শ্রী মৃন্ময় নন্দী কর্ত্তৃক সকল ভক্ত👣চরণে👣অসংখ্যকোটি 🙇প্রণাম🙇 ক্লিক করুন 👇

শ্রী মৃন্ময় নন্দী কর্ত্তৃক সকল ভক্ত👣চরণে👣অসংখ্যকোটি 🙇প্রণাম🙇 ক্লিক করুন 👇

শ্রীশ্রীনাম-মাধুরী 🙇 শ্রীরসিকমোহন বিদ‍্যাভূষণ 🌷 দ্বিতীয় ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📝 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/02/name2.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🔙 পূর্ব লীলা 👉 শ্রীশ্রীনাম-মাধুরী 🙇 শ্রীরসিকমোহন বিদ‍্যাভূষণ 🌷 প্রথম ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📝 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/02/name.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 👉 শ্রীশ্রীনাম-মাধুরী 🙇 শ্রীরসিকমোহন বিদ‍্যাভূষণ 🌷 দ্বিতীয় ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📝 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/02/name2.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 👉 ২. শ্রীশ্রীনাম-মাধুরী 🙇 শ্রীরসিকমোহন বিদ‍্যাভূষণ 🌷 দ্বিতীয় ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📝 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/02/name2.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(১১)🐚শ্রীশ্রীনাম-মাধুরী🐚*
         *🙏শ্রীশ্রীনামব্রহ্ম🙏*
          ‼‼‼‼‼

*🔅কূর্ম্মপুরাণে নামের পরম পাবনত্ব সম্বন্ধে লিখিত হয়েছে, যথা------*

*🌷বসন্তি যানি কোটিস্তু পাবনানি মহীতলে।*
*🌷ন তানি তৎতুলাং যান্তি কৃষ্ণনামানুকীর্তনে।।*

*🌻পৃথিবীতে যে সব কোটি কোটি পবিত্রতাজনক বস্তু আছেন, কৃষ্ণনামের সঙ্গে তাঁদের তুলনাই হয় না।*

*🔆বৃহদ্বিষ্ণু-পুরাণে লেখা আছে--*

*🌷নাম্নোহস‍্য যাবতীশক্তিঃ পাপনির্হরণে হরেঃ।*
*🌷তাবৎকর্ত্তুং ন শক্নোতি পাতকং পাতকী জনঃ।।*

*🌻শ্রীহরির এই নামের পাপ-উন্মূলনে (পাপ-সমূলে উচ্ছেদে) যে পরিমাণ শক্তি আছে, কোনও পাপী নিরন্তর বা সবসময় পাপ করলেও সে পরিমাণে পাপ করতে পারে না।পাপের পাপাপেক্ষা শ্রীভগবানের পাপ-বিনাশন-শক্তি অত‍্যন্ত বেশী।*

*🌷একবার কৃষ্ণনামে যত পাপ হরে।*
*পাতকীর শক্তি নাই তত পাপ করে।।*

*🌹ইতিহাসোত্তমে-----*
*🌷শ্বাদোহপি নহি শক্নোতি কর্ত্তুং পাপানি যত্নতঃ।*
*🌷তাবন্তি যাবতীশক্তি বিষ্ণোনাম্নোহশুভক্ষয়ে।।*

*🌻হরিনামের অশুভক্ষয়ে যত শক্তি আছে,নিরন্তর বা সবসময় কুকুরের মাংস ভক্ষণকারী অতীব অন্ত‍্যজ (নীচবংশ) জাতি অতি যত্ন করেও তত পরিমাণে পাপ করতে পারে না।*

*🌺সর্বকালের জন্য সামান‍্যতঃ নামের অশেষ পাপ-উন্মূলন শক্তি লিখে এখন বিশেষভাবে কলিকালের জন্য লেখা হচ্ছে।এই কলিকাল অতি ভীষণ।এই কালে লোকগণ দুস্তর (পার হওয়া দুঃসাধ‍্য এমন)নানান পাপগুলির বিষময় ফলে নিরন্তর ব‍্যাকুল--- অন‍্যান‍্য যুগে মুক্তিলাভের যে সব সাধনা ছিল, কলিহত জীবগণের তাওও দুরধিগম‍্য (অতি কষ্টে আয়ত্ত করা যায় এমন বা দুর্লভ)।অতএব এদের আর অন‍্য গতি নাই।কেবল প্রভাব-বিশেষ-প্রকটন-পরায়ণ শ্রীকৃষ্ণনাম-কীর্তনের দ্বারাই যে কলিহত জীবগণের অশেষ পাপ উন্মূলন (সমূলে উচ্ছেদ) হয়, শাস্ত্রকারগণ তারও প্রমাণ প্রর্শন করেছেন। যথা স্কান্দে-----*

*🌷তন্নাস্তি কর্ম্মজং লোকে বাগজং মানসমেব বা।*
*🌷যন্ন ক্ষপয়তে পাপং কলৌ গোবিন্দ-কীর্ত্তনাৎ।।*

*🌻কর্মজ,কথাজাত ও মানস এমন কোনও পাপ নাই যা এই দুরন্ত কলিকালে গোবিন্দ কীর্তন দ্বারা বিনষ্ট না হয়।*

*🌺বিষ্ণোধর্মোত্তরে----*

*🌷শমায়ালম্ জলং বহ্নে স্তমসো ভাস্করোদয়ে।*
*🌷শান্ত‍্যৈ কলেরঘৌঘস‍্য নামসঙ্কীর্তনং হরেঃ।।*

*🌻যেমন আগুন নিভানোর জন্য জলের প্রয়োজন, যেমন অন্ধকার দূর করবার জন্য সূর্য‍্যদয়ের দরকার, তেমনি কলিকালের সর্বপ্রকার পাপ-নাশের জন্য একমাত্র হরিনাম-সংকীর্তনই একমাত্র সম্বল।*

*🌳এই দুরন্ত কলিতে সর্ব-সাধনা অপেক্ষা এই নাম-সঙ্কীর্তনেরই প্রাধান‍্য স্বীকৃত হয়েছে।*

*🌷নাম্নাং হরেঃ কীর্তনতঃ প্রযাতি,*
*🌷সংসারপারং দুরিতৌঘ-মুক্তঃ।*
*🌷নরঃ স সত‍্যং কলিদোষ-জন্ম-,*
*🌷পাপং নিহন্ত‍্যাশু কিমত্র চিত্রম্।।*

*🌻নিত‍্য মহাপাপে রত হলেও একমাত্র নাম সঙ্কীর্তনের প্রভাবে পাপরাশি বিমুক্ত হয়ে মহাপাপীও যখন সংসার যন্ত্রণা হতে বিমুক্ত হয়,এই নাম প্রভাবে কলিদোষজাত পাপ যে বিনষ্ট হবে তাতে আর বিস্ময়ের বিষয় কি আছে?*
⁉⁉⁉⁉⁉⁉⁉⁉⁉⁉⁉
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 👉 ২. শ্রীশ্রীনাম-মাধুরী 🙇 শ্রীরসিকমোহন বিদ‍্যাভূষণ 🌷 দ্বিতীয় ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📝 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/02/name2.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(১২)🐚শ্রীশ্রীনাম-মাধুরী🐚*
         *🔆শ্রীশ্রীনামব্রহ্ম🔆*
          ☆☆☆☆☆☆☆
*☢ব্রহ্মান্ড পুরাণে-----*

*🌷পরাক-চন্দ্রায়ণ-তপ্ত কৃচ্ছৈ,*
*🌷র্ন দেহি-শুদ্ধির্ভবতীহ তাদৃক্।*
*🌷কলৌ সর্ব্বকৃন্মাধব-কীর্তনেন,*
*🌷গোবিন্দ-নাম্না ভবতীহ যাদৃক্।।*

*🌹এই কলিকালে একবার মাত্র "গোবিন্দ" এই নাম দ্বারা মাধবের সঙ্কীর্তন করলে দেহীদের পাপ হতে যেরকম শুদ্ধি ঘটে, পরাকব্রত,চান্দ্রায়ণ ও তপ্তকৃচ্ছ্র গুলির অনুষ্ঠানে সেইরকম শুদ্ধি হয় না।*
*🔵পরাকব্রত,তপ্তকৃচ্ছ্রব্রত ও চান্দ্রায়ণ ব্রত সম্বন্ধে অত্রি সংহিতায় বিধান এইরকম---*
*🌷একৈকং বর্দ্ধয়েন্নিত‍্যং শুক্লে কৃষ্ণে চ হ্রাসয়েৎ।*
*🌷অমাবস‍্যাং ন ভুঞ্জিত এষ চন্দ্রায়ণো বিধিঃ।।*

*🌻শুক্লপক্ষের প্রতিপদে একগ্রাস ভোজন করে শুক্ল দ্বিতীয়া হতে পূর্ণিমা পর্য‍্যন্ত এক এক গ্রাস বাড়াবে আবার কৃষ্ণপক্ষের প্রতিপদ হতে এক এক গ্রাস কমিয়ে অমাবস‍্যার দিন উপবাস করবে, এটিই চান্দ্রায়ণ বিধি।*
*🛑দ্বাদশাহোপবাসেন পরাকঃ পরকীর্ত্তিতঃ।*
*🌻দ্বাদশদিন ক্রমাগত উপবাসে পরাকব্রত সিদ্ধ হয়।*
*🌷ত্র‍্যহ মুষ্ণং পিত্র‍্যেদাপস্ত্র‍্যমুষ্ণ পিবেৎ পয়ঃ,*
*🌷ত্র‍্যহ মুষ্ণং ঘৃতং পীত্বা বায়ুভক্ষো দিনত্রয়ম্।*
*🌷ষট্ পলানি পিবেদাপ স্ত্রিপলন্তু পয়ঃ পিবেৎ,*
*🌷পলমেকন্তু বৈ সর্পি স্তপ্তকৃচ্ছং বিধীয়তে।।*
                       *(১২২ শ্লোক)*
                                              
*🌹তিনদিন ছয়পল (পল= ২৪ সেকেন্ড বা মুহূর্তে) পরিমিত উষ্ণজল,তিনদিন তিনপল পরিমিত উষ্ণ দুধ, তিনদিন একপল পরিমিত উষ্ণঘৃত পান করবে, তার পরে তিনদিন বায়ু ভক্ষণ করে থাকলে তপ্তকৃচ্ছ নামক ব্রতানুষ্ঠান হয়।*

*🌳ব্রহ্মান্ড পুরাণের এই পদ‍্যে জানা যায় কলিকালে গোবিন্দ নামের মাহাত্ম্যই বেশী।শ্রীপাদ সনাতন গোস্বামী শ্রীহরিভক্তিবিলাসের টীকাতে লিখেছেন----*
*🛑সকৃৎ যৎ মাধবস‍্য কীর্তনম্।*
*🛑তচ্চ গোবিন্দেতি নাম্না ইতি কলৌ "গোবিন্দ" নাম-মাহাত্ম‍্য‍মভিপ্রেতম্।*
*🛑যদ্বা গোবিন্দেতি নাম মাত্রেণেতি কীর্তনস‍্য বাহুল‍্যং বিবিধত্বঞ্চ পরিহৃতমিতিদিক্।*
*🌻একবার "গোবিন্দ" নামে মাধবের কীর্তনে এই কলিকালে যথেষ্ট ফললাভ হয়।অথবা বহুল কীর্তন ও নানান কীর্তনেরও তেমন প্রয়োজন হয় না।*
*🌻গোবিন্দ নাম মাত্রেই দেহীদের শুদ্ধি সম্পাদিত হয় ; কীর্তনের বাহুল ও বিবিধত্ব ইহা দ্বারা পরিহৃত হল।অর্থ‍্যাৎ কেবল গোবিন্দ গোবিন্দ এইরকম নাম উচ্চারণ করলেই দেহিশুদ্ধি সংঘটিত হয়।অর্থ‍্যাৎ জীবাত্ম শুদ্ধ হন।*
*🌻শ্রীহরিনামে যে সর্বপাপ উন্মূলিত বা সমূলে উচ্ছেদ হয়,এই সব প্রমাণ বচন দ্বারা তা প্রতিপন্ন (প্রমাণ সিদ্ধ) করে এক্ষণে নাম কীর্তনের দ্বারা যে নিজকুল ও সঙ্গীজন পর্য‍্যন্ত পবিত্র হয়,তারই আলোচনা করা হচ্ছে। তত্রৈব------*
*🌷মহাপাতকযুক্তোহপি কীর্ত্তয়ন্ননিশং হরিং।*
*🌷শুদ্ধান্তকরণো ভূত্বা জায়তে পংক্তি-পাবনঃ।।*

*🌻মহাপাতকযুক্ত অর্থ‍্যাৎ মহাপাপে জর্জরিত ব‍্যক্তিও যদি সর্বদা হরিনাম করেন,তাহলে খুব তাড়াতাড়ি তাঁর অন্তঃকরণ বিশুদ্ধ হয়, এবং তিনি পংক্তিপাবন হন।*
*🛑লঘু ভাগবতে-----*
*🌷গোবিন্দেতি মুদাযুক্তঃ কীর্ত্তয়েদ্ যস্ত্বনন‍্যধীঃ,*
*🌷পাবনেন চ ধন‍্যেন তেনেয়ং পৃথিবী ধৃতা।*
*🌻যিনি একমনে সানন্দচিত্তে গোবিন্দনাম কীর্তন করেন, সেই পরমপবিত্র ধন‍্যপুরুষ এই পৃথিবীকে ধারণ করেন। হরিভক্তি-সুধোদয়ে-----*
*🌷ন চৈবমেকং বক্তারং জিহ্বা রক্ষতি বৈষ্ণবী।*
*🌷আশ্রাব‍্য ভগবৎ-খ‍্যাতিং জগৎ কৃৎস্নং পুনাতি হি।।*
*🌻বৈষ্ণবী জিহ্বা যে কেবল একমাত্র বক্তাকে রক্ষা করেন তা নয়,ইনি ভগবৎ নাম বা ভগবৎ নামাত্মিকা কীর্তি শুনিয়ে সমগ্র জগৎকে পবিত্র করেন।*
♻♻♻♻♻♻♻♻♻♻♻♻
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 👉 ২. শ্রীশ্রীনাম-মাধুরী 🙇 শ্রীরসিকমোহন বিদ‍্যাভূষণ 🌷 দ্বিতীয় ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📝 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/02/name2.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(১৩)🐚শ্রীশ্রীনাম-মাধুরী🐚*
              *শ্রীশ্রীনামব্রহ্ম*
               """""""""""""""""""

*🍀শ্রীভাগবতের দশম স্কন্ধে=*

*🌷যন্নাম গৃহ্নন্ নিখিলান্ শ্রোতৃনাত্মন মেবাং।*
*🌷সদ‍্যঃ পুনাতি কিং ভূয়স্তস‍্য স্পৃষ্টঃ পদাত্বি তে।।*

*🌻যাঁর নাম গ্রহণ করতে করতে লোক নিজেকে এবং নিখিল (সমস্ত)শ্রোতৃবৃন্দকে (শ্রবণকারীকে)সদ‍্য সদ‍্য পবিত্র করতে পারেন সেইরকম যে তুমি, সেই তোমার শ্রীচরণের স্পর্শ পেলে আর কথা কি?*

*🛑নরসিংহ পুরাণে প্রহ্লাদের উক্তি এই যে ---*

*🌷তে সন্তঃ সর্বভূতানাং নিরুপাধিকবান্ধবাঃ।*
*🌷যে নৃসিংহ ভবন্নাম গায়ন্ত‍্যুচ্চৈ র্মুদান্বিতাঃ।।*

*🙏হে নৃসিংহ!যাঁরা আনন্দিত চিত্তে উচ্চকন্ঠে বা খুব জোরে জোরে তোমার নাম উচ্চারণ করেন,তাঁরাই সাধু,তাঁরাই সর্বজীবের অকপট স্বার্থশূন‍্য বন্ধু।*

*✳সর্বব‍্যাধি বিনাশ করে, বৃহন্নারদীয় ভগবত্তোম্ প্রসঙ্গে-----*

*🌷অচ‍্যুতানন্দগোবিন্দনামোচ্চারণ-ভীষিতাঃ।
*🌷নশ‍্যতি সকলা রোগাঃ সত‍্যং সত‍্যং বদাম‍্যহম্।।*

*🌻অচ‍্যুত অর্থ‍্যাৎ অক্ষয়,অব‍্যয়,অবিনাশী, লয় বা ক্ষয় নেই, শ্রীকৃষ্ণ,আনন্দ-গোবিন্দ নাম উচ্চারণ শুনিলে ভীত হয়ে রোগ সব নষ্ট হয়, এটি সত‍্য সত‍্য বলছি।*

*🌹পরাশর সংহিতায় শাম্ব প্রতি ব‍্যাস বলছেন-----*

*🌷ন শাম্ব ব‍্যাধিজং দুঃখং হেয়ং নান‍্যৌষধৈরপি।*
*🌷হরিনামৌষধং পীত্বা ব‍্যাধিস্ত‍্যাজ‍্যো ন সংশয়ঃ।।*

*🌻হে শাম্ব! অন‍্যান‍্য ঔষধ দ্বারা ব‍্যাধি দূরীভূত হয় না, কিন্তু হরিনামরূপ মহৌষধে সব ব‍্যাধি নিশ্চয় দূরীভূত হয়।*

*🌷আধয়ো ব‍্যাধয়ো যস‍্য স্মরণান্নাম-কীর্ত্তনাৎ।*
*🌷তদৈব বিলয়ং যান্তি তমনন্তং নমাম‍্যহম্।।(স্কান্দে)*

*🌻যাঁর নাম স্মরণে ও কীর্তনে,দেহরোগ ও মানসিক রোগে সদ‍্য সদ‍্য (তখনই তখনই)বিনষ্ট হয়,সেই অনন্ত দেবকে নমস্কার করি।*

*🔵বহ্নিপুরাণে--------*

*🌷মহাব‍্যাধিসমাচ্ছন্নো রাজবাধোপপীড়িতঃ।*
*🌷নারায়ণেতি সঙ্কীর্ত্ত‍্য নিরাতঙ্কো ভবেন্নরঃ।।*

*🌻মহাব‍্যাধি সমাচ্ছন্ন,(কঠিন কোন বড় রোগে ঘিরে ধরেছে, ও রাজবাধায় উৎপীড়িত মানুষ "নারায়ণ" এই নাম সংকীর্তন করে নিরাতঙ্ক হয়।*

*🌹সর্বদুঃখ উপশম বৃহদ্বিষ্ণু পুরাণে--*

*🌷সর্ব রোগোপশমনং সর্বোপদ্রবনাশনম্।*
*🌷শান্তিদং সর্বরিষ্টানাং হরের্নামানুকীর্তনম্।।*

*🌻সদাসর্বদা হরিনাম কীর্তন করলে সর্বরোগ ও সর্ব-উপদ্রব বিনষ্ট হয়।এই হরিনাম সর্বপ্রকার অরিষ্টের (মঙ্গলের) শান্তিদায়ক।*

*🛑শ্রীভাগবতে দ্বাদশ স্কন্ধে---*
*🌷সঙ্কীর্ত্ত‍্যমানো ভগবাননন্তঃ,*
*🌷শ্রুতানুভাবো ব‍্যসনং হি পুংসাম্।*
*🌷প্রবিশ‍্য চিত্তং বিধুনোত‍্যশেষং,*
*🌷যথা তমোহর্কোহভ্রমিবাতিবাতঃ।।*
*🌻শ্রীভগবানের সংকীর্তন হলে অথবা তাঁর অনুভাব বা মাহাত্ম্য শুনিলে তিনি স্বয়ং জনগণের চিত্তে প্রবেশ করে সূর্য‍্য যেমন অন্ধকার নাশ করেন অথবা মহাবাত (ভীষণ ঝড় বা বাতাস) যেমন মেঘ গুলিকে উড়িয়ে লয়,তদ্রূপ জনসাধারণে অশেষ অশুভ বিনষ্ট করে। এস্থলে "শ্রতানুভাব"এই পদটির একটি অর্থ এই যে শ্রুত (শোনা) হয়েছে অনুভাব (মাহাত্ম‍্য)যাঁর,এমন যে শ্রীভগবান।আর এক অর্থ এই যে এই ভগবান কে? না, শ্রুত হয়েছে অনুভাব যার ; তাঁর মাহাত্ম্যটি কি! না,পূতনাদি মুক্তি প্রদান প্রভৃতি অতি চমৎকার লীলা।এমন যে চিত্ত চমৎকারী লীলাকারী শ্রীভগবান তাঁর নাম কীর্তন করলে তিনি অন্তরে প্রবেশ করে অশেষ পাপ বিনষ্ট করেন।সূর্য‍্য যেমন গিরি গুহার অন্ধকার বিনষ্ট করেন, তিনিও তেমনি নিখিল (সমস্ত)পাপ বিনাশ করেন।এ দৃষ্টান্তেও পরিতোষ না হওয়ায় আর একটি দৃষ্টান্ত এই যে অতিবাত (ঝঞ্জা বায়ু বা বাতাস)যেমন মেঘগুলিকে উড়িয়ে নিয়ে বিনাশ করে ফেলে, সেইরকম শ্রীগোবিন্দ নাম কীর্তন হলে পাপরাশি বিনষ্ট হয়।*
♻♻♻♻♻♻✳♻♻♻♻♻♻
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 👉 ২. শ্রীশ্রীনাম-মাধুরী 🙇 শ্রীরসিকমোহন বিদ‍্যাভূষণ 🌷 দ্বিতীয় ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📝 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/02/name2.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(১৪)🐚শ্রীশ্রীনাম-মাধুরী🐚*
               *শ্রীশ্রীনামব্রহ্ম*
               *************
*🌻বিষ্ণু ধর্মোত্তরে-------*

*🌷আর্ত্তা বিষণ্ণাঃ শিথিলাশ্চ ভীতা,*
*🌷ঘোরেষু চ ব‍্যাধিষু বর্ত্তমানাঃ।*
*🌷সঙ্কীর্ত্ত‍্য নারায়ণ শব্দমেকম্,*
*বিমুক্তদুঃখাঃ সুখিনো ভবন্তি।।*

*🌻যারা বিষ ভক্ষণাদি দ্বারা ব‍্যাকুল,দারিদ্র‍্য-দুঃখে নিপীড়িত (অত‍্যাচারিত) এবং ভগ্নাঙ্গ (দুঃখে অবসন্ন বা হতাশ)শত্রু ভয়ে ভীত এবং ঘোরতর ব‍্যাধিগ্রস্ত, তাঁরা "নারায়ণ" একমাত্র এই শব্দ উচ্চারণ করে সব দুঃখের হাত থেকে নিষ্কৃতি লাভ করে ও সুখী হয়ে থাকে।*

*🌷কীর্তনাদেব দেবস‍্য বিষ্ণোরমিত তেজসঃ।*
*🌷যক্ষ-রাক্ষস-বেতাল-ভূতপ্রেত-বিধায়কাঃ।।*
*🌷ডাকিন‍্যো বিদ্রবন্তিস্ম যে তথান‍্যেচ হিংসকাঃ।*
*🌷সর্ব্বানর্থহরঃ তস‍্য নাম সঙ্কীর্তনং স্মৃতম্।।*
*🌷নাম সঙ্কীর্তনং কৃত্বা ক্ষুৎতৃটপ্রস্খলিতাদিষু।*
*🌷বিয়োগং শীঘ্র মাপ্নোতি সর্ব্বানর্থৈন সংশয়ঃ।।*

*🌻অমিততেজা (সীমাহীন তেজ বা ক্ষমতা আছে এমন, অত‍্যধিক শক্তিশালী )বিষ্ণুর নাম-কীর্তন মাত্রেই যক্ষ,রাক্ষস,ভূত,প্রেত,বেতাল,বিনায়ক ডাকিনী প্রভৃতি হিংসকগণ খুব তাড়াতাড়ি বহু বহুদূরে পলায়ন করে।শ্রীভগবানের নাম-কীর্তন, সর্বঅনর্থ নিবৃত্ত(অবসান) হয়।ক্ষুধায়,তৃষ্ণায় ও পতনাদিতে (দুর্দশাদিতে) হরিনাম কীর্তন করলে অনর্থ(অমঙ্গল,অশুভ) দূর হয়।*

*🌹পদ্মপুরাণে দেবহূতি স্তুতিতে----*

*🌷মোহানলোল্লসজ্জ্বালাজ্বলল্লোকেষু সর্বদা।*
*🌷যন্নামাম্ভোধরচ্ছায়াং প্রবিষ্টো নৈব দহ‍্যতে।।*

*🌻অজ্ঞান রূপ অনলের নিত‍্য পরিবর্দ্ধনশালিনী শিখায় বিশ্ব-সংসার প্রতি নিয়তই জ্বলে মরছে, কিন্তু ভগবানের নাম-রূপ বারিধর মেঘের শীতল ছায়ায় প্রবেশ হলে আর সে জ্বালার ভয় থাকে না। মোহ শব্দের অর্থ "অজ্ঞান" ; অর্থ‍্যাৎ গৃহাদি বিষয়ক মমতা।এই মন তাই অনল বা আগুনরূপ।আর এই আগুনেই সংসারের লোক নিরন্তর বা সবসময় দগ্ধ হচ্ছে বা পুড়ছে।"বিষয়ের বিষানলে নিরবধি হিয়া জ্বলে জুড়াইতে না কৈনু উপায়"।ইহার একমাত্র উপায় ভগবানের নাম রূপ বারিবর্ষি মেঘের শীতল ছায়ায় আশ্রয় গ্রহণ করা।*
*🌹ইতিপূর্বে বা এর আগে কলির পাপ-হরণ কি ভাবে হবে এই সম্বন্ধেই আলোচিত হয়েছে।এক্ষণেকলির পাপ-কার্য‍্য-কারণাদির অখিল (সমস্ত) পরিকরও যে শ্রীভগবানের নাম গ্রহণে বিনষ্ট হয় তার প্রমাণ বচন লেখা হচ্ছে।*
*🌻কলিতে বহু সমস‍্যা আসবে=*

*🌷কলি-কাল-কুসর্পস‍্য তীক্ষ্ণ দংষ্ট্রস‍্য মা ভয়ম্।*
*🌷গোবিন্দ নাম-দাবেন দগ্ধো যাস‍্যতি ভস্মতাম্।।*

*🌻সুতীক্ষ্ণ বিষদাঁত কলিরূপ কাল সাপের আর ভয় নাই। শ্রীগোবিন্দ নাম গ্রহণ করলেই সেটি যে কেবল পুড়ে যায় তা নয়,একেবারেই ভস্মীভূত বা ছাই হয়ে যায়।*

*🛑বৃহন্নারদীয় কলিধর্ম প্রসঙ্গে--*

*🌷হরি-নামপরা যে চ ঘোরে কলি যুগে নরাঃ।*
*🌷ত এব কৃত কৃত‍্যাশ্চ ন কলির্বাধতে হি তান্।।*
*🌷হরে কেশব গোবিন্দ বাসুদেব জগন্ময়।*
*🌷ইতীরয়ন্তি যে নিত‍্যং ন হি তান্ বাধতে কলিঃ।।*

*♻এই ঘোর কলিযুগে যে সব মানুষ হরিনাম-পরায়ণ হন তাঁরাই কৃতকৃত‍্য বা কর্তব‍্যকর্মে সফল।কলি তাদেরকে দুঃখ দিতে পারে না। হে জগন্ময়!হে হরে কেশব গোবিন্দ বাসুদেব ইত্যাদি নাম যাঁরা গ্রহণ করেন কলি তাঁদেরকে কোনভাবেই দুঃখ দিতে পারে না।*

*✳বিষ্ণু ধর্মোত্তরে পায়---*

*🌷যেহহর্নিশং জগৎধাতুর্বাসু দেবস‍্য কীর্তনম্।*
*🌷কুর্ব্বন্তি তান্ নরব‍্যাঘ্র ন কলির্বাধতে নরান্।।*

*🌺এতদ্বারা নামের পাপ-বিনাশিনী শক্তির প্রমাণ দিয়ে এক্ষণে বতর্মান পাপ-ফল ভোগাদি হতেও যে শ্রীনাম রক্ষা করেন,দুইটি শ্লোকে তার প্রমাণ দেওয়া হচ্ছে----*

*🔆নারকি-উদ্ধার----নৃসিংহ পুরাণে---*

*🌷যথা যথা হরের্নাম কীর্ত্তয়ন্তিস্ম নারকাঃ।*
*🌷তথা তথা হরৌ ভক্তি মুদবহন্তো দিবং যযুঃ।।*
*🛑এস্থলে নারকাঃ পদের অর্থ নরকবর্তী মানুষগুলি ; এবং "দিব"পদের অর্থ বিষ্ণুলোক ; স্বর্গ নহে।নরসিংহ পুরাণে এই নরকোদ্ধার প্রসঙ্গ বর্ণিত হয়েছে।ধর্মরাজের কাছে নারকীরা নাম-মাহাত্ম‍্য শুনেছিলেন এবং শ্রীনারদ তাঁদেরকে নাম কীর্তন-উপদেশ প্রদান করেছিলেন।তাঁর ফলে নারকীগণ নাম কীর্তন করতে করতে অত‍্যন্ত সুখ লাভ করে বৈকুন্ঠে গমন করেছিলেন।*
                   *🍀ক্রমাগত🍀*
🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙌🙏🙏🙏🙏🙏🙏
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 👉 ২. শ্রীশ্রীনাম-মাধুরী 🙇 শ্রীরসিকমোহন বিদ‍্যাভূষণ 🌷 দ্বিতীয় ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📝 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/02/name2.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(১৫)🐚শ্রীশ্রীনাম-মাধুরী🐚*
              *শ্রীশ্রীনামব্রহ্ম*
              *************

*🌻ইতিহাসোত্তমে=*

*🌷নরকে পচ‍্যমানানাং নরানাং পাপকর্ম্মাণাম্।*
*🌷মুক্তিঃ সঞ্জায়তে তস্মাৎ নাম সঙ্কীর্ত্তনাৎ হরেঃ।।*

*🌻নরকে পঁচে পঁচে মরছে পাপীরাও নাম কীর্তনে নরক হতে মুক্তিলাভ করেন। এস্থলে "তস্মাৎ" পদের অর্থ নরক হতে।*

*♻প্রারব্ধ বিনাশিত্ব,(প্রারব্ধ=পূর্ব জন্মার্জিত কর্মফল)।*

*🌹শ্রীনামের একটি অসাধারণ শক্তি। এই যে ইহাতে প্রারব্ধ-কর্ম -শক্তিও বিনষ্ট হয়ে যায়।যথা শ্রীভাগবতে ষষ্ঠ স্কন্ধে অজামিল উপাখ‍্যানে।*

*🌷নাতঃ পরং কর্মনিবন্ধকৃন্তনং,*
*🌷মুমুক্ষূণাং তীর্থপদানুকীর্তনাৎ,*
*🌷ন যৎ পুনঃ কর্মসু সজ্জতে মনঃ,*
*🌷রজস্তমোভ‍্যাং কলিলং ততোহন‍্যথা।*

*🌻তীর্থপদ শ্রীভগবানের নামানুকীর্তন ছাড়া অন‍্য কিছুই মুমুক্ষদের (মোক্ষলাভের ইচ্ছুকদের)কর্মনিবন্ধ কর্তনের উপায় নহে।নামকীর্তন ছাড়া অপরাপর (অন‍্যান‍্য)প্রায়শ্চিত্ত দ্বারা পাপের তেমন উপশম(শান্তি) হয় না।রজো ও তমোগুণের দ্বারা যে মন ময়লা হয়ে থাকে,তা এই নামকীর্তনের প্রভাবে পুনরায় কর্মে আসক্ত হয় না।*
*🍀আগে বলা হয়েছে শ্রীভগবানের নাম দুষ্প্রারব্ধ-নিবর্ত্তক।এই শ্লোক এবং আরও তিনটি শ্লোক দ্বারা এই সিদ্ধান্ত সংস্থাপিত হয়েছে।মূল শ্লোকে লিখিত আছে শ্রীভগবানের নামানুকীর্তন "কর্মনিবন্ধ-নিকৃন্তন"।কর্মনিবন্ধ-নিকৃন্তন পদে "অশেষ প্রারব্ধ কর্মচ্ছেদন" (পূর্ব জন্মার্জিত কর্মফলের মধ্যে যদি কুপ্রভাব বা চরম অপরাধ হয়ে থাকে তাহলে একমাত্র নামকীর্তনের মাধ‍্যমে তা ছেদন হয় )এই অর্থই উপলব্ধ হয়। তথাপি অখিল বা সমস্ত প্রারব্ধ-ক্ষয় এই অর্থে এখানে গৃহীত হতে পারে না।কেন না,নিখিল বা সমস্ত প্রারব্ধকর্মক্ষয়ে দেহপাত অবশ‍্যম্ভাবী। তাহলে ভগবদ্ ভক্তজন উপযোগী দেহের অভাবে ভগবদ্ভক্তজনও অসম্ভব হয়ে পড়ে। সুতরাং এস্থলে সেটির অর্থ দুষ্প্রারব্ধ ক্ষয়ই বুঝতে হবে।অতএব নাম শ্রুতি ভাষ‍্যে লিখিত আছে, কোন স্থরে কোন কোন উপাসকে প্রারব্ধ-কর্ম-নির্বতকত্ব উপাসকের ইচ্ছা বশতঃই হয়ে থাকে। (নিবর্তক=নিবারক),অন‍্যথা অজামিলাদির সম্বন্ধে বিরোধ ঘটে।অথবা এরকম অর্থও হতে পারে যে রোগাদি বিলাপন (রোগ হলে যে কষ্ট শোক) ও নারকী উদ্ধার পর্যন্ত যে সব প্রমাণ দেওয়া হয়েছে তাতে দুষ্প্রারব্ধ ক্ষয় পর্যন্ত লিখে এক্ষণে সর্বপ্রারব্ধ-ক্ষপন সম্বন্ধে লিখিত হচ্ছে --অশেষ প্রারব্ধ-ক্ষয়ে দেহপাত হলেও নাম-সংকীর্তন-প্রভাবে নিত‍্য প্রলয়াদির প্রণালী অনুসারে তখনও ভগবদ্ভক্তজনের জন্য তৎযোগ‍্য দেহান্তর প্রাপ্তি সংঘটিত হয়।কিংবা এমনও হতে পারে যে সদ‍্যজাত ভগবদ্ভক্তজনোচিত গুণ-বিশেষ-প্রাপ্তি দ্বারা পূর্ব দেহই নবীন ভাব প্রাপ্ত হয়।এরকম দৃষ্টান্তেরও অভাব নাই।যেমন শ্রীধ্রুবের পরম পদারোহণ-সময়ে নিজের পূর্বদেহই ভগবৎপার্ষদোচিত-দেহ-গুণযুক্ত হয়ে ভিন্নবৎ প্রতিভাত(উজ্জ্বলরূপে প্রকাশ) হয়েছিল।"বিভ্রৎ রূপং হিরণ্ময়ম্" এই স্থলে স্বামীপাদ এসম্বন্ধে অতি সুব‍্যাখ‍্যা করেছেন।অতঃপরে লিখিত আছে "সুরবৎ ভাসকো নরঃ" এই উক্তিও এস্থলে সুসঙ্গত।দেহের এইরকম পরিবর্তন সম্বন্ধে পাশ্চাত্ত‍্য বৈজ্ঞানিক প্রমাণ অনেক অনেক দেখা যায়।*
*🍀বহিঃ সুখ দুঃখজনকপ্রারব্ধ ক্ষীণ হলেও কারও কারও দেহাদিতে কিঞ্চিৎ বাহ‍্য সুখ দুঃখ দেখা যায়, সেটি কেবল ভক্তিমাহাত্ম‍্য-গোপনের জন্যই ভগবৎ কর্তৃক বা ভক্ত কর্তৃক আত্মগোপনেচ্ছা-জাত।*
*🍀ফলনোন্মুখ কর্মকেই প্রারব্ধ বলা হয়।এই প্রারব্ধ দুই প্রকার--,একপ্রকার--প্রারব্ধ বতর্মান দেহোপভোগ‍্য ; দুই, শরীরান্তরোপভোগ‍্য। যেমন শ্রীভরতের মৃগশরীর ধারণ।এ সম্বন্ধে শ্রীভাগবতে স্বয়ং বাদরায়ণই সিদ্ধান্ত করে লিখেছেন।ভরত স্বকীয় প্রারব্ধ-কর্ম-স্বরূপ মৃগদারক ব‍্যপদেশ-প্রভাবে প্রারব্ধ কর্ম মৃগশিশুরূপে তাঁর কাছে উপস্থিত হয়ে তাঁকে যোগপথ হতে বিভ্রষ্ট করেছিল। "নাতঃপরং" এই শ্লোকটি বতর্মান শরীরভোগ‍্য প্রারব্ধ নাশ করার উদাহরণ, কিন্তু শ্রীভগবানের নামের এমনই মহিমা যে সেটি কেবল বতর্মান শরীরভোগ‍্য প্রারব্ধের বিনাশক নহে,শরীরান্তরে অবশ‍্যভোগ‍্য প্রারব্ধেরও বিনাশক।শ্রীভগবানের নামে অশেষ প্রারব্ধ নষ্ট হয়। যথা শ্রীমদ্ভাগবতে দ্বাদশে---*
*🌷যন্নামধেয় ম্রিয়মাণ আতুরঃ,*
*🌷পতন্ স্মরন্ বা বিবশো গৃণন্ পুমান্,*
*🌷বিমুক্তকর্ম্মার্গল উত্তমাং গতিং,*
*🌷প্রাপ্নোতি যক্ষ‍্যন্তি ন তং কলৌ জনাঃ।*

*🌻এই কলিকালের এমনই মাহাত্ম্য যে পতনোন্মুখ আসন্নমৃত‍্যু আতুর অবশ ভাবেও যাঁর নাম কীর্তন করলে বা কোনরকমে যার নাম নিলে কর্মবন্ধন হতে মুক্তিলাভ করে অতি সদগতি লাভ করে, এই কলিযুগে জনগণ কি তাঁর অর্চনা করবে না? একটি শ্লোকে "কর্মনিবন্ধ" আর একটি শ্লোকে "কর্মার্গল" এই দুইটি পদ ব‍্যবহৃত হওয়ায় ঐ কর্ম যে অবশ‍্য ভোগ‍্য তাইই জানা যাচ্ছে।যে কর্ম অবশ‍্য ভোগ‍্য,তা প্রারব্ধ কর্ম।যেহেতু প্রারব্ধ কর্মছাড়া অন‍্যান‍্য কর্ম যে অবশ‍্য ভোগ করতে হবে এমন নিয়ম নাই।আগের শ্লোক দুইটি যে "নিবন্ধ" ও "অর্গল" শব্দের উল্লেখ আছে --তাদ্বারা উক্ত কর্ম,প্রারব্ধ কর্ম বলে নিরূপিত হয়েছে।*
🙌🙌🙌🙌🙌🙌🙏🙌🙌🙌🙌🙌🙌
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 👉 ২. শ্রীশ্রীনাম-মাধুরী 🙇 শ্রীরসিকমোহন বিদ‍্যাভূষণ 🌷 দ্বিতীয় ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📝 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/02/name2.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(১৬)🐚শ্রীশ্রীনাম-মাধুরী🐚*
              *শ্রীশ্রীনামব্রহ্ম*
              🐚🐚🐚🐚
*🌻শ্রীগোবিন্দ নাম উচ্চারণে প্রারব্ধও ক্ষয় হয়, যথা বৃহন্নারদীয় পুরাণে লেখা আছে------*

*🌷গোবিন্দেতি জপন্ জন্তুঃ প্রত‍্যহং নিয়তেন্দ্রিয়ঃ।*
*🌷সর্ব্বপাপবিনির্মুক্তঃ সুরবৎ ভাসতে নরঃ।।*

*♻সৎ-কর্মাদি বিহীন কীটবৎ অতি নীচ ব‍্যক্তিও যদি গোবিন্দ নাম জপ করে, তাহলে তাদৃশ (তেমন) জীবও নিরন্তর অশেষ দুষ্প্রারব্ধ হতে মুক্ত হয়ে সেই দেহে ইন্দ্রাদি দেবতা বিরাজ করে। এই শ্লোকে যে সুর পদের উল্লেখ আছে, সেটির এক অর্থ ইন্দ্রাদি।অন‍্য অর্থ এই যে "সু সুশোভিনং পদং রোতি দদাতি ইতি সুরং" অর্থ‍্যাৎ ভগবৎপার্ষদ। এই শ্লোকে যে পাপাশব্দের প্রয়োগ আছে,তা স্বর্গাদি ফলক পুণ‍্যকেও বুঝাবে।কেন না, পুণ‍্যের ফল ক্ষয়িষ্ণু বলে তাও পাপ বলেই গণ‍্য করা হয়েছে।অথবা এই শ্লোকে দুষ্প্রারব্ধ-মাত্র-বিনাশিত্বই উক্ত হয়েছে। তার ফলেই জীব এই দেহেই দেববৎ বিরাজ করতে সমর্থ হন।*
*🍀এইরূপে বিহিত-কার্য‍্য না করায় এবং নিষিদ্ধাচারণ করার যে সব পাপ জন্মে, শ্রীভগবানের নাম-প্রভাবে সে সবই উন্মুলিত হয়ে যায়।শ্রীনামের এতাদৃশ (এরকম) মাহাত্ম্য শাস্ত্রে লেখা হয়েছে। ফলে যে কোনরকমে ভগবদাশ্রয় করলেই এই সব পাপ বিনষ্ট হয়। কিন্তু ভগবানের কাছে ও তাঁর নামের কাছে যে অপরাধ করা হয়,তা মহাপাতক, অন‍্য কোন প্রায়শ্চিত্ত দ্বারাই সে মহাপাতকের বিনাশ হয় না। কিন্তু নাম কীর্তন দ্বারা নাম-অপরাধেরও ক্ষয় হয়। যথা শ্রীবিষ্ণুযামলে ভগবান বলছেন=*

*🌷মম নামানি লোকেহস্মিন্ শ্রদ্ধয়া যস্তু কীর্ত্তয়েৎ।*
*🌷তস‍্যাপরাধকোটীস্তু ক্ষমাম‍্যেব ন সংশয়ঃ।।*

*🌻এই সংসারে যিনি শ্রদ্ধা সহকারে আমার নাম-কীর্তন করেন,আমি তাঁর কোটি কোটি অপরাধ ক্ষমা করে থাকি সন্দেহ নাই।*

*🌹স্কন্দপুরাণে লেখা আছে।*

*🌷যস‍্য স্মৃত‍্যা চ নামোক্ত‍্য তপোযজ্ঞক্রিয়াদিষু।*
*🌷ন‍্যূনং সম্পূর্ণতা মেতি সদ‍্যো বন্দে তমচ‍্যুতম্।।*

*🌳যাকে স্মরণ করলে অথবা যাঁর নামোচ্চারণ করলে তপস‍্যা যজ্ঞ ও অন‍্যান‍্য ক্রিয়ার ন‍্যূনতা সদ‍্যই সম্পূর্ণতা লাভ করে আমি সেই অচ‍্যুতকে বন্দনা করি।*

*🛑বিষ্ণুধর্মোত্তরে শ্রীপ্রহ্লাদ বলছেন--*

*🌷ঋগ্ বেদো হি যজুর্ব্বেদঃ সামবেদোহপ‍্যথর্ব্বণঃ।*
*🌷অধীতা স্তেন যেনোক্তং হরিরিত‍্যক্ষরদ্বয়ম।।*

*🌻হরি এই দুইটি অক্ষর উচ্চারণ করলেই সর্ববেদ পাঠজনিত ফল লাভ হয়, সুতরাং হরি নাম উচ্চারণ যে বেদপাঠ অপেক্ষাও অনেক বেশী ফলজনক ইহাই শাস্ত্রকারগণের সিদ্ধান্ত।*
🪷🪷🪷🪷🪷🪷🌷🪷🪷🪷🪷🪷🪷
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 👉 ২. শ্রীশ্রীনাম-মাধুরী 🙇 শ্রীরসিকমোহন বিদ‍্যাভূষণ 🌷 দ্বিতীয় ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📝 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/02/name2.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(১৭)🐚শ্রীশ্রীনাম-মাধুরী🐚*
              *শ্রীশ্রীনামব্রহ্ম*
             ^^^^^^^^^^^^^
*🍀স্কন্দ পুরাণে শ্রীপার্বতী বলছেন=*

*🌷মা ঋচো মা যজুস্তাত মা সাম পঠ কিঞ্চন।*
*🌷গোবিন্দেতি হরের্নাম গেয়ং গায়স্ব নিত‍্যশঃ।।*

*🌻তুমি ঋক্ যজু বা সামবেদ ইহার কিছুই পাঠ করিও না, কেবল শ্রীহরির গোবিন্দ নাম নিত‍্য কীর্তন কর।*

*🌹এই প্রমাণে স্পষ্টতই বেদাদি পাঠের নিষেধ ও সেইস্থলে কেবল গোবিন্দ নাম কীর্তনের উপদেশ করা হয়েছে। সুতরাং গোবিন্দনাম কীর্তন যে বেদাদি পাঠ হতেও অনেকবেশী ফল জনক,তাতে আর সন্দেহ রইল না।*

*🛑পদ্ম পুরাণে শ্রীরামাষ্টোত্তর শতনাম স্তোত্রে লিখিত আছে।*

*🌷বিষ্ণোরেকৈকনামাপি সর্বাবেদাধিকং মতম্।*
*🌷তাদৃক্ নাম সহস্রেণ রাম নাম সমং স্মৃতম্।।*

*🌸বিষ্ণুর এক একটি নাম সর্ববেদাধিক রূপে গণ‍্য, আবার এক রামনাম তেমনি সহস্র নামের তুল‍্য।*

*☘সর্বতীর্থাধিকত্ব-- স্কান্দে---*

*🌷কুরুক্ষেত্রেণ কিং তস‍্য কিং কাশ‍্যা পুষ্করেণ বা।*
*🌷জিহ্বাগ্রে বর্ত্ততে যস‍্য হরিরিত‍্যক্ষরদ্বয়ম্।।*

*🌲যদি জিহ্বাগ্রে হরি এই দুই অক্ষর সর্বদা বতর্মান থাকে, তবে কুরুক্ষেত্র,কাশী ও পুষ্করাদি তীর্থকি প্রয়োজন?*

*🌷তীর্থ-কোটি-সহস্রাণি তীর্থকোটি-শতানি চ।*
*🌷তানি সর্বাণ‍্যবাপ্নোতি বিষ্ণোর্নামানুকীর্তনাৎ।।*
                     *(বামন পুরাণে)*

*🍁বিষ্ণুনাম কীর্তনে কোটি কোটি তীর্থ ফল অপেক্ষাও বেশী ফললাভ হয়।*

*🔆বিশ্বামিত্র সংহিতায়=*

*🌷বিশ্রুতানি বহুন‍্যেব তীর্থানি বিবিধানি চ।*
*🌷কোট‍্যংশেনাপি তুল‍্যানি নাম কীর্তনতো হরেঃ।।*

*🍀কোটি কোটি তীর্থ আছেন। কিন্তু নামের তুলনায় তাদের ফল কোটি ভাগের একভাগও না।*

*💐লঘুভাগবতে----*

*🌷কিং তাত বেদাগম শাস্ত্র-বিস্তরৈ,*
*🌷স্তীর্থে রনেকৈরপি কিং প্রয়োজনম্।*
*🌷যদ‍্যাত্মানো বাঞ্জসি মুক্তি-কারণম্,*
*🌷গোবিন্দ গোবিন্দ ইতি স্ফুটং রট।।*
*🌹হে বৎস!বেদ আগম ও অন‍্যান‍্য শাস্ত্রবিস্তারে এবং অনেকানেক তীর্থ গুলিরই বা প্রয়োজন কি?যদি নিজের মুক্তি নিদান আকাঙ্ক্ষা কর,তাহলে হে গোবিন্দ হে গোবিন্দ স্পষ্টরূপে এই নাম উচ্চারণ কর।*

*🌷গো-কোটিদানং গ্রহণে খগস‍্য,*
*🌷প্রয়াগ-গঙ্গোদক-কল্পবাসঃ।*
*🌷যজ্ঞাযুতং মেরু-সুবর্ণ দানং,*
*🌷 গোবিন্দকীর্ত্তে র্ন সমং শতাংশৈঃ।।*

*🌻সূর্য‍্যগ্রহণ সময়ে কোটি গো-দান, প্রয়াগে গঙ্গাতীরে কল্পকাল বাস, সুমেরু সমান সোনা-দান, ইহার কিছুই গোবিন্দ নাম কীর্তনের শতাংশের একাংশ তুল‍্যও না।*
🙌🙌🙌🙌🙌🙌🙌🙌🙌🙌🙌🙌🙌🙌
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 👉 ২. শ্রীশ্রীনাম-মাধুরী 🙇 শ্রীরসিকমোহন বিদ‍্যাভূষণ 🌷 দ্বিতীয় ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📝 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/02/name2.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(১৮)🐚শ্রীশ্রীনাম--মাধুরী🐚*
               *শ্রীশ্রীনামব্রহ্ম*

*🌹বৌধায়ন সংহিতায়------*

*🌷ইষ্টাপূর্ত্তানি কর্ম্মাণি সুবহুনি কৃতান‍্যপি।*
*🌷ভব-হেতুনি তান‍্যেব হরের্নাম তু মুক্তিদম্।।*

*🌻বহু বহু ইষ্টপূর্তকর্ম (অগ্নিহোত্র,তপস‍্যা,সত‍্যনিষ্ঠা, বেদাজ্ঞাপালন আতিথ‍্য, বিশ্বদেবগণের উদ্দেশ্যে যজ্ঞানুষ্ঠান প্রভৃতিকে ইষ্টকর্ম বলে।বাপী (বড় দিঘী বা পুকুর),কূপ,তড়াগাদি জলাশয় উৎসর্গ দেবমন্দির প্রতিষ্ঠা,অন্নদান ও উপবনাদি (মানুষের দ্বারা রোপিত তরুলতায় পূর্ণ কৃত্রিম বন)উৎসর্গ প্রভৃতি কাজকে পূর্ত্ত বলা হয় )।ইষ্টপূর্ত্তকর্ম অনুষ্ঠিত হলেও, ওরা সংসার বন্ধনেরই হেতু হয়ে থাকে, কিন্তু একমাত্র হরিনামই মুক্তিপ্রদ।*

*🌹গারুড়ে শ্রীশৌণক অম্বরিষ সংবাদে*

*🌷বাজপেয়-সহস্রানাং নিত‍্যং ফলমভীস্পসি।*
*🌷প্রাতরুত্থায় ভূপাল কুরু গোবিন্দ-কীর্তনম্।।*

*🌻হে ভূপাল! যদি প্রত‍িদিন হাজার বাজপেয় যজ্ঞের ফল অভিলাষ কর,তা হলে সকালবেলা গাত্রোত্থান পূর্বক বা শয‍্যা ত‍্যাগ করে, গোবিন্দ নাম কীর্তন করিও।*

*🌷কিং করিষ‍্যতি সাংখ‍্যেন কিং যোগৈর্নর-নায়ক।*
*🌷মুক্তি মিচ্ছসি রাজেন্দ্র কুরু গোবিন্দ-কীর্তনম্।।*

*🌻হে রাজেন্দ্র! আত্মানাত্ম-বিবেক-প্রদর্শক সাংখ‍্য-জ্ঞানে কি ফল হবে, অষ্টাঙ্গ যোগেই বা কি ফল হবে,যদি মুক্তি ইচ্ছা কর,তবে গোবিন্দ নাম কীর্তন কর।*

*🌹শ্রীভাগবতের তৃতীয় স্কন্ধে কপিলদেবের প্রতি দেবাহূতি বলছেন-- (অত্রি-সংহিতা ৪৩,৪৪ শ্লোক)।*

*🌷ইষ্টাপূর্ত্ত-- অগ্নিহোত্র বা তপঃ সত‍্যং বেদানাংশ্চৈব পালনম্।*
*🌷আতিথ‍্যং বৈশ্বদেবঞ্চ ইষ্টমিত‍্যভিধীয়তে।।*
*🌷বাপী কূপ-তড়াগাদি দেবতারতনানি চ।*
*🌷অন্ন-প্রদান-মারাম পূর্ত্তমিত‍্যভিধীয়তে।।*

*🌻অগ্নিহোত্র,তপস‍্যা,সত‍্যনিষ্ঠা, বেদাজ্ঞাপালন আতিথ‍্য, বিশ্বদেগণের উদ্দেশ্যে যজ্ঞানুষ্ঠান প্রভৃতিকে ইষ্টকর্ম বলে। বড় দিঘী,কূপ, বড় বড় জলাশয়, উৎসর্গ দেবমন্দির প্রতিষ্ঠা, অন্নদান ও উপবনাদি উৎসর্গ প্রভৃতি কাজকে পূর্ত্ত বলা হয়।*

*🌷অহো বত শ্বপচোহতো গরীয়ান্,*
*🌷যজ্জিহ্বাগ্রে বর্ত্ততে নাম তুভ‍্যং।*
*🌷তেপুস্তপস্তে জুহুবুঃ সস্নূরার্য‍্যা,*
*🌷ব্রহ্মানূচুর্নাম গৃহ্নতি যে তে।।*

*🌻যারা শ্রদ্ধাদিরহিত হয়েও যে কোন প্রকারেই হোক, তোমার নাম উচ্চারণ করে,নামাভাস রূপে অসম‍্যক্ রূপেও যদি উচ্চারণ করে,সে যদি জাতিতে কুকুরমাংসভোজী চন্ডালও হয়,তবুও তোমার নাম গ্রহণ ফলে সে শ্রেষ্ঠ বলেই পরিকীর্তিত।যাঁরা তোমার নাম গ্রহণ করেন,তাঁরা সম‍্যক্ তপস‍্যার ফল লাভ করেন।তাঁরা আর্য‍্য অর্থ‍্যাৎ সদাচার সম্পন্ন।তাঁরা অনচু অর্থ‍্যাৎ সদ্ গুরুর কাছে সমগ্র বেদ অধ‍্যয়ন করার ফল লাভ করেন।অর্থ‍্যাৎ সব রকমের সৎকর্মই শ্রীনামকীর্তনের অন্তর্ভুত।এতে এই সিদ্ধান্ত হল যে,যাঁরা নামকীর্তন পরায়ণ,তাঁরা জন্মান্তরে সব পুণ‍্য কর্মই সম্পন্ন করেছেন।*

*🌹স্কান্দে ব্রহ্ম নারদ সংবাদে চাতুমাস‍্য মাহাত্ম্যে-----*

*🌷এতৎ ষড়বর্গ-হরণং রিপু-নিগ্রহণং পরম্।*
*🌷অধ‍্যাত্মমূলমেতদ্ধি বিষ্ণোর্নামানুকীর্তনম্।।*

*🌻শ্রীবিষ্ণুর এই শ্রীনাম-কীর্তন, কামক্রোধাদি ষড়্ বর্গের বিনাশক, রিপু নিগ্রহে নিপুণ এবং আত্মতত্ত্ব লাভের নিদান।*
🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙌🙏🙏🙏🙏🙏🙏
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 👉 ২. শ্রীশ্রীনাম-মাধুরী 🙇 শ্রীরসিকমোহন বিদ‍্যাভূষণ 🌷 দ্বিতীয় ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📝 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/02/name2.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(১৯)🐚শ্রীশ্রীনাম--মাধুরী🐚*
                *শ্রীশ্রীনামব্রহ্ম*

*🌹বিষ্ণুধর্মোত্তরে লেখা আছে--*

*🌷হৃদিকৃত্বা তথা কামমভীষ্টং দ্বিজ-পুঙ্গব।*
*🌷একং নাম জপেদষন্তু শতং কামানবাপ্ন য়াৎ।।*

*🌻হে দ্বিজপুঙ্গবগণ! হে দ্বিজ শ্রেষ্ঠগণ! যে ব‍্যক্তি হৃদয়ে কোনও অভীষ্ট কামনা করে ভগবানের একটি নাম জপ করেন,তাঁর শত-কামনা পূর্ণ হয়ে থাকে।*

*🌹তত্রৈব শ্রীকৃষ্ণমঙ্গল স্তোত্রে--*

*🌷সর্বমঙ্গল-মঙ্গল‍্য মায়ুষ‍্যং ব‍্যাধিনাশনম্।*
*🌷ভুক্তি-মুক্তি-প্রদং দিব‍্যং বাসুদেবস‍্য কীর্তনম্।।*

*🌻শ্রীকৃষ্ণের নাম কীর্তন সর্বপ্রকার মঙ্গল হয়, পরমায়ুবৃদ্ধি,ব‍্যাধিবিনাশন, ভুক্তি-মুক্তি-লাভ ও বৈকুন্ঠ প্রাপ্তি হয়ে থাকে।*

*🌹শ্রীনারায়ণ ব‍্যূহ স্তবে-----*

*🌷পরিহাসোপহাসাদ‍্যৈ র্বিষ্ণো র্গৃহ্নন্তি নাম যে।*
*🌷কৃতার্থা স্তেহপি মনুজা স্তেভ‍্যোহপীহ নমোনমঃ।।*

*🌻পরিহাস ও তিরস্কার ছলেও যাদের মুখে শ্রীকৃষ্ণনাম উচ্চারিত হয়,তাঁরাও কৃতার্থ হন ; তাঁদেরকে নমস্কার।*

*🌷তে ধন‍্যাস্তে কৃতার্থাশ্চ তৈরেব সুকৃতং কৃতম্।*
*🌷তৈরা_ং জন্মনঃ প্রাপ‍্যং যে কালে কীর্তয়ন্তি মাম্।।*
                                *(বারাহে)*

*🌻যাঁরা স্নানাদি সময়ে আমার নামকীর্তন করেন,তাঁরা কৃতার্থ ও ধন‍্য।আবার কাল শব্দের পরিবর্তে অকাল পাঠান্তরে "অশৌচাদি সময়ে" এই অর্থ হবে। অর্থ‍্যাৎ অশৌচাদি সময়েও নামকীর্তন ফলজনক। বিশেষতঃ কলিযুগে----------*

*🌷ষকৃদুচ্চারন্ত‍্যেতদ্ দুর্ল্লভঞ্চাকৃতাত্মনাম্।*
*🌷কলৌযুগে হরের্নাম তে কৃতার্থাঃ ন সংশয়ঃ।।*

*🌻এই কলিকালে পাপীদের দুর্লব এই হরিনাম যাঁরা একবার মাত্রও উচ্চারণ করেন তাঁরা কৃতার্থ হন।*
*🌹শ্রীমদ্ভাগবতে একাদশে পাই--*

*🌷কলিং সভাজয়ন্ত‍্যার্য‍্যাঃ গুণজ্ঞাঃ সারভাগিনঃ।*
*🌷যত্র সঙ্কীর্ত্তনেনৈব সর্বস্বার্থোহপি লভ‍্যতে।।*

*🌻গুণজ্ঞ বা গুণীজন, সারগ্রাহী বা গূঢ় তাৎপর্য‍্য উপলব্ধি করতে সমর্থ, আর্য‍্যগণ কলিকে সম্মান করেন,কেন না, এই কলিকালে কেবল নাম সঙ্কীর্তন দ্বারাই সর্বস্বার্থ লাভ হয়।*

*🌹স্কান্দে, ব্রহ্ম নারদ সংবাদে--*

*🌷তথাচৈবোত্তমং লোকে তপঃ শ্রীহরি-কীর্তনম্।*
*🌷কলৌযুগে বিশেষণে বিষ্ণু প্রীত‍্যৈ সমাচরেৎ।।*

*🌻সংসারে হরিনাম-সংকীর্তনই উৎকৃষ্ট তপস‍্যা,অতএব শ্রীবিষ্ণুর প্রীতির জন্য বিশেষভাবে হরিনাম করা কর্তব‍্য।*

*🌹সর্বশক্তিমত্ত্ব------ *(স্কান্দে)*

*🌷দানব্রত তপস্তীর্থ ক্ষেত্রাদীণাঞ্চ যাঃ স্থিতাঃ।*
*🌷শক্তয়ো দেবমহতাং সর্বপাপহরা শুভাঃ।।*
*🌷রাজসূয়াশ্বমেধানাং জ্ঞানস‍্যাধ‍্যাত্মবস্তুনঃ।*
*🌷আকৃষ‍্য হরিণা সর্বাঃ স্থাপিতাঃ স্বেষু নামসু।।*
*🌷বাতোহপ‍্যতো হরের্নাম উগ্রাণামপি দুঃসহঃ।*
*🌷সর্বেষাং পাপরাশীনাং যথৈব তমসাং রবিঃ।।*

*🌹অতএব ব্রহ্মান্ডে-----*

*🌷সর্বার্থশক্তিযুক্তস‍্য দেবদেবস‍্য চক্রিণঃ।*
*🌷যচ্চভিরুচিতং নাম তৎসর্বার্থেষু যোজয়েৎ।।*

*🌻দান ব্রত তপস‍্যা ও তীর্থযাত্রা প্রভৃতি দ্বারা যে সব পাপ দূরীভূত হয়, দেবতা ও সাধুসেবায় যে সব পাপ ক্ষালন হয়, অশ্বমেধ যজ্ঞানুষ্ঠান ও অন‍্যান‍্য আত্ম-বস্তু লাভে যে সব পাপ বিনষ্ট হয়,মঙ্গল-বিধাতা বিষ্ণু সেই সব মঙ্গল-দায়িনী শক্তি আকর্ষণ করে আপনার নামগুলি প্রতিষ্ঠিত করেছেন।সূর্য‍্য যেমন তমোরাশি বা অন্ধকার বিনাশ করে থাকেন,সেইরকম ভগবানের নামরূপ বায়ু যথা কথঞ্চিৎ সামান্য পাপ হতে অতি ভয়ানক পাপও বিদূরিত করে থাকে।*
*🌻সর্বার্থশক্তি-সম্পন্ন দেব-দেব চক্রপাণির যে নাম অভিপ্রেত বা অভীষ্ট,সব প্রয়োজন-সিদ্ধির জন্য সেই নামই কীর্তন করবে।এতে বুঝতে হবে যে ভগবানের প্রত‍্যেক নামেই সর্বার্থ সিদ্ধির শক্তি আছে।*
🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 👉 ২. শ্রীশ্রীনাম-মাধুরী 🙇 শ্রীরসিকমোহন বিদ‍্যাভূষণ 🌷 দ্বিতীয় ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📝 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/02/name2.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(২০)🐚শ্রীশ্রীনাম-মাধুরী🐚*
               *শ্রীশ্রীনামব্রহ্ম*

*🌹জগদানন্দকত্ব, ভাগবতগীতা--*

*🌷স্থানে হৃষীকেশ তব প্রকীর্ত্ত‍্যা,*
*🌷জগৎ প্রহৃষ‍্যত‍্যনুরজ‍্যতে চ।*
*🌷রক্ষাং সি ভীতানি দিশো দ্রবন্তি,*
*🌷সর্বে নমস‍্যন্তি চ সিদ্ধসংঘাঃ।।*

*🌻হে হৃষিকেশ!আপনার নাম কীর্তন দ্বারা কেবল যে আমি আনন্দ অনুভব করছি এমন না,আপনার নামে সমস্ত সংসার যে অনুরাগী বা আসক্ত ও সন্তুষ্ট হয় তা যুক্তিযুক্তই বটে।*

*🌹জগৎ বন্দ‍্যতাপাদকত্ব,বৃহন্নারদীয়ে-*

*🌷নারায়ণ জগন্নাথ বাসুদেব জনার্দন।*
*🌷ইতীরয়ন্তী যে নিত‍্যং তে বৈ সর্বত্র বন্দিতাঃ।।*
*🌷স্বপন্ ভুঞ্জন্ ব্রজন্ স্তিষ্ঠন্নু ত্তিষ্ঠংশ্চ বদং স্তথা।*
*🌷যে বদন্তি হরের্নাম তেভ‍্যো নিত‍্যং নমোনমঃ।।*

*🌻শ্রীনারায়ণ-ব‍্যূহ-স্তবে----*

*🌷স্ত্রী শূদ্রঃ পুক্বশোবাপি যে চান‍্যে পাপযোনয়ঃ।*
*🌷কীর্ত্তয়ন্তি হরিং ভক্ত‍্যা তেভ‍্যোহপি চ নমোনমঃ।।*

*🌻স্ত্রী, শূদ্র, পুক্কশ বা চন্ডাল অথবা পাপ যোনিজাত ব‍্যক্তিগণও যদি ভক্তি পূর্বক হরিনাম গ্রহণ করেন, তবে তাঁদের প্রতিও ভূয়োভূয় নমস্কার।*

*🌹অগতির একমাত্র গতিত্ব, পাদ্মে বৃহৎ সহস্রনাম-কথারম্ভে----*

*🌷অনন‍্যগতয়ো মর্ত্ত‍্যা ভোগিনোহপি পরন্তপাঃ।*
*🌷জ্ঞানবৈরাগ‍্যরহিতা ব্রহ্মচর্য‍্যাদিবর্জ্জিতাঃ।।*
*🌷সর্বধর্মোজঝিতা বিষ্ণো র্নামমাত্রৈকজল্পকাঃ।*
*🌷সুখেন যাং গতি যান্তি ন তাং সর্বেহপি ধার্মিকাঃ।।*

*🌻যারা অনন‍্যগতি অর্থ‍্যাৎ অত‍্যন্ত পাপজাতিত্ব নিবন্ধন (কারণ) যাদের কর্মে কোনও অধিকার নাই,যারা নিয়ত (সবসময়) বিষয়ভোগী,পরপীড়াদায়ক (অন‍্যকে কষ্ট দেয়) জ্ঞান-বৈরাগ‍্য বর্জিত, ব্রহ্মচর্য‍্যশূন‍্য এবং সর্বধর্মত‍্যাগী,তারাও যদি নিরন্তর বা সবসময় বিষ্ণুনাম জপ করে,তাহলে অনায়াসে ধর্মনিষ্ঠদের মত দুর্লভগতি লাভ করতে পারে।*

*🌹সদা-সর্বত্র সেব‍্যত্ব, বিষ্ণুধর্মে ক্ষত্রবন্ধু উপাখ‍্যানে----*

*🌷ন দেশনিয়মস্তস্মিন্ ন কাল নিয়মস্তথা।*
*🌷নোচ্ছিষ্টাদৌ নিষেধোহস্তি শ্রীহরের্নাম্নি লুব্ধক।।*

*🌻হে লুব্ধক!(ব‍্যাধ), শ্রীহরির নাম কীর্তনের বিষয়ে দেশ ও কালের নিয়ম নাই এবং উচ্ছিষ্টমুখেও নাম গ্রহণের নিষেধ নাই।*
🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🔜 ক্রমাগত 👉 শ্রীশ্রীনাম-মাধুরী 🙇 শ্রীরসিকমোহন বিদ‍্যাভূষণ 🌷 তৃতীয় ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📝 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/03/name3.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

    📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝
    ꧁👇📖 সূচীপত্র ✍️ শ্রী জয়দেব দাঁ 📖👇



✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧


✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

   ✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️ 
নিবাস- বাঁশবাড়ী, কীর্তন মন্দিরের পাশে, পোঃ- বাঁশবাড়ী, থানা- ইংরেজ বাজার, জেলা- মালদহ, পশ্চিমবঙ্গ, পিন কোড- ৭৩২১০১।

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

  *••••┉❀꧁👇🏠Home Page🏠👇꧂❀┅••••* 


✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

    *••••━❀꧁👇 📖 সূচীপত্র 📖 👇꧂❀┅••••* 



✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

     *••••━❀꧁👇📚 PDF গ্রন্থ 📚👇꧂❀┅••••* 


✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
    *••••┉━❀꧁ 🙏 রাধে রাধে 🙏 ꧂❀━┅••••* 
                   শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য প্রভু নিত্যানন্দ
              হরে কৃষ্ণ হরে রাম শ্রীরাধেগোবিন্দ।।
  *••••┉━❀꧁ 🙏 জয় জগন্নাথ 🙏 ꧂❀━┅••••*
              হরে কৃষ্ণ হরে কৃষ্ণ কৃষ্ণ কৃষ্ণ হরে হরে
              হরে রাম হরে রাম রাম রাম হরে হরে॥
  *••••┉━❀꧁ 🙏 জয় রাধাকান্ত 🙏 ꧂ ❀━┅••••*
   🌷❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀🌷
   🏵️❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀🏵️
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧







পদাবলী কীর্তনের ইতিহাস 🌷 প্রথম ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📝 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/02/podaboli.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 👉 পদাবলী কীর্তনের ইতিহাস 🌷 প্রথম ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📝 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/02/podaboli.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(০১)পদাবলী কীর্তনের ইতিহাস*

*🍀আমি আমার মত সহজ সরল ভাষায় লিপিবদ্ধ করছি, যাতে সকলের বোধগম্য হয়।আমার মনে হয় এই পদাবলী কীর্তনেই পরিপূর্ণ ভাবে ভজন-সাধন রয়েছে।আমি অন‍্যান‍্য কথায় যাব না, মূল বিষয়টি এখানে তুলে ধরিব।*
*পদাবলী কীর্তনের সাহিত‍্য,দর্শনতত্ত্ব, প্রাণতত্ত্ব,বস্তুতত্ত্ব,পালাগান ও পালা বিভাগ ও তাদের পিছনে মনোবিজ্ঞানিকী নীতি,রাগ,তাল, ছন্দ, আখর বৈশিষ্ট্য বিষয়বস্তুর আলোচনা স্থান পাবে।*
*পদাবলীকীর্তন শুধুই ভারতের নয়,সমগ্র বিশ্বের সঙ্গীত-জগতে একটি অনবদ‍্য ও অনন‍্যসাধারণ দান।কীর্তনের সাহিত‍্যসম্পদ তথা পদের রসায়িত ব্রজবুলি ভাষা ও ছন্দায়িত রচনা বিশ্বের সমাজে অননুকরণীয়।রস,ভাব ও ছন্দের তা ত্রিবেণীধারা।পদাবলীকীর্তন বাঙালীমাত্রের ও ভারতের সঙ্গীত-সাধকমাত্রেরই আদরের বস্তু।দক্ষিণ-ভারতে ও মহারাষ্ট্রে ভক্তিভাবনিষ্ণাত পদকীর্তনের প্রচলন থাকলেও শ্রীচৈতন‍্যদেবের পরবর্তীকালে গৌড়ীয়-বৈষ্ণবাচার্য‍্যগণ প্রতিপাদিত বৈষ্ণবদর্শনতত্ত্বের সহযোগে বাংলাদেশে বৈষ্ণব-পদাবলীকীর্তনের রূপ,বিশেষ শৈলী ও বিকাশ অননুকরণীয় ভাবে আত্মপ্রকাশ করেছে--,যার তুলনা বিশ্বের ইতিহাসে মেলে না।উত্তর-ভারতীয় সঙ্গীতপদ্ধতিতে তালের যে বিকাশ,কিংবা দক্ষিণ ভারতের সঙ্গীতপদ্ধতিতে বিচিত্র তালের যে অনুশীলন এখনও বতর্মান আছে,বাংলার বৈষ্ণব-পদাবলীকীর্তনে তালের বিকাশ তাদের চেয়ে অনেক বেশী ও বৈশিষ্ট্যপূর্ণ।বাংলার পদাবলীকীর্তন "ক্ল‍্যাসিক‍াল" সঙ্গীতপদ্ধতির অন‍্যতম। প্রাণবান ও রসায়িত এই সঙ্গীত।দুঃখের বিষয়,অভিজাত ক্ল‍্যাসিকাল সঙ্গীতের যাঁরা ধারক ও সাধক,তাঁদের দৃষ্টি এখনও বাংলার এই নিজস্ব সম্পদ ও সংস্কৃতির প্রতি সেইভাবে আকৃষ্ট নয়।এ সবের বেলায় দক্ষিণভারতের সঙ্গীতজ্ঞানী ও সঙ্গীত-শিল্পীদের জাতীয় সম্পদ ও নিজস্ব অবদানের প্রতি শ্রদ্ধাশীল দৃষ্টির নিদর্শনের আমরা প্রশংসা করি।রসানুভূতিই সঙ্গীতের প্রাণবস্তু। বাংলার পদাবলীকীর্তনে অনবদ‍্য ও অপার্থিব রসের আস্বাদন সহজেই পাওয়া যায় এবং তারই জন্য বৈষ্ণবশিরোমণি ঠাকুর নরোত্তমদাস পদাবলীকীর্তনকে "রসকীর্তন" আখ‍্যা দিয়েছিলেন।তাছাড়া অসাম্প্রদায়িক উদারতা সর্বজনসমাদৃত হলেও বিশ্বের প্রতিটি জাতি তাঁর সাহিত‍্যবোধ ও জাতীয় সমৃদ্ধিরূপ শিল্প ও সংস্কৃতির প্রতি একান্ত নিষ্ঠাকে নিয়েই বিশ্বের দরবারে গৌরব ও সমাদরের আসন লাভ করে, জাতীয়তাকে ও জাতীয় শিল্প-সংস্কৃতিকে অবমাননা কিংবা অনাদর করে তা পাওয়া যায় না।তাই ভারতের ও বিশেষ করে বাংলার ঐতিহ্যবাহী শিল্পসম্পদের প্রতি যথাযোগ্য সম্মান রেখে সংস্কৃতিসেবি মনিষীরা বাংলার পদাবলীকীর্তনের মান ও মাধুর্য‍্যকে অক্ষুণ্ণ রাখবেন আশা করি।*
 *🙏আমি অতি অধম, কেবলমাত্র এই পদাবলীকীর্তনকে খুবই মনে প্রাণে আস্বাদন করবার ইচ্ছে করি, দুর্ভাগ্য আমার, সেই আশা হতে বঞ্চিত হচ্ছি।আশা করব আগামীতে যেন এই পদাবলীকীর্তন পদকর্তার লিপিবদ্ধ পদের উপর পরিবেশন হইলে ভীষণ আনন্দ পাব।*
      *🙏শ্রীজয়দেব দাঁ*
                *মালদা*
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 👉 পদাবলী কীর্তনের ইতিহাস 🌷 প্রথম ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📝 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/02/podaboli.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(০২)পদাবলী কীর্তনের ইতিহাস*
          °°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°

*🍀বৈষ্ণব-পদাবলীকীর্তন নদীমাতৃকা সুজলা সুফলা বাংলাদেশের হৃদয় তন্ত্রীর সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। বাংলার পদাবলীকীর্তন বাঙ্গালীজাতির রসভাব-সম্পৃক্ত হৃদয়াবেগ ও নিবিড় অন্তরানুভূতির বহিঃপ্রকাশ মাত্র।রসভাবসমৃদ্ধ ব্রজবুলিভাষা যেদিন বাংলার বৈষ্ণব-পদাবলীসাহিত‍্যের সরল সাবলীল বহিরাবরণ বা অলঙ্করণ সৃষ্টি ক'রে ভাববিদগ্ধ প্রেরণা বৃহত্তর বাংলার জনগণের অন্তরে সচল প্রবাহ এনে দিয়েছিল, শাস্ত্রীয় রাগ,তাল ও বিচিত্র ছন্দের সম্ভার নিয়ে ব্রজের পরমনায়ক ও পরমনায়িকা শ্রীকৃষ্ণ ও শ্রীরাধিকার অপার্থিব মধুর চরিত্র বাঙ্গালীজাতির চিত্তকে যেদিন মথিত ও উদ্বেলিত করেছিল ও বাংলার প্রেমের অবতার সর্বভাবঘনমূর্তি শ্রীচৈতন‍্যের নামকীর্তন বাংলাদেশের আবালবৃদ্ধবনিতার মনকে যেদিন রসাস্বাদনে নিবিষ্ট ক'রে ধূলিধূসরিত পৃথিবীর বহুউর্দ্ধে শাশ্বত আনন্দলোকে বিধৃত করেছিল, ঠিক সেইদিন হতেই স্বর্গীয় পদাবলীকীর্তনের প্রাণপ্রতিষ্ঠা হয়েছিল,সাহিত‍্য ও সঙ্গীতরসপিয়াসী বাঙ্গালীজাতির অন্তরাজ‍্যে ও দিব‍্যভাবের সাধনা ও লীলাক্ষেত্র রচিত হয়েছিল এই বাংলাদেশের শ‍্যামল বক্ষে।শ্রীকৃষ্ণ ও শ্রীরাধার নানান আখ‍্যান ও প্রেমলীলার কাহিনী খ্রীষ্ট্রীয় শতকের সূচনা থেকেই প্রাকৃত লৌকিক সাহিত‍্য ও সঙ্গীতের সামগ্রীকে নিয়ে দক্ষিণদেশের আলবার বা আড়বার বৈষ্ণব সম্প্রদায়ের ও পশ্চিমবঙ্গের জায়গায় জায়গায় ভক্তিভাবসম্পৃক্ত অনুন্নত ও অশিক্ষিত বাঙ্গালীজাতির সমাজেও যে বিকাশলাভ করেছিল তার প্রমাণের অভাব নাই।*
*শ্রদ্ধেয় শ্রীযতীন্দ্র রামানুজদাস 'আড়বার' ও 'সহস্রপদাবলী' গ্রন্থে সংগৃহীত এবং কলকাতা বিশ্ববিদ‍্যালয়ের রবীন্দ্র অধ‍্যাপক ডাক্তার শ্রীআশুতোষ ভট্টাচার্য্য কর্তৃক রচিত সুবৃহৎ "বঙ্গীয় লোকসঙ্গীত-রত্নাকর"-গ্রন্থে সংকলিত গানগুলির মধ্যে সময় বা রচনাকালের যথেষ্ট পার্থক্য থাকলেও বাংলাদেশে অভিজাত রাগ ও তাল-সমন্বিত গান যে বৈষ্ণব-পদাবলীকীর্তনের সৃষ্টি ও বিকাশের বহুপূর্বেই বতর্মান ছিল তা আধুনিক ঐতিহাসিক গবেষকদের অনুসারে খ্রীষ্ট্রীয় ১ম থেকে ৫ম শতকে দক্ষিণদেশীয় আড়বার সম্প্রদায়ের সৃষ্টি "দিব‍্যপ্রবন্ধ" এবং পশ্চিমবঙ্গের পুরুলিয়া,ঝাড়গ্রাম, বাঁশপাহাড়ী, মেদিনীপুর, মুর্শিদাবাদ প্রভৃতি স্থানে সংগৃহীত ঝুমুরগানগুলির গঠনশৈলী ও প্রকাশভঙ্গী লক্ষ্য করলেই বুঝা যায়। ডাক্তার আশুতোষ ভট্টাচার্য্য মহাশয়ের প্রত‍্যক্ষ অভিজ্ঞতা ও পরিশ্রমের দানস্বরূপ 'লোকসঙ্গীত-রত্নাকর' গ্রন্থের দ্বিতীয় খন্ড থেকে উদ্ধৃত ক'রে বলি, "কালক্রমে 'শ্রীকৃষ্ণকীর্তন' এর লৌকিক ধারাটি বৈষ্ণব-পদাবলী দ্বারাও প্রভাবিত হয়েছে, কিন্তু তা সত্ত্বেও বৈষ্ণবপদাবলীর ধারার মধ্যে এটি সম্পূর্ণ বিলীন হয়ে যেতে পারে নাই।(নিবেদন)।*
                          *ক্রমাগত*
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 👉 পদাবলী কীর্তনের ইতিহাস 🌷 প্রথম ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📝 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/02/podaboli.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(০৩)পদাবলী কীর্তনের ইতিহাস* 
          •••••••••••••••••••••••••••••••
*"লৌকিক প্রেমসঙ্গীত একদিন প্রচলিত ছিল,তাতে বৈষ্ণবধর্মের প্রভাব বিস্তারিত হবার ফলে রাধাকৃষ্ণের নাম গিয়ে প্রবেশ করেছিল।"।"মহাজন-পদাবলী রচনার অনুকরণে এক শ্রেণীর লৌকিক পদাবলী রচিত হয়েছিল,তাও ঝুমুর নামেই সাধারণভাবে পরিচিত ছিল। আদিবাসীর সঙ্গীতের নাম ঝুমুর। কিন্তু রাধাকৃষ্ণের বিষয়ক লৌকিক পদাবলীর সঙ্গে আদিবাসীর ঝুমুর অন্তর ও বহির্মুখী নানা পার্থক্য সৃষ্টি হওয়া সত্ত্বেও তা ঝুমুর বলেই পরিচয় লাভ করিল।ক্রমে দেখতে পাওয়া গেল,বৈষ্ণব-মহাজন-পদাবলী রচনার যে একটি বিশিষ্ট রীতি গড়ে উঠেছিল,এতেও বাইরের দিক হতে সেই রীতিকে অনুসরণ করা হচ্ছে।" "এই ভাবে এই অঞ্চলে রাধাকৃষ্ণ বিষয়ক এক নূতন পদাবলী-সাহিত‍্য গড়ে উঠিল।" এটি বৈষ্ণব-পদাবলীর যথার্থ উত্তরাধিকারী না ☆ ☆ বৈষ্ণবপদাবলীতে যে ব্রজবুলিভাষা ব‍্যবহৃত হয়েছে,এতে তা ব‍্যবহৃত হয়নি।পরিশেষে ডাক্তার ভট্টাচার্য্য লিখেছেন, "কিন্তু স্মরণ রাখতে হবে, বৈষ্ণব-রসশাস্ত্র অনুযায়ী ইহা রচিত হয়নি, সুতরাং গৌরচন্দ্রিকা,পূর্বরাগ,অনুরাগ বলতে বৈষ্ণবরসশাস্ত্র যা বুঝিয়েছে,এতে তার সন্ধান পাওয়া যাবে না।*
*কিন্তু সে যাইহোক, বাঁশপাহাড়ী (মেদিনীপুর) থেকে সংগৃহীত গৌরচন্দ্রিকায়---*
*🌷এসো গৌর হে,গৌর হে,গৌর হে,*
            *তোমার ভাই নিতাইকে,*
   *সঙ্গে লইয়া একবার এসো হে।*
*ইত‍্যাদি গানেরও উল্লেখ পাওয়া যায়।তাছাড়া "বংশীখন্ড", 'শ্রীরাধার পূর্বরাগ', 'শ্রীরাধার অনুরাগ', "বাসকসজ্জা", 'খন্ডিতা', শীর্ষক ঝুমুরগানেরও উল্লেখ দেখা যায়। ঠিক সেভাবেই শ্রদ্ধেয় শ্রীযতীন্দ্র রামানুজদাস দক্ষিণদেশীয় (South Indian) বৈষ্ণব-সাধকসম্প্রদায় "আড়বার"-দের গানযুক্ত 'সহস্র-পদাবলী' নামে যে সংগ্রহগ্রন্থ প্রকাশ করেছেন তার পরিশেষেও "অভিসারোৎকন্ঠা", "অভিসারিকা", "মান", 'কলহান্তরিতা', "গোষ্ঠকালীন বিরহ" প্রভৃতি পালাগান এবং মায়ুর,বরাড়ি,বিহগড়া,বেহাগ, মল্লার প্রভৃতি শাস্ত্রীয় রাগ এবং ডাঁসপেড়ে,জপতাল,কাটাদশকুশী,একতাল,ছুটা প্রভৃতি শাস্ত্রীয় কীর্তনাঙ্গ তালের সমাবেশ দেখা যায়।অবশ‍্য এ'ধরণের রাগ ও তাল সমাবেশের পূর্বাপরসম্পর্ক (পূর্বাপর=আগাগোড়া)উভয় গীতশ্রেণীর (বাংলার বৈষ্ণবপদাবলী ও দক্ষিণদেশীয় আড়বারদের ভক্তিপদাবলীর) মধ্যে কতটুকু ও কিভাবে আছে তা নির্ণয়সাপেক্ষ।তবে সব বাদানুবাদ ও পরীক্ষা নিরীক্ষার কথা ছেড়ে দিলেও উভয় দেশের শ্রীকৃষ্ণলীলা কাহিনীর মধ্যে ভাব,রস ও মাধুর্য‍্য-উপলব্ধির নিদর্শনের অভাব নাই।*
*পরিশেষে একথা সত‍্য যে, বাংলার বৈষ্ণবপদাবলীকীর্তন কেবলই রসমাধুর্য‍্যপূর্ণ ছন্দায়িত রাগ ও তালের এবং সঙ্গে সঙ্গে কীর্তনগানের সামগ্রিক আঙ্গিকের সমাবেশপূর্ণ শ্রীকৃষ্ণ ও শ্রীরাধার অপার্থিব প্রেমলীলা ও প্রেমাস্বাদনের রূপায়ণই সব-কিছু নয়, পরন্তু এই পদকীর্তন সাহিত‍্য,ছন্দ,রাগ,তাল,রস ও ভাবসম্পদের সমাবেশের সঙ্গে গৌড়ীয় মহাজন ও বৈষ্ণবাচার্য‍্যগণের রচিত গান বা কীর্তন যে অধ‍্যাত্ম-সাধনা ও রসানুভূতির অপূর্ব অবদান একথা স্বীকার করতেই হবে।*
*সেজন‍্য কীর্তনপদাবলীর অপার্থিব শ্রীকৃষ্ণ ও শ্রীরাধার বিচিত্র লীলাচরিত্রের সঙ্গে সঙ্গে সেই লীলাচরিত্রকে সাধক-হৃদয়ের নিবিড় অন্তর অনুভূতি দিয়ে গ্রহণ করতে হবে, সুতরাং গ্রহণ করার কাহিনীকেও গৌড়ীয় বৈষ্ণব-প্রেমসাধনা ও বৈষ্ণবদর্শনতত্ত্বের মধ‍্য দিয়ে পদাবলীর ইতিহাসের পৃষ্ঠায় পরিস্ফূট করার সার্থকতা অবশ্যই থাকবে।মোটকথা বাংলার বৈষ্ণবপদাবলীকীর্তনের রস ও ভাবধারার সঙ্গে সঙ্গে বৈষ্ণবসাধক মরমিয়া মহাজনগণের ও পদকর্তাদের প্রেম নিবিড় জীবনানুভূতির দিব‍্যস্পর্শই পদাবলীকীর্তনের ইতিহাসকে সার্থক ক'রে তুলবে,কেন না,পরমরসস্বরূপ শ্রীকৃষ্ণ-ভগবানেরই নিবিড় অনুভূতির প্রতিছায়া বা প্রতিধ্বনিমাত্র এই পদাবলীকীর্তন।সব আঙ্গিক, সাহিত‍্য,লীলাকাহিনী এবং রাগ ও তালের সমাবেশ ইহবাহ‍্য,প্রেম অনুভূতি ও কীর্তনের রস অনুভূতিই পদাবলীকীর্তনের প্রাণকেন্দ্র ও ইহসর্বস্ব, সুতরাং কীর্তনের ইতিহাসের পাতায় সে সব সাক্ষ‍্যই বাংলার সরস ও প্রেম নিবিড় মরমী অন্তরের পরিচয় দান করবে।*
     *পূর্বাভাস এখানেই রইল।*
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 👉 পদাবলী কীর্তনের ইতিহাস 🌷 প্রথম ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📝 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/02/podaboli.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(০৪)পদাবলী কীর্তনের ইতিহাস*
            *কীর্তনগানের প্রসঙ্গে*
       ♻♻♻♻♻♻♻♻
*🍀বাংলাদেশের নিজস্ব সম্পদ পদাবলীকীর্তন ভারতীয় অভিজাত বা ক্ল‍্যাসিক‍্যাল সঙ্গীতধারার এক অবিভক্ত রূপ।এর গীতরীতি,সাহিত‍্য ও সুরবিকাশের পেছনে ক্রমবিকাশ ও ঐতিহাসিক অভিব‍্যক্তির ধারা কিভাবে লীলায়িত তা সঙ্গীত-অনুসন্ধান করবার বিষয়। বিভিন্ন শ্রেণীর পদের সংগ্রহগ্রন্থের অসচ্ছ্বলতা নেই,প্রতিটি পদের সঙ্গে সাহিত্য,সুর,তাল ও ছন্দের সমাবেশ সুস্পষ্ট এবং সেই সমাবেশের মধ্যে তাদের পারস্পরিক সঙ্গতিও লক্ষ্য করার বিষয়। বর্তমানে বিচিত্র শৈলীর কীর্তনগান তাদের পূর্ববিকাশভঙ্গী থেকে কিছুটা বিচ্ছিন্ন একথা যদি ধরে নেওয়া যায়, তাহলেও আসল কীর্তনগীতিরূপের বিলাস ও সমাদর বাংলার সমাজে আজও অব‍্যাহত আছে এবং চিরদিন থাকবে বলে বিশ্বাস করি।তবে সাধারণে তো বটেই,পন্ডিতসমাজেও ঐতিহাসিক পটভূমিকায় কীর্তনকে আলোচনা ক'রে দেখার আগ্রহের এখনো অভাব আছে বলে মনে করি। কেননা,সেভাবে আলোচনার আগ্রহ অব‍্যাহত বা অবাধ থাকলে সঙ্গীত-সমীক্ষকগণের সমাজে আজ কীর্তন কোন জাতির বা কোন শ্রেণীর,অভিজাত--কি দেশী এ'ধরণের সন্দেহের অবকাশ কোনভাবেই থাকত না।*
*পদাবলীকীর্তন বাংলাদেশের নিজস্ব সম্পদ, কিন্তু ভারতের বিভিন্ন অঞ্চলের ধর্মস্থান ও দেবায়নগুলিকে (দেবতাদের মন্দির গুলিকে) কেন্দ্র করে ভক্তিরসাত্মক "কীর্ত্তি"-গাঁথারূপ কীর্তনগানের প্রচলন এখনো অবাধ রয়েছে। বাংলাদেশের কীর্তনের বিষয়বস্তু রাধাকৃষ্ণলীলা কথা বা কাহিনীর অনুরূপ ঐ সব কীর্তনগানের সাহিত্যও রসভাব সমৃদ্ধ।উৎকলে বা উড়িষ‍্যায়, মহারাষ্ট্রে, রাজস্থানে,মধ‍্যভারতের বিভিন্ন অঞ্চলে ও দক্ষিণভারতে কীর্তনগানের যথেষ্ট প্রচলন আছে।তবে বাংলাদেশের বৈষ্ণব-পদকীর্তন বা পদাবলীকীর্তনের ধারা ভারতের অন‍্যান‍্য অঞ্চলের কীর্তনগান থেকে বেশী স্বতন্ত্র।মণিপুরে নৃত‍্যছন্দের সঙ্গে কীর্তনের প্রচলন আছে এবং তার সাহিত্যসম্পদও রাধাকৃষ্ণ লীলা মাধুর্য‍্যে রসায়িত। অনেকের অভিমতে,মণিপুরীকীর্তনের শৈলী (রচনা ধারা)ও উপাদান অনেক পরিমাণে ঋণী বাংলার ঠাকুর নরোত্তমদাসের কাছে, এবং তা অসম্ভবও নয়,এজন‍্য যে,তখন বৃহত্তরবঙ্গের চতুঃসীমা ছিল অখণ্ড বাংলা,বিহার,উড়িষ‍্যা ও সমগ্র আসাম ও তিব্বত (হিমালয়ের উত্তরস্থ সিন্ধুনদের উৎপত্তিস্থল হতে চীন সীমা এবং হিমালয় হতে গৌরীপ্রান্তর পর্যন্ত বিস্তৃত পার্বত‍্য দেশ। ইহার রাজধানী "লাহসা" পৃথিবীর মধ্যে সর্বোচ্চ নগর। প্রসিদ্ধ মানস সরোবর ইহার সীমান্তর্গত)।নিয়ে বিস্তৃত। কিন্তু একথা সত‍্য যে, বতর্মান রীতির মণিপুরীকীর্তন ঠাকুর নরোত্তম-প্রবর্তিত রীতি ও রূপ থেকে সম্পূর্ণ আলাদা।তবে সব দেশের কীর্তনের আবেদন যে সমান ও সর্বজনীন একথা সত‍্য।*
*বৈষ্ণব-পদাবলীকে সাধারণভাবে বলে গীতিকবিতা, কিন্তু তার অর্থ এই নয় যে, বৈষ্ণব-কবিতাকে সুরে ছড়ার মত করে আবৃত্তি করে হয়।পদাবলী আসলে গান,গীতি বা সঙ্গীত।তাছাড়া পদের মুখ‍্য অর্থই গান।খ্রীষ্ট্রীয় দ্বিতীয় শতকে রচিত "ভরতের" নাট‍্যশাস্ত্রে "পদ"-শব্দে গান বা গীতিকেই লক্ষ্য করা হয়েছে।*

*খ্রীষ্টপূর্ব চারশো-দুশো শতকের মহাকাব‍্য রামায়ণ,মহাভারত ও হরিবংশে এবং এমনকি খ্রীষ্ট্রীয় শতকের প্রথম ভাগের পঞ্চরাত্রসংহিতা ও পুরাণ-সাহিত‍্যগুলিতে গান বা গীতির দ‍্যোতক (প্রকাশক) 'পদ'-শব্দের ব‍্যবহার দেখা যায়।রামায়ণে (বালখন্ড,৪র্থ সর্গ) "বিচিত্রার্থপদং সম‍্যগ্ গায়কৌ সমচোদয়‍ৎ" বা "অবগায়তাং মার্গবিধানসংপদা" শ্লোকাংশে "পদ-শব্দে গানকে বুঝিয়েছে।রামায়ণে পাঠ‍্য ও গান্ধর্ব-শব্দ-দু'টিও গান বা গীতি অর্থে ব‍্যবহৃত হয়েছে।"পাঠ‍্যে চ মধুবম্" (১|৪|৮), "তৌ তু গান্ধর্বতত্ত্বজ্ঞৌ"(১|৪|১০)। নাট‍্যশাস্ত্রে নিবদ্ধ ও অনিবদ্ধ কিংবা সতাল ও অতাল পদগুলি গান বা গীতি অর্থেই ব‍্যবহৃত। যেমন---*
*🌷যৎকিঞ্চিদক্ষরকৃতং তৎসর্বং পদসংজ্ঞিতম্।*
*🌷নিবদ্ধঞ্চানিবদ্ধঞ্চ তৎপদং দ্বিবিধং স্মৃতম্।।*
*🌷অতালঞ্চ সতালঞ্চ দ্বিপ্রকারঞ্চ তদ্ভবেৎ।*
*🌷অতালমণিবদ্ধঞ্চ পদং তু জ্ঞেয়মেব চ।।*
        *(নাট‍্যশাস্ত্র (কাশী সং)৩২|২৬-২৮)*
*🌻অথবা=======*
*🌷গান্ধবং যন্ময়া প্রোক্তং স্বরতালপদাত্মকম্।*
*🌷পদং তস‍্য ভবেদ্বস্তুঃস্বরতালানুভাবকম্।।*
                                     *(ঐ, ৩২|২৪)*
*🌹তাছাড়া আচার্য‍্য ভরত নাট‍্যশাস্ত্রের ২৮ অধ‍্যায়ে (কাশী সং) "গান্ধর্বমিতিবিজ্ঞেয় স্বরতালপদাশ্রয়ম্"১, ও "গান্ধর্বং ত্রিবিধং বিদ‍্যাৎ স্বরতালপদাত্মকম্"২, শ্লোকাংশ দুটিতেও গীতির অবয়ব বা গীতি অর্থে গ্রন্থকার "পদ" শব্দ ব‍্যবহার করেছেন।স্বর,তাল ও পদ এই তিন রকম আকারে ভরত গান্ধর্বগানের প্রকাশ ও অনুশীলন স্বীকার করেছে ও তারই জন্য তিনি বলেছেন, "গান্ধর্বং ত্রিবিধং বিদ‍্যাৎ" যদিও পদের বিশ্লেষণ করতে গিয়ে তিনি পুনরায় বলেছেন, "ব‍্যঞ্জনানি স্বরাবর্ণাঃ। "ছন্দে বৃত্তানি জাত‍্যশ্চ নিত‍্যং পদগতাত্মকাঃ"।*
*🍀অনেকে ভরত-উক্তি "স্বরতালপদাশ্রয়ম্" শ্লোকাংশের 'পদ' শব্দকে ছন্দায়িত নৃত্যের প্রতিফলন বলেন। কিন্তু 'পদ' অর্থে নৃত্য না বুঝানোই সঙ্গত।আর যদিই বা 'পদ' অর্থে লাক্ষণিকভাবে 'নৃত‍্য' শব্দ বুঝায়, তাহলেও নৃত্য ত্রৌর্যত্রিক (গীত,বাদ‍্য ও নৃত্য ) সঙ্গীতেরই অবিভক্ত বা অপরিহার্য‍্য অংশ, সুতরাং 'পদ' শব্দ গীতের অনুবর্তী বা গীতির অবয়ব অথবা গানেরই দ‍্যোতক বা প্রকাশক।কবি কালিদাসের (খ্রীষ্ট্রীয় ১ম-৪র্থ শতক) কাব‍্য ও নাটক-গ্রন্থগুলির অনেক জায়গায় "পদ" শব্দে গান,গীতি বা সঙ্গীত অর্থে ব‍্যবহৃত দেখা যায়।মেঘদূতে (উত্তরমেঘ ৯১ শ্লোক) বিয়োগবিধুরা যক্ষপত্নী যখন বীণার তন্ত্রীতে গোত্রাঙ্কিত মূর্ছনার প্রয়োগ ক'রে আলাপ করতে উদ‍্যতা তখন সেই অভিচারিক(হিংসা করে ক্ষতি) প্রয়োগ নিষ্ফল হয়েছিল তাঁর চোখের জলে বীণার তন্ত্রী সিক্ত হ'য়ে।কালিদাস বীণা শব্দের প্রসঙ্গেই "পদ" শব্দ ব‍্যবহার করেছেন এবং তা গান,সুর বা সঙ্গীতের প্রকাশক।*

*টীকাকার মল্লিনাথও সেকথা স্বীকার করেছেন। মেঘদূতে কালিদাসের বর্ণনা এই---*
*🌷উৎসঙ্গে বা মলিনবসনে সৌম‍্য নিক্ষিপ‍্য বীণাং,*
*🌷মদ্ গোত্রাঙ্কং বিরচিতপদং গেয়মুদগাতুকামা।*
°°°°°°°°°°°°°°°°°°°
*🌷তন্ত্রীরার্দ্রা নয়ন-সলিলৈঃ সারয়িত্বা কথংচি---,*
*🌷দ্ভুয়ো ভূয়ঃ স্বয়মধিকৃতাং মূর্ছানাং বিস্মরয়ন্তী।।*
*🌻মল্লিনাথ টীকায় প্রকাশ করেছেন যে, গন্ধর্বকুলসম্ভূতা যক্ষপত্নী গান্ধারগ্রামের প্রয়োগরহস‍্য অবগত ছিলেন বা জানতেন।'বিরচিতপদং' শব্দের বিশ্লেষণ করে তাই তিনি বলেছেন, "বিরচিতানি পদানি যস‍্য তত্তথোক্তং গেয়ং গানার্হং প্রবন্ধাদি।☆☆☆☆ দেবযোনত্বাদগান্ধারগ্রামেণ গাতুকামেত‍্যর্থঃ "। তাছাড়া অন‍্যত্র কালিদাস "পদ" শব্দ গান বা গীতির উদ্দেশ্যে ব‍্যবহার করেছেন। "ত্বামুৎকন্ঠাবিরচিতপদম্"।মল্লিনাথ টীকায় "পদ" অর্থে বলেছেন "প্রবন্ধ" (প্রবন্ধ বা প্রবন্ধগান অর্থে অঙ্গনিবদ্ধ গান।সিংহভূপাল বলেছেন, "চতুর্ভির্ধাতুভিঃ ষড়্ ভিশ্চাঙ্গৈর্যস্মাৎপ্রবধ‍্যতে তস্মাৎপ্রবন্ধ কথিতো গীতলক্ষণকোবিদৈঃ)।*
*প্রবন্ধ বা প্রবন্ধগান বা গান। খ্রীষ্ট্রীয় অষ্টম-নবম শতকের রচিত নাথগীতি গাথা-প্রবন্ধগানের নিদর্শন।"আর্যা গাথাদ্বিপথকঃ" (শার্ঙ্গদেব রচিত সঙ্গীতরত্নাকর ৪|২৬ এবং ৪|২৩৩)। শার্ঙ্গদেব সূঢ়,আলি বা আলিসংশয় ও বিপ্রকীর্ণ এই তিন প্রকার প্রবন্ধের মধ্যে বর্ণ,বর্ণস্বর ও তাল প্রভৃতি ভেদে আলি বা আলিসংশয় প্রবন্ধগানের রূপ চব্বিশ রকম বলেছেন, "বর্ণাদয়স্তালার্ণবান্তাশ্চতুর্বিংশতি"। (সিংহ ভূপালের টীকা দ্রষ্টব‍্য।আসলে চর্যা "পদ" নয়--গান, এবং গান ও পদ সমানার্থক নয়।তবে সঙ্গীতে পদ গান অর্থেও ব‍্যবহৃত হয় )। সুতরাং মীননাথ, গোরক্ষনাথ প্রভৃতি যোগীসাধক-রচিত নাথগীতি অভিজাত প্রবন্ধগানেরই রূপ।*
*বাংলাসাহিত‍্যে পদাবলী প্রসঙ্গে আমরা দুইরকম ধারার সন্ধান পাই।একটি আধ‍্যাত্মগীতি ও অন‍্যটি নাথগীতি।নাথগীতির পর বজ্রযানি বৌদ্ধচর্যাপদগুলি আধ‍্যাত্মগীতির নিদর্শন।সঙ্গীতরত্নাকরে শার্ঙ্গদেব বলেছেন, "অধ‍্যাত্মগোচরা চর্যা" (৪|২৯২)। নাথগীতির কিছুটা নিদর্শন পাই কবি জয়দেফের অষ্টপদীপ্রবন্ধে বা গীতগোবিন্দগানে।*

*পরবর্তী রাগাত্মিক গান,বাউল এবং কর্তাভজাদের গানও অধ‍্যাত্মশ্রেণীর।দাশরথি রায়ের পাঁচালী,গোবিন্দ অধিকারীর যাত্রা এবং মধুসূদন কিন্নর বা মধুকানের ঢপ্ কীর্তন পদাবলীকীর্তনভাঙ্গা, কাহিনীমূলক নাটগানের নিদর্শন হলেও সেগুলি ভক্তিরসাত্মক রাধাকৃষ্ণ-লীলাগান ছাড়া অন‍্য কিছু নয়, সুতরাং আধ‍্যাত্মগীতিশ্রেণীর অন্তর্গত। খ্রীষ্ট্রীয় ১১শ-১২শ থেকে ১৮শ-১৯ শতকে রচিত এ ধরণের বিচিত্র শ্রেণীর বাংলাগানকে অধ‍্যাত্মগীতির পর্যায়ভুক্ত করা অসঙ্গত নয়।*
🦚🦚🦚🦚🦚🦚🦚🦚🦚🦚🦚🦚🦚
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 👉 পদাবলী কীর্তনের ইতিহাস 🌷 প্রথম ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📝 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/02/podaboli.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(০৫)পদাবলী কীর্তনের ইতিহাস*
           *পদ---------পদাবলী*
         ◆◆◆◆◆◆◆◆◆
*🍀"পদ"শব্দে গান বা গীতিকবিতা বুঝায় কিনা এ প্রসঙ্গে ডঃ সুকুমার সেন বলেন, "বৈষ্ণব-গীতিকবিতাকে এখন 'পদ' বলা হয়।এই অর্থ অষ্টাদশ শতকের আগে প্রচলিত হয়নি।আগে 'পদ'বলতে দুই ছত্রের গান অথবা গানের দুই ছত্র বুঝাইত। চৈতন‍্যভাগবত ও চৈতন‍্যচরিতামৃত প্রভৃতিতে "তথাহি পদম্" বলে সাধারণত দুই ছত্র উদ্ধৃত হয়েছে। (ডাক্তার সেন "বাংলা সাহিত‍্যের ইতিহাস " প্রথম খন্ড,১৩৪৭ সাল, পৃষ্ঠা ২৭৮)। সঙ্গীত-রত্নাকরে শার্ঙ্গদেব (১৩শ শতকের প্রথমার্ধ)"পদ" শব্দকে অন‍্য অর্থে ব‍্যবহার করেছেন।তিনি বলেছেন,অর্থপ্রকাশক শব্দ-বিশেষের নামও "পদ" হতে পারে। "তাতাহন‍্যদ্বাচকং পদম্" (রত্নাকর ৪|১৬)। টীকাকার মল্লিনাথ ঐ প্রসঙ্গে বলেছেন, "অর্থপ্রকাশকং পদম্" অর্থ‍্যাৎ যা অর্থ প্রকাশ করে তাই পদ। কিন্তু শার্ঙ্গদেব ও মল্লিনাথ বা সঙ্গীত-রত্নাকরের অন‍‍্যান‍্য টীকাকাররা এই "পদ" শব্দের অর্থ-বিশ্লেষণ করেছেন রত্নাকরের প্রবন্ধ (রচনা) তথা প্রবন্ধগানের অধ‍্যায়ে।প্রবন্ধে ছয়টি অঙ্গের মধ্যে "পদ" একটি অঙ্গ। সুতরাং "পদ" শব্দ বা অঙ্গ সেখানে গানের প্রকৃতি-নির্দেশক, সুতরাং গানাঙ্গ তথা গান একথায় বুঝা যায়।*
*🍀'পদাবলী' শব্দ প্রসঙ্গেও ডঃ সুকুমার সেন বলেছেন,'পদাবলী'-শব্দটির প্রথম ব‍্যবহার পাই শ্রীজয়দেব গোস্বামীর "গীতগোবিন্দে--,"মধুরকোমলকান্তপদাবলীং শৃণু তদা জয়দেবসরস্বতীম্"। (শ্রদ্ধেয় হরিচরণ বন্দ‍্যোপাধ‍্যায়-সংকলিত "বঙ্গীয়-শব্দকোষ" (শান্তিনিকেতন থেকে প্রকাশিত,১৩৫১ সাল) গ্রন্থেও পদাবলী প্রসঙ্গে গীতগোবিন্দের এই শ্লোকাংশটি উদ্ধৃত হয়েছে।পৃষ্ঠা=১৭৩৪)। পরে যখন "পদাবলী" শব্দের অর্থ দাঁড়াল গীতিকবিতার সমষ্টি, তার আগে "পদ" শব্দের অর্থ পরিবর্তন ঘটেছে। বৈষ্ণব-গীতা-কবিদের অধিকাংশই "মহাজন" বা "মহান্ত" (অর্থ‍্যাৎ সাধু-পুরুষ বা গুরু) ছিলেন।এইজন‍্য অষ্টাদশ শতকের শেষভাগ হতে বৈষ্ণব-গীতিকবিতা "মহাজন-পদাবলী নামে খ‍্যাত হয়।(বাংলা-সাহিত‍্যের ইতিহাস,প্রথম খন্ড,পৃঃ ১৭৮)।*

*পদাবলী-সাহিত‍্যের মধ্যে বৈষ্ণব-পদাবলীকে চার ভাগে বিভক্ত করা হয়েছে ; *(১)রাধাকৃষ্ণ-পদাবলী, *(২)গৌর-পদাবলী, *(৩)ভজন-পদাবলী, *(৪)রাগাত্মিক-পদাবলী। সুতরাং "পদাবলী" শব্দটর বিশেষভাবে প্রচলন হয় সম্ভবত চর্যাপদগীতির কিছু পরে খ্রীষ্টীয় ৯ম-১২শ শতকে।ডঃ দীনেশ চন্দ্র সেন মোট ১৫৪ জন মহাজনের (পদকর্তার) নাম উল্লেখ করেছেন।তাঁদের মধ্যে এগার জন মুসলমান কবি ও তিনজন মহিলা কবি।এই ১৫৪ জন হিন্দু পদকর্তা মহাজনদের মধ্যে বড়ু চন্ডীদাস,বিদ‍্যাপতি,লোচনদাস, গোবিন্দদাস,জ্ঞানদাস,বলরামদাস, যদুনন্দন দাস,যদুনন্দন চক্রবর্তী, প্রেমদাস,বসন্ত রায়,রায় রামানন্দ,রায় শেখর,বাসুদেব ঘোষ,শশিশেখর প্রভৃতি আছেন।এখন বাংলা সাহিত‍্যের ক্রমবিকাশের দিক থেকে "পদ" শব্দে হয়ত দশম-এগার শতকেও couplet অর্থ‍্যাৎ গানের মাত্র দুটি ছত্র (লাইন) বুঝাতে ও তা গীতি বা গানের বোধক হয়েছিল সম্ভবত খ্রীষ্টীয় ১২ শতকের গোড়ার দিকে এবং তখনই ঠিক পরিপূর্ণ ভাবে "পদ" শব্দে গীতিকবিতা ও গানকে বোঝাত। কিন্তু আমরা আগেই আলোচনা করেছি যে,খ্রীষ্টীয় দ্বিতীয় শতকে নাট‍্যশাস্ত্রকার ভরত "পদ" শব্দে গীতি বা গানকে বুঝিয়েছেন (যদিও অবশ‍্য গীতি ও গান এই শব্দ-দুটির মধ্যে কিছু অর্থগত পার্থক্য আছে )।অভিনবগুপ্ত নাট্রশাস্ত্রের "অভিনবভারতী" টীকায় 'পদ' অর্থে গানকে লক্ষ্য করেছেন।প্রাচীন সংস্কৃত কাব‍্য ও নাটকগুলিতে 'পদ' শব্দে অধিকাংশ জায়গায় গানকে বুঝিয়েছে। সুতরাং প্রাচীন ধারার অনুবর্তনকারী বাংলার সাহিত‍্যিক ও কাব‍্যরচয়িতারা অন্তত নবম-দ্বাদশ শতকের চর্যাপদগুলিকে 'গীতি'পর্য‍্যায়েরই অন্তর্ভুক্ত করেছেন বলে মনে হয় হয়।হতে পারে যে,বাংলাসাহিত‍্যের গতি ও রূপায়ণভঙ্গি প্রাচীন সংস্কৃত নাটক,কাব‍্য ও সাহিত‍্যগুলির রচনাশৈলী ও প্রকৃতি থেকে বেশ একটু আলাদা এবং তারই জন্য দশম-একাদশ শতকের অথবা তারও পূর্ববতী বাংলাসাহিত‍্যের রচয়িতারা নতূনতার স্রষ্টা ও পথিকৃৎ হিসাবে পুরোপুরি ভাবে প্রাচীনতার অনুসরণ করেননি। কিন্তু ইতিহাসের পরিপ্রেক্ষণে বিচার করলে একথা অবশ‍্যই স্বীকার করতে হয় যে, 'পদ' শব্দের সাঙ্গীতিক ইঙ্গিত আগে একবার ভারতীয় সাহিত‍্যে,কাব‍্যে বা নাটকে প্রচলিত হয়ে থাকলে পরে তার অনুসরণ হওয়াই স্বাভাবিক ও যুক্তিসঙ্গত।তবে বাংলার সাহিত‍্যরচনার দৃষ্টি,সাহিত‍্যচিন্তা ও সাহিত‍্য-মন যে কিছুটা বৈশিষ্ট্যাবগাহী হবে না তা আমাদের বক্তব‍্য নয়।*
                 *ক্রমাগত*
🔷 🔷 🔷
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 👉 পদাবলী কীর্তনের ইতিহাস 🌷 প্রথম ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📝 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/02/podaboli.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(০৬)পদাবলী কীর্তনের ইতিহাস*
                *পদ--পদাবলী*

*🍀একথা স্বীকার করতেই হবে যে,নবম--দ্বাদশ শতকে চর্যাপদরচনা পদসাহিত‍্যের জগতে এক যুগান্তর সৃষ্টি করেছিল।বাংলাসাহিত‍্য বিকাশের তা চলমান যুগ।প্রাচীন বাংলায় সংস্কৃত সাহিত‍্যেরও অল্পতা ছিল না। বাংলাভাষার রূপসজ্জায় স্মৃতিসংহিতা, পুরাণ,তন্ত্র,রামায়ণ,মহাভারত ও ভাগবতের বাংলা সংস্করণের সঙ্গে সঙ্গে তাদের বাংলা অনুবাদগ্রন্থ, অলঙ্কারশাস্ত্র, সঙ্গীতশাস্ত্র প্রভৃতি ছাড়াও সন্ধ‍্যাকর নন্দীর "রামচরিত" বা রামপালচরিত, গোবর্দ্ধন আচার্য‍্য-রচিত "আর্যাসপ্তশতী" ও শ্রীধর দাসের "সদুক্তিকর্ণামৃত" প্রভৃতির নাম উল্লেখযোগ্য। হাল-রচিত "গাথাসপ্তশতী" খ্রীষ্টীয় প্রথম বা প্রথম-দ্বিতীয় শতকের গ্রন্থ। ন‍্যায়াচার্য ও বেদান্তবিদদের রচিত ন‍্যায়দর্শন ও বেদান্তদর্শনের গ্রন্থ যেমন একদিকে প্রাচীন সাহিত্য ও দর্শনরীতিকে সমৃদ্ধ করেছিল,তেমনি অন‍্যদিকে নব‍্য-সাহিত‍্য ও দর্শন-আলোচনা বাংলার সাংস্কৃতিক চেতনাকে সমৃদ্ধ করেছিল।গুপ্ত ও পালযুগে বৌদ্ধসাহিত‍্য ও বৌদ্ধধর্মের প্লাবন ও বিস্তৃতি বাংলার সংস্কৃতি-প্রতিভায়,শিক্ষায়,ধর্মে ও অধ‍্যাত্ম-জীবনে এক নতূন উজ্জীবন ও আলোড়ন সৃষ্টি করেছিল।একথা সত‍্য যে, গৌতম-বুদ্ধের পরিনির্বাণের অনেক পরে বিভিন্ন বৌদ্ধধর্মমত ও সাধনধারার সৃষ্টি হয়েছিল বুদ্ধ-জীবন ও বুদ্ধবাণীকে কেন্দ্র ক'রে। সৃষ্টি হয়েছিল বোধিসত্ত্বযান ও বুদ্ধযান প্রভৃতি তত্ত্বমার্গ বুদ্ধ-জীবন বা বুদ্ধ-ব‍্যক্তিত্বকেই লক্ষ্য ক'রে। সৃষ্টি হয়েছিল হীনযান ও মহাযান ধর্মমতদুটি মহারাজ কণিষ্কের সময়ে চতুর্থ বৌদ্ধসঙ্গীতের অধিবেশনকালে এবং উদ্ভুত(উদিত) হয়েছিল বিচিত্র দর্শনমত, আচার-বিচার,ধর্মানুষ্ঠান ও সাধনা। হীনযানের(বৌদ্ধধর্মের প্রাচীন শাখা,পালি ত্রিপিটকে বর্ণিত বৌদ্ধমতের) ছায়াতলে দেখা দিল একদিকে যেমন বৈভাষিক(বৈকল্পিক বা বৌদ্ধ দর্শনের মত বিশেষ) ও সৌত্রান্তিক (তান্ত্রিক সূত্র-সংক্রান্ত) দর্শনমতবাদ, অন‍্যদিকে তেমনি মহাযানের(বৌদ্ধ সম্প্রদায় বিশেষ,নাগার্জুন নামক বৌদ্ধ শ্রমণ কর্তৃক প্রবর্তিত বৌদ্ধ দর্শন ও তার সমর্থক সম্প্রদায়) অনুসরণে আবির্ভূত হয়েছিল মাধ‍্যমিক ও যোগাচার দর্শনমত। এই সব দার্শনিক মতবাদের বৌদ্ধিক বিচার ও সূক্ষ্মাতিসূক্ষ্ম তত্ত্ববিশ্লেষণের পশ্চাতে একদিকে মহাযান-ধর্মমতে দেখা দিল যেমন বিচিত্র দেবদেবী,তাদের ধ‍্যান-চিন্তা, আচার-উপাসনাপদ্ধতি ও তত্ত্ববোধপ্রবৃত্তি, অন‍্যদিকে তেমনি হিন্দুপুরাণ,তন্ত্র ও শৈবশাস্ত্রসমর্থিত দেবদেবী এবং তাদের আচার ও সাধনতত্ত্বের হল উদ্ভব প্রতিদ্বন্দ্বীমূলক এক সংঘাত সৃষ্টি ক'রে। ক্রমে আত্মপ্রকাশ করল মন্ত্রযান ও তার শাখা কালচক্রযান, বজ্রযান প্রভৃতি। হিন্দুতন্ত্রের মন্ত্র ও আচার অনুষ্ঠানের অনুকরণে নববৌদ্ধধর্মে প্রবর্তিত হল দেবদেবীদের পূজা-অর্চনা ও তত্ত্বচিন্তা। বৈদিক ওঙ্কারের পাশাপাশি "হূং" প্রভৃতি তান্ত্রিক মন্ত্রবীজের সহযোগে জপ, অষ্টাঙ্গযোগসাধনা ও ধ‍্যানের অন্তর্প্রবেশ ঘটলো।*

*বাংলার সাধকসমাজে ও দার্শনিক-সমাজেও দেখা দিল এক অন্তর্দ্বন্দ্বের সূচনা।তবে এই দ্বন্দ্বপ্রবৃত্তির সঙ্গে সঙ্গে আবার আবির্ভূত হল হিন্দু ও বৌদ্ধ-সমাজে এক পারস্পরিক সমন্বয়ী দৃষ্টি ও মৈত্রীভাব।ক্রমে আত্মপ্রসারণের পথ ও প্রবৃত্তি হল প্রশস্ত।ফলে বৌদ্ধধর্মে অনুপ্রবেশ করল যেমন হিন্দুধর্মের সূক্ষ্ম ও স্থূল অনেক উপাদান, হিন্দুধর্মও আত্মসাৎ করেছিল, তেমনি বৌদ্ধধর্ম ও বৌদ্ধতত্ত্বের কিছু কিছু সামগ্রী।অবশ‍্য এই গ্রহণপ্রচেষ্টা দেখা দিয়েছিল উভয়েরই মধ্যে। কিন্তু মহামহোপাধ‍্যায় হরপ্রসাদ শাস্ত্রী,ডঃ দীনেশচন্দ্র সেন,বিনয়তোষ ভট্টাচার্য্য প্রভৃতি বিদগ্ধ পন্ডিতদের মতে, হিন্দুধর্মই নাকি পরিপুষ্ট করেছিল তার কলেবর বৌদ্ধধর্ম থেকে বিচিত্র তত্ত্ব ও উপাদান আহরণ ক'রে।তাঁদের মতে,ছদ্মবেশী হিন্দু-দেবদেবীরা বেশীর ভাগই ছিলেন বৌদ্ধদেবদেবী। হিন্দুদের সরস্বতী,কালী,বজ্রবারাহী,গণেশ, অপরাজিতা-দূর্গা প্রভৃতি তার নিদর্শন। অবশ‍্য এই সিদ্ধান্তকে গ্রহণ করার পক্ষে ও বিপক্ষে নতূন করে অনুশীলন ও বিচার করার দিন আবার এসেছে বলেই আমরা মনে করি, কেননা,হিন্দুতন্ত্র ও বৌদ্ধতন্ত্রের সৃষ্টি ঠিক একই সময়ে হয়নি, বরং ঐতিহাসিক তথ‍্য যে,হিন্দুতন্ত্রের বহুকাল পরে বৌদ্ধতন্ত্রের সৃষ্টি হয়েছিল সমাজে প্রচলিত হিন্দুধর্মচিন্তার প্রতিক্রিয়ারূপে।হিন্দুতন্ত্র বেদের সমসাময়িক না হলেও বৈদিক আচার-অনুষ্ঠানই ভিন্নভাবে তন্ত্রাচাররূপে তন্ত্রসাহিত‍্যে আত্মপ্রকাশ করেছিল। বৈদিক ধর্মাচার ও দেবদেবী যেমন পুরাণের যুগে কিছুটা ভিন্নভাবে রূপগ্রহণ করেছিল,তেমনি প্রকাশ‍্য বৈদিক যাগযজ্ঞাদি অনুষ্ঠান ও তার সিদ্ধিসাফল‍্যও বৈদিকোত্তর যুগে অপ্রকাশ‍্য গুপ্তানুষ্ঠান ও শক্তিসিদ্ধিরূপে আত্মপ্রকাশ করেছিল। বেদ ও হিন্দুতন্ত্রের মধ্যে তখন এতটুকু বিরোধচিন্তা ও প্রতিদ্বন্দ্বিতা ছিল না, বরং ছিল মৈত্রীসম্পর্কেরই বন্ধন।বৌদ্ধতন্ত্রের আচার-অনুষ্ঠান ও দেবদেবীচিন্তার বিকাশ হিন্দু-আচার ও দেবদেবীচিন্তারই অনেকটা প্রতিকূল এবং বৌদ্ধতন্ত্রে সিদ্ধিনাশক গণেশ ও হিন্দুতন্ত্রের সিদ্ধিদাতা গণেশই তার সামান্য একটি নিদর্শন। তবে উভয়ের মধ্যে সামঞ্জস্যের ইঙ্গিতও যে ছিল না,তা নয়,কেননা হিন্দতন্ত্রের মন্ত্র,তন্ত্র,মুদ্রা ও মন্ডলের অনুরূপ প্রতিকৃতি ও অনুষ্ঠানই পাই আবার বৌদ্ধতন্ত্রের ভিতর।*
                *ক্রমাগত*
✔✔✔✔✔✔✔✔✔✔✔✔✔✔
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 👉 পদাবলী কীর্তনের ইতিহাস 🌷 প্রথম ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📝 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/02/podaboli.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(০৭)পদাবলী কীর্তনের ইতিহাস*
                *পদ ও পদাবলী*

*🍀হিন্দুতন্ত্রের মতো বৌদ্ধতন্ত্রের উদ্দেশ্যও ছিল ইহলোকের সিদ্ধিলাভের মতো পারলৌকিক পরম সিদ্ধিলাভ, তা সে সামঞ্জস‍্য শিবশক্তি-সাযুজ‍্যই হোক,শিবত্ব প্রাপ্তিরূপ ব্রহ্মজ্ঞানস্থিতিই হোক, অথবা নির্বাণ বা শূন‍্যতায় প্রতিষ্ঠা লাভই হোক।বজ্রাচার্য‍্যগণ বজ্রবারাহীর কিম্বা শূন‍্যতার প্রতিফলন অবধূতিকা নৈরাত্মাদেবীর (বহুড়ী বা বধূ বা যোগিনী) উপাসনার অঙ্গরূপে সন্ধা বা অভিসদ্ধিসূচক ভাষায় রচনা করেছিলেন বজ্রগীতি ও চর্যাগীতি।(প্রকৃতপক্ষে বজ্রযানেরই অন্তর্ভুক্ত ছিল চর্যা ও বজ্র-গীতি)।চর্যা ও বজ্র গান-রচনার পটভূমিকায় বিচিত্র বৌদ্ধধর্মমত ও বৌদ্ধসাধনচিন্তার একটি প্রভাব ও প্রতিক্রিয়ার সম্ভাবনা অবশ্যই স্বীকার্য।সমাজে, জীবনে,সব রকম চিন্তায়, ধর্মে কর্মে ও দর্শনচিন্তার উপরও দেখা যায় সমাজ, সামাজিক ধর্মসংস্কার ও মানুষের জীবনচিন্তার একটি প্রভাব। পারস্পরিক এই আদান-প্রদান বা দেওয়া-নেওয়ার ভিতর দিয়েই চিরদিন মানুষের বাহ‍্যিক ও আন্তর জীবনের হয় সংগঠন ও শুদ্ধপরিণতি সমাজে।*
*🍀শোনা যায়,তিব্বতের সিদ্ধাচার্য‍্যরাই ছিলেন বৌদ্ধ-সহজযানের প্রবর্তক ও প্রচারক এবং খ্রীষ্টীয় নবম-দ্বাদশ শতকে বা তার পূর্বে বৃহত্তর বাংলায় ঐ সহজযান মতবাদের হয়েছিল অনুপ্রবেশ ও প্রতিষ্ঠা।আগেই উল্লেখ করেছি যে,বৃহত্তর বঙ্গের চতুঃসীমা ছিল তখন অখন্ড বঙ্গদেশ বা বাংলা,গিরিব্রজ বা বিহার,উৎকল বা উড়িষ‍্যা ও কামরূপ বা আসামকে নিয়ে সার্থক।বৃহত্তর বাংলার সমাজ-বিবর্তনে,ধর্মাচারে ও দৈনন্দিন জীবনচর্যায়, সাহিত‍্যে,নাটকে,কাব‍্যে, দর্শনচিন্তায় ও এমনকি অধ‍্যাত্মসাধনায় সহজযান-ধর্মমত এনেছিল এক নতূন আলোড়ন ও প্রেরণা।যদিও সেই আলোড়ন ও প্রেরণা বিশেষভাবে সীমাবদ্ধ ছিল বৌদ্ধ-সাধনাশ্রয়ী আচার্য‍্যদের ভিতর, তবুও হিন্দু-সর্বসাধারণের জীবনে,মনে ও তত্ত্বচিন্তায় সৃষ্টি হয়েছিল এক বিবর্তনী প্রবৃত্তি।ফলে হিন্দুসমাজ-মানসের কোন কোন অংশে প্রবেশলাভ করেছিল ক্রমে বৈষ্ণব-সহজিয়া,বাউল,গুরুসত‍্য,কর্তাভজা প্রভৃতি গুরুবাদী কায়-সাধকদের ধর্মমত ও সাধনা।(ক)(ডঃ শ্রীশশীভূষণ দাসগুপ্ত Obscure Religious Cults (কলকাতা বিশ্ববিদ‍্যালয় ১৯৪৬, পৃষ্ঠা ১৮৭-২০২ এবং পঞ্চম পরিচ্ছেদে,পৃষ্ঠা ১৩২-১৮২ ।*
*(খ)(ডঃ অসিতকুমার বন্দ‍্যোপাধ‍্যায়, বাংলা-সাহিত‍্যের ইতিবৃত্ত, প্রথম খন্ড, ১৯৫৯, পৃষ্ঠা ১৪৯-১৫৬)।*
*🍀আচারী তান্ত্রিক বজ্রযানী ও সহজযানী আচার্য‍্যদের পদগানের (চর্যা ও বজ্রগীতির)বহিরঙ্গ স্থূলচিত্রকল্পের অনুরূপ আন্তর বা ভিতরের ও রহস‍্যময় গুপ্তসাধনা ও তত্ত্ববোধের অন্তর্নিবেশও ঘটেছিল সহজ সরল সাধারণ হিন্দুসমাজের অন্তর্ভুক্ত বৈষ্ণব-সহজিয়া, বাউল ও কর্তাভজা সম্প্রদায়ের ভিতর। বৌদ্ধ ও হিন্দু এই উভয় রচয়িতাদের গূঢ় দ্বৈতার্থবোধক পদ ও গানের ভাষা ছিল প্রায় তাই একই ধরণের। যেমন লুইপাদ রচিত পদ----*
*🌹মূল------------------*
*🌷কাআ তরুবর পঞ্চ বি ডাল।*
*🌷চঞ্চল চীএ পইঠা (বা পইঠো) কাল।।*
*🌷দিঢ় (বা দিট)করিএ মহাসুহ পরিমাণ।*
*🌷লুই ভণই গুরু পুচ্ছিঅ জান।।*
*🌻অনুবাদ-----------*
*🌷কাযারূপ তরুবর পাঁচ তার ডাল।*
*🌷চঞ্চল চিত-মাঝে পশে আসি কাল।।*
*🌷দৃঢ় করি মহাসুখ কর পরিমাণ।*
*🌷লুই ভণে গুরুকে পুছিয়া ইহা জান।।*
*🛑কথবা গুন্ডরীপাদ রচিত---*
*🌻মূল------*
*🌷তিঅড্ডা চাপী জোইনি দে অঙ্কবালী।*
*🌷কমলকুলিশ ঘান্টি (বা ঘান্ট) করহু বিআলী।।*
*🌷জোইনি তঁই বিনু খনহিঁন জীবমি।*
*🌷তো মুহ চুম্বী কমলরস পিবমী।।*
*🌻অনুবাদ------*
*🌷ত্রিনাড়ি যোগিনী চাপি দেয় অঙ্কবালী।*
*🌷 কমলকুলিশ যোগ করহ বিকালী।।*
*🌷তোমা বিনা যোগিনি গো,ক্ষণ নাহি জীব।*
*🌷 তোর মুখ চুম্বি রস কমলের পিব।।*
*🌹বাউল-কবি-রচিত পদগান---*
*🌷(আট)কুঠারি নয় দরজা আঁটা,*
*🌷মধ‍্যে মধ্যে ঝলকা কাটা।*
*🌷(তার)উপরে আছে সদর-কোঠা,*
*🌷আয়না-মহল তায়।*
*🌷খাঁচার মাঝে অচিন-পাখি,*
*🌷ক‍্যামনে আসে যায়।।*
*🌻তান্ত্রিক আচারী বৌদ্ধসাধনাত্মক গানদুটির অন্তরার্থ বা সাধনমর্মকথা প্রায় একই রকমের।চর্যাগানে "ডোম্বী" "বহুড়ী" "জোইনি বা"যোগিনী" প্রভৃতি শব্দে ""নৈরাত্মাদেবী""। (এখানে অধ‍্যাপক মণীন্দ্রমোহন বসুর চর্যাপদ-টীকা থেকে 'বহুড়ী' শব্দের অর্থ উদ্ধৃত হল,"বহুড়ী"। "অবধূতিশব্দসন্ধ‍্যায়া"--টীকা।অভিপ্রায় বা অভিসন্ধিসূচক সন্ধাভাষায় নৈরাত্মা-অবধূতিকাকেই বহুড়ী বা "বধূ" বলা হয়েছে।অন‍্যত্র তাকে যোগীন্দ্রস‍্য গৃহিণী নৈরাত্মা বলা হয়েছে।*
                 *ক্রমাগত*
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 👉 পদাবলী কীর্তনের ইতিহাস 🌷 প্রথম ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📝 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/02/podaboli.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(০৮)পদাবলী কীর্তনের ইতিহাস*
              *পদ ও পদাবলী*

*🍀পরিশুদ্ধ অবধূতিকা নৈরাত্মাদেবী শূন‍্যতা কিংবা সত্তাপক্ষে তথতার প্রতিছবি।বাউলগানের অচিনপাখী ভগবানও সহজ-মানুষ।বাউল ও চর্যা-সাধনতত্ত্বে সহজ-মানুষ সর্বময়লানির্মুক্ত দেহবাসী পরিপূর্ণ মানুষ এবং এই পরিপূর্ণ বা সহজ-মানুষই ভগবান কিম্বা আত্মা বা পরমাত্মা।কায়-সাধনায় স্থূলশরীরের মধ্যেই অচিন-পাখী সহজ-মানুষের (সহজানন্দের) আসন প্রতিষ্ঠিত। সুতরাং কায়াকে বা স্থূল রক্তমাংসের শরীরকে পরিশুদ্ধ ক'রে শরীরের দুঃখ-দৈন‍্য-জ্বরা-মরণ-বিহীন যে সহজ আনন্দ তার প্রতিষ্ঠা বা প্রাপ্তিই সহজিয়া-সাধক বাউলের উদ্দেশ্য।সহজদেবতাই সাধকদের পরম পরিশুদ্ধির আসনে প্রতিষ্ঠা করেন। চর্যাগানে বৌদ্ধ সহজিয়া সাধকদের উদ্দেশ্যেও বলা হয়েছে, "পরিশুদ্ধ-অবধূতিকা নৈরাত্মার প্রকৃতি এই যে,তিনি ললনা-বসনা-অবধূতিকা নামী শরীরের মধ্যে প্রধান তিনটি নাড়ীকে চেপে নিরাভাস করে অর্থ‍্যাৎ গ্রাহ‍্য-গ্রাহক গ্রহণ-ভাব বিলীন করে সাধককে নিজের অভিজ্ঞান অর্থ‍্যাৎ নৈরাত্মতা প্রদান করেন।" যোগ ও বেদান্ত-সাধনায় মুক্তির সঙ্গে সহজসাধনার নৈরাত্মপ্রাপ্তির অনৈক‍্য (বিরোধ) সামান্য। চর্যাগীতির ভাষা, শব্দযোজনা ও ধ্বনিতত্ত্বের দিক থেকে বিচার করলে বলা যায়,তা প্রাচীন বাংলাভাষা।অনেকের মতে,সংস্কৃত ও অবহটঠ্ প্রভাবিত প্রাকৃত-বাংলায় চর্যার ভাষা।অনেকে আবার বলেন,চর্যা গৌড়বঙ্গ বা শৌরসেনী-অপভ্রংশ-পদগীতির নিদর্শন। কিন্তু একথা মোটেই অস্বীকার করার উপায় নাই যে, বতর্মান বাংলা সাহিত‍্যের মার্জিত বা সুসংস্কৃত ভাষার পূর্ব বা প্রাচীন রূপই চর্যাপদ বা চর্যাকবিতা অথবা চর্যাগান।*
*🍀পদাবলীকীর্তনের ঐতিহাসিক বিকাশ সম্পর্কে বৌদ্ধ-বজ্রযান ও সহজযান প্রভাবিত চর্যাগানের আলোচনায় আমরা চর্যার গায়নরীতি ও রাগরূপেরও পরিচয় দিবার চেষ্টা করব।*
⁉⁉⁉⁉⁉⁉⁉⁉⁉⁉⁉⁉⁉⁉⁉
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 👉 পদাবলী কীর্তনের ইতিহাস 🌷 প্রথম ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📝 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/02/podaboli.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(০৯)পদাবলী কীর্তনের ইতিহাস*
              *চর্যা ও নাথ-গীতি*

                       *এক*
*খ্রীষ্টীয় ১০ম-১১শ শতকে ধর্মে,সাহিত‍্যে, সঙ্গীতে ও অধ‍্যাত্ম-সাধনায় যে বৌদ্ধ-বজ্রযান ও সহজযান-সম্প্রদায়ের প্রভাব ও ভাবধারা অনুপ্রবিষ্ট হয়ে বাংলার সমাজে যে এক নতূন চিন্তাপ্লাবনের সৃষ্টি করেছিল সেকথা আগে কিছু আলোচনা করেছি। ঐ নতূন প্লাবন বা বিবর্তনের ফলস্বরূপ বৌদ্ধ, বৈষ্ণব ও সহজিয়া,বাউল,কর্তাভজা, গুরুসত‍্য প্রভৃতি সাধনমার্গে অধ‍্যাত্ম-পদগানের সৃষ্টি সম্ভব হয়েছিল। শ্রীরামকৃষ্ণদেবের অন‍্যতম জীবনালেখ‍্য রচয়িতা ডঃ শশীভূষণ ঘোষ (ইনি শ্রীরাকৃষ্ণের পরম সান্নিধ্য লাভ করেছিলেন), বাংলার ধর্মসাধনায় বৌদ্ধ সহজযান-ধর্মমতের অনুপ্রবেশ সম্বন্ধে যেকথা বলেছেন এখানে তার উল্লেখ করা সমীচীন মনে করি--যদিও মতভেদ থাকা স্বাভাবিক।তিনি বলেছেন, কর্তাভজা ও বাউল-সম্প্রদায়ের স্ত্রীলোক (শক্তি) নিয়ে সাধনা সহজিয়া-বৈষ্ণবমতেরই অনুকরণ। আবার সহজিয়ামত বৌদ্ধ-তান্ত্রিকমতের রূপান্তরমাত্র।মহাযানমতাবলম্বী শূন‍্যবাদী বৌদ্ধেরা ঈশ্বরের অস্তিত্ব স্বীকার না করলেও তাদের এক শাখা মহাযান ধর্মসেবীরা বুদ্ধ ও বোধিসত্ত্বদের সাকারমূর্তি পূজা করিত।আবার মহাযানের আর এক সম্প্রদায় মহাযান বুদ্ধ ও বোধিসত্ত্বের এক একটি দিব‍্যশক্তিকল্পনা করে শক্তিপূজার প্রচলন করেছিল।এই শক্তিপূজা হতেই বৌদ্ধতান্ত্রিকতার আরম্ভ।প্রাচ‍্যবিদ‍্যার্ণব নগেন্দ্রনাথ বসু ময়ূরভঞ্জ-রাজ‍্যের প্রত্নতাত্ত্বিক আলোচনা প্রসঙ্গে অনেকটা অনুরূপ মন্তব‍্যই করেছেন।তিনি বলেছেন--*
*"Thus Dr.Waddel says ; This intense mysticism of the Mahayana let about the fifth centuri,to importation into Buddhism of the pantheistic idea of the soul.(atman) and yoga or the ecstatic union of the individual with the universal spirit---a doctrine which had been introduced into Hinduism by patanjali (Hathayoga-pradipika). The Yogachara school also, in its later development, received and assimilated some magic circles with mantras or speels about 700 A.D., and hence received the new appellation of Mantrayana. But the Mahayana school.did not stop.there. Having once commenced the work of importation and asdimilation, it went on with it,with all its real and vigour, and was before long almost a new thing. About the seventh century A.D. .the development of the infatuating Tantrikism, which practically verges on sorcery claiming a religious basis, attracted the notice of the Mahayana school, and ere long the odolatrous cult of female energies was found grafted upon.theistic Mahayana and the pantheistic mysticism of yoga. And this Tantrika phase of the Mahayana school reached its climax when it adopted and assimlated with itse'f the theory of the Kalachakra. ☆☆ It wants to establish a mysterious union between the terrible goddess kali of the Tantrika system, and the Dhyani and Buddhas--- the Adi-Buddha himself, of the Buddhistic system and attempts to.explain creation and the secret agencies of nature in the light of this union.In the tenth century,the Kalachakra system of the Mantrayana school, as the result of further and further retrograde developments, passed into the system of the Vajrayana of the thunderbolt-vechile. This is the most depraved form, that Buddhistic doctrine on its downward course of importation, assimilation and comptomise,had ever assumed.*
*🍀The Archaeological Survey of Mayurabhanja, vol. 1 (1911)PP. CVI-CVI.*

*🌻বুদ্ধদেবের সময়েই স্ত্রীলোকদেরকে সন্ন‍্যাসে অধিকার দেওয়া হয়।"কালক্রমে সকল বৌদ্ধমঠে হাজার হাজার মুন্ডিতমস্তক শ্রমণ (বৌদ্ধ সন্ন‍্যাসী ভিক্ষু) ও ভিক্ষুণীগণের অবাধ একত্র অবস্থানের কুফল উৎপন্ন হয়েছিল।তাড়াতাড়ি এদের ভিতর বজ্রযান নামে নব-সম্প্রদায়ের অভ‍্যুদয় হয়।এরা এই মত গোপনে প্রচার করলেন যে,তাঁদের সাধনপথে ভোগসুখ করে সহজে নির্বাণপদ পাওয়া যায়। ☆☆ কামিনী-কাঞ্চনাসক্ত সাধারণের আসক্তির অনুরূপ নির্বাণ লাভের এই "সহজতত্ত্ব" তাঁদের উপাস‍্য ভগবান বজ্রসত্ত্ব ও তাঁর শক্তি বজ্রেশ্বরী একীভূত হয়ে আত্মপ্রকাশ করেছেন বলে বজ্রযান-সম্প্রদায় নানা "সহজ"-মতের তন্ত্রশাস্ত্র প্রচার করলেন। মোটকথা মহাযানের অন্তর্গত মন্ত্রনয় অথবা মন্ত্রযান-সম্প্রদায়ই বৌদ্ধতন্ত্রবাদের প্রবর্তন করে।মন্ত্রযানের অপরাপর বা অন‍্যান‍্য শাখাই বজ্রযান,কালচক্রযান ও সহজযান প্রভৃতি।*
                      *ক্রমাগত*
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 👉 পদাবলী কীর্তনের ইতিহাস 🌷 প্রথম ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📝 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/02/podaboli.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(১০)পদাবলী কীর্তনের ইতিহাস*
            *চর্যা ও নাথ-গীতি*

*🍀এখানে মনে রাখা উচিত যে,গৌতম-বুদ্ধের জীবদ্দশায়ই বৌদ্ধ ভিক্ষুণীরা ভিক্ষুদের মতো তাঁদের নিজেদের একটি পৃথক সঙ্ঘ সৃষ্টি করেছিলেন।বুদ্ধদেবের কঠোর অনুজ্ঞা ও অনুশাসন ছিল যে, কোন ভিক্ষুণীই কোনদিন কোন ভিক্ষুর সঙ্গে একত্র বিহার, একত্র কথোপকথন ও একত্র বাস করতে পারবে না।(ডঃ হাবম‍্যান ওন্ডেনবার্গ রচিত Buddha, His Life, His Doctrine, His Order গ্রন্থে The Oeders of Nuns শীর্ষক আলোচনা দ্রষ্টব‍্য,পৃষ্ঠা ৩৭৭-৩৮১), কিন্তু বুদ্ধদেবের তিরোভাবের বহু পরে কঠোর শাসননীতির বজ্রবাঁধন অবাধ মেলামেশায় সুযোগ দেখা দিয়েছিল। "ভিক্ষুপ্রাতিমোক্ষ" গ্রন্থে এই অবাধ মিলনের কলঙ্ক-পরিণতির সাক্ষ‍্য আছে। হিন্দুতন্ত্রের বামাচার-অনুপ্রবেশের ইতিকথাও তাই।তবে স্বেচ্ছাচারমূলক বামাচার হিন্দুতন্ত্রে আসল সাধনমার্গ নয়, তা অধ‍্যাত্মসাধনার বিকৃত রূপমাত্র। পরশুরামকল্পসূত্র, কৌলাবলীতন্ত্র, কৌল-উপনিষৎ,কুলার্ণব প্রভৃতি তন্ত্রে বামাচারকে "বাম" অর্থে কালী, সুতরাং আদ‍্যাশক্তি দক্ষিণাকালীর আচারবা উপাসনাবিধি বলা হয়েছে।মহাকালী মহাশক্তির আরাধনা ও উপাসনাবিধিই আসলে বামাচার নামে প্রচলিত।*
*🍀ডাঃ শশীভূষণ ঘোষ তাঁর আলোচনা প্রসঙ্গে পুনরায় বলেছেন, সহজিয়াবৈষ্ণবগণ বজ্রযানের বজ্রেশ্বরীকে "বাশুলী" নামে পূজা করতে লাগলেন এবং শ্রীশ‍্যামসুন্দর ও শ্রীরাধারাণীর যুগলরূপ শক্তি বা নায়িকাতে অধিষ্ঠিত বিশ্বাস করে পরকীয়াসাধনাই প্রবল রাখলেন।এদের মতে,মনুষ‍্যভজনই সাধনের প্রধান অঙ্গ।প্রথমে একটি পরকীয়া রমণী গ্রহণ করে তাঁরা সেই নায়িকার দেহই শ্রীবৃন্দাবন এবং তাঁতেই শ্রীশ‍্যামসুন্দর ও শ্রীরাধারাণী বিরাজিত ভেবে থাকেন।নায়িকাতে দেহ ও মন আরোপ করে সাধন করলে অচিরাৎ প্রেমরসসাধনে সিদ্ধিলাভ হয়।সহজিয়ারা নিজেদেরকে রসমার্গের পথিক রসিক ভক্ত বলে থাকেন।তাঁদের মতে, বিল্বমঙ্গল,বিদ‍্যাপতি, চন্ডীদাস, জয়দেব গোস্বামী,রায় রামানন্দ এই পাঁচজন রসিক ভক্ত সহজিয়াধর্ম সাধন করেছিলেন।(শ্রীরামকৃষ্ণদেব--(উদ্বোধন পৃষ্ঠা ৩১২)।*
*🍀অনেকের অভিমত যে, বৌদ্ধ-পালরাজাদের আমলে তান্ত্রিক অনুষ্ঠানের পূর্ণ-প্রাবল‍্যে দেখা দিয়েছিল।বাংলার ইতিহাস থেকে একথাও আবার সুস্পষ্ট প্রমাণ হয় যে, অষ্টম শতকের শেষভাগে ধর্মপাল (প্রথম) গৌড়ের মসনদে যখন আরোহণ করেন তখন ধর্মাচারের মধ্যে অনেক-কিছু ময়লা তিনি দূর করেছিলেন নতূন পবিত্র পরিবেশ সৃষ্টি করে।খ্রীষ্টীয় ১০১৫ থেকে ১০৬০ শতকে বাংলার সমাজে ধর্মপাল(দ্বিতীয়), মহীপাল (প্রথম) ও নয়পাল প্রভৃতি পালরাজগণের যখন প্রভাব বিস্তৃত,তখন ধর্মের পরিবেশ বেশ শান্ত ও পবিত্র ছিল। শ্রীজ্ঞান-দীপঙ্কর বা অতিশ-দীপঙ্কর, রামাই পন্ডিত,হাড়ি-পা বা হাঁড়িসিদ্ধ, কমলাকুশিল, নরেন্দ্র-শ্রীজ্ঞান,দান-রক্ষিত প্রভৃতি সাধকের সংস্পর্শে বৌদ্ধতন্ত্রাচার তখন সুনিয়ন্ত্রিত। বৌদ্ধতন্ত্রে প্রবৃত্তিমার্গের ধারা তখন বতর্মান থাকলেও নিবৃত্তির প্রসন্নতা ধীরে ধীরে শান্তির পরিবেশ সৃষ্টি করেছিল।নেপালের বৌদ্ধগণ বজ্রযানমতাবলম্বী ছিলেন।তিব্বতে বৌদ্ধ-তান্ত্রিকাচারেরই বিশেষ প্রভাব ছিল। বাংলাদেশেও তান্ত্রিক বামাচারের পাশাপাশি সিদ্ধান্তাচার,কুলাচার ও দিব‍্যাচার ও অন‍্যান‍্য তন্ত্রাচারের প্রবর্তন হয়।আচারবিলাসী তন্ত্রশাস্ত্র ছাড়া বেদান্তের সমপর্যায়ভুক্ত "মহানির্বাণতন্ত্র" প্রভৃতি গ্রন্থও সে সময়ে লিখিত ও প্রচারিত হয়। ক্রমে বৌদ্ধধর্মের প্রভাব কিছুটা স্তিমিত হয়ে ব্রাহ্মণ‍্যধর্মের পুনরভ‍্যুদ্বয় দেখা দিলেও বৌদ্ধতন্ত্রের সাধন ও চিন্তাধারা হিন্দুসমাজের শিরায় শিরায় অনুপ্রবিষ্ট হয়েছিল।ফলে নতূন রূপ ও নাম নিয়ে বৈষ্ণব-সহজিয়া,বাউল, গুরুসত‍্য,কর্তাভজা তথা মানুষরূপে গুরুপূজা কায় বা কায়সাধন প্রভৃতি সাধনতত্ত্বের উদ্ভব সম্ভব হয়েছিল একথা আগেই বলেছি।খ্রীষ্টীয় দশম-একাদশ শতকের চর্যা ও বজ্রগীতির রচয়িতা সহজযানী ও বজ্রযানী বৌদ্ধসাধকরাও ছিলেন ঐ রহস‍্যসাধনারই পথচারী এবং বাংলার পরবর্তী বৈষ্ণব-সহজিয়া সাধনচারীরাও ঐ বজ্রযানী ও সহজযানী বৌদ্ধসাধকদের কতকাংশে অথবা বহু অংশে অনুসারী ছিলেন।*
                    *ক্রমাগত*
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🔜 ক্রমাগত 👉 পদাবলী কীর্তনের ইতিহাস 🌷 দ্বিতীয় ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📝 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/03/podaboli2.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

    📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝
    ꧁👇📖 সূচীপত্র ✍️ শ্রী জয়দেব দাঁ 📖👇꧂



✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧


✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

   ✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️ 
নিবাস- বাঁশবাড়ী, কীর্তন মন্দিরের পাশে, পোঃ- বাঁশবাড়ী, থানা- ইংরেজ বাজার, জেলা- মালদহ, পশ্চিমবঙ্গ, পিন কোড- ৭৩২১০১।

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

  *••••┉❀꧁👇🏠Home Page🏠👇꧂❀┅••••* 


✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

    *••••━❀꧁👇 📖 সূচীপত্র 📖 👇꧂❀┅••••* 



✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

     *••••━❀꧁👇📚 PDF গ্রন্থ 📚👇꧂❀┅••••* 


✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
    *••••┉━❀꧁ 🙏 রাধে রাধে 🙏 ꧂❀━┅••••* 
                   শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য প্রভু নিত্যানন্দ
              হরে কৃষ্ণ হরে রাম শ্রীরাধেগোবিন্দ।।
  *••••┉━❀꧁ 🙏 জয় জগন্নাথ 🙏 ꧂❀━┅••••*
              হরে কৃষ্ণ হরে কৃষ্ণ কৃষ্ণ কৃষ্ণ হরে হরে
              হরে রাম হরে রাম রাম রাম হরে হরে॥
  *••••┉━❀꧁ 🙏 জয় রাধাকান্ত 🙏 ꧂ ❀━┅••••*
   🌷❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀🌷
   🏵️❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀🏵️
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧







শ্রীস্বরূপদামোদর 🌷 অষ্টম ভাগ 🌻 ভক্তপ্রবর শ্রীরসিকমোহন চক্রবর্তী ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📝 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/02/swarup8.html


✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🔙 পূর্ব লীলা 👉 শ্রীস্বরূপদামোদর 🌷 সপ্তম ভাগ  🌻 ভক্তপ্রবর শ্রীরসিকমোহন চক্রবর্তী ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📝 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/02/swarup7.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 শ্রীস্বরূপদামোদর 🌷 অষ্টম ভাগ  🌻 ভক্তপ্রবর শ্রীরসিকমোহন চক্রবর্তী ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📝 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/02/swarup8.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 শ্রীস্বরূপদামোদর 🌷 অষ্টম ভাগ  🌻 ভক্তপ্রবর শ্রীরসিকমোহন চক্রবর্তী ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📝 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/02/swarup8.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(৭১)🙌শ্রীস্বরূপ-দামোদর🙌*
*শ্রীপাদ স্বরূপের কড়চা ও চরিতামৃত*
☆☆☆☆☆☆☆☆☆☆☆☆☆☆☆☆
*🌼হৃদয়ে আরও একটি যাতনা রয়ে গেল,শ্রীপাদ স্বরূপদামোদরের কড়চা গ্রন্থ দেখবার ভাগ‍্য হল না। অনেক চেষ্টা করলাম,অনেক প্রাচীন বৈষ্ণব মহাত্মাকে জিজ্ঞাসা করলাম,গ্রন্থটি কেউ কোথাও দেখেছেন এরকম বলতে পারলেন না।শ্রীপত্রিকায় দীর্ঘকাল বিজ্ঞাপন প্রচার করেও সেটির কোন সন্ধান পেলাম না।পরম কারুণিক কবিরাজ গোস্বামী তদীয় অক্ষয়কৃপার চিহ্নস্বরূপ শ্রীচরিতামৃতে এই গ্রন্থের নাম ও কিছু বিষয়ের উল্লেখ না করলে এতদিন বোধহয় এই পরম উপাদেয় রসমাধুর্য‍্যের অদ্ভুত অলৌকিক বর্ণনাপূর্ণ শ্রীগৌরলীলার গূঢ় গভীর গুহ‍্য ইতিহাস এই প্রপঞ্চে অপ্রকট হয়ে পড়তেন। শ্রীচৈতন‍্যচরিতামৃতে শ্রীপাদ স্বরূপের কড়চার দুই-চারটি শ্লোক উদ্ধৃত হয়েছে। শ্রীগৌরতত্ত্বনির্দেশক এবং শ্রীগৌরাবতারতত্ত্বজ্ঞাপক শ্লোক দুইটি উল্লেখ্য।এই দুইটি শ্লোকেই শ্রীপাদ স্বরূপের কড়চার গভীর ভাব অভিব‍্যক্ত হয়েছে।শ্রীপাদ স্বরূপের প্রকাশিত শ্রীগৌরতত্ত্ব-নির্দেশকসূচক সুবিখ‍্যাত পদ‍্যটি গৌরভক্তগণের নিত‍্যবন্দনা স্তোত্র।সেটি শ্রীরাধাকৃষ্ণের প্রেমবিলাসবিবর্ত্তের সূক্ষ্মতম তত্ত্ব।শ্রীপাদ কবিরাজ গোস্বামী তদীয় চরিতামৃতে ঐ পদ‍্যটি উদ্ধৃত করেছেন,তদ্ যথা=*
*🌷রাধাকৃষ্ণ-প্রণয়বিকৃতি হ্লাদিনী শক্তিরস্মা দেকাত্মানাবপি ভূবিপুরা দেহভেদং গতৌ তৌ।চৈতন‍্যাখ‍্যং প্রকটমধুনা তদ্বয়ঞ্চৈক‍্যমাপ্তম্ রাধাভাবদ‍্যুতি সুবলিতং নৌমি কৃষ্ণস্বরূপম্।।*
*🌻অন্বয়--রাধা (শ্রীরাধিকা); কৃষ্ণপ্রণয়বিকৃতিঃ(কৃষ্ণপ্রণয়ের বিকার স্বরূপ); হ্লাদিনী শক্তিঃ (শ্রীকৃষ্ণের হ্লাদিনী বা আনন্দদায়িনী শক্তি); অস্মাৎ (এই হেতু); তৌ (শ্রীরাধা ও শ্রীকৃষ্ণ উভয়ে ); একাত্মানৌ(স্বরূপত একাত্মা বা অভিন্ন);অপি (হয়েও);ভুবি (গোলোকে); পুরা দেহভেদং গতৌ (অনাদিকাল হতেই ভিন্ন দেহ ধারণ করেছেন) ; তদ্দ্বয়ং ঐকং আপ্তং (সেই দুইজন একত্ব প্রাপ্ত হয়ে ) ; রাধাভাবদ‍্যুতি সুবলিতং (শ্রীরাধার ভাব ও অঙ্গকান্তির দ্বারা সুশোভিত) ; অধুনা প্রকটং (সম্প্রতি প্রকটিত) ; চৈতন‍্যাখ‍্যং (শ্রীকৃষ্ণচৈতন‍্য নামক) ; কৃষ্ণস্বরূপং (শ্রীকৃষ্ণস্বরূপকে) ; নৌমি (নমস্কার করি)।*
*🌻অনুবাদ=শ্রীকৃষ্ণপ্রণয় স্বরূপা শ্রীরাধিকা হলেন শ্রীকৃষ্ণেরই হ্লাদিনী বা আনন্দদায়িনী শক্তি,স্বরূপত উভয়ে একাত্মা বা অভিন্ন হয়েও অনাদিকাল হতে গোলোকে ভিন্ন দেহ ধারণ করে রয়েছেন।তাঁদের একত্বরূপে শ্রীরাধার ভাব ও অঙ্গকান্তিতে সুশোভিত হয়ে প্রকাশিত শ্রীকৃষ্ণচৈতন‍্য নামক শ্রীকৃষ্ণস্বরূপকে আমি প্রণাম করি।*
*🌺তাৎপর্য‍্য=স্বয়ং ভগবান শ্রীকৃষ্ণের আনন্দদায়িকা শক্তির নাম হ্লাদিনী-শক্তি।হ্লাদিনী-শক্তির ঘনীভূত বিলাসই প্রেম, প্রেমসার-মহাভাবস্বরূপিনী শ্রীরাধিকাই শ্রীকৃষ্ণের হ্লাদিনী-শক্তি।শ্রীমতী রাধিকা মহাভাবস্বরূপিনী বলে তাঁকে কৃষ্ণ-প্রণয়-বিকৃতি বলা হয়েছে।*
*আবার রাধা পূর্ণ শক্তি,কৃষ্ণ পূর্ণ শক্তিমান। শক্তি ও শক্তিমানের অভেদবশত শ্রীরাধা ও শ্রীকৃষ্ণে কোনও ভেদ নেই।তাঁরা একাত্মা। কিন্তু লীলারস আস্বাদনের জন্য তাঁরা পৃথক দেহ ধারণ করে শ্রীকৃষ্ণের নিত‍্যলীলার ধাম শ্রীগোলোকে অনাদিকাল অবস্থান করছেন।এখন এই কলিযুগে সেই দুই দেহ এক আত্মা একদেহে অবস্থান করে শ্রীকৃষ্ণচৈতন‍্যরূপে বিরাজিত।তাই শ্রীরাধার ভাব ও কান্তি অঙ্গীকার করে অন্তঃকৃষ্ণ বহির্গৌর হয়ে এই কলিযুগে শ্রীকৃষ্ণচৈতন‍্যরূপে শ্রীকৃষ্ণই নবদ্বীপে আবির্ভূত হলেন।*
*🌷রাধাকৃষ্ণ এক আত্মা দুই দেহ ধরি।*
*🌷অন‍্যোন‍্যে বিলয় রস আস্বাদন করি।।*
*🌷সেই দুই এক এবে চৈতন‍্য গোঁসাই।*
*🌷লীলারস আস্বাদিতে হইলা এক ঠাঁই।।*
*🌻এই পদ‍্যটি গৌড়ীয় বৈষ্ণবগণের অতীব আদরের ধন।পুরাণাদি পাঠের পূর্বক্ষণে বৈষ্ণব পাঠকগণ শ্রীগৌরাঙ্গ বন্দনায় শ্রীপাদ স্বরূপের এই বন্দনাটি এখনও অতীব ভক্তিভরে পাঠ করে থাকেন।শ্রীপাদ স্বরূপ এই পদ‍্যে প্রকাশ করলেন, যিনি "রসো বে সঃ" তিনিই শ্রীরাধাকৃষ্ণ,তিনিই রসরাজ রসিকশেখর শ্রীগৌরাঙ্গ।শ্রীপাদ স্বরূপের কড়চা যে লীলারসের মহাভান্ডার এই বস্তুনির্দেশ পদ‍্যেই তা সূচিত হয়েছে।*
*শ্রীগৌরাঙ্গ-অবতারের অনেক প্রকার হেতু নির্দেশ হয়েছে।বহিরঙ্গ ও অন্তরঙ্গ ভেদে এই হেতু দুই প্রকার।রসতত্ত্বের শিক্ষাগুরু শ্রীপাদ স্বরূপদামোদর মহাপ্রভুর অবতারত্বের গূঢ় গভীর গুহ‍্যতম অন্তরঙ্গ কারণ নির্দেশ করেছেন।শ্রীরাধাপ্রেমের রসাস্বাদনই শ্রীগৌরাঙ্গ-অবতারের মুখ‍্য বীজ।কেবল একমাত্র শ্রীপাদ স্বরূপদামোদরই এই নিগূঢ় হেতু জগতে প্রকাশ করেন, যথা শ্রীচৈতন‍্যচরিতামৃতে=*
*🌷অবতারের আর এক আছে মুখ‍্য বীজ।*
*🌷রসিকশেখর কৃষ্ণের সেই কার্য‍্য নিজ।।*
*🌷অতি গূঢ় হেতু সেই ত্রিবিধ প্রকার।*
*🌷দামোদর-স্বরূপ হইতে যাহার প্রচার।*
*🌷স্বরূপ গোসাঞি প্রভুর অতি অন্তরঙ্গ।*
*🌷তাহাতে জানেন প্রভুর এ সব প্রসঙ্গ।।*
*🌻শ্রীপাদ স্বরূপই জগতে সর্বপ্রথম প্রকাশিত করলেন "শ্রীগৌরাঙ্গ একাধারে শ্রীরাধাকৃষ্ণ"।ঐ যে গৌরদেহে কষিত কাঞ্চনদ‍্যুতি দেখছ সেটি শ্রীমতী রাধিকারই শ্রীঅঙ্গের দ‍্যুতি। কেবল দ‍্যুতি না, মহাপ্রভু আমার মহাভাবস্বরূপিণীর মহাভাবে বিভাবিত। শ্রীচৈতন‍্যচরিতামৃতে=*
*🌷রাধিকার ভাব মূর্তি প্রভুর অন্তর।*
*🌷সেই ভাবে সুখ দুঃখ উঠে নিরন্তর।।*
*🌷শেষ লীলায় প্রভুর কৃষ্ণবিরহ উন্মাদ।*
*🌷ভ্রমময় চেষ্টা সদা প্রলাপময় বাদ।।*
*🌷রাধিকার ভাব যৈছে উদ্ধব দর্শনে।*
*🌷সেই ভাবে মত্ত প্রভু রহে রাত্রি দিনে।।*
*🌺শ্রীপাদ স্বরূপই তাঁর কড়চার প্রথম শ্লোকেই তদীয় প্রত‍্যক্ষ দেখা তত্ত্ব জগৎ সমক্ষে অভিব‍্যক্ত করে বললেন, "শ্রীগৌরাঙ্গে ভাব ও দ‍্যুতিরূপে শ্রীমতী রাধিকা প্রকটিতা হয়েছেন।রায় রামানন্দ ও স্বরূপদামোদর মহাপ্রভুর এই রাধাভাবের প্রত‍্যক্ষ সাক্ষী।ইঁহারা দুইজন শ্রীকৃষ্ণবিরহিনী শ্রীমতীর পার্শ্বস্থা বিশাখা ও ললিতার মত অনুক্ষণ মহাপ্রভুর কাছে থেকে তাঁর বিরহ-বেদনার প্রশমন করতেন।*
*শ্রীচৈতন‍্যচরিতামৃতের বহুস্থানে এর উল্লেখ আছে,যথা=*
*🌷রাত্রে প্রলাপ করে স্বরূপের কন্ঠ ধরি।*
*🌷আবেশে আপন ভাব কহয়ে উঘারি।।*
*🌺উঘারি=মন খুলে কথা বলা,(আদি ৪র্থ)*
*🌷রাত্রি হইলে স্বরূপ রামানন্দ লঞা।*
*🌷আপন মনের বার্ত্তা কহে উঘারিয়া।।*
                         *(অন্ত‍্য=চতুর্দশে)*
*এত কহি গৌরহরি,দুইজনের কন্ঠ ধরি,*
        *কহে শুন স্বরূপ রামরায়।*
*কাহা কারোঁ কাঁহা যাঙ,কাহা গেলে কৃষ্ণ পাঙ,*
        *দেহ মোরে কহ সে উপায়।।*
*🌷এতমত গৌরহরি প্রতি রাত্রিদিনে।*
*🌷বিলাপ করেন স্বরূপ রামানন্দ সনে।।*
*🌷সেই দুই জন সহ প্রভুর করে আশ্বাসন।*
*🌷স্বরূপ গায়,রায় করে শ্লোক পঠন।।*
                      *(অন্ত‍্যে=পঞ্চদশে)*
*🌻একদিকে ভাব অনুযায়ী শ্লোক পাঠ করাই শ্রীরামরায়ের কাজ ছিল।অন‍্যদিকে সুকন্ঠ দামোদর-স্বরূপ সুধামধুর সঙ্গীতে মূর্তিমান ব্রজরসের সৃষ্টি করে মহাপ্রভুর বিরহতাপের অপনোদন (খন্ডন) করতেন।যথা অন্ত‍্যেরচতুর্দশে=*
*🌷স্বরূপ গোসাঞি করে কৃষ্ণলীলা গান।*
*🌷দুইজনে কৈলা কিছু প্রভুর বাহ‍্যজ্ঞান।।*
*🌷এত কহি মহাপ্রভু মৌন করিলা।*
*🌷রামানন্দ রায় শ্লোক পড়িতে লাগিলা।।*
*🌹শ্রীচৈতন‍্যভাগবতকারও লিখেছেন।*
*🌷 ভাগবত পাঠ গদাধরের বিষয়।*
*🌷দামোদর-স্বরূপের কীর্তন আশয়।।*
*🌷একেশ্বর দামোদর-স্বরূপ গুণ গায়।*
*🌷বিহ্বল হইয়া নাচে শ্রীগৌরাঙ্গ রায়।।*
 ☆ ☆ ☆ ☆
*🌷দামোদর-স্বরূপের উচ্চ সংকীর্তন।*
*🌷শুনিলে না থাকে বাহ‍্য পড়ে সেইক্ষণ।।*
*🌷পথ চলিতেও প্রভু দামোদর গানে।*
*🌷নাচেন বিহ্বল হৈয়া পথ নাহি মানে।।*
*🌷একেশ্বর দামোদর কীর্তন করেন।*
*🌷প্রভুরেও বনে টানে পড়িতে ধরেন।।*
*🌻দামোদর স্বরূপের মত মহাপ্রভুর পরম অন্তরঙ্গ আর কেউ নন।পূজ‍্যপাদ শ্রীচৈতন‍্যভাগবতকার বলেন=*
*🌷সন্ন‍্যাসী পার্ষদ যত মহাপ্রভুর হয়।*
*🌷দামোদর স্বরূপের সমান কেহ নয়।।*
☆ ☆ ☆ ☆
*🌷দামোদর স্বরূপ পরমানন্দ পুরী।*
*🌷সন্ন‍্যাসী পার্ষদে এই দুই অধিকারী।।*
*🌷নিরবধি নিকটে থাকেন দুইজন।*
*🌷প্রভুর সন্ন‍্যাসে করেন দন্ডের গ্রহণ।।*
                  *ক্রমাগত*
🙏🙏🙏🙏🙏🙏👣🙏🙏🙏🙏🙏🙏
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 শ্রীস্বরূপদামোদর 🌷 অষ্টম ভাগ  🌻 ভক্তপ্রবর শ্রীরসিকমোহন চক্রবর্তী ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📝 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/02/swarup8.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(৭২)🙌শ্রীস্বরূপ-দামোদর🙌*
  *শ্রীস্বরূপের কড়চা ও চরিতামৃত*
☆☆☆☆☆☆☆☆☆☆☆☆☆
*🍀অতি অন্তরঙ্গ স্বরূপদামোদর শ্রীগৌরাঙ্গমহাপ্রভুর অবতীর্ণ হওয়ার নিগূঢ় কারণ ভক্তজন সমক্ষে প্রকাশ করে বললেন=*
*🌷শ্রীরাধায়াঃ প্রণয়-মহিমা কীদৃশো বানয়ৈবাস্বাদ‍্যো যেনাদ্ভুতমধুরিমা কীদৃশো বা মদীয়ঃ।*
*🌷সৌখ‍্যং চাস‍্যা মদনুভবতঃ কীদৃশং বেতি লোভাৎতদ্ভাবাঢ‍্যঃ সমজনি শচীগর্ভসিন্ধৌ হরীন্দুঃ।।*
*🌺অন্বয়=শ্রীরাধায়াঃ (শ্রীরাধার) ; প্রণয়মহিমা (প্রেমের মাহাত্ম্য ) ; কী দৃশঃ বা (কেমনই বা) ; যেন (যার দ্বারা) ; অনয়া এব (ইঁহা দ্বারাই অর্থ‍্যাৎ কেবল শ্রীরাধা দ্বারাই) ; আস্বাদ‍্যঃ (আস্বাদনীয়) ; মদীয়ঃ (আমার) ; অদ্ভুত মধুরিমা (অতি আশ্চর্য‍্য মাধুর্য‍্য) ; কীদৃশঃ বা (না জানি কি রকম) ; চ (এবং) ; মদনুভবতঃ (আমাকে অনুভব বা আস্বাদন করে) ; অস‍্যাঃ (এই শ্রীরাধার) ; সৌখ‍্যং (সুখ) ; কীদৃশং বা (কিরকমই বা) ; ইতি লোভাৎ (এই বিষয়ে লোভবশত) ; তদ্ভাবাঢ‍্যঃ (শ্রীরাধার ভাবযুক্ত হয়ে ) ; শচী গর্ভ সিন্ধৌ (শচীদেবীর গর্ভরূপ সমুদ্রে) ; হরীন্দুঃ (হরি অর্থ‍্যাৎ কৃষ্ণরূপ চন্দ্র) ; সমজনি (আবির্ভূত হলেন)।*
*🌻অনুবাদ=শ্রীরাধার প্রেমের মাহাত্ম্য কেমন,যার দ্বারা শ্রীরাধা আমার অদ্ভুত মাধুর্য‍্য আস্বাদন করেন, সেই মাধুর্য‍্যই বা কিরকম এবং আমার মাধুর্য‍্য আস্বাদন করে শ্রীরাধা যে সুখ অনুভব করেন,সেই সুখই বা কিরকম, এই তিনটি বিষয়ে লোভ হওয়ায় শ্রীকৃষ্ণচন্দ্র সেই শ্রীরাধার ভাবযুক্ত হয়ে শচীদেবীর গর্ভ-সমুদ্রে আবির্ভূত হলেন।*
*🌹তাৎপর্য‍্য=স্বয়ং ভগবান শ্রীকৃষ্ণ ভক্তভাব অঙ্গীকার করে ব্রজলীলায় অনাস্বাদিত শ্রীরাধার প্রেম-মাহাত্ম‍্য, আপন অদ্ভুত-মাধুর্য‍্য এবং স্বমাধুর্য‍্য আস্বাদনে রাধারাণীর সুখের প্রতি প্রলুব্ধ হয়ে শচীদেবীর গর্ভরূপ সমুদ্রে আবির্ভূত হলেন।প্রেমবুভুক্ষু ভগবান শ্রীকৃষ্ণ স্বয়ং পূর্ণ হওয়া সত্ত্বেও প্রেমধনে ধনী প্রেমবিলাসিনী প্রেমসেবিকা শ্রীমতী রাধিকার কাছে "শিষ‍্য নট" বা শিক্ষার্থী মাত্র।শ্রীমতী রাধিকা তাঁর "প্রেমগুরু"।তাই ব্রজলীলায় রাধারাণীর সুদুর্লভ প্রেমসুখ তিনি (শ্রীকৃষ্ণ) আস্বাদন করতে পারেন নাই।সেই অভাব পূরণ করার জন্য নবদ্বীপ লীলায় রাধাভাবকান্তি নিয়ে পূর্ণ ভগবান নবরূপে পূর্ণ হয়ে আবির্ভূত হলেন।*
*🔵পরমকারুণিক শ্রীপাদ কবিরাজ গোস্বামী শ্রীচৈতন‍্যচরিতামৃতে এই দুইটি শ্লোক স্বরূপের কড়চা হতে উদ্ধৃত করে পরিস্ফুটভাবে শ্লোক দুইটির ব‍্যাখ‍্যা করেছেন।এই শেষের শ্লোকের ব‍্যাখ‍্যায় তিনি শ্রীকৃষ্ণতত্ত্ব ও রাধাতত্ত্বের যথেষ্ট আলোচনা করেছেন।তা হতেই জানা যায় রসস্বরূপ শ্রীপাদ স্বরূপ-দামোদর শ্রীগৌরাঙ্গ মহাপ্রভুকে রসরাজরূপে দর্শন করতেন।তদীয় কড়চা গ্রন্থও যে রসের সুধামধুর প্রবাহে সর্বত্রই উচ্ছসিত,শ্রীচৈতন‍্যচরিতামৃত পাঠ করে সহজেই তার উপলব্ধি হয়।*
*শ্রীপাদ কবিরাজ গোস্বামী স্বরূপ দামোদরের উক্ত শ্লোকের ভাব বিবৃতি করতে করতে লিখেছেন=* 
*🌷শ্রীকৃষ্ণচৈতন‍্য গোসাঞি ব্রজেন্দ্র কুমার।*
*🌷রসময় মূর্তি কৃষ্ণ,সাক্ষাৎ শৃঙ্গার।।*
*🌷সেই রস আস্বাদিতে কৈল অবতার।*
*🌷আনুসঙ্গে কৈল সব রসের প্রচার।।*
*🌷শ্রীকৃষ্ণচৈতন‍্য গোসাঞি রসের সদন।*
*🌷অশেষ বিশেষ কৈল রস আস্বাদন।।*
                       *(আদি=৪র্থ)*
*🌺আবার অন‍্যত্র=*
*🌷কিম্বা প্রেম রসময় কৃষ্ণের স্বরূপ।*
*🌷তার শক্তি তার সহ হয় একরূপ।।*
  ☆ ☆ ☆ ☆
*🌷কৃষ্ণের বিচার এক আছয়ে অন্তরে।*
*🌷পূর্ণানন্দ পূর্ণরস রূপ কহে মোরে।।*
*ইহাতেও সেই রসতত্ত্বেরই কথা অভিব‍্যক্ত হয়ে পড়েছে।শ্রীরায় রামানন্দ যখন শ্রীগৌরাঙ্গের প্রকৃত স্বরূপ সন্দর্শন করলেন,তখন তিনি এক অদ্ভুত অলৌকিক রসরাজ মূর্তি সন্দর্শন করে মূর্ছিত হলেন।শ্রীপাদ স্বরূপ ও শ্রীরামরায় এই দুই পার্ষদ মহাপ্রভুর একান্ত অন্তরঙ্গ।ইহারা উভয়েই শ্রীগৌরাঙ্গসুন্দরকে "রসো বৈ সঃ" বলে প্রকাশ করেছেন। শ্রীপাদ স্বরূপের কড়চা গ্রন্থটি যে শ্রীগৌরাঙ্গ লীলার সুধাময় রসতত্ত্বে পরিসিক্ত,গ্রন্থটি পাঠ করলেই তা জানা যায়।প্রধানতঃ কোন কোন গ্রন্থাবলম্বনে শ্রীচৈতন‍্যচরিতামৃতের কোন কোন অংশে বিরচিত হয়েছে, শ্রীগ্রন্থকার বহু স্থানে তার পরিচয় প্রদান করে রেখেছেন। শ্রীকবিরাজ লিখেছেন=*
*🌷দামোদর স্বরূপ আর গুপ্ত মুরারি।*
*🌷মুখ‍্য মুখ‍্য লীলাসূত্র লিখিয়াছে বিচারি।।*
*🌷সেই অনুসারে লিখি লীলাসূত্রগণ।*
*🌷বিস্তারি বলিয়াছেন তাহা দাস বৃন্দাবন।।*
*🌻মহাপ্রভুর কৃপায় মুরারি কড়চা এখন প্রকাশিত। কিন্তু হায় "স্বরূপের কড়চা" কোথায়! শ্রীকবিরাজ কোন লীলা কোন কড়চা হতে সংগৃহীত করেছেন,তাও তার গ্রন্থে স্পষ্টভাবেই লিখিত আছে। যথা=*
*🌷আদিলীলার মধ্যে প্রভুর যতেক চরিত।*
*🌷সূত্ররূপে মুরারিগুপ্ত করিলা গ্রথিত।।*
*🌷প্রভুর যে শেষলীলা স্বরূপ-দামোদর।*
*🌷সূত্র করি রাখিলেন গ্রন্থের ভিতর।।*
*🌻শ্রীচৈতন‍্যচরিতামৃতের বিশেষত্ব এই যে এতে আদিলীলা বিস্তৃতভাবে বর্ণিত হয়নি।কেবল সূত্রমাত্র উল্লিখিত হয়েছে।এরকম কেন হল,তা সহজেই বুঝা যেতে পারে।শ্রীকবিরাজ দেখলেন পূজ‍্যপাদ শ্রীমদ্ বৃন্দাবনদাস ঠাকুর মহাশয় গুপ্ত মহাশয়ের কড়চার সূত্র শ্রীচৈতন‍্যভাগবতে বিস্তৃতরূপে বর্ণিত করেছেন।এমন কি জায়গায় জায়গায় সেটির বিশুদ্ধ অনুবাদ করে রেখেছেন। সুতরাং আদিলীলার সূত্রনিবহের বিস্তৃতির আর প্রয়োজন কি?শ্রীচৈতন‍্যভাগবতে মহাপ্রভুর বিপ্রলম্ভরসময়ী সুধামধুরা গম্ভীরালীলার ইঙ্গিত আছে বটে, কিন্তু শ্রীচৈঃচঃ এ এই লীলা যেরকম বিশদভাবে বর্ণিত হয়েছে শ্রীচৈতন‍্যভাগবতে সেরকম প্রণালী অবলম্বিত হয় নাই। কেন হয় নাই, কবিরাজ গোস্বামী স্বয়ং তাঁর কারণ লিখেছেন, যথা=*
*🌷নিত‍্যানন্দ লীলা বর্ণনে হইল আবেশ।*
*🌷চৈতন‍্যের শেষ লীলা রহিল অবশেষ।।*
   ☆ ☆ ☆ ☆
*🌷আর যত বৃন্দাবনবাসী ভক্তগণ।*
*🌷শেষ লীলা শুনিতে সবার হইল মন।।*
*🌷মোরে আজ্ঞা করিলা সবে করুণা করিয়া।*
*🌷তা সবার আজ্ঞায় লিখি নির্লজ্জ হৈঞা।।*
  ☆ ☆ ☆ ☆
*🌷বৃন্দাবন দাসের পাদপদ্ম করি ধ‍্যান।*
*🌷তার আজ্ঞা লঞা লিখি যাহাতে কল‍্যাণ।।*
*🌷চৈতন‍্য লীলাতে ব‍্যাস বৃন্দাবন দাস।*
*🌷তার কৃপা বিনে কিছু না হয় প্রকাশ।।*
*🌷মূর্খ নীচ ক্ষুদ্র মুঞি বিষয় লালস।*
*🌷বৈষ্ণবাজ্ঞা বলে করি এতেক সাহস।।*
*🌷শ্রীরূপ রঘুনাথ চরণের এই বল।*
*🌷যার স্মৃতে সিদ্ধ হয় বাঞ্জিত সকল।।*
                  *ক্রমাগত*
🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 শ্রীস্বরূপদামোদর 🌷 অষ্টম ভাগ  🌻 ভক্তপ্রবর শ্রীরসিকমোহন চক্রবর্তী ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📝 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/02/swarup8.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(৭৩)🙌শ্রীস্বরূপ-দামোদর🙌*
    *শ্রীস্বরূপের কড়চা ও চরিতামৃত*
    🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏
*🍀শ্রীপাদ কবিরাজ গোস্বামী শ্রীচৈতন‍্যভাগবতের অনভিব‍্যক্ত (যাহা প্রকাশ করা হয় নাই) সেইসব লীলা সবিস্তারে লিখতে রত হয়ে বিশুদ্ধ বৈষ্ণবচরিত্রসুলভ দীনতা প্রকাশ করেছেন।ফলে শ্রীপাদ স্বরূপের কড়চা ও শ্রীমদ্ দাস গোস্বামীর কড়চাই এই লীলা বর্ণনে তাঁর প্রধানতম অবলম্বন।শেষ লীলায় শ্রীপাদ স্বরূপই শ্রীমন্মহাপ্রভুর নিত‍্যসহচর ছিলেন।স্বরূপদামোদর সতত মহাপ্রভুর সঙ্গে সঙ্গে বিচরণ করতেন,যথা শ্রীচৈতন‍্যভাগবতে ঃ---*
*🌷 দামোদর স্বরূপ পরমানন্দপুরী।*
*🌷সন্ন‍্যাসী পার্ষদে এই দুই অধিকারী।।*
*🌷নিরবধি নিকটে থাকেন দুইজন।*
*🌷প্রভুর সন্ন‍্যাসে করে দন্ডের গ্রহণ।।*
*🌷অহর্নিশ গৌরচন্দ্র সঙ্কীর্ত্তন রঙ্গে।*
*🌷বিহরেন দামোদর স্বরূপের সঙ্গে।।*
*🌷কি শয়নে কি ভোজনে কিবা পর্য‍্যটনে।*
*🌷দামোদরে প্রভু না ছাড়েন কোন ক্ষণে।।*
*🌻শ্রীশ্রীমহাপ্রভুর প্রিয়তম নিত‍্যসহচর শ্রীপাদ স্বরূপ-দামোদরের কড়চা,শ্রীমদ্ রঘুনাথ দাস গোস্বামীর কড়চা ও তদীয় শ্রীমুখের উপদেশামৃত প্রভৃতি হতে সংগ্রহ করেই যে শ্রীপাদ কবিরাজ গোস্বামী শেষ-লীলা বর্ণন করেছেন তাঁর গ্রন্থেই তা প্রকাশিত হয়েছে।*
*শ্রীপাদ কবিরাজ গোস্বামী শ্রীমদ্ রঘুনাথ দাস গোস্বামীর স্বীয় (নিজ) মুখে গৌর-লীলা কাহিনী শুনেছিলেন।দাস গোস্বামী শ্রীপাদ স্বরূপদামোদরের অতি প্রিয়পাত্র ছিলেন।শ্রীপাদ স্বরূপ মহাপ্রভুর শেষ লীলার নিগূঢ় মর্ম্ম ইঁহাকে অবগত করিয়েছিলেন।দাস গোস্বামীর শ্রীমুখে সেই গম্ভীরা লীলা শ্রবণ করেই শ্রীল কবিরাজ সেটির বর্ণন করেন, যথা শ্রীচৈতন‍্যচরিতামৃতে ঃ---*
*চৈতন‍্য লীলা রত্নসার,স্বরূপের ভান্ডার,*
        *তিঁহ থুইল রঘুনাথের কন্ঠে।*
*তাহা কিছু যে শুনিল,তাহা ইহা বিস্তারিল,*
       *ভক্তগণ দিল এই ভেটে।।*
          *(মধ‍্যলীলা=২য় পরিচ্ছেদ)*
*🌻অন্ত‍্য লীলাই শ্রীল কবিরাজ গোস্বামী প্রণীত শ্রীচৈতন‍্যচরিতামৃতের এক প্রধান বিশিষ্টতা।এই লীলা প্রেমরাজ‍্যের দুরবগাহ (যা সহজে বোধগম্য হয় না,বা যে বিষয়ের মধ্যে সহজে প্রবেশ করা যায় না,দুষ্প্রবেশ) মহাভাবের মহোচ্ছ্বাস।এটি অতি দুর্ব্বোধ‍্য(যা বোধগম্য হওয়া কঠিন)।ভাষায় এটির অভিব‍্যক্তি আদৌ অসম্ভব।শ্রীপাদ কবিরাজ গোস্বামী তাই লিখেছেন ঃ--*
*🌷 প্রভুর বিরহোন্মাদ ভাব গম্ভীর।*
*🌷বুঝিতে না পারে কেহ যদ‍্যপি হয় ধীর।।*
*🌷বুঝিতে না পারি যাহা বর্ণিতে কে পারে।*
*🌷সেই বুঝি,বর্ণে--চৈতন‍্য শক্তি দেন যারে।।*
*🌻এই দুর্গম দুরবগাহ লীলা-সাম্রাজ‍্যে শ্রীপাদ স্বরূপদামোদর ও শ্রীমদ্ রঘুনাথ দাস গোস্বামী কবিরাজ শ্রীকৃষ্ণদাসের পথ-প্রদর্শক। কেন না,অন‍্যান‍্য কড়চা গ্রন্থে এই লীলার বিষয় আলোচিত হয় নাই। কেবল শ্রীপাদ স্বরূপ ও শ্রীমদ্ দাস গোস্বামীর কড়চাতেই এই ভাব-গম্ভীর মহালীলা জগতে প্রকাশ পেয়েছেন।অন‍্যান‍্য কড়চা-কর্ত্তারা তখন দূর দেশে ছিলেন,তাঁদের কড়চাতে এই লীলার উল্লেখ দেখা যায় না।যথা শ্রীচরিতামৃতে ঃ---*
*🌷স্বরূপ গোঁসাই আর রঘুনাথ দাস।*
*🌷এই দুইয়ের কড়চাতে এ লীলা প্রকাশ।।*
*🌷সেই কালে এই দুই রহে প্রভু পাশে।*
*🌷আর সব কড়চা-কর্তা রহে দূর দেশে।।*
*🌷ক্ষণে ক্ষণে অনুভাবি এই দুই জন।*
*🌷সংক্ষেপে বাহুল‍্যে কৈল কড়চা গ্রন্থন।।*
*🌷স্বরূপ সূত্র কর্ত্তা, রঘুনাথ বৃত্তিকার।*
*🌷তাহার বাহুল‍্যে বর্ণি পঞ্জি টীকা ব‍্যবহার।।*
*🌻শেষ লীলা বর্ণনে শ্রীপাদ স্বরূপের কড়চাই শ্রীল কবিরাজ গোস্বামীর প্রধানতম আশ্রয়।তিনি অন‍্যত্রও লিখেছেন ঃ----*
*স্বরূপ গোসাঞীর মত, রঘুনাথ জানে যত,*
         *তাহা লিখি নাহি মোর দায়।*
*🍀শ্রীচৈতন‍্যচরিতামৃতের অন্ত‍্যলীলায় পঞ্চদশ পরিচ্ছেদের অন্তে লিখিত হয়েছে ঃ---*
*🌷প্রলাপ সহিতে এই উন্মাদ বর্ণন।*
*🌷স্বরূপ গোঁসাই ইহা করিয়াছেন বর্ণন।।*
*🍀এই শ্রীগ্রন্থে শ্রীমদ্ভাগবত,কৃষ্ণকর্ণামৃত,জগনাথ বল্লভ নাটক প্রভৃতির শ্লোকও তার বঙ্গানুবাদই প্রলাপ বর্ণনে ব‍্যবহৃত হয়েছে। নিম্ন লিখিত শ্লোকটি মূল কড়চার শ্লোক বলেই অনুমিত হয়,যথা ঃ----*
*🌷প্রাপ্তপ্রণষ্টাচ‍্যুতবিত্ত আত্মা,*
*🌷যযৌ বিষাদোজ্ ঝিত দেহগেহঃ,*
*🌷গৃহীত কাপালিকধর্ম্মকো মে,*
*🌷বৃন্দাবনং সেন্দ্রিয়শিষ‍্যবৃন্দঃ।*
                     *(অন্ত‍্য ১৪ পরিচ্ছেদ)*
*🍀অন্বয়=প্রাপ্তপ্রণষ্টাচ‍্যুতবিত্ত (শ্রীকৃষ্ণরূপ ধনকে প্রথমে পেয়ে পরে হারিয়ে); মে আত্মা(আমার মন) ; বিষাদোজ্ঝিতদেহগেহ (বিষাদে দেহরূপ গৃহকে পরিত‍্যাগ করে) ; গৃহীত-কাপালিকধর্মকঃ (কাপালিক ধর্ম গ্রহণ করে) (কাপালিক বলতে বলা হয়েছে =বামাচারী তান্ত্রিক,ইহারা হাতে নরকপালের অর্দ্ধাংশ ধারণ করে সেটিতেই তাদের পান ও ভোজন পাত্র, এবং গলায় অস্থিমালা,কপালে চিতাভস্ম ও অঙ্গারের তিলক রচনা করে); সেন্দ্রিয়শিষ‍্যবৃন্দঃ (ইন্দ্রিয়রূপ শিষ‍্যবৃন্দের সহিত) ; বৃন্দাবনং যযৌ (বৃন্দাবনে গমন করেছে)।*
*🌻অনুবাদ=আমার মন শ্রীকৃষ্ণরূপ ধনকে প্রথমে পেয়ে পরে হারিয়েছি ; তাই বিষাদে দেহরূপ গৃহকে পরিত‍্যাগ করে কাপালিক ধর্ম গ্রহণ করে ইন্দ্রিয়রূপ শিষ‍্যবর্গের সঙ্গে শ্রীবৃন্দাবনে চলে গেছে।*
*🌹শ্রীল কবিরাজ গোস্বামী পদে ইহার এইরকম বঙ্গানুবাদ করেছেন,যথা ঃ----*
*প্রাপ্ত কৃষ্ণ হারাইয়া,তার গুণ সোঙরিয়া,*
         *মহাপ্রভু সন্তাপে বিহ্বল।*
*রায় স্বরূপের কন্ঠ ধরি,কহে "হাহা হরি হরি",*
         *ধৈর্য‍্য গেল হইল চপল।।*
         *শুন বান্ধব কৃষ্ণের মাধুরী।*
*যার লোভে মোর মন,ছাড়ি লোক বেদধর্ম,*
        *যোগী হইয়া হইল ভিখারী।।*
*কৃষ্ণ লীলামন্ডল,শুদ্ধ শঙ্খ কুন্ডল,*
        *গড়িয়াছ শুক কারিকর।*
*সেই কুন্ডল কানে পড়ি,তৃষ্ণা লাউ থালি ধরি,*
       *আশা ঝুলি কান্দের উপর।।*
*চিন্তা কাঁথা উড়ি গায়,ধূলি বিভূতি মলিন গায়,*
       *হা হা কৃষ্ণ প্রলাপ-উত্তর।*
*উদ্বেগ দ্বাদশ হাতে,লোভের ঝুলনী মাথে,*
      *ভিক্ষাভাবে ক্ষীণ কলেবর।।*
  ☆ ☆ ☆ ☆ ☆
*দশেন্দ্রিয় শিষ‍্য করি,মহা বাউল নাম ধরি,*
         *শিষ‍্য লঞা করিল গমন।*
*মোর দেহ স্বসদন,বিষয়-ভোগ মহাধন,*
        *সব ছাড়ি গেল বৃন্দাবন।।*
*বৃন্দাবনে প্রজাগণ,যত স্থাবর জঙ্গম,*
        *বৃক্ষলতা গৃহস্থ আশ্রমে।*
*তার ঘরে ভিক্ষাটন,ফলমূল পত্রাসন,*
       *এই বৃত্তি করে শিষ্য সনে।।*
*কৃষ্ণ গুণ রূপরস,গন্ধ শব্দ পরশ,*
        *সে সুধা আস্বাদে গোপীগণ।*
*তা সভার গ্রাস শেষ,আনে পঞ্চেন্দ্রিয় শিষ্য,*
        *সে ভিক্ষায় রাখেন জীবন।।*
*শূন‍্য কুঞ্জ মন্ডপ কোণে,যোগাভ‍্যাস কৃষ্ণ ধ‍্যানে,*
        *তাঁহা রহে লঞা শিষ‍্যগণ।*
*কৃষ্ণ আত্মা নিরঞ্জন,সাক্ষাৎ দেখিতে মন,*
      *ধ‍্যানে রাত্রি করে জাগরণ।।*
*মন কৃষ্ণ বিয়োগী,দুঃখে মন হল যোগী,*
       *সে বিয়োগে দশদশা হয়।*
*সে দশায় ব‍্যাকুল হঞা,মন গেল পলাইয়া,*
      *শূন‍্য মোর শরীর আলয়।।*
*🌻এই পদের অর্থ অতি সুগম্ভীর।কাপালিক ধর্মে তত্ত্ব সাক্ষাৎকার জন্য কঠোর বৈরাগ‍্য,উৎকট ব‍্যাকুলতা ও তীব‍্যযোগের অনুষ্ঠান লক্ষিত হয়।কাপালিকের বাহ‍্য চিহ্নাদির স্থলে এখানে ব্রজরসের তরঙ্গ ভূষণে অতি চমৎকার রূপক কল্পনা করা হয়েছে।*
                    *ক্রমাগত*
👣👣👣👣👣👣🙏👣👣👣👣👣👣
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 শ্রীস্বরূপদামোদর 🌷 অষ্টম ভাগ  🌻 ভক্তপ্রবর শ্রীরসিকমোহন চক্রবর্তী ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📝 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/02/swarup8.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(৭৪)🙌শ্রীস্বরূপ-দামোদর🙌*
    *শ্রীস্বরূপের কড়চা ও চরিতামৃত*
     ^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^
*🍀এখানে ব্রজরসের তত্ত্ব ভূষণে অতি চমৎকার রূপক কল্পনা করা হয়েছে।শ্রীচন্ডীদাস লিখেছেন=*
*সদাই ধেয়ানে, চাহে মেঘ পানে,*
          *না চলে নয়ন তারা।*
*বিরতি আহারে, রাঙ্গা বাস পরে,*
        *যেমন যোগিনী পারা।।*
*🍀অন‍্যত্রও এই ভাবের একটি পদ আছে,যথা=*
*বঁধূর লাগিয়া, যোগিনী হইব,*
           *কুন্ডল পড়িব কানে।*
*🍀এইরকম মহাভাবের ব‍্যাকুলতা আমাদের সীমাবদ্ধ সঙ্কীর্ণ ভাষায় পরিস্ফুট করা অসম্ভব।*
*🍀কড়চার শ্লোকের ন‍্যায় আরও একটি শ্লোক "মধ‍্য লীলায় দ্বিতীয় পরিচ্ছেদে" প্রলাপ-সূত্র-বর্ণনে দেখা যায়, যথা=*
*🌷শ্রীকৃষ্ণরূপাদি নিষেবণং বিনা,*
*🌷ব‍্যর্থানি মেহহান‍্যখিলেন্দ্রিয়াণ‍্যলম্।*
*🌷পাষাণ-শুষ্কেন্ধন-ভারকাণ‍্যহো,*
*🌷বিভর্ম্ভি বা তানি কথং হতত্রপঃ।।*
*🍀অন্বয়=শ্রীকৃষ্ণরূপাদিনিষেবণং বিনা (শ্রীকৃষ্ণের রূপাদির সেবা ব‍্যতীত)(নিষেবণ=সেবা) ; মে অহানি (আমার দিনগুলি) ; অখিলেন্দ্রিয়াণি (এবং ইন্দ্রিয়সকল) ; অলং ব‍্যর্থানি (সম‍্যকরূপে ব‍্যর্থ) ; হতত্রপঃ (নির্লজ্জ) ; [সন] (হইয়া) ; পাষাণ শুষ্কেন্ধনভারকাণি তানি (পাষাণ ও শুষ্ক ইন্ধনের ন‍্যায় সেই সমস্ত দিন ও ইন্দ্রিয়বর্গকে) ; অহো কথং বা ধারয়ামি (আহা কিভাবেই বা ধারণ করি)।*
*🍀অনুবাদ=শ্রীকৃষ্ণের রূপাদির সেবা ছাড়া আমার দিনগুলো এবং ইন্দ্রিয়গুলো সমস্তই বিফল।আহা! পাষাণ বা পাথর ও শুকনো কাঠের মত বোঝাস্বরূপ এই ইন্দ্রিয়গুলোকেই বা আমি নিলজ্জ হয়ে কেমন করে বহন করি,আর দিনগুলোকেই বা কেমন করে যাপন করি।*
*🍀শ্রীপাদ কবিরাজ গোস্বামী ইহার এইরকম অনুবাদ করেছেন ঃ--*
*বংশীগানামৃতধাম,লাবণ‍্যামৃত-জন্মস্থান,*
        *যে না দেখে সে চাঁদবদন।*
*🌹বংশীগানামৃতধাম=বংশীগানরূপ অমৃতের আশ্রয়। লাব‍ণ‍্যামৃত জন্মস্থান=সৌন্দর্য‍্যরূপ, অমৃতের উৎপত্তিস্থান।*
*সে নয়নে কিবা কাজ,পড়ু তার মাথে বাজ,*
        *সে নয়ন রহে কি-কারণ।।*
   *সখী হে!শুন মোর হতবিধি বল।*
*🌹হতবিধি বল=দুর্দৈব বল ; দূরদৃষ্টের শক্তি।*
*মোর বপু চিত্ত মন,সকল ইন্দ্রিয়গণ,*
        *কৃষ্ণ-বিনু সকল বিফল।।*
*কৃষ্ণের মধুরবাণী,অমৃতের তরঙ্গিনী,*
      *তার প্রবেশ নাহি সে শ্রবণে।*
*কাণাকড়ি ছিদ্রসম,জানিহ সেই শ্রবণ,*
       *তার জন্ম হইল অকারণে।।*
*মৃগমদ নীলোৎপল,মিলনে যে পরিমল,*
        *যেই হরে তার গর্ব মান।*
*হেন কৃষ্ণ-অঙ্গ-গন্ধ,যার নাহি সে সম্বন্ধ,*
       *সেই নাসা ভস্ত্রের সমান।।*
*🍀ভস্ত্রা=কর্মকার বা স্বর্ণকারের হাফর।*
*কৃষ্ণের অধরামৃত,কৃষ্ণগুণ-চরিত,*
      *সুধাসার-স্বাদু-বিনিন্দন।*
*🍀সুধাসারস্বাদবিনিন্দন=অমৃতের সারের স্বাদ পর্যন্ত যার দ্বারা নিন্দিত হয়ে থাকে।*
*তার স্বাদ যে না জানে,জন্মিয়া না মৈল কেনে,*
         *সে রসনা ভেকজিহ্বা সম।।*
*🍀ভেকজিহ্বা সম=ভেক বা ব‍্যাঙ জিহ্বা দ্বারা কোনো রসই আস্বাদন করতে পারে না।বরং বর্ষাকালে ভেকের জিহ্বা যে শব্দ করে,তার দ্বারা সাপকে আহ্বান করে নিজের মৃত‍্যুকেই ডেকে আনে।এইরকম যে জিহ্বা শ্রীকৃষ্ণের অধরামৃত গ্রহণ করতে পারে না,শ্রীকৃষ্ণের গুণলীলা-কীর্তন করতে পারে না, সে জিহ্বাও কালসর্প-সম অকল‍্যাণ বা ত্রিতাপ জ্বালাকেই আহ্বান করে।*
*কৃষ্ণ-কর-পদতল,কোটি চন্দ্র সুশীতল,*
       *তার স্পর্শ যেন স্পর্শমণি।*
*তার স্পর্শ নাহি যার,সে যাউক ছারখার,*
       *সেই বপু লৌহসম গণি।।*
*🍀লৌহসম গণি=কঠিন লোহা যেমন কর্মকারের আগুনে পোড়ে এবং হাতুড়ির দ্বারা আঘাত পেয়ে থাকে,তেমনি যে দেহ শ্রীকৃষ্ণের কর-পদতলের স্পর্শ পায়নি,তা ত্রিতাপ জ্বালায় পুড়তে থাকে এবং কাম-ক্রোধাদির পদাঘাত পেতে থাকে।*
*🌻শ্রীপাদ স্বরূপের সমগ্র কড়চা গ্রন্থটি সংস্কৃত ভাষায় লিখিত বলেই আমাদের বিশ্বাস, এবং সেটি সূত্রাকারে বর্ণিত।শ্রীপাদ কবিরাজ মহাশয় প্রলাপে উক্ত শ্লোকগুলির পদ‍্যে যে ব‍্যাখ‍্যা করেছেন আমাদের বোধহয় মূল শ্লোক অপেক্ষাও অধিকতর(অনেক বেশী) উচ্ছাসময়ী,অনেক বেশী প্রশান্ত গম্ভীর ও অনেক বেশী মর্ম্মস্পর্শিনী হয়েছে। শ্রীচরিতামৃতের প্রলাপের পদ‍্যগুলি প্রেমিকভক্তের পক্ষে প্রকৃতই হৃৎকর্ণের রসায়ন। শ্রীমন্মহাপ্রভু শ্রীস্বরূপকে ব্রজরসের শ্লোক পাঠ করবার জন্য অনুরোধ করে বলতেন=*
*🌷কর্ণ তৃষ্ণায় মরে,পড় রসায়ন, শুনি।*
*🍀শ্রীপাদ কবিরাজ মহাশয় প্রকৃতই রসময় গোলোকের কবিরাজ।তাঁর গ্রথিত এক একটি প্রলাপ-পদ ভাব-সাগরের কোটি কোটি মহাতরঙ্গের লীলাস্থলী।আমি অতি অধম, কিন্তু প্রলাপ পদপাঠে এ অধমের মলিন প্রাণও আকুল এবং উদাস হয়ে উঠে।ভবভূতির অমন উচ্ছ্বাসময়ী কবিতা পড়েছি, মহানাটকের উচ্ছ্বাসময় পদগুলিও আস্বাদন করেছি, চন্ডীদাসে বিরহ কবিতায় মৃদু কাকলীর করুণরবও এ কানে প্রবেশ হয়েছে, কিন্তু শ্রীপাদ কবিরাজের বিরহ-উন্মাদের পদসুধালহরী পাঠে বিরহের তীব্র ব‍্যাকুলভাবে হৃদয়ক্ষেত্রকে যেরকম উদ্বেলিত করে তোলে,কি জানি কি এক উন্মাদিনী শক্তির প্রভাবে চিত্তবৃত্তিকে শ্রীকৃষ্ণের জন্য যেরকম আকুল করে দেয়, এমন ভাব আর কিছুতেই অনুভূত হয় নাই।*
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 শ্রীস্বরূপদামোদর 🌷 অষ্টম ভাগ  🌻 ভক্তপ্রবর শ্রীরসিকমোহন চক্রবর্তী ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📝 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/02/swarup8.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(৭৫)🙌শ্রীস্বরূপ-দামোদর🙌*
       *শ্রীস্বরূপের কড়চা ও চরিতামৃত*

*🍀কি জানি কি এক উন্মাদিনী শক্তির প্রভাবে চিত্তবৃত্তিকে শ্রীকৃষ্ণের জন্য যেরকম আকুল করে দেয়,এমন ভাব আর কিছুতেই অনুভূত হয় নাই।শুনুন এই পদটি=*

*এই কৃষ্ণের বিরহে, উদ্বেগে মন স্থির নহে,*
          *প্রাপ্ত‍্যু পায় চিন্তন না যায়।*
*যেবা তুমি সখীগণ, বিষাদে বাউল মন,*
        *কারে পুছ,কে কহে উপায়।।*
*কাঁহা করোঁ কাঁহা যাঙ,কাহা গেলে কৃষ্ণ পাঙ,*
           *কৃষ্ণ বিনু প্রাণ মোর যায়।।*
*হাহা কৃষ্ণ প্রাণধন, হাহা পদ্মলোচন,*
           *হাহা দিব‍্য সদ্ গুণ নাগর।*
*হাহা শ‍্যামসুন্দর, হাহা পীতাম্বর ধর,*
           *হাহা রাসবিলাস সাগর।।*
*কাঁহা গেলে তোমা পাই,তুমি কহ তাহা যাই,*
            *এত কহি চলিলা ধাইয়া।*
*স্বরূপ উঠি কোলে করি,প্রভুরে আনিলা ধরি,*
            *নিজ স্থানে বসাইল লৈয়া।।*
*🌻যথা, শ্রীচৈতন‍্যচরিতামৃতে পাই=*
*🌷রামানন্দের গলা ধরি করে প্রলাপন।*
*🌷স্বরূপে পূছয়ে মানি নিজ সখীজন।।*
*🌷পূর্বে যেন বিশখাকে রাধিকা পুঁছিল।*
*🌷সেই শ্লোক পড়ি প্রলাপ করিতে লাগিল।।*
*🌹🌹যথা ললিত-মাধবে=৩|২৫ পাই*
   °°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°
*🌷ক্ব নন্দকুলচন্দ্রমা ক্ব শিখিচন্দ্রিকালঙ্কৃতিঃ।*
*🌷ক্ব মন্দ্রমুরলীরব ক্ব নু সুরেন্দ্রনীলদ‍্যুতিঃ।।*
*🌷ক্ব রাসরসতান্ডবী ক্ব সখীজীবরক্ষৌষধি।*
*🌷নিধির্ম্মম সুহৃত্তমঃ ক্ব বত হন্ত হা ধিগ্বিধিম্।।*
*🌳সখি!নন্দকুলচন্দ্রমা কোথায়? সেই শিখিচন্দ্রিকা ভূষণ কোথায়? মন্দ্রমুরলী ধ্বনিকর শ্রীকৃষ্ণ কোথায়?সেই ইন্দ্রনীলমণিদ‍্যুতি কোথায় ? সেই রাসরসতান্ডবী কোথায় ? সখি! আমার প্রাণরক্ষার মহৌষধি কোথায় ?হায়! এখন আমার সেই সুহৃত্তম কোথায় ? হায়!হায়! আমার এমন প্রিয়তম প্রাণেশ্বরের সঙ্গে যে আমায় বিযুক্ত করিল, সেই বিধিকে শতবার ধিক্।*
*🌻শ্রীরাধাপ্রেম মহিমার কি পূর্ণ আস্বাদন! কেমন তীব্র ব‍্যাকুলতা! ছায়া ও আলোক রেখার মত বাইরের জগতের সঙ্গে শ্রীকৃষ্ণময় জগতের কেমন সূক্ষ্ম মেশামেশি! আবার এই অর্দ্ধ বাহ‍্য দশা হতেই সহসা যখন মহাপ্রভুর অন্তর্দশার ভাব উপস্থিত হয়,তখনই মহাপ্রভু অচেতন হয়ে পড়েন।তাঁর মুখে কথা নেই,নাকে শ্বাস নেই,নয়নে পলক নেই,নেত্র উত্তান,তারা স্থির।তিনি নিস্পন্দ,নিঃশব্দ,লীলানুধ‍্যানে পূর্ণ নিমগ্ন।*
*🌺একদিন চটকপর্বত দেখে হঠাৎ মহাপ্রভুর গোবর্দ্ধন বলে ভ্রম হ'ল,তিনি অমনি শ্রীভাগবতের=*
*🌷হন্তাযমদ্রিরবলা হরিদাসবর্য‍্যঃ*
*🌻এই পদ‍্য পাঠ করতে করতে পর্বতাভিমুখে সবেগে ধাবিত হলেন।ভক্তগণ ইদানিং "মহাপ্রভুর রক্ষণাবেক্ষণের জন্য সবসময়ই সতর্ক থাকতেন,চারিদিকে "ফুকার" চিৎকার পড়ল, মহাপ্রভু পর্বতের দিকে নক্ষত্রবেগে ধাবিত হয়েছেন! ভক্তগণ দৌড়িলেন, কিন্তু শ্রীচৈতন‍্যদেবের সঙ্গে দৌড়াতে পারেন এমন শক্তি কার? সুতরাং সকলেই অনেক পেছনে পড়ে রইলেন, কিন্তু অতি অল্পক্ষণের মধ্যেই মহাপ্রভুর গতি স্তম্ভিত হল, মহাভাবে তাঁর শ্রীদেহ একেবারে অবশ হয়ে পড়ল,তনি বাতাহত কদলীর ন‍্যায় মাটিতে পড়লেন, প্রতি রোমকূপে কদম্বের মত পুলক-কদম্ব দেখা দিল, ঘামে ও রক্তোদ্গমে তাঁর শ্রীঅঙ্গ পরিসিক্ত হয়ে গেল।নয়নযুগল হতে শ্রাবণের ধারার মত অশ্রু প্রবাহিত হতে লাগল।ভাবনিধি গৌরসুন্দরের মুখে বাক‍্য নেই,কন্ঠে ঘর্ঘর শব্দ হচ্ছে, শ্রীঅঙ্গ একেবারে সাদা হয়ে উঠেছে। এই অবস্থায় গোবিন্দ ও স্বরূপদামোদর অনেক যত্নে গৌরচন্দ্রকে সচেতন করলেন।শ্রীগৌরাঙ্গ বাহ‍্যজ্ঞান পেয়ে বললেন, "একি হল তোমরা একি করলে, আমি গোবর্দ্ধনের কন্দরায় শ্রীশ্রীরাধাকৃষ্ণের রহঃকেলি দর্শন সুখে মগ্ন ছিলাম। হায়!তোমরা আমায় বৃথা দুঃখ দিতে এখানে আনলে কেন? যথা শ্রীচরিতামৃতে=*
*🌷কেন বা আনিলে মোরে বৃথা দুঃখ দিতে।*
*🌷পাইয়া কৃষ্ণের লীলা না পাইলুঁ দেখিতে।।*
*🌻এইকথা বলে ভাবনিধি গৌরহরি অঝোর নয়নে কাঁদতে লাগলেন।*
*🌸প্রিয়পাঠক,একবার এই করণাবিগ্রহের এই অবস্থার শ্রীমূর্তি ও প্রলাপ মনে ভাবুন দেখি। শ্রীপাদ কবিরাজ গোস্বামী আবেশে বিরহ-উন্মত্ত শ্রীগৌরাঙ্গ-রূপ-সন্দর্শন না করলে কি এই চিত্র এঁকে তুলতে পারতেন?*
*🌻এই সুচিক্কণ সুনির্মল এবং অলৌকিক প্রেম-উন্মাদ-ভাবময় গোলোক-সুধার ঘনীভূত চিত্রটি এই মলিন ও কর্কশ হাতে এখন আর বেশীক্ষণ ধরে দেখতে বা দেখাতে সাহস পাচ্ছি না।কি জানি কি করতে কি করে ফেলিব।মহাপ্রভুর কৃপানুমতি ও ভক্তগণের আশীর্বাদ পাইলে সময়ান্তরে আবার এই বিষয়ে সচেষ্ট হওয়ার বাসনা রইল।*
*🍀শ্রীচৈতন‍্যচরিতামৃত গ্রন্থের কথা যা বলছিলাম এক্ষণে তারই আর একটু বলে উপসংহার করছি।গ্রন্থটি অশেষ পান্ডিত‍্যপূর্ণ। শ্রীমদ্ভাগবতের সার-স্বরূপ বহুল শ্লোকরত্নে এটির কলেবর সমলঙ্কৃত।তাছাড়াও অলঙ্কার শাস্ত্র,অভিজ্ঞান শকুন্তলা,অমরকোষ, আদিপুরাণ,উজ্জ্বলনীলমণি,উত্তর চরিত্র,উদ্বাহতত্ত্ব,উপপুরাণ,একাদশীতত্ত্ব,কড়চা (মুরারিকৃত) কড়চা (রূপ গোস্বামী, কড়চা (স্বরূপ গোস্বামী) কড়চা (রঘুনাথ দাস গোস্বামীকৃত) কাব‍্য প্রকাশ, কিরাতার্জ্জুনীয়, কৃষ্ণকর্ণামৃত,গীতগোবিন্দ,গোপীপ্রেমামৃত, গোবিন্দলীলামৃত,গৌতমীয় তন্ত্র,(বৃহৎও লঘু) শ্রীচৈতন‍্যচন্দ্রোদয়, চৈতন‍্যভাগবত, জগন্নাথ বল্লভ নাটক,দানকেলী কৌমুদী, নাটকচন্দ্রিকা,নামকৌমুদী, নারদীয় পুরাণ, (বৃহৎ ও লঘু), নৃসিংহপুরাণ,নৈষধ,ন‍্যায়,পঞ্চদশী, পদ্মপুরাণ, পদ্মাবলী,পাণিনি,বিদগ্ধমাধব, বিশ্বপ্রকাশ, বিষ্ণুপুরাণ, ব্রহ্মবৈবর্ত্ত পুরাণ,ব্রহ্ম সংহিতা, ব্রহ্মান্ড পুরাণ,ভক্তিরসামৃতসিন্ধু, ভগবদ্গীতা, ভাগবতসন্দর্ভ,ভাবার্থদীপিকা,মনু,মহাভারত, যামুনাচার্য‍্যস্তব,রঘুবংশ,ললিতমাধব, শাঙ্করভাষ‍্য,ষট্ সন্দর্ভ,স্তবমালা (শ্রীরূপ ও রঘুনাথকৃত), সামুদ্রিক,সাহিত‍্যদর্পণ, হরিভক্তিবিলাস ও হরিভক্তি সুধোদয় প্রভৃতি নানান গ্রন্থ হতে সারগর্ভ বচনাদি উদ্ধৃত হয়েছে। কিন্তু এ সমস্ত এই গ্রন্থের বহিরঙ্গ গৌরব।ভক্তি প্রেম ও ভগবন্মাধুর্য‍্যই এই গ্রন্থের প্রাণ, শ্রীগৌরাঙ্গই ইঁহার আত্মা।*
*🌹সুতরাং এই শ্রীগ্রন্থটি প্রেমিক ভক্তের নিত‍্য আস্বাদ‍্য,গৌড়ীয় বৈষ্ণববৃন্দের পরমারাধ‍্য। স্পর্দ্ধার সহিত বলা যেতে পারে, ধর্মের উচ্চতমতত্ত্বপূর্ণ এমন গ্রন্থ আর নাই। স্বয়ং ভগবান শ্রীগৌরচন্দ্র এই শ্রীগ্রন্থে সততই সমুদিত।ইহার প্রতি ছত্রই অমৃতবর্ষী।প্রতি ছত্রই গোলোকের আনন্দ সুধায় পরিপ্লুত।ইহার প্রত‍্যেক কথায় সূত্রবৎ-বহুলতত্ত্বনিবহে পরিপূর্ণ, এবং প্রত‍্যেক উক্তিই আনন্দ তত্ত্বের অক্ষয় উৎস।শ্রীপাদ কবিরাজ শ্রীচৈতন‍্য ভাগবত সম্বন্ধে বলেছেন=*
*🌷মনুষ‍্যে রচিতে নারে ঐছে গ্রন্থ ধন‍্য।*
*🌷বৃন্দাবন দাস মুখে বক্তা শ্রীচৈতন‍্য।।*
*🌻আমরা তাঁরই পদের অনুসরণ করে বলছি=*
*🌷মনুষ‍্যে রচিতে নারে ঐছে গ্রন্থ ধন‍্য।*
*🌷বৃন্দাবন দাস মুখে বক্তা শ্রীচৈতন‍্য।।*
*🌻গ্রন্থের উপসংহারে স্বয়ং গ্রন্থকার মহাবিনীত ভাবে লিখেছেন=*
*🌷"আমি লিখি " এহো মিথ‍্যা করি অভিমান।*
*🌷আমার শরীর কাষ্ঠ পুতলী-সমান।।*

*🙏শ্রীস্বরূপ-দামোদর গ্রন্থটি এখানেই বিরাম হ'ল, বানান, ভুল,ভ্রান্তি হয়ত অনেক হয়েছে, নিজগুণে ক্ষমা করবেন।*
*🙌জয় জয় নিতাই গৌর সীতানাথ প্রেমানন্দে হরি বল🙏🙏🙏*
🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙌🙏🙏🙏🙏🙏🙏
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

    📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝
    ꧁👇📖 সূচীপত্র ✍️ শ্রী জয়দেব দাঁ 📖👇꧂



✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧


✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

   ✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️ 
নিবাস- বাঁশবাড়ী, কীর্তন মন্দিরের পাশে, পোঃ- বাঁশবাড়ী, থানা- ইংরেজ বাজার, জেলা- মালদহ, পশ্চিমবঙ্গ, পিন কোড- ৭৩২১০১।

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

  *••••┉❀꧁👇🏠Home Page🏠👇꧂❀┅••••* 


✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

    *••••━❀꧁👇 📖 সূচীপত্র 📖 👇꧂❀┅••••* 



✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

     *••••━❀꧁👇📚 PDF গ্রন্থ 📚👇꧂❀┅••••* 


✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
    *••••┉━❀꧁ 🙏 রাধে রাধে 🙏 ꧂❀━┅••••* 
                   শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য প্রভু নিত্যানন্দ
              হরে কৃষ্ণ হরে রাম শ্রীরাধেগোবিন্দ।।
  *••••┉━❀꧁ 🙏 জয় জগন্নাথ 🙏 ꧂❀━┅••••*
              হরে কৃষ্ণ হরে কৃষ্ণ কৃষ্ণ কৃষ্ণ হরে হরে
              হরে রাম হরে রাম রাম রাম হরে হরে॥
  *••••┉━❀꧁ 🙏 জয় রাধাকান্ত 🙏 ꧂ ❀━┅••••*
   🌷❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀🌷
   🏵️❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀🏵️
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧







adds