শ্রী মৃন্ময় নন্দী কর্ত্তৃক সকল ভক্ত👣চরণে👣অসংখ্যকোটি 🙇প্রণাম🙇 ক্লিক করুন 👇

শ্রী মৃন্ময় নন্দী কর্ত্তৃক সকল ভক্ত👣চরণে👣অসংখ্যকোটি 🙇প্রণাম🙇 ক্লিক করুন 👇

৪৫. মা জাহ্নবার পালিত পুত্রদ্বয় 🍀 বৈষ্ণব জগতের মাধুকরী 🏵️ শ্রীরবীন্দ্রনাথ রাহা ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/07/madhukori45.html

  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
  *••••┉❀꧁👇🏠Home Page🏠👇꧂❀┅••••* 
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
    *••••━❀꧁👇 📖 সূচীপত্র 📖 👇꧂❀┅••••* 
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
     *••••━❀꧁👇📚 PDF গ্রন্থ 📚👇꧂❀┅••••* 
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
  *•❀꧁ 📖সূচীপত্র 🙏 শ্রী জয়দেব দাঁ 📖 ꧂❀•* 
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
**(৪৫)বৈষ্ণব জগতের মাধুকরী*
    *মা জাহ্নবার পালীত পুত্রদ্বয়*
        =================
*🌷পদকর্তা হিসাবেও কানু ঠাকুর উল্লেখযোগ্য কারণ তিনি বহু বৈষ্ণব পদাবলী রচনা করে গিয়েছেন। এই প্রসঙ্গে তাঁর একটি পদাবলী আস্বাদন করুন।*
*🍀দয়া করো মোরে নিতাই দয়া করো মোরে।*
*🍀অগতির গতি নিতাই সাধু লোকে বলে।।*
*🍀জয় প্রেমভক্তিদাতা পতাকা তোমার।*
*🍀উত্তম অধম কিছু না কৈলে বিচার।।*
*🍀প্রেমদানে জগজীবের মন কৈলা সুখী।*
*🍀তুমি তো দয়ার ঠাকুর আমি কেনে দুঃখী।।*
*🍀কানুরাম দাস বোলে কি বলিব আমি।*
*🍀এ বড় ভরসা,মোর ঠাকুর হও তুমি।।*
*🌹মা জাহ্নবার দ্বিতীয় পালিত পুত্রের প্রসঙ্গ করতে গেলে বংশীবদন ঠাকুরের কিছু বৃত্তান্ত না দিলে প্রকৃত হৃদয়ঙ্গম করা যাবে না। শ্রীগৌর পার্ষদ শ্রীবংশীবদনের পিতৃদেবের নাম শ্রীমধব চট্টোপাধ্যায় এবং মাত‍্যদেবীর নাম শ্রীমতী সুশীলা দেবী। মহাপ্রভুর বাল‍্যসঙ্গী ছিলেন এই বংশীবদন ঠাকুর এবং বাল‍্যকাল হতেই উভয়ের মধ্যে সুমধুর প্রীতির সম্পর্ক গড়ে উঠে।পরে মহাপ্রভু যখন সন্ন‍্যাস নিয়ে চলে যান তখন বংশীবদন ঠাকুর তাঁর সঙ্গকামনা করেছিলেন কিন্তু মহাপ্রভু তাঁকে নিষেধ করে বিষ্ণুপ্রিয়াদেবী এবং শচীমাকে রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বভার অর্পণ করে বলেছিলেন=*
*🌷মাতা আর বিষ্ণুপ্রিয়া রহিলা ঘরেতে।*
*🌷এ দুয়ের রক্ষা করো বিশেষ রূপেতে।।*
*🌷তোমার সঙ্গেতে সদা রহিবে ঈশান।*
*🌷কহিলাম এই আমি তুয়া বিদ‍্যমান।।*
               *(বংশী শিক্ষা গ্রন্থ )*
*অতঃপর মহাপ্রভু তাঁর করকমল ধারণ করে তাঁকে গৃহস্থাশ্রম পালন করতেও অনুরোধ করেছিলেন কারণ এটি বিশেষ তাৎপর্য‍্যপূর্ণ ছিল যা এই পয়ার হতে জানা যাবে=*
*🌷দুই হস্তে ধরি কহেন নিমাই পন্ডিত।*
*🌷বিবাহ রহ যদি চাও মোর প্রীতি।।*
*🌺তারপর আবার বললেন=*
*🍀জ‍্যেষ্ঠা পুত্রবধূ গর্ভে তুমি পুনর্বার।*
*🍀দুইরূপে আবির্ভাব হইবে আবার।।*
*🍀সেই দুই জন্মে তুয়া সঙ্গে গৌড়দেশে।*
*🍀করিব ব্রজের লীলা কহিনু বিশেষে।।*
*🍀এবে এই কথা তুমি না কহ কাহারে।*
*🍀দুই কর ধরি তুয়া কহি বারে বারে।।ঐ।।*
*🌹এছাড়াও করুণার অবতার মহাপ্রভু একই রাত্রে বিষ্ণুপ্রিয়াদেবী এবং বংশীবদন ঠাকুরকে স্বপ্নদান করে বললেন,যে নিমগাছতলায় শচীমা তাঁকে স্তন‍্য পান করিয়েছিলেন সেই বৃক্ষ হতে মহাপ্রভুর বিগ্রহ তৈরী করে সেবাপূজা করতে, কারণ তিনি  তাতেই প্রকট হবেন।আশ্চর্য‍্যের বিষয় এই যে একই রাত্রে পৃথক ঘরে উভয়ে একই স্বপ্ন দর্শন করে সকালবেলা রোদন করতে লাগলেন এবং ভাস্কর দ্বারা দুইটি শ্রীবিগ্রহ তৈরী করিয়ে সেবা পূজার প্রবর্তন করেন।এই স্বপ্নের প্রসঙ্গ কি সুন্দর ভাবে বংশী শিক্ষা গ্রন্থে বর্ণিত হয়েছেন তা শুনুন।*
*🌹তবে স্বপ্নযোগে কন দুইজনে।*
*🌹মিছা কেন কাঁদ সদা আমার বিহনে।।*
*🌹আমার আদেশ এই করহ শ্রবণ।*
*🌹যে নিম্বতলায় মাতা দিলা মোরে স্তন।।*
*🌹সেই নিম্ববৃক্ষে মোর মূর্তি নির্মাইয়া।*
*🌹সেবন করহ তাঁর আনন্দিত হইয়া।।*
*🌹সেই দারু মূর্তি মধ্যে হবে মোর স্থিতি।*
*🌹এ লাগি সেরূপে তার পাইবে প্রতীতি।।*
*🌻শ্রীবিগ্রহদ্বয়ের একটি এখনও শ্রীধাম নবদ্বীপে বিরাজমান এবং অপরটি নদীয়া জেলার অন্তর্গত বিল্ব গ্রামে প্রতিষ্ঠিত আছেন।*
*🌳অতঃপর বংশীবদন হাড়াই পন্ডিতের কনিষ্ঠ পুত্র শ্রীমান চন্দ্রশেখর পন্ডিতের কন‍্যা শ্রীমতী পার্বতী দেবীর পাণিগ্রহণ করেন এবং এই বিয়ের ফলে তাঁদের দুইটি পুত্র সন্তান লাভ হয় যাঁদের নাম শ্রীচৈতন‍্য দাস ও নিতাই।*
▪▪▪▪▪▪▪▪▪▪▪▪
*না ভজিলে যেবা ভজে,স্নেহে তার মন মজে,*
   *জনক জননী যথা ভজে শিশু সবে।*
*স্নেহ সুধা হৃদে ভরা,সন্তানেরে পালে তার,*
   *শিশুরা না পারে কভু সেবিতে সেভাবে।।*
*নাহি জাগে ভোগ ইচ্ছা,পূর্ণ যার সব বাঞ্জা,*
   *অকৃতজ্ঞ মানি তারে যেন মূঢ়মতি।*
*আমি যে গো ভক্তিডোরে,রহি বাঁধা চিরতরে,*
   *নাহি হই বীতরাগ কভু ভক্ত প্রতি।।*
*একিষ্ঠ হয়ে মন,ভজে মোরে যেই জন,*
   *তার প্রতি রহে মোর করুন হৃদয়।*
*কৃপা সুধা বরিষণ,করি তারে অনুক্ষণ,*
   *সাধনায় সিদ্ধি তার জানিও নিশ্চয়।।*
        🙌🙌🙌🙌🙌🙌
 ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
   ✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️ 
নিবাস- বাঁশবাড়ী, কীর্তন মন্দিরের পাশে, পোঃ- বাঁশবাড়ী, থানা- ইংরেজ বাজার, জেলা- মালদহ, পশ্চিমবঙ্গ, পিন কোড- ৭৩২১০১।
 ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
    *••••┉━❀꧁ 🙏 রাধে রাধে 🙏 ꧂❀━┅••••* 
                   শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য প্রভু নিত্যানন্দ
              হরে কৃষ্ণ হরে রাম শ্রীরাধেগোবিন্দ।।
  *••••┉━❀꧁ 🙏 জয় জগন্নাথ 🙏 ꧂❀━┅••••*
              হরে কৃষ্ণ হরে কৃষ্ণ কৃষ্ণ কৃষ্ণ হরে হরে
              হরে রাম হরে রাম রাম রাম হরে হরে॥
  *••••┉━❀꧁ 🙏 জয় রাধাকান্ত 🙏 ꧂ ❀━┅••••*
   💮❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀💮
   💮❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀💮
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧



৪৪. মা জাহ্নবার পালিত পুত্রদ্বয় 🍀 বৈষ্ণব জগতের মাধুকরী 🏵️ শ্রীরবীন্দ্রনাথ রাহা ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/07/madhukori44.html

  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
  *••••┉❀꧁👇🏠Home Page🏠👇꧂❀┅••••* 
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
    *••••━❀꧁👇 📖 সূচীপত্র 📖 👇꧂❀┅••••* 
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
     *••••━❀꧁👇📚 PDF গ্রন্থ 📚👇꧂❀┅••••* 
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
  *•❀꧁ 📖সূচীপত্র 🙏 শ্রী জয়দেব দাঁ 📖 ꧂❀•* 
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
**(৪৪)বৈষ্ণব জগতের মাধুকরী*
  *মা জাহ্নবার পালিত পুত্রদ্বয়*
  <><><><><><><><><><><>
*🪷দয়ালপ্রভু নিতাইচাঁদ পত্নীর এই অকাল মৃত‍্যুতে ব‍্যথিত হয়ে বারো দিনের বয়স্ক সেই শিশু সন্তানটিকে নেজ কোলে করে তাঁর শ্রীপাট খড়দহে নিয়ে আসেন যা বৃন্দাবন দাস ঠাকুর বিরচিত "শ্রীচৈতনচন্দ্রোদয়" গ্রন্থে পাওয়া যায়।যথা=*
*🌷দ্বাদশ দিনের হইলে আমার প্রভু লইয়া গেলা।*
*🌷যত্ন করি পুত্র ভাবে পালন করিলা।।*
*🌹এইভাবে শিশু সন্তানটিকে খড়দহে নিয়ে এসে নিত‍্যানন্দ প্রভু মা জাহ্নবার হাতে সমর্পণ করেন এবং তিনিই তাঁকে অপত‍্যস্নেহে বা নিজপুত্রস্নেহে লালন পালন করেন এবং "শিশু কৃষ্ণদাস" এই নামকরণ করেন এবং পরে তাঁকে দীক্ষাদানও করেন। মা জাহ্নবা তিনবার ব্রজধামে গমন করেছিলেন এবং এই তৃতীয় যাত্রায় গমন করে তিনি কাম‍্যবনে প্রকট লীলা সাঙ্গ করেন।একবার মা জাহ্নবা এই শিশু কৃষ্ণদাসকে বাল‍্যকালে শ্রীধাম বৃন্দাবন নিয়ে যান এবং কৃষ্ণভক্ত এই বালকটি শ্রীমদনমোহনের মন্দির প্রাঙ্গণে মদনগোপালের আবেশে নূপুর পরে নৃত্য করে তদানীন্তন বা তখনকার ব্রজবাসীগণকে মধুর মুরলী ধ্বনিতে মুগ্ধ করে দেন এবং সেইদিন সেইক্ষণে শ্রীজীব গোস্বামীপাদও তা দর্শন ও শ্রবণ করে এই বালকের ভবিষ্যৎ জীবন সম্বন্ধে অনেক আশা পোষণ করেছিলেন।এই প্রসঙ্গটি শ্রীপাদ বৃন্দাবন দাসঠাকুর তাঁরই রচিত "চৈতন‍্যচন্দ্রোদয়" গ্রন্থে কিভাবে লিপিবদ্ধ করেছেন আস্বাদনের জন্য দেওয়া হল।*
*🌷কিশোর বয়স যখন তখন বৃন্দাবনে।*
*🌷মহা অনুভব তার দেখিয়াছি নয়নে।।*
*🌷সঙ্কীর্তনে অদ্বিতীয় মদন গোপাল।*
*🌷মণিহার কন্ঠে শোভে দোলে বনমাল।।*
*🌷মুরলীর রবে সভার হরিলেন চিত।*
*🌷ব্রজবাসী বলে কানাই হইল প্রতীত।।*
*🌷শ্রীজীব গোস্বামী আদি ব্রজবাসীগণ।*
*🌷দেখিয়া তাহার রূপ করিলা স্তবন।।*
*🌷সেই হতে নাম হইল শ্রীকানু ঠাকুর।*
*🌷কি আর বলিব তাঁর মহিমা প্রভুর।।*
*🌻বালকের এই অত‍্যদ্ভূদ্ ভাববিকার লক্ষ্য করে শ্রীজীব প্রমুখ বৈষ্ণব মহান্তগণ তাঁকে "উজ্জ্বল গোপাল" উপাধিতে ভূষিত করলেন। ব্রজে এইরকম একদিন নৃত্য করবার সময় হঠাৎ তাঁর ডান চরণের নূপুর হারিয়ে যায় কিছুতেই তা খুঁজে পাওয়া যায় না।এই সময় তিনি ভাবাবেশে তিনি বলেন যে জায়গায় এই নূপুর পড়েছে তা আমি জানি এবং আমি সেই জায়গায় গিয়ে শ্রীপাট স্থাপন করব।ইহা দ্বারা তিনি ইঙ্গিতে এইই বুঝাতে চাইলেন যে তাঁর পূর্বপুরুষ সেবিত প্রাণবল্লভ বিগ্রহ যে জায়গায় আছেন সেই বোধখানায় তিনি তাঁর শ্রীপাট স্থাপনা করবেন। এই "বোধখানা" হচ্ছে যশোহর জেলার অন্তর্গত এবং এটি হচ্ছে তাঁদের আদি পূর্ব পুরুষের বাসস্থান যদিও তাঁর পিতা "সুখসাগরে" শ্রীপাট স্থাপনা করেছিলেন।*
*🌹কথিত আছে কানু ঠাকুর তাঁর শেষ জীবনে সকলের অজ্ঞাতে বোধখানা ত‍্যাগ করে মেদিনীপুর জেলার অন্তর্গত গড়বেতা গ্রামে এক পর্ণকুটীরে থেকে কঠোর সাধন ভজনে নিজেকে সমাহিত রাখতেন। এই সময় একদিন শীলাবতী নদীতে স্নান করবার সময় এক মৃতদেহ তাঁর পাদস্পৃষ্ট হয় এবং তিনি তা উঠিয়ে দেখেন তা এক সুন্দর ব্রাহ্মণ কুমারের প্রাণহীন দেহ।তখন তিনি সেই মৃতের কর্ণে মহামন্ত্র প্রদান করতেই মৃতদেহে প্রাণ সঞ্চার হয় এবং পুনর্জন্ম লাভ করে সেই ব্রাহ্মণ কুমার পূর্বস্মৃতি ফিরে পান এবং নিজ বংশ পরিচয় প্রদান করেন। বলেন যে তাঁর আদি নিবাস বাঁকুড়া জেলার গড়সিমলাপাল গ্রামে। হঠাৎ কোন ব‍্যাধিতে তাঁর মৃত‍্যু হওয়ায় তাঁর আত্মীয়স্বজন দাহ না করেই নদীর জলে ভাসিয়ে দেন এবং পরে মহৎকৃপা প্রভাবে নবজীবন লাভ করেন। কানু ঠাকুর তাঁকে "রাম" বলে ডাকতেন।পরে এই সংবাদ বাঁকুড়ায় পৌঁছলে তাঁর নিজজনেরা তাঁকে সংসার আশ্রমে ফিরে নিবার জন্য আগমন করেন কিন্তু শ্রীরাম তাঁদের কথায় কর্ণপাত না করে আজীবন কানু ঠাকুরের আনুগত‍্যে থেকে সাধন ভজনের মনোভাব প্রকাশ করেন।অদ‍্যাপি শ্রীরামের বংশধরগণ গড়বেথায় কানু ঠাকুরের পদাঙ্কিত ভূমিতে বসবাস করে সেবাকার্য‍্য চালিয়ে যাচ্ছেন।কানু ঠাকুরের আবির্ভাব যেমন অলৌকিক তাঁর তিরোভাবের সহিতও তেমনি অলৌকিক কাহিনীর ইতিহাস জড়িত।এই সব সিদ্ধ মহাপুরুষগণ নিজেরাই তাঁদের অপ্রকটের দিনক্ষণ সব বুঝতে পারেন। সেই হিসাবে তিনি সব ব্রাহ্মণ বৈষ্ণব মহান্তগণকে নিমন্ত্রণ করে মালসাভোগ আপ‍্যায়িত করেন। নিমন্ত্রিতের মধ্যে কয়েক মূর্তি আম ও কাঁঠাল প্রসাদ পাবার বাসনা প্রকাশ করেন। তখন কিন্তু আম ও কাঁঠালের অসময়। আম ও কাঁঠাল গাছে নাই, তথাপি তিনি তাঁর গুরুদেব মা জাহ্নবাকে স্মরণ করে প্রিয়শিষ‍্য রামকে সঙ্গে করে শীলাবতী নদীর তীরে এক আমের বাগানের দিকে অগ্রসর হন। হঠাৎ শীলাবতী নদীতে বন‍্যা এসে নদীর স্রোত এবং গতি পরিবর্তন করে দেয় যার ফলে এপারের আমবাগান নদীর উপরে হয়ে যায়। মহাশক্তিধর কানাই ঠাকুর তখন সেই খরস্রোতা নদীর উপর তাঁর উত্তরীয় বিছিয়ে শিষ‍্যসহ জলের উপর দিয়ে হেঁটে সেই নদী পার হন এবং পরিশেষে সেই আম বাগানে এসে পৌঁছান।গাছে তখন প্রকৃতির নিয়মে কোন আম কাঁঠাল নাই। কিন্তু সিদ্ধ মহাত্মাগণের ইচ্ছায় সবই সম্ভব হয়। তিনি সেই বৃক্ষের কাছে আম ও কাঁঠাল পাওয়ার মনোবাসনা প্রকাশ করলে বৃক্ষগণ তাঁর আদেশ পালন করে এবং গুরুশিষ‍্য উভয়ে মিলে পর্য‍্যাপ্ত পরিমাণে সুপক্ক আম কাঁঠাল নিয়ে এসে অতিথিগণকে প্রাণ ভরিয়ে সেবা করান।*
*🌼অতঃপর তিনি এই ধরাধাম হতে লৌকিক দেহের অবসান কামনায় ভজনে আবিষ্ট হয়ে পড়েন।সেইদিনটি ছিল শ্রীরাসপূর্ণিমার দিন। ধীরে ধীরে স্মরণ মননের মাধ‍্যমে লীলাসমুদ্রে বিলীন হয়ে যান এবং এইভাবে নিতাই গৌরের এক বিশিষ্ট (অসাধারণ) পরিকরের ভক্তিময় জীবনের পরিসমাপ্তি মাতৃস্নেহে লালিত পালিত তিনি যে বৈষ্ণব জগতের একজন উজ্জ্বল জ‍্যোতিষ্করূপে বৈষ্ণব নভোমন্ডলে বিরাজ করবেন এতে অবাক হবার কিছুই নাই  কিন্তু দুঃখের বিষয় কয়জন ভক্তি জগতের এইসব সুমধুর কথার খবর রাখেন?*
          *(ক্রমাগত)*
 ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
   ✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️ 
নিবাস- বাঁশবাড়ী, কীর্তন মন্দিরের পাশে, পোঃ- বাঁশবাড়ী, থানা- ইংরেজ বাজার, জেলা- মালদহ, পশ্চিমবঙ্গ, পিন কোড- ৭৩২১০১।
 ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
    *••••┉━❀꧁ 🙏 রাধে রাধে 🙏 ꧂❀━┅••••* 
                   শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য প্রভু নিত্যানন্দ
              হরে কৃষ্ণ হরে রাম শ্রীরাধেগোবিন্দ।।
  *••••┉━❀꧁ 🙏 জয় জগন্নাথ 🙏 ꧂❀━┅••••*
              হরে কৃষ্ণ হরে কৃষ্ণ কৃষ্ণ কৃষ্ণ হরে হরে
              হরে রাম হরে রাম রাম রাম হরে হরে॥
  *••••┉━❀꧁ 🙏 জয় রাধাকান্ত 🙏 ꧂ ❀━┅••••*
   💮❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀💮
   💮❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀💮
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧



৪৩. মা জাহ্নবার পালিত পুত্রদ্বয় 🍀 বৈষ্ণব জগতের মাধুকরী 🏵️ শ্রীরবীন্দ্রনাথ রাহা ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/07/madhukori43.html

  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
  *••••┉❀꧁👇🏠Home Page🏠👇꧂❀┅••••* 
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
    *••••━❀꧁👇 📖 সূচীপত্র 📖 👇꧂❀┅••••* 
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
     *••••━❀꧁👇📚 PDF গ্রন্থ 📚👇꧂❀┅••••* 
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
  *•❀꧁ 📖সূচীপত্র 🙏 শ্রী জয়দেব দাঁ 📖 ꧂❀•* 
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
*(৪৩)বৈষ্ণব জগতের মাধুকরী*
   *মা জাহ্নবার পালিত পুত্রদ্বয়*
  ^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^
*🍀আমরা সাধারণত জানি যে নিত‍্যানন্দ ঘরণী মা জাহ্নবার পুত্র হচ্ছেন বীরচন্দ্র প্রভু কিন্তু তিনি গর্ভজাত সন্তান নন কিন্তু প্রাচীন বৈষ্ণবগ্রন্থ অনুশীলন করলে দেখা যায় যে মা জাহ্নবার দুইজন পালিত পুত্রও ছিলেন এবং ভাগ‍্যবান সেই মহাপুরুষদ্বয়ের নাম হচ্ছে শ্রীকানু ঠাকুর ও শ্রীরামচন্দ্র ঠাকুর। জহ্নবামাতা স্বতঃ প্রণোদিত হয়ে এই দুইজনকে তাঁদের পিতামাতার কাছ হতে ভিক্ষাস্বরূপ গ্রহণ করেন  এবং এই উপলক্ষ্যে সর্বপ্রথম কানুঠাকুরের প্রসঙ্গ করা হবে।*
*🌺মহাপ্রভুর নবদ্বীপ লীলাকালে আমরা প্রাচীন বৈষ্ণব মহান্তগণের মধ্যে সদাশিব কবিরাজের নাম পাই।মহাপ্রভুর লীলায় কীর্তন সঙ্গী হিসাবে, গঙ্গাস্নান সময়ে জলকেলি করবার সময়, চন্দ্রশেখর আচার্য‍্যের গৃহে অভিনয়কালে, পানিহাটীতে দাসগোস্বামীর দন্ডমহোৎসব কালে, ইত‍্যাদি বিভিন্ন প্রসঙ্গে চৈতন্যভাগবত এবং চৈতন‍্যচরিতামৃতে সদাশিব কবিরাজের নাম উল্লেখ পাই।এই সদাশিব কবিরাজের বংশ পরিচয় প্রসঙ্গে কবিরাজ গোস্বামী মহাশয় যে বলেছেন, আস্বাদন করুন=*
*🌷শ্রীসদাশিব কবিরাজ বড় মহাশয়।*
*🌷শ্রীপুরুষোত্তম দাস তাঁহার তনয়।।*
*🌷আজন্ম নিমগ্ন নিত‍্যানন্দের চরণে।*
*🌷নিরন্তর বাল‍্যলীলা করে কৃষ্ণসনে।।*
*🌷তাঁর পুত্র মহাশয় শ্রীকানু ঠাকুর।*
*🌷যাঁর দেহে রয় কৃষ্ণ প্রেমামৃতপুর।।*
*☘অর্থ‍্যাৎ সদাশিব কবিরাজের ভক্তিমান পুত্রের নাম শ্রীপুরুষোত্তম দাস এবং তাঁরই তনয়ের নাম শ্রীকানু ঠাকুর।এই পুরুষোত্তম দাস হচ্ছেন দ্বাদশ গোপালের এক শাখা।বাল‍্যকালে যখন তিনি পিতামাতার সঙ্গে শ্রীধাম বৃন্দাবনে যান তখন তাঁর এক নূতন নামকরণ হয় যা হচ্ছে "স্তোক কৃষ্ণ" অর্থ‍্যাৎ ছোট কৃষ্ণ কারণ পিতা সদাশিব,পুত্রের সঙ্গে শ্রীকৃষ্ণের অনেক মিল থাকায় পুত্রকে কৃষ্ণজ্ঞানে এই জাতীয় নামকরণ করেন।শ্রীধাম বৃন্দাবনের অধীশ্বর হচ্ছেন শ্রীকৃষ্ণভগবান এবং সেই হিসাবে সেই মর্য‍্যাদা বজায় রেখে পুত্রের নাম রাখেন "ছোট কৃষ্ণ" বা "স্তোক কৃষ্ণ"।*
*🍁পুরুষোত্তম দাসের ঘরণীর সঙ্গে নিত‍্যানন্দ ঘরণীর আরও একটি সাদৃশ‍্য বা মিল আছে।কারণ উভয়ের নাম ছিল জাহ্নবা দেবী এবং সদাশিব কবিরাজের শ্রীপাট ছিল "সুখসাগরে" এবং নিত‍্যানন্দপ্রভু এবং মা জাহ্নবা উভয়েই মাঝে মাঝে তাঁদের সুখসাগরের শ্রীপাটে যাতায়াত করবার ফলে উভয়ের মধ্যে সখ্যতা এ হৃদ‍্যতা পরিপূষ্ট হয়। মা বসুধার আত্মজ বা পুত্র বীরচন্দ্রপ্রভু কানুঠাকুর অপেক্ষা কিছু বয়োজ‍্যেষ্ঠ বা বড় ছিলেন।কানু ঠাকুরের জন্ম বৃত্তান্ত এক অলৌকিক কাহিনী।কথিত আছে যে তাঁদের শ্রীপাট সুখসাগরের কাছে এক যোগী মহাপুরুষ বহুদিন হতেই ধ‍্যানস্থ ছিলেন এবং বাল্মিকী মুনির মতো তাঁর দেহ মৃত্তিকায় আবৃত(উই ঢিপির মত) হয়ে গিয়েছিল।জনৈক কুম্ভকার মৃত্তিকা খনন কালে সেই যোগীর কাঁধে আঘাত লাগে এবং তাঁর ফলে তাঁর ধ‍্যানভঙ্গ হয়। তখন তিনি শ্রীপুরুষোত্তমের শ্রীপাটে আতিথ‍্য গ্রহণ করেন।পুরুষোত্তম পত্নী জাহ্নবা দেবীর সেবায় সন্তুষ্ট হয়ে সেই যোগী তাঁকে পুত্রপ্রাপ্তির বরদান করে বলেন যে "মা আমি তোমারই গর্ভে পুত্ররূপে আসিব এবং আমার কাঁধে এই আঘাত চিহ্ন দেখে তুমি আমার সত‍্যতা নিরূপণ করতে পারবে। কিন্তু মা, একথা তুমি কাউকেও বলতে পারবে না কারণ বললেই তুমি আর বাঁচবে না। যথাকালে জাহ্নবা দেবী এক পুত্ররত্ন প্রসব করেন এবং নবজাত শিশুর স্কন্ধে বা কাঁধে সেইরকম আঘাতের চিহ্ন দেখে তিনি পুত্রগর্বে এবং আনন্দে চরম হাসি হেসে উঠেন।ধাত্রী তখন সেই হাসির কারণ জিজ্ঞাসা করলে তিনি আনুপূর্বিক(অতীতের কথাগুলি) বৃত্তান্ত তাঁকে বলেন এবং ফলে অকালে মৃত‍্যুমুখে পতিত হন।*
        *ক্রমাগত*
☆☆☆☆☆☆☆☆☆☆☆☆☆☆☆☆☆☆
*গুণ তব বর্ণিবারে,কেহ কভু নাহি পারে,*
    *তুমি যে গো দেবশ্রেষ্ঠ স্বরগ মাঝার।*
*অধীন যে সবে মোরা,তুমি বিনে দিশেহারা,*
   *তোমার মহিমা প্রভু অনন্ত অপার।।*
*সত‍্যকথা গুণমণি,আমাদের কহ শুনি,*
  *ভজিলে ভজয়ে নাথ কহ কোনজনা।*
*সেই জন বল কেবা,না ভজিলে ভজে যেবা,*
   *সত‍্য করি কহ প্রভু না করি ছলনা।।*
🦚🦚🦚🦚🦚🦚🪷🦚🦚🦚🦚🦚🦚
 ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
   ✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️ 
নিবাস- বাঁশবাড়ী, কীর্তন মন্দিরের পাশে, পোঃ- বাঁশবাড়ী, থানা- ইংরেজ বাজার, জেলা- মালদহ, পশ্চিমবঙ্গ, পিন কোড- ৭৩২১০১।
 ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
    *••••┉━❀꧁ 🙏 রাধে রাধে 🙏 ꧂❀━┅••••* 
                   শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য প্রভু নিত্যানন্দ
              হরে কৃষ্ণ হরে রাম শ্রীরাধেগোবিন্দ।।
  *••••┉━❀꧁ 🙏 জয় জগন্নাথ 🙏 ꧂❀━┅••••*
              হরে কৃষ্ণ হরে কৃষ্ণ কৃষ্ণ কৃষ্ণ হরে হরে
              হরে রাম হরে রাম রাম রাম হরে হরে॥
  *••••┉━❀꧁ 🙏 জয় রাধাকান্ত 🙏 ꧂ ❀━┅••••*
   💮❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀💮
   💮❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀💮
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧



মনোশিক্ষা 🙏 চতুর্থ ভাগ 🙏 শ্রীযুক্ত প্রেমানন্দ দাস ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/07/siksha.html

   ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
  *••••┉❀꧁👇🏠Home Page🏠👇꧂❀┅••••* 
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
    *••••━❀꧁👇 📖 সূচীপত্র 📖 👇꧂❀┅••••* 
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
     *••••━❀꧁👇📚 PDF গ্রন্থ 📚👇꧂❀┅••••* 
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
  *•❀꧁ 📖সূচীপত্র 🙏 শ্রী জয়দেব দাঁ 📖꧂❀•* 
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
🚩 পূর্ব লীলা 👇
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
꧁ মনোশিক্ষা 🙏 প্রথম ভাগ 🙏 শ্রী প্রেমানন্দ দাস ꧂ 
          ꧁ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ ꧂
       এই লিংকে ⬇️⬇️⬇️🙏⬇️⬇️⬇️ ক্লিক করুন 
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
꧁ মনোশিক্ষা 🙏 দ্বিতীয় ভাগ 🙏 শ্রী প্রেমানন্দ দাস ꧂ 
          ꧁ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ ꧂
       এই লিংকে ⬇️⬇️⬇️🙏⬇️⬇️⬇️ ক্লিক করুন 
*(৭৬)🦚🦚মনোশিক্ষা🦚🦚*
    *জীবকে করুণা করবার জন‍্য*
     ^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^
*ওরে ভাই!কৃষ্ণ সে এ তিন-লোক বন্ধু।*
*জীব নিজ-কর্মে বন্ধ,মায়াতে পড়িয়া অন্ধ,*
     *উদ্ধারিতে করুণার সিন্ধু।।*
*নিজ-শক্তি গুণগণ,সব ' নামে ' সমর্পণ,*
      *ন‍্যূন‍াধিক নাহিক বিচার।*
    *(ন‍্যুনাধিক=কমবেশী)*
*নাম নামী ভেদ নাই,নামের গুণে নামী পাই,*
      *নাম করে হেলায় উদ্ধার।।*
*নাহি কালাকাল তার,শুচি কি অশুচি  আর,*
      *নাম নিতে নিষেধ না ইথে।*
*কি মোর দুর্দৈব হায়,হেন সে দয়ালু পায়,*
       *অনুরাগ না জন্মিল তাতে।।*
*ওরে মন!পায়ে পড়ি,অসৎ প্রয়াস ছাড়ি,*
      *"কৃষ্ণ কৃষ্ণ" কহ অনুক্ষণ।*
*এ বড় সুলভ অতি,নামে যদি কর প্রীত,*
        *তবে প্রেমানন্দের নন্দন।।*
*🌲দুর্দৈব=দুঃভাগ‍্য বা মন্দভাগ‍্য। প্রয়াস= চেষ্টা।🌲*
*🌳জীব নিজ কর্মফল অনুসারে ত্রিবিধা বা ত্রিতাপ দুঃখে জর্জরিত, মায়াসমুদ্রে পড়ে আছে ; অজ্ঞানতার অন্ধকারে নিমজ্জিত।জীবের এ হেন দুর্গত অবস্থা অবস্থা অনুভব করে করুণার সিন্ধু শ্রীভগবান জীবকে উদ্ধার করবার জন্য সর্বদায় ব‍্যাকুল।মর্ত‍্যলোকের জীবকে উদ্ধার করতেই তাঁর এরকম ব‍্যকুলতা তা নয় ; পাতাল ও স্বর্গ হতে ব্রহ্মলোক অবধি সকল লোকেরই জীবগণের জন্য তাঁর অন্তবিহীন কাতরতা।স্বর্গ-মর্ত‍্য-পাতাল এই তিন লোকস্থিত জীবগণের তিনি একমাত্র পরম হিতৈষী।মন! তুমি পরম করুণাময় ত্রিলোক বান্ধব শ্রীকৃষ্ণকে শুভাকাঙ্ক্ষী বন্ধুরূপে বরণ করে নাও। যদি বল শ্রীকৃষ্ণ তো এখন প্রকট নেই, তাঁকে কেমন করে পরম বান্ধবরূপে বরণ করব। ওরে মন! তোমার এই প্রশ্নের উত্তর মহাজন বাণীতেই আছে আস্বাদন করো=*
*💧নামরূপে কলিযুগে কৃষ্ণ অবতার।*
*💧কৃষ্ণনাম হৈতে সর্ব জগত নিস্তার।।*
*🦚শ্রীভগবান প্রকট লীলায় না থাকলেও নামরূপে জীবকে করুণা করবার জন্য নিত‍্য বিরাজমান।প্রকট বিগ্রহে যে পরিমাণ কারুণ‍্যশক্তি অভিব‍্যক্তি বা প্রকাশ তাঁর নামের মধ্যেও সেই পরিমাণ শক্তির অভিব‍্যক্তি রয়েছে।বরং বলা যায় প্রকট বিগ্রহ হতে নামের মধ্যে অধিকভাবে (অনেকবেশী) করুণাশক্তির প্রকাশ আছে।কারণ-- ভগবদ্ বিগ্রহের প্রকট অপ্রকট বিচার আছে। নামের কিন্তু সে বিচার নাই।মহাপ্রলয়ের পূর্ব মুহূর্ত  পর্য‍্যন্ত নাম সমহিমায় জগতে নিত‍্য বিরাজমান।শ্রীকৃষ্ণনামের আরো এক অদ্ভুত বৈশিষ্ট্য হল শ্রীকৃষ্ণবিগ্রহ সেবা ও আরাধনা করতে গেলে স্থান-কাল-পাত্র ও শুচি অশুচির বিচার আছে। কিন্তু শ্রীকৃষ্ণনাম সাধনায় ঐ সবের কোন বিচার নেই। মহাজন বলেছেন=*
*🌷খাইতে শুইতে যথা তথা নাম লয়।*
*🌷দেশ কাল নিয়ম নাই সর্বসিদ্ধি হয়।।*
*🪷নামের এ হেন মহিমা জানার পরেও দুর্দৈববশতঃ মন!নামে তোমার রুচি হল না। ওরে অবুঝ মন! তোমার পায়ে পড়ি সমস্ত অসৎ প্রচেষ্টা পরিহার করে অতি সহজ লভ‍্য শ্রীকৃষ্ণনামের প্রতি আসক্ত হও।তাহলে আমার বড় আনন্দ হবে।*
*🌹নন্দন=আনন্দ।*
🦚🦚🦚🦚🦚🦚🦚🦚🦚🦚🦚🦚🦚
*(৭৭)🪔🪔মনো শিক্ষা🪔🪔*
      *পরমসুখী থাকিবার উপদেশ*
       °°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°
   *এ  মন! "হরিনাম" কর সার।*
*এ  ভব-সাগর,      হবে বালি চর,*
           *হাঁটিয়া হইবি পার।।*
*ধরম   করম ,        এ জপ এ তপ,*
         *জ্ঞান যোগ যাগ ধ‍্যান।*
*নহি নহি নহি,      কলিতে  কেবল,*
        *উপায় "গোবিন্দ" নাম।।*
*ভুকতি  মুকতি, যে  গতি সে গতি,*
       *তাহে না করিহ রতি।*
*মেঘের   ছায়ায়,   জুড়ান  যেমন,*
       *কহ না সে কোন গতি।।*
*বদন   ভরিয়া,       "হরি হরি" বল,*
            *এমন সুলভ কবে।*
*ভারত--ভূমেতে,     মানুষ--জনম,*
           *আর কি এমন হবে।।*
*যতেক   পুরাণ,     প্রমাণ দেখ না,*
             *নামের সমান নাই।*
*নামে রতি হৈলে,    প্রেমের  উদয়,*
         *প্রেমেতে হরিকে পাই।।*
*শ্রবণ    কীর্তন,     কর    অনুক্ষণ,*
          *অসৎ পচাল ছাড়ি।*
*কহে   প্রেমানন্দ,   মানুষ---জনম,*
         *সফল কর না ভাড়ি।।*
*🦚অন‍্যান‍্য যুগের ধর্ম-কর্ম, দান,পুরোশ্চরণ,তপস‍্যা, জ্ঞান-অনুশীলন,অষ্টাঙ্গিক যোগ সাধনা,যজ্ঞ-ধ‍্যানাদি পন্থা(পথ) পরিত‍্যাগ করে কলিযুগের যুগধর্ম শ্রীহরিনাম, শ্রীগোবিন্দ নাম সার কর। তাহলে অতলস্পর্শী দুস্তর ভব-পারাপার হরিনামানন্দে নাচতে নাচতে অতি সহজে হেঁটে পার হতে পারবে।সব সাধনার সার সাধনা হল শ্রীহরিনাম।এই হরিনামের প্রভাবে ভব সমুদ্রের গভীরতা একেবারে কমে যায়। ফলে গভীর জলের হিংস্র জলজন্তু কাম নামক কুমীর,ক্রোধ নামক মকরাদি আর থাকতে পারে না। স্বাভাবিক ভাবে হরিনাম সাধক নিরাপদে ভব বারিধির পারে পৌঁছে যায়।কর্মকান্ডের মাধ‍্যমে ও দানাদির দ্বারা স্বর্গাদি ভোগ ও বিবিধ প্রকার মুক্তি পাওয়া যায়। ওরে মন! তুমি তাতে যেন শ্রদ্ধাশীল হইও না।কারণ ভুক্তি মুক্তি হতে পাওয়া সুখ ভাসমান মেঘের ছায়ার মত ক্ষণিক। সুতরাং তুমি নাম সাধনার মহাপীঠস্থান এই ভারতবর্ষে জন্মলাভ করে সর্বদা হরিনাম করতে থাকো।নামের অপার মহিমার কথা নিখিল (সমস্ত)বেদশাস্ত্রে উল্লেখ আছে।নাম করতে থাকলে অনর্থ নিবৃত্তি,নিষ্ঠা,রুচি,আসক্তি ও রতি সাধকের হৃদয়ে ক্রমানুসারে উদয় হয়।রতি অবস্থায় নাম সাধনা চলতে থাকলে প্রেমের উদয় হয়।সাধকের অন্তরে এই প্রেমকুসুম প্রস্ফুটিত হলে সেই কুসুমের মধুপান লালসায় ভ্রমররূপ শ্রীহরি আপনা (নিজে) হতেই ভক্তের কাছে ছুটে আসেন, যেমন নামাচার্য‍্য হরিদাস ঠাকুরের কাছে ছুটে এসেছিলেন। তাই বলি মন! অসৎ কথায় সময় অতিবাহিত না করে সর্বক্ষণ হরিনাম সাধন কর।তাহলেএই সুদুর্লভ মানবজন্ম চরম সফল হবে।*
       *🙌🙌🍁জয় নিতাই🙌🙌*
*(৭৮)🦜🦜মনো শিক্ষা🦜🦜*
   *জগতে ভগবদ্ প্রাপ্তির উপায়*
    ****************************
  *ওরে মন! কৃষ্ণনাম সম নাহি আন।*
*ধর্ম কর্ম তপ ত‍্যাগ,ধ‍্যান জ্ঞান ব্রত যাগ,*
      *কিছু নহে নামের সমান।।*
*যে নাম লইতে হর,প্রেমে মত্ত দিগম্বর,*
      *বাল্মীকি হইল তপোধন।*
*অজামিল বিপ্র ছিল,নামাভ‍্যাসে তরে গেল,*
      *পুত্রকে ডাকিয়া নারায়ণ।।*
*যে নামের স্বাদ পেয়ে,তম্বুরে ফিরয়ে গেয়ে,*
       *দৈবঋষি নারদ গোসাঞি।*
*সত‍্যভামা ব্রত-ছলে,কৃষ্ণ-সঙ্গে করি তুলে,*
       *দেখাইল নামের বড়াই।।*
*অনন্ত সহস্র মুখে,যে নাম গায়ন সুখে,*
        *তবু তো করিতে নারে সীমা।*
*লক্ষ‍্য করি অর্জুনকে,প্রভু আপার মুখে,*
       *কহেছেন নামের মহিমা।।*
*প্রেমানন্দ কহে মন,"কৃষ্ণ" বল অনুক্ষণ,*
      *দুর্বাসনা ছাড়িয়া হৃদয়।*
*প্রেমে উচ্চ নাম করি,অবশ‍্য পাইবে হরি,*
       *নাম আর নামী ভিন্ন নয়।।*
*🙏জগতে ভগবদ্ প্রাপ্তির উপায় হিসাবে বহু প্রকার পথ আছে। যেমন-- বৈদিক ধর্মাচরণ,যজ্ঞাদি কর্মকান্ড,তপস‍্যা,ধ‍্যান,ব্রত, যোগসাধনা ইত‍্যাদি।এ গুলি ভগবদ্ প্রাপ্তির পথ হলেও পূর্ণাঙ্গ পথ নয়।কারণ=এইসব সাধন অনুশীলনের মাধ‍্যমে পূর্ণানন্দময় স্বয়ং ভগবান শ্রীকৃষ্ণের সুখ অনুসারে সেবা অধিকার প্রাপ্ত হওয়া যায় না।তাছাড়া এইসব ভজন পদ্ধতির সার্বজনীনতা,সার্বকালিকতা নেই।স্থান-কাল-পাত্রাদির বিশেষ বিচার আছে। কিন্তু শ্রীনাম সাধনায় এসবের কোন বালাই নেই।এই জন‍্য ওরে মন! তোমাকে বলি নামের সমান আর অন‍্য কোন কিছু নেই।নামের আস্বাদন আনন্দে শ্মশানবাসী মহাদেব সর্বদায় প্রমত্ত বা পাগল।যেমন দেখ! রত্নাকর দস‍্যু, "মরা মরা" বলতে বলতে মহামুনি বাল্মীকিরূপে আখ‍্যায়িত হলেন।পুত্রকে ডাকতে গিয়ে "নারায়ণ" শব্দ উচ্চারণের মহিমায় বিষ্ণুলোক প্রাপ্ত হলেন অজামিল।নামানন্দে বিভোর দেবর্ষি নারদ আজও সর্বত্র নাম-কীর্তন করে বেড়ান।শ্রীকৃষ্ণ হতে শ্রীকৃষ্ণের নামের মহিমা ও ওজন অনেক অনেক বেশী।দ্বারকা লীলায় দেবী সত‍্যভামা তা প্রমাণ করে দেখিয়েছেন।মহাভারতে তার প্রমাণ আছে।একবার দেবর্ষি নারদ দ্বারকায় সত‍্যভামা দেবীর কাছে হরিনাম গাইতে গাইতে উপস্থিত হলেন।সত‍্যভামা দেবর্ষি নারদের অনেক স্তব স্তুতি করলেন।ঋষিবর সত‍্যভামাকে "দান" ব্রতানুষ্ঠানের কথা বললেন।*
*🌷এক্ষণে করহ দেবী ইহার যে কাজ।*
*🌷অবহেলে তোমার হইবে ব্রতরাজ।।*
*🌷যে ব্রত করিলে হয় সোহাগে আগুলি।*
*জন্ম জন্ম করিবা গোবিন্দে লৈয়া কেলি।।*
*🌷ব্রহ্মান্ড দানের ফল পাই এই ব্রতে।*
*🌷বিখ‍্যাত তোমার যশ হইতে জগতে।।*
*🌷এ ব্রত করিয়া ছিল পুলমা নন্দিনী।*
*🌷সোহাগে আগুলি হৈল ইন্দ্রের ইন্দ্রানী।।*
*🌷পর্বত নন্দিনী পূর্বে এই ব্রত করি।*
*🌷শিবের অর্ধাঙ্গ পাইলেন মহেশ্বরী।।*
*🌷আর কৈল স্বহা দেবী অগ্নির গৃহিণী।*
*🌷যার ফলে হৈল অগ্নির সোহাগিনী।।*
*🌷শুনি সত‍্যভামা ধরে মুনির চরণে।*
*🌷প্রভু মোরে এই ব্রত করাহ এক্ষণে।।*
*🌹সত‍্যভামার এইকথা শুনে দেবর্ষি নারদ বললেন=দেবি!এই দান ব্রতের বিশেষ বিধান হল, নিজের অতীব প্রিয়তম স্বামীকেও দান করতে হবে।এর জন্য শ্রীকৃষ্ণের এবং অন‍্যান‍্য পত্নীগণেরও অনুমতি নেওয়া প্রয়োজন। সত‍্যভামা বললেন= দ্বারকানাথের অনেক পত্নী থাকলেও তাঁর প্রতি আমার সর্বময় অধিকার। সুতরাং অন‍্য পত্নী এবং দ্বারকানাথের অনুমতি নেবার প্রয়োজন নেই।আপনি যথাবিহিত দানে বিধান বলুন।দেবর্ষি নারদ বললেন=হে দেবি!তোমার দ্বারস্থিত ঐ পারিজাত বৃক্ষে নিজ পতিদেবতাকে বন্ধন করে আমাকে সম্প্রদান করতে হবে।*
*🍀নারদের বাক‍্য মত সব আয়োজন।*
*🍀সুবদনী করিলেন ব্রত আরম্ভন।।*
*🍀গোবিন্দেরে একান্ত কহেন সমাচার।*
*🍀হাসিয়া সতীকে কৃষ্ণ করেন স্বীকার।।*
*🍀নিমন্ত্রিয়া আনেন যতেক মুনিগণ।*
*🍀পৃথিবী মধ‍্যেতে যত বৈসেন ব্রাহ্মণ।।*
*🍀করিল ব্রতের সজ্জা যে ছিল বিহিত।*
*🍀বসেন নারদ মুনি হৈয়া পুরোহিত।।*
*🍀পারিজাত বৃক্ষেতে বাঁধিয়া হৃষীকেশে।*
*🍀সত‍্যভামা বসিলেন হাতে তিল কুশে।।*
*🍀সত‍্যভামা করিলেন দান জগন্নাথ।*
*🍀স্বস্তি বলি নারদ দিলেন হাতে হাত।।*
*🌻দানব্রত অন্তে নারদ শ্রীকৃষ্ণের রাজবেশ অপসারণ(সরিয়ে)করে তপস্বীর বেশে সাজিয়ে নিজের সঙ্গে নিয়ে চললেন।এতে সমগ্র দ্বারকাবাসীর মাথায় বিনা মেঘে বজ্রপাত হল।কৃষ্ণ-বিরহে সবাই মাটিতে লুটিয়ে কাঁদতে লাগলেন।নারদের কাছ থেকে শ্রীকৃষ্ণকে ফিরে পাবার জন্য কাতর ভাবে নারদমুনির কাছে অনুনয় বিনয় করতে লাগলেন।সত‍্যভামা তথা দ্বারকাবাসীর কৃষ্ণ বিরহের দুঃখ দেখে সত‍্যভামার প্রতি দেবর্ষি নারদ বললেন=*
*🔥নারদ বলেন দেবি!এক কর্ম কর।*
*🔥দান দিয়া লৈতে চাহ অধর্ম দুস্তর।।*
*🔥গোবিন্দ তৌলিয়া দেহ আমাকে রতন।*
*🔥পাইবা ব্রতের ফল শাস্ত্রেতে যেমন।।*
*🔥শুনি সত‍্যভামা মনে হৈয়া উল্লাস।*
*🔥পুত্রগণে ডাকিয়া কহেন মৃদু ভাষ।।*
*🔥করহ তুলের সজ্জা যে আছে বিহিত।*
*🔥মম গৃহ হৈতে রত্ন আনহ ত্বরিত।।*
*🔥আজ্ঞা পেয়ে কামাদি যতেক পুত্রগণ।*
*🔥কনকে নির্মাণ তুল কৈল ততক্ষণ।।*
*🔥এক ভিতে বসাইল দেবকী নন্দনে।*
*🔥আর ভিতে বসাইল যত রত্নগণে।।*
*🔥সত‍্যভামা-গৃহে রত্ন যতেক আছিল।*
*🔥তুলে চড়াইল তবু সমান না হৈল।।*
*🦚তখন অষ্টমহিষী এবং ষোল হাজার রাণীগণের যত অলঙ্কার ছিল,তারপর সমগ্র দ্বারকাবাসীগণের অলঙ্কার দিলেও কৃষ্ণের সমান হল না।শ্রীকৃষ্ণ বিগ্রহের সম পরিমাণ ওজনের রত্নরাশি না পেয়ে পুনরায় কৃষ্ণকে নিয়ে নারদমুনি যাত্রা করলেন।এতে রাণীগণ আরও ধৈর্য‍্যহারা হলেন।এমন সময়ে শ্রীকৃষ্ণ পার্ষদ উদ্ধব সেখানে এলেন=*
*🌵হেন মতে কাঁদে সব যাদবী যাদব।*
*🌵হৃদয়ে চিন্তিয়া তবে বলেন উদ্ধব।।*
*🌵নিজ মুখে কহিয়াছেন কৃষ্ণ বার বার।*
*🌵আমা হৈতে নাম বিনা বড় নাহি আর।।*
*🌵চিন্তিয়া বলিল সবে মোর বোল ধর।*
*🌵যত রত্ন আছে তুলে ফেলহ সত্বর।।*
*🌵একৈক ব্রহ্মান্ড যাঁর এক লোম কূঁপে।*
*🌵কোন দ্রব‍্যে সম করি তৌলিবা তাঁহাকে।।*
*🌵এত বলি আনিয়া এক তুলসীর দাম।*
*🌵তাহে দুই অক্ষর লিখিল "কৃষ্ণ" নাম।।*
*🌵তুলের উপরে দিল তুলসীর পাত।*
*🌵নিচে হৈল তুলসী উর্ধেতে জগন্নাথ।।*
*🌵দেখি উল্লসিতা হৈল সকল রমণী।*
*🌵সাধু সাধু বলিয়া হৈল মহাধ্বনি।।*
*🌵কৃষ্ণ নাম গুণের নাহিক বেদে সীমা।*
*🌵বৈষ্ণব জানেন কৃষ্ণ নামের মহিমা।।*
*🌵শ্রীকৃষ্ণ হৈতে শ্রীকৃষ্ণ নাম ধন বড়।*
*🌵জপহ কৃষ্ণের নাম চিত্ত করি দঢ়।।*
*🌵কৃষ্ণ নাম বিনা ধন সংসারেতে নাই।*
*🌵কৃষ্ণ হৈতে নাম বড় জানহ সাবাই।।*
*🌵কৃষ্ণ কৃষ্ণ বলিলে পাইবা কৃষ্ণ দেহ।*
*🌵কৃষ্ণের মুখের বাক‍্য না কর সন্দেহ।।*
*🌵নাম মাত্র লৈয়া মুনি তুষ্ট হৈয়া যান।*
*🌵সত‍্যভামা রত্ন সব ব্রাহ্মণে বিলান।।*
*🪷মহাভারতের উল্লিখিত ঘটনা হতে ওরে মন! তুমি জানতে পারলে স্বয়ং শ্রীকৃষ্ণ হতে নামের মহিমা কত গুরুত্বপূর্ণ।নামের মহিমা স্বয়ং অনন্তদেব প্রকাশ করতে পারেন না। ভগবান শ্রীকৃষ্ণ নিজের নাম মহিমা সম্বন্ধে অর্জুনকে বলেছেন।তাঁর নাম সাধন করলে সর্ব পাপ থেকে মুক্তি হয়ে শ্রীকৃষ্ণচরণ পাওয়া যায়।তাই বলি মন!সমস্ত দুর্বাসনা ছেড়ে দিয়ে শ্রীকৃষ্ণনাম সাধন করো।তাহলে কৃষ্ণ প্রাপ্তির আনন্দ নামের মধ্যে পাবে।*
*🌹দিগম্বর=ন‍্যাংটো।তপোধন=মহাতপস্বী।তম্বুরে=বীণাযন্ত্রে। করি তুলে=ওজন করে। তুল মানে দাড়িপাল্লা।*
🙌🙌🙌🙌🙌🙌🙌🙌🙌🙌🙌🙌🙌
*(৭৯)🦜🦚মনো শিক্ষা 🦚🦜*
            *মনকে উপদেশ দান*
            ^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^
   *ওরে মন! আর কত দগ্ধাহ আমায়।*
*গলেতে বসন করি,দশনেতে তৃণ ধরি,*
       *নিবেদন করি তোমার পায়।।*
*যদি কহ অন‍্য কথা,খাও রে আমার মাথা,*
    *সদানন্দে "কৃষ্ণ কৃষ্ণ" বোল।*
*ছার অন‍্য কথা বৃথা,কর্ণ না পাতিও তথা,*
      *"কৃষ্ণ" বিনে সব গন্ডগোল।।*
*যদি অন‍্য চিন্ত ভাই,তবে তোমার দোহাই,*
       *চিন্ত কৃষ্ণ-চরিত্র মধুর।*
*ব্রজভূমি বৃন্দাবন,সঙ্গে সখা সখীগণ,*
      *নিত‍্যলীলা প্রেমরস-পূর।।*
*না কর অসৎ দৃষ্ট, সর্বত্রেই নিজাভীষ্ট,*
      *স্ফূর্তি করি দেখ নিরন্তর।*
*অসৎ-সঙ্গ ছাড়ি বপু,"কৃষ্ণ"কহি জিন রিপু,*
      *সাধু-সঙ্গে রাখ কলেবর।।*
*কৃষ্ণ-অঙ্গ-গন্ধে নাসা,করিয়া তাহার আশা,*
      *খুঁজিয়া ফিরহ রাত্রিদানে।*
*প্রেমানন্দ কহে মন,শ্রীকৃষ্ণ কহিতে যেন,*
      *অশ্রুজল বহে দু'নয়নে।।*
*💧মন ! তুমি অসৎ পথে অসৎ আচরণ করে ত্রিতাপের জ্বালায় আমাকে দিনরাত্রি পুড়িয়ে মারছো কেন? গললগ্নি কৃতবাসে (গলায় বসন দিয়ে) দশনে(দাঁতে) তৃণ ধরে তোমার পায়ে নিবেদন করি,তুমি অসৎ প্রচেষ্টা হতে বিরত হও। কৃষ্ণ কথা ছাড়া অন‍্য কথা বলিও না।কৃষ্ণ কথা প্রসঙ্গ ছাড়া অন‍্য কথা কখনো শুনতে যেও না।তোমার দোহাই দিয়ে তোমাকে বলছি বিষয় চিন্তা একেবারে পরিত‍্যাগ কর।সাময়িক মায়া-মোহের মধ্যে ডুবে এই দুর্লভ মানবজনম নষ্ট করিও না।যে চিন্তার বিষয় শ্রীকৃষ্ণ নন,এমন চিন্তা জ্বলন্ত চিতার ধর্ম বিশিষ্ট। বিষয় চিন্তারূপ চিতার আগুনের জ্বালায় মানুষ আত্মহত‍্যা করতেও কুন্ঠিত হয় না।জাগতিক চিতার আগুন সহজে নিভানো যায়, কিন্তু বিষয় চিন্তারূপ চিতার আগুন কখনো নিভে না। হাজার পতি ছিলে লাখপতি হতে ইচ্ছে হল, লাখপতি কোটিপতি হতে ইচ্ছে হল, এইভাবে বিষয়চিন্তা চিতার আগুন জ্বলতে জ্বলতে অকালে চলে গেলে ভজন-সাধন কিছুই হল না।অন্তর-আত্মাকে নির্মমভাবে দগ্ধ করতে থাকে। মনুষ‍্যত্বের অবলুপ্তি ঘটায়।সে জন‍্য সংসার চিন্তারূপ চিতার দিকে না গিয়ে অতি স্নিগ্ধ অমৃতমধু চতুর্বিধা মাধুর্য‍্যপূর্ণ শ্রীগোবিন্দের চিন্তা কর।মন! তুমি বহু কোটি কোটি দেহ পেয়েছ, কিন্তু মানবদেহ প্রাপ্তিতেই তোমার চিন্তন শক্তির পরিপূর্ণ অভিব‍্যক্তির সম্ভাবনা। সৃষ্টির বুকে একমাত্র মানুষের মনই বিশ্ব প্রকৃতির নিয়ন্ত্রণ মুক্ত হয়ে স্বাধীনভাবে চিন্তা করতে পারে।মানুষ ছাড়া অন‍্যান‍্য প্রাণীর ভিতরে চিন্তাশক্তির প্রকাশ দেখা যায়  কিন্তু তা সম্পূর্ণ প্রকৃতির দ্বারা নিয়ন্ত্রিত। মানুষের এই স্বাধীন চিন্তা শক্তির মুখ‍্য প্রয়োজনীয়তা হল ভগবদ্ চিন্তা, ভগবানের নাম-গুণ-লীলাদি স্মরণ।যে মানুষের মন পরমেশ্বরের ভাবনা করে না কেবল নিজেদের সুখ-স্বাচ্ছন্দ‍্যের ভাবনাই ভাবে সে মনকে বলে মৃত মন। ভগবদ্ প্রসঙ্গ মননেই মনের প্রকৃত অস্তিত্ব। শ্রীনরোত্তম ঠাকুর মহাশয় বলেন=*
*মনের স্মরণ প্রাণ,মধুর মধুর ধাম,*
      *যুগল বিলাস স্মৃতি সার।* 
*সাধ‍্য সাধন এই,ইহা বৈ আর নেই,*
      *এই তত্ত্ব সর্ব তত্ত্ব সার।।*
*🍁অর্থ‍্যাৎ মানব মনের প্রাণ শক্তিই হল অপ্রাকৃত লীলা নিকেতন শ্রীধাম বৃন্দাবনস্থিত পরম পুরুষ পরমা প্রকৃতি শ্রীশ্রীরাধাগোবিন্দের মধুর রসাশ্রিত লীলা স্মৃতি।যে মনে এই লীলা স্মৃতির অনুশীলন হয় না,সেই মনই মৃত।মৃতদেহ যেমন শিয়াল,কুকুর,কাক, শকুন প্রভৃতির ভক্ষ‍্য হয়,তেমনি ভগবদ্ চিন্তা শূন‍্য মৃত মানব-মন কাম ক্রোধ লোভ মোহাদিরূপ শিয়াল কুকুরের ভোগ উপকরণে পরিণত হয়। মন! দুর্লভ মানব-মন লাভ করে ভগবদ্ চিন্তা শূন‍্য হয়ে কাম-ক্রোধের উপভোগ‍্য হইও না।*
*☘এই পরিদৃশ‍্যমান জগতে মন! তুমি যা দেখছ,সব কিছুর আড়ালে সেই শ্রীকৃষ্ণ রয়েছেন।শ্রীগুরুদেবের প্রদর্শিত পথে, তাঁর আনুগত‍্যে,সাধন অনুশীলন করতে থাকো।তাহলে নিজের অভীষ্টদেব শ্রীকৃষ্ণকে চেতন অচেতন সবার মধ্যে প্রত‍্যক্ষ অনুভব করতে পারবে।সাধুগণ দিবানিশি তাইই দেখেন।মহাজনের ভাষায় =*
*🌲মহাভাগবত দেখে স্থাবর জঙ্গম।*
*🌲তাহা তাহা হয় তাঁর শ্রীকৃষ্ণ স্ফুরণ।।*
*🌲স্থাবর জঙ্গম দেখে না দেখে তাঁর মূর্তি।*
*🌲সর্বত্র হয় তাঁর ইষ্টদেব স্ফূর্তি।।*
*🌻এ বিষয়ে শ্রীমদ্ভাগবতেও উল্লেখ আছে =*
*"সর্বভূতেষু যঃ পশ‍্যেদ্ভগবদ্ভাবমাত্মনঃ।*
*ভূতানি ভগবত‍্যাত্মন‍্যেষ ভাগবতোত্তমঃ।।"*
*🌷অনুবাদ=যিনি ভাগবতোত্তম, তিনি সর্বভূতে আত্মার আত্মরূপ ভগবান্ শ্রীকৃষ্ণচন্দ্রকেই দেখেন এবং আত্মার আত্মস্বরূপ শ্রীকৃষ্ণে সমস্ত ভূতকে দেখতে পান।*
*🌳সর্বভূতে শ্রীগোবিন্দের লোকাতীত অস্তিত্ব অনুভব করাতেই মানব জন্মের সার্থকতা।ষড়-রিপুর অধীন হয়ে থাকলে এই অনুভূতি লাভ করা কখনোই সম্ভব নয়। মন! তুমি সর্বক্ষণ কৃষ্ণনাম করতে থাকো এবং সাধুগণের নিকটে থাকো।তাহলে ষড়রিপুকে অনায়াসে বশ করতে পারবে। দেহ-মন উন্মাদনকারী শ্রীকৃষ্ণের দিব‍্য অঙ্গগন্ধ প্রাপ্তির বলবতী আশা নিয়ে কৃষ্ণ অনুরাগের পথে তোমার নাসিকাকে তৎপর রেখো।যে নাসা জগতের সর্বোৎকৃষ্ট সুগন্ধ পেতে সমুৎসুক অথচ শ্রীকৃষ্ণের অঙ্গ গন্ধ তথা চরণে অর্পিত চন্দন লিপ্ত তুলসী মঞ্জরী,কুসুমাঞ্জলীর অপার্থিব পরিমলের আঘ্রাণে আগ্রহী নয়, সেই নাক যতই সুন্দর হোক তা মূল‍্যহীন। শ্রীচৈতন‍্যচরিতামৃতের ভাষায় =*
*মৃগ মদ নীলোৎপল,মিলনে যে পরিমল,*
        *যেই হরে তার গর্বমান।*
*হেন কৃষ্ণ অঙ্গ গন্ধ,যার নাহি সে সম্বন্ধ,*
      *সেই নাসা ভস্ত্রার সমান।।*
*🌹কৃষ্ণ সম্বন্ধ বিনা মানুষ দেহের সকল ইন্দ্রিয় যখন ব‍্যর্থ,বিফল, তখন মন! তোমার সব ইন্দ্রিয়কে কৃষ্ণ মাধুর্য‍্য আস্বাদনে নিযুক্ত করো।বদনে সর্বদা কৃষ্ণনাম করো।তাহলে পরম পবিত্র প্রেমাশ্রুধারায় অভিসিক্ত হয়ে হবে মহাধন‍্য।🔥অসৎ•••••বপু=এই দেহে অসৎ-সঙ্গ ত‍্যাগ করে। কলেবর=দেহ।নাসা=নাক।🔥*
🦚🦚🦚🦚🦚🦚🦚🦚🦚🦚🦚🦚🦚
*(৮০)🌹🌹মনো শিক্ষা 🌹🌹*
    *মনকে ভজন সাধনের কথা*
    ***************************
   *এ মন! ইহা কি তুমি না সুজ।*
*সাধন  ভজন,           এ বড় দুর্গম,*
         *বিচারি কেন না বুঝ।।*
*আশ্রয় করিতে, যে ভাব সে ভাব,*
         *স্ব-ভাব না গেল ক্ষয়।*
*পুরুষ হইয়া,         প্রকৃতি কেমন,*
        *কেমনে কাম বা জয়।।*
*তুমি যে পুমান্, এ ভাব কভু তো,*
       *স্বপনে ছাড়িতে নার'।*
*বৃদ্ধ হৈলে কহ,    এ কাম ঘুচিবে,*
       *বৃথা এ ভরসা কর।।*
*খাইতে শুইতে,   কখন কি ভুলিছ,*
      *বাকি না পড়িছে এথা।*
*কোটিতে গুটিক,     কোন খানে,*
      *সতত সে ভাব কোথা।।*
*ছ'টি রিপু তোর,      সদা বলবান,*
      *আগে তো তাদেন জিন।*
*তবে সে পারিবা, নহে সে হারিবা,*
      *ভরমে সারিবে কেন।।*
*এতেক বলিছি,  কিছু না পারিছি,*
      *তে তোর পায়েতে ধরি।*
*কহে প্রেমানন্দ,    তে সব পাইবে,*
      *বল "হরি হরি হরি"।।*
[6/30, 3:09 PM] Joydeb Dawn: *🌹ম----ন! তুমি এত কিছু বুঝেও কেন বুঝতে পারঝ না ব্রজগোপীর আনুগত‍্যে রাগানুগা পথে শ্রীরাধাকৃষ্ণের ভজন বড়ই কঠিন এবং দুর্গম।এই ভজন পদ্ধতিকে হালকা ভাবে নিও না।যথাবস্থিত পার্থিব দেহে বিশুদ্ধ চিন্ময় গোপীদেহের (মঞ্জরী দেহের) অভিমান আরোপ করা কেবলমাত্র মুখের কথায় হয় না।দেহের কামাদি বিকার সম্পূর্ণরূপে ক্ষয় না হলে এবং গোপীদেহ প্রাপ্তির প্রবল লালসা না জাগলে কখনোই ব্রজ ললনার স্বরূপে প্রতিষ্ঠিত হওয়া যাবে না।পরমা প্রকৃতি শ্রীমতী রাধারাণীর দাসী হতে না পারলে শ্রীরাধাগোবিন্দের সেবা অধিকারও পাওয়া যাবে না। ম--ন! তোমার এখনো জড় দেহের পুরুষ অভিমান, নারী অভিমান গেল না। কামনা বাসনা শেষ হল না হ তুমি কি করে গোপীদেহ পাবে?গোপীভাব সাধন পুরুষ বা নারী দেহাত্ব অভিমানের অতীত।দৈহিক কামানল নিভানোর কথা মন তুমি বিন্দুমাত্রও ভাব না।এই ভেবে নিশ্চিন্ত আছো যে,বয়সে বার্ধক‍্য এলে কামের দৌরাত্ম্য নিজে হতে চলে যাবে।এ ধারণা তোমার একান্তভাবে ভুল।কাম কোন বয়স মানে না।এ বিষয়ে তুমি বিশেষ সতর্ক হও।দৈহিক সুখ স্বাচ্ছন্দ‍্যের কথা কখনোই তুমি ভুলে যেও না এবং কামের প্রভাব থাকে নিজেকে মুক্ত হতে হবে এ ভাবনা দিনান্তে বা মাসান্তেও একবারও মনে করো না। ভগবদ্ ভজনের প্রধান শত্রু এই ছয় রিপু আগে জয় করতে হবে। তবে যোগীদের মত বলপূর্বক যোগ প্রক্রিয়ায় নিষ্ক্রিয় করলে হবে না। তাহলে সুযোগ পেলে আগের চাইতেও বেশী বলবান হয়ে ক্ষতিসাধন করবে। ভক্তিপথে রিপু জয়ের সহজ কৌশল হল তাদেরকে শ্রীকৃষ্ণের সেবায় উন্মুখী করে তোলা ও শ্রীকৃষ্ণের নানান প্রকার মাধুর্য‍্য আস্বাদনে লোলুপ করা।এই ভাবে রিপুগণকে উন্মুখ ও লোলুপ করলে তারা ধীরে ধীরে সাধকের শত্রু না হয়ে শ্রীকৃষ্ণ ভজনে সহায়কারী বন্ধুরূপে পরিগণিত হয়।ছয় রিপুকে কৃষ্ণানুশীলনের অনুকূলে কিভাবে ব‍্যবহার করা যেতে পারে তা পরম পূজ‍্যপাদ শ্রীনরোত্তম দাসঠাকুর মহাশয় দেখিয়ে দিয়েছেন।*
*কাম ক্রোধ লোভ মোহ,মদ মাৎসর্য‍্য দম্ভ সহ,*
    *স্থনে স্থানে নিযুক্ত করিব।*
*আনন্দ করি হৃদয়,রিপু করি পরাজয়,*
     *অনায়াসে গোবিন্দ ভজিব।।*
*কৃষ্ণ সেবা কামার্পণে,ক্রোধ ভক্ত দ্বেষী জনে,*
    *লোভ সাধু সঙ্গে হরি কথা।*
*মোহ ইষ্ট লাভ বিনে,মদ কৃষ্ণ গুণগানে,*
     *নিযুক্ত করিব যথা তথা।।*
*🍀শ্রীঠাকুর মহাশয়ের এই নির্দেশনা অনুযায়ী রিপুগণকে নিষ্ঠা সহকারে নিযুক্ত করতে পারলেই রিপুগণকে জয় করা যাবে।ম--ন! তুমি এই পথ একান্তভাবে অনুসরণ করো,তাহলে রিপু জয়ী হতে পারবে। আমি তোমাকে আগেও বলেছি, পরেও বলছি ; কিন্তু কিছুতেই তোমার সঙ্গে পেরে উঠছি না।তাই এবার তোমার পায়ে ধরে বলি তুমি আর কিছু না পারো,সর্বক্ষণ মুখে হরি হরি বলো।*
🙌🙌🙌🙌🙌🙌🙌🙌🙌🙌🙌🙌🙌
 *প্রণতদেহিনাং,           পাপকর্ষণং,*
      *তৃণচরানুগং শ্রীনিকেতনম্।*
*ফণাফণার্পিতং,      হে পদ্মাম্বুজং,*
  *কৃণু কুচেষু নঃ কৃন্ধি হৃচ্ছয়ম্।।*
*🌷শ্রীকৃষ্ণ বিরহিণী গোপীগণ বললেন=হে গোবিন্দ!তোমার পাদপদ্ম যুগল প্রণতজনের সর্ববিদ পাপ কর্ষণ বা আকর্ষণে দক্ষ।চাষ যোগ্য জমিতে কোন কারণে প্রচুর কাঁটা নটেগাছ গজিয়ে ওঠে,তখন দক্ষ চাষী সেই জমিতে এফেরা ওফেরা লাঙ্গল চালিয়ে সমস্ত কাঁটা গাছকে নির্মূল করে জমিকে চাষযোগ‍্য করে তোলে এবং উপড়ে যাওয়া কাঁটা গাছগুলো পচে গিয়ে ঐ মাটির সঙ্গে মিশে মাটিকে আরো বেশী উর্বর করে তোলে।তেমনি তোমার চরণাশ্রিত জনের হৃদয়ে সঞ্চিত পাপরাশি কর্ষিত হয়ে বিনষ্ট হয়।এতেও যদি দৈববশত পাপ থাকে যায়,তখন হে কৃষ্ণ! তোমার ঐ চরণ আশ্রিতজনের পাপকে সমূলে আকর্ষণ করে নেয়। তোমার শ্রীচরণে যে উনিশটি চিহ্ন আছে তার এক একটি চিহ্ন আশ্রিতজনের সমস্ত ধূলো ময়লা মুছে পরিস্কার করে দিয়ে তোমার চরণ সেবায় রত করো।স্নেহ বৎসল গাভীগণের অনুসরণ করে থাকে। তোমার ঐ চরণ লক্ষ্মীদেবীর নিত‍্য বাসস্থল।সেজন‍্য তোমার চরণ তীক্ষ্ণ বিষধর খল স্বভাব কালিয় নাগের মাথায় করুণায় অর্পিত হয়েছে। এর দ্বারা জানা গেল যতই নিঃকৃষ্ট স্বভাব বিশিষ্ট পাপী হোক না কেন যদি তোমার অভয় চরণে শরণাভিলাষী হয়,তাঁকে তুবঞ্চিত না কোরে নিজ পদপল্লব দানে কৃতার্থ করো।*
*🌻সেই চরণ আমাদের বক্ষে প্রদান করে তোমাকে পাবার জন্য আমাদের বক্ষে উৎকট কামনার অনল সহস্র শিখায় প্রজ্জ্বলিত হয়েছে, তা নিবিয়ে দাও বা নির্বাপণ কর।*
*🍀গোপীগণ তাঁদের বিরহ গীতিতে শ্রীকৃষ্ণ চরণের মহিমা সূচক আরো একটি শ্লোক বলেছেন=*
*"প্রণত কামদং পদ্মজার্চিতং ধরণিমন্ডনং ধ‍্যেয়মাপদি।*
*চরণপঙ্কজং শন্তমঞ্চতে রমণ নঃ স্তনেষ্বর্পয়াধিহন্।।"*
*🌹গোপীগণ শ্রীকৃষ্ণের উদ্দেশ্যে কাঁদতে কাঁদতে বললেন= হে প্রাণনাথ! তোমার ঐ রাঙ্গাচরণ ব্রহ্মলোকে পদ্মযোনি ব্রহ্মা কর্তৃক সর্বদা অর্চিত।অষ্টাদশ অক্ষর মন্ত্রে দিবানিশি ঐ চরণ আরাধনা করছেন। ঐ চরণ হতে বর্ষিত কৃপাশক্তির বলে ব্রহ্মা জগত সৃষ্টি করে চলেছেন।হে গোবিন্দ!আগেই বলেছি তোমার ঐ চরণ প্রণতজনের পাপ নাশক। কিন্তু এখন বলি শুধু পাপ নাশক নয়,প্রণতজনের অভিলাষ পূরক।এই অভিলাষ বা বাসনা জাগতিক অভিলাষ নয়, তোমার চরণে শরণাগত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই প্রণতজনের অন্তরে সর্ব অভিলাষের সার তোমার শ্রীচরণ সেবা অভিলাষ, সেই দুর্লভ অভিলাষ তোমার অভয় চরণ চিরকালের জন্য পূরণ করে দেয়।হে শ‍্যামসুন্দর!জবারুণ বিনিন্দিত রক্তিম চরণ যুগল পৃথিবীর উজ্জ্বল অলংকার স্বরূপ।প্রত‍্যক্ষভাবে ঐ চরণ পাবার মত সৌভাগ্য যদি কেউ না পায়,কেবল মাত্র একান্তমনে ঐ শ্রীচরণকে ধ‍্যান করলে সমস্ত বিপদ নাশ হয়। হে প্রাণবল্লভ! তোমার ঐ পদ কমল সেবা করতে যে পরম আনন্দ হয় জগতের কোন আনন্দই তার সঙ্গে তুলনীয় নয়।সেই চরণ আমাদের বক্ষেপ্রদান করো।*
*🌻উল্লিখিত গোপীগীতের দুটি শ্লোকে করুণাময় শ্রীভগবানের পদ পঙ্কজের যে অদ্ভুত মহিমা জানা গেল তা হল=(১)প্রণতঃজনের পাপ নাশক।(২)কৃষ্ণ অনুরাগ বৎসল পশুগণেরও অনুসরণকারী। (৩) সর্ব সম্পদ অধিষ্ঠাত্রী লক্ষ্মীদেবীর নিত‍্য বসতিস্থল।(৪)কালীয় নাগের মস্তকে অর্পিত অর্থ‍্যাৎ যতই অযোগ্য হোক, কুৎসিত স্বভাব বিশিষ্ট হোক, নিষ্কপট শরণাগতিতে শ্রীকৃষ্ণচরণ সহজ লভ‍্য। (৫)শ্রীকৃষ্ণ চরণ সেবাভিলাষ পূরক।(৬)ব্রহ্মা কর্তৃক অর্চিত।(৭)ধরিত্রীদেবীর উজ্জ্বল অলংকার। (৮)ধ‍্যানকারীগণের সর্ববিপদ নাশক। (৯)সচন্দন তুলসী অর্পণ ও সম্বাহনাদি সেবাকালে চরম আনন্দপ্রদ।*
*☘ম--ন! উল্লিখিত মহিমা সমূহ শুনে শ্রীগোবিন্দের পদে বিশ্বাস আরো সুদৃঢ় হবে এই আমি আশা করি।*
*🌺গোবিন্দের ঐ চরণ দেবাদিদেব মহাদেব কৈলাসে বসে সর্বক্ষণ ধ‍্যান করেন।অন‍্যান‍্য জলের মত দেখতে হলেও গঙ্গা জলে যে পাপ নাশিনী ও পতিতপাবনী শক্তি দেখা যায় তার মূল কারণ গঙ্গা ভগবানের পাদোদ্ভবা। ভগবানের শ্রীচরণ হতেই গঙ্গার উৎপত্তি।শ্রীচরণের পতিতপাবনী শক্তি গঙ্গা জলেতে সঞ্চারিত। শ্রীগোবিন্দের চরণই যে একমাত্র পরম আরাধ‍্য তা লক্ষ্মীদেবী সম‍্যক অনুধাবন করে অদ‍্যাপিও শ্রীধাম বৃন্দাবনের বেল বনে বসে আরাধনা করে চলেছেন*
*🍁মন! আরো দেখ ধ্রুব পদ্মপলাশলোচন শ্রীহরির পদ প্রাপ্তিতেই ঋষিগণের সমাজে উজ্জ্বল নক্ষত্ররূপে নিত‍্য বিরাজিত।পঞ্চপান্ডব পত্নী দ্রৌপদী প্রকাশ‍্য রাজসভায় গোবিন্দের শ্রীচরণ স্মরণ মহিমায় বস্ত্র হরণের প্রাক্কালে লজ্জা হতে নিষ্কৃতি পেলেন।ভক্ত প্রহ্লাদ ঐ চরণ শরণ মহিমায় শত শত বিপদ হতে নিষ্কৃতি পেলেন।এমন মহিমান্বিত গোবিন্দপদে একান্তভাবে শরণাগত হও। ঐ অভয় চরণ সর্বক্ষণ চিন্তা করো।তাহলে ত্রিভুবনে তোমার অনিষ্টকারী কোন শত্রু থাকবে না।শ্রীকৃষ্ণ চরণ চিন্তায় সারচিন্তা।অসার সংসার চিন্তা ভাবনায় কালান্তক যমরাজের সঙ্গে মিত্রতা বাড়ে।*
*🌻পিতৃপতি=যম।*
*(৮১)🌲🌲মনো শিক্ষা 🌲🌲*
          *শমনের ভয় থাকবে না*
          ***********************
    *ওরে মন!কি ভয় শমনে করি আর।*
*যদি কৃষ্ণ-পদে রতি,কি করিবে পিতৃ-পতি,*
    *ইহা কেনে না কর বিচার।।*
*যে পদ ভরসা করি,ব্রহ্মা সৃষ্টি-অধিকারী,*
     *যে পদ বাঞ্জয়ে পঞ্চানন।*
*যে পদে গঙ্গার জন্ম,লক্ষ্মী জানে সার মর্ম,*
     *অহর্নিশি স্মরে অনুক্ষণ।।*
*ধ্রুব-আদি যে প্রসাদে,যোগীন্দ্র ধরয়ে পদে,*
     *মুনিগণ যে পদ ধেয়ায়।*
*দ্রৌপদী প্রহ্লাদ করি,যে পদ হৃদয়ে স্মরি,*
      *দেখ কত সঙ্কট এড়ায়।।*
*যদি কর নিজ-কাজ,মিত্র হবে ধর্মরাজ,*
      *বৃথা চিন্ত অসার সংসার।*
*কহে দীন প্রেমানন্দ,চিন্ত কৃষ্ণ পদ- দ্বন্দ্ব,*
      *ত্রিভুবনে শত্রু নহে আর।।*
*🌹ম--ন! তুমি বৃথা মৃত‍্যু ভয় ও নরক যন্ত্রণার ভয় করছো কেন?তুমি গোবিন্দ পদে কায়-মনো-বাক‍্যে শরণ গ্রহণ করো। তাহলে বিনা আয়াসে (দুঃখ-কষ্টে) এ সব ভয় হতে নিষ্কৃতি পাবে।সর্বকারণের কারণ গোবিন্দের অভয় পদের মহিমার কথা একমুখে আর কি বলব।পুরাণে তার বহু প্রমাণ আছে।রাসলীলায় রাস নৃত্য প্রারম্ভে রাসনায়ক শ্রীশ‍্যামসুন্দর অন্তর্হিত হলে কৃষ্ণ অনুসন্ধান তৎপরা বিরহ বিধুরা গোপীগণ রোদন সঙ্গীতে শ্রীগোবিন্দ চরণের অপূর্ব মহিমা কীর্তন করেছেন।*
*(৮২)🦚🦚মনো শিক্ষা 🦚🦚*
  """"""""""""""""""""""""""""""""""""""""""""""
   *কথা দিয়েছিলে ভুলে গেলে?*
  """"""""""""""""""""""""""""""""""""""""""""""
   *ওরে মন!কিছু স্মৃতি নাহিক তোমার।*
*যবে গুরু কৃপা করি,মন্ত্র দিল কর্ণ ভরি,*
     *তাহা কেনে না কর বিচার।।*
*পুষ্প দিয়া গুরু পায়,দেহ সমর্পিলে তাঁয়,*
     *সেইকালে করি আত্মসাথ।*
*বয়ঃ রূপ নাম মূর্তি,সেবা অনুগতি স্থিতি,*
     *সব তত্ত্ব কহেছেন তোমাত।।*
*আপনা চিনিয়া লহ,কিসে 'এ আমার' কহ,*
    *'তোর মোর' বল কি সাহসে।*
*যদি কহ নিরুদ্দিশ‍্য,কোথা গুরু কোথা শিষ্য,*
    *তবে বান্ধা যাবে কর্ম-ফাঁসে।।*
*যদি বল সে দেহেতে,সতত থাকিলে তাতে,*
    *এ দেহ চেতন থাকে কায়।*
*চেতন না থাকে যবে,কে করে আহার তবে,*
    *অশন নহিলে দেহ যায়।।*
*তবে শুন তাঁর মর্ম,গোপীকার ভাব ধর্ম,*
     *কৃষ্ণ-সুখে সকল আচার।*
*বেশ-ভূষাদি অশন,কৃষ্ণে সব সমর্পণ,*
     *দেহে আত্মসুখ নাহি তাঁর।।*
*এখানে সেখানে এক,ভেবে দেক পরতেক,*
    *বিনা ভাবে সকলি অন‍্যায়।*
*প্রেমানন্দ কহে মন,ভাবে ডুব অনুক্ষণ,*
    *ভাবে সিদ্ধি সর্বত্র সর্বথায়।।*
*🪔মন! তোমার উচ্ছৃঙ্খল আচরণ দেখে মনেই হয় না তুমি ভগবান শ্রীকৃষ্ণচৈতন‍্য মহাপ্রভুর প্রবর্তিত আদর্শে সর্বশ্রেষ্ঠ শ্রীকৃষ্ণমন্ত্রে দীক্ষিত।অদীক্ষিত ও দীক্ষিত মানুষের চলা ফেরা, কথোপকথন, খাদ‍্যাখাদ‍্য,মেলামেশা প্রভৃতিতে আকাশ-পাতাল পার্থক্য থাকে।অদীক্ষিত মানুষের গতি প্রকৃতি কান্ডারী বিহীন নৌকা ও বল্গা বা লাগাম।অশ্ব বিহীন মতো।সুনির্দিষ্ট পথে কখনোই পরিচালিত হতে পারে না।অপর পক্ষে দীক্ষিত মানুষের সবকিছু হয় সাধু-শাস্ত্র এবং আচার্য‍্যের উপদেশ প্রদর্শিত নির্দেশিত আদর্শের উপর ভিত্তি করে।দীক্ষিত মানুষের আচার আচরণ দেখলেই সহজে বুঝা যায়, সাধারণ মানুষের মত হলেও এক অসাধারণ ভাব তার মাঝে অবস্থান করছে।👹মন! তোমার আকৃতি প্রকৃতিও ঐরকম হওয়া উচিত।কারণ তুমি শুভদিনে শুভক্ষণে সম্প্রদায়ী বৈষ্ণব আচার্য‍্যের চরণে আত্মসমর্পণ করে সকল মন্ত্রের শ্রেষ্ঠ শ্রীকৃষ্ণ মন্ত্র গ্রহণ করেছ।শুধু তাই নয়,প্রেম কল্পতরু শ্রীগুরুদেব নিজগুণে কৃপা করে মঞ্জরী ভাব সাধন পদ্ধতির পথে প্রতিষ্ঠিত করে দিয়েছেন।তার সঙ্গে সঙ্গে গৌড়ীয় বৈষ্ণব ভজনের অতি গূঢ় সাধ‍্যবস্তু অন্তঃশ্চিন্তিত দেহে যুগল সেবা,সেই অন্তঃশ্চিন্তিত দেহের চিন্ময় পরিচিতি নাম,বয়স,বস্ত্র,অলঙ্কার,বাস,কুঞ্জ ইত‍্যাদি শ্রীগুরুদেব তোমাকে জানিয়ে দিয়েছেন।শ্রীগুরুদেব প্রদত্ত চিন্ময় দেহের পরিচয়ই তোমার নিত‍্য সনাতন পরিচয়।অনিত‍্য স্থূল দেহের পরিচয় যথার্থ পরিচয় নয়।স্থূল দেহের সঙ্গে সম্পর্কিত পরিজনেরাও তোমার যথার্থ আপনজন নয়।😪মন!তুমি বলতে পারো এই স্থূল দেহের পরিচর্য‍্যা না করলে নিয়মিত আহারাদি না করলে এ দেহের অস্তিত্ব থাকে না।আর এ দেহের অস্তিত্ব যদি না থাকে তাহলে শ্রীগুরুদেবের দেওয়া ভাব যোগ্য দেহের ভাবনা কে করবে?আর করেই বা লাভ কী? সুতরাং যথাবস্থিত দেহের প্রতি যত্নশীল হওয়া উচিত নয় কি?🦜মন! তোমার এই প্রশ্নের উত্তরে বলি=একই কর্ম উদ্দেশ্যের পরিবর্তনে কখনো অধর্মে কখনো পরমধর্মে পরিণত হয়।দেহের সুস্থতা ও সৌন্দর্য‍্য বৃদ্ধির উদ্দেশ্য যদি আত্মসুখের জন্য হয়,তাহলে ঐ দেহ পরিচর্য‍্যা কর্ম আত্মঘাতী অধর্ম।অপর পক্ষে দেহের পরিমার্জন,কমনীয়তা রক্ষণ,সুস্থতা বিধান,অলংকার ধারণ, প্রসাধনাদি পরম পুরুষ শ্রীকৃষ্ণের প্রীতির উদ্দেশ্যে যদি হয়, তাহলে ঐ দেহ পরিচর্য‍্যা কর্ম সর্বশ্রেষ্ঠ ভাগবতধর্ম বলে পরিগণিত হয়। গোপী ভজনের অতি সূক্ষ্ম মর্মতত্ত্ব মন! তুমি চিত্ত স্থির করে শোন, শ্রীপাদ কবিরাজ গোপীভাবের এই গূঢ় তত্ত্বের কথা প্রকাশ করে বলেছেন=*
*তবে যে দেখিয়ে গোপীর নিজ দেহে প্রীত।*
*সেহো তো কৃষ্ণের লাগি জানিহ নিশ্চিত।।*
*এ দেহ কৈঁলু আমি কৃষ্ণে সমর্পণ।*
*তাঁর ধন তাঁর এই সম্ভোগ কারণ।।*
*এ দেহ দর্শন স্পর্শে কৃষ্ণ সন্তোষণ*।
*এ লাগি করে অঙ্গের মার্জন ভূষণ।।*
*🌹শ্রীকৃষ্ণ সেবাপরা গোপীগণের দেহ পরিচর্য‍্যার একমাত্র উদ্দেশ্য হল শ্রীকৃষ্ণের প্রীতি বিধান।শ্রীকৃষ্ণের সুখ সম্পাদন। ভগবান শ্রীকৃষ্ণচৈতন‍্য মহাপ্রভু ব্রজ গোপীগণের এইরকম আচরণকে পরম ভাগবতধর্ম বলে ঘোষণা করেছেন।তুমি এই ধর্মের আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে শ্রীগুরুদেবের আনুগত‍্যে যথাবস্থিত দেহে সেই ভাব অনুশীলন করতে থাকো।এই দেহে যদি সেই ভা-বে ডুবতে না পারো তাহলে দেহান্তে সেই অপ্রাকৃত ভাব রাজ‍্যে প্রবেশ করতে পারবে না।মহাজন বাণীতে আছে =*
*যুগল চরণ সেবি,নিরন্তর এই ভাবি,*
         *অনুরাগী থাকিব সদায়।*
*সাধনে ভাবিব যাহা,সিদ্ধ দেহে পাব তাহা,*
       *রাগ পথের এই সে উপায়।।*
🪷🦚🪔🙏🪷🦚🪔🙏🪷🦚🪔🙏🙌
*(৮৩)🙏🙏মনো শিক্ষা 🙏🙏*
         ^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^
      *মনকে সাধন ভজন শিক্ষা*
      *************************
   *এ মন!সাধন জানো কি আছে?*
*আপনা চিনিয়া,     সমাহিত হও,*
            *সাধন বুঝহ পাছে।।*
*যেন আম্রফল,       কথায় অম্বল,*
            *মধুর বসিলে পাকে।*
*কষা ছাড়ি অম্বল,  ক্রমেতে মধুর,*
         *মধুরে কষা কি থাকে।।*
*তেমতি জানিবে,পোষক সিদ্ধতা,*
          *আছয়ে অনেক দূরে।*
*পোষকে থাকিয়া,সিদ্ধির আচার,*
          *কি সাধন বলি তারে।।*
*কষার অভাবে,     অম্বল বৈসয়ে,*
        *পোষকে সাধকে এই।*
*অম্বল ঘুচিলে,       মধুর বলিয়ে,*
         *সাধক সিদ্ধির সেই।।*
*স্ব-ভাব ছাড়িছে,   অনর্থ--নিবৃত্তি,*
           *সাধন ইহার পরে।*
*বীজ না রোপিয়ে,কোঠা বান্ধ আগে,*
        *ফল পাড়িবার তরে।।*
*জিহ্বার আলিসে,"হরি" না বলিস,*
      *কেমনে করিবি সেবা।*
*কহে প্রেমানন্দ,   এ যে বড় ধন্দ,*
      *কথার বাণিজ‍্য এবা।।*
*🌷ভাবার্থ= হে মন!সাধন ভজন সম্বন্ধে যে তত্ত্ব বলা হয়েছে,তা সম‍্যকরূপে সর্ব প্রথমে জেনে নাও।সেই সঙ্গে নিজের দেহ-মনের প্রবৃত্তি ও প্রকৃতি সম্বন্ধেও বিশেষভাবে অবহিত(জ্ঞাত)হও।নিজে নিজের কু-প্রবৃত্তি সু-প্রবৃত্তি সম্বন্ধে যতটা জানা যায় অপরে তা জানতে পারে না। সুতরাং ভগবদ্ ভজন শুরু করার আগে বিশেষভাবে বুঝে নিতে হবে নিজের দ্বারা ভজন সাধন হবে কি না? শ্রীগুরুদেবের কথায়,শাস্ত্রের প্রতি সু-দৃঢ় বিশ্বাসবান হয়ে ব‍্যবহারিক জীবনে তিল তিল করে কঠোরভাবে অনুশীলন করতে হবে।কেবলমাত্র পুঁথিগত মুখস্থ,তত্ত্বজ্ঞানের কথা আবৃত্তি করতে পারলে প্রকৃত সাধক হওয়া যাবে না।কায়-মনো-বাক‍্যে ভজন অভ‍্যাসের দ্বারা ক্রমানুসারে সাধনস্তর অতিক্রম করে উপরে উঠতে হবে।এ ভাবে চিত্তবৃত্তি যখন যে স্তরে উন্নিত হবে তখন স্বাভাবিক ভাবেই সেই স্তরের ভাব সাধকের জীবনে অভিব‍্যক্ত হবে।অন‍্যের দেখে, বুদ্ধিপূর্বক,প্রচেষ্টার দ্বারা তা করতে হবে না।*
*☘মন! দেখ অতি সুমিষ্ট আম্রফল যখন মুকুল থেকে গুটিতে পরিণত হয় তখন তার স্বাদ স্বাভাবিকভাবেই কষা। পরে যখন ঐ গুটি আম পূর্ণাঙ্গ ফলে পরিণত হয় তখন স্বাদ হয় টক বা অম্ল।আগের কষায় ভাব প্রকৃতি ভাবেই চলে যায়।এইভাবে ক্রমে ক্রমে জ‍্যেষ্ঠমাসে ঐ আম পরিপক্ক দশা প্রাপ্ত হয়,তখন তাতে অতি সুমিষ্ট স্বাদের প্রকাশ ঘটে।আগের সেই টক ভাব থাকে না।ঠিক তেমনি সাধন ভজনেও আছে ক্রম অনুসারি পরিপোষকা (পালন করা) শক্তি।ফলের ক্ষেত্রে ঐ শক্তি যেমন কষায়, টক এবং মধুর স্বাদের অভিব‍্যক্তি বা প্রকাশ ঘটায়, ভজনের ক্ষেত্রেও সাধনভক্তি,ভাবভক্তি ও প্রেমভক্তি ক্রমিক (ধারাবাহিকভাবে)অভিপ্রকাশ ঘটায়।ফলের ক্ষেত্রে কচি অবস্থায় সুপক্ক দশার স্বাদ বা মাধুর্য‍্য অবাস্তব, তেমনি সাধনভক্তির স্তর অতিক্রম না করে প্রেমভক্তির স্তরের সিদ্ধ সাধকের মতো ভাবভঙ্গি প্রকাশের প্রচেষ্টা নিছক বাতুলতা বা পাগলামি ছাড়া অন‍্য কিছু নয়।*
*🌷মন! তুমি এই মূল‍্যহীন প্রচেষ্টা পরিত‍্যাগ করে সহজ-সরল নিষ্ঠা নিয়ে শ্রীগুরুদেবের পদতলে পড়ে থেকে ভজন-সাধন করতে থাকো। প্রাকৃতিকভাবে একদিন সিদ্ধ অবস্থায় পৌঁছে যাবে। ওরে মন! বিশেষ করে মনে রেখো পূর্ব পূর্ব জন্মের সংস্কার অনুসারে নিজের মধ্যে যে পাশবিক (পশুর মত),আসুরিক(অসুরের মত), স্ব-ভাব লুকিয়ে আছে তা সরাসরি ত‍্যাগ করতে না পারলে ভজন পথের অনর্থ (অনিষ্ট,অমঙ্গল,অর্থহীন)নিবৃত্তি(ক্ষান্ত বা বিরাম) হবে না।অনর্থ নিবৃত্তি না হলে ভজনের এক তিলও অগ্রগতি ঘটে না।বীজ বপন না করে ফল পাবার আয়োজন যেমন বিফল চেষ্টা, তেমনি প্রবল ধৈর্য‍্য নিয়ে অনুরাগের সঙ্গে ভজন স্তর অতিক্রম করে ভগবদ্ সেবানন্দ প্রাপ্তির প্রচেষ্টা একেবারে অর্থহীন*
*🌹মন! জিহ্বার আলস‍্যে ষোলনাম বত্রিশ অক্ষর হরিনাম করতে উৎসাহ প্রকাশ করো না,কি করে তুমি ভক্তি সাধনে সিদ্ধত্ত্ব লাভ করবে? মন!তুমি জেনে রাখো!তিলে তিলে না ভজিলে, কথায় কি গোবিন্দ মিলে?*
🪷🪷🪷🪷🪷🪷🙏🪷🪷🪷🪷🪷🪷
*(৮৪)🌷🌸মনো শিক্ষা 🌷🌸*
         **************************
       *মনের মিথ‍্যা বৈরাগ‍্য ভাব*
        """"""""""""""""""""""""""""""""""""""
   *এ মন!ঘর ছাড়লে কি তরে?*
*যত  পশুগণ,  তে কেনে তরে না,*
         *বনেতে যাহারা চরে।।*
*আহার তেজিলে, যদি হরি পাই,*
        *বিচারি কহ না ভাই।*
*যত  ফণীগণ, তে কেনে তরে না,*
        *ভক্ষণ যাহার বাই।।*
*না ভজিয়া যদি,   বেশ ধরি পাই,*
        *অভাব থাকিত কারে।*
*রাখালে  মিলিয়া,প্রলম্ব তে কেনে,*
        *বাছিয়া ফেলিল তারে।।*
*সাধন--ভজন,       কথায় কহিছ,*
         *অন্তর রাখিছ কাতে।*
*সরম থাকিতে,     ভরম  করিছ,*
        *ধরম ডুবিল তাতে।।*
*প্রেমের  আচার, লোকের  প্রচার,*
        *মদনে মাতিছ সুখে।*
*যাহার পরশে,    সে প্রেম বিনাশে,*
       *তাহারে ধরিছ বুকে।।*
*স্ব--ভাব ছাড়িতে,যদি না পারিছ,*
      *তে কেন ভাঁড়িছ লোকে।*
*কহে প্রেমানন্দ , স্ব-ভাব না গেলে,*
      *ভরমে নাশিবে তোকে।।*
*🙈মন !তুমি বুঝি ভেবেছো ভাবালুতা বশত বৈরাগ‍্যের উৎকণ্ঠায় গৃহ,পরিজন আদি ত‍্যাগ করলে যম যাতনা হতে পরিত্রাণ পাওয়া যাবে।প্রকৃত পক্ষে তা কিন্তু নয়।দেখ!বন‍্য পশুরা নির্দিষ্ট ঘরে বাস করে না।তাই বলে তারা তো ভগবদ্ ভক্তি লাভ করতে পারে না।তুমি আবার ভাবছো কঠোর কৃচ্ছ্র (কষ্ট)সাধনে দীর্ঘকাল অনাহারে থেকে সংসার সমুদ্র অতিক্রম করবে।তাও যথার্থ নয় ওরে মন! প্রবাদ আছে =সাপ ছয় মাস অনাহারে থাকে আর ছয়মাস খাদ‍্য গ্রহণ করে। যদি অনাহারেই ভগবদ্ পাওয়া যেত,তাহলে ছয়মাস অনাহারে থাকা সর্পসমাজ শ্রীভগবানকে পেয়ে যেত।মনে প্রাণে নিষ্কপটভাবে ভজন-সাধন না করে বিষয় ভোগ বাসনা ত‍্যাগ না করে কেবলমাত্র বাহ‍্যিক বৈরাগ‍্য বেশ ধারণ করলেও ভব বন্ধন হতে মুক্ত হওয়া যাবে না।বাহ‍্যিক বৈরাগ‍্য বেশ যতই সুন্দর হোক অন্তরে প্রচ্ছন্ন (গুপ্ত) প্রবাহমান(অন্তর বলে কু-কর্ম কর, বাইরের বেশ বলে সাধু) ভোগ বাসনা একদিন না একদিন প্রকাশ হবেই। শ্রীমদ্ভাগবতগীতায় ভগবান শ্রীকৃষ্ণ বলেছেন=*
*"কর্মেন্দ্রিয়াণি সংযম‍্য য আস্তে মনসা স্মরণ।*
*ইন্দ্রিয়ার্থান্ বিমূঢ়াত্মা মিথ‍্যাচারঃ সে উচ‍্যতে।।"*
*🍀অর্থ‍্যাৎ যে মূঢ় ব‍্যক্তি হাত,পা,কথাদি পঞ্চ-কর্মেন্দ্রিয় সংযত না,মনে মনে শব্দ-রসাদি ইন্দ্রিয় বিষয় স্মরণ করে অবস্থান করে,তাকে মিথ‍্যাচারী বলা হয়।*
*🌹শ্রীকৃষ্ণের এই বাণী অনুসারে মনের সংযম বিহীন বাইরের বেশ কপটতা বা ভন্ডামির নামান্তর।বৈরাগ‍্যের আবরণে প্রসুপ্ত (নিদ্রামগ্ন) বা ভেতরের ভোগবাসনা প্রবৃত্তিকে শাস্ত্র যুক্তির দ্বারা আড়াল করার প্রচেষ্টা নিজেকেই বঞ্চিত করা হয়।যথার্থ আত্মধর্মকে বিসর্জন দিয়ে নরকের দরজা খুলে দেওয়া। তাই বলি মন! কখনো তুমি ঐ পথ অবলম্বন করিও না।তাহলে প্রলম্ব অসুরের মত তোমাকে পরিণাম ভোগ করতে হবে।শ্রীমদ্ভাগবতে দশম স্কন্ধে উল্লেখ আছে =কংস প্রেরিত প্রলম্বাসুর কৃষ্ণ প্রিয় সখাগণের রূপ ধরে শ্রীকৃষ্ণকে বধ করবার উদ্দেশ্য নিয়ে রাখাল বালকেদের সঙ্গে খেলা রসে মেতে ছিল। কিন্তু খেলার শুরুতেই প্রলম্বাসুরের আসল স্বরূপ প্রকাশ হয়ে গেল।শেষে শ্রীবলরামের হাতে নিহত হতে হল।সুতরাং বেশ ধারণ করলেই ভগবানের প্রীতিভাজন হওয়া যায় না।*
*☘শ্রীকৃষ্ণ ভজন বড়ই মধুর রসের ভজন, শ্রীশ্রীরাধাকৃষ্ণের অকৈতব বা অকপট প্রেমই এই ভজনের মূল প্রতিপাদ‍্য(বর্ণনীয়) বিষয়। এই প্রেম সাধনার প্রবর্তক হলেন বৈরাগ‍্যের মূর্তিমন্ত বিগ্রহ ভগবান শ্রীকৃষ্ণচৈতন‍্য মহাপ্রভু। তিনি সাক্ষাৎ প্রেম অবতার হয়েও জড় প্রকৃতির জড় প্রেমের ছায়ামাত্র স্পর্শ করেননি।ওরে অবুঝ মন!তুমি সেই আদর্শ ভুলে প্রেম সাধনার দোহাই দিয়ে পরপুরুষ বা পরনারীর সঙ্গ সুখে মেতে উঠেছ।এতে তোমার অতি পবিত্র-শুচি-শুভ্র অকৈতব শ্রীকৃষ্ণ প্রেমসাধনা বিনষ্ট হয়ে ইন্দ্রিয় পরায়ণতা বেড়ে উঠেছে। মন!তুমি কেন এ ভাবে নিজেকে ও সমাজকে প্রবঞ্চিত করছো।তোমার এই কুৎসিত কপট স্বভাব যদি ভজনসাধন দ্বারা নাশ করতে না পারো তাহলে ভজন সাধন করেও নিজেকেই নিজে নাশ করবে।*
🙈🙈🙈🙈🙈🙈🙊🙈🙈🙈🙈🙈🙈
 *(৮৫)🙏🙏মনো শিক্ষা 🙏🙏*
  *মনকে অন্তর তত্ত্বেরকথা প্রকাশ*
  ™™™™™™™™™™™™™™™™™™™™™™
   *ওরে মন! ভাব-সিদ্ধি কেবল বিশ্বাস।*
*সাক্ষাতে আছয়ে রত্ন,তাহাতে না কর যত্ন,*
      *কিবা হবে খুঁজিলে আকাশ।।*
*কৃষ্ণ কৃষ্ণভক্ত এক,নাহি দেখ পরতেক,*
      *কৃষ্ণ-বাক‍্য ভগবদ্গীতাতে।*
*তাহাতে নহিল রতি,শূন‍্য ভাবি পাবে কতি,*
    *করে মুকুর,দেখ কি কূপেতে।।*
*যদি না আস্বাদ জানে,নিকটে থাকে না কেনে,*
    *কিবা বস্তু জানে সে কেমনে।*
*বসে অলি পদ্ম'পরে,খুঁজি মধু পান করে,*
  *কাছে থাকি ভেক তা না জানে।।*
*যার সঙ্গে প্রীতি যার,দূরেহ নিকট তার,*
   *পদ্ম-ভানু কুমুদ-চন্দ্র সাক্ষী।*
*শিখী উনমত্ত হৈয়া,নাচে পুচ্ছ পসারিয়া,*
     *গগনে জলদ-পুঞ্জ দেখি।।*
*অনিত‍্য সে নিত‍্য হয়,যদি কর সুপ্রত‍্যয়,*
     *অসাহস কেনে কর ভাই।*
*প্রেমানন্দ কহে মতি,স্ব-ভাবে জানিয়া রতি,*
     *দৃঢ় কর-- তবে কি হারাই।।*
*🍀ভজন সাধনের মূল এবং প্রধান উপাদান হল বিশ্বাস।ভজন সাধন করলে শ্রীভগবানকে লাভ করা যায়, অনুরাগভরে নাম করলে নামীকে পাওয়া যায়,এই বিশ্বাস যদি প্রগাঢ় রূপে সাধকের মনে বদ্ধমূল না হয়,তাহলে ভজন সাধনই হবে না।সিদ্ধিলাভ তো বহু দূরের কথা।বিশ্বাসের অপর নামই শ্রদ্ধা।পরম পূজ‍্যপাদ শ্রীপাদ কবিরাজ কৃষ্ণদাস গোস্বামী শ্রীচরিতামৃতে বললেন=*
*শ্রদ্ধা মানে বিশ্বাস কহি সুদৃঢ় নিশ্চয়।*
*কৃষ্ণ ভক্তি কৈলে সর্ব কর্ম কৃত হয়।।*
*☘সুদৃঢ় নিশ্চিত ভগবদ্ বিশ্বাস ভক্তি সাধনার মূল উৎস।শ্রীভগবানে, শ্রীহরিনামে,শ্রীগুরু-বৈষ্ণবে, শ্রীমদ্ভাগবতে যথার্থ বিশ্বাসের নামই শ্রদ্ধা।বহু জনমের সঞ্চিত সুকৃতি থাকলে তবেই এই বিশ্বাস প্রকাশ পায়।শ্রীচৈতন‍্যচরিতামৃতের ভাষায়*
*কোন ভাগ‍্যে কোন জীবের শ্রদ্ধা যদি হয়।*
*তবে সেই জীব সাধু সঙ্গ করয়।।*
*🌹শ্রীহরি ভজনের অনুপ্রেরণা সুদৃঢ় ভগবদ্ বিশ্বাস থেকেই জন্ম হয়।এই বিশ্বাস রত্ন প্রচ্ছন্নভাবে সব মানুষের মনেই রয়েছে।মন! তুমি সেই রত্নেরপ্রতি যত্নশীল হও।বাইরে খুঁজাখুঁজি করিও না।ভগবদ্ বিশ্বাস পরিপুষ্ট হয় ভক্ত সঙ্গের দ্বারা।কারণ শ্রীকৃষ্ণ এ শ্রীকৃষ্ণভক্তের মধ্যে কোন ভেদ নেই।
[7/4, 6:19 PM] Joydeb Dawn: *অর্জুনকে শ্রীমুখে শ্রীকৃষ্ণ বলেছেন=*
*"সমোহহং সর্বভূতেষু ন মে দ্বেষ‍্যোহস্তি ন প্রিয়ঃ।*
*যে ভজন্তি তু মাং ভক্ত‍্যা ময়ি তে তেষু চাপ‍্যহম্।।"*
*🍀অর্থ‍্যাৎ আমি সকল ভূতে সমানভাবে বিরাজ করি,আমার প্রিয় ও অপ্রিয় নেই,কিন্তু যাঁরা ভক্তি-পূর্বক আমাকে ভজনা করেন,তাঁরা স্বভাবতই আমাতে অবস্থান করেন এবং আমিও স্বভাবতই তাঁদের হৃদয়ে বাস করি।*
*🍁ভক্তের হৃদয়ে শ্রীকৃষ্ণ নিত‍্য বিরাজ করেন বলেই ভক্ত ভগবানের কোন ভেদ থাকে না। মন! এহেন ভক্তের প্রতি তোমার শ্রদ্ধা জাগল না! কোন মূল‍্যবান বস্তুর সম্বন্ধে ধারণা না থাকলে সেই বস্তু কাছে পেলেও তার প্রতি শ্রদ্ধা জাগে না।যেমন=পদ্মফুলের মধু ভ্রমর আস্বাদন করে অথচ ঐ পদ্ম ফুলের মধ্যে বসে থাকা ব‍্যাঙ তার মর্ম জানে না।তত্ত্ব অবগত হতে পারলে ভগবান যতই দূরে থাকুক না কেন তার প্রতি প্রীতিভাবের অভাব হয় না।আবার যেমন=পদ্ম এবং সূর্য‍্য,কুমদ ও চন্দ্র, ময়ূর ও মেঘ। বহু ব‍্যধানে থাকলেও একে অপরের উপরে নির্ভরশীল।মন!তুমি সমস্ত দুর্বলতা পরিত‍্যাগ করে ভগবানে দৃঢ় বিশ্বাসবান হও। তাহলে নিজেকে হারাতে হবে না।*
     *🙌জয় নিতাই গৌর হরিবোল🙌*
*(৮৬)🤚🤚মনো শিক্ষা 🤚🤚*
            *মনকে সুশিক্ষা দান*
           *ধর্মের নামে ভন্ডামি কেন*
            ^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^
   *ওরে মন!এ তোর বুঝবার ভুল।*
*কহিছ বেদের পার, করিছ নিষিদ্ধাচর,*
     *ভাব' দেখি আপনার মূল।।*
*মুক্তিকে ঐশ্বর্য‍্য বলি,দূরেতে দিয়েছ ফেলি,*
    *ইঙ্গিতে বুঝাও এই তত্ত্ব।*
*অনিত‍্য অসার অর্থ,সে ভাল সদাই প্রার্থ‍্য,*
    *যার জন‍্য দিনরাত্রি মত্ত।।*
*নির্হেতু যাজন কর,হেতু সে ছাড়তে নার,*
     *কথায় বিরক্ত এ সংসার।*
*সর্বস্ব বলিছ যার,দিতে এক বট তার,*
     *সে চাহিলে কহ আপনার।।*
*কহ ভজি বৃন্দাবন,ঘরে সুখ বাস মন,*
     *ভালবাস বসন-ভূষণে।*
*সন্তুষ্ট মানিছ মানে,মহাক্রোধ অপমানে,*
     *আত্ম-সুখ ঘুচিল কেমনে।।*
*কহিছ গোপীর ধর্ম,কি বুঝিছ তার মর্ম,*
     *স্ব-ভাব ছাড়তে নার তিলে।*
*দেখিয়া পাইছ সুখ,প্রকৃতি-বাঘিনী-মুক,*
      *সর্বাত্মা সহিতে যেই গিলে।।*
*শুন কহে প্রেমানন্দ,বিচারিলে সব ধন্ধ,*
      *কহিলে শুনিলে কিবা হয়।*
*"হরি হরি" অবিরত,কহ এই প্রেম-পথ,*
        *নির্মল হইবে সুনিশ্চয়।।*
*💧মন!তুমি নিজের ভুল নিজে বুঝতে পারছ না।বেদাতীত রাগ মার্গের ভজনের দোহাই দিয়ে বেদ বিগর্হিত কর্ম করে চলেছ।ভাব ভঙ্গীতে,কথোপকথনে,লোকসমাজে বুঝাতে চেষ্টা কর স্বর্গ প্রাপ্তি ও পঞ্চবিধা মুক্তিতে ঐশ্চর্য‍্য আছে বলে ঘৃণার সঙ্গে ত‍্যাগ করছো।অথচ ভগবদ্ বিগ্রহ সেবার দোহাই দিয়ে অর্থ লিপ্সা,মঠ,মন্দির,আশ্রমাদির বিলাস বহুলতা বিন্দুমাত্র ত‍্যাগ করতে পারো নি! আবার জগতে প্রচার করো  তোমার কিছু প্রয়োজন নাই।অন্তরে কিন্তু বিষয়ী মানুষের চাইতেও দ্বিগুণ প্রয়োজনীতা বোধের তাড়নায় জর্জরিত।শুধু তাই নয়, তোমার যা কিছু সম্পদ ভগবান শ্রীকৃষ্ণের,তাতে তোমার কোন অধিকার নাই বলে তুমি প্রচার করো ; অথচ সেই সম্পদের অতি কিঞ্চিৎ দান করতে গেলে দুর্বার আমিত্ববোধ গর্জন করে উঠে। শ্রীকৃষ্ণের সম্পদ কৃষ্ণ ভক্তের সেবায় দান করতে বিন্দুমাত্র আনন্দিত হও না। মন!তোমার এ কি কপট বিরক্তি। মুখে মুখে সবাইকে জানাও তুমি বৃন্দাবন ভজন কর।পাঠ কীর্তনের ছলে কত ভাষা বিন‍্যাসে বৃন্দাবন বাসের মহিমা ঘন্টার পর ঘন্টা ধরে বিশ্লেষণ কর। অথচ সামর্থ থাকা সত্ত্বেও নিজ গৃহের সুখ-স্বাচ্ছন্দ‍্য ত‍্যাগ করে এক দিনের জন্যও বৃন্দাবনে গিয়ে বাস করলে না। মন!তোমার এ কি অদ্ভুত ছলনা। হরিসভায় বহু ভক্তের সামনে "তৃণাদপি" শ্লোকের কত গাল ভরা ব‍্যাখ‍্যা কর। কথার ফাঁকে বুঝাতে সক্রিয় হও ষোলআনা ভাবে ঐ তৃণাদপি শ্লোকের আদর্শে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে পেরেছ। অথচ তোমার ব‍্যবহারিক জীবনে লক্ষ্য করলে সহজে বুঝা যায় সম্মানে তোমার ভীষণ আনন্দ হয়  ; অপমানে হয় মহাক্রোধ।তাহলে মন! তুমি কি করে আত্ম-সুখ বাসনাকে জয় করলে।সাধক সমাজে কত ভাবগম্ভীর ভাবে গোপীভাবে ভাব-যোগ‍্য দেহে শ্রীকৃষ্ণ ভজনের মহিমা অনুভবই সাধকের মত আলোচনা কর।তখন তোমার মুখে আলোচনা শুনলে এবং তোমাকে দেখলে মনে হয় তুমি যথার্থই শ্রীগুরুদেব প্রদত্ত ভাব-যোগ‍্য দেহের স্বরূপে সুপ্রতিষ্ঠিত হয়েছ। কিন্তু পরক্ষণে প্রকাশ হয়ে পড়ে যথাবস্থিত দেহের অভিমান ও দৈহিক বিকার সমূহকে সামান্য পরিমাণেও ত‍্যাগ করতে পারোনি।এই ভাবে কপট ভাব সর্বস্ব সাধক অভিমানের রহস্য বিচার মাত্রেই ধরা পড়ে। ওরে ভন্ড মন! তুমি এইসব ভন্ডামি পরিহার করে অবিরত হরি হরি বল, হরিনাম করো।তাহলে তোমার ভজনপথ ও অন্তঃকরণ সুনির্মল হবে।*
🙈🙈🙈🙈🙈🙈🌷🙈🙈🙈🙈🙈🙈
*(৮৭)🌹🌹মনো শিক্ষা 🌹🌹*
         *মনকে মহোপদেশ দান*
          °°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°
  *ওরে মন!সাধু-সঙ্গ পরম-কারণ।*
*ক্ষণে সাধু-সঙ্গ করে,পাপ তাপ দৈন‍্য হরে,*
       *কৃষ্ণচন্দ্র করায় স্ফুরণ।।*
*কর্ম-যোগ নানা ধর্ম,সাংখ‍্য-যোগ আদি কর্ম,*
       *তপ ত‍্যাগ বেদ-পাঠ আদি।*
*মহাপুর মহাঘর, কূপ দীঘি কলেবর,*
      *ব্রত দান পুণ‍্য নিরবধি।।*
*বহু যজ্ঞ করে যত্নে,বহু মান‍্য করে রত্নে,*
       *বিবিধ দক্ষিণা সমর্পণ।*
*সংযম নিয়ম কত, পৃথিবীতে হয় যত,*
      *করে নানা তীর্থ পর্য‍্যটন।।*
*এতরূপে কৃষ্ণ প্রভু,কারো বশ নহে কভু,*
      *সাধু-সঙ্গ বিনা কেহ নারে।*
*সাধু-সঙ্গে ভক্ত‍াভ‍্যাস, অজ্ঞান-অবিদ‍্যা-নাশ,*
      *কৃষ্ণ-প্রাপ্তি সুলভ তাহারে।।*
*নারদের সঙ্গ হৈতে, ব‍্যাধ হৈল ভাগবতে,*
      *প্রহ্লাদ শিখিল গর্ভ-মাঝ।*
*পঞ্চম বৎসরের কালে,ধ্রুব সাধিলেন হেলে,*
     *জড় ভরত হৈতে রহুরাজ।।*
*হরিদাস-ঠাকুর-সনে, এক বেশ‍্যা একদিনে,*
      *তিনলক্ষ হরিনাম কৈল।*
*কি হবে আমার গতি,হেন সাধু-সঙ্গ প্রতি,*
      *প্রেমানন্দের মন না ডুবিল।।*
*🍀অসংযত চিত্তবৃত্তি ও অপরিমার্জিত বুদ্ধি সম্পন্ন মানুষের ঘাত প্রতিঘাতময় সাংসারিক জীবনে অতি সহজে দুর্লভ শ্রীকৃষ্ণ প্রেমভক্তি লাভের সাধন করতে পারো বা না পারো নিয়মিত সাধুসঙ্গ লাভে সচেষ্ট হও। শাস্ত্রে উল্লেখ আছে =*
*"ক্ষণমিহ স্বজ্জন সঙ্গতি রেকা।*
*ভবতি ভবার্ণবে তরণে নৌকা।।*
*🌺ক্ষণকাল মাত্র সাধুসঙ্গের দ্বারা অতল স্পর্শী পারাবার (সাগর)শূন‍্য দুস্তর সংসার পারাবার বিনা প্রতিকূলতায় অতিক্রম করা যায়।মহাজন বাণীতে আছে=*
*কোন ভাগ‍্যে কারো সংসার ক্ষয়োন্মুখ হয়।*
*সাধু সঙ্গে তরে কৃষ্ণে রতি উপজয়।।*
☆               ☆               ☆                 ☆
*সাধু সঙ্গে কৃষ্ণ ভক্ত‍্যে শ্রদ্ধা যদি হয়।*
*ভক্তি ফল প্রেম হয় সংসার যায় ক্ষয়।।*
*সাধুসঙ্গ সাধুসঙ্গ সর্বশাস্ত্রে কয়।*
*লব মাত্র সাধুসঙ্গে সর্ব সিদ্ধি হয়।।*
☆               ☆               ☆               ☆
*কৃষ্ণ ভক্তি জন্ম মূল হয় সাধুসঙ্গ।*
*কৃষ্ণ প্রেম জন্মে তিঁহো পুনঃ মুখ‍্য অঙ্গ।।*
*🌷সাধুসঙ্গ সম্বন্ধে উল্লিখিত বাণী সমূহে যা বলা হয়েছে অমল পুরাণ শ্রীমদ্ভাগবত শাস্ত্রই তার ভিত্তি ভূমি। শ্রীমদ্ভাগবতে পায়=*
*"ভবাপবর্গো ভ্রমতো যদা ভবে,*
*জ্জনস‍্য তর্হ‍্যচ‍্যুত সৎসমাগমঃ।*
*সৎসঙ্গমো যর্হি তদৈব সদ্ গতৌ,*
*পরাবরেশে ত্বয়ি জায়তে রতিঃ।।*
*🍀অর্থ‍্যাৎ হে অচ‍্যুত!সংসার ভ্রমণ করতে করতে যখন ভবমোচন ফল এসে উপস্থিত হয়, তখন জীবের যদি সৎসঙ্গ হয়ে পড়ে তবেই সদ্গতি ও পরাবরেশ্বর স্বরূপ তোমাতে রতি জন্মে।*
*"তুলয়াম লবেনাপি ন স্বর্গং নাপুনর্ভবম্।*
*ভগবৎসঙ্গিসঙ্গস‍্য মর্ত‍্যানাং কিমুতাশিষঃ।।"*
*🍁অর্থ‍্যাৎ ভগবদ্ সঙ্গি সঙ্গদ্বারা জীবের যে অসীম মঙ্গল হয়,তার সঙ্গে স্বর্গ বা মোক্ষের কিছু মাত্র তুলনা করা যেতে পারে না,রাজ‍্যাদি প্রাপ্তির তো দূরের।*
*☘শ্রীমদ্ভাগবতের এই সকল উদ্ধৃতি ছাড়াও মহিমা সূচক আরো মহাজন বাণী আছে। মহাসাধক তুলসীদাস বলেছেন=*
*"এক ঘড়ি আধ ঘড়ি আধি হু সে আধ।*
*তুলসী!সঙ্গত সন্তকী হরে কোটি অপরাধ।।"*
*🌿পূজ‍্যপাদ তুলসী দাসজী নিজে নিজেকে সম্বোধন করে বলেছেন ওহে তুলসীদাস!তুমি সর্বদা সাধুসঙ্গ করো। কারণ একক্ষণ বা অর্ধক্ষণ, অর্ধক্ষণের অর্ধ ক্ষণকাল সাধুসঙ্গের দ্বারা কোটি কোটি জন্মের সঞ্চিত পর্বত সমান পাপরাশি মুহূর্তের মধ্যে অপহৃত হয়।তিনি আরো বলেছেন=*
*বিন সৎসঙ্গ ন হরিকথা,*
*তেই বিন মোহ ন ভাগ।*
*মোহ গয়ে বিনু রাম পদ,*
*হোই ন দৃঢ় অনুরাগ।।*
*🍀সৎসঙ্গ বিনা হরিকথা শ্রবণ কীর্তন হয় না।হরিকথা শ্রবণ কীর্তন বিনা চিত্ত নির্মল হয় না।সংসার মোহ ছিন্ন হয় না। আর মায়া মোহ ছিন্ন না হলে ভগবানের অভয় পদকমলে সুদৃঢ় অনুরাগ হয় না।*
*"ইহ জগমে হ‍্যায় পাঁচ রতন সার।*
*হরিকথা,সৎসঙ্গ,দয়া,দীন,উপকার।।*
*🔥হে তুলসীদাস!এই অনিত‍্য অসার  সংসারে পাঁচটি সার রত্ন আছে।হরিকথা,সাধুসঙ্গ,দয়া,দৈন‍্য এবং পরোপকার বাঞ্জা,এই পাঁচটি রত্ন সংগ্রহে তুমি বিশেষ যত্নবান হও। মন! এইভাবে সাধুসঙ্গের মহিমা তোমাকে আর কত বলব।তুমি বিশেষভাবে জেনে রেখো মূহুর্তমাত্র সাধুসঙ্গ প্রভাবে সর্বপাপ বিদূরিত হয়ে শ্রীকৃষ্ণ পদে অচলা প্রেমভক্তির উদয় হয়।কেউ যদি অকৃত্রিম বা নকল অনুরাগে বৈদিক কর্মকান্ডের অনুষ্ঠান অর্থ‍্যাৎ যাগযজ্ঞাদির অনুষ্ঠান করে,যোগ সাধনাদি করে,তপস‍্যা,কৃচ্ছ্র সাধর্ন,বেদ পাঠ, নগরাদি সংস্থাপন, গৃহ নির্মাণ,পানীয় জলের জন্য ও স্নানাদির প্রয়োজনে অসংখ্য সুগভীর কূপ,সুদীর্ঘ দীঘি, বিশাল সরোবর,চন্দ্রায়ণাদি বহুপ্রকার ব্রত,দানছত্র,বৃক্ষ রোপনাদি পূণ‍্য কর্ম, রত্নাদি দান, সৎ ব্রাহ্মণে দক্ষিণা সমর্পণ, কঠোর সংযম নিয়মের অনুশীলন, নানা তীর্থ পর্য‍্যটনাদি করে কিন্তু যদি সাধুসঙ্গ না করে তাহলে ঐ সব সৎকর্মাদি অনুষ্ঠানের দ্বারা কখনোই শ্রীকৃষ্ণ বশীভূত হন না।অর্থ‍্যাৎ ভক্তি অঙ্গের যে কোন সাধন পদ্ধতির সঙ্গে সাধুসঙ্গ সংযুক্ত না হলে ঐ সব ভক্তি অঙ্গ কৃষ্ণ বশীকরণ শক্তি ধরে না।সাধুসঙ্গের সঙ্গে ভক্তি পথের অনুশীলন করলে অজ্ঞান অবিদ‍্যা বিনষ্ট হয়ে শ্রীকৃষ্ণ প্রাপ্তি হয় অতি সুলভ। মন! তুমি হয়তো বলতে পারো সাধুসঙ্গের এত মহিমা তার কোন দৃষ্টান্ত না পেলে আমি বিশ্বাস বা  মানব না। তোমার জিজ্ঞাসার উত্তরে বলি দেবর্ষি নারদ ও ব‍্যাধের উপাখ‍্যান।*
*এক ভক্ত ব‍্যাধের কথা শুন সাবধানে।*
*যাহা হৈতে হয় সৎসঙ্গ মহিমার জ্ঞানে।।*
*একদিন শ্রীনারদ দেখি নারায়ণ।*
*ত্রিবেণী স্নানে প্রয়াগ করিলা গমন।।*
*🌺দেবর্ষি নারদ হরি হরি গুণকীর্তন করতে করতে প্রয়াগ তীর্থে ত্রিবেণী স্নানে বনপথে চলেছেন।পথে যেতে যেতে পথের পাশে দেখতে পেলেন বাণবিদ্ধ পা-ভাঙ্গা একটি হরিণ পড়ে আছে এবং মৃত‍্যু যন্ত্রণায় ছটফট করছে।এতে গুরুত্ব না দিয়ে কৃষ্ণ নামানন্দে বিভোর নারদমুনি ধীরে ধীরে এগিয়ে যেতে লাগলেন।কিছুদূর যেতেই মৃত‍্যু যন্ত্রণায় কাতর হরিণীর মত একটি বন‍্য শূকরকে দেখতে পেলেন।মাটিতে পড়ে যন্ত্রণায় ছটফট করছে।বন‍্য শূকরের এই অবস্থা দেখেও নারদ মর্মাহত না হয়ে পুণ‍্যস্নানের অনুরাগে এগিয়ে যেতে লাগলেন।কিছুদূর যেতে না যেতেই আগের মত দৃষ্টিতে পড়ল মৃত‍্যু যন্ত্রণা কাতর এক শশক।*
*"ঐছে এক শশক দেখে আর কত দূরে।*
*জীবের দুঃখ দেখি নারদ ব‍্যাকুল অন্তরে।।"*
*🌳বন‍্য প্রাণীগণের কাতর দুর্দশা দেখে নারদের করুণাভরা কোমল হৃদয় বিশেষভাবে ব‍্যথাহত হল।নারদমুনি তখন দাঁড়িয়ে পড়লেন।চারিদিকে তাকিয়ে খোঁজ করতে লাগলেন যে নিরপরাধ বন‍্য প্রাণীদের পীড়া দানকারী পাষাণ হৃদয় ব‍্যক্তিটি কে?*
*"কত দূরে দেখে ব‍্যাধে বৃক্ষে ওঁত হৈঞা।*
*মৃগ মারিবারে আছে বাণ জুড়িয়া।।*
*শ‍্যাম বর্ণ রক্ত নেত্রে মহা ভয়ংকর*।
*ধনুর্বাণ হস্তে যেন যম দন্ড ধর।।*
*🌹দুর্লভ মানব দেহধারী ব‍্যাধের এ হেন নির্দয় কাজের পরিণাম ভয়ংকর নরক ভোগ।তা বুঝতে পেরে ব‍্যাধকে হিংসার পথ নিবৃত্তি করবার জন্য নারদের হৃদয় করুণায় দ্রবীভূত হল। তখন=*
*"পথ ছাড়ি নারদ তাঁর নিকটে চলিল।*
*নারদে দেখি মৃগ সব পালিয়ে গেল।।*
*ক্রদ্ধ হঞা ব‍্যাধ তারে গালি দিতে চায়।*
*নারদ প্রভাবে মুখে গালি নাহি আয়।।*
*🌱বনে বিচরণকারী হরিণগণের প্রতি লক্ষ্য স্থির করে ব‍্যাধ বাণ ছাড়তে যাবে এমন সময় সেখানে অপ্রত‍্যাশিতভাবে ঋষিবর নারদের আগমনে হরিণগণ ভয়ে সেখান হতে পালিয়ে গেল।ব‍্যাধের হরিণ শিকার আর হল না।ব‍্যাধের ক্রদ্ধ দৃষ্টি পড়ল নারদের দিকে।পরম ভাগবত হরি নামানন্দি কল‍্যাণ সুন্দর সৌম মূর্তি দর্শনে নিষ্ঠুর ব‍্যাধের অন্তরে কিঞ্চিৎ সভ‍্যতার উদয় হল।সে মুনিকে বলল=*
*"গোসাঞি প্রমাণ পথ ছাড়ি কেনে আইলা।*
*তোমা দেখি মোর লক্ষ্য মৃগ পলাইলা।।"*
*নারদ কহে পথ ভুলি আইলাম পুছিতে।*
*মনে এক সংশয় হয় তাহা খন্ডাইতে।।"*
*🌺মহামুনি নারদ বললেন--, ওহে তোমাকে লক্ষ্য ভ্রষ্ট করার জন্য  আমি প্রচলিত পথ ছেড়ে তোমার দিকে আসিনি।আমার মনের এক সংশয় খন্ডন করতে তোমার কাছে এসেছি।এই যে পথে যন্ত্রণা কাতর হরিণ,শূকর,শশক দেখলাম,এগুলি কার?ব‍্যাধ দর্পের সঙ্গে বলল এগুলি সবই আমার। আমি তাদেরকে বাণবিদ্ধ করেছি। শুনে ঋষিবর বললেন--, পশু হত‍্যাই তোমার যখন জীবিকা তখন একেবারে মেরে না ফেলে আধমরা করে রাখো কেন?তা শুনে ব‍্যাধ বলল=*
*"ব‍্যাধ কহে শোন গোসাঞি মৃগারি মোর নাম।*
*পিতার শিক্ষাতে আমি করি ঐছে কাম।।*
*অর্ধমরা জীব যদি ধর ফড় করে।*
*তবে তো আনন্দ মোর বাড়য়ে অন্তরে।।*
*🌻ব‍্যাধের এই সত‍্যকথা শুনে দেবর্ষি বললেন--,তোমার কাছে আমি একটি ভিক্ষা চাই। ব‍্যাধ বলল=*
*"মৃগ ছাল চাহ যদি আইস মোর ঘরে।*
*যেই চাহ তাহা দিব মৃগ ব‍্যাঘ্রাম্বরে।।*
*🍁ব‍্যাধের ধারণা সাধু নারদ তার কাছে কি চাইবে? নিশ্চয় মৃগ চর্ম বা বাঘের চামড়া চাইবে। কারণ অনেক সাধু-সন্ন‍্যাসী মৃগ চর্ম পরিধান করেন অথবা বাঘের চর্মাসনে বসে যোগাভ‍্যাসাদি করেন।আর এই পশু চামড়া গুলি ব‍্যাধের কাছেই সহজলভ‍্য অতি সহজেই পাওয়া যাবে।তখন দেবর্ষি নারদ বললেন, ব‍্যাধ! আমি তোমার কাছে ঐ সব পশু চামড়া চাই না। আমি তোমার কাছে এই প্রতিশ্রুতি ভিক্ষা চাই-- আগামীকাল হতে কোন পশুকে আধমরা করে রাখতে পারবে না।একেবারে হত‍্যা করবে। একথা শুনে ব‍্যাধ চরম আশ্চর্য‍্য হয়ে বলল--, আমি বন‍্য প্রাণীকে আধমরা করে রাখলে তোমার কি ক্ষতি? দেবর্ষি বললেন=এই যে তুমি প্রতিদিন পশু হত‍্যা করে চলেছ এতে প্রাণী হত‍্যাজনিত পাপে কোটি কোটি বৎযন্ত্রণাময় নরকভোগ করতে হবে। তাতে আবার এভাবে আধমরা করে যে কত কষ্ট দিচ্ছো এ পাপের প্রায়শ্চিত্ত বা শাস্তি বিধান স্বয়ং যমরাজের কাছে আছে কি না সন্দেহ। সাধু হৃদয় নারদের এই কথায়  এবং নারদের মতো পরম ভাগবতের সান্নিধ‍্য পেয়ে নিষ্ঠুর ব‍্যাধের চিত্তবৃত্তির পরিবর্তন হল।*
 *ব‍্যাধ কহে বাল‍্য হৈতে এই আমার কর্ম।*
*কেমনে তরিব আমি পামর অধম*।।
*এ পাপ যায় মোর কেমনে উপায়ে*।
*নিস্তার করহ মোরে পড়োঁ তোমার পায়ে।।*
*🙏অনুতপ্ত ব‍্যাধের এই কথা শুনে দেবর্ষি বললেন--,তোমার নিস্তারের উপায় বলব,তার আগে তুমি তোমার ধনুকটি ভেঙ্গে ফেল। ব‍্যাধ বললে--, গোসাঞি!ধনুক ভাঙ্গলে আমার জীবিকা নির্বাহ হবে কি করে?নারদ বললেন--,সে চিন্তা তোমাকে করতে হবে না, আমি তার ব‍্যবস্থা করব।জীবিকা নির্বাহের আশ্বাস পেয়ে ব‍্যাধ তার ধনুকটি ভেঙ্গে টুকরো টুকরো করে ফেলল।(যার কঠিন রোগ হয়,সেই রোগকে নির্মূল করতে হলে সর্বপ্রথমে জানতে হয় যে রোগটির সৃষ্টি কোথা থেকে ; তারপর সেই রোগের ঔষধ দিলে খুব তাড়াতাড়ি রোগটি সেরে যায়, নারদমুনি বুঝতে পেরেছিলেন যে ধনুক হচ্ছে মূল রোগের গোড়া, তাই ধনুক ভেঙ্গে তার রোগ নির্মূল করলেন)।একান্তভাবে দেবর্ষির চরণে শরণাগত হল।দেবর্ষিনারদ তাকে উপদেশ করলেন=*
*ঘরে গিয়া ব্রাহ্মণে দেহ যত আছে ধন।*
*এক এক বস্ত্র পরি,বাহির হও দুইজন।।*
*নদীতীরে একখানি কুটির করিয়া*।
*তার আগে এক পিন্ডি তুলসী রোপিয়া।।*
*তুলসী পরিক্রমা কর তুলসী সেবন।*
*নিরন্তর কৃষ্ণ নাম করিহ কীর্তন।।*
*আমি তোমায় বহু অন্ন পাঠাইমু দিনে।*
*সেই অন্ন লবে যত খাও দুই জনে।।*
*🍀দেবর্ষি নারদ এই উপদেশ দিয়ে যথাস্থানে গমন করলেন। ব‍্যাধ নিষ্ঠা নিয়ে গুরুদেবের উপদেশ অক্ষরে অক্ষরে পালনে ব্রতী হল।তাদের যেটুকু সঞ্চিত ধন-বিত্ত ব্রাহ্মণে দান করে দিয়ে নদীতীরে কুটির নির্মাণ করল।তুলসীবৃক্ষ রোপন করল। জীবিকা নির্বাহের সমস্ত প্রচেষ্টা বাদ দিয়ে তুলসীসেবা ও নাম সংকীর্তন সাধনকে অবলম্বন করল।শ্রীগুরুদেবের কৃপায় তাদের অন্নবস্ত্রের কোন অভাব রইল না।*
*🌷গ্রামে ধ্বনি হৈল ব‍্যাধ বৈষ্ণব হইল।*
*🌷গ্রামের লোক সব অন্ন আনিতে লাগিল।।*
*🌷একদিন অন্ন আনে দশ বিশ জনে।*
*🌷দিনে তত লয় যত খায় দুই জনে।।*
*🌹এই ভাবে ভাগবতোত্তম দেবর্ষি নারদের সঙ্গ মহিমায় নিষ্ঠুর প্রকৃতির ব‍্যাধ পরম বৈষ্ণব-রূপে পরিগণিত হল।*
*🍀এই ত কহিলু তোমায় ব‍্যাধের আখ‍্যান।*
*🍀যা শুনিলে হয় সাধু সঙ্গ প্রভাব জ্ঞান।।*
*🌻মন! (সৎ সঙ্গে স্বর্গবাস।অসৎ সঙ্গে নরকবাস।।)এই উপাখ‍্যানে সাধুসঙ্গ প্রসঙ্গে তোমার বিশ্বাস সুদৃঢ় হবে। পুরাণে আরো উল্লেখ আছে দৈত‍্য পুত্র প্রহ্লাদ মাতৃগর্ভে অবস্থান কালেই দেবর্ষি নারদের সঙ্গ প্রভাবে ভক্তিতত্ত্ব জ্ঞান লাভ করেছিল।পাঁচ বৎসরের ধ্রুব সেও নারদের সঙ্গ গুণে শ্রীনারায়ণের দর্শন পেয়েছিলেন।ঐশ্বর্য‍্য অভিমানী রাজা রহূগণ পরতত্ত্ব জ্ঞানী জড়ভরতের সঙ্গ লাভে ঐশ্বর্য‍্য অভিমান ত‍্যাগ করে মহাভক্ত হয়েছিলেন।*
*🌺মন! তুমি হয়ত বলবে পুরাণে বর্ণিত এ সব ঘটনা নিজের চোখে দেখনি তা বিশ্বাস করব কি করে। তোমার এই কথার উত্তরে বলি এই তো কয়দিন আগেকার ঘটনা নামাচার্য‍্য হরিদাস ঠাকুরের সঙ্গ প্রভাবে রামচন্দ্র খাঁ প্ররিতা দেহ পসারিনী বারবনিতা লক্ষহীরা ব‍্যভিচারের পথ থেকে নিবৃত্তা হয়ে নিত‍্য তিনলক্ষ হরিনাম পরায়ণা পরম বৈষ্ণবী হয়েছিলেন।একথা আজও সকলের মুখে মুখে আছে।চিত্ত শোধনকারী এমন সাধুসঙ্গের মহিমার তত্ত্ব জেনেও সাধুসঙ্গের প্রতি তোমার শ্রদ্ধা জাগল না।জানি না মন!তোমার গতি কি হবে?*
*🙌জয় জয় নিতাই গৌর সীতানাথ প্রেমানন্দে হরিবোল🙌*
*(৮৮)💐💐মনো শিক্ষা 💐💐*
    *ঘুমন্ত মনকে জাগিয়ে তোলা*
    ****************************
  *ওরে মন!সাধু-সঙ্গে করহ বসতি*
*যদি কর্মপাশ-বন্ধে,মগন করয়ে অন্ধে,*
       *যদি কুল-বিহীন উৎপতি।।*
*যদি পশু পক্ষী কৃমি,জন্মিয়া জন্মিয়া ভ্রমি,*
      *সতত করায় গতাগতি।*
*যেমন তেমন স্থানে,গৃহে বা পর্বতে বনে,*
     *কাঁহা কেনে না হয় বসতি।।*
*থাকে যেন এই সূত্র,দৃঢ়-চিত এই মাত্র,*
       *শ্রীহরি-চরণে রতি-মতি।*
*ঘুচিবে সকল দুখ,পাইবে অশেষ সুখ,*
      *বুঝি কর শ্রীহরি-ভকতি।।*
*ধর্ম কর্ম জ্ঞান যোগ,স্বর্গ মোক্ষ ভুক্তি ভোগ,*
      *'কৃষ্ণ-সেবানন্দ'---ইহা বিনে।*
*যদি ইথে কোন ক্ষণ, বান্ধ তায় আমার মন,*
      *তবে যেন হয় তো মরণে।।*
*'রাধা' 'কৃষ্ণ' দুটি নাম,জিহ্বা যেন অবিরাম,*
     *দুহুঁ-গুণ লীলাতে শ্রবণ।*
*কহে প্রেমানন্দ দীনে,দুহুঁ-চিন্তা অনুক্ষণে,*
      *রূপে যেন থাকয়ে নয়ন।।*
*🌻পদকবি প্রেমানন্দ দাস পূর্বপদে উদাহরণ সহ সাধুসঙ্গ মহিমার প্রসঙ্গ বলে বর্তমান পদে তার চঞ্চল অস্থির মনকে পুনরায় বললেন---,মন! আর কিছু পারো আর না পারো অসাধু হলেও সাধুগণের সঙ্গে নিত‍্য বা রোজ বসবাস করো।তাহলে সাধুগণের সংস্পর্শ গুণে ভগবানের চরণে অচলা প্রেমভক্তি লাভ করবে।*
*🌹কোন কৃষক তার জমিতে ধান চাষ করবে বলে জমির চারিদিকের আল ভালো করে বেঁধে তাতে জল দিয়েছে, এতে দেখা গেল ঐ জমির লাগালাগি পার্শ্ববর্তী জমির মালিক ধান চাষ করবে না বলে সে জল দেয় নি।তা না দিলেও একই আলের এপার ওপার হবার জন্য পার্শ্ববর্তী শুকনো জমির অনেকটা জায়গা রসে গিয়েছে। এতে সে আশ্চর্য‍্যান্বিত হয়ে জলপূর্ণ জমির মালিককে বললে--, দাদা!আমি আমার জমিতে তো একবিন্দু জল দিই নি।অথচ আমার জমি এমন জলসিক্ত হল কি করে?অপর মালিক মৃদু হেসে বলল--, দেখুন, আপনার জমি আমার জমির লাগালাগি তাই তাতে জল না দিলেও আমার জমিতে জল দবার জন্য আপনার জমিও রসে গেছে।এই দৃষ্টান্তের মধ্যে সাধুসঙ্গের সর্বাতিশায়ী বৈশিষ্ট্য প্রকাশ পেয়েছে।জল পূর্ণ ভূমি হল সাধুগণ। তাঁদের হৃদয়-চিত্ত ও মন শুদ্ধ সাত্ত্বিক শ্রীকৃষ্ণ প্রেমভক্তি সলিলে বা জলে সর্বদায় পরিপূর্ণ।আর জল বিহীন শুকনো ভূমিই হল ত্রিতাপের তাপে সবসময় প্রচণ্ড গরম বিষয়ী জীবের শুকনো হৃদয়।এই শুকনো হৃদয় নিয়ে বিষয়ী জীব যদি ভক্তিরসে পরিপূর্ণ সাধুগণের সঙ্গী হয়ে থাকতে পারে, তাহলে নিজের অজ্ঞাতসারে বিনা সাধন প্রচেষ্টায় মহৎ কৃপায় সেই শুকনোমন ভূমি শ্রীকৃষ্ণ চিন্ময় রসে পরিপূর্ণ হয়ে যাবে।*
*🌺এই ভক্তি সাধকের আত্মরক্ষার বলিষ্ঠ উপায় হল স্বজ্জনগণের কাছে একনিষ্ঠ হয়ে বসা।মন!তুমি এই আদর্শে বিশেষভাবে অনুপ্রাণিত হও। সাধুসঙ্গের মত আত্ম উদ্ধারকারী আরো একটি সম্পদ হল শ্রীকৃষ্ণ নিষ্ঠা।এই নিষ্ঠা বা মতি যদি থাকে যে কোন যোনিতে, যে কোন জায়গায়,যে কোন কুলে জন্ম হোক না কেন সে অবশ্যই শ্রীকৃষ্ণচরণ পাবেই।মন!তুমি সেই ভক্তিধনকেই সর্বদা আকাঙ্ক্ষা করো।পূর্ব মহাজন শ্রীরাধামাধবের শ্রীচরণে এই বস্তু পাওয়ার প্রার্থনা জানিয়েছেন।*
*মানুষ পশু কিয়ে,পাখী কিয়ে জনমিয়ে,*
          *অথবা কীট ও পতঙ্গে।*
*করম বিপাকে, গতাগতি পুনঃ পুনঃ,*
         *মতি রয়ে তুয়া পরসঙ্গে।।*
*☘হে করুণাময় মাধব!আমি তো বহু বহু দোষের দোষী।তোমার চরণ প্রান্তে দাঁড়াবার যোগ‍্যতাও আমার নেই। কিন্তু তুমি ছাড়া তো আমার আর কেউ নেই। তোমার শ্রীচরণে আমার এই মাত্র নিবেদন আমার নিজকৃত দুষ্কর্মের জন্য স্থাবর-জঙ্গম, পশু-পক্ষী,কীট-পতঙ্গাদি যে কুলেই জন্ম দাও না কেন তাতে দুঃখ নেই, তোমার অভয় পদে যেন মতি থাকে।*
*🌷জগতে ধর্ম কর্ম জ্ঞান যোগাদি বহু রকম সাধন পথ আছে।ঐ পথে সাধন ভজন করলে স্বর্গ,মোক্ষ, ভুক্তি, ভোগ আদি পাওয়া যায়, শ্রীকৃষ্ণ সেবানন্দ পাওয়া যায় না।একমাত্র ভক্তির পথ ধরে অগ্রসর হতে পারলে শ্রীকৃষ্ণ সেবা অধিকার পাওয়া যায়। মন!তুমি ঐ ভক্তির পথ ত‍্যাগ করে অন‍্য কোন পথ অবলম্বন করিও না।তাহলে নিশ্চিতরূপে আমার আত্মিক মৃত‍্যু হবে।মন!রাধাকৃষ্ণ দুটি নামে জিহ্বাকে অবিরাম ব‍্যস্ত রাখো। শ্রীশ্রীরাধাকৃষ্ণের সর্ব অদ্ভুত লীলা শুনে দুই কানকে নিযুক্ত করো। শ্রীশ্রীযুগল কিশোরের লীলা চিন্তায় অন্তঃকরণকে নিবিষ্ট রাখো।শ্রীশ্রীরাধাগোপীনাথের নয়নানন্দ বর্ধক মোহনীয় রূপমাধুর্য‍্যে তোমার দুই নয়নকে ডুবিয়ে রাখো।*
*🍁কুল-বিহীন উৎপতি=নীচ কুলে জন্ম। গতাগতি=সংসারে যাতায়াত। ইথে=ধর্ম-কর্মাদিতে।*
*🙏জয় জয় শ্রীশ্রীরাধাগোবিন্দের জয়🙏*
*(৮৯)❄❄মনো শিক্ষা ❄❄*
  *আন কথা ছেড়ে ভক্তিপথে চলো*
^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^
    *এ মন! ভাবিয়া দেখ না ভাই।*
*যে তোর জীবন,  জীইছ যাহাতে,*
         *চিনিতে নারিলি তাই।।*
*লোচন  বচন,        শ্রবণ শকতি,*
         *এ সব যাঁহার সাথে।*
*মায়ায়  ভুলিয়া,    আমায় বলিয়া,*
         *মজিলি অসৎ পথে।।*
*সে যবে নড়িবে,   এ দেহ পড়িবে,*
         *তা বিনু তিলেক মিছা।*
*সৃজন  পালন,       প্রলয় সকলি,*
         *কেবল তাঁহার ইচ্ছা।।*
*মায়া না সৃজিয়া, দয়া না করিছে,*
        *যাহাতে সংসার তরে।*
*এ বেদ পুরাণ,       কত   উপদেশ,*
        *তবু সে বুঝিতে নারে।।*
*অন্তর  থাকিয়া,     যতেক  মমতা,*
        *বাইরে ব‍্যাপিয়া তত।*
*অন্তরে   থাকিত,চিনিতে নারিলি,*
       *বাইরে চিনিবি কত।।*
*এক যে চিনিলি, অনেক জানিলি,*
          *একই অনেক তার।*
*কহে  প্রেমানন্দ,    বিনা পরিচয়ে,*
           *তা-সনে সম্বন্ধ কার।।*
*🌻জীইছ যাহাতে=যাঁর কৃপায় বেঁচে আছ। লোচন=চক্ষু। প্রলয়=ধ্বংস। শকতি=শক্তি।শ্রবণ=কর্ণ বা কান।*
*🌹যাঁর অস্তিত্বের উপরে দেহের অস্তিত্ব ও কর্মশক্তি নির্ভর করে এবং যাঁর অস্তিত্ব তিরোহিত বা জনমের মত  অন্তর্ধান হলে বলিষ্ঠ দেহ অক্ষত থাকলেও দেহের অস্তিত্বের কোন মূল‍্য থাকে না,ইন্দ্রিয়ের কর্ম ক্ষমতাও থাকে না, মন!তুমি সেই কৃষ্ণশক্তিকে চিনতে পারলে না! তোমার দেহ ইন্দ্রিয়ের কর্ম ক্ষমতা তো তাঁরই দেওয়া।তিনি সে শক্তি কেড়ে নিলে সবকিছুই মিথ‍্যা হয়ে যাবে। সৃষ্টি-স্থিতি-প্রলয় তাঁর ইচ্ছাক্রমে সংঘটিত হয়ে চলেছে। মায়াদেবী তাঁর মায়াজাল বিস্তার করে বহির্মুখ জীবকে উদ্ধারের জন্য দয়া না দেখিয়ে ভব বন্ধনে আরো আবদ্ধ করছে।ভবজীবের এই দুর্দশা দেখে অন্তরচারী অধ‍্যক্ষ আত্মপুরুষ সাধু, শ্রীগুরুদেব,বৈষ্ণব এবং শাস্ত্ররূপে আত্ম প্রকাশ করে মায়াবদ্ধ জীবকে মুক্তির উপদেশ প্রদান করছেন।জীবের অন্তরে অবস্থান করে জীবের প্রতি তাঁর যতখানি মমত্ববোধ সাধু-শাস্ত্র-শ্রীগুরুরূপে বাইরে প্রকাশিত হয়েও ততখানি মমত্ববোধ।মন!তুমি সেই আত্মপুরুষকে চিনতে পারলে না।তুমি যদি সেই একজনকে যথার্থরূপে চিনতে পারতে তাহলে তাঁর সঙ্গে তোমার ভালবাসামাখা সম্বন্ধ গড়ে উঠত।তুমিও ধন‍্য হতে।*
🙏🙏🙏🙏🙏🙏🌻🙏🙏🙏🙏🙏🙏
   ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
*(৯০)💐💐মনো শিক্ষা💐💐*
°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°
*এ মন!   কি করে বরণ কুল।*
*যেই কুলে কেন,     জনম না হয়,*
         *কেবল ভকতি মূল।।*
*কপি-কুলে ধন‍্য,    বীর হনুমান,*
         *শ্রীরাম ভক্তরাজ।*
*রাক্ষস হইয়া,        বিভীষণ বৈসে,*
        *ঈশ্বর-সভার মাঝ।।*
*দৈত‍্যের ঔরসে,     প্রহ্লাদ জনমি,*
        *ভুবনে রাখিল যশ।*
*স্ফটিক স্তম্ভেতে,   প্রকট নৃহরি,*
       *হইয়া যাঁহার বশ।।*
*চন্ডাল  হইয়া,     মিতালি করিলা,*
       *গুহক চন্ডালবর।*
*বল না কি কুল,    বিদুরের ছিল,*
       *খাইল তাহার ঘর।।*
*দেখ না কেমনে,  সাধনা করিল,*
      *গোকুলে গোপের নারী।*
*জাতি  কুলাচারে, তবে কি করিল,*
     *সে হরি যে ভজে তারি।।*
*শ্রীকৃষ্ণ-ভজনে,  সবে অধিকারী,*
         *কুলের গরব নাই।*
*কহে প্রেমানন্দ ,যে করে গরব,*
         *নিতান্ত মূরখ ভাই।।*
*🌻উচ্চ বর্ণে (জাতিতে) অথবা কোন বিখ‍্যাত বংশে জন্মগ্রহণ করলে শ্রীকৃষ্ণভক্তি সাধনার যোগ‍্যতা লাভ হবে না। শ্রীচৈতন‍্যচরিতামৃতে শ্রীপাদ কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী কলম দিয়াছেন=*
*🍀যেই ভজে সেই বড় অভক্ত হীন ছার।*
*🍀কৃষ্ণ ভজনে নাহি জাতি কুলাদি বিচার।।*
*🌻যত নিঃকৃষ্ট (জঘন‍্য বা নীচ)জায়গায়,নিঃকৃষ্ট পরিবেশে,নিঃকৃষ্ট বর্ণে,নিঃকৃষ্ট বংশে জন্ম হোক না কেন জন্মসূত্রে প্রাপ্ত শ্রীকৃষ্ণ ভক্তি চেতনাই একমাত্র ভক্তি সাধনার মুখ‍্য যোগ‍্যতা। মন! তাই উচ্চকুলে জন্মগ্রহণ করতে পারোনি বলে আক্ষেপ করিও না।ইতিহাসের দিকে তাকিয়ে দেখ বানর,হনুমান,জাম্ববান প্রভৃতি বন‍্য পশুর আকৃতি হলেও অন্তরে ভক্তি ছিল বলে ভগবান শ্রীরামচন্দ্রের প্রিয় ভক্তরূপে জগতে চির পূজিত।রাক্ষস রাজা রাবণের ভাই বিভীষণ রাক্ষস হয়েও ভগবদ্ ভক্তের মর্য‍্যাদা পেয়েছেন। দৈত‍্যরাজ হিরণ‍্যকশিপুর ঔরসে কয়াধূর গর্ভে দৈত‍্যকুলে জন্মগ্রহণ করে ভগবদ্ ভক্তির মহিমায় ভক্ত প্রহ্লাদ সমস্ত ভক্তগণের শিরোমণিরূপে সম্মানিত।তাঁর ভক্তির আকর্ষণে স্ফটিকের স্তম্ভ হতে ভগবান নৃসিংহ দেবরূপে আত্ম প্রকাশ করেছিলেন।ত্রেতাযুগে ভগবান শ্রীরামচন্দ্রের অবতারকালে দেখা যায় চন্ডাল বংশে জন্ম নিয়েও ভক্তপ্রবর গুহক শ্রীভগবানের পরম মিত্র বা বন্ধু রূপে পরিগণিত হয়েছিলেন।দাসীপুত্র হয়েও বিদুর এবং তাঁর পত্নী অটুট ভগবদ্ ভক্তির মহিমায় যোগীগণেরও সাধন দুর্লভ ভগবান শ্রীকৃষ্ণকে ভোজন করানোর সুকৃতি লাভ করেছিলেন।শুধু তাই নয়, মন! আরও দেখ শিক্ষা দীক্ষা বিহীনা শ্রীধাম বৃন্দাবনের গ্রাম‍্য-গোপ-কুল-রমণীগণ সর্বারাধ‍্য শ্রীগোবিন্দকে প্রাণঢালা প্রেমভক্তির প্রবল আকর্ষণে চির জনমের মত বশীভূত করেছিলেন। সুতরাং শ্রীকৃষ্ণের সুখের জন্য নিজের সমস্ত সুখ-স্বাচ্ছন্দ‍্য,ইহকাল-পরকাল সব কিছু বিসর্জন দিয়ে যাঁরা শ্রীকৃষ্ণের ভজনা করে তাঁরা যতই নিঃকৃষ্ট বা ঘৃণ‍্য কুলে জন্ম গ্রহণ করুক না কেন শ্রীভগবান তাঁদের কাছে চিরকালের মত বিক্রিত হয়ে যান।শ্রীকৃষ্ণ ভজনে কুলের গৌরব বংশের আভিজাত‍্যের কোন দাম নাই।ভগবদ্ ভজন না করে যারা বংশ মর্য‍্যাদার গর্ব করে বেড়ায় জগতে তাদের মত মহামুখ‍্য আর নাই।*
*🙏জয় শ্রীরাধা-গোবিন্দের জয়🙏*
   ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
*(৯১)💐💐মনো শিক্ষা 💐💐*
        *মনকে সদোপদেশ দান*
        ^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^
   *এ মন!মরণে কি কর ডর।*
*সংসারে  জনমি, কে আছে অমর,*
          *মরণ কাহার পর।।*
*শরীর  ছাড়িলে,    মরণ কহিয়ে,*
        *বল সে কাহার নাই।*
*মানুষ  মরিয়া, কু-যোনি যায়ে তো,*
      *মরণ গণিয়ে তাই।।*
*মানুষে  আসিয়া,  আপনা সারিয়া,*
     *মরিয়া মানুষ হয়।*
*পুরাণ ঘুচিয়া,      নবীন হয় সে,*
        *কে তারে মরণ কয়।।*
*মুনি সব আগে,    গো বধ করিত,*
       *গোমেধ-যজ্ঞের লাগি।*
*যে মরে সে হয়,      কিবা অপচয়,*
       *তেঁই না বধের ভাগী।।*
*জরাত্ব   যাইয়া,    যুবত্ব  মিলয়ে,*
       *মরণে হইল লাভ।*
*তবে সে মরণ,     না করি গণন,*
      *বেদের এই সে ভাব।।*
*যমকে বাঁচাইয়া,  মানুষ মারিয়া,*
        *মানুষ হও তো ভাই।*
*কহে প্রেমানন্দ,    "হরি হরি" বল,*
       *তে তোর মরণ নাই।।*
*🌻অপচয়=ক্ষতি। জরাত্ব=বার্ধক‍্য। মানুষ হও=ভক্ত মানুষ হও। তে=তবে।*
*🌹মন! এই মর্ত‍্যলোকে এসে মরণশীল মানবদেহ পেয়ে মৃত‍্যুকে এত ভয় করছো কেন?জন্ম-মৃত‍্যু দেহের প্রাকৃতিক ধর্ম। ভগবান শ্রীকৃষ্ণ  সখা অর্জুনকে উপলক্ষ্য করে বললেন=*
*"জাতস‍্য হি ধ্রুব্রো মৃত‍্যুধ্রুব্রং জন্ম মৃতস‍্য চ"।*
*🌳অর্থ‍্যাৎ=জাত ব‍্যক্তির মৃত‍্যু নিশ্চিত এবং নিজ কর্ম অনুসারে মৃত ব‍্যক্তির পুনর্জন্ম অবশ‍্যভাবী। সুতরাং এর জন্য ভীত হবার কোন কারণ নাই। দেহ ছেড়ে আত্মা চলে গেলে প্রকৃতপক্ষে তাকে মৃত‍্যু বলে না। এ অবস্থাকে দেহান্তর প্রাপ্তি বলা হয়। শ্রীমদ্ভাগবতগীতার ভাষায়=*
*"বাসাংসি জীর্ণানি যথা বিহায় নবানি গৃহ্নাতি নরোহপরানি।*
*তথা শরীরাণি বিহার জীর্ণান‍্যন‍্যানি সংযাতি নবানি দেহী।।"*
*🌺অর্থ‍্যাৎ=মানুষ যেমন জীর্ণবস্ত্র পরিত‍্যাগ করে অন‍্য নতুন বস্ত্র গ্রহণ করে,আত্মা সেইরকম জীর্ণ শরীর ত‍্যাগ করে অন‍্য নতুন শরীর গ্রহণ করে। সাধারণতঃ এইরকম দেহান্তরকে মৃত‍্যু বলে অভিহিত করলেও মৃত‍্যুর আরো একটি তাৎপর্য‍্যপূর্ণ পরিচয় আছে। তা হল-- দুর্লভ মানব দেহ লাভ করে মানব জীবনের মুখ‍্য উদ্দেশ্য শ্রীকৃষ্ণ ভজন, তা যদি না করা হয় আহার-নিদ্রা-ভয় -মৈথুন এই পাশবিক প্রবৃত্তিতে লিপ্ত থাকা হয়,তাহলে মানব আত্মা দেহান্তরে পশু যোনি অথবা আরো কোন নিঃকৃষ্ট যোনিতে জন্ম হয়। মানবদেহ হতে নিঃকৃষ্ট যোনিতে আত্মার অধোগতিকেই প্রকৃত পক্ষে মৃত্যু বা মরণ বলে। মন! তুমি এবংবিধ (এইরকম) মৃত‍্যুর প্রতি ভীত সন্ত্রস্ত থাকো।প্রাচীন কালে মুনিগণ গোমেধ যজ্ঞ করতেন। সেই যজ্ঞে গো হত‍্যা করা হত।এতে গো-গণের মৃত‍্যু হলেও তাদের পরম লাভ হত।কারণ মুনিগণ বৃদ্ধ ধেনুকে হত‍্যা করে মন্ত্র প্রভাবে যুবক শরীর দান করতেন। ধেনুর ক্ষেত্রে এই মৃত‍্যু ভয়ের না হয়ে পরম আনন্দের কারণ হত। মন!তুমি হরিনাম সাধন পরায়ণ হও। তাহলে শ্রীনামের গুণে মৃত‍্যুর পরে উন্নত ভক্তি সাধনার সম্ভাবনাপূর্ণ উৎকর্ষময় মানব দেহ প্রাপ্ত হবে।*
     *জয় নিতাই হরিবোল🙌*
*(৯২)💐💐মনো শিক্ষা 💐💐* *মনকে সুপথে চালিত করবার জন্য*
▪▪▪▪▪▪▪▪▪▪▪▪
   *এ মন!বিচারি কেন না চাও।*
*দেখ ভবরোগ,  তে কেনে ঘুচে না,*
          *কত না ঔষধ খাও।।*
*কত না করিছ,       প্রসাদ ভক্ষণ,*
              *চরণ-ধৌত জল।*
*এ সব ঔষধি,      পান করো তবু,*
           *শরীরে নাহি বল।।*
*জিহ্বার পরশে,  যে হরিনামেতে,*
         *প্রেমেতে ভাসায় তনু।*
*সে নাম লইয়ে,     আর্দ্র না হইলি,*
         *লোহার পিন্ড সে জনু।।*
*ভাবিয়া দেখ না,ঔষধে কি করে,*
       *কুপথ‍্য ছাড়তে নারো।*
*কুপথ‍্য থাকলে, রোগ না ছাড়বে,*
       *অরুচি বাড়বে আরো।।*
*অনুপান জানি, ঔষুধি খাও তো,*
       *রোগের দমন হবে।*
*এখনো তা যদি,বুঝতে না পারো,*
       *তবে সে বুঝবে কবে।।*
*ক্ষুধাটি বাড়য়ে,     রুচিটি জনমে,*
          *খাইতে আনন্দ-জল।*
*কহে প্রেমানন্দ,তবে সে জানিহ,*
         *ঔষধি-ধারণ-ফল।।*
*🌺দেহে ব‍্যাধি হলে ঔষধ ব‍্যবহার করতে হয় একথা সত‍্য,তবে শুধু শুধু ঔষধ ব‍্যবহারে ব‍্যাধি সারে না।অভিজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ মত চলাফেরা,পথ‍্য গ্রহণ ও অনুপান (ঔষধের সঙ্গে সেবনীয় রসাদি দ্রব‍্য)সহ ঔষধ সেবন করতে হয়।বিধি নিষেধ মানতে হয়,তবেই ব‍্যাধি সারে।মন!তুমি এ বিষয়টি কেন বিচার কর না।কত প্রসাদ ভক্ষণ,চরণামৃত পান, গঙ্গা-যমুনা রাধা-শ‍্যাম কুন্ডাদিতে স্নান, কত হরিকথা শ্রবণ, কত নাম সংকীর্তন করছো কিন্তু তোমার ভক্তি সাধনার ক্রমোন্নতি ঘটছে কই?এর মূল কারণ তুমি মোটেও খোঁজ করে দেখছো না। ভবরোগের চিকিৎসক শ্রীগুরুদেবের উপদেশ যন্ত্রের মত প্রতিপালন করে চলেছ।ভবব‍্যাধি নিরাময় হচ্ছে কি না তা মোটেও লক্ষ্য করছো না।শক্তিশালী ঔষধে ব‍্যাধি যদি না সারে তাহলে বুঝতে হবে পথ‍্যে এবং অনুপানে নিশ্চয় কোন ক্রটি আছে।শাস্ত্রবাণীতে আমরা তা জানতে পারি=*
*🪷এক কৃষ্ণ নামে হয় সর্ব পাপ নাশ।*
*🪷প্রেমের কারণ ভক্তি করয়ে উদয়।।*
*🪷প্রেমের উদয়ে হয় প্রেমের বিকার।*
*🪷স্বেদ,কম্প পুলক বহে অশ্রুধার।।*
*🍀হরিনাম সাধনার এই হল মুখ‍্য ফল।লক্ষ লক্ষ হরিনাম করার পরও নামকারীর দেহে যদি উল্লিখিত প্রেম বিকার (স্বেদ,কম্প,পুলকাদি)সমূহ প্রকাশ না হয়,তাহলে সেই দেহ লৌহ পাথর খন্ডের মত।নাম ঔষধি পান হচ্ছে বটে, কিন্তু তার সঙ্গে সঙ্গে যথোচিত অনুপান এবং সুপথ‍্য গ্রহণ হচ্ছে না।নাম আস্বাদনে রুচিও বাড়ছে না। এবার জানতে হবে অনুপান বলতে ও সুপথ‍্য বলতে কি বুঝায়? সাধারণ দৃষ্টান্তে আমরা বলতে পারি কোন চিকিৎসক রোগীর রোগ নির্ণয় করে ঔষধ দিলেন এবং তার ব‍্যবহারের ব‍্যবস্থা পত্র জানিয়ে দিলেন।দিনে তিনবার ঔষধ খেতে হবে ঠাণ্ডা জল দিয়ে অথবা গরম জল দিয়ে অথবা গরম দুধ বা মিশ্রীরসরবৎ বা রোগ অনুসারে যে কোন একটি বস্তু দিয়ে ঔষধ খেতে হবে।এখানে ঠাণ্ডা,গরমজল ইত‍্যাদিকে অনুপান বলা হয়।এই অনুপানের সঙ্গে ঔষধের নিবিড় (ঘনিষ্ঠ) সম্বন্ধ আছে। কোন ঔষধে কি অনুপান দিতে হবে তা অভিজ্ঞ চিকিৎসক ভাল ভাবেই জানেন।রোগ অনুসারে রোগীকে তাই নির্দেশ করে থাকেন বা দিয়ে থাকেন।রোগীরও প্রধান কর্তব‍্য এই নির্দেশ মেনে চলা তাইনা? এবার পথ‍্যের কথা বলি। চিকিৎসক রোগীকে ঔষধ ব‍্যবহারের নির্দেশ দেবার পর রোগীর একটা নির্দিষ্ট খাদ‍্য তালিকা দিয়ে দেন। যেমন=সকালে ফল খেতে হবে,দুপুরে সাবু,বার্লি ইত‍্যাদি পেতে হবে, রাতে দুধ, রুটি পেতে হবে। এই খাদ‍্য তালিকাই হল পথ‍্য। জিহ্বার লালসায় অথবা পরের প্রলোভনে পড়ে এই পথ‍্য তালিকার ব‍্যতিক্রম ঘটালে যত শক্তিশালী ঔষধ হোক ব‍্যাধি তো সারবে না বরং আরো ভয়ংকর রূপ ধারণ করবে। সুতরাং রোগীকে অনুপান ও পথ‍্য সম্বন্ধে বিশেষ সতর্ক থাকতে হবে। তারকব্রহ্ম হরিনাম ভবব‍্যাধি নিরাময়ের মহাশক্তিশালী ঔষধ।জাগতিক ঔষধ ব‍্যবহারের মত এই ঔষধের ক্ষেত্রেও অনুপান ও পথ‍্যের ব‍্যবস্থা আছে।হরিনাম ঔষধির যথাযথ অনুপান হল তৃণাদপি ভাব অবলম্বন।এই ভাবে প্রতিষ্ঠিত হয়ে হরিনাম করলে নামের মুখ‍্যফল শ্রীকৃষ্ণপ্রেম নিশ্চিত রূপে লাভ হবে।সংকীর্তন জনক শ্রীকৃষ্ণচৈতন‍্য মহাপ্রভু কৃপা করে জানিয়ে দিয়েছেন =*
*🌹যে রূপে লইলে নাম প্রেম উপজয়।*
*🌹তার লক্ষণ শ্লোক শুন স্বরূপ রামরায়।।*
*🌹তৃণাদপি সুনীচেন তরোরিব সহিষ্ণুনা।*
*🌹অমানিনা মান দেন কীর্তনীয় সদা হরি।।*
*🌻অর্থ‍্যাৎ তৃণ হতেও নীচ হয়ে, বৃক্ষের মত সহিষ্ণু বা ক্ষমাশীল হয়ে, স্বয়ং নিরভিমান হয়ে এবং সর্বজীবের সম্মান দিয়ে সর্বদা হরিনাম কীর্তন করবে।*
*🌷উত্তম হঞা আপনাকে মানে তৃণাধম।*
*🌷দুই প্রকারে সহিষ্ণুতা করে বৃক্ষসম।।*
*🌷বৃক্ষ যেন কাটিলেহ কিছু না বোলয়।*
*🌷শুকাইয়া মৈলে কারে পানী না মাগয়।।*
*🌷যেই যে মাগয়ে তারে দেয় আপন ধন।*
*🌷ঘর্ম বৃষ্টি সহে আনের করয়ে রক্ষণ।।*
*🌷উত্তম হঞা বৈষ্ণব হবে নিরভিমান।*
*🌷জীবে সম্মান দিবে জানি কৃষ্ণ অধিষ্ঠান।।*
*🌷এই মত হঞা যেই কৃষ্ণ নাম লয়।*
*🌷কৃষ্ণের চরণে তাঁর প্রেম উপজয়।।*
*🌻এই তৃণাদপি ভাব রূপ অনুপান সহ হরিনাম অনুশীলন কর্তব‍্য।এ বিষয়ে ভবব‍্যাধির সুচিকিৎসক শ্রীপাদ কবিরাজ কৃষ্ণদাস গোস্বামী বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে সর্ব সমক্ষে ঘোষণা করলেন।*
*🌷ঊর্ধ্ববাহু করি কহি শোন সর্ব লোক।*
*🌷নাম সূত্রে গাঁথি পর কন্ঠে এই শ্লোক।।*
*🌷প্রভুর আজ্ঞায় কর এই শ্লোচ আচরণ।*
*🌷অবশ‍্য পাইবে তবে শ্রীকৃষ্ণ চরণ।।*
*🌻ভক্তির অনুকূল শাস্ত্রবিহিত কর্মই  হল সুপথ‍্য এবং ভক্তির প্রতিকূল শাস্ত্রনিষিদ্ধ কর্মই হল কুপথ‍্য।যত দৃঢ়তার সঙ্গে হরিনাম গ্রহণ হোক না কেন শাস্ত্র নিষিদ্ধ কুকর্মে এবং নাম অপরাধাদিতে যদি প্রবৃত্তি থাকে তাহলে হরিনামের ক্রিয়া হবে না, তৃণাদপি ভাবরূপ অনুপানের ফলও পাওয়া যাবে না। সুতরাং মন! যদি তা বুঝতে পারো তাহলে কুপথ‍্য ত‍্যাগ করে যথাযোগ্য অনুপানের সঙ্গে হরিনাম করতে থাকো।ভগবদ্ মাধুর্য‍্য আস্বাদনের ক্ষুধা বাড়বে, ক্ষুধা বাড়লে ভগবানের নামলীলাতে রুচির উদয় হবে,পরিশেষে হরিনাম ঔষধি গ্রহণ সফল হবে।*
🦚🪷🌷🙏🦚🪷🌷🙏🦚🪷🌷🙏🦚
*(৯৩)🌻🌻মনো শিক্ষা 🌻🌻*
    *মনকে সুপথের শিক্ষা প্রদান*
    <><><><><><><><><><><><
   *এ মন!ভাবিয়া দেখ না ভাই।*
*বলি কি সাধনে,কোথা বা পাইবে,*
        *সিদ্ধের কোন বা ঠাঁই।।*
*নন্দের নন্দন,      ভজন করিতে,*
          *শচীর নন্দন সে।*
*যত গোপীগণ,           মহান্ত হইল,*
         *সেখানে আর বা কে।।*
*ব্রজলীলা-পর,  কোথা এত দিনে,*
         *কেবল প্রকট এথা।*
*বিচার করিয়া,        বুঝিয়া দে না,*
         *এমন আর বা কোথা।।*
*যদি বল পুন,      ব্রজেই চলিলা,*
        *কহ কে দেখয়ে যাই।*
*ব্রহ্মার দিবসে,      তেঁহ একবার,*
        *আর কি এমন পাই।।*
*তবে বল যদি,  নিত‍্যভাবে স্থিতি,*
       *"নিত‍্য" বা বলহ কারে।*
*ব্রজ নবদ্বীপ,          এ দুই বিহার,*
         *কি ভজ ইহার পরে।।*
*নিত‍্য-লীলা যত,   আছয়ে বেকত,*
         *বিচারি কেন না চাও।*
*শ্রীগুরু বৈষ্ণব,      তাহে অনুভব,*
         *সকল কালে যে পাও।।*
*এখানে  সাধন,   সিদ্ধিও এখানে,*
          *ভাবের গোচর সে।*
*এখানে তা যদি,দেখিতে না পাও,*
         *মরিয়া দেখবে কে।।*
*রহিতে জীবন,        এখনি সাধহ,*
       *এ দেহ গেলে কি পারো।*
*কহে প্রেমানন্দ,      মানুষ নহিলে,*
        *এ ভাব বুঝিতে নারো।।*
*🌹মন !তুমি হয়ত ভাবছো কোন সাধনকে অবলম্বন করে কোথায় গিয়ে সিদ্ধদেহে শ্রীশ্রীরাধাকৃষ্ণের সেবা অধিকার লাভ করবে? না, তোমাকে অন‍্য কোথাও যেতে হবে না। উদ্ভট কোন সাধন পথও অবলম্বন করতে হবে না।"বৃন্দাবন রম‍্যস্থল, অভিন্ন ব্রজ মন্ডল", অনুপম এই ব্রজমন্ডলে কলিযুগের যুগ ধর্ম হরিনাম অনুশীলনের মাধ‍্যমে সাধক দেহ ও সিদ্ধদেহে শ্রীশ্রীগৌরগোবিন্দের সেবা সৌভাগ্য লাভ হবে।কারণ ব্রজরাজ নন্দন গোপীজন বল্লভ শ্রীকৃষ্ণ ভক্তভাব অঙ্গীকার করে নিজে ভজন করে জগতের জীবকে ভজন শিক্ষা দিতে শ্রীশচীনন্দন রূপে এই গৌরমন্ডলে অবতীর্ণ হয়েছেন। পূর্বের ব্রজলীলা এক অভিনব মাধুর্য‍্য নিয়ে নবদ্বীপ লীলারূপে আত্মপ্রকাশ করেছেন। মন!তুমি শ্রীগুরুদেবের কৃপায় বিচার করলে তা অনুভব করতে পারবে। পুনঃ যদি বল----*
*🌷ব্রহ্মার একদিনে তেঁহ একবার*।
*🌷অবতীর্ণ হৈয়া করেন প্রকট বিহার।।*
☆          ☆           ☆           ☆          ☆
*🌷যথেচ্ছ বিহরি কৃষ্ণ করে অন্তর্ধান।*
☆          ☆          ☆           ☆          ☆
*🌻লীলাবসানে তিনি অন্তর্ধান করেছেন, কিম্বা লীলা বৃন্দাবন হতে নিত‍্য বৃন্দাবনে প্রত‍্যাগমন করেছেন। সুতরাং তাঁকে কি করে পাওয়া সম্ভব ? মন ! তোমার এ ধারণাও যথার্থ নয়।অচিন্ত‍্য শক্তিসম্পন্ন শ্রীভগবান এবং তাঁর লীলাস্থলী, নিত‍্য গোলোক ধামে ও ভৌম লীলাস্থলে সমহিমায় নিত‍্য প্রকাশমান।ব্রজধাম নিত‍্য ভেদে দুই প্রকার, আবার লীলা বৃন্দাবন প্রকট অপ্রকট ভেদে দুই প্রকার।শ্রীকৃষ্ণ তাঁর লীলা পরিকরগণকে নিয়ে নিত‍্য বৃন্দাবন, প্রকট লীলা বৃন্দাবন ও অপ্রকট লীলা বৃন্দাবনে সর্বদায় বিরাজ করেন।নিত‍্য গোলোক বৃন্দাবনে ও লীলা বৃন্দাবনে শ্রীকৃষ্ণের মাধুর্য‍্যমন্ডিত লীলা ধামবাসীগণের যথাবস্থিত দেহে গোচরীভূত হয়, কিন্তু শ্রীকৃষ্ণ অপ্রকট লীলায় প্রবেশ করলে ধামবাসীগণের যথাবস্থিত দেহে লীলা গোচরীভূত হয় না।শ্রীগুরুদেবের আনুগত‍্যে রাগানুগা ভক্তি সাধন অনুশীলনে প্রাপ্ত প্রেমাঞ্জনলিপ্ত দিব‍্য নয়নে শ্রীশ্রীরাধাগোবিন্দের লীলা দর্শন হয়।এইভাবে ব্রজলীলা ও নবদ্বীপলীলা সর্বকালের নিত‍্য।শ্রীগুরুবৈষ্ণবের কৃপায় তা অনুভব করতে হবে।তাই বলি মন !তুমি নানা জায়গায় গমনাগমন না করে শ্রীগুরুদেবের শ্রীচরণ আশ্রয়ে উৎকণ্ঠার সঙ্গে ভজন সাধন করতে থাকো,তাহলে এখানেই সাধক দেহে নবদ্বীপলীলা ও সিদ্ধদেহে বৃন্দাবনলীলা দর্শন করতে পারবে। যথাবস্থিত দেহের দ্বারা সাধন ভজন করে এখানেই যদি ভগবদ্ মাধুর্য‍্য আস্বাদন করতে না পারো, তাহলে দেহান্তে আর কি দেখবে।তাই বলি মন!*
*🌷যাবৎ আছয়ে প্রাণ দেহে আছে শক্তি।*
*🌷তাবৎ করহ কৃষ্ণ পাদ-পদ্মে ভক্তি।।*
*🙌জয় জয় নিতাই গৌর সীতানাথ প্রেমানন্দে হরিবোল🙌*
*(৯৪)🔥🔥মনো শিক্ষা 🔥🔥*
*চঞ্চল মনের কাছে করজোড়ে অনুরোধ*
🦜🦜🦜🦜🦜🦜🦜🦜🦜🦜🦜🦜
   *ওরে মন!তৃণ-দন্তে করি নিবেদন।*
*পুরুষ প্রকৃতি হৈয়া,গোপীকার ভাব লৈয়া,*
         *সেব' রাধাকৃষ্ণের চরণ।।*
*ব্রজে বৃষভানুপুরে,যাবট ও নন্দীশ্বরে,*
       *শ্রীকুন্ড যমুনা বৃন্দাবন।*
*সখীর পরম প্রেষ্ঠ,আপনার নিজাভীষ্ট,*
      *অনুগত রহ অনুক্ষণ।।*
*পূর্বরাগ আদি ক্রমে,যে রস যে লীলা-স্থানে,*
      *বিপ্রলম্ভ সম্ভোগানুসারে।*
*সুখে সুখী দুখে দুখী,হইবে সময় দেখি,*
      *সেব' সদা চিন্তিয়া অন্তরে।।*
*রসকথা-আলাপনে,তাহাতে পাতিয়া কানে,*
      *বসতি করহ সখীমাঝে।*
*প্রেমানন্দ কহে চিত,আপনাকে সশঙ্কিত,*
      *সতত থাকিবে সেবা-কাজ।।*
*🌻বৃষভানুপুরে=বর্ষাণে। যাবট= যে গ্রামে শ্রীরাধার শ্বশুর বাড়ী। সশঙ্কিত= ভীত।*
*🌹মন!দন্তে তৃণ ধরে তোমার কাছে নিবেদন করছি তুমি শ্রীরাধাকৃষ্ণের শ্রীচরণ সেবা অধিকার পেতে শ্রীকৃষ্ণচৈতন‍্য মহাপ্রভুর যে ভজন আদর্শের নির্দেশ দিয়েছেন,সেই পথে ভজন অনুশীলন করে যুগল সেবাধিকার পাও।শ্রীমন্মহাপ্রভু শ্রীকৃষ্ণ ভজনের আদর্শ সম্বন্ধে জানিয়েছেন=*
*"বাহ‍্য" "অন্তর" ইহার দুই ত সাধন।*
*বাহ‍্য--সাধক দেহে করে শ্রবণ কীর্তন।।*
*মনে-নিজ সিদ্ধদেহ করিয়া ভাবন*।
*রাত্রি দিনে করে ব্রজে শ্রীকৃষ্ণের সেবন।।*
*🌺সিদ্ধদেহ মানে গোপী বা মঞ্জরী দেহ।মানুষের নারী,পুরুষ অভিমানাত্বক যথাবস্থিত দেহের সমস্ত অভিমান ত‍্যাগ করে ব্রজগোপীর অনুগতা গোপীরূপে নিজেকে ভাবতে হবে। এ ভাবনা কিভাবে ভাবতে হবে তা শ্রীগুরুদেব কৃপা করে প্রত‍্যক্ষভাবে শিখিয়ে দিবেন। গ্রন্থাদি দেখে বা পাঠক গায়কগণের শ্রীমুখে শুনে নিজে নিজে অভ‍্যাস করলে হবে না।শ্রীগুরুদেবের আনুগত‍্যে থাকে শ্রবণ কীর্তনাদির মাধ‍্যমে অন্তঃশ্চিন্তিত দেহে শ্রীশ্রীরাধাগোবিন্দের সেবা ভাবনা করতে থাকলে ক্রমে ক্রমে অনর্থ নিবৃত্তি,নিষ্ঠা,রুচি,আসক্তির স্তরে পৌঁছনো যায়।এই স্তরে উন্নতি হলে জড়দেহের প্রতি অনিত‍্যবোধ এবং ভাবযোগ‍্য দেহের প্রতি নিত‍্যবোধ জন্মায়।তখন গোপীদেহের অভিমান প্রাধান‍্য পায়। পরবর্তীতে এই অভিমান পরিপক্ক দশা পেয়ে দেহান্তে যোগমায়া শক্তির প্রত‍্যক্ষভাবে গোপীগর্ভে জন্ম হয় ও প্রত‍্যক্ষভাবে যুগল সেবার সৌভাগ্য লাভ হয়। মন ! তুমি সেই গোপীভাব আশ্রয় করে শ্রীযুগলের সেবা ভাবনা অভ‍্যাস করো।*
*🙏কোন কোন মুখ‍্য জায়গায় শ্রীশ্রীরাধাগোবিন্দের এই লীলা স্মরণ করবে তা জেনে রাখো।ব্রজমন্ডলের মধ্যে বৃষভানুপুরে শ্রীমতী রাধারাণী পিত্রালয়ে অবস্থান করেন এবং যাবট গ্রামে শ্বশুরালয়ে যখন থাকেন তখন দুই জায়গায় লীলা স্মরণ করবে।নন্দীশ্বর বা নন্দগ্রামে নিত‍্য শ্রীমতী রাইধনী শ্রীকৃষ্ণের জন্য রন্ধন করতে আসেন। মন!তুমি তখন শ্রীগুরুমঞ্জরীর আনুগত‍্যে রাধাদাসীরূপে লীলা ভাবনা করবে। শ্রীযমুনা তটে সুবিস্তৃত পুলিনে সর্বলীলা মুকুটমণি শ্রীশ্রীরাধাগোপীনাথের রাসলীলা নিত‍্য অনুষ্ঠিত হয়, এই জায়গায় রাস লীলায় সেবা ভাবনা অভ‍্যাস করবে।বৃন্দাবন নামক জায়গায় রয়েছে গোবিন্দস্থলী,নিধুবন ও সেবাকুঞ্জ। মন!তুমি এইসব জায়গায় নৈশলীলা (রাত্রিকালীন লীলা)স্মরণ করবে। মন! তোমার একান্ত অভিলষিত সখীগণের নিবিড় (ঘনিষ্ঠ) স্নেহধন‍্যা, কৃপাধন‍্যা অতীব প্রিয়া শ্রীরূপ মঞ্জরী আদি ও গুরুমঞ্জরীর অনুগত থেকে লীলাভাবনা সেবাভাবনাদি করবে।আনুগত‍্য বিনা যতই উৎকণ্ঠা নিয়ে স্মরণ মনন করা হোক না কেন কোনদিনই রাধাদাস‍্য তথা শ্রীযুগল কিশোরের সেবা সুকৃতি লাভ করা যাবে না। শ্রীচরিতামৃতের ভাষায় =*
*🌷রাধাকৃষ্ণের লীলা এই অতি গূঢ়তর।*
*🌷দাস‍্য-বাৎসল‍্যাদি ভাবে না হয় গোচর।।*
*🌻শ্রীশ্রীরাধাগোবিন্দের এই লীলা মধুর রসাত্বক হলেও গভীর রহস‍্যময়।দাস‍্য-বাৎসল‍্যাদি ভাবে অর্থ‍্যাৎ দাস‍্য,সখ‍্য,বাৎসল‍্য, মধুর এই চার ভাবের দ্বারা কখনোই জানা যাবে না, বুঝাও যাবে না।মধুর রসের লীলা হলেও এই মধুর রস অনন‍্য সাধারণ।মথুরা এবং দ্বারকাতেও মধুর রস আছে, সেই রসের আনুগত‍্যে ব্রজের মধুর রসের তত্ত্ব জানা যাবে না।আবার ব্রজের মধুর রস যদি স্বকীয়া ভাবাশ্রিত হয়,তাহলেও বোধগম্য হবে না।একমাত্র পরকীয়া ভাববিশিষ্ট রাধাদাস‍্যে এই লীলার অনুভব বা লীলাতে প্রবেশ সম্ভব। তাই বলা হয়েছে =*
*🌷সবে এক সখীগণের ইহাঁ অধিকার।*
*🌷সখী হৈতে হয় এই লীলার বিস্তার।।*
*🌷সখী বিনা এই লীলা পুষ্ট নাহি হয়।*
*🌷সখী লীলা বিস্তারিয়া সখী আস্বাদয়।।*
*🌷সখী বিনা এই লীলায় অন‍্যের নাহি গতি।*
*🌷সখী ভাবে যে তারে করে অনুগতি।।*
*🌷রাধাকৃষ্ণ কুঞ্জ সেবা সাধ‍্য সেই পায়।*
*🌷সেই সাধ‍্য পাইতে আর নাহিক উপায়।।*
*🌻সাধ‍্য বলতে=যে বস্তু পাবার জন্য সাধন ভজন করা হয়, তা হল সাধ‍্যবস্তু। নিভৃত বিলাস কুঞ্জে শ্রীশ্রীরাধামাধবের সেবা অধিকার পাওয়ায় হল কৃষ্ণ ভক্তের সাধ‍্যবস্তু। শ্রীমতীরাধারাণীর নিবিড় স্নেহাসিক্ত দাস‍্যে মঞ্জরী ভাবাবিষ্ট শ্রীগুরুদেবের আনুগত‍্যে এই সেবা-অধিকার পেতে হবে।এখানে সখী শব্দে ললিতা-বিশাখাদি সখীগণ নয়।শ্রীরূপ মঞ্জরী, মঞ্জুলালী,রতি মঞ্জরী আদিকে বুঝতে হবে এবং এঁদের অনুগতা গুরুমঞ্জরী গণকে বুঝতে হবে।ললিতা বিশাখা আদি সখীগণ শ্রীমতীরাধারাণীর মত নিজ দেহ-ইন্দ্রিয়ের দ্বারা শ্রীকৃষ্ণের সন্তোষ বিধান করে থাকেন।অর্থ‍্যাৎ শ্রীকৃষ্ণকে তুষ্ট করে থাকেন।শ্রীরূপাদি মঞ্জরীগণ তথা গুরুমঞ্জরীগণ কিন্তু ললিতাদি সখীগণের মত নয়।এঁদের সেবা আরো উচ্চস্তরের। এ সম্বন্ধে বলা হয়েছে =*
*🌷সখীর স্বভাব এক অকথ‍্য কথন।*
*🌷কৃষ্ণ সহ নিজ লীলায় নাহি সখীর মন।।*
*🌷কৃষ্ণ সহ রাধিকার লীলা যে করায়।*
*🌷নিজ সুখ হইতে তাতে কোটি সুখ পায়।।*
*🌹মঞ্জরীগণ নিজের দেহ-ইন্দ্রিয়ের দ্বারা শুধু কৃষ্ণের সেবা করেন না। মধুর রসের সাধক হলেও তাঁদের মুখ‍্য সেবা হল শ্রীশ্রীরাধা-গোবিন্দের পাদ সম্বাহন,তাম্বুল অর্পণ,চামর ব‍্যজন, দুগ্ধ আবর্তন বা দুধ গরম করে সেই দুধ যুগলের সেবা দেওয়া,অভিসার কালে যুগলসেবার সামগ্রী বহন প্রভৃতি। প্রতিভার কৌশলে (অসাধারণ তীক্ষ্ণ বুদ্ধির কৌশলে) শ্রীশ্রীরাধাগোবিন্দের যুগল সংঘটিত করে উল্লিখিত সেবার সুযোগ সৃষ্টি করায় মঞ্জরী স্বরূপা সখীগণের প্রধান বৈশিষ্ট্য। শ্রীমন্মহাপ্রভু এইরকম গোপীভাব সাধনার আদর্শ আমাদের জন্য প্রচার করেছেন। মন! পুনরায় বলি, গুরুরূপা সখীর শ্রীচরণ প্রান্তে থেকে দিনরাত্রি গোপীভাবে লীলা স্মরণ করো। ব্রজের এই মধুর রসের লীলা পরকীয়া ভাবাশ্রিত, দুটি ধারায় প্রবাহিত।একটি সম্ভোগ ও একটি বিপ্রলম্ভ।*
*🍀সম্ভোগ বিপ্রলম্ভ দ্বিবিধ প্রকার*।
*🍀"সম্ভোগ"--অনন্ত অঙ্গ নাহি অন্ত তার।।*
*🍀বিপ্রলম্ভ চতুর্বিধ-- পূর্বরাগ, মান।*
*🍀প্রবাসাখ‍্য আর প্রেমবৈচিত্ত‍্য আখ‍্যান।।*
*🌹পূর্বরাগ,বিপ্রলম্ভ ভাবের অন্তর্গত হলেও এই পূর্বরাগ দিয়েই মধুর রসের শুভ সূচনা। মন! তুমি পূর্বরাগ হতে ক্রমানুসারে চৌষট্টি রসাত্বক শ্রীশ্রীরাধাগোবিন্দের লীলা স্মরণ ও সেবা ভাবনা করো। ওরে চঞ্চল মন! তুমি সর্বদা মনে রেখো পরম করুণাময়ী শ্রীমতীরাধারাণীর স্নেহের অতি অন্তরঙ্গা কিঙ্করী বা দাসী।তাই লীলাভাবনায় শ্রীমতীরাধাগত প্রাণা হয়ে তাঁর সুখে সুখী, তাঁর দুখে দুখী এইভাবে স্মরণ করবে।নিভৃত(গুপ্ত) বিলাস কুঞ্জে শ্রীশ্রীরাধাগিরিধারীর রস-আলাপন করবে, মন!তুমি গুরুমঞ্জরীগণের মাঝে থেকে প্রাণ শীতল করা বাক‍্যামৃত কর্ণদ্বারে পান করে নিজেকে ধন‍্য করবে।সর্বদা যুগল সেবা করবার জন্য সশঙ্কিত চিত্তে অপেক্ষা করবে। ওরে আমার মন! তোমার কাছে এই আমার বিশেষ নিবেদন।*
*🙏জয় জয় মঞ্জরীগণের জয়🙏*
*(৯৫)🦜🦜মনোশিক্ষা🦜🦜🦜*
  *মনের,নিজের প্রতি চরম খেদ*
   *****************************
   *ওরে মন!হেন দিন হবে কি আমার।*
*সংসারে না করি রতি,গোপীভাবে ব্রজে স্থিতি,*
     *করি সেবা করিব দোঁহার।।*
*শ্রীদেবী ললিতা সখী,মোরে অনাথিনী দেখি,*
     *করি কবে করুণা-ঈক্ষণে।*
*জানিয়া কিঙ্করী তাঁর,চামর-ব‍্যজনে আর,*
     *নিয়োজিবে তাম্বূল-সেবনে।।*
*শ্রীবিশাখা-দেবী মোরে,আজ্ঞা দিবে নেত্রদ্বারে,*
      *দোঁহাকার দুকূল সেবায়।*
*সুচিত্রা কথন ছলে,কৃপা-স্মের দৃগঞ্চলে,*
     *কেশ-বেশ সেবাতে আমায়।।*
*শ্রীচম্পকলতা সখী,কৃপাদৃষ্টে মোরে দেখি,*
     *সমর্পিবে মিষ্টান্ন সেবনে।*
*রঙ্গদেবী সখী হাসি,নিজ-অনুচরী বাসি,*
      *আজ্ঞা দিবে গন্ধানুলেপনে।।*
*সুদেবী করুণা করি,এ দাসীর হাতে ধরি,*
       *দেখাবেন সুতৈল-মর্দ্দনে।*
*তুঙ্গবিদ‍্যা দাসী-জ্ঞানে,সঙ্গীতের রাগ-তানে,*
      *শিখাইবে নৃত্য-কলায়নে।।*
*কবে ইন্দুরেখা সখী,কৃপায় অপাঙ্গে দেখি,*
      *ভান্ডারে করিবে নিয়োজিত।*
*প্রেমানন্দ কহে বিধি,এই করি ভাব-সিদ্ধি,*
      *কবে মোর পূরিবে বাঞ্জিত।।*
*🙏বৈষ্ণব কবি প্রেমানন্দ দাস মনোশিক্ষার বহু বহু পদে নিজের মনকে বিভিন্ন ভাবে শিক্ষা দিলেন।কখনো শাসন করে,কখনো ভয় দেখিয়ে ইত‍্যাদি বহুভাবে মনকে শিক্ষা দিবার কৌশল অবলম্বন করেছেন। কিন্তু বর্তমান মনের অনেক উন্নতি হওয়ায় শিক্ষা দেবার প্রবণতা থেকে অনেকখানি সরে এসেছেন।পূর্ব পদে গোপীভাবে সখী এবং মঞ্জরীগণের আনুগত‍্যে শ্রীশ্রীরাধাগোবিন্দের সেবা ভাবনার আদর্শ মনকে শিক্ষা দিতে গিয়ে পদকবির হৃদয়ে লালসাময় প্রার্থনা জেগে উঠেছে। সাধারণতঃ প্রার্থিত বস্তুর আবেদনকে প্রার্থনা বলে।প্রার্থনা পূরণের ক্ষমতা সর্ববাঞ্জা কল্পতরু শ্রীগোবিন্দ,করুণাময়ী শ্রীমতীরাধারাণী,বৈষ্ণবগণ, সর্বোপরি শ্রীগুরুদেব ছাড়া অন‍্য কারো নেই।তাই সাধারণত ভক্তগণ এঁদের নিকটই প্রার্থনা জানান।পরম পূজ‍্যপাদ শ্রীমৎ প্রেমানন্দ দাসজী কিন্তু মনের কাছে সাভীষ্ট লালসাময় প্রার্থনা জ্ঞাপন করেছেন। বিষয়ী মানুষের মন কৃষ্ণভক্তের প্রার্থনা পূরণ করতে কি সক্ষম হবে?শাস্ত্র বিচারে মনের সে ক্ষমতা একেবারে নেই।তবুও তিনি করেছেন তার অন্তর্নিহিত ভাব হল--, ভক্তের অন্তরে যে পারমার্থিক প্রার্থনা জাগে এবং শ্রীশ্রীগৌরগোবিন্দ ও গুরুবৈষ্ণবের কৃপায় সেই প্রার্থনা পূরণের যে সম্ভাবনা দেখা দেয় তা সফল হওয়া নির্ভর করে মনের সহায়তার উপর মনের সহযোগিতা না পেলে কোন প্রার্থনাই বাস্তবে রূপায়িত হতে পারে না।প্রাথমিকভাবে প্রার্থনার বিষয়বস্তু মনকে অবগত করাতে হবে। এই উদ্দেশ্যে শ্রদ্ধেয় পদকবি তাঁর অন্তরের লালসার কথা মনকে জানিয়ে বললেন,হে মন!দেখতে দেখতে একের পর এক একটি দিন ফুরিয়ে আসছে। কিন্তু সেই মহাশুভ দিন তো আমার কাছে এখনো এলো না।যে শুভদিনে শুভক্ষণে সংসারের সমস্ত আসক্তি পরিত‍্যাগ করে দায়িত্ব কর্তব‍্যের বন্ধন ছিন্ন করে শ্রীগুরুদেব কর্তৃক প্রদত্ত ভাবযোগ‍্য দেহের স্বরূপে  ভাবিত হয়ে শ্রীধাম বৃন্দাবনে বাস করে শ্রীশ্রীরাধাগোপীনাথের সেবা করব।অষ্টসখীগণের অধ‍্যক্ষা ললিতা দেবীর কৃপা দৃষ্টিতে না পড়লে শ্রীমতী রাধারাণীর চরণ সান্নিধ্যে যাওয়া যাবে না।শ্রীগুরুমঞ্জরীর দেওয়া সেবা ললিতাদেবীর করুণা আশীর্বাদে কাজে রূপায়িত হবে।আমি অধীর আগ্রহে লালসাভরা হৃদয়ে সেই সৌভাগ্য পাবার অপেক্ষায় আছি।তিনি আমাকে একনিষ্ঠ রাধাদাসী জেনে রহঃলীলায় পরিশ্রান্ত ঘর্মাক্ত কলেবর বা দেহ শ্রীযুগলকে চামর ব‍্যজনে এবং তাম্বূল অর্পণে স্নেহভরে নিযুক্ত করবেন।শ্রীবিশাখা দেবী কুঞ্জলীলান্তে শ্রীশ্রীরাধাশ‍্যামের অঙ্গে নীল-পীত-রক্ত বর্ণের বস্ত্রাদি পরিধান সেবার জন্য আদেশ করবেন।শ্রীসুচিত্রা সখি মধুর হাসিমাখা কৃপাদৃষ্টি ইঙ্গিতে কেশবিন‍্যাস,বেণী বেঁধে দেওয়া ও কবরী রচনা সেবায় নিযুক্ত করবেন।শ্রীচম্পকলতা সখী আমার প্রতি কৃপা পরবশ হয়ে মিষ্টান্ন সেবন সেবা সমর্পণ করবেন।সখী রঙ্গদেবী আমার আনুগত‍্য দেখে নিজ সহচরী জ্ঞানে শ্রীশ্রীরাধামাধবের অঙ্গে গন্ধ-অনুলেপন সেবা কাজে নিয়োজিত করবেন।শ্রীসুদেবী সখী করুনায় বিগলিত হয়ে আমা হেন কিঙ্করীর হাতে ধরে শ্রীযুগল অঙ্গে কি করে সুগন্ধীতেল মর্দন করতে হয়,তা শিখিয়ে দিয়ে  সেই সেবার দায়িত্ব অর্পণ করবেন।সখী তুঙ্গবিদ‍্যা এই অধমকে সুযোগ‍্য দাসী জেনে সঙ্গীতের নানান রাগ-তান এবং বহু প্রকার কলামুদ্রা সমন্বিত নৃত্য শিখিয়ে দিয়ে সেই সেবায় সৌভাগ্যবতী করবেন।সর্বশেষ ইন্দুরেখা সখী কৃপাদৃষ্টি সঞ্চার করে ভান্ডারে নিযুক্ত করবেন। মন! শ্রীগুরুদেবের কৃপায় নানান সেবার লালসা ও যোগ‍্যতার উদয় হবে এবং সেবা পরায়ণা অষ্টসখীগণ উল্লিখিত সেবা কাজে নিয়োজিত করবেন।আমি সেই দিনের আশায় বসে আছি।*
*🌹কৃপা-স্মের-দৃগঞ্চলে=ঈষৎ হাস‍্যযুক্ত কৃপাদৃষ্টিতে।*
*🙌জয় জয় শ্রীশ্রীরাধাগোবিন্দের জয়🙏*
*(৯৬)💧💧মনো শিক্ষা 💧💧*
*মন,স্থির হয়ে শ্রীকৃষ্ণলীলা অনুভব করছে*
••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••
   *ওরে মন!কি লাগি সন্দেহ কর ভাই।*
*ব্রজভূমি বৃন্দাবন,যমুনা-পুলিন বন,*
       *কৃষ্ণের বিহার এই ঠাঁই।।*
*সাক্ষতে দ্বাদশ বন,আর গিরি গোবর্দ্ধন,*
      *আর স্থান গোকুল যাবট।*
*শ্রীকৃষ্ণ-মানস-নদী,নন্দীশ্বরপুর আদি,*
      *দানঘাটি তরু-বংশীবট।।*
*ইহা দেখি কহ পাছে,আর বৃন্দাবন আছে,*
     *কোথা আছে আর নিরূপিতে।*
*দেখিয়া নহিল দৃঢ়,যে না দেখ তাই বড়,*
     *কিবা ভজ না পারি বুঝিতে।।*
*ভূমি চিন্তামণি যেই,ভাবের গোচর সেই,*
    *কেবা কথি দেখিল সাক্ষাতে।*
*কৃষ্ণের ঐশ্বর্য‍্য কত,কে অন্ত করিবে তত,*
    *বেদ-বিধি না পারে কহিতে।।*
*যদি আর বৃন্দাবন,থাকে থাকুক ওরে মন,*
     *দেখ এই অতি পরিপাটি।*
*কৃষ্ণ গোপ অভিমান,চিন্তামণি যেই স্থান,*
     *কাঁহা তাঁহা কাদা ধূলা মাটি।।*
*গো-দোহন বাল‍্য-খেলা,গোচারণ গোষ্ঠলীলা,*
     *গোপ-গোপী-সঙ্গে যে বিহার।*
*দান নৌকা পুষ্পতোলা,মধুপান পাশা-খেলা,*
  *জল-ক্রীড়া বংশী চৌর্য‍্য আর।।*
*সূর্য‍্য পূজা দোল হোলি,যে করিলা রাস-কেলি,*
       *বন-বিহারাদি এই ধামে।*
*এই ত সাধ‍্য সাধন,ইহাতেই ডুব মন,*
      *একদন্ড না কর বিশ্রামে।।*
*এই নন্দ-সুতে প্রীত,এই ধামে সুনিশ্চিত,*
       *এই বৃষভানুজার পায়।*
*ললিতা-বিশাখা আদি,সখীর অনুগা সাধি,*
     *প্রেমানন্দ আর নাহি চায়।।*
*🌲শ্রীকৃষ্ণ••••নদী=মানসগঙ্গা। নন্দীশ্বরপুর=নন্দীগ্রাম।*
*🌹সাধারণতঃ অনেকেই মনে করে থাকেন ভগবান শ্রীকৃষ্ণ তাঁর লীলা পরিকরগণকে নিয়ে অপ্রকট লীলায় প্রবেশ করলে দৃশ‍্যমান ব্রজমন্ডলে শ্রীগোবিন্দ এবং তাঁর লীলা আর বতর্মান নেই। ওরে মন!তুমি এসব ধারণার বশবর্তী হয়ে সন্দীগ্ধ (সন্দেহের)চিত্ত হইও না। প্রবাদ আছে=*
*🌷অদ‍্যাপিও সেই লীলা করে শ‍্যামরায়।*
*🌷কোন কোন ভাগ‍্যবানে  দেখিবারে পায়।।*
*🌺ব্রজমন্ডলে দ্বাদশ বন,গিরি গোবর্দ্ধন,গোকুল,যাবট,রাধাকুন্ড,মানসগঙ্গা,দানঘাটি,নন্দগ্রাম এবং বংশীবটাদি লীলাস্থলে প্রকটলীলার মতো লীলা অনুষ্ঠিত হয়ে চলেছে।দৃশ‍্যমান বৃন্দাবনে বসে যে ব্রহ্মান্ডে প্রকটলীলা চলছে,সেই ব্রহ্মান্ডের লীলা ভাবতে হবে তা নয়। লীলা অনুভব বা দর্শন নির্ভর করে লীলা প্রকট ও অপ্রকটের উপরে নয়। ভক্তি সাধনার চরম পরিপক্ক দশায় প্রেম জন্মায়,সেই প্রেমের উপরে।এই সাধন দুর্লভ প্রেমাঞ্জনে যথাবস্থিত দেহের দৃগঞ্চল যতক্ষণ সুরঞ্জিত না হবে, ততক্ষণ লীলা মাধুর্য‍্য আস্বাদন হবে না।এর প্রমাণ প্রকট লীলায় পুতনা,অঘাসুর,বকাসুর,তৃণাবর্ত, কালিয়নাগ এমনকি স্বয়ং ব্রহ্মা এবং দেবরাজ ইন্দ্র শ্রীগোবিন্দের মধুময় মঞ্জুলীলা দর্শন করেও লীলার সৌন্দর্য-মাধুর্য‍্য-রস রূপতা অনুভব করতে পারেননি।তার একমাত্র কারণ যে উপাদান থাকলে ভগবানের সর্ব অদ্ভুত মনোহারী লীলারস মাধুর্য‍্য আস্বাদন হয়,সেই উপাদানই হল অকৈতব বা অকপট কৃষ্ণপ্রেম।এই প্রেম তাঁদের নয়নে ও মনে ছিল না বলেই লীলা আস্বাদন হয়নি। মন! তুমি সেই ভাব এবং প্রেম যদি পেতে পারো তাহলে দৃশ‍্যমান ব্রজে লীলা সাক্ষাত অনুভব করতে পারবে।শ্রীচরিতামৃতে পাওয়া যায় =*
*🌷চিন্তামণি ভূমি কল্প বৃক্ষময় বন।*
*🌷চর্ম চক্ষে দেখে তারে প্রপঞ্চের সম।।*
*🌷প্রেম নেত্রে দেখে তাঁর স্বরূপ প্রকাশ।*
*🌷গোপ গোপী সঙ্গে যাঁহা কৃষ্ণের বিলাস।।*
*🌻যথাবস্থিত দৃষ্টি ভঙ্গীতে বতর্মান বৃন্দাবনের "বৃক্ষ-লতা-ভূমি" প্রাকৃত বস্তুর মত মনে হলেও তার আড়ালে চিন্ময় ব্রজ ও লীলা নিত‍্য অবস্থিত। মন! তুমি এই বৃন্দাবনে বসে অন‍্যকোন বৃন্দাবনের কথা ভাবিও না।শ্রীগুরুকৃপায় ভাব-যোগ‍্য দেহের স্বরূপে এই ব্রজমন্ডলের কোন লীলাস্থলীতে বসে ভোর-সকাল-দুপুর বিকেল-সন্ধ‍্যা- রাত্রি সবসময় লীলা স্মরণ করোএক মুহূর্তের জন্য এই স্মরণ-মনন হতে নিজেকে বিচ্ছিন্ন করিও না।ললিতাদি অষ্টসখী পরিবেষ্টিত শ্রীবৃষভানুনন্দিনী, শ্রীনন্দ নন্দনের শ্রীচরণ সেবায় একমাত্র সাধ‍্য-সাধন তথা একান্ত কাম‍্য বস্তু।*
🦚🦚🦚🦚🦚🦚🙏🦚🦚🦚🦚🦚🦚
*(৯৭)🦚🦚মনো শিক্ষা 🦚🦚*
         *************************
*মনকে ব্রজের তত্ত্ব ও রস কথন*
*******************************
 *ওরে মন!কেনে ভুল' সংশয় ভাবিতে।*
*শ্রীনন্দনন্দন হরি,গেলা কি না মধুপুরী,*
      *সন্দেহ নারিছ ঘুচাইতে।।*
*যদি বল নন্দাত্মজ,সে কেন ছাড়িবে ব্রজ,*
    *কখনো না যায় অন‍্য স্থানে।*
*যে হৈতে অক্রূর আইল,কৃষ্ণচন্দ্রে লয়ে গেল,*
     *কে আর রহিল বৃন্দাবনে।।*
*রাধিকার প্রাণনাথ, সর্বদা গোপীর সাথ,*
     *যদি বল বিহরে ব্রজেতে।*
*তবে কেন গোপীগণ,বিরহে বিহ্বল মন,*
       *দূতী পাঠাইল মথুরাতে।।*
*কৃষ্ণ যে উদ্ধব-দ্বারে,প্রবোধিলা গোপীকারে,*
       *মহিষীর কোলে সদা কাঁপে।*
*রাধিকা স্মরণ করি,নেত্র অশ্রুজলে ভরি,*
       *ক্ষণে মূর্চ্ছা বিরহ-সন্তাপে।।*
*কুরুক্ষেত্রে দুইজনে,যাঁর যা আছিল মনে,*
        *সব দুঃখ নিবারণ কৈল।*
*জানিয়া রাধার মর্ম্ম,বুঝাইল নিজ ধর্ম্ম,*
        *কৃষ্ণ-প্রাপ্তি প্রতীত হইল।।*
*কালিন্দী কর্ণিকা শ‍্যাম,অভেদ একই ধাম,*
      *কেনে ইথে ভিন্ন ভেদ কর।*
*যাঁহা কৃষ্ণ তাঁহা ব্রজ,সদা এই ভাবে ভজ,*
      *যদি ভাই মোর বল ধর।।*
*তিন-বাঞ্জা-অভিলাষী,এবে নবদ্বীপে আসি,*
      *রাধা-ভাব-কান্তি অঙ্গী করি।*
*আপনে করি আস্বাদন,শিখাইল ভক্তগণ,*
     *বিস্তার করিল জগ ভরি।।*
*নবদ্বীপ বৃন্দাবনে,এক কহ তবে কেনে,*
        *ছাড়া কিসে মথুরা নগর।*
*প্রেমানন্দ কহে মন,রাধা কৃষ্ণ বৃন্দাবন,*
       *এক ঠাঁই শ্রীগৌরসুন্দর।।*
*🌻অপ্রাকৃত ব্রজলীলার দুইটি দিক হল--,তত্ত্ব এবং  রস।তত্ত্বের ভূমিতে দাঁড়িয়ে লীলাকে বুঝতে গেলে দেখা যাবে সেখানে বিরহ নেই ; অপূর্ণতাও নেই।কাম ক্রোধাদির অভিব‍্যক্তিও নেই।অপরপক্ষে রসের ভূমিতে দাঁড়িয়ে ব্রজলীলায় দৃষ্টি দিলে অনুভব হবে সেখানে সুতীব্র বিরহ যন্ত্রণা,অপূর্ণতার বেদনা,ক্ষুধা পিপাসার দৈহিক ধর্ম এবং কাম ক্রোধাদি সবই রয়েছে।তত্ত্ব বস্তু কেবল অনুভব বেদ‍্য।রস কিন্তু শুধু অনুভব বেদ‍্য (যা জানা আবশ‍্যক)নয়, নব নবায়মান আস্বাদনীয়তার চমৎকারীত্বে সর্বমনোহারী।লীলাতে যে রস আছে,তার সঙ্গে নিবিড়ভাবে বা ঘনিষ্ঠভাবে আরো একটি বস্তু জড়িয়ে রয়েছে তা হল-- তথ‍্য।তত্ত্ব,রস এবং তথ‍্য এই তিনটিকে নিয়ে শ্রীশ্রীরাধাগোবিন্দের পরমাদ্ভুত ভৌম ব্রজলীলা।তত্ত্বের রসময়ত্ব লক্ষ লক্ষ তথ‍্যের পথ ধরে প্রবাহিত।তত্ত্ববাদীদের শ্রীকৃষ্ণ ব্রজ ছেড়ে যাননি।রসবাদীদের শ্রীকৃষ্ণ ল্রীমতী রাধারাণীর হৃদয়ে বিরহের বজ্রাঘাত হেনে ব্রজ ছেড়ে মথুরায় চলে গেছেন।মন! তুমি এই দুই ধরণের স্রোতের মাঝখানে পড়ে সন্দেহের তরঙ্গে হাবুডুবু খাচ্ছো।তত্ত্বের প্রাধান‍্যে তুমি প্রমাণ করতে চাইছো--,নন্দাত্মজ শ্রীকৃষ্ণ ব্রজ ছেড়ে কোথাও যাননি।তাই যদি হবে তাহলে কংস প্রেরিত অক্রূর ব্রজে এসে ব্রজ শূন‍্য করে কাকে নিয়ে গেলেন?কার বিরহে বাড়বানলে দিনরাত্রি দগ্ধ হৃদয়া বিরহিনী শ্রীমতী রাধারাণী দূতী পাঠাইলেন মথুরায়?কার পারাবার শূন‍্য অতলস্পর্শী বিরহ সমুদ্রে নিমজ্জিতা হয়ে শ্রীকৃষ্ণ প্রিয়া বৃষভানু নন্দিনীর দশটি দশার মহাপ্রকাশ ঘটেছে। সেই দশ দশা হল=*
*দশ দশা হয় তাহে চিন্তা জাগরণ।*
*উদ্বেগ তানব মলিনাঙ্গ প্রলাপন।।*
*ব‍্যাধি উন্মাদ হয় মোহ অনুক্ষণ।*
*মৃত‍্যু এই দশ দশা কহে কবিগণ।।*
*🌹আবার ব্রজরাজনন্দন শ্রীকৃষ্ণ ব্রজ ছেড়ে যদি না গেলেন তাহলে গোপীগণকে সান্ত্বনা দেওয়ার জন্য উদ্ধবকে ব্রজে পাঠালেন কেন?দ্বারকা লীলায় সর্বগুণ সম্পন্না সৌন্দর্যের প্রতিমূর্তি অষ্টমহিষীগণের সোহাগমাখা কোলের মধ্যে থেকেও ব্রজের জন্য,শ্রীমতী রাধারাণীর জন্য,শ্রীকৃষ্ণ কেঁদে আকুল হন কেন?রাধা বিরহে কাতর মাধব বিরহ সন্তপ্তা রাধারাণীকে কুরুক্ষেত্রে নিবিড়ভাবে সান্নিধ্যে নিয়ে বিরহ প্রশমন করলেন কেন? মন!এইসব প্রশ্নের উত্তর কেবলমাত্র তত্ত্বের ভূমিতে দাঁড়িয়ে যথাযথ ভাবে দিতে পারবে না।মহাভাববতী শ্রীমতী রাধারাণীর মাথুর বিরহ চির নিত‍্য। প্রেম পুরুষোত্তম ভগবান শ্রীকৃষ্ণচৈতন‍্য মহাপ্রভুর অন্তলীলায় তা বিশেষভাবে ব‍্যক্ত হয়েছে। বিরহে রসের পূর্ণ আস্বাদন লালসায় এবং শ্রীমতী রাধারাণীর বিরহ রস সমুদ্রে বিশ্বমানবের চিত্তকে নিমজ্জিত করে শুচি-শুভ্র-মহাপবিত্র করবার লালসায় অদ্বয় জ্ঞান তত্ত্ব ব্রজরাজ নন্দনের ব্রজভূমি পরিত‍্যাগলীলা চির নিত‍্য-চির শাশ্বত। মন! তুমি সহজে অনুভব করতে সক্ষম হবে।*
*🌳সেই ব্রজবিলাসী শ্রীকৃষ্ণ রাধাভাব কান্তি ধরে অভিন্ন ব্রজভূমি শ্রীধাম নবদ্বীপে প্রেমময়ী শ্রীরাধিকার প্রেম, সেই প্রেমের মাধুর্য‍্য এবং স্বীয় রূপ মাধুর্য‍্য আস্বাদনের লালসায় অবতীর্ণ হলেন।ভক্তভাবের আবরণে ব্রহ্মার অগম‍্য অতীব নিগূঢ় ব্রজের রস নিজে আস্বাদন করে সেই আস্বাদনের পদ্ধতি,সুখ, আনন্দ আপামর জনসাধারণে বিতরণ করলেন।লীলা প্রকাশের ভেদ থাকলেও শ্রীধাম নবদ্বীপ-বৃন্দাবন স্বরূপতঃ এক।তেমনি মহাভাববতী শ্রীমতী রাধা রসরাজ শ্রীকৃষ্ণ এবং রসরাজ মহাভাব একাকৃতি শ্রীশ্রীগৌরহরি এক অভিন্ন রসময় তত্ত্ব। মন!তুমি এ বিষয়ে সন্দেহ প্রকাশ করিও না।*
🦚🦚🦚🦚🦚🦚🙏🦚🦚🦚🦚🦚🦚
*(৯৮)🌹🌹মনো শিক্ষা 🌹🌹*
    °°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°
*মন,সখী ভাবে ব্রজলীলা স্মরণ*
°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°
 *ওরে মন!সখী ভাব ধরিয়া অন্তরে।*
*রাধাকৃষ্ণ-লীলা-সেবা,দুহুঁ-রূপ রাত্রি-দিবা,*
         *চিন্ত,না হইও অবসরে।।*
*যমুনা-পুলিন বনে,শ্রীকৃষ্ণ-সঙ্কেত-স্থানে,*
         *বংশীবট এ ধীর-সমীরে।*
*কদম্ব-কুসুম-বনে,বৃন্দাবনে গোবর্দ্ধনে,*
        *নিধুবন নিকুঞ্জ-মন্দিরে।।*
*যে সময়ে যেবা লীলা,যে রস-কৌতুক-খেলা,*
      *শ্রীগুরু-মঞ্জরী-অনুগতি।*
*তাম্বূল চামর ব‍্যজ',  ঘনসার মলয়জ,*
      *কর বাস-ভূষণ-সেবাদি।।*
*ললিতাদি সখীগণ,বেষ্টিত সে দুই জন,*
         *হাস‍্যরস সুবেশ-ভূষণে।*
*প্রেমানন্দ কহে মন,এ আনন্দ অনুক্ষণ,*
       *এ শোভা কর নিরীক্ষণে।।*
*🌻ভাবনার স্রোতে ভেসে চলা মনের স্বভাবের প্রবৃত্তি(রত হওয়া )।কোটি কোটি জনমের খন্ড খন্ড ভাবনা পরম্পরা বিহীন হয়ে জাগ্রত এবং স্বাপ্নিক(স্বপ্ন দেখা) অবস্থায় চিন্তাস্রোতে তরঙ্গায়িত হয়ে বয়ে চলেছে।যাঁদের বিবেক দুর্বল তাঁদের মন নিয়ন্ত্রণ হারা ভাসমান।তৃণ খন্ডের মত উচ্ছৃঙ্খল চিত্তবৃত্তিকে নির্দিষ্ট খাতে, গতিপথে প্রবাহিত করতে না পারলে জীবনের শাশ্বত গন্তব‍্যস্থল পৌঁছান যাবে না।তাই উদ্দেশ্যবিহীন নিয়ন্ত্রণহারা বিক্ষিপ্ত মনকে নিয়ে বড় বিব্রত হয়ে সখা অর্জুন ভগবান শ্রীকৃষ্ণকে বলতে বাধ‍্য হয়েছিলেন=*
*"চঞ্চলং হি মনঃ প্রমাথি বলবদ্দৃঢ়ম্।*
*তস‍্যাহং নিগ্রহং মন‍্যে বায়োরিব সুদুষ্করম্।।*
*🌹অর্থ‍্যাৎ হে কৃষ্ণ! মন অতি চঞ্চল,প্রবল,শরীর ও ইন্দ্রিয়াদির বিক্ষেপ (চাঞ্চল‍্য) উৎপাদক। একে বিষয় বাসনা থেকে নিবৃত্ত করা খুবই কঠিন।সেইজন‍্য সেটির নিরোধ আকাশস্থ বায়ুকে পাত্রবিশেষে আবদ্ধ করার মতো দুঃসাধ‍্য মনে করি।*
*🍁চঞ্চল মন নিয়ে সৎ-উপদেশ প্রতিপালন করা কখনোই সম্ভব নয়।সখা অর্জুনের এই সমস‍্যা সমস্ত বিশ্ব ব্রহ্মান্ডের জীব সমূহের সমস‍্যা।এর বাস্তবতা শ্রীভগবানকে স্বীকার করতে হয়েছে।সমাধানের উদ্দেশ্যে তিনি বলেছেন=*
*"অসংশয়ং মহাবাহো মনো দুর্নিগ্রহং চলম্।*
*অভ‍্যাসেন তু কৌন্তেয় বৈরাগ‍্যেণ চ গৃহ‍্যতে।।"*
*🌺শ্রীভগবান বললেন হে মহাবাহো! মন যে দুর্নিরোধ ও চঞ্চল তাতে কোন সন্দেহ নেই। কিন্তু হে কৌন্তেয়! ধ‍্যানাভ‍্যাস এবং ঐহিক (জাগতিক ভোগবিলাসাদি) ও পারলৌকিক (স্বর্গের ভোগ সুখাদি) বিষয় ভোগে বিতৃষ্ণা সাধন দ্বারা তাঁকে সংযত করা যায়।*
*🌳শ্রীভগবানের এই উক্তির সারমর্ম= মন চঞ্চল হবার মূল কারণ হল ভোগ পরায়ণতা।এই ভোগ পরায়ণার নিবৃত্তির নামই বৈরাগ‍্য।আসক্তি শূন‍্য মনোবৃত্তিকে সাধু ও শাস্ত্রের নির্দ্দেশিত পথে বার বার প্রবাহিত করবার প্রচেষ্টার নামই অভ‍্যাস।ভোগ-বাসনা-শূন‍্য মনের এই অভ‍্যাসটি হতে হবে বিরামহীন,তাই সাধকের একমাত্র কর্ত্তব‍্য চঞ্চল স্বভাব বিশিষ্ট মনকে সংযত করা, স্থির করা। এবার মনস্থির বলতে কি বুঝায় তা জানা প্রয়োজন।যোগীগণ এবং জ্ঞানীগণের বিচারে মনকে এক নির্দিষ্ট ভাবের মধ্যে ডুবিয়ে রেখে, গতিহীন করে রাখার নামই "মনস্থির"। কিন্তু ব্রজরস দর্শনে দার্শনিকগণের "মনস্থির" এর ব‍্যাখ‍্যা অন‍্য রূপ।মনস্থির শব্দে মনকে গতিহীন করা নয়।চিত্তবৃত্তিকে অবরোধ করলে তা হয় মনের প্রকৃতির বিরোধী।স্বভাবের বিরুদ্ধে অবরুদ্ধ থাকতে থাকতে সুযোগ পেলে বিক্ষব্ধ মন হাজার গুণ শক্তিতে দুর্বার হয়ে অভিব‍্যক্তি হয় ও অনর্থ ঘটায়।তাই এখানে মনস্থির বলতে মনের গতিময়তাকে অক্ষুন্ন রেখে মহাজন প্রবর্তিত সুমসৃণ সুখকর পথে পরিচালিত করা।চিন্ময় লীলারস তটিনীর প্রবাহে একাত্ম করে প্রবাহিত করা।বৈষ্ণব সাধকের মন চিন্তা শূন‍্য হলে হবে না।তাকে চিদানন্দময় চিন্তার স্রোতে ভাসতে হবে।এই চিদানন্দময় চিন্তার স্রোতে ভাসানোর অপর নাম হচ্ছে লীলা স্মরণ।এই চিন্তা ধারার চারটি উপাদান। চিন্তাকারী,চিন্তনীয় বিষয়, পদ্ধতি এবং চিন্তার উদ্দেশ্য।ভগবদ্ লীলা যেহেতু চির নিত‍্য,তাই চিন্তাকারীর স্বরূপটিও অবশ‍্য নিত‍্য হতে হবে।চিন্তাকারীর নিজের নিত‍্য স্বরূপ এবং চিন্তনীয় বিষয় সম্বন্ধে  শ্রীচরিতামৃতে বলা হয়েছে =*
*অতএব গোপীভাব করি অঙ্গীকার।*
*রাত্রি দিন চিন্তে রাধাকৃষ্ণের বিহার।।*
*সিদ্ধদেহে চিন্তি করে তাঁহাঞি সেবন।*
*সখীভাবে পায় রাধা কৃষ্ণের চরণ।।*
*🌻এখানে গোপী ভাবাবিষ্ট সিদ্ধ দেহ হল--,চিন্তাকারীর নিত‍্য স্বরূপ।শ্রীরাধাকৃষ্ণের বিহার হল--,চিন্তনীয় বিষয়। আনুগত‍্যে সখী (মঞ্জরী) ভাব নিয়ে চিন্তা করাই হল--, চিন্তা পদ্ধতি। শ্রীরাধাকৃষ্ণের সুখ সম্পাদক বিভিন্ন প্রকার সেবা হল চিন্তার উদ্দেশ্য।*
*🍁মন! তুমি সেই গোপীভাব আশ্রয় করে শ্রীশ্রীরাধাগোবিন্দের রূপ,গুণ,লীলা ও সেবা অবিচ্ছিন্নভাবে চিন্তা কর।ব্রজমন্ডলের কোন কোন জায়গায় এইলীলা সমূহ চিন্তা করবে তাও তোমায় বলি।যমুনা পুলিন,সঙ্কেতবট, বংশীবট,ধীর সমীর,কদম খন্ডি,গোবিন্দস্থলী, সেবাকুঞ্জ, নিধুবন, রাধাকুন্ড তট এবং গিরি গোবর্দ্ধন।উল্লিখিত স্থান সমূহে শ্রীযুগল কিশোর কিশোরী যে সময়ে যে সমস্ত লীলা করেন, সেই সমস্ত লীলায় শ্রীগুরুমঞ্জরীর আনুগত‍্যে তাম্প্রুল অর্পণ,চামর ব‍্যজন, চন্দন প্রলেপন,বসন ভূষণ পরিধানাদি সেবা ভাবনা করবে।অষ্টসখীগণ বেষ্টিত হাস‍্যরসাভিসিক্ত শ্রীরাধাশ‍্যামের নয়নানন্দ বর্ধক অপরূপ শোভা অনুক্ষণ আনন্দের সঙ্গে নিরীক্ষণ কর।*
*🌺কদম্ব-কুসুম-বনে=কদম্ব কাননে। ব‍্যজ=বাতাস কর।ঘনসার=কর্পূর। মলয়জ=চন্দন।*
🙏🌸🌷🪔🦜🦚🙏🌸🌷🪔🦜🦚🪷
*(৯৯)🍀🍀মনো শিক্ষা 🍀🍀*
       **************************
*মন,ব্রজের লীলা জানতে ইচ্ছে*
******************************
  *এ মন! বিচারি কহ না ভাই।*
*বৃন্দাবন-ধন,          নন্দের নন্দন,*
         *কেমনে সাধনে পাই।।*
*এ তিন ভুবনে,     সদাই  ভাবনে,*
        *কতজনা কতভাবে।*
*ব্রজের নিগূঢ়,      রস এ দুর্লভ,*
        *সবার গোচর কবে।।*
*দেখ কি সাধন,   কৈল গোপীগণ,*
        *কি প্রেম কেমনে জানি।*
*শ্রীকৃষ্ণ যে প্রেমে,সীমা না পাইয়া,*
        *আপনে হইলা ঋণী।।*
*গোপী অনুগত, বিনা কে জানবে,*
             *যুগল-মধুর-রস।*
*আপনা  চিনিয়া,সাধিতে পারলে,*
            *বুঝতে পারিয়ে যশ।।*
*সাধন  ভজন,      মিছা ঢলাইছ,*
          *স্ব-ভাব ছাড়িতে নার।*
*গুমান  তেজিয়া,ভজিতে নারিলে,*
         *কিসে এ বড়াই কর।।*
*ব্রজে পরকীয়া, মর্ম না জানিয়া,*
         *যদি বা ভাবহ কাম।*
*কহে প্রেমানন্দ,   ব্রজ ভাব সেহ,*
    *শেষে যাবে অন‍্য ধাম।।*
*🌻শ্রীভগবানের বহু প্রকার অবতার।এই সব অবতারগণের মধ্যে কিছু কিছু অবতার বিগ্রহ উপাস‍্য তত্ত্বরূপে উপাসিত।এইজন‍্য উপাসক সম্প্রদায়ও অনেক,উপাস‍্যও অনেক। সর্বপ্রকার উৎকর্ষের দিক থেকে বিচার করলে ভগবান শ্রীকৃষ্ণ হলেন পরমারাধ‍্য বিগ্রহ।এই ঐশ্বর্য‍্য মাধুর্য‍্য প্রকাশের তারতম‍্য অনুসারে পূর্ণ-পূর্ণতর-পূর্ণতম এই তিন ভেদ আছে।এই ভেদ অনুসারে ধামও তিনটি।পূর্ণ স্বরূপ শ্রীকৃষ্ণের ধাম দ্বারকা ; পূর্ণতর শ্রীকৃষ্ণের ধাম মথুরা এবং পূর্ণতম শ্রীকৃষ্ণ স্বরূপের ধাম শ্রীধামবৃন্দাবন।এই ব্রজ ধামস্থিত ব্রজরাজনন্দনে পরিপূর্ণ ভগবত্ত্বার প্রকাশ।শ্রীচৈতন‍্য চরিতামৃতের ভাষায় =*
*সৌন্দর্য‍্য ঐশ্বর্য‍্য মাধুর্য‍্য বৈদগ্ধ‍্য বিলাস।*
*ব্রজেন্দ্র নন্দনে ইহার অধিক উল্লাস।।*
*🦚এই কারণে ব্রজেন্দ্র নন্দন শ্রীকৃষ্ণ হলেন উপাস‍্য শিরোমণি।চৌরাশি ক্রোশ ব্রজমন্ডলের তিনি পরম সম্পদ। মন! এবার বিচার করে বলো দেখি কোন ভজনের পথ অবলম্বনে এই ব্রজেন্দ্র নন্দন শ্রীকৃষ্ণের শ্রীচরণ পাওয়া যাবে? আপন আপন ভাব অনুসারে ত্রিভুবনের ভক্তগণ সবসময় শ্রীকৃষ্ণ ভজন করে চলেছেন।প্রত‍্যেকে আপন আপন ভাবনাকে শ্রেষ্ঠ বলে মনে করেছেন।গনেশ,মহেশ,ব্রহ্মাদির অতি দুরধিগম‍্য ব্রজের অতি নিগূঢ় গোপীভাব ভজন পদ্ধতি কারোই বোধগম্য হচ্ছে না। নিরপেক্ষভাবে বিচার করলে গোপীগণের শ্রীকৃষ্ণ ভজন পদ্ধতি সর্বশ্রেষ্ঠ পথ।কেননা অন‍্য কোন ভাবের ভজনে শ্রীগোবিন্দ ঋণী হয়ে পড়েছেন বলে জানা যায় না।অথচ ব্রজগোপীর ভজনে তিনি স্বয়ং পূর্ণানন্দময় চিন্ময় পূর্ণতত্ত্ব হয়েও নিজেকে গোপীগণের কাছে সর্বতোভাবে ঋণী,একথা স্বীকার করেছেন এবং তা সর্বজন বিদিত। শ্রীচরিতামৃতের ভাষায় =*
*কৃষ্ণের প্রতিজ্ঞা এক আছে পূর্ব হৈতে।*
*যে যৈছে ভজে,কৃষ্ণ তারে ভজে তৈছে।।*
*🌹শ্রীকৃষ্ণ স্বয়ং সখা অর্জুনকে একথা বলেছেন=*
*"যে যথা মাং প্রপদ‍্যন্তে তাংস্তথৈব ভজাম‍্যহম্।*
*মম বর্ত্মানুবর্ত্তন্তে মনুষ‍্যাঃ পার্থ সর্ব্বশঃ।।"*
*🦚 অর্থ‍্যাৎ শ্রীকৃষ্ণ বললেন--, হে পার্থ! যে ব‍্যক্তি যে ফল লাভের আশায় আমার ভজনা করে,আমিও তাকে সেইরকম ফলদানে অনুগৃহীত করি।মানবগণ আমারই ভজন মার্গের অনুসরণ করছে,তা জানতে হবে।*
*🍀ভক্তগণ স্ব-স্ব-ভাবানুরূপ সর্বতোভাবে যে পরিমাণ শ্রীভগবানকে ভালবাসেন তিনিও সেই পরিমাণ বা সেই অনুরূপভাবে ভক্তের কাছে উজ্জ্বলরূপ প্রকাশিত হন।এই প্রতিজ্ঞাই নিত‍্যকালের।কিন্তু সর্বধর্ম উল্লঙ্ঘনকারী ব্রজাঙ্গনাগণের প্রেম আরাধনায় সেই প্রতিজ্ঞা রক্ষা বিঘ্নিত হল।*
*🌷সে প্রতিজ্ঞা ভঙ্গ হৈল গোপীর ভজনে।*
*🌷তাহাতে প্রমাণ কৃষ্ণ-শ্রীমুখ বচনে।।*
*☘শ্রীমদ্ভাগবতে আছে=*
*"ন পারয়েহহং নিরবদ‍্যসংযুজাং স্বসাধুকৃতং বিধুধায়ুষাপি বঃ।*
*যা মাহভজন্ দুর্জ্জয়গেহশৃঙ্খলাঃ সংবৃশ্চ‍্য তদ্বঃ প্রতিযাতু সাধুনা।।"*
*🌻রাসে শ্রীকৃষ্ণ বললেন, হে গোপীগণ! তোমরা দুশ্ছেদ‍্য (ছেদন করা দুঃসাধ‍্য এমন)গৃহ শৃঙ্খল সম্পূর্ণরূপে ছিন্ন করে সমস্ত কিছু পরিত‍্যাগ করে পবিত্র ভাবে একমাত্র আমাকেই আশ্রয় করেছ।আমি কোন্ও কালে তোমাদের এই সাধু কাজের প্রতিদান দিতে পারব না।অতএব আমি তোমাদের নিকট ঋণী হয়েই রইলাম।তোমাদের এই সাধু কাজ সাধনের দ্বারাই আমার ঋণ পরিশোধ হোক।*
*🌹ভগবানের এই কথায় প্রমাণ হয় গোপী ভজনের শ্রেষ্ঠতা।জগতের উপাসক কুলের বা ভগবদ্ উপাসক কুলের শিরোমণি প্রেমসাধিকা গোপীগণের আনুগত‍্য বিনা ব্রজের উন্নত উজ্জ্বল রসের তত্ত্ব জানা যাবে না। মন ! তুমি শ্রীগুরুদেবের অপার অনুকম্পায় (দয়ায় বা সহায়তায়) তোমার নিজের গোপীদেহের পরিচিতি প্রাপ্তি হয়েছ।এবার সেই স্বরূপকে চিনে নিয়ে সাধন ভজন করতে পারলে সাধক সমাজে যশস্বী হতে পারবে।তবে জেনে রেখো--, যথাবস্থিত দেহের জীবত্ব স্বভাব না ছাড়লে সেবা পরায়ণা সখী বা মঞ্জরীগণের স্বভাব পাওয়া যাবে না।এই দেহ দৈহিক সম্বন্ধের ভাব নিয়ে গোপীর ভজনের প্রচেষ্টা মিথ‍্যা প্রয়াস মাত্র,এতে তোমার গর্ব করার মত কিছু নেই। ব্রজের অপ্রাকৃত পরকীয়া ভাবের উদ্দেশ্য তাৎপর্য‍্য এবং দার্শনিক সিদ্ধান্ত ধা জেনে জাগতিক যুবক যুবতীর অবৈধ কাম ক্রীড়া ভেবে নিও না।তাহলে ব্রজের ভজন করলেও তোমার গতি হবে অন‍্য জায়গায়।*
*🙏জয় জয় শ্রীশ্রীরাধাগোবিন্দের জয়*
*(১০০)🪷🦜মনো শিক্ষা 🦜🪷*
^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^
     *মনের বহু পরিবর্তন হয়েছে*
     ****************************
      *এ মন! পামর-মত ভুল রে।*
*শ্রীনন্দ-নন্দন,    গোপীজনবল্লভ,*
      *কহ মন! রাধাকৃষ্ণ হরে।।*
*পীতাম্বর  ঘনশ‍্যাম,হৃষীকেশ জনার্দন,*
      *শ্রীকৃষ্ণ রসিকবর হরে।*
*গোবর্দ্ধন-গিরিধর, ধরণী সুধাকর,*
      *কহ মন! রাধাকৃষ্ণ হরে।।*
*কালিয় দমন,      অঘাসুর ঘাতক,*
     *গোকুল-পালক দামোদরে।*
*গোপাল গোবিন্দ,      শ্রীমধুসূদন,*
        *কহ মন! রাধাকৃষ্ণ হরে।।*
*হে হরি কেশব, যমলার্জ্জুন-ভঞ্জন,*
        *পুন্ডরীকাক্ষ মুরারে।*
*জয় জগবন্ধু,    বামন যাদবাচ‍্যুত,*
       *শ্রীপতি ধরণীধরে।।*
*রাম  নারায়ণ,      পঙ্কজ--লোচন,*
       *কহ মন! রাধাকৃষ্ণ হরে।*
*দুরিত-নিবারণ,    পতিত উদ্ধারণ,*
       *ভকত-বৎসল কংসারে।।*
*দেবকী--নন্দন,         দুষ্ট বিনাশন,*
        *কহ মন! রাধাকৃষ্ণ হরে।*
*দুঃখীকরুণাকর,   দীন-দয়ানিধি,*
        *মথুরেশ ব্রজনাথ হরে।।*
*শ্রীগোকুলচন্দ্র,        মুকুন্দ  মাধব,*
        *কহ মন!রাধাকৃষ্ণ হরে।*
*কহে প্রেমানন্দ,  অহর্নিশি ফুকরি,*
       *কহ মন!রাধাকৃষ্ণ হরে।।*
*🌹হে পাপী মন! গোপীগণের একমাত্র বল্লভ শ্রীনন্দনন্দন শ্রীকৃষ্ণ ও  শ্রীরাধানাম বলতে কখনো ভুলিও না।যিনি নবজলধরের মতো শ‍্যামবর্ণ বিশিষ্ট,যাঁর অঙ্গে স্থির বিদ‍্যুতের মতো পীতাম্বর শোভিত, এই পীতাম্বরের গূঢ় তাৎপর্য‍্য হল--,শ্রীমতী রাধারাণীর অঙ্গকান্তি সাদৃশ আছে বলে অনুরাগ বশতঃ নিজ অঙ্গে পরিহিত।যিনি সমস্ত ইন্দ্রিয়ের অধীশ্বর,যিনি জন নামক অসুরকে নিধন করেছিলেন, যিনি রসিকেন্দ্র চূড়ামণি শ্রীকৃষ্ণ নামে পরিচিত।ইন্দ্রের গর্ব খর্ব হেতু ও সমগ্র ব্রজবাসীগণকে রক্ষার জন্য গোবর্দ্ধন গিরি অবলীলাক্রমে বাম হাতের কনিষ্ঠাঙ্গুলীতে যিনি ধারণ করেছিলেন, যিনি ধরাতলবাসীর অজ্ঞান অন্ধকার সপ্রেম কৃপা কিরণে দূর করেন, সেই ধরণীর সুধাকর শ্রীকৃষ্ণ ও শ্রীরাধানাম মন সর্বদা বলো।*
*🌹যিনি কালীয়নাগের উদ্ধত ফণা সমূহকে ভেঙ্গে দিয়ে তার খল স্বভাব দূর করে কৃপা পরবশ হয়ে শিরে পদচিহ্ন অঙ্কিত করে ধন‍্য করেছিলেন।যিনি অঘাসুরকে নিধন করেছিলেন,যিনি গোকুলবাসীকে পালন করেছিলেন,বাৎসল‍্য প্রেমবতী শ্রীমতী যশোদা দেবী কর্তৃক রজ্জু দ্বারা আবদ্ধ হয়ে দামোদর নাম ধারণ করেছিলেন।যিনি নবলক্ষ ধেনুর নাল পালন ও চারণ করে গোপাল গোবিন্দ নামে অভিহিত হয়েছেন।যিনি শ্রীমতী রাধারাণীর হৃদয় কুসুমের প্রেমমধু আস্বাদন লালসায় শ্রীমধুসূদন বা ব্রজ মধুকর ; মন! তুমি সেই শ্রীকৃষ্ণ ও শ্রীরাধানাম অনুক্ষণ বলতে থাকো। সর্বপাপ হরণ পূর্বক প্রেম দিয়ে মন হরণ করেন, এই হেতু যিনি হরি নামে অভিহিত, যিনি কেশব,যিনি যমলার্জ্জুন বৃক্ষ উৎপাটন করে নারদ কর্তৃক অভিশপ্ত কুবের নন্দন নলকুবের ও মণিগ্রীবকে পরমগতি প্রদান করেছিলেন, কমলদলের মতো যাঁর নয়ন,মুর নামক দৈত‍্যকে বধ করে যিনি মুরারী,যিনি জগতের একমাত্র বন্ধু, যিনি বামন,যাদব,অচ‍্যুত,শ্রীপতি,ধরণীধর, রাম ও নারায়ণ নামধারী সেই পঙ্কজলোচন শ্রীকৃষ্ণের নামের সঙ্গে রাধা নাম মন! তুমি সর্বদা উচ্চারণ করো।*
*🌹যিনি ধরিত্রীদেবীর পাপভার নিবারক,পতিতজনের উদ্ধারকারী ভক্ত বৎসল কংসারী,দেবকী দেবীর গর্ভজাত বলে দেবকীনন্দন, সেই   শ্রীকৃষ্ণের ও শ্রীমতী রাধারাণীর নাম করো মন!তুমি অবিরাম বলতে থাকো।যিনি দুঃখী জনের দুঃখ নিবারণের ক্ষেত্রে করুণার খনি, যিনি প্রেমধনহীন গরীবের কাছে দয়ার সমুদ্র স্বরূপ, যিনি মথুরার ঈশ্বর,ব্রজবাসীর একমাত্র নাথ, গোকুলের চন্দ্র বিশেষ,যিনি মুকুন্দ,মাধব নামে পরিজ্ঞাত সেই শ্রীকৃষ্ণ ও রাধারাণীর নাম অনুরাগের সঙ্গে করতে থাকো। মন! তোমার কাছে উচ্চরবে বলছি তুমি শ্রীরাধাকৃষ্ণের নাম ভুলিও না।সর্বক্ষণ বলো।*
*🌷ধরণী--সুধাকর=জগতের চন্দ্রস্বরূপ অর্থ‍্যাৎ প্রাণ-জুড়ান ধন।*
🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏
*(১০১)🙏🙏মনো শিক্ষা 🙏🙏*
          *গৌর ভজনের কথন*
         ^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^
  *ভাই রে!ভজ গোরাচাঁদের চরণ।*
*এ তিন ভুবনে আর,দয়ার ঠাকুর নাই,*
       *গোরা বড় পতিত পাবন।।*
*হেন অবতারে যার,নহিল ভকতি-লেশ,*
     *বর তার কি হবে উপায়।*
*রবির কিরণে যার,আঁখি পরসন্ন নৈল,*
     *বিধাতা বঞ্চিত ভেল তায়।।*
*হেম-জলদ-কায়, প্রেমধারা বরিষয়,*
        *করুণাময় অবতার।*
*গোরা হেন প্রভু পেয়ে,যে জন শীতল নৈল,*
      *কি জানি কেমন মন তার।।*
*কলি ভবসাগরে,নিজ নাম ভেলা করি,*
      *আপনে গৌরাঙ্গ করে পার।*
*তবে যে ডুবিয়া মরে,কে তারে উদ্ধার করে,*
      *এ প্রেমানন্দের পরিহার।।*
*🌹বিদেহী মন আত্মাসহ জড়দেহকে আশ্রয় করে পিতা-মাতার মাধ‍্যমে জগতে প্রকটিত হয়।এইজন‍্য দেহের সঙ্গে আত্মার,আত্মার সঙ্গে মনের,সম্বন্ধ ভাইভাই।মনোশিক্ষার অন্তিম পদে পদকবি পূজ‍্যপাদ প্রেমানন্দ দাস মহোদয় তাই মনে হয় মনকে ভাই বলে সম্বোধন করলেন।ভাই মন!স্বর্গ-মর্ত‍্য-পাতালে যাঁর সমান দয়ালু আর কেউ নাই, যিনি অযাচিত ভাবে পতিতগণকে উদ্ধার করে অনর্পিত প্রেমসম্পদ প্রদান করেন,তুমি সেই মহাবদান‍্য অবতার শ্রীশ্রীগৌরহরির শ্রীচরণ আরাধনা করো,সেবা করো।*
*রামাদি অবতারে, ক্রোধে নানা অস্ত্র ধরে,*
      *অসুরেরে করিল সংহার।*
*এবে অস্ত্র না ধরিল,প্রামে কারে না মারিল,*
      *চিত্ত শুদ্ধি কৈল সবাকার।।*
*🌺এ হেন পরম করুণাময় অবতারে শ্রীহরি ভজনে রতি মতি যার হল না,তার গতি আর কি হবে?দৃষ্টিশক্তি থাকা সত্ত্বেও প্রকাশ‍্য দিবালোকে জগতের সৌন্দর্য দর্শনে যে সক্ষম হয় না, বুঝতে হবে ভাগ‍্য বিধাতা তার প্রতি বিরূপ হয়েছেন।করুণাময় শ্রীশ্রীগৌরহরি হলেন হেম জলদ, অর্থ‍্যাৎ স্বর্ণবর্ণ মেঘ।ঐ মেঘ হতে দিনরাত্রি সর্বত্র প্রেমবারিধারা বর্ষিত হয়ে চলেছে।সেই সর্বেন্দ্রিয় শীতলকারী প্রেমবারি বর্ষণে জগতের ত্রিতাপ দগ্ধ জীবের সকল জ্বালা জুড়িয়ে যাচ্ছে।এ হেন বরিষণে  মন! যদি তুমি শীতল হতে না পারো তাহলে জানি না তোমার পরিণাম কি হবে? ভব পারাবারের একমাত্র দয়াল কান্ডারী শ্রীশ্রীগৌরসুন্দর হরিনামের তরী নিয়ে সর্ব জীবকে পার করছেন,ভবসমুদ্রে ডুবে থাকা দুর্ভাগ‍্যাহত জীবসকলকে উদ্ধার করছেন। মন!তুমি এ হেন করুণাময় কান্ডারী পেয়েও যদি ডুবে মরো, তাহলে কে তোমাকে আর উদ্ধার করবে,তা তুমিই জানো।ভাই মন! তোমার ও আমার হিতের জন্য কত কত সৎ উপদেশ তোমায় পরামর্শ দিলাম, আমি আর পারছি না, তাই তোমার কাছে একান্তভাবে পরিহার প্রার্থনা করি।*
*🌻হেম••••••বরিষয়=হেমবর্ণ শ্রীরাধিকা ও শ‍্যামবর্ণ শ্রীকৃষ্ণ মিলিত হয়ে শ্রীগৌরাঙ্গরূপে প্রেমধারা বর্ষণ করলেন।*
*🙏জয় জয় নিতাই গৌর সীতানাথ প্রেমানন্দে হরিবোল,""মনো শিক্ষা"" 
এই পর্বেই বিরাম হ'ল, বানান ভুল ভ্রান্তি নিজ গুণে মার্জনা করবেন🙏*
*(মনোশিক্ষা সম্বন্ধে কিছু কথন)*

*🌻প্রাক্ চৈতন‍্য যুগ হতে বতর্মান কাল পর্য‍্যন্ত ভগবদ্ কৃপায় বহু পদকবির আবির্ভাব হয়েছে এবং হবে।এ সমস্ত কবিগণের মধ্যে অধিকাংশ কবিগণই শ্রীশ্রীরাধাগোবিন্দের লীলা এবং শ্রীকৃষ্ণচৈতন‍্য মহাপ্রভুর লীলায় তৎপর হয়েছেন।তাঁদের রচিত পদে লীলা প্রসঙ্গই প্রাধান্য পেয়েছে।শিক্ষা মূলক,প্রার্থনা মূলক পদের প্রাধান‍্য তেমন দেখা যায় না।পরম শ্রদ্ধেয় শ্রীল নরোত্তম দাস ঠাকুর মহাশয় প্রেমভক্তিচন্দ্রিকায় গৌড়ীয় বৈষ্ণবের সাধ‍্যসাধন তত্ত্ব, স্মরণ-মননের বিষয়, শ্রীগুরুতত্ত্ব,শ্রীগৌরাঙ্গতত্ত্ব,শ্রীরাধা গোবিন্দ তত্ত্ব,শ্রীধামতত্ত্ব, প্রভৃতি তাত্ত্বিক বিষয় স্বচ্ছ বা নির্মল জলের মত প্রাঞ্জল (সহজ সরল)ভাষায় সাধারণ মানুষের বোধগম্য (বুঝতে পারে) প্রকাশ করেছেন।যার প্রভাব সংস্কৃত ভাষা না জানা মানুষের মধ্যে অব‍্যাহত (অবাধ বা মুক্তি) হয়েছে।প্রার্থনা সমূহের মধ্যে তিনি দেখিয়েছেন ভগবানের কাছে কি প্রার্থনা করতে হবে,কিভাবে করতে হবে,তাঁর আদর্শ।এই প্রার্থনাগুলি আজও সাধক সমাজে শ্রদ্ধার সঙ্গে কীর্তন করা হয়।*
*🌹মনোশিক্ষার পদকবি প্রেমানন্দ দাস ঠাকুর মহাশয়ের প্রভাব তার উপর পড়েছে তা সহজেই অনুমান করা যায়।তিনি শ্রীশ্রীগৌর গোবিন্দ বিষয়ক পদাবলী রচনা করলেও মনোশিক্ষার জন্য সত‍্যিই তিনি সুবিখ‍্যাত।ঠাকুর মহাশয়ের মন ভক্তিরসে অনেকখানি রসসিক্ত।তাই তিনি মনকে নিয়ে শ্রীশ্রীগুরুগৌরাঙ্গ গিরিধারী ও গান্ধর্বিকা শ্রীমতী রাধারাণীর করুণার দ্বারে অতি দীন দৈন‍্যভাবে দাঁড়িয়ে অভীষ্ট বস্তুর প্রার্থনা জানিয়েছেন।পরবর্তী পদকবি প্রেমদাস মহোদয় সেই আদর্শ অনুসরণ করে প্রার্থনা জানাতে গিয়ে দেখলেন---,তার মন ভক্তির সীমানা থেকে বহু বহু দূরে পশুর মনে রূপান্তরিত হয়ে আছে।তাই তিনি এ চঞ্চল মনকে নিয়ে সমস‍্যায় পড়লেন।দেখলেন আগে মনকে পরিমার্জিত ( পরিস্কার পরিচ্ছন্ন) করতে না পারলে ভজন সাধন করা কখনো সম্ভব নয়।তাই তিনি মনকে সুশিক্ষিত করা তুলতে বিশেষ উদ‍্যোগী হলেন।চঞ্চল বিপথগামী মনের উপরে মনোশিক্ষার এক একটি পদ যেন এক একটি চাবুকের ঘা।এই ঘা কখনো কঠোর হয়েছে,কখনো হয়েছে মৃদু,কখনো নির্মম,আবার কখনো হয়েছে স্নেহমাখা।তিনি যে প্রকৃত গৌড়ীয় বৈষ্ণব ছিলেন তাতে কোন সন্দেহ নেই।তার প্রমাণ মনোশিক্ষার পদেই আমরা পাই।প্রথম পদেই মহাপ্রভুর প্রতি মনকে অনুরক্ত হতে শিক্ষা দিয়েছেন।আবার সর্বশেষ পদে কলিযুগে শ্রীকৃষ্ণ ভজন যতই করো, শ্রীশ্রীগৌরহরির ভজন না করলে প্রকৃত প্রেমভক্তি লাভ করা যাবে না  এবং জীবের পরাগতি লাভ হবে না বলেছেন।*
*🙏আসুন আমরাও পূজ‍্যপাদ প্রেমানন্দ দাস মহোদয়ের মনোশিক্ষা পদাবলী অবলম্বনে প্রেম ভক্তি সাধনায় মনকে শিক্ষিত করা তুলতে প্রয়াসী হই বা চেষ্টা করি। জয় জয় গৌরহরির জয়।*
👣👣👣👣👣👣🙏👣👣👣👣👣👣
   ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
🚩 ক্রমাগত 🚩
 ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
   ✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️
নিবাস- বাঁশবাড়ী, কীর্তন মন্দিরের পাশে, পোঃ- বাঁশবাড়ী, থানা- ইংরেজ বাজার, জেলা- মালদহ, পশ্চিমবঙ্গ, পিন কোড- ৭৩২১০১।
 ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
    *••••┉━❀꧁ 🙏 রাধে রাধে 🙏 ꧂❀━┅••••* 
                   শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য প্রভু নিত্যানন্দ
              হরে কৃষ্ণ হরে রাম শ্রীরাধেগোবিন্দ।।
  *••••┉━❀꧁ 🙏 জয় জগন্নাথ 🙏 ꧂❀━┅••••*
              হরে কৃষ্ণ হরে কৃষ্ণ কৃষ্ণ কৃষ্ণ হরে হরে
              হরে রাম হরে রাম রাম রাম হরে হরে॥
  *••••┉━❀꧁ 🙏 জয় রাধাকান্ত 🙏 ꧂ ❀━┅••••*
   💮❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀💮
   💮❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀💮
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧

adds