শ্রী মৃন্ময় নন্দী কর্ত্তৃক সকল ভক্ত👣চরণে👣অসংখ্যকোটি 🙇প্রণাম🙇 ক্লিক করুন 👇

শ্রী মৃন্ময় নন্দী কর্ত্তৃক সকল ভক্ত👣চরণে👣অসংখ্যকোটি 🙇প্রণাম🙇 ক্লিক করুন 👇

২. ভক্তি - সন্দর্ভঃ 🙏 শ্রীল জীব গোস্বামীপাদ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী গোপীশরণ দাস ➡️ এই লিংকে ক্লিক করুন ➡️ http://mrinmoynandy.blogspot.com/2022/12/blog-post_663.html

 ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
꧁ ২. ভক্তি - সন্দর্ভঃ 🙏 শ্রীল জীব গোস্বামীপাদ ꧂
       এই লিংকে ⬇️⬇️⬇️🙏⬇️⬇️⬇️ ক্লিক করুন 
      ꧁ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী গোপীশরণ দাস  ꧂
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
꧁ MrinmoyNandy.blogspot.com 👉 সূচীপত্র ꧂
       এই লিংকে ⬇️⬇️⬇️🙏⬇️⬇️⬇️ ক্লিক করুন 
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
 ꧁ টিকা বা অন্যান্য ধর্মীয় লিখনী 🙏 সূচীপত্র ꧂
       এই লিংকে ⬇️⬇️⬇️🙏⬇️⬇️⬇️ ক্লিক করুন 
     ꧁ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী গোপীশরণ দাস  ꧂
 ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
꧁ভক্তি - সন্দর্ভঃ🙏শ্রীল জীব গোস্বামীপাদ🙏সূচীপত্র꧂
       এই লিংকে ⬇️⬇️⬇️🙏⬇️⬇️⬇️ ক্লিক করুন 
      ꧁ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী গোপীশরণ দাস  ꧂
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
*#ভক্তি_সন্দর্ভঃ*
(২)
শ্রীমদ্ভাগবতে ২/৭/৪৬ শ্লোকে শ্রীব্রহ্মা শ্রীনারকে বলিয়াছেন ---
 তে বৈ বিদন্ত‍্যতিরন্তি চ দেবমায়াং
স্ত্রীশূদ্রহূনশবর অপি পাপজীবাঃ । 
যদ‍্যদ্ভুতক্রমপরায়ণশীলশিক্ষা
তির্য্যগ্ জনা অপি কিমু শ্রুতধারণা যে ।।
  স্ত্রী শূদ্র হূন শবর -- এমন কি যাহাদের পাপেই উৎপত্তি সেই বেশ‍্যাপুত্র প্রভৃতি তাহারাও যদি অদ্ভুতপরাক্রম শ্রীহরি যাহাদের একমাত্র আশ্রয় ,সেই ভগবদ্ভক্তগণের স্বভাব অনুশীলন করিতে পারেন , তাহা হইলে তাঁহারাও শ্রীভগবানের তত্ত্ব জানিতে ও তাহার মায়া অতিক্রম করিতে নিশ্চয়ই সমর্থ হন । অধিক কি , হংস গজ শুক শারী সর্প প্রভৃতিরও ভক্তসঙ্গে যদি তাহাদের আচার ও স্বভাবের অনুসরণ করিতে পারে , তাহারাও ভগবৎ তত্ত্ব জানিতে ও মায়া উত্তীর্ণ হইতে সমর্থ হইয়া থাকে । তাহা হইলে যে সকল মনুষ‍্য শ্রীগুরুমুখ হইতে শ্রীভগবানের নাম জপ প্রভৃতি শ্রবণ করিয়া শ্রবণ , কীর্ত্তন , স্মরণাদি করে , তাঁহারা যে ভগবৎতত্ত্ব জানিবে ও মায়া উত্তীর্ণ হইবে -- এ বিষয়ে সংশয় করিবার অবসর কোথায় ? এই প্রমাণে সকলেই যে ভগবদ্ভজনে অধিকারী , তাহাই দেখানো হইল । 
গরুড়পুরাণে উল্লেখ আছে--
কীটপক্ষিমৃগাঞ্চ হরৌ সংন‍্যস্তচেতসাম্ ।
উর্দ্ধামেব গতিং মন‍্যে কিং পুনঃ জ্ঞানিনাং নৃনম্ ।।
  শ্রীভগবান্ শ্রীহরিতে চিত্ত সমর্পণ করিতে পারিলে কীট , পক্ষী , মৃগ প্রভৃতির উর্দ্ধগতি লাভ হইয়া থাকে , তাহা হইলে জ্ঞানী মানবগণের যে উর্দ্ধগতি হইবে -- ইহাতে আর সংশয় করিবার কি আছে ? সাচার , দুরাচার , জ্ঞানী , বিরক্ত , বিষয়াসক্ত , মুমুক্ষু , মুক্ত , ভক্তিসিদ্ধ, ভক্তিতে অসিদ্ধ , ভগবৎপার্ষদতাপ্রাপ্ত এবং নিত‍্যপার্ষদ প্রভৃতিতে সাধারণভাবে ভক্তির ব‍্যাপ্তি দেখা যায় বলিয়াও এই ভক্তির সর্ব্বত্র অধিকার আছে । তন্মধ‍্যে সদাচারনিষ্ঠে এবং দুরাচারেও যে ভক্তির অধিকার আছে  , তাহাই---
অপি চেৎ সুদূরাচারো ভজতে মামন‍্যভাক্ ।
সাধুরেব স মন্তব্য সম‍্যগ্ ব‍্যবসিত হিঃ সঃ।।
হে উদ্ধব ! আমার ভক্ত ভক্তিপ্রারম্ভে বিষয়রাশিকর্ত্তৃক আকৃষ‍্যমান হইয়াও প্রায়শঃ সমর্থাভক্তির প্রভাবে বিষয়ের দ্বারা অভিভুত হয় না । এই প্রমাণে বিষয়াসক্তজনেও ভক্তির অধিকারিতা দেখান হইয়াছে , অতএব , বিষয়-বিরক্তজন যে ভক্তির প্রভাবে বিষয়ের দ্বারা অভিভুত হয় না -- ইহা বলাই বাহুল্য । " বাধ‍্যমানোঽপি "এই শ্লোকস্থ অপি শব্দের দ্বারা এই অর্থই ধ্বনিত হইতেছে । মুমুক্ষু , মুক্তপুরুষে যে ভক্তির বৃত্তি আছে , তাহা এই নিম্ন শ্লোকে দেখাইতেছেন ---
মুমুক্ষবো ঘোররূপাং হিত্বা ভূতপতীনথ ।
নারায়ণকলাঃ শান্তা ভজন্তি হ‍্যনসুয়বঃ ।।
   অর্থাৎ শ্রীসুত গোস্বামী কহিলেন--হে শৌনক ! আবিদ‍্যা-বন্ধন হইতে যাহারা মুক্তি ইচ্ছা করেন , সেই মুমুক্ষু মানবগণ ঘোরমূর্ত্তি ভৈরবাদিকে পরিত‍্যাগ করিয়া শান্তমূর্ত্তি শ্রীনারায়ণের বিভূতিসকলকে উপাসনা করিয়া থাকেন । কিন্তু দেবতান্তরের প্রতি কোনপ্রকার দোষদৃষ্টি করেন না । এই শ্লোকে মুমুক্ষুজনে হরিভক্তির বৃত্তি দেখান হইয়াছে । " *আত্মারামাশ্চমুনয়ো নির্গ্রন্থা অপ্যুরুক্রমে।কুর্ব্বন্ত‍্যহৈতুকীং ভক্তিমিত্থম্ভুতো গুণো হরিঃ ।‌।* 
হে শৌনক ! অহঙ্কাররূপ চিৎ জড়ের গ্রন্থি হইতে নির্মুক্ত আত্মারাম মুনীশ্বরগণও শ্রীহরিগুণে আকৃষ্ট হইয়া শ্রীহরিতে অহৈতুকি ভক্তি করিয়া থাকেন । এই শ্রীমদ্ভগবতে ১ । ৭ । ১০ শ্লোকের প্রমাণে মুক্তপুরুষেও শ্রীহরিভক্তির বৃত্তি দেখান হইয়াছে । যে জন ভক্তিতে অসিদ্ধ অর্থাৎ অজাতরতি এবং ভক্তিসাধনে যে জন সিদ্ধ হইয়াছেন অর্থাৎ হরিতে রতি লাভ করিয়াছেন , এই উভয়বিধ , অধিকারীতে ভক্তির বৃত্তি আছে । যথা ---
" কেচিৎ কেবলয়া ভক্ত‍্যা বাসুদেবপরায়ণঃ ।
অঘং ধুন্বন্তি কাৎর্স্ন‍্যেন নীহারমিব ভাস্করঃ ।।"
  ইহলোকে এবং পরলোকে যত প্রকার ফলপ্রাপ্তির সম্ভাবনা , সমস্ত প্রকার ফল প্রাপ্তিতেই ভগবদ্ভক্তির অনুবৃত্তি আছে , যথা --- 
অকামঃ সর্ব্বকামো বা মোক্ষকাম উদারধীঃ ।
তীব্রেণ ভক্তিযোগেন যজতে পুরুষং পরম্ ।।
 উদার বুদ্ধিবিশিষ্ট এবং একান্ত ভক্তগণ , যদি কোনপ্রকার কাম‍্যফল প্রার্থী হয়েন আর নাই হয়েন , কিম্বা যদি সমস্ত বিষয়েই কামনাবিশিষ্ট হয়েন অথবা মুক্তিলিপ্সুই যদি হয়েন , তাহা হইলেও তাঁহারা তীব্র ভক্তিযোগে পরমপুরুষ ভগবানকেই আরাধনা করিয়া থাকেন ।
  এই প্রমাণে সমস্ত ফলপ্রাপ্তিতে যে ভগবদভক্তির অনুবৃত্তি আছে , তাহা স্থিরীকৃত হইল ।
  যথা তরোর্মূল নিষেচনেন তৃপ‍্যন্তি তৎস্কন্ধভুজোপশাখাঃ ।
প্রাণোপহারাচ্চ যথেন্দ্রিয়ানাং তথৈব সর্ব্বার্হনমচ‍্যুতেজ‍্যা ।।
  যে প্রকার বৃক্ষমূলে জল অর্পণ করিলে বৃক্ষের স্কন্ধ , শাখা , উপশাখা , ফলপুষ্প প্রভৃতি সকলেই তৃপ্তি প্রাপ্ত হয় , যে প্রকার ভোজন করিলে সমস্ত ইন্দ্রিয় তৃপ্ত হয় , তদ্রূপ অচ‍্যুতের অর্চ্চন করিলেই সকল দেবতার পূজা নিষ্পন্ন হইয়া যায় । 
  এই বাক‍্যদ্বারা শ্রীহরিপূজা করিলে অন‍্যান‍্য সকল দেবতার পূজা যে স্বতঃই নিস্পন্ন হয় , তাহাই বলা হইল । এইজন‍্য  শ্রীহরিভক্তির সার্ব্বত্রিকতা  কথিত হইল ।
 স্কন্ধপুরাণে ব্রহ্মানারদসংবাদে এই প্রকারই উক্ত হইয়াছে ।
অর্চ্চিতে দেবদেবেশ শঙ্খ- চক্র-গদাধর ।
অর্চ্চিতাঃ সর্ব্বদেবাঃ স‍্যু যতঃ সর্ব্বগতো হরিঃ ।।
  শঙ্খ চক্র গদাধর দেবদেব অর্চ্চিত হইলে সমস্ত দেবতাই অর্চ্চিত হইলে সমস্ত দেবতাই অর্চ্চিত হইয়া থাকেন । যেহেতু শ্রীহরি সর্ব্বদেবময় ইত্যাদি ।
     এই প্রকার যিনি হরিভক্তি করেন , যে গো প্রভৃতি জন্তু ভগবান্ কে অর্পণ করা হয় , যে ব‍্যক্তিকে অবলম্বন করিয়া ভক্তি করা হয় , শ্রীভগবানের প্রীতি কামনা করিয়া যাহাকে দান করা হয় এবং যে দেশাদিতে বা যে কুলে কোন লোক যদি ভক্তি অনুষ্ঠান করেন , ইহাদের সকলেই কৃতার্থতা লাভ করেন -- ইহা পুরাণ সকলে দেখা যায় । এই প্রকারে সকল কারকেই ভগবদ্ভক্তির অনুবৃত্তি সাধিত হইল ।
  শ্রীহরিভক্তি যে পূর্ব্বকালে ছিলেন এবং বর্ত্তমানে আছেন এবং ভবিষ্যতেও থাকিবেন , তাহা সম্প্রতি বলা হইতেছে। যথা --- 
কালেন নষ্টা প্রলয়ে বাণীয়ং বেদসংজ্ঞিতা ।
ময়াদৌ ব্রহ্মণে প্রোক্তো ধর্ম্মো যস‍্যাং মদাত্মকঃ ।।      শ্রীমদ্ভাগবত--১১/১৪/৩
ক্রমশ...
(সংগৃহীত)

GOPISARAN DAS
http­//MrinmoyNandy.blogspot.com/2022/12/blogéôépost_30.html
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
⬇️⬇️⬇️এই লিখনী 📚 PDF 📚 ক্লিক করুন⬇️⬇️⬇️
 ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧

 
 ✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️
           ꧁ লিখনী সেবা- শ্রী গোপীশরণ দাস ꧂
নিবাস-শ্রীশ্রীনিত্যানন্দ প্রভুর জন্মস্থান, একচক্রা, বীরভূম, পশ্চিমবঙ্গ। 
DEMOCRATIC NITYANANDA (Facebook Group) 👉 https://www.facebook.com/groups/1370545549769377/?ref=share
 ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏
আমায় দেওয়া ওনার এই অমূল্য লিখনী সেবা, তা সকলের মধ্যে প্রকাশ করলাম। ওনার এই অমূল্য দান সমগ্র বৈষ্ণব সমাজ অনন্তকাল মনে রাখিবে।
🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
    *••••┉━❀꧁ 🙏 রাধে রাধে 🙏 ꧂❀━┅••••* 
                   শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য প্রভু নিত্যানন্দ
              হরে কৃষ্ণ হরে রাম শ্রীরাধেগোবিন্দ।।
  *••••┉━❀꧁ 🙏 জয় জগন্নাথ 🙏 ꧂❀━┅••••*
              হরে কৃষ্ণ হরে কৃষ্ণ কৃষ্ণ কৃষ্ণ হরে হরে
              হরে রাম হরে রাম রাম রাম হরে হরে॥
  *••••┉━❀꧁ 🙏 জয় রাধাকান্ত 🙏 ꧂ ❀━┅••••*
   💮❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀💮
   💮❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀💮
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧


শ্রীশ্রীসিদ্ধ কৃষ্ণদাস বাবাজী মহারাজ - রণবাড়ি ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী গোপীশরণ দাস ➡️ এই লিংকে ক্লিক করুন ➡️ http://mrinmoynandy.blogspot.com/2022/12/blog-post_436.html

 ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧       ꧁ শ্রীশ্রীসিদ্ধ কৃষ্ণদাস বাবাজী মহারাজ - রণবাড়ি꧂
       এই লিংকে ⬇️⬇️⬇️🙏⬇️⬇️⬇️ ক্লিক করুন 
      ꧁ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী গোপীশরণ দাস  ꧂
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
 ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
꧁ MrinmoyNandy.blogspot.com 👉 সূচীপত্র ꧂
       এই লিংকে ⬇️⬇️⬇️🙏⬇️⬇️⬇️ ক্লিক করুন 
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
 ꧁ টিকা বা অন্যান্য ধর্মীয় লিখনী 🙏 সূচীপত্র ꧂
       এই লিংকে ⬇️⬇️⬇️🙏⬇️⬇️⬇️ ক্লিক করুন 
     ꧁ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী গোপীশরণ দাস  ꧂
 ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
*শ্রীশ্রীসিদ্ধ কৃষ্ণদাস বাবাজী মহারাজ - রণবাড়ি* 
 (রণবাড়ি)

পূর্বনাম-শ্রীকৃষ্ণপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায় ।জন্মস্থান -যশোর জেলার অন্তর্গত মহম্মদপুর গ্রাম।বিবাহের প্রস্তাব হলে শেষ রাত্রে গৃহত্যাগ করেন ও হাঁটাপথে বৃন্দাবনে উপস্থিত হন।কয়েকদিন মদনমোহনের সেবায় থেকে রণবাড়িতে এসে ছোট্ট কুটির নির্মাণ করত ভজন করতে লাগলেন। দীর্ঘ 50 বৎসর যাবৎ তথায় ভজন করার পরে মনে হল ছোটবেলায় ঘর ছেড়ে এসেছি, কোন তির্থাদি দর্শন হয় নাই, তাই চারধাম যাত্রা করব। শ্রীপ্রিয়াজী রাত্রে স্বপ্নে আদেশ করলেন- *তুমি বৃন্দাবনে আমার চরণে এসেছ।এধাম ছেড়ে যেওনা। এখানে থেকে ভজন কর। এতেই তোমার সর্বসিদ্ধি লাভ হবে। তীর্থাদি ভ্রমনের প্রয়োজন নাই।* তিনি কিন্তু প্রিয়াজীর স্বপ্নাদেশকে  স্বমনোবুদ্ধিজাত কল্পনা বলিয়া গ্রাহ্য করলেন না। তীর্থযাত্রায় বেরিয়ে পড়লেন । ভ্রমণ করতে করতে দ্বারকা গিয়ে তপ্তমুদ্রাদি ধারণ করলেন।চার সম্প্রদায়ের বৈষ্ণবগণ দ্বারকায় গেলে তপ্তমুদ্রা ধারণ করেন। গৃহস্থরা শীতল মুদ্রা ও বিরক্তগণ তপ্তমুদ্রা।ইহা কিন্তু শ্রীবৃন্দাবনের রাগানুগীয় বৈষ্ণবগণের (পরম্পরা) সদাচার সম্মত নয়। কিন্তু শ্রীহরিভক্তি বিলাসে ব্যবস্থা রয়েছে। বাবাজি মহাশয়ও ব্রজের সদাচার উপেক্ষা করতঃ( না জানার কারণে) শ্রীহরিভক্তি বিলাসের মতে মুদ্রাদি গ্রহণ করলেন। তারপর থেকে তার চিত্তে বিক্ষেপ আসিল। তীর্থভ্রমণে অরুচি হয়ে গেল। দ্বারকা থেকে ব্রজে চলে আসলেন। যেদিন ব্রজে আসলেন সেদিন রাত্রে শ্রীরাধারানী আবার তাঁকে স্বপ্নে বললেন- "তুমি দ্বারকায় তপ্তমুদ্রা ধারণ করে সত্যভামার গণভুক্ত হয়েছ, অতএব তুমি ব্রজবাসের উপযোগী নও,দ্বারকাতেই চলে যাও।" এবারে কিন্তু তার স্বপ্নটি মনকল্পিত বলে বোধ হল না‌। কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয়ে তিনি সিদ্ধ মহাত্মাদেরকে জিজ্ঞাসা করলেন- তারাও শ্রীপ্রিয়াজীর আদেশানুরূপকথাই বললেন।একবার গোবর্ধনে আসলেন। গোবর্ধনের সিদ্ধবাবার তার নাম সাম্যে সখ্যতা ছিল। রণবাড়ির সিদ্ধ বাবা তার কাছে আসলে তিনি পূর্ববৎ গাঢ় আলিঙ্গন করত জিজ্ঞাসা করলেন। এতদিন কোথায় ছিলেন! তার উত্তরে তিনি বললেন আমি দ্বারকা গিয়েছিলাম‌ এই দেখুন তপ্তমুদ্রা লাগিয়েছি। এ কথা শুনে গোবর্ধনের সিদ্ধ বাবা সেস্থান হতে একটু সরিয়া দীর্ঘ নিঃশ্বাস ত্যাগ করত বললেন-"অহো!আজ হতে আপনার স্পর্শের যোগ্যতা আমার সম্পূর্ণ বিনষ্ট হল। কোথায় আপনি মহারাজ রাজেশ্বরীর সেবিকা আর কোথায় আমি গোয়ালিনীর দাসী!!"একথা শুনে রণবাড়ির সিদ্ধ বাবা কিছুক্ষণ স্তম্ভিত হয়ে পরে প্রণাম করে চলে গেলেন। এর কোন প্রতিকার আছে কিনা জিজ্ঞাসার উত্তরে বৈষ্ণবগণ বললেন- শ্রীপ্রিয়াজীর সাক্ষাৎ আদেশের উপর অন্য কোনও উপদেশ মনোবুদ্ধির অগোচর। হতাশ হয়ে তিনি অন্নজল পরিত্যাগ করলেন। কৃতকার্যের অনুতাপে ও প্রিয়াজির বিরহানলে তাঁর হৃদয় দগ্ধ হতে লাগল। প্রবাদ আছে- এইভাবে বাবাজি মহাশয় তিন মাস পর্যন্ত ছিলেন। তারপর ভিতরের অগ্নি বাইরে ফুটে উঠল। চরণ হতে মস্তক পর্যন্ত তিন দিনে ক্রমশ দগ্ধ হয়ে ভস্মে পরিণত হচ্ছিল। শ্রীসিদ্ধজগন্নাথ দাস বাবাজী মহাশয়ের বাহন শ্রীবিহারী দাস বাবা বললেন, যে ঐদিন সিদ্ধ বাবা রণবাড়িতে উপস্থিত ছিলেন। অদূরে একটি গৃহে তিনি শেষ রাত্রে বিহারীদাস জী কে ডেকে বললেন- বিহারী! দেখ্ তো ওই ঘরের ভিতরে কি হচ্ছে ? তিনি অনুসন্ধান ক্রমে জানলেন সিদ্ধ বাবার দেহ দগ্ধ হচ্ছে ।ভেতর থেকে বন্ধ ছিল তাই সবিশেষ জানতে না পেরে সিদ্ধ বাবার নিকট এসে সব কথা বললেন। সিদ্ধ বাবা বলে উঠলেন, "অহো! বিরহানল!বিরহানল!!"এই বলে তিনি বিহারীজীর কাঁধে চেপে ঐ ঘরের দ্বারে উপস্থিত হলেন। দরজা ভেঙে ভিতরে প্রবেশ করলেন এবং দেখলেন কণ্ঠ পর্যন্ত আগুন উঠেছে কিন্তু উপরে উঠছে না। তিনি বিহারীজিকে একটু তুলো আনতে আদেশ করলেন, বিহারী তুলা এনে সিদ্ধ আবার হাতে দিলে তিনি পাকিয়ে তিনটে পলিতা করে রণবাড়ির বাবাজি মহাশয়ের মাথায় দিলে দপ্ করে জ্বলে সব দেহ ভস্মিভূত হল। যখন আগুন তার বুক পর্যন্ত এসেছিল তখনও স্ফুট ভাবে তার মুখে নাম উচ্চারণ হচ্ছিল। ব্রজবাসীগণ কাতর প্রাণে তার দিকে তাকিয়ে থাকলে তখনও তিনি হাত উপরে তুলে বলেছিলেন- তোমাদের গ্রামে কখনও দুঃখ হবে না। সর্বত্র দুর্ভিক্ষ মহামারী হলেও তোমাদের গ্রামে কিছুই হবেনা। অদ্যাপি তার বাণীর প্রত্যক্ষ প্রমাণ দেখা যায়। সিদ্ধ বাবার দেহ দগ্ধ হচ্ছে সংবাদ পেয়ে স্থানীয় মুসলমান দারোগা ও এক হিন্দু তহশীলদার এসে সে স্থানে উপস্থিত হন। শোনা যায় মুসলমান সামনে গেলে অগ্নিনির্বাপিত হয় সরে গেলে আবার জ্বলে উঠে এই ব্যাপার দেখে হিন্দু তহশীলদার প্রচুর ঘি এনে সিদ্ধ বাবার দেহে অর্পণ করেছিলেন। তিনি যেভাবে বসে দেহভস্ম করেছিলেন এখনও সেই ভাবে সমাধিটি দৃশ্য হচ্ছে। সিদ্ধ বাবার দগ্ধ দেহের ভস্মরাশি শীতল হওয়ার কিছুদিন পরে তার গুরুভাই শ্রীপ্রেমদাস বাবাজী মহাশয় এসে বললেন - "ভাই! আপনি তো আমার হাতের কাষ্ঠ নিলেন না ।আমি এই কাষ্ঠ দিলাম। এই বলিয়া সেই ভস্মরাশিতে কাষ্ঠ দেওয়া মাত্রই  জ্বলতে লাগল। সিদ্ধ বাবার সমাধির নিকট এসে যে যা প্রার্থনা করে তাই পূর্ণ হয় বলে ব্রজবাসী গণের দৃঢ় বিশ্বাস।
সিদ্ধ বাবা এখানকার ব্রজবাসীদের আদেশ করেছিলেন -তারা যেন ফাল্গুনী শুক্লা একাদশী তিথি অবশ্য পালন করে এবং শ্রীহরিবাসরে জাগরণ করে। এখনও এখানকার ব্রজবাসীগণ ঐ তিথি বিশেষভাবে পালন করে। সেই উপলক্ষে সেখানে ভগবদ লীলা কীর্তন ও অভিনয়াদি করেন। পৌষী অমাবস্যাই তাঁর বিরহতিথি_ এই উপলক্ষে সেখানকার ব্রজবাসীরাই চাঁদা তুলে চৌরাশি ক্রোশের বৈষ্ণবগণকে ভোজন করিয়ে আসছেন।

রাধারানী সিদ্ধ বাবার মাধ্যমে আমাদের শিক্ষা দিলেন নিষ্ঠা কাকে বলে।
 বিরহ কাকে বলে জগজীবকে দেখালেন। বিরহের কি প্রতাপ! ভেতরে পুড়িয়ে বাইরে ও প্রকট হয়ে গেলেন।

ধন্য সিদ্ধ বাবার ইষ্টনিষ্ঠা !
জয় হোক শ্রীপ্রিয়াজীর!!

মালপোয়া আর একটা তরকারি  পূরণ করে মহোৎসব হয়।।
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
⬇️⬇️⬇️এই লিখনী 📚 PDF 📚 ক্লিক করুন⬇️⬇️⬇️
 ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧

 
 ✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️
           ꧁ লিখনী সেবা- শ্রী গোপীশরণ দাস ꧂
নিবাস-শ্রীশ্রীনিত্যানন্দ প্রভুর জন্মস্থান, একচক্রা, বীরভূম, পশ্চিমবঙ্গ। 
DEMOCRATIC NITYANANDA (Facebook Group) 👉 https://www.facebook.com/groups/1370545549769377/?ref=share
 ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏
আমায় দেওয়া ওনার এই অমূল্য লিখনী সেবা, তা সকলের মধ্যে প্রকাশ করলাম। ওনার এই অমূল্য দান সমগ্র বৈষ্ণব সমাজ অনন্তকাল মনে রাখিবে।
🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
    *••••┉━❀꧁ 🙏 রাধে রাধে 🙏 ꧂❀━┅••••* 
                   শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য প্রভু নিত্যানন্দ
              হরে কৃষ্ণ হরে রাম শ্রীরাধেগোবিন্দ।।
  *••••┉━❀꧁ 🙏 জয় জগন্নাথ 🙏 ꧂❀━┅••••*
              হরে কৃষ্ণ হরে কৃষ্ণ কৃষ্ণ কৃষ্ণ হরে হরে
              হরে রাম হরে রাম রাম রাম হরে হরে॥
  *••••┉━❀꧁ 🙏 জয় রাধাকান্ত 🙏 ꧂ ❀━┅••••*
   💮❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀💮
   💮❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀💮
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧


শ্রীশ্রীসিদ্ধ কৃষ্ণদাস বাবাজী মহারাজ - রণবাড়ি ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী গোপীশরণ দাস ➡️ এই লিংকে ক্লিক করুন ➡️ http://mrinmoynandy.blogspot.com/2022/12/blog-post_436.html

 ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧       ꧁ শ্রীশ্রীসিদ্ধ কৃষ্ণদাস বাবাজী মহারাজ - রণবাড়ি꧂
       এই লিংকে ⬇️⬇️⬇️🙏⬇️⬇️⬇️ ক্লিক করুন 
      ꧁ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী গোপীশরণ দাস  ꧂
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
 ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
꧁ MrinmoyNandy.blogspot.com 👉 সূচীপত্র ꧂
       এই লিংকে ⬇️⬇️⬇️🙏⬇️⬇️⬇️ ক্লিক করুন 
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
 ꧁ টিকা বা অন্যান্য ধর্মীয় লিখনী 🙏 সূচীপত্র ꧂
       এই লিংকে ⬇️⬇️⬇️🙏⬇️⬇️⬇️ ক্লিক করুন 
     ꧁ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী গোপীশরণ দাস  ꧂
 ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
*শ্রীশ্রীসিদ্ধ কৃষ্ণদাস বাবাজী মহারাজ - রণবাড়ি* 
 (রণবাড়ি)

পূর্বনাম-শ্রীকৃষ্ণপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায় ।জন্মস্থান -যশোর জেলার অন্তর্গত মহম্মদপুর গ্রাম।বিবাহের প্রস্তাব হলে শেষ রাত্রে গৃহত্যাগ করেন ও হাঁটাপথে বৃন্দাবনে উপস্থিত হন।কয়েকদিন মদনমোহনের সেবায় থেকে রণবাড়িতে এসে ছোট্ট কুটির নির্মাণ করত ভজন করতে লাগলেন। দীর্ঘ 50 বৎসর যাবৎ তথায় ভজন করার পরে মনে হল ছোটবেলায় ঘর ছেড়ে এসেছি, কোন তির্থাদি দর্শন হয় নাই, তাই চারধাম যাত্রা করব। শ্রীপ্রিয়াজী রাত্রে স্বপ্নে আদেশ করলেন- *তুমি বৃন্দাবনে আমার চরণে এসেছ।এধাম ছেড়ে যেওনা। এখানে থেকে ভজন কর। এতেই তোমার সর্বসিদ্ধি লাভ হবে। তীর্থাদি ভ্রমনের প্রয়োজন নাই।* তিনি কিন্তু প্রিয়াজীর স্বপ্নাদেশকে  স্বমনোবুদ্ধিজাত কল্পনা বলিয়া গ্রাহ্য করলেন না। তীর্থযাত্রায় বেরিয়ে পড়লেন । ভ্রমণ করতে করতে দ্বারকা গিয়ে তপ্তমুদ্রাদি ধারণ করলেন।চার সম্প্রদায়ের বৈষ্ণবগণ দ্বারকায় গেলে তপ্তমুদ্রা ধারণ করেন। গৃহস্থরা শীতল মুদ্রা ও বিরক্তগণ তপ্তমুদ্রা।ইহা কিন্তু শ্রীবৃন্দাবনের রাগানুগীয় বৈষ্ণবগণের (পরম্পরা) সদাচার সম্মত নয়। কিন্তু শ্রীহরিভক্তি বিলাসে ব্যবস্থা রয়েছে। বাবাজি মহাশয়ও ব্রজের সদাচার উপেক্ষা করতঃ( না জানার কারণে) শ্রীহরিভক্তি বিলাসের মতে মুদ্রাদি গ্রহণ করলেন। তারপর থেকে তার চিত্তে বিক্ষেপ আসিল। তীর্থভ্রমণে অরুচি হয়ে গেল। দ্বারকা থেকে ব্রজে চলে আসলেন। যেদিন ব্রজে আসলেন সেদিন রাত্রে শ্রীরাধারানী আবার তাঁকে স্বপ্নে বললেন- "তুমি দ্বারকায় তপ্তমুদ্রা ধারণ করে সত্যভামার গণভুক্ত হয়েছ, অতএব তুমি ব্রজবাসের উপযোগী নও,দ্বারকাতেই চলে যাও।" এবারে কিন্তু তার স্বপ্নটি মনকল্পিত বলে বোধ হল না‌। কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয়ে তিনি সিদ্ধ মহাত্মাদেরকে জিজ্ঞাসা করলেন- তারাও শ্রীপ্রিয়াজীর আদেশানুরূপকথাই বললেন।একবার গোবর্ধনে আসলেন। গোবর্ধনের সিদ্ধবাবার তার নাম সাম্যে সখ্যতা ছিল। রণবাড়ির সিদ্ধ বাবা তার কাছে আসলে তিনি পূর্ববৎ গাঢ় আলিঙ্গন করত জিজ্ঞাসা করলেন। এতদিন কোথায় ছিলেন! তার উত্তরে তিনি বললেন আমি দ্বারকা গিয়েছিলাম‌ এই দেখুন তপ্তমুদ্রা লাগিয়েছি। এ কথা শুনে গোবর্ধনের সিদ্ধ বাবা সেস্থান হতে একটু সরিয়া দীর্ঘ নিঃশ্বাস ত্যাগ করত বললেন-"অহো!আজ হতে আপনার স্পর্শের যোগ্যতা আমার সম্পূর্ণ বিনষ্ট হল। কোথায় আপনি মহারাজ রাজেশ্বরীর সেবিকা আর কোথায় আমি গোয়ালিনীর দাসী!!"একথা শুনে রণবাড়ির সিদ্ধ বাবা কিছুক্ষণ স্তম্ভিত হয়ে পরে প্রণাম করে চলে গেলেন। এর কোন প্রতিকার আছে কিনা জিজ্ঞাসার উত্তরে বৈষ্ণবগণ বললেন- শ্রীপ্রিয়াজীর সাক্ষাৎ আদেশের উপর অন্য কোনও উপদেশ মনোবুদ্ধির অগোচর। হতাশ হয়ে তিনি অন্নজল পরিত্যাগ করলেন। কৃতকার্যের অনুতাপে ও প্রিয়াজির বিরহানলে তাঁর হৃদয় দগ্ধ হতে লাগল। প্রবাদ আছে- এইভাবে বাবাজি মহাশয় তিন মাস পর্যন্ত ছিলেন। তারপর ভিতরের অগ্নি বাইরে ফুটে উঠল। চরণ হতে মস্তক পর্যন্ত তিন দিনে ক্রমশ দগ্ধ হয়ে ভস্মে পরিণত হচ্ছিল। শ্রীসিদ্ধজগন্নাথ দাস বাবাজী মহাশয়ের বাহন শ্রীবিহারী দাস বাবা বললেন, যে ঐদিন সিদ্ধ বাবা রণবাড়িতে উপস্থিত ছিলেন। অদূরে একটি গৃহে তিনি শেষ রাত্রে বিহারীদাস জী কে ডেকে বললেন- বিহারী! দেখ্ তো ওই ঘরের ভিতরে কি হচ্ছে ? তিনি অনুসন্ধান ক্রমে জানলেন সিদ্ধ বাবার দেহ দগ্ধ হচ্ছে ।ভেতর থেকে বন্ধ ছিল তাই সবিশেষ জানতে না পেরে সিদ্ধ বাবার নিকট এসে সব কথা বললেন। সিদ্ধ বাবা বলে উঠলেন, "অহো! বিরহানল!বিরহানল!!"এই বলে তিনি বিহারীজীর কাঁধে চেপে ঐ ঘরের দ্বারে উপস্থিত হলেন। দরজা ভেঙে ভিতরে প্রবেশ করলেন এবং দেখলেন কণ্ঠ পর্যন্ত আগুন উঠেছে কিন্তু উপরে উঠছে না। তিনি বিহারীজিকে একটু তুলো আনতে আদেশ করলেন, বিহারী তুলা এনে সিদ্ধ আবার হাতে দিলে তিনি পাকিয়ে তিনটে পলিতা করে রণবাড়ির বাবাজি মহাশয়ের মাথায় দিলে দপ্ করে জ্বলে সব দেহ ভস্মিভূত হল। যখন আগুন তার বুক পর্যন্ত এসেছিল তখনও স্ফুট ভাবে তার মুখে নাম উচ্চারণ হচ্ছিল। ব্রজবাসীগণ কাতর প্রাণে তার দিকে তাকিয়ে থাকলে তখনও তিনি হাত উপরে তুলে বলেছিলেন- তোমাদের গ্রামে কখনও দুঃখ হবে না। সর্বত্র দুর্ভিক্ষ মহামারী হলেও তোমাদের গ্রামে কিছুই হবেনা। অদ্যাপি তার বাণীর প্রত্যক্ষ প্রমাণ দেখা যায়। সিদ্ধ বাবার দেহ দগ্ধ হচ্ছে সংবাদ পেয়ে স্থানীয় মুসলমান দারোগা ও এক হিন্দু তহশীলদার এসে সে স্থানে উপস্থিত হন। শোনা যায় মুসলমান সামনে গেলে অগ্নিনির্বাপিত হয় সরে গেলে আবার জ্বলে উঠে এই ব্যাপার দেখে হিন্দু তহশীলদার প্রচুর ঘি এনে সিদ্ধ বাবার দেহে অর্পণ করেছিলেন। তিনি যেভাবে বসে দেহভস্ম করেছিলেন এখনও সেই ভাবে সমাধিটি দৃশ্য হচ্ছে। সিদ্ধ বাবার দগ্ধ দেহের ভস্মরাশি শীতল হওয়ার কিছুদিন পরে তার গুরুভাই শ্রীপ্রেমদাস বাবাজী মহাশয় এসে বললেন - "ভাই! আপনি তো আমার হাতের কাষ্ঠ নিলেন না ।আমি এই কাষ্ঠ দিলাম। এই বলিয়া সেই ভস্মরাশিতে কাষ্ঠ দেওয়া মাত্রই  জ্বলতে লাগল। সিদ্ধ বাবার সমাধির নিকট এসে যে যা প্রার্থনা করে তাই পূর্ণ হয় বলে ব্রজবাসী গণের দৃঢ় বিশ্বাস।
সিদ্ধ বাবা এখানকার ব্রজবাসীদের আদেশ করেছিলেন -তারা যেন ফাল্গুনী শুক্লা একাদশী তিথি অবশ্য পালন করে এবং শ্রীহরিবাসরে জাগরণ করে। এখনও এখানকার ব্রজবাসীগণ ঐ তিথি বিশেষভাবে পালন করে। সেই উপলক্ষে সেখানে ভগবদ লীলা কীর্তন ও অভিনয়াদি করেন। পৌষী অমাবস্যাই তাঁর বিরহতিথি_ এই উপলক্ষে সেখানকার ব্রজবাসীরাই চাঁদা তুলে চৌরাশি ক্রোশের বৈষ্ণবগণকে ভোজন করিয়ে আসছেন।

রাধারানী সিদ্ধ বাবার মাধ্যমে আমাদের শিক্ষা দিলেন নিষ্ঠা কাকে বলে।
 বিরহ কাকে বলে জগজীবকে দেখালেন। বিরহের কি প্রতাপ! ভেতরে পুড়িয়ে বাইরে ও প্রকট হয়ে গেলেন।

ধন্য সিদ্ধ বাবার ইষ্টনিষ্ঠা !
জয় হোক শ্রীপ্রিয়াজীর!!

মালপোয়া আর একটা তরকারি  পূরণ করে মহোৎসব হয়।।
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
⬇️⬇️⬇️এই লিখনী 📚 PDF 📚 ক্লিক করুন⬇️⬇️⬇️
 ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧

 
 ✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️
           ꧁ লিখনী সেবা- শ্রী গোপীশরণ দাস ꧂
নিবাস-শ্রীশ্রীনিত্যানন্দ প্রভুর জন্মস্থান, একচক্রা, বীরভূম, পশ্চিমবঙ্গ। 
DEMOCRATIC NITYANANDA (Facebook Group) 👉 https://www.facebook.com/groups/1370545549769377/?ref=share
 ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏
আমায় দেওয়া ওনার এই অমূল্য লিখনী সেবা, তা সকলের মধ্যে প্রকাশ করলাম। ওনার এই অমূল্য দান সমগ্র বৈষ্ণব সমাজ অনন্তকাল মনে রাখিবে।
🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
    *••••┉━❀꧁ 🙏 রাধে রাধে 🙏 ꧂❀━┅••••* 
                   শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য প্রভু নিত্যানন্দ
              হরে কৃষ্ণ হরে রাম শ্রীরাধেগোবিন্দ।।
  *••••┉━❀꧁ 🙏 জয় জগন্নাথ 🙏 ꧂❀━┅••••*
              হরে কৃষ্ণ হরে কৃষ্ণ কৃষ্ণ কৃষ্ণ হরে হরে
              হরে রাম হরে রাম রাম রাম হরে হরে॥
  *••••┉━❀꧁ 🙏 জয় রাধাকান্ত 🙏 ꧂ ❀━┅••••*
   💮❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀💮
   💮❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀💮
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧


অষ্টোত্তর শতশ্রী শ্রীল ব্রজরাখাল দাসজীর জীবন চরিত 🙏 চারিযুগের ভক্তগাঁথা ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী গোপীশরণ দাস 🙏 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2022/12/blog-post_476.html

 ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
꧁ অষ্টোত্তর শতশ্রী শ্রীল ব্রজরাখাল দাসজীর জীবন চরিত ꧂
       এই লিংকে ⬇️⬇️⬇️🙏⬇️⬇️⬇️ ক্লিক করুন 
      ꧁ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী গোপীশরণ দাস  ꧂
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
 ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
꧁ MrinmoyNandy.blogspot.com 👉 সূচীপত্র ꧂
       এই লিংকে ⬇️⬇️⬇️🙏⬇️⬇️⬇️ ক্লিক করুন 
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
 ꧁ টিকা বা অন্যান্য ধর্মীয় লিখনী 🙏 সূচীপত্র ꧂
       এই লিংকে ⬇️⬇️⬇️🙏⬇️⬇️⬇️ ক্লিক করুন 
     ꧁ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী গোপীশরণ দাস  ꧂
 ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
⬇️⬇️⬇️এই লিখনী 📚 PDF 📚 ক্লিক করুন⬇️⬇️⬇️
 ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧

 
 ✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️
           ꧁ লিখনী সেবা- শ্রী গোপীশরণ দাস ꧂
নিবাস-শ্রীশ্রীনিত্যানন্দ প্রভুর জন্মস্থান, একচক্রা, বীরভূম, পশ্চিমবঙ্গ। 
DEMOCRATIC NITYANANDA (Facebook Group) 👉 https://www.facebook.com/groups/1370545549769377/?ref=share
 ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏
আমায় দেওয়া ওনার এই অমূল্য লিখনী সেবা, তা সকলের মধ্যে প্রকাশ করলাম। ওনার এই অমূল্য দান সমগ্র বৈষ্ণব সমাজ অনন্তকাল মনে রাখিবে।
🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
    *••••┉━❀꧁ 🙏 রাধে রাধে 🙏 ꧂❀━┅••••* 
                   শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য প্রভু নিত্যানন্দ
              হরে কৃষ্ণ হরে রাম শ্রীরাধেগোবিন্দ।।
  *••••┉━❀꧁ 🙏 জয় জগন্নাথ 🙏 ꧂❀━┅••••*
              হরে কৃষ্ণ হরে কৃষ্ণ কৃষ্ণ কৃষ্ণ হরে হরে
              হরে রাম হরে রাম রাম রাম হরে হরে॥
  *••••┉━❀꧁ 🙏 জয় রাধাকান্ত 🙏 ꧂ ❀━┅••••*
   💮❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀💮
   💮❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀💮
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧


অষ্টোত্তর শতশ্রী শ্রীল ব্রজরাখাল দাসজীর জীবন চরিত 🙏 চারিযুগের ভক্তগাঁথা ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী গোপীশরণ দাস 🙏 এই লিংকে ক্লিক করুন ➡️ http://mrinmoynandy.blogspot.com/2022/12/blog-post_476.html

 ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
꧁ অষ্টোত্তর শতশ্রী শ্রীল ব্রজরাখাল দাসজীর জীবন চরিত ꧂
       এই লিংকে ⬇️⬇️⬇️🙏⬇️⬇️⬇️ ক্লিক করুন 
      ꧁ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী গোপীশরণ দাস  ꧂
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
 ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
꧁ MrinmoyNandy.blogspot.com 👉 সূচীপত্র ꧂
       এই লিংকে ⬇️⬇️⬇️🙏⬇️⬇️⬇️ ক্লিক করুন 
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
 ꧁ টিকা বা অন্যান্য ধর্মীয় লিখনী 🙏 সূচীপত্র ꧂
       এই লিংকে ⬇️⬇️⬇️🙏⬇️⬇️⬇️ ক্লিক করুন 
     ꧁ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী গোপীশরণ দাস  ꧂
 ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
⬇️⬇️⬇️এই লিখনী 📚 PDF 📚 ক্লিক করুন⬇️⬇️⬇️
 ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧

 
 ✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️
           ꧁ লিখনী সেবা- শ্রী গোপীশরণ দাস ꧂
নিবাস-শ্রীশ্রীনিত্যানন্দ প্রভুর জন্মস্থান, একচক্রা, বীরভূম, পশ্চিমবঙ্গ। 
DEMOCRATIC NITYANANDA (Facebook Group) 👉 https://www.facebook.com/groups/1370545549769377/?ref=share
 ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏
আমায় দেওয়া ওনার এই অমূল্য লিখনী সেবা, তা সকলের মধ্যে প্রকাশ করলাম। ওনার এই অমূল্য দান সমগ্র বৈষ্ণব সমাজ অনন্তকাল মনে রাখিবে।
🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
    *••••┉━❀꧁ 🙏 রাধে রাধে 🙏 ꧂❀━┅••••* 
                   শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য প্রভু নিত্যানন্দ
              হরে কৃষ্ণ হরে রাম শ্রীরাধেগোবিন্দ।।
  *••••┉━❀꧁ 🙏 জয় জগন্নাথ 🙏 ꧂❀━┅••••*
              হরে কৃষ্ণ হরে কৃষ্ণ কৃষ্ণ কৃষ্ণ হরে হরে
              হরে রাম হরে রাম রাম রাম হরে হরে॥
  *••••┉━❀꧁ 🙏 জয় রাধাকান্ত 🙏 ꧂ ❀━┅••••*
   💮❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀💮
   💮❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀💮
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧


৪৪. অতি গূঢ় নিত্যানন্দ -মহাপ্রকাশে শ্রীধরানুগ্রহ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী গোপীশরণ দাস 🙏 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2022/12/blog-post_95.html

 ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
꧁ ৪৪. অতি গূঢ় নিত্যানন্দ -মহাপ্রকাশে শ্রীধরানুগ্রহ ꧂
       এই লিংকে ⬇️⬇️⬇️🙏⬇️⬇️⬇️ ক্লিক করুন 
      ꧁ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী গোপীশরণ দাস  ꧂
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
 ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
꧁ MrinmoyNandy.blogspot.com 👉 সূচীপত্র ꧂
       এই লিংকে ⬇️⬇️⬇️🙏⬇️⬇️⬇️ ক্লিক করুন 
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
 ꧁ টিকা বা অন্যান্য ধর্মীয় লিখনী 🙏 সূচীপত্র ꧂
       এই লিংকে ⬇️⬇️⬇️🙏⬇️⬇️⬇️ ক্লিক করুন 
     ꧁ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী গোপীশরণ দাস  ꧂
 ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
 ꧁ প্রভু নিত্যানন্দের সংক্ষিপ্ত লীলা 🙏 সূচীপত্র ꧂
       এই লিংকে ⬇️⬇️⬇️🙏⬇️⬇️⬇️ ক্লিক করুন 
      ꧁ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী গোপীশরণ দাস ꧂
 ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
(৪৪ )
*অতি গূঢ় নিত্যানন্দ।*

*মহাপ্রকাশে শ্রীধরানুগ্রহ।* 

সাতপ্রহরিয়া ভাবে মহাপ্রভু সবার প্রতি কৃপা বর্ষণ করছেন। আজ্ঞা দিলেন "শ্রীধরকে ডেকে আন, এসে দেখুক আমার প্রকাশ। সব সময় মনে মনে দুঃখ করে। এই নগরের এক প্রান্তে যে বসে আমাকে ডাকছে তাকে ধরে আন" মহাপ্রভুর বচনে সব ভক্তগণ ছুটে চললেন শ্রীধরের বাড়ির দিকে।

(শ্রীধর কলার থোড় মোচার দোকান করে। কলার খোলা কিনে এনে টুকরো টুকরো করে কেটে তার দ্বারা থালা বানিয়ে বিক্রি করে। তাতে যা কিছু আয় হয় তার অর্ধেক গঙ্গার পূজনের জন্য ব্যয় করে। অর্ধেক দ্বারা নিজের প্রাণ রক্ষা করে। ধর্মরাজ যুধিষ্ঠিরের ন্যায় সত্যবাদী।সঠিক দাম বলে, বিক্রি করে যা পায় তাতেই সন্তুষ্ট থাকে। যারা তাকে জানে কোন দাম-দর না করে দ্রব্য কিনে নেয়।এথেকে নাম পড়ে যায় খোলাবেচা শ্রীধর।চার প্রহর রাত্রের ভিতরে চোখে ঘুম নাই,সারারাত উচ্চৈঃস্বরে দীর্ঘ আহ্বান করে হরিনাম কীর্তন করেন। যত পাষণ্ডী বলে -শ্রীধরের ডাক শুনে রাত্রে নিদ্রা যেতে পারি না।দুই কান ফেটে যায়। মহা-চাষা ব্যাটা, পেটে ভাত নাই, ক্ষুধার জ্বালায় ঘুম আসে না তাই ব্যাকুল হয়ে সারারাত জেগে চিৎকার করে মরে। এই প্রকার পাষণ্ডীগণ নানা কটু কথা বলে।

কিন্তু শ্রীধরের কোন দিকে খেয়াল নেই সে তার আপন মনে দীঘল আহবানে ঠাকুরের নাম নিয়ে চলেছেন, কত রাত্রি হয়ে যায় টের পান না, যখন সকাল হয়ে যায়, তখন গিয়ে গঙ্গা স্নান করে আসেন।)

 রাত্রিবেলায় প্রেমযোগে, আর্তস্বরে ভগবানকে ডাকতে ভক্তগণ শুনতে পেলেন। ডাক অনুসারে সেখানে গিয়ে বললেন - "চল চল!ভক্তরাজ! মহাপ্রভু তোমাকে ডাকছেন!" তোমায় স্পর্শ করে আমরা ধন্য হব।প্রভুর নাম শুনেই শ্রীধর মূর্চ্ছিত হয়ে পড়লেন। ধরাধরি করে ভক্তগণ ঘাড়ে তুলে নিয়ে মহাপ্রভুর আগে উপস্থিত করলেন। দেখে মহাপ্রভু প্রসন্ন হয়ে বলছেন -এস এস! তুমি আমার অনেক আরাধনা করেছ। কতবার জন্ম হয়েছে, কতবার মৃত্যু হয়েছে এইভাবে আমার আরাধনা করে। এজন্মেও তুমি আমার অনেক সেবা করেছ। তোমার খোলায় অন্ন খেয়েছি। দৈনিক তোমার হাতের দ্রব্য অনেক খেয়েছি। তুমি কি সেসব ভুলে গেলে?"

( মহাপ্রভু যখন বিদ্যার বিলাস করছিলেন, তখন পরম-উদ্ধত।সে সময় শ্রীধরের সঙ্গে খোলা বেচা-কেনার ছলে অনেক রঙ্গ করেছিলেন। প্রতিদিন শ্রীধরের পসারে গিয়ে থোড় কলা মুলা খোলা নিয়ে চারদণ্ড কলহ করে অর্ধ মূল্য দিয়ে দ্রব্য কিনতেন। মহাপ্রভু নিজের হাতে খোলা,মোচা তুলে নিয়ে অর্ধ মূল্য দিতে চাইলে শ্রীধর কাড়াকাড়ি করত ঠাকুরের সঙ্গে। 
মহাপ্রভু - কেন গো তপস্বী! আমি জানি,তোমার অনেক অর্থ আছে। আমার হাতের দ্রব্য কেন কেড়ে নিচ্ছ? এতদিন এই নবদ্বীপে থাকলে কিন্তু আমি কে তা তুমি জানতে পারলে না? পরমভক্ত শ্রীধর রাগ করেন না, গৌরাঙ্গসুন্দরের মদনমোহন রূপ দেখে প্রাণে মহাতৃপ্তি অনুভব করেন। ললাটে উর্ধতিলক সুন্দর, ত্রিকচ্ছ বসন পরিধান করেছেন।স্কন্ধবিলম্বিত কুটিল-কেশ কলাপ,একবার নয়ন ভৃঙ্গ তাতে আটকে গেলে আর ফিরতে পারে না। কমল দলায়ত নয়ন যুগল। পান খেয়ে শ্রীধরের দিকে চেয়ে হাসেন। ভুবনভোলা রূপ দেখে শ্রীধর সব ভুলে যান। বলেন- ব্রাহ্মণ ঠাকুর!ক্ষমা করো আমাকে। আমি তোমার চরণের কুকুর।
 মহাপ্রভু -জানি তুমি পরম চতুর! খোলা-বেচা ধন তোমার অনেক আছে!
 শ্রীধর বলছেন -আর কি অন্য পসারি নাই?
 সেখানে যাও, আমার সঙ্গে কেন ঝগড়া কর?অল্প পয়সা দিয়ে সেখানে গিয়ে কেন।
মহাপ্রভু- আমি যোগানিঞা ছাড়তে চাইনা।থোড় কলা দিয়া তুমি আমার কাছ থেকে পয়সা নাও?
 রূপ দেখে মুগ্ধ হয়ে শ্রীধর হাসছেন,গালি দিলেও তার আনন্দ হয়, দুঃখ হয় না। মহাপ্রভু বলছেন-তুমি দৈনিক ফল ফুল কিনে গঙ্গার পূজা কর, তাতে কত পয়সা খরচা হয়, আর আমি কিছু নিতে আসলেই আমার সঙ্গে কাড়াকাড়ি কর।
 যে গঙ্গা তুমি পূজা কর,আমি তার পিতা। এই সত্য কথা তোমাকে আমি বললাম।
 কানে হাত দিয়ে শ্রীধর "হরি হরি" স্মরণ করেন। উদ্ধত দেখে তাকে কিছু খোলাপাতা দিয়ে দেন।
 এই মত প্রতিদিন কন্দল হয়। শ্রীধর ভাবেন "বিপ্র পরম চঞ্চল"। একটু চিন্তা করে বলেন আমি তোমার কাছে হার স্বীকার করছি। পয়সা ছাড়া কিছু তোমাকে দিব,তুমি আমায় ক্ষমা কর, একখণ্ড খোলা, একখণ্ড থোড়,একখণ্ড কলা মূল আরো সব দোষ আমার।
 প্রভু বলছেন - ভালো ভালো, আর কোন কলহ নাই।

 শ্রীধরের খোলে প্রভু প্রত্যহ অন্ন খান পরম তৃপ্তি করে।

🌳ভক্তের পদার্থ প্রভু হেনমতে খায়।
 কোটি হৈলে অভক্তের উলটি না চায়।।🌲

মহাপ্রভু সেই সকল কথা শ্রীধরকে স্মরণ করালেন। তারপর বলছেন-" শ্রীধর! দেখো আমার রূপ।
আজ অষ্টসিদ্ধি আদি তুমি যা চাইবে তাই দেবো। তুমি বর চাও"।
 শ্রীধর মাথা তুলে দেখছেন - হাতে বাঁশি দক্ষিনে বলরাম, মহাজ্যোতির্ময় সব দেখছেন, কমলা মুখে তাম্বুল দিচ্ছেন, প্রকৃতি স্বরূপা রমণীগণ স্তুতি করছেন,মাথার উপরে মহা-সর্পফনা-ছত্র, শুক নারদ করজোড়ে দাঁড়িয়ে।
চতুরানন পঞ্চানন জোড়হাতে স্তুতি করছেন। দেখে শ্রীধর মূর্চ্ছিত হয়ে পড়লেন।
 মহাপ্রভু বলছেন - "উঠ, উঠ শ্রীধর!" আমার স্তুতিকর।
চৈতন্য পেয়ে শ্রীধর বলছেন- "হে নাথ!আমি মূঢ়মতি! কোন স্তুতি জানি না।
মহাপ্রভু -তুমি যা বলবে তাই আমার স্তুতি হবে। প্রভু আজ্ঞা দিলেন সরস্বতীকে তার জিহ্বায় অধিষ্ঠান হতে।
 শ্রীধর স্তুতি করছেন- জয় জয় জয় মহাপ্রভু বিশ্বম্ভর।
 জয় জয় জয় নবদ্বীপ পুরন্দর।
তুমি ধর্ম, তুমি কর্ম, তুমি ভক্তি জ্ঞান।
 তুমি শাস্ত্র, তুমি বেদ, তুমি সর্বধ্যান।।
 মহাপ্রভুর কৃপায় শ্রীধর অদ্ভুত স্তুতি করলেন।
 
শ্রীধরের স্তুতি শুনে সকল ভক্তগণ বিস্মিত হলেন।
 মহাপ্রভু বলছেন-আজ তোমার মন বাঞ্ছিত সব বর আমি দেব। শ্রীধর বলছেন - "প্রভু! আর আমায় ছলনা কোরো না।"
 মহাপ্রভু - আমার দর্শন ব্যর্থ যাবে না। তোমার যা মনে হয় বর চাও। 
"মাগ মাগ"
পুনঃপুন মহাপ্রভু বলতে লাগলেন।
শ্রীধর বলছেন - "প্রভু! দেহ এই বর।

 যে ব্রাহ্মণ কাঢ়িলেন মোর খোলা পাত।
 সে ব্রাহ্মণ হোক মোর জন্মে জন্মে নাথ।।

 যে ব্রাহ্মন মোর সঙ্গে করিল কন্দল।
মোর প্রভু হউ তার চরণযুগল।।

 বলতে বলতেই তার প্রেমাবেশ বেড়ে গেল। দুই বাহু তুলে উচ্চস্বরে ক্রন্দন করতে লাগলেন। শ্রীধরের ভক্তি দেখে বৈষ্ণবগণ বিহ্বল হয়ে কাঁদতে লাগলেন। 
হেসে বলছেন বিশ্বম্ভর - "এক মহারাজ্যের রাজা করে দিই তোমাকে।"
 শ্রীধর বলছেন -"আমি কিছুই চাই না" তুমি এই কৃপা কর যেন সবসময় তোমার নামগুন গাইতে পারি, তোমার চরণ যেন সদাই আমার স্মৃতি পথে উদিত হয়।
প্রভু বলছেন -"শ্রীধর! তুমি আমার নিত্য দাস। সেজন্য তুমি আমার মহাপ্রকাশ দেখতে পেলে। তোমাকে এত বলাতেও তোমার বুদ্ধি বিচলিত হল না। তাই আজ বেদগোপ্য ভক্তিযোগ তোমাকে প্রদান করলাম।"

সব ভক্তগণ জয় জয়ধ্বনি করে উঠলেন।
"শ্রীধর প্রেমভক্তি বর পেলেন" সবাই শুনলেন।

⚜️ধন নাহি,জন নাহি, নাহিক পাণ্ডিত্য।
কে চিনিব এ সকল চৈতন্যের ভৃত্য।।🌷

🌸কি করিব বিদ্যা-ধন-রূপ-বেশ- কুলে।
  অহঙ্কার বাঢ়ি সব পড়য়ে নির্মূলে।।🍁

🌺কলা মুলা বেচিয়া শ্রীধর পাইল যাহা।
কোটি-কল্পে কোটীশ্বরে না দেখিল তাহা।।🌿

🌷 বৈষ্ণব চিনিতে পারে কাহার শকতি।
 আছয়ে সকল সিদ্ধি দেখিতে দুর্গতি।।🌸

খোলাবেচা শ্রীধর তার সাক্ষী ।ভক্তি মাত্র নিল অষ্টসিদ্ধিকে উপেক্ষা করে। বৈষ্ণবের যত ব্যবহারিক দুঃখ দেখা যায়, সেটা তার পরানন্দ সুখ ।যারা বিষয়মদান্ধ তারা এর মর্ম জানেনা।।

🌹ভাগবত পড়িয়াও কারো বুদ্ধিনাশ। নিত্যানন্দ নিন্দা করে যাইবেক নাশ।।🌺

🔥শ্রীধর পাইলা বর করিয়া স্তবন।
ইহা যেই শুনে তারে মিলে প্রেমধন।।🌳

সে কৃষ্ণ চরণারবিন্দে প্রেমভক্তি লাভ করতে পারে,যদি বৈষ্ণব নিন্দা না করে।
 
🌴নিন্দায় নাহিক কার্য, সবে পাপ-লাভ। 
এতেকে না করে নিন্দা মহা-মহাভাগ।।🌲

 🌳অনিন্দুক হই যে সকৃত 'কৃষ্ণ' বোলে। সত্যসত্য কৃষ্ণ তারে উদ্ধারিব হেলে।।🌲

বৈষ্ণবের পায়ে মোর এই মনস্কাম।
 শ্রীচৈতন্য-নিত্যানন্দ হউ মোর প্রাণ।।

হে শ্রীধর পন্ডিত! তুমি আমাদের কৃপা কর। সেই প্রেমভক্তির এক কনা দান করে আমাদের ধন্য কর।
 জয় পতিতপাবন মহাপ্রভুর জয়!
 জয় গৌর ভক্তবৃন্দের জয়!!

ক্রমশ......

GOPISARAN DAS
http­//MrinmoyNandy.blogspot.com/2022/12/blogéôépost_30.html
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
⬇️⬇️⬇️এই লিখনী 📚 PDF 📚 ক্লিক করুন⬇️⬇️⬇️
 ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧

 
 ✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️
           ꧁ লিখনী সেবা- শ্রী গোপীশরণ দাস ꧂
নিবাস-শ্রীশ্রীনিত্যানন্দ প্রভুর জন্মস্থান, একচক্রা, বীরভূম, পশ্চিমবঙ্গ। 
DEMOCRATIC NITYANANDA (Facebook Group) 👉 https://www.facebook.com/groups/1370545549769377/?ref=share
 ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏
আমায় দেওয়া ওনার এই অমূল্য লিখনী সেবা, তা সকলের মধ্যে প্রকাশ করলাম। ওনার এই অমূল্য দান সমগ্র বৈষ্ণব সমাজ অনন্তকাল মনে রাখিবে।
🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
    *••••┉━❀꧁ 🙏 রাধে রাধে 🙏 ꧂❀━┅••••* 
                   শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য প্রভু নিত্যানন্দ
              হরে কৃষ্ণ হরে রাম শ্রীরাধেগোবিন্দ।।
  *••••┉━❀꧁ 🙏 জয় জগন্নাথ 🙏 ꧂❀━┅••••*
              হরে কৃষ্ণ হরে কৃষ্ণ কৃষ্ণ কৃষ্ণ হরে হরে
              হরে রাম হরে রাম রাম রাম হরে হরে॥
  *••••┉━❀꧁ 🙏 জয় রাধাকান্ত 🙏 ꧂ ❀━┅••••*
   💮❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀💮
   💮❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀💮
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧


৪৪. অতি গূঢ় নিত্যানন্দ -মহাপ্রকাশে শ্রীধরানুগ্রহ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী গোপীশরণ দাস 🙏 এই লিংকে ক্লিক করুন ➡️ http://mrinmoynandy.blogspot.com/2022/12/blog-post_95.html

 ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
꧁ ৪৪. অতি গূঢ় নিত্যানন্দ -মহাপ্রকাশে শ্রীধরানুগ্রহ ꧂
       এই লিংকে ⬇️⬇️⬇️🙏⬇️⬇️⬇️ ক্লিক করুন 
      ꧁ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী গোপীশরণ দাস  ꧂
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
 ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
꧁ MrinmoyNandy.blogspot.com 👉 সূচীপত্র ꧂
       এই লিংকে ⬇️⬇️⬇️🙏⬇️⬇️⬇️ ক্লিক করুন 
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
 ꧁ টিকা বা অন্যান্য ধর্মীয় লিখনী 🙏 সূচীপত্র ꧂
       এই লিংকে ⬇️⬇️⬇️🙏⬇️⬇️⬇️ ক্লিক করুন 
     ꧁ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী গোপীশরণ দাস  ꧂
 ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
 ꧁ প্রভু নিত্যানন্দের সংক্ষিপ্ত লীলা 🙏 সূচীপত্র ꧂
       এই লিংকে ⬇️⬇️⬇️🙏⬇️⬇️⬇️ ক্লিক করুন 
      ꧁ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী গোপীশরণ দাস ꧂
 ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
(৪৪ )
*অতি গূঢ় নিত্যানন্দ।*

*মহাপ্রকাশে শ্রীধরানুগ্রহ।* 

সাতপ্রহরিয়া ভাবে মহাপ্রভু সবার প্রতি কৃপা বর্ষণ করছেন। আজ্ঞা দিলেন "শ্রীধরকে ডেকে আন, এসে দেখুক আমার প্রকাশ। সব সময় মনে মনে দুঃখ করে। এই নগরের এক প্রান্তে যে বসে আমাকে ডাকছে তাকে ধরে আন" মহাপ্রভুর বচনে সব ভক্তগণ ছুটে চললেন শ্রীধরের বাড়ির দিকে।

(শ্রীধর কলার থোড় মোচার দোকান করে। কলার খোলা কিনে এনে টুকরো টুকরো করে কেটে তার দ্বারা থালা বানিয়ে বিক্রি করে। তাতে যা কিছু আয় হয় তার অর্ধেক গঙ্গার পূজনের জন্য ব্যয় করে। অর্ধেক দ্বারা নিজের প্রাণ রক্ষা করে। ধর্মরাজ যুধিষ্ঠিরের ন্যায় সত্যবাদী।সঠিক দাম বলে, বিক্রি করে যা পায় তাতেই সন্তুষ্ট থাকে। যারা তাকে জানে কোন দাম-দর না করে দ্রব্য কিনে নেয়।এথেকে নাম পড়ে যায় খোলাবেচা শ্রীধর।চার প্রহর রাত্রের ভিতরে চোখে ঘুম নাই,সারারাত উচ্চৈঃস্বরে দীর্ঘ আহ্বান করে হরিনাম কীর্তন করেন। যত পাষণ্ডী বলে -শ্রীধরের ডাক শুনে রাত্রে নিদ্রা যেতে পারি না।দুই কান ফেটে যায়। মহা-চাষা ব্যাটা, পেটে ভাত নাই, ক্ষুধার জ্বালায় ঘুম আসে না তাই ব্যাকুল হয়ে সারারাত জেগে চিৎকার করে মরে। এই প্রকার পাষণ্ডীগণ নানা কটু কথা বলে।

কিন্তু শ্রীধরের কোন দিকে খেয়াল নেই সে তার আপন মনে দীঘল আহবানে ঠাকুরের নাম নিয়ে চলেছেন, কত রাত্রি হয়ে যায় টের পান না, যখন সকাল হয়ে যায়, তখন গিয়ে গঙ্গা স্নান করে আসেন।)

 রাত্রিবেলায় প্রেমযোগে, আর্তস্বরে ভগবানকে ডাকতে ভক্তগণ শুনতে পেলেন। ডাক অনুসারে সেখানে গিয়ে বললেন - "চল চল!ভক্তরাজ! মহাপ্রভু তোমাকে ডাকছেন!" তোমায় স্পর্শ করে আমরা ধন্য হব।প্রভুর নাম শুনেই শ্রীধর মূর্চ্ছিত হয়ে পড়লেন। ধরাধরি করে ভক্তগণ ঘাড়ে তুলে নিয়ে মহাপ্রভুর আগে উপস্থিত করলেন। দেখে মহাপ্রভু প্রসন্ন হয়ে বলছেন -এস এস! তুমি আমার অনেক আরাধনা করেছ। কতবার জন্ম হয়েছে, কতবার মৃত্যু হয়েছে এইভাবে আমার আরাধনা করে। এজন্মেও তুমি আমার অনেক সেবা করেছ। তোমার খোলায় অন্ন খেয়েছি। দৈনিক তোমার হাতের দ্রব্য অনেক খেয়েছি। তুমি কি সেসব ভুলে গেলে?"

( মহাপ্রভু যখন বিদ্যার বিলাস করছিলেন, তখন পরম-উদ্ধত।সে সময় শ্রীধরের সঙ্গে খোলা বেচা-কেনার ছলে অনেক রঙ্গ করেছিলেন। প্রতিদিন শ্রীধরের পসারে গিয়ে থোড় কলা মুলা খোলা নিয়ে চারদণ্ড কলহ করে অর্ধ মূল্য দিয়ে দ্রব্য কিনতেন। মহাপ্রভু নিজের হাতে খোলা,মোচা তুলে নিয়ে অর্ধ মূল্য দিতে চাইলে শ্রীধর কাড়াকাড়ি করত ঠাকুরের সঙ্গে। 
মহাপ্রভু - কেন গো তপস্বী! আমি জানি,তোমার অনেক অর্থ আছে। আমার হাতের দ্রব্য কেন কেড়ে নিচ্ছ? এতদিন এই নবদ্বীপে থাকলে কিন্তু আমি কে তা তুমি জানতে পারলে না? পরমভক্ত শ্রীধর রাগ করেন না, গৌরাঙ্গসুন্দরের মদনমোহন রূপ দেখে প্রাণে মহাতৃপ্তি অনুভব করেন। ললাটে উর্ধতিলক সুন্দর, ত্রিকচ্ছ বসন পরিধান করেছেন।স্কন্ধবিলম্বিত কুটিল-কেশ কলাপ,একবার নয়ন ভৃঙ্গ তাতে আটকে গেলে আর ফিরতে পারে না। কমল দলায়ত নয়ন যুগল। পান খেয়ে শ্রীধরের দিকে চেয়ে হাসেন। ভুবনভোলা রূপ দেখে শ্রীধর সব ভুলে যান। বলেন- ব্রাহ্মণ ঠাকুর!ক্ষমা করো আমাকে। আমি তোমার চরণের কুকুর।
 মহাপ্রভু -জানি তুমি পরম চতুর! খোলা-বেচা ধন তোমার অনেক আছে!
 শ্রীধর বলছেন -আর কি অন্য পসারি নাই?
 সেখানে যাও, আমার সঙ্গে কেন ঝগড়া কর?অল্প পয়সা দিয়ে সেখানে গিয়ে কেন।
মহাপ্রভু- আমি যোগানিঞা ছাড়তে চাইনা।থোড় কলা দিয়া তুমি আমার কাছ থেকে পয়সা নাও?
 রূপ দেখে মুগ্ধ হয়ে শ্রীধর হাসছেন,গালি দিলেও তার আনন্দ হয়, দুঃখ হয় না। মহাপ্রভু বলছেন-তুমি দৈনিক ফল ফুল কিনে গঙ্গার পূজা কর, তাতে কত পয়সা খরচা হয়, আর আমি কিছু নিতে আসলেই আমার সঙ্গে কাড়াকাড়ি কর।
 যে গঙ্গা তুমি পূজা কর,আমি তার পিতা। এই সত্য কথা তোমাকে আমি বললাম।
 কানে হাত দিয়ে শ্রীধর "হরি হরি" স্মরণ করেন। উদ্ধত দেখে তাকে কিছু খোলাপাতা দিয়ে দেন।
 এই মত প্রতিদিন কন্দল হয়। শ্রীধর ভাবেন "বিপ্র পরম চঞ্চল"। একটু চিন্তা করে বলেন আমি তোমার কাছে হার স্বীকার করছি। পয়সা ছাড়া কিছু তোমাকে দিব,তুমি আমায় ক্ষমা কর, একখণ্ড খোলা, একখণ্ড থোড়,একখণ্ড কলা মূল আরো সব দোষ আমার।
 প্রভু বলছেন - ভালো ভালো, আর কোন কলহ নাই।

 শ্রীধরের খোলে প্রভু প্রত্যহ অন্ন খান পরম তৃপ্তি করে।

🌳ভক্তের পদার্থ প্রভু হেনমতে খায়।
 কোটি হৈলে অভক্তের উলটি না চায়।।🌲

মহাপ্রভু সেই সকল কথা শ্রীধরকে স্মরণ করালেন। তারপর বলছেন-" শ্রীধর! দেখো আমার রূপ।
আজ অষ্টসিদ্ধি আদি তুমি যা চাইবে তাই দেবো। তুমি বর চাও"।
 শ্রীধর মাথা তুলে দেখছেন - হাতে বাঁশি দক্ষিনে বলরাম, মহাজ্যোতির্ময় সব দেখছেন, কমলা মুখে তাম্বুল দিচ্ছেন, প্রকৃতি স্বরূপা রমণীগণ স্তুতি করছেন,মাথার উপরে মহা-সর্পফনা-ছত্র, শুক নারদ করজোড়ে দাঁড়িয়ে।
চতুরানন পঞ্চানন জোড়হাতে স্তুতি করছেন। দেখে শ্রীধর মূর্চ্ছিত হয়ে পড়লেন।
 মহাপ্রভু বলছেন - "উঠ, উঠ শ্রীধর!" আমার স্তুতিকর।
চৈতন্য পেয়ে শ্রীধর বলছেন- "হে নাথ!আমি মূঢ়মতি! কোন স্তুতি জানি না।
মহাপ্রভু -তুমি যা বলবে তাই আমার স্তুতি হবে। প্রভু আজ্ঞা দিলেন সরস্বতীকে তার জিহ্বায় অধিষ্ঠান হতে।
 শ্রীধর স্তুতি করছেন- জয় জয় জয় মহাপ্রভু বিশ্বম্ভর।
 জয় জয় জয় নবদ্বীপ পুরন্দর।
তুমি ধর্ম, তুমি কর্ম, তুমি ভক্তি জ্ঞান।
 তুমি শাস্ত্র, তুমি বেদ, তুমি সর্বধ্যান।।
 মহাপ্রভুর কৃপায় শ্রীধর অদ্ভুত স্তুতি করলেন।
 
শ্রীধরের স্তুতি শুনে সকল ভক্তগণ বিস্মিত হলেন।
 মহাপ্রভু বলছেন-আজ তোমার মন বাঞ্ছিত সব বর আমি দেব। শ্রীধর বলছেন - "প্রভু! আর আমায় ছলনা কোরো না।"
 মহাপ্রভু - আমার দর্শন ব্যর্থ যাবে না। তোমার যা মনে হয় বর চাও। 
"মাগ মাগ"
পুনঃপুন মহাপ্রভু বলতে লাগলেন।
শ্রীধর বলছেন - "প্রভু! দেহ এই বর।

 যে ব্রাহ্মণ কাঢ়িলেন মোর খোলা পাত।
 সে ব্রাহ্মণ হোক মোর জন্মে জন্মে নাথ।।

 যে ব্রাহ্মন মোর সঙ্গে করিল কন্দল।
মোর প্রভু হউ তার চরণযুগল।।

 বলতে বলতেই তার প্রেমাবেশ বেড়ে গেল। দুই বাহু তুলে উচ্চস্বরে ক্রন্দন করতে লাগলেন। শ্রীধরের ভক্তি দেখে বৈষ্ণবগণ বিহ্বল হয়ে কাঁদতে লাগলেন। 
হেসে বলছেন বিশ্বম্ভর - "এক মহারাজ্যের রাজা করে দিই তোমাকে।"
 শ্রীধর বলছেন -"আমি কিছুই চাই না" তুমি এই কৃপা কর যেন সবসময় তোমার নামগুন গাইতে পারি, তোমার চরণ যেন সদাই আমার স্মৃতি পথে উদিত হয়।
প্রভু বলছেন -"শ্রীধর! তুমি আমার নিত্য দাস। সেজন্য তুমি আমার মহাপ্রকাশ দেখতে পেলে। তোমাকে এত বলাতেও তোমার বুদ্ধি বিচলিত হল না। তাই আজ বেদগোপ্য ভক্তিযোগ তোমাকে প্রদান করলাম।"

সব ভক্তগণ জয় জয়ধ্বনি করে উঠলেন।
"শ্রীধর প্রেমভক্তি বর পেলেন" সবাই শুনলেন।

⚜️ধন নাহি,জন নাহি, নাহিক পাণ্ডিত্য।
কে চিনিব এ সকল চৈতন্যের ভৃত্য।।🌷

🌸কি করিব বিদ্যা-ধন-রূপ-বেশ- কুলে।
  অহঙ্কার বাঢ়ি সব পড়য়ে নির্মূলে।।🍁

🌺কলা মুলা বেচিয়া শ্রীধর পাইল যাহা।
কোটি-কল্পে কোটীশ্বরে না দেখিল তাহা।।🌿

🌷 বৈষ্ণব চিনিতে পারে কাহার শকতি।
 আছয়ে সকল সিদ্ধি দেখিতে দুর্গতি।।🌸

খোলাবেচা শ্রীধর তার সাক্ষী ।ভক্তি মাত্র নিল অষ্টসিদ্ধিকে উপেক্ষা করে। বৈষ্ণবের যত ব্যবহারিক দুঃখ দেখা যায়, সেটা তার পরানন্দ সুখ ।যারা বিষয়মদান্ধ তারা এর মর্ম জানেনা।।

🌹ভাগবত পড়িয়াও কারো বুদ্ধিনাশ। নিত্যানন্দ নিন্দা করে যাইবেক নাশ।।🌺

🔥শ্রীধর পাইলা বর করিয়া স্তবন।
ইহা যেই শুনে তারে মিলে প্রেমধন।।🌳

সে কৃষ্ণ চরণারবিন্দে প্রেমভক্তি লাভ করতে পারে,যদি বৈষ্ণব নিন্দা না করে।
 
🌴নিন্দায় নাহিক কার্য, সবে পাপ-লাভ। 
এতেকে না করে নিন্দা মহা-মহাভাগ।।🌲

 🌳অনিন্দুক হই যে সকৃত 'কৃষ্ণ' বোলে। সত্যসত্য কৃষ্ণ তারে উদ্ধারিব হেলে।।🌲

বৈষ্ণবের পায়ে মোর এই মনস্কাম।
 শ্রীচৈতন্য-নিত্যানন্দ হউ মোর প্রাণ।।

হে শ্রীধর পন্ডিত! তুমি আমাদের কৃপা কর। সেই প্রেমভক্তির এক কনা দান করে আমাদের ধন্য কর।
 জয় পতিতপাবন মহাপ্রভুর জয়!
 জয় গৌর ভক্তবৃন্দের জয়!!

ক্রমশ......

GOPISARAN DAS
http­//MrinmoyNandy.blogspot.com/2022/12/blogéôépost_30.html
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
⬇️⬇️⬇️এই লিখনী 📚 PDF 📚 ক্লিক করুন⬇️⬇️⬇️
 ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧

 
 ✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️
           ꧁ লিখনী সেবা- শ্রী গোপীশরণ দাস ꧂
নিবাস-শ্রীশ্রীনিত্যানন্দ প্রভুর জন্মস্থান, একচক্রা, বীরভূম, পশ্চিমবঙ্গ। 
DEMOCRATIC NITYANANDA (Facebook Group) 👉 https://www.facebook.com/groups/1370545549769377/?ref=share
 ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏
আমায় দেওয়া ওনার এই অমূল্য লিখনী সেবা, তা সকলের মধ্যে প্রকাশ করলাম। ওনার এই অমূল্য দান সমগ্র বৈষ্ণব সমাজ অনন্তকাল মনে রাখিবে।
🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
    *••••┉━❀꧁ 🙏 রাধে রাধে 🙏 ꧂❀━┅••••* 
                   শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য প্রভু নিত্যানন্দ
              হরে কৃষ্ণ হরে রাম শ্রীরাধেগোবিন্দ।।
  *••••┉━❀꧁ 🙏 জয় জগন্নাথ 🙏 ꧂❀━┅••••*
              হরে কৃষ্ণ হরে কৃষ্ণ কৃষ্ণ কৃষ্ণ হরে হরে
              হরে রাম হরে রাম রাম রাম হরে হরে॥
  *••••┉━❀꧁ 🙏 জয় রাধাকান্ত 🙏 ꧂ ❀━┅••••*
   💮❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀💮
   💮❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀💮
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧


৪৩. অতি গূঢ় নিত্যানন্দ - মহাপ্রকাশে গঙ্গাদাস অনুগ্রহ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী গোপীশরণ দাস 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন ➡️ http://mrinmoynandy.blogspot.com/2022/12/blog-post_594.html

 ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
꧁ ৪৩. অতি গূঢ় নিত্যানন্দ - মহাপ্রকাশে গঙ্গাদাস অনুগ্রহ ꧂
       এই লিংকে ⬇️⬇️⬇️🙏⬇️⬇️⬇️ ক্লিক করুন 
      ꧁ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী গোপীশরণ দাস  ꧂
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
 ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
꧁ MrinmoyNandy.blogspot.com 👉 সূচীপত্র ꧂
       এই লিংকে ⬇️⬇️⬇️🙏⬇️⬇️⬇️ ক্লিক করুন 
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
 ꧁ টিকা বা অন্যান্য ধর্মীয় লিখনী 🙏 সূচীপত্র ꧂
       এই লিংকে ⬇️⬇️⬇️🙏⬇️⬇️⬇️ ক্লিক করুন 
     ꧁ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী গোপীশরণ দাস  ꧂
 ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
 ꧁ প্রভু নিত্যানন্দের সংক্ষিপ্ত লীলা 🙏 সূচীপত্র ꧂
       এই লিংকে ⬇️⬇️⬇️🙏⬇️⬇️⬇️ ক্লিক করুন 
      ꧁ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী গোপীশরণ দাস ꧂
 ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
( ৪৩)
*অতি গূঢ় নিত্যানন্দ।*

*মহাপ্রকাশে গঙ্গাদাস অনুগ্রহ।* 

মহাপ্রভু বসে তাম্বুল চর্বন করছেন। কোন ভক্ত নাচছে, কেউ গাইছে, কেউ বলছেন-" জয় জয় শচীনন্দন"।যে ভক্তগণ সেখানে ছিলেন না, লোক দিয়ে প্রভু তাদের ডেকে আনলেন।
"কিছু দেহ খাই" বলে হাত পাতলেন, যে ভক্ত যা দিলেন সব খেয়ে নিলেন, সব খেয়ে বলছেন তোর মনে আছে ?সেদিন রাতে আমি তোর কাছে বসে ছিলাম। বিপ্ররূপ ধারণ করে তোর জ্বর নাশ করলাম। শুনে সে বিহ্বল হয়ে পড়ল।

 গঙ্গাদাসকে দেখে বলছেন - "তোর মনে পড়ে? রাজভয়ে যখন পালিয়ে যাচ্ছিলে, রাতের বেলায় সব পরিকর সাথে? পথে নদী পড়ল, খেয়া ঘাটে নৌকা ছিলনা, মহাসংকটে পড়ে যখন রাত্রি শেষ হয়ে গেল, কিন্তু নৌকা মিলল না, অত্যন্ত দুঃখে কাঁদতে লাগলে এই ভেবে যে, আমার সামনেই যবনে স্পর্শ করবে আমার পরিবারকে? তার থেকে আগেই নদীতে ঝাঁপ দিয়ে প্রাণত্যাগ করব। তোর কান্না দেখে আমি নৌকা নিয়ে তোর সামনে গিয়ে হাজির হলাম। তখন নৌকা দেখে তুমি সন্তুষ্ট হয়ে অতি সম্প্রীতি করে বলতে লাগলে, "আরে ভাই! আমাকে একটিবার পার করে দাও।জাতি প্রানধন সব তোমার। রক্ষা কর পরিকর সঙ্গে, রক্ষা কর। একটি স্বর্ণমুদ্রা ও এক জোড়া বস্ত্র তোমাকে দেব। তখন আমি তোমাকে সপরিবারে পার করে তবে আমি বৈকুন্ঠে গেলাম।"

 শুনে গঙ্গাদাস আনন্দ সাগরে ভাসতে লাগলেন। এই প্রকার গৌরসুন্দর বলছেন- তুমি যখনই আমার চিন্তা করলে ,আমি নিজে গিয়ে পার করে দিলাম। শুনে গঙ্গাদাস মূর্চ্ছিত হয়ে পড়লেন, মূর্চ্ছা ভঙ্গে গড়াগড়ি দিতে লাগলেন।
এই প্রকার মহা ঐশ্বর্য প্রকাশ করে বিষ্ণু-সিংহাসনে বসে আছেন প্রভু বিশ্বম্ভর। চন্দন মালায় পরিপূর্ণ হল কলেবর। কেহ ব্যজন করছেন, কেউ কেশ সংস্কার করে দিচ্ছেন, কেউ তাম্বুল দান করছেন, নৃত্য- গীত-বাদ্যে সারাদিন অতিবাহিত হল। সন্ধ্যার সময় ধূপ দীপ নিয়ে সকল ভক্তগন অর্চনা করতে লাগলেন। শঙ্খ ঘন্টা করতাল মৃদঙ্গ প্রভৃতি বাদ্যযন্ত্র বেজে উঠল। আরতী সুসম্পন্ন হল। মহাজ্যোতির্ময়ধাম গম্ভীরভাবে বসে আছেন। মুখে কিছু বলছেন না। ভাব বুঝে ভক্তবৃন্দ সেবা করছেন। নানাবিধ পুষ্প এনে চরণে পুষ্পাঞ্জলি দিয়ে "ত্রাহি প্রভু" বলে দণ্ডবৎ হয়ে পড়ছেন। কাকু করছেন, কেউ জয়ধ্বনি করছেন। চতুর্দিকে আনন্দক্রন্দন মাত্র শোনা যাচ্ছে। রাত্রি অধিক হতেই কি অদ্ভুত সুখ হতে লাগল তা ভাষায় প্রকাশ করা অসম্ভব। যেই আসে সেই যেন যেন বৈকুন্ঠে প্রবেশ করে।

মহাপ্রভুর মহাপ্রকাশ হল জোড় হাতে সামনে দাঁড়িয়ে আছেন ভক্তবৃন্দ। বর দিতে উদ্যত হলেন শ্রী গৌরসুন্দর। সকলে শ্রীমুখের বচনামৃত শ্রবণের জন্য উৎকন্ঠিত চিত্তে করজোড়ে দাঁড়িয়ে থাকলেন।। 

ক্রমশ .....

GOPISARAN DAS
http­//MrinmoyNandy.blogspot.com/2022/12/blogéôépost_30.html
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
⬇️⬇️⬇️এই লিখনী 📚 PDF 📚 ক্লিক করুন⬇️⬇️⬇️
 ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧

 
 ✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️
           ꧁ লিখনী সেবা- শ্রী গোপীশরণ দাস ꧂
নিবাস-শ্রীশ্রীনিত্যানন্দ প্রভুর জন্মস্থান, একচক্রা, বীরভূম, পশ্চিমবঙ্গ। 
DEMOCRATIC NITYANANDA (Facebook Group) 👉 https://www.facebook.com/groups/1370545549769377/?ref=share
 ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏
আমায় দেওয়া ওনার এই অমূল্য লিখনী সেবা, তা সকলের মধ্যে প্রকাশ করলাম। ওনার এই অমূল্য দান সমগ্র বৈষ্ণব সমাজ অনন্তকাল মনে রাখিবে।
🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
    *••••┉━❀꧁ 🙏 রাধে রাধে 🙏 ꧂❀━┅••••* 
                   শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য প্রভু নিত্যানন্দ
              হরে কৃষ্ণ হরে রাম শ্রীরাধেগোবিন্দ।।
  *••••┉━❀꧁ 🙏 জয় জগন্নাথ 🙏 ꧂❀━┅••••*
              হরে কৃষ্ণ হরে কৃষ্ণ কৃষ্ণ কৃষ্ণ হরে হরে
              হরে রাম হরে রাম রাম রাম হরে হরে॥
  *••••┉━❀꧁ 🙏 জয় রাধাকান্ত 🙏 ꧂ ❀━┅••••*
   💮❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀💮
   💮❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀💮
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧


৪৩. অতি গূঢ় নিত্যানন্দ - মহাপ্রকাশে গঙ্গাদাস অনুগ্রহ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী গোপীশরণ দাস 🙏 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2022/12/blog-post_594.html

 ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
꧁ ৪৩. অতি গূঢ় নিত্যানন্দ - মহাপ্রকাশে গঙ্গাদাস অনুগ্রহ ꧂
       এই লিংকে ⬇️⬇️⬇️🙏⬇️⬇️⬇️ ক্লিক করুন 
      ꧁ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী গোপীশরণ দাস  ꧂
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
 ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
꧁ MrinmoyNandy.blogspot.com 👉 সূচীপত্র ꧂
       এই লিংকে ⬇️⬇️⬇️🙏⬇️⬇️⬇️ ক্লিক করুন 
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
 ꧁ টিকা বা অন্যান্য ধর্মীয় লিখনী 🙏 সূচীপত্র ꧂
       এই লিংকে ⬇️⬇️⬇️🙏⬇️⬇️⬇️ ক্লিক করুন 
     ꧁ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী গোপীশরণ দাস  ꧂
 ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
 ꧁ প্রভু নিত্যানন্দের সংক্ষিপ্ত লীলা 🙏 সূচীপত্র ꧂
       এই লিংকে ⬇️⬇️⬇️🙏⬇️⬇️⬇️ ক্লিক করুন 
      ꧁ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী গোপীশরণ দাস ꧂
 ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
( ৪৩)
*অতি গূঢ় নিত্যানন্দ।*

*মহাপ্রকাশে গঙ্গাদাস অনুগ্রহ।* 

মহাপ্রভু বসে তাম্বুল চর্বন করছেন। কোন ভক্ত নাচছে, কেউ গাইছে, কেউ বলছেন-" জয় জয় শচীনন্দন"।যে ভক্তগণ সেখানে ছিলেন না, লোক দিয়ে প্রভু তাদের ডেকে আনলেন।
"কিছু দেহ খাই" বলে হাত পাতলেন, যে ভক্ত যা দিলেন সব খেয়ে নিলেন, সব খেয়ে বলছেন তোর মনে আছে ?সেদিন রাতে আমি তোর কাছে বসে ছিলাম। বিপ্ররূপ ধারণ করে তোর জ্বর নাশ করলাম। শুনে সে বিহ্বল হয়ে পড়ল।

 গঙ্গাদাসকে দেখে বলছেন - "তোর মনে পড়ে? রাজভয়ে যখন পালিয়ে যাচ্ছিলে, রাতের বেলায় সব পরিকর সাথে? পথে নদী পড়ল, খেয়া ঘাটে নৌকা ছিলনা, মহাসংকটে পড়ে যখন রাত্রি শেষ হয়ে গেল, কিন্তু নৌকা মিলল না, অত্যন্ত দুঃখে কাঁদতে লাগলে এই ভেবে যে, আমার সামনেই যবনে স্পর্শ করবে আমার পরিবারকে? তার থেকে আগেই নদীতে ঝাঁপ দিয়ে প্রাণত্যাগ করব। তোর কান্না দেখে আমি নৌকা নিয়ে তোর সামনে গিয়ে হাজির হলাম। তখন নৌকা দেখে তুমি সন্তুষ্ট হয়ে অতি সম্প্রীতি করে বলতে লাগলে, "আরে ভাই! আমাকে একটিবার পার করে দাও।জাতি প্রানধন সব তোমার। রক্ষা কর পরিকর সঙ্গে, রক্ষা কর। একটি স্বর্ণমুদ্রা ও এক জোড়া বস্ত্র তোমাকে দেব। তখন আমি তোমাকে সপরিবারে পার করে তবে আমি বৈকুন্ঠে গেলাম।"

 শুনে গঙ্গাদাস আনন্দ সাগরে ভাসতে লাগলেন। এই প্রকার গৌরসুন্দর বলছেন- তুমি যখনই আমার চিন্তা করলে ,আমি নিজে গিয়ে পার করে দিলাম। শুনে গঙ্গাদাস মূর্চ্ছিত হয়ে পড়লেন, মূর্চ্ছা ভঙ্গে গড়াগড়ি দিতে লাগলেন।
এই প্রকার মহা ঐশ্বর্য প্রকাশ করে বিষ্ণু-সিংহাসনে বসে আছেন প্রভু বিশ্বম্ভর। চন্দন মালায় পরিপূর্ণ হল কলেবর। কেহ ব্যজন করছেন, কেউ কেশ সংস্কার করে দিচ্ছেন, কেউ তাম্বুল দান করছেন, নৃত্য- গীত-বাদ্যে সারাদিন অতিবাহিত হল। সন্ধ্যার সময় ধূপ দীপ নিয়ে সকল ভক্তগন অর্চনা করতে লাগলেন। শঙ্খ ঘন্টা করতাল মৃদঙ্গ প্রভৃতি বাদ্যযন্ত্র বেজে উঠল। আরতী সুসম্পন্ন হল। মহাজ্যোতির্ময়ধাম গম্ভীরভাবে বসে আছেন। মুখে কিছু বলছেন না। ভাব বুঝে ভক্তবৃন্দ সেবা করছেন। নানাবিধ পুষ্প এনে চরণে পুষ্পাঞ্জলি দিয়ে "ত্রাহি প্রভু" বলে দণ্ডবৎ হয়ে পড়ছেন। কাকু করছেন, কেউ জয়ধ্বনি করছেন। চতুর্দিকে আনন্দক্রন্দন মাত্র শোনা যাচ্ছে। রাত্রি অধিক হতেই কি অদ্ভুত সুখ হতে লাগল তা ভাষায় প্রকাশ করা অসম্ভব। যেই আসে সেই যেন যেন বৈকুন্ঠে প্রবেশ করে।

মহাপ্রভুর মহাপ্রকাশ হল জোড় হাতে সামনে দাঁড়িয়ে আছেন ভক্তবৃন্দ। বর দিতে উদ্যত হলেন শ্রী গৌরসুন্দর। সকলে শ্রীমুখের বচনামৃত শ্রবণের জন্য উৎকন্ঠিত চিত্তে করজোড়ে দাঁড়িয়ে থাকলেন।। 

ক্রমশ .....

GOPISARAN DAS
http­//MrinmoyNandy.blogspot.com/2022/12/blogéôépost_30.html
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
⬇️⬇️⬇️এই লিখনী 📚 PDF 📚 ক্লিক করুন⬇️⬇️⬇️
 ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧

 
 ✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️
           ꧁ লিখনী সেবা- শ্রী গোপীশরণ দাস ꧂
নিবাস-শ্রীশ্রীনিত্যানন্দ প্রভুর জন্মস্থান, একচক্রা, বীরভূম, পশ্চিমবঙ্গ। 
DEMOCRATIC NITYANANDA (Facebook Group) 👉 https://www.facebook.com/groups/1370545549769377/?ref=share
 ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏
আমায় দেওয়া ওনার এই অমূল্য লিখনী সেবা, তা সকলের মধ্যে প্রকাশ করলাম। ওনার এই অমূল্য দান সমগ্র বৈষ্ণব সমাজ অনন্তকাল মনে রাখিবে।
🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
    *••••┉━❀꧁ 🙏 রাধে রাধে 🙏 ꧂❀━┅••••* 
                   শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য প্রভু নিত্যানন্দ
              হরে কৃষ্ণ হরে রাম শ্রীরাধেগোবিন্দ।।
  *••••┉━❀꧁ 🙏 জয় জগন্নাথ 🙏 ꧂❀━┅••••*
              হরে কৃষ্ণ হরে কৃষ্ণ কৃষ্ণ কৃষ্ণ হরে হরে
              হরে রাম হরে রাম রাম রাম হরে হরে॥
  *••••┉━❀꧁ 🙏 জয় রাধাকান্ত 🙏 ꧂ ❀━┅••••*
   💮❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀💮
   💮❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀💮
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧


adds