✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
꧁ ৬৭. বাসকসজ্জা লীলা ꧂
এই লিংকে 👇👇👇🙏👇👇👇 ক্লিক করুন
꧁ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ ꧂
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
꧁ 👇শ্রীকৃষ্ণ লীলা 🙏 সূচীপত্র👇 ꧂
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
*🌻বাসকসজ্জা গৌরচন্দ্রিকা🌻*
^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^
*সুরধূনী তীরে নব ভান্ডীরের তলে*
*বসিয়াছে গোরাচাঁদ নিজগণ মেলে।।*
*রজনী কৌমুদী আর হিম ঋতু তায়।*
*হিমসহ পবন বহয়ে মৃদুবায়।।*
*তাহি রচয়ে পহুঁ ললিত শয়নে।*
*হেরয়ে ঘন ঘন চকিত নয়নে।।*
*আপন অঙ্গের ছায়া দেখিয়া উঠয়ে।*
*বাসকসজ্জার ভাব জ্ঞানদাস কহে।।*
---------------------------------------------------------
*🌻🌻দ্বিতীয় গৌরচন্দ্রিকা🌻🌻*
*নিশি পরভাতে, বসি আঙ্গিনাতে,*
*বিরস বদন খানি।*
*গৌরাঙ্গ চাঁদের, হেন ব্যবহার,*
*এমতি কভু না দেখি।।*
*সই, এ মতি করিল কে।*
*গোরা গুণনিধি,বিধির অবধি,*
*তাহারে পাইল সে।।*
*কস্তুরী চন্দন, করি বরিষণ,*
*গাঁথিয়া ফুলের মালা।*
*বিচিত্র পালঙ্কে, শেজ বিছাইনু,*
*শুইবে শচীর বালা।।*
*হে দে গো সজনি,সকল রজনী,*
*জাগিয়া পোহাইল বসি।*
*আশায় আশায়,বসিয়া রহিল,*
*গত হৈয়া যায় নিশি।।*
*বাসুদেব বলে,গৌরাঙ্গ আইলে,*
*এখনি কহিব তারে।*
*হেথায় না আইল,রজনী বঞ্চল,*
*আছিল কাহার ঘরে।।*
---------------------------------------------------
*🌻🌻তৃতীয় গৌরচন্দ্রিকা🌻🌻*
*পালঙ্ক উপরে, গৌরাঙ্গ সুন্দর,*
*বসিয়া বিরল মনে।*
*রাধার ভাবেতে, ভাবিত অন্তর,*
*বাসক সজ্জার ভণে।।*
*কহে শ্যাম বঁধূ, আসিবে বলিয়া,*
*শেজ বিছাইনু ফুলে।*
*গত প্রায় নিশি,কোথা কাল শশী,*
*রজনী গেল বিফলে।।*
*না আসিল কালা,আর প্রেম জ্বালা,*
*কত বা সহিব প্রাণে।*
*কহে নরহরি,ভাঙ্গিব পিরীতি,*
*সে শ্যাম নিঠুর সনে।।*
---------------------------------------------------
*🌻🌻চতুর্থ গৌরচন্দ্রিকা🌻🌻*
*কি লাগি মোর, গৌরাঙ্গ সুন্দর,*
*বসিয়া গৃহের মাঝে।*
*বসন আসন ,রতন ভূষণ,*
*সাজায় অঙ্গের সাজে।।*
*আপন বপুর, ছাহ হেরিয়া,*
*চমকি উঠয়ে মনে।*
*কি লাগি অবহুঁ, না মিলল পহুঁ,*
*এত বা বিলম্ব কেনে।।*
*কহে নরহরি,মোর গৌরহরি,*
*ভাবিয়া রাইর দশা।*
*সজল নয়ানে,চাহে পথ পানে,*
*কহে গদ গদ ভাষা।।*
*🌻কলি জীবের জীবন করুণাসিন্ধু শ্রীগৌরসুন্দর জগতে অবতীর্ণ হয়েছেন।* *জগতে সমুদ্রকে "রত্নাকর"বলা হয়,কিন্তু তার অতলগর্ভ হতে রত্ন আরোহণ(উপরে নিয়ে আসা)করা সহজসাধ্য নয়।* *সাধারণ মানুষের তো কল্পনা বহির্ভূত,বহু শ্রম করেও সেই রত্নমণির বিনিময়েও যা লভ্য নয়,* *সেই অমূল্য চিন্তামণি সদৃশ (সমান)শ্রীহরিনাম-চিন্তামণি পরম দয়াল শ্রীগৌরসুন্দর স্বীয় (নিজে) প্রেম গুণরূপ সূত্রে গ্রন্থন করে জগজনের (আবিষ্কারের অসমর্থ সকলের)কন্ঠ পড়িয়ে দিচ্ছেন।* *আর জগতের লোক সকলকে কলিকল্মষরূপ(কলির জীব পাপে জর্জরিত অন্ধকারে )তিমিরে আকুল দর্শনে অর্থ্যাৎ কলিরজীবকে পাপের অন্ধকারে পরিপূর্ণ দেখে )করুণাময় শ্রীগৌরসুন্দর আপন (নিজ)বদন চন্দ্র প্রকাশে অর্থ্যাৎ শ্রীগৌররূপে অবতীর্ণ হয়ে প্রেমনেত্রে অশ্রুবিসর্জনরূপ প্রেমামৃত বর্ষণে জগজনের ত্রিতাপ জ্বালা নাশ করেছিলেন।* *করুণাসিন্ধু গৌরহরি দূর হতে দৃর দৃর জায়গায় ভক্তরূপ কল্পতরূ রোপণ করেছেন।* *যাঁদের পদাশ্রয়ে সংসার পথের পথিকগণ নিজ নিজ অভিলাষ(বাসনা) পূর্ণ করছেন।*
*মহাপ্রভু শ্রীগৌরকৃপানিধির অপূর্ব বিলাস দর্শন করুন বাসকসজ্জা।*
*যারা অকিঞ্চণ,অর্থ্যাৎ সহায়-সম্বলহীন জীব তাদের পর্য ভাবরূপ হস্তিরাজের উপরে চড়িয়ে বিচরণ করিয়েছেন।* *মূল কথা এই, একমাত্র পতিতপাবন,করুণাময়,সর্বজীবের দয়াল,প্রেমময় গৌরসুন্দর ব্রজভাবে বৃন্দাবন স্মরণ করিয়া বাসকসজ্জা লীলার কথা মনে পড়েছে।* *তিনি রাধা ভাবে ভাবিত হয়ে বনের ভিতরে একটি কুঞ্জে এসে বঁধূ আসবেন বলিয়া সুন্দর সুন্দর পুষ্প চয়ন করে,বঁধূর জন্যে পুষ্পশয্যা রচনা করছেন।* *অতি সুন্দর করে সুগন্ধি পুষ্প চয়ন করে মনের মত করে মালা গ্রন্থন করছেন,কেন প্রাণবল্লভের গলে পরাবেন।* *রাধাভাবে ভাবিতা গৌরহরি, সখিদের বলছেন,তোরা সেই মণিময় কৌটা নিয়ে আয়,আমার বঁধূ তাম্বুল ভালবাসে, এই মণিময় কৌটায় সযত্নে রাখ,আহা আজ আমার কি সৌভাগ্য,আমার মনের মত করে বঁধূর সেবা করব।* *আবার কি করলেন?শয্যা পার্শে বঁধূর জন্য পীতবস্ত্র রেখে দিলেন,বঁধূকে পরাবেন বলিয়া।* *এবারে শয্যা ও কুঞ্জ সুসজ্জিত হয়ে গেছে, প্রাণপ্রিয়তমের শুভাগমনের অপেক্ষায় রইলেন।* *খু অল্প সময়ের মধ্যে প্রাণবল্লভ উপস্থিত হবেন,কি না আনন্দ হবে।* *তাঁকে কেমনভাবে স্বাগত-সম্ভাষণ করবেন,তাই মনে মনে ভাবছেন।*
*যখন প্রাণবল্লভ আসবেন,তখন আমি একটু মজা করে কুঞ্জে প্রবেশ করাব।* *এই ভাবনা ভাবছেন, কিন্তু কৈ তিনি তো এখনও এলেন না,এক এক করে সময় অতিবাহিত হতে চলেছে,মনের ভিতরের পূর্ণ আনন্দ একটু একটু ম্লান ভাব নিচ্ছে।* *তিনি আসবেন বলে আমায় কুঞ্জে আসতে বললেন,এখনও তিনি এলেন না!মনের মধ্যে ধীরে ধীরে উৎকণ্ঠা বাড়ছে।*তবে কি আমার আনন্দ,পরিশ্রম বৃথা হল।* *বঁধূ কি আর আসবেন না?নিজেকে নিজে প্রশ্ন করছেন,ধীরে ধীরে ধৈর্য্যহারা হয়ে সমস্ত কিছু যমুনার জলে ফেলে দিলেন,মহাপ্রভুর এই ব্যস্ততা দেখে পার্ষদগণ বারবার জিজ্ঞাসা করছেন তোমার কি হয়েছে বল?*
*বলিয়া মহাপ্রভুকে জড়িয়ে ধরে বসিয়েছেন,তখনি বাহ্য স্মৃতি ফিরে এলো।* *এখানেই রইল।*
*🌻গৌরচন্দ্রিকায় এই কথাগুলি বলা যাবে🌻*
""""""""""""""""""""""""""""""""""""""""""""""""""""""""""""""""""
*বৃন্দাবনে ভ্রমণ করতে করতে গৌরহরির অন্তরে রাধিকার প্রেমের ভাব উদয় হল,কৃষ্ণের বিরহ স্ফুর্তি সদাই জাগে।*
*অন্তরে তানিত প্রভু বিরহ উন্মাদ।*
*ভ্রমময় চিত্ত সদা প্রলাপ সংবাদ।।*
*প্রতি লোমকূপে রক্তোদ্গম হয়।কখনও অঙ্গ ক্ষীণ হয়,কখনও বা স্ফীত হয়।গম্ভীরার মধ্যে রাত্রি নিদ্রাহীন হয়ে দেওয়ালে মাথা ও মুখ ঘসে ঘসে ক্ষত সৃষ্টি করবেন।*
*গম্ভীরার বাইরে এলে কখনও সিংহদ্বারে কখনও বা সমুদ্রের জলে গিয়ে ঝাঁপ দেন,চটক পর্বত দেখে গোবর্ধন পর্বতের ভ্রম হয়,উপবন দেখে বৃন্দাবন জ্ঞান করবেন।* *কৃষ্ণকথা ভাবতে ভাবতে নাচবেন,গাইবেন,ক্ষণে ক্ষণে মূর্ছিত হবেন,হস্ত-পদ সন্ধি বিস্তারিত হবে,হস্ত,পদ,শির দেহের মধ্যে প্রবেশ করিয়ে কূর্মরূপ ধারণ করবেন।*
*এমন অদ্ভুত ভাব শরীরে প্রকাশ।*
*মনেতে শূন্যতা বচনেতে হা হুতাশ।।*
*আমি কোথায় যাব,কোথায় ব্রজেন্দনন্দনকে পাব,কোথায় মোর প্রাণনাথ,আমি কাকে জিজ্ঞাসা করব,কে আমার দুঃখ বুঝবে,কৃষ্ণ বিহনে আমার বুক বিদীর্ণ হচ্ছে।*
*এইভাবে গৌরহরি ব্যাকুল হয়ে বিলাপ করছেন।কৃষ্ণপ্রেমে অজ্ঞান হচ্ছেন,স্থানাস্থান বুঝছেন না,ভালমন্দ বিচার করতে পারছেন না,কৃষ্ণ বিরহে কাঁদতে কাঁদতে বলবেন,কৃষ্ণের যত সদ্ গুণ রশ্মিরূপে আমার হস্তে গলায় বেঁধে রেখেছে।* *সেই বন্ধন কিছুতেই মুক্ত করতে পারছি না।* *যে মদনের দেহ নাই,অপরকে হিংসা করে পরাধীন করে,সর্বদাই পাৈঁবাণের সন্ধান করে,সেই পাঁটবাণ আমার দেহে আঘাত করে দুঃখ দেয়,কিন্তু প্রাণহানি করতে পারে না।এই দুঃখ অন্য কাউকে জানাতে পারি না।* *সখিরাও জানে না,তাই তারা আমাকে ধৈর্য্য ধরতে বলে,কৃষ্ণসাগর কে পার হতে পারবে।* *তাই সখীর কথা ব্যর্থ হল।জীবের প্রাণ অতি চঞ্চল,পদ্মপাতার জলের মত,ততদিন কে বেঁচে থাকবে।*
*শত বৎসর পর্যন্ত,জীবের জীবন অন্ত,*
*এই বাক্য কভু না বিচারি।*
*নারীর যৌবন ধন,যাতে হরে কৃষ্ণ মন,*
*সে যৌবন দিন দুই চারি।।*
*আগুন যেমন নিজের প্রভা দেখিয়ে পতঙ্গকে আকর্ষণ করে পুড়িয়ে মারে,তেমনি কৃষ্ণ নিজের গুণ দেখায়ে সবার মন হরণ করে দুঃখের সমুদ্রে ডুবায়।* *এইভাবে বিলাপ করে গৌরহরি দুঃখের দরজা খুলে ভাবের তরঙ্গে বিরহ শ্লোক পাঠ করেন।যার অধরে বংশীধ্বনি,অতি মনোহর যাঁর রূপ,অতি মনোহর যাঁর ধাম,সেই কৃষ্ণের বদন যে নেত্র দর্শন করল না,এমন নয়নে কি কাজ,তার মাথায় পড়ুক বাজ রে সখী।* *কৃষ্ণ বিনা আমার সকলই বিফল।* *কৃষ্ণের মধুর বাণী যেন অমৃতের তরঙ্গ,যার কর্ণে প্রবেশ করল না,ফুটো কড়ির সমান সেই কান,বৃথা হল তার জন্ম।*
*কৃষ্ণের অধরামৃত,কৃষ্ণের গুণ চরিত,*
*যে রসনে না হয় উদ্গম।*
*তার স্বাদ নাহি জানে,জন্মিয়া না মেল কেনে,*
*সে রসনা ভেক জিহ্বা সম।।*
*🌻কৃষ্ণের প্রসাদ যে গ্রহণ করল না জিহ্বায়,তাঁর গুণগাথা যে জিহ্লায় উচ্চারণ হল না,সে জিহ্বা ব্যাঙের জিহ্বার মত কেবল ঘেঙর ঘেঙর করে শত্রু সাপকে জানিয়ে দেয় তার আহারের সন্ধান।* *মৃগের কস্তুরীর মত যার অঙ্গের গন্ধ,সেই গন্ধ যার নাসিকায় প্রবেশ করল না,সেই নাক কামারের হাপর ছাড়া আর কি?* *শ্রীকৃষ্ণের কর-পদতল কোটি চন্দ্রের মত সুশীতল,তা স্পশামণির মত।* *সে স্তর্শ যে পেল না,তার দেহ লৌহের সমান,তার মরণই ভাল।* *এইভাবে বিলাপ করতে করতে গৌরহরি অচেতন হয়ে পড়বেন।* *তারপর ঘুমের মধ্যে স্বপনে চেতনতা লাভ করে,*
*কহিছে আজি স্বপনে,দেখিনু বংশীবদনে,*
*সেইকালে আইলেন দুই বৈরী।*
*আনন্দ আর মদন,হরি নিল মোর মন,*.
*দেখিতে না পাই নেত্র ভরি।।*
*যদি আবার তাঁকে দেখতে পাই তো মঙ্গল হয়,তখন চন্দন মালা আর নানাবিধ রত্ন অলঙ্কারে তাঁকে সাজাব।* *শুন মোর প্রাণের বন্ধু,কৃষ্ণকে না পেয়ে আমার জীবন,দেহ,ইন্দ্রিয়সকল ব্যর্থ হল।*
*এইকথা বলতে বলতে মহাপ্রভু মূর্ছা যান।পুনরায় চেতন পেয়ে অপরূপ বাক্য বলেন,পলকে পলকে প্রেমের পাথারে তত্ত্বজ্ঞান উপদেশ করেন।*
*অকৈতব কৃষ্ণপ্রেম,যেন জাম্বুনদ হেম,*
*সে প্রেমের প্রেমী যে না হয়।*
*যদি তার হয় যোগ,না হয় বিয়োগ,*
*বিয়োগেতে কেহ না বাঁচায়।।*
*🌻শুদ্ধ প্রেমের গন্ধ না থাকলে,কপট প্রেম বন্ধ হবে,আমার কৃষ্ণকে সে কখনও পাবে না,কৃষ্ণপ্রেম শুদ্ধ গঙ্গাজলের মত সুনির্মল,যেন অমৃতের সিন্ধু,শুদ্ধ প্রেম সুখের সিন্ধু,যার একবিন্দু সারা জগতকে ডুবাতে পারে।* *বাহিরে বিষন্নতা,অন্তরে মহানন্দ,সেই প্রেম আস্বাদন করলে,তপ্ত ইক্ষুরসে মুখ জ্বালা করে, আর ফেলে দিতেও মন চাই না।* *যার মনে সেই প্রেম থাকবে,সেই ভাব সেছাড়া আর কেহই বুঝতে পারবে না,যেন বিষ আর অমৃতের একসঙ্গে মিলন।*
*🌻যখন জগন্নাথ,বলরাম ও সুভদ্রাকে দেখলাম,তখন যেন কুরুক্ষেত্রে এলাম বলিয়া মনে হয়,জীবন সফল হল,দেহ মন চক্ষু জুড়াল, কোথায় সেই যমুনা, কোথায় সেই রাসবিলাস,কোথায় নৃত্যগীত, কোথায় সেই মদনমোহন।* *উঠে নানা ভাবাবেগ,মনেতে মহা উদ্বেগ,*
*ক্ষণমাত্র নারে গোঙাইতে।*
*প্রবল বিরহানল,ধৈর্য্য হৈল টলমল,*
*চিত্র মগ্ন কৈল কৃষ্ণ প্রীতে।।*
*তোমার দর্শন ছাড়া আমার স্থির থাকতে পারছি না,হে অনাথ বন্ধু!তুমি আমাকে দেখা দাও, তোমার অদর্শনে আমার মন পুড়ে ছাই হয়ে যাচ্ছে।* *আমি এখন কি করি,কেমন করে তোমাকে পাব?*
*এইভাবে গৌরহরি দিব্যোন্মাদে দেহে-মনে অবসাদ বোধ করেন।*
*উন্মাদের মত লক্ষণ প্রকাশ পাবে, ভাবাবেশে মান করবেন,তোমার চঞ্চলমতি এক জায়গায় থাকতে পারবে না।* *তুমি আমার প্রাণের বন্ধু,করুণাসিন্ধু, তোমার প্রতি আমার কোনো অভিমান নেই।*
*তুমি ব্রজের প্রাণনাথ,তুমি মোর প্রাণধন,আমাকে দেখা দাও।*
*স্তম্ভ কম্প আর স্বেদ,বৈবর্ণাশ্রু স্বরভেদ,*
*দেহ হৈল পুলকে পূর্ণিত।*
*হাসে কান্দে নাচে গায়,উঠে পড়ে ছুটি ধায়,*
*ক্ষণে ভূমে পড়িয়া মূর্ছিত।।*
*🌻মূর্ছার মধ্যেই দেখা পেয়ে যাবেন ;ঐ তো আমার প্রভু।কখনও বা চন্ডীদাস,বিদ্যাপতি,রামানন্দ রায়ের নাটক কর্ণামৃত,গীতগোবিন্দ প্রভৃতির গ্রন্থের শ্লোক উচ্চারণ করবেন।* *পূর্বে ব্রজলীলায় শ্রীকৃষ্ণ যে তিনটি অভিলাষ করেছিলেন,তা পূর্ণ করবার জন্য গৌরাঙ্গরূপে অবতীর্ণ হয়ে আস্বাদন করবেন।* *গোপীভাব,রাধার প্রেমের গভীরতা ও আপন মাধুরী এই তিনটি ছিল কৃষ্ণের অন্তরের অভিলাষ।* *নিজে আস্বাদন করে ভক্তগণকে শিক্ষা,স্থানাস্থান বিচার নেই,যারে তারে দান করবেন।*
*এই গুপ্ত ভাবসিন্ধু,ব্রহ্মা না পান একবিন্দু,*
*হেন ধন বিলান সংসারে।*
*যে দয়াল অবতার,সমদাতা নাহি আর,*
*গুণ কেহ নারে বর্ণিবারে।।*
*🌻যার প্রতি গৌরসুন্দরের কৃপা হবে,সে তাঁর দাসানুদাসের সঙ্গ করবেন,এইভাবে গৌরহরি পাগলের মত হয়ে কৃষ্ণপ্রেম আস্বাদন করবেন।* *ভক্তগণ খুঁজে খুঁজে বেড়াবেন।*
*🌻ব্রজ লীলা বাসকসজ্জা🌻*
*প্রিয়ার সহিত বিলাসের আশ করি।*
*গৃহ শয্যা মালা তাম্বুল স্নিগ্ধ বারি*
*চন্দনাদি মালা গন্ধ বসন ভূষণ।*
*সাজায় করিয়া সাধ প্রিয়ার কারণ।।*
*(ভক্তমাল)*
*🌻🌻🌻প্রথম পদ🌻🌻🌻*
*রাধিকা আদেশে,মনের হরিষে,*
*কুসুম রচনা করে।*
*মল্লিকা মালতী,আর জাতী যূথি,*
*সাজাইছে থরে থরে।।*
*আজ রচয়ে বাসক শেজ।*
*মুনিগণ চিত, হেরি মূরছিত,*
*কন্দর্পের ঘুচে তেজ।।*
*ফুলের আচির,ফুলের প্রাচীর,*
*ফুলেতে ছাইল ঘর।*
*ফুলের বালিশ,আলিশ কারণ,*
*প্রতি ফুলে ফুলশর।।*
*শুক-পিক দ্বারী,মদন প্রহরী,*
*ভ্রমর ঝঙ্কারে তায়।*
*ছয় ঋতু মত্ত, সহিত বসন্ত,*
*মলয় পবন বায়।।*
*উজরোল রাতি,মণিময় বাতি,*
*কর্পূর তাম্বুল বারি।*
*চন্ডীদাস ভণে,রাখি স্থানে স্থানে,*
*বাসক করিল গোরি।।*
*🌻শ্রীগোবিন্দের সংকেত পেয়ে যথা সময়ে অভিসার করেছেন,* *আজ শ্যামনাগরের সঙ্গে মিলন সুখরস আস্বাদন অভিলাষে সজ্জিত হয়ে রঙ্গময়ী বিনোদিনী কেশরকুঞ্জে এসে উপস্থিত হলেন।*
*কুঞ্জে উপস্থিত হয়ে আর বিলম্ব সহে না,সব সখীদের বলছেন,তোরা আর বিলম্ব করিস না,আমার প্রিয়তম আসবেন,সুন্দর সুন্দর গন্ধরাজ ফুল তুলে নিয়ে আয়,যে গন্ধরাজ পুষ্প আমার প্রিয়তম ভালবাসেন।* *মল্লিকা,মালতী যূথী ও জাতিপুষ্প (গোলাপ পাতার মত জোড়া জোড়া পাতা প্রসিদ্ধ ফুল) ফুল এক এক চয়ন করছেন রাধার সখীগণ।*আজ সখীগণ বিভিন্ন সুন্দর গন্ধের পুষ্প চয়ন করে থরে থরে রাধার কাছে নিয়ে এলেন, সেই ফুল দিয়ে বঁধূর জন্য বাসকসজ্জা রচনা করতে লাগলেন।* *সেই কেশরকুঞ্জের ভিতরে ফুল দিয়ে খুবই সুন্দর করে সাজাতে লাগলেন,ফুল দিয়ে কুঞ্জের ভিতরে ছোট ছোট আচির করলেন,তার সঙ্গে একটু বড় বড় প্রাচীর করলেন,(যেমন ফুল দিয়ে বর্তমানে দেখা যায় যে,বিয়েবাড়ীর মন্ডপ সাজানো হয় তদ্রুপ) সাজাইলেন।*
*এত সুন্দর করে সজ্জিত করা হয়েছে যে পদকর্তা বলছেন,এই সাজানো কুঞ্জ যদি মুনিগণ দেখেন তবে শোভা দেখে তাঁরা মূর্ছিত হয়ে পড়বেন,কামদেব বা মদন যদি দেখেন তাহলে নিজে যে সৌন্দর্যের বড়াই করেন সেই তেজ ধূলিস্যাৎ হয়ে যাবে।* *ফুল দিয়েই বিছানা,বালিশ তৈরী করলেন।* *এবং সেই কুঞ্জের দ্বারী হল শুক ও পিক।* *কেবল দ্বারী নহে তাদের মধুর ঝঙ্কারে মধুময় হয়ে উঠল সেই পুষ্পের কুঞ্জ।* *পুষ্পের কুঞ্জ দর্শন করে আজ ছয় ঋতু মত্ত হয়ে গেল,এবং মলয় পবন বহিতে লাগল,* *সেই মলয় পবনে চারিদিকে পরিমল ছড়িয়ে পড়ল।*
*উজরোল=উজ্জ্বল রাত্রে মণিময় প্রদীপ জ্বালিয়ে যেন মনে হল বৈকুন্ঠ ধামে পরিণত হয়েছে।* *তৎসহ গোবিন্দ তাম্বুল ভালবাসেন,*
*মণিময় বাটায় সাজিয়ে রাখলেন।*
*পদকর্তা চন্ডীদাস বললেন,সেই কুঞ্জের ভিতরে যেখানে যে জিনিস শোভা পায়,ঠিক সেই ভাবেই জায়গায় জায়গায় সুন্দর ভাবে সবকিছুই সাজিয়ে রাখলেন প্রেমময়ী রাধা বিনোদিনী।*
*বাসিত বারি,কপূরিত তাম্বুল,*
*কুসুমিত মদন শয়ান।*
*উজোর দীপ,সমীপহি জারহ,*
*বিরচহ চারু বিতান।।*
*সখিহে কহই না যাই আনন্দ।*
*ঋতুপতি রাতি,অবহু নব নাগর,*
*মিলবহু শ্যামর চন্দ।।*
*কুসুমিত মৌলী,রসালকো পরিমলে,*
*ভ্রমরা ভ্রমরী রহু ভোর।*
*মদন মদালসে,সগরিহ যামিনী,*
*সুখে বঞ্চব হরি কোর।।*
*বিহি পায়ে লাগি,মাগি এহি একুবর,*
*চেতন রহু মঝু দেহ।*
*গোবিন্দ দাস,কহই হরি পরশহ,*
*সো পুন হোয়ত সন্দেহ।।*
*🌻শ্রীকৃষ্ণ আসবার আগেই প্রেমময়ী নিকুঞ্জে উপনীত হয়েছেন,এবং একান্ত নিজ নিষ্ঠ কান্তের প্রেমার্তি বিষয় নিয়ে দূতীর সঙ্গে কথাগুলি স্মরণ করে,কান্তের আদর,অভিনন্দন ও মনোরঞ্জের জন্য খুব ব্যস্ত মনে কোনও সখীকে বলছেন।* *সখী!সুবাসিত সলিল(সুগন্ধ জল),কর্পূরার্পিত পান,এবং সুন্দর সুন্দর পুষ্প দিয়ে শয্যা রচনা কর।* *শয্যার পাশে উজ্জ্বল প্রদীপ জ্বালিয়ে রাখ।* *এবং উপরে সুচারু( সুন্দর )চন্দ্রাতপ রচনা কর।* *সখী!আজ আমার অন্তরে যে কেমন আনন্দ উদয় হচ্ছে বলে বুঝাতে পারব না।আজকের রাত্রির মত এমন বসন্ত মধুময়ী রজনীতে,এখনি আমার নবনাগর শ্যামসুন্দর আসবেন,এইকথা ভেবে আমার চরম আনন্দ আর কি আছে।* *দেখসখী!কুসুমিত অগ্রে(মুকুলিত) আম্র তরুর পরিমলে ভ্রমর ভ্রমরী বিভোর হয়ে বিলসিত রয়েছে।* *সখী!আমিও আজ কন্দর্পকেলির আনন্দালসে এইরকমভাবে সুখে বিভোর হয়ে নাগরের কোলে (সগরিহ)সমস্ত রজনী যাপন করব।* *বিধাতার চরণে পড়ে এই মাত্র বর প্রার্থনা করছি,সে সময়ে যেন দেহে চেতনা থাকে।* *আনন্দের আতিশর্য্যে যেন অচেতন না হয়ে যায়।সখীভাবাবিষ্ট গীতকর্তা গোবিন্দ কবিরাজ বলছেন,হরির পরশে চেতন থাকা সন্দেহের কথা।*
*শ্রীবৃন্দাবনের কেলি কুঞ্জ সকল সর্বদাই বসন্তের প্রধান্য।অতএব প্রেম বিভ্রান্ত রাধারাণীর ঋতুপতি রাতি এই কথা কোনও ঋতুতেই অস্বাভাবিক নয়।* *কোনও সখী আরেকজনকে দেখিয়ে বলছেন,দেখ আমাদের নায়িকা শিরোমণি আজ বাসকসজ্জা সাজিয়েছে।* *আহা তার সুবিকসিত অঙ্গের শোভা দেখে মনে হচ্ছে যেন লক্ষ লক্ষ মনমথ(মদন)মনের সাধে ধেয়ে এসে অঙ্গে অঙ্গে উদয় হয়েছে এবং ছেড়ে যেতে চাইছে না।* *(তেজই ত্যাগ করে),সময় বুঝে বৃন্দাদেবী নানাপ্রকার আভরণ এনে দিয়াছেন,প্রেমময়ী রাধা বিনোদিনী তা বারবার অঙ্গে ধারণ করছেন আর কান্তের আগমন বিলম্ব হচ্ছে দেখে অসহনীয় হয়ে ঘন ঘন খুলছেন।* *আর প্রদীপের আলোয় নিজের ছায়া দেখছেন মনে করছেন "কান্ত এলেন" মনে করে ক্ষণে ক্ষণে চমকে উঠছেন।* *আর অধৈর্য্য হয়ে সখীকে জিজ্ঞাসা করছেন সখী!অদ্য শ্যামনাগর এত দেরী করছেন কেন?* *সেইকথা শুনে সখীভাবাবিষ্ট গীতকর্তা গোবিন্দ কবিরাজ বলছেন,কই এখনওতো মুরলী নিশান(ধ্বনি)শুনা যাচ্ছে না।*
*সাজল কুসুম,শেজ পুন সাজই,*
*জারই জারল বাতি।*
*বাসিত খপুরে,কর্পূর পুনঃ বাসই,*
*ভৈগেল মদন ভঁরাতি।।*
*আজু রাই সাজল বাসক শেজ।*
*মনমথ লাখ, মনোরথে ধাবই,*
*অঙ্গে অঙ্গে নাহি তেজ।।*
*ঘন ঘন আভরণ,অঙ্গে চড়ারই,*
*ক্ষণে ক্ষণে তেজই তায়।*
*সচকিত নয়নে,চঙকি খেনে উঠয়,*
*হেরই নিজতনু ছায়।।*
*কাতর বচনে,সম্ভাষই সহচরী,*
*কাহে বিলাম্বায়ত কান।*
*গোবিন্দ দাস,কহই অব না শুনিয়ে,*
*সঙ্কেত মুরলী নিশান।।*
*ভঁরাতি=ভ্রান্তি,
*🌻নিকুঞ্জে উপস্থিত হয়েই আহ্লাদে ও আদরে প্রেমময়ী রাইধনি,সাজানো শয্যাকে পুন সাজালেন।* *যে প্রদীপ জ্বলছিল,তাহা আরও উজ্জ্বল করলেন,সুগন্ধময় তাম্বুল বীটিকা পুন কর্পর দিয়ে আরো সুবাসিত করলেন।* *এতকিছু করেও যেন মনে হল কিছুই করা হয় নাই।* *বলিয়া মদনাবেশে ভ্রান্তি হতে লাগল।*
*🌻বাসকসজ্জা এখানেই রহিল🌻*
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
👇👇👇এই লিখনী 📚 PDF 📚 ক্লিক করুন 👇👇👇
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️
꧁ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ📱7001138871꧂
নিবাস- বাঁশবাড়ী, কীর্তন মন্দিরের পাশে, পোঃ- বাঁশবাড়ী, থানা- ইংরেজ বাজার, জেলা- মালদহ, পশ্চিমবঙ্গ, পিন কোড- ৭৩২১০১।
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏
আমায় দেওয়া ওনার এই অমূল্য লিখনী সেবা, তা সকলের মধ্যে প্রকাশ করলাম। ওনার এই অমূল্য দান সমগ্র বৈষ্ণব সমাজ অনন্তকাল মনে রাখিবে।
🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
*••••┉━❀꧁ 🙏 রাধে রাধে 🙏 ꧂❀━┅••••*
*••••┉━❀꧁ 🙏 রাধে রাধে 🙏 ꧂❀━┅••••*
শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য প্রভু নিত্যানন্দ
হরে কৃষ্ণ হরে রাম শ্রীরাধেগোবিন্দ।।
*••••┉━❀꧁ 🙏 জয় জগন্নাথ 🙏 ꧂❀━┅••••*
হরে কৃষ্ণ হরে কৃষ্ণ কৃষ্ণ কৃষ্ণ হরে হরে
হরে রাম হরে রাম রাম রাম হরে হরে॥
*••••┉━❀꧁ 🙏 জয় রাধাকান্ত 🙏 ꧂ ❀━┅••••*
💮❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀💮
💮❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀💮
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧


