✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
꧁ ৪২. ভগবান শ্রীকৃষ্ণের মুরলী শিক্ষা লীলা ꧂
এই লিংকে 👇👇👇🙏👇👇👇 ক্লিক করুন
꧁ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ ꧂
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
*🌻মুরলী শিক্ষা,গৌরচন্দ্রিকা🌻*
*স্মরিয়া পূরব লীলা শ্রীগৌরাঙ্গ রায়।*
*মুরলী শবদ করি বদন বাজায়।।*
*শুনিয়া মুরলী রব গদাধর আইল।*
*মুরলী শিখিব বলি বামে দাঁড়াইল।।*
*এ বোল শুনিয়া প্রভু কহে হাসি হাসি।*
*আগে শেখ নাগরালি পাছে শেখ বাঁশী।।*
*গদাধর বলে সেই কেমন প্রকার।*
*বংশী কহে নয়ন বাঁকা ত্রিভঙ্গ আকার।।*
^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^
*🌻 প্রথম পদ🌻*
*শ্যাম অভিসারে চলু বিনোদিনী রাধা।*
*নীল বসনে মুখ ঝাঁপিয়াছে আধা*
*সুকুঞ্চিত কেশে রাই বান্ধিলা কবরী।*
*কুন্তলে বকুলমালা গুঞ্জরে ভ্রমরী*
*নাসায় বেশর শোভে মুকুতা হিলোল।*
*নবীন কোকিলা জিনি আধ আধ বোল।।*.
*আবেশে সখির অঙ্গে অঙ্গ হেলাইয়া।*
*পদ আধ চলে আর পড়ে মূরছিয়া।।*
*রবাব খমক বীণা সুমেল করিয়া।*
*প্রবেশিল বৃন্দাবনে জয় জয় দিয়া।।*
*নূপুরের রুণুঝুণু পড়ি গেল সাড়া।*
*নাগর উঠিয়া বলে আইল রাই পারা।।*
*বৃন্দাবনে যাইয়া রাই ইথিউতি চায়।*
*মাধবীলতার তলে দেখে শ্যামরায়।।*
*শ্যাম অঙ্গে মিলল রসের মাধুরী।*
*জ্ঞানদাস মাগে রাঙ্গা চরণ মাধুরী।।*
*🌻দ্বিতীয় পদ🌻*
*আইস আইস মোর বিনোদিনী রাধা।*
*তোমা দরশনে গেল মনসিজ বাধা।।*
*তুমি মোর সরবস নয়নের তারা।*
*তোমা বিনে দশদিক হেরি আন্ধিয়ারা।।*
*তুমি মোর জপ তপ তুমি মোর ধ্যান।*
*তুমি মোর তন্ত্র মন্ত্র তুমি হরিনাম।।*
*তোমার লাগিয়া বৃন্দাবন করিলাম*
*গাইতে তোমার গুণ মুরলী শিখিলাম।।*
*চৌরিশি ক্রোশ এই বৃন্দাবন সীমা*
*যতকিছু লীলা খেলা তোমার মহিমা।।*
*জানে সব ব্রজগণ জানে ব্রজাঙ্গনা।*
*সবে জানে তব মন্ত্রে আমি উপাসনা।।*
*নিজ পীতবাসে শ্যাম চরণধূলি ঝাড়ে।*
*ললিতা মুচকি হাসে কুন্দলতা আড়ে।।*
*শ্যাম কোরে মিলল রসের মঞ্জরী।*
*জ্ঞানদাস মাগে রাঙ্গা চরণ মাধুরী।।*
*🌻তৃতীয় পদ🌻*
*ঘর হতে আইলাম বাঁশী শিখিবার তরে।*
*নিজ দাসী বলি বাঁশী শিখাহ আমারে।।*
*কোন রন্ধ্রেতে শ্যাম গাও কোন তান।*
*কোন রন্ধ্রের গানে বহে যমুনা উজান।।*
*কোন রন্ধ্রেতে শ্যাম গাও কোন গীত।*
*কোন রন্ধ্রের গানে রাধার হরিলে হে চিত।।*
*কোন রন্ধ্রের গানেতে কদম্ব ফুল ফোটে।*
*কোন রন্ধ্রের গানেতে রাধার প্রেম লুটে।।*
*ভাল হইল আইলা রাই মুরলী শিখাব।*
*জ্ঞানদাসের মনে বড় আনন্দ হইব।।*
*🌻চতুর্থ পদ🌻*
*মুরলী শিখিবে রাধে,শিখাব মনের সাধে,*
*যে বা বোল বলি শুন ধনি।*
*ছাড়হ নারীর বেশ,উভ করি বান্ধ কেশ,*
*বামে চূড়া করহ টালনি।।*
*মোছিয়া সিন্দুর ঘটা,কর রাই বিনোদ ফোঁটা,*
*নাসার বেশর কর দূরে।*
*কাঁচলি খোলিয়া ফেল,মৃগমদে হস্ত কাল,*
*তবে বাঁশী বাজিবে অধরে।।*
*লেহ মোর পীতধড়া,পর আঁটি কটি বেড়া,*
*অঙ্গুলি লোলায়্যা শিখাইব।*
*তুয়া গুণ নাম রাই,যে রন্ধ্রে সদাই গাই,*
*একে একে চিনাইয়া দিব।।*
*গৌর অঙ্গুলি তোর,সোনা বান্ধা বাঁশী মোর,*
*ধর দেখি রন্ধ্র মাঝে মাঝে।*
*তিন ঠাঁই হস্ত বাঁকা,পাঁচনিতে দেহ ঠেকা,*
*তবে সে বিনোদ বাঁশী বাজে*
*রাই কহে বনমালী,চূড়া বান্ধ উভকরি,*
*আপনার সমান বন্ধন।*
*বাঁশী দিয়া মোর হাত,দেখাও ওহে প্রাণনাথ,*
*যে রন্ধ্রে যে ধ্বনি কর গান।।*
*এলায়ে কবরী ছান্দ,চূড়া বান্ধে শ্যামচান্দ,*
*রাই অঙ্গ করে ঝলমলে।*
*বাণী কহে জ্ঞানদাস,সীঁথার সিন্দুর পাশ,*
*মুরলী ধরিয়া করতলে।।*
*🌻পঞ্চম পদ🌻*
*শ্যাম বামে করি,দাঁড়াইল সুন্দরী,*
*ত্রিভঙ্গ ভঙ্গিম হৈয়া।*
*বেণী পরিহরি,যতন করি শিরে,*
*চূড়াটি বান্ধিল আঁটিয়া।।*
*তাহার উপরে,ময়ূর পুচ্ছ ধরি,*
*বাম ভাগে দিল টানিয়া।*
*হাসিয়া হাসিয়া, বোলয়ে বচন,*
*বঙ্গিম লোচনে চাহিয়া।।*
*🌻ষষ্ঠ পদ🌻*
*মুরলী করাও উপদেশ।*
*যে রন্ধ্রে যে ধ্বনি উঠে জানহ বিশেষ।।*
*কোন রন্ধ্রে বাজে বাঁশী অতি অনুপাম।*
*কোন রন্ধ্রে রাধা বলি ডাকে আমার নাম।।*
*কোন রন্ধ্রে বাজে বাঁশী সুললিত ধ্বনি।*
*কোন রন্ধ্রে কেকা রবে নাচে ময়ূরিনী।।*
*কোন রন্ধ্রে রসালে ফুটয়ে পারিজাত।*
*কোন রন্ধ্রে কদম্ব ফুটে হে প্রাণনাথ।।*
*কোন রন্ধ্রে ষড়ঋতু হয় এককালে*
*কোন রন্ধ্রে নিধুবনে হয় ফুলফলে।।*
*কোন রন্ধ্রে কোকিল পঞ্চমস্বর গায়।*
*একে একে শিখাইয়া দেহ শ্যামরায়।।*
*জ্ঞানদাস শুনিয়া কহয়ে হাসি হাসি*।
*শুন রাধে মোর বোল বাজিবেক বাঁশী।।*
ব্যাখ্যা-- শ্রীকৃষ্ণ তখন একে একে সমস্ত রন্ধ্রের পরিচয় দিতে লাগলেন আর শ্রীমতি মহা উৎসাহে সেগুলি মনে গেঁথে নিতে লাগলেন। অতি যত্ন ও উল্লাসের সহিত বাঁশীটি নিজের অধরে সংলগ্ন করিয়া রাধারানী সেই জাতিকুলহরা বাঁশির রন্ধ্রে ফুঁ দিলেন। কিন্তু অতি দুঃখের বিষয় বাঁশী বাজল না। শ্রীমতি রাধারানী প্রাণমন শক্তিতে ফুঁ দিয়েও সেই বাঁশি বাজাতে পারলেন না। ক্ষুব্দ হয়ে রাইধনি বললেন, এ তোমার কোন বাঁশি? কোথাকার ভাঙ্গা বাঁশিটি তুমি আমায় দিলে? এই বাঁশীতো একেবারেই বাজে না। তখন চতুরের শিরোমনি শ্রী গোবিন্দ বললেন,রাধে! একটি ভাঙ্গা বাঁশি নয়, তুমি ভালো করে দেখো তো এই বাঁশির কোন জায়গায় ভাঙ্গা আছে কি? তুমি কোথায় ভাঙ্গা দেখলে, তুমি এ বাঁশীকে এ ভাঙ্গা বললে? তবে তুমি দেখো? চতুরের শিরোমনি শ্রীগোবিন্দ যখন সেই বাঁশিতে ফুঁ দিলেন ভুবনমোহন স্বরে বাঁশি বেজে উঠল। পুনরায় শ্রীগোবিন্দ রাই ধনীকে বাঁশী দিলেন, বললেন রাধে এবার তুমি ফুঁ দাও অবশ্যই বাজবে। কিন্তু দুঃখের বিষয় এবারও রাধারানী বাঁশি বাজাতে পারলেন না। রাগে অভিমানে শ্রীরাধার নয়ন তখন অশ্রুসিক্ত, বললেন-- আগে বললেই পারতে নিশ্চয়ই এই বাঁশিতে কোন জাদু আছে, শুধু তোমার মুখেই এই বাঁশি বাজবে আর কারো কাছে এই বাঁশি বাজবে না, কারণ এই বাসি উন্নত নয় এটা বাজিকরের বাসি তাই তুমি একমাত্র বাজিকরতোমারও অধরেই এই বাঁশি বাজবে। রাধার অভিমানে আহত মুখশ্রী নিরীক্ষণ করিয়া শ্রীকৃষ্ণ মৃদুমন্দ হাস্যকর ছিলেন, এবারে গোবিন্দ বললেন,ও তাই তো বুঝতে পারলাম তোমার মুখে না বাজবার কারণ? রাধে! আমার এই বাসি এমনি তোমার মুখে এই বেশে বাজবেনা রাধে, তোমাকে আমার মতন ধড়াচূড়া পরিধান করিয়া ত্রিভঙ্গ ভঙ্গিতে না দাঁড়ালে তো বাঁশি বাজবে না, তুমি আমার মতন বেশ পরিবর্তন করো তোমার মনের আশা পূর্ণ হবে। শ্রীমতি রাধারানী বললেন বাহ্ রে! কোথায় পাব ধড়াচূড়া? কৃষ্ণ বললেন তুমি পড়বে তবে নাও আমার ধড়াচূড়া। এইভাবে শ্রীমতি রাধারানী কৃষ্ণের বেশ ধারণ করলেন।
*🌻সপ্তম পদ🌻*
*প্রথম রন্ধ্রের গানে,ব্রহ্মার ভাঙ্গল ধ্যানে,*
*দ্বিতীয়তে যমুনা উজায়।*
*তৃতীয় রন্ধ্রের কথা,শুন বৃষভানু সুতা,*
*পবনের হত গতি হয়।।*
*চতুর্থ রন্ধ্রের গানে,ব্রজবাসীর বাজে প্রাণে,*
*এলোথেলো পাগলিনী প্রায়।।*
*পঞ্চম রন্ধ্রের স্বরে,আপনি সে ধেনু ফিরে,*
*তৃণমুখে উর্ধপুচ্ছে ধায়।*
*ষষ্ঠম্ রন্ধ্রের গতি,কদম্ব হয় বিকশিতি,*
*ষড়ঋতু একত্রে বয়।।*
*সপ্তম রন্ধ্রের গানে,পাষাণ দ্রবিল গুণে,*
*পাষাণ আপনি জলময়।।*
*অষ্টম রন্ধ্রের গান,গাই রাধে তোমার নাম,*
*মোর বাঁশী এত গুণ ধরে।*
*বংশীবদন কয়,বংশী শিক্ষা উচিত নয়,*
*না জানিলে শিক্ষা বলি কারে।।*
*🌻অষ্টম পদ🌻*
*কৌতুকে মুরলী শিখে রসবতী রাধা।*
*মদন মোহন মনোমোহিনীর সাধা*
*প্রেম রঙ্গে শ্যাম অঙ্গে অঙ্গ হেলাইয়া।*
*মুরলী পূরয়ে রাই ত্রিভঙ্গ হইয়া।।*
*বিনা তন্ত্রে বিনা মন্ত্রে কত ফুক দেই।*
*বাজে বা না বাজে বাঁশী প্রিয়ামুখ চায়।।*
*রাধার অধরে বেণু ধরে বনমালী।*
*পাণি পঙ্কজ ধরি লোলায়ে অঙ্গুলি।।*
*কানু কোলে কলাবতী কেলির বিলাসে।*
*দুহুঁ রূপ হেরি দাস শিবানন্দ ভাষে।।*
*🌻 নবম পদ🌻*
*বৃষভানু সুতা বহু সুখে।*
*মুরলী ধরল চান্দ মুখে।।*
*দেখ পহুঁ মুরলী বাজায়।*
*যে রন্ধ্রে রাধার গুণ গায়।।*
*সে গান শিখিল বিনোদিনী।*
*বাজে বাঁশী উঠে কৃষ্ণ ধ্বনি।।*
*আনন্দে কহয়ে ধনি রাই।*
*হাসি হাসি শ্যাম মুখ চায়।।*
*রাই কহে সকলি শিখাবে।*.
*কিছু অবশেষ না রাখিবে।।*
*শ্যাম কহে প্রাণ দিয়ে যারে।*
*কি আর অবশেষ আছে তারে।।*
*এত কহি ধরি দুই কর।*
*অঙ্গুলি শিখায় ঘরে ঘর।।*
*এ রন্ধ্রে কদম্ব ফুল ফোটে।*
*এ রন্ধ্রে মধুর ধ্বনি উঠে।।*
*একে একে সকলি শিখিল।*
*আর কি শিখিবে তাহা বল।।*
*এত শুনি বিনোদিনী হাসে।*
*কি কহব যদুনাথ দাসে।।*
&&&&&&&&&&&&&&&&&&&&&&&
*রাই কহে শ্যাম আমি কি আর বলিব।*
*বড় মনে সাধ আছে একত্রে নাচিব।।*
*বৃন্দাবনে হিল্লোল বয়ে যায়।*
*গোবিন্দ দাস হেরি নয়ন যুড়ায়।।*
*জয় নিতাই, বিরাম*
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
👇👇👇এই লিখনী 📚 PDF 📚 ক্লিক করুন 👇👇👇
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
꧁ শ্রীকৃষ্ণ লীলা 🙏 সূচীপত্র ꧂
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️
꧁ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ📱7001138871꧂
নিবাস- বাঁশবাড়ী, কীর্তন মন্দিরের পাশে, পোঃ- বাঁশবাড়ী, থানা- ইংরেজ বাজার, জেলা- মালদহ, পশ্চিমবঙ্গ, পিন কোড- ৭৩২১০১।
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏
আমায় দেওয়া ওনার এই অমূল্য লিখনী সেবা, তা সকলের মধ্যে প্রকাশ করলাম। ওনার এই অমূল্য দান সমগ্র বৈষ্ণব সমাজ অনন্তকাল মনে রাখিবে।
🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
*••••┉━❀꧁ 🙏 রাধে রাধে 🙏 ꧂❀━┅••••*
*••••┉━❀꧁ 🙏 রাধে রাধে 🙏 ꧂❀━┅••••*
শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য প্রভু নিত্যানন্দ
হরে কৃষ্ণ হরে রাম শ্রীরাধেগোবিন্দ।।
*••••┉━❀꧁ 🙏 জয় জগন্নাথ 🙏 ꧂❀━┅••••*
হরে কৃষ্ণ হরে কৃষ্ণ কৃষ্ণ কৃষ্ণ হরে হরে
হরে রাম হরে রাম রাম রাম হরে হরে॥
*••••┉━❀꧁ 🙏 জয় রাধাকান্ত 🙏 ꧂ ❀━┅••••*
💮❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀💮
💮❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀💮
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
