শ্রী মৃন্ময় নন্দী কর্ত্তৃক সকল ভক্ত👣চরণে👣অসংখ্যকোটি 🙇প্রণাম🙇 ক্লিক করুন 👇

শ্রী মৃন্ময় নন্দী কর্ত্তৃক সকল ভক্ত👣চরণে👣অসংখ্যকোটি 🙇প্রণাম🙇 ক্লিক করুন 👇
PREM BHAKTI CHANDRIKA লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
PREM BHAKTI CHANDRIKA লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

ওরে ভাই! ভজ মোর গৌরাঙ্গ-চরণ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2022/09/blog-post_6.html

  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
        ꧁ ওরে ভাই! ভজ মোর গৌরাঙ্গ-চরণ 
       এই লিংকে 👇👇👇🙏👇👇👇 ক্লিক করুন 
            ꧁ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ ꧂
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
  ꧁ টিকা বা অন্যান্য ধর্মীয় লিখনী 🙏 সূচীপত্র 
       এই লিংকে 👇👇👇🙏👇👇👇 ক্লিক করুন 
          ꧁ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ ꧂
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
*ওরে ভাই! ভজ মোর গৌরাঙ্গ-চরণ।*
*না ভজিয়া মৈনু দুখে,ডুবি গৃহ-বিষকূপে,*
     *দগ্ধ কৈল এ পাঁচ পরাণ।।*
*তাপত্রয় বিষানলে,অহর্নিশি হিয়া জ্বলে,*
     *দেহ সদা হয় অচেতন।*
*রিপুবশ ইন্দ্রিয় হৈল,গোরাপদ পাসরিল,*
     *বিমুখ হৈল হেন ধন।।*
*হেন গৌর দয়াময়,ছাড়ি সব লাজ ভয়,*
     *কায়মনে লহরে শরণ।*
*পামর দুর্মতি ছিল,তারে গোরা উদ্ধারিল,*
     *তারা হৈল পতিতপাবন।।*
*গোরা দ্বিজ নটরাজে,বান্ধহ হৃদয়-মাঝে,*
     *কি করিবে সংসার শমন।*
*নরোত্তম দাসে কহে,গোরা সম কেহ নহে,*
    *না ভজিতে দেয় প্রেমধন।।*
*🌳ঠাকুরমহাশয় এই প্রার্থনায় গৌরাঙ্গ ভজনের উপদেশ দিচ্ছেন।মনকে বলছেন,ওরে ভাই!"ভজ মোর গৌরাঙ্গচরণ" সহোদর ভ্রাতা যেমন সঞ্চিত পৈতৃক-সম্মদের সমান অধিকার পেয়ে থাকে বা সুখ-দুঃখের তুল‍্য ভোগ পেয়ে থাকে,তদ্রুপ দেহ-দৈহিকাদিতে অভিনিবেশবশতঃ (মনোযোগবশতঃ) জীব যে ত্রিতাপ জ্বালাদি ভোগ করে থাকে,মনকেও তা ভোগ করতে হয়।* *এইজন‍্য বলা হয় জগতে মায়াবদ্ধ মানুষ আধি-ব‍্যাধি ভোগ করে থাকে,মনের পীড়ায় আধি(মানসিক পীড়া,মানসিক ক্লেশ) এবং দেহের পীড়া ব‍্যাধি।সেইরকম আবার জীব যখন ভজনরসের আস্বাদন প্রাপ্ত হয় বা পেয়ে যায়,মনও ভগবানের নাম,রূপ,গুণ,লীলার রসমাধুরী আস্বাদনে ধন‍্য হয়। তাই বুদ্ধিমান মানুষ মনকে বুঝিয়ে বিষয়াভিনিবেশ (বিষয় ভাবনা )হতে প্রতিনিবৃত্ত(প্রতি=পুনর্বার,নিবৃত্তি=ফিরে আসা।)করে ভগবানের ভজনে প্রবৃত্ত (রত) করবেন।*
*প্রেমের মূরতি ঠাকুরমহাশয়ের প্রেমময় মন সবসময় ভজনরসে নিমগ্ন (ডুবে)থাকলেও ভক্তির অতৃপ্তিভাববশত ভজনসাধনহীন সাধারণ মানুষের মতো মনের কাছে প্রার্থনা করে বিশ্বসাধককে এই মূল‍্যবান শিক্ষাটি দান করছেন।*
*যেহেতু মনই সাধকের ভগবদ্ভজনের পরম সহায়। অথবা মনকে শিক্ষাদানের ব‍্যপদেশে(অছিলায়) ঠাকুরমহাশয় শ্রীগৌরাঙ্গের যুগের অনন্তকোটি ব্রহ্মান্ডের বিশ্বসাধকগণকে "ভাই"বলে সম্বোধন করে তাদেরকে শ্রীগৌরভজনের প্রেণা দিচ্ছেন।*
*ব্রছের ঠাকুর স্বয়ং শ্রীকৃষ্ণ এই বিশেষ কলিতে শ্রীরাধার ভাব কান্তি নিয়ে গৌরাঙ্গ হয়েছেন।* *তাই শ্রীমৎ রূপগোস্বামীপাদ লিখেছেন=*
*"ন চৈতন‍্যাৎ কৃষ্ণাজ্জগতি পরতত্ত্বং পরমিহ" ""শ্রীকৃষ্ণচৈতন‍্য অপেক্ষা বিশ্বে আর কোন শ্রেষ্ঠ পরতত্ত্ব নাই। পরতত্ত্বের উপাসনা নিখিল শ্রুতিশাস্ত্র প্রসিদ্ধ। "চরণ" শব্দটি ভক্তিভরেই যুক্ত হয়েছে, সুতরাং "গৌরাঙ্গচরণ" বলতে শ্রীগৌরাঙ্গের ভজনই উপদেশ দেওয়া হয়েছে।* *এখানে "ভজন" বলতে শ্রীমদ্ভাগবত-প্রতিপাদিত শ্রবণ-কীর্তনাদি নববিধা ভক্তির কথাই বলা হয়েছে।* *এই গৌরের যুগের মানুষ শ্রীগৌরাঙ্গকে উপাস‍্য বা ভজনীয় বিষয় তত্ত্বরূপে গ্রহণ করে শ্রবণ-কীর্তনাদি নববিধা ভক্তির দ্বারা তাঁর ভজন করবেন।*
*এই বিশেষ কলিতে প্রেমসম্পদ্ লাভের জন্য প্রেমাবতার শ্রীগৌরাঙ্গের উপাসনাই শাস্ত্রসম্মত।* *প্রথিতযশা *পন্ডিত শিরোমণি বাসুদেব সার্বভৌম প্রভৃতিও শ্রীগৌরাঙ্গের মহৈশ্বর্য‍্য প্রত‍্যক্ষ করে তাঁকে কলিযুগের উপাস‍্যরূপে গ্রহণ করেছেন।পরম বিদ্বান্ শ্রীগৌরাঙ্গ-পার্ষদবর শ্রীপ্রবোধানন্দ সরস্বতীপাদ লিখেছেন, (শ্রীচৈতন‍্যচন্দ্রামৃতম্ =২০)*
*শ্রবণমননসংকীর্ত‍্যানাদিভক্ত‍্যা মুরারের্যদি পরমপুমর্থং সাধয়েৎ কোহপি ভদ্রম্।*
*মম তু পরমপারপ্রেমপীযূষসিন্ধোঃ কিমপি রসরহস‍্যং গৌরধাম্নো নমস‍্যম্।।*
*🌻""অর্থ‍্যাৎ যদি কোন ভাগ‍্যবান জন মুরারীর শ্রবণ,মনন,সংকীর্তনাদি ভক্তির দ্বারা পরমপুরুষার্থ লাভে সমর্থ হন খুবই ভাল, কিন্তু অপার প্রেমমৃতসিন্ধু শ্রীগৌরাঙ্গের রসরহস‍্যই আমার ভজন।""* *প্রশ্ন হতে পারে,শ্রীরাধাকৃষ্ণের মিলিত বিগ্রহই শ্রীগৌরসুন্দর এবং তিনি বিশ্বমানবকে শ্রীরাধাকৃষ্ণের মধুররসের উপাসনাই দান করেছেন সুতরাং শ্রীরাধাকৃষ্ণের ভজন করলেই তো গৌরাঙ্গের ভজন হল আবার পৃথকভাবে বিষোতত্ত্বরূপে শ্রীগৌরাঙ্গের উপাসনার প্রয়োজন কি? এই প্রশ্নের উত্তর শ্রীপাদ প্রবোধানন্দ সরস্বতীই দিয়েছেন (ঐ=২৭)*
*ভ্রাতঃ কীর্তয় নাম গোকুলপতেরুদ্দাম-নামাবলীং যদ্বা ভাবয় তস‍্য দিব‍্যমধুরং রূপং জগন্মঙ্গলম্।*
*হন্ত প্রেমমহারসোজ্জ্বলপদে নাশাপি তে সম্ভবেৎ শ্রীচৈতন‍্যমহাপ্রভোর্যদি কৃপাদৃষ্টিঃ পতেন্ন ত্বয়ি।।*
*🌻""হে ভ্রাতঃ!তুমি শ্রীকৃষ্ণের সর্বসমর্থ নামাবলী উচ্চৈঃস্বরে কীর্তনই কর,অথবা তাঁর জগন্মঙ্গল দিব‍্যমধুর শ্রীমূর্তিই ধ‍্যান কর, যদি শ্রীচৈতন‍্যের করুণাদৃষ্টি তোমাতে না পরে,তবে মহাপ্রেমময় উজ্জ্বলরস আস্বাদনের আশা কখনই পূর্ণ হবে না।* *শ্রীগৌরাঙ্গের কৃপাতেই সাধক মঞ্জরী স্বরূপে ব্রজে শ্রীশ্রীরাধামাধবের রহস‍্যময় প্রেমসেবা লাভে ধন‍্য হবেন, এটিই এই সন্দর্ভের মর্মার্থ।* *🌻তারপর বললেন,"না ভজিয়া মৈনু দুখে, ডুবি গৃহ বিষকূপে,দগ্ধ কৈল এ পাঁচ পরাণ", ঠাকুরমহাশয় শ্রীগৌরাঙ্গভজন বিমুখ জনের দুরবস্থা বা দুর্গতির কথা বলছেন।শ্রীগৌরাঙ্গ না ভজে গৃহরূপ বিষকূপে ডুবে দুঃখে মরলাম। বিষকূপের দুইরকম ব‍্যাখ‍্যা হতে পারে, যে কূপ জ্বালাময় বিষজলে পরিপূর্ণ তা বিষকূপ,আবার অরণ‍্যের মধ্যে থাকা কূপ যাতে সাপ বৃশ্চিকাদি বিষধর প্রাণীসব বাস করে, তাতে পড়ে যাওয়া মানুষের,তাদের দংশনে দেহ জ্বালাময় হয়ে যায়,তাহাও বিষকূপ।গৃহই বিষকূপ, এই গৃহেরও দুইপ্রকার ব‍্যাখ‍্যা হতে পারে, প্রথম গৃহ-বিষকূপ বলতে গৃহাশ্রম যেন বিষকূপের মতো জ্বালাময়।গৃহী মানুষ দেহ-দৈহিকাদিতে মনোনিবেশ বশত আমার স্ত্রী,পুত্র,অর্থ, সম্পদাদিতে আসক্ত হয়ে সবসময় এরকম অস্থির মনে কালাতিপাত করে যে,ভক্তি পথ আশ্রয়ের বা ভজনসাধনের সামর্থ রহিত হয়ে পশুর মত আহার নিদ্রা নিয়েই জীবন যাপন করে থাকে।*
*এই অবস্থাটি বিষকূপে থাকার মতো জীবের জ্বালাময় অবস্থা।সাধারণ মানুষের সেই জ্বালার অনুভব না হলেও সাধকের তা অনুভব হয়।যেমন সাপের মধ্যে বিষ থাকলেও সাপের নিজের সেই বিষজ্বালার অনুভব হয় না,বরং তা থাকলেই সে নির্বীষ হয়ে যায়, কিন্তু সে যখন অন‍্যপ্রাণীকে দংশন করে,তখন সেই প্রাণীর সেই জ্বালা অনুভব হয়। তেমনি সংসারী দশায় ঘর,দ্বার,স্ত্রী,পুত্র,অর্থ সম্পদ আদি সব সুখের বলে মনে হয়,এই সুখ না থাকলেই সংসারী জীব দুঃখ পায়, কিন্তু যখন সে ভজনপথে প্রবেশ করে,তখন সেই জড়ীয় বিষয়রূপ সাপ যেন তাকে দংশন করতে থাকে,তখনি সে-ই বলতে পারে ""না ভজিয়া মৈনু দুখে,ডুবি গৃহ-বিষকূপে""।*
       *ক্রমশ*

 *🙏গৌরভজন বিমুখ জনের আবার অতি নিদারুণ দুঃখের কথা বলছেন, "তাপত্রয় বিষানলে,অহনিশি হিয়া জ্বলে,দেহ সদা হয় অচেতন"। আধ‍্যাত্মিক,আধিভৌতিক ও আধিদৈবিক এই তাপত্রয় বা ত্রিতাপ জ্বালা, এদেরও বিষানলের মতো তীব্রজ্বালা। অতি উগ্র বিষধর সাপ দংশন করলে যেমন দেহ আগুনে পুড়ে গেল বলে মনে হয়,উহাই বিষানলের জ্বালা।দেহে রোগ,শোকাদি, আধি, ব‍্যাধি প্রভৃতি আধ‍্যাত্মিক তাপ ; চোর,দস‍্যু,শত্রু প্রভৃতি কর্তৃক তাপ আধিভৌতিক এবং অতিবৃষ্টি,অনাবৃষ্টি জনিত দুর্ভিক্ষ, বজ্রপাত,ভূমিকম্পন ইত‍্যাদির তাপই আধিদৈবিক তাপ।*
*এর জ্বালাও অতি ভয়ংকর,ভজন ছাড়া এই তাপত্রয়ের জ্বালা হতে মুক্তিলাভের কোন উপায় নাই। কথা আসতে পারে,যাঁরা ভজন করেন,তাঁদেরকেও তো এই ত্রিতাপজ্বালা ভোগ করতে দেখা যায়।তাঁদের দৈহেও রোগ,ব‍্যাধি দেখা যায়,তাঁদের প্রতিও চোর,দস‍্যুর উৎপাত দেখা যায় এবং দুর্ভিক্ষ,ভূমিকম্প আদির তাপ তাঁদেরকেও ভোগ করতে হয়। সুতরাং ভজনের দ্বারা যে ত্রিতাপজ্বালার উপশম (শান্তি) হয়ে থাকে,এর প্রমাণ কি?* *ইহার উত্তরে বলা হয়েছে,ত্রিতাপজ্বালার নাশ ভজনের ফল নয়,ভজনের মুখ‍্যফল ভগবানের নাম,গুণ,লীলারসের আস্বাদন,প্রেমপ্রাপ্তি এবং ভগবৎসেবাপ্রাপ্তি।ভগবদ্ভক্তজনের সঙ্গফলেই ত্রিতাপজ্বালার শান্তি হয়ে থাকে!যদিও ভগবান বা ভক্তিমহারাণী ভক্তির রহস‍্যত্ব রক্ষণের জন্য ভক্তের দেহেও ঐ ত্রিতাপাদি দেখিয়ে থাকেন কিন্তু বহির্মুখের মতো উহার কিছুমাত্র জ্বালা তাঁদের অন্তরে অনুভূত হয় না।তাঁরা ভজনরসের আস্বাদনে এতাদৃশ(এইরকম)তন্ময়(বিভোর) হয়ে থাকেন যে,ভজননিষ্ঠ ভক্তের মনের উপর ত্রিতাপাদির কোন প্রভাবই পড়ে না।* *কিন্তু তা তাঁদের দৈন‍্য-আর্তি বাড়িয়ে খুব তাড়াতাড়িই প্রেমপ্রাপ্তি ঘটিয়ে ভক্তের পরম হিতসাধনই করে থাকে।* *আবার বললেন, "রিপুবশ ইন্দ্রিয় হৈল,গোরাপদ পাসরিল,বিমুখ হইল হেন ধন"।*
*ইন্দ্রিয়ের দ্বারা ভগবানের সেবার নামই "ভক্তি"।* *""হৃষীকেণ হৃষীকেশসেবনং ভক্তিরুচ‍্যতে"", (নারদপঞ্চরাত্র),চক্ষোর দ্বারা শ্রীভগবদ্বিগ্রহ ও ভক্তের বিগ্রহ দর্শন,কর্ণের দ্বারা হরিনাম ও হরিকথা শ্রবণ,জিহ্বার দ্বারা শ্রীহরির গুণলীলা কীর্তন,হাতের দ্বারা শ্রীহরির বিগ্রহার্চন,পদের দ্বারা হরিনাম-হরিকথা স্থানে,শ্রীধামে গমন, মনের দ্বারা ভগবানের স্মরণাদি সাক্ষাদ্ ভক্তি।*
       ক্রমাগত

 *🌻আবার "গ্রহ" ধাতু হতে "গৃহ" শব্দ নিষ্পন্ন,গ্রহণ ও আশ্রয়ার্থে "গ্রহ" ধাতুর প্রয়োগ হয়।যা আশ্রয় দেয়,তাহাই গৃহ। এই দেহরূপ গৃহটিই মায়াবদ্ধ জীবের প্রথম আশ্রয়।চিদানন্দসত্ত্বা জীব আনন্দ-স্বরূপ হয়েও কৃষ্ণবহির্মুখদশায় বহিরঙ্গা মায়ার অবদান এই দেহরূপ গৃহ প্রাপ্ত হয়েছে এবং দেহরূপ গৃহে মনোনিবেশ বশত অনাদিকাল হতে স্বীয় (নিজ) স্বরূপ বিস্মৃত হয়ে দেহকেই আমি জ্ঞান করে চৌরাশি লক্ষ যোনিতে অবর্ণনীয় দুঃখ ও জ্বালা ভোগ করে বেড়াচ্ছে। এ যে কিরকম বিষকূপের জ্বালা,তা সহজেই অনুমান করা যেতে পারে। যেমন খুব গভীর কূপে পড়ে গেলে সেই কূপ হতে উদ্ধারের জন্য নিজের কোন ক্ষমতা থাকে না,তেমনি জীব এই দেহরূপ গৃহকূপ হতে নিজ চেষ্টায় কিছুতেই উদ্ধার হতে পারছে না।এইরকম কূপে পড়ে যাওয়া ব‍্যক্তিকে যদি উপর হতে কোন কৃপালু ব‍্যক্তি এইটি বড় দড়ি কূপের মধ্যে ফেলে তাকে উদ্ধার করে, তেমনি এই দেহরূপ গৃহে পড়ে থাকা জীবকে সাধু, শাস্ত্র ও গুরু সাধনরূপ দড়ি দান করেছেন,তারা অতি দৃঢ়রূপে এই সাধন বা ভজনদড়িকে আশ্রয় করে থাকলে জীব এই বিষকূপ হতে উদ্ধার পেয়ে স্বরূপের জাগরণে আনন্দময় ভগবানের সেবা পেয়ে চিরতরে সুখী হতে পারেন।* *"কৃষ্ণনিত‍্যদাস জীব তাহা ভুলি গেল।সেই দোষে মায়া তার গলায় বান্ধিল।।তাতে কৃষ্ণ ভজে,করে গুরুর সেবন।মায়াজাল ছুটে পায় কৃষ্ণের চরণ"।।* *তাই দাসঠাকুর বলেছেন,"না ভজিয়া মৈনু দুখে,ডুবি গৃহ বিষকূপে"।*
*🌻আবার বললেন,"দগ্ধ কৈল এ পাঁচ পরাণ", প্রাণ,অপান,উদান,ব‍্যান ও সমান।এই পঞ্চ-প্রাণ দেহের মধ্যে অবস্থান করে।নিঃশ্বাস-প্রশ্বাসের বায়ুকে বলে "প্রাণ", নিম্নবায়ুই "অপান" বায়ু, উর্ধবায়ু "উদান", সারাদেহের বায়ু "ব‍্যান" নাভিমূলের বায়ু "সমান"।* *এই সমান বা নাভিমূলের বায়ুই প্রাণবায়ুকে আকর্ষণ বিকর্ষণ করে থাকে।এই পঞ্চপ্রাণই জীবধারণের উপায়।আয়ুর্বেদ শাস্ত্রে লেখা আছে,"প্রাণে" রক্তসঞ্চালন,"অপান"আহার্য‍্য চালন, "উদানে"বমন,উদ্গার,শ্বাস কাশাদি কার্য‍্য, "সমানে"পাচন ও "ব‍্যানে" সর্বাঙ্গে সামঞ্জস‍্য রক্ষিত হয়।* *এই বায়ুগুলি কুপিত(ক্রুদ্ধ)হলেই দেহে নানা রোগের আবির্ভাব হয় এবং দেহটি দুঃখের ঘর হয়ে থাকে।ঠাকুরমহাশয় বলছেন, গৌরাঙ্গ ভজন বিহনে আমার এই পঞ্চপ্রাণ পুড়ে গেল বা জ্বলে গেল।ভজনহীন দেহে জীব যে কত দুঃখে বসবাস করছে,এই মহদ অনুভবে তা কিঞ্চিত আভাস পাওয়া যায়।* *মাদৃশ(আমার মতো)ভজনবিমুখ জীবের এই জ্বালার কোন অনুভব নাই ; ইহাই মাদৃশ জীবের দূরদৃষ্টির নির্মম পরিহাস।*
        *ক্রমাগত*

*অন্তরে যে কাম ক্রোধাদি ষড়রিপু বাস করছে এই সব ইন্দ্রিয়কুল সবসময় তাদের অধীন রয়েছে,অর্থ‍্যাৎ প্রবল শক্তিশালী ঐ ষড়রিপু ভজন উপযোগী ইন্দ্রিয়বর্গকে বিষয়-বাসনায় আকর্ষণ করে ওদের ভজন বিমুখ করে তুলেছে।* * *সুতরাং ঠাকুরমহাশয় বলেছেন,ইন্দ্রিয়গণ সবসময় রিপুবশ হওয়ার ফলে শ্রীগৌরচরণ বা শ্রীগৌরাঙ্গকে বিস্মৃতি হল,গৌরাঙ্গের মতো পরম দুর্লভ ধন পেয়েও বিমুখহল।*


*🌻শ্রীপ্রবোধানন্দ সরস্বতীপাদ গৌরাঙ্গরূপ ধনের মহত্ত্ব নিরূপণ লিখেছেন।*
*সৌন্দর্য‍্যে কামকোটিঃ সকলজনসমাহ্লাদনে চন্দ্রকোটি-র্ব‍াৎসল‍্যে মাতৃকোটিস্ত্রিদশবিটপিনাং কোটিরৌদার্য‍্যসারে।*
*গাম্ভীর্য‍্যেহম্ভোধিকোটির্মধুরিমণি সুধাক্ষীরমাধ্বীককোটির্গৌরো দেবঃ স জীয়াৎ প্রণয়রসপদে দর্শিতাশ্চর্য‍্যকোটিঃ।।*
*🌻যিনি সৌন্দর্যে কোটি কোটি কন্দর্পের মতো সুন্দর,বিশ্বমানবের ত্রিতাপজ্বালার শান্তিবিধান পূর্বক তাদের পরমানন্দদানে যিনি কোটি চন্দ্রের মতো সুশীতল,যিনি বাৎসল‍্যে কোটি কোটি মাতৃতুল‍্য সুবৎসল,যিনি কোটি কল্পতরু অপেক্ষাও পরম উদার,যিনি কোটিসমুদ্রের মতো গম্ভীর,মাধুর্য‍্যে যিনি কোটি কোটি সুধা, ক্ষীর ও মধু অপেক্ষাও মধুর, যিনি প্রেমরস বিষয়ে কোটি কোটি আশ্চর্য‍্য অনুভাব(বোধ বা জ্ঞান) প্রদর্শন করেছেন,সেই লীলাময় শ্রীগৌরসুন্দর সর্বোৎকর্ষে বিরাজ করুন।* *তাই ঠাকুরমহাশয় বললেন, "হেন গৌর দয়াময়,ছাড়ি সব লাজ ভয়,কায়মনে লহ রে শরণ"।"পামর দুর্মতি ছিল,তারে গোরা উদ্ধারিল,তারা হৈল পতিতপাবন"।।* *দয়া বা কৃপা ভগবৎস্বরূপেরই অনন‍্যসম্পদ্।বিশ্বে যে পাঁচটি তত্ত্ব দেখা যায় =ঈশ্বর,জীব,কাল,কর্ম ও মায়া।এর মধ্যে ঈশ্বরেই করুণা বিরাজ করে,অপর চারটিতে করুণা নাই।করুণার প্রকৃত কাজই হচ্ছে,কৃষ্ণবিমুখ,স্বরূপভ্রান্ত(নিজের স্ব-রূপ কি না জানা বা ভুলে যাওয়া ) ও মায়াবদ্ধ জীবকে প্রেমদানে ধন‍্য করা।* *কাল,কর্ম,মায়া ও জীবের প্রেমদানের সামর্থ নাই।ভক্তজীবের মধ্যে উহা আছে কিন্তু প্রেমদানের উপযোগী ভগবানের করুণাই ভক্তের মধ্য হতে ক্রিয়াশীল হয়ে থাকেন বলে বুঝতে হবে।* *শ্রীগৌরহরি "দয়াময়" "দয়া" শব্দের উপর প্রাচুর্য‍্যার্থে "ময়ট" ময়ট মানে তৃণকুটীর, প্রত‍্যয় যুক্ত হয়েছে।শ্রীগৌরহরিতে পতিতপাবনী প্রচুর দয়া বিরাজ করে।অন‍্যান‍্য সমস্ত ভগবৎস্বরূপ অপেক্ষা শ্রীকৃষ্ণে অধিক(অত‍্যন্ত) দয়া বিরাজ করে বলে তিনি "পরম করুণ"।* *আবার তিনিই অপার করুণাসাগররূপিনী শ্রীরাধারাণীর ভাবকান্তি গ্রহণ করে গৌর হলেন। করুণাও একপ্রকার ভাব; সুতরাং শ্রীকৃষ্ণের করুণাসিন্ধুর সঙ্গে শ্রীরাধার করুণাসিন্ধু সম্মিলন (দুই এক হওয়াতে)হওয়ায় করুণাবারিধি বিশ্বব্রহ্মান্ডকে আপ্লাবিত করে তুলল।পামর,দুর্মতি প্রভৃতি সকলেই গৌরের প্রেমের বন‍্যায় ডুবে গেল। তারা নিজেই প্রেমলাভ করে ধন‍্য হল তা নয়,কিন্তু তারা আবার পতিতপাবন হয়ে বিশ্বকে উদ্ধার করবার সামর্থ ধারণ করল।* *প্রভুর দাক্ষিণাত‍্যে প্রেমপ্রচার বিষয়ে শ্রীকবিরাজ গোস্বামীপাদ চৈঃচঃ=*
*প্রেমাবেশে হাসি কান্দি নৃত‍্য গীত কৈলা।*
*দেখি সর্বলোকের চিত্তে চমৎকার হৈলা।।*
*আশ্চর্য‍্য শুনিসব লোক আইলা দেখিবারে।*
*প্রভুর রূপ-প্রেম দেখি হৈল চমৎকারে।।*
*দর্শনে বৈষ্ণব হৈলা-- বলে 'কৃষ্ণহরি'।*
*প্রেমাবেশে নাচে লোক উর্ধবাহু করি।।*
*কৃষ্ণ-নাম লোক মুখে শুনি অবিরাম।*
*সেই লোক বৈষ্ণব কৈল অন‍্য সব গ্রাম।।*
*এইমত পরম্পরায় দেশ বৈষ্ণব হৈল।*
*কৃষ্ণনামামৃত বন‍্যায় দেশ ভাসাইল।।*
*🌻অতএব লজ্জা ভয় সব ত‍্যাগ করে কায়মনে গৌরের চরণে শরণ গ্রহণ করতে হবে।কেহ কেহ মালা,তিলকাদি বৈষ্ণবচিহ্ন ধারণের জন্য লজ্জিত হয়ে ইচ্ছাসত্ত্বেও শ্রীগৌরচরণে আশ্রয় গ্রহণ করতে পারেন না।তিনি যাঁদের উপহাসের জন্য লজ্জিত হয়ে আধ‍্যাত্মিক সাধনা হতে বঞ্চিত হয়ে নিদারুণ ক্ষতিগ্রস্ত হন,সেই বন্ধু বান্ধবেরা কি তাঁর এই অপরিমিত ক্ষতির কিছু অংশ পূরণ করবেন?* *"নায়মাত্মা বলহীনেন লভ‍্যঃ", দুর্বলচেতা মানুষ কখনই ভগবানকে প্রাপ্ত হন না।*
*কেহ কেহ ভজন পথাশ্রয় করলে দেহ-দৈহিকাদির বিষয়ে ক্ষতি হবে ভেবে সেই ভয়ে গৌরচরণ আশ্রয় করতে পারেন না।* *কে বলতে যে কাল যে তার মৃত‍্যু সঙ্গে সঙ্গে দেহ- দৈহিকাদি বস্তুর সঙ্গে সমস্ত সম্পর্ক চিরতরে মুছে দিবে,সে স্মৃতি,সে ভয় কি তার নাই?যার জন্য মরণবারণ গৌরচরণাশ্রয়ে দেহ-দৈহিকাদির কিঞ্চিৎ ক্ষতির সম্ভাবনা তিনি ভজনপথাশ্রয় হতে বঞ্চিত হয়ে থাকেন।*
      ক্রমাগত

 *সুতরাং বুদ্ধিমান মানব কায়মনে শ্রীগৌরচরণে শরণ গ্রহণ করে ধন‍্য হবেন।"তবাস্মীতি বদন্ বাচা মনসা বিদন্"।"তৎস্থানমাশ্রিতস্তন্বা মোদতে শরণাগতঃ"।। অর্থ‍্যাৎ "আমি তোমার হলাম" এইরকম মন ও মুখ এককরে মুখে বলে মনেও সেইরকম জেনে,দেহের দ্বারা তাঁর লীলাস্থান আশ্রয় করে শরণাগত আনন্দলাভ করে থাকেন"।* *মানস শরণাগতিই প্রকৃত শরণাগতি।শ্রীগৌরচরণে শরণাগতির ফলও অতি অপূর্ব (শ্রীচৈতন‍্যচন্দ্রামৃতম্)=*
*সংসারষিন্ধুতরণে হৃদয়ং যদি স‍্যাৎ সঙ্কীর্তনামৃতরসে রমতে মনশ্চেৎ।*
*প্রেমাম্বুধৌ বিহরণে যদি চিত্তবৃত্তিশ্চৈতন‍্যচন্দ্রচরণে শরণং প্রযাতু।।*
*🌻হে ভ্রাতঃ!যদি তোমার দুষ্পার সংসারসিন্ধু উত্তরণের বাসনা থাকে,সংকীর্তন অমৃতরসে যদি তোমার মন মগ্ন হতে চায়,প্রেমামৃত সাগরে অবগাহন(ডুবতে বা স্নান করতে) করবার জন্য যদি তোমার চিত্ত উৎকণ্ঠিত হয় ; তবে শ্রীচৈতন‍্যচন্দ্রচরণে শরণ গ্রহণ কর।* *🌺অবশেষে বললেন,"গোরা দ্বিজ নটরাজে,বান্ধহ হৃদয় মাঝে,কি করিবে সংসার শমন"। নরোত্তম দাসে কহে,গোরাসম কেহ নহে,না ভজিতে দেয় প্রেমধন।।*
*🍀ব্রজে সর্বলীলামুকুটমণি রাসলীলায় যিনি সুমোহন নৃত‍্যভঙ্গিতে শতকোটি ব্রজবালাকে মুগ্ধ করেছিলেন,সেই ব্রজনটরাজ নটিনীর শিরোমণি শ্রীরাধার ভাবকান্তি নিয়ে গৌর হয়েছেন।এখন আর গোপ নহে,এখন হয়েছেন দ্বিজ,তাই "গোরা দ্বিজ নটরাজ"।* *রাসবিলাসের পরিণতিই শ্রীগৌরসুন্দর রাইকানু একাকৃতি।ব্রজে রসের প্রাধান‍্যে ভাবের আস্বাদন,আর নবদ্বীপে ভাবের প্রাধান‍্যে রসের আস্বাদন,সুমোহন নৃত‍্য সেই আস্বাদনেরই অনুভাব।সংকীর্তন আনন্দে নৃত‍্যচ্ছন্দে সুদীপ্ত সাত্ত্বিক ব‍্যাপ্ত কলেবরে ব্রজরসের আস্বাদন ধারা।এখন আর সেই ত্রিভঙ্গ আকৃতি নাই,সরলা ব্রজবালার ভাব অঙ্গীকার করে এখন হয়েছেন, "ন‍্যগ্রোধপরিমন্ডলতনু চৈতন‍্য গুণধাম", নৃত‍্যরসের আস্বাদনে ভাবাবেশে ধারায়-ধরা ভেসে যাচ্ছে। তাই অন্তঃকৃষ্ণ বহির্গৌর,"গোরা দ্বিজ নটরাজ"।*
*শ্রীপ্রবোধানন্দ সরস্বতীপাদ লিখেছেন।*
*পূর্ণপ্রেমরসামৃতাব্ধিলহরী লোলাঙ্গ গৌরচ্ছটা কোট‍্যাচ্ছাদিত বিশ্বমীশ্বরবিধি ব‍্যাসাদিভিঃ সংস্তুতম্।*
*দুর্লক্ষ‍্যাং শ্রুতিকোটিভিঃ প্রকটয়ন্মূর্তিং জগন্মোহিনীমাশ্চর্য‍্যং লবণোদরোধসি পরংব্রহ্ম স্বয়ং নৃত‍্যতি।।*
*🌻ব্রজের পূর্ণতম প্রেমরসসাগরের তরঙ্গভঙ্গে যিনি অতি চপল,যাঁর শ্রীঅঙ্গ হতে গৌরকান্তিধারা চুঁয়ে পড়ে বিশ্বকে আচ্ছাদিত করেছে, বিধি,ব‍্যাস,শুকাদি যাঁর স্তব করছেন,সেই শ্রুতিগণের দুর্লক্ষ‍্য আশ্চর্য‍্য জগন্মোহিনীমূর্তি প্রকটন করে লবণসিন্ধুর তীরে স্বয়ং পরব্রহ্ম শ্রীগৌরাঙ্গ সুমোহন নৃত‍্য করছেন।*
*🌻হে মন!এই নৃত‍্যচপল নটরাজকে তুমি হৃদয়মাঝে বেঁধে রাখ।বন্ধন করলে তো তাঁর কষ্ট হবে এবং এইরকম মোহন নাচও বন্ধ হয়ে যাবে?না,বিশ্বের কোন দড়িতেই এই নটরাজ বাঁধা পড়েন না,একমাত্র প্রেমরজ্জুতেই ইনি আবদ্ধ হন।এই বন্ধন অতি সুখের,তাতে নাচও বন্ধ হবার সম্ভাবনা নাই।* *তোমার হৃদয় মন্দাকিনীর তটে তিনি সবসময় নৃত‍্য করতে থাকুন।তখনএই সংসার এবং শমন বা কৃতান্ত তোমার কি করবে?* *মহাজন গেয়েছেন= "দেখিয়া শুনিয়া,তরাস পাইয়া,(শমন) কপাট হানিল দ্বারে"।* *ঠাকুরমহাশয় বলছেন,গৌরাঙ্গের মতো প্রেম দাতা আর কেউ নাই,যিনি বিনা ভজনেই প্রেমদান করে থাকেন* *শ্রীপ্রবোধানন্দ লিখেছেন==*
*পাত্রাপাত্রবিচারণং ন কুরুতে ন স্বং পরং বীক্ষ‍্যতে,দেয়াদেয়-বিমর্শকো ন হি ন বা কালপ্রতীক্ষঃ প্রভুঃ।*
*সদ‍্যো যঃ শ্রবণেক্ষণপ্রণমনধ‍্যানাদিনা দুর্লভং দত্তে ভক্তিরসং স এব ভগবান্ গৌরঃ পরং মে গতিঃ।।*
*🌻প্রেমদান বিষয়ে পরম সমর্থ পাত্রাপাত্রের বিচার করেন না,আপন পর কিছুই দেখেন না,দেয়াদেয় বিচার করেন না,কালেরও প্রতীক্ষা করেন না,শ্রবণ,বিগ্রহ দর্শন,প্রণাম,ধ‍্যান ইত‍্যাদি ভজনেও যাহা দুর্লভ,শ্রীগৌরাঙ্গদেব সেই ভক্তিরস বিনা ভজনেই আপামরে দান করেন।সেই ভগবান ল্রীগৌরসুন্দরই আমার একমাত্র গতি।"মাগে বা না মাগে কেহ,পাত্র বা অপাত্র।ইহার বিচার নাহি,জানে দিব মাত্র"।।(চৈতন‍্যচরিতামৃত।*
*🙏বানান,ভুল ভ্রান্তি ক্ষমা করবেন🙏*
 ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
👇👇👇এই লিখনী 📚 PDF 📚 ক্লিক করুন 👇👇👇
 ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧ 
 ✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️
নিবাস- বাঁশবাড়ী, কীর্তন মন্দিরের পাশে, পোঃ- বাঁশবাড়ী, থানা- ইংরেজ বাজার, জেলা- মালদহ, পশ্চিমবঙ্গ, পিন কোড- ৭৩২১০১।
 ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏
আমায় দেওয়া ওনার এই অমূল্য লিখনী সেবা, তা সকলের মধ্যে প্রকাশ করলাম। ওনার এই অমূল্য দান সমগ্র বৈষ্ণব সমাজ অনন্তকাল মনে রাখিবে।
🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
    *••••┉━❀꧁ 🙏 রাধে রাধে 🙏 ꧂❀━┅••••* 
                   শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য প্রভু নিত্যানন্দ
              হরে কৃষ্ণ হরে রাম শ্রীরাধেগোবিন্দ।।
  *••••┉━❀꧁ 🙏 জয় জগন্নাথ 🙏 ꧂❀━┅••••*
              হরে কৃষ্ণ হরে কৃষ্ণ কৃষ্ণ কৃষ্ণ হরে হরে
              হরে রাম হরে রাম রাম রাম হরে হরে॥
  *••••┉━❀꧁ 🙏 জয় রাধাকান্ত 🙏 ꧂ ❀━┅••••*
   💮❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀💮
   💮❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀💮
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧






ওরে ভাই! ভজ মোর গৌরাঙ্গ-চরণ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ -> http://mrinmoynandy.blogspot.com/2022/09/blog-post_6.html

  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
        ꧁ ওরে ভাই! ভজ মোর গৌরাঙ্গ-চরণ 
       এই লিংকে 👇👇👇🙏👇👇👇 ক্লিক করুন 
            ꧁ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ ꧂
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
  ꧁ টিকা বা অন্যান্য ধর্মীয় লিখনী 🙏 সূচীপত্র 
       এই লিংকে 👇👇👇🙏👇👇👇 ক্লিক করুন 
          ꧁ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ ꧂
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
*ওরে ভাই! ভজ মোর গৌরাঙ্গ-চরণ।*
*না ভজিয়া মৈনু দুখে,ডুবি গৃহ-বিষকূপে,*
     *দগ্ধ কৈল এ পাঁচ পরাণ।।*
*তাপত্রয় বিষানলে,অহর্নিশি হিয়া জ্বলে,*
     *দেহ সদা হয় অচেতন।*
*রিপুবশ ইন্দ্রিয় হৈল,গোরাপদ পাসরিল,*
     *বিমুখ হৈল হেন ধন।।*
*হেন গৌর দয়াময়,ছাড়ি সব লাজ ভয়,*
     *কায়মনে লহরে শরণ।*
*পামর দুর্মতি ছিল,তারে গোরা উদ্ধারিল,*
     *তারা হৈল পতিতপাবন।।*
*গোরা দ্বিজ নটরাজে,বান্ধহ হৃদয়-মাঝে,*
     *কি করিবে সংসার শমন।*
*নরোত্তম দাসে কহে,গোরা সম কেহ নহে,*
    *না ভজিতে দেয় প্রেমধন।।*
*🌳ঠাকুরমহাশয় এই প্রার্থনায় গৌরাঙ্গ ভজনের উপদেশ দিচ্ছেন।মনকে বলছেন,ওরে ভাই!"ভজ মোর গৌরাঙ্গচরণ" সহোদর ভ্রাতা যেমন সঞ্চিত পৈতৃক-সম্মদের সমান অধিকার পেয়ে থাকে বা সুখ-দুঃখের তুল‍্য ভোগ পেয়ে থাকে,তদ্রুপ দেহ-দৈহিকাদিতে অভিনিবেশবশতঃ (মনোযোগবশতঃ) জীব যে ত্রিতাপ জ্বালাদি ভোগ করে থাকে,মনকেও তা ভোগ করতে হয়।* *এইজন‍্য বলা হয় জগতে মায়াবদ্ধ মানুষ আধি-ব‍্যাধি ভোগ করে থাকে,মনের পীড়ায় আধি(মানসিক পীড়া,মানসিক ক্লেশ) এবং দেহের পীড়া ব‍্যাধি।সেইরকম আবার জীব যখন ভজনরসের আস্বাদন প্রাপ্ত হয় বা পেয়ে যায়,মনও ভগবানের নাম,রূপ,গুণ,লীলার রসমাধুরী আস্বাদনে ধন‍্য হয়। তাই বুদ্ধিমান মানুষ মনকে বুঝিয়ে বিষয়াভিনিবেশ (বিষয় ভাবনা )হতে প্রতিনিবৃত্ত(প্রতি=পুনর্বার,নিবৃত্তি=ফিরে আসা।)করে ভগবানের ভজনে প্রবৃত্ত (রত) করবেন।*
*প্রেমের মূরতি ঠাকুরমহাশয়ের প্রেমময় মন সবসময় ভজনরসে নিমগ্ন (ডুবে)থাকলেও ভক্তির অতৃপ্তিভাববশত ভজনসাধনহীন সাধারণ মানুষের মতো মনের কাছে প্রার্থনা করে বিশ্বসাধককে এই মূল‍্যবান শিক্ষাটি দান করছেন।*
*যেহেতু মনই সাধকের ভগবদ্ভজনের পরম সহায়। অথবা মনকে শিক্ষাদানের ব‍্যপদেশে(অছিলায়) ঠাকুরমহাশয় শ্রীগৌরাঙ্গের যুগের অনন্তকোটি ব্রহ্মান্ডের বিশ্বসাধকগণকে "ভাই"বলে সম্বোধন করে তাদেরকে শ্রীগৌরভজনের প্রেণা দিচ্ছেন।*
*ব্রছের ঠাকুর স্বয়ং শ্রীকৃষ্ণ এই বিশেষ কলিতে শ্রীরাধার ভাব কান্তি নিয়ে গৌরাঙ্গ হয়েছেন।* *তাই শ্রীমৎ রূপগোস্বামীপাদ লিখেছেন=*
*"ন চৈতন‍্যাৎ কৃষ্ণাজ্জগতি পরতত্ত্বং পরমিহ" ""শ্রীকৃষ্ণচৈতন‍্য অপেক্ষা বিশ্বে আর কোন শ্রেষ্ঠ পরতত্ত্ব নাই। পরতত্ত্বের উপাসনা নিখিল শ্রুতিশাস্ত্র প্রসিদ্ধ। "চরণ" শব্দটি ভক্তিভরেই যুক্ত হয়েছে, সুতরাং "গৌরাঙ্গচরণ" বলতে শ্রীগৌরাঙ্গের ভজনই উপদেশ দেওয়া হয়েছে।* *এখানে "ভজন" বলতে শ্রীমদ্ভাগবত-প্রতিপাদিত শ্রবণ-কীর্তনাদি নববিধা ভক্তির কথাই বলা হয়েছে।* *এই গৌরের যুগের মানুষ শ্রীগৌরাঙ্গকে উপাস‍্য বা ভজনীয় বিষয় তত্ত্বরূপে গ্রহণ করে শ্রবণ-কীর্তনাদি নববিধা ভক্তির দ্বারা তাঁর ভজন করবেন।*
*এই বিশেষ কলিতে প্রেমসম্পদ্ লাভের জন্য প্রেমাবতার শ্রীগৌরাঙ্গের উপাসনাই শাস্ত্রসম্মত।* *প্রথিতযশা *পন্ডিত শিরোমণি বাসুদেব সার্বভৌম প্রভৃতিও শ্রীগৌরাঙ্গের মহৈশ্বর্য‍্য প্রত‍্যক্ষ করে তাঁকে কলিযুগের উপাস‍্যরূপে গ্রহণ করেছেন।পরম বিদ্বান্ শ্রীগৌরাঙ্গ-পার্ষদবর শ্রীপ্রবোধানন্দ সরস্বতীপাদ লিখেছেন, (শ্রীচৈতন‍্যচন্দ্রামৃতম্ =২০)*
*শ্রবণমননসংকীর্ত‍্যানাদিভক্ত‍্যা মুরারের্যদি পরমপুমর্থং সাধয়েৎ কোহপি ভদ্রম্।*
*মম তু পরমপারপ্রেমপীযূষসিন্ধোঃ কিমপি রসরহস‍্যং গৌরধাম্নো নমস‍্যম্।।*
*🌻""অর্থ‍্যাৎ যদি কোন ভাগ‍্যবান জন মুরারীর শ্রবণ,মনন,সংকীর্তনাদি ভক্তির দ্বারা পরমপুরুষার্থ লাভে সমর্থ হন খুবই ভাল, কিন্তু অপার প্রেমমৃতসিন্ধু শ্রীগৌরাঙ্গের রসরহস‍্যই আমার ভজন।""* *প্রশ্ন হতে পারে,শ্রীরাধাকৃষ্ণের মিলিত বিগ্রহই শ্রীগৌরসুন্দর এবং তিনি বিশ্বমানবকে শ্রীরাধাকৃষ্ণের মধুররসের উপাসনাই দান করেছেন সুতরাং শ্রীরাধাকৃষ্ণের ভজন করলেই তো গৌরাঙ্গের ভজন হল আবার পৃথকভাবে বিষোতত্ত্বরূপে শ্রীগৌরাঙ্গের উপাসনার প্রয়োজন কি? এই প্রশ্নের উত্তর শ্রীপাদ প্রবোধানন্দ সরস্বতীই দিয়েছেন (ঐ=২৭)*
*ভ্রাতঃ কীর্তয় নাম গোকুলপতেরুদ্দাম-নামাবলীং যদ্বা ভাবয় তস‍্য দিব‍্যমধুরং রূপং জগন্মঙ্গলম্।*
*হন্ত প্রেমমহারসোজ্জ্বলপদে নাশাপি তে সম্ভবেৎ শ্রীচৈতন‍্যমহাপ্রভোর্যদি কৃপাদৃষ্টিঃ পতেন্ন ত্বয়ি।।*
*🌻""হে ভ্রাতঃ!তুমি শ্রীকৃষ্ণের সর্বসমর্থ নামাবলী উচ্চৈঃস্বরে কীর্তনই কর,অথবা তাঁর জগন্মঙ্গল দিব‍্যমধুর শ্রীমূর্তিই ধ‍্যান কর, যদি শ্রীচৈতন‍্যের করুণাদৃষ্টি তোমাতে না পরে,তবে মহাপ্রেমময় উজ্জ্বলরস আস্বাদনের আশা কখনই পূর্ণ হবে না।* *শ্রীগৌরাঙ্গের কৃপাতেই সাধক মঞ্জরী স্বরূপে ব্রজে শ্রীশ্রীরাধামাধবের রহস‍্যময় প্রেমসেবা লাভে ধন‍্য হবেন, এটিই এই সন্দর্ভের মর্মার্থ।* *🌻তারপর বললেন,"না ভজিয়া মৈনু দুখে, ডুবি গৃহ বিষকূপে,দগ্ধ কৈল এ পাঁচ পরাণ", ঠাকুরমহাশয় শ্রীগৌরাঙ্গভজন বিমুখ জনের দুরবস্থা বা দুর্গতির কথা বলছেন।শ্রীগৌরাঙ্গ না ভজে গৃহরূপ বিষকূপে ডুবে দুঃখে মরলাম। বিষকূপের দুইরকম ব‍্যাখ‍্যা হতে পারে, যে কূপ জ্বালাময় বিষজলে পরিপূর্ণ তা বিষকূপ,আবার অরণ‍্যের মধ্যে থাকা কূপ যাতে সাপ বৃশ্চিকাদি বিষধর প্রাণীসব বাস করে, তাতে পড়ে যাওয়া মানুষের,তাদের দংশনে দেহ জ্বালাময় হয়ে যায়,তাহাও বিষকূপ।গৃহই বিষকূপ, এই গৃহেরও দুইপ্রকার ব‍্যাখ‍্যা হতে পারে, প্রথম গৃহ-বিষকূপ বলতে গৃহাশ্রম যেন বিষকূপের মতো জ্বালাময়।গৃহী মানুষ দেহ-দৈহিকাদিতে মনোনিবেশ বশত আমার স্ত্রী,পুত্র,অর্থ, সম্পদাদিতে আসক্ত হয়ে সবসময় এরকম অস্থির মনে কালাতিপাত করে যে,ভক্তি পথ আশ্রয়ের বা ভজনসাধনের সামর্থ রহিত হয়ে পশুর মত আহার নিদ্রা নিয়েই জীবন যাপন করে থাকে।*
*এই অবস্থাটি বিষকূপে থাকার মতো জীবের জ্বালাময় অবস্থা।সাধারণ মানুষের সেই জ্বালার অনুভব না হলেও সাধকের তা অনুভব হয়।যেমন সাপের মধ্যে বিষ থাকলেও সাপের নিজের সেই বিষজ্বালার অনুভব হয় না,বরং তা থাকলেই সে নির্বীষ হয়ে যায়, কিন্তু সে যখন অন‍্যপ্রাণীকে দংশন করে,তখন সেই প্রাণীর সেই জ্বালা অনুভব হয়। তেমনি সংসারী দশায় ঘর,দ্বার,স্ত্রী,পুত্র,অর্থ সম্পদ আদি সব সুখের বলে মনে হয়,এই সুখ না থাকলেই সংসারী জীব দুঃখ পায়, কিন্তু যখন সে ভজনপথে প্রবেশ করে,তখন সেই জড়ীয় বিষয়রূপ সাপ যেন তাকে দংশন করতে থাকে,তখনি সে-ই বলতে পারে ""না ভজিয়া মৈনু দুখে,ডুবি গৃহ-বিষকূপে""।*
       *ক্রমশ*

 *🙏গৌরভজন বিমুখ জনের আবার অতি নিদারুণ দুঃখের কথা বলছেন, "তাপত্রয় বিষানলে,অহনিশি হিয়া জ্বলে,দেহ সদা হয় অচেতন"। আধ‍্যাত্মিক,আধিভৌতিক ও আধিদৈবিক এই তাপত্রয় বা ত্রিতাপ জ্বালা, এদেরও বিষানলের মতো তীব্রজ্বালা। অতি উগ্র বিষধর সাপ দংশন করলে যেমন দেহ আগুনে পুড়ে গেল বলে মনে হয়,উহাই বিষানলের জ্বালা।দেহে রোগ,শোকাদি, আধি, ব‍্যাধি প্রভৃতি আধ‍্যাত্মিক তাপ ; চোর,দস‍্যু,শত্রু প্রভৃতি কর্তৃক তাপ আধিভৌতিক এবং অতিবৃষ্টি,অনাবৃষ্টি জনিত দুর্ভিক্ষ, বজ্রপাত,ভূমিকম্পন ইত‍্যাদির তাপই আধিদৈবিক তাপ।*
*এর জ্বালাও অতি ভয়ংকর,ভজন ছাড়া এই তাপত্রয়ের জ্বালা হতে মুক্তিলাভের কোন উপায় নাই। কথা আসতে পারে,যাঁরা ভজন করেন,তাঁদেরকেও তো এই ত্রিতাপজ্বালা ভোগ করতে দেখা যায়।তাঁদের দৈহেও রোগ,ব‍্যাধি দেখা যায়,তাঁদের প্রতিও চোর,দস‍্যুর উৎপাত দেখা যায় এবং দুর্ভিক্ষ,ভূমিকম্প আদির তাপ তাঁদেরকেও ভোগ করতে হয়। সুতরাং ভজনের দ্বারা যে ত্রিতাপজ্বালার উপশম (শান্তি) হয়ে থাকে,এর প্রমাণ কি?* *ইহার উত্তরে বলা হয়েছে,ত্রিতাপজ্বালার নাশ ভজনের ফল নয়,ভজনের মুখ‍্যফল ভগবানের নাম,গুণ,লীলারসের আস্বাদন,প্রেমপ্রাপ্তি এবং ভগবৎসেবাপ্রাপ্তি।ভগবদ্ভক্তজনের সঙ্গফলেই ত্রিতাপজ্বালার শান্তি হয়ে থাকে!যদিও ভগবান বা ভক্তিমহারাণী ভক্তির রহস‍্যত্ব রক্ষণের জন্য ভক্তের দেহেও ঐ ত্রিতাপাদি দেখিয়ে থাকেন কিন্তু বহির্মুখের মতো উহার কিছুমাত্র জ্বালা তাঁদের অন্তরে অনুভূত হয় না।তাঁরা ভজনরসের আস্বাদনে এতাদৃশ(এইরকম)তন্ময়(বিভোর) হয়ে থাকেন যে,ভজননিষ্ঠ ভক্তের মনের উপর ত্রিতাপাদির কোন প্রভাবই পড়ে না।* *কিন্তু তা তাঁদের দৈন‍্য-আর্তি বাড়িয়ে খুব তাড়াতাড়িই প্রেমপ্রাপ্তি ঘটিয়ে ভক্তের পরম হিতসাধনই করে থাকে।* *আবার বললেন, "রিপুবশ ইন্দ্রিয় হৈল,গোরাপদ পাসরিল,বিমুখ হইল হেন ধন"।*
*ইন্দ্রিয়ের দ্বারা ভগবানের সেবার নামই "ভক্তি"।* *""হৃষীকেণ হৃষীকেশসেবনং ভক্তিরুচ‍্যতে"", (নারদপঞ্চরাত্র),চক্ষোর দ্বারা শ্রীভগবদ্বিগ্রহ ও ভক্তের বিগ্রহ দর্শন,কর্ণের দ্বারা হরিনাম ও হরিকথা শ্রবণ,জিহ্বার দ্বারা শ্রীহরির গুণলীলা কীর্তন,হাতের দ্বারা শ্রীহরির বিগ্রহার্চন,পদের দ্বারা হরিনাম-হরিকথা স্থানে,শ্রীধামে গমন, মনের দ্বারা ভগবানের স্মরণাদি সাক্ষাদ্ ভক্তি।*
       ক্রমাগত

 *🌻আবার "গ্রহ" ধাতু হতে "গৃহ" শব্দ নিষ্পন্ন,গ্রহণ ও আশ্রয়ার্থে "গ্রহ" ধাতুর প্রয়োগ হয়।যা আশ্রয় দেয়,তাহাই গৃহ। এই দেহরূপ গৃহটিই মায়াবদ্ধ জীবের প্রথম আশ্রয়।চিদানন্দসত্ত্বা জীব আনন্দ-স্বরূপ হয়েও কৃষ্ণবহির্মুখদশায় বহিরঙ্গা মায়ার অবদান এই দেহরূপ গৃহ প্রাপ্ত হয়েছে এবং দেহরূপ গৃহে মনোনিবেশ বশত অনাদিকাল হতে স্বীয় (নিজ) স্বরূপ বিস্মৃত হয়ে দেহকেই আমি জ্ঞান করে চৌরাশি লক্ষ যোনিতে অবর্ণনীয় দুঃখ ও জ্বালা ভোগ করে বেড়াচ্ছে। এ যে কিরকম বিষকূপের জ্বালা,তা সহজেই অনুমান করা যেতে পারে। যেমন খুব গভীর কূপে পড়ে গেলে সেই কূপ হতে উদ্ধারের জন্য নিজের কোন ক্ষমতা থাকে না,তেমনি জীব এই দেহরূপ গৃহকূপ হতে নিজ চেষ্টায় কিছুতেই উদ্ধার হতে পারছে না।এইরকম কূপে পড়ে যাওয়া ব‍্যক্তিকে যদি উপর হতে কোন কৃপালু ব‍্যক্তি এইটি বড় দড়ি কূপের মধ্যে ফেলে তাকে উদ্ধার করে, তেমনি এই দেহরূপ গৃহে পড়ে থাকা জীবকে সাধু, শাস্ত্র ও গুরু সাধনরূপ দড়ি দান করেছেন,তারা অতি দৃঢ়রূপে এই সাধন বা ভজনদড়িকে আশ্রয় করে থাকলে জীব এই বিষকূপ হতে উদ্ধার পেয়ে স্বরূপের জাগরণে আনন্দময় ভগবানের সেবা পেয়ে চিরতরে সুখী হতে পারেন।* *"কৃষ্ণনিত‍্যদাস জীব তাহা ভুলি গেল।সেই দোষে মায়া তার গলায় বান্ধিল।।তাতে কৃষ্ণ ভজে,করে গুরুর সেবন।মায়াজাল ছুটে পায় কৃষ্ণের চরণ"।।* *তাই দাসঠাকুর বলেছেন,"না ভজিয়া মৈনু দুখে,ডুবি গৃহ বিষকূপে"।*
*🌻আবার বললেন,"দগ্ধ কৈল এ পাঁচ পরাণ", প্রাণ,অপান,উদান,ব‍্যান ও সমান।এই পঞ্চ-প্রাণ দেহের মধ্যে অবস্থান করে।নিঃশ্বাস-প্রশ্বাসের বায়ুকে বলে "প্রাণ", নিম্নবায়ুই "অপান" বায়ু, উর্ধবায়ু "উদান", সারাদেহের বায়ু "ব‍্যান" নাভিমূলের বায়ু "সমান"।* *এই সমান বা নাভিমূলের বায়ুই প্রাণবায়ুকে আকর্ষণ বিকর্ষণ করে থাকে।এই পঞ্চপ্রাণই জীবধারণের উপায়।আয়ুর্বেদ শাস্ত্রে লেখা আছে,"প্রাণে" রক্তসঞ্চালন,"অপান"আহার্য‍্য চালন, "উদানে"বমন,উদ্গার,শ্বাস কাশাদি কার্য‍্য, "সমানে"পাচন ও "ব‍্যানে" সর্বাঙ্গে সামঞ্জস‍্য রক্ষিত হয়।* *এই বায়ুগুলি কুপিত(ক্রুদ্ধ)হলেই দেহে নানা রোগের আবির্ভাব হয় এবং দেহটি দুঃখের ঘর হয়ে থাকে।ঠাকুরমহাশয় বলছেন, গৌরাঙ্গ ভজন বিহনে আমার এই পঞ্চপ্রাণ পুড়ে গেল বা জ্বলে গেল।ভজনহীন দেহে জীব যে কত দুঃখে বসবাস করছে,এই মহদ অনুভবে তা কিঞ্চিত আভাস পাওয়া যায়।* *মাদৃশ(আমার মতো)ভজনবিমুখ জীবের এই জ্বালার কোন অনুভব নাই ; ইহাই মাদৃশ জীবের দূরদৃষ্টির নির্মম পরিহাস।*
        *ক্রমাগত*

*অন্তরে যে কাম ক্রোধাদি ষড়রিপু বাস করছে এই সব ইন্দ্রিয়কুল সবসময় তাদের অধীন রয়েছে,অর্থ‍্যাৎ প্রবল শক্তিশালী ঐ ষড়রিপু ভজন উপযোগী ইন্দ্রিয়বর্গকে বিষয়-বাসনায় আকর্ষণ করে ওদের ভজন বিমুখ করে তুলেছে।* * *সুতরাং ঠাকুরমহাশয় বলেছেন,ইন্দ্রিয়গণ সবসময় রিপুবশ হওয়ার ফলে শ্রীগৌরচরণ বা শ্রীগৌরাঙ্গকে বিস্মৃতি হল,গৌরাঙ্গের মতো পরম দুর্লভ ধন পেয়েও বিমুখহল।*


*🌻শ্রীপ্রবোধানন্দ সরস্বতীপাদ গৌরাঙ্গরূপ ধনের মহত্ত্ব নিরূপণ লিখেছেন।*
*সৌন্দর্য‍্যে কামকোটিঃ সকলজনসমাহ্লাদনে চন্দ্রকোটি-র্ব‍াৎসল‍্যে মাতৃকোটিস্ত্রিদশবিটপিনাং কোটিরৌদার্য‍্যসারে।*
*গাম্ভীর্য‍্যেহম্ভোধিকোটির্মধুরিমণি সুধাক্ষীরমাধ্বীককোটির্গৌরো দেবঃ স জীয়াৎ প্রণয়রসপদে দর্শিতাশ্চর্য‍্যকোটিঃ।।*
*🌻যিনি সৌন্দর্যে কোটি কোটি কন্দর্পের মতো সুন্দর,বিশ্বমানবের ত্রিতাপজ্বালার শান্তিবিধান পূর্বক তাদের পরমানন্দদানে যিনি কোটি চন্দ্রের মতো সুশীতল,যিনি বাৎসল‍্যে কোটি কোটি মাতৃতুল‍্য সুবৎসল,যিনি কোটি কল্পতরু অপেক্ষাও পরম উদার,যিনি কোটিসমুদ্রের মতো গম্ভীর,মাধুর্য‍্যে যিনি কোটি কোটি সুধা, ক্ষীর ও মধু অপেক্ষাও মধুর, যিনি প্রেমরস বিষয়ে কোটি কোটি আশ্চর্য‍্য অনুভাব(বোধ বা জ্ঞান) প্রদর্শন করেছেন,সেই লীলাময় শ্রীগৌরসুন্দর সর্বোৎকর্ষে বিরাজ করুন।* *তাই ঠাকুরমহাশয় বললেন, "হেন গৌর দয়াময়,ছাড়ি সব লাজ ভয়,কায়মনে লহ রে শরণ"।"পামর দুর্মতি ছিল,তারে গোরা উদ্ধারিল,তারা হৈল পতিতপাবন"।।* *দয়া বা কৃপা ভগবৎস্বরূপেরই অনন‍্যসম্পদ্।বিশ্বে যে পাঁচটি তত্ত্ব দেখা যায় =ঈশ্বর,জীব,কাল,কর্ম ও মায়া।এর মধ্যে ঈশ্বরেই করুণা বিরাজ করে,অপর চারটিতে করুণা নাই।করুণার প্রকৃত কাজই হচ্ছে,কৃষ্ণবিমুখ,স্বরূপভ্রান্ত(নিজের স্ব-রূপ কি না জানা বা ভুলে যাওয়া ) ও মায়াবদ্ধ জীবকে প্রেমদানে ধন‍্য করা।* *কাল,কর্ম,মায়া ও জীবের প্রেমদানের সামর্থ নাই।ভক্তজীবের মধ্যে উহা আছে কিন্তু প্রেমদানের উপযোগী ভগবানের করুণাই ভক্তের মধ্য হতে ক্রিয়াশীল হয়ে থাকেন বলে বুঝতে হবে।* *শ্রীগৌরহরি "দয়াময়" "দয়া" শব্দের উপর প্রাচুর্য‍্যার্থে "ময়ট" ময়ট মানে তৃণকুটীর, প্রত‍্যয় যুক্ত হয়েছে।শ্রীগৌরহরিতে পতিতপাবনী প্রচুর দয়া বিরাজ করে।অন‍্যান‍্য সমস্ত ভগবৎস্বরূপ অপেক্ষা শ্রীকৃষ্ণে অধিক(অত‍্যন্ত) দয়া বিরাজ করে বলে তিনি "পরম করুণ"।* *আবার তিনিই অপার করুণাসাগররূপিনী শ্রীরাধারাণীর ভাবকান্তি গ্রহণ করে গৌর হলেন। করুণাও একপ্রকার ভাব; সুতরাং শ্রীকৃষ্ণের করুণাসিন্ধুর সঙ্গে শ্রীরাধার করুণাসিন্ধু সম্মিলন (দুই এক হওয়াতে)হওয়ায় করুণাবারিধি বিশ্বব্রহ্মান্ডকে আপ্লাবিত করে তুলল।পামর,দুর্মতি প্রভৃতি সকলেই গৌরের প্রেমের বন‍্যায় ডুবে গেল। তারা নিজেই প্রেমলাভ করে ধন‍্য হল তা নয়,কিন্তু তারা আবার পতিতপাবন হয়ে বিশ্বকে উদ্ধার করবার সামর্থ ধারণ করল।* *প্রভুর দাক্ষিণাত‍্যে প্রেমপ্রচার বিষয়ে শ্রীকবিরাজ গোস্বামীপাদ চৈঃচঃ=*
*প্রেমাবেশে হাসি কান্দি নৃত‍্য গীত কৈলা।*
*দেখি সর্বলোকের চিত্তে চমৎকার হৈলা।।*
*আশ্চর্য‍্য শুনিসব লোক আইলা দেখিবারে।*
*প্রভুর রূপ-প্রেম দেখি হৈল চমৎকারে।।*
*দর্শনে বৈষ্ণব হৈলা-- বলে 'কৃষ্ণহরি'।*
*প্রেমাবেশে নাচে লোক উর্ধবাহু করি।।*
*কৃষ্ণ-নাম লোক মুখে শুনি অবিরাম।*
*সেই লোক বৈষ্ণব কৈল অন‍্য সব গ্রাম।।*
*এইমত পরম্পরায় দেশ বৈষ্ণব হৈল।*
*কৃষ্ণনামামৃত বন‍্যায় দেশ ভাসাইল।।*
*🌻অতএব লজ্জা ভয় সব ত‍্যাগ করে কায়মনে গৌরের চরণে শরণ গ্রহণ করতে হবে।কেহ কেহ মালা,তিলকাদি বৈষ্ণবচিহ্ন ধারণের জন্য লজ্জিত হয়ে ইচ্ছাসত্ত্বেও শ্রীগৌরচরণে আশ্রয় গ্রহণ করতে পারেন না।তিনি যাঁদের উপহাসের জন্য লজ্জিত হয়ে আধ‍্যাত্মিক সাধনা হতে বঞ্চিত হয়ে নিদারুণ ক্ষতিগ্রস্ত হন,সেই বন্ধু বান্ধবেরা কি তাঁর এই অপরিমিত ক্ষতির কিছু অংশ পূরণ করবেন?* *"নায়মাত্মা বলহীনেন লভ‍্যঃ", দুর্বলচেতা মানুষ কখনই ভগবানকে প্রাপ্ত হন না।*
*কেহ কেহ ভজন পথাশ্রয় করলে দেহ-দৈহিকাদির বিষয়ে ক্ষতি হবে ভেবে সেই ভয়ে গৌরচরণ আশ্রয় করতে পারেন না।* *কে বলতে যে কাল যে তার মৃত‍্যু সঙ্গে সঙ্গে দেহ- দৈহিকাদি বস্তুর সঙ্গে সমস্ত সম্পর্ক চিরতরে মুছে দিবে,সে স্মৃতি,সে ভয় কি তার নাই?যার জন্য মরণবারণ গৌরচরণাশ্রয়ে দেহ-দৈহিকাদির কিঞ্চিৎ ক্ষতির সম্ভাবনা তিনি ভজনপথাশ্রয় হতে বঞ্চিত হয়ে থাকেন।*
      ক্রমাগত

 *সুতরাং বুদ্ধিমান মানব কায়মনে শ্রীগৌরচরণে শরণ গ্রহণ করে ধন‍্য হবেন।"তবাস্মীতি বদন্ বাচা মনসা বিদন্"।"তৎস্থানমাশ্রিতস্তন্বা মোদতে শরণাগতঃ"।। অর্থ‍্যাৎ "আমি তোমার হলাম" এইরকম মন ও মুখ এককরে মুখে বলে মনেও সেইরকম জেনে,দেহের দ্বারা তাঁর লীলাস্থান আশ্রয় করে শরণাগত আনন্দলাভ করে থাকেন"।* *মানস শরণাগতিই প্রকৃত শরণাগতি।শ্রীগৌরচরণে শরণাগতির ফলও অতি অপূর্ব (শ্রীচৈতন‍্যচন্দ্রামৃতম্)=*
*সংসারষিন্ধুতরণে হৃদয়ং যদি স‍্যাৎ সঙ্কীর্তনামৃতরসে রমতে মনশ্চেৎ।*
*প্রেমাম্বুধৌ বিহরণে যদি চিত্তবৃত্তিশ্চৈতন‍্যচন্দ্রচরণে শরণং প্রযাতু।।*
*🌻হে ভ্রাতঃ!যদি তোমার দুষ্পার সংসারসিন্ধু উত্তরণের বাসনা থাকে,সংকীর্তন অমৃতরসে যদি তোমার মন মগ্ন হতে চায়,প্রেমামৃত সাগরে অবগাহন(ডুবতে বা স্নান করতে) করবার জন্য যদি তোমার চিত্ত উৎকণ্ঠিত হয় ; তবে শ্রীচৈতন‍্যচন্দ্রচরণে শরণ গ্রহণ কর।* *🌺অবশেষে বললেন,"গোরা দ্বিজ নটরাজে,বান্ধহ হৃদয় মাঝে,কি করিবে সংসার শমন"। নরোত্তম দাসে কহে,গোরাসম কেহ নহে,না ভজিতে দেয় প্রেমধন।।*
*🍀ব্রজে সর্বলীলামুকুটমণি রাসলীলায় যিনি সুমোহন নৃত‍্যভঙ্গিতে শতকোটি ব্রজবালাকে মুগ্ধ করেছিলেন,সেই ব্রজনটরাজ নটিনীর শিরোমণি শ্রীরাধার ভাবকান্তি নিয়ে গৌর হয়েছেন।এখন আর গোপ নহে,এখন হয়েছেন দ্বিজ,তাই "গোরা দ্বিজ নটরাজ"।* *রাসবিলাসের পরিণতিই শ্রীগৌরসুন্দর রাইকানু একাকৃতি।ব্রজে রসের প্রাধান‍্যে ভাবের আস্বাদন,আর নবদ্বীপে ভাবের প্রাধান‍্যে রসের আস্বাদন,সুমোহন নৃত‍্য সেই আস্বাদনেরই অনুভাব।সংকীর্তন আনন্দে নৃত‍্যচ্ছন্দে সুদীপ্ত সাত্ত্বিক ব‍্যাপ্ত কলেবরে ব্রজরসের আস্বাদন ধারা।এখন আর সেই ত্রিভঙ্গ আকৃতি নাই,সরলা ব্রজবালার ভাব অঙ্গীকার করে এখন হয়েছেন, "ন‍্যগ্রোধপরিমন্ডলতনু চৈতন‍্য গুণধাম", নৃত‍্যরসের আস্বাদনে ভাবাবেশে ধারায়-ধরা ভেসে যাচ্ছে। তাই অন্তঃকৃষ্ণ বহির্গৌর,"গোরা দ্বিজ নটরাজ"।*
*শ্রীপ্রবোধানন্দ সরস্বতীপাদ লিখেছেন।*
*পূর্ণপ্রেমরসামৃতাব্ধিলহরী লোলাঙ্গ গৌরচ্ছটা কোট‍্যাচ্ছাদিত বিশ্বমীশ্বরবিধি ব‍্যাসাদিভিঃ সংস্তুতম্।*
*দুর্লক্ষ‍্যাং শ্রুতিকোটিভিঃ প্রকটয়ন্মূর্তিং জগন্মোহিনীমাশ্চর্য‍্যং লবণোদরোধসি পরংব্রহ্ম স্বয়ং নৃত‍্যতি।।*
*🌻ব্রজের পূর্ণতম প্রেমরসসাগরের তরঙ্গভঙ্গে যিনি অতি চপল,যাঁর শ্রীঅঙ্গ হতে গৌরকান্তিধারা চুঁয়ে পড়ে বিশ্বকে আচ্ছাদিত করেছে, বিধি,ব‍্যাস,শুকাদি যাঁর স্তব করছেন,সেই শ্রুতিগণের দুর্লক্ষ‍্য আশ্চর্য‍্য জগন্মোহিনীমূর্তি প্রকটন করে লবণসিন্ধুর তীরে স্বয়ং পরব্রহ্ম শ্রীগৌরাঙ্গ সুমোহন নৃত‍্য করছেন।*
*🌻হে মন!এই নৃত‍্যচপল নটরাজকে তুমি হৃদয়মাঝে বেঁধে রাখ।বন্ধন করলে তো তাঁর কষ্ট হবে এবং এইরকম মোহন নাচও বন্ধ হয়ে যাবে?না,বিশ্বের কোন দড়িতেই এই নটরাজ বাঁধা পড়েন না,একমাত্র প্রেমরজ্জুতেই ইনি আবদ্ধ হন।এই বন্ধন অতি সুখের,তাতে নাচও বন্ধ হবার সম্ভাবনা নাই।* *তোমার হৃদয় মন্দাকিনীর তটে তিনি সবসময় নৃত‍্য করতে থাকুন।তখনএই সংসার এবং শমন বা কৃতান্ত তোমার কি করবে?* *মহাজন গেয়েছেন= "দেখিয়া শুনিয়া,তরাস পাইয়া,(শমন) কপাট হানিল দ্বারে"।* *ঠাকুরমহাশয় বলছেন,গৌরাঙ্গের মতো প্রেম দাতা আর কেউ নাই,যিনি বিনা ভজনেই প্রেমদান করে থাকেন* *শ্রীপ্রবোধানন্দ লিখেছেন==*
*পাত্রাপাত্রবিচারণং ন কুরুতে ন স্বং পরং বীক্ষ‍্যতে,দেয়াদেয়-বিমর্শকো ন হি ন বা কালপ্রতীক্ষঃ প্রভুঃ।*
*সদ‍্যো যঃ শ্রবণেক্ষণপ্রণমনধ‍্যানাদিনা দুর্লভং দত্তে ভক্তিরসং স এব ভগবান্ গৌরঃ পরং মে গতিঃ।।*
*🌻প্রেমদান বিষয়ে পরম সমর্থ পাত্রাপাত্রের বিচার করেন না,আপন পর কিছুই দেখেন না,দেয়াদেয় বিচার করেন না,কালেরও প্রতীক্ষা করেন না,শ্রবণ,বিগ্রহ দর্শন,প্রণাম,ধ‍্যান ইত‍্যাদি ভজনেও যাহা দুর্লভ,শ্রীগৌরাঙ্গদেব সেই ভক্তিরস বিনা ভজনেই আপামরে দান করেন।সেই ভগবান ল্রীগৌরসুন্দরই আমার একমাত্র গতি।"মাগে বা না মাগে কেহ,পাত্র বা অপাত্র।ইহার বিচার নাহি,জানে দিব মাত্র"।।(চৈতন‍্যচরিতামৃত।*
*🙏বানান,ভুল ভ্রান্তি ক্ষমা করবেন🙏*
 ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
👇👇👇এই লিখনী 📚 PDF 📚 ক্লিক করুন 👇👇👇
 ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧ 
 ✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️
নিবাস- বাঁশবাড়ী, কীর্তন মন্দিরের পাশে, পোঃ- বাঁশবাড়ী, থানা- ইংরেজ বাজার, জেলা- মালদহ, পশ্চিমবঙ্গ, পিন কোড- ৭৩২১০১।
 ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏
আমায় দেওয়া ওনার এই অমূল্য লিখনী সেবা, তা সকলের মধ্যে প্রকাশ করলাম। ওনার এই অমূল্য দান সমগ্র বৈষ্ণব সমাজ অনন্তকাল মনে রাখিবে।
🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
    *••••┉━❀꧁ 🙏 রাধে রাধে 🙏 ꧂❀━┅••••* 
                   শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য প্রভু নিত্যানন্দ
              হরে কৃষ্ণ হরে রাম শ্রীরাধেগোবিন্দ।।
  *••••┉━❀꧁ 🙏 জয় জগন্নাথ 🙏 ꧂❀━┅••••*
              হরে কৃষ্ণ হরে কৃষ্ণ কৃষ্ণ কৃষ্ণ হরে হরে
              হরে রাম হরে রাম রাম রাম হরে হরে॥
  *••••┉━❀꧁ 🙏 জয় রাধাকান্ত 🙏 ꧂ ❀━┅••••*
   💮❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀💮
   💮❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀💮
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧






হরি! হরি! বিফলে জনম গোঙাইনু।। মনুষ‍্য জনম পাইয়া, রাধাকৃষ্ণ না ভজিয়া, ব্যাখ্যা ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📖 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2022/08/blog-post_31.html

  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
      ꧁ *হরি! হরি! বিফলে জনম গোঙাইনু।* ꧂
 ꧁ *মনুষ‍্য জনম পাইয়া, রাধাকৃষ্ণ না ভজিয়া,* 
       এই লিংকে 👇👇👇🙏👇👇👇 ক্লিক করুন 
            ꧁ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ ꧂
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
  ꧁ টিকা বা অন্যান্য ধর্মীয় লিখনী 🙏 সূচীপত্র 
       এই লিংকে 👇👇👇🙏👇👇👇 ক্লিক করুন 
          ꧁ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ ꧂
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏
*হরি! হরি! বিফলে জনম গোঙাইনু।*
*মনুষ‍্য জনম পাইয়া, রাধাকৃষ্ণ না ভজিয়া,*
   *জানিয়া শুনিয়া বিষ খাইনু।।*
*গোলোকের প্রেমধন, হরিনাম সংকীর্তন,*
   *রতি না জন্মিল কেনে তায়।*
*সংসার বিষানলে, দিবানিশি হিয়া জ্বলে,*
    *জুড়াইতে না কৈনু উপায়।।*
*ব্রজেন্দনন্দন যেই, শচীসুত হৈল সেই,*
    *বলরাম হইল নিতাই।*
*দীন হীন যত ছিল,হরিনামে উদ্ধারিল,*
    *তার সাক্ষী জগাই মাধাই।।*
*হা-হা প্রভু!নন্দসুত,বৃষভানুসুতাযুত,*
    *করুণা করহ একবার।*
*নরোত্তম দাস কয়,না ঠেলিহ রাঙ্গা পায়,*
    *তোমা বিনে কে আছে আমার*।।

 *শ্রীঠাকুরমহাশয় অতীব দৈন‍্যের উদয়ে নিজেকে সাধন-ভজনহীন সাধারণ মানবজ্ঞানে অতিশয় আত্মগ্লানির সঙ্গে যে কথায় আক্ষেপ করছেন, বিশ্বমানবের ইহা মৃতসঞ্জীবনী সুধার মতো পরম হিতকারী।তিনি বলছেন, হরি হরি বিফলে জনম গোঙাইনু।মনুষ‍্য জনম পাইয়া,রাধাকৃষ্ণ না ভজিয়া, জানিয়া শুনিয়া বিষ খাইনু।। ঠাকুরমহাশয় প্রেমের মূরতি হয়েও সাতিশয়(অত‍্যন্ত) দৈন‍্যোদয়ে অতি আক্ষেপের সঙ্গে বলছেন,হায়!হায়!বিফলে জন্ম কাটালাম।দেবদুর্লভ ভজন উপযোগী মনুষ‍্য জন্ম পেয়েও শ্রীশ্রীরাধাকৃষ্ণের ভজন করলাম না।জেনে শুনে স্বেচ্ছায় অমৃত ত‍্যাগ করে বিষপান করলাম।অজ্ঞান বা মূঢ়তা হেতু পশু প্রভৃতি তির্যকদেহ (বাঁকাদেহ) অতিশয় ভোগের আবেশ হেতু জ্ঞানসম্পন্ন হলেও দেবদেহ ভজনের উপযোগী নহে, কেবলমাত্র মনুষ‍্য দেহই ভজনের উপযোগী।এইজন‍্যই মনুষ‍্যদেহকে দেবদুর্লভ বলা হয়েছে। 
ভাগবতে ৩|১৫|২৪ দেখা যায়,*
*যেহভ‍্যর্থিতামপি চ নো নৃগতিং প্রপন্না,জ্ঞানঞ্চ তত্ত্ববিষয়ং সহ ধর্ম যত্র।*
*নারাধনং ভগবতো বিতরন্ত‍্যমুষ‍্য সম্মোহিতা বিততয়া বত মায়য়া তে।।*

*🌻শ্রীব্রহ্মা দেবগণের প্রতি বললেন,হে দেবগণ!যে মনুষ‍্যজন্মে ধর্মসাধনার সঙ্গে তত্ত্বজ্ঞান লাভ হয় বলে যা আমাদেরও অতিশয় প্রশংসনীয়,সেই মানবজন্ম পেয়ে যারা শ্রীহরির আরাধনা করেন না,তারাই যথার্থ হরিমায়ায় মোহিত।তারমধ‍্যে আবার আধ‍্যাত্মক্ষেত্র ভারতবর্ষে মনুষ‍্যজন্ম লাভ অতি দুর্লভ। "অভ‍্যর্থিতামপি চ নো" 'অর্থ‍্যাৎ মনুষ‍্যজন্ম আমাদেরও প্রশংসনীয়' এই অংশে বিশ্বনাথ চক্রবর্তীপাদ লিখেছেন=""হা হন্ত ভারতভূমৌ কদা নৃজনুষো ভূত্বা বয়ং কৃষ্ণং ভজন্তঃ ক্ষণমাত্রেণৈব বৈকুন্ঠং প্রাপ্নয়ামেতি"",* *দেবশ্রেষ্ঠ ব্রহ্মা বলছেন,হায়!হায়! আমরাও কামনা করি-- কবে ভারতবর্ষে মনুষ‍্যদেহ পেয়ে যে দেহে ক্ষণকালমাত্রও শ্রীকৃষ্ণের ভজন করলে মায়াতীত চিন্ময় ভগবদধাম পেয়ে ধন‍্য হব।এই বিশেষ কলিযুগেতে ব্রজের ঠাকুর স্বয়ং ভগবান ব্রজেন্দ্রনন্দন প্রেমময়ী শ্রীরাধারাণীর ভাবকান্তি অঙ্গীকার করে শ্রীগৌরাঙ্গরূপে অবতার হয়ে ব্রজের সর্বোৎকৃষ্ট সাধ‍্যবস্তু মঞ্জরীভাব সাধনা বা শ্রীরাধাকৃষ্ণের রহস‍্যময় ভজন আপামরে বিতরণ করলেন।*
*তাই এইযুগে মনুষ‍্যদেহ পেয়ে বা এইরকম সুবর্ণসুযোগ লাভ করেও যারা অনাদিকালের বিষয় সংস্কারবশত যুগল ভজন না করে ঘৃণ‍্য বিষয়রসে মজে সুদুর্লভ পরমায়ুকে অতিবাহিত করছে তারা জেনে শুনেই অমৃত ছেড়ে যে বিষভক্ষণ করছে এতে বিন্দুমাত্র সন্দেহ নাই।তাই ঠাকুরমহাশয় বললেন,মনুষ‍্য জনম পাইয়া,রাধাকৃষ্ণ না ভজিয়া,জানিয়া শুনিয়া বিষ খাইনু।*
   *ক্রমশ*



🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏
*🙏শ্রীমন্মহাপ্রভু যে ব্রজের সর্বোৎকৃষ্ট যুগলভজনই বিতরণ করেছেন তা নয়, পরন্তু সেই সুদুর্লভ ব্রজপ্রেমসম্পদ ও হরিনাম সংকীর্তন যে একই বস্তু তা বিশ্বমানবকে জানিয়েই বিতরণ করেছেন।যতাই ঠাকুরমহাশয় বললেন, "গোলোকের প্রেমধন,হরিনাম সংকীর্তন,রতি না জন্মিল কেনে তায়"।* *কৃষ্ণনাম ও নামী শ্রীকৃষ্ণ অভিন্ন বলেই নাম ও প্রেম একই বস্তু,কেননা শ্রীকৃষ্ণকেও মহতেরা প্রেমস্বরূপই অনুভব করে থাকেন,কোন মহানুভব বলেছেন, "প্রেম হরিকা রূপ হ‍্যায়,হরি হ‍্যায় প্রেমস্বরূপ।এক হ‍্যায়,দো করি লখে,জোঁউ সূরয আউর ধুপ"।।*
*পক্ষান্তরে প্রেম সাধ‍্য এবং নাম সাধন হলেও নামসাধন অন‍্যান‍্য সাধনাঙ্গের মত নহে,নামকীর্তনের সঙ্গে সঙ্গে নিরপরাধীর চিত্তে তৎক্ষণাৎ প্রেমের সঞ্চার হয় বলিয়া নামকীর্তন ও প্রেমকে অভিন্ন বলা।হয়েছে।শ্রীকৃষ্ণনামের এই মহিমা নিত‍্যকাল থাকলেও শ্রীমন্মহাপ্রভুই ইহা বিশ্বে প্রচার করেছেন।* *তিনি যে কবল শিক্ষার দ্বারায় ইহা প্রচার করেছেন তা নহে,কিন্তু তিনি সপার্ষদে নামসঙ্কীর্তন নৃত‍্য কীর্তনরঙ্গে প্রেমরসকে এমনভাবে মূতিমন্ত করে তুলেছেন যে, হরিনাম সংকীর্তনই যে গোলোকের প্রেমধন,ইহা সকলের মর্মে মর্মে অনুভব করিয়েছেন।*
       ক্রমশ



*🙏শ্রীমন্মহাপ্রভুর পুরীধামে রথাগ্রে সপার্ষদ নৃত‍্যকীর্তন বর্ণনায় শ্রীকবিরাজ গোস্বামীপাদ লিখেছেন=*
*সাত সম্প্রদায়ে বাজে চৌদ্দমাদল*।
*যার ধ্বনি শুনি বৈষ্ণব হইল পাগল।।*
*শ্রীবৈষ্ণব-ঘটামেঘে হইল বাদল।*
*সঙ্কীর্তনামৃতসহ বর্ষে নেত্রজল।।*
*ত্রিভূবন ভরি উঠি সঙ্কীর্তনধ্বনি।*
*অন‍্য বদ‍্যাদির ধ্বনি কিছুই না শুনি।।*
*সাত ঠাঞি বুলে প্রভু 'হরিহরি'বলি।*
*জয় জয় জগন্নাথ কহে হস্ত তুলি*।।
••••••• ••••••• •••••• •••••
••••••• ••••••• •••••• ••••••
*উদ্দন্ড নৃত‍্যে প্রভু করিয়া হুঙ্কার।*
*চক্রভ্রমি ভ্রমে যৈছে আলাত-আকার।।*
*নৃত‍্যে প্রভুর যাঁহা যাঁহা পড়ে পদতল।*
*সসাগর শৈল মহী করে টলমল।।*
*স্তম্ভ স্বেদ পুলকাশ্রু কম্প বৈবর্ণ।*
*নানাভাবে বিবশতা গর্ব হর্ষ দৈন‍্য*।।
*আছাড় খাইয়া পড়ি ভূমি গড়ি যায়।*
*সুবর্ণপর্বত যেন ভূমিতে লোটায়।।*
*নিত‍্যানন্দপ্রভু দুই হস্ত প্রসারিয়া।*
*প্রভুকে ধরিতে বুলে আশে পাশে ধাঞা।।*
*প্রভু পাছে বুলে আচার্য‍্য করিয়া হুঙ্কার।*
*হরিদাস"হরিবোল"বোলে বারবার।।*
*(চৈঃ চরিতামৃত মধ‍্য=১৩শ পরিচ্ছদ)*
*🙏এই অদ্ভুত দৃশ্য নয়নে দর্শন দূরে থাকুক-- ইঁহার কীর্তনে স্মরণেও যে প্রেমের সঞ্চার হবে,তা বলাই বাহুল‍্য। ঠাকুরমহাশয় খুব আক্ষেপের সঙ্গে বলেছেন,""রতি না জন্মিল কেনে তায়""।* *সংসার বিষানলে,দিবানিশি হিয়া জ্বলে, জুড়াইতে না কৈনু উপায়।* *অহো!এইরকম প্রেমময় হরিনাম-সঙ্কীর্তনে আমার রতি জন্মিল না।দেহ-দৈহিকাদি বস্তুতে আসক্তিরূপ বিষানলে হিয়া বা চিত্ত-মন সবসময় দগ্ধ হচ্ছে, এই বিষানলের জ্বালা জুড়াবার কোন উপায় করলাম না।* *ঠাকুরমহাশয় প্রেমময় বিগ্রহ হয়েও যে দৈন‍্যের সঙ্গে আক্ষেপ করছেন।প্রীতির সঙ্গে নামকীর্তনে সহসা প্রেমলাভ এবং অভীষ্ট ভগবৎসেবালাভ হয়ে থাকে।কৃষ্ণেতর জড়ীয় বস্তুর অভিনিবেশে (মনোযোগে) জীবের হৃদয়কে বিষানলের জ্বালার মতো দিনরাত দগ্ধ করে থাকে।* *বিষানলের জ্বালা বলতে ভিতর বাহির অসহনীয় জ্বালা বুঝা যাচ্ছে।অতি বিষধর সাপ দংশন করলে যেমন দেহটি মনে হয় পুড়ে যাচ্ছে,বোধ হয়,তার ভিতর বাহিরে যে জ্বালার অনুভব হয়,সংসারে আসক্ত জীবকে অনাদিকাল হতে ভোগ করতে হচ্ছে।* *মহদ আশ্রয়ে শ্রীহরির চরণে শরণাগত হয়ে ভজন-সাধনই এই সংসারবিষানলের জ্বালা জুড়াবার একমাত্র উপায়।*
*🌻যদি আমাদের মনে হয়,অনাদিকাল হতে মায়াবন্ধনে বদ্ধ, অতি অধম,দুরাচারী,সংসারাসক্ত মানবের পক্ষে সংসারাসক্তি ত‍্যাগ করে ভজনপথাশ্রয় করা কি সম্ভব?* *তাই ঠাকুরমহাশয় দীন হীন পতিতজীবের প্রাণে আশার আলো সঞ্চার করে বললেন,ব্রজেন্দ্রনন্দন যেই,শচীসুত হৈল সেই,বলরাম হইল নিতাই।* *দীন হীন যত ছিল,হরিনামে উদ্ধারিল,তার সাক্ষী জগাই মাধাই।।* *এই কলিতে কলিহত দীনহীন পতিতপামর জীবকুলকে উদ্ধার করে প্রেমদানে ধন‍্য করবার জন্যই পতিতপাবন শ্রীশীনিতাই-গৌরের অবতার।এইজন‍্য ব্রজেন্দ্রনন্দন শ্রীকৃষ্ণ শচীরনন্দন এবং বলরাম নিতাইচাঁদ হয়েছেন।*
*🌻শ্রীচৈতন‍্য ভাগবতে (মধ‍্য ৬ষ্ঠ অধ‍্যায়ে) শ্রীমন্মহাপ্রভুর গৌর-আনা ঠাকুর শ্রীঅদ্বৈতাচার্য‍্যপ্রভুকে বর দান প্রসঙ্গে ব‍্যাসাবতার শ্রীবৃন্দাবন দাস ঠাকুর লিখেছেন,*
*আপন গলার মালা অদ্বৈতেরে দিয়া।*
*বর মাগ বর মাগ - বলেন হাসিয়া*।।
*শুনিয়া অদ্বৈত কিছু না করে উত্তর।*
*মাগ মাগ' পুনঃপুনঃ বলে বিশ্বম্ভর।।*
••••••••• •••••••• ••••••••
•••••••••• ••••••••• •••••••••
*মাথা ঢুলাইয়া বলে প্রভু বিশ্বম্ভর।*
*তোমার নিমিত্তে আমি হইনু গোচর।।*
*ঘরে ঘরে করিমু কীর্তন পরচার।*
*মোর যশে নাচে যেন সকল সংসার।।*
*ব্রহ্মা-শিব-নারদাদি যাহা বাঞ্জা করে।*
*হেন ভক্তি বিলাইমু বলিনু তোমারে।।*
*অদ্বৈত বলয়ে 'যদি ভক্তি বিলাইবা।*
*স্ত্রী,শূদ্র আদি যত মূর্খেরে সে দিবা।।*
*বিদ‍্যা ধন কুল আদি তপস‍্যার মদে।*
*তোর ভক্ত তোর ভক্তি যে যে জন বাধে।।*
*সে পাপিষ্ঠ সব দেখি মরুক পুড়িয়া।*
*চন্ডালো নাচুক তোর নাম গুণ গাইয়া।।*
*অদ্বৈতের বাক‍্য শুনি করিলা হুঙ্কার।*
*প্রভুবলে সত‍্য সে তোমার অঙ্গীকার।।*
*🌻ঠাকুরমহাশয় "ব্রজেন্দ্রনন্দন" বলে শ্রীকৃষ্ণের পিতৃনামের পরিচয় দিয়া "শচীসুত"বলে মাতৃনামে মহাপ্রভুর পরিচয় প্রদান করলেন,এতে শ্রীকৃষ্ণ অপেক্ষা মহাপ্রভুতে যে দীন হীন জীবের প্রতি মাতৃজনোচিত সমধিক করুণার বিকাশ হয়েছে, ইহা প্রতিপাদন করলেন।* *পরম কারুণ‍্য ঘনবিগ্রহ প্রভু নিতাইচাঁদ আবার পতিত উদ্ধারণ লীলায় কারুণ‍্যে সাক্ষাৎ শ্রীমন্মহাপ্রভুকেও যে অতিক্রম করেছেন,তার সাক্ষী জগাই মাধাই।* *সর্বজন জানেন,জগাই মাধাই উদ্ধার লীলায় শ্রীশ্রীগৌরনিতাইয়ের দীনহীন পতিতজনকে হরিনামে উদ্ধারের জ্বলন্ত সাক্ষী।* 
*ক্রমশ*


 *তারপর বললেন,"হা হা প্রভু নন্দসুত,বৃষভানু সুতাযুত,করুণা করহ এইবার",শ্রীবৃষভানুনন্দিনীর সঙ্গে শ্রীকৃষ্ণের করুণা কামনা করছেন পূজ‍্যপাদ ঠাকুরমহাশয়।শ্রীশ্রীযুগলমাধুরীই গৌড়ীয় বৈষ্ণবগণের উপাস‍্য।শ্রীরাধারাণীর সঙ্গে শ্রীকৃষ্ণ-উপাসনা ছাড়া যে শ্রীকৃষ্ণমাধুরী আস্বাদনের কোন উপায় নেই,ইহা শ্রীগোস্বামীপাদগণ নানা জায়গায় নানাভাবে বর্ণনা করেছেন।* *শ্রীমৎ জীবগোস্বামীপাদ তাই "শ্রীশ্রীরাধাকৃষ্ণার্চন-দীপিকার" উপসংহারে লিখেছেন=*
*রাধা বৃন্দাবনে যদ্বত্তদ্বদদামোদরো হরিঃ।*
*দর্শিতেষু চ শাস্ত্রেষু তদযুগ্মং তত্তদীশিতুঃ।।*
*রাধায়া-মাধবো দেবো মাধবেনৈব রাধিকা।*
*বিভ্রাজন্তে জনেষ্বেতি পরিশিষ্ট বচস্তথা।।*
*কার্তিকব্রতচর্য‍্যায়ামতস্তে যুগ্মদেবতে।*
*রাধাদামোদরভিখ‍্যে বীক্ষ‍্যেতে লোক শাস্ত্রয়োঃ।।*
*কিং বহূক্ত‍্যা কুন্ডযুগ্মং তয়োর্যুগ্মেন বক্ষ‍্যতে।*
*শাস্ত্রে চ দর্শিতা তস্মাৎ কৈমুত‍্যাদযুগ্মতা তয়োঃ।।*
*উমা-মহেশ্বরৌ কেচিৎ লক্ষ্মী-নারায়ণৌ পরে।*
*তে ভজন্তাং ভজামস্তু রাধাদামোদরৌ বয়ম্।।*
*🙏তাৎপর্য‍্য এই যে,শ্রীবৃন্দাবনে শ্রীরাধারাণীর নিত‍্যবাসের মতো শ্রীদামোদর শ্রীকৃষ্ণের নিত‍্য বাস শাস্ত্র প্রমাণে জানা যায়।* *ঋক্ পরিশিষ্টে শ্রীরাধারাণীর সঙ্গে লীলাময় শ্রীমাধব এবং মাধবের সঙ্গে শ্রীরাধা বৃন্দাবনে লোকসমাজে দেদীপ‍্যমান(প্রজ্বলিত,বা প্রদীপ্ত) আছেন বলে শ্রীরাধামাধবের উপাসনার সুস্পষ্ট বর্ণনা পাওয়া যায়।* *কার্তিক-ব্রতাচরণেও শ্রীরাধা দামোদরের যুগ্ম(যুগল)দেবতারূপে লোকতঃ এবং শাস্ত্রতঃ প্রসিদ্ধি রয়েছে।*
*বেশী কি আর বলা যাবে ব্রজমন্ডলে শ্রীরাধাকুন্ড এবং শ্রীশ‍্যামকুন্ডদ্বয় যুগ্মরূপে আবহমান কাল হতে বিরাজ করছেন।* *সুতরাং শ্রীরাধার সঙ্গে শ্রীকৃষ্ণের নিত‍্যযুগ্ম অবস্থান বুঝা যায়।কেউ উমা-মহেশ্বর,কেউ বা লক্ষ্মী-নারায়ণ যুগ্মরূপের উপাসনা করেন,তেমনি আমরা শ্রীশ্রীরাধাদামোদরের যুগ্মরূপে উপাসনা করে থাকি।* *অথবা প্রকরণানুসারে (কার্য‍্যানুসারে)এই অংশের এইপ্রকার ব‍্যাখ‍্যাও হতে পারে যে,হে বৃষভানুসুতা শ্রীরাধারাণীর সঙ্গে একাত্মতা পেয়ে স্বয়ং ভগবান নন্দনন্দন শ্রীমন্মহাপ্রভু।* *"তুমি এইবার আমার প্রতি কৃপাদৃষ্টিপাত কর"।তোমা'বিনা বিশ্বে আমার আর কেউ নেই,অতএব রাঙ্গাচরণে ঠেলিয়া দিও না,নিজগুণে শ্রীচরণে স্থান দিয়ে ধন‍্য কর", "নরোত্তম দাস কয়,না ঠেলিহ রাঙ্গাপায়,তোমা বিনা কে আছে আমার"।*
*🙏বানান,ভুল ক্ষমা করবেন🙏*
 ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
👇👇👇এই লিখনী 📚 PDF 📚 ক্লিক করুন 👇👇👇
🌐 
 ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧ 
 ✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️
নিবাস- বাঁশবাড়ী, কীর্তন মন্দিরের পাশে, পোঃ- বাঁশবাড়ী, থানা- ইংরেজ বাজার, জেলা- মালদহ, পশ্চিমবঙ্গ, পিন কোড- ৭৩২১০১।
 ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏
আমায় দেওয়া ওনার এই অমূল্য লিখনী সেবা, তা সকলের মধ্যে প্রকাশ করলাম। ওনার এই অমূল্য দান সমগ্র বৈষ্ণব সমাজ অনন্তকাল মনে রাখিবে।
🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
    *••••┉━❀꧁ 🙏 রাধে রাধে 🙏 ꧂❀━┅••••* 
                   শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য প্রভু নিত্যানন্দ
              হরে কৃষ্ণ হরে রাম শ্রীরাধেগোবিন্দ।।
  *••••┉━❀꧁ 🙏 জয় জগন্নাথ 🙏 ꧂❀━┅••••*
              হরে কৃষ্ণ হরে কৃষ্ণ কৃষ্ণ কৃষ্ণ হরে হরে
              হরে রাম হরে রাম রাম রাম হরে হরে॥
  *••••┉━❀꧁ 🙏 জয় রাধাকান্ত 🙏 ꧂ ❀━┅••••*
   💮❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀💮
   💮❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀💮
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧





*হরি! হরি! বিফলে জনম গোঙাইনু।*। *মনুষ‍্য জনম পাইয়া, রাধাকৃষ্ণ না ভজিয়া,* ব্যাখ্যা ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ -> http://mrinmoynandy.blogspot.com/2022/08/blog-post_31.html

  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
      ꧁ *হরি! হরি! বিফলে জনম গোঙাইনু।* ꧂
 ꧁ *মনুষ‍্য জনম পাইয়া, রাধাকৃষ্ণ না ভজিয়া,* 
       এই লিংকে 👇👇👇🙏👇👇👇 ক্লিক করুন 
            ꧁ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ ꧂
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
  ꧁ টিকা বা অন্যান্য ধর্মীয় লিখনী 🙏 সূচীপত্র 
       এই লিংকে 👇👇👇🙏👇👇👇 ক্লিক করুন 
          ꧁ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ ꧂
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏
*হরি! হরি! বিফলে জনম গোঙাইনু।*
*মনুষ‍্য জনম পাইয়া, রাধাকৃষ্ণ না ভজিয়া,*
   *জানিয়া শুনিয়া বিষ খাইনু।।*
*গোলোকের প্রেমধন, হরিনাম সংকীর্তন,*
   *রতি না জন্মিল কেনে তায়।*
*সংসার বিষানলে, দিবানিশি হিয়া জ্বলে,*
    *জুড়াইতে না কৈনু উপায়।।*
*ব্রজেন্দনন্দন যেই, শচীসুত হৈল সেই,*
    *বলরাম হইল নিতাই।*
*দীন হীন যত ছিল,হরিনামে উদ্ধারিল,*
    *তার সাক্ষী জগাই মাধাই।।*
*হা-হা প্রভু!নন্দসুত,বৃষভানুসুতাযুত,*
    *করুণা করহ একবার।*
*নরোত্তম দাস কয়,না ঠেলিহ রাঙ্গা পায়,*
    *তোমা বিনে কে আছে আমার*।।

 *শ্রীঠাকুরমহাশয় অতীব দৈন‍্যের উদয়ে নিজেকে সাধন-ভজনহীন সাধারণ মানবজ্ঞানে অতিশয় আত্মগ্লানির সঙ্গে যে কথায় আক্ষেপ করছেন, বিশ্বমানবের ইহা মৃতসঞ্জীবনী সুধার মতো পরম হিতকারী।তিনি বলছেন, হরি হরি বিফলে জনম গোঙাইনু।মনুষ‍্য জনম পাইয়া,রাধাকৃষ্ণ না ভজিয়া, জানিয়া শুনিয়া বিষ খাইনু।। ঠাকুরমহাশয় প্রেমের মূরতি হয়েও সাতিশয়(অত‍্যন্ত) দৈন‍্যোদয়ে অতি আক্ষেপের সঙ্গে বলছেন,হায়!হায়!বিফলে জন্ম কাটালাম।দেবদুর্লভ ভজন উপযোগী মনুষ‍্য জন্ম পেয়েও শ্রীশ্রীরাধাকৃষ্ণের ভজন করলাম না।জেনে শুনে স্বেচ্ছায় অমৃত ত‍্যাগ করে বিষপান করলাম।অজ্ঞান বা মূঢ়তা হেতু পশু প্রভৃতি তির্যকদেহ (বাঁকাদেহ) অতিশয় ভোগের আবেশ হেতু জ্ঞানসম্পন্ন হলেও দেবদেহ ভজনের উপযোগী নহে, কেবলমাত্র মনুষ‍্য দেহই ভজনের উপযোগী।এইজন‍্যই মনুষ‍্যদেহকে দেবদুর্লভ বলা হয়েছে। 
ভাগবতে ৩|১৫|২৪ দেখা যায়,*
*যেহভ‍্যর্থিতামপি চ নো নৃগতিং প্রপন্না,জ্ঞানঞ্চ তত্ত্ববিষয়ং সহ ধর্ম যত্র।*
*নারাধনং ভগবতো বিতরন্ত‍্যমুষ‍্য সম্মোহিতা বিততয়া বত মায়য়া তে।।*

*🌻শ্রীব্রহ্মা দেবগণের প্রতি বললেন,হে দেবগণ!যে মনুষ‍্যজন্মে ধর্মসাধনার সঙ্গে তত্ত্বজ্ঞান লাভ হয় বলে যা আমাদেরও অতিশয় প্রশংসনীয়,সেই মানবজন্ম পেয়ে যারা শ্রীহরির আরাধনা করেন না,তারাই যথার্থ হরিমায়ায় মোহিত।তারমধ‍্যে আবার আধ‍্যাত্মক্ষেত্র ভারতবর্ষে মনুষ‍্যজন্ম লাভ অতি দুর্লভ। "অভ‍্যর্থিতামপি চ নো" 'অর্থ‍্যাৎ মনুষ‍্যজন্ম আমাদেরও প্রশংসনীয়' এই অংশে বিশ্বনাথ চক্রবর্তীপাদ লিখেছেন=""হা হন্ত ভারতভূমৌ কদা নৃজনুষো ভূত্বা বয়ং কৃষ্ণং ভজন্তঃ ক্ষণমাত্রেণৈব বৈকুন্ঠং প্রাপ্নয়ামেতি"",* *দেবশ্রেষ্ঠ ব্রহ্মা বলছেন,হায়!হায়! আমরাও কামনা করি-- কবে ভারতবর্ষে মনুষ‍্যদেহ পেয়ে যে দেহে ক্ষণকালমাত্রও শ্রীকৃষ্ণের ভজন করলে মায়াতীত চিন্ময় ভগবদধাম পেয়ে ধন‍্য হব।এই বিশেষ কলিযুগেতে ব্রজের ঠাকুর স্বয়ং ভগবান ব্রজেন্দ্রনন্দন প্রেমময়ী শ্রীরাধারাণীর ভাবকান্তি অঙ্গীকার করে শ্রীগৌরাঙ্গরূপে অবতার হয়ে ব্রজের সর্বোৎকৃষ্ট সাধ‍্যবস্তু মঞ্জরীভাব সাধনা বা শ্রীরাধাকৃষ্ণের রহস‍্যময় ভজন আপামরে বিতরণ করলেন।*
*তাই এইযুগে মনুষ‍্যদেহ পেয়ে বা এইরকম সুবর্ণসুযোগ লাভ করেও যারা অনাদিকালের বিষয় সংস্কারবশত যুগল ভজন না করে ঘৃণ‍্য বিষয়রসে মজে সুদুর্লভ পরমায়ুকে অতিবাহিত করছে তারা জেনে শুনেই অমৃত ছেড়ে যে বিষভক্ষণ করছে এতে বিন্দুমাত্র সন্দেহ নাই।তাই ঠাকুরমহাশয় বললেন,মনুষ‍্য জনম পাইয়া,রাধাকৃষ্ণ না ভজিয়া,জানিয়া শুনিয়া বিষ খাইনু।*
   *ক্রমশ*



🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏
*🙏শ্রীমন্মহাপ্রভু যে ব্রজের সর্বোৎকৃষ্ট যুগলভজনই বিতরণ করেছেন তা নয়, পরন্তু সেই সুদুর্লভ ব্রজপ্রেমসম্পদ ও হরিনাম সংকীর্তন যে একই বস্তু তা বিশ্বমানবকে জানিয়েই বিতরণ করেছেন।যতাই ঠাকুরমহাশয় বললেন, "গোলোকের প্রেমধন,হরিনাম সংকীর্তন,রতি না জন্মিল কেনে তায়"।* *কৃষ্ণনাম ও নামী শ্রীকৃষ্ণ অভিন্ন বলেই নাম ও প্রেম একই বস্তু,কেননা শ্রীকৃষ্ণকেও মহতেরা প্রেমস্বরূপই অনুভব করে থাকেন,কোন মহানুভব বলেছেন, "প্রেম হরিকা রূপ হ‍্যায়,হরি হ‍্যায় প্রেমস্বরূপ।এক হ‍্যায়,দো করি লখে,জোঁউ সূরয আউর ধুপ"।।*
*পক্ষান্তরে প্রেম সাধ‍্য এবং নাম সাধন হলেও নামসাধন অন‍্যান‍্য সাধনাঙ্গের মত নহে,নামকীর্তনের সঙ্গে সঙ্গে নিরপরাধীর চিত্তে তৎক্ষণাৎ প্রেমের সঞ্চার হয় বলিয়া নামকীর্তন ও প্রেমকে অভিন্ন বলা।হয়েছে।শ্রীকৃষ্ণনামের এই মহিমা নিত‍্যকাল থাকলেও শ্রীমন্মহাপ্রভুই ইহা বিশ্বে প্রচার করেছেন।* *তিনি যে কবল শিক্ষার দ্বারায় ইহা প্রচার করেছেন তা নহে,কিন্তু তিনি সপার্ষদে নামসঙ্কীর্তন নৃত‍্য কীর্তনরঙ্গে প্রেমরসকে এমনভাবে মূতিমন্ত করে তুলেছেন যে, হরিনাম সংকীর্তনই যে গোলোকের প্রেমধন,ইহা সকলের মর্মে মর্মে অনুভব করিয়েছেন।*
       ক্রমশ



*🙏শ্রীমন্মহাপ্রভুর পুরীধামে রথাগ্রে সপার্ষদ নৃত‍্যকীর্তন বর্ণনায় শ্রীকবিরাজ গোস্বামীপাদ লিখেছেন=*
*সাত সম্প্রদায়ে বাজে চৌদ্দমাদল*।
*যার ধ্বনি শুনি বৈষ্ণব হইল পাগল।।*
*শ্রীবৈষ্ণব-ঘটামেঘে হইল বাদল।*
*সঙ্কীর্তনামৃতসহ বর্ষে নেত্রজল।।*
*ত্রিভূবন ভরি উঠি সঙ্কীর্তনধ্বনি।*
*অন‍্য বদ‍্যাদির ধ্বনি কিছুই না শুনি।।*
*সাত ঠাঞি বুলে প্রভু 'হরিহরি'বলি।*
*জয় জয় জগন্নাথ কহে হস্ত তুলি*।।
••••••• ••••••• •••••• •••••
••••••• ••••••• •••••• ••••••
*উদ্দন্ড নৃত‍্যে প্রভু করিয়া হুঙ্কার।*
*চক্রভ্রমি ভ্রমে যৈছে আলাত-আকার।।*
*নৃত‍্যে প্রভুর যাঁহা যাঁহা পড়ে পদতল।*
*সসাগর শৈল মহী করে টলমল।।*
*স্তম্ভ স্বেদ পুলকাশ্রু কম্প বৈবর্ণ।*
*নানাভাবে বিবশতা গর্ব হর্ষ দৈন‍্য*।।
*আছাড় খাইয়া পড়ি ভূমি গড়ি যায়।*
*সুবর্ণপর্বত যেন ভূমিতে লোটায়।।*
*নিত‍্যানন্দপ্রভু দুই হস্ত প্রসারিয়া।*
*প্রভুকে ধরিতে বুলে আশে পাশে ধাঞা।।*
*প্রভু পাছে বুলে আচার্য‍্য করিয়া হুঙ্কার।*
*হরিদাস"হরিবোল"বোলে বারবার।।*
*(চৈঃ চরিতামৃত মধ‍্য=১৩শ পরিচ্ছদ)*
*🙏এই অদ্ভুত দৃশ্য নয়নে দর্শন দূরে থাকুক-- ইঁহার কীর্তনে স্মরণেও যে প্রেমের সঞ্চার হবে,তা বলাই বাহুল‍্য। ঠাকুরমহাশয় খুব আক্ষেপের সঙ্গে বলেছেন,""রতি না জন্মিল কেনে তায়""।* *সংসার বিষানলে,দিবানিশি হিয়া জ্বলে, জুড়াইতে না কৈনু উপায়।* *অহো!এইরকম প্রেমময় হরিনাম-সঙ্কীর্তনে আমার রতি জন্মিল না।দেহ-দৈহিকাদি বস্তুতে আসক্তিরূপ বিষানলে হিয়া বা চিত্ত-মন সবসময় দগ্ধ হচ্ছে, এই বিষানলের জ্বালা জুড়াবার কোন উপায় করলাম না।* *ঠাকুরমহাশয় প্রেমময় বিগ্রহ হয়েও যে দৈন‍্যের সঙ্গে আক্ষেপ করছেন।প্রীতির সঙ্গে নামকীর্তনে সহসা প্রেমলাভ এবং অভীষ্ট ভগবৎসেবালাভ হয়ে থাকে।কৃষ্ণেতর জড়ীয় বস্তুর অভিনিবেশে (মনোযোগে) জীবের হৃদয়কে বিষানলের জ্বালার মতো দিনরাত দগ্ধ করে থাকে।* *বিষানলের জ্বালা বলতে ভিতর বাহির অসহনীয় জ্বালা বুঝা যাচ্ছে।অতি বিষধর সাপ দংশন করলে যেমন দেহটি মনে হয় পুড়ে যাচ্ছে,বোধ হয়,তার ভিতর বাহিরে যে জ্বালার অনুভব হয়,সংসারে আসক্ত জীবকে অনাদিকাল হতে ভোগ করতে হচ্ছে।* *মহদ আশ্রয়ে শ্রীহরির চরণে শরণাগত হয়ে ভজন-সাধনই এই সংসারবিষানলের জ্বালা জুড়াবার একমাত্র উপায়।*
*🌻যদি আমাদের মনে হয়,অনাদিকাল হতে মায়াবন্ধনে বদ্ধ, অতি অধম,দুরাচারী,সংসারাসক্ত মানবের পক্ষে সংসারাসক্তি ত‍্যাগ করে ভজনপথাশ্রয় করা কি সম্ভব?* *তাই ঠাকুরমহাশয় দীন হীন পতিতজীবের প্রাণে আশার আলো সঞ্চার করে বললেন,ব্রজেন্দ্রনন্দন যেই,শচীসুত হৈল সেই,বলরাম হইল নিতাই।* *দীন হীন যত ছিল,হরিনামে উদ্ধারিল,তার সাক্ষী জগাই মাধাই।।* *এই কলিতে কলিহত দীনহীন পতিতপামর জীবকুলকে উদ্ধার করে প্রেমদানে ধন‍্য করবার জন্যই পতিতপাবন শ্রীশীনিতাই-গৌরের অবতার।এইজন‍্য ব্রজেন্দ্রনন্দন শ্রীকৃষ্ণ শচীরনন্দন এবং বলরাম নিতাইচাঁদ হয়েছেন।*
*🌻শ্রীচৈতন‍্য ভাগবতে (মধ‍্য ৬ষ্ঠ অধ‍্যায়ে) শ্রীমন্মহাপ্রভুর গৌর-আনা ঠাকুর শ্রীঅদ্বৈতাচার্য‍্যপ্রভুকে বর দান প্রসঙ্গে ব‍্যাসাবতার শ্রীবৃন্দাবন দাস ঠাকুর লিখেছেন,*
*আপন গলার মালা অদ্বৈতেরে দিয়া।*
*বর মাগ বর মাগ - বলেন হাসিয়া*।।
*শুনিয়া অদ্বৈত কিছু না করে উত্তর।*
*মাগ মাগ' পুনঃপুনঃ বলে বিশ্বম্ভর।।*
••••••••• •••••••• ••••••••
•••••••••• ••••••••• •••••••••
*মাথা ঢুলাইয়া বলে প্রভু বিশ্বম্ভর।*
*তোমার নিমিত্তে আমি হইনু গোচর।।*
*ঘরে ঘরে করিমু কীর্তন পরচার।*
*মোর যশে নাচে যেন সকল সংসার।।*
*ব্রহ্মা-শিব-নারদাদি যাহা বাঞ্জা করে।*
*হেন ভক্তি বিলাইমু বলিনু তোমারে।।*
*অদ্বৈত বলয়ে 'যদি ভক্তি বিলাইবা।*
*স্ত্রী,শূদ্র আদি যত মূর্খেরে সে দিবা।।*
*বিদ‍্যা ধন কুল আদি তপস‍্যার মদে।*
*তোর ভক্ত তোর ভক্তি যে যে জন বাধে।।*
*সে পাপিষ্ঠ সব দেখি মরুক পুড়িয়া।*
*চন্ডালো নাচুক তোর নাম গুণ গাইয়া।।*
*অদ্বৈতের বাক‍্য শুনি করিলা হুঙ্কার।*
*প্রভুবলে সত‍্য সে তোমার অঙ্গীকার।।*
*🌻ঠাকুরমহাশয় "ব্রজেন্দ্রনন্দন" বলে শ্রীকৃষ্ণের পিতৃনামের পরিচয় দিয়া "শচীসুত"বলে মাতৃনামে মহাপ্রভুর পরিচয় প্রদান করলেন,এতে শ্রীকৃষ্ণ অপেক্ষা মহাপ্রভুতে যে দীন হীন জীবের প্রতি মাতৃজনোচিত সমধিক করুণার বিকাশ হয়েছে, ইহা প্রতিপাদন করলেন।* *পরম কারুণ‍্য ঘনবিগ্রহ প্রভু নিতাইচাঁদ আবার পতিত উদ্ধারণ লীলায় কারুণ‍্যে সাক্ষাৎ শ্রীমন্মহাপ্রভুকেও যে অতিক্রম করেছেন,তার সাক্ষী জগাই মাধাই।* *সর্বজন জানেন,জগাই মাধাই উদ্ধার লীলায় শ্রীশ্রীগৌরনিতাইয়ের দীনহীন পতিতজনকে হরিনামে উদ্ধারের জ্বলন্ত সাক্ষী।* 
*ক্রমশ*


 *তারপর বললেন,"হা হা প্রভু নন্দসুত,বৃষভানু সুতাযুত,করুণা করহ এইবার",শ্রীবৃষভানুনন্দিনীর সঙ্গে শ্রীকৃষ্ণের করুণা কামনা করছেন পূজ‍্যপাদ ঠাকুরমহাশয়।শ্রীশ্রীযুগলমাধুরীই গৌড়ীয় বৈষ্ণবগণের উপাস‍্য।শ্রীরাধারাণীর সঙ্গে শ্রীকৃষ্ণ-উপাসনা ছাড়া যে শ্রীকৃষ্ণমাধুরী আস্বাদনের কোন উপায় নেই,ইহা শ্রীগোস্বামীপাদগণ নানা জায়গায় নানাভাবে বর্ণনা করেছেন।* *শ্রীমৎ জীবগোস্বামীপাদ তাই "শ্রীশ্রীরাধাকৃষ্ণার্চন-দীপিকার" উপসংহারে লিখেছেন=*
*রাধা বৃন্দাবনে যদ্বত্তদ্বদদামোদরো হরিঃ।*
*দর্শিতেষু চ শাস্ত্রেষু তদযুগ্মং তত্তদীশিতুঃ।।*
*রাধায়া-মাধবো দেবো মাধবেনৈব রাধিকা।*
*বিভ্রাজন্তে জনেষ্বেতি পরিশিষ্ট বচস্তথা।।*
*কার্তিকব্রতচর্য‍্যায়ামতস্তে যুগ্মদেবতে।*
*রাধাদামোদরভিখ‍্যে বীক্ষ‍্যেতে লোক শাস্ত্রয়োঃ।।*
*কিং বহূক্ত‍্যা কুন্ডযুগ্মং তয়োর্যুগ্মেন বক্ষ‍্যতে।*
*শাস্ত্রে চ দর্শিতা তস্মাৎ কৈমুত‍্যাদযুগ্মতা তয়োঃ।।*
*উমা-মহেশ্বরৌ কেচিৎ লক্ষ্মী-নারায়ণৌ পরে।*
*তে ভজন্তাং ভজামস্তু রাধাদামোদরৌ বয়ম্।।*
*🙏তাৎপর্য‍্য এই যে,শ্রীবৃন্দাবনে শ্রীরাধারাণীর নিত‍্যবাসের মতো শ্রীদামোদর শ্রীকৃষ্ণের নিত‍্য বাস শাস্ত্র প্রমাণে জানা যায়।* *ঋক্ পরিশিষ্টে শ্রীরাধারাণীর সঙ্গে লীলাময় শ্রীমাধব এবং মাধবের সঙ্গে শ্রীরাধা বৃন্দাবনে লোকসমাজে দেদীপ‍্যমান(প্রজ্বলিত,বা প্রদীপ্ত) আছেন বলে শ্রীরাধামাধবের উপাসনার সুস্পষ্ট বর্ণনা পাওয়া যায়।* *কার্তিক-ব্রতাচরণেও শ্রীরাধা দামোদরের যুগ্ম(যুগল)দেবতারূপে লোকতঃ এবং শাস্ত্রতঃ প্রসিদ্ধি রয়েছে।*
*বেশী কি আর বলা যাবে ব্রজমন্ডলে শ্রীরাধাকুন্ড এবং শ্রীশ‍্যামকুন্ডদ্বয় যুগ্মরূপে আবহমান কাল হতে বিরাজ করছেন।* *সুতরাং শ্রীরাধার সঙ্গে শ্রীকৃষ্ণের নিত‍্যযুগ্ম অবস্থান বুঝা যায়।কেউ উমা-মহেশ্বর,কেউ বা লক্ষ্মী-নারায়ণ যুগ্মরূপের উপাসনা করেন,তেমনি আমরা শ্রীশ্রীরাধাদামোদরের যুগ্মরূপে উপাসনা করে থাকি।* *অথবা প্রকরণানুসারে (কার্য‍্যানুসারে)এই অংশের এইপ্রকার ব‍্যাখ‍্যাও হতে পারে যে,হে বৃষভানুসুতা শ্রীরাধারাণীর সঙ্গে একাত্মতা পেয়ে স্বয়ং ভগবান নন্দনন্দন শ্রীমন্মহাপ্রভু।* *"তুমি এইবার আমার প্রতি কৃপাদৃষ্টিপাত কর"।তোমা'বিনা বিশ্বে আমার আর কেউ নেই,অতএব রাঙ্গাচরণে ঠেলিয়া দিও না,নিজগুণে শ্রীচরণে স্থান দিয়ে ধন‍্য কর", "নরোত্তম দাস কয়,না ঠেলিহ রাঙ্গাপায়,তোমা বিনা কে আছে আমার"।*
*🙏বানান,ভুল ক্ষমা করবেন🙏*
 ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
👇👇👇এই লিখনী 📚 PDF 📚 ক্লিক করুন 👇👇👇
🌐 
 ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧ 
 ✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️
নিবাস- বাঁশবাড়ী, কীর্তন মন্দিরের পাশে, পোঃ- বাঁশবাড়ী, থানা- ইংরেজ বাজার, জেলা- মালদহ, পশ্চিমবঙ্গ, পিন কোড- ৭৩২১০১।
 ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏
আমায় দেওয়া ওনার এই অমূল্য লিখনী সেবা, তা সকলের মধ্যে প্রকাশ করলাম। ওনার এই অমূল্য দান সমগ্র বৈষ্ণব সমাজ অনন্তকাল মনে রাখিবে।
🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
    *••••┉━❀꧁ 🙏 রাধে রাধে 🙏 ꧂❀━┅••••* 
                   শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য প্রভু নিত্যানন্দ
              হরে কৃষ্ণ হরে রাম শ্রীরাধেগোবিন্দ।।
  *••••┉━❀꧁ 🙏 জয় জগন্নাথ 🙏 ꧂❀━┅••••*
              হরে কৃষ্ণ হরে কৃষ্ণ কৃষ্ণ কৃষ্ণ হরে হরে
              হরে রাম হরে রাম রাম রাম হরে হরে॥
  *••••┉━❀꧁ 🙏 জয় রাধাকান্ত 🙏 ꧂ ❀━┅••••*
   💮❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀💮
   💮❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀💮
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧





adds