✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
꧁ *গৌরাঙ্গের দুটি পদ, যার ধন সম্পদ* ꧂
এই লিংকে 👇👇👇🙏👇👇👇 ক্লিক করুন
꧁ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ ꧂
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
꧁ টিকা বা অন্যান্য ধর্মীয় লিখনী 🙏 সূচীপত্র ꧂
এই লিংকে 👇👇👇🙏👇👇👇 ক্লিক করুন
꧁ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ ꧂
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
👣👣👣👣👣👣👣👣👣👣👣
*গৌরাঙ্গের দুটি পদ, যার ধন সম্পদ,*
*সে জানে ভকতি-রসসার।*
*গৌরাঙ্গের মধুর লীলা,যার কর্ণে প্রবেশিলা,*
*হৃদয় নির্মল ভেল তার।।*
*যে গৌরাঙ্গের নাম লয়,তার হয় প্রেমোদয়,*
*তারে মুঞি যাই বলিহারী।*
*গোরাঙ্গ-গুণেতে ঝুরে,নিত্যলীলা তারে স্ফুরে,*
*সেজন ভকতি অধিকারী।।*
*গৌরাঙ্গের সঙ্গীগণে,নিত্যসিদ্ধ করি মানে,*
*সে যায় ব্রজেন্দ্রসুত পাশ।*
*শ্রীগৌড়মন্ডলভূমি,যেবা জানে চিন্তামণি,*
*তার হয় ব্রজভূমে বাস।।*
*গৌর-প্রেম রসার্ণবে,সে তরঙ্গে যেবা ডুবে,*
*সে রাধামাধব অন্তরঙ্গ।*
*গৃহে বা বনেতে থাকে,হা গৌরাঙ্গ বলে ডাকে,*
*নরোত্তম মাগে তার সঙ্গ।।*
👣👣👣👣👣👣👣👣👣👣👣
*শ্রীঠাকুরমহাশয় গৌরভক্তের মহিমা বর্ণন প্রসঙ্গে কয়েকটি রহস্যময় বা নিগূঢ় তথ্যের আবিস্কার করছেন।শ্রীগৌরচরণে শরণাগত ও গৌরকে যাঁরা হৃদয়ে বেঁধেছেন,তাঁদের আনুষঙ্গিক ভাবে সংসার নাশ এবং মুখ্যফলে প্রেমধন প্রাপ্তির কথা উল্লেখ করেছেন। কিন্তু জাতিগত বা পরিমাণগতভাবে সেই প্রেম কত উন্নত বা কিরকম তা বলা হয় নাই। এইজন্য এই পদের প্রথমেই বলেছেন, "গৌরাঙ্গের দুটি পদ,যার ধন সম্পদ, সে জানে ভকতি রস সার"।* *শ্রীগৌরাঙ্গের পাদপদ্মদ্বয় যাঁর ধন বা সম্পদ্ অর্থ্যাৎ যাঁরা গৌরভক্ত,কেননা ভক্তব্যতীত কেহই ভগবানের চরণকে ধন বা সম্পদরূপে গ্রহণ করতে পারেন না তাঁরা ভক্তিরসসার বা সর্বোৎকৃষ্ট ভক্তিরস জানেন বা অনুভব করেন।* *যেমন ধন বা সম্পদ্ থাকলে ভোগ হয় এবং আনুষঙ্গিকভাবেই দুঃখ দারিদ্রের নাশ হয়ে থাকে,তেমনি গৌরচরণকে যাঁরা ধনরূপে গ্রহণ করেছেন,সেই গৌরভক্তগণের সর্বোৎকৃষ্ট ভক্তিরসের আস্বাদন লাভ হয় ("জানা"অর্থে অনুভব করা বা আস্বাদন করা) এবং আনুষঙ্গিকভাবেই সংসাররূপ দারিদ্রাদি নাশপ্রাপ্ত হয়ে থাকে।*
*সেই সর্বোৎকৃষ্ট ভক্তিরস বা ভক্তিরসসারই হচ্ছে,পরম মাধুর্য্যময় ব্রজভক্তির সর্ব উচ্চে থাকা রাধাদাসী বা মঞ্জরীগণের প্রেমরস।এই সর্বোৎকৃষ্ট প্রেমরস গৌরভজনকারীগণের চিত্তে স্বতঃস্ফূর্তভাবেই সমুদিত (উদয়)হয়ে থাকে।* *এই প্রেমরসবন্যায় বিশ্বকে আপ্লাবিত (যেমন বন্যা ভাসিয়ে দেয়)করবার জন্যই শ্রীগৌরাঙ্গের প্রেমময় অবতার।* *এই ভক্তিরসের আস্বাদন এতই চমৎকারিত্বপূর্ণ যে,স্বয়ং গৌরাঙ্গদেবেরই শ্রীরাধামাধুরী আস্বাদনের পর এই প্রেম রসাস্বাদনের বাসনা অন্তরে জেগেছিল।তাই শ্রীকবিরাজ গোস্বামীপাদ লিখেছেন=*
*আপনে করি আস্বাদনে,শিখাইল ভক্তগণে,*
*প্রেমচিন্তামণির প্রভু ধনী।*
*নাহি জানে স্থানাস্থান,যারে তারে কৈল দান,*
*মহাপ্রভু দাতা শিরোমণি।।*
*ঐছে গুপ্ত ভাবসিন্ধু,ব্রহ্মা না পায় যার একবিন্দু,*
*হেন ধন বিলাইল সংসারে।*
*ঐছে দয়াল অবতার,ঐছে দাতা নাহি আর,*
*গুণ কেহো নারে বর্ণিবারে।।*
*🍁অথবা প্রেমরসময় অবতার শ্রীগৌরের ভক্তগণ ভক্তিরসকেই সকল সাধ্য সাধনার সার বা শ্রেষ্ঠরূপে জানেন বা অনুভব করে থাকেন।* *কারণ প্রেমরসময়মূর্তি গৌরসুন্দরের শ্রীপাদপদ্মবিগলিত মকরন্দরসপানে তাঁরা এতই আস্বাদন লাভ করেন যে,অন্য সবই তাঁদের কাছে তুচ্ছাতিতুচ্ছ বলে মনে হয়ে থাকে। শ্রীপ্রবোধানন্দ লিখেছেন,*
*অপারাবারঞ্চেদমৃতময়পাথোধিমধিকং, বিমথ্য প্রাপ্তং স্যাৎ কিমপি পরমং সারমতুলম্।*
*তথাপি শ্রীগৌরাকৃতি মদনগোপালচরণ চ্ছটাস্পৃষ্টানাং তদ্বহতি বিকটামেব কটুতাম্।।*
*🌳"শ্রীগৌরভক্তগণ শ্রীগৌরপাদপদ্ম মকরন্দরসের যে আস্বাদন পেয়েছেন, তা অতি অতুলনীয়।সমুদ্রমন্থনে যে অমৃত উঠেছিল, যার আস্বাদন লোভে দেবাসুর সকলে মত্ত হয়েছিলেন, সেই অমৃতেরই যদি অপার সিন্ধু হত,তা মন্থন করে যদি কোন অনির্বচনীয় মধুরাতিমধুর অমৃত সারবস্তু লাভ করা যেত, শ্রীগোরাকৃতি মদনগোপালের শ্রীচরণ-মধুপানে মত্ত ভক্তভৃঙ্গের কাছে তাহাও নিতান্ত বিরস হয়ে যেত।*
ক্রমাগত
*অতপর বললেন,"গৌরাঙ্গের মধুর লীলা,যার কর্ণে প্রবেশিলা,হৃদয় নির্মল ভেল তার"।শ্রীগৌরাঙ্গের লীলা অতীব মধুর, এই মধুরতার তুলনা কোথাও নেই।ভগবানের চেষ্টা দুই প্রকার=একটি কর্ম,অপরটি লীলা, ভগবান কোন উদ্দেশ্য নিয়ে যা করে থাকেন,তাহা কর্ম। যেমন ধরণীরভার হরণ,অসুর-মারণাদি চেষ্টাই তাঁর কর্ম।* *"স্বেচ্ছয়া হর্ষাৎ অনায়াসেনৈব ক্রিয়মাণা চেষ্টা লীলা", অর্থ্যাৎ স্বেচ্ছায় আনন্দ-উল্লাসে অনায়াসে করা চেষ্টার নাম "লীলা"। বিশুদ্ধ লীলার ক্ষেত্র শ্রীব্রজধাম।এখানে যে দৈত্যবধাদি কাজ দেখা গেছে, তাও আনন্দ উল্লাসভরেই সখা,মাতাপিতা এবং কান্তাগণের কৌতুকরস এবং উল্লাসবর্ধনকারীরূপেই প্রকাশ পেয়েছে।* *এইজন্যই ব্রজেন্দ্রনন্দনকে লীলা-পুরুষোত্তম বলা হয়।সেই ব্রজেন্দ্রনন্দনই প্রেমময়ী শ্রীরাধারাণীর ভাবকান্তি নিয়ে গৌর হয়েছেন এবং পাষাণ গলানো প্রেমের লীলা প্রকাশ করে বিশ্বজীবের চিত্তকে দ্রবিত করেছেন।* *এইজন্য শ্রীগৌরাঙ্গকে প্রেম-পুরুষোত্তম বলা হয়।গৌরাঙ্গের প্রেমামৃতরসময় লীলামাধুর্য্যের কোথাও তুলনা নাই। তাই শ্রীপ্রবোধানন্দ লিখেছেন।*
*সান্দ্রানন্দোজ্জ্বলরসময় প্রেমপীযূষসিন্ধোঃ কোটিং বর্ষন্ কিমপি করুণাস্নিগ্ধনেত্রাঞ্চলেন।*
*কোহয়ং দেবঃ কনককদলীগর্ভগৌরাঙ্গযষ্টিশ্চেতোহকস্মান্মম নিজপদে গাঢ়যুক্তং চকার।।*
*🌻"কনককদলীগর্ভের মতো সুচিক্কণ উজ্জ্বল গৌরবর্ণ অঙ্গযষ্টি যাঁর,ইনি কোন দেবতা। যিনি করুণাস্নিগ্ধ নয়নাঞ্চলে অতি নিবিড় আনন্দপূর্ণ উজ্জ্বলরসময় কোটি কোটি প্রেমামৃতসিন্ধু বর্ষণ করে আমার চিত্তকে সহসা নিজরূপে গাঢ়রুপে যুক্ত করলেন।*
*শ্রীপাদ স্বরূপদামোদর গোস্বামী,শ্রীমুরারি গুপ্ত তাঁদের কড়চায়,শ্রীকবিকর্ণপূর তাঁর চৈতন্যচন্দ্রোদয় নাটকে, ব্যাসাবতার শ্রীবৃন্দাবনদাস ঠাকুর শ্রীচৈতন্যভাগবতে,শ্রীলোচনদাস শ্রীচৈতন্যমঙ্গলে,শ্রীকৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামীপাদ তাঁর শ্রীচৈতন্যচরিতামৃতে শ্রীগৌরাঙ্গের মধুরলীলা বর্ণনা করে বিশ্বজীবের মহাকল্যাণ সাধন করেছিলেন।* *মধুময় গৌরলীলা কানে প্রবেশ করলেই হৃদয় নির্মল হয়ে থাকে। মহাশক্তিশালী শ্রবণ মঙ্গলময় গৌরলীলা কানে শোধা মাত্রে অর্থবোধের কোন অপেক্ষা না রেখেই চিত্ত শুদ্ধ করে চিত্তে প্রেমের সঞ্চার করে দেয়।* *কবিরাজ গোস্বামীপাদ লিখেছেন=*
*যেবা নাহি বুঝে কেহ,শুনিতে শুনিতে সেহো,*
*কি অদ্ভুত চৈতন্যচরিত।*
*কৃষ্ণে উপজীবে প্রীতি,জানিবে রসের রীতি,*
*শুনিলেই হৈবে বড় হিত।।*
ক্রমাগত
*শ্রীগৌরাঙ্গের মধুরলীলা কর্ণে প্রবেশ করলে চিত্ত নির্মল হবে, ইহা গৌরলীলা শ্রবণের আনুষঙ্গিক ফল,মুখ্যফলে ব্রজমাধুরী আস্বাদনে সাধক ধন্য হবেন। শ্রীকৃষ্ণদাস কহিরাজ গোস্বামীপাদ তাঁর মধুস্রাবী লেখনিতে শ্রীচৈতন্যলীলার যে মহত্ত্ব এবং ফলশ্রুতি বর্ণনা করেছেন, সত্যই তা বিশ্বে অতি অতুলন।*
*কৃষ্ণলীলামৃতসার,তার শত শত ধার,*
*দশদিগে বহে যাহা হৈতে।*
*সে চৈতন্যলীলা হয়,সরোবর অক্ষয়,*
*মন-হংস চরাহ তাহাতে।।*
*ভক্তগণ!শুন মোর দৈন্যবচন।*
*তোমা সভার পদধূলি,অঙ্গে বিভূষণ করি,*
*কিছু মুঞি করোঁ নিবেদন।।*
*কৃষ্ণভক্তি-সিদ্ধান্তগণ,যাতে প্রফুল্ল পদ্মবন,*
*তার মধু কর আস্বাদন।*
*প্রেমরস-কুমুদ-বনে,প্রফুল্লিত রাত্রিদিনে,*
*তাতে চরাও মনোভৃঙ্গগণ।।*
*নানাভাবে ভক্তগণ,হংস-চক্রবাকগণ,*
*যাতে সভে করেন বিহার।*
*কৃষ্ণকেলি সুমৃণাল,যাহা পাই সর্বকাল,*
*ভক্তহংস করয়ে আহার।।*
*সেই সরোবরে গিয়া,হংস চক্রবাক হৈয়া,*
*সদা তাঁহা করহ বিলাস।*
*খন্ডিবে সকল দুঃখ,পাইবে পরম সুখ,*
*অনায়াসে হবে প্রেমোল্লাস।।*
*এই অমৃত অনুক্ষণ,সাধু মহন্ত মেঘগণ,*
*বিশ্বোদ্যানে করে বরিষণ।*
*তাতে ফলে প্রেমফল,ভক্ত খায় নিরন্তর,*
*তার শেষে জীয়ে জগজন।।*
*চৈতন্যলীলামৃতপূর,কৃষ্ণলীলা- সুকর্পূর,*
*দোঁহে মেলি হয় সুমাধুর্য্য।*
*সাধু গুরু প্রসাদে,তাহা যেই আস্বাদে,*
*সেই জানে মাধুর্য্য-প্রাচুর্য্য।।*
*🌻অতঃপর বললেন,"যে গৌরাঙ্গের নাম লয়,তার হয় প্রেমোদয়,তারে মুঞি যাই বলিহারী। "গৌরাঙ্গ গুণেতে ঝুরে,নিত্যলীলা তারে স্ফুরে,সেজন ভকতি অধিকারী "।ঠাকুরমহাশয় গৌরাঙ্গের লীলার মহিমা বর্ণন করেছেন।* *যদিও লীলার ভিতরে নাম,রূপ,গুণ সবই অন্তর্ভুক্ত আছে,তথাপি নাম-সঙ্কীর্তন কলির যুগধর্ম এবং সর্বশ্রেষ্ঠ ভজনাঙ্গ বলে গৌরনাম কীর্তনের মহিমা বলছেন।* *যে গৌরাঙ্গের নাম জপ বা কীর্তন করে,তার প্রেমোদয় হয়,আমি তাঁর বলিহারী যাই।তাঁকে শত শত ধন্যবাদ!গৌরনাম জপ বা কীর্তনকারীর মাহাত্ম্য অবর্ণনীয়।নারপরাধ চিত্ত হলে কৃষ্ণনাম কীর্তনে অনায়াসে প্রেমোদয় হয়ে থাকে।* *শ্রীকবিরাজ গোস্বামীপাদ লিখেছেন,*
*এক কৃষ্ণনামে করে সর্বপাপ নাশ*।
*প্রেমের কারণ ভক্তি করেন প্রকাশ।।*
*প্রেমের উদয়ে হয় প্রেমের বিকার*।
*স্বেদ-কম্প-পুলকাদি গদগদাশ্রুধার*।।
*অনায়াসে ভবক্ষয়,কৃষ্ণের সেবন*।
*এক কৃষ্ণনামের ফল পাই এত ধন।।*
*হেন কৃষ্ণনাম যদি লয় বহুবার।*
*তবু যদি প্রেম নহে,নহে অশ্রুধার*।।
*তবে জানি অপরাধ তাহাতে প্রচুর*।
*কৃষ্ণনামবীজ তাহে না হয় অঙ্কুর*।।
*🌻একমাত্র নামাপরাধব্যতীত নামের প্রেমদানে অতি প্রবল শক্তিকে ব্যাহত করতে পারে।এইরকম আর কোন অনর্থেরই সামর্থ নাই।অপরাধীর প্রতি শ্রীনাম প্রসন্ন হন না বলে অপরাধের অপগম না হলে নাম কখনই প্রেমদান করে না।এইজন্যই শাস্ত্র ও মহাজনবাণীতে সর্বত্র নিরপরাধে নাম-কীর্তনের বিধান প্রদত্ত হয়েছে।* *নিরপরাধে নামকীর্তনে সঞ্চিত অপরাধগুলির অপগমে নাম প্রসন্ন হয়ে প্রেমদান করে থাকেন। চৈতন্যচরিতামৃতে বলা হয়েছে =*
*চৈতন্য নিত্যানন্দ এসব নাহিক বিচার।*
*নাম লইতে প্রেম দেন বহে অশ্রুধার।।*
*স্বতন্ত্র ঈশ্বর প্রভু অত্যন্ত উদার।*
*তাঁরে না ভজিলে কভু না হয় নিস্তার।।* *🌻শ্রীচৈতন্যে-নিত্যানন্দে এ সব বিচার নাই বলতে যে অপরাধের বিচার নাই, তা নই, কারণ মহাপ্রভু স্বয়ং গোপাল চাপালের বৈষ্ণব অপরাধের বিচার করেছেন।এমনকি নিজ মাতা শচীদেবীর অদ্বৈতাচার্য্যের প্রতি অপরাধের কথা বলেছেন।* *সুতরাং অপরাধের বিচার সবজায়গায়।তবে প্রকটলীলাকাল পযর্ন্তই স্থিতি।তাঁর অন্তর্ধানে এই শক্তিবিশেষও অন্তর্হিত হয়েছে।তবু প্রেমময় গৌরাঙ্গের নামের অন্যান্য ভগবন্নাম অপেক্ষা শীঘ্র অপরাধনাশের এবং প্রেমদানের শক্তি যে এখনো বিদ্যমান রয়েছে,তা সুনিশ্চিত।*
ক্রমাগত
*এইজন্যই শ্রীকবিরাজ গোস্বামীপাদ উল্লিখিত পয়ারগুলির প্রথমেই লিখেছেন=*
*অদ্যাপিহ দেখ,চৈতন্য নাম যেই লয়।*
*কৃষ্ণপ্রেমে পুলকাশ্রু বিহ্বল সে হয়।।*
*"নিত্যানন্দ"বলিতে হয় কৃষ্ণপ্রেমোদয়।*
*আউলায় সর্বঅঙ্গ,অশ্রুগঙ্গা বয়।।*
*🌻এইজন্যই গৌড়ীয় বৈষ্ণব সম্প্রদায়ে "হরেকৃষ্ণেতি" দ্বাত্রিংশ বর্ণাত্মক মহামন্ত্র জপ ও কীর্তনের পূর্বে শ্রীগৌরনাম জপ ও কীর্তনের বিশেষ বিধান দেখা যায়।*
*🌺তারপর গুণের কথা বললেন, "গৌরাঙ্গ গুণেতে ঝুরে,নিত্যলীলা তারে স্ফুরে,সেজন ভকতি অধিকারী"। ভগবান আনন্দময় বা রসময়,তাঁর নাম,গুণ,লীলাতে সেই আনন্দরূপতা বা রসরূপতার অভিব্যক্তি হয়ে থাকে।শ্রীগৌরাঙ্গ প্রেমময় বিগ্রহ,তাই তাঁর নাম,গুণ, লীলায় প্রেমেরই পূর্ণ অভিব্যক্তি(প্রকাশ)।* *সেই গৌরগুণেতে যাঁরা ঝুরেন অর্থ্যাৎ গৌরগুণ শুনে নয়নজলে ভাসেন,তাঁদের চিত্তে এতাদৃশ(এইরকম)প্রেমের প্রকাশ হয় যে, স্বপ্রকাশ গৌরাঙ্গের নিত্যলীলা এবং ব্রজে শ্রীশ্রীরাধামাধবের রহস্যময় লীলা তাঁদের নয়নের সামনে ফুটে উঠে। স্ফূর্তিটি যদিও সাক্ষাৎ নয়,তথাপি স্ফুরণকালে সাক্ষাৎকারের মতোই আস্বাদন লাভ হয়ে থাকে। সুতরাং তিনিই যথার্থ অতি রহস্যময় ব্রজভক্তির অধিকার প্রাপ্ত হয়েছেন।* *""সেজন ভকতি অধিকারী ""।* *🌻তারপর গৌরাঙ্গের পরিকরতত্ত্বের মহিমা নিরূপণ প্রসঙ্গে বললেন, "গৌরাঙ্গের সঙ্গিগণে,নিত্যসিদ্ধ করি মানে,সে যায় ব্রজেন্দ্রসুত পাশ"*। *ব্রজের ঠাকুর রাআর ভাবকান্তি অঙ্গীকার করে গৌর হলেন এবং ব্রজেরই সব নিত্যসিদ্ধ পরিকরগণকে নিজ পার্ষদরূপে নবদ্বীপে অবতীর্ণ করালেন।শ্রীমন্মহাপ্রভুর প্রিয় পার্ষদ শ্রীপাদ কবিকর্ণপুর তাঁর শ্রীগৌরগণোদ্দেশ দীপিকা গ্রন্থে ব্রজের কোন পার্ষদ নবদ্বীপে কোন রূপে অবতীর্ণ হয়েছেন, মহাপ্রভুর কৃপায় তা প্রকাশ করা হয়েছে।সুতরাং গৌরাঙ্গের লীলাসঙ্গীগণ কেহই তটস্থা জীবতত্ত্ব নহেন,তাঁরা সকলেই অনাদিসিদ্ধ নিত্যপরিকর।* *গৌরাঙ্গের মতো যাঁদের চিদানন্দময় বিগ্রহ, সুতরাং তাঁরই মতো গুণাবলী সম্পন্ন,নিজাপেক্ষা কোটিগুণ প্রেম বহন করে থাকেন। তারপর গৌরের ধামতত্ত্ব নিরূপণে বললেন, "শ্রীগৌড়মন্ডলভূমি, যেবা জানে চিন্তামণি,তার হয় ব্রজভূমে বাস"।* *ব্রজের অভিন্ন চিন্মমধাম শ্রীনবদ্বীপে মহাপ্রভুর আবির্ভাব এবং নবদ্বীপধামকে মধ্যমণির মতো কেন্দ্র করে গৌড়মন্ডলের বিভিন্ন গ্রামে ও নগরে যে সব গৌরপার্ষদগণের আবির্ভাবের জায়গা বা লীলামূমি, তা জড়ীয় বিশ্বের মতো প্রকৃতির পরিমাণ মাত্র নয়।* *চিন্তামণি যে রকম সর্বাভীষ্ট পূরণে সমর্থ, তেমনি ঐ সব চিন্ময় স্থান আশ্রিতকে প্রেমদানে ধন্য করতে সমর্থ এবং তাঁরাই ব্রজরসের অধিকারী।* *শেষে বললেন, ""গৌরপ্রেমরসার্ণবে,সে তরঙ্গে যেবা ডুবে,সে রাধামাধব অন্তরঙ্গ।গৃহে বা বনেতে থাকে,হা গৌরাঙ্গ!বলে ডাকে,নরোত্তম মাগে তার সঙ্গ""।* *গৌরপ্রেম যেন এক অতিবিশাল রসের অর্ণব বা মহাসিন্ধু।গৌর পার্ষদভাবে ভাবনিধি গৌরাঙ্গের সঙ্কীর্তন রসরঙ্গে বিচিত্র ভাবমাধুরী আস্বাদনের সঙ্গে মঞ্জরী বা রাধাকিঙ্করী ভাবে অতি রহস্যময় ব্রজমাধুরীর অদ্ভুত আস্বাদনসিন্ধু তরঙ্গে তরঙ্গে সন্তরণ-- কখনো ডুবা কখনো ভাসা!গৌরপ্রেমরসার্ণবে ডুবার ফল হচ্ছে,রাধামাধবের অতি অন্তরঙ্গ কিঙ্করীরূপে রহস্যময় নিকুঞ্জসেবা প্রাপ্তি।* *গৌরভক্ত গৃহাশ্রমে থাকুন আর ত্যাগাশ্রমেই থাকুন যিনি সতত "হা গৌরাঙ্গ! বলে ডাকেন বা অনুরাগময় ভজনজীবন যাপন করেন, তাঁর দুর্লভ সঙ্গ অতি অভিলষনীয়।"নরোত্তম মাগে তাঁর সঙ্গ"।*
*🙏বানান, ভুল ভ্রান্তি নিজগুণে ক্ষমা করবেন🙏*
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
👇👇👇এই লিখনী 📚 PDF 📚 ক্লিক করুন 👇👇👇
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️
꧁ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ📱7001138871꧂
নিবাস- বাঁশবাড়ী, কীর্তন মন্দিরের পাশে, পোঃ- বাঁশবাড়ী, থানা- ইংরেজ বাজার, জেলা- মালদহ, পশ্চিমবঙ্গ, পিন কোড- ৭৩২১০১।
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏
আমায় দেওয়া ওনার এই অমূল্য লিখনী সেবা, তা সকলের মধ্যে প্রকাশ করলাম। ওনার এই অমূল্য দান সমগ্র বৈষ্ণব সমাজ অনন্তকাল মনে রাখিবে।
🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
*••••┉━❀꧁ 🙏 রাধে রাধে 🙏 ꧂❀━┅••••*
*••••┉━❀꧁ 🙏 রাধে রাধে 🙏 ꧂❀━┅••••*
শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য প্রভু নিত্যানন্দ
হরে কৃষ্ণ হরে রাম শ্রীরাধেগোবিন্দ।।
*••••┉━❀꧁ 🙏 জয় জগন্নাথ 🙏 ꧂❀━┅••••*
হরে কৃষ্ণ হরে কৃষ্ণ কৃষ্ণ কৃষ্ণ হরে হরে
হরে রাম হরে রাম রাম রাম হরে হরে॥
Çc *••••┉━❀সব 🙏 জয় রাধাকান্ত 🙏 ꧂ ❀━┅••••*
💮❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀💮
💮❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀💮
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧








