শ্রী মৃন্ময় নন্দী কর্ত্তৃক সকল ভক্ত👣চরণে👣অসংখ্যকোটি 🙇প্রণাম🙇 ক্লিক করুন 👇

শ্রী মৃন্ময় নন্দী কর্ত্তৃক সকল ভক্ত👣চরণে👣অসংখ্যকোটি 🙇প্রণাম🙇 ক্লিক করুন 👇

৫০. নিধুবনে কৃষ্ণকালী লীলা ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ


  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
           ꧁ ৫০. নিধুবনে কৃষ্ণকালী লীলা 
       এই লিংকে 👇👇👇🙏👇👇👇 ক্লিক করুন 
            ꧁ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ ꧂
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
 ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
             ꧁ শ্রীকৃষ্ণ লীলা 🙏 সূচীপত্র ꧂
 ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧ 
*🌻নিধুবনে কৃষ্ণকালী,* *ব্রজলীলা🌻*
*^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^*
*🌻🌻🌻প্রথম পদ🌻🌻🌻*
*গোঠে চলি গেল বিনোদ রায়।*
*সজল নয়নে কিশোরী চায়।।*
*বঁধূর বদন দেখিতে না পায়।*
*কি করি কি করি কাঁদিছে রাই।।*
*সখি কহে ধনি কাঁদিছ কেন।*
*আছয়ে যুকতি কহিয়ে শুন।।*
*দেব আরাধনা ছলনা করি।*
*আমরা যাই মিলব হরি।।*
*এত শুনি রাই সখির মুখে।*
*সখি গলে ধরি বসিলা সুখে।।*
*হেথা ধেনু বৎস লইয়া কান।*
*দ্রুত চলি গেল গিরি গোবর্ধন।।*
*বিজন বনেতে চরয়ে ধেনু।*
*সখাগণ সঞে খেলত কানু।।*
*দাদার নিকটে হোয় বিদায়।*
*কানন ভ্রমণ করিতে যাই।।*
*ভ্রমিতে ভ্রমিতে সুবল সঞে।*
*নিধুবনে যাই বসিলা রঙ্গে।।*
*রাধা রাধা বলি পূরিলা বেণু।*
*শুনি ধ্বনি ধনি অবশ তনু।।*
*সখিগণ কহে শুনহ রাই।*
*দেবতা পূজিতে চলহ যাই।।*
*শুনিয়া সখির ধরিলা হাতে।*
*শ্রীচৈতন‍্য দাস চলিলা সাথে।।*
*🌻প্রেমরসসিন্ধু মহাভাব স্বরূপিনী রাইধনি বিনোদিনীর অদ‍্য দুঃখের অন্ত নাই।* *কেন?* *তিনি বাদিনীর ঘরে বসবাস করেন,শাশুড়ী জটিলা ও ননদিনী কুটিলা ইচ্ছাকৃত ভাবে ঘড়ার(কলসীর)জল ফেলে দিয়ে পুন জল ভরতে পাঠিয়ে দিয়াছেন রাই বিনোদিনীকে যমুনায়,* *এমন সময় সখা সঙ্গ করে গোবিন্দ চলেছেন গোচারণ ভূমিতে।* *রাধার সঙ্গে দেখা না হওয়ায় গোবিন্দ যেমন উদ্বিগ্ন(দুশ্চিন্তাগ্রস্ত)তেমনি রাই কিশোরী।* *জল নিয়ে ফিরে এসে সখি সঙ্গে ঘরে বসে চরম উৎকণ্ঠা।* *বঁধূর বদন দর্শন হল না!আজ আমার চরম দুর্দিন হল বলিয়া সজল নয়নে ক্রন্দন করতে লাগলেন।* *রাইয়ের ক্রন্দন শুনে সখি ললিতা ও বিশাখা বলছেন রাই কাঁদছিস কেন?* *একটু চুপ কর,কোন একটি ব‍্যবস্থা বাহির করছি।* *তুই চিন্তা করিস না।* *সখি সঙ্গে নানান কথোপকথনের মাঝে এই যুক্তি হল যে,কোন এক দেবতা পূজার ছলনা করে আমরা কাননে যাব এবং কানুর সঙ্গে দেখা করব।* *সখীর মুখে এইসব কথা শুনে রাইধনি সুখী হলেন,এবং আনন্দে সখিদের গলা জড়িয়ে ধরলেন।* *সখীগণ বললেন,আজ মনে হয়,তোর বঁধূ গিরি গোবর্ধনের দিকে ধেনু-বৎস নিয়ে গেছে।* *চিন্তা করিস না রাই,আজ তোর সুখের দিন হবে।* *অপরদিকে রাই কিশোরীর মত গোবিন্দের দশা।* *কোনরকমে ধেনু-বৎসগণ নিয়ে গোচারণ ভূমিতে এলেন বটে,* *মনে শান্তি নেই,তাই দাদা বলরামের কাছে গিয়ে বললেন,দাদা!তোমরা ধেনু-বৎস নিয়ে এখানে বিশ্রাম কর,* *আমি সুবলকে সঙ্গে নিয়ে কানন ভ্রমণ করি।* *দাদা কানাইয়ের মনোভাব বুঝতে পেরে বললেন যা ভাই।* *কানাই বললেন আমি যথা সময়ে ফিরে আসব।* *সুবলকে সঙ্গে নিয়ে বন ভ্রমণ করতে করতে নিধুবনে এলেন।* *নিধুবনে এসে বসলেন,তারপর কটিতট হতে বেণু নিয়ে গোবিন্দের প্রাণের প্রাণ রাধা রাধা নামে বেণুধ্বনি করলেন।* *বেণুধ্বনি শ্রবণ করে রাইধনির তনু যেন অবশ হল,বনে যাবার জন্য উতলা হয়ে উঠলেন।* *ঐদিকে সখীগণ সহ রাইধনি শাশুড়ীর কাছে গেলেন।*
*🌻দ্বিতীয় পদ🌻*
*ভানু পূজা ছল করি,চলিলেন সুন্দরী,*
     *গুরুজনে অনুমতি মাগি।*
*পূজা উপহার যত,নিজ নিজ অভিমত,*
     *লেয়ল কৃষ্ণ সেবা লাগি।।*
     *সকর্পূর তাম্বুল নেল।*
*ধরিয়া সখির করে,বেণুধ্বনি অনুসারে,*
     *নিধুবন মাহা চলি গেল।।*
*সুবল বুঝিয়া কাজ,লুকাইল কুঞ্জের মাঝ,*
     *একাকী রহল শ‍্যামরায়।*
*হেরি রাই মুখ ইন্দু,উছলিল প্রেম সিন্ধু,*
     *আগুসারি আনিবারে ধায়।।*
*ধেয়ে যেয়ে আলিঙ্গন,পুনঃপুনঃ নিরীক্ষণ,*
      *পুনঃপুনঃ করু কত দৈন‍্য।*
*চৌদিগে সখির ঠাট,মিলিল চাঁদের হাট,*
      *শ্রীচৈতন‍্য দাস হৈল ধন‍্য।।*
*🌻সকলে শাশুড়ীর কাছে গিয়ে,রাইধনি বললেন মা,বড় সর্বনাশা স্বপ্ন দর্শন করেছি ভোরবেলা।* *এই সর্বনাশা অকল‍্যাণ স্বপ্নের বিহিত পথ একমাত্র সূর্য‍্য পূজা,* *সূর্য‍্যপূজা করলে সমস্ত অকল‍্যাণ দূর হবে আমরা সকলে পরমসুখে থাকব।**এই কথাগুলি শুনে জটিলা সহমত পোষণ করলেন।* *সকলকে ভানু পূজার অনুমতি দিলেন।* *কিন্তু কুটিলা,কুটিলমতি মনের মধ্যে কুট-কুটকরতে লাগল।* *অনুমতি পেয়ে ভানুপূজার যে যে দ্রব‍্য প্রয়োজন সকল নিয়ে কাননের দিকে চলতে লাগলেন।* *যে দিক হতে বেণুধ্বনি শ্রবণ করেছেন, নিধুবনের দিকে।* *যাঁর সেবা করলে আর বিশ্ব-ব্রহ্মান্ডে আর অন‍্য দেবতার সেবা করবার প্রয়োজন হয় না,শ্রীগুরু চরণ স্মরণ করে যদি পিতামাতার আশীর্বাদ নিয়ে একবার হে জগতপতি,আমার বলতে কিছুই নাই,যা কিছু আছে সবই তোমার বলে একবার যদি তাঁর শ্রীচরণে আত্মসমর্পণ করা যায়,* *তাহলে ইহার হতে পরমসুখ পরমআনন্দ আর কোথাও পাওয়া যাবে না।* *তাই আমার প্রেমময়ী রাধারাণী যথা সর্বস‍্য শ্রীগোবিন্দ চরণে অর্পণ করেছিলেন।* *গোবিন্দের প্রিয় তাম্বুলও সঙ্গে নিয়েছেন।* *গোবিন্দ তাম্বুল খুবই ভালবাসেন।* *সখির হাত ধরে রাইকিশোরী চলেছেন,*
*দূর হতে সুবল সখিসহ রাধাকে* *দেখে সুচতুর সুবল সব কিছু বুঝতে পেরে তিনি নিধুবনের পাশে কুঞ্জ ছিল,সেই কুঞ্জের পাশে গিয়ে লুকাল।* *আর গোবিন্দ একাকী রইলেন,কেন না সখীগণ যেমন দুহুঁ মিলনে আকাঙ্খা করেন,সখাগণও তাই।* *গোবিন্দ রাইধনিকে দূর হতে দেখে নিজে ধেয়ে গিয়ে রাইকে আলিঙ্গন করলেন।* *আর পুনঃপুনঃ রাই বদন দর্শন করতে লাগলেন।* *সকালে অভীষ্টের বদন দর্শন হয় নাই,দিনের বেলা নিধুবনে যেন চাঁদের হাট বসল,আহা কি শোভা।*
 *🌻তৃতীয় পদ🌻*
*দিনমণি কিরণে,মলিন মুখমন্ডল,*
       *ঘামে তিলক বহি গেলা।*
*চরণ কমলতল,তপত পথ বালুক,*
       *আতপ দহন সম ভেলা।।*
    *হেররইতে শ‍্যামরু চন্দ।*
*কোরে আগোরি,গোরি মুখ মুছত,*
       *বসন ঢুলায়ত মন্দ।।*
*কর্পূর তাম্বুল,অধরহি দেয়ল,,*
       *চন্দন লেপয়ে অঙ্গে।*
*শ‍্যামর অঙ্গ, পরশে নব নাগরী,*
      *উপজল প্রেম তরঙ্গ।।*
*কুঞ্জ কুটীরঘর,শেজ মনোহর,*
       *মধুকর ধরু শ্রুতিভাষ।*
*গৌরীশ‍্যাম দুহুঁ,করল কুতূহল,*
       *কহতহি গোবিন্দ দাস।।*
*🌻রাই ধনিকে অদূর হতে দর্শন করে গোবিন্দ ধেয়ে গেলেন,তখন গোবিন্দের সূর্য‍্যের কিরণের তাপে মুখমন্ডল যেন কেমনই হয়ে গেছে।* *ঘামে ললাটের তিকট প্রায় মুছে গেছে,সমস্ত শরীর ঘামে ভিজে গেছে।* *এই অবস্থা দেখে রাইধনি বঁধূর বদন নিজ শাড়ীর আঁচল দিয়া যত্ন সহকারে মুছিয়ে দিলেন।* *আর যখন চরণের দিকে লক্ষ্য করলেন,রাই আমার ব‍্যথায় কাতর হয়ে গেলেন।* *যে চরণ কমলের চেয়েও কোমল,সেই চরণে এই ভূমির কত কাঁকর আমার বঁধূর চরণকে ব‍্যথিত করেছে,আহা সূর্য‍্যের কিরণে তপ্ত হয়ে রয়েছে।**আমার বঁধূর কত কষ্ট হয়েছে।* *রাধারাণী বঁধূর চরণ নিজ বক্ষে রেখে চরণ সেবা করছেন,তারপর সখীগণ কুঞ্জ ভিতরে ফুলশয‍্যা রচনা করলেন,এবং রাই-কানু দুহুঁজনে কিছুক্ষণের জন্য বিশ্রামে গেলেন।* *গোবিন্দকে রাইধনি তাম্বুল প্রদান করলেন,এবং নিজ হস্তে অধরে তাম্বুল দিলেন।* *অতঃপর প্রাতঃকালে দর্শন না হওয়ার কত কথা বললেন।* *রাধা-গোবিন্দের ফুল শেজে বিশ্রাম দেখে রাই অঙ্গের গন্ধ পেয়ে ভ্রমরগণ মনের আনন্দে গুণ্ গুণ্ শব্দে মধুর গুঞ্জন করতে লাগল।*
 *🌻চতুর্থ পদ🌻
*বৃন্দার সেবিত বন,নিধুবন কানন,*
       *যাহা বিলসয়ে রাধাশ‍্যাম।*
*ষড়্ ঋতু এককালে,আসিয়া সেখানে মিলে,*
      *নিতি নবলীলা অনুপম।।*
    *রতন মন্দিরে মনোহর।*
*তার মাঝে রত্নাসনে,বসিলা আনন্দ মনে,*
      *ভোজন করিতে গিরিধর।।*
*সেবার সামগ্রী যত,লাড্ডুকাদি কতশত,*
    *গৃহ হৈতে এনেছিল রাধা।*
*কাঞ্চন থারি ভরি,যোগাওল সহচরী,*
      *দেখিতে পূরয়ে মনসাধা।।*
*দেবভোজ‍্য বস্তু দেখি,কৃষ্ণ হৈলা মহাসুখী,*
      *তোষিতে শ্রীরাধার মন।*
*নানা রহস‍্য প্রসঙ্গে,ভোজন করিলা রঙ্গে,*
      *অবশেষে করিলা জলপান।।*
*ভোজন হইল সায়,আচমন প্রেমসেবা,*
       *করে সখি বৃন্দ।*
*বঙ্কবিহারী,কবে পাবে,*
     *চামর ঢুলাইবে মন্দ।।*
*🌻পঞ্চম পদ🌻*
*গোবিন্দ ভোজন হইল সাঙ্গ।*
*বৈঠল রাই সখির সঙ্গ।।*
*তাম্বুল দেওল বঁধূর মুখে।*
*প্রসাদ আনিয়া মনের সুখে।।*
*সখি সঙ্গে মহাপ্রসাদ পাই।*
*আনন্দে সায়রে সাঁতারে রাই।।*
*ধরিয়া সুন্দরী বঁধূর করে।*
*উঠিলা রতন বেদীর পরে।।*
*নবঘন যেন বিজুরী সনে।*
*ভূতলে নামিলা আপন মনে।।*
*বঁধূ গলে ধরি বসিলা রাই।*
*রূপের তুলনা জগতে নাই।।*
*কিবা অপরূপ দুহুঁক রূপ।*
*অমিয়া পাথারে রসের কূপ।।*
*সখিগণ মেলা করত ভঙ্গ।*
*কতহুঁ রভস কতহুঁ রঙ্গ।।*
*ময়ূরা ময়ূরী আসিয়া কাছে।*
*ঘুরিয়া ঘুরিয়া দুইজনা নাচে।।*
*শারী শুকগণ করত গান।*
*ভ্রমরা ভ্রমরী ধরত তান।।*
*গাওত কোকিলা মধুর গীত।*
*রাই কানু শুনি পাওল প্রীত।।*
*ককখটি কহে কুটিলা এলো।*
*শুনি সুবদনী চঙক গেল।।*
*এ দাস বঙ্ক বিহারী কয়।*
*যোগমায়া আছে কিসের ভয়।।*
*🌻মহানন্দে গোবিন্দের সেবা দিলেন,সখীর সঙ্গে রাধারাণীও মহাপ্রসাদ পেলেন।* *সকলে মিলে বহু আনন্দ হল,ময়ূরা ময়ূরী নৃত‍্য করতে লাগল।* *শুক শারী গান করতে লাগল,ভ্রমরা ভ্রমরী সুরের আলাপ করতে লাগল।* *কক্খটি (বৃদ্ধাবানরী)বলে উঠল তোমাদের সুখ আনন্দ দূরে গেল,ঐ দেখ এই নিধুবনে* *কুটিলা আসছে।* *একথা শুনে রাধারাণী চমকে উঠলেন।* *পদকর্তা বঙ্কবিহারী দাস বললেন,হে রাধে!তুমি নিশ্চিত থাক,যোগমায়া থাকতে তোমাদের কিসের ভয়।*
*🌻ষষ্ঠ পদ🌻*
 *কুটিলা কহিছে,আয়ানের কাছে,*
       *সকলি আমারি দোষ।*
*তোমার বধুর,যত লীলাখেলা,*
       *শুনিলে করিবা রোষ।।*
    *দেখে এলাম নিধুবনে।*
*কুল কলঙ্কিনী,কাননে যাইয়া,*
       *খেলিছে কানুর সনে।।*
*শুনিয়া আয়ান,রুষিয়া ধাইল,*
       *করেতে লইয়া অসি।*
*পাছেতে কুটিলা,চলিলা ধাইয়া,*
       *মনেতে হৈয়া খুশি।।*
*গর্জিয়া আয়ান,ধাইয়া আসিছে,*
        *দেখিতে লাগয়ে ডর।*
*শ্রীচৈতন‍্য দাস,কহয়ে গোবিন্দ,*
        *রাখহ রাধার ঘর।।*
*🌻পূর্বেই কুটিলার মনে চরম সন্দেহ হয়েছিল,মা জটিলা,সূর্য‍্য পূজার অনুমতি দিলেন বটে,তাহা কুটিলা মেনে নিতে পারে নাই।* *সেই জন্য রাধা ও সখীগণের পেছন পেছন কুটিলা চুপিসারে,রাধা কি করে,দেখবার জন্য গিয়েছিল।* *দেখে এসে দাদা অভিম‍ন‍্যুকে সব কথা বললে,অভিমন‍্যু ক্রোধান্বিত হয়ে হাতে তলোয়ার নিয়ে কুটিলার সঙ্গে নিধুবনের দিকে ধাবিত হলেন।* *তৎসহ কুটিলা চলিল।* *পদকর্তা বললেন হে গোবিন্দ!আয়ান যেভাবে গর্জন করতে করতে আসছে,তাতে মনে হয় রাধার সব কুল নষ্ট হয়ে যাবে।* *তুমি রাধার কুল ও ঘর বাঁচাও।* *অন্তর্য‍্যামী গোবিন্দ অন্তরে সবকিছু জানতে পারলেন।* *রাধা,গোবিন্দের কাছে বললেন,বঁধূ এখন আমার কি হবে?* *তুমি একটি ব‍্যবস্থা কর।* *গোবিন্দ বললেন,রাধে!কোন চিন্তা করবে না,মা যোগমায়া সকল ব‍্যবস্থা করবেন।* *মা যোগমায়াকে স্মরণ করে, যোগমায়া গোবিন্দকে কালীরূপে সজ্জিত করলেন।* *এবং কুঞ্জ মন্দিরে কালীরূপে দাঁড়ালেন।*
*🌻সপ্তম পদ🌻*
*কৃষ্ণকালী রূপ দেখি,আয়ান হৈল সুখী,*
        *কুটিলারে ক্রোধ করি কয়।*
*তুইত কুটিল মতি,ঘর ভাঙ্গাইতে যুক্তি,*
       *এ বুদ্ধি দিলেক কেবা তোয়*
    *স্ত্রী হত‍্যা পাতকে করি ভয়।*
*তেই তোর প্রাণ বাঁচে,নতুবা চন্ডীর কাছে,*
      *নহে বলি দিতাম নিশ্চয়।।*
*কুটিলার হৈল ডর,ভয়ে কাঁপে থর থর,*
       *ঘর মুখে গেল পলাইয়া।*
*আয়ান হইল শান্ত,ছুটিল আয়ানের ভ্রান্ত,*
      *কহে কিছু দৈন‍্য করিয়া।।*
*কে বলে রাই কলঙ্কিনী,সতী কুলের শিরোমণি,*
      *দেবী পূজি মোরে কৈল ধন‍্য।*
*শ্রীচৈতন‍্য দাস ভাষ্র,গলে লগ্নকৃত বাসে,*
      *কালীকারে করে কিছু দৈন‍্য।।*
*🌻সপ্তম পদের ব‍্যাখ‍্যা🌻*
*আয়ান ঘোষ নিধুবনে এসে দেখলেন,নিধুবনের কুঞ্জমন্দিরে কল‍্যাণময়ী মা কালী দাঁড়িয়ে আছেন।* *আর রাই বিনোদিনী সেই কালীমন্দিরে বসে একাগ্রচিত্তে কালীমায়ের পূজো করছেন।* *এই দৃশ্য দেখে আয়ান, কুটিলার প্রতি অত‍্যন্ত ক্রোধান্বিত হলেন আর বললেন,তোর মত কুটিলমতি মেয়ে এই জগতসংসারে নেই।* *কি করে,কেমন করে কারো ঘর ভাঙ্গতে হয় তা তুই ভালই জানিস।* *কারো ভাঙ্গা ঘর জোড়া দিতে যখন পারবি না, কেন?ঘর ভাঙ্গতে যাস?* *তুই যদি নারী না হইতি,তোকে অসি দিয়ে বধ করতাম,* *কারণ নারী হত‍্যা মহাপাপ।* *তাই তোকে বধ করলাম না।* *তোকে প্রাণে বাঁচিয়ে রাখলাম।* *(এই নারী হরণ করে রাবণ সবংশে বিনাশ হয়েছিল, নারীর কেশ স্পর্শে কৌরব বংশ ধ্বংস হয়েছিল, নারী মাতৃ স্বরূপা,মন থেকে কুটিলতা দূর কর,ভালবাসতে শেখ।* *কুটিলা দাদার এইসব কথা শুনে ভীষণ ভয় পেয়ে সেখান হতে পালিয়ে গেল।*
*শান্ত কালী মূর্তি দর্শন করে আয়ান শান্ত হলেন, কারণ আয়ান শাক্তদেবীর সাধক।* *মা কালীকে ভক্তিভরে প্রণাম করে আয়ান রাধাকে বললেন,কে বলে তোমায় কলঙ্কিনী?* *যারা তোমায় কলঙ্কিনী বলে তারাই কলঙ্কের সঙ্গে জড়িত।**তুমি তো সতী কুলের শিরোমণি,তোমার মত সতীনারী ব্রজে আর কেহ নাই।* *রাধে!আমার অত‍্যন্ত ভাল লাগল যে,তুমি নিধুবনে এসে আমার আরাধ‍্য দেবীর আরাধনা করছ,পূজো করছ,ধন‍্য ধন‍্য সতীনারী।*
*🌻অষ্টম পদ 🌻
*নিজ ইষ্টদেবী আয়ান দেখি।*
*প্রেমে পুলকিত সজল আঁখি।।*
*মনের আবেগে দেবীর কাছে।*
*করতালি দিয়া আয়ান নাচে।।*
*হাসিছে কাঁদিছে যাই গড়াগড়ি।*
*পুনঃপুনঃ উঠি মায়ে করজোড়ি।।*
*স্তব স্তুতি করি কহিছে যা।*
*শুনিতে শিহরি উঠিছে গা।।*
*সচন্দন পুষ্প পাত্রেতে দেখি।*
*আয়ান মনেতে হইলা সুখী।।*
*কৃষ্ণকালী পদে অঞ্জলী দিল।*
*অষ্টাঙ্গে পড়িয়া প্রণতি করিল।।*
*দেবীর আগেতে মাগি বিদায়।*
*রাধার অগ্রেতে দাঁড়াঞা কয়।।*
*মোর কুলে তুমি রাখিলা যশ।*
*যেহেতু চন্ডীকা তোমার বশ।।*
*না জানিয়া লোকে ঘোষয়ে দোষ।*
*তা শুনিয়া তুমি না কর রোষ।।*
*দুষ্ট লোকে যত কহয়ে মন্দ।*
*আজু হৈতে মোর ঘুচয়ে ধন্দ।।*
*যা বলুক বলে গোকুলের লোকে।*
*সে সকল দোষ ক্ষেমিবা মোকে।।*
*এতবলি আয়ান ঘরেতে গেল।*
*শুনিয়া রাধা হরষিত ভেল।।*
*বঁধূর গলেতে ধরিলা রাই।*
*হাসি হাসি দুহেঁ বদন চাই।।*
*নিধুবনে কৃষ্ণকালী বিলাস।*
*কবহুঁ হেরব চৈতন্য দাস।।*
*🌻 নিধুবনে কৃষ্ণকালী এখানেই রহিল,ভুল মার্জনীয়🌻*
 ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
👇👇👇এই লিখনী 📚 PDF 📚 ক্লিক করুন 👇👇👇
 ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧               
 ✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️
নিবাস- বাঁশবাড়ী, কীর্তন মন্দিরের পাশে, পোঃ- বাঁশবাড়ী, থানা- ইংরেজ বাজার, জেলা- মালদহ, পশ্চিমবঙ্গ, পিন কোড- ৭৩২১০১।
 ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏
আমায় দেওয়া ওনার এই অমূল্য লিখনী সেবা, তা সকলের মধ্যে প্রকাশ করলাম। ওনার এই অমূল্য দান সমগ্র বৈষ্ণব সমাজ অনন্তকাল মনে রাখিবে।
🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
    *••••┉━❀꧁ 🙏 রাধে রাধে 🙏 ꧂❀━┅••••* 
                   শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য প্রভু নিত্যানন্দ
              হরে কৃষ্ণ হরে রাম শ্রীরাধেগোবিন্দ।।
  *••••┉━❀꧁ 🙏 জয় জগন্নাথ 🙏 ꧂❀━┅••••*
              হরে কৃষ্ণ হরে কৃষ্ণ কৃষ্ণ কৃষ্ণ হরে হরে
              হরে রাম হরে রাম রাম রাম হরে হরে॥
  *••••┉━❀꧁ 🙏 জয় রাধাকান্ত 🙏 ꧂ ❀━┅••••*
   💮❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀💮
   💮❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀💮
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧






৪৯. নিধুবনে কৃষ্ণকালী পর্যায় 🌷 গৌরচন্দ্রিকা 🌼 শ্রীকৃষ্ণ লীলা ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📝 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉http://mrinmoynandy.blogspot.com/2022/06/httpmrinmoynandy_28.html


  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
             ꧁ ৪৯. নিধুবনে কৃষ্ণকালী পর্যায় 
       এই লিংকে 👇👇👇🙏👇👇👇 ক্লিক করুন 
            ꧁ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ ꧂
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
 ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
            ꧁ শ্রীকৃষ্ণ লীলা 🙏 সূচীপত্র ꧂
 ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧ 
 *🌻নিধুবনে কৃষ্ণকালী পর্যায়, গৌরচন্দ্রিকা🌻*
^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^
*সুরধূনী তীরে এক,উপবন হেরইতে,*
     *রসময় গৌর কিশোর।*
*মাঝ দিনহি তঁহি,হোয়ল উপনীত,*
     *পূরবহি ভাবে বিভোর।।*
   *অপরূপ গৌরাঙ্গ বিলাস।*
*গদাধর মুখ হেরি,থির নয়ন করি,*
      *ছোড়ই দীর্ঘ নিশ্বাস।।*
*খেনে পুন কহই,গদাধর পানে চায়,*
      *অন্তরে না হবি তরাস।*
*দশনে চাপি রসনা,নয়ন খর তাড়ই,*
     *খিল খিল অট্ট অট্ট হাস।।*
*চতুর ভকতগণ,পুনঃপুনঃ পুছই,*
      *কিয়ে ভেল আজুক বাত।*
*শ্রীচৈতন‍্য দাস,মরম নাহি সমুঝিয়ে,*
      *রোয়ত শিরে দেহ হাত।।*
^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^
      *অপরূপ গৌরাঙ্গ বিলাস।*
*অদ‍্য ভাবনিধি গৌরসুন্দর সম্বন্ধে সামান্য কিছু কথা আলোচনা করব।* *কেন না,এই দয়ালঠাকুর, প্রেমের ঠাকুর আমাদের এই মানব জনমের সার্থকতা এনেছেন।* 
*যদি গৌর না হইত,কিমেনে হইত,*
      *কেমনে ধরিতাম দে।*
*রাধার মহিমা,প্রেমরস সীমা,*
     *জগতে জানাত কে।।*
*ব‍্যপদেশে (সূত্র,ছল বা আছিলায়)বলা হয়েছে শ্রীকৃষ্ণ, শ্রীমন্মহাপ্রভুর রূপ ধারণ করে প্রেমভক্তি প্রবর্তিত করেছেন,* *শ্রীমন্নিত‍্যানন্দ প্রভুর দ্বারা গৌড়দেশে এবং শ্রীরূপ-সনাতনাদি দ্বারা বৃন্দাবনাদি পশ্চিমাঞ্চলস্থ স্থানসমূহে প্রেমভক্তি প্রচার করাবার এবং শ্রীরূপ-সনাতনাদি দ্বারা বৃন্দাবনের লুপ্ততীর্থ উদ্ধার,বিগ্রহ সেবা প্রচার,বহু বেষ্ণবগ্রন্থ প্রণয়ন করাবার বন্দোবস্ত করেছেন।* *আর প্রতি বৎসর রথযাত্রা উপলক্ষ্যে গৌড়ীয় বৈষ্ণবগণ নীলাচলে আসিলে তাঁদের সঙ্গে নৃত‍্যকীর্তন ও শ্রীকৃষ্ণকথা প্রসঙ্গে অতিবাহিত করেছেন।* *১৮হতে৪৫ পয়ারে শেষ ১২ বৎসরের লীলার পরিচয় দেওয়া হয়েছে।* *এই ১২ বৎসরকাল মহাপ্রভু বেশী সময় রাধাভাবে ভাবিত হয়ে মহাপ্রভুর কেবল শ্রীকৃষ্ণবিরহ স্ফূর্তিতে অতিবাহিত করেছেন।* *এই সময়কালে মহাপ্রভুর বাহ‍্যস্ফূর্তি প্রায় ছিল না বললেও বোধহয় অত‍্যু্যুক্তি (অতিরঞ্জিত বা বাড়িয়ে বলা)হবে না।* *মহাপ্রভুর অবতারের দু'টি উদ্দেশ্য,প্রথমতঃ জগতে প্রেমভক্তি প্রচার,দ্বিতীয়তঃ আশ্রয়রূপে প্রেমভক্তির আস্বাদন।*
*মহাপ্রভুর সন্ন‍্যাসের চব্বিশ বৎসরের লীলা আলোচনা করলে বুঝা যায়,দু'টি উদ্দেশ্যই সিদ্ধির পথে ক্রমশঃ অতি দ্রুতবেগে উৎকর্ষ লাভ করেছে এবং অতি অল্প সময়ের মধ্যেই (বার বৎসরের মধ্যেই ) সিদ্ধির চরমসীমায় উপনীত হয়েছে।* *প্রথম ছয় বৎসর (মধ‍্যলীলা)মহাপ্রভু নিজে নানা জায়গায় গিয়ে উপদেশাদি এবং স্বীয় আচরণের দ্বারা প্রেমভক্তি প্রচার করেছেন, এবং এই প্রচার উপলক্ষ্যে নিজে ভক্তভাবে প্রেমভক্তির আস্বাদনও করেছেন।* *দ্বিতীয় ছয় বৎসরে মহাপ্রভু কোথাও যান নাই,নীলাচলে থেকেই আদেশ,উপদেশ ও আচরণের দ্বারা,অন‍্যত্র প্রচারক পাঠিয়ে প্রেমভক্তি প্রচার করেছেন।* *শেষ বারবৎসর আদেশ-উপদেশাদি বিশেষ নেই,প্রেমভক্তি হৃদয়ে আবির্ভূত হলে,ভক্তের বাহ‍্য অনুষ্ঠানে, এমনকি প্রচারের বাসনা ও চেষ্টা পর্যন্ত কি রকম ভাবে অন্তর্হিত হয়ে যায়,প্রেমভক্তির গাঢ়তমরসের নিবিড়তম আস্বাদনে ভক্ত কি রকম বিভোর হয়ে থাকেন,* *প্রেমভক্তির প্রভাবে ভক্তের মনে ও দেহে কত কত অত‍্যদ্ভুত বিকার আপনা-আপনি উদ্ভুত(উৎপন্ন)হয়ে,গজযুদ্ধে ইক্ষুবনের মত ভক্তের দেহমনকে কিভাবে বিদলিত (সম্পূন্ন পরাজিত) করে থাকে,মহাপ্রভু শেষ দ্বাদশ বৎসরে তাহাই জীবকে দেখালেন।* *এবং তাদের দ্বারাই মহাপ্রভু প্রেমভক্তির প্রতি আপামর সাধারণের চিত্তকে আকৃষ্ট করলেন।* *মধ‍্যলীলার প্রথম ছয় বৎসর মহাপ্রভুর প্রেমভক্তির আস্বাদন ইতস্ততঃ(এদিক ওদিক) গমনাগমন,আদেশ,উপদেশ ও বিচারাদি দ্বারা (লৌকিক দৃষ্টিতে)বিশেষরূপে বাধাপ্রাপ্ত হয়েছে বলেই মনে হয়।* *দ্বিতীয় ছয় বৎসরে ইতস্ততঃ গমনাগমন না থাকায় আস্বাদনের বিঘ্ন অনেক পরিমাণে তিরোহিত(না থাকার মতই) হয়েছে বটে।*

 *গদাধর মুখ হেরি,থির নয়ন করি,*
      *ছোড়ই দীর্ঘ নিশ্বাস।*
*🌻সুরধূনীর তীরের পাশে উপবনে প্রবেশ করে মহাপ্রভুর মধ্যে আর শচীনন্দন নহে,তিনি যশোদা নন্দনে পরিণত হয়েছেন।* *আর গদাধরকে দর্শন করে সেই ব্রজের ভাবে বিভাবিত হয়েছেন,রাধাই গদা।* *শ্রীকৃষ্ণের শক্তি সংখ‍্যায় অনন্ত।এই অনন্তশক্তির মধ্যে তিনটি প্রধান =চিচ্ছক্তি,মায়াশক্তি ও জীবশক্তি।* *চিচ্ছক্তির অপর নাম অন্তরঙ্গা শক্তি,মায়াশক্তির অপর নাম বহিরঙ্গা শক্তি,এবং জীবশক্তির অপর নাম তটস্থাশক্তি।* *শ্রীকৃষ্ণের স্বরূপ সৎ,চিৎ ও আনন্দময়।* *সুতরাং এই তিন অংশের সংশ্রবে তাঁর স্বরূপশক্তিও তিনরূপে প্রকাশ পান।* *(আনন্দাংশে হ্লাদিনী,সদংশে সন্ধিনী।* *চিদংশে সংবিৎ যারে "জ্ঞান"করি মানি।।)*স্বরূপ শক্তির* *তিন রকমের অভিব‍্যক্তির কথা বলা হয়েছে।* *তাদের নাম হ্লাদিনী,সন্ধিনী ও সংবিৎ।* *সচ্চিদানন্দ-পূর্ণ শ্রীকৃষ্ণের সৎ-অংশের শক্তির নাম সন্ধিনী অর্থ‍্যাৎ শ্রীকৃষ্ণের চিচ্ছক্তি যখন তাঁর সৎ-এর দিক দিয়া প্রকাশ হয়,সত্তা সম্বন্ধনীয় ব‍্যাপারে আত্মপ্রকাশ করে,* *তখন তাকে বলে সন্ধিনী শক্তি।* *শ্রীকৃষ্ণের চিৎ-অংশের শক্তির নাম সংবিৎ, শ্রীকৃষ্ণের চিচ্ছক্তি যখন তাঁর চিৎ এর দিক দিয়া প্রকাশ হয়,চিৎ সম্বন্ধনীয় ব‍্যাপারে আত্মপ্রকাশ করে,তখন তাহাকে সংবিৎশক্তি বলে।* *আর তাঁর আনন্দাংশের নাম হ্লাদিনী,অর্থ‍্যাৎ চিচ্ছক্তি যখন আনন্দের দিক দিয়া প্রকাশ হয়,আনন্দ সম্বন্ধনীয় ব‍্যাপারে আত্মপ্রকাশ করে তখন তাকে হ্লাদিনী শক্তি বলে।* *যে শক্তি শ্রীকৃষ্ণকে আনন্দ দেন,তাঁর নাম হ্লাদিনী।* *এই হ্লাদিনীর সার প্রেম,প্রেমের সার মহাভাব,সুতরাং যে পরমাশক্তি সচ্চিদানন্দমময় এবং শৃঙ্গার রসরাজময় মূর্তিধর শ্রীকৃষ্ণকে ঐ শৃঙ্গার-রসানন্দ অনুভব করান।* *তিনিই এই মহাভাব স্বরূপা মহাভাবের মূর্তরূপ রাধা।* *তাই আজ গদাধরকে দেখে সেই রাধার কথা মনে পড়েছে।* *মহাপ্রভু নিজেকে স্থির করে গদাধরকে দর্শন করে যেন দীর্ঘ নিশ্বাস ছাড়লেন।*গদারূপী রাধাকে দর্শন করে আনন্দের সীমা নাই।*
*আখর=আনন্দের সীমা নাই,গদাধরকে দর্শন করে,আনন্দের সীমা নাই।* *আমার,ভাবনিধি গোরাচাঁদের, আনন্দের সীমা নাই।*
*গদাধর মুখ হেরি,থির নয়ন করি,*
        *ছোড়ই দীর্ঘ নিশ্বাস।*
*কিন্তু সম্পূর্ণরূপে তিরোহিত হয়নি।* *প্রচারকদের প্রতি ও সমাগত ভক্তবৃন্দের প্রতি আদেশ- উপদেশাদি ও আস্বাদনের কিছু বিঘ্ন হয়েছিল বলেই মনে হয়।* *শেষ দ্বাদশ বৎসর ইতস্ততঃ গমনাগমন নাই,* *প্রচারকদের প্রতি আদেশ উপদেশের হাঙ্গামা নাই,গমনাগমন নাই,আছে কেবল প্রেমভক্তির আস্বাদনের নিরবচ্ছিন্ন সুযোগ,আর নিরবচ্ছিন্ন আস্বাদন,* *এই সময়ে অন্তরঙ্গ ভক্তদের সঙ্গে যে আলাপ আচরণ,তাহাও আস্বাদনের বৈচিত্রীবিশেষ,এই আলাপ আচরণ আস্বাদনীয় বিষয় হতে মনকে অপসারিত করতেন না,* *বরং আস্বাদনীয় রসের সমুদ্রে প্রবল তরঙ্গেই উত্থাপিত করত মাত্র।* *এইরকমভাবে প্রেমভক্তির আবির্ভাবের সঙ্গে সঙ্গে আস্বাদনের মধুরতা,গাঢ়তা ও সর্ব বিস্মারকতা কি ভাবে উৎকর্ষ লাভ করে;মহাপ্রভু স্বীয় লীলায় তাহাই দেখিয়ে গেলেন।* *অপরূপ গৌরাঙ্গ বিলাস।* *নিজে আচরণ করে ভক্তদের শেখালেন।*
*🌼 পদে ফিরে আসি🌼*
*সুরধূনী তীরে এক,উপবন হেরইতে,*
      *রসময় গৌর কিশোর।*
*মাঝ দিনহি তহিঁ,হোয়ল উপনীত,*
     *পূরবহি ভাবে বিভোর।।*
*🌻অদ‍্য শ্রীবাস অঙ্গনে ভক্তসঙ্গে দ্বিপ্রহরে না-সংকীর্তন নহে,শ্রীকৃষ্ণকথা রসাস্বাদন চলছে,শ্রীমনমহাপ্রভু নিজ ভঙ্গী দ্বারা অর্থ‍্যাৎ উর্ধনয়ন রসাস্বাদনে ভরপুর অবস্থা।* *এই কৃষ্ণকথা রসাস্বাদনের মাঝে ভাবনিধি গৌরসুন্দর শ্রীবাস অঙ্গন ত‍্যাগ করে সুরধূনীর তীরে এসে,* *তীর ধরে যেতে যেতে একটি উপবন দেখতে পেয়ে মুখে কি যেন বিড় বিড় শব্দ করতে করতে সেই উপবনের মধ্যে প্রবেশ করলেন।* *কোন সময়? না,মধ‍্যাহ্ন সময়ে।* *বনে প্রবেশ করে এদিক ওদিক দেখতে লাগলেন, কারো সঙ্গে কোন কথা বলছেন না।* *মহাপ্রভুর এই আচরণদেখে সঙ্গের ভক্তগণ বা পার্ষদগণ চমকিত হলেন,কি বিষয়বস্তু বুঝতে পারলেন না।*
*সঙ্গে আছেন গদাধর,নরহরি,শ্রবাসাদি অন‍্যান‍্য অন্তরঙ্গ পার্ষদগণ।* *তবে মহাপ্রভুর ভাবটি আজ একেবারেই অন‍্য রকম,যেন মনে হচ্ছে তিনি আর মহাপ্রভু নহেন,তাহলে কি মনে হল?* *হ‍্যাঁ,ব্রজের কেহ।* *এই ভাবটি আজ মহাপ্রভুর এসেছে।*
*কৈছন রাধা প্রেমা,কৈছন মধুরিমা,*
     *কৈছন সুখে তিঁহো ভোর।*
*এ তিন বাঞ্চিত ধন,ব্রজে নহিল পূরণ,*
      *কি করিয়ে না পাইয়া ওর।।*
*ভাবিয়া দেখিনু মনে,শ্রীরাধার স্বরূপ বিনে,*
     *এ বাসনা পূর্ণ কভু নয়।*
*রাধা-ভাব কান্তি ধরি,রাধা-প্রেম গুরু করি,*
     *নদীয়াতে করল উদয়।।*
*আখর=বিভাবিত হ'তে হবে, আশ্রয়-জাতীয় ভাবে, বিভাবিত হ'তে হবে।* *মহাভাব স্বরূপিনীর ভাবে,(আমায়)বিভাবিত হ'তে হবে।*
*খেনে পুন কহই,গদাধর পানে চায়,*
     *অন্তরে না হবি তরাস।*
*দশনে চাপি রসনা,নয়ন খর তাড়ই,*
     *খিলখিল অট্টঅট্ট হাস।।*
*চতুর ভকতগণে,পুনঃপুনঃ পুছই,*
      *কিয়ে ভেল আজুক বাত।*
*শ্রীচৈতন‍্য দাস,মরম নাহি সমুঝিয়ে,*
     *রোয়ত শিরে দেহ হাত।।*
*🌻শ্রীমন্মহাপ্রভু উপবনে প্রবেশ করিয়া পূরবের ভাবে এমনভাবে বিভাবিত হয়েছেন সেই উপবনকে নিধুবন মনে করিয়া সেই ব্রজলীলার স্মরণ হয়েছে,কোন লীলা?হ‍্যাঁ,সেই মধ‍্যাহ্নলীলা নিধুবনে কৃষ্ণকালী।* *মহাপ্রভুর মধ্যে আর বাহ্রজ্ঞান নেই,তিনি ব্রজভাবে বিভাবিত।* *হঠাৎ যেন তিনি রূপ পরিবর্তনে এলেন,আর বারংবার গদাধরের মুখপানে চাহিছেন আর বলছেন,* *তোমরা কেহ ভয় পেও না,সকলেই আমার কাছে থেক।* *বলেই যেন তিনি অট্টহাসি দিলেন।*
*দশনে চাপি রসনা,নয়ন খর তাড়ই,*
     *খিলখিল অট্টঅট্ট হাস।*
*এবারে বাহ‍্যজ্ঞানহীন মহাপ্রভু অন‍্যরূপে প্রকট হলেন,দশনে অর্থ‍্যাৎ দন্ত বা দাঁত,রসনা অর্থ‍্যাৎ জিহ্বা,মহাপ্রভু মা কালীর রূপ ধারণ করলেন।* *মা কালী যেমন জিহ্বা বের করে থাকেন তেমন রূপ।* *সকল ভক্তগণ বলছেন,আজ মহাপ্রভুর কোন ভাব কিছুই বুঝতে পারছি না,আজ যে কেন এমন হল?* *পদকর্তা শ্রীচৈতন‍্য দাস বলছেন,আমিও আজকের এই লীলা মর্ম কিছুই বুঝতে পারলাম না বলিয়া তিনি মাথায় হাত দিয়ে রোদন করছেন।*
*শ্রীচৈতন‍্য দাস,মরম নাহি সমুঝিয়ে,*
     *রোয়ত শিরে দেহ হাত।।*
*🌻গৌরচন্দ্রিকা এখানেই রইল🌻*

*🌻নিধুবনে কৃষ্ণকালী ব্রজলীলা🌻*
*অদ‍্য শ্রীগোবিন্দ প্রাতঃকালে সখাসঙ্গে গোচারণে গেলেন বটে,মনে বড় দুঃখ রয়েগেল।* *কেন?তিনি প্রত‍্যহ যাবটের পথ দিয়েই গোচারণে যান,আজও গেলেন,* *যে উদ্দেশ্য নিয়ে যাওয়া তা পূরণ হল না।*অপরদিকে গোবিন্দ দর্শন না পেয়ে রাধারাণী নিজ কক্ষে ক্রন্দন করছেন,কেন?এমন এক বাস করি তা বলবার নয়,* *জটিলা কুটিলা এঁরা কৃষ্ণ বাদী, কৃষ্ণবাদিনীর ঘরে কি মনের আশা পূর্ণ হয়।* *রাধা যখন ক্রন্দন করছিলেন তখন সখিগণ রাধার কাছে বললেন তোর কি হয়েছে যে তুই অমন করে কাঁদছিস?* *আমাদের বল?* *ওরে সখীগণ!প্রাতে যদি আমার প্রাণবল্লভের বদন দর্শন হয়,তাহলে সারাদিন আমার আনন্দে কাটে,কিন্তু---,* *ও বুঝে গেছি সখীগণ বললেন।* *কোন চিন্তা করিস না আমরা কোন একটি ব‍্যবস্থা নিব।* *অপরদিকে গোবিন্দের আর গোচারণ ভূমিতে থাকতে মন চাইছে না,* *সুবলের সঙ্গে যুক্তি করে দাদা বলরামকে বললেন,দাদা!আমি আর সুবল বন ভ্রমণ করব,তুমি কিছুক্ষণ দেখ,* *বলেই বন ভ্রমণ করতে করতে নিধুবনে এলেন।* *নিধুবনে মনে আনন্দ ধরে না।* *নিধুবনে বসে,*
*🌻রাধা রাধা বলি পূরিল বেণু।*
*শুনি ধ্বনি ধনি অবশ তনু।।*
*বংশীধ্বনি শ্রবণ করে পুন রোদন করতে লাগলেন,রোদন অবস্থায় রাধা সখিদের বললেন,বল সখি এখন আমি কি করব?* *কেমন করে আমার প্রাণবঁধূকে দর্শন করব?* *🌻সখীগণ কহে শুনহ রাই।* *দেবতা পূজিতে চলহ যাই।।* *এবারে সখীদের সঙ্গে শলা পরামর্শ করে শাশুড়ী জটিলাকে বললেন,মা আমার মনে একটি বাসনা জেগেছে,* *আপনার পুত্রের কল‍্যাণের জন্য আমি কালীমাতার পূজো করব,যদি অনুমতি দেন।* *জটিলা ভাবলেন,আয়ান যে মাকে পূজন করে, বৌমাও সেই ইচ্ছে হয়েছে, বৌমার সুমতি ঘটেছে, এই কথা মনে করে জটিলা অনুমতি দিলেন।* *কিন্তু ঘরে আরেকজন আছে কুটিলা আড়াল থেকে সব কথা শুনে মনে মনে বলছে "কালী পূজা করবে না কালুয়ার পূজা করবে?*
*মনে সন্দের দানা, মাকে আড়াল থেকে বলছে-------------*
*🌻প্রথম পদ🌻*
    *মাগো তোর বৌ বড় সতী।*
*তাই সে বনে,কালার সনে,*
      *থাকে দিবারাতি।*
*কথায়=মন কি বসে গৃহবাসে,*
         *সার করেছে পীতবাসে,*
         *কালো রূপ সে ভালবাসে,*
       *চাই না সোনারপতি।।*
*🌻মা তোর মন খুব উদার বলে তোর বৌমাকে পূজো করবার অনুমতি দিলি,* *কিন্তু আমার মন অন‍্য কথা বলছে,তোর বৌমার মধ্যে নিশ্চয়ই কোন কিন্তু আছে।*
*মা---ঐ----যে কালা ছোড়ার সঙ্গে বনে দেখা করবার জন্য ছলা করছে।* *মা------আমার মন বলছে।* *তোর সতী বৌয়ের ঘরে মন বসে না,আমার দাদার মত পতি,তোর সতী বৌয়ের পছন্দ না মা,আর তুই অনুমতি দিলি?*
*আখর=স্বভাব ভাল না,তোর সতী বৌয়ের,স্বভাব ভাল না।* 
*তাই সে বনে,কালার সনে,থাকে দিবারাতি।।*
*রাধার চরিত হেরে,আগে বলেছিলাম তোরে,*
*দেখবি একদিন বৌয়ের তরে হবে অখ‍্যাতি।*
*আয়ান দাদা ঘরে এলে,সকল কথা বলবি তারে,*
*পীতাম্বর কহে ছাড়িস নারে কৃষ্ণপদে মতি।।*
*🌼মা,ওমা!সেদিনের কথা মনে নাই তোর?* *তোর বৌয়ের চরিত আমার খুব ভালো জানা আছে,*
*দেখিস মা,একদিন এমন হবে যে,*
*তোর সতী বৌয়ের জন্য আমাদের নাক,কান কাটা যাবে,চারিদিকে অখ‍্যাতি ছড়াবে।*( *মা জটিলা* *মনে* *মনে বলছেন,ওরে কুটিলা,তুই যে কত বড় সতী আমার জানা আছে,তুই* *যেখানে যেখানে যাবি,আর কিছু হোক আর না হোক আমার নাক,কান কাটা যাবে।)* *কুটিলা বলছে দাদা ঘরে ফিরুক আমি সব কথা বলব,* *পদকর্তা পীতাম্বর বলছেন, কুটিলা,যাঁরা শ্রীকৃষ্ণপদে সর্বস‍্য দান করেছেন,তাঁদের কোন ভয় নেই গো।*

*🌻কুটিলা তার দাদাকে বলছে🌻* *🌼🌼দ্বিতীয় পদ🌼🌼*
*ওগো দাদা---------বলব কি তোরে।*
*শ্রীরাধার গুণের কথা জানে ব্রজপুরে।।*
*সকাল বেলা জলকে গেলে,*
*ঘরকে আসে সন্ধ‍্যেবেলে,*
*দাঁড়িয়ে থাকে কদমতলে,*
*কালায় দেখবার তরে।।*
*বাঁশীর সাড়া পেলে পরে,*
*)আর কি রাইকে রাখে ঘরে,*
*গৃহ কার্য‍্য ফেলি দূরে,*
*বনে গমন করে।*
*শ‍্যামের প্রেমে আছে বাঁধা,*
*মানে না সে কারো বাধা,*
*কালো ছোড়ার সঙ্গে দাদা কাননে বিহরে।।*
*চল দাদা আমার সনে,*
*দেখাইব নিধুবন,*
*পীতাম্বর বলে নিষ্ঠামনে ভজ বংশীধরে।।*
*🌻কথায় আছে,যার যেমন ভাব,তার তেমন লাভ,তাইনা?*
*তার নামটি কুটিলা,তার ভাবটিও কুটিল।* *তাই তার ভাবনায় যা এসেছে তাই বলছে।*
*ওগো দাদা!বলব কি তোরে।*
*শ্রীরাধার গুণের কথা জানে ব্রজপুরে।।*
*🌻সৎসঙ্গে স্বর্গ বাস,অসৎসঙ্গে সর্বনাশ।* *কুটিলা নিজ মত তার দাদার কাছে প্রকাশ করেছে।* *শ্রীরাধার গুণের কথা কুটিল ভাবনা দ্বারা দর্শন না করে যদি সরল,ভক্তিমতি দ্বারা দর্শন করত,*
*তাহলে তার কূচিন্তন,কূভাবনা তার হৃদয়ে বাসা বাঁধত না।* *তাই বলেছে,যার যেমন ভাব,তার তেমন লাভ।* *শ্রীরাধার শ্রীচরণ পাবার আশায় কত সাধু,বৈষ্ণব,মুনি,ঋষি জন্ম জন্মান্তর তপ করে চলেছেন,আর কুটিলা,* *জয় শ্রীরাধে! মুনি ঋষিগণের আর যাইহোক ধর্ম অর্থ কাম মোক্ষতাঁরা চান না,এই চতুবর্গ তাঁরা তুচ্ছ মনে করেন।* *একমাত্র কামনা, যুগলচরণ সেবা।* *বর্তমানে কত বড় বড় কোটিপতি জনেরা সর্বস‍্য ত‍্যাগ করে শ্রীরাধার শ্রীচরণ পাবার আশায় শ্রীবৃন্দাবনে জয়রাধে শ্রীরাধে বলে সামান্য জীবনযাপন করছেন।* *যার যেমন ভাব,তার তেমন লাভ।* *( বাকী কথা আপনারা বলবেন পদের।)*
*^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^*
*🌻নিধুবনে কুঞ্জের ভিতরে রাধা-গোবিন্দ বসে আছেন।* *আর কৃষ্ণ সখা সুবল বাহিরে ঘোরাফেরা করছেন,এমন সময় দেখা গেল আয়ান ঘোষ ও কুটিলা নিধুবনের দিকে আসতে দেখে সুবল,* *কৃষ্ণকে বললেন,ঐ দেখা যায় আয়ান ও কুটিলা আসছে,সখা সাবধান।* *কৃষ্ণ মনে ভাবলেন আয়ান তো কালী ভক্ত,* *তাই কৃষ্ণ তৎক্ষণাৎ নিজ রূপ আবরণ করে কালীরূপ ধারণ করলেন।* 
*কৃষ্ণ কালী হলেন নিধুবনে।*
*বিপিন হল আলো রূপের কিরণে।।*
*চতুর্ভূজা এলোকেশী,দিগম্বরী করে অসি,*
  *লোলজিহ্বা অট্টহাসি করাল বদনে।*
*শিরেতে কীরিট শোভা,প্রভাকর জিনি প্রভা,*
  *মুন্ডমালা গলে দুলিছে সঘনে।।*
*কালীর চরণতলে,রক্তজবা বিল্বদলে,*
   *পূজে রাধা কুতূহলে অভয়ার চরণে।*
*আয়ান আসিয়া দেখে,রাধিকা পূজে কালিকাকে,*
   *অঙ্গপূর্ণ হয় পুলকে লোটায় ধরাসনে।।*
*কৃষ্ণকালীর পদকমল,দাস পীতাম্বর সাধে কেবল,*
 *দুরন্ত কৃতান্ত কবল এড়াতে নিদানে।।*
*🌻আয়ান নিজ নয়নে তার ইষ্টদেবীকে দর্শন করে ও রাধিকাকে কালীপূজো করতে দেখে অত‍্যন্ত মুগ্ধ হলেন,এবং কালিকার চরণতলে সাষ্টাঙ্গে লুটিয়ে পড়লেন।* *তার পর তার বোন কুটিলাকে বলছেন।*
    *কি কথা কহিলি ঘরে।*
*রাধা কালার সনে,দিবানিশি ভ্রমে বনে,*
       *পরিচয় দিলি মোরে।।*
*দেখাব বলিয়ে,সঙ্গে এলি ধেয়ে,*
       *লয়ে যত সকলেরে।*
*কৈ কালা কালী হেরি,*
*অসি ধরা নহে বংশীধারী,*
*দিগম্বরী বিরাজ করে।।*
*আমার রাধিকা,পূজিছে অম্বিকা,*
      *কলঙ্কিনী বলিস তারে।*
*চেয়ে দ‍্যাখ মায়ের আগে,*
*বসে আছে সমাধি যোগে,*
*বাহ‍্য জ্ঞান গেছে দূরে।।*
*শ্রীরাধার গুণে,হেরিলাম নয়নে,*
      *ভয়হারা অভয়ারে।*
*ভজ কৃষ্ণ কালী,কালের মুখে কালি,*
      *নিয়ে যাবে ভবপারে।।*
*🌻আয়ান সমস্ত কিছু নিজ নয়নে দেখে,রাধার প্রতি বিশ্বাস বেড়ে গেল।* *সঙ্গে মা ও বোনকে ভৎর্সনা করতে লাগলেন,আয়ানের কথা সহ‍্য করতে না পেরে,নিজেরা ভুল প্রমাণিত হল জেনে চুপকরে নিধুবন হতে পলায়ন করল।* *আর আয়ান,*
   *জয় জয় জগৎ জননী।*
*যম ভয়হর মা ত্রিগুণধারিণী।।*
*ভৈরব ভবানী ভীমা,অন্নদা অম্বিকা উমা,*
 *শিব সীমান্তিনী শ‍্যামা শ্মশান বাসিনী।*
*বিশ্বরূপা বিশ্বেদরী,পরমা পরমেশ্বরী,*
   *দেবারাধ‍্য দিগম্বরী দনুজ-দলনী।।*
*আদ‍্যাশক্তি মহামায়া,কে বুঝে গো তব মায়া,*
   *নিজগুণে কর দয়া করালবদনী*
*কৃষ্ণকালীর যুগল চরণ,*
*দাস পীতাম্বর করে সাধন,*
*ভব-ভয়করবে তারণ তারা ত্রিনয়নী।।*
*🌻আয়ান কৃষ্ণকালীর সামনে বসে মায়ের স্তব করতে লাগলেন।*
*🌻 বলছেন🌻* *ওহে আয়ান কি কব তোমারে।*
*তব তুল‍্য ভাগ‍্যবান কে আছে সংসারে।।*
*হেন রমণী ধনে,পেয়েছ বহু সাধনে,*
     *তুমি ধন‍্য এ ভূবন ভিতরে।*
*না বুঝিয়া তব তত্ত্ব,অপবাদ দিয়েছি কত,*
   *অপরাধে মুক্ত কর আমা সবাকারে।।*
  *কার্য‍্য দেখে গেল জানা,*
  *রাধার গুণের নাই তুলনা,*
*পীতাম্বর বলে সাধন বিনা না পাবি রাধারে।।*
*^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^*
*আয়ান পূর্ব জন্মে কে ছিলেন?*
*কি এমন কর্ম করেছিলেন যে রাধারাণীকে পত্নীরূপে পেয়েছিলেন?*
*🌻পূর্বে আয়ান বা অভিমন‍্যু ছিলেন এক ব্রাহ্মণ নন্দন,তাঁর নাম ছিল সৌম‍্যমুনি।* *এই মুনির নাম আমি ভক্তের নিকট পেয়েছি,শোনা কথা।* *সেই মুনি মনে মনে সঙ্কল্প করলেন যে,আমি বিষ্ণুর আরাধনা করে তাঁকে তুষ্ট করে,তাঁর কাছ হতে তাঁর জায়া (পত্নী)কে লাভ করব।* *তিনি উৎকট তপ শুরু করলেন,গ্রীষ্মকালে অগ্নি প্রজ্বলিত করে অর্থ‍্যাৎ গোলাকার অগ্নিকুন্ডর মধ‍্যে বসে তপ করতে লাগলেন।*
*শীতকালে হিমসরোবরে দাঁড়িয়ে তপ করতে লাগলেন।* *এইভাবে সহস্র বছর তপ করতে করতে প্রায় অন্তকাল এলো।* *শ্রীবিষ্ণু আর থাকতে পারলেন না,এসে বললেন তোমার তপে তুষ্ট হয়েছি বর চাহ?*
*বিষ্ণু বলে বর মাগো বিপ্র মহাশয়*
*চক্ষু মেলি দেখে তবে বিপ্রের তনয়।।*
*🌻তারপর বিপ্রপুত্র সৌম‍্য নারায়ণকে দেখে প্রণাম করে স্তব স্তুতি করলেন,* *বললেন আমার জীবন সফল,আমি শ্রীহরির দরশন পেলাম।* *শ্রীহরি বললেন আর বিলম্ব কেন বর মাগো?* *তখন সৌম‍্য বললেন----------*
*বর যদি দিবে গো মোরে কৃপাবান হৈয়া।*
*বর দেহ তব প্রিয়া হোক মোর জায়া।।*
*🌻তখন শ্রীহরি বললেন,ইহা ছাড়া অন‍্য বর চাহ,এই বর সম্ভব নহে।*
*এইকথা বলে শ্রীহরি অন্তর্ধান হলেন।কাল প্রাপ্তে দ্বিজের পতন হল।* *পুনঃ বিপ্রকূলে জন্মিলেন ও শিশুকাল হতে তপস‍্যা শুরু করলেন।* *পুনঃ শ্রীহরি এসে বললেন আমি তোমার তপে তুষ্ট বর চাও।* *বিপ্র বললেন-----*
*তুষ্ট হৈয়া মোরে দেহ এই বর।*
*বিপ্র বলে লক্ষ্মী মোরে দেহ গদাধর।।*
*প্রভু কহে যাহ বিপ্র দিনু ঐ বর।*
*ব্রজপুরে গোপকুলে জন্মিবে সত্বর।।*
*আমি হব অবতার হেতু ব্রজলীলা*
*ভানু পুত্রী তব জায়া হৈবে কমলা।।* *🌻ভানু পুত্রী বলিতে বৃষভানু কন‍্যা।* *বর দিয়া শ্রীহরি বৈকুন্ঠে গমন করলেন,এবং কমলাকে সকল কথা বললেন।* *সকল কথা শুদে কমলা চরম ক্রোধান্বিত হলেন ও রোদন করতে লাগলেন।* *তারপর হরি ধড়ার অঞ্চল দিয়ে কমলার নেত্রজল মুছিয়ে বললেন,*
*প্রেয়সী তুমি কোন চিন্তা কোরো না,* *আয়ানজায়া হবে বটে,কিন্তু গোপনে ফৃন্দাবনে গিয়ে কেবল তোমার সঙ্গে বিহার করব।* *প্রেয়সী তুমি তো জানো,আমি ভক্তবৎসল,ভক্তের ভক্তি ও নয়নজল দেখলে তাদের মনোবাঞ্জা পূরণ করি।* *এইভাবে কমলাকে প্রবোধ দিলেন।* *আরো বললেন,ডাকার মত করে যদি কেহ ডাকে আমি স্থির হয়ে থাকতে পারি না।* *তৎক্ষণাৎ আমায় ভক্তের নিকট ছুটে যেতে হয়।* *এসব কথা শোনার পর কমলা বললেন-----*
*ভক্তবাঞ্জা পূরাইলে দিলে তারে বর।*
*আমি শাপ দিব তারে শোন গদাধর।।*
*তোমার চরণ বিনে অন‍্য নাহি জানি।*
*তব বাক্য হেতু হব তাঁহার রমণী।।*
*তার সহ কভু মোর না হবে দর্শন।*
*ক্লীব হয়ে জনমিবে সেই তো ব্রাহ্মণ।।*
*🌻কমলা আরো বললেন,তার ঘরে যাব বটে,কিন্তু বৃন্দাবনে তব সনে বিহার করব।* 
*লক্ষ্মী শাপে অভিমন‍্যু ক্লীবত্ব পাইল।*
*শুনি নারায়ণ বড় সন্তুষ্ট হইল।।*
*🌻নিধুবনে কৃষ্ণকালী এখানেই রইল। ভুল ভ্রান্তি মার্জনীয়।🌻*
 ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
👇👇👇এই লিখনী 📚 PDF 📚 ক্লিক করুন 👇👇👇
 ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧               
 ✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️
নিবাস- বাঁশবাড়ী, কীর্তন মন্দিরের পাশে, পোঃ- বাঁশবাড়ী, থানা- ইংরেজ বাজার, জেলা- মালদহ, পশ্চিমবঙ্গ, পিন কোড- ৭৩২১০১।
 ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏
আমায় দেওয়া ওনার এই অমূল্য লিখনী সেবা, তা সকলের মধ্যে প্রকাশ করলাম। ওনার এই অমূল্য দান সমগ্র বৈষ্ণব সমাজ অনন্তকাল মনে রাখিবে।
🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
    *••••┉━❀꧁ 🙏 রাধে রাধে 🙏 ꧂❀━┅••••* 
                   শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য প্রভু নিত্যানন্দ
              হরে কৃষ্ণ হরে রাম শ্রীরাধেগোবিন্দ।।
  *••••┉━❀꧁ 🙏 জয় জগন্নাথ 🙏 ꧂❀━┅••••*
              হরে কৃষ্ণ হরে কৃষ্ণ কৃষ্ণ কৃষ্ণ হরে হরে
              হরে রাম হরে রাম রাম রাম হরে হরে॥
  *••••┉━❀꧁ 🙏 জয় রাধাকান্ত 🙏 ꧂ ❀━┅••••*
   💮❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀💮
   💮❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀💮
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧






৪৯. নিধুবনে কৃষ্ণকালী পর্যায় ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ


  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
             ꧁ ৪৯. নিধুবনে কৃষ্ণকালী পর্যায় 
       এই লিংকে 👇👇👇🙏👇👇👇 ক্লিক করুন 
            ꧁ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ ꧂
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
 ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
            ꧁ শ্রীকৃষ্ণ লীলা 🙏 সূচীপত্র ꧂
 ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧ 
 *🌻নিধুবনে কৃষ্ণকালী পর্যায়, গৌরচন্দ্রিকা🌻*
^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^
*সুরধূনী তীরে এক,উপবন হেরইতে,*
     *রসময় গৌর কিশোর।*
*মাঝ দিনহি তঁহি,হোয়ল উপনীত,*
     *পূরবহি ভাবে বিভোর।।*
   *অপরূপ গৌরাঙ্গ বিলাস।*
*গদাধর মুখ হেরি,থির নয়ন করি,*
      *ছোড়ই দীর্ঘ নিশ্বাস।।*
*খেনে পুন কহই,গদাধর পানে চায়,*
      *অন্তরে না হবি তরাস।*
*দশনে চাপি রসনা,নয়ন খর তাড়ই,*
     *খিল খিল অট্ট অট্ট হাস।।*
*চতুর ভকতগণ,পুনঃপুনঃ পুছই,*
      *কিয়ে ভেল আজুক বাত।*
*শ্রীচৈতন‍্য দাস,মরম নাহি সমুঝিয়ে,*
      *রোয়ত শিরে দেহ হাত।।*
^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^
      *অপরূপ গৌরাঙ্গ বিলাস।*
*অদ‍্য ভাবনিধি গৌরসুন্দর সম্বন্ধে সামান্য কিছু কথা আলোচনা করব।* *কেন না,এই দয়ালঠাকুর, প্রেমের ঠাকুর আমাদের এই মানব জনমের সার্থকতা এনেছেন।* 
*যদি গৌর না হইত,কিমেনে হইত,*
      *কেমনে ধরিতাম দে।*
*রাধার মহিমা,প্রেমরস সীমা,*
     *জগতে জানাত কে।।*
*ব‍্যপদেশে (সূত্র,ছল বা আছিলায়)বলা হয়েছে শ্রীকৃষ্ণ, শ্রীমন্মহাপ্রভুর রূপ ধারণ করে প্রেমভক্তি প্রবর্তিত করেছেন,* *শ্রীমন্নিত‍্যানন্দ প্রভুর দ্বারা গৌড়দেশে এবং শ্রীরূপ-সনাতনাদি দ্বারা বৃন্দাবনাদি পশ্চিমাঞ্চলস্থ স্থানসমূহে প্রেমভক্তি প্রচার করাবার এবং শ্রীরূপ-সনাতনাদি দ্বারা বৃন্দাবনের লুপ্ততীর্থ উদ্ধার,বিগ্রহ সেবা প্রচার,বহু বেষ্ণবগ্রন্থ প্রণয়ন করাবার বন্দোবস্ত করেছেন।* *আর প্রতি বৎসর রথযাত্রা উপলক্ষ্যে গৌড়ীয় বৈষ্ণবগণ নীলাচলে আসিলে তাঁদের সঙ্গে নৃত‍্যকীর্তন ও শ্রীকৃষ্ণকথা প্রসঙ্গে অতিবাহিত করেছেন।* *১৮হতে৪৫ পয়ারে শেষ ১২ বৎসরের লীলার পরিচয় দেওয়া হয়েছে।* *এই ১২ বৎসরকাল মহাপ্রভু বেশী সময় রাধাভাবে ভাবিত হয়ে মহাপ্রভুর কেবল শ্রীকৃষ্ণবিরহ স্ফূর্তিতে অতিবাহিত করেছেন।* *এই সময়কালে মহাপ্রভুর বাহ‍্যস্ফূর্তি প্রায় ছিল না বললেও বোধহয় অত‍্যু্যুক্তি (অতিরঞ্জিত বা বাড়িয়ে বলা)হবে না।* *মহাপ্রভুর অবতারের দু'টি উদ্দেশ্য,প্রথমতঃ জগতে প্রেমভক্তি প্রচার,দ্বিতীয়তঃ আশ্রয়রূপে প্রেমভক্তির আস্বাদন।*
*মহাপ্রভুর সন্ন‍্যাসের চব্বিশ বৎসরের লীলা আলোচনা করলে বুঝা যায়,দু'টি উদ্দেশ্যই সিদ্ধির পথে ক্রমশঃ অতি দ্রুতবেগে উৎকর্ষ লাভ করেছে এবং অতি অল্প সময়ের মধ্যেই (বার বৎসরের মধ্যেই ) সিদ্ধির চরমসীমায় উপনীত হয়েছে।* *প্রথম ছয় বৎসর (মধ‍্যলীলা)মহাপ্রভু নিজে নানা জায়গায় গিয়ে উপদেশাদি এবং স্বীয় আচরণের দ্বারা প্রেমভক্তি প্রচার করেছেন, এবং এই প্রচার উপলক্ষ্যে নিজে ভক্তভাবে প্রেমভক্তির আস্বাদনও করেছেন।* *দ্বিতীয় ছয় বৎসরে মহাপ্রভু কোথাও যান নাই,নীলাচলে থেকেই আদেশ,উপদেশ ও আচরণের দ্বারা,অন‍্যত্র প্রচারক পাঠিয়ে প্রেমভক্তি প্রচার করেছেন।* *শেষ বারবৎসর আদেশ-উপদেশাদি বিশেষ নেই,প্রেমভক্তি হৃদয়ে আবির্ভূত হলে,ভক্তের বাহ‍্য অনুষ্ঠানে, এমনকি প্রচারের বাসনা ও চেষ্টা পর্যন্ত কি রকম ভাবে অন্তর্হিত হয়ে যায়,প্রেমভক্তির গাঢ়তমরসের নিবিড়তম আস্বাদনে ভক্ত কি রকম বিভোর হয়ে থাকেন,* *প্রেমভক্তির প্রভাবে ভক্তের মনে ও দেহে কত কত অত‍্যদ্ভুত বিকার আপনা-আপনি উদ্ভুত(উৎপন্ন)হয়ে,গজযুদ্ধে ইক্ষুবনের মত ভক্তের দেহমনকে কিভাবে বিদলিত (সম্পূন্ন পরাজিত) করে থাকে,মহাপ্রভু শেষ দ্বাদশ বৎসরে তাহাই জীবকে দেখালেন।* *এবং তাদের দ্বারাই মহাপ্রভু প্রেমভক্তির প্রতি আপামর সাধারণের চিত্তকে আকৃষ্ট করলেন।* *মধ‍্যলীলার প্রথম ছয় বৎসর মহাপ্রভুর প্রেমভক্তির আস্বাদন ইতস্ততঃ(এদিক ওদিক) গমনাগমন,আদেশ,উপদেশ ও বিচারাদি দ্বারা (লৌকিক দৃষ্টিতে)বিশেষরূপে বাধাপ্রাপ্ত হয়েছে বলেই মনে হয়।* *দ্বিতীয় ছয় বৎসরে ইতস্ততঃ গমনাগমন না থাকায় আস্বাদনের বিঘ্ন অনেক পরিমাণে তিরোহিত(না থাকার মতই) হয়েছে বটে।*

 *গদাধর মুখ হেরি,থির নয়ন করি,*
      *ছোড়ই দীর্ঘ নিশ্বাস।*
*🌻সুরধূনীর তীরের পাশে উপবনে প্রবেশ করে মহাপ্রভুর মধ্যে আর শচীনন্দন নহে,তিনি যশোদা নন্দনে পরিণত হয়েছেন।* *আর গদাধরকে দর্শন করে সেই ব্রজের ভাবে বিভাবিত হয়েছেন,রাধাই গদা।* *শ্রীকৃষ্ণের শক্তি সংখ‍্যায় অনন্ত।এই অনন্তশক্তির মধ্যে তিনটি প্রধান =চিচ্ছক্তি,মায়াশক্তি ও জীবশক্তি।* *চিচ্ছক্তির অপর নাম অন্তরঙ্গা শক্তি,মায়াশক্তির অপর নাম বহিরঙ্গা শক্তি,এবং জীবশক্তির অপর নাম তটস্থাশক্তি।* *শ্রীকৃষ্ণের স্বরূপ সৎ,চিৎ ও আনন্দময়।* *সুতরাং এই তিন অংশের সংশ্রবে তাঁর স্বরূপশক্তিও তিনরূপে প্রকাশ পান।* *(আনন্দাংশে হ্লাদিনী,সদংশে সন্ধিনী।* *চিদংশে সংবিৎ যারে "জ্ঞান"করি মানি।।)*স্বরূপ শক্তির* *তিন রকমের অভিব‍্যক্তির কথা বলা হয়েছে।* *তাদের নাম হ্লাদিনী,সন্ধিনী ও সংবিৎ।* *সচ্চিদানন্দ-পূর্ণ শ্রীকৃষ্ণের সৎ-অংশের শক্তির নাম সন্ধিনী অর্থ‍্যাৎ শ্রীকৃষ্ণের চিচ্ছক্তি যখন তাঁর সৎ-এর দিক দিয়া প্রকাশ হয়,সত্তা সম্বন্ধনীয় ব‍্যাপারে আত্মপ্রকাশ করে,* *তখন তাকে বলে সন্ধিনী শক্তি।* *শ্রীকৃষ্ণের চিৎ-অংশের শক্তির নাম সংবিৎ, শ্রীকৃষ্ণের চিচ্ছক্তি যখন তাঁর চিৎ এর দিক দিয়া প্রকাশ হয়,চিৎ সম্বন্ধনীয় ব‍্যাপারে আত্মপ্রকাশ করে,তখন তাহাকে সংবিৎশক্তি বলে।* *আর তাঁর আনন্দাংশের নাম হ্লাদিনী,অর্থ‍্যাৎ চিচ্ছক্তি যখন আনন্দের দিক দিয়া প্রকাশ হয়,আনন্দ সম্বন্ধনীয় ব‍্যাপারে আত্মপ্রকাশ করে তখন তাকে হ্লাদিনী শক্তি বলে।* *যে শক্তি শ্রীকৃষ্ণকে আনন্দ দেন,তাঁর নাম হ্লাদিনী।* *এই হ্লাদিনীর সার প্রেম,প্রেমের সার মহাভাব,সুতরাং যে পরমাশক্তি সচ্চিদানন্দমময় এবং শৃঙ্গার রসরাজময় মূর্তিধর শ্রীকৃষ্ণকে ঐ শৃঙ্গার-রসানন্দ অনুভব করান।* *তিনিই এই মহাভাব স্বরূপা মহাভাবের মূর্তরূপ রাধা।* *তাই আজ গদাধরকে দেখে সেই রাধার কথা মনে পড়েছে।* *মহাপ্রভু নিজেকে স্থির করে গদাধরকে দর্শন করে যেন দীর্ঘ নিশ্বাস ছাড়লেন।*গদারূপী রাধাকে দর্শন করে আনন্দের সীমা নাই।*
*আখর=আনন্দের সীমা নাই,গদাধরকে দর্শন করে,আনন্দের সীমা নাই।* *আমার,ভাবনিধি গোরাচাঁদের, আনন্দের সীমা নাই।*
*গদাধর মুখ হেরি,থির নয়ন করি,*
        *ছোড়ই দীর্ঘ নিশ্বাস।*
*কিন্তু সম্পূর্ণরূপে তিরোহিত হয়নি।* *প্রচারকদের প্রতি ও সমাগত ভক্তবৃন্দের প্রতি আদেশ- উপদেশাদি ও আস্বাদনের কিছু বিঘ্ন হয়েছিল বলেই মনে হয়।* *শেষ দ্বাদশ বৎসর ইতস্ততঃ গমনাগমন নাই,* *প্রচারকদের প্রতি আদেশ উপদেশের হাঙ্গামা নাই,গমনাগমন নাই,আছে কেবল প্রেমভক্তির আস্বাদনের নিরবচ্ছিন্ন সুযোগ,আর নিরবচ্ছিন্ন আস্বাদন,* *এই সময়ে অন্তরঙ্গ ভক্তদের সঙ্গে যে আলাপ আচরণ,তাহাও আস্বাদনের বৈচিত্রীবিশেষ,এই আলাপ আচরণ আস্বাদনীয় বিষয় হতে মনকে অপসারিত করতেন না,* *বরং আস্বাদনীয় রসের সমুদ্রে প্রবল তরঙ্গেই উত্থাপিত করত মাত্র।* *এইরকমভাবে প্রেমভক্তির আবির্ভাবের সঙ্গে সঙ্গে আস্বাদনের মধুরতা,গাঢ়তা ও সর্ব বিস্মারকতা কি ভাবে উৎকর্ষ লাভ করে;মহাপ্রভু স্বীয় লীলায় তাহাই দেখিয়ে গেলেন।* *অপরূপ গৌরাঙ্গ বিলাস।* *নিজে আচরণ করে ভক্তদের শেখালেন।*
*🌼 পদে ফিরে আসি🌼*
*সুরধূনী তীরে এক,উপবন হেরইতে,*
      *রসময় গৌর কিশোর।*
*মাঝ দিনহি তহিঁ,হোয়ল উপনীত,*
     *পূরবহি ভাবে বিভোর।।*
*🌻অদ‍্য শ্রীবাস অঙ্গনে ভক্তসঙ্গে দ্বিপ্রহরে না-সংকীর্তন নহে,শ্রীকৃষ্ণকথা রসাস্বাদন চলছে,শ্রীমনমহাপ্রভু নিজ ভঙ্গী দ্বারা অর্থ‍্যাৎ উর্ধনয়ন রসাস্বাদনে ভরপুর অবস্থা।* *এই কৃষ্ণকথা রসাস্বাদনের মাঝে ভাবনিধি গৌরসুন্দর শ্রীবাস অঙ্গন ত‍্যাগ করে সুরধূনীর তীরে এসে,* *তীর ধরে যেতে যেতে একটি উপবন দেখতে পেয়ে মুখে কি যেন বিড় বিড় শব্দ করতে করতে সেই উপবনের মধ্যে প্রবেশ করলেন।* *কোন সময়? না,মধ‍্যাহ্ন সময়ে।* *বনে প্রবেশ করে এদিক ওদিক দেখতে লাগলেন, কারো সঙ্গে কোন কথা বলছেন না।* *মহাপ্রভুর এই আচরণদেখে সঙ্গের ভক্তগণ বা পার্ষদগণ চমকিত হলেন,কি বিষয়বস্তু বুঝতে পারলেন না।*
*সঙ্গে আছেন গদাধর,নরহরি,শ্রবাসাদি অন‍্যান‍্য অন্তরঙ্গ পার্ষদগণ।* *তবে মহাপ্রভুর ভাবটি আজ একেবারেই অন‍্য রকম,যেন মনে হচ্ছে তিনি আর মহাপ্রভু নহেন,তাহলে কি মনে হল?* *হ‍্যাঁ,ব্রজের কেহ।* *এই ভাবটি আজ মহাপ্রভুর এসেছে।*
*কৈছন রাধা প্রেমা,কৈছন মধুরিমা,*
     *কৈছন সুখে তিঁহো ভোর।*
*এ তিন বাঞ্চিত ধন,ব্রজে নহিল পূরণ,*
      *কি করিয়ে না পাইয়া ওর।।*
*ভাবিয়া দেখিনু মনে,শ্রীরাধার স্বরূপ বিনে,*
     *এ বাসনা পূর্ণ কভু নয়।*
*রাধা-ভাব কান্তি ধরি,রাধা-প্রেম গুরু করি,*
     *নদীয়াতে করল উদয়।।*
*আখর=বিভাবিত হ'তে হবে, আশ্রয়-জাতীয় ভাবে, বিভাবিত হ'তে হবে।* *মহাভাব স্বরূপিনীর ভাবে,(আমায়)বিভাবিত হ'তে হবে।*
*খেনে পুন কহই,গদাধর পানে চায়,*
     *অন্তরে না হবি তরাস।*
*দশনে চাপি রসনা,নয়ন খর তাড়ই,*
     *খিলখিল অট্টঅট্ট হাস।।*
*চতুর ভকতগণে,পুনঃপুনঃ পুছই,*
      *কিয়ে ভেল আজুক বাত।*
*শ্রীচৈতন‍্য দাস,মরম নাহি সমুঝিয়ে,*
     *রোয়ত শিরে দেহ হাত।।*
*🌻শ্রীমন্মহাপ্রভু উপবনে প্রবেশ করিয়া পূরবের ভাবে এমনভাবে বিভাবিত হয়েছেন সেই উপবনকে নিধুবন মনে করিয়া সেই ব্রজলীলার স্মরণ হয়েছে,কোন লীলা?হ‍্যাঁ,সেই মধ‍্যাহ্নলীলা নিধুবনে কৃষ্ণকালী।* *মহাপ্রভুর মধ্যে আর বাহ্রজ্ঞান নেই,তিনি ব্রজভাবে বিভাবিত।* *হঠাৎ যেন তিনি রূপ পরিবর্তনে এলেন,আর বারংবার গদাধরের মুখপানে চাহিছেন আর বলছেন,* *তোমরা কেহ ভয় পেও না,সকলেই আমার কাছে থেক।* *বলেই যেন তিনি অট্টহাসি দিলেন।*
*দশনে চাপি রসনা,নয়ন খর তাড়ই,*
     *খিলখিল অট্টঅট্ট হাস।*
*এবারে বাহ‍্যজ্ঞানহীন মহাপ্রভু অন‍্যরূপে প্রকট হলেন,দশনে অর্থ‍্যাৎ দন্ত বা দাঁত,রসনা অর্থ‍্যাৎ জিহ্বা,মহাপ্রভু মা কালীর রূপ ধারণ করলেন।* *মা কালী যেমন জিহ্বা বের করে থাকেন তেমন রূপ।* *সকল ভক্তগণ বলছেন,আজ মহাপ্রভুর কোন ভাব কিছুই বুঝতে পারছি না,আজ যে কেন এমন হল?* *পদকর্তা শ্রীচৈতন‍্য দাস বলছেন,আমিও আজকের এই লীলা মর্ম কিছুই বুঝতে পারলাম না বলিয়া তিনি মাথায় হাত দিয়ে রোদন করছেন।*
*শ্রীচৈতন‍্য দাস,মরম নাহি সমুঝিয়ে,*
     *রোয়ত শিরে দেহ হাত।।*
*🌻গৌরচন্দ্রিকা এখানেই রইল🌻*

*🌻নিধুবনে কৃষ্ণকালী ব্রজলীলা🌻*
*অদ‍্য শ্রীগোবিন্দ প্রাতঃকালে সখাসঙ্গে গোচারণে গেলেন বটে,মনে বড় দুঃখ রয়েগেল।* *কেন?তিনি প্রত‍্যহ যাবটের পথ দিয়েই গোচারণে যান,আজও গেলেন,* *যে উদ্দেশ্য নিয়ে যাওয়া তা পূরণ হল না।*অপরদিকে গোবিন্দ দর্শন না পেয়ে রাধারাণী নিজ কক্ষে ক্রন্দন করছেন,কেন?এমন এক বাস করি তা বলবার নয়,* *জটিলা কুটিলা এঁরা কৃষ্ণ বাদী, কৃষ্ণবাদিনীর ঘরে কি মনের আশা পূর্ণ হয়।* *রাধা যখন ক্রন্দন করছিলেন তখন সখিগণ রাধার কাছে বললেন তোর কি হয়েছে যে তুই অমন করে কাঁদছিস?* *আমাদের বল?* *ওরে সখীগণ!প্রাতে যদি আমার প্রাণবল্লভের বদন দর্শন হয়,তাহলে সারাদিন আমার আনন্দে কাটে,কিন্তু---,* *ও বুঝে গেছি সখীগণ বললেন।* *কোন চিন্তা করিস না আমরা কোন একটি ব‍্যবস্থা নিব।* *অপরদিকে গোবিন্দের আর গোচারণ ভূমিতে থাকতে মন চাইছে না,* *সুবলের সঙ্গে যুক্তি করে দাদা বলরামকে বললেন,দাদা!আমি আর সুবল বন ভ্রমণ করব,তুমি কিছুক্ষণ দেখ,* *বলেই বন ভ্রমণ করতে করতে নিধুবনে এলেন।* *নিধুবনে মনে আনন্দ ধরে না।* *নিধুবনে বসে,*
*🌻রাধা রাধা বলি পূরিল বেণু।*
*শুনি ধ্বনি ধনি অবশ তনু।।*
*বংশীধ্বনি শ্রবণ করে পুন রোদন করতে লাগলেন,রোদন অবস্থায় রাধা সখিদের বললেন,বল সখি এখন আমি কি করব?* *কেমন করে আমার প্রাণবঁধূকে দর্শন করব?* *🌻সখীগণ কহে শুনহ রাই।* *দেবতা পূজিতে চলহ যাই।।* *এবারে সখীদের সঙ্গে শলা পরামর্শ করে শাশুড়ী জটিলাকে বললেন,মা আমার মনে একটি বাসনা জেগেছে,* *আপনার পুত্রের কল‍্যাণের জন্য আমি কালীমাতার পূজো করব,যদি অনুমতি দেন।* *জটিলা ভাবলেন,আয়ান যে মাকে পূজন করে, বৌমাও সেই ইচ্ছে হয়েছে, বৌমার সুমতি ঘটেছে, এই কথা মনে করে জটিলা অনুমতি দিলেন।* *কিন্তু ঘরে আরেকজন আছে কুটিলা আড়াল থেকে সব কথা শুনে মনে মনে বলছে "কালী পূজা করবে না কালুয়ার পূজা করবে?*
*মনে সন্দের দানা, মাকে আড়াল থেকে বলছে-------------*
*🌻প্রথম পদ🌻*
    *মাগো তোর বৌ বড় সতী।*
*তাই সে বনে,কালার সনে,*
      *থাকে দিবারাতি।*
*কথায়=মন কি বসে গৃহবাসে,*
         *সার করেছে পীতবাসে,*
         *কালো রূপ সে ভালবাসে,*
       *চাই না সোনারপতি।।*
*🌻মা তোর মন খুব উদার বলে তোর বৌমাকে পূজো করবার অনুমতি দিলি,* *কিন্তু আমার মন অন‍্য কথা বলছে,তোর বৌমার মধ্যে নিশ্চয়ই কোন কিন্তু আছে।*
*মা---ঐ----যে কালা ছোড়ার সঙ্গে বনে দেখা করবার জন্য ছলা করছে।* *মা------আমার মন বলছে।* *তোর সতী বৌয়ের ঘরে মন বসে না,আমার দাদার মত পতি,তোর সতী বৌয়ের পছন্দ না মা,আর তুই অনুমতি দিলি?*
*আখর=স্বভাব ভাল না,তোর সতী বৌয়ের,স্বভাব ভাল না।* 
*তাই সে বনে,কালার সনে,থাকে দিবারাতি।।*
*রাধার চরিত হেরে,আগে বলেছিলাম তোরে,*
*দেখবি একদিন বৌয়ের তরে হবে অখ‍্যাতি।*
*আয়ান দাদা ঘরে এলে,সকল কথা বলবি তারে,*
*পীতাম্বর কহে ছাড়িস নারে কৃষ্ণপদে মতি।।*
*🌼মা,ওমা!সেদিনের কথা মনে নাই তোর?* *তোর বৌয়ের চরিত আমার খুব ভালো জানা আছে,*
*দেখিস মা,একদিন এমন হবে যে,*
*তোর সতী বৌয়ের জন্য আমাদের নাক,কান কাটা যাবে,চারিদিকে অখ‍্যাতি ছড়াবে।*( *মা জটিলা* *মনে* *মনে বলছেন,ওরে কুটিলা,তুই যে কত বড় সতী আমার জানা আছে,তুই* *যেখানে যেখানে যাবি,আর কিছু হোক আর না হোক আমার নাক,কান কাটা যাবে।)* *কুটিলা বলছে দাদা ঘরে ফিরুক আমি সব কথা বলব,* *পদকর্তা পীতাম্বর বলছেন, কুটিলা,যাঁরা শ্রীকৃষ্ণপদে সর্বস‍্য দান করেছেন,তাঁদের কোন ভয় নেই গো।*

*🌻কুটিলা তার দাদাকে বলছে🌻* *🌼🌼দ্বিতীয় পদ🌼🌼*
*ওগো দাদা---------বলব কি তোরে।*
*শ্রীরাধার গুণের কথা জানে ব্রজপুরে।।*
*সকাল বেলা জলকে গেলে,*
*ঘরকে আসে সন্ধ‍্যেবেলে,*
*দাঁড়িয়ে থাকে কদমতলে,*
*কালায় দেখবার তরে।।*
*বাঁশীর সাড়া পেলে পরে,*
*)আর কি রাইকে রাখে ঘরে,*
*গৃহ কার্য‍্য ফেলি দূরে,*
*বনে গমন করে।*
*শ‍্যামের প্রেমে আছে বাঁধা,*
*মানে না সে কারো বাধা,*
*কালো ছোড়ার সঙ্গে দাদা কাননে বিহরে।।*
*চল দাদা আমার সনে,*
*দেখাইব নিধুবন,*
*পীতাম্বর বলে নিষ্ঠামনে ভজ বংশীধরে।।*
*🌻কথায় আছে,যার যেমন ভাব,তার তেমন লাভ,তাইনা?*
*তার নামটি কুটিলা,তার ভাবটিও কুটিল।* *তাই তার ভাবনায় যা এসেছে তাই বলছে।*
*ওগো দাদা!বলব কি তোরে।*
*শ্রীরাধার গুণের কথা জানে ব্রজপুরে।।*
*🌻সৎসঙ্গে স্বর্গ বাস,অসৎসঙ্গে সর্বনাশ।* *কুটিলা নিজ মত তার দাদার কাছে প্রকাশ করেছে।* *শ্রীরাধার গুণের কথা কুটিল ভাবনা দ্বারা দর্শন না করে যদি সরল,ভক্তিমতি দ্বারা দর্শন করত,*
*তাহলে তার কূচিন্তন,কূভাবনা তার হৃদয়ে বাসা বাঁধত না।* *তাই বলেছে,যার যেমন ভাব,তার তেমন লাভ।* *শ্রীরাধার শ্রীচরণ পাবার আশায় কত সাধু,বৈষ্ণব,মুনি,ঋষি জন্ম জন্মান্তর তপ করে চলেছেন,আর কুটিলা,* *জয় শ্রীরাধে! মুনি ঋষিগণের আর যাইহোক ধর্ম অর্থ কাম মোক্ষতাঁরা চান না,এই চতুবর্গ তাঁরা তুচ্ছ মনে করেন।* *একমাত্র কামনা, যুগলচরণ সেবা।* *বর্তমানে কত বড় বড় কোটিপতি জনেরা সর্বস‍্য ত‍্যাগ করে শ্রীরাধার শ্রীচরণ পাবার আশায় শ্রীবৃন্দাবনে জয়রাধে শ্রীরাধে বলে সামান্য জীবনযাপন করছেন।* *যার যেমন ভাব,তার তেমন লাভ।* *( বাকী কথা আপনারা বলবেন পদের।)*
*^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^*
*🌻নিধুবনে কুঞ্জের ভিতরে রাধা-গোবিন্দ বসে আছেন।* *আর কৃষ্ণ সখা সুবল বাহিরে ঘোরাফেরা করছেন,এমন সময় দেখা গেল আয়ান ঘোষ ও কুটিলা নিধুবনের দিকে আসতে দেখে সুবল,* *কৃষ্ণকে বললেন,ঐ দেখা যায় আয়ান ও কুটিলা আসছে,সখা সাবধান।* *কৃষ্ণ মনে ভাবলেন আয়ান তো কালী ভক্ত,* *তাই কৃষ্ণ তৎক্ষণাৎ নিজ রূপ আবরণ করে কালীরূপ ধারণ করলেন।* 
*কৃষ্ণ কালী হলেন নিধুবনে।*
*বিপিন হল আলো রূপের কিরণে।।*
*চতুর্ভূজা এলোকেশী,দিগম্বরী করে অসি,*
  *লোলজিহ্বা অট্টহাসি করাল বদনে।*
*শিরেতে কীরিট শোভা,প্রভাকর জিনি প্রভা,*
  *মুন্ডমালা গলে দুলিছে সঘনে।।*
*কালীর চরণতলে,রক্তজবা বিল্বদলে,*
   *পূজে রাধা কুতূহলে অভয়ার চরণে।*
*আয়ান আসিয়া দেখে,রাধিকা পূজে কালিকাকে,*
   *অঙ্গপূর্ণ হয় পুলকে লোটায় ধরাসনে।।*
*কৃষ্ণকালীর পদকমল,দাস পীতাম্বর সাধে কেবল,*
 *দুরন্ত কৃতান্ত কবল এড়াতে নিদানে।।*
*🌻আয়ান নিজ নয়নে তার ইষ্টদেবীকে দর্শন করে ও রাধিকাকে কালীপূজো করতে দেখে অত‍্যন্ত মুগ্ধ হলেন,এবং কালিকার চরণতলে সাষ্টাঙ্গে লুটিয়ে পড়লেন।* *তার পর তার বোন কুটিলাকে বলছেন।*
    *কি কথা কহিলি ঘরে।*
*রাধা কালার সনে,দিবানিশি ভ্রমে বনে,*
       *পরিচয় দিলি মোরে।।*
*দেখাব বলিয়ে,সঙ্গে এলি ধেয়ে,*
       *লয়ে যত সকলেরে।*
*কৈ কালা কালী হেরি,*
*অসি ধরা নহে বংশীধারী,*
*দিগম্বরী বিরাজ করে।।*
*আমার রাধিকা,পূজিছে অম্বিকা,*
      *কলঙ্কিনী বলিস তারে।*
*চেয়ে দ‍্যাখ মায়ের আগে,*
*বসে আছে সমাধি যোগে,*
*বাহ‍্য জ্ঞান গেছে দূরে।।*
*শ্রীরাধার গুণে,হেরিলাম নয়নে,*
      *ভয়হারা অভয়ারে।*
*ভজ কৃষ্ণ কালী,কালের মুখে কালি,*
      *নিয়ে যাবে ভবপারে।।*
*🌻আয়ান সমস্ত কিছু নিজ নয়নে দেখে,রাধার প্রতি বিশ্বাস বেড়ে গেল।* *সঙ্গে মা ও বোনকে ভৎর্সনা করতে লাগলেন,আয়ানের কথা সহ‍্য করতে না পেরে,নিজেরা ভুল প্রমাণিত হল জেনে চুপকরে নিধুবন হতে পলায়ন করল।* *আর আয়ান,*
   *জয় জয় জগৎ জননী।*
*যম ভয়হর মা ত্রিগুণধারিণী।।*
*ভৈরব ভবানী ভীমা,অন্নদা অম্বিকা উমা,*
 *শিব সীমান্তিনী শ‍্যামা শ্মশান বাসিনী।*
*বিশ্বরূপা বিশ্বেদরী,পরমা পরমেশ্বরী,*
   *দেবারাধ‍্য দিগম্বরী দনুজ-দলনী।।*
*আদ‍্যাশক্তি মহামায়া,কে বুঝে গো তব মায়া,*
   *নিজগুণে কর দয়া করালবদনী*
*কৃষ্ণকালীর যুগল চরণ,*
*দাস পীতাম্বর করে সাধন,*
*ভব-ভয়করবে তারণ তারা ত্রিনয়নী।।*
*🌻আয়ান কৃষ্ণকালীর সামনে বসে মায়ের স্তব করতে লাগলেন।*
*🌻 বলছেন🌻* *ওহে আয়ান কি কব তোমারে।*
*তব তুল‍্য ভাগ‍্যবান কে আছে সংসারে।।*
*হেন রমণী ধনে,পেয়েছ বহু সাধনে,*
     *তুমি ধন‍্য এ ভূবন ভিতরে।*
*না বুঝিয়া তব তত্ত্ব,অপবাদ দিয়েছি কত,*
   *অপরাধে মুক্ত কর আমা সবাকারে।।*
  *কার্য‍্য দেখে গেল জানা,*
  *রাধার গুণের নাই তুলনা,*
*পীতাম্বর বলে সাধন বিনা না পাবি রাধারে।।*
*^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^*
*আয়ান পূর্ব জন্মে কে ছিলেন?*
*কি এমন কর্ম করেছিলেন যে রাধারাণীকে পত্নীরূপে পেয়েছিলেন?*
*🌻পূর্বে আয়ান বা অভিমন‍্যু ছিলেন এক ব্রাহ্মণ নন্দন,তাঁর নাম ছিল সৌম‍্যমুনি।* *এই মুনির নাম আমি ভক্তের নিকট পেয়েছি,শোনা কথা।* *সেই মুনি মনে মনে সঙ্কল্প করলেন যে,আমি বিষ্ণুর আরাধনা করে তাঁকে তুষ্ট করে,তাঁর কাছ হতে তাঁর জায়া (পত্নী)কে লাভ করব।* *তিনি উৎকট তপ শুরু করলেন,গ্রীষ্মকালে অগ্নি প্রজ্বলিত করে অর্থ‍্যাৎ গোলাকার অগ্নিকুন্ডর মধ‍্যে বসে তপ করতে লাগলেন।*
*শীতকালে হিমসরোবরে দাঁড়িয়ে তপ করতে লাগলেন।* *এইভাবে সহস্র বছর তপ করতে করতে প্রায় অন্তকাল এলো।* *শ্রীবিষ্ণু আর থাকতে পারলেন না,এসে বললেন তোমার তপে তুষ্ট হয়েছি বর চাহ?*
*বিষ্ণু বলে বর মাগো বিপ্র মহাশয়*
*চক্ষু মেলি দেখে তবে বিপ্রের তনয়।।*
*🌻তারপর বিপ্রপুত্র সৌম‍্য নারায়ণকে দেখে প্রণাম করে স্তব স্তুতি করলেন,* *বললেন আমার জীবন সফল,আমি শ্রীহরির দরশন পেলাম।* *শ্রীহরি বললেন আর বিলম্ব কেন বর মাগো?* *তখন সৌম‍্য বললেন----------*
*বর যদি দিবে গো মোরে কৃপাবান হৈয়া।*
*বর দেহ তব প্রিয়া হোক মোর জায়া।।*
*🌻তখন শ্রীহরি বললেন,ইহা ছাড়া অন‍্য বর চাহ,এই বর সম্ভব নহে।*
*এইকথা বলে শ্রীহরি অন্তর্ধান হলেন।কাল প্রাপ্তে দ্বিজের পতন হল।* *পুনঃ বিপ্রকূলে জন্মিলেন ও শিশুকাল হতে তপস‍্যা শুরু করলেন।* *পুনঃ শ্রীহরি এসে বললেন আমি তোমার তপে তুষ্ট বর চাও।* *বিপ্র বললেন-----*
*তুষ্ট হৈয়া মোরে দেহ এই বর।*
*বিপ্র বলে লক্ষ্মী মোরে দেহ গদাধর।।*
*প্রভু কহে যাহ বিপ্র দিনু ঐ বর।*
*ব্রজপুরে গোপকুলে জন্মিবে সত্বর।।*
*আমি হব অবতার হেতু ব্রজলীলা*
*ভানু পুত্রী তব জায়া হৈবে কমলা।।* *🌻ভানু পুত্রী বলিতে বৃষভানু কন‍্যা।* *বর দিয়া শ্রীহরি বৈকুন্ঠে গমন করলেন,এবং কমলাকে সকল কথা বললেন।* *সকল কথা শুদে কমলা চরম ক্রোধান্বিত হলেন ও রোদন করতে লাগলেন।* *তারপর হরি ধড়ার অঞ্চল দিয়ে কমলার নেত্রজল মুছিয়ে বললেন,*
*প্রেয়সী তুমি কোন চিন্তা কোরো না,* *আয়ানজায়া হবে বটে,কিন্তু গোপনে ফৃন্দাবনে গিয়ে কেবল তোমার সঙ্গে বিহার করব।* *প্রেয়সী তুমি তো জানো,আমি ভক্তবৎসল,ভক্তের ভক্তি ও নয়নজল দেখলে তাদের মনোবাঞ্জা পূরণ করি।* *এইভাবে কমলাকে প্রবোধ দিলেন।* *আরো বললেন,ডাকার মত করে যদি কেহ ডাকে আমি স্থির হয়ে থাকতে পারি না।* *তৎক্ষণাৎ আমায় ভক্তের নিকট ছুটে যেতে হয়।* *এসব কথা শোনার পর কমলা বললেন-----*
*ভক্তবাঞ্জা পূরাইলে দিলে তারে বর।*
*আমি শাপ দিব তারে শোন গদাধর।।*
*তোমার চরণ বিনে অন‍্য নাহি জানি।*
*তব বাক্য হেতু হব তাঁহার রমণী।।*
*তার সহ কভু মোর না হবে দর্শন।*
*ক্লীব হয়ে জনমিবে সেই তো ব্রাহ্মণ।।*
*🌻কমলা আরো বললেন,তার ঘরে যাব বটে,কিন্তু বৃন্দাবনে তব সনে বিহার করব।* 
*লক্ষ্মী শাপে অভিমন‍্যু ক্লীবত্ব পাইল।*
*শুনি নারায়ণ বড় সন্তুষ্ট হইল।।*
*🌻নিধুবনে কৃষ্ণকালী এখানেই রইল। ভুল ভ্রান্তি মার্জনীয়।🌻*
 ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
👇👇👇এই লিখনী 📚 PDF 📚 ক্লিক করুন 👇👇👇
 ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧               
 ✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️
নিবাস- বাঁশবাড়ী, কীর্তন মন্দিরের পাশে, পোঃ- বাঁশবাড়ী, থানা- ইংরেজ বাজার, জেলা- মালদহ, পশ্চিমবঙ্গ, পিন কোড- ৭৩২১০১।
 ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏
আমায় দেওয়া ওনার এই অমূল্য লিখনী সেবা, তা সকলের মধ্যে প্রকাশ করলাম। ওনার এই অমূল্য দান সমগ্র বৈষ্ণব সমাজ অনন্তকাল মনে রাখিবে।
🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
    *••••┉━❀꧁ 🙏 রাধে রাধে 🙏 ꧂❀━┅••••* 
                   শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য প্রভু নিত্যানন্দ
              হরে কৃষ্ণ হরে রাম শ্রীরাধেগোবিন্দ।।
  *••••┉━❀꧁ 🙏 জয় জগন্নাথ 🙏 ꧂❀━┅••••*
              হরে কৃষ্ণ হরে কৃষ্ণ কৃষ্ণ কৃষ্ণ হরে হরে
              হরে রাম হরে রাম রাম রাম হরে হরে॥
  *••••┉━❀꧁ 🙏 জয় রাধাকান্ত 🙏 ꧂ ❀━┅••••*
   💮❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀💮
   💮❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀💮
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧






গোপীগীতম্ ❤️ শ্রীমদ্ভাগবত মহাপুরাণ হইতে সংগৃহীত 🙏 শ্রী মৃন্ময় নন্দী কর্ত্তৃক সকল ভক্ত চরণে অসংখ্যকোটি প্রণাম 📝 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2022/06/blog-post_26.html

  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
                       ꧁ গোপীগীতম্ 
       এই লিংকে 👇👇👇🙏👇👇👇 ক্লিক করুন 
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
  ꧁ টিকা বা অন্যান্য ধর্মীয় লিখনী 🙏 সূচীপত্র ꧂
       এই লিংকে 👇👇👇🙏👇👇👇 ক্লিক করুন 
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
              ꧁ স্তত্রম- বন্দনা- গীত- আরতি ꧂
       এই লিংকে 👇👇👇🙏👇👇👇 ক্লিক করুন 
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
গোপ্য ঊচুঃ ।
জয়তি তেঽধিকং জন্মনা ব্রজঃ
     শ্রয়ত ইন্দিরা শশ্বদত্র হি ।
দয়িত দৃশ্যতাং দিক্ষু তাবকা-
     স্ত্বয়ি ধৃতাসবস্ত্বাং বিচিন্বতে ॥ ১॥

শরদুদাশয়ে সাধুজাতস-
     ৎসরসিজোদরশ্রীমুষা দৃশা ।
সুরতনাথ তেঽশুল্কদাসিকা
     বরদ নিঘ্নতো নেহ কিং বধঃ ॥ ২॥

বিষজলাপ্যযাদ্ব্যালরাক্ষসা-
     দ্বর্ষমারুতাদ্বৈদ্যুতানলাৎ ।
বৃষময়াত্মজাদ্বিশ্বতোভয়া-
     দৃষভ তে বয়ং রক্ষিতা মুহুঃ ॥ ৩॥

ন খলু গোপিকানন্দনো ভবা-
     নখিলদেহিনামন্তরাত্মদৃক্ ।
বিখনসার্থিতো বিশ্বগুপ্তয়ে
     সখ উদেয়িবান্সাত্বতাং কুলে ॥ ৪॥

বিরচিতাভয়ং বৃষ্ণিধুর্য তে
     চরণমীয়ুষাং সংসৃতের্ভয়াৎ ।
করসরোরুহং কান্ত কামদং
     শিরসি ধেহি নঃ শ্রীকরগ্রহম্ ॥ ৫॥

ব্রজজনার্তিহন্বীর যোষিতাং
     নিজজনস্ময়ধ্বংসনস্মিত ।
ভজ সখে ভবৎকিঙ্করীঃ স্ম নো
     জলরুহাননং চারু দর্শয় ॥ ৬॥

প্রণতদেহিনাং পাপকর্শনং
     তৃণচরানুগং শ্রীনিকেতনম্ ।
ফণিফণার্পিতং তে পদাম্বুজং
     কৃণু কুচেষু নঃ কৃন্ধি হৃচ্ছয়ম্ ॥ ৭॥

মধুরয়া গিরা বল্গুবাক্যযা
     বুধমনোজ্ঞয়া পুষ্করেক্ষণ ।
বিধিকরীরিমা বীর মুহ্যতী-
     রধরসীধুনাঽঽপ্যায়যস্ব নঃ ॥ ৮॥
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
                       ꧁ গোপীগীতম্ 
       এই লিংকে 👇👇👇🙏👇👇👇 ক্লিক করুন 
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
তব কথামৃতং তপ্তজীবনং
     কবিভিরীডিতং কল্মষাপহম্ ।
শ্রবণমঙ্গলং শ্রীমদাততং
     ভুবি গৃণন্তি তে ভূরিদা জনাঃ ॥ ৯॥

প্রহসিতং প্রিয় প্রেমবীক্ষণং
     বিহরণং চ তে ধ্যানমঙ্গলম্ ।
রহসি সম্বিদো যা হৃদিস্পৃশঃ
     কুহক নো মনঃ ক্ষোভয়ন্তি হি ॥ ১০॥

চলসি যদ্ব্রজাচ্চারয়ন্পশূন্
     নলিনসুন্দরং নাথ তে পদম্ ।
শিলতৃণাঙ্কুরৈঃ সীদতীতি নঃ
     কলিলতাং মনঃ কান্ত গচ্ছতি ॥ ১১॥

দিনপরিক্ষয়ে নীলকুন্তলৈ-
     র্বনরুহাননং বিভ্রদাবৃতম্ ।
ঘনরজস্বলং দর্শয়ন্মুহু-
     র্মনসি নঃ স্মরং বীর যচ্ছসি ॥ ১২॥

প্রণতকামদং পদ্মজার্চিতং
     ধরণিমণ্ডনং ধ্যেয়মাপদি ।
চরণপঙ্কজং শন্তমং চ তে
     রমণ নঃ স্তনেষ্বর্পয়াধিহন্ ॥ ১৩॥

সুরতবর্ধনং শোকনাশনং
     স্বরিতবেণুনা সুষ্ঠু চুম্বিতম্ ।
ইতররাগবিস্মারণং নৃণাং
     বিতর বীর নস্তেঽধরামৃতম্ ॥ ১৪॥
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
                       ꧁ গোপীগীতম্ 
       এই লিংকে 👇👇👇🙏👇👇👇 ক্লিক করুন 
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
অটতি যদ্ভবানহ্নি কাননং
     ত্রুটির্যুগায়তে ত্বামপশ্যতাম্ ।
কুটিলকুন্তলং শ্রীমুখং চ তে
     জড উদীক্ষতাং পক্ষ্মকৃদ্দৃশাম্ ॥ ১৫॥

পতিসুতান্বয়ভ্রাতৃবান্ধবা-
     নতিবিলঙ্ঘ্য তেঽন্ত্যচ্যুতাগতাঃ ।
গতিবিদস্তবোদ্গীতমোহিতাঃ
     কিতব যোষিতঃ কস্ত্যজেন্নিশি ॥ ১৬॥

রহসি সম্বিদং হৃচ্ছয়োদয়ং
     প্রহসিতাননং প্রেমবীক্ষণম্ ।
বৃহদুরঃ শ্রিয়ো বীক্ষ্য ধাম তে
     মুহুরতিস্পৃহা মুহ্যতে মনঃ ॥ ১৭॥

ব্রজবনৌকসাং ব্যক্তিরঙ্গ তে
     বৃজিনহন্ত্র্যলং বিশ্বমঙ্গলম্ ।
ত্যজ মনাক্ চ নস্ত্বৎস্পৃহাত্মনাং
     স্বজনহৃদ্রুজাং যন্নিষূদনম্ ॥ ১৮॥

যত্তে সুজাতচরণাম্বুরুহং স্তনেষ
     ভীতাঃ শনৈঃ প্রিয় দধীমহি কর্কশেষু ।
তেনাটবীমটসি তদ্ব্যথতে ন কিংস্বিৎ
     কূর্পাদিভির্ভ্রমতি ধীর্ভবদায়ুষাং নঃ ॥ ১৯॥

     
ইতি শ্রীমদ্ভাগবত মহাপুরাণে পারমহংস্যাং সংহিতায়াং
দশমস্কন্ধে পূর্বার্ধে রাসক্রীডায়াং গোপীগীতং নামৈকত্রিংশোঽধ্যায়ঃ ॥
 ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧      
👇👇👇এই লিখনী 📚 PDF 📚 ক্লিক করুন 👇👇👇
 
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
    *••••┉━❀꧁ 🙏 রাধে রাধে 🙏 ꧂❀━┅••••* 
                   শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য প্রভু নিত্যানন্দ
              হরে কৃষ্ণ হরে রাম শ্রীরাধেগোবিন্দ।।
  *••••┉━❀꧁ 🙏 জয় জগন্নাথ 🙏 ꧂❀━┅••••*
              হরে কৃষ্ণ হরে কৃষ্ণ কৃষ্ণ কৃষ্ণ হরে হরে
              হরে রাম হরে রাম রাম রাম হরে হরে॥
  *••••┉━❀꧁ 🙏 জয় রাধাকান্ত 🙏 ꧂ ❀━┅••••*
   💮❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀💮
   💮❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀💮
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧



গোপীগীতম্ ❤️ শ্রীমদ্ভাগবত মহাপুরাণ হইতে সংগৃহীত 🙏 শ্রী মৃন্ময় নন্দী কর্ত্তৃক সকল ভক্ত চরণে অসংখ্যকোটি প্রণাম 🙏 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2022/06/blog-post_26.html

  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
                       ꧁ গোপীগীতম্ 
       এই লিংকে 👇👇👇🙏👇👇👇 ক্লিক করুন 
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
  ꧁ টিকা বা অন্যান্য ধর্মীয় লিখনী 🙏 সূচীপত্র ꧂
       এই লিংকে 👇👇👇🙏👇👇👇 ক্লিক করুন 
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
              ꧁ স্তত্রম- বন্দনা- গীত- আরতি ꧂
       এই লিংকে 👇👇👇🙏👇👇👇 ক্লিক করুন 
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
গোপ্য ঊচুঃ ।
জয়তি তেঽধিকং জন্মনা ব্রজঃ
     শ্রয়ত ইন্দিরা শশ্বদত্র হি ।
দয়িত দৃশ্যতাং দিক্ষু তাবকা-
     স্ত্বয়ি ধৃতাসবস্ত্বাং বিচিন্বতে ॥ ১॥

শরদুদাশয়ে সাধুজাতস-
     ৎসরসিজোদরশ্রীমুষা দৃশা ।
সুরতনাথ তেঽশুল্কদাসিকা
     বরদ নিঘ্নতো নেহ কিং বধঃ ॥ ২॥

বিষজলাপ্যযাদ্ব্যালরাক্ষসা-
     দ্বর্ষমারুতাদ্বৈদ্যুতানলাৎ ।
বৃষময়াত্মজাদ্বিশ্বতোভয়া-
     দৃষভ তে বয়ং রক্ষিতা মুহুঃ ॥ ৩॥

ন খলু গোপিকানন্দনো ভবা-
     নখিলদেহিনামন্তরাত্মদৃক্ ।
বিখনসার্থিতো বিশ্বগুপ্তয়ে
     সখ উদেয়িবান্সাত্বতাং কুলে ॥ ৪॥

বিরচিতাভয়ং বৃষ্ণিধুর্য তে
     চরণমীয়ুষাং সংসৃতের্ভয়াৎ ।
করসরোরুহং কান্ত কামদং
     শিরসি ধেহি নঃ শ্রীকরগ্রহম্ ॥ ৫॥

ব্রজজনার্তিহন্বীর যোষিতাং
     নিজজনস্ময়ধ্বংসনস্মিত ।
ভজ সখে ভবৎকিঙ্করীঃ স্ম নো
     জলরুহাননং চারু দর্শয় ॥ ৬॥

প্রণতদেহিনাং পাপকর্শনং
     তৃণচরানুগং শ্রীনিকেতনম্ ।
ফণিফণার্পিতং তে পদাম্বুজং
     কৃণু কুচেষু নঃ কৃন্ধি হৃচ্ছয়ম্ ॥ ৭॥

মধুরয়া গিরা বল্গুবাক্যযা
     বুধমনোজ্ঞয়া পুষ্করেক্ষণ ।
বিধিকরীরিমা বীর মুহ্যতী-
     রধরসীধুনাঽঽপ্যায়যস্ব নঃ ॥ ৮॥
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
                       ꧁ গোপীগীতম্ 
       এই লিংকে 👇👇👇🙏👇👇👇 ক্লিক করুন 
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
তব কথামৃতং তপ্তজীবনং
     কবিভিরীডিতং কল্মষাপহম্ ।
শ্রবণমঙ্গলং শ্রীমদাততং
     ভুবি গৃণন্তি তে ভূরিদা জনাঃ ॥ ৯॥

প্রহসিতং প্রিয় প্রেমবীক্ষণং
     বিহরণং চ তে ধ্যানমঙ্গলম্ ।
রহসি সম্বিদো যা হৃদিস্পৃশঃ
     কুহক নো মনঃ ক্ষোভয়ন্তি হি ॥ ১০॥

চলসি যদ্ব্রজাচ্চারয়ন্পশূন্
     নলিনসুন্দরং নাথ তে পদম্ ।
শিলতৃণাঙ্কুরৈঃ সীদতীতি নঃ
     কলিলতাং মনঃ কান্ত গচ্ছতি ॥ ১১॥

দিনপরিক্ষয়ে নীলকুন্তলৈ-
     র্বনরুহাননং বিভ্রদাবৃতম্ ।
ঘনরজস্বলং দর্শয়ন্মুহু-
     র্মনসি নঃ স্মরং বীর যচ্ছসি ॥ ১২॥

প্রণতকামদং পদ্মজার্চিতং
     ধরণিমণ্ডনং ধ্যেয়মাপদি ।
চরণপঙ্কজং শন্তমং চ তে
     রমণ নঃ স্তনেষ্বর্পয়াধিহন্ ॥ ১৩॥

সুরতবর্ধনং শোকনাশনং
     স্বরিতবেণুনা সুষ্ঠু চুম্বিতম্ ।
ইতররাগবিস্মারণং নৃণাং
     বিতর বীর নস্তেঽধরামৃতম্ ॥ ১৪॥
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
                       ꧁ গোপীগীতম্ 
       এই লিংকে 👇👇👇🙏👇👇👇 ক্লিক করুন 
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
অটতি যদ্ভবানহ্নি কাননং
     ত্রুটির্যুগায়তে ত্বামপশ্যতাম্ ।
কুটিলকুন্তলং শ্রীমুখং চ তে
     জড উদীক্ষতাং পক্ষ্মকৃদ্দৃশাম্ ॥ ১৫॥

পতিসুতান্বয়ভ্রাতৃবান্ধবা-
     নতিবিলঙ্ঘ্য তেঽন্ত্যচ্যুতাগতাঃ ।
গতিবিদস্তবোদ্গীতমোহিতাঃ
     কিতব যোষিতঃ কস্ত্যজেন্নিশি ॥ ১৬॥

রহসি সম্বিদং হৃচ্ছয়োদয়ং
     প্রহসিতাননং প্রেমবীক্ষণম্ ।
বৃহদুরঃ শ্রিয়ো বীক্ষ্য ধাম তে
     মুহুরতিস্পৃহা মুহ্যতে মনঃ ॥ ১৭॥

ব্রজবনৌকসাং ব্যক্তিরঙ্গ তে
     বৃজিনহন্ত্র্যলং বিশ্বমঙ্গলম্ ।
ত্যজ মনাক্ চ নস্ত্বৎস্পৃহাত্মনাং
     স্বজনহৃদ্রুজাং যন্নিষূদনম্ ॥ ১৮॥

যত্তে সুজাতচরণাম্বুরুহং স্তনেষ
     ভীতাঃ শনৈঃ প্রিয় দধীমহি কর্কশেষু ।
তেনাটবীমটসি তদ্ব্যথতে ন কিংস্বিৎ
     কূর্পাদিভির্ভ্রমতি ধীর্ভবদায়ুষাং নঃ ॥ ১৯॥

     
ইতি শ্রীমদ্ভাগবত মহাপুরাণে পারমহংস্যাং সংহিতায়াং
দশমস্কন্ধে পূর্বার্ধে রাসক্রীডায়াং গোপীগীতং নামৈকত্রিংশোঽধ্যায়ঃ ॥
 ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧      
👇👇👇এই লিখনী 📚 PDF 📚 ক্লিক করুন 👇👇👇
 
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
    *••••┉━❀꧁ 🙏 রাধে রাধে 🙏 ꧂❀━┅••••* 
                   শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য প্রভু নিত্যানন্দ
              হরে কৃষ্ণ হরে রাম শ্রীরাধেগোবিন্দ।।
  *••••┉━❀꧁ 🙏 জয় জগন্নাথ 🙏 ꧂❀━┅••••*
              হরে কৃষ্ণ হরে কৃষ্ণ কৃষ্ণ কৃষ্ণ হরে হরে
              হরে রাম হরে রাম রাম রাম হরে হরে॥
  *••••┉━❀꧁ 🙏 জয় রাধাকান্ত 🙏 ꧂ ❀━┅••••*
   💮❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀💮
   💮❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀💮
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧



সুদর্শন বা চক্রবাণের উৎপত্তি ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 🔀 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2022/06/httpmrinmoynandy_25.html

  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
             ꧁ সুদর্শন বা চক্রবাণের উৎপত্তি 
       এই লিংকে 👇👇👇🙏👇👇👇 ক্লিক করুন 
            ꧁ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ ꧂
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
🏠Home Page🏠👇👇🙏👇👇📚PDF গ্রন্থ📚
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
  ꧁ টিকা বা অন্যান্য ধর্মীয় লিখনী 🙏 সূচীপত্র 
       এই লিংকে 👇👇👇🙏👇👇👇 ক্লিক করুন 
          ꧁ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ ꧂
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
*বিশ্বকর্মার কন‍্যা সংজ্ঞার সহিত সূর্য‍্যদেবের বিবাহ হয়।* *কিছুদিন পরে সংজ্ঞার গর্ভে শমন(যম)নামে এক পুত্রের জন্ম হয়।* *কিন্তু সংজ্ঞা সূর্য‍্যদেবের তেজ সহ‍্য করতে না পেরে আপন শক্তিতে আপন(নিজ)অনুরূপ ছায়া নামে অপর এক কন‍্যা সৃষ্টি করে স্থস্থানে(অর্থ‍্যাৎ সূর্য‍্যের কাছে) নিয়োগ করে নিজে পিতা বিশ্বকর্মার কাছে চলে যান।* *কিছুদিন পরে ছায়ার গর্ভে শনির জন্ম হয়,একদিন ছায়া সপত্নীপুত্র শমনকে অনাদর করায় শমন তাকে পদাঘাত করে।* *ছায়া তখন তাকে অভিশাপ দেন,"তোর পায়ে কুষ্ঠ হবে"* *ছায়ার মুখে এইকথা শুনে সূর্য‍্যদেব বুঝতে পারলেন যে,ছায়া নিশ্চয়ই শমনের প্রকৃত জননী নয়,* *কারণ জননী কখনও আপন পুত্রকে এইরকম ভাবে অভিশপ্ত করতে পারে না।* *তখন সূর্য‍্যদেব যোগপ্রভাবে সব কিছু জানতে পারলেন,এবং তিনি বিশ্বকর্মার গৃহে যাত্রা করলেন,সংজ্ঞাকে নিজ গৃহে আনবার জন্য।* *পূর্বেই বিশ্বকর্মা সংজ্ঞার নিকট হতে সব কথা শুনেছিলেন,সূর্য‍্যের তেজ সম্বন্ধে।* *সূর্য‍্যদেব গৃহে এলে,জামাতাকে বললেন,আপনার তেজ সহ‍্য করতে না পেরে আমার কন‍্যা এইরকম কর্ম করেছিল।* *অতএব আপনি তেজ সংবরণ করুন।* *সূর্য‍্যদেব রাজী হলেন, বিশ্বকর্মা তাকে কুঁদে বসিয়ে বার ১২অংশে বিভক্ত করলেন।* *সেইজন‍্য দ্বাদশ সূর্য‍্য বলা হয়।* *ও বারটি সূর্য‍্য আছে,১১টি লুপ্ত আছে।* *এই কুঁদে অঙ্গ ঘর্ষণে যে চূর্ণ বাহির হয়েছিল,তাহা একত্রিত করে বিশ্বকর্মা একটি চক্র নির্মাণ করেন,* *তাহারই নাম সুদর্শন চক্র।* *ইহা সূর্য‍্যদের অধিকার করেন।* *কিছুদিন পরে সংজ্ঞা গর্ভে এক কন‍্যার জন্ম হয়।* *তাঁর নাম যমুনা।* *সূর্য‍্য কন‍্যা যমুনাকে নারায়ণের হস্তে সমর্পণ করেন।* *ঐ সময় নারায়ণ সুদর্শন চক্র যৌতুক রূপে প্রাপ্ত হয়েছিলেন।* *বারটি সূর্য‍্য=অর্যমা,মিত্র,বরুণ,ধাতা,ভগ,বিবস্বান,পূষা,ত্বষ্টা,বিষ্ণু,অংশ,সবিতা শত্রু। অবশ‍্য মতান্তর রয়েছে।*
*বিভিন্ন মতে আরো অনেক নাম পাওয়া যায়।*
 ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
👇👇👇এই লিখনী 📚 PDF 📚 ক্লিক করুন 👇👇👇
 ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧               
 ✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️
নিবাস- বাঁশবাড়ী, কীর্তন মন্দিরের পাশে, পোঃ- বাঁশবাড়ী, থানা- ইংরেজ বাজার, জেলা- মালদহ, পশ্চিমবঙ্গ, পিন কোড- ৭৩২১০১।
 ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏
আমায় দেওয়া ওনার এই অমূল্য লিখনী সেবা, তা সকলের মধ্যে প্রকাশ করলাম। ওনার এই অমূল্য দান সমগ্র বৈষ্ণব সমাজ অনন্তকাল মনে রাখিবে।
🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
    *••••┉━❀꧁ 🙏 রাধে রাধে 🙏 ꧂❀━┅••••* 
                   শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য প্রভু নিত্যানন্দ
              হরে কৃষ্ণ হরে রাম শ্রীরাধেগোবিন্দ।।
  *••••┉━❀꧁ 🙏 জয় জগন্নাথ 🙏 ꧂❀━┅••••*
              হরে কৃষ্ণ হরে কৃষ্ণ কৃষ্ণ কৃষ্ণ হরে হরে
              হরে রাম হরে রাম রাম রাম হরে হরে॥
  *••••┉━❀꧁ 🙏 জয় রাধাকান্ত 🙏 ꧂ ❀━┅••••*
   💮❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀💮
   💮❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀💮
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧






সুদর্শন বা চক্রবাণের উৎপত্তি ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 🔀 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2022/06/httpmrinmoynandy_25.html

  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
             ꧁ সুদর্শন বা চক্রবাণের উৎপত্তি 
       এই লিংকে 👇👇👇🙏👇👇👇 ক্লিক করুন 
            ꧁ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ ꧂
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
🏠Home Page🏠👇👇🙏👇👇📚PDF গ্রন্থ📚
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
  ꧁ টিকা বা অন্যান্য ধর্মীয় লিখনী 🙏 সূচীপত্র 
       এই লিংকে 👇👇👇🙏👇👇👇 ক্লিক করুন 
          ꧁ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ ꧂
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
*বিশ্বকর্মার কন‍্যা সংজ্ঞার সহিত সূর্য‍্যদেবের বিবাহ হয়।* *কিছুদিন পরে সংজ্ঞার গর্ভে শমন(যম)নামে এক পুত্রের জন্ম হয়।* *কিন্তু সংজ্ঞা সূর্য‍্যদেবের তেজ সহ‍্য করতে না পেরে আপন শক্তিতে আপন(নিজ)অনুরূপ ছায়া নামে অপর এক কন‍্যা সৃষ্টি করে স্থস্থানে(অর্থ‍্যাৎ সূর্য‍্যের কাছে) নিয়োগ করে নিজে পিতা বিশ্বকর্মার কাছে চলে যান।* *কিছুদিন পরে ছায়ার গর্ভে শনির জন্ম হয়,একদিন ছায়া সপত্নীপুত্র শমনকে অনাদর করায় শমন তাকে পদাঘাত করে।* *ছায়া তখন তাকে অভিশাপ দেন,"তোর পায়ে কুষ্ঠ হবে"* *ছায়ার মুখে এইকথা শুনে সূর্য‍্যদেব বুঝতে পারলেন যে,ছায়া নিশ্চয়ই শমনের প্রকৃত জননী নয়,* *কারণ জননী কখনও আপন পুত্রকে এইরকম ভাবে অভিশপ্ত করতে পারে না।* *তখন সূর্য‍্যদেব যোগপ্রভাবে সব কিছু জানতে পারলেন,এবং তিনি বিশ্বকর্মার গৃহে যাত্রা করলেন,সংজ্ঞাকে নিজ গৃহে আনবার জন্য।* *পূর্বেই বিশ্বকর্মা সংজ্ঞার নিকট হতে সব কথা শুনেছিলেন,সূর্য‍্যের তেজ সম্বন্ধে।* *সূর্য‍্যদেব গৃহে এলে,জামাতাকে বললেন,আপনার তেজ সহ‍্য করতে না পেরে আমার কন‍্যা এইরকম কর্ম করেছিল।* *অতএব আপনি তেজ সংবরণ করুন।* *সূর্য‍্যদেব রাজী হলেন, বিশ্বকর্মা তাকে কুঁদে বসিয়ে বার ১২অংশে বিভক্ত করলেন।* *সেইজন‍্য দ্বাদশ সূর্য‍্য বলা হয়।* *ও বারটি সূর্য‍্য আছে,১১টি লুপ্ত আছে।* *এই কুঁদে অঙ্গ ঘর্ষণে যে চূর্ণ বাহির হয়েছিল,তাহা একত্রিত করে বিশ্বকর্মা একটি চক্র নির্মাণ করেন,* *তাহারই নাম সুদর্শন চক্র।* *ইহা সূর্য‍্যদের অধিকার করেন।* *কিছুদিন পরে সংজ্ঞা গর্ভে এক কন‍্যার জন্ম হয়।* *তাঁর নাম যমুনা।* *সূর্য‍্য কন‍্যা যমুনাকে নারায়ণের হস্তে সমর্পণ করেন।* *ঐ সময় নারায়ণ সুদর্শন চক্র যৌতুক রূপে প্রাপ্ত হয়েছিলেন।* *বারটি সূর্য‍্য=অর্যমা,মিত্র,বরুণ,ধাতা,ভগ,বিবস্বান,পূষা,ত্বষ্টা,বিষ্ণু,অংশ,সবিতা শত্রু। অবশ‍্য মতান্তর রয়েছে।*
*বিভিন্ন মতে আরো অনেক নাম পাওয়া যায়।*
 ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
👇👇👇এই লিখনী 📚 PDF 📚 ক্লিক করুন 👇👇👇
 ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧               
 ✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️
নিবাস- বাঁশবাড়ী, কীর্তন মন্দিরের পাশে, পোঃ- বাঁশবাড়ী, থানা- ইংরেজ বাজার, জেলা- মালদহ, পশ্চিমবঙ্গ, পিন কোড- ৭৩২১০১।
 ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏
আমায় দেওয়া ওনার এই অমূল্য লিখনী সেবা, তা সকলের মধ্যে প্রকাশ করলাম। ওনার এই অমূল্য দান সমগ্র বৈষ্ণব সমাজ অনন্তকাল মনে রাখিবে।
🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
    *••••┉━❀꧁ 🙏 রাধে রাধে 🙏 ꧂❀━┅••••* 
                   শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য প্রভু নিত্যানন্দ
              হরে কৃষ্ণ হরে রাম শ্রীরাধেগোবিন্দ।।
  *••••┉━❀꧁ 🙏 জয় জগন্নাথ 🙏 ꧂❀━┅••••*
              হরে কৃষ্ণ হরে কৃষ্ণ কৃষ্ণ কৃষ্ণ হরে হরে
              হরে রাম হরে রাম রাম রাম হরে হরে॥
  *••••┉━❀꧁ 🙏 জয় রাধাকান্ত 🙏 ꧂ ❀━┅••••*
   💮❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀💮
   💮❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀💮
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧






adds