✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
꧁নন্দ বাবা ও যশোমতী মায়ের পূর্ব জন্মের পরিচয়꧂
এই লিংকে 👇👇👇🙏👇👇👇 ক্লিক করুন
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
꧁ টিকা বা অন্যান্য ধর্মীয় লিখনী 🙏 সূচীপত্র ꧂
এই লিংকে 👇👇👇🙏👇👇👇 ক্লিক করুন
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
আমাদের প্রাণগোবিন্দের জাগতিক পিতামাতা, বসুদেব, দেবকী, নন্দ মহারাজ ও মা যশোদার পূর্ব্ব জন্মের কথা জানতে অনেকেরই বড় কৌতুহল হয়। তাই আমরা চেষ্টা করছি মা যশোদা ও নন্দ মহারাজের পূর্ব্ব জন্মে কারা ছিলেন, সেই সম্পর্কে কিছু আলোকপাত করার।
একদিন দেবর্ষি নারদ মুনি পরম করুণাময় গোলকঅধিপতি সচ্চিদানন্দ ভগবান শ্রীকৃষ্ণের পিতা ও মাতা ( নন্দ বাবা ও যশোমতী মায়ের ) পূর্ব জন্মের কথা শ্রীনারায়নের নিকট জানতে চাইলেন। তখন শ্রীনারায়ন নারদ মুনিকে মা যশোদা ও নন্দ মহারাজের পূর্ব্ব জন্মের পরিচয় জ্ঞাতার্থে করে বলেছেন। যা ব্রহ্মবৈবর্ত পুরানে উল্লেখ আছে।
"নন্দ মহারাজ ছিলেন বসু গনের মধ্যে শ্রেষ্ট। তাঁর নাম ছিলো দ্রোন। তিনি মহান তপস্বী ছিলেন। তাঁর স্ত্রীর নাম ছিলো ধরা। তিনিও এক মহান তপস্বিনী ছিলেন। সেই মহান তপস্বী বসু দ্রোন ও তাঁর স্ত্রী মহান তপস্বিনী সাধ্বী ধরা। পরবর্তী জন্মে নন্দ মহারাজ ও মা যশোদা রুপে আবির্ভূত হয়েছেন।
একদিন এই দ্রোন ও ধরা, পূন্য ভূমি ভারত বর্ষের গন্ধ মাদন পর্ব্বতে, ঋষি গৌতমের অাশ্রমের কাছে, সুপ্রভা নদীর তটে গোবিন্দকে দর্শনের প্রত্যাশায় ১০,০০০ দশ হাজার বছর কঠোর তপস্যা করে ছিলেন। তবুও এই তপস্বী জুটি শ্রীকৃষ্ণের দর্শন লাভে ব্যর্থ হয়েছেন। তখন তাঁরা অদম্য কৃষ্ণ প্রেমের বৈরাগ্য বশতঃ অগ্নি কুন্ড প্রস্তুত করলেন। সেই অগ্নি কুন্ডে স্বামী-স্ত্রী প্রবেশ করে আত্ম বিসর্জন দানের কঠোর সিদ্ধান্ত নিয়ে অগ্নি কুন্ডের সামনে উপস্থিত হলেন।
তাঁদের এই নির্ম্মম ভাবে প্রান বিসর্জনে ইচ্ছুক দেখে, হঠাৎ দৈব বানী হলো, 'হে বৎস, তিষ্ট। তোমরা পৃথিবীতে গোকুলে শ্রীহরিকে পুত্র রুপেই দর্শন লাভ করবে। হে বসু শ্রেষ্ট দ্রোন, হে সতী সাধ্বী ধরা, যোগীরা বহু জন্ম ধ্যান করেও যাঁর দর্শন লাভ করতে পারেন না, ব্রহ্মা, শিব প্রমুখ দেব শ্রেষ্ট গন, যাঁর পাদপদ্ম বন্দনা করেন। বিদ্যান ব্যক্তিরা যাঁর শ্রীচরণকমল স্মরণ করে ধন্য হন, সেই পরমারাধ্য প্রভূ শ্রীহরি অচিরেই গোকুলে তোমাদের পুত্র রুপে দর্শন দেবেন।'
সেই দৈব বানী শুনে বসু দ্রোন ও তাঁর স্ত্রী ধরা মহানন্দে অাত্ম বিসর্জনের চিন্তা বাদ দিয়ে, অাপন ভবনে গমন করলেন। তার পরবর্তী জন্মে তাঁরা ব্রজ মন্ডলে নন্দ মহারাজ ও যশোদা রুপে জন্ম গ্রহন করেন।
দ্বাপরে শ্রীকৃষ্ণ পূর্ব্ব জন্মের প্রতিশ্রুত দুটি বরকেই সফল রুপ দান করেন। তার মধ্যে একটি বর দ্রোন ও ধরাকে দেয়া। তারও অাগে বসুদেব ও দেবকীকে সত্য যুগে বর দিয়ে ছিলেন তাঁদের কোলে পুত্র রুপে অাসবেন বলে।
সত্য যুগে বসুদেব ছিলেন সুতপা নামের প্রজাপতি। স্ত্রী দেবকী ছিলেন সুতপার স্ত্রী পৃশ্নি। এই সুতপা ও পৃশ্নি ১২০০০ বার হাজার বছর বৃন্তচ্যুত পাতা ও বায়ু ভক্ষন করে গোবিন্দ দর্শনের জন্য কঠোর তপস্যা করে ছিলেন। তপস্যায় তুষ্ট হয়ে ভগবান শ্রীকৃষ্ণ বর দান করেছিলেন, 'অবিকল চতুর্ভূজ নারায়ন হয়ে পুত্র রুপে তাঁদের গর্ভে অাসবেন।'
তাই শ্রীকৃষ্ণ, সুতপা ও পৃশ্নির পরবর্তী জন্ম বসুদেব ও দেবকীর অষ্টম গর্ভে স্বয়ং জন্ম গ্রহন করে নন্দ মহারাজ ও যশোদার কোলে পুত্র রুপে লালিত পালিত হয়ে তাঁর দেওয়া দুটো বরকেই পূরন করলেন। কংসকে হত্যা করে নিজ পিতামাতা বসুদেব ও দেবকীকে কংসের কারাগার থেকে মুক্ত করে ভগবান শ্রীকৃষ্ণ ও ভাই বলরাম গিয়ে ছিলেন সন্ধীপন মুনির অাশ্রমে বিদ্যা শিক্ষা অর্জন করার জন্য।
বিদ্যা শিক্ষা শেষে কৃষ্ণ-বলরাম তাঁদের পিতা-মাতার কাছে ফিরে যেতে গুরু সন্ধীপন মুনির কাছে অনুমতি চাইলে, মুনিবর তাদের ফিরে যাবার অনুমতি দিচ্ছিলেন না। কারন মুনির একমাত্র পুত্র সৌমিক নদীতে স্নান করতে গিয়ে নিখোঁজ হয়ে ছিলেন। কৃষ্ণ, বলরামকে পেয়ে মুনিবর তাঁর পুত্র শোক ভূলে ছিলেন। এখন তাঁরা চলে গেলে মুনির পুত্র শোকের অাগুন অাবার দাউ, দাউ করে জ্বলে উঠবে। তাই গুরুজী তাঁদেরকে যাবার অনুমতি দিচ্ছিলেন না। পরে শর্ত দিয়েছিলেন যে, যদি শ্রীকৃষ্ণ তাঁর নিখোজ পুত্রকে উদ্ধার করে এনে দেন, তাহলে তাঁদের যেতে দেবেন।
পরে শ্রীকৃষ্ণ যমপুরী থেকে গুরুপুত্র সৌমিককে উদ্ধার করে এনে গুরু বাক্য পালন করে ছিলেন। গুরুগৃহ থেকে কৃষ্ণ, বলরাম যখন পিতা, মাতা বসুদেব, দেবকীর কাছে ফিরে অাসলেন। তখন একদিন দেখলেন, মা দেবকী কান্না করছেন। মাতৃদেবীকে বিষন্ন ও সজল নয়না দেখে কৃষ্ণ হেতু জিজ্ঞাসা করলেন। উত্তরে দেবকী বললেন, "তুমি কি অামার বিষন্নতা দূর করতে পারবে? হে কৃষ্ণ অাজ অামি যেটা চাইবো, সেটা তুমি অামায় দিতে পারবে?"
প্রত্যুক্তরে কৃষ্ণ বললেন, "হে মাতঃ, তুমি যদি চাও, এই ত্রিভূবন কেনো? নিজের জীবনও তোমার চরণ কমলে উৎসর্গ করতে পারি। বলো মাতঃ তোমার বিষন্নতার হেতু কী?"
দেবকী বললেন, "হে প্রিয় পুত্র কৃষ্ণ, অামি বড়ই দুঃখী। পুত্র শোকে কাতর। অামার গর্ভের ১ম হতে ৬ষ্ট সন্তানকে জন্মের পরেই কংস নির্ম্মম ভাবে অাঁছড়ে চোখের সামনেই হত্যা করেছে। সেই বিভীষিকা এখনও অামি ভূলতে পারি না। এরা তোমারই অগ্রজ ভাই। পুত্রদের এ হেনো
শোক অামি ভূলি কী করে?"
দেবকী আরও বললেন, "হে কৃষ্ণ অামার, অামি দেবর্ষি নারদের মুখে শুনেছি, তুমি গুরু পুত্রকে উদ্ধার করে গুরুর কাছে ফিরিয়ে দিয়ে গুরু সত্য রক্ষা করেছো। তোমার কাছে এই দুঃখিনী মা বিনতি করছে, তুমি কি অামার ৬ সন্তানকে অামার কাছে ফিরিয়ে দিতে পারো না?"
প্রত্যুত্তরে শ্রীকৃষ্ণ বললেন, "হে জননী, তোমার অশ্রু মুছে দিতে, মাতৃ সত্য রক্ষা করতে অামি যথা সাধ্য চেষ্টা করবো। অামায় অাশির্বাদ করো।"
এর পরের ঘটনা আমরা জানি, দেবকীর যে ৬ সন্তানকে কংস হত্যা করেছিলো। তাঁর ৭ম গর্ভে ছিল শ্রীনারায়নের অনন্ত বাসুকী অবতার বলরাম, যাঁকে শ্রী নারায়ন তাঁর যোগমায়ার মাধ্যমে গর্ভ স্থানান্তর করে বসুদেবের বড় স্ত্রী রোহিনীর গর্ভে স্থানান্তর করে ছিলেন। ৮ম গর্ভে ছিলেন, শ্রীকৃষ্ণ স্বয়ং নিজে, যাঁকে নন্দ ও যশোদার ঘরে স্থানান্তর করা হয়ে ছিলো।
প্রসঙ্গ ক্রমে জেনে নেই দেবকীর প্রথম ৬ সন্তান পূর্ব্ব জন্মে কারা ছিলেন। পুরানে অাছে, দেবকীর প্রথম ৬ সন্তান ছিলেন, পূর্ব্ব জন্মে শ্রী ব্রহ্মার অভিশপ্ত পুত্র। ব্রহ্মার অভিশপ্ত পুত্র হওয়ার কারন আছে।
ব্রহ্মার একজন মেয়ে সন্ধ্যা রানী। দিবা অার রাত্রির সন্ধিক্ষন হলেন, সন্ধ্যা রানী, ছিলেন অপ্সরা সুন্দরী। সন্ধ্যার রুপে মুগ্ধ হয়ে, ব্রহ্মা অাকৃষ্ট হলেন। ব্রহ্মার কোপানল থেকে বাঁচার জন্য সন্ধ্যা রানী দৌঁড়াতে, দৌঁড়াতে অবশেষে ব্রহ্মার পুত্রদের মাঝে অবস্থান নিয়ে কুৎসিৎ রুপ ধারন করলেন। শ্রী ব্রহ্মার এ হেনো কান্ডে দুঃখিত হয়ে ব্রহ্মার পুত্ররা তাঁকে তিরস্কার করলেন। বললেন, "হে প্রভূ, অাপনার এ হেনো কাজ অশোভনীয়।"
পিতৃ নিন্দা করেছেন বলে, ব্রহ্মার পুত্ররা পাপ গ্রস্থ হলেন। ব্রহ্মা অভিশাপ দিলেন, ৬ জন্ম তাঁদেরকে পৃথিবীতে জন্ম নিয়ে, জন্ম-মৃৃত্যুর দুঃখ যন্ত্রনা ভোগ করতে হবে। এই ৬ পুত্রই দেবকীর ১ম হতে ৬ষ্ট গর্ভ পর্যন্ত জন্ম গ্রহন করে ছিলেন।
যা হোক। দেবকীর ৬ সন্তান ফিরিয়ে দিয়ে মায়ের দুঃখ মোচন ও মাতৃ সত্য রক্ষার জন্য ভগবান শ্রীকৃষ্ণ চিন্তিত হয়ে পড়লেন। যোগ নিদ্রায় জানতে পারলেন, এই ৬ সন্তান যম পুরীতে নেই। আছে পাতালের হিরণ্য পুরী তথা রাক্ষস পুরীতে। ভগবান শ্রীকৃষ্ণ তখন, পাতালে প্রবেশ করে তাঁদের উদ্ধার করে নিয়ে এলেন মাতা দেবকীর সন্মুখে। ৬ সন্তান তখন নিজেদের পরিচয় দিয়ে বলছেন, "মাতঃ অামরা অভিশপ্ত ব্রহ্মাপুত্র। কিন্তু, শ্রীকৃষ্ণের স্পর্শে অামরা পাপ মুক্ত হয়ে গিয়েছি। অাপনি অামাদের অনুমতি করুণ, অামরা এবার পুনরায় ব্রহ্মলোকে ফিরে যাবো।"
ভগবান শ্রীকৃষ্ণের স্পর্শে পাপ মুক্ত হয়ে তাঁরা পুনঃ ব্রহ্মলোক প্রাপ্ত হয়ে সেখানেই ফিরে গেলেন।
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
👇👇👇এই লিখনী 📚 PDF 📚 ক্লিক করুন 👇👇👇
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
*••••┉━❀꧁ 🙏 রাধে রাধে 🙏 ꧂❀━┅••••*
*••••┉━❀꧁ 🙏 রাধে রাধে 🙏 ꧂❀━┅••••*
শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য প্রভু নিত্যানন্দ
হরে কৃষ্ণ হরে রাম শ্রীরাধেগোবিন্দ।।
*••••┉━❀꧁ 🙏 জয় জগন্নাথ 🙏 ꧂❀━┅••••*
হরে কৃষ্ণ হরে কৃষ্ণ কৃষ্ণ কৃষ্ণ হরে হরে
হরে রাম হরে রাম রাম রাম হরে হরে॥
*••••┉━❀꧁ 🙏 জয় রাধাকান্ত 🙏 ꧂ ❀━┅••••*
💮❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀💮
💮❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀💮
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
