শ্রী মৃন্ময় নন্দী কর্ত্তৃক সকল ভক্ত👣চরণে👣অসংখ্যকোটি 🙇প্রণাম🙇 ক্লিক করুন 👇

শ্রী মৃন্ময় নন্দী কর্ত্তৃক সকল ভক্ত👣চরণে👣অসংখ্যকোটি 🙇প্রণাম🙇 ক্লিক করুন 👇

একচক্রা ধাম দিকদর্শনী ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী গোপীশরণ দাস 📖 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2022/12/blog-post_87.html

 ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
               ꧁ একচক্রা ধাম দিকদর্শনী ꧂
       এই লিংকে ⬇️⬇️⬇️🙏⬇️⬇️⬇️ ক্লিক করুন 
      ꧁ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী গোপীশরণ দাস  ꧂
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
 ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
 ꧁ টিকা বা অন্যান্য ধর্মীয় লিখনী 🙏 সূচীপত্র ꧂
       এই লিংকে ⬇️⬇️⬇️🙏⬇️⬇️⬇️ ক্লিক করুন 
     ꧁ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী গোপীশরণ দাস  ꧂
 ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
 ꧁ প্রভু নিত্যানন্দের সংক্ষিপ্ত লীলা 🙏 সূচীপত্র ꧂
       এই লিংকে ⬇️⬇️⬇️🙏⬇️⬇️⬇️ ক্লিক করুন 
      ꧁ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী গোপীশরণ দাস ꧂
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
꧁ MrinmoyNandy.blogspot.com 👉 সূচীপত্র ꧂
       এই লিংকে ⬇️⬇️⬇️🙏⬇️⬇️⬇️ ক্লিক করুন 
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
*একচক্রা ধাম দিকদর্শনী।*

১. *মহাভারত খ্যাত মহানগরী বর্তমানে গাছপালা তরুলতায় পরিপূর্ণ একটি  পল্লীগ্রাম। এখানেই জন্মগ্রহণ করেছিলেন আতুর-অনাথের একমাত্র বান্ধব দয়াল নিতাই চাঁদ। এটি একচক্রা গর্ভবাস নামে প্রসিদ্ধ। যেহেতু এখানেই মাতা পদ্মাবতীর গর্ভে নিবাস করেছিলেন, সেই ব্রজের বলরাম*। 

২. *এখানেই ১৪৭৩ খ্রিস্টাব্দে মাঘী শুক্লা ত্রয়োদশীর দুপুরে পিতা মুকুন্দ বন্দ্যোপাধ্যায় ও মাতা পদ্মাবতীদেবীর কোল আলো করে জন্ম নিলেন  আমাদের সবার বন্ধু নিত্যানন্দ ।*


৩. *মহাভারতে বর্ণিত  একচক্রা নামক এই নগরীতে অজ্ঞাত বাসের সময় পাণ্ডবগণ এসে কিছুকালের জন্য আশ্রয় নিয়েছিলেন।যা বর্তমানে পঞ্চপান্ডব তলা নামে পরিচিত।*

 ৪. *এসময়েই ভীমসেন বকাসুরকে বধ করেন, কোটাসুর নামক স্থানে*।

৫.  *রাজা মুকুটনারায়ন রায় বাস করতেন ময়ূরেশ্বর গ্রামে। তাঁর একমাত্র কন্যা শ্রীমতী পদ্মাবতীদেবীর সঙ্গে এই মুকুন্দের বিবাহ হয়।*

 ৬.  *মুকুন্দের বাবা মুরারি এ বিবাহে কোন যৌতুক গ্রহণ করেন নাই। তাই রাজা মুকুটনারায়ণ রায় নিজ কন্যার নাম অনুসারে একটি পুকুর খনন করে দেন। বর্তমানে তার নাম পদ্মাপুকুর।* 
 ৭.  *ছোটবেলায়  নিতাইয়ের নাম ছিল কুবের। যেখানে নিতাইয়ের জন্ম হয় সেই জায়গাটির নাম বর্তমানে "সূতিকা মন্দির"।*

৮.  *পাশেই একটি ছোট্ট পুকুর। সেখানে নিতাই ছেলেবেলায় স্নান করতেন এবং সাঁতার কাটতেন। সেই পুকুরটির নাম বর্তমানে "নিতাই কুণ্ড"।*

৯.  *জন্মের পরে বকুলতলা নামক স্থানে নাড়ি পোতা হয়েছিল।*

১০.  *ধীরে ধীরে কুবের বড় হতে লাগলেন, এই মুকুন্দ আলয় বা হাড়াই পণ্ডিত ভবনে।*

১২.  *ছোট থেকেই কুবেরের খেলাধুলায় খুব সখ। সমবয়সী শিশুদের নিয়ে দিনরাত খেলায় মেতে থাকতেন।*

১৩.  *তার খেলাগুলি ছিল ভগবানকে নিয়ে। কোনদিন কৃষ্ণলীলা, কোনদিন রামলীলা তো কোনদিন ভক্তলীলা করতেন।*
১৫.  *যে স্থানে কৃষ্ণের কালীয়দমন লীলা করেছিলেন কুবের, সে জায়গাটির বর্তমান নাম "কালীসাড়ার মাঠ"।*

১৬.  *যে জায়গায় লক্ষণের শক্তিশেল লীলার অভিনয় করেছিলেন। সে স্থানটি এখন "লক্ষণ গড়িয়া" নামে পরিচিত।*
(লক্ষণের শক্তিশেল লীলা_অভিনয়ের স্থান।)
১৭.
*একদিন কুবের সব সখাগণ সঙ্গে লক্ষণের শক্তিশেল লীলা অভিনয়ের উদ্যোগ করলেন। কেউ রাম,  কেউ রাবণ, কেউ বিভীষণ কেউ হনুমান সাজল। নিজে লক্ষণ বেশে সাজলেন।*


১৮. *কে কি অভিনয় করবে সকলকে শিখিয়ে দিলেন।  এক শিশু রাবণ বেশে এসে বলছেন- এই শক্তিশেল হানছি,সম্বর লক্ষণ!এই বলে পদ্মফুল ফেলে মারলেন, সঙ্গে সঙ্গে লক্ষণ মূর্চ্ছিত হয়ে পড়ল।*

১৯. *সঙ্গে সঙ্গে সব শিশুগণ খেলাধুলা ভুলে গেল ও  কাঁদতে লাগল। কান্না শুনে  পিতা-মাতা, প্রতিবেশী সকলে ছুটে আসল।*
 *নিঃশ্বাস চলছে কিনা বুঝা যায় না।*

২০. *একজন বৃদ্ধ ছেলেদের ডেকে বলল - এই তোরা কি খেলা খেলছিলি?  ছেলেরা বলল- আমরা "লক্ষণের শক্তিশেল" লীলা খেলছিলাম। যেই রাবণ পদ্মফুল ছুড়ে মারলো আর সঙ্গে সঙ্গে কুবের মূর্চ্ছিত হয়ে পড়ল।*

২১. *বৃদ্ধ বলছে - এর পরে আর কি বলেছিল? তখন যে হনুমান বেশে সেজেছিল,সে বলছে - মনে পড়েছে!মনে পড়েছে!!আমাকে বলেছিল যে, গন্ধমাদন পর্বত থেকে বিশল্যকরণী নিয়ে আসতে।ও মূর্চ্ছিত হওয়ায় সব ভুলে গিয়েছি।*
 ২২. *তখন হনুমান চলল বিশল্যকরণী আনতে। রাস্তায় এক শিশু সাধু বেশ ধারণ করে রাম নাম জপ করছিল। হনুমানকে দেখে  বলল - এস এস! এখানে কিঞ্চিত বিশ্রাম কর। কিছু ভোজন গ্রহণ কর।*

২৩.  *হনুমান বলছে- না, আমার প্রভু শ্রীরামচন্দ্রের কাজে যাচ্ছি। অনুজ ভ্রাতা লক্ষণ শক্তিশেলে মূর্চ্ছিত হয়ে পড়েছে।তার জন্য আমি ঔষধ আনতে যাচ্ছি। দেরি করলে প্রাণ রক্ষা করা যাবে না।*
 *সাধু বাবা বলল - যাও, সরোবর থেকে  স্নান করে এস।*

২৪. *তপস্বীর কথায় হনুমান সরোবরে স্নান করতে গেলে এক শিশু তার পায়ে ধরে টেনে নিয়ে গেল গভীর জলে।*

২৫. *হনুমান তাকে টেনে উপরে তুলে আনল।কিছুক্ষণ তার সঙ্গে যুদ্ধ করে, তাকে পরাস্ত করলে সে,দিব্যরূপ ধারণ করে বললো ওপরে যে তপস্বী দেখলে ও সাধু নয় ও কালনেমি।*
২৬. *ওপরে উঠে আসলে তপস্বী রাক্ষসের রূপ ধারণ করে তাকে খাওয়ার জন্য ছুটে আসলো।*

২৭. *কালনেমি বলল- কুমিরকে তো হারালে। এবার আমাকে কি করে হারাবে?এবার আমি তোমাকে খেয়ে ফেলব,দেখি তোমার লক্ষণকে কে বাঁচায়!*

২৮. *হনুমান বলল - পালা পালা! তোর রাবণ তো কুক্কুর!! তার কোনো কান্ডজ্ঞান আছে? অবলা স্ত্রীকে চুরি করে নিয়ে পালিয়েছে!*

২৯. *এই কথা শুনে দুইজনে ভীষন গালাগালি শুরু করল, তারপর চুলাচুলি,  কিলাকিলি, কিছুক্ষণ যুদ্ধ করে আছাড় মেরে রাক্ষসকে বধ করে হনুমান চলল গন্ধমাদন পর্বতে।*

৩০. *সেখানেও গন্ধর্ববেশী শিশুদের সঙ্গে যুদ্ধ করে সকলকে পরাস্ত করে। গন্ধমাদন পর্বত মাথায় করে নিয়ে চলে আসল।*
(সব নিতাই চাঁদের শিক্ষায় সুশিক্ষিত শিশুগণ।)

৩১. *আরেক শিশু সুষেন বৈদ্যের বেশ ধারণ করে, ঔষধ নিয়ে নাকে দিলেন, শ্রীরাম স্মরণ করে।*

৩২. *সঙ্গে সঙ্গে নিত্যানন্দ উঠে বসলেন। তা দেখে পিতা-মাতা আদি সব লোক হাসতে লাগল*।

৩৩. *হাড়াই পন্ডিত গিয়ে কোলে তুলে নিলেন। বক্ষে জড়িয়ে ধরে যেন ব্রহ্মানন্দ অনুভব করলেন।*

৩৪. *সবলোক বলছে-বাপ্ ধন! এরকম খেলা তুমি কোথা থেকে শিখলে?হেসে নিত্যানন্দ বলছেন - এসব আমার নিত্যলীলা। আমি দৈনিক এরকম লীলা খেলা করি। এরকম অনেক খেলা আমার জানা আছে।*

(এ লীলা যেখানে হয়েছিল সে জায়গার বর্তমান নাম *লক্ষ্মনগড়িয়া*।স্থানটি কালী সাড়ার কিঞ্চিত পূর্বদিকে অবস্থিত। )

৩৫. *একবার অক্ষয় তৃতীয়ার দিনে কুবের তার সখাদের সাথে "চন্দন যাত্রা" লীলা করলেন, চন্দন সরোবরে। সেটি এখন "চাঁড়ালীর পুকুর" নামে পরিচিত।।*
🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙏🏻
🙇🙇🙇🙇
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
⬇️⬇️⬇️এই লিখনী 📚 PDF 📚 ক্লিক করুন⬇️⬇️⬇️
 ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧

 
 ✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️
           ꧁ লিখনী সেবা- শ্রী গোপীশরণ দাস ꧂
নিবাস-শ্রীশ্রীনিত্যানন্দ প্রভুর জন্মস্থান, একচক্রা, বীরভূম, পশ্চিমবঙ্গ। 
DEMOCRATIC NITYANANDA (Facebook Group) 👉 https://www.facebook.com/groups/1370545549769377/?ref=share
 ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏
আমায় দেওয়া ওনার এই অমূল্য লিখনী সেবা, তা সকলের মধ্যে প্রকাশ করলাম। ওনার এই অমূল্য দান সমগ্র বৈষ্ণব সমাজ অনন্তকাল মনে রাখিবে।
🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
    *••••┉━❀꧁ 🙏 রাধে রাধে 🙏 ꧂❀━┅••••* 
                   শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য প্রভু নিত্যানন্দ
              হরে কৃষ্ণ হরে রাম শ্রীরাধেগোবিন্দ।।
  *••••┉━❀꧁ 🙏 জয় জগন্নাথ 🙏 ꧂❀━┅••••*
              হরে কৃষ্ণ হরে কৃষ্ণ কৃষ্ণ কৃষ্ণ হরে হরে
              হরে রাম হরে রাম রাম রাম হরে হরে॥
  *••••┉━❀꧁ 🙏 জয় রাধাকান্ত 🙏 ꧂ ❀━┅••••*
   💮❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀💮
   💮❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀💮
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧


একচক্রা ধাম দিকদর্শনী ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী গোপীশরণ দাস ➡️ http://mrinmoynandy.blogspot.com/2022/12/blog-post_87.html

 ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
               ꧁ একচক্রা ধাম দিকদর্শনী ꧂
       এই লিংকে ⬇️⬇️⬇️🙏⬇️⬇️⬇️ ক্লিক করুন 
      ꧁ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী গোপীশরণ দাস  ꧂
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
 ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
 ꧁ টিকা বা অন্যান্য ধর্মীয় লিখনী 🙏 সূচীপত্র ꧂
       এই লিংকে ⬇️⬇️⬇️🙏⬇️⬇️⬇️ ক্লিক করুন 
     ꧁ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী গোপীশরণ দাস  ꧂
 ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
 ꧁ প্রভু নিত্যানন্দের সংক্ষিপ্ত লীলা 🙏 সূচীপত্র ꧂
       এই লিংকে ⬇️⬇️⬇️🙏⬇️⬇️⬇️ ক্লিক করুন 
      ꧁ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী গোপীশরণ দাস ꧂
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
꧁ MrinmoyNandy.blogspot.com 👉 সূচীপত্র ꧂
       এই লিংকে ⬇️⬇️⬇️🙏⬇️⬇️⬇️ ক্লিক করুন 
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
*একচক্রা ধাম দিকদর্শনী।*

১. *মহাভারত খ্যাত মহানগরী বর্তমানে গাছপালা তরুলতায় পরিপূর্ণ একটি  পল্লীগ্রাম। এখানেই জন্মগ্রহণ করেছিলেন আতুর-অনাথের একমাত্র বান্ধব দয়াল নিতাই চাঁদ। এটি একচক্রা গর্ভবাস নামে প্রসিদ্ধ। যেহেতু এখানেই মাতা পদ্মাবতীর গর্ভে নিবাস করেছিলেন, সেই ব্রজের বলরাম*। 

২. *এখানেই ১৪৭৩ খ্রিস্টাব্দে মাঘী শুক্লা ত্রয়োদশীর দুপুরে পিতা মুকুন্দ বন্দ্যোপাধ্যায় ও মাতা পদ্মাবতীদেবীর কোল আলো করে জন্ম নিলেন  আমাদের সবার বন্ধু নিত্যানন্দ ।*


৩. *মহাভারতে বর্ণিত  একচক্রা নামক এই নগরীতে অজ্ঞাত বাসের সময় পাণ্ডবগণ এসে কিছুকালের জন্য আশ্রয় নিয়েছিলেন।যা বর্তমানে পঞ্চপান্ডব তলা নামে পরিচিত।*

 ৪. *এসময়েই ভীমসেন বকাসুরকে বধ করেন, কোটাসুর নামক স্থানে*।

৫.  *রাজা মুকুটনারায়ন রায় বাস করতেন ময়ূরেশ্বর গ্রামে। তাঁর একমাত্র কন্যা শ্রীমতী পদ্মাবতীদেবীর সঙ্গে এই মুকুন্দের বিবাহ হয়।*

 ৬.  *মুকুন্দের বাবা মুরারি এ বিবাহে কোন যৌতুক গ্রহণ করেন নাই। তাই রাজা মুকুটনারায়ণ রায় নিজ কন্যার নাম অনুসারে একটি পুকুর খনন করে দেন। বর্তমানে তার নাম পদ্মাপুকুর।* 
 ৭.  *ছোটবেলায়  নিতাইয়ের নাম ছিল কুবের। যেখানে নিতাইয়ের জন্ম হয় সেই জায়গাটির নাম বর্তমানে "সূতিকা মন্দির"।*

৮.  *পাশেই একটি ছোট্ট পুকুর। সেখানে নিতাই ছেলেবেলায় স্নান করতেন এবং সাঁতার কাটতেন। সেই পুকুরটির নাম বর্তমানে "নিতাই কুণ্ড"।*

৯.  *জন্মের পরে বকুলতলা নামক স্থানে নাড়ি পোতা হয়েছিল।*

১০.  *ধীরে ধীরে কুবের বড় হতে লাগলেন, এই মুকুন্দ আলয় বা হাড়াই পণ্ডিত ভবনে।*

১২.  *ছোট থেকেই কুবেরের খেলাধুলায় খুব সখ। সমবয়সী শিশুদের নিয়ে দিনরাত খেলায় মেতে থাকতেন।*

১৩.  *তার খেলাগুলি ছিল ভগবানকে নিয়ে। কোনদিন কৃষ্ণলীলা, কোনদিন রামলীলা তো কোনদিন ভক্তলীলা করতেন।*
১৫.  *যে স্থানে কৃষ্ণের কালীয়দমন লীলা করেছিলেন কুবের, সে জায়গাটির বর্তমান নাম "কালীসাড়ার মাঠ"।*

১৬.  *যে জায়গায় লক্ষণের শক্তিশেল লীলার অভিনয় করেছিলেন। সে স্থানটি এখন "লক্ষণ গড়িয়া" নামে পরিচিত।*
(লক্ষণের শক্তিশেল লীলা_অভিনয়ের স্থান।)
১৭.
*একদিন কুবের সব সখাগণ সঙ্গে লক্ষণের শক্তিশেল লীলা অভিনয়ের উদ্যোগ করলেন। কেউ রাম,  কেউ রাবণ, কেউ বিভীষণ কেউ হনুমান সাজল। নিজে লক্ষণ বেশে সাজলেন।*


১৮. *কে কি অভিনয় করবে সকলকে শিখিয়ে দিলেন।  এক শিশু রাবণ বেশে এসে বলছেন- এই শক্তিশেল হানছি,সম্বর লক্ষণ!এই বলে পদ্মফুল ফেলে মারলেন, সঙ্গে সঙ্গে লক্ষণ মূর্চ্ছিত হয়ে পড়ল।*

১৯. *সঙ্গে সঙ্গে সব শিশুগণ খেলাধুলা ভুলে গেল ও  কাঁদতে লাগল। কান্না শুনে  পিতা-মাতা, প্রতিবেশী সকলে ছুটে আসল।*
 *নিঃশ্বাস চলছে কিনা বুঝা যায় না।*

২০. *একজন বৃদ্ধ ছেলেদের ডেকে বলল - এই তোরা কি খেলা খেলছিলি?  ছেলেরা বলল- আমরা "লক্ষণের শক্তিশেল" লীলা খেলছিলাম। যেই রাবণ পদ্মফুল ছুড়ে মারলো আর সঙ্গে সঙ্গে কুবের মূর্চ্ছিত হয়ে পড়ল।*

২১. *বৃদ্ধ বলছে - এর পরে আর কি বলেছিল? তখন যে হনুমান বেশে সেজেছিল,সে বলছে - মনে পড়েছে!মনে পড়েছে!!আমাকে বলেছিল যে, গন্ধমাদন পর্বত থেকে বিশল্যকরণী নিয়ে আসতে।ও মূর্চ্ছিত হওয়ায় সব ভুলে গিয়েছি।*
 ২২. *তখন হনুমান চলল বিশল্যকরণী আনতে। রাস্তায় এক শিশু সাধু বেশ ধারণ করে রাম নাম জপ করছিল। হনুমানকে দেখে  বলল - এস এস! এখানে কিঞ্চিত বিশ্রাম কর। কিছু ভোজন গ্রহণ কর।*

২৩.  *হনুমান বলছে- না, আমার প্রভু শ্রীরামচন্দ্রের কাজে যাচ্ছি। অনুজ ভ্রাতা লক্ষণ শক্তিশেলে মূর্চ্ছিত হয়ে পড়েছে।তার জন্য আমি ঔষধ আনতে যাচ্ছি। দেরি করলে প্রাণ রক্ষা করা যাবে না।*
 *সাধু বাবা বলল - যাও, সরোবর থেকে  স্নান করে এস।*

২৪. *তপস্বীর কথায় হনুমান সরোবরে স্নান করতে গেলে এক শিশু তার পায়ে ধরে টেনে নিয়ে গেল গভীর জলে।*

২৫. *হনুমান তাকে টেনে উপরে তুলে আনল।কিছুক্ষণ তার সঙ্গে যুদ্ধ করে, তাকে পরাস্ত করলে সে,দিব্যরূপ ধারণ করে বললো ওপরে যে তপস্বী দেখলে ও সাধু নয় ও কালনেমি।*
২৬. *ওপরে উঠে আসলে তপস্বী রাক্ষসের রূপ ধারণ করে তাকে খাওয়ার জন্য ছুটে আসলো।*

২৭. *কালনেমি বলল- কুমিরকে তো হারালে। এবার আমাকে কি করে হারাবে?এবার আমি তোমাকে খেয়ে ফেলব,দেখি তোমার লক্ষণকে কে বাঁচায়!*

২৮. *হনুমান বলল - পালা পালা! তোর রাবণ তো কুক্কুর!! তার কোনো কান্ডজ্ঞান আছে? অবলা স্ত্রীকে চুরি করে নিয়ে পালিয়েছে!*

২৯. *এই কথা শুনে দুইজনে ভীষন গালাগালি শুরু করল, তারপর চুলাচুলি,  কিলাকিলি, কিছুক্ষণ যুদ্ধ করে আছাড় মেরে রাক্ষসকে বধ করে হনুমান চলল গন্ধমাদন পর্বতে।*

৩০. *সেখানেও গন্ধর্ববেশী শিশুদের সঙ্গে যুদ্ধ করে সকলকে পরাস্ত করে। গন্ধমাদন পর্বত মাথায় করে নিয়ে চলে আসল।*
(সব নিতাই চাঁদের শিক্ষায় সুশিক্ষিত শিশুগণ।)

৩১. *আরেক শিশু সুষেন বৈদ্যের বেশ ধারণ করে, ঔষধ নিয়ে নাকে দিলেন, শ্রীরাম স্মরণ করে।*

৩২. *সঙ্গে সঙ্গে নিত্যানন্দ উঠে বসলেন। তা দেখে পিতা-মাতা আদি সব লোক হাসতে লাগল*।

৩৩. *হাড়াই পন্ডিত গিয়ে কোলে তুলে নিলেন। বক্ষে জড়িয়ে ধরে যেন ব্রহ্মানন্দ অনুভব করলেন।*

৩৪. *সবলোক বলছে-বাপ্ ধন! এরকম খেলা তুমি কোথা থেকে শিখলে?হেসে নিত্যানন্দ বলছেন - এসব আমার নিত্যলীলা। আমি দৈনিক এরকম লীলা খেলা করি। এরকম অনেক খেলা আমার জানা আছে।*

(এ লীলা যেখানে হয়েছিল সে জায়গার বর্তমান নাম *লক্ষ্মনগড়িয়া*।স্থানটি কালী সাড়ার কিঞ্চিত পূর্বদিকে অবস্থিত। )

৩৫. *একবার অক্ষয় তৃতীয়ার দিনে কুবের তার সখাদের সাথে "চন্দন যাত্রা" লীলা করলেন, চন্দন সরোবরে। সেটি এখন "চাঁড়ালীর পুকুর" নামে পরিচিত।।*
🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙏🏻
🙇🙇🙇🙇
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
⬇️⬇️⬇️এই লিখনী 📚 PDF 📚 ক্লিক করুন⬇️⬇️⬇️
 ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧

 
 ✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️
           ꧁ লিখনী সেবা- শ্রী গোপীশরণ দাস ꧂
নিবাস-শ্রীশ্রীনিত্যানন্দ প্রভুর জন্মস্থান, একচক্রা, বীরভূম, পশ্চিমবঙ্গ। 
DEMOCRATIC NITYANANDA (Facebook Group) 👉 https://www.facebook.com/groups/1370545549769377/?ref=share
 ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏
আমায় দেওয়া ওনার এই অমূল্য লিখনী সেবা, তা সকলের মধ্যে প্রকাশ করলাম। ওনার এই অমূল্য দান সমগ্র বৈষ্ণব সমাজ অনন্তকাল মনে রাখিবে।
🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
    *••••┉━❀꧁ 🙏 রাধে রাধে 🙏 ꧂❀━┅••••* 
                   শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য প্রভু নিত্যানন্দ
              হরে কৃষ্ণ হরে রাম শ্রীরাধেগোবিন্দ।।
  *••••┉━❀꧁ 🙏 জয় জগন্নাথ 🙏 ꧂❀━┅••••*
              হরে কৃষ্ণ হরে কৃষ্ণ কৃষ্ণ কৃষ্ণ হরে হরে
              হরে রাম হরে রাম রাম রাম হরে হরে॥
  *••••┉━❀꧁ 🙏 জয় রাধাকান্ত 🙏 ꧂ ❀━┅••••*
   💮❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀💮
   💮❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀💮
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧


৫১. রামায়ণ 🙏 তুলসী দাস ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📝 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2022/12/blog-post_39.html

  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
            ꧁ ৫১. রামায়ণ 🙏 তুলসী দাস 
       এই লিংকে ⬇️⬇️⬇️🙏⬇️⬇️⬇️ ক্লিক করুন 
          ꧁ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ ꧂
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
꧁ MrinmoyNandy.blogspot.com 👉 সূচীপত্র ꧂
       এই লিংকে ⬇️⬇️⬇️🙏⬇️⬇️⬇️ ক্লিক করুন 
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
꧁ টিকা বা অন্যান্য ধর্মীয় লিখনী 🙏 সূচীপত্র ꧂
       এই লিংকে ⬇️⬇️⬇️🙏⬇️⬇️⬇️ ক্লিক করুন 
          ꧁ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ ꧂
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
       ꧁ রামায়ণ 🙏 তুলসী দাস 🙏 সূচীপত্র ꧂
       এই লিংকে ⬇️⬇️⬇️🙏⬇️⬇️⬇️ ক্লিক করুন 
          ꧁ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ ꧂
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
*৫১তুলসীদাস রামায়ণ*
~~~~~~~~~~~~~
*🌻এবারে বরযাত্রী অভ‍্যর্থনা করার জন্য কন‍্যাপক্ষের গুরুদেব শ্রীশতানন্দ,ব্রাহ্মণগণ,মন্ত্রীগণ,বন্দক ও ভাটগণ এসেছিলেন।মহারাজ দশরথ সহিত বরযাত্রীদের যথাযোগ্য আদর আপ‍্যায়ন করে অনুমতি নিয়ে তাঁরা চলে গেলেন।বরযাত্রীদের আগমন,লগ্ন দিবসের পূর্বেই হয়েছিল যা মিথিলাবাসীকে পরম আনন্দ প্রদান করেছিল।মিথিলাবাসী নরনারীগণকে দল বেঁধে এই আলোচনা করতে শোনা গেল যে যদি প্রভু রামচন্দ্র ও সীতাদেবী সৌন্দর্যের পরাকাষ্ঠা হন তাহলে নৃপতিযুগল পূণ‍্যের পরাকাষ্ঠা।রাজর্ষি জনকের সুকৃতির প্রতিমূর্তি সীতাদেবী আর মহারাজ দশরথের জন্য তা রামচন্দ্র।যেন এঁদের মতন ভগবান শঙ্করের আরাধনা কেউ কখনও করেননি আর সুফলও পাননি।পূর্বে কখনও হননি আর ভবিষ্যতেও কখনও হবে না। আমাদের কত সৌভাগ্য যে আমাদের জন্ম মিথিলায় ঠিক এই সময়ে হয়েছে বলেই আমরা রামচন্দ্র ও সীতাদেবীকে চাক্ষুষ দেখতে পেলাম।এইবার আমরা রামচন্দ্রের বিবাহ অনুষ্ঠান দেখে নয়ন সার্থক করব।আমাদের কত সৌভাগ্য যে বিধাতা এমন সুবন্দোবস্ত করে দিলেন আর এই ভ্রাতাযুগল আমাদের নয়নের মণি হয়ে গেলেন।রাজর্ষি জনকের স্নেহে সাড়া দিয়ে সীতাদেবী বারে বারে পিতৃগৃহে আসবেন আর তাঁকে পৌঁছনো ও নিয়ে যাবার সময় এই দুইভাই আসিলে,আমরা তাঁদের প্রায়ই দেখতে পাব,আহা কি আনন্দ!তখন তাঁদের নানাভাবে আদরযত্ন করা হবে।হে সখী!এমন শ্বশুরবাড়ী কার না পছন্দ হবে!তাসেই সুযোগে আমাদের মতন মিথিলাবাসী রামচন্দ্র ও লক্ষ্মণকে দেখে সুখ পাবো।হে সখী!রাম ও লক্ষ্মণের মত আরো দুই রাজকুমার মহারাজ দশরথের সঙ্গে এসেছেন।তাঁদের মধ্যেও একজন শ‍্যাম ও অন‍্যজন গৌরবর্ণ।এইকথা যারা দেখে এসেছে তাদের মুখ থেকে শুনেছি।একজন বলল,আজিই আমি তাঁদের দেখে এসেছি।তাঁরা এত সুন্দর যে মনে হয় বিধাতার নিজ হাতে সৃষ্টি করেছেন।ভরত তো অবিকল রামচন্দ্রের মতন দেখতে।চট করে চোখে পড়লে চেনা মুশকিল কে যে কোন জন!লক্ষ্মণ ও শত্রুঘ্ন হুবহু একরকম।তুলসীদাস বলেন,কবি ও বিদ্বান উভয়েই বলেন যে এঁদের তুলনা হয় না।পরাক্রম,বিনয়,বিদ‍্যা, সদাচার ও শোভা সাগর এঁরা।এঁদের মতন অন‍্য কোনো ব‍্যক্তিকে পাওয়া সম্ভব নয়।মিথিলায় রমণীকুল বিধাতার কাছে বিনম্র নিবেদন করল,এই চার ভাইয়ের বিয়ে যেন মিথালাতেই হয় আর আমরা মঙ্গলগীতি পরিবেশন করব। রমণীগণ অঙ্গে পুলকিত হয়ে প্রেমাশ্রুসজল নয়ন হয়েছিল। তারা পরস্পরের মধ্যে কথোপকথন কালে বলল,রাজাযুগল পূণ‍্যের সাগরসম,ত্রিপুরারি মহাদেব আমাদের মনোবাঞ্জাও অবশ্যই পূরণ করবেন।যখন সকলে এইরকম প্রার্থনা করছিল তখন তাদের চিত্ত আনন্দে পরিপূর্ণ হয়ে উঠেছিল।সীতার স্বয়ংবর সভায় সমাগত নৃপতিগণও এই চারভাইকে দৈখে খুবই ধন‍্য হলেন।রামচন্দ্রের সুবিমল যশোগাথা সংকীর্তন করে নৃপতিগণ যে যার নিজের রাজ‍্যে ফিরে গেলেন।এভাবে কয়েকদিন কেটে গেল।মিথিলার জনগণ ও পাত্রপক্ষ সকলেই অতি আনন্দ ভোগ করছেন।*
*🙏বানান ভুল মার্জনীয়🙏*
                *ক্রমাগত*
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
⬇️⬇️⬇️এই লিখনী 📚 PDF 📚 ক্লিক করুন ⬇️⬇️⬇️
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧ 

 ✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️
নিবাস- বাঁশবাড়ী, কীর্তন মন্দিরের পাশে, পোঃ- বাঁশবাড়ী, থানা- ইংরেজ বাজার, জেলা- মালদহ, পশ্চিমবঙ্গ, পিন কোড- ৭৩২১০১।
 ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏
আমায় দেওয়া ওনার এই অমূল্য লিখনী সেবা, তা সকলের মধ্যে প্রকাশ করলাম। ওনার এই অমূল্য দান সমগ্র বৈষ্ণব সমাজ অনন্তকাল মনে রাখিবে।
🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
    *••••┉━❀꧁ 🙏 রাধে রাধে 🙏 ꧂❀━┅••••* 
                   শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য প্রভু নিত্যানন্দ
              হরে কৃষ্ণ হরে রাম শ্রীরাধেগোবিন্দ।।
  *••••┉━❀꧁ 🙏 জয় জগন্নাথ 🙏 ꧂❀━┅••••*
              হরে কৃষ্ণ হরে কৃষ্ণ কৃষ্ণ কৃষ্ণ হরে হরে
              হরে রাম হরে রাম রাম রাম হরে হরে॥
  *••••┉━❀꧁ 🙏 জয় রাধাকান্ত 🙏 ꧂ ❀━┅••••*
   💮❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀💮
   💮❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀💮
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧


৫১. রামায়ণ 🙏 তুলসী দাস ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ ➡️ http://mrinmoynandy.blogspot.com/2022/12/blog-post_39.html

  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
            ꧁ ৫১. রামায়ণ 🙏 তুলসী দাস 
       এই লিংকে ⬇️⬇️⬇️🙏⬇️⬇️⬇️ ক্লিক করুন 
          ꧁ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ ꧂
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
꧁ MrinmoyNandy.blogspot.com 👉 সূচীপত্র ꧂
       এই লিংকে ⬇️⬇️⬇️🙏⬇️⬇️⬇️ ক্লিক করুন 
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
꧁ টিকা বা অন্যান্য ধর্মীয় লিখনী 🙏 সূচীপত্র ꧂
       এই লিংকে ⬇️⬇️⬇️🙏⬇️⬇️⬇️ ক্লিক করুন 
          ꧁ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ ꧂
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
       ꧁ রামায়ণ 🙏 তুলসী দাস 🙏 সূচীপত্র ꧂
       এই লিংকে ⬇️⬇️⬇️🙏⬇️⬇️⬇️ ক্লিক করুন 
          ꧁ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ ꧂
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
*৫১তুলসীদাস রামায়ণ*
~~~~~~~~~~~~~
*🌻এবারে বরযাত্রী অভ‍্যর্থনা করার জন্য কন‍্যাপক্ষের গুরুদেব শ্রীশতানন্দ,ব্রাহ্মণগণ,মন্ত্রীগণ,বন্দক ও ভাটগণ এসেছিলেন।মহারাজ দশরথ সহিত বরযাত্রীদের যথাযোগ্য আদর আপ‍্যায়ন করে অনুমতি নিয়ে তাঁরা চলে গেলেন।বরযাত্রীদের আগমন,লগ্ন দিবসের পূর্বেই হয়েছিল যা মিথিলাবাসীকে পরম আনন্দ প্রদান করেছিল।মিথিলাবাসী নরনারীগণকে দল বেঁধে এই আলোচনা করতে শোনা গেল যে যদি প্রভু রামচন্দ্র ও সীতাদেবী সৌন্দর্যের পরাকাষ্ঠা হন তাহলে নৃপতিযুগল পূণ‍্যের পরাকাষ্ঠা।রাজর্ষি জনকের সুকৃতির প্রতিমূর্তি সীতাদেবী আর মহারাজ দশরথের জন্য তা রামচন্দ্র।যেন এঁদের মতন ভগবান শঙ্করের আরাধনা কেউ কখনও করেননি আর সুফলও পাননি।পূর্বে কখনও হননি আর ভবিষ্যতেও কখনও হবে না। আমাদের কত সৌভাগ্য যে আমাদের জন্ম মিথিলায় ঠিক এই সময়ে হয়েছে বলেই আমরা রামচন্দ্র ও সীতাদেবীকে চাক্ষুষ দেখতে পেলাম।এইবার আমরা রামচন্দ্রের বিবাহ অনুষ্ঠান দেখে নয়ন সার্থক করব।আমাদের কত সৌভাগ্য যে বিধাতা এমন সুবন্দোবস্ত করে দিলেন আর এই ভ্রাতাযুগল আমাদের নয়নের মণি হয়ে গেলেন।রাজর্ষি জনকের স্নেহে সাড়া দিয়ে সীতাদেবী বারে বারে পিতৃগৃহে আসবেন আর তাঁকে পৌঁছনো ও নিয়ে যাবার সময় এই দুইভাই আসিলে,আমরা তাঁদের প্রায়ই দেখতে পাব,আহা কি আনন্দ!তখন তাঁদের নানাভাবে আদরযত্ন করা হবে।হে সখী!এমন শ্বশুরবাড়ী কার না পছন্দ হবে!তাসেই সুযোগে আমাদের মতন মিথিলাবাসী রামচন্দ্র ও লক্ষ্মণকে দেখে সুখ পাবো।হে সখী!রাম ও লক্ষ্মণের মত আরো দুই রাজকুমার মহারাজ দশরথের সঙ্গে এসেছেন।তাঁদের মধ্যেও একজন শ‍্যাম ও অন‍্যজন গৌরবর্ণ।এইকথা যারা দেখে এসেছে তাদের মুখ থেকে শুনেছি।একজন বলল,আজিই আমি তাঁদের দেখে এসেছি।তাঁরা এত সুন্দর যে মনে হয় বিধাতার নিজ হাতে সৃষ্টি করেছেন।ভরত তো অবিকল রামচন্দ্রের মতন দেখতে।চট করে চোখে পড়লে চেনা মুশকিল কে যে কোন জন!লক্ষ্মণ ও শত্রুঘ্ন হুবহু একরকম।তুলসীদাস বলেন,কবি ও বিদ্বান উভয়েই বলেন যে এঁদের তুলনা হয় না।পরাক্রম,বিনয়,বিদ‍্যা, সদাচার ও শোভা সাগর এঁরা।এঁদের মতন অন‍্য কোনো ব‍্যক্তিকে পাওয়া সম্ভব নয়।মিথিলায় রমণীকুল বিধাতার কাছে বিনম্র নিবেদন করল,এই চার ভাইয়ের বিয়ে যেন মিথালাতেই হয় আর আমরা মঙ্গলগীতি পরিবেশন করব। রমণীগণ অঙ্গে পুলকিত হয়ে প্রেমাশ্রুসজল নয়ন হয়েছিল। তারা পরস্পরের মধ্যে কথোপকথন কালে বলল,রাজাযুগল পূণ‍্যের সাগরসম,ত্রিপুরারি মহাদেব আমাদের মনোবাঞ্জাও অবশ্যই পূরণ করবেন।যখন সকলে এইরকম প্রার্থনা করছিল তখন তাদের চিত্ত আনন্দে পরিপূর্ণ হয়ে উঠেছিল।সীতার স্বয়ংবর সভায় সমাগত নৃপতিগণও এই চারভাইকে দৈখে খুবই ধন‍্য হলেন।রামচন্দ্রের সুবিমল যশোগাথা সংকীর্তন করে নৃপতিগণ যে যার নিজের রাজ‍্যে ফিরে গেলেন।এভাবে কয়েকদিন কেটে গেল।মিথিলার জনগণ ও পাত্রপক্ষ সকলেই অতি আনন্দ ভোগ করছেন।*
*🙏বানান ভুল মার্জনীয়🙏*
                *ক্রমাগত*
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
⬇️⬇️⬇️এই লিখনী 📚 PDF 📚 ক্লিক করুন ⬇️⬇️⬇️
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧ 

 ✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️
নিবাস- বাঁশবাড়ী, কীর্তন মন্দিরের পাশে, পোঃ- বাঁশবাড়ী, থানা- ইংরেজ বাজার, জেলা- মালদহ, পশ্চিমবঙ্গ, পিন কোড- ৭৩২১০১।
 ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏
আমায় দেওয়া ওনার এই অমূল্য লিখনী সেবা, তা সকলের মধ্যে প্রকাশ করলাম। ওনার এই অমূল্য দান সমগ্র বৈষ্ণব সমাজ অনন্তকাল মনে রাখিবে।
🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
    *••••┉━❀꧁ 🙏 রাধে রাধে 🙏 ꧂❀━┅••••* 
                   শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য প্রভু নিত্যানন্দ
              হরে কৃষ্ণ হরে রাম শ্রীরাধেগোবিন্দ।।
  *••••┉━❀꧁ 🙏 জয় জগন্নাথ 🙏 ꧂❀━┅••••*
              হরে কৃষ্ণ হরে কৃষ্ণ কৃষ্ণ কৃষ্ণ হরে হরে
              হরে রাম হরে রাম রাম রাম হরে হরে॥
  *••••┉━❀꧁ 🙏 জয় রাধাকান্ত 🙏 ꧂ ❀━┅••••*
   💮❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀💮
   💮❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀💮
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧


৩৬. কাজী দলন 🔥 অতি গূঢ় নিত্যানন্দ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী গোপীশরণ দাস 📝 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2022/12/blog-post_80.html

 ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
     ꧁ ৩৬. *অতি গূঢ় নিত্যানন্দ - কাজী দলন* ꧂
       এই লিংকে ⬇️⬇️⬇️🙏⬇️⬇️⬇️ ক্লিক করুন 
      ꧁ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী গোপীশরণ দাস  ꧂
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
 ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
 ꧁ টিকা বা অন্যান্য ধর্মীয় লিখনী 🙏 সূচীপত্র ꧂
       এই লিংকে ⬇️⬇️⬇️🙏⬇️⬇️⬇️ ক্লিক করুন 
     ꧁ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী গোপীশরণ দাস  ꧂
 ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
 ꧁ প্রভু নিত্যানন্দের সংক্ষিপ্ত লীলা 🙏 সূচীপত্র ꧂
       এই লিংকে ⬇️⬇️⬇️🙏⬇️⬇️⬇️ ক্লিক করুন 
      ꧁ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী গোপীশরণ দাস ꧂
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
꧁ MrinmoyNandy.blogspot.com 👉 সূচীপত্র ꧂
       এই লিংকে ⬇️⬇️⬇️🙏⬇️⬇️⬇️ ক্লিক করুন 
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
( ৩৬)
*অতি গূঢ় নিত্যানন্দ।*
*কাজী দলন।*

মহাপ্রভুর নির্দেশে সারা নবদ্বীপে তুমুল হরিনাম সংকীর্তনের রোল উঠল। সবাই গাইছেন *"হরি ও রাম রাম হরি ও রাম।"* সেই পথে যাচ্ছিলেন উচ্চৈঃস্বরে হরিনাম বলতে বলতে শ্রীধর।কীর্তন শুনে  মহানন্দে নৃত্য শুরু করলেন, তার আনন্দ-নৃত্য দেখে, তাকে ঘিরে চারিদিকে সবাই প্রেমানন্দে কীর্তন করতে লাগল। শ্রীধর আনন্দে গড়াগড়ি দিতে লাগল। পাষন্ডীরা দুরথেকে দেখে বলছে দেখ! সেই খোলাবেচা শ্রীধরও বৈষ্ণব হয়ে গেল!!  পরনে কাপড় নেই, পেটে ভাত নেই আর লোককে বলছে- *যে আমার ভাব হয়েছে!!* এই প্রকার বিমুখগণ নিন্দা করতে থাকে। নগরিয়াগণ দৈনিক কীর্তন করেন। একদিন সেই পথে কাজী যাচ্ছিল,মৃদঙ্গ মন্দিরা শঙ্খ ধ্বনি শুনেই কাজী বলছে-  "ধর ধর বেটাদের! বলে অনেককে মারল, অনেকে পালিয়ে গেল, মৃদঙ্গ গুলো ভেঙ্গে গুড়িয়ে দিল, দ্বারে অনাচার করল, আরও বলল-আজ ক্ষমা করে দিলাম, এরপরে যদি কেউ কীর্তন করে তার জাতি নিব, দেখি তোর নিমাই আচার্য কি করতে পারে!
 ভক্তগণ দুঃখ পেয়ে ভয়ে আর কীর্তন করতে পারেন না। সবাই মহাপ্রভুর কাছে নিবেদন করল, "প্রভু! কাজীর ভয়ে আমরা কীর্তন করতে পারি না। তুমি অনুমতি দাও,আমরা নবদ্বীপ ছেড়ে অন্য জায়গায়  গিয়ে নাম করব।"
শুনে মহাপ্রভু ক্রোধে রুদ্রমূর্তি ধারণ করলেন। আদেশ দিলেন-
নিত্যানন্দ! সাবধান হও! এক্ষুনি গিয়ে সবাইকে বল,আজ সারা নবদ্বীপে  কীর্তন করব। দেখি আমার কীর্তনে কে বাধা দিতে পারে। কাজীর ঘর-দ্বার সব পুড়িয়ে দেব। দেখি  তার রাজা কি করতে পারে।
যাও সকলকে আমার আজ্ঞা জানিয়ে দাও।
সবাই বৈকালবেলা মশাল হাতে যার বাড়িতে যা বাদ্যযন্ত্র আছে নিয়ে আসবে।
অনন্ত ব্রহ্মাণ্ড আমার সেবকের দাস। আমি থাকতেও তোমাদের ভয়?
নিত্যানন্দ প্রভুকে কাছে পেয়ে মহাপ্রভুর উৎসাহের শেষ নেই! সেনাপতি না থাকলে কি যুদ্ধ হয়? এতদিন ঘরের ভিতরে কপাট দিয়ে কীর্তন হচ্ছিল। নিত্যানন্দ প্রভুকে পেয়ে এবার মহাপ্রভু সংকীর্তন বাইরে বের করতে উদ্যোগী হলেন।
সারা নবদ্বীপে ঘোষিত হলো নিমাই পণ্ডিত আজ নগরে নগরে নৃত্য করবেন। নবদ্বীপবাসীর উৎসাহ আজ দেখবার মত।
স্ত্রী-বালক-বৃদ্ধ সকলেই মশাল হাতে উপস্থিত।
 মহাপ্রভু ,নিত্যানন্দ-অদ্বৈত-গদাধর- শ্রীবাস হরিদাস সঙ্গে সংকীর্তনে উন্মত্ত হয়ে চললেন।
 *"হরি বোল মুগধা! গোবিন্দ বোল রে ।যাহে নাহি হয় শমন-ভয় রে।।"(ধ্রু)* 

এই গান গাইতে গাইতে চললেন।পাশের গ্রাম শিমুলিয়া হয়ে কাজীর বাড়ির রাস্তা ধরলেন। অপার জনজোয়ার দেখে কাজী ভয়ে ঘরে ঢুকে পড়ল। উন্মত্ত জনতা তার বাগান উজাড় করল,দ্বার ভেঙে বাড়ির ভিতরে প্রবেশ করল।

মহাপ্রভু কাজীকে ভীত-সন্ত্রস্ত দেখে লোক দিয়ে ডাকালেন, মাথা নত করে কাজী এসে প্রভুর সামনে দাঁড়াল।
প্রভু আদর করে কাজী কে বসিয়ে প্রশ্ন করলেন আমি তোমার ঘরে  অভ্যাগত আসলাম আর তুমি আমাকে দেখে লুকিয়ে পড়লে!এ তোমার কি ধরনের ব্যবহার?
 কাজী -তুমি ক্রুদ্ধ হয়ে এসেছ, তোমাকে শান্ত করার জন্য লুকিয়ে ছিলাম। এখন তুমি শান্ত হয়েছো,তাই এসে দেখা করলাম। আমার অনেক ভাগ্য যে তোমার মতো অতিথি ঘরে পেলাম। গ্রাম সম্বন্ধে নীলাম্বর চক্রবর্তী আমার চাচা হয়, দেহসম্বন্ধ থেকেও গ্রামসম্বন্ধ বড়। নীলাম্বর চক্রবর্তী তোমার নানা হয়, সেই হিসাবে তুমি আমার ভাগ্নে হও, ভাগ্নের ক্রোধ মামা অবশ্যই সহ্য করে আর মামার অপরাধ ভাগ্নে গ্রহণ করে না।
মহাপ্রভু- একটা প্রশ্ন আছে তোমার কাছে। 
 কাজী- আজ্ঞা কর?

 মহাপ্রভু বলছেন- গোদুগ্ধ খাও,গাভী তোমার মাতা, 
বৃষ অন্ন উপজায় তাতে তেহ পিতা।।
 পিতা-মাতা মেরে খাও এ কেমন তোমার ধর্ম?
কাজী- তোমার যেমন বেদ-পুরাণ, তেমনি আমাদের কিতাব কোরান।সে শাস্ত্রে প্রবৃত্তি ও নিবৃত্তি দুই প্রকার মার্গ আছে। নিবৃত্তি মার্গে গোবধ নিষিদ্ধ, আর প্রবৃত্তি মার্গে  গোবধের বিধান আছে।শাস্ত্র আজ্ঞায় বধ করলে পাপ হয় না। তোমার বেদেও গোবধের বিধান আছে,তাই বড় বড় ঋষি-মুনিগণও গোবধ করেছেন।
 প্রভু - বেদে গোবধ নিষেধ করেছে। অতএব হিন্দুমাত্র গোবধ করে না। যদি বাঁচাতে পারে তবেই প্রাণী মারে।সেজন্য জরদ্গব বলি দিয়ে তাকে পুনর্জীবন দান করে। বৃদ্ধ যুবা হয়ে যায় তাতে তার বধ হয় না আরো উপকারই হয়। কিন্তু কলিকালে ব্রাহ্মণদের সেই প্রকার শক্তি না থাকায় এখন গোবধ নিষিদ্ধ।

ব্রহ্মবৈবর্ত পুরাণ- কৃষ্ণজন্মখন্ডে 165/180।

অশ্বমেধং গবালম্ভং সন্ন্যাসং পলপৈতৃকম্।
দেবরেন সুতোৎপত্তিং কলৌ পঞ্চ বিবর্জয়েৎ।।

অনুবাদ :- কলিযুগে পাঁচটি বর্জনীয়, অশ্বমেধ, গো-মেধ, সন্ন্যাস,মাংস দিয়ে পিতৃশ্রাদ্ধ এবং দেবর দিয়ে পুত্র লাভ।

 তোমরা বাঁচাতে পার না, কিন্তু মারতে পার। সেই পাপে নরক থেকে তোমাদের রেহাই নেই। গরুর যত রোম, তত হাজার বছর রৌরব পচতে হবে। তোমাদের শাস্ত্রকর্তা - সে ভ্রান্ত হল, শাস্ত্রের মর্ম না জেনে ওই প্রকার আজ্ঞা দিল।
 শুনে কাজী স্তব্ধ হয়ে গেল, মুখে আর কথা বের হয় না, বিচার করে কাজী নিজের পরাজয় স্বীকার করে নিল।
 তুমি যা বললে পন্ডিত সেই সত্য হয়। *আধুনিক আমার শাস্ত্র বিচারসহ নয়।।* 
 *কল্পিত আমার শাস্ত্র আমি সব জানি।* 
 জাতি অনুরোধে তবু সেই শাস্ত্র মানি।।

 *সহজে যবন শাস্ত্র অদৃঢ় বিচার।* আরেকটি প্রশ্ন করি যথার্থ বলবে ছল,প্রবঞ্চনা করবে না।
 তোমার নগরে সবসময় সংকীর্তন হয়।বাদ্য গীত কোলাহল হয়, তুমি কাজী হিন্দু-বিরোধী, কিন্তু এখন আর মানা করো না কেন? বুঝতে পারিনা।

 কাজী বলছেন- সবাই তোমাকে বলে গৌরহরি, আমিও তোমাকে এই নামে সম্বোধন করি। শুন গৌরহরি এ প্রশ্নের উত্তর, একান্তে যদি আসো তাহলে বলি।

প্রভু - এখানে সকলেই আমার অন্তরঙ্গ, তুমি সবার সামনেই বল। কোন অসুবিধা নেই। কাজী - যখন আমি হিন্দুর ঘরে গিয়ে কীর্তন বন্ধ করলাম, মৃদঙ্গ ভেঙে ফেললাম। সেই রাতে এক সিংহ মহাভয়ংকর নরদেহ মুখটা সিংহের মত।আমি শয়ন করলে আমার উপর লাফ দিয়ে চড়ে অট্ট অট্ট হেসে দাঁত কড়মড় করে আমার বুকে নখ দিয়ে চিরে ঘোর শব্দে বলছে ফেঁড়ে ফেলবো তোর বুক মৃদঙ্গের বদলে। আমার কীর্তন মানা করিস্ তোর বংশধ্বংস করে দেব। আমি বড় ভয় পেয়ে কাঁপতে লাগলাম। আমাকে ভীত দেখে সিংহ প্রসন্ন হয়ে বলল- "তোকে শিক্ষা দেওয়ার জন্য এসেছিলাম। এমন আর কখনো করবি না। এবারের মতো ক্ষমা করে দিলাম। আর যদি করিস্ সবংশে ধ্বংস করব।" এই বলে সিংহ চলে গেল।এই দেখো নখচিহ্ন আমার হৃদয়ে। 
এই বলে কাজী নিজের বুক দেখালো।
 শুনে সব লোক আশ্চর্য মানল।
কাজী- একথা আমি কাউকে বলি নাই। একদিন আমার পেয়াদা এসে বলল- আমি তো নিষেধ করতে গিয়েছিলাম। এক অগ্নি উল্কা এসে আমার মুখে এমন ভাবে লাগলো যে আমার দাড়ি সব পুড়ে গেল, মুখে ফোস্কা পড়ে গেছে। সে কথা শুনে আমি ভীত হয়ে পড়লাম। বললাম কীর্তন বন্ধ করতে কেউ যেয়ো না। তারা স্বচ্ছন্দে কীর্তন করুক।
 নবদ্বীপের হিন্দুরা এসে বলল - খুব বাড়াবাড়ি হচ্ছে! হরিধ্বনিতে রাতে ঘুম হয় না।আরেকজন ম্লেচ্ছ বলল - হিন্দুরা "কৃষ্ণ কৃষ্ণ হরি হরি" বলে কান্দছে, নাচছে, গড়াগড়ি যাচ্ছে। যদি বাদশা শুনে তোমাকে শেষ করে দেবে। আমি বললাম - হিন্দুরা তো হরিকৃষ্ণ বলছে, কিন্তু তুমি সব সময় কেন বলছো?
 সে বলল- আমি পরিহাস করে " হরি হরি কৃষ্ণ কৃষ্ণ" বলছিলাম, কিন্তু, এখন এমন হল! আমার জিহ্বা সবসময় হরি-হরি বলছে আর ছাড়তে পারছি না। তাদের কথা শুনে আমি সেদিন থেকে হিন্দুদের কে পরিহাস করা বর্জন করলাম। জানিনা, কি মন্ত্রৌষধি জানে হিন্দুগণ।

এমন সময় 5/7 জন হিন্দু আসল- এসে নালিশ করল হিন্দু ধর্ম নিমাই পণ্ডিত নষ্ট করে ফেলল, যে কীর্তন কখনো শুনি নাই, তাদের উপদ্রবে আমাদের নিদ্রা হারাম হয়ে গিয়েছে।
কৃষ্ণনাম *মহামন্ত্র* এ জোরে জোরে বললে মন্ত্রের বীর্য নষ্ট হয়।এই পাপে সারা গ্রাম উজাড় হয়ে যাবে। আমি স্নিগ্ধ ভাবে বললাম - তোমরা সবাই ঘরে যাও। আমি নিষেধ করে দেব।
 *হিন্দুর ঈশ্বর বড় যেই নারায়ণ।সেই তুমি হও হেন লয় মোর মন।।* 

 এত শুনি মহাপ্রভু হাসিয়া হাসিয়া।
 কহিতে লাগিল কিছু কাজীরে ছুঁইয়া।।

 *তোমার মুখে কৃষ্ণ নাম এবড় বিচিত্র।পাপক্ষয় গেল হইলা পরম পবিত্র।।* 

 *হরি-কৃষ্ণ-নারায়ণ লৈলে তিন নাম।বড় ভাগ্যবান তুমি বড় পুণ্যবান।।* 

 এত শুনি কাজীর দুই চক্ষে পড়ে পানি।
প্রভুর চরণ ছুঁই কহে প্রিয়বাণী।।

 তোমার প্রসাদে আমার কুমতি দূর হল।এই কৃপা করো যেন তোমার চরণে ভক্তি হয়। 

প্রভু - তোমার কাছে একটি ভিক্ষা, নদীয়ায় সংকীর্তন যেন বন্দ না হয়।

 কাজী বলছেন- আমার বংশে যারা কীর্তনে বিরোধ করবে তাকেই তালাক দিব।

 শুনে মহাপ্রভু আনন্দে হরি বলে উঠলেন। সকল বৈষ্ণবগণও হরিধ্বনি করতে লাগলেন। 
মহাপ্রভু আনন্দিত চিতে শঙ্খ বণিকের ঘর হয়ে,তন্তুবাইয়ের নগরী আসলেন। তাদের কৃপা করে শ্রীধরের ঘরে এসে উঠলেন।তার বাড়ির বাইরে ফুটো লোহার পাত্রে জল ছিল, সেই পাত্র তুলে জল পান করলেন। শ্রীধর পন্ডিত হায় হায় করে উঠলেন। মহাপ্রভু বললেন বৈষ্ণবের জলপানে বিষ্ণুভক্তি হয়। সেজন্যই একটু জল পান করলাম।

ধনে জনে পাণ্ডিত্যে কৃষ্ণকে পাওয়া যায় না। একমাত্র ভক্তির বশ ভগবান। জল পান করে শ্রীধরকে অনুগ্রহ করে মহাপ্রভু গাদিগাছা-পারডাঙ্গা দিয়ে পুনরায়  নবদ্বীপে ফিরে আসলেন।
জয় ভক্তদুঃখহারী, কাজি উদ্ধারকারী, গৌরহরির জয়!!

ক্রমশ ....
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
⬇️⬇️⬇️এই লিখনী 📚 PDF 📚 ক্লিক করুন⬇️⬇️⬇️
 ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧

 
 ✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️
           ꧁ লিখনী সেবা- শ্রী গোপীশরণ দাস ꧂
নিবাস-শ্রীশ্রীনিত্যানন্দ প্রভুর জন্মস্থান, একচক্রা, বীরভূম, পশ্চিমবঙ্গ। 
DEMOCRATIC NITYANANDA (Facebook Group) 👉 https://www.facebook.com/groups/1370545549769377/?ref=share
 ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏
আমায় দেওয়া ওনার এই অমূল্য লিখনী সেবা, তা সকলের মধ্যে প্রকাশ করলাম। ওনার এই অমূল্য দান সমগ্র বৈষ্ণব সমাজ অনন্তকাল মনে রাখিবে।
🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
    *••••┉━❀꧁ 🙏 রাধে রাধে 🙏 ꧂❀━┅••••* 
                   শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য প্রভু নিত্যানন্দ
              হরে কৃষ্ণ হরে রাম শ্রীরাধেগোবিন্দ।।
  *••••┉━❀꧁ 🙏 জয় জগন্নাথ 🙏 ꧂❀━┅••••*
              হরে কৃষ্ণ হরে কৃষ্ণ কৃষ্ণ কৃষ্ণ হরে হরে
              হরে রাম হরে রাম রাম রাম হরে হরে॥
  *••••┉━❀꧁ 🙏 জয় রাধাকান্ত 🙏 ꧂ ❀━┅••••*
   💮❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀💮
   💮❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀💮
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧


৩৬. *অতি গূঢ় নিত্যানন্দ - কাজী দলন* ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী গোপীশরণ দাস 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2022/12/blog-post_80.html

 ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
     ꧁ ৩৬. *অতি গূঢ় নিত্যানন্দ - কাজী দলন* ꧂
       এই লিংকে ⬇️⬇️⬇️🙏⬇️⬇️⬇️ ক্লিক করুন 
      ꧁ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী গোপীশরণ দাস  ꧂
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
 ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
 ꧁ টিকা বা অন্যান্য ধর্মীয় লিখনী 🙏 সূচীপত্র ꧂
       এই লিংকে ⬇️⬇️⬇️🙏⬇️⬇️⬇️ ক্লিক করুন 
     ꧁ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী গোপীশরণ দাস  ꧂
 ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
 ꧁ প্রভু নিত্যানন্দের সংক্ষিপ্ত লীলা 🙏 সূচীপত্র ꧂
       এই লিংকে ⬇️⬇️⬇️🙏⬇️⬇️⬇️ ক্লিক করুন 
      ꧁ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী গোপীশরণ দাস ꧂
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
꧁ MrinmoyNandy.blogspot.com 👉 সূচীপত্র ꧂
       এই লিংকে ⬇️⬇️⬇️🙏⬇️⬇️⬇️ ক্লিক করুন 
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
( ৩৬)
*অতি গূঢ় নিত্যানন্দ।*
*কাজী দলন।*

মহাপ্রভুর নির্দেশে সারা নবদ্বীপে তুমুল হরিনাম সংকীর্তনের রোল উঠল। সবাই গাইছেন *"হরি ও রাম রাম হরি ও রাম।"* সেই পথে যাচ্ছিলেন উচ্চৈঃস্বরে হরিনাম বলতে বলতে শ্রীধর।কীর্তন শুনে  মহানন্দে নৃত্য শুরু করলেন, তার আনন্দ-নৃত্য দেখে, তাকে ঘিরে চারিদিকে সবাই প্রেমানন্দে কীর্তন করতে লাগল। শ্রীধর আনন্দে গড়াগড়ি দিতে লাগল। পাষন্ডীরা দুরথেকে দেখে বলছে দেখ! সেই খোলাবেচা শ্রীধরও বৈষ্ণব হয়ে গেল!!  পরনে কাপড় নেই, পেটে ভাত নেই আর লোককে বলছে- *যে আমার ভাব হয়েছে!!* এই প্রকার বিমুখগণ নিন্দা করতে থাকে। নগরিয়াগণ দৈনিক কীর্তন করেন। একদিন সেই পথে কাজী যাচ্ছিল,মৃদঙ্গ মন্দিরা শঙ্খ ধ্বনি শুনেই কাজী বলছে-  "ধর ধর বেটাদের! বলে অনেককে মারল, অনেকে পালিয়ে গেল, মৃদঙ্গ গুলো ভেঙ্গে গুড়িয়ে দিল, দ্বারে অনাচার করল, আরও বলল-আজ ক্ষমা করে দিলাম, এরপরে যদি কেউ কীর্তন করে তার জাতি নিব, দেখি তোর নিমাই আচার্য কি করতে পারে!
 ভক্তগণ দুঃখ পেয়ে ভয়ে আর কীর্তন করতে পারেন না। সবাই মহাপ্রভুর কাছে নিবেদন করল, "প্রভু! কাজীর ভয়ে আমরা কীর্তন করতে পারি না। তুমি অনুমতি দাও,আমরা নবদ্বীপ ছেড়ে অন্য জায়গায়  গিয়ে নাম করব।"
শুনে মহাপ্রভু ক্রোধে রুদ্রমূর্তি ধারণ করলেন। আদেশ দিলেন-
নিত্যানন্দ! সাবধান হও! এক্ষুনি গিয়ে সবাইকে বল,আজ সারা নবদ্বীপে  কীর্তন করব। দেখি আমার কীর্তনে কে বাধা দিতে পারে। কাজীর ঘর-দ্বার সব পুড়িয়ে দেব। দেখি  তার রাজা কি করতে পারে।
যাও সকলকে আমার আজ্ঞা জানিয়ে দাও।
সবাই বৈকালবেলা মশাল হাতে যার বাড়িতে যা বাদ্যযন্ত্র আছে নিয়ে আসবে।
অনন্ত ব্রহ্মাণ্ড আমার সেবকের দাস। আমি থাকতেও তোমাদের ভয়?
নিত্যানন্দ প্রভুকে কাছে পেয়ে মহাপ্রভুর উৎসাহের শেষ নেই! সেনাপতি না থাকলে কি যুদ্ধ হয়? এতদিন ঘরের ভিতরে কপাট দিয়ে কীর্তন হচ্ছিল। নিত্যানন্দ প্রভুকে পেয়ে এবার মহাপ্রভু সংকীর্তন বাইরে বের করতে উদ্যোগী হলেন।
সারা নবদ্বীপে ঘোষিত হলো নিমাই পণ্ডিত আজ নগরে নগরে নৃত্য করবেন। নবদ্বীপবাসীর উৎসাহ আজ দেখবার মত।
স্ত্রী-বালক-বৃদ্ধ সকলেই মশাল হাতে উপস্থিত।
 মহাপ্রভু ,নিত্যানন্দ-অদ্বৈত-গদাধর- শ্রীবাস হরিদাস সঙ্গে সংকীর্তনে উন্মত্ত হয়ে চললেন।
 *"হরি বোল মুগধা! গোবিন্দ বোল রে ।যাহে নাহি হয় শমন-ভয় রে।।"(ধ্রু)* 

এই গান গাইতে গাইতে চললেন।পাশের গ্রাম শিমুলিয়া হয়ে কাজীর বাড়ির রাস্তা ধরলেন। অপার জনজোয়ার দেখে কাজী ভয়ে ঘরে ঢুকে পড়ল। উন্মত্ত জনতা তার বাগান উজাড় করল,দ্বার ভেঙে বাড়ির ভিতরে প্রবেশ করল।

মহাপ্রভু কাজীকে ভীত-সন্ত্রস্ত দেখে লোক দিয়ে ডাকালেন, মাথা নত করে কাজী এসে প্রভুর সামনে দাঁড়াল।
প্রভু আদর করে কাজী কে বসিয়ে প্রশ্ন করলেন আমি তোমার ঘরে  অভ্যাগত আসলাম আর তুমি আমাকে দেখে লুকিয়ে পড়লে!এ তোমার কি ধরনের ব্যবহার?
 কাজী -তুমি ক্রুদ্ধ হয়ে এসেছ, তোমাকে শান্ত করার জন্য লুকিয়ে ছিলাম। এখন তুমি শান্ত হয়েছো,তাই এসে দেখা করলাম। আমার অনেক ভাগ্য যে তোমার মতো অতিথি ঘরে পেলাম। গ্রাম সম্বন্ধে নীলাম্বর চক্রবর্তী আমার চাচা হয়, দেহসম্বন্ধ থেকেও গ্রামসম্বন্ধ বড়। নীলাম্বর চক্রবর্তী তোমার নানা হয়, সেই হিসাবে তুমি আমার ভাগ্নে হও, ভাগ্নের ক্রোধ মামা অবশ্যই সহ্য করে আর মামার অপরাধ ভাগ্নে গ্রহণ করে না।
মহাপ্রভু- একটা প্রশ্ন আছে তোমার কাছে। 
 কাজী- আজ্ঞা কর?

 মহাপ্রভু বলছেন- গোদুগ্ধ খাও,গাভী তোমার মাতা, 
বৃষ অন্ন উপজায় তাতে তেহ পিতা।।
 পিতা-মাতা মেরে খাও এ কেমন তোমার ধর্ম?
কাজী- তোমার যেমন বেদ-পুরাণ, তেমনি আমাদের কিতাব কোরান।সে শাস্ত্রে প্রবৃত্তি ও নিবৃত্তি দুই প্রকার মার্গ আছে। নিবৃত্তি মার্গে গোবধ নিষিদ্ধ, আর প্রবৃত্তি মার্গে  গোবধের বিধান আছে।শাস্ত্র আজ্ঞায় বধ করলে পাপ হয় না। তোমার বেদেও গোবধের বিধান আছে,তাই বড় বড় ঋষি-মুনিগণও গোবধ করেছেন।
 প্রভু - বেদে গোবধ নিষেধ করেছে। অতএব হিন্দুমাত্র গোবধ করে না। যদি বাঁচাতে পারে তবেই প্রাণী মারে।সেজন্য জরদ্গব বলি দিয়ে তাকে পুনর্জীবন দান করে। বৃদ্ধ যুবা হয়ে যায় তাতে তার বধ হয় না আরো উপকারই হয়। কিন্তু কলিকালে ব্রাহ্মণদের সেই প্রকার শক্তি না থাকায় এখন গোবধ নিষিদ্ধ।

ব্রহ্মবৈবর্ত পুরাণ- কৃষ্ণজন্মখন্ডে 165/180।

অশ্বমেধং গবালম্ভং সন্ন্যাসং পলপৈতৃকম্।
দেবরেন সুতোৎপত্তিং কলৌ পঞ্চ বিবর্জয়েৎ।।

অনুবাদ :- কলিযুগে পাঁচটি বর্জনীয়, অশ্বমেধ, গো-মেধ, সন্ন্যাস,মাংস দিয়ে পিতৃশ্রাদ্ধ এবং দেবর দিয়ে পুত্র লাভ।

 তোমরা বাঁচাতে পার না, কিন্তু মারতে পার। সেই পাপে নরক থেকে তোমাদের রেহাই নেই। গরুর যত রোম, তত হাজার বছর রৌরব পচতে হবে। তোমাদের শাস্ত্রকর্তা - সে ভ্রান্ত হল, শাস্ত্রের মর্ম না জেনে ওই প্রকার আজ্ঞা দিল।
 শুনে কাজী স্তব্ধ হয়ে গেল, মুখে আর কথা বের হয় না, বিচার করে কাজী নিজের পরাজয় স্বীকার করে নিল।
 তুমি যা বললে পন্ডিত সেই সত্য হয়। *আধুনিক আমার শাস্ত্র বিচারসহ নয়।।* 
 *কল্পিত আমার শাস্ত্র আমি সব জানি।* 
 জাতি অনুরোধে তবু সেই শাস্ত্র মানি।।

 *সহজে যবন শাস্ত্র অদৃঢ় বিচার।* আরেকটি প্রশ্ন করি যথার্থ বলবে ছল,প্রবঞ্চনা করবে না।
 তোমার নগরে সবসময় সংকীর্তন হয়।বাদ্য গীত কোলাহল হয়, তুমি কাজী হিন্দু-বিরোধী, কিন্তু এখন আর মানা করো না কেন? বুঝতে পারিনা।

 কাজী বলছেন- সবাই তোমাকে বলে গৌরহরি, আমিও তোমাকে এই নামে সম্বোধন করি। শুন গৌরহরি এ প্রশ্নের উত্তর, একান্তে যদি আসো তাহলে বলি।

প্রভু - এখানে সকলেই আমার অন্তরঙ্গ, তুমি সবার সামনেই বল। কোন অসুবিধা নেই। কাজী - যখন আমি হিন্দুর ঘরে গিয়ে কীর্তন বন্ধ করলাম, মৃদঙ্গ ভেঙে ফেললাম। সেই রাতে এক সিংহ মহাভয়ংকর নরদেহ মুখটা সিংহের মত।আমি শয়ন করলে আমার উপর লাফ দিয়ে চড়ে অট্ট অট্ট হেসে দাঁত কড়মড় করে আমার বুকে নখ দিয়ে চিরে ঘোর শব্দে বলছে ফেঁড়ে ফেলবো তোর বুক মৃদঙ্গের বদলে। আমার কীর্তন মানা করিস্ তোর বংশধ্বংস করে দেব। আমি বড় ভয় পেয়ে কাঁপতে লাগলাম। আমাকে ভীত দেখে সিংহ প্রসন্ন হয়ে বলল- "তোকে শিক্ষা দেওয়ার জন্য এসেছিলাম। এমন আর কখনো করবি না। এবারের মতো ক্ষমা করে দিলাম। আর যদি করিস্ সবংশে ধ্বংস করব।" এই বলে সিংহ চলে গেল।এই দেখো নখচিহ্ন আমার হৃদয়ে। 
এই বলে কাজী নিজের বুক দেখালো।
 শুনে সব লোক আশ্চর্য মানল।
কাজী- একথা আমি কাউকে বলি নাই। একদিন আমার পেয়াদা এসে বলল- আমি তো নিষেধ করতে গিয়েছিলাম। এক অগ্নি উল্কা এসে আমার মুখে এমন ভাবে লাগলো যে আমার দাড়ি সব পুড়ে গেল, মুখে ফোস্কা পড়ে গেছে। সে কথা শুনে আমি ভীত হয়ে পড়লাম। বললাম কীর্তন বন্ধ করতে কেউ যেয়ো না। তারা স্বচ্ছন্দে কীর্তন করুক।
 নবদ্বীপের হিন্দুরা এসে বলল - খুব বাড়াবাড়ি হচ্ছে! হরিধ্বনিতে রাতে ঘুম হয় না।আরেকজন ম্লেচ্ছ বলল - হিন্দুরা "কৃষ্ণ কৃষ্ণ হরি হরি" বলে কান্দছে, নাচছে, গড়াগড়ি যাচ্ছে। যদি বাদশা শুনে তোমাকে শেষ করে দেবে। আমি বললাম - হিন্দুরা তো হরিকৃষ্ণ বলছে, কিন্তু তুমি সব সময় কেন বলছো?
 সে বলল- আমি পরিহাস করে " হরি হরি কৃষ্ণ কৃষ্ণ" বলছিলাম, কিন্তু, এখন এমন হল! আমার জিহ্বা সবসময় হরি-হরি বলছে আর ছাড়তে পারছি না। তাদের কথা শুনে আমি সেদিন থেকে হিন্দুদের কে পরিহাস করা বর্জন করলাম। জানিনা, কি মন্ত্রৌষধি জানে হিন্দুগণ।

এমন সময় 5/7 জন হিন্দু আসল- এসে নালিশ করল হিন্দু ধর্ম নিমাই পণ্ডিত নষ্ট করে ফেলল, যে কীর্তন কখনো শুনি নাই, তাদের উপদ্রবে আমাদের নিদ্রা হারাম হয়ে গিয়েছে।
কৃষ্ণনাম *মহামন্ত্র* এ জোরে জোরে বললে মন্ত্রের বীর্য নষ্ট হয়।এই পাপে সারা গ্রাম উজাড় হয়ে যাবে। আমি স্নিগ্ধ ভাবে বললাম - তোমরা সবাই ঘরে যাও। আমি নিষেধ করে দেব।
 *হিন্দুর ঈশ্বর বড় যেই নারায়ণ।সেই তুমি হও হেন লয় মোর মন।।* 

 এত শুনি মহাপ্রভু হাসিয়া হাসিয়া।
 কহিতে লাগিল কিছু কাজীরে ছুঁইয়া।।

 *তোমার মুখে কৃষ্ণ নাম এবড় বিচিত্র।পাপক্ষয় গেল হইলা পরম পবিত্র।।* 

 *হরি-কৃষ্ণ-নারায়ণ লৈলে তিন নাম।বড় ভাগ্যবান তুমি বড় পুণ্যবান।।* 

 এত শুনি কাজীর দুই চক্ষে পড়ে পানি।
প্রভুর চরণ ছুঁই কহে প্রিয়বাণী।।

 তোমার প্রসাদে আমার কুমতি দূর হল।এই কৃপা করো যেন তোমার চরণে ভক্তি হয়। 

প্রভু - তোমার কাছে একটি ভিক্ষা, নদীয়ায় সংকীর্তন যেন বন্দ না হয়।

 কাজী বলছেন- আমার বংশে যারা কীর্তনে বিরোধ করবে তাকেই তালাক দিব।

 শুনে মহাপ্রভু আনন্দে হরি বলে উঠলেন। সকল বৈষ্ণবগণও হরিধ্বনি করতে লাগলেন। 
মহাপ্রভু আনন্দিত চিতে শঙ্খ বণিকের ঘর হয়ে,তন্তুবাইয়ের নগরী আসলেন। তাদের কৃপা করে শ্রীধরের ঘরে এসে উঠলেন।তার বাড়ির বাইরে ফুটো লোহার পাত্রে জল ছিল, সেই পাত্র তুলে জল পান করলেন। শ্রীধর পন্ডিত হায় হায় করে উঠলেন। মহাপ্রভু বললেন বৈষ্ণবের জলপানে বিষ্ণুভক্তি হয়। সেজন্যই একটু জল পান করলাম।

ধনে জনে পাণ্ডিত্যে কৃষ্ণকে পাওয়া যায় না। একমাত্র ভক্তির বশ ভগবান। জল পান করে শ্রীধরকে অনুগ্রহ করে মহাপ্রভু গাদিগাছা-পারডাঙ্গা দিয়ে পুনরায়  নবদ্বীপে ফিরে আসলেন।
জয় ভক্তদুঃখহারী, কাজি উদ্ধারকারী, গৌরহরির জয়!!

ক্রমশ ....
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
⬇️⬇️⬇️এই লিখনী 📚 PDF 📚 ক্লিক করুন⬇️⬇️⬇️
 ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧

 
 ✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️
           ꧁ লিখনী সেবা- শ্রী গোপীশরণ দাস ꧂
নিবাস-শ্রীশ্রীনিত্যানন্দ প্রভুর জন্মস্থান, একচক্রা, বীরভূম, পশ্চিমবঙ্গ। 
DEMOCRATIC NITYANANDA (Facebook Group) 👉 https://www.facebook.com/groups/1370545549769377/?ref=share
 ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏
আমায় দেওয়া ওনার এই অমূল্য লিখনী সেবা, তা সকলের মধ্যে প্রকাশ করলাম। ওনার এই অমূল্য দান সমগ্র বৈষ্ণব সমাজ অনন্তকাল মনে রাখিবে।
🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
    *••••┉━❀꧁ 🙏 রাধে রাধে 🙏 ꧂❀━┅••••* 
                   শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য প্রভু নিত্যানন্দ
              হরে কৃষ্ণ হরে রাম শ্রীরাধেগোবিন্দ।।
  *••••┉━❀꧁ 🙏 জয় জগন্নাথ 🙏 ꧂❀━┅••••*
              হরে কৃষ্ণ হরে কৃষ্ণ কৃষ্ণ কৃষ্ণ হরে হরে
              হরে রাম হরে রাম রাম রাম হরে হরে॥
  *••••┉━❀꧁ 🙏 জয় রাধাকান্ত 🙏 ꧂ ❀━┅••••*
   💮❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀💮
   💮❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀💮
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧


adds