✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
꧁ ৬১. রসোদ্গার লীলা ꧂
এই লিংকে 👇👇👇🙏👇👇👇 ক্লিক করুন
꧁ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ ꧂
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
꧁ শ্রীকৃষ্ণ লীলা 🙏 সূচীপত্র ꧂
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
*🌻🌻🌻রসোদ্গার ব্রজলীলা🌻🌻🌻*
*🌼🌼🌼🌼🌼🌼🌼🌼🌼🌼🌼🌼🌼
*🌻🌻প্রথম পদ🌻🌻*
*শ্যামলা বিমলা,মঙ্গলা অবলা,*
*আইলা রাধিকা পাশে।*
*যদি স্বতন্ত্ররে,তথাপি রাধারে,*
*পরাণ অধিক বাসে।।*
*দেখি সুবদনী,উঠিলা অমনি,*
*মিলিলা গলায় ধরি।*
*কতনা যতনে,রতন আসনে,*
*বৈসায় আদর করি।।*
*রাই মুখ দেখি,হইয়া মহাসুখি,*
*কহয়ে কৌতুক কথা।*
*রজনী বিলাস,শুনিতে উল্লাস,*
*অমিয়া অধিক গাঁথা।।*
*হাস পরিহাসে,রসের আবেশে,*
*মগন হইলা রাধা।*
*চন্ডীদাস বাণী,নিশির কাহিনী,*
*শুনিতে নাগয়ে সাধা।।*
*অতি উষাকালে,শেজ তেয়াগিয়া,*
*উঠিলেন গৌরবিধু।*
*বিগলিত বেশ,আলুথালু কেশ,*
*জনু নব কুলবধূ।।*
*ভকত গণেরে,হেরিয়া নিয়ড়ে,*
*সাহসে তুলিয়া মাথা।*
*ঢালে জনু মধু,কহে মৃদু মৃদু,*
*রজনীবিলাসকথা।।*
*শ্যাম বঁধূয়ার, পিরীত অপার,*
*কহিতে সজল আঁখি।*
*করে আহা আহা,বলে পিয় কাঁহা,*
*উড়িল কি প্রাণ পাখী।।*
*মনোভাব যাহা,অনুভবি তাহা,*
*কহে গোবর্ধন দাসে।*
*আসিলে রজনী,পাবে গুণমণি,*
*শুনি গোরা সুখে হাসে।।*
*🌻আমাদের পরম সৌভাগ্য যে,আমরা শ্রীমন্মহাপ্রভুকে কাছে পেয়েও কাম-কামনা,বিষয়-বাসনা হতে বাহির হতে পারলাম না।* *তিনি করুণাময় পতিতপাবন গৌরহরি আমাদের জন্য গোলোকের সুখ ত্যাগ করে ভূলোকে এসে আমাদের জন্য প্রেমভক্তি নিয়ে এলেন,দুর্ভাগ্য তা আমরা গ্রহণ করতে পারলাম না।* *যাইহোক,অদ্য জগতজীবন চিরসুন্দর গৌরসুন্দর আমার "অতি উষাকালে"ভোরবেলা শয্যা ত্যাগ করে উঠলেন গৌরচাঁদ।* *বিগলিত বেশ, আলুথালু কেশ,পার্থিব জগতে মানুষ যেমন শয্যা ত্যাগ করলে* *অগোছাল ও আলুলায়িত চুল থাকে,* *আজ গৌরবিধুরও ঐ রকম দেখা গেল।* *(যেন নববধু যেমন সকালবেলা শয্যা ত্যাগ করে)* *শয্যা ত্যাগ করেই দেখলেন কিছু রসের ভক্তগণ মহাপ্রভুর কাছে এসে উপস্থিত হয়েছেন, কেন?মহাপ্রভু নিশিতে যে ভাব নিয়ে শয়নে গিয়েছিলেন,সেই রজনী ভাবের কথাগুলি শুনবার জন্য।*
*তখন মহাপ্রভু বলতে লাগলেন,কেউ নিজের নামযশের জন্য কাঁদে,প্রতিষ্ঠার জন্য কাঁদে, কিন্তু হায়!কেউ কৃষ্ণের জন্য কাঁদে না।* *যারা কৃষ্ণের জন্য কাঁদে না,তাদের সারাজীবনের এত পরিশ্রম, এত গবেষণা, সব এক মুহূর্তে নস্যাৎ হয়ে যায়।* *সকলে মায়ার পেছনে দৌঁড়চ্ছে!যেখানে গেলে আমার জীবনের সব থেকে বেশী সফলতা আসবে, সেখানে কেহ যায় না।* *শোন,কিছু কথা বলি, ন্যায় শাস্ত্র হচ্ছে তর্ক করে বুদ্ধি খাটিয়ে যুক্তির সাহায্যে ঈশ্বরকে প্রতিপন্ন(প্রমাণ)করা। ঈশ্বর কে?ন্যায়শাস্ত্রে যুক্তিবলে জগৎকর্তা ঈশ্বরের অস্তিত্ব সিদ্ধ হয়ে আছে।* *ন্যায়মতে প্রমেয় বা প্রমাণের বিষয় দ্বাদশ।* *আত্মা,শরীর,ইন্দ্রিয়,অর্থ,বুদ্ধি,মন,প্রবৃত্তি,দোষ,প্রেত্যভাব(জন্ম,মরণ প্রবাহের নাম প্রেত্যভাব),ফল,দুঃখ,* *আর অপবর্গ,(পরিত্যাগ)।* *যেহেতু ঈশ্বরের উল্লেখ নেই,মনে হতে পারে,ন্যায় ঈশ্বরকে বুঝি প্রত্যাখ্যান (বাদ )করেছে।* *আসলে "আত্মা"শব্দেই জীবাত্মা বা জীব ও পরমাত্মা বা ঈশ্বর লক্ষিত হচ্ছে।* *ঈশ্বর আত্মারই প্রকারভেদ। ইচ্ছা, দ্বেষ,প্রযত্ন,সুখ,দুঃখ আর জ্ঞান এই ছয়টি আত্মার গুণ।* *এই ছয়টি গুণ দেহেন্দ্রিয়ে নেই।* *এ ছয়টি গুণ থেকেই আত্মার অস্তিত্ব অনুমান করা যায়।* *এদের মধ্যে ইচ্ছা,প্রযত্ন ও জ্ঞান এ তিনটি জীবাত্মা ও পরমাত্মা দুয়েরই লক্ষণ;কিন্তু বাকী তিনটি দ্বেষ,সুখ আর দুঃখ জীবাত্মায় থাকলেও পরমাত্মায় নেই।* *পরমাত্মায় কেবল নিত্য ইচ্ছা,নিত্য প্রযত্ন এবং নিত্য জ্ঞান।* *এই গুণত্রয়ের আশ্রয়ই হচ্ছেন ঈশ্বর।* *ন্যায়মতে ঈশ্বর সগুণ পদার্থ,সাংখ্যের পুরুষ বা বেদান্তের ব্রহ্মের মত নির্গুণ নন।* *কিন্তু কী প্রমাণ?ন্যায়মতে প্রমাণ চার প্রকার।* *প্রত্যক্ষ,অনুমান,উপমান আর শব্দ।* *শব্দ মানে শ্রুতি বা আগম বা আপ্তবাক্য।ঈশ্বর লৌকিক প্রত্যক্ষের অযোগ্য।* *উপমান বা সাদৃশ্যজ্ঞানের ফলও তাঁকে বলা যায় না,একমাত্র নির্ভর আগমে ও অনুমানে। অন্যে জ্ঞানসঞ্চার করবার জন্যে প্রকৃত জ্ঞানী যে বাক্য ব্যবহার করে তাই আপ্তবাক্য।* *যার ভ্রম নেই,প্রমাদ নেই,প্রতারণার প্রবৃত্তি নেই,ইন্দ্রিয়ের অপটুতা নেই,তার উপদেশই আপ্ত উপদেশ।বেদই সেই আপ্ত উপদেশ।* *আপ্ত=নিজ* *ধূম দেখলেই জানতে হবে আগুনকে,নদীর পূর্ণতা দেখলেই জানতে হবে বৃষ্টি হয়েছে দেশান্তরে, সুতরাং আগমে ও অনুমানেই ঈশ্বর সিদ্ধ।* *পর্বত ও সাগর সাবয়ব,তার মানে তার অংশ আছে,যা সাবয়ব ও স্থূল,যার অংশ আছে, তা "জন্য"পদার্থ।* *জন্যমাত্রেরই জনক বা কর্তা আছে।* *যেমন ঘট দেখে বোঝা যায় কুম্ভকার,আর কর্তা মানেই সচেতন কর্তা।* *অচেতন পদার্থে ইচ্ছা,প্রযত্ন ও জ্ঞান নেই,ইচ্ছা প্রযত্ন ও জ্ঞান ছাড়া কর্তৃত্ব অসম্ভব।* *ঘটের উপাদান মাটি,কিন্তু সচেতন কুম্ভকারের প্রযত্ন ছাড়া ঘটের উৎপত্তি হয় কি করে?* *তেমনি পর্বত ও সাগর শুধু কতকগুলি পরমাণুর সমষ্টি।কে না জানে পরমাণু জড়বস্তু।* *কোনো জ্ঞানী, ইচ্ছুক ও প্রযত্নবান পুরুষ এই পরমাণুসমষ্টি স্থাপিত করলেই তবে পর্বত বা সাগর বা বিশ্বজগতের জন্ম।* *জীব পৃথিবীর জনক হতে পারে না, পৃথিবীর নিমিত্ত-কারণ পরমাত্মা।* *সেই ঈশ্বর নামে পরিভাষিত।* *ঈশ্বরের তো কোনো অভাব নেই,রাগ-দ্বেষ-দুঃখ নেই,তবে কেন এই তাঁর বিশ্বরচনা?* *নৈয়ায়িকগণ (আগম বা ন্যায়শাস্ত্রধ্যায়ী)তারও উত্তর দিয়েছেন,বলছেন,ঈশ্বরের করুণায় তাঁকে সৃষ্টির কাজে প্ররোচিত (উৎসাহিত)করেছে।* *জীবের মুক্তি একমাত্র তাঁর প্রয়োজন।* *অনাদিকালে সঞ্চিত জীবের শুভাশুভ কর্মের ফল একমাত্র ভোগের দ্বারাই ক্ষয় পেতে পারে।*
*সুতরাং কর্মক্ষয়ের জন্যেই এই ভোগ্যজগৎ ও ভোগায়তন দেহের দরকার।* *কর্মক্ষয়ের জন্যই জগৎসৃষ্টি।"পুনরপি জননং মরণং" এই জন্ম ও মরণ প্রবাহের নাম প্রেত্যভাব।* *কবে এ আরম্ভ হয়েছে কেউ বলতে পারে না,কিন্তু তার সমাপ্তির কথা বলেছে ন্যায়শাস্ত্র।* *সমাপ্তি "অপবর্গ", অপূনর্জন্মই অপবর্গ।* *সব সুখই দুঃখ সংস্পৃষ্ট,সুতরাং সুখের সন্ধান মুমুক্ষুর(মুক্তিপ্রার্থী) লক্ষ্য নয়।* *দুঃখ নিবৃত্তিই লক্ষ্য,জন্ম-মৃত্যু প্রবাহের সমুচ্ছেদ(ছেদন করা) ও তাতে সর্বদুঃখের বিরামের নামই অপবর্গ বা মোক্ষ।* *এসবই ন্যায়শাস্ত্রের কথা,তর্কবুদ্ধির কথা,তর্কবিদ্যা নিরর্থিকা।*নিষ্প্রয়োজন।*
*প্রভু কহে কোন বিদ্যা বিদ্যামধ্যে সার।*
*রায় কহে-- কৃষ্ণভক্তি বিনা নাহি আর।।*
*কৃষ্ণবিদাই পরাবিদ্যা,লোকে বিদ্যার্জন করে কেন? শুধু ঈশ্বরে ভক্তিমান হবে বলে,"পড়ে কেন লোক"?কৃষ্ণভক্তি জানবারে।* *সে যদি না হয় তবে বিদ্যায় কি করে?* *কোনো লৌকিক যুক্তি দিয়েই ঈশ্বরতত্ত্ব স্থাপিত করা যায় না,* *ঈশ্বরতত্ত্ব একমাত্র অনুভবসিদ্ধ।সুতরাং ঈশ্বরকে অনুভবের মধ্য দিয়ে নিয়ে এস।* *সেই অনুভবেই রসের উত্থান,সেই রসেই ভক্তই ভক্তি,আর সেই ভক্তিতেই আনন্দঘন ঈশ্বরের প্রকাশ।* *এককথায় শ্রীকৃষ্ণ ভজনই ভক্তি।ইহলোক ও পরলোকের কামনা বর্জন করে ভগবানে চিত্ত-অর্পণ বা তন্ময়তাই ভক্তি।* *"সা পরানুরক্তিরীশ্বরে।সা তস্মিন পরমপ্রেমরূপা।" ভগবানে পরম প্রেমই ভক্তি।* *জগৎকে যে ভালবাসা দিয়ে ঢেকে রেখেছি,তা ঈশ্বরকে দেওয়ার নামই ভক্তি।* *ষড়রিপুকে স্বতন্ত্র ভাবে নিধন করবার জন্যে চেষ্টা করতে হবেনা,মধুর ভাবগুলিকেও নষ্ট করবার দরকার নেই,শুধু ভজনে শুধু ভক্তিতেই ষড়রিপুর বিষদাঁত ক্ষয় হয়ে যাবে।* *গাঢ় হবে মধুরের উৎসব, পঞ্চরসের রসবৈচিত্রী।নরোত্তম ঠাকুর বলেছেন,"কাম দাও কৃষ্ণসেবার্পণে,ক্ষোধ "ভক্তদ্বেষীজনে"* *লোভ "সাধুসঙ্গে কৃষ্ণকথা" মোহ "ইষ্টলাভ বিনে"আর মদ "কৃষ্ণগুণগানে"।* *আর সিদ্ধ অবস্থায় প্রেম যদি জাগে তা হলে আর মাৎসর্য্য কোথায়?* *যারা জ্ঞানমার্গের লোক,যারা কর্মকেই ফলদাতা ভাবে,যারা যুক্তি দিয়ে ভগবানকে বিচার করতে চায়,যারা পরদ্বেষী,ভগবৎবিমুখ,প্রেম তাদের স্পর্শও করে না।* *ভগবানের পরমসারভূতা স্থরূপশক্তির প্রধানবৃত্তির নাম হ্লাদিনীশক্তি।* *হ্লাদিনীর প্রধান বৃত্তিই ভক্তি,অপর নামে রতি,প্রীতি,প্রেম।* *সিদ্ধির চেয়ে রতি গরীয়সী,মুক্তির চেয়ে ভক্তি।* *শ্রীকৃষ্ণের চরণসেবায় যার মন রত,তার মোক্ষে কোনো স্পৃহা নেই।* *যে মহানন্দে ভগবৎকথাসাগরে বিহার করেন,সে চতুর্বর্গকেও তৃণের মত জ্ঞান করে।*
*ঈশ্বরসেবা বর্জন করে ভক্ত "সালোক্য,সাযুজ্য,সামীপ্য বা স্বারূপ্য কোন মুক্তি চাই না।*
*কৃষ্ণ যদি ছুছে ভক্তে ভুক্তি মুক্তি দিয়া।*
*কভু প্রেমভক্তি না দেয় রাখে লুকাইয়া।।*
*যারা ভুক্তি-মুক্তি পেয়েই খুশি তাদের শ্রীকৃষ্ণ আর ভক্তি দেন না।যাদের অন্তরে শুধু ভুক্তি-মুক্তির স্পৃহা(অভিলাষ) তাদের পক্ষে ভক্তি সুদুর্লভা।ভুক্তি-মুক্তির বাসনা দূর হলে পরেই ভক্তির সমুচ্ছাস(স্ফূর্তি)।* *পদকর্তা বললেন,কিন্তু শ্রীচৈতন্যদেব পাত্রাপাত্র বিচার করলেন না,প্রেম দিলেন নির্বিচারে,আসক্ত,অনাসক্ত,সজ্জন, দুর্জন,হিন্দু,মুসলমান সকলকে।যেহেতু শ্রীকৃষ্ণ চৈতন্য শ্রীকৃষ্ণের সঙ্গে অভিন্ন হয়েও স্বতন্ত্র ঈশ্বর।*
*হেন প্রেম শ্রীচৈতন্য দিল যথাতথা*
*জগাই মাধাই পর্যন্ত অন্যের কি কথা।।*
*স্বতন্ত্র ঈশ্বর -- প্রেম-নিগুঢ় ভান্ডার।*
*বিলাইলা যারে তারে না কৈল বিচার।।*
*ভক্তিই অমৃতস্বরূপা,ভক্তিই মধুরিমার পূর্ণিমা।*
*জয় নিতাই গৌর হরিবল,একটু অন্যভাবে ব্যাখ্যা দিলাম রসোদ্গারের*
*কাম ক্রোধ লোভ মোহ,মদ মাৎসর্য্য দম্ভ সহ,*
*স্থানে স্থানে নিযুক্ত করিব।*
*আনন্দ করি হৃদয়,রিপু করি পরাজয়,*
*অনায়াসে গোবিন্দ ভজিব।।*
*🌻কাম,ক্রোধ,লোভ,মোহ,মদ ও মাৎসর্য্য, দম্ভসহ স্থানে স্থানে নিযুক্ত করিব।* *শ্রীকৃষ্ণ ভজন বিরোধী রিপুগণকে বশীভূত করবার শ্রেষ্ঠতম উপায় শ্রীকৃষ্ণ সম্বন্ধনীয় এক একটি বিষয়ে এক এক রিপুকে নিয়োগ করা।* *জ্ঞানী,যোগী কৃচ্ছ্র সাধনদ্বারা কামাদি রিপুকে বিনাশ না করলে সেই সেই সাধনায় সিদ্ধিলাভ কখনই হয় না।* *কিন্তু ইন্দ্রিয় দ্বারে যে সব ইন্দ্রিয়-অধিষ্ঠাত্রী দেবগণ অবস্থান করেন,তারা ভোগপ্রিয়,কঠোর ত্যাগ বা ইন্দ্রিয় নিগ্রহ তাদের মোটেই পছন্দ হয় না।* *তাই তারা যখন বিষয়ের উপর প্রবল বার্তা আসতে দেখে তখন জোর করে ইন্দ্রিয়দ্বার উদঘাটিত করে দেয়।* *তখন জ্ঞানী সাধকের পুনরায় সংসারদশা ভোগব্যতীত উপায়ান্তর হতে সমর্থ হন না।*
*""দেবী হ্যেষা গুণময়ী মম মায়া দুরত্যয়া।মামেব যে প্রপদন্তে মায়া মেতাং তরন্তি তে।।"" শ্রীভগবান অর্জুনকে বললেন,জীবমোহিনী আমার এই ত্রিগুণাত্মিকা মায়া অতিশয় দুরতিক্রমনীয়া;যারা আমার শরণাপন্ন হয়,তারাই এই মায়া সাগর উত্তীর্ণ হতে সক্ষম হয়ে থাকে।* *শ্রীভগবানের চরণে শরণাগত ভক্তগণ অতি সুচতুর,তাঁরা জানেন,যে রসপ্রিয় সে রস চাইবেই,যে সব ইন্দ্রিয়কুল কুৎসিত রসপ্রিয় বা বিষয়রসনিষ্ঠ তারা যদি কোন উৎকৃষ্টতর রসের আস্বাদন না পাই,* *তবে তারা কখনই ঐ ঘৃণ্য বিষয়রসের নেশা করতে সমর্থ হবে না।* *তাই তারা*
*"তদেব রম্যং রুচিরং নবং নবং তদেব শশ্বন্মন সো মহোৎসবম্।* *অর্থ্যাৎ=অতি রুচির প্রতিক্ষণে নব-নবায়মান ও চিত্ত মনের মহানন্দ দায়ক ভগবৎমাধুর্য্যরস ইন্দিয় ও মনের কাছে পৌঁছায়ে দেন।* *তখন মন এবং ইন্দ্রিয় ঘৃণ্য বা বীভৎস্য বিষয়রস স্পৃহা(বাসনা)চিরতরে ত্যাগ করে সেই ভগবন্মাধুর্য্যরসসিন্ধুতে ডুবে চিরতরে ধন্য হয়ে যায়।* *শ্রীহরিচরণে শরণাগত ভক্তগণ তাই কাম,ক্রোধাদি রিপুগণের গতিকে এমনভাবে অতি সুকৌশলে ভগবদ্ মুখী করে থাকেন যে রিপুগণ তাদের স্বাভাবিক বৈরতা(শত্রুতা)ত্যাগ করে অচিন্ত্যশক্তিশালী ভক্তিদেবীর করুণায় স্পর্শমণির স্পর্শে মলিন লৌহের সুবর্ণত্ব প্রাপ্তির মত চিন্ময়ত্ব প্রাপ্ত হয়ে ভক্তের ভজনপথের মহা সহায়ক বা পরমমিত্র হয়ে থাকে।* *যদি কোন শত্রু কোন পাত্রের গুণে,কালের গুণে,বা স্থানের গুণে বৈরতা বা শত্রুতা ত্যাগ করে মহাবান্ধবের মত কাজ করে থাকে তবে কোন বুদ্ধিমান ব্যক্তি সেই শত্রুকে বিনাশের ইচ্ছা করেন?*
*শ্রীভাগবত পাদপদ্মে শরণাগত ভক্তেরগুণে বা তাঁর হৃদয়স্থ ভক্তির গুণে ঐ মহারিপুগণেরও স্বভাবের পরিবর্তন ঘটে থাকে।* *""অবের্মিত্রং বিষং পথ্যমধর্মো ধর্মতাং ব্রজেৎ।সুপ্রসন্নে হৃষীকেশে বিপরীতে বিপর্য্যয়""।।* *অর্থ্যাৎ=শ্রীহরি যাঁর প্রতি প্রসন্ন হন,তাঁর শত্রুও মিত্র হয়ে যায়,বিষ তাঁকে অমৃতের মত অমরত্ব দান করে এবং অধর্মও তাঁর কাছে ধর্ম হয়ে থাকে।* *তাঁর প্রতি সবই বিপরীত হয়ে তাঁর সেবার কার্য্য করে থাকে।* *শ্রীঠাকুর মহাশয় তাই বলেছেন,আমরা শ্রীহরির শ্রীচরণাশ্রিত ভক্ত,আমরা কাম,ক্রোধ,লোভ, মোহ, মদ, মাৎসর্য্য,দম্ভাদিকে জ্ঞানী,যোগীর মত বিনাশের চেষ্টা না করে শ্রীগোবিন্দ সেবার যথাযোগ্য জায়গায় নিয়োজিত করব।* *অর্থ্যাৎ শ্রীহরিভজনের যেখানে যার উপযোগিতা, সেই সেই জায়গায় তাদের নিযুক্ত করব।* *এইভাবে ভজনের যথাস্থানে এদের নিয়োজিত করতে পারলে তবেই ইহাদের যথাযথ পরাভব হবে।*
*মহত্বের দ্বারাই দুষ্টশত্রুর পরাজয় হয়ে থাকে।*
*🌻🌻🌻দ্বিতীয় পদ🌻🌻🌻*
*রজনী কাহিনী,কহিতে রমণী,*
*পুলকে পূরল দেহা।*
*কনক বরণী,কি হৈল না জানি,*
*সোঙরি সে সব লেহা।।*
*অঙ্গের বসন,খসয়ে সঘন,*
*নয়নে ভরয়ে লোর।*
*বিষাদে বিকল,বিসোরি সকল,*
*চরণ না চলে থোর।।*
*হৃদয়-মন্দিরে,পিরীতি পালঙ্ক,*
*রসের বালিশ তায়।*
*আরতি তোষণী,তাহাতে অমনি,*
*শুতল রসিক রায়।।*
*পিয়ার পিরীতি,কহয়ে যুবতী,*
*ধরিয়া সখির করে।*
*শেখর সত্বরে, কহয়ে রাধারে,*
*দেখিবে নাগর বরে।।*
*🌼🌼🌼তৃতীয় পদ🌼🌼🌼*
*কানু সে ছৈল সোনার।*
*মঝু মন কাঞ্চন,আপন প্রেম মণি,,*
*জোড়ি পিন্ধায়ল হার।*
*বেণুক ফুক, বুক মদনানল,*
*কুল ইন্ধন মাহা জাড়ি।।*
*দরশন পানি,পরশ সোহাগল,*
*শ্রমজলে রাখল ডারি।।*
*নব অনুরাগ, রঙ্গে পুন রঞ্জল,*
*মূল না জানয়ে কোই।*
*গুরুজন নয়ন, চৌরভয়ে ছিপিয়ে,*
*প্রাণ লাখ সম গোই।।*
*যো রসে আগরি,বিদগধ নগরী,*
*হেরইতে তাকর সাধ।*
*গোবিন্দ দাস,কহই আনে হেরিলে,*
*জানি হোয়ত পরমাদ।।*
*🌴শ্রীমতীরাধারাণী অন্তরঙ্গা সখী শ্যামলা,বিমলা, মঙ্গলা, অবলা প্রভৃতির প্রশ্ন শ্রবণে অনুরাগিনীর অনুরাগ বৃদ্ধি হল।* *বলতে লাগলেন,সখী!আমার (হৃদয় বল্লভ)কৃষ্ণ(ছৈল সোনার) ছিলার অর্থ্যাৎ সূক্ষ্ম কারিকর।* *সেনার=স্বর্ণকার,মঝু=আমার, কাঞ্চন=স্বর্ণ,আপন=কৃষ্ণের, জোড়ি=সংযোগ করিয়া, হার=মাল্য,* *বেণুক ফুক=(ফুকনালা) আফরে আগুন জ্বালিবার চোঙ্গা,আমার বক্ষ মদনানলে ভরা।* *কুল=কয়লা করবার (ইন্ধন)জ্বালানি কাঠ।পানি=পাইন,পরশ=স্পর্শ,সোহাগল=সোহাগা,শ্রমজলে=ঘামজলে,রাখল ডারি=ডুবিয়ে রাখল।* *রঞ্জল=রঞ্জিত করল,মূল=মূল্য, না* *জানয়ে কোই=কেউ জানে না,চৌর ভয়ে=চোরের* *ভয়ে,ছাপিয়ে=লুকিয়ে,*
*গোই=গোপনে,যো=যে,আগরি=আগল* *বা অধিকা ও আধার,*
*বিদগধ নাগরী=বিদগ্ধ ধনি।*
*তাকর=তার,সাধ=অভিলাষ,পরমাদ=প্রমাদ।*
*🌴🌴🌴চতুর্থ পদ🌴🌴🌴*
*এ কথা কহিবে সই এ কথা কহিবে।*
*অবলা এতেক তপ করিয়াছে কবে।।*
*পুরুষ পরশ-মণি নন্দের কুমার।*
*কি ধন লাগিয়ে ধরে চরণে হামার।।*
*কাহাকে কহিব সখি মরমের কথা*
*নাগর হৈয়া দেয় মোর চরণে আলতা।।*
*আপন চূড়ার বেশ বনায়া আমারে।*
*রমণী হইয়া যেন রহে মোর কোরে।।*
*সরম সই কহিতে কহিতে সরম।*
*আমারে আচরে সোই পুরুষ ধরম।।*
*জ্ঞানদাস কহে শুন শুন বিনোদিনী।*
*জিতে কি পাসরা যায় কানু গুণমণি।।*
*🌻শ্রীমতী রাইধনি রজনী বিলাসের কথা স্বতন্ত্ররী সখিদের বলছেন,সখি!আমার মত অবলনারী কি এমন তপস্যা করেছিলাম যে,যিনি পুরুষ শ্রেষ্ঠ,পরম ভক্তবৎসল,যে যখন যাহা চাই,মনোআশা পূরণ করেন,তিনি আমার চরণ ধরে বড়ই যত্ন করে আহা-হা আমার চরণে আলতা পরিয়ে দিয়েছিল।* *এখানে পদকর্তা বলছেন,কত যোগীন্দ্র,কত মুনিন্দ্র,কত ব্রহ্মর্ষি হাজার হাজার,লক্ষ লক্ষ বৎসর ধ্যান,তপস্যা করে যাঁর চরণে আশ্রয় পাই না,আজ তিনি পরম পরম ভক্তচূড়ামণি শ্রীমতী রাধা ঠাকুরাণীর শ্রীচরণ ধরে,সেই চরণে আলতা পরাচ্ছেন,ধন্য,ধন্যাতি ধন্য শ্রীমতী তোমার তপস্যা।* *রাধারাণী বলছেন সখি!আর কি হল জানিস?* *আমার প্রাণবল্লভের যে চূড়ার বেশ, কত যত্ন করে আমাকে সেই বেশে সাজালেন,যখন দর্পণে নিজ মুখ দেখলাম মনে হল যেন আমিই সেই ভক্তবৎসল শ্রীকৃষ্ণ।* *আবার জানিস সখি,আমার প্রাণবল্লভ আমার কোলে বসে আছেন আর আমার মুখ দর্শন করে,আর কি বলব সই,বলতে বড়ই লজ্জা হয়,আমায় কতই না আদর যত্ন করেছেন।* *পদকর্তা জ্ঞানদাস বলছেন,ওগো বিনোদিনী! জিতে কি পাসরা যায় কানু গুণমণি।*
*🌻🌻পঞ্চম পদ🌻🌻*
*আজুক রজনী,নিধুবনে আনি,*
*করল বিনোদ রাস।*
*রসের সাগরে, ডুবাইল মোরে,*
*ভুলিলু আপন বাস।।*
*শুনহ মরমী সই।*
*তুহুঁ সে আমার,পরাণের দোসর,*
*তেঞি সে তোমারে কই।।*
*তাহার সাধন,বচন যতেক,*
*তাহা কি কহনে যায়।*
*রতি বিপরীত,লাগিয়া নাগর,*
*ধরল হামারি পায়।।*
*তাহার পিরীতে, বশ হইয়া,*
*করিনু তাহারি মত।*
*না জানিনু মুঞি,তাহার সুখে,*
*আপনি হইনু রত।।*
*মোর শ্রমজল, হইয়া বিকল,*
*মোছয়ে আপনা করে।*
*বীজন লইয়া,আপনি বীজয়ে,*
*আমার ছরম ডরে।।*
*সে সব কাহিনী,কহিতে আপনি,*
*অবশ হইল অঙ্গ।*
*এ রাধামোহন,দাস কি শুনব,*
*এ সব প্রেমক রঙ্গ।।*
&&&&&&&&&&&&&&&&&&&&&&&
*কহিতে কানুর বিলাস কথা।*
*ছল ছল ভেল নয়নরাতা।।*
*গদ গদ কন্ঠ না সরে বাণী।*
*বিবরণ ভেল কিছুই না জানি।।*
*পুলকে পূরল সকল দেহ।*
*স্তব্ধ হইল না চলে সেহ।।*
*ঝর ঝর বহি পড়য়ে ঘাম।*
*খেণে থরহরি কম্পমান।।*
*মূরছি পড়ল সখীর গায়।*
*হেরি সহচরী চঙক্ পায়।।*
*কোরে করি সখি রহল চাই।*
*খেণেকে চেতন পাইলা রাই।।*
*সখি কহে বিপরীত সে দেখি।*
*কহিতে এমন কাঁহা না লেখি।।*
*আমরা পুছিনু সুখের কথা।*
*কহিতে তোমার কি হৈল ব্যথা।।*
*রাই কহে মোর জীবন-কানু।*
*সে গুণ কহিতে অবশ তনু।।*
*শেখর কহয়ে বসিয়া তাই।*
*এমন প্রেমের বালাই যাই।।*
*🌴এখানেই রহিল রসোদ্গার লীলা🌴*
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
👇👇👇এই লিখনী 📚 PDF 📚 ক্লিক করুন 👇👇👇
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️
꧁ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ📱7001138871꧂
নিবাস- বাঁশবাড়ী, কীর্তন মন্দিরের পাশে, পোঃ- বাঁশবাড়ী, থানা- ইংরেজ বাজার, জেলা- মালদহ, পশ্চিমবঙ্গ, পিন কোড- ৭৩২১০১।
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏
আমায় দেওয়া ওনার এই অমূল্য লিখনী সেবা, তা সকলের মধ্যে প্রকাশ করলাম। ওনার এই অমূল্য দান সমগ্র বৈষ্ণব সমাজ অনন্তকাল মনে রাখিবে।
🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
*••••┉━❀꧁ 🙏 রাধে রাধে 🙏 ꧂❀━┅••••*
*••••┉━❀꧁ 🙏 রাধে রাধে 🙏 ꧂❀━┅••••*
শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য প্রভু নিত্যানন্দ
হরে কৃষ্ণ হরে রাম শ্রীরাধেগোবিন্দ।।
*••••┉━❀꧁ 🙏 জয় জগন্নাথ 🙏 ꧂❀━┅••••*
হরে কৃষ্ণ হরে কৃষ্ণ কৃষ্ণ কৃষ্ণ হরে হরে
হরে রাম হরে রাম রাম রাম হরে হরে॥
*••••┉━❀꧁ 🙏 জয় রাধাকান্ত 🙏 ꧂ ❀━┅••••*
💮❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀💮
💮❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀💮
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧

