শ্রী মৃন্ময় নন্দী কর্ত্তৃক সকল ভক্ত👣চরণে👣অসংখ্যকোটি 🙇প্রণাম🙇 ক্লিক করুন 👇

শ্রী মৃন্ময় নন্দী কর্ত্তৃক সকল ভক্ত👣চরণে👣অসংখ্যকোটি 🙇প্রণাম🙇 ক্লিক করুন 👇
44 NITYANANDA লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
44 NITYANANDA লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

৪৪. অতি গূঢ় নিত্যানন্দ -মহাপ্রকাশে শ্রীধরানুগ্রহ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী গোপীশরণ দাস 🙏 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2022/12/blog-post_95.html

 ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
꧁ ৪৪. অতি গূঢ় নিত্যানন্দ -মহাপ্রকাশে শ্রীধরানুগ্রহ ꧂
       এই লিংকে ⬇️⬇️⬇️🙏⬇️⬇️⬇️ ক্লিক করুন 
      ꧁ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী গোপীশরণ দাস  ꧂
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
 ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
꧁ MrinmoyNandy.blogspot.com 👉 সূচীপত্র ꧂
       এই লিংকে ⬇️⬇️⬇️🙏⬇️⬇️⬇️ ক্লিক করুন 
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
 ꧁ টিকা বা অন্যান্য ধর্মীয় লিখনী 🙏 সূচীপত্র ꧂
       এই লিংকে ⬇️⬇️⬇️🙏⬇️⬇️⬇️ ক্লিক করুন 
     ꧁ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী গোপীশরণ দাস  ꧂
 ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
 ꧁ প্রভু নিত্যানন্দের সংক্ষিপ্ত লীলা 🙏 সূচীপত্র ꧂
       এই লিংকে ⬇️⬇️⬇️🙏⬇️⬇️⬇️ ক্লিক করুন 
      ꧁ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী গোপীশরণ দাস ꧂
 ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
(৪৪ )
*অতি গূঢ় নিত্যানন্দ।*

*মহাপ্রকাশে শ্রীধরানুগ্রহ।* 

সাতপ্রহরিয়া ভাবে মহাপ্রভু সবার প্রতি কৃপা বর্ষণ করছেন। আজ্ঞা দিলেন "শ্রীধরকে ডেকে আন, এসে দেখুক আমার প্রকাশ। সব সময় মনে মনে দুঃখ করে। এই নগরের এক প্রান্তে যে বসে আমাকে ডাকছে তাকে ধরে আন" মহাপ্রভুর বচনে সব ভক্তগণ ছুটে চললেন শ্রীধরের বাড়ির দিকে।

(শ্রীধর কলার থোড় মোচার দোকান করে। কলার খোলা কিনে এনে টুকরো টুকরো করে কেটে তার দ্বারা থালা বানিয়ে বিক্রি করে। তাতে যা কিছু আয় হয় তার অর্ধেক গঙ্গার পূজনের জন্য ব্যয় করে। অর্ধেক দ্বারা নিজের প্রাণ রক্ষা করে। ধর্মরাজ যুধিষ্ঠিরের ন্যায় সত্যবাদী।সঠিক দাম বলে, বিক্রি করে যা পায় তাতেই সন্তুষ্ট থাকে। যারা তাকে জানে কোন দাম-দর না করে দ্রব্য কিনে নেয়।এথেকে নাম পড়ে যায় খোলাবেচা শ্রীধর।চার প্রহর রাত্রের ভিতরে চোখে ঘুম নাই,সারারাত উচ্চৈঃস্বরে দীর্ঘ আহ্বান করে হরিনাম কীর্তন করেন। যত পাষণ্ডী বলে -শ্রীধরের ডাক শুনে রাত্রে নিদ্রা যেতে পারি না।দুই কান ফেটে যায়। মহা-চাষা ব্যাটা, পেটে ভাত নাই, ক্ষুধার জ্বালায় ঘুম আসে না তাই ব্যাকুল হয়ে সারারাত জেগে চিৎকার করে মরে। এই প্রকার পাষণ্ডীগণ নানা কটু কথা বলে।

কিন্তু শ্রীধরের কোন দিকে খেয়াল নেই সে তার আপন মনে দীঘল আহবানে ঠাকুরের নাম নিয়ে চলেছেন, কত রাত্রি হয়ে যায় টের পান না, যখন সকাল হয়ে যায়, তখন গিয়ে গঙ্গা স্নান করে আসেন।)

 রাত্রিবেলায় প্রেমযোগে, আর্তস্বরে ভগবানকে ডাকতে ভক্তগণ শুনতে পেলেন। ডাক অনুসারে সেখানে গিয়ে বললেন - "চল চল!ভক্তরাজ! মহাপ্রভু তোমাকে ডাকছেন!" তোমায় স্পর্শ করে আমরা ধন্য হব।প্রভুর নাম শুনেই শ্রীধর মূর্চ্ছিত হয়ে পড়লেন। ধরাধরি করে ভক্তগণ ঘাড়ে তুলে নিয়ে মহাপ্রভুর আগে উপস্থিত করলেন। দেখে মহাপ্রভু প্রসন্ন হয়ে বলছেন -এস এস! তুমি আমার অনেক আরাধনা করেছ। কতবার জন্ম হয়েছে, কতবার মৃত্যু হয়েছে এইভাবে আমার আরাধনা করে। এজন্মেও তুমি আমার অনেক সেবা করেছ। তোমার খোলায় অন্ন খেয়েছি। দৈনিক তোমার হাতের দ্রব্য অনেক খেয়েছি। তুমি কি সেসব ভুলে গেলে?"

( মহাপ্রভু যখন বিদ্যার বিলাস করছিলেন, তখন পরম-উদ্ধত।সে সময় শ্রীধরের সঙ্গে খোলা বেচা-কেনার ছলে অনেক রঙ্গ করেছিলেন। প্রতিদিন শ্রীধরের পসারে গিয়ে থোড় কলা মুলা খোলা নিয়ে চারদণ্ড কলহ করে অর্ধ মূল্য দিয়ে দ্রব্য কিনতেন। মহাপ্রভু নিজের হাতে খোলা,মোচা তুলে নিয়ে অর্ধ মূল্য দিতে চাইলে শ্রীধর কাড়াকাড়ি করত ঠাকুরের সঙ্গে। 
মহাপ্রভু - কেন গো তপস্বী! আমি জানি,তোমার অনেক অর্থ আছে। আমার হাতের দ্রব্য কেন কেড়ে নিচ্ছ? এতদিন এই নবদ্বীপে থাকলে কিন্তু আমি কে তা তুমি জানতে পারলে না? পরমভক্ত শ্রীধর রাগ করেন না, গৌরাঙ্গসুন্দরের মদনমোহন রূপ দেখে প্রাণে মহাতৃপ্তি অনুভব করেন। ললাটে উর্ধতিলক সুন্দর, ত্রিকচ্ছ বসন পরিধান করেছেন।স্কন্ধবিলম্বিত কুটিল-কেশ কলাপ,একবার নয়ন ভৃঙ্গ তাতে আটকে গেলে আর ফিরতে পারে না। কমল দলায়ত নয়ন যুগল। পান খেয়ে শ্রীধরের দিকে চেয়ে হাসেন। ভুবনভোলা রূপ দেখে শ্রীধর সব ভুলে যান। বলেন- ব্রাহ্মণ ঠাকুর!ক্ষমা করো আমাকে। আমি তোমার চরণের কুকুর।
 মহাপ্রভু -জানি তুমি পরম চতুর! খোলা-বেচা ধন তোমার অনেক আছে!
 শ্রীধর বলছেন -আর কি অন্য পসারি নাই?
 সেখানে যাও, আমার সঙ্গে কেন ঝগড়া কর?অল্প পয়সা দিয়ে সেখানে গিয়ে কেন।
মহাপ্রভু- আমি যোগানিঞা ছাড়তে চাইনা।থোড় কলা দিয়া তুমি আমার কাছ থেকে পয়সা নাও?
 রূপ দেখে মুগ্ধ হয়ে শ্রীধর হাসছেন,গালি দিলেও তার আনন্দ হয়, দুঃখ হয় না। মহাপ্রভু বলছেন-তুমি দৈনিক ফল ফুল কিনে গঙ্গার পূজা কর, তাতে কত পয়সা খরচা হয়, আর আমি কিছু নিতে আসলেই আমার সঙ্গে কাড়াকাড়ি কর।
 যে গঙ্গা তুমি পূজা কর,আমি তার পিতা। এই সত্য কথা তোমাকে আমি বললাম।
 কানে হাত দিয়ে শ্রীধর "হরি হরি" স্মরণ করেন। উদ্ধত দেখে তাকে কিছু খোলাপাতা দিয়ে দেন।
 এই মত প্রতিদিন কন্দল হয়। শ্রীধর ভাবেন "বিপ্র পরম চঞ্চল"। একটু চিন্তা করে বলেন আমি তোমার কাছে হার স্বীকার করছি। পয়সা ছাড়া কিছু তোমাকে দিব,তুমি আমায় ক্ষমা কর, একখণ্ড খোলা, একখণ্ড থোড়,একখণ্ড কলা মূল আরো সব দোষ আমার।
 প্রভু বলছেন - ভালো ভালো, আর কোন কলহ নাই।

 শ্রীধরের খোলে প্রভু প্রত্যহ অন্ন খান পরম তৃপ্তি করে।

🌳ভক্তের পদার্থ প্রভু হেনমতে খায়।
 কোটি হৈলে অভক্তের উলটি না চায়।।🌲

মহাপ্রভু সেই সকল কথা শ্রীধরকে স্মরণ করালেন। তারপর বলছেন-" শ্রীধর! দেখো আমার রূপ।
আজ অষ্টসিদ্ধি আদি তুমি যা চাইবে তাই দেবো। তুমি বর চাও"।
 শ্রীধর মাথা তুলে দেখছেন - হাতে বাঁশি দক্ষিনে বলরাম, মহাজ্যোতির্ময় সব দেখছেন, কমলা মুখে তাম্বুল দিচ্ছেন, প্রকৃতি স্বরূপা রমণীগণ স্তুতি করছেন,মাথার উপরে মহা-সর্পফনা-ছত্র, শুক নারদ করজোড়ে দাঁড়িয়ে।
চতুরানন পঞ্চানন জোড়হাতে স্তুতি করছেন। দেখে শ্রীধর মূর্চ্ছিত হয়ে পড়লেন।
 মহাপ্রভু বলছেন - "উঠ, উঠ শ্রীধর!" আমার স্তুতিকর।
চৈতন্য পেয়ে শ্রীধর বলছেন- "হে নাথ!আমি মূঢ়মতি! কোন স্তুতি জানি না।
মহাপ্রভু -তুমি যা বলবে তাই আমার স্তুতি হবে। প্রভু আজ্ঞা দিলেন সরস্বতীকে তার জিহ্বায় অধিষ্ঠান হতে।
 শ্রীধর স্তুতি করছেন- জয় জয় জয় মহাপ্রভু বিশ্বম্ভর।
 জয় জয় জয় নবদ্বীপ পুরন্দর।
তুমি ধর্ম, তুমি কর্ম, তুমি ভক্তি জ্ঞান।
 তুমি শাস্ত্র, তুমি বেদ, তুমি সর্বধ্যান।।
 মহাপ্রভুর কৃপায় শ্রীধর অদ্ভুত স্তুতি করলেন।
 
শ্রীধরের স্তুতি শুনে সকল ভক্তগণ বিস্মিত হলেন।
 মহাপ্রভু বলছেন-আজ তোমার মন বাঞ্ছিত সব বর আমি দেব। শ্রীধর বলছেন - "প্রভু! আর আমায় ছলনা কোরো না।"
 মহাপ্রভু - আমার দর্শন ব্যর্থ যাবে না। তোমার যা মনে হয় বর চাও। 
"মাগ মাগ"
পুনঃপুন মহাপ্রভু বলতে লাগলেন।
শ্রীধর বলছেন - "প্রভু! দেহ এই বর।

 যে ব্রাহ্মণ কাঢ়িলেন মোর খোলা পাত।
 সে ব্রাহ্মণ হোক মোর জন্মে জন্মে নাথ।।

 যে ব্রাহ্মন মোর সঙ্গে করিল কন্দল।
মোর প্রভু হউ তার চরণযুগল।।

 বলতে বলতেই তার প্রেমাবেশ বেড়ে গেল। দুই বাহু তুলে উচ্চস্বরে ক্রন্দন করতে লাগলেন। শ্রীধরের ভক্তি দেখে বৈষ্ণবগণ বিহ্বল হয়ে কাঁদতে লাগলেন। 
হেসে বলছেন বিশ্বম্ভর - "এক মহারাজ্যের রাজা করে দিই তোমাকে।"
 শ্রীধর বলছেন -"আমি কিছুই চাই না" তুমি এই কৃপা কর যেন সবসময় তোমার নামগুন গাইতে পারি, তোমার চরণ যেন সদাই আমার স্মৃতি পথে উদিত হয়।
প্রভু বলছেন -"শ্রীধর! তুমি আমার নিত্য দাস। সেজন্য তুমি আমার মহাপ্রকাশ দেখতে পেলে। তোমাকে এত বলাতেও তোমার বুদ্ধি বিচলিত হল না। তাই আজ বেদগোপ্য ভক্তিযোগ তোমাকে প্রদান করলাম।"

সব ভক্তগণ জয় জয়ধ্বনি করে উঠলেন।
"শ্রীধর প্রেমভক্তি বর পেলেন" সবাই শুনলেন।

⚜️ধন নাহি,জন নাহি, নাহিক পাণ্ডিত্য।
কে চিনিব এ সকল চৈতন্যের ভৃত্য।।🌷

🌸কি করিব বিদ্যা-ধন-রূপ-বেশ- কুলে।
  অহঙ্কার বাঢ়ি সব পড়য়ে নির্মূলে।।🍁

🌺কলা মুলা বেচিয়া শ্রীধর পাইল যাহা।
কোটি-কল্পে কোটীশ্বরে না দেখিল তাহা।।🌿

🌷 বৈষ্ণব চিনিতে পারে কাহার শকতি।
 আছয়ে সকল সিদ্ধি দেখিতে দুর্গতি।।🌸

খোলাবেচা শ্রীধর তার সাক্ষী ।ভক্তি মাত্র নিল অষ্টসিদ্ধিকে উপেক্ষা করে। বৈষ্ণবের যত ব্যবহারিক দুঃখ দেখা যায়, সেটা তার পরানন্দ সুখ ।যারা বিষয়মদান্ধ তারা এর মর্ম জানেনা।।

🌹ভাগবত পড়িয়াও কারো বুদ্ধিনাশ। নিত্যানন্দ নিন্দা করে যাইবেক নাশ।।🌺

🔥শ্রীধর পাইলা বর করিয়া স্তবন।
ইহা যেই শুনে তারে মিলে প্রেমধন।।🌳

সে কৃষ্ণ চরণারবিন্দে প্রেমভক্তি লাভ করতে পারে,যদি বৈষ্ণব নিন্দা না করে।
 
🌴নিন্দায় নাহিক কার্য, সবে পাপ-লাভ। 
এতেকে না করে নিন্দা মহা-মহাভাগ।।🌲

 🌳অনিন্দুক হই যে সকৃত 'কৃষ্ণ' বোলে। সত্যসত্য কৃষ্ণ তারে উদ্ধারিব হেলে।।🌲

বৈষ্ণবের পায়ে মোর এই মনস্কাম।
 শ্রীচৈতন্য-নিত্যানন্দ হউ মোর প্রাণ।।

হে শ্রীধর পন্ডিত! তুমি আমাদের কৃপা কর। সেই প্রেমভক্তির এক কনা দান করে আমাদের ধন্য কর।
 জয় পতিতপাবন মহাপ্রভুর জয়!
 জয় গৌর ভক্তবৃন্দের জয়!!

ক্রমশ......

GOPISARAN DAS
http­//MrinmoyNandy.blogspot.com/2022/12/blogéôépost_30.html
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
⬇️⬇️⬇️এই লিখনী 📚 PDF 📚 ক্লিক করুন⬇️⬇️⬇️
 ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧

 
 ✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️
           ꧁ লিখনী সেবা- শ্রী গোপীশরণ দাস ꧂
নিবাস-শ্রীশ্রীনিত্যানন্দ প্রভুর জন্মস্থান, একচক্রা, বীরভূম, পশ্চিমবঙ্গ। 
DEMOCRATIC NITYANANDA (Facebook Group) 👉 https://www.facebook.com/groups/1370545549769377/?ref=share
 ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏
আমায় দেওয়া ওনার এই অমূল্য লিখনী সেবা, তা সকলের মধ্যে প্রকাশ করলাম। ওনার এই অমূল্য দান সমগ্র বৈষ্ণব সমাজ অনন্তকাল মনে রাখিবে।
🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
    *••••┉━❀꧁ 🙏 রাধে রাধে 🙏 ꧂❀━┅••••* 
                   শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য প্রভু নিত্যানন্দ
              হরে কৃষ্ণ হরে রাম শ্রীরাধেগোবিন্দ।।
  *••••┉━❀꧁ 🙏 জয় জগন্নাথ 🙏 ꧂❀━┅••••*
              হরে কৃষ্ণ হরে কৃষ্ণ কৃষ্ণ কৃষ্ণ হরে হরে
              হরে রাম হরে রাম রাম রাম হরে হরে॥
  *••••┉━❀꧁ 🙏 জয় রাধাকান্ত 🙏 ꧂ ❀━┅••••*
   💮❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀💮
   💮❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀💮
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧


৪৪. অতি গূঢ় নিত্যানন্দ -মহাপ্রকাশে শ্রীধরানুগ্রহ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী গোপীশরণ দাস 🙏 এই লিংকে ক্লিক করুন ➡️ http://mrinmoynandy.blogspot.com/2022/12/blog-post_95.html

 ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
꧁ ৪৪. অতি গূঢ় নিত্যানন্দ -মহাপ্রকাশে শ্রীধরানুগ্রহ ꧂
       এই লিংকে ⬇️⬇️⬇️🙏⬇️⬇️⬇️ ক্লিক করুন 
      ꧁ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী গোপীশরণ দাস  ꧂
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
 ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
꧁ MrinmoyNandy.blogspot.com 👉 সূচীপত্র ꧂
       এই লিংকে ⬇️⬇️⬇️🙏⬇️⬇️⬇️ ক্লিক করুন 
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
 ꧁ টিকা বা অন্যান্য ধর্মীয় লিখনী 🙏 সূচীপত্র ꧂
       এই লিংকে ⬇️⬇️⬇️🙏⬇️⬇️⬇️ ক্লিক করুন 
     ꧁ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী গোপীশরণ দাস  ꧂
 ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
 ꧁ প্রভু নিত্যানন্দের সংক্ষিপ্ত লীলা 🙏 সূচীপত্র ꧂
       এই লিংকে ⬇️⬇️⬇️🙏⬇️⬇️⬇️ ক্লিক করুন 
      ꧁ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী গোপীশরণ দাস ꧂
 ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
(৪৪ )
*অতি গূঢ় নিত্যানন্দ।*

*মহাপ্রকাশে শ্রীধরানুগ্রহ।* 

সাতপ্রহরিয়া ভাবে মহাপ্রভু সবার প্রতি কৃপা বর্ষণ করছেন। আজ্ঞা দিলেন "শ্রীধরকে ডেকে আন, এসে দেখুক আমার প্রকাশ। সব সময় মনে মনে দুঃখ করে। এই নগরের এক প্রান্তে যে বসে আমাকে ডাকছে তাকে ধরে আন" মহাপ্রভুর বচনে সব ভক্তগণ ছুটে চললেন শ্রীধরের বাড়ির দিকে।

(শ্রীধর কলার থোড় মোচার দোকান করে। কলার খোলা কিনে এনে টুকরো টুকরো করে কেটে তার দ্বারা থালা বানিয়ে বিক্রি করে। তাতে যা কিছু আয় হয় তার অর্ধেক গঙ্গার পূজনের জন্য ব্যয় করে। অর্ধেক দ্বারা নিজের প্রাণ রক্ষা করে। ধর্মরাজ যুধিষ্ঠিরের ন্যায় সত্যবাদী।সঠিক দাম বলে, বিক্রি করে যা পায় তাতেই সন্তুষ্ট থাকে। যারা তাকে জানে কোন দাম-দর না করে দ্রব্য কিনে নেয়।এথেকে নাম পড়ে যায় খোলাবেচা শ্রীধর।চার প্রহর রাত্রের ভিতরে চোখে ঘুম নাই,সারারাত উচ্চৈঃস্বরে দীর্ঘ আহ্বান করে হরিনাম কীর্তন করেন। যত পাষণ্ডী বলে -শ্রীধরের ডাক শুনে রাত্রে নিদ্রা যেতে পারি না।দুই কান ফেটে যায়। মহা-চাষা ব্যাটা, পেটে ভাত নাই, ক্ষুধার জ্বালায় ঘুম আসে না তাই ব্যাকুল হয়ে সারারাত জেগে চিৎকার করে মরে। এই প্রকার পাষণ্ডীগণ নানা কটু কথা বলে।

কিন্তু শ্রীধরের কোন দিকে খেয়াল নেই সে তার আপন মনে দীঘল আহবানে ঠাকুরের নাম নিয়ে চলেছেন, কত রাত্রি হয়ে যায় টের পান না, যখন সকাল হয়ে যায়, তখন গিয়ে গঙ্গা স্নান করে আসেন।)

 রাত্রিবেলায় প্রেমযোগে, আর্তস্বরে ভগবানকে ডাকতে ভক্তগণ শুনতে পেলেন। ডাক অনুসারে সেখানে গিয়ে বললেন - "চল চল!ভক্তরাজ! মহাপ্রভু তোমাকে ডাকছেন!" তোমায় স্পর্শ করে আমরা ধন্য হব।প্রভুর নাম শুনেই শ্রীধর মূর্চ্ছিত হয়ে পড়লেন। ধরাধরি করে ভক্তগণ ঘাড়ে তুলে নিয়ে মহাপ্রভুর আগে উপস্থিত করলেন। দেখে মহাপ্রভু প্রসন্ন হয়ে বলছেন -এস এস! তুমি আমার অনেক আরাধনা করেছ। কতবার জন্ম হয়েছে, কতবার মৃত্যু হয়েছে এইভাবে আমার আরাধনা করে। এজন্মেও তুমি আমার অনেক সেবা করেছ। তোমার খোলায় অন্ন খেয়েছি। দৈনিক তোমার হাতের দ্রব্য অনেক খেয়েছি। তুমি কি সেসব ভুলে গেলে?"

( মহাপ্রভু যখন বিদ্যার বিলাস করছিলেন, তখন পরম-উদ্ধত।সে সময় শ্রীধরের সঙ্গে খোলা বেচা-কেনার ছলে অনেক রঙ্গ করেছিলেন। প্রতিদিন শ্রীধরের পসারে গিয়ে থোড় কলা মুলা খোলা নিয়ে চারদণ্ড কলহ করে অর্ধ মূল্য দিয়ে দ্রব্য কিনতেন। মহাপ্রভু নিজের হাতে খোলা,মোচা তুলে নিয়ে অর্ধ মূল্য দিতে চাইলে শ্রীধর কাড়াকাড়ি করত ঠাকুরের সঙ্গে। 
মহাপ্রভু - কেন গো তপস্বী! আমি জানি,তোমার অনেক অর্থ আছে। আমার হাতের দ্রব্য কেন কেড়ে নিচ্ছ? এতদিন এই নবদ্বীপে থাকলে কিন্তু আমি কে তা তুমি জানতে পারলে না? পরমভক্ত শ্রীধর রাগ করেন না, গৌরাঙ্গসুন্দরের মদনমোহন রূপ দেখে প্রাণে মহাতৃপ্তি অনুভব করেন। ললাটে উর্ধতিলক সুন্দর, ত্রিকচ্ছ বসন পরিধান করেছেন।স্কন্ধবিলম্বিত কুটিল-কেশ কলাপ,একবার নয়ন ভৃঙ্গ তাতে আটকে গেলে আর ফিরতে পারে না। কমল দলায়ত নয়ন যুগল। পান খেয়ে শ্রীধরের দিকে চেয়ে হাসেন। ভুবনভোলা রূপ দেখে শ্রীধর সব ভুলে যান। বলেন- ব্রাহ্মণ ঠাকুর!ক্ষমা করো আমাকে। আমি তোমার চরণের কুকুর।
 মহাপ্রভু -জানি তুমি পরম চতুর! খোলা-বেচা ধন তোমার অনেক আছে!
 শ্রীধর বলছেন -আর কি অন্য পসারি নাই?
 সেখানে যাও, আমার সঙ্গে কেন ঝগড়া কর?অল্প পয়সা দিয়ে সেখানে গিয়ে কেন।
মহাপ্রভু- আমি যোগানিঞা ছাড়তে চাইনা।থোড় কলা দিয়া তুমি আমার কাছ থেকে পয়সা নাও?
 রূপ দেখে মুগ্ধ হয়ে শ্রীধর হাসছেন,গালি দিলেও তার আনন্দ হয়, দুঃখ হয় না। মহাপ্রভু বলছেন-তুমি দৈনিক ফল ফুল কিনে গঙ্গার পূজা কর, তাতে কত পয়সা খরচা হয়, আর আমি কিছু নিতে আসলেই আমার সঙ্গে কাড়াকাড়ি কর।
 যে গঙ্গা তুমি পূজা কর,আমি তার পিতা। এই সত্য কথা তোমাকে আমি বললাম।
 কানে হাত দিয়ে শ্রীধর "হরি হরি" স্মরণ করেন। উদ্ধত দেখে তাকে কিছু খোলাপাতা দিয়ে দেন।
 এই মত প্রতিদিন কন্দল হয়। শ্রীধর ভাবেন "বিপ্র পরম চঞ্চল"। একটু চিন্তা করে বলেন আমি তোমার কাছে হার স্বীকার করছি। পয়সা ছাড়া কিছু তোমাকে দিব,তুমি আমায় ক্ষমা কর, একখণ্ড খোলা, একখণ্ড থোড়,একখণ্ড কলা মূল আরো সব দোষ আমার।
 প্রভু বলছেন - ভালো ভালো, আর কোন কলহ নাই।

 শ্রীধরের খোলে প্রভু প্রত্যহ অন্ন খান পরম তৃপ্তি করে।

🌳ভক্তের পদার্থ প্রভু হেনমতে খায়।
 কোটি হৈলে অভক্তের উলটি না চায়।।🌲

মহাপ্রভু সেই সকল কথা শ্রীধরকে স্মরণ করালেন। তারপর বলছেন-" শ্রীধর! দেখো আমার রূপ।
আজ অষ্টসিদ্ধি আদি তুমি যা চাইবে তাই দেবো। তুমি বর চাও"।
 শ্রীধর মাথা তুলে দেখছেন - হাতে বাঁশি দক্ষিনে বলরাম, মহাজ্যোতির্ময় সব দেখছেন, কমলা মুখে তাম্বুল দিচ্ছেন, প্রকৃতি স্বরূপা রমণীগণ স্তুতি করছেন,মাথার উপরে মহা-সর্পফনা-ছত্র, শুক নারদ করজোড়ে দাঁড়িয়ে।
চতুরানন পঞ্চানন জোড়হাতে স্তুতি করছেন। দেখে শ্রীধর মূর্চ্ছিত হয়ে পড়লেন।
 মহাপ্রভু বলছেন - "উঠ, উঠ শ্রীধর!" আমার স্তুতিকর।
চৈতন্য পেয়ে শ্রীধর বলছেন- "হে নাথ!আমি মূঢ়মতি! কোন স্তুতি জানি না।
মহাপ্রভু -তুমি যা বলবে তাই আমার স্তুতি হবে। প্রভু আজ্ঞা দিলেন সরস্বতীকে তার জিহ্বায় অধিষ্ঠান হতে।
 শ্রীধর স্তুতি করছেন- জয় জয় জয় মহাপ্রভু বিশ্বম্ভর।
 জয় জয় জয় নবদ্বীপ পুরন্দর।
তুমি ধর্ম, তুমি কর্ম, তুমি ভক্তি জ্ঞান।
 তুমি শাস্ত্র, তুমি বেদ, তুমি সর্বধ্যান।।
 মহাপ্রভুর কৃপায় শ্রীধর অদ্ভুত স্তুতি করলেন।
 
শ্রীধরের স্তুতি শুনে সকল ভক্তগণ বিস্মিত হলেন।
 মহাপ্রভু বলছেন-আজ তোমার মন বাঞ্ছিত সব বর আমি দেব। শ্রীধর বলছেন - "প্রভু! আর আমায় ছলনা কোরো না।"
 মহাপ্রভু - আমার দর্শন ব্যর্থ যাবে না। তোমার যা মনে হয় বর চাও। 
"মাগ মাগ"
পুনঃপুন মহাপ্রভু বলতে লাগলেন।
শ্রীধর বলছেন - "প্রভু! দেহ এই বর।

 যে ব্রাহ্মণ কাঢ়িলেন মোর খোলা পাত।
 সে ব্রাহ্মণ হোক মোর জন্মে জন্মে নাথ।।

 যে ব্রাহ্মন মোর সঙ্গে করিল কন্দল।
মোর প্রভু হউ তার চরণযুগল।।

 বলতে বলতেই তার প্রেমাবেশ বেড়ে গেল। দুই বাহু তুলে উচ্চস্বরে ক্রন্দন করতে লাগলেন। শ্রীধরের ভক্তি দেখে বৈষ্ণবগণ বিহ্বল হয়ে কাঁদতে লাগলেন। 
হেসে বলছেন বিশ্বম্ভর - "এক মহারাজ্যের রাজা করে দিই তোমাকে।"
 শ্রীধর বলছেন -"আমি কিছুই চাই না" তুমি এই কৃপা কর যেন সবসময় তোমার নামগুন গাইতে পারি, তোমার চরণ যেন সদাই আমার স্মৃতি পথে উদিত হয়।
প্রভু বলছেন -"শ্রীধর! তুমি আমার নিত্য দাস। সেজন্য তুমি আমার মহাপ্রকাশ দেখতে পেলে। তোমাকে এত বলাতেও তোমার বুদ্ধি বিচলিত হল না। তাই আজ বেদগোপ্য ভক্তিযোগ তোমাকে প্রদান করলাম।"

সব ভক্তগণ জয় জয়ধ্বনি করে উঠলেন।
"শ্রীধর প্রেমভক্তি বর পেলেন" সবাই শুনলেন।

⚜️ধন নাহি,জন নাহি, নাহিক পাণ্ডিত্য।
কে চিনিব এ সকল চৈতন্যের ভৃত্য।।🌷

🌸কি করিব বিদ্যা-ধন-রূপ-বেশ- কুলে।
  অহঙ্কার বাঢ়ি সব পড়য়ে নির্মূলে।।🍁

🌺কলা মুলা বেচিয়া শ্রীধর পাইল যাহা।
কোটি-কল্পে কোটীশ্বরে না দেখিল তাহা।।🌿

🌷 বৈষ্ণব চিনিতে পারে কাহার শকতি।
 আছয়ে সকল সিদ্ধি দেখিতে দুর্গতি।।🌸

খোলাবেচা শ্রীধর তার সাক্ষী ।ভক্তি মাত্র নিল অষ্টসিদ্ধিকে উপেক্ষা করে। বৈষ্ণবের যত ব্যবহারিক দুঃখ দেখা যায়, সেটা তার পরানন্দ সুখ ।যারা বিষয়মদান্ধ তারা এর মর্ম জানেনা।।

🌹ভাগবত পড়িয়াও কারো বুদ্ধিনাশ। নিত্যানন্দ নিন্দা করে যাইবেক নাশ।।🌺

🔥শ্রীধর পাইলা বর করিয়া স্তবন।
ইহা যেই শুনে তারে মিলে প্রেমধন।।🌳

সে কৃষ্ণ চরণারবিন্দে প্রেমভক্তি লাভ করতে পারে,যদি বৈষ্ণব নিন্দা না করে।
 
🌴নিন্দায় নাহিক কার্য, সবে পাপ-লাভ। 
এতেকে না করে নিন্দা মহা-মহাভাগ।।🌲

 🌳অনিন্দুক হই যে সকৃত 'কৃষ্ণ' বোলে। সত্যসত্য কৃষ্ণ তারে উদ্ধারিব হেলে।।🌲

বৈষ্ণবের পায়ে মোর এই মনস্কাম।
 শ্রীচৈতন্য-নিত্যানন্দ হউ মোর প্রাণ।।

হে শ্রীধর পন্ডিত! তুমি আমাদের কৃপা কর। সেই প্রেমভক্তির এক কনা দান করে আমাদের ধন্য কর।
 জয় পতিতপাবন মহাপ্রভুর জয়!
 জয় গৌর ভক্তবৃন্দের জয়!!

ক্রমশ......

GOPISARAN DAS
http­//MrinmoyNandy.blogspot.com/2022/12/blogéôépost_30.html
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
⬇️⬇️⬇️এই লিখনী 📚 PDF 📚 ক্লিক করুন⬇️⬇️⬇️
 ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧

 
 ✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️
           ꧁ লিখনী সেবা- শ্রী গোপীশরণ দাস ꧂
নিবাস-শ্রীশ্রীনিত্যানন্দ প্রভুর জন্মস্থান, একচক্রা, বীরভূম, পশ্চিমবঙ্গ। 
DEMOCRATIC NITYANANDA (Facebook Group) 👉 https://www.facebook.com/groups/1370545549769377/?ref=share
 ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏
আমায় দেওয়া ওনার এই অমূল্য লিখনী সেবা, তা সকলের মধ্যে প্রকাশ করলাম। ওনার এই অমূল্য দান সমগ্র বৈষ্ণব সমাজ অনন্তকাল মনে রাখিবে।
🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
    *••••┉━❀꧁ 🙏 রাধে রাধে 🙏 ꧂❀━┅••••* 
                   শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য প্রভু নিত্যানন্দ
              হরে কৃষ্ণ হরে রাম শ্রীরাধেগোবিন্দ।।
  *••••┉━❀꧁ 🙏 জয় জগন্নাথ 🙏 ꧂❀━┅••••*
              হরে কৃষ্ণ হরে কৃষ্ণ কৃষ্ণ কৃষ্ণ হরে হরে
              হরে রাম হরে রাম রাম রাম হরে হরে॥
  *••••┉━❀꧁ 🙏 জয় রাধাকান্ত 🙏 ꧂ ❀━┅••••*
   💮❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀💮
   💮❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀💮
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧


adds