শ্রী মৃন্ময় নন্দী কর্ত্তৃক সকল ভক্ত👣চরণে👣অসংখ্যকোটি 🙇প্রণাম🙇 ক্লিক করুন 👇

শ্রী মৃন্ময় নন্দী কর্ত্তৃক সকল ভক্ত👣চরণে👣অসংখ্যকোটি 🙇প্রণাম🙇 ক্লিক করুন 👇

প্রেমঋণে শ্রীগৌরাঙ্গ মাধব 🥀 শ্রীরাধাবিনোদ সরকার 📖 চতুর্থ ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/05/prem4.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🔙 পূর্ব লীলা 👉 প্রেমঋণে শ্রীগৌরাঙ্গ মাধব 🥀 শ্রীরাধাবিনোদ সরকার 📖 তৃতীয় ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/04/prem3.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 👉 প্রেমঋণে শ্রীগৌরাঙ্গ মাধব 🥀 শ্রীরাধাবিনোদ সরকার 📖 চতুর্থ ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/05/prem4.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 👉 প্রেমঋণে শ্রীগৌরাঙ্গ মাধব 🥀 শ্রীরাধাবিনোদ সরকার 📖 চতুর্থ ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/05/prem4.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(৩১)প্রেমঋণে শ্রীগৌরাঙ্গ মাধব*
*মহাপ্রভুর আবির্ভাবের মুখ‍্য বহিরঙ্গ কারণ*

*আজানুলম্বিত ভূজৌ কনকাবদাতৌ,*
*সংকীর্ত্তনৈক পিতরৌ কমলায়তাক্ষৌ।*
*বিশ্বম্ভরৌ দ্বিজবরৌ যুগধর্ম পালৌ,*
*বন্দে জগত প্রিয় করো করুণাবতরৌ।।*
*🙏যাঁর আজানুলম্বিত বাহু,কনকবৎ কমনীয় কান্তিবিশিষ্ট কমল নয়ন, সংকীর্তনের একমাত্র পিতা, জগতের হিতকারী, আমি সেই করুণার অবতার দ্বয়কে (শ্রীমন্মহাপ্রভু ও নিত‍্যানন্দ প্রভুকে)বন্দনা করি।*
*🌷বৃন্দাবনদাস কবিরাজ গোস্বামীর চরণ শিরে ধরি।*
*🌷নিতাই গৌরাঙ্গ পাদপদ্মের ভৃঙ্গ হৈয়া মধুপান করি।।*
*🌹শ্রীব্রজের রাগাত্মিকা ভক্তির প্রচার ও ব্রজপ্রেম দান মহাপ্রভুর আবির্ভাবের মুখ‍্য বহিরঙ্গ কারণ।*

*🌷ভক্তির অনুশীলনই কৃষ্ণপ্রাপ্তির উপায়।*
*🌹এই অপার্থিব ভক্তি বস্তুটি ছাড়া কলিহত জীবের শান্তি লাভের আর দ্বিতীয় কোন উপায় নাই।*
*🌷ভক্তি বিনা জগতের নাহি অবস্থান।*
*🛑শ্রীনারদ পঞ্চরাত্রে পাই--*
*🌷সর্বোপাধিবির্নিমুক্তং তৎপরত্বেন নির্মলং।*
*🌷হৃষিকেন হৃষিকেশ সেবনং ভক্তিরুচ‍্যতে।।*
*🌻ইহার ভাবার্থ শ্রীচৈতন‍্যচরিতামৃতে বর্ণিত হয়েছে,যথা--*
*🌷সর্বোপাধি অন‍্যভিলাষ যতনে ছাড়িব।*
*🌷জ্ঞান কর্ম পরিহরি নির্মল হইব।।*
*🌷ইন্দ্রিয় দ্বারায় করে গোবিন্দ সেবন।*
*🌷ইহাকে অনন‍্য ভক্তি কহে মুনিগণ।।*
*🌻এই ভক্তি তিন প্রকার যথা--(১)সাধনভক্তি-ইনি ক্লশঘ্নী ও শুভদা(কষ্টকর কিন্তু মঙ্গলকর) *(২) ভাবভক্তি-ইনি মোক্ষলযুতাকারিণী সুদুর্লভা।(৩)প্রেমভক্তি-ইনি সান্দ্রানন্দ প্রদায়িনী ও কৃষ্ণ আকর্ষণী।*
*🍀এই সাধনভক্তি বৈধী ও রাগানুগা ভেদে দুই প্রকার।প্রথমটি লোভাধীন না হয়ে শুধু শাস্ত্র-শাসনে হয়।*
*🌷রাগহীন জনে ভজে শাস্ত্রের আজ্ঞায়।*
*🌻ইহার অনুশীলনে সালোক‍্যাদি মুক্তি চারটি পেয়ে বৈকুন্ঠে গমন করেন।আর শ্রীকৃষ্ণের মধুর রূপদর্শনে অথবা শ্রীমৎভগবৎ শুনে ভজনে যে লোভ তাইই রাগপদবাচ‍্য। নিত‍্যসিদ্ধ ব্রজবাসীজনের স্বাভাবিকী ভাব ও রাগময়ী কৃষ্ণ ভক্তিই রাগাত্মিকা।এই ব্রজ গোপ-গোপীগণের ভাবে লুব্ধ হয়ে তদ্ভাবেচ্ছা অনুগমনকেই রাগানুগা ভক্তি কহে।তমাল-তরুকে আশ্রয় না করা পর্যন্ত মাধবীলতার যেমন নিরাশ্রয়তা,ও হৃদয়ের অবসন্নতা দূরীভূত হয় না,সেইরকম নিরলম্বন জীবও এই মাধবীর মত কোন বৃক্ষকে অর্থ‍্যাৎ শ্রীকৃষ্ণ চরণ কল্প বৃক্ষে অবলম্বিত হয়ে হৃদয়ের যত অবসাদ,যত গ্লানি বিঘ্ন ও বিষন্নতা দূরীভূত করে এক অখন্ড আনন্দের আশায় উৎকণ্ঠিত হয়।যেবন নব বল্লরী মাধবী তরুণ তমালকে জড়িয়ে ধরতে ভালোবাসে, তেমনই মাধবীর অবলম্বন হবার জন্য তমালেরও একটি অব‍্যক্ত অভিলাষ নিশ্চয়ই আছে।পরস্পরের এই অবলম্বিত ও অবলম্বন ভাব, উভয়ের মিলনের জন্য যেমন উভয় পক্ষেরই সম প্রয়োজন, সমব‍্যাকুলতা, তদ্রূপ জীব-ঈশ্বরে মিলনের জন্য সেবক ও সেব‍্যভাবে কোন এক স্বাভাবিক প্রীতির সম্বন্ধ লুকায়িত রয়েছে,যা উভয়েরই সমপ্রয়োজন।*
                *ক্রমাগত*
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 👉 প্রেমঋণে শ্রীগৌরাঙ্গ মাধব 🥀 শ্রীরাধাবিনোদ সরকার 📖 চতুর্থ ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/05/prem4.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(৩২)প্রেমঋণে শ্রীগৌরাঙ্গ মাধব*
*মহাপ্রভুর আবির্ভাবের মুখ‍্য বহিরঙ্গ কারণ*

*🍀পরমাত্মার পূর্ণ স্বরূপ শ্রীকৃষ্ণ ও জীবাত্মার মিলন মধ্যে উভয় পক্ষেরই যে প্রয়োজনবোধ ও পরস্পরের উৎকণ্ঠার ভাব নিহিত রয়েছে,এটি কেবল প্রেমভক্তি ধর্ম ছাড়া অন্য কোন ধর্ম কর্তৃক বিঘোষিত হয় নাই।এটি কেবল প্রেমভক্তি ধর্মেরই বিজয় বার্তা।শ্রীমন্মহাপ্রভুর প্রেমধর্মই ভক্তিবাদের পূর্ণ অভিব‍্যক্তি। ভগবানের এই যে প্রেমাধীনতা,ভক্তবশ‍্যতা এটি প্রেমধর্ম ছাড়া অন্য কোন ধর্মের অগোচর।এই যে ভক্ত-ভগবানের প্রাণ বিনিময়ের নিগূঢ় গোপনীয় বার্তা, এটি জীবের পক্ষে নিরাশার ঘন-অন্ধকারের মাঝে আশার উজ্জ্বল আলো।ভক্ত ও ভগবান উভয়েরই এই প্রীতিরসে গড়া তনু। ভগবান এই প্রীতিরসের অসমোর্দ্ধ আস্বাদক আর ভক্ত প্রীতিরসের অসমোর্দ্ধ পরিবেশক।অনন্ত প্রেমপিপাসু ভগবানের প্রীতিরস আস্বাদনের চাতুর্য‍্যের যেমন অনন্ত বৈচিত্র্য,ভক্ত তেমনই মনের সাধে,অনন্ত পরিপাচ‍্যে ভগবানের বাসনা অনুযায়ী তাঁকে প্রীতিরস নিবেদন করে বিমুগ্ধ করাতে সমর্থ।যাঁর মায়াশক্তিতে অনন্ত জগৎ বিমুগ্ধ, যাঁর ভগবত্তাশক্তি অন‍্য নিরপেক্ষ,সেই ভগবানও ভক্তের প্রীতিরস আস্বাদনে আনন্দিত ও বিমোহিত হয়ে ভক্তের কাছে আত্মবিক্রীত হন।ভক্তও তখন অখন্ড পরমানন্দে নিজেকে কৃতার্থ মনে করেন। সুতরাং--*
*🌷রসো বৈ স রসং হ‍্যেবায়ং লব্ধানন্দী ভবতি।*
*🍀এই শ্রুতি বাক‍্যের এই জায়গাই চরমসীমায় পর্যাবসান হয়েছে।কি আশ্চর্য‍্য!জ্ঞানীগণ যে মুক্তিকে পরিশেষ সাধ‍্য মনে করেন,ভক্তগণ তা সাধনভক্তির অনুশীলনের আনুসঙ্গিক ফলরূপ অনায়াসে সেই মুক্তি পেয়ে থাকেন।শ্রীগোবিন্দের অনন্ত সুন্দর ও মাধুর্য‍্যময় জ‍্যোতি-পরিমন্ডিত নিত‍্য সচ্চিদানন্দ বিগ্রহের রূপ,গুণ ও লীলাতে আকৃষ্ট হয়ে চক্ষুকর্ণাদি ইন্দ্রিয়গুলি দ্বারা তাঁকে সেবা করবার জন্য জীবের লালসাময় হৃদয়ের যে আর্তি তাহাই ভক্তি।এই ভক্তিই প্রণয় রজ্জু স্বরূপ,যা দ্বারা শ্রীভগবান স্বয়ং বদ্ধ হয়ে থাকেন।*
*🌷ভক্ত মোরে বাঁধিয়াছে হৃদয় কমলে।*
*🌷যাহা যাহা নেত্র পড়ে তাহা দেখয়ে আমারে।।*
*🌷কভু মোর অবয়ব দেখে মনোহর।*
*🌷কভু মোর হাসি মুখ দেখয়ে সুন্দর।।*
*🌻ভক্তি হচ্ছেন ভগবানের রহস‍্যময় গুহ‍্য ধর্ম, যাঁর অনুশীলনে বা সাধনে জন্ম মৃত‍্যু সংসার দুঃখ অতিক্রম করে ভগবদ্ পার্ষদ দেহ পেয়ে থাকেন।এই ভক্তিরত্ন ভগবান কাউকেও দিতে চান না।যথা শ্রীচৈতন‍্যচরিতামৃতে--*
*🌷কৃষ্ণ যদি দুটি ভক্তে ভুক্তি মুক্তি দিয়া।*
*🌷কভু ভক্তি না দেন রাখেন লুকাইয়া।।*
*🌹ভগবানের সালোক‍্যাদি মুক্তি চারটি দিতে চাইলেও ভক্তগণ ভগবদ্ সেবা ছাড়া কিছুই গ্রহণ করেন না।সালোক‍্যাদি মুক্তি যদি সেবার দ্বার স্বরূপ হয় তবে কখনও কখনও গ্রহণ করেন।আর জ্ঞানীর সাযুজ‍্য মুক্তিকে "ভক্ত" নরক হতেও হেয় প্রতিপন্ন করেন।এই ভক্তি অহৈতুকী।কোন প্রয়োজনের উদ্দেশ্য নিয়ে ভক্ত আপন হৃদয় ভগবানে অর্পণ করেন না। ভগবৎ চরণে শ্রদ্ধা ও নির্গুণা ভক্তি ছাড়া তাঁর কোন প্রার্থনা নাই।ভক্ত কাম জানেন না,ক্রোধাদি জানেন না,স্ত্রীপুত্র বিষয়-সম্পত্তি জানেন না।তিনি ধন ও ঐশ্বর্য‍্য চান না,যশ ও প্রতিষ্ঠা চান না,তিনি জ্ঞানকর্মাদিতে অনাবৃত হয়ে জাতি,কুল,মান,জীবন, যৌবন ভগবদ্ রাতুল চরণে সমর্পণ করে শুধু প্রার্থনা করেন ভগবৎ ভাবনা ও তাঁর জগৎ মোহনকারী শ্রীচরণকমলের দাস‍্য।লোক শিক্ষার জন্য শ্রীমন্মহাপ্রভু স্বকৃত শিক্ষাষ্টকের চতুর্থ ও পঞ্চম শ্লোকে ভক্তাবতার রূপে শ্রীকৃষ্ণ সমীপে অহৈতুকী শুদ্ধাভক্তি প্রার্থনা করেছেন--*
*▪ন জনং ন ধনং ন সুন্দরীং,* *কবিতাং বা জগদীশ কাময়ে,*
*▪মম জন্মনি জন্মনীশ্বরে,*
*ভবতাদ্ভক্তিরহৈতুকী ত্বয়ি।।*
*🍀হে জগদীশ!আমি তোমার কাছে ধন চাই না,জন চাই না,সুন্দরী পত্নী চাই না,সালংকারা কবিতাও চাই না। আমার একমাত্র প্রার্থনা এই যে, ঈশ্বরস্বরূপ তোমাতে যেন আমার জন্মে জন্মে অহৈতুকী ভক্তি থাকে।*
*🌷অয়ি নন্দতনুজ কিঙ্করং পতিতং,*
*🌷মাং বিষমে ভবাম্বুধৌ।*
*🌷কৃপয়া তব পাদপঙ্কজস্থিত-,*
*🌷ধূলি সদৃশ‍্যং বিচিন্তয়।।*
*🌻হে নন্দসুত কৃষ্ণ!বিষম সংসার-সমুদ্রে নিপতিত আমি,তোমারই দাস,আমাকে কৃপা করে তোমার শ্রীচরণকমলের ধূলিকণা বলে মনে করো।*
*🛑শ্রীমন্মহাপ্রভু আবির্ভাবের পূর্ব পর্যন্ত বিধি মার্গের ভজনই প্রচলিত ছিল।শ্রীমন্মহাপ্রভু প্রবর্তিত রাগানুগা সাধনভক্তির অনুশীলনের ফলেই অচিরাৎ শ্রীরাধাকৃষ্ণ যুগলপাদপদ্মে ভক্তি লাভ এবং সাক্ষাৎ প্রেমসেবা লাভ হয়ে থাকে।এটিই জীবের পুরুষার্থের চরম পরাকাষ্ঠা।এই রাগানুগা সাধন ভক্তি (১)স্বকীয়া ও (২)পরকীয়া ভেদে দুই প্রকার।কৃষ্ণ প্রাপ্তির জন্য এই উভয়প্রকার ভজনই শান্ত,দাস‍্য,সখ‍্য,বাৎসল‍্য ও মধুর এই পাঁচ প্রকার ভাবে বিধি ও রাগানুগায়, উভয় মার্গেই হয়ে থাকে।শাস্ত্রে বহুবিধ উপায় কর্তব‍্যের বিধান আছে,যথা-- কর্মযোগ,জ্ঞানযোগ,যোগ সাধন ও ভক্তিরসাধন থাকলেও ভক্তিসাধন ছাড়া অন‍্য কোন সাধনে কৃষ্ণ বশীভূত হন না।তাই তিনি শ্রীউদ্ধব মহাশয়কে বলেছিলেন----*
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 👉 প্রেমঋণে শ্রীগৌরাঙ্গ মাধব 🥀 শ্রীরাধাবিনোদ সরকার 📖 চতুর্থ ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/05/prem4.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(৩৩)প্রেমঋণে শ্রীগৌরাঙ্গ মাধব*
*মহাপ্রভুর আবির্ভাবের মুখ‍্য বহিরঙ্গ কারণ*

*শ্রীধর স্বামীপাদ বলেছেন---*
*🌷ভক্তিহীন সর্বক্রিয়া গর্বয়ৈব ভবতি।*
*🌻ভক্তিহীন সবকাজ, গর্বের জন্য হয়ে থাকে। শ্রীপাদ কবিরাজ গোস্বামী দৃঢ়কন্ঠে বলেছেন---*
*🌷জ্ঞান কর্মে যোগধর্মে নহে কৃষ্ণ বশ।*
*🌷কৃষ্ণবশ হেতু এক প্রেমভক্তি রস।।চৈঃচঃ।।*
*🌻দেবদুর্লভ এই মনুষ‍্য দেহের চক্ষু,কর্ণ,নাসিকা,জিহ্বা,ত্বক পঞ্চ ইন্দ্রিয় যথাক্রমে শ্রীভগবানের রূপ,শব্দ,গন্ধ,রস ও স্পর্শ এই পঞ্চরস গ্রহণের সামর্থ‍্য দিয়েই তিনি সৃষ্টি করেছেন।আর বাক,পাণি,পাদ,পায়ু ও উপস্থ এই পঞ্চ কর্মেন্দ্রিয়ের মধ্যে বাক‍্য দ্বারা শ্রীকৃষ্ণের রূপ,গুণ,লীলাদি কীর্তন, হস্তদ্বারা শ্রীভগবানের ও তাঁরভক্তের সেবা ও পরিচর্য‍্যা ও পদ দ্বারা ভগবৎ ক্ষেত্রে ও বৈষ্ণব সম্মিলনে গমন।*
*অন‍্য,অন্তরেন্দ্রিয় মন ও চিত্ত দ্বারা শ্রীকৃষ্ণের রূপ-গুণ লীলাদি স্মরণে,তথা মানসী সেবায় নিযুক্ত করতে হবে।শ্রীগুরু ও শাস্ত্র বাক‍্যের সুদৃঢ় বিশ্বাসকেই শ্রদ্ধা কহে।এই শ্রদ্ধাই শ্রীকৃষ্ণ পাদপদ্মের পথের প্রীতির বীজ স্বরূপ।এই বীজ মহৎ কৃপা বা ভক্ত কৃপাতেই অঙ্কুরিত হয়ে থাকে।যেমন মূল হতে কান্ড,কান্ড হতে শাখা-প্রশাখার উদ্গম হয় ও ক্রমশ পুষ্প ও ফলের বিকাশ হয়, তদ্রূপ মহৎ কৃপা লব্ধ বা লাভ শ্রদ্ধার বীজ অঙ্কুরিত হলে শ্রবণ কীর্তনাদি নব-লক্ষণা ভক্তির লতার উদয় হয়ে ক্রমে সাধুসঙ্গ সোপান অতিক্রম করে ভজন-ক্রিয়া রূপ স্তরে আরূঢ় হলে তা হতে সাধনাঙ্গ রূপ গুরুপদাশ্রয়,দীক্ষা, শ্রীগুরুর সেবন প্রভৃতি চতুর্ষষ্ঠি (৬৪) শাখা সাধনাঙ্গ দ্বারা এই ভক্তিলতা পরিপুষ্টা ও পরিবর্দ্ধিতা হয়ে সময়ে অনর্থ নিবৃত্তি,তারপর নিষ্ঠা,তৎপর রুচি ও আসক্তি স্তরে আরূঢ়া (উচ্চস্তরে উঠা) হলে এই ভক্তিলতা হতে প্রস্ফুটিত সুরভি পুষ্পের উদয় হয়, এটিই ভাব ভক্তি এবং ঐ পুষ্প হতে যে মহাফলের আবির্ভাব হয় তাহাই প্রেমভক্তি।*
*🌷সংসার ভ্রমিতে কোন ভাগ‍্যবান জীব।*
*🌷গুরু কৃষ্ণ প্রসাদে পায় ভক্তিলতা বীজ।।*
*🌷মালি হইয়া করে সেই বীজ আরোপন।*
*🌷শ্রবণ কীর্তন জল করয়ে সেচন।।*
*🌷উপজিয়ে বাঢ়ে লতা ব্রহ্মান্ড ভেদি যায়।*
*🌷বিরজা ব্রহ্মলোক ভেদি পরব‍্যোম পায়।।*
*🌷তবে যায় ততুপরি গোলোক বৃন্দাবন।*
*🌷কৃষ্ণ চরণ কল্পবৃক্ষে করে আরোহণ।।চৈঃচঃ।।*
*🙏নববিধা ভক্তি বা নব লক্ষণা ভক্তি--*
*🌷শ্রবণং কীর্তনং বিষ্ণোঃ স্মরণং পাদসেবনম্।*
*🌷অর্চ্চনং বন্দনং দাস‍্যং সখ‍্যং আত্মনিবেদনম্।*
*🌻শ্রীকৃষ্ণের নাম,রূপ, লীলাদির শ্রবণ ও কীর্তন,নাম, রূপগুণ লীলাদির স্মরণ, শ্রীবিগ্রহের পাদসেবা,পূজা,নমস্কার দাস‍্যাভিমান দেহাদি সর্বস্ব পর্যন্ত সর্বতোভাবে ভগবানে নিবেদিতপ্রাণ হতে হবে।এই সাধন ভক্তির নবলক্ষণ।আবার গুরুপদাশ্রয়,দীক্ষা,গুরুর সেবন,সাধুসঙ্গ প্রভৃতি চৌষট্টি সাধনাঙ্গে বিভক্ত করা হয়েছে।ভক্তির অঙ্গ ও সাধনাঙ্গ উভয়েরই সমভাবে অনুশীলন বিধেয় (উচিত)।ভক্তিদেবী শ্রীহরির স্বরূপ শক্তির বৃত্তি বলে সমস্ত মায়া শক্তির বৃত্তিগুলিকে সাধকের জানতে বা অজানতে ধ্বংস করে ভক্তের চক্ষু কর্ণাদি প্রাকৃত ইন্দ্রিয়াদিতে আবির্ভূতা হন।*
*🌷নিত‍্য সিদ্ধ কৃষ্ণপ্রেম সাধ‍্য কভু নয়।*
*🌷শ্রবণাদি শুদ্ধ চিত্তে করয়ে উদয়।।*
*🌷এক অঙ্গ সাধে কেহ সাধে বহু অঙ্গ।*
*🌷নিষ্ঠা হৈতে উপজয় প্রেমের তরঙ্গ।।চৈঃচঃ।।*
                  *ক্রমাগত*
🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 👉 প্রেমঋণে শ্রীগৌরাঙ্গ মাধব 🥀 শ্রীরাধাবিনোদ সরকার 📖 চতুর্থ ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/05/prem4.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(৩৪)প্রেমঋণে শ্রীগৌরাঙ্গ মাধব*
*মহাপ্রভুর আবির্ভাবের মুখ‍্য বহিরঙ্গ কারণ*

*🍀ভজনক্রিয়া হ'তে ভাবভক্তি প্রাপ্ত অবস্থাকে সাধক অবস্থা বলা হয়ে থাকে।এই অবস্থায় (১)বৈষ্ণব সদাচারগুলির পালন,(২)শ্রীকৃষ্ণের নাম-গুণ-লীলাদির শ্রবণ ও কীর্তন (৩)মনে নিজ সিদ্ধমঞ্জুরীদেহ ভাবনা করে শ্রীকৃষ্ণের রূপ,গুণ,লীলাদির স্মরণ-মনন করে থাকেন।প্রবল বিরহ-উৎকন্ঠার সঙ্গে এই ভজন সাধন করতে করতে কালক্রমে এ' সাধনা পরিপক্ব হয়ে সাধক হৃদয়ে কৃষ্ণপ্রেম উদয় হলেই সিদ্ধাবস্থা লাভ হয়ে থাকে।সমস্ত কষ্ট,লেশ বর্জিত, নিত‍্যকৃষ্ণক্রিয়াশীল ও নিরবচ্ছিন্ন প্রেম-সুখ আস্বাদক সজ্জনই "সিদ্ধ"।*
*🍀ভক্ত এখন শ্রীভগবানের নিত‍্যদাস,আর কারও নন।অর্ঘ সিদ্ধি ও মুক্তিরূপ মাকাল ফল তার সামনে দিয়ে তৃণ খন্ডের মত ভেসে যায়।এমন কি ইন্দ্রপদ,ব্রহ্মপদ,ভগবদ্ ধাম পাবার বাঞ্ছা ও তার কৃষ্ণচিন্তাময় একাগ্র হৃদয়ের কাছে দাঁড়িয়ে থাকতে পারে না।ক্ষুধা,তৃষ্ণা,শীতাতপ আধিভৌতিক,আধিদৈবিক ও আধ‍্যাত্মিক ত্রিতাপজ্বালা প্রভৃতি নিজে থেকেই পলায়ন করে।ভক্ত স্ত্রী পুত্র,বিষয়াদি,যশ,লোভ,প্রতিষ্ঠা কৃষ্ণ ভক্তির বিশেষ প্রতিকূল বা বিপক্ষ বলে তাদেরকে শ্রীকৃষ্ণপাদপদ্মে সমর্পণ করেন।ভক্ত শ্রীমাধবেন্দ্র পুরীর কথা শুনেছিলেন,যাঁর জন্য স্বয়ং শ্রীগোপীনাথ ক্ষীর চুরি করে রেখেছিলেন।তাঁর সুযশ প্রচার হওয়ার ভয়ে সেখান হতে পলায়ন করে ছিলেন।*
*🌷প্রতিষ্ঠার ভয়ে পুরী গেল পলাইয়া।*
*🌻চিৎকণজীব নিত‍্য কৃষ্ণদাস।এই স্বরূপ জীব ভুলে গেলে মায়া তার চিৎকণ স্বরূপ আবরণ করে মায়িক দেহান্দ্রিয়ে আত্মবুদ্ধি করিয়েছেন।(আমি যা করব সবই ঠিক, এককথায় আমিই সব), এবং তার প্রভাবে জীব জরা,শোক,মৃত‍্যু, দুঃখাদি সংসার স্রোতে আবহমান কাল হতে ভাসছে। কুহুকিনী মায়া আত্মাকারে গঠিত মনকে জীবের কাছে স্থাপন করেছেন।▪ব‍্যাধ যেমন শিকারী পাখীর দ্বারা বনের পাখী আটক করে,মায়াও মনরূপ শিকারী পাখীদ্বারা জীবরূপ বনের পাখীকে সংসার শিকলে বন্দী করেছে।এই মায়া যাঁর (শ্রীকৃষ্ণের) তাঁকে ভজন করলেই এই মায়ার গোলোকধাঁধা হতে পরিত্রাণ পেতে পারে।শ্রীভগবান অর্জুনকে বলেছেন--*
*🌷দৈবীহ‍্যেষ‍া গুণময়ী মমমায়া দূরত্বয়া।*
*🌷মামেব কে প্রপদন্তে মায়ামেতাং তরন্তিতে।।*
*🌻হে অর্জুন! ত্রিগুণময়ী মায়া আমারই অলৌকিক শক্তি, এটি জীবের পক্ষে দূরতিক্রমনীয়া (অতীব কষ্টকর)।যারা ভক্তি সহকারে আমার ভজনা করেন তারাই কেবল মায়াকে অতিক্রম করতে সমর্থ হন।সাধনভক্তির নববিধা অঙ্গের অনুশীলনে ভক্তিদেবীর কৃপাতেই এই দূরত্ময়া মায়া হতে ভক্ত পরিত্রাণ পায়।*
*🌹শ্রীকৃষ্ণ ব্রজপ্রেম চিরকাল দান করেননি বলেই জীবও তা পায়নি।অতীতে বহু কলিকাল অতিক্রম হয়েছে,কোনও কলিকালেই ব্রজপ্রেম জীব পায়নি, কেবল এই কলিতে পেয়েছেন।আবার করুণা শক্তির বিকাশ বশতঃই শ্রীহরি "করুণয়া" অবতীর্ণ কলৌ।সেই শ্রীকৃষ্ণ,শ্রীকৃষ্ণচৈতন‍্যদেব রূপে অবতীর্ণ হয়ে সঙ্কল্প করলেন--,*
*🌷চারিভাব ভক্তি দিয়া নাচাইমু ভুবন।*
*🌻শ্রীমদ্ভাগবতে রাগানুগা কথনে শ্রীভগবান বলেছেন--, "দেশকালাদিতে অপরিচ্ছন্ন সচ্চিদানন্দ রূপ যে আমি,যারা সেই আমাকে জেনে অথবা না জেনে কেবল অনন‍্যভাবে শ্রীব্রজেন্দ্রনন্দন বা যশোদানন্দন আলম্বনে নিজ রুচি অনুসারে দাস‍্য,সখ‍্য,বাৎসল‍্য ও মধুর ভাবের মধ্যে যে কোন একটা ভাবে আমাকে ভজন করছে, আমি তাদেরকে ভক্ততম বলে মনে করি।যতদিন দাস‍্যাদি কোন একটি ভাবের সঙ্গে আমাকে ভজন না করে,ততদিন পর্যন্ত সেই ভাবহীন বা সম্বন্ধহীন ভজনে আমার চিত্ত বিগলিত হয় না।যারা কেবলমাত্র সম্বন্ধ আশ্রয়ে ভজন করেন অর্থ‍্যাৎ আমার পুত্র, আমার সখা,আমার প্রাণপতি ইত্যাদি।*
*🌷এইভাবে যেই মোর করে শুদ্ধ রতি।*
*🌻সেই সম্বন্ধযুক্ত ভজনে আমার চিত্ত বিগলিত হয়।*
                   *ক্রমাগত*
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 👉 প্রেমঋণে শ্রীগৌরাঙ্গ মাধব 🥀 শ্রীরাধাবিনোদ সরকার 📖 চতুর্থ ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/05/prem4.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(৩৫)প্রেম ঋণে শ্রীগৌরাঙ্গ মাধব*
*মহাপ্রভুর আবির্ভাবের মুখ‍্য বহিরঙ্গ কারণ*

*🔷ঐশ্বর্য‍্য জ্ঞান মিশ্রিত ভাব হতে সম্বন্ধযুক্ত ভাবের গৌরব অনেক বেশী।শ্রীকৃষ্ণ বলেছেন-- "ঐশ্বর্য‍্য শিথিল প্রেম নহে মোর প্রীতি।*
*🌷গোপী অনুগত বিনা ঐশ্বর্য‍্য ও জ্ঞানে।*
*🌷ভজিলেও নাহি পায় শ্রীনন্দনন্দনে।।চৈঃচঃ।।*
*🌻রাগানুগা সাধনভক্তি দুই প্রকার-- স্বকীয়া ও পরকীয়া।শ্রীকৃষ্ণকে লাভ করবার জন্য এই উভয় প্রকার ভজনই দাস‍্য,সখ‍্য,বাৎসল‍্য,মধুর এই চারপ্রকার ভাবে বিধি ও রাগানুগায় উভয় মার্গেই হয়ে থাকে।*
*দাস‍্যরসে, শ্রীকৃষ্ণের সঙ্গে প্রভু-ভৃত‍্য সম্বন্ধে অভিমান আশ্রয় অবলম্বন, শ্রীরক্তক পত্রক, মধুব্রত, সুবিনাস, প্রেমনন্দ,আনন্দ,চলহা প্রভৃতি ব্রজের অনুগ বা সেবক।তাঁদের মধ্যে রক্তকই প্রধান,তারা নিজ প্রভু বুদ্ধিতে শ্রীকৃষ্ণকে নিজজন বলে মনে করেন।এই আমারতা ভাবই শ্রীকৃষ্ণের চিত্ত বিগলিত করাইয়ে সেবা করে থাকেন।*
*🔵পূর্ণেশ্বর্য‍্য প্রভুর জ্ঞান অধিক হয় দাস‍্যে।*
*🌻সখ‍্যরসের বিষয় অবলম্বন রাখালরাজ ব্রজদুলাল আশ্রয় অবলম্বন,শ্রীকৃষ্ণের বয়স‍্যগণ। তাঁরা চারপ্রকার।সুহৃৎ,সখা,প্রিয়সখা ও প্রিয় নর্ম্মসখা।*
*🌹সুহৃৎগণের বাৎসল‍্য গন্ধযুক্ত সখ‍্য,এঁদের বয়স কৃষ্ণ অপেক্ষা কিছু বেশী।তাঁরা অস্ত্রধারী,কোন অমঙ্গল হতে কৃষ্ণকে রক্ষা করবার জন্য সদাসর্বদা তৈরী।শ্রীবলরাম,সুভদ্র, মন্ডলীভদ্র,ভদ্রবর্দ্ধন, বিজয় প্রভৃতি,তাঁরা বনের বাঘ, ভুজঙ্গ ও অন‍্যান‍্য শত্রু হতে শ্রীকৃষ্ণের কোন অমঙ্গল হয়,এই আশঙ্কায় শ্রীকৃষ্ণকে চোখের আড়াল হতে দেননা,ক্ষুধায় কাতর দেখলে বনের ফলমূল তুলে এনে রাখাররাজাকে দেন।*
*🌹সখা,যাঁরা কৃষ্ণের চেয়ে সামান্য বয়সে ছোট ও দাস ধরণের (তুই একাজ কর,ঐকাজ কর ইত্যাদি ) সখ‍্যরসিক তাঁরাই সখা। যেমন দেবপ্রস্থ,বিশাল,বৃষভ,বরসর্প, মনিবন্ধ প্রভৃতি।তিলক-রচনা,চন্দনাদি গন্ধ দ্রব‍্য শ্রীঅঙ্গে বিলেপন,পদ্মিনীদল দিয়ে বীজনাদি বা বাতাস করার কাজ।*
*🌹প্রিয়সখা--,যারা সমবয়সী ও কেবল শুদ্ধ সখ‍্য রসাশ্রয়ী তাঁরাই প্রিয়সখা।সুবল,শ্রীদাম,দাম,বসুদাম, স্তোককৃষ্ণ,ভদ্রসেন,বিলাসী প্রভৃতি।এর মধ্যে শ্রীদামই শ্রেষ্ঠ।এই সখ‍্যরসে শ্রীকৃষ্ণে ঈশ্বর জ্ঞানহীন,সমতা ও মমতা বুদ্ধি বেশী।*
*🌷মমতা অধিক কৃষ্ণে আত্মসম জ্ঞান।*
*🌷অতএব সখ‍্য রসের বশ ভগবান।।*
☆ ☆ ☆ ☆
*🌷কান্ধে চড়ে কান্ধে চড়ায় করে ক্রীড়ারণ।*
*🌷কৃষ্ণে সেবে কৃষ্ণে করায় আপন সেবন।।*
*🌻কৃষ্ণের হাত থেকে নবনীতাদি কেড়ে নিয়ে খাওয়া,সকলে মিলে গোপীগৃহে ননী,দধি,ক্ষীর,সর, মাখন চুরি করা কাজ করেন।*
*🌹প্রিয় নর্ম্মসখা-- এঁরা অত‍্যন্ত ভাবযুক্ত অন্তরঙ্গ বলে শ্রীকৃষ্ণের আন্তরিক রহস‍্য কাজে নিযুক্ত থাকেন।এঁরা সখীভাবাবিষ্ট শ্রীকৃষ্ণ ও গোপীগণের মধ্যে প্রেমের আদান প্রদানরূপ গুপ্তকাজে সহায়তা করে থাকেন।সুবল,উজ্জ্বল,গন্ধর্ব ও বসন্ত প্রভৃতি।এঁদের মধ্যে সুবল শ্রেষ্ঠ।*
               *ক্রমাগত*
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 👉 প্রেমঋণে শ্রীগৌরাঙ্গ মাধব 🥀 শ্রীরাধাবিনোদ সরকার 📖 চতুর্থ ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/05/prem4.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(৩৬)প্রেম ঋণে শ্রীগৌরাঙ্গ মাধব*
*মহাপ্রভুর আবির্ভাবের মুখ‍্য বহিরঙ্গ কারণ*

*🍀শ্রীকৃষ্ণের নিত‍্য গোষ্ঠলীলা কৌমার ও পৌগন্ড বয়সেই চলতে থাকে।শ্রীকৃষ্ণের শৈশব মিশ্রিত নব যৌবন বা নবকিশোর মূর্তি প্রায় সর্বভক্তগণের কাছে উজ্জ্বলরূপে প্রকাশিত হন।শ্রীকৃষ্ণ তাঁর বাল‍্যসখা শ্রীদাম সুবলাদির সহিত নিত‍্য ধেনু চড়াতে গোঠে যাত্রা করেন এবং উত্তর গোষ্ঠে প্রত‍্যাবর্তন করেন। এই গোষ্ঠলীলায় আমরা ব্রজ উপাসনার সমস্ত রসই দেখতে পাই।এ সম্বন্ধে একটি সুন্দর পদ পরিবেশিত হল। যথা=*

*যায় পদ রহিয়া রহিয়া রহিয়া গো*
*ধ্বজ বজ্রাঙ্কুশ পায়,রহি রহি চলি যায়,*
   *যায় পদ রহিয়া রহিয়া রহিয়া গো।।*
☆ ☆ ☆ ☆
*শ্রীদাম টানে বন পানে,রাণী টানে ঘর পানে,*
   *রাই টানে নয়নে নয়নে নয়নে গো।*
☆ ☆ ☆ ☆
*হেন মনে উঠে দয়া,মেঘ হয়ে করি ছায়া,*
   *তার ছায়ায় যেত জুড়ায়ে জুড়ায়ে গো।।*

*🌻🍀🌹বাৎসল‍্য রস🌷🍀🌻*
*এই রসের আশ্রয় অবলম্বন ব্রজেশ্বরী যশোদা ও ব্রজরাজ নন্দ শ্রেষ্ঠ।ইহা ছাড়া রোহিণীদেবী, দেবকী ও তাঁর সপত্নীগণ, কুন্তী,বসুদেব,সান্দীপনি প্রভৃতি গুরুজন। আমার পুত্র, আমার গোপাল, আমার নীলমণি বলে পিতা নন্দ মহারাজ ও মা যশোমতী ঈশ্বর বুদ্ধিহীন আত্মজ আবেশে প্রচুরতর অনুগ্রহ সমাযুক্ত চিত্তে পালক ও লালক বুদ্ধিতে কৃপাযুক্ত হৃদয়ে,অতি হেয় জ্ঞানে,কৃষ্ণকে লালন-পালন করে থাকেন।অহো!যিনি পরম ব্রহ্মের ও অনুগ্রাহক তত্ত্ব,সেই ষড়ৈশ্বর্য‍্যপূর্ণ ভগবানকে পুত্র বুদ্ধিতে গোপালকে লালন পালন,তাড়ন,ভর্ৎসন করেছেন সেই মহারাজ নন্দ ও মাতা যশোমতীর শ্রীচরণে দন্ডবৎ প্রণাম।*
*মধুর ভক্তি রস--,শাস্ত্রে এই রসকে মধুররস,আদিরস,শুচিরস, উজ্জ্বলরস ও শৃঙ্গাররস বলে বর্ণিত হয়েছে।যে শৃঙ্গার রসরাজ মূর্তিতে শ্রীশুকদেব গোস্বামীপাদ "পীতাম্বর স্রগ্বী সাক্ষান্মনমন্মথ" অর্থ‍্যাৎ সাক্ষাৎ মদনমোহনমূর্তি বলে কীর্তন করেছেন, যাঁর মধুর রূপ দর্শনে "পুরুষ ঘোষিত কিম্বা স্থাবর জঙ্গম" মোহিত হয়ে যায়, মধুর শ্রীবৃন্দাবনে সেই অপ্রাকৃত নবীন মদন,শৃঙ্গার রসমূর্তি রসিকেন্দ্র চূড়ামণি শ্রীনন্দ-নন্দন এই মধুররসের বিষয় আলম্বন।*
*🍀যে ব্রজসুন্দরীগণ শ্রীকৃষ্ণের সুখের জন্য তাঁদের দেহ,গেহ, ইহকাল, পরকাল,স্বজন,বন্ধুবান্ধব, মানসসুখ, আত্মসুখ,বেদ-ধর্ম-কর্ম,আর্য‍্যপথ প্রভৃতি পরিত‍্যাগ করে গাঢ় অনুরাগের আবেশে প্রাণকোটি প্রিয়তমও রমণরূপে শ্রীকৃষ্ণকে ভজন করেছেন সেই কৃষ্ণ প্রেয়সী ব্রজগোপীগণই এই মধুর রসের আশ্রয় আলম্বন।এই মধুর রস স্বকীয়া ও পরকীয়া ভাবে দুই প্রকার।এই উভয়বিধ লীলাই নিত‍্য,শ্রীগোলোক,বৈকুন্ঠ,দ্বারকাই ধামের লীলা স্বকীয়া,একমাত্র ব্রজধামের লীলাই পরকীয়া, দ্বারকাধামে রুক্মিণী,সত‍্যভামা প্রভৃতি শ্রীকৃষ্ণের মহিষীগণ স্বকীয়া, শ্রীব্রজে শ্রীরাধা,ললিতা-বিশাখাদি ব্রজদেবীগণ পরকীয়া।ব্রজাঙ্গনাগণ করবিধি অনুসারে পত্নী নন, গাঢ় অনুরাগের আবেশে কৃষ্ণবধূ, উপপতিভাবা ভ্রষ্টা নারীর চোখে যেমন উপপতির অসংখ্য দোষ থাকলেও তা লক্ষিত হয় না,ভগবানের সঙ্গে সেরকম প্রণয়ে আবদ্ধ হওয়ার নাম কান্তা প্রেম।পতিব্রতা সতীর চোখে পতির দোষও দেখা সম্ভবপর হতে পারে ; কিন্তু উপপত্নীর চোখে হাজার দোষ থাকলেও গুণছাড়া কিছুই পরিলক্ষিত হয় না এবং গাঢ় ভাবের আকর্ষণে সর্বদা উপপতির ভাবা করেই সুখ পায়।যোগাবিশিষ্ট রামায়ণ দ্রষ্টব‍্য।এই জন্য ব্রজাঙ্গনাগণ নিজ নিজ গৃহকার্য‍্য সম্পাদন করলেও তাঁদের সঙ্কল্পাত্মক মন পরমপুরুষ (পর পুরুষ নন) শ্রীকৃষ্ণের পদারবিন্দেই অনুক্ষণ অবস্থিত থাকত।শ্রীকৃষ্ণই তাঁদের প্রাণ, জীবন-যৌবন প্রাণকোটি প্রিয়তম শ্রীকৃষ্ণের জন‍্যই তাঁরা পতিপুত্র, পিতামাতা,স্বজন-বান্ধবাদি ত‍্যাগ করেছিলেন।তাঁরা কখনও দেহাভিমানী আত্মাকে আত্মা বলে জানেন না। সৃষ্টির অন্তর্গত ভাব স্থূল ও সৃষ্টির বহির্গত ভাব সূক্ষ্ম শ্রীব্রজদেবীগণের ভাব সৃষ্টির অন্তর্গত ছিল না।প্রাকৃত দেহে প্রাকৃত ভাবের উদয় হয় ; কিন্তু অপ্রাকৃত দেহের কাজ অন‍্যরকম।সেটি কেবল চৈতন‍্যময় পরমাত্মার ভাবে বিভাবিত হয়ে পরমানন্দ অনুভব করে।এই গোপীগণ আনন্দ চিন্ময় রসপ্রতিভাবিতা।পতি-পুত্রাদির এই দেহের সঙ্গে সম্বন্ধ,আত্মার সঙ্গে কোন সম্বন্ধ নেই ; দেহ অবসানকালে যখন তাদের সঙ্গে সম্বন্ধ চিরকালের জন্যই বিচ‍্যুত হবে,"তখন এই মরণশীল স্বজনদেরকে উপেক্ষা করে পরমপতি শ্রীকৃষ্ণের সঙ্গে চির সম্বন্ধে আবদ্ধ হওয়াই শ্রেয়।এইরকম সঙ্কল্প মন নিয়েই ব্রজদেবীগণ নিশীথকালে, নির্জন বৃন্দারণ‍্যে,গাঢ় অনুরাগের আবেশে উদভ্রান্ত হয়ে শ্রীকৃষ্ণের কাছে উপস্থিত হতেন।পতি ও স্বজনের তাড়না-ভর্ৎসনা উপেক্ষা করে,জাতি-কুল-মান,লজ্জা ধর্মে জলাঞ্জলী দিয়ে গোপীগণ ব‍্যাকুলিত প্রাণে,উদ্দাম গতিতে পরম-পতির সঙ্গে মিলিতা হতেন।মর্যাদা প্রাপ্তা কুলবধূগণের পক্ষে অতি দুস্তর ধর্মবাধা অতিক্রম করাতেই অনুরাগের পরাবধিত্ব প্রকাশ পেয়েছে।এতে মধুর বা উজ্জ্বল রসের উজ্জ্বলতা ও পরমোৎকর্ষতা প্রতিপন্ন হয়েছে এবং ভরতমুনি ইহাকে পরমারতি বলে স্বীকার করেছেন।*
                    *ক্রমাগত*
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 👉 প্রেমঋণে শ্রীগৌরাঙ্গ মাধব 🥀 শ্রীরাধাবিনোদ সরকার 📖 চতুর্থ ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/05/prem4.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(৩৭)প্রেম ঋণে শ্রীগৌরাঙ্গ মাধব*
*মহাপ্রভুর আবির্ভাবের মুখ‍্য বহিরঙ্গ কারণ*

*🍀রাগের লক্ষণে বলা হয়েছে--, "প্রণয়ের উৎকৃষ্ট অবস্থায় কৃষ্ণপ্রাপ্তির সম্ভাবনায় অত‍্যন্ত দুঃখচিত্তে সুখ ধর্মরূপে প্রকাশ পেয়ে থাকে। আবার কৃষ্ণপ্রাপ্তির অসম্ভনায় অত‍্যন্ত সুখও দুঃখ ধর্মরূপে প্রকাশ পায়।রসিক পন্ডিতগণ ইহাকে "রাগ" সংজ্ঞা প্রদান করেছেন।লজ্জা ত‍্যাগ ও পাতিব্রত‍্য ধ্বংস করলেই প্রাণকোটি প্রিয়তম শ্রীকৃষ্ণকে পেতে পারি, এইরকম আকুল পিপাসার আবেগে পরমপতি শ্রীকৃষ্ণের সঙ্গে প্রণয়সূত্রে চির সম্বন্ধে আবদ্ধ হওয়া,অতি দুঃখকেও পরমসুখ বলে প্রতিপন্ন করায় বলে এখানে রাগের পরিমাণের পরাকাষ্ঠা প্রতিপাদিত হচ্ছে।গাঢ় প্রীতিময় তৃষ্ণার আবেগে এই বেদধর্ম,লোকধর্ম স্বজনাদি ত‍্যাগ হয়েছে বলেই সর্বশাস্ত্রে এই অনুরাগের এত গৌরব,কৃষ্ণপ্রাপ্তির সাধনরূপ আকুল পিপাসা যেমন সর্ববেদ দুর্লভ, শ্রীব্রজদেবীগণের কৃষ্ণ-প্রাপ্তিও সর্বোত্তম।যথা---*
*🌷পরিপূর্ণ কৃষ্ণপ্রাপ্তি এই প্রেমা হৈতে।*
*🌷এই প্রেমার বশ কৃষ্ণ কহে ভাগবতে।।*
*🌻যে গোপীগণ কৃষ্ণের সুখের জন্য সর্বস্ব ত‍্যাগ করেছেন ; যাঁরা কৃষ্ণের ক্ষণিক অদর্শনে মনে করে যেন কতযুগ থেকে তাঁকে দেখিনি এবং কৃষ্ণরূপ দর্শন সময়ে চোখের নিমিষ হয়,তা সইতে না পেরে চোখের পক্ষ কর্তা বিধাতাকে যোগ্য সৃজন জানে না বলে "জড়তাসাধন" বলে কত অভিশাপ করেন, যারা কৃষ্ণের বক্ষের উপর মুখখানা রেখেও অনুরাগের চরম লক্ষণ "প্রেমবৈচিত্র‍্য ভাবে " বিরহে পাগল হয়ে কত দৈন‍্য,কত বিলাপ করে থাকেন,তাদের অপেক্ষা আর শ্রেষ্ঠ কৃষ্ণ-অনুরাগী এই জগততলে আর কেউ নাই।এতে শৃঙ্গার রসের পরম উৎকর্ষতা প্রতিষ্ঠিত হয়েছে,ব্রজবিলাসে এই পরকীয়া পরমারতির পরম উৎকর্ষতাই শ্রীরাধার মহাভাব।ব্রজ ছাড়া এই পরকীয়া রতির প্রকাশ অন‍্য ধামে নাই।*
*🌷এই সে রস নিগূঢ় ধন‍্য।*
*🌷ব্রজবিনা ইহা না জানে অন‍্য।।*
*🔵
*রসময় পরম পুরুষ শ্রীকৃষ্ণ তার অচিন্ত‍্য শক্তি প্রভাবে গোলোক ও গোকুল উদ্ধার সমসূত্রে গ্রথিত করে সপরিবারে অবতরণ করলেন।পূর্বরাগ হতে আরম্ভ করে মোহনাখ‍্য মহাভাবে দিব‍্যোন্মাদ দশা পর্যন্ত এই লীলা পরিপূর্ণ ভাবে অনুদিত বা অপ্রকাশিত হয়।শ্রীরাধা,ললিতা, বিশাখাদি অষ্ট সখী, চন্দ্রাবলী, পদ্মা, শৈব‍্যা,শ‍্যামা,ভদ্রা,গোপালী, সঞ্চুনক্ষি প্রভৃতি ব্রজগোপীগণ নিত‍্যসিদ্ধা। শ্রীরাধা ও চন্দ্রাবলী যূথেশ্বরীর মধ্যে শ্রেষ্ঠা।ললিতা,বিশাখা,পদ্মা,শৈব‍্যা যূথেশ্বরীর যোগ্যা হলেও তাঁরা সখীভাব গ্রহণ করেছেন।এই গোপীগণের মধ্যে শ্রীরাধা বা প্রধানা গোপীকা সর্বোত্তমা যথা---*
*🌷সেই গোপীগণের মধ্যে উত্তমা রাধিকা।*
*🌷রূপগুণে সৌভাগ্যে প্রেমে সর্বাধিকা।।*
*🌺এই মধুর রসের প্রেম ক্রম বর্দ্ধিত ভাবে স্নেহ,মান,প্রণয়,রাগ,অনুরাগ, ভাব,মহাভাব পর্যন্ত পরিসীমা পেয়েছে।পুরে মহিষীগণের রূঢ় ভাব, আর ব্রজ গোপীগণের অধিরূঢ় মহাভাব।কেবল মাত্র শ্রীকৃষ্ণ সুখের জন্যই এই মহাভাবের সমস্ত চেষ্টা কোন প্রয়োজন সিদ্ধির জন্য বা নিজের কোন বাসনা পূর্ণ করবার জন্য নয়।এই অধিরূঢ় মহাভাবটি শ্রীরাধার মুখেই পরিপূর্ণভাবে বিদ‍্যমান,তারমধ‍্যে রাধারাণীই ভাবের অবধি। যথা--*
*🌷প্রেমের পরমসার মহাভাব জানি।*
*🌷সেই মহাভাব স্বরূপা শ্রীরাধা ঠাকুরাণী।।*
                *ক্রমাগত*
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 👉 প্রেমঋণে শ্রীগৌরাঙ্গ মাধব 🥀 শ্রীরাধাবিনোদ সরকার 📖 চতুর্থ ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/05/prem4.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(৩৮)প্রেম ঋণে শ্রীগৌরাঙ্গ মাধব*
*মহাপ্রভুর আবির্ভাবের মুখ‍্য বহিরঙ্গ কারণ*

*🍀এই মহাভাবের লক্ষণ সম্বন্ধে শ্রীউজ্জ্বল নীলমণি গ্রন্থে বলেছেন--*
*🌷অর্থ‍্যাৎ রাগ যতটা পরিমাণে উদয় হবার সম্ভাবনা হতে পারে ততটা পরিমাণে উদয় হলে তার নাম অনুরাগের আশ্রয় বৃত্তি,ঐ যাবদাশ্রয় বৃত্তি যদি স্বয়ং (বেদ)দশা প্রাপ্ত হয়ে প্রকাশ পায়,তাহলে রসিক ভক্তগণ তাকে মহাভাব বলে থাকেন।*
*🌹শ্রীকৃষ্ণ ব্রজবাসীগণের প্রেমসেবায় মুগ্ধ হয়ে তাদেরকে পিতা মাতা ভাই সখা সখি প্রেয়সী প্রভৃতি সম্প্রোধন দ্বারা অপার আনন্দ অনুভব করতেন এবং ব্রজবাসীগণের মনোরঞ্জনের জন্য কখনও গোচারণ, কখনও বা মাথার উপরে পাদুকা গ্রহণ, কখনও বা রাখালগণকে কাঁধে ধারণ, কখনও বা যশোমতীর পদ ধারণ, কখনও বা সখাগণ সঙ্গে নবনী চুরি অশেষ প্রকার লীলা দ্বারা নিজেকে ধন‍্য মনে করতেন, বৃন্দাবন চন্দ্রের বৃন্দাবন লীলা রস আস্বাদনকারী ভক্ত বিনা এই প্রেমের মধুরিমা কেউই অবগত নন।গোপীগণ শ্রীকৃষ্ণের কাছ হতে যে প্রসাদ লাভ করেছিলেন,ব্রহ্মা,মহেশ্বর এমনকি তাঁর অঙ্গ-সংশ্রিতা লক্ষ্মীদেবীও তা পাননি। সুতরাং শ্রীকৃষ্ণের রূপগুণ মাধুর্য‍্যাদির আস্বাদনের জন্য ভক্তপদ হতে শ্রেষ্ঠ শুভপদ আর ত্রিজগতে নাই।অন‍্যের কথা কি রসিকেন্দ্র চূড়ামণি শ্রীকৃষ্ণ স্বমাধুর্য‍্য আস্বাদনের জন্য ভক্তভাব অঙ্গীকার করে শ্রীধাম নবদ্বীপে অন্তঃকৃষ্ণ বহির্গৌর রূপে আবির্ভূত হয়েছেন।*

*🔵মুখ‍্য গৌণ বহিরঙ্গ কারণ🔵*
      °°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°
*যুগধর্ম শ্রীনামসংকীর্তন প্রচার ও করুণার অবতার রূপে দীন,হীন, পতিত, পাষন্ডগণের প্রতি অহৈতুকী কৃপা।*
*🌷আজানুলম্বিত ভূজৌ কনকাবদাতৌ,*
*🌷সংকীর্ত্তনৈক পিতরো কমলায় তাক্ষৌ।*
*🌷বিশ্বম্ভরৌ দ্বিজবরৌ যুগধর্ম পালৌ,*
*🌷বন্দে জগৎ প্রিয় করৌ করুণাবতারৌ।।*
*🍀যাঁর আজানুলম্বিত সোনার মত বাহু,কমনীয়-কান্তি বিশিষ্ট,কমল নয়ন,সংকীর্তনের পিতা, জগতের হিতকারী আমি সেই করুণার অবতার দ্বয়কে মহাপ্রভু ও নিত‍্যানন্দ প্রভুকে বন্দনা করি।*
*🙏এস্থলে যুগধর্ম শ্রীহরিনাম সংকীর্তন,নামের সহিত প্রেমদান ও জীব-উদ্ধারণ সম্বন্ধে বর্ণিত হচ্ছে।শ্রীচৈতন‍্য লীলায় বেদব‍্যাস মহাভাগবত ঠাকুর শ্রীবৃন্দাবন দাসের ও ধন‍্য গ্রন্থ শ্রীচৈতন‍্যচরিতামৃত প্রণেতা শ্রীকৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামীপাদ ও শ্রীগুরু বৈষ্ণবগণের পদধূলি শিরোভূষণ করে শ্রীচৈতন‍্য চরিত-সুধা সংক্ষিপ্ত-ভাবে বর্ণনা করতে হৃদয়ে আকুল আগ্রহ জাগছে।*
*বৃন্দাবন দাস-কবিরাজ গোস্বামীর চরণ শিরে ধরি।*
*নিতাই-গৌরাঙ্গ পাদপদ্মের ভৃঙ্গ হৈয়া মধুপান করি।।*
*🌻যিনি পঞ্চতত্ত্বাত্মক শ্রীকৃষ্ণচৈতন‍্যের দেহকান্তি, যোগীগণ যাকে সর্বভূতান্তর্য‍্যামী পুরুষ বলে কীর্তন করেন, তিনিই এই কৃষ্ণচৈতন‍্যের বিভূতি, তত্ত্ববিচারে যাঁকে ষড়ৈশ্বর্য‍্য পূর্ণ ভগবান বলা হয়,তিনি সাক্ষাৎ শ্রীকৃষ্ণচৈতন‍্য মহাপ্রভু।*
*🌷স্বয়ং ভগবান কৃষ্ণ কৃষ্ণসর্বাশ্রয়।*
*🌷 পরম ঈশ্বর কৃষ্ণ সর্বশাস্ত্র কয়।।*
*🌷সেই কৃষ্ণ অবতারী ব্রজেন্দ্রকুমার।*
*🌷আপনি চৈতন‍্যরূপে কৈলা অবতার।।চৈঃচঃ।।*
*🌷নন্দসুত বলি যাঁরে,ভাগবতে গাই।*
*🌷সেই কৃষ্ণ অবতীর্ণ চৈতন‍্য গোঁসাই।।*
*🌻দেব হলায়ুধ বলদেব এই চৈতন‍্যাবতারে প্রভু নিত‍্যানন্দ রূপে মিলিত হয়েছেন।পাষন্ডদলন পূর্বক ভক্তিদান করায় প্রভু নিত‍্যানন্দ হলায়ুধ শব্দে খ‍্যাত।তিনি মহাপ্রভুর দ্বিতীয় দেহ বা কলেবর।বিশ্ববন্ধু প্রেমপ্রদ ঈশ্বর শ্রীঅদ্বৈতাচার্য‍্য মহাবিষ্ণু বা সদাশিবের অবতার রূপে আগমন করলেন।মহাপ্রভু এক আর দুই প্রভু-নিত‍্যানন্দ ও শ্রীঅদ্বৈতাচার্য‍্য দেবর্ষি নারদ শ্রীবাস-রূপে অবতরণ করেছিলেন।স্বয়ং মহালক্ষ্মীরূপে লক্ষ্মীপ্রিয়া,বিষ্ণুপ্রিয়া ও গদাধর পন্ডিত আবির্ভূত হয়েছিলেন।কিম্বা শ্রীরাধা বৃন্দাবনে যেমন নানাপ্রকার ভেদে বহু গোপীকা মূর্তিতে বিলাস করছেন ; শ্রীগৌর অবতারেও তিনি একপ্রকার শ্রীচৈতন‍্য হতে অভিন্না থেকেও প্রকারান্তরে গদাধর পন্ডিতরূপ ধারণ করেছেন।যেমন স্বয়ং ভগবান প্রকাশ ভেদে বহুরূপে অবতীর্ণ হন, তাঁর হ্লাদিনীশক্তিরূপা শ্রীরাধার অবতারও সেইভাবে জানতে হবে।যাদবগণও বিভিন্ন নামে আবির্ভূত হয়েছিলেন।শ্রীশচীমাতা ও শ্রীজগন্নাথ মিশ্র সুন্দর যথাক্রমে যশোদা ও নন্দমহারাজার প্রকাশভূত।সকল ব্রজবাসীগণ,ব্রজ রাখালগণ, দাসগণ,সখা-সখিগণ,সহচরী সহ সমস্ত গোপীগণ,যোগমায়া এবং বনদেবীগণ সকলেই প্রকাশ ভেদে প্রকটে অবতরণ করেছিলেন।ভগবৎ শক্তি একই রূপ, একই সময়ে অনেক অনেক জায়গায় প্রকট হন তাকে "প্রকাশ" বলা হয়। সুতরাং চৈতন‍্যপার্ষদগণ নিত‍্যসিদ্ধ।*
*শ্রীগৌরাঙ্গের সঙ্গীগণে,নিত‍্যসিদ্ধ যদি মানে,*
        *সে যায়রে ব্রজেন্দ্র সুত পানে।*
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 👉 প্রেমঋণে শ্রীগৌরাঙ্গ মাধব 🥀 শ্রীরাধাবিনোদ সরকার 📖 চতুর্থ ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/05/prem4.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(৩৯)প্রেম ঋণে শ্রীগৌরাঙ্গ মাধব*

*পঞ্চতত্ত্ব অবতীর্ণ চৈতন‍্যের রঙ্গে।*
*পঞ্চতত্ত্ব মিলি করে সংকীর্তন সঙ্গে।।*
*পঞ্চতত্ত্ব এক বস্তু,নাহি কিছু ভেদ।*
*রস আস্বাদিতে তার বিবিধ বিভেদ।।চৈঃচঃ*
*🏵শ্রীমন্ মহাপ্রভুর আবির্ভাব ১৪০৭ শকাব্দে ফাল্গুনী পূর্ণিমায়। তাঁর শুভ আবির্ভাবের বার্তা শুনে শচীমায়ের পিতা শ্রীনীলাম্বর চক্রবর্তী মহাশয় আগমন করে জন্মলগ্ন বিচার করে বলোএ লাগলেন, "ইহার জন্মের প্রতিলগ্নে অদ্ভুত রহস‍্য বিদ‍্যমান।গণনায় মহাপুরুষ লক্ষণ দেখতে পাচ্ছি।বত্রিশ লক্ষণ মহাপুরুষের ভূষণ, তা সকলই এই শিশুর অঙ্গে দেখতে পাচ্ছি।"বিপ্ররাজ‍্যে গৌড়ের রাজা হইবেক", বলে শাস্ত্রে নির্দেশ আছে।সেখানে আর এক জ‍্যোতির্বিদ্ বাধা দিয়ে বললেন, (রাজা হেন বাক‍্যে)এ শিশুর পরিচয় হয় না।তিনি সাক্ষাৎ বৃহস্পতি হতেও বিদ্বান ও সর্বগুণের আধার হবেন।সেখানে এক মহাজ‍্যোতির্বিদ ও মহাজন ব‍্যক্তি কোষ্ঠী বিচার করে বললেন, "এই শিশু সাক্ষাৎ নারায়ণ।" তিনি সর্বধর্ম সংস্থাপন করে,ভাগবত ধর্ম প্রচার করে সর্বজগতকে উদ্ধার করবেন।ব্রহ্মা,শিব,শুক,নারদাদি যা সবসময়ই বাঞ্ছা করেন,সেই প্রেমধর্ম সংস্থাপন করে সর্বজগতের প্রীতি ও হিত করবেন।তিনি সর্বভূতে সমদর্শী ও দয়ালু ও করুণার অবতার ও ভক্তিমান হবেন।এই কথা বলে তিনি শ্রীজগন্নাথ মিশ্রকে বললেন, 🙏তুমি হেন পুত্রের পিতা,তোমাকে কোটি কোটি দন্ডবৎ প্রণাম।যথা চৈঃ ভাগবতে--*
*🌷হেন কোষ্ঠী গণিলাম আমি ভাগ‍্যবান।*
*🌷শ্রীবিশ্বম্ভর নাম হইব ইহান্।।*
*🏵বিশ্বম্ভর নামকরণ হ'ল--,১৪০৭ শকাব্দ ১২ই চৈত্র। পিতামাতা ডাকিনী শাকিনীর ভয়ে নিমাই নাম রেখেছিলেন।নিমতরুতলে জন্ম হয়েছিল বলিয়া কেউ কেউ নিমাই নাম রেখেছিলেন।দিব‍্য কোষ্ঠী গণনা শুনে শ্রীমিশ্রের আত্মীয়স্বজন বান্ধবগণ "হরি হরি" ধ্বনি করে "জয় জয়" শব্দে আনন্দে অধীর হলেন।তখন বাদ‍্যকারগণের সানাই, মৃদঙ্গ,বাঁশী,ঢোল করতালের শব্দের সঙ্গে পুরনারীগণ ও দেবমাতাগণ একত্র হয়ে ধান-দূর্বা নিয়ে উলুধ্বনি সহকারে "চিরায়ু হোক বাবা" বলে শিশু শিরে অর্পণ করলেন।শ্রীবাস ঘরণী ও শ্রীঅদ্বৈত আচার্য‍্যের পত্নী সীতা ঠাকুরাণী নানাপ্রকার উপহার ও আভরণ নিয়ে ধান-দূর্বা শিরে দিয়ে আশীর্বাদ করলেন।দেবমাতাগণ প্রত‍্যাগমনের সময় শচীমাকে প্রণাম করলেন, কিন্তু শচীমা কাউকেও চিনতে পারলেন না। আজ হরি হরি ধ্বনির মধ্যে শ্রীমিশ্রের গৃহে ও সমস্ত নদীয়ায় মহা-আনন্দের কোলাহল হতে লাগল।*
*যখন শিশু হামাগুড়ি দিতে শিখলেন,তখন যা দেখে তাইই ধরতে যায়।অগ্নি,জল,সর্প কিছুতেই ভয় নেই শিশুর।একদিন আঙ্গিনায় এক সাপ আসিলে শিশুর চাপল‍্য স্বভাবে ঐ সাপকে ধরলে সাপ কুন্ডলী পাকিয়ে শিশু নিমাইকে বেড়িয়ে রইল।মহাপ্রভু সাপের উপর শয়ন করে রইলেন,মনে হল যেন ক্ষীরোদসাগরে অনন্ত শয‍্যায় শায়িত শ্রীবিষ্ণু।বাবা-মা ভয়ে গরুড়,গরুড় বলে ডেকে কাঁদিলে সাপ অন্তর্ধ‍্যান হল।*
*এইমত দিনে দিনে শচীনন্দন শচীমায়ের আঙ্গিনায় পায়ে হেঁটে ও নৃত্য করে ঘুরে বেড়াতে লাগলেন।কি নিরুপম আহা গৌরাঙ্গের রূপ।সুবলিত মস্তকে চাঁচর কেশ,দীর্ঘায়ত কমল লোচনে মনোরম ঈক্ষণ হল,চন্দ্রবিনিন্দিত বদন, আজানুলম্বিত ভূজদ্বয়, অধর বান্ধুলী পুষ্পের ন‍্যায় ঈষৎ হাস‍্যে দেদীপ‍্যমান, দেহ স্বর্ণকান্তির ন‍্যায় মনোহর, কর-চরণ অঙ্গুলী ও নখরাজী স্থল পদ্ম সদৃশ আভাযুক্ত।একদিন শিশু গৌরাঙ্গের গমনকালে শচীমা দেখলেন পুত্রের পদতলে রক্তিম আভায় রঞ্জিত,দেখলে মনে হয়, পেলব পদতল হতে শোণিত ঝরছে।আর একদিন পিতামাতা অরুণ বর্ণ-চরণতলে শঙ্খ,চক্র, ধ্বজ,মৎস‍্য,পদ্মাদি দেখলেন। সুন্দর বালক হরি ধ্বনি বন্ধ হলে বিষাদে ক্রন্দন করেন।প্রভাতকালে নদীয়া নাগরীগণ বালককে মধ‍্যকেন্দ্র করে হরিসংকীর্তন করেন,তখন গৌরসুন্দর আমার আনন্দে নৃত্য করতে থাকেন।নামকীর্তন বন্ধ হলে ক্রন্দন করতে থাকেন। হরিধ্বনি করলে ক্রন্দন বন্ধ হয়ে যায় বলে নদীয়া নাগরীগণ মহাপ্রভুর নাম রাখলেন "গৌরহরি"।*
                    *ক্রমাগত*
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 👉 প্রেমঋণে শ্রীগৌরাঙ্গ মাধব 🥀 শ্রীরাধাবিনোদ সরকার 📖 চতুর্থ ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/05/prem4.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(৪০)প্রেমঋণে শ্রীগৌরাঙ্গ মাধব*

*🍀একদিন দুই চোর নিমাইয়ের অলঙ্কার চুরি করবার মানসে তাঁকে চুরি করে কোলেতে নিয়ে চলে যায়। কিন্তু বৈষ্ণবী মায়ায় মুগ্ধ হয়ে আবার চোরদ্বয় আপন ঘর মনে করে শ্রীজগন্নাথ গৃহে এসে নিমাইকে কোল হতে নামিয়ে দেয়।*
*🌹পিতাজগন্নাথ মিশ্র একদিন বললেন, বিশ্বম্ভর! বাপ!ঘর হতে আমার একটি গ্রন্থ এনে দাও।এইকথা শুনে তাড়াতাড়ি গ্রন্থটি আনতে গেলে রুনুঝুনু শব্দে, নূপুরহীন পায়ে নূপুর বেজে উঠিল।বাবা-মা বিস্মিত হয়ে বলতে লাগলেন, যথা শ্রীচৈতন‍্যভাগবতে--*
*🌷আমার পুত্রের পায়ে নাহিক নূপুর।*
*🌷কোথায় বাজিল বাদ‍্য নূপুর মধুর।।*
*🍀একদিন ব্রহ্মণ‍্যতেজ বিশিষ্ট এক বিপ্র বালগোপালকে কন্ঠে দোলায়ে নিরবধি কৃষ্ণ কৃষ্ণ নাম জপ করতে করতে তীর্থপর্য‍্যটন ছলে শ্রীজগন্নাথ মিশ্র গৃহে বিজয় করলেন বা প্রবেশ করলেন। তিনি ষড়াক্ষর গোপাল মন্ত্রে দীক্ষিত। মিশ্র পুরন্দর অতিথির তেজময় কলেবর বা দেহ দর্শন করে তাঁকে নমস্কার করে নিজহাতে চরণ ধুইয়ে দিয়ে শুদ্ধ আসনে বসতে দিলেন।শ্রীমিশ্র হর্ষভরে,বালগোপালের ভোগের জন্য অতিথিকে রন্ধন করতে দিলেন।রন্ধন সমাপ্ত হলে ব্রাহ্মণ বালগোপালকে নিবেদন করে ধ‍্যান করতে লাগলেন।তখন বালগোপাল-গৌরচন্দ্র ধূলা ধূসরিত অঙ্গে প্রায় উলঙ্গ বেশে এসে---*
*🌷হাসিয়া বিপ্রের অন্ন লইয়া শ্রীকরে।*
*🌷এক গ্রাস খাইলেন দেখে বিপ্রবরে।।চৈঃভাঃ।।*
*🌻এইরকম ভাবে তিনবার রন্ধন করে গোপাল দামোদরকে নিবেদন করলে তিনবারই শ্রীগৌরচন্দ্র ঐ নিবেদিত অন্ন গ্রহণ করেন।অতিথি বললেন, আর রন্ধনের প্রয়োজন নেই। আমি কিছু ফলমূল ইষ্টদেবকে নিবেদন করব।তখন শ্রীগৌরহরির অগ্রজ নিত‍্যানন্দ স্বরূপ শ্রীবিশ্বরূপ আগমন করে অতিথিকে বহু মিনতি ও আপ‍্যায়ন করে চরণ ধরে পুনঃ রন্ধন করতে বললেন।তখন বাধ‍্য হয়ে ব্রাহ্মণ পুনঃ রন্ধন করে ভোগ লাগালেন।তখন প্রায় অনেক রাত হয়ে গেছে, পিতামাতা,অগ্রজ সকলেই যোগমায়া নিদ্রায় অভিভূত হলেন।এবারও বালক গৌর নিবেদিত অন্ন গ্রহণ করতে আসিলে ব্রাহ্মণ হায়!হায়! বলে চিৎকার করে উঠলেন ; কিন্তু নিদ্রিত বলে কেউই শুনতে পেলেন না।তখন শ্রীগৌরসুন্দর ব্রাহ্মণকে বললেন---*
*🌷প্রভু বোলে আর বিপ্র তুমি ত উদার।*
*🌷তুমি আমায় ডাকি আন কি দোষ আমার।।*
*🌷মোর মন্ত্র জপ করি মোরে করহ আহ্বান।*
*🌷রহিতে না পারি আমি আসি তোমাস্থান।।*
*🌷সেই ক্ষণে দেখে বিপ্র পরম অদ্ভুত।*
*🌷শঙ্খ চক্র গদা পদ্ম অষ্টভূজরূপ।।চৈঃভাঃ।।*
*🌻ব্রাহ্মণ দেখিলেন, "এক হাতে নবনী,অন‍্য হাতে খায়, শ্রীবৎস লাঞ্জিত বক্ষ,পরিসর বক্ষে বৈজয়ন্তী মালা দুলছে,শিরে নবগুঞ্জা সহ শিখিপুচ্ছ শোভা পাচ্ছে, নখর মণির কিরণে অন্ধকার দূরে যাচ্ছে।ব্রাহ্মণ গোপ গোপী,গাভী দর্শন করলেন।কদম্ব বৃক্ষে কোকিল,শুক-সারি ও ময়ূরময়ূরীগণের নৃত্য দেখলেন,এই ঐশ্বর্য‍্য দর্শন করে ব্রাহ্মণ মূর্ছিত হয়ে মাটিতে পড়ে গেলেন।করুণার অবতার প্রভু গৌরসুন্দর ব্রাহ্মণের অঙ্গে শ্রীহস্ত সঞ্চালন করলে তিনি চৈতন‍্যলাভ করে কম্প,পুলকাদি অষ্টসাত্ত্বিক বিকার গ্রস্ত হয়ে হুঙ্কার গর্জনে নৃত্য করতে লাগলেন।*
*🍀শ্রীহস্তে খড়ি দিবার শুভক্ষণ আগমন করলে শ্রীমিশ্র পুরন্দর (জগন্নাথমিশ্র) হাতে খড়ি দিলেন।তার সঙ্গেও কর্ণবেধ ও চূড়াকরণ করলেন।১৪১৬ শকাব্দে অক্ষয় তৃতীয়ার দিন নিমাইয়ের উপনয়ন হ'ল।বর্ণাক্ষর দেখিবামাত্র আপন মনে লিখে যান।গৌরহরি নিরন্তর বা সবসময় শ্রীকৃষ্ণের নাম-মালা লিখেন। প্রায়শঃ রাম,কৃষ্ণ, মুরারি, মুকুন্দ, বনমালী প্রভৃতি নাম লিখে সেটি শ্রীমুখে উচ্চারণ করেন।*
*🍀প্রত‍্যেকদিন নিমাই সমবয়সী বালকদের সঙ্গে খেলা করে শ্রীঅঙ্গ ধূলায় ধূসরিত করেন বলে বাৎসল‍্যপ্রেমময়ী মা শচীদেবী শাসন করেন।একদিন শচীমা খই ও সন্দেশ নিমাইয়েরহাতে দিয়ে গৃহকর্মাদি করতে চলে গেলেন। নিমাই তা না খেয়ে মাটি ভক্ষণ করছেন। শচীমা হায়!হায়! বলে শ্রীহস্ত হতে মৃত্তিকা ফেলে দিলে নিমাই কাঁদতে কাঁদতে বললেন, "মা! এই মাটিতেই আমাদের দেহ সৃষ্টি,এই মাটিতেই অন্ন হয় ইত্যাদি জ্ঞানগর্ভ কথা মাকে শিক্ষা দিয়ে শচীমায়ের কোলে উঠে স্তন পান করতে লাগলেন।*
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🔜 ক্রমাগত 👉 প্রেমঋণে শ্রীগৌরাঙ্গ মাধব 🥀 শ্রীরাধাবিনোদ সরকার 📖 পঞ্চম ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/05/prem5.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

    📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝
    ꧁👇📖 সূচীপত্র ✍️ শ্রী জয়দেব দাঁ 📖👇



✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧


✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

   ✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️ 
নিবাস- বাঁশবাড়ী, কীর্তন মন্দিরের পাশে, পোঃ- বাঁশবাড়ী, থানা- ইংরেজ বাজার, জেলা- মালদহ, পশ্চিমবঙ্গ, পিন কোড- ৭৩২১০১।

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

  *••••┉❀꧁👇🏠Home Page🏠👇꧂❀┅••••* 


✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

    *••••━❀꧁👇 📖 সূচীপত্র 📖 👇꧂❀┅••••* 



✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

     *••••━❀꧁👇📚 PDF গ্রন্থ 📚👇꧂❀┅••••* 


✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
    *••••┉━❀꧁ 🙏 রাধে রাধে 🙏 ꧂❀━┅••••* 
                   শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য প্রভু নিত্যানন্দ
              হরে কৃষ্ণ হরে রাম শ্রীরাধেগোবিন্দ।।
  *••••┉━❀꧁ 🙏 জয় জগন্নাথ 🙏 ꧂❀━┅••••*
              হরে কৃষ্ণ হরে কৃষ্ণ কৃষ্ণ কৃষ্ণ হরে হরে
              হরে রাম হরে রাম রাম রাম হরে হরে॥
  *••••┉━❀꧁ 🙏 জয় রাধাকান্ত 🙏 ꧂ ❀━┅••••*
   🌷❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀🌷
   🏵️❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀🏵️
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧


পদাবলী কীর্তনের ইতিহাস 🌷 ষষ্ঠ ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📝 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/05/podaboli6.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🔙 পূর্ব লীলা 👉 পদাবলী কীর্তনের ইতিহাস 🌷 পঞ্চম ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📝 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/04/podaboli5.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 👉 পদাবলী কীর্তনের ইতিহাস 🌷 ষষ্ঠ ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📝 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/05/podaboli6.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 👉 পদাবলী কীর্তনের ইতিহাস 🌷 ষষ্ঠ ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📝 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/05/podaboli6.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(৫১)পদাবলী কীর্তনের ইতিহাস*
*গীতগোবিন্দে রাগরূপ ও তার বিকাশ*

*১৯|(ক) গীতগোবিন্দের মূলে আছে, "দেশবরাড়ীরাগাষ্টতালী গীয়তে"।*
*(খ) রাণা কুম্ভা বলেছেন সঙ্গীতরাজে,*
*🌷তালো বর্ণযতী রাগাঃক্রমাদষ্টাদশ স্মৃতাঃ।*
*🌷মধ‍্যমাদিশ্চ ললিতো বসন্তো গুর্জরী তথা।।*
*🌷ধনাশ্রী ভৈরবী গৌন্ডকৃতিদেশাঙ্কিতাপি চ।*
*🌷মালবশ্রীশ্চ কেদার মালবীয়াদিগৌন্ডকৌ।।*
*🌷স্থানগৌন্ডশ্চ শ্রীরাগো মহ্লারশ্চ বরাটিকা।*
*🌷মেগরাগশ্চ ভদ্রাবদঘোরনীনিয়তা ইমে।।*
*🌷যাবদ্রাগং পদানি স‍্যুঃ প্রান্তে পাটস্বরাণি তু।*
*🌷ক্কচিৎক্কচিদগতালাপভূষিতাণি যথারুচি।।*
  ☆ ☆ ☆
*🌷যত্র স‍্যাৎ স প্রবন্ধোহয়ং রাগরাজি-বিরাজিতঃ।।*
*🔷এই উনবিংশ (১৯) প্রবন্ধটি গীতিরূপে প্রকাশ করায় বৈচিত্র্য আছে।এতে যতিতালে এবং মধ‍্যমাদি বা মধুমাধবী,ললিত,বসন্ত,গুর্জরী, ধনাশ্রী,ভৈরবী,গৌন্ডকৃতি,দেশাখ বা দেবশাখ,মালবশ্রী,কেদার,মালব, গৌন্ডকী,স্থানগৌড় বা স্থানগৌন্ড, শ্রীরাগ,মহ্লার বা মল্লার,বরাটিকা বা বরাটী,মেঘ এই আঠারোটি রাগের সমাবেশ দিয়ে গান করতে হয়।শ্লোক বা পদসংখ‍্যা ১৬ কিম্বা ১৭, কিন্তু ১৮টি রাগের বিকাশ থাকে এই প্রবন্ধে।মোটকথা রাণা কুম্ভার মতে, ১৯শ সংখ্যক প্রবন্ধটি রাগমালা দিয়ে গান করতে হবে।*
*২০|(ক) গীতগোবিন্দের মূলে আছে, "বসন্তরাগযতিতালাভ‍্যাং গীয়তে"।*
*(খ) সঙ্গীতরাজে রাণা কুম্ভা বলেছেন,*
*🌷আদিতালঃ প্রথমতঃ প্রতিমন্ঠস্ততঃ পরম্।*
*🌷চতুর্মাত্রাহ্বমন্ঠশ্চ তুর্যঃ স‍্যাদড্ডতালকঃ।।*
*🌷তালো বর্ণ-যতিঃ পশ্চান্নবমাত্রিকমন্ঠকঃ।*
*🌷নিঃসারশ্চ তথা ঝম্পা দ্রুমন্ঠশ্চ রূপকঃ।।*
*🌷প্রতিতালস্ত্রিপুটক একতালীতি সংজ্ঞয়া।*
*🌷এয়োদশ ত্রুমাত্তালাঃ প্রতিতালং পদানি চ।।*
   ☆ ☆ ☆
*🌷প্রতিতালং প্রয়োগেহপি রাগো নন্দো নিগদ‍্যতে।।*
*🔷অর্থ‍্যাৎ বিংশ (২০) সংখ্যক প্রবন্ধে তেরটি পদের সমাবেশ আছে, সুতরাং নন্দরাগে এবং তেরটি তালে তেরটি পদ গান করতে হবে। তেরটি তাল--,আদি,প্রতিমন্ঠ,৪ মাত্রাবিশিষ্ট মন্ঠ,অড্ড,যদি,৯ মাত্রাবিশিষ্ট মন্ঠ বা মন্ঠক,নিঃসার,ঝম্প,দ্রুতমন্ঠ,রূপক, প্রতি ত্রিপুট বা ত্রিপুট ও একতালী।এতগুলি তালের সমাবেশ থাকার জন্য হরিপ্রেমিক রাণা কুম্ভা এই প্রবন্ধের নাম দিয়েছেন "সানন্দ-গোবিন্দ" প্রবন্ধ।এতে পটহ, মুরজ,করট,শৃঙ্গ,শঙ্খ,ডমরু, ঢক্কা, কাহলী,মর্দল,দুন্দুভি প্রভৃতি বাদ‍্যের সহযোগ থাকবে।*
*২১| (ক) গীতগোবিন্দে মূলে আছে, "বরাড়ীরাগ-রূপকতালাভ‍্যাং গীয়তে"।*
*(খ)রাণা কুম্ভা একবিংশ ও দ্বাবিংশ প্রবন্ধের রাগ ও তাল বর্ণনা একসঙ্গে করেছেন,কারণ বরাড়ীরাগের সমাবেশ উভয় প্রবন্ধেরই আছে।তবে দ্বাবিংশ প্রবন্ধের তাল যতি।*
*২২| (ক)মূলে আছে, "বরাড়ীরাগ যতিতালাভ‍্যাং গীয়তে"।*
*(খ) রিণা কুম্ভা (একুশ ও বাইশ এই উভয় প্রবন্ধ সম্বন্ধে ) বলেছেন--*
*🌷ক্রমেণ নট্টকেদারশ্রীরাগস্থানগৌড়কাঃ।*
*🌷ঘোরণী মালবীয়শ্চ বরাটী মেঘরাগকঃ।।*
*🌷মালবশ্রীর্দেবশাখো গৌন্ডকৃচ্চাথ ভৈরবী।*
*🌷ধন্নাসিকা বসন্তশ্চ গুর্জরী চ মহ্লারকঃ।।*
*🌷ললিতঃ সপ্তদশমো রাগাস্তাবন্তি চ ক্রবাৎ।*
*🌷পদানি যেষু তালাঃ স‍্যুরিতস্তন্নাম কীর্ত‍্যতে।।*
*🌷আদ‍্যত্রিসপ্তদশমদ্বাদশে দ্রুতমন্ঠকাঃ।*
*🌷দ্বিতীয়ে নবমে চৈকাদশে চৈব এয়োদশে।।*
*🌷পদে পঞ্চদশে সপ্তদশে রূপক ইবিতঃ।*
*🌷চতুর্থে প্রতিপালব‍্যা দ্রুততালঃ পঞ্চাম স্মৃতঃ।।*
*🌷ত্রিপুট ষষ্ঠাষ্টময়োঃ স‍্যাদ্রুতপ্রতিমন্ঠকঃ।*
*🌷চতুর্দশে ষোড়শে চ ভদ্রঃ স‍্যাৎপ্রতিতালকম্।।*
  ☆ ☆ ☆
*স রাগশ্রেণীনামায়ং প্রীতিকৃৎ কমলাপতেঃ।।*
*🔷এই প্রবন্ধ দুইটিতেও রাগমালার সমাবেশ আছে।নট,কেদার,শ্রী, স্থানগৌড়,ঘেরণী(?),মালব বা মালবী, বরাটী,মেঘ,মালবশ্রী,দেবশাখ, গৌড়কৃতি,ভৈরবী,ধন্নাসিকা বা ধনাসি বা ধানসি,বসন্ত,গুর্জরী,মহ্লার বা মল্লার ও ললিত এই সতেরটি রাগ। ১ম,৩য়,৭ম,১০ম, ও ১৮শ পদে দ্রুতমন্ঠক ; ২য়, ৯ম, ১১শ, ১৩শ, ১৫শ, ১৭শ পদে রূপক ৪র্থ ও ৫ম পদে প্রতিতাল, ৬ষ্ঠ পদে ত্রিপুট ও ৮ম পদে দ্রুতমন্ঠ। ১৪শ ও ১৬শ পদে প্রতিতাতের ব‍্যবহার হবে।*
                    *ক্রমাগত*
*শ্রীজয়দেব দাঁ, বাঁশবাড়ী, মালদা।*
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 👉 পদাবলী কীর্তনের ইতিহাস 🌷 ষষ্ঠ ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📝 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/05/podaboli6.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(৫২)পদাবলী কীর্তনের ইতিহাস*
*গীতগোবিন্দে রাগরূপ ও তার বিকাশ*

*২৩| (ক) গীতগোবিন্দে মূলে আছে, "বিভাসরাগৈকতালীতালাভ‍্যাং গীয়তে"।*
*(খ) রাণা কুম্ভা বলেছেন-----*
*🌷পদানাং দশকং যত্র তালে বর্ণ-যতৌ ভবেৎ।*
*🌷ধ্রুবঃ প্রতিপদং গেয়ঃ কবিনামাঙ্কিতাৎ পদাৎ।।*
*🌷গীতালাপান্ যথাশব্দং প্রতিতালে ততঃপরম্।*
*🌷পাটাস্তেনাঃ স্বরাশ্চৈব শৃঙ্গারো রস-উত্তম।।*
*🌷দেবাশাখাভিধৌ রাগঃ প্রবন্ধে সংপদৃশ‍্যতে।*
*🔷দেবশাখে বা দেশাক রাগে ত্রয়বিংশ (২৩) প্রবন্ধ গান করতে হবে।পদের দশক যতিতালের থাকবে। পুনরায় "দোভ‍্যা সংযমিতঃ পয়োধরভরেণাপীড়িতম্" প্রভৃতি পদ-প্রসঙ্গে রাণা কুম্ভা বলেছেন--*
*🌷বিজয়ানন্দতালেন গৌড়ীরাগে বিরচ‍্যতে।*
*🌷পদ‍্যং পাটাঃ স্বরাস্তেনা লীলা নায়কসংভবাঃ।।*
 ☆ ☆ ☆ ☆
*🌷রাগে কর্পটবঙ্গালে স পৌরুষরসাৎপরঃ।।*
*🔷সেভাবে "তস‍্যাঃ পাটালাপনিজাঙ্কিতমুরো" প্রভৃতি চতুর্থ পদটি মরুকৃতি (মারু) রাগে ও যতিতালে গান করতে হবে।*
*🌷যতিতালেন তালেন প‍দ‍্যং পাটস্বরাস্তথা।*
 ☆ ☆ ☆ ☆
*🌷রাগো মরুতকৃতির্যত্র দ প্রবন্ধে নিগদ‍্যতে।।*
*২৪| (ক) গীতগোবিন্দের মূলে আছে, "রামকরীরাগযতিতালাভ‍্যাং গীয়তে"।*
*(খ) রাণা কুম্ভা বলেছেন----*
*🌷আদিতালস্তথা পঞ্চ হরবক্ত্র সমুদ্ভবাঃ।*
*🌷প্রতিমন্ঠশ্চতুর্মাত্রো মন্ঠশ্চৈরাড্ডতালকঃ।।*
*🌷তালো বর্ণযতিশ্চৈব জয়মঙ্গলসংজ্ঞিতঃ।*
*🌷বিজয়ানন্দনামা চ জয়শ্রীসংজ্ঞকঃ পরঃ।।*
*🌷প্রতিতালং পদানি স‍্যুঃ পাটাস্তদুভয়ং তথা।*
*🌷মধ‍্যে মধ্যে যথাশোভালপ্তিযুক্তির্বিশেষবৎ।।*
*🌷বিশেষতো বর্ণযতৌ যদা শ্রীসংজ্ঞিকোহপি চ ।*
*🌷তেনকাঃ স‍্যুঃ পদস্থানে প্রতিতালেন বেশ‍্যতে।।*
*🌷মুক্তিপাদাক্ষরৈর্যুক্তৈরালাপেন পুরস্কৃতৈঃ।*
*🌷পদান‍্যেরং ষোড়শ বৈ তালা একোনবিংশতিঃ।*
*🌷গৌড়ঃ স‍্যাদ্দেশতালাদিরাগঃ সর্বপদাশ্রয়ঃ।।*
*🔷অর্থ‍্যাৎ আদি,প্রতিমন্ঠ (৪ মাত্রাবিশিষ্ট), মন্ঠ,অড্ড,যতি, জয়মঙ্গল,বিজয়ানন্দ ও জয়শ্রী প্রভৃতি তালের এবং গৌড়রাগের সমাবেশ থাকবে চতুর্বিংশ প্রবন্ধে।*
*🌻এই ভাবে রাণা কুম্ভা "গীতগোবিন্দ"-পদগানে রাগ,তাল এবং রাগমালা ও তালশ্রেণীর সমাবেশ ঘটিয়েছেন নতূন ভাবে। মনে হয়,রাণা কুম্ভার সময়ে (১৫ শতক) গীতগোবিন্দে নতূন রাগ-সমাবেশের প্রয়োজন হয়ে ছিল তদানীন্তন রুচি ও ধারা অনুযায়ী। ভারতের ভিন্ন ভিন্ন অঞ্চলে গীতগোবিন্দগানে রাগ প্রকাশে ও গায়কীপদ্ধতিতে অনেক রকম মতভেদ দেখা যায়।যেমন বাংলাদেশের গীতরীতির ও মহারাষ্ট্রের কিংবা দক্ষিণ-ভারতের বিশেষ করে তাঞ্জোরের গীতিপদ্ধতির মধ্যে অনেকাংশ মিল নাই। মনে হয়,১২শ শতকের শেষার্ধে কবি জয়দেব ও জয়দেব-অনুসারীরা গীতগোবিন্দপদ যেভাবে গান করতেন রাগের যে প্রকাশভঙ্গীকে অনুসরণ করে, পরবর্তীকালে সে ধারা বা পদ্ধতি নানান কারণে লুপ্ত হয়ে যায়।*

*🙏শ্রীজয়দেব দাঁ, বাঁশবাড়ী, মালদা।*
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 👉 পদাবলী কীর্তনের ইতিহাস 🌷 ষষ্ঠ ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📝 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/05/podaboli6.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(৫৩)পদাবলী কীর্তনের ইতিহাস*
*গীতগোবিন্দে রাগ ও তালের সমাবেশ*

*গীতগোবিন্দ-পদগানে রাণা কুম্ভা যেভাবে রাগ ও তালের সমাবেশ করেছেন,পৃর্বে সেই বিষয়ে আলোচনা করেছি।গীতাধারার পরিবর্তন সাধারণত সমাজ ও শিল্পীর রুচিকে অপেক্ষা কিংবা অনুসরণ করেই হয়। রাণা কুম্ভা বিশেষভাবে তাঁর "সংগীতরাজ"গ্রন্থকে অনুসরণ করেছেন গীতগোবিন্দে রাগ ও বিশ্লেষণের ক্ষেত্রে।পূজারী গোস্বামী প্রমুখ অধিকাংশ টীকা ও ভাষ‍্যকারগণ মূলরীতিকেই অনুসরণ করে গীতগোবিন্দে রাগনামের পরিচয় দিয়েছেন।রাগগুলির নাম= মালব,মালব-গৌড়,গুর্জর বা গুর্জরী, বসন্ত,রামকিরী, রাগগুলি হল গোন্ডকিরী,ভৈরবী,বিভাস ও বরাড়ী প্রভৃতি (🔷পার্শ্বদেব (৭ম-১১শ শতক) "সংগীতসময়সার" গ্রন্থে গুন্ডকৃতি ছাড়া গুন্ডক্রীরাগের স্বররূপের পরিচয় দিয়েছেন।প্রকৃতপক্ষে গুন্ডকৃতি বা গুন্ডক্রী গুণক্রী নামেরই পরিচায়ক (ক্রী=কৃতি)।গুন্ডকৃতি বা গুন্ডক্রী শৃঙ্গার ও হাস‍্যরসে প্রযুক্ত।গুন্ডকৃতির পরিচয়--"প-মন্দ্রা হাস‍্য শৃঙ্গারে গেয়া গুন্ডকৃতির্ভবেৎ", অর্থ‍্যাৎ মন্দ্র-পঞ্চম পর্যন্ত গুন্ডক্রীর বিস্তার।গুন্ডকৃতি-- গুন্ডাকৃতি,গুন্ডক্রী,গুন্ডক্রীয়া, গুকিরী বা গুণকরী প্রভৃতি নামেও প্রচলিত। "মানসোল্লাস" গ্রন্থে সোমেশ্বর দেব এর নাম গুণকিরী (গুণকরী,গুণকিরী, গুণকৃতি,গুণক্রী) দিয়েছেন।এ' সম্বন্ধে লেখকের 'রাগ ও রূপ' (প্রথমখন্ড, চতুর্থ সংস্করণ পৃষ্ঠা ২৫৫) দ্রষ্টব‍্য।যাইহোক রাণা কুম্ভা উল্লিখিত সকল রাগের নাম-সার্থকতা ও স্বরস্বরূপের বিস্তৃত পরিচয় দেওয়া যেতে পারে এই প্রসঙ্গে)।গীতগোবিন্দে ব‍্যবহৃত রাণা কুম্ভার রাগগুলির নাম--, মধ‍্যমাদি বা মধুমাধবী,গুর্জরী,ললিত,বসন্ত,রামকিরী,পঞ্চম,ধন‍্যাসিক বা ধানসি, মালবগৌড়,ভৈরব,গৌড়কৃতি, দেশাক বা দেবশাক, মালবশ্রী, কেদার,মালব, স্থানগৌড়,শ্রীরাগ,মহ্লার বা মল্লার,বরাটী,মেঘ,নট, গৌন্ডকৃতি বা গৌন্ডক্রী বা গৌন্ডকী,নন্দ,শ্রী,ভৈরবী, কর্ণাটবঙ্গাল,মরুকৃতি বা মারবিকা (মারু), রামক্রী বা রামকিরী প্রভৃতি, আর তালগুলির নাম--আদি, নিঃসার, যতি,লঘু-আদি,ঝম্প,একতালী, প্রতিমন্ঠ,অড্ড,দ্রুতমন্ঠ,তৃতীয়তাল বা ত্রিতাল, রূপক,প্রতি,ত্রিপুটক বা ত্রিপুট, জয়শ্রী,জয়মঙ্গল, বিজয়ানন্দ প্রভৃতি। সুতরাং প্রচলিত মূলরাগ ছাড়া রাণা কুম্ভা আরো অনেক বেশী সংখ্যক রাগ ও তালের সমাবেশ করেছেন তাঁর সুপ্রসিদ্ধ "রসিকপ্রিয়া" টীকায়।*
*🍀খ্রীষ্টীয় পঞ্চদশ শতকে মেবাররাজ রাণা কুম্ভার রাগ ও তালের পরিবর্তন-সম্পর্কে দক্ষিণ ভারতের বিদগ্ধ ঐতিহাসিক ডঃ কৃষ্ণমাচারিয়ারের অভিমত বিশেষ উল্লেখযোগ্য।গীতগোবিন্দের আলোচনা প্রসঙ্গে তিনি তাঁর History ofClassical Sanskrit Literature (1937) গ্রন্থে ৩৪০ পৃষ্ঠায় পাদটীকা দ্রষ্টব‍্য।*
*The Melody,for instance, of the first Astapadi, the notes of which are C, D-flat, E, F, G, A-flat and B as the keynote.*
*"In the Hindu,dated 16.11.1927, P. R. Sundara Ayer, Head Master, Training School, Trichinopoly,Writes ; There has been some doubts among musicians here about the authenticity of the Ragas, assigned to each Astapadi. Let us examine the Raga's of Astapadi as per Kumbha. The Raga, assigned to first Astapadi as per heading, is Malava. Kumbha clearly states that he is making a change and sings the first Astapadi in Madhyamadi (Shadava) in Madhyama-grama He states as his reason that the thought, that is conveyed, has to be adjusted and expressed in that Raga along. He says---*
*🌷প্রতজ্ঞায়ি প্রবন্ধো যো জয়দেবেন ধীমতা।*
*🌷ন তস‍্য বিদ‍্যতে লক্ষ্ম সর্বাঙ্গৈরুপলাক্ষতম্।।*
*🌷অতঃ স্বরাদিভিঃ ষড়্ ভিরঙ্গৈঃ সংযোজ‍্য তথ‍্যতাম্।*
*🌷নীত্বা গীত্বা তদা হিত্বা কুটীকাসু(-স্তু)প্রবর্ত‍্যতে।।*

*Which means ; The composition was made by Jayadeva and it is musically imperfect in so many ways. I shall, therefore, Provide it with the 'Svaras' and the other limbs of music and give it its true colour etc. So Kumbha, a musician himself, of course an expert musician of the northern side-- clearly means that the music of Jayadeva in the original was bad, and he was constrained to effect a change in the melody as evidenced by the further statement in the Preface--- "গমকালাপপেশলতয়া মধ‍্যমগ্রামে যাড়বেন মধ‍্যমগ্রহেণ মধ‍্যমাদিরাগেণ গীয়তে"। As it is provided with flourishes and is fit for sweet singing Raga, it has to be sung in Madhyamadi-- a sadava-Raga (six note Raga) of the Madhyama-grama.*
*It has to be noted that Kumbha of Mewar, a musicianking as he was, had the necessity to change the original tunes of Jayadeva even as early as the 14th century. (প্রকৃতপক্ষে এটি খ্রীষ্টীয় ১৫শ কিংবা ১৬শ শতকের মাঝামাঝি হওয়া উচিত),Perhsps or more than that, the very reason, assined by Kumbha,the South Indian a system in which Particular Ragas are assined to particular ideas for the expression of the lover in particular stages. Take the Nayaki in sixteenth Astapadi-- punnagavarsli has been specially seleted for the expression of the same stage of the same sentiment by the musicians of the South like Kshetrajna" (Italics ours).*
                     *ক্রমাগত*
*Shree Joydeb Dawn, Banshbari, Malda.*
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 👉 পদাবলী কীর্তনের ইতিহাস 🌷 ষষ্ঠ ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📝 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/05/podaboli6.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(৫৪)পদাবলী কীর্তনের ইতিহাস*
*গীতগোবিন্দে রাগ ও তালের সমাবেশ*

*🍀ক্রমবিবর্তনশীল সমাজে রুচি ও দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন হওয়া স্বাভাবিক এবং সেই রুচি ও প্রয়োজন অনুসারে উত্তর ও দক্ষিণ-ভারতীয় সঙ্গীতধারায় বহুবারই পরিবর্তন এসেছে। বাংলাদেশে স‍্যার সৌরীন্দ্রমোহন ঠাকুরের প্রেরণায় তদানীন্তনকালে বিদগ্ধ গীতশিল্পী ও সঙ্গীতশাস্ত্রী শ্রদ্ধেয় ক্ষেত্রমোহন গোস্বামীও "গীতগোবিন্দ" পদগানে নতূন নতূন রাগ যোজনা করেছিলেন এবং তাতে মালবকৌশিকাদি রাগের সমাবেশ পাওয়া যায়। শ্রদ্ধেয় ক্ষেত্রমোহন গোস্বামী রচিত "গীতগোবিন্দগান-স্বরলিপি" গ্রন্থ প্রকাশিত হলেও বর্তমানে তা দুষ্প্রাপ্য।গোস্বামীজী গীতগোবিন্দে রাগ ছাড়া নতূন নতূন তালেরও সমাবেশ করেছিলেন। তাছাড়া বিষ্ণুদিগম্বরের জনৈক সঙ্গীতশিষ‍্য মারাঠীভাষায় "গীতগোবিন্দ-স্বরলিপি" নামক একটি গ্রন্থ প্রকাশ করেন।*
*সুতরাং রুচির প্রয়োজনে "গীতগোবিন্দ" পদগানে রাগ ও তাল নতূনভাবে যে সংযোজিত কোনদিন হয়নি একথা ঠিক নয়। তাছাড়া একথা সকলেই জানেন যে, প্রাচীন ভারতে শাস্ত্রীয় রাগ ও তাল যেভাবে গীত ও তাদের প্রয়োগ করা হত, অষ্টাদশ শতকের শেষভাগে কিংবা উনবিংশ শতকের প্রথম দিকে তাদের প্রকাশ ও প্রয়োগরীতির যথেষ্ট পরিবর্তন হয়েছিল এবং বর্তমানে সেই পরিবর্তিত ধারারই অনুসরণ করে আসছেন সঙ্গীতের যন্ত্র ও কন্ঠ শিল্পীরা।আগেই আলোচিত হয়েছে যে, প্রধান থাটরূপের পরিবর্তন হওয়ায় (প্রাচীন মুখারী বা কাফীপ্রায় থাটের বিবর্তিত রূপ বিলাবল-থাট) বতর্মান রাগরূপেও পরিবর্তন এসেছে।যেমন, প্রাচীন গৌরী-সংস্থান বা গৌরী-থাটের বতর্মান রূপ ভৈরব-থাট (হিন্দুস্থানী)বা মায়ামালবগৌড় কিংবা মায়ামালবগৌল (দক্ষিণী)।প্রাচীন কর্ণাট-থাট বর্তমানে খাম্বাজ-থাট, দেশাখ বা দেবশাখ বর্তমানে বৃন্দাবনীসারঙ্গের অনুরূপ প্রভৃতি। কিন্তু এখানে "tradition" বা ঐতিহ্যবাহী ধারার একটি প্রশ্ন আছে।বৈজু বাওরা,নায়ক গোপাল, স্বামী হরিদাস,মিঞা তানসেন প্রভৃতি সঙ্গীত সাধকরা মধ‍্যযুগে যে যে প্রবন্ধগান যে যে রাগে রচনা করেছিলেন,কথিত আছে, কিছু কিছু বিকৃত হলেও গুরু-শিষ‍্যপরম্পরায় সেই সেই গান সেই সেই রাগে আজও অনুশীলিত হয়ে আসছে। সঙ্গীতশিক্ষার ক্ষেত্রে গায়কীধারায় (style) অনুবর্তন হওয়ায় স্বাভাবিক।*
*সুতরাং রাগরূপের প্রকাশে বা প্রতিফলনে কিছু কিছু বিকৃতি আসা অনিবার্য হলেও মোটামুটিভাবে বাংলার বিদগ্ধ কীর্তনীয়াসমাজ যদি ঐতিহ্যবাহী গুরুশিষ‍্যপরম্পর্য রক্ষা ক'রে থাকেন, তবে রুচি অনুসারে কিংবা প্রয়োজনবোধে রাগরূপে পরিবর্তন সৃষ্টি করা কতটুকু সমীচীন তা ভেবে দেখার বিষয়।একথাও আবার ইতিহাসের দিক থেকে সত‍্য যে,প্রাচীন থাটে,রাগরূপে ও গীতিরীতি বা গায়কীপদ্ধতিতে কিছু কিছু পরিবর্তন সাধিত হয়েছে প্রাচীনের চেয়ে নতূন ফা বতর্মান হিন্দুস্থানী ও কর্ণাটকী পদ্ধতিতে। সুতরাং ইতিহাসের দৃষ্টি ও মান উভয় ক্ষেত্রেই গৃহীত ও সমাদৃত। ইতিহাস পুরাতনের অনুবর্তন বা অনুসরণ করার ক্ষেত্রে যেমন প্রেরণা দান করে,তেমনি অপরিহার্য প্রাকৃতিক বিবর্তনরীতি অনুসরণ ক'রে নতূনের সংযোজন ও প্রতফলনের ক্ষেত্রেও প্রেরণা দান করে। সুতরাং প্রাচীন ও নবীন এই কোন রীতির অনুসরণ গীতগোবিন্দ-পদগানে ও তদনুসারী পদাবলীকীর্তনে সমীচীন তা নিয়ে নির্দিষ্ট আলোচনা আজও পর্যন্ত ভারতের গীতশিল্পী ও সঙ্গীতশাস্ত্রীরা বিশেষভাবে করেননি।কাজেই গীতগোবিন্দ ও কীর্তনপদাবলী গীত হয়ে আসছে এখনো পর্যন্ত নতূন নতূন রাগে ও তালে নিজ নিজ পদ্ধতি, দেশীয় রুচি, সম্প্রদায় ও গুরুশিষ‍্যবাহী শিক্ষার প্রমাণের কিংবা ইঙ্গিতের অনুপাতে। বৈষ্ণব-পদাবলীকীর্তনের ক্ষেত্রেও দেখা যায়,কবি জয়দেব গোস্বামীর পরই (১)বড়ু চন্ডীদাস কৃষ্ণকীর্তনে গুর্জরী,সৌরী (সৌরাষ্ট্রী),দেশাগ-দেশাক-দেবশাক, দেশবরাড়ী,ভাটিয়ালী,মারহাঠা বা মারহাটি,কেদার,ধানুষী বা ধানসী, কোড়া, পাহাড়ীয়া বা পাহাড়ী,বেলাবলী,মল্লার,বসন্ত, মালবশ্রী,শ্রীরাগ প্রভৃতি রাগের ব‍্যবহার করেছেন। তারও আগে (২) রায় রামানন্দের পদগানে দেখা যায়, নাটিকা,তুড়ী বা তোড়ী,প্রভৃতি রাগের (৩)মুরারী গুপ্তের পদে পটমঞ্জরী, কামোদ,তথা(?), সুহই বা সুহা (৪)বাসুদেব ঘোষের পদে বরাড়ী, জয়জয়ন্তী,ভূপালী,গান্ধার,মায়ূর (৫) শ্রীরূপ গোস্বামীর পদে গৌরী,গান্ধার প্রভৃতি এবং (৬)অষ্টাদশ-উনবিংশ শতকে ঘনশ‍্যাম-নরহরি চক্রবর্তী, রাধামোহন ঠাকুর প্রভৃতির "ভক্তিরত্নাকর", সঙ্গীতসারসংগ্রহ" "গীতচন্দ্রোদয়" "পদামৃত সমুদ্র" প্রভৃতি গ্রন্থের পদগানে মঙ্গল, সিন্ধুরা, নট,খাম্বাবতী,সার্ঙ্গ বা সারঙ্গ, কানর বা কানাড়া,তিরোথা ধানসী, পঠমঞ্জরী প্রভৃতি রাগ ও তাল হিসাবে মন্ঠক,কন্দর্প,একতালি, জয়মঙ্গল, প্রতিমন্ঠক,দশকোষী,রূপকমন্ঠক, পট,মধুর,বিজয়ানন্দ,মন্ঠ বা উৎসাহ,নন্দন (নন্দরাগের নাম করেছেন রাণা কুম্ভা) সম,ধ্রুব, বৃহদেকতালী প্রভৃতি। এ' সকল রাগ ও তালের রূপ ও প্রকাশ-সম্পর্কে বিশেষভাবে আলোচনা করব পরে পদাবলীকীর্তন প্রসঙ্গে। এখানে লক্ষ্য করার বিষয় যে,বিদগ্ধ মহাজন বা পদকর্তারা কালের প্রবাহে নতূন নতূন রাগ ও নতূন নতূন তালের সমাবেশ করেছেন তাঁদের বিভিন্ন রচনায়। কিন্তু পুরাতন ও নতূন রাগ-সম্পর্কে একটি কথা এই যে,রচয়িতা ও শিল্পীরা রাগগুলির রূপপ্রকাশে প্রাচীন ধারারই অনুসরণ করেছেন সর্বতোভাবে।*
*সামাজিক দৃষ্টি ও মানসিক রুচির মান ও রহস‍্য তাঁদের কাছে অজানা ছিল না, অথচ কীর্তনের সুর বা রাগ প্রয়োগনৈপুণ‍্যে তাঁরা প্রাচীন রীতিরই অনুসারী।তাই এই প্রসঙ্গে মনে রাখতে হবে যে, বাংলার বিদগ্ধ কীর্তনীয়া সমাজ চিরদিনই ছিলেন এবং এখনো আছেন ঐতিহ্যবাহী গুরুশিষ‍্যপরম্পরার অনুরাগী এবং সেই প্রাচীন ধারার উপর বিশ্বাস ও শ্রদ্ধা নিয়েই তাঁরা অনুশীলন ও পরিবেশন করেন পদাবলীকীর্তন।*
*গীতগোবিন্দ-পদগানসম্পর্কে প্রবাদ যে,পুরীতে জগন্নাথ-মন্দিরে গীতগোবিন্দের গীতরীতিই নাকি স্মরণ করিয়ে দেয় আজও পর্যন্ত বিশুদ্ধ পদ্ধতির কথা। কিন্তু যতটুকু অনুশীলন করার সে সম্বন্ধে সুযোগ পেয়েছি, তাতে প্রবাদাশ্রয়ী প্রামাণিকতা স্বীকার্য নয় বলেই মনে করি।হয়তো একথা ইতিহাসের দিক থেকে সত‍্য যে--, The poem was held in much esteem in Orissa. It was order to be sung in temples by King Prataparudradeva and king Purusottamadeva (1470-1497 A.D) the composed Abhinava Gitagobinda. (Vide. History of Classical Sanskrit Literature 1967, Page--339)। কিন্তু পুরীর বতর্মান গীতরীতি বেশীর ভাগ ক্ষেত্রে প্রবাদ-প্রামাণিকতারই সাক্ষ‍্য বহন করে। দক্ষিণভারতের তাঞ্জোরীয় গীতিপদ্ধতির পক্ষেও ঠিক এই এক কথায় বলা যায়,কেননা তাঞ্জোরে গীতগোবিন্দ-পদগান যেভাবে গান করা হয়, তা অনেক বিশেষজ্ঞের মতে সঠিক ও প্রাচীন গীতরীতির ধারক। কিন্তু মনে হয়,তাও বিশেষ পরীক্ষা করে দেখা উচিত। বাংলাদেশে কীর্তনীয়া সম্প্রদায়ও যেভাবে ও যে ধারায় বর্তমানে গীতগোবিন্দের পদগান পরিবেশন করেন তাও যথাযথ কিনা অনুসন্ধানের বিষয়।*

*শ্রীজয়দেব দাঁ, বাঁশবাড়ী, মালদা।*
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 👉 পদাবলী কীর্তনের ইতিহাস 🌷 ষষ্ঠ ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📝 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/05/podaboli6.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(৫৫)পদাবলী কীর্তনের ইতিহাস*
*গীতগোবিন্দ ও পদাবলীকীর্তনের নায়ক-নায়িকা।*

*🍀বৈষ্ণব-পদাবলীকীর্তনে নায়িক-নায়িকাভেদ, তার রসবিকাশ ও ভাবতত্ত্বই প্রধান।তাছাড়া অপার্থিব রাধাকৃষ্ণলীলাতত্ত্বই শ্রীকৃষ্ণ ও শ্রীরাধার বিচিত্র লীলা কাহিনীর আকারে পদাবলীকীর্তনের প্রধান বিষয়বস্তু।পদাবলীকীর্তনে মাথুর,রাস,কলহান্তরিতা,দান, নৌকাবিলাস, খন্ডিতা প্রভৃতি পালা শ্রীরাধাকৃষ্ণের অপ্রাকৃত প্রেমলীলাকাহিনীকে কেন্দ্র করেই সৃষ্টি হয়েছে।শ্রীরাধা ও শ্রীকৃষ্ণ সকল পালা বা কীর্তনকাহিনীরই প্রাণবস্তু। কিন্তু পদাবলীকীর্তনে সমগ্র রাধাকৃষ্ণলীলা কাহিনীর উৎসই গীতগোবিন্দকাব‍্য বা গীতগোবিন্দপদগান।*
*গীতগোবিন্দের প্রথম সর্গের প্রথম শ্লোকেই দেখি,কবি জয়দেব গোস্বামী যমুনাকূলবিহারী শ্রীরাধা-কৃষ্ণের জয়গান করেছেন। "রাধামাধবযোর্জয়ন্তি যমুনাকূলে রহঃ কেলয়ঃ"।শৃঙ্গাররসপ্রধান শ্রীরাধা কৃষ্ণের যমুনাকূলে বিজনকেলি এবং রাধাকৃষ্ণলীলা মুখরিত এই গীতগোবিন্দকাব‍্য শৃঙ্গারপ্রধান--"শৃঙ্গাররস প্রধানং হি কাব‍্যম্"। গীতগোবিন্দে শ্রীরাধা-কৃষ্ণ- সম্পর্কিত পদাংশ, যথা ঃ---*
*(ক)বসন্তে বাসন্তীকুসুমসুকুমারৈররয়বৈ,*
*র্ভ্রমন্তীং কান্তাবে বহুবিহিতকৃষ্ণানুসারণাম।*
☆ ☆ ☆ ☆
*বলদ্ রাধাং রাধাংসরসমিদমূচে সহচরী।১|২৭।*
*🌻মাধবীকুসুম তুল‍্য কোমলাঙ্গী শ্রীরাধা নিভৃত প্রদেশে শ্রীকৃষ্ণের খোঁজে ব‍্যাকুলা।*
*(খ)চন্দনচর্চিতনীলকলেবরপীতবসনবনমালী।*
☆ ☆ ☆ ☆
*হরিরিহ মুগ্ধবধূনিকরে বিলাসিনী বিলসতি কেলিপরে।*
                                  *(১|৪০)*
*🌻পীতবসন পরিহিত বনমালী শ্রীকৃষ্ণ বিলাসমত্তা মুগ্ধা গোপবধূগণকে নিয়ে কেলিবিলাসে রত।*
*(গ)*
*রাসোল্লাসভরণে বিভ্রমভৃতামাভীরবামভ্রুবিম,*
*অভ‍্যর্ণে পরিরভ‍্য নির্ভরমুরঃ প্রেমান্ধয়া রাধয়া।*
*🌻রাসোল্লাসে বিহ্বল চিত্ত গোপীগণের সম্মুখেই শ্রীরাধা শ্রীকৃষ্ণকে দৃঢ়ভাবে প্রেমালিঙ্গন দান করলেন।*
*(ঘ)*
*বিহরতি বনে রাধা সাধারণপ্রণয়ে হরৌ।*
*🌻শ্রীরাধা নির্বিচারে সকল গোপীর সঙ্গে মিলিত হয়ে শ্রীকৃষ্ণের সঙ্গে বিহার করছেন।*
*(ঙ)*
*গোবিন্দং ব্রজসুন্দরীগণবৃতং পশ‍্যামি হ‍্যষ‍্যামি চ।*
*🌻ব্রজসুন্দরীগণ পরিবৃত গোবিন্দকে নিরীক্ষণ করে সকলে আনন্দিত।*
*(চ)*
*কংসারিরপি ☆ ☆ রাধামাধায় হৃদয়ে তত্ত‍্যাজ ব্রজসুন্দরী।*
*🌻কংসারি শ্রীকৃষ্ণ ☆ ☆ রাধার পূর্ণ-অনুধ‍্যানে ব্রজাঙ্গনাগণের সঙ্গ পরিত‍্যাগ করলেন।*
*(ছ)*
*ইতস্ততষ্টামনুসৃত‍্য রাধিকামনঙ্গবাণব্রণখিণ্ণমানসঃ, বিষাদ মাধবঃ।*
*🌻অনঙ্গবাণে ব‍্যথিতচিত্ত মাধব শ্রীকৃষ্ণ ☆ ☆ রাধিকার দেখা না পেয়ে অনুতাপ করতে লাগলেন।*
*(জ)*
*যমুনাতীর-বানীরনিকুঞ্জে মন্দমাস্থিতম্।*
*প্রাহ প্রেমভরোদভ্রান্তং মাধবং রাধিকাসখী।।*
*🌻যমুনাতটবর্তী বেতসকুঞ্জে ☆ ☆ মাধব শ্রীকৃষ্ণকে রাধিকার সখী এসে বললেন।*
*(ঝ)*
*স্তনবিনিহিতমপি হারমুদারম্।*
☆ ☆ ☆ ☆
*রাধিকা তব বিরহে কেশব।।*
*🌻হে শ্রীকৃষ্ণ, তোমার বিরহে শ্রীরাধা গৃহকে অরণ‍্যপ্রায় জ্ঞান করছেন।*
*এভাবে ৪|২০,৫|১,৫|২১,৬|২,৬|১২, ৭|৪২,১০|১৭,১১|১,১১|২,১১|২৪,১১|৩২,১২|১,১২|২,১২|১৬ শ্লোকগুলিতে শ্রীরাধাকৃষ্ণের নামের উল্লেখ পাই এবং গীতগোবিন্দপদ-রচয়িতা কবিশেখর জয়দেব যে একান্তভাবে শ্রীরাধাকৃষ্ণের অনুগত ছিলেন তা "তৎ সর্বং জয়দেব পন্ডিতকরেঃ কৃষ্ণৈকতানাত্মনঃ" (১২|২৭) (শ্রীকৃষ্ণে একতানঃ একাগ্রোহনন‍্যবৃত্তিরাত্মা মনো যস‍্য তস‍্য শ্রীকৃষ্ণৈকান্তভক্তস‍্যৈব সর্বগুণাশ্রয়ত্বাদিত‍্যর্থঃ, পূজারী গোস্বামী)।শ্লোকই প্রমাণ করে এবং তারজন‍্য তাঁর গীতগোবিন্দকাব‍্য "হরিচরণস্মরণামৃতনির্মিতকলিকলুষজ্বরখন্ডনে" সমর্থ।*
*এখানে লক্ষ্য করবার বিষয় যে, কবি জয়দেব শ্রীকৃষ্ণেরই পদ বন্দনা করেছেন,শ্রীকৃষ্ণেরই তিনি শরণাগত, কিন্তু সেখানে শ্রীরাধার বা শ্রীরাধিকার নামের কোন উল্লেখ নেই। তাছাড়া এটাও লক্ষ্য করবার বিষয় যে,গীতগোবিন্দের সর্গবন্ধে তথা প্রতিটি সর্গের সঙ্গে শ্রীকৃষ্ণের নামই সম্পর্কিত, যেমন প্রথম সর্গের নাম "সামোদ-দামোদর" দ্বিতীয় সর্গের নাম "অক্লেশ-কেশব" তৃতীয়,চতুর্থ,পঞ্চম,ষষ্ঠ,সপ্তম সর্গের নাম "মুগ্ধমধুসূদন", স্নিগ্ধমধুসূদন" "সাকাঙ্ক্ষা-পুন্ডরীকাক্ষ" "ধৃষ্টবৈকুন্ঠ" "নাগর-নারায়ণ" প্রভৃতি।এই সম্বন্ধে আমরা পূর্বেই আলোচনা করেছি। তাছাড়া কবি জয়দেবের শ্রীকৃষ্ণের স্বরূপ ও মহিমা-বর্ণনাভঙ্গীও একটু ভিন্ন ধরণের, কেননা শ্রীমদ্ভাগবতে বৈষ্ণবভক্তিনিষ্ণাতও মধুররস-সমুজ্জ্বল শ্রীকৃষ্ণলীলার বর্ণনার সঙ্গে গীতগোবিন্দে জয়দেব বর্ণিত মধুরোজ্জ্বল শ্রীকৃষ্ণলীলা বর্ণনার ঠিক ঐক্য ও সামঞ্জস্য নাই, বরণ গীতগোবিন্দের শ্রীকৃষ্ণলীলা বর্ণনার সাদৃশ‍্য পাওয়া যায় ব্রহ্মবৈবর্ত পুরাণকারের শ্রীকৃষ্ণলীলা বর্ণনার সঙ্গে।*
                   *ক্রমাগত*
*শ্রীজয়দেব দাঁ, বাঁশবাড়ী, মালদা ।*
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 👉 পদাবলী কীর্তনের ইতিহাস 🌷 ষষ্ঠ ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📝 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/05/podaboli6.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(৫৬)পদাবলী কীর্তনের ইতিহাস*
*গীতগোবিন্দ ও পদাবলীর নায়ক নায়িকা*

*🍀গীতগোবিন্দে বর্ণিত শ্রীরাধিকা বা শ্রীরাধার যে "উজ্জ্বলরসের নায়িকা"-রূপের বর্ণনা পাওয়া যায়, তার সাদৃশ‍্যও ঠিক শ্রীমদ্ভাগবতে পাওয়া যায় না।মোটকথা "ভগবদুপাসনার ঐশ্বর্য‍্য ও মাধুর্য‍্যের এ দুটি দিক গীতগোবিন্দে ও ব্রহ্মবৈবর্ত পুরাণে সমানভাবে প্রতিপাদিত হয়েছে।(ডঃ শ্রীসুশীল কুমার দে-প্রণীত "নানা নিবন্ধ" (প্রথম সংস্করণ ১৯৫০) গ্রন্থে জয়দেব ও গীতগোবিন্দ, পৃষ্ঠা ৪৬)।শ্রদ্ধেয় ডঃ সুশীল কুমার দে এ সম্পর্কে অভিমত প্রকাশ করেছেন, "বাংলাদেশে রাধাকৃষ্ণের রস-উপাসনা কি ভাবে বা কার দ্বারা প্রথম প্রবর্তিত হয়েছিল তা নিঃসন্দেহে নির্ণয় করা দুরূহ, কারণ তদানীন্তন বৈষ্ণবধর্মের ইতিহাসের সুস্পষ্ট পরিচয় এখনও পাওয়া যায় নাই।যতটুকু জানা যায়, তা হতে এরকম অনুমান করলে ভুল হবে না যে,জয়দেব,ব্রহ্মবৈবর্তপুরাণকার ও নিম্বার্ক এই তিনজনই আপন-আপন অনুভবের দ্বারা কোন অধুনালুপ্ত বৈষ্ণবভাবের কোন একটি ধারা অনুসরণ করেছেন।এই ধারা বোধহয় পরবর্তী শ্রীমদ্ভাগবত-প্রবর্তিত ধারা হতে স্বতন্ত্র এবং ইঁহাদেরকে পরস্পরের কাছে ঋণী বলে গ্রহণ করবার কোন প্রমাণ নেই।(ঐ পৃষ্ঠ ৪৭)।*
*ইতিহাসের পরিপ্রেক্ষিতে এ'কথা নিশ্চিতভাবে বুঝা যায় যে,কবি জয়দেব শ্রীমদ্ভাগবতে বর্ণিত শৃঙ্গাররসবহুল শ্রীরাধাকৃষ্ণের লীলা বিলাস তত্ত্বের দ্বারা প্রভাবিত হয়ে গীতগোবিন্দপদগান রচনা করেননি, কেননা শ্রীমদ্ভাগবতে রাধাকৃষ্ণলীলা মাধুর্য‍্য রসতত্ত্বে পরিণত এবং অপ্রাকৃত সেই তত্ত্ব ও তত্ত্বের আস্বাদন।কবি জয়দেব শ্রীরাধাকৃষ্ণের চিরন্তন প্রেমলীলাই বর্ণনা করেছেন।তাঁর পদগানে সেই প্রেমলীলা বাস্তব বিরহবেদনা, সুখ-দুঃখ,আশা-আকাঙ্খার অতীত হয়ে ধ‍্যানগম‍্য নিত‍্যবৃন্দাবনের সৃষ্টি করেনি,বরং "প্রাকৃত প্রেমলীলার প্রতিচ্ছবি-রূপে অপ্রাকৃতিক বৃন্দাবনলীলা,মানবোচিত ভাব ও আশার উজ্জ্বল ও গীতিময় শব্দচিত্র পরম্পরায় সর্বসাধারণের অধিগম‍্য হয়েছে।এই বাস্তব ও কল্পনার সংযোগে অতীন্দ্রিয় ও ইন্দ্রিয়গত ভাবের মিশ্রণ,ইহাই গীতগোবিন্দের অন্তর্গত কাব‍্যবস্তু।(ডঃ এস কে দে, "নানা নিবন্ধ"(জয়দেব ও গীতগোবিন্দ) পৃষ্ঠা ১২৫)। সুতরাং এই গীতগোবিন্দকাব‍্য সবিশেষ থেকে পরিশেষে নির্বিশেষ রস উপলব্ধির আনন্দরাজ‍্য প্রতিষ্ঠিত হয়েছে বলা যায়।*
*🍀শ্রদ্ধেয় পন্ডিত শ্রীহরেকৃষ্ণ মুখোপাধ‍্যায় বলেছেন, "শ্রীমদ্ভাগবতে যে রহস‍্য গুপ্ত ছিল,গীতগোবিন্দে তা প্রকাশিত হয়েছে " (কবি জয়দেব ও গীতগোবিন্দ (তৃতীয় সংস্করণ ১৩৬২) পৃষ্ঠা ১২৫)। এবং এই মতের পরিপোষণে তিনি পুনরায় বলেছেন, "কবি জয়দেব যে শ্রীমদ্ভাগবতের সঙ্গে পরিচিত ছিলেন,উভয় গ্রন্থের শ্রীশ্রীরাসলীলার বর্ণনাতেও তার প্রমাণ পাওয়া যায়,(ঐ পৃষ্ঠা ১৪১)। কিন্তু শ্রীমদ্ভাগবতের রাসপঞ্চাধ‍্যায়ের "কাচিং সমং মুকুন্দে ☆ ☆ তস‍্যৈ মামঞ্চ বহ্বদাৎ" (৯-১০ শ্লোক) এবং গীতগোবিন্দের "পীনপয়োধরভারভবেণ ☆ ☆ কাচিদুদঞ্চতপঞ্চমরাগম্"(১|৪১) শ্লোক দুটির অর্থ ও ভাবের যথার্থ কোন মিল নেই,কেননা ষড়জাদি সাত লৌকিক স্বর এবং রামায়ণোক্ত (চতুর্থ কান্ড) ও নাট‍্যশাস্ত্রোক্ত (২৮ অধ‍্যায়) ষাড়জী,আর্ষভী প্রভৃতি সাতটি শুদ্ধজাতি,জাতিরাগ বা জাতিগানের সঙ্গে পঞ্চম-উপলক্ষিত পঞ্চমরাগের কিংবা গীতগোবিন্দের "রাগদেবতাচরিত ☆ ☆ করোতি জয়দেব-কবিঃ প্রবন্ধম্ (১|২) এবং শ্রীমদ্ভাগবতের "তদ্বাগ বিসর্গো ☆ ☆ শৃণন্তি সাধবঃ (১ম স্কন্ধ, ৫ম অধ‍্যায়) শ্লোকদুটির ভাববস্তুর মধ্যেও কোন প্রাসঙ্গিক ঐক‍্য নাই।*
*তাই গীতগোবিন্দ-পদগান শ্রীমন্মহাপ্রভু চৈতন‍্যদেব,শ্রীচৈতন‍্য পরিকরগণ এবং পরবর্তী বৈষ্ণবসমাজ ও বৈষ্ণবশাস্ত্রের একান্ত উপজীব‍্য ও পরমশ্রদ্ধার বস্তুরূপে পরিগণিত হলেও(পন্ডিত হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ‍্যায়ও বলেছেন--, "গৌড়ীয় বৈষ্ণবসম্প্রদায় শ্রীগীতগোবিন্দ গ্রন্থখানিকে শ্রীমন্মহাপ্রভু প্রেমধর্মের অন‍্যতম সূত্রগ্রন্থরূপে-শ্রীমদ্ভাগবতের কবিত্বময় ভাষ‍্যরূপেই গ্রহণ করেছেন। (কবি জয়দেব ও গীতগোবিন্দ, তৃতীয় সংস্করণ,পৃঃ ১৩৯), তাছাড়া রায় রামানন্দ নাকি স্বীকার করতেন যে,কবি জয়দেব শ্রীমদ্ভাগবত অপেক্ষা গীতগোবিন্দে রাধাপ্রেমের উৎকর্ষ দেখিয়েছেন।গীতগোবিন্দ ৩|২ শ্লোক দ্রষ্টব‍্য)। শ্রীমদ্ভাগবতের কোন প্রভাব অধিকাংশ পন্ডিত গীতগোবিন্দকাব‍্যে বা গীতগোবিন্দপদগানে লক্ষ্য করেননি।*

*এ'প্রসঙ্গে শ্রদ্ধেয় ডক্টর সুশীলকুমার দে-র সুচিন্তিত অভিমত উল্লেখ করে বলি--,আপাতদৃষ্টিতে মনে হয়, ব্রহ্মবৈবর্তপুরাণের শৃঙ্গাররসবহুল রাধাকৃষ্ণের লীলাবিলাসই শ্রীজয়দেবের কবি-কল্পনাকে অনুপ্রাণিত করেছে। গীতগোবিন্দর--*
*🌷আকাশ মেদুর মেঘে,দ্রুমে শ‍্যাম-বনভূমি।*
*🌷রাত্রি এখন ভীরু এরে রাধে,গৃহে লয়ে যাও তুমি,--*
*🌷নন্দের এই আদেশে চলিত আধারকুঞ্জনীরে।*
*🌷রাধামাধবের নির্জন-কেলি জয়তু যমুনাতীরে!*
*🌻এই ভাবের উল্লেখ শ্রীমদ্ভাগবতাদি প্রাচীনতর পুরাণে খুঁজে পাওয়া যায় না,বরং ব্রহ্মবৈবর্ত পুরাণে শ্রীকৃষ্ণজন্মখন্ডে পঞ্চদশ অধ‍্যায়ে বর্ণিত বিষয়ের সহিত ইহার যথেষ্ট সাদৃশ‍্য দেখা যায়।শ্রীজয়দেবের কাব‍্যে বসন্তকালীন রাসের বর্ণনা রয়েছে, কিন্তু শ্রীমদ্ভাগবতের রাস শরৎকালীন। গোপীলীলার কথা আছে, কিন্তু শ্রীরাধার প্রত‍্যক্ষ উল্লেখ শ্রীমদ্ভাগবতে পাওয়া যায় না।ব্রহ্মবৈবর্ত পুরাণের মতো শ্রীজয়দেবের কাব‍্যে শ্রীরাধাকে রসস্বরূপ শ্রীকৃষ্ণের সব বিলাসলীলার কেন্দ্ররূপে অঙ্কিত করা হয়েছে।ইহা আরও উল্লেখযোগ্য,যে, ব্রহ্মবৈবর্তপুরাণকার শ্রীকৃষ্ণ-রাধার নিয়মিত বিবাহের অনুষ্ঠান করে পরকীয়াবাদের সমর্থন করেননি, গীতগোবিন্দ আলোচনা করলেও "পরকীয়াভাবের পরিস্ফুট স্বরূপ উপলব্ধি হয় না,এ'কথা গীতগোবিন্দের সুযোগ‍্য বৈষ্ণবপ্রবর শ্রীযুক্ত হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ‍্যায়ও স্বীকার করেছেন।*
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 👉 পদাবলী কীর্তনের ইতিহাস 🌷 ষষ্ঠ ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📝 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/05/podaboli6.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(৫৭)পদাবলী কীর্তনের ইতিহাস*
*গীতগোবিন্দ ও পদাবলীকীর্তনে নায়ক-নায়িকা।*

*🍀ভগবৎ উপাসনার ঐশ্বর্য ও মাধুর্য‍্য এই দুইটি দিকই গীতগোবিন্দে ও ব্রহ্মবৈবর্ত পুরাণে সমানভাবে প্রতিপাদিত হয়েছে।("নামা নিবদ্ধ" (জয়দেব ও গীতগোবিন্দ),পৃষ্ঠা--৪৫-৪৬), ডঃ সুশীলকুমার তাঁর Sanskrit Literture গ্রন্থেও (Cf lndian studies, past & present,vol--1, No.4, p, 440.) অনুরূপ মন্তব‍্য করে বলেছেন--, There are parallellisms between the treatment by Jayadeva on the one hand and the Brahma-vaviarta-purana on the other, of the Radha-krishna legend and its erotico-religious possibilities in a vivid background of sensuous charm ; but there is no conclusive proof of Jayadeva's indebtedness to the Purana. Nor is it protable that the source of Jayadeva's inspiration was the Krishna-Gopi legend of the Srimad-bhagavata, which avoids. all direct mention of Radha and describes the autumnal and not the vcrnal (as in Jayadeva) Rasalila. There must have been other widespread tendencies of similar king from.which Jayadeva, like Vidyapati, derived his inspiration. (Cf. Dr. S.k.De : pre-chaitanya, Vaisnivism in Bengal (Festschrift M. Winternitz, pp. 1966) and Early History of the Vaisnava Faith and Movement in Bengal (1942). pp. 7-10.)*

*🍀পন্ডিত হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ‍্যায় "কবি জয়দেব ও গীতগোবিন্দ"-গ্রন্থের ভূমিকায় শ্রীমদ্ভাগবদোক্ত "শারদ-রাস" ও গীতগোবিন্দে-বর্ণিত "বসন্ত-রাস" বর্ণনা করে দুটির পার্থক্য সুন্দরভাবে দেখিয়েছেন। তিনি লিখেছেন,"শারদ-রাসে কাত‍্যায়ণীব্রত পরায়ণা কুমারীগণের কামনা পূর্ণ করায় শ্রীকৃষ্ণের প্রধান উদ্দেশ্যে ছিল।এই ব্রতপরায়ণা কুমারীগণ-- শ্রুতিচরী ও ঋষিচরী গোপীগণ-- কাত‍্যায়ণীদেবীর নিকট নন্দনন্দন শ্রীকৃষ্ণকে পতিরূপে পাবার কামনা করেছিলেন।ইহাদের মধ্যে শ্রীরাধিকা অথবা তাঁর যূথভুক্তা কোন গোপী ছিলেন না।☆ ☆ কৃষ্ণপ্রাপ্তির সম্ভাবনায় তাঁরা সকলেই আত্মবিস্মৃত হয়েছিলেন।তাঁদের সৌভাগ্যকে সম্পূর্ণ করবার জন্য কৃষ্ণ তাঁদেরকে ত‍্যাগ করেছিলেন, এবং তাঁদের পথপ্রদর্শনের জন্যই সকলের মধ‍্য হতে পৃথক করে শ্রীমতী রাধাকে পথের মাঝখানে একাকী রেখে গিয়েছিলেন।যুগল-পদাঙ্ক অনুসরণ করতে করতে গোপীগণ শ্রীমতীর সঙ্গ লাভ করেন এবং তাঁরই কৃপায় শ্রীকৃষ্ণ-সঙ্গ প্রাপ্ত হন।রাসমন্ডলে কৃষ্ণ সকলকেই সন্তুষ্ট করেছিলেন। ☆ ☆ ইহাই শারদ-রাস।বাসন্ত-রাস কিন্তু অন‍্যরকম।এই লীলার শ্রীরাধা সম‍্যক্ সচেতন রয়েছেন।☆ ☆ শ্রীকৃষ্ণকে তিনি একা পেতে চাহেন না। কিন্তু তিনি দান না করলে শ্রীকৃষ্ণ কেন অন‍্যের হবেন,কিভাবে তিনি অন‍্যের কাছে যাবেন--এ'কথা তিনি বুঝতে পারেননি।এই অভিমানেই তিনি কৃষ্ণের প্রেয়সী শ্রেষ্ঠা।☆ ☆ শ্রীমতীর এই অভিমান ছিল বলেই বাসন্ত রাসে তিনি রাসমন্ডল ত‍্যাগ করেছিলেন।বাসন্ত-রাসে শ্রীরাধাকে হারিয়ে শ্রীকৃষ্ণের বিরহ এক অপূর্ব বস্তু।কবি জয়দেব এই অভিমান-- এই অপূর্বতার উজ্জ্বল আলেখ‍্য অঙ্কিত করেছেন।এই আলেখ‍্যই বাসন্ত-রাস। (কবি জয়দেব ও গীতগোবিন্দ (তৃতীয় সংস্করণ,১৩৬২),পৃষ্ঠা--১৩৯-১৪০)। সুতরাং কবি জয়দেবের বর্ণনা থেকে এ'কথা সহজেই অনুমান করা যায় যে,শ্রীমদ্ভাগবতের দ্বারা তিনি প্রভাবিত হননি, অথবা তত্ত্বপ্রধান শ্রীমদ্ভাগবতের ঠিক অপ্রাকৃত রাধাকৃষ্ণ মাধুর্য‍্যলীলা তিনি অনুসরণ করেননি।*
                *ক্রমাগত*
*শ্রীজয়দেব দাঁ, বাঁশবাড়ী, মালদা।*
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 👉 পদাবলী কীর্তনের ইতিহাস 🌷 ষষ্ঠ ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📝 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/05/podaboli6.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(৫৮)পদাবলী কীর্তনের ইতিহাস*

*🌻এক্ষণে বৈষ্ণব-পদাবলী কীর্তনের পাদভূমি বা পটভূমিকা গীতগোবিন্দপদগানের নায়ক-নায়িকা-সম্পর্কে আলোচনার সঙ্গে সঙ্গে পদাবলীকীর্তনের মাধুর্য‍্য ও লীলার নায়ক-নায়িকার কথায় বিশেষ ভাবে মনে পড়ে এবং পদাবলীকীর্তনের প্রসঙ্গে পরে এ' বিষয়ে বিশদভাবে আলোচনা করলেও এখানে নায়ক-নায়িকা সম্পর্কে এটুকু বলা যায় যে, বিশ্বনাথ চক্রবর্তী-প্রণীত"সাহিত‍্যদর্পণ" পীতাম্বরদাসের সংস্কৃত "রসমঞ্জরী", ভানুদত্তের রসমঞ্জরীর প‍দ‍্যানুবাদ, শ্রীরূপ গোস্বামীর "উজ্জ্বলনীলমণি" প্রভৃতি অলঙ্কার ও রস-গ্রন্থে বিশেষভাবে অষ্টনায়িকার রসোজ্জ্বল বর্ণনা নিহিত থাকলেও ঐ অষ্ট নায়িকার প্রত‍্যেকের আট প্রকার ভেদ দর্শিত হয়নি।তবে পীতাম্বরদাসের "রসমঞ্জরী" কিংবা শশিশেখর তথা শেখর ভ্রাতৃদ্বয়ের "নায়িকারত্নমালা" য় অষ্টনায়িকার সঙ্গে সঙ্গে তাঁদের অষ্টপ্রকার ভেদের উল্লেখ দেখা যায়।অবশ‍্য প্রসিদ্ধ আলঙ্কারিকদের অনুসৃত তর্কশাস্ত্রের বিচারে বা তাদের দৃষ্টির পরিপ্রেক্ষণে অষ্টনায়িকার কল্পিত ভেদগুলির স্বতন্ত্র বাস্তব সত্তা স্বীকৃত হয়নি,পরন্তু তাঁরা নায়ক-নায়িকার বিভিন্ন অনুভাব ও ব‍্যভিচারীভাব রূপেই স্বীকার করেছেন,তবুও পীতাম্বরদাসের "রসমঞ্জরী" গ্রন্থে ও বিশেষভাবে "নায়িকারত্নমালা" গ্রন্থে সঙ্কলয়িতা শশীশেখর ও চন্দ্রশেখরের ভণিতাযুক্ত পদাবলীতে তাদের সত্তার ও নিদর্শনের উল্লেখ পাওয়া যায়।*
*অষ্টনায়িকার প্রসঙ্গক্রমে এখানে উল্লেখযোগ্য যে, পীতাম্বরদাসের "রসমঞ্জরী" গ্রন্থে "প্রোষ‍্যৎপতিকা" নাম্নী নবমী নায়িকারও উল্লেখ দেখা যায় এবং মুগ্ধা,মধ‍্যা, প্রগলভা,পরকীয়া ও গণিকাভেদ এবং অভিসারিকা প্রভৃতি নববিধ নায়িকার প্রত‍্যেকটির পাঁচটি করে কবিত্ব ও রসপূর্ণ পদের সন্ধান পাওয়া যায় (ভানুদত্ত-কৃত পদ‍্যানুবাদও দ্রষ্টব‍্য)। সুতরাং পরে পদবলীকীর্তনের নায়ক-নায়িকাদের ভেদ,ভাব ও রসমাধুর্য‍্যের বিশদভাবে আলোচনা করলেও বর্তমানে প্রাচীন পদসাহিত‍্য সুপন্ডিত সতীশচন্দ্র রায়-সম্পাদিত শ্রীশ্রীনায়িকারত্নমালা গ্রন্থে চৌষট্টি নায়িকা ও প্রাচীন পদকর্তা শশিশেখর ও চন্দ্রশেখরের ভণিতাযুক্ত পদাবলীর কিছু অংশ এখানে আলোচনা করার চেষ্টা করব পরবর্তী আলোচনার পটভূমিকা (Background) রচনা করার জন্য। নায়িকারত্নমালা গ্রন্থের (সন ১৩৩৫ সালে প্রকাশিত) প্রারম্ভে উদ্ধৃত দেখা যায়।* যথা *শ্রীগীতাবল‍্যাম-----* 
*☆অথাভিসারিকা বাসকসজ্জাপ‍্যুৎকন্ঠিতা তথা।*
*☆বিপ্রলব্ধা খন্ডিতা চ কলহান্তরিতাপরা।।*
*☆প্রোষিতপ্রেয়সী প্রোক্তা তথা স্বাধীনভর্ত্তৃকা।*
*☆ইত‍্যষ্টৌ নায়িকাভেদা রসতন্ত্রে প্রকীর্তিতাঃ।।*
*🌻অভিসারিকা,বাসকসজ্জা, উৎকণ্ঠিতা,বিপ্রলব্ধা,খন্ডিতা, কলহান্তরিতা,প্রষিতপ্রেয়সী ও প্রোষিতভর্ত্তৃকা এই আট প্রকার নায়িকাভেদ সম্পর্কে আলোচনার পূর্বে এখানে বলা প্রয়োজন যে, নায়িকারত্নমালা বা শশিশেখর ও চন্দ্রশেখরের ভণিতাযুক্ত পদাবলী সম্ভবত ১৫০ বৎসরের বেশীপ্রাচীন নয়, কেননা,১৫৮০ শকে লিখিত পীতাম্বরদাসের রসমঞ্জরী গ্রন্থের পুঁথিতে (কমকরেও ২৬৯ বৎসর পূর্বে সঙ্কলিত) শশিশেখর ও চন্দ্রশেখরের কোন পদের উল্লেখ দেখা যায় না।*
*তাছাড়া মহারাজ নন্দকুমারের আচার্য‍্যদেব বৈষ্ণবাচার্য‍্য ও পদকর্তা রাধামোহন ঠাকুরের (পদাবলী ও সাঙ্গেতিক অন‍্যান‍্য বিষয়ের আলোচনা এগ্রন্থের পরবর্তী ভাগে করব), পরবর্তী পদকর্তা বা পদসঙ্কলয়িতা বৈষ্ণবদাসের বিরাট "পদকল্পতরু"গ্রন্থেও শশিশেখর ও চন্দ্রশেখর ও নায়িকারত্নমালার বিশেষ কোন উল্লেখ পাওয়া যায় না।এজন‍্য অনেকে শশিশেখর ও চন্দ্রশেখর দুইভাইয়ের সঙ্কলিত পদগুলিকে প্রামাণ‍্য বলে স্বীকার করতে দ্বিধাবোধ করেন। কিন্তু পন্ডিত সতীশচন্দ্র রায় নায়িকারত্নমালা গ্রন্থে পদাবলীকীর্তনের অন‍্যতম উপদান-রূপে শশিশেখর ও চন্দ্রশেখরের পদগুলির প্রামাণ‍্য ও সার্থকতা স্বীকার করেছেন।তাছাড়া এই পদগুলি অনেক কারণে দুষ্প্রাপ্যও ছিল,এজন‍্য বর্তমানে আমাদের আলোচনায় পূর্বাভাস-রূপে নায়িকারত্নমালার ভিত্তিতে শশিশেখর ও চন্দ্রশেখরের পদের পরিপ্রেক্ষিতে নায়ক-নায়িকা ও বৈষ্ণব-পদাবলীতে রস ও ভাব-বিকাশের কথঞ্চিৎ আলোচনা করতে চেষ্টা করেছি।*
*নায়িকারত্নমালা গ্রন্থে অষ্টনায়িকার উল্লেখের পরেই প্রথম নায়িকা অভিসারিকার অষ্টবিধ লক্ষণ "গীতবলী" থেকে ঊদ্ধৃত করা হয়েছে।*
*☆যা পর্য‍্যুৎসূকচিত্তাতিমদেন মদনেন চ।*
*☆আত্মনাভিসরেৎ কান্তং সা ভবেদভিসারিকা।।*
*🌹অর্থ‍্যাৎ যে নায়িকা অত‍্যন্ত যৌবন-মদ ও মদন-বিকার দ্বারা উৎকণ্ঠিত চিত্ত হয়ে নিজ কান্তা বা নায়কের কাছে অভিসার করেন তাঁকেই অভিসারিকা বলা হয়। এই অভিসারিকা আট প্রকার--*
*☆জ‍্যোৎস্নী চ তামসী চৈব বর্ষাস্বথ দিবা মতা।*
*☆কুজ্বাটিকা তীর্থযাত্রা চোন্মক্তা সঞ্চরাপি চ।।*
*🌻অর্থ‍্যাৎ অভিসারিকা জ‍্যোৎস্নী,তামসী,বর্ষাভিসারিকা,দিবাভিসারিকা,কুঞ্ঝটিকাভিসারিকা,তীর্থযাত্রাভিসারিকা,উন্মত্তা ও সঞ্চরা-ভেদে অভিসারিকা আট প্রকার।*
             *ক্রমাগত*
*শ্রীজয়দেব দাঁ,বাঁশবাড়ী,মালদা।*
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 👉 পদাবলী কীর্তনের ইতিহাস 🌷 ষষ্ঠ ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📝 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/05/podaboli6.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(৫৯)পদাবলী কীর্তনের ইতিহাস*

*🌻এরপর জ‍্যোৎস্নী প্রভৃতি আট প্রকার অভিসারিকার পরিচয় দিয়েছেন পদরচয়িতাগণ সুললিত সংস্কৃত পদের মাধ‍্যমে--*
*☆কূচ-কলসভরার্তা কেশাবি-ক্ষণ-মধ‍্য।*
*☆বিপুলতর-নিতম্ব পক্ব-বিম্বাধবৌষ্ঠী।*
*☆ধবল-বসন-বেশা, মালতী-বদ্ধ-কেশা।*
*☆নিধুবন-রস-পুঞ্জং যাতি রাধা নিকুঞ্জম্।।*
*🌻পদগুলির ছন্দসজ্জা,রচনা ও সাহিত‍্য সুললিত ও রসপূর্ণ। অনেকে এই বৈষ্ণবপদ-সাহিত‍্যে শৃঙ্গাররসাত্মক বর্ণনার মধ্যে কামগন্ধের সন্ধান পান, কিন্তু এই শৃঙ্গাররস বিশ্বসৃষ্টির আদিরস ও অপূর্ব কল্পনা -- যে রস ও কল্পনাকে নিয়ে বিশ্বরচয়িতা ঈশ্বর বিরাট সৃষ্টি রচনা করেছেন অগণিত মানুষের শান্তি ও মুক্তির জন্য। পরবর্তী প্রস্তরমন্দির বা গুহামন্দিরগুলিতে শৃঙ্গাররসাত্মক মূর্তির লীলাবিলাসের পিছনেও আপার্থিক ভাবমাধুর্য‍্যের বিকাশ বা প্রলেপ দেখা যায় সৃষ্টির মধ‍্য দিয়ে স্রষ্টা ভগবানের সন্নিধানে রসপিপাসু মানুষকে উপনীত হবার জন্য।*
*শশিশেখর ও চন্দ্রশেখর-রচিত* *শশিশেখর ও চন্দ্রশেখর-রচিত পদগুলির সঙ্গে শাস্ত্রীয় ধানশ্রী (ধানেশী),মল্লার বা মল্লারিকা, ভূপালিকা বা ভূপালী, মঙ্গল-ধানশী, বরাড়ী,সৌরঠী (সৌরাষ্ট্রী),মায়ুরী, কল‍্যাণ বা কল‍্যাণী প্রভৃতি রাগেরও সমাবেশ দেখা যায়,যেমন দেখা যায় সব প্রাচীন ও নবীন  বৈষ্ণব-পদাবলীতে।নায়িকারত্নমালা গ্রন্থে দেখা যায়,অষ্টনায়িকার প্রতিটি রূপভেদের প্রারম্ভে গীতাবলী কিংবা শ্রীমদ্ভাগবত সংস্কৃত শ্লোক উদ্ধৃত করা হয়েছে।যেমন, অনুকূলার বণানায় প্রারম্ভে দেখা যায় --*
*শ্রীমদ্ভাগবতে যথা------*
*☆অনয়াবাধিতো ন‍্যূনং ভগবান্ হরিরীশ্বরঃ।*
*☆নন্নো বিহায় গোবিন্দঃ প্রীতো যামনযদ্রহঃ।।*
*🌻অর্থ‍্যাৎ অনুকূলা স্বাধীনভর্ত্তৃকার বর্ণনা শ্রীমদ্ভাগবতে পাওয়া যায় যে, এই নায়িকা-কর্তৃক নিশ্চয়ই ভগবান শ্রীহরি আরাধিত হয়েছেন,যে জন্য গোবিন্দ প্রসন্ন হয়ে ও আমাদের পরিত‍্যাগ করে এ' অনুকূলা নায়িকাকে সঙ্গে নিয়েই নির্জনে গমন করেছেন। শশিশেখর করুণাশ্রী-রাগে(?) রসায়িত ব্রজবুলি ভাষায় বণনা করেছেন---*
*এই যে নাগরী, আরাধিল হরি,*
        *নিশ্চয় কহিলুঁ তোরে।*
*প্রাণের গোবিন্দ, পাইয়া আনন্দ,*
       *সঙ্গতি লইল যারে।।*
*আমা সবাকারে,পরিহরি দূরে,*
       *তারে লৈয়া সঙ্গোপনে।*
*মদন-বিলাস, করে পরকাশ,*
       *বুঝিলাম অনুমানে।।*
*রমণী-রমণ,        দুঁহুঁ পদচিহ্ন,*
       *পড়িয়া আছয়ে পথে।*
*মাধবী পতাকা, ধ্বজ উর্দ্ধরেখা,*
       *বজর অঙ্কুশ তাতে।।*
*আমরা গোপিনী,সবে ভাগিহীনী,*
       *ভাগ‍্যবতী এই নারী।*
*শশি(শশী)কহে সতি,বরজ যুবতী,*
       *তারে অনুকূল হরি।।*
*🌻পীতাম্বরদাসের "রসমঞ্জরী" গ্রন্থটি বিদগ্ধ বৈষ্ণব-সাধকগণের সমাজে বিশেষভাবে সমাদৃত।অষ্টনায়িকার প্রসঙ্গে শ্রীশ্রীনায়কারত্নমালার মতো পীতাম্বরদাস-রচিত এবং ভানুদত্তের পদ‍্যানুবাদ রসমঞ্জরী থেকে সামান্য কিছু রস-ভাব তত্ত্ব নিয়ে এখানে আলোচনা করছি।শ্রদ্ধেয় নগেন্দ্রনাথ বসু "রসমঞ্জরী" (পীতাম্বরদাসের রসমঞ্জরী ত্রৈমাসিক সাহিত‍্য পরিষৎ পত্রিকায় বঙ্গাব্দ ১৩০৬ শতকে প্রকাশিত হয়)।গ্রন্থের সম্পাদকীয় মন্তব‍্য করেছেন।শ্রদ্ধেয় নগেন্দ্রনাথ বসু লিখেছেন, মিথিলাবাসী গণপতিনাথের পুত্র ভানুদত্ত পীতাম্বরদাসের "রসমঞ্জরী" গ্রন্থটির পদ‍্যানুবাদ করেন।"রসমঞ্জরী" গ্রন্থের উপর অনন্ত পন্ডিতরচিত "ব‍্যঙ্গার্থকৌমুদী", আনন্দশর্মা-রচিত "ব‍্যঙ্গার্থদীপিকা", নাগেশভট্ট-রচিত "রসমঞ্জরীপ্রকাশ", হরিবংশভট্ট-রচিত "রসমঞ্জরীটীকা", হরিবংশভট্টের পুত্র গোপালভট্ট রচিত "রসিকরঙ্গিণী", নৃসিংহাত্মজ বোপদেব-কৃত "রসমঞ্জরীবিকাশ"  লক্ষ্মীধরাত্মজ বিশ্বেশ্বর রচিত "সমঞ্জসা", শেষনৃসিংহাত্মজ শেষচিন্তামণি-রচিত "রসমঞ্জরীপরিমল", ব্রজরাজ দীক্ষিতের "রসিকরঞ্জন" প্রভৃতি টীকা ও ভাষ‍্য প্রসিদ্ধ।*
*বাংলাভাষায় সম্ভবত মহারাজ কৃষ্ণচন্দ্রের সভাকবি রায়গুণাকর ভারতচন্দ্রই প্রথমে "রসমঞ্জরী" গ্রন্থের প্রচারক।অবশ‍্য তিনি সংস্কৃত "চোরপঞ্চাশৎ" কাব‍্যের যে পদ‍্যানুবাদ ও শিখরিণী ছন্দে "নাগাষ্টক" রচনা করেন তাদের ভাব ও ভাষা "রসমঞ্জরী" গ্রন্থের ভাবের উদ্বোধক।তাছাড়া পীতাম্বরদাসের সংস্কৃত রসমঞ্জরী ও ভানুদত্তের পদ‍্যানুবাদযুক্ত রসমঞ্জরীর আদর্শে ভারতচন্দ্র একখানি "রসমঞ্জরী" গ্রন্থও রচনা করেন। সাহিত‍্যসম্রাট বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় ভারতচন্দ্রের রসমঞ্জরীর বিশেষ সমাদর দিয়েছেন।"জয়দেব ও বিদ‍্যাপতি" নিবন্ধে শ্রদ্ধেয় বঙ্কিমচন্দ্র ভারতচন্দ্রের "রসমঞ্জরী" গ্রন্থকে শ্রেষ্ঠ গীতিকাব‍্য বলে প্রশংসা করেছেন।শ্রদ্ধেয় সতীশচন্দ্র রায় ভানুদত্ত-কৃত "রসমঞ্জরী" গ্রন্থের বাংলা-পদ‍্যানুবাদের (বসন্তকুমার চক্রবর্তী-কর্তৃক কলকাতা মডেল লাইব্রেরী থেকে ১৩২০ সালে প্রকাশিত), ভূমিকায় করেছেন,"ভানুদত্ত প্রোষিতভর্তৃকা প্রভৃতি অষ্টনায়িকার প্রত‍্যেকের মুগ্ধা,মধ‍্যা,প্রগলভা,পরকীয়া ও গণিকা-ভেদে যে স্বতন্ত্র উদাহরণ দিয়েছেন, সেস্থলে ভারতচন্দ্র প্রোষিতভর্তৃকা ইত্যাদির মুগ্ধা প্রভৃতি নায়িকা নির্বিশেষে কেবল একটি করে উদাহরণ দেখিয়েই ক্ষান্ত হয়েছেন এবং সংস্কৃত রসমঞ্জরীর বিচারাত্মক অধিকাংশ স্থলই বাহুল‍্য-ভয়ে পরিত‍্যাগ করেছেন।তাহলেও ভানুদত্তের রসমঞ্জরীর বাংলা-পদ‍্যানুবাদের মতো ভারতচন্দ্রে রসমঞ্জরীও রস-সাহিত‍্যের ক্ষেত্রে আদরণীয় বলে গণ‍্য।*
                *ক্রমাগত*
*শ্রীজয়দেব দাঁ, বাঁশবাড়ী, মালদা।*
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 👉 পদাবলী কীর্তনের ইতিহাস 🌷 ষষ্ঠ ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📝 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/05/podaboli6.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(৬০)পদাবলী কীর্তনের ইতিহাস*

*শ্রদ্ধেয় সতীশচন্দ্ররায় লিখেছেন, সংস্কৃত ভাষায় ভরত মুনি-প্রণীত "নাট‍্যশাস্ত্র" সর্বাপেক্ষা প্রাচীন ও প্রামাণিক গ্রন্থ নির্বাচিত হলেও রুদ্রভট্ট-প্রণীত "শৃঙ্গারতিলক" ভানুদত্ত-প্রণীত "রসমঞ্জরী" পদ‍্যানুবাদ ও বিশ্বনাথ চক্রবর্তী প্রণীত "সাহিত‍্য দর্পণ" গ্রন্থের তৃতীয় পরিচ্ছেদে বর্ণিত নায়ক-নায়িকার যে বিস্তৃত বিভাগ ও পরিচয় আছে, ভরতের নাট‍্যশাস্ত্রে ঠিক সে রকম নাই! পুনরায় "শ্রীচৈতন‍্যের আবির্ভাবে মধুরভাবাত্মক বৈষ্ণবধর্মের অনেক উৎকর্ষ সাধিত হওয়ায় পরবর্তী বৈষ্ণবাচার্য‍্য ও বৈষ্ণব-কবিদের দ্বারএই বিষয়টি যেরকম উৎকৃষ্টরূপে আলোচিত ও পল্লবিত হয়েছে সেইরকম আর কোথাও হয়নি।সুপ্রসিদ্ধ শ্রীপাদ রূপ গোস্বামী প্রণীত "উজ্জ্বলনীলমণি" নামক অপূর্ব গ্রন্থ রসশাস্ত্রের শ্রেষ্ঠ যুক্তিপূর্ণ দর্শন ও প্রায় সার্ধশত বৈষ্ণবকবির সুললিত পদাবলীকে ইহার কবিত্বপূর্ণ উদাহরণ বলে গণ‍্য করা যেতে পারে।☆ ☆ বাংলাভাষায় বৈষ্ণব-কবি কৃষ্ণদাস-প্রণীত "ভক্তমাল" গ্রন্থের অন্তর্গত রস-পরিচ্ছেদে ও ভারতচন্দ্র রায়ের প্রণীত "রসমঞ্জরী" প্রভৃতি দুই-তিন খানা গ্রন্থ ছাড়া যদিও এই বিষয়ে স্বতন্ত্র গ্রন্থ রচিত হয়নি, তবুও বৈষ্ণব-কবি ও কীর্তন গায়কদের প্রসাদে পরকীয়া,মুগ্ধা, মধ‍্যা,বাসকসজ্জা, অভিসারিকা, কলহান্তরিতা প্রভৃতি রসশাস্ত্রের পারিভাষিক শব্দগুলি আমাদের অধিকাংশের কাছেই অপরিচিত নয়।"পদকল্পতরু" নামক সুবৃহৎ পদাবলী সংগ্রহের সঙ্কলয়িতা বৈষ্ণবদাস ঐ গ্রন্থে উজ্জ্বলনীলমণির বর্ণিত ক্রম অনুসারে বৈষ্ণব-কবিদের পদাবলী বিন‍্যস্ত করেছেন এবং কোন কোন জায়গায় পারিভাষিক শব্দগুলির লক্ষণ দেওয়ার জন্য উজ্জ্বলনীলমণি হতে সংস্কৃত কারিকাতে র্সস্কৃত উদাহরণ শ্লোক উদ্ধৃত করেছেন।*
*পীতাম্বরদাসের সংস্কৃত "রসমঞ্জরী" গ্রন্থে অভিসারিকা সম্পর্কে দেখি---*
*🌷কান্তার্থিনী তু যা যাতি-*
           *সঙ্কেতং সাভিসারিকা।*
*🌻পদ‍্যানুবাদে দেখি----*
*সেই অভিসার হয় পুন অষ্ট প্রকার।*
*জ‍্যোৎস্নী তামসী বর্ষা দিবা-অভিসার।।*
*কুঞ্ঝটিকা তীর্থযাত্রা উন্মত্তা সঞ্চরা।* 
*গীতপদ‍্যরসশাস্ত্রে সর্বজনোৎকরা।।*
*🌼এর পর গ্রন্থকার সঙ্গীত-দামোদর (১৬শ শতক) থেকে এর নিদর্শন দিয়েছেন (সুতরাং রসমঞ্জরী ২৬শ শতকের পরবর্তী রসগ্রন্থ)।*
*🌼🌼শ্রীসঙ্গীত-দামোদরে---*
*স্ফারিকূজ্ঝটিহৈমন্তরজনীধ্বান্তসঞ্চরা।*
*গ্রীষ্মমধ‍্যাহ্নবাতাদি-কোলাহলবিধৃদয়াৎ।।*
*রাষ্ট্রভঙ্গনিরাতঙ্ক------------*
                 *পুরদারমহোৎসবঃ।*
*প্রদোষশ্চেতি কথিতা*
           *দ্বাদশৈবেদৃশাঃ ক্রমাৎ।।*
*🌻পীতাম্বরদাসের সংস্কৃত রসমঞ্জরী গ্রন্থে অভিসারিকার প্রসঙ্গচ্ছলে জ‍্যোৎস্নী,তামসী,দিবা,কুঞ্ঝটিকা, তীর্থযাত্রা,উন্মত্তা,সঞ্চার,বাসকসজ্জা,মোহিনী,জাগর্তিকা,ম‍ধ‍্যোক্তিকা,প্রগলভা,সূপ্তিকা,সুরসি,উদ্দেশা, উৎকণ্ঠিতা,বিকলা,স্তব্ধা,চকিতা,অচেতনা,উৎকন্ঠিতা-মধ‍্যা প্রভৃতির পরিচয় আছে এবং সঙ্গে সঙ্গে অভিসারিকাগুলিতে সংযোজিত-- ভূপালী,আসোআরি বা আসাবরী, ধানশী,কেদারিকা,মঙ্গল-গুর্জরী, গান্ধার প্রভৃতি রাগগুলির উল্লেখ আছে।রসমঞ্জরীতে গীতাবলী, পদ‍্যাবলী,রসকদম্ব,কৃষ্ণমঙ্গল, গীতগোবিন্দ প্রভৃতি গ্রন্থের উদ্ধৃতি আছে।সংস্কৃত রসমঞ্জরীর সমাপ্তিভাগে উল্লিখিত দেখা যায়--*
*🌷খন্ডিতাদি অষ্ট রস আট আট করি।*
*🌷চৌষট্টি প্রকার করি গ্রন্থ রসমঞ্জরী।।* 
*🌷গদ‍্য পদ‍্য সঙ্গীত ইহার প্রমাণে।*
*🌷অবোধ না বুঝে ইহা রসিক সে জানে।।*
*🌷শ্রীশচীনন্দন প্রভু ঠাকুর আমার।*
*🌷পীতাম্বরদাস কহে রসের বিস্তার।।*
*🌷"রসকল্পবল্লী"গ্রন্থে যে অবশিষ্ট ছিল।*
*🌷তাহা বিবরিঞা ইহা বর্ণনা করিল।।*
*🌻পীতাম্বরদাসের গুরুর নাম শ্রীশচীনন্দন ঠাকুর,বর্দ্ধমানের অন্তর্গত শ্রীখন্ড নামক স্থানে তাঁর বাসস্থান।শ্রদ্ধেয় নগেন্দ্রনাথ বসু রসমঞ্জরীর ভূমিকায় লিখেছেন--, "মহাপ্রভু শ্রীচৈতন‍্যদেব যে সময়ে নীলাচলে ছিলেন,সেই সময়ে চক্রপাণি ও মহানন্দা নামে দুই ভাই সেখানে গিয়ে মহাপ্রভুর পার্ষদ শ্রীরঘুনন্দনের শিষ‍্য বলে পরিচয় দেন। (রামগোপাল-দাস স্বরচিত "রসকল্পবল্লী" গ্রন্থের মধ্যে এইভাবে পরিচয় দিয়েছেন, "চক্রপাণি মহানন্দ দুই মহাশয়। নীলাচলে দুই ভাই প্রভুকে মিলয়।।) এই চক্রপাণি চৌধুরীর পুত্র নিত‍্যানন্দ, তারপুত্র গঙ্গারাম, গঙ্গারামের পুত্র শ‍্যামরায়, তাঁর দুই পুত্র--, বড় "গোবিন্দলীলামৃত" রচয়িতা মদনরায় চৌধুরী ছোট "রসকল্পবল্লী"প্রণেতা রামগোপাল। এই রামগোপালের পুত্র পীতাম্বর বা পীতাম্বরদাস। সুতরাং পীতাম্বরদাস শ্রীচৈতন‍্যের পরবর্তী বৈষ্ণবকবি বা গ্রন্থকার।অনুবাদক ভানুদত্ত পরে সংস্কৃত "রসমঞ্জরী" গ্রন্থের পদ‍্যানুবাদ রচনা ও প্রকাশ করেন। সুতরাং "শ্রীশ্রীনায়িকারত্নমালা"র মতো রসমঞ্জরী (১৬শ শতকের) পরবর্তী কালের রসগ্রন্থ হলেও এবং এই "পদাবলীকীর্তনের ইতিহাস" গ্রন্থের পরবর্তী ভাগে নায়ক-নায়িকাভেদ ও রসপর্যায় বিস্তৃত ভাবে আলোচনা করার ইচ্ছা থাকলেও পূর্বসূচনারূপে সামান্যভাবে রস ও ভাব এবং নায়ক-নায়িকার এখানে আলোচনা করলাম মাত্র।*

*শ্রীজয়দেব দাঁ, বাঁশবাড়ী,মালদা।*
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🔜 ক্রমাগত 👉 পদাবলী কীর্তনের ইতিহাস 🌷 সপ্তম ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📝 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/05/podaboli7.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

    📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝
    ꧁👇📖 সূচীপত্র ✍️ শ্রী জয়দেব দাঁ 📖👇



✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧


✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

   ✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️ 
নিবাস- বাঁশবাড়ী, কীর্তন মন্দিরের পাশে, পোঃ- বাঁশবাড়ী, থানা- ইংরেজ বাজার, জেলা- মালদহ, পশ্চিমবঙ্গ, পিন কোড- ৭৩২১০১।

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

  *••••┉❀꧁👇🏠Home Page🏠👇꧂❀┅••••* 


✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

    *••••━❀꧁👇 📖 সূচীপত্র 📖 👇꧂❀┅••••* 



✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

     *••••━❀꧁👇📚 PDF গ্রন্থ 📚👇꧂❀┅••••* 


✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
    *••••┉━❀꧁ 🙏 রাধে রাধে 🙏 ꧂❀━┅••••* 
                   শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য প্রভু নিত্যানন্দ
              হরে কৃষ্ণ হরে রাম শ্রীরাধেগোবিন্দ।।
  *••••┉━❀꧁ 🙏 জয় জগন্নাথ 🙏 ꧂❀━┅••••*
              হরে কৃষ্ণ হরে কৃষ্ণ কৃষ্ণ কৃষ্ণ হরে হরে
              হরে রাম হরে রাম রাম রাম হরে হরে॥
  *••••┉━❀꧁ 🙏 জয় রাধাকান্ত 🙏 ꧂ ❀━┅••••*
   🌷❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀🌷
   🏵️❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀🏵️
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

adds