শ্রী মৃন্ময় নন্দী কর্ত্তৃক সকল ভক্ত👣চরণে👣অসংখ্যকোটি 🙇প্রণাম🙇 ক্লিক করুন 👇

শ্রী মৃন্ময় নন্দী কর্ত্তৃক সকল ভক্ত👣চরণে👣অসংখ্যকোটি 🙇প্রণাম🙇 ক্লিক করুন 👇

গৌর আমার নিতাই আমার ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 🔀 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2022/05/blog-post_42.html

✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
            ꧁ গৌর আমার নিতাই আমার ꧂
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
  ꧁ টিকা বা অন্যান্য ধর্মীয় লিখনী 🙏 সূচীপত্র 
       এই লিংকে 👇👇👇🙏👇👇👇 ক্লিক করুন 
          ꧁ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ ꧂
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
গৌর আমার!নিতাই আমার!
গৌর আমার!নিতাই আমার!
                    যেও নাকো ভুলে।
ঠেললে্ পায়ে কেবা আমায়
                  নেবে কোলে তুলে।।
ছিলাম সুখী যখন আমার 
                    মধুর বাল‍্যকালে।
দেখতাম দু'ভাই সারা বিশ্বে
                   নাচছ "কৃষ্ণ" বোলে।।
সামনে কোন বিপদ জেনে,
নিতে আমায় বুকে টেনে,
মুছিয়ে দিয়ে মলিন মুখ,
              করতে ব‍্যথা দূর।
তেমনি করে এসো দুভাই
               বাজিয়ে মধুর সুর।।
সংসার কারা বড়ই ভীষণ 
                 তীব্র জ্বালাময়।
শান্তি নাহি শ্রান্তি ভরা
              শয়তানেরি জয়।।
ডাকবো কৃষ্ণে মনে করি,
মায়া মোহ আসে ঘেরি,
হয়না ডাকা দীনসখা,
        হই যে দিশাহারা।
রক্ষা কর হে বিশ্বম্ভর!
         নাশি মায়া ত্বরা।।
জয় জয় নিতাই গৌর হরিবল।
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
             ꧁লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ ꧂
নিবাস- বাঁশবাড়ী, কীর্তন মন্দিরের পাশে, পোঃ- বাঁশবাড়ী, থানা-ইংরেজ বাজার, জেলা-মালদহ, পশ্চিমবঙ্গ-৭৩২১০১
লীলা কীর্তন PDF 📚 ভবিষ্যতে আরো PDF এই লিঙ্কে আপলোড করা হবে।👉 https://drive.google.com/drive/folders/1j7S6jqXPssNeUbC2Fq9lPJbN2vFwfWn3
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏
আমায় দেওয়া ওনার এই অমূল্য লিখনী সেবা, তা সকলের মধ্যে প্রকাশ করলাম।
ওনার এই অমূল্য দান সমগ্র বৈষ্ণব সমাজ অনন্তকাল মনে রাখিবে।
   ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧                      *••••┉━❀꧁ রাধে রাধে ꧂❀━┅••••* 
                     শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য প্রভু নিত্যানন্দ
              হরে কৃষ্ণ হরে রাম শ্রীরাধেগোবিন্দ।।
       *••••┉━❀꧁ জয় শ্রীশ্রীজগন্নাথ ꧂❀━┅••••*
              হরে কৃষ্ণ হরে কৃষ্ণ কৃষ্ণ কৃষ্ণ হরে হরে
              হরে রাম হরে রাম রাম রাম হরে হরে॥
    *••••┉━❀꧁জয় শ্রীশ্রীরাধাকান্ত꧂ ❀━┅••••*
             শ্রীশ্রীকৃষ্ণচৈতন্য মহাপ্রভুর নিবাসস্থলী
শ্রীগুরুদেব(আশ্রিত)-বৈষ্ণব কুলতিলক আচার্য্যপ্রবর মহান্ত মহারাজ শ্রীল ধ্যানচন্দ্র দাস গোস্বামী (শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য মহাপ্রভুর অপ্রকট লীলায় শ্রীগম্ভীরা মন্দিরে ঊনবিংশ পীঠাচার্য্য, শ্রীশ্রীরাধাকান্ত মঠ - শ্রীশ্রীগম্ভীরা, শ্রীধাম পুরী), মধবাচার্য্য(ব্রহ্ম) সম্প্রদায়,বক্রেশ্বর পরিবার(শ্রীতিলক সেবা- শ্রীশ্রীমহাপ্রভুর শ্রীচরণ), তুঙ্গবিদ্যা সখী,পশ্চিম দ্বার, লবঙ্গ মঞ্জুরী ( সনাতন গোস্বামী)।
*••••┉━❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀━┅••••*
শ্রী মৃন্ময় নন্দী কর্ত্তৃক সকল ভক্ত চরণে অসংখ্যকোটি প্রণাম।
নিবাস-গিরিরাজ ভবন, উত্তর নারায়নপুর, ভালীয়া, আরামবাগ, পশ্চিমবঙ্গ।
••••┉━❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀━┅••••
      📚 *PDF গ্রন্থ* 📚
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧


গৌর আমার নিতাই আমার ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 🔀 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2022/05/blog-post_42.html

✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
            ꧁ গৌর আমার নিতাই আমার ꧂
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
  ꧁ টিকা বা অন্যান্য ধর্মীয় লিখনী 🙏 সূচীপত্র 
       এই লিংকে 👇👇👇🙏👇👇👇 ক্লিক করুন 
          ꧁ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ ꧂
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
গৌর আমার!নিতাই আমার!
গৌর আমার!নিতাই আমার!
                    যেও নাকো ভুলে।
ঠেললে্ পায়ে কেবা আমায়
                  নেবে কোলে তুলে।।
ছিলাম সুখী যখন আমার 
                    মধুর বাল‍্যকালে।
দেখতাম দু'ভাই সারা বিশ্বে
                   নাচছ "কৃষ্ণ" বোলে।।
সামনে কোন বিপদ জেনে,
নিতে আমায় বুকে টেনে,
মুছিয়ে দিয়ে মলিন মুখ,
              করতে ব‍্যথা দূর।
তেমনি করে এসো দুভাই
               বাজিয়ে মধুর সুর।।
সংসার কারা বড়ই ভীষণ 
                 তীব্র জ্বালাময়।
শান্তি নাহি শ্রান্তি ভরা
              শয়তানেরি জয়।।
ডাকবো কৃষ্ণে মনে করি,
মায়া মোহ আসে ঘেরি,
হয়না ডাকা দীনসখা,
        হই যে দিশাহারা।
রক্ষা কর হে বিশ্বম্ভর!
         নাশি মায়া ত্বরা।।
জয় জয় নিতাই গৌর হরিবল।
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
             ꧁লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ ꧂
নিবাস- বাঁশবাড়ী, কীর্তন মন্দিরের পাশে, পোঃ- বাঁশবাড়ী, থানা-ইংরেজ বাজার, জেলা-মালদহ, পশ্চিমবঙ্গ-৭৩২১০১
লীলা কীর্তন PDF 📚 ভবিষ্যতে আরো PDF এই লিঙ্কে আপলোড করা হবে।👉 https://drive.google.com/drive/folders/1j7S6jqXPssNeUbC2Fq9lPJbN2vFwfWn3
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏
আমায় দেওয়া ওনার এই অমূল্য লিখনী সেবা, তা সকলের মধ্যে প্রকাশ করলাম।
ওনার এই অমূল্য দান সমগ্র বৈষ্ণব সমাজ অনন্তকাল মনে রাখিবে।
   ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧                      *••••┉━❀꧁ রাধে রাধে ꧂❀━┅••••* 
                     শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য প্রভু নিত্যানন্দ
              হরে কৃষ্ণ হরে রাম শ্রীরাধেগোবিন্দ।।
       *••••┉━❀꧁ জয় শ্রীশ্রীজগন্নাথ ꧂❀━┅••••*
              হরে কৃষ্ণ হরে কৃষ্ণ কৃষ্ণ কৃষ্ণ হরে হরে
              হরে রাম হরে রাম রাম রাম হরে হরে॥
    *••••┉━❀꧁জয় শ্রীশ্রীরাধাকান্ত꧂ ❀━┅••••*
             শ্রীশ্রীকৃষ্ণচৈতন্য মহাপ্রভুর নিবাসস্থলী
শ্রীগুরুদেব(আশ্রিত)-বৈষ্ণব কুলতিলক আচার্য্যপ্রবর মহান্ত মহারাজ শ্রীল ধ্যানচন্দ্র দাস গোস্বামী (শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য মহাপ্রভুর অপ্রকট লীলায় শ্রীগম্ভীরা মন্দিরে ঊনবিংশ পীঠাচার্য্য, শ্রীশ্রীরাধাকান্ত মঠ - শ্রীশ্রীগম্ভীরা, শ্রীধাম পুরী), মধবাচার্য্য(ব্রহ্ম) সম্প্রদায়,বক্রেশ্বর পরিবার(শ্রীতিলক সেবা- শ্রীশ্রীমহাপ্রভুর শ্রীচরণ), তুঙ্গবিদ্যা সখী,পশ্চিম দ্বার, লবঙ্গ মঞ্জুরী ( সনাতন গোস্বামী)।
*••••┉━❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀━┅••••*
শ্রী মৃন্ময় নন্দী কর্ত্তৃক সকল ভক্ত চরণে অসংখ্যকোটি প্রণাম।
নিবাস-গিরিরাজ ভবন, উত্তর নারায়নপুর, ভালীয়া, আরামবাগ, পশ্চিমবঙ্গ।
••••┉━❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀━┅••••
      📚 *PDF গ্রন্থ* 📚
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧


৭. ভগবান শ্রীকৃষ্ণের ফলক্রয় লীলা 🙏 KRISHNA LEELA ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📝 JOYDEB DAWN 🌷 এই লিংকে ক্লিক করুন 🔀 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2022/05/blog-post_29.html

  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
        ꧁ ৭. ভগবান শ্রীকৃষ্ণের ফলক্রয় লীলা ꧂
          ꧁ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ ꧂
       এই লিংকে 👇👇👇🙏👇👇👇 ক্লিক করুন 
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
    🏠Home Page🏠⬇️⬇️🙏⬇️⬇️📚PDF গ্রন্থ📚
꧁ MrinmoyNandy.blogspot.com 👉 সূচীপত্র ꧂
       এই লিংকে ⬇️⬇️⬇️🙏⬇️⬇️⬇️ ক্লিক করুন 
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
 ꧁ টিকা বা অন্যান্য ধর্মীয় লিখনী 🙏 সূচীপত্র ꧂
         ꧁ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ ꧂
     এই লিংকে ⬇️⬇️⬇️🙏⬇️⬇️⬇️ ক্লিক করুন 
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
           ꧁ 👇শ্রীকৃষ্ণ লীলা 🙏 সূচীপত্র👇 ꧂
 ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧ 
*🌻ফলক্রয় লীলা গৌরচন্দ্রিকা🌻* 
 *শচীর অঙ্গনে গোরা আনন্দে বিহরে।*

*হেনকালে পথে ডাকে ফল নেবে কেরে।।*
*নদীয়ার বালকসব ফল কিনি খায়।*
*তাহা দেখি গোরা মোর ফল নিতে যায়*।।
*গোরা মুখ দেখি ফলউলি ফল দিল হাতে।*
*আনন্দে নিমাই ফল লাগিলা খাইতে।।*
*বৈষ্ণবদাস কহে দিতে প্রেম ফল।*
*ফলউলি দুঃখ কষ্ট গেল চিরকার।।*######################


*🌻দ্বিতীয় গৌরচন্দ্রিকা🌻*
*জগন্নাথ মিশ্রের সুকৃতি বীজ হৈতে।*
*জনমিল গৌর কল্পতরু নদীয়াতে।।*
*যতনে নিতাই মালী সে তরু সেবিল।*
*ধরিল তাহাতে অদভূত প্রেমফল।।* *দীন দুঃখী জনে দেয় দুহাতে বিলাঞা।*
*আনন্দে নিতাইমালী সে ফল পাড়িয়া।।*
*সে ফলের রস যেন সুধাকর-সুধা।*
*যেজন চুষিয়া খায় যায় তার ক্ষুধা।।*
*ধন নেও নেও বলি সে ফল বিলায়।*
*কেবল বঞ্চিত তাহে এ শেখর রায়।।*
   *🌻🌻জয় নিতাই🌻🌻*



 *ফলক্রয় লীলার পূর্ব বৃত্তান্ত*
*শ্রীবৃন্দাবনে যে ফল বিক্রয়িনী রমণী এসেছিলেন তিনি কে?*
*তিনি পূর্ব জন্মে কে ছিলেন?*
*কেন ফল বিক্রয়িনী হলেন?*

*কি সাধন করেছিলেন যে  স্বয়ং গোপাল তাঁর কাছে ফল নিলেন?*
*পরবর্তীকালে কেন ব‍্যাধ হয়ে জন্মেছিলেন?*
*উত্তর=* শ্রীবৃন্দাবনে যে ফল বিক্রয়িনী রমণী এসেছিলেন তাঁর নাম কিরাতিনী অর্থ‍্যাৎ ব‍্যাধ পত্নী। এই কিরাতিনী পূর্ব জন্মে চন্দ্রবংশের পাটরানী ছিলেন। নারদমুনির অভিশাপে পাটরাণী চন্ডাল ঘরে জন্ম নিয়েছিলেন।শবর ও শবরী নামে।পাটরাণী চন্ডাল ঘরে জন্ম নিয়ে শবর নামক চন্ডালের সাথে বিয়ে হয়।শবর যে জায়গায় বাস করতেন,সে জায়গার নাম ছিল শৃঙ্গবপুর। তাদের একটি পুত্র জন্ম নিয়েছিল তার নাম গুহক।এই ঘটনাটি ত্রেতাযুগের।পিতৃসত‍্য পালনের জন্য রামচন্দ্র চোদ্দ বৎসর বনবাসে গেলেন।সেইসময় গুহকের সঙ্গে রামচন্দ্রের মিত্রতা হল।একদিন গুহক চন্ডাল তার মাকে রামচন্দ্রের কাছে নিয়ে এলেন।রামচন্দ্রকে দেখে মা বললেন, এই নবীন বয়সে বনে না থেকে আমার ঘরে থেকে পিতৃসত‍্য পালন কর।আমি তোমায় পুত্রসম পালন করব।দেখ আমি জাতিতে নিষাদ,অন্ন খাওয়াইতে পারব না,আমি তোমায় ফল সেবা দিব।তখন রামচন্দ্র বললেন, পিতৃসত‍্য পালনের জন্য আমি কোন গ্রাম,ও নগরের গৃহে থাকতে পারব না,আমি বনে থেকেই পিতৃসত‍্য রক্ষা করব।দেখ মা, তুমি যখন ফল সেবার কথা বললে, আমি তোমার কথা রাখব,তবে এ যুগে নহে, আগামী দ্বাপরযুগে আমি গোকুলে যাব,তখন তোমার হস্তে ফল গ্রহণ করব।আগামীতে তুমি "জামদায়"গিয়ে দোঁহে বসবাস করবে এবং পরজন্মে তুমি কিরাতিনী হয়ে জন্ম নেবে,আর শবর কিরাত হয়ে জন্ম নেবে। *নারদমুনি কি অভিশাপ করেছিলেন?* চন্দ্রবংশ নামে এক কুল ছিল,সেই কুলের রাজা ছিলেন চন্দ্রকান্ত, হেমকান্তা নামে তাঁর প্রধান মহিষী(রাণী) ছিলেন।একদিন রাজা নর্মদার তীরে গিয়ে রজত,কাঞ্চন,মণি,মানিক,প্রবাল,অশ্ব রথ,হাতী,গোবৎস ও অন্নদান এবং ভূমিদান করতে লাগলেন।হঠাৎ সেই সময় নারদমুনি এসে উপস্থিত হলেন, নারদমুনিকে দেখে রাজা চন্দ্রকান্ত দাসীপুত্র বলিয়া অনাদর করিলে,মুনি অত‍্যন্ত ক্রোধান্বিত হয়ে রাজা চন্দ্রকান্তকে বললেন,দাসীপুত্র বলিয়া আমায় এত অবজ্ঞা,রাজন তোমার আচরণ দেখে মনে হচ্ছে চন্ডাল সম, একজন প্রজা বৎসল রাজার এরকম আচরণ হতে পারে না।
*চন্ডাল হৃদয় ভাব করিলে যেমন*
*চন্ডাল কুলেতে জন্ম লওগে রাজন*
*নিষাদ কুলেতে জন্ম মহিষী সহিত*
*ধনে মত্ত হৈলে,হবে দরিদ্র দুঃখিত*
*** মুনির অভিশাপ শুনে রাণী অত্যন্ত ভয় পেয়ে অঝোর নয়নে কাঁদতে লাগলেন। সঙ্গে  সঙ্গে রাণী নারদমুনির চরণ ধরে বলতে লাগলেন,আমি কি অপরাধ করলাম যে,আমায় নীচকুলে জন্ম নিতে হবে?
তখন নারদমুনি বললেন, তোমার স্বামীর নীচ আচরণের জন‍্যই তোমায় শাস্তি ভোগ করতে হবে।তবে =====
*শুন শুন হেমকান্তা আমার বচন*
*কহিনু যে বাক‍্য নাহবে কভু লঙ্ঘন*
*অবশ‍্য নিষাদকুলে হইবে উৎপত্তি*
*শৃঙ্গবের পুরে গিয়া করিবে বসতি*
** ত্রেতাযুগে রামচন্দ্রের বনবাস হবে,
তারপর রামচন্দ্রের সঙ্গে তোমার সাক্ষাৎ হবে,তাঁকে ফলভক্ষণের কথা বলবে,কিন্তু তিনি তাহা গ্রহণ করবেন না, পরজন্মে অর্থ‍্যাৎ দ্বাপরযুগে শ্রীকৃষ্ণ হয়ে অবতীর্ণ হবেন এবং তোমার মানস পূর্ণ করবেন।
*কিরাত কুলেতে পরে হৈবে উৎপত্তি*
*জামদানগরে গিয়া করিবে বসতি*
*সদাই থাকিবে তোমার দারিদ্র লক্ষণ*
*পরে জামদায় পুনঃ হইবে রাজন*
** শ্রীকৃষ্ণ ধান‍্য দিয়া তোমার নিকট হতে ফল নেবেন,সেই ধান‍্য হতে তোমার সমস্ত দারিদ্রতা দূর হবে। শ্রীকৃষ্ণের কৃপায় তুমি এবং তোমার স্বামীর বৈকুন্ঠ প্রাপ্তি হবে।আর তোমরা মহাসুখে দিন যাপন করবে।
(বানান,ভুল ভ্রান্তি মার্জনীয় জয়নিতাই)


 *গৌরচন্দ্রিকার সংক্ষেপে ব‍্যাখ‍্যা লিখি*
*মহাপ্রভুর বাল‍্যলীলা,* *আর ব্রজে শ্রীকৃষ্ণের লীলার মধ্যে কোন তফাৎ নেই,* *বাল‍্যকালে আকৃতি অন‍্য শিশুর মতো হলেও ভাব ভঙ্গী সাধারণ শিশুর মতো ছিল না।* *তিনি কখন কোন লীলা করবেন তাহা সাধারণ মানুষের পক্ষে জানা অসাধ‍্য।* *তাঁর মধ্যে বেশ অপ্রাকৃত গুণ দেখা যেত,তাঁকে কোলে নিলে শরীর আনন্দে পুলকিত হত,* *কি পুরুষ কি নারী নিমাইকে কোলে নিলে* *আর কোল হতে নামাতে চাইতেন না।* *সুতরাং মা শচী গৃহকর্মে রতা থাকলে সব সময় পুত্রকে কোলে নিতে পারতেন না।* *পাড়া-পড়সীর নর-নারী এসে আদর করতেন।* *এ* *ছাড়াও নিমায়ের জন্মের পর হতে* *শচী,জগন্নাথ ও অন‍্যান‍্য নিজজনে অনেকরকম অলৌকিক ঘটনা দেখতে পেয়েছিলেন।* *নিমাই যখন নিদ্রা যেত তাঁর হৃদয় হতে চন্দ্রের ন‍্যায় শীতল আলো নির্গত হত,* *কখনও সর্বাঙ্গ হতে বিদ‍্যুতের মত ঝলক দিত,* *সেই সময় শচীমা বুঝেছিলেন অন‍্যান‍্য বালকের মত আমার পুত্র নয়,* *খানিকটা হলেও আলাদা।* *জগন্নাথ মিশ্রের বাড়ীর নিকটে* *জগদীশ পন্ডিত ও হিরণ‍্য ভাগবত দুই* *ব্রাহ্মণের বাড়ী ছিল।* *কোন এক একাদশীর দিনে নিমাইচাঁদ কাঁদতে লাগলেন।* 


*নিমাই কাঁদতে শুরু করলে তাঁর কান্না শুনে সকলেই ভয় পেতেন।* *কি দিয়ে কান্না থামবে তা নিদিষ্ট করা যেত না।* *কান্নার সময় তাঁর* *নয়ন হতে এতই জল বেড়োতো যে*
*সবাই ভয় পেত,* *কখনও বা তিনি কাঁদতে কাঁতে মূর্ছিত হয়ে পড়তেন।* *কাজেই নিমাই কান্না শুরু করলেই কেউ তার পাশ ছাড়া হতেন না।* *যখন কোন মতেই কান্না থামত না তখন তাঁর কর্ণে হরিনাম করলে আপনমনে কান্না থেমে যেত।* *আজকের কান্না কিন্তু একটু অন‍্যরকম, হরিনাম দিয়েও কান্না থামানো গেল না।* *তখন শচীমা কাতরভাবে বললেন,* *বাপ নিমাই তুই কাঁদিস কেন?* *কি হয়েছে বল?* *তুই যা চাইবি আমি তাই দিব।* *তখন নিমাই কান্নাসুরে বললেন,যে হিরণ‍্য ভাগবত ও জগদীশ পন্ডিতের বাড়ী থেকে যে একাদশীর ফল আছে তা যদি এনে দাও আমি আর কাঁদব না।* *এইকথা শুনে আর সকল যারা ছিলেন সকলেই জিভ ললেন যে,* *ঠাকুরের দ্রব্র অমন করে চাইতে নাই,তুই ফল খাবি বাজার থেকে কিনে এনে দিব।* *বাপ তুই চুপ কর, তোর কান্না শুনে আমার বুক ফেটে যাচ্ছে।* *নিমাই বললেন না, বাজারের ফল না, ঐ বাড়ী থেকেই ফল এনে দিতে হবে।* *ঐ* *দুই ব্রাহ্মণের বাড়ীর ফলই আমি চাই*। * *শচীমার গৃহে চিৎকার* *কোলাহল শুনে ভাগবত ও পন্ডিত* *মহাশয় এলেন, কি ব‍্যাপার এত কোলাহল কেন?* *শচী গৃহে এসে দেখলেন নিমাই কাঁদছে,* *তখন নিমাইকে দেখে তাঁদের মনে হল, না,এ কোন সাধারণ শিশু বলে মনে হচ্ছে না,* *স্বয়ং গোপাল এ দেহে বিরাজ করছেন।* *আর তিনি নৈবেদ‍্য চাইছেন,এইরকম মনে দৃঢ় বিশ্বাস হওয়ায় তাঁদের অঙ্গ পুলকিত হল,* *তারপর তাঁরা ঘরে গিয়ে দেখলেন* *স্বয়ং গোপাল নিমায়ের রূপ ধরে সিংহাসনে বসে আছেন,* *তখন তাঁরা দুইজনে একাদশীর সমস্ত ফল* *এনে নিমায়ের সামনে দিয়ে বললেন* *এই সমস্ত ফল সেবা নাও।* *তুমি আমার গোপাল, তুমি সেবা নিলেই আমার গোপালের সেবা হবে।* * *তখন নিমাই কতক ফল খাইলেন ও কিছু ফল অন‍্যান‍্যদের মধ্যে বিতরণ করলেন।* *সামান‍্য ফল ছিল সেই ফলগুলো অঙ্গে লাগালেন।* *এ সব দৃশ‍্য দেখে শচীমা ভাবছেন,আমার পুত্র কি প্রকৃতই ক্ষেপা?* *তখন তাঁর ভগিনীকে ডেকে পাঠাল,ভগিনী আসলে তাঁকে বললেন,* *এমন সুন্দর ছেলে, এ কেন ক্ষেপা হল বলতে পারিস?* *সেজন‍্য চীন্তিত হয়ে তকে ডেকে পাঠালাম।* *অন্তর্য‍্যামী মহাপ্রভু তাঁদের কথা শুনে* 
*মৃদু মৃদু হাসতে লাগলেন আর হাতে কয়েকটি ফল ছিল বাইরে গিয়ে খেতে লাগলেন।*
*🌻🌻জয় নিতাই 🌻🌻*


*🌻🌻ব্রজলীলা প্রথম পদ🌻🌻*
*একদিন মথুরা হতে,ফল লৈয়া আচম্বিতে*
         *আইলা সে ফল বেচিবারে।*
*ফল লেহ লেহ লেহ,ডাকে পুনঃ পুনঃ সেহ*
        *নামাইলা নন্দের দুয়ারে।।*
*ব্রজশিশু শুনি তাই,ফল লইবারে যাই*
        *বেতন লইয়া পরতেকে।*
*কিনি কিনি ফল খাই,আনন্দিত হিয়ায়*
        *পসারি বেড়িয়া একে একে*
*শুনি কৃষ্ণ কুতূহলি,ধান‍্য লইয়া একাঞ্জলী*
         *করে হৈতে পড়িতে পড়িতে।*
*পশারি নিকটে আসি,ফল দেও বল হাসি*
      *ধান‍্য দিল ফলওলির হাতে।।*
*ধান‍্য লৈয়া ফলাহারি,পুনঃপুনঃ মুখ হেরি*
         *নিমিষ তেজিল পসারানী।*
*এ দাস উদ্ধবে কয়,কহিলে কহিল নয়*
       *ভূবন মোহন রূপখানি।।*


🌻🌻প্রথম পদের ব‍্যাখ‍্যা🌻🌻*
*একদিন একজন ফল বিক্রয়িনী নানাবিধ ফলের পসরা মাথায় করে গোপ রাজ নন্দের বাড়ির পাশ দিয়ে চলে যাচ্ছে এবং মাঝে মাঝে ফল নেবে গো ফল বলে চিৎকার করছে* *রব শুনে যশোদানন্দন* *অঙ্গন মাঝে দাঁড়িয়ে আছেন।* *অঙ্গন মাঝে কেন?* *গোপাল বাইরে গেলে ভীষণ দুষ্টুমি করে বলিয়া* *যশোদা মা গোপালকে ঘরের বাইরে যেতে দেন না, তাঁদের* *বিশাল বড় অঙ্গন আছে সেই অঙ্গনে**সমবয়স্ক সঙ্গে খেলাধূলো করে।**সেই সময়টি ছিল হেমন্তকাল, রাশি রাশি হৈমন্তিক ধান জমি হতে এনে অঙ্গনে স্তূপাকারে রেখেছেন।*
*গোপাল সকালবেলাসেই ধান‍্য স্তূপের কাছে বসে একাকী ধান নিয়ে খেলা করেন।* *আর মা যশো* *মতী পুত্রের বাল‍্যলীলা আস্বাদন* *করেন।* *কিছু সময় পরে গোপালের সখাগণ ধীরে ধীরে গোপালের কাছে আসে আর অঙ্গনে নানাবিধ খেলা খেলে।* *যখন সখাগণ এলো মা যশোমতী বললেন তোরা অঙ্গনে খেলা কর বাইরে যাবি না।* *এই বলে যশোমতী* *অন্দরে গেলেন।*  *হঠাৎ বাইরে শোনা গেল,"ফল নেবে গো ফল"* *গোপাল ভাবলেন ফল কি আবার?* *দেখি তো কে ফল নিয়ে যাচ্ছে,* *ফল কি রকম দেখব।* *এই বলে খিড়কি দরজার* *দিকে অগ্রসর হলেন,কিন্তু হায়!চরণের নুপূর রুণুরুণু রবে বেজে উঠল।* *এই শব্দ গৃহের দাসীগণ শুনলে মাকে বলে দিবে যে গোপাল বাইরে যাচ্ছে!* *তখন আমায় বাইরে যেতে দিবে না।* *চতুরের শিরোমণি গোপাল এবারে খুব ধীরে ধীরে পা বাইর করতে লাগলেন যেন নুপূর বেজে না উঠে।* *নুপূর দ্বয়কে চরণের উপরিভাগে তুলে দিলেন।* *এইভাবে পেছনদ্বার হতে বাইরে বেড়োলেন।* 
      

অবশিষ্ট অংশ ------
*🌻প্রথম পদের অবশিষ্ট অংশ🌻* *সেই সময় ফলবিক্রয়িনী পুন হাঁক দিলেন,"ফল নেবে গো ফল",* *গোপাল তার দিকে তাকিয়ে হাত তুলে বললেন,ওগো এসো এসো আমি ফল নিব।* *(যিনি সর্বফলদাতা তিনি বাল‍্যভাবাবেশে নিজের ফলদানের কথা ভুলে আজ ফল গ্রহণের জন্য লালায়িত হয়ে ডাকলেন এসো এসো আমি ফল নিব।*) *গোপালের মধুর কন্ঠস্বর শুনে ফলবিক্রয়িনীর কর্ণে যেন সুধাবর্ষণ হল,সে পরমানন্দে* *চমকিত হয়ে সেই মধুর শব্দ যে দিক দিয়ে আসিল সেইদিকে ফিরে দাঁড়াল* *এবং আর বলল কে গো ফল নেবার জন্য আমায় ডাকছ?*  *আমি গুরুভার ফলের পসরা মাথায় করে পথে পথে ঘুরতে ঘুরতে ক্লান্ত হয়ে পড়েছি।* *তখন গোপাল তাঁর ছোট্ট ছোট্ট হাতদুটি তুলে বললেন,* *ওগো!এদিকে এসো,আমি তোমার সব ফল নেব।* 
*ফলবিক্রয়িনী দেখল,দিব‍্যাতিদিব‍্য ইন্দ্রনীলমণি-বিনিন্দিত অঙ্গের চ্ছটায়*
*দশদিক আলোকিত করে একটি ছোট্ট শিশু পথে দাঁড়িয়ে আছে।*
*তাঁর মাথায় ঘনকৃষ্ণকুঞ্চিত চূর্ণকুন্তল*
*রাশি কোটি কোটি অকলঙ্ক পূর্ণচন্দ্র*
*বিনিন্দিত বদনকমলে ঝাঁপিয়ে পড়বে বলে কে যেন সংযত ও উচ্চ করে বেঁধে দিয়াছে।* *তথাপি দুই একগুচ্ছ স্খলিত হয়ে মুখে পড়ছে।* *সে বালকের অঙ্গশোভা দেখলে মনে হবে ত্রিজগতের কোন বস্তুর সহিতই তুলনা করতে ইচ্ছে হয় না।*


  *🌻দ্বিতীয় পদ🌻*
*ও মোর সোনার চাঁদ,কি তোর মায়ের নাম,*
       *কার ঘরে হৈলা উৎপত্তি*।
*বহুকাল তপ করি,কে পূজিল হর গৌরী,*
        *কোন পূর্ণ কৈল সেই সতী।।*
*তোমারে করিয়া কোলে,কত শত চুম্বন দিলে,*
       *নয়ানের জলে গেল ভাসি।*
*পাইয়া মনের সুখে,স্তন দিল চাঁদমুখে*
        *মুঞি যাই হব তাঁর দাসী।।*
*এত কহি ফলাহারি,ফল দেন কর ভরি*
       *প্রেমভরে গদ গদ চিত।*
*কৃষ্ণচন্দ্র ফল হাতে,খাইতে খাইতে পথে*
      *আসি নিজ গৃহে উপনীত।।*
*ফল দেখি যশোমতী,আনন্দ না জানি কতি*
        *খাওয়াইয়া প্রেমসুখে ভাসে।*
*ধন‍্য সেই ফলাহারি,ফল পাইল নন্দহরি,*
       *কহে কিছু ঘনরাম দাসে।।*
#######################

*ডালা  হইল  রতনে  পূরিত।*
*ফলাহারি  সবিস্ময়   চিত*
*আপনা   আপনি  করে  খেদ*
*মনে   মনে   ভাবে  নিরবেদ।।*
( *নিরবেদ=নির্বেদ== অনুতাপ*)
*বহু ব‍্যাখ‍্যা আছে সামান্য লিখিলাম*
*🌻ভুল ভ্রান্তি মার্জনীয়🌻*
 ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
👇👇👇এই লিখনী 📚 PDF 📚 ক্লিক করুন 👇👇👇
 ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧               
 ✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️
নিবাস- বাঁশবাড়ী, কীর্তন মন্দিরের পাশে, পোঃ- বাঁশবাড়ী, থানা- ইংরেজ বাজার, জেলা- মালদহ, পশ্চিমবঙ্গ, পিন কোড- ৭৩২১০১।
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
    *••••┉━❀꧁ 🙏 রাধে রাধে 🙏 ꧂❀━┅••••* 
                   শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য প্রভু নিত্যানন্দ
              হরে কৃষ্ণ হরে রাম শ্রীরাধেগোবিন্দ।।
  *••••┉━❀꧁ 🙏 জয় জগন্নাথ 🙏 ꧂❀━┅••••*
              হরে কৃষ্ণ হরে কৃষ্ণ কৃষ্ণ কৃষ্ণ হরে হরে
              হরে রাম হরে রাম রাম রাম হরে হরে॥
  *••••┉━❀꧁ 🙏 জয় রাধাকান্ত 🙏 ꧂ ❀━┅••••*
   💮❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀💮
   💮❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀💮
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧






৭. ভগবান শ্রীকৃষ্ণের ফলক্রয় লীলা 🙏 KRISHNA LEELA ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📝 JOYDEB DAWN 🌷 এই লিংকে ক্লিক করুন 🔀 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2022/05/blog-post_29.html

  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
        ꧁ ৭. ভগবান শ্রীকৃষ্ণের ফলক্রয় লীলা ꧂
          ꧁ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ ꧂
       এই লিংকে 👇👇👇🙏👇👇👇 ক্লিক করুন 
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
    🏠Home Page🏠⬇️⬇️🙏⬇️⬇️📚PDF গ্রন্থ📚
꧁ MrinmoyNandy.blogspot.com 👉 সূচীপত্র ꧂
       এই লিংকে ⬇️⬇️⬇️🙏⬇️⬇️⬇️ ক্লিক করুন 
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
 ꧁ টিকা বা অন্যান্য ধর্মীয় লিখনী 🙏 সূচীপত্র ꧂
         ꧁ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ ꧂
     এই লিংকে ⬇️⬇️⬇️🙏⬇️⬇️⬇️ ক্লিক করুন 
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
           ꧁ 👇শ্রীকৃষ্ণ লীলা 🙏 সূচীপত্র👇 ꧂
 ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧ 
*🌻ফলক্রয় লীলা গৌরচন্দ্রিকা🌻* 
 *শচীর অঙ্গনে গোরা আনন্দে বিহরে।*

*হেনকালে পথে ডাকে ফল নেবে কেরে।।*
*নদীয়ার বালকসব ফল কিনি খায়।*
*তাহা দেখি গোরা মোর ফল নিতে যায়*।।
*গোরা মুখ দেখি ফলউলি ফল দিল হাতে।*
*আনন্দে নিমাই ফল লাগিলা খাইতে।।*
*বৈষ্ণবদাস কহে দিতে প্রেম ফল।*
*ফলউলি দুঃখ কষ্ট গেল চিরকার।।*######################


*🌻দ্বিতীয় গৌরচন্দ্রিকা🌻*
*জগন্নাথ মিশ্রের সুকৃতি বীজ হৈতে।*
*জনমিল গৌর কল্পতরু নদীয়াতে।।*
*যতনে নিতাই মালী সে তরু সেবিল।*
*ধরিল তাহাতে অদভূত প্রেমফল।।* *দীন দুঃখী জনে দেয় দুহাতে বিলাঞা।*
*আনন্দে নিতাইমালী সে ফল পাড়িয়া।।*
*সে ফলের রস যেন সুধাকর-সুধা।*
*যেজন চুষিয়া খায় যায় তার ক্ষুধা।।*
*ধন নেও নেও বলি সে ফল বিলায়।*
*কেবল বঞ্চিত তাহে এ শেখর রায়।।*
   *🌻🌻জয় নিতাই🌻🌻*



 *ফলক্রয় লীলার পূর্ব বৃত্তান্ত*
*শ্রীবৃন্দাবনে যে ফল বিক্রয়িনী রমণী এসেছিলেন তিনি কে?*
*তিনি পূর্ব জন্মে কে ছিলেন?*
*কেন ফল বিক্রয়িনী হলেন?*

*কি সাধন করেছিলেন যে  স্বয়ং গোপাল তাঁর কাছে ফল নিলেন?*
*পরবর্তীকালে কেন ব‍্যাধ হয়ে জন্মেছিলেন?*
*উত্তর=* শ্রীবৃন্দাবনে যে ফল বিক্রয়িনী রমণী এসেছিলেন তাঁর নাম কিরাতিনী অর্থ‍্যাৎ ব‍্যাধ পত্নী। এই কিরাতিনী পূর্ব জন্মে চন্দ্রবংশের পাটরানী ছিলেন। নারদমুনির অভিশাপে পাটরাণী চন্ডাল ঘরে জন্ম নিয়েছিলেন।শবর ও শবরী নামে।পাটরাণী চন্ডাল ঘরে জন্ম নিয়ে শবর নামক চন্ডালের সাথে বিয়ে হয়।শবর যে জায়গায় বাস করতেন,সে জায়গার নাম ছিল শৃঙ্গবপুর। তাদের একটি পুত্র জন্ম নিয়েছিল তার নাম গুহক।এই ঘটনাটি ত্রেতাযুগের।পিতৃসত‍্য পালনের জন্য রামচন্দ্র চোদ্দ বৎসর বনবাসে গেলেন।সেইসময় গুহকের সঙ্গে রামচন্দ্রের মিত্রতা হল।একদিন গুহক চন্ডাল তার মাকে রামচন্দ্রের কাছে নিয়ে এলেন।রামচন্দ্রকে দেখে মা বললেন, এই নবীন বয়সে বনে না থেকে আমার ঘরে থেকে পিতৃসত‍্য পালন কর।আমি তোমায় পুত্রসম পালন করব।দেখ আমি জাতিতে নিষাদ,অন্ন খাওয়াইতে পারব না,আমি তোমায় ফল সেবা দিব।তখন রামচন্দ্র বললেন, পিতৃসত‍্য পালনের জন্য আমি কোন গ্রাম,ও নগরের গৃহে থাকতে পারব না,আমি বনে থেকেই পিতৃসত‍্য রক্ষা করব।দেখ মা, তুমি যখন ফল সেবার কথা বললে, আমি তোমার কথা রাখব,তবে এ যুগে নহে, আগামী দ্বাপরযুগে আমি গোকুলে যাব,তখন তোমার হস্তে ফল গ্রহণ করব।আগামীতে তুমি "জামদায়"গিয়ে দোঁহে বসবাস করবে এবং পরজন্মে তুমি কিরাতিনী হয়ে জন্ম নেবে,আর শবর কিরাত হয়ে জন্ম নেবে। *নারদমুনি কি অভিশাপ করেছিলেন?* চন্দ্রবংশ নামে এক কুল ছিল,সেই কুলের রাজা ছিলেন চন্দ্রকান্ত, হেমকান্তা নামে তাঁর প্রধান মহিষী(রাণী) ছিলেন।একদিন রাজা নর্মদার তীরে গিয়ে রজত,কাঞ্চন,মণি,মানিক,প্রবাল,অশ্ব রথ,হাতী,গোবৎস ও অন্নদান এবং ভূমিদান করতে লাগলেন।হঠাৎ সেই সময় নারদমুনি এসে উপস্থিত হলেন, নারদমুনিকে দেখে রাজা চন্দ্রকান্ত দাসীপুত্র বলিয়া অনাদর করিলে,মুনি অত‍্যন্ত ক্রোধান্বিত হয়ে রাজা চন্দ্রকান্তকে বললেন,দাসীপুত্র বলিয়া আমায় এত অবজ্ঞা,রাজন তোমার আচরণ দেখে মনে হচ্ছে চন্ডাল সম, একজন প্রজা বৎসল রাজার এরকম আচরণ হতে পারে না।
*চন্ডাল হৃদয় ভাব করিলে যেমন*
*চন্ডাল কুলেতে জন্ম লওগে রাজন*
*নিষাদ কুলেতে জন্ম মহিষী সহিত*
*ধনে মত্ত হৈলে,হবে দরিদ্র দুঃখিত*
*** মুনির অভিশাপ শুনে রাণী অত্যন্ত ভয় পেয়ে অঝোর নয়নে কাঁদতে লাগলেন। সঙ্গে  সঙ্গে রাণী নারদমুনির চরণ ধরে বলতে লাগলেন,আমি কি অপরাধ করলাম যে,আমায় নীচকুলে জন্ম নিতে হবে?
তখন নারদমুনি বললেন, তোমার স্বামীর নীচ আচরণের জন‍্যই তোমায় শাস্তি ভোগ করতে হবে।তবে =====
*শুন শুন হেমকান্তা আমার বচন*
*কহিনু যে বাক‍্য নাহবে কভু লঙ্ঘন*
*অবশ‍্য নিষাদকুলে হইবে উৎপত্তি*
*শৃঙ্গবের পুরে গিয়া করিবে বসতি*
** ত্রেতাযুগে রামচন্দ্রের বনবাস হবে,
তারপর রামচন্দ্রের সঙ্গে তোমার সাক্ষাৎ হবে,তাঁকে ফলভক্ষণের কথা বলবে,কিন্তু তিনি তাহা গ্রহণ করবেন না, পরজন্মে অর্থ‍্যাৎ দ্বাপরযুগে শ্রীকৃষ্ণ হয়ে অবতীর্ণ হবেন এবং তোমার মানস পূর্ণ করবেন।
*কিরাত কুলেতে পরে হৈবে উৎপত্তি*
*জামদানগরে গিয়া করিবে বসতি*
*সদাই থাকিবে তোমার দারিদ্র লক্ষণ*
*পরে জামদায় পুনঃ হইবে রাজন*
** শ্রীকৃষ্ণ ধান‍্য দিয়া তোমার নিকট হতে ফল নেবেন,সেই ধান‍্য হতে তোমার সমস্ত দারিদ্রতা দূর হবে। শ্রীকৃষ্ণের কৃপায় তুমি এবং তোমার স্বামীর বৈকুন্ঠ প্রাপ্তি হবে।আর তোমরা মহাসুখে দিন যাপন করবে।
(বানান,ভুল ভ্রান্তি মার্জনীয় জয়নিতাই)


 *গৌরচন্দ্রিকার সংক্ষেপে ব‍্যাখ‍্যা লিখি*
*মহাপ্রভুর বাল‍্যলীলা,* *আর ব্রজে শ্রীকৃষ্ণের লীলার মধ্যে কোন তফাৎ নেই,* *বাল‍্যকালে আকৃতি অন‍্য শিশুর মতো হলেও ভাব ভঙ্গী সাধারণ শিশুর মতো ছিল না।* *তিনি কখন কোন লীলা করবেন তাহা সাধারণ মানুষের পক্ষে জানা অসাধ‍্য।* *তাঁর মধ্যে বেশ অপ্রাকৃত গুণ দেখা যেত,তাঁকে কোলে নিলে শরীর আনন্দে পুলকিত হত,* *কি পুরুষ কি নারী নিমাইকে কোলে নিলে* *আর কোল হতে নামাতে চাইতেন না।* *সুতরাং মা শচী গৃহকর্মে রতা থাকলে সব সময় পুত্রকে কোলে নিতে পারতেন না।* *পাড়া-পড়সীর নর-নারী এসে আদর করতেন।* *এ* *ছাড়াও নিমায়ের জন্মের পর হতে* *শচী,জগন্নাথ ও অন‍্যান‍্য নিজজনে অনেকরকম অলৌকিক ঘটনা দেখতে পেয়েছিলেন।* *নিমাই যখন নিদ্রা যেত তাঁর হৃদয় হতে চন্দ্রের ন‍্যায় শীতল আলো নির্গত হত,* *কখনও সর্বাঙ্গ হতে বিদ‍্যুতের মত ঝলক দিত,* *সেই সময় শচীমা বুঝেছিলেন অন‍্যান‍্য বালকের মত আমার পুত্র নয়,* *খানিকটা হলেও আলাদা।* *জগন্নাথ মিশ্রের বাড়ীর নিকটে* *জগদীশ পন্ডিত ও হিরণ‍্য ভাগবত দুই* *ব্রাহ্মণের বাড়ী ছিল।* *কোন এক একাদশীর দিনে নিমাইচাঁদ কাঁদতে লাগলেন।* 


*নিমাই কাঁদতে শুরু করলে তাঁর কান্না শুনে সকলেই ভয় পেতেন।* *কি দিয়ে কান্না থামবে তা নিদিষ্ট করা যেত না।* *কান্নার সময় তাঁর* *নয়ন হতে এতই জল বেড়োতো যে*
*সবাই ভয় পেত,* *কখনও বা তিনি কাঁদতে কাঁতে মূর্ছিত হয়ে পড়তেন।* *কাজেই নিমাই কান্না শুরু করলেই কেউ তার পাশ ছাড়া হতেন না।* *যখন কোন মতেই কান্না থামত না তখন তাঁর কর্ণে হরিনাম করলে আপনমনে কান্না থেমে যেত।* *আজকের কান্না কিন্তু একটু অন‍্যরকম, হরিনাম দিয়েও কান্না থামানো গেল না।* *তখন শচীমা কাতরভাবে বললেন,* *বাপ নিমাই তুই কাঁদিস কেন?* *কি হয়েছে বল?* *তুই যা চাইবি আমি তাই দিব।* *তখন নিমাই কান্নাসুরে বললেন,যে হিরণ‍্য ভাগবত ও জগদীশ পন্ডিতের বাড়ী থেকে যে একাদশীর ফল আছে তা যদি এনে দাও আমি আর কাঁদব না।* *এইকথা শুনে আর সকল যারা ছিলেন সকলেই জিভ ললেন যে,* *ঠাকুরের দ্রব্র অমন করে চাইতে নাই,তুই ফল খাবি বাজার থেকে কিনে এনে দিব।* *বাপ তুই চুপ কর, তোর কান্না শুনে আমার বুক ফেটে যাচ্ছে।* *নিমাই বললেন না, বাজারের ফল না, ঐ বাড়ী থেকেই ফল এনে দিতে হবে।* *ঐ* *দুই ব্রাহ্মণের বাড়ীর ফলই আমি চাই*। * *শচীমার গৃহে চিৎকার* *কোলাহল শুনে ভাগবত ও পন্ডিত* *মহাশয় এলেন, কি ব‍্যাপার এত কোলাহল কেন?* *শচী গৃহে এসে দেখলেন নিমাই কাঁদছে,* *তখন নিমাইকে দেখে তাঁদের মনে হল, না,এ কোন সাধারণ শিশু বলে মনে হচ্ছে না,* *স্বয়ং গোপাল এ দেহে বিরাজ করছেন।* *আর তিনি নৈবেদ‍্য চাইছেন,এইরকম মনে দৃঢ় বিশ্বাস হওয়ায় তাঁদের অঙ্গ পুলকিত হল,* *তারপর তাঁরা ঘরে গিয়ে দেখলেন* *স্বয়ং গোপাল নিমায়ের রূপ ধরে সিংহাসনে বসে আছেন,* *তখন তাঁরা দুইজনে একাদশীর সমস্ত ফল* *এনে নিমায়ের সামনে দিয়ে বললেন* *এই সমস্ত ফল সেবা নাও।* *তুমি আমার গোপাল, তুমি সেবা নিলেই আমার গোপালের সেবা হবে।* * *তখন নিমাই কতক ফল খাইলেন ও কিছু ফল অন‍্যান‍্যদের মধ্যে বিতরণ করলেন।* *সামান‍্য ফল ছিল সেই ফলগুলো অঙ্গে লাগালেন।* *এ সব দৃশ‍্য দেখে শচীমা ভাবছেন,আমার পুত্র কি প্রকৃতই ক্ষেপা?* *তখন তাঁর ভগিনীকে ডেকে পাঠাল,ভগিনী আসলে তাঁকে বললেন,* *এমন সুন্দর ছেলে, এ কেন ক্ষেপা হল বলতে পারিস?* *সেজন‍্য চীন্তিত হয়ে তকে ডেকে পাঠালাম।* *অন্তর্য‍্যামী মহাপ্রভু তাঁদের কথা শুনে* 
*মৃদু মৃদু হাসতে লাগলেন আর হাতে কয়েকটি ফল ছিল বাইরে গিয়ে খেতে লাগলেন।*
*🌻🌻জয় নিতাই 🌻🌻*


*🌻🌻ব্রজলীলা প্রথম পদ🌻🌻*
*একদিন মথুরা হতে,ফল লৈয়া আচম্বিতে*
         *আইলা সে ফল বেচিবারে।*
*ফল লেহ লেহ লেহ,ডাকে পুনঃ পুনঃ সেহ*
        *নামাইলা নন্দের দুয়ারে।।*
*ব্রজশিশু শুনি তাই,ফল লইবারে যাই*
        *বেতন লইয়া পরতেকে।*
*কিনি কিনি ফল খাই,আনন্দিত হিয়ায়*
        *পসারি বেড়িয়া একে একে*
*শুনি কৃষ্ণ কুতূহলি,ধান‍্য লইয়া একাঞ্জলী*
         *করে হৈতে পড়িতে পড়িতে।*
*পশারি নিকটে আসি,ফল দেও বল হাসি*
      *ধান‍্য দিল ফলওলির হাতে।।*
*ধান‍্য লৈয়া ফলাহারি,পুনঃপুনঃ মুখ হেরি*
         *নিমিষ তেজিল পসারানী।*
*এ দাস উদ্ধবে কয়,কহিলে কহিল নয়*
       *ভূবন মোহন রূপখানি।।*


🌻🌻প্রথম পদের ব‍্যাখ‍্যা🌻🌻*
*একদিন একজন ফল বিক্রয়িনী নানাবিধ ফলের পসরা মাথায় করে গোপ রাজ নন্দের বাড়ির পাশ দিয়ে চলে যাচ্ছে এবং মাঝে মাঝে ফল নেবে গো ফল বলে চিৎকার করছে* *রব শুনে যশোদানন্দন* *অঙ্গন মাঝে দাঁড়িয়ে আছেন।* *অঙ্গন মাঝে কেন?* *গোপাল বাইরে গেলে ভীষণ দুষ্টুমি করে বলিয়া* *যশোদা মা গোপালকে ঘরের বাইরে যেতে দেন না, তাঁদের* *বিশাল বড় অঙ্গন আছে সেই অঙ্গনে**সমবয়স্ক সঙ্গে খেলাধূলো করে।**সেই সময়টি ছিল হেমন্তকাল, রাশি রাশি হৈমন্তিক ধান জমি হতে এনে অঙ্গনে স্তূপাকারে রেখেছেন।*
*গোপাল সকালবেলাসেই ধান‍্য স্তূপের কাছে বসে একাকী ধান নিয়ে খেলা করেন।* *আর মা যশো* *মতী পুত্রের বাল‍্যলীলা আস্বাদন* *করেন।* *কিছু সময় পরে গোপালের সখাগণ ধীরে ধীরে গোপালের কাছে আসে আর অঙ্গনে নানাবিধ খেলা খেলে।* *যখন সখাগণ এলো মা যশোমতী বললেন তোরা অঙ্গনে খেলা কর বাইরে যাবি না।* *এই বলে যশোমতী* *অন্দরে গেলেন।*  *হঠাৎ বাইরে শোনা গেল,"ফল নেবে গো ফল"* *গোপাল ভাবলেন ফল কি আবার?* *দেখি তো কে ফল নিয়ে যাচ্ছে,* *ফল কি রকম দেখব।* *এই বলে খিড়কি দরজার* *দিকে অগ্রসর হলেন,কিন্তু হায়!চরণের নুপূর রুণুরুণু রবে বেজে উঠল।* *এই শব্দ গৃহের দাসীগণ শুনলে মাকে বলে দিবে যে গোপাল বাইরে যাচ্ছে!* *তখন আমায় বাইরে যেতে দিবে না।* *চতুরের শিরোমণি গোপাল এবারে খুব ধীরে ধীরে পা বাইর করতে লাগলেন যেন নুপূর বেজে না উঠে।* *নুপূর দ্বয়কে চরণের উপরিভাগে তুলে দিলেন।* *এইভাবে পেছনদ্বার হতে বাইরে বেড়োলেন।* 
      

অবশিষ্ট অংশ ------
*🌻প্রথম পদের অবশিষ্ট অংশ🌻* *সেই সময় ফলবিক্রয়িনী পুন হাঁক দিলেন,"ফল নেবে গো ফল",* *গোপাল তার দিকে তাকিয়ে হাত তুলে বললেন,ওগো এসো এসো আমি ফল নিব।* *(যিনি সর্বফলদাতা তিনি বাল‍্যভাবাবেশে নিজের ফলদানের কথা ভুলে আজ ফল গ্রহণের জন্য লালায়িত হয়ে ডাকলেন এসো এসো আমি ফল নিব।*) *গোপালের মধুর কন্ঠস্বর শুনে ফলবিক্রয়িনীর কর্ণে যেন সুধাবর্ষণ হল,সে পরমানন্দে* *চমকিত হয়ে সেই মধুর শব্দ যে দিক দিয়ে আসিল সেইদিকে ফিরে দাঁড়াল* *এবং আর বলল কে গো ফল নেবার জন্য আমায় ডাকছ?*  *আমি গুরুভার ফলের পসরা মাথায় করে পথে পথে ঘুরতে ঘুরতে ক্লান্ত হয়ে পড়েছি।* *তখন গোপাল তাঁর ছোট্ট ছোট্ট হাতদুটি তুলে বললেন,* *ওগো!এদিকে এসো,আমি তোমার সব ফল নেব।* 
*ফলবিক্রয়িনী দেখল,দিব‍্যাতিদিব‍্য ইন্দ্রনীলমণি-বিনিন্দিত অঙ্গের চ্ছটায়*
*দশদিক আলোকিত করে একটি ছোট্ট শিশু পথে দাঁড়িয়ে আছে।*
*তাঁর মাথায় ঘনকৃষ্ণকুঞ্চিত চূর্ণকুন্তল*
*রাশি কোটি কোটি অকলঙ্ক পূর্ণচন্দ্র*
*বিনিন্দিত বদনকমলে ঝাঁপিয়ে পড়বে বলে কে যেন সংযত ও উচ্চ করে বেঁধে দিয়াছে।* *তথাপি দুই একগুচ্ছ স্খলিত হয়ে মুখে পড়ছে।* *সে বালকের অঙ্গশোভা দেখলে মনে হবে ত্রিজগতের কোন বস্তুর সহিতই তুলনা করতে ইচ্ছে হয় না।*


  *🌻দ্বিতীয় পদ🌻*
*ও মোর সোনার চাঁদ,কি তোর মায়ের নাম,*
       *কার ঘরে হৈলা উৎপত্তি*।
*বহুকাল তপ করি,কে পূজিল হর গৌরী,*
        *কোন পূর্ণ কৈল সেই সতী।।*
*তোমারে করিয়া কোলে,কত শত চুম্বন দিলে,*
       *নয়ানের জলে গেল ভাসি।*
*পাইয়া মনের সুখে,স্তন দিল চাঁদমুখে*
        *মুঞি যাই হব তাঁর দাসী।।*
*এত কহি ফলাহারি,ফল দেন কর ভরি*
       *প্রেমভরে গদ গদ চিত।*
*কৃষ্ণচন্দ্র ফল হাতে,খাইতে খাইতে পথে*
      *আসি নিজ গৃহে উপনীত।।*
*ফল দেখি যশোমতী,আনন্দ না জানি কতি*
        *খাওয়াইয়া প্রেমসুখে ভাসে।*
*ধন‍্য সেই ফলাহারি,ফল পাইল নন্দহরি,*
       *কহে কিছু ঘনরাম দাসে।।*
#######################

*ডালা  হইল  রতনে  পূরিত।*
*ফলাহারি  সবিস্ময়   চিত*
*আপনা   আপনি  করে  খেদ*
*মনে   মনে   ভাবে  নিরবেদ।।*
( *নিরবেদ=নির্বেদ== অনুতাপ*)
*বহু ব‍্যাখ‍্যা আছে সামান্য লিখিলাম*
*🌻ভুল ভ্রান্তি মার্জনীয়🌻*
 ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
👇👇👇এই লিখনী 📚 PDF 📚 ক্লিক করুন 👇👇👇
 ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧               
 ✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️
নিবাস- বাঁশবাড়ী, কীর্তন মন্দিরের পাশে, পোঃ- বাঁশবাড়ী, থানা- ইংরেজ বাজার, জেলা- মালদহ, পশ্চিমবঙ্গ, পিন কোড- ৭৩২১০১।
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
    *••••┉━❀꧁ 🙏 রাধে রাধে 🙏 ꧂❀━┅••••* 
                   শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য প্রভু নিত্যানন্দ
              হরে কৃষ্ণ হরে রাম শ্রীরাধেগোবিন্দ।।
  *••••┉━❀꧁ 🙏 জয় জগন্নাথ 🙏 ꧂❀━┅••••*
              হরে কৃষ্ণ হরে কৃষ্ণ কৃষ্ণ কৃষ্ণ হরে হরে
              হরে রাম হরে রাম রাম রাম হরে হরে॥
  *••••┉━❀꧁ 🙏 জয় রাধাকান্ত 🙏 ꧂ ❀━┅••••*
   💮❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀💮
   💮❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀💮
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧






৬. ভগবান শ্রীকৃষ্ণের মৃত্তিকা ভক্ষণ ও বিশ্বরূপ দর্শন লীলা 🌷 SRI KRISHNA LEELA ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 🥀 JOYDEB DAWN 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন ➡️ http://mrinmoynandy.blogspot.com/2022/05/blog-post_83.html

 ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
꧁ ৬. ভগবান শ্রীকৃষ্ণের মৃত্তিকা ভক্ষণ ও বিশ্বরূপ দর্শন লীলা 
       এই লিংকে 👇👇👇🙏👇👇👇 ক্লিক করুন 
          ꧁ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ ꧂
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
    🏠Home Page🏠⬇️⬇️🙏⬇️⬇️📚PDF গ্রন্থ📚
꧁ MrinmoyNandy.blogspot.com 👉 সূচীপত্র ꧂
       এই লিংকে ⬇️⬇️⬇️🙏⬇️⬇️⬇️ ক্লিক করুন 
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
               ꧁ শ্রীকৃষ্ণ লীলা 🙏 সূচীপত্র ꧂
 ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧ 
🌻মৃত্তিকা ভক্ষণ ও বিশ্বরূপ দর্শন গৌরচন্দ্রিকা🌻*
^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^
*একমুখে কি কহিব গোরাচাঁদের লীলা*।
*হামাগুড়ি নানা রঙ্গে যায় শচীবালা।।*
*লালে মুখ ঝর ঝর দেখিতে সুন্দর*।
*পাকা বিম্বফল জিনি সুন্দর অধর।।*
*অঙ্গদ বলয়া শোভে সুবাহু-যুগলে*।
*চরণে মগড়া খাড়ু বাঘনখ গলে।।*
*সোনার শিকলি পীঠে পাটের থোপনা।*
*বাসুদেবঘোষ কহে নিছনি আপনা।।*
বাল‍্যলীলা মৃত্তিকা ভক্ষণ ও বিশ্বরূপ দর্শন:----------------
*রাম, কৃষ্ণ ও সখাগণসহ মিলিত হইয়া গোপরাজ নন্দের সুবিস্তৃত(অনেক বড়) অঙ্গনে ছুটাছুটি, লাফালাফি প্রভৃতি
নানাবিধ বাল‍্যক্রীড়া করিতে আরম্ভ করিলেন। পরিশেষে তাঁরা সকলেই অন্তঃপুরের অঙ্গন হইতেবহিরঙ্গনে আগমন করিলেন এবং সেখানে ধূলো মাটি লইয়া নানাবিধ খেলা
করিতে আরম্ভ করিলেন। মা যশোদা তখন বহিরঙ্গন সংলগ্ন অন্তঃপুর দ্বারে উপস্থিত হয়ে বলরাম এবং অন‍্যান‍্য সকলকে
বললেন, তোরা কৃষ্ণকে নিয়ে এখানেই খেলা কর। কিন্তু সাবধান , কৃষ্ণ যেন বাহিরে না যায়। তখন বলরাম ও সখা
গণ বললেন, মা!আমরা এখানেই খেলা করিব, এবং
সর্বদা আমাদের কৃষ্ণকে ঘিরিয়া থাকিব, কিছুতেই
তাঁহাকে অন‍্যত্র যেতে দিব না। চতুরের শিরোমণি কৃষ্ণ বললেন,মা! আমি আর বাহিরে যাব না। সর্বদা বাড়ীতে থাকব। তখন মা বললেন, হ্যাঁ বাপ! অঙ্গনে খেলা কর। এই কথা বলিয়া মা যশোমতী অন্তঃপুরে গমন করিলেন, ও
পুত্র,সখাগণের জন্য নানাবিধ খাদ্য প্রস্তুত করতে লাগলেন।
রাম, কৃষ্ণ এবং গোপবালকগণ ধূলোমাটি লইয়া খেলা করতে করতে ধূলো মাটি দিয়ে তাঁহাদের ঘর করতে ইচ্ছে হইল। সকলেই অঙ্গনের ধূলোয় ছোট ছোট স্তূপ করিয়া তাহা দ্বারাগৃহ নির্মাণে রত হল এবং সকলেই ছোট ছোট ধূলার স্তূপকে ঘরের আকৃতি করিল। কিন্তু যশোদা
নন্দন কিছুতেই গৃহনির্মাণে সক্ষম হইলেন না। তিনি যত
বার ধূলার স্তূপকে গৃহাকৃতি করতে যান,ততবারই ধসিয়া
পড়ে যায়। ইহা দেখে সমস্ত সখাগণ হাস‍্য ও নৃত‍্য করতে লাগলেন এবং সবাই বলতে লাগলেন, কানাই তোর পরাজয় হয়েছে।(লীলাময়ের লীলার ভঙ্গি অতি দুর্জ্ঞেয়। যাঁহার ইঙ্গিতে অনন্তকোটি বিশ্ব সৃষ্টি হয়, তিনি পরম যত্নেও ধূলার স্তূপকে গৃহাকৃতি করতে সক্ষম হচ্ছেন না! যাঁহার চরণাশ্রয়ে
যোগশক্তিসম্পন্ন বিশ্বামিত্র, ব্রহ্মাকে নির্জ্জিত করিবার জন্য দ্বিতীয় ব্রহ্মান্ড রচনা করিতে প্রস্তুত হয়েছিলেন, যাঁহারা
কৃপাদত্ত সৃষ্টিশক্তিতে ব্রহ্মা জগৎস্রষ্টা, সেই সর্বকারণ কারণ সর্বেশ্বর শ্রীকৃষ্ণ ব্রজলীলায় ধূলোর স্তূপকে গৃহাকৃতি করতে গিয়ে কতশতবার বিফল মনোরথ হলেন। লীলা ময়ের এই ভঙ্গি কে বুঝিবে? অনন্তকোটি ব্রহ্মান্ড সৃষ্টি করতে যাঁহার সম্পূর্ণ দৃষ্টিরও প্রয়োজন হয় না। কেবলমাত্র
ইঙ্গিতই যথেষ্ট।

স্বয়ং ভগবান শ্রীকৃষ্ণ বিশুদ্ধ বাৎসল‍্যবতী মা যশোদার অন্তরের কথা জানতে পারিয়া, যশোদা নন্দন তাঁহার
জননী কে বলিলেন, আমি মাটি খেয়েছি কি না, আমার মুখ
দেখিয়া পরখ কর, মা যশোদা পুত্রের কথা শুনিয়া বললেন
"যদ‍্যেবং তর্হি ব‍্যাদেহি"--- যদি প্রকৃতই তুই মাটি না খেয়ে থাকিস,তাহা হইলে হাঁ কর, দেখি তোর মুখে মাটি আছে কি না। মায়ের আদেশ মাত্র গোপাল মুখব‍্যাদান করিলেন,
দেখিয়া মনে হয় যেন মাতৃকোপরবিকিরণ- সম্পাতে কৃষ্ণের মুখ নীলকমল তৎক্ষণাৎ বিকশিত হয়ে উঠিল।মা যশোদা ভাল করিয়া পরীক্ষা করিবার জন্য ডান হাত তাঁহার ললাটে
দিয়া মাথানত করিয়া ভাল করিয়া দেখতে লাগলেন যে,
গোপালের মুখেমাটি খাওয়ার কোন দাগ আছে কি না।মা তাঁর মুখ মধ‍্যে, তাঁর জিহ্বার মূলদেশে দৃষ্টিপাত করিয়া উদর মধ‍্যে বিশ্বদর্শন করিলেন।
*সা তত্র দদৃশে বিশ্ব়ংজগৎ স্থাস্নু চ খং দিশঃ।
সাদ্রিদ্বীপাব্ধিভূগোলং সবায্বগ্নীন্দুতারকম্।।
জ‍্যোতিশ্চক্রং জলংতেজো নভস্বান্ বিয়দেব চ।
বৈকারিকাণীন্দ্রিয়াণী মনো মাত্রা গুণাস্ত্রয়ঃ।।
অর্থ‍্যাৎ, যশোদা শ্রীকৃষ্ণের জঠর মধ‍্যে জঙ্গম, স্থাবর, অন্তরীক্ষলোক, পর্বত, দ্বীপ, ও সমুদ্র সহিত ভূর্লোক, বায়ু, অগ্নি,চন্দ্র,ওতারকাদিসহ স্বলোক,জল,তেজ, বায়ু, আকাশ, ইন্দ্রিয়াধিষ্ঠাত্রী দেবতা,ইন্দ্রিয়,মনঃ, পঞ্চতন্মাত্র, এবং সত্ত্বাদি ত্রিগুণ প্রভৃতি বস্তু সমন্বিত এই বিশ্ব
দর্শন করিলেন।

মা যশোদা বারে ব‍্যাকুল হলেন এবং পুত্রের উপর ক্রুদ্ধ হলেন। তিনি বাম হাতে কৃষ্ণের দক্ষিন (ডান)হাত ধরে রুক্ষস্বরে বললেন "ওরে দুষ্টু"কেন তুই মাটি খেয়েছিস?
(গোপাল,মা যশোদার মুখে একমাত্র "বাপরে আমার" "বাছারে আমার" "অঞ্চলের নিধি" "হৃদয়ের ধন"প্রভৃতি আদরের কথায় শুনেছেন)। জন্মের পর থেকে কোনদিনই তিনি তাঁহার মায়ের মুখে তিরস্কার বাক‍্য শুনেন নাই, কাজেই গোপাল একেবারে স্তম্ভিত হয়ে গেলেন। তাঁহার বন্ধুক পুষ্পের ন‍্যায় অরুণ অধর দুইখানি স্ফুরিত হয়ে উঠিল, খঞ্জন চঞ্চল নয়ন দুটি স্থির এবং জলভারাকান্ত হয়ে উঠিল।
"বদন্তি তাবকা হ‍্যেতে কুমারাস্তেহগ্ৰজোহপ‍্যয়ম্"।
ওরে অবোধ বালক,তোর মাটি খাওয়ার কথা কি আমি বলছি? এই সমস্ত তোর বয়স‍্য সখাগণ বলছে। তাহারা রহস‍্য
করতে পারে, কিন্তু তোর দাদা বলাইতো মিথ‍্যা বলবে না। তুই অবশ‍্যই মাটি খেয়েছিস। বল কেন তুই মাটি খেয়েছিস?
বলিয়া যশোদা দেখলেন গোপাল ভয়ে থরথর কেঁপে যাচ্ছে
তখন মায়ের মনও কাঁদো কাঁদো হয়ে মৃদুস্বরে বললেন, বাপ! কি হয়েছে তোর, চতুরের শিরোমণি কৃষ্ণ, বললেন, নাহং ভক্ষিতবানম্ব সর্বেমিথ‍্যা্যাভিশংসিনঃ *না মা! আমি মাটি
খাই নাই, আমার সখাগণ মিথ‍্যা কথা বলছে। এই কথা বলিয়া গোপাল মা, মা বলিয়া ডাকিয়া মায়ের মনকে শান্ত করে দিলেন। পুনঃ বললেন মা আমি মাটি খাই নাই। তখন যশোদা পুত্রের নয়ন ভঙ্গি দেখিয়া একে বারে আত্মহারা হয়ে গেলেন, কিন্তু কোথায় যেন একটু সন্দেহ থেকে গেল। ওরা সকলেই বলিল গোপাল মাটি খেয়েছে, আর গোপাল বলছে না।
    ক্রমাগত।

শ্রীকৃষ্ণ অর্জুনকে বলেছিলেন- অর্জুন! তুমি যে আমার বিশ্ব
রূপ দর্শন করিলে, তাহা সুদুর্দ্দর্শ। জপ, যোগ, ধ‍্যান, জ্ঞান, তপস‍্যাদি দ্বারা এ রূপ দেখতে পাওয়া যায় না।ইহা কেবলমাত্র অনন‍্য ভক্তিমান ব‍্যক্তিরই দৃশ্য।দেবতাগণ পর্যন্ত আমার এরূপ দেখবার জন্য সর্বদা আকাঙ্ক্ষা করে থাকেন। কিন্তু তাঁহারা দেখতে পাননা। আমি তোমায় দিব‍্যচক্ষু প্রদান করেছিলাম বলিয়া তুমি বিশ্বরূপ দেখেছ।
   ক্রমাগত।


যশোদা তাঁহার পুত্রের মুখ মধ‍্যে জীব,কাল, স্বভাব, কর্ম ও বিচিত্র নানাদেহ সমন্বিত বিশ্ব এবং গোকুল ও কৃষ্ণসহ নিজেকে দেখিয়া শঙ্কা কুল হলেন। এই পরমাদ্ভুত ব‍্যাপার দেখিয়া যশোদা মনে মনে ভাবিলেন,ইহা কি স্বপ্ন বা কোনও দেবতার মায়া, না আমারই বুদ্ধি বিপর্যয়? (কুরুক্ষেত্র যুদ্ধস্থলে শ্রীকৃষ্ণ তাঁহার সখা অর্জুনের প্রার্থনা অনুসারে তাঁহাকে বিশ্বরূপ দেখাইয়া বলেছিলেন-
সুদুর্দ্দর্শমিদং রূপং দৃষ্টবানসি যন্মম।
দেবা অপাস‍্য রূপস‍্য নিত‍্যংদর্শনকাঙ্খিণঃ

কিন্তু মনের ভিতরে আর এক ভাবনা আসিয়া উপস্থিত হইল। আমি আমার পুত্রের মুখ মধ‍্যে যে যে বস্তু দর্শন করিলাম, তবে কি আমার পুত্র ---_------
ইথং বিদিততত্ত্বায়াং গোপীকায়াং ঈশ্বরঃ।
বৈষ্ণবীং ব‍্যতনোন্মায়াং পুত্র-স্নেহময়ীং বিভুঃ।।
অর্থ‍্যাৎ, কৃষ্ণজননী যশোদা এই প্রকার নির্বেদযুক্তা হইলে,
শ্রীকৃষ্ণ তাঁহার স্বরূপ শক্তিরূপা পুত্রস্নেহময়ী নিজমায়া বিস্তার করিলেন। মা যশোদার এই অবস্থা দেখিয়া শ্রীকৃষ্ণ বৈষ্ণবীমায়া বিস্তার করিলেন।
"বৈষ্ণবীমায়া শব্দের অর্থ- ভগবানের নিজ মায়া"।
(কৃষ্ণবহির্মুখ জীবগণ ত্রিগুণময়ী মায়ার মোহে আত্ম-
হারা হয়ে স্ত্রীপুত্রাদিতে মমতা স্থাপন করিয়া নানা-বিধ সংসার-দুঃখ ভোগ করিয়া থাকে। কিন্তু কৃষ্ণ জননী
যশোদা এই ত্রিগুণময়ী মমতা স্থাপন করেন নাই,কেননা
যাহার সহিত কৃষ্ণের সম্বন্ধ নাই, তাহার উপরে মায়ার প্রভাব
বিস্তৃত হয়, যশোদার সঙ্গে কৃষ্ণের গভীর সম্পর্ক, মায়া কি তাহার নিকটস্থ হতে পারে?
মায়ের যে প্রপদ‍্যন্তে মায়ামেতাং তরন্তি তে।
*যে ব‍্যক্তি আমার শরণাপন্ন হয়,সে কেবল শরণাপত্তির
বলেই মায়া-সিন্ধু অতিক্রম করিতে সক্ষম হয়।

#কৃষ্ণের অন্তরঙ্গা মায়ার(বৈষ্ণবীমায়া) স্বভাব এই যে, তিনি
কৃষ্ণভক্তগণকে তাঁহার ভাবানুরূপ সম্বন্ধেই কৃষ্ণের সঙ্গে
সম্বন্ধ করিয়া দেন। মা যশোদা বাৎসল‍্য ভাববতী বলিয়া
বৈষ্ণবীমায়া তাঁহার বাৎসল‍্যভাবের সম্বন্ধই পূর্বাপেক্ষা অধিকতররূপে সুদৃঢ় করিয়া দিলেন।মা
যশোদার হৃদয়ে পুত্র বাৎসল‍্য সিন্ধু পুনঃ ফিরে এলো। মায়ের বাৎসল‍্য ভাব দেখে কৃষ্ণ"মা""মা"বলিয়া ডাকতে লাগিলেন, মা তাঁকে কোলে ধারণ করিয়া শত শত চুম্বন প্রদান করিলেন, কৃষ্ণও ননীদেমা, ননীদেমা বলিয়া মায়ের কন্ঠ জড়িয়ে ধরলেন।
############
বহু বহু বিষয়বস্তু, খুব সামান্য লিখিলাম, বানান,ও ভুল ভ্রান্তি মার্জনীয়।


🌻🌻🌻ব্রজ লীলা 🌻🌻🌻*
*বালগোপাল রঙ্গে,সমবয় বেশ সঙ্গে*
      *হামাগুড়ি আঙ্গিনায় খেলায়।*
*তেজিয়া মাখন সরে,তুলিয়া কোমল করে*
      *মৃত্তিকা মনের সুখে খায়।।*
*বলরাম তা দেখিয়া,যশোদা নিকট যাঞা*
      *কহিলা ভাইয়ের এই কথা।*
*শুনি তবে যশোমতী,আইলা তুরিত গতি*
      *গোপাল খাইছে মাটি যথা।।*
*মায়ে দেখে মাটি ফেলে,না খাই না খাই বলে*
     *আধ আধ বদন ঢুলায়।*
*মুখ নিরখিয়া রাণী,ধরিয়া তাহার পাণি*
      *মন দুঃখে করে হায় হায়*।।
*এ ক্ষীর নবনী সর,কিবা নাহি মোর ঘর*
      *মৃত্তিকা খাইছ কিবা সুখে।*
*পিতা যার ব্রজরাজ,কি তার এমন কাজ*
     *শুনিলে হইবে মন দুঃখে।।*
*এতেক বলিয়া রাণী,কোলে করি নীলমণি*
       *ছল ছল ভেল দু'নয়ন।*
*এ উদ্ধব দাস গীতে,যশোমতী হরষিতে*
      *অনিমিখে নেহারে বয়ান।।*

   *🌻🌻দ্বিতীয় পদ🌻🌻*
*বদন মেলিয়া রাণী গোপাল পানে চায়।*
*মুখ মাঝে অপরূপ দেখিবারে পায়।।*
*এ ভূমি আকাশ আদি চৌদ্দ ভূবন*
*সুরলোক নাগলোক নরলোকগণ।।*
*অনন্ত ব্রহ্মান্ড গোলোক আদি যত ধাম।*
*মুখের ভিতর সব দেখে নিরমাণ।।*
*শেষ মহেশ ব্রহ্মা আদি স্তুতি করে*
*নন্দ যশোমতী আর মুখের ভেতরে।।*
*দেখি নন্দ ব্রজেশ্বরী বচন না স্ফূরে।*
*স্বপ্ন প্রায় কি দেখিনু হেন মনে করে।।*
*নিজ প্রেমে পরিপূর্ণ কিছুই না মানে।*
*আপন তনয় কৃষ্ণ প্রাণ মাত্র জানে।।*
*ডাকিয়া কহয়ে নন্দে আশ্চর্য‍্য বিধান।*
*পুত্রের মঙ্গলের লাগি বিপ্রে কর দান।।*
*এ দাস উদ্ধবে কহে ব্রজে শুদ্ধ প্রেম।*
*কিছু নাহি সীমা যেন জাম্বুনদ হেম।।*


*🌻🌻তৃতীয় পদ 🌻🌻*
*কোলে করিয়া রাণী নিরখয়ে মুখ*
*সুখের সাগরে ডুবে পাসরে সব দুঃখ।।*
*মায়ের কোলেতে গোপাল মুখ পসারিল।*
*এ ভব সংসারে সব তাহাতে দেখিল।।*
*ই-কি ই-কি বলি রাণী হিয়ায় লইল।*
*স্বপন হেরিনু কিবা বুঝিতে নারিল।।*
*থুতু নুতু দেয় রাণী বসনের দশি।*
*দেখিয়া মায়ের রীত ও-না মুখে হাসি।।*
*ঘনশ‍্যাম দাস আশা করে এই মনে*
*কবে বা সেবিব আমি যশোদা চরণে।।*
   *🌻জয় নিতাই গৌর হরিবল🌻*
 ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
👇👇👇এই লিখনী 📚 PDF 📚 ক্লিক করুন 👇👇👇
 ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧               
 ✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️
নিবাস- বাঁশবাড়ী, কীর্তন মন্দিরের পাশে, পোঃ- বাঁশবাড়ী, থানা- ইংরেজ বাজার, জেলা- মালদহ, পশ্চিমবঙ্গ, পিন কোড- ৭৩২১০১।
 ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏
আমায় দেওয়া ওনার এই অমূল্য লিখনী সেবা, তা সকলের মধ্যে প্রকাশ করলাম। ওনার এই অমূল্য দান সমগ্র বৈষ্ণব সমাজ অনন্তকাল মনে রাখিবে।
🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
    *••••┉━❀꧁ 🙏 রাধে রাধে 🙏 ꧂❀━┅••••* 
                   শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য প্রভু নিত্যানন্দ
              হরে কৃষ্ণ হরে রাম শ্রীরাধেগোবিন্দ।।
  *••••┉━❀꧁ 🙏 জয় জগন্নাথ 🙏 ꧂❀━┅••••*
              হরে কৃষ্ণ হরে কৃষ্ণ কৃষ্ণ কৃষ্ণ হরে হরে
              হরে রাম হরে রাম রাম রাম হরে হরে॥
  *••••┉━❀꧁ 🙏 জয় রাধাকান্ত 🙏 ꧂ ❀━┅••••*
   💮❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀💮
   💮❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀💮
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧




৬. ভগবান শ্রীকৃষ্ণের মৃত্তিকা ভক্ষণ ও বিশ্বরূপ দর্শন লীলা 🌷 SRI KRISHNA LEELA ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 🥀 JOYDEB DAWN 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন ➡️ http://mrinmoynandy.blogspot.com/2022/05/blog-post_83.html

 ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
꧁ ৬. ভগবান শ্রীকৃষ্ণের মৃত্তিকা ভক্ষণ ও বিশ্বরূপ দর্শন লীলা 
       এই লিংকে 👇👇👇🙏👇👇👇 ক্লিক করুন 
          ꧁ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ ꧂
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
    🏠Home Page🏠⬇️⬇️🙏⬇️⬇️📚PDF গ্রন্থ📚
꧁ MrinmoyNandy.blogspot.com 👉 সূচীপত্র ꧂
       এই লিংকে ⬇️⬇️⬇️🙏⬇️⬇️⬇️ ক্লিক করুন 
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
               ꧁ শ্রীকৃষ্ণ লীলা 🙏 সূচীপত্র ꧂
 ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧ 
🌻মৃত্তিকা ভক্ষণ ও বিশ্বরূপ দর্শন গৌরচন্দ্রিকা🌻*
^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^
*একমুখে কি কহিব গোরাচাঁদের লীলা*।
*হামাগুড়ি নানা রঙ্গে যায় শচীবালা।।*
*লালে মুখ ঝর ঝর দেখিতে সুন্দর*।
*পাকা বিম্বফল জিনি সুন্দর অধর।।*
*অঙ্গদ বলয়া শোভে সুবাহু-যুগলে*।
*চরণে মগড়া খাড়ু বাঘনখ গলে।।*
*সোনার শিকলি পীঠে পাটের থোপনা।*
*বাসুদেবঘোষ কহে নিছনি আপনা।।*
বাল‍্যলীলা মৃত্তিকা ভক্ষণ ও বিশ্বরূপ দর্শন:----------------
*রাম, কৃষ্ণ ও সখাগণসহ মিলিত হইয়া গোপরাজ নন্দের সুবিস্তৃত(অনেক বড়) অঙ্গনে ছুটাছুটি, লাফালাফি প্রভৃতি
নানাবিধ বাল‍্যক্রীড়া করিতে আরম্ভ করিলেন। পরিশেষে তাঁরা সকলেই অন্তঃপুরের অঙ্গন হইতেবহিরঙ্গনে আগমন করিলেন এবং সেখানে ধূলো মাটি লইয়া নানাবিধ খেলা
করিতে আরম্ভ করিলেন। মা যশোদা তখন বহিরঙ্গন সংলগ্ন অন্তঃপুর দ্বারে উপস্থিত হয়ে বলরাম এবং অন‍্যান‍্য সকলকে
বললেন, তোরা কৃষ্ণকে নিয়ে এখানেই খেলা কর। কিন্তু সাবধান , কৃষ্ণ যেন বাহিরে না যায়। তখন বলরাম ও সখা
গণ বললেন, মা!আমরা এখানেই খেলা করিব, এবং
সর্বদা আমাদের কৃষ্ণকে ঘিরিয়া থাকিব, কিছুতেই
তাঁহাকে অন‍্যত্র যেতে দিব না। চতুরের শিরোমণি কৃষ্ণ বললেন,মা! আমি আর বাহিরে যাব না। সর্বদা বাড়ীতে থাকব। তখন মা বললেন, হ্যাঁ বাপ! অঙ্গনে খেলা কর। এই কথা বলিয়া মা যশোমতী অন্তঃপুরে গমন করিলেন, ও
পুত্র,সখাগণের জন্য নানাবিধ খাদ্য প্রস্তুত করতে লাগলেন।
রাম, কৃষ্ণ এবং গোপবালকগণ ধূলোমাটি লইয়া খেলা করতে করতে ধূলো মাটি দিয়ে তাঁহাদের ঘর করতে ইচ্ছে হইল। সকলেই অঙ্গনের ধূলোয় ছোট ছোট স্তূপ করিয়া তাহা দ্বারাগৃহ নির্মাণে রত হল এবং সকলেই ছোট ছোট ধূলার স্তূপকে ঘরের আকৃতি করিল। কিন্তু যশোদা
নন্দন কিছুতেই গৃহনির্মাণে সক্ষম হইলেন না। তিনি যত
বার ধূলার স্তূপকে গৃহাকৃতি করতে যান,ততবারই ধসিয়া
পড়ে যায়। ইহা দেখে সমস্ত সখাগণ হাস‍্য ও নৃত‍্য করতে লাগলেন এবং সবাই বলতে লাগলেন, কানাই তোর পরাজয় হয়েছে।(লীলাময়ের লীলার ভঙ্গি অতি দুর্জ্ঞেয়। যাঁহার ইঙ্গিতে অনন্তকোটি বিশ্ব সৃষ্টি হয়, তিনি পরম যত্নেও ধূলার স্তূপকে গৃহাকৃতি করতে সক্ষম হচ্ছেন না! যাঁহার চরণাশ্রয়ে
যোগশক্তিসম্পন্ন বিশ্বামিত্র, ব্রহ্মাকে নির্জ্জিত করিবার জন্য দ্বিতীয় ব্রহ্মান্ড রচনা করিতে প্রস্তুত হয়েছিলেন, যাঁহারা
কৃপাদত্ত সৃষ্টিশক্তিতে ব্রহ্মা জগৎস্রষ্টা, সেই সর্বকারণ কারণ সর্বেশ্বর শ্রীকৃষ্ণ ব্রজলীলায় ধূলোর স্তূপকে গৃহাকৃতি করতে গিয়ে কতশতবার বিফল মনোরথ হলেন। লীলা ময়ের এই ভঙ্গি কে বুঝিবে? অনন্তকোটি ব্রহ্মান্ড সৃষ্টি করতে যাঁহার সম্পূর্ণ দৃষ্টিরও প্রয়োজন হয় না। কেবলমাত্র
ইঙ্গিতই যথেষ্ট।

স্বয়ং ভগবান শ্রীকৃষ্ণ বিশুদ্ধ বাৎসল‍্যবতী মা যশোদার অন্তরের কথা জানতে পারিয়া, যশোদা নন্দন তাঁহার
জননী কে বলিলেন, আমি মাটি খেয়েছি কি না, আমার মুখ
দেখিয়া পরখ কর, মা যশোদা পুত্রের কথা শুনিয়া বললেন
"যদ‍্যেবং তর্হি ব‍্যাদেহি"--- যদি প্রকৃতই তুই মাটি না খেয়ে থাকিস,তাহা হইলে হাঁ কর, দেখি তোর মুখে মাটি আছে কি না। মায়ের আদেশ মাত্র গোপাল মুখব‍্যাদান করিলেন,
দেখিয়া মনে হয় যেন মাতৃকোপরবিকিরণ- সম্পাতে কৃষ্ণের মুখ নীলকমল তৎক্ষণাৎ বিকশিত হয়ে উঠিল।মা যশোদা ভাল করিয়া পরীক্ষা করিবার জন্য ডান হাত তাঁহার ললাটে
দিয়া মাথানত করিয়া ভাল করিয়া দেখতে লাগলেন যে,
গোপালের মুখেমাটি খাওয়ার কোন দাগ আছে কি না।মা তাঁর মুখ মধ‍্যে, তাঁর জিহ্বার মূলদেশে দৃষ্টিপাত করিয়া উদর মধ‍্যে বিশ্বদর্শন করিলেন।
*সা তত্র দদৃশে বিশ্ব়ংজগৎ স্থাস্নু চ খং দিশঃ।
সাদ্রিদ্বীপাব্ধিভূগোলং সবায্বগ্নীন্দুতারকম্।।
জ‍্যোতিশ্চক্রং জলংতেজো নভস্বান্ বিয়দেব চ।
বৈকারিকাণীন্দ্রিয়াণী মনো মাত্রা গুণাস্ত্রয়ঃ।।
অর্থ‍্যাৎ, যশোদা শ্রীকৃষ্ণের জঠর মধ‍্যে জঙ্গম, স্থাবর, অন্তরীক্ষলোক, পর্বত, দ্বীপ, ও সমুদ্র সহিত ভূর্লোক, বায়ু, অগ্নি,চন্দ্র,ওতারকাদিসহ স্বলোক,জল,তেজ, বায়ু, আকাশ, ইন্দ্রিয়াধিষ্ঠাত্রী দেবতা,ইন্দ্রিয়,মনঃ, পঞ্চতন্মাত্র, এবং সত্ত্বাদি ত্রিগুণ প্রভৃতি বস্তু সমন্বিত এই বিশ্ব
দর্শন করিলেন।

মা যশোদা বারে ব‍্যাকুল হলেন এবং পুত্রের উপর ক্রুদ্ধ হলেন। তিনি বাম হাতে কৃষ্ণের দক্ষিন (ডান)হাত ধরে রুক্ষস্বরে বললেন "ওরে দুষ্টু"কেন তুই মাটি খেয়েছিস?
(গোপাল,মা যশোদার মুখে একমাত্র "বাপরে আমার" "বাছারে আমার" "অঞ্চলের নিধি" "হৃদয়ের ধন"প্রভৃতি আদরের কথায় শুনেছেন)। জন্মের পর থেকে কোনদিনই তিনি তাঁহার মায়ের মুখে তিরস্কার বাক‍্য শুনেন নাই, কাজেই গোপাল একেবারে স্তম্ভিত হয়ে গেলেন। তাঁহার বন্ধুক পুষ্পের ন‍্যায় অরুণ অধর দুইখানি স্ফুরিত হয়ে উঠিল, খঞ্জন চঞ্চল নয়ন দুটি স্থির এবং জলভারাকান্ত হয়ে উঠিল।
"বদন্তি তাবকা হ‍্যেতে কুমারাস্তেহগ্ৰজোহপ‍্যয়ম্"।
ওরে অবোধ বালক,তোর মাটি খাওয়ার কথা কি আমি বলছি? এই সমস্ত তোর বয়স‍্য সখাগণ বলছে। তাহারা রহস‍্য
করতে পারে, কিন্তু তোর দাদা বলাইতো মিথ‍্যা বলবে না। তুই অবশ‍্যই মাটি খেয়েছিস। বল কেন তুই মাটি খেয়েছিস?
বলিয়া যশোদা দেখলেন গোপাল ভয়ে থরথর কেঁপে যাচ্ছে
তখন মায়ের মনও কাঁদো কাঁদো হয়ে মৃদুস্বরে বললেন, বাপ! কি হয়েছে তোর, চতুরের শিরোমণি কৃষ্ণ, বললেন, নাহং ভক্ষিতবানম্ব সর্বেমিথ‍্যা্যাভিশংসিনঃ *না মা! আমি মাটি
খাই নাই, আমার সখাগণ মিথ‍্যা কথা বলছে। এই কথা বলিয়া গোপাল মা, মা বলিয়া ডাকিয়া মায়ের মনকে শান্ত করে দিলেন। পুনঃ বললেন মা আমি মাটি খাই নাই। তখন যশোদা পুত্রের নয়ন ভঙ্গি দেখিয়া একে বারে আত্মহারা হয়ে গেলেন, কিন্তু কোথায় যেন একটু সন্দেহ থেকে গেল। ওরা সকলেই বলিল গোপাল মাটি খেয়েছে, আর গোপাল বলছে না।
    ক্রমাগত।

শ্রীকৃষ্ণ অর্জুনকে বলেছিলেন- অর্জুন! তুমি যে আমার বিশ্ব
রূপ দর্শন করিলে, তাহা সুদুর্দ্দর্শ। জপ, যোগ, ধ‍্যান, জ্ঞান, তপস‍্যাদি দ্বারা এ রূপ দেখতে পাওয়া যায় না।ইহা কেবলমাত্র অনন‍্য ভক্তিমান ব‍্যক্তিরই দৃশ্য।দেবতাগণ পর্যন্ত আমার এরূপ দেখবার জন্য সর্বদা আকাঙ্ক্ষা করে থাকেন। কিন্তু তাঁহারা দেখতে পাননা। আমি তোমায় দিব‍্যচক্ষু প্রদান করেছিলাম বলিয়া তুমি বিশ্বরূপ দেখেছ।
   ক্রমাগত।


যশোদা তাঁহার পুত্রের মুখ মধ‍্যে জীব,কাল, স্বভাব, কর্ম ও বিচিত্র নানাদেহ সমন্বিত বিশ্ব এবং গোকুল ও কৃষ্ণসহ নিজেকে দেখিয়া শঙ্কা কুল হলেন। এই পরমাদ্ভুত ব‍্যাপার দেখিয়া যশোদা মনে মনে ভাবিলেন,ইহা কি স্বপ্ন বা কোনও দেবতার মায়া, না আমারই বুদ্ধি বিপর্যয়? (কুরুক্ষেত্র যুদ্ধস্থলে শ্রীকৃষ্ণ তাঁহার সখা অর্জুনের প্রার্থনা অনুসারে তাঁহাকে বিশ্বরূপ দেখাইয়া বলেছিলেন-
সুদুর্দ্দর্শমিদং রূপং দৃষ্টবানসি যন্মম।
দেবা অপাস‍্য রূপস‍্য নিত‍্যংদর্শনকাঙ্খিণঃ

কিন্তু মনের ভিতরে আর এক ভাবনা আসিয়া উপস্থিত হইল। আমি আমার পুত্রের মুখ মধ‍্যে যে যে বস্তু দর্শন করিলাম, তবে কি আমার পুত্র ---_------
ইথং বিদিততত্ত্বায়াং গোপীকায়াং ঈশ্বরঃ।
বৈষ্ণবীং ব‍্যতনোন্মায়াং পুত্র-স্নেহময়ীং বিভুঃ।।
অর্থ‍্যাৎ, কৃষ্ণজননী যশোদা এই প্রকার নির্বেদযুক্তা হইলে,
শ্রীকৃষ্ণ তাঁহার স্বরূপ শক্তিরূপা পুত্রস্নেহময়ী নিজমায়া বিস্তার করিলেন। মা যশোদার এই অবস্থা দেখিয়া শ্রীকৃষ্ণ বৈষ্ণবীমায়া বিস্তার করিলেন।
"বৈষ্ণবীমায়া শব্দের অর্থ- ভগবানের নিজ মায়া"।
(কৃষ্ণবহির্মুখ জীবগণ ত্রিগুণময়ী মায়ার মোহে আত্ম-
হারা হয়ে স্ত্রীপুত্রাদিতে মমতা স্থাপন করিয়া নানা-বিধ সংসার-দুঃখ ভোগ করিয়া থাকে। কিন্তু কৃষ্ণ জননী
যশোদা এই ত্রিগুণময়ী মমতা স্থাপন করেন নাই,কেননা
যাহার সহিত কৃষ্ণের সম্বন্ধ নাই, তাহার উপরে মায়ার প্রভাব
বিস্তৃত হয়, যশোদার সঙ্গে কৃষ্ণের গভীর সম্পর্ক, মায়া কি তাহার নিকটস্থ হতে পারে?
মায়ের যে প্রপদ‍্যন্তে মায়ামেতাং তরন্তি তে।
*যে ব‍্যক্তি আমার শরণাপন্ন হয়,সে কেবল শরণাপত্তির
বলেই মায়া-সিন্ধু অতিক্রম করিতে সক্ষম হয়।

#কৃষ্ণের অন্তরঙ্গা মায়ার(বৈষ্ণবীমায়া) স্বভাব এই যে, তিনি
কৃষ্ণভক্তগণকে তাঁহার ভাবানুরূপ সম্বন্ধেই কৃষ্ণের সঙ্গে
সম্বন্ধ করিয়া দেন। মা যশোদা বাৎসল‍্য ভাববতী বলিয়া
বৈষ্ণবীমায়া তাঁহার বাৎসল‍্যভাবের সম্বন্ধই পূর্বাপেক্ষা অধিকতররূপে সুদৃঢ় করিয়া দিলেন।মা
যশোদার হৃদয়ে পুত্র বাৎসল‍্য সিন্ধু পুনঃ ফিরে এলো। মায়ের বাৎসল‍্য ভাব দেখে কৃষ্ণ"মা""মা"বলিয়া ডাকতে লাগিলেন, মা তাঁকে কোলে ধারণ করিয়া শত শত চুম্বন প্রদান করিলেন, কৃষ্ণও ননীদেমা, ননীদেমা বলিয়া মায়ের কন্ঠ জড়িয়ে ধরলেন।
############
বহু বহু বিষয়বস্তু, খুব সামান্য লিখিলাম, বানান,ও ভুল ভ্রান্তি মার্জনীয়।


🌻🌻🌻ব্রজ লীলা 🌻🌻🌻*
*বালগোপাল রঙ্গে,সমবয় বেশ সঙ্গে*
      *হামাগুড়ি আঙ্গিনায় খেলায়।*
*তেজিয়া মাখন সরে,তুলিয়া কোমল করে*
      *মৃত্তিকা মনের সুখে খায়।।*
*বলরাম তা দেখিয়া,যশোদা নিকট যাঞা*
      *কহিলা ভাইয়ের এই কথা।*
*শুনি তবে যশোমতী,আইলা তুরিত গতি*
      *গোপাল খাইছে মাটি যথা।।*
*মায়ে দেখে মাটি ফেলে,না খাই না খাই বলে*
     *আধ আধ বদন ঢুলায়।*
*মুখ নিরখিয়া রাণী,ধরিয়া তাহার পাণি*
      *মন দুঃখে করে হায় হায়*।।
*এ ক্ষীর নবনী সর,কিবা নাহি মোর ঘর*
      *মৃত্তিকা খাইছ কিবা সুখে।*
*পিতা যার ব্রজরাজ,কি তার এমন কাজ*
     *শুনিলে হইবে মন দুঃখে।।*
*এতেক বলিয়া রাণী,কোলে করি নীলমণি*
       *ছল ছল ভেল দু'নয়ন।*
*এ উদ্ধব দাস গীতে,যশোমতী হরষিতে*
      *অনিমিখে নেহারে বয়ান।।*

   *🌻🌻দ্বিতীয় পদ🌻🌻*
*বদন মেলিয়া রাণী গোপাল পানে চায়।*
*মুখ মাঝে অপরূপ দেখিবারে পায়।।*
*এ ভূমি আকাশ আদি চৌদ্দ ভূবন*
*সুরলোক নাগলোক নরলোকগণ।।*
*অনন্ত ব্রহ্মান্ড গোলোক আদি যত ধাম।*
*মুখের ভিতর সব দেখে নিরমাণ।।*
*শেষ মহেশ ব্রহ্মা আদি স্তুতি করে*
*নন্দ যশোমতী আর মুখের ভেতরে।।*
*দেখি নন্দ ব্রজেশ্বরী বচন না স্ফূরে।*
*স্বপ্ন প্রায় কি দেখিনু হেন মনে করে।।*
*নিজ প্রেমে পরিপূর্ণ কিছুই না মানে।*
*আপন তনয় কৃষ্ণ প্রাণ মাত্র জানে।।*
*ডাকিয়া কহয়ে নন্দে আশ্চর্য‍্য বিধান।*
*পুত্রের মঙ্গলের লাগি বিপ্রে কর দান।।*
*এ দাস উদ্ধবে কহে ব্রজে শুদ্ধ প্রেম।*
*কিছু নাহি সীমা যেন জাম্বুনদ হেম।।*


*🌻🌻তৃতীয় পদ 🌻🌻*
*কোলে করিয়া রাণী নিরখয়ে মুখ*
*সুখের সাগরে ডুবে পাসরে সব দুঃখ।।*
*মায়ের কোলেতে গোপাল মুখ পসারিল।*
*এ ভব সংসারে সব তাহাতে দেখিল।।*
*ই-কি ই-কি বলি রাণী হিয়ায় লইল।*
*স্বপন হেরিনু কিবা বুঝিতে নারিল।।*
*থুতু নুতু দেয় রাণী বসনের দশি।*
*দেখিয়া মায়ের রীত ও-না মুখে হাসি।।*
*ঘনশ‍্যাম দাস আশা করে এই মনে*
*কবে বা সেবিব আমি যশোদা চরণে।।*
   *🌻জয় নিতাই গৌর হরিবল🌻*
 ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
👇👇👇এই লিখনী 📚 PDF 📚 ক্লিক করুন 👇👇👇
 ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧               
 ✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️
নিবাস- বাঁশবাড়ী, কীর্তন মন্দিরের পাশে, পোঃ- বাঁশবাড়ী, থানা- ইংরেজ বাজার, জেলা- মালদহ, পশ্চিমবঙ্গ, পিন কোড- ৭৩২১০১।
 ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏
আমায় দেওয়া ওনার এই অমূল্য লিখনী সেবা, তা সকলের মধ্যে প্রকাশ করলাম। ওনার এই অমূল্য দান সমগ্র বৈষ্ণব সমাজ অনন্তকাল মনে রাখিবে।
🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
    *••••┉━❀꧁ 🙏 রাধে রাধে 🙏 ꧂❀━┅••••* 
                   শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য প্রভু নিত্যানন্দ
              হরে কৃষ্ণ হরে রাম শ্রীরাধেগোবিন্দ।।
  *••••┉━❀꧁ 🙏 জয় জগন্নাথ 🙏 ꧂❀━┅••••*
              হরে কৃষ্ণ হরে কৃষ্ণ কৃষ্ণ কৃষ্ণ হরে হরে
              হরে রাম হরে রাম রাম রাম হরে হরে॥
  *••••┉━❀꧁ 🙏 জয় রাধাকান্ত 🙏 ꧂ ❀━┅••••*
   💮❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀💮
   💮❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀💮
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧




adds