✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
꧁ শ্রীশ্রীগম্ভীরাতে মহাপ্রভুর অবস্থানকালীন লীলায় প্রিয় ভক্ত ছোট হরিদাসের কথা꧂
এই লিংকে 👇👇👇🙏👇👇👇 ক্লিক করুন
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
🏠Home Page🏠👇👇🙏👇👇📚PDF গ্রন্থ📚
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
꧁ টিকা বা অন্যান্য ধর্মীয় লিখনী 🙏 সূচীপত্র ꧂
এই লিংকে 👇👇👇🙏👇👇👇 ক্লিক করুন
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
যদি চাহ প্রণয় রাখিতে গৌরাঙ্গের সনে।
ছোট হরিদাসের কথা থাকে যেন মনে॥
(শ্রীশ্রীপরেমবিবর্ত, ৭/১২)
শ্রীশ্রীগম্ভীরাতে শ্রীপ্রেমের ঠাকুর শ্রীকৃষ্ণ চৈতন্য মহাপ্রভু তেনার জীবনের প্রায় আঠারোটি বছর কাটিয়েছেন। এই গম্ভীরাতে মহাপ্রভুর অবস্থানকালীন লীলায় প্রিয় ভক্ত ছোট হরিদাসের সহিত মহাপ্রভুর একটি সংক্ষিপ্ত লীলা বর্ণনা করলাম কিছু ভুল ত্রুটি হলে ক্ষমা করবেন।
শাস্ত্রে লেখা আছে যে, মহাপ্রভুর সাড়ে তিন জন অন্তরঙ্গ সেবিকা ছিলো। *রায় রামানন্দ* (ব্রজধামে যিনি শ্রী রাধারানীর অষ্ট সখীর এক সখী *বিশাখা* নামে পরিচিত) , *স্বরূপ দামোদর* (ব্রজধামে যিনি শ্রী রাধারানীর অষ্ট সখীর এক সখী *ললিতা সখী* নামে পরিচিত) *শিখি মাহিতি* হচ্ছে তিনজন আর বাকি অর্ধেক হচ্ছে শিখি মাহিতির ভগ্নী *শ্রীমাধবীদেবী* (অর্ধেক হওয়ার কারণ তিনি সব করতেন কিন্তু তিনি নিজে আসতে পারতেন না। তিনি প্রভুর কাছে নিজে এসে সেবা করতে পারতেন না, নিজে হাতে মহাপ্রভুকে খাওয়াতে পারতেন না। সেই জন্য তাঁকে অর্ধেক সেবিকা বলা হয়)
শ্রীশ্রীগম্ভীরতে মহাপ্রভু এবং ভক্তগণের সেবার জন্য ভক্ত ভগবান আচার্য্য ছোটো হরিদাসকে মাধবীদেবীর কাছে পাঠিয়েছিলেন কিছু ভিক্ষা চাল বদলে ভালো চাল আনবার জন্য। মাধবীদেবীর বাড়ি আলারনাথের কাছে। ইনি বয়স্ক মহিলা, য়ুবতী সুন্দরী মেয়ে মোটেই নয়, তিনি সব সময় তপস্যা রত থাকতেন আর সব নিয়ম কানুন যথাযথ মানতেন এবং তিনি ছিলেন পরম বৈষ্ণবী। মহাপ্রভু তাঁর সেবা স্বীকার করতেন। ছোট হরিদাস মহাপ্রভুর জন্য ভক্তের আদেশ অনুসারে তাঁর কাছ থেকে কিছু ভালো চাল ( ওরা নামক শালি ধানের চাউল) নিয়ে এসেছিলেন। প্রসাদ পাওয়ার সময় মহাপ্রভু মহাপ্রভু বলে উঠলেন উত্তম অন্ন এবং জিজ্ঞেস করলেন, "চালটা কোত্থেকে আসলো?"
ভক্তরা বললেন যে, ছোট হরিদাস সেটা মাধবীদেবীর কাছ থেকে নিয়ে এসেছেন। মহাপ্রভু কিছু বললেন না। প্রসাদ পেয়ে তিনি গম্ভীরায় বিশ্রাম নিতে গেলেন আর ঘরে এসে গোবিন্দকে বললেন, “ছোট হরিদাস এখানে আর আসতে পারবে না। আমি ওর মুখ দেখতে চাই না।” প্রভু কহে,
”বৈরাগী করে প্রকৃতি সম্ভাষণ।
দেখিতে না পারোঁ আমি তাহার বদন॥”
(চৈঃ চঃ, ৩/২/১১৭)
দুর্ব্বার-ইন্দ্রিয় করে বিষয়-গ্রহণ।
দারু-প্রকৃতি হরে মুনেরপি মন॥
মাত্রা স্বস্রা দুহিত্রা বা নাবিবিক্তাসনো বসেৎ।
বলবানিন্দ্রিয়গ্রামো বিদ্বাংসমপি কর্ষতি॥
সমূহ বিদ্বান্-পুরুষেরও মন আকর্ষণ করতে পারে।
(চৈঃ চঃ ৩/২/১১৭-১১৮)
ছোট হরিদাসের অপরাধ টি হলো একজন সন্ন্যাসী ব্যক্তি নিজের জন্য সুরুচিকর দ্রব্য গ্রহণ করায় অপরাধ আছে তাই মহাপ্রভুর মনে এই ভাবনা জাগার সাথে সাথে এই উক্তি করেন এবং এক গোপন তত্বের প্রকাশ করেন।
তিনি ভীষণ রেগে গেলেন। কথাটা শুনে সব ভক্তরা চুপচাপ হয়ে পড়লো। গোবিন্দের কাছ থেকে মহাপ্রভুর কথা শুনে ছোট হরিদাস অবাক হয়ে গেলেন! এমন শাস্তি প্রভু তাঁকে দিলেন! সমস্ত ভক্তরা মহাপ্রভুর কাছে গিয়ে মিনতি করলেন, “প্রভু, ছোট হরিদাস একটা সামান্য দোষ করেছে। কৃপা করে ওকে ক্ষমা করে দাও। ও খাওয়া-দাওয়া, স্নান-টান সব বন্ধ করে দিয়েছে, এখন অনেক দিন ধরে কিছু না খেয়ে আছে।”
তখন মহাপ্রভু বললেন, “তোমরা যদি আর একবার ওর কথা বলো, তোমরা আমাকে আর এখানে দেখতে পাবে না।”
তখন ভক্তরা আর কিছু বললেন না। এ ভাবে এক বছর কেটে গেলো। মাঝে মাঝে ছোট হরিদাস অনেক দূর থেকে মহাপ্রভুর দর্শন পেতেন। যখন মহাপ্রভু জগন্নাথ মন্দিরে যেতেন, তিনি লুকিয়ে দূরে থেকে তাঁকে দেখতে পেতেন। আর অপেক্ষা করতে না পেরে, তিনি ঠিক করলেন যে, তিনি যে কোনো রকমে মহাপ্রভুর পাদপদ্ম লাভ করবেন। প্রয়াগে গিয়ে তিনি ত্রিবেণীতে ঝাঁপ দিয়ে আত্মহত্যা করলেন।
সমস্ত ভক্তরা খুব দুঃখিত হয়ে পড়লেন। মহাপ্রভু বুঝতে পারলেন, সব ভক্তের মোন খারাপ হয়ে পড়েছে। এক দিন হঠাৎ করে মহাপ্রভু জিজ্ঞেস করলেন, “আরে, ছোট হরিদাস কোথায়? ওকে ডেকে নিয়ে এসো।”
ভক্তরা বললেন, “ওকে কি করে নিয়ে আসবো? ও গঙ্গায় ঝাঁপ দিয়েছে। আত্মহত্যা করেছে।”
মহাপ্রভু হাসলেন “তাই না?” আর সবাই অবাক হয়ে গেলেন। মহাপ্রভু বললেন, “তাই , আমার ভক্ত কখনও আমাকে ছেড়ে চলে যেতে পারে? এটা হতে পারে?”
ভক্তরা বললেন, “প্রভু, ওর শ্রাদ্ধও হয়ে গিয়েছে। বৈষ্ণব-সেবাও হয়ে গেলো। এখন ওকে পাওয়া কি করে সম্ভব?”
মহাপ্রভু বললেন, “ঠিক আছে। তোমরা আমাকে বিশ্বাস করছো না।” আর চিৎকার করে মহাপ্রভু ডাক দিলেন, “আরে হরিদাস! একটা কীর্ত্তন শুনাও!”
ছোট হরিদাস ভাল করে কীর্ত্তন করতে পারতেন। ওই সময় কোনো টেপ রেকর্ডার ছিলো না, কোন ইলেকট্রিক যন্ত্র ছিলো না। কিন্তু সবাই শুনতে পেলেন যে, ছোট হরিদাস কীর্ত্তন গাইতে শুরু করলেন। সবাই অবাক হয়ে বলেন, “আরে, কোত্থেকে কীর্ত্তনের আওয়াজ আসছে? ছোট হরিদাস কি ভূত হয়ে গিয়েছে?”
ভগবানের ভক্ত কি কখনো ভূত হয়? পেত্নী হয়? আত্মহত্যা করলেও, কখনও ভূত হয় না। মহাপ্রভু তখন বললেন, “আমি যেখানে থাকি, আমার ভক্ত সেখানে আমার কাছেই থাকে।”
এই ভাবে শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য মহাপ্রভু সকল ভক্তের উদ্দেশ্যে শিক্ষা দিয়েছিলেন যে *ভক্ত যেমন ভগবানের স্মরণ করেন তেমনি ভগবান ভক্তের স্মরণ করেন* ।
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
👇👇👇এই লিখনী 📚 PDF 📚 ক্লিক করুন 👇👇👇
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
*••••┉━❀꧁ 🙏 রাধে রাধে 🙏 ꧂❀━┅••••*
*••••┉━❀꧁ 🙏 রাধে রাধে 🙏 ꧂❀━┅••••*
শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য প্রভু নিত্যানন্দ
হরে কৃষ্ণ হরে রাম শ্রীরাধেগোবিন্দ।।
*••••┉━❀꧁ 🙏 জয় জগন্নাথ 🙏 ꧂❀━┅••••*
হরে কৃষ্ণ হরে কৃষ্ণ কৃষ্ণ কৃষ্ণ হরে হরে
হরে রাম হরে রাম রাম রাম হরে হরে॥
*••••┉━❀꧁ 🙏 জয় রাধাকান্ত 🙏 ꧂ ❀━┅••••*
💮❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀💮
💮❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀💮
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
