✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
꧁ শ্রীজাহ্নবা মাতা ꧂
এই লিংকে 👇👇👇🙏👇👇👇 ক্লিক করুন
꧁ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ ꧂
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
*🙏শ্রীজাহ্নবা মাতা🙏*
*শ্রীসূর্য্যদাস সরখেল শালি গ্রামে বাস করতেন।দামোদর,জগন্নাথ,গৌরীদাস,কৃষ্ণদাস ও নৃসিংহচৈতন্য-- শ্রীসূর্য্যদাসের এই পাঁচজন ভাই ছিলেন।পিতার নাম কংসারি মিশ্র,মাতার নাম শ্রীকমলাদেবী। সূর্য্যদাস গৌড়ের রাজার পয়সাকড়ির হিসাব রক্ষকের কার্য্য করতেন বলে তাঁকে "সর *খেল" উপাধি দেওয়া হয়।* *শ্রীসূর্যদাস সরখেলের দুটি কন্যা ছিল। বড় জনের নাম শ্রীবসুধা ও ছোটজনের নাম শ্রীজাহ্নবা। গৌরগণোদ্দেশ দীপিকাতে কবিকর্ণপুর বলেছেন=*
*শ্রীবারুণী রেবত্যোরংশসম্ভবে।*
*তস্য প্রিয়ে শ্রীবসুধা চ জাহ্নবা।।*
*শ্রীসূর্য্যাদাসাখ্যমহাত্মনঃ সুতে।*
*ককুদ্মিরূপস্য চ সূর্য্যতেজসঃ।।*
*🌻শ্রীনিত্যানন্দ প্রভুর প্রিয়াদ্বয় শ্রীবসুধাও জাহ্নবাদেবী, বারুণী এবং রেবতীর অংশে জন্ম।শ্রীসূর্য্যদাস পন্ডিত সূর্য্যের মতো কান্তি বিশিষ্ট রৈবতরাজ ককুদ্মির অংশসম্ভূত ছিলেন।সূর্য্যদাস সরখেল শ্রীনিত্যানন্দের ও শ্রীগৌরাঙ্গের প্রিয় পাত্র ছিলেন।তিনি কন্যাদ্বয়ের যৌবন দশা দেখে তাদের বিবাহের কথা চিন্তা করতে লাগলেন।*
*সূর্য্যদাস পন্ডিত চিন্তিয়া মনে মনে*
*করিতে শয়ন নিদ্রা হইল সেইক্ষণে।।*
*স্বপ্নচ্ছলে দেখে মহামনের আনন্দে।*
*দুই কন্যা সম্প্রদান করে নিত্যানন্দে।।*
*(শ্রীভক্তি রত্নাকর দ্বাদশ তরঙ্গ=৩৯০০-৩৯০১)*
*অদ্ভুত স্বপ্ন দর্শন করে সূর্য্যদাস পন্ডিত আনন্দ-সাগরে ভাসতে লাগলেন।* *কিছুক্ষণ পর নিদ্রা ভঙ্গ হল।প্রাতঃকালে একজন মিত্র ব্রাহ্মণের নিকট স্বপ্নকথা বলতে লাগলেন।আমি দেখছি নিত্যানন্দ প্রভু সাক্ষাৎ বলরাম।তাঁর অঙ্গকান্তিতে দশদিক আলোকিত।নানা রত্নালঙ্কারে অঙ্গ সুশোভিত।আমার কন্যা দুটি দুই পার্শে বারুণী ও রেবতী রূপে শোভা পাচ্ছে। অতএব শ্রীনিত্যানন্দ প্রভুর শ্রীচরণে আমি কন্যা দান করব।* *তা না করা পর্যন্ত আমার চিত্তে কোন শান্তি নাই।এইরকম অনেক কথা বলে সূর্য্যদাস সরখেল মিত্র ব্রাহ্মণটিকে নবদ্বীপে শ্রীবাস পন্ডিত গৃহে প্রেরণ করলেন।*
********ক্রমশ************
*শ্রীজাহ্নবা মাতা* (২)
*অতি দ্রুত ব্রাহ্মণটি শ্রীবাস গৃহে এলেন।তখন নিত্যানন্দ প্রভু শ্রীবাসের গৃহে অবস্থান করছিলেন।ব্রাহ্মণটি সূর্য্যদাস সরখেলের নিবেদন শ্রীবাস পন্ডিতকে সব জানালে,শ্রীবাস শুনে সুখী হলেন ও সেই কথা সময়মত নিত্যানন্দপ্রভুর শ্রীচরণে নিবেদন করলেন। করুণাময় নিত্যানন্দ সূর্য্যদাস পন্ডিতের অভিপ্রায় পূর্ণ করবেন বলে ব্রাহ্মণকে আশ্বাস দিলেন। একথা শ্রবণে শ্রীঅদ্বৈতাচার্য্যও পরম সুখী হলেন।শীঘ্র এ কাজ হোক এইরকম বললেন।ব্রাহ্মণ শালি গ্রামে ফিরে এসে সূর্য্যদাস পন্ডিতকে শুভ সমাচার দিলেন। এইসব কথা শুনে সূর্য্যদাসের আনন্দের সীমা রইল না।* *বড়গাছিগ্রাম-নিবাসী রাজা হরিহোড়ের পুত্র, শ্রীকৃষ্ণদাস,নিত্যানন্দ প্রভুর একান্ত প্রিয় ভক্ত।তিনি এ বিবাহের যাবতীয় ব্যয় বহন করবেন এবং তার গৃহেই এ সমস্ত কার্য্য সম্পন্ন হবে।সংকল্প করে শীঘ্র নিত্যানন্দ প্রভুকে প্রার্থনা করে বড়গাছি গ্রামে আনলেন ও বিবাহের উদ্যোগ আরম্ভ করলেন।* *শ্রীবাস,শ্রীঅদ্বৈতাচার্য্য,শ্রীচন্দ্রশেখর ও শ্রীমুরারি গুপ্ত প্রভৃতি যাবতীয় গৌরভক্তবৃন্দ সমবেত হয়ে সংকীর্তন আরম্ভ করলেন।সূর্য্যদাসের ভাই কৃষ্ণদাস তাড়াতাড়ি বড়গাছি গ্রামে এলেন ও নিত্যানন্দ প্রভু তথা যাবতীয় বৈষ্ণবগণকে নিয়ে শালিগ্রামে এলেন।* *নিত্যানন্দ প্রভুকে ও সমস্ত ভক্তগণকে দর্শন করে সূর্য্যদাস পরমানন্দে কিছু পথ অগ্রসর হয়ে অভিনন্দন পূর্বক নিজ গৃহে আনলেন এবং নিত্যানন্দ প্রভুর শ্রীপাদপদ্মে দন্ডবৎ হয়ে পড়লেন।*
*লোটাইয়া পড়ে নিত্যানন্দ পদতলে।*
*সূর্য্যদাস ভাসে দুই নয়নের জলে*।।
*দুই হাত ধরি চরণ দু'খানি।*
*কহিতে চাহয়ে কিছু না স্ফুরয়ে বাণী।।*
*মন্দ মন্দ হাসি নিত্যানন্দ প্রেমাবেশে।*
*কৃপা করি কৈলা আলিঙ্গন সূর্য্যদাসে।।*
*সূর্য্যদাস আনন্দে বিহ্বল নিরন্তর।*
*কে বুঝিতে পারে সূর্য্যদাসের অন্তর।।*
*দেখিয়া ভ্রাতার প্রেমচেষ্টা গৌরীদাস।*
*না ধরে ধৈরজ অতি অন্তরে উল্লাস।।*
*(ভক্তিরত্নাকর দ্বাদশ তরঙ্গ)*
*অতঃপর সূর্য্যদাস নিত্যানন্দ প্রভুর শ্রীপাদ পদ্মযুগল পূজা করে বসুধা ও জাহ্নবা দেবীকে তাঁর হাতে সমর্পণ করলেন।*
*লোক-শাস্ত্রমতে সূর্য্যদাস ভাগ্যবান্।*
*নিত্যানন্দ চন্দ্রে দুই কন্যা কৈল দান।।*
*(ঐ)*
*এবারে শুভ পরিণয় হবার পর নিত্যানন্দ প্রভু কয়েকদিন শালিগ্রামে অবস্থান করে পত্নীদ্বয় সঙ্গে বড়গাছি শ্রীকৃষ্ণদাসের গৃহে এলেন।তথায় কয়েকদিন অবস্থান করবার পর নবদ্বীপে এলেন।নিত্যানন্দ প্রভু দুই প্রিয়াসহ শচীমাতার ঘরে এসে শচীমাকে প্রণাম করলেন। বসুধা, জাহ্নবা দেবীকে দেখে শচীমা অতিশয় হর্ষিত হলেন এবং স্নেহকরে কোলে নিয়ে বারবার তাঁদের চিবুক স্পর্শ করতে লাগলেন।* *'শ্রীবসু,জাহ্নবা দোঁহে দেখি' এথা আই।করিল যতেক স্নেহ,কহি সাধ্য নাই।।(ঐ)* *বৈষ্ণব-গৃহিণীগণ বধূদ্বয়কে পরম স্নেহ করতে লাগলেন।নিত্যানন্দ প্রভু তারপর শচীমায়ের আজ্ঞা নিয়ে শান্তি পুরে অদ্বৈতাচার্য্যের গৃহে এলেন।* *সীতাঠাকুরাণী বসুধা জাহ্নবাকে দর্শন করে আনন্দ সাগরে ভাসতে লাগলেন,কোলে নিয়ে কত স্নেহ করলেন।নিত্যানন্দ কিছুদিন আচার্য্যভবনে অবস্থান করে উদ্ধারণ ঠাকুরের বিশেষ প্রার্থনায় সপ্তগ্রামে তাঁর ভবনে এলেন।সেখানে কয়েকদিন সংকীর্তন-মহামহোৎসব সমাপনান্তে খড়দহ গ্রামে আগমন করলেন।নিত্যানন্দ প্রভু ভক্তগণ সঙ্গে তারপর সংকীর্তন-রঙ্গে সর্বত্র পরিভ্রমণ করতে বাহির হলেন।* *বসুধা দেবীর গর্ভে গঙ্গা নামক কন্যা ও বীরচন্দ্র নামে পুত্র জন্মগ্রহণ করেন। জাহ্নবা দেবীর কোন পুত্র-কন্যা নেই।* *অদ্বৈতাচার্য্য,শ্রীবাস পন্ডিত ও নিত্যানন্দ প্রভু এবং অন্যান্য গৌরপার্ষদগণের অপ্রকটের পর পুনঃ সংকীর্তন-বন্যা প্রবাহিত করেন, শ্রীগৌরসুন্দরের করুণা শক্তিত্রয় শ্রীনিবাস আচার্য্য,নরোত্তম ঠাকুর ও শ্যামানন্দ প্রভু।* *আচার্য্যত্রয় যে লোক-বিশ্রুত মহামহোৎসব করেছিলেন।*
*জাহ্নবা মাতা (৩)*
*আচার্য্যত্রয় যে লোক-বিশ্রুত মহা মহোৎসব করেছিলেন খেতরি গ্রামে রাজা সন্তোষ দত্তের গৃহে,সে-উৎসবে শ্রীনিত্যানন্দ শক্তি শ্রীজাহ্নবা মাতা আচার্য্যবৃন্দের বিশেষ প্রার্থনায় শুভাগমন করেছিলেন।* *তাঁর সঙ্গে ছিলেন শ্রীকৃষ্ণদাস মিশ্র(জাহ্নবা দেবীর কাকা)মীনকেতন,রামদাস, মুরারি চৈতন্য,জ্ঞানদাস,পরমেশ্বরী দাস,বলরাম দাস ও শ্রীবৃন্দাবন দাস ঠাকুর প্রভৃতি নিত্যানন্দের প্রিয়তম ভক্তগণ।* *জাহ্নবা মাতা প্রথমে ভক্তগণ সঙ্গে অম্বিকা কালনাসতাঁর কাকা শ্রীগৌরীদাস পন্ডিতের গৃহে এলেন,গৌরীদাস পন্ডিতের শিষ্য শ্রীহৃদয় চৈতন্য দাস অতি সাদরে ঈশ্বরী জাহ্নবা মাতাকে ও যাবতীয় ভক্তবৃন্দকে অভ্যর্থনা করলেন।*
*জাহ্নবা মাতা সেখানে স্বহস্তে রন্ধন করে শ্রীগৌরনিত্যানন্দকে ভোগ লাগান।একরাত সেখানে মহোৎসব করে নবদ্বীপে এলেন।মহাপ্রভুর গৃহে এসে এবার শচীমাতারদর্শন না পেয়ে,* *তাঁর বিরহে জাহ্নবা মাতা বহু খেদ করলেন।শ্রীপতি ও শ্রীনিধি এসে শ্রীঈশ্বরীকে অতি আদর করে নিজ গৃহে নিয়ে গেলেন।* *সেখানে শ্রীঈশ্বরী শ্রীবাস পন্ডিত ও মালিনীদেবীর চরণ দর্শন না পেয়ে অত্যন্ত কাতর হৃদয়ে কত ক্রন্দন করলেন।একদিন সেখানে থেকে শান্তিপুরে আগমন করেন।অদ্বৈতাচার্য্য ও সীতাঠাকুরাণীর অপ্রকটে জাহ্নবামাতা বহু খেদ করলেন।* *আচার্য্যের পুত্র শ্রীঅচ্যুতানন্দ ও শ্রী গোপাল বনু আদর পূর্বক জাহ্নবা মাতাকেও তাঁর সঙ্গী সমস্ত বৈষ্ণবগণকে সৎকার করেন।* *অনন্তর জাহ্নবা মাতা ভক্তগণ সঙ্গে কন্টকনগর হয়ে তেলিয়াবুধরি গ্রামে এলে,শ্রীরামচন্দ্র কবিরাজের ভাই শ্রীগোবিন্দ কবিরাজ শ্রীঈশ্বরীকে বহু সম্মান পুরঃসর পূজা এবং সৎকার করেন।* *একরাত সেখানে থেকে খেতরি গ্রাম অভিমুখে রওনা হলেন।রাজা সন্তোষ দত্ত পদ্মানদী পারের ব্যবস্থা এবং পালকী করে সেখান হতে খেতরি গ্রাম পর্যন্ত যাবার ব্যবস্থা সুন্দরভাবে করে রেখেছিলেন।* *রাজা সন্তোষ দত্ত মার্গের বহু দূর এসে জাহ্নবামাতাকে ও সমস্ত বৈষ্ণবগণকে পুষ্প মাল্যাদি দিয়ে স্বাগত জানান।* *বৈষ্ণবগণ মহাসংকীর্তন মুখে খেতরিগ্রামে প্রবেশ করেন।এই সময় শ্রীনিবাস আচার্য্য, শ্রীনরোত্তম দাস ঠাকুর ও শ্যামানন্দ প্রভু অগ্রসর হয়ে তাঁদের স্বাগত জানান এবং সাষ্টাঙ্গে দন্ডবৎ প্রণাম করেন।* *বৈষ্ণবগণ পরস্পর প্রেমে আলিঙ্গন করতে লাগলেন।চতুর্দিক মহা আনন্দ-কোলাহলে মুখরিত হল।* *রাজা সন্তোষ দত্ত জাহ্নবামাতার জন্য ও বৈষ্ণবগণের জন্য নবনির্মিত সুন্দর গৃহ এবং দুটি করে ভৃত্য ও যাবতীয় সেবা ব্যবস্থা আগে থেকেই করে রেখে ছিলেন।*
*জাহ্নবামাতা ও বৈষ্ণবগণ নিজ নিজ ভবনে প্রবিষ্ট হলেন এবং প্রসাদ গ্রহণ অন্তে বিশ্রাম করলেন।* *রাজা সন্তোষ দত্তের সেবা পরিপাটি দেখে সকলেই পরম সুখী হলেন।*
*ক্রমশ*
*জাহ্নবা মাতা (চার*)
*পরদিন গৌরসুন্দরের শুভ আবির্ভাব তিথি।নবনির্মিত মন্দিরে ছয়টি বিগ্রহ প্রতিষ্ঠা হবার বিপুল আয়োজন হতে লাগল।সন্ধ্যায় অধিবাস সংকীর্তন।শ্রীখন্ডের রঘুনন্দন ঠাকুর মঙ্গল অধিবাস কীর্তন আরম্ভ করলেন।খেতরি গ্রাম লোকে লোকে পূর্ণ হল। সভা মধ্যে নিত্যানন্দ শক্তি জাহ্নবামাতা খুবই শোভা পেতে লাগলেন।তাঁকে দর্শন করে এবং বৈষ্ণবগণের দর্শন পেয়ে ও কীর্তন শ্রবণ করে পাপী-পাষন্ডীগণও পরম শুদ্ধ হলেন।সকলে গৃহ কার্য্যাদি পরিত্যাগ করে বৈষ্ণব দর্শন ও মধুর কীর্তন শ্রবণে মগ্ন হলেন।সকলে আনন্দ সমুদ্রে ভাসতে লাগলেন।বৈকুন্ঠানন্দে সকলে নিমগ্ন।মধ্যরাত পযর্ন্ত অধিবাস কীর্তন মহোৎসব হল।* *🌻দ্বিতীয়দিনে মহাসমারোহে শ্রীনিবাস আচার্য্য স্বয়ং ছয়টি বিগ্রহের অভিষেক কার্য্যাদি করলেন। শ্রীনরোত্তম ঠাকুর মহাশয় বৈষ্ণবগণের ও জাহ্নবামাতার আদেশে কীর্তন আরম্ভ করলেন।সেই কীর্তনে স্বয়ং স্বপার্ষদ শ্রীগৌর-নিত্যানন্দ আবির্ভূত হলেন। এ দিনে যে কি সুখ-সিন্ধু খেতরি গ্রামে উদ্বেলিত হয়েছিল তা কে বর্ণন করতে পারে?সে উৎসব এক স্মরণীয় ঘটনা বলিয়া খ্যাতি লাভ করল।🌻তৃতীয় দিবসে মহামহোৎসব।শ্রীবিগ্রহগণের জন্য স্বয়ং জাহ্নবামাতা ভোগ রন্ধন করলেন।*
*শ্রীজাহ্নবা ঈশ্বরী পরম হর্ষ হৈয়া।*
*প্রাতঃকালে করিলেন স্নানাহ্নিক ক্রিয়া।।*
*পরম উৎসাহে কৈল অপূর্ব রন্ধন।*
*অন্ন ব্যঞ্জনাদি যত না হয় বর্ণন।।*
*(ভক্তিরত্নাকর দশম তরঙ্গ=৬৮৬-৬৮৭)*
*মহামহোৎসবের প্রসাদ মহান্নগণকে স্বয়ং জাহ্নবামাতা পরিবেশন করলেন।সবশেষে জাহ্নবামাতা প্রসাদ গ্রহণ করলেন।জাহ্নবামাতার চরিত্রে বৈষ্ণব মহান্তগণ পরম মুগ্ধ হলেন।* *জাহ্নবামাতা খেতরির উৎসব শেষ করে ভক্তবৃন্দ সাথে শ্রীবৃন্দাবনাভিমুখে যাত্রা করলেন।পথে প্রয়াগ,কাশী হয়ে মথুরায় এলেন।শ্রীকৃষ্ণের আবির্ভাব ভূমি দর্শন,আদি কেশব ও বিশ্রাম ঘাটে স্নানাদি করে বৃন্দাবনে আগমন করলেন। জাহ্নবামাতাকে অভ্যর্থনা করবার জন্য বৃন্দাবন হতে বৈষ্ণবগণ মথরায় এলেন।শ্রীপরমেশ্বরী দাস বৈষ্ণবগণের পরিচয় জাহ্নবামাতার নিকট বলতে লাগলেন।*
*ইঁহ শ্রীগোপালভট্ট গৌর প্রেমময়।*
*এই ভূগর্ভ,লোকনাথ গুণালয়।।*
*কৃষ্ণদাস ব্রহ্মচারী,এ শ্রীকৃষ্ণ পন্ডিত।*
*শ্রীমধু পন্ডিত,ইঁহ শ্রীজীব বিদিত*।।
*ঐছে সকলের নাম ক্রিয়া জানাইল।*
*শুনি ঈশ্বরীর মহা আনন্দ বাঢ়িল*।।
*(ভক্তিরত্নাকর ১১ তরঙ্গ=১০৪-১০৬)*
*শ্রীগোস্বামীগণ জাহ্নবামাতার নিকট এসে তাঁকে প্রণাম করতেই তিনিও তাঁদের প্রতি প্রণাম করলেন।জাহ্নবামাতা,গোস্বামীগণের প্রেম চেষ্টা নিরীক্ষণ করে বড় আনন্দিত হলেন।তারপর শ্রীগোবিন্দদেব,শ্রীগোপীনাথ,শ্রীমদনমোহন ও শ্রীরাধারমণ প্রভৃতি বিগ্রহ দর্শন করলেন।গোস্বামীগণ শ্রীঈশ্বরীর থাকবার উত্তম ব্যবস্থা করেছিলেন।কয়েকদিন তিনি বৃন্দাবনে থাকবার পর গোবর্ধন,রাধাকুন্ড,শ্যামকুন্ড প্রভৃতি দর্শনের জন্য বেড়িয়ে পড়লেন।শ্রীভগবানের লীলাস্থলী সকল দর্শনে জাহ্নবামাতার যে সমস্ত দিব্যভাব সব উদয় হয়েছিল তা বর্ণনাতীত।কিছুদিন অতি সুখে বৃন্দাবনধাম ভ্রমণ করবার পর তিনি গৌড়দেশে প্রত্যাবর্তন করেন বা ফিরে গেলেন। গৌড়মন্ডলে পৌঁছে জাহ্নবামাতা প্রথমে খেতরি গ্রামে এলেন।শ্রীনরোত্তম,শ্রীরাচন্দ্র কবিরাজ প্রভৃতি বৈষ্ণবগণ অগ্রসর হয়ে তাঁকে স্বাগত অভ্যর্থনা জানালেন। কয়েকদিন তিনি সেখানে থাকবার পর বুধরি গ্রামে এলেন।বুধরি গ্রামে বংশীদাসের ভাই শ্রীশ্যামদাস চক্রবর্তী বাস করতেন।*
ক্রমশ
*জাহ্নবা মাতা (৫)*
*তাঁর কন্যা হেমলতাকে বড় গঙ্গাদাসের সঙ্গে ঈশ্বরী বিবাহের প্রস্তাব করলে শ্রীশ্যামদাস ঈশ্বরীর আদেশমত বড় গঙ্গাদাসকে কন্যা দান করলেন।বিবাহের পর ঈশ্বরী বড় গঙ্গাদাসকে শ্যামসুন্দর জীউর সেবা ভার দিলেন।কয়েকদিন জাহ্নবামাতা বুধরি গ্রামে থাকবার পর নিত্যানন্দ প্রভুর জন্মস্থান দর্শনের জন্য একচক্রা গ্রামে এলেন।নিত্যানন্দ প্রভুর জন্মস্থান দর্শন, পিতা হাড়াই পন্ডিতের ও মাতা পদ্মাবতী দেবীর কথা শুনেই জাহ্নবামাতা শ্বশুর-শাশুড়ীর কথা স্মরণ পূর্বক অশ্রুসিক্ত নয়নে ক্রন্দন করতে লাগলেন। একচক্রা গ্রামের কোন এক ব্রাহ্মণ নিত্যানন্দ প্রভুর বাল্যলীলা স্থান সকল দর্শনাদি করালেন জাহ্নবামাতাকে, দেখে তিনি অতীত মনে করতে লাগলেন।*
*যদ্যপি ভবন শূন্য ভগ্ন অতিশয়।*
*তথাপি কার না চিত্ত আকর্ষয়?*
*নিত্যানন্দ লীলাস্থলী করিয়া দর্শন*।
*হৈলা প্রেমাবিষ্ট যৈছে না হয় বর্ণন।।*
*সে দিবস ভগ্ন ভবনেতে বাস কৈলা।*
*শ্রীনাম-কীর্তনে কথো রাত্রি গোঙাইলা।।*
*(শ্রীভক্তিরত্নাকর দশম তরঙ্গে)*
*একরাত একচক্রাপুরে থাকবার পর কন্টকনগরে এলেন।মহাপ্রভুর সন্ন্যাস স্থান দর্শন করে ঈশ্বরী ক্রন্দন করতে লাগলেন।সেখান হতে যাজীগ্রামে শ্রীনিবাস আচার্য্য গৃহে প্রবেশ করলেন।শ্রীনিবাস আচার্য্য বৈষ্ণবগণসহ বহু ভক্তি পুরঃসর শ্রীঈশ্বরীকে অভ্যর্থনা পূর্বক নিজ গৃহে নিলেন এবং তাঁর পূজাদি করলেন।* *আচার্য্য ভার্য্যাদ্বয় জাহ্নবামাতার সেবায় মগ্ন হলেন।কয়েকদিন যাজীগ্রামে অবস্থান করে জাহ্নবামাতা নবদ্বীপে শ্রীগৌরসুন্দরের জন্মস্থান দর্শনে এলেন।এ সময়ে শ্রীগৌর গৃহে একমাত্র বৃদ্ধ শ্রীঈশান ঠাকুর ছিলেন।শ্রীগৌরসুন্দরের ভবনে প্রবেশ করতেই ঈশ্বরী প্রেমাবেশে মূর্ছিত হয়ে পড়লেন।ভক্তগণ তাঁর তাদৃশ(সেইরকম) প্রেমাবেশ দেখে তাঁরাও প্রেমে ক্রন্দন করতে লাগলেন।* *মহাপ্রভুর ভবন থেকে ঈশ্বরী শ্রীবাস অঙ্গনে এসে তথায় রাত্রিবাস করলেন।রাত্রিকালে শ্রীবাস অঙ্গনে ভক্তগণ মহাসংকীর্তন নৃত্যাদি করলেন।ঈশ্বরী রাত্রে স্বপ্নে শ্রীগৌরসুন্দরের ভক্তগণসহ বিচিত্র লীলা বিলাসাদির দর্শন পেলেন।পরদিন বারবার নবদ্বীপ ধামকে বন্দনা করে অম্বিকা কালনা অভিমুখে যাত্রা করলেন।* *পুনঃ জাহ্নবামাতার শুভাগমনে অম্বিকাবাসী ভক্তগণ আনন্দে আত্মহারা হলেন।ঈশ্বরী গৌরীদাস পন্ডিতকে স্মরণ পূর্বক ক্রন্দন করতে করতে শ্রীগৌড়-নিত্যানন্দের শ্রীপাদপদ্মযুগল বন্দনা করলেন।ভক্তগণ সংকীর্তন আরম্ভ করলে সে মহাসংকীর্তনে শ্রীগৌর-নিতাইয়ের আবির্ভাব হল।রাত্রে ঈশ্বরী রন্ধন করে শ্রীগৌর নিত্যানন্দকে ভোগ অর্পণ করলেন।সেই প্রসাদ ভক্তগণকে দিয়ে স্বয়ং গ্রহণ করলেন।রাত্রে বিশ্রামকালে,স্বপ্নে গৌরীদাস পন্ডিত ও শ্রীগৌর নিত্যানন্দের দর্শন পেলেন।* *সকলেই জাহ্নবামাতাকে আশীর্বাদ করলেন।পরদিন জাহ্নবামাতা ভক্তদের থেকে বিদায় নিয়ে শ্রীউদ্ধারণ দত্ত ঠাকুরের গৃহে এলেন।সেখানে একরাত মহোৎসব করবার পর নৌকা যোগে নিজ গৃহে খড়দহ গ্রামে পৌঁছালেন।* *খড়দহবাসী ভক্তগণের আনন্দের সীমা রইল না।অতি উল্লাসের সঙ্গে সকলেই জাহ্নবামাতাকে দর্শন করবার জন্য অগ্রসর হলেন।ভক্তগণ সংকীর্তনসহ ঈশ্বরীকে অভ্যর্থনা করলেন।* *পুত্র বীরচন্দ্র ও কন্যা শ্রীগঙ্গা ঈশ্বরীর চরণ বন্দনা করতেই তিনি তাঁদের কোলে তুলে নিয়ে আনন্দে চিবুক ঘ্রাণ নিতে লাগলেন।ঈশ্বরী বসুধাদেবীকে প্রণাম করতেই উভয়ের প্রেমোচ্ছাস হল।অতঃপর ঈশ্বরী ভক্তগণের কাছে ব্রজমন্ডলের ও গৌড়মন্ডলের যাবতীয় ভ্রমণ বৃত্তান্ত বলতে লাগলেন।* *শ্রীপরমেশ্বরী দাস ঈশ্বরীর সেবায় রইলেন।অন্যান্য বৈষ্ণবগণ বিদায় গ্রহণ করলেন।*
*জাহ্নবামাতা গৌড়মন্ডল ও ব্রজমন্ডল ভ্রমণ করে গৌড়ীয় বৈষ্ণবসমাজে এক অপূর্ব কীর্তি রেখে গেছেন।ঈশ্বরী প্রেমভক্তির আধার এবং অভিন্ন নিত্যানন্দ-স্বরূপিনী। বহু পাপী পাষন্ডীকে তিনি উদ্ধার করেছেন।তাঁর দিব্য ঐশ্বর্য্য ও মাধুর্য্যে সকলেই আকৃষ্ট হয়েছেন।* *বৈশাখ শুক্লাষ্টমীতে শ্রীনিত্যানন্দ শক্তি শ্রীজাহ্নবামাতা আবির্ভূতা হন।*
*শ্রীভক্তিবিনোদ ঠাকুর জাহ্নবামাতার শ্রীচরণে এরকম প্রার্থনা করেছেন=*
*ভবার্ণবে প'ড়ে মোর আকুল পরাণ।*
*কিসে কূল পা'ব তা'র না পাই সন্ধান।।*
*না আছে করম-বল,নাহি জ্ঞান-বল।*
*যাগ-যোগ-তপোধর্ম, না আছে সম্বল।।*
*নিতান্ত দুর্বল আমি,না জানি সাঁতার।*
*এ বিপদে কে আমারে করিবে উদ্ধার।।*
*বিষয়-কুম্ভীর তাহে ভীষণ-দর্শন।*
*কামের তরঙ্গ সদা করে উত্তেজন।।*
*প্রাক্তন-বায়ুর বেগ সহিতে না পারি।*
*কাঁদিয়া অস্থির মন,না দেখি কান্ডারী।।*
*ওগো জাহ্নবাদেবী!এ দাসে করুণা।*
*কর'আজি নিজ গুণে,ঘুচাও যন্ত্রণা।।*
*তোমার চরণ-তরী করিয়া আশ্রয়*
*ভবার্ণব পার হব করেছি নিশ্চয়।।*
*তুমি নিত্যানন্দ-শক্তি কৃষ্ণভক্তি-গুরু।*
*এ দাসে করহ দান পদকল্পতরু।।*
*কত কত পামরেরে ক'রেছ উদ্ধার*
*তোমার চরণে আজ এ কাঙ্গাল ছার।।*
*🙏বানান,ভুল ভ্রান্তি মার্জনীয়🙏*
পূর্ণ জাহ্নবা মাতা।
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
👇👇👇এই লিখনী 📚 PDF 📚 ক্লিক করুন 👇👇👇
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️
꧁ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ📱7001138871꧂
নিবাস- বাঁশবাড়ী, কীর্তন মন্দিরের পাশে, পোঃ- বাঁশবাড়ী, থানা- ইংরেজ বাজার, জেলা- মালদহ, পশ্চিমবঙ্গ, পিন কোড- ৭৩২১০১।
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏
আমায় দেওয়া ওনার এই অমূল্য লিখনী সেবা, তা সকলের মধ্যে প্রকাশ করলাম। ওনার এই অমূল্য দান সমগ্র বৈষ্ণব সমাজ অনন্তকাল মনে রাখিবে।
🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
*••••┉━❀꧁ 🙏 রাধে রাধে 🙏 ꧂❀━┅••••*
*••••┉━❀꧁ 🙏 রাধে রাধে 🙏 ꧂❀━┅••••*
শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য প্রভু নিত্যানন্দ
হরে কৃষ্ণ হরে রাম শ্রীরাধেগোবিন্দ।।
*••••┉━❀꧁ 🙏 জয় জগন্নাথ 🙏 ꧂❀━┅••••*
হরে কৃষ্ণ হরে কৃষ্ণ কৃষ্ণ কৃষ্ণ হরে হরে
হরে রাম হরে রাম রাম রাম হরে হরে॥
*••••┉━❀꧁ 🙏 জয় রাধাকান্ত 🙏 ꧂ ❀━┅••••*
💮❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀💮
💮❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀💮
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧






