শ্রী মৃন্ময় নন্দী কর্ত্তৃক সকল ভক্ত👣চরণে👣অসংখ্যকোটি 🙇প্রণাম🙇 ক্লিক করুন 👇

শ্রী মৃন্ময় নন্দী কর্ত্তৃক সকল ভক্ত👣চরণে👣অসংখ্যকোটি 🙇প্রণাম🙇 ক্লিক করুন 👇

১০৪. সীতার নামে অপবাদ শ্রবণ 👂 কৃত্তিবাসী রামায়ণ কথন সংক্ষেপে ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 💐 JOYDEB DAWN 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/01/joydeb-dawn_16.html

  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
     ꧁ ১০৪. কৃত্তিবাসী রামায়ণ কথন সংক্ষেপে 
          ꧁ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ ꧂
       এই লিংকে ⬇️⬇️⬇️🙏⬇️⬇️⬇️ ক্লিক করুন 
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
꧁ MrinmoyNandy.blogspot.com 👉 সূচীপত্র ꧂
       এই লিংকে ⬇️⬇️⬇️🙏⬇️⬇️⬇️ ক্লিক করুন 
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
꧁ টিকা বা অন্যান্য ধর্মীয় লিখনী 🙏 সূচীপত্র ꧂
          ꧁ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ ꧂
       এই লিংকে ⬇️⬇️⬇️🙏⬇️⬇️⬇️ ক্লিক করুন 
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
꧁ কৃত্তিবাসী রামায়ণ কথন সংক্ষেপে 🙏 সূচীপত্র ꧂
          ꧁ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ ꧂
       এই লিংকে 👇👇👇🙏👇👇👇 ক্লিক করুন 
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
*(১০৪)কৃত্তিবাসী রামায়ণ সংক্ষেপে*
"""""""""""""""""""""""""""""""""""""""""""'"'""'''""''"
*🌻সীতার নামে অপবাদ শ্রবণ🌻*
*🌹শ্রীরামের অভিলাষ বিধাতার অগোচর রইল না।তিনি বিশ্বকর্মাকে ডাকলেন এবং অযোধ‍্যার রাজপুরীতে এক অপূর্ব উদ‍্যান-বাটিকা রচনা করবার জন্য তিনি তাঁকে বললেন।বিশ্বকর্মাও মন প্রাণ ঢেলে অপরূপ এক উদ‍্যান এবং ত‍ৎসহ ভবন তৈরী করলেন।অতীব শোভন নয়ন-মোহন সেই আমোদ ভবনে শ্রীরাম ও জানকীদেবী অবসর যাপন করতে থাকলে বিদ‍্যাধরীগণ দাসীরূপে তাঁদের সেবা শুশ্রূষায় রত হলেন।(বিদ‍্যাধরীগণ=বিদ‍্যাধর রমণী ; যারা ইন্দ্রজালাদি বা গান্ধর্ব শাস্ত্র-প্রভাবে লোকের বিস্ময় জন্মাইতে পারে তারা বিদ‍্যাধর।এরা স্বগীয় গায়ক বলে প্রসিদ্ধ।এদের স্ত্রীগণকে বিদ‍্যাধরী বল।)এইভাবে কিছুকাল আরামে-বিরামে অতিবাহিত করে শ্রীরামচন্দ্র পুনরায় রাজকার্য‍্যের ভার নিলেন।সভাসদ্ সমভিব‍্যবহারে সভাস্থলে বসে পুনরায় রাজনীতি চর্চা আরম্ভ করলেন।*
*🌻ইতিমধ‍্যে রাজ‍্যের ইতর (নীচ মনোবৃত্তি লোক)মনোভাবাপন্ন জনগণের ভিতর সীতার লঙ্কায় থাকা কালীন সম্পর্কে নানা বিরূপ আলোচনা হতে আরম্ভ করেছিল।একদিন সভামধ‍্যে তা নিয়ে যখন কোনও কোনও পাত্রমিত্র কানাকানি করছিলেন তখন রামচন্দ্রের কানেও সেই অপবাদ-গুঞ্জন পৌঁছাল।তাঁর রাজ‍্যভার গ্রহণের পরবর্তী কাল হতে প্রজাগণ কিরকম আছেন এবং তাদের মতামতই বা কি,রামচন্দ্র তা জানতে চাইলে সকলে স্তব্ধ রইলেন।কেউ কেউ মথা নত করে রইলেন।কেউ কেউ পরস্পরের প্রতি এইতে লাগলেন।অবশেষে ভদ্র নামক এক স্পষ্টভাষী মহামাত‍্য করযোড়পূর্বক উঠে দাঁড়ালেন এবং রাজ‍্যে ধন অভাবের কথা প্রকাশ করলেন।রামচন্দ্র তার কারণ জিজ্ঞাসা করলেন।মহামাত‍্য ভদ্র হঠাৎ চুপ করে গেলেন।রামচন্দ্র তার সঙ্কোচ এবং শঙ্কা দর্শন করে তাকে অভয়দানপূর্বক সত‍্যকথা প্রকাশ করতে বললেন। তারপর ভদ্র জনসাধারণের মধ্যে জানকী সম্বন্ধীয় নানান বিরূপ আলোচনার কথা স্পষ্ট ভাষায় নিবেদন করলেন।জানকী রাবণ কর্তৃক হরণ হয়েছিলেন এবং শ্রীরাম তাঁর কোন দোষ পরীক্ষা না করেই তাঁকে নিজের রাজমহলে নিয়ে এলেন।এই জন‍্য নাকি অযোধ‍্যার রাজবংশ কলঙ্কিত হয়েছে। তাঁর অজ্ঞাতে যে প্রজাগণের এই অপযশ যে এতদূর গড়াবে তা রামচন্দ্র কল্পনাই করতে পারেন নাই।অন‍্যান‍্য পাত্রমিত্রগণও ভদ্রের কথাবার্তা সমর্থন করলে রামচন্দ্র মর্মাহত হলেন।সেইদিনকার মত সভা ভঙ্গ হল।সকলকে বিদায় দিয়ে রামচন্দ্র ক্ষণকাল স্তব্ধ হয়ে একাকী বসে রইলেন।তাঁর মন বেদনাকাতর হ'ল।নয়ন থেকে বারিধারা বর্ষণ হতে লাগল। সময়টি নিদাঘকাল(গ্রীষ্মকাল)।*
*ভদ্রের উক্তি এই=*
*🍀ভদ্র বলে রঘুনাথ যাই যথা তথা।*
*🍀সর্বলোকে কহে এই সীতার বারতা।।*
*🍀দেবাসুর যুদ্ধ মত হইয়াছে রণ*।
*🍀সীতা উদ্ধারিলা রাম মারিয়া রাবণ।।*
*🍀দোষ না বুঝিয়া সীতা আনিয়াছ ঘরে।*
*🍀নির্মল-কুলেতে কালি দিলা রঘুবরে।।*
*যে নারী কোলেতে করি লৈল রাক্ষসে।*
*🍀সেই নারী রাখিয়াছ নিজ গৃহবাসে।।*
*🍀এই অপযশ তব সর্বজন ঘোষে।*
*🍀তোমার সম্মুখে কেহ নাহি কয় ত্রাসে।।*
*🍀এত যদি কহে ভদ্র পাত্র সে দুর্মুখ।*
*🍀বজ্রাঘাত পড়ে যেন রামের সম্মুখ।।*
*🙏বানান,ভুল,ক্ষমা করবেন🙏*
               *ক্রমাগত*
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
 ✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️
নিবাস- বাঁশবাড়ী, কীর্তন মন্দিরের পাশে, পোঃ- বাঁশবাড়ী, থানা- ইংরেজ বাজার, জেলা- মালদহ, পশ্চিমবঙ্গ, পিন কোড- ৭৩২১০১।
 ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏
আমায় দেওয়া ওনার এই অমূল্য লিখনী সেবা, তা সকলের মধ্যে প্রকাশ করলাম। ওনার এই অমূল্য দান সমগ্র বৈষ্ণব সমাজ অনন্তকাল মনে রাখিবে।
🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
    *••••┉━❀꧁ 🙏 রাধে রাধে 🙏 ꧂❀━┅••••* 
                   শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য প্রভু নিত্যানন্দ
              হরে কৃষ্ণ হরে রাম শ্রীরাধেগোবিন্দ।।
  *••••┉━❀꧁ 🙏 জয় জগন্নাথ 🙏 ꧂❀━┅••••*
              হরে কৃষ্ণ হরে কৃষ্ণ কৃষ্ণ কৃষ্ণ হরে হরে
              হরে রাম হরে রাম রাম রাম হরে হরে॥
  *••••┉━❀꧁ 🙏 জয় রাধাকান্ত 🙏 ꧂ ❀━┅••••*
   💮❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀💮
   💮❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀💮
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧


১০৪. সীতার নামে অপবাদ শ্রবণ 👂 কৃত্তিবাসী রামায়ণ কথন সংক্ষেপে ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 💐 JOYDEB DAWN 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/01/joydeb-dawn_16.html

  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
     ꧁ ১০৪. কৃত্তিবাসী রামায়ণ কথন সংক্ষেপে 
          ꧁ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ ꧂
       এই লিংকে ⬇️⬇️⬇️🙏⬇️⬇️⬇️ ক্লিক করুন 
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
꧁ MrinmoyNandy.blogspot.com 👉 সূচীপত্র ꧂
       এই লিংকে ⬇️⬇️⬇️🙏⬇️⬇️⬇️ ক্লিক করুন 
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
꧁ টিকা বা অন্যান্য ধর্মীয় লিখনী 🙏 সূচীপত্র ꧂
          ꧁ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ ꧂
       এই লিংকে ⬇️⬇️⬇️🙏⬇️⬇️⬇️ ক্লিক করুন 
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
꧁ কৃত্তিবাসী রামায়ণ কথন সংক্ষেপে 🙏 সূচীপত্র ꧂
          ꧁ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ ꧂
       এই লিংকে 👇👇👇🙏👇👇👇 ক্লিক করুন 
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
*(১০৪)কৃত্তিবাসী রামায়ণ সংক্ষেপে*
"""""""""""""""""""""""""""""""""""""""""""'"'""'''""''"
*🌻সীতার নামে অপবাদ শ্রবণ🌻*
*🌹শ্রীরামের অভিলাষ বিধাতার অগোচর রইল না।তিনি বিশ্বকর্মাকে ডাকলেন এবং অযোধ‍্যার রাজপুরীতে এক অপূর্ব উদ‍্যান-বাটিকা রচনা করবার জন্য তিনি তাঁকে বললেন।বিশ্বকর্মাও মন প্রাণ ঢেলে অপরূপ এক উদ‍্যান এবং ত‍ৎসহ ভবন তৈরী করলেন।অতীব শোভন নয়ন-মোহন সেই আমোদ ভবনে শ্রীরাম ও জানকীদেবী অবসর যাপন করতে থাকলে বিদ‍্যাধরীগণ দাসীরূপে তাঁদের সেবা শুশ্রূষায় রত হলেন।(বিদ‍্যাধরীগণ=বিদ‍্যাধর রমণী ; যারা ইন্দ্রজালাদি বা গান্ধর্ব শাস্ত্র-প্রভাবে লোকের বিস্ময় জন্মাইতে পারে তারা বিদ‍্যাধর।এরা স্বগীয় গায়ক বলে প্রসিদ্ধ।এদের স্ত্রীগণকে বিদ‍্যাধরী বল।)এইভাবে কিছুকাল আরামে-বিরামে অতিবাহিত করে শ্রীরামচন্দ্র পুনরায় রাজকার্য‍্যের ভার নিলেন।সভাসদ্ সমভিব‍্যবহারে সভাস্থলে বসে পুনরায় রাজনীতি চর্চা আরম্ভ করলেন।*
*🌻ইতিমধ‍্যে রাজ‍্যের ইতর (নীচ মনোবৃত্তি লোক)মনোভাবাপন্ন জনগণের ভিতর সীতার লঙ্কায় থাকা কালীন সম্পর্কে নানা বিরূপ আলোচনা হতে আরম্ভ করেছিল।একদিন সভামধ‍্যে তা নিয়ে যখন কোনও কোনও পাত্রমিত্র কানাকানি করছিলেন তখন রামচন্দ্রের কানেও সেই অপবাদ-গুঞ্জন পৌঁছাল।তাঁর রাজ‍্যভার গ্রহণের পরবর্তী কাল হতে প্রজাগণ কিরকম আছেন এবং তাদের মতামতই বা কি,রামচন্দ্র তা জানতে চাইলে সকলে স্তব্ধ রইলেন।কেউ কেউ মথা নত করে রইলেন।কেউ কেউ পরস্পরের প্রতি এইতে লাগলেন।অবশেষে ভদ্র নামক এক স্পষ্টভাষী মহামাত‍্য করযোড়পূর্বক উঠে দাঁড়ালেন এবং রাজ‍্যে ধন অভাবের কথা প্রকাশ করলেন।রামচন্দ্র তার কারণ জিজ্ঞাসা করলেন।মহামাত‍্য ভদ্র হঠাৎ চুপ করে গেলেন।রামচন্দ্র তার সঙ্কোচ এবং শঙ্কা দর্শন করে তাকে অভয়দানপূর্বক সত‍্যকথা প্রকাশ করতে বললেন। তারপর ভদ্র জনসাধারণের মধ্যে জানকী সম্বন্ধীয় নানান বিরূপ আলোচনার কথা স্পষ্ট ভাষায় নিবেদন করলেন।জানকী রাবণ কর্তৃক হরণ হয়েছিলেন এবং শ্রীরাম তাঁর কোন দোষ পরীক্ষা না করেই তাঁকে নিজের রাজমহলে নিয়ে এলেন।এই জন‍্য নাকি অযোধ‍্যার রাজবংশ কলঙ্কিত হয়েছে। তাঁর অজ্ঞাতে যে প্রজাগণের এই অপযশ যে এতদূর গড়াবে তা রামচন্দ্র কল্পনাই করতে পারেন নাই।অন‍্যান‍্য পাত্রমিত্রগণও ভদ্রের কথাবার্তা সমর্থন করলে রামচন্দ্র মর্মাহত হলেন।সেইদিনকার মত সভা ভঙ্গ হল।সকলকে বিদায় দিয়ে রামচন্দ্র ক্ষণকাল স্তব্ধ হয়ে একাকী বসে রইলেন।তাঁর মন বেদনাকাতর হ'ল।নয়ন থেকে বারিধারা বর্ষণ হতে লাগল। সময়টি নিদাঘকাল(গ্রীষ্মকাল)।*
*ভদ্রের উক্তি এই=*
*🍀ভদ্র বলে রঘুনাথ যাই যথা তথা।*
*🍀সর্বলোকে কহে এই সীতার বারতা।।*
*🍀দেবাসুর যুদ্ধ মত হইয়াছে রণ*।
*🍀সীতা উদ্ধারিলা রাম মারিয়া রাবণ।।*
*🍀দোষ না বুঝিয়া সীতা আনিয়াছ ঘরে।*
*🍀নির্মল-কুলেতে কালি দিলা রঘুবরে।।*
*যে নারী কোলেতে করি লৈল রাক্ষসে।*
*🍀সেই নারী রাখিয়াছ নিজ গৃহবাসে।।*
*🍀এই অপযশ তব সর্বজন ঘোষে।*
*🍀তোমার সম্মুখে কেহ নাহি কয় ত্রাসে।।*
*🍀এত যদি কহে ভদ্র পাত্র সে দুর্মুখ।*
*🍀বজ্রাঘাত পড়ে যেন রামের সম্মুখ।।*
*🙏বানান,ভুল,ক্ষমা করবেন🙏*
               *ক্রমাগত*
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
 ✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️
নিবাস- বাঁশবাড়ী, কীর্তন মন্দিরের পাশে, পোঃ- বাঁশবাড়ী, থানা- ইংরেজ বাজার, জেলা- মালদহ, পশ্চিমবঙ্গ, পিন কোড- ৭৩২১০১।
 ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏
আমায় দেওয়া ওনার এই অমূল্য লিখনী সেবা, তা সকলের মধ্যে প্রকাশ করলাম। ওনার এই অমূল্য দান সমগ্র বৈষ্ণব সমাজ অনন্তকাল মনে রাখিবে।
🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
    *••••┉━❀꧁ 🙏 রাধে রাধে 🙏 ꧂❀━┅••••* 
                   শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য প্রভু নিত্যানন্দ
              হরে কৃষ্ণ হরে রাম শ্রীরাধেগোবিন্দ।।
  *••••┉━❀꧁ 🙏 জয় জগন্নাথ 🙏 ꧂❀━┅••••*
              হরে কৃষ্ণ হরে কৃষ্ণ কৃষ্ণ কৃষ্ণ হরে হরে
              হরে রাম হরে রাম রাম রাম হরে হরে॥
  *••••┉━❀꧁ 🙏 জয় রাধাকান্ত 🙏 ꧂ ❀━┅••••*
   💮❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀💮
   💮❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀💮
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧


শুভ অধিবাস কীর্ত্তন ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী গোপীশরণ দাস 💐 GOPISHARAN DAS 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন ➡️ http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/01/gopisharan-das.html

 ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧ 
                  ꧁ শুভ অধিবাস কীর্ত্তন ꧂
       ꧁ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী গোপীশরণ দাস ꧂
       এই লিংকে ⬇️⬇️⬇️🙏⬇️⬇️⬇️ ক্লিক করুন 
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
     🏠Home Page🏠⬇️⬇️🙏⬇️⬇️📚PDF গ্রন্থ📚
꧁ MrinmoyNandy.blogspot.com 👉 সূচীপত্র ꧂
       এই লিংকে ⬇️⬇️⬇️🙏⬇️⬇️⬇️ ক্লিক করুন 
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
 ꧁ টিকা বা অন্যান্য ধর্মীয় লিখনী 🙏 সূচীপত্র ꧂
      ꧁ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী গোপীশরণ দাস ꧂
       এই লিংকে ⬇️⬇️⬇️🙏⬇️⬇️⬇️ ক্লিক করুন 
 ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
 সম্পূর্ণ অধ্যায়নের জন্য এই লিংকে ক্লিক করুন ➡️ https://drive.google.com/file/d/1fMkWJTRC8CvdzLK1uRhha-4_z101RLon/view?usp=drivesdk
 ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
      ✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️
           ꧁ লিখনী সেবা- শ্রী গোপীশরণ দাস ꧂
নিবাস-শ্রীশ্রীনিত্যানন্দ প্রভুর জন্মস্থান, একচক্রা, বীরভূম, পশ্চিমবঙ্গ। 
 ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏
আমায় দেওয়া ওনার এই অমূল্য লিখনী সেবা, তা সকলের মধ্যে প্রকাশ করলাম। ওনার এই অমূল্য দান সমগ্র বৈষ্ণব সমাজ অনন্তকাল মনে রাখিবে।
🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
    *••••┉━❀꧁ 🙏 রাধে রাধে 🙏 ꧂❀━┅••••* 
                   শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য প্রভু নিত্যানন্দ
              হরে কৃষ্ণ হরে রাম শ্রীরাধেগোবিন্দ।।
  *••••┉━❀꧁ 🙏 জয় জগন্নাথ 🙏 ꧂❀━┅••••*
              হরে কৃষ্ণ হরে কৃষ্ণ কৃষ্ণ কৃষ্ণ হরে হরে
              হরে রাম হরে রাম রাম রাম হরে হরে॥
  *••••┉━❀꧁ 🙏 জয় রাধাকান্ত 🙏 ꧂ ❀━┅••••*
   💮❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀💮
   💮❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀💮
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧



শুভ অধিবাস কীর্ত্তন ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী গোপীশরণ দাস 💐 GOPISHARAN DAS 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন ➡️ http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/01/gopisharan-das.html

 ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧ 
                  ꧁ শুভ অধিবাস কীর্ত্তন ꧂
       ꧁ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী গোপীশরণ দাস ꧂
       এই লিংকে ⬇️⬇️⬇️🙏⬇️⬇️⬇️ ক্লিক করুন 
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
     🏠Home Page🏠⬇️⬇️🙏⬇️⬇️📚PDF গ্রন্থ📚
꧁ MrinmoyNandy.blogspot.com 👉 সূচীপত্র ꧂
       এই লিংকে ⬇️⬇️⬇️🙏⬇️⬇️⬇️ ক্লিক করুন 
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
 ꧁ টিকা বা অন্যান্য ধর্মীয় লিখনী 🙏 সূচীপত্র ꧂
      ꧁ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী গোপীশরণ দাস ꧂
       এই লিংকে ⬇️⬇️⬇️🙏⬇️⬇️⬇️ ক্লিক করুন 
 ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
 সম্পূর্ণ অধ্যায়নের জন্য এই লিংকে ক্লিক করুন ➡️ https://drive.google.com/file/d/1fMkWJTRC8CvdzLK1uRhha-4_z101RLon/view?usp=drivesdk
 ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
      ✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️
           ꧁ লিখনী সেবা- শ্রী গোপীশরণ দাস ꧂
নিবাস-শ্রীশ্রীনিত্যানন্দ প্রভুর জন্মস্থান, একচক্রা, বীরভূম, পশ্চিমবঙ্গ। 
 ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏
আমায় দেওয়া ওনার এই অমূল্য লিখনী সেবা, তা সকলের মধ্যে প্রকাশ করলাম। ওনার এই অমূল্য দান সমগ্র বৈষ্ণব সমাজ অনন্তকাল মনে রাখিবে।
🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
    *••••┉━❀꧁ 🙏 রাধে রাধে 🙏 ꧂❀━┅••••* 
                   শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য প্রভু নিত্যানন্দ
              হরে কৃষ্ণ হরে রাম শ্রীরাধেগোবিন্দ।।
  *••••┉━❀꧁ 🙏 জয় জগন্নাথ 🙏 ꧂❀━┅••••*
              হরে কৃষ্ণ হরে কৃষ্ণ কৃষ্ণ কৃষ্ণ হরে হরে
              হরে রাম হরে রাম রাম রাম হরে হরে॥
  *••••┉━❀꧁ 🙏 জয় রাধাকান্ত 🙏 ꧂ ❀━┅••••*
   💮❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀💮
   💮❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀💮
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧



৫৮. শ্রীশ্রীবিষ্ণুপ্রিয়া দেবী 🙏 নিত‍্যানন্দ, গৌর-বিষ্ণুপ্রিয়ার যুগল-রূপ দর্শনে প্রেমোন্মত্ত হয়ে বাহ‍্যজ্ঞান হারালেন✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 💐 JOYDEB DAWN 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন ➡️ http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/01/joydeb-dawn.html

  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
               ꧁ ৫৮. শ্রীশ্রীবিষ্ণুপ্রিয়া দেবী 
          ꧁ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ ꧂
       এই লিংকে ⬇️⬇️⬇️🙏⬇️⬇️⬇️ ক্লিক করুন 
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
    🏠Home Page🏠⬇️⬇️🙏⬇️⬇️📚PDF গ্রন্থ📚
꧁ MrinmoyNandy.blogspot.com 👉 সূচীপত্র ꧂
       এই লিংকে ⬇️⬇️⬇️🙏⬇️⬇️⬇️ ক্লিক করুন 
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
꧁ টিকা বা অন্যান্য ধর্মীয় লিখনী 🙏 সূচীপত্র ꧂
         ꧁ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ ꧂
     এই লিংকে ⬇️⬇️⬇️🙏⬇️⬇️⬇️ ক্লিক করুন 
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
          ꧁ শ্রীশ্রীবিষ্ণুপ্রিয়া দেবী 🙏 সূচীপত্র ꧂
          ꧁ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ ꧂
       এই লিংকে ⬇️⬇️⬇️🙏⬇️⬇️⬇️ ক্লিক করুন 
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
*৫৮🙏শ্রীশ্রীবিষ্ণুপ্রিয়াদেবী🙏*
"""""""""""""""""""""""""""""""""""""""'"""""""
*🌻নিত‍্যানন্দ, গৌর-বিষ্ণুপ্রিয়ার যুগল-রূপ দর্শনে প্রেমোন্মত্ত হয়ে বাহ‍্যজ্ঞান হারালেন।তাঁর পরিধানের বস্ত্র খসে পড়েছে,তা তাঁর বাহ‍্যজ্ঞান নেই।তিনি দিগম্বর হয়ে পুরো আঙ্গিনায় প্রেমোল্লাসে নৃত‍্য করতে লাগলেন।শ্রীমতী লজ্জায় অবনত মস্তকে গৃহের ভেতরে লুকিয়ে গেলেন।মহাপ্রভু দেখলেন নিত‍্যানন্দ প্রেমে উন্মত্ত,প্রেমানন্দে বিহ্বল।তখন গৌরহরি গিয়ে নিজের চাদর নিত‍্যানন্দকে পরিয়ে দিলেন।*
*🍀আপনে উঠিয়া প্রভু পরান বসন।*
*🍀বাহ‍্য নাহি,হাসে পদ্মাবতীর নন্দন।।*
*🌻মহাপ্রভুর সঙ্গে নিত‍্যানন্দের তাৎকালিক কথোপকথন বড়ই কৌতুকপ্রদ।ঠাকুর শ্রীল বৃন্দাবন দাস স্বভাব-সিদ্ধ মধুময় ভাষায় যা লিখে গেছেন তা এখানে উদ্ধৃত হ'ল।*
*🍀প্রভু বোলে-- "নিত‍্যানন্দ কেনে দিগম্বর"।*
*🍀নিত‍্যানন্দ "হয় হয় " করয়ে উত্তর।।*
*🍀প্রভু বোলে-- "নিত‍্যানন্দ!পরহ বসন।*
*🍀নিত‍্যানন্দ বোলে-- "আজি আমার গমন"।।*
*🍀প্রভু বোলে-- "নিত‍্যানন্দ!ইহা কেনে করি"।*
*🍀নিত‍্যানন্দ বোলে-- "আর খাইতে না পারি"।।*
*🍀প্রভু বোলে-- "এক এড়ি কহ কেনে আর"।*
*🍀নিত‍্যানন্দ বোলে-- "আমি গেনু দশবার"।।*
*🍀ক্রূদ্ধ হই বোলে প্রভু-- "মোর দোষ নাই"।*
*🍀নিত‍্যানন্দ বোলে-- "প্রভু!এথা নাহি আই।।*
*🍀প্রভু কহে-- "কৃপা করি পরহ বসন"।*
*🍀নিত‍্যানন্দ বোলে-- "আমি করিব ভোজন"।।*
                  *(শ্রীচৈতন‍্য ভোজন)*
*🌻নিত‍্যানন্দ ভাবে বিভোর,প্রেমে উন্মত্ত হয়ে মধুর নৃত্য করতে করতে সমস্ত আঙ্গিনায় বেড়াচ্ছেন।এককথা শুনছেন, আর এক উত্তর দিচ্ছেন।*
*🍀চৈতন‍্যের ভাবে মত্ত নিত‍্যানন্দ রায়।*
*🍀এক শুনে আর এক কহে হাসিয়া বেড়ায়।।*
                                 *(ঐ)*
*🌻নিত‍্যানন্দের চরিত্র দেখে শচীমা আর হাসি সংবরণ করতে পারছেন না।শচীমা,নিতাইকে বড় ভালবাসেন।নিতাইকে দেখলেই তাঁর বিশ্বরূপকে মনে পড়ে।তিনি নিত‍্যানন্দের শরীরে বিশ্বরূপের আবির্ভাব দেখতেন।*
*🍀নিত‍্যানন্দের চরিত্র দেখিয়া আই হাসে।*
*🍀বিশ্বরূপ পুত্র হেন মনে মনে বাসে।।*
                                    *(ঐ)*
*🌻নিত‍্যানন্দ যখন বাহ‍্যজ্ঞান পেয়ে বসন পরিধান করলেন,তখন শচীদেবী ঘর থেকে বেড়িয়ে এসে নিত‍্যানন্দকে পাঁচটি সন্দেশ খেতে দিলেন।*
*🍀বাহ‍্য পায় নিত‍্যানন্দ পরিলা বসন।*
*🍀সন্দেশ দিলেন আই করিতে ভোজন।।*
                                      *(ঐ)*
*🌻শচীমা পাঁচটি সন্দেশ দিয়েছিলেন নিত‍্যানন্দকে,একটি খেয়ে বাকী চারটি চতুর্দিকে ছড়িয়ে দিলেন।শচীমা দুঃখে হায়!হায়! করতে লাগলেন।নিত‍্যানন্দকে বললেন "বাপ নিতাই! কেন বাছা!সন্দেশগুলি অনর্থক নষ্ট করলি? আমার ঘরে তো আর নাই যে তোকে খেতে দিব।নিতাই হেসে উত্তর দিলেন "একসঙ্গে এতগুলো কেন আমাকে দিলে? আমাকে আবার সন্দেশ দাও।শচীদেবী কিছু বিষণ্ণ মনে ঘরে চেয়ে দেখলেন যে,সেই চারটি সন্দেশ ঘরে যে জায়গায় ছিল অবিকল সেই জায়গায়ই রয়েছে।শচীমার দেখে তাঁর মনে বড় অবাক বোধ হল। কেমন করে এলো? তিনি পুনর্বার ঘরের ভিতর সন্দেশগুলি নিতাইয়ের হাতে বললেন,বাপু! এ সন্দেশ ঘরের ভিতর কেমন করে এলো? তুই তো বাইরে ছড়িয়ে ফেলে ছিলি? আমার ঘরে তো আর সন্দেশ ছিল না।নিতাই পরম পরিতোষের সঙ্গে শচীদেবীর দেওয়া সন্দেশগুলি ভোজন করে হাসতে হাসতে বললেন "যা আমি ছড়িয়ে ফেলেছিলাম, তোমার দুঃখ দেখে,তাই আমি কুড়িয়ে এনে তোমার ঘরে রেখেছিলাম।কারণ তোমার ঘরে তো আর সন্দেশ ছিল না।নিত‍্যানন্দের মহিমা বুঝতে পেরে=*
*🍀আই বোলে-- নিত‍্যানন্দ কেন মোরে ভাঁড়।*
*🍀জানিলুঁ ঈশ্বর তুমি মোরে দয়া ছাড়।।*
                                    *(ঐ)*
*🙏বানান ভুল ক্ষমা করবেন🙏*
                 *ক্রমাগত*
         *জয় নিতাইচাঁদ*
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
 ✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️
নিবাস- বাঁশবাড়ী, কীর্তন মন্দিরের পাশে, পোঃ- বাঁশবাড়ী, থানা- ইংরেজ বাজার, জেলা- মালদহ, পশ্চিমবঙ্গ, পিন কোড- ৭৩২১০১।
 ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏
আমায় দেওয়া ওনার এই অমূল্য লিখনী সেবা, তা সকলের মধ্যে প্রকাশ করলাম। ওনার এই অমূল্য দান সমগ্র বৈষ্ণব সমাজ অনন্তকাল মনে রাখিবে।
🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
    *••••┉━❀꧁ 🙏 রাধে রাধে 🙏 ꧂❀━┅••••* 
                   শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য প্রভু নিত্যানন্দ
              হরে কৃষ্ণ হরে রাম শ্রীরাধেগোবিন্দ।।
  *••••┉━❀꧁ 🙏 জয় জগন্নাথ 🙏 ꧂❀━┅••••*
              হরে কৃষ্ণ হরে কৃষ্ণ কৃষ্ণ কৃষ্ণ হরে হরে
              হরে রাম হরে রাম রাম রাম হরে হরে॥
  *••••┉━❀꧁ 🙏 জয় রাধাকান্ত 🙏 ꧂ ❀━┅••••*
   💮❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀💮
   💮❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀💮
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧



৫৮. শ্রীশ্রীবিষ্ণুপ্রিয়া দেবী 🙏 নিত‍্যানন্দ, গৌর-বিষ্ণুপ্রিয়ার যুগল-রূপ দর্শনে প্রেমোন্মত্ত হয়ে বাহ‍্যজ্ঞান হারালেন✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 💐 JOYDEB DAWN 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন ➡️ http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/01/joydeb-dawn.html

  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
               ꧁ ৫৮. শ্রীশ্রীবিষ্ণুপ্রিয়া দেবী 
          ꧁ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ ꧂
       এই লিংকে ⬇️⬇️⬇️🙏⬇️⬇️⬇️ ক্লিক করুন 
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
    🏠Home Page🏠⬇️⬇️🙏⬇️⬇️📚PDF গ্রন্থ📚
꧁ MrinmoyNandy.blogspot.com 👉 সূচীপত্র ꧂
       এই লিংকে ⬇️⬇️⬇️🙏⬇️⬇️⬇️ ক্লিক করুন 
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
꧁ টিকা বা অন্যান্য ধর্মীয় লিখনী 🙏 সূচীপত্র ꧂
         ꧁ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ ꧂
     এই লিংকে ⬇️⬇️⬇️🙏⬇️⬇️⬇️ ক্লিক করুন 
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
          ꧁ শ্রীশ্রীবিষ্ণুপ্রিয়া দেবী 🙏 সূচীপত্র ꧂
          ꧁ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ ꧂
       এই লিংকে ⬇️⬇️⬇️🙏⬇️⬇️⬇️ ক্লিক করুন 
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
*৫৮🙏শ্রীশ্রীবিষ্ণুপ্রিয়াদেবী🙏*
"""""""""""""""""""""""""""""""""""""""'"""""""
*🌻নিত‍্যানন্দ, গৌর-বিষ্ণুপ্রিয়ার যুগল-রূপ দর্শনে প্রেমোন্মত্ত হয়ে বাহ‍্যজ্ঞান হারালেন।তাঁর পরিধানের বস্ত্র খসে পড়েছে,তা তাঁর বাহ‍্যজ্ঞান নেই।তিনি দিগম্বর হয়ে পুরো আঙ্গিনায় প্রেমোল্লাসে নৃত‍্য করতে লাগলেন।শ্রীমতী লজ্জায় অবনত মস্তকে গৃহের ভেতরে লুকিয়ে গেলেন।মহাপ্রভু দেখলেন নিত‍্যানন্দ প্রেমে উন্মত্ত,প্রেমানন্দে বিহ্বল।তখন গৌরহরি গিয়ে নিজের চাদর নিত‍্যানন্দকে পরিয়ে দিলেন।*
*🍀আপনে উঠিয়া প্রভু পরান বসন।*
*🍀বাহ‍্য নাহি,হাসে পদ্মাবতীর নন্দন।।*
*🌻মহাপ্রভুর সঙ্গে নিত‍্যানন্দের তাৎকালিক কথোপকথন বড়ই কৌতুকপ্রদ।ঠাকুর শ্রীল বৃন্দাবন দাস স্বভাব-সিদ্ধ মধুময় ভাষায় যা লিখে গেছেন তা এখানে উদ্ধৃত হ'ল।*
*🍀প্রভু বোলে-- "নিত‍্যানন্দ কেনে দিগম্বর"।*
*🍀নিত‍্যানন্দ "হয় হয় " করয়ে উত্তর।।*
*🍀প্রভু বোলে-- "নিত‍্যানন্দ!পরহ বসন।*
*🍀নিত‍্যানন্দ বোলে-- "আজি আমার গমন"।।*
*🍀প্রভু বোলে-- "নিত‍্যানন্দ!ইহা কেনে করি"।*
*🍀নিত‍্যানন্দ বোলে-- "আর খাইতে না পারি"।।*
*🍀প্রভু বোলে-- "এক এড়ি কহ কেনে আর"।*
*🍀নিত‍্যানন্দ বোলে-- "আমি গেনু দশবার"।।*
*🍀ক্রূদ্ধ হই বোলে প্রভু-- "মোর দোষ নাই"।*
*🍀নিত‍্যানন্দ বোলে-- "প্রভু!এথা নাহি আই।।*
*🍀প্রভু কহে-- "কৃপা করি পরহ বসন"।*
*🍀নিত‍্যানন্দ বোলে-- "আমি করিব ভোজন"।।*
                  *(শ্রীচৈতন‍্য ভোজন)*
*🌻নিত‍্যানন্দ ভাবে বিভোর,প্রেমে উন্মত্ত হয়ে মধুর নৃত্য করতে করতে সমস্ত আঙ্গিনায় বেড়াচ্ছেন।এককথা শুনছেন, আর এক উত্তর দিচ্ছেন।*
*🍀চৈতন‍্যের ভাবে মত্ত নিত‍্যানন্দ রায়।*
*🍀এক শুনে আর এক কহে হাসিয়া বেড়ায়।।*
                                 *(ঐ)*
*🌻নিত‍্যানন্দের চরিত্র দেখে শচীমা আর হাসি সংবরণ করতে পারছেন না।শচীমা,নিতাইকে বড় ভালবাসেন।নিতাইকে দেখলেই তাঁর বিশ্বরূপকে মনে পড়ে।তিনি নিত‍্যানন্দের শরীরে বিশ্বরূপের আবির্ভাব দেখতেন।*
*🍀নিত‍্যানন্দের চরিত্র দেখিয়া আই হাসে।*
*🍀বিশ্বরূপ পুত্র হেন মনে মনে বাসে।।*
                                    *(ঐ)*
*🌻নিত‍্যানন্দ যখন বাহ‍্যজ্ঞান পেয়ে বসন পরিধান করলেন,তখন শচীদেবী ঘর থেকে বেড়িয়ে এসে নিত‍্যানন্দকে পাঁচটি সন্দেশ খেতে দিলেন।*
*🍀বাহ‍্য পায় নিত‍্যানন্দ পরিলা বসন।*
*🍀সন্দেশ দিলেন আই করিতে ভোজন।।*
                                      *(ঐ)*
*🌻শচীমা পাঁচটি সন্দেশ দিয়েছিলেন নিত‍্যানন্দকে,একটি খেয়ে বাকী চারটি চতুর্দিকে ছড়িয়ে দিলেন।শচীমা দুঃখে হায়!হায়! করতে লাগলেন।নিত‍্যানন্দকে বললেন "বাপ নিতাই! কেন বাছা!সন্দেশগুলি অনর্থক নষ্ট করলি? আমার ঘরে তো আর নাই যে তোকে খেতে দিব।নিতাই হেসে উত্তর দিলেন "একসঙ্গে এতগুলো কেন আমাকে দিলে? আমাকে আবার সন্দেশ দাও।শচীদেবী কিছু বিষণ্ণ মনে ঘরে চেয়ে দেখলেন যে,সেই চারটি সন্দেশ ঘরে যে জায়গায় ছিল অবিকল সেই জায়গায়ই রয়েছে।শচীমার দেখে তাঁর মনে বড় অবাক বোধ হল। কেমন করে এলো? তিনি পুনর্বার ঘরের ভিতর সন্দেশগুলি নিতাইয়ের হাতে বললেন,বাপু! এ সন্দেশ ঘরের ভিতর কেমন করে এলো? তুই তো বাইরে ছড়িয়ে ফেলে ছিলি? আমার ঘরে তো আর সন্দেশ ছিল না।নিতাই পরম পরিতোষের সঙ্গে শচীদেবীর দেওয়া সন্দেশগুলি ভোজন করে হাসতে হাসতে বললেন "যা আমি ছড়িয়ে ফেলেছিলাম, তোমার দুঃখ দেখে,তাই আমি কুড়িয়ে এনে তোমার ঘরে রেখেছিলাম।কারণ তোমার ঘরে তো আর সন্দেশ ছিল না।নিত‍্যানন্দের মহিমা বুঝতে পেরে=*
*🍀আই বোলে-- নিত‍্যানন্দ কেন মোরে ভাঁড়।*
*🍀জানিলুঁ ঈশ্বর তুমি মোরে দয়া ছাড়।।*
                                    *(ঐ)*
*🙏বানান ভুল ক্ষমা করবেন🙏*
                 *ক্রমাগত*
         *জয় নিতাইচাঁদ*
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
 ✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️
নিবাস- বাঁশবাড়ী, কীর্তন মন্দিরের পাশে, পোঃ- বাঁশবাড়ী, থানা- ইংরেজ বাজার, জেলা- মালদহ, পশ্চিমবঙ্গ, পিন কোড- ৭৩২১০১।
 ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏
আমায় দেওয়া ওনার এই অমূল্য লিখনী সেবা, তা সকলের মধ্যে প্রকাশ করলাম। ওনার এই অমূল্য দান সমগ্র বৈষ্ণব সমাজ অনন্তকাল মনে রাখিবে।
🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
    *••••┉━❀꧁ 🙏 রাধে রাধে 🙏 ꧂❀━┅••••* 
                   শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য প্রভু নিত্যানন্দ
              হরে কৃষ্ণ হরে রাম শ্রীরাধেগোবিন্দ।।
  *••••┉━❀꧁ 🙏 জয় জগন্নাথ 🙏 ꧂❀━┅••••*
              হরে কৃষ্ণ হরে কৃষ্ণ কৃষ্ণ কৃষ্ণ হরে হরে
              হরে রাম হরে রাম রাম রাম হরে হরে॥
  *••••┉━❀꧁ 🙏 জয় রাধাকান্ত 🙏 ꧂ ❀━┅••••*
   💮❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀💮
   💮❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀💮
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧



শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য প্রভু নিত্যানন্দ নামের প্রকাশ 🙏 SRI KRISHNA CHAITANYA PRABHU NITYANANDA 🙏 শ্রী মৃন্ময় নন্দী কর্ত্তৃক সকল ভক্ত চরণে অসংখ্যকোটি প্রণাম 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন ➡️ http://mrinmoynandy.blogspot.com/2022/04/blog-post_54.html


  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
  ꧁ শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য প্রভু নিত্যানন্দ নামের প্রকাশ 
       এই লিংকে ⬇️⬇️⬇️🙏⬇️⬇️⬇️ ক্লিক করুন 
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
     🏠Home Page🏠⬇️⬇️🙏⬇️⬇️📚PDF গ্রন্থ📚
꧁ MrinmoyNandy.blogspot.com 👉 সূচীপত্র ꧂
       এই লিংকে ⬇️⬇️⬇️🙏⬇️⬇️⬇️ ক্লিক করুন 
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧   
  ꧁ টিকা বা অন্যান্য ধর্মীয় লিখনী 🙏 সূচীপত্র ꧂
       এই লিংকে ⬇️⬇️⬇️🙏⬇️⬇️⬇️ ক্লিক করুন 
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
কলিযুগ পাবনবতার শ্রীশ্রীকৃষ্ণচৈতন্য মহাপ্রভু এই জগতের সকল জীবকে উদ্ধারের জন্য মহামূল্য সম্পদ গোলক হইতে ভূলোকে সকলেই মধ্যে বিলিয়ে দিয়েছেন , এই মহামূল্য সম্পদটি হলো মহামন্ত্র নাম যা তারক ব্রহ্ম নাম(বৈষ্ণব চুরামনি শিব এবং সকল জগতের সৃষ্টিকর্তা ব্রহ্মদেবের ইষ্ট নাম) নামেও পরিচিত।

"ব্রহ্মা-আদি দেব যাঁরে ধ্যানে নাহি পায়।
 সে ধনে বঞ্চিত হলে কি হবে উপায়।"

শ্রীমন্ মহাপ্রভু তিনি দেখলেন পূজা-যাগ-যজ্ঞ সকলের পক্ষে সম্ভব নহে কারণ এসব সকল কিছু বাস্তবে অর্থসাপেক্ষ তাই সকল শ্রেণীকে, সকল বর্ণকে, না আর্থবান, না দারিদ্র কোন ভেদাভেদ না করিয়া সকলকে একটি সম্পদের মাধ্যমে জন্ম চক্র হইতে উদ্ধারের পথ দেখিয়ে দিয়েছেন।  সমাজের সব থেকে পিছিয়ে পরা মানুষকেও  তিনি  কৃপা দান করেছেন এবং সকলকে মহামন্ত্র নাম আশ্রয় গ্রহণের উপদেশ দিয়েছেন।  শ্রীমন্ মহাপ্রভু ছিলেন ন্যায় শাস্ত্রের একজন বড়ো পণ্ডিত। তৎকালীন সময়ে এই সমগ্র ভারতবর্ষের সর্বোপরি পণ্ডিত কেশব কাশ্মীরি তেনার চরণে স্বরণ নেন।

শ্রীমন্ মহাপ্রভু বহু গ্রন্থ অধ্যায়ন করিয়া মূল তত্ব প্রকাশ করলেন, সকল কলির জীবকে উপদেশ দিলেন ঈশ্বর এক এবং অদ্বিতীয়। তাই সকল ভক্তগণ অনাদির আদি শ্রীগোবিন্দের স্মরন গ্রহণ করুন এবং শ্রীমহামন্ত্র নামের গুণ কীর্তন করুন।

ঈশ্বরঃ পরমঃ কৃষ্ণঃ সচ্চিদানন্দবিগ্রহঃ ।
অনাদিরাদির্গোবিন্দঃ সর্ব্বকারণকারণম্।।

হরের্নাম হরের্নাম হরের্নামৈব কেবলম্ ।
কলৌ নাস্ত্যেব নাস্ত্যেব নাস্ত্যেব গতিরন্যথা ।।
(বৃহন্নারদীয় পুরাণ)

কলিকালে নামরূপে কৃষ্ণ অবতার ।
নাম হৈতে হয় সর্বজগৎ-নিস্তার ।।
দার্ঢ্য লাগি ‘হরে র্নাম-উক্তি তিনবার ।
জড় লোক বুঝাইতে পুনঃ ‘এব’-কার ।।
‘কেবল’ শব্দে পুনরপি নিশ্চয়-করণ ।
জ্ঞান-যোগ-তপ-কর্ম-আদি নিবারণ ।।
অন্যথা যে মানে, তার নাহিক নিস্তার ।
নাহি, নাহি, নাহি-তিন উক্ত ‘এব’-কার ।।
(চৈঃ চঃ আ ১৭/২১-২৫)

এই মহামন্ত্র জপ্য ও কীর্তনীয়
আপনে সবারে প্রভু করে উপদেশে ।
কৃষ্ণ-নাম মহা-মন্ত্র শুনহ হরিষে- ।।
‘হরে কৃষ্ণ হরে কৃষ্ণ কৃষ্ণ কৃষ্ণ হরে হরে ।
হরে রাম হরে রাম রাম রাম হরে হরে ।।
প্রভু বলে, - “কহিলাম এই মহামন্ত্র ।
ইহা জপ’ গিয়া সবে করিয়া নির্বন্ধ ।।
ইহা হৈতে সর্ব-সিদ্ধি হইবে সবার ।
সর্বক্ষণ বল’ ইথে বিধি নাহি আর ।।
কি ভোজনে, কি শয়নে, কিবা জাগরণে ।
অহর্নিশি চিন্ত কৃষ্ণ বলহ বদনে ।।
দশ-পাঁচ মিলি’ নিজে দ্বারেতে বসিয়া ।
কীর্তন করহ সবে হাতে তালি দিয়া ।।
সন্ধ্যা হৈলে আপনার দ্বারে সবে মিলি’ ।
কীর্তন করেন সবে দিয়া করতালি ।।
এই মত নগরে নগরে সংকীর্তন ।
করাইতে লাগিলেন শচীর নন্দন।।
(চৈঃ ভাঃ মধ্যঃ)

 "হরে কৃষ্ণ হরে কৃষ্ণ কৃষ্ণ কৃষ্ণ হরে হরে।
 হরে রাম হরে রাম রাম রাম হরে হরে।।"

এই মহামন্ত্র নিত্য জপকীর্তন করাই এই কলিযুগের যুগধর্ম। 

হরি শব্দের অর্থ ‘যিনি হরণ করেণ’ অর্থাৎ ভগবান আমাদের সকল জড়-জাগতিক কামনা বাসনা হরণ করে শুদ্ধ ভক্তি দান করেন।

 শ্রীশিবজি শ্রীনারদমুনির কাছে হরিনাম মাহাত্ম্য বর্ণন:-
একসময়, স্বর্গের মন্দাকিনীর তীরে শ্রীনারদমুনি মহাদেবের কাছে শ্রীকৃষ্ণমন্ত্র লাভ করলেন। তারপর নারদ ও মহাদেব শিব এব স্থানে এসে পৌছলেন যেখানে পার্বতীদেবী, কার্ত্তিক ও গণেশ বসেছিলেন। সেখানে মহাকাল, নন্দী, বীরভদ্র, সিদ্ধ মহর্ষিগণ ও সনকাদি মুনিগণ এসে বসলেন। বাক্যালাপে প্রসঙ্গ ক্রমে নারদমুনি মহাদেবকে বললেন, হে ভগবান, যে জ্ঞান কর্মফলচক্তে আবদ্ধ করায় না, যে জ্ঞান সর্ববেদের সার, সেই বিষয়ে আমার প্রতি প্রসন্ন হয়ে আমাকে বলুন।

মহাদেব বললেন, হে নারদ, পঞ্চরাত্র নামে এক অনুপম জ্ঞান (পুরাণ সূত্র বা বীজ) পূর্বে গোলেকে বিরজার তটে পরমেশ্বর শ্রীকৃষ্ণ ব্রহ্মাকে প্রদান করেছিলেন, তারপর নিরাময় ব্রহ্মলোকে ব্রহ্মা এই পুরাণ বীজ জপ করতে লাগলেন পরে পুষ্করনামক মহাতীর্থে ব্রহ্মা অনন্তর র্ধম্মদেবকে অর্পণ করেন । অনন্তর র্ধম্মদেব প্রীতি পূর্বক পুত্র নারায়ণকে প্রদান করিলেন, পরে নারায়ণ সেই পুরাণ বীজ দেবর্ষি নারদকে প্রদান করিলেন।  দেবর্ষি নারদ সেই বিশাল পুরাণ সুত্র (বীজ) গঙ্গা তীরে শিষ্য ব্যাসদেবকে প্রদান করেন পরে ব্যাসদেব পুত্র শুকদেবকে সেই জ্ঞ্যান প্রদান করেন।

হে নারদ, এই জ্ঞান সবার আদি, সর্ববেদের সার, অতি মনোহর। জগৎ সংসারে যত মত আছে, যত মন্ত্র আছে, যত কর্ম আছে, যত কর্মচক্র আছে, সেই সমস্ত কিছুর সারাৎসার, সর্বকর্মচক্রের মুক্তির পন্থা হচ্ছে একমাত্র পরমেশ্বর ভগবান শ্রীকৃষ্ণের পাদপদ্মসেবা। নিখিল মহাবিশ্বে একমাত্র শ্রীকৃষ্ণই নিত্য বিদ্যমান। আর অন্য সমস্ত কিছুই তাঁর প্রয়োজন সিদ্ধির জন্যই উৎপন্ন হয়েছে। বিশ্বের সবাই তাঁরই মায়ায় মোহিত। এক কৃষ্ণ তাঁর অনন্ত রূপ, তাঁর অনন্ত গুণ, তাঁর অনন্ত কীর্তি এবং তাঁর অনন্ত জ্ঞান।

হে নারদ, তাঁর সৃষ্ট জড় বিচিত্র বিশ্বও অনন্ত। এই বিশ্বের সব জায়গা ক্ষুদ্র, বৃহৎ, মধ্যম শ্রেণীর নানা জাতীয় জীবে পরিপূর্ণ। সেই জীবগুলি কর্মশীল। কর্মের ফলস্বরূপ তারা সুখ-দুঃখ ভোগ করছে। সবান্তরাত্মা ভগবান প্রত্যেক জীবের সাক্ষীরূপে বিদ্যমান। জীবের বুদ্ধি আছে। সেই বুদ্ধিশক্তি নিদ্রা, তন্দ্রা, দয়া, শ্রদ্ধা, তুষ্টি, পুষ্টি, ক্ষমা,ক্ষুধা, লজ্জা, তৃষ্ণা, ইচ্ছা, চিন্তা, জরা, প্রভৃতি নাম ধারণ করে।

অনুচরেরা যেমন রাজার অনুগামী হয়, সেরকম এই সব শক্তি জীবের অনুগামী হয়ে থাকে। চিন্তা ও জরা সর্বদা জীবের শোভা ও পুষ্টির ব্যাঘাত করে। ব্রহ্মান্ডমধ্যে জীব যে স্থুল দেহ ধারণ করে কর্ম করছে সেই দেহটি পাঞ্চভৌতিক অর্থাৎ মাটি, জল, আগুন, বাতস ও আকাশ দিয়ে তৈরি। এই দেহ ধ্বংস হলে দেহটি পঞ্চভূতের মধ্যে মিশে যায়। প্রায় জীবই এই জগৎ সংসারে ভ্রান্তিবশে মায়ামোহিত হয়ে রোদন করতে থাকে। কিন্তু যারা সাধু ব্যক্তি, তাঁরা নিত্য সত্য অভয়প্রদ এবং জন্মমৃত্যুজরা-অপহারী শ্রীকৃষ্ণের চরণকমল সেবা করেন।

হে নারদ, এই বিশ্ব স্বপ্নের মতো অনিত্য। অতএব এতে বিমোহিত না হয়ে আনন্দের সঙ্গে শ্রীকৃষ্ণের পাদপদ্ম ভজনা করো। এই হচ্ছে প্রথম জ্ঞান।

এবার দ্বিতীয় জ্ঞানের কথা শ্রবণ করো। জ্ঞানী ব্যাক্তিরা মুক্তি বাসনা করেন। সাধূ পন্ডিত ব্যক্তিদের পরামামুক্তি সততেই বাঞ্চিত। কিন্তু সমস্ত মুক্তি শ্রীকৃষ্ণভক্তির কাছে অত্যন্ত তুচ্ছ বিষয়। মুক্তি কৃষ্ণভক্তির ষোলভাগের একভাগও আকর্ষণীয় নয়। কৃষ্ণভক্ত-সংসর্গের ফলে কারও হৃদয়ে ঐকান্তিক কৃষ্ণভক্তি জাগ্রত হয়।

মাঠের মাঝে বৃক্ষের বীজ যেমন অঙ্কুরিত হয় জল পেলে, তেমনই হৃদয় মধ্যে ভক্তিবৃক্ষের অঙ্কুর প্রকাশিত হয় ভক্তসঙ্গ পেলে। ভক্তসঙ্গে কৃষ্ণকথা আলাপে ভক্তি জাগ্রত হয়। আবার রৌদ্র মধ্যে অঙ্কুর যেমন শুকিয়ে যায়, তেমনই অভক্তজনের সঙ্গে সর্বদা সংলাপে ভক্তি শুষ্কতা প্রাপ্ত হয়। এই জন্যে বুদ্ধিমান ব্যক্তিরা সর্বদা ভক্তজনের সঙ্গে আলাপ করেন।

হে নারদ, সোনা যেমন নিকৃষ্ট ধাতুর সংযোগে মলিনতা প্রাপ্ত হয়, তেমনই সৎ ব্যক্তিও সংসারের দুর্বুদ্ধি লোকের সংস্পর্শে মন্দ হয়ে যায়। এজন্য সর্বদা নিরন্তর ভক্তিপূর্বক শ্রীকৃষ্ণভজনে ‍যুক্ত থাকাই কর্তব্য।

ভক্তিপূর্বক কৃষ্ণভক্ত বৈষ্ণবের কাছ থেকে  তার কৃষ্ণমন্ত্র গ্রহণ করা উচিত। কখনও অভক্ত অবৈষ্ণবের কাছ থেকে নয়। সংসারে যারা কৃষ্ণনিন্দুক, কৃষ্ণবিমুখ, কৃষ্ণভক্ত নিন্দুক, তারা অশুচি ও পাপিষ্ঠ। কৃষ্ণমন্ত্রে দীক্ষিত ব্যক্তি শত পুরুষ সহ নেজেকে উদ্ধার করে।

হে নারদ, পূর্বে কৃষ্ণের আলয় গোলোকে বিরজাতীরে ক্ষীরের মতো অমল জলে আমি শ্রীকৃষ্ণ মন্ত্র জপ করেছি। নিত্য আমি কৃষ্ণমত্র জপ করি। পার্বতী, কার্তিক গনেশ সবসময়ই কৃষ্ণনাম কীর্তন করে থাকে।

হে নারদ, লোকে দুর্দিনের অভিজ্ঞতার কথা বলে ও স্মরণ করে। মেঘে আচ্ছন্ন অন্ধকার দিনকে আমি দুর্দিন বলি না। যেই দিন কৃষ্ণকথা হয় না, আমি সেই দিনকে দুর্দিন বলে থাকি। লোকে কোনও কর্মে অসফল হলে দুঃখিত হয়, হাহুতাশ করে। কিন্তু হে নারদ, যেই দিন ক্ষণকালও অমৃত্যতুল্য কৃষ্ণকথা হয় না, শ্রীকৃষ্ণের কীর্তনবিহীন সেই দিনটিকে নিষ্ফল বলে মানি এবং কাল সেদিনের অনর্থক আয়ু হরণ করে। কৃষ্ণকথাই আনন্দময়, কৃষ্ণকথাই মঙ্গলময়।

হে নারদ, সাপেরা গরুড়কে দেখলে যেমন পালিয়ে যায়, পাপরাশিও তেমনই কৃষ্ণতীর্তনকারীর কাছ থেকে পালিয়ে যায়। পূর্বে ব্রহ্মা শ্রীকৃষ্ণের কাছ থেকে কৃষ্ণমন্ত্র লাভ করেন, তাতে সৃষ্টির কারণভূত নির্মল জ্ঞান প্রাপ্ত হন। বিধাতা নাম প্রাপ্ত হন। কৃষ্ণমন্ত্র কোটিবার জপ করতে করতে অনন্দদেবের সহস্র মস্তক হয়।

হে নারদ, পূর্বে একসময় কৃষ্ণপ্রিয়া রাধিকার গর্ভে এক স্বর্ণময় ডিম্ব উৎপন্ন হয়, গোলোকধাম থেকে আগত সেই ডিম্ব দ্বিখন্ডিত হয়ে ভেঙ্গে যায় এবং মহার্ণবে পতিত হয়। সেই ডিম্ব থেকে মহাবিষ্ণু আবির্ভূত হয়ে মহাজলে শয়ন করলেন। মহাবিষ্ণুর লোমকূপ থেকে আলাদা আলাদা ভাবে পৃথক জলরাশি উদ্ভব হয়ে সর্বত্র পরিব্যাপ্ত হল। সেগুলি সপ্ত আবরণীযুক্ত এক-একটি ব্রহ্মান্ড।

ব্রহ্মান্ডের মধ্যে মধ্যস্থানে ভূলোক। ভূলোকের ঊর্ধ্বদিকে যথাক্রমে ভুবর্লোক, স্বর্গলোক, জনলোক, মহর্লোক, তপোলোক ও সত্যলোক। আর ভুলোকের নিম্নদিকে যথাক্রমে অতল, বিতল, সুতল, তলাতল, মহাতল, রসাতল ও পাতাললোক রয়েছে। সত্যলোকের বামদিকে ধ্রুবলোক, পাতাললোকের ডানদিকে নরক লোক রয়েছে।

হে নারদ, মধ্যস্থানের ভূলোকে ভারতবর্ষ বিখ্যাত। ভারতবর্ষের মধ্যে বৃন্দাবনে শ্রীকৃষ্ণের আবির্ভাব হয়। ভারতবর্ষ যেরূপ মাহাত্ম্যপূর্ণ, অন্য স্থান ততটা নয়। বহু পুণ্যফলে কারও ভারতবর্ষে মনুষ্য জন্ম লাভের সৌভাগ্য হয়। মানুষদের মধ্যে তাঁরাই মহান বা বিদ্ধান, যাঁরা শ্রীকৃষ্ণ পাদপদ্ম ভজনা করেন। মানবজীবন পেয়েও জীব যদি শ্রীকৃষ্ণভজনা না করে তবে তার চেয়ে আর বিড়ম্বনা কি? শ্রীকৃষ্ণভজনহীন তার জন্ম অনর্থক, তার গর্ভযাতনা বৃথা, তার অনিত্য শরীর নিষ্ফল, তার জীবন ব্যর্থ। সে জীবম্মৃত।

হে নারদ, এই ভারতে যে ব্যক্তি প্রত্যহ শ্রীহরির পাদোদক ও নৈবদ্য ভক্ষণ করেন, কৃষ্ণমন্ত্র গ্রহণ করেন, তিনি জীবম্মুক্ত হন। তাঁর পদধুলিতে পৃথিবী পবিত্রা হন।

 
হে নারদ, এবার তৃতীয় জ্ঞানের কথা শ্রবণ করো। শ্রীকৃষ্ণের অনন্ত গুণের কথা কেউই বর্ণনা করতে সমর্থ নয়। যা তুমি শুনতে পাবে, সবই কিঞ্চিৎ কথা মাত্র। আমি শুধু এইটুকু জানি যে, শ্রীকৃষ্ণ অপেক্ষা আর কেউই আদিপুরুষ নেই, আর কেউই পরম আরাধ্য নেই। তাঁর অপেক্ষা জ্ঞানী বা যোগীও কেউ নেই। তাঁর অপেক্ষা সবার পরিপালক জনকও আর কেউ নেই। তাঁর অপেক্ষা বলবানম কীর্তিমান, দয়ালু ও ভক্তবৎসল আর কেউ নেই। যে মায়াদেবী অনন্ত কোটি ব্রহ্মান্ডকে মোহিত করেন তিনিও শ্রীকৃষ্ণের সম্মুখে স্তব করতে অক্ষম এবং অতি ভীতা হন। বাক্যের অধিষ্ঠাত্রী স্বরস্বতীদেবীও শ্রীকৃষ্ণের স্তব করতে সমর্থ না হয়ে জড়প্রায় হয়ে যান।

হে নারদ, স্বয়ং শ্রীকৃষ্ণ জীবের হিত বাসনায় গুরুরূপ ধারণ করে থাকেন কিংবা কাউকে তাঁর প্রতিনিধি করে প্রেরণ করেন। গুরুদেব তুষ্ট হলে স্বয়ং ভগবানও তুষ্ট হন। ভগবান তুষ্ট হলে ত্রিজগৎ তুষ্ট হয়। গুরুই ব্রহ্মা, গুরুই বিষ্ণু, গুরুই মহাদেব। হরি রুষ্ট হলে গুরুদেব সন্তুষ্ট হয়ে তাঁর অনুগামীকে রক্ষা করতে সমর্থ হন। কিন্তু গুরুদেব রুষ্ট হলে কেউই তাকে রক্ষা করতে সমর্থ নয়।

হে নারদ, যা থেকে কৃষ্ণভক্তি জন্মে তাকেই মন্ত্র বলা যায়। কৃষ্ণই বন্ধু, কৃষ্ণই পিতা। আর কৃষ্ণভক্তিই মৈত্রী ও জননী। গুরুদেব কৃষ্ণপ্রাপ্তির পথ প্রদর্শন করান। হে নারদ, তুমি প্রকৃতির অতীত রাধানাথ শ্রীকৃষ্ণকে ভজনা করো। জগতে যে ব্যক্তি শ্রীকৃষ্ণভক্তি অনুশীলন শিক্ষা না দিয়ে অন্য পথ প্রদর্শন করেন, তিনি কখনই গুরু নন। তাঁকে পারমার্থিক গুরুরুপে কখনই গ্রহণ করা উচিত নয়। অধিকন্তু তাঁকে মহা শত্রু বলে মনে করা কর্তব্য। কৃষ্ণভক্তি পন্থা অনুসরণহীন ব্যক্তি যিনি গুরুর আসনে অধিষ্ঠিত হয়ে নিত্য আরাধিত হন, তিনি শিষ্যহত্যার ফল লাভ করেন। আর সেই তথাকথিত শিষ্যের জন্মও বিফল হয়।

এই আমি তোমাকে চতুর্থ জ্ঞানের কথা বললাম।

নারদ প্রশ্ন করলেন, হে ভগবান, ভক্তরা কৃষ্ণভক্তি করে, যোগীরা জ্যোতির ধ্যান করে, এই দুইয়ের মধ্যে কোনটি যথার্থ পথ?

আরও পড়ুনঃ হরে কৃষ্ণ মহামন্ত্র জপ করার নিয়ম

শিব বললেন, যাঁরা নিগুণ ব্রহ্মে বিলীন হতে চায়, তারাই ব্রহ্মজ্যোতির ধ্যান করে। তাঁরা ভগবানের শরীর বা আকার স্বীকার করে না। কেননা শরীর মানেই জড়, ব্রহ্ম মানেই চিন্ময়; দেহমাত্রই গুণে আসক্ত, অতএব নিগুণ চিন্ময়ত্বের সম্ভাবনা নেই- এই জ্ঞান তারা কেবল ব্রহ্মজ্যোতির ধ্যান করে। কিন্তু সনৎকুমার প্রভৃতি আমাদের দ্বারা তা আদৌ সম্মত নয়। সমস্ত ব্রহ্মজ্যোতির উৎস হচ্ছেন সনাতন পুরুষ শ্রীকৃষ্ণ। তাই ভক্তরা শ্রীকৃষ্ণের ধ্যান করেন, নিরাকার ব্রহ্মজ্যোতির ধ্যান করেন না। শ্রীকৃষ্ণের অঙ্গজ্যোতিই নিরাকার বলা যায়। সর্বদা শ্রীকৃষ্ণের ধ্যান-আরাধনা করাই যথার্থ পন্থা।

চার যুগের মহামন্ত্র:-
সত্যযুগ
"নারায়ণ পরাবেদা নারায়ণ পরাক্ষরা। 
নারায়ণ পরামুক্তি নারায়ণ পরাগতি"॥
ত্রেতাযুগ
"রাম নারায়ণানন্ত মুকুন্দ মধুসূদন। 
কৃষ্ণ কেশব সংসারে হরে বৈকুণ্ঠ বামন"॥
দ্বাপর যুগ
"হরে মুরারে মধুকৈটভারে ।
গোপাল গোবিন্দ মুকুন্দ সৌরে।।
যজ্ঞেশ্বর নারায়ণ কৃষ্ণ বিষ্ণু।
 নিরাশ্রয়ং মাং জগদীশ রক্ষ"॥
কলিযুগ
"হরে কৃষ্ণ হরে কৃষ্ণ কৃষ্ণ কৃষ্ণ হরে হরে।
হরে রাম হরে রাম রাম রাম হরে হরে" ॥

শ্রীমন্ মহাপ্রভুর তেনার লীলা কালে তিন গুরুর স্মরন নেন ১. দীক্ষা গুরু- শ্রীপাদ মধবেন্দ্র পুরীর প্রিয়তম শিষ্য  শ্রীপাদ ঈশ্বর পুরী( দীক্ষা গ্রহণের স্থান শ্রীধাম গয়া)।
২. সন্যাস (ভেক) গুরু- শ্রীপাদ কেশব ভারতী (সন্যাস গ্রহণ এর স্থান শ্রীধাম কাটোয়া। এই স্থান হইতে সর্ব প্রথম নদীয়া বিহারী শ্রীগৌড় হরির "শ্রীকৃষ্ণ চৈতন্য" নামের প্রকাশ)।
৩. শিক্ষা গুরু- শ্রীপাদ গোপাল গুরু গোস্বামী (শ্রীমান মহাপ্রভু  শ্রীশ্রীগম্ভীরা লীলায় যেনাকে সর্বোপরি বাৎসল্য স্নেহ দান করেন সেই শ্রীপাদ গোপাল গুরু গোস্বামীর এক তত্ব শুনিবার পর মহাপ্রভু স্বয়ং গোপালকে গুরু হিসাবে স্বীকার করেন এবং এই জগতের মূল আচার্য্য রূপে স্থাপন করলেন *শ্রীধাম  পুরী / নীলাচল)*।

ভজনের পূর্বে শ্রীশ্রীনিত্যানন্দ প্রভু এবং শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য মহাপ্রভুর স্মরন ছাড়া যুগল রস আস্বাদন হওয়া কখনই সম্ভব নহে। তাই শ্রীমন্ মহাপ্রভুর অন্তর্ধানের পর শ্রীপাদ গোপাল গুরু গোস্বামী এবং সকল পারিষদগণ সহিত শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য এবং শ্রীনিত্যানন্দ এবং শ্রীরাধাকৃষ্ণ একত্রে স্মরণের নিমিত্তে এবং মহাপ্রভুর আত্মপ্রীতির নিমিত্তে এই নাম প্রকট করেন।  তাই তিনি সর্বপ্রথম শ্রীমান মহাপ্রভুর ও নিত্যানন্দ প্রভূর অবতারের স্বীকার স্বরুপ এই নাম জগতে প্রকাশ করেন।
যথা --
"শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য প্রভু নিত্যানন্দ ।
হরে কৃষ্ণ হরে রাম শ্রীরাধেগোবিন্দ।।"

এই মহামন্ত্র নাম বর্তমানে অনেক গুলি প্রাচীন লীলাস্থলীতে প্রকাশ হইয়া থাকে।
 
১. শ্রীশ্রী রাধাকান্ত মঠ / শ্রী গম্ভীরা(শ্রীধাম পুরী)- শ্রীমন্ মহাপ্রভুর ভজন স্থলীতে এই নাম অখন্ড রূপে প্রকাশ পায়।
২. শ্রীশ্রী সিদ্ধ বকুল মঠ(শ্রীধাম পুরী) - শ্রীশ্রী নামাচার্য্য হরিদাস প্রভুর ভজন কুঠিরে এই নাম অখন্ড রূপে প্রকাশ পায়।
৩. শ্রীশ্রী গৌরাঙ্গ বাড়ি(শ্রীধাম কাটোয়া)- শ্রীমন্ মহাপ্রভুর সন্যাস মন্ত্র গ্রহণের লীলা স্থালিতে এই নাম আশ্রিত।এই লীলা স্থলীতে নদেরচাঁদ নিমাইয়ের শ্রীবিশ্বম্ভর মিশ্র হইতে সর্বপ্রথম  "শ্রীশ্রীকৃষ্ণচৈতন্য" নামের প্রকাশ পায়।
৪. শ্রীশ্রী মহাপ্রভু মন্দির (শ্রীধাম অম্বিকা কানলা)- শ্রীমন্ মহাপ্রভুর প্রিয় পার্ষদ গৌরীদাস পণ্ডিতের লীলা স্থলীতে এই নাম প্রকাশ পায়।

এছাড়াও বহু মঠ , মন্দিরে এই নামের আশ্রয় গ্রহন করিয়া থাকে এবং সমগ্র বক্রেস্বর পরিবার এবং শ্যামানন্দ পরিবার এই নামের আশ্রিত।
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
    *••••┉━❀꧁ 🙏 রাধে রাধে 🙏 ꧂❀━┅••••* 
                   শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য প্রভু নিত্যানন্দ
              হরে কৃষ্ণ হরে রাম শ্রীরাধেগোবিন্দ।।
  *••••┉━❀꧁ 🙏 জয় জগন্নাথ 🙏 ꧂❀━┅••••*
              হরে কৃষ্ণ হরে কৃষ্ণ কৃষ্ণ কৃষ্ণ হরে হরে
              হরে রাম হরে রাম রাম রাম হরে হরে॥
  *••••┉━❀꧁ 🙏 জয় রাধাকান্ত 🙏 ꧂ ❀━┅••••*
   💮❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀💮
   💮❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀💮
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧





শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য প্রভু নিত্যানন্দ নামের প্রকাশ 🙏 SRI KRISHNA CHAITANYA PRABHU NITYANANDA 🙏 শ্রী মৃন্ময় নন্দী কর্ত্তৃক সকল ভক্ত চরণে অসংখ্যকোটি প্রণাম 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন ➡️ http://mrinmoynandy.blogspot.com/2022/04/blog-post_54.html


  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
  ꧁ শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য প্রভু নিত্যানন্দ নামের প্রকাশ 
       এই লিংকে ⬇️⬇️⬇️🙏⬇️⬇️⬇️ ক্লিক করুন 
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
     🏠Home Page🏠⬇️⬇️🙏⬇️⬇️📚PDF গ্রন্থ📚
꧁ MrinmoyNandy.blogspot.com 👉 সূচীপত্র ꧂
       এই লিংকে ⬇️⬇️⬇️🙏⬇️⬇️⬇️ ক্লিক করুন 
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧   
  ꧁ টিকা বা অন্যান্য ধর্মীয় লিখনী 🙏 সূচীপত্র ꧂
       এই লিংকে ⬇️⬇️⬇️🙏⬇️⬇️⬇️ ক্লিক করুন 
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
কলিযুগ পাবনবতার শ্রীশ্রীকৃষ্ণচৈতন্য মহাপ্রভু এই জগতের সকল জীবকে উদ্ধারের জন্য মহামূল্য সম্পদ গোলক হইতে ভূলোকে সকলেই মধ্যে বিলিয়ে দিয়েছেন , এই মহামূল্য সম্পদটি হলো মহামন্ত্র নাম যা তারক ব্রহ্ম নাম(বৈষ্ণব চুরামনি শিব এবং সকল জগতের সৃষ্টিকর্তা ব্রহ্মদেবের ইষ্ট নাম) নামেও পরিচিত।

"ব্রহ্মা-আদি দেব যাঁরে ধ্যানে নাহি পায়।
 সে ধনে বঞ্চিত হলে কি হবে উপায়।"

শ্রীমন্ মহাপ্রভু তিনি দেখলেন পূজা-যাগ-যজ্ঞ সকলের পক্ষে সম্ভব নহে কারণ এসব সকল কিছু বাস্তবে অর্থসাপেক্ষ তাই সকল শ্রেণীকে, সকল বর্ণকে, না আর্থবান, না দারিদ্র কোন ভেদাভেদ না করিয়া সকলকে একটি সম্পদের মাধ্যমে জন্ম চক্র হইতে উদ্ধারের পথ দেখিয়ে দিয়েছেন।  সমাজের সব থেকে পিছিয়ে পরা মানুষকেও  তিনি  কৃপা দান করেছেন এবং সকলকে মহামন্ত্র নাম আশ্রয় গ্রহণের উপদেশ দিয়েছেন।  শ্রীমন্ মহাপ্রভু ছিলেন ন্যায় শাস্ত্রের একজন বড়ো পণ্ডিত। তৎকালীন সময়ে এই সমগ্র ভারতবর্ষের সর্বোপরি পণ্ডিত কেশব কাশ্মীরি তেনার চরণে স্বরণ নেন।

শ্রীমন্ মহাপ্রভু বহু গ্রন্থ অধ্যায়ন করিয়া মূল তত্ব প্রকাশ করলেন, সকল কলির জীবকে উপদেশ দিলেন ঈশ্বর এক এবং অদ্বিতীয়। তাই সকল ভক্তগণ অনাদির আদি শ্রীগোবিন্দের স্মরন গ্রহণ করুন এবং শ্রীমহামন্ত্র নামের গুণ কীর্তন করুন।

ঈশ্বরঃ পরমঃ কৃষ্ণঃ সচ্চিদানন্দবিগ্রহঃ ।
অনাদিরাদির্গোবিন্দঃ সর্ব্বকারণকারণম্।।

হরের্নাম হরের্নাম হরের্নামৈব কেবলম্ ।
কলৌ নাস্ত্যেব নাস্ত্যেব নাস্ত্যেব গতিরন্যথা ।।
(বৃহন্নারদীয় পুরাণ)

কলিকালে নামরূপে কৃষ্ণ অবতার ।
নাম হৈতে হয় সর্বজগৎ-নিস্তার ।।
দার্ঢ্য লাগি ‘হরে র্নাম-উক্তি তিনবার ।
জড় লোক বুঝাইতে পুনঃ ‘এব’-কার ।।
‘কেবল’ শব্দে পুনরপি নিশ্চয়-করণ ।
জ্ঞান-যোগ-তপ-কর্ম-আদি নিবারণ ।।
অন্যথা যে মানে, তার নাহিক নিস্তার ।
নাহি, নাহি, নাহি-তিন উক্ত ‘এব’-কার ।।
(চৈঃ চঃ আ ১৭/২১-২৫)

এই মহামন্ত্র জপ্য ও কীর্তনীয়
আপনে সবারে প্রভু করে উপদেশে ।
কৃষ্ণ-নাম মহা-মন্ত্র শুনহ হরিষে- ।।
‘হরে কৃষ্ণ হরে কৃষ্ণ কৃষ্ণ কৃষ্ণ হরে হরে ।
হরে রাম হরে রাম রাম রাম হরে হরে ।।
প্রভু বলে, - “কহিলাম এই মহামন্ত্র ।
ইহা জপ’ গিয়া সবে করিয়া নির্বন্ধ ।।
ইহা হৈতে সর্ব-সিদ্ধি হইবে সবার ।
সর্বক্ষণ বল’ ইথে বিধি নাহি আর ।।
কি ভোজনে, কি শয়নে, কিবা জাগরণে ।
অহর্নিশি চিন্ত কৃষ্ণ বলহ বদনে ।।
দশ-পাঁচ মিলি’ নিজে দ্বারেতে বসিয়া ।
কীর্তন করহ সবে হাতে তালি দিয়া ।।
সন্ধ্যা হৈলে আপনার দ্বারে সবে মিলি’ ।
কীর্তন করেন সবে দিয়া করতালি ।।
এই মত নগরে নগরে সংকীর্তন ।
করাইতে লাগিলেন শচীর নন্দন।।
(চৈঃ ভাঃ মধ্যঃ)

 "হরে কৃষ্ণ হরে কৃষ্ণ কৃষ্ণ কৃষ্ণ হরে হরে।
 হরে রাম হরে রাম রাম রাম হরে হরে।।"

এই মহামন্ত্র নিত্য জপকীর্তন করাই এই কলিযুগের যুগধর্ম। 

হরি শব্দের অর্থ ‘যিনি হরণ করেণ’ অর্থাৎ ভগবান আমাদের সকল জড়-জাগতিক কামনা বাসনা হরণ করে শুদ্ধ ভক্তি দান করেন।

 শ্রীশিবজি শ্রীনারদমুনির কাছে হরিনাম মাহাত্ম্য বর্ণন:-
একসময়, স্বর্গের মন্দাকিনীর তীরে শ্রীনারদমুনি মহাদেবের কাছে শ্রীকৃষ্ণমন্ত্র লাভ করলেন। তারপর নারদ ও মহাদেব শিব এব স্থানে এসে পৌছলেন যেখানে পার্বতীদেবী, কার্ত্তিক ও গণেশ বসেছিলেন। সেখানে মহাকাল, নন্দী, বীরভদ্র, সিদ্ধ মহর্ষিগণ ও সনকাদি মুনিগণ এসে বসলেন। বাক্যালাপে প্রসঙ্গ ক্রমে নারদমুনি মহাদেবকে বললেন, হে ভগবান, যে জ্ঞান কর্মফলচক্তে আবদ্ধ করায় না, যে জ্ঞান সর্ববেদের সার, সেই বিষয়ে আমার প্রতি প্রসন্ন হয়ে আমাকে বলুন।

মহাদেব বললেন, হে নারদ, পঞ্চরাত্র নামে এক অনুপম জ্ঞান (পুরাণ সূত্র বা বীজ) পূর্বে গোলেকে বিরজার তটে পরমেশ্বর শ্রীকৃষ্ণ ব্রহ্মাকে প্রদান করেছিলেন, তারপর নিরাময় ব্রহ্মলোকে ব্রহ্মা এই পুরাণ বীজ জপ করতে লাগলেন পরে পুষ্করনামক মহাতীর্থে ব্রহ্মা অনন্তর র্ধম্মদেবকে অর্পণ করেন । অনন্তর র্ধম্মদেব প্রীতি পূর্বক পুত্র নারায়ণকে প্রদান করিলেন, পরে নারায়ণ সেই পুরাণ বীজ দেবর্ষি নারদকে প্রদান করিলেন।  দেবর্ষি নারদ সেই বিশাল পুরাণ সুত্র (বীজ) গঙ্গা তীরে শিষ্য ব্যাসদেবকে প্রদান করেন পরে ব্যাসদেব পুত্র শুকদেবকে সেই জ্ঞ্যান প্রদান করেন।

হে নারদ, এই জ্ঞান সবার আদি, সর্ববেদের সার, অতি মনোহর। জগৎ সংসারে যত মত আছে, যত মন্ত্র আছে, যত কর্ম আছে, যত কর্মচক্র আছে, সেই সমস্ত কিছুর সারাৎসার, সর্বকর্মচক্রের মুক্তির পন্থা হচ্ছে একমাত্র পরমেশ্বর ভগবান শ্রীকৃষ্ণের পাদপদ্মসেবা। নিখিল মহাবিশ্বে একমাত্র শ্রীকৃষ্ণই নিত্য বিদ্যমান। আর অন্য সমস্ত কিছুই তাঁর প্রয়োজন সিদ্ধির জন্যই উৎপন্ন হয়েছে। বিশ্বের সবাই তাঁরই মায়ায় মোহিত। এক কৃষ্ণ তাঁর অনন্ত রূপ, তাঁর অনন্ত গুণ, তাঁর অনন্ত কীর্তি এবং তাঁর অনন্ত জ্ঞান।

হে নারদ, তাঁর সৃষ্ট জড় বিচিত্র বিশ্বও অনন্ত। এই বিশ্বের সব জায়গা ক্ষুদ্র, বৃহৎ, মধ্যম শ্রেণীর নানা জাতীয় জীবে পরিপূর্ণ। সেই জীবগুলি কর্মশীল। কর্মের ফলস্বরূপ তারা সুখ-দুঃখ ভোগ করছে। সবান্তরাত্মা ভগবান প্রত্যেক জীবের সাক্ষীরূপে বিদ্যমান। জীবের বুদ্ধি আছে। সেই বুদ্ধিশক্তি নিদ্রা, তন্দ্রা, দয়া, শ্রদ্ধা, তুষ্টি, পুষ্টি, ক্ষমা,ক্ষুধা, লজ্জা, তৃষ্ণা, ইচ্ছা, চিন্তা, জরা, প্রভৃতি নাম ধারণ করে।

অনুচরেরা যেমন রাজার অনুগামী হয়, সেরকম এই সব শক্তি জীবের অনুগামী হয়ে থাকে। চিন্তা ও জরা সর্বদা জীবের শোভা ও পুষ্টির ব্যাঘাত করে। ব্রহ্মান্ডমধ্যে জীব যে স্থুল দেহ ধারণ করে কর্ম করছে সেই দেহটি পাঞ্চভৌতিক অর্থাৎ মাটি, জল, আগুন, বাতস ও আকাশ দিয়ে তৈরি। এই দেহ ধ্বংস হলে দেহটি পঞ্চভূতের মধ্যে মিশে যায়। প্রায় জীবই এই জগৎ সংসারে ভ্রান্তিবশে মায়ামোহিত হয়ে রোদন করতে থাকে। কিন্তু যারা সাধু ব্যক্তি, তাঁরা নিত্য সত্য অভয়প্রদ এবং জন্মমৃত্যুজরা-অপহারী শ্রীকৃষ্ণের চরণকমল সেবা করেন।

হে নারদ, এই বিশ্ব স্বপ্নের মতো অনিত্য। অতএব এতে বিমোহিত না হয়ে আনন্দের সঙ্গে শ্রীকৃষ্ণের পাদপদ্ম ভজনা করো। এই হচ্ছে প্রথম জ্ঞান।

এবার দ্বিতীয় জ্ঞানের কথা শ্রবণ করো। জ্ঞানী ব্যাক্তিরা মুক্তি বাসনা করেন। সাধূ পন্ডিত ব্যক্তিদের পরামামুক্তি সততেই বাঞ্চিত। কিন্তু সমস্ত মুক্তি শ্রীকৃষ্ণভক্তির কাছে অত্যন্ত তুচ্ছ বিষয়। মুক্তি কৃষ্ণভক্তির ষোলভাগের একভাগও আকর্ষণীয় নয়। কৃষ্ণভক্ত-সংসর্গের ফলে কারও হৃদয়ে ঐকান্তিক কৃষ্ণভক্তি জাগ্রত হয়।

মাঠের মাঝে বৃক্ষের বীজ যেমন অঙ্কুরিত হয় জল পেলে, তেমনই হৃদয় মধ্যে ভক্তিবৃক্ষের অঙ্কুর প্রকাশিত হয় ভক্তসঙ্গ পেলে। ভক্তসঙ্গে কৃষ্ণকথা আলাপে ভক্তি জাগ্রত হয়। আবার রৌদ্র মধ্যে অঙ্কুর যেমন শুকিয়ে যায়, তেমনই অভক্তজনের সঙ্গে সর্বদা সংলাপে ভক্তি শুষ্কতা প্রাপ্ত হয়। এই জন্যে বুদ্ধিমান ব্যক্তিরা সর্বদা ভক্তজনের সঙ্গে আলাপ করেন।

হে নারদ, সোনা যেমন নিকৃষ্ট ধাতুর সংযোগে মলিনতা প্রাপ্ত হয়, তেমনই সৎ ব্যক্তিও সংসারের দুর্বুদ্ধি লোকের সংস্পর্শে মন্দ হয়ে যায়। এজন্য সর্বদা নিরন্তর ভক্তিপূর্বক শ্রীকৃষ্ণভজনে ‍যুক্ত থাকাই কর্তব্য।

ভক্তিপূর্বক কৃষ্ণভক্ত বৈষ্ণবের কাছ থেকে  তার কৃষ্ণমন্ত্র গ্রহণ করা উচিত। কখনও অভক্ত অবৈষ্ণবের কাছ থেকে নয়। সংসারে যারা কৃষ্ণনিন্দুক, কৃষ্ণবিমুখ, কৃষ্ণভক্ত নিন্দুক, তারা অশুচি ও পাপিষ্ঠ। কৃষ্ণমন্ত্রে দীক্ষিত ব্যক্তি শত পুরুষ সহ নেজেকে উদ্ধার করে।

হে নারদ, পূর্বে কৃষ্ণের আলয় গোলোকে বিরজাতীরে ক্ষীরের মতো অমল জলে আমি শ্রীকৃষ্ণ মন্ত্র জপ করেছি। নিত্য আমি কৃষ্ণমত্র জপ করি। পার্বতী, কার্তিক গনেশ সবসময়ই কৃষ্ণনাম কীর্তন করে থাকে।

হে নারদ, লোকে দুর্দিনের অভিজ্ঞতার কথা বলে ও স্মরণ করে। মেঘে আচ্ছন্ন অন্ধকার দিনকে আমি দুর্দিন বলি না। যেই দিন কৃষ্ণকথা হয় না, আমি সেই দিনকে দুর্দিন বলে থাকি। লোকে কোনও কর্মে অসফল হলে দুঃখিত হয়, হাহুতাশ করে। কিন্তু হে নারদ, যেই দিন ক্ষণকালও অমৃত্যতুল্য কৃষ্ণকথা হয় না, শ্রীকৃষ্ণের কীর্তনবিহীন সেই দিনটিকে নিষ্ফল বলে মানি এবং কাল সেদিনের অনর্থক আয়ু হরণ করে। কৃষ্ণকথাই আনন্দময়, কৃষ্ণকথাই মঙ্গলময়।

হে নারদ, সাপেরা গরুড়কে দেখলে যেমন পালিয়ে যায়, পাপরাশিও তেমনই কৃষ্ণতীর্তনকারীর কাছ থেকে পালিয়ে যায়। পূর্বে ব্রহ্মা শ্রীকৃষ্ণের কাছ থেকে কৃষ্ণমন্ত্র লাভ করেন, তাতে সৃষ্টির কারণভূত নির্মল জ্ঞান প্রাপ্ত হন। বিধাতা নাম প্রাপ্ত হন। কৃষ্ণমন্ত্র কোটিবার জপ করতে করতে অনন্দদেবের সহস্র মস্তক হয়।

হে নারদ, পূর্বে একসময় কৃষ্ণপ্রিয়া রাধিকার গর্ভে এক স্বর্ণময় ডিম্ব উৎপন্ন হয়, গোলোকধাম থেকে আগত সেই ডিম্ব দ্বিখন্ডিত হয়ে ভেঙ্গে যায় এবং মহার্ণবে পতিত হয়। সেই ডিম্ব থেকে মহাবিষ্ণু আবির্ভূত হয়ে মহাজলে শয়ন করলেন। মহাবিষ্ণুর লোমকূপ থেকে আলাদা আলাদা ভাবে পৃথক জলরাশি উদ্ভব হয়ে সর্বত্র পরিব্যাপ্ত হল। সেগুলি সপ্ত আবরণীযুক্ত এক-একটি ব্রহ্মান্ড।

ব্রহ্মান্ডের মধ্যে মধ্যস্থানে ভূলোক। ভূলোকের ঊর্ধ্বদিকে যথাক্রমে ভুবর্লোক, স্বর্গলোক, জনলোক, মহর্লোক, তপোলোক ও সত্যলোক। আর ভুলোকের নিম্নদিকে যথাক্রমে অতল, বিতল, সুতল, তলাতল, মহাতল, রসাতল ও পাতাললোক রয়েছে। সত্যলোকের বামদিকে ধ্রুবলোক, পাতাললোকের ডানদিকে নরক লোক রয়েছে।

হে নারদ, মধ্যস্থানের ভূলোকে ভারতবর্ষ বিখ্যাত। ভারতবর্ষের মধ্যে বৃন্দাবনে শ্রীকৃষ্ণের আবির্ভাব হয়। ভারতবর্ষ যেরূপ মাহাত্ম্যপূর্ণ, অন্য স্থান ততটা নয়। বহু পুণ্যফলে কারও ভারতবর্ষে মনুষ্য জন্ম লাভের সৌভাগ্য হয়। মানুষদের মধ্যে তাঁরাই মহান বা বিদ্ধান, যাঁরা শ্রীকৃষ্ণ পাদপদ্ম ভজনা করেন। মানবজীবন পেয়েও জীব যদি শ্রীকৃষ্ণভজনা না করে তবে তার চেয়ে আর বিড়ম্বনা কি? শ্রীকৃষ্ণভজনহীন তার জন্ম অনর্থক, তার গর্ভযাতনা বৃথা, তার অনিত্য শরীর নিষ্ফল, তার জীবন ব্যর্থ। সে জীবম্মৃত।

হে নারদ, এই ভারতে যে ব্যক্তি প্রত্যহ শ্রীহরির পাদোদক ও নৈবদ্য ভক্ষণ করেন, কৃষ্ণমন্ত্র গ্রহণ করেন, তিনি জীবম্মুক্ত হন। তাঁর পদধুলিতে পৃথিবী পবিত্রা হন।

 
হে নারদ, এবার তৃতীয় জ্ঞানের কথা শ্রবণ করো। শ্রীকৃষ্ণের অনন্ত গুণের কথা কেউই বর্ণনা করতে সমর্থ নয়। যা তুমি শুনতে পাবে, সবই কিঞ্চিৎ কথা মাত্র। আমি শুধু এইটুকু জানি যে, শ্রীকৃষ্ণ অপেক্ষা আর কেউই আদিপুরুষ নেই, আর কেউই পরম আরাধ্য নেই। তাঁর অপেক্ষা জ্ঞানী বা যোগীও কেউ নেই। তাঁর অপেক্ষা সবার পরিপালক জনকও আর কেউ নেই। তাঁর অপেক্ষা বলবানম কীর্তিমান, দয়ালু ও ভক্তবৎসল আর কেউ নেই। যে মায়াদেবী অনন্ত কোটি ব্রহ্মান্ডকে মোহিত করেন তিনিও শ্রীকৃষ্ণের সম্মুখে স্তব করতে অক্ষম এবং অতি ভীতা হন। বাক্যের অধিষ্ঠাত্রী স্বরস্বতীদেবীও শ্রীকৃষ্ণের স্তব করতে সমর্থ না হয়ে জড়প্রায় হয়ে যান।

হে নারদ, স্বয়ং শ্রীকৃষ্ণ জীবের হিত বাসনায় গুরুরূপ ধারণ করে থাকেন কিংবা কাউকে তাঁর প্রতিনিধি করে প্রেরণ করেন। গুরুদেব তুষ্ট হলে স্বয়ং ভগবানও তুষ্ট হন। ভগবান তুষ্ট হলে ত্রিজগৎ তুষ্ট হয়। গুরুই ব্রহ্মা, গুরুই বিষ্ণু, গুরুই মহাদেব। হরি রুষ্ট হলে গুরুদেব সন্তুষ্ট হয়ে তাঁর অনুগামীকে রক্ষা করতে সমর্থ হন। কিন্তু গুরুদেব রুষ্ট হলে কেউই তাকে রক্ষা করতে সমর্থ নয়।

হে নারদ, যা থেকে কৃষ্ণভক্তি জন্মে তাকেই মন্ত্র বলা যায়। কৃষ্ণই বন্ধু, কৃষ্ণই পিতা। আর কৃষ্ণভক্তিই মৈত্রী ও জননী। গুরুদেব কৃষ্ণপ্রাপ্তির পথ প্রদর্শন করান। হে নারদ, তুমি প্রকৃতির অতীত রাধানাথ শ্রীকৃষ্ণকে ভজনা করো। জগতে যে ব্যক্তি শ্রীকৃষ্ণভক্তি অনুশীলন শিক্ষা না দিয়ে অন্য পথ প্রদর্শন করেন, তিনি কখনই গুরু নন। তাঁকে পারমার্থিক গুরুরুপে কখনই গ্রহণ করা উচিত নয়। অধিকন্তু তাঁকে মহা শত্রু বলে মনে করা কর্তব্য। কৃষ্ণভক্তি পন্থা অনুসরণহীন ব্যক্তি যিনি গুরুর আসনে অধিষ্ঠিত হয়ে নিত্য আরাধিত হন, তিনি শিষ্যহত্যার ফল লাভ করেন। আর সেই তথাকথিত শিষ্যের জন্মও বিফল হয়।

এই আমি তোমাকে চতুর্থ জ্ঞানের কথা বললাম।

নারদ প্রশ্ন করলেন, হে ভগবান, ভক্তরা কৃষ্ণভক্তি করে, যোগীরা জ্যোতির ধ্যান করে, এই দুইয়ের মধ্যে কোনটি যথার্থ পথ?

আরও পড়ুনঃ হরে কৃষ্ণ মহামন্ত্র জপ করার নিয়ম

শিব বললেন, যাঁরা নিগুণ ব্রহ্মে বিলীন হতে চায়, তারাই ব্রহ্মজ্যোতির ধ্যান করে। তাঁরা ভগবানের শরীর বা আকার স্বীকার করে না। কেননা শরীর মানেই জড়, ব্রহ্ম মানেই চিন্ময়; দেহমাত্রই গুণে আসক্ত, অতএব নিগুণ চিন্ময়ত্বের সম্ভাবনা নেই- এই জ্ঞান তারা কেবল ব্রহ্মজ্যোতির ধ্যান করে। কিন্তু সনৎকুমার প্রভৃতি আমাদের দ্বারা তা আদৌ সম্মত নয়। সমস্ত ব্রহ্মজ্যোতির উৎস হচ্ছেন সনাতন পুরুষ শ্রীকৃষ্ণ। তাই ভক্তরা শ্রীকৃষ্ণের ধ্যান করেন, নিরাকার ব্রহ্মজ্যোতির ধ্যান করেন না। শ্রীকৃষ্ণের অঙ্গজ্যোতিই নিরাকার বলা যায়। সর্বদা শ্রীকৃষ্ণের ধ্যান-আরাধনা করাই যথার্থ পন্থা।

চার যুগের মহামন্ত্র:-
সত্যযুগ
"নারায়ণ পরাবেদা নারায়ণ পরাক্ষরা। 
নারায়ণ পরামুক্তি নারায়ণ পরাগতি"॥
ত্রেতাযুগ
"রাম নারায়ণানন্ত মুকুন্দ মধুসূদন। 
কৃষ্ণ কেশব সংসারে হরে বৈকুণ্ঠ বামন"॥
দ্বাপর যুগ
"হরে মুরারে মধুকৈটভারে ।
গোপাল গোবিন্দ মুকুন্দ সৌরে।।
যজ্ঞেশ্বর নারায়ণ কৃষ্ণ বিষ্ণু।
 নিরাশ্রয়ং মাং জগদীশ রক্ষ"॥
কলিযুগ
"হরে কৃষ্ণ হরে কৃষ্ণ কৃষ্ণ কৃষ্ণ হরে হরে।
হরে রাম হরে রাম রাম রাম হরে হরে" ॥

শ্রীমন্ মহাপ্রভুর তেনার লীলা কালে তিন গুরুর স্মরন নেন ১. দীক্ষা গুরু- শ্রীপাদ মধবেন্দ্র পুরীর প্রিয়তম শিষ্য  শ্রীপাদ ঈশ্বর পুরী( দীক্ষা গ্রহণের স্থান শ্রীধাম গয়া)।
২. সন্যাস (ভেক) গুরু- শ্রীপাদ কেশব ভারতী (সন্যাস গ্রহণ এর স্থান শ্রীধাম কাটোয়া। এই স্থান হইতে সর্ব প্রথম নদীয়া বিহারী শ্রীগৌড় হরির "শ্রীকৃষ্ণ চৈতন্য" নামের প্রকাশ)।
৩. শিক্ষা গুরু- শ্রীপাদ গোপাল গুরু গোস্বামী (শ্রীমান মহাপ্রভু  শ্রীশ্রীগম্ভীরা লীলায় যেনাকে সর্বোপরি বাৎসল্য স্নেহ দান করেন সেই শ্রীপাদ গোপাল গুরু গোস্বামীর এক তত্ব শুনিবার পর মহাপ্রভু স্বয়ং গোপালকে গুরু হিসাবে স্বীকার করেন এবং এই জগতের মূল আচার্য্য রূপে স্থাপন করলেন *শ্রীধাম  পুরী / নীলাচল)*।

ভজনের পূর্বে শ্রীশ্রীনিত্যানন্দ প্রভু এবং শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য মহাপ্রভুর স্মরন ছাড়া যুগল রস আস্বাদন হওয়া কখনই সম্ভব নহে। তাই শ্রীমন্ মহাপ্রভুর অন্তর্ধানের পর শ্রীপাদ গোপাল গুরু গোস্বামী এবং সকল পারিষদগণ সহিত শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য এবং শ্রীনিত্যানন্দ এবং শ্রীরাধাকৃষ্ণ একত্রে স্মরণের নিমিত্তে এবং মহাপ্রভুর আত্মপ্রীতির নিমিত্তে এই নাম প্রকট করেন।  তাই তিনি সর্বপ্রথম শ্রীমান মহাপ্রভুর ও নিত্যানন্দ প্রভূর অবতারের স্বীকার স্বরুপ এই নাম জগতে প্রকাশ করেন।
যথা --
"শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য প্রভু নিত্যানন্দ ।
হরে কৃষ্ণ হরে রাম শ্রীরাধেগোবিন্দ।।"

এই মহামন্ত্র নাম বর্তমানে অনেক গুলি প্রাচীন লীলাস্থলীতে প্রকাশ হইয়া থাকে।
 
১. শ্রীশ্রী রাধাকান্ত মঠ / শ্রী গম্ভীরা(শ্রীধাম পুরী)- শ্রীমন্ মহাপ্রভুর ভজন স্থলীতে এই নাম অখন্ড রূপে প্রকাশ পায়।
২. শ্রীশ্রী সিদ্ধ বকুল মঠ(শ্রীধাম পুরী) - শ্রীশ্রী নামাচার্য্য হরিদাস প্রভুর ভজন কুঠিরে এই নাম অখন্ড রূপে প্রকাশ পায়।
৩. শ্রীশ্রী গৌরাঙ্গ বাড়ি(শ্রীধাম কাটোয়া)- শ্রীমন্ মহাপ্রভুর সন্যাস মন্ত্র গ্রহণের লীলা স্থালিতে এই নাম আশ্রিত।এই লীলা স্থলীতে নদেরচাঁদ নিমাইয়ের শ্রীবিশ্বম্ভর মিশ্র হইতে সর্বপ্রথম  "শ্রীশ্রীকৃষ্ণচৈতন্য" নামের প্রকাশ পায়।
৪. শ্রীশ্রী মহাপ্রভু মন্দির (শ্রীধাম অম্বিকা কানলা)- শ্রীমন্ মহাপ্রভুর প্রিয় পার্ষদ গৌরীদাস পণ্ডিতের লীলা স্থলীতে এই নাম প্রকাশ পায়।

এছাড়াও বহু মঠ , মন্দিরে এই নামের আশ্রয় গ্রহন করিয়া থাকে এবং সমগ্র বক্রেস্বর পরিবার এবং শ্যামানন্দ পরিবার এই নামের আশ্রিত।
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
    *••••┉━❀꧁ 🙏 রাধে রাধে 🙏 ꧂❀━┅••••* 
                   শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য প্রভু নিত্যানন্দ
              হরে কৃষ্ণ হরে রাম শ্রীরাধেগোবিন্দ।।
  *••••┉━❀꧁ 🙏 জয় জগন্নাথ 🙏 ꧂❀━┅••••*
              হরে কৃষ্ণ হরে কৃষ্ণ কৃষ্ণ কৃষ্ণ হরে হরে
              হরে রাম হরে রাম রাম রাম হরে হরে॥
  *••••┉━❀꧁ 🙏 জয় রাধাকান্ত 🙏 ꧂ ❀━┅••••*
   💮❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀💮
   💮❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀💮
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧





শ্রীষটতিলা একাদশী 🌾 ব্রতের মাহাত্ম্য ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী গোপীশরণ দাস 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন ➡️ http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/01/ekadoshi_16.html

 ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
        ꧁ শ্রীষটতিলা একাদশী ব্রতের মাহাত্ম্য ꧂
       ꧁ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী গোপীশরণ দাস ꧂
       এই লিংকে ⬇️⬇️⬇️🙏⬇️⬇️⬇️ ক্লিক করুন 
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
     🏠Home Page🏠⬇️⬇️🙏⬇️⬇️📚PDF গ্রন্থ📚
꧁ MrinmoyNandy.blogspot.com 👉 সূচীপত্র ꧂
       এই লিংকে ⬇️⬇️⬇️🙏⬇️⬇️⬇️ ক্লিক করুন 
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
 ꧁ টিকা বা অন্যান্য ধর্মীয় লিখনী 🙏 সূচীপত্র ꧂
      ꧁ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী গোপীশরণ দাস ꧂
       এই লিংকে ⬇️⬇️⬇️🙏⬇️⬇️⬇️ ক্লিক করুন 
 ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
*শ্রীষটতিলা_একাদশী_ব্রতের_মাহাত্ম্য*

_*মাঘ মাসের কৃষ্ণপক্ষের ‘ষটতিলা’ একাদশীর মাহাত্ম্য ভবিষ্যোত্তরপুরাণে বর্ণিত আছে। যুধিষ্ঠির মহারাজ বললেন- হে জগন্নাথ! মাঘ মাসের কৃষ্ণপক্ষের একাদশী তিথির নাম কি, বিধিই বা কি এবং তার কি ফল, সবিস্তারে বর্ণনা করুন।*_

*তদুত্তরে ভগবান বললেন- হে রাজন! এই একাদশী ‘ষটতিলা’ নামে জগতে বিদিত। একসময় দালভ্য ঋষি মুনিশ্রেষ্ঠ পুলস্তকে জিজ্ঞাসা করেন- মর্ত্যলোকে মানুষেরা ব্রহ্মহত্যা, গোহত্যা, অন্যের সম্পদ হরণ আদি পাপকর্ম দ্বারা নরকে গমন করে। যাতে তারা নরক গতি থেকে রক্ষা পায়, তা যথাযথভাবে আমাকে উপদেশ করুন। অনায়াসে সাধন করা যায় এমন কোন কাজের মাধ্যমে যদি তাদের এই পাপ থেকে উদ্ধারের কোন উপায় থাকে, তবে তা বলুন।*

_*ঋষি পুলস্ত্য বললেন, হে মহাভাগ! তুমি একটি গোপনীয় উত্তম বিষয়ের প্রশ্ন করেছ। মাঘ মাসে শুচি, জিতেন্দ্রিয়, কাম, ক্রোধ আদি শূন্য হয়ে স্নানের পর সর্বদেবেশ্বর শ্রীকৃষ্ণের পূজা করবে। পূজাতে কোন বিঘ্ন ঘটলে কৃষ্ণনাম স্মরণ করবে। রাত্রিতে অর্চনান্তে হোম করবে। তারপর চন্দন, অগুরু, কর্পূর ও শর্করা প্রভৃতি দ্বারা নৈবেদ্য প্রস্তুত করে ভগবানকে নিবেদন করবে। কুষ্মান্ড, নারকেল অথবা একশত গুবাক দিয়ে অর্ঘ্য প্রদান করবে ‘কৃষ্ণ কৃষ্ণ কৃপালুস্তমগতীনাং গতির্ভব’ ইত্যাদি মন্ত্রে শ্রীকৃষ্ণের পূজা করতে হয়। ‘কৃষ্ণ আমার প্রতি প্রীত হোন’ বলে যথাশক্তি ব্রাহ্মণকে জলপূর্ণ কলস, ছত্র, বস্ত্র, পাদুকা, গাভী ও তিলপাত্র দান করবে। স্নান, দানাদি কার্যে কালো তিল অত্যন্ত শুভ।*_

*হে দ্বিজত্তম! ঐ প্রদত্ত তিল থেকে পুনরায় যে তিল উৎপন্ন হয়, ততো বছর দানকারী স্বর্গলোকে বাস করে। তিলদ্বারা স্নান, তিল শরীরে ধারণ, তিল জলে মিশিয়ে তা দিয়ে তর্পণ, তিল ভোজন এবং তিল দান- এই ছয় প্রকার বিধানে সর্বপাপ বিনষ্ট হয়ে থাকে। এই জন্য এই একাদশীর নাম ষটতিলা।*

_*হে যুধিষ্ঠির! একসময় নারদও এই ষটতিলা একাদশীর ফল ও ইতিহাস সম্পর্কে জানতে চাইলে যে কাহিনী আমি বলেছিলাম তা এখন তোমার কাছে বর্ণনা করছি।*_
 
*পুরাকালে মর্ত্যলোকে এক ব্রাহ্মণী বাস করত। সে প্রত্যহ ব্রত আচরণ ও দেবপূজাপরায়ণা ছিল। উপবাস ক্রমে তার শরীর অত্যন্ত ক্ষীণ হয়ে গিয়েছিল। সেই মহাসতী ব্রহ্মণী অন্যের কাছ থেকে দ্রব্যাদি গ্রহণ করে দেবতা, ব্রাহ্মণ, কুমারীদের ভক্তিভরে দান করত। কিন্তু কখনও ভিক্ষুককে ভিক্ষাদান ও ব্রাহ্মণকে অন্নদান করেনি। এইভাবে বহু বছর অতিক্রান্ত হল। আমি চিন্তা করলাম, কষ্টসাধ্য বিভিন্ন ব্রত করার ফলে এই ব্রাহ্মণীর শরীরটি শুকিয়ে যাচ্ছে। সে যথাযথভাবে বৈষ্ণবদের অর্চনও করেছে, কিন্তু তাদের পরিতৃপ্তির জন্য কখনও অন্ন দান করেনি। তাই আমি একদিন কাপালিক রূপ ধারণ করে তামার পাত্র হাতে নিয়ে তার কাছে গিয়ে ভিক্ষা প্রার্থনা করলাম।*

_*ব্রাহ্মণী বলল;- হে ব্রাহ্মণ! তুমি কোথা থেকে এসেছ, কোথায় যাবে, তা আমাকে বলো। আমি বললাম- হে সুন্দরী! আমাকে ভিক্ষা দাও। তখন সে ক্রুদ্ধ হয়ে আমার পাত্রে একটি মাটির ঢেলা নিক্ষেপ করল। তারপর আমি সেখান থেকে চলে গেলাম।*_

*বহুকাল পরে সেই ব্রাহ্মণী ব্রতপ্রভাবে স্বশরীরে স্বর্গে গমন করল। মাটির ঢেলা দানের ফলে একটি মনোরম গৃহ সে প্রাপ্ত হল। কিন্তু হে নারদ! সেখানে কোন ধান ও চাল কিছুই ছিল না। গৃহশূন্য দেখে মহাক্রোধে সে আমার কাছে এসে বলল-আমি ব্রত, কৃচ্ছ্রসাধন ও উপবাসের মাধ্যমে নারায়ণের আরাধনা করেছি। এখন হে জনার্দন! আমার গৃহে কিছুই দেখছি না কেন?'*

_*হে নারদ! তখন আমি তাকে বললাম- তুমি নিজ গৃহে দরজা বন্ধ করে বসে থাকো। মর্ত্যলোকের মানবী স্বশরীরে স্বর্গে এসেছে শুনে দেবতাদের পত্নীরা তোমাকে দেখতে আসবে। কিন্তু তুমি দরজা খুলবে না। তুমি তাদের কাছে ষটতিলা ব্রতের পুণ্যফল প্রার্থনা করবে। যদি তারা সেই ফল প্রদানে রাজী হয়, তবেই দরজা খুলবে।'*_

*এরপর দেবপত্নীরা সেখানে এসে তার দর্শন প্রার্থনা করল। তাদের মধ্যে এক দেবপত্নী তাঁর ষটতিলা ব্রতজনিত পুণ্যফল তাকে প্রদান করল। তখন সেই ব্রাহ্মণী দিব্যকান্তি বিশিষ্টা হল এবং তার গৃহ ধনধান্যে ভরে গেল। দ্বার উদঘাটন করলে দেবপত্নীরা তাকে দর্শন করে বিস্মিত হলেন।*

*"হে নারদ! অতিরিক্ত বিষয়বাসনা করা উচত নয়। বিত্ত শাঠ্যও অকর্তব্য। নিজ সাধ্যমতো তিল, বস্ত্র ও অন্ন দান করবে। ষটতিলা ব্রতের প্রভাবে দারিদ্রতা, শারীরিক কষ্ট, দুর্ভাগ্য প্রভৃতি বিনষ্ট হয়। এই বিধি অনুসারে তিলদান করলে মানুষ অনায়াসে সমস্ত পাপ থেকে মুক্ত হয়।"*

GOPISHARANDAS
http://mrinmoynandy.blogspot.com/2022/10/home-page-pdf-httpsmrinmoynandy_25.html
 ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
      ✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️
           ꧁ লিখনী সেবা- শ্রী গোপীশরণ দাস ꧂
নিবাস-শ্রীশ্রীনিত্যানন্দ প্রভুর জন্মস্থান, একচক্রা, বীরভূম, পশ্চিমবঙ্গ। 
 ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏
আমায় দেওয়া ওনার এই অমূল্য লিখনী সেবা, তা সকলের মধ্যে প্রকাশ করলাম। ওনার এই অমূল্য দান সমগ্র বৈষ্ণব সমাজ অনন্তকাল মনে রাখিবে।
🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
    *••••┉━❀꧁ 🙏 রাধে রাধে 🙏 ꧂❀━┅••••* 
                   শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য প্রভু নিত্যানন্দ
              হরে কৃষ্ণ হরে রাম শ্রীরাধেগোবিন্দ।।
  *••••┉━❀꧁ 🙏 জয় জগন্নাথ 🙏 ꧂❀━┅••••*
              হরে কৃষ্ণ হরে কৃষ্ণ কৃষ্ণ কৃষ্ণ হরে হরে
              হরে রাম হরে রাম রাম রাম হরে হরে॥
  *••••┉━❀꧁ 🙏 জয় রাধাকান্ত 🙏 ꧂ ❀━┅••••*
   💮❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀💮
   💮❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀💮
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧



adds