✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
🔙 পূর্ব লীলা 👉 প্রেমঋণে শ্রীগৌরাঙ্গ মাধব 🥀 শ্রীরাধাবিনোদ সরকার 📖 তৃতীয় ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/04/prem3.html
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
🆕 👉 প্রেমঋণে শ্রীগৌরাঙ্গ মাধব 🥀 শ্রীরাধাবিনোদ সরকার 📖 চতুর্থ ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/05/prem4.html
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
🆕 👉 প্রেমঋণে শ্রীগৌরাঙ্গ মাধব 🥀 শ্রীরাধাবিনোদ সরকার 📖 চতুর্থ ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/05/prem4.html
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(৩১)প্রেমঋণে শ্রীগৌরাঙ্গ মাধব*
*মহাপ্রভুর আবির্ভাবের মুখ্য বহিরঙ্গ কারণ*
*আজানুলম্বিত ভূজৌ কনকাবদাতৌ,*
*সংকীর্ত্তনৈক পিতরৌ কমলায়তাক্ষৌ।*
*বিশ্বম্ভরৌ দ্বিজবরৌ যুগধর্ম পালৌ,*
*বন্দে জগত প্রিয় করো করুণাবতরৌ।।*
*🙏যাঁর আজানুলম্বিত বাহু,কনকবৎ কমনীয় কান্তিবিশিষ্ট কমল নয়ন, সংকীর্তনের একমাত্র পিতা, জগতের হিতকারী, আমি সেই করুণার অবতার দ্বয়কে (শ্রীমন্মহাপ্রভু ও নিত্যানন্দ প্রভুকে)বন্দনা করি।*
*🌷বৃন্দাবনদাস কবিরাজ গোস্বামীর চরণ শিরে ধরি।*
*🌷নিতাই গৌরাঙ্গ পাদপদ্মের ভৃঙ্গ হৈয়া মধুপান করি।।*
*🌹শ্রীব্রজের রাগাত্মিকা ভক্তির প্রচার ও ব্রজপ্রেম দান মহাপ্রভুর আবির্ভাবের মুখ্য বহিরঙ্গ কারণ।*
*🌷ভক্তির অনুশীলনই কৃষ্ণপ্রাপ্তির উপায়।*
*🌹এই অপার্থিব ভক্তি বস্তুটি ছাড়া কলিহত জীবের শান্তি লাভের আর দ্বিতীয় কোন উপায় নাই।*
*🌷ভক্তি বিনা জগতের নাহি অবস্থান।*
*🛑শ্রীনারদ পঞ্চরাত্রে পাই--*
*🌷সর্বোপাধিবির্নিমুক্তং তৎপরত্বেন নির্মলং।*
*🌷হৃষিকেন হৃষিকেশ সেবনং ভক্তিরুচ্যতে।।*
*🌻ইহার ভাবার্থ শ্রীচৈতন্যচরিতামৃতে বর্ণিত হয়েছে,যথা--*
*🌷সর্বোপাধি অন্যভিলাষ যতনে ছাড়িব।*
*🌷জ্ঞান কর্ম পরিহরি নির্মল হইব।।*
*🌷ইন্দ্রিয় দ্বারায় করে গোবিন্দ সেবন।*
*🌷ইহাকে অনন্য ভক্তি কহে মুনিগণ।।*
*🌻এই ভক্তি তিন প্রকার যথা--(১)সাধনভক্তি-ইনি ক্লশঘ্নী ও শুভদা(কষ্টকর কিন্তু মঙ্গলকর) *(২) ভাবভক্তি-ইনি মোক্ষলযুতাকারিণী সুদুর্লভা।(৩)প্রেমভক্তি-ইনি সান্দ্রানন্দ প্রদায়িনী ও কৃষ্ণ আকর্ষণী।*
*🍀এই সাধনভক্তি বৈধী ও রাগানুগা ভেদে দুই প্রকার।প্রথমটি লোভাধীন না হয়ে শুধু শাস্ত্র-শাসনে হয়।*
*🌷রাগহীন জনে ভজে শাস্ত্রের আজ্ঞায়।*
*🌻ইহার অনুশীলনে সালোক্যাদি মুক্তি চারটি পেয়ে বৈকুন্ঠে গমন করেন।আর শ্রীকৃষ্ণের মধুর রূপদর্শনে অথবা শ্রীমৎভগবৎ শুনে ভজনে যে লোভ তাইই রাগপদবাচ্য। নিত্যসিদ্ধ ব্রজবাসীজনের স্বাভাবিকী ভাব ও রাগময়ী কৃষ্ণ ভক্তিই রাগাত্মিকা।এই ব্রজ গোপ-গোপীগণের ভাবে লুব্ধ হয়ে তদ্ভাবেচ্ছা অনুগমনকেই রাগানুগা ভক্তি কহে।তমাল-তরুকে আশ্রয় না করা পর্যন্ত মাধবীলতার যেমন নিরাশ্রয়তা,ও হৃদয়ের অবসন্নতা দূরীভূত হয় না,সেইরকম নিরলম্বন জীবও এই মাধবীর মত কোন বৃক্ষকে অর্থ্যাৎ শ্রীকৃষ্ণ চরণ কল্প বৃক্ষে অবলম্বিত হয়ে হৃদয়ের যত অবসাদ,যত গ্লানি বিঘ্ন ও বিষন্নতা দূরীভূত করে এক অখন্ড আনন্দের আশায় উৎকণ্ঠিত হয়।যেবন নব বল্লরী মাধবী তরুণ তমালকে জড়িয়ে ধরতে ভালোবাসে, তেমনই মাধবীর অবলম্বন হবার জন্য তমালেরও একটি অব্যক্ত অভিলাষ নিশ্চয়ই আছে।পরস্পরের এই অবলম্বিত ও অবলম্বন ভাব, উভয়ের মিলনের জন্য যেমন উভয় পক্ষেরই সম প্রয়োজন, সমব্যাকুলতা, তদ্রূপ জীব-ঈশ্বরে মিলনের জন্য সেবক ও সেব্যভাবে কোন এক স্বাভাবিক প্রীতির সম্বন্ধ লুকায়িত রয়েছে,যা উভয়েরই সমপ্রয়োজন।*
*ক্রমাগত*
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
🆕 👉 প্রেমঋণে শ্রীগৌরাঙ্গ মাধব 🥀 শ্রীরাধাবিনোদ সরকার 📖 চতুর্থ ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/05/prem4.html
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(৩২)প্রেমঋণে শ্রীগৌরাঙ্গ মাধব*
*মহাপ্রভুর আবির্ভাবের মুখ্য বহিরঙ্গ কারণ*
*🍀পরমাত্মার পূর্ণ স্বরূপ শ্রীকৃষ্ণ ও জীবাত্মার মিলন মধ্যে উভয় পক্ষেরই যে প্রয়োজনবোধ ও পরস্পরের উৎকণ্ঠার ভাব নিহিত রয়েছে,এটি কেবল প্রেমভক্তি ধর্ম ছাড়া অন্য কোন ধর্ম কর্তৃক বিঘোষিত হয় নাই।এটি কেবল প্রেমভক্তি ধর্মেরই বিজয় বার্তা।শ্রীমন্মহাপ্রভুর প্রেমধর্মই ভক্তিবাদের পূর্ণ অভিব্যক্তি। ভগবানের এই যে প্রেমাধীনতা,ভক্তবশ্যতা এটি প্রেমধর্ম ছাড়া অন্য কোন ধর্মের অগোচর।এই যে ভক্ত-ভগবানের প্রাণ বিনিময়ের নিগূঢ় গোপনীয় বার্তা, এটি জীবের পক্ষে নিরাশার ঘন-অন্ধকারের মাঝে আশার উজ্জ্বল আলো।ভক্ত ও ভগবান উভয়েরই এই প্রীতিরসে গড়া তনু। ভগবান এই প্রীতিরসের অসমোর্দ্ধ আস্বাদক আর ভক্ত প্রীতিরসের অসমোর্দ্ধ পরিবেশক।অনন্ত প্রেমপিপাসু ভগবানের প্রীতিরস আস্বাদনের চাতুর্য্যের যেমন অনন্ত বৈচিত্র্য,ভক্ত তেমনই মনের সাধে,অনন্ত পরিপাচ্যে ভগবানের বাসনা অনুযায়ী তাঁকে প্রীতিরস নিবেদন করে বিমুগ্ধ করাতে সমর্থ।যাঁর মায়াশক্তিতে অনন্ত জগৎ বিমুগ্ধ, যাঁর ভগবত্তাশক্তি অন্য নিরপেক্ষ,সেই ভগবানও ভক্তের প্রীতিরস আস্বাদনে আনন্দিত ও বিমোহিত হয়ে ভক্তের কাছে আত্মবিক্রীত হন।ভক্তও তখন অখন্ড পরমানন্দে নিজেকে কৃতার্থ মনে করেন। সুতরাং--*
*🌷রসো বৈ স রসং হ্যেবায়ং লব্ধানন্দী ভবতি।*
*🍀এই শ্রুতি বাক্যের এই জায়গাই চরমসীমায় পর্যাবসান হয়েছে।কি আশ্চর্য্য!জ্ঞানীগণ যে মুক্তিকে পরিশেষ সাধ্য মনে করেন,ভক্তগণ তা সাধনভক্তির অনুশীলনের আনুসঙ্গিক ফলরূপ অনায়াসে সেই মুক্তি পেয়ে থাকেন।শ্রীগোবিন্দের অনন্ত সুন্দর ও মাধুর্য্যময় জ্যোতি-পরিমন্ডিত নিত্য সচ্চিদানন্দ বিগ্রহের রূপ,গুণ ও লীলাতে আকৃষ্ট হয়ে চক্ষুকর্ণাদি ইন্দ্রিয়গুলি দ্বারা তাঁকে সেবা করবার জন্য জীবের লালসাময় হৃদয়ের যে আর্তি তাহাই ভক্তি।এই ভক্তিই প্রণয় রজ্জু স্বরূপ,যা দ্বারা শ্রীভগবান স্বয়ং বদ্ধ হয়ে থাকেন।*
*🌷ভক্ত মোরে বাঁধিয়াছে হৃদয় কমলে।*
*🌷যাহা যাহা নেত্র পড়ে তাহা দেখয়ে আমারে।।*
*🌷কভু মোর অবয়ব দেখে মনোহর।*
*🌷কভু মোর হাসি মুখ দেখয়ে সুন্দর।।*
*🌻ভক্তি হচ্ছেন ভগবানের রহস্যময় গুহ্য ধর্ম, যাঁর অনুশীলনে বা সাধনে জন্ম মৃত্যু সংসার দুঃখ অতিক্রম করে ভগবদ্ পার্ষদ দেহ পেয়ে থাকেন।এই ভক্তিরত্ন ভগবান কাউকেও দিতে চান না।যথা শ্রীচৈতন্যচরিতামৃতে--*
*🌷কৃষ্ণ যদি দুটি ভক্তে ভুক্তি মুক্তি দিয়া।*
*🌷কভু ভক্তি না দেন রাখেন লুকাইয়া।।*
*🌹ভগবানের সালোক্যাদি মুক্তি চারটি দিতে চাইলেও ভক্তগণ ভগবদ্ সেবা ছাড়া কিছুই গ্রহণ করেন না।সালোক্যাদি মুক্তি যদি সেবার দ্বার স্বরূপ হয় তবে কখনও কখনও গ্রহণ করেন।আর জ্ঞানীর সাযুজ্য মুক্তিকে "ভক্ত" নরক হতেও হেয় প্রতিপন্ন করেন।এই ভক্তি অহৈতুকী।কোন প্রয়োজনের উদ্দেশ্য নিয়ে ভক্ত আপন হৃদয় ভগবানে অর্পণ করেন না। ভগবৎ চরণে শ্রদ্ধা ও নির্গুণা ভক্তি ছাড়া তাঁর কোন প্রার্থনা নাই।ভক্ত কাম জানেন না,ক্রোধাদি জানেন না,স্ত্রীপুত্র বিষয়-সম্পত্তি জানেন না।তিনি ধন ও ঐশ্বর্য্য চান না,যশ ও প্রতিষ্ঠা চান না,তিনি জ্ঞানকর্মাদিতে অনাবৃত হয়ে জাতি,কুল,মান,জীবন, যৌবন ভগবদ্ রাতুল চরণে সমর্পণ করে শুধু প্রার্থনা করেন ভগবৎ ভাবনা ও তাঁর জগৎ মোহনকারী শ্রীচরণকমলের দাস্য।লোক শিক্ষার জন্য শ্রীমন্মহাপ্রভু স্বকৃত শিক্ষাষ্টকের চতুর্থ ও পঞ্চম শ্লোকে ভক্তাবতার রূপে শ্রীকৃষ্ণ সমীপে অহৈতুকী শুদ্ধাভক্তি প্রার্থনা করেছেন--*
*▪ন জনং ন ধনং ন সুন্দরীং,* *কবিতাং বা জগদীশ কাময়ে,*
*▪মম জন্মনি জন্মনীশ্বরে,*
*ভবতাদ্ভক্তিরহৈতুকী ত্বয়ি।।*
*🍀হে জগদীশ!আমি তোমার কাছে ধন চাই না,জন চাই না,সুন্দরী পত্নী চাই না,সালংকারা কবিতাও চাই না। আমার একমাত্র প্রার্থনা এই যে, ঈশ্বরস্বরূপ তোমাতে যেন আমার জন্মে জন্মে অহৈতুকী ভক্তি থাকে।*
*🌷অয়ি নন্দতনুজ কিঙ্করং পতিতং,*
*🌷মাং বিষমে ভবাম্বুধৌ।*
*🌷কৃপয়া তব পাদপঙ্কজস্থিত-,*
*🌷ধূলি সদৃশ্যং বিচিন্তয়।।*
*🌻হে নন্দসুত কৃষ্ণ!বিষম সংসার-সমুদ্রে নিপতিত আমি,তোমারই দাস,আমাকে কৃপা করে তোমার শ্রীচরণকমলের ধূলিকণা বলে মনে করো।*
*🛑শ্রীমন্মহাপ্রভু আবির্ভাবের পূর্ব পর্যন্ত বিধি মার্গের ভজনই প্রচলিত ছিল।শ্রীমন্মহাপ্রভু প্রবর্তিত রাগানুগা সাধনভক্তির অনুশীলনের ফলেই অচিরাৎ শ্রীরাধাকৃষ্ণ যুগলপাদপদ্মে ভক্তি লাভ এবং সাক্ষাৎ প্রেমসেবা লাভ হয়ে থাকে।এটিই জীবের পুরুষার্থের চরম পরাকাষ্ঠা।এই রাগানুগা সাধন ভক্তি (১)স্বকীয়া ও (২)পরকীয়া ভেদে দুই প্রকার।কৃষ্ণ প্রাপ্তির জন্য এই উভয়প্রকার ভজনই শান্ত,দাস্য,সখ্য,বাৎসল্য ও মধুর এই পাঁচ প্রকার ভাবে বিধি ও রাগানুগায়, উভয় মার্গেই হয়ে থাকে।শাস্ত্রে বহুবিধ উপায় কর্তব্যের বিধান আছে,যথা-- কর্মযোগ,জ্ঞানযোগ,যোগ সাধন ও ভক্তিরসাধন থাকলেও ভক্তিসাধন ছাড়া অন্য কোন সাধনে কৃষ্ণ বশীভূত হন না।তাই তিনি শ্রীউদ্ধব মহাশয়কে বলেছিলেন----*
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
🆕 👉 প্রেমঋণে শ্রীগৌরাঙ্গ মাধব 🥀 শ্রীরাধাবিনোদ সরকার 📖 চতুর্থ ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/05/prem4.html
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(৩৩)প্রেমঋণে শ্রীগৌরাঙ্গ মাধব*
*মহাপ্রভুর আবির্ভাবের মুখ্য বহিরঙ্গ কারণ*
*শ্রীধর স্বামীপাদ বলেছেন---*
*🌷ভক্তিহীন সর্বক্রিয়া গর্বয়ৈব ভবতি।*
*🌻ভক্তিহীন সবকাজ, গর্বের জন্য হয়ে থাকে। শ্রীপাদ কবিরাজ গোস্বামী দৃঢ়কন্ঠে বলেছেন---*
*🌷জ্ঞান কর্মে যোগধর্মে নহে কৃষ্ণ বশ।*
*🌷কৃষ্ণবশ হেতু এক প্রেমভক্তি রস।।চৈঃচঃ।।*
*🌻দেবদুর্লভ এই মনুষ্য দেহের চক্ষু,কর্ণ,নাসিকা,জিহ্বা,ত্বক পঞ্চ ইন্দ্রিয় যথাক্রমে শ্রীভগবানের রূপ,শব্দ,গন্ধ,রস ও স্পর্শ এই পঞ্চরস গ্রহণের সামর্থ্য দিয়েই তিনি সৃষ্টি করেছেন।আর বাক,পাণি,পাদ,পায়ু ও উপস্থ এই পঞ্চ কর্মেন্দ্রিয়ের মধ্যে বাক্য দ্বারা শ্রীকৃষ্ণের রূপ,গুণ,লীলাদি কীর্তন, হস্তদ্বারা শ্রীভগবানের ও তাঁরভক্তের সেবা ও পরিচর্য্যা ও পদ দ্বারা ভগবৎ ক্ষেত্রে ও বৈষ্ণব সম্মিলনে গমন।*
*অন্য,অন্তরেন্দ্রিয় মন ও চিত্ত দ্বারা শ্রীকৃষ্ণের রূপ-গুণ লীলাদি স্মরণে,তথা মানসী সেবায় নিযুক্ত করতে হবে।শ্রীগুরু ও শাস্ত্র বাক্যের সুদৃঢ় বিশ্বাসকেই শ্রদ্ধা কহে।এই শ্রদ্ধাই শ্রীকৃষ্ণ পাদপদ্মের পথের প্রীতির বীজ স্বরূপ।এই বীজ মহৎ কৃপা বা ভক্ত কৃপাতেই অঙ্কুরিত হয়ে থাকে।যেমন মূল হতে কান্ড,কান্ড হতে শাখা-প্রশাখার উদ্গম হয় ও ক্রমশ পুষ্প ও ফলের বিকাশ হয়, তদ্রূপ মহৎ কৃপা লব্ধ বা লাভ শ্রদ্ধার বীজ অঙ্কুরিত হলে শ্রবণ কীর্তনাদি নব-লক্ষণা ভক্তির লতার উদয় হয়ে ক্রমে সাধুসঙ্গ সোপান অতিক্রম করে ভজন-ক্রিয়া রূপ স্তরে আরূঢ় হলে তা হতে সাধনাঙ্গ রূপ গুরুপদাশ্রয়,দীক্ষা, শ্রীগুরুর সেবন প্রভৃতি চতুর্ষষ্ঠি (৬৪) শাখা সাধনাঙ্গ দ্বারা এই ভক্তিলতা পরিপুষ্টা ও পরিবর্দ্ধিতা হয়ে সময়ে অনর্থ নিবৃত্তি,তারপর নিষ্ঠা,তৎপর রুচি ও আসক্তি স্তরে আরূঢ়া (উচ্চস্তরে উঠা) হলে এই ভক্তিলতা হতে প্রস্ফুটিত সুরভি পুষ্পের উদয় হয়, এটিই ভাব ভক্তি এবং ঐ পুষ্প হতে যে মহাফলের আবির্ভাব হয় তাহাই প্রেমভক্তি।*
*🌷সংসার ভ্রমিতে কোন ভাগ্যবান জীব।*
*🌷গুরু কৃষ্ণ প্রসাদে পায় ভক্তিলতা বীজ।।*
*🌷মালি হইয়া করে সেই বীজ আরোপন।*
*🌷শ্রবণ কীর্তন জল করয়ে সেচন।।*
*🌷উপজিয়ে বাঢ়ে লতা ব্রহ্মান্ড ভেদি যায়।*
*🌷বিরজা ব্রহ্মলোক ভেদি পরব্যোম পায়।।*
*🌷তবে যায় ততুপরি গোলোক বৃন্দাবন।*
*🌷কৃষ্ণ চরণ কল্পবৃক্ষে করে আরোহণ।।চৈঃচঃ।।*
*🙏নববিধা ভক্তি বা নব লক্ষণা ভক্তি--*
*🌷শ্রবণং কীর্তনং বিষ্ণোঃ স্মরণং পাদসেবনম্।*
*🌷অর্চ্চনং বন্দনং দাস্যং সখ্যং আত্মনিবেদনম্।*
*🌻শ্রীকৃষ্ণের নাম,রূপ, লীলাদির শ্রবণ ও কীর্তন,নাম, রূপগুণ লীলাদির স্মরণ, শ্রীবিগ্রহের পাদসেবা,পূজা,নমস্কার দাস্যাভিমান দেহাদি সর্বস্ব পর্যন্ত সর্বতোভাবে ভগবানে নিবেদিতপ্রাণ হতে হবে।এই সাধন ভক্তির নবলক্ষণ।আবার গুরুপদাশ্রয়,দীক্ষা,গুরুর সেবন,সাধুসঙ্গ প্রভৃতি চৌষট্টি সাধনাঙ্গে বিভক্ত করা হয়েছে।ভক্তির অঙ্গ ও সাধনাঙ্গ উভয়েরই সমভাবে অনুশীলন বিধেয় (উচিত)।ভক্তিদেবী শ্রীহরির স্বরূপ শক্তির বৃত্তি বলে সমস্ত মায়া শক্তির বৃত্তিগুলিকে সাধকের জানতে বা অজানতে ধ্বংস করে ভক্তের চক্ষু কর্ণাদি প্রাকৃত ইন্দ্রিয়াদিতে আবির্ভূতা হন।*
*🌷নিত্য সিদ্ধ কৃষ্ণপ্রেম সাধ্য কভু নয়।*
*🌷শ্রবণাদি শুদ্ধ চিত্তে করয়ে উদয়।।*
*🌷এক অঙ্গ সাধে কেহ সাধে বহু অঙ্গ।*
*🌷নিষ্ঠা হৈতে উপজয় প্রেমের তরঙ্গ।।চৈঃচঃ।।*
*ক্রমাগত*
🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
🆕 👉 প্রেমঋণে শ্রীগৌরাঙ্গ মাধব 🥀 শ্রীরাধাবিনোদ সরকার 📖 চতুর্থ ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/05/prem4.html
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(৩৪)প্রেমঋণে শ্রীগৌরাঙ্গ মাধব*
*মহাপ্রভুর আবির্ভাবের মুখ্য বহিরঙ্গ কারণ*
*🍀ভজনক্রিয়া হ'তে ভাবভক্তি প্রাপ্ত অবস্থাকে সাধক অবস্থা বলা হয়ে থাকে।এই অবস্থায় (১)বৈষ্ণব সদাচারগুলির পালন,(২)শ্রীকৃষ্ণের নাম-গুণ-লীলাদির শ্রবণ ও কীর্তন (৩)মনে নিজ সিদ্ধমঞ্জুরীদেহ ভাবনা করে শ্রীকৃষ্ণের রূপ,গুণ,লীলাদির স্মরণ-মনন করে থাকেন।প্রবল বিরহ-উৎকন্ঠার সঙ্গে এই ভজন সাধন করতে করতে কালক্রমে এ' সাধনা পরিপক্ব হয়ে সাধক হৃদয়ে কৃষ্ণপ্রেম উদয় হলেই সিদ্ধাবস্থা লাভ হয়ে থাকে।সমস্ত কষ্ট,লেশ বর্জিত, নিত্যকৃষ্ণক্রিয়াশীল ও নিরবচ্ছিন্ন প্রেম-সুখ আস্বাদক সজ্জনই "সিদ্ধ"।*
*🍀ভক্ত এখন শ্রীভগবানের নিত্যদাস,আর কারও নন।অর্ঘ সিদ্ধি ও মুক্তিরূপ মাকাল ফল তার সামনে দিয়ে তৃণ খন্ডের মত ভেসে যায়।এমন কি ইন্দ্রপদ,ব্রহ্মপদ,ভগবদ্ ধাম পাবার বাঞ্ছা ও তার কৃষ্ণচিন্তাময় একাগ্র হৃদয়ের কাছে দাঁড়িয়ে থাকতে পারে না।ক্ষুধা,তৃষ্ণা,শীতাতপ আধিভৌতিক,আধিদৈবিক ও আধ্যাত্মিক ত্রিতাপজ্বালা প্রভৃতি নিজে থেকেই পলায়ন করে।ভক্ত স্ত্রী পুত্র,বিষয়াদি,যশ,লোভ,প্রতিষ্ঠা কৃষ্ণ ভক্তির বিশেষ প্রতিকূল বা বিপক্ষ বলে তাদেরকে শ্রীকৃষ্ণপাদপদ্মে সমর্পণ করেন।ভক্ত শ্রীমাধবেন্দ্র পুরীর কথা শুনেছিলেন,যাঁর জন্য স্বয়ং শ্রীগোপীনাথ ক্ষীর চুরি করে রেখেছিলেন।তাঁর সুযশ প্রচার হওয়ার ভয়ে সেখান হতে পলায়ন করে ছিলেন।*
*🌷প্রতিষ্ঠার ভয়ে পুরী গেল পলাইয়া।*
*🌻চিৎকণজীব নিত্য কৃষ্ণদাস।এই স্বরূপ জীব ভুলে গেলে মায়া তার চিৎকণ স্বরূপ আবরণ করে মায়িক দেহান্দ্রিয়ে আত্মবুদ্ধি করিয়েছেন।(আমি যা করব সবই ঠিক, এককথায় আমিই সব), এবং তার প্রভাবে জীব জরা,শোক,মৃত্যু, দুঃখাদি সংসার স্রোতে আবহমান কাল হতে ভাসছে। কুহুকিনী মায়া আত্মাকারে গঠিত মনকে জীবের কাছে স্থাপন করেছেন।▪ব্যাধ যেমন শিকারী পাখীর দ্বারা বনের পাখী আটক করে,মায়াও মনরূপ শিকারী পাখীদ্বারা জীবরূপ বনের পাখীকে সংসার শিকলে বন্দী করেছে।এই মায়া যাঁর (শ্রীকৃষ্ণের) তাঁকে ভজন করলেই এই মায়ার গোলোকধাঁধা হতে পরিত্রাণ পেতে পারে।শ্রীভগবান অর্জুনকে বলেছেন--*
*🌷দৈবীহ্যেষা গুণময়ী মমমায়া দূরত্বয়া।*
*🌷মামেব কে প্রপদন্তে মায়ামেতাং তরন্তিতে।।*
*🌻হে অর্জুন! ত্রিগুণময়ী মায়া আমারই অলৌকিক শক্তি, এটি জীবের পক্ষে দূরতিক্রমনীয়া (অতীব কষ্টকর)।যারা ভক্তি সহকারে আমার ভজনা করেন তারাই কেবল মায়াকে অতিক্রম করতে সমর্থ হন।সাধনভক্তির নববিধা অঙ্গের অনুশীলনে ভক্তিদেবীর কৃপাতেই এই দূরত্ময়া মায়া হতে ভক্ত পরিত্রাণ পায়।*
*🌹শ্রীকৃষ্ণ ব্রজপ্রেম চিরকাল দান করেননি বলেই জীবও তা পায়নি।অতীতে বহু কলিকাল অতিক্রম হয়েছে,কোনও কলিকালেই ব্রজপ্রেম জীব পায়নি, কেবল এই কলিতে পেয়েছেন।আবার করুণা শক্তির বিকাশ বশতঃই শ্রীহরি "করুণয়া" অবতীর্ণ কলৌ।সেই শ্রীকৃষ্ণ,শ্রীকৃষ্ণচৈতন্যদেব রূপে অবতীর্ণ হয়ে সঙ্কল্প করলেন--,*
*🌷চারিভাব ভক্তি দিয়া নাচাইমু ভুবন।*
*🌻শ্রীমদ্ভাগবতে রাগানুগা কথনে শ্রীভগবান বলেছেন--, "দেশকালাদিতে অপরিচ্ছন্ন সচ্চিদানন্দ রূপ যে আমি,যারা সেই আমাকে জেনে অথবা না জেনে কেবল অনন্যভাবে শ্রীব্রজেন্দ্রনন্দন বা যশোদানন্দন আলম্বনে নিজ রুচি অনুসারে দাস্য,সখ্য,বাৎসল্য ও মধুর ভাবের মধ্যে যে কোন একটা ভাবে আমাকে ভজন করছে, আমি তাদেরকে ভক্ততম বলে মনে করি।যতদিন দাস্যাদি কোন একটি ভাবের সঙ্গে আমাকে ভজন না করে,ততদিন পর্যন্ত সেই ভাবহীন বা সম্বন্ধহীন ভজনে আমার চিত্ত বিগলিত হয় না।যারা কেবলমাত্র সম্বন্ধ আশ্রয়ে ভজন করেন অর্থ্যাৎ আমার পুত্র, আমার সখা,আমার প্রাণপতি ইত্যাদি।*
*🌷এইভাবে যেই মোর করে শুদ্ধ রতি।*
*🌻সেই সম্বন্ধযুক্ত ভজনে আমার চিত্ত বিগলিত হয়।*
*ক্রমাগত*
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
🆕 👉 প্রেমঋণে শ্রীগৌরাঙ্গ মাধব 🥀 শ্রীরাধাবিনোদ সরকার 📖 চতুর্থ ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/05/prem4.html
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(৩৫)প্রেম ঋণে শ্রীগৌরাঙ্গ মাধব*
*মহাপ্রভুর আবির্ভাবের মুখ্য বহিরঙ্গ কারণ*
*🔷ঐশ্বর্য্য জ্ঞান মিশ্রিত ভাব হতে সম্বন্ধযুক্ত ভাবের গৌরব অনেক বেশী।শ্রীকৃষ্ণ বলেছেন-- "ঐশ্বর্য্য শিথিল প্রেম নহে মোর প্রীতি।*
*🌷গোপী অনুগত বিনা ঐশ্বর্য্য ও জ্ঞানে।*
*🌷ভজিলেও নাহি পায় শ্রীনন্দনন্দনে।।চৈঃচঃ।।*
*🌻রাগানুগা সাধনভক্তি দুই প্রকার-- স্বকীয়া ও পরকীয়া।শ্রীকৃষ্ণকে লাভ করবার জন্য এই উভয় প্রকার ভজনই দাস্য,সখ্য,বাৎসল্য,মধুর এই চারপ্রকার ভাবে বিধি ও রাগানুগায় উভয় মার্গেই হয়ে থাকে।*
*দাস্যরসে, শ্রীকৃষ্ণের সঙ্গে প্রভু-ভৃত্য সম্বন্ধে অভিমান আশ্রয় অবলম্বন, শ্রীরক্তক পত্রক, মধুব্রত, সুবিনাস, প্রেমনন্দ,আনন্দ,চলহা প্রভৃতি ব্রজের অনুগ বা সেবক।তাঁদের মধ্যে রক্তকই প্রধান,তারা নিজ প্রভু বুদ্ধিতে শ্রীকৃষ্ণকে নিজজন বলে মনে করেন।এই আমারতা ভাবই শ্রীকৃষ্ণের চিত্ত বিগলিত করাইয়ে সেবা করে থাকেন।*
*🔵পূর্ণেশ্বর্য্য প্রভুর জ্ঞান অধিক হয় দাস্যে।*
*🌻সখ্যরসের বিষয় অবলম্বন রাখালরাজ ব্রজদুলাল আশ্রয় অবলম্বন,শ্রীকৃষ্ণের বয়স্যগণ। তাঁরা চারপ্রকার।সুহৃৎ,সখা,প্রিয়সখা ও প্রিয় নর্ম্মসখা।*
*🌹সুহৃৎগণের বাৎসল্য গন্ধযুক্ত সখ্য,এঁদের বয়স কৃষ্ণ অপেক্ষা কিছু বেশী।তাঁরা অস্ত্রধারী,কোন অমঙ্গল হতে কৃষ্ণকে রক্ষা করবার জন্য সদাসর্বদা তৈরী।শ্রীবলরাম,সুভদ্র, মন্ডলীভদ্র,ভদ্রবর্দ্ধন, বিজয় প্রভৃতি,তাঁরা বনের বাঘ, ভুজঙ্গ ও অন্যান্য শত্রু হতে শ্রীকৃষ্ণের কোন অমঙ্গল হয়,এই আশঙ্কায় শ্রীকৃষ্ণকে চোখের আড়াল হতে দেননা,ক্ষুধায় কাতর দেখলে বনের ফলমূল তুলে এনে রাখাররাজাকে দেন।*
*🌹সখা,যাঁরা কৃষ্ণের চেয়ে সামান্য বয়সে ছোট ও দাস ধরণের (তুই একাজ কর,ঐকাজ কর ইত্যাদি ) সখ্যরসিক তাঁরাই সখা। যেমন দেবপ্রস্থ,বিশাল,বৃষভ,বরসর্প, মনিবন্ধ প্রভৃতি।তিলক-রচনা,চন্দনাদি গন্ধ দ্রব্য শ্রীঅঙ্গে বিলেপন,পদ্মিনীদল দিয়ে বীজনাদি বা বাতাস করার কাজ।*
*🌹প্রিয়সখা--,যারা সমবয়সী ও কেবল শুদ্ধ সখ্য রসাশ্রয়ী তাঁরাই প্রিয়সখা।সুবল,শ্রীদাম,দাম,বসুদাম, স্তোককৃষ্ণ,ভদ্রসেন,বিলাসী প্রভৃতি।এর মধ্যে শ্রীদামই শ্রেষ্ঠ।এই সখ্যরসে শ্রীকৃষ্ণে ঈশ্বর জ্ঞানহীন,সমতা ও মমতা বুদ্ধি বেশী।*
*🌷মমতা অধিক কৃষ্ণে আত্মসম জ্ঞান।*
*🌷অতএব সখ্য রসের বশ ভগবান।।*
☆ ☆ ☆ ☆
*🌷কান্ধে চড়ে কান্ধে চড়ায় করে ক্রীড়ারণ।*
*🌷কৃষ্ণে সেবে কৃষ্ণে করায় আপন সেবন।।*
*🌻কৃষ্ণের হাত থেকে নবনীতাদি কেড়ে নিয়ে খাওয়া,সকলে মিলে গোপীগৃহে ননী,দধি,ক্ষীর,সর, মাখন চুরি করা কাজ করেন।*
*🌹প্রিয় নর্ম্মসখা-- এঁরা অত্যন্ত ভাবযুক্ত অন্তরঙ্গ বলে শ্রীকৃষ্ণের আন্তরিক রহস্য কাজে নিযুক্ত থাকেন।এঁরা সখীভাবাবিষ্ট শ্রীকৃষ্ণ ও গোপীগণের মধ্যে প্রেমের আদান প্রদানরূপ গুপ্তকাজে সহায়তা করে থাকেন।সুবল,উজ্জ্বল,গন্ধর্ব ও বসন্ত প্রভৃতি।এঁদের মধ্যে সুবল শ্রেষ্ঠ।*
*ক্রমাগত*
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
🆕 👉 প্রেমঋণে শ্রীগৌরাঙ্গ মাধব 🥀 শ্রীরাধাবিনোদ সরকার 📖 চতুর্থ ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/05/prem4.html
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(৩৬)প্রেম ঋণে শ্রীগৌরাঙ্গ মাধব*
*মহাপ্রভুর আবির্ভাবের মুখ্য বহিরঙ্গ কারণ*
*🍀শ্রীকৃষ্ণের নিত্য গোষ্ঠলীলা কৌমার ও পৌগন্ড বয়সেই চলতে থাকে।শ্রীকৃষ্ণের শৈশব মিশ্রিত নব যৌবন বা নবকিশোর মূর্তি প্রায় সর্বভক্তগণের কাছে উজ্জ্বলরূপে প্রকাশিত হন।শ্রীকৃষ্ণ তাঁর বাল্যসখা শ্রীদাম সুবলাদির সহিত নিত্য ধেনু চড়াতে গোঠে যাত্রা করেন এবং উত্তর গোষ্ঠে প্রত্যাবর্তন করেন। এই গোষ্ঠলীলায় আমরা ব্রজ উপাসনার সমস্ত রসই দেখতে পাই।এ সম্বন্ধে একটি সুন্দর পদ পরিবেশিত হল। যথা=*
*যায় পদ রহিয়া রহিয়া রহিয়া গো*
*ধ্বজ বজ্রাঙ্কুশ পায়,রহি রহি চলি যায়,*
*যায় পদ রহিয়া রহিয়া রহিয়া গো।।*
☆ ☆ ☆ ☆
*শ্রীদাম টানে বন পানে,রাণী টানে ঘর পানে,*
*রাই টানে নয়নে নয়নে নয়নে গো।*
☆ ☆ ☆ ☆
*হেন মনে উঠে দয়া,মেঘ হয়ে করি ছায়া,*
*তার ছায়ায় যেত জুড়ায়ে জুড়ায়ে গো।।*
*🌻🍀🌹বাৎসল্য রস🌷🍀🌻*
*এই রসের আশ্রয় অবলম্বন ব্রজেশ্বরী যশোদা ও ব্রজরাজ নন্দ শ্রেষ্ঠ।ইহা ছাড়া রোহিণীদেবী, দেবকী ও তাঁর সপত্নীগণ, কুন্তী,বসুদেব,সান্দীপনি প্রভৃতি গুরুজন। আমার পুত্র, আমার গোপাল, আমার নীলমণি বলে পিতা নন্দ মহারাজ ও মা যশোমতী ঈশ্বর বুদ্ধিহীন আত্মজ আবেশে প্রচুরতর অনুগ্রহ সমাযুক্ত চিত্তে পালক ও লালক বুদ্ধিতে কৃপাযুক্ত হৃদয়ে,অতি হেয় জ্ঞানে,কৃষ্ণকে লালন-পালন করে থাকেন।অহো!যিনি পরম ব্রহ্মের ও অনুগ্রাহক তত্ত্ব,সেই ষড়ৈশ্বর্য্যপূর্ণ ভগবানকে পুত্র বুদ্ধিতে গোপালকে লালন পালন,তাড়ন,ভর্ৎসন করেছেন সেই মহারাজ নন্দ ও মাতা যশোমতীর শ্রীচরণে দন্ডবৎ প্রণাম।*
*মধুর ভক্তি রস--,শাস্ত্রে এই রসকে মধুররস,আদিরস,শুচিরস, উজ্জ্বলরস ও শৃঙ্গাররস বলে বর্ণিত হয়েছে।যে শৃঙ্গার রসরাজ মূর্তিতে শ্রীশুকদেব গোস্বামীপাদ "পীতাম্বর স্রগ্বী সাক্ষান্মনমন্মথ" অর্থ্যাৎ সাক্ষাৎ মদনমোহনমূর্তি বলে কীর্তন করেছেন, যাঁর মধুর রূপ দর্শনে "পুরুষ ঘোষিত কিম্বা স্থাবর জঙ্গম" মোহিত হয়ে যায়, মধুর শ্রীবৃন্দাবনে সেই অপ্রাকৃত নবীন মদন,শৃঙ্গার রসমূর্তি রসিকেন্দ্র চূড়ামণি শ্রীনন্দ-নন্দন এই মধুররসের বিষয় আলম্বন।*
*🍀যে ব্রজসুন্দরীগণ শ্রীকৃষ্ণের সুখের জন্য তাঁদের দেহ,গেহ, ইহকাল, পরকাল,স্বজন,বন্ধুবান্ধব, মানসসুখ, আত্মসুখ,বেদ-ধর্ম-কর্ম,আর্য্যপথ প্রভৃতি পরিত্যাগ করে গাঢ় অনুরাগের আবেশে প্রাণকোটি প্রিয়তমও রমণরূপে শ্রীকৃষ্ণকে ভজন করেছেন সেই কৃষ্ণ প্রেয়সী ব্রজগোপীগণই এই মধুর রসের আশ্রয় আলম্বন।এই মধুর রস স্বকীয়া ও পরকীয়া ভাবে দুই প্রকার।এই উভয়বিধ লীলাই নিত্য,শ্রীগোলোক,বৈকুন্ঠ,দ্বারকাই ধামের লীলা স্বকীয়া,একমাত্র ব্রজধামের লীলাই পরকীয়া, দ্বারকাধামে রুক্মিণী,সত্যভামা প্রভৃতি শ্রীকৃষ্ণের মহিষীগণ স্বকীয়া, শ্রীব্রজে শ্রীরাধা,ললিতা-বিশাখাদি ব্রজদেবীগণ পরকীয়া।ব্রজাঙ্গনাগণ করবিধি অনুসারে পত্নী নন, গাঢ় অনুরাগের আবেশে কৃষ্ণবধূ, উপপতিভাবা ভ্রষ্টা নারীর চোখে যেমন উপপতির অসংখ্য দোষ থাকলেও তা লক্ষিত হয় না,ভগবানের সঙ্গে সেরকম প্রণয়ে আবদ্ধ হওয়ার নাম কান্তা প্রেম।পতিব্রতা সতীর চোখে পতির দোষও দেখা সম্ভবপর হতে পারে ; কিন্তু উপপত্নীর চোখে হাজার দোষ থাকলেও গুণছাড়া কিছুই পরিলক্ষিত হয় না এবং গাঢ় ভাবের আকর্ষণে সর্বদা উপপতির ভাবা করেই সুখ পায়।যোগাবিশিষ্ট রামায়ণ দ্রষ্টব্য।এই জন্য ব্রজাঙ্গনাগণ নিজ নিজ গৃহকার্য্য সম্পাদন করলেও তাঁদের সঙ্কল্পাত্মক মন পরমপুরুষ (পর পুরুষ নন) শ্রীকৃষ্ণের পদারবিন্দেই অনুক্ষণ অবস্থিত থাকত।শ্রীকৃষ্ণই তাঁদের প্রাণ, জীবন-যৌবন প্রাণকোটি প্রিয়তম শ্রীকৃষ্ণের জন্যই তাঁরা পতিপুত্র, পিতামাতা,স্বজন-বান্ধবাদি ত্যাগ করেছিলেন।তাঁরা কখনও দেহাভিমানী আত্মাকে আত্মা বলে জানেন না। সৃষ্টির অন্তর্গত ভাব স্থূল ও সৃষ্টির বহির্গত ভাব সূক্ষ্ম শ্রীব্রজদেবীগণের ভাব সৃষ্টির অন্তর্গত ছিল না।প্রাকৃত দেহে প্রাকৃত ভাবের উদয় হয় ; কিন্তু অপ্রাকৃত দেহের কাজ অন্যরকম।সেটি কেবল চৈতন্যময় পরমাত্মার ভাবে বিভাবিত হয়ে পরমানন্দ অনুভব করে।এই গোপীগণ আনন্দ চিন্ময় রসপ্রতিভাবিতা।পতি-পুত্রাদির এই দেহের সঙ্গে সম্বন্ধ,আত্মার সঙ্গে কোন সম্বন্ধ নেই ; দেহ অবসানকালে যখন তাদের সঙ্গে সম্বন্ধ চিরকালের জন্যই বিচ্যুত হবে,"তখন এই মরণশীল স্বজনদেরকে উপেক্ষা করে পরমপতি শ্রীকৃষ্ণের সঙ্গে চির সম্বন্ধে আবদ্ধ হওয়াই শ্রেয়।এইরকম সঙ্কল্প মন নিয়েই ব্রজদেবীগণ নিশীথকালে, নির্জন বৃন্দারণ্যে,গাঢ় অনুরাগের আবেশে উদভ্রান্ত হয়ে শ্রীকৃষ্ণের কাছে উপস্থিত হতেন।পতি ও স্বজনের তাড়না-ভর্ৎসনা উপেক্ষা করে,জাতি-কুল-মান,লজ্জা ধর্মে জলাঞ্জলী দিয়ে গোপীগণ ব্যাকুলিত প্রাণে,উদ্দাম গতিতে পরম-পতির সঙ্গে মিলিতা হতেন।মর্যাদা প্রাপ্তা কুলবধূগণের পক্ষে অতি দুস্তর ধর্মবাধা অতিক্রম করাতেই অনুরাগের পরাবধিত্ব প্রকাশ পেয়েছে।এতে মধুর বা উজ্জ্বল রসের উজ্জ্বলতা ও পরমোৎকর্ষতা প্রতিপন্ন হয়েছে এবং ভরতমুনি ইহাকে পরমারতি বলে স্বীকার করেছেন।*
*ক্রমাগত*
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
🆕 👉 প্রেমঋণে শ্রীগৌরাঙ্গ মাধব 🥀 শ্রীরাধাবিনোদ সরকার 📖 চতুর্থ ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/05/prem4.html
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(৩৭)প্রেম ঋণে শ্রীগৌরাঙ্গ মাধব*
*মহাপ্রভুর আবির্ভাবের মুখ্য বহিরঙ্গ কারণ*
*🍀রাগের লক্ষণে বলা হয়েছে--, "প্রণয়ের উৎকৃষ্ট অবস্থায় কৃষ্ণপ্রাপ্তির সম্ভাবনায় অত্যন্ত দুঃখচিত্তে সুখ ধর্মরূপে প্রকাশ পেয়ে থাকে। আবার কৃষ্ণপ্রাপ্তির অসম্ভনায় অত্যন্ত সুখও দুঃখ ধর্মরূপে প্রকাশ পায়।রসিক পন্ডিতগণ ইহাকে "রাগ" সংজ্ঞা প্রদান করেছেন।লজ্জা ত্যাগ ও পাতিব্রত্য ধ্বংস করলেই প্রাণকোটি প্রিয়তম শ্রীকৃষ্ণকে পেতে পারি, এইরকম আকুল পিপাসার আবেগে পরমপতি শ্রীকৃষ্ণের সঙ্গে প্রণয়সূত্রে চির সম্বন্ধে আবদ্ধ হওয়া,অতি দুঃখকেও পরমসুখ বলে প্রতিপন্ন করায় বলে এখানে রাগের পরিমাণের পরাকাষ্ঠা প্রতিপাদিত হচ্ছে।গাঢ় প্রীতিময় তৃষ্ণার আবেগে এই বেদধর্ম,লোকধর্ম স্বজনাদি ত্যাগ হয়েছে বলেই সর্বশাস্ত্রে এই অনুরাগের এত গৌরব,কৃষ্ণপ্রাপ্তির সাধনরূপ আকুল পিপাসা যেমন সর্ববেদ দুর্লভ, শ্রীব্রজদেবীগণের কৃষ্ণ-প্রাপ্তিও সর্বোত্তম।যথা---*
*🌷পরিপূর্ণ কৃষ্ণপ্রাপ্তি এই প্রেমা হৈতে।*
*🌷এই প্রেমার বশ কৃষ্ণ কহে ভাগবতে।।*
*🌻যে গোপীগণ কৃষ্ণের সুখের জন্য সর্বস্ব ত্যাগ করেছেন ; যাঁরা কৃষ্ণের ক্ষণিক অদর্শনে মনে করে যেন কতযুগ থেকে তাঁকে দেখিনি এবং কৃষ্ণরূপ দর্শন সময়ে চোখের নিমিষ হয়,তা সইতে না পেরে চোখের পক্ষ কর্তা বিধাতাকে যোগ্য সৃজন জানে না বলে "জড়তাসাধন" বলে কত অভিশাপ করেন, যারা কৃষ্ণের বক্ষের উপর মুখখানা রেখেও অনুরাগের চরম লক্ষণ "প্রেমবৈচিত্র্য ভাবে " বিরহে পাগল হয়ে কত দৈন্য,কত বিলাপ করে থাকেন,তাদের অপেক্ষা আর শ্রেষ্ঠ কৃষ্ণ-অনুরাগী এই জগততলে আর কেউ নাই।এতে শৃঙ্গার রসের পরম উৎকর্ষতা প্রতিষ্ঠিত হয়েছে,ব্রজবিলাসে এই পরকীয়া পরমারতির পরম উৎকর্ষতাই শ্রীরাধার মহাভাব।ব্রজ ছাড়া এই পরকীয়া রতির প্রকাশ অন্য ধামে নাই।*
*🌷এই সে রস নিগূঢ় ধন্য।*
*🌷ব্রজবিনা ইহা না জানে অন্য।।*
*🔵
*রসময় পরম পুরুষ শ্রীকৃষ্ণ তার অচিন্ত্য শক্তি প্রভাবে গোলোক ও গোকুল উদ্ধার সমসূত্রে গ্রথিত করে সপরিবারে অবতরণ করলেন।পূর্বরাগ হতে আরম্ভ করে মোহনাখ্য মহাভাবে দিব্যোন্মাদ দশা পর্যন্ত এই লীলা পরিপূর্ণ ভাবে অনুদিত বা অপ্রকাশিত হয়।শ্রীরাধা,ললিতা, বিশাখাদি অষ্ট সখী, চন্দ্রাবলী, পদ্মা, শৈব্যা,শ্যামা,ভদ্রা,গোপালী, সঞ্চুনক্ষি প্রভৃতি ব্রজগোপীগণ নিত্যসিদ্ধা। শ্রীরাধা ও চন্দ্রাবলী যূথেশ্বরীর মধ্যে শ্রেষ্ঠা।ললিতা,বিশাখা,পদ্মা,শৈব্যা যূথেশ্বরীর যোগ্যা হলেও তাঁরা সখীভাব গ্রহণ করেছেন।এই গোপীগণের মধ্যে শ্রীরাধা বা প্রধানা গোপীকা সর্বোত্তমা যথা---*
*🌷সেই গোপীগণের মধ্যে উত্তমা রাধিকা।*
*🌷রূপগুণে সৌভাগ্যে প্রেমে সর্বাধিকা।।*
*🌺এই মধুর রসের প্রেম ক্রম বর্দ্ধিত ভাবে স্নেহ,মান,প্রণয়,রাগ,অনুরাগ, ভাব,মহাভাব পর্যন্ত পরিসীমা পেয়েছে।পুরে মহিষীগণের রূঢ় ভাব, আর ব্রজ গোপীগণের অধিরূঢ় মহাভাব।কেবল মাত্র শ্রীকৃষ্ণ সুখের জন্যই এই মহাভাবের সমস্ত চেষ্টা কোন প্রয়োজন সিদ্ধির জন্য বা নিজের কোন বাসনা পূর্ণ করবার জন্য নয়।এই অধিরূঢ় মহাভাবটি শ্রীরাধার মুখেই পরিপূর্ণভাবে বিদ্যমান,তারমধ্যে রাধারাণীই ভাবের অবধি। যথা--*
*🌷প্রেমের পরমসার মহাভাব জানি।*
*🌷সেই মহাভাব স্বরূপা শ্রীরাধা ঠাকুরাণী।।*
*ক্রমাগত*
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
🆕 👉 প্রেমঋণে শ্রীগৌরাঙ্গ মাধব 🥀 শ্রীরাধাবিনোদ সরকার 📖 চতুর্থ ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/05/prem4.html
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(৩৮)প্রেম ঋণে শ্রীগৌরাঙ্গ মাধব*
*মহাপ্রভুর আবির্ভাবের মুখ্য বহিরঙ্গ কারণ*
*🍀এই মহাভাবের লক্ষণ সম্বন্ধে শ্রীউজ্জ্বল নীলমণি গ্রন্থে বলেছেন--*
*🌷অর্থ্যাৎ রাগ যতটা পরিমাণে উদয় হবার সম্ভাবনা হতে পারে ততটা পরিমাণে উদয় হলে তার নাম অনুরাগের আশ্রয় বৃত্তি,ঐ যাবদাশ্রয় বৃত্তি যদি স্বয়ং (বেদ)দশা প্রাপ্ত হয়ে প্রকাশ পায়,তাহলে রসিক ভক্তগণ তাকে মহাভাব বলে থাকেন।*
*🌹শ্রীকৃষ্ণ ব্রজবাসীগণের প্রেমসেবায় মুগ্ধ হয়ে তাদেরকে পিতা মাতা ভাই সখা সখি প্রেয়সী প্রভৃতি সম্প্রোধন দ্বারা অপার আনন্দ অনুভব করতেন এবং ব্রজবাসীগণের মনোরঞ্জনের জন্য কখনও গোচারণ, কখনও বা মাথার উপরে পাদুকা গ্রহণ, কখনও বা রাখালগণকে কাঁধে ধারণ, কখনও বা যশোমতীর পদ ধারণ, কখনও বা সখাগণ সঙ্গে নবনী চুরি অশেষ প্রকার লীলা দ্বারা নিজেকে ধন্য মনে করতেন, বৃন্দাবন চন্দ্রের বৃন্দাবন লীলা রস আস্বাদনকারী ভক্ত বিনা এই প্রেমের মধুরিমা কেউই অবগত নন।গোপীগণ শ্রীকৃষ্ণের কাছ হতে যে প্রসাদ লাভ করেছিলেন,ব্রহ্মা,মহেশ্বর এমনকি তাঁর অঙ্গ-সংশ্রিতা লক্ষ্মীদেবীও তা পাননি। সুতরাং শ্রীকৃষ্ণের রূপগুণ মাধুর্য্যাদির আস্বাদনের জন্য ভক্তপদ হতে শ্রেষ্ঠ শুভপদ আর ত্রিজগতে নাই।অন্যের কথা কি রসিকেন্দ্র চূড়ামণি শ্রীকৃষ্ণ স্বমাধুর্য্য আস্বাদনের জন্য ভক্তভাব অঙ্গীকার করে শ্রীধাম নবদ্বীপে অন্তঃকৃষ্ণ বহির্গৌর রূপে আবির্ভূত হয়েছেন।*
*🔵মুখ্য গৌণ বহিরঙ্গ কারণ🔵*
°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°
*যুগধর্ম শ্রীনামসংকীর্তন প্রচার ও করুণার অবতার রূপে দীন,হীন, পতিত, পাষন্ডগণের প্রতি অহৈতুকী কৃপা।*
*🌷আজানুলম্বিত ভূজৌ কনকাবদাতৌ,*
*🌷সংকীর্ত্তনৈক পিতরো কমলায় তাক্ষৌ।*
*🌷বিশ্বম্ভরৌ দ্বিজবরৌ যুগধর্ম পালৌ,*
*🌷বন্দে জগৎ প্রিয় করৌ করুণাবতারৌ।।*
*🍀যাঁর আজানুলম্বিত সোনার মত বাহু,কমনীয়-কান্তি বিশিষ্ট,কমল নয়ন,সংকীর্তনের পিতা, জগতের হিতকারী আমি সেই করুণার অবতার দ্বয়কে মহাপ্রভু ও নিত্যানন্দ প্রভুকে বন্দনা করি।*
*🙏এস্থলে যুগধর্ম শ্রীহরিনাম সংকীর্তন,নামের সহিত প্রেমদান ও জীব-উদ্ধারণ সম্বন্ধে বর্ণিত হচ্ছে।শ্রীচৈতন্য লীলায় বেদব্যাস মহাভাগবত ঠাকুর শ্রীবৃন্দাবন দাসের ও ধন্য গ্রন্থ শ্রীচৈতন্যচরিতামৃত প্রণেতা শ্রীকৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামীপাদ ও শ্রীগুরু বৈষ্ণবগণের পদধূলি শিরোভূষণ করে শ্রীচৈতন্য চরিত-সুধা সংক্ষিপ্ত-ভাবে বর্ণনা করতে হৃদয়ে আকুল আগ্রহ জাগছে।*
*বৃন্দাবন দাস-কবিরাজ গোস্বামীর চরণ শিরে ধরি।*
*নিতাই-গৌরাঙ্গ পাদপদ্মের ভৃঙ্গ হৈয়া মধুপান করি।।*
*🌻যিনি পঞ্চতত্ত্বাত্মক শ্রীকৃষ্ণচৈতন্যের দেহকান্তি, যোগীগণ যাকে সর্বভূতান্তর্য্যামী পুরুষ বলে কীর্তন করেন, তিনিই এই কৃষ্ণচৈতন্যের বিভূতি, তত্ত্ববিচারে যাঁকে ষড়ৈশ্বর্য্য পূর্ণ ভগবান বলা হয়,তিনি সাক্ষাৎ শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য মহাপ্রভু।*
*🌷স্বয়ং ভগবান কৃষ্ণ কৃষ্ণসর্বাশ্রয়।*
*🌷 পরম ঈশ্বর কৃষ্ণ সর্বশাস্ত্র কয়।।*
*🌷সেই কৃষ্ণ অবতারী ব্রজেন্দ্রকুমার।*
*🌷আপনি চৈতন্যরূপে কৈলা অবতার।।চৈঃচঃ।।*
*🌷নন্দসুত বলি যাঁরে,ভাগবতে গাই।*
*🌷সেই কৃষ্ণ অবতীর্ণ চৈতন্য গোঁসাই।।*
*🌻দেব হলায়ুধ বলদেব এই চৈতন্যাবতারে প্রভু নিত্যানন্দ রূপে মিলিত হয়েছেন।পাষন্ডদলন পূর্বক ভক্তিদান করায় প্রভু নিত্যানন্দ হলায়ুধ শব্দে খ্যাত।তিনি মহাপ্রভুর দ্বিতীয় দেহ বা কলেবর।বিশ্ববন্ধু প্রেমপ্রদ ঈশ্বর শ্রীঅদ্বৈতাচার্য্য মহাবিষ্ণু বা সদাশিবের অবতার রূপে আগমন করলেন।মহাপ্রভু এক আর দুই প্রভু-নিত্যানন্দ ও শ্রীঅদ্বৈতাচার্য্য দেবর্ষি নারদ শ্রীবাস-রূপে অবতরণ করেছিলেন।স্বয়ং মহালক্ষ্মীরূপে লক্ষ্মীপ্রিয়া,বিষ্ণুপ্রিয়া ও গদাধর পন্ডিত আবির্ভূত হয়েছিলেন।কিম্বা শ্রীরাধা বৃন্দাবনে যেমন নানাপ্রকার ভেদে বহু গোপীকা মূর্তিতে বিলাস করছেন ; শ্রীগৌর অবতারেও তিনি একপ্রকার শ্রীচৈতন্য হতে অভিন্না থেকেও প্রকারান্তরে গদাধর পন্ডিতরূপ ধারণ করেছেন।যেমন স্বয়ং ভগবান প্রকাশ ভেদে বহুরূপে অবতীর্ণ হন, তাঁর হ্লাদিনীশক্তিরূপা শ্রীরাধার অবতারও সেইভাবে জানতে হবে।যাদবগণও বিভিন্ন নামে আবির্ভূত হয়েছিলেন।শ্রীশচীমাতা ও শ্রীজগন্নাথ মিশ্র সুন্দর যথাক্রমে যশোদা ও নন্দমহারাজার প্রকাশভূত।সকল ব্রজবাসীগণ,ব্রজ রাখালগণ, দাসগণ,সখা-সখিগণ,সহচরী সহ সমস্ত গোপীগণ,যোগমায়া এবং বনদেবীগণ সকলেই প্রকাশ ভেদে প্রকটে অবতরণ করেছিলেন।ভগবৎ শক্তি একই রূপ, একই সময়ে অনেক অনেক জায়গায় প্রকট হন তাকে "প্রকাশ" বলা হয়। সুতরাং চৈতন্যপার্ষদগণ নিত্যসিদ্ধ।*
*শ্রীগৌরাঙ্গের সঙ্গীগণে,নিত্যসিদ্ধ যদি মানে,*
*সে যায়রে ব্রজেন্দ্র সুত পানে।*
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
🆕 👉 প্রেমঋণে শ্রীগৌরাঙ্গ মাধব 🥀 শ্রীরাধাবিনোদ সরকার 📖 চতুর্থ ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/05/prem4.html
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(৩৯)প্রেম ঋণে শ্রীগৌরাঙ্গ মাধব*
*পঞ্চতত্ত্ব অবতীর্ণ চৈতন্যের রঙ্গে।*
*পঞ্চতত্ত্ব মিলি করে সংকীর্তন সঙ্গে।।*
*পঞ্চতত্ত্ব এক বস্তু,নাহি কিছু ভেদ।*
*রস আস্বাদিতে তার বিবিধ বিভেদ।।চৈঃচঃ*
*🏵শ্রীমন্ মহাপ্রভুর আবির্ভাব ১৪০৭ শকাব্দে ফাল্গুনী পূর্ণিমায়। তাঁর শুভ আবির্ভাবের বার্তা শুনে শচীমায়ের পিতা শ্রীনীলাম্বর চক্রবর্তী মহাশয় আগমন করে জন্মলগ্ন বিচার করে বলোএ লাগলেন, "ইহার জন্মের প্রতিলগ্নে অদ্ভুত রহস্য বিদ্যমান।গণনায় মহাপুরুষ লক্ষণ দেখতে পাচ্ছি।বত্রিশ লক্ষণ মহাপুরুষের ভূষণ, তা সকলই এই শিশুর অঙ্গে দেখতে পাচ্ছি।"বিপ্ররাজ্যে গৌড়ের রাজা হইবেক", বলে শাস্ত্রে নির্দেশ আছে।সেখানে আর এক জ্যোতির্বিদ্ বাধা দিয়ে বললেন, (রাজা হেন বাক্যে)এ শিশুর পরিচয় হয় না।তিনি সাক্ষাৎ বৃহস্পতি হতেও বিদ্বান ও সর্বগুণের আধার হবেন।সেখানে এক মহাজ্যোতির্বিদ ও মহাজন ব্যক্তি কোষ্ঠী বিচার করে বললেন, "এই শিশু সাক্ষাৎ নারায়ণ।" তিনি সর্বধর্ম সংস্থাপন করে,ভাগবত ধর্ম প্রচার করে সর্বজগতকে উদ্ধার করবেন।ব্রহ্মা,শিব,শুক,নারদাদি যা সবসময়ই বাঞ্ছা করেন,সেই প্রেমধর্ম সংস্থাপন করে সর্বজগতের প্রীতি ও হিত করবেন।তিনি সর্বভূতে সমদর্শী ও দয়ালু ও করুণার অবতার ও ভক্তিমান হবেন।এই কথা বলে তিনি শ্রীজগন্নাথ মিশ্রকে বললেন, 🙏তুমি হেন পুত্রের পিতা,তোমাকে কোটি কোটি দন্ডবৎ প্রণাম।যথা চৈঃ ভাগবতে--*
*🌷হেন কোষ্ঠী গণিলাম আমি ভাগ্যবান।*
*🌷শ্রীবিশ্বম্ভর নাম হইব ইহান্।।*
*🏵বিশ্বম্ভর নামকরণ হ'ল--,১৪০৭ শকাব্দ ১২ই চৈত্র। পিতামাতা ডাকিনী শাকিনীর ভয়ে নিমাই নাম রেখেছিলেন।নিমতরুতলে জন্ম হয়েছিল বলিয়া কেউ কেউ নিমাই নাম রেখেছিলেন।দিব্য কোষ্ঠী গণনা শুনে শ্রীমিশ্রের আত্মীয়স্বজন বান্ধবগণ "হরি হরি" ধ্বনি করে "জয় জয়" শব্দে আনন্দে অধীর হলেন।তখন বাদ্যকারগণের সানাই, মৃদঙ্গ,বাঁশী,ঢোল করতালের শব্দের সঙ্গে পুরনারীগণ ও দেবমাতাগণ একত্র হয়ে ধান-দূর্বা নিয়ে উলুধ্বনি সহকারে "চিরায়ু হোক বাবা" বলে শিশু শিরে অর্পণ করলেন।শ্রীবাস ঘরণী ও শ্রীঅদ্বৈত আচার্য্যের পত্নী সীতা ঠাকুরাণী নানাপ্রকার উপহার ও আভরণ নিয়ে ধান-দূর্বা শিরে দিয়ে আশীর্বাদ করলেন।দেবমাতাগণ প্রত্যাগমনের সময় শচীমাকে প্রণাম করলেন, কিন্তু শচীমা কাউকেও চিনতে পারলেন না। আজ হরি হরি ধ্বনির মধ্যে শ্রীমিশ্রের গৃহে ও সমস্ত নদীয়ায় মহা-আনন্দের কোলাহল হতে লাগল।*
*যখন শিশু হামাগুড়ি দিতে শিখলেন,তখন যা দেখে তাইই ধরতে যায়।অগ্নি,জল,সর্প কিছুতেই ভয় নেই শিশুর।একদিন আঙ্গিনায় এক সাপ আসিলে শিশুর চাপল্য স্বভাবে ঐ সাপকে ধরলে সাপ কুন্ডলী পাকিয়ে শিশু নিমাইকে বেড়িয়ে রইল।মহাপ্রভু সাপের উপর শয়ন করে রইলেন,মনে হল যেন ক্ষীরোদসাগরে অনন্ত শয্যায় শায়িত শ্রীবিষ্ণু।বাবা-মা ভয়ে গরুড়,গরুড় বলে ডেকে কাঁদিলে সাপ অন্তর্ধ্যান হল।*
*এইমত দিনে দিনে শচীনন্দন শচীমায়ের আঙ্গিনায় পায়ে হেঁটে ও নৃত্য করে ঘুরে বেড়াতে লাগলেন।কি নিরুপম আহা গৌরাঙ্গের রূপ।সুবলিত মস্তকে চাঁচর কেশ,দীর্ঘায়ত কমল লোচনে মনোরম ঈক্ষণ হল,চন্দ্রবিনিন্দিত বদন, আজানুলম্বিত ভূজদ্বয়, অধর বান্ধুলী পুষ্পের ন্যায় ঈষৎ হাস্যে দেদীপ্যমান, দেহ স্বর্ণকান্তির ন্যায় মনোহর, কর-চরণ অঙ্গুলী ও নখরাজী স্থল পদ্ম সদৃশ আভাযুক্ত।একদিন শিশু গৌরাঙ্গের গমনকালে শচীমা দেখলেন পুত্রের পদতলে রক্তিম আভায় রঞ্জিত,দেখলে মনে হয়, পেলব পদতল হতে শোণিত ঝরছে।আর একদিন পিতামাতা অরুণ বর্ণ-চরণতলে শঙ্খ,চক্র, ধ্বজ,মৎস্য,পদ্মাদি দেখলেন। সুন্দর বালক হরি ধ্বনি বন্ধ হলে বিষাদে ক্রন্দন করেন।প্রভাতকালে নদীয়া নাগরীগণ বালককে মধ্যকেন্দ্র করে হরিসংকীর্তন করেন,তখন গৌরসুন্দর আমার আনন্দে নৃত্য করতে থাকেন।নামকীর্তন বন্ধ হলে ক্রন্দন করতে থাকেন। হরিধ্বনি করলে ক্রন্দন বন্ধ হয়ে যায় বলে নদীয়া নাগরীগণ মহাপ্রভুর নাম রাখলেন "গৌরহরি"।*
*ক্রমাগত*
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
🆕 👉 প্রেমঋণে শ্রীগৌরাঙ্গ মাধব 🥀 শ্রীরাধাবিনোদ সরকার 📖 চতুর্থ ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/05/prem4.html
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(৪০)প্রেমঋণে শ্রীগৌরাঙ্গ মাধব*
*🍀একদিন দুই চোর নিমাইয়ের অলঙ্কার চুরি করবার মানসে তাঁকে চুরি করে কোলেতে নিয়ে চলে যায়। কিন্তু বৈষ্ণবী মায়ায় মুগ্ধ হয়ে আবার চোরদ্বয় আপন ঘর মনে করে শ্রীজগন্নাথ গৃহে এসে নিমাইকে কোল হতে নামিয়ে দেয়।*
*🌹পিতাজগন্নাথ মিশ্র একদিন বললেন, বিশ্বম্ভর! বাপ!ঘর হতে আমার একটি গ্রন্থ এনে দাও।এইকথা শুনে তাড়াতাড়ি গ্রন্থটি আনতে গেলে রুনুঝুনু শব্দে, নূপুরহীন পায়ে নূপুর বেজে উঠিল।বাবা-মা বিস্মিত হয়ে বলতে লাগলেন, যথা শ্রীচৈতন্যভাগবতে--*
*🌷আমার পুত্রের পায়ে নাহিক নূপুর।*
*🌷কোথায় বাজিল বাদ্য নূপুর মধুর।।*
*🍀একদিন ব্রহ্মণ্যতেজ বিশিষ্ট এক বিপ্র বালগোপালকে কন্ঠে দোলায়ে নিরবধি কৃষ্ণ কৃষ্ণ নাম জপ করতে করতে তীর্থপর্য্যটন ছলে শ্রীজগন্নাথ মিশ্র গৃহে বিজয় করলেন বা প্রবেশ করলেন। তিনি ষড়াক্ষর গোপাল মন্ত্রে দীক্ষিত। মিশ্র পুরন্দর অতিথির তেজময় কলেবর বা দেহ দর্শন করে তাঁকে নমস্কার করে নিজহাতে চরণ ধুইয়ে দিয়ে শুদ্ধ আসনে বসতে দিলেন।শ্রীমিশ্র হর্ষভরে,বালগোপালের ভোগের জন্য অতিথিকে রন্ধন করতে দিলেন।রন্ধন সমাপ্ত হলে ব্রাহ্মণ বালগোপালকে নিবেদন করে ধ্যান করতে লাগলেন।তখন বালগোপাল-গৌরচন্দ্র ধূলা ধূসরিত অঙ্গে প্রায় উলঙ্গ বেশে এসে---*
*🌷হাসিয়া বিপ্রের অন্ন লইয়া শ্রীকরে।*
*🌷এক গ্রাস খাইলেন দেখে বিপ্রবরে।।চৈঃভাঃ।।*
*🌻এইরকম ভাবে তিনবার রন্ধন করে গোপাল দামোদরকে নিবেদন করলে তিনবারই শ্রীগৌরচন্দ্র ঐ নিবেদিত অন্ন গ্রহণ করেন।অতিথি বললেন, আর রন্ধনের প্রয়োজন নেই। আমি কিছু ফলমূল ইষ্টদেবকে নিবেদন করব।তখন শ্রীগৌরহরির অগ্রজ নিত্যানন্দ স্বরূপ শ্রীবিশ্বরূপ আগমন করে অতিথিকে বহু মিনতি ও আপ্যায়ন করে চরণ ধরে পুনঃ রন্ধন করতে বললেন।তখন বাধ্য হয়ে ব্রাহ্মণ পুনঃ রন্ধন করে ভোগ লাগালেন।তখন প্রায় অনেক রাত হয়ে গেছে, পিতামাতা,অগ্রজ সকলেই যোগমায়া নিদ্রায় অভিভূত হলেন।এবারও বালক গৌর নিবেদিত অন্ন গ্রহণ করতে আসিলে ব্রাহ্মণ হায়!হায়! বলে চিৎকার করে উঠলেন ; কিন্তু নিদ্রিত বলে কেউই শুনতে পেলেন না।তখন শ্রীগৌরসুন্দর ব্রাহ্মণকে বললেন---*
*🌷প্রভু বোলে আর বিপ্র তুমি ত উদার।*
*🌷তুমি আমায় ডাকি আন কি দোষ আমার।।*
*🌷মোর মন্ত্র জপ করি মোরে করহ আহ্বান।*
*🌷রহিতে না পারি আমি আসি তোমাস্থান।।*
*🌷সেই ক্ষণে দেখে বিপ্র পরম অদ্ভুত।*
*🌷শঙ্খ চক্র গদা পদ্ম অষ্টভূজরূপ।।চৈঃভাঃ।।*
*🌻ব্রাহ্মণ দেখিলেন, "এক হাতে নবনী,অন্য হাতে খায়, শ্রীবৎস লাঞ্জিত বক্ষ,পরিসর বক্ষে বৈজয়ন্তী মালা দুলছে,শিরে নবগুঞ্জা সহ শিখিপুচ্ছ শোভা পাচ্ছে, নখর মণির কিরণে অন্ধকার দূরে যাচ্ছে।ব্রাহ্মণ গোপ গোপী,গাভী দর্শন করলেন।কদম্ব বৃক্ষে কোকিল,শুক-সারি ও ময়ূরময়ূরীগণের নৃত্য দেখলেন,এই ঐশ্বর্য্য দর্শন করে ব্রাহ্মণ মূর্ছিত হয়ে মাটিতে পড়ে গেলেন।করুণার অবতার প্রভু গৌরসুন্দর ব্রাহ্মণের অঙ্গে শ্রীহস্ত সঞ্চালন করলে তিনি চৈতন্যলাভ করে কম্প,পুলকাদি অষ্টসাত্ত্বিক বিকার গ্রস্ত হয়ে হুঙ্কার গর্জনে নৃত্য করতে লাগলেন।*
*🍀শ্রীহস্তে খড়ি দিবার শুভক্ষণ আগমন করলে শ্রীমিশ্র পুরন্দর (জগন্নাথমিশ্র) হাতে খড়ি দিলেন।তার সঙ্গেও কর্ণবেধ ও চূড়াকরণ করলেন।১৪১৬ শকাব্দে অক্ষয় তৃতীয়ার দিন নিমাইয়ের উপনয়ন হ'ল।বর্ণাক্ষর দেখিবামাত্র আপন মনে লিখে যান।গৌরহরি নিরন্তর বা সবসময় শ্রীকৃষ্ণের নাম-মালা লিখেন। প্রায়শঃ রাম,কৃষ্ণ, মুরারি, মুকুন্দ, বনমালী প্রভৃতি নাম লিখে সেটি শ্রীমুখে উচ্চারণ করেন।*
*🍀প্রত্যেকদিন নিমাই সমবয়সী বালকদের সঙ্গে খেলা করে শ্রীঅঙ্গ ধূলায় ধূসরিত করেন বলে বাৎসল্যপ্রেমময়ী মা শচীদেবী শাসন করেন।একদিন শচীমা খই ও সন্দেশ নিমাইয়েরহাতে দিয়ে গৃহকর্মাদি করতে চলে গেলেন। নিমাই তা না খেয়ে মাটি ভক্ষণ করছেন। শচীমা হায়!হায়! বলে শ্রীহস্ত হতে মৃত্তিকা ফেলে দিলে নিমাই কাঁদতে কাঁদতে বললেন, "মা! এই মাটিতেই আমাদের দেহ সৃষ্টি,এই মাটিতেই অন্ন হয় ইত্যাদি জ্ঞানগর্ভ কথা মাকে শিক্ষা দিয়ে শচীমায়ের কোলে উঠে স্তন পান করতে লাগলেন।*
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
🔜 ক্রমাগত 👉 প্রেমঋণে শ্রীগৌরাঙ্গ মাধব 🥀 শ্রীরাধাবিনোদ সরকার 📖 পঞ্চম ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/05/prem5.html
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝
꧁👇📖 সূচীপত্র ✍️ শ্রী জয়দেব দাঁ 📖👇꧂
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️
নিবাস- বাঁশবাড়ী, কীর্তন মন্দিরের পাশে, পোঃ- বাঁশবাড়ী, থানা- ইংরেজ বাজার, জেলা- মালদহ, পশ্চিমবঙ্গ, পিন কোড- ৭৩২১০১।
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*••••━❀꧁👇 📖 সূচীপত্র 📖 👇꧂❀┅••••*
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*••••━❀꧁👇📚 PDF গ্রন্থ 📚👇꧂❀┅••••*
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য প্রভু নিত্যানন্দ
হরে কৃষ্ণ হরে রাম শ্রীরাধেগোবিন্দ।।
*••••┉━❀꧁ 🙏 জয় জগন্নাথ 🙏 ꧂❀━┅••••*
হরে কৃষ্ণ হরে কৃষ্ণ কৃষ্ণ কৃষ্ণ হরে হরে
হরে রাম হরে রাম রাম রাম হরে হরে॥
*••••┉━❀꧁ 🙏 জয় রাধাকান্ত 🙏 ꧂ ❀━┅••••*
🌷❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀🌷
🏵️❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀🏵️
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
