✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
🔙 পূর্ব লীলা 👉 বৈষ্ণব রস-সাহিত্য প্রথম শাখা 🙇 পরম বৈষ্ণব খগেন্দ্র নাথ মিত্র 📖 পঞ্চম ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/11/sahityo5.html
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
🆕 👉 বৈষ্ণব রস-সাহিত্য প্রথম শাখা 🙇 পরম বৈষ্ণব খগেন্দ্র নাথ মিত্র 📖 ষষ্ঠ ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/12/sahityo6.html
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
🆕 👉 রায় রামানন্দ🌷 বৈষ্ণব রস-সাহিত্য প্রথম শাখা 🙇 পরম বৈষ্ণব খগেন্দ্র নাথ মিত্র 📖 ষষ্ঠ ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/12/sahityo6.html
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(৫১) 🙏বৈষ্ণব রস-সাহিত্য🙏*
*🙏রায় রামানন্দ🙏*
***********************
*🍁জগন্নাথ-বল্লভে রাধা পরকীয়া নায়িকা=*
*🌷দয়িতা দয়িতস্তস্যা বালেয়ং কুলপালিকা।*
*🌷অকান্ডে কিমসৌ মুগ্ধে ধত্তামাচারবিপ্লবং।।*
*(জঃ বঃ নাঃ ২য় অঙ্ক)*
*🌻শ্রীরূপ গোস্বামীর নাটকেও তাইই। বিদগ্ধমাধবে মুখরা শ্রীকৃষ্ণকে বলছেন, চঞ্চল!"অভিমন্যোঃ সহধর্মিণী পত্নী তব বন্দনীয়া"।শ্রীরাধা অভিমন্যুর (আয়ানের) পত্নী অতএব তোমার নমস্যা।*
*🌹এই পরকীয়াতত্ত্ব সম্বন্ধে উভয়ের ঐকমত্য কি আকস্মিক?অথবা রামানন্দের প্রভাবের ফল? জগন্নাথ- বল্লভে ললিতা বিশাখা নেই, রাধার সখীর নাম মদনিকা ও শশীমুখী।মদনিকা এবং পৌণমাসী উভয়েই বয়োজ্যেষ্ঠা এবং লীলার প্রধান প্রযোজনকর্ত্রী।জগন্নাথবল্লভের বিদূষক রতিকন্দল,শ্রীরূপ গোস্বামীর নাটকে মধুমঙ্গলে পরিণত হয়েছেন। কিন্তু গানের দিক দিয়ে জগন্নাথবল্লভ যথেষ্ট জনপ্রিয়তার দাবী করতে পারে!জগন্নাথবল্লভ পঞ্চাঙ্ক নাটক যথা=পূর্বরাগ,ভাবপরীক্ষা, ভাবপ্রকাশ, রাধাভিসার ও রাধাসঙ্গম। প্রথম অঙ্কে চারটি করে ১২টি,চতুর্থ অঙ্কে পাঁচঠি এবং পঞ্চম অঙ্কে চারটি গান আছে।এর মধ্যে অনেকগুলো গান পদকল্পতরুতে উদ্ধৃত হয়েছে এবং কীর্তনের আসরেও অদ্যাপি শুনতে পাওয়া যায়।যথা="কেলিবিপিনং প্রবিশতি রাধা",রাধা মধুর বিহারা (অভিসার); "গোপকুমার সমাজমিমং সখি পৃচ্ছ কদানুগতোহহং (রূপানুরাগ) ইত্যাদি।*
*🍁এই গানের অনেকগুলিই শ্রীজয়দেবের অনুকরণে রচিত। জয়দেবের প্রভাব কোন বৈষ্ণব কবিই অতিক্রম করতে পারেননি।জগন্নাথ বল্লভের মত ছোট নাটকটিতে বিংশত্যধিক (কুড়িটির বেশী) গানের সমাবেশ দেখলে জয়দেবের কথায় বেশী করে মনে পড়ে।তবে শ্রীজয়দেব যেমন শৃঙ্গার রসের মধ্য দিয়েই শ্রীকৃষ্ণলীলা আস্বাদন করেছেন, রামানন্দ সেরকম করেননি।পঞ্চম অঙ্কে (রাধাসঙ্গম)মাত্র শ্রীরাধাকৃষ্ণের বিহার মদনিকার দ্বারা বর্ণিত হয়েছে, তাও বেশ গাম্ভীর্য্যপূর্ণ। আগেই বলেছি, রামানন্দের ভাষায় শ্রীজয়দেবের শব্দ-অলঙ্কারের প্রভাব সুস্পষ্ট। দৃষ্টান্তস্বরূপ=*
*🌻মঞ্জুতর গুঞ্জদলি কুঞ্জমতি ভীষণং।*
*🌻মন্দ মরুদন্তরগ গন্ধ কৃত দূষণং।।*
*🌹অথবা, রাধিকে পরিহর মাধবে রাগময়ে ইত্যাদি পদ নেয়া যেতে পারে। আবার চন্ডীদাসের প্রভাব রামরায়ের কাব্যে না থাকবারই কথা। কারণ চন্ডীদাস বাঙ্গালী কবি।তথাপি তাঁর রাধাপ্রেমের আকুতি দেখলে চন্ডীদাসের কথা মনে স্মরণ হয়। বিশেষ যখন তিনি বলেছেন=*
*🌻তন্মন্যে বিরহে নবৈব বিধুরা কান্তস্য যোগে যথা।*
*🌹চন্ডীদাসের অমর চিত্র "দুহুঁ কোরে দুহুঁ কাঁদে বিচ্ছেদ ভাবিয়া" অবশ্যই মনে পড়বে।বিদ্যাপতির প্রভাবও রায় রামানন্দের উপর লক্ষ্য করা যায়।তাঁর প্রেমবিলাসবিবর্তের পদটি=*
*🌷পহিলহি রাগ নয়ন ভঙ্গ ভেল।*
*🌹নিশ্চয়ই বিদ্যাপতির অনুকরণে লিখিত।রামরায় গানে যে অত্যন্ত সুপন্ডিত ছিলেন,এ সম্বন্ধে সংশয় নাই।তাঁর অনেকগুলির জনপ্রিয়তার এটিও একটি হেতু।আর একজন বিখ্যাত কবি সেইজন্যই তাঁর সংস্কৃত গানগুলিকে বাংলা রূপ দিতে অনুপ্ররিত হয়েছিলেন।জগন্নাথবল্লভের শ্লোক ও সঙ্গীত অবলম্বন করে শ্রীলোচনদাস চল্লিশটি পদ রচনা করেছিলেন।পদগুলি অতি সুললিত এবং জায়গায় জায়গায় কাব্য-সৌন্দর্য্যে মূল কবিকে ছাড়িয়ে গিয়েছে।লোচনদাসের পদেও ব্রজবুলি ভাষার যথেচ্ছ ব্যবহার লক্ষ্য করবার বিষয়।তাঁর চল্লিশটি পদের মধ্যে তেরটি ব্রজবুলি ভাষায়।*
*🍀রামানন্দের শ্রেষ্ঠ কৃতিত্ব তাঁর সংলাপে,যেখানে তিনি মহাপ্রভুর প্রশ্নের উত্তরে সাধ্যের স্থাপন করেছেন।অদ্যাপি এই সাধ্যসাধনতত্ত্ব বৈষ্ণবসমাজে ভক্তিধর্মের দৃঢ় ভিত্তি বলে গণ্য হয়।বস্তুতঃ এই প্রসিদ্ধ সাধ্য সাধনতত্ত্ব-বিচারের মত প্রেমধর্ম-ব্যাখ্যা আর কোথাও দেখা যায় না। রামানন্দ ছিলেন "রাধাকৃষ্ণ প্রেমরসের জ্ঞানের সীমা"।কাজেই তাঁর এই তত্ত্বব্যাখ্যা বৈষ্ণবধর্মের নির্যাস বলে আদৃত হয়েছে।*
*🍁এই সুপরিচিত সাধ্য-বিচারের মধ্যে মাত্র দুইটি বিষয়ের প্রতি আমি দৃষ্টি আকর্ষণ করোএ চাই।প্রথমতঃ কান্তা-ভাবের ভজন এই প্রথম স্পষ্টভাবে অঙ্গীকৃত হল। ভগবান যে প্রিয়তম, একথা বৃহদারণ্যক এবং নারায়ণীর উপনিষদে উক্ত হয়েছে। ব্রজের গোপীরা যে শ্রীকৃষ্ণকে প্রাণকান্তারূপে ভজনা করেছিলেন, এটিও শ্রীমদ্ভাগবতে বর্ণিত হয়েছে। কিন্তু এ পর্যন্ত ভক্তিধর্মের যে ব্যাখ্যা প্রচলিত ছিল তাতে মধুর বা উজ্জ্বল রসের জায়গা স্বীকৃত হয়নি। সেইজন্যই শ্রীচৈতন্যদেব যে ভক্তি-সাধনা প্রবর্তিত করলেন তাকে "অনর্পিতচরীং চিরাৎ" বলা হয়েছে।(যা পূর্বে কোনযুগে বা কোনকালে এইভাবে প্রেভক্তি প্রদান করেননি)। তিনি মধুর রস-সমন্বিত ভক্তির প্রবর্তক,এটি যদি স্বীকার করা যায়,তবে তার প্রেরণা এই দাক্ষিণাত্য দেশ হতে এসেছিল এটি না মেনে উপায় নাই। (◆অধুনালুপ্ত "উদয়ন" পত্রিকায় (কার্ত্তিক ১৩৪১) বাংলার প্রেমধর্ম শীর্ষক প্রবন্ধে আমি এর বিস্তৃত ব্যাখ্যা দিয়েছিলাম। রায় বাহাদুর রমাপ্রসাদ চন্দ উদয়নে (পৌষ ১৩৪১) তার প্রতিবাদ করেন,আমার প্রত্যুক্তি (বসুমতি বৈশাখ ১৩৪২) দ্রষ্টব্য)।*
*☘দ্বিতীয়তঃ এই তত্ত্বের বিশ্লেষণ প্রসঙ্গে রামানন্দ রায় স্বরচিত একটি পদ গান করেন=*
*🌷পহিলহি রাগ নয়নভঙ্গ ভেল।*
*🌷অনুদিন বাঢ়ল অবধি না গেল।।*
*🌷না সো রমণ না হাম রমণী।*
*🌷দুহুঁ মন মনোভব পেষল জানি।। ইত্যাদি।।*
*🌹এই পদটির ব্যাখ্যার অনেক কথা এবং জনৈক সুধী সমালোচক ভ্রমে পতিত হয়েছেন।অর্থ্যাৎ ভুল পথে চালিত হয়েছেন।তাঁরা মনে করেন যে, "না সো রমণ" ইত্যাদির দ্বারা বিপরীত বিহারের ইঙ্গিত করা হয়েছে। কিন্তু বস্তুতঃ তা নয়।রায় রামানন্দ এখানে কান্তা-প্রেমের শ্রেষ্ঠত্ব প্রতিপাদন করে এমন এক অনির্বচনীয় অবস্থার আভাস দিচ্ছেন,যেখানে কান্ত ও কান্তা,নায়ক ও নায়িকা, ভক্ত ও ভগবান একাত্মা হয়ে যান ; কোনও রূপ ভেদ থাকে না, এটিই কান্তা প্রেমের চরম পরিণতি।(◆প্রেমবিলাস-বিবর্তের ব্যাখ্যা সম্বন্ধে ভারতবর্ষে (আষাঢ় ১৩৪৪) আমি যে আলোচনা করেছিলাম এবং শ্রদ্ধেয় শ্রীযুক্ত রাধাগোবিন্দ নাথ যে প্রত্যুত্তর (ভাদ্র ১৩৪৪) দিয়েছিলেন তা দ্রষ্টব্য)।*
*🌹বৈষ্ণবদের এই প্রেমবিলাসবিবর্ত এক অপূর্ব বস্তু।রামরায় যেরকম ভয়ে ভয়ে এটি ব্যাখ্যা করেছেন,তাতে মনে হয় যে,প্রেমের এই অভেদতত্ত্ব অত্যন্ত নিগূঢ় এবং রহস্যমন্ডিত মর্মকথা। কান্তা-প্রেমের শ্রেষ্ঠত্ব প্রতিপাদন করে বক্তা মনে করলেন যে,এ প্রসঙ্গেই এটিই চরম হল। কিন্তু =*
*🌷প্রভু কহে এহ হয় আগে কহ আর।*
*🌷রায় কহে আর বুদ্ধিগতি নাহিক আমার।।*
*🌷যেবা প্রেম-বিলাস-বিবর্ত এক হয়।*
*🌷তাহা শুনি তোমার সুখ হয় কি না হয়।।*
*🌻সন্দেহ-দোলায়িত রায় রামানন্দ এরই ব্যাখ্যাস্বরূপ নিজকৃত এক পদ গাইলেন; "পহিলহি রাগ নয়নভঙ্গ ভেল"।এই গান শুনে মহাপ্রভুর প্রশ্ন নিরস্ত হয়ে গেল।তিনি উদ্যত-ফণ অজগরের মত দুলতে লাগলেন এবং পরিশেষে=(প্রেমে প্রভু স্বহস্তে তার মুখ আচ্ছাদিল)। "প্রেমবিলাসবিবর্ত অর্থে এখানে এমন একটি অবস্থার ইঙ্গিত করা হচ্ছে তত্ত্ব হিসাবে যার উপরে আর নাই।"বিবর্ত্ত" অর্থে ভ্রম, অর্থ্যাৎ যেমন শুক্তিতে মুক্তাভ্রম, রজ্জুতে সর্পভ্রম।প্রেমের জগতে ভেদ--ভ্রম,অভেদই--সত্য অর্থ্যাৎ প্রেমবিলাসে যে দ্বৈতত্ত্ব দেখতে পাওয়া যায়,তা প্রাথমিক প্রেমের পরাকাষ্ঠা হয় তখন,যখন প্রেমিক ও প্রেমাস্পদের আর কোনও ভেদ থাকে না।*
*পিরীতি লাগিয়া, আপনা ভুলিয়া,*
*পরেতে মিশিতে পারে।*
*পরকে আপন, করিতে পারিলে,*
*পিরীতি মিলয়ে তারে।।*
*দুই ঘুচাইয়া, এক অঙ্গ হও,*
*থাকিলে পিরীতি আশ।*
*পিরীতি সাধন, বড়ই কঠিন,*
*কহে দ্বিজ চন্ডীদাস।।*
*🌹এই অভেদতত্ত্বই প্রকটিত হয়েছে "রসরাজ-মহাভাবে'র একত্বে। "রসরাজ মহাভাব" দুই একরূপ। (চৈঃচঃ) এই রসরাজ মহাভাবের জীবন্ত বিগ্রহ 🙏রায় রামানন্দের সম্মুখে বিরাজমান। অর্থ্যাৎ রামানন্দ সর্বশেষে যখন রাধাকৃষ্ণতত্ত্ব হতে গৌরাঙ্গতত্ত্বে এসে পড়লেন, তখন মহাপ্রভু স্বহস্তে তাঁর মুখ আচ্ছাদন করলেন। এই====*
*🌷ব্যাধিকরণতরা বানন্দবৈবশ্যতো বা,*
*🌷প্রভুরথ করপদ্মেনাস্যমস্যাপ্যধত্ত।*
*(চৈতন্যচন্দ্রোদয়নাটকং, ৭ম অঙ্ক)*
*🌻কবিকর্ণপুর বিপ্রের মুখ দিয়ে সার্বভৌমের প্রশ্নের উত্তরে এইকথা বলিয়েছিলেন কিন্তু এই তত্ত্ব অতি নিগূঢ়। এখানে কবিকর্ণপুর এটিকে চাপা দিয়েছেন মাত্র।*
🙏🙏🙏🙏🙏🙏🌷🙏🙏🙏🙏🙏🙏
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
🆕 👉 বৈষ্ণব রস-সাহিত্য প্রথম শাখা 🙇 পরম বৈষ্ণব খগেন্দ্র নাথ মিত্র 📖 ষষ্ঠ ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/12/sahityo6.html
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(৫২) বৈষ্ণব রস-সাহিত্য*
*পদাবলী*
*বাদল---অভিসার*
☆☆☆☆☆☆☆☆☆☆
*⚪বর্ষার ঘনায়মান মেঘপুঞ্জ দেখলে প্রণয়ীর চিত্ত আকুল হয়।বাদল মেঘ সেইজন্য প্রেমের কাব্যে অমর হয়ে আছে। প্রিয়াবিরহ-কাতর যক্ষের কাছে ধূমজ্যোতিঃ-সলিল-মরুৎ- সন্নিপাতমাত্র মূর্তিমান হয়ে উঠেছিল এবং প্রেমের যোগ্য দূতরূপে বৃত (কর্মে বরণ করা ) হয়েছিল। ঘটকর্পরও মেঘকে দূত করে প্রোষিত ভর্তার উদ্দেশ্যে প্রেরণ করেছিলেন।পরমভক্ত শ্রীজয়দেব তাঁর অমর কাব্য আরম্ভ করেছিলেন মেঘেরই পুণ্য নাম নিয়ে। "মেঘৈর্মেদুরমম্বরং" স্মরণ করলে আজও নীল যমুনার কুলে তমাল বনরাজি-শ্যামলিত মেঘমেদুর সন্ধ্যার একটি সুন্দর চিত্রপট চোখের সামনে ভেসে উঠে।*
*☘আর তেমন মেঘ করে না কি?তেমন করে গুর-গুর দেয়া ডাকে না কি? কই, এখন আর তেমন করে পরাণবন্ধুয়া আঙ্গিনার কোণে প্রণয়িনীর জন্য বৃষ্টির ধারার মধ্যে দাঁড়িয়ে তো প্রতিক্ষা করেন না!*
*🌷এ ঘোর রজনী মেঘের ঘটা,*
*কেমনে আইলে বাটে।*
*🌷আঙ্গিনার কোণে বন্ধুয়া তিতিছে,*
*দেখিয়া পরাণ ফাটে।।*
*🌺ঘরে গুরুজন,আমি যে তাঁদের দৃষ্টি এড়িয়ে বাহির হতে পারলাম না!তিনি আমার জন্য আঙ্গিনায় দাঁড়িয়ে ভিজে সারা হলেন।কত কষ্ট তাঁকে দিলাম,তাই ভেবে আকুল হচ্ছি।*
*🌷ঘরে গুরুজন ননদী দারুণ,*
*বিলম্বে বাহির হৈলুঁ।*
*🌷আহা মরি মরি সঙ্কেত করিয়া,*
*কত না যন্ত্রণা দিলুঁ।।*
*🌺আমি সঙ্কেত করে তাঁকে এনে এত কষ্ট দিলাম! কিন্তু তিনি তো সে অসহ দুঃখকে দুঃখ মনে করেন না। আমার জন্য বৃষ্টির মধ্যে দাঁড়িয়েও তিনি সুখী!আহা!এমন প্রেম আর হয় না।*
*🌷আপনার দুখ সুখ করি মানে,*
*আমার দুখের দুখী।*
*🌷চন্ডীদাস কয় বন্ধুর পিরীতি,*
*শুনিয়া জগত সুখী।।*
*🌺এই প্রীতি নিয়েই বৈষ্ণবের কাব্য। সামান্য নায়ক-নায়িকার নিতান্ত সাধারণ প্রেম উপলক্ষ্য করে কখনও শ্রেষ্ঠ কাব্য রচিত হতে পারে না।শ্রীরাধাকৃষ্ণের এ পিরীতির কথা শুনে "জগৎ সুখী"। এমন আর হয় না।মুরারি গুপ্ত চন্ডীদাসেরই প্রতিধ্বনি করে বলেছিলেন=*
*খাইতে শুইতে রৈতে,আন নাহি লয় চিতে,*
*বন্ধু বিনা আন নাহি ভায়।*
*মুরারি গুপুতে কহে,পিরীতি এমতি হৈলে,*
*তার গুণ তিন লোকে গায়।।*
*🌹প্রেমাস্পদ আহারে-বিহারে, শয়নে-স্বপনে, নিদ্রা-জাগরণে যার চিত্তকে নিঃশেষে অধিকার করেছেন,তার প্রেমের কথা শুনতে শুনাতে,বলতে বলাতে প্রাণ গলে মধুময় হয়ে যায়। এই তো প্রেম। এঁরই নাম শ্রীরাধা।যুগে যুগে মানুষ এই প্রেমের ধ্যান করেছেন,এই পিরীতের স্বপ্ন দেখেছে,ইঁনারই নাম শ্রীরাধা।*
*গগনে অব ঘন, মেহ দারুণ,*
*সঘনে দামিনী ঝলকই।*
*কুলিশ পাতন, শবদ ঝন ঝন,*
*পবন খরতর বলগই।।*
*🍀এমন দুর্দিনে আমার প্রাণকান্ত সঙ্কেতকুঞ্জে গিয়েছেন।আমি কি ঘরে বসে আরাম করতে পারি?আমাকে না গেলেই নই।ঐ শুনছ না, থেকে থেকে বাঁশী বাজছে? আজ ঐ বাঁশী শুনে বোধ হচ্ছে--,নায়কের মনেও মাঝে মাঝে সন্দেহের দোলা লাগছে--, সুকুমারী বালিকা এই দুরন্ত বর্ষায় এত দূর পথ অতিক্রম করে কেমন করে আসবে?*
*🌷পাঁতর মা ভেল আঁতর বারি।*
*🌷কৈছে পঙারব সো সুকুমারী।।*
*(গোবিন্দদাস)*
*প্রান্তর আজ বর্ষার জলে অন্তর (সুদূর) হয়ে পড়েছে।এই জলপ্লাবন অতিক্রম করে সে সুকুমারী আসতে পারবে কি?*
*🌺সখিরা শ্রীমতীকে নিষেধ করছেন, এমন দুর্যোগে যেও না।শেষে কি প্রেমের জন্য প্রাণ হারাবে? ঘরের বাইরে দুয়ার রুদ্ধ হয়েছে।পথ পিছল,চলা শঙ্কাজনক।ঐ দেখ,দূর হতে বর্ষা ঝেঁপে আসছে।দুরন্ত বর্ষায় কি তোমার সূক্ষ্ম নীল শাড়ীতে জল মানবে? অন্ধকারে গা ঢাকা দিয়ে যাবে বলে একটি নীলশাড়ী পরেছ দেখছি!*
*🌷মন্দির বাহির কঠিন কপাট।*
*🌷চলইতে শঙ্কিল পঙ্কিল বাট।।*
*🌷তহিঁ অতি দূরতর বাদল দোল*।
*🌷বারি কি বারই নীল নিচোল।।*
*🍁আর সে তো এখানে নয়। মানসগঙ্গার অপর পারে, যেখানে তোমার প্রাণবল্লভ আছেন,সেখানে এমন দারুণ বর্ষায় কি যাওয়া যায়*?
*সুন্দরি কৈছে করবি অভিসার।*
*হরি রহ মানস সুরধূনী পার।।*☆
*☆রায় বাহাদুর ডাক্তার দীনেশচন্দ্র সেন ইহার আধ্যাত্মিক ব্যাখ্যা দিয়েছেন।হরি মনোরাজ্যের অপর পারে বাস করেন, ইত্যাদি (বৃহৎবঙ্গ)। "মানসগঙ্গা"নামে বৃন্দাবনে যে একটি সরোবর আছে,তা বোধ হয় তাঁর স্মরণ ছিল না। বৈষ্ণবপদাবলীর আধ্যাত্মিক ব্যাখ্যা অবশ্য সর্বত্র করা যায়। কিন্তু তাতে কাব্যরস একেবারে উড়ে যায়।*
*🌻শুধু তাইই নহে ; বর্ষার গতিক চেয়ে দেখ। বিদ্যুৎ চমকাচ্ছে, মনে হয় যেন দশদিকে আগুন লাগিয়ে দিচ্ছে।চেয়ে দেখতেই চোখের মণি ঠিকরিয়ে বা ঝলসিয়ে যায়।ঐ শোন ঘন ঘন অশনিপাত।শুনলেই প্রাণ কেঁপে উঠে! এই দুর্যোগে অভিসারে যাবে?*
*🌷দশ দিশ দামিনী দহন বিথার।*
*🌷হেরইতে উচকই লোচন তার।।*
*🌷ঘন ঘন ঝন ঝন বজর নিপাত*।
*🌷শুনইতে শ্রবণে মরমে মরি যাত।।*
*কিন্তু হলে কি হবে? অনুরাগের গতিই বিচিত্র। সখীরা বুঝালে কি অনুরাগিনী ফিরবে? কেউ যদি ধনুতে শর বা তীর যোজনা করে,তবে আকর্ণ সন্ধান করলেও সে বাণ ধনুত্যাগ করতে পারে, না-ও করতে পারে। কিন্তু যে বাণ ধনুত্যাগ করেছে, সে বাণকে আর কি শত চেষ্টা করেও ফেরানো যায়*?
*🌷গোবিন্দদাস কহ ইথে কি বিচার।*
*🌷ছুটল বাণ কিয়ে যতনে নিবার।।*
*🌹মহাভাবস্বরূপিণী কৃষ্ণানুরাগিনী শ্রীমতী রাধাঠাকুরাণী সখীদের কথায় তাঁর অভিসার-সঙ্কল্প ত্যাগ করলেন না। তিনি বলিলেন=*
*কুলবতী কঠিন কপাট উদঘাটলুঁ,*
*তাহে কি কাঠ কি বাধা।*
*কুল মরিয়াদ সিন্ধু সঙ্গে পঙারলু,*
*তাহে কি তটিনী অগাধা।।*
*🌻কুলবতী সতী তার দুস্ত্যজ কুলধর্ম ত্যাগ করতে পারিল, আর কাঠের কবাট তার গমনে বাধা সৃষ্টি করতে পারে?কুলমর্য্যাদারূপ সিন্ধু আমি হেলায় গোস্পদের মত পার হলাম,আর ক্ষুদ্র তটিনী (মানসগঙ্গা) আমার কাছে দুস্থর হবে?সখী!তোমরা আমার মন পরীক্ষা করছ মাত্র ; তোমরা তো আমাকে ভালভাবেই জানো,আর আমাকে পরীক্ষা করিও না।প্রিয়তম কি যে আকুল হৃদয়ে আমার পথ চেয়ে আছেন,তা ভেবে আমার প্রাণ কেঁদে উঠছে।*
*🌷সখি হে মঝু পরীখন কর দূর।*
*কৈছে হৃদয় করি,পন্থ হেরত হরি,*
*সোঙরি সোঙরি মন ঝুর।।*
*🌻সখী! আমার জন্য তোমরা ভাবিও না।কোটি কুসুম-শরেযার হৃদয় জর্জরিত,বর্ষায় তার কি করবে? যার হৃদয় বিরহ-দহনে অহর্নিশি পুড়ে ছাই হচ্ছে,বজ্রপাত তার পক্ষে কি এতই কষ্টদায়ক?যাঁর পদে আমার মন-প্রাণ,তিল-তুলসী দিয়ে সমর্পণ করেছি,তাঁর কাছ হতে দেহের কথা আর কি ভাবিব?*
*কোটি কুসুমশর, বরিখয়ে যছুপর,*
*তাহে কি জলদজল লাগি।*
*প্রেম দহন দহ, যাক হৃদয়ে সহ,*
*তাহে কি বজরক আগি।।*
*যছু পদতলে হাম,জীবন সোঁপলু,*
*তাহে কি তনু অনুরোধ।*
*গোবিন্দ দাস, কহই ধনি অভিসর,*
*সহচরী পাওল বোধ।।*
*👣তুমি অভিসার কর। আর কিছু বলতে হবে না ; এবারে সখীগণ বুঝতে পেরেছেন।সখীগণ আর বাধা দিবার চেষ্টা করলেন না।শ্রীমতী তখন নূপুর খুলে রাস্তায় বাহির হলেন।নূপুরের ধ্বনিতে প্রতিবেশী জাগবে। আর প্রাণকান্তের জন্য অভিসারে মঞ্জীরের বা নূপুরের প্রয়োজন কি?শুধু গতি-বাধা জন্মাবে বৈ তো নয়। যা কিছু বাধা জন্মাতে পারে, বিলম্ব ঘটাতে পারে,অনুরাগবতী সে সমস্ত একে একে পরিত্যাগ করলেন। প্রথমে লীলাকমল ফেলে দিলেন।পরে মাথার মোতির মালা খুলে ফেললেন। তারপরে গলার মণিময় হার ছুঁড়ে ফেললেন।"দূর কর সোতিনী মোতিম হার"। কেবল নীল শাড়ীটি অঙ্গে রইল, অলঙ্কারের ভার হতে মুক্ত হয়ে সুন্দরী অভিসারে চলিলেন।*
*🌷রস ধাধর্সে চলু পদ দুই চারি।*
*🌷লীলাকমল তেজল বরনারী।।*
*🌷পরিহরি মৌলিক মালতি মাল।*
*🌷তেজল মণিময় গীমক হার।।*
☆ ☆ ☆ ☆ ☆ ☆
*🌷বেশ-শেষ রহু নীলিম বাস।*
*🌷মিললি নিকুঞ্জে কহ গোবিন্দদাস।।*
*🌹কিন্তু পথে নানা বিঘ্ন ঘটিল। "তরল জলধর বরিখে ঝর ঝর" অমনি বিদ্যুৎ চমকালো। অভিসারিনী মনে করলেন, কেউ পথের ধারে স্ফটিকস্তম্ভ রোপণ করেছে।পিছল পথ,পরতে পরতে স্ফটিকস্তম্ভ বিদ্যুদ্দামবিদ্ধ বিপুল জলধারা ধরতে গেলেন।উদ্যত-ফণ সাপের মাথার মণি দেখে মনে করলেন বুঝি কেউ দীপ জ্বেলেছে,তাঁর অভিসারে বাধা দিবার জন্য।অমনি বামহাতে সেই দীপ আবরণ করলেন। কিন্তু তখনি বুঝলেন এ তো দীপ নয়, এ যে ভীষণ সর্পের মাথার মণি!তখনই সমস্ত শরীর কেঁপে উঠিল।বুঝি সাপের ছোঁবলে আজ প্রাণ যায়! প্রাণ যায় যাক এতে দুঃখ নেই, কিন্তু বঁধূর সঙ্গে দেখা হল না, এ বড় দুঃখ কেমন করে সইব?*
*হেরি দামিনী, ফটিক তরু জানি,*
*চমকি ধরু নীরধার রে।।*
*দেখি ফণি মণি, দীপ জ্বলু জানি,*
*বাম কর দেয় ঝাঁপি রে।*
*জানি যুবতী, এহি ফণি পতি,*
*সঘনে তনু উঠে কাঁপি রে।।*
*🌻কিন্তু বন্ধু তো নিশ্চিন্ত নাই আমার জন্য। এই চিন্তা করতে করতে পথে চলেছেন শ্রীমতী। অপরদিকে শ্রীকৃষ্ণ মনে মনে বলছেন, আমার প্রিয়তমা যেভাবেই হোক কেন সে আমার সঙ্গে দেখা করবেই, এতই মনের জোর শ্রীকৃষ্ণের।রাধারাণী পথ চলতে চলতেই পথেই অর্ধপথে প্রাণবঁধূর সঙ্গে মিলন হল। মিলন যে হবে সেকথা একেবারেই জানা, গোবিন্দ দাস ভাবছেন যে,যখন পথ মধ্যেই সাক্ষাৎ হয়ে গেল,আর কষ্ট দিবার প্রয়োজন কি? দুষ্ট মন্মথ এইভাবে প্রেম পরীক্ষা করে। (বৈষ্ণব পদাবলী, ৬১৪ পৃষ্ঠা, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায়)।*
*🌷গুণি-গুণি আকুল চলল মুরারি।*
*🌷মীলল আধ পন্থে বরনারী।।*
*🌷গোবিন্দদাস কহই পুন ধন্দ।*
*🌷প্রেম পরীখত মনমথ মন্দ।।*
*🙏এখানেই "বাদল অভিসার" রইল।*
👣👣👣👣👣👣🙏👣👣👣👣👣👣
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
🆕 👉 বৈষ্ণব রস-সাহিত্য প্রথম শাখা 🙇 পরম বৈষ্ণব খগেন্দ্র নাথ মিত্র 📖 ষষ্ঠ ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/12/sahityo6.html
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(৫৩)🙌বৈষ্ণব রস-সাহিত্য🙌*
*🍒ঝুলন--লীলা🍒*
🌳🌳🌳🌳🌳🌳🌳🌳
*🌻হিন্দুদের পূজাপার্বণ সম্বন্ধে আলোচনা করলে দেখা যায় যে, কৃষিকার্য্যের সঙ্গে তাদের কিছু-না-কিছু যোগ আছে। ভারতবর্ষ কৃষিপ্রধান দেশ,কাজেই আমাদের আমোদ-প্রমোদ পূজাপার্বণ কৃষিকর্মের প্রতি লক্ষ্য রেখে অনুষ্ঠিত হয়।রাবণবধের জন্য শ্রীরামচন্দ্রকে অকালবোধন করতে হয়েছিল ; সেই কারণে আমাদের প্রধান উৎসব দূর্গাপূজা শরতেই সম্পন্ন হয়।রাবণবধের প্রয়োজনীয়তা থাক বা না থাক,ঐ সময়ে কৃষীজীবিগণের প্রচুর অবসর। সেইজন্য উৎসবের দেশব্যাপী আয়োজন।দূর্গাপূজার নাম সেইজন্য দূর্গোৎসব। অন্য কোনও পূজার এরকম আনন্দবহ নামকরণ হয়নি। দূর্গোসবের পরে পরপর লক্ষ্মীপূজা,শ্যামাপূজা,কার্তিকপূজা, জগদ্ধাত্রীপূজা,নবান্ন প্রভৃতি। বৈষ্ণবগণ তাঁদের উৎসবের পরিকল্পনায় আর একটু অগ্রসর হয়েছেন বলে বোধ হয়। প্রকৃতিকে তাঁরা ধর্মকর্মের সঙ্গে গেঁথে নিয়েছেন।এটিই স্বাভাবিক, কারণ বৈষ্ণবগণ ধর্মের প্রয়োজনে কাব্য ও অলঙ্কারশাস্ত্রকে জুড়ে দিয়েছেন।যাঁদের দেবতা অখিলরসামৃতমূর্তি, ভজন যাঁদের "রম্যা কাচিৎ উপাসনা" সাধ্য যাঁদের প্রেম,তাঁদের সৌন্দর্য্যবোধ কিছু প্রবল থাকবে, এইই তো আশা করা যায়। বৈষ্ণবদের তিনটি প্রধান উৎসব তিন চন্দ্রমা-শালিনী পূর্ণিমা রজনীতে অনুষ্ঠিত হয়।প্রাবৃট (বর্ষাকাল) পূর্ণিমায় ঝুলন, শারদীয়া পূর্ণিমায় রাস, ফাল্গুনী পূর্ণিমায় হোলি। ভগবানের এই তিনটি লীলায় মনোমুগ্ধকর।প্রত্যেকটিতেই আনন্দের হিল্লোল বহে যায়। সৌন্দর্য্য আনন্দের একটি অপরিহার্য্য উপাদান। সৌন্দর্য্যকে বাধা দিলে আনন্দের অনেকটাই অসম্পূর্ণ থেকে যায়। ভক্ত ভগবানকে দেখেন প্রকৃতির অফুরন্ত সৌন্দর্য্যের মধ্যে। যে সৌন্দর্য্য ইন্দ্রিয়াতীত,অতীন্দ্রিয়,নয়নমনের অগোচর,তাতে ব্রহ্মবিদ পরমহংসগণ তৃপ্ত হন।শ্রীকৃষ্ণের লীলা-কথা হৃৎকর্ণ-রসায়ন,আপামর সাধারণ সকলের পক্ষেই মধুর।স্বভাবশোভাও সকলের উপভোগ্য,সকলেরই অধিগম্য বা শিক্ষণীয়।কাজেই এই স্বভাবশোভার মধ্যে ভগবানকে পেলেও পাওয়া যেতে পারে। প্রাকৃতিক সৌন্দর্য্য যদি ভগবদ্ ভক্তির উদ্দীপনা জোগাতে না পারে, তবে আর কিসে পারবে?আকাশে যখন রামধনু আঁকে,তখন মনে পড়ে সেই মোহনচূড়া।উপাস্য তখন নবমেঘের অন্তরালে রূপায়িত হয়ে উঠেন সেই ইন্দ্রধনুর অপরূপ রঙের বাহারে।*
*🌷আকাশ চাহিতে কিবা,*
*ইন্দ্রের ধনুকখানি,*
*নবমেঘে করিয়াছে শোভা।*
*(জ্ঞানদাস)*
*🍀যমুনার কালো জলে চাঁদের আলো পড়ে চিকমিক করছে। অমনি ভক্তের মনে পড়ে গেল,কৃষ্ণের কালো অঙ্গে সোনার অলঙ্কারের কথা।*
*🌷আভরণ বরণ কিরণে অঙ্গ ঢর ঢর,*
*কালিন্দী জলে যৈছে চান্দকি চলনা।*
*(নয়নানন্দ)*
*🔷নীল আকাশে মেঘ করেছে, তাতে বিদ্যুৎ খেলছে। গোধূলি বেলায় ঝাঁকে ঝাঁকে বকের সারি সেই আকাশের বুকে মালা দুলিয়েছে (অস্তম্ভতোরণস্রজাং=কালিদাস)। এমন সময় পূর্বাকাশে পূর্ণচন্দ্র দেখা দিলেন।এ চিত্র কেমন লাগে? এই সৌন্দর্য্য স্মরণ করিয়ে দেয় না কি সেই ভগবানকেই, যাঁর নীলকান্তোপম অঙ্গে পীতবসন ঝলমল করছে,যাঁর সুপ্রসর বক্ষে মালতীর মালা দুলছে,যাঁর ললাটে চন্দনবিন্দু শোভা পাচ্ছে?*
*উজোর হার উর,পীত বসন ধর,*
*ভাল হি চন্দন বিন্দু।*
*মিলিত বলাকিনী,তড়িত জড়িত ঘন,*
*উপরে উজোরল ইন্দু।।*
*(ঘনশ্যাম দাস)*
*🌺কেউ কেউ বলেন,বাংলা কবিতায় স্বভাব-শোভার বর্ণনা নাই। কিন্তু বৈষ্ণব কবিতা পড়লে সে ধারণা বেশীক্ষণ টিকবে পারে না।ঝুলন লীলায় বর্ষার শোভা যেভাবে বর্ণিত হয়েছে,তাতে সৌন্দর্য্য অনুভূতির যে কোনও ত্রুটি আছে এমন বোধ হয় না।বর্ষার বর্ণনা বর্ষাভিসারেও আছে, স্বপ্নদর্শনেও আছে। বর্ষাভিসারে শ্রীমতী অভিসারে যাচ্ছেন প্রকৃতির দারুণ বিপ্লবের মধ্যে।*
*🌷দশদিশ দামিনী দহন বিথার।*
*🌷হেরইতে উচকই লোচন তার।।*
*🌷ঘন ঘন ঝন ঝন বজর নিপাত*।
*🌷শুনইতে শ্রবণে মরমে মরি যাত।।*
*(গোবিন্দদাস)*
*🍁সখিরা অনেক নিষেধ করল, কিন্তু অভিসার ব্যাহত হল না। শ্রীমতী চলিলেন=*
*🌷তরল জলধর বরিখে ঝর ঝর*।
*🌷গগনে গরজে ঘন ঘোর।।* *(কবিশেখর)*
*🌹শ্রীমতী প্রাণবন্ধুকে স্বপ্নে দেখলেন সে এক বর্ষার রজনীতে। "স্বর্গে মর্ত্যে স্বপনের গুপ্ত আনাগোনা" বর্ষার নিভৃত নিশীথেই সবচেয়ে বেশী বোধ হয়। মনে পড়ে,ইংরেজ কবি স্বপ্নের নিভৃত নিকেতন নির্মাণ করেছেন বর্ষার বারিধারার মাঝখানে ; নিঝুম রাত, টিপ টিপ করে বৃষ্টি পড়ছে, দূরে কুকুর ডাকছে একঘেয়ে রবে,প্রতিধ্বনি মিলাচ্ছে দূর আকাশের কোলে।☆Spenser : Faery Quene, Canto 1. এই তো স্বপ্নের বিলাসভূমি। শ্রীরাধিকাও স্বপ্ন দেখছেন এক শ্রাবণ রজনীতে। গুর্ গুর্ মেঘ ডাকছে, মন্দ মন্দ বৃষ্টিপাত হচ্ছে,রাত্রি ঝাঁ ঝাঁ করছে ; ঝিল্লীর রবে নিস্তব্ধতা নিবিড় হয়ে উঠছে।দূরে পর্বতের উপর ময়ূরের কেকাধ্বনি শোনা যাচ্ছে,ভেকের দল বর্ষার উৎসবে মেতে উঠেছে।*
*রজনী শাঙন ঘন,ঘন দেয়া গরজন,*
*রিমিঝিমি শবদে বরিষে।*
☆ ☆ ☆ ☆ ☆ ☆
*শিখরে শিখন্ড রোল,মত্ত দাদুরী বোল,*
*কোকিল কুহরে কুতূহলে।*
*ঝিঁ ঝাঁ ঝিনিকি বাজে, ডাহুকী সে গরজে,*
*স্বপন দেখিলুঁ হেনকালে।।*
*(জ্ঞানদাস)*
🦚🦚🦚🪷🪷🪷🌷🌷🌷🌸🌸🌸🪔
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
🆕 👉 বৈষ্ণব রস-সাহিত্য প্রথম শাখা 🙇 পরম বৈষ্ণব খগেন্দ্র নাথ মিত্র 📖 ষষ্ঠ ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/12/sahityo6.html
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(৫৪)🌹বৈষ্ণব রস-সাহিত্য🌹*
*🍒ঝুলন---লীলা🍒🍒*
🌲🌲🌲🌲🌲🌲🌲🌲🌲
*🌳বৈষ্ণব কবিগণ শাঙন বা শ্রাবণ ঘন বিভাবরীর(যে সূর্য্যকে আবরণ করে,বা রাত্রির) মোহে মুগ্ধ।কি মিলনে,কি বিরহে কবিমাত্রেরই মনে পড়ে বর্ষার মেঘমেদুর আকাশ ; যমুনার কুল,বনভূমি, তমালছায়ায় শ্যামায়মান, রাত্রির সমাগত,মেঘে মেঘে গগন ছেয়ে গিয়েছে, আহা কি চমৎকার পরিবেশ!শ্রীরাধামাধবের নিভৃত কেলি-বিলাসের এমন সুন্দর উদ্দীপনময়ী প্রাকৃতিক অবস্থা আর হতে পারে না।শ্রীজয়দেবের বহুপূর্বে কালিদাস নির্বাসিত যক্ষকে এমনই এক বাদল ঘন সন্ধ্যায় বিরহের অশ্রুতে প্লাবিত করেছিলেন। আষাঢ়ের প্রথম দিনে মেঘাড়ম্বর দেখে বিরহী যক্ষ ব্যাকুল,বিচলিত,বিভ্রান্ত হয়েছিল। এমন প্রত্যাসন্ন (আকাঙ্খাযুক্ত) শ্রাবণের বাদল দিনে প্রণয়িণী যার কন্ঠলগ্না,সে ভাগ্যবানের হৃদয়ও কাতর হয়ে উঠে, সুদূর প্রোষিত (প্রবাসী)কান্তের তো কথায় নাই!এই আষাঢ়ের প্রথম দিনে মেঘবর্ষার বর্ণনা দেখে আমার মনে হয় কবিকুলতিলক বাংলা দেশের সঙ্গে সুপরিচিত ছিলেন। বাংলাদেশ নহিলে পয়লা আষাঢ়ের স্নিগ্ধ মাধুরী আর কোথায়ও এমনভাবে অনুভব করা যেত কি?যাইহোক, কালিদাস তাঁর মেঘদূতে মিলন ও বিরহের উদ্দীপক রূপে বর্ষাকে প্রেমের দেউলে চির-প্রতিষ্ঠিত করে গিয়েছেন। বিদ্যাপতিও এই বর্ষার ছবি এমন করে এঁকেছেন যে জগতে তার তুলনা মালা কঠিন।*
*গগনে অব ঘন- মেহ দারুণ,*
*সঘন দামিনি ঝলকই।*
*কুলিশ পাতন, শবদ ঝন ঝন,*
*পবন খরতর বলগই।।*
*☘বিরহ-বর্ণনায় এই বর্ষার সমাবেশ আরও সুন্দর হয়েছে। শ্রীমতী রাইধনি আজ একাকিনী নিতান্ত নিঃসঙ্গভাবে কাটাচ্ছেন। "দোসর জন নাহি সঙ্গ "। এমন সময়ে বর্ষা নামিল। "বরিষা পরবেশ,পিয়া গেও দুর দেশ, রিপু ভেল মত্ত অনঙ্গ"। প্রিয়সঙ্গ লালসা প্রবল হ'ল।*
*সজনি আজু শমন-দিন হোয়।*
*নব নব জলধর, চৌদিকে ঝাঁপল,*
*হেরি জিউ নিকসয়ে মোয়।।*
*❤প্রাণ বাহির হয়ে যাচ্ছে।প্রিয় যে নেই এমন বর্ষার নিশিতে, এ দুঃখের কি আর অবধি আছে?*
*সখী হে হামার দুখের নাহি ওর।*
*এ ভরা বাদর, মাহ ভাদর,*
*শূন্য মন্দির মোর।।*
*⚪এই "শূন্য মন্দির" কথাটির মধ্যে যেন জগতের হাহাকার পুঞ্জীভূত হয়ে উঠেছে।*
*ঝম্পি ঘন গর, জন্তি সন্ততি,*
*ভুবন ভরি বরি খন্তিয়া।*
*কান্ত পাহুন, কাম দারুণ,*
*সঘনে খরশর হন্তিয়া।।*
*🏞চারিদিকে মেঘ ঝেঁপেছে ও মুহুর্মুহু গর্জন করছে।ভুবন ভরে বর্ষণ নেমেছে। আমার প্রাণকান্ত প্রবাসে বা অনেকদূরে রয়েছে আর দারুণ অনঙ্গ আমার প্রতি খরতর শর বর্ষণ করছে।( স্মরণ রাখা ভাল যে,ব্রজেরলীলা নিষ্কামলীলা, অপ্রাকৃতিকলীলা, আমরা প্রাকৃতিক, বুঝতে যেন ভুল না হয়,আমরা মাতৃ শোণিত ও পিতৃ শুক্র দ্বারা জন্ম হয়েছে, আমরা কোনদিনই কামদেবের সামনে দাঁড়াতে পারব না, কিন্তু ব্রজের গোপিনীগণ কামদেবকে উচিত শিক্ষা দিয়েছিলেন, মনে রাখতে হবে)। [ঐ বারিধারা আমাকে কন্দর্পশরে জর্জরিত করছে]।*
*কুলিশ কত শত, পাত মুদিত,*
*ময়ূর নাচত মাতিয়া।*
*মত্ত দাদুরী, ডাকে ডাহুকী,*
*ফাটি যাওত ছাতিয়া।।*
*তিমির দিগভরি, ঘোর যামিনী,*
*অথির বিজুরিক পাঁতিয়া।*
*বিদ্যাপতি কহ, কৈসে গোঙায়বি,*
*হরি বিনে দিন রাতিয়া।।*
*🌹এমন সুন্দর বোধ আর কোনও দেশের কবিতায় নেই।এরকম শব্দচিত্র কোনও ভাষায় কখনও অঙ্কিত হয়নি। "হরি বিনে" এই দীর্ঘ দিন-রাত্রি কেমন করে অতিবাহিত করব? বিল্বমঙ্গল ঠাকুর আর একদিন এমনই কাতর কন্ঠে বলেছিলেন=*
*🌷অমূন্যধন্যানি দিনান্তরাণি হরে ত্বদলোকনমন্তরেণ।*
*🌷অনাথবন্ধো করুণৈকসিন্ধো হা হন্ত হা হন্ত কথং নয়ামি।।*
*🙏হে হরি!তোমার অদর্শনে এই অধন্য দিনগুলি কিভাবে কাটাব? হায়!হায়!হে অনাথের বন্ধু!করুণার সাগর!বলে দাও বিরহের এই দীর্ঘ দিনগুলি কেমন করে যাপন করব?*
*যাক্ আর বিরহের কথা আর বলব না। ঝুলনলীলার মধ্য দিয়ে বৈষ্ণব কবিগণ যে মিলনের সুর গেয়েছেন, তারই এক আধটি তান যদি ধরতে পারি,সেই চেষ্টা করব।যমুনার কুলে, বটবৃক্ষের ডালে নবীন লতা দিয়ে সুন্দর একটি হিন্দোলা টাঙ্গানো হয়েছে। তাতে নানারকম বর্ষার কুসুম দিয়ে মনোহর সজ্জা করা হয়েছে।ভ্রমরকুল ঝাঁকে ঝাঁকে সেই পুষ্পপুঞ্জে পড়ছে,উড়ছে,গুন গুন গান করছে। শুক,পিক,পাপিয়া সেই হিন্দোলা ঘিরে ঘিরে উড়ে বেড়াচ্ছে ও কলধ্বনি করছে=*
*🌷হিন্দোলা রচিত কুসুমপুঞ্জ,*
*🌷অলিকুল তাহে বিহরে গুঞ্জ,*
*🌷সারি শুক পিক বেঢ়ল কুঞ্জ,*
*🌷ঘেরি ঘেরি ঘেরি বোল রি।*
*⚪আজ পূর্ণিমা রজনী, "চাঁদ উজোর রাতিয়া"।মাঝে মাঝে মেঘ এসে সে স্নিগ্ধ জোছনাকে মৃদুতর, স্নিগ্ধতর করে দিচ্ছে--, "গগন হি মগন স-ঘন রজনীকর আনন্দে করত নেহারি"। শুধু যে মেঘের দল আকাশের নীল সরোবরে সাঁতার দিচ্ছে আর তার ফাঁকে ফাঁকে চাঁদ উঁকি দিচ্ছেন,তা নহে।অল্প অল্ট বৃষ্টিও হচ্ছে=*
*🏞বুন্দ সুন্দর নেনি নেনি।*
*🍁এই "নেনি নেনি" বৃষ্টির বালাই যাই! প্রাচীন সাহিত্যে কোথাও এই খন্ড খন্ড করা ইলশে গুড়ির বর্ণনা দেখতে পাই না। কিন্তু ঝুলনলীলার পক্ষে এমনই এক বর্ষার রাত্রি চাই,ঝড়ঝঞ্ঝা দুর্যোগ চাই না।*
*বারিদ গরজি, গরজি সব ঘেরল,*
*বুন্দ বুন্দ করু পাত।*
*কহ শিবরাম, মলয়াচল দুহুঁ পর,*
*মৃদু মৃদু করতহি বাত।।*
*❤ফোঁটা ফোঁটা বৃষ্টির সঙ্গে মলয় বাতাস বহিছে।ময়ূর কেকারব করছে, চকোর-চাতক-শুক-পিক মধুর গান করছে,অলি-ঝঙ্কারেকানন ভরেছে। নদীর কূলে ব্যাঙ ডাকছে,আর সেই ধ্বনির সঙ্গে ধ্বনি মিশিয়ে গগনে গুর্ গুর্ দেয়া ডাকছে।*
*বদত মোর, চকোর চাতক,*
*কীর কোইল অলিগণি।*
*রটত দরদা-, তোয়ে দাদুরী,*
*অম্বুদাম্বরে গরজনি।।*
*(শিবরাম)*
*"পরম সুঘড় শিরোমণি" অখিল কলাগুরু শ্রীকৃষ্ণচন্দ্র এমনই দিনে ঝুলনায় বসেছেন।সখীগণ ব্রীড়াসঙ্কুচিতা রাধাকেও তুলে দিলেন। তখন সেই লতার ডুরি ধরে সখীরা দোলা দিতে লাগলেন। এটিই "নওল-নওলী" রাধাকৃষ্ণের ঝুলন।*
*🌷কিয়ে অপরূপ ঝুলন কেলি,*
*শ্যাম হৃদয়ে হৃদয় মেলি,*
*রাধা রহু লাগি।*
*(উদ্ধবদাস)*
*🌹শ্রীমতী ঝুলনার ঝোঁকে যত চমকাতে লাগলেন, নায়কশ্রেষ্ঠ শ্রীকৃষ্ণ তত তাঁকে আলিঙ্গন পাশে আবদ্ধ করলেন।*
*🌺ঝুলনা-ঝমকে চমকে রাই,*
*🌺বিহসি মাধব ধরল তাই,*
*🌺আনন্দে অবশ পরশ পাই,*
*🌺চাপি করত কোলে রি।*
*(কৃষ্ণদাস)*
*🌹কিছুক্ষণ পরে তিনি দোলনার দুলুনিতে অভ্যস্ত হলেন। কিন্তু সখীরা যখনই কৌতুকে "অতিহুঁ বেগে" দোলা দোলাচ্ছেন, তখনই রাইধনি উৎকণ্ঠিত হয়ে সখীগণকে অনুনয় করছেন, তোমরা একটু ধীরে ধীরে ঝুলাও,পাছে আমার প্রাণবন্ধু পড়ে যান।*
*🌷ঝুলায়ত সখীগণ করতালি দিয়া।*
*🌷সুবদনী কহে পাছে গিরয়ে বন্ধুয়া।।*
*(জগন্নাথদাস)*
*🙏বৈষ্ণব কবিগণ বর্ষার ছন্দে ঝুলন-গীতি রচনা করে পরম উপভোগের সামগ্রী করে তুলেছেন। কিন্তু লীলার মাধুর্য্য সকলের প্রাণে সমান আনন্দ দান করে না।শ্রীরাধামাধব কোন এক অতীত যুগে বর্ষার ঘনায়মান সন্ধ্যায় ঝুলনায় ঝুলেছিলেন,শুধু এইটুকুমাত্র স্মরণ করে তাঁরা ভগবল্লীলারসে অবগাহন করতে পারেননি।তাঁদের সন্ধানী চিত্ত তত্ত্বের দিক ধাবিত হয়।লীলা যে নিত্য বস্তু তা তাঁরা বুঝতে পারেন না।তাঁরা লীলার ফুলপাতা সরিয়ে ফলের খোঁজ করেন।তাঁদের তৃপ্তিবিধানের জন্য লীলার মধ্যে তত্ত্ব অন্বেষণ করতে হয়।*
*☘শ্রীকৃষ্ণের মুখ্যলীলা তিনটি।একটি রাসলীলা।এতে তত্ত্ব হিসাবে আছে বিশ্বের অফুরন্ত আনন্দের উৎসব।রাস অর্থই প্রকৃষ্ট রস।রস এব রাসঃ।রাসের আর এক অর্থ অবশ্য চক্রাকারে নৃত্য।চক্রধারীর রাসমন্ডলী বা রাসচক্র আনন্দের সীমাহীন পৌনঃপুনিকতা (যা পুন পুন উৎপন্ন হয় ),অনন্ত বিস্তৃত পুলকোচ্ছাস। বিশ্বের যেখানে যা কিছু সু,যা কিছু মধুর,যা কিছু আনন্দের সব তাঁরই বিকাশ। "আনন্দাদ্ধিবখল্বিয়ানি ভূতানি জায়ন্তে"।*
*🍀তাঁর আর একটি লীলা হোলি। হোলিলীলার তত্ত্ব তার বাইরের লাল রঙেই ঘোষিত হয়েছে।হোলি বা দোল ফাগের উৎসব।যার হৃদয় অনুরাগে অরুণ হয় না,ফাল্গুনের অধীর পুলক যার প্রাণে অনুরাগের ফাগ মাখিয়ে দেয় না,তার পক্ষে হোলি উৎসব ব্যর্থ।বিজয়া দশমী যেমন শাক্তদের পক্ষে এক পরম মৈত্রীর মালন মহোৎসব, হোলিও তেমনই বৈষ্ণবদের এক সার্বজনীন মহা মিলনক্ষেত্র। প্রীতির পিচকারি যখন লাখে লাখে ছুটে,তখন গালাগালিও কটু না হয়ে উপভোগের সামগ্রী হয়। "স্তুতি নিন্দা সকলই মধুর"। ঝুলনলীলা অপেক্ষাকৃত আধুনিক হলেও প্রাচীনকাল হতে এর ইঙ্গিত রয়েছে। ভগবানের আন্দোলন লীলা সমস্ত ছন্দ,সমস্ত গতি,সমস্ত জীবপ্রবাহের উত্থান-পতনের প্রতীক।বিশ্বে যে ছন্দ অনন্ত মাধুর্য্যে অনুরণিত হয়ে উঠেছে,তারই আভাস ঝুলনে পাওয়া যায়।ছন্দ নহিলে বিশ্ব যে এক মুহূর্ত্য চলে না।সমস্ত বিশ্বব্রহ্মান্ড ছন্দে চলছে,যদি সে ছন্দের ব্যতিক্রম কখনও ঘটে,তবে দিনরাত্রির ক্রমভঙ্গ হবে,সূর্য্য,চন্দ্র,গ্রহ,নক্ষত্র পরস্পর পরস্পরের পথ রোধ করে চুরমার হবে।সমস্ত বিশ্বে সঙ্গীতের,কাব্যের প্রধান সম্পদ,সুষমা,গৌরব তার বিচিত্র ছন্দ।সঙ্গীত,কাব্য না হলেও মানুষ বাঁচতে পারে, কিন্তু প্রাণের স্পন্দন পর্যন্ত সবই যে ছন্দ।সে ছন্দচ্যুতি যখন ঘটে,তখন প্রাণ নিষ্কৃতি লাভ করে মরণে,গতি মূর্ছিত হয় পাষাণের চিরস্তব্ধ স্থাবরতায়।নীহারিকাপুঞ্জ হতে আরম্ভ করে জগতের কীট পতঙ্গ অণু-পরমাণু পর্যন্ত সবই ছন্দে সুরে সৌন্দর্য্যে বাঁধা।তারই সূত্রডুরি ধরে আনন্দময়কে আমরা দোলায় ঝুলনে।*
🙏🌸🌷🦚🪷🙏🪔🌸🌷🦚🪷🦚🙏
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
🆕 👉 বৈষ্ণব রস-সাহিত্য প্রথম শাখা 🙇 পরম বৈষ্ণব খগেন্দ্র নাথ মিত্র 📖 ষষ্ঠ ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/12/sahityo6.html
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(৫৫) 🌹বৈষ্ণব রস-সাহিত্য🌹*
*🌹🌹রাসলীলা🌹🌹*
🌹🌹🌹🌹🌹🌹🌹🌹
*🌹শ্রীকৃষ্ণের যত লীলা আছে,তার মধ্যে রাসলীলা সর্বোৎকৃষ্ট, তা সকল কীর্তনীয়াগণের জানা।তার কারণ এই নয় যে আমাদের লৌকিক দৃষ্টিতে রাসলীলাটি বেশী উপভোগ্য।কারণ এই যে,আনন্দময়ের বিকাশ এই লীলাটিতে পরাকাষ্ঠা প্রাপ্ত হয়েছে।এটি "সর্বলীলা উৎসব মুকুটমণি"।*
*পরব্রহ্মকে লাভ করবার যে বিবিধ পন্থা আছে ইহা সর্বজনবিদিত।কেউ মনে করেন যাগযজ্ঞের দ্বারা ভগবানকে লাভ করা যায় ; কেউ মনে করেন, তিনি তত্ত্বজ্ঞান লভ্য। আবার কেউ কেউ মনে করেন যে,তিনি পরম আস্বাদ্য।তাঁর চিন্তনে,মননে,ধ্যানে হৃদয়ের আনন্দ উথলিয়ে উঠে।যাঁরা যাগযজ্ঞের দ্বারা ভগবানকে লাভ করতে বা পরম পদ পেতে ইচ্ছে করেন,তাঁরা বলেন, "অশ্বমেধ যজ্ঞ করলে স্বর্গ লাভ হয় "।যাঁরা বিজ্ঞানবাদী,তাঁদের মতে সত্যং জ্ঞানং অনন্তং ব্রহ্ম।ইঁনারা নির্বিশেষ,নির্বিকল্প, ত্রিগুণাতীত ব্রহ্ম স্বরূপ চিন্তা করে এক অখন্ড জ্ঞানময় রাজ্য লাভ করেন ; সেখানে সকল ভেদ দূরীভূত হয়ে গিয়ে কৈবল্য প্রাপ্তি ঘটে।ব্রহ্মভূত এই আত্মা দুঃখ শোকের অতীত,তার সমস্ত বাসনা আকাঙ্ক্ষা ভস্মীভূত হয়ে গিয়েছে। "ব্রহ্মভূতঃ প্রসন্নাত্ম ন শোচতি ন কাঙ্খতি"।*
*🍀কিন্তু একদিন ঋষি বলে উঠলেন যে ব্রহ্ম শুধু জ্ঞানময় নহেন ; তাঁকে জানলে যে সব সংশয়ের অবসান হয়, সব বন্ধনের মোচন হয়, শুধু তাইই নয় ; তিনি আনন্দ স্বরূপ। "রসো বৈ সঃ"। তাঁকে জানলে আনন্দে হৃদয় ভরে যায়।তাঁকে পাবার জন্য, ধরবার জন্য হৃদয়ে লোভ জন্মে। সাহিত্যদর্পণকারের মতে রস অর্থে যা আস্বাদন করা যায়। কিন্তু আমাদের আস্বাদ্য কি? স্থূলভাবে দেখতে গেলে আস্বাদ্য--,কটু,তিক্ত,কষায়,লবণ,অম্ল ও মধুর।এর সাধন আমাদের জিহ্বা।সেইজন্য তার নাম রসনা।সমস্ত জন্তুরই রসনা আছে। কাজেই এর আস্বাদন অত্যন্ত স্থূল।এই প্রাথমিক স্তরের উপরে উঠবার যোগ্যতা কেবল মানুষেরই আছে।সেজন্য মানুষের পক্ষে অন্য একটি বিরাট রাজ্যের দ্বার খুলে গিয়েছে।তার নাম আধ্যাত্মিক রাজ্য। এ রাজ্যে অন্য কোনও জীবের প্রবেশ অধিকার নাই।এই আধ্যাত্মিক রাজ্যের বাহ্যপ্রকাশ সাহিত্য।সাহিত্যে আস্বাদনের উপকরণ বহু।অলঙ্কার শাস্ত্র এবং মনোবিজ্ঞান সেগুলিকে শ্রেণীবদ্ধ করে বলেছেন রস নয়প্রকার=শৃঙ্গার বা আদি,বীর,রৌদ্র, করুণ,হাস্য,ভয়ানক,বীভৎস,অদ্ভুদ ও শান্ত।কারও মতে বাৎসল্য রসও গণনীয়।এই সব রসের মূলতত্ত্ব খোঁজ করলে দেখা যায় যে,এর মধ্যে একটি সামগ্রী অন্তর্নিহিত আছে যা সমস্ত সাহিত্যসৃষ্টি ও কল্পনার বিলাসকে আস্বাদ্য করে তুলে।তার নাম আনন্দ। সত্যং জ্ঞানং আনন্দং ব্রহ্ম।যে আনন্দ হতে সমস্ত ভূতনিবহ জন্মলাভ করে,যে আনন্দ লাভ করে তারা আহ্লাদিত হয়,আবার যে আনন্দে তারা বিলীন হয়,সেই আনন্দই তো ব্রহ্ম।এই আনন্দ না হলে প্রাণীকুল বাঁচে না। মানুষের আত্মা আনন্দের সন্ধানেই ব্যাপৃত। পরব্রহ্মকে যখন আনন্দময়,মাধুর্য্যময়,পরম আস্বাদ্য বলে জানা গেল তখনই তো তিনি রূপে রসে মূর্তিমান হয়ে উঠলেন। ঈশ্বরঃ পরমঃ কৃষ্ণঃ সচ্চিদানন্দবিগ্রহঃ। তিনি মূর্তিধারী পরম মনোহর, সুন্দর রূপশ্রী-সমন্বিত পুরুষ।সুন্দর বলেই তিনি কৃষ্ণ।কারণ তাঁর আকর্ষণী শক্তিতে বিশ্ব বিমুগ্ধ।তাহলেই বুঝলাম যে,একদিকে ভগবান তাঁর অনন্ত সৌন্দর্য্য মাধুর্য্য বিস্তার করে দাঁড়িয়েছেন,অন্যদিকে সমস্ত বিশ্বের চিত্ত লোলুপ হয়ে তাঁর দিকে অনন্তকাল হতে ধাবিত হচ্ছে। এটিই রাসের মর্মকথা বলে বোধ হয়।*
*🌹এই তত্ত্বের স্ফুরণ লীলায়।তত্ত্ব আর লীলা আপাত দৃষ্টিতে পৃথক বলে মনে হয়। কিন্তু একটু চিন্তা করে দেখলে বুঝা যায় যে,এই দুইয়ের মধ্যে অপূর্ব সামঞ্জস্য বিদ্যমান রয়েছে।তত্ত্ব না জানলে লীলা শুষ্ক ইতিহাসের উপাদান হয়ে পড়ে।আবার লীলায় প্রবেশ না করলে তত্ত্ব নীরস তর্কে পর্যবসিত হবার আশঙ্কা থাকে।ভগবদগীতা ভক্তিতত্ত্বের সমুদ্র ; মহাভারত লীলার খনি। এই তত্ত্ব ও লীলার মধ্যে সামঞ্জস্য বিধান করে বৈষ্ণবগণ তাঁদের ধর্মমত স্থাপন করেছেন।এ দুইয়ের মধ্যে যে বিরোধ আছে,তা তাঁরা কখনও স্বীকার করেন না। আমাদের অবস্থা অন্যরকম।আমরা যখন বৈদান্তিকের দৃষ্টি নিয়ে শ্রীকৃষ্ণলীলা বুঝতে যাই, তখন লীলার অসঙ্গতিতে ক্ষুব্ধ হয়ে পড়ি। আর যখন ঐতিহাসিকের দৃষ্টি নিয়ে লীলার আলোচনা করতে যাই,তখন খৃষ্টান ধর্মযাজকের মতো লীলার কামায়নপরতা (Eroticism) প্রমাণ করতে রত হই।◆(বঙ্কিমচন্দ্র বলেন, রাসলীলা গোপীগণের ঈশ্বরোপসনা। একদিকে অনন্ত সুন্দরের সৌন্দর্য্য বিকাশ আর একদিকে অনন্ত সুন্দরের উপাসনা••••••••••••*
*◆যাকে হীরেন্দ্রনাথ দত্ত মহাশয় একজায়গায় বলেছেন-----, It is eroticism run wild--রাসলীলা ৬৫ পৃষ্ঠা।)*
*🌻মনে রাখতে হবে,কৃষ্ণলীলাকে বিষয়বস্তু করে আমাদের দেশে নানা পুরাণ,কাব্য ও সঙ্গীত রচিত হয়েছে।*
*বিশেষ করে পুরাণগুলিতে ধর্ম ও কাব্যের সংমিশ্রণ দেখতে পাওয়া যায়।রস না হলে কাব্য হয় না।রসের মধ্যে আদিরস শ্রেষ্ঠ--,আদ্য এব পরোরসঃ।সেইজন্য শ্রীজয়দেবের গীতগোবিন্দ আমাদের দেশে সর্বত্র ধর্মগ্রন্থে।সম্মান লাভ করতে পেরেছেন। শ্রীজয়দেব শুধু শ্রীকৃষ্ণলীলা বর্ণন করতে বসেন নাই, তিনি চেয়েছেন শৃঙ্গাররসের আদর্শরূপে শ্রীকৃষ্ণকে চিত্রিত করতে।তাঁর কাব্যে শ্রীকৃষ্ণ মূর্তিমান শৃঙ্গাররস, শৃঙ্গাররসের অধিদেবতা। শৃঙ্গার রস কাকে বলে তা অলঙ্কারশাস্ত্রে ব্যাখ্যা করেছেন।সেই অলঙ্কারশাস্ত্রসম্মত রসকে প্রাকৃত নায়ক নায়িকার রভসকেলির মধ্য দিয়ে না ফুটিয়ে জয়দেব গোস্বামী রাধাকৃষ্ণের লীলায় প্রকাশ করেছেন।আমাদের বিংশ শতাব্দীর নৈতিক কান্ডজ্ঞান তাতে পদে পদে বাধাপ্রাপ্ত হয়।আমরা ভাবি যে,যিনি এমন সুন্দর দশাবতার স্তোত্র গ্রথিত করেছেন,যিনি প্রতি সঙ্গীতের শেষে শ্রীকৃষ্ণকে একান্ত ভক্তির সহিত প্রণাম করেছেন,তাঁর হস্তে ভগবানের লীলা এমন কামকলায় পরিণত হল কেমন করে?*
*☘এ শুধু আমাদের দেশে নয়, ইউরোপেও ভগবানের সম্বন্ধে নানা বিরুদ্ধ কল্পনা কল্পিত হয়ে মানুষের মনকে উদভ্রান্ত করে দিয়েছে।একজন প্রসিদ্ধ দার্শনিক অন্য এক দার্শনিকের ব্রহ্মের সম্বন্ধে বলেছেন যে,"অনন্ত" এমনই একটি বিরাট ড্রেন যাতে সব রকমের বিরোধের স্রোত একত্র বহে চলছে।☆His Infinite is a grand sewer in which all contradictions flow together--- Hegel on Spinoza's Doctrine of Substance.☆*
*ভগবান এক অথচ বহু,তিনি অসীম অথচ সসীম, তিনি অরূপ অথচ পরম রূপবান, তিনি পরম দয়াল আবার কঠিন করাল, তিনি সমস্ত ধর্মের আদর্শ প্রতিষ্ঠাতা সংস্থাপয়িতা, আবার সমস্ত নীতির উচ্ছেদকর্তা! তিনি শুদ্ধ বুদ্ধ অপাপবিদ্ধ, অথচ তিনি ঘরে ঘরে মাখন চুরি করেছেন, স্তনপালচ্ছলে নারীবধ করেছেন, তপস্যার জন্য শূদ্রের শিরশ্ছেদ করেছেন, অসংখ্য নরনারী নিয়ে কেলি করেছেন। সুতরাং ইতিহাস বা চরিত্রনীতির দিক দিয়ে ভগবানের লীলা বুঝতে পারা যায় না। কিন্তু আমাদের দেশে এইসব বিরোধী ধর্ম ভগবানে আরোপিত হলেও, আমাদের ধর্মবুদ্ধির স্রোত কখনও রুদ্ধ হয়নি, কখনও বাধা প্রাপ্ত হয়নি।তার কারণ তর্কে তাঁকে না পেলেও আমরা তাঁকে পেয়েছি যোগে,পেয়েছি ধ্যানে,পেয়েছি বিশ্বাসে। এখানে একটি কথা বলা আবশ্যক মনে করি।বৈষ্ণবগণ অধিকারবাদ মানেন।তাঁদের মতে সকলের সকল বিষয়ে অধিকার নাই।যাঁদের যে রসে অধিকার সেই রসের অনুশীলন নিয়েই তাঁরা থাকবেন, অন্য রসের কথায় তাঁদের প্রয়োজন নেই। প্রথমতঃ অন্তরঙ্গ বহিরঙ্গ ভেদে অধিকারী দুই প্রকার।রাসলীলা প্রভৃতি অন্তরঙ্গ ভক্তেরই আস্বাদ্য ; এতে বহিরঙ্গের প্রবেশ অধিকার নেই। বৈষ্ণবদের মধ্যেও এমন অনেক ভক্ত আছেন যাঁরা শৃঙ্গার বা মধুর রসের গান শুনেন না।রাধাকৃষ্ণের প্রেমলীলা শুনলে তাঁরা তৎক্ষণাৎ সে জায়গা ত্যাগ করেন।তাঁরা সখ্য,বাৎসল্য প্রভৃতি রসের অধিকারী। আবার দেখেছি অনেকে মধুর রস বা প্রেমলীলার আস্বাদনে বিভোর হয়ে পড়েন,কারও কারও সম্বিৎ থাকে না।এর মধ্যেও আবার অধিকার ভেদ আছে। বিপ্রলম্ভের যে চার প্রকার রস বিভাগ আছে যথা পূর্বরাগ,মান, প্রেমবৈচিত্ত্য ও প্রবাস,তার মধ্যে প্রবাস বা বিরহ কেউ কেউ শুনতে চান না।*
🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
🆕 👉 বৈষ্ণব রস-সাহিত্য প্রথম শাখা 🙇 পরম বৈষ্ণব খগেন্দ্র নাথ মিত্র 📖 ষষ্ঠ ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/12/sahityo6.html
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(৫৬) 🙏বৈষ্ণব রস-সাহিত্য*
*🌻🌻রাসলীলা🌻🌻*
🌻🌻🌻🌻🌻🌻🌻🌻
*🌹রাসলীলা সম্বন্ধে আলোচনা করতে গিয়ে যদি কেবল রিরংসা (রমণেচ্ছা) নিয়ে ভগবচ্চরিত্রে দোষারোপ করতে রত হওয়া যায়, তাহলেই সমস্ত কর্তব্যের অবসান হয় না।কৃষ্ণলীলার মধ্যে রাসলীলাই সব নহে, অন্যান্য অনেক লীলা আছে। "রাস" চৌষট্টি রসের মধ্যে একটি বটে। এছাড়াও সখ্য, বাৎসল্য প্রভৃতি রসেরও বহু লীলা রয়েছে।সে সবই যে কামায়ন প্রচুর এমন নয়।তার পর যে বিরহে বৃন্দাবন লীলার অবসান,তাতেও কি কামায়নের প্রাচুর্য্য আছে? যে বিরহে কাব্য-লক্ষ্মী অশ্রুবিসর্জন করে কুল পাননি, যে বিরহে কবিগণ বেদনার গীত রচনা করে ধন্য হয়েছেন, সে বিরহেও কি কামের বৈজয়ন্তী উড়েছে? যদি তা না হয়,তবে রাসলীলাকে পৃথক করে দেখা উচিত না ; পরন্তু সমস্ত লীলার সঙ্গে মিলিয়ে বিচার করতে হবে। ☆হীরেন্দ্রনাথ দত্ত বেদান্তরত্ন প্রণীত "রাসলীলা" দ্রষ্টব্য।*
*🍀শ্রীকৃষ্ণ পরমরূপবান পুরুষ ; তাঁকে দৈখলে সাধ হয় সমস্ত ইন্দ্রিয় যদি নয়নে পরিণত হ'ত!এইরকম দেখে কি হয়?রমণীরা কামমোহিত হয়। দলে দলে তাঁর শ্রীচরণে আত্মদান করেন।*
*কহে দ্বিজ চন্ডীদাসে,কুলবতী কুল নাশে,*
*আপনার যৌবন যাচায়।*
*🍁স্ত্রীলোকের সাররত্ন যে যৌবন,তাও ডালি (উপঢৌকন) দিতে ইচ্ছা করে।এটিই রূপের প্রভাব।রূপ যদি অন্যের হৃদয়ে প্রতিবিম্বিত হয়ে লালসা না জন্মায়,তবে সে রূপ রূপই না। এই রূপ দেখে বা রূপের কথা শুনে যে অনুরাগ হয়,তাহাই পূর্বরাগ। রূপ দেখে রতি জন্মে। রতি গাঢ় হলে ধরে প্রেম নাম। মিলনই তার পরিণাম।এটি আধ্যাত্মিক মিলন মাত্র নয়, এটি সর্বাত্মা,সর্বেন্দ্রিয়,সর্বাঙ্গের মিলন আকাঙ্ক্ষা করে।সেই জন্য একটি অনবদ্য কাব্য সম্ভব হয়েছে।*
*🌷রূপ লাগি আঁখি ঝুরে গুণে মন ভোর।*
*🌷প্রতি অঙ্গ লাগি কান্দে প্রতি অঙ্গ মোর।।*
*🌻তাঁর প্রতি অঙ্গে যেন অনঙ্গের তরঙ্গ খেলছে। সুতরাং অবাধ অফুরন্ত চিরন্তন মিলন ব্যতীত এ প্রেম চরিতার্থতা লাভ করে না। তাই মিলনের জন্য দৈহিক আত্মিক সর্ববিধ লালসা। কোথায়ও এতটুকু উহ্য (অপ্রকটিত )নাই, অভাব নাই বা ফাঁক নাই।এ যে আত্মহারা,পাগল করা,সর্বস্থপণ প্রেম।এখানে দেহের মনের প্রাণের আত্মার সর্বগ্রাসী ক্ষুধা। কাজেই দেহ পশ্চাতে ফেলে মন ছুটিল আগে, যখন বাঁশী বাজিল, তখন=*
*🌹শুনত গোপী প্রেম রোপি,*
*মনহিঁ মনহিঁ আপনা সোঁপি,*
*তাঁহি চলত যাঁহি বোলত,*
*মুরলীক কল-লোলনী*।
*(গোবিন্দদাস)*
*যেখানে দূরে বাঁশী বাজছে সেখানে গিয়ে কৃষ্ণ দর্শনে তো বিলম্ব ঘটবে। তাই ব্রজগোপীগণ মনে মনে আত্মসমর্পণ করতে করতে ছুটলেন। এখানে অর্থ এত স্পষ্ট যে আধ্যাত্মিক ব্যাখ্যা করতে গেলে কাব্যরস সব মাটি হয়ে যাবে কিন্তু ইঙ্গিতের অভাব নাই! হাজার হাজার ব্রজগোপিনী ছুটলেন বাঁশীরবের সন্ধানে। কিন্তু কেউ কাউকেও দেখতে পেলেন না। বলা বাহুল্য সাধন পথের পথিক অনেক। কিন্তু সকলেই আপন মনে পথ চলেন।কেউ কাউকে দেখতে পান না।*
*🌷তত হি বেলি সখিনী মেলি,*
*🌷কেহু কাহুক পথ না হেরি।*
*🍀কাব্য রসটুকু বজায় থাকল অথচ অব্যর্থ ইঙ্গিতও রইল।শরতের পূর্ণচন্দ্র শোভা পাচ্ছে,রাশি রিশি মল্লিকা ফুল ফুটেছে, যমুনার কালো জলে চন্দ্র কিরণের রজত ঢেউ খেলছে, ফুলে ফুলে অগণিত ভ্রমর গুঞ্জন করছে,ময়ূর ময়ূরী পুচ্ছ প্রসারিত করে নৃত্য করছে।এমনই সময় ব্রজগোপীদের ভ্রমাভিসার। কৃষ্ণ যমুনার কুলে নীপমূলে ললিত ভঙ্গীতে দাঁড়িয়ে বাঁশী বাজাচ্ছেন। গোপীকুল থমকিয়ে দাঁড়িয়ে সে রূপ দেখিল,সে বাঁশী শুনল,তারা মাধুর্য্যের ঝর্ণাধারা প্রাণ ভরে পান করে পাগল হ'ল।শ্রীকৃষ্ণ তাদেরকে অনেক নীতি কথা বলে নিবৃত্ত হতে বললেন।তোমাদের পতিরা গৃহে রয়েছেন,তাঁদের সঙ্গ ত্যাগ করে অসময়ে তোমরা বনে আসিলে কেন?এমন অধর্ম করতে নাই ইত্যাদি।ব্রজগোপীরা যে উত্তর দিলেন,তার সারার্থ উপনিষদে পাওয়া যায় ; "পতিঃ পতীনাং তুমি যে পতিরও পতি,জগৎপতি "।পুত্র-কন্যা সংসার কি ছার! তুমি যে প্রেয়ো পুত্রাৎ প্রেয়ো বিত্তাৎ,প্রেয়োহন্যস্মাৎ। কিন্তু আমরা এখানে তত্ত্বের গহনে প্রবেশ করতে চাই না। আমরা এই শারদীয় রাসের কাব্য আস্বাদন করতে পারলেই যথেষ্ট মনে করি। ভাগবত,হরিবংশ,ব্রহ্মপুরাণ, বিষ্ণুপুরাণ, ব্রহ্মবৈবর্ত্তপুরাণ (প্রচলিত) এখানে কাব্য কথায় ফুটিয়ে তুলতে চেয়েছেন। শ্রীজয়দেব গোস্বামী এই শরৎকালীন রাস পরিত্যাগ করে বসন্ত-বন বর্ণন আরম্ভ করে বসন্ত রাসের প্রবন্ধ করেছেন।ভাগবত এবং গীতগোবিন্দ উভয়েরই ইচ্ছা বোধহয় এই যে,অনবদ্য নৈসর্গিক শোভার মধ্যে এই সুন্দর কাব্য প্রসঙ্গের অবতারণা করবেন।উভয়েই শৃঙ্গার রসের আতিশয্য বর্ণনা করেছেন। এটি কাব্যের দিক দিয়ে অনিবার্য্য। কারণ রূপানুরাগ, অভিসার ও মিলনের পরে এই রাসেই আনন্দলীলার পরাকাষ্ঠা দেখাতে হবে।কাব্যের দিক দিয়ে এর সার্থকতা দুইটি। প্রথম=প্রেমিক প্রেমিকার প্রণয়ের উৎকর্ষ বুঝাতে হলে ভিন্ন গত্যন্তর নাই।রাসে শ্রীকৃষ্ণ গোপাঙ্গনাগণের মধ্যে শ্রীরাধাকে নিয়ে অন্তর্হিত হয়েছিলেন। কেননা=*
*🌷অনেনারাধিতো নূনং ভগবান্ হরিরীশ্বরঃ।*
*🌹শ্রীগীতগোবিন্দে বসন্তঋতুতে যখন শ্রীকৃষ্ণ অন্যান্য গোপীদের সঙ্গে ক্রীড়া করছিলেন, তিনিই শ্রীরাধার রূপ হৃদয়ে নিয়ে অন্য ব্রজসুন্দরীগণের সঙ্গ ত্যাগ করলেন।এতে রাধার প্রতি প্রেমাতিশয্য সূচিত হল।*
*🌷রাধামাধায় হৃদয়ে তত্যাজ ব্রজসুন্দরীঃ।*
*🌻কেনই বা না করবেন? শ্রীকৃষ্ণকে অন্য রমণীর সঙ্গে বিহার করতে দেখেও শ্রীরাধা তাঁর পূর্ব প্রীতি স্মরণ করে আনন্দলাভ করলেন।*
*🌷রাসে হরিমিহ বিহিতবিলাসম্।*
*🌷স্মরতি মনোমম কৃতপরিহাসম্।।*
*🍀শরৎকালীন রাসে তিনি আমার সঙ্গে যে সব লীলাবিলাস প্রকাশ করেছিলেন, আমার সঙ্গে যে হাস্য পরিহাস করেছিলেন, তাইই স্মরণ করে আমি তাঁরই মিলন কামনা করছি।*
*☘আগেই বলেছি যে,লীলার সঙ্গে তত্ত্বের সামঞ্জস্য বিধান এই সব কবির এক অনন্যসাধারণ নৈপূণ্য।বহুবল্লভ যিনি,তাঁকে পেতে হলে একান্ত আনুগত্যের প্রয়োজন।কবি কৌশলে তাইই দেখিয়ে তাঁর বসন্তসময়বনবর্ণনা সমন্বিত রাসলীলাকে পরম উপভোগ্য করে তুললেন।ভাগবতে রাসের মধ্যে শ্রীকৃষ্ণের অন্তর্ধানও এই সমন্বয়ের উদাহরণ।প্রেম পরম রমণীয় সামগ্রী বটে। কিন্তু অভিমান থাকলে প্রেম সর্বাঙ্গসুন্দর হয় না।সেই জন্যই রাসের অন্তর্ধান।গোপীগণ কৃষ্ণের সঙ্গে রমণ করে সৌভাগ্যগর্বে স্ফীত হয়ে উঠলেন। তাই তিনি =*
*🌷প্রশমায় প্রসাদায় তত্রৈবান্তরধীয়ত।*
*👌তাদেরকে কৃপা করবার জন্যই অন্তর্ধান করলেন। আবার শ্রীরাধাকে সঙ্গে নিয়ে কৃষ্ণ যখন বনান্তরালে গেলেন পুষ্প তুলে, কেশ বেঁধে এবং অন্যান্য বিলাস রচনা করে যখন আনন্দে বিচরণ করছিলেন, তখন রাধার মনে গর্ব হল যে আমিই সর্বাপেক্ষা প্রেয়সী। তিনি বললেন আমি আর চলতে পারছি না, আমাকে কাঁধে করে যেখানে ইচ্ছা সেখানে নিয়ে চল। নয় মাং যত্র তে মনঃ। ইহা বলাতে কৃষ্ণপ্রেমগরবিণী রাধার কি খুব বেশী অপরাধ হল? মনে তো হয় না। কিন্তু শ্রীকৃষ্ণের অন্তর্ধান বিধান করে কবি এখানে যে বিরহরসের অবতারণা করলেন,তা পরম উপভোগ্য হয়েছে।তত্ত্বের সঙ্গে মিলিয়ে কবি তুলির দুই-এক টানে যে চিত্রটি ফুটিয়ে তুলেছেন,তাতে রাসের নিরবচ্ছিন্ন অনাবিল আনন্দ যেন শতগুণে বেড়ে গেছে।তত্ত্বের দিক দিয়ে শ্রীকৃষ্ণ পরমপুরুষ,শ্রীরাধা ভক্ত, মূর্তিমান মহাভাব।কাব্যের দিক দিয়ে শ্রীকৃষ্ণ বহুবল্লভ নায়ক,শ্রীরাধিকা প্রেমিকা। শ্রীকৃষ্ণ রসিকেন্দ্রচূড়ামণি, শ্রীরাধা রসিকাশিরোমণি। নব নব সৌন্দর্য্য মাধুর্য্যের মধ্য দিয়ে শ্রীকৃষ্ণলীলা যেন অবারিত স্রোতে বহে গিয়েছে। কবিত্বের দিক ছেড়ে দিয়ে কেবল তত্ত্বের দিক দিয়েও রাসলীলা আস্বাদন করা যেতে পারে। বিশ্বের মধ্যে যা কিছু সুন্দর যা কিছু উপভোগ্য, তা তো ভগবানেরই বিভূতি। যেখানে একটু আলো,একটু গীতিগন্ধ, যেখানে একটু সৌন্দর্য্য সেখানেই আনন্দময় ভগবানের কিরণ-সম্পাত। তাই বিশ্ব আলোকে পুলকে মেতে উঠেছে, তাই এত হাসি,এত গান,এত কলরব। এদের কারও তো স্বাধীন সত্তা নাই।সমস্তই ভগবানের আনন্দময় বিকাশের কণা।*
*🌷তমেব ভান্তং অনুভাতি সর্বং তস্য ভাসা সর্বমেব বিভাতি।*
*🔥সূর্য্য চন্দ্র তাঁকে আলোকিত করে না।চন্দ্রের কৌমূদীতে পৃথিবী আলোকিত।সে চন্দ্র আবার সূর্য্যের কিরণে উদভাসিত। কিন্তু সূর্য্যচন্দ্র যাঁর কিরণে উদভাসিত, তিনিই ব্রহ্ম। এই যে বিশ্বে বর্ণের খেলা,সূর্য্য অস্ত গেলে বর্ণ থাকে কোথায়? এই যে বিশ্বে এত আনন্দ,এত হাসি, এটি ভগবানেরই লীলা খেলা।রাসলীলা তারই কাব্য,তারই ইতিহাস।*
*বৈষ্ণবগণ রাধাগোবিন্দের প্রেমের আদর্শকে উচ্চতম কোঠায় স্থাপন করতে চেষ্টার ত্রুটি করেন নাই। শ্রীরূপ গোস্বামী বসন্ত রাসের বর্ণনায় কি সুন্দর ভাবে এই প্রেমের মহিমা ব্যক্ত করেছেন।বসন্তরাসে গোপীরা দলবদ্ধ হয়ে শ্রীকৃষ্ণ অন্বেষণে ছুটেছেন, শ্রীকৃষ্ণ বেগতিক দেখে কুঞ্জের অভ্যন্তরে গিয়ে আত্মগোপন করলেন। তিনি চতুর্ভূজ নারায়ণ মূর্তি ধরে বসিলেন।তখন গোপীগণ তাঁকে দেখে প্রণাম করিল এবং বলল, ঠাকুর আমাদের কৃষ্ণ কোথায়?তার সন্ধান বলে দিয়ে আমাদের দুঃখ দূর কর।*
*🌷নমো নারায়ণ দেব করহ প্রসাদ।*
*🌷কৃষ্ণসঙ্গ দেহ মোরে খন্ডাহ বিষাদ।।*
*🙏তুমি নারায়ণ তোমাকে প্রণাম করি। কিন্তু আমরা তোমাকে চাই না, বল, বল, আমাদের কৃষ্ণ কোথায়? কৃষ্ণ চুপ করে থাকলেন।পরে শ্রীরাধা যখন আসিলেন, তখন আর তাঁর ছদ্মবেশ রইল না,তাঁর অতিরিক্ত দুটি হাত মিলিয়ে গেল।*
*🌷সা শক্যা প্রভবিষ্ণুনাপি হরিণ*
*🌷নাসীচ্চতুর্বাহুতা। --- উঃ নীলমণি।*
*🌹লীলার দিক দিয়ে এর অর্থ হল প্রেমের এই লুকোচুরি খেলায় কৃষ্ণ হলেন পরাভূত। আর তত্ত্বের দিক দিয়ে এর অর্থ হল এই যে,প্রেমের কাছে ঐশ্বর্য্য (ঈশ্বরত্ব) টিকতে পারে না।চতুর্বাহুত্ব ঐশ্বর্য্যের লক্ষণ।দ্বিভূজ মুরলীধর কৃষ্ণ প্রেমের অধিদেবতা।এখানে কি কামায়নতার প্রাচুর্য? "উত্তুঙ্গ অনঙ্গতরঙ্গে'র" মধ্য দিয়ে যে সত্যটি বৈষ্ণবগণ বলতে চেয়েছেন,তা কি ঐ তরঙ্গকে অতিক্রম করতে পারেনি? আর একটা কথা বলে এ প্রবন্ধ শেষ করব।ভাগবতে,ব্রহ্মবৈবর্তে বা গীতগোবিন্দে যে আদিরসের প্রবাহ দেখতে পাওয়া যায় শ্রীচৈতন্য পরবর্তী বৈষ্ণব সাহিত্যে তা অনেক সংযত হয়েছে।সেখানে রিরংসার কথা বড় একটা নাই, আছে প্রেম,আছে নৃত্যগীত আমোদ আহ্লাদ।*
*🌷বাজত তাল রবাব পখোয়াজ,*
*নাচত যুগল কিশোর।*
*🌷অঙ্গ হেলাহেলি নয়ন ঢুলাঢুলি,*
*দুহুঁ মুখ দুহুঁ হেরি ভোর।।*
*🙌রাস অর্থে এই নৃত্য। রাস অর্থে যেমন রসের প্রগাঢ়তা বুঝায়,তেমনি আর এক অর্থে মন্ডলাকারে নৃত্য বুঝায়।ব্রজ গোপীরা বাঁশীর স্বরে আত্মহারা হয়ে যমুনাতীরে নীপকুঞ্জে মিলিলেন।কৃষ্ণ তাঁদের আকুলতা দেখে রাসমন্ডলী রচনা করলেন।রাস বা হল্লীশ অর্থে মন্ডলী বন্ধন করে নৃত্য --, কৃষ্ণ, মধ্যস্থলে, ব্রজ গোপীরা তাঁকে ঘিরে চক্রাকারে আবর্তিত হতে লাগিল। এই নৃত্যকে সম্পূর্ণরূপে সার্থক করবার জন্য যোগেশ্বর কৃষ্ণ নিজেকে বহুতে পরিণত করলেন এবং প্রত্যেক গোপীর পার্শ্বে দাঁড়ালেন। এইভাবে কবির কাব্যে এক অপূর্ব চিত্র উদঘাটিত হল।*
*🌷তত্রাতিশুশুভে তাভি র্ভগবান দেবকীসুতঃ।*
*🌷মধ্যে মণীনাং হৈমানাং মহামরকতো যথা।।*
*🌻একটি স্বর্ণময় মণি তার পাশেই একটি মরকত, একটি মেঘখন্ড তার পাশেই একটি বিদ্যুৎ, একটি চাঁদ তার পাশেই আঁধার, চমৎকার চিত্র এই কাব্যের রস আস্বাদন করতে করতে অপূর্ব অপার্থিব আনন্দে মন ভরে যায়।ধর্মতত্ত্বও মনে পড়ে না,নীতিকথাও ভাল লাগে না ভুলিয়ে দেয় এই রাসলীলা কি ; কামক্রীড়া না প্রেমোৎসব?*
*🌹🌹এখানেই রইল, জয় শ্রীরাধেশ্যাম🙏*
🦚🦚🦚🦚🦚🦚🌷🦚🦚🦚🦚🦚🦚
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
🆕 👉 বৈষ্ণব রস-সাহিত্য প্রথম শাখা 🙇 পরম বৈষ্ণব খগেন্দ্র নাথ মিত্র 📖 ষষ্ঠ ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/12/sahityo6.html
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(৫৭)🌕বৈষ্ণব রস-সাহিত্য🌕*
*👬হোলি উৎসব👬*
🔴🔵🔴🔵🔴🔵🔴
*🔷হোলি শব্দ হোলাকা বা হোলিকা শব্দ হতে এসেছে।হোলাকা একটি উৎসবের নাম!ফাল্গুনী পূর্ণিমার দিন উত্তর-পশ্চিমে যে বহ্ন্যুৎসব হয়,তার নাম হোলাকা।বঙ্গদেশে এই উৎসব পূর্ণিমার পূর্বদিন অনুষ্ঠিত হয়।এই অনুষ্ঠানে একটি পর্ণকুটীর নির্মাণ করে তাতে, অথবা খড়ের একটি পুতুল গড়ে তাতে অগ্নিসংযোগ করা হয়।কোন কোনও জায়গায় একে চাঁচর বা মেড়া পোড়ান বলে। এরকম করবার তাৎপর্য্য কি,তা বলা যায় না।দীপাবলীতে বা দীপালীতে প্রদীপ দানের ব্যবস্থা বা কোন কোনও জায়গায় আকাশ প্রদীপের ব্যবস্থার একটা সঙ্গত কারণ পাওয়া যায়। অর্থ্যাৎ ঐ সময়ে কীট-পতঙ্গের অত্যন্ত প্রাদুর্ভাব হয়,দীপালীতে সেই কীটপতঙ্গ ভীষণ উপদ্রব করে বলে সেই অগ্নিতে তারা নাশপ্রাপ্ত হয়।হোলির সময়ে বহ্ন্যুৎসবের যে কি কারণ থাকতে পারে,তা কিন্তু সঠিক বুঝা যায় না।হয়ত এমন হতে পারে যে,ফাল্গুনে ফসল উঠে গেলে তৃণগুল্ম জঞ্জাল ও বৃক্ষের গলিত পত্র অনেক জমা হয়,সেগুলিকে পোড়াবার একটি যৌথ ব্যবস্থা এই বহ্ন্যুৎসব। কিন্তু এটি অপেক্ষাও স্বাভাবিক কারণ মনে হয় এই যে,প্রায় প্রাচীন কাল হতে সর্বজাতির মধ্যে উৎসব বিশেষে আগুন নিয়ে খেলবার রীতি দেখা যায়।এমন হতে পারে যে,হিন্দুদের মধ্যেও সেই সার্বজনীন রীতির প্রমাণ এই বহ্ন্যুৎসব।মহরমের সময় মুসলমানদের আগুন নিয়ে যে খেলা করে,তাও এই প্রথারই অনুবর্তন। কিন্তু হোলাকা বা হোলিকা শব্দ হতে কি করে অগ্নির উৎসব আসতে পারে,তা বুঝতে পারা যায় না। একটি প্রবাদ আছে যে,হোলিকা নামে এক রাক্ষসী ছিল।সে যমুনা পারে বাস করত ও ছেলে ধরে উদর পূরণ করত।শ্রীকৃষ্ণ সেই রাক্ষসীকে বধ করে যমুনাপুলিনে বালুরাশি তার রক্তে রঞ্জিত করে দিয়েছিলেন।হোলির আবির খেলা তারই স্মৃতি বহন করছে। অন্য একটি কিংবদন্তী বলে যে,হোলিকা রাক্ষসীকে বধ করা হয়নি।গালাগালি দিয়ে তাকে তাড়িয়ে দেওয়া হয়েছিল। ভূত-প্রেত ছাড়াবার সময় নানা অশ্লীল গালি দিবার প্রথা আছে।আদিমকাল হতে এরকম একটি ধারণা চলে আসছে যে,ভূত-প্রেত,রাক্ষসী,দানবী অশ্লীল গালাগালি সহ্য করতে না পেরে সে জায়গা ত্যাগ করে।এটি সতে হলে ভূত-প্রেতের রুচি শিষ্টতর বলতে হবে।হোলিতে এখনও অশ্রাব্য গালিবর্ষণের রীতি দেখতে পাওয়া যায়, কিন্তু তা হিন্দুস্থানীদের কোনও কোনও শাখার মধ্যে নিবদ্ধ। বৈষ্ণব পদাবলীতে হোরি বা হোলি প্রসঙ্গে গালাগালির উল্লেখ আছে ঃ---*
*ব্রজবনিতা যত, রিঝি ঋঝায়ত,*
*রহগারি মৃদু ভাষ।*
*🍀গোপালচম্পূতে শ্রীজীব গোস্বামীও এই কথা বলেছেন--,*
*🌷সকেলিগালিরীতিময়গীতিকোলাহলৈঃ! পূর্বচম্পূ।*
*🍁পুরাণে এই উৎসবের কোনও ইতিহাস পাওয়া যায় না।ভাগবতে এর উল্লেখ নেই।শ্রীজয়দেব গোস্বামী বসন্তরাসের বর্ণনা করেছেন সত্য, কিন্তু হোলির কোনও প্রসঙ্গ গীতগোবিন্দে নেই।চন্ডীদাসের হোলির পদ দেখতে পাওয়া যায় না। বিদ্যাপতিতেও দেখেছি বলে মনে হয় না। আমার বোধহয়, উত্তর-পশ্চিম হতে এই উৎসব আমাদের দেশে এসেছে।হোলি বা হোরি নামটি হিন্দির মত, ফগুয়া বা ফাগ হিন্দী শব্দ। সংস্কৃত শব্দ ফল্গু আছে এবং হোলির উৎসবকে ফল্গু উৎসব বলে।রঘুনন্দন শ্রীচৈতন্যদেবের সমসাময়িক। সুতরাং দেখা যাচ্ছে যে,ষোড়শ শতাব্দীতে হোলি উৎসবের প্রচলন বঙ্গদেশে ছিল।শ্রীপাদ সনাতন গোস্বামীর পদেও আছে=*
*ভদ্রালম্বিত, শৈব্যোদীরিত,*
*রক্ত-রজোভরধারী।*
*পশ্য সনাতন-, মূর্তিরিয়ং ঘন,*
*বৃন্দাবন-রুচিকারী।।*
*🌻ভদ্রা সহকৃত শৈব্যা কর্তৃক উৎক্ষিপ্ত রক্তবর্ণ ফল্গুচূর্ণধারী শ্রীকৃষ্ণকে দেখ।ইনি নিত্য শাশ্বত-মূর্তি-বিশিষ্ট ও বৃন্দাবনের প্রতি অত্যন্ত অনুরাগশীল!এই কবিতা হতে বুঝা যায় যে,সে সময়ে বৃন্দাবনে ফাগ খেলিবার প্রথা সুবিদিত ছিল। শ্রীজীব গোস্বামী গোপালচম্পূর পূর্বচম্পূতে লিখেছেন=*
*অপি বাত! জনতাসু হোরিকায়াং,*
*হরিমভিসস্রুরহো! ব্রজস্য নার্য্যঃ!*
*🍀ব্রজরমণীগণ শ্রীহরিকে হোলির উৎসবে (রঙ্গগোলালে) অভিষিক্ত করেছিলেন।*
*🌺শ্রীচৈতন্যের সমকালীন প্রসিদ্ধ পদকর্তা ও গায়ক বাসুদেব ঘোষের একটি পদে পাওয়া যায় =*
*🌷দেখ দেখ ঋতুরাজ বসন্ত সময়।*
*🌷সহচর সঙ্গে বিহরে গোরা রায়।।*
*🌷ফাগু খেলে গোরাচাঁদ নদীয়া নগরে।*
*🌷যুবতীর চিত হরে নয়নের শরে।।*
*🌷সহচর মেলি ফাগু দেয় গোরা গায়।*
*🌷কুঙ্কুম পিচকা লেই পিছে পিছে ধায়।।*
*🌹বাসুদেব ঘোষের অন্য একটি পদে আছে =*
*🌷আজুরে কনকাচলে নীলাচলে গোরা।*
*🌷গোবিন্দের সঙ্গে ফাগু রঙ্গে ভেল ভোরা।।*
*🌻এখানে নীলাচলে হেমগিরি সদৃশ শ্রীগৌরাঙ্গ শ্রীজগন্নাথের সঙ্গে ফাগ খেলছেন, এটিই বর্ণিত হয়েছে। সাধারণতঃ গৌরচন্দ্রিকায় সুরধূনী তীরই হোলির ক্রীড়াক্ষেত্র। কিন্তু বাসুদেব ঘোষের উপরি উক্ত পদে এবং গোবিন্দ দাসের আর একটি পদে শ্রীগৌরাঙ্গের হোলিলীলা নীলাচলে বর্ণিত হয়েছে।পদ দুইটির সাদৃশ্য দেখে মনে হয় যে,গোবিন্দ দাসের পদ অল্টবিস্তর পরিবর্তন করে কেউ বাসুদেব ঘোষের নাম দিয়েছেন মনে হয়। হোলির যে সব গৌরচন্দ্রিকায় নরহরি নাম আছে,সেগুলি নরহরি চক্রবর্তীর রচিত বলেই মনে হয়।*
*🍀যাইহোক,শ্রীচৈতন্যের সময়ে যে,হোলিলীলার প্রচলন ছিল, সে সম্বন্ধে সন্দেহ নাই।এই সময়ে বা এর অদূরবর্তী প্রাক্কালে হোলিলীলা বৈষ্ণব কাব্যসাহিত্যে ও বাঙ্গালীর সমাজে প্রবেশ লাভ করেছিল বলেই বোধহয়।*
🔴🔵🌕⚪🔴🔵🌕⚪🔴🔵🌕⚪🔴
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
🆕 👉 বৈষ্ণব রস-সাহিত্য প্রথম শাখা 🙇 পরম বৈষ্ণব খগেন্দ্র নাথ মিত্র 📖 ষষ্ঠ ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/12/sahityo6.html
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(৫৮)🔴বৈষ্ণব রস-সাহিত্য🔴*
*🌺হোলি লীলা🌺*
🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺
*🌻বহু পূর্বে বসন্ত-পঞ্চমীতে মদন-মহুৎসব অনুষ্ঠিত হত। "রত্নাবলীতে" এই মদন-মহোৎসবের বর্ণনা আছে।এই উৎসবে স্ত্রী-পুরুষ মিলে পটবাসক বা পিঠালি কুঙ্কুমচন্দনে সুবাসিত করে পরস্পরের প্রতি নিক্ষেপ করত।শৃঙ্গ ভরে জল নিয়ে যুবক-যুবতীরা পরস্পরকে অভিসিঞ্চিত করিত।শৃঙ্গ শব্দের সঙ্গে ইংরেজি Syringe শব্দের ভাষাগত সাদৃশ্য দেখে মনে হয়,খৃষ্টীয় সপ্তম শতাব্দীতে আমাদের দেশে পিচকারীর ব্যবহার ছিল। প্রসঙ্গতঃ বলা যেতে পারে যে, পিচকারীর কোনও সাধু প্রতিশব্দ আমরা এ পর্যন্ত আবিস্কার করতে পারিনি।এই অর্থে শৃঙ্গ শব্দের প্রচলন নাই বললেও চলে।পিচকারী সম্ভবতঃ হিন্দী হতে এসেছে। আমরা বাংলা সাহিত্যে সেটিকে স্থান দিয়েছি অথবা কিছু পরিবর্তন করে নিয়েছি, যথা--,পিচকিরি,পিচকা, পেচকা ইত্যাদি। এই পিচকারী,পটবাস বা আবির,কুঙ্কুমচন্দন,জল-নিক্ষেপ প্রভৃতি সমস্তই মদন-মহোৎসবই পরে বসন্তলীলা বা হোলিলীলায় পরিণতি লাভ করেছে।*
*🍁মদন-মহোৎসবে অশ্লীলতার নামগন্ধ ছিল না।এখন "মদন" বলতেই আমরা সঙ্কুচিত হয়ে পড়ি। সেই জন্য মদন-মহোৎসবকে মনে করি বুঝি Bacchanalian revelry জাতীয় কিছু হবে। কিন্তু আমাদের দেশে মদন চিরদিনই প্রেমের দেবতা। এ মদন অন্ট নয়, পরন্তু পরম রূপবান্। রূপ ও প্রেমের সম্বন্ধ অতি নিবিড়। মদনের সখা বসন্ত এবং সেইজন্য বসন্তের আগমনের সঙ্গে মদনের বিজয়যাত্রা আরম্ভ হয়।বসন্তকালই মদনোৎসবের সময়।এখানে একটু লক্ষ্য করবার বিষয় এই যে,আমাদের দেবতারা চরিত্র বিষয়ে সব সময়ে সাবধান না হলেও মদনের সম্বন্ধে সাধারণতঃ কোনও অপবাদ দেওয়া হয় না।যাইহোক, বসন্তোৎসবে আমরা মদনের পরিবর্তে মদনমোহনকে সিংহাসনে স্থাপন করেছি।মদনমোহন শুধু প্রেমের দেবতা নহেন,তিনি সমস্ত বিশ্বের অধিদেবতা। তিনি একদিকে মন্মথেরও মন্মথ, "সাক্ষান্মথমন্মথ", অন্যদিকে "অনাদিরাদিগোবিন্দঃ সর্বকারণকারণম্"।কাজেই বসন্তোৎসব আর্য্যাবর্তের প্রায় সর্বত্রই অনুষ্ঠিত হয়।হোলির উৎসব,বহ্ন্যুৎসব, ফল্গুৎসব সমস্ত এই বসন্তোৎসবের অঙ্গীভূত হয়েছে। হোলি,বাসন্তী পূর্ণিমায় অনুষ্ঠিত হয়। আমাদের দেশে প্রাকৃতিক সৌন্দর্য্য উপভোগের সঙ্গে পূজা পার্বণ অনুষ্ঠান জুড়ে দেওয়ায়,এটি অনেকটা বাধ্যতামূলক হয়েছে।ইউরোপে স্বভাবশোভার বোধ জনসাধারণের মধ্যে অষ্টাদশ শতাব্দীর পূর্বে ছিল না বললেই চলে।ফরাসি দার্শনিক ও সাম্যবাদী "রুসোর" রচনা পাঠ করে লোক স্বভাব-শোভা সম্বন্ধে সজাগ হয়ে উঠে। কিন্তু আমাদের দেশের লোক স্মরণাতীত কাল হতে পূজা-অর্চনা-ব্রত-উৎসবের মধ্য দিয়ে নিসর্গ-দেবীর পদে অঞ্জলী দিয়ে আসছে।বসন্তকালের নির্মল প্রফুল্ল রাকা রজনীতে (পূর্ণিমা রজনীতে) হোলির ব্যবস্থা, শরৎকালের নির্মল মেঘমুক্ত আকাশে যখন পূর্ণচন্দ্রের আবির্ভাব হয়,তখন ঘুমাবে কে?সে দিন কোজাগর লক্ষ্মীপূজো, সে রাত্রিতে ঘুমাতে নেই।ঘুমালে যে অমন রাত্রিটি বিফল হয়ে যায়।হেমন্তকালের স্নিগ্ধ জোছনা নিশীথে রাসলীলা,বর্ষার মেঘের ফাঁকে ফাঁকে পূর্ণচন্দ্রের ক্ষণে ক্ষণে আবির্ভাব, ঝুলনের দোলায় বড় সুন্দর মানায়।গ্রীষ্মের রজনীতে পূর্ণচন্দ্রের উদয়ে জগৎ জুড়ায়,বনে বনে ফুল ফোটে,সুবাস ছড়ায়।সে সময়ে শ্রীকৃষ্ণের ফুলদোল।কুহু রজনীর ঘন অন্ধকারেরও একটি গম্ভীর,ভীতিজনক সৌন্দর্য্য আছে, সে দিনও ফাঁক যাইনি।করালিনী কালীর পূজার জন্য ঐরকম কুহু যামিনীই প্রশস্ত।*
*🌹ভগবানের লীলা বিচিত্র রহস্যময়। তিনি কি লীলা করেন, তা ভক্ত ছাড়া অন্য কেউ বলতে পারেন না।*
*🌷অনুগ্রহায় ভক্তানাং মানুষং দেহমাশ্রিতঃ।*
*🌷ক্রিয়তে তাদৃশী ক্রীড়া যাঃ শ্রত্বা তৎপরোভবেৎ।।*
*🌻ভগবান মানুষের রূপ পরিগ্রহ করে মানুষী লীলা করেন।যাঁরা মনে করেন যে, ভগবান মানুষের মত লীলা কখনও করতে পারেন না, তিনি অনন্ত,অসীম,অশব্দ,অস্পর্শ,অরূপ ; তাঁদেরকে কিছু বলবার নাই।তাঁদের পক্ষে লীলামাত্রই অলীক।লীলাবাদের প্রতিকূল ব্যক্তির সংখ্যা অল্প নয়। যুক্তির দ্বারা লীলাবাদ প্রতিষ্ঠিত করবার চেষ্টা বিড়ম্বনা। লীলাবাদ রহস্যবাদের সঙ্গে জড়িত।এই Mysticism বিভিন্ন অনুপাতে সব ধর্মের মধ্যেই আছে। রূপক Symbolism ছাড়াও ধর্ম হয় না। সুতরাং কেবল ন্যূনাধিকের ব্যাপার-- all a difference of degree. মানবাত্মার সঙ্গে প্রেময়ের সম্বন্ধ বুঝতে বুঝাতে ভক্তগণ প্রাণান্ত চেষ্টা করে গিয়াছেন। কিন্তু ভাগবতের কথাটির মত মূল্যবান কথা খুব কমই শোনা যায়। "ক্রিয়তে তাদৃশী ক্রীড়াঃ যাঃ শ্রুত্বা তৎপরোভবেৎ"। তিনি সেই সব লীলা করেন, যা শুনলে মন তাঁর দিকে ধাবিত হয়। ভগবানের জীবনচরিত কেউ লিখে নাই, তাঁর জীবনের কোনও সন তারিখযুক্ত প্রামাণিক ইতিহাস রচিত হয়নি, কোনও শিলালিপিতে বা তাম্রশাসনে তাঁর কার্যকলাপ উৎকীর্ণ হয়নি। ভগবান এক অনন্ত মাধুর্য্যপূর্ণ চিন্তামণিধামের অধীশ্বর।সে চিন্তামণিধামের নাম বৃন্দাবন--, পরম পবিত্র রমণীয় উপবন।সে রাজ্য,সে জগৎ আমাদের ধূলিমলিন কলুষকলঙ্কিত সংসারের মত নয়।*
*🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
🆕 👉 বৈষ্ণব রস-সাহিত্য প্রথম শাখা 🙇 পরম বৈষ্ণব খগেন্দ্র নাথ মিত্র 📖 ষষ্ঠ ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/12/sahityo6.html
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(৫৯)🔶বৈষ্ণব রস-সাহিত্য🔶*
*🔷হোলি লীলা🔷*
❤❤❤❤❤❤❤❤
*🌹সে চিন্তামণিধাম কেবল চিন্তার দ্বারা,ধ্যানের দ্বারা যোগের দ্বারা লভ্য।*
*🌷পরম পুরুষোত্তম স্বয়ং ভগবান।*
*🌷কৃষ্ণ যাঁহা ধনী সেই বৃন্দাবনধাম।।*
*🌷চিন্তামণিময় ভূমি চিন্তামণি-ভবন।*
*🌷চিন্তামণিগণ দাসী চরণ ভূষণ*।।
*🌷কল্টবৃক্ষলতা যাঁহা সাহজিক বন।*
*🌷পুষ্পফল বিনে কেহ না মাগে অন্য ধন।।*
*🌷অনন্ত কামধেনু যাঁহা চরে বনে বনে।*
*🌷দুগ্ধ মাত্র দেন কেহ না মাগে অন্য ধনে।।*
*🌷সহজ লোকের কথা যাহা দিব্যগীত।*
*🌷সহজ গমন করে নৃত্য প্রতীত*।।
*🌷সর্বত্র জল যাঁহা অমৃতসমান।*
*🌷চিদানন্দ জ্যোতি স্বাদ্য যাঁহা মূর্তিমান।।*
*🍁শ্রীকৃষ্ণ যেখানে বাস করেন,সে-ই চিন্তামণিধাম--সে-ই বৃন্দাবন ; যেখানে ভূমি,গৃহ সমস্ত চিন্তামিময়। চিন্তামণি নামক বহুমূল্য রত্ন সেখানে দাসীগণের চরণভূষণ।সেখানে প্রতিবৃক্ষ,প্রতি ধেনু কামধেনু।সেখানে কেউ ফল ফুল দুগ্ধ ছাড়া অন্য ধনের কামনা করে না। সেখানে সহজ গমনই নৃত্য, সহজ বচনই দিব্য সঙ্গীত। সেখানে জল অমৃত এবং যে চিদানন্দজ্যোতি যোগীগণের ধ্যানেরও অতীত,তাইই পরম আস্বাদ্য মূর্তি পরিগ্রহ করে বিরাজ করছেন।*
*🌺এ হেন বৃন্দাবন ভগবানের প্রেমলীলা স্থল হলেও হতে পারে। সেই চিন্তামনিধাম বৃন্দাবন,সেই যমুনার কুল,সেই মালতী,যূথী,জাতির গন্ধভরা বসন্ত-সমীরণ। এখানে ভগবানের বিহার কল্পনা করা যেতেও পারে। এখানেই "অপরূপ দুহুঁ জন অতনু-বিলাস"।ইঁনাদের বিলাসে দেহের সন্ধান মাত্র নাই,তাই অতনু-বিলাস।উভয়ের তনু শুধুই প্রেমে গড়া।প্রেমের আকৃতি এই যে, পুরাতনকে নূতন করে সৃষ্টি করে,অথবা প্রেমের চোখে সবই নূতন,তাই চির বসন্তে=*
*🌷বিহরে শ্যাম নবীন কাম,*
*🌷নবীন বৃন্দাবিপিন ধাম,*
*🌷সঙ্গে নবীন নাগরীগণ,*
*নবঋতুপতি রাতিয়া।*
*🌷নবীন গান নবীন তান,*
*🌷নবীন নবীন ধরই মান,*
*🌷নৌতুন গতি নৃত্যতি অতি,*
*নবিন নবিন ভাতিয়া।।*
*🌻আজ সবই নূতন বোধ হচ্ছে।এমনই নবীন বসন্তে,নবীন বৃন্দাবনে, নবীন সহচরীগণকে নিয়ে নবীনকিশোর হোলি খেলা পাতিলেন। সমবয়ঃ সখাগণের সঙ্গে হোলি খেলতে খেলতে ব্রজ-যুবরাজ চলেছেন।পৌর্ণমাসী সব ব্রজললনাগণকে সাবধান করে দিলেন =*
*🌷আজ কোই কুলবতী নাহি বাহিরাব।*
*🌷যমুনা সিনানে কোই নাহি যাব।।*
*🌷বিপতি পড়ল আজু যুবতি সমাজ।*
*🌷সখাগণ সঙ্গে খেলই যুবরাজ*।।
*🌹হোলি খেলার ধূম পড়ে গিয়েছে।পথগুলি ব্রজ-বালকরা ঘিরে ফেলেছে, কারও পালাবার যো নাই। পিচকারী নিয়ে সকলে এমন ভাবে রঙ্গগোলাল ফেলছে, যেন মাথার উপর দারুণ বর্ষণ হচ্ছে, তাই পদকর্তা বলছেন=*
*🌷কহ গোবর্দ্ধন রহ গৃহমাহ।*
*🌷কোই জনি মন্দির ছোড়ি বাহিরাহ।।*
*🌺শ্রীমতীরাইধনি ঘরে বসে ভাবছেন, আহা! এমন আনন্দের দিনে বাইরে যেতে পারব না?*
*🌷ইহ দিনে কৈছে রহিতে কহ ঘর মাহা।*
*🌷সো সুখে হোই নৈরাশ।।*
*🌻আমরা সব সখী মিলে হোলি খেলা দেখতে যাবই। এতে লজ্জা করলে চলবে না।শ্রীমতী রাধিকা গুরুজনের নিকট হতে অনুমতি নিয়ে বাহির হয়ে পড়লেন। কিন্তু এক বিপদ হ'ল--,শুনতে পেলেন পদ্মাসখী সঙ্গে করে আসছেন,তাঁরা প্রাণনাথের সঙ্গে হোলি খেলবেন।এতক্ষণ বুঝি তাঁদের মিলন হয়ে গেল।*
*🌷বংশীবট তট মীলন ভেল বুঝি,*
*ফাগু যন্ত্র করি হাত।*
*🌷সজনি ইহ দারুণ পরমাদ।*
*🌷ঐছন ভাতি রচন করি চল সখি,*
*যাই করিয়ে সব বাদ।।*
*🌹চল,আমরা তাহাদের সঙ্গে যুদ্ধ করি। তার পরে•••••••••••*
*🌷সভে মিলি ফাগু তিমির করি বেঢ়ব,*
*লখই না পারই কোই।।*
*🌷ঐছনে কানু লেই সভে আওব,*
*তুরিতহিঁ নিধুবন পাশ।*
*🌷গোবর্দ্ধন কহ আনন্দে খেলহ,*
*পদ্মা পাউ নৈরাশ।।*
*🍁আমরা সকলে মিলে এমন করে আবিরে অন্ধকার করে দিব যে, কেউই কিছু দেখতে পাবে না।তখন আমরা কৌশল করে সত্বর কৃষ্ণকে নিধুবনের কাছে আনিব। পদ্মা নিরাশ হয়ে ফিরে যাবে।*
*🌷ফাগুরাজে সকল করল আঁধিয়ার।*
*🌷নারি-পুরুষ কোই লখই না পার।।*
*🌷ঐছনে কানুক মাঝহি ঘেরি।*
*🌷আনলুঁ নিধুবনে সো নাহি হেরি।।*
🔴⚪🌕🔵🔶🔷🔷🔶🔴⚪🌕🔵🙌
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
🆕 👉 বৈষ্ণব রস-সাহিত্য প্রথম শাখা 🙇 পরম বৈষ্ণব খগেন্দ্র নাথ মিত্র 📖 ষষ্ঠ ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/12/sahityo6.html
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(৬০)🌳বৈষ্ণব রস-সাহিত্য🌲*
*🔷🔶হোলি লীলা 🔶🔷*
▪▪▪▪▪▪▪▪▪▪
*🌻ঐসময় হোলিতে দুই দলে আবির কুঙ্কুমের যুদ্ধ চলত।লাখে লাখে পিচকারী ছুটত।শ্যাম-অঙ্গ লালে লাল হয়ে যেত।শ্রীরাধিকার দলের সেনাপতি হতেন প্রধানা সখিরা-- ললিতা বিশাখা। শ্রীকৃষ্ণের দলের সেনাপতি হতেন বটু অর্থ্যাৎ মধুমঙ্গল ও সুবল। সাধারণতঃ গোপীরা জয়লাভ করতেন ও মধুমঙ্গলকে যাচ্ছে-তাই করে ছাড়ত।সম্ভবত তাঁকে এমন করে আবির ও রঙ মাখাতেন চেনা বড়ই দায় হত।হোলীলীলার খন্ড কাব্যে মধুমঙ্গল বিদূষক। ললিতমাধব,জন্নাথবল্লভ প্রভৃতি নাটকেও মধুমঙ্গলই বিদূষকের ভূমিকা গ্রহণ করেন।তিনি কিছু লোভী ব্যক্তি, প্রেমের আবেদন অপেক্ষা ক্ষুধার তাড়নাই তাঁর পক্ষে বেশী আগ্রহের বিষয়।ব্রজ-গোপীরা তাঁকে নিয়ে হাস্য-পরিহাস করতে ভালবাসেন। মধুমঙ্গল সুতরাং এই রমণীব্যূহের কাছে পরাজয় সম্ভাবনা মাত্রেই সেখান থেকে পালিয়ে যাবার রাস্তা খুঁজতেন।গোপীরাও তাঁকে ধরে নানারকম লাঞ্জিত ও বিড়ম্বিত করতে দ্বিধা বোধ করেন না।যাইহোক=*
*🌷মধুমঙ্গল সহ সুবলা পলাওল,*
*বল্লভী দাস জয় গায়।*
*🍀কিন্তু শ্রীকৃষ্ণের অবস্থা তখন সঙ্কটজনক। কর বা হাত হতে মুরলী মাটিতে পড়ে গড়াগড়ি যাচ্ছে ; শিখিপুচ্ছচূড়া আউলিয়ে পড়েছে।দুই হাতে তিনি চোখ রগড়াতে ব্যস্ত ; ততক্ষণে লক্ষ লক্ষ পিচকারী তাঁকে রঙ্গগোলালে স্নান করাচ্ছে। কিন্তু একজন তাঁর দুরবস্থা দেখে ছল ছল নয়নে তাঁর দিকে তাকিয়ে আছেন।সখীদের আনন্দে শ্রীরাধা সম্পূর্ণ যোগ দিতে পারছেন না। কখনও =*
*🌷চুয়া চন্দন গোরী দেয় শ্যামের গায়।*
*🌺কখনও বা বসনাঞ্চল দিয়ে তাঁর নয়ন বয়ন(বদন) মুছিয়ে দিচ্ছেন।*
*🌷শ্যামেরে বিভোর দেখি রসবতী রাই।*
*🌷অরুণ বসন দিয়া ওমুখ মুছাই।।*
*☘কিন্তু জয়ের আশা তখনও মেটেনি। তাই বলছেন=*
*🌷এস বঁধূ আরবার খেলাই হে ফাগুয়া।*
*যদি বল একা আমি,বহু সঙ্গের সঙ্গী তুমি,*
*সযুথে বিশাখা হউক তুয়া।।*
*🌻বিশাখা তার দল সহ তোমার পক্ষে যাক। তোমার পিচকারী না থাকে,বলো কত চাই? আমি তোমায় দিব।রঙ না থাকে,তাওও দিব। তোমার কৃপায় আমাদের রঙের (অর্থ্যাৎ অনুরাগের) অভাব নাই। ফাগের রঙে গগন পবন লাল হয়ে গেল। যমুনার জল,নীলোৎপল, কোকিল, ময়ূর,বৃক্ষলতা সব লাল হল।*
*🌷ফাগু খেলাইতে ফাগু উঠিল গগনে!*
*🌷বৃন্দাবনের তরুলতা রাতুল বরণে।।*
*🌷রাঙ্গা ময়ূর নাচে গাছে রাঙ্গা কোকিল গায়।*
*🌷রাঙ্গা ফুলে রাঙ্গা ভ্রমর রাঙ্গা মধু খায়।।*
*🌹এই যে সব লালে লাল হল, এ রঙ কি শুধু বাইরে রইল?প্রাণে কি সে অরুণিমার পরশ লাগল না?বৈষ্ণব কবি প্রাণের ঠাকুরকে শুধু ফাগ মাখিয়েই তৃপ্ত হতে পারেননি। তাই তিনি বলছেন, উভয় মনে মনে লাল হচ্ছেন=*
*🌷নিরখত বয়ন, নয়ন পিচকারী,*
*প্রেম গোলাল মনহি মন লাগ।*
*🍀প্রেমিক যুগল উভয়ে উভয়ের মুখের দিকে যে সতৃষ্ণ দৃষ্টি নিক্ষেপ করছেন,সে দৃষ্টি ঐ পিচকারীর ধারারই মত অব্যর্থ।সহজেই অরুণ দৃষ্টির অনুরাগ ভরা চাহনিতে মুহুর্মুহু উভয়ে লাল হয়ে উঠছেন। এদিকে=*
*🌷অরুণ তরুণ তরু অরুণহি ধরণী।*
*🌷স্থল জলচর সবে ভেল এক বরণী।।*
*🌷অরুণহি নীরে অরুণ অরবিন্দ*।
*🌷অরুণ হৃদয় ভেল দাস গোবিন্দ।।*
*🌹অন্যদিকে রাধাগোবিন্দের মনের মধ্যে প্রেমের হোলি খেলা চলছে=*
*🌷ফাগু রঙ্গ তহিঁ নব অনুরাগ।*
*🔵সে হোলি-খেলায় নব অনুরাগ হ'ল ফাগ, নয়নের দৃষ্টি হল পিচকারী ধারা।তনু মন দুই যুক্ত করে শৃঙ্গ বা পিচকারী হল=*
*🌻খেলত তনু মন জোরি ভোরি দুহুঁ।*
*🍀পিচকারীতে একটি নল ও একটি দন্ড বা Piston লাগে।এ ক্ষেত্রে দেহ হল নল, মন হল দন্ড।গুলাল বা গোলাল তৈরী করতে আতর গোলাপের প্রয়োজন হয় ; এ প্রেমের খেলায় "দুহুঁ অঙ্গ পরিমল চূয়া-চন্দন" হল।এইভাবে হোলিখেলা প্রেমে এবং প্রেমের লীলা হোলিখেলায় পরিণত হয়ে বৃন্দাবনে আনন্দের ফোয়ারা ছুটল।বৃন্দাবন যখন আবিরে লাল,অর্থ্যাৎ ফাগ বৃষ্টিতে অন্ধকার,তখন এই হোলি খেলতে খেলতে =*
*🌷বন্ধুয়া আমার হিয়ার মাঝারে,*
*কেহ না দেখিতে পায়।*
*🌳আমরাও কিশোর-কিশোরীকে হৃদয়ের মধ্যে অনুরাগে অভিসিঞ্চিত করে আজ সেই চিন্তামণিধামের হোলিলীলা স্মরণ করি🙏।*
*🙌 জয় জয় শ্রীরাধা শ্যামের জয়, জয় সকল সখা-সখীর জয়।*
❤❤❤❤❤❤🌻❤❤❤❤❤❤
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
🔜 ক্রমাগত 👉 বৈষ্ণব রস-সাহিত্য প্রথম শাখা 🙇 পরম বৈষ্ণব খগেন্দ্র নাথ মিত্র 📖 সপ্তম ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/12/sahityo7.html
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝
꧁👇📖 সূচীপত্র ✍️ শ্রী জয়দেব দাঁ 📖👇꧂
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️
নিবাস- বাঁশবাড়ী, কীর্তন মন্দিরের পাশে, পোঃ- বাঁশবাড়ী, থানা- ইংরেজ বাজার, জেলা- মালদহ, পশ্চিমবঙ্গ, পিন কোড- ৭৩২১০১।
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*••••━❀꧁👇 📖 সূচীপত্র 📖 👇꧂❀┅••••*
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*••••━❀꧁👇📚 PDF গ্রন্থ 📚👇꧂❀┅••••*
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য প্রভু নিত্যানন্দ
হরে কৃষ্ণ হরে রাম শ্রীরাধেগোবিন্দ।।
*••••┉━❀꧁ 🙏 জয় জগন্নাথ 🙏 ꧂❀━┅••••*
হরে কৃষ্ণ হরে কৃষ্ণ কৃষ্ণ কৃষ্ণ হরে হরে
হরে রাম হরে রাম রাম রাম হরে হরে॥
*••••┉━❀꧁ 🙏 জয় রাধাকান্ত 🙏 ꧂ ❀━┅••••*
🌷❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀🌷
🏵️❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀🏵️
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
