসংখ্যকোটি প্রণাম 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/08/jagannath2.html
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
꧁ 👇📖 সূচীপত্র 🙏 শ্রী মৃন্ময় নন্দী 📖👇꧂
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
*••••━❀꧁👇 📖 সূচীপত্র 📖 👇꧂❀┅••••*
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
*••••━❀꧁👇📚 PDF গ্রন্থ 📚👇꧂❀┅••••*
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য প্রভু নিত্যানন্দ
হরে কৃষ্ণ হরে রাম শ্রীরাধেগোবিন্দ।।
*••••┉━❀꧁ 🙏 জয় জগন্নাথ 🙏 ꧂❀━┅••••*
হরে কৃষ্ণ হরে কৃষ্ণ কৃষ্ণ কৃষ্ণ হরে হরে
হরে রাম হরে রাম রাম রাম হরে হরে॥
*••••┉━❀꧁ 🙏 জয় রাধাকান্ত 🙏 ꧂ ❀━┅••••*
💮❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀💮
💮❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀💮
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧




