✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
*🙏প্রভু বীরচন্দ্রের সংক্ষিপ্ত জীবন কাহিনী 🙏*
~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~
*🌻কলিযুগ-পাবন শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য মহাপ্রভু নিজরস আস্বাদনের উপলক্ষ্যে ব্রহ্মাদির বাঞ্জিত ব্রজ-প্রেম-সম্পদ বিতরণ ও যুগধর্ম শ্রীনাম সংকীর্তন প্রচারের জন্য সর্ব অবতারের ভক্তগণ সমভিব্যহারে পৃথিবীতে আবির্ভূত হন।নিজ লীলা প্রকাশের অব্যবহিত পরেই এক লীলাশক্তির প্রকাশ করেন।তিনিই সর্বজনবন্দিত প্রভু বীরচন্দ্র।*
*শ্রীশ্রীনিতাই-গৌর-সীতানাথের অন্তর্ধানের পর সর্ব বঙ্গদেশের বিশুদ্ধ বৈষ্ণব-ধর্মের সংরক্ষণ ও প্রবর্তনের সর্বশ্রেষ্ঠ আচার্য্যরূপে শ্রীগৌরাঙ্গ প্রকাশ মূর্তি শ্রীবীরচন্দ্রের প্রকাশ।*
*শ্রীমন্মহাপ্রভুর আদেশে প্রভু নিত্যানন্দ গার্হস্থাশ্রম অবলম্বন করলেন।শালিগ্রাম নিবাসী শ্রীসুর্য্যদাস পন্ডিতের দুই কন্যা শ্রীবসুধা ও শীজাহ্নবা দেবীকে বিবাহ করে খড়দহে শ্রীপাট স্থাপন করেন।এই জায়গায় প্রভু বীরচন্দ্রের জন্ম হয়।প্রভু বীরচন্দ্রের প্রেমলীলা কাহিনী আলোচ্য গ্রন্থ,শ্রীচৈতন্য চরিতামৃত, শ্রীগৌরগণোদ্দেশ দীপিকা,শ্রীঅভিরাম লীলামৃত, শ্রীবংশী শিক্ষা,শ্রীমুরলী বিলাস, শ্রীনরোত্তম বিলাস,শ্রীভক্তিরত্নাকর ও শ্রীপ্রেম বিলাসাদি প্রাচীন গ্রন্থাবলীতে অল্পবিস্তরভাবে বর্ণিত আছে। শ্রী দেবকী নন্দন দাস কৃত বৈষ্ণব বন্দনার বর্ণন যথা=*
*"দয়াল ঠাকুর বন্দোঁ প্রভু নিত্যানন্দ।*
*যাহা হৈতে নাট-গীত সভার আনন্দ।।*
*বসুধা-জাহ্নবী বন্দোঁ দুই ঠাকুরাণী।*
*যাঁর পুত্র বীরভদ্র জগতে বাখানি*।।
*বীরচন্দ্র গোসাঁঞি বন্দিব সাবধানে।*
*সকল ভূষণ বশ যাঁর আচরণে।।*
* * *
* * *
*শ্রীগোপীজন-বল্লভ বন্দিব যতনে*।
*অদ্ভুত চরিত্র যাঁর না যায় বর্ণনে।।*
*গোসাঁঞি শ্রীরামকৃষ্ণ বন্দিব সাদরে।*
*জীব উদ্ধারিতে যিহঁ বহু গুণ ধরে।।*
*গোসাঁঞি শ্রীরামচন্দ্র বন্দোঁ এক মনে।*
*যাঁহার অশেষ গুণ জগতে বাখানে।।*
*নিত্যানন্দ সুতা বন্দোঁ গঙ্গা ঠাকুরাণী।*
*ভুবন ভরিয়া যাঁর সুযশ বাখানি।।*
*🌻প্রভু নিত্যানন্দের দুই পত্নী বসুধা ও জাহ্নবী।বসুধার পুত্র বীরচন্দ্র ও কন্যা গঙ্গাদেবী।প্রভু বীরচন্দ্রের দুই পত্নী,নারায়ণী শ্রীমতী(বিষ্ণুপ্রিয়া)। তিন পুত্র=গোপীজন বল্লভ,রামকৃষ্ণ ও রামচন্দ্র এবং কন্যার নাম ভূবন মোহিনী।ফুলিয়া নিবাসী পার্বতীচরণ মুখুটির সহিত ভূবন মোহিনীর বিবাহ হয়।গোপীজন বল্লভের তিন পুত্র। সেখানে শ্রীনরোত্তম বিলাস গ্রন্থকর্তার পরিচয়ে=*
*প্রভু গোপীজন বল্লভের পুত্রত্রয়।*
*জ্যেষ্ঠ রামনারায়ণ গুণের আলয়।।*
*শ্রীরামলক্ষ্মণ হন মধ্যম সন্তান।*
*কনিষ্ঠ শ্রীরামগোবিন্দাখ্য দয়াবান।।*
*🌻প্রভু নিত্যানন্দের ছয় পুত্র ক্রমে ক্রমে অভিরামের প্রণামে অন্তর্ধান করেন।শ্রীমন্মহাপ্রভু অন্তর্ধানের পূর্বে ঠাকুর অভিরামকে বললেন, আমি অন্তর্ধান করে নিত্যানন্দের ভবনে আবির্ভূত হব।তোমার প্রণামেই তাহার প্রকাশ ঘটবে।অভিরাম ব্রজের শীদাম সখা।ব্রজদেহ নিয়ে বঙ্গদেশে আগমন করতঃ হুগলী জেলার কৃষ্ণনগরে লীলার প্রকাশ করেন।অভিরামের প্রণামে বাংলাদেশ বিগ্রহশূন্য হয়েছিল।একমাত্র বিষ্ণুপুরের শ্রীমদন মোহন ও বগড়ীর শ্রীকৃষ্ণ রায় তাঁর প্রণাম সহ্য করেছিলেন।পার্ষদগণের মধ্যে নিত্যানন্দের প্রথম ছয় পুত্র অন্তর্ধান করেন।প্রভু বীরচন্দ্র,গঙ্গামাতা,শ্রীখন্ডের রঘুনন্দন ও ক্ষেত্রের গোপাল গুরু তাঁর প্রণাম সহ্য করেছিলেন।অভিরাম শ্রীবিগ্রহকে প্রণাম করে তাকালেই প্রতিমা বিদীর্ণ হল।যাইহোক, শ্রীমন্মহাপ্রভুর ইঙ্গিতে প্রভু নিত্যানন্দের সন্তান জন্ম সংবাদ পেলেই অভিরাম আসতেন এবং প্রণাম করে দৃষ্টিপাত করলেই সন্তানের অন্তর্ধান ঘটত।এইভাবে ছয়জন গত হলেন।সপ্তমে গঙ্গামাতা ও অষ্টমে প্রভু বীরচন্দ্রের প্রকাশ।প্রভু বীরচন্দ্রের আবির্ভাব সংবাদ পেয়ে ঠাকুর অভিরাম খড়দহে আগমন করতঃ(করে) পূর্বমত নিয়মে পরীক্ষা করলেন।সেখানেই নিত্যানন্দ বংশ বিস্তারে ২য় স্তবকে=*
*প্রভু শুতিয়াছে নিজ খট্টার উপরে।*
*অরুণ কিরণ যেন গৃহেতে সঞ্চারে।।*
*দেখি আনন্দিত হইলেন অভিরাম*।
*চরণের তলে গিয়া করিলা প্রণাম*।।
*উঠি দরশন করে পুনঃ দন্ডবৎ।*
*বার বার তিনবার করিলা এইমত*।।
*যোগনিদ্রা হৈতে প্রভু জাগিয়া হাসয়।*
*চরণ চারণ করি শিশু প্রায় হয়।।*
*🙏এইভাবে শ্রীগৌরাঙ্গ প্রকাশমূর্তি প্রভু বীরচন্দ্রের প্রকাশ পরিস্ফুট হল।* *(৬৬ শ্লোকে)*
*সঙ্কর্ষণস্য বো ব্যূহঃ পয়োব্ধিশায়ীনামকঃ।*
*স এব বীরচন্দ্রোহ ভূচ্চৈতন্যাভিন্ন বিগ্রহঃ।।*
*🌻সঙ্কর্ষণের ব্যূহ পয়োব্ধিশায়ীই শ্রীচৈতন্যদেবের অভিন্ন মূর্তি প্রভু বীরচন্দ্র।অগ্রহায়ণ মাসের শুক্লা চতুর্থী তিথিতে প্রভু বীরচন্দ্র আবির্ভূত হন।পঞ্চদশ মাস মাতৃগর্ভে অবস্থান করেন।বীরচন্দ্রের আবির্ভাব সংবাদ পেয়ে শান্তিপর নাথ শ্রীমদদ্বৈত আচার্য্য তার দর্শনের জন্য খড়দহে আগমন করেন এবং দর্শন করতঃ প্রেমানন্দে বলতে লাগলেন=*
*চোরের ঘরের চোর নিতি চুরি করে।*
*এ চোর ধরিব মোরা কেমন করে*।।
*🍁এইভাবে প্রভু বীরচন্দ্রের স্বরূপত্মার পূর্ণাঙ্গ প্রকাশ ঘটল।প্রভু বীরচন্দ্র,বীরচন্দ্র ও বীরভদ্র এই দুই নামেই সমাধিক প্রসিদ্ধ।*
*☘বাল্যলীলা খেলা রসে বীরচন্দ্র কতককাল অতিবাহিত করলেন।*
*🌻সহসা প্রভু নিত্যানন্দের অন্তর্ধান ঘটল।বীরচন্দ্র পিতার তিরোধান মহোৎসবের আয়োজন করলেন।সীতানাথ সহ প্রায় সমস্ত গৌরাঙ্গ পার্ষদ খড়দহে একত্রিত হলেন।বিচিত্র বিধানে মহোৎসব অনুষ্ঠিত হল।কতদিন পরে বীরচন্দ্র দীক্ষার কারণে উদ্বিগ্ন হলেন সেই সময় তাঁর কুড়ি বৎসর বয়স।তিনি মনে মনে চিন্তা করে সপার্ষদে নৌকারোহণে দীক্ষা গ্রহণের জন্য শান্তিপুর অভিমুখে রওনা হলেন।মনের একান্ত ইচ্ছে শান্তিপুরনাথ শ্রীঅদ্বৈত আচার্য্যের নিকটে দীক্ষা গ্রহণ করবেন।মাতৃদ্বয়ে যথাযোগ্য বন্দনাদি করে মহাসমারোহে নৌকারোহণে শান্তিপুর অভিমুখে চললেন।* *(ক্রমশ)*
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
꧁ প্রভু বীরচন্দ্রের সংক্ষিপ্ত জীবন কাহিনী ꧂
এই লিংকে 👇👇👇🙏👇👇👇 ক্লিক করুন
꧁ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ ꧂
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
*বীরচন্দ্র দ্বিতীয়*
*🍀এদিকে অদ্বৈতাচার্য্য সংবাদ পেয়ে লোক মারফত পত্রদ্বারা জানালেন যে "বীরচন্দ্র" যেন মায়ের কাছে দীক্ষা গ্রহণ করেন।পত্রবাহক খড়দহে পৌঁছাবার পূর্বেই বীরচন্দ্র রওনা হয়ে গিয়াছেন।এদিকে মাতা জাহ্নবাদেবী বীরচন্দ্রের অভিপ্রায় অন্তরে উপলব্ধি করে নিকটস্থ চন্দ্রশেখরকে ডেকে বললেন,যেভাবেই হোক বীরচন্দ্রকে ফিরিয়ে আন। তিনি উর্ধশ্বাসে ছুটলেন।পথে রামদাসের সঙ্গে দেখা হল,তিনি তাঁর উদ্বেগের কথা জিজ্ঞাসা করলেন চন্দ্রশেখর সমস্ত কথা বললেন।তখন রামদাস ক্রোধে বংশী ছুড়ে বীরচন্দ্রের নৌকায় নিক্ষেপ করলেন।বংশীর আঘাতে নৌকা দ্বিখন্ডিত হল।সংকীর্তনরত সঙ্গীগণ সাঁতার দিয়ে তীরে উঠলেন। "বীরচন্দ্র কাষ্ঠ পাদুকা চরণে জলের উপর হেঁটে পড়ে এলেন।বীরচন্দ্র কূলে এলে রামদাস তাঁকে সঙ্গে নিয়ে মাতা জাহ্নবার কাছে উপনীত হলেন।মাতা তখন অভূতপূর্ব বৈভব প্রকাশে বিরাজমান।মায়ের ষড়ভূজ মূর্তি দর্শন করে বীরচন্দ্র শ্রীচরণে লুন্ঠিত হলেন। প্রভু নিত্যানন্দ ও মাতা জাহ্নবার অভিন্ন স্বরূপত্মার সত্ত্বা উপলব্ধি হওয়ায় বীরচন্দ্রের মনের সমস্ত সংশয় দূরীভূত হল।তখনই মায়ের কাছেই দীক্ষা গ্রহণ করে প্রেমাবেশে নৃত্য গীত করতে লাগলেন।তারপর নিত্যানন্দ আরাধনা তিথি উদযাপন করে তীর্থ ভ্রমণ উদ্দেশ্যে বাহির হলেন। ঠাকুর অভিরাম সহ নীলাচলে উপনীত হলেন।অভিরাম ক্ষেত্রবাসী বৈষ্ণবগণের সঙ্গে বীরচন্দ্রের সঙ্গে মিলন করালেন। নীলাচলবাসী বৈষ্ণবগণ বীরচন্দ্রের অলৌকিক রূপ-গুণ-মাধুর্য্য দর্শন করে শ্রীগৌরাঙ্গ দর্শন সদৃশ সুখ অনুভব করলেন।বীরচন্দ্র প্রভু ক্ষেত্রবাসী বৈষ্ণবগণ সহ মিলনাদি করতঃ দক্ষিণ দেশ ভ্রমণে চললেন।দক্ষিণ ভ্রমণ সমাপ্তির পর নীলাচলে পৌঁছলে শ্রীনারায়ণীদেবীর সঙ্গে তাঁর বিবাহ অনুষ্ঠিত হয়।মাহেশ নিবাসী শ্রীকমলাকর পিপলাইর জামাতা শ্রীসুধাময় ক্ষেত্রবাসকালে সমুদ্র প্রদত্ত (অযোনী সম্ভবা "নারায়ণী" নামে এক কন্যা প্রাপ্ত হন),।* *সমুদ্রের উপদেশে ও সর্বানুকুল্যে প্রভু বীরচন্দ্রকে সেই কন্যা সমর্পণ করেন।তারপর ক্ষেত্ররাজ প্রতাপরুদ্রের পুত্র রাজা চক্রদেবের আনুকূল্যে প্রভু সপত্নীক খড়দহে আগমন করেন।কতককাল খড়দহে অবস্থানের পর প্রেম প্রচার উদ্দেশ্যে হলেন। প্রভু দোলারোহণে চললেন। সঙ্গে "জ্ঞানদাস","কৃষ্ণদাস", "রামদাস",রামাই ও নিত্যানন্দ দাস প্রমুখ চললেন।কতদিনে সপার্ষদে ঢাকায় উপনীত হলেন।🙏অপ্রাকৃত লীলা🙏।বৈভব প্রকাশ করে প্রভু ঢাকার নবাবকে প্রেমদান করতঃ মালদহ অভিমুখে রওনা হলেন।*
*ক্রমশ*
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
꧁ প্রভু বীরচন্দ্রের সংক্ষিপ্ত জীবন কাহিনী ꧂
এই লিংকে 👇👇👇🙏👇👇👇 ক্লিক করুন
꧁ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ ꧂
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
*বীরচন্দ্র তুতীয়*
*মালদহের মহানন্দা তীরে সংকীর্তন শুরু হল।সংবাদ পেয়ে গৌড়রাজ হোসেন শাহের মন্ত্রী কেশব ছেত্রীর পুত্র দুর্লভ ছেত্রী স্বজনসহ সেখানে* *উপনীত হলেন। প্রভু তাঁর মনোবাঞ্জা পূরণের জন্যে অত্যদ্ভুত লীলাশক্তি প্রকাশ করে* *মহামহোৎসব অনুষ্ঠান করলেন।দুর্লভ ছত্রী সমস্ত ব্যয় বহন করলেন। দ্বাপরে যুধিষ্ঠির যজ্ঞ সদৃশ এই সংকীর্তন যজ্ঞ অনুষ্ঠিত হল।মহোৎসবের অন্তে দুর্লভ ছত্রী দেবোত্তর করে উক্ত স্থান প্রভু বীরচন্দ্রকে দান করেন।পরবর্তীকালে বীরচন্দ্রের মধ্যম সন্তান শ্রীরামকৃষ্ণ উক্ত স্থানে শ্রীপাট স্থাপন করেন।মালদহ হতে বীরচন্দ্র পিতৃ জন্মভূমি একচক্রাধাম দর্শনের জন্য চললেন।একচক্রায় উপনীত হয়ে* *শ্রীবঙ্কিমদেবের দর্শন ও সেবানন্দে বিভোর হলেন।সেখানে তিনি তিনদিন অবস্থান করে মহা মহোৎসব করলেন।শেষে উক্ত স্থানের নাম "বীরচন্দ্রপুর" রাখলেন।অদ্যাপি সেইস্থানে প্রভু বীরচন্দ্রের নামে "বীরচন্দ্রপুর" নামে সর্বজন প্রসিদ্ধ।তথা হতে প্রভু গঙ্গা পথে রওনা হলেন।পথে শ্রীনিবাস আচার্য্যের পুত্র গীতগোবিন্দের সঙ্গে মিলন হল।প্রভু তাঁকে তিনবার বেত্রাঘাত করে প্রেম সঞ্চার করেন। তারপর তার আবাহনে তাঁর ভবনে চললেন।পথে শ্রীপরমেশ্বরী ঠাকুরের ভবনে পদার্পণ করে সংকীর্তন বিলাসকালে অত্যদ্ভুত লীলাশক্তির প্রকাশ করেন।তারপর আচার্য্যভবনে পদার্পণ করে প্রভূত লীলা করেন।রাজা বীরহাম্বীরকে শক্তি সঞ্চার করেন।সেখান থেকে রাঢ়দেশে প্রেম প্রবর্তন করতঃ(করে) সঙ্গীগণকে বিদায় দিয়ে আপনি(নিজে) ঝাড়িখন্ডের পথে শ্রীধাম বৃন্দাবন গমন করলেন।প্রেমরঙ্গে কতদিন বৃন্দাবন নিত্যলীলা স্থল দর্শন করে খড়দহে প্রত্যাবর্তন (ফিরলেন) করলেন।এইভাবে তীর্থ ভ্রমণ শেষ করে প্রভু বীরচন্দ্র খড়দহে থেকে জীবউদ্ধার করতে লাগলেন। প্রেম প্রচারকালে বীরচন্দ্র* *শ্রীমন্নিত্যানন্দের সেবিত শ্রীগোবর্ধন শিলাস্বর্ণ সংস্পুটে ভরে সঙ্গে নিয়ে ভ্রমণ করতেন।শ্রীনিবাস নরোত্তমের সঙ্গে প্রেমরঙ্গে মিলিত হয়ে সর্ব বঙ্গদেশে গৌরাঙ্গ প্রবর্তিত বিশুদ্ধ ভক্তি ধর্ম প্রবর্তন ও সংরক্ষণ করেন।*
*শ্রীখন্ডে ঠাকুর নরহরির তিরোধান মহোৎসবে বীরচন্দ্র গমন করে সংকীর্তন মধ্যে এক অত্যদ্ভুত লীলাশক্তি প্রকাশ করেন।লক্ষ লক্ষ লোক বীরচন্দ্রের ভুবনমোহন নৃত্য-গীত দর্শনের জন্য আকুল প্রাণে আসতে লাগলেন।সংবাদ পেয়ে এক অন্ধও প্রভুর দর্শনের আকাঙ্খায় সংকীর্তন স্থলে উপনীত হল।সংকীর্তন শুনে ভাবাবিষ্ট হলেন। কিন্তু রূপমাধুরী দর্শনে বঞ্চিত হয়ে নিজেকে ধিক্কার দিতে লাগলেন।ভক্তবৎসল প্রভু বীরচন্দ্র অন্ধের মনোবাসনা পূর্ণ করলেন। প্রভুর কৃপা প্রভাবে "অন্ধ" দৃষ্টিশক্তি পেলেন এবং প্রাণভরে প্রভুর নৃত্যগীত ও ভুবনমোহন রূপমাধুরী দর্শন করে ধন্য হলেন।*
*ক্রমশ*
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
꧁ প্রভু বীরচন্দ্রের সংক্ষিপ্ত জীবন কাহিনী ꧂
এই লিংকে 👇👇👇🙏👇👇👇 ক্লিক করুন
꧁ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ ꧂
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
*বীরচন্দ্র চতুর্থ*
*এইভাবে প্রেমপ্রচারের মাধ্যমে বীরচন্দ্র কত শত পতিত পামরকে উদ্ধার করেছেন তার পরিমাণ নেই।আর বিশুদ্ধ ভক্তিধর্মসংস্থাপনে বীরচন্দ্র কাঁদরা গ্রামবাসী জয়গোপাল নামক এক শিষ্যকে বর্জন করলেন।তিনি বীরচন্দ্রের শিষ্য হয়ে নিজেকে প্রভু নিত্যানন্দের শিষ্য বলে পরিচয় দিতেন।এই বিষয়ে শ্রীনিবাস আচার্য্য সমীপে বীরচন্দ্রের প্রেরিত পত্রের বাক্য যথা=*
*🌻জয়গোপাল দাসের মৎপ্রসাদোল্লঙ্ঘনং কৃতং তচ্চ জগতি বিদিতমিতীহ তেন সার্ধং মদীয় জনেন কেনাপ্যালাপাদিকং ন ক্রিয়তে ময়াপি নিষিদ্ধং ভবতাপি,তথালাপাদিকং ন কর্তব্যমিতি।*
*তথাহি== ভক্তিরত্নাকরে ১৪ তরঙ্গে*
*তথায় কায়স্থ জয়গোপালের স্থিতি।*
*বিদ্যা অহঙ্কারে তার জন্মিল দুর্মতি।।*
*গুরু বিদ্যাহীন-- ইথে হেয় অতিশয়।*
*জিজ্ঞাসিলে পরমগুরুকে গুরু কয়।।*
*প্রভু বীরচন্দ্র প্রকারেতে ব্যক্ত কৈল।*
*লঙ্ঘিল প্রসাদ,তেঞি তারে ত্যাগ করিল।।*
~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~
*প্রভু বীরচন্দ্রের বারহাজার নাড়া শিষ্য ছিল।*
*তাহারা সাধন প্রভাবে ততদিচ্ছারণ আরম্ভ করিল।।*
*🌻এমন কি প্রসাদে বিলম্ব কারণে যোগ প্রভাবে শ্রীশ্যামসুন্দরের মন্দিরে অগ্নি সংযোজিত হল।সে সময় প্রভু তাদের শক্তিহীন করবার জন্য তেরহাজার "নেড়ি" সৃষ্টি করলেন এবং মায়া বিস্তার করে সবাইকে এক দুই করে প্রদান করতে লাগলেন।যারা গ্রহণ না করে পালিয়ে গেল তাদের মাধ্যমে বীরচন্দ্রের গণের প্রচার ঘটল।আর যারা গ্রহণ করল তাদের মাধ্যমে ভ্রষ্টাচারী "সঞ্জোগী" বৈষ্ণব সৃষ্টি হল।* *(তথাহি নিত্যানন্দ বংশ বিস্তার ৩য় স্তবকে=)*
*হেনমতে নাড়াগণে প্রভু দন্ড কৈল*।
*সেই হইতে "সঞ্জোগী" বৈষ্ণব সৃষ্টি হইল।।*
*যেই যেই নাড়া স্ত্রীসঙ্গ ভয়ে পলাইল।।*
*আত্ম মায়াকাশে তারা রহিত হইল।।*
*সেই নাড়া যেই স্থানে আশ্রম করিল।*
*সেই সেই স্থান মহাসিদ্ধ পীঠ হইল।।*
*নারী কুম্ভিরিণী গ্রাম করিল যাহারে।*
*তারে দেখি ভক্তিদেবী পলায়ন করে।।*
*অতএব স্ত্রী সঙ্গী সঙ্গিনী দূরে করি*।
*সাধু সঙ্গে ভজ সদা গোবিন্দ মুরারি।।*
*ইন্দ্রিয়গণের সদা করিয়া দমন।*
*সর্বদা করহ কৃষ্ণ শ্রবণ কীর্তন।।*
*🌻এইভাবে প্রভু বীরচন্দ্র শাসন করে বিশুদ্ধ ভক্তি ধর্ম জগতে প্রবর্তন করেন।বীরচন্দ্র শ্রীপাট খড়দহে শ্রীশ্যামসুন্দরের শ্রীমূর্তি স্থাপন করেন।প্রেমপ্রচার কার্য্যে বীরচন্দ্র গৌড়দেশে উপনীত হলে গৌড়ের নবাব তাঁর প্রকাশিত নাম পরীক্ষা করতে চাইলেন।নবাব একদিন বাবুর্চির দ্বারা অমেধ্য-পাক করাই উত্তম বস্ত্রে সুন্দর করে জড়িয়ে প্রভুর কাছে পাঠাল।বাবুর্চি প্রভুর কাছে উপনীত হলে প্রভু পাত্রের আবরণ উন্মোচন করতে বললেন।বাবুর্চি খুলিবা মাত্র পাত্রে যাতি,যুথি,মালতী আদি ফুলের সম্ভার সকলেই দেখতে পেল।এইরকম তিনবার ঘন্টায় ঘন্টায় নবাব বিমোহিত হলেন।তখন নবাব প্রভুর শ্রীচরণে প্রণিপাত করে সবিনয়ে বললেন,আপনি আমার কিছু দান গ্রহণ করুন।নবাবের তোরণে একটি তেলুয়া পাথর শোভিত ছিল, প্রভু সেই পাথর চাইলেন,নবাব পরম আগ্রহে সেই পাথরখানি খসাইয়া প্রভুকে অর্পণ করলেন।প্রভু সেই পাথরখানি খড়দহে এনে তিনমূর্তি বিগ্রহ নির্মাণ করান।প্রথম মূর্তি খড়দহের শ্রীশ্যামসুন্দর,দ্বিতীয় সাঁইবোনার শ্রীনন্দদুলাল তৃতীয় মাহেশের শ্রীরাধাবল্লভজী এই তিন স্থানে প্রতিষ্ঠিত হন।প্রভু বীরচন্দ্রের বরে শ্রীনিবাস আচার্য্যের পুত্র শ্রীগীতগোবিন্দের জন্মগ্রহণ হয়। একদিন প্রভু বীরচন্দ্র বিষ্ণুপুরে শ্রীনিবাস আচার্য্যের ভবনে উপনীত হলেন।প্রভুর দর্শন লাভে আচার্য্য তার যথাযোগ্য সম্বোধনা করে পাকের ব্যবস্থার কথা নিবেদন করলে প্রভু বললেন,তোমার কনিষ্ঠা পত্নী পাক করবে।আচার্য্য কনিষ্ঠা পত্নী পদ্মাদেবীকে পাক কার্য্যে নিযুক্ত করলেন।ভোগ নিবেদনের পর প্রভু প্রসাদ গ্রহণ করে শয়ন করলেন।আচার্য্য সপত্নী প্রভুর সেবায় নিযুক্ত হলেন।সেই সময় প্রভু আচার্য্যকে জিজ্ঞাসা করলেন,তোমার কনিষ্ঠা পত্নীর কি পুত্র কন্যা?আচার্য্য বললেন, আপনার কৃপাই ভরসা।তখন প্রভু তাঁকে পুত্র বর প্রদান করিয়া চর্বিত তাম্বুল গ্রহণ করে গর্ভবতী হলেন।তাতেই গীতগোবিন্দের জন্ম হল।এইভাবে প্রভু বীরচন্দ্র কতককাল লীলা প্রকাশ করেন।প্রভু বীরচন্দ্র "শ্রীমতীবিষ্ণুপ্রিয়া" নামে দ্বিতীয় বিবাহ করেন।শ্রীগোপীজন বল্লভ,শ্রীরামকৃষ্ণ ও শ্রীরামচন্দ্র নামে তিন পুত্র ও এক কন্যা জন্মগ্রহণ করেন।জ্যেষ্ঠ পুত্র গোপীজন বল্লভ প্রভু মঙ্গলকোটে লতাগদী স্থাপন করেন।মধ্যম পুত্র শ্রীরামকৃষ্ণ মালদহে শ্রীপাট স্থাপন করেন এবং ছোট পুত্র শ্রীরামকৃষ্ণ খড়দহ শ্রীপাটে স্থান করে লীলার প্রকাশ করেন।ফুলিয়া নিবাসী পার্বতীচরণ মুখুটির কন্যার সঙ্গে বিবাহ হয়।এইভাবে বীরচন্দ্র লীলাকাহিনী প্রাচীন গ্রন্থাবলী হতে সংগৃহীত করিয়া লিপিবদ্ধ করিলাম।প্রভুর লীলা কাহিনী বিষয়ক শ্রীবীরচন্দ্র চরিত নামক একখানি গ্রন্থ রয়েছে।তা শ্রীপ্রেম বিলাস গ্রন্থের লেখক শ্রীনিত্যানন্দ দসের লিখিত।উক্ত গ্রন্থখানি দুষ্প্রাপ্য।(🙏আমার কাছে রয়েছে 🙏)*
*🌻নিত্যানন্দ বংশ বিস্তারে=*
*------- নিত্যানন্দ গৌরচন্দ্র একাসনে।*
*নীলাচলে এই যুক্তি করিল নির্জনে।।*
*তুমি যাও গৌড়দেশে করহ সংসার।*
*তবে এই সব লোকের হইবে নিস্তার।।*
*পুনহ আসিব আমি তোমার মন্দিরে।*
*স্বরূপ স্বভাবে তুমি জানিবা আমারে।।*
*তোমার গৃহেতে হবে আমার অবতার।*
*ভক্তি বিলাইয়া পুনঃ তারিব সংসার।।*
*🙏বানান ভুল ভ্রান্তি মার্জনীয়🙏*
*🙏বিরাম সংক্ষেপে🙏*