✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
*••••┉❀꧁👇🏠Home Page🏠👇꧂❀┅••••*
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
*••••━❀꧁👇 📖 সূচীপত্র 📖 👇꧂❀┅••••*
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
*••••━❀꧁👇📚 PDF গ্রন্থ 📚👇꧂❀┅••••*
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
*•❀꧁ 📖সূচীপত্র 🙏 শ্রী জয়দেব দাঁ 📖 ꧂❀•*
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
*(৭০)বৈষ্ণব জগতের মাধুকরী*
*অগ্রদ্বীপের গোবিন্দ ঘোষের কাহিনী*
****************************************
*🌳ভক্তাধীন ভগবান তখন কহিলেন যে,"গোবিন্দ যদি কোন পিতামাতার দুইটি সন্তানের মধ্যে একটি মারা যায় তাহলে সেই পিতামাতা কি অপর সন্তানকে কখনও অভুক্ত রাখে? আমি যে তোমার দ্বিতীয় সন্তান। একজন গিয়েছে আর একজনতো আছে,সেই তোমার পুত্রের কর্তব্য সব করবে"। গোবিন্দ তখন বললেন আমি ওসব বিশ্বাস করি না। তুমি আমায় যথেষ্ট শোক-তাপ দিয়েছ আর মিথ্যা কেন ছলনা করছ! তখন গোপীনাথজী বললেন যে, গোবিন্দ আমি তোমার কাছে সত্যবদ্ধ রইলাম যে তোমার অপ্রকটের পর পুত্রের সব কর্তব্য আমি পালন করব। তুমি আমার কথায় বিশ্বাস রাখ এবং আমার সেবা করো। গোবিন্দ তখন বুকভরা বেদনা নিয়ে মহাপ্রভুর অপার করুণার কথা স্মরণ রেখে পুনরায় সেবার কাজে মনোনিবেশ করলেন এবং এই স্বপ্নাদেশের কথা অতি কাছের দুই-একজনার কাছে প্রকাশ করলেন।তারপর সেবা কার্য্য করতে করতে গোবিন্দ বার্দ্ধক্যে উপনীত হয়ে একদিন দেহত্যাগ করলেন এবং পরদিন সকলে দেখলেন গোপীনাথজীর নয়নদুটি অশ্রুধারায় ভেসে যাচ্ছে এবং তিনি পিতৃহারা সন্তানের মত ধড়া এবং নববস্ত্র পরিহিত রয়েছেন।সমবেত গ্রামবাসীগণ শ্রীবিগ্রহের এই অশৌচদশা দেখে বিস্ময়ে হতবাক হয়ে গেলেন, গোবিন্দের গোপীনাথ সেবার মহিমা কীর্তন করতে লাগলেন।ভক্তের প্রতি ভগবানের অপার করুণার এইরকম চাক্ষুষ উদাহরণ বৈষ্ণব জগতে বিরল।ভক্তি জগতে ভগবান বহুভাবে ভক্তের মহিমা প্রকাশ করেছেন কিন্তু এইভাবে বিগ্রহের অশৌচ পালন কখনোই দেখা যায় না।এতসব দেখে শুনে কত পাঠ করেও আমরা সেই অন্ধকারে সেই অন্ধকারেই পড়ে আছি।না আছে বিশ্বাস না আছে সেই সেবা নিষ্ঠা সবই যেন লোক দেখানো বাহ্যিক প্রকাশ মাত্র।*
*🌹তারপর গোবিন্দের দেহ সৎকার সাধিত হলে সেবক শ্রদ্ধাদি সম্পন্নের পর বিগ্রহের শ্রীঅঙ্গ হতে তা খুলে দিলেন এবং সেই ঘটনার পর হতে অগ্রদ্বীপের গোপীনাথ মহিমা এবং সেবক গোবিন্দের মহিমা চারিদিকে ছড়িয়ে পড়ল।অদ্যাপি সেই হতে গোবিন্দের তিরোভাব তিথিতে গোপীনাথজীকে নববস্ত্রের ধড়া পরিয়ে বাৎসরিক তিরোভাব তিথি পালিত হয়। দলে দলে ভক্তগণ তাতে যোগদান করে গোবিন্দের সেবা মাধুর্য্য এবং সেবা নিষ্ঠার প্রশস্তি করেন।সর্বোপরি গোপীনাথজীর অপার করুণার কথা স্মরণ করে শ্রদ্ধার্ঘ্য নিবেদন করেন।*
*⭐ভক্তাধীন ভগবান,ভক্ত অপেক্ষা যে তিনি আর কাউকেও বেশী ভালবাসেন না এই ঘটনা তার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।ভক্তের মনোকষ্টে ব্যথিত হয়ে ভগবান বাৎসল্য সেবার যে দৃষ্টান্ত রেখে গেছেন তার পরেও বিগ্রহ যে সদা প্রকট এই ব্যাপারে কারও কি কোন সন্দেহ থাকতে পারে? আশাকরি গৌর ভক্তগণ অগ্রদ্বীপে গমন করে গোবিন্দ ও গোপীনাথজীকে তাঁদের শ্রদ্ধার্ঘ্য নিবেদন করবেন। কেন যে মহাপ্রভু তাঁকে পরিত্যাগ করেছিলেন তা হৃদয়ঙ্গম করতে পারবেন। অর্থ্যাৎ সন্তান বিয়োগের মাধ্যমেই গোবিন্দের যে কৃষ্ণপ্রাপ্তি হয়েছিল তা সম্পূর্ণরূপে বিশ্বাস করতে পারবেন।এই প্রসঙ্গে কিছু তত্ত্বকথার নিদর্শন প্রয়োজন।*
*🌷মায়াময় এই সংসারে ভগবানকে বাদ দিয়ে আমরা যে কোন বস্তুকে সুখ বলে ধরতে যাই না কেন, তাতে সুখ পাওয়া যায় না।জীব মনে করে সে বড় বুদ্ধিমান কিছু আসলে সে প্রকৃত মূর্খ।এ জগতে কোন কিছুর মধ্যেই নিরবচ্ছিন্ন (নিরন্তর বা সবসময় )সুখ ভোগ নাই।মিছরির সরবতে কাঁচের টুকরা মিশান থাকলে যেমন তা দুঃখদায়ক হয় সেইরকম এই জগতে আমরা আপাত দৃষ্টিতে যাকে সুখ বলে মনে করি তার সবকিছুরই মধ্যে দুঃখের কাঁটা মিশান আছে। অর্থ্যাৎ এ জগৎ,সুখের কল্পনা দিয়ে তৈরী,সুখ দিয়ে নয়।জীব সুখ খোঁজে পুত্র সন্তান লাভের আশায় যদিও সে নিশ্চিত জানে যে পুত্র চিরস্থায়ী নয়। তবুও সে পুত্রকে কতই না ভালবাসে, কি ভীষণ মায়ার বন্ধনে সে আবদ্ধ হয়, যেমনটি হয়েছিল গোবিন্দের জীবনে।জীব একা আসে একা যায় কিন্তু তবুও ভগবানের ইচ্ছায় তার মধ্যে সম্বন্ধ বোধ জাগরিত হয় যথা মাতা পিতা, স্ত্রী পুত্র ইত্যাদি। ভগবান এই যে সম্বন্ধ বোধ দান করেছেন তা কিন্তু এই পতি পুত্রের মধ্যেই সীমাবদ্ধ রাখবার জন্য নহে।অর্থ্যাৎ সাংসারিক জগতের পতি পুত্রের ভালবাসায় আবদ্ধ হবার জন্য পতি পুত্রের সৃষ্টি নয়।কারণ এই বিরাট বিশাল বিশ্বব্রহ্মান্ড যিনি সৃষ্টি করেছেন তিনি কি তাকে শাশ্বত নিত্য করতে পারতেন না?পারতেন,নিশ্চয়ই পারতেন, কিন্তু তিনি তা করেননি।সেজন্য জগতের সব সুখের মধ্যেই কাঁটা ফুটিয়ে রেখেছেন।পুত্রশোকে পিতামাতা মুহ্যমান হয়ে পড়েন যদিও তাঁরা প্রকৃতই জানেন যে সন্তান চিরস্থায়ী নয় কিন্তু তবুও মায়ার বন্ধন এমনই জিনিস যে মানুষ তা বুঝেও বুঝে না।🌷কিন্তু এই সম্বন্ধ যদি কেবল একবার ভগবানের সঙ্গে স্থাপনা করা যায় তাহলে দেখা যাবে যে সে সন্তান অজর,অমর,অক্ষয়, অব্যয়। শুধু সন্তান কেন ভগবানের সঙ্গে মানুষ পুত্র,সখা,পতি,সুহৃদ সবরকম সম্বন্ধই স্থাপনা করতে পারে এবং একবার যদি মানুষ তা করতে পারে তাহলে সে সম্বন্ধের বিনাশ নাই। সে পুত্রের মৃত্যু নেই,যেমনটি দেখা যায় গোবিন্দ ঘোষের জীবনে।নিজের পুত্রের মৃত্যু হলেও সন্তানরূপী গোপীনাথ বাৎসল্য সেবায় তুষ্ট হয়ে চির অমর হয়ে রইলেন এবং সে সন্তানের আর মৃত্যু নেই।আশাকরি সুধী পাঠকবৃন্দ বাস্তব জগতে এই সম্বন্ধ সৃষ্টির পেছনে ভগবানের যে কি গূঢ় উদ্দেশ্য নিহিত আছে তা কিঞ্চিৎ উপলব্ধি করতে পারবেন।অর্থ্যাৎ এই ভালবাসা,এই সম্বন্ধ,সব গোবিন্দ শ্রীপাদপদ্মে সমর্পণ করাই জীবের মুখ্য উদ্দেশ্য হওয়া উচিৎ।যাঁরা তা করতে পারবেন তাঁরাই গোবিন্দের মতন জীবনকে মহিমান্বিত করে তুলতে পারবেন।*
*➡বিঃ দ্রঃ=এই অগ্রদ্বীপ কৃষ্ণনগনের অতি কাছে।*
🔷🔷🔷🔷🔷🔷🙌🔶🔶🔶🔶🔶🔶
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️
নিবাস- বাঁশবাড়ী, কীর্তন মন্দিরের পাশে, পোঃ- বাঁশবাড়ী, থানা- ইংরেজ বাজার, জেলা- মালদহ, পশ্চিমবঙ্গ, পিন কোড- ৭৩২১০১।
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
*••••┉━❀꧁ 🙏 রাধে রাধে 🙏 ꧂❀━┅••••*
*••••┉━❀꧁ 🙏 রাধে রাধে 🙏 ꧂❀━┅••••*
শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য প্রভু নিত্যানন্দ
হরে কৃষ্ণ হরে রাম শ্রীরাধেগোবিন্দ।।
*••••┉━❀꧁ 🙏 জয় জগন্নাথ 🙏 ꧂❀━┅••••*
হরে কৃষ্ণ হরে কৃষ্ণ কৃষ্ণ কৃষ্ণ হরে হরে
হরে রাম হরে রাম রাম রাম হরে হরে॥
*••••┉━❀꧁ 🙏 জয় রাধাকান্ত 🙏 ꧂ ❀━┅••••*
💮❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀💮
💮❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀💮
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
