শ্রী মৃন্ময় নন্দী কর্ত্তৃক সকল ভক্ত👣চরণে👣অসংখ্যকোটি 🙇প্রণাম🙇 ক্লিক করুন 👇

শ্রী মৃন্ময় নন্দী কর্ত্তৃক সকল ভক্ত👣চরণে👣অসংখ্যকোটি 🙇প্রণাম🙇 ক্লিক করুন 👇

গৌরাঙ্গের দুটি পদ, যার ধন সম্পদ 🌼 শ্রীঠাকুরমহাশয় গৌরভক্তের মহিমা বর্ণন প্রসঙ্গে কয়েকটি রহস‍্যময় বা নিগূঢ় তথ‍্যের আবিস্কার করছেন সেই তত্ব কি ❓❓❓✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2022/09/blog-post_7.html

  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
       ꧁ *গৌরাঙ্গের দুটি পদ, যার ধন সম্পদ* 
       এই লিংকে 👇👇👇🙏👇👇👇 ক্লিক করুন 
            ꧁ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ ꧂
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
  ꧁ টিকা বা অন্যান্য ধর্মীয় লিখনী 🙏 সূচীপত্র 
       এই লিংকে 👇👇👇🙏👇👇👇 ক্লিক করুন 
          ꧁ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ ꧂
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
👣👣👣👣👣👣👣👣👣👣👣
*গৌরাঙ্গের দুটি পদ, যার ধন সম্পদ,*
     *সে জানে ভকতি-রসসার।*
*গৌরাঙ্গের মধুর লীলা,যার কর্ণে প্রবেশিলা,*
      *হৃদয় নির্মল ভেল তার।।*
*যে গৌরাঙ্গের নাম লয়,তার হয় প্রেমোদয়,*
     *তারে মুঞি যাই বলিহারী।*
*গোরাঙ্গ-গুণেতে ঝুরে,নিত‍্যলীলা তারে স্ফুরে,*
     *সেজন ভকতি অধিকারী।।*
*গৌরাঙ্গের সঙ্গীগণে,নিত‍্যসিদ্ধ করি মানে,*
     *সে যায় ব্রজেন্দ্রসুত পাশ।*
*শ্রীগৌড়মন্ডলভূমি,যেবা জানে চিন্তামণি,*
     *তার হয় ব্রজভূমে বাস।।*
*গৌর-প্রেম রসার্ণবে,সে তরঙ্গে যেবা ডুবে,*
    *সে রাধামাধব অন্তরঙ্গ।*
*গৃহে বা বনেতে থাকে,হা গৌরাঙ্গ বলে ডাকে,*
     *নরোত্তম মাগে তার সঙ্গ।।*
👣👣👣👣👣👣👣👣👣👣👣
*শ্রীঠাকুরমহাশয় গৌরভক্তের মহিমা বর্ণন প্রসঙ্গে কয়েকটি রহস‍্যময় বা নিগূঢ় তথ‍্যের আবিস্কার করছেন।শ্রীগৌরচরণে শরণাগত ও গৌরকে যাঁরা হৃদয়ে বেঁধেছেন,তাঁদের আনুষঙ্গিক ভাবে সংসার নাশ এবং  মুখ‍্যফলে প্রেমধন প্রাপ্তির কথা উল্লেখ করেছেন। কিন্তু জাতিগত বা পরিমাণগতভাবে সেই প্রেম কত উন্নত বা কিরকম তা বলা হয় নাই। এইজন‍্য এই পদের প্রথমেই বলেছেন, "গৌরাঙ্গের দুটি পদ,যার ধন সম্পদ, সে জানে ভকতি রস সার"।* *শ্রীগৌরাঙ্গের পাদপদ্মদ্বয় যাঁর ধন বা সম্পদ্ অর্থ‍্যাৎ যাঁরা গৌরভক্ত,কেননা ভক্তব‍্যতীত কেহই ভগবানের চরণকে ধন বা সম্পদরূপে গ্রহণ করতে পারেন না তাঁরা ভক্তিরসসার বা সর্বোৎকৃষ্ট ভক্তিরস জানেন বা অনুভব করেন।* *যেমন ধন বা সম্পদ্ থাকলে ভোগ হয়  এবং আনুষঙ্গিকভাবেই দুঃখ দারিদ্রের নাশ হয়ে থাকে,তেমনি গৌরচরণকে যাঁরা ধনরূপে গ্রহণ করেছেন,সেই গৌরভক্তগণের সর্বোৎকৃষ্ট ভক্তিরসের আস্বাদন লাভ হয় ("জানা"অর্থে অনুভব করা বা আস্বাদন করা) এবং আনুষঙ্গিকভাবেই সংসাররূপ দারিদ্রাদি নাশপ্রাপ্ত হয়ে থাকে।*
*সেই সর্বোৎকৃষ্ট ভক্তিরস বা ভক্তিরসসারই হচ্ছে,পরম মাধুর্য‍্যময় ব্রজভক্তির সর্ব উচ্চে থাকা রাধাদাসী বা মঞ্জরীগণের প্রেমরস।এই সর্বোৎকৃষ্ট প্রেমরস গৌরভজনকারীগণের চিত্তে স্বতঃস্ফূর্তভাবেই সমুদিত (উদয়)হয়ে থাকে।* *এই প্রেমরসবন‍্যায় বিশ্বকে আপ্লাবিত (যেমন বন‍্যা ভাসিয়ে দেয়)করবার জন্যই শ্রীগৌরাঙ্গের প্রেমময় অবতার।* *এই ভক্তিরসের আস্বাদন এতই চমৎকারিত্বপূর্ণ যে,স্বয়ং গৌরাঙ্গদেবেরই শ্রীরাধামাধুরী আস্বাদনের পর এই প্রেম রসাস্বাদনের বাসনা অন্তরে জেগেছিল।তাই শ্রীকবিরাজ গোস্বামীপাদ লিখেছেন=*
*আপনে করি আস্বাদনে,শিখাইল ভক্তগণে,*
     *প্রেমচিন্তামণির প্রভু ধনী।*
*নাহি জানে স্থানাস্থান,যারে তারে কৈল দান,*
     *মহাপ্রভু দাতা শিরোমণি।।*
*ঐছে গুপ্ত ভাবসিন্ধু,ব্রহ্মা না পায় যার একবিন্দু,*
    *হেন ধন বিলাইল সংসারে।*
*ঐছে দয়াল অবতার,ঐছে দাতা নাহি আর,*
     *গুণ কেহো নারে বর্ণিবারে।।*
*🍁অথবা প্রেমরসময় অবতার শ্রীগৌরের ভক্তগণ ভক্তিরসকেই সকল সাধ‍্য সাধনার সার বা শ্রেষ্ঠরূপে জানেন বা অনুভব করে থাকেন।* *কারণ প্রেমরসময়মূর্তি গৌরসুন্দরের শ্রীপাদপদ্মবিগলিত মকরন্দরসপানে তাঁরা এতই আস্বাদন লাভ করেন যে,অন‍্য সবই তাঁদের কাছে তুচ্ছাতিতুচ্ছ বলে মনে হয়ে থাকে। শ্রীপ্রবোধানন্দ লিখেছেন,*
*অপারাবারঞ্চেদমৃতময়পাথোধিমধিকং, বিমথ‍্য প্রাপ্তং স‍্যাৎ কিমপি পরমং সারমতুল‍ম্।*
*তথাপি শ্রীগৌরাকৃতি মদনগোপালচরণ চ্ছটাস্পৃষ্টানাং তদ্বহতি বিকটামেব কটুতাম্।।*
*🌳"শ্রীগৌরভক্তগণ শ্রীগৌরপাদপদ্ম মকরন্দরসের যে আস্বাদন পেয়েছেন, তা অতি অতুলনীয়।সমুদ্রমন্থনে যে অমৃত উঠেছিল, যার আস্বাদন লোভে দেবাসুর সকলে মত্ত হয়েছিলেন, সেই অমৃতেরই যদি অপার সিন্ধু হত,তা মন্থন করে যদি কোন অনির্বচনীয় মধুরাতিমধুর অমৃত সারবস্তু লাভ করা যেত, শ্রীগোরাকৃতি মদনগোপালের শ্রীচরণ-মধুপানে মত্ত ভক্তভৃঙ্গের কাছে তাহাও নিতান্ত বিরস হয়ে যেত।* 
           ক্রমাগত
 *অতপর বললেন,"গৌরাঙ্গের মধুর লীলা,যার কর্ণে প্রবেশিলা,হৃদয় নির্মল ভেল তার"।শ্রীগৌরাঙ্গের লীলা অতীব মধুর, এই মধুরতার তুলনা কোথাও নেই।ভগবানের চেষ্টা দুই প্রকার=একটি কর্ম,অপরটি লীলা, ভগবান কোন উদ্দেশ্য নিয়ে যা করে থাকেন,তাহা কর্ম। যেমন ধরণীরভার হরণ,অসুর-মারণাদি চেষ্টাই তাঁর কর্ম।*  *"স্বেচ্ছয়া হর্ষাৎ অনায়াসেনৈব ক্রিয়মাণা চেষ্টা লীলা", অর্থ‍্যাৎ স্বেচ্ছায় আনন্দ-উল্লাসে অনায়াসে করা চেষ্টার নাম "লীলা"। বিশুদ্ধ লীলার ক্ষেত্র শ্রীব্রজধাম।এখানে যে দৈত‍্যবধাদি কাজ দেখা গেছে, তাও আনন্দ উল্লাসভরেই সখা,মাতাপিতা এবং কান্তাগণের কৌতুকরস এবং উল্লাসবর্ধনকারীরূপেই প্রকাশ পেয়েছে।* *এইজন‍্যই ব্রজেন্দ্রনন্দনকে লীলা-পুরুষোত্তম বলা হয়।সেই ব্রজেন্দ্রনন্দনই প্রেমময়ী শ্রীরাধারাণীর ভাবকান্তি নিয়ে গৌর হয়েছেন এবং পাষাণ গলানো প্রেমের লীলা প্রকাশ করে বিশ্বজীবের চিত্তকে দ্রবিত করেছেন।* *এইজন‍্য শ্রীগৌরাঙ্গকে প্রেম-পুরুষোত্তম বলা হয়।গৌরাঙ্গের প্রেমামৃতরসময় লীলামাধুর্য‍্যের কোথাও তুলনা নাই। তাই শ্রীপ্রবোধানন্দ লিখেছেন।*
*সান্দ্রানন্দোজ্জ্বলরসময় প্রেমপীযূষসিন্ধোঃ কোটিং বর্ষন্ কিমপি করুণাস্নিগ্ধনেত্রাঞ্চলেন।*
*কোহয়ং দেবঃ কনককদলীগর্ভগৌরাঙ্গযষ্টিশ্চেতোহকস্মান্মম নিজপদে গাঢ়যুক্তং চকার।।*
*🌻"কনককদলীগর্ভের মতো সুচিক্কণ উজ্জ্বল গৌরবর্ণ অঙ্গযষ্টি যাঁর,ইনি কোন দেবতা। যিনি করুণাস্নিগ্ধ নয়নাঞ্চলে অতি নিবিড়  আনন্দপূর্ণ উজ্জ্বলরসময় কোটি কোটি প্রেমামৃতসিন্ধু বর্ষণ করে আমার চিত্তকে সহসা নিজরূপে গাঢ়রুপে যুক্ত করলেন।*
*শ্রীপাদ স্বরূপদামোদর গোস্বামী,শ্রীমুরারি গুপ্ত  তাঁদের কড়চায়,শ্রীকবিকর্ণপূর তাঁর চৈতন‍্যচন্দ্রোদয় নাটকে, ব‍্যাসাবতার শ্রীবৃন্দাবনদাস ঠাকুর শ্রীচৈতন‍্যভাগবতে,শ্রীলোচনদাস শ্রীচৈতন‍্যমঙ্গলে,শ্রীকৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামীপাদ তাঁর শ্রীচৈতন‍্যচরিতামৃতে শ্রীগৌরাঙ্গের মধুরলীলা বর্ণনা করে বিশ্বজীবের মহাকল‍্যাণ সাধন করেছিলেন।* *মধুময় গৌরলীলা কানে প্রবেশ করলেই হৃদয় নির্মল হয়ে থাকে। মহাশক্তিশালী শ্রবণ মঙ্গলময় গৌরলীলা কানে শোধা মাত্রে অর্থবোধের কোন অপেক্ষা না রেখেই চিত্ত শুদ্ধ করে চিত্তে প্রেমের সঞ্চার করে দেয়।* *কবিরাজ গোস্বামীপাদ লিখেছেন=*
*যেবা নাহি বুঝে কেহ,শুনিতে শুনিতে সেহো,* 
      *কি অদ্ভুত চৈতন‍্যচরিত।*
*কৃষ্ণে উপজীবে প্রীতি,জানিবে রসের রীতি,*
     *শুনিলেই হৈবে বড় হিত।।*
         ক্রমাগত
*শ্রীগৌরাঙ্গের মধুরলীলা কর্ণে প্রবেশ করলে চিত্ত নির্মল হবে, ইহা গৌরলীলা শ্রবণের আনুষঙ্গিক ফল,মুখ‍্যফলে ব্রজমাধুরী আস্বাদনে সাধক ধন‍্য হবেন। শ্রীকৃষ্ণদাস কহিরাজ গোস্বামীপাদ তাঁর মধুস্রাবী লেখনিতে শ্রীচৈতন‍্যলীলার যে মহত্ত্ব এবং ফলশ্রুতি বর্ণনা করেছেন, সত‍্যই তা বিশ্বে অতি অতুলন।*
*কৃষ্ণলীলামৃতসার,তার শত শত ধার,*
     *দশদিগে বহে যাহা হৈতে।*
*সে চৈতন‍্যলীলা হয়,সরোবর অক্ষয়,*
     *মন-হংস চরাহ তাহাতে।।*
   *ভক্তগণ!শুন মোর দৈন‍্যবচন।*
*তোমা সভার পদধূলি,অঙ্গে বিভূষণ করি,*
     *কিছু মুঞি করোঁ নিবেদন।।*
*কৃষ্ণভক্তি-সিদ্ধান্তগণ,যাতে প্রফুল্ল পদ্মবন,*
     *তার মধু কর আস্বাদন।*
*প্রেমরস-কুমুদ-বনে,প্রফুল্লিত রাত্রিদিনে,*
     *তাতে চরাও মনোভৃঙ্গগণ।।*
*নানাভাবে ভক্তগণ,হংস-চক্রবাকগণ,*
    *যাতে সভে করেন বিহার।*
*কৃষ্ণকেলি সুমৃণাল,যাহা পাই সর্বকাল,*
    *ভক্তহংস করয়ে আহার।।*
*সেই সরোবরে গিয়া,হংস চক্রবাক হৈয়া,*
     *সদা তাঁহা করহ বিলাস।*
*খন্ডিবে সকল দুঃখ,পাইবে পরম সুখ,*
     *অনায়াসে হবে প্রেমোল্লাস।।*
*এই অমৃত অনুক্ষণ,সাধু মহন্ত মেঘগণ,*
     *বিশ্বোদ‍্যানে করে বরিষণ।*
*তাতে ফলে প্রেমফল,ভক্ত খায় নিরন্তর,*
      *তার শেষে জীয়ে জগজন।।*
*চৈতন‍্যলীলামৃতপূর,কৃষ্ণলীলা- সুকর্পূর,*
     *দোঁহে মেলি হয় সুমাধুর্য‍্য।*
*সাধু গুরু প্রসাদে,তাহা যেই আস্বাদে,*
     *সেই জানে মাধুর্য‍্য-প্রাচুর্য‍্য।।*
*🌻অতঃপর বললেন,"যে গৌরাঙ্গের নাম লয়,তার হয়  প্রেমোদয়,তারে মুঞি যাই বলিহারী। "গৌরাঙ্গ গুণেতে ঝুরে,নিত‍্যলীলা তারে স্ফুরে,সেজন ভকতি অধিকারী "।ঠাকুরমহাশয় গৌরাঙ্গের লীলার মহিমা  বর্ণন করেছেন।* *যদিও লীলার ভিতরে নাম,রূপ,গুণ সবই অন্তর্ভুক্ত আছে,তথাপি নাম-সঙ্কীর্তন কলির যুগধর্ম এবং সর্বশ্রেষ্ঠ ভজনাঙ্গ বলে গৌরনাম কীর্তনের মহিমা বলছেন।* *যে গৌরাঙ্গের নাম জপ বা কীর্তন করে,তার প্রেমোদয় হয়,আমি তাঁর বলিহারী যাই।তাঁকে শত শত ধন‍্যবাদ!গৌরনাম জপ বা কীর্তনকারীর মাহাত্ম‍্য অবর্ণনীয়।নারপরাধ চিত্ত হলে কৃষ্ণনাম কীর্তনে অনায়াসে প্রেমোদয় হয়ে থাকে।* *শ্রীকবিরাজ গোস্বামীপাদ লিখেছেন,*
*এক কৃষ্ণনামে করে সর্বপাপ নাশ*।
*প্রেমের কারণ ভক্তি করেন প্রকাশ।।*
*প্রেমের উদয়ে হয় প্রেমের বিকার*।
*স্বেদ-কম্প-পুলকাদি গদগদাশ্রুধার*।।
*অনায়াসে ভবক্ষয়,কৃষ্ণের সেবন*।
*এক কৃষ্ণনামের ফল পাই এত ধন।।*
*হেন কৃষ্ণনাম যদি লয় বহুবার।*
*তবু যদি প্রেম নহে,নহে অশ্রুধার*।।
*তবে জানি অপরাধ তাহাতে প্রচুর*।
*কৃষ্ণনামবীজ তাহে না হয় অঙ্কুর*।।
*🌻একমাত্র নামাপরাধব‍্যতীত নামের প্রেমদানে অতি প্রবল শক্তিকে ব‍্যাহত করতে পারে।এইরকম আর কোন অনর্থেরই সামর্থ নাই।অপরাধীর প্রতি শ্রীনাম প্রসন্ন হন না বলে অপরাধের অপগম না হলে নাম কখনই প্রেমদান করে না।এইজন‍্যই শাস্ত্র ও মহাজনবাণীতে সর্বত্র নিরপরাধে নাম-কীর্তনের বিধান প্রদত্ত হয়েছে।* *নিরপরাধে নামকীর্তনে সঞ্চিত অপরাধগুলির অপগমে নাম প্রসন্ন হয়ে প্রেমদান করে থাকেন। চৈতন‍্যচরিতামৃতে বলা হয়েছে =*
*চৈতন‍্য নিত‍্যানন্দ এসব নাহিক বিচার।*
*নাম লইতে প্রেম দেন বহে অশ্রুধার।।*
*স্বতন্ত্র ঈশ্বর প্রভু অত‍্যন্ত উদার।*
*তাঁরে না ভজিলে কভু না হয় নিস্তার।।* *🌻শ্রীচৈতন‍্যে-নিত‍্যানন্দে এ সব বিচার নাই বলতে যে অপরাধের বিচার নাই, তা নই, কারণ মহাপ্রভু স্বয়ং গোপাল চাপালের বৈষ্ণব অপরাধের বিচার করেছেন।এমনকি নিজ মাতা শচীদেবীর অদ্বৈতাচার্য‍্যের প্রতি অপরাধের কথা বলেছেন।* *সুতরাং অপরাধের বিচার সবজায়গায়।তবে প্রকটলীলাকাল পযর্ন্তই স্থিতি।তাঁর অন্তর্ধানে এই শক্তিবিশেষও অন্তর্হিত হয়েছে।তবু প্রেমময় গৌরাঙ্গের নামের অন‍্যান‍্য ভগবন্নাম অপেক্ষা শীঘ্র অপরাধনাশের এবং প্রেমদানের শক্তি যে এখনো বিদ‍্যমান রয়েছে,তা সুনিশ্চিত।*
     ক্রমাগত
*এইজন‍্যই শ্রীকবিরাজ গোস্বামীপাদ উল্লিখিত পয়ারগুলির প্রথমেই লিখেছেন=*
*অদ‍্যাপিহ দেখ,চৈতন‍্য নাম যেই লয়।*
*কৃষ্ণপ্রেমে পুলকাশ্রু বিহ্বল সে হয়।।*
*"নিত‍্যানন্দ"বলিতে হয় কৃষ্ণপ্রেমোদয়।*
*আউলায় সর্বঅঙ্গ,অশ্রুগঙ্গা বয়।।*
*🌻এইজন‍্যই গৌড়ীয় বৈষ্ণব সম্প্রদায়ে "হরেকৃষ্ণেতি" দ্বাত্রিংশ বর্ণাত্মক মহামন্ত্র জপ ও কীর্তনের পূর্বে শ্রীগৌরনাম জপ ও কীর্তনের বিশেষ বিধান দেখা যায়।*
*🌺তারপর গুণের কথা বললেন, "গৌরাঙ্গ গুণেতে ঝুরে,নিত‍্যলীলা তারে স্ফুরে,সেজন ভকতি অধিকারী"। ভগবান আনন্দময় বা রসময়,তাঁর নাম,গুণ,লীলাতে সেই আনন্দরূপতা বা রসরূপতার অভিব‍্যক্তি হয়ে থাকে।শ্রীগৌরাঙ্গ প্রেমময় বিগ্রহ,তাই তাঁর নাম,গুণ, লীলায় প্রেমেরই পূর্ণ অভিব‍্যক্তি(প্রকাশ)।* *সেই গৌরগুণেতে যাঁরা ঝুরেন অর্থ‍্যাৎ গৌরগুণ শুনে নয়নজলে ভাসেন,তাঁদের চিত্তে এতাদৃশ(এইরকম)প্রেমের প্রকাশ হয়  যে, স্বপ্রকাশ গৌরাঙ্গের নিত‍্যলীলা এবং ব্রজে শ্রীশ্রীরাধামাধবের রহস‍‍্যময় লীলা তাঁদের নয়নের সামনে ফুটে উঠে। স্ফূর্তিটি যদিও সাক্ষাৎ নয়,তথাপি স্ফুরণকালে সাক্ষাৎকারের মতোই আস্বাদন লাভ হয়ে থাকে। সুতরাং তিনিই যথার্থ অতি রহস‍্যময় ব্রজভক্তির অধিকার প্রাপ্ত হয়েছেন।* *""সেজন ভকতি অধিকারী ""।* *🌻তারপর গৌরাঙ্গের পরিকরতত্ত্বের মহিমা নিরূপণ প্রসঙ্গে বললেন, "গৌরাঙ্গের সঙ্গিগণে,নিত‍্যসিদ্ধ করি মানে,সে যায় ব্রজেন্দ্রসুত পাশ"*। *ব্রজের ঠাকুর রাআর ভাবকান্তি অঙ্গীকার করে গৌর হলেন এবং ব্রজেরই সব নিত‍্যসিদ্ধ পরিকরগণকে নিজ পার্ষদরূপে নবদ্বীপে অবতীর্ণ করালেন।শ্রীমন্মহাপ্রভুর প্রিয় পার্ষদ শ্রীপাদ কবিকর্ণপুর তাঁর শ্রীগৌরগণোদ্দেশ দীপিকা গ্রন্থে ব্রজের কোন পার্ষদ নবদ্বীপে কোন রূপে অবতীর্ণ হয়েছেন, মহাপ্রভুর কৃপায় তা প্রকাশ করা হয়েছে।সুতরাং গৌরাঙ্গের লীলাসঙ্গীগণ কেহই তটস্থা জীবতত্ত্ব নহেন,তাঁরা সকলেই অনাদিসিদ্ধ নিত‍্যপরিকর।* *গৌরাঙ্গের মতো যাঁদের চিদানন্দময় বিগ্রহ, সুতরাং তাঁরই মতো গুণাবলী সম্পন্ন,নিজাপেক্ষা কোটিগুণ প্রেম বহন করে থাকেন। তারপর গৌরের ধামতত্ত্ব নিরূপণে বললেন, "শ্রীগৌড়মন্ডলভূমি, যেবা জানে চিন্তামণি,তার হয় ব্রজভূমে বাস"।* *ব্রজের অভিন্ন চিন্মমধাম শ্রীনবদ্বীপে মহাপ্রভুর আবির্ভাব  এবং নবদ্বীপধামকে মধ‍্যমণির মতো কেন্দ্র করে গৌড়মন্ডলের বিভিন্ন গ্রামে ও নগরে যে সব গৌরপার্ষদগণের আবির্ভাবের জায়গা বা লীলামূমি, তা জড়ীয় বিশ্বের মতো প্রকৃতির পরিমাণ মাত্র নয়।* *চিন্তামণি যে রকম সর্বাভীষ্ট পূরণে সমর্থ, তেমনি ঐ সব চিন্ময় স্থান আশ্রিতকে প্রেমদানে ধন‍্য করতে সমর্থ এবং তাঁরাই ব্রজরসের অধিকারী।* *শেষে বললেন, ""গৌরপ্রেমরসার্ণবে,সে তরঙ্গে যেবা ডুবে,সে রাধামাধব অন্তরঙ্গ।গৃহে বা বনেতে থাকে,হা গৌরাঙ্গ!বলে ডাকে,নরোত্তম মাগে তার সঙ্গ""।* *গৌরপ্রেম যেন এক অতিবিশাল রসের অর্ণব বা মহাসিন্ধু।গৌর পার্ষদভাবে ভাবনিধি গৌরাঙ্গের সঙ্কীর্তন রসরঙ্গে বিচিত্র ভাবমাধুরী আস্বাদনের সঙ্গে মঞ্জরী বা রাধাকিঙ্করী ভাবে অতি রহস‍্যময় ব্রজমাধুরীর অদ্ভুত আস্বাদনসিন্ধু তরঙ্গে তরঙ্গে সন্তরণ-- কখনো ডুবা কখনো ভাসা!গৌরপ্রেমরসার্ণবে ডুবার ফল হচ্ছে,রাধামাধবের অতি অন্তরঙ্গ কিঙ্করীরূপে রহস‍্যময় নিকুঞ্জসেবা প্রাপ্তি।* *গৌরভক্ত গৃহাশ্রমে থাকুন আর ত‍্যাগাশ্রমেই থাকুন যিনি সতত "হা গৌরাঙ্গ! বলে ডাকেন বা অনুরাগময় ভজনজীবন যাপন করেন, তাঁর দুর্লভ সঙ্গ অতি অভিলষনীয়।"নরোত্তম মাগে তাঁর সঙ্গ"।* 
*🙏বানান, ভুল ভ্রান্তি নিজগুণে ক্ষমা করবেন🙏*
 ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
👇👇👇এই লিখনী 📚 PDF 📚 ক্লিক করুন 👇👇👇
 ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧ 
 ✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️
নিবাস- বাঁশবাড়ী, কীর্তন মন্দিরের পাশে, পোঃ- বাঁশবাড়ী, থানা- ইংরেজ বাজার, জেলা- মালদহ, পশ্চিমবঙ্গ, পিন কোড- ৭৩২১০১।
 ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏
আমায় দেওয়া ওনার এই অমূল্য লিখনী সেবা, তা সকলের মধ্যে প্রকাশ করলাম। ওনার এই অমূল্য দান সমগ্র বৈষ্ণব সমাজ অনন্তকাল মনে রাখিবে।
🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
    *••••┉━❀꧁ 🙏 রাধে রাধে 🙏 ꧂❀━┅••••* 
                   শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য প্রভু নিত্যানন্দ
              হরে কৃষ্ণ হরে রাম শ্রীরাধেগোবিন্দ।।
  *••••┉━❀꧁ 🙏 জয় জগন্নাথ 🙏 ꧂❀━┅••••*
              হরে কৃষ্ণ হরে কৃষ্ণ কৃষ্ণ কৃষ্ণ হরে হরে
              হরে রাম হরে রাম রাম রাম হরে হরে॥
Çc *••••┉━❀সব 🙏 জয় রাধাকান্ত 🙏 ꧂ ❀━┅••••*
   💮❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀💮
   💮❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀💮
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧






গৌরাঙ্গের দুটি পদ, যার ধন সম্পদ 🌼 শ্রীঠাকুরমহাশয় গৌরভক্তের মহিমা বর্ণন প্রসঙ্গে কয়েকটি রহস‍্যময় বা নিগূঢ় তথ‍্যের আবিস্কার করছেন সেই তত্ব কি ❓❓❓✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2022/09/blog-post_7.html

  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
       ꧁ *গৌরাঙ্গের দুটি পদ, যার ধন সম্পদ* 
       এই লিংকে 👇👇👇🙏👇👇👇 ক্লিক করুন 
            ꧁ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ ꧂
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
  ꧁ টিকা বা অন্যান্য ধর্মীয় লিখনী 🙏 সূচীপত্র 
       এই লিংকে 👇👇👇🙏👇👇👇 ক্লিক করুন 
          ꧁ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ ꧂
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
👣👣👣👣👣👣👣👣👣👣👣
*গৌরাঙ্গের দুটি পদ, যার ধন সম্পদ,*
     *সে জানে ভকতি-রসসার।*
*গৌরাঙ্গের মধুর লীলা,যার কর্ণে প্রবেশিলা,*
      *হৃদয় নির্মল ভেল তার।।*
*যে গৌরাঙ্গের নাম লয়,তার হয় প্রেমোদয়,*
     *তারে মুঞি যাই বলিহারী।*
*গোরাঙ্গ-গুণেতে ঝুরে,নিত‍্যলীলা তারে স্ফুরে,*
     *সেজন ভকতি অধিকারী।।*
*গৌরাঙ্গের সঙ্গীগণে,নিত‍্যসিদ্ধ করি মানে,*
     *সে যায় ব্রজেন্দ্রসুত পাশ।*
*শ্রীগৌড়মন্ডলভূমি,যেবা জানে চিন্তামণি,*
     *তার হয় ব্রজভূমে বাস।।*
*গৌর-প্রেম রসার্ণবে,সে তরঙ্গে যেবা ডুবে,*
    *সে রাধামাধব অন্তরঙ্গ।*
*গৃহে বা বনেতে থাকে,হা গৌরাঙ্গ বলে ডাকে,*
     *নরোত্তম মাগে তার সঙ্গ।।*
👣👣👣👣👣👣👣👣👣👣👣
*শ্রীঠাকুরমহাশয় গৌরভক্তের মহিমা বর্ণন প্রসঙ্গে কয়েকটি রহস‍্যময় বা নিগূঢ় তথ‍্যের আবিস্কার করছেন।শ্রীগৌরচরণে শরণাগত ও গৌরকে যাঁরা হৃদয়ে বেঁধেছেন,তাঁদের আনুষঙ্গিক ভাবে সংসার নাশ এবং  মুখ‍্যফলে প্রেমধন প্রাপ্তির কথা উল্লেখ করেছেন। কিন্তু জাতিগত বা পরিমাণগতভাবে সেই প্রেম কত উন্নত বা কিরকম তা বলা হয় নাই। এইজন‍্য এই পদের প্রথমেই বলেছেন, "গৌরাঙ্গের দুটি পদ,যার ধন সম্পদ, সে জানে ভকতি রস সার"।* *শ্রীগৌরাঙ্গের পাদপদ্মদ্বয় যাঁর ধন বা সম্পদ্ অর্থ‍্যাৎ যাঁরা গৌরভক্ত,কেননা ভক্তব‍্যতীত কেহই ভগবানের চরণকে ধন বা সম্পদরূপে গ্রহণ করতে পারেন না তাঁরা ভক্তিরসসার বা সর্বোৎকৃষ্ট ভক্তিরস জানেন বা অনুভব করেন।* *যেমন ধন বা সম্পদ্ থাকলে ভোগ হয়  এবং আনুষঙ্গিকভাবেই দুঃখ দারিদ্রের নাশ হয়ে থাকে,তেমনি গৌরচরণকে যাঁরা ধনরূপে গ্রহণ করেছেন,সেই গৌরভক্তগণের সর্বোৎকৃষ্ট ভক্তিরসের আস্বাদন লাভ হয় ("জানা"অর্থে অনুভব করা বা আস্বাদন করা) এবং আনুষঙ্গিকভাবেই সংসাররূপ দারিদ্রাদি নাশপ্রাপ্ত হয়ে থাকে।*
*সেই সর্বোৎকৃষ্ট ভক্তিরস বা ভক্তিরসসারই হচ্ছে,পরম মাধুর্য‍্যময় ব্রজভক্তির সর্ব উচ্চে থাকা রাধাদাসী বা মঞ্জরীগণের প্রেমরস।এই সর্বোৎকৃষ্ট প্রেমরস গৌরভজনকারীগণের চিত্তে স্বতঃস্ফূর্তভাবেই সমুদিত (উদয়)হয়ে থাকে।* *এই প্রেমরসবন‍্যায় বিশ্বকে আপ্লাবিত (যেমন বন‍্যা ভাসিয়ে দেয়)করবার জন্যই শ্রীগৌরাঙ্গের প্রেমময় অবতার।* *এই ভক্তিরসের আস্বাদন এতই চমৎকারিত্বপূর্ণ যে,স্বয়ং গৌরাঙ্গদেবেরই শ্রীরাধামাধুরী আস্বাদনের পর এই প্রেম রসাস্বাদনের বাসনা অন্তরে জেগেছিল।তাই শ্রীকবিরাজ গোস্বামীপাদ লিখেছেন=*
*আপনে করি আস্বাদনে,শিখাইল ভক্তগণে,*
     *প্রেমচিন্তামণির প্রভু ধনী।*
*নাহি জানে স্থানাস্থান,যারে তারে কৈল দান,*
     *মহাপ্রভু দাতা শিরোমণি।।*
*ঐছে গুপ্ত ভাবসিন্ধু,ব্রহ্মা না পায় যার একবিন্দু,*
    *হেন ধন বিলাইল সংসারে।*
*ঐছে দয়াল অবতার,ঐছে দাতা নাহি আর,*
     *গুণ কেহো নারে বর্ণিবারে।।*
*🍁অথবা প্রেমরসময় অবতার শ্রীগৌরের ভক্তগণ ভক্তিরসকেই সকল সাধ‍্য সাধনার সার বা শ্রেষ্ঠরূপে জানেন বা অনুভব করে থাকেন।* *কারণ প্রেমরসময়মূর্তি গৌরসুন্দরের শ্রীপাদপদ্মবিগলিত মকরন্দরসপানে তাঁরা এতই আস্বাদন লাভ করেন যে,অন‍্য সবই তাঁদের কাছে তুচ্ছাতিতুচ্ছ বলে মনে হয়ে থাকে। শ্রীপ্রবোধানন্দ লিখেছেন,*
*অপারাবারঞ্চেদমৃতময়পাথোধিমধিকং, বিমথ‍্য প্রাপ্তং স‍্যাৎ কিমপি পরমং সারমতুল‍ম্।*
*তথাপি শ্রীগৌরাকৃতি মদনগোপালচরণ চ্ছটাস্পৃষ্টানাং তদ্বহতি বিকটামেব কটুতাম্।।*
*🌳"শ্রীগৌরভক্তগণ শ্রীগৌরপাদপদ্ম মকরন্দরসের যে আস্বাদন পেয়েছেন, তা অতি অতুলনীয়।সমুদ্রমন্থনে যে অমৃত উঠেছিল, যার আস্বাদন লোভে দেবাসুর সকলে মত্ত হয়েছিলেন, সেই অমৃতেরই যদি অপার সিন্ধু হত,তা মন্থন করে যদি কোন অনির্বচনীয় মধুরাতিমধুর অমৃত সারবস্তু লাভ করা যেত, শ্রীগোরাকৃতি মদনগোপালের শ্রীচরণ-মধুপানে মত্ত ভক্তভৃঙ্গের কাছে তাহাও নিতান্ত বিরস হয়ে যেত।* 
           ক্রমাগত
 *অতপর বললেন,"গৌরাঙ্গের মধুর লীলা,যার কর্ণে প্রবেশিলা,হৃদয় নির্মল ভেল তার"।শ্রীগৌরাঙ্গের লীলা অতীব মধুর, এই মধুরতার তুলনা কোথাও নেই।ভগবানের চেষ্টা দুই প্রকার=একটি কর্ম,অপরটি লীলা, ভগবান কোন উদ্দেশ্য নিয়ে যা করে থাকেন,তাহা কর্ম। যেমন ধরণীরভার হরণ,অসুর-মারণাদি চেষ্টাই তাঁর কর্ম।*  *"স্বেচ্ছয়া হর্ষাৎ অনায়াসেনৈব ক্রিয়মাণা চেষ্টা লীলা", অর্থ‍্যাৎ স্বেচ্ছায় আনন্দ-উল্লাসে অনায়াসে করা চেষ্টার নাম "লীলা"। বিশুদ্ধ লীলার ক্ষেত্র শ্রীব্রজধাম।এখানে যে দৈত‍্যবধাদি কাজ দেখা গেছে, তাও আনন্দ উল্লাসভরেই সখা,মাতাপিতা এবং কান্তাগণের কৌতুকরস এবং উল্লাসবর্ধনকারীরূপেই প্রকাশ পেয়েছে।* *এইজন‍্যই ব্রজেন্দ্রনন্দনকে লীলা-পুরুষোত্তম বলা হয়।সেই ব্রজেন্দ্রনন্দনই প্রেমময়ী শ্রীরাধারাণীর ভাবকান্তি নিয়ে গৌর হয়েছেন এবং পাষাণ গলানো প্রেমের লীলা প্রকাশ করে বিশ্বজীবের চিত্তকে দ্রবিত করেছেন।* *এইজন‍্য শ্রীগৌরাঙ্গকে প্রেম-পুরুষোত্তম বলা হয়।গৌরাঙ্গের প্রেমামৃতরসময় লীলামাধুর্য‍্যের কোথাও তুলনা নাই। তাই শ্রীপ্রবোধানন্দ লিখেছেন।*
*সান্দ্রানন্দোজ্জ্বলরসময় প্রেমপীযূষসিন্ধোঃ কোটিং বর্ষন্ কিমপি করুণাস্নিগ্ধনেত্রাঞ্চলেন।*
*কোহয়ং দেবঃ কনককদলীগর্ভগৌরাঙ্গযষ্টিশ্চেতোহকস্মান্মম নিজপদে গাঢ়যুক্তং চকার।।*
*🌻"কনককদলীগর্ভের মতো সুচিক্কণ উজ্জ্বল গৌরবর্ণ অঙ্গযষ্টি যাঁর,ইনি কোন দেবতা। যিনি করুণাস্নিগ্ধ নয়নাঞ্চলে অতি নিবিড়  আনন্দপূর্ণ উজ্জ্বলরসময় কোটি কোটি প্রেমামৃতসিন্ধু বর্ষণ করে আমার চিত্তকে সহসা নিজরূপে গাঢ়রুপে যুক্ত করলেন।*
*শ্রীপাদ স্বরূপদামোদর গোস্বামী,শ্রীমুরারি গুপ্ত  তাঁদের কড়চায়,শ্রীকবিকর্ণপূর তাঁর চৈতন‍্যচন্দ্রোদয় নাটকে, ব‍্যাসাবতার শ্রীবৃন্দাবনদাস ঠাকুর শ্রীচৈতন‍্যভাগবতে,শ্রীলোচনদাস শ্রীচৈতন‍্যমঙ্গলে,শ্রীকৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামীপাদ তাঁর শ্রীচৈতন‍্যচরিতামৃতে শ্রীগৌরাঙ্গের মধুরলীলা বর্ণনা করে বিশ্বজীবের মহাকল‍্যাণ সাধন করেছিলেন।* *মধুময় গৌরলীলা কানে প্রবেশ করলেই হৃদয় নির্মল হয়ে থাকে। মহাশক্তিশালী শ্রবণ মঙ্গলময় গৌরলীলা কানে শোধা মাত্রে অর্থবোধের কোন অপেক্ষা না রেখেই চিত্ত শুদ্ধ করে চিত্তে প্রেমের সঞ্চার করে দেয়।* *কবিরাজ গোস্বামীপাদ লিখেছেন=*
*যেবা নাহি বুঝে কেহ,শুনিতে শুনিতে সেহো,* 
      *কি অদ্ভুত চৈতন‍্যচরিত।*
*কৃষ্ণে উপজীবে প্রীতি,জানিবে রসের রীতি,*
     *শুনিলেই হৈবে বড় হিত।।*
         ক্রমাগত
*শ্রীগৌরাঙ্গের মধুরলীলা কর্ণে প্রবেশ করলে চিত্ত নির্মল হবে, ইহা গৌরলীলা শ্রবণের আনুষঙ্গিক ফল,মুখ‍্যফলে ব্রজমাধুরী আস্বাদনে সাধক ধন‍্য হবেন। শ্রীকৃষ্ণদাস কহিরাজ গোস্বামীপাদ তাঁর মধুস্রাবী লেখনিতে শ্রীচৈতন‍্যলীলার যে মহত্ত্ব এবং ফলশ্রুতি বর্ণনা করেছেন, সত‍্যই তা বিশ্বে অতি অতুলন।*
*কৃষ্ণলীলামৃতসার,তার শত শত ধার,*
     *দশদিগে বহে যাহা হৈতে।*
*সে চৈতন‍্যলীলা হয়,সরোবর অক্ষয়,*
     *মন-হংস চরাহ তাহাতে।।*
   *ভক্তগণ!শুন মোর দৈন‍্যবচন।*
*তোমা সভার পদধূলি,অঙ্গে বিভূষণ করি,*
     *কিছু মুঞি করোঁ নিবেদন।।*
*কৃষ্ণভক্তি-সিদ্ধান্তগণ,যাতে প্রফুল্ল পদ্মবন,*
     *তার মধু কর আস্বাদন।*
*প্রেমরস-কুমুদ-বনে,প্রফুল্লিত রাত্রিদিনে,*
     *তাতে চরাও মনোভৃঙ্গগণ।।*
*নানাভাবে ভক্তগণ,হংস-চক্রবাকগণ,*
    *যাতে সভে করেন বিহার।*
*কৃষ্ণকেলি সুমৃণাল,যাহা পাই সর্বকাল,*
    *ভক্তহংস করয়ে আহার।।*
*সেই সরোবরে গিয়া,হংস চক্রবাক হৈয়া,*
     *সদা তাঁহা করহ বিলাস।*
*খন্ডিবে সকল দুঃখ,পাইবে পরম সুখ,*
     *অনায়াসে হবে প্রেমোল্লাস।।*
*এই অমৃত অনুক্ষণ,সাধু মহন্ত মেঘগণ,*
     *বিশ্বোদ‍্যানে করে বরিষণ।*
*তাতে ফলে প্রেমফল,ভক্ত খায় নিরন্তর,*
      *তার শেষে জীয়ে জগজন।।*
*চৈতন‍্যলীলামৃতপূর,কৃষ্ণলীলা- সুকর্পূর,*
     *দোঁহে মেলি হয় সুমাধুর্য‍্য।*
*সাধু গুরু প্রসাদে,তাহা যেই আস্বাদে,*
     *সেই জানে মাধুর্য‍্য-প্রাচুর্য‍্য।।*
*🌻অতঃপর বললেন,"যে গৌরাঙ্গের নাম লয়,তার হয়  প্রেমোদয়,তারে মুঞি যাই বলিহারী। "গৌরাঙ্গ গুণেতে ঝুরে,নিত‍্যলীলা তারে স্ফুরে,সেজন ভকতি অধিকারী "।ঠাকুরমহাশয় গৌরাঙ্গের লীলার মহিমা  বর্ণন করেছেন।* *যদিও লীলার ভিতরে নাম,রূপ,গুণ সবই অন্তর্ভুক্ত আছে,তথাপি নাম-সঙ্কীর্তন কলির যুগধর্ম এবং সর্বশ্রেষ্ঠ ভজনাঙ্গ বলে গৌরনাম কীর্তনের মহিমা বলছেন।* *যে গৌরাঙ্গের নাম জপ বা কীর্তন করে,তার প্রেমোদয় হয়,আমি তাঁর বলিহারী যাই।তাঁকে শত শত ধন‍্যবাদ!গৌরনাম জপ বা কীর্তনকারীর মাহাত্ম‍্য অবর্ণনীয়।নারপরাধ চিত্ত হলে কৃষ্ণনাম কীর্তনে অনায়াসে প্রেমোদয় হয়ে থাকে।* *শ্রীকবিরাজ গোস্বামীপাদ লিখেছেন,*
*এক কৃষ্ণনামে করে সর্বপাপ নাশ*।
*প্রেমের কারণ ভক্তি করেন প্রকাশ।।*
*প্রেমের উদয়ে হয় প্রেমের বিকার*।
*স্বেদ-কম্প-পুলকাদি গদগদাশ্রুধার*।।
*অনায়াসে ভবক্ষয়,কৃষ্ণের সেবন*।
*এক কৃষ্ণনামের ফল পাই এত ধন।।*
*হেন কৃষ্ণনাম যদি লয় বহুবার।*
*তবু যদি প্রেম নহে,নহে অশ্রুধার*।।
*তবে জানি অপরাধ তাহাতে প্রচুর*।
*কৃষ্ণনামবীজ তাহে না হয় অঙ্কুর*।।
*🌻একমাত্র নামাপরাধব‍্যতীত নামের প্রেমদানে অতি প্রবল শক্তিকে ব‍্যাহত করতে পারে।এইরকম আর কোন অনর্থেরই সামর্থ নাই।অপরাধীর প্রতি শ্রীনাম প্রসন্ন হন না বলে অপরাধের অপগম না হলে নাম কখনই প্রেমদান করে না।এইজন‍্যই শাস্ত্র ও মহাজনবাণীতে সর্বত্র নিরপরাধে নাম-কীর্তনের বিধান প্রদত্ত হয়েছে।* *নিরপরাধে নামকীর্তনে সঞ্চিত অপরাধগুলির অপগমে নাম প্রসন্ন হয়ে প্রেমদান করে থাকেন। চৈতন‍্যচরিতামৃতে বলা হয়েছে =*
*চৈতন‍্য নিত‍্যানন্দ এসব নাহিক বিচার।*
*নাম লইতে প্রেম দেন বহে অশ্রুধার।।*
*স্বতন্ত্র ঈশ্বর প্রভু অত‍্যন্ত উদার।*
*তাঁরে না ভজিলে কভু না হয় নিস্তার।।* *🌻শ্রীচৈতন‍্যে-নিত‍্যানন্দে এ সব বিচার নাই বলতে যে অপরাধের বিচার নাই, তা নই, কারণ মহাপ্রভু স্বয়ং গোপাল চাপালের বৈষ্ণব অপরাধের বিচার করেছেন।এমনকি নিজ মাতা শচীদেবীর অদ্বৈতাচার্য‍্যের প্রতি অপরাধের কথা বলেছেন।* *সুতরাং অপরাধের বিচার সবজায়গায়।তবে প্রকটলীলাকাল পযর্ন্তই স্থিতি।তাঁর অন্তর্ধানে এই শক্তিবিশেষও অন্তর্হিত হয়েছে।তবু প্রেমময় গৌরাঙ্গের নামের অন‍্যান‍্য ভগবন্নাম অপেক্ষা শীঘ্র অপরাধনাশের এবং প্রেমদানের শক্তি যে এখনো বিদ‍্যমান রয়েছে,তা সুনিশ্চিত।*
     ক্রমাগত
*এইজন‍্যই শ্রীকবিরাজ গোস্বামীপাদ উল্লিখিত পয়ারগুলির প্রথমেই লিখেছেন=*
*অদ‍্যাপিহ দেখ,চৈতন‍্য নাম যেই লয়।*
*কৃষ্ণপ্রেমে পুলকাশ্রু বিহ্বল সে হয়।।*
*"নিত‍্যানন্দ"বলিতে হয় কৃষ্ণপ্রেমোদয়।*
*আউলায় সর্বঅঙ্গ,অশ্রুগঙ্গা বয়।।*
*🌻এইজন‍্যই গৌড়ীয় বৈষ্ণব সম্প্রদায়ে "হরেকৃষ্ণেতি" দ্বাত্রিংশ বর্ণাত্মক মহামন্ত্র জপ ও কীর্তনের পূর্বে শ্রীগৌরনাম জপ ও কীর্তনের বিশেষ বিধান দেখা যায়।*
*🌺তারপর গুণের কথা বললেন, "গৌরাঙ্গ গুণেতে ঝুরে,নিত‍্যলীলা তারে স্ফুরে,সেজন ভকতি অধিকারী"। ভগবান আনন্দময় বা রসময়,তাঁর নাম,গুণ,লীলাতে সেই আনন্দরূপতা বা রসরূপতার অভিব‍্যক্তি হয়ে থাকে।শ্রীগৌরাঙ্গ প্রেমময় বিগ্রহ,তাই তাঁর নাম,গুণ, লীলায় প্রেমেরই পূর্ণ অভিব‍্যক্তি(প্রকাশ)।* *সেই গৌরগুণেতে যাঁরা ঝুরেন অর্থ‍্যাৎ গৌরগুণ শুনে নয়নজলে ভাসেন,তাঁদের চিত্তে এতাদৃশ(এইরকম)প্রেমের প্রকাশ হয়  যে, স্বপ্রকাশ গৌরাঙ্গের নিত‍্যলীলা এবং ব্রজে শ্রীশ্রীরাধামাধবের রহস‍‍্যময় লীলা তাঁদের নয়নের সামনে ফুটে উঠে। স্ফূর্তিটি যদিও সাক্ষাৎ নয়,তথাপি স্ফুরণকালে সাক্ষাৎকারের মতোই আস্বাদন লাভ হয়ে থাকে। সুতরাং তিনিই যথার্থ অতি রহস‍্যময় ব্রজভক্তির অধিকার প্রাপ্ত হয়েছেন।* *""সেজন ভকতি অধিকারী ""।* *🌻তারপর গৌরাঙ্গের পরিকরতত্ত্বের মহিমা নিরূপণ প্রসঙ্গে বললেন, "গৌরাঙ্গের সঙ্গিগণে,নিত‍্যসিদ্ধ করি মানে,সে যায় ব্রজেন্দ্রসুত পাশ"*। *ব্রজের ঠাকুর রাআর ভাবকান্তি অঙ্গীকার করে গৌর হলেন এবং ব্রজেরই সব নিত‍্যসিদ্ধ পরিকরগণকে নিজ পার্ষদরূপে নবদ্বীপে অবতীর্ণ করালেন।শ্রীমন্মহাপ্রভুর প্রিয় পার্ষদ শ্রীপাদ কবিকর্ণপুর তাঁর শ্রীগৌরগণোদ্দেশ দীপিকা গ্রন্থে ব্রজের কোন পার্ষদ নবদ্বীপে কোন রূপে অবতীর্ণ হয়েছেন, মহাপ্রভুর কৃপায় তা প্রকাশ করা হয়েছে।সুতরাং গৌরাঙ্গের লীলাসঙ্গীগণ কেহই তটস্থা জীবতত্ত্ব নহেন,তাঁরা সকলেই অনাদিসিদ্ধ নিত‍্যপরিকর।* *গৌরাঙ্গের মতো যাঁদের চিদানন্দময় বিগ্রহ, সুতরাং তাঁরই মতো গুণাবলী সম্পন্ন,নিজাপেক্ষা কোটিগুণ প্রেম বহন করে থাকেন। তারপর গৌরের ধামতত্ত্ব নিরূপণে বললেন, "শ্রীগৌড়মন্ডলভূমি, যেবা জানে চিন্তামণি,তার হয় ব্রজভূমে বাস"।* *ব্রজের অভিন্ন চিন্মমধাম শ্রীনবদ্বীপে মহাপ্রভুর আবির্ভাব  এবং নবদ্বীপধামকে মধ‍্যমণির মতো কেন্দ্র করে গৌড়মন্ডলের বিভিন্ন গ্রামে ও নগরে যে সব গৌরপার্ষদগণের আবির্ভাবের জায়গা বা লীলামূমি, তা জড়ীয় বিশ্বের মতো প্রকৃতির পরিমাণ মাত্র নয়।* *চিন্তামণি যে রকম সর্বাভীষ্ট পূরণে সমর্থ, তেমনি ঐ সব চিন্ময় স্থান আশ্রিতকে প্রেমদানে ধন‍্য করতে সমর্থ এবং তাঁরাই ব্রজরসের অধিকারী।* *শেষে বললেন, ""গৌরপ্রেমরসার্ণবে,সে তরঙ্গে যেবা ডুবে,সে রাধামাধব অন্তরঙ্গ।গৃহে বা বনেতে থাকে,হা গৌরাঙ্গ!বলে ডাকে,নরোত্তম মাগে তার সঙ্গ""।* *গৌরপ্রেম যেন এক অতিবিশাল রসের অর্ণব বা মহাসিন্ধু।গৌর পার্ষদভাবে ভাবনিধি গৌরাঙ্গের সঙ্কীর্তন রসরঙ্গে বিচিত্র ভাবমাধুরী আস্বাদনের সঙ্গে মঞ্জরী বা রাধাকিঙ্করী ভাবে অতি রহস‍্যময় ব্রজমাধুরীর অদ্ভুত আস্বাদনসিন্ধু তরঙ্গে তরঙ্গে সন্তরণ-- কখনো ডুবা কখনো ভাসা!গৌরপ্রেমরসার্ণবে ডুবার ফল হচ্ছে,রাধামাধবের অতি অন্তরঙ্গ কিঙ্করীরূপে রহস‍্যময় নিকুঞ্জসেবা প্রাপ্তি।* *গৌরভক্ত গৃহাশ্রমে থাকুন আর ত‍্যাগাশ্রমেই থাকুন যিনি সতত "হা গৌরাঙ্গ! বলে ডাকেন বা অনুরাগময় ভজনজীবন যাপন করেন, তাঁর দুর্লভ সঙ্গ অতি অভিলষনীয়।"নরোত্তম মাগে তাঁর সঙ্গ"।* 
*🙏বানান, ভুল ভ্রান্তি নিজগুণে ক্ষমা করবেন🙏*
 ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
👇👇👇এই লিখনী 📚 PDF 📚 ক্লিক করুন 👇👇👇
 ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧ 
 ✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️
নিবাস- বাঁশবাড়ী, কীর্তন মন্দিরের পাশে, পোঃ- বাঁশবাড়ী, থানা- ইংরেজ বাজার, জেলা- মালদহ, পশ্চিমবঙ্গ, পিন কোড- ৭৩২১০১।
 ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏
আমায় দেওয়া ওনার এই অমূল্য লিখনী সেবা, তা সকলের মধ্যে প্রকাশ করলাম। ওনার এই অমূল্য দান সমগ্র বৈষ্ণব সমাজ অনন্তকাল মনে রাখিবে।
🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
    *••••┉━❀꧁ 🙏 রাধে রাধে 🙏 ꧂❀━┅••••* 
                   শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য প্রভু নিত্যানন্দ
              হরে কৃষ্ণ হরে রাম শ্রীরাধেগোবিন্দ।।
  *••••┉━❀꧁ 🙏 জয় জগন্নাথ 🙏 ꧂❀━┅••••*
              হরে কৃষ্ণ হরে কৃষ্ণ কৃষ্ণ কৃষ্ণ হরে হরে
              হরে রাম হরে রাম রাম রাম হরে হরে॥
Çc *••••┉━❀সব 🙏 জয় রাধাকান্ত 🙏 ꧂ ❀━┅••••*
   💮❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀💮
   💮❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀💮
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧






ওরে ভাই! ভজ মোর গৌরাঙ্গ-চরণ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2022/09/blog-post_6.html

  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
        ꧁ ওরে ভাই! ভজ মোর গৌরাঙ্গ-চরণ 
       এই লিংকে 👇👇👇🙏👇👇👇 ক্লিক করুন 
            ꧁ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ ꧂
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
  ꧁ টিকা বা অন্যান্য ধর্মীয় লিখনী 🙏 সূচীপত্র 
       এই লিংকে 👇👇👇🙏👇👇👇 ক্লিক করুন 
          ꧁ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ ꧂
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
*ওরে ভাই! ভজ মোর গৌরাঙ্গ-চরণ।*
*না ভজিয়া মৈনু দুখে,ডুবি গৃহ-বিষকূপে,*
     *দগ্ধ কৈল এ পাঁচ পরাণ।।*
*তাপত্রয় বিষানলে,অহর্নিশি হিয়া জ্বলে,*
     *দেহ সদা হয় অচেতন।*
*রিপুবশ ইন্দ্রিয় হৈল,গোরাপদ পাসরিল,*
     *বিমুখ হৈল হেন ধন।।*
*হেন গৌর দয়াময়,ছাড়ি সব লাজ ভয়,*
     *কায়মনে লহরে শরণ।*
*পামর দুর্মতি ছিল,তারে গোরা উদ্ধারিল,*
     *তারা হৈল পতিতপাবন।।*
*গোরা দ্বিজ নটরাজে,বান্ধহ হৃদয়-মাঝে,*
     *কি করিবে সংসার শমন।*
*নরোত্তম দাসে কহে,গোরা সম কেহ নহে,*
    *না ভজিতে দেয় প্রেমধন।।*
*🌳ঠাকুরমহাশয় এই প্রার্থনায় গৌরাঙ্গ ভজনের উপদেশ দিচ্ছেন।মনকে বলছেন,ওরে ভাই!"ভজ মোর গৌরাঙ্গচরণ" সহোদর ভ্রাতা যেমন সঞ্চিত পৈতৃক-সম্মদের সমান অধিকার পেয়ে থাকে বা সুখ-দুঃখের তুল‍্য ভোগ পেয়ে থাকে,তদ্রুপ দেহ-দৈহিকাদিতে অভিনিবেশবশতঃ (মনোযোগবশতঃ) জীব যে ত্রিতাপ জ্বালাদি ভোগ করে থাকে,মনকেও তা ভোগ করতে হয়।* *এইজন‍্য বলা হয় জগতে মায়াবদ্ধ মানুষ আধি-ব‍্যাধি ভোগ করে থাকে,মনের পীড়ায় আধি(মানসিক পীড়া,মানসিক ক্লেশ) এবং দেহের পীড়া ব‍্যাধি।সেইরকম আবার জীব যখন ভজনরসের আস্বাদন প্রাপ্ত হয় বা পেয়ে যায়,মনও ভগবানের নাম,রূপ,গুণ,লীলার রসমাধুরী আস্বাদনে ধন‍্য হয়। তাই বুদ্ধিমান মানুষ মনকে বুঝিয়ে বিষয়াভিনিবেশ (বিষয় ভাবনা )হতে প্রতিনিবৃত্ত(প্রতি=পুনর্বার,নিবৃত্তি=ফিরে আসা।)করে ভগবানের ভজনে প্রবৃত্ত (রত) করবেন।*
*প্রেমের মূরতি ঠাকুরমহাশয়ের প্রেমময় মন সবসময় ভজনরসে নিমগ্ন (ডুবে)থাকলেও ভক্তির অতৃপ্তিভাববশত ভজনসাধনহীন সাধারণ মানুষের মতো মনের কাছে প্রার্থনা করে বিশ্বসাধককে এই মূল‍্যবান শিক্ষাটি দান করছেন।*
*যেহেতু মনই সাধকের ভগবদ্ভজনের পরম সহায়। অথবা মনকে শিক্ষাদানের ব‍্যপদেশে(অছিলায়) ঠাকুরমহাশয় শ্রীগৌরাঙ্গের যুগের অনন্তকোটি ব্রহ্মান্ডের বিশ্বসাধকগণকে "ভাই"বলে সম্বোধন করে তাদেরকে শ্রীগৌরভজনের প্রেণা দিচ্ছেন।*
*ব্রছের ঠাকুর স্বয়ং শ্রীকৃষ্ণ এই বিশেষ কলিতে শ্রীরাধার ভাব কান্তি নিয়ে গৌরাঙ্গ হয়েছেন।* *তাই শ্রীমৎ রূপগোস্বামীপাদ লিখেছেন=*
*"ন চৈতন‍্যাৎ কৃষ্ণাজ্জগতি পরতত্ত্বং পরমিহ" ""শ্রীকৃষ্ণচৈতন‍্য অপেক্ষা বিশ্বে আর কোন শ্রেষ্ঠ পরতত্ত্ব নাই। পরতত্ত্বের উপাসনা নিখিল শ্রুতিশাস্ত্র প্রসিদ্ধ। "চরণ" শব্দটি ভক্তিভরেই যুক্ত হয়েছে, সুতরাং "গৌরাঙ্গচরণ" বলতে শ্রীগৌরাঙ্গের ভজনই উপদেশ দেওয়া হয়েছে।* *এখানে "ভজন" বলতে শ্রীমদ্ভাগবত-প্রতিপাদিত শ্রবণ-কীর্তনাদি নববিধা ভক্তির কথাই বলা হয়েছে।* *এই গৌরের যুগের মানুষ শ্রীগৌরাঙ্গকে উপাস‍্য বা ভজনীয় বিষয় তত্ত্বরূপে গ্রহণ করে শ্রবণ-কীর্তনাদি নববিধা ভক্তির দ্বারা তাঁর ভজন করবেন।*
*এই বিশেষ কলিতে প্রেমসম্পদ্ লাভের জন্য প্রেমাবতার শ্রীগৌরাঙ্গের উপাসনাই শাস্ত্রসম্মত।* *প্রথিতযশা *পন্ডিত শিরোমণি বাসুদেব সার্বভৌম প্রভৃতিও শ্রীগৌরাঙ্গের মহৈশ্বর্য‍্য প্রত‍্যক্ষ করে তাঁকে কলিযুগের উপাস‍্যরূপে গ্রহণ করেছেন।পরম বিদ্বান্ শ্রীগৌরাঙ্গ-পার্ষদবর শ্রীপ্রবোধানন্দ সরস্বতীপাদ লিখেছেন, (শ্রীচৈতন‍্যচন্দ্রামৃতম্ =২০)*
*শ্রবণমননসংকীর্ত‍্যানাদিভক্ত‍্যা মুরারের্যদি পরমপুমর্থং সাধয়েৎ কোহপি ভদ্রম্।*
*মম তু পরমপারপ্রেমপীযূষসিন্ধোঃ কিমপি রসরহস‍্যং গৌরধাম্নো নমস‍্যম্।।*
*🌻""অর্থ‍্যাৎ যদি কোন ভাগ‍্যবান জন মুরারীর শ্রবণ,মনন,সংকীর্তনাদি ভক্তির দ্বারা পরমপুরুষার্থ লাভে সমর্থ হন খুবই ভাল, কিন্তু অপার প্রেমমৃতসিন্ধু শ্রীগৌরাঙ্গের রসরহস‍্যই আমার ভজন।""* *প্রশ্ন হতে পারে,শ্রীরাধাকৃষ্ণের মিলিত বিগ্রহই শ্রীগৌরসুন্দর এবং তিনি বিশ্বমানবকে শ্রীরাধাকৃষ্ণের মধুররসের উপাসনাই দান করেছেন সুতরাং শ্রীরাধাকৃষ্ণের ভজন করলেই তো গৌরাঙ্গের ভজন হল আবার পৃথকভাবে বিষোতত্ত্বরূপে শ্রীগৌরাঙ্গের উপাসনার প্রয়োজন কি? এই প্রশ্নের উত্তর শ্রীপাদ প্রবোধানন্দ সরস্বতীই দিয়েছেন (ঐ=২৭)*
*ভ্রাতঃ কীর্তয় নাম গোকুলপতেরুদ্দাম-নামাবলীং যদ্বা ভাবয় তস‍্য দিব‍্যমধুরং রূপং জগন্মঙ্গলম্।*
*হন্ত প্রেমমহারসোজ্জ্বলপদে নাশাপি তে সম্ভবেৎ শ্রীচৈতন‍্যমহাপ্রভোর্যদি কৃপাদৃষ্টিঃ পতেন্ন ত্বয়ি।।*
*🌻""হে ভ্রাতঃ!তুমি শ্রীকৃষ্ণের সর্বসমর্থ নামাবলী উচ্চৈঃস্বরে কীর্তনই কর,অথবা তাঁর জগন্মঙ্গল দিব‍্যমধুর শ্রীমূর্তিই ধ‍্যান কর, যদি শ্রীচৈতন‍্যের করুণাদৃষ্টি তোমাতে না পরে,তবে মহাপ্রেমময় উজ্জ্বলরস আস্বাদনের আশা কখনই পূর্ণ হবে না।* *শ্রীগৌরাঙ্গের কৃপাতেই সাধক মঞ্জরী স্বরূপে ব্রজে শ্রীশ্রীরাধামাধবের রহস‍্যময় প্রেমসেবা লাভে ধন‍্য হবেন, এটিই এই সন্দর্ভের মর্মার্থ।* *🌻তারপর বললেন,"না ভজিয়া মৈনু দুখে, ডুবি গৃহ বিষকূপে,দগ্ধ কৈল এ পাঁচ পরাণ", ঠাকুরমহাশয় শ্রীগৌরাঙ্গভজন বিমুখ জনের দুরবস্থা বা দুর্গতির কথা বলছেন।শ্রীগৌরাঙ্গ না ভজে গৃহরূপ বিষকূপে ডুবে দুঃখে মরলাম। বিষকূপের দুইরকম ব‍্যাখ‍্যা হতে পারে, যে কূপ জ্বালাময় বিষজলে পরিপূর্ণ তা বিষকূপ,আবার অরণ‍্যের মধ্যে থাকা কূপ যাতে সাপ বৃশ্চিকাদি বিষধর প্রাণীসব বাস করে, তাতে পড়ে যাওয়া মানুষের,তাদের দংশনে দেহ জ্বালাময় হয়ে যায়,তাহাও বিষকূপ।গৃহই বিষকূপ, এই গৃহেরও দুইপ্রকার ব‍্যাখ‍্যা হতে পারে, প্রথম গৃহ-বিষকূপ বলতে গৃহাশ্রম যেন বিষকূপের মতো জ্বালাময়।গৃহী মানুষ দেহ-দৈহিকাদিতে মনোনিবেশ বশত আমার স্ত্রী,পুত্র,অর্থ, সম্পদাদিতে আসক্ত হয়ে সবসময় এরকম অস্থির মনে কালাতিপাত করে যে,ভক্তি পথ আশ্রয়ের বা ভজনসাধনের সামর্থ রহিত হয়ে পশুর মত আহার নিদ্রা নিয়েই জীবন যাপন করে থাকে।*
*এই অবস্থাটি বিষকূপে থাকার মতো জীবের জ্বালাময় অবস্থা।সাধারণ মানুষের সেই জ্বালার অনুভব না হলেও সাধকের তা অনুভব হয়।যেমন সাপের মধ্যে বিষ থাকলেও সাপের নিজের সেই বিষজ্বালার অনুভব হয় না,বরং তা থাকলেই সে নির্বীষ হয়ে যায়, কিন্তু সে যখন অন‍্যপ্রাণীকে দংশন করে,তখন সেই প্রাণীর সেই জ্বালা অনুভব হয়। তেমনি সংসারী দশায় ঘর,দ্বার,স্ত্রী,পুত্র,অর্থ সম্পদ আদি সব সুখের বলে মনে হয়,এই সুখ না থাকলেই সংসারী জীব দুঃখ পায়, কিন্তু যখন সে ভজনপথে প্রবেশ করে,তখন সেই জড়ীয় বিষয়রূপ সাপ যেন তাকে দংশন করতে থাকে,তখনি সে-ই বলতে পারে ""না ভজিয়া মৈনু দুখে,ডুবি গৃহ-বিষকূপে""।*
       *ক্রমশ*

 *🙏গৌরভজন বিমুখ জনের আবার অতি নিদারুণ দুঃখের কথা বলছেন, "তাপত্রয় বিষানলে,অহনিশি হিয়া জ্বলে,দেহ সদা হয় অচেতন"। আধ‍্যাত্মিক,আধিভৌতিক ও আধিদৈবিক এই তাপত্রয় বা ত্রিতাপ জ্বালা, এদেরও বিষানলের মতো তীব্রজ্বালা। অতি উগ্র বিষধর সাপ দংশন করলে যেমন দেহ আগুনে পুড়ে গেল বলে মনে হয়,উহাই বিষানলের জ্বালা।দেহে রোগ,শোকাদি, আধি, ব‍্যাধি প্রভৃতি আধ‍্যাত্মিক তাপ ; চোর,দস‍্যু,শত্রু প্রভৃতি কর্তৃক তাপ আধিভৌতিক এবং অতিবৃষ্টি,অনাবৃষ্টি জনিত দুর্ভিক্ষ, বজ্রপাত,ভূমিকম্পন ইত‍্যাদির তাপই আধিদৈবিক তাপ।*
*এর জ্বালাও অতি ভয়ংকর,ভজন ছাড়া এই তাপত্রয়ের জ্বালা হতে মুক্তিলাভের কোন উপায় নাই। কথা আসতে পারে,যাঁরা ভজন করেন,তাঁদেরকেও তো এই ত্রিতাপজ্বালা ভোগ করতে দেখা যায়।তাঁদের দৈহেও রোগ,ব‍্যাধি দেখা যায়,তাঁদের প্রতিও চোর,দস‍্যুর উৎপাত দেখা যায় এবং দুর্ভিক্ষ,ভূমিকম্প আদির তাপ তাঁদেরকেও ভোগ করতে হয়। সুতরাং ভজনের দ্বারা যে ত্রিতাপজ্বালার উপশম (শান্তি) হয়ে থাকে,এর প্রমাণ কি?* *ইহার উত্তরে বলা হয়েছে,ত্রিতাপজ্বালার নাশ ভজনের ফল নয়,ভজনের মুখ‍্যফল ভগবানের নাম,গুণ,লীলারসের আস্বাদন,প্রেমপ্রাপ্তি এবং ভগবৎসেবাপ্রাপ্তি।ভগবদ্ভক্তজনের সঙ্গফলেই ত্রিতাপজ্বালার শান্তি হয়ে থাকে!যদিও ভগবান বা ভক্তিমহারাণী ভক্তির রহস‍্যত্ব রক্ষণের জন্য ভক্তের দেহেও ঐ ত্রিতাপাদি দেখিয়ে থাকেন কিন্তু বহির্মুখের মতো উহার কিছুমাত্র জ্বালা তাঁদের অন্তরে অনুভূত হয় না।তাঁরা ভজনরসের আস্বাদনে এতাদৃশ(এইরকম)তন্ময়(বিভোর) হয়ে থাকেন যে,ভজননিষ্ঠ ভক্তের মনের উপর ত্রিতাপাদির কোন প্রভাবই পড়ে না।* *কিন্তু তা তাঁদের দৈন‍্য-আর্তি বাড়িয়ে খুব তাড়াতাড়িই প্রেমপ্রাপ্তি ঘটিয়ে ভক্তের পরম হিতসাধনই করে থাকে।* *আবার বললেন, "রিপুবশ ইন্দ্রিয় হৈল,গোরাপদ পাসরিল,বিমুখ হইল হেন ধন"।*
*ইন্দ্রিয়ের দ্বারা ভগবানের সেবার নামই "ভক্তি"।* *""হৃষীকেণ হৃষীকেশসেবনং ভক্তিরুচ‍্যতে"", (নারদপঞ্চরাত্র),চক্ষোর দ্বারা শ্রীভগবদ্বিগ্রহ ও ভক্তের বিগ্রহ দর্শন,কর্ণের দ্বারা হরিনাম ও হরিকথা শ্রবণ,জিহ্বার দ্বারা শ্রীহরির গুণলীলা কীর্তন,হাতের দ্বারা শ্রীহরির বিগ্রহার্চন,পদের দ্বারা হরিনাম-হরিকথা স্থানে,শ্রীধামে গমন, মনের দ্বারা ভগবানের স্মরণাদি সাক্ষাদ্ ভক্তি।*
       ক্রমাগত

 *🌻আবার "গ্রহ" ধাতু হতে "গৃহ" শব্দ নিষ্পন্ন,গ্রহণ ও আশ্রয়ার্থে "গ্রহ" ধাতুর প্রয়োগ হয়।যা আশ্রয় দেয়,তাহাই গৃহ। এই দেহরূপ গৃহটিই মায়াবদ্ধ জীবের প্রথম আশ্রয়।চিদানন্দসত্ত্বা জীব আনন্দ-স্বরূপ হয়েও কৃষ্ণবহির্মুখদশায় বহিরঙ্গা মায়ার অবদান এই দেহরূপ গৃহ প্রাপ্ত হয়েছে এবং দেহরূপ গৃহে মনোনিবেশ বশত অনাদিকাল হতে স্বীয় (নিজ) স্বরূপ বিস্মৃত হয়ে দেহকেই আমি জ্ঞান করে চৌরাশি লক্ষ যোনিতে অবর্ণনীয় দুঃখ ও জ্বালা ভোগ করে বেড়াচ্ছে। এ যে কিরকম বিষকূপের জ্বালা,তা সহজেই অনুমান করা যেতে পারে। যেমন খুব গভীর কূপে পড়ে গেলে সেই কূপ হতে উদ্ধারের জন্য নিজের কোন ক্ষমতা থাকে না,তেমনি জীব এই দেহরূপ গৃহকূপ হতে নিজ চেষ্টায় কিছুতেই উদ্ধার হতে পারছে না।এইরকম কূপে পড়ে যাওয়া ব‍্যক্তিকে যদি উপর হতে কোন কৃপালু ব‍্যক্তি এইটি বড় দড়ি কূপের মধ্যে ফেলে তাকে উদ্ধার করে, তেমনি এই দেহরূপ গৃহে পড়ে থাকা জীবকে সাধু, শাস্ত্র ও গুরু সাধনরূপ দড়ি দান করেছেন,তারা অতি দৃঢ়রূপে এই সাধন বা ভজনদড়িকে আশ্রয় করে থাকলে জীব এই বিষকূপ হতে উদ্ধার পেয়ে স্বরূপের জাগরণে আনন্দময় ভগবানের সেবা পেয়ে চিরতরে সুখী হতে পারেন।* *"কৃষ্ণনিত‍্যদাস জীব তাহা ভুলি গেল।সেই দোষে মায়া তার গলায় বান্ধিল।।তাতে কৃষ্ণ ভজে,করে গুরুর সেবন।মায়াজাল ছুটে পায় কৃষ্ণের চরণ"।।* *তাই দাসঠাকুর বলেছেন,"না ভজিয়া মৈনু দুখে,ডুবি গৃহ বিষকূপে"।*
*🌻আবার বললেন,"দগ্ধ কৈল এ পাঁচ পরাণ", প্রাণ,অপান,উদান,ব‍্যান ও সমান।এই পঞ্চ-প্রাণ দেহের মধ্যে অবস্থান করে।নিঃশ্বাস-প্রশ্বাসের বায়ুকে বলে "প্রাণ", নিম্নবায়ুই "অপান" বায়ু, উর্ধবায়ু "উদান", সারাদেহের বায়ু "ব‍্যান" নাভিমূলের বায়ু "সমান"।* *এই সমান বা নাভিমূলের বায়ুই প্রাণবায়ুকে আকর্ষণ বিকর্ষণ করে থাকে।এই পঞ্চপ্রাণই জীবধারণের উপায়।আয়ুর্বেদ শাস্ত্রে লেখা আছে,"প্রাণে" রক্তসঞ্চালন,"অপান"আহার্য‍্য চালন, "উদানে"বমন,উদ্গার,শ্বাস কাশাদি কার্য‍্য, "সমানে"পাচন ও "ব‍্যানে" সর্বাঙ্গে সামঞ্জস‍্য রক্ষিত হয়।* *এই বায়ুগুলি কুপিত(ক্রুদ্ধ)হলেই দেহে নানা রোগের আবির্ভাব হয় এবং দেহটি দুঃখের ঘর হয়ে থাকে।ঠাকুরমহাশয় বলছেন, গৌরাঙ্গ ভজন বিহনে আমার এই পঞ্চপ্রাণ পুড়ে গেল বা জ্বলে গেল।ভজনহীন দেহে জীব যে কত দুঃখে বসবাস করছে,এই মহদ অনুভবে তা কিঞ্চিত আভাস পাওয়া যায়।* *মাদৃশ(আমার মতো)ভজনবিমুখ জীবের এই জ্বালার কোন অনুভব নাই ; ইহাই মাদৃশ জীবের দূরদৃষ্টির নির্মম পরিহাস।*
        *ক্রমাগত*

*অন্তরে যে কাম ক্রোধাদি ষড়রিপু বাস করছে এই সব ইন্দ্রিয়কুল সবসময় তাদের অধীন রয়েছে,অর্থ‍্যাৎ প্রবল শক্তিশালী ঐ ষড়রিপু ভজন উপযোগী ইন্দ্রিয়বর্গকে বিষয়-বাসনায় আকর্ষণ করে ওদের ভজন বিমুখ করে তুলেছে।* * *সুতরাং ঠাকুরমহাশয় বলেছেন,ইন্দ্রিয়গণ সবসময় রিপুবশ হওয়ার ফলে শ্রীগৌরচরণ বা শ্রীগৌরাঙ্গকে বিস্মৃতি হল,গৌরাঙ্গের মতো পরম দুর্লভ ধন পেয়েও বিমুখহল।*


*🌻শ্রীপ্রবোধানন্দ সরস্বতীপাদ গৌরাঙ্গরূপ ধনের মহত্ত্ব নিরূপণ লিখেছেন।*
*সৌন্দর্য‍্যে কামকোটিঃ সকলজনসমাহ্লাদনে চন্দ্রকোটি-র্ব‍াৎসল‍্যে মাতৃকোটিস্ত্রিদশবিটপিনাং কোটিরৌদার্য‍্যসারে।*
*গাম্ভীর্য‍্যেহম্ভোধিকোটির্মধুরিমণি সুধাক্ষীরমাধ্বীককোটির্গৌরো দেবঃ স জীয়াৎ প্রণয়রসপদে দর্শিতাশ্চর্য‍্যকোটিঃ।।*
*🌻যিনি সৌন্দর্যে কোটি কোটি কন্দর্পের মতো সুন্দর,বিশ্বমানবের ত্রিতাপজ্বালার শান্তিবিধান পূর্বক তাদের পরমানন্দদানে যিনি কোটি চন্দ্রের মতো সুশীতল,যিনি বাৎসল‍্যে কোটি কোটি মাতৃতুল‍্য সুবৎসল,যিনি কোটি কল্পতরু অপেক্ষাও পরম উদার,যিনি কোটিসমুদ্রের মতো গম্ভীর,মাধুর্য‍্যে যিনি কোটি কোটি সুধা, ক্ষীর ও মধু অপেক্ষাও মধুর, যিনি প্রেমরস বিষয়ে কোটি কোটি আশ্চর্য‍্য অনুভাব(বোধ বা জ্ঞান) প্রদর্শন করেছেন,সেই লীলাময় শ্রীগৌরসুন্দর সর্বোৎকর্ষে বিরাজ করুন।* *তাই ঠাকুরমহাশয় বললেন, "হেন গৌর দয়াময়,ছাড়ি সব লাজ ভয়,কায়মনে লহ রে শরণ"।"পামর দুর্মতি ছিল,তারে গোরা উদ্ধারিল,তারা হৈল পতিতপাবন"।।* *দয়া বা কৃপা ভগবৎস্বরূপেরই অনন‍্যসম্পদ্।বিশ্বে যে পাঁচটি তত্ত্ব দেখা যায় =ঈশ্বর,জীব,কাল,কর্ম ও মায়া।এর মধ্যে ঈশ্বরেই করুণা বিরাজ করে,অপর চারটিতে করুণা নাই।করুণার প্রকৃত কাজই হচ্ছে,কৃষ্ণবিমুখ,স্বরূপভ্রান্ত(নিজের স্ব-রূপ কি না জানা বা ভুলে যাওয়া ) ও মায়াবদ্ধ জীবকে প্রেমদানে ধন‍্য করা।* *কাল,কর্ম,মায়া ও জীবের প্রেমদানের সামর্থ নাই।ভক্তজীবের মধ্যে উহা আছে কিন্তু প্রেমদানের উপযোগী ভগবানের করুণাই ভক্তের মধ্য হতে ক্রিয়াশীল হয়ে থাকেন বলে বুঝতে হবে।* *শ্রীগৌরহরি "দয়াময়" "দয়া" শব্দের উপর প্রাচুর্য‍্যার্থে "ময়ট" ময়ট মানে তৃণকুটীর, প্রত‍্যয় যুক্ত হয়েছে।শ্রীগৌরহরিতে পতিতপাবনী প্রচুর দয়া বিরাজ করে।অন‍্যান‍্য সমস্ত ভগবৎস্বরূপ অপেক্ষা শ্রীকৃষ্ণে অধিক(অত‍্যন্ত) দয়া বিরাজ করে বলে তিনি "পরম করুণ"।* *আবার তিনিই অপার করুণাসাগররূপিনী শ্রীরাধারাণীর ভাবকান্তি গ্রহণ করে গৌর হলেন। করুণাও একপ্রকার ভাব; সুতরাং শ্রীকৃষ্ণের করুণাসিন্ধুর সঙ্গে শ্রীরাধার করুণাসিন্ধু সম্মিলন (দুই এক হওয়াতে)হওয়ায় করুণাবারিধি বিশ্বব্রহ্মান্ডকে আপ্লাবিত করে তুলল।পামর,দুর্মতি প্রভৃতি সকলেই গৌরের প্রেমের বন‍্যায় ডুবে গেল। তারা নিজেই প্রেমলাভ করে ধন‍্য হল তা নয়,কিন্তু তারা আবার পতিতপাবন হয়ে বিশ্বকে উদ্ধার করবার সামর্থ ধারণ করল।* *প্রভুর দাক্ষিণাত‍্যে প্রেমপ্রচার বিষয়ে শ্রীকবিরাজ গোস্বামীপাদ চৈঃচঃ=*
*প্রেমাবেশে হাসি কান্দি নৃত‍্য গীত কৈলা।*
*দেখি সর্বলোকের চিত্তে চমৎকার হৈলা।।*
*আশ্চর্য‍্য শুনিসব লোক আইলা দেখিবারে।*
*প্রভুর রূপ-প্রেম দেখি হৈল চমৎকারে।।*
*দর্শনে বৈষ্ণব হৈলা-- বলে 'কৃষ্ণহরি'।*
*প্রেমাবেশে নাচে লোক উর্ধবাহু করি।।*
*কৃষ্ণ-নাম লোক মুখে শুনি অবিরাম।*
*সেই লোক বৈষ্ণব কৈল অন‍্য সব গ্রাম।।*
*এইমত পরম্পরায় দেশ বৈষ্ণব হৈল।*
*কৃষ্ণনামামৃত বন‍্যায় দেশ ভাসাইল।।*
*🌻অতএব লজ্জা ভয় সব ত‍্যাগ করে কায়মনে গৌরের চরণে শরণ গ্রহণ করতে হবে।কেহ কেহ মালা,তিলকাদি বৈষ্ণবচিহ্ন ধারণের জন্য লজ্জিত হয়ে ইচ্ছাসত্ত্বেও শ্রীগৌরচরণে আশ্রয় গ্রহণ করতে পারেন না।তিনি যাঁদের উপহাসের জন্য লজ্জিত হয়ে আধ‍্যাত্মিক সাধনা হতে বঞ্চিত হয়ে নিদারুণ ক্ষতিগ্রস্ত হন,সেই বন্ধু বান্ধবেরা কি তাঁর এই অপরিমিত ক্ষতির কিছু অংশ পূরণ করবেন?* *"নায়মাত্মা বলহীনেন লভ‍্যঃ", দুর্বলচেতা মানুষ কখনই ভগবানকে প্রাপ্ত হন না।*
*কেহ কেহ ভজন পথাশ্রয় করলে দেহ-দৈহিকাদির বিষয়ে ক্ষতি হবে ভেবে সেই ভয়ে গৌরচরণ আশ্রয় করতে পারেন না।* *কে বলতে যে কাল যে তার মৃত‍্যু সঙ্গে সঙ্গে দেহ- দৈহিকাদি বস্তুর সঙ্গে সমস্ত সম্পর্ক চিরতরে মুছে দিবে,সে স্মৃতি,সে ভয় কি তার নাই?যার জন্য মরণবারণ গৌরচরণাশ্রয়ে দেহ-দৈহিকাদির কিঞ্চিৎ ক্ষতির সম্ভাবনা তিনি ভজনপথাশ্রয় হতে বঞ্চিত হয়ে থাকেন।*
      ক্রমাগত

 *সুতরাং বুদ্ধিমান মানব কায়মনে শ্রীগৌরচরণে শরণ গ্রহণ করে ধন‍্য হবেন।"তবাস্মীতি বদন্ বাচা মনসা বিদন্"।"তৎস্থানমাশ্রিতস্তন্বা মোদতে শরণাগতঃ"।। অর্থ‍্যাৎ "আমি তোমার হলাম" এইরকম মন ও মুখ এককরে মুখে বলে মনেও সেইরকম জেনে,দেহের দ্বারা তাঁর লীলাস্থান আশ্রয় করে শরণাগত আনন্দলাভ করে থাকেন"।* *মানস শরণাগতিই প্রকৃত শরণাগতি।শ্রীগৌরচরণে শরণাগতির ফলও অতি অপূর্ব (শ্রীচৈতন‍্যচন্দ্রামৃতম্)=*
*সংসারষিন্ধুতরণে হৃদয়ং যদি স‍্যাৎ সঙ্কীর্তনামৃতরসে রমতে মনশ্চেৎ।*
*প্রেমাম্বুধৌ বিহরণে যদি চিত্তবৃত্তিশ্চৈতন‍্যচন্দ্রচরণে শরণং প্রযাতু।।*
*🌻হে ভ্রাতঃ!যদি তোমার দুষ্পার সংসারসিন্ধু উত্তরণের বাসনা থাকে,সংকীর্তন অমৃতরসে যদি তোমার মন মগ্ন হতে চায়,প্রেমামৃত সাগরে অবগাহন(ডুবতে বা স্নান করতে) করবার জন্য যদি তোমার চিত্ত উৎকণ্ঠিত হয় ; তবে শ্রীচৈতন‍্যচন্দ্রচরণে শরণ গ্রহণ কর।* *🌺অবশেষে বললেন,"গোরা দ্বিজ নটরাজে,বান্ধহ হৃদয় মাঝে,কি করিবে সংসার শমন"। নরোত্তম দাসে কহে,গোরাসম কেহ নহে,না ভজিতে দেয় প্রেমধন।।*
*🍀ব্রজে সর্বলীলামুকুটমণি রাসলীলায় যিনি সুমোহন নৃত‍্যভঙ্গিতে শতকোটি ব্রজবালাকে মুগ্ধ করেছিলেন,সেই ব্রজনটরাজ নটিনীর শিরোমণি শ্রীরাধার ভাবকান্তি নিয়ে গৌর হয়েছেন।এখন আর গোপ নহে,এখন হয়েছেন দ্বিজ,তাই "গোরা দ্বিজ নটরাজ"।* *রাসবিলাসের পরিণতিই শ্রীগৌরসুন্দর রাইকানু একাকৃতি।ব্রজে রসের প্রাধান‍্যে ভাবের আস্বাদন,আর নবদ্বীপে ভাবের প্রাধান‍্যে রসের আস্বাদন,সুমোহন নৃত‍্য সেই আস্বাদনেরই অনুভাব।সংকীর্তন আনন্দে নৃত‍্যচ্ছন্দে সুদীপ্ত সাত্ত্বিক ব‍্যাপ্ত কলেবরে ব্রজরসের আস্বাদন ধারা।এখন আর সেই ত্রিভঙ্গ আকৃতি নাই,সরলা ব্রজবালার ভাব অঙ্গীকার করে এখন হয়েছেন, "ন‍্যগ্রোধপরিমন্ডলতনু চৈতন‍্য গুণধাম", নৃত‍্যরসের আস্বাদনে ভাবাবেশে ধারায়-ধরা ভেসে যাচ্ছে। তাই অন্তঃকৃষ্ণ বহির্গৌর,"গোরা দ্বিজ নটরাজ"।*
*শ্রীপ্রবোধানন্দ সরস্বতীপাদ লিখেছেন।*
*পূর্ণপ্রেমরসামৃতাব্ধিলহরী লোলাঙ্গ গৌরচ্ছটা কোট‍্যাচ্ছাদিত বিশ্বমীশ্বরবিধি ব‍্যাসাদিভিঃ সংস্তুতম্।*
*দুর্লক্ষ‍্যাং শ্রুতিকোটিভিঃ প্রকটয়ন্মূর্তিং জগন্মোহিনীমাশ্চর্য‍্যং লবণোদরোধসি পরংব্রহ্ম স্বয়ং নৃত‍্যতি।।*
*🌻ব্রজের পূর্ণতম প্রেমরসসাগরের তরঙ্গভঙ্গে যিনি অতি চপল,যাঁর শ্রীঅঙ্গ হতে গৌরকান্তিধারা চুঁয়ে পড়ে বিশ্বকে আচ্ছাদিত করেছে, বিধি,ব‍্যাস,শুকাদি যাঁর স্তব করছেন,সেই শ্রুতিগণের দুর্লক্ষ‍্য আশ্চর্য‍্য জগন্মোহিনীমূর্তি প্রকটন করে লবণসিন্ধুর তীরে স্বয়ং পরব্রহ্ম শ্রীগৌরাঙ্গ সুমোহন নৃত‍্য করছেন।*
*🌻হে মন!এই নৃত‍্যচপল নটরাজকে তুমি হৃদয়মাঝে বেঁধে রাখ।বন্ধন করলে তো তাঁর কষ্ট হবে এবং এইরকম মোহন নাচও বন্ধ হয়ে যাবে?না,বিশ্বের কোন দড়িতেই এই নটরাজ বাঁধা পড়েন না,একমাত্র প্রেমরজ্জুতেই ইনি আবদ্ধ হন।এই বন্ধন অতি সুখের,তাতে নাচও বন্ধ হবার সম্ভাবনা নাই।* *তোমার হৃদয় মন্দাকিনীর তটে তিনি সবসময় নৃত‍্য করতে থাকুন।তখনএই সংসার এবং শমন বা কৃতান্ত তোমার কি করবে?* *মহাজন গেয়েছেন= "দেখিয়া শুনিয়া,তরাস পাইয়া,(শমন) কপাট হানিল দ্বারে"।* *ঠাকুরমহাশয় বলছেন,গৌরাঙ্গের মতো প্রেম দাতা আর কেউ নাই,যিনি বিনা ভজনেই প্রেমদান করে থাকেন* *শ্রীপ্রবোধানন্দ লিখেছেন==*
*পাত্রাপাত্রবিচারণং ন কুরুতে ন স্বং পরং বীক্ষ‍্যতে,দেয়াদেয়-বিমর্শকো ন হি ন বা কালপ্রতীক্ষঃ প্রভুঃ।*
*সদ‍্যো যঃ শ্রবণেক্ষণপ্রণমনধ‍্যানাদিনা দুর্লভং দত্তে ভক্তিরসং স এব ভগবান্ গৌরঃ পরং মে গতিঃ।।*
*🌻প্রেমদান বিষয়ে পরম সমর্থ পাত্রাপাত্রের বিচার করেন না,আপন পর কিছুই দেখেন না,দেয়াদেয় বিচার করেন না,কালেরও প্রতীক্ষা করেন না,শ্রবণ,বিগ্রহ দর্শন,প্রণাম,ধ‍্যান ইত‍্যাদি ভজনেও যাহা দুর্লভ,শ্রীগৌরাঙ্গদেব সেই ভক্তিরস বিনা ভজনেই আপামরে দান করেন।সেই ভগবান ল্রীগৌরসুন্দরই আমার একমাত্র গতি।"মাগে বা না মাগে কেহ,পাত্র বা অপাত্র।ইহার বিচার নাহি,জানে দিব মাত্র"।।(চৈতন‍্যচরিতামৃত।*
*🙏বানান,ভুল ভ্রান্তি ক্ষমা করবেন🙏*
 ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
👇👇👇এই লিখনী 📚 PDF 📚 ক্লিক করুন 👇👇👇
 ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧ 
 ✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️
নিবাস- বাঁশবাড়ী, কীর্তন মন্দিরের পাশে, পোঃ- বাঁশবাড়ী, থানা- ইংরেজ বাজার, জেলা- মালদহ, পশ্চিমবঙ্গ, পিন কোড- ৭৩২১০১।
 ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏
আমায় দেওয়া ওনার এই অমূল্য লিখনী সেবা, তা সকলের মধ্যে প্রকাশ করলাম। ওনার এই অমূল্য দান সমগ্র বৈষ্ণব সমাজ অনন্তকাল মনে রাখিবে।
🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
    *••••┉━❀꧁ 🙏 রাধে রাধে 🙏 ꧂❀━┅••••* 
                   শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য প্রভু নিত্যানন্দ
              হরে কৃষ্ণ হরে রাম শ্রীরাধেগোবিন্দ।।
  *••••┉━❀꧁ 🙏 জয় জগন্নাথ 🙏 ꧂❀━┅••••*
              হরে কৃষ্ণ হরে কৃষ্ণ কৃষ্ণ কৃষ্ণ হরে হরে
              হরে রাম হরে রাম রাম রাম হরে হরে॥
  *••••┉━❀꧁ 🙏 জয় রাধাকান্ত 🙏 ꧂ ❀━┅••••*
   💮❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀💮
   💮❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀💮
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧






ওরে ভাই! ভজ মোর গৌরাঙ্গ-চরণ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ -> http://mrinmoynandy.blogspot.com/2022/09/blog-post_6.html

  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
        ꧁ ওরে ভাই! ভজ মোর গৌরাঙ্গ-চরণ 
       এই লিংকে 👇👇👇🙏👇👇👇 ক্লিক করুন 
            ꧁ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ ꧂
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
  ꧁ টিকা বা অন্যান্য ধর্মীয় লিখনী 🙏 সূচীপত্র 
       এই লিংকে 👇👇👇🙏👇👇👇 ক্লিক করুন 
          ꧁ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ ꧂
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
*ওরে ভাই! ভজ মোর গৌরাঙ্গ-চরণ।*
*না ভজিয়া মৈনু দুখে,ডুবি গৃহ-বিষকূপে,*
     *দগ্ধ কৈল এ পাঁচ পরাণ।।*
*তাপত্রয় বিষানলে,অহর্নিশি হিয়া জ্বলে,*
     *দেহ সদা হয় অচেতন।*
*রিপুবশ ইন্দ্রিয় হৈল,গোরাপদ পাসরিল,*
     *বিমুখ হৈল হেন ধন।।*
*হেন গৌর দয়াময়,ছাড়ি সব লাজ ভয়,*
     *কায়মনে লহরে শরণ।*
*পামর দুর্মতি ছিল,তারে গোরা উদ্ধারিল,*
     *তারা হৈল পতিতপাবন।।*
*গোরা দ্বিজ নটরাজে,বান্ধহ হৃদয়-মাঝে,*
     *কি করিবে সংসার শমন।*
*নরোত্তম দাসে কহে,গোরা সম কেহ নহে,*
    *না ভজিতে দেয় প্রেমধন।।*
*🌳ঠাকুরমহাশয় এই প্রার্থনায় গৌরাঙ্গ ভজনের উপদেশ দিচ্ছেন।মনকে বলছেন,ওরে ভাই!"ভজ মোর গৌরাঙ্গচরণ" সহোদর ভ্রাতা যেমন সঞ্চিত পৈতৃক-সম্মদের সমান অধিকার পেয়ে থাকে বা সুখ-দুঃখের তুল‍্য ভোগ পেয়ে থাকে,তদ্রুপ দেহ-দৈহিকাদিতে অভিনিবেশবশতঃ (মনোযোগবশতঃ) জীব যে ত্রিতাপ জ্বালাদি ভোগ করে থাকে,মনকেও তা ভোগ করতে হয়।* *এইজন‍্য বলা হয় জগতে মায়াবদ্ধ মানুষ আধি-ব‍্যাধি ভোগ করে থাকে,মনের পীড়ায় আধি(মানসিক পীড়া,মানসিক ক্লেশ) এবং দেহের পীড়া ব‍্যাধি।সেইরকম আবার জীব যখন ভজনরসের আস্বাদন প্রাপ্ত হয় বা পেয়ে যায়,মনও ভগবানের নাম,রূপ,গুণ,লীলার রসমাধুরী আস্বাদনে ধন‍্য হয়। তাই বুদ্ধিমান মানুষ মনকে বুঝিয়ে বিষয়াভিনিবেশ (বিষয় ভাবনা )হতে প্রতিনিবৃত্ত(প্রতি=পুনর্বার,নিবৃত্তি=ফিরে আসা।)করে ভগবানের ভজনে প্রবৃত্ত (রত) করবেন।*
*প্রেমের মূরতি ঠাকুরমহাশয়ের প্রেমময় মন সবসময় ভজনরসে নিমগ্ন (ডুবে)থাকলেও ভক্তির অতৃপ্তিভাববশত ভজনসাধনহীন সাধারণ মানুষের মতো মনের কাছে প্রার্থনা করে বিশ্বসাধককে এই মূল‍্যবান শিক্ষাটি দান করছেন।*
*যেহেতু মনই সাধকের ভগবদ্ভজনের পরম সহায়। অথবা মনকে শিক্ষাদানের ব‍্যপদেশে(অছিলায়) ঠাকুরমহাশয় শ্রীগৌরাঙ্গের যুগের অনন্তকোটি ব্রহ্মান্ডের বিশ্বসাধকগণকে "ভাই"বলে সম্বোধন করে তাদেরকে শ্রীগৌরভজনের প্রেণা দিচ্ছেন।*
*ব্রছের ঠাকুর স্বয়ং শ্রীকৃষ্ণ এই বিশেষ কলিতে শ্রীরাধার ভাব কান্তি নিয়ে গৌরাঙ্গ হয়েছেন।* *তাই শ্রীমৎ রূপগোস্বামীপাদ লিখেছেন=*
*"ন চৈতন‍্যাৎ কৃষ্ণাজ্জগতি পরতত্ত্বং পরমিহ" ""শ্রীকৃষ্ণচৈতন‍্য অপেক্ষা বিশ্বে আর কোন শ্রেষ্ঠ পরতত্ত্ব নাই। পরতত্ত্বের উপাসনা নিখিল শ্রুতিশাস্ত্র প্রসিদ্ধ। "চরণ" শব্দটি ভক্তিভরেই যুক্ত হয়েছে, সুতরাং "গৌরাঙ্গচরণ" বলতে শ্রীগৌরাঙ্গের ভজনই উপদেশ দেওয়া হয়েছে।* *এখানে "ভজন" বলতে শ্রীমদ্ভাগবত-প্রতিপাদিত শ্রবণ-কীর্তনাদি নববিধা ভক্তির কথাই বলা হয়েছে।* *এই গৌরের যুগের মানুষ শ্রীগৌরাঙ্গকে উপাস‍্য বা ভজনীয় বিষয় তত্ত্বরূপে গ্রহণ করে শ্রবণ-কীর্তনাদি নববিধা ভক্তির দ্বারা তাঁর ভজন করবেন।*
*এই বিশেষ কলিতে প্রেমসম্পদ্ লাভের জন্য প্রেমাবতার শ্রীগৌরাঙ্গের উপাসনাই শাস্ত্রসম্মত।* *প্রথিতযশা *পন্ডিত শিরোমণি বাসুদেব সার্বভৌম প্রভৃতিও শ্রীগৌরাঙ্গের মহৈশ্বর্য‍্য প্রত‍্যক্ষ করে তাঁকে কলিযুগের উপাস‍্যরূপে গ্রহণ করেছেন।পরম বিদ্বান্ শ্রীগৌরাঙ্গ-পার্ষদবর শ্রীপ্রবোধানন্দ সরস্বতীপাদ লিখেছেন, (শ্রীচৈতন‍্যচন্দ্রামৃতম্ =২০)*
*শ্রবণমননসংকীর্ত‍্যানাদিভক্ত‍্যা মুরারের্যদি পরমপুমর্থং সাধয়েৎ কোহপি ভদ্রম্।*
*মম তু পরমপারপ্রেমপীযূষসিন্ধোঃ কিমপি রসরহস‍্যং গৌরধাম্নো নমস‍্যম্।।*
*🌻""অর্থ‍্যাৎ যদি কোন ভাগ‍্যবান জন মুরারীর শ্রবণ,মনন,সংকীর্তনাদি ভক্তির দ্বারা পরমপুরুষার্থ লাভে সমর্থ হন খুবই ভাল, কিন্তু অপার প্রেমমৃতসিন্ধু শ্রীগৌরাঙ্গের রসরহস‍্যই আমার ভজন।""* *প্রশ্ন হতে পারে,শ্রীরাধাকৃষ্ণের মিলিত বিগ্রহই শ্রীগৌরসুন্দর এবং তিনি বিশ্বমানবকে শ্রীরাধাকৃষ্ণের মধুররসের উপাসনাই দান করেছেন সুতরাং শ্রীরাধাকৃষ্ণের ভজন করলেই তো গৌরাঙ্গের ভজন হল আবার পৃথকভাবে বিষোতত্ত্বরূপে শ্রীগৌরাঙ্গের উপাসনার প্রয়োজন কি? এই প্রশ্নের উত্তর শ্রীপাদ প্রবোধানন্দ সরস্বতীই দিয়েছেন (ঐ=২৭)*
*ভ্রাতঃ কীর্তয় নাম গোকুলপতেরুদ্দাম-নামাবলীং যদ্বা ভাবয় তস‍্য দিব‍্যমধুরং রূপং জগন্মঙ্গলম্।*
*হন্ত প্রেমমহারসোজ্জ্বলপদে নাশাপি তে সম্ভবেৎ শ্রীচৈতন‍্যমহাপ্রভোর্যদি কৃপাদৃষ্টিঃ পতেন্ন ত্বয়ি।।*
*🌻""হে ভ্রাতঃ!তুমি শ্রীকৃষ্ণের সর্বসমর্থ নামাবলী উচ্চৈঃস্বরে কীর্তনই কর,অথবা তাঁর জগন্মঙ্গল দিব‍্যমধুর শ্রীমূর্তিই ধ‍্যান কর, যদি শ্রীচৈতন‍্যের করুণাদৃষ্টি তোমাতে না পরে,তবে মহাপ্রেমময় উজ্জ্বলরস আস্বাদনের আশা কখনই পূর্ণ হবে না।* *শ্রীগৌরাঙ্গের কৃপাতেই সাধক মঞ্জরী স্বরূপে ব্রজে শ্রীশ্রীরাধামাধবের রহস‍্যময় প্রেমসেবা লাভে ধন‍্য হবেন, এটিই এই সন্দর্ভের মর্মার্থ।* *🌻তারপর বললেন,"না ভজিয়া মৈনু দুখে, ডুবি গৃহ বিষকূপে,দগ্ধ কৈল এ পাঁচ পরাণ", ঠাকুরমহাশয় শ্রীগৌরাঙ্গভজন বিমুখ জনের দুরবস্থা বা দুর্গতির কথা বলছেন।শ্রীগৌরাঙ্গ না ভজে গৃহরূপ বিষকূপে ডুবে দুঃখে মরলাম। বিষকূপের দুইরকম ব‍্যাখ‍্যা হতে পারে, যে কূপ জ্বালাময় বিষজলে পরিপূর্ণ তা বিষকূপ,আবার অরণ‍্যের মধ্যে থাকা কূপ যাতে সাপ বৃশ্চিকাদি বিষধর প্রাণীসব বাস করে, তাতে পড়ে যাওয়া মানুষের,তাদের দংশনে দেহ জ্বালাময় হয়ে যায়,তাহাও বিষকূপ।গৃহই বিষকূপ, এই গৃহেরও দুইপ্রকার ব‍্যাখ‍্যা হতে পারে, প্রথম গৃহ-বিষকূপ বলতে গৃহাশ্রম যেন বিষকূপের মতো জ্বালাময়।গৃহী মানুষ দেহ-দৈহিকাদিতে মনোনিবেশ বশত আমার স্ত্রী,পুত্র,অর্থ, সম্পদাদিতে আসক্ত হয়ে সবসময় এরকম অস্থির মনে কালাতিপাত করে যে,ভক্তি পথ আশ্রয়ের বা ভজনসাধনের সামর্থ রহিত হয়ে পশুর মত আহার নিদ্রা নিয়েই জীবন যাপন করে থাকে।*
*এই অবস্থাটি বিষকূপে থাকার মতো জীবের জ্বালাময় অবস্থা।সাধারণ মানুষের সেই জ্বালার অনুভব না হলেও সাধকের তা অনুভব হয়।যেমন সাপের মধ্যে বিষ থাকলেও সাপের নিজের সেই বিষজ্বালার অনুভব হয় না,বরং তা থাকলেই সে নির্বীষ হয়ে যায়, কিন্তু সে যখন অন‍্যপ্রাণীকে দংশন করে,তখন সেই প্রাণীর সেই জ্বালা অনুভব হয়। তেমনি সংসারী দশায় ঘর,দ্বার,স্ত্রী,পুত্র,অর্থ সম্পদ আদি সব সুখের বলে মনে হয়,এই সুখ না থাকলেই সংসারী জীব দুঃখ পায়, কিন্তু যখন সে ভজনপথে প্রবেশ করে,তখন সেই জড়ীয় বিষয়রূপ সাপ যেন তাকে দংশন করতে থাকে,তখনি সে-ই বলতে পারে ""না ভজিয়া মৈনু দুখে,ডুবি গৃহ-বিষকূপে""।*
       *ক্রমশ*

 *🙏গৌরভজন বিমুখ জনের আবার অতি নিদারুণ দুঃখের কথা বলছেন, "তাপত্রয় বিষানলে,অহনিশি হিয়া জ্বলে,দেহ সদা হয় অচেতন"। আধ‍্যাত্মিক,আধিভৌতিক ও আধিদৈবিক এই তাপত্রয় বা ত্রিতাপ জ্বালা, এদেরও বিষানলের মতো তীব্রজ্বালা। অতি উগ্র বিষধর সাপ দংশন করলে যেমন দেহ আগুনে পুড়ে গেল বলে মনে হয়,উহাই বিষানলের জ্বালা।দেহে রোগ,শোকাদি, আধি, ব‍্যাধি প্রভৃতি আধ‍্যাত্মিক তাপ ; চোর,দস‍্যু,শত্রু প্রভৃতি কর্তৃক তাপ আধিভৌতিক এবং অতিবৃষ্টি,অনাবৃষ্টি জনিত দুর্ভিক্ষ, বজ্রপাত,ভূমিকম্পন ইত‍্যাদির তাপই আধিদৈবিক তাপ।*
*এর জ্বালাও অতি ভয়ংকর,ভজন ছাড়া এই তাপত্রয়ের জ্বালা হতে মুক্তিলাভের কোন উপায় নাই। কথা আসতে পারে,যাঁরা ভজন করেন,তাঁদেরকেও তো এই ত্রিতাপজ্বালা ভোগ করতে দেখা যায়।তাঁদের দৈহেও রোগ,ব‍্যাধি দেখা যায়,তাঁদের প্রতিও চোর,দস‍্যুর উৎপাত দেখা যায় এবং দুর্ভিক্ষ,ভূমিকম্প আদির তাপ তাঁদেরকেও ভোগ করতে হয়। সুতরাং ভজনের দ্বারা যে ত্রিতাপজ্বালার উপশম (শান্তি) হয়ে থাকে,এর প্রমাণ কি?* *ইহার উত্তরে বলা হয়েছে,ত্রিতাপজ্বালার নাশ ভজনের ফল নয়,ভজনের মুখ‍্যফল ভগবানের নাম,গুণ,লীলারসের আস্বাদন,প্রেমপ্রাপ্তি এবং ভগবৎসেবাপ্রাপ্তি।ভগবদ্ভক্তজনের সঙ্গফলেই ত্রিতাপজ্বালার শান্তি হয়ে থাকে!যদিও ভগবান বা ভক্তিমহারাণী ভক্তির রহস‍্যত্ব রক্ষণের জন্য ভক্তের দেহেও ঐ ত্রিতাপাদি দেখিয়ে থাকেন কিন্তু বহির্মুখের মতো উহার কিছুমাত্র জ্বালা তাঁদের অন্তরে অনুভূত হয় না।তাঁরা ভজনরসের আস্বাদনে এতাদৃশ(এইরকম)তন্ময়(বিভোর) হয়ে থাকেন যে,ভজননিষ্ঠ ভক্তের মনের উপর ত্রিতাপাদির কোন প্রভাবই পড়ে না।* *কিন্তু তা তাঁদের দৈন‍্য-আর্তি বাড়িয়ে খুব তাড়াতাড়িই প্রেমপ্রাপ্তি ঘটিয়ে ভক্তের পরম হিতসাধনই করে থাকে।* *আবার বললেন, "রিপুবশ ইন্দ্রিয় হৈল,গোরাপদ পাসরিল,বিমুখ হইল হেন ধন"।*
*ইন্দ্রিয়ের দ্বারা ভগবানের সেবার নামই "ভক্তি"।* *""হৃষীকেণ হৃষীকেশসেবনং ভক্তিরুচ‍্যতে"", (নারদপঞ্চরাত্র),চক্ষোর দ্বারা শ্রীভগবদ্বিগ্রহ ও ভক্তের বিগ্রহ দর্শন,কর্ণের দ্বারা হরিনাম ও হরিকথা শ্রবণ,জিহ্বার দ্বারা শ্রীহরির গুণলীলা কীর্তন,হাতের দ্বারা শ্রীহরির বিগ্রহার্চন,পদের দ্বারা হরিনাম-হরিকথা স্থানে,শ্রীধামে গমন, মনের দ্বারা ভগবানের স্মরণাদি সাক্ষাদ্ ভক্তি।*
       ক্রমাগত

 *🌻আবার "গ্রহ" ধাতু হতে "গৃহ" শব্দ নিষ্পন্ন,গ্রহণ ও আশ্রয়ার্থে "গ্রহ" ধাতুর প্রয়োগ হয়।যা আশ্রয় দেয়,তাহাই গৃহ। এই দেহরূপ গৃহটিই মায়াবদ্ধ জীবের প্রথম আশ্রয়।চিদানন্দসত্ত্বা জীব আনন্দ-স্বরূপ হয়েও কৃষ্ণবহির্মুখদশায় বহিরঙ্গা মায়ার অবদান এই দেহরূপ গৃহ প্রাপ্ত হয়েছে এবং দেহরূপ গৃহে মনোনিবেশ বশত অনাদিকাল হতে স্বীয় (নিজ) স্বরূপ বিস্মৃত হয়ে দেহকেই আমি জ্ঞান করে চৌরাশি লক্ষ যোনিতে অবর্ণনীয় দুঃখ ও জ্বালা ভোগ করে বেড়াচ্ছে। এ যে কিরকম বিষকূপের জ্বালা,তা সহজেই অনুমান করা যেতে পারে। যেমন খুব গভীর কূপে পড়ে গেলে সেই কূপ হতে উদ্ধারের জন্য নিজের কোন ক্ষমতা থাকে না,তেমনি জীব এই দেহরূপ গৃহকূপ হতে নিজ চেষ্টায় কিছুতেই উদ্ধার হতে পারছে না।এইরকম কূপে পড়ে যাওয়া ব‍্যক্তিকে যদি উপর হতে কোন কৃপালু ব‍্যক্তি এইটি বড় দড়ি কূপের মধ্যে ফেলে তাকে উদ্ধার করে, তেমনি এই দেহরূপ গৃহে পড়ে থাকা জীবকে সাধু, শাস্ত্র ও গুরু সাধনরূপ দড়ি দান করেছেন,তারা অতি দৃঢ়রূপে এই সাধন বা ভজনদড়িকে আশ্রয় করে থাকলে জীব এই বিষকূপ হতে উদ্ধার পেয়ে স্বরূপের জাগরণে আনন্দময় ভগবানের সেবা পেয়ে চিরতরে সুখী হতে পারেন।* *"কৃষ্ণনিত‍্যদাস জীব তাহা ভুলি গেল।সেই দোষে মায়া তার গলায় বান্ধিল।।তাতে কৃষ্ণ ভজে,করে গুরুর সেবন।মায়াজাল ছুটে পায় কৃষ্ণের চরণ"।।* *তাই দাসঠাকুর বলেছেন,"না ভজিয়া মৈনু দুখে,ডুবি গৃহ বিষকূপে"।*
*🌻আবার বললেন,"দগ্ধ কৈল এ পাঁচ পরাণ", প্রাণ,অপান,উদান,ব‍্যান ও সমান।এই পঞ্চ-প্রাণ দেহের মধ্যে অবস্থান করে।নিঃশ্বাস-প্রশ্বাসের বায়ুকে বলে "প্রাণ", নিম্নবায়ুই "অপান" বায়ু, উর্ধবায়ু "উদান", সারাদেহের বায়ু "ব‍্যান" নাভিমূলের বায়ু "সমান"।* *এই সমান বা নাভিমূলের বায়ুই প্রাণবায়ুকে আকর্ষণ বিকর্ষণ করে থাকে।এই পঞ্চপ্রাণই জীবধারণের উপায়।আয়ুর্বেদ শাস্ত্রে লেখা আছে,"প্রাণে" রক্তসঞ্চালন,"অপান"আহার্য‍্য চালন, "উদানে"বমন,উদ্গার,শ্বাস কাশাদি কার্য‍্য, "সমানে"পাচন ও "ব‍্যানে" সর্বাঙ্গে সামঞ্জস‍্য রক্ষিত হয়।* *এই বায়ুগুলি কুপিত(ক্রুদ্ধ)হলেই দেহে নানা রোগের আবির্ভাব হয় এবং দেহটি দুঃখের ঘর হয়ে থাকে।ঠাকুরমহাশয় বলছেন, গৌরাঙ্গ ভজন বিহনে আমার এই পঞ্চপ্রাণ পুড়ে গেল বা জ্বলে গেল।ভজনহীন দেহে জীব যে কত দুঃখে বসবাস করছে,এই মহদ অনুভবে তা কিঞ্চিত আভাস পাওয়া যায়।* *মাদৃশ(আমার মতো)ভজনবিমুখ জীবের এই জ্বালার কোন অনুভব নাই ; ইহাই মাদৃশ জীবের দূরদৃষ্টির নির্মম পরিহাস।*
        *ক্রমাগত*

*অন্তরে যে কাম ক্রোধাদি ষড়রিপু বাস করছে এই সব ইন্দ্রিয়কুল সবসময় তাদের অধীন রয়েছে,অর্থ‍্যাৎ প্রবল শক্তিশালী ঐ ষড়রিপু ভজন উপযোগী ইন্দ্রিয়বর্গকে বিষয়-বাসনায় আকর্ষণ করে ওদের ভজন বিমুখ করে তুলেছে।* * *সুতরাং ঠাকুরমহাশয় বলেছেন,ইন্দ্রিয়গণ সবসময় রিপুবশ হওয়ার ফলে শ্রীগৌরচরণ বা শ্রীগৌরাঙ্গকে বিস্মৃতি হল,গৌরাঙ্গের মতো পরম দুর্লভ ধন পেয়েও বিমুখহল।*


*🌻শ্রীপ্রবোধানন্দ সরস্বতীপাদ গৌরাঙ্গরূপ ধনের মহত্ত্ব নিরূপণ লিখেছেন।*
*সৌন্দর্য‍্যে কামকোটিঃ সকলজনসমাহ্লাদনে চন্দ্রকোটি-র্ব‍াৎসল‍্যে মাতৃকোটিস্ত্রিদশবিটপিনাং কোটিরৌদার্য‍্যসারে।*
*গাম্ভীর্য‍্যেহম্ভোধিকোটির্মধুরিমণি সুধাক্ষীরমাধ্বীককোটির্গৌরো দেবঃ স জীয়াৎ প্রণয়রসপদে দর্শিতাশ্চর্য‍্যকোটিঃ।।*
*🌻যিনি সৌন্দর্যে কোটি কোটি কন্দর্পের মতো সুন্দর,বিশ্বমানবের ত্রিতাপজ্বালার শান্তিবিধান পূর্বক তাদের পরমানন্দদানে যিনি কোটি চন্দ্রের মতো সুশীতল,যিনি বাৎসল‍্যে কোটি কোটি মাতৃতুল‍্য সুবৎসল,যিনি কোটি কল্পতরু অপেক্ষাও পরম উদার,যিনি কোটিসমুদ্রের মতো গম্ভীর,মাধুর্য‍্যে যিনি কোটি কোটি সুধা, ক্ষীর ও মধু অপেক্ষাও মধুর, যিনি প্রেমরস বিষয়ে কোটি কোটি আশ্চর্য‍্য অনুভাব(বোধ বা জ্ঞান) প্রদর্শন করেছেন,সেই লীলাময় শ্রীগৌরসুন্দর সর্বোৎকর্ষে বিরাজ করুন।* *তাই ঠাকুরমহাশয় বললেন, "হেন গৌর দয়াময়,ছাড়ি সব লাজ ভয়,কায়মনে লহ রে শরণ"।"পামর দুর্মতি ছিল,তারে গোরা উদ্ধারিল,তারা হৈল পতিতপাবন"।।* *দয়া বা কৃপা ভগবৎস্বরূপেরই অনন‍্যসম্পদ্।বিশ্বে যে পাঁচটি তত্ত্ব দেখা যায় =ঈশ্বর,জীব,কাল,কর্ম ও মায়া।এর মধ্যে ঈশ্বরেই করুণা বিরাজ করে,অপর চারটিতে করুণা নাই।করুণার প্রকৃত কাজই হচ্ছে,কৃষ্ণবিমুখ,স্বরূপভ্রান্ত(নিজের স্ব-রূপ কি না জানা বা ভুলে যাওয়া ) ও মায়াবদ্ধ জীবকে প্রেমদানে ধন‍্য করা।* *কাল,কর্ম,মায়া ও জীবের প্রেমদানের সামর্থ নাই।ভক্তজীবের মধ্যে উহা আছে কিন্তু প্রেমদানের উপযোগী ভগবানের করুণাই ভক্তের মধ্য হতে ক্রিয়াশীল হয়ে থাকেন বলে বুঝতে হবে।* *শ্রীগৌরহরি "দয়াময়" "দয়া" শব্দের উপর প্রাচুর্য‍্যার্থে "ময়ট" ময়ট মানে তৃণকুটীর, প্রত‍্যয় যুক্ত হয়েছে।শ্রীগৌরহরিতে পতিতপাবনী প্রচুর দয়া বিরাজ করে।অন‍্যান‍্য সমস্ত ভগবৎস্বরূপ অপেক্ষা শ্রীকৃষ্ণে অধিক(অত‍্যন্ত) দয়া বিরাজ করে বলে তিনি "পরম করুণ"।* *আবার তিনিই অপার করুণাসাগররূপিনী শ্রীরাধারাণীর ভাবকান্তি গ্রহণ করে গৌর হলেন। করুণাও একপ্রকার ভাব; সুতরাং শ্রীকৃষ্ণের করুণাসিন্ধুর সঙ্গে শ্রীরাধার করুণাসিন্ধু সম্মিলন (দুই এক হওয়াতে)হওয়ায় করুণাবারিধি বিশ্বব্রহ্মান্ডকে আপ্লাবিত করে তুলল।পামর,দুর্মতি প্রভৃতি সকলেই গৌরের প্রেমের বন‍্যায় ডুবে গেল। তারা নিজেই প্রেমলাভ করে ধন‍্য হল তা নয়,কিন্তু তারা আবার পতিতপাবন হয়ে বিশ্বকে উদ্ধার করবার সামর্থ ধারণ করল।* *প্রভুর দাক্ষিণাত‍্যে প্রেমপ্রচার বিষয়ে শ্রীকবিরাজ গোস্বামীপাদ চৈঃচঃ=*
*প্রেমাবেশে হাসি কান্দি নৃত‍্য গীত কৈলা।*
*দেখি সর্বলোকের চিত্তে চমৎকার হৈলা।।*
*আশ্চর্য‍্য শুনিসব লোক আইলা দেখিবারে।*
*প্রভুর রূপ-প্রেম দেখি হৈল চমৎকারে।।*
*দর্শনে বৈষ্ণব হৈলা-- বলে 'কৃষ্ণহরি'।*
*প্রেমাবেশে নাচে লোক উর্ধবাহু করি।।*
*কৃষ্ণ-নাম লোক মুখে শুনি অবিরাম।*
*সেই লোক বৈষ্ণব কৈল অন‍্য সব গ্রাম।।*
*এইমত পরম্পরায় দেশ বৈষ্ণব হৈল।*
*কৃষ্ণনামামৃত বন‍্যায় দেশ ভাসাইল।।*
*🌻অতএব লজ্জা ভয় সব ত‍্যাগ করে কায়মনে গৌরের চরণে শরণ গ্রহণ করতে হবে।কেহ কেহ মালা,তিলকাদি বৈষ্ণবচিহ্ন ধারণের জন্য লজ্জিত হয়ে ইচ্ছাসত্ত্বেও শ্রীগৌরচরণে আশ্রয় গ্রহণ করতে পারেন না।তিনি যাঁদের উপহাসের জন্য লজ্জিত হয়ে আধ‍্যাত্মিক সাধনা হতে বঞ্চিত হয়ে নিদারুণ ক্ষতিগ্রস্ত হন,সেই বন্ধু বান্ধবেরা কি তাঁর এই অপরিমিত ক্ষতির কিছু অংশ পূরণ করবেন?* *"নায়মাত্মা বলহীনেন লভ‍্যঃ", দুর্বলচেতা মানুষ কখনই ভগবানকে প্রাপ্ত হন না।*
*কেহ কেহ ভজন পথাশ্রয় করলে দেহ-দৈহিকাদির বিষয়ে ক্ষতি হবে ভেবে সেই ভয়ে গৌরচরণ আশ্রয় করতে পারেন না।* *কে বলতে যে কাল যে তার মৃত‍্যু সঙ্গে সঙ্গে দেহ- দৈহিকাদি বস্তুর সঙ্গে সমস্ত সম্পর্ক চিরতরে মুছে দিবে,সে স্মৃতি,সে ভয় কি তার নাই?যার জন্য মরণবারণ গৌরচরণাশ্রয়ে দেহ-দৈহিকাদির কিঞ্চিৎ ক্ষতির সম্ভাবনা তিনি ভজনপথাশ্রয় হতে বঞ্চিত হয়ে থাকেন।*
      ক্রমাগত

 *সুতরাং বুদ্ধিমান মানব কায়মনে শ্রীগৌরচরণে শরণ গ্রহণ করে ধন‍্য হবেন।"তবাস্মীতি বদন্ বাচা মনসা বিদন্"।"তৎস্থানমাশ্রিতস্তন্বা মোদতে শরণাগতঃ"।। অর্থ‍্যাৎ "আমি তোমার হলাম" এইরকম মন ও মুখ এককরে মুখে বলে মনেও সেইরকম জেনে,দেহের দ্বারা তাঁর লীলাস্থান আশ্রয় করে শরণাগত আনন্দলাভ করে থাকেন"।* *মানস শরণাগতিই প্রকৃত শরণাগতি।শ্রীগৌরচরণে শরণাগতির ফলও অতি অপূর্ব (শ্রীচৈতন‍্যচন্দ্রামৃতম্)=*
*সংসারষিন্ধুতরণে হৃদয়ং যদি স‍্যাৎ সঙ্কীর্তনামৃতরসে রমতে মনশ্চেৎ।*
*প্রেমাম্বুধৌ বিহরণে যদি চিত্তবৃত্তিশ্চৈতন‍্যচন্দ্রচরণে শরণং প্রযাতু।।*
*🌻হে ভ্রাতঃ!যদি তোমার দুষ্পার সংসারসিন্ধু উত্তরণের বাসনা থাকে,সংকীর্তন অমৃতরসে যদি তোমার মন মগ্ন হতে চায়,প্রেমামৃত সাগরে অবগাহন(ডুবতে বা স্নান করতে) করবার জন্য যদি তোমার চিত্ত উৎকণ্ঠিত হয় ; তবে শ্রীচৈতন‍্যচন্দ্রচরণে শরণ গ্রহণ কর।* *🌺অবশেষে বললেন,"গোরা দ্বিজ নটরাজে,বান্ধহ হৃদয় মাঝে,কি করিবে সংসার শমন"। নরোত্তম দাসে কহে,গোরাসম কেহ নহে,না ভজিতে দেয় প্রেমধন।।*
*🍀ব্রজে সর্বলীলামুকুটমণি রাসলীলায় যিনি সুমোহন নৃত‍্যভঙ্গিতে শতকোটি ব্রজবালাকে মুগ্ধ করেছিলেন,সেই ব্রজনটরাজ নটিনীর শিরোমণি শ্রীরাধার ভাবকান্তি নিয়ে গৌর হয়েছেন।এখন আর গোপ নহে,এখন হয়েছেন দ্বিজ,তাই "গোরা দ্বিজ নটরাজ"।* *রাসবিলাসের পরিণতিই শ্রীগৌরসুন্দর রাইকানু একাকৃতি।ব্রজে রসের প্রাধান‍্যে ভাবের আস্বাদন,আর নবদ্বীপে ভাবের প্রাধান‍্যে রসের আস্বাদন,সুমোহন নৃত‍্য সেই আস্বাদনেরই অনুভাব।সংকীর্তন আনন্দে নৃত‍্যচ্ছন্দে সুদীপ্ত সাত্ত্বিক ব‍্যাপ্ত কলেবরে ব্রজরসের আস্বাদন ধারা।এখন আর সেই ত্রিভঙ্গ আকৃতি নাই,সরলা ব্রজবালার ভাব অঙ্গীকার করে এখন হয়েছেন, "ন‍্যগ্রোধপরিমন্ডলতনু চৈতন‍্য গুণধাম", নৃত‍্যরসের আস্বাদনে ভাবাবেশে ধারায়-ধরা ভেসে যাচ্ছে। তাই অন্তঃকৃষ্ণ বহির্গৌর,"গোরা দ্বিজ নটরাজ"।*
*শ্রীপ্রবোধানন্দ সরস্বতীপাদ লিখেছেন।*
*পূর্ণপ্রেমরসামৃতাব্ধিলহরী লোলাঙ্গ গৌরচ্ছটা কোট‍্যাচ্ছাদিত বিশ্বমীশ্বরবিধি ব‍্যাসাদিভিঃ সংস্তুতম্।*
*দুর্লক্ষ‍্যাং শ্রুতিকোটিভিঃ প্রকটয়ন্মূর্তিং জগন্মোহিনীমাশ্চর্য‍্যং লবণোদরোধসি পরংব্রহ্ম স্বয়ং নৃত‍্যতি।।*
*🌻ব্রজের পূর্ণতম প্রেমরসসাগরের তরঙ্গভঙ্গে যিনি অতি চপল,যাঁর শ্রীঅঙ্গ হতে গৌরকান্তিধারা চুঁয়ে পড়ে বিশ্বকে আচ্ছাদিত করেছে, বিধি,ব‍্যাস,শুকাদি যাঁর স্তব করছেন,সেই শ্রুতিগণের দুর্লক্ষ‍্য আশ্চর্য‍্য জগন্মোহিনীমূর্তি প্রকটন করে লবণসিন্ধুর তীরে স্বয়ং পরব্রহ্ম শ্রীগৌরাঙ্গ সুমোহন নৃত‍্য করছেন।*
*🌻হে মন!এই নৃত‍্যচপল নটরাজকে তুমি হৃদয়মাঝে বেঁধে রাখ।বন্ধন করলে তো তাঁর কষ্ট হবে এবং এইরকম মোহন নাচও বন্ধ হয়ে যাবে?না,বিশ্বের কোন দড়িতেই এই নটরাজ বাঁধা পড়েন না,একমাত্র প্রেমরজ্জুতেই ইনি আবদ্ধ হন।এই বন্ধন অতি সুখের,তাতে নাচও বন্ধ হবার সম্ভাবনা নাই।* *তোমার হৃদয় মন্দাকিনীর তটে তিনি সবসময় নৃত‍্য করতে থাকুন।তখনএই সংসার এবং শমন বা কৃতান্ত তোমার কি করবে?* *মহাজন গেয়েছেন= "দেখিয়া শুনিয়া,তরাস পাইয়া,(শমন) কপাট হানিল দ্বারে"।* *ঠাকুরমহাশয় বলছেন,গৌরাঙ্গের মতো প্রেম দাতা আর কেউ নাই,যিনি বিনা ভজনেই প্রেমদান করে থাকেন* *শ্রীপ্রবোধানন্দ লিখেছেন==*
*পাত্রাপাত্রবিচারণং ন কুরুতে ন স্বং পরং বীক্ষ‍্যতে,দেয়াদেয়-বিমর্শকো ন হি ন বা কালপ্রতীক্ষঃ প্রভুঃ।*
*সদ‍্যো যঃ শ্রবণেক্ষণপ্রণমনধ‍্যানাদিনা দুর্লভং দত্তে ভক্তিরসং স এব ভগবান্ গৌরঃ পরং মে গতিঃ।।*
*🌻প্রেমদান বিষয়ে পরম সমর্থ পাত্রাপাত্রের বিচার করেন না,আপন পর কিছুই দেখেন না,দেয়াদেয় বিচার করেন না,কালেরও প্রতীক্ষা করেন না,শ্রবণ,বিগ্রহ দর্শন,প্রণাম,ধ‍্যান ইত‍্যাদি ভজনেও যাহা দুর্লভ,শ্রীগৌরাঙ্গদেব সেই ভক্তিরস বিনা ভজনেই আপামরে দান করেন।সেই ভগবান ল্রীগৌরসুন্দরই আমার একমাত্র গতি।"মাগে বা না মাগে কেহ,পাত্র বা অপাত্র।ইহার বিচার নাহি,জানে দিব মাত্র"।।(চৈতন‍্যচরিতামৃত।*
*🙏বানান,ভুল ভ্রান্তি ক্ষমা করবেন🙏*
 ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
👇👇👇এই লিখনী 📚 PDF 📚 ক্লিক করুন 👇👇👇
 ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧ 
 ✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️
নিবাস- বাঁশবাড়ী, কীর্তন মন্দিরের পাশে, পোঃ- বাঁশবাড়ী, থানা- ইংরেজ বাজার, জেলা- মালদহ, পশ্চিমবঙ্গ, পিন কোড- ৭৩২১০১।
 ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏
আমায় দেওয়া ওনার এই অমূল্য লিখনী সেবা, তা সকলের মধ্যে প্রকাশ করলাম। ওনার এই অমূল্য দান সমগ্র বৈষ্ণব সমাজ অনন্তকাল মনে রাখিবে।
🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
    *••••┉━❀꧁ 🙏 রাধে রাধে 🙏 ꧂❀━┅••••* 
                   শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য প্রভু নিত্যানন্দ
              হরে কৃষ্ণ হরে রাম শ্রীরাধেগোবিন্দ।।
  *••••┉━❀꧁ 🙏 জয় জগন্নাথ 🙏 ꧂❀━┅••••*
              হরে কৃষ্ণ হরে কৃষ্ণ কৃষ্ণ কৃষ্ণ হরে হরে
              হরে রাম হরে রাম রাম রাম হরে হরে॥
  *••••┉━❀꧁ 🙏 জয় রাধাকান্ত 🙏 ꧂ ❀━┅••••*
   💮❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀💮
   💮❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀💮
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧






adds