✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
🆕 👉 গৌরাঙ্গলীলা 🍁 পঞ্চাঙ্ক নাটক 🍁 প্রথম দৃশ্য বৃন্দাবন✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📝 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2025/07/gourangaleela.html
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*🙌গৌরাঙ্গলীলা, পঞ্চাঙ্ক নাটক।*
*🌲প্রথম দৃশ্য=বৃন্দাবন।*
******************
*🚶রাখাল বালকগণ🚶*
*🍀প্রথম=আজ ভাই কানু এখনও এলো না কেন?এই বনফুলের মালা তার গলায় পরিয়ে দিয়ে দেখব কেমন মানায়।*
*🍀🔥দ্বিতীয়=ভাই কানু কি গুণ না জানে, তাকেএকটু না দেখলে আমাদের মন যেন কেমন করে।*
*🍀তৃতীয়=শুধু আমাদের কেন ভাই,ধেনুগুলো পর্য্যন্ত কানুকে না দেখলে,অস্থির হয়ে ছুটোছুটি করে,হাম্বারবে ডাকে,তৃণ খাই না, কেমন যেন হয়ে যায়। আবার কানুকে দেখলেই তাঁর কাছে ছুটে আসে,তাঁর গায়ে মুখ দিয়ে আদর করে, আহ্লাদে আটখানা হয়ে যায়।*
*🍀চতুর্থ=শুধু ধেনুগুলো কেন? আমি দেখেছি কানু গাছতলায় ঘুমিয়ে পড়েছে, আর গায়ে তাঁর মুখে রোদ্দুর লাগে বলে, ভয়ানক একটা গোখরো সাপ তাঁর মাথায় ফণা ধরে রয়েছে।*
*🍀প্রথম=আমি ভাই দেখেছি ময়ূরেও ঐরকম তাঁর মাথার উপর পেখম ধরে রয়েছে, কানু বেশ ঘুমোচ্ছে,মুখে একটুও রোদ্দুর লাগছে না।*
*🍀দ্বিতীয়=বনের তরু লতাগুলোও ফুলের বোঝা নিয়ে ডাল নিচু করে কানুর চরণে যেন ঢলে পড়ে।*
*🍀তৃতীয়=কিন্তু--- আজ ভাই, কানু এখনও আসছে না কেন? আয় ভাই, আমরা গান গেয়ে তাকে ডাকি--সে আমাদের গান শুনতে বড় ভালবাসে। যেখানেই থাকুক না কেন, ডাকলেই আসে।*
*গীত*
*কোথা হে ব্রজের সখা, দাও হে দেখা, ভাই কানাই।*
*হেরে তোমায় প্রাণ জুড়ায়।*
*নেচে নেচে,মধুর হেসে, দাঁড়াও এসে ভাই কানাই!*
*হেরে তোমায় প্রাণ জুড়ায়।।*
*♥নেচে নেচে শ্রীকৃষ্ণের প্রবেশ ও সখাদের মধ্যস্থলে দন্ডায়মান।*
*গেঁথেছি বনফুলের হার, সাধ হয়েছে পরাইতে গলেতে তোমার।*
*দেখবো কেমন শোভে মালা তোমার গলে,ভাই কানাই।*
*এস ভাই তোমায় সাজায়।।*
*🍀প্রথম=ভাই কানাই! আজ তোর মনটা যেন কেমন কেমন দেখছি কেন?*
*🍀কানাই=তোদের ছেড়ে যেতে হবে বলিয়া মন কেমন করছে।*
*🍀প্রথম=কেন ভাই? আমাদের ছেড়ে যাবি কেন?আমরা কি দোষ করেছি ভাই?*
*🍀কানাই=তোরা দোষ কিছু করিস নাই, তবে আমি এবার এ বৃন্দাবনলীলা ছেড়ে,এক নতূন লীলা করব----*
*গীত*
*নতূন বেশে নদীয়াতে নতূন খেলা খেলব এবার।*
*ছাড়ব বাঁশী,ধড়া চূড়া,কালো তো রব না আর।।*
*গৌর বরণ ধরিব,প্রেম ভিক্ষা মাগিব,*
*বিশ্বপ্রেমের ঢেউ বহাব, থাকবেনা আর ভেদ বিচার।*
*আচন্ডালে প্রেম বিলাব হয়ে প্রেমের অবতার।।*
*হরিনাম বিলাইব,নামের সুধা পান করাব,*
*ত্রিতাপ জ্বালা ঘুচে যাবে,নামে রুচি রবে যার।*
*হরি নামের তরী বেয়ে হবে সুখে ভব পার।।*
*🍀দ্বিতীয়=ভাই---আমরাও তোর সঙ্গে যাব,তোর নতূন লীলায় মাতব।*
*🍀কানাই=বেশ! বলাইদাদা নিতাই হবে, আর আমি নিমাই হব।তোরা সব আমার সঙ্গী হ'য়ে হরিনাম বিতরণ করবি।*
*🌹বালকগণ ও কানাই🌹*
*গীত*
*হরিনামে মাতবো সবাই,ভুলবো সকল যাতনা।*
*তা' হলেই সফল হবে আমার সে কামনা।।*
*হরি হরি হরি বলে,নাচবো সবাই বাহু তুলে,*
*নামের সুধা পান করিলে ঘুচবে সকল ভাবনা।।*
🙌🙌🙌🙌🙌🙌🙏🙌🙌🙌🙌🙌🙌
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
🆕 👉 গৌরাঙ্গলীলা 🍁 পঞ্চাঙ্ক নাটক 🍁 প্রথম দৃশ্য বৃন্দাবন✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📝 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2025/07/gourangaleela.html
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧ *🙌গৌরাঙ্গলীলা,পঞ্চাঙ্ক নাটক।*
*🌲দ্বিতীয় দৃশ্য= শ্রীজগন্নাথ মিশ্রের বাড়ী।*
*শ্রীজগন্নাথ মিশ্র আসীন।*
*🍀জগন্নাথ=ছেলেটি দেখতে তো চাঁদের মত,যেন কাঁচা সোনা,তাই সকলে গোরাচাঁদ ব'লে ডাকে।জ্যোতিষী পন্ডিতেরা সকলেই বলেন নিমাই সামান্য মানব নয়। কিন্তু দেখছি তাঁদের কথা বুঝি সব বিফল হয়--এত বড় দুষ্ট ছেলে তো আর দেখা যায় না--আজ এর নৈবেদ্য কেড়ে খাবে,কাল ওর জলের কলসী ভেঙ্গে দেবে,নালিশ শুনতে শুনতে কান ঝালা-পালা হয়ে গেল।*
*🏵মুরারি গুপ্তের প্রবেশ🏵*
*🍀মুরারি=মিশ্র মহাশয়! আপনার ছেলের জ্বালায় তো তিষ্ঠান ভার,নদে ছাড়াবে দেখছি।এমন পন্ডিত ব্রাহ্মণের এমন অকালকুষ্মান্ড ছেলেও হয়! কি বলবো পালিয়ে গেল,নইলে একটি থাপ্পড়ে বাছাধনকে আক্কেল দিয়ে দিতাম।*
*🍀জগন্নাথ=কেন,কেন,কি হয়েছে? আপনার সঙ্গে আবার লেগেছে নাকি?আমি কি করবো?সে গেল কোথা?আজ মেরে তার হাড় গুড়ো করবো।কি হয়েছে বলুন দেখি?*
*🍀মুরারি=অর্বাচীন, জানে না আমি কে?আমায় চেনে না বা ভক্তি করে না নদেতে এমন লোক কে আছে?আমি যোগবাশিষ্ঠ আয়ত্ত করেছি, আমার সঙ্গে ঠাট্টা?*
*🍀জগন্নাথ=সে---কি? আপনার সঙ্গে ঠাট্টা করে! এত বড় স্পর্দ্ধা তার হয়েছে?বলেন কি?*
*🍀মুরারি=বলছি আমার মাথা, আর আপনার সেই অকালকুষ্মান্ডের মুন্ডু।*
*🍀জগন্নাথ=ব্যাপারটিই কি একটু খুলে বলুন না,তার পর যা বিহিত হয় করবো।*
*🍀মুরারি=ব্যাপার আমার শ্রাদ্ধ, আমার সপিন্ড করণ-- আপনার সেই গুণধর ছেলের দ্বারা---শুনুন তবে বলি।সেদিন আমি টোলে শিষ্যদের "সোহং" তত্ত্ব বুঝাচ্ছি--অর্থাৎ আমিই যে পরমব্রহ্ম--তাঁর অংশ নাই--আমাতে আর পরমব্রহ্মে ভেদ নাই,এই কঠিন তত্ত্ব বুঝাচ্ছি--সে ছোঁড়াটা কিনা আরও কতকগুলি ছোঁড়া নিয়ে এসে আমার পিছনে দাঁড়িয়ে নানারকম মুখভঙ্গি করছে,হাসছে, আমার শাস্ত্র আলোচনার ব্যাঘাত দিচ্ছে। আমার সঙ্গে রসিকতা করছে,মহাতার্কিকের মত তর্ক করছে,উঃ কি স্পর্দ্ধা!*
*🍀জগন্নাথ=বটে! এই চল্লেম,আজ আর তার রক্ষে নেই-- (প্রস্থানোদ্যত)*
*🍀মুরারি=আরে আগে সবটাই শুনুন,তার পর যা ব্যবস্থা করবার করবেন, সেদিন তো ঐরকম তর্ক করে,ঠাট্টা বিদ্রূপ কোরে পালালো।তার পর আজ কি হয়েছে শুনবেন--উঃ কি পাষন্ড! রাগে আমার কথা রোধ হচ্ছে।*
*🍀জগন্নাথ=কি!কি! কি হয়েছে তাড়াতাড়ি বলুন।*
*🍀মুরারি=আমি আজ সেবায় বসেছি,সবে মাত্র আচমন শেষ করেছি,এমন সময়--এমন সময়,কি করেছে জানেন--উঃ কি ভয়ানক কান্ড!অসহ্য,আমার আহারের পাত্রে নোংরা ফেলে দিয়ে,বলে কিনা এইবার খাও।*
*🍀জগন্নাথ=কি ব্রাহ্মণের আহারের পাত্রে নোংরা!ব্রাহ্মণের আহার নষ্ট!না---আমি এই চল্লেম--তা আপনি কিছু মনে করবেন না।*
*🍀মুরারি=বাঃ, বাঃ বেশ মজার কথা যাইহোক--ওঁর গুণধর পুত্র আমার পাত্রে নোংরা ফেলবে আর আমি কিছু মনে করব না!*
*🌹নিমাইকে ধরে নিয়ে শচীদেবীর প্রবেশ।*
*🍀শচীমা=ওগো! তুমি একটু ছেলেকে শাসন কর আর পারছি না,মোটেও কথা শোনে না--খালি দুষ্টামী,খালি দুষ্টামী।*
*🍀জগন্নাথ=গৃহিণী,তুমি ওকে এখানে রেখে,তুমি এখান থেকে চলে যাও।আজ ওর হাড় একদিকে আর মাস একদিকে করব--দাওতো ঐ লাঠিগাছটি-- (লাঠি নিয়ে নিমাইকে মারতে উদ্যত,নিমাই মায়ের পিছনে লুকান)।*
*🍀শচীমা=ওগো! কর কি? কর কি?শাসন করতে বলেছি বলে কি ওই রকম করে শাসন করতে হয় (লাঠি কেড়ে নিবার চেষ্টা )*
*🍀জগন্নাথ=দেখ গৃহিণী, তুমিই ছেলেকে আদর দিয়ে দিয়ে ছেলেটার সর্বনাশ করলে।এই বলছ শাসন করতে, আবার শাসন করতে গেলে বাধা দিচ্ছ।*
*🍀শচীমা=হাজার হোক নিমাই ছেলেমানুষ--ভালমন্দ কিছুই এখনও বোঝে না,অতটা কড়া হইও না। নিমাই!লক্ষ্মী বাবা আমার,আর দুষ্টামী কোরো না (নিমাইকে নিয়ে গমনোদ্ধতা)।*
*🍀জগন্নাথ=গৃহিণী চল্লে কোথা? শুনেছ নিমাই কি করেছে?*
*🍀শচীমা= কি--কি-- কি করেছে?*
*🍀জগন্নাথ=এই ব্রাহ্মণের আহারের পাত্রে নোংরা ফেলে আহার নষ্ট করেছে।*
*🍀শচীমা=ওমা কোথা যাব গো,এমন কথাও শুনিনি--নিমাই, কেন তুই এমন করলি?*
*🍀নিমাই=মা! ওটা ভন্ড বিটলে বামন--ও একদিন সকলকে বোঝাচ্ছিল,মানুষে আর ভগবানে ভেদ নাই, মানুষই ভগবান-- ও নিজেই পরমব্রহ্ম।তাই আমি ওর ভন্ডামি ভাঙ্গবার জন্যে থালায় নোংরা ফেলে দিয়েছি।*
*🍀মুরারি= ভন্ডামিটা কোন্ খানে দেখলি?*
*🍀নিমাই=মুখে এক,কাজে আর।মুখে বলো তুমি ভগবান-- তবে নোংরাতে আর জলে ভেদ জ্ঞান কর কেন ঠাকুর?খাবার ফেলে উঠলে কেন পন্ডিত মহাশয়? ভগবানের মত নির্বিকার হতে পারলে না?*
*🍀জগন্নাথ=তবে---রে--পাজি? অন্যায় কাজ কোরে ক্ষমা প্রার্থনা না কোরে,অন্যায় কাজের আবার সমর্থন?*
*(মারতে উদ্যত ও নিমায়ের মায়ের পেছনে লুকান)*
*🍀মুরারি= (স্বগত)নিমাই কে? আমার অহঙ্কার চূর্ণ করলে,আমায় জ্ঞান দান করলে? (প্রকাশ্যে)মিশ্র মহাশয়! মারবেন না,মারবেন না। (নিমাইয়ের পদ ধারণ পূর্বক) নিমাই, আমি ধন্য হলাম।*
*🍀জগন্নাথ=করেন কি? করেন কি? নিমাইয়ের অকল্যাণ হবে,নিমাইয়ের পায়ে হাত দিচ্ছেন কেন--আপনি কি পাগল হলেন?*
*🍀শচীমা=বাবা নিমাই! যা উনার চরণে ধরে ক্ষমা চেয়ে নে।*
*🍀নিমাই=কেন? কি দোষ করেছি যে ক্ষমা চাইব?*
*(দৌড়িয়ে পালিয়ে গেল)*
*🍀শচীমা=আপনি বিদ্বান ও জ্জানী, নিমাই অবোধ বালক, নিমাইয়ের অপরাধ নেবেন না,ক্ষমা করবেন।*
*🍀মুরারি=মিশ্র মহাশয় আমি পাগল হই নাই,এতদিন যোগবাশিষ্ঠ পড়ে,পাগলেমি করতাম বটে, মোহান্ধ ও জ্ঞানগর্বী ছিলাম, নিমাই আজ আমার জ্ঞানচক্ষু উন্মীলন করেছে-- আমার দর্প চূর্ণ করেছে।নিমাইকে যে সে মনে করবেন না, নিমাই কে, পরে জানবেন। (প্রস্থান)।*
*🍀জগন্নাথ=কিছুই বুঝতে পারছি না। হরি!নিমাইয়ের মঙ্গল কর। (উভয়ের প্রস্থান)।*
🙌🙌🙌🙌🙌
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
🆕 👉 গৌরাঙ্গলীলা 🍁 পঞ্চাঙ্ক নাটক 🍁 প্রথম দৃশ্য বৃন্দাবন✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📝 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2025/07/gourangaleela.html
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*🙌গৌরাঙ্গলীলা,পঞ্চাঙ্ক নাটক।*
*🌲তৃতীয় দৃশ্য= পথ*
*🌹নিমাই ও কয়েকটি বালক*
*🍀নিমাই=দ্যাখ ভাই,এখনি ভুতোর মা এই দিক দিয়ে গোপীনাথজীর পূজোর নৈবিদ্যি নিয়ে যাবে,নৈবিদ্যি লুট করে খেতে হবে,বেশ মজা হবে।*
*🍀প্রথম বালক=ভুতোর মা বড় শুচিবাই---রাস্তায় চলে এমনি এমনি করে--খুব সাবধানে--তাই রাস্তায় ভাত ছড়িয়ে রেখেছি--দ্যাখনা কি মজা করি। ঐযে ভুতোর মা আসছে,কেমন করে রাস্তায় হেঁটে আসছে দ্যাখ।*
*(নৈবেদ্য হাতে ভুতোর মা'র প্রবেশ।)*
*🍀ভুতোর মা=হতভাগা ছেলেদের কি আক্কেল! রাস্তাময় ভাত ছড়িয়ে রেখেছে, পা ফেলবার জো নেই,কত সাবধানে সাবধানে আসতে হ'চ্চে,এতক্ষণে কোন কালে গোপীনাথজীর মন্দিরে পৌঁছুতে পারতাম।*
*🍀নিমাই=আর অতদূরে যেতে হবে কেন? আমাকে গোপীনাথজী মনে ক'রে নৈবিদ্যি ধরে দাওনা।*
*🍀ভুতোর মা=ছি, বাবা, ওকথা কি বলতে আছে, ঠাকুর দেবতার নামে ঠাট্টা কি করতে আছে?*
*🍀নিমাই=ভাত নেই,তবে তুমি যে সকড়ি (এঁটো)মাড়ালে, সকড়ি ছোঁয়া ঠাকুরকে দেবে কেমন করে?তাই বলছি আমাকে দাও।*
*🍀ভুতোর মা=ও----মা তাইত, এতক্ষণ সাবধানে এসে এসে,এখানে সকড়ি মাড়ালেম,পোড়া লোকগুলোর কি আক্কেলের মাথা একেবারে খেয়েছে,রাস্তাময় ভাত ছড়িয়েছে। কি করি!নৈবিদ্যি ত ফেলা গেল, নে---তোরাই তবে খা। (নৈবেদ্য ধরে দেন ও নিমাই প্রভৃতির ভক্ষণ) পথময় ভাত ছড়িয়ে রাখে,পোড়া লোকগুলোর কি আক্কেল! লোক যাবে কেমন করে তার ঠিক রাখে না?দে,এইবার থালাখানা দে,আবার পূজোর বন্দোবস্ত করিগে যাই।*
*শচী মায়ের প্রবেশ।*
*🍀শচীমা=হ্যাঁরে নিমাই, তুই এখানে কি করছিস,আমি তোকে খুঁজে খুঁজে বেড়াচ্ছি,ওমা কি সর্বনাশ!আজ আবার কার নৈবিদ্যি কেড়ে খাচ্ছিস--তোর জ্বালায় কি করব (একটা বেত কুড়িয়ে মারতে উদ্যতা, ছেলেগুলি পালিয়ে গেল )।*
*🍀নিমাই=মারবি,আর দেখি কেমন করে মারিস, আমি এই ভাতের হাঁড়ির উপর গিয়ে বসলাম, আয় ধরবি আয়।*
*🍀শচীমা=ছি,ছি, নিমাই করিস কি,তুই বামুনের ছেলে হয়ে এত অনাচার করিস কেন? ভাতের হাঁড়ির উপর বসলি কি বলে-- আয়,উঠে আয়,আজ তোকে খুব মারবো।*
*🍀নিমাই=মা তোর অত শুচিবাই কেন?আগে মন শুচি কর,তখন দেখবি শুচিবাই আর থাকবে না। আমাকে মারবি?আমি না তোর ছেলে?মা হয়ে ছেলেকে মারবি?তুই কেমন মা?*
*🏀🏀গীত🏀🏀*
*মা হয়ে নিদয় হওয়া সাজেনা সাজেনা।*
*সন্তানে মারিলে কি গো মায়ের প্রাণে বাজেনা?*
*জগত জননী যদি পাপীরে পায়ে ঠেলিত।*
*তা'হলে কাতরে তারে মা ব'লে কেবা ডাকিত।।*
*তাহলে মায়ের নাম করুণাময়ী হত না।।*
*🍀শচীমা= নিমাই কে? এতটুকু ছেলের মুখে অত জ্ঞানের কথা! হে নারায়ণ! নিমাইকে ভাল রেখ ইষ্টদেব।*
*🌻তিন জন প্রতিবেশিনীর প্রবেশ।*
*🍀প্রথমা=কি গো নিমাইয়ের মা, কি ভাবছ? নিমাইয়ের কথা বুঝি?আহা!তা'ভাববার কথা, অমন সুন্দর ছেলেটা এমন বিগড়ে গেল?*
*🍀শচীমা=হ্যাঁ বোন, কি করি বল দেখি-- অন্য ছেলের মত নিমাইয়ের মায়া দয়া বেশ আছে, বুদ্ধিও খুব আছে কিন্তু দুষ্টামিও খুব করে। ঘরের হাঁড়ি ভাঙ্গে,মেয়েদের জলের কলসী ভেঙ্গে দেয়,দেবতা মানে না,দেবতার নৈবিদ্যি কেড়ে খায়। দেবতার আসনে বসে,এঁটো মানে না,মুচিকে ছুঁয়ে দেয়, আবার বারণ করলে, বলে---"আমি দেবতা, আমি যদি অশুচি ছুঁই তবে সে শুচি হয় "।*
*🍀প্রথমা=এ রোগ কতদিন হয়েছে?এ যে বিষম বায়ুরোগ! আমার আর রোগ চিনতে বাকী নেই--হাজার হোক নামকরা কবিরেজের পরিবার তো বটে-- ওঁর কাছে থেকে থেকে কতক বিদ্যে তো হয়েছে বটে!*
*🍀দ্বিতীয়া=তা' আর হয় না-- এই যে আমার সোয়ামী (স্বামী) সিঁতিরত্ন (সিঁতিরত্ন বলতে বোধহয় ঝাড়-ফুঁক)---কত লোককে কত ব্যবস্থা দিচ্ছেন,তা' আমি কি আর কিছু শিখিনি? বললে, নিজের বড়াই করা হয়-- আমার সোয়ামী যখন ঘরে থাকেন না,কত লোকে আমার কাছ থেকে ব্যবস্থা জেনে যায়। নিমাইয়ের ঘাড়ে কোনও ভুত চেপেছে--সেই এসব করাচ্ছে, ভুত ছাড়াতে গেলে স্বস্তেন করতে হবে, ভাল করে ষষ্ঠী ঠাকুরাণীর পূজো দিতে হবে।*
*🍀প্রথমা=তা----পূজো দেবে দাও-- কিন্তু শুধু পূজোয় হবে না-- এসব রোগে মধ্যমনারায়ণ তেল কিম্বা বিষ্ণু তেল ব্যবস্থা। এই দুই তেল আমি না হয় বলে ক'য়ে আমার সোয়ামীর কাছ থেকে অর্দ্ধেক দরে এনে দেবো-- নিমাইকে দুই-তিনমাস মাখাও, দেখবে সব সেরে যাবে।*
*🍀তৃতীয়া= আমি যতদূর দেখছি--নিমাইয়ের গেরো বেগুনী হয়েছে। নিশ্চয় শনির দশা চলছে--যদি বল কি ক'রে জানলে--তা হলে বলতে হয়, আমিও আমার সোয়ামীর কাছ থেকে কিছু কিছু শিখেছি। আমার সোয়ামী মস্ত বড় পন্ডিত যে--সব শাস্তর (শাস্ত্র) জানেন, জ্যোতিষ,বেদ,উপকথানিষেধ, (উপনিষদ্)শঙ্খ,পাতানজল (পতঞ্জল) আরও কত কি শাস্ত্র, আমার কি ছাই সব নাম মনে থাকে?তাই বলছি পূজোও করো,আর সঙ্গে সঙ্গে গেরো শান্তিও কর।তাহলেই গেরো বেগুনী দূর হবে।*
*🏀তাঁদের মধ্যে নিমাইয়ের প্রবেশ।*
*🍀নিমাই=কি গো পন্ডিতগিন্নি, খুব শাস্তর আওড়াচ্চ যে, আমিও পন্ডিতের ছেলে তা জানো, এখানে তোমার বুজরুকি খাটবে না,গ্রহবৈগুন্য মুখে আসে না, বল গেরো বেগুনী,উপনিষদ মুখে আসে না, বলো উপকথানিষেধ, সাংখ্য হ'ল শঙ্খ, বাজিয়ে দিলেই হয়, পাতঞ্জল হল পাতান জল! বলিহারি--বলিহারি!*
*🍀শচীমা= ছি!নিমাই, গুরুজনদের কি ঠাট্টা করতে আছে?*
*🍀নিমাই=তা' তো নেই,তবে মিছে পান্ডিত্য ফলায় কেন?*
*🍀তৃতীয়া=নিমাইয়ের মা!আমরা তবে চল্লুম, তোমার ছেলের মঙ্গলের জন্যেই বলছিলুম, তা তোমার ধনুদ্ধর ছেলে,দেখলে কেমন অপমানটি করলে?*
*🍀শচীমা= কিছু মনে করো না,বোন! নিমাইকে ক্ষমা কর।*
*🍀দ্বিতীয়া=নিমাই, তুমি যে বললে তুমি পন্ডিতের ছেলে,তবে ঠাকুর-দেবতা মানো না কেন?*
*🍀আমি আবার ঠাকুর দেবতা মানবো কি?আমিই তো দেবতা।*
*🍀প্রথমা=বায়ু পেরবল (প্রবল)।শিগগির মধ্যমনারানের ব্যবস্থা কর, নইত দু-চার মাস পরে ঘোর উন্মাদ হয়ে পড়বে।*
*🍀দ্বিতীয়া=অপদেবতা ছাড়াও। স্বস্তেন করাও।*
*🍀তৃতীয়=গেরো শান্তি করাও।আমরা চল্লুম।*
*🍀নিমাই=উপকথা নিষেধ পড়াও,শঙ্খ বাজাও,পাতান জল মাথায় ঢাল। (বলিয়া দৌড়ে প্রস্থান)*
*🍀শচীমা=হে মা ষষ্ঠী! নিমাইয়ের অপরাধ নিও না, নিমাই আমার পাগল ছেলে,হে হরি! আমার নিমাইয়ের কল্যাণ কর। (চোখ বুঝে ধ্যান)।(খানিক পরে,) একি! আমারও কি মাথা খারাপ হয়ে গেল নাকি--হরিকে ধ্যান করতে বসে দেখি, নিমাই আমার সামনে দাঁড়িয়ে হাসছে, বলছে আমিই হরি!মায়ের স্নেহ এই রকমই বটে,ছেলে বৈ আর কিছু জানেন না।কিন্তু হে হরি!পুত্র স্নেহের বশীভূত হয়ে তোমার স্নেহে যেন বঞ্চিত না হই।*
🏐🏐🏐🏐🏐🏐🏀🏀🏀🏀🏀🏀🏐🏀🏐🏀
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
🆕 👉 গৌরাঙ্গলীলা 🍁 পঞ্চাঙ্ক নাটক 🍁 প্রথম দৃশ্য বৃন্দাবন✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📝 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2025/07/gourangaleela.html
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧*🙌গৌরাঙ্গলীলা,পঞ্চাঙ্ক নাটক।*
*🌲চতুর্থ দৃশ্য=গঙ্গাতীর।*
*🌹বিশ্বরূপের প্রবেশ।*
*🍀বিশ্বরূপ= বলছেন, আমি চাই বৈরাগ্য পথে যেতে,পিতা চান আমার বিয়ে দিয়ে আমায় সংসারের বাঁধনে দৃঢ় করতে বাঁধতে।আমি যদি সন্ন্যাসী হয়ে যাই,পিতা-মাতা আপাতত দুঃখ পাবেন বটে, কিন্তু পরিণামে তাঁদেরও মঙ্গল হবে, কারণ শাস্ত্রে বলে, যে কুলে একজন সন্ন্যাসী হন,সে কুল উদ্ধার হয়।তাছাড়া নিমাই রইল,সেই বাপ মাকে দেখবে--যদিও সে এখন খুব ছোট নাবালক, কিন্তু তার যেরকম বুদ্ধি,তাতে সে যে একজন বড় পন্ডিত হবে ষে বিষয়ে সন্দেহ নেই। নিমাই আমায় বড় ভালোবাসে, আমার কথা খুব শোনে, আমার কাছে সে প্রতিজ্ঞা করেছে আর দুষ্টুমী করে বাপ মায়ের মনে কষ্ট দেবে না, এখন থেকে ভাল হবে।তাহলে আর আমার সংসার ছাড়তে বাধা কি?*
*🌲গান গাইতে গাইতে একজন সন্ন্যাসীর প্রবেশ।*
*🏀গীত🏀*
*🌷অসার নিয়ে সার ভুলে আর থাকবি কত মন।*
*🌷মোহের বশে আপন দোষে হারাসনে পরম রতন।।*
*🌷সদাই করিস আপন আপন, বৃথা কাজে সদাই মগন,*
*🌷আপন হ'তে যে আপনার (কেন)তাঁরে না করিস স্মরণ?*
*🌷কবে যে তোর ফুটবে আঁখি,কদিন বা আর আছে বাকী,*
*🌷জগৎটা যে সবই ফাঁকি জগৎপিতার নেরে শরণ।।*
*(প্রস্থান)*
*🍀বিশ্বরূপ=সন্ন্যাসী কে?ও কি আমার মনের ভাব জানে নাকি? আমি সংসার ছেড়ে যাব কি যাব না,স্থির করতে পারছিলাম না, সন্ন্যাসীর গানে আমার মনের সংশয় দূর হল, আমার সঙ্কল্প দৃঢ় হল।আর না,এই সুযোগ,আজই চল্লেম!পিতা!মাতা! তোমাদের স্নেহের বিশ্বরূপ,বিশ্বরূপের সন্ধানে চলিল, আশীর্বাদ কর যেন মনোবাঞ্ছা পূর্ণ হয়। মা গঙ্গে! বক্ষে স্থান দাও মা,আমি সাঁতরে পার হয়ে যাই। (গঙ্গাবক্ষে ঝাঁপ ও সাঁতার)।*
*🏀মেঘমালী ও রুদ্রমূর্তি নামক দুইজন দস্যুর প্রবেশ।*
*🍀রুদ্র=কিরে মেঘমালী,কই নিমাই কোথা,চুলোয় যাগগে নিমাই,তার গহনা কোথায়?দেহ কোথায় পুতলি?খুব নির্জন জায়গায় তো? বাহির কর গহনা।*
*🍀মেঘমালী=গহনা নেই।*
*🍀রুদ্র=কি রকম? গহনা কি হল?*
*🍀মেঘমালী=আমি নিমাইকে ভুলিয়ে কোলে কোরে তুলে এনেছিলাম, কিন্তু তাঁর কাঁচাসোনার মত দেহ আর মধুর মুখ দেখে,তাকে মেরে তার গহনা নিতে আমার প্রাণ শিউরে উঠলো।সে যখন সরলভাবে হেসে আমার মুখের দিকে তাকিয়ে জিজ্ঞেস করলে "আমায় নিয়ে কোথায় যাচ্ছ"?আমার মুখ দিয়ে কথা বেরুলো না।*
*🍀রুদ্র=কেন বলতে পারলিনা--যমালয়ে?*
*🍀মেঘমালী=সেকথা দূরে যাক, ভাবতে আমার প্রাণ শিউরে উঠলো,আমি তাকে তার বাড়ীতে রেখে দিয়ে এলাম।*
*🍀রুদ্র=কি---?শিকার ফসকে গেল? উহুঃ মিছে কথা,তুই ভাগ দেবার ভয়ে মিথ্যা কথা বলছিস।বাহির কর গহনা,নইলে ভাল হবে না বলছি।*
*🍀মেঘমালী=আমি যা বললাম,তা একটুও মিথ্যা নয়। আমার মন কেমন একরকম হয়ে গেছে, আমি আর এ কাজ করব না,আমি আজ থেকে এ ব্যবসা ত্যাগ করলাম।*
*🍀রুদ্র=বটে? তবে খাবি কি ক'রে?*
*🍀মেঘমালী=কেন---অন্য কোন ভাল কাজ খুঁজে নেব, নয়ত ভিক্ষে করব। আমার ইচ্ছে হয়েছে সাধুদের সঙ্গে সঙ্গ করে বাকি জীবনটা কাটাব।*
*🍀রুদ্র=হাঃ হাঃ হাঃ (হাসি)! বিড়াল আজ থেকে তপস্বী হ'ল।মাছ খাওয়া ত্যাগ করিল।*
*🍀মেঘমালী=ঠাট্টা নয়, তুমিও এ ব্যবসা ছাড়। কেন সামান্য টাকার লোভে চুরি ডাকাতি করে, মানুষ হয়ে পিশাচ প্রকৃতির পরিচয় দাও?*
*🍀রুদ্র= হোঃ হোঃ হোঃ! বেদান্তবাগীশ ধর্ম পুত্তুর যুধিষ্ঠির এসেছে, তোমরা সব দেখে যাও, পায়ের ধূলো নাও। আচ্ছা, বিদ্যে ভুড়ভুড়ি মশাই! আমরা পেটের দায়ে নইলে এক বা দুই দশ টাকা চুরি করি, এটা হল পাপ ; আর চুরি করতে গিয়ে, যদি খুন করে ফেলি সেটা ভীষণ পাপ--নর হত্যা। কিন্তু রাজ্য লোভে একজন প্রবল রাজা যদি কোনও দুর্বল রাজার রাজ্য কেড়ে নেন,সেটা ডাকাতি নয়--দিগ্বিজয়? তিনি ডাকাত নন দিগ্বিজয়ী বীর! যুদ্ধে কেউ যদি হাজার হাজার নিরপরাধ লোককে হত্যা করে, সেটা হত্যা নয় বীরত্ব--সে খুনী নয় মস্ত বীর! আমরা পেটের দায়ে চুরি করলে আমাদের ভাগ্যে--গলায় অর্দ্ধচন্দ্র, আর দিগ্বিজয়ী বীরের ভাগ্যে---গলায় ফুলের মালা,মণি মুক্তার মালা। আমাদের পিঠে চটাপট,দুমদাম,ধপাধপ চড়,কিল,জুতো,ঝাঁটা,লাথি আর দিগ্বিজয়ীর মুখে টপাটক মন্ডা,সপাসপ রাবড়ি,গপাগপ পোলাও,কালিয়া,কোপ্তা,আরও কত কি।এই সবের মানে বেশ করে বুঝিয়ে দিতে পার ধর্মাবতার?*
*🍀মেঘমালী=বোঝাবার আমার ক্ষমতা নেই। তুমি আমার কথা না শোন, নাই বা শুনলে। আমি কিন্তু আজ থেকে আর ওসব কাজ করব না।আমি চললাম।*
*🍀রুদ্র=তা---যাও, কিন্তু বিশ্বাসঘাতকতা করে আমায় যেন ধরিয়ে দিওনা,সাধু মহাপুরুষ? ভাল কথা--আর এক কাজ করনা, তাহলে দুইজনেরই সুবিধা হয়।তুমি যখন সাধুই সাজছো, মৌনীবাবা হয়ে গঙ্গার ধারে কোনও এক গাছতলায় আশ্রয় নাও, আমি তোমার শিষ্য হই--বিনা মূলধনে এমন ব্যবসা আর নাই, একটি পয়সা খরচ নেই,শুধু একখানা থালা কি বারকোষ সামনে রেখে দাও, আর কথাটি কয়ো-না,দেখবে হুড় হুড় করে চারিদিক থেকে লোকে পয়সা এনে দেবে,থালা বোঝাই হয়ে যাবে। শুধু তাই নয়, পায়েস,ক্ষীর,মিষ্টান্ন, পরমান্ন,অঢেল পরিমাণে রোজ আসতে থাকবে।তুমি কখন একটা আঙ্গুল দেখাবে,কখনও বা দুটো, কখনওবা পাঁচটা--দেখবে তারই কত রকম ব্যাখ্যা হবে।কি বল ভায়া? কথাটি কি মন্দ?*
*🍀মেঘমালী=না ভাই!আমি আর লোক ঠকাতে চাই না,তোমার যা ইচ্ছে কর। (উভয়ের প্রস্থান)*
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
🆕 👉 গৌরাঙ্গলীলা 🍁 পঞ্চাঙ্ক নাটক 🍁 প্রথম দৃশ্য বৃন্দাবন✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📝 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2025/07/gourangaleela.html
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*🙌শ্রীগৌরাঙ্গলীলা, পঞ্চাঙ্ক নাটক।*
*🌲পঞ্চম দৃশ্য=জগন্নাথমিশ্রের বাড়ী।*
*▶জগন্নাথ মিশ্রের প্রবেশ।*
*🍀জগন্নাথ মিশ্র=কেমন ক'রে শচীকে জানাব যে বিশ্বরূপ আমাদের কাঁদিয়ে সন্ন্যাসী হয়ে গেছে।আহা! সবেমাত্র ষোল বৎসর বয়স---সংসারের কিছুই জানে না, এরই মধ্যে সংসারের উপর এত বৈরাগ্য, যে একেবারে সন্ন্যাসী। আমি কোথায় মনে করছিলাম যে তার বিয়ে দিয়ে একটি পুত্রবধূ ঘরে আনবো, তাকে নিয়ে সাধ আহ্লাদ করব--- আমার কন্যা নেই,তাকেই কন্যার মত পালন করব। সব কল্পনা বৃথা হ'ল। ঐ যে শচী আসছে, তাকে কি বলে প্রবোধ দিই!*
*শচীর প্রবেশ*
*🍀শচীমা=ওগো! বিশ্বরূপের কোথাও খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না। অদ্বৈত আচার্য্যের বাড়ীতে নেই, আর আর যেখানে থাকে কোথাও তাকে পাওয়া গেল না,কেউ সন্ধান বলতে পারল না। ওগো! তুমি নিজে একবার খোঁজ করগে যাও, আর নিশ্চিন্ত থেক না, দেরী কোর না তোমার পায়ে পড়ি।*
*🍀জগন্নাথ=শচী! খোঁজ করা বৃথা!তার সন্ধান পাওয়া যাবে না। বল,বল, শিগগির বল! আমার বিশ্বরূপ কোথা?*
*🍀জগন্নাথ=তোমার বিশ্বরূপ আমাদের বংশ পবিত্র করে, অর্জুন যে বিশ্বরূপ দেখে স্তম্ভিত হয়ে বলেছিল----*
*🌷অনেকবাহূদরবক্ত্রনেত্রং*
*🌷পশ্যামি ত্বাং সর্বতোহনন্ত রূপম্।*
*🌷নান্তং ন মধ্যং ন পুনস্তবাদিং*
*🌷পশ্যামি বিশ্বেশ্বর বিশ্বরূপ।।*
*🌹হে বিশ্বেশ্বর বিশ্বরূপ! অনেক বাহু,উদর,মুখ,নেত্র সমন্বিত অনন্তরূপ তোমাকে সকল স্থানেই দেখছি। কিন্তু তোমার আদি,মধ্য,অন্ত দেখছি না।*
*🍀শচীমা= অ্যাঁ---বিশ্বরূপ আমার সন্ন্যাসী হয়ে গেছে--আহা সে যে দুধের ছেলে, সন্ন্যাসী জীবনের কষ্ট কেমন করে সহ্য করবে? আহা!বাছা যে আমার ননীর পুতুল!*
*🍀জগন্নাথ=শচী! ভাবছ কেন?সে যার সন্ধানে গেছে তিনি তাকে রক্ষা করবেন। বাবা বিশ্বরূপ, আমি তোমার পিতা বটে, কিন্তু এখন তুমি আমার চেয়ে অনেক বড়-- আমি যে পথে যেতে পারিনি, তুমি বালক হয়ে সে পথে অনায়াসে গিয়ে আমাদের মুক্তির পথ প্রশস্ত করলে। আশীর্বাদ করি, তোমার মনোবাঞ্ছা পূর্ণ হোক, তোমায় হারিয়ে আমাদের যতই কষ্ট হোক না কেন, তুমি যে পবিত্র পথে গিয়েছ,সে পথ হতে আর ফিরে এসো না। তোমার পবিত্র স্মৃতি আমাদের মর্মবেদনা শান্ত করবে।*
*🏵নিমাইয়ের প্রবেশ------*
*🍀নিমাই=বাবা!বাবা! দাদা কোথায়?দাদা এখনো এলো না কেন?মা তুই কাঁদছিস কেন? দাদার কি কোন অসুখ হয়েছে?*
*🍀শচীমা=না, বাপ, কোন অসুখ হয় নাই।শ্রীহরী করুন,যেন তার কোনও অসুখ না হয়, সে যেখানেই থাক দীর্ঘজীবী হয়ে সুস্থ শরীরে যেন বেঁচে থাক।*
*🍀নিমাই=যেখানেই থাক--- মানে?তবে কি দাদা এখানে নেই? কোথায় গেছে,মা?*
*🍀জগন্নাথ=বাপ! তোর দাদা সন্ন্যাসী হয়ে গেছে।*
*🍀নিমাই=আমি সন্ন্যাসী হ'ব বাবা!আমি দাদার সঙ্গে যাব!*
*🍀আর ওকথা বোলোনা চাঁদ আমার,ও বাসনা মনে স্থান দিও না।তোর দাদা নিষ্ঠুর হয়ে আমাদের মায়া কাটিয়ে চলে গেল, তোরও কি আবার আমাদের দাগা দিয়ে যেতে ইচ্ছে আছে না কি?*
*🍀নিমাই=ত---বে না হয় এখন যাব না। তোদের সেবা করব, সান্ত্বনা দেব। আমি দাদার কাছে বলেছি,আর দুষ্টুমি করে তোদের মনে কষ্ট দেব ন। আমাকে লেখা পড়া করতে দিতেনা বলেই তো দুষ্টুমি করতাম।এখন থেকে মন দিয়ে লেখাপড়া করতে দাও,দেখবে আমি আর দুষ্টুমি করব না।*
*🍀জগন্নাথ=বেশ বাবা, তাই হবে, আর তোর লেখাপড়ায় বাধা দিব না। তোর যখন লেখাপড়ার এত আগ্রহ,তখন আর বাধা দেওয়া উচিত নয়।*
*🍀নিমাই=মা তুই দাদার জন্যে আর কাঁদিস নে, তোর চোখে জল দেখলে আমার মনে বড় কষ্ট হয়।*
*🍀শচীমা= আচ্ছা, বাবা, আর চোখের জল ফেলব না, কিন্তু দেখিস বাপ! তোর জন্যে যেন আর চোখের জল ফেলতে না হয়।*
*🍀জগন্নাথ---------------*
*🌷ত্বমাদিদেবঃ পুরুষঃ পুরাণ-*
*🌷স্তমস্য বিশ্বস্য পরং নিধানম্।*
*🌷বেত্তাসি বেদ্যঞ্চ পরঞ্চ ধাম*
*🌷ত্বয়া ততং বিশ্বমনন্তরূপ।।*
*🌷বায়ূর্ষমোহগ্নির্বরুণঃ শশাঙ্কঃ*
*🌷প্রজাপতিস্ত্বং প্রপিতামহশ্চ।*
*🌷নমোনমস্তেহস্তু সহস্রকৃত্বঃ*
*🌷পুনশ্চ ভূয়োহপি নমোনমস্তে।।*
*🌹হে অনন্তরূপ! তুমি দেগণের আদি,যেহেতু তুমি আদি পুরুষ, এই বিশ্বের লয় স্থান, এবং জ্ঞাতা,জ্ঞাতব্য ও পরম ধাম,তোমা কর্তৃক বিশ্বব্যাপ্ত। তুমি বায়ু,শম,অগ্নি,বরূণ,শশাঙ্ক, প্রজাপতি এবং প্রপিতামহ, তোমাকে সহষ্রবার নমস্কার, পুনরায় সহস্র নমস্কার,আবারও বার বার নমস্কার।*
*🍀নিমাই=একি! বাবা! তোমার একথা গুলো যেন আমার শোনা কথা বলে মনে হচ্ছে,কে যেন আমায় এই রকম আরও কত কথা বলেছিল।*
*🍀জগন্নাথ=আমার কাছেই বোধ হয় শুনে থাকবে নিমাই।*
*🍀নিমাই=না, বাবা! তোমার কাছে শুনি নাই---আমার একটাস্বপ্নের কথা মনে পড়েছে, মনে হচ্ছে যেন অর্জুন আমায় এই কথা বলেছিল।*
*🍀জগন্নাথ=দুর্ পাগল, তুই আধ ঘুমন্ত অবস্থায় কখনও হয়ত আমায় গীতা পাঠ করতে শুনেছিস, তাই তোর ঐরকম মনে হচ্ছে।*
*🍀নিমাই=মনে পড়েছে--অর্জুনই আমার বিশ্বরূপ দেখে ঐকথা বলেছিল, আমি তাকে বলেছিলাম---*
*🌷ময়া প্রসন্নেন তবার্জুনেদং রূপং পরং দর্শিতমাত্মযোগাৎ।*
*🌷তেজোময়ং বিশ্বমনন্তমাদ্যং যন্মে ত্বদন্যেন ন দৃষ্টপূর্বম্।।*
*(বলেই দৌড়ে প্রস্থান)*
*🍀জগন্নাথ=নিমাই কে? এ যে সত্যই অর্জুনের প্রতি শ্রীকৃষ্ণের উক্তি, এ যে গীতার একাদশ অধ্যায়ের শ্লোক?নিমাই শিখলে কখন,কার কাছ হতে?হয়ত আমারই কাছে শুনে থাকবে। তা হলেও স্মরণশক্তি খুব বলতে হবে।যাইহোক, বড় আশ্বর্য্যের বিষয় বটে!*
*🍀শচীমা=ও শ্লোকের মানে কি?*
*🍀জগন্নাথ= অর্থ এই-- হে অর্জুন! তোমার আত্মযোগ প্রভাবে প্রসন্ন হয়ে মৎ কর্তৃক এই তেজোময় বিশ্বাত্মক,অনন্ত, আদ্য, আমার পরমরূপ প্রদর্শিত হল। এই রূপ তুমি ছাড়া আর কেউ পূর্বে দেখে নাই।*
*🍀শচীমা= হে হরি! আমার নিমাইকে দীর্ঘজীবী কর।*
*জয় জয় নিতাই গৌর সীতানাথ প্রেমানন্দে হরিবল, দুইটি বাহু তুলে, একসঙ্গে বলুন হরি হরি হরিবল🙏জয় শ্রীরাধেশ্যাম,জয় শ্রীরাধা মাধব,জয় শ্রীকৃষ্ণ,হরেকৃষ্ণ🙏🙏🙏*
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
🆕 👉 গৌরাঙ্গলীলা 🍁 পঞ্চাঙ্ক নাটক 🍁 প্রথম দৃশ্য বৃন্দাবন✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📝 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2025/07/gourangaleela.html
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*🙌শ্রীগৌরাঙ্গলীলা, পঞ্চাঙ্ক নাটক।*
*🌲ষষ্ঠ দৃশ্য=অদ্বৈতাচার্য্যের বাড়ী।*
*🌻অদ্বৈতাচার্য্য ও শিষ্যগণ।*
*🍀প্রথম শিষ্য=গুরুদেব!আর তো অত্যাচার সহ্য হয় না-- আমাদের অপরাধ কি, না আমরা বৈষ্ণব। আপনি যা হয় একটা বিহিত করুন।*
*🍀অদ্বৈত=ভয় নেই,আরও দিন কয়েক অপেক্ষা কর, আমার দৃঢ় বিশ্বাস,প্রভু নিশ্চয়ই আমাদের উপর সদয় হবেন-- নিশ্চয়ই ধরায় অবতীর্ণ হবেন। প্রভু এসো,আর কেন বিলম্ব কর।*
*জগাই ও মাধাইএর প্রবেশ*
*🍀জগাই=এই যে এসেছি,কি হুকুম হয়।*
*🍀অদ্বৈত=তোমাদের এখানে কে ডাকলে,তোমরা এখানে কেন?*
*🍀জগাই=কেন?এই যে ডাকলে।*
*🍀অদ্বৈত=তোমাদের ডাকিনি, তোমরা এখান থেকে যাও, আমাদের একটু ধর্ম চর্চা করতে দাও।*
*🍀জগাই=আচার্য্যি মশাই! আমারও একটু ধর্মচর্চা করব বলেই এখানে এসেছি।আমরা একটা শ্লোকের মানে বুঝতে পারিনি,তাই তোমার কাছে এসেছি--বুঝিয়ে দাও তো আচার্য্যি মশাই।*
*🌷শ্লোকটি হচ্ছে এই----*
*🌹হরের্নামৈব হরের্নামৈব হরের্নমৈব কেবলম্।*
*🌹কলৌ নাস্ত্যেব নাস্ত্যেব নাস্ত্যেব গতিরন্যথা।।*
*🍀মানে কি বুঝিয়ে বলত ঠাকুর?*
*🍀অদ্বৈত=অর্থ হচ্ছে-- হরিনাম,হরিনাম,একমাত্র হরিনাম---কলিতে হরিনাম বৈ আর অন্য গতি নাই।*
*🍀জগাই=হোঃ হোঃ হোঃ!এই বুঝি তোমার পান্ডিত্য! কি ব্যাখ্যাই করলে---ওর মানে ও নয়,ওর মানে হচ্ছে এই---মন দিয়ে শোন--শেখ, হরের্নামৈব অর্থাৎ কি না হরিনামটাই আছে, আর কিছুই নেই।হরের্নামৈব কেবলম্--অর্থাৎ কিনা,কেবল হরি নামটাই আছে--হরি বোলে কোনও ব্যক্তি বা বস্তু নেই।যেমন ঘোড়ার ডিম--কথাটা আছে, কিন্তু ঘোড়ার ডিম বোলে কোন জিনিস নেই--কলৌ নাস্ত্যেব নাস্ত্যেব নাস্ত্যেব--অর্থাৎ কলিতে তাও নেই তাও নেই তাও নেই। অতএব গতিরন্যথা অর্থাৎ অন্য গতি দেখ, কিনা,হরিনাম ত্যাগ করে অন্য পথ অবলম্বন কর। কারণ,কলি এখন আকার ধারণ করেছে--হয়েছে কালি--অতএব এখন কেষ্ট ফেষ্ট ছেড়ে কালি ভজ।বুঝলে আচার্য্যি মশাই?*
*🍀অদ্বৈত=হ্যাঁ, খুব বুঝেছি, বাবা!তোমরা এখন যাও।*
*🍀মাধাই=দাদার একটা শ্লোকের মানে বোলে দিলে, আমার একটা শ্লোকের মানে বোলে দাও---*
*🌷নাহং তিষ্ঠামি বৈকুন্ঠে, যোগীনাং হৃদয়ে ন চ।*
*🌷মদ্ ভক্তা যত্র তিষ্ঠন্তি বসামি তত্র নারদ।।*
*🍀অদ্বৈত=বেশ, এই শ্লোকেরও মানে বোলে দিচ্ছি, কিন্তু তার পর আর জ্বালিও না। শ্রীকৃষ্ণ নারদকে বলছেন, হে নারদ! আমি বৈকুন্ঠে থাকি না,যোগীদের হৃদয়েও থাকি না,তবে কোথায় থাকি, না,মদভক্তা যত্র তিষ্ঠন্তি, আমার ভক্তগণ যেখানে থাকে "বসামি তত্র নারদ", হে নারদ! আমি সেইখানেই থাকি।*
*🍀মাধাই=শুনলে দাদা, ব্যাখ্যাটা একবার শুনলে?*
*🍀জগাই=আরে ভায়া,ওদের কর্ম এ সব বোঝা? দাদা দাও বুঝিয়ে দাও, শিখুক,জানুক, আমরাও সংস্কৃত জানি, নেহাত মুখ্ খ নই।*
*🍀মাধাই=আচার্য্যি মশাই!তোমার প্রথম পংক্তির মানে ঠিক আছে--যথা, আমি বৈকুন্ঠেও থাকি না,যোগীদের হৃদয়েও থাকি না। এ মানেতে কোন গোলযোগ নেই, দ্বিতীয় পংক্তি তুমি একটুও বোঝনি ঠাকুর। শোন,তবে বোঝাই--শ্রীকৃষ্ণ বলছেন, আমি কোথায় থাকি,না মদ্ ভক্তা যত্র তিষ্ঠন্তি অর্থাৎ মদ ভক্তেরা-- কি না মাতালেরা যেখানে থাকে--- বসামি তত্র--- সেখানেই থাকি,না রদ--ইহাতে রদ হয় না। যেখানে মাতালরা থাকে সেইখানেই আমি থাকি,এ হল খোদ শ্রীকৃষ্ণের উক্তি,গীতায় আছে।*
*🍀প্রথমশিষ্য=যাও যাও আর বেল্লিকপনা করতে হবে না,ঢের হয়েছে,এখন বাড়ী যাও।*
*🍀জগাই=কি বল্লি--আমরা বেল্লিক?মালপো-খেকো বষ্টুমের বড় তেজ দেখছি যে,জানিস একটি চাঁটিতে যমালয়ে পাঠাতে পারি?*
*🍀প্রথমশিষ্য=তেজ থাকবে না তো কি পাঁঠা-খেকো শাক্তদের ভয় করতে হবে না কি?চাঁটি আমরাও দিতে জানি--জান,এ খোলে (মৃদঙ্গে) চাঁটি দেওয়া হাত--তত নরম মনে কোর না, আস্তে আস্তে পথ দেখ।*
*🍀জগাই=যত বড় মুখ তত বড় কথা,এই দ্যাখ তবে,মালপোর জোড় বেশী না মাংসের জোড় বেশী। (মারতে উদ্যত)*
*🍀অদ্বৈত=(মধ্যস্থ হয়ে ) আহা কর কি, কর কি?যাও বাপু বাড়ী যাও, আমরা নিরীহ বৈষ্ণব--আমাদের উপর এত অত্যাচার কেন?*
*🍀জগাই=অত্যাচারের হয়েছে কি,ন'দে থেকে সব বষ্টুম তাড়াব তবে প্রাণ ঠাণ্ডা হবে।*
*🍀মাধাই=তবে জানবে আমাদের নাম জগাই-মাধাই--ন'দে থেকে শুধু যে বষ্টুমগুলোকে তাড়াব তা নয়--হরিনাম তাড়াব।*
*🍀অদ্বৈত=তা কখনই পারবে না জগাই-মাধাই।আমি দিব্য চক্ষে দেখছি হরিনামে ন'দে ভেসে যাবে, সমস্ত বাংলাদেশ টলমল করবে,তোমরাও চাও কি,সেই হরিনাম স্রোতে ভেসে যাবে।*
*🍀জগাই=আচার্য্যি মশাই, তুমি বুড়ো হয়ে গেছ,চোখে ঝোপসা দেখছ। দিব্য চক্ষু পেলে কোথা থেকে?একটু সুরা খাও তবে তো দিব্য চক্ষু পাবে?মালপো খেয়ে কি আর দিব্য চক্ষু হয়?এই নাও একটু খাও। (সুরা দিতে উদ্যত)*
*🍀অদ্বৈত=কি--এত দূর স্পর্দ্ধা? আমরা বৈষ্ণব--আমাদের সুরাপান করতে বলা?*
*🍀জগাই=সুরা নয়,সুরা নয়--সুধা, অমৃত--যা দেবতারা পান করত--মা কালীর প্রসাদ! আর বৈষ্ণবের কথা তোল কেন ঠাকুর?*
*🍀দ্বিতীয়শিষ্য=যা মুখেআসে তাই বলতে আরম্ভ করলে যে?এখান থেকে ভালয় ভালয় যাবে কিনা বল?*
*🍀মাধাই=তোমরা যদি একটু এই সুধা চেকে দেখ,তাহলে আমরা এখনি চলে যাই।*
*🍀জগাই=যদি না-ই যাই, কি করতে পারিস তোরা? তোদের হরিকেই ভয় করি না, তো তোদের!তোরা যে হরিকে ভজিস,সেই হরি আয়ান ঘোষের ভয়ে এক দম ভোল ফিরিয়ে,মা কালীর মূর্তি ধারণ কোরে তবে রক্ষা পায়, নয়ত সেইদিনই তার হয়ে গিয়েছিল। নাম জাল হয় শুনেছি--বেমালুম চেহারা জাল? কই, আমাদের কালী কি কখন ভয়ে তোদের হরির রূপ ধারণ করতে গিয়েছিল?জবাব দে-না? চুপ করে রইলি কেন?বাঁশী বাজিয়ে যে গোপীদের মন হরণ করত,সেই ননীচোর,নটবরের চেলা আমরা নই,আমরা অসি-ধারিণী মুন্ডমালিনী মা কালীর চেলা। আমাদের সঙ্গে লড়বি?আয় আমি একলাই তোদের সব কটাকে চাট করে মেরে দিই।*
*🍀অদ্বৈত=বাপু! আমরা নিরীহ বৈষ্ণব, আমরা লড়াই মারামারি জানিনা, তোদের মিনতি করছি, তোরা এখান থেকে চলে যা।*
*🍀জগাই=তাই বল,ভাল কথায় বল,চোখ রাঙান কেন?চোখ রাঙান ভয় করিনা।ভায়া চলহে,আর এ বেটাদের সঙ্গে কথা কাটাকাটির দরকার নেই,এদের বিদ্যে তো বোঝা গেছে। মনে করতাম এরা সংস্কৃত বুঝি ভাল জানে। দেখলাম কিছুই জানে না। দাও,এদের গায়ে একটু,একটু শান্তি জল ছিটিয়ে দাও। বোলে প্রস্থান।*
*🍀অদ্বৈত=শ্রীবিষ্ণু,শ্রীবিষ্ণু, কি পাষন্ড, হে হরি!আর কতদিন বৈষ্ণবদের প্রতি এই অত্যাচার স্থির হয়ে দেখবে?শীঘ্র অবতীর্ণ হও,পাষন্ডদের দলন কর।*
*সকলের প্রস্থান)*
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
🆕 👉 গৌরাঙ্গলীলা 🍁 পঞ্চাঙ্ক নাটক 🍁 প্রথম দৃশ্য বৃন্দাবন✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📝 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2025/07/gourangaleela.html
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*🙌শ্রীগৌরাঙ্গলীলা,পঞ্চাঙ্ক নাটক।*
*দ্বিতীয় অঙ্ক*
*প্রথম দৃশ্য*
*🌻গঙ্গাদাস ভট্টাচার্যের টোল*
*⏩গঙ্গাদাস,কমলাকান্ত ও মুরারী।*
*🍀কমলাকান্ত=আচার্য্য মহাশয়, নিমাই এ টোল ছাড়লে কেন?*
*🍀গঙ্গাদাস=এখানকার বিদ্যাশিক্ষা অর্থাৎ ব্যাকরণ শিক্ষা নিমায়ের শেষ হয়েছে। কি অদ্ভুত মেধাবী ছেলে!তার বয়স যখন দ্বাদশ বৎসর তখন তার পিতৃ-বিয়োগ হয়।তার মা শচীদেবী সেই পিতৃহীন,দরিদ্র ও অসহায় বালককে আমার হাতে সমর্পণ করে আমার উপর তার বিদ্যাশিক্ষার ভার দেন। কঠিন ব্যাকরণশাস্ত্র----যা অন্য লোকে দশ বার বৎসরেও ভাল করে আয়ত্ত করতে পারে না,নিমাই মাত্র দুই বৎসরে তা সম্পূর্ণ আয়ত্ত করেছে।আর তাকে শিখাবার আমার কিছু নেই।তাই সে এখান থেকে গিয়ে ন্যায়শাস্ত্র পড়বার উদ্দেশ্যে বাসুদেব সার্বভৌম ভট্টাচার্যের টোলে প্রবেশ করে।নিমায়ের মত মেধাবী বালক বিরল।দেখ-না কেন,এই অল্পবয়সে সে একখানি ব্যাকরণের টিপ্পনী লিখেছে এবং নবদ্বীপের মত পন্ডিতের দেশেও, সেই টিপ্পনীর আদর ও প্রচার হয়েছে।ইহা কি কম কথা!তাই বলছি, নিমায়ের মত মেধাবী বালক বিরল!*
*🍀কমলাকান্ত=তা স্বীকার করি,তবে অমন বাচালও বিরল। আমাদের বয়স তার বয়সের দ্বিগুণের চেয়ে বেশী, ত্রিশ বত্রিশ--- তার সবে মাত্র চৌদ্দ-- তবুও সে আমাদের সঙ্গে তর্ক করতে ছাড়ে না।বালক বোধে তার সঙ্গে যদি তর্ক করতে না চাই,তবে এত টিটকারী দেয়,যে অবশেষে বাধ্য হয়ে তর্ক করতে হয়।*
*🍀গঙ্গাদাস=(হাসতে হাসতে) এবং সে তর্কে তার কাছে পরাজিত হতে হয়?কেমন কি না?*
*🍀কমলাকান্ত= (মাথা চুলকাতে চুলকাতে) আজ্ঞে--তা হতে হয় বটে।নিমাই মাথা এমন গুলিয়ে দেয়,যে তার প্রশ্নের সঠিক উত্তর আর মনে আসে না--অথচ মজা এই--তাকে যতই কূট প্রশ্ন করি-না কেন, সে তৎক্ষণাৎ ঠিক উত্তর দেয়। কেমন মুরারি দাদা,ঠিক না?*
*🍀মুরারি=খুব ঠিক---সেদিন কিছুতেই আমি তার সঙ্গে তর্ক করব না--সেও ছাড়বে না-- নাছোড়বান্দা,শেষে তর্ক করতে বাধ্য হতে হল। কিন্তু মাথা যে কি রকম গুলিয়ে গেল বলতে পারিনি,কাজেই তর্কে পরাস্ত হতে হল।*
*🍀গঙ্গাদাস=মাথা কি আর অমনি গুলিয়ে যায়!রাগ করোনা--নিমায়ের মাথায়,আর তোমাদের মাথায়?তোমাদের কেন--এমন কি আমার মাথায় অনেক প্রভেদ--নিমায়ের মেধা অদ্বিতীয়!তার ক্ষমতা ঈশ্বর দত্ত।নিমাই একজন বড়মাপের পন্ডিত হয়ে নবদ্বীপের নাম উজ্জ্বল করবে। আহা!আজ যদি জগন্নাথ মিশ্র বেঁচে থাকত, তাহলে কত আনন্দ হত।*
*🍀কমলাকান্ত=দেখ, নিমায়ের দুই-একটি দোষও আছে।সে নিজে শ্রীহট্টদেশীয়, কিন্তু শ্রীহট্টবাসী ছাত্রদের দেখলেই তাদের কথার অনুকরণ করে বিদ্রূপ করবে,এমন রাগিয়ে দিবে, যে তারা তাড়া করে মারতে উদ্যত হবে,তখন দৌড়ে পালাবে।কখন কখন তারা নালিশ করে, কিন্তু দারোগা নিমায়ের পক্ষ অবলম্বন করে তাদের ঠাট্টা করে তাড়িয়ে দেয়।*
*🍀গঙ্গাদাস=নিমাই তার স্বদেশবাসীর সঙ্গেই ঐরকম করে,অন্যকারও সঙ্গে করে কি?*
*🍀কমলাকান্ত= উঁহু না,তা কখনও করে না বটে! কিন্তু স্বদেশবাসীদের সঙ্গেই বাকরবে কেন?সেটা কি অন্যায় নয়?*
*🍀গঙ্গাদাস=দ্যাখ,যে রাগে তাকেই লোকে রাগায়। নিমাই নিজের দেশের লোকের সঙ্গে ঠাট্টা করে মাত্র।তারাও ঠাট্টা করে হেসে উড়িয়ে দিলেই পারে, আচ্ছা,নিমাইকে তোমরা কেউ কখনও রাগতে দেখেছ কি?*
*🍀মুরারি=না----, নিমায়ের শরীরে রাগ একটুও নাই।তার মুখ সদাই হাসিখুশী।*
*🍀গঙ্গাদাস=তবেই বোঝ, নিমাই কেন ওরকম করে? তার উদ্দেশ্য সকলেই তার মত হোক,রাগকে দমন করতে শিখুক। কেন----তারাও তো নিমাইকে অনেক কটু কথা বলে,মারতে উদ্যত হয়, নিমাই কি তাতে রাগে?*
*🍀কমলাকান্ত=আচ্ছা, নিমায়ের আর একটি দোষের কথা বলি---সে বৈষ্ণবদের অত ঠাট্টা করে কেন? "মুকুন্দ দত্ত বেচারা সুগায়ক ও পরম বৈষ্ণব।তাকে পেলে নিমাই আর ছাড়ে না, সে নিমাইকে দেখলেই ভয়ে পালায়।সেদিন মুকুন্দকে পালাতে দেখে নিমাই তাকে ডেকে বললে--তুই পালাস কোথা? আমার হাত থেকে তুই কখনই পালাতে পারবি না। কিছু কাল পরে তোকে এমন কোরে বাঁধব যে তুই চিরকাল আমার কাছে বাঁধা থাকবি।দেখবি, আমিও বৈষ্ণব হব, কিন্তু তোর মত বৈষ্ণব হব না--আমি এমন বৈষ্ণব হব যে স্বয়ং শিব আমার দারস্থ হবে"। এতে কি বোধ হয় না,নিমাই নাস্তিক?শিবকে মানে না?*
*🍀গঙ্গাদাস=নিমাই এখন বালক,তার ধর্মভাব এখন কিরকম তা' ঠিক বুঝা যায় না। তবে ও কথায় এমন কিছু প্রমাণ হয় না যে, সে নাস্তিক। নাস্তিক যদি,তবে সে বৈষ্ণব হতেই বা যাবে কেন?আর যেমন-তেমন বৈষ্ণব--না---যথার্থ বৈষ্ণব হওয়াই তার যে একান্ত ইচ্ছা,তার নিজের কথাতেই তা প্রমাণ হয়। নিমাইয়ের বালক-সুলভ চপলতা আছে বটে,তবে সে নাস্তিক বোলে আমার বোধ হয় না।*
*🍀মুরারি= গুরুদেব! আপনি নিমাইয়ের বড়ই পক্ষপাতী,তাই তার কোনই দোষ দেখতে পান না। এখন তবে আমরা আসি, প্রণাম🙏। সকলের প্রস্থান।*
*জয় জয় নিতাই গৌর সীতানাথ প্রেমানন্দে হরিবল, দুইটি বাহু তুলে, একসঙ্গে বলুন হরি হরি হরিবল🙏জয় শ্রীরাধেশ্যাম,জয় শ্রীরাধা মাধব,জয় শ্রীকৃষ্ণ,হরেকৃষ্ণ🙏🙏🙏*
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
🆕 👉 গৌরাঙ্গলীলা 🍁 পঞ্চাঙ্ক নাটক 🍁 প্রথম দৃশ্য বৃন্দাবন✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📝 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2025/07/gourangaleela.html
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*🙌শ্রীগৌরাঙ্গলীলা,পঞ্চাঙ্ক নাটক।*
*দ্বিতীয় অঙ্ক*
*দ্বিতীয় দৃশ্য*
*গ্রাম্য পথ*
*(কতকগুলি পাথরখন্ড ও লৌহ শলাকা নিয়ে কাঞ্চনদাসের প্রবেশ)*
*🍀কাঞ্চন=পঞ্চাশ হাজার টাকা লোকসান!উঃ কি ভয়ানক।যাক ও কথায় আর কাজ নেই, মাথা খারাপ হয়ে যাবে।যাকগে পঞ্চাশ হাজার টাকা--একবার যদি একটা পরেশ পাথর পাই,তবে আর ভাবনা কি?কত লাখ লাখ টাকা হবে--যাতে ঠেকাব অমনি সোনা--গুরু সত্য,কি মজা। সাধনায় সিদ্ধি!খুঁজতে খুঁজতে একদিন না একদিন নিশ্চয়ই মিলবে,তখন কি করব, গুরু সত্য!আহ্লাদে নাচতে থাকব, এখনি যে নাচ পাচ্ছে---*
*গীত*
*যদি আমি পরেশ পাথর পাই--*
*🌷প্রাণ খুলে গাই,নাচি কুদি,ডিগবাজি খাই,বগল বাজায়।*
*🌷হ'ত আমার কত টাকা,যা বিনা সকলি ফাঁকা,*
*🌷দুনিয়া থাকত মুঠোর ভেতর,যা ইচ্ছে করতেম তাই।।*
*(দুই তিনজন বালকের প্রবেশ)*
*🍀প্রথমবালক=কি-রে কেঁচো, অত নাচছিস কেন?*
*🍀কাঞ্চন=ফের কেঁচো-- আমার নাম কাঞ্চনদাস। ফের যদি কেঁচো বলবি তবে তোদের ব্যাঙ,টিকটিকি,গিরগিটি বলে ডাকব।*
*🍀দ্বিতীয়বালক=আচ্ছা আর কেঁচো বলব না, বলি কাঞ্চনদাস! এই একটা পাথর কুড়িয়ে পেয়েছি,দ্যাখ দিকি এটা পরেশ পাথর কি-না?*
*🍀কাঞ্চন=কই দেখি দেখি (হাতে নিয়ে ও লোহায় ছোঁয়াইয়ে দূরে ফেলে দিল) হতভাগা ছোঁড়ারা--আমার সঙ্গে চালাকি,একটা বাজে পাথর নিয়ে এসে বলছে পরেশ পাথর।অমন পরেশ পাথর আমার ঢের আছে,এই দ্যাখ থলি ভরা,তোদের চাই তো নে,আয় তোদের মাথায় ঢেলে দি।*
*🍀প্রথমবালক=না কেঁচো--থুড়ি কাঞ্চনদাস, আমার মাথায় ঢালিশ নি।আচ্ছা কেঁচো-- না না কাঞ্চনদাস,তুই পরেশ পাথর পেলে কি করবি বল দেখি।*
*🍀কাঞ্চন=কি করব? র--সো, ভাবতে দাও। ওঃ! কি মজায় হবে, গুরু সত্য!যাক না পঞ্চাশ হাজার টাকা, লাখ লাখ টাকা হবে,যাতে ছোঁয়াব তাই সোনা!হাতা,বেড়ি,ঘটি,বাটি,থালা,গাড়ু, লোহার সিন্দুক, সব সোনা হয়ে যাবে!সোনার বাড়ী ক'রে ফেলব, যেমন রাবণের লঙ্কা ছেলো। কিন্তু চারিদিকে সোনা ছড়ান থাকবে,চোরের উৎপাত বাড়বে।*
*🍀দ্বিতীয়বালক=কেন,অনেক সেপাই পাহারা রেখে দিবি।*
*🍀কাঞ্চন=তা যেন দিলুম, তারাই যদি চুরি ডাকাতি করে?*
*🍀প্রথমবালক=কেন,তখন তাদের তরওয়ালগুলোও সোনার ক'রে দিবি,তা-হলে আর সে তরওয়ালে তোকে কাটতে পারবে না।*
*🍀কাঞ্চন=তা' যেন হ'ল-- কিন্তু ঐ পরেশ পাথরটা রাখব কোথায়? লোহার সিন্দুকে রাখলে সেটাও সোনার হয়ে যাবে,সব শুদ্ধই যদি লুঠ করে নিয়ে যায়। মাথাটা খারাপ হয়ে গেল দেখছি।*
*🍀দ্বিতীয়বালক=কেঁচো,না না-- কাঞ্চন, মাথা খারাপ করবার আর দরকার নেই,যা আছে যথেষ্ট।আমরা না হয় তোর বাড়ী চৌকি দেব তখন। আমাদের ভাল ক'রে খাওয়াস,কেমন কেঁচো?*
*🍀কাঞ্চন=পের কেঁচো?বেল্লিক বেঙাচিরা,বেরো এখান থেকে,নইলে মাথা ভেঙ্গে গুঁড়ো করে দেব। (বালকদের পলায়ন)*
*🏀একজন ভদ্রলোকের প্রবেশ।*
*🍀ভদ্রলোক=কি কাঞ্চনদাস, কি হয়েছে,অতো চটেছ কেন? ছেলেগুলো খেপাচ্চিল বুঝি?*
*🍀কাঞ্চন=দেখুন তো মশাই, বেঙাচিগুলোর জ্বালায় অস্থির। পা--ই না আ---গে পরেশ পাথর, তখন বেটাদের দেখে নেব। (প্রস্থান)*
*🍀ভদ্রলোক=আহা!লোকটার ব্যবসাতে পঞ্চাশ হাজার টাকা লোকসান হওয়ায় মাথা খারাপ হয়ে গেছে,হবারই কথা!তাই এখন পরেশ পাথর খোঁজবার খেয়াল হয়েছে। মানুষের কখন কি হয় বলা যায় না। (প্রস্থান)*
*(হরিদাসের প্রবেশ)*
*🍀হরি=হরি! কবে আমার উপর তোমার সদয় হবে,কবে তোমার ঐ ধড়াচূড়া পরা ভুবনমোহন মূর্তি দেখতে পাব? আহা! আমার কি এমন দিন হবে!*
*(কাঞ্চনের প্রবেশ)*
*🍀কাঞ্চন=(স্বগত)এইবার হয়েছে---এ লোকটাকে সাধুর মত দেখাচ্চে,এদের কাছেই পরেশ পাথর পাওয়া যেতে পারে। (প্রকাশ্যে)হ্যাঁগা,তুমি না সাধু?*
*🍀হরি=সাধু হতে পারি কই বাবা,আমি ঘোর পাপী।*
*🍀কাঞ্চন=ও সব বুকনিতে ভুলিনি বাবা---পঞ্চাশ হাজার টাকা গেছে---একেবারে সর্বশান্ত হয়েছি। তাই বলছি আর ভাঁড়াভাঁড়ি কোরো না,আমায় দয়া কর।*
*🍀হরি=তোমায় দয়া করি আমার এমন ক্ষমতা কোথায়? তোমার পঞ্চাশ হাজার টাকা লোকসান হয়েছে বলছ। আমার একটি পয়সাও নেই যে তোমায় দান করি।*
*🍀কাঞ্চন=পয়সা চাই না, আমি চাই পরেশ নাথর। যদি থাকে দাও।*
*🍀হরি=পরেশ পাথর?হ্যাঁ,সেদিন গঙ্গাস্নানে যাবার সময় পায়ে একটা ঠেকেছিল বটে, তাতে পায়ে আঘাতও লেগেছিল, তাই সেটাকে ঐ নর্দমায় ফেলে দিয়েছিলাম, যদি পাও খুঁজে দ্যাখ। (কাঞ্চনের দৌড়ে প্রস্থান) লোকটি অর্থের জন্য পাগল! হে হরি!অর্থের জন্য ওর যত আকাঙ্খা আগ্রহ, তোমার জন্য আমার যেন সেই আগ্রহ ও আকাঙ্খা থাকে। (প্রস্থান)*
*(কাঞ্চনের পুনঃ প্রবেশ)*
*🍀কাঞ্চন=সত্যিই এটা পরেশ পাথর--এই লোহাগুলো সব সোনা হয়েছে---এতদিনে আমার মনসকামনা পূর্ণ হল। কিন্তু লোকটা কি বোকা, এমন জিনিস পেয়েও,নর্দমায় ফেলে দেয়!দিয়ে কিনালোকের কাছে একমুঠো চালের জন্য ভিক্ষে করে বেড়ায়। হাঃ---হাঃ----হাঃ এমন মুখখুও থাকে! (প্রস্থান)*
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
🆕 👉 গৌরাঙ্গলীলা 🍁 পঞ্চাঙ্ক নাটক 🍁 প্রথম দৃশ্য বৃন্দাবন✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📝 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2025/07/gourangaleela.html
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*🙌শ্রীগৌরাঙ্গলীলা, পঞ্চাঙ্ক নাটক।*
*দ্বিতীয় অঙ্ক*
*তৃতীয় দৃশ্য*
*গঙ্গাবক্ষ*
*(নৌকারোহণে নিমাই ও রঘুনাথ)।*
*🍀রঘুনাথ=নিমাই!গতকাল যে তুমি বলেছিলে, আজ যখন গঙ্গা পার হবে তখন তুমি যে ন্যায়গ্রন্থ লিখেছ সেই পুঁথিখানা সঙ্গে আনবে এবং আমায় দেখাবে? এনেছ কি?*
*🍀নিমাই=তুমি যখন দেখতে চাইলে, তোমার অনুরোধ কি উপেক্ষা করতে পারি?এই নাও,পড়ে দ্যাখ। (পুঁথি প্রদান),*
*🍀রঘুনাথ=আচ্ছা, তুমি তো সবেমাত্র সেদিন বাসুদেব ভট্টাচার্য্যের টোলে ন্যায় পড়তে আরম্ভ করলে। আর পড়লেই বা কয়দিন, আর লিখলেই বা কখন?*
*🍀নিমাই=সে খবরে তোমার কাজ কি, তুমি ততক্ষণ পড়, আমি একটা গান গাই।*
*গীত*
*কাহার উদ্দেশ্যে,বল কোন দেশে,*
*তটিনী পাগলিনী প্রায়।*
*এত যে সাধনা,এত যে কামনা,*
*সফল হ'ল কি তায়?*
*কত কাল বল ছুটিবে আর,*
*ছুটিলে সন্ধান পাবে কি গো তার?*
*ধরা তো দেবে না,ফিরে তো চাবে না,*
*সারাটি জীবন কাটিবে আশায়।*
*কোটি শশী গ্রহ তারা,হয়ে সবে মাতোয়ারা,*
*কোটিযুগ ঘুরে ঘুরে পাইনা যাহায়,*
*যোগী ঋষি কত ধ্যান ধারণায়,*
*সন্ধান যাহার কিছু না পায়।*
*কেমনে পাইবে, সে মনোচোরে,*
*দূরে থেকে যে গো প্রাণ মাতায়।।*
*🌹রঘুনাথ!একি! তুমি কাঁদছ কেন?গান শুনে তোমার মনে ভাবের উদয় হ'ল না-কি?*
*🍀রঘুনাথ=না ভাই! তোমার গান আমি মোটে শুনিই-নি, তা' ভাব আসবে কি? কিন্তু তোমার গ্রন্থ পড়ে আমার ভবিষ্যৎ আশা ভরসা সব চূরমার হয়েছে।*
*🍀নিমাই= কেন, কেন? আমার গ্রন্থ পড়ে তোমার আশা ভরসা চূর্ণ হবে কেন?*
*🍀রঘুনাথ= নিমাই! তুমি বোধহয় জান না যে আমিও "দীধিতি" নামে একটি "ন্যায়ের" গ্রন্থ লিখেছি। আমার দৃঢ় বিশ্বাস ছিল, আমার গ্রন্থের জগতে আদর হবে, ভারতবর্ষে অদ্বিতীয় পন্ডিত বলে আমার নাম থেকে যাবে। কিন্তু তোমার গ্রন্থ পড়ে আমার সে আশা আর নাই, আমি দশ পৃষ্ঠায় যা ব্যক্ত করেছি, তুমি দুই ছত্রে তা অতি পরিস্কার ভাবে ব্যক্ত করেছ। তোমার গ্রন্থ প্রকাশিত হলে আমার গ্রন্থ একেবারেই কেউ নেবেও না চলবেও না, আমার নাম একেবারে ডুবে যাবে। তাই কাঁদছি নিমাই।*
*🍀নিমাই= ও ও ও, এই কথা? এই দ্যাখ,আমার পুঁথি গঙ্গাজলে ফেলে দিলাম, আমার পন্ডিত হতে সাধ নেই, তোমার মত বন্ধুর মনে একটুও কষ্ট দিতে আমার ইচ্ছে নেই। (পুঁথি গঙ্গাজলে নিক্ষেপ)।এখন হল তো? এতেও যদি তোমার সংশয় থাকে, আমি এই গঙ্গার উপর বসে তোমায় বলছি, আর আমি তোমার প্রতিদ্বন্দ্বী হব না,ন্যায়ের গ্রন্থ আর লিখব না,ন্যায়ের চর্চাই আজ থেকে আর করব না। মন শান্ত হল তো ভাই? কিন্তু অন্যে যদি তোমার গ্রন্থের চেয়ে ভাল গ্রন্থ লেখে?*
*🍀রঘুনাথ=হ'ল বটে নিমাই, কিন্তু জগৎ হতে একটি অমূল্য গ্রন্থ বিলুপ্ত হল। নিমাই! অন্য কারও সাধ্য নেই যে, আমার "দীধিতির" চেয়ে শ্রেষ্ঠ ন্যায়গ্রন্থ লেখে, এটা আমার আত্মম্ভরিতা মনে করো না নিমাই, এটা সার সত্য কথা, বড় বড় পন্ডিতদের এই মত। নিমাই! ধন্য তোমার বন্ধুত্ব,ধন্য তোমার স্বার্থত্যাগ! বন্ধুর মনস্তুষ্টির জন্যে অনায়াসে অক্ষয়কীর্তি বা অমরত্ব ত্যাগ করলে?*
*🍀নিমাই= অমরত্ব কি কেবলমাত্র পুঁথি লিখেই হয়,আর কিছুতে হয় না? শ্রীকৃষ্ণ, শ্রীরামচন্দ্র কয়খানা ন্যায়শাস্ত্র লিখেছিলেন রঘুনাথ?অথচ তাঁদের মত অমরত্ব লাভ করেছে কয়জন পন্ডিত?*
*🍀রঘুনাথ=তোমার সঙ্গে তো তর্কে এ পর্যন্ত কেউ পারে নাই নিমাই, আমিই বা কেমন করে পারব? আমি শুধু তর্কে নয়, তোমার উদারতায়, তোমার অসাধারণ পান্ডিত্যে ও অদ্ভুত স্বার্থত্যাগে পরাস্ত হলেম। হ্যাঁ, গানটার কথা কি বলেছিলে নিমাই? গানটা আমি একটুও শুনিনি---আর একবার গাও না শুনি।*
*🍀নিমাই=খ্যাপা! তোমার মত অরসিকের কাছে গান গাইতে আছে?তুমি নৈয়ায়িক হতে পার, ভাবুক নও, ভাবুক পৃথিবীতে ক'জন আছে? এক ভাবুকের কথা বলি শোন।🌹তাকে লোকে আধ পাগলা বলত,কারণ, সে যে কি ভাবে মত্ত থাকত,তা সাধারণ লোকে বুঝবে কেমন করে? একদিন সে গঙ্গার ধারে বসে জলের স্রোতের সঙ্গে কালের স্রোতও তেমনি অনবরত বহে যাচ্ছে, নদীর স্রোত শেষে সমুদ্রে মিলে যাচ্ছে--কালের স্রোতও অনন্ত কাল-সমুদ্রে মিশে যাচ্ছে। এই রকম কত কি ভাবছে, এমন সময় দেখলে অদূরে ঘাটে এক পরমা সুন্দরী রমণী স্নান করছে, রমণীর সৌন্দর্য্য দেখে সেই লোকটির চোখের পলক আর পড়ে না। একদৃষ্টে রমণীর মুখের দিকে তাকিয়ে রইল।যে সব পুরুষ সেই ঘাটে স্নান করছিল, তারা তার এই অসভ্যতা দেখে তাকে বিলক্ষণ শিক্ষা দেবার চেষ্টা করতে লাগল। বলতে লাগল, "আমরা জানতাম লোকটা সাধু, এখন দেখছি ঘোর ভন্ড---দাও বেটাকে দু'চার ঘা,তবে যদি আক্কেল হয় "।সে সব কথায় সে কর্ণপাত করল না, স্নান শেষে যখন রমণীটি উঠে আসতে লাগল তখন সে তার দিকে এগিয়ে গিয়ে বলল, "মা, তুমি যখন এত সুন্দর, না জানি তোমায় যিনি সৃষ্টি করেছেন সেই ভগবান আরও কত সুন্দর? সে অনন্ত সুন্দরের রূপ তো দেখতে পেলাম না। এই বলে সেখানে বসে কাঁদতে লাগল। তখন লোকগুলো নিজেদের ভুল বুঝতে পেরে লজ্জিত হল এবং স্নানান্তে চলে গেল। কিন্তু সেই ভাবুক সমস্ত দিন সেখানে বসে ভাবতে লাগল, আর মধ্যে মধ্যে বলতে লাগল, "সে রূপ তো আমার দেখা হল না"। দেখলে রঘুনাথ! সাধারণ লোকের মনের ভাব আর ভাবুকের ভাব-এ কত প্রভেদ! চল এখন ঘরে যাই। (প্রস্থান)।*
*জয় নিতাই গৌর হরি হরি হরিবোল।*
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
🆕 👉 গৌরাঙ্গলীলা 🍁 পঞ্চাঙ্ক নাটক 🍁 প্রথম দৃশ্য বৃন্দাবন✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📝 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2025/07/gourangaleela.html
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*🙌শ্রীগৌরাঙ্গলীলা,পঞ্চাঙ্ক নাটক।*
*দ্বিতীয় অঙ্ক*
*চতুর্থ দৃশ্য*
*বনগ্রামের জঙ্গল মধ্যস্থ হরিদাসের কুটীর।*
*(একজন পতিতার প্রবেশ)*
*🍀পতিতা=জমিদার বলেছে যদি হরিদাসকে বশ করতে পারি, তবে পাঁচ শ টাকা বকশিষ দেবে।এ আর শক্ত কথা কি? আমার এ রূপে ভুলে না এমন কেউ আছে? কৈ, এ পর্যন্ত তো দেখতে পেলাম না, স্বয়ং জমিদারই আমার গোলাম।রূপের নেশা ভয়ানক নেশা!দেবতা,যোগী,ঋষিরা পর্যন্ত উর্বশী মেনকার রূপে মুগ্ধ হত, তা সামান্য মানুষের কথা কি ছার! কৈ হরিদাস গেল কোথায়? এই নিবিড় জঙ্গল মধ্যে এই জীর্ণ কুটীরে সে একা থাকে কি রকম করে?বাঘ, ভল্লুকের ভয় হয় না? আমার তো গা ছম্ ছম্ করছে, যদিও জানি জমিদারের লোক কিছু দূরেই আছে।একটু এগিয়ে দেখি, হরিদাস কোথায় গেল।*
*🌲হরিদাসের প্রবেশ*
*🍀হরিদাস=আজ রাখাল বালক এখনও এলো না কেন? রাখাল বালক কে? তাকে দেখলে মনে হয় যেন সেই ব্রজের রাখাল বালক! কি সরলতা মাখান মুখখানি! ঐ যে গান গাইতে গাইতে আসছে! কি মিষ্টি গলা! (গান গাইতে গাইতে রাখাল বালকের প্রবেশ)*
*গীত*
*আমি যারে ভালবাসি,থাকি সদা তারই কাছে,*
*যে আমারে ভালবাসে,কোন কিছু হয় তার পাছে।*
*চোখ থাকতেও কেউ দেখেনা,কান থাকতেও ডাক শোনে না,*
*মন থাকতেও ভাবে নাকো কে এমন আপন আছে।*
*🍀রাখাল=দাদা,আমি আসিনি বলে তুমি ভাবছিলে বুঝি?*
*🍀হরিদাস=কেমন করে জানলে রাখাল ভাই, যে আমি তোমার জন্যে ভাবছিলাম, তুমি কি অন্তর্য্যামী?*
*🍀রাখাল=তা যাই বল, আমি ঠিক জানতে পেরেছিলাম যে আমার দাদা আমায় দেখতে না পেয়ে ব্যস্ত হয়েছে।তাই একবার এলাম। আমার কত কাজ তা জান?*
*🍀হরিদাস=কি কাজ রাখাল ভাই? তোমার কি মা বাপ কেউ নেই?*
*🍀রাখাল=না----সে কথাত অনেকবার বলেছি।আমার কি কাজ?এই তোমাকে আগলান, বাঘ ভল্লুকের হাত থেকে রক্ষা করা।*
*🍀হরিদাস=হাঃ হাঃ হাঃ! রাখাল ভাই, তুমি হাসালে। তোমাকে কে রক্ষা করে তার ঠিক নেই, তুমি আবার আমায় বাঘ ভল্লুকের হাত থেকে রক্ষা করবে?*
*🍀রাখাল=বাঘ ভল্লুক আমার কিছু করতে পারবে না, আমি খুব ছোট কি---না। এমন জায়গায় লুকিয়ে থাকি আমায় কেউ দেখতে পায় না, অথচ আমি সবাইকে দেখতে পায়।দেখ হরিদাদা! তুমি বাঘ ভল্লুকের ভয় করবে না, তাদের দেখলেই হরিনাম করবে, তা হলেই তারা পালাবে। শুনেছি ধ্রুব যখন হরিনাম করত, বাঘ ভল্লুক তার কখনও অনিষ্ট করত না। দাদা, তুমি রাক্ষসী দেখেছ?*
*🍀হরিদাস= (হাসতে হাসতে) না ভাই, রাক্ষস বা রাক্ষসী দেখি নাই, গল্প অনেক শুনেছি। তুমি বুঝি রাক্ষসীর ভয় কর?*
*🍀রাখাল=মোটেই নয়, তবে পাছে রাক্ষসী তোমার ঘাড় ভাঙ্গে তাই ভয় করে!আমি তবে এখন চললাম।*
*(পতিতার পুনঃ প্রবেশ)*
*🍀পতিতা= আপনার নাম কি হরিদাস?*
*🍀হরিদাস= হ্যাঁ, আমার নাম হরিদাস। তুমি কে? তোমার এখানে কি প্রয়োজন?*
*🍀পতিতা=প্রণাম হই ঠাকুর, বলছি। প্রয়োজন না থাকলে কি আমি কুলাঙ্গনা হয়ে একা এই নিবিড় অরণ্যে আপনার সঙ্গে দেখা করতে এসেছি?*
*🍀হরিদাস=কুলনারী একা কখনও কোথাও যায় না, বা পরপুরুষের সঙ্গে কথা কয় না, তুমি বোধহয় কুলনারী নও, কুলটা।*
*🍀পতিতা=আচ্ছা, তাই যেন হলাম,তাই বলে কি আমায় ঘৃণা করা উচিত?*
*🍀হরিদাস=না, কাউকেও ঘৃণা করা উচিত নয়, পাপকে ঘৃণা করা উচিত। কিন্তু পাপীকে ঘৃণা করা উচিত নয়।*
*🍀পতিতা=তবে আপনি আমায় ঘৃণা করেন না?*
*🍀হরিদাস=না, ঘৃণা করবার অধিকার নাই।*
*🍀পতিতা=আচ্ছা ঘৃণা যদি না করেন,তবে ভালবাসতে পারেন না কি? আমি আপনার কথা অনেক শুনেছি,তাই আপনার প্রেম ভিক্ষা করতে এসেছি।*
*🍀হরিদাস=ঘৃণা না করলেই যে ভাল বাসতে হবে তার কোন মানে নাই। তোমার উপর সহনাভূতি করতে পারি বটে, কিন্তু প্রেম কামনা বৃথা।*
*🍀পতিতা=কেন আমি কি এতই কুরূপা?*
*🍀হরিদাস=হ্যাঁ, রূপ থাকলেও তুমি কুরূপা, অনেক সুন্দর সুন্দর ফুল আছে যার শোভা অতি মনোলোভা, কিন্তু দেব-দেবীর পূজায় ব্যবহার হয় না।যে রূপের গুণে তুমিও কোন পুরুষকে ভাগ্যবান করে তার ঘরে গৃহলক্ষ্মী হয়ে বিরাজ করতে পারতে, সেই রূপের অসদ্ব্যবহার কত পুরুষের সর্বনাশ করছ,কত সতী সাধ্বী স্ত্রীলোকের মনে দারুণ মর্মবেদনা দিচ্ছ।এই জন্যই কি বিধাতা তোমায় এত রূপ দিয়েছিলেন?*
*🍀পতিতা=আমি সব ত্যাগ করব, আপনি যদি আমার উপর সদয় হন, আমায় একটু প্রেম ভিক্ষা দেন। আপনি যদি আমায় প্রত্যাখ্যান করেন,তবে এ প্রাণ আর রাখব না।*
*🍀হরিদাস=নারী, তুমি ভালবাসতে জান?*
*🍀পতিতা=সত্যিই জানি না। আপনি শেখান, আমি চিরকাল আপনার দাসী হয়ে থাকব।*
*🍀হরিদাস=বেশ কথা। শোন-- এক ব্রাহ্মণ ছিল, সে শ্রীকৃষ্ণের পরম ভক্ত। কিন্তু শ্রীকৃষ্ণের পূজা ও স্তব কিছু করত না।দুগাছি লাঠি ছিল---একগাছি বড়, একগাছি ছোট, সেই দুগাছা লাঠিতে রোজ তেল মাখাতো, কেউ যদি জিজ্ঞাসা করত, লাঠিতে তেল মাখাও কেন? বলত যদি কখন নারদ বুড়ার সঙ্গে দেখা হয় তবে এই বড় লাঠিটা তার পাঠে ভাঙ্গব, আর যদি কখন প্রহ্লাদের সঙ্গে দেখা হয়,তবে এই ছোট লাঠিটা তার পিঠে ভাঙ্গব।*
*🍀পতিতা=কেন সে কি পাগল না কি? নারদ, প্রহ্লাদ তার কি করলে?*
*🍀হরিদাস=তার কিন্তু করেনি। সে বলত "নারদ, প্রহ্লাদ যখন তখন ঠাকুরকে ডেকে ডেকে না জানি কত কষ্ট দিয়েছে।" সে তার আরাধ্য দেবতার পাছে কোন কষ্ট হয়, সে জন্য সর্বদা ব্যস্ত, নিজেও আরাধ্য দেবতাকে কখন ডাকত না,অন্যে ডাকলে রাগ করত। সংসারী ব্যক্তি অর্থ,মান,সুখ প্রভৃতির কামনায় ভগবানকে ডাকে।যোগী,ঋষিরা মুক্তির জন্য ভগবানকে ডাকে, সে কিন্তু কিছু চাইত না। একে বলে নিষ্কাম প্রেম।এই প্রেম শিখতে পারবে কি?*
*🍀রাখাল বালকের প্রবেশ।*
*গীত*
*আমার তরে কোন ব্যথা দিবনা তাহায়,*
*কাঁদিতে হয় যদি মোরে,ক্ষতি কিবা তায়।*
*আমার হৃদয়-রাজে,*
*বসাব না হৃদি মাঝে,*
*এ পাষাণ হিয়া যে গো বাজিবে তাহার গায়।*
*নীরবে সহিব ব্যথা,জানাবনা কোন কথা,*
*পাছে সে ব্যথিত হয় আমার ব্যথায়।*
*দূরে দূরে সদা রব,*
*হেরে তারে প্রাণ জুড়াব,*
*এ পাপ অঙ্গের হাওয়া লাগাবনা গায়।*
*🍀হরিদাস=(স্বগত)রাখাল বালক কে? ঠিক আমার মনের ভাব ব্যক্ত করে গেল।*
*পতিতা=ও ছেলেটি কে?আহা, আমার প্রাণ কি এক রকম হয়ে গেল!(হরিদাসকে লক্ষ্য করে)বাবা, আমি জমিদারের কথায় তোমার মন হরণ করতে এসেছিলাম, এখন আমার নিজেরই মন হারিয়ে গেল।আজ থেকে আমার জঘণ্য ব্যবসা ত্যাগ করলাম। বাবা, আমার কি উদ্ধার হবে না?*
*🍀হরিদাস=কেন হবে না মা!তাই যদি না হবে, তবে শ্রীহরির দয়াল ও পতিতপাবন নাম হবে কেন? ভক্তিভরে হরিনাম কর, সব পাপ তাপ দূর হবে। তুমি যদি ইচ্ছা কর,এই কুটীরে বাস করতে পার। আমি এ কুটীর কেন, এ দেশ ত্যাগ করে চললাম।এইরকম পাষন্ড জমিদারের গ্রামে আর বাস করব না।*
*🍀পতিতা=বাবা! আজ আমার চোখ ফুটল। এ রকম লোক থাকে আমার জ্ঞান ছিল না। 🙏হরি! আমার কি উদ্ধার হবে না?আমি এই পবিত্র আশ্রমেই থাকব,আর আমার বাঘ ভল্লুকের ভয় হচ্ছে না, বাবা হরিদাস কি করে এই বনে ছিলেন?এতটুকু ছোট্ট ছেলে (রাখালবালক) কি রকম করে এখানে আছে?আহা ছেলেটি কে? (প্রস্থান)*
*জয় জয় নিতাই গৌর সীতানাথ প্রেমানন্দে হরিবল, দুইটি বাহু তুলে, একসঙ্গে বলুন হরি হরি হরিবল🙏জয় শ্রীরাধেশ্যাম,জয় শ্রীরাধা মাধব,জয় শ্রীকৃষ্ণ,হরেকৃষ্ণ🙏🙏🙏*
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
🆕 👉 গৌরাঙ্গলীলা 🍁 পঞ্চাঙ্ক নাটক 🍁 প্রথম দৃশ্য বৃন্দাবন✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📝 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2025/07/gourangaleela.html
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*🙌শ্রীগৌরাঙ্গলীলা, পঞ্চাঙ্ক নাটক।*
*পঞ্চম দৃশ্য*
*নিমাইয়ের টোল*
*দুইজন ছাত্র*
*🍀প্রথম ছাত্র=ভায়া,কাল সন্ধ্যেবেলা ছিলে কোথা? গঙ্গাতীরে আমাদের গুরুদেবের কাছে কাল কেশব পন্ডিতের দুর্দশাটা দেখতে পেলে না?*
*🍀দ্বিতীয়ছাত্র=আমি কদিন এখানে ছিলাম না,আজ এসেছি। কেশব পন্ডিতটি কে?*
*🍀প্রথমছাত্র=আরে তুমি বুঝি দুনিয়ার কোন খবরই রাখ না? কেশব পন্ডিত একজন দিগ্বিজয়ী কাশ্মিরী পন্ডিত, ভারতবর্ষের যেখানে যেখানে পন্ডিতের স্থান আছে,সেই সব স্থান জয় করে শেষে নবদ্বীপ জয় করতে এসেছিল। এখানে কিন্তু এত বড় বড় পন্ডিত রয়েছেন, কেউ তাঁর সঙ্গে বিচার করতে সাহসী হলেন না, সকলের বিশ্বাস না-কি মা সরস্বতী স্বয়ং কেশবের জিহ্বায় বসে বিচার করেন অতএব তাঁকে পরাজয় করা অসম্ভব।*
*🍀দ্বিতীয়ছাত্র=বটে, তারপর?*
*🍀প্রথম=কেশব পন্ডিতের চালচলন খুব বড় মানুষের মতন, সঙ্গে অনেক লোক,অনেক ঘোড়া, অনেক হাতী।ঐগুলো নাকি দিগ্বিজয় করে বড় বড় রাজাদের কাছ থেকে পেয়েছেন। কাল সন্ধ্যার সময় আমরা অনেক ছাত্র মিলে গুরুদেবের সঙ্গে শাস্ত্রালাপ করছি, এমন সময় অনেক লোক সঙ্গে করে কেশব পন্ডিত সেখানে উপস্থিত হয়ে জিজ্ঞাসা করলেন, "নিমাই পন্ডিত কোথায়"? আমরা দেখিয়ে দিলাম,পন্ডিতজী অবাক।একটু আশ্বর্য্য হয়ে মুরুব্বি চালে বললেন "তুমি দেখছি নিতান্ত বালক, তবে ব্যাকরণ তোমার বিশেষ ব্যুৎপত্তি আছে শুনেছি"।*
*🍀দ্বিতীয়=গুরুদেব কি করলেন,বললেনই বা কি?*
*🍀প্রথম=কেশব পন্ডিতের লোকের কাছে তাঁর পরিচয় পেয়ে আমাদের গুরুদেব দাঁড়িয়ে উঠে তাঁর খুব খাতির করে বললেন, "আমি বালক মাত্র, আমি ব্যাকরণ বুঝি কি? আমার বড় সৌভাগ্য যে আপনার দর্শন পেলাম!" কেশব পন্ডিত তখন বললেন, "আমি দিগ্বিজয়ে বাহির হয়েছি, শুনেছি নাকি নবদ্বীপে অনেক বড় বড় পন্ডিত বাস করেন। তাঁদের জানিও যে তাঁদের মধ্যে যদি কেউ আমায় বিচারে পরাস্ত করতে পারেন তবে আমার এই হাতী,ঘোড়া প্রভৃতি যা কিছু সম্পত্তি আছে তাঁকে দিব, কিন্তু যদি আমাকে কেউ পরাস্ত করতে না পারেন তবে জয় পত্র লিখে দিতে হবে।*
*🍀দ্বিতীয়=বালক বলে আমাদের গুরুদেবের সঙ্গে বিচার করতে বুঝি তাঁর ঘৃণা বোধ হল?*
*🍀🤘প্রথম=হ্যাঁ, কিন্তু গুরুদেব তাঁর দর্প চূর্ণ করেছেন।*
*🍀দ্বিতীয়=কি রকম করে?*
*🍀প্রথম=গুরুদেব বললেন "আপনি যখন দয়া করে এখানে এসেছেন, একটি গঙ্গার স্তব রচনা করে আমাদের শোনান, আমরা পবিত্র হই। বলব কি ভায়া, বলামাত্র পন্ডিতজী ঝড়ের মত, একটা শ্লোকের পর একটা শ্লোক, সেটা শেষ হতে না হতেই আমার একটা,এইরকম করে তৎক্ষণাৎ একশত শ্লোক রচনা করে স্তব পাঠ করলেন, আমরা তো অবাক, একটু ভাবতে হল না!যেন তুবড়িতে আগুন দিলে।*
*🍀দ্বিতীয়=বটে? বটে? তারপর?*
*🍀প্রথম=তার পর স্তব শেষ হলে গুরুদেব উহার খুব প্রশংসা করলেন এবং তৎক্ষণাৎ পন্ডিতজীর রচিত একটি শ্লোক বলে বললেন এই শ্লোকে কিছু দোষ আছে। পন্ডিতজী তো রেগে আগুন, অথচ খুব আশ্বর্য্য বোধ করলেন, বললেন,"তুমি কি শ্রুতিধর?" আমি ঝড়ের মত শ্লোকগুলি বলে গেলাম, তুমি কি করে উহা আয়ত্ত করলে? গুরুদেব হাসতে হাসতে বললেন, সরস্বতীর কৃপায় কেউ বা কবি হয়,কেউ বা শ্রুতিধর হয়।*
*🍀দ্বিতীয়=তারপর গুরুদেব সেই শ্লোকের দোষ দেখিয়ে দিলেন তো?*
*🍀প্রথম=নিশ্চয়ই--পাঁচটি দোষ ও পাঁচটি অলঙ্কারের গুণও দেখালেন।পন্ডিতজী শেষে রেগে বললেন "তুমি ব্যাকরণই জান,কাব্যের কি বুঝ?" এই বলে রাগে গর্ গর্ করতে করতে চলে গেলেন। ঐযে গুরুদেব আসছেন।*
*🌻নিমাই ও মুরারির প্রবেশ*
^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^
*🍀মুরারি=ধন্য নিমাই তুমি? তুমি নবদ্বীপের মান রক্ষা করেছ। বড় বড় পন্ডিতেরা যার সঙ্গে বিচারে বসতে সাহস করেনি, তুমি সেই কেশব পন্ডিতকে পরাজয় করে নবদ্বীপের মুখ উজ্জ্বল করেছ।*
*🍀নিমাই=কেশব বাস্তবিক পন্ডিত বটে, কিন্তু বড় অহঙ্কারী। অহঙ্কারই মানুষের প্রধান শত্রু ও অধঃপতনের কারণ। অহঙ্কার দমন না করতে পারলে কোনও সাধনারই সিদ্ধি হয় না।*
*🏀বেগে কেশব পন্ডিতের প্রবেশ ও নিমায়ের পদ ধারণ।*
*🍀কেশব= প্রভু, অপরাধ ক্ষমা কর, আমায় ক্ষমা কর।*
*🍀নিমাই= ও--- কি করেন, আপনি বয়সে, বিদ্যা, বুদ্ধি, জ্ঞানে সব বিষয়েই আমার চেয়ে অনেক বড়, আপনি আমার চরণ ধরে আমার অকল্যাণ করবেন না,পা ছাড়ুন, উঠুন। আপনি তো আমার কাছে কোনও অপরাধই করেন নাই, তবে ক্ষমা চাইছেন কেন?*
*🍀কেশব=চরম অপরাধ করেছি-- তবে শোন নিমাই।গতকাল তোমার কাছে পরাজিত হয়ে আমি উন্মত্ত প্রায় হয়ে গিয়েছিলাম, সমস্ত রাত্রি ঘুম হয় নাই, কেবল সরস্বতীর স্তব করেছি। শেষরাত্রে যখন একটু তন্দ্রা এলো তখন স্বপ্নে দেখলাম যে মা সরস্বতী আমার কাছে এসে দাঁড়িয়ে বলছেন " তুই কার সঙ্গে বিচার করতে গিয়েছিলি?জানিস না কি তিনি আমার কান্ত?তাঁর কাছে কি আমি দাঁড়াতে পারি? তাই লজ্জায় গতকাল আমি তোকে পরিত্যাগ করে চলে গিয়ে ছিলাম।তুই যত তাড়াতাড়ি পারিস তাঁর কাছে গিয়ে ক্ষমা ভিক্ষা করিস, নইলে আমি একেবারে তোকে পরিত্যাগ করব।" নিমাই আমায় ক্ষমা কর, আমায় মুক্তির পথ বলে দাও।*
*🍀নিমাই= পন্ডিতজী, ঘুম না হওয়ায় আপনার মস্তিষ্ক বিকৃত হয়েছিল, তাই যা তা স্বপ্ন দেখেছিলেন। আপনার দোষ কি যে আপনাকে ক্ষমা করব।*
*🍀কেশব= আমার দোষ দারুণ আত্মাভিমান, অত্যন্ত অহঙ্কার।*
*🍀নিমাই= আপনার ঐ দোষ গতকাল ছিল, এখন আর নেই। যে মুহূর্তে আপনার দীনতা এসেছে সেই মুহূর্তেই আপনার অহঙ্কার ঘুচে গেছে।*
*🍀কেশব=নিমাই! আমার জ্ঞান, অভিমান তো চূর্ণ করলে এখন আমার মুক্তির পথ বলে দাও।*
*🍀নিমাই= মুক্তির পথ একমাত্র হরি, সেই হরির শরণ নিন্, মুক্তির ভাবনা থাকবে না।*
*🍀কেশব=বেশ কথা,আজ থেকে আমি সব ত্যাগ করে সন্ন্যাস ব্রত ধারণ করলাম, আমার সমস্ত ঐশ্বর্য্য তুমি যাকে ইচ্ছা হয় দিও নিমাই, আমার আর উহাতে আবশ্যক নেই, আমি চললাম, হরি, শ্রীপদে স্থান দিও। (প্রস্থান)*
*🍀মুরারি=আশ্বর্য্য পরিবর্তন! (স্বগত) নিমাই কে?*
*🍀নিমাই=(অন্যমনস্কভাবে) কেশব, আমি তোমায় পদ দেখালাম, না তুমি আমায় পথ দেখালে, তুমি আগে গেলে, আমি পরে যাব।*
*🍀মুরারি=কি বলছ নিমাই! ও কি কথা!*
*🍀নিমাই=কৈ কি বলছিলাম,যাক ও কথায় কান দিও না। চল দেখিগে কেশব কোথায় যায়। (প্রস্থান)*
*জয় জয় নিতাই গৌর সীতানাথ প্রেমানন্দে হরিবল, দুইটি বাহু তুলে, একসঙ্গে বলুন হরি হরি হরিবল🙏জয় শ্রীরাধেশ্যাম,জয় শ্রীরাধা মাধব,জয় শ্রীকৃষ্ণ,হরেকৃষ্ণ🙏🙏🙏*
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
🆕 👉 গৌরাঙ্গলীলা 🍁 পঞ্চাঙ্ক নাটক 🍁 প্রথম দৃশ্য বৃন্দাবন✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📝 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2025/07/gourangaleela.html
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*🙌শ্রীগৌরাঙ্গলীলা,পঞ্চাঙ্ক নাটক।*
*তৃতীয় অঙ্ক।*
*প্রথম দৃশ্য*
*শ্রীজগন্নাথ মিশ্রের বাড়ী*
*(শচীমা ও তিনজন প্রতিবেশিনী)*
*🍀১ম,প্র=কি গো নিমাইয়ের মা, লুকিয়ে লুকিয়ে নিমাইয়ের বে' দিলে আমাদের একবার বললেও না?প্রথমবারেও বলনি এবারেও বললে না?কখানা লুচিই বা খেতাম? আমি বোলে অম্বলে মরছি,ভাগ্যে নামজাদা কবরেজের পরিবার হয়েছিলাম, তাই এখনও বেঁচে আছি। ওঁর অজ্জিনী নাশিনী বড়ি খেয়ে তবে আজ কাল সকালে দুমুঠো ভাত আর রাত্রে আধ-সের দুধ আর খান পনের-ষোল লুচি হজম করতে পারছি।*
*🍀শচীমা=না বোন কিছু মনে কোর না, আমরা গরীব, কর্তা বেঁচে থাকলে তবু পাঁচজনকে বলতে পারতাম, এখন কি করে বলি বোন, সবই তো জানো?*
*🍀২য়,প্র=প্রথমবারে তো বল্লভ আচায্যির মেয়ে লক্ষ্মীর সঙ্গে বে' হয়েছিল, আহা মেয়েটি সর্পাঘাতে মারা গেল!এবার কোথায় বে' হল?*
*🍀শচীমা=সনাতন মিশ্রের মেয়ে বিষ্ণুপ্রিয়ার সঙ্গে। মেয়েটি খুব শান্ত,সুলক্ষণা,রোজ গঙ্গার ঘাটে ভক্তিভরে আমায় প্রণাম করত,আমার তার উপর বড় মায়া পড়ে যায়, তাই নিমায়ের সঙ্গে তার বে' দিয়ে তাকে ঘরে এনেছি, মেয়েটি রূপে লক্ষ্মী, গুণে সরস্বতী, আমায় এমন সেবা যত্ন করে,কি আর বলব। তোমরা সকলে আশীর্বাদ কর যেন ওরা দুজনে দীর্ঘজীবী হয়ে সুখে দিনযাপন করুক।*
*🍀৩য়,প্র=নেমতন্ন কর আর নাই কর, আশীর্বাদ আমরা সর্বদাই করি।নিমাই এখন মস্ত পন্ডিত হয়েছে শুনতে পাই, তা তো হবারই কথা,পন্ডিতের ছেলে পন্ডিত হবে না তো কি।এই যে আমার ছেলেটা মোটেদশ বছর শেষ করে এগার বছরে পড়েছে, এরই মধ্যে কালিদাসের গীতা, না উপকথানিষেধ শেষ করেছে।*
*🍀শচীমা=হ্যাঁ বোন, তোমাদের আশীর্বাদে নিমাইয়ের এখন বেশ পন্ডিত বলে নাম হয়েছে। তবে হলে হবে কি, মধ্যে মধ্যে তার মূর্ছা হয়।*
*🍀১ম,প্র=বলেছিলাম তো,বায়ু পেরবল, বিষ্ণুতেল ব্যবস্থা কর, নইলে এর পর ঘোর উন্মাদ হবে।তা গরীবের কথা শুনবে কেন দিদি!*
*🍀শচীমা=বিষ্ণুতেলই তো মাখাচ্ছি বোন, তবে উপকার এখন বিশেষ হয়নি।আরও দিনকতক ব্যবহার করলে তবে জানতে পারা যাবে।*
*🍀১ম,প্র=আসল বিষ্ণুতেল পাবে কোথায়? উনি বলেন যে বিষ্ণুতেল তৈয়ের করতে জানে কজন?উনি সেই জন্যে নিজে হাতে ঐ সব শক্ত শক্ত ওষুধ তৈয়ের করেন,তাই ওর ওষুধের গুণ অত,যেন কথা কয়।*
*🍀২য়,প্র=শুনেছি নাকি নিমাই গয়া থেকে এসে অবধি কেমন হয়ে গেছে?*
*🍀শচীমা=হ্যাঁ বোন, সে কথা আর কি বলব।গয়াতে ঈশ্বরপুরী নামে এক বৈদ্য না কায়স্থ সন্তান তাকে কি যে মন্ত্র দিলে জানিনা, সেই থেকে নিমাই একরকম পাগলের মত হয়েছে, কখন হাসে, কখন কাঁদে।যেদিন গয়া থেকে ফিরে এলো সেই রাত্রে বৌমা ভয় পেয়ে আমায় নিমাইয়ের ঘরে ডেকে নিয়ে গেল, গিয়ে দেখি নিমাই খুব কাঁদছে,চোখের জলে মাটি ভিজে গেছে। আমি কত জিজ্ঞাসা করলাম, "বাপ কাঁদছিস কেন" কোনও উত্তর নেই, আমার কোন কথা তার কানে গেল না। অনেকক্ষণ পরে সে বললে "মা,আমি এইমাত্র স্বপ্নে অতি রূপবান্ শ্যামবর্ণ বনমালাধারী এক নবীন পুরুষকে দেখে আত্মহারা হয়ে গিয়েছিলাম,তাই আনন্দে কাঁদছিলাম।*
*🍀১ম,প্র=বলেছি তো বায়ু পেরবল! (প্রবল)!ঘোর উন্মাদের লক্ষণ।না হয় আমাদের ওঁকে এনেই একবার দেখাও না। আর এক কথা না বলে বাঁচিনি--বদ্দির পো বা কায়েতের পো বামনের ছেলেকে মন্তর দেয় কোন সাহসে?এমন অনাছিষ্টি কথা তো কোথাও শুনিনি।*
*🍀২য়,প্র=দিদি,এখনও ভাল চাও তো সস্তেন কর,গেরো বেগুনী কেটে যাবে, এখনও ঘোর শনির দশা চলছে। আমাদের ওঁকে এনে না হয় একবার হাতটা দেখাওই না। উনি তো আর তোমার কাছে বেশী পয়সা নেবেন না, গেরো বেগুনি শান্তির জন্যে যা' দু--পাঁচ টাকা খরচ লাগে তাই নেবেন---তার এক পয়সা বেশী নেবেন না,তেমন লোক উনি নন।*
*🍀শচীমা=বোন দু পাঁচ টাকা আমি কোথায় পাব বল?*
*🍀২য়,প্র=কেন গো দিদি, নিমাইয়ের বে' তে কি আর কিছু পাওনি, শুনেছি সনাতন মিশ্র তো খুব ধনী লোক।*
*🍀শচীমা=যে ধনী আছে সেই আছে বোন, আমি ছেলের বে' দিয়ে তার কাছে টাকা নিতে যাব কেন?আমি তো আর ছেলেকে বেচিনি?*
*🍀২য়,প্র=সকলেই ঐ কথা বলে বটে, নিতেও তো কেউ কশুর করে না। যাক ও কথা, নিমাইয়ের সস্তেনের কথা ভুলনা, এখনও গেরো বেগুনি কাটেনি নিশ্চয় জেনো।*
*🍀৩য়,প্রতিবেশিনী=আমি তো বলেছিলাম দিদি, নিমাইকে ভূতে পেয়েছে,দেখলে তো কথাটা ফললো কি না?ঐ যে শ্যামবর্ণ বনমালা পরা নবীন পুরুষ দেখেছে, সে আর কেউ নয়--ঐ ভূত--প্রথমে ঠাকুর দেবতার মূর্তি ধরে শেষে নিজ মূর্তি ধারণ করে ঘাড় ভাঙ্গে। আমরা দিদি তোমার ভালর জন্যেই বললাম তোমার যা ইচ্ছে করো। (প্রস্থান)*
*🌹কবরেজ= কবিরাজ। উপকথানিষেধ=উপনিষদ। গেরো বেগুনি="গ্রহবৈগুন্য" মুখে আসে না। সস্তেন= স্বস্ত্যয়ন। বদ্দির =বৈদ্যর। অনাছিষ্টি= অনাসৃষ্টি।*
*জয় জয় নিতাই গৌর সীতানাথ প্রেমানন্দে হরিবল, দুইটি বাহু তুলে, একসঙ্গে বলুন হরি হরি হরিবল🙏জয় শ্রীরাধেশ্যাম,জয় শ্রীরাধা মাধব,জয় শ্রীকৃষ্ণ,হরেকৃষ্ণ🙏🙏🙏*
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
🆕 👉 গৌরাঙ্গলীলা 🍁 পঞ্চাঙ্ক নাটক 🍁 প্রথম দৃশ্য বৃন্দাবন✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📝 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2025/07/gourangaleela.html
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*🙌 শ্রীগৌরাঙ্গলীলা,পঞ্চাঙ্ক নাটক।*
*পথ*
*জগাই মাধাই*
*🍀মাধাই=শুনেছ দাদা,কে না কি কোথা থেকে এসেছে,সে নাকি মুসলমান,তবু নাকি তার মুখে সমস্ত দিন হরিনাম?*
*🍀জগাই=খুব খবরই দিলি যাইহোক,কে নাকি কোথা থেকে এসেছে, কি নাকি বলেছে,কি অসুখ হলে নাখি,কি ওষুধ দিলে ভাল হয়ে যায়।বস্,একদম সঠিক খবর,রোগ একেবারে আরাম। যে লোকটার কথা বলছিস, সে ছেলো ব্রাহ্মণের ছেলে, কিন্তু অল্প বয়সে বাপ-মা মরে যাওয়াতে, মুসলমানেরা তাকে মুসলমান করে, ও খাইয়ে দাইয়ে মানুষ করে। কিন্তু সে এত নেমকহারাম যে,এখন মুসলমান ধর্ম ছেড়ে, আবার হিন্দু সেজে নাম নিয়েছে হরিদাস,আর রাত দিন হরি হরি করছে। ভূতের মুখে রামনাম শুনে অবাক হয়ে লোকে তাকে দেখতে যাচ্ছে, আর হরিনামে যোগ দিচ্ছে।*
*🍀মাধাই=অ্যাঁ! দেশটা মজালে দেখছি। বষ্টুম বেটাদের দল তো বাড়তেই চললো দেখছি। কি হবে দাদা?*
*🍀জগাই=আর বাড়তে হবে না,এইবার দিচ্ছি সব শেষ কোরে, কথায় বলে "অতি বাড় বেড়ো নাকো ঝড়ে পড়ে যাবে"। এই হরিদাসটাকে কাজীকে দিয়ে জব্দ করতে হবে।*
*🍀মাধাই=কাজী তাকে জব্দ করবে কেন?তার দোষ?*
*🍀জগাই=আলবাৎ করবে?দোষ?যার চেয়ে বেশী হতে পারে না--- মুসলমান হয়ে হরিনাম করা। বেটা কি মুখখু, মনে করেছে বুঝি হরিনাম করলেই সে মুসলমান থেকে একদম হিঁদু হয়ে যাবে।তা হবার জো নেই বাবা,হিঁদু থেকে মুসলমান হওয়া যায়, কিন্তু মুসলমান থেকে হিঁদু হওয়া যায় না। আরে দ্যাখ জগাই,কতগুলো বষ্টুম এদিকে আসছে,বেটাদের নিয়ে একটু রঙ্গ করা যাক্।*
*(দুই--তিনজন বৈষ্ণবের প্রবেশ)*
*🍀প্রঃবৈঃ=কি আশ্চর্য্য মুসলমান হয়ে হরিনাম! দেখলে ত ভায়া হরিদাসের ভক্তি? হরি বলে, আর দুই নয়নে প্রেমাশ্রু ঝরতে থাকে।*
*🍀জগাই=প্রেমাশ্রু নয়, পেঁয়াজশ্রু।তোরা ঐ ঝুলির ভেতর পেঁয়াজ রাখিস্, সেই পেঁয়াজের ঝাঁজে তোদের চোখ দিয়ে জল বাহির হয়, আমরাও বুজরুকি ঢের বুঝি বাবা।*
*🍀প্রঃবৈঃ=কি?আমরা বৈষ্ণব, পেঁয়াজ খাই?*
*🍀জগাই=খাস না তো কি? এখন তোদের ঝুলি খুঁজলে দু চারটে বেরোয়---এই দ্যাখ বাহির করি--নিয়ে আয় ঝুলি-- (ঝুলি কাড়তে কাড়তে তার ভিতর হতে একটা পেঁয়াজ ও হাঁসের ডিম বাহির করন) ভায়া,দ্যাখ ব্যাটারা পেঁয়াজ খায় না---খায় হাসের ডিম---কিরে চুপ করে রইলি যে?*
*🍀দ্বিঃবৈঃ=শ্রীবিষ্ণু!শ্রীবিষ্ণু! পেঁয়াজ,হাসের ডিম কোথা থেকে এলো!*
*🍀জগাই=ন্যাকা জানেন না,কোথা থেকে এলো--বাজার থেকে আগমন ও ঝুলির ভিতর অধিষ্ঠান, এবং ঘরে গিয়ে উদরে অন্তর্ধান। ব্যাটারা খাবি তো খা না! কে বারণ করেছে? তবে লুকিয়ে খাস্ কেন। প্রকাশ্যে খা না।তাই তো বলি, ও সব হরি ভজা ছেড়ে দে-- কালী ভজ, দেখবি কেমন মজা--পেঁয়াজ তো কি ছার--পাঁঠা খেতে পাবি। লোভটুকু ষোল আনা--খাবেন ছানার ডালনা,নাম দেবেন ছানার "কালিয়া"-- আরে ছানার যখন কালিয়া হয়,না কাঁঠালের আমসত্ত্ব হয়--পাঁঠারই কালিয়া হয়, কেননা মা কালীর প্রসাদ, ছানার কালিয়া না বলে বলবি ছানার "হরিয়া" তোদের হরির প্রসাদ।খাবে পান্তা ভাত আর বেগুন পোড়া, বলবে "বাইগুণ কা কাবাব" আর "ঠান্ডি পোলাও"!*
*🍀দ্বিঃবৈঃ=তোমরা জন্ম জন্ম খাও---তোমাদের যেমনি কাঁচাখেকো দেবতা তেমনি তার খাদ্য।*
*🍀মাধাই=খবরদার আমাদের দেবতার নিন্দে করিসনি বলছি, ভাল হবে না।তোদের দেবতা মানুষের বেহদ্দ---রাধার পায়ে ধরে---কই বাবা আমরা তো আমাদের পরিবারের পায়ে ধরিনি--বরং পায়ের তলায় রেখেছি। লাথি মেরে দোরস্ত রাখি।*
*🍀দ্বিঃবৈঃ=আরে যাও যাও, আর বেশী বকো না-- আমাদের ঠাকুর তো রাধারাণীর পায়ে ধরে ছিলেন---কেন ধরেছিলেন তোমরা তার কি বুঝবে--আর তোমাদের শিব যে কালীর পায়ের তলায় পড়ে থাকেন!*
*🍀মাধাই=ওরেমূর্খ সে তত্ত্ব তোরা বুঝবি কেমন করে!তবে বলি শোন--- আমাদের মা কালী যখন ভয়ঙ্করী রণরঙ্গিণী মূর্তিতে ঘোর যুদ্ধে অসুরদের বধ করছিলেন, আর তা থেইয়া তা থেইয়া করে তান্ডব নৃত্য করছিলেন,তখন পৃথিবী টল মল করতে লাগল, যায় যায় অবস্থা-- দেবতারা পর্যন্ত ভয়ে জড় সড়-- সে রণরঙ্গিণী মূর্তিকে শান্ত করে কার সাধ্য, তাই আমাদের পাগল ভোলা পৃথিবীকে রক্ষা করবার জন্য বুক পেতে দিলেন--পতির বুকের উপর পা পড়তেই মা তখন লজ্জায় জীভ কেটে সেই ভীষণ নৃত্য বন্ধ করেন--তাই পৃথিবী রক্ষা পায়--শুধু পৃথিবী কেন সমস্ত সৃষ্টি সেদিন লোপ পেত।শোন তবে একটা গান শোন, মুক্তি লাভ হবে---*
*🏈🏈🏈গীত🏈🏈🏈*
*শ্যামা মায়ের রাঙ্গা পায়ে জবা দিবি আয়,*
*আপনি হর মহেশ্বর,যাহার পায়ে লুটায়।*
*এলোকেশী দিগম্বরী,প্রলয়ের রূপধরি,*
*নাচে শ্যামা মত্ত হ'য়ে,শমন ভয়ে পালায়।*
*বিশ্ব কাঁপে থর থর,হেরি তাহা বিশ্বেশ্বর,*
*পেতে দেয় নিজ বুক,মুন্ড মালিনী পায়।*
*রণ রঙ্গে মাতোয়ারা,আসুর দলনী তারা,*
*হেরি পতি পদ তলে,শরমে মরিয়া যায়।*
*বিল্বদল গঙ্গা জলে,ভোলারে ভুলায়ে ছলে,*
*মায়ের চরণ কেড়ে নিয়ে,মনো জবাদিবি আয়।*
*🍀প্রঃবৈঃ=বেশ তো তোমাদের যাকে মানতে ইচ্ছে হয় মানো,পূজা করো, আমাদের তাতে কোন আপত্তি নেই, আমরা কি তাতে তোমাদের বিধা দিই? তবে তোমরা আমাদের ইষ্টদেবকে ডাকতে বাধা দাও কেন?*
*🍀জগাই=আরে, সেটা তোদেরই ভালর জন্যে---নরকে পঁচে মরবি,তাই মুক্তির পথ দেখিয়ে দিই।*
*🍀প্রঃবৈঃ=পঁচে মরতে হয় মরব তবু যারা নিজে অন্ধ তাদের দ্বারা চালিত হব না।*
*🍀জগাই=কি বললি আমরা অন্ধ! বেল্লিক ব্যাটারা যত বড় মুখ নয় তত বড় কথা! (প্রহার করতে উদ্যত ও তাদের পলায়ন)*
*🍀মাধাই=আচ্ছা দাদা,সত্যিই কি পেঁয়াজ আর হাঁসের ডিম ওদের ঝুলিতে ছিল নাকি?*
*🍀জগাই=দূর মুখখু---তুই নেহাত গাধা।*
*🍀মাধাই=তোমারই ভাই তো, হাজার হোক!তবে ও গুলো পেলে কোথা থেকে?*
*🍀জগাই=আরে আমি মদের চাট করবো বলে ঐগুলো জামার পকেটে রেখেছিলাম, দেখলি তো কেমন বেমালুম হাতের কেরামতি-- আমার জামার পকেট থেকে উড়ে গিয়ে ওদের ঝুলিতে!ভায়া!দেখলি কেমন ভোজবাজি।*
*🍀মাধাই=হাঃ হাঃ হাঃ! শুধু ভোজবাজি, আমার ডিগবাজি খেতে ইচ্ছে হচ্ছে। দাদা তোমার খুব বুদ্ধি যাইহোক।*
😁😁😁😁😁😁😁😁😁😁😁😁
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
🆕 👉 গৌরাঙ্গলীলা 🍁 পঞ্চাঙ্ক নাটক 🍁 প্রথম দৃশ্য বৃন্দাবন✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📝 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2025/07/gourangaleela.html
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*🙌শ্রীগৌরাঙ্গলীলা, পঞ্চাঙ্ক নাটক।*
*নিমাইয়ের টোল*
*কয়েকটি ছাত্র*
*🍀প্রঃছাঃ=ভাই গয়া থেকে ফিরে আসার পর গুরুদেবের আশ্চর্য্য পরিবর্তন হয়েছে।যে দিন ফিরে এলেন তার পরদিন শ্রীমান পন্ডিত,শ্রীবাস,মুরারি ও আরও অনেকের সঙ্গে আমরাও দুই-একজন তাঁর বাড়ীতে তাঁকে দেখতে গিয়েছিলাম।দেখি গুরুদেবের সে চঞ্চল ভাব আর নাই, অতি ধীর,শান্ত ও নম্র হয়েছেন, সে ভাব দেখলেই মন আকর্ষণ করে। আমাদের নিকট তীর্থের কথা বলতে বলতে গদাধরের পাদপদ্মের কথা বলতে গিয়েই আনন্দে মূর্ছিত হয়ে পড়লেন।তারপর যাই জ্ঞান হয় অমনি চোখ দিয়ে ঝর ঝর করে জল পড়ে আর উন্মাদের মত হা কৃষ্ণ হা কৃষ্ণ বলে মূর্ছিত হয়ে পড়েন।*
*🍀দ্বিঃছাঃ=তাঁর পূর্বের বায়ুরোগ আবার বৃদ্ধি হয়েছে বোধহয়।*
*🍀প্রঃছাঃ=আরে না না-- বায়ুরোগ হয়নি, গুরুদেব পরম বৈষ্ণব হয়েছেন।*
*🍀তৃঃছাঃ=তা বৈষ্ণব হন ভাল কথায়, কিন্তু তিনি আমাদের পড়ানো তো একেবারে বন্ধ করেছেন।টোলে পড়াতে এসে কৃষ্ণকথা আরম্ভ করেন আর একটু পরেই বলেন "আজ তোমাদের আর পড়াতে পারব না, কাল থেকে পড়াব। তা এরকম করলে চলবে কেন? আমরা দূর দেশ থেকে লেখাপড়া শেখবার জন্য তাঁর কাছে এসেছি, কৃষ্ণকথা শোনবার জন্য আসিনি।এই যে গুরুদেব আসছেন, আজ আমরা স্পষ্ট করে বলব যে আমাদের পড়াশোনা কিছুই হচ্ছে না।*
*🏵নিমাইয়ের প্রবেশ ও উপবেশন*
*🍀নিমাই= তোমাদের কয়দিন থেকে ভাল করে পড়াতে পারিনি, বোধ হয় তোমাদের তাতে অনেক ক্ষতি হয়েছে।সত্য করে বলো দেখি আমার পড়াবার কি দোষ হত--আমি কি যে পড়াতাম আমার মনে নেই।*
*🍀তৃঃছাঃ=গুরুদেব! আপনি শুধু কৃষ্ণকথা ছাড়া আর কিছুই বলতেন না, আমরা কি ব্যাকারণ, কি ন্যায়, কি দর্শন--, যে বিষয়েরই যা প্রশ্ন করেছি আপনি সেই সব বিষয়েরই পাকে প্রকারে শ্রীহরির সঙ্গে সম্বন্ধ দেখিয়ে শ্রীহরির মহিমা কীর্তন করতেন, আমরা আপনার অদ্ভুত শক্তি দেখে মুগ্ধ হয়ে থাকতাম বটে কিন্তু আমাদের পড়াশুনা বিশেষ অগ্রসর হত না।*
*🍀নিমাই=ব্যাকরণ,ন্যায় বা দর্শন শাস্ত্র পড়ে কি হবে-- ও সব পড়ে ভগবদ্ভক্তি হয় না, ন্যায়,দর্শন বা বিজ্ঞানের অতীত শ্রীহরির চরণে শরণ নাও, সরল বিশ্বাসে শ্রীকৃষ্ণ ভজ।*
*🍀তৃঃছাঃ=গুরুদেব, আমরা শিক্ষার জন্য এখানে এসেছি,এখন অসম্পূর্ণ শিক্ষা নিয়ে ঘরে ফিরব কেমন ক'রে? লোকে কি বলবে?*
*🍀নিমাই= অসম্পূর্ণ শিক্ষা? শ্রীকৃষ্ণ ভজনের চেয়ে আর কি পূর্ণ শিক্ষা আছে?লোকে কি বলবে?যারা এই শিক্ষা পায়নি তারাই বলবে---তোমরা গিয়ে তাদের এই শিক্ষা দাও।আর তা যদি না পার--আমি তোমাদের মিনতি করছি, আমায় মুক্তি দাও, অন্য গুরুর কাছে যাও, আমি আর তোমাদের বঞ্চনা করতে চাই না, আমি সত্য বলছি আর আমি তোমাদের পড়াতে পারব না,পড়াতে গেলে একটি কৃষ্ণবর্ণ শিশু মুরলী বাজাতে থাকেন, আর আমার সব বুদ্ধি লোপ পায়-- আমার মুখে তখন কৃষ্ণনাম ছাড়া আর কিছুই আসে না, আমার চোখে পুঁথির অক্ষরগুলি যেন সজীব হয়ে চূড়া ধড়া পরা বাঁকা শ্যাম মূরতি বলে বোধহয়, আমি বাহ্য জ্ঞান শূন্য হয়ে যাই (বসে ছিলেন,উঠে)*
*গীত*
*আমায় ডেকেছে কে সুমধুর ডাকে,*
*তোরা ছেড়ে দে মোরে আমি দেখিগে তাকে।*
*ওই শোন বাঁশী বাজে,বন মাঝে কি মন মাঝে,*
*কাজ কি আর বৃথা লাজে দেখিগে প্রাণ চায় যাকে।।*
*বড় ভালবাসে সে যে,জানে নাকো আমা বই,*
*তাইত সতত তার আশা পথ চেয়ে রই।*
*মধুর মূরতি বাঁকা, হৃদয়ে রয়েছে আঁকা,*
*প্রাণে প্রাণে কত কথা বলেসে আমাকে।।*
*(গমনোদ্যত)*
*🍀প্রঃছাঃ=গুরুদেব, কোথা যান? একি!গুরুদেবের একি ভাব হল? আমাদের কথা শুনতেই পাচ্ছেন না। (সকলে মিলে) গুরুদেব!গুরুদেব?*
*🍀নিমাই= (প্রকৃতিস্থ হয়ে) আমি সরল মনে তোমাদের অনুমতি দিচ্ছি, তোমরা অন্য গুরুর কাছে যাও।আমায় অধ্যাপনা থেকে মুক্তি দাও। আমি আজ থেকে টোল তুলে দিলাম। আমি আর তোমাদের পড়াতে পারব না।*
*🍀প্রঃছাঃ=গুরুদেব! আমরা আর কার কাছে যাব?কে এমন যত্ন করে পড়াবেন?এত জ্ঞানই বা কার আছে? আপনাকে আর আমরা কষ্ট দিব না, কিন্তু স্থির জানবেন, আমরা অন্য কারও কাছে যাব না। আপনার কাছে যা শিখেছি যথেষ্ট, আশীর্বাদ করুন তাই যেন হৃদয়ে অঙ্কিত থাকে।তবে আপনার সঙ্গে দিবানিশি বাস করতাম,দিবানিশি আপনার মধুর বাক্য শুনতাম-- আজ থেকে সে সুখে বঞ্চিত হব এই ভেবে হৃদয় বিদীর্ণ হচ্ছে। (সকলের অধোবদনে রোদন)।*
*🍀নিমাই=ভাই সকল,রোদন কোরো না। আমি তোমাদের অধ্যাপক, আশীর্বাদ করবার অধিকার আছে-- সরল প্রাণে আশীর্বাদ করছি, তোমাদের হৃদয়ে বিদ্যার বিকাশ হোক। আর বিদ্যারই বা প্রয়োজন কি? শ্রীকৃষ্ণের শরণ নাও--তাঁর গুণ গান কর--যা পড়েছ যথেষ্ট হয়েছে।আমার একটি অনুরোধ রক্ষা কর, এসো বিদায়ের পূর্বে সকলে মিলে একবার নাম সংকীর্তন করি।*
*গীত*
*নামটি তোমার দয়াল হরি, ডাকলে প্রাণ জুড়ায়,*
*সুধামাখা এমন নাম আর নাইকো যে ধরায় ;*
*সুধা পান কে করিবি আয়রে আয় ত্বরায়।*
*এ নাম ডাকলে প্রাণভরে,ঘোর পাপীও তরে,*
*শোক,তাপ,ভাবনা,ভয়, সকলি পলায় ;*
*শমন-দমন নামের গুণে মরণ জ্বালা যায়।*
*নামে সবার ঘোচে খেদ,এতে নাইকো ভেদাভেদ,*
*ধনী,কাঙ্গাল,রাজা,রাখাল,প্রভেদ কোথায়,*
*আয় নারে ভাই নাম-গুণ গাই, যে আছিস যেথায়।।*
*(সকলের প্রস্থান)*
🙌 🙌 🙌 🙌 🙌 🙌 🙌 🙌 🙌 🙌 🙌
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
🆕 👉 গৌরাঙ্গলীলা 🍁 পঞ্চাঙ্ক নাটক 🍁 প্রথম দৃশ্য বৃন্দাবন✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📝 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2025/07/gourangaleela.html
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*🙌শ্রীগৌরাঙ্গলীলা, পঞ্চাঙ্ক নাটক।*
*রাজপথ--পার্শ্বে কাজীর বাড়ী।*
*(কাজী, জগাই ও মাধাই)*
**********************
*🍀হুজুর!আপনি বিচার না করলে আমাদের এ ন'দেতে বাস করা দায় হ'ল।*
*🍀কাজী=কেন হয়েছে কি?*
*🍀জগাই=শচীর বেটা নিমাই আগে ভাল ছিল, টোলে ছাত্রদের পড়াত,লেখা পড়াও জানে মন্দ নয়। সে এখন ঠাকুর হয়েছে-- হিঁদুদের তেত্রিশ কোটি দেবতা-- তাতেও শানে না, আবার নিমাইকে দেবতা বানিয়েছে, তারা এখন বড় সুখের দিন যাচ্ছে--দিব্যি ক্ষীর,ছানা,রাবড়ি, সন্দেশ চলেছে, খেয়ে খেয়ে চেহারাটাও করেছে মন্দ নয়, রঙটা যেন ফুটে বেরুচ্চে। সাজটিও করা হয় যেন বরটি, গলায় ফুলের মালা,কপালে চন্দন।নিমাই একদম ব'খে গেছে।*
*🍀কাজী=তা সে ব'খে যায় তোমাদের তাতে ক্ষতি কি?*
*🍀জগাই=ক্ষতি এই যে, সে ন'দে শহরটা মাতিয়ে তুলেছে, রাত-দিন কেত্তনের চিৎকারে, আর ভীষণ নৃত্যে, তার উপর খোল-করতালের চাকুম্ চাকুম্ চাকনা চাকুম্ শব্দতে কান ঝালাপালা হয়ে গেল।কেত্তন করবি তো ঘরে বসে করনা, রাস্তায় রাস্তায় নটবর বেশে নেচে বেড়ানো কেন?*
*🍀কাজী=তাই যদি করা,তা আমি কি করব?আমি কেন তাদের ধর্মে ব্যাঘাত দেব?*
*🍀মাধাই=হুজুর!এটা ধর্ম মোটেই নয়, রাস্তায় রাস্তায় নেচে কুঁদে বেড়ানো হিঁদুদের ধর্ম নয়-- কই এ ন'দেতে কি এতদিন এরকম নাচুনি কুঁদুনি ছিল--- এখন রাত দিন "বোল হরিবোল" আবার "গৌর হরি বোল"।*
*🍀জগাই=হ্যাঁ--শুধু পলতা হয় না, আবার ধনে-পলতা--শুধু হরিতে আশ মেটে না-- আবার গৌর হরি! আমার যদি চেহারাটা নিমাইয়ের মত হত, তাহলে আমিও একটা অবতার হয়ে বসতাম,বাবা।তার উপর নিতাই ব'লে আবার একটা যোগাড় হয়েছে, সেও বেশ পশার জমিয়ে নিয়েছে। হুজুর!প্রজাদের যাতে শান্তি হয় তা করা কি রাজার কর্তব্য নয়?*
*🍀কাজী=অবশ্য কর্তব্য--না করলে বাদশাহ আমার উপর রাগ করবেন।ভাল, তোমরা হিন্দু যখন বলছ--কীর্তনটা হিন্দু ধর্মই না,তখন অবশ্য আমি ওটা বন্ধ করে প্রজার প্রার্থনা পূর্ণ করব।*
*🍀জগাই=হুজুর!আর একটা প্রার্থনা আছে--হরিদাস বলে আর একটা ভন্ড ন'দে মাতাচ্ছে-- সে হুজুর! আগে মুসলমান ছিল, এখন হরিদাস নাম নিয়ে রাত দিন "হরিবোল" "হরিবোল" করে চিৎকার করছে, মুসলমানের মুখে হরিনাম শুনে লোকগুলো তাকেও একটা কেষ্ট বিষ্ণুর মধ্যে মনে করে--কোন দিন নাসে আবার "আবদুল হরি" টরি ওই রকম একটা অবতার হয়ে না বসে। দোহাই হুজুর, ঐ সব বুজরুকি বন্ধ না করলে মুসলমানেরাও খেপে উঠবে, হিঁদুরাও খেপে উঠবে।*
[11/07, 3:37 pm] Joydeb Dawn: *🍀কাজী=আচ্ছা,কাল হরিদাসের বিচার হবে, এখন তোমরা যাও। (জগাই মাধাইয়ের প্রস্থান)*
*🍀কাজী= কোই হ্যায়?*
*(একজন পাইকের প্রবেশ)*
*🍀পাইক=হুজুর, হুকুম হোয়!*
*🍀কাজী=নিমাই পন্ডিতের দলকে জানিয়ে দাও,যেন তারা রাস্তায় কীর্তন না করে। যদি ভাল কথায় মানা না শোনে,তবে জন কতক পাইক দিয়ে জোড় করে তাদের কীর্তন বন্ধ করে দেবে।*
*🍀পাইক=যো হুকুম!*
*(শ্রীবাস ও মুরারির প্রবেশ)*
*🍀শ্রীবাস= আমাদের গৌরহরি যে একজন পরম বৈষ্ণব তা' নয়, আমাদের বিশ্বাস তিনি বিষ্ণুর অবতার।*
*🍀তাতে আর সন্দেহ নাই। ওঁর বয়স যখন পাঁচ বৎসর, আমি তখন থেকেই আভাস পেয়েছি।*
*🍀শ্রীবাস=আমি চপল গোপালকে দেখে অবাক হয়ে গেছি!*
*🍀মুরারি=চপল গোপাল আবার কে? সে করেছে কি?*
*🍀শ্রীবাস=চপল গোপাল একজন খুব তেজীয়ান ব্রাহ্মণ পন্ডিত, কিন্তু কীর্তনাদি বড় ঘৃণা করত। আমার বাড়ীতে মহাপ্রভুর কীর্তন হ'ত বলে আমার ওপর তার বিশেষ রাগ। একদিন আমার বাড়ীর ভেতরে যখন কীর্তন হচ্ছিল, সেই অবসরে আমার বাড়ীর বাহির দরজায় তান্ত্রিক মতে পূজোর সব বন্দোবস্ত করেছে, এক ভাঁড় সুরাও রেখেছে।পরদিন সকালে উঠে আমি ঐসব ব্যবস্থা দেখে,পাড়ার পাঁচজনকে চপলগোপালের কীর্তি দেখালাম ও সেই জায়গা বেশ করে পরিস্কার করালাম।এই ঘটনার দুইদিন পরে শুনলাম, চপলগোপালের কুষ্ঠব্যাধি হয়েছে।*
*🍀মুরারি=বিষ্ণুদ্বেষীর এরকম শাস্তি হওয়া অসম্ভব নয়।তার পর তার কি হল?*
*🍀শ্রীবাস=চপল স্ত্রী পুত্রদের বড় যন্ত্রণা দিত বোলে স্বামীর এই দারুণ ব্যাধির সময় স্বামী-সেবা করত না? স্ত্রীলোকের স্বামীই দেবতা সে কি জানেনা, স্বামী ভাল হোক আর মন্দই হোক, স্বামীর সেবা ছাড়া স্ত্রীলোকের আর গতি নাই। অবশ্য স্বামীরও কর্তব্য স্ত্রীকে যত্ন করা।হ্যাঁ, তারপর কি হল?*
*🍀শ্রীবাস=দারুণ রোগের যন্ত্রণায় ও স্ত্রী পুত্রের অযত্নে বিরক্ত হয়ে সে কাশী চলে গিয়েছিল।শুনছি নাকি আবার ফিরে এসেছে, কিন্তু বাড়ীতে ফিরে নাই, গঙ্গাতীরেই নাকি সর্বদা থাকে,কত কবিরাজ চিকিৎসা করলেও কেউ কিছু করতে পারল না।*
*🍀মুরারি=আহা! বেচারার কি কষ্ট! চল না তাকে একবার দেখে আসি ও তার সেবা শুশ্রূষার ব্যবস্থা করে দিয়ে আসি।দীনের সেবা মানুষ মাত্রেরই। বিশেষ কোরে বৈষ্ণবের একটি প্রধান কর্তব্য। (প্রস্থান)*
*জয় নিতাই গৌর হরিবল 🙏🙏🙏*
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
🆕 👉 গৌরাঙ্গলীলা 🍁 পঞ্চাঙ্ক নাটক 🍁 প্রথম দৃশ্য বৃন্দাবন✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📝 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2025/07/gourangaleela.html
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*🙌গৌরাঙ্গলীলা,পঞ্চাঙ্ক নাটক।*
*🏀গঙ্গাতীর🏀*
^^^^^^^^^^^
*(একপার্শ্বে চপলগোপাল ও একটু দূরে গঙ্গা হতে একটি মৃত বালককে তীরে উঠিয়ে তার চতুর্দিকে সারঙ্গদেব ও অন্যান্য কিছু লোক ব্যস্তভাবে দাঁড়িয়ে)।*
*🍀সারঙ্গদেব=আহা, ছেলেটি কি সুন্দর!(পরীক্ষা করে দেখে) হায়,হায়!জীবনের কোনও চিহ্নই নাই। বালকটি জলে ডুবে মরেছে বলে বৌধ হয় না,কারণ তাহলে উদরে (পেটে) জল ভরা থাকত। বোধ হয় কেউ তাকে হত্যা করে জলে ফেলে দিয়ে পালিয়ে গেছে।*
*🍀প্রথম লোক=একজন বৈদ্য তাড়াতাড়ি আনানো হোক, যদি কোনও রকমে বালকটিকে বাঁচানো যায়।*
*🍀দ্বিতীয় লোক=দারোগাকে খবর দেওয়া হোক,নইলে পরে আমাদের বিপদে পরতে হবে। খবর আর দিতে হবে না, এই যে দারোগা এই দিকেই আসছে।*
*(দারোগার প্রবেশ)*
*🍀দারোগা=এখানে এত ভীড় কেন?কি হয়েছে?*
*🍀দ্বিতীয় লোক=দারোগা সাহেব, এই বালকটিকে গঙ্গা থেকে পাওয়া গেছে।জলে ডুবে গেছে, কি কেউ মেরে জলে ফেলে দিয়ে পালিয়েছে,তা আমরা বলতে পারব না। তুমি একবার দেখ দিকি?*
*🍀দারোগা=না,এ তো জলে ডোবার মত লাগছে না, এ যে হত্যা বলে মনে হচ্ছে? এ তোমাদেরই কারও কাজ।*
*🍀সে কি দারোগা সাহেব? আমরা এই বালককে খুন করব! তোমার একথা বলতে একটু বাধলো না?*
*🍀দারোগা=আমি তো আর তোমাকে বলিনি। তোমার এত গায়ে লাগে কেন? তাহলে নিশ্চয়ই এ তোমার কাজ।*
*🍀তৃতীয় লোক=দারোগা সাহেব!উনি একজন পরম সাধু বৈষ্ণব--, গোপীনাথের সেবক, ওঁর উপর সন্দেহ করা তোমার অন্যায়।*
*🍀দ্বিতীয় লোক=কেন অন্যায়? সাধু বৈষ্ণব অমন অনেক আছে।(স্বগত) এই বেশ সুযোগ--এইবার বোষ্টুম বেটাদের জব্দ করা যেতে পারে।(প্রকাশ্যে) দারোগা সাহেব! আমারও খুব বিশ্বাস-- এ কাজ এই বোষ্টুমগুলোর।দেখছ ছেলেটারও মাথা নেড়া!ওরা কীর্তনে মেতে যে রকম ধেই ধেই করে নাচে, এ ছোঁড়াটাও বোধ হয় কীর্তনের সময় সেই রকম নাচথে নাচতে অজ্ঞান হয়ে পড়ে, ওরা মরে গেছে ভেবে তাকে জলে ভাসিয়ে দেয়। আমরা তান্ত্রিক আমাদের ওসব ধেই ধেই নাচ নেই, আর ভন্ডামি করে ধূলোয় গড়াগড়িও নেই।*
*🍀তৃতীয় লোক=আর কথায় কাজ কি?দারোগা সাহেব!এ কাজ ওদেরই---তান্ত্রিকেরা নর বলি দেয় জানত?ওরা বোধ হয় এই বালকটাকে বলি দিবে বলিয়া এনে ছিল-------*
*🍀দ্বিতীয় লোক=আরে মূর্খ, বলি দিলে মাথা থাকবে কেন? তোকে যদি বলি দেওয়া যায় তোর মাথা থাকবে কি?*
*🍀তৃতীয় লোক=বলি দেবার আগেই যে ভয়ে ছেলেটার প্রাণপাখী খাঁচা ছেড়ে যায়--- তার পর মরা ছেলেকে তো আর বলি দেওয়া যায় না, সেই জন্যে জলে ভাসিয়ে দেওয়া হয়, এ তো স্পষ্ট বুঝা যাচ্ছে।*
*🍀দারোগা=আমি ওসব বুঝি না। তোমরা সকলেই এই হত্যা ব্যাপারে আছ।চল,সকলে আমার সঙ্গে থানায় চল।*
*🍀সারঙ্গদেব=বেশ বিচার বাবা!হরি!শেষে খুনের দায়ে পড়তে হলো?*
*🙌নিমাইয়ের প্রবেশ*
*🍀নিমাই=কি হয়েছে? এত ভীড় কেন?*
*🍀সারঙ্গদেব=এই বালকটিকে গঙ্গায় ভাসতে দেখে, আমরা তাকে বাঁচাবার জন্য তীরে আনি-- এনে দেখি তার প্রাণ নাই। তারপর দারোগা সাহেব এসে আমাদেরই খুনি সাব্যস্ত করে ধরে নিয়ে যাচ্ছে। প্রভু! আমি যাই তাতে ক্ষতি নাই, আমার গোপীনাথের সেবা কে করবে?*
*🍀নিমাই=কেন? তোমার কি কোনও শিষ্য নাই?*
*🍀সারঙ্গদেব=না।*
*🍀নিমাই=তাই তো ভাবনার কথা বটে!এই বালকটিকে শিষ্য কোরে নাওনা কেন?*
*🍀সারঙ্গদেব=সে কি প্রভু? বালকটি যে মৃত!*
*🍀নিমাই= (অন্যমনস্ক ভাবে) মৃত? আমি ওকথা ভুলে গিয়েছিলাম।*
*🍀দ্বিতীয়লোক=কিন হে অবতার? এইবার তোমার অবতারগিরি ফলাও না? এই মরা ছেলেটাকে বাঁচিয়ে দাও না-- তবে বলি হ্যাঁ অবতার বটে! তাহলে এখনি আমার গোষ্ঠীবর্গ সমেত তোমার চেলা হই।*
*🍀তৃতীয় লোক=ওঃ তুমি প্রভুর চেলা হও আর নাই হও, তাতে তো খুব ক্ষতি!অমন চেলা না থাকাই ভাল।*
*🍀নিমাই=বালকটিকে দৈখলে স্নেহ হয়---সারঙ্গদেব, এই তোমার উপযুক্ত শিষ্য--দেখি বেঁচে আছে কি-না। (কাছে গিয়ে বালককে স্পর্শ করে সুরে) হরিবোল,হরিবৌল,হরিবোল, হরিবোল, হরি হরি হরিবোল!*
*🍀বালক=(সুরে) হরিবোল, হরিবোল, হরিবোল,হরিবোল, হরি হরি হরিবোল!*
*🌻সকলে ভীত ও আশ্চর্য্যান্বিত)।*
*🍀দ্বিতীয় লোক=ব্যাপারটা কি? নিমাইটা ভূত নামাতে জানে নাকি?(বালককে উঠে বসতে দেখে) ওরে বাবারে--দানা পেয়েছেরে---পাল--- পালা, কি জানি যদি ঘাড় ভাঙ্গে।*
*🍀সকলে=জয় শ্রীগৌরাঙ্গ মহাপ্রভুর জয়! হরি হরি হরিবোল,হরি হরি হরিবোল, হরি হরি হরিবোল!*
*🍀বালক= (নিমাইয়ের চরণ ধরে) কে তুমি প্রভু আমায় বাঁচালে?*
*🍀সারঙ্গদেব=উনি স্বয়ং শ্রীহরি। জীবগণের উদ্ধারের জন্য এবার গৌরহরি রূপে অবতীর্ণ হয়েছেন। বালক তুমি কে?*
*🍀বালক=সরগ্রামে আমার বাড়ী, আমরা গোস্বামী বলিয়া পরিচিত।সম্প্রতি আমার পৈতে হয়েছে তাই আমার মাথা নেড়া। আমাকে রাত্রে সাপে কামড়ায়, কিছুক্ষণ পরে আমি অজ্ঞান হয়ে পড়ি। তারপর কি হয় জানিনা।সর্পাঘাতে মরলে দাহ করতে নেই, সেইজন্য বোধ হয় আমাকে আমাদের গ্রামের খড়ী নদীতে ফেলে দেওয়া হয়। সেখান থেকে ভাসতে ভাসতে এখানে এসেছি। আমার বাপ-মা বেঁচে আছেন, আমার নাম মুরারি।*
*🍀নিমাই=বৎস! তোমার বাপ মা তোমার জন্য নিশ্চয়ই খুব কাতর আছেন--তুমি বোধ হয় তাঁদের জন্য খুব কাতর--চল তোমায় তোমার বাপ-মায়ের কাছে পাঠিয়ে দিই।*
*🍀সারঙ্গদেব=সাধু!সাধু! না বৎস, তোমায় আর যেতে হবে না,আমরাই তোমার বাপ-মাকে খবর দিয়ে এখানে আনাচ্ছি, তাঁরা এসে তোমায় দেখুন-- তোমার প্রাণদাতা দয়াল গৌরহরির শ্রীচরণ দর্শনে, পবিত্র হ'ন ও তাঁর মহিমা প্রচার করুন। (সকলের গমনোদ্যত)*
*🍀চপল গোপাল=দয়াময়, চললে কোথা? মৃত ব্যক্তিকে বাঁচালে, আমায় এই দারুণ কুষ্ঠরোগ থেকে মুক্তি দাও। আমার ওঠবার শক্তি নেই,বড়ই কষ্ট হয়, নয়ত উঠে তোমার চরণ জড়িয়ে ধরতাম।*
*🍀নিমাই=(কাছে গিয়ে) কে তুমি? চপল গোপাল তো? তুমি এতদিন কোথায় ছিলে?*
*🍀চপল গোপাল= অনেক জায়গায় ঘুরেছি প্রভু--- অনেক চিকিৎসা করিয়েছি কিছুতেই কিছু না হয়ে শেষে কাশীতে গিয়ে আমার ইষ্টদেব শিবের আরাধনা করি। একরাত্রে স্বপ্নে দেখা দিয়ে ইষ্টদেব বললেন, "তুই এখানে কেন? বৈষ্ণবের প্রতি হিংসা কোরে তোর এই দশা হয়েছে-- যা তুই নবদ্বীপে গিয়ে মহাপ্রভুর শরণাপন্ন হও যা--তোর ব্যাধির উপশম ও মুক্তি হবে।" তাই তোমার কাছে এসেছি--আমায় ক্ষমা কর, অজ্ঞান অথচ জ্ঞানগর্বে মত্ত হয়ে আমি বৈষ্ণবের আরাধনায় বাধা দিতে গিয়েছিলাম--তার যথেষ্ট শাস্তি ভোগ করছি, আর কষ্ট সহ্য করতে পারছি না,দয়াকর প্রভু🙏।*
*🍀পরম বৈষ্ণব দেবাদিদেব মহাদেব যখন তোমায় স্বপ্নে দর্শন দিয়েছেন, তখনই তো তুমি মহাব্যাধি কেন, ভবব্যাধি হতে মুক্তি পেয়েছ। হরি-হর ভিন্ন নয় তা সর্বদা জেনো--যিনি হরি তিনি হর।তুমি শিবের দর্শন পেয়ে পবিত্র হয়েছ, এসো তোমায় আলিঙ্গন করি।(আলিঙ্গন করলেন)।*
*🍀চপল গোপাল=প্রভু-----, আমি যে কুষ্ঠগ্রস্থ, আমায় কেউ ছোঁয় না, আমার স্ত্রী-পুত্র পর্যন্ত আমায় ছোঁয় না, তুমি আমায় ছুঁয়ে নিলে প্রভু!একি হল আমার শরীরে যেন নূতন শক্তি এলো কোথা থেকে--স্পর্শমাত্রেই যে আমার ব্যাধি সব দূর হয়ে গেল, ধন্য হরি,ধন্য আমার গৌরহরি, চপল পাগলের মত "শ্রীগৌরাঙ্গ মহাপ্রভুর জয়" বলে কাঁদতে ও নাচতে লাগল।*
*🍀সকলে=জয় শ্রীগৌরাঙ্গ মহাপ্রভুর জয়ধ্বনি দিতে লাগল।*
*🍀সারঙ্গদেব=প্রভু! আজ মহাসমারোহে নগর সংকীর্তন করতে হবে।*
*🍀দারোগা=না, তা হবার যো নেই, কাজী সাহেবের হুকুম, নগর সংকীর্তন কেউ আর করতে পারবে না--যাদের সংকীর্তন করবার ইচ্ছা,তারা যেন ঘরে বসে করে।*
*🍀নিমাই= কাজীর হুকুম?কেন,কাজী তো ভাল লোক, তিনি তো আমাদের ধর্মে কখনও বাধা দেন না?*
*🍀দারোগা=তা তো জানি, কিন্তু হিঁদুরাই নাকি তাঁর কাছে নালিশ করেছে,তাই তিনি এই হুকুম দিয়েছেন।পন্ডিতজী, তোমার খুব বাহাদুরী বটে-- আজকের এই দুই ব্যাপার যদি স্বচক্ষে না দেখতাভ, তাহলে কখনই বিশ্বাস করতাম না। খোদার তোমার উপর মেহেরবাণী আছে স্বীকার করতেই হবে।*
*🍀সারঙ্গদেব=প্রভু! নগর সংকীর্তন যদি বন্ধই হল,তবে শ্রীবাসের বাড়ীতে নয় তো, আমার কুটিরে আজ ষংকীর্তন হোক।*
*🍀নিমাই=না--,নগর সংকীর্তনে তোমার যখন ইচ্ছে হয়েছে, তখন তাই হবে কাজী তাতে বাধা দিবেন না বলে আমার বিশ্বাস।তুমি এই বালককে মন্ত্র দিয়ে তোমার শিষ্য করে নাও,ওর বাপ-মা তাতে কোন আপত্তিই হবে না আমার বিশ্বাস।*
*🍀সারঙ্গদেব=আপত্তি? মরা ছেলে ফিরে পেয়েছে, একি কম সৌভাগ্যের কথা?আর সেই ছেলে যদি দেব-সেবায় জীবন উৎসর্গ করে,তাতে কি কখনও কারো আপত্তি হতে পারে?এ তো পরম সৌভাগ্যের কথা। চলুন,এখন বাড়ী যাই।*
*🍀সকলে=জয় শ্রীগৌরাঙ্গ মহাপ্রভুর জয়!হরি হরি হরিবোল, হরি হরি হরিবোল, হরি হরি হরিবোল ধ্বনি দিতে দিতে, (সকলের প্রস্থান)*
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
🆕 👉 গৌরাঙ্গলীলা 🍁 পঞ্চাঙ্ক নাটক 🍁 প্রথম দৃশ্য বৃন্দাবন✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📝 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2025/07/gourangaleela.html
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*🙌শ্রীগৌরাঙ্গলীলা,পঞ্চাঙ্ক নাটক।*
*▶▶পথ⏪⏪*
^^^^^^^^^^^^^^^
*🙌নিত্যানন্দ ও অন্যান্য বৈষ্ণবগণের সংকীর্তন করতে করতে প্রবেশ।*
*🙌🙌🙌গীত🙌🙌🙌*
*নব রূপ ধরি, ভবে অবতরি,*
*দয়া করে হরিপ্রেম বিলায়।*
*চাইতে হয় না, বিলোয় যেচে যে,*
*যত চায় তত পায়।।*
*মুখে হরি বলে,ভাসে আঁখি জলে,*
*ভাবে পড়ে ঢলে লোটায় ধরায়।*
*সে যে আপনি, মাতে হরি প্রেমে,*
*সেই প্রেমে সবায় মাতায়।।*
*🌲🌲জগাই ও মাধাইয়ের প্রবেশ।*
*🍀জগাই=আবার তোরা সব চেঁচাচ্ছিস। কাজীর হুকুম অগ্রাহ্য করছিস? জানিস না কি রাস্তায় কেত্তন করা বারণ হয়েছে?*
*🍀নিতাই=আমরা তো কাজীর কাছে কোন অপরাধ করিনি,তবে তিনি এ রকম অন্যায় হুকুম দিলেন কেন? আমরা কারো কোনও অনিষ্ট করি না, শুধু হরিনাম গেয়ে বেড়াই,এতে কাজী এত কঠোর আদেশ কেন দেবেন?*
*🍀মাধাই=কেন দেবেন জিজ্ঞাসা করগে যা।কাজীর আদেশ হয়েছে,যদি ভাল কথায় কেত্তন বন্ধ না করিস, তবে প্রহারের দ্বারা বন্ধ করতে হবে।*
*🍀নিতাই=কেন আমরা তোমাদের কাছে কি দোষ করেছি যে আমাদের মারবে? আচ্ছা, মাধাই, তোমাদের কি পরকালের ভয় নেই? নিরীহ লোকের উপর অত্যাচার, করলে বুঝি পাপ হয় না? পাপ করলে কি ভগবান তার বিচার করবেন না?*
*🍀মাধাই=ওঃ!কি আমার সাধুরে!আমরা প্রকাশ্যে মদ খাই বোলে আমরা পাপী, আর ওঁরা লুকিয়ে লুকিয়ে খান বোলে ওঁরা সাধু। আবার বক্তৃতা!*
*🍀নিতাই=আচ্ছা, জগাই! তুমি তো মাধাইয়ের চেয়ে বয়সে বড়, তোমার তো ওর চেয়ে বুদ্ধি বেশী আছে,তবে তুমি কেন মদ ছেড়ে আমাদের সঙ্গে মিলেমিশে মধুর হরিনামে যোগ দাও না?জগাই, হরিনাম সুধা একবার পান করলে, তোমার মদের নেশা আর থাকবে না। মদের নেশার চেয়ে আরও বেশী নেশা হবে---সে নেশায় বিভোর হলে ভব যন্ত্রণা থেকে মুক্তি পাবে।*
*🍀জগাই=আমরা ভব যন্ত্রণা থেকে মুক্তি পাই আর নাই পাই, তাতে তোমাদের কি মাথা ব্যথা?*
*🍀নিতাই=জগাই! সত্য বলছি তোমাদের জন্য আমাদের প্রাণ বড় কাঁদে।তোমরাও তো মানুষ, মানুষ হয়ে জন্মে মনুষ্যত্ব হারালে দুঃখের বিষয় হয় না কি? তাহলে মানুষ আর পশুতে প্রভেদ কি? ভাবও দেখি জগাই তোভরা কে? তোমরা শুদ্ধ শ্রোত্রীয় ব্রাহ্মণ, নবদ্বীপের কোটাল---নাম জগন্নাথ রায় ও মাধব রায়।এখন লোকে তোমাদের বলে পাষন্ড! মাতাল!*
*🍀মাধাই=এ যে বড় বক্তৃতা আরম্ভ করে দিল দেখছি!থামবি কি না বল?*
*🍀নিতাই=যদি একবার আমাদের সঙ্গে "হরি বল", তাহলে আর কোন কথা বলব না, নচেৎ নয়।*
*🍀মাধাই=কি ? আমরা কি তোদের মত পাগল হয়েছি, না গোল্লায় গেছি যে হরি বলব? তুই কি বলতে চাস্, হরি না বললে মানুষ উদ্ধার হয় না? তবে এইবার নিজেকে সামলা, দেখি তোর হরি কেমন করে তোকে রক্ষা করে। (কলসীর কাণা ছুঁড়ে প্রহার ও নিতাইচাঁদের মস্তক হতে রক্তপাত)।*
*🍀বৈষ্ণবগণ =আরে আরে পাষন্ড করলি কি! দয়ার সাগর নিত্যানন্দ প্রভুকে এমন নির্দয় ভাবে প্রহার করলি? আহা-রে! ঝর ঝর করে রক্ত পড়ছে যে!*
*🍀নিতাই=হরি!আর ভয় নাই, জগাই-মাধাই উদ্ধারের আর দেরী নাই, (সুরে) হরিবোল, হরিবোল,হরিবোল, হরিবোল, হরি হরি হরিবোল।*
*🍀মাধাই=এখনও ভন্ডামি!আচ্ছা এইবার তোর ভন্ডামি ভাঙ্গছি। (পুনরায় মারতে উদ্যত ও জগাই কর্তৃক তার হাত ধরা)।*
*🍀জগাই=মেধো! করিস কি, করিস কি, বিদেশী সন্ন্যাসী তোর কি করেছে যে তাকে তুই অমন করে মারলি? দেখতে পাচ্ছিস স্রোত বেয়ে রক্ত পড়ছে?*
*🍀মাধাই= দাদা তুমিও গোল্লায় গেলে,ওদের ভন্ডামিতে গ'লে গেলে?*
*🍀নিতাইচাঁদ-----গীত*
*মেরেছ তার ক্ষতি নাই হরি বলে আয় নাচি গাই।*
*নামের সুধা পান করিয়ে আয় না রে ভাই প্রাণ জুড়ায়।।*
*ঝরে ঝরুক রুধির ধারা চক্ষে ঝরুক প্রেমের ধারা।*
*বক্ষে আয় ভাই হরি বোলে এই মিনতি জগাই মাধাই।।*
*🌻নিতাইচাঁদের উভয়কে আলিঙ্গন।*
*🍀জগাই=মেধো!ঢের মারামারি করেছি, মেরেওছি, অনেককে, কারো কারোও কাছে মারও খেয়েছি। কিন্তু মার খেয়ে কোল দেয়, এমন ক্ষমাগুণের অবতার তো আর কখনও দেখিনি। আয়, চরণে ধরে ক্ষমা চাই। (নিতাইচাঁদ পুনঃ তাদের বক্ষে ধারণ)*
*🌹নিমাইয়ের প্রবেশ*
🌹🌹🌹🌹🌹🌹
*🍀নিমাই=ঠিক বলেছ জগাই, এমন ক্ষমাগুণের অবতার আর কখনও কেউ দেখেনি। নিতাই! তোমার আজ পরীক্ষা শেষ হল, অজ্ঞান মোহান্ধ ব্যক্তির অপরাধ কি করে ক্ষমা করতে হয়,তুমি তার পরাকাষ্ঠা দেখিয়ে বৈষ্ণবধর্মের মুখোজ্জ্বল করলে-- ঘোর পাপীর উদ্ধার করলে!মাধাই! তোমার মন কি এখনও গলেনি? তুমি চুপ করে দাঁড়িয়ে রইলে যে, একবার বল "হরিবোল", হরিবোল হরি হরি হরিবোল।*
*🍀মাধাই= (সুরে) হরিবোল,হরিবোল,হরিবোল, হরিবোল, হরি হরি হরিবোল। প্রভু আমার কি উদ্ধার হবে না?*
*🍀নিমাই=কেন হবে না মাধাই, হরি যে পতিতপাবন! তোমার মুখে যখন হরিনাম বাহির হয়েছে, তখন আর উদ্ধারের বাকি কি মাধাই?পাষাণ থেকে জল বাহির হচ্ছে, তোমার চোখে প্রেমাশ্রু বয়ে যাচ্ছে। হরিনামের এমনই গুণ।এসো আবার বলি, "হরিবোল হরিবোল হরিবোল হরিবোল হরি হরি হরিবোল" (মাধাইকে নিয়ে মহাপ্রভুর ও জগাইকে নিয়ে নিতাইচাঁদের হরিবোল বোলে নৃত্য।*
*🍀সকলে= জয় শ্রীহরির জয়, জয় শ্রীগৌরহরির জয়, জয় নিতাইচাঁদের জয়।*
*🍀নিতাই=চলো আমরা এইবার কীর্তন করতে করতে কাজীর কাছে যাই। তিনি কেন কীর্তন বন্ধ করবার আদেশ দিয়েছেন জিজ্ঞাসা করিগে চলো।*
*🌻জন-কয়েক পাইকসহ কাজীর প্রবেশ।*
*🍀কাজী=তোমরা ফের রাস্তায় কীর্তন করছ? আমার আদেশ কি শোন-নি?*
*🍀নিতাই=শুনেছি। কিন্তু ধার্মিক কাজী যে এইরকম অন্যায় আদেশ দিতে পারেন তা বিশ্বাস করতে পারিনি। আপনা বাদশাহের দৌহিত্র, স্বয়ং বাদশাহের আদেশ আছে প্রজার ধর্মচর্চায় কেউ যেন বাধা না দেন। তবে আপনি আমাদের ধর্মচর্চায় বাধা দিচ্ছেন কেমন করে?*
*🍀কাজী= আমি বাধা দিতে প্রথমে রাজি হইনি। কিন্তু তোমাদের হিঁদুদের ভিতরই অনেকে আমার বাড়ী এসে, আমায় বিশেষ অনুরোধ ও অভিযোগ করে,তাই প্রজার শান্তির জন্য আমি ওরকম আদেশ দিয়েছিলাম। যারা আমার কাছে অভিযোগ করেছিল তাদের মধ্যে এই জগাই, মাধাই প্রধান।*
*🍀নিমাই=(হাসতে হাসতে) আচ্ছা, জগাই মাধাইকে জিজ্ঞাসা করুন, তাদের এখন আর কোনও অভিযোগ আছে কি-না?*
*🍀কাজী= কি--হে! বলনা, চুপ করে দাঁড়িয়ে রইলে যে?*
*🍀জগাই= কাজী সাহেব! আমাদের ভ্রম দূর হয়েছে, আমরা এই দুই মহাত্মার কৃপায় নূতন জীবন পেয়েছি। আর আমাদের কোনও অভিযোগ নেই, বরং অনুতাপ হচ্ছে যে, কেন অভিযোগ করতে গিয়েছিলাম।*
*🍀কাজী= আশ্চর্য্য পরিবর্তন! এরা কি সেই জগাই--মাধাই!*
*🍀নিমাই= না কাজী সাহেব, এরা সে জগাই মাধাই আর নেই,হরিনামের গুণে এরাও এখন পরমভক্ত হয়ে গেছে, হরি বলছে,আর চোখ দিয়ে জল পড়ছে।কাজী সাহেব! আপনার কাছে আমার একটা অনুরোধ, আমাদের সংকীর্তন আর বন্ধ করবেন না।*
*🍀কাজী= না--আর বন্ধ করব না। পন্ডিতজী!ধন্য তোমার ক্ষমতা। তোমাকে যে হিন্দুরা গৌরহরি বোলে মানবে, তাতে আর আশ্চর্য্য কি? তুমি কি হিন্দুদের সেই নারায়ণ?*
*🍀নিমাই= আমি শ্রীজগন্নাথ মিশ্রের পুত্র নিমাই, একজন অতি দীন ব্রাহ্মণ সন্তান। কাজী সাহেব! আপনি ধার্মিক, আসুন আপনাকে আলিঙ্গন করি। (তথাকরণ)।*
*🍀কাজী=(স্বগত) একি নিমাইয়ের স্পর্শে আমার সর্বশরীরে বিদ্যুতের মত যেন আনন্দ প্রবাহ বহে গেল। (প্রকাশ্যে) পন্ডিতজী, তুমি ব্রাহ্মণ হয়ে আমাকে আলিঙ্গন করলে কেমন করে?*
*🍀নিমাই=কাজী সাহেব! মুসলমান আর হিন্দু কি ভিন্ন ভিন্ন বিধাতার দ্বারা সৃষ্ট?এই কৃত্রিম ভেদ কি বিধাতা করেছেন, না মানুষে করেছে?মানুষ যখন জন্ম নেয়, তখন তার মনে কি ভেদাভেদ জ্ঞান থাকে?তারপর অল্পবুদ্ধি মানুষই তাকে ভেদাভেদ শিক্ষা দেয়।তাই বলি কাজী সাহেব, আপনার বিধাতা, আর আমার বিধাতা ভিন্ন নয়, একই। তাহলে মুসলমান কি হিন্দুর ভাই নয়, কাজী সাহেব?*
*🍀কাজী= পন্ডিতজী! তুমি যে-ই হও, তোমার ওপর খোদার যে মেহেরবাণী আছে তাতে আর সন্দেহ নাই।*
*🍀সকলে= "নর-রূপ-ধরি", গাইতে গাইতে প্রস্থান।*
*জয় জয় নিতাই গৌর সীতানাথ প্রেমানন্দে হরিবল, দুইটি বাহু তুলে, একসঙ্গে বলুন হরি হরি হরিবল🙏জয় শ্রীরাধেশ্যাম,জয় শ্রীরাধা মাধব,জয় শ্রীকৃষ্ণ,হরেকৃষ্ণ🙏🙏🙏*
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
🆕 👉 গৌরাঙ্গলীলা 🍁 পঞ্চাঙ্ক নাটক 🍁 প্রথম দৃশ্য বৃন্দাবন✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📝 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2025/07/gourangaleela.html
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*🙌শ্রীগৌরাঙ্গলীলা, পঞ্চাঙ্ক নাটক।*
*বিচারালয়*
*🌻কাজী, গোরাই,হরিদাস, বিদ্যানিধি, ও অন্যান্য বৈষ্ণবগণ।*
*🍀গোরাই=কাজী সাহেব! এরই নাম হরিদাস, এ মুসলমান ছিল---এখন হিঁদু হয়ে হরিনাম কোরে ন'দে মাতিয়ে তুলেছে।*
*🍀কাজী=কেমন? তুমি মুসলমান না হিন্দু?*
*🍀হরিদাস= আমি হিন্দু।*
*🍀কাজী= তোমার বাড়ী কোথায়? তোমার পরিচয় কি?*
*🍀হরিদাস= আমার বাড়ী বুঢ়ন গ্রামে--- আমি ব্রাহ্মণ সন্তান, অল্পবয়সে পিতৃমাতৃহীন হওয়াতে, মুসলমানেরা আমায় প্রতিপালন করে--সেজন্য আমি তাদের কাছে কৃতজ্ঞ।*
*🍀গোরাই= বেইমান, সেই কৃতজ্ঞতার চিহ্নস্বরূপ তুই এখন মুসলমান ধর্ম ত্যাগ করে হিন্দু হয়েছিস্!*
*🍀বিদ্যানিধি=তা'ও কি কখনও হয় নাকি? আমি হিন্দু শাস্ত্র সব অধ্যয়ন করেছি--বেদ,বেদান্ত, পুরাণ,সংহিতা,স্মৃতি, ন্যায়--- সব আমার নখাগ্রে বললেই হয়, কিন্তু কেউ আমায় দেখাক যে বেদ,পুরাণ প্রভৃতিতে মুসলমানকে হিন্দু করে নেবার ব্যবস্থা আছে। যদি একটা দৃষ্টান্ত দেখাতে পার তাহলে আমি আমার যাবতীয় গ্রন্থাদি গঙ্গাজলে নিক্ষেপ করে মাথা মুড়িয়ে শাস্ত্র আলোচনা একেবারেই বন্ধ করে দিব।*
*🍀প্রথমজন বৈষ্ণব= আমাদের বৈষ্ণব ধর্মে জাতি ভেদ নাই।*
*🍀বিদ্যানিধি=আরে বৈষ্ণব ধর্মটা একটা ধর্মই নয়।কথায় বলে "জাত হারিয়ে বৈষ্ণব"। আমাদের মত জ্ঞানী ব্রাহ্মণ তোমাদের সঙ্গেতে একত্রে আহারাদিই করবে না।*
*🍀প্রঃজঃবৈষ্ণব=নিমাই পন্ডিত কি জ্ঞানী ব্রাহ্মণ নন?তবে তিনি কেমন কোরে আমাদের সঙ্গে একত্রে আহার করেন?*
*🍀বিদ্যানিধি=আরে ওটার কথা ছেড়ে দাও---ওটা অকাল কুষ্মান্ড---একটা নূতন মত প্রচলন করবার চেষ্টায় আছে-- চলবে না,চলবে না আমি জোর করে বলছি চলবে না।*
*🍀গোরাই=কাজী সাহেব! দেখুন হিন্দুরাই এই নূতন ধর্মের বিরোধী। আপনি সুবিচার করুন, এই বেইমানের শাস্তি দিন।*
*🍀কাজী= দ্যাখ গোরাই-- কোটি কোটি লোক পবিত্র ইসলাম ধর্ম অবলম্বন করে রয়েছে,থাকবেও। তার মধ্যে যদি দু-একজন ঐ ধর্ম ত্যাগ করে যায়, তাতে ইসলাম ধর্মের ক্ষতি কি? সমুদ্রের একবিন্দু জল না থাকলেই বা কি, গেলেই বা কি?*
*🍀গোরাই= আপনি বুঝছেন না, একজন মুসলমান যদি হিন্দু হয়ে যায় তাতে ইসলাম ধর্মের ক্ষতি হবে না সত্য-- তবে মুসলমানদের ভিতর একটা ভয়ানক বিদ্বেষ ও অশান্তির ভাব ধারণ করবে--তাতে প্রজার অনিষ্ট হবে। প্রজাদের মধ্যে শান্তি স্থাপন করা কি আপনার কর্তব্য নয়?*
[11/07, 3:37 pm] Joydeb Dawn: *🍀কাজী=অবশ্য কর্তব্য, তবে কারও ধর্ম বিশ্বাসের উপর হস্তক্ষেপ করতে আমার ইচ্ছে হয় না, কারণ "জল" কে, পানীই বল আর জলই বল, সে একই জিনিস,নাম মাত্র ভিন্ন।তেমনি আল্লাকে যে যে নামেই ডাকুক, সরল অন্তঃকরণে ডাকলেই তাকে আল্লা নিশ্চয়ই মেহেরবাণী করেন। তাছাড়া, ধর্ম বিষয়ে কপটতা বড়ই দোষের,যার যে ধর্মে বিশ্বাস সে সেই ধর্ম নিয়ে থাকুক,লোভে বা ভয়ে অন্য ধর্ম অবলম্বন করা কপটতা মাত্র।*
*🍀বৈষ্ণব-বিদ্বেষী-হিন্দু= হুজুর, এটা যে বিষম ভন্ড তাতে আর সন্দেহ নাই। মুসলমান থাকলে কেউত আর ওকে এমন কোরে মাথায় তুলে নাচত না, ক্ষীর,ছানা,সন্দেশ,রাবড়িও কেউ অমনি খেতে দিত না। তাই হিন্দু নাম নিয়ে বেশ বিনি পয়সায় উৎকৃষ্ট ভোজনটাও চলছে আর হিন্দুদের কাছে দেবতার মত পূজা পাচ্ছে।এতে হিন্দু ধর্মেরও অনিষ্ট, ইসলাম ধর্মেরও অনিষ্ট, অতএব হুজুর! ওকে রীতিমত শাস্তি দিন।*
*🍀গোরাই=আচ্ছা,যদি তুমি এখনও কলমা পড়, আর হরিনাম ছাড়, তাহলে তোমাকে ছেড়ে দেওয়া হবে, আর যদি চাও রাজসরকারে ভাল চাকরীও পেতে পার।*
*🍀হরিদাস=আমায় খন্ড খন্ড করে কেটে ফেললেও আমি হরিনাম ছাড়তে পারব না, কারণ, আমার প্রাণের চেয়ে হরি অনেক বড়, হরিনামে আমি যে আনন্দ পাই, আমাকে রাজ রাজেশ্বর করলেও আমি সে আনন্দ পাব না। কাজী সাহেব! আমাকে যেরকম শাস্তি দিতে ইচ্ছা করেন দিন। আমি হরিনাম ছাড়ব না।*
*🍀গোরাই=দেখলেন কাজী সাহেব, বেইমানের স্পর্দ্ধার কথা শুনলেন?আর দেরী করবেন না,তাড়াতাড়ি ওকে দন্ড দিন।*
*🍀কাজী=তবে আমার দোষ নেই। যাও ওকে এখান থেকে নিয়ে গিয়ে পঞ্চাশ বেত লাগাও।*
*(🌻প্রকৃত বৈষ্ণব শাস্ত্রের কথা এখানে বলা হয় নাই, নাটক হিসাবে লেখক নিজের মত করে সাজিয়েছেন)*
*🏵হরিদাসকে নিয়ে প্রহরীদের প্রস্থান।*
*🌻বিচারকের কাজ কি কঠোর! ইচ্ছার বিরুদ্ধেও অনেক সময়ে নিরপরাধ ব্যক্তিকে শাস্তি দিয়ে নিজকে মনোবেদনা ভোগ করতে হয়।*
*(নেপথ্যে হরিবোল হরিবোল ধ্বনি)*
*🌹হরিবোল বলছে কে*
*🍀গোরাই=সেই বেইমানটা আবার কে? ও মনে করেছে ওই রকম করে হরিবোল বোলে প্রহরীদের মন গলিয়ে দেবে। তা আর হচ্ছে না--আমি বাছা বাছা প্রহরী নিযুক্ত করেছি, তারা কর্তব্য পরায়ণ--তাদের মন ভোলানো খুবই কঠিন।*
*🏵একজন প্রহরীর দ্রুতবেগে প্রবেশ।*
*🍀প্রহরী= হুজুর, পঁচিশ ঘা বেত মারবার পরেই আসামী হঠাৎ পড়ে মরে যায়।*
*🍀কাজী=কি রকম? মরে গেছে?কেমন কোরে?*
*🍀প্রহরী=আমরা যখন তাকে বেত মারতে লাগলাম, সে হাসতে হাসতে হরিবোল হরিবোল বলে নাচতে লাগল-- আর বলতে লাগল "হে হরি যারা আমায় বিনা অপরাধে শাস্তি দিচ্ছে, তুমি তাদের অপরাধ নিও না--আমি যেমন তাদের ক্ষমা করলাম,তুমিও তেমনি তাদের ক্ষমা কোরো"।*
*🍀গোরাই=ভন্ডামি,ভন্ডামি প্রহরীদের মন ভোলানোর জন্য ঐ রকম বলছিল। তারপর?*
*🍀প্রহরী=তা--র পর "হরিবোল" বলতে বলতে পড়ে গেল, আমরা মনে করলাম মূর্ছা গেছে, তারপর দেখলাম একেবারে মরে গেছে।*
*🍀গোরাই=আরে না---না, মার খেয়ে মূর্ছা গেছে--মরেনি।*
*🍀বৈষ্ণব-বিদ্বেষী= ক্ষীর, ননী, খাওয়া শরীর কিনা,তাই বেত খেয়ে হজম করতে না পেরে বাছাধন কুপোকাত হয়েছে।*
*🍀কাজী=চুপ রও----, নিষ্ঠুর চন্ডাল!একটা নির্দোষী লোক, তোমাদেরই ষড়যন্ত্রে মরে গেল, তাতে একটুও দুঃখ না করে, আমোদ করছ? যাও---সব এখান থেকে।*
*🏵গোরাই ও প্রহরী ছাড়া সকলের প্রস্থান।*
*🌻হে আল্লা আমায় এই হত্যার জন্য অপরাধী করো না---আমায় ক্ষমা করো। আমি আজ থেকে আর বিচারকের কাজ করব না।গোরাই, বাদশাহের অনুমতি নিয়ে আমার এই কাজের ভার তোমার উপর অর্পণ করে,আমি এই দায়িত্বপূর্ণ পদ ত্যাগ করব--কোরে অবশিষ্ট জীবনটা ফকিরের মত শান্তিতে কাটাব, আমার ঐশ্বর্য্যের আর আকাঙ্খা নাই।*
*🍀প্রহরী=হূজুর, লাশ কি করব? করবে দিব না পোড়াবার ব্যবস্থা করব?*
*🍀কাজী=দুটোর কোনটাই নয়। গঙ্গারজলে ফেলে দাও, সে যখন নিজেকে হিন্দু বোলে পরিচয় দিত, তখন গঙ্গায় তার দেহ নিক্ষেপ করলে তার আত্মার শান্তি বা তৃপ্তি হবে, কারণ শুনেছি হিন্দুরা গঙ্গাকে খুব পবিত্র মনে করে এবং তাদের বিশ্বাস গঙ্গাতে অস্থি নিক্ষেপ করলে মৃতব্যক্তির সদগতি হয়। (সকলের প্রস্থান)*
*(পট পরিবর্তন)*
*গঙ্গাবক্ষে হরিদাস-- তীরে শ্রীকৃষ্ণ*
*গীত*
°°°°°°
*কাছে আছি ভাবনা কি তোর,*
*দেখনা চেয়ে আঁখি মেলে।*
*যে আমারে ভালবাসে এক পা,*
*না যাই আমি তারে ফেলে।।*
*ভক্ত আমার মাথার মণি,*
*ভক্ত পেলে ধন্য গণি,*
*ধ্রুব,প্রহ্লাদ তাই আমাকে,*
*বেঁধেছিল অবহেলে।।*
*🏵গঙ্গাবক্ষ হতে হরিদাসের সুরে "হরিবোল,হরিবোল, হরিবোল, হরি হরি হরিবোল, ও সন্তরণপূর্বক তীরে আগমন, তৎপূর্বে শ্রীকৃষ্ণের অন্তর্দ্ধান।*
*🍀হরিদাস= কোথায় প্রভু! কোথায় গেলে?এই যে আমি তোমার মদনমোহন মূরতি দেখলাম, তোমার মধুমাখা স্বর শুনলাম।সে কি স্বপ্ন? স্বপ্ন কি এমন সত্য হয়--আমার চোখ, কানের কি এতই ভুল হবে?না--না ভুল কখনও হতে পারে না, স্বপ্ন কখনই নয়---যদি স্বপ্ন হয়, তবে আবার আমি কাজীর কাছে যাই, আবার আমায় মেরে গঙ্গায় ফেলে দিক, আবার তোমার ওি বিশ্ববিমোহন বাঁকা শ্যাম-মূরতির স্বপ্ন দেখি---কিন্তু এই প্রার্থনা এবার যেন সে স্বপ্ন আর না ভাঙ্গে--এবার আর আমি তোমাকে ধরবার জন্য সাঁতার দিয়ে তীরে উঠব না, এবার গঙ্গাবক্ষে থেকে তোমার ওই মূর্তি দেখতে দেখতে এ দেহ ত্যাগ করব।*
🙌 🙌 🙌 🙌 🙌 🙌 🙌 🙌 🙌 🙌 🙌 🙌 🙌
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
🆕 👉 গৌরাঙ্গলীলা 🍁 পঞ্চাঙ্ক নাটক 🍁 প্রথম দৃশ্য বৃন্দাবন✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📝 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2025/07/gourangaleela.html
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*🙌 গৌরাঙ্গলীলা, পঞ্চাঙ্ক নাটক।*
*শচীমা ও নিমাই*
^^^^^^^^^^^^^^
*🍀শচীমা=নিমাই! তুই না-কি আমায় কাঁদিয়ে তোর দাদাযে পথে গেছে সেই পথে যাবি? নিমাই, এই কথা কি সত্যি?*
*🍀নিমাই= হ্যাঁ মা! সত্য। আমি তোমায় এইকথা বলতে অনেকবার চেষ্টা করেছি, কিন্তু পারিনি মা। মা তোমার অসীম স্নেহের কথা মনে পড়লে, আমার তোমাকে বলতে সাহস হয় না মা।আজ যখন তুমি নিজেই কথা তুললে,তখন আর বলতে বাধা নাই--যে আমি সন্ন্যাসী হ'ব স্থির করেছি মা!*
*🍀শচীমা=বাবা----, ওকথা মুখে আনিস না। আমি আটটি কন্যার শোক পেয়েছি,আটটি কন্যার মৃত্যুর পর আমার প্রথম পুত্র বিশ্বরূপকে পেয়ে সে শোক ভুলে যাই বাবা, কিন্তু বিশ্বরূপ সন্ন্যাসী হয়ে গিয়ে আমার বক্ষে দারুণ শেল মেরে গেছে। তার পর আমি আগে না গিয়ে কর্তা (জগন্নাথ মিশ্র)আগে চলে গেলেন। বাবা! শুধু তোর মুখ দেখে আমি এ সব শোক একরকম ভুলে গেছি। কিন্তু তুইও এত নিষ্ঠুর যে আমাকে এই বৃদ্ধ বয়সে কাঁদিয়ে যেতে চাস্?*
*🍀নিমাই=মা----! আমি তোমার কুপুত্র, অশুভক্ষণে জন্মেছিলাম।লোকের অন্ধ, আতুর,খঞ্জ,অক্ষম পুত্র জন্মে থাকে---তারা পিতা মাতাকে প্রতিপালন করতে সক্ষম হয় না, কিন্তু তাদের মত না হয়েও তোমায় প্রতিপালন করতে পারলাম না--তোমার ঋণ শোধ করতে পারলাম না,কোটি জন্ম চেষ্টা করলেও তোমার অপার স্নেহের ঋণ শোধ করতে পারব না মা। মা! আমি তোমায় বলেছিলাম, তোমার বিনা অনুমতিতে আমি কোনও কাজ করতে পারব না, তাই মা তোমার অনুমতি চাইছি,আমায় সন্ন্যাসী হয়ে শ্রীকৃষ্ণ অন্বেষণে বৃন্দাবন যেতে দাও। আমার হিত চেষ্টায় তোমার জীবনের একমাত্র উদ্দেশ্য---,তাই বলি মা! আমার মঙ্গলের জন্য আনন্দচিত্তে আমায় অনুমতি দাও। আমি ফেশ বুঝতে পেরেছি সংসারে থাকলে আমার সুখ হবে না।*
*🍀শচীমা= তোর কিসের অভাব নিমাই?এই অল্প বয়সে তুই নবদ্বীপের একজন বড় পন্ডিত। এত বিদ্যা,এত যশ, এত সম্মান কার আছে নিমাই? আবার তুই রূপে-গুণে অদ্বিতীয়। তোর মত সন্তানকে পেটে ধরে সত্যই আমি নিজেকে ভাগ্যবতী ও গর্বিতা বোধ করতাম।তাই বুঝি আমার গর্ব চূর্ণ করবার জন্য ভগবান আমার এই শাস্তি দিচ্ছেন? কিন্তু সে গর্ব চূর্ণ হবে না? তুই সন্ন্যাসীই হ বা সংসারীই থাক আমি তো তোর মা বটে?না সে কথাও স্বীকার করবি না?*
*🍀নিমাই= নিশ্চয়ই করব মা-- তুমি যে আমার মা সেকথা কখনই ভুলব না।*
*🍀শচীমা=বাপ! আমি আর ক'দিন? আমার যা হয় হবে।আমার বৌমার কি দশা করবি নিমাই--আহা বিষ্ণুপ্রিয়া আমি সত্যিই যেন বৈকুন্ঠের লক্ষ্মী, যেমন রূপ, তেমনি গুণ, সে এখনও বালিকা, নিরপরাধা বালিকাকে কেমন কোরে ত্যাগ করবি নিমাই?*
*🍀নিমাই= মা! তার তত দুঃখ হবে না--কারণ আমি যদি নির্দয় হয়ে কিম্বা নিজসুখে বিভোর হয়ে, কিম্বা অপর স্ত্রীলোকে আসক্ত হয়ে তাকে ত্যাগ করতাম, তাহলে তার দুঃখ হতে পারত। অথবা আমি যদি মোটেই এই জগতে না থাকতাম তাহলে তার দুঃখ হ'ত। আমি সন্ন্যাসী হ'লে তাকে আর গ্রহণ করতে পারব না সত্য, কিন্তু আমি যদি সাধুপথ অবলম্বন করি, তাতে আমার মঙ্গল, আর আমার মঙ্গলে তার মঙ্গল।সতী স্ত্রীর এতে দুঃখিতা হবার কোনও কারণ নেই। মা! তার জন্য তুমি ভেবো না-- আমার পরিবর্তে সে তোমায় দেখবে, সেবা করবে। তাতেই তুমি সুখ পাবে। আর তুমি তাকে এবং সে তোমাকে আমার কথা স্মরণ করিয়ে দিবে, আমার কথা মনে হলে তোমার দুঃখ বুলে যাবে--আনন্দ পাবে। তবে মা আমায় আর কেন কৃষ্ণ অন্বেষণে যেতে বাধা দাও?*
*🍀শচীমা=নিমাই, আমার মনে চিরদিন বড় সাধ ছিল যে তুই ন'দের মাঝে বড় পন্ডিত হ, তোর ধন ও মান হোক, সন্তান সন্ততি হোক আমি তাদের নিয়ে জীবনের বাকী ক'দিন আনন্দ করে কাটিয়ে দিই। কিন্তু আমার সে সাধ পূর্ণ হল না--তোর ধন,মান মর্য্যাদা সব রয়েছে নিমাই, কিন্তু তুই সব ত্যাগ করে সংসার ত্যাগ করে,তোর অভাগিনী মাকে ও পরিবারকে ত্যাগ করে চলে যাবি বাপ!এতে যে আমার বুক ফেটে যাচ্ছে। নিমাই! পথে হাঁটতে যদি তোর যে পা ফেটে রক্ত পড়ে,তুই সন্ন্যাসী হয়ে কেমন কোরে বনে জঙ্গলে, দেশ বিদেশে হাঁটবি বল?তুই কেমন কোরে লোকের দ্বারে গিয়ে মুষ্টি ভিক্ষা চাইবি? কে তোকে রান্না কোরে দেবে আর আমার মত তোকে সামনে বসিয়ে কে খাওয়াবে নিমাই? আমার হাতের রান্না ছাড়া যে তোর আর কারো রান্না পছন্দ হয় না নিমাই?*
[11/07, 3:37 pm] Joydeb Dawn: *🍀নিমাই=মা, তুমি কেন আমায় ওসব কথা শুনিয়ে আমার প্রাণে ব্যথা দাও? আমি সব কষ্ট সইতে পারব মা, তার জন্য তুমি কিছু ভেবো না। সব জীবের ব্যথাহারী কৃষ্ণের নামে আমার সব ব্যথা ঘুচে যাবে।কৃষ্ণ বিরহে আমি বড় ব্যথা পাব, সে ব্যথা সংসারের সুখ,ধন,ঐশ্বর্য্য, পত্নীপ্রেম, এমন কি স্নেহময়ী জননীর পবিত্র স্নেহ--কিছুতেই মোচন করতে পারবে না। মা! তোমরা আমার মত কৃষ্ণ সেবা কর,সব দুঃখ ভুলে যাবে।এখন হাসি মুখে আমায় যেতে অনুমতি দাও মা।*
*🍀শচীমা=নিমাই, চিরদিনই আমার মনে ভয় ছিল তোকে কিছুতেই ধরে রাখতে পারব না। আমি এমন কি পুণ্য করেছি যে তোর মত পুত্র---আমার হয়ে আমার ঘরে থাকবে। নিমাই, তুই আমাদের কৃষ্ণসেবা করতে বলছিস। তিনি মাথায় আছেন থাকুন, আমরা তোর সেবা করেই কৃষ্ণ সেবার আনন্দ পাই--এতে যদি আমাদের দোষ হয় তাহলে কৃষ্ণ আমাদের কি ক্ষমা করবেন না? আর এক কথা নিমাই, তুই যেন নির্দয় হয়ে আমাকে ও আমার সোনার বৌমাকে ত্যাগ করলি--- আমি যেন পাষাণে বুক বেঁধে তোর সুখের জন্য তোকে যেতে অনুমতি দিলেম-- কিন্তু তোর ভক্তেরা তোকে না দেখতে পেয়ে যে মরে যাবে রে, তাতে তোর কি যে ধর্ম, হবে বুঝতে পারি না।শুনতে পাই ও দেখতে পাই সব জীবে তোর দয়া--কেবল এই কয়জন ছাড়া-- আমি--বিষ্ণুপ্রিয়া আর তোর প্রিয় ভক্তগণ। এ কি ধর্ম নিমাই?*
*🍀নিমাই=(করজোড়ে) মা আমায় ক্ষমা কর, তোমার কাতরকথা আমার হৃদয় বিদীর্ণ করছে।তুমি যদি এরকম মর্মাহতা হও, হাসি মুখে আমায় বিদায় না দাও তবে আমি যাব না, তাতে আমার যত কষ্ট হয় হোক।*
*🍀শচীমা=না বাপ! তোর মনে কষ্ট দিব না, আমি পাষাণী, আমি আমার নিজের সব কষ্ট সইতে পারবো বাপ, তোর কষ্ট সইতে পারবো না। নিমাই, আমি অনুমতি দিলাম তুই কৃষ্ণ অন্বেষণে যা, আশীর্বাদ করি, তোর মনোবাঞ্ছা পূর্ণ হোক।*
*🍀নিমাই= (আহ্লাদে জননীর পদধূলি নিয়ে ) মা,তুমি অনুমতি দিয়ে আমার প্রাণ বাঁচালে, কিন্তু মা আমি তো বলেছি হাসিমুখে অনুমতি না দিলে যাব না।*
*🍀শচীমা=নিমাই, আর নিষ্ঠুর হ'সনে, তোকে আমি হাসিমুখে অনুমতি দিতে কিছুতেই পারব না।*
*🍀নিমাই=(দুঃখিত ভাবে) তবে---আমার আর যাওয়া হ'ল না। মা, আমি সত্য কথা বলছি যে সংসার ত্যাগ করলেই আমার মঙ্গল হবে, আমার মঙ্গলে তোমার মঙ্গল!শ্রীকৃষ্ণের হাতে আমায় সঁপে দিলে তুমি তাঁকে পাবে, তোমার নিমাইকেও পাবে। তা যদি না কর, শেষে তাঁকেও হারাবে, তোমার নিমাইকেও হারাবে।*
*🍀শচীমা=ওকথা মুখে আনিসনি নিমাই, একটু অপেক্ষা কর,একটু আমায় বুক বাঁধতে দে। (করজোড়ে কিছুক্ষণ ধ্যানের পর) বাপ, হাসিমুখে শ্রীকৃষ্ণের হাতে তোকে সঁপে দিলাম, আর তোর সুখে বাধা দেব না, হাসিমুখে সন্ন্যাসধর্ম অবলম্বন করতে তোকে অনুমতি দিলাম!*
*🏵নিমাইয়ের শচীমায়ের পদধূলি গ্রহণ করে প্রস্থান)*
*🍀নিমাই=নিমাই! মূর্ছা।*
*জয় জয় নিতাই গৌর সীতানাথ প্রেমানন্দে হরিবল, দুইটি বাহু তুলে, একসঙ্গে বলুন হরি হরি হরিবল🙏জয় শ্রীরাধেশ্যাম,জয় শ্রীরাধা মাধব,জয় শ্রীকৃষ্ণ,হরেকৃষ্ণ🙏🙏🙏*
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
🆕 👉 গৌরাঙ্গলীলা 🍁 পঞ্চাঙ্ক নাটক 🍁 প্রথম দৃশ্য বৃন্দাবন✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📝 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2025/07/gourangaleela.html
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*🙌গৌরাঙ্গলীলা, পঞ্চাঙ্ক নাটক।*
*নিমাই পন্ডিত ও বিষ্ণুপ্রিয়া*
🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏
*🌻নিমাই নিদ্রিত---বিষ্ণুপ্রিয়া তাঁর পদসেবা ও নীরবে ক্রন্দন।*
*🍀নিমাই=(জেগে উঠে) বিষ্ণুপ্রিয়া তুমি কাঁদছো? তোমার তপ্ত নয়নজল আমার পায়ে পড়াতে আমার নিদ্রাভঙ্গ হয়ে গেল। তুমি কাঁদছো কেন, বিষ্ণুপ্রিয়া?*
*🏵বিষ্ণুপ্রিয়া=আমার নয়নের জলে তোমার নিদ্রা ভঙ্গ করলাম? ধিক্ আমাকে, আমার এ অপরাধ ক্ষমা কর।*
*🍀নিমাই=(উঠে বসে) প্রিয়া তোমার কোনও অপরাধ হয়নি। আমার নিদ্রাভঙ্গ হয়েছে ভালই হয়েছে, তোমার সঙ্গে অনেক কথা আছে। তুমি কাঁদছো কেন বিষ্ণুপ্রিয়া?*
*🏵বিষ্ণুপ্রিয়া=তুমি নাকি মাকে অকুলে ভাসিয়ে চলে যাবে?*
*🍀নিমাই=কোথা যাব,খুলে বলো না?*
*🏵বিষ্ণুপ্রিয়া= সে কথা মুখে আনতে ইচ্ছা হয় না। তোমার দাদা যা করেছিলেন, তুমিও নাকি তাই করবে?*
*🍀নিমাই="সন্ন্যাসী" কথাটা মুখে আনতে এত কষ্ট হচ্ছে, বিষ্ণুপ্রিয়া? তুমি কোথা থেকে এ কথা শুনলে?*
*🏵বিষ্ণুপ্রিয়া=সকলে কাণাকাণি করে,আমায় দেখলে "আহা" বলে মুখ ফিরিয়ে চলে যায়। তাই আমি বাপের বাড়ী থেকে তাড়াতাড়ি চলে এলাম।*
*🍀নিমাই= প্রিয়া! ওসব বাজে কথা ছেড়ে দাও। অনেকদিন পরে দেখা হল--দুটো হেসে কথা কইবে---তা নয়,কান্নাকাটি।*
*🏵বিষ্ণুপ্রিয়া=বল তবে, আমি যা শুনেছি তা মিথ্যে?*
*🍀নিমাই=ওসব কথা এখন ভুলে যাও---যখন যেখানে যাব তোমার অনুমতি না নিয়ে যাব না নিশ্চয় জেনো। বিষ্ণুপ্রিয়া, তোমায় কখনও ভাল কোরে সাজাইনি, সাজাবার অবসর পাইনি---সমস্ত রাত্রি কীর্তনে কেটেছে, আবার যখন বাড়ীতে থাকতাম কৃষ্ণপ্রেমে বিভোর হয়ে থাকতাম, তোমার সঙ্গে ভাল কোরে আলাপ করা হ'ত না। আজ তোমাকে সাজাবার বড় ইচ্ছে হয়েছে।এসো, মালা ও চন্দন দিয়ে তোমায় সাজাই। পানের বাটা দাও,এই নাও পান খাও।চন্দনের বাটি দাও-- তোমার কপালে চন্দনের ফোঁটা দিই।(তথাকরণ)।*
*🏵বিষ্ণুপ্রিয়া=আজ এত আদর কেন জিজ্ঞেস করতে পারি কি? আমার ভাগ্যে তো এত আদর একদিনও ঘটে নাই?ওকি তুমি কাঁদছো কেন?তোমার চোখে জল কেন?*
*🍀নিমাই=(সহাস্যে) কই, এই তো আমি হাসছি?*
*🏵বিষ্ণুপ্রিয়া=ওগো! আমি যদিও এখনও বালিকা থবু তোমার মুখ দেখে মনের ভাব কতক বুঝতে পারি।তুমি বাইরে হাসির ভাব দেখাচ্ছ কিন্তু তোমার মনের ভেতর যেন কি একটা বিষাদ-তরঙ্গ তোলপাড় করছে, তুমি সেটি চাপতে চেষ্টা করছ। তবে কি সত্য সত্যই তুমি মায়ের ও আমার সঙ্গ ত্যাগ করে চলে যাবে?*
*🍀নিমাই=বিষ্ণুপ্রিয়া! তোমার মত সাধ্বী সতীর কাছে আর কপটতা করব না। যা বলি মন দিয়ে শোন। আমার ইচ্ছে তোমার যাতে মঙ্গল হয়,তোমারও ইচ্ছে আমার যাতে মঙ্গল হয়।উভয়েরই মনস্কামনা সিদ্ধ হবে, কেবল এক শ্রীকৃষ্ণ ভজন করলে।তুমিও তাই কর, আমিও তাই করি।তোমার নাম বিষ্ণুপ্রিয়া--তুমি নামের সার্থকতা কর।*
*🏵বিষ্ণুপ্রিয়া=শ্রীকৃষ্ণ-ভজন করতে তোমায় কেউ নিষেধ করছে না---তবে আমার একটি অনুরোধ রক্ষা কর---বাড়ী ছেড়ে যেও না---আমি না হয় বাপের বাড়ী থাকব---তোমার কাছে থাকব না ---তোমার আরাধনায় ব্যাঘাত দিব না। কিন্তু তুমি মাকে ছেড়ে যেও না গো, মা তা হলে আর বাঁবেন না, লোকে তোমার নিন্দা করবে----সে নিন্দা আমার সহ্য হবে না, আমিও পতিনিন্দা শোনে প্রাণ ত্যাগ করব---মাতৃহন্তা ও পত্নীহন্তা হইও না এই অনুরোধ।*
*🍀নিমাই=বিষ্ণুপ্রিয়া!মা আমায় সন্ন্যাসধর্ম গ্রহণ করতে হাসিমুখে অনুমতি দিয়েছেন। এখন তুমি ঐরকম হাসিমুখে অনুমতি দাও।*
*🏵বিষ্ণুপ্রিয়া=মা---অনুমতি দিয়েছেন? সে---কি?মা তব বোধ হয় মতিভ্রম হয়েছেন। মতিভ্রম মানুষের অনুমতি নিয়ে তোমার মত পন্ডিতের কাজ করা উচিত কি?*
*🍀নিমাই=(স্বগত)(নিজের মনে মনে উক্ত) আজ নদীয়ার একজন প্রধান পন্ডিত তার বালিকা পত্নীর কাছে পরাজিত!সরলা বালিকা তার জ্ঞানী স্বামীকে কর্তব্য শেখাচ্ছে--এ বড়ই মধুর ভাব---এ ভালোবাসা বড়ই গভীর। (প্রকাশ্যে)মা মতিভ্রম হন নাই---সুস্থ শরীরে, প্রফুল্লচিত্তে আমায় অনুমতি দিয়েছেন।*
*🏵বিষ্ণুপ্রিয়া=জানি---না মা কেমন করে অনুমতি দিয়েছেন। তা' যেন দিলেন, তিনি আর ক'দিনই বা বাঁচবেন? বয়স তো অনেক, তার ওপর এই দারুণ শোক পেয়ে কতদিন বাঁচবেন? তাই বলি---তুমি মাকে ফেলে যেও না,অধর্ম হবে।তুমি সন্ন্যাসী হবে, তার মানে আমায় ত্যাগ করবে? তা' আমার জন্য বাড়ী ছাড়বে কেন?আমিই না হয় পাষাণে বুক বেঁধে বাপের বাড়ী থাকব।*
*🍀নিমাই=তা' হয় না বিষ্ণুপ্রিয়া!*
*🏵বিষ্ণুপ্রিয়া=হয় না? আচ্ছা, আমি না হয় বিষ খেয়ে কি গঙ্গায় ঝাঁপ দিয়ে মরবো। তুমি বাড়ী ছেড়ে যেও না,তুমি মাকে তাঁর এই বৃদ্ধ বয়সে ত্যাগ কোর না। তাতে অধর্ম হবে,লোকনিন্দা হবে! তুমি সন্ন্যাসের কষ্ট ভোগ কোর না---আমার একটি কথা রাখ।*
*🍀নিমাই=বিষ্ণুপ্রিয়া! তুমি এখনও বালিকা,সব কথা বোঝবার তোমার শক্তি নাই। আমি কাঁদতেই জন্মেছি,এতদিন জীবের দুঃখে কেঁদেছি, কিন্তু কৈ তবু তো জীব হরিনাম নিল না। আমি সংসারে থেকে সংসারের সুখভোগে মত্ত থাকলে আমার কথা ক'জন শুনবে? কিন্তু আমি যদি মা ও গুণবতী পত্নী ত্যাগ করে সন্ন্যাসী হই, তাহলে তোমরাও আমার জন্যে কাঁদবে-- তোমাদের কাঁদিয়ে গেছি বলিয়া তখন লোকের আমার উপর দয়া হবে, ভক্তি বাড়বে-- আমার কথা শুনবে--হরিনামে মাতবে। কিন্তু সংসারে থাকলে তা হবে না। মাকে ও তোমাকে কাঁদাতে হবে,না হলে হরিনাম প্রচার হবে না---জীব উদ্ধার হবে না। মা যখন বাধা দিলেন না,তুমি কি আমার এই মহৎ উদ্দেশ্যে বাধা দেবে?*
*🏵বিষ্ণুপ্রিয়া=ওগো! আমি লজ্জা ত্যাগ কোরে আজ আমার প্রাণের সব কথা খুলে বলব। আমার মত ভাগ্যবতী এ জগতে নেই। তোমার রূপে ও গুণে সকলে মোহিত। আমি ঘাটে যাই, শুনি যে লোকে তোমার রূপ ও গুণের প্রশংসা করছে। পথেও ঐকথা শুনি, ঘরেও তোমার রূপ ও গুণের কথাই শুনি--- আমার মনে হয় যেন ত্রিভুবন তোমার রূপ-গুণের কথা বলছে। সেই বিশ্ববিমোহন রূপ-গুণের আধার আমার স্বামী। কিন্তু আমি অমন স্বামীকে ভাল কোরে দেখবার অবকাশ পাই না, তুমি আমার কাছে আসো না, ভাল কোরে কথা কও না। কিন্তু তাতে আমি দুঃখ করতাম না, ভাবতাম আমারই স্বামী তো? কিন্তু এখন তুমি একেবারে আমায় ত্যাগ কোরে গেলে, আমার অবস্থা কি হবে একবার ভেবে দেখেছ কি? মা অনুমতি দিন---আমি প্রাণ থাকতে তোমায় সন্ন্যাসধর্ম গ্রহণ করতে অনুমতি দিতে পারব না।*
*🍀নিমাই=তুমি নিজে বললে,যে তুমি নিজের সুখ চাও না, আমার সুখের জন্য আমায় বাড়ীতে রাখতে চাও। কিন্তু ঘরে থাকলে আমার সুখ হবে না, আমায় ছেড়ে দাও প্রিয়ে! আমি বৃন্দাবনে যাই,তাহলেই আমি বাঁচবো।*
*🏵বিষ্ণুপ্রিয়া=তুমি বৃন্দাবনে গেলেই যদি সুখী হও আমায় সঙ্গে নাও না কেন? ওগো! শ্রীরামচন্দ্র যখন বনে গিয়েছিলেন তখন তো সীতাদেবীকে সঙ্গে নিয়েছিলেন।*
*🍀নিমাই=তুমি সব ভুলে গেলে, তোমাকে সঙ্গে নিলে আমার আর সন্ন্যাস হল কৈ?জীব উদ্ধার হল কৈ?তুমি পতিপ্রাণা,পতির সহায়তা কর প্রিয়ে!হাসিমুখে অনুমতি দাও?*
*🏵বিষ্ণুপ্রিয়া=ক্ষমা কর, প্রাণ থাকতে পারবো না।*
*🍀নিমাই=আচ্ছা, একবার চোখ বুজে দেখ, কিছু দেখতে পাও কি-না।*
*🏵বিষ্ণুপ্রিয়া=চোখ বুজলে কি দেখতে পাব?*
*🍀নিমাই=চোখ বুজে চেষ্টায় কর না।(এক এক পা পিছিয়ে যেতে যেতে) কি দেখছো?*
*🏵বিষ্ণুপ্রিয়া=তোমায় দেখছি।*
*🍀নিমাই=কি দেখছো?*
*🏵বিষ্ণুপ্রিয়া=তোমায় দেখছি।*
*🍀নিমাই=এইবার কি দেখছো? (নিমাইয়ের প্রস্থান ও সেইস্থানে শ্রীকৃষ্ণের আবির্ভাব )*
*🏵বিষ্ণুপ্রিয়া=(চকিত ভাবে) চূড়া ধড়া পরা শ্রীকৃষ্ণ মূরতি দেখছি।*
*শ্রীকৃষ্ণের*
*গীত*
*দুয়ারে তোমারি, দাঁড়ায়ে মুরারি,*
*দেখ লো কিশোরী মেলি নয়ন।*
*তোমার লাগিয়ে,সকলি ত্যজিয়ে,*
*তোমাতে সঁপেছি প্রাণ।।*
*রাধা সুরে বাঁশী বাঁধা,বলে শুধু রাধা রাধা,*
*তব গুণ সদা করে গান।*
*তোমারে দেখিলে রাই, আপনারে ভুলে যাই,*
*জানি নাকো তোমা বিনে আন।।*
*🏵বিষ্ণুপ্রিয়া=আমি কি স্বপ্ন দেখছি? তুমি কি শ্রীকৃষ্ণ?না কোনও যাদুকর?(প্রণাম করে ) প্রভু! আমি এত কি পুণ্য করেছি, আমি অবলা বালিকা, আমার প্রতি এ ভাব কেন? ঠাকুর, আমার স্বামী কোথায় গেলেন? তিনি কি আমায় ঘরে ফেলে রেখে, চলে গেলেন?*
*🌹শ্রীকৃষ্ণ=বিষ্ণুপ্রিয়া! আমিই তোমার স্বামী।*
*🏵বিষ্ণুপ্রিয়া= ঠাকুর! তুমি যদি আমার স্বামী হও, তবে আমি তোমার শ্রীচরণে কোটি কোটি প্রণাম করে নিবেদন করছি, তুমি আবার আমার স্বামীর রূপ ধারণ কর--- আমি সে রূপ ছাড়া এমন কি--- তোমার ওই ভুবনভোলানো মূরতিকেও হৃদয়ে স্থান দিতে পারব না, আমার অপরাধ ক্ষমা ক'রো।*
*🌹শ্রীকৃষ্ণ=ধন্য পতিভক্তি! বেশ তাইই হবে, নয়ন বন্ধ কর, তোমার স্বামীর মূর্তি দেখতে পাবে। কাকে দেখছ, (অন্তর্দ্ধান)*
*🏵বিষ্ণুপ্রিয়া=আমার স্বামীকে। (চোখ খুলে) (কাঁপতে কাঁপতে) স্বামী! তুমি স্বেচ্ছাময়, আমাকে দাসী পদ দিয়েছিলে, সে পদ যেন আমার থাকে।তুমি জীবের কল্যাণ ও মঙ্গল করবে, আমি তোমায় তাতে আর বাধা দেব না। আমি হাসিমুখে বলছি, তুমি তোমার মহৎ কার্য্য সাধন কর।তবে এই মিনতি---আমার মন যেন তোমার শ্রীচরণ হতে ক্ষণকালের জন্যও বিচলিত না হয়।*
*🍀নিমাই=সে পরীক্ষা তো পূর্বেই দিয়েছ বিষ্ণুপ্রিয়া।যে রূপ দেখবার জন্য কতশত যোগী ঋষিরা কত কঠোর তপস্যা করেন,তুমি অনায়াসে সে রূপ দর্শন করেও তোমার হৃদয়ে স্থান দিলে না---পতির রূপই তোমার কাছে সেই ভুবনভোলানো মূর্তির থেকে বড় ও প্রিয় হল, পতির রূপই তোমার হৃদয় সম্পূর্ণ অধিকার করে রয়েছে। ধন্য তোমার পতিভক্তি! (পটক্ষেপ)।*
*ভজ গৌরাঙ্গ কহ গৌরাঙ্গ লহ গৌরাঙ্গের নাম রে।*
*যেইজন গৌরাঙ্গ ভজে সেই হয় আমার প্রাণ রে।।🙏🙏🙏*
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
🆕 👉 গৌরাঙ্গলীলা 🍁 পঞ্চাঙ্ক নাটক 🍁 প্রথম দৃশ্য বৃন্দাবন✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📝 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2025/07/gourangaleela.html
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*🙏গৌরাঙ্গলীলা🙏*
*পঞ্চাঙ্ক নাটক*
*🙌শ্রীবাসের অঙ্গন*🙌
*শ্রীবাস,নিমাই,নিতাই,মুরারি, হরিদাস ও অন্যান্য ভক্তগণ।*
*♥নিমাই=তোমরা আমার বন্ধু, বন্ধুর কাজ কর, আমি সন্ন্যাসধর্ম গ্রহণ করে শ্রীকৃষ্ণ অন্বেষণে যাই, আমি আর তোমাদের কাছে থাকতে পারছি না। আমায় হাসিমুখে সকলে বিদায় দাও।*
*🌹নিতাই=প্রভু!কোন প্রাণে তোমায় বিদায় দেব,তোমায় ছেড়ে কেমন কোরে প্রাণ ধারণ করব?*
*🏵হরিদাস=ধরে নাও আমরা যেন দিলাম--শচীমা কেমন কোরে তোমায় বিদায় দেবেন প্রভু? আর বিষ্ণুপ্রিয়া ঠাকুরাণীর বা কি দশা হবে?*
*♥নিমাই=তাঁরা হাসিমুখে আমায় বিদায় দিয়েছেন।*
*🏵হরিদাস=সে---কি?শচীমা তোমায় বিদায় দিয়েছেন?বিষ্ণুপ্রিয়া ঠাকুরাণী বিদায় দিয়েছেন? তোমার এ---কি লীলা প্রভু! কোন্ মায়ায় তাঁদের ভুলিয়ে তাঁদের সম্মতি আদায় করলে, তা'তো বুঝতে পারি না। স্ত্রীলোক পেয়ে তাঁদের ভোলাতে পার প্রভু, কিন্তু আমাদের ভোলাতে পারবে না--কখনই না।*
*♥নিমাই=তাঁরা হাসিমুখে অনুমতি দিয়েছেন কি--না, এই মুরারিকে জিজ্ঞাসা কর।*
*🌻মুরারি=হ্যাঁ, দিয়েছেন।*
*♥নিমাই=তবে কেন তোমরা আমার সুখে বাধা দিতে চাও? আমার বিরহে তোমাদের যেমন প্রাণ বাঁচবে না বলছ, শ্রীকৃষ্ণ বিনে আমার প্রাণ বাঁচবে কেমন করে তা একবারও ভাবছ না? আহা!কৃষ্ণ কোথা তুমি? দেখা কি দেবে না? (ভাবাবেশে উঠে দাঁড়িয়ে)---*
*গীত*
*সই কেবা শুনাইল শ্যাম নাম।*
*কানের ভিতর দিয়া,মরমে পশিল গো,*
*আকুল করিল মোর প্রাণ।।*
*না জানি কতেক মধু,শ্যাম নামে আছে গো,*
*বদন ছাড়িতে নাহি পারে।*
*জপিতে জপিতে নামে, অবশ করিল গো,*
*কেমনে পাইব সই তারে।।*
*🌺(নিতাই আর হরিদাসের গলা জড়িয়ে ধরে) ললিতা, বিশাখা, তোমরা রাধার এ কষ্ট দেখেও চুপ করে দাঁড়িয়ে রয়েছ? যাও, একবার আমার কৃষ্ণকে নিয়ে এসো? কৃষ্ণ-বিরহিণী রাধার কি অবস্থা হয়েছে, একবার গিয়ে বোলে এসো? যাও-----এখনও যাচ্ছ না কেন? তোমাদের শরীরে দয়া-মায়া নেই? আর বুঝি দেখা হ'ল না-- (মূর্ছিত হয়ে পড়ে গেলেন)।*
*🌻মুরারি=প্রভুর ভাবাবেশ হয়েছে, কৃষ্ণনাম কর, মূর্ছা ভঙ্গ হবে। (ভক্তগণের কৃষ্ণনাম)।*
*♥নিমাই=(উঠে বসে) কোথায়, কোথায়, আমার কৃষ্ণ? (ছুটে যেতে যেতে) নিঠুর কালা, তোমার রাধাকে কি মনে পড়েছে?চন্দ্রাবলী কি তোমায় ছেড়ে দিয়েছে? হে বংশীধারী! তুমি যে বহুবল্লভ,শুধু রাধাবল্লভ কেমন করে হবে প্রাণবল্লভ?হবে না জানি, কিন্তু আমার যে তোমা বৈ গতি নেই?যেওনা-----যেওনা দাঁড়াও----একবার নয়ন ভরে তোমায় দেখি (ছুটে পলায়ন)।*
*🌻মুরারি=শ্রীবাস,নিতাই তোমরা পেছনে পেছনে যাও, দেখো যেন পড়ে না যান-- প্রভুর বাহ্যজ্ঞান নেই, আবেশে বিভোর হয়ে আছেন। (শ্রীবাস ও নিতায়ের পশ্চাদ্ধাবন)।*
*🏵হরিদাস=প্রভুর এরকম আবেগ আগে তো কখনও দেখিনি?আপনি দেখেছেন কি?*
*🌻মুরারি=না, এতটা দেখিনি, তবে সময়ে সময়ে বিভোর ভাবে আত্মহারা হতে দেখেছি।*
*🌲অন্য দিক হতে নিমাই, শ্রীবাস ও নিতায়ের পুনঃ প্রবেশ।*
*♥নিমাই=মা যশোদা---ননী চুরি করে খেয়েছিলাম বলে মা আমায় বেঁধেছিলি---আর বাঁধবি?দড়ি দিয়ে বাঁধবার দরকার কি মা? তুই তো স্নেহের বাঁধনে আমায় চিরকালই বেঁধেছিস?দে--মা, তোর নীলমণিকে ননী দে। আমার গোষ্ঠে যাবার সময় হ'ল। ঐ দ্যাখ মা শ্রীদাম, সুদাম,দাম, সুবলরা সব দাঁড়িয়ে রয়েছে! আর আমি দেরী করতে পারি না মা---ননী দিলি-না, তবে আমি অমনি চললাম, যদি আর কারও বাড়ী থেকে ননী চুরি করি, তাহলে কিন্তু পরে বাঁধতে পারবি না---- (প্রস্থানোদ্যত)।*
*🌺শ্রীবাস=প্রভুর শ্রীরাধার ভাব গিয়ে, এখন শ্রীকৃষ্ণের ভাব এসেছে---একাধারে রাধাকৃষ্ণ ভাব---আহা কি মধুর! প্রভুকে কৃষ্ণনাম আর শুনিয়ে কাজ নেই, এসো সকলে মিলে হরিনাম করি, তাতে তাঁর আবেশ ভঙ্গ হবে। (সকলে হরিবোল,হরিবোল, হরিবোল, হরি হরি হরিবোল)।*
*♥নিমাই=(ক্রমশঃ প্রকৃতিস্থ হয়ে ) তোমরা আমার বন্ধুর কাজ করো---আমায় হাসিমুখে বিদায় দাও--- আমি সন্ন্যাসী হয়ে কৃষ্ণের অন্বেষণে যাই। কৃষ্ণ বিনে যে আমার গতি নাই---জীবের গতি নাই!*
*🌺শ্রীবাস=প্রভু! তুমি যদি সন্ন্যাসী হও, আমরাও সন্ন্যাসী হয়ে তোমার সঙ্গে সঙ্গে যাব, কারণ----তোমাকে ছেড়ে আমরা থাকতে পারব না।*
*♥নিমাই=শ্রীবাস! তুমি সংসারী, স্ত্রীপুত্র আছে,তাদের ছেড়ে সন্ন্যাসী হওয়া উচিত নয়।*
*🌺শ্রীবাস=তুমি কেন তবে বৃদ্ধা জননী ও বালিকা পত্নীকে ত্যাগ করে সন্ন্যাসী হচ্ছ, প্রভু?*
*♥নিমাই=আমার কথা স্বতন্ত্র---আমার অন্য উদ্দেশ্য আছে। সে উদ্দেশ্য ---হরিনাম প্রচার কোরে জীবের উদ্ধার করা। জীবগণ বিষয়রসে উন্মত্ত হয়ে বা জ্ঞানগর্বে গর্বিত হয়ে হরিনাম ভুলে গেছে--- তর্কের দ্বারা শ্রীহরির অস্তিত্বই উড়িয়ে দিতে চাই। যারা বিষয়ী, তারা সংসারের সুখ দুঃখে জড়িত হয়ে "আমার আমার" কোরে, আত্মীয় হতে পরমাত্মীয় শ্রীহরিকে ভুলে থাকে, তাই এত কষ্ট পায়। আবার জ্ঞানী তর্কের দ্বারা সকল বিষয়ের প্রমাণ চাই-- যদি বল "প্রভাত হয়েছে" বলবে, "তার প্রমাণ?উত্তরে যদি বলো-- পূর্বদিক আলোকিত হলেই যে সূর্য্যোদয় হবে তার প্রমাণ? পূর্বদিকে কোনও স্থানে আগুন লাগলেও তো এরকম আলোকিত হয়"। শ্রীবাস! তর্কে ভগবানকে পাওয়া যায় না-- পাওয়া যায় সরল বিশ্বাস ও ভক্তিতে।সেই সরল বিশ্বাস ও ভক্তি প্রচার করা বিশেষ দরকার, না হলে মানুষ অধঃপাতে যায়। আমি সন্ন্যাসী হয়ে সেই সরল হরিভক্তি প্রচার করব, তোমাদের মধ্যে যারা সংসারী তারা সংসারে থেকেই শ্রীনামের প্রচার করবে--- সকলকেই যে সন্ন্যাসী হতে হবে তার কিছু মানে নাই,তা' হতেও পারে না, কারণ সন্ন্যাসধর্ম বড়ই কঠোর, স্ত্রীলোকের মুখ দর্শন নিষেধ!কাজেই সংসারীর পক্ষে সন্ন্যাসধর্ম অবলম্বন যুক্তিযুক্ত নয়!*
*🌹নিতাই=প্রভু! তোমার যা আদেশ তাই করবে,তুমি ইচ্ছাময়, তোমার ইচ্ছায় বাধা দিতে আমাদের সাধ্য কি? তবে প্রভু, একটি নিবেদন--- আমরা মাঝে মধ্যে যেন তোমার দর্শন পাই।*
*♥নিমাই= শ্রীপাদ!(নিতাই) মাঝে মধ্যে আমার দর্শন তো পাবেই, তাছাড়া যখনই ভক্তিভরে হরিনাম করবে, তখনই জেনো আমি তোমাদের মধ্যে এসে সেই নামকীর্তনে দিয়েছি---চর্ম চক্ষুতে যদি দেখতে না পাও, চোখ বুজে ধ্যান কোর--মানস চক্ষুতে দেখতে পাবে। শ্রীবাস, শ্রীপাদ,মুরারি,হরিদাস ও অন্যান্য বৈষ্ণবগণ! তোমাদের দ্বারা আমার অনেক কাজ করিয়ে নিতে হবে। তোমরা ভিন্ন ভিন্ন স্থানে গিয়ে হরিনাম প্রচার করবে, আমিও নীলাচল,দক্ষিণদেশ,বৃন্দাবন, মথুরা,প্রয়াগ,কাশী প্রভৃতি স্থানে গিয়ে নাম-মাহাত্ম্য প্রচার করব। তোভরা হাসিমুখে বিদায় দাও, তবে এখন আসি। (প্রস্থান)।*
*🏵হরিদাস=প্রভুর ইচ্ছায় বাধা দেবার আমাদের অধিকারও নেই, সাধ্যও নেই---তাঁর ইচ্ছে পূরণ হোক।আচ্ছা মুরারি! তুমি যে বললে শচীমা ও বিষ্ণুপ্রিয়াদেবী হাসিমুখে অনুমতি দিয়েছেন, এ তো আমার বড় আশ্চর্য্য বোধ হচ্ছে।*
*🌻মুরারি= হরিদাস! আশ্চর্য্য হবারই কথা---এই তিন জায়গায় তিন রকম ভাবে বিদায় গ্রহণ ব্যাপারটা সত্য সত্যই বড় আশ্চর্য্যকর! তুমি আহলে একই যুক্তি তিন জায়গায় দেখাতাম--- কিন্তু প্রভু পূর্ণ অবতার--তাঁর লীলা বড়ই অদ্ভুত!শচীমা যখন বড়ই কাতর হলেন, অনুমতি দিতে চাহেন না,তখন প্রভু মাতৃস্নেহ দ্বারাই মাতৃস্নেহ পরাজয় করলেন।*
*🏵হরিদাস= সে--- কি রকম?*
*🌻মুরারি=মাকে নিতান্ত কাতর দেখে প্রভু বললেন--"মা, আমার যতই কষ্ট হোক না কেন, তোমাকে কষ্ট দিয়ে আর সন্ন্যাসী হব না "।স্নেহময়ী মায়ের হৃদয় অমনি গলে গেল---নিজের সুখের জন্য প্রাণের চেয়ে প্রিয় নিমাইকে কষ্ট দেবেন?এমন স্বাথাপরতা কি স্নেহময়ী মায়ের পক্ষে কখন সম্ভব হয়?কখনই না, তাই তিনি নিজের কষ্ট ভুলে পুত্রের সুখের জন্য ওরকম অনুমতি দিলেন।বিষ্ণুপ্রিয়াদেবীর পতিভক্তিতে পরাজিত হয়ে, প্রভু ঐশ্বরিক শক্তিদ্বারা তাঁকে ভোলালেন।যে মহৎ উদ্দেশ্যে সন্ন্যাস গ্রহণ করবেন তা আমাদের এমন ভাবে বুঝিয়ে দিলেন যে আমাদের একেবারে মুখ বন্ধ। ধন্য প্রভুর লীলা! (প্রস্থান)।*
*জয় জয় নিতাই গৌর সীতানাথ প্রেমানন্দে হরিবল, দুইটি বাহু তুলে, একসঙ্গে বলুন হরি হরি হরিবল🙏জয় শ্রীরাধেশ্যাম,জয় শ্রীরাধা মাধব,জয় শ্রীকৃষ্ণ,হরেকৃষ্ণ🙏🙏🙏*
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
🆕 👉 গৌরাঙ্গলীলা 🍁 পঞ্চাঙ্ক নাটক 🍁 প্রথম দৃশ্য বৃন্দাবন✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📝 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2025/07/gourangaleela.html
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*🙌গৌরাঙ্গলীলা,পঞ্চাঙ্ক নাটক।*
*কাটোয়া---সুরধূনী তীরে বটবৃক্ষ তলে কেশব ভারথীর আশ্রম।*
*🌹শ্রীকেশবভারতী ও নিমাই।*
*🍀নিমাই=(সাষ্টাঙ্গে প্রণামপূর্বক) প্রণাম।*
*🌻কেশবভারতী=(উঠে দাঁড়িয়ে) কে তুমি বাপু আমায় প্রণাম কর?*
*🍀নিমাই= আমার নাম নিমাই, আমি আপনার কৃপাপ্রার্থী ; আমি পূর্বে আপনার শ্রীচরণ দর্শন করেছি, তখন আপনি আমায় বলেছিলেন যে আমায় সন্ন্যাস ধর্মে দীক্ষিত করবেন। তাই আপনার কাছে এসেছি।আমায় সন্ন্যাস মন্ত্র দিয়ে আমাকে ভবসাগর থেকে উদ্ধার করুন।*
*🌻কেশবভারতী=হ্যাঁ, মনে পড়েছে তুমি কে? নদীয়াতে তোমার বাড়ীতে যেদিন প্রথম তোমায় দেখি,তখন তোমার অসাধারণ ভক্তি দেখে মনে হয়েছিল তুমি ধ্রুব বা প্রহ্লাদ। তারপরে আমার মনে দৃঢ় ধারণা হয়েছিল তুমি স্বয়ং ভগবান। আজ তুমি স্বয়ং আমার কাছে এসেছ--- আমার বড়ই সৌভাগ্য। কিন্তু আমার আনন্দে বিষাদ উপস্থিত। তোমার এই নবীন বয়স, তোমায় সন্ন্যাস মন্ত্র কেমন করে দিই?*
*🍀নিমাই=আপনি তো প্রতিশ্রুত আছেন। দয়া করে কথা রক্ষা করুন।*
*🌻কেশবভারতী=(স্বগতঃ) প্রতিশ্রুত আছি বটে, কি করি? কেমন করে অব্যাহতি পাই।*
*🍀নিমাই=কি ভাবছেন ঠাকুর? আর বিলম্ব করবেন না। আমায় সন্ন্যাস মন্ত্র দিন।*
*🌻কেশবভারতী=নিমাই! ননী রৌদ্রে রাখতে আছে কি? রাখলে যে গলে যাবে। তোমার দেহ ননীর চেয়ে কোমল---সন্ন্যাস ধর্মের কঠোর নিয়ম কেমন করে সহ্য করবে?আমি সন্ন্যাসী--পুত্র-স্নেহ কাকে বলে আমি জানি না, কিন্তু তোমাকে দেখে অবধি আমার হৃদয়ে শত পুত্রের স্নেহ উথলে পড়ছে। আমি তোমাকে সন্ন্যাসমন্ত্র দিতে পারব না।*
*🏵সুরধূনীতে স্নান করবার জন্য কয়েকজন স্ত্রী ও পুরুষের সেই পথে প্রবেশ। নিমাই ও কেশবভারতীকে দেখে সেই জায়গায় দাঁড়িয়ে উভয়ের সহিত কথোপকথন।*
*🍀প্রথমপুরুষ=আহা! ঐ নবীন সাধুটি কে?দেখে যেন মনে হয় কোনও দেবতা।*
*🏵দ্বিতীয়পুরুষ=চুপ কর, শোন, কি বলে।*
*🍀নিমাই=আপনি সন্ন্যাস দিতে প্রতিশ্রুত আছেন সেইজন্য আপনার কাছে এসেছি। প্রত্যাখ্যান করবেন না, দয়া করে আমায় শীঘ্র সন্ন্যাস মন্ত্র দিন।*
*🌻কেশবভারতী=নিমাই, তোমার বৃদ্ধা জননী আছেন, নবযৌবনা পত্নী আছে। তোমায় আমি সন্ন্যাসমন্ত্র দিতে কখনই পারব না।*
*🍀প্রথমপুরুষ=এই কি সেই নবদ্বীপের অবতার নিমাই? আমি তো দেখেই বলেছিলাম এ কোনও দেবতা হবে।*
*🏵দ্বিতীয়পুরুষ=বুড়ো মা বেঁচে আছেন,যুবতী পত্নী বেঁচে---এমন সুন্দর দেহ, এই নবীন বয়স--একেও সন্ন্যাস দেয়? দিওনা ঠাকুর, কখনও দিওনা-- অধর্ম হবে।*
*🌲জনৈক স্ত্রীলোক=আচ্ছা বাছা, এই বয়সে সন্ন্যাসী হতে যাচ্চ কেন? মা আর পরিবার কি যত্ন করে না?কেমন মা? আর পরিবারই বা কেমন?*
*🏵তৃতীয়পুরুষ=আহা! এই ব্রাহ্মণ কুমারকে দেখে আমার প্রাণ কেঁদে উঠছে কেন?বুক ফেটে যাচ্চে কেন? একে কখনই সন্ন্যাস হতে দেওয়া হবে না।*
*🍀নিমাই=(লোকদের প্রতি) তোমরা আমার বাবা ও মা, কারণ---তোমাদের আমার প্রতি সেইরকম স্নেহ রয়েছে দেখছি। তোমাদের আমি মিনতি করছি, আমায় সন্ন্যাসধর্ম হতে বাধা দিও না---সন্তানের প্রতি কৃপা কর, বাবা-মায়ের কাজ কর।*
*🏵জনৈক-স্ত্রীলোক=আহা! বাছার কথা কি মিষ্ট! শুনলে প্রাণ ফেটে যায়--- আমাদের মা-বাপ সম্বোধন করছে। বাবা, কি আর বলব, আমি আমার নিজের ছেলেকে বরং সন্ন্যাসী হতে অনুমতি দিতে পারি, তবু তোমায় সন্ন্যাসী হতে কিছুতেই অনুমতি দিতে পারব না।*
*🍀নিমাই=মা---, তোমার অসীম স্নেহ। আচ্ছা মা, তুমি তোমার নিজের ছেলেকে যদি অনুমতি দিতে পার, আমাকে নিজের ছেলে মনে কোরে অনুমতি দাও না কেন মা? আমাকে পরের ছেলে ভাব কেন মা?*
*🏵জনৈক-স্ত্রীলোক= (কাঁদতে কাঁদতে) ও মা কি বলতে কি বোলে ফেললাম--- আমার মরণ হ'ল না কেন? ওগো, তোমরা সকলে মিলে বল-না গো--- আমি যে স্ত্রীলোক, আমার কি অত বুদ্ধি-শুদ্ধি আছে?বাছাকে দেখে,আর তার কথা শুনে, সত্যি তাকে আর পরের ছেলে বলে মনে হচ্ছে না, মনে হচ্ছে আমার নিজের ছেলের চেয়ে বেশী আদরের।*
*🌻দ্বিতীয়পুরুষ =কেশব ঠাকুর!আপনি জ্ঞানী, আপনাকে আর আমরা কি বলব--- আমাদের এই নিবেদন-- কখনই এই যুবকের কথা শুনবেন না। (কোন একজন) আমরা থাকতে, শুনতে দিব না--"প্রহারেণ ধনঞ্জয়" কোরে দেব,তাতে আমাদের যা হয় হোক।*
*🌹(বেগে মুকুন্দ ও আর দুই ভক্তের প্রবেশ)।*
*🏵মুকুন্দ=এই যে! প্রভু এখানে! আমাদের দৌড়ে দৌড়ে আসা সার্থক হয়েছে।*
*🍀নিমাই=তোমরা এসেছ ভালই হয়েছে। তোমরা আমার হয়ে একটু বলো। এঁদের বলো, আমার মা ও পত্নী অনুমতি দিয়েছেন?*
*🌻জনৈক স্ত্রীলোক= অ্যাঁ? মা ও পত্নী অনুমতি দিয়েছে? কেমন মা?কেমন পত্নী?কোন প্রাণে এমন সোনার চাঁদকে সন্ন্যাসী হতে অনুমতি দিলে?*
*🏵কেশবভারতী=নিমাই! বোধ হয় তোমার জননী ও পত্নী জানেন না যে সন্ন্যাস আশ্রম কত কঠোর ও কঠিন। তাই বোধ হয় অনুমতি দিয়ে থাকবেন। নিমাই, আমার হৃদয়ের কথা বলি শোন-- তুমি শুধু তোমার আত্মীয়স্বজনের নও, সকলেরই অতি আদর ও যত্নের, দেখনা কেন,এই কাটোয়ায় স্ত্রী পুরুষগণ তোমায় তো কখনও দেখেনি-- কিন্তু দেখামাত্র স্নানে যাওয়া বন্ধ করে, তোমায় সন্ন্যাসী হতে বারণ করছে। তোমার অঙ্গ স্ত্রীলোকের অঙ্গের চেয়ে কোমল--দুঃখ কষ্ট কাকে বলে তুমি জান না।*
*🍀নিমাই=ঠাকুর, শ্রীকৃষ্ণ বিহনে যত দুঃখ পাচ্ছি তা' যদি আপনি বুঝতে পারতেন, তাহলে আমায় সন্ন্যাসমন্ত্র দিতে এক মুহূর্ত বিলম্ব করতেন না। ঠাকুর, আমি আপনাকে মিনতি করে বলছি, আমায় শীঘ্র সন্ন্যামন্ত্র দিয়ে বৃন্দাবনে পাঠিয়ে দিন, আমি আমার প্রাণের সখা শ্রীকৃষ্ণকে দেখে আসি।কৃষ্ণ বিহনে আমার প্রাণ জ্বলে গেল,-- কৃষ্ণ,কৃষ্ণ, কোথা তুমি?যাই--- যাই--- আর বিলম্ব সয় না (গমনোদ্যত ও মূর্ছিত হয়ে পড়ে গেলেন)।*
*🌹সকলে= কি সর্বনাশ হ'ল? কি সর্বনাশ হ'ল---মুখে জল দাও,বাতাস কর।*
*🌻মুরারি=জল-বাতাস দিয়ে প্রভুর চেতনা হবে না। তোমরা সকলে হরিনাম কর, তাহলে প্রভুর জ্ঞান ফিরে আসবে। (সকলে সুরে--হরিবোল, হরিবোল,হরিবোল,হরি হরি হরিবোল)।*
*🍀নিমাই=(সুরে) হরিবোল, হরিবোল,হরিবোল;হরিবোল, হরি হরি হরিবোল (উঠে নৃত্য ও সকলে হরিবোল বোলে নৃত্য )।*
*নিমাই ও সকলে--গীত।*
*হৃদয়-রাসমন্দিরে দয়া করে এসো হরি।*
*মোহের আঁধার নাশ জ্যোতির্ময় রূপ ধরি।।*
*(মদনমোহন রূপ হেরে প্রাণ শীতল করি)*
*দাঁড়াও বঙ্কিমঠামে,কিশোরীরে লয়ে বামে,*
*হেরিয়ে যুগল রূপ জীবন সফল করি।।*
*(শ্যাম অঙ্গে সোনার আভা হেরিব নয়ন ভরি)*
*বাজাও মোহন বাঁশি,অধরে মধুর হাসি,*
*ভব-ভয় মোহ নাশি,বাজাও প্রাণে বাঁশরী।।*
*(সে মধুর ধ্বনি শুনি,সকল ব্যথা পাসরি)*
*প্রেমের হরি প্রেমে বাঁধা,তাই তোমায় পেলেন রাধা,*
*প্রেমভরে ডাকে যেজন সদয় তারে শ্রীহরি,*
*(আত্মহারা)সে প্রেম মোরা পাব গো কেমন করি)।*
*🌻মুরারি=কাটোয়া যে নদে হ'য়ে দাঁড়াল। ধন্য কাটোয়াবাসীগণ! ধন্য মহাপ্রভুর মহিমা!*
*🏵কেশবভারতী=(স্বগত) (মনে মনে বলছেন)নিমাই ভগবান-- না, ধ্রুব-প্রহ্লাদের মত একজন ভক্ত--কিছুই বুঝতে পারছি না।ইনি নিশ্চয়ই স্বয়ং ভগবান, তাই জননী ও পত্নীর নিকট বিদায় নিতে পেরেছিলেন।তবে আমি ভগবানের ইচ্ছায় বাধা দেব কেমন কোরে?(প্রকাশ্যে)নিমাই, তোমাকে বাধা দেবার ক্ষমতা আমার নাই, অধিকারও নাই। আমি তোমাকে সন্ন্যাসমন্ত্র দিব। কিন্তু তোমাকে মন্ত্র দিলে তুমি আমায় গুরু বলবে। আমি জগৎ গুরুর গুরু হ'ব কোন সাহসে? তাতে আমার অপরাধ হবে,পতন হবে-- তখন তোমাকে আমার ভবসাগরের কান্ডারী হতে হবে--দেখো যেন আমার পরকাল নষ্ট না হয়।*
*🍀নিমাই= আমি সামান্য দীন হীন ব্রাহ্মণ সন্তান,আমায় আপনি কেন ভগবানের আসন দিচ্ছেন ঠাকুর?আমায় যে সন্ন্যাসমন্ত্র দিতে সম্মত হয়েছেন এই আমার যথেষ্ট সৌভাগ্য।*
*🌹সকলে= কেশব ঠাকুর! আমাদের সকলের অনুরোধ, ওঁকে সন্ন্যাসমন্ত্র দিবেন না।*
*🍀নিমাই=তোমরা কেন বাধা দিচ্ছ? আমি শ্রীকৃষ্ণ ভজন করতে যাচ্ছি,তাতে সুখ বৈ দুঃখ কোথা?মা-সকল ও বাবা-সকল, তোমরা কি পাগল হলে? আমায় স্নেহ করতে গিয়ে আমার অমঙ্গল করা কি তোমাদের উচিত?*
🌹সকলে=না, না, তোমার অমঙ্গল ইচ্ছা করতে পারে এমন লোক কেউ আছে?বাবা তোমার ইচ্ছা পূরণ হোক, আর আমরা বাধা দিব না-- কিন্তু আমাদের উপর যেন কৃপা থাকে, তোমার ঐ মধুর মূর্তি সর্বদা যেন আমাদের হৃদয়ে আঁকা থাকে।*
*🏵জনৈক স্ত্রীলোক= ওমা, পুরুষগুলো এত নিষ্ঠুর,স্বচ্ছন্দে বাছাকে সন্ন্যাসী হতে অনুমতি দিলে,শরীরে একটু মায়া-দয়া নেই গো!*
*🍀নিমাই=মা।*
*🏵জনৈক স্ত্রীলোক=থাক বাছা, ঢের হয়েছে, আর মা বোলে মায়া বাড়াসনে---আমি কেন মরতে আজ সুরধূনীতে স্নান করতে এসেছিলাম---বাছা একদিন একদন্ডের জন্যে মা বোলে, চিরকালের জন্য আমার প্রাণে দাগা দিয়ে গেলি---কেন মা বলে ডাকলি?কেন রাক্ষসী বোলে মেরে তাড়িয়ে দিলি না বাবা?(প্রস্থান)।*
*🍀নিমাই=ধন্য স্নেহ! যে পরের ছেলেকে নিজের ছেলের মত এত স্নেহ করতে পারে, সে শুধু জননী নয়--বিশ্ব জননী।*
*🏀একজন বালকের সহিত একজন অন্ধ বৃদ্ধার প্রবেশ।*
*🏐বৃদ্ধা=কই, কই, কই সে? সমস্ত কাটোয়ার লোকের মুখে যার নাম, যাকে দেখবার জন্যে সকলে ছুটোছুটি করছে,সে সোনার গৌরাঙ্গ কই?*
*🌻বালক=ওই যে, ওখানে বসে আছে। ঠাকুরমা, তোর চোখ নাই, তুই তাকে দেখতে এলি কি বলে?*
*🏐বৃদ্ধা=চোখ নেই,কান তো আছে---তার কথাও তো শুনতে পাব?কই বাবা কই তুমি?*
*🍀নিমাই=(উঠে গিয়ে )নিমাইকে খুঁজছো? এই যে মা আমি!নিমাইকে দেখবার জন্য তুমি এত কষ্ট করে কেন এলে মা?*
*🏐বৃদ্ধা=আহা!কথা শুনে প্রাণ জুড়িয়ে গেল। বাবা!দেখব বলে আসিনি, তোমার কথা শুনব বলে এসেছি, দেখবার পথ ভগবান আজ দশ বৎসর বন্ধ করেছেন,দশ বছর চোখে ছানি পড়ে একেবারে অন্ধ হয়ে গেছি বাপ।ভাগ্যে কানের মাথা এখনও খাইনি তাই তোমার কথা শুনে প্রাণ জুড়োলো।*
*🍀নিমাই=(বৃদ্ধার চোখে হাত দিয়ে) দেখি মা তোমার চোখ কি রকম খারাপ হয়েছে?*
*🏐বৃদ্ধা=এ----কি-----, কে তুই বাপ, সত্যিই তুই ভগবান--- আমার দশ বছরের কাণা চোখ ছোঁবামাত্র ভাল করে দিলি--- আহা কি রূপ! আমার জন্ম সার্থক হল---চরণের ধূলো মাথায় দে বাবা। (পায়ের ধূলো গ্রহণ করতে উদ্যত)।*
*🍀নিমাই=(বাধা দিয়ে) কি কর মা? মা হয়ে ছেলের পায়ের ধূলো নাও কেন মা?এ অধমকে দেখবার জন্য তোমার এত সাধ হয়েছিল,তাই ভক্তবাঞ্ছাপূরণকারী শ্রীহরি তোমার মনোবাঞ্ছা পূর্ণ করেছেন। মা একবার বল হরিবোল, হরিবোল হরিবোল।*
*🌹সকলে=হরি হরি হরিবোল! জয় গৌরাঙ্গ মহাপ্রভুর জয়।*
*🏵কেশবভারতী=নিমাই, বুঝলাম তুমি পূর্ণ অবতার। তুমি জীবগণকে শ্রীকৃষ্ণে চৈতন্য করালে,সেই জন্য কেবল তোমায়, "শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য" নামে দীক্ষা দেব।যার স্পর্শমাত্রে অন্ধের দৃষ্টিশক্তি হয়,তাকে দীক্ষা দিয়ে অনায়াসে ভবসমুদ্র পার হ'ব---আর ভাবনা নেই।*
*🌹সকলে=জয় গৌরাঙ্গ মহাপ্রভুর জয়। হরিবোল হরিবোল হরিবোল হরিবোল হরি হরি হরিবোল, হরিবল হরিবল হরিবল 🙌 🙌 🙌 🙌 🙌* *(সকলের প্রস্থান)*
*🙏হরেকৃষ্ণ হরেকৃষ্ণ কৃষ্ণ কৃষ্ণ হরে হরে।*
*হরেরাম হরেরাম রাম রাম হরে হরে🙏*
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
🆕 👉 গৌরাঙ্গলীলা 🍁 পঞ্চাঙ্ক নাটক 🍁 প্রথম দৃশ্য বৃন্দাবন✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📝 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2025/07/gourangaleela.html
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*🙌গৌরাঙ্গলীলা, পঞ্চাঙ্ক নাটক।*
*নদীয়ায়--শচীদেবীর কক্ষ।*
*🍀নিমায়ের জন্য অন্ন ব্যঞ্জন সামনে রেখে শচীদেবী।*
*🍀শচীমা=নিমাই এখনও এলো না কেন?ভাত ঠাণ্ডা হয়ে যাচ্ছে যে!*
*রাখাল বালকের প্রবেশ*
^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^
*🌻রাখাল=এই যে মা আমি এসেছি--কই আমার ভাত কই?দে---বড় খিদে পেয়েছে,দে খাই।*
*🍀শচীমা=এই যে বাপ,তোর জন্য ভাত ব্যঞ্জন বেড়ে রেখেছি।খা' বাপ,আমি বাতাস করি।* *(পাখা নিয়ে বাতাস ও রাখাল বালকের ভোজন)বাপ, তুই এখন কোথায় থাকিস্,কে তোকে রেঁধে দেয়,কি খেতে দেয়?*
*🌻রাখাল=আমার থাকবার ভাবনা নেই, আমি সব জায়গাতেই থাকি,রেঁধে অনেকে দেয়, কিন্তু মা তোর হাতের রান্না খেতে আমার যেমন ভাল লাগে, আর কারোর হাতের রান্না আমার তেমন ভাল লাগে না।আমায় অনেকে অনেক জিনিস খেতে দেয়,ক্ষীর,সর,নবনী,পরমান্ন আরও কত কি? কিন্তু মা তোর হাতের মোচার ঘন্ট আমার যেমন ভাল লাগে তেমন আর কারই ভাল লাগে না।*
*🍀শচীমা=(আনন্দের সহিত) সেই জন্যেই তো বাপ নিজে হাতে তোর জন্যে মোচার ঘন্ট রেঁধে রেখেছি, খা বাপ মোচার ঘন্ট দিয়ে আর চারটি ভাত খা।*
*🌻রাখাল=না--মা, আর খাব না পেট ভরে গেছে।তাছাড়া জন কয়েক মেয়ে লুকিয়ে লুকিয়ে আমার খাওয়া দেখছে।*
*🍀শচীমা=তা দেখলেই বা, তাতে কি হয়েছে?তারা আমার কথা বিশ্বাস করে না, যে তুই রোজ এসে আমার হাতের রান্না খেয়ে যাস।তাই বোধহয় লুকিয়ে লুকিয়ে দেখছে।আমায় দেখাতে বলেছিল বটে। তা তাদের দেখা দেনা কেন বাপ।*
*🌻রাখাল=না মা,তাদের দেখা দেব না---তারা আমায় তোর মত ভালবাসে না--যদি ভালবাসতো, তাহলে দেখা দিতাম।এখন আমার চললাম মা।একটা কথা বোলে রাখি, আমার খাবার সময়ে আর কাউকে এখানে আসতে দিবি না,তাহলে আমি আর আসব না।(প্রস্থান)।*
*🏵প্রতিবেশিনীদের প্রবেশ।*
*🌹প্রথম-প্রঃ=দিদি, তুমি যে বলতে নিমাই এসে রোজ তোমার হাতের রান্না খেয়ে যায়। আমাদের কাছে অমন মিথ্যা কথা বলা উচিত কি দিদি? মিথ্যাকথা আমি অমন সাত জন্ম কখনও বলিনি।তবে সংসারে থাকতে গেলে অনেক সময়ে দুই একটা মিথ্যা কথা বলতে হয়-- না বললে চলে না,তাই দায়ে পড়ে রোজ দু-দশটা মিথ্যা কথা বলতে হয় বটে,পাপ ধুয়ে যাবে বোলে সেই জন্যেই রোজ ডুব দিয়ে গঙ্গা স্নান করি।*
*🍀শচীমা=মিথ্যে কথা বলতে যাব কেন বোন,এই তো নিমাই খেয়ে চলে গেল---বাছার আজ ভাল কোরে খাওয়া হল না, বললে "জন কয়েক মেয়ে লুকিয়ে লুকিয়ে আমার খাওয়া দেখছে,আমি এখন যাই।*
*🌺২য় প্রঃ=তা তো বলবেই,ধরা পড়েছে কিনা। দিদি তোমার চোখও খারাপ হয়ে গেছে, নিমাই নিমাই কোরে মাথাও খারাপ হয়ে গেছে---একটা ছোট ছোঁড়া, রাখাল রাখাল চেহারা--মাঠে গরু চরাতে চরাতে খিদে পায়, তোমার কাছে এসে নিমাই বোলে পরিচয় দিয়ে বেশ করে খেয়ে চলে যায়। তবে ছোঁড়াটা খুব চালাক, স্বীকার করতে হবে-- আমরা লুকিয়ে লুকিয়ে দেখেছিলাম, জানতে পারলে কেমন কোরে?*
*🏵১ম প্রঃ=নিমাইকে যে ভূতে পেয়েছে,না---সেই ভূতটাই এখন রাখাল বালক সেজে দিদির চোখে ধূলো দিয়ে খেয়ে যায়। আমি তো তখনি বলেছিলাম, দিদি ভূতছাড়াও,তা শুনলে না-- কি করব বল।এখনও সময় আছে,এখনও স্বস্তেন টস্তেন কর,ভূত ছাড়তে পারে।*
*🌺৩য় প্রঃ=যতই কর,গেরো বেগুনী না কাটলে আর নিস্তার নেই।দিদি,তুমি তো এক রকম পাগল হয়ে গেছ, বুদ্ধি শুদ্ধি সব লোপ পেয়ে গেছে।নইলে কোথাকার একটা ছোঁড়াকে নিমাই বোলে খাওয়াও।তা তোমারই যেন মাথা খারাপ হয়ে গেছে, আমাদের তো আর মাথা খারাপ হয়নি, তাই তোমার ভালর জন্যেই বলতে আসি, শোন আর নাই শোন তোমার ব্যাপার।*
*🍀শচীমা=তোমরা কি বলছো? তোমাদের কথা আমি কিছুই বুঝতে পারছি না। তোমাদের মিনতি কোরে বলছি, আর নিমাইয়ের খাবার সময় এখানে এসো না, বা লুকিয়ে লুকিয়ে তার খাবার দেখো না।আহা! বাছার আমার আজ খাওয়া হল না-- আধপেটা খেয়ে চলে গেল।অবশ্য মোচার ঘন্টটা সব খেয়েছে--নিমাই আমার মোচার ঘন্ট বড় ভালবাসে।*
*🏵২য় প্রঃ= একেবারে বদ্ধ পাগল হয়ে গেছে। আহা!তা হবারই কথা।*
*🌺১ম প্রঃ=পাগল হতে যাবে কেন?ওসব ভিরকুটি(ভ্রূকুটি)(ভঙ্গী)দেখলে না বলা হল, নিমাইয়ের খাবারের সময় আমরা যেন না আসি। কেন, আমরা কি ডাইনি নাকি,যে ওর ছেলের খাওয়াতে নজর দেব? চল ভাই আমরা যাই--এমন জায়গায় আর আসবো না-- ওর ভালর জন্যই আমরা আসি, নইলে আমাদের কি এমন মাথা ব্যথা। আমাদের কথা তো শুনবে না,তার ফল ভোগ করুক। (প্রস্থান)।*
*🍀শচীমা=বাছার আমার ভাল কোরে খাওয়া হল না--- আমার হাতের রান্না খেতে নিমাই বরাবরই ভালবাসে--এখন সন্ন্যাসী হয়েছে---তবু আমার হাতের রান্না ভোলেনি। বৌমা-----*
*🏀ভেতর হতে--যাই---মা।*
*♥বিষ্ণুপ্রিয়ার প্রবেশ।*
*♥বিষ্ণুপ্রিয়া=মা ডাকছেন?*
*🍀শচীমা=হ্যাঁ মা।আজ বাছার ভাল কোরে খাওয়া হল না-- অনেক ভাত পড়ে রইল--তুমি এই প্রসাদ খেয়ে নিও। (প্রস্থান)।*
*♥বিষ্ণুপ্রিয়া=বোধ হয় মা একেবারে পাগল হয়ে গেছেন--- দিনরাত তাঁর কথায় ভাবেন।বড়ই আশ্চর্য্যের কথা---কে রোজ রোজ এসে অন্ন ব্যঞ্জন খেয়ে যায়? তিনি তো এখন অনেক দূরে---তিনি কেমন কোরে এসে রোজ খেয়ে যাবেন? অসম্ভবই বা কি? তিনি যে ইচ্ছাময়! যিনি ইচ্ছামাত্র শ্রীকৃষ্ণের রূপ ধরে আমার কাছে দাঁড়িয়ে ছিলেন, তিনি কি আর মায়ের স্নেহের টানে অন্যরূপ ধরে এসে মাকে সান্ত্বনা দিতে পারেন না? নিশ্চয়ই পারেন-- তাই এ প্রসাদ আমার কাছে অমৃতের মত।প্রভু, মাকে যেমন দর্শন দাও,আমাকে দাও না কেন? না, তা কেমন করে দেবেন, তিনি এখন সন্ন্যাসী-- স্ত্রীর মুখ দেখতে নাই। দর্শন নাই দাও প্রভু, হৃদয়ে তোমার মূরতি আঁকা রয়েছে---চিরদিন যেন থাকে।(প্রস্থান)*
*জয় জয় নিতাই গৌর সীতানাথ প্রেমানন্দে হরিবল, দুইটি বাহু তুলে, একসঙ্গে বলুন হরি হরি হরিবল🙏জয় শ্রীরাধেশ্যাম,জয় শ্রীরাধা মাধব,জয় শ্রীকৃষ্ণ,হরেকৃষ্ণ🙏🙏🙏*
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝
꧁👇📖 সূচীপত্র ✍️ শ্রী জয়দেব দাঁ 📖👇꧂
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️
নিবাস- বাঁশবাড়ী, কীর্তন মন্দিরের পাশে, পোঃ- বাঁশবাড়ী, থানা- ইংরেজ বাজার, জেলা- মালদহ, পশ্চিমবঙ্গ, পিন কোড- ৭৩২১০১।
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*••••━❀꧁👇 📖 সূচীপত্র 📖 👇꧂❀┅••••*
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*••••━❀꧁👇📚 PDF গ্রন্থ 📚👇꧂❀┅••••*
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য প্রভু নিত্যানন্দ
হরে কৃষ্ণ হরে রাম শ্রীরাধেগোবিন্দ।।
*••••┉━❀꧁ 🙏 জয় জগন্নাথ 🙏 ꧂❀━┅••••*
হরে কৃষ্ণ হরে কৃষ্ণ কৃষ্ণ কৃষ্ণ হরে হরে
হরে রাম হরে রাম রাম রাম হরে হরে॥
*••••┉━❀꧁ 🙏 জয় রাধাকান্ত 🙏 ꧂ ❀━┅••••*
🌷❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀🌷
🏵️❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀🏵️
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
