✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
এক বাঙালির বারানসী (বেনারস) আগমন ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী দীপ বাগুই 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2025/04/baranasi.html
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
এক বাঙালির বারানসী (বেনারস) আগমন
বঙ্গ মায়ের রত্ন সন্তান নবদ্বীপের নিমাই পণ্ডিত তখন নবদ্বীপে অধ্যাপক। অধ্যাপনাতে এতটাই সুনিপুণ যে শ্রীহট্ট (বর্তমান বাংলাদেশের সিলেট) থেকে তার ডাক এসেছে। নিমাই এগিয়ে চলেছে শ্রীহট্টের দিকে। যথাবিধি পাঠদান করে আবার নবদ্বীপের অভিমুখে ফিরে আসছেন তিনি। তপন মিশ্র নামের এক ব্রাহ্মণ শরণাপন্ন হলেন নিমাই পণ্ডিতের। তিনি সাধ্য সাধন তত্ত্ব নির্নয় করতে পারছেন না।
হেনই সময়ে এক সুকৃতি ব্রাহ্মণ।
অতি সারগ্রাহী নাম মিশ্র তপন।
সাধ্য সাধন তত্ত্ব নিরূপিতে নারে।
হেনজন নাহি তথা জিজ্ঞাসিবে যারে।।
নিমাই পণ্ডিত পথ বাতলে দিলেন। বললেন কুটিনাটি পরিত্যাগ করে কেবল কৃষ্ণনাম কীর্তনেই মিলবে সাধ্য সাধন।
অতএব গৃহে তুমি কৃষ্ণ ভজ গিয়া।
কুটিনাটি পরিহরি একান্ত হইয়া।।
সাধ্য সাধন তত্ত্ব যে কিছু সকল।
হরিনাম সংকীর্তনে মিলিবে সকল।।
তপন মিশ্রের ইচ্ছে তিনি নিমাই পণ্ডিতের সাথে নবদ্বীপে আসবেন এবং তার সঙ্গেই থাকবেন।
কিন্তু নিমাই পণ্ডিত ভবিষ্যতে সন্ন্যাসের পথ এঁকে রেখেছেন। সুন্দর ভাবে নিমাই পণ্ডিত তপন মিশ্র কে বললেন
প্রভু কহে- তুমি শীঘ্র যাও বারানসী।
তাই আমার সঙ্গে হইবে মিলন।
কহিমু সকল তত্ত্ব সাধ্য সাধন।।
এরপর ইতিহাসের নানা অধ্যায়ের সম্মুখীন হতে হতে নিমাই পণ্ডিত ধীরে ধীরে হয়ে উঠলেন জগৎ বরেণ্য শ্রীকৃষ্ণ চৈতন্য মহাপ্রভু ।
মহাপ্রভু সন্ন্যাস নিয়ে পুরী ধামে জগন্নাথ ক্ষেত্রে বিচরণ করছেন। সেখানে সার্বভৌম ঠাকুর, রায় রামানন্দ, স্বরূপ দামোদর, কাশী মিশ্র, রাজা প্রতাপ রুদ্র প্রমুখ ভক্ত সঙ্গে রথযাত্রা আস্বাদন করলেন। ইচ্ছে হলো একবার নবদ্বীপে এসে শচীমা এবং মা গঙ্গা কে দর্শন করবেন।(বোধকরি মনে এ ইচ্ছাও ছিল একবার চির অভাগিনী বিষ্ণুপ্রিয়া কে নিজ চরণপাদুকা দান করে সেবা অধিকার প্রযুক্ত করার) সেই মত উড়িষ্যা থেকে মহাপ্রভু এলেন বঙ্গে। মালদহের রামকেলিতে দেখা করলেন দবীর খাস এবং সাকর মল্লিকের সঙ্গে । সঞ্জীবনী প্রজ্ঞায় বলে উঠলেন
তোমরা দুই ভাই মোর পুরাতন জন।
আজি হৈতে দোহার নাম রূপ সনাতন।।
(এই রূপ সনাতন ই বিশ্ববন্দিত বৈষ্ণবাচার্য্য রূপ গোস্বামী এবং সনাতন গোস্বামী)
সে যাত্রায় মহাপ্রভু সনাতনের অনুরোধে বৃন্দাবন না গিয়ে পুরীতে ফিরে এলেন।
এরপরের বছরেই শরৎকালে মহাপ্রভু বৃন্দাবন দর্শন করতে চললেন। পথে ঝাড়খণ্ডের জঙ্গল পার করে এলেন কাশীতে। বর্তমান বেনারসে। কাশীর বিখ্যাত মণিকর্ণিকা ঘাটে স্নান সেরে উঠতেই দেখতে পেলেন সেই তপন মিশ্রকে। যাকে তিনি সর্বপ্রথম ভবিষ্যতে তার কাশী আগমনের কথা বলেছিলেন সেই তপন মিশ্র কে।
এইমত নানা সুখে প্রভু আইলা কাশী।
মধ্যাহ্ন স্নান কৈল মণিকর্ণিকায় আসি।।
সেইকালে তপন মিশ্র করে গঙ্গাস্নান।
প্রভু দেখি হৈলো তার কিছু বিস্ময় জ্ঞান।।
যে নিমাই পণ্ডিতের কথা বেদবাক্য মনে করে তিনি বেনারসে বসবাস করছেন সেই নিমাই পণ্ডিত আজ সন্ন্যাসী হয়ে নিজের কথা রেখেছেন। বেনারসে এসেছেন। আনন্দে তপন মিশ্র মহাপ্রভু কে নিয়ে বিশ্বনাথ এবং বিন্দুমাধব দর্শন করিয়ে আনলেন। এবং যতদিন মহাপ্রভু বেনারসে ছিলেন তপন মিশ্রের ঘরেই তিনি দুপুরে প্রসাদ পেতে লাগলেন। মহাপ্রভুর কথা শুনে এক মহারাষ্ট্রীয় ব্রাহ্মণ এলেন। আর সেই সাথে এলেন মহাপ্রভুর পূর্ব পরিচিত চন্দ্রশেখর বৈদ্য। সেইসময় বেনারসে প্রকাশানন্দ সরস্বতী নামের একজন মায়াবাদী সন্ন্যাসী ছিলেন যিনি ভক্তিরাজ্যের ধার দিয়েও যেতেন না। তপন মিশ্র, চন্দ্রশেখর বৈদ্য এনারা সবাই মহাপ্রভু কে এই প্রকাশানন্দ সরস্বতীর কথা বললেন। এর সাত আটদিন পর মহাপ্রভু বৃন্দাবনে এলেন। বৃন্দাবনের লীলাস্থলী মূলত রাধাকুণ্ড প্রকটের পর মহাপ্রভু আবার ফিরে আসছেন। পথে প্রয়াগে মিলিত হলেন শ্রী রূপ গোস্বামীর সঙ্গে। নিজ শক্তি সঞ্চার করলেন শ্রী রূপের মধ্যে। এগিয়ে চললেন মহাপ্রভু। আবার এলেন কাশীতে- বেনারসে। এইবার আর সাত আটদিন নয়। পুরো দুই মাস। আবারো মহাপ্রভু এসে মিললেন তপন মিশ্র, চন্দ্রশেখর বৈদ্য আর মহারাষ্ট্রীয় ব্রাহ্মণ এর সঙ্গে। পুনরায় মহাপ্রভু তপন মিশ্রের ঘরেই সেবা অঙ্গীকার করলেন। এর মধ্যে ইতিহাসের বহু ঘাত প্রতিঘাত পার হয়েছেন সনাতন। মহাপ্রভুর সঙ্গে দেখা করতে তিনি এসেছেন বেনারসে। শুনতে পেয়েছেন তপন মিশ্রের বাড়িতে মহাপ্রভুর অবস্থান।
তবে বারানসী গোঁসাই আইলা কতদিনে।
শুনি আনন্দিত হইলা প্রভুর আগমনে।।
এরপর ইতিহাস গড়িয়েছে তার নিজের পথে। ভবিষ্যত প্রজন্মকে উপহার দিয়েছে বৈরাগ্যের চূড়ান্ত মূর্তি শ্রী সনাতন গোস্বামীকে। এইসব কিছুই ঘটেছে বেনারসে - কাশীতে। এখানেই শেষ???
উহু। এখনো বাকি আছে প্রকাশানন্দ সরস্বতী কে ভক্তি পথে আনয়ন। সেটাও করে ছাড়লেন মহাপ্রভু। সেই সবকিছু এই বেনারসে। যে দুইমাস মহাপ্রভু বেনারসে ছিলেন, প্রতিদিন মহাপ্রভু পঞ্চগঙ্গা ঘাটে স্নান সেরে পাশেই বিন্দু মাধব দর্শন করতেন।
হেনকালে মহাপ্রভু পঞ্চনদে স্নান করি।
দেখিতে চলিয়াছেন বিন্দু মাধব হরি।। আর এই দুই মাস মহাপ্রভু সনাতন গোস্বামীকে শিক্ষা দিলেন। উদ্ধার করলেন প্রকাশানন্দ সরস্বতীকে। আর কিছু করলেন কি??
হ্যাঁ। ভবিষ্যতের রঘুনাথ ভট্ট কে গড়ে নিলেন এখান থেকেই এই বেনারসেই। হ্যাঁ এই তপন মিশ্রের একমাত্র ছেলে হলেন রঘুনাথ ভট্ট গোস্বামী।
বারানসী মধ্যে প্রভুর ভক্ত তিনজন।
চন্দ্রশেখর বৈদ্য আর মিশ্র তপন।
রঘুনাথ ভট্টাচার্য মিশ্রের নন্দন।
প্রভু যবে কাশী আইলা দেখি বৃন্দাবন।।
মহাপ্রভু যখন বেনারস আসেন তখন রঘুনাথ কিশোর বালক। তখনই এই বালক রঘুনাথ মহাপ্রভু কে সেবার সৌভাগ্য পেয়েছিলেন। এইসব ঘটনা ঘটেছিল কাশীতে, বর্তমান বেনারসে।
বেনারসে এখনো তপন মিশ্রের বাড়ি, মহাপ্রভুর বিশ্রাম ক্ষেত্র, যেখানে মহাপ্রভু স্নান করতেন সেই পঞ্চগঙ্গা ঘাট এবং যাকে দর্শন করে অভিভূত হতেন সেই বিন্দু মাধব বিরাজমান। প্রতিটা বাঙালির উচিত বেনারস গিয়ে এই স্থানগুলো দর্শন করা। আমার সৌভাগ্যে ঘটেছে।
বেনারসে প্রসিদ্ধ কাল ভৈরব মন্দিরের কাছে এসে কাউকে জিজ্ঞেস করতে হবে *#যতনবর* যাব। কাল ভৈরব মন্দির থেকে হাঁটা পথে পাঁচ মিনিট এগোলে এই যতনবর নামক স্থানে তপন মিশ্রের বাড়ি আর মহাপ্রভুর বিশ্রামস্থলী আছে। ঐ কাল ভৈরবের মন্দির থেকে অন্যদিকে হাঁটা পথে দশমিনিট বিন্দু মাধব মন্দির এবং পঞ্চগঙ্গা ঘাট।
লেখনীর বিশ্রাম। জয় গৌর হরি।
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝
꧁👇📖 সূচীপত্র ✍️ শ্রী দীপ বাগুই📖👇꧂
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️
নিবাস-বাগুইপাড়া, বাগুইআটি, উত্তর চব্বিশ পরগনা, কোলকাতা-৭০০১৫৯
Facebook 👉 https://www.facebook.com/deep.bagui.9
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*••••━❀꧁👇 📖 সূচীপত্র 📖 👇꧂❀┅••••*
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*••••━❀꧁👇📚 PDF গ্রন্থ 📚👇꧂❀┅••••*
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য প্রভু নিত্যানন্দ
হরে কৃষ্ণ হরে রাম শ্রীরাধেগোবিন্দ।।
*••••┉━❀꧁ 🙏 জয় জগন্নাথ 🙏 ꧂❀━┅••••*
হরে কৃষ্ণ হরে কৃষ্ণ কৃষ্ণ কৃষ্ণ হরে হরে
হরে রাম হরে রাম রাম রাম হরে হরে॥
*••••┉━❀꧁ 🙏 জয় রাধাকান্ত 🙏 ꧂ ❀━┅••••*
🌷❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀🌷
🏵️❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀🏵️
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧