✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
꧁ মহাভারত - বনপর্ব ꧂
সকল কিছু লিখনী এবং 📚 *PDF গ্রন্থ* 📚 👉🌐 https://MrinmoyNandy.blogspot.com
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
*🌿🍀🌲🌳🌴বনপর্ব🌿🍀🌲🌳🌴*
= = = = = = = = = = == = = = = = = = = = =
*রাজ্যবঞ্চিত পান্ডব ভ্রাতাগণ বনে চলে গেলেন।ধার্মিক,সত্যসন্ধ এই পঞ্চ ভাইয়ের দুরবস্থায় সকলেই দুঃখিত হলেন।মনের দুঃখে প্রজাদের অনেকেই তাঁদের সঙ্গে গেল।এই অনুসরণকারী শোকমগ্ন জনতাকে দেখে যুধিষ্ঠির ভয় পেয়ে গেলেন।* *এত লোক যদি আমাদের সঙ্গে যাই তাহলে খাবার কোথা হতে সংগ্রহ হবে!কি ভাবে তাদের মান রাখব!সঙ্গে পুরোহিত ধৌম্য ছিলেন।* *তিনি* *বললেন, বৎস!সূর্য্যের আরাধনা কর।* *আকস্মিক বিপদ দূর হবে।* *যুধিষ্ঠিরের আরাধনায় সুর্য্যদেব সন্তুষ্ট হয়ে যুধিষ্ঠিরকে একটি থালা উপহার দিলেন।বললেন,এই থালার অন্ন দ্রৌপদী না খাওয়া অবধি অফুরান থাকবে।অতএব দ্রৌপদীর খাওয়ার আগে,প্রত্যহ সকলকে এই থালা থেকে নিয়ে খাইয়ে দিবে।অন্ন ব্যঞ্জনে ভরা থালা পেয়ে দ্রৌপদী নিশ্চিন্ত হলেন।* *এরপর তাঁরা কাম্যক নামক বনে গেলেন।সে বনে বাস করত বক রাক্ষসের ভাই কিড়মিড়।বকরাক্ষসকে ভীম হত্যা করেছিল, কিড়মিড় ভাইয়ের মৃত্যুর প্রতিশোধ নিতে এসে নিজেই নিহত হল।* *এদিকে পান্ডবেরা বনে যাওয়াতে কৌরবেরা খুব খুশী।কিন্তু ধৃতরাষ্ট্র যেন কিছু দুঃখিত, কিছু উদ্বিগ্ন।একদা দেবর্ষি নারদ এসে বলেছিলেন =এই অন্যায় অবিচারের প্রতিফল কৌরবদের পেতেই হবে।* *যার ফলে কুরুবংশই ধ্বংস হবে।সেই কথা ভেবে অন্ধ রাজার মনে শান্তি নেই।বিদুর বলেছিলেন=এখনও সময় আছে, অপত্য স্নেহের বশে আপনি দুষ্কার্য্যের প্রশ্রয় দিয়েছেন।প্রতিকার করুন।এখনো সময় আছে।পাঁচ ভাইকে ফিরিয়ে এনে তাঁদের ন্যায্য প্রাপ্য ফিরিয়ে দিন।*
*ক্রমশ*
*সৎপরামর্শ ধৃতরাষ্ট্রের ভাল লাগল না।তিনি বিদুরকে তিরস্কার করলেন।মর্মাহত বিদুর পান্ডবদের কাছে কাম্যক বনে চলে গেলেন।তখন ধৃতরাষ্ট্র ভাবলেন,যদি বিদুর বনে গিয়ে পান্ডবদের নানা পরামর্শ দেয়,তবে তো সর্বনাশ।* *অতএব তিনি কালবিলম্ব না করে,বুঝিয়ে সুঝিয়ে বিদুরকে হস্তিনায় ফিরিয়ে আনলেন।* *কিন্তু প্রজাদের মুখ তো বন্ধ হবার নয়,তারা কৌরবদের নিন্দে করতে লাগলেন।শ্রীকৃষ্ণ কাম্যক বনে এসে কাঁন্নারত দ্রৌপদীকে সান্ত্বনা দিয়ে বললেন,একটি মানুষের জীবনে তেরটি বছর কিছুই নয়।দেখতে দেখতে কেটে যাবে।* *অতএব দুঃখ কোরো না।ধর্মের জয়,সত্যের জয় জগতে অবশ্যম্ভাবী।অধর্মের অল্প পরমায়ু।* *পান্ডবেরা এবার কাম্যক বন ছেড়ে দ্বৈতবনে এলেন।সংবাদ পেয়ে ব্যাসদেব এলেন সেখানে।তিনি যুধিষ্ঠিরকে একটি বিদ্যা শিখিয়ে দিলেন। যুধিষ্ঠির অর্জুনকে সেই বিদ্যা শিখিয়ে দিলেন।* *সেই মন্ত্র শিখে অর্জুন চলে গেলেন হিমালয়ের পারে ইন্দ্রনীল পর্বতে মহাদেবের তপস্যা করতে।* *তপস্যায় তুষ্ট দেবাদিদেব মহাদেব অর্জুনকে উপহার দিলেন পাশুপত নামে একটি ভয়ঙ্কর অস্ত্র।* *অতঃপর ইন্দ্রের সঙ্গে অর্জুন গেলেন স্বর্গে।সেখানেও সন্তুষ্ট করে দেবতাদের কাছ হতে অনেকরকম অস্ত্র লাভ করলেন তিনি।* *পান্ডবেরা আবার ফিরে এলেন কাম্যক বনে।বেশ কয়েক বছর কাটলো।কিন্তু তখনও অর্জুন ফিরলেন না দেখে অন্যান্য ভাইয়েরা চিন্তিত হয়ে উঠলেন।* *একদিন লোমশমুনি এলেন পান্ডবদের কাছে।সংবাদ নিয়ে এসেছেন অর্জুনের। বললেন অর্জুন বেশ ভাল আছে এবং আরো বহুতর অস্ত্রের অধিকারী হয়েছে।লোমশ পান্ডবদের বললেন,এই বনবাসের কাল এক জায়গায় না কাটিয়ে তীর্থ ভ্রমণ কর।*
*ক্রমশ*
*মুনির আদেশ শিরোধার্য্য করে পান্ডবগণ ঘুরতে ঘুরতে এলেন কৈলাস পর্বতের কাছে।সেখানে কিন্তু ভীষণ ভীষণ শীতে কাতর হয়ে পড়লেন।বিশেষ করে দ্রৌপদী।এখান থেকে তাঁরা গেলেন বদ্রীনাথে।এখানেই অর্জুনের প্রত্যাবর্তনের অপেক্ষা করতে লাগলেন চারভাই।* *হঠাৎ একদিন শূন্য রথের ঘর্ঘর শব্দ শুনে চেয়ে দেখলেন,অর্জুন স্বর্গ হতে ফিরে আসছেন।সকলে এক জায়গায় হয়ে দ্বৈতবনে ফিরে গেলেন।* *এইভাবে অনেকদিন কাটল বনবাসে।পান্ডবদের পীড়ন করেও তখনো দুর্যোধনের আশা মেটেনি।তিনি ঠিক করলেন,পান্ডবদের ডেকে নিজের ঐশ্বর্য্য দেখাবেন।কাম্যক বনের কাছে প্রভাসের তীরে ঘোষযাত্রায় প্রভাস-স্নানে পূণ্য অর্জনের জন্য দুর্যোধন সপরিবারে কর্ণ,শকুনি প্রভৃতি সভাসদ ও সমস্ত সৈন্যসামন্ত নিয়ে স্নানযাত্রা করলেন।* *কাম্যক বনের কাছে গন্ধর্বরাজ চিত্রসেনের উদ্যান সৈন্যরা লন্ডভন্ড করায় চিত্রসেন কৌরবদের অন্য জায়গায় যেতে বললেন।মদমত্ত দুর্যোধন অহঙ্কারী সেকথা শুনবেন কেন?* *কাজেই গন্ধর্বরাজ-কৌরবে ভীষণ যুদ্ধ বেধে গেল।অনেক কৌরব সেনা নিহত হল।কর্ণ ও শকুনি পালিয়ে বাঁচলো।দুর্যোধন সপরিবারে বন্দী হলেন।* *দুর্যোধনের কুল-নারীগণ যুধিষ্ঠিরের কাছে দূত পাঠিয়ে সাহায্য চাইলেন।দুর্যোধনের নিপীড়নে ভীম পরমানন্দিত।কিন্তু ধর্মরাজ যুধিষ্ঠির সব কথা শুনে দুঃখিত হয়ে বললেন,* *কৌরবরা আমার ভাই,ভাইয়ের বিপদে ভাই সাহায্য না করলে কে করবে?* *এই বলে তিনি ভীম ও অর্জুনকে আদেশ করলেন,দুর্যোধনকে মুক্ত করতে।* *বড় ভাইয়ের আদেশে নিরুপায় ভীম ও অর্জুন গেলেন চিত্ররথের সঙ্গে যুদ্ধ করতে।গন্ধর্বরাজগণ পরাজিত হলেন।* *অর্জুনের অনুরোধে চিত্রসেন মুক্তি দিলেন সবাইকে।* *দুর্যোধন ম্লান মুখে এসে দাঁড়াল ধর্মরাজের সামনে।* *যুধিষ্ঠির তাঁকে অনেক উপদেশ দিলেন।কুরু-নারীদের দ্রৌপদী সম্বর্ধনা করলেন। আদর করে সকলকে খাওয়ালেন।*
*ক্রমশ*
*পান্ডবদের ব্যবহারে দুর্যোধনের মন সামান্য পরিবর্তন হয়েছিল,তবে দীর্ঘদিন যাদের মধ্যে দুষ্ট বুদ্ধি থাকে,ক্ষণেকের মধ্যে তা সৎবুদ্ধিতে পরিণত হয় না।সে মুগ্ধ হয়েছিল শত্রুতার পরিবর্তে পান্ডবদের এমন মিত্রের মতো ব্যবহার দেখে।* *কিন্তু সে কতক্ষণ?কর্ণ,দুঃশাসন,শকুনি প্রভৃতির সমালোচনায় আবার তার মন পান্ডবদের প্রতি বিরূপ হয়ে উঠল।* *স্থির হলো,পান্ডবদের আরো দুঃখ দিতে হবে,আরো অপমান করতে হবে।দ্রৌপদীকে ওদের কাছ হতে হরণ করে আনতে পারলে মনোবাঞ্জা পূর্ণ হবে।জয়দ্রথ গেল দ্রৌপদীকে হরণ করতে,জয়দ্রথ ফিরে এলো ভীমের হাতে লাঞ্জিত হয়ে।* *প্রতিহিংসা সাধনের জন্য আরো বেশী বল-বীর্য্যের জন্য জয়দ্রথ হিমালয়ে গিয়ে তপস্যা শুরু করল।* *কিছুদিন পরে এক ব্রাহ্মণের বেশে দেবাদিদেব মহাদেব তাকে দেখা দিয়ে বললেন,বর চাও?জয়দ্রথ বলল পান্ডবদের যেন পরাজিত করতে পারি প্রভু।তখন ব্রাহ্মণবেশি মহাদেব বললেন,অন্য বর প্রার্থনা কর।জয়দ্রথ বলল না,হয় পান্ডব বিজয়ের বর দাও,নতুবা চলে যাও।* *দুঃখিত অন্তঃকরণে মহাদেব প্রস্থান করলেন।জয়দ্রথ আবার তপস্যা শুরু করলেন।উর্ধপদে হেঁট মুন্ডে এক বৎসর কাল তপস্যা করল।ঋষিগণ পর্যন্ত চমকিত হলেন তীব্র তপস্যায়।* *ভক্তবৎসল ভোলানাথ আবার দেখা দিয়ে বললেন,বর প্রার্থনা কর।রাজ্য,ধন,সম্পদ,জন, বিদ্যা যা প্রাণ চাই বলো।* *জয়দ্রথ বললেন পান্ডব বিজয়।এবার মহাদেব ক্রুদ্ধ হয়ে বললেন,তুই অতি পাপিষ্ঠ,তাই বার বার এই বর প্রার্থনা করছিস।শ্রীকৃষ্ণ ও অর্জুন,দুই দেহে একআত্মা।তাঁকে পরাজিত করা তোর সাধ্য নয়।বেশ বর দিলাম,অর্জুন বাদে বাকী চার পান্ডবকে তুই পরাজিত করবি।আর অর্জুন তনয় অভিমন্যুকে বধ করতে সাহায্য করবি।* *পুত্রকে পরাজিত করলে পিতারই পরাজয় হয়।এইভাবে তুই অর্জুনকে পরাজিত করতে পারবি।*
*ক্রমশ*
*বনপর্ব বিরাম ভাগ কেবল সার অংশ তুলে ধরলাম।*
"""""""""""""""""""""""""""""""""""""""""""""""""""""""""""""
*জয়দ্রথ এই বর পেয়ে মহাদেবকে প্রণাম করে মনের আনন্দে হস্তিনাপুরে ফিরলো।কালক্রমে পান্ডবদের বনবাসের কাল পূর্ণ হলে যুধিষ্ঠির সহদেবকে প্রশ্ন করলেন,গুণে দেখ তো ভাই,দ্বাদশ বৎসর পূর্ণ হতে আর কতদিন বাকী আছে?সহদেব গণনা করে বললেন,বারো বৎসর পূর্ণ হতে আর মাত্র ছয়দিন অবশিষ্ট আছে।*
*যুধিষ্ঠির বললেন=এইবার এক বৎসর অজ্ঞাতবাসের স্থান নির্বাচন করো ভাই।কোথায় গেলে দুর্যোধন ও তার সহচরগণ আমাদের দেখতে পাবে না এমন একটি নিরাপদ জায়গা ঠিক করো।* *অনেক জায়গার নাম করা হলো,পাঞ্চাল,বিদর্ভ,মৎস্য,বাল্মীক, মগধ,কলিঙ্গ,শূরসেন, কাশী,মল্ল প্রভৃতি।ছদ্মনামও গ্রহণ করলেন পাঁচভাই, যথাক্রমে জয়, বিজয়,জয়ন্ত,জয়ৎসেন ও জয়দ্বল নাম গ্রহণ করলেন। দ্রৌপদীর নাম করণ হল মালিনী।সেখান থেকে তাঁরা ছদ্মবেশে মৎস্য দেশে গিয়ে রাজার কাছে এই ভাবে পরিচয় দিলেন।* *যুধিষ্ঠির বললেন আমার নাম কঙ্ক,আমি পাশা খেলতে নিপূণ। মহারাজ যুধিষ্ঠিরের রাজ সভায় ছিলাম।এখন তাঁরা রাজ্যচ্যুত হয়ে বনবাসে গেছেন,আমিও কর্মহীন হয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছি।* *মৎসরাজ কঙ্ককে সাদরে গ্রহণ করলেন। এই ভাবেই একে একে পাঁচভাই মৎসরাজের কাছে আশ্রয় পেলেন।* *ভীম হলেন সূপকার,নাম বল্লভ,স্ত্রীবেশধারী অর্জুন বললেন,আমি নপুংসক নর্তক।* *আমি দেবকন্যাদের নাচ গান শেখাতে পারি, এমন দক্ষতা আমার আছে।আমার নাম বৃহন্নলা।* *নকুল হলেন অশ্ব চিকিৎসক,নাম গ্রন্থিক,সহদেব বললেন,আমি মহারাজ যুধিষ্ঠিরের গো পালক ছিলাম,তিনি আমার নাম রেখেছিলেন তন্তিপাল। দ্রৌপদী সৈরন্ধ্রীরূপে বিরাট রাজার অন্তঃপুরে আশ্রয় পেলেন।*
*🙏🙏জয় নিতাই 🙏🙏*
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
এই লিখনী 📚 PDF 📚 👉🌐 https://drive.google.com/file/d/1TLYMQdQ_fgKdJEjPIklN9r8hNggvlQ5p/view?usp=drivesdk
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️
꧁ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ📱7001138871꧂
নিবাস- বাঁশবাড়ী, কীর্তন মন্দিরের পাশে, পোঃ- বাঁশবাড়ী, থানা- ইংরেজ বাজার, জেলা- মালদহ, পশ্চিমবঙ্গ, পিন কোড- ৭৩২১০১।
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏
আমায় দেওয়া ওনার এই অমূল্য লিখনী সেবা, তা সকলের মধ্যে প্রকাশ করলাম। ওনার এই অমূল্য দান সমগ্র বৈষ্ণব সমাজ অনন্তকাল মনে রাখিবে।
🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
*••••┉━❀꧁ 🙏 রাধে রাধে 🙏 ꧂❀━┅••••*
*••••┉━❀꧁ 🙏 রাধে রাধে 🙏 ꧂❀━┅••••*
শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য প্রভু নিত্যানন্দ
হরে কৃষ্ণ হরে রাম শ্রীরাধেগোবিন্দ।।
*••••┉━❀꧁ 🙏 জয় জগন্নাথ 🙏 ꧂❀━┅••••*
হরে কৃষ্ণ হরে কৃষ্ণ কৃষ্ণ কৃষ্ণ হরে হরে
হরে রাম হরে রাম রাম রাম হরে হরে॥
*••••┉━❀꧁ 🙏 জয় রাধাকান্ত 🙏 ꧂ ❀━┅••••*
💮❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀💮
💮❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀💮
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
🙏 SRI KRISHNA LILA 🙏
🙏 SRI JOYDEB DAWN 🙏














