✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
꧁ সৎসঙ্গ ꧂
এই লিংকে 👇👇👇🙏👇👇👇 ক্লিক করুন
꧁ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ ꧂
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
꧁ টিকা বা অন্যান্য ধর্মীয় লিখনী 🙏 সূচীপত্র ꧂
এই লিংকে 👇👇👇🙏👇👇👇 ক্লিক করুন
꧁ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ ꧂
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
সৎসঙ্গের কথন ঃ--------------------
ততো দুঃসঙ্গমুৎসৃজ্য সৎসু সজ্জেত বুদ্ধিমান।
সন্ত এতস্য ছিন্দন্তি মনোব্যাসঙ্গমুক্তিভিঃ।।
** ভগবান শ্রীকৃষ্ণ উদ্ধবকে বলছেন--
ততঃ=সেইহেতু, বুদ্ধিমান=বুদ্ধিমান ব্যক্তি, দুঃসঙ্গং= অসৎসঙ্গ, উৎসৃজ্যগ পরিত্যাগ করিয়া, সৎসু= সৎসঙ্গে, সজ্জেত= আসক্ত হবেন, সন্তঃ= সৎ ব্যক্তিগণ, এতস্য= ইহারাই, মনোব্যাসঙ্গং= মনের বিশেষ আসক্তি, উক্তিভিঃ= ভক্তি বিষয়ক উপদেশ বাক্য দ্বারা, ছিন্দন্তি= ছেদন করেন।
********************************
অর্থ্যাৎ== সেই হেতু বুদ্ধিমান ব্যক্তি অসৎসঙ্গ ত্যাগ করিয়া সৎসঙ্গে আসক্ত হবেন। সৎব্যক্তিগণই উপদেশ বাক্য দ্বারা ওই ব্যক্তির মনের বিশেষ আসক্তি (সংসারাসক্তি)ছেদন করেন।
^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^
অসৎসঙ্গই জীবকে ভগবদবিমুখ করে। অসৎ-প্রাকৃত বস্তুর সঙ্গে অনাদি কাল হতে জীবের সম্বন্ধ হেতু জীবের পক্ষে কৃষ্ণ-উন্মুখতা বড়ই কঠিন। নাম সংকীর্তনাঙ্গ কি ভাবে করলে প্রেমের উদয় হয়,বা প্রেমের সাধক হয়,তাহা শ্রীমন্মহাপ্রভু শিক্ষাষ্টকে ব্যক্ত বা প্রকাশ করেছেন।
যেরূপে লইলে নাম প্রেম উপজয়।
তাহার লক্ষণ শুন স্বরূপ রামরায়।।
তৃণাদপি সুনীচেন তরোরিব সহিষ্ণুনা।
অমানিনা মান দেন কীর্তনীয়ঃ সদা হরিঃ।।
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
মহাপ্রভু এই শ্লোকের স্বয়ংই অর্থ করেছেন------
উত্তম হঞা আপনাকে মানে তৃণাধম।
দুইপ্রকারে সহিষ্ণুতা করে বৃক্ষসম।।
বৃক্ষ যেন কাটিলেহ কিছু না বোলয়।
শুখাইয়া মৈলে কারে পানি না মাগয়।।
যেই যে মাগয়ে তারে দেয় আপন ধন।
ঘর্ম-বৃষ্টি সহে,আনের করয়ে রক্ষণ।।
উত্তম হঞা বৈষ্ণব হবে নিরভিমান।
জীবে সম্মান দিবে জানি কৃষ্ণ- অধিষ্ঠান।।
এইমত হঞা যেই কৃষ্ণনাম লয়।
কৃষ্ণের চরণে তার প্রেম উপজয়।।
** শ্রীপাদ কবিরাজ গোস্বামী উক্ত শ্লোক বিষয়ে মন্তব্য প্রকাশ করতে গিয়ে লিখেছেন-----
ঊর্ধবাহু করি কহি শুন সর্বলোক।
নামসূত্রে গাঁথি পর কন্ঠে এই শ্লোক।।
প্রভুর আজ্ঞায় কর এই শ্লোক আচরণ
অবশ্য পাইবে তবে শ্রীকৃষ্ণচরণ।।
** এই কথা তাৎপর্য্য এই যে,নাম করবার সময় নিরন্তর এই শ্লোক স্মরণ করতে হবে এবং যাহাতে এই অবস্থা লাভ হয়, তার জন্য শ্রীনামের নিকট সকাতরে প্রার্থনা ও হৃদয়ের ব্যাকুলতা জ্ঞাপন করতে হবে। কেননা উক্ত অবস্থা লাভ না হওয়া পর্যন্ত নাম গ্রহণের মুখ্যফল প্রেমলাভ হবে না। যেহেতু এই শ্লোকের যথাযথ যাজনই নিরপরাধে নামকীর্তনের অমোঘ (অব্যর্থ বা সফল) উপায়।কেননা নামাপরাধই মহাশক্তিশালী নামসাধনায় প্রেম প্রাপ্তির প্রবলতম অন্তরায়(বাধা বা বিঘ্ন)। সাপরাধ (অপরাধ যার বা অপরাধী) ব্যক্তির প্রতি শ্রীনাম প্রসন্ন হন না এবং অপরাধী ব্যক্তি বহুকাল কীর্তন করলেও তিনি তাহাকে েপ্রমদানের
ইচ্ছা করেন না।যেহেতু কলি যুগধর্ম এই হরিনাম সংকীর্তন সুসেবন(সুদ্ধাচার সেবা)করিয়া যাঁরা অচিরায় প্রেমলাভের ইচ্ছে করেন,তাঁদেরকে দশবিধ নামাপরাধ বর্জন করিয়াই নামকীর্তন করতে হবে। ""রাধ""শব্দে সন্তোষ বুঝায়।
অপরাধ হলে নামের সন্তোষ অপগত (পলায়ন) হয় বলিয়া শ্রীনাম স্বপ্রভাব সংগোপন (সম্পন্ন ভাবে গোপন) করেন, ফলতঃ নামাপরাধী নাম সেবনে অসমর্থ হন। নাম সেবা দূরে থাকুক,অশ্রদ্ধা,কৌটিল্য(কুটিলতা) কৃষ্ণেতর বস্তুতে অভিনিবেশ(অভ্যন্তরে প্রবেশ করা) লাভ,পূজা,প্রতিষ্ঠাশা এবং নামভজনে শৈথিল্য (অমনোযোগ) প্রভৃতি এই নাম অপরাধেরই বিষময় ফল। আবার ""রাধ""শব্দের অর্থ সিদ্ধি (রাধ্+ঘঞ) অপরাধে নামের ফল-সিদ্ধি অপগত হয়।(দশটি নাম অপরাধ---
১,সাধুনিন্দা,২,শ্রীবিষ্ণু ও শ্রীশিবের নামাদির ভেদকরণ, ৩,শ্রীগুরুদেবের অবজ্ঞা বা শ্রীগুরুতে মর্ত্যবুদ্ধি,(মানবজ্ঞান)৪,শ্রুতি ও তদনুগত শাস্ত্রের নিন্দা, ৫,শ্রীহরিনামের মহিমায় অর্থবাদ মনন, ৬,শ্রীহরিনামে অর্থান্তর কল্টনা,৭,নামবলে পাপাচরণে প্রবৃত্তি, ৮,অন্য শুভক্রিয়াদির সঙ্গে শ্রীহরিনামের সমতা মনন, ৯,শ্রদ্ধাহীনজনকে নামোপদেশ, ১০, নামমাহাত্ম্য শ্রবণ করিয়াও নামে অপ্রীতি।
কাম,ক্রোধ,লোভ,মোহ,মদ,ওমাৎসর্য্য এই ষড় বা ছয় রিপু মানবদেহে সতত (সবসময়) বাস করে থাকে।সংসার সিন্ধুতে অর্থ্যাৎ এই সংসাররূপ সাগরে নিপতিত(পড়ে থেকে )মানব এই ছয়রিপু রূপ মহাশক্তিশালী নক্র (যে এক স্থানে থাকতে ভালবাসে, এবং স্বস্থানে থেকে শিকার আকর্ষণ করে, বা কুমীর)মকরাদি কবলগ্রস্ত হয়ে অবিরত ইহাদের দ্বারা চর্বিত (চিবিয়ে খাচ্ছে এমন)হচ্ছে। অর্থ্যাৎ
ছয় রিপুর দ্বারা সুখ শান্তি বিহীন কষ্টভোগ করছে। এই ছয়রিপু মহাশক্তিশালী ও অতি উদ্দাম, (স্বেচ্ছাচারী ও বন্ধনমুক্ত)প্রতি মানুষের ইন্দ্রিয়কুলকে যখন এরা আকর্ষণ করে,তখন বিদ্বানের বিদ্যা, বুদ্ধিমানের সব বুদ্ধিস্তিমিত(নিশ্চল বা স্থির) (কত যোগীন্দ্র ঋষি মুনিগন না জানি কি ধ্যানে।
মগন স্তিমিতলোচন কি অমৃত রস পানে।।) ""অপর অর্থ ডুবে যাওয়া ""
হয় যায়। নিজ শক্তিতে মানবকুল কখনই ছয়রিপুর কবল হতে রক্ষা পেতে পারে না। অর্জুন শ্রীকৃষ্ণের কাছে প্রশ্ন করেছিলেন--------
"অথ কেন প্রযুক্তোহয়ং পাপং চরতি পুরুষঃ।
অনিচ্ছন্নপি বাষ্ণেরয় বলাদিব নিয়ুজিতঃ।।(গীতা ৩|৩৬)
হে কৃষ্ণ!লোকে কার দ্বারা যুক্ত হয়ে অনিচ্ছাসত্ত্বেও যেন বলপূর্বক নিয়োজিত হয়ে পাপ আচরণে প্রবৃত্ত হয়? তদুত্তরে শ্রীকৃষ্ণ বলেছিলেন-----
কাম এষ ক্রোধ এষ রজোগুণসমুদ্ভবঃ।
মহাশনো মহাপাপমা বিদ্ধ্যেনমিহ বৈরিণম্।।
হে অর্জুন! ইহা কাম,ইহাই ক্রোধ।ইহা রজোগুণোৎপন্ন,ইহা অতি দুষ্পূরণীয় (পূরণ করা দুঃসাধ্য) এবং অতি উগ্র।
ইহাকে সংসারে শত্রু বলিয়ায় জানবে। কাম শব্দে কেহ কেহ স্ত্রী-পুরুষের পারস্পরিক মিলনেচ্ছাকেই বুঝে থাকেন এইরকম সংকীর্ণ অর্থেও কাম শব্দ ব্যবহার হয় বটে, কিন্তু কাম শব্দের ব্যাপক অর্থ কামনা বা বিষয়বাসনা।এই কাম বা কামনা প্রতিহত (আঘাত) হলেই উহা ক্রোধে পরিণত হয়, সুতরাং কামও ক্রোধ একই ; কেবল ক্রোধই নহে, অপর চারটি রিপু লোভ মোহ মদ ও মাৎসর্য্য এরাও কামেরই রূপান্তর। এই কামনা উত্তম ভোগ্য দ্রব্যাদ বা ধন ঐশ্বর্যাদির প্রতি অতিমাত্রায় আকৃষ্ট হলে তাকে ""লোভ""বলে।আবার এই কামনা বা বিষয়বাসনাই যখন মানুষকে অনিত্য বা নশ্বর বস্তুতে আসক্ত করে রাখে,স্বরূপের উপলব্ধি করতে দেয় না, বা আত্মজ্ঞানকে আচ্ছন্ন করে দেয়,তখন তার নাম হয় ""মোহ""।আবার এই মোহ বা অজ্ঞানই যখন "আমি ধনি" "আমি মানী"এই রকম অহমিকার আকার ধারণ করে,তখন তারই নাম "মদ"। আবার ঐ অহমিকা যখন অন্যের নিজাপেক্ষা অধিক ধন প্রতিপত্তি দর্শনে স্বীয়(নিজ) ধন, মানাদির গর্বকে খর্ব করে তখন চিত্তে (মনে) যে এক প্রকার ক্ষোভ ব অসহনশীল জাত (জন্ম)হয়,তার নাম মাৎসর্য্য বা পরশ্রীকাতরতা।এরা হৃদয়ের অতি জঘন্য বা কদর্য্য বৃত্তি এবং ভক্তি ভজনের সর্বাধিক অন্তরায়।
শ্রীকৃষ্ণ গোপীকাদের প্রেমঋণ শোধিতে পারলেন না।বললেন, তোমরা যেভাবে আমার সেবা করেছ সেই সেবাই চিরঋণে আবদ্ধ হয়েছি।
আমার তোমাদের দেবার মত কিছুই নেই, তবুও যদি কিছু দিই তোমরা নেবে না, নিলেও আমার এমন কিছু নেই যে যাহাতে তোমাদের ঋণ শোধ হতে পারে।এই কথা শুনিয়া রাধারাণী বললেন,সে ঋণ শোধ করা বড় বেশী কিছু নহে, তুমি তাহা অনায়াসে শোধিত পার।তুমি যদি জীবকে হরি নাম দাও,তবে আমি তোমাকে ঋণ হতে মুক্ত করিব। শ্রীমতী যদিও কতক রহস্য ভাবে এই কথাগুলি বললেন, কিন্তু শ্রীকৃষ্ণ অমনি বললেন "তথাস্তু" তাই শ্রীকৃষ্ণ একখানি "দাসখত"লিখে দিলেন।তাহাতে লেখা ছিল যে, তিনি কলিযুগে সন্ন্যাসী হয়ে দ্বারে দ্বারে হরিনাম বিতরণ করবেন।শ্রীকৃষ্ণ এই কার্য্য করিয়া শ্রীমতীর ঋণ হতে পরিত্রাণ পাবেন, তাই তিনি গৌর অবতার হলেন।এই গেল স্বপ্ন বিলাসের কথা।কৃষ্ণকীর্তন -যাত্রা,যা বাংলাদেশে গান হয়ে থাকে, তাহাতে সে "দাস-খত" খানি গীত হয়ে থাকে।
সে দাসখত এইভাবে লিখিত-------
ইয়াদি কৃত্য,গুণ সমুদ্র,সৎ সাধু শ্রীরাধা।
সচ্চরিত্র চরিতেষু পুরাহ মনের সাধা।।
তস্য খাতক হরি নায়ক বসতি ব্রজপুরী।
অস্য কর্জ,পত্র মিদং,লিখিতং সুকুমারী।।
তারিখস্য দ্বাপরস্য পরিশোধ কলিযুগে।
এই কথায়ে,খত লিখিনু,ইসাদি মঞ্জুরি ভাগে।।
*উপরের উক্ত কাহিনী অবলম্বন করিয়া মহাজনগণ যে পদ লিখিয়াছেন শ্রবণ করুন।
কেন্দে আকুল হলো গৌরহরি।
(বলে)কোথা রাই কিশোরী।।ধ্রু
প্রেম-নয়নে দীনের পানে,
চাও বারেক কৃপা করি।
ছেঁড়া কাঁথা করোয়া হাতে,
কেন্দে বেড়ায় পথে পথে,
তোমারি নাম নিতে নিতে এসেছি আশা করি।।
(খালাশ হইব বলে)
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
👇👇👇এই লিখনী 📚 PDF 📚 ক্লিক করুন 👇👇👇
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️
꧁ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ📱7001138871꧂
নিবাস- বাঁশবাড়ী, কীর্তন মন্দিরের পাশে, পোঃ- বাঁশবাড়ী, থানা- ইংরেজ বাজার, জেলা- মালদহ, পশ্চিমবঙ্গ, পিন কোড- ৭৩২১০১।
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏
আমায় দেওয়া ওনার এই অমূল্য লিখনী সেবা, তা সকলের মধ্যে প্রকাশ করলাম। ওনার এই অমূল্য দান সমগ্র বৈষ্ণব সমাজ অনন্তকাল মনে রাখিবে।
🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
*••••┉━❀꧁ 🙏 রাধে রাধে 🙏 ꧂❀━┅••••*
*••••┉━❀꧁ 🙏 রাধে রাধে 🙏 ꧂❀━┅••••*
শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য প্রভু নিত্যানন্দ
হরে কৃষ্ণ হরে রাম শ্রীরাধেগোবিন্দ।।
*••••┉━❀꧁ 🙏 জয় জগন্নাথ 🙏 ꧂❀━┅••••*
হরে কৃষ্ণ হরে কৃষ্ণ কৃষ্ণ কৃষ্ণ হরে হরে
হরে রাম হরে রাম রাম রাম হরে হরে॥
*••••┉━❀꧁ 🙏 জয় রাধাকান্ত 🙏 ꧂ ❀━┅••••*
💮❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀💮
💮❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀💮
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧




