জগৃহে পৌরুষং রূপং ভগবান মহদাদিভিঃ।
সম্ভূতং ষোড়শকলমাদৌ লোকসিসৃক্ষয়া।।
অর্থ্যাৎ= শ্রীসূত বললেন-- ভগবান লোকসৃষ্টির ইচ্ছায় প্রথমত মহদাদি তত্ত্ব মিলিত পরিপূর্ণ পুরুষমূর্তি পরিগ্রহ( ধারণ) করেন।
তাৎপর্য্য== নৈমিষারণ্যবাসী শৌণকাদি ঋষিগণ ভগবানের অবতারকথা শুনবার জন্য সূতকে যে প্রশ্ন করেছিলেন ১) সূত তদুত্তরে অবতারকথা বর্ণন করছেন। ভগবানের অবতারকথা জানতে হলে প্রথমত অবতারতত্ত্বের কিঞ্চিৎ সমালোচনা করা প্রয়োজন। অবতার শব্দটি পুরাণাদিতে দেখা যায়, শ্রুতি প্রভৃতিতে শব্দটি দেখা যায় না, কিন্তু অবতারের কার্য্যের পরিচয় পাওয়া যায়।
"স ঐক্ষত বহুস্যাং প্রজায়েয়ম্"
*তিনি বহু হবার জন্য প্রকৃতিতে ঈক্ষণ(দৃষ্টি) করলেন। "তৎ সৃষ্টা তদেবানুপ্রাবিশৎ" (ব্রহ্মান্ড সৃষ্টি করে তাহাতে প্রবেশ করলেন)।এই সমস্ত শ্রুতিবাক্য হতে ভগবানের অবতার-লীলারই ইঙ্গিত পাওয়া যায়। এইজন্যই টীকাকারগণ অবতার শব্দের অর্থ করেন-- "অপ্রপঞ্চাৎ প্রপঞ্চে অবতরণং অবতারঃ" অপ্রপঞ্চ মানে মায়ার বহিস্থিত চিন্ময়ধাম হতে মায়িক জগতে আত্মপ্রকাশ করাই অবতারগ্রহণ করা। নানাশাস্ত্র-সংবাদে জানা যায় যে, অতল, বিতল, সুতল, তলাতল, রসাতল, মহাতল, পাতাল, ভূ, ভূব, স্বঃ,জন, মহ, তপঃ, ও সত্য এই চতুর্দশ ভৃবনে এক ব্রহ্মান্ড হয়।এই রকম অনন্ত ব্রহ্মান্ড ব্যোম মানে আকাশে শ্রীভগবদিচ্ছায় ঘুরে বেড়াচ্ছে। এর পরে সত্ত্ব, রজঃ ও তমোগুণময় কারণার্ণব, এই কারণার্ণবকেই প্রধান, প্রকৃতি, মায়াসমুদ্র ইত্যাদি বলা হয়। কারণার্ণবের পর সিদ্ধলোক মানে নির্বিশেষ চিন্ময়ধাম (১)তার পরে পরব্যোম, এই পরব্যোমে অনন্ত বৈকুন্ঠ, এই সমস্ত বৈকুন্ঠে ভগবান নানা মূর্তিতে নিত্যলীলারসাস্বাদন করেন। সকলের উপরে শ্রীগোলোক (২)এখানে শ্রীকৃষ্ণমূর্তি ভগবান গো, গোপ ও গোপী সহ নিত্যলীলাবিলাস করেন। (৩) এই ধামের আবরণরূপে বাসুদেব, সঙ্কর্ষণ, প্রদ্যুম্ন ও অনিরুদ্ধ এই চতুর্ব্যূহ বিরাজিত।
ক্রমশ
*••••┉━❀꧁ 🙏 রাধে রাধে 🙏 ꧂❀━┅••••*




