শ্রী মৃন্ময় নন্দী কর্ত্তৃক সকল ভক্ত👣চরণে👣অসংখ্যকোটি 🙇প্রণাম🙇 ক্লিক করুন 👇

শ্রী মৃন্ময় নন্দী কর্ত্তৃক সকল ভক্ত👣চরণে👣অসংখ্যকোটি 🙇প্রণাম🙇 ক্লিক করুন 👇

৬৭. বাসকসজ্জা লীলা ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ

  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
                 ꧁ ৬৭. বাসকসজ্জা লীলা 
       এই লিংকে 👇👇👇🙏👇👇👇 ক্লিক করুন 
          ꧁ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ ꧂
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
 ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
           ꧁ 👇শ্রীকৃষ্ণ লীলা 🙏 সূচীপত্র👇 ꧂
 ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧ 
 *🌻বাসকসজ্জা গৌরচন্দ্রিকা🌻*
^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^
*সুরধূনী তীরে নব ভান্ডীরের তলে*
*বসিয়াছে গোরাচাঁদ নিজগণ মেলে।।*
*রজনী কৌমুদী আর হিম ঋতু তায়।*
*হিমসহ পবন বহয়ে মৃদুবায়।।*
*তাহি রচয়ে পহুঁ ললিত শয়নে।*
*হেরয়ে ঘন ঘন চকিত নয়নে।।*
*আপন অঙ্গের ছায়া দেখিয়া উঠয়ে।*
*বাসকসজ্জার ভাব জ্ঞানদাস কহে।।*
---------------------------------------------------------
*🌻🌻দ্বিতীয় গৌরচন্দ্রিকা🌻🌻*
*নিশি পরভাতে, বসি আঙ্গিনাতে,*
      *বিরস বদন খানি।*
*গৌরাঙ্গ চাঁদের, হেন ব‍্যবহার,*
     *এমতি কভু না দেখি।।*
*সই,  এ মতি করিল কে।*
*গোরা গুণনিধি,বিধির অবধি,*
       *তাহারে পাইল সে।।*
*কস্তুরী চন্দন, করি  বরিষণ,*
      *গাঁথিয়া ফুলের মালা।*
*বিচিত্র পালঙ্কে, শেজ বিছাইনু,*
       *শুইবে শচীর বালা।।*
*হে দে গো সজনি,সকল রজনী,*
       *জাগিয়া পোহাইল বসি।*
*আশায় আশায়,বসিয়া রহিল,*
      *গত হৈয়া যায় নিশি।।*
*বাসুদেব বলে,গৌরাঙ্গ আইলে,*
      *এখনি কহিব তারে।*
*হেথায় না আইল,রজনী বঞ্চল,*
      *আছিল কাহার ঘরে।।*
---------------------------------------------------
*🌻🌻তৃতীয় গৌরচন্দ্রিকা🌻🌻*
*পালঙ্ক উপরে, গৌরাঙ্গ সুন্দর,*
      *বসিয়া বিরল মনে।*
*রাধার ভাবেতে, ভাবিত অন্তর,*
      *বাসক সজ্জার ভণে।।*
*কহে শ‍্যাম বঁধূ, আসিবে বলিয়া,*
       *শেজ বিছাইনু ফুলে।*
*গত প্রায় নিশি,কোথা কাল শশী,*
       *রজনী গেল বিফলে।।*
*না আসিল কালা,আর প্রেম জ্বালা,*
     *কত বা সহিব প্রাণে।*
*কহে নরহরি,ভাঙ্গিব পিরীতি,*
      *সে শ‍্যাম নিঠুর সনে।।*
---------------------------------------------------
*🌻🌻চতুর্থ গৌরচন্দ্রিকা🌻🌻*
*কি লাগি মোর, গৌরাঙ্গ সুন্দর,*
       *বসিয়া গৃহের মাঝে।*
*বসন আসন ,রতন  ভূষণ,*
     *সাজায় অঙ্গের সাজে।।*
*আপন বপুর, ছাহ হেরিয়া,*
     *চমকি উঠয়ে মনে।*
*কি লাগি অবহুঁ, না মিলল পহুঁ,*
     *এত বা বিলম্ব কেনে।।*
*কহে নরহরি,মোর গৌরহরি,*
     *ভাবিয়া রাইর দশা।*
*সজল নয়ানে,চাহে পথ পানে,*
     *কহে গদ গদ ভাষা।।*

*🌻কলি জীবের জীবন করুণাসিন্ধু শ্রীগৌরসুন্দর জগতে অবতীর্ণ হয়েছেন।* *জগতে সমুদ্রকে "রত্নাকর"বলা হয়,কিন্তু তার অতলগর্ভ হতে রত্ন আরোহণ(উপরে নিয়ে আসা)করা সহজসাধ‍্য নয়।* *সাধারণ মানুষের তো কল্পনা বহির্ভূত,বহু শ্রম করেও সেই রত্নমণির বিনিময়েও যা লভ‍্য নয়,* *সেই অমূল‍্য চিন্তামণি সদৃশ (সমান)শ্রীহরিনাম-চিন্তামণি পরম দয়াল শ্রীগৌরসুন্দর স্বীয় (নিজে) প্রেম গুণরূপ সূত্রে গ্রন্থন করে জগজনের (আবিষ্কারের অসমর্থ সকলের)কন্ঠ পড়িয়ে দিচ্ছেন।* *আর জগতের লোক সকলকে কলিকল্মষরূপ(কলির জীব পাপে জর্জরিত অন্ধকারে )তিমিরে আকুল দর্শনে অর্থ‍্যাৎ কলিরজীবকে পাপের অন্ধকারে  পরিপূর্ণ দেখে )করুণাময় শ্রীগৌরসুন্দর আপন (নিজ)বদন চন্দ্র প্রকাশে অর্থ‍্যাৎ শ্রীগৌররূপে অবতীর্ণ হয়ে প্রেমনেত্রে অশ্রুবিসর্জনরূপ প্রেমামৃত বর্ষণে জগজনের ত্রিতাপ জ্বালা নাশ করেছিলেন।* *করুণাসিন্ধু গৌরহরি দূর হতে দৃর দৃর জায়গায় ভক্তরূপ কল্পতরূ রোপণ করেছেন।* *যাঁদের পদাশ্রয়ে সংসার পথের পথিকগণ নিজ নিজ অভিলাষ(বাসনা) পূর্ণ করছেন।*
*মহাপ্রভু শ্রীগৌরকৃপানিধির অপূর্ব বিলাস দর্শন করুন বাসকসজ্জা।*
*যারা অকিঞ্চণ,অর্থ‍্যাৎ সহায়-সম্বলহীন জীব তাদের পর্য ভাবরূপ হস্তিরাজের উপরে চড়িয়ে বিচরণ করিয়েছেন।* *মূল কথা এই, একমাত্র পতিতপাবন,করুণাময়,সর্বজীবের দয়াল,প্রেমময় গৌরসুন্দর ব্রজভাবে বৃন্দাবন স্মরণ করিয়া বাসকসজ্জা লীলার কথা মনে পড়েছে।* *তিনি রাধা ভাবে ভাবিত হয়ে বনের ভিতরে একটি কুঞ্জে এসে বঁধূ আসবেন বলিয়া সুন্দর সুন্দর পুষ্প চয়ন করে,বঁধূর জন‍্যে পুষ্পশয‍্যা রচনা করছেন।* *অতি সুন্দর করে সুগন্ধি পুষ্প চয়ন করে মনের মত করে মালা গ্রন্থন করছেন,কেন প্রাণবল্লভের গলে পরাবেন।* *রাধাভাবে ভাবিতা গৌরহরি, সখিদের বলছেন,তোরা সেই মণিময় কৌটা নিয়ে আয়,আমার বঁধূ তাম্বুল ভালবাসে, এই মণিময় কৌটায় সযত্নে রাখ,আহা আজ আমার কি সৌভাগ্য,আমার মনের মত করে বঁধূর সেবা করব।* *আবার কি করলেন?শয‍্যা পার্শে বঁধূর জন্য পীতবস্ত্র রেখে দিলেন,বঁধূকে পরাবেন বলিয়া।* *এবারে শয‍্যা ও কুঞ্জ সুসজ্জিত হয়ে গেছে, প্রাণপ্রিয়তমের শুভাগমনের অপেক্ষায় রইলেন।* *খু অল্প সময়ের মধ্যে প্রাণবল্লভ উপস্থিত হবেন,কি না আনন্দ হবে।* *তাঁকে কেমনভাবে স্বাগত-সম্ভাষণ করবেন,তাই মনে মনে ভাবছেন।*
*যখন প্রাণবল্লভ আসবেন,তখন আমি একটু মজা করে কুঞ্জে প্রবেশ করাব।* *এই ভাবনা ভাবছেন, কিন্তু কৈ তিনি তো এখনও এলেন না,এক এক করে সময় অতিবাহিত হতে চলেছে,মনের ভিতরের পূর্ণ আনন্দ একটু একটু ম্লান ভাব নিচ্ছে।* *তিনি আসবেন বলে আমায় কুঞ্জে আসতে বললেন,এখনও তিনি এলেন না!মনের মধ্যে ধীরে ধীরে উৎকণ্ঠা বাড়ছে।*তবে কি আমার আনন্দ,পরিশ্রম  বৃথা হল।* *বঁধূ কি আর আসবেন না?নিজেকে নিজে প্রশ্ন করছেন,ধীরে ধীরে ধৈর্য‍্যহারা হয়ে সমস্ত কিছু যমুনার জলে ফেলে দিলেন,মহাপ্রভুর এই ব‍্যস্ততা দেখে পার্ষদগণ বারবার জিজ্ঞাসা করছেন তোমার কি হয়েছে বল?*
*বলিয়া মহাপ্রভুকে জড়িয়ে ধরে বসিয়েছেন,তখনি বাহ‍্য স্মৃতি ফিরে এলো।* *এখানেই রইল।*

 *🌻গৌরচন্দ্রিকায় এই কথাগুলি বলা যাবে🌻*
""""""""""""""""""""""""""""""""""""""""""""""""""""""""""""""""""
*বৃন্দাবনে ভ্রমণ করতে করতে গৌরহরির অন্তরে রাধিকার প্রেমের ভাব উদয় হল,কৃষ্ণের বিরহ স্ফুর্তি সদাই জাগে।* 
*অন্তরে তানিত প্রভু বিরহ উন্মাদ।*
*ভ্রমময় চিত্ত সদা প্রলাপ সংবাদ।।*
*প্রতি লোমকূপে রক্তোদ্গম হয়।কখনও অঙ্গ ক্ষীণ হয়,কখনও বা স্ফীত হয়।গম্ভীরার মধ্যে রাত্রি নিদ্রাহীন হয়ে দেওয়ালে মাথা ও মুখ ঘসে ঘসে ক্ষত সৃষ্টি করবেন।*
*গম্ভীরার বাইরে এলে কখনও সিংহদ্বারে কখনও  বা সমুদ্রের জলে গিয়ে ঝাঁপ দেন,চটক পর্বত দেখে গোবর্ধন পর্বতের ভ্রম হয়,উপবন দেখে বৃন্দাবন জ্ঞান করবেন।* *কৃষ্ণকথা ভাবতে ভাবতে নাচবেন,গাইবেন,ক্ষণে ক্ষণে মূর্ছিত হবেন,হস্ত-পদ সন্ধি বিস্তারিত হবে,হস্ত,পদ,শির দেহের মধ্যে প্রবেশ করিয়ে কূর্মরূপ ধারণ করবেন।* 
*এমন অদ্ভুত ভাব শরীরে প্রকাশ।*
*মনেতে শূন‍্যতা বচনেতে হা হুতাশ।।*
*আমি কোথায় যাব,কোথায় ব্রজেন্দনন্দনকে পাব,কোথায় মোর প্রাণনাথ,আমি কাকে জিজ্ঞাসা করব,কে আমার দুঃখ বুঝবে,কৃষ্ণ বিহনে আমার বুক বিদীর্ণ হচ্ছে।*
*এইভাবে গৌরহরি ব‍্যাকুল হয়ে বিলাপ করছেন।কৃষ্ণপ্রেমে অজ্ঞান হচ্ছেন,স্থানাস্থান বুঝছেন না,ভালমন্দ বিচার করতে পারছেন না,কৃষ্ণ বিরহে কাঁদতে কাঁদতে বলবেন,কৃষ্ণের যত সদ্ গুণ রশ্মিরূপে আমার হস্তে গলায় বেঁধে রেখেছে।* *সেই বন্ধন কিছুতেই মুক্ত করতে পারছি না।* *যে মদনের দেহ নাই,অপরকে হিংসা করে পরাধীন করে,সর্বদাই পাৈঁবাণের সন্ধান করে,সেই পাঁটবাণ আমার দেহে আঘাত করে দুঃখ দেয়,কিন্তু প্রাণহানি করতে পারে না।এই দুঃখ অন‍্য কাউকে জানাতে পারি না।* *সখিরাও জানে না,তাই তারা আমাকে ধৈর্য‍্য ধরতে বলে,কৃষ্ণসাগর কে পার হতে পারবে।* *তাই সখীর কথা ব‍্যর্থ হল।জীবের প্রাণ অতি চঞ্চল,পদ্মপাতার জলের মত,ততদিন কে বেঁচে থাকবে।* 
*শত বৎসর পর্যন্ত,জীবের জীবন অন্ত,*
     *এই বাক‍্য কভু না বিচারি।*
*নারীর যৌবন ধন,যাতে হরে কৃষ্ণ মন,*
     *সে যৌবন দিন দুই চারি।।*
*আগুন যেমন নিজের প্রভা দেখিয়ে পতঙ্গকে আকর্ষণ করে পুড়িয়ে মারে,তেমনি কৃষ্ণ নিজের গুণ দেখায়ে সবার মন হরণ করে দুঃখের সমুদ্রে ডুবায়।* *এইভাবে বিলাপ করে গৌরহরি দুঃখের দরজা খুলে ভাবের তরঙ্গে বিরহ শ্লোক পাঠ করেন।যার অধরে বংশীধ্বনি,অতি মনোহর যাঁর রূপ,অতি মনোহর যাঁর ধাম,সেই কৃষ্ণের বদন যে নেত্র দর্শন করল না,এমন নয়নে কি কাজ,তার মাথায় পড়ুক বাজ রে সখী।* *কৃষ্ণ বিনা আমার সকলই বিফল।* *কৃষ্ণের মধুর বাণী যেন অমৃতের তরঙ্গ,যার কর্ণে প্রবেশ করল না,ফুটো কড়ির সমান সেই কান,বৃথা হল তার জন্ম।*

 *কৃষ্ণের অধরামৃত,কৃষ্ণের গুণ চরিত,*
     *যে রসনে না হয় উদ্গম।*
*তার স্বাদ নাহি জানে,জন্মিয়া না মেল কেনে,*
     *সে রসনা ভেক জিহ্বা সম।।*

*🌻কৃষ্ণের প্রসাদ যে গ্রহণ করল না জিহ্বায়,তাঁর গুণগাথা যে জিহ্লায় উচ্চারণ হল না,সে জিহ্বা ব‍্যাঙের জিহ্বার মত কেবল ঘেঙর ঘেঙর করে শত্রু সাপকে জানিয়ে দেয় তার আহারের সন্ধান।* *মৃগের কস্তুরীর মত যার অঙ্গের গন্ধ,সেই গন্ধ যার নাসিকায় প্রবেশ করল না,সেই নাক কামারের হাপর ছাড়া আর কি?* *শ্রীকৃষ্ণের কর-পদতল কোটি চন্দ্রের মত সুশীতল,তা স্পশামণির মত।* *সে স্তর্শ যে পেল না,তার দেহ লৌহের সমান,তার মরণই ভাল।* *এইভাবে বিলাপ করতে করতে গৌরহরি অচেতন হয়ে পড়বেন।* *তারপর ঘুমের মধ্যে স্বপনে চেতনতা লাভ করে,*
*কহিছে আজি স্বপনে,দেখিনু বংশীবদনে,*
     *সেইকালে আইলেন দুই বৈরী।*
*আনন্দ আর মদন,হরি নিল মোর মন,*.
     *দেখিতে না পাই নেত্র ভরি।।*
*যদি আবার তাঁকে দেখতে পাই তো মঙ্গল হয়,তখন চন্দন মালা আর নানাবিধ রত্ন অলঙ্কারে তাঁকে সাজাব।* *শুন মোর প্রাণের বন্ধু,কৃষ্ণকে না পেয়ে আমার জীবন,দেহ,ইন্দ্রিয়সকল ব‍্যর্থ হল।*
*এইকথা বলতে বলতে মহাপ্রভু মূর্ছা যান।পুনরায় চেতন পেয়ে অপরূপ বাক‍্য বলেন,পলকে পলকে প্রেমের পাথারে তত্ত্বজ্ঞান উপদেশ করেন।*
*অকৈতব কৃষ্ণপ্রেম,যেন জাম্বুনদ হেম,*
      *সে প্রেমের প্রেমী যে না হয়।*
*যদি তার হয় যোগ,না হয় বিয়োগ,*
     *বিয়োগেতে কেহ না বাঁচায়।।*
*🌻শুদ্ধ প্রেমের গন্ধ না থাকলে,কপট প্রেম বন্ধ হবে,আমার কৃষ্ণকে সে কখনও পাবে না,কৃষ্ণপ্রেম শুদ্ধ গঙ্গাজলের মত সুনির্মল,যেন অমৃতের সিন্ধু,শুদ্ধ প্রেম সুখের সিন্ধু,যার একবিন্দু সারা জগতকে ডুবাতে পারে।* *বাহিরে বিষন্নতা,অন্তরে মহানন্দ,সেই প্রেম আস্বাদন করলে,তপ্ত ইক্ষুরসে মুখ জ্বালা করে, আর ফেলে দিতেও মন চাই না।* *যার মনে সেই প্রেম থাকবে,সেই ভাব সেছাড়া আর কেহই বুঝতে পারবে না,যেন বিষ আর অমৃতের একসঙ্গে মিলন।*

*🌻যখন জগন্নাথ,বলরাম ও সুভদ্রাকে দেখলাম,তখন যেন কুরুক্ষেত্রে এলাম বলিয়া  মনে হয়,জীবন সফল হল,দেহ মন চক্ষু জুড়াল, কোথায় সেই যমুনা, কোথায় সেই রাসবিলাস,কোথায় নৃত‍্যগীত, কোথায় সেই মদনমোহন।* *উঠে নানা ভাবাবেগ,মনেতে মহা উদ্বেগ,*
     *ক্ষণমাত্র নারে গোঙাইতে।*
*প্রবল বিরহানল,ধৈর্য‍্য হৈল টলমল,*
     *চিত্র মগ্ন কৈল কৃষ্ণ প্রীতে।।*
*তোমার দর্শন ছাড়া আমার স্থির থাকতে পারছি না,হে অনাথ বন্ধু!তুমি আমাকে দেখা দাও, তোমার অদর্শনে আমার মন পুড়ে ছাই হয়ে যাচ্ছে।* *আমি এখন কি করি,কেমন করে তোমাকে পাব?*
*এইভাবে গৌরহরি দিব‍্যোন্মাদে দেহে-মনে অবসাদ বোধ করেন।*
*উন্মাদের মত লক্ষণ প্রকাশ পাবে, ভাবাবেশে মান করবেন,তোমার চঞ্চলমতি এক জায়গায় থাকতে পারবে না।* *তুমি আমার প্রাণের বন্ধু,করুণাসিন্ধু, তোমার প্রতি আমার কোনো অভিমান নেই।*
*তুমি ব্রজের প্রাণনাথ,তুমি মোর প্রাণধন,আমাকে দেখা দাও।*
*স্তম্ভ কম্প আর স্বেদ,বৈবর্ণাশ্রু স্বরভেদ,*
    *দেহ হৈল পুলকে পূর্ণিত।*
*হাসে কান্দে নাচে গায়,উঠে পড়ে ছুটি ধায়,*
     *ক্ষণে ভূমে পড়িয়া মূর্ছিত।।*

*🌻মূর্ছার মধ্যেই দেখা পেয়ে যাবেন ;ঐ তো আমার প্রভু।কখনও বা চন্ডীদাস,বিদ‍্যাপতি,রামানন্দ রায়ের নাটক কর্ণামৃত,গীতগোবিন্দ প্রভৃতির গ্রন্থের শ্লোক উচ্চারণ করবেন।* *পূর্বে ব্রজলীলায় শ্রীকৃষ্ণ যে তিনটি অভিলাষ করেছিলেন,তা পূর্ণ করবার জন্য গৌরাঙ্গরূপে অবতীর্ণ হয়ে আস্বাদন করবেন।* *গোপীভাব,রাধার প্রেমের গভীরতা ও আপন মাধুরী এই তিনটি ছিল কৃষ্ণের অন্তরের অভিলাষ।* *নিজে আস্বাদন করে ভক্তগণকে শিক্ষা,স্থানাস্থান বিচার নেই,যারে তারে দান করবেন।*
*এই গুপ্ত ভাবসিন্ধু,ব্রহ্মা না পান একবিন্দু,*
    *হেন ধন বিলান সংসারে।*
*যে দয়াল অবতার,সমদাতা নাহি আর,*
     *গুণ কেহ নারে বর্ণিবারে।।*

*🌻যার প্রতি গৌরসুন্দরের কৃপা হবে,সে তাঁর দাসানুদাসের সঙ্গ করবেন,এইভাবে গৌরহরি পাগলের মত হয়ে কৃষ্ণপ্রেম আস্বাদন করবেন।* *ভক্তগণ খুঁজে খুঁজে বেড়াবেন।*
*🌻ব্রজ লীলা বাসকসজ্জা🌻*
*প্রিয়ার সহিত বিলাসের আশ করি।*
*গৃহ শয‍্যা মালা তাম্বুল স্নিগ্ধ বারি*
*চন্দনাদি মালা গন্ধ বসন ভূষণ।*
*সাজায় করিয়া সাধ প্রিয়ার কারণ।।*
                *(ভক্তমাল)*
*🌻🌻🌻প্রথম পদ🌻🌻🌻*
*রাধিকা আদেশে,মনের হরিষে,*
      *কুসুম রচনা করে।*
*মল্লিকা মালতী,আর জাতী যূথি,*
      *সাজাইছে থরে থরে।।*
   *আজ রচয়ে বাসক শেজ।*
*মুনিগণ চিত, হেরি মূরছিত,*
      *কন্দর্পের ঘুচে তেজ।।*
*ফুলের আচির,ফুলের প্রাচীর,*
       *ফুলেতে ছাইল ঘর।*
*ফুলের বালিশ,আলিশ কারণ,*
       *প্রতি ফুলে ফুলশর।।*
*শুক-পিক দ্বারী,মদন প্রহরী,*
      *ভ্রমর ঝঙ্কারে তায়।*
*ছয় ঋতু মত্ত, সহিত বসন্ত,*
      *মলয় পবন বায়।।*
*উজরোল রাতি,মণিময় বাতি,*
     *কর্পূর তাম্বুল বারি।*
*চন্ডীদাস ভণে,রাখি স্থানে স্থানে,*
       *বাসক করিল গোরি।।*

*🌻শ্রীগোবিন্দের সংকেত পেয়ে যথা সময়ে অভিসার করেছেন,* *আজ শ‍্যামনাগরের সঙ্গে মিলন সুখরস আস্বাদন অভিলাষে সজ্জিত হয়ে রঙ্গময়ী বিনোদিনী কেশরকুঞ্জে এসে উপস্থিত হলেন।*
*কুঞ্জে উপস্থিত হয়ে আর বিলম্ব সহে না,সব সখীদের বলছেন,তোরা আর বিলম্ব করিস না,আমার প্রিয়তম আসবেন,সুন্দর সুন্দর গন্ধরাজ ফুল তুলে নিয়ে আয়,যে গন্ধরাজ পুষ্প আমার প্রিয়তম ভালবাসেন।* *মল্লিকা,মালতী যূথী ও জাতিপুষ্প (গোলাপ পাতার মত জোড়া জোড়া পাতা প্রসিদ্ধ ফুল) ফুল এক এক চয়ন করছেন রাধার সখীগণ।*আজ সখীগণ বিভিন্ন সুন্দর গন্ধের পুষ্প চয়ন করে থরে থরে রাধার কাছে নিয়ে এলেন, সেই ফুল দিয়ে বঁধূর জন‍্য বাসকসজ্জা রচনা করতে লাগলেন।* *সেই কেশরকুঞ্জের ভিতরে ফুল দিয়ে খুবই সুন্দর করে সাজাতে লাগলেন,ফুল দিয়ে কুঞ্জের ভিতরে ছোট ছোট আচির করলেন,তার সঙ্গে একটু বড় বড় প্রাচীর করলেন,(যেমন ফুল দিয়ে বর্তমানে দেখা যায় যে,বিয়েবাড়ীর মন্ডপ সাজানো হয় তদ্রুপ) সাজাইলেন।*
*এত সুন্দর করে সজ্জিত করা হয়েছে যে পদকর্তা বলছেন,এই সাজানো কুঞ্জ যদি মুনিগণ দেখেন তবে শোভা দেখে তাঁরা মূর্ছিত হয়ে পড়বেন,কামদেব বা মদন যদি দেখেন তাহলে নিজে যে সৌন্দর্যের বড়াই করেন সেই তেজ ধূলিস‍্যাৎ হয়ে যাবে।* *ফুল দিয়েই বিছানা,বালিশ তৈরী করলেন।* *এবং সেই কুঞ্জের দ্বারী হল শুক ও পিক।* *কেবল দ্বারী নহে তাদের মধুর ঝঙ্কারে মধুময় হয়ে উঠল সেই পুষ্পের কুঞ্জ।* *পুষ্পের কুঞ্জ দর্শন করে আজ ছয় ঋতু মত্ত হয়ে গেল,এবং মলয় পবন বহিতে লাগল,* *সেই মলয় পবনে চারিদিকে পরিমল ছড়িয়ে পড়ল।*
*উজরোল=উজ্জ্বল রাত্রে মণিময় প্রদীপ জ্বালিয়ে যেন মনে হল বৈকুন্ঠ ধামে পরিণত হয়েছে।* *তৎসহ গোবিন্দ তাম্বুল ভালবাসেন,*
*মণিময় বাটায় সাজিয়ে রাখলেন।*
*পদকর্তা চন্ডীদাস বললেন,সেই কুঞ্জের ভিতরে যেখানে যে জিনিস শোভা পায়,ঠিক সেই ভাবেই জায়গায় জায়গায় সুন্দর ভাবে সবকিছুই সাজিয়ে রাখলেন প্রেমময়ী রাধা বিনোদিনী।*
*বাসিত বারি,কপূরিত তাম্বুল,*
     *কুসুমিত মদন শয়ান।*
*উজোর দীপ,সমীপহি জারহ,*
     *বিরচহ চারু বিতান।।*
  *সখিহে কহই না যাই আনন্দ।*
*ঋতুপতি রাতি,অবহু নব নাগর,*
      *মিলবহু শ‍্যামর চন্দ।।*
*কুসুমিত মৌলী,রসালকো পরিমলে,*
     *ভ্রমরা ভ্রমরী রহু ভোর।*
*মদন মদালসে,সগরিহ যামিনী,*
     *সুখে বঞ্চব হরি কোর।।*
*বিহি পায়ে লাগি,মাগি এহি একুবর,*
     *চেতন রহু মঝু দেহ।*
*গোবিন্দ দাস,কহই হরি পরশহ,*
     *সো পুন হোয়ত সন্দেহ।।*

*🌻শ্রীকৃষ্ণ আসবার আগেই প্রেমময়ী নিকুঞ্জে উপনীত হয়েছেন,এবং একান্ত নিজ নিষ্ঠ কান্তের প্রেমার্তি বিষয় নিয়ে দূতীর সঙ্গে কথাগুলি স্মরণ করে,কান্তের আদর,অভিনন্দন ও মনোরঞ্জের জন্য খুব ব‍্যস্ত মনে কোনও সখীকে বলছেন।* *সখী!সুবাসিত সলিল(সুগন্ধ জল),কর্পূরার্পিত পান,এবং সুন্দর সুন্দর পুষ্প দিয়ে শয‍্যা রচনা কর।* *শয‍্যার পাশে উজ্জ্বল প্রদীপ জ্বালিয়ে রাখ।* *এবং উপরে সুচারু( সুন্দর )চন্দ্রাতপ রচনা কর।* *সখী!আজ আমার অন্তরে যে কেমন আনন্দ উদয় হচ্ছে বলে বুঝাতে পারব না।আজকের রাত্রির মত এমন বসন্ত মধুময়ী রজনীতে,এখনি আমার নবনাগর শ‍্যামসুন্দর আসবেন,এইকথা ভেবে আমার চরম আনন্দ আর কি আছে।* *দেখসখী!কুসুমিত অগ্রে(মুকুলিত) আম্র তরুর পরিমলে ভ্রমর ভ্রমরী বিভোর হয়ে বিলসিত রয়েছে।* *সখী!আমিও আজ কন্দর্পকেলির আনন্দালসে এইরকমভাবে সুখে বিভোর হয়ে নাগরের কোলে (সগরিহ)সমস্ত রজনী যাপন করব।* *বিধাতার চরণে পড়ে এই মাত্র বর প্রার্থনা করছি,সে সময়ে যেন দেহে চেতনা থাকে।* *আনন্দের আতিশর্য‍্যে যেন অচেতন না হয়ে যায়।সখীভাবাবিষ্ট গীতকর্তা গোবিন্দ কবিরাজ বলছেন,হরির পরশে চেতন থাকা সন্দেহের কথা।*
*শ্রীবৃন্দাবনের কেলি কুঞ্জ সকল সর্বদাই বসন্তের প্রধান‍্য।অতএব প্রেম বিভ্রান্ত রাধারাণীর ঋতুপতি রাতি এই কথা কোনও ঋতুতেই অস্বাভাবিক নয়।* *কোনও সখী আরেকজনকে দেখিয়ে বলছেন,দেখ আমাদের নায়িকা শিরোমণি আজ বাসকসজ্জা সাজিয়েছে।* *আহা তার সুবিকসিত অঙ্গের শোভা দেখে মনে হচ্ছে যেন লক্ষ লক্ষ মনমথ(মদন)মনের সাধে ধেয়ে এসে অঙ্গে অঙ্গে উদয় হয়েছে এবং ছেড়ে যেতে চাইছে না।* *(তেজই ত‍্যাগ করে),সময় বুঝে বৃন্দাদেবী নানাপ্রকার আভরণ এনে দিয়াছেন,প্রেমময়ী রাধা বিনোদিনী তা বারবার অঙ্গে ধারণ করছেন আর কান্তের আগমন বিলম্ব হচ্ছে দেখে অসহনীয় হয়ে ঘন ঘন খুলছেন।* *আর প্রদীপের আলোয় নিজের ছায়া দেখছেন মনে করছেন "কান্ত এলেন" মনে করে ক্ষণে ক্ষণে চমকে উঠছেন।* *আর অধৈর্য‍্য হয়ে সখীকে জিজ্ঞাসা করছেন সখী!অদ‍্য শ‍্যামনাগর এত দেরী করছেন কেন?* *সেইকথা শুনে সখীভাবাবিষ্ট গীতকর্তা গোবিন্দ কবিরাজ বলছেন,কই এখনওতো মুরলী নিশান(ধ্বনি)শুনা যাচ্ছে না।*
 *সাজল কুসুম,শেজ পুন সাজই,*
     *জারই জারল বাতি।*
*বাসিত খপুরে,কর্পূর পুনঃ বাসই,*
     *ভৈগেল মদন ভঁরাতি।।*
*আজু  রাই  সাজল  বাসক শেজ।*
*মনমথ লাখ, মনোরথে ধাবই,*
     *অঙ্গে অঙ্গে নাহি তেজ।।*
*ঘন ঘন আভরণ,অঙ্গে চড়ারই,*
      *ক্ষণে ক্ষণে তেজই তায়।*
*সচকিত নয়নে,চঙকি খেনে উঠয়,*
     *হেরই নিজতনু ছায়।।*
*কাতর বচনে,সম্ভাষই সহচরী,*
     *কাহে বিলাম্বায়ত কান।*
*গোবিন্দ দাস,কহই অব না শুনিয়ে,*
     *সঙ্কেত মুরলী নিশান।।*
*ভঁরাতি=ভ্রান্তি,
*🌻নিকুঞ্জে উপস্থিত হয়েই আহ্লাদে ও আদরে প্রেমময়ী রাইধনি,সাজানো শয‍্যাকে পুন সাজালেন।* *যে প্রদীপ জ্বলছিল,তাহা আরও উজ্জ্বল করলেন,সুগন্ধময় তাম্বুল বীটিকা পুন কর্পর দিয়ে আরো সুবাসিত করলেন।* *এতকিছু করেও যেন মনে হল কিছুই করা হয় নাই।* *বলিয়া মদনাবেশে ভ্রান্তি হতে লাগল।* 
*🌻বাসকসজ্জা এখানেই রহিল🌻*
 ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧      
👇👇👇এই লিখনী 📚 PDF 📚 ক্লিক করুন 👇👇👇
 ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧               
 ✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️
নিবাস- বাঁশবাড়ী, কীর্তন মন্দিরের পাশে, পোঃ- বাঁশবাড়ী, থানা- ইংরেজ বাজার, জেলা- মালদহ, পশ্চিমবঙ্গ, পিন কোড- ৭৩২১০১।
 ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏
আমায় দেওয়া ওনার এই অমূল্য লিখনী সেবা, তা সকলের মধ্যে প্রকাশ করলাম। ওনার এই অমূল্য দান সমগ্র বৈষ্ণব সমাজ অনন্তকাল মনে রাখিবে।
🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
    *••••┉━❀꧁ 🙏 রাধে রাধে 🙏 ꧂❀━┅••••* 
                   শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য প্রভু নিত্যানন্দ
              হরে কৃষ্ণ হরে রাম শ্রীরাধেগোবিন্দ।।
  *••••┉━❀꧁ 🙏 জয় জগন্নাথ 🙏 ꧂❀━┅••••*
              হরে কৃষ্ণ হরে কৃষ্ণ কৃষ্ণ কৃষ্ণ হরে হরে
              হরে রাম হরে রাম রাম রাম হরে হরে॥
  *••••┉━❀꧁ 🙏 জয় রাধাকান্ত 🙏 ꧂ ❀━┅••••*
   💮❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀💮
   💮❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀💮
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧





৬৬. জটিলার গৃহে গাভী দোহন 🌷 শ্রীকৃষ্ণ লীলা ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📝 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2022/07/httpmrinmoynandy_12.html

  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
          ꧁ ৬৬. জটিলার গৃহে গাভী দোহন 
       এই লিংকে 👇👇👇🙏👇👇👇 ক্লিক করুন 
          ꧁ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ ꧂
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
 ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
           ꧁ 👇শ্রীকৃষ্ণ লীলা 🙏 সূচীপত্র👇 ꧂
 ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧ 
                     প্রথম পদ
                    *************
কৃষ্ণবর্ণ গাভী ছাদি জটিলা বসিল।
ছাঁদন ছিড়িয়া ভান্ড ভাঙ্গিয়া ফেলিল।।
গাভীর মনের ইচ্ছা গোবিন্দ দোহিবে।
দোহিয়া আমার দুগ্ধ গোবিন্দ ভুঞ্জিবে।।
ইহা যদি নাহি হয় দুগ্ধ নাহি দিব।
ছাঁদন ছিড়িয়া ভান্ড ভাঙ্গিয়া ফেলিব।।
পুন আনি ছাঁদন ডুরি গাভী ছাঁদি নিল।
পূর্ববৎ গাভী এবার ভান্ড ভাঙ্গি দিল।।
ঘর্মাক্ত কলেবরে জটিলা ধাইল।
হেন কালে শ্রীগোবিন্দ সেই পথে এলো।।
দ্বেষ ভুলি জটিলার কৃষ্ণ প্রীতি হয়।
বাপ এসো বাপ এসো বলিয়া ডাকয়।।
ডাক শুনি শ্রীগোবিন্দের হরষিত মন।
মনোহর সাথে সাথে করিলা গমন।।
               দ্বিতীয় পদ
          ******************
 জটিলা কহিছে, শ্রীকৃষ্ণের কাছে,শুনহে নন্দের বালা।
সুবুদ্ধি গাভীর,কুবুদ্ধি হইল,বাড়িল বিষম জ্বালা।।
ছাঁদনে না ছাঁদি,বাধনে না বাঁধি, ওমনি দুগ্ধ দেয়।
আজু কি হইল,দুগ্ধ নাহি দিল, ভান্ড ভাঙ্গি কৈল সাই।।
তোমার পিতার,নবলক্ষ ধেনু,তুমিই তো দোহিয়া থাক।
দুষ্ট শিষ্ট গাভী,শাসন করিয়া,তুমিই মাঠে রাখ।।
তাই বলি বাছা,গাভীটি দোহিয়া,বাঁচাও আমার প্রাণ।
আজুকার দুগ্ধ,উদর পুরিয়া,তোমারে করাব পান।।
এতেক শুনিয়া,বীর যদুবর,গাভীর নিকটে যায়।
তা দেখিয়া গাভী,মুখখানি তুলিয়া,গোবিন্দ বদন চায়।।
পুলকিত অঙ্গ,পাই কৃষ্ণ সঙ্গ,প্রেমের পাথারে ভাসে।
কৃষ্ণ কর স্পর্শে,ধন‍্য হব আজি,কহয়ে লোচন দাসে।।
                তৃতীয় পদ
         ********************
বাছুরির ডুরি জটিলা ধরিল হাতে।
 লাভ দিয়া বাছুরি পরে জটিলার মাথে।।
 হিতে বিপরীত বুঝি হইল এবার।
 ধরণী লুটায় বলে মরি এইবার।।
 বাঁধি কাপড় চাপড় মারি গালে।
কৃষ্ণ কুৎসাকারী বৎস ধরয়ে বলে।।
যার নাই ভক্তি তার শক্তি কিসে বা গণি।
বৎস শক্তি কৃষ্ণ ভক্তি রসে বাখানি।।
পুন টানি আনি জটিলারে ফেলে।
একবার পড়ে কৃষ্ণের চরণ তলে।।
ধরি বক্ষ রক্ষ কৃষ্ণ জটিলা বলে।
ধরি তোলয়ে বোলয়ে আহা জটিলে।
জটিলা উঠি চটপটি বঁধুরে ডাকে।
শুনি আওল পাওল প্রাণ বঁধুকে।।
মুচকি হাসি রাইশশী ঘোমটা দিয়া।
মনোহর মুখখানি দেখে চাহিয়া।।
            চতুর্থ পদ
      ^^^^^^^^^^^^^^^^^^^
জটিলা কহিছে মায় , নাকালের আর সীমা নাই
            গাভী বৎস যুক্তি করি মনে।
ভান্ড ভাঙ্গি ছাদন ছিড়ি , খাওয়াইলা গড়াগড়ি
           ভাগ‍্যে হেথায় এলো গোপাল ধনে।।
যাও তুমি ভান্ড আনি, মুখে বাঁধ বস্ত্র কানি
           সীতা মিশ্রি স্থাপ তদুপরি।
দুগ্ধ ধারা দিবে তাতে , গলি যাবে ভিতরেতে
           হবে তাতে দুগ্ধের মাধুরী।।
অশান্ত বাছুরী অতি , ধরিবার নাহি শক্তি
           নিকটে আসিয়া বৎস ধর।
ইহা শুনি শ্রীরাধিকা, হইলা আনন্দাধিকা 
           ভান্ড আনতে চলিলা সত্বর।।
দরিদ্র আর কিবা চায়, যদি ধনপূর্ণ ঘট পায়
           তার আশা পূর্ণ সেইকালে।
লোচনদাসের বড়ই আশা, বৃন্দাবনে করে বাসা
           দেখি লীলা ভাসি নয়ন জলে।।
              পঞ্চম পদ
        ******************
ভান্ড মুখে বস্ত্র কানি বাধি আনি দিল।
তদুপরি সীতা মিশ্রি স্থাপন করিল।।
জটিলা কয় দুগ্ধ ধারা মিশ্রি খন্ডে দিবে।
দুগ্ধেতে গলিয়া মিশ্রি ভান্ডে প্রবেশিবে।
সে দুগ্ধ বঁধুমাতা তোমারে খাওয়াবে।
দুগ্ধ ভঞ্জি তবে তুমি গৃহে যেতে পাবে।।
জটিলার বাক‍্য মতে গোবিন্দ দোহিল।
শ্রীমতী বৎসের রজ্জু ধারণ করিল।।
এইভাবে দোহন কার্য‍্য সমাধা করিয়া।
ভান্ডটি রাধা করে দিলেন আসিয়া।।
জটিলা কয় বঁধুমাতা নিজ ঘরে গিয়া।
গোপালে ভোজন করাও আনন্দ করিয়া।।
আনন্দের সীমা নাই শ্রীরাধার অন্তরে।
মহানন্দে দরশন করে দাস মনোহরে।।
^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^
মিশ্রি =মিছরি, ভঞ্জি = পান করা।
সীতামিশ্রি= বিশুদ্ধ মিছরি, সীতা মিছরি দুগ্ধের
সহিত পান করিলে, শরীরের সমস্ত পরিশ্রম ক্ষণেকের মধ্যে দূর হয়। এই মিছরি গলিতে বহু সময় লাগে, সীতা মিছরি দেখতে বরফের মত স্থচ্ছ, দুধের সহিত মিলিত হবার পর অমৃতকেলি 
হয়। যে অমৃতকেলি মাধবেন্দ্রপুরী পেয়েছিলেন।
^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^
      জয় শ্রীরাধেশ‍্যাম।
 ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧      
👇👇👇এই লিখনী 📚 PDF 📚 ক্লিক করুন 👇👇👇
 ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧               
 ✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️
নিবাস- বাঁশবাড়ী, কীর্তন মন্দিরের পাশে, পোঃ- বাঁশবাড়ী, থানা- ইংরেজ বাজার, জেলা- মালদহ, পশ্চিমবঙ্গ, পিন কোড- ৭৩২১০১।
 ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏
আমায় দেওয়া ওনার এই অমূল্য লিখনী সেবা, তা সকলের মধ্যে প্রকাশ করলাম। ওনার এই অমূল্য দান সমগ্র বৈষ্ণব সমাজ অনন্তকাল মনে রাখিবে।
🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
    *••••┉━❀꧁ 🙏 রাধে রাধে 🙏 ꧂❀━┅••••* 
                   শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য প্রভু নিত্যানন্দ
              হরে কৃষ্ণ হরে রাম শ্রীরাধেগোবিন্দ।।
  *••••┉━❀꧁ 🙏 জয় জগন্নাথ 🙏 ꧂❀━┅••••*
              হরে কৃষ্ণ হরে কৃষ্ণ কৃষ্ণ কৃষ্ণ হরে হরে
              হরে রাম হরে রাম রাম রাম হরে হরে॥
  *••••┉━❀꧁ 🙏 জয় রাধাকান্ত 🙏 ꧂ ❀━┅••••*
   💮❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀💮
   💮❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀💮
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧



৬৬. জটিলার গৃহে গাভী দোহন ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ

  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
          ꧁ ৬৬. জটিলার গৃহে গাভী দোহন 
       এই লিংকে 👇👇👇🙏👇👇👇 ক্লিক করুন 
          ꧁ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ ꧂
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
 ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
           ꧁ 👇শ্রীকৃষ্ণ লীলা 🙏 সূচীপত্র👇 ꧂
 ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧ 
                     প্রথম পদ
                    *************
কৃষ্ণবর্ণ গাভী ছাদি জটিলা বসিল।
ছাঁদন ছিড়িয়া ভান্ড ভাঙ্গিয়া ফেলিল।।
গাভীর মনের ইচ্ছা গোবিন্দ দোহিবে।
দোহিয়া আমার দুগ্ধ গোবিন্দ ভুঞ্জিবে।।
ইহা যদি নাহি হয় দুগ্ধ নাহি দিব।
ছাঁদন ছিড়িয়া ভান্ড ভাঙ্গিয়া ফেলিব।।
পুন আনি ছাঁদন ডুরি গাভী ছাঁদি নিল।
পূর্ববৎ গাভী এবার ভান্ড ভাঙ্গি দিল।।
ঘর্মাক্ত কলেবরে জটিলা ধাইল।
হেন কালে শ্রীগোবিন্দ সেই পথে এলো।।
দ্বেষ ভুলি জটিলার কৃষ্ণ প্রীতি হয়।
বাপ এসো বাপ এসো বলিয়া ডাকয়।।
ডাক শুনি শ্রীগোবিন্দের হরষিত মন।
মনোহর সাথে সাথে করিলা গমন।।
               দ্বিতীয় পদ
          ******************
 জটিলা কহিছে, শ্রীকৃষ্ণের কাছে,শুনহে নন্দের বালা।
সুবুদ্ধি গাভীর,কুবুদ্ধি হইল,বাড়িল বিষম জ্বালা।।
ছাঁদনে না ছাঁদি,বাধনে না বাঁধি, ওমনি দুগ্ধ দেয়।
আজু কি হইল,দুগ্ধ নাহি দিল, ভান্ড ভাঙ্গি কৈল সাই।।
তোমার পিতার,নবলক্ষ ধেনু,তুমিই তো দোহিয়া থাক।
দুষ্ট শিষ্ট গাভী,শাসন করিয়া,তুমিই মাঠে রাখ।।
তাই বলি বাছা,গাভীটি দোহিয়া,বাঁচাও আমার প্রাণ।
আজুকার দুগ্ধ,উদর পুরিয়া,তোমারে করাব পান।।
এতেক শুনিয়া,বীর যদুবর,গাভীর নিকটে যায়।
তা দেখিয়া গাভী,মুখখানি তুলিয়া,গোবিন্দ বদন চায়।।
পুলকিত অঙ্গ,পাই কৃষ্ণ সঙ্গ,প্রেমের পাথারে ভাসে।
কৃষ্ণ কর স্পর্শে,ধন‍্য হব আজি,কহয়ে লোচন দাসে।।
                তৃতীয় পদ
         ********************
বাছুরির ডুরি জটিলা ধরিল হাতে।
 লাভ দিয়া বাছুরি পরে জটিলার মাথে।।
 হিতে বিপরীত বুঝি হইল এবার।
 ধরণী লুটায় বলে মরি এইবার।।
 বাঁধি কাপড় চাপড় মারি গালে।
কৃষ্ণ কুৎসাকারী বৎস ধরয়ে বলে।।
যার নাই ভক্তি তার শক্তি কিসে বা গণি।
বৎস শক্তি কৃষ্ণ ভক্তি রসে বাখানি।।
পুন টানি আনি জটিলারে ফেলে।
একবার পড়ে কৃষ্ণের চরণ তলে।।
ধরি বক্ষ রক্ষ কৃষ্ণ জটিলা বলে।
ধরি তোলয়ে বোলয়ে আহা জটিলে।
জটিলা উঠি চটপটি বঁধুরে ডাকে।
শুনি আওল পাওল প্রাণ বঁধুকে।।
মুচকি হাসি রাইশশী ঘোমটা দিয়া।
মনোহর মুখখানি দেখে চাহিয়া।।
            চতুর্থ পদ
      ^^^^^^^^^^^^^^^^^^^
জটিলা কহিছে মায় , নাকালের আর সীমা নাই
            গাভী বৎস যুক্তি করি মনে।
ভান্ড ভাঙ্গি ছাদন ছিড়ি , খাওয়াইলা গড়াগড়ি
           ভাগ‍্যে হেথায় এলো গোপাল ধনে।।
যাও তুমি ভান্ড আনি, মুখে বাঁধ বস্ত্র কানি
           সীতা মিশ্রি স্থাপ তদুপরি।
দুগ্ধ ধারা দিবে তাতে , গলি যাবে ভিতরেতে
           হবে তাতে দুগ্ধের মাধুরী।।
অশান্ত বাছুরী অতি , ধরিবার নাহি শক্তি
           নিকটে আসিয়া বৎস ধর।
ইহা শুনি শ্রীরাধিকা, হইলা আনন্দাধিকা 
           ভান্ড আনতে চলিলা সত্বর।।
দরিদ্র আর কিবা চায়, যদি ধনপূর্ণ ঘট পায়
           তার আশা পূর্ণ সেইকালে।
লোচনদাসের বড়ই আশা, বৃন্দাবনে করে বাসা
           দেখি লীলা ভাসি নয়ন জলে।।
              পঞ্চম পদ
        ******************
ভান্ড মুখে বস্ত্র কানি বাধি আনি দিল।
তদুপরি সীতা মিশ্রি স্থাপন করিল।।
জটিলা কয় দুগ্ধ ধারা মিশ্রি খন্ডে দিবে।
দুগ্ধেতে গলিয়া মিশ্রি ভান্ডে প্রবেশিবে।
সে দুগ্ধ বঁধুমাতা তোমারে খাওয়াবে।
দুগ্ধ ভঞ্জি তবে তুমি গৃহে যেতে পাবে।।
জটিলার বাক‍্য মতে গোবিন্দ দোহিল।
শ্রীমতী বৎসের রজ্জু ধারণ করিল।।
এইভাবে দোহন কার্য‍্য সমাধা করিয়া।
ভান্ডটি রাধা করে দিলেন আসিয়া।।
জটিলা কয় বঁধুমাতা নিজ ঘরে গিয়া।
গোপালে ভোজন করাও আনন্দ করিয়া।।
আনন্দের সীমা নাই শ্রীরাধার অন্তরে।
মহানন্দে দরশন করে দাস মনোহরে।।
^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^
মিশ্রি =মিছরি, ভঞ্জি = পান করা।
সীতামিশ্রি= বিশুদ্ধ মিছরি, সীতা মিছরি দুগ্ধের
সহিত পান করিলে, শরীরের সমস্ত পরিশ্রম ক্ষণেকের মধ্যে দূর হয়। এই মিছরি গলিতে বহু সময় লাগে, সীতা মিছরি দেখতে বরফের মত স্থচ্ছ, দুধের সহিত মিলিত হবার পর অমৃতকেলি 
হয়। যে অমৃতকেলি মাধবেন্দ্রপুরী পেয়েছিলেন।
^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^
      জয় শ্রীরাধেশ‍্যাম।
 ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧      
👇👇👇এই লিখনী 📚 PDF 📚 ক্লিক করুন 👇👇👇
 ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧               
 ✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️
নিবাস- বাঁশবাড়ী, কীর্তন মন্দিরের পাশে, পোঃ- বাঁশবাড়ী, থানা- ইংরেজ বাজার, জেলা- মালদহ, পশ্চিমবঙ্গ, পিন কোড- ৭৩২১০১।
 ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏
আমায় দেওয়া ওনার এই অমূল্য লিখনী সেবা, তা সকলের মধ্যে প্রকাশ করলাম। ওনার এই অমূল্য দান সমগ্র বৈষ্ণব সমাজ অনন্তকাল মনে রাখিবে।
🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
    *••••┉━❀꧁ 🙏 রাধে রাধে 🙏 ꧂❀━┅••••* 
                   শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য প্রভু নিত্যানন্দ
              হরে কৃষ্ণ হরে রাম শ্রীরাধেগোবিন্দ।।
  *••••┉━❀꧁ 🙏 জয় জগন্নাথ 🙏 ꧂❀━┅••••*
              হরে কৃষ্ণ হরে কৃষ্ণ কৃষ্ণ কৃষ্ণ হরে হরে
              হরে রাম হরে রাম রাম রাম হরে হরে॥
  *••••┉━❀꧁ 🙏 জয় রাধাকান্ত 🙏 ꧂ ❀━┅••••*
   💮❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀💮
   💮❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀💮
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧



শ্রীমদ্ভগবদ্গীতা (চতুর্থ অধ্যায়- জ্ঞানযোগ ) 🙏 শ্রী মৃন্ময় নন্দী কর্ত্তৃক সকল ভক্ত চরণে অসংখ্যকোটি প্রণাম 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 https://mrinmoynandy.blogspot.com/2022/03/blog-post_8.html

  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
     ꧁শ্রীমদ্ভগবদ্গীতা (চতুর্থ অধ্যায়- জ্ঞানযোগ )꧂
       এই লিংকে 👇👇👇🙏👇👇👇 ক্লিক করুন 
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
 ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
          ꧁ 👇শ্রীমদ্ভগবদ্গীতা 🙏 সূচীপত্র👇 ꧂
 ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧     
শ্রীভগবান উবাচ-
ইমং বিবস্বতে যোগং প্রোক্তবানহমব্যয়ম্।।
বিবস্বান্মবে প্রাহ মনুরিক্ষ্বাকবেহব্রবীৎ।।১।।

অনুবাদঃ পরমেশ্বর ভগবান শ্রীকৃষ্ণ বললেন-আমি পূর্বে সূর্যদেব বিবস্বানকে এই অব্যয় নিষ্কাম কর্মসাধ্য জ্ঞানযোগ বলেচিলাম। সূর্য তা মানবজাতির জনক মনুকে বলেছিলেন এবং মনু তা ইক্ষ্বাকুকে বলেছিলেন।
      🌹⚜🌹⚜🌹⚜🌹⚜🌹⚜🌹⚜🌹
এবং পরম্পরাপ্রাপ্তমিমং রাজর্ষয়ো বিদুঃ।
স কালেনেহ মহতা যোগো নষ্টঃ পরন্তপ।।২।।

অনুবাদঃ এভাবেই পরম্পরা মাধ্যমে প্রাপ্ত এই পরম বিজ্ঞান রাজর্ষিরা লাভ করেছিলেন। কিন্তু কালের প্রভাবে পরম্পরা ছিন্ন হয়েছিল এবং তাই সেই যোগ নষ্টপ্রায় হয়েছে।
      🌹⚜🌹⚜🌹⚜🌹⚜🌹⚜🌹⚜🌹
স এবায়ং ময়া তেহদ্য যোগঃ প্রোক্তঃ পুরাতনঃ।
ভক্তোহসি মে সখা চেতি রহস্যং হ্যেতদুত্তমম্।।৩।।

অনুবাদঃ সেই সনাতন যোগ আজ আমি তোমাকে বললাম, কারণ তুমি আমার ভক্ত ও সখা এবং তাই তুমি এই বিজ্ঞানের অতি গূঢ় রহস্য হৃদয়ঙ্গম করতে পারবে।
       🌹⚜🌹⚜🌹⚜🌹⚜🌹⚜🌹⚜🌹
অর্জুন উবাচ-
অপরং ভবতো জন্ম পরং জন্ম বিবস্বতঃ।
কথমেতদ্ বিজ্ঞানীয়াং ত্বমাদৌ প্রোক্তবানিতি।।৪।।

অনুবাদঃ অর্জুন বললেন-সূর্যদেব বিবস্বামানের জন্ম জয়েছিল তোমার অনেক পূর্বে। তুমি যে পুরাকালে তাঁকে এই জ্ঞান উপদেশ করেছিলে, তা আমি কেমন করে বুঝব?
      🌹⚜🌹⚜🌹⚜🌹⚜🌹⚜🌹⚜🌹
শ্রীভগবান উবাচ-
বহুনি মে ব্যতীতানি জন্মানি তব চার্জুন।
তান্যহং বেদ সর্বাণি ন ত্বং বেত্থ পরন্তপ।।৫।।

অনুবাদঃ পরমেশ্বর ভগবান বললেন- হে পরন্তপ অর্জুন! আমার ও তোমার বহু জন্ম অতীত হয়েছে। আমি সেই সমস্ত জন্মের কথা স্মরণ করতে পারি, কিন্তু তুমি পার না।
      🌹⚜🌹⚜🌹⚜🌹⚜🌹⚜🌹⚜🌹
অজেহপি সন্নব্যয়াত্মা ভূতানীমীম্বরোহপি সন্।
প্রকৃতিং স্বামধিষ্ঠায় সম্ভবাম্যাত্মমায়য়া।।৬।।

অনুবাদঃ যদিও আমি জন্মরহিত এবং আমার চিন্ময় দেহ অব্যয় এবং যদিও আমি সর্বভূতের ঈশ্বর, তবুও আমার অন্তরঙ্গা শক্তিকে আশ্রয় করে আমি আমার আদি চিন্ময় রূপে যুগে যুগে অবতীর্ণ হই।
      🌹⚜🌹⚜🌹⚜🌹⚜🌹⚜🌹⚜🌹
যদা যদা হি ধর্মস্য গ্লানির্ভবতি ভারত।
অভ্যুত্থানমধর্মস্য তদাত্মনং সৃজামহ্যম্।।৭।।

অনুবাদঃ হে ভারত! যখনই ধর্মের অধঃপতন হয় এবং অধর্মের অভ্যুত্থান হয়, তখন আমি নিজেকে প্রকাশ করে অবতীর্ণ হই।
      🌹⚜🌹⚜🌹⚜🌹⚜🌹⚜🌹⚜🌹
পরিত্রাণায় সাধূনাং বিনাশায় চ দুষ্কৃতাম্।
ধর্মসংস্থাপনার্থায় সম্ভবামি যুগে যুগে।।৮।।

অনুবাদঃ সাধুদের পরিত্রাণ করার জন্য এবং দুষ্কৃতকারীদের বিনাশ করার জন্য এবং ধর্ম সংস্থাপনের জন্য আমি যুগে যুগে অবতীর্ণ হই।
      🌹⚜🌹⚜🌹⚜🌹⚜🌹⚜🌹⚜🌹
জন্ম কর্ম চ মে দিব্যমেবং যো বেত্তি তত্ত্বতঃ।
ত্যক্ত্বা দেহং পুনর্জন্ম নৈতি মামেতি সোহর্জুন।।৯।।

অনুবাদঃ হে অর্জুন! ‍যিনি আমার এই প্রকার দিব্য জন্ম ও কর্ম যথাযথভাবে জানেন, তাঁকে আর দেহত্যাগ করার পর পুনরায় জন্মগ্রহণ করতে হয় না, তিনি আমার নিত্য ধাম লাভ করেন।
      🌹⚜🌹⚜🌹⚜🌹⚜🌹⚜🌹⚜🌹
বীতরাগভয়ক্রোধা মন্ময়া মামুপাশ্রিতাঃ।
বহুবো জ্ঞানতপসা পূতা মদ্ভাবমাগতাঃ।।১০।।

অনুবাদঃ আসক্তি, ভয় ও ক্রোধ থেকে মুক্ত হয়ে, সম্পূর্ণরূপে আমাতে মগ্ন হয়ে, একান্তভাবে আমার আশ্রিত হয়ে, পূর্বে বহু বহু ব্যক্তি আমার জ্ঞান লাভ করে পবিত্র হয়েছে-এবং এভাবেই সকলেই আমার অপ্রাকৃত প্রীতি লাভ করেছে।
      🌹⚜🌹⚜🌹⚜🌹⚜🌹⚜🌹⚜🌹
 যে যথা মাং প্রপদ্যন্তে তাংস্তথৈব ভজাম্যহম্।
মম বর্ত্মানুবর্তন্তে মনুষ্যাঃ পার্থ সর্বশঃ।।১১।।

অনুবাদঃ যারা যেভাবে আমার প্রতি আত্মসমর্পণ করে, আমি তাদেরকে সেভাবেই পুরস্কৃত করি। হে পার্থ! সকলেই সর্বতোভাবে আমার পথ অনুসরণ করে।
      🌹⚜🌹⚜🌹⚜🌹⚜🌹⚜🌹⚜🌹
কাঙ্ক্ষন্তঃ কর্মণাং সিদ্ধিং  যজন্ত ইহ দেবতাঃ।
ক্ষিপ্রং হি মানষে লোকে সিদ্ধির্ভবতি কর্মজা।।১২।।

অনুবাদঃ এই জগতে মানুষেরা সকাম কর্মের সিদ্ধি কামনা করে এবং তাই তারা বিভিন্ন দেব-দেবীর উপাসনা করে। সকাম কর্মের ফল অবশ্যই অতি শীর্ঘ্রই লাভ হয়।
      🌹⚜🌹⚜🌹⚜🌹⚜🌹⚜🌹⚜🌹
চাতুর্বর্ণ্যং ময়া সৃষ্টং গুণকর্মবিভাগশঃ।
তস্য কর্তারমপি মাং বিদ্ধ্যকর্তারমব্যয়ম্।।১৩।।

অনুবাদঃ প্রকৃতির তিনটি গুণ ও কর্ম অনুসারে আমি মানব-সমাজে চারটি বর্ণবিভাগ সৃষ্টি করেছি। আমি এই প্রথার স্রষ্টা হলেও আমাকে অকর্তা এবং অব্যয় বলে জানবে।
      🌹⚜🌹⚜🌹⚜🌹⚜🌹⚜🌹⚜🌹
ন মাং কর্মাণি লিম্পন্তি ন মে কর্মফলে স্পৃহা।
ইতি মাং যোহভিজানাতি কর্মভির্ন স বধ্যতে।।১৪।।

অনুবাদঃ কোন কর্মই আমাকে প্রভাবিত করতে পারে না এবং আমিও কোন কর্মফলের আকাঙ্ক্ষা করি না। আমার এই তত্ত্ব যিনি জানেন, তিনিও কখনও সকাম কর্মের বন্ধনে আবদ্ধ হন না।
      🌹⚜🌹⚜🌹⚜🌹⚜🌹⚜🌹⚜🌹
এবং জ্ঞাত্বা কৃতং কর্ম পূর্বৈরপি মুমুক্ষুভিঃ।
কুরু কর্মৈব তস্মাত্ত্বং পূর্বৈঃ পূর্বতরং কৃতম্।।১৫।।

অনুবাদঃ প্রাচীনকালে সমস্ত মুক্ত পুরুষেরা আমার অপ্রাকৃত তত্ত্ব অবগত হয়ে কর্ম করেছেন। অতেএব তুমিও সেই প্রাচীন মহাজনদের পদাঙ্ক অনুসরণ করে তোমার কর্তব্য সম্পাদন কর।
      🌹⚜🌹⚜🌹⚜🌹⚜🌹⚜🌹⚜🌹
কিং কর্ম কিমকর্মেতি কবয়োহপ্যত্র মোহিতাঃ।
তত্তে কর্ম প্রবক্ষ্যামি যজজ্ঞাত্বা মোক্ষ্যসেহশুভাৎ।।১৬।।

অনুবাদঃ কাকে কর্ম ও কাকে অকর্ম বলে, তা স্থির করতে বিবেকী ব্যক্তিরাও মোহিত হন। আমি সেই কর্ম বিষয়ে তোমাকে উপদেশ করব। তুমি তা অবগত হয়ে সমস্ত অশুভ অবস্থা থেকে মুক্ত হবে।
      🌹⚜🌹⚜🌹⚜🌹⚜🌹⚜🌹⚜🌹
কর্মণো হ্যপি বোদ্ধব্যং বোদ্ধব্যং চ বিকর্মণঃ।
অকর্মণশ্চ বোদ্ধব্যং গহনা কর্মণো গতিঃ।।১৭।।

অনুবাদঃ কর্মের নিগূঢ় তত্ত্ব হৃদয়ঙ্গম করা অত্যন্ত কঠিন। তাই কর্ম, বিকর্ম ও অকর্ম সম্বন্ধে যথাযথভাবে জানা কর্তব্য।
      🌹⚜🌹⚜🌹⚜🌹⚜🌹⚜🌹⚜🌹
কর্মণ্যকর্ম যঃ পশ্যেদকর্মণি চ কর্ম যঃ।
স বুদ্ধিমানন্মনুষ্যেষু স যুক্তঃ কৃৎস্নকর্মকৃৎ।।১৮।।

অনুবাদঃ যিনি কর্মে অকর্ম দর্শন করেন এবং অকর্মে কর্ম দর্শন করেন, তিনীই মানুষের মধ্যে বুদ্ধিমান। সব রকম কর্মে লিপ্ত থাকা সেত্ত্বেও তিনি চিন্ময় স্তরে অধিষ্ঠিত।
      🌹⚜🌹⚜🌹⚜🌹⚜🌹⚜🌹⚜🌹
যস্য সর্বে সমারম্ভাঃ কামসংকল্পবর্জিতাঃ।
জ্ঞানাগ্নিদগ্ধকর্মাণং তমাহুঃ পন্ডিতং বুধাঃ।।১৯।।

অনুবাদঃ যাঁরা সমস্ত কর্ম প্রচেষ্টা কাম ও সংকল্প রহিত, তিনি পূর্ণ জ্ঞানে অধিষ্ঠিত। জ্ঞানীগণ বলেন যে, তাঁর সমস্ত কর্মের প্রতিক্রিয়া পরিশুদ্ধ জ্ঞানাগ্নি দ্বারা দগ্ধ হয়েছে।
      🌹⚜🌹⚜🌹⚜🌹⚜🌹⚜🌹⚜🌹
ত্যক্তা কর্মফলাসঙ্গং নিত্যতৃপ্তো নিরাশ্রয়ঃ।
কর্মণ্যভিপ্রবৃত্তোহপি নৈব কিঞ্চিৎ করোতি সঃ।।২০।।

অনুবাদঃ যিনি কর্মফলের আসক্তি সম্পূর্ণরূপে ত্যাগ করে সর্বদা তৃপ্ত এবং কোন রকম আশ্রয়ের অপেক্ষা করেন না, তিনি সব রকম কর্মে যুক্ত থাকা সত্ত্বেও কর্মফলের আশায় কোন কিছুই করেন না।
      🌹⚜🌹⚜🌹⚜🌹⚜🌹⚜🌹⚜🌹
নিরাশীর্যতচিত্তাত্মা ত্যক্তসর্বপরিগ্রহঃ।
শারীরং কেবলং কর্ম কুর্বন্নাপ্নোতি কিল্বিষম্।।২১।।

অনুবাদঃ এই প্রকার জ্ঞানী ব্যক্তি তাঁর মন ও বুদ্ধিকে সর্বতোভাবে সংযত করে কার্য করেন। তিনি প্রভুত্ব করার প্রবৃত্তিপরিত্যাগ করে কেবল জীবন ধারণের জন্য কর্ম করেন। এভাবেই কর্ম করার ফলে কোন রকম পাপ তাঁকে স্পর্শ করতে পারে না।
      🌹⚜🌹⚜🌹⚜🌹⚜🌹⚜🌹⚜🌹
যদৃচ্ছালাভসন্তুষ্টো দন্দ্বাতীতো বিমঃসরঃ।
সমঃ সিদ্ধাবসিদ্ধৌ চ কৃত্বাপি ন নিবধ্যতে।।২২।।

অনুবাদঃ যিনি অনায়াসে যা লাভ করেন, তাতেই সন্তুষ্ট থাকেন, যিনি সুখ-দুঃখ, রাগ-দ্বেষ আদি দ্বন্দ্বের বশীভুত হন না এবং মাৎসর্যশূন্য যিনি কার্যের সাফল্য ও অসাফল্যে অবিচলিত থাকেন, তিনি কর্ম সম্পাদন করলেও কর্মফলের দ্বারা কখনও আবদ্ধ হন না।
      🌹⚜🌹⚜🌹⚜🌹⚜🌹⚜🌹⚜🌹
 গতসঙ্গস্য মুক্তস্য জ্ঞানাবস্থিতচেতসঃ।
যজ্ঞায়াচরতঃ কর্ম সমগ্রং প্রবিলীয়তে।।২৩।।

অনুবাদঃ জড়া প্রকৃতির গুণের প্রভাব থেকে মুক্ত হয়ে, চিন্ময় জ্ঞাননিষ্ঠ ব্যক্তি যজ্ঞের উদ্দেশ্যে যে কর্ম সম্পাদন করেন, সেই সকল কর্ম সম্পূর্ণরূপে লয় প্রাপ্ত হয়।
      🌹⚜🌹⚜🌹⚜🌹⚜🌹⚜🌹⚜🌹 
 ব্রহ্মার্পণং ব্রহ্ম হবিব্র্রহ্মাগ্নৌ ব্রহ্মণা হুতম্।
ব্রহ্মৈব তেন গন্তব্যং ব্রহ্মকর্মসমাধিনা।।২৪।।

অনুবাদঃ যিনি কৃষ্ণভাবনায় সম্পূর্ণ মগ্ন তিনি অবশ্যই চিৎজগতে উন্নীত হবেন, কারণ তাঁর সমস্ত কার্যকলাপ চিন্ময়। তাঁর কর্মের উদ্দেশ্য চিন্ময় এবং সেই উদ্দেশ্যে তিনি যা নিবেদন করেন, তাও চিন্ময়।
      🌹⚜🌹⚜🌹⚜🌹⚜🌹⚜🌹⚜🌹
দৈবমেবাপরে যজ্ঞং যোগিনঃ পর্যুপাসতে।
ব্রহ্মাগ্নাবপরে যজ্ঞং যজ্ঞেনৈবোপজুহ্বতি।।২৫।।

অনুবাদঃ কোনও কোনও যোগী দেবতাদের উদ্দেশ্যে যজ্ঞ করার মাধ্যমে তাঁদের উপাসনা করেন, আর অন্য অনেকে ব্রহ্মরূপ অগ্নিতে সব কিছু নিবেদন করার মাধ্যমে যজ্ঞ করেন।
      🌹⚜🌹⚜🌹⚜🌹⚜🌹⚜🌹⚜🌹
শ্রোত্রাদীনীন্দ্রিয়াণ্যন্যে সংযমাগ্নিষু জুহুতি।
শব্দাদীন্ বিষয়ানন্য ইন্দ্রিয়াগ্নিষু জুহুতি।।২৬।।

অনুবাদঃ কেউ কেউ (শুদ্ধ ব্রহ্মচারীরা) মনঃসংযমরূপ অগ্নিতে শ্রবণ আদি ইন্দ্রিয়গুলিকে আহুতি দেন, আবার অন্য অনেকে (নিয়মনিষ্ঠ গৃহস্তেরা) শব্দাদি ইন্দ্রিয়ের বিষয়গুলিকে ইন্দ্রিয়রূপ অগ্নিতে আহুতি দেন।
      🌹⚜🌹⚜🌹⚜🌹⚜🌹⚜🌹⚜🌹
সর্বাণীন্দ্রিয়কর্মাণি প্রাণকর্মাণি চাপরে।
আত্মসংযমযোগাগ্নৌ জুহুতি জ্ঞানদীপিতে।।২৭।।

অনুবাদঃ মন ও ইন্দ্রিয়-সংযমের মাধ্যমে যাঁরা আত্মজ্ঞান লাভের প্রয়াসী, তাঁরা তাঁদের সমস্ত ইন্দ্রিয়ের কার্যকলাপ ও প্রাণবায়ু জ্ঞানের দ্বারা প্রদীপ্ত আত্মসংযমরূপ অগ্নিতে আহুতি দেন।
      🌹⚜🌹⚜🌹⚜🌹⚜🌹⚜🌹⚜🌹
দ্রব্যযজ্ঞাস্তপোযজ্ঞা যোগযজ্ঞাস্তথাপরে।
স্বাধ্যায়জ্ঞানযজ্ঞাশ্চ যতয়ঃ সংশিতব্রতাঃ।।২৮।।

অনুবাদঃ কঠোর ব্রত গ্রহণ করে কেউ কেউ দ্রব্য দানরূপ যজ্ঞ করেন। কেউ কেউ তপস্যারূপ যজ্ঞ করেন, কেউ কেউ অষ্টাঙ্গ-যোগরূপ যজ্ঞ করেন এবং অন্য অনেকে পারমার্থিক জ্ঞান লাভের জন্য বেদ অধ্যয়নরূপ যজ্ঞ করেন।
      🌹⚜🌹⚜🌹⚜🌹⚜🌹⚜🌹⚜🌹
অপানে জুহুদি প্রাণং প্রাণেহপানং তথাপরে।
প্রাণাপানগতী রুদ্ধ্বা প্রাণায়ামপরায়ণাঃ।
অপরে নিয়তাহারাঃ প্রাণান্ প্রাণেষু জুহুতি।।২৯।।

অনুবাদঃ আর যাঁরা প্রাণায়াম চর্চায় আগ্রহী, তাঁরা অপান বায়ুকে প্রাণবায়ুতে এবং প্রাণবায়ুকে অপান বায়ুতে আহুতি দিয়ে অবশেষে প্রাণ ও অপান বায়ুর গতি রোধ করে সমাধিস্থ হন। কেউ আবার আহার সংযম করে প্রাণবায়ুকে প্রাণবায়ুতেই আহুতি দেন।
      🌹⚜🌹⚜🌹⚜🌹⚜🌹⚜🌹⚜🌹
সর্বেহপ্যেতে যজ্ঞবিদো যজ্ঞক্ষপিতকল্মষাঃ। 
যজ্ঞশিষ্টামৃতভুজো যান্তি ব্রহ্ম সনাতনম্।।৩০।।

অনুবাদঃ এঁরা সকলেই যজ্ঞতত্ত্ববিৎ এবং যজ্ঞের প্রভাবে পাপ থেকে মুক্ত হয়ে তাঁরা যজ্ঞাবশিষ্ট অমৃত আস্বাদন করেন, এবং তার পর সনাতন প্রকৃতিতে ফিরে যান।
      🌹⚜🌹⚜🌹⚜🌹⚜🌹⚜🌹⚜🌹
 নায়ং লোকোহস্ত্যযজ্ঞস্য কুতোহন্যঃ কুরুসত্তম।।৩১।।

অনুবাদঃ হে কুরুশ্রেষ্ঠ! যজ্ঞ অনুষ্ঠান না করে কেউই এই জগতে সুখে থাকতে পারে না, তা হলে পরলোকে সুখপ্রাপ্তি কি করে সম্ভব?
      🌹⚜🌹⚜🌹⚜🌹⚜🌹⚜🌹⚜🌹
এবং বহুবিধা যজ্ঞা বিবতা ব্রহ্মণো মুখে। 
কর্মজান্ বিদ্ধি তান্ সর্বানেবং জ্ঞাত্বা বিমোক্ষ্যসে।।৩২।।

অনুবাদঃ এই সমস্ত যজ্ঞই বৈদিক শাস্ত্রে অনুমোদিত হয়েছে এবং এই সমস্ত মুক্তি বিভিন্ন প্রকার কর্মজাত। সেগুলিকে যথাযথভাবে জানার মাধ্যমে তুমি মুক্তি লাভ করতে পারবে।
      🌹⚜🌹⚜🌹⚜🌹⚜🌹⚜🌹⚜🌹
শ্রেয়ান্ দ্রব্যময়াদ্ যজ্ঞাজজ্ঞানযজ্ঞঃ পরন্তপ। 
সর্বং কর্মাখিলং পার্থ জ্ঞানে পরিসমাপ্যতে।।৩৩।।

অনুবাদঃ হে পরন্তপ! দ্রব্যময় যজ্ঞ থেকে জ্ঞানময় যজ্ঞ শ্রেয়। হে পার্থ! সমস্ত কর্মই পূর্ণরূপে চিন্ময় জ্ঞানে পরিসমাপ্তি লাভ করে।
      🌹⚜🌹⚜🌹⚜🌹⚜🌹⚜🌹⚜🌹
তদ্ বিদ্ধি প্রণিপাতেন পরিপ্রশ্নেন সেবয়া। 
উপদেক্ষ্যন্তি তে জ্ঞানং জ্ঞানিনস্তত্ত্বদর্শিনঃ।।৩৪।।

অনুবাদঃ সদগুরুর শরণাগত হয়ে তত্ত্বজ্ঞান লাভ করার চেষ্টা কর। বিনম্র চিত্তে প্রশ্ন জিজ্ঞাসা কর এবং অকৃত্রিম সেবার দ্বারা তাঁকে সন্তুষ্ট কর। তা হলে সেই তত্ত্বদ্রষ্টা পুরুষেরা তোমাকে জ্ঞান উপদেশ দান করবেন।
      🌹⚜🌹⚜🌹⚜🌹⚜🌹⚜🌹⚜🌹
যজজ্ঞাত্বা ন পুনর্মোহমেবং যাস্যসি পান্ডব। 
যেন ভূতান্যশেষাণি দ্রক্ষ্যস্যাত্মন্যথো ময়ি।।৩৫।।

অনুবাদঃ হে পান্ডব! এভাবে তত্ত্বজ্ঞান লাভ করে তুমি আর মোহগ্রস্ত হবে না, কেন না এই জ্ঞানের দ্বারা তুমি দর্শন করবে যে, সমস্ত জীবই আমার বিভিন্ন অংশ অর্থাৎ তারা সকলেই আমার এবং তারা আমাতে অবস্থিত।
      🌹⚜🌹⚜🌹⚜🌹⚜🌹⚜🌹⚜🌹
অপি চেদসি পাপেভ্যঃ সর্বেভ্যঃ পাপকৃত্তমঃ।
সর্বং জ্ঞানপ্লবেনৈব বৃজিনং সন্তরিষ্যসি।।৩৬।।

অনুবাদঃ তুমি যদি সমস্ত পাপীদের থেকেও পাপিষ্ঠ বলে গণ্য হয়ে থাক, তা হলেও এই জ্ঞানরূপ তরণীতে আরোহণ করে তুমি দুঃখ-সমুদ্র পার হতে পারবে।
      🌹⚜🌹⚜🌹⚜🌹⚜🌹⚜🌹⚜🌹
যথৈধাংসি সমিদ্বোহগ্নির্ভস্মাৎ কুরুতেহর্জুন। 
জ্ঞানাগ্নিঃ সর্বকর্মাণি ভস্মসাৎ কুরুতে তথা।।৩৭।।

অনুবাদঃ প্রবলরূবে প্রজ্বলিত অগ্নি যেমন কাষ্ঠকে ভস্মসাৎ করে, হে অর্জুন! তেমনই জ্ঞানাগ্নিও সমস্ত কর্মকে দগ্ধ করে ফেলে।
      🌹⚜🌹⚜🌹⚜🌹⚜🌹⚜🌹⚜🌹
ন হি জ্ঞানেন সদৃশং পবিত্রমিহ বিদ্যতে। 
তৎ স্বয়ং যোগসংসিদ্ধঃ কালেনাত্মনি বিন্দতি।।৩৮।।

অনুবাদঃ এই জগতে চিন্ময় জ্ঞানের মতো পবিত্র আর কিছুই নেই। এই জ্ঞান সমস্ত যোগের পরিপক্ক ফল। ভগবদ্ভক্তি অনুশীলনের মাধ্যমে যিনি সেই জ্ঞান আয়ত্ত করেছেন, তিনি কালক্রমে আত্মায় পরা শান্তি লাভ করেন।
      🌹⚜🌹⚜🌹⚜🌹⚜🌹⚜🌹⚜🌹
শ্রদ্ধাবান্ লভতে জ্ঞানং তৎপরঃ সংযতেন্দ্রিয়ঃ। 
জ্ঞানং লব্ধা পরাং শান্তিমচিরেণাধিগচ্ছতি।।৩৯।।

অনুবাদঃ সংযতেন্দ্রিয় ও তৎপর হয়ে চিন্ময় তত্ত্বজ্ঞানে প্রদ্ধাবান ব্যক্তি এই জ্ঞান লাভ করেন। সেই দিব্য জ্ঞান লাভ করে তিনি অচিরেই পরা শান্তি প্রাপ্ত হন।
      🌹⚜🌹⚜🌹⚜🌹⚜🌹⚜🌹⚜🌹
অজ্ঞশ্চাশ্রদ্দধানশ্চ সংশয়াত্মা বিনশ্যতি। 
নায়ং লোকোহন্তি ন পরো ন সুখং সংশয়াত্মনঃ।।৪০।।

অনুবাদঃ অজ্ঞ ও শাস্ত্রের প্রতি শ্রদ্ধাহীন ব্যক্তি কখনই ভগবদ্ভক্তি লাভ করতে পারে না। সন্দিগ্ধ চিত্ত ব্যক্তি ইহলোকে সুখভোগ করতে পারে না এবং পরলোকেও সুখভোগ করতে পারে না।
      🌹⚜🌹⚜🌹⚜🌹⚜🌹⚜🌹⚜🌹
যোগসংন্যস্তকর্মাণং জ্ঞানসংছিন্নসংশয়ম্। 
আত্মবন্তবং ন কর্মাণি নিবধ্নন্তি ধনঞ্জয়।।৪১।।

অনুবাদঃ অতএব, হে ধনঞ্জয়! যিনি নিষ্কাম কর্মযোগের দ্বারা কর্মত্যাগ করেন, জ্ঞানের দ্বারা সংশয় নাশ করেন এবং আত্মার চিন্ময় স্বরূপ অবগত হন, তাঁকে কোন কর্মই আবদ্ধ করতে পারে না।
      🌹⚜🌹⚜🌹⚜🌹⚜🌹⚜🌹⚜🌹
তস্মাদজ্ঞানসম্ভতং হৃৎস্থং জ্ঞানাসিনাত্মনঃ। 
ছিত্ত্বৈনং সংশয়ং যোগমাতিষ্ঠোত্তিষ্ঠ ভারত।।৪২।। 

অনুবাদঃ অতএব, হে ভারত! তোমার হৃদয়ে যে অজ্ঞানপ্রসূত সংশয়ের উদয় হয়েছে, তা জ্ঞানরূপ খড়্গের দ্বারা ছিন্ন কর। যোগাশ্রয় করে যুদ্ধ করার জন্য উঠে দাঁড়াও।         
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
👇👇👇এই লিখনী 📚 PDF 📚 ক্লিক করুন 👇👇👇
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
    *••••┉━❀꧁ 🙏 রাধে রাধে 🙏 ꧂❀━┅••••* 
                   শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য প্রভু নিত্যানন্দ
              হরে কৃষ্ণ হরে রাম শ্রীরাধেগোবিন্দ।।
  *••••┉━❀꧁ 🙏 জয় জগন্নাথ 🙏 ꧂❀━┅••••*
              হরে কৃষ্ণ হরে কৃষ্ণ কৃষ্ণ কৃষ্ণ হরে হরে
              হরে রাম হরে রাম রাম রাম হরে হরে॥
  *••••┉━❀꧁ 🙏 জয় রাধাকান্ত 🙏 ꧂ ❀━┅••••*
   💮❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀💮
   💮❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀💮
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧



শ্রীমদ্ভগবদ্গীতা (চতুর্থ অধ্যায়- জ্ঞানযোগ ) 🙏 শ্রী মৃন্ময় নন্দী কর্ত্তৃক সকল ভক্ত চরণে অসংখ্যকোটি প্রণাম 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 https://mrinmoynandy.blogspot.com/2022/03/blog-post_8.html

  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
     ꧁শ্রীমদ্ভগবদ্গীতা (চতুর্থ অধ্যায়- জ্ঞানযোগ )꧂
       এই লিংকে 👇👇👇🙏👇👇👇 ক্লিক করুন 
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
 ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
          ꧁ 👇শ্রীমদ্ভগবদ্গীতা 🙏 সূচীপত্র👇 ꧂
 ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧     
শ্রীভগবান উবাচ-
ইমং বিবস্বতে যোগং প্রোক্তবানহমব্যয়ম্।।
বিবস্বান্মবে প্রাহ মনুরিক্ষ্বাকবেহব্রবীৎ।।১।।

অনুবাদঃ পরমেশ্বর ভগবান শ্রীকৃষ্ণ বললেন-আমি পূর্বে সূর্যদেব বিবস্বানকে এই অব্যয় নিষ্কাম কর্মসাধ্য জ্ঞানযোগ বলেচিলাম। সূর্য তা মানবজাতির জনক মনুকে বলেছিলেন এবং মনু তা ইক্ষ্বাকুকে বলেছিলেন।
      🌹⚜🌹⚜🌹⚜🌹⚜🌹⚜🌹⚜🌹
এবং পরম্পরাপ্রাপ্তমিমং রাজর্ষয়ো বিদুঃ।
স কালেনেহ মহতা যোগো নষ্টঃ পরন্তপ।।২।।

অনুবাদঃ এভাবেই পরম্পরা মাধ্যমে প্রাপ্ত এই পরম বিজ্ঞান রাজর্ষিরা লাভ করেছিলেন। কিন্তু কালের প্রভাবে পরম্পরা ছিন্ন হয়েছিল এবং তাই সেই যোগ নষ্টপ্রায় হয়েছে।
      🌹⚜🌹⚜🌹⚜🌹⚜🌹⚜🌹⚜🌹
স এবায়ং ময়া তেহদ্য যোগঃ প্রোক্তঃ পুরাতনঃ।
ভক্তোহসি মে সখা চেতি রহস্যং হ্যেতদুত্তমম্।।৩।।

অনুবাদঃ সেই সনাতন যোগ আজ আমি তোমাকে বললাম, কারণ তুমি আমার ভক্ত ও সখা এবং তাই তুমি এই বিজ্ঞানের অতি গূঢ় রহস্য হৃদয়ঙ্গম করতে পারবে।
       🌹⚜🌹⚜🌹⚜🌹⚜🌹⚜🌹⚜🌹
অর্জুন উবাচ-
অপরং ভবতো জন্ম পরং জন্ম বিবস্বতঃ।
কথমেতদ্ বিজ্ঞানীয়াং ত্বমাদৌ প্রোক্তবানিতি।।৪।।

অনুবাদঃ অর্জুন বললেন-সূর্যদেব বিবস্বামানের জন্ম জয়েছিল তোমার অনেক পূর্বে। তুমি যে পুরাকালে তাঁকে এই জ্ঞান উপদেশ করেছিলে, তা আমি কেমন করে বুঝব?
      🌹⚜🌹⚜🌹⚜🌹⚜🌹⚜🌹⚜🌹
শ্রীভগবান উবাচ-
বহুনি মে ব্যতীতানি জন্মানি তব চার্জুন।
তান্যহং বেদ সর্বাণি ন ত্বং বেত্থ পরন্তপ।।৫।।

অনুবাদঃ পরমেশ্বর ভগবান বললেন- হে পরন্তপ অর্জুন! আমার ও তোমার বহু জন্ম অতীত হয়েছে। আমি সেই সমস্ত জন্মের কথা স্মরণ করতে পারি, কিন্তু তুমি পার না।
      🌹⚜🌹⚜🌹⚜🌹⚜🌹⚜🌹⚜🌹
অজেহপি সন্নব্যয়াত্মা ভূতানীমীম্বরোহপি সন্।
প্রকৃতিং স্বামধিষ্ঠায় সম্ভবাম্যাত্মমায়য়া।।৬।।

অনুবাদঃ যদিও আমি জন্মরহিত এবং আমার চিন্ময় দেহ অব্যয় এবং যদিও আমি সর্বভূতের ঈশ্বর, তবুও আমার অন্তরঙ্গা শক্তিকে আশ্রয় করে আমি আমার আদি চিন্ময় রূপে যুগে যুগে অবতীর্ণ হই।
      🌹⚜🌹⚜🌹⚜🌹⚜🌹⚜🌹⚜🌹
যদা যদা হি ধর্মস্য গ্লানির্ভবতি ভারত।
অভ্যুত্থানমধর্মস্য তদাত্মনং সৃজামহ্যম্।।৭।।

অনুবাদঃ হে ভারত! যখনই ধর্মের অধঃপতন হয় এবং অধর্মের অভ্যুত্থান হয়, তখন আমি নিজেকে প্রকাশ করে অবতীর্ণ হই।
      🌹⚜🌹⚜🌹⚜🌹⚜🌹⚜🌹⚜🌹
পরিত্রাণায় সাধূনাং বিনাশায় চ দুষ্কৃতাম্।
ধর্মসংস্থাপনার্থায় সম্ভবামি যুগে যুগে।।৮।।

অনুবাদঃ সাধুদের পরিত্রাণ করার জন্য এবং দুষ্কৃতকারীদের বিনাশ করার জন্য এবং ধর্ম সংস্থাপনের জন্য আমি যুগে যুগে অবতীর্ণ হই।
      🌹⚜🌹⚜🌹⚜🌹⚜🌹⚜🌹⚜🌹
জন্ম কর্ম চ মে দিব্যমেবং যো বেত্তি তত্ত্বতঃ।
ত্যক্ত্বা দেহং পুনর্জন্ম নৈতি মামেতি সোহর্জুন।।৯।।

অনুবাদঃ হে অর্জুন! ‍যিনি আমার এই প্রকার দিব্য জন্ম ও কর্ম যথাযথভাবে জানেন, তাঁকে আর দেহত্যাগ করার পর পুনরায় জন্মগ্রহণ করতে হয় না, তিনি আমার নিত্য ধাম লাভ করেন।
      🌹⚜🌹⚜🌹⚜🌹⚜🌹⚜🌹⚜🌹
বীতরাগভয়ক্রোধা মন্ময়া মামুপাশ্রিতাঃ।
বহুবো জ্ঞানতপসা পূতা মদ্ভাবমাগতাঃ।।১০।।

অনুবাদঃ আসক্তি, ভয় ও ক্রোধ থেকে মুক্ত হয়ে, সম্পূর্ণরূপে আমাতে মগ্ন হয়ে, একান্তভাবে আমার আশ্রিত হয়ে, পূর্বে বহু বহু ব্যক্তি আমার জ্ঞান লাভ করে পবিত্র হয়েছে-এবং এভাবেই সকলেই আমার অপ্রাকৃত প্রীতি লাভ করেছে।
      🌹⚜🌹⚜🌹⚜🌹⚜🌹⚜🌹⚜🌹
 যে যথা মাং প্রপদ্যন্তে তাংস্তথৈব ভজাম্যহম্।
মম বর্ত্মানুবর্তন্তে মনুষ্যাঃ পার্থ সর্বশঃ।।১১।।

অনুবাদঃ যারা যেভাবে আমার প্রতি আত্মসমর্পণ করে, আমি তাদেরকে সেভাবেই পুরস্কৃত করি। হে পার্থ! সকলেই সর্বতোভাবে আমার পথ অনুসরণ করে।
      🌹⚜🌹⚜🌹⚜🌹⚜🌹⚜🌹⚜🌹
কাঙ্ক্ষন্তঃ কর্মণাং সিদ্ধিং  যজন্ত ইহ দেবতাঃ।
ক্ষিপ্রং হি মানষে লোকে সিদ্ধির্ভবতি কর্মজা।।১২।।

অনুবাদঃ এই জগতে মানুষেরা সকাম কর্মের সিদ্ধি কামনা করে এবং তাই তারা বিভিন্ন দেব-দেবীর উপাসনা করে। সকাম কর্মের ফল অবশ্যই অতি শীর্ঘ্রই লাভ হয়।
      🌹⚜🌹⚜🌹⚜🌹⚜🌹⚜🌹⚜🌹
চাতুর্বর্ণ্যং ময়া সৃষ্টং গুণকর্মবিভাগশঃ।
তস্য কর্তারমপি মাং বিদ্ধ্যকর্তারমব্যয়ম্।।১৩।।

অনুবাদঃ প্রকৃতির তিনটি গুণ ও কর্ম অনুসারে আমি মানব-সমাজে চারটি বর্ণবিভাগ সৃষ্টি করেছি। আমি এই প্রথার স্রষ্টা হলেও আমাকে অকর্তা এবং অব্যয় বলে জানবে।
      🌹⚜🌹⚜🌹⚜🌹⚜🌹⚜🌹⚜🌹
ন মাং কর্মাণি লিম্পন্তি ন মে কর্মফলে স্পৃহা।
ইতি মাং যোহভিজানাতি কর্মভির্ন স বধ্যতে।।১৪।।

অনুবাদঃ কোন কর্মই আমাকে প্রভাবিত করতে পারে না এবং আমিও কোন কর্মফলের আকাঙ্ক্ষা করি না। আমার এই তত্ত্ব যিনি জানেন, তিনিও কখনও সকাম কর্মের বন্ধনে আবদ্ধ হন না।
      🌹⚜🌹⚜🌹⚜🌹⚜🌹⚜🌹⚜🌹
এবং জ্ঞাত্বা কৃতং কর্ম পূর্বৈরপি মুমুক্ষুভিঃ।
কুরু কর্মৈব তস্মাত্ত্বং পূর্বৈঃ পূর্বতরং কৃতম্।।১৫।।

অনুবাদঃ প্রাচীনকালে সমস্ত মুক্ত পুরুষেরা আমার অপ্রাকৃত তত্ত্ব অবগত হয়ে কর্ম করেছেন। অতেএব তুমিও সেই প্রাচীন মহাজনদের পদাঙ্ক অনুসরণ করে তোমার কর্তব্য সম্পাদন কর।
      🌹⚜🌹⚜🌹⚜🌹⚜🌹⚜🌹⚜🌹
কিং কর্ম কিমকর্মেতি কবয়োহপ্যত্র মোহিতাঃ।
তত্তে কর্ম প্রবক্ষ্যামি যজজ্ঞাত্বা মোক্ষ্যসেহশুভাৎ।।১৬।।

অনুবাদঃ কাকে কর্ম ও কাকে অকর্ম বলে, তা স্থির করতে বিবেকী ব্যক্তিরাও মোহিত হন। আমি সেই কর্ম বিষয়ে তোমাকে উপদেশ করব। তুমি তা অবগত হয়ে সমস্ত অশুভ অবস্থা থেকে মুক্ত হবে।
      🌹⚜🌹⚜🌹⚜🌹⚜🌹⚜🌹⚜🌹
কর্মণো হ্যপি বোদ্ধব্যং বোদ্ধব্যং চ বিকর্মণঃ।
অকর্মণশ্চ বোদ্ধব্যং গহনা কর্মণো গতিঃ।।১৭।।

অনুবাদঃ কর্মের নিগূঢ় তত্ত্ব হৃদয়ঙ্গম করা অত্যন্ত কঠিন। তাই কর্ম, বিকর্ম ও অকর্ম সম্বন্ধে যথাযথভাবে জানা কর্তব্য।
      🌹⚜🌹⚜🌹⚜🌹⚜🌹⚜🌹⚜🌹
কর্মণ্যকর্ম যঃ পশ্যেদকর্মণি চ কর্ম যঃ।
স বুদ্ধিমানন্মনুষ্যেষু স যুক্তঃ কৃৎস্নকর্মকৃৎ।।১৮।।

অনুবাদঃ যিনি কর্মে অকর্ম দর্শন করেন এবং অকর্মে কর্ম দর্শন করেন, তিনীই মানুষের মধ্যে বুদ্ধিমান। সব রকম কর্মে লিপ্ত থাকা সেত্ত্বেও তিনি চিন্ময় স্তরে অধিষ্ঠিত।
      🌹⚜🌹⚜🌹⚜🌹⚜🌹⚜🌹⚜🌹
যস্য সর্বে সমারম্ভাঃ কামসংকল্পবর্জিতাঃ।
জ্ঞানাগ্নিদগ্ধকর্মাণং তমাহুঃ পন্ডিতং বুধাঃ।।১৯।।

অনুবাদঃ যাঁরা সমস্ত কর্ম প্রচেষ্টা কাম ও সংকল্প রহিত, তিনি পূর্ণ জ্ঞানে অধিষ্ঠিত। জ্ঞানীগণ বলেন যে, তাঁর সমস্ত কর্মের প্রতিক্রিয়া পরিশুদ্ধ জ্ঞানাগ্নি দ্বারা দগ্ধ হয়েছে।
      🌹⚜🌹⚜🌹⚜🌹⚜🌹⚜🌹⚜🌹
ত্যক্তা কর্মফলাসঙ্গং নিত্যতৃপ্তো নিরাশ্রয়ঃ।
কর্মণ্যভিপ্রবৃত্তোহপি নৈব কিঞ্চিৎ করোতি সঃ।।২০।।

অনুবাদঃ যিনি কর্মফলের আসক্তি সম্পূর্ণরূপে ত্যাগ করে সর্বদা তৃপ্ত এবং কোন রকম আশ্রয়ের অপেক্ষা করেন না, তিনি সব রকম কর্মে যুক্ত থাকা সত্ত্বেও কর্মফলের আশায় কোন কিছুই করেন না।
      🌹⚜🌹⚜🌹⚜🌹⚜🌹⚜🌹⚜🌹
নিরাশীর্যতচিত্তাত্মা ত্যক্তসর্বপরিগ্রহঃ।
শারীরং কেবলং কর্ম কুর্বন্নাপ্নোতি কিল্বিষম্।।২১।।

অনুবাদঃ এই প্রকার জ্ঞানী ব্যক্তি তাঁর মন ও বুদ্ধিকে সর্বতোভাবে সংযত করে কার্য করেন। তিনি প্রভুত্ব করার প্রবৃত্তিপরিত্যাগ করে কেবল জীবন ধারণের জন্য কর্ম করেন। এভাবেই কর্ম করার ফলে কোন রকম পাপ তাঁকে স্পর্শ করতে পারে না।
      🌹⚜🌹⚜🌹⚜🌹⚜🌹⚜🌹⚜🌹
যদৃচ্ছালাভসন্তুষ্টো দন্দ্বাতীতো বিমঃসরঃ।
সমঃ সিদ্ধাবসিদ্ধৌ চ কৃত্বাপি ন নিবধ্যতে।।২২।।

অনুবাদঃ যিনি অনায়াসে যা লাভ করেন, তাতেই সন্তুষ্ট থাকেন, যিনি সুখ-দুঃখ, রাগ-দ্বেষ আদি দ্বন্দ্বের বশীভুত হন না এবং মাৎসর্যশূন্য যিনি কার্যের সাফল্য ও অসাফল্যে অবিচলিত থাকেন, তিনি কর্ম সম্পাদন করলেও কর্মফলের দ্বারা কখনও আবদ্ধ হন না।
      🌹⚜🌹⚜🌹⚜🌹⚜🌹⚜🌹⚜🌹
 গতসঙ্গস্য মুক্তস্য জ্ঞানাবস্থিতচেতসঃ।
যজ্ঞায়াচরতঃ কর্ম সমগ্রং প্রবিলীয়তে।।২৩।।

অনুবাদঃ জড়া প্রকৃতির গুণের প্রভাব থেকে মুক্ত হয়ে, চিন্ময় জ্ঞাননিষ্ঠ ব্যক্তি যজ্ঞের উদ্দেশ্যে যে কর্ম সম্পাদন করেন, সেই সকল কর্ম সম্পূর্ণরূপে লয় প্রাপ্ত হয়।
      🌹⚜🌹⚜🌹⚜🌹⚜🌹⚜🌹⚜🌹 
 ব্রহ্মার্পণং ব্রহ্ম হবিব্র্রহ্মাগ্নৌ ব্রহ্মণা হুতম্।
ব্রহ্মৈব তেন গন্তব্যং ব্রহ্মকর্মসমাধিনা।।২৪।।

অনুবাদঃ যিনি কৃষ্ণভাবনায় সম্পূর্ণ মগ্ন তিনি অবশ্যই চিৎজগতে উন্নীত হবেন, কারণ তাঁর সমস্ত কার্যকলাপ চিন্ময়। তাঁর কর্মের উদ্দেশ্য চিন্ময় এবং সেই উদ্দেশ্যে তিনি যা নিবেদন করেন, তাও চিন্ময়।
      🌹⚜🌹⚜🌹⚜🌹⚜🌹⚜🌹⚜🌹
দৈবমেবাপরে যজ্ঞং যোগিনঃ পর্যুপাসতে।
ব্রহ্মাগ্নাবপরে যজ্ঞং যজ্ঞেনৈবোপজুহ্বতি।।২৫।।

অনুবাদঃ কোনও কোনও যোগী দেবতাদের উদ্দেশ্যে যজ্ঞ করার মাধ্যমে তাঁদের উপাসনা করেন, আর অন্য অনেকে ব্রহ্মরূপ অগ্নিতে সব কিছু নিবেদন করার মাধ্যমে যজ্ঞ করেন।
      🌹⚜🌹⚜🌹⚜🌹⚜🌹⚜🌹⚜🌹
শ্রোত্রাদীনীন্দ্রিয়াণ্যন্যে সংযমাগ্নিষু জুহুতি।
শব্দাদীন্ বিষয়ানন্য ইন্দ্রিয়াগ্নিষু জুহুতি।।২৬।।

অনুবাদঃ কেউ কেউ (শুদ্ধ ব্রহ্মচারীরা) মনঃসংযমরূপ অগ্নিতে শ্রবণ আদি ইন্দ্রিয়গুলিকে আহুতি দেন, আবার অন্য অনেকে (নিয়মনিষ্ঠ গৃহস্তেরা) শব্দাদি ইন্দ্রিয়ের বিষয়গুলিকে ইন্দ্রিয়রূপ অগ্নিতে আহুতি দেন।
      🌹⚜🌹⚜🌹⚜🌹⚜🌹⚜🌹⚜🌹
সর্বাণীন্দ্রিয়কর্মাণি প্রাণকর্মাণি চাপরে।
আত্মসংযমযোগাগ্নৌ জুহুতি জ্ঞানদীপিতে।।২৭।।

অনুবাদঃ মন ও ইন্দ্রিয়-সংযমের মাধ্যমে যাঁরা আত্মজ্ঞান লাভের প্রয়াসী, তাঁরা তাঁদের সমস্ত ইন্দ্রিয়ের কার্যকলাপ ও প্রাণবায়ু জ্ঞানের দ্বারা প্রদীপ্ত আত্মসংযমরূপ অগ্নিতে আহুতি দেন।
      🌹⚜🌹⚜🌹⚜🌹⚜🌹⚜🌹⚜🌹
দ্রব্যযজ্ঞাস্তপোযজ্ঞা যোগযজ্ঞাস্তথাপরে।
স্বাধ্যায়জ্ঞানযজ্ঞাশ্চ যতয়ঃ সংশিতব্রতাঃ।।২৮।।

অনুবাদঃ কঠোর ব্রত গ্রহণ করে কেউ কেউ দ্রব্য দানরূপ যজ্ঞ করেন। কেউ কেউ তপস্যারূপ যজ্ঞ করেন, কেউ কেউ অষ্টাঙ্গ-যোগরূপ যজ্ঞ করেন এবং অন্য অনেকে পারমার্থিক জ্ঞান লাভের জন্য বেদ অধ্যয়নরূপ যজ্ঞ করেন।
      🌹⚜🌹⚜🌹⚜🌹⚜🌹⚜🌹⚜🌹
অপানে জুহুদি প্রাণং প্রাণেহপানং তথাপরে।
প্রাণাপানগতী রুদ্ধ্বা প্রাণায়ামপরায়ণাঃ।
অপরে নিয়তাহারাঃ প্রাণান্ প্রাণেষু জুহুতি।।২৯।।

অনুবাদঃ আর যাঁরা প্রাণায়াম চর্চায় আগ্রহী, তাঁরা অপান বায়ুকে প্রাণবায়ুতে এবং প্রাণবায়ুকে অপান বায়ুতে আহুতি দিয়ে অবশেষে প্রাণ ও অপান বায়ুর গতি রোধ করে সমাধিস্থ হন। কেউ আবার আহার সংযম করে প্রাণবায়ুকে প্রাণবায়ুতেই আহুতি দেন।
      🌹⚜🌹⚜🌹⚜🌹⚜🌹⚜🌹⚜🌹
সর্বেহপ্যেতে যজ্ঞবিদো যজ্ঞক্ষপিতকল্মষাঃ। 
যজ্ঞশিষ্টামৃতভুজো যান্তি ব্রহ্ম সনাতনম্।।৩০।।

অনুবাদঃ এঁরা সকলেই যজ্ঞতত্ত্ববিৎ এবং যজ্ঞের প্রভাবে পাপ থেকে মুক্ত হয়ে তাঁরা যজ্ঞাবশিষ্ট অমৃত আস্বাদন করেন, এবং তার পর সনাতন প্রকৃতিতে ফিরে যান।
      🌹⚜🌹⚜🌹⚜🌹⚜🌹⚜🌹⚜🌹
 নায়ং লোকোহস্ত্যযজ্ঞস্য কুতোহন্যঃ কুরুসত্তম।।৩১।।

অনুবাদঃ হে কুরুশ্রেষ্ঠ! যজ্ঞ অনুষ্ঠান না করে কেউই এই জগতে সুখে থাকতে পারে না, তা হলে পরলোকে সুখপ্রাপ্তি কি করে সম্ভব?
      🌹⚜🌹⚜🌹⚜🌹⚜🌹⚜🌹⚜🌹
এবং বহুবিধা যজ্ঞা বিবতা ব্রহ্মণো মুখে। 
কর্মজান্ বিদ্ধি তান্ সর্বানেবং জ্ঞাত্বা বিমোক্ষ্যসে।।৩২।।

অনুবাদঃ এই সমস্ত যজ্ঞই বৈদিক শাস্ত্রে অনুমোদিত হয়েছে এবং এই সমস্ত মুক্তি বিভিন্ন প্রকার কর্মজাত। সেগুলিকে যথাযথভাবে জানার মাধ্যমে তুমি মুক্তি লাভ করতে পারবে।
      🌹⚜🌹⚜🌹⚜🌹⚜🌹⚜🌹⚜🌹
শ্রেয়ান্ দ্রব্যময়াদ্ যজ্ঞাজজ্ঞানযজ্ঞঃ পরন্তপ। 
সর্বং কর্মাখিলং পার্থ জ্ঞানে পরিসমাপ্যতে।।৩৩।।

অনুবাদঃ হে পরন্তপ! দ্রব্যময় যজ্ঞ থেকে জ্ঞানময় যজ্ঞ শ্রেয়। হে পার্থ! সমস্ত কর্মই পূর্ণরূপে চিন্ময় জ্ঞানে পরিসমাপ্তি লাভ করে।
      🌹⚜🌹⚜🌹⚜🌹⚜🌹⚜🌹⚜🌹
তদ্ বিদ্ধি প্রণিপাতেন পরিপ্রশ্নেন সেবয়া। 
উপদেক্ষ্যন্তি তে জ্ঞানং জ্ঞানিনস্তত্ত্বদর্শিনঃ।।৩৪।।

অনুবাদঃ সদগুরুর শরণাগত হয়ে তত্ত্বজ্ঞান লাভ করার চেষ্টা কর। বিনম্র চিত্তে প্রশ্ন জিজ্ঞাসা কর এবং অকৃত্রিম সেবার দ্বারা তাঁকে সন্তুষ্ট কর। তা হলে সেই তত্ত্বদ্রষ্টা পুরুষেরা তোমাকে জ্ঞান উপদেশ দান করবেন।
      🌹⚜🌹⚜🌹⚜🌹⚜🌹⚜🌹⚜🌹
যজজ্ঞাত্বা ন পুনর্মোহমেবং যাস্যসি পান্ডব। 
যেন ভূতান্যশেষাণি দ্রক্ষ্যস্যাত্মন্যথো ময়ি।।৩৫।।

অনুবাদঃ হে পান্ডব! এভাবে তত্ত্বজ্ঞান লাভ করে তুমি আর মোহগ্রস্ত হবে না, কেন না এই জ্ঞানের দ্বারা তুমি দর্শন করবে যে, সমস্ত জীবই আমার বিভিন্ন অংশ অর্থাৎ তারা সকলেই আমার এবং তারা আমাতে অবস্থিত।
      🌹⚜🌹⚜🌹⚜🌹⚜🌹⚜🌹⚜🌹
অপি চেদসি পাপেভ্যঃ সর্বেভ্যঃ পাপকৃত্তমঃ।
সর্বং জ্ঞানপ্লবেনৈব বৃজিনং সন্তরিষ্যসি।।৩৬।।

অনুবাদঃ তুমি যদি সমস্ত পাপীদের থেকেও পাপিষ্ঠ বলে গণ্য হয়ে থাক, তা হলেও এই জ্ঞানরূপ তরণীতে আরোহণ করে তুমি দুঃখ-সমুদ্র পার হতে পারবে।
      🌹⚜🌹⚜🌹⚜🌹⚜🌹⚜🌹⚜🌹
যথৈধাংসি সমিদ্বোহগ্নির্ভস্মাৎ কুরুতেহর্জুন। 
জ্ঞানাগ্নিঃ সর্বকর্মাণি ভস্মসাৎ কুরুতে তথা।।৩৭।।

অনুবাদঃ প্রবলরূবে প্রজ্বলিত অগ্নি যেমন কাষ্ঠকে ভস্মসাৎ করে, হে অর্জুন! তেমনই জ্ঞানাগ্নিও সমস্ত কর্মকে দগ্ধ করে ফেলে।
      🌹⚜🌹⚜🌹⚜🌹⚜🌹⚜🌹⚜🌹
ন হি জ্ঞানেন সদৃশং পবিত্রমিহ বিদ্যতে। 
তৎ স্বয়ং যোগসংসিদ্ধঃ কালেনাত্মনি বিন্দতি।।৩৮।।

অনুবাদঃ এই জগতে চিন্ময় জ্ঞানের মতো পবিত্র আর কিছুই নেই। এই জ্ঞান সমস্ত যোগের পরিপক্ক ফল। ভগবদ্ভক্তি অনুশীলনের মাধ্যমে যিনি সেই জ্ঞান আয়ত্ত করেছেন, তিনি কালক্রমে আত্মায় পরা শান্তি লাভ করেন।
      🌹⚜🌹⚜🌹⚜🌹⚜🌹⚜🌹⚜🌹
শ্রদ্ধাবান্ লভতে জ্ঞানং তৎপরঃ সংযতেন্দ্রিয়ঃ। 
জ্ঞানং লব্ধা পরাং শান্তিমচিরেণাধিগচ্ছতি।।৩৯।।

অনুবাদঃ সংযতেন্দ্রিয় ও তৎপর হয়ে চিন্ময় তত্ত্বজ্ঞানে প্রদ্ধাবান ব্যক্তি এই জ্ঞান লাভ করেন। সেই দিব্য জ্ঞান লাভ করে তিনি অচিরেই পরা শান্তি প্রাপ্ত হন।
      🌹⚜🌹⚜🌹⚜🌹⚜🌹⚜🌹⚜🌹
অজ্ঞশ্চাশ্রদ্দধানশ্চ সংশয়াত্মা বিনশ্যতি। 
নায়ং লোকোহন্তি ন পরো ন সুখং সংশয়াত্মনঃ।।৪০।।

অনুবাদঃ অজ্ঞ ও শাস্ত্রের প্রতি শ্রদ্ধাহীন ব্যক্তি কখনই ভগবদ্ভক্তি লাভ করতে পারে না। সন্দিগ্ধ চিত্ত ব্যক্তি ইহলোকে সুখভোগ করতে পারে না এবং পরলোকেও সুখভোগ করতে পারে না।
      🌹⚜🌹⚜🌹⚜🌹⚜🌹⚜🌹⚜🌹
যোগসংন্যস্তকর্মাণং জ্ঞানসংছিন্নসংশয়ম্। 
আত্মবন্তবং ন কর্মাণি নিবধ্নন্তি ধনঞ্জয়।।৪১।।

অনুবাদঃ অতএব, হে ধনঞ্জয়! যিনি নিষ্কাম কর্মযোগের দ্বারা কর্মত্যাগ করেন, জ্ঞানের দ্বারা সংশয় নাশ করেন এবং আত্মার চিন্ময় স্বরূপ অবগত হন, তাঁকে কোন কর্মই আবদ্ধ করতে পারে না।
      🌹⚜🌹⚜🌹⚜🌹⚜🌹⚜🌹⚜🌹
তস্মাদজ্ঞানসম্ভতং হৃৎস্থং জ্ঞানাসিনাত্মনঃ। 
ছিত্ত্বৈনং সংশয়ং যোগমাতিষ্ঠোত্তিষ্ঠ ভারত।।৪২।। 

অনুবাদঃ অতএব, হে ভারত! তোমার হৃদয়ে যে অজ্ঞানপ্রসূত সংশয়ের উদয় হয়েছে, তা জ্ঞানরূপ খড়্গের দ্বারা ছিন্ন কর। যোগাশ্রয় করে যুদ্ধ করার জন্য উঠে দাঁড়াও।         
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
👇👇👇এই লিখনী 📚 PDF 📚 ক্লিক করুন 👇👇👇
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
    *••••┉━❀꧁ 🙏 রাধে রাধে 🙏 ꧂❀━┅••••* 
                   শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য প্রভু নিত্যানন্দ
              হরে কৃষ্ণ হরে রাম শ্রীরাধেগোবিন্দ।।
  *••••┉━❀꧁ 🙏 জয় জগন্নাথ 🙏 ꧂❀━┅••••*
              হরে কৃষ্ণ হরে কৃষ্ণ কৃষ্ণ কৃষ্ণ হরে হরে
              হরে রাম হরে রাম রাম রাম হরে হরে॥
  *••••┉━❀꧁ 🙏 জয় রাধাকান্ত 🙏 ꧂ ❀━┅••••*
   💮❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀💮
   💮❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀💮
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧



adds