✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
꧁ ৪. পূতনা উদ্ধার ꧂
এই লিংকে 👇👇👇🙏👇👇👇 ক্লিক করুন
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
🏠Home Page🏠⬇️⬇️🙏⬇️⬇️📚PDF গ্রন্থ📚
꧁ MrinmoyNandy.blogspot.com 👉 সূচীপত্র ꧂
এই লিংকে ⬇️⬇️⬇️🙏⬇️⬇️⬇️ ক্লিক করুন
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
꧁ শ্রীকৃষ্ণ লীলা 🙏 সূচীপত্র ꧂
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
*পূতনা উদ্ধার গৌর চন্দ্রিকা ব্যাখ্যা*
*********************************
*শিশুকালের লীলা গোরার বুঝা নাহি যায়*
*বামন অবতারের কথা মনে হৈল উদয়*
ভাবনিধি গোরাচাঁদের লীলা বুঝা বড়ই কঠিন, তিনি কৃপা করে না বুঝাইলে, আমাদের মত সাধারণ জীবের পক্ষে বুঝা অতীব কষ্টকর। আমাদের মত সাধারণ মানুষ অতীতের সব কথা মনে রাখতে পারি কি? এককথায় না।যিনি অখিল ব্রহ্মান্ডের অধিপতি তিনি কোন যুগের কোন কথায় ভুলেন না, তিনি ভগবান, ভূমি, গগন, বায়ু, অনল ও নীর যাঁর করতলগত তিনিই ভগবান। তিনি বামণ অবতারে কাহাকে কি কথা দিয়াছিলেন তাহাও তিনি স্মরণে রেখেছেন।সেই কথা মনে পড়ায় আমার পতিতপাবন গৌরহরির এই লীলা। তিনি অবতরী হয়েছেন দুটি কারণ, অন্তরঙ্গ কারণ ও বহিরঙ্গ কারণ। বহিরঙ্গ কারণ হৈল নাম প্রচার, প্রেমভক্তি প্রচার ও জীব উদ্ধার এবং জীব শিক্ষা। শ্রীমন্মহাপ্রভু জীবগণকে প্রেমভক্তি দিয়া উদ্ধার করবেন বলিয়াই অন্যান্য যুগের মতো কলিযুগে অস্ত্র ধারণ করেন নাই। কারণ কলিযুগের জীবের পরমায়ু অন্যান্য যুগের তুলনায় অতি অল্প।
*জীবের উদ্ধার লাগি হৈলা অবতার*
*যাচি প্রেম দিয়া সবারে করিবা উদ্ধার*
সকল জীবের প্রতি যাঁদের সমান
দৃষ্টি আছে,যাঁদের চিত্তে কুটিলতা নাই,
যাঁরা প্রশান্ত অর্থ্যাৎ শ্রীভগবানে যাঁদের চিন্ময় বুদ্ধি, নিষ্ঠা প্রাপ্ত হয়েছে, যাঁরা সকলের সুহৃদ, যাঁরা ক্রোধশূন্য, সাধু অর্থ্যাৎ সদাচার- পরায়ণ,আর শ্রীভগবানের প্রীতিকেই যাঁরা পুরুষার্থ বলে মনে করেন,ভগবৎ প্রীতি ব্যতীত অন্যবস্তুকে যাঁরা পুরুষার্থ বলে মনে করেন না,দেহরক্ষা ও দেহের তৃপ্তি সাধনের নিমিত্তই (জন্যই) যারা জীবিকা নির্বাহ করছে, দেহের তৃপ্তিজনক বস্তু বিষয়েই যারা আলোচনা করে (ধর্মালোচনা করে না) এইরকম বিষয়াসক্ত ব্যক্তি সকলের প্রতি যাদের প্রীতি নাই, স্ত্রী, পুত্র, ধনাদিযুক্ত গৃহেও যাদের প্রীতা নাই, এবং যে পরিমাণ ধনাদি পেলে
কোনপ্রকার জীবন ধারণ করে ভগবৎ প্রীতিমূলক ভক্তির অনুষ্ঠান করা যায়, তদধিক ধনাদিতে যাঁরা স্পৃহাশূন্য, তাঁহারাই মহৎ। অতএব বুদ্ধিমান ব্যক্তি অসৎসঙ্গ পরিত্যাগ করে সৎসঙ্গ করবেন।সদ্ ব্যক্তিগণই উপদেশ বাক্য দ্বারা ব্যক্তির মনের বিশেষ আসক্তি ছেদন করে থাকেন।
*দুঃসঙ্গ কহিয়ে কৈতব আত্ম-বঞ্চনা*
*কৃষ্ণ, কৃষ্ণভক্তি বিনা অন্যকামনা*
**স্বয়ং মহাপ্রভু বলেছেন,কৃষ্ণকামনা ও কৃষ্ণভক্তি কামনা ব্যতীত অন্য কোনও কামনার সঙ্গই দুঃসঙ্গ। দুঃসঙ্গের প্রভাবে ভগবদ্ বিষয় হতে চিত্ত বিক্ষিপ্ত হয়ে পড়ে।কেবল দুঃসঙ্গ ত্যাগ করলেই মন ভগবদ্ মুখী হবে না, সঙ্গে সঙ্গে সৎসঙ্গও করতে হবে।বাস্তবিক সৎসঙ্গ না হলে প্রকৃত প্রস্তাবে অসৎসঙ্গ ত্যাগ হতে পারে না।অসৎলোক অসৎবস্তু হতে নিজের দেহটিকে কিছুকালের জন্য দূরে সরিয়ে রাখা যায় বটে, কিন্তু মনকে দূরে রাখা খুবই শক্ত ব্যাপার। মন ঘুরে ফিরে অসৎব্যক্তির দিকেই ছুটে যাবে।
কারণ অসৎ-প্রাকৃত বস্তুর সঙ্গে অনাদিকাল হতে সম্বন্ধ বশতঃ প্রাকৃত ভোগ্যবস্তুর সহিতই যেন মনের একটি
ঘনিষ্ঠ সম্বন্ধ দাঁড়িয়েছে।প্রাকৃত ভোগ্যবস্তুতে মনের যে আসক্তি,তা জীবের অনাদি কর্ম বশতঃ মায়াশক্তি হতে জাত।এই মায়াশক্তি হৈল ঈশ্বরের শক্তি।তাঁর প্রভাব হতে মুক্তি পাবার শক্তি জীবের নাই, ঈশ্বরের শরণাপন্ন হলে,তিনি কৃপা করে জীবের মায়াবন্ধন খুলে দেন।
*মামেব যে প্রপদ্যন্তে মায়া মেতাং তরন্তি তে*
** ভগবৎ কৃপা ব্যতীত জীব মায়ার হাত হতে, সুতরাং মায়াজাত দুঃসঙ্গের প্রবৃত্তি হতে,নিষ্কৃতি পেতে পারে না।ভগবৎকৃপা আবার ভক্তকৃপা সাপেক্ষ, তাই বাইরে দুঃসঙ্গ ত্যাগ করার সঙ্গে সঙ্গে ভগবৎসঙ্গ একান্ত আবশ্যক। নচেৎ দূর্বাসনারূপ দুঃসঙ্গ অন্তরে থেকেই যাবে। *সৎসঙ্গ কি*
*সৎ কাহাকে বলে*?
*** শ্রীমদ্ভাগবতে শ্রীভগবান বলেছেন,
যাঁরা অনপেক্ষ,অর্থ্যাৎ কর্মজ্ঞানাদির, কি দেব-মনুষ্যাদির কোনও অপেক্ষায় রাখেন না, যাঁরা আমাতে(শ্রীভগবানে)
চিত্ত অর্পণ করেছেন, যাঁরা ক্রোধশূন্য, যাঁরা সর্বজীবে সমদর্শী, দেহ-দৈহিক বস্তুতে যাঁরা মমতাশূন্য, যাঁরা নিরহঙ্কার, নিদ্বন্দ্ব,( মান-অপমানাদিতে তুল্য বুদ্ধি) এবং যাঁরা নিষ্পপরিগ্রহ অর্থ্যাৎ পুত্র- কলত্রাদিতে আসক্তিশূন্য তাঁরাই সৎ বা সাধু।মনের ব্যাসঙ্গ অর্থ্যাৎ বিশেষ আসক্তি বা মায়িক বস্তুতে আসক্তি, ভক্তিবিরুদ্ধ আসক্তি,কৃষ্ণভক্তি ও কৃষ্ণকামনা ব্যতীত অন্যকামনা, জীবের এই আসক্তি একমাত্র সাধুব্যক্তিগণই দূর করতে পারেন। উপদেশাদি দ্বারা এবং ভগবৎ প্রসঙ্গাদি দ্বারা,সর্বোপরি তাঁদের কৃপাশক্তি দ্বারা।
*মহৎ কৃপা বিনা কোন কর্মে ভক্তি নয়*
*কৃষ্ণ ভক্তি দূরে রহু সংসার না হয় ক্ষয়*
*** সাধুসঙ্গ করলে ক্রমশঃ শ্রদ্ধা ও বিশ্বাসের উদয় হয়।সাধুগণের উপদেশে ও আদর্শে ভজনাঙ্গের অনুষ্ঠান করতে করতে,কিম্বা শ্রদ্ধা ও প্রীতির সঙ্গে হরিকথা শুনতে শুনতেই
ক্রমশ অনর্থ নিবৃত্তি হয়ে যায় এবং ভক্তি ক্রমশ পরিস্ফূট হতে হতে প্রেমাঙ্কর বা রতি এবং তারপর সম্যক্ অনর্থ-নিবৃত্তিতে প্রেম পর্যলাভ হতে পারে। সাধু ব্যক্তিগণ হৃৎকর্ণ -
রসায়ন হরিকথা শুনিয়ে জীবকে ভক্তিপথে অগ্রসর করিয়ে দেন, সুতরাং তাঁরা জীবের শিক্ষাগুরু।
*পাপী তাপী সকলেরে নিয়ড়ে ডাকিয়া*
*হাস্য বদনে গোরা লয়েন উদ্ধারিয়া*
*ভক্তের হৃদয়ে সর্বদাই ভগবান বিশ্রাম সুখ ভোগ করেন, তিনি সর্বদাই ভক্তের হৃদয়ে অবস্থান করেন। সুতরাং ভক্তের হৃদয় হৈল ভগবানের অধিষ্ঠান বা বসতিস্থল। ভক্তের হৃদয় ভগবানের আসন,সিংহাসন আর ভক্তের দেহ তাঁর শ্রীমন্দির। নারদকে বলেছিলেন, *না হম তিষ্ঠামি* প্রভৃতি অর্থ্যাৎ শ্রীমন্দিরও যেমন শ্রীমন্দিরস্থ ইষ্টদেবতুল্যই ভক্তদের নিকটে পূজনীয়, তদ্রুপ ভক্তও কৃষ্ণতুল্য পূজনীয়। কারণ ভক্তের হৃদয়ে ভগবানের অধিষ্ঠান।এই অর্থে ভক্তকে ঈশ্বরস্বরূপ বলা হয়েছে। স্বরূপতঃ ভক্ততত্ত্ব ও কৃষ্ণতত্ত্ব অভিন্ন নহে। ভক্ত হলেন শ্রীকৃষ্ণের দাস। ভক্তের প্রেমে বশীভূত হয়ে ভগবান সর্বদা ভক্তের হৃদয়ে অবস্থান করেন, কেন? কেবল আনন্দ-উপভোগ এবং আনন্দদান করবার নিমিত্ত।তিনি ভক্তের প্রেম-রস আস্বাদন করে নিজে আনন্দ উপভোগ করেন ও স্বীয় সৌন্দর্য্য মাধুর্য্যাদি আস্বাদন করিয়ে ভক্তকেও আনন্দদান করেন। এই আনন্দের আদান প্রদান কার্য্যে আনন্দ স্বরূপ ভগবান এতই নিবিষ্ট হয়ে পড়েন যে, ভক্তগণ যেমন তাঁকে ছাড়া অপরকিছু জানেন না, ভগবানও ভক্ত ছাড়া অপর কিছুই যেন জানেন না।
*ভক্তের হৃদয়ে কৃষ্ণের সতত বিশ্রাম*
( কয়েকটি অপ্রিয় সত্য কথা আলোচনা করি)। যেমন ধরুন আজ হতে প্রায় চল্লিশ পঁয়তাল্লিশ বছর পূর্বে আমাদের দাদু-দিদিমা,ঠাকুরদা-ঠাকুরমা,তাদের নাতি-নাতিনীদের দেবতাদের নাম দিয়ে রাখতেন তাইনা? কেন? কারণ,তখনও একান্নবর্তী সংসার ছিল,একটি পরিবারে একাধিক ভাই-বোন একত্রিত ভাবে পিতা-মাতাকে সঙ্গে নিয়ে থাকতেন। দাদু-দিদিমা সংসারের চাপে ঠাকুরঘরে ঢুকে নাম-জপ করা প্রায় অনেকেরই পক্ষে অসুবিধে হত,তাই নাতি-নাতিনীদের নাম ধরে অর্থ্যাৎ কারও নাম কৃষ্ণ, নারায়ণ প্রভৃতি নামে ডেকে মন্দিরের নামসাধন বাইরেই করতেন এবং নাতি নাতিনী,পুত্র-কন্যাদের আধ্যাত্মিক কথা শুনাতেন।বর্তমান সমাজে কি তাহা প্রচলন আছে? থাকলেও বিরল। আজকাল এই নীতি নিয়মগুলো প্রায় দেখাই যায় না, তার ফলে সমাজ প্রায় অন্ধকারে ডুবতে চলেছে।বর্তমান সমাজে সত্যকথা বলতে মাতা-পিতা
গণ আধ্যাত্মিক কি তাহাই হয়ত জানেন না, পুত্র-কন্যাদের কি সুশিক্ষা দিবেন।
*আনন্দের সীমা নাহি নদীয়া নগরে*
*লোচন কহে হরিবল তোমরা বদন ভরে*
***শ্রীমন্মহাপ্রভু সন্ন্যাস লীলা করবার পূর্বেদিনে সঙ্গে মুকুন্দ ও নিত্যানন্দ ছিলেন, তখন বলেছিলেন,
*দেখিয়া জীবের দুঃখ*
*ছাড়িলাম গোলোকের সুখ*
*লভিলাম মনুষ্য জনম*।
*পাইলাম কষ্ট যত*
*তোমরাও পাইলে তত*
*হইল সব পন্ড পরিশ্রম*
*** তাই সন্ন্যাস বেশ গ্রহণ করলে জীবের আমার প্রতি শ্রদ্ধাভক্তি হবে, আর সৎপথে চালিত হবে। কেন বলা হয়েছে *মনুষ্য জনম দুর্লভ জনম* কারণ বহু বহু কষ্টের পর দুর্লভ মনুষ্য জন্ম পাওয়া যায়। আমাদের একসময় *ত্রিশলক্ষবার বৃক্ষ জনম হতে হয়েছে* সেই সময় কতনা কষ্ট সহ্য করতে হয়েছে। *নয়লক্ষবার জলচর জন্ম নিতে হয়েছে* *এগার লক্ষবার পক্ষী যোনি হয়ে জন্ম নিতে হয়েছে* *দশলক্ষবার কীটপতঙ্গ পোকামাকড় হয়ে, কুড়ি লক্ষবার পশু হয়ে জন্ম নিতে হয়েছে* আর চার লক্ষবার মনুষ্য হয়ে জন্ম নিলেও বনের পশুর মত ঘুরে বেড়িয়েছি, পশুসম আহার করেছি, পাসাড়িয়া,কোল,ভিল প্রভৃতি বিজাতীয় হিসেবে গণ্য হয়েছে। বহু কথা, দুই-একটি কথায় রাখলাম, পদকর্তা লোচন দাস বলছেন, ওগো, একমাত্র উদ্ধারের পথ নাম, সদাসর্বদা নাম করো সুখে শান্তিতে থাকবে। ( ভুল ভ্রান্তি মার্জনীয়)
গৌরচন্দ্রিকা
শিশুকালের লীলা গোরার বুঝা নাহি যায়।
বামণ অবতারের কথা মনে হৈল উদয়
জীবের উদ্ধার লাগি হৈলা অবতার।
যাচি প্রেম দিয়া সবারে করিবা উদ্ধার
পাপী তাপী সকলেরে নিয়ড়ে ডাকিয়া
হাস্য বদনে গোরা লয়েন উদ্ধারিয়া।।
আনন্দের সীমা নাহি নদীয়া নগরে।
লোচন কহে হরিবল তোমরা বদন ভরে।।
*পূতনা উদ্ধার ব্রজলীলা*
×××××××××××××××××××××
একটু বিষয়বস্তু আলোচনা হোক।
শ্রীকৃষ্ণের জন্মের পরদিনই কংস তার অঘাসুর, বকাসুর, প্রলম্ব,কেশি , ধেনুকাসুর প্রভৃতি অসুর মন্ত্রীগণের সঙ্গে মন্ত্রণা করে স্থির করেছিলেন যে, এক পক্ষের(১৫ দিনের) মধ্যে মথুরামন্ডলে যে সমস্ত শিশু জন্মগ্রহণ করেছে, তাদের সকলেরই বিনাশ হবে। সেইজন্য সেইদিনই রাত্রি হতে কোটরা, রেবতী, জ্যেষ্ঠা, পূতনা, মাতৃকা প্রভৃতি শিশু ঘাতিনী রাক্ষসীগণ মথুরার নানা স্থানে অন্বেষণ করে কোনও স্থানে দশদিনের মধ্যে সদ্যজাত শিশুর সন্ধান পেলেই তাদের প্রাণনাশ করছে। এইভাবে এই কয়দিনে যে কত শিশুর প্রাণ নাশ হয়েছে তার পরিমাণ নাই। কিন্তু ভগবানের অচিন্ত্য লীলাশক্তির প্রভাবে মথুরায় যে সমস্ত কৃষ্ণভক্ত বাস করেন, তাঁদের একটিও শিশুরও প্রাণহানি হয়নি। কেবলমাত্র মথুরায় যে সমস্ত অসুরভাবাপন্ন কংস পক্ষীয় ব্যক্তি আছে, কংসপ্রেরিত শিশু ঘাতিনী রাক্ষসীগণ তাদেরই সমস্ত শিশু বিনাশ করেছে। শ্রীকৃষ্ণের ষষ্ঠদিনে গোপরাজ নন্দমহারাজ রাজস্ব (কর বা খাজনা) প্রদানের জন্য কংসের কাছে উপস্থিত হয়েছিলেন। কংস তাঁর কাছে তাঁর পুত্রজন্ম সংবাদ শুনে সেইদিনই ব্রজমন্ডলের শিশুগণের বিনাশ সাধন করবার জন্য শিশুঘাতিনী রাক্ষসীগণকে নিযুক্ত করেছিল।অঘাসুর ও বকাসুরের ভগ্নী বকী নামী পূতনা রাক্ষসী সেইদিন রাত্রিকালে গোকুলে এসে উপস্থিত হয়েছিল। কিন্তু সে "কামচারিণী" অর্থ্যাৎ তার স্বজাতিস্বাভাবিক মায়া-শক্তিতে সে যেকোনও রূপ ধারণ করে যে কোন জায়গায় যেতে পারত। উলূকীরূপা বকী পূতনা আকাশ পথে উড্ডীয়মান হয়ে মথুরা হতে নন্দগোকুলে এসে উপস্থিত হল। গোকুলে এসে যশোদার সমবয়স্কা শ্রীকৃষ্ণের মাতৃস্থানীয় গোপীর বেশ ও রূপ ধারণ করল, এবং পরমাসুন্দরী
রমণীমূর্তি ধারণ করল। সে কি রূপ?
গোকুলবাসী ছদ্মফেশী পূতনা কে দেখে মনে করলেন যে, নিশ্চয়ই বৈকুন্ঠ হতে সাক্ষাৎ লক্ষ্মী আগমন করেছেন। পূতনার গোকুলে প্রবেশ, স্ত্রীবেশ ধারণ, ব্রজবাসীকে মোহন এবং নন্দালয়ে প্রবেশ, এই সমস্ত কার্য্যই অসম্ভব বলে মনে হয় তাইনা?
কারণ, যেখানে ভক্তবৎসল ভগবানের নাম, রূপ, গুণলীলাদির কথার শ্রবণ কীর্তন অনুষ্ঠান হয়, সেখানে কোন রাক্ষসী প্রবেশাধিকার নাই। নন্দালয়ে সাক্ষাৎ ভগবান নন্দের নন্দন রূপে অবস্থান করছেন। ব্রজমন্ডলবাসী প্রায়
সকলেই কৃষ্ণভক্ত চূড়ামণি, কৃষ্ণের জন্মের কিছু পূর্বে বা পরে ব্রজমন্ডলে যে সমস্ত শিশু জন্মগ্রহণ করেছেন তাঁরা সকলেই কৃষ্ণের বাল্যলীলা এবং গোষ্ঠলীলার পার্ষদ ; সুতরাং পূতনা রাক্ষসী এস্থানে প্রবেশ করা কিছুতেই সম্ভব হতে পারে না, কিন্তু দেখা গিয়াছে যে গোকুলে পূতনা প্রবেশ করেছিল। তাহলে মনে হয়, নিশ্চয়ই কোন ব্যাপার আছে? নচেৎ কেন পূতনা ছলনা করে প্রবেশ করল। ভগবানের লীলাশক্তির অসাধ্য কিছুই নাই, তিনি লীলা সম্পাদন করবার জন্য অনেক অঘটনও ঘটাতে পারেন। তিনি পূর্বে দেওয়া কথা সম্পন্ন করবেন বলিয়া হয়ত পূতনার প্রবেশ সম্ভব হয়েছে। পূতনা শিশু অন্বেষণ করতে করতে শেষ পর্যন্ত কৃষ্ণের লীলাশক্তির প্রেরণায় নন্দালয়ে প্রবেশ করল। যদিও পূতনা নন্দালয়েও শিশুর সন্ধান পাইনি। তথাপি লীলাশক্তির প্রেরণায় বিবশ হয়ে সে নন্দালয়ে প্রবেশ করেই একেবারেই অন্তঃপুরাভিমুখে অগ্রসর হতে লাগল। নন্দালয়ের সিংহদ্বারও অন্তঃপুরদ্বারের প্রহরীগণও কেউই পূতনা গমনে বাধা প্রদান করল না। সকলেই কৃষ্ণের মায়ায় মুগ্ধ হয়ে পূতনাকে দিব্যরমণী মনে করল।
যশোদার গৃহ মধ্যে কোমল শয্যায় ব্রজরাজনন্দন শায়িত আছেন, যশো-মতী, রোহিণী শয্যা পাশে বসে কৃষ্ণের বাল্য মাধুরী আস্বাদন করছেন।কৃষ্ণের নয়ন,বদন ও অঙ্গ প্রত্যঙ্গের শোভায় তাঁদের মন আকৃষ্ট, তাঁরা অনিমিখনয়নে কৃষ্ণের আপাদমস্তক নিরীক্ষণ করে আত্মহারা হয়ে পরমানন্দ সিন্ধুতে ডুবে গেলেন। এইদিকে পূতনা গৃহদ্বারে উপস্থিত হইবামাত্র তার অঙ্গচ্ছটায় গৃহের ভিতর আলোয় আলোকময় হয়ে গেল। পূতনাকে দেখে মা যশোদা ও রোহিণী চিন্তা করতে লাগলেন, ইনি কে? তারপর যশোদার সঙ্গে পূতনার সই সম্বন্ধ হল, মিলেমিশে এক হয়ে গেল। এবারে পূতনা যখন কৃষ্ণের প্রতি দৃষ্টিপাত করল, তখন পূতনা কৃষ্ণের রূপমাধুরী দর্শন করে মুগ্ধ হয়ে মনে মনে চিন্তা করল, আহা-মরিমরি, এমন রূপ তো আগে কখনও দেখি নাই, এ পর্যন্ত কতনা বালকের প্রাণনাশ করেছি, কিন্তু কৈ কোনও বালকের বালকের রূপ দেখে তো মুগ্ধ হইনি। আজ এ কি হল! সামান্য একটি বালকের যে এত রূপ হতে পারে আমি স্বপ্নেও ভাবতে পারিনা। যাইহোক, তারপর যশোদার সঙ্গে অন্তরঙ্গ সই স্থাপন করে কৃষ্ণকে কোলে করে আদর করবার বাসনায় প্রকাশ করলে যশোদা একবাক্যে সম্মতি দিলেন। *অন্তর্য্যামী কৃষ্ণ মনে মনে বললেন, তোর সেই সময়কার মনোবাসনা পূর্ণ করবার জন্যই তোকে নন্দালয়ে আমি প্রবেশ করিয়েছি* এবং তোর মোক্ষলাভ হবে। ওরে পূতনা তুই আমায় চিনতে পারিসনি, বামণরূপী আমি সেই।
*ভগবান গীতায় অর্জুনকে বলেছিলেন*
*নাহং প্রকাশঃ সর্বস্য যোগমায়া সমাবৃতঃ*
**অর্থাৎ আমি যোগমায়ায় আবৃত, সেইজন্যই সকলের কাছে আমার স্বরূপ প্রকাশ হয় না। বহির্মুখজীব, অনাদিমায়া-যবনিকার অন্তরালে ভগবানকে রেখে তাঁর স্বরূপ গ্রহণ করতে অক্ষম হয়ে মায়িক (মায়ার জগত) প্রতীতি(বিশ্বাসী) মাত্রেরই অধিকারী হয়।(বহু তত্ত্ব আছে)
*নৈমিত্তিক বা কারণ ভিত্তিক লীলা*
^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^
*বলি-যজ্ঞে বামণস্য দৃষ্টা রূপং মনোহরং*
*বলিকন্যা রত্নমালা পুত্রস্নেহং চকার তম*
*মনসা মানসং চক্রে পুত্রস্য সদৃশো মম*
*ভবেদ যদি স্তনং দত্ত্বা করোমি তঞ্চ বক্ষসি*
*হরিস্তন্মানসং জ্ঞাতা পপৌ জন্মান্তরে স্তনং*
*দদৌ মাতৃগতিং তস্যৈকামপুরঃ কৃপানিধিঃ*
অর্থ্যাৎ=ভগবান বামণরূপে অসুররাজ বলির যজ্ঞস্থলে উপস্থিত হইলে তাঁর মনোহর রূপ দেখে বলির কন্যা রত্নমালা, পুত্রস্নেহে অভিভূত হয়ে মনে মনে কামনা করেছিল, যদি এই বালক আমার পুত্র সদৃশ হয়, তাহলে আমি ইহাকে বক্ষে ধারণ করে মুখে স্তন দান করব। ভক্তবাঞ্জাকল্প-তরু হরি তার মনোভাব জেনে কৃষ্ণলীলায় তা পূর্ণ করেছেন ও তাকে মাতৃগতি প্রদান করেছেন।
(২) বামণ যখন বলি প্রদত্ত ত্রিপাদ ভূমি গ্রহণ করবার জন্য ত্রিবিক্রম মূর্তি ধারণ এবং বলিরাজার সর্বস্ব হরণ করলেন, তখন বলিকন্যা রত্নমালার মনে হল যে, আমি যদি এই বালককে পেতাম,তাহলে বিষমিশ্রিত স্তন পান করিয়ে ইহার প্রাণ নাশ করতাম। বলিকন্যা রত্নমালার মাতৃভাব ও আসুরভাব এই দুই প্রকার হরির সহিত সম্বন্ধ করতে বাসনা হয়েছিল।তাই পূতনা মোক্ষলীলায় শ্রীহরি তার এই বাসনাই পূর্ণ করেছিলেন।
*বলিরাজা বিশ্বজিৎ নামক যজ্ঞ করেছিলেন, কোথায়? নর্মদার উত্তরতটে "ভৃগুকচ্ছ" নামক ক্ষেত্রে এই যজ্ঞ অনুষ্ঠিত করেছিলেন*
^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^
*অন্তর্য্যামী নারায়ণ জানিয়া অন্তরে*
*দয়াকরি বরদান করিলেন তারে*
*সুত নাহি হব আমি শুনগো সুন্দরী*
*তরাব তোমারে কিন্তু স্তন্য পানকরি*
*পর জন্মে স্তন্যদুগ্ধ করিব যে পান*
*এই বর জনার্দন করিলেন দান*
*সেই হেতু পূতনার স্তন্য পান করি*
*উদ্ধার করিল তারে বিনোদবিহারী*
*কর্মফলে পূতনারে উদ্ধার হইল*
*নিজগুণে কৃষ্ণ তারে মুক্তিপদ দিল*
********************************
*পূতনা উদ্ধারের প্রথম পদ*
*দৈববাণী শুনিয়া,কংস মনে চিন্তিয়া*
*কাঁপে থর থর*
*পাঠাইল চতুর্দিকে,মহারাজ লোকে*
*আপন সব চর*।।
*এক পক্ষ মধ্যে,যতশিশু জন্মেছে*
*গোকুলের ভিতর*
*চরচিয়া শিশুসব,একত্র করিয়া সব*
*শুলে বধ কর*
*কংস ভাবিতে ভাবিতে,পূতনা নামেতে*
*প্রবীনা এক রাক্ষসী*
*মায়ারূপ ধরে,সর্বস্থান ঘোরে*
*ভ্রমে দিবা নিশি*
***(চরচিয়া= সন্ধান করিয়া)
ব্যাখ্যা দেবার হয়ত প্রয়োজন নেই সহজ পদ।
*পূতনারে ডাকিয়া,কংস সব কহিয়া*
*পাঠাই গোকুল নগর*
*গোকুলের শিশু লৈয়া,একে একে বধ করিয়া*
*পাঠাও যম ঘর*
*কংসের আজ্ঞা পাইয়া,পূতনা প্রস্তুত হৈয়া*
*মনে আনন্দ করি*
*কভূ বা পুরুষ,কভূ বা মোহিনী*
*কভূ বা বিদ্যাধরী*
*নানামত বেশ করে,শিশুর খোঁজ করে*
*পূতনা নিশাচরী*
*যে যেমন স্থান হয়,অধম কৃষ্ণদাসে কয়*
*তথা সে রূপ ধরি*
দ্বিতীয় পদ
*অতি মনোহর রূপ কন্যা সুরোত্তমা*
*অপ্সরী কিন্নরী জিনি রূপের উপমা*
*অতি উচ্চ দুইস্তন হয় ত শোভিতে*
*কালকূট বিষ যত লেপিয়া তাহাতে*
*অতিমিষ্ট বোল বলে ভুলে যত নারী*
*বহিনী কোথাও সেই কোথাও সহচরী*
*জেঠি খুড়ি ঠাকুরাণি গৃহিণী মূরতি*
*বাড়ী বাড়ী ফিরে আর সমাদর অতি*
*মায়ায় মোহিত করে যার বাড়ী যায়*
*শিশু দায়া দুগ্ধবতী অন্য কর্মে ধায়*
*এইভাবে একে একে শিশু করে হত্যা*
*কৃষ্ণ দাসের মনে লাগয়ে ব্যথা*
তৃতীয় পদ
*দেও দেও মোর কোরে দেখি যে নন্দন*
*এত বলি ক্রোড় হতে লইল তখন*
*যশোদা এতেক শুনি করিল গমন*
*পূতনা কৃষ্ণমুখে আরোপিলা স্তন*
*জানিলেন অন্তর্য্যামী পূর্বের কামনা*
*বিষযোগে স্তনদান করিছে পূতনা*
*মনে ভাবি রাক্ষসীর করিব সদগতি*
*বাল্যভাবে স্তন মুখে করিলা শ্রীপতি*
*ব্রহ্মান্ডে আবৃত রাজা যেই জগদীশ*
*তাঁরে কি করিতে পারে কালকূট বিষ*
*ব্যাখ্যা*
***মা যশোমতীর সঙ্গে পূতনা এমনভাবে সই স্থাপন করলেন যে, একেবারেই অন্তরঙ্গ হয়ে গেল। পূতনা সুযোগ বুঝে যশোদাকে বললেন, সই গোপালকে আমার কোলে দাও, আমি নিয়ে রাখছি, যশোমতী গোপালকে পূতনার কোলে দিয়ে অন্য কর্মে গেলেন।এবারে পূতনা ধীরে ধীরে গোপালের মাথা উঠিয়ে তাঁর মুখে নিজ স্তনাগ্র অর্পণ করল।অন্তর্য্যামীকৃষ্ণ শিশুর মতই স্তন গ্রহণ করলেন। স্তনে মুখ দেওয়া মাত্রই বিষ, অমৃতে পরিণত হল।
*কেউ যদি পূতনার মত ভক্তভাবের বেশ অনুকরণ করেও "ধনং দেহি, জনং দেহি,যশো দেহি"রবে কামনা -বাসনার বিষ নিয়ে ভগবানের নিকট যায়, তাহলেও তিনি কামনা-বাসনা মিশ্রিত বিষ গ্রহণ করে তাকে শোধন করেন।
*স্তন ধরি মুখে কৃষ্ণ দিলা এক টান*
*দুগ্ধের সহিত তার রুধীর বাহিরান*
*মরি মরি পরিত্রাহি ডাকে নিশাচরী*
*ছদ্মরূপ ত্যজি তবে নিজ রূপ ধরি*
*স্তন হৈতে শিশুমুখ ছাড়াতে নারিল*
*ব্যথায় আকুল হয়ে উঠে দান্ডায়িল*
*হেথা মনে চিন্তিলেন জগৎ ঈশ্বর*
*মহাকায়া পড়ে যদি গোকুল ভিতর*
*ধেনুবৎস মরিবেক যতেক আহিরে*
*এই ভাবি লয়ে যান নগর বাহিরে*
*স্তনমুখে ধরি দিলা এক টান*
*পয়োধরে বাহিরায় পূতনার প্রাণ*
*অনাদির আদি তিনি সর্ব রক্ষাময়*
*পূতনা উদ্ধার হৈল কৃষ্ণদাসে কয়*
***ভগবান শ্রীকৃষ্ণ মনে করলেন, পূতনার দেহে প্রাণ থাকলে অনেক শিশুর দেহ প্রাণশূন্য হবে, সেইজন্য কৃষ্ণ পূতনার দেহ হতে প্রাণ আকর্ষণ করে নিজ প্রাণে মিশাইয়া রাখতে কৃত সঙ্কল্প হয়ে পূতনার দত্ত বিষের সঙ্গে অদত্ত প্রাণও আকর্ষণ করতে লাগলেন। কৃষ্ণ পূতনার স্তন চোষণ
করতে আরম্ভ করলে তার প্রাণ পর্যন্ত আকৃষ্ট হতে লাগল এবং মর্মস্থানে অসহ্য যন্ত্রণা অনুভূত হতে লাগল।
পূতনা তখন মৃত্যু যন্ত্রণায় অধীরা হয়ে ছাড় ছাড় আর স্তনপান করতে হবে না বলে বিকট চিৎকার আরম্ভ করল।দেখতে দেখতে চক্ষুদুটি বৃহদাকার ধারণ করল, তার সর্বাঙ্গে তখন দরদর ধারায় ঘাম বাহির হতে লাগল, এবং ক্ষণে ক্ষণে হাত-পা আছাড়াতে আছাড়াতে উচ্চৈস্বরে রোদন করতে লাগল। আর কৃষ্ণ তার বক্ষস্থলে স্তনাগ্রে মুখ সংলগ্ন করে এবং দুইহস্তে স্তন ধারণ করে পূতনার মুখের দিকে দেখতে লাগলেন।পূতনা কতবারই সেই ছয়দিনের শিশু মূর্তিটিকে দুইহাতে ধরে বক্ষস্থল হতে দূরে ফেলবার চেষ্টা করল, কিন্তু কিছুতেই পারল না। পূতনা যখন মৃত্যু যন্ত্রণায় অধীর হয়ে বিকট চিৎকার করতে আরম্ভ করল,তার ভীষণ গর্জনে পৃথিবী কম্পিত হল।পর্বতের চূড়া খসে পড়ল এবং গ্রহগণ যেন কক্ষচ্যুত হয়ে পড়তে লাগল।তার সেই গভীর নাদে দশদিক প্রতিনাদিত হয়ে উঠল এবং ভূতল ভেদ করে পাতাল পর্যন্ত প্রতিধ্বনিত হল। ব্রজবাসীগণ অকস্মাৎ এই মহাশব্দের কারণ বুঝতে পারলেন না। পূতনার জীবান্তকাল আসছে দেখে পূতনা নিজ বেশ ধারণ করল, অতি বৃহৎ এবং ভীষণ কায়া। তখন কৃষ্ণ মনে করলেন যে, পূতনার এইরূপ ব্রজবাসী দেখলে ভয় পাবেন, তখন নন্দালয় হতে ছয়ক্রোশ দূরে এক প্রান্তরে মৃতদেহ ফেললেন।
*জলদ সদৃশ তবে করিয়া গর্জন*
*ছয়ক্রোশ যুড়ি দেহ পড়িলা তখন*
*পড়িলা রাক্ষসী ভূমিকম্প হৈল*
*সেই মূহুর্তে পূতনার প্রাণ বাহিরল*
*এলোমেলো মুক্তকেশে ধায় নন্দরাণী*
*পশ্চাৎ গোড়ায়ে তার চলিলা রোহিণী*
*নগরের প্রান্তভাগে গিয়া সব দেখে*
*খেলিতেছে নীলমণি পূতনার বুকে*
*ধেয়ে গিয়ে নন্দরাণী পুত্র করে কোলে*
*শত শত চুম্বন দেয় বদন কমলে*
*এইভাবে পূতনারে উদ্ধার করিল*
*কৃষ্ণদাসের মনে বড় আনন্দ হৈল*
***নির্ভীক নন্দনন্দন মৃত পূতনার বক্ষস্থলে সহাস্যবদনে হস্তপদাদি নর্তন করে বাল্যক্রীড়া করছেন দেখে বাৎসল্যবতী গোপীগণ অবাক হলেন এবং অতি দ্রুত পূতনার সেই পর্বত প্রমাণ দেহের উপর আরোহণ করে প্রাণের নীলমণিকে বক্ষে ধারণ করলেন।পরে গোপীগণ মা যশোদার কোলে দিলেন। মা যশোমতী পুত্রকে কোলে পেয়ে শত শত চুম্বন দিয়া বুকে জড়িয়ে ধরলেন। ঐদিক কুঠারগণ কুঠার দ্বারা পূতনার দেহ খন্ড খন্ড করে দাহ করলেন।(এইভাবে পূতনার সদ্গতি হয়েছিল)
বিরাম, জয় শ্রীরাধেশ্যাম🙏🙏🙏
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
꧁ ৪. পূতনা উদ্ধার ꧂
এই লিংকে 👇👇👇🙏👇👇👇 ক্লিক করুন
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
*👹পূতনা মোক্ষণ লীলা বা পূতনা উদ্ধার লীলা।*
*🍀কংস পাঠিয়েছে পূতনা রাক্ষসীকে নন্দালয়ে,উদ্দেশ্য কি? বালগোপালকে হত্যা করা।রাক্ষস রাক্ষসীরা নানারূপে নিজেদের স্বরূপ দেখাতে পারত, সেজন্য পূতনা স্থির করল যে অপরূপা রাক্ষসী হিসাবে না, মাতৃ মূর্তিতে নন্দ মহারাজের আলয়ে যাবে উদ্দেশ্য এই যে ছলনাময়ী মাতৃরূপে আদর সোহাগ করে নাবালক শিশুটিকে কোলে তুলে নিয়ে পরে দূরে কোন জায়গায় নিয়ে গিয়ে কালকূট বিষ মাখান স্তন তাঁকে পান করতে দিবে।যাতে সেই নাবালক দুগ্ধপোষ্য শিশু সেই মাতৃ স্তনধারা পান করিবামাত্র মৃত্যুমুখে পতিত হন।তখন গোপালের বয়স মাত্র ছয়দিন।*
*🍀সেজন্য সুন্দরী রমণীর বেশে নিজেকে সুসজ্জিত করে পূতনা বিনা বাধায় নন্দালয়ে প্রবেশ করল।গোপালকে মা যশোদা ও ব্রজবাসিনীগণ খেলাধূলা বা আদর করলেন এবং শয্যায় শুইয়ে রাখলেন এবং পূতনা বালকের কাছে এসে আদর করে নাবালক শিশুকে কোলে তুলে নিল।বালগোপাল অন্তর্য্যামী, তিনি বুঝতে পারলেন যে,এই ছলনাময়ী নারীর কি মতলব?সেজন্য তিনি সুযোগের অপেক্ষায় বিনা বাধায় তার কোলে আশ্রয় নিলেন। এখানে পূতনার অভিনয় প্রশংসাযোগ্য। ঘরে ঢুকেই ব্রজবাসীদের তিরস্কারের সুরে বলছে "হাঁগো! তোমরা কি করে এমন সোনার বাছাকে ফেলে রেখেছ তোমাদের কি দয়া-মায়া নেই?এমন সোনার টুকরো ছেলেকে এইভাবে ফেলে রাখতে হয়?মা যশোদা ও অন্যান্য সকলে যেন একটু লজ্জা পেলেন যে,তাইতো তাঁরা যেন মায়ের অযোগ্য এবং অতীব দীনভাবে তা শুনলেন এবং ভাবলেন যে সত্যই তাঁরা যেন প্রকৃত অপরাধী।এইসব কথাবার্তা শোনার পর মায়েরা নিশ্চিন্ত মনে যে যার কাজে গেলেন এবং ভাবলেন যে সত্যই শিশু প্রকৃত মাতৃস্নেহের পরশ পেয়ে এর কোলে থাকবেন।এমন সুবর্ণ সুযোগ তো আর পাওয়া যাবে না, সেজন্য পূতনা যত তাড়াতাড়ি সম্ভব তার কাজটি সেরে ফেলতে সচেষ্ট হল। অর্থ্যাৎ বাইরের দৃষ্টিতে বাৎসল্যময়ী মায়ের স্বরূপ কিন্তু অন্তরে হিংসাবৃত্তি জাজ্জ্বল্যমান।এই সুযোগে কালকূট বিষ মাখান স্তন গোপালের সেই কচিকচিরাঙ্গা ঠোঁটের মধ্যে প্রবেশ করিয়ে দিল।*
*কংসের কি জঘন্য হিংসা প্রবৃত্তি।অখিল ব্রহ্মান্ডের যিনি পালনকর্তা এবং যিনি দুষ্টের দমন এবং শিষ্টের পালনের জন্য নররূপে ধরাধামে অবতীর্ণ হয়েছেন তাঁকে ভগবদ্ বৈমুখী মানুষ হত্যার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত,নিজ স্বার্থসিদ্ধির উদ্দেশ্যে। কিন্তু এ চক্রান্ত তো কখনও সফল হতে পারে না। উপমাচ্ছলে বলা যায় যে নামাচার্য্য হরিদাস ঠাকুর যখন বেনাপোলের নির্জন বনে একাকী নামাভাষে মগ্ন,তখন তাঁর চরিত্র হননের জন্য রামচন্দ্র খানের প্ররোচনায়,অর্থলিপ্সায় আকৃষ্ট হয়ে হীরা পতিতা তাঁর কাছে গিয়ে তাঁকে প্রলুব্ধ করতে চেয়েছিল। কিন্তু ব্রহ্মার স্বরূপ হরিদাস সব ঠিকই বুঝেছিলেন এবং ইচ্ছে তাকে তাড়িয়ে দিতে পারতেন কিন্তু তা করেন নাই।কারণ তাড়িয়ে দিলে তো আর উদ্ধার হবে না, সেজন্য রাতের পর রাত তিনি তাকে বলেছিলেন যে তুমি একটু অপেক্ষা কর আমার সংখ্যা নাম পূরণ হলেই তোমার মনোবাসনা পূর্ণ করব।হতভাগীই বলুন আর ভাগ্যবতীই বলুন, সেই হীরা পতিতা বা বারবনিতা রাতের পর রাত প্রতীক্ষা করেই চলেছে যে ঠাকুর হরিদাসের সর্বনাশ না করে সে ছাড়বে না।আর নামাচার্য্য হরিদাসের সঙ্কল্প এই যে, ওকে উদ্ধার না করে ছাড়বেন না।ফলাফল আপনারা সকলেই জানেন সেহেতু আর বিস্তারিত করব না।🍀এখানেও সেইরকম কৃষ্ণ ভগবান ঠিকই বুঝেছিলেন যে পূতনার উদ্দেশ্য কী?ইচ্ছে করলেই তিনি কান্নাকাটি করে তার কোল হতে নেমে যেতে পারতেন। স্তনে মুখ না দিতেও পারতেন। ভক্ত বা ভগবান উভয়ের সর্বনাশের জন্য যদি কেউ দুরভিসন্ধি (খারাপ মতলব) করেন তাঁরা কিন্তু তাদের ছেড়ে দেন না।কারণ যে উদ্দেশ্যই হোক না কেন কাছে তো এসেছে।কাছে এলে কি আর ছাড়া যায়?তার একটা গতি করতেই হবে। ভগবান বা ভক্ত তার কি গতি করবেন,উদ্ধার করা ছাড়া --, তাই অন্তর্য্যামী ঠাকুর হরিদাস সব বুঝেও আজন্ম পাপী হীরাপতিতাকে চিরতরে উদ্ধার করেছিলেন এবং এখানেও ছয় দিনের শিশু কৃষ্ণভগবান অন্তর্য্যামীরূপে সব বুঝেও হাসতে হাসতে বিষপান করে পূতনাকে উদ্ধার করেছিলেন।মৃত্যুর মাধ্যমে এই উদ্ধার কিরকম তা পরে শুনবেন,আশাকরি ঠাকুর হরিদাসের উপমাটি অতীব সঙ্গত এবং ভক্ত শ্রোতাগণ আনন্দলাভ করবেন।*
*🌻অনেক আশা করে মাতৃস্নেহের অভিনয় করে পূতনা শেষ পর্যন্ত সেই বিষ মাখানো স্তন গোপালের অধরসুধায় প্রবেশ করিয়ে দিল।🍀যে অধরামৃতকে ভাগবতে "ফেলালব" বলা হয়। মায়ের কোল শিশুর কাছে সর্বাপেক্ষা নিরাপদ জায়গা, মায়ের কোলে থাকা শিশু জানে যে মা তার প্রাণ থাকা পর্যন্ত তাকে রক্ষা করবেন, সেই মাতৃরূপী পূতনা কিনা চাইছে স্তন দুগ্ধের দ্বারা নাবালক শিশুকে হত্যা করতে।ভাবলেও যেন পৃথিবীর সব মায়েদের মনে শিহরণ জাগে! কিন্তু কৃষ্ণ ভগবান নির্বিকার, তিনি শিশু সুলভ চাপল্যের সঙ্গে স্তনসুধা পান করে যেতে লাগলেন।আর পূতনা ভাবছে এই বুঝি বিষের জ্বালায় ছপফট করতে করতে শিশুর প্রাণবায়ু বাহির হয়ে যাবে। কিন্তু তা তো হচ্ছে না, শিশু নিশ্চিন্ত মনে বিষ মাখানো স্তনদুগ্ধ পান করে যেতে লাগলেন যেন কোন বিকারই নেই।*
*🏵এখানে সামান্য তত্ত্বকথার প্রয়োজন।শিশু গোপালের ভাবটা যেন এই যে, "পূতনা তোমার যা আছে তা দাও আর তার পরিবর্তে দেখ আমি তোমাকে কি দেয় বা দিতে পারি।আমি ছয় দিনের শিশু তুমি আমার ঘরে আজ প্রথম অতিথি, তোমাকে কি প্রত্যাখ্যান করতে পারি"। 🍀এখানে শ্রোতা ভক্তগণের মনে প্রশ্ন জাগতে পারে যে কৃষ্ণ সব জেনে শুনেও কেন বিষগ্রহণে আপত্তি করলেন না?কারণ তিনি জগৎকে এবং জগতবাসীকে দেখাতে চেয়েছিলেন যে ভগবানকে প্রকৃত আদর করেই হোক বা অনাদর করেই হোক যদি কেউ কিছু দিতে বা খাওয়াতে আসে এবং তা যদি সত্যিই গরল হয় তা ভগবদ্ স্পর্শে অমৃতে পরিণত হয়। মীরা বাঈএর জীবনেও দেখা যায় যে কালসর্প পুষ্পে পরিণত হয়ে ভগবদ্ চরণে নিজেকে নৈবেদ্য রূপে সমর্পণ করেছিল। সুতরাং পূতনার মতলব যাই থাকুক না কেন একটা জিনিস ঠিকই ছিল যেটি হচ্ছে মাতৃ অভিনয় যে অভিনয়ের মধ্যে কোন ছলচাতুরী ছিল না কারণ তা যদি থাকত তাহলে মায়েরা সব নিশ্চিন্ত মনে স্থান ত্যাগ করতে পারতেন না।*
*সুতরাং ভাবগ্রাহী জনার্দন এই ভাবটিকে গ্রহণ করেছিলেন যদিও পূতনার অন্তর বিষে পরিপূর্ণ ছিল। এখানে ভগবান যেন একটু সঙ্কটে পড়ে গেলেনযে তিনি কি করবেন। তিনি তো ভক্তের ভাবটুকুই গ্রহণ করেন কিন্তু অন্তর যেখানে কলুষতাপূর্ণ সেখানে কি তার মঙ্গল করবেন। পূতনা মাতৃবেশে জঘন্য অপরাধ করেছে তদুপরি মাতৃস্তন্য যা শিশুর পরম নির্ভরতার জিনিস তাতে বিষ মাখিয়ে এনেছে। সুতরাং ছলনাময়ী মাকে এর বদলে কি ভাল বস্তুটি দেবেন? তখন বিচার করে স্থির করলেন যে সব জীবের কাছেই তার প্রাণই সর্বাপেক্ষা প্রিয় অতএব ধাত্রীরূপী বা মাতৃরূপী পূতনার মঙ্গলার্থে স্তন চুষিবার ছলে পূতনার পঞ্চপ্রাণ ধরে আকর্ষণ করলেন।*
*এ কামড়ান যে কি কামড়ান তা একমাত্র ভুক্তভোগী মাত্রেই বুঝতে পারবেন সুতরাং পূতনা সেই যন্ত্রণায় ছটফট করে "ছাড়,ছাড়" বলে চিৎকার করতে লাগল।বিশালাকায় পূতনা রাক্ষসীর পক্ষে অতটুকু শিশুকে কোল থেকে ফেলে দেওয়ার শক্তিটুকু সে হারিয়ে ফেলেছিল কারণ অখিল ব্রহ্মান্ডের যিনি অধিপতি তাঁর কামড়ের হাত থেকে রেহাই পাওয়া কি সহজ কথা?সেজন্য কামড়ের যন্ত্রণায় জর্জরিত হয়ে পূতনার প্রাণবায়ু নিঃশেষিত হল।মৃত্যুকালে পূতনা ভাবল যে এ সময় আর কপটতা সাজে না সেজন্য সে তার বিরাটাকার রাক্ষসীদেহ বিস্তার করে মৃত্যুমুখে পতিত হল।তার বিরাট বিশাল দেহের চাপে ক্রোশ ক্রোশ ব্যাপী গাছপালা সব ব্রজে ভেঙ্গে চুরমার হয়ে গেল।*
*কামড়ের যন্ত্রণায় অস্থির হয়ে পূতনা কৃষ্ণকে ছুঁড়ে পর্যন্ত ফেলে দিতে চেয়েছিল কিন্তু তা পারেনি। কারণ শ্রীকৃষ্ণের একটি ভাল স্বভাব আছে--,একবার যে তাঁকে আদর করে কোলে তুলে নেয় সে যদি পরে কৃষ্ণকে ছাড়তে চায় তিনি তা ছাড়েন না। কৃষ্ণের এ স্বভাবটি বড় সুন্দর,বড় মধুর যার প্রেরণায় এবং মোহে পড়ে কৃষ্ণভক্ত সাধকগণ ক্ষুধা তৃষ্ণা সব ভুলে ভজনে আবিষ্ট থাকেন।*
*এত বড় রাক্ষসী দেহ নিয়ে পূতনা ঝঞ্ঝা বিধ্বস্ত কদলী বৃক্ষের ন্যায় পড়ে গেল তবুও কিন্তু শিশুগোপাল চুম্বকের মত সেই স্তনের বোঁটাটি কামড়ে ঝুলতে লাগলেন যিনি মাত্র ছয়দিনের শিশু।(প্রাকৃত বুদ্ধি দ্বারা ব্রজলীলা আস্বাদন করা যায় না, প্রেমের ভাব আর প্রেমের নেত্র দিয়ে দর্শন করতে হবে, যাকে বলে চিন্ময় বুদ্ধি)।যাইহোক, এরপর যখন ব্রজবাসীগণ পূতনার দেহ সৎকারের জন্য অগ্নি প্রজ্বলিত করলেন তখন সেই চিতা হতে নির্গত ধূমবহ্নি হতে চুয়া চন্দনের গন্ধ বাহির হতে লাগিল এবং দিকদিগন্ত সেই সৌরভে পরিব্যাপ্ত হয়ে গেল।*
*🍀আমাদের মত ক্ষুদ্রবুদ্ধি বিশিষ্ট জীবের কাছে ইহা এক মহা সমস্যার সৃষ্টি করে?যে ইহা কিভাবে সম্ভব হয়। কিন্তু এতে তো অবাক হবার কিছুই নেই।যে ভগবানের চকিত দর্শনের জন্য সাধু ভক্তগণ জন্ম জন্মান্তর ধরে তপস্যা করে যাচ্ছেন এমনই যে ভগবান তিনি স্বয়ং পূতনার স্তনপান করেছেন তার দেহে পাদস্পর্শ দিয়েছেন সুতরাং তার তো একটা কিছু ফল নিশ্চয়ই আছে তাইনা? সুতরাং এর দ্বারা এই সিদ্ধান্তে আসা যায় যে মাতৃবেশেই যদি পূতনা বিষ খাইয়ে মেরে ফেলার মাধ্যমে ধাত্রীগতি লাভ করতে পারে তাহলে সত্যিকারের প্রেমভক্তি দিয়ে যাঁরা ভগবানের আরাধনা করেন তাঁদের সদগতি হবেই হবে।ভক্তগণ যাঁর শ্রীচরণযুগল হৃদয়ে ধারণ করেন,যেখানে তাঁদের মস্তক সমর্পণ করেন সেই দেবদুর্লভ শ্রীচরণ যার অঙ্গে লেগেছে এবং সে যখন মাতৃবেশে প্রতারণা করতে এসেছিল তার ভাগ্যে যে ধাত্রীগতি লাভ হবে এতে আর আশ্চর্য্য কি?ভাগবতে পূতনা মোক্ষণ লীলায় একটি অপূর্ব শ্লোক আছে যার ব্যাখ্যা অতীব হৃদয়গ্রাহী এবং প্রকৃত কৃষ্ণভক্তগণের কাছে এই শ্লোক যে কি বিপর্য্যয় ঘটাতে পারে তার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হচ্ছে--, মুকুন্দ পুন্ডরীক আখ্যান।পুন্ডরীক বিদ্যানিধি ছিলেন বিরাট জমিদার এবং তিনি অতীব বিলাস-বহুল জীবন যাপন করতেন।তাঁর আদি নিবাস ছিল চট্টগ্রাম।*
*শ্রীমন্মহাপ্রভুর সঙ্গ পাবার জন্য তিনি নবদ্বীপে এসেবাস করতে লাগলেন।মহাপ্রভুর পার্ষদ মুকুন্দ কিন্তু জানতেন যে তিনি পরমভক্ত এবং সেজন্য একদিন গদাধর পন্ডিতকে বলেন যে চলো একজন ভক্তের সঙ্গে তোমার যোগাযোগ করাব।গদাধর বিরক্ত (বৈরাগ্যযুক্ত)সন্ন্যাসী,তিনি পুন্ডরীক বিদ্যানিধিকে দর্শন করে মনে মনে ভাবলেন যে এত ঐশ্বর্য্যের মধ্যে যিনি ভোগবিলাসে মত্ত তিনি আবার কি রকম ভক্ত? মুকুন্দ তাঁর মনের কথা বুঝতে পেরে পুন্ডরীকের মাহাত্ম্য প্রকাশের জন্য হঠাৎ পূতনামোক্ষণ লীলা হতে ভাগবতের একটি শ্লোক আবৃত্তি করেন যথা---*
*🌷অহো বকী যং স্তনকালকূটং,*
*🌷জিঘাংসয়াহ পায়ষদ অপি সাধ্বী,*
*🌷লেভে গতিং ধাত্র্যচিতাং তাতোহন্তং,*
*🌷কং বা দয়ালু শরণং ব্রজেম।*
*🌻অর্থ্যাৎ অহো! বকী মানে বকাসুর ভগ্নী পূতনা যাঁকে বধ করবার বাসনায় নিজ স্তনযুগলে কালকূট বিষ মাখিয়ে পান করিয়েছিল, কিন্তু তবুও সেই কুবুদ্ধি পরায়ণা অসতী যাঁর কাছ হতে ধাত্রীপদযোগ্যা গতি লাভ করেছিল বল, বল দেখি তিনি ছাড়া এই পৃথিবীতে আমরা আর কোন দয়ালু প্রভুর শরণাগতি গ্রহণ করব।*
*🍀অকৈতব কৃষ্ণভক্তিপূর্ণ শ্রীমদ্ভাগবদীয় এই পূণ্য শ্লোক শোনামাত্রই পুন্ডরীক বিদ্যানিধির অপূর্ব ভাবান্তর হল।দুইনয়নে যেন তিনি বেসে যেতে লাগলেন, এবং অঝোর নয়নে বক্ষ ভাসালেন।তাঁর সর্বাঙ্গ অষ্টসাত্ত্বিক ভাববিকার পরিলক্ষিত হ'ল এবং ভাবাবেশে হুঙ্কার গর্জন করে মুকুন্দকে উদ্দেশ করে চিৎকার করে বলতে লাগলেন, "আবার বলো আবার বলো"।সুসজ্জিত দিব্য পালঙ্কের উপর হতে গড়িয়ে মাটিতে পড়লেন এবং "হা কৃষ্ণ কোথা কৃষ্ণ" বলে করুণস্বরে কাঁদতে লাগলেন অবশেষে ক্লান্ত অবসন্ন বিদ্যানিধি ডুকরিয়ে ডুকরিয়ে কাঁদতে লাগলেন এবং করুণস্বরে বিলাপ করতে লাগলেন।*
*🌷কৃষ্ণরে,ঠাকুররে,কৃষ্ণ মোর প্রাণ।*
*🌷মোরে সে করিল কাষ্ঠ পাষাণ সমান।।*
*🏵এই প্রসঙ্গে শ্রীবৃন্দাবন দাস ঠাকুর বলেছেন--*
*🌷তিল মাত্র ধাতু নাই সকল শরীরে।*
*🌷ডুবিলেন বিদ্যানিধি আনন্দ সাগরে।।*
*🏵ব্রজে দুই প্রকার লীলা সাধারণত আস্বাদন হয়। নিত্যলীলা ও নৈমিত্তিক লীলা, নিত্যলীলা আটটি, বাকী সব নৈমিত্তিক লীলা, কারণার্থ ও প্রয়োজনার্থই নৈমিত্তিক লীলা।কোন কারণ বা প্রয়োজন ছাড়া শ্রীকৃষ্ণ লীলা করেন নাই,পূতনা মোক্ষণ লীলার নিশ্চয়ই কোন কারণ আছে তাইনা? কারণ এই যে,🍀বলিরাজা এক যজ্ঞের আয়োজন করেছিলেন,সেই বলিরাজাকে ছলনা করবার জন্য স্বয়ং নারায়ণ বামনরূপ ধারণ করেন।বলিরাজার ভীষণ অহংকার ছিল, নিজেকে ভগবান তুল্য মনে করতেন, তার অহংকার চূর্ণ করবার জন্য ভগবানের এই ছলনা। বলি রাজার এক কন্যা ছিল,তার নাম রত্নমালা,বামনকেদেখে রত্নমালা সুতরূপে বা পুত্ররূপে তার প্রতি দর্শন করেন অর্থ্যাৎ পুত্ররূপে পেতে চেয়েছিল।রত্নমালা ঈশ্বরের উদ্দেশ্যে বলেছিল,কৃপাময় আমি যেন তোমাকে পুত্ররূপে পাই।*
*🌷অন্তর্য্যামী নারায়ণ জানিয়া অন্তরে।*
*🌷দয়া করি বরদান করিলেন তারে।।*
*🌷সুতনাহিহব আমি শুন গো সুন্দরী।*
*🌷তরাব তোমারে কিন্তু স্তন্য পান করি।।*
*🌷পরজন্মে স্তন্যদুগ্ধ করিব যে পান।*
*🌷এই বর জনার্দন করিলেন দান।।*
*🌷সেই হেতু পূতনার স্তন্যপান করি।*
*🌷উদ্ধার করিল তারে বিনোদবিহারী।।*
*🌷কর্মফলে পূতনা উদ্ধার হইল।*
*🌷নিজগুণেকৃষ্ণ তারে মুক্তিপদ দিল।।*
*🏵বলিরাজা "বিশ্বজিৎ" নামক যজ্ঞ করেন।শ্রীমদ্ভাগবত মতে নর্মদার উত্তরতটে "ভৃগুকচ্ছ"নামক ক্ষেত্রে বলিরাজা এই যজ্ঞ অনুষ্ঠিত করেছিলেন।*
*অতি সংক্ষেপে দুই-এক কথায় বিবরণ দিলাম।*
*পূতনা উদ্ধার বিরাম।*
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️
꧁ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ📱7001138871꧂
নিবাস- বাঁশবাড়ী, কীর্তন মন্দিরের পাশে, পোঃ- বাঁশবাড়ী, থানা- ইংরেজ বাজার, জেলা- মালদহ, পশ্চিমবঙ্গ, পিন কোড- ৭৩২১০১।
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏
আমায় দেওয়া ওনার এই অমূল্য লিখনী সেবা, তা সকলের মধ্যে প্রকাশ করলাম। ওনার এই অমূল্য দান সমগ্র বৈষ্ণব সমাজ অনন্তকাল মনে রাখিবে।
🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
*••••┉━❀꧁ 🙏 রাধে রাধে 🙏 ꧂❀━┅••••*
*••••┉━❀꧁ 🙏 রাধে রাধে 🙏 ꧂❀━┅••••*
শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য প্রভু নিত্যানন্দ
হরে কৃষ্ণ হরে রাম শ্রীরাধেগোবিন্দ।।
*••••┉━❀꧁ 🙏 জয় জগন্নাথ 🙏 ꧂❀━┅••••*
হরে কৃষ্ণ হরে কৃষ্ণ কৃষ্ণ কৃষ্ণ হরে হরে
হরে রাম হরে রাম রাম রাম হরে হরে॥
*••••┉━❀꧁ 🙏 জয় রাধাকান্ত 🙏 ꧂ ❀━┅••••*
💮❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀💮
💮❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀💮
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧

