শ্রী মৃন্ময় নন্দী কর্ত্তৃক সকল ভক্ত👣চরণে👣অসংখ্যকোটি 🙇প্রণাম🙇 ক্লিক করুন 👇

শ্রী মৃন্ময় নন্দী কর্ত্তৃক সকল ভক্ত👣চরণে👣অসংখ্যকোটি 🙇প্রণাম🙇 ক্লিক করুন 👇

꧁ ২৮ টি ভয়াবহ নরকের বর্ণনা ꧂

✧════════════•❁❀❁•════════════✧
                 ꧁ ২৮ টি ভয়াবহ নরকের ꧂
 শ্রীমদ্ভাগবতের পঞ্চম স্কন্দে শ্রীল শুকদেব গোস্বামীকে পরিক্ষিৎ মহারাজ, নম্রভাবে জিজ্ঞাসা করেন হে প্রভু, পাপ কত প্রকার আর নরক কত প্রকার ? 
তখন শ্রীল শুকদেব গোস্বামী ২৮ প্রকার নরকের কথা বর্ণনা করেছেন।

নিম্নে সেই নরক যন্ত্রণার বিবরণ দেওয়া হল👇

১) তামিস্রঃ যে ব্যক্তি অপরের ধন, স্ত্রী ও পুত্র অপহরণ করে, অত্যন্ত ভয়ঙ্কর যমদূতেরা তাকে কালপাশে বেঁধে বলপূর্বক তামিস্র নরকে নিক্ষেপ করে। এই তামিস্র নরক ঘোর অন্ধকারে আচ্ছন্ন; সেখানে যমদূতেরা পাপীকে ভীষণভাবে প্রহার, তাড়ন এবং তর্জন করে। সেখানে তাকে অনশনে রাখা হয় এবং জল পান করতে দেওয়া হয় না। এইভাবে ক্রুদ্ধ যমদূতদের দ্বারা নির্যাতিত হয়ে সে মূর্ছিত হয়।

২) অন্ধতামিস্রঃ যে ব্যক্তি পতিকে বঞ্চনা করে তার স্ত্রী-পুত্র উপভোগ করে, সে অন্ধতামিস্র নরকে পতিত হয়। বৃক্ষকে ভূপাতিত করার পূর্বে যেমন তার মূল ছেদন করা হয়, তেমনই সেই পাপীকে ঐ নরকে নিক্ষেপ করার পূর্বে যমদূতেরা নানা প্রকার যন্ত্রণা প্রদান করে। এই যন্ত্রণা এতই প্রচণ্ড যে, তার ফলে তার বুদ্ধি এবং দৃষ্টি নষ্ট হয়ে যায়।

৩) রৌরবঃ যে ব্যক্তি তার জড় দেহটিকে তার স্বরূপ বলে মনে করে, তার নিজের দেহ এবং দেহের সম্পর্কে সম্পর্কিত আত্মীয়-স্বজনদের ভরণ-পোষণের জন্য দিনের পর দিন অপর প্রাণীর হিংসা করে, সেই ব্যক্তি মৃত্যুর সময় তার দেহ এবং আত্মীয়-স্বজনদের পরিত্যাগ করে, প্রাণী হিংসাজনিত পাপের ফলে রৌরব নরকে নিপাতিত হয়।

৪) মহারৌরবঃ এই জীবনে যে হিংসা-পরায়ণ ব্যক্তি অন্য প্রাণীদের যন্ত্রণা দেয়, মৃত্যুর পর যখন সে তার কৃত কর্মের ফলে যম-যাতনা প্রাপ্ত হয়, তখন সেই সমস্ত প্রাণীসমূহ, যাদের হিংসা করা হয়েছে, তারা 'রুরু' হয়ে তাকে পীড়া দেয়। রুরু প্রাণীকে এই পৃথিবীতে দেখা যায় না, তারা সর্পের থেকেও হিংস্র। যারা অন্যদের কষ্ট দিয়ে নিজেদের দেহ ধারণ করে, তাদের মহারৌরব নরকে দণ্ডভোগ করতে হয়। সেই নরকে ক্রব্যাদ নামক রুরু পশুরা তাদের যন্ত্রণা দিয়ে মাংস আহার করে।

৫) কুম্ভীপাকঃ যে সমস্ত নিষ্ঠুর মানুষ তাদের দেহ ধারণের জন্য এবং জিহ্বার তৃপ্তি সাধনের জন্য নিরীহ পশু-পক্ষীকে হত্যা করে রন্ধন করে, সেই প্রকার ব্যক্তিরা নর-মাংসভোজী রাক্ষসদেরও ঘৃণিত। মৃত্যুর পর যমদূতেরা কুম্ভীপাক নরকে ফুটন্ত তেলে তাদের পাক করে।

৬) কালসূত্রঃ ব্রহ্মঘাতীকে কালসূত্র নামক নরকে নিক্ষেপ করা হয়, যার পরিধি ৮০,০০০ মাইল এবং যা তাম্রনির্মিত। নীচ থেকে অগ্নি এবং উপর থেকে প্রখর সূর্যের তাপে সেই তাম্রময় ভূমি অত্যন্ত উত্তপ্ত হয়। সেখানে ব্রহ্মঘাতীকে অন্তরে এবং বাইরে দগ্ধ করা হয়। অন্তরে সে ক্ষুধা ও তৃষ্ণায় দগ্ধ হয় এবং বাইরে সে প্রখর সূর্যকিরণ ও তপ্ত তাম্রে দগ্ধ হতে থাকে। তাই সে কখনও শয়ন করে, কখনও উপবেশন করে, কখনও উঠে দাঁড়ায় এবং কখনও ইতস্তত ছুটাছুটি করে। এইভাবে একটি পশুর শরীরে যত লোম রয়েছে, তত হাজার বছর ধরে তাকে যন্ত্রণা ভোগ করতে হয়।

৭) অসিপত্রবনঃ আপৎকাল উপস্থিত না হলেও যে ব্যক্তি স্বীয় বেদমার্গ থেকে ভ্রষ্ট হয়ে পাষণ্ড ধর্ম অবলম্বন করে, যমদূতেরা তাকে অসিপত্রবন নামক নরকে নিক্ষেপ করে বেত্রাঘাত করতে থাকে। প্রহারের যন্ত্রণায় সে যখন সেই নরকে ইতস্তত ধাবিত হয়, তখন উভয় পার্শ্বের অসিতুল্য তালপত্রের ধারে তার সর্বাঙ্গ ক্ষত-বিক্ষত হয়। তখন সে 'হায়, আমি এখন কি করব! আমি এখন কিভাবে রক্ষা পাব!' এই বলে আর্তনাদ করতে করতে পদে পদে মূর্ছিত হয়ে পড়তে থাকে। স্বধর্ম ত্যাগ করে পাষণ্ড মত অবলম্বনের ফল এইভাবে ভোগ করতে হয়।

৮) সূকরমুখঃ ইহলোকে যে রাজা বা রাজপুরুষ দণ্ডদানের অযোগ্য ব্যক্তিকে দণ্ড প্রদান করে, কিংবা অদণ্ডনীয় ব্রাক্ষণকে শরীরদণ্ড প্রদান করে, সেই পাপীকে যমদূতেরা সূকরমুখ নরকে নিয়ে যায়। সেখানে অত্যন্ত বলশালী যমদূতেরা তাকে ইক্ষুদণ্ডের মতো নিষ্পেষণ করে। তখন সে আর্তস্বরে রোদন করতে থাকে এবং নির্দোষ ব্যক্তি দণ্ডিত হলে যেমন মোহগ্রস্ত হয়ে মূর্ছাপ্রাপ্ত হয়, সেও সেইভাবে মূর্ছিত হয়। নির্দোষ ব্যক্তিকে দণ্ডদান করার এই ফল।

৯) অন্ধকূপঃ ভগবানের আয়োজনে ছারপোকা, মশা ইত্যাদি নিম্নস্তরের প্রাণীরা মানুষ এবং অন্যান্য প্রাণীদের রক্ত পান করে। এই প্রকার নগণ্য প্রাণীদের কোন ধারণা নেই যে, তাদের দংশনের ফলে মানুষের কষ্ট হয়। কিন্তু, ব্রাহ্মণ, ক্ষত্রিয়, বৈশ্য ইত্যাদি উচ্চ শ্রেণীর মানুষদের চেতনা উন্নত এবং তাই তারা জানে মৃত্যু কত বেদনাদায়ক। বিবেক সমন্বিত মানুষ যদি বিবেকহীন তুচ্ছ প্রাণীদের হত্যা করে অথবা যন্ত্রণা দেয়, তার নিশ্চয়ই পাপ হয়। সেই প্রকার মানুষকে ভগবান অন্ধকূপ নামক নরকে নিক্ষেপ করে দণ্ডদান করেন এবং সে যে-সমস্ত পশু, পক্ষী, সরীসৃপ, মশক, উকুন, কীট, মাছি ইত্যাদি প্রাণীদের যন্ত্রণা দিয়েছিল, তাদের দ্বারা আক্রান্ত হয়। তারা তাকে সবদিক থেকে আক্রমণ করে এবং তার ফলে তার নিদ্রা-সুখ একেবারেই নষ্ট হয়ে যায়। যন্ত্রণায় অস্থির হয়ে সে কোথাও বিশ্রাম করতে না পেরে অন্ধকারে নিরন্তর ছোটাছুটি করতে থাকে। এইভাবে অন্ধকূপে সে একটি নিম্নস্তরের প্রাণীর মতো যন্ত্রণা ভোগ করে।

১০) কৃমিভোজনঃ যে ব্যক্তি কোন ভক্ষ্যদ্রব্য প্রাপ্ত হলে অতিথি, বালক বা বৃদ্ধদের তার যথাযথ অংশ না দিয়ে নিজেই ভোজন করে, অথবা যে ব্যক্তি পঞ্চবিধ যজ্ঞের অনুষ্ঠান করে না, সে কাকতুল্য বলে বর্ণিত হয়। তার মৃত্যুর পর তাকে কৃমিভোজন নামক একটি নিকৃষ্ট নরকে নিক্ষেপ করা হয়। সেই নরকের বিস্তার ১,০০,০০০ যোজন এবং তা কৃমিতে পূর্ণ। সেখানে সেই কৃমিকুণ্ডে একটি কৃমি হয়ে সে কৃমি ভক্ষণ করে এবং সেখানকার কৃমিরা তাকে ভক্ষণ করে। তার মৃত্যুর পূর্বে সে যদি তার অপকর্মের জন্য প্রায়শ্চিত্ত না করে, তা হলে সেই পাপীকে সেই কুণ্ডের বিস্তার যত যোজন তত বছর সেখানে থাকতে হয়।"

১১) সন্দংশঃ যে ব্যক্তি সঙ্কট উপস্থিত না হলেও ব্রাহ্মণ অথবা অন্য কোন ব্যক্তির স্বর্ণ-রত্ন ইত্যাদি ধন চৌর্যবৃত্তির দ্বারা অথবা বল প্রয়োগের দ্বারা অপহরণ করে, তাকে সন্দংশ নামক নরকে নিক্ষেপ করা হয়। সেখানে লৌহময় অগ্নিপিণ্ড এবং সাঁড়াশির দ্বারা তার ত্বক ছিন্নভিন্ন করা হয়। এইভাবে তার সারা শরীর কেটে টুকরো টুকরো করা হয়।

১২) তপ্তসূর্মিঃ যে ব্যক্তি অগম্যা স্ত্রীতে এবং যে স্ত্রী অগম্য পুরুষে অভিগমন করে, পরলোকে যমদূতেরা তাদের তপ্তসূর্মি নামক নরকে নিয়ে গিয়ে চাবুক দিয়ে প্রহার করে এবং তারপর পুরুষকে তপ্ত লৌহময় স্ত্রীমূর্তি ও স্ত্রীকে সেই প্রকার পুরুষ-মূর্তির দ্বারা আলিঙ্গন করায়। এটিই অবৈধ যৌন সঙ্গের দণ্ড।

১৩) বজ্রকণ্টশাল্মলীঃ যে ব্যক্তি পশুতেও অভিগমন করে, তার মৃত্যুর পর তাকে বজ্রকণ্টক-শাল্মলী নামক নরকে নিক্ষেপ করা হয়। সেই নরকে একটি শাল্মলী বৃক্ষ রয়েছে, যার কাঁটা বজ্রের মতো। যমদূতেরা সেই পাপীকে তার উপর চড়িয়ে টানতে থাকে এবং তার ফলে সেই কাঁটার দ্বারা তার সারা দেহ ছিন্নভিন্ন হয়।

১৪) বৈতরণীঃ যে সমস্ত রাজন্য বা রাজপুরুষ ক্ষত্রিয় আদি দায়িত্বশীল পরিবারে জন্মগ্রহণ করা সত্ত্বেও ধর্মনীতির অবহেলা করে এবং তার ফলে অধঃপতিত হয়, তারা মৃত্যুর পর বৈতরণী নামক নরকের নদীতে পতিত হয়। নরক বেষ্টনকারী পরিখাসদৃশ এই নদীটি ভয়ঙ্কর জলচর প্রাণীতে পূর্ণ। পাপী ব্যক্তি যখন এই বৈতরণী নদীতে নিক্ষিপ্ত হয়, তখন সেখানকার হিংস্র জলচরেরা তাকে ভক্ষণ করতে শুরু করে। কিন্তু তার ভয়ঙ্কর পাপকর্মের ফলে তার প্রাণ বহির্গত হয় না। সে তার পাপকর্মের কথা স্মরণ করতে করতে বিষ্ঠা, মুত্র, পুঁজ, রক্ত, কেশ, নখ, অস্থি, মেদ, মাংস এবং চর্বিপূর্ণ সেই নদীতে যন্ত্রণাভোগ করতে থাকে।

১৫) পূয়োদঃ শূদ্রা-রমণীদের নির্লজ্জ পতিরা ঠিক একটি পশুর মতো জীবন যাপন করে এবং তাই তাদের জীবন সদাচার, শৌচ এবং নিয়মবিহীন। মৃত্যুর পর তাদের পূয়োদ নামক নরকে নিক্ষেপ করা হয়, যা পুঁজ, মূত্র, শ্লেষ্মা, লালা ইত্যাদি ঘৃণিত বস্তুতে পূর্ণ একটি সমুদ্র। সেখানে তারা এই সমস্ত অতি ঘৃণিত পদার্থ ভক্ষণ করতে বাধ্য হয়।

১৬) প্রাণরোধঃ উচ্চ বর্ণের মানুষ (ব্রাহ্মণ, ক্ষত্রিয় এবং বৈশ্য) যদি কুকুর, গর্ধভ ইত্যাদি পশু পালনে আসক্ত হয় এবং অনর্থক মৃগয়ায় গিয়ে পশু হত্যা করে, তা হলে মৃত্যুর পর তাকে প্রাণরোধ নামক নরকে নিক্ষেপ করা হয়। সেখানে যমদূতেরা তাকে তাদের লক্ষ্য বানিয়ে বাণের দ্বারা বিদ্ধ করে।

১৭) বিশসনঃ যে ব্যক্তি ইহলোকে ধন এবং প্রতিষ্ঠার গর্বে গর্বিত হয়ে, দম্ভ প্রকাশ করার জন্য যজ্ঞে পশু বলি দেয়, তাকে মৃত্যুর পর বিশসন নামক নরকে নিক্ষেপ করা হয়। সেখানে যমদুতেরা তাকে অশেষ যন্ত্রণা দিয়ে বধ করে।

১৮) লালাভক্ষঃ যে মূর্খ দ্বিজ (ব্রাহ্মণ, ক্ষত্রিয় এবং বৈশ্য) তার সবর্ণা পত্নীকে বশে রাখার জন্য নিজের শুক্র পান করায়, পরলোকে যমদূতেরা তাকে লালাভক্ষ নামক নরকে নিক্ষেপ করে এবং সেখানে শুক্র নদীর মধ্যে তাকে শুক্র পান করায়।

১৯) সারমেয়াদনঃ ইহলোকে যে সমস্ত ব্যক্তি দস্যুবৃত্তি করে পরগৃহে অগ্নি দেয় অথবা বিষ প্রদান করে, অথবা যে সমস্ত রাজা বা রাজপুরুষ আয়কর আদায়ের নামে অথবা অন্যান্য উপায়ে বণিক সম্প্রদায়কে লুণ্ঠন করে, মৃত্যুর পর সেই সমস্ত অসুরদের সারমেয়াদন নামক নরকে নিক্ষেপ করা হয়। সেখানে ৭২০টি বজ্রের মতো দন্ত সমন্বিত কুকুর রয়েছে। যমদূতের নির্দেশে সেই কুকুরগুলি অত্যন্ত তৃপ্তির সঙ্গে সেই সমস্ত পাপীদের ভক্ষণ করে।

২০) অবীচিমৎঃ যে ব্যক্তি ইহলোকে সাক্ষ্য প্রদান করার সময়, ক্রয়-বিক্রয় করার সময় এবং দান করার সময় কোন প্রকার মিথ্যা কথা বলে, পরলোকে যমদূতেরা তাকে শত যোজন উন্নত পর্বত শিখর থেকে মাথা নীচের দিকে করে অবীচিমৎ নামক নরকে নিক্ষেপ করে। সেই নরকের কোন অবলম্বন স্থান নেই এবং প্রস্তর নির্মিত পৃষ্ঠস্থল জলের মতো প্রতীত হয়। কিন্তু সেখানে কোন জল নেই, তাই তাকে বলে অবীচিমৎ (জলহীন)। সেই পাপীদের বার বার পাহাড়ের উপর থেকে নিক্ষেপ করা হলেও এবং তাদের দেহ তিল তিল করে বিদীর্ণ হলেও, তাদের মৃত্যু হয় না এবং তারা নিরন্তর সেই যন্ত্রণা ভোগ করতে থাকে।

২১) অয়ঃপানঃ যে ব্রাহ্মণ অথবা ব্রাহ্মণী সুরাপান করে, কিংবা যে ক্ষত্রিয় কিংবা বৈশ্য ব্রতপরায়ণ হয়ে প্রমাদবশত সোমরস পান করে, যমদূতেরা তাদের অয়ঃপান নরকে নিয়ে যায়। অয়ঃপান নরকে যমদূতেরা তাদের পা দিয়ে পাপীদের বক্ষঃস্থল চেপে ধরে তাদের মুখে অত্যন্ত উত্তপ্ত তরল লোহা ঢেলে দেয়।

২২) ক্ষারকর্দমঃ যে নীচ কুলোদ্ভূত এবং অধম হওয়া সত্ত্বেও 'আমি বড়' বলে মিথ্যা অহঙ্কারপূর্বক জন্ম, তপস্যা, বিদ্যা, আচার, বর্ণ অথবা আশ্রমে তার থেকে শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিকে যথাযথভাবে সম্মান প্রদর্শন করে না, সে জীবিত অবস্থাতেই মৃত এবং মৃত্যুর পর তাকে ক্ষারকর্দম নামক নরকে নিক্ষেপ করা হয়। সেখানে সে যমদূতদের দ্বারা প্রচণ্ডভাবে নির্যাতিত হয়ে অত্যন্ত দুঃখ-যন্ত্রণা ভোগ করে।

২৩) রক্ষোগণভোজনঃ এই পৃথিবীতে অনেক পুরুষ এবং স্ত্রী রয়েছে, যারা ভৈরব অথবা ভদ্রকালীর কাছে নরবলি দিয়ে তাদের মাংস খায়। যারা এই ধরনের যজ্ঞ করে, তাদের মৃত্যুর পর যমালয়ে নিয়ে যাওয়া হয় এবং তারা যাদের বলি দিয়েছিল তারা রাক্ষস হয়ে সুতীক্ষ্ণ অস্ত্রের দ্বারা সেখানে তাদের খণ্ড খণ্ড করে কাটে। ইহলোকে যজ্ঞকারী ব্যক্তি যেভাবে নরবলি দিয়ে তার রক্ত পান করে আনন্দে নৃত্য-গীত করে, হিংসিত ব্যক্তিরাও তেমন পরলোকে যজ্ঞকারীর রক্ত পান করে আনন্দে নৃত্য-গীত করে।

২৪) শূলপ্রোতঃ যে সমস্ত মানুষ ইহলোকে গ্রামে বা অরণ্যে জীবন রক্ষার্থে আগত পশু-পাখীদের আশ্রয় দান পূর্বক বিশ্বাস জন্মিয়ে শূল অথবা সূত্রের দ্বারা তাদের বিদ্ধ করে এবং তারপর ক্রীড়নকের মতো ক্রীড়া করে প্রবল যন্ত্রণা দেয়, তারা মৃত্যুর পর যমদূতদের দ্বারা শূলপ্রোত নামক নরকে নীত হয় এবং তাদের শরীর তীক্ষ্ণ শূল ইত্যাদির দ্বারা বিদ্ধ করা হয়। সেখানে তারা ক্ষুধা ও তৃষ্ণায় পীড়িত হয় এবং চতুর্দিক থেকে বক, শকুন প্রভৃতি তীক্ষ্ণ-চঞ্চু পক্ষী এসে তাদের দেহ ছিন্নভিন্ন করতে থাকে। এইভাবে যন্ত্রণায় অস্থির হয়ে তারা তখন তাদের পূর্বকৃত পাপকর্মের কথা স্মরণ করতে থাকে।

২৫) দন্দশূকঃ যারা ইহলোকে সর্পের মতো ক্রোধপরায়ণ হয়ে অন্য প্রাণীদের যন্ত্রণা দেয়, তারা পরলোকে দন্দশূক নামক নরকে পতিত হয়। সেই নরকে পঞ্চমুখ ও সপ্তমুখ সর্পেরা তাদের মূষিকের মতো গ্রাস করে।

২৬) অবটনিরোধনঃ যারা ইহলোকে অন্য প্রাণীদের অন্ধকূপে, গোলায় বা পাহাড়ের গুহায় রুদ্ধ করে কষ্ট দেয়, মৃত্যুর পর তাদের অবটনিরোধন নামক নরকে নিক্ষেপ করা হয়। সেখানে অন্ধকূপ আদিতে বিষাক্ত ধূম এবং বহ্নির দ্বারা শ্বাসরোধ করে তাদের কঠোরভাবে যন্ত্রণা দেওয়া হয়।

২৭) পর্যাবর্তনঃ যে গৃহপতি অতিথি অভ্যাগত দেখলে ক্রুদ্ধ হয়ে ওঠে এবং পাপকুটিল দৃষ্টি দ্বারা যেন তাদের ভস্মীভূত করতে উদ্যত হয়, তাকে পর্যাবর্তন নামক নরকে নিক্ষেপ করা হয়, যেখানে বজ্রের মতো কঠিন চক্ষুবিশিষ্ট শকুন, বক, কাক ইত্যাদি পক্ষীরা সেই পাপদৃষ্টি ব্যক্তির চক্ষু সহসা বলপূর্বক উৎপাটন করে।

২৮) সূচীমুখঃ যে ব্যক্তি ইহলোকে তার ধনের গর্বে গর্বিত, সে মনে করে, 'আমি কত ধনী। কে আমার সমকক্ষ হতে পারে?' এইভাবে অহঙ্কারে বক্রদৃষ্টি হয়ে সে সব সময় শঙ্কিত থাকে যে, অন্যেরা তার ধন অপহরণ করে নেবে। এমনকি সে তার গুরুজনদেরও সন্দেহ করে। এইভাবে ধন হারানোর ভয়ে তার হৃদয় ও বদন শুষ্ক হয়ে যায় এবং তার ফলে তাকে ঠিক একটি পিশাচের মতো দেখতে লাগে। সে কখনই সুখ পায় না এবং দুশ্চিন্তাহীন জীবন বলতে যে কি বোঝায়, তা সে জানতে পারে না। ধন উপার্জন, বর্ধন ও রক্ষণের জন্য যেহেতু তাকে পাপকর্ম করতে হয়, তার ফলে তাকে সূচীমুখ নামক নরকে নিক্ষেপ করা হয়, সেখানে যমদূতেরা তার সর্বাঙ্গে তাঁতীর মতো সূত্র বয়ন করে।

 সত্য তপ দয়া শৌচ- সনাতন ধর্মের ৪টি স্তম্ভ। 

এই নিয়মগুলিই পালন মূলত ধর্মের ৪টি স্তম্ভ ধারণ। তাই গীতায় পরমেশ্বর ভগবান শ্রীকৃষ্ণ বলেছেন; 

সর্বধর্মান্ পরিত্যজ্য মামেকং শরণং ব্রজ। 
অহং ত্বাং সর্বপাপেভ্যো মোক্ষয়িষ্যামি মা শুচঃ।।১৮/৬৬।।

অনুবাদঃ সর্ব প্রকার ধর্ম পরিত্যাগ করে কেবল আমার শরণাগত হও। ভয় পেও না, আমি তোমাকে সমস্ত পাপ থেকে মুক্ত করব।

তাই আমাদের উচিত একমাত্র সেই পরম ভগবান শ্রীকৃষ্ণের শরণাগত হওয়া এবং পাপ/ অপরাধ শুণ্য হয়ে একনিষ্ঠ হয়ে হরিনাম শ্রবণ এবং কীর্তন করা।
             *••••┉━❀꧁ রাধে রাধে ꧂❀━┅••••*
  
                 শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য প্রভু নিত্যানন্দ
              হরে কৃষ্ণ হরে রাম শ্রীরাধেগোবিন্দ।।

       *••••┉━❀꧁ জয় শ্রীশ্রীজগন্নাথ ꧂❀━┅••••*

              হরে কৃষ্ণ হরে কৃষ্ণ কৃষ্ণ কৃষ্ণ হরে হরে
              হরে রাম হরে রাম রাম রাম হরে হরে॥

    *••••┉━❀꧁জয় শ্রীশ্রীরাধাকান্ত꧂ ❀━┅••••*

             শ্রীশ্রীকৃষ্ণচৈতন্য মহাপ্রভুর নিবাসস্থলী
শ্রীগুরুদেব(আশ্রিত)-বৈষ্ণব কুলতিলক আচার্য্যপ্রবর মহান্ত মহারাজ শ্রীল ধ্যানচন্দ্র দাস গোস্বামী (শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য মহাপ্রভুর অপ্রকট লীলায় শ্রীগম্ভীরা মন্দিরে ঊনবিংশ পীঠাচার্য্য, শ্রীশ্রীরাধাকান্ত মঠ - শ্রীশ্রীগম্ভীরা, শ্রীধাম পুরী), মধবাচার্য্য(ব্রহ্ম) সম্প্রদায়,বক্রেশ্বর পরিবার(শ্রীতিলক সেবা- শ্রীশ্রীমহাপ্রভুর শ্রীচরণ), তুঙ্গবিদ্যা সখী,পশ্চিম দ্বার, লবঙ্গ মঞ্জুরী ( সনাতন গোস্বামী)।
*••••┉━❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀━┅••••*
শ্রী মৃন্ময় নন্দী কর্ত্তৃক সকল ভক্ত চরণে অসংখ্যকোটি প্রণাম।
নিবাস-গিরিরাজ ভবন, উত্তর নারায়নপুর, ভলীয়া, আরামবাগ, হুগলী, পশ্চিমবঙ্গ।
••••┉━❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀━┅••••
      📚 *PDF গ্রন্থ* 📚👉 https://drive.google.com/folderview?id=1_2ZHIyZKJeOOLMK0uLv53SkpMNgyi6eR 
✧════════════•❁❀❁•════════════✧

꧁ ২৮ টি ভয়াবহ নরকের বর্ণনা ꧂

✧════════════•❁❀❁•════════════✧
                 ꧁ ২৮ টি ভয়াবহ নরকের ꧂
 শ্রীমদ্ভাগবতের পঞ্চম স্কন্দে শ্রীল শুকদেব গোস্বামীকে পরিক্ষিৎ মহারাজ, নম্রভাবে জিজ্ঞাসা করেন হে প্রভু, পাপ কত প্রকার আর নরক কত প্রকার ? 
তখন শ্রীল শুকদেব গোস্বামী ২৮ প্রকার নরকের কথা বর্ণনা করেছেন।

নিম্নে সেই নরক যন্ত্রণার বিবরণ দেওয়া হল👇

১) তামিস্রঃ যে ব্যক্তি অপরের ধন, স্ত্রী ও পুত্র অপহরণ করে, অত্যন্ত ভয়ঙ্কর যমদূতেরা তাকে কালপাশে বেঁধে বলপূর্বক তামিস্র নরকে নিক্ষেপ করে। এই তামিস্র নরক ঘোর অন্ধকারে আচ্ছন্ন; সেখানে যমদূতেরা পাপীকে ভীষণভাবে প্রহার, তাড়ন এবং তর্জন করে। সেখানে তাকে অনশনে রাখা হয় এবং জল পান করতে দেওয়া হয় না। এইভাবে ক্রুদ্ধ যমদূতদের দ্বারা নির্যাতিত হয়ে সে মূর্ছিত হয়।

২) অন্ধতামিস্রঃ যে ব্যক্তি পতিকে বঞ্চনা করে তার স্ত্রী-পুত্র উপভোগ করে, সে অন্ধতামিস্র নরকে পতিত হয়। বৃক্ষকে ভূপাতিত করার পূর্বে যেমন তার মূল ছেদন করা হয়, তেমনই সেই পাপীকে ঐ নরকে নিক্ষেপ করার পূর্বে যমদূতেরা নানা প্রকার যন্ত্রণা প্রদান করে। এই যন্ত্রণা এতই প্রচণ্ড যে, তার ফলে তার বুদ্ধি এবং দৃষ্টি নষ্ট হয়ে যায়।

৩) রৌরবঃ যে ব্যক্তি তার জড় দেহটিকে তার স্বরূপ বলে মনে করে, তার নিজের দেহ এবং দেহের সম্পর্কে সম্পর্কিত আত্মীয়-স্বজনদের ভরণ-পোষণের জন্য দিনের পর দিন অপর প্রাণীর হিংসা করে, সেই ব্যক্তি মৃত্যুর সময় তার দেহ এবং আত্মীয়-স্বজনদের পরিত্যাগ করে, প্রাণী হিংসাজনিত পাপের ফলে রৌরব নরকে নিপাতিত হয়।

৪) মহারৌরবঃ এই জীবনে যে হিংসা-পরায়ণ ব্যক্তি অন্য প্রাণীদের যন্ত্রণা দেয়, মৃত্যুর পর যখন সে তার কৃত কর্মের ফলে যম-যাতনা প্রাপ্ত হয়, তখন সেই সমস্ত প্রাণীসমূহ, যাদের হিংসা করা হয়েছে, তারা 'রুরু' হয়ে তাকে পীড়া দেয়। রুরু প্রাণীকে এই পৃথিবীতে দেখা যায় না, তারা সর্পের থেকেও হিংস্র। যারা অন্যদের কষ্ট দিয়ে নিজেদের দেহ ধারণ করে, তাদের মহারৌরব নরকে দণ্ডভোগ করতে হয়। সেই নরকে ক্রব্যাদ নামক রুরু পশুরা তাদের যন্ত্রণা দিয়ে মাংস আহার করে।

৫) কুম্ভীপাকঃ যে সমস্ত নিষ্ঠুর মানুষ তাদের দেহ ধারণের জন্য এবং জিহ্বার তৃপ্তি সাধনের জন্য নিরীহ পশু-পক্ষীকে হত্যা করে রন্ধন করে, সেই প্রকার ব্যক্তিরা নর-মাংসভোজী রাক্ষসদেরও ঘৃণিত। মৃত্যুর পর যমদূতেরা কুম্ভীপাক নরকে ফুটন্ত তেলে তাদের পাক করে।

৬) কালসূত্রঃ ব্রহ্মঘাতীকে কালসূত্র নামক নরকে নিক্ষেপ করা হয়, যার পরিধি ৮০,০০০ মাইল এবং যা তাম্রনির্মিত। নীচ থেকে অগ্নি এবং উপর থেকে প্রখর সূর্যের তাপে সেই তাম্রময় ভূমি অত্যন্ত উত্তপ্ত হয়। সেখানে ব্রহ্মঘাতীকে অন্তরে এবং বাইরে দগ্ধ করা হয়। অন্তরে সে ক্ষুধা ও তৃষ্ণায় দগ্ধ হয় এবং বাইরে সে প্রখর সূর্যকিরণ ও তপ্ত তাম্রে দগ্ধ হতে থাকে। তাই সে কখনও শয়ন করে, কখনও উপবেশন করে, কখনও উঠে দাঁড়ায় এবং কখনও ইতস্তত ছুটাছুটি করে। এইভাবে একটি পশুর শরীরে যত লোম রয়েছে, তত হাজার বছর ধরে তাকে যন্ত্রণা ভোগ করতে হয়।

৭) অসিপত্রবনঃ আপৎকাল উপস্থিত না হলেও যে ব্যক্তি স্বীয় বেদমার্গ থেকে ভ্রষ্ট হয়ে পাষণ্ড ধর্ম অবলম্বন করে, যমদূতেরা তাকে অসিপত্রবন নামক নরকে নিক্ষেপ করে বেত্রাঘাত করতে থাকে। প্রহারের যন্ত্রণায় সে যখন সেই নরকে ইতস্তত ধাবিত হয়, তখন উভয় পার্শ্বের অসিতুল্য তালপত্রের ধারে তার সর্বাঙ্গ ক্ষত-বিক্ষত হয়। তখন সে 'হায়, আমি এখন কি করব! আমি এখন কিভাবে রক্ষা পাব!' এই বলে আর্তনাদ করতে করতে পদে পদে মূর্ছিত হয়ে পড়তে থাকে। স্বধর্ম ত্যাগ করে পাষণ্ড মত অবলম্বনের ফল এইভাবে ভোগ করতে হয়।

৮) সূকরমুখঃ ইহলোকে যে রাজা বা রাজপুরুষ দণ্ডদানের অযোগ্য ব্যক্তিকে দণ্ড প্রদান করে, কিংবা অদণ্ডনীয় ব্রাক্ষণকে শরীরদণ্ড প্রদান করে, সেই পাপীকে যমদূতেরা সূকরমুখ নরকে নিয়ে যায়। সেখানে অত্যন্ত বলশালী যমদূতেরা তাকে ইক্ষুদণ্ডের মতো নিষ্পেষণ করে। তখন সে আর্তস্বরে রোদন করতে থাকে এবং নির্দোষ ব্যক্তি দণ্ডিত হলে যেমন মোহগ্রস্ত হয়ে মূর্ছাপ্রাপ্ত হয়, সেও সেইভাবে মূর্ছিত হয়। নির্দোষ ব্যক্তিকে দণ্ডদান করার এই ফল।

৯) অন্ধকূপঃ ভগবানের আয়োজনে ছারপোকা, মশা ইত্যাদি নিম্নস্তরের প্রাণীরা মানুষ এবং অন্যান্য প্রাণীদের রক্ত পান করে। এই প্রকার নগণ্য প্রাণীদের কোন ধারণা নেই যে, তাদের দংশনের ফলে মানুষের কষ্ট হয়। কিন্তু, ব্রাহ্মণ, ক্ষত্রিয়, বৈশ্য ইত্যাদি উচ্চ শ্রেণীর মানুষদের চেতনা উন্নত এবং তাই তারা জানে মৃত্যু কত বেদনাদায়ক। বিবেক সমন্বিত মানুষ যদি বিবেকহীন তুচ্ছ প্রাণীদের হত্যা করে অথবা যন্ত্রণা দেয়, তার নিশ্চয়ই পাপ হয়। সেই প্রকার মানুষকে ভগবান অন্ধকূপ নামক নরকে নিক্ষেপ করে দণ্ডদান করেন এবং সে যে-সমস্ত পশু, পক্ষী, সরীসৃপ, মশক, উকুন, কীট, মাছি ইত্যাদি প্রাণীদের যন্ত্রণা দিয়েছিল, তাদের দ্বারা আক্রান্ত হয়। তারা তাকে সবদিক থেকে আক্রমণ করে এবং তার ফলে তার নিদ্রা-সুখ একেবারেই নষ্ট হয়ে যায়। যন্ত্রণায় অস্থির হয়ে সে কোথাও বিশ্রাম করতে না পেরে অন্ধকারে নিরন্তর ছোটাছুটি করতে থাকে। এইভাবে অন্ধকূপে সে একটি নিম্নস্তরের প্রাণীর মতো যন্ত্রণা ভোগ করে।

১০) কৃমিভোজনঃ যে ব্যক্তি কোন ভক্ষ্যদ্রব্য প্রাপ্ত হলে অতিথি, বালক বা বৃদ্ধদের তার যথাযথ অংশ না দিয়ে নিজেই ভোজন করে, অথবা যে ব্যক্তি পঞ্চবিধ যজ্ঞের অনুষ্ঠান করে না, সে কাকতুল্য বলে বর্ণিত হয়। তার মৃত্যুর পর তাকে কৃমিভোজন নামক একটি নিকৃষ্ট নরকে নিক্ষেপ করা হয়। সেই নরকের বিস্তার ১,০০,০০০ যোজন এবং তা কৃমিতে পূর্ণ। সেখানে সেই কৃমিকুণ্ডে একটি কৃমি হয়ে সে কৃমি ভক্ষণ করে এবং সেখানকার কৃমিরা তাকে ভক্ষণ করে। তার মৃত্যুর পূর্বে সে যদি তার অপকর্মের জন্য প্রায়শ্চিত্ত না করে, তা হলে সেই পাপীকে সেই কুণ্ডের বিস্তার যত যোজন তত বছর সেখানে থাকতে হয়।"

১১) সন্দংশঃ যে ব্যক্তি সঙ্কট উপস্থিত না হলেও ব্রাহ্মণ অথবা অন্য কোন ব্যক্তির স্বর্ণ-রত্ন ইত্যাদি ধন চৌর্যবৃত্তির দ্বারা অথবা বল প্রয়োগের দ্বারা অপহরণ করে, তাকে সন্দংশ নামক নরকে নিক্ষেপ করা হয়। সেখানে লৌহময় অগ্নিপিণ্ড এবং সাঁড়াশির দ্বারা তার ত্বক ছিন্নভিন্ন করা হয়। এইভাবে তার সারা শরীর কেটে টুকরো টুকরো করা হয়।

১২) তপ্তসূর্মিঃ যে ব্যক্তি অগম্যা স্ত্রীতে এবং যে স্ত্রী অগম্য পুরুষে অভিগমন করে, পরলোকে যমদূতেরা তাদের তপ্তসূর্মি নামক নরকে নিয়ে গিয়ে চাবুক দিয়ে প্রহার করে এবং তারপর পুরুষকে তপ্ত লৌহময় স্ত্রীমূর্তি ও স্ত্রীকে সেই প্রকার পুরুষ-মূর্তির দ্বারা আলিঙ্গন করায়। এটিই অবৈধ যৌন সঙ্গের দণ্ড।

১৩) বজ্রকণ্টশাল্মলীঃ যে ব্যক্তি পশুতেও অভিগমন করে, তার মৃত্যুর পর তাকে বজ্রকণ্টক-শাল্মলী নামক নরকে নিক্ষেপ করা হয়। সেই নরকে একটি শাল্মলী বৃক্ষ রয়েছে, যার কাঁটা বজ্রের মতো। যমদূতেরা সেই পাপীকে তার উপর চড়িয়ে টানতে থাকে এবং তার ফলে সেই কাঁটার দ্বারা তার সারা দেহ ছিন্নভিন্ন হয়।

১৪) বৈতরণীঃ যে সমস্ত রাজন্য বা রাজপুরুষ ক্ষত্রিয় আদি দায়িত্বশীল পরিবারে জন্মগ্রহণ করা সত্ত্বেও ধর্মনীতির অবহেলা করে এবং তার ফলে অধঃপতিত হয়, তারা মৃত্যুর পর বৈতরণী নামক নরকের নদীতে পতিত হয়। নরক বেষ্টনকারী পরিখাসদৃশ এই নদীটি ভয়ঙ্কর জলচর প্রাণীতে পূর্ণ। পাপী ব্যক্তি যখন এই বৈতরণী নদীতে নিক্ষিপ্ত হয়, তখন সেখানকার হিংস্র জলচরেরা তাকে ভক্ষণ করতে শুরু করে। কিন্তু তার ভয়ঙ্কর পাপকর্মের ফলে তার প্রাণ বহির্গত হয় না। সে তার পাপকর্মের কথা স্মরণ করতে করতে বিষ্ঠা, মুত্র, পুঁজ, রক্ত, কেশ, নখ, অস্থি, মেদ, মাংস এবং চর্বিপূর্ণ সেই নদীতে যন্ত্রণাভোগ করতে থাকে।

১৫) পূয়োদঃ শূদ্রা-রমণীদের নির্লজ্জ পতিরা ঠিক একটি পশুর মতো জীবন যাপন করে এবং তাই তাদের জীবন সদাচার, শৌচ এবং নিয়মবিহীন। মৃত্যুর পর তাদের পূয়োদ নামক নরকে নিক্ষেপ করা হয়, যা পুঁজ, মূত্র, শ্লেষ্মা, লালা ইত্যাদি ঘৃণিত বস্তুতে পূর্ণ একটি সমুদ্র। সেখানে তারা এই সমস্ত অতি ঘৃণিত পদার্থ ভক্ষণ করতে বাধ্য হয়।

১৬) প্রাণরোধঃ উচ্চ বর্ণের মানুষ (ব্রাহ্মণ, ক্ষত্রিয় এবং বৈশ্য) যদি কুকুর, গর্ধভ ইত্যাদি পশু পালনে আসক্ত হয় এবং অনর্থক মৃগয়ায় গিয়ে পশু হত্যা করে, তা হলে মৃত্যুর পর তাকে প্রাণরোধ নামক নরকে নিক্ষেপ করা হয়। সেখানে যমদূতেরা তাকে তাদের লক্ষ্য বানিয়ে বাণের দ্বারা বিদ্ধ করে।

১৭) বিশসনঃ যে ব্যক্তি ইহলোকে ধন এবং প্রতিষ্ঠার গর্বে গর্বিত হয়ে, দম্ভ প্রকাশ করার জন্য যজ্ঞে পশু বলি দেয়, তাকে মৃত্যুর পর বিশসন নামক নরকে নিক্ষেপ করা হয়। সেখানে যমদুতেরা তাকে অশেষ যন্ত্রণা দিয়ে বধ করে।

১৮) লালাভক্ষঃ যে মূর্খ দ্বিজ (ব্রাহ্মণ, ক্ষত্রিয় এবং বৈশ্য) তার সবর্ণা পত্নীকে বশে রাখার জন্য নিজের শুক্র পান করায়, পরলোকে যমদূতেরা তাকে লালাভক্ষ নামক নরকে নিক্ষেপ করে এবং সেখানে শুক্র নদীর মধ্যে তাকে শুক্র পান করায়।

১৯) সারমেয়াদনঃ ইহলোকে যে সমস্ত ব্যক্তি দস্যুবৃত্তি করে পরগৃহে অগ্নি দেয় অথবা বিষ প্রদান করে, অথবা যে সমস্ত রাজা বা রাজপুরুষ আয়কর আদায়ের নামে অথবা অন্যান্য উপায়ে বণিক সম্প্রদায়কে লুণ্ঠন করে, মৃত্যুর পর সেই সমস্ত অসুরদের সারমেয়াদন নামক নরকে নিক্ষেপ করা হয়। সেখানে ৭২০টি বজ্রের মতো দন্ত সমন্বিত কুকুর রয়েছে। যমদূতের নির্দেশে সেই কুকুরগুলি অত্যন্ত তৃপ্তির সঙ্গে সেই সমস্ত পাপীদের ভক্ষণ করে।

২০) অবীচিমৎঃ যে ব্যক্তি ইহলোকে সাক্ষ্য প্রদান করার সময়, ক্রয়-বিক্রয় করার সময় এবং দান করার সময় কোন প্রকার মিথ্যা কথা বলে, পরলোকে যমদূতেরা তাকে শত যোজন উন্নত পর্বত শিখর থেকে মাথা নীচের দিকে করে অবীচিমৎ নামক নরকে নিক্ষেপ করে। সেই নরকের কোন অবলম্বন স্থান নেই এবং প্রস্তর নির্মিত পৃষ্ঠস্থল জলের মতো প্রতীত হয়। কিন্তু সেখানে কোন জল নেই, তাই তাকে বলে অবীচিমৎ (জলহীন)। সেই পাপীদের বার বার পাহাড়ের উপর থেকে নিক্ষেপ করা হলেও এবং তাদের দেহ তিল তিল করে বিদীর্ণ হলেও, তাদের মৃত্যু হয় না এবং তারা নিরন্তর সেই যন্ত্রণা ভোগ করতে থাকে।

২১) অয়ঃপানঃ যে ব্রাহ্মণ অথবা ব্রাহ্মণী সুরাপান করে, কিংবা যে ক্ষত্রিয় কিংবা বৈশ্য ব্রতপরায়ণ হয়ে প্রমাদবশত সোমরস পান করে, যমদূতেরা তাদের অয়ঃপান নরকে নিয়ে যায়। অয়ঃপান নরকে যমদূতেরা তাদের পা দিয়ে পাপীদের বক্ষঃস্থল চেপে ধরে তাদের মুখে অত্যন্ত উত্তপ্ত তরল লোহা ঢেলে দেয়।

২২) ক্ষারকর্দমঃ যে নীচ কুলোদ্ভূত এবং অধম হওয়া সত্ত্বেও 'আমি বড়' বলে মিথ্যা অহঙ্কারপূর্বক জন্ম, তপস্যা, বিদ্যা, আচার, বর্ণ অথবা আশ্রমে তার থেকে শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিকে যথাযথভাবে সম্মান প্রদর্শন করে না, সে জীবিত অবস্থাতেই মৃত এবং মৃত্যুর পর তাকে ক্ষারকর্দম নামক নরকে নিক্ষেপ করা হয়। সেখানে সে যমদূতদের দ্বারা প্রচণ্ডভাবে নির্যাতিত হয়ে অত্যন্ত দুঃখ-যন্ত্রণা ভোগ করে।

২৩) রক্ষোগণভোজনঃ এই পৃথিবীতে অনেক পুরুষ এবং স্ত্রী রয়েছে, যারা ভৈরব অথবা ভদ্রকালীর কাছে নরবলি দিয়ে তাদের মাংস খায়। যারা এই ধরনের যজ্ঞ করে, তাদের মৃত্যুর পর যমালয়ে নিয়ে যাওয়া হয় এবং তারা যাদের বলি দিয়েছিল তারা রাক্ষস হয়ে সুতীক্ষ্ণ অস্ত্রের দ্বারা সেখানে তাদের খণ্ড খণ্ড করে কাটে। ইহলোকে যজ্ঞকারী ব্যক্তি যেভাবে নরবলি দিয়ে তার রক্ত পান করে আনন্দে নৃত্য-গীত করে, হিংসিত ব্যক্তিরাও তেমন পরলোকে যজ্ঞকারীর রক্ত পান করে আনন্দে নৃত্য-গীত করে।

২৪) শূলপ্রোতঃ যে সমস্ত মানুষ ইহলোকে গ্রামে বা অরণ্যে জীবন রক্ষার্থে আগত পশু-পাখীদের আশ্রয় দান পূর্বক বিশ্বাস জন্মিয়ে শূল অথবা সূত্রের দ্বারা তাদের বিদ্ধ করে এবং তারপর ক্রীড়নকের মতো ক্রীড়া করে প্রবল যন্ত্রণা দেয়, তারা মৃত্যুর পর যমদূতদের দ্বারা শূলপ্রোত নামক নরকে নীত হয় এবং তাদের শরীর তীক্ষ্ণ শূল ইত্যাদির দ্বারা বিদ্ধ করা হয়। সেখানে তারা ক্ষুধা ও তৃষ্ণায় পীড়িত হয় এবং চতুর্দিক থেকে বক, শকুন প্রভৃতি তীক্ষ্ণ-চঞ্চু পক্ষী এসে তাদের দেহ ছিন্নভিন্ন করতে থাকে। এইভাবে যন্ত্রণায় অস্থির হয়ে তারা তখন তাদের পূর্বকৃত পাপকর্মের কথা স্মরণ করতে থাকে।

২৫) দন্দশূকঃ যারা ইহলোকে সর্পের মতো ক্রোধপরায়ণ হয়ে অন্য প্রাণীদের যন্ত্রণা দেয়, তারা পরলোকে দন্দশূক নামক নরকে পতিত হয়। সেই নরকে পঞ্চমুখ ও সপ্তমুখ সর্পেরা তাদের মূষিকের মতো গ্রাস করে।

২৬) অবটনিরোধনঃ যারা ইহলোকে অন্য প্রাণীদের অন্ধকূপে, গোলায় বা পাহাড়ের গুহায় রুদ্ধ করে কষ্ট দেয়, মৃত্যুর পর তাদের অবটনিরোধন নামক নরকে নিক্ষেপ করা হয়। সেখানে অন্ধকূপ আদিতে বিষাক্ত ধূম এবং বহ্নির দ্বারা শ্বাসরোধ করে তাদের কঠোরভাবে যন্ত্রণা দেওয়া হয়।

২৭) পর্যাবর্তনঃ যে গৃহপতি অতিথি অভ্যাগত দেখলে ক্রুদ্ধ হয়ে ওঠে এবং পাপকুটিল দৃষ্টি দ্বারা যেন তাদের ভস্মীভূত করতে উদ্যত হয়, তাকে পর্যাবর্তন নামক নরকে নিক্ষেপ করা হয়, যেখানে বজ্রের মতো কঠিন চক্ষুবিশিষ্ট শকুন, বক, কাক ইত্যাদি পক্ষীরা সেই পাপদৃষ্টি ব্যক্তির চক্ষু সহসা বলপূর্বক উৎপাটন করে।

২৮) সূচীমুখঃ যে ব্যক্তি ইহলোকে তার ধনের গর্বে গর্বিত, সে মনে করে, 'আমি কত ধনী। কে আমার সমকক্ষ হতে পারে?' এইভাবে অহঙ্কারে বক্রদৃষ্টি হয়ে সে সব সময় শঙ্কিত থাকে যে, অন্যেরা তার ধন অপহরণ করে নেবে। এমনকি সে তার গুরুজনদেরও সন্দেহ করে। এইভাবে ধন হারানোর ভয়ে তার হৃদয় ও বদন শুষ্ক হয়ে যায় এবং তার ফলে তাকে ঠিক একটি পিশাচের মতো দেখতে লাগে। সে কখনই সুখ পায় না এবং দুশ্চিন্তাহীন জীবন বলতে যে কি বোঝায়, তা সে জানতে পারে না। ধন উপার্জন, বর্ধন ও রক্ষণের জন্য যেহেতু তাকে পাপকর্ম করতে হয়, তার ফলে তাকে সূচীমুখ নামক নরকে নিক্ষেপ করা হয়, সেখানে যমদূতেরা তার সর্বাঙ্গে তাঁতীর মতো সূত্র বয়ন করে।

 সত্য তপ দয়া শৌচ- সনাতন ধর্মের ৪টি স্তম্ভ। 

এই নিয়মগুলিই পালন মূলত ধর্মের ৪টি স্তম্ভ ধারণ। তাই গীতায় পরমেশ্বর ভগবান শ্রীকৃষ্ণ বলেছেন; 

সর্বধর্মান্ পরিত্যজ্য মামেকং শরণং ব্রজ। 
অহং ত্বাং সর্বপাপেভ্যো মোক্ষয়িষ্যামি মা শুচঃ।।১৮/৬৬।।

অনুবাদঃ সর্ব প্রকার ধর্ম পরিত্যাগ করে কেবল আমার শরণাগত হও। ভয় পেও না, আমি তোমাকে সমস্ত পাপ থেকে মুক্ত করব।

তাই আমাদের উচিত একমাত্র সেই পরম ভগবান শ্রীকৃষ্ণের শরণাগত হওয়া এবং পাপ/ অপরাধ শুণ্য হয়ে একনিষ্ঠ হয়ে হরিনাম শ্রবণ এবং কীর্তন করা।
             *••••┉━❀꧁ রাধে রাধে ꧂❀━┅••••*
  
                 শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য প্রভু নিত্যানন্দ
              হরে কৃষ্ণ হরে রাম শ্রীরাধেগোবিন্দ।।

       *••••┉━❀꧁ জয় শ্রীশ্রীজগন্নাথ ꧂❀━┅••••*

              হরে কৃষ্ণ হরে কৃষ্ণ কৃষ্ণ কৃষ্ণ হরে হরে
              হরে রাম হরে রাম রাম রাম হরে হরে॥

    *••••┉━❀꧁জয় শ্রীশ্রীরাধাকান্ত꧂ ❀━┅••••*

             শ্রীশ্রীকৃষ্ণচৈতন্য মহাপ্রভুর নিবাসস্থলী
শ্রীগুরুদেব(আশ্রিত)-বৈষ্ণব কুলতিলক আচার্য্যপ্রবর মহান্ত মহারাজ শ্রীল ধ্যানচন্দ্র দাস গোস্বামী (শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য মহাপ্রভুর অপ্রকট লীলায় শ্রীগম্ভীরা মন্দিরে ঊনবিংশ পীঠাচার্য্য, শ্রীশ্রীরাধাকান্ত মঠ - শ্রীশ্রীগম্ভীরা, শ্রীধাম পুরী), মধবাচার্য্য(ব্রহ্ম) সম্প্রদায়,বক্রেশ্বর পরিবার(শ্রীতিলক সেবা- শ্রীশ্রীমহাপ্রভুর শ্রীচরণ), তুঙ্গবিদ্যা সখী,পশ্চিম দ্বার, লবঙ্গ মঞ্জুরী ( সনাতন গোস্বামী)।
*••••┉━❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀━┅••••*
শ্রী মৃন্ময় নন্দী কর্ত্তৃক সকল ভক্ত চরণে অসংখ্যকোটি প্রণাম।
নিবাস-গিরিরাজ ভবন, উত্তর নারায়নপুর, ভলীয়া, আরামবাগ, হুগলী, পশ্চিমবঙ্গ।
••••┉━❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀━┅••••
      📚 *PDF গ্রন্থ* 📚👉 https://drive.google.com/folderview?id=1_2ZHIyZKJeOOLMK0uLv53SkpMNgyi6eR 
✧════════════•❁❀❁•════════════✧

শ্রীশ্রীগৌরকিশোরের মঙ্গল-আরতি কীর্ত্তন 🙏 শ্রী মৃন্ময় নন্দী কর্ত্তৃক সকল ভক্ত চরণে অসংখ্যকোটি প্রণাম 📖 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2022/03/blog-post_50.html

  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
    ꧁ শ্রীশ্রীগৌরকিশোরের মঙ্গল-আরতি কীর্ত্তন꧂
       এই লিংকে ⬇️⬇️⬇️🙏⬇️⬇️⬇️ ক্লিক করুন 
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
  ꧁ টিকা বা অন্যান্য ধর্মীয় লিখনী 🙏 সূচীপত্র ꧂
       এই লিংকে ⬇️⬇️⬇️🙏⬇️⬇️⬇️ ক্লিক করুন 
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
              ꧁ স্তত্রম- বন্দনা- গীত- আরতি ꧂
       এই লিংকে 👇👇👇🙏👇👇👇 ক্লিক করুন 
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
꧁ MrinmoyNandy.blogspot.com 👉 সূচীপত্র ꧂
       এই লিংকে ⬇️⬇️⬇️🙏⬇️⬇️⬇️ ক্লিক করুন 
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
                    মঙ্গল আরতি গৌরকিশোর।
                    মঙ্গল নিত্যানন্দ যোড়হি যোড়।।
                    মঙ্গল শ্রীঅদ্বৈত ভকতহিঁ সঙ্গে।
                    মঙ্গল গাওত প্রেম-তরঙ্গে।।
                    মঙ্গল বাজত খোল করতাল।
                    মঙ্গল হরিদাস নাচত ভাল।।
                    মঙ্গল ধূপ-দীপ লইয়া স্বরূপ।
                    মঙ্গল আরতি করে অপরূপ।।
                    মঙ্গল গদাধর হেরি পহুঁ হাস।
                    মঙ্গল গাওত দীন কৃষ্ণদাস।।
🙏 সংগৃহীত 🙏
 ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧   
 ⬇️⬇️⬇️এই লিখনী 📚 PDF 📚 ক্লিক করুন⬇️⬇️⬇️

  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
    *••••┉━❀꧁ 🙏 রাধে রাধে 🙏 ꧂❀━┅••••* 
                   শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য প্রভু নিত্যানন্দ
              হরে কৃষ্ণ হরে রাম শ্রীরাধেগোবিন্দ।।
  *••••┉━❀꧁ 🙏 জয় জগন্নাথ 🙏 ꧂❀━┅••••*
              হরে কৃষ্ণ হরে কৃষ্ণ কৃষ্ণ কৃষ্ণ হরে হরে
              হরে রাম হরে রাম রাম রাম হরে হরে॥
  *••••┉━❀꧁ 🙏 জয় রাধাকান্ত 🙏 ꧂ ❀━┅••••*
   💮❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀💮
   💮❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀💮
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧



শ্রীগুরু চরণ পদ্ম, কেবল ভকতি সদ্ম 🙏 সংগৃহীত 🙏 শ্রী মৃন্ময় নন্দী কর্ত্তৃক সকল ভক্ত চরণে অসংখ্যকোটি প্রণাম 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2022/03/blog-post_74.html

  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
      ꧁ শ্রীগুরু চরণ পদ্ম, কেবল ভকতি সদ্ম ꧂         
       এই লিংকে ⬇️⬇️⬇️🙏⬇️⬇️⬇️ ক্লিক করুন 
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
  ꧁ টিকা বা অন্যান্য ধর্মীয় লিখনী 🙏 সূচীপত্র ꧂
       এই লিংকে ⬇️⬇️⬇️🙏⬇️⬇️⬇️ ক্লিক করুন 
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
              ꧁ স্তত্রম- বন্দনা- গীত- আরতি ꧂
       এই লিংকে 👇👇👇🙏👇👇👇 ক্লিক করুন 
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
꧁ MrinmoyNandy.blogspot.com 👉 সূচীপত্র ꧂
       এই লিংকে ⬇️⬇️⬇️🙏⬇️⬇️⬇️ ক্লিক করুন 
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
শ্রীগুরু চরণ পদ্ম, কেবল ভকতি সদ্ম
বন্দোঁ মুঞি সাবধান মতে
যাহার প্রসাদে ভাই, এই ভব তরিয়া যায়
কৃষ্ণ প্রাপ্তি হোয় যাহা হৈতে
 
গুরু মুখ পদ্ম বাক্য, চিত্তেতে করিব ঐক্য
আর না কোরিহো মনে আশা
শ্রী গুরু চরণে রতি, এই সে উত্তম গতি,
যে প্রসাদে পূরে সর্ব্ব আশা
 
চক্ষু দান দিল যেই, জন্মে জন্মে প্রভু সেই,
দিব্য জ্ঞান হৃদে প্রকাশিত
প্রেম ভক্তি যাহা হৈতে, অবিদ্যা বিনাশ যাতে
বেদে গায় যাহার চরিত
 
শ্রী গুরু করুণা সিন্ধু, অধম জনার বন্ধু,
লোকনাথ লোকের জীবন
হা হা প্রভু! কর দয়া, দেহো মোরে পদ-ছায়া,
এবে যশঃ ঘুষুক ত্রি-ভুবন
 
বৈষ্ণব চরণ রেণু, ভূষণ করিয়া তনু,
যাহা হৈতে অনুভব হয়
মার্জন হয় ভজন, সাধু সঙ্গে অনুক্ষণ,
অজ্ঞান অবিদ্যা পরাজয়
 
জয় সনাতন রূপ, প্রেম ভক্তি রস কূপ
যুগল উজ্জ্বল-ময় তনু
যাহার প্রসাদে লোক, পাসরিল সব শোক,
প্রকট-কলপ-তরু জনু
 
প্রেম ভক্তি রীতি যোতো, নিজ গ্রন্থে সুবেকত
লিখিয়াছেন দুই মহাশয়
যাহার শ্রবণ হৈতে, প্রেমানন্দে ভাসে চিতে,
যুগল মধুর রসাশ্রয়
 
যুগল কিশোর প্রেম, লক্ষ বাণ যেন হেম
হেন ধন প্রকাশিল যারা
জয় রূপ-সনাতন, দেহো মোরে প্রেম-ধন
সে রতন মোরে গলে হারা
 
ভাগবত শাস্ত্র মর্ম্ম, নব বিধা ভক্তি ধর্ম্ম,
সদাই করিব সুসেবন
অন্য দেবাশ্রয় নাই, তোমারে কহিল ভাই,
এই ভক্তি পরম ভজন
 
সাধু শাস্ত্র গুরু বাক্য, হৃদয়ে করিযা ঐক্য,
সতত ভাসিব প্রেম মাঝে
কর্ম্মী জ্ঞানী ভক্তি হীন, ইহাকে করিব ভিন,
নরোত্তম এই তত্ত্ব গাজে
 ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧   
  ⬇️⬇️⬇️এই লিখনী 📚 PDF 📚 ক্লিক করুন⬇️⬇️⬇️

  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
    *••••┉━❀꧁ 🙏 রাধে রাধে 🙏 ꧂❀━┅••••* 
                   শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য প্রভু নিত্যানন্দ
              হরে কৃষ্ণ হরে রাম শ্রীরাধেগোবিন্দ।।
  *••••┉━❀꧁ 🙏 জয় জগন্নাথ 🙏 ꧂❀━┅••••*
              হরে কৃষ্ণ হরে কৃষ্ণ কৃষ্ণ কৃষ্ণ হরে হরে
              হরে রাম হরে রাম রাম রাম হরে হরে॥
  *••••┉━❀꧁ 🙏 জয় রাধাকান্ত 🙏 ꧂ ❀━┅••••*
   💮❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀💮
   💮❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀💮
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧



꧁ শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য মহাপ্রভু꧂

*✧════════════•❁❀❁•════════════✧*
                   ꧁ শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য মহাপ্রভু꧂
*✧════════════•❁❀❁•════════════✧*
PDF 📚 🔗
স্বয়ং ব্রজেন্দ্র নন্দন শ্রীকৃষ্ণ চৈতন্য রূপে অবতীর্ণ বলে শ্রীচৈতন্য পরতত্ত্বের পরাকাষ্ঠা অর্থাৎ সর্বশ্রেষ্ঠ তত্ত্ব। 

 অনেকে মনে করে শ্রীকৃষ্ণ চৈতন্যই ক্ষীরোদশায়ী নারায়ন রূপে অবতীর্ণ হয়েছেন কিন্তু এই সিদ্ধান্ত সঠিক নয় কারণ ক্ষীরোদশায়ী নারায়ন হলেন শ্রীকৃষ্ণের অংশাংশাংশ ।
  
 এরপরে শ্রীকৃষ্ণ চৈতন্য মহাপ্রভুকে ক্ষীরোদশায়ী নারায়ন বললে তেনার মহিমা খর্ব করা হয় বলে মনে হয়। 
  
 তবে ভক্তদের এই ধারণা একেবারে মিথ্যা নয় কারণ শ্রীকৃষ্ণ স্বয়ং ভগবান তিনি স্বয়ং অবতারী তার অবতার কালে অন্য সকল অবতার তার সঙ্গে এসে মিলিত হন। 
   "পুণ্য ভগবান অবতারে যেই কালে আর সব অবতার তাতে আসি মিলে।। 
    নারায়ন চতুব্যূ্হ মৎস্য অবতার যুগ মন্বন্তরাবতার যত আছে আর সবে আসি কৃষ্ণ অঙ্গে হয় অবতীর্ণ।।"
 
  শ্রীকৃষ্ণ স্বয়ং ভগবান এটাই সিদ্ধান্ত বা তত্ত্বজ্ঞান শ্রীকৃষ্ণ শ্রীচৈতন্য রূপে অবতীর্ণ হয়েছেন সুতরাং শ্রী কৃষ্ণ তত্ত্ব ও শ্রীকৃষ্ণ চৈতন্য তত্ত্ব একই শ্রী কৃষ্ণ তত্ত্ব মহিমা জানলে শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য তত্ত্ব ও মহিমা জানা যায় তাই শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য মহিমা প্রকাশের জন্য শ্রীকৃষ্ণের মহিমার কথা প্রচার করা হয়।
   শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য মহাপ্রভুর মধ্যেই দুই স্বরূপ একত্রে যথা রাধাকৃষ্ণের মিলিত তনু বিরাজ করেছে তাই শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য মহাপ্রভুর মহিমা বর্ণনা সাথে সাথে শ্রীশ্রী রাধাকৃষ্ণের যুগল লীলা রস মহিমা বর্ণনা হয়ে যায়। 
তাই শ্রীকৃষ্ণ চৈতন্য মহাপ্রভুর  স্মরণ বিহীন শ্রীরাধাকৃষ্ণের লীলামৃত উপলব্ধি অসম্পূর্ণ।
             *••••┉━❀꧁ রাধে রাধে ꧂❀━┅••••*
  
                 শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য প্রভু নিত্যানন্দ
              হরে কৃষ্ণ হরে রাম শ্রীরাধেগোবিন্দ।।

       *••••┉━❀꧁ জয় শ্রীশ্রীজগন্নাথ ꧂❀━┅••••*

              হরে কৃষ্ণ হরে কৃষ্ণ কৃষ্ণ কৃষ্ণ হরে হরে
              হরে রাম হরে রাম রাম রাম হরে হরে॥

    *••••┉━❀꧁জয় শ্রীশ্রীরাধাকান্ত꧂ ❀━┅••••*

             শ্রীশ্রীকৃষ্ণচৈতন্য মহাপ্রভুর নিবাসস্থলী
শ্রীগুরুদেব(আশ্রিত)-বৈষ্ণব কুলতিলক আচার্য্যপ্রবর মহান্ত মহারাজ শ্রীল ধ্যানচন্দ্র দাস গোস্বামী (শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য মহাপ্রভুর অপ্রকট লীলায় শ্রীগম্ভীরা মন্দিরে ঊনবিংশ পীঠাচার্য্য, শ্রীশ্রীরাধাকান্ত মঠ - শ্রীশ্রীগম্ভীরা, শ্রীধাম পুরী), মধবাচার্য্য(ব্রহ্ম) সম্প্রদায়,বক্রেশ্বর পরিবার(শ্রীতিলক সেবা- শ্রীশ্রীমহাপ্রভুর শ্রীচরণ), তুঙ্গবিদ্যা সখী,পশ্চিম দ্বার, লবঙ্গ মঞ্জুরী ( সনাতন গোস্বামী)।
*••••┉━❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀━┅••••*
শ্রী মৃন্ময় নন্দী কর্ত্তৃক সকল ভক্ত চরণে অসংখ্যকোটি প্রণাম।
নিবাস-গিরিরাজ ভবন, উত্তর নারায়নপুর, ভলীয়া, আরামবাগ, হুগলী, পশ্চিমবঙ্গ।
••••┉━❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀━┅••••
      📚 *PDF গ্রন্থ* 📚👉 https://drive.google.com/folderview?id=1_2ZHIyZKJeOOLMK0uLv53SkpMNgyi6eR 
✧════════════•❁❀❁•════════════✧

উড়িষ্যার রাজা প্রতাপরুদ্রের প্রতি মহাপ্রভুর কৃপা 🙏 শ্রী মৃন্ময় নন্দী কর্ত্তৃক সকল ভক্ত চরণে অসংখ্যকোটি প্রণাম

  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
 ꧁উড়িষ্যার রাজা প্রতাপরুদ্রের প্রতি মহাপ্রভুর কৃপা꧂
       এই লিংকে 👇👇👇🙏👇👇👇 ক্লিক করুন 
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
 ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
রাজা হয়েও রাজা প্রতাপরুদ্র সব বৈষ্ণবগণকে সেবা করতেন, সমস্ত ভক্তগণের জন্য সব আয়োজন করতেন। তবু মহাপ্রভু প্রতিজ্ঞা করেছিলেন যে, তিনি তাঁর মুখ দর্শন করবেন না, কারণ তিনি রাজা। কিন্তু রাজা হয়েও তাঁর প্রচন্ড বেশী আর্ত্তি ছিলো। আর্ত্তি থাকলে ভগবান কৃপা করবেই। আমরাও আর্ত্তিটা চাই, ভগবানকে ডাকার মতো ডাকতে হবে। পারলে তবে তো ভগবান কৃপা করবেন!

তাই রাজা প্রতাপরুদ্র মহাপ্রভুর কাছে আসতে পারতেন না। কিন্তু সমস্ত বৈষ্ণবের সেবা করার ফলে, তিনি শেষ পর্যন্ত তাঁর দর্শন পেয়েছিলেন। ঘটনাটা ছিলো এই রকম।

নিত্যানন্দ প্রভু, শিবনান্দ সেন, স্বরূপ দামোদর, প্রভৃতি বারবার মহাপ্রভুকে বলতেন, “প্রভু, রাজা প্রতাপরুদ্রের তোমার সঙ্গে দেখা কৃপায় ইচ্ছা হচ্ছে, তাঁকে দর্শন দিতে পারবে? তিনি ধনী লোক, রাজা, কিন্তু তিনি ভালো লোক, তাঁর মন খুব ভালো। তিনি অনেক চেষ্টা করে সব সময় ভক্তের সেবা করছেন। যখন নিত্যানন্দ প্রভু ও শিবানন্দ সেন ভক্ত নিয়ে আসেন, তিনি সব সময় তাঁদের জন্য ঘর-টর ব্যবস্থা করে দেন।”

তবু মহাপ্রভু রাজি হলেন না, তিনি বললেন, “সেটা আমি জানি, কিন্তু তিনি রাজা, তাই আমি তাঁর মুখে দর্শন করবো না।”

 বার বার ভক্তরা মহাপ্রভুর মন গলাতে চেষ্টা করতেন। কিন্তু শেষে রাগ প্রকাশ করে মহাপ্রভু বললেন, “তোমরা যদি আবার ওনার সম্পর্কে বলবে, আমি আর এখানে থাকবো না। আমি চলে যাবো। তোমরা কখনও আমাকে আর দেখবে না।”

শুনে ভক্তগণ কানে অঙ্গুল দিয়ে কথা দিলেন, “আমরা এটা শুনতে চাই না। প্রভু, আমরা কখনও আর তাঁর উপরে কথা বলবো না।”

এদিকে রাজা প্রতাপরুদ্র চিন্তা করতে থাকতেন। তিনি প্রতি দিন জিজ্ঞেস করতেন, “কী হয়েছে? কী হয়েছে? কবে আমি প্রভুর কৃপা লাভ করবো?”

"অদর্শনীয়ানপি নীচজাতীন্
 সংবীক্ষতে হন্ত তথাপি নো মাম্।
 মদেকবর্জ্জ্যং কৃপয়িষ্যতীতি
 নির্ণীয় কিং সোঽবততার দেবঃ॥"
অর্থাৎ, অদর্শনীয় নীচজাতিগণকেও দর্শন দিচ্ছেন, তথাপি আমাকে দর্শন দিবেন না! আমি বিনা সকল জীবকে কৃপা করবেন, এটাই স্থির করে কি তিনি (শ্রীচৈতন্যদেব) অবতীর্ণ হয়েছেন?”
(শ্রীশ্রীপ্রপন্নজীবনামৃতম্, ৮/২০)

কেউ তাঁকে মহাপ্রভুর কিছু বসন দিলেন, আর রাজা তাঁর পূজা করতে লাগলেন। এক দিন তিনি জিজ্ঞেস করলেন যে, তিনি তাঁর পুত্রকে মহাপ্রভুর কাছে পাঠাতে পারবেন কিনা। মহাপ্রভু রাজি হলেন। ভক্তরা রাজার পুত্রকে বৈষ্ণব পোশাক দিয়ে মহাপ্রভুর কাছেএনেছিলেন। যখন তিনি বাড়ি ফিরে এলেন, রাজা তাকে আলিঙ্গন করে বললেন, “তুমি এতো ভাগ্যবান! তুমি মহাপ্রভুর কৃপা পেয়েছো! আমি এতো দুর্ভাগা যে প্রভু আমায় কৃপা করেছেন না।”

কিছুদিন পরে নিত্যানন্দ প্রভু তাঁকে দয়া করে বললেন, “রাজা, তোমার এতো বেশী আর্ত্তি আছে, তাই তুমি এইবার মহাপ্রভুর কৃপা পাবে! মন দিয়ে শোনো, আমি তোমাকে প্রণালীটা বলে দেবো। যখন প্রভু জগন্নাথের রথের সামনে গিয়ে নেচে নেচে কীর্ত্তন করবে, অষ্টসাত্ত্বিক বিকার হয়ে, তিনি আবার অজ্ঞান হয়ে পড়বেন। সেইক্ষণে তুমি তাঁর কাছে গিয়ে পা মালিশ করতে করতে একটা শ্লোক বলবে।” 

 রাজা তাই করলেন। রথের দিন রাজার পোশাক ছেড়ে দিয়ে, বৈষ্ণব ধুতি কোর্তা পরে তিনি বিনীত ভাবে রথের সামনে রাস্তা ঝাড়ু দিলেন। আর যখন মহাপ্রভু ক্লান্ত হয়ে বলগণ্ডী উদ্যনে গিয়ে অজ্ঞান হয়ে পড়লেন, তখন রাজা তাঁর কাছে গিয়ে পা মালিশ করে বললেন,

"তব কথামৃতং তপ্তজীবনং
 কবিভিরীড়িতং কল্মষাপহম্।
 শ্রবণমঙ্গলং শ্রীমদাততং
 ভুবি গৃণন্তি তে ভূরিদা জনাঃ॥"
অর্থাৎ, তোমার কথামৃত ত্বদীয় বিরহকাতর জনগণের জীবন স্বরূপ, প্রহ্লাদ, ধ্রুব প্রভৃতি ভক্তগণও তাহার স্তব করিয়া থাকেন। উহা প্রারব্ধ ও অপ্রারব্ধ পাপ-বিনাশক, শ্রবণমাত্রে মঙ্গলপ্রদ, প্রেম-সম্পত্তিদায়ক এবং কীর্ত্তনকারিগণ কর্ত্তৃক বিস্তৃত। সুতরাং যে ব্যক্তি উহা কীর্ত্তন করেন তিনিই সর্ব্বশ্রেষ্ঠ দাতা। 
(ভাঃ ১০/৩১/৯)

সেই শ্লোক শুনে মহাপ্রভু উঠে, “ভূরিদা জনাঃ ভূরিদা জনাঃ” বলে রাজাকে জোর করে আলিঙ্গন করলেন। ‘ভূরিদা’ মানে দাতা। এই জগতে কে সবচেয়ে বড় দাতা? যারা টাকা দেয়, ধন দেয়, তারা কি দাতা? না। এই জগতে যাঁরা লোকের দ্বারে দ্বারে গিয়ে হরিনাম বিতরণ করেন, কৃষ্ণনাম বিতরণ করেন, তাঁরাই সবচেয়ে বড় দাতা।
 ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧      
👇👇👇এই লিখনী 📚 PDF 📚 ক্লিক করুন 👇👇👇
 
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
    *••••┉━❀꧁ 🙏 রাধে রাধে 🙏 ꧂❀━┅••••* 
                   শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য প্রভু নিত্যানন্দ
              হরে কৃষ্ণ হরে রাম শ্রীরাধেগোবিন্দ।।
  *••••┉━❀꧁ 🙏 জয় জগন্নাথ 🙏 ꧂❀━┅••••*
              হরে কৃষ্ণ হরে কৃষ্ণ কৃষ্ণ কৃষ্ণ হরে হরে
              হরে রাম হরে রাম রাম রাম হরে হরে॥
  *••••┉━❀꧁ 🙏 জয় রাধাকান্ত 🙏 ꧂ ❀━┅••••*
   💮❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀💮
   💮❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀💮
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧



শ্রীশ্রীগৌরকিশোরের মঙ্গল-আরতি কীর্ত্তন 🙏 শ্রী মৃন্ময় নন্দী কর্ত্তৃক সকল ভক্ত চরণে অসংখ্যকোটি প্রণাম ➡️ http://mrinmoynandy.blogspot.com/2022/03/blog-post_50.html

  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
    ꧁ শ্রীশ্রীগৌরকিশোরের মঙ্গল-আরতি কীর্ত্তন꧂
       এই লিংকে ⬇️⬇️⬇️🙏⬇️⬇️⬇️ ক্লিক করুন 
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
  ꧁ টিকা বা অন্যান্য ধর্মীয় লিখনী 🙏 সূচীপত্র ꧂
       এই লিংকে ⬇️⬇️⬇️🙏⬇️⬇️⬇️ ক্লিক করুন 
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
              ꧁ স্তত্রম- বন্দনা- গীত- আরতি ꧂
       এই লিংকে 👇👇👇🙏👇👇👇 ক্লিক করুন 
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
꧁ MrinmoyNandy.blogspot.com 👉 সূচীপত্র ꧂
       এই লিংকে ⬇️⬇️⬇️🙏⬇️⬇️⬇️ ক্লিক করুন 
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
                    মঙ্গল আরতি গৌরকিশোর।
                    মঙ্গল নিত্যানন্দ যোড়হি যোড়।।
                    মঙ্গল শ্রীঅদ্বৈত ভকতহিঁ সঙ্গে।
                    মঙ্গল গাওত প্রেম-তরঙ্গে।।
                    মঙ্গল বাজত খোল করতাল।
                    মঙ্গল হরিদাস নাচত ভাল।।
                    মঙ্গল ধূপ-দীপ লইয়া স্বরূপ।
                    মঙ্গল আরতি করে অপরূপ।।
                    মঙ্গল গদাধর হেরি পহুঁ হাস।
                    মঙ্গল গাওত দীন কৃষ্ণদাস।।
🙏 সংগৃহীত 🙏
 ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧   
 ⬇️⬇️⬇️এই লিখনী 📚 PDF 📚 ক্লিক করুন⬇️⬇️⬇️

  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
    *••••┉━❀꧁ 🙏 রাধে রাধে 🙏 ꧂❀━┅••••* 
                   শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য প্রভু নিত্যানন্দ
              হরে কৃষ্ণ হরে রাম শ্রীরাধেগোবিন্দ।।
  *••••┉━❀꧁ 🙏 জয় জগন্নাথ 🙏 ꧂❀━┅••••*
              হরে কৃষ্ণ হরে কৃষ্ণ কৃষ্ণ কৃষ্ণ হরে হরে
              হরে রাম হরে রাম রাম রাম হরে হরে॥
  *••••┉━❀꧁ 🙏 জয় রাধাকান্ত 🙏 ꧂ ❀━┅••••*
   💮❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀💮
   💮❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀💮
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧



শ্রীগুরু চরণ পদ্ম, কেবল ভকতি সদ্ম 🙏 সংগৃহীত 🙏 শ্রী মৃন্ময় নন্দী কর্ত্তৃক সকল ভক্ত চরণে অসংখ্যকোটি প্রণাম ➡️ http://mrinmoynandy.blogspot.com/2022/03/blog-post_74.html

  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
      ꧁ শ্রীগুরু চরণ পদ্ম, কেবল ভকতি সদ্ম ꧂         
       এই লিংকে ⬇️⬇️⬇️🙏⬇️⬇️⬇️ ক্লিক করুন 
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
  ꧁ টিকা বা অন্যান্য ধর্মীয় লিখনী 🙏 সূচীপত্র ꧂
       এই লিংকে ⬇️⬇️⬇️🙏⬇️⬇️⬇️ ক্লিক করুন 
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
              ꧁ স্তত্রম- বন্দনা- গীত- আরতি ꧂
       এই লিংকে 👇👇👇🙏👇👇👇 ক্লিক করুন 
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
꧁ MrinmoyNandy.blogspot.com 👉 সূচীপত্র ꧂
       এই লিংকে ⬇️⬇️⬇️🙏⬇️⬇️⬇️ ক্লিক করুন 
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
শ্রীগুরু চরণ পদ্ম, কেবল ভকতি সদ্ম
বন্দোঁ মুঞি সাবধান মতে
যাহার প্রসাদে ভাই, এই ভব তরিয়া যায়
কৃষ্ণ প্রাপ্তি হোয় যাহা হৈতে
 
গুরু মুখ পদ্ম বাক্য, চিত্তেতে করিব ঐক্য
আর না কোরিহো মনে আশা
শ্রী গুরু চরণে রতি, এই সে উত্তম গতি,
যে প্রসাদে পূরে সর্ব্ব আশা
 
চক্ষু দান দিল যেই, জন্মে জন্মে প্রভু সেই,
দিব্য জ্ঞান হৃদে প্রকাশিত
প্রেম ভক্তি যাহা হৈতে, অবিদ্যা বিনাশ যাতে
বেদে গায় যাহার চরিত
 
শ্রী গুরু করুণা সিন্ধু, অধম জনার বন্ধু,
লোকনাথ লোকের জীবন
হা হা প্রভু! কর দয়া, দেহো মোরে পদ-ছায়া,
এবে যশঃ ঘুষুক ত্রি-ভুবন
 
বৈষ্ণব চরণ রেণু, ভূষণ করিয়া তনু,
যাহা হৈতে অনুভব হয়
মার্জন হয় ভজন, সাধু সঙ্গে অনুক্ষণ,
অজ্ঞান অবিদ্যা পরাজয়
 
জয় সনাতন রূপ, প্রেম ভক্তি রস কূপ
যুগল উজ্জ্বল-ময় তনু
যাহার প্রসাদে লোক, পাসরিল সব শোক,
প্রকট-কলপ-তরু জনু
 
প্রেম ভক্তি রীতি যোতো, নিজ গ্রন্থে সুবেকত
লিখিয়াছেন দুই মহাশয়
যাহার শ্রবণ হৈতে, প্রেমানন্দে ভাসে চিতে,
যুগল মধুর রসাশ্রয়
 
যুগল কিশোর প্রেম, লক্ষ বাণ যেন হেম
হেন ধন প্রকাশিল যারা
জয় রূপ-সনাতন, দেহো মোরে প্রেম-ধন
সে রতন মোরে গলে হারা
 
ভাগবত শাস্ত্র মর্ম্ম, নব বিধা ভক্তি ধর্ম্ম,
সদাই করিব সুসেবন
অন্য দেবাশ্রয় নাই, তোমারে কহিল ভাই,
এই ভক্তি পরম ভজন
 
সাধু শাস্ত্র গুরু বাক্য, হৃদয়ে করিযা ঐক্য,
সতত ভাসিব প্রেম মাঝে
কর্ম্মী জ্ঞানী ভক্তি হীন, ইহাকে করিব ভিন,
নরোত্তম এই তত্ত্ব গাজে
 ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧   
  ⬇️⬇️⬇️এই লিখনী 📚 PDF 📚 ক্লিক করুন⬇️⬇️⬇️

  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
    *••••┉━❀꧁ 🙏 রাধে রাধে 🙏 ꧂❀━┅••••* 
                   শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য প্রভু নিত্যানন্দ
              হরে কৃষ্ণ হরে রাম শ্রীরাধেগোবিন্দ।।
  *••••┉━❀꧁ 🙏 জয় জগন্নাথ 🙏 ꧂❀━┅••••*
              হরে কৃষ্ণ হরে কৃষ্ণ কৃষ্ণ কৃষ্ণ হরে হরে
              হরে রাম হরে রাম রাম রাম হরে হরে॥
  *••••┉━❀꧁ 🙏 জয় রাধাকান্ত 🙏 ꧂ ❀━┅••••*
   💮❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀💮
   💮❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀💮
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧



উড়িষ্যার রাজা প্রতাপরুদ্রের প্রতি মহাপ্রভুর কৃপা 🙏 শ্রী মৃন্ময় নন্দী কর্ত্তৃক সকল ভক্ত চরণে অসংখ্যকোটি প্রণাম

  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
 ꧁উড়িষ্যার রাজা প্রতাপরুদ্রের প্রতি মহাপ্রভুর কৃপা꧂
       এই লিংকে 👇👇👇🙏👇👇👇 ক্লিক করুন 
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
 ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
রাজা হয়েও রাজা প্রতাপরুদ্র সব বৈষ্ণবগণকে সেবা করতেন, সমস্ত ভক্তগণের জন্য সব আয়োজন করতেন। তবু মহাপ্রভু প্রতিজ্ঞা করেছিলেন যে, তিনি তাঁর মুখ দর্শন করবেন না, কারণ তিনি রাজা। কিন্তু রাজা হয়েও তাঁর প্রচন্ড বেশী আর্ত্তি ছিলো। আর্ত্তি থাকলে ভগবান কৃপা করবেই। আমরাও আর্ত্তিটা চাই, ভগবানকে ডাকার মতো ডাকতে হবে। পারলে তবে তো ভগবান কৃপা করবেন!

তাই রাজা প্রতাপরুদ্র মহাপ্রভুর কাছে আসতে পারতেন না। কিন্তু সমস্ত বৈষ্ণবের সেবা করার ফলে, তিনি শেষ পর্যন্ত তাঁর দর্শন পেয়েছিলেন। ঘটনাটা ছিলো এই রকম।

নিত্যানন্দ প্রভু, শিবনান্দ সেন, স্বরূপ দামোদর, প্রভৃতি বারবার মহাপ্রভুকে বলতেন, “প্রভু, রাজা প্রতাপরুদ্রের তোমার সঙ্গে দেখা কৃপায় ইচ্ছা হচ্ছে, তাঁকে দর্শন দিতে পারবে? তিনি ধনী লোক, রাজা, কিন্তু তিনি ভালো লোক, তাঁর মন খুব ভালো। তিনি অনেক চেষ্টা করে সব সময় ভক্তের সেবা করছেন। যখন নিত্যানন্দ প্রভু ও শিবানন্দ সেন ভক্ত নিয়ে আসেন, তিনি সব সময় তাঁদের জন্য ঘর-টর ব্যবস্থা করে দেন।”

তবু মহাপ্রভু রাজি হলেন না, তিনি বললেন, “সেটা আমি জানি, কিন্তু তিনি রাজা, তাই আমি তাঁর মুখে দর্শন করবো না।”

 বার বার ভক্তরা মহাপ্রভুর মন গলাতে চেষ্টা করতেন। কিন্তু শেষে রাগ প্রকাশ করে মহাপ্রভু বললেন, “তোমরা যদি আবার ওনার সম্পর্কে বলবে, আমি আর এখানে থাকবো না। আমি চলে যাবো। তোমরা কখনও আমাকে আর দেখবে না।”

শুনে ভক্তগণ কানে অঙ্গুল দিয়ে কথা দিলেন, “আমরা এটা শুনতে চাই না। প্রভু, আমরা কখনও আর তাঁর উপরে কথা বলবো না।”

এদিকে রাজা প্রতাপরুদ্র চিন্তা করতে থাকতেন। তিনি প্রতি দিন জিজ্ঞেস করতেন, “কী হয়েছে? কী হয়েছে? কবে আমি প্রভুর কৃপা লাভ করবো?”

"অদর্শনীয়ানপি নীচজাতীন্
 সংবীক্ষতে হন্ত তথাপি নো মাম্।
 মদেকবর্জ্জ্যং কৃপয়িষ্যতীতি
 নির্ণীয় কিং সোঽবততার দেবঃ॥"
অর্থাৎ, অদর্শনীয় নীচজাতিগণকেও দর্শন দিচ্ছেন, তথাপি আমাকে দর্শন দিবেন না! আমি বিনা সকল জীবকে কৃপা করবেন, এটাই স্থির করে কি তিনি (শ্রীচৈতন্যদেব) অবতীর্ণ হয়েছেন?”
(শ্রীশ্রীপ্রপন্নজীবনামৃতম্, ৮/২০)

কেউ তাঁকে মহাপ্রভুর কিছু বসন দিলেন, আর রাজা তাঁর পূজা করতে লাগলেন। এক দিন তিনি জিজ্ঞেস করলেন যে, তিনি তাঁর পুত্রকে মহাপ্রভুর কাছে পাঠাতে পারবেন কিনা। মহাপ্রভু রাজি হলেন। ভক্তরা রাজার পুত্রকে বৈষ্ণব পোশাক দিয়ে মহাপ্রভুর কাছেএনেছিলেন। যখন তিনি বাড়ি ফিরে এলেন, রাজা তাকে আলিঙ্গন করে বললেন, “তুমি এতো ভাগ্যবান! তুমি মহাপ্রভুর কৃপা পেয়েছো! আমি এতো দুর্ভাগা যে প্রভু আমায় কৃপা করেছেন না।”

কিছুদিন পরে নিত্যানন্দ প্রভু তাঁকে দয়া করে বললেন, “রাজা, তোমার এতো বেশী আর্ত্তি আছে, তাই তুমি এইবার মহাপ্রভুর কৃপা পাবে! মন দিয়ে শোনো, আমি তোমাকে প্রণালীটা বলে দেবো। যখন প্রভু জগন্নাথের রথের সামনে গিয়ে নেচে নেচে কীর্ত্তন করবে, অষ্টসাত্ত্বিক বিকার হয়ে, তিনি আবার অজ্ঞান হয়ে পড়বেন। সেইক্ষণে তুমি তাঁর কাছে গিয়ে পা মালিশ করতে করতে একটা শ্লোক বলবে।” 

 রাজা তাই করলেন। রথের দিন রাজার পোশাক ছেড়ে দিয়ে, বৈষ্ণব ধুতি কোর্তা পরে তিনি বিনীত ভাবে রথের সামনে রাস্তা ঝাড়ু দিলেন। আর যখন মহাপ্রভু ক্লান্ত হয়ে বলগণ্ডী উদ্যনে গিয়ে অজ্ঞান হয়ে পড়লেন, তখন রাজা তাঁর কাছে গিয়ে পা মালিশ করে বললেন,

"তব কথামৃতং তপ্তজীবনং
 কবিভিরীড়িতং কল্মষাপহম্।
 শ্রবণমঙ্গলং শ্রীমদাততং
 ভুবি গৃণন্তি তে ভূরিদা জনাঃ॥"
অর্থাৎ, তোমার কথামৃত ত্বদীয় বিরহকাতর জনগণের জীবন স্বরূপ, প্রহ্লাদ, ধ্রুব প্রভৃতি ভক্তগণও তাহার স্তব করিয়া থাকেন। উহা প্রারব্ধ ও অপ্রারব্ধ পাপ-বিনাশক, শ্রবণমাত্রে মঙ্গলপ্রদ, প্রেম-সম্পত্তিদায়ক এবং কীর্ত্তনকারিগণ কর্ত্তৃক বিস্তৃত। সুতরাং যে ব্যক্তি উহা কীর্ত্তন করেন তিনিই সর্ব্বশ্রেষ্ঠ দাতা। 
(ভাঃ ১০/৩১/৯)

সেই শ্লোক শুনে মহাপ্রভু উঠে, “ভূরিদা জনাঃ ভূরিদা জনাঃ” বলে রাজাকে জোর করে আলিঙ্গন করলেন। ‘ভূরিদা’ মানে দাতা। এই জগতে কে সবচেয়ে বড় দাতা? যারা টাকা দেয়, ধন দেয়, তারা কি দাতা? না। এই জগতে যাঁরা লোকের দ্বারে দ্বারে গিয়ে হরিনাম বিতরণ করেন, কৃষ্ণনাম বিতরণ করেন, তাঁরাই সবচেয়ে বড় দাতা।
 ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧      
👇👇👇এই লিখনী 📚 PDF 📚 ক্লিক করুন 👇👇👇
 
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
    *••••┉━❀꧁ 🙏 রাধে রাধে 🙏 ꧂❀━┅••••* 
                   শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য প্রভু নিত্যানন্দ
              হরে কৃষ্ণ হরে রাম শ্রীরাধেগোবিন্দ।।
  *••••┉━❀꧁ 🙏 জয় জগন্নাথ 🙏 ꧂❀━┅••••*
              হরে কৃষ্ণ হরে কৃষ্ণ কৃষ্ণ কৃষ্ণ হরে হরে
              হরে রাম হরে রাম রাম রাম হরে হরে॥
  *••••┉━❀꧁ 🙏 জয় রাধাকান্ত 🙏 ꧂ ❀━┅••••*
   💮❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀💮
   💮❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀💮
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧



꧁ শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য মহাপ্রভু꧂

*✧════════════•❁❀❁•════════════✧*
                   ꧁ শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য মহাপ্রভু꧂
*✧════════════•❁❀❁•════════════✧*
PDF 📚 🔗
স্বয়ং ব্রজেন্দ্র নন্দন শ্রীকৃষ্ণ চৈতন্য রূপে অবতীর্ণ বলে শ্রীচৈতন্য পরতত্ত্বের পরাকাষ্ঠা অর্থাৎ সর্বশ্রেষ্ঠ তত্ত্ব। 

 অনেকে মনে করে শ্রীকৃষ্ণ চৈতন্যই ক্ষীরোদশায়ী নারায়ন রূপে অবতীর্ণ হয়েছেন কিন্তু এই সিদ্ধান্ত সঠিক নয় কারণ ক্ষীরোদশায়ী নারায়ন হলেন শ্রীকৃষ্ণের অংশাংশাংশ ।
  
 এরপরে শ্রীকৃষ্ণ চৈতন্য মহাপ্রভুকে ক্ষীরোদশায়ী নারায়ন বললে তেনার মহিমা খর্ব করা হয় বলে মনে হয়। 
  
 তবে ভক্তদের এই ধারণা একেবারে মিথ্যা নয় কারণ শ্রীকৃষ্ণ স্বয়ং ভগবান তিনি স্বয়ং অবতারী তার অবতার কালে অন্য সকল অবতার তার সঙ্গে এসে মিলিত হন। 
   "পুণ্য ভগবান অবতারে যেই কালে আর সব অবতার তাতে আসি মিলে।। 
    নারায়ন চতুব্যূ্হ মৎস্য অবতার যুগ মন্বন্তরাবতার যত আছে আর সবে আসি কৃষ্ণ অঙ্গে হয় অবতীর্ণ।।"
 
  শ্রীকৃষ্ণ স্বয়ং ভগবান এটাই সিদ্ধান্ত বা তত্ত্বজ্ঞান শ্রীকৃষ্ণ শ্রীচৈতন্য রূপে অবতীর্ণ হয়েছেন সুতরাং শ্রী কৃষ্ণ তত্ত্ব ও শ্রীকৃষ্ণ চৈতন্য তত্ত্ব একই শ্রী কৃষ্ণ তত্ত্ব মহিমা জানলে শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য তত্ত্ব ও মহিমা জানা যায় তাই শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য মহিমা প্রকাশের জন্য শ্রীকৃষ্ণের মহিমার কথা প্রচার করা হয়।
   শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য মহাপ্রভুর মধ্যেই দুই স্বরূপ একত্রে যথা রাধাকৃষ্ণের মিলিত তনু বিরাজ করেছে তাই শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য মহাপ্রভুর মহিমা বর্ণনা সাথে সাথে শ্রীশ্রী রাধাকৃষ্ণের যুগল লীলা রস মহিমা বর্ণনা হয়ে যায়। 
তাই শ্রীকৃষ্ণ চৈতন্য মহাপ্রভুর  স্মরণ বিহীন শ্রীরাধাকৃষ্ণের লীলামৃত উপলব্ধি অসম্পূর্ণ।
             *••••┉━❀꧁ রাধে রাধে ꧂❀━┅••••*
  
                 শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য প্রভু নিত্যানন্দ
              হরে কৃষ্ণ হরে রাম শ্রীরাধেগোবিন্দ।।

       *••••┉━❀꧁ জয় শ্রীশ্রীজগন্নাথ ꧂❀━┅••••*

              হরে কৃষ্ণ হরে কৃষ্ণ কৃষ্ণ কৃষ্ণ হরে হরে
              হরে রাম হরে রাম রাম রাম হরে হরে॥

    *••••┉━❀꧁জয় শ্রীশ্রীরাধাকান্ত꧂ ❀━┅••••*

             শ্রীশ্রীকৃষ্ণচৈতন্য মহাপ্রভুর নিবাসস্থলী
শ্রীগুরুদেব(আশ্রিত)-বৈষ্ণব কুলতিলক আচার্য্যপ্রবর মহান্ত মহারাজ শ্রীল ধ্যানচন্দ্র দাস গোস্বামী (শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য মহাপ্রভুর অপ্রকট লীলায় শ্রীগম্ভীরা মন্দিরে ঊনবিংশ পীঠাচার্য্য, শ্রীশ্রীরাধাকান্ত মঠ - শ্রীশ্রীগম্ভীরা, শ্রীধাম পুরী), মধবাচার্য্য(ব্রহ্ম) সম্প্রদায়,বক্রেশ্বর পরিবার(শ্রীতিলক সেবা- শ্রীশ্রীমহাপ্রভুর শ্রীচরণ), তুঙ্গবিদ্যা সখী,পশ্চিম দ্বার, লবঙ্গ মঞ্জুরী ( সনাতন গোস্বামী)।
*••••┉━❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀━┅••••*
শ্রী মৃন্ময় নন্দী কর্ত্তৃক সকল ভক্ত চরণে অসংখ্যকোটি প্রণাম।
নিবাস-গিরিরাজ ভবন, উত্তর নারায়নপুর, ভলীয়া, আরামবাগ, হুগলী, পশ্চিমবঙ্গ।
••••┉━❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀━┅••••
      📚 *PDF গ্রন্থ* 📚👉 https://drive.google.com/folderview?id=1_2ZHIyZKJeOOLMK0uLv53SkpMNgyi6eR 
✧════════════•❁❀❁•════════════✧
adds