শ্রী মৃন্ময় নন্দী কর্ত্তৃক সকল ভক্ত👣চরণে👣অসংখ্যকোটি 🙇প্রণাম🙇 ক্লিক করুন 👇

শ্রী মৃন্ময় নন্দী কর্ত্তৃক সকল ভক্ত👣চরণে👣অসংখ্যকোটি 🙇প্রণাম🙇 ক্লিক করুন 👇

৬৮. অতি গূঢ় নিত্যানন্দ 🙏 মহাপ্রভুর রেমুণা আগমন এবং ক্ষীরচোরা গোপীনাথ প্রসঙ্গ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী গোপীশরণ দাস 📝 GOPISHARAN DAS 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন ➡️ http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/01/blog-post_47.html

 ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
                  ꧁ ৬৮. অতি গূঢ় নিত্যানন্দ ꧂
       ꧁ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী গোপীশরণ দাস ꧂
       এই লিংকে ⬇️⬇️⬇️🙏⬇️⬇️⬇️ ক্লিক করুন 
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
   🏠Home Page🏠⬇️⬇️🙏⬇️⬇️📚PDF গ্রন্থ📚
꧁ MrinmoyNandy.blogspot.com 👉 সূচীপত্র ꧂
       এই লিংকে ⬇️⬇️⬇️🙏⬇️⬇️⬇️ ক্লিক করুন 
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
 ꧁ টিকা বা অন্যান্য ধর্মীয় লিখনী 🙏 সূচীপত্র ꧂
      ꧁ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী গোপীশরণ দাস ꧂
       এই লিংকে ⬇️⬇️⬇️🙏⬇️⬇️⬇️ ক্লিক করুন 
 ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
 ꧁ প্রভু নিত্যানন্দের সংক্ষিপ্ত লীলা 🙏 সূচীপত্র ꧂
      ꧁ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী গোপীশরণ দাস ꧂
       এই লিংকে ⬇️⬇️⬇️🙏⬇️⬇️⬇️ ক্লিক করুন 
 ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
( ৬৮)
*অতি গূঢ় নিত্যানন্দ।*

*#মহাপ্রভুর_রেমুণা_আগমন_এবং_ক্ষীরচোরা_গোপীনাথ_প্রসঙ্গ।*

রেমুনায় এসে মহাপ্রভু ক্ষীরচোরা-গোপীনাথ দর্শন করে প্রেমানন্দে ভক্তিভরে গোপীনাথের চরণে প্রনাম করতেই গোপীনাথের মাথার পুষ্পচূড়া মহাপ্রভুর  মস্তকের ওপর পড়ল। আনন্দিত চিত্তে মহাপ্রভু   সংকীর্তনানন্দে ধন্য করলেন ক্ষীরচোরা  গোপীনাথ মন্দিরের প্রাঙ্গণ।এর পূর্বেও এই প্রাঙ্গন ধন্য হয়েছে মহাপ্রভুর পরম গুরুদেব #শ্রীপাদ_মাধবেন্দ্রপুরীর আগমনে এবং গোপীনাথ কর্তৃক ক্ষীর চুরির ঘটনা তে।মহাপ্রভুর রূপ গুণ প্রভাব দেখে গোপীনাথের ভক্তগণ বিস্মিত হলেন এবং বিবিধ প্রকারে তাঁর সেবা করতে লাগলেন।এদিকে সন্ধ্যার পরে গোপীনাথের অমৃতকেলি নামে ক্ষীরভোগ হয়। সঙ্গিগণ মহাপ্রভুর কাছে গোপীনাথের ক্ষীর চুরি করার কাহিনী শুনতে চাইলে মহাপ্রভু তাঁর শ্রীগুরুদেব #শ্রীপাদ_ঈশ্বর_পুরীর কাছে শ্রুত ঘটনা টি বললেন।

মাধবেন্দ্রপুরী ছিলেন অযাচকবৃত্তি গ্রহণকারী (যিনি নিজে কিছু চেয়ে খান না।) এক বৈষ্ণব সন্ন্যাসী।একসময় বহুতীর্থ ভ্রমণ করে এসে পৌঁছালেন  শ্রীবৃন্দাবনে।গিরিরাজ গোবর্ধন পরিক্রমা করে গোবিন্দকুণ্ডের জলে স্নান সেরে কুণ্ডতীরে বসে ভগবত ধ্যানে আবিষ্ট হলেন। গোপাল এক গোপ-বালকের বেশে এসে   একভাঁড় দুধ দিয়ে হেসে বললেন।
এ বাবা! এই দুধ টা খেয়ে নাও। বসে বসে কার ধ্যান কর!
(মনের ভাব আমি সাক্ষাতে এসেছি আমাকে না দেখে কার ধ্যান করছো?)

মাধবেন্দ্র পুরী বলছেন - তুমি কি করে জানলে আমি উপবাসী আছি?
গোপাল - মেয়েরা জল নিতে এসেছিল।  তোমাকে দেখে  গিয়ে আমাকে বলল। আমাদের গ্রামে কেউ উপবাসী থাকে না। কেউ ভিক্ষা করে খায়। যারা ভিক্ষা করে না তাদেরকে আমি খাবার পৌঁছে দি।আমার বেশি সময় নেই গোরু দুইতে হবে। তুমি খেয়ে ভাঁড় টা ধুয়ে রেখো, আমি এসে নিয়ে যাব।
 বলে একটু মৃদু হেসে ছেলেটা চলে গেল। একটু দূরে গিয়েই অদৃশ্য!
 মাধবেন্দ্র পুরী ভাবছেন - আহা! কি মধুর রূপ! এত সুন্দর মুখখানা!! সেই ভাবতে ভাবতে দুগ্ধ পান করে ভাঁড়টা ধুয়ে রেখে দিলেন ।
কিন্তু সে ছেলে আর ফিরে আসলো না। মাধবেন্দ্র হরিনাম জপ করেই রাত্রি পার করলেন।শেষ রাতে স্বপ্নে দেখছেন সেই বালক আবার এসেছে।
  বালক বললেন গোবর্ধনের এই কুঞ্জে আমি থাকি।
 বহুদিন ধরে তোমার পথ পানে চেয়ে আছি।

*#বহুদিন_হইতে_করি_পথ_নিরীক্ষণ। #কবে_আসি_মাধব_মোরে_করিবে_সেবন।।*

পরদিন সকালে ব্রজবাসীদের সাহায্যে গোবর্ধন পর্বত থেকে গোপালকে বের করলেন মাধবেন্দ্রপুরী।অভিষেকাদি সম্পন্ন করে অন্নকূট উৎসব করলেন। এইভাবে দুই বছর গোবর্ধনে গোপাল সেবাতে মগ্ন থাকলেন মাধবেন্দ্রপুরী জী।
একদিন তিনি স্বপ্ন দেখলেন - গোপাল এসে বলছে "প্রচণ্ড গরমে আমার কষ্ট হচ্ছে ।নীলাচল পুরী থেকে মলয়জ চন্দন এনে আমার অঙ্গে লেপন কর।তবে আমার তাপ দূরীভূত হবে।" স্বপ্নাদেশ পেয়ে মাধবেন্দ্রপুরী গোপালের সেবাতে বঙ্গদেশ হতে আগত দুজন বৈষ্ণব ব্রাহ্মণকে নিযুক্ত করে, নীলাচলের পথে রওনা দিলেন। মাঝপথে এলেন শান্তিপুরে। গৌর আনা ঠাকুর শ্রীঅদ্বৈত প্রভু  দীক্ষা নিলেন তাঁর কাছে। আবার পথে নামলেন মাধবেন্দ্রপুরী।এলেন রেমুণা তে। 
#রেমুণা_তে_কৈল_গোপীনাথ_দরশন।
#তাঁর_রূপ_দেখিয়া_হৈল_বিহ্বল_মন।।গোপীনাথ কে দেখে মাধবেন্দ্রপুরীর হৃদয় প্রেমে দ্রবীভূত হয়ে গেল।তিনি অনুসন্ধানে জানতে পারলেন যে প্রতিদিন সন্ধ্যায় ১২টি পাত্রে #অমৃতকেলি নামে ক্ষীর ভোগ হয়।মনে মনে ইচ্ছে যে একবার যদি গোপীনাথের ক্ষীর প্রসাদ পাওয়া যেত তবে সেই ক্ষীর আস্বাদন করে সেই প্রকার ক্ষীর গোপালকে ভোগ দেওয়া যেত। কিন্তু একি ! আমি না অযাচকবৃত্তি ধারী সন্ন্যাসী । আমার মনে এই বাসনাও উচিত নয়! বিষ্ণু বিষ্ণু! সেই রাতে গোপীনাথ কে দর্শন করে মাধবেন্দ্রপুরী মন্দিরের সন্নিকটে একটি হাটে রাত কাটানোর ব্যবস্থা করলেন। এদিকে রাতে গোপীনাথের শয়ন হয়ে গেল।মধ্যরাতে গোপীনাথ নিজের সেবাইত কে স্বপ্ন দিলেন -" ঘুম থেকে ওঠো।মন্দিরের দুয়ার খোলো।দেখো আমার কাপড়ের আঁচল দিয়ে এক পাত্র ক্ষীর ঢাকা আছে। সেই ক্ষীর নিয়ে তুমি হাটের দিকে গিয়ে মাধবেন্দ্রপুরী নামধারী এক সন্ন্যাসীর খোঁজ করো।সে আমার পরম ভক্ত । সারাদিন না খেয়ে আছে।আমি তাঁর জন্য ক্ষীর চুরি করেছি"। স্বপ্নানুসারে পূজারী মাধবেন্দ্রপুরীকে খুঁজে পেলেন এবং ক্ষীর প্রসাদ পাইয়ে সমস্ত ঘটনার ইতিবৃত্ত জানালেন।মাধবেন্দ্রপুরীর তখন "#প্রেমে_ভাসে_নয়ন_জলে" অবস্থা।কিন্তু এইভাবে সবাই জেনে যাবে। মাধবেন্দ্রপুরী সর্বত্যাগী সন্ন্যাসী । সম্মান পূজা প্রতিষ্ঠা সব ত্যাগ করেছেন।সেই প্রতিষ্ঠাই যদি তাঁর কাছে এসে পড়ে....এই আশঙ্কায় ভোর হতে না হতেই রওনা দিলেন পুরীর উদ্দেশ্যে-মলয়জ চন্দন আনতে।জগন্নাথ দর্শনাদি সেরে মলয়জ চন্দন জোগাড় করে  ফিরে আসতে লাগলেন বৃন্দাবনে । পথে আবার রেমুণাতে এলেন ।যে গোপীনাথ তাঁর জন্য ক্ষীর চুরি করেছেন তাকে একবার না দেখে গেলে মন মানে না।পুনরায় মাধবেন্দ্রপুরী #ক্ষীরচোরা_গোপীনাথ দর্শন করলেন।রাতে গোবর্ধন-বিহারী গোপাল স্বপ্নাদেশ দিলেন-

"#গোপীনাথ_আমার_সে_একই_অঙ্গ_হয়।
#ইহাকে_চন্দন_দিলে_আমার_তাপ_ক্ষয়।।

 মাধবেন্দ্রপুরী সেইমত ব্যবস্থা করলেন। যে চন্দন তিনি ব্রজে নিয়ে গিয়ে গোপাল কে দেবেন বলে স্থির করেছিলেন। সেই চন্দন গোপালের আদেশেই #ক্ষীরচোরা_গোপীনাথ_দেবের_শ্রী_অঙ্গে  লেপন করলেন। গৌড়ীয় বৈষ্ণব জগতে প্রবর্তন করলেন #চন্দন_যাত্রা উৎসব এর। এর আগে এই উৎসব পুরীতে জগন্নাথ দেবের মন্দির  ব্যাতীত অন্য কোথাও অনুষ্ঠিত হয় নি। পরবর্তীতে মাধবেন্দ্রপুরীর অপ্রকটের পরে তাঁকে রেমুণাতেই ক্ষীরচোরা গোপীনাথ মন্দিরের নিকটেই সমাহিত করা হয় ।
এইভাবে শ্রীমন্মহাপ্রভু  নিজ মুখে নিজ পরম গুরুদেবের মহিমা বর্ণনা করলেন।আর সঙ্গের ভক্তরা তা আস্বাদন করলেন।মহাপ্রভু ভাবাবেশে প্রভু নিতাই চাঁদ কে বলে উঠলেন
"#প্রভু_কহে_নিত্যানন্দ_করহ_বিচার।
#পুরী_সম_ভাগ্যবান_জগতে_নাহি_আর।।

গোপীনাথের ১২পাত্র ক্ষীর প্রসাদ নিয়ে এলেন মন্দিরের সেবকেরা।মহাপ্রভু পঞ্চপাত্র (নিজের আর সাথের চারজনের) ক্ষীর নিয়ে বাকি সাতপাত্র সেবকদের ফিরিয়ে দিলেন। অনাবশ্যক নষ্ট হোক সেটা মহাপ্রভু চান না। লোভবশত প্রয়োজনের অতিরিক্ত গ্রহণ করা সন্ন্যাসীর কখনো উচিৎ নয়।
মাধবেন্দ্রপুরীর অমৃত চরিত্র আস্বাদন করে ক্ষীরচোরা গোপীনাথের ক্ষীর প্রসাদ পেয়ে বিশ্রাম শেষে রাত্রি প্রভাত হল।সপার্ষদ  মহাপ্রভু চললেন যাজপুরে।
ক্রমশ......

GOPISARAN DAS

http­//MrinmoyNandy.blogspot.com/2022/12/blogéôépost_30.html
 ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
 
 ✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️
           ꧁ লিখনী সেবা- শ্রী গোপীশরণ দাস ꧂
নিবাস-শ্রীশ্রীনিত্যানন্দ প্রভুর জন্মস্থান, একচক্রা, বীরভূম, পশ্চিমবঙ্গ। 
 ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏
আমায় দেওয়া ওনার এই অমূল্য লিখনী সেবা, তা সকলের মধ্যে প্রকাশ করলাম। ওনার এই অমূল্য দান সমগ্র বৈষ্ণব সমাজ অনন্তকাল মনে রাখিবে।
🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
    *••••┉━❀꧁ 🙏 রাধে রাধে 🙏 ꧂❀━┅••••* 
                   শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য প্রভু নিত্যানন্দ
              হরে কৃষ্ণ হরে রাম শ্রীরাধেগোবিন্দ।।
  *••••┉━❀꧁ 🙏 জয় জগন্নাথ 🙏 ꧂❀━┅••••*
              হরে কৃষ্ণ হরে কৃষ্ণ কৃষ্ণ কৃষ্ণ হরে হরে
              হরে রাম হরে রাম রাম রাম হরে হরে॥
  *••••┉━❀꧁ 🙏 জয় রাধাকান্ত 🙏 ꧂ ❀━┅••••*
   💮❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀💮
   💮❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀💮
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧



৬৭. অতি গূঢ় নিত্যানন্দ 🙏 দণ্ডভঙ্গ লীলা ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী গোপীশরণ দাস 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন ➡️ http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/01/blog-post_79.html

 ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
                  ꧁ ৬৭. অতি গূঢ় নিত্যানন্দ ꧂
       ꧁ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী গোপীশরণ দাস ꧂
       এই লিংকে ⬇️⬇️⬇️🙏⬇️⬇️⬇️ ক্লিক করুন 
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
   🏠Home Page🏠⬇️⬇️🙏⬇️⬇️📚PDF গ্রন্থ📚
꧁ MrinmoyNandy.blogspot.com 👉 সূচীপত্র ꧂
       এই লিংকে ⬇️⬇️⬇️🙏⬇️⬇️⬇️ ক্লিক করুন 
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
 ꧁ টিকা বা অন্যান্য ধর্মীয় লিখনী 🙏 সূচীপত্র ꧂
      ꧁ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী গোপীশরণ দাস ꧂
       এই লিংকে ⬇️⬇️⬇️🙏⬇️⬇️⬇️ ক্লিক করুন 
 ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
 ꧁ প্রভু নিত্যানন্দের সংক্ষিপ্ত লীলা 🙏 সূচীপত্র ꧂
      ꧁ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী গোপীশরণ দাস ꧂
       এই লিংকে ⬇️⬇️⬇️🙏⬇️⬇️⬇️ ক্লিক করুন 
 ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
( ৬৭)
*অতি গূঢ় নিত্যানন্দ।*

*#দণ্ডভঙ্গ_লীলা।*

প্রেমাবেশে মহাপ্রভু এসে সুবর্ণরেখা নদীর তীরে উপনীত হলেন। সুবর্ণরেখার জল পরম নির্মল। সগণে মহাপ্রভু স্নান করলেন।সুবর্ণরেখা নদীকে ধন্য করে মহাপ্রভু এগিয়ে চললেন। প্রেমাবেশে নিত্যানন্দ প্রভু পিছনে রয়ে গেলেন,কখনো অট্ট অট্ট হাসছেন, কখনো ধুলায় গড়াগড়ি যাচ্ছেন, আবার কখনো হুঙ্কার গর্জন করছেন। এইভাবে মহামত্ত হয়ে গমন করছেন।
কিছুদূর গিয়ে মহাপ্রভু বসলেন নিজ গণের অপেক্ষায়।
এদিকে জগদানন্দ মহাপ্রভুর দণ্ড বহন করছিলেন। তিনি নিত্যানন্দ প্রভুকে বললেন -তুমি এই মহাপ্রভুর দণ্ড কিছুক্ষণ ধর, সাবধানে রাখবে, আমি ভিক্ষা করে আসি।
দণ্ড হাতে নিয়ে নিত্যানন্দ মৃদু হেসে বলছেন আমি যাকে হৃদয়ে বহন করি সে তোমাকে বহন করবে? এ উচিত নয়‌। এই বলেই পরম প্রচন্ড নিত্যানন্দ দণ্ডখানা তিন খণ্ড করে ভেঙে ফেললেন। একখণ্ড সত্য যুগের, এক খন্ড ত্রেতা যুগের,একখণ্ড দ্বাপর যুগের,কলিযুগে কোনো দণ্ড নেই, বলছেন আর অট্ট অট্ট হাসছেন।

জগদানন্দ এসে জিজ্ঞাসা করলেন - দণ্ডখানা কে ভাঙলো! নিত্যানন্দ বলছেন -যে ধরেছিল সে।

দণ্ড খণ্ড এনে জগদানন্দ মহাপ্রভু সামনে রাখলেন।
মহাপ্রভুর জিজ্ঞাসায় জগদানন্দ সব ঘটনা খুলে বললেন।
 
নিত্যানন্দকে জিজ্ঞাসা করলেন মহাপ্রভু - দণ্ডখানা  কেন ভাঙলে! 

নিত্যানন্দ প্রভু বলছেন - একখানা বাঁশই ত ভেঙেছি! ক্ষমা না করতে পারো,যা হয় দণ্ড দাও।
যাতে সকল দেবের অধিষ্ঠান তাকে তুমি বলছ - "বাঁশ- খান"?
 সবেমাত্র দণ্ডখানা আমার সম্বল ছিল, তাও তুমি ভেঙে ফেললে!
যাও, তোমাদের সঙ্গে আমি আর যাব না।হয় তোমরা আগে যাও, না হলে আমি আগে যাই।
 মুকুন্দ বললেন ,- প্রভু! তুমিই আগে চল, আমরা তোমার পশ্চাতে যাব।

'ভালো' বলে মহাপ্রভু দ্রুতগতিতে এগিয়ে চললেন। জলেশ্বর গ্রামে এসে উপস্থিত হলেন। সেখানে গিয়ে জলেশ্বর মহাদেব দর্শন করলেন। সেখানে ব্রাহ্মণগণ গন্ধ, পুষ্প, ধুপ, দীপ মালা আদি দ্বারা পূজার্চনা করছেন। বহুবিধ বাদ্য বাজছে। মহাপ্রভু আনন্দিত মনে নৃত্য করতে লাগলেন। ইতিমধ্যে ভক্তগণও এসে মিলিত হলেন। মুকুন্দ প্রভুর মন জেনে গান গাইতে লাগলেন। অপূর্ব পরিমণ্ডলের সৃষ্টি হল। সকলকে প্রভু প্রেমালিঙ্গন দান করলেন। নিত্যানন্দকে দেখে প্রভু কোলে করলেন। আর বলতে লাগলেন কোথায় তুমি আমাকে রক্ষা করবে, আমার যাতে সন্ন্যাস ধর্ম রক্ষা হয়, সে চেষ্টা করবে! তুমি আরো চাইছো আমাকে পাগল করতে, আর যদি এরকম করো তো "আমার মাথা খাও"।
 তুমি যেমন কর, আমি তেমনই হই, এইভাবে গৌরচন্দ্র সকলকে শিক্ষা দিলেন। নিত্যানন্দের প্রতি সকলে সাবধান হও। নিত্যানন্দের কাছে যার অপরাধ হয়, নিশ্চিত তার প্রেমভক্তি বাধ হয়। আমার থেকেও নিত্যানন্দ দেহ বড়। নিত্যানন্দে যার তিলমাত্র দ্বেষ থাকে, ভক্ত হইলেও সে আমার কখনো প্রিয় নয়। নিজের স্তুতি শুনে নিত্যানন্দ অত্যন্ত লজ্জিত হলেন। এইমত জলেশ্বরে সে রাত্রি থেকে প্রাতঃকালে সকলে এগিয়ে চললেন।"
পথে "বাঁশধা" নামক স্থানে এক শাক্ত সন্ন্যাসীবেশে এসে মহাপ্রভুকে আদেশ দিলেন। নিজের গুনগাঁথা গেয়ে মহাপ্রভুকে বললেন চলো,আজ আমার মঠে "আনন্দ" করবে। শুনে গৌরনিত্যানন্দ হাসতে লাগলেন, আর বললেন তুমি গিয়ে আগে সজ্জা কর, তারপর আমরা আসছি।
 দর্শন দানে শাক্তকে পবিত্র করে মহাপ্রভু এগিয়ে চললেন। চলতে চলতে রেমুনায় এসে উপস্থিত হলেন।....

GOPISARAN DAS

http­//MrinmoyNandy.blogspot.com/2022/12/blogéôépost_30.html
 ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
 
 ✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️
           ꧁ লিখনী সেবা- শ্রী গোপীশরণ দাস ꧂
নিবাস-শ্রীশ্রীনিত্যানন্দ প্রভুর জন্মস্থান, একচক্রা, বীরভূম, পশ্চিমবঙ্গ। 
 ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏
আমায় দেওয়া ওনার এই অমূল্য লিখনী সেবা, তা সকলের মধ্যে প্রকাশ করলাম। ওনার এই অমূল্য দান সমগ্র বৈষ্ণব সমাজ অনন্তকাল মনে রাখিবে।
🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
    *••••┉━❀꧁ 🙏 রাধে রাধে 🙏 ꧂❀━┅••••* 
                   শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য প্রভু নিত্যানন্দ
              হরে কৃষ্ণ হরে রাম শ্রীরাধেগোবিন্দ।।
  *••••┉━❀꧁ 🙏 জয় জগন্নাথ 🙏 ꧂❀━┅••••*
              হরে কৃষ্ণ হরে কৃষ্ণ কৃষ্ণ কৃষ্ণ হরে হরে
              হরে রাম হরে রাম রাম রাম হরে হরে॥
  *••••┉━❀꧁ 🙏 জয় রাধাকান্ত 🙏 ꧂ ❀━┅••••*
   💮❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀💮
   💮❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀💮
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧



৬৭. অতি গূঢ় নিত্যানন্দ 🙏 দণ্ডভঙ্গ লীলা ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী গোপীশরণ দাস 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন ➡️ http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/01/blog-post_79.html

 ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
                  ꧁ ৬৭. অতি গূঢ় নিত্যানন্দ ꧂
       ꧁ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী গোপীশরণ দাস ꧂
       এই লিংকে ⬇️⬇️⬇️🙏⬇️⬇️⬇️ ক্লিক করুন 
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
   🏠Home Page🏠⬇️⬇️🙏⬇️⬇️📚PDF গ্রন্থ📚
꧁ MrinmoyNandy.blogspot.com 👉 সূচীপত্র ꧂
       এই লিংকে ⬇️⬇️⬇️🙏⬇️⬇️⬇️ ক্লিক করুন 
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
 ꧁ টিকা বা অন্যান্য ধর্মীয় লিখনী 🙏 সূচীপত্র ꧂
      ꧁ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী গোপীশরণ দাস ꧂
       এই লিংকে ⬇️⬇️⬇️🙏⬇️⬇️⬇️ ক্লিক করুন 
 ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
 ꧁ প্রভু নিত্যানন্দের সংক্ষিপ্ত লীলা 🙏 সূচীপত্র ꧂
      ꧁ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী গোপীশরণ দাস ꧂
       এই লিংকে ⬇️⬇️⬇️🙏⬇️⬇️⬇️ ক্লিক করুন 
 ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
( ৬৭)
*অতি গূঢ় নিত্যানন্দ।*

*#দণ্ডভঙ্গ_লীলা।*

প্রেমাবেশে মহাপ্রভু এসে সুবর্ণরেখা নদীর তীরে উপনীত হলেন। সুবর্ণরেখার জল পরম নির্মল। সগণে মহাপ্রভু স্নান করলেন।সুবর্ণরেখা নদীকে ধন্য করে মহাপ্রভু এগিয়ে চললেন। প্রেমাবেশে নিত্যানন্দ প্রভু পিছনে রয়ে গেলেন,কখনো অট্ট অট্ট হাসছেন, কখনো ধুলায় গড়াগড়ি যাচ্ছেন, আবার কখনো হুঙ্কার গর্জন করছেন। এইভাবে মহামত্ত হয়ে গমন করছেন।
কিছুদূর গিয়ে মহাপ্রভু বসলেন নিজ গণের অপেক্ষায়।
এদিকে জগদানন্দ মহাপ্রভুর দণ্ড বহন করছিলেন। তিনি নিত্যানন্দ প্রভুকে বললেন -তুমি এই মহাপ্রভুর দণ্ড কিছুক্ষণ ধর, সাবধানে রাখবে, আমি ভিক্ষা করে আসি।
দণ্ড হাতে নিয়ে নিত্যানন্দ মৃদু হেসে বলছেন আমি যাকে হৃদয়ে বহন করি সে তোমাকে বহন করবে? এ উচিত নয়‌। এই বলেই পরম প্রচন্ড নিত্যানন্দ দণ্ডখানা তিন খণ্ড করে ভেঙে ফেললেন। একখণ্ড সত্য যুগের, এক খন্ড ত্রেতা যুগের,একখণ্ড দ্বাপর যুগের,কলিযুগে কোনো দণ্ড নেই, বলছেন আর অট্ট অট্ট হাসছেন।

জগদানন্দ এসে জিজ্ঞাসা করলেন - দণ্ডখানা কে ভাঙলো! নিত্যানন্দ বলছেন -যে ধরেছিল সে।

দণ্ড খণ্ড এনে জগদানন্দ মহাপ্রভু সামনে রাখলেন।
মহাপ্রভুর জিজ্ঞাসায় জগদানন্দ সব ঘটনা খুলে বললেন।
 
নিত্যানন্দকে জিজ্ঞাসা করলেন মহাপ্রভু - দণ্ডখানা  কেন ভাঙলে! 

নিত্যানন্দ প্রভু বলছেন - একখানা বাঁশই ত ভেঙেছি! ক্ষমা না করতে পারো,যা হয় দণ্ড দাও।
যাতে সকল দেবের অধিষ্ঠান তাকে তুমি বলছ - "বাঁশ- খান"?
 সবেমাত্র দণ্ডখানা আমার সম্বল ছিল, তাও তুমি ভেঙে ফেললে!
যাও, তোমাদের সঙ্গে আমি আর যাব না।হয় তোমরা আগে যাও, না হলে আমি আগে যাই।
 মুকুন্দ বললেন ,- প্রভু! তুমিই আগে চল, আমরা তোমার পশ্চাতে যাব।

'ভালো' বলে মহাপ্রভু দ্রুতগতিতে এগিয়ে চললেন। জলেশ্বর গ্রামে এসে উপস্থিত হলেন। সেখানে গিয়ে জলেশ্বর মহাদেব দর্শন করলেন। সেখানে ব্রাহ্মণগণ গন্ধ, পুষ্প, ধুপ, দীপ মালা আদি দ্বারা পূজার্চনা করছেন। বহুবিধ বাদ্য বাজছে। মহাপ্রভু আনন্দিত মনে নৃত্য করতে লাগলেন। ইতিমধ্যে ভক্তগণও এসে মিলিত হলেন। মুকুন্দ প্রভুর মন জেনে গান গাইতে লাগলেন। অপূর্ব পরিমণ্ডলের সৃষ্টি হল। সকলকে প্রভু প্রেমালিঙ্গন দান করলেন। নিত্যানন্দকে দেখে প্রভু কোলে করলেন। আর বলতে লাগলেন কোথায় তুমি আমাকে রক্ষা করবে, আমার যাতে সন্ন্যাস ধর্ম রক্ষা হয়, সে চেষ্টা করবে! তুমি আরো চাইছো আমাকে পাগল করতে, আর যদি এরকম করো তো "আমার মাথা খাও"।
 তুমি যেমন কর, আমি তেমনই হই, এইভাবে গৌরচন্দ্র সকলকে শিক্ষা দিলেন। নিত্যানন্দের প্রতি সকলে সাবধান হও। নিত্যানন্দের কাছে যার অপরাধ হয়, নিশ্চিত তার প্রেমভক্তি বাধ হয়। আমার থেকেও নিত্যানন্দ দেহ বড়। নিত্যানন্দে যার তিলমাত্র দ্বেষ থাকে, ভক্ত হইলেও সে আমার কখনো প্রিয় নয়। নিজের স্তুতি শুনে নিত্যানন্দ অত্যন্ত লজ্জিত হলেন। এইমত জলেশ্বরে সে রাত্রি থেকে প্রাতঃকালে সকলে এগিয়ে চললেন।"
পথে "বাঁশধা" নামক স্থানে এক শাক্ত সন্ন্যাসীবেশে এসে মহাপ্রভুকে আদেশ দিলেন। নিজের গুনগাঁথা গেয়ে মহাপ্রভুকে বললেন চলো,আজ আমার মঠে "আনন্দ" করবে। শুনে গৌরনিত্যানন্দ হাসতে লাগলেন, আর বললেন তুমি গিয়ে আগে সজ্জা কর, তারপর আমরা আসছি।
 দর্শন দানে শাক্তকে পবিত্র করে মহাপ্রভু এগিয়ে চললেন। চলতে চলতে রেমুনায় এসে উপস্থিত হলেন।....

GOPISARAN DAS

http­//MrinmoyNandy.blogspot.com/2022/12/blogéôépost_30.html
 ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
 
 ✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️
           ꧁ লিখনী সেবা- শ্রী গোপীশরণ দাস ꧂
নিবাস-শ্রীশ্রীনিত্যানন্দ প্রভুর জন্মস্থান, একচক্রা, বীরভূম, পশ্চিমবঙ্গ। 
 ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏
আমায় দেওয়া ওনার এই অমূল্য লিখনী সেবা, তা সকলের মধ্যে প্রকাশ করলাম। ওনার এই অমূল্য দান সমগ্র বৈষ্ণব সমাজ অনন্তকাল মনে রাখিবে।
🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
    *••••┉━❀꧁ 🙏 রাধে রাধে 🙏 ꧂❀━┅••••* 
                   শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য প্রভু নিত্যানন্দ
              হরে কৃষ্ণ হরে রাম শ্রীরাধেগোবিন্দ।।
  *••••┉━❀꧁ 🙏 জয় জগন্নাথ 🙏 ꧂❀━┅••••*
              হরে কৃষ্ণ হরে কৃষ্ণ কৃষ্ণ কৃষ্ণ হরে হরে
              হরে রাম হরে রাম রাম রাম হরে হরে॥
  *••••┉━❀꧁ 🙏 জয় রাধাকান্ত 🙏 ꧂ ❀━┅••••*
   💮❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀💮
   💮❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀💮
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧



৬৬. অতি গূঢ় নিত্যানন্দ 🙏 ছত্রভোগ পথে ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী গোপীশরণ দাস 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন ➡️ http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/01/blog-post_95.html

 ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
                ꧁ ৬৬. অতি গূঢ় নিত্যানন্দ ꧂
       ꧁ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী গোপীশরণ দাস ꧂
       এই লিংকে ⬇️⬇️⬇️🙏⬇️⬇️⬇️ ক্লিক করুন 
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
   🏠Home Page🏠⬇️⬇️🙏⬇️⬇️📚PDF গ্রন্থ📚
꧁ MrinmoyNandy.blogspot.com 👉 সূচীপত্র ꧂
       এই লিংকে ⬇️⬇️⬇️🙏⬇️⬇️⬇️ ক্লিক করুন 
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
 ꧁ টিকা বা অন্যান্য ধর্মীয় লিখনী 🙏 সূচীপত্র ꧂
      ꧁ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী গোপীশরণ দাস ꧂
       এই লিংকে ⬇️⬇️⬇️🙏⬇️⬇️⬇️ ক্লিক করুন 
 ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
 ꧁ প্রভু নিত্যানন্দের সংক্ষিপ্ত লীলা 🙏 সূচীপত্র ꧂
      ꧁ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী গোপীশরণ দাস ꧂
       এই লিংকে ⬇️⬇️⬇️🙏⬇️⬇️⬇️ ক্লিক করুন 
 ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
( ৬৬)
*অতি গূঢ় নিত্যানন্দ।* 

*ছত্রভোগ_পথে।*

নিত্যানন্দ, গদাধর মুকুন্দ, জগদানন্দ, ব্রহ্মানন্দ সঙ্গে মহাপ্রভু চলেছেন নীলাচলের পথে। রাস্তায় এসে সকল কে জিজ্ঞাসা করছেন বল কার কাছে কি সম্বল আছে। কেউ কিছু দিয়েছে কি? সব নিষ্কপটে  আমার কাছে বল। সকলে বলছেন - "প্রভু! তোমার আজ্ঞা ছাড়া কারো দ্রব্য নিতে কার শক্তি আছে?
 শুনে ঠাকুর অত্যন্ত প্রসন্ন হলেন আর বললেন - তোমরা যে কারো কাছ থেকে কিছু নাও নাই, তাতে আমি খুব সন্তুষ্ট হলাম। দেখ! যেদিন যা কপালে লিখা থাকবে, সে বনে বসে থাকলেও অবশ্য মিলবে। যেদিন ভগবান আহার লিখেন নাই রাজপুত্র হলেও তার ভোজন মিলবে না। এই প্রকার কথাপ্রসঙ্গে আটিসারা গ্রামে এসে উপস্থিত হলেন সেখানে থাকতেন এক সাধু তার নাম "শ্রীঅনন্ত"।  সেখানেই সেদিন ভিক্ষা গ্রহণ করলেন। সারারাত্রি কৃষ্ণকথা প্রসঙ্গে যাপন করলেন। অনন্তপন্ডিতের উপর শুভদৃষ্টি করে প্রাতঃকালে ওঠে গঙ্গার কূলে কূলে ছত্রভোগে উপস্থিত হলেন। শতধারায় গঙ্গা প্রবাহিত হচ্ছে  সেখানে। জলময় শিবলিঙ্গ আছে তাই তার নাম "অম্বুলিঙ্গঘাট"।কৈলাস পর্বতে মহাদেবের জটা থেকে যখন গঙ্গা অবতরণ করলেন, মহাদেব গঙ্গা-বিরহে ব্যাকুল হয়ে পড়লেন। খুঁজতে খুঁজতে চলে আসলেন এইখানে ছত্রভোগে। এখানে এসে গঙ্গার দর্শন পেয়ে গঙ্গায় ঝাঁপ দিয়ে পড়লেন। জগজ্জননী গঙ্গা মহাদেবের মহিমা জেনে তাঁকে পূজো করলেন। উভয়ে উভয়ের স্তুতি করলেন। মহাদেব এখানে দ্রবব্রহ্ম জলরূপে অবস্থান করলেন। তাই এই ঘাটের নাম পড়ে গেল "অম্বুলিঙ্গঘাট"।
সকলে এই ঘাটে স্নান করে আনন্দ অনুভব করলেন।এইখানে গঙ্গা শতধারায় প্রবাহিত। আজ মহাপ্রভুর নয়নেও শতধারা।
মহাপ্রভু এখান থেকে রওনা হবেন, এমন সময় পালকিতে চড়ে  আসলেন, রামচন্দ্র খান। মহাপ্রভুর দর্শন করে চুম্বকাকৃষ্ট লৌহের ন্যায় এসে সাষ্টাঙ্গে দণ্ডবৎ করলেন।মহাপ্রভু জিজ্ঞাসা করলেন - কে তুমি?
সে বলছেন - আমি এই স্থানের অধিকারী।
আজ্ঞা করুন, আপনার কি সেবা করতে পারি!
মহাপ্রভু - আমি নীলাচলচন্দ্র জগন্নাথের দর্শনের যেতে চাই।
 উনি বললেন - আপনার যা আজ্ঞা আমি অবশ্যই করব, কিন্তু এখন দুই দেশের ভিতর যুদ্ধ চলছে। এখানে কোন প্রাণের নিরাপত্তা নেই। তথাপি আমি চেষ্টা করছি ,আপনাকে গন্তব্যস্থলে পৌঁছানোর।
গৃহে নিয়ে গিয়ে ব্রাহ্মণ দ্বারা রন্ধন করিয়ে ভিক্ষা করালেন।
মহাপ্রভু কিঞ্চিত প্রসাদ মুখে দিয়েই হুংকার করে উঠলেন। "বোল বোল" বলে, মুকুন্দ কীর্তন শুরু করলেন মহাপ্রভুর নৃত্য করতে লাগলেন। এইভাবে রাত্রি দ্বিপ্রহর অতীত হল। রামচন্দ্র খান এসে বললেন- প্রভু! নৌকা প্রস্তুত। মহাপ্রভু সবা-সঙ্গে গিয়ে নৌকায় উঠলেন। সেখানেও নৃত্য কীর্তন চলতে লাগল। কিন্তু মাঝির আপত্তিতে সকলে কীর্তন বন্ধ করলেন। হঠাৎ মহাপ্রভু হুঙ্কার করে উঠে বলছেন- কৃষ্ণকীর্তন কর!
 দেখতে পাচ্ছো না সুদর্শন চক্র ঘুরছে! তোমাদের কোন চিন্তা নেই‌ সব সময় চক্র-সুদর্শন আমাদের সকলকে রক্ষা করছেন। অতএব সকলে নির্ভয়ে সংকীর্তন কর। প্রেমানন্দে মত্ত হয়ে সকলে উচ্চ-সংকীর্তন করতে লাগলেন। দেখতে দেখতে নৌকা এসে উড়িষ্যা দেশে পৌঁছে গেল।সকলে প্রয়াগঘাটে নেমে উড়িষ্যায় কিছুদূর গিয়ে গঙ্গাঘাট নামক ঘাটে স্নান সমাধান করলেন। তারপর নীলাচলের দিকে অগ্রসর হলেন।
 রাস্তায় এক দেবালয়ে সকলকে রেখে মহাপ্রভু ভিক্ষায় বের হলেন। যার ঘরেই যান রূপমাধুর্যে মুগ্ধ হয়ে সকলেই মহাপ্রভুকে প্রচুর পরিমাণ ভিক্ষা দিলেন। কিছুক্ষণ পর ফিরে এসে মহাপ্রভু ভিক্ষালব্ধ দ্রব্য সকলের সামনে রাখলেন‌। সকলে বললেন - প্রভু! তুমি পারবে আমাদের পালন পোষণ করতে।  সত্যিই তোমার নাম বিশ্বম্ভর, আজ আর একবার তার প্রমান পেলাম। কুশলী জগদানন্দ সত্বর রন্ধন সমাধান করলে, সকলে মিলে ভোজন  করে আবার চললেন নীলাচলের পানে।
 যেতে যেতে দান ঘাঁটিতে দানী আটক করল। মহাপ্রভু তেজোময় স্বরূপ দেখে জিজ্ঞাসা করল দানী - তোমার সঙ্গে কে আছে?
 মহাপ্রভু বললেন - জগতে আমার কেউ নেই, আমিও কারো নই। 

দানী মহাপ্রভুকে ছেড়ে দিল। মহাপ্রভু কিছুদূরে গিয়ে একটি বৃক্ষতলে উপবেশন করলেন।
 এদিকে সকলে মহাপ্রভুর ব্যবহার দেখে বিস্মিত হলেন।সকলে হাসতে লাগলেন, আবার ভয়ও হল, যে আমাদের ফেলে উনি একাই চলে না যান। নিত্যানন্দ প্রভু বললেন - কোন চিন্তা নেই। উনি একা কখনোই যাবেন না।
প্রভুর বিরহে ভক্তগণ ক্রন্দন করছেন, ভক্ত বিরহে মহাপ্রভুরও চোখে ধারা ঝরছে। দানী দেখে অবাক! শেষে ভক্তদের জিজ্ঞাসা করলেন- তোমরা খুলে বলতো! উনি কে এবং তোমরা কার? সকল ভক্তগন বললেন - সেই প্রভু আমাদের। আমরা তার সবসময়ের সাথী।
 মহাপ্রভুর নয়নের ধারা দেখে দানী এসে সাষ্টাঙ্গে প্রণাম করে ক্ষমা চাইলেন এবং সকলকে নিয়ে রওনা হওয়ার অনুরোধ করলেন। মহাপ্রভু দানীর প্রতি শুভ দৃষ্টিপাত করে ভক্তসঙ্গে আবার অগ্রসর হলেন।..……

GOPISARAN DAS

http­//MrinmoyNandy.blogspot.com/2022/12/blogéôépost_30.html
 ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
 
 ✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️
           ꧁ লিখনী সেবা- শ্রী গোপীশরণ দাস ꧂
নিবাস-শ্রীশ্রীনিত্যানন্দ প্রভুর জন্মস্থান, একচক্রা, বীরভূম, পশ্চিমবঙ্গ। 
 ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏
আমায় দেওয়া ওনার এই অমূল্য লিখনী সেবা, তা সকলের মধ্যে প্রকাশ করলাম। ওনার এই অমূল্য দান সমগ্র বৈষ্ণব সমাজ অনন্তকাল মনে রাখিবে।
🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
    *••••┉━❀꧁ 🙏 রাধে রাধে 🙏 ꧂❀━┅••••* 
                   শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য প্রভু নিত্যানন্দ
              হরে কৃষ্ণ হরে রাম শ্রীরাধেগোবিন্দ।।
  *••••┉━❀꧁ 🙏 জয় জগন্নাথ 🙏 ꧂❀━┅••••*
              হরে কৃষ্ণ হরে কৃষ্ণ কৃষ্ণ কৃষ্ণ হরে হরে
              হরে রাম হরে রাম রাম রাম হরে হরে॥
  *••••┉━❀꧁ 🙏 জয় রাধাকান্ত 🙏 ꧂ ❀━┅••••*
   💮❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀💮
   💮❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀💮
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧



৬৬. অতি গূঢ় নিত্যানন্দ 🙏 ছত্রভোগ পথে ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী গোপীশরণ দাস 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন ➡️ http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/01/blog-post_95.html

 ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
                ꧁ ৬৬. অতি গূঢ় নিত্যানন্দ ꧂
       ꧁ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী গোপীশরণ দাস ꧂
       এই লিংকে ⬇️⬇️⬇️🙏⬇️⬇️⬇️ ক্লিক করুন 
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
   🏠Home Page🏠⬇️⬇️🙏⬇️⬇️📚PDF গ্রন্থ📚
꧁ MrinmoyNandy.blogspot.com 👉 সূচীপত্র ꧂
       এই লিংকে ⬇️⬇️⬇️🙏⬇️⬇️⬇️ ক্লিক করুন 
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
 ꧁ টিকা বা অন্যান্য ধর্মীয় লিখনী 🙏 সূচীপত্র ꧂
      ꧁ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী গোপীশরণ দাস ꧂
       এই লিংকে ⬇️⬇️⬇️🙏⬇️⬇️⬇️ ক্লিক করুন 
 ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
 ꧁ প্রভু নিত্যানন্দের সংক্ষিপ্ত লীলা 🙏 সূচীপত্র ꧂
      ꧁ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী গোপীশরণ দাস ꧂
       এই লিংকে ⬇️⬇️⬇️🙏⬇️⬇️⬇️ ক্লিক করুন 
 ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
( ৬৬)
*অতি গূঢ় নিত্যানন্দ।* 

*ছত্রভোগ_পথে।*

নিত্যানন্দ, গদাধর মুকুন্দ, জগদানন্দ, ব্রহ্মানন্দ সঙ্গে মহাপ্রভু চলেছেন নীলাচলের পথে। রাস্তায় এসে সকল কে জিজ্ঞাসা করছেন বল কার কাছে কি সম্বল আছে। কেউ কিছু দিয়েছে কি? সব নিষ্কপটে  আমার কাছে বল। সকলে বলছেন - "প্রভু! তোমার আজ্ঞা ছাড়া কারো দ্রব্য নিতে কার শক্তি আছে?
 শুনে ঠাকুর অত্যন্ত প্রসন্ন হলেন আর বললেন - তোমরা যে কারো কাছ থেকে কিছু নাও নাই, তাতে আমি খুব সন্তুষ্ট হলাম। দেখ! যেদিন যা কপালে লিখা থাকবে, সে বনে বসে থাকলেও অবশ্য মিলবে। যেদিন ভগবান আহার লিখেন নাই রাজপুত্র হলেও তার ভোজন মিলবে না। এই প্রকার কথাপ্রসঙ্গে আটিসারা গ্রামে এসে উপস্থিত হলেন সেখানে থাকতেন এক সাধু তার নাম "শ্রীঅনন্ত"।  সেখানেই সেদিন ভিক্ষা গ্রহণ করলেন। সারারাত্রি কৃষ্ণকথা প্রসঙ্গে যাপন করলেন। অনন্তপন্ডিতের উপর শুভদৃষ্টি করে প্রাতঃকালে ওঠে গঙ্গার কূলে কূলে ছত্রভোগে উপস্থিত হলেন। শতধারায় গঙ্গা প্রবাহিত হচ্ছে  সেখানে। জলময় শিবলিঙ্গ আছে তাই তার নাম "অম্বুলিঙ্গঘাট"।কৈলাস পর্বতে মহাদেবের জটা থেকে যখন গঙ্গা অবতরণ করলেন, মহাদেব গঙ্গা-বিরহে ব্যাকুল হয়ে পড়লেন। খুঁজতে খুঁজতে চলে আসলেন এইখানে ছত্রভোগে। এখানে এসে গঙ্গার দর্শন পেয়ে গঙ্গায় ঝাঁপ দিয়ে পড়লেন। জগজ্জননী গঙ্গা মহাদেবের মহিমা জেনে তাঁকে পূজো করলেন। উভয়ে উভয়ের স্তুতি করলেন। মহাদেব এখানে দ্রবব্রহ্ম জলরূপে অবস্থান করলেন। তাই এই ঘাটের নাম পড়ে গেল "অম্বুলিঙ্গঘাট"।
সকলে এই ঘাটে স্নান করে আনন্দ অনুভব করলেন।এইখানে গঙ্গা শতধারায় প্রবাহিত। আজ মহাপ্রভুর নয়নেও শতধারা।
মহাপ্রভু এখান থেকে রওনা হবেন, এমন সময় পালকিতে চড়ে  আসলেন, রামচন্দ্র খান। মহাপ্রভুর দর্শন করে চুম্বকাকৃষ্ট লৌহের ন্যায় এসে সাষ্টাঙ্গে দণ্ডবৎ করলেন।মহাপ্রভু জিজ্ঞাসা করলেন - কে তুমি?
সে বলছেন - আমি এই স্থানের অধিকারী।
আজ্ঞা করুন, আপনার কি সেবা করতে পারি!
মহাপ্রভু - আমি নীলাচলচন্দ্র জগন্নাথের দর্শনের যেতে চাই।
 উনি বললেন - আপনার যা আজ্ঞা আমি অবশ্যই করব, কিন্তু এখন দুই দেশের ভিতর যুদ্ধ চলছে। এখানে কোন প্রাণের নিরাপত্তা নেই। তথাপি আমি চেষ্টা করছি ,আপনাকে গন্তব্যস্থলে পৌঁছানোর।
গৃহে নিয়ে গিয়ে ব্রাহ্মণ দ্বারা রন্ধন করিয়ে ভিক্ষা করালেন।
মহাপ্রভু কিঞ্চিত প্রসাদ মুখে দিয়েই হুংকার করে উঠলেন। "বোল বোল" বলে, মুকুন্দ কীর্তন শুরু করলেন মহাপ্রভুর নৃত্য করতে লাগলেন। এইভাবে রাত্রি দ্বিপ্রহর অতীত হল। রামচন্দ্র খান এসে বললেন- প্রভু! নৌকা প্রস্তুত। মহাপ্রভু সবা-সঙ্গে গিয়ে নৌকায় উঠলেন। সেখানেও নৃত্য কীর্তন চলতে লাগল। কিন্তু মাঝির আপত্তিতে সকলে কীর্তন বন্ধ করলেন। হঠাৎ মহাপ্রভু হুঙ্কার করে উঠে বলছেন- কৃষ্ণকীর্তন কর!
 দেখতে পাচ্ছো না সুদর্শন চক্র ঘুরছে! তোমাদের কোন চিন্তা নেই‌ সব সময় চক্র-সুদর্শন আমাদের সকলকে রক্ষা করছেন। অতএব সকলে নির্ভয়ে সংকীর্তন কর। প্রেমানন্দে মত্ত হয়ে সকলে উচ্চ-সংকীর্তন করতে লাগলেন। দেখতে দেখতে নৌকা এসে উড়িষ্যা দেশে পৌঁছে গেল।সকলে প্রয়াগঘাটে নেমে উড়িষ্যায় কিছুদূর গিয়ে গঙ্গাঘাট নামক ঘাটে স্নান সমাধান করলেন। তারপর নীলাচলের দিকে অগ্রসর হলেন।
 রাস্তায় এক দেবালয়ে সকলকে রেখে মহাপ্রভু ভিক্ষায় বের হলেন। যার ঘরেই যান রূপমাধুর্যে মুগ্ধ হয়ে সকলেই মহাপ্রভুকে প্রচুর পরিমাণ ভিক্ষা দিলেন। কিছুক্ষণ পর ফিরে এসে মহাপ্রভু ভিক্ষালব্ধ দ্রব্য সকলের সামনে রাখলেন‌। সকলে বললেন - প্রভু! তুমি পারবে আমাদের পালন পোষণ করতে।  সত্যিই তোমার নাম বিশ্বম্ভর, আজ আর একবার তার প্রমান পেলাম। কুশলী জগদানন্দ সত্বর রন্ধন সমাধান করলে, সকলে মিলে ভোজন  করে আবার চললেন নীলাচলের পানে।
 যেতে যেতে দান ঘাঁটিতে দানী আটক করল। মহাপ্রভু তেজোময় স্বরূপ দেখে জিজ্ঞাসা করল দানী - তোমার সঙ্গে কে আছে?
 মহাপ্রভু বললেন - জগতে আমার কেউ নেই, আমিও কারো নই। 

দানী মহাপ্রভুকে ছেড়ে দিল। মহাপ্রভু কিছুদূরে গিয়ে একটি বৃক্ষতলে উপবেশন করলেন।
 এদিকে সকলে মহাপ্রভুর ব্যবহার দেখে বিস্মিত হলেন।সকলে হাসতে লাগলেন, আবার ভয়ও হল, যে আমাদের ফেলে উনি একাই চলে না যান। নিত্যানন্দ প্রভু বললেন - কোন চিন্তা নেই। উনি একা কখনোই যাবেন না।
প্রভুর বিরহে ভক্তগণ ক্রন্দন করছেন, ভক্ত বিরহে মহাপ্রভুরও চোখে ধারা ঝরছে। দানী দেখে অবাক! শেষে ভক্তদের জিজ্ঞাসা করলেন- তোমরা খুলে বলতো! উনি কে এবং তোমরা কার? সকল ভক্তগন বললেন - সেই প্রভু আমাদের। আমরা তার সবসময়ের সাথী।
 মহাপ্রভুর নয়নের ধারা দেখে দানী এসে সাষ্টাঙ্গে প্রণাম করে ক্ষমা চাইলেন এবং সকলকে নিয়ে রওনা হওয়ার অনুরোধ করলেন। মহাপ্রভু দানীর প্রতি শুভ দৃষ্টিপাত করে ভক্তসঙ্গে আবার অগ্রসর হলেন।..……

GOPISARAN DAS

http­//MrinmoyNandy.blogspot.com/2022/12/blogéôépost_30.html
 ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
 
 ✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️
           ꧁ লিখনী সেবা- শ্রী গোপীশরণ দাস ꧂
নিবাস-শ্রীশ্রীনিত্যানন্দ প্রভুর জন্মস্থান, একচক্রা, বীরভূম, পশ্চিমবঙ্গ। 
 ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏
আমায় দেওয়া ওনার এই অমূল্য লিখনী সেবা, তা সকলের মধ্যে প্রকাশ করলাম। ওনার এই অমূল্য দান সমগ্র বৈষ্ণব সমাজ অনন্তকাল মনে রাখিবে।
🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
    *••••┉━❀꧁ 🙏 রাধে রাধে 🙏 ꧂❀━┅••••* 
                   শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য প্রভু নিত্যানন্দ
              হরে কৃষ্ণ হরে রাম শ্রীরাধেগোবিন্দ।।
  *••••┉━❀꧁ 🙏 জয় জগন্নাথ 🙏 ꧂❀━┅••••*
              হরে কৃষ্ণ হরে কৃষ্ণ কৃষ্ণ কৃষ্ণ হরে হরে
              হরে রাম হরে রাম রাম রাম হরে হরে॥
  *••••┉━❀꧁ 🙏 জয় রাধাকান্ত 🙏 ꧂ ❀━┅••••*
   💮❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀💮
   💮❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀💮
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧



৬৫. অতি গূঢ় নিত্যানন্দ 🙏 মহাপ্রভুর নীলাচল গমন ও বিষ্ণুপ্রিয়ার বৈরাগ্য ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী গোপীশরণ দাস 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন ➡️ http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/01/blog-post_51.html

 ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
                  ꧁ ৬৫. অতি গূঢ় নিত্যানন্দ ꧂
       ꧁ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী গোপীশরণ দাস ꧂
       এই লিংকে ⬇️⬇️⬇️🙏⬇️⬇️⬇️ ক্লিক করুন 
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
   🏠Home Page🏠⬇️⬇️🙏⬇️⬇️📚PDF গ্রন্থ📚
꧁ MrinmoyNandy.blogspot.com 👉 সূচীপত্র ꧂
       এই লিংকে ⬇️⬇️⬇️🙏⬇️⬇️⬇️ ক্লিক করুন 
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
 ꧁ টিকা বা অন্যান্য ধর্মীয় লিখনী 🙏 সূচীপত্র ꧂
      ꧁ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী গোপীশরণ দাস ꧂
       এই লিংকে ⬇️⬇️⬇️🙏⬇️⬇️⬇️ ক্লিক করুন 
 ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
 ꧁ প্রভু নিত্যানন্দের সংক্ষিপ্ত লীলা 🙏 সূচীপত্র ꧂
      ꧁ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী গোপীশরণ দাস ꧂
       এই লিংকে ⬇️⬇️⬇️🙏⬇️⬇️⬇️ ক্লিক করুন 
 ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
( ৬৫)
*অতি গূঢ় নিত্যানন্দ।*
 *#মহাপ্রভুর_নীলাচল_গমন ও #বিষ্ণুপ্রিয়ার_বৈরাগ্য।*

প্রভু বোলে "শুন নিত্যানন্দ মহামতি!
 সত্বরে চলহ তুমি নবদ্বীপ-প্রতি।।
 শ্রীবাসাদি যত আছে ভাগবতগণ।
 সবার করহ গিয়া দুঃখ বিমোচন।।

মহাপ্রভুর আজ্ঞায়
নিত্যানন্দ নবদ্বীপবাসী ভক্তবৃন্দ ও শচীদেবীকে আনবার জন্য নবদ্বীপে চলে গেলেন। 
নবদ্বীপে এসে  শচীদেবীকে মহাপ্রভুর আজ্ঞা জানালেন নিত্যানন্দ।  শুনে কিছুটা আশ্বস্ত হলেন শচীদেবী। খবর পেয়ে সব ভক্তবৃন্দ এসে মহাপ্রভুর বাড়িতে উপস্থিত হলেন। সকলে উল্লসিত হয়ে শান্তিপুরে যাওয়ার জন্য প্রস্তুত হতে লাগলেন। নিত্যানন্দ  তখন শচীমাতাকে বললেন, শুনলাম এ কয়দিন তোমরা উপবাসী আছ। এখন উঠে রান্নার যোগাড় কর। আমি বড় ক্ষুধার্ত। কিন্তু তোমরা অন্ন গ্রহণ না করলে আমি কি করে অন্ন গ্রহণ করি? অগত্যা শচীদেবী ও বিষ্ণুপ্রিয়া রান্না করলেন। নিত্যানন্দকে ভোজন করিয়ে নিজেরাও অন্ন গ্রহণ করলেন, উপবাস ভঙ্গ করে।
তারপর অঙ্গনে পালকি এলে শচীদেবী ও বিষ্ণুপ্রিয়া দুজনেই যাবার জন্য প্রস্তুত হয়ে সামনে এসে দাঁড়ালেন। তখন নিত্যানন্দ বললেন, কিন্তু মা! প্রভু শুধু তোমাকেই নিয়ে যেতে বলেছেন। শ্রীমতীর যাবার ত নির্দেশ নেই মা!
একথা শুনে শচীদেবী বললেন - নিতাই! এ তোমাদের কেমন বিচার? বৌমা একটিবার নিমাইকে দেখতে পাবে না? বেশ, তাহলে আমিও যাবো না। 
তখন বিষ্ণুপ্রিয়া এগিয়ে এসে শান্ত কণ্ঠে শচীদেবীকে বললেন - *#মা!#আমি_গেলে_তাঁর_সন্ন্যাসব্রত_ভঙ্গ_হবে। #এই_জন্যই_হয়ত_আমাকে_যেতে_নিষেধ_করেছেন। #আমি_তাঁর_সহধর্মিণী। #তাঁর_আচরিত_ধর্মের_সহায়তা_করা_আমার_কর্তব্য। #কিন্তু_আপনি_যাবেন_না_কেন? #আপনার_জন্য_তিনি_অপেক্ষা_করে_আছেন।*
 
এই বিপদের মাঝেও স্থিতধী বিষ্ণুপ্রিয়ার এই প্রজ্ঞাসম্পন্ন কথা শুনে ও সূক্ষ্ম বিচারবুদ্ধির পরিচয় পেয়ে বিস্মিত হয়ে গেল উপস্থিত সকলে। তখন শচীদেবীও শান্ত হয়ে পালকিতে আরোহণ করলেন। 
শচীদেবী চলে গেলে বুকে দুঃসহ বিরহের জ্বলন্ত আগুন নিয়ে ঘরের দ্বার বন্ধ করে ভূমিতলে শয্যাগ্রহণ করলেন বিষ্ণুপ্রিয়া। 

মহাপ্রভু শচীমায়ের দর্শন পেয়ে সাষ্টাঙ্গে দণ্ডবৎ হয়ে পড়লেন। মা পুত্র কে তুলে বুকে জড়িয়ে ধরলেন। মস্তক আঘ্রান করলেন ও বারবার মুখে চুম্বন করতে লাগলেন। চোখের জলে কিছুই দেখতে পান না।কেঁদে কেঁদে বলছেন - নিমাই! তুই যেন বিশ্বরূপের মত নিষ্ঠুরতা করিস্ না। সন্ন্যাসী হয়ে সে একবারও আমাকে দেখা দিল না! মহাপ্রভু বলছেন - মা! এই শরীর তোমার। তোমার পালিত দেহ, কোটি জন্মে তোমার ঋণ শোধ করতে পারব না। যদিও আমি সন্ন্যাস নিয়েছি, তথাপি তোমার প্রতি উদাসীন হব না। আমার সন্ন্যাস ধর্ম যাতে রক্ষা হয় এবং তোমার দুঃখ না হয় সেই মতো আজ্ঞা কর। শচীমাতা বললেন তুমি বৃন্দাবনে গেলে অনেক দূর হবে, তারচেয়ে নীলাচলে গিয়ে থাক। সেখানে লোকজনের যাতায়াত থাকবে। মাঝেমধ্যে সংবাদ পাব। তুমি কখনো গঙ্গাস্নানে আসবে। মায়ের আজ্ঞা মহাপ্রভু শিরোধার্য করে নিলেন। দশ দিন মায়ের হস্ত পাচিত অন্ন ভোজন করে মাকে সুখ দিয়ে নীলাচলের উদ্দেশ্যে যাত্রা করলেন। সঙ্গে নিত্যানন্দ, গদাধর, জগদানন্দ, দামোদর পন্ডিত আর মুকুন্দ, এদেরকে সাথে নিয়ে মহাপ্রভু মাকে প্রদক্ষিণ ও প্রণাম করে গমন করলেন নীলাচলের পানে।

মহাপ্রভু নীলাচলে  গমন করলে শচীমাতা  শান্তিপুর থেকে নবদ্বীপে ফিরে এলেন। ফিরে এসেই পুত্রবধূকে জড়িয়ে ধরলেন দুহাত দিয়ে। তারপর সংজ্ঞাহীনা হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়লেন। দুজনেই শোকসন্তপ্তা --- কে কাকে সান্তনা দেবেন। 
এই ঘোর বিপদের মাঝে নিজের দায়িত্ব ও কর্তব্য ঠিক করে ফেললেন স্থিতধী ধৈর্যশীলা বিষ্ণুপ্রিয়া। সন্ন্যাসী স্বামীর উপর কোনরূপ রাগ দুঃখ না করে তিনি মনে মনে দৃঢ়সংকল্প করলেন, একদিকে তিনি ত্যাগ ও বৈরাগ্যের পথে স্বামীর ভক্তিপ্রেমধর্মের অন্তরঙ্গ সাধনায় আত্মনিয়োগ করবেন, অন্যদিকে তাঁর চির আরাধ্য প্রাণপ্রিয় স্বামীর জননী পুত্রশোকে বিহ্বলা শাশুড়ীর সেবা পরিচর্যার সব ভার নিজের হাতে তুলে নেবেন।

এদিকে নিজেই নিজের দিনচর্যার ব্যবস্থা করে ফেললেন বিষ্ণুপ্রিয়া। প্রতিদিন রাত্রিশেষের অন্ধকার তরল হয়ে এলেই জনবিরল গঙ্গায় স্নান সেরে আসেন। তারপর বিষ্ণুপ্রিয়া কক্ষে বসে একপাশে তুলে রাখা পতিদেবতার কাষ্ঠপাদুকার সামনে বসে ধ্যান জপে নিবিষ্ট হন। বেলা বাড়লে ঠাকুরঘর হতে বেরিয়ে এসে শাশুড়ীর স্নান, আহার্য ও সেবা পরিচর্যায় রত হন। সব কাজ সেরে আবার বসেন ধ্যান‌ জপে। একটি ক্ষনও ব্যর্থ হতে দেন না।
সন্ন্যাস গ্রহণের আগে স্বামী যে উপদেশের কথাগুলি বলে গেছেন, সেগুলি জ্বলন্ত অক্ষরে যেন লেখা আছে তাঁর অন্তরে। তিনি বলেছিলেন, আমি যেমন কৃষ্ণের ভজনা করছি, তুমিও তেমনি করো। এক কৃষ্ণসত্তায় পৌঁছে আমাদের মিলন ঘটবে আর সে মিলনে কোন ছেদ ঘটবে না। সে মিলন হবে অনন্ত অক্ষয়। 
কৃষ্ণ উপাসনায় ও কৃষ্ণ প্রেমসাধনায় শ্রীচৈতন্য অনুসরণ করেছিলেন বিরহের পথ। উচ্চমার্গের প্রেমসিদ্ধ সাধকেরা বলেন, বিরহের অর্থ বিশেষভাবে রহঃ , মানে একান্তভাবে প্রিয়তমের রূপ,গুন প্রগাঢ়ভাবে অনুশীলনের ফলে যে আনন্দ, সেই আনন্দ প্রাপ্ত করা। বিরহে  এত প্রগাঢ়  আনন্দ হয় যা দুঃখের মতো প্রতীয়মান হয়। যেমন বরফ খণ্ড হাতে নিলে মনে হয় যেন হাতটা পুড়ে গেল, তেমনি।

 প্রেমসাধকেরা মিলনের থেকে‌ বিরহকেই অধিক বরণ করে নেন, কারণ মিলনের মধ্যে তাঁদের প্রাণপ্রিয় বা প্রাণপ্রভুকে পান একারূপে, কিন্তু বিরহের মধ্যে তাঁকে দেখতে পান সারা ত্রিভুবনময়, যেমন শ্রীচৈতন্য সব কিছুই কৃষ্ণময় দেখতেন। 
বিষ্ণুপ্রিয়াও বিরহসাধনার পথ অবলম্বন করে চিরঅভাগিনী হয়েও সৌভাগ্যশালিনী হয়ে রইলেন। আপন অন্তরাত্মার মধ্যে তপস্যার যে অগ্নিকুণ্ড জ্বেলেছিলেন তার কেন্দ্রবিন্দুতে তার দয়িত ও ইষ্টদেব, তাঁর প্রাণের ও ধ্যানের বিগ্রহ শ্রীচৈতন্যদেবকে প্রতিষ্ঠিত করেছিলেন। তিনি বিষ্ণু বা কৃষ্ণ নয়, তাঁর সাধনার একমাত্র বস্তু সেই চৈতন্যদেব যার সমগ্র সত্তা ও প্রাণমন নিঃশেষে কৃষ্ণে সমর্পিত। 

সংসারে অভাব না থাকলেও শচীমা তাঁর  সাধের নিমাই-এর বিচ্ছেদ-বেদনা আর বেশীদিন সহ্য করতে পারলেন না। ক্রমশই রোগে-শোকে জর্জরিত হয়ে শয্যাগত হয়ে পড়লেন শচীমাতা। অবশেষে একদিন বিষ্ণুপ্রিয়া ও নবদ্বীপের অসংখ্য গৌরভক্তদের শোকাহত করে মরদেহ ত্যাগ করে দিব্যলোকে গমন করলেন। 
স্নেহশীলা অভিভাবিকা শচীমাতার অবর্তমানে আরও কঠোর হয়ে উঠল তপস্বিনী বিষ্ণুপ্রিয়ার তপস্যা। চরম ত্যাগ, বৈরাগ্য ও কৃচ্ছ্রসাধনের পথে আর কোন বাধা রইল না। 
শচীমাতার জীবিতাবস্থায় প্রভুর গৃহের বাইরের দরজাটি খুলে রাখা হত। কারণ ভক্তেরা প্রভু জননীকে প্রণাম নিবেদন করতে আসত প্রতিদিন বিভিন্ন সময়ে। তাঁর তিরোধানের পর সেই  দরজাটি বন্ধ করে দেওয়া হলো। 
তাঁর আজ্ঞা ছাড়া তাঁর দর্শন নিষেধ। অত্যন্ত কঠোর ব্রত ধারণ করলেন। প্রাতঃকালে উঠে স্নান-আহ্নিক সেরে হরিনাম জপে বসেন। তিন প্রহর জপ করেন।
*#হরেকৃষ্ণ_হরেকৃষ্ণ_কৃষ্ণকৃষ্ণ_হরেহরে।*
*#হরেরাম_হরেরাম_রামরাম_হরেহরে।।*

 একবার মহামন্ত্র নাম জপ করে একটি মাটির পাত্রে একটি করে তণ্ডুল রাখেন। এই মত তিন প্রহর অর্থাৎ ৯ ঘন্টায় যতটা চাল হয়, তাই যত্নে পাক করেন,মুখে বস্ত্র বেঁধে। অলবন,অনোপকরণ পাক করে মহাপ্রভুর ভোগ লাগান। চোখের জলে ভেসে, প্রাণের আবেগে নানা আকুতি করে ভোগ নিবেদন করে আচমন দেন।  নিজে কিঞ্চিৎ গ্রহণ করেন।শুধুমাত্র অন্নপ্রসাদ ব্যতীত তিনি আর কিছুই গ্রহণ করতেন না, তাও পেট ভরে দুটো পাবেন তাও সম্ভব ছিল না। কারণ সারা দিন ধরে ভজন করে আর কত চাল বা সংশোধন করা সম্ভব? সেজন্য এই আতপ চালের পরিমাণ অধিক হতে পারতো না। তারপর সে প্রসাদকণা পাওয়ার জন্য নবদ্বীপের সব গৌরভক্তগণ সারাদিন উপবাসী থেকে গৃহের বাইরে বসে সংখ্যা নাম জপ করতেন।
তাই তাদেরকেও প্রসাদ দিতে হত। দেবীর আদেশে তার সেবিকাদ্বয় সেই মহাপ্রসাদ এক এক দানা সকলকে বিতরণ করতেন। তাই পেয়ে তারা নিজেকে ধন্য মনে করতেন।
শচীমাতার অপ্রকটের পর আর বাইরে বের হতেন না। ভক্তগণের ব্যাকুলতায় পর্দার আড়াল থেকে শুধুমাত্র চরণ দর্শন দিতেন। 
একবার মাত্র শ্রীনিবাস আসলে দর্শন দিয়েছিলেন সেও মহাপ্রভুর স্বপ্নাদেশে।

ভক্তগণ গঙ্গাজল এনে মই দিয়ে উঠে বাড়ির ভেতরে  রেখে যেতেন। তাতেই স্নানাদি সমাধা করতেন।
অঙ্গে কোন আভরণ নেই,  সন্ন্যাসিনীর বেশ, অন্তর গৌরাঙ্গ বিরহে জর্জরিতা, নয়নধারায় মুখবুক ভেসে যায় আর সর্বদা মহাপ্রভুর শোকে ব্যাকুল, দর্শন তো আর ভাগ্যে হবে না! সেজন্য প্রভুদত্ত পাদুকাই তাঁর সম্বল, আর দিবানিশি হা-হুতাশ।( কথিত আছে - একবার মহাপ্রভু নবদ্বীপে এসেছিলেন শুক্লাম্বর ব্রহ্মচারীর গৃহে। সেখানেই বিষ্ণুপ্রিয়াদেবী প্রভুর দর্শন করেন। মহাপ্রভু তাকে চরণ পাদুকা দান করে প্রস্থান করেন।)
বৃদ্ধ দামোদর পন্ডিত দেবীর কৃচ্ছ্রতা সহ্য করতে না পেরে দেহ ত্যাগ করলেন। একমাত্র শুক্লাম্বর ব্রহ্মচারীই জীবিত ছিলেন। তিনি মধ্যে মধ্যে এসে খোঁজখবর নিয়ে যেতেন।

মহাপ্রভু অনুভব করেছিলেন তাঁর একার চোখের জলে জগৎ ডুবানো সম্ভব নয়। তাই তিনি মাকে ও বিষ্ণুপ্রিয়া দেবীকেও ছেড়ে সংসার ত্যাগ করে সন্ন্যাসী হয়েছিলেন। তিনজনের চোখের জলে জগৎ ব্যাকুল হয়ে উঠল। সকলের হৃদয়ে হাহাকার জাগল। ব্যাকুল প্রাণে সকলে ভগবানের শরণাপন্ন হলেন।

ভাবতেও কষ্ট হয় একটি নারীর জীবনে মাত্র পাঁচটি বছর মিলন।এগারো বছর বয়সে বিবাহ আর ষোল বছর বয়সেই বিচ্ছেদ।
ষোল বছর বয়সে যৌবনে প্রথম পদার্পণ হয়। সেই সময় থেকে সারাটা জীবন কিভাবে দুঃখে-কষ্টে, চোখের জলে বুক ভাসিয়ে সারাটা জীবন কাটালেন, এটা নারী মাত্রেই অনুভব করতে পারবেন। আজকে ভাবলেও অবাক হতে হয়, কি অসাধ্য দুঃসহ-জ্বালা সহ্য করে জীবন ধারণ করেছিলেন, প্রিয়তম কে পাওয়ার জন্য!তার সেই ভক্তিপূত ত্যাগ-বৈরাগ্যময় জীবন থেকেই আজ নারীদের ভিতর ভক্তি মন্দাকিনীর স্রোত বিশেষভাবে পরিলক্ষিত হয়।

মহাপ্রভুর বৈরাগ্য সকলের আদর্শ হলেও নারীসমাজ ভাবতো আমরা কি আর ঐরকম সন্ন্যাস নিয়ে গৃহত্যাগী হয়ে তপস্যা করতে পারি?
 এ জন্যই বিষ্ণুপ্রিয়াদেবী জগৎকে দেখিয়ে গেলেন, নারী হয়েও কেমনভাবে সন্ন্যাসিনী না হয়েও গৃহকোণে বসে তপস্যার দ্বারা ভগবানকে প্রাপ্ত করা যায়। তাঁর ত্যাগের আদর্শ জগতে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকলো যা যুগে যুগে মানুষকে অনুপ্রাণিত করবে।

আমরা যদি তার মত বৈরাগ্য আচরণ নাও করতে না পারি তথাপি সেই কথা স্মরণ করে যদি দু'ফোটা চোখের জল পড়ে তাতেও লাভ হবে এবং তাকে আদর্শ করে সেই লক্ষ্য স্থির করে এগোনোর চেষ্টা করলে, একদিন না একদিন তিনি তা অবশ্যই পূর্ণ করবেন। কেননা
 *#তাগাৎ_শান্তিরনন্তরম্"* 
ত্যাগ-বৈরাগ্য ছাড়া তাকে কখনোও পাওয়া সম্ভব নয়। সে ত্যাগ এজন্মে হোক অথবা দশ জন্ম পরে, সেই স্তরে উন্নীত না হওয়া পর্যন্ত তাকে পাওয়া অসম্ভব।
তাই এখন থেকেই লক্ষ্য স্থির করে বাস্তব লক্ষ্যের(ultimate goal) দিকে অগ্রসর হওয়ার চেষ্টা করাই মনে হয় বুদ্ধিমানের কাজ।তার শরণ নিয়ে যাত্রা শুরু করলে তিনিই শক্তি দেবেন পথ চলার।

 এই হৃদয়বিদারক-বিরহবেদনা অসহ্য বোধ হওয়ায় অন্যান্য গ্রন্থকারগণ এনার বিষয়ে বিশেষ কিছু লিখতে সমর্থ হন নাই।

বিষ্ণুপ্রিয়ার বিরহ-ব্যথা যখন চরম  পর্যায়ে পৌঁছালো।প্রান আর ধারণ করা যায় না। দুই সখী কাঞ্চনা ও বকুলা দিনরাত পরিচর্যা করেন।  অনেক প্রকারে সান্ত্বনা দেন। দিন-রাত কেঁদে কেঁদে চোখ ফুলে গেল। ভোজনে রুচি নাই।প্রাণ যায় আর কি! এমন সময় কিঞ্চিৎ তন্দ্রাবেশে দেখছেন, মহাপ্রভু এসে বলছেন- "যে নিমগাছ তলায় আমার জন্ম হয়েছিল, সেই নিমগাছ থেকে আমার মূর্তি তৈরি কর। 
বিষ্ণুপ্রিয়াদেবী বললেন - আমি কি করে মূর্তি তৈরি করব? আমিতো কিছুই  জানি না। ভাস্কর কোথায় পাব?

 মহাপ্রভু বললেন - তোমার কোন চিন্তা নেই।মূর্তি তৈরীর ভাস্কর ও চলে আসবে। 
বিষ্ণুপ্রিয়াদেবীর ঘুম ভেঙে গেল। তিনি মূর্তি তৈরিতে উদ্যোগী হলে,স্বেচ্ছায় ভাস্কর এসে মূর্তি তৈরি করে দিয়ে চলে গেলেন।

১৫১৪ খ্রিস্টাব্দে মহাসমারোহে বিগ্রহ প্রতিষ্ঠা মহোৎসব সমাধান হলেন। এখন থেকে বিষ্ণুপ্রিয়াদেবী তার প্রাণনাথের সেবায় নিজেকে উৎসর্গ করলেন। কিঞ্চিৎ বিরহ ব্যথার উপশম হল।

মহাপ্রভুর অন্তর্ধানের পর থেকেই দেবীর শরীর জীর্ণ-শীর্ণ হতে লাগল। দেহধারণ করার বাসনাও ক্রমশঃ ক্ষীণ হয়ে আসতে লাগল। দেখতে দেখতে গৌর-পূর্ণিমা সমাগত হল। প্রাণনাথের জন্মদিনে বিরহ-সিন্ধু উদ্বেলিত হল, তার তরঙ্গাঘাত সহনের ক্ষমতা হারিয়ে ফেললেন। মঙ্গল আরতি সমাপ্ত হলে দেবী শ্রীমন্দিরে প্রবেশ করলেন, ভিতর থেকে দ্বার বন্ধ হয়ে গেল। সবার অলক্ষ্যে দেবী শ্রীবিগ্রহের সহিত লীন হয়ে গেলেন। মহাপ্রভু নীলাচলে শ্রীবিগ্রহের সাথে লীন হয়ে গিয়েছিলেন। বিষ্ণুপ্রিয়াদেবীও ঠিক সেইভাবে গৌরাঙ্গের (ধামেশ্বর মহাপ্রভু) বিগ্রহের সহিত লীন হয়ে গেলেন।

 পরম পূজ্যপাদ শ্রীহরিদাস গোস্বামী মহাশয় বিষ্ণুপ্রিয়াদেবীর ভ্রাতৃবংশীয় শ্রীনৃত্যগোপাল গোস্বামী মহাশয়ের নিকট স্বয়ং শ্রবণ করে তা সম্পূর্ণরূপে নির্ভরযোগ্য হিসাবে গ্রহণ করেছেন।

 ব্রাহ্মমুহূর্তে প্রভুর জন্মদিনে।
 দারুমূর্ত্তে লীন দেবী হইলা আপনে।।

 আবির্ভাব ১৪৯৬ খ্রিস্টাব্দে মাঘী শুক্লা পঞ্চমী তিথিতে এবং তিরোভাব ১৫৭৩ খ্রিস্টাব্দের ফাল্গুনী পূর্ণিমা তিথিতে ৭৭ বছর বয়সে অপ্রকট হন।

*জয় শচীনন্দন জয় গৌরহরি‌।
বিষ্ণুপ্রিয়ার প্রাণনাথ নদীয়া বিহারী।।

🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏
GOPISARAN DAS

http­//MrinmoyNandy.blogspot.com/2022/12/blogéôépost_30.html
 ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
 
 ✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️
           ꧁ লিখনী সেবা- শ্রী গোপীশরণ দাস ꧂
নিবাস-শ্রীশ্রীনিত্যানন্দ প্রভুর জন্মস্থান, একচক্রা, বীরভূম, পশ্চিমবঙ্গ। 
 ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏
আমায় দেওয়া ওনার এই অমূল্য লিখনী সেবা, তা সকলের মধ্যে প্রকাশ করলাম। ওনার এই অমূল্য দান সমগ্র বৈষ্ণব সমাজ অনন্তকাল মনে রাখিবে।
🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
    *••••┉━❀꧁ 🙏 রাধে রাধে 🙏 ꧂❀━┅••••* 
                   শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য প্রভু নিত্যানন্দ
              হরে কৃষ্ণ হরে রাম শ্রীরাধেগোবিন্দ।।
  *••••┉━❀꧁ 🙏 জয় জগন্নাথ 🙏 ꧂❀━┅••••*
              হরে কৃষ্ণ হরে কৃষ্ণ কৃষ্ণ কৃষ্ণ হরে হরে
              হরে রাম হরে রাম রাম রাম হরে হরে॥
  *••••┉━❀꧁ 🙏 জয় রাধাকান্ত 🙏 ꧂ ❀━┅••••*
   💮❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀💮
   💮❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀💮
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧



৬৫. অতি গূঢ় নিত্যানন্দ 🙏 মহাপ্রভুর নীলাচল গমন ও বিষ্ণুপ্রিয়ার বৈরাগ্য ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী গোপীশরণ দাস 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন ➡️ http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/01/blog-post_51.html

 ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
                  ꧁ ৬৫. অতি গূঢ় নিত্যানন্দ ꧂
       ꧁ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী গোপীশরণ দাস ꧂
       এই লিংকে ⬇️⬇️⬇️🙏⬇️⬇️⬇️ ক্লিক করুন 
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
   🏠Home Page🏠⬇️⬇️🙏⬇️⬇️📚PDF গ্রন্থ📚
꧁ MrinmoyNandy.blogspot.com 👉 সূচীপত্র ꧂
       এই লিংকে ⬇️⬇️⬇️🙏⬇️⬇️⬇️ ক্লিক করুন 
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
 ꧁ টিকা বা অন্যান্য ধর্মীয় লিখনী 🙏 সূচীপত্র ꧂
      ꧁ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী গোপীশরণ দাস ꧂
       এই লিংকে ⬇️⬇️⬇️🙏⬇️⬇️⬇️ ক্লিক করুন 
 ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
 ꧁ প্রভু নিত্যানন্দের সংক্ষিপ্ত লীলা 🙏 সূচীপত্র ꧂
      ꧁ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী গোপীশরণ দাস ꧂
       এই লিংকে ⬇️⬇️⬇️🙏⬇️⬇️⬇️ ক্লিক করুন 
 ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
( ৬৫)
*অতি গূঢ় নিত্যানন্দ।*
 *#মহাপ্রভুর_নীলাচল_গমন ও #বিষ্ণুপ্রিয়ার_বৈরাগ্য।*

প্রভু বোলে "শুন নিত্যানন্দ মহামতি!
 সত্বরে চলহ তুমি নবদ্বীপ-প্রতি।।
 শ্রীবাসাদি যত আছে ভাগবতগণ।
 সবার করহ গিয়া দুঃখ বিমোচন।।

মহাপ্রভুর আজ্ঞায়
নিত্যানন্দ নবদ্বীপবাসী ভক্তবৃন্দ ও শচীদেবীকে আনবার জন্য নবদ্বীপে চলে গেলেন। 
নবদ্বীপে এসে  শচীদেবীকে মহাপ্রভুর আজ্ঞা জানালেন নিত্যানন্দ।  শুনে কিছুটা আশ্বস্ত হলেন শচীদেবী। খবর পেয়ে সব ভক্তবৃন্দ এসে মহাপ্রভুর বাড়িতে উপস্থিত হলেন। সকলে উল্লসিত হয়ে শান্তিপুরে যাওয়ার জন্য প্রস্তুত হতে লাগলেন। নিত্যানন্দ  তখন শচীমাতাকে বললেন, শুনলাম এ কয়দিন তোমরা উপবাসী আছ। এখন উঠে রান্নার যোগাড় কর। আমি বড় ক্ষুধার্ত। কিন্তু তোমরা অন্ন গ্রহণ না করলে আমি কি করে অন্ন গ্রহণ করি? অগত্যা শচীদেবী ও বিষ্ণুপ্রিয়া রান্না করলেন। নিত্যানন্দকে ভোজন করিয়ে নিজেরাও অন্ন গ্রহণ করলেন, উপবাস ভঙ্গ করে।
তারপর অঙ্গনে পালকি এলে শচীদেবী ও বিষ্ণুপ্রিয়া দুজনেই যাবার জন্য প্রস্তুত হয়ে সামনে এসে দাঁড়ালেন। তখন নিত্যানন্দ বললেন, কিন্তু মা! প্রভু শুধু তোমাকেই নিয়ে যেতে বলেছেন। শ্রীমতীর যাবার ত নির্দেশ নেই মা!
একথা শুনে শচীদেবী বললেন - নিতাই! এ তোমাদের কেমন বিচার? বৌমা একটিবার নিমাইকে দেখতে পাবে না? বেশ, তাহলে আমিও যাবো না। 
তখন বিষ্ণুপ্রিয়া এগিয়ে এসে শান্ত কণ্ঠে শচীদেবীকে বললেন - *#মা!#আমি_গেলে_তাঁর_সন্ন্যাসব্রত_ভঙ্গ_হবে। #এই_জন্যই_হয়ত_আমাকে_যেতে_নিষেধ_করেছেন। #আমি_তাঁর_সহধর্মিণী। #তাঁর_আচরিত_ধর্মের_সহায়তা_করা_আমার_কর্তব্য। #কিন্তু_আপনি_যাবেন_না_কেন? #আপনার_জন্য_তিনি_অপেক্ষা_করে_আছেন।*
 
এই বিপদের মাঝেও স্থিতধী বিষ্ণুপ্রিয়ার এই প্রজ্ঞাসম্পন্ন কথা শুনে ও সূক্ষ্ম বিচারবুদ্ধির পরিচয় পেয়ে বিস্মিত হয়ে গেল উপস্থিত সকলে। তখন শচীদেবীও শান্ত হয়ে পালকিতে আরোহণ করলেন। 
শচীদেবী চলে গেলে বুকে দুঃসহ বিরহের জ্বলন্ত আগুন নিয়ে ঘরের দ্বার বন্ধ করে ভূমিতলে শয্যাগ্রহণ করলেন বিষ্ণুপ্রিয়া। 

মহাপ্রভু শচীমায়ের দর্শন পেয়ে সাষ্টাঙ্গে দণ্ডবৎ হয়ে পড়লেন। মা পুত্র কে তুলে বুকে জড়িয়ে ধরলেন। মস্তক আঘ্রান করলেন ও বারবার মুখে চুম্বন করতে লাগলেন। চোখের জলে কিছুই দেখতে পান না।কেঁদে কেঁদে বলছেন - নিমাই! তুই যেন বিশ্বরূপের মত নিষ্ঠুরতা করিস্ না। সন্ন্যাসী হয়ে সে একবারও আমাকে দেখা দিল না! মহাপ্রভু বলছেন - মা! এই শরীর তোমার। তোমার পালিত দেহ, কোটি জন্মে তোমার ঋণ শোধ করতে পারব না। যদিও আমি সন্ন্যাস নিয়েছি, তথাপি তোমার প্রতি উদাসীন হব না। আমার সন্ন্যাস ধর্ম যাতে রক্ষা হয় এবং তোমার দুঃখ না হয় সেই মতো আজ্ঞা কর। শচীমাতা বললেন তুমি বৃন্দাবনে গেলে অনেক দূর হবে, তারচেয়ে নীলাচলে গিয়ে থাক। সেখানে লোকজনের যাতায়াত থাকবে। মাঝেমধ্যে সংবাদ পাব। তুমি কখনো গঙ্গাস্নানে আসবে। মায়ের আজ্ঞা মহাপ্রভু শিরোধার্য করে নিলেন। দশ দিন মায়ের হস্ত পাচিত অন্ন ভোজন করে মাকে সুখ দিয়ে নীলাচলের উদ্দেশ্যে যাত্রা করলেন। সঙ্গে নিত্যানন্দ, গদাধর, জগদানন্দ, দামোদর পন্ডিত আর মুকুন্দ, এদেরকে সাথে নিয়ে মহাপ্রভু মাকে প্রদক্ষিণ ও প্রণাম করে গমন করলেন নীলাচলের পানে।

মহাপ্রভু নীলাচলে  গমন করলে শচীমাতা  শান্তিপুর থেকে নবদ্বীপে ফিরে এলেন। ফিরে এসেই পুত্রবধূকে জড়িয়ে ধরলেন দুহাত দিয়ে। তারপর সংজ্ঞাহীনা হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়লেন। দুজনেই শোকসন্তপ্তা --- কে কাকে সান্তনা দেবেন। 
এই ঘোর বিপদের মাঝে নিজের দায়িত্ব ও কর্তব্য ঠিক করে ফেললেন স্থিতধী ধৈর্যশীলা বিষ্ণুপ্রিয়া। সন্ন্যাসী স্বামীর উপর কোনরূপ রাগ দুঃখ না করে তিনি মনে মনে দৃঢ়সংকল্প করলেন, একদিকে তিনি ত্যাগ ও বৈরাগ্যের পথে স্বামীর ভক্তিপ্রেমধর্মের অন্তরঙ্গ সাধনায় আত্মনিয়োগ করবেন, অন্যদিকে তাঁর চির আরাধ্য প্রাণপ্রিয় স্বামীর জননী পুত্রশোকে বিহ্বলা শাশুড়ীর সেবা পরিচর্যার সব ভার নিজের হাতে তুলে নেবেন।

এদিকে নিজেই নিজের দিনচর্যার ব্যবস্থা করে ফেললেন বিষ্ণুপ্রিয়া। প্রতিদিন রাত্রিশেষের অন্ধকার তরল হয়ে এলেই জনবিরল গঙ্গায় স্নান সেরে আসেন। তারপর বিষ্ণুপ্রিয়া কক্ষে বসে একপাশে তুলে রাখা পতিদেবতার কাষ্ঠপাদুকার সামনে বসে ধ্যান জপে নিবিষ্ট হন। বেলা বাড়লে ঠাকুরঘর হতে বেরিয়ে এসে শাশুড়ীর স্নান, আহার্য ও সেবা পরিচর্যায় রত হন। সব কাজ সেরে আবার বসেন ধ্যান‌ জপে। একটি ক্ষনও ব্যর্থ হতে দেন না।
সন্ন্যাস গ্রহণের আগে স্বামী যে উপদেশের কথাগুলি বলে গেছেন, সেগুলি জ্বলন্ত অক্ষরে যেন লেখা আছে তাঁর অন্তরে। তিনি বলেছিলেন, আমি যেমন কৃষ্ণের ভজনা করছি, তুমিও তেমনি করো। এক কৃষ্ণসত্তায় পৌঁছে আমাদের মিলন ঘটবে আর সে মিলনে কোন ছেদ ঘটবে না। সে মিলন হবে অনন্ত অক্ষয়। 
কৃষ্ণ উপাসনায় ও কৃষ্ণ প্রেমসাধনায় শ্রীচৈতন্য অনুসরণ করেছিলেন বিরহের পথ। উচ্চমার্গের প্রেমসিদ্ধ সাধকেরা বলেন, বিরহের অর্থ বিশেষভাবে রহঃ , মানে একান্তভাবে প্রিয়তমের রূপ,গুন প্রগাঢ়ভাবে অনুশীলনের ফলে যে আনন্দ, সেই আনন্দ প্রাপ্ত করা। বিরহে  এত প্রগাঢ়  আনন্দ হয় যা দুঃখের মতো প্রতীয়মান হয়। যেমন বরফ খণ্ড হাতে নিলে মনে হয় যেন হাতটা পুড়ে গেল, তেমনি।

 প্রেমসাধকেরা মিলনের থেকে‌ বিরহকেই অধিক বরণ করে নেন, কারণ মিলনের মধ্যে তাঁদের প্রাণপ্রিয় বা প্রাণপ্রভুকে পান একারূপে, কিন্তু বিরহের মধ্যে তাঁকে দেখতে পান সারা ত্রিভুবনময়, যেমন শ্রীচৈতন্য সব কিছুই কৃষ্ণময় দেখতেন। 
বিষ্ণুপ্রিয়াও বিরহসাধনার পথ অবলম্বন করে চিরঅভাগিনী হয়েও সৌভাগ্যশালিনী হয়ে রইলেন। আপন অন্তরাত্মার মধ্যে তপস্যার যে অগ্নিকুণ্ড জ্বেলেছিলেন তার কেন্দ্রবিন্দুতে তার দয়িত ও ইষ্টদেব, তাঁর প্রাণের ও ধ্যানের বিগ্রহ শ্রীচৈতন্যদেবকে প্রতিষ্ঠিত করেছিলেন। তিনি বিষ্ণু বা কৃষ্ণ নয়, তাঁর সাধনার একমাত্র বস্তু সেই চৈতন্যদেব যার সমগ্র সত্তা ও প্রাণমন নিঃশেষে কৃষ্ণে সমর্পিত। 

সংসারে অভাব না থাকলেও শচীমা তাঁর  সাধের নিমাই-এর বিচ্ছেদ-বেদনা আর বেশীদিন সহ্য করতে পারলেন না। ক্রমশই রোগে-শোকে জর্জরিত হয়ে শয্যাগত হয়ে পড়লেন শচীমাতা। অবশেষে একদিন বিষ্ণুপ্রিয়া ও নবদ্বীপের অসংখ্য গৌরভক্তদের শোকাহত করে মরদেহ ত্যাগ করে দিব্যলোকে গমন করলেন। 
স্নেহশীলা অভিভাবিকা শচীমাতার অবর্তমানে আরও কঠোর হয়ে উঠল তপস্বিনী বিষ্ণুপ্রিয়ার তপস্যা। চরম ত্যাগ, বৈরাগ্য ও কৃচ্ছ্রসাধনের পথে আর কোন বাধা রইল না। 
শচীমাতার জীবিতাবস্থায় প্রভুর গৃহের বাইরের দরজাটি খুলে রাখা হত। কারণ ভক্তেরা প্রভু জননীকে প্রণাম নিবেদন করতে আসত প্রতিদিন বিভিন্ন সময়ে। তাঁর তিরোধানের পর সেই  দরজাটি বন্ধ করে দেওয়া হলো। 
তাঁর আজ্ঞা ছাড়া তাঁর দর্শন নিষেধ। অত্যন্ত কঠোর ব্রত ধারণ করলেন। প্রাতঃকালে উঠে স্নান-আহ্নিক সেরে হরিনাম জপে বসেন। তিন প্রহর জপ করেন।
*#হরেকৃষ্ণ_হরেকৃষ্ণ_কৃষ্ণকৃষ্ণ_হরেহরে।*
*#হরেরাম_হরেরাম_রামরাম_হরেহরে।।*

 একবার মহামন্ত্র নাম জপ করে একটি মাটির পাত্রে একটি করে তণ্ডুল রাখেন। এই মত তিন প্রহর অর্থাৎ ৯ ঘন্টায় যতটা চাল হয়, তাই যত্নে পাক করেন,মুখে বস্ত্র বেঁধে। অলবন,অনোপকরণ পাক করে মহাপ্রভুর ভোগ লাগান। চোখের জলে ভেসে, প্রাণের আবেগে নানা আকুতি করে ভোগ নিবেদন করে আচমন দেন।  নিজে কিঞ্চিৎ গ্রহণ করেন।শুধুমাত্র অন্নপ্রসাদ ব্যতীত তিনি আর কিছুই গ্রহণ করতেন না, তাও পেট ভরে দুটো পাবেন তাও সম্ভব ছিল না। কারণ সারা দিন ধরে ভজন করে আর কত চাল বা সংশোধন করা সম্ভব? সেজন্য এই আতপ চালের পরিমাণ অধিক হতে পারতো না। তারপর সে প্রসাদকণা পাওয়ার জন্য নবদ্বীপের সব গৌরভক্তগণ সারাদিন উপবাসী থেকে গৃহের বাইরে বসে সংখ্যা নাম জপ করতেন।
তাই তাদেরকেও প্রসাদ দিতে হত। দেবীর আদেশে তার সেবিকাদ্বয় সেই মহাপ্রসাদ এক এক দানা সকলকে বিতরণ করতেন। তাই পেয়ে তারা নিজেকে ধন্য মনে করতেন।
শচীমাতার অপ্রকটের পর আর বাইরে বের হতেন না। ভক্তগণের ব্যাকুলতায় পর্দার আড়াল থেকে শুধুমাত্র চরণ দর্শন দিতেন। 
একবার মাত্র শ্রীনিবাস আসলে দর্শন দিয়েছিলেন সেও মহাপ্রভুর স্বপ্নাদেশে।

ভক্তগণ গঙ্গাজল এনে মই দিয়ে উঠে বাড়ির ভেতরে  রেখে যেতেন। তাতেই স্নানাদি সমাধা করতেন।
অঙ্গে কোন আভরণ নেই,  সন্ন্যাসিনীর বেশ, অন্তর গৌরাঙ্গ বিরহে জর্জরিতা, নয়নধারায় মুখবুক ভেসে যায় আর সর্বদা মহাপ্রভুর শোকে ব্যাকুল, দর্শন তো আর ভাগ্যে হবে না! সেজন্য প্রভুদত্ত পাদুকাই তাঁর সম্বল, আর দিবানিশি হা-হুতাশ।( কথিত আছে - একবার মহাপ্রভু নবদ্বীপে এসেছিলেন শুক্লাম্বর ব্রহ্মচারীর গৃহে। সেখানেই বিষ্ণুপ্রিয়াদেবী প্রভুর দর্শন করেন। মহাপ্রভু তাকে চরণ পাদুকা দান করে প্রস্থান করেন।)
বৃদ্ধ দামোদর পন্ডিত দেবীর কৃচ্ছ্রতা সহ্য করতে না পেরে দেহ ত্যাগ করলেন। একমাত্র শুক্লাম্বর ব্রহ্মচারীই জীবিত ছিলেন। তিনি মধ্যে মধ্যে এসে খোঁজখবর নিয়ে যেতেন।

মহাপ্রভু অনুভব করেছিলেন তাঁর একার চোখের জলে জগৎ ডুবানো সম্ভব নয়। তাই তিনি মাকে ও বিষ্ণুপ্রিয়া দেবীকেও ছেড়ে সংসার ত্যাগ করে সন্ন্যাসী হয়েছিলেন। তিনজনের চোখের জলে জগৎ ব্যাকুল হয়ে উঠল। সকলের হৃদয়ে হাহাকার জাগল। ব্যাকুল প্রাণে সকলে ভগবানের শরণাপন্ন হলেন।

ভাবতেও কষ্ট হয় একটি নারীর জীবনে মাত্র পাঁচটি বছর মিলন।এগারো বছর বয়সে বিবাহ আর ষোল বছর বয়সেই বিচ্ছেদ।
ষোল বছর বয়সে যৌবনে প্রথম পদার্পণ হয়। সেই সময় থেকে সারাটা জীবন কিভাবে দুঃখে-কষ্টে, চোখের জলে বুক ভাসিয়ে সারাটা জীবন কাটালেন, এটা নারী মাত্রেই অনুভব করতে পারবেন। আজকে ভাবলেও অবাক হতে হয়, কি অসাধ্য দুঃসহ-জ্বালা সহ্য করে জীবন ধারণ করেছিলেন, প্রিয়তম কে পাওয়ার জন্য!তার সেই ভক্তিপূত ত্যাগ-বৈরাগ্যময় জীবন থেকেই আজ নারীদের ভিতর ভক্তি মন্দাকিনীর স্রোত বিশেষভাবে পরিলক্ষিত হয়।

মহাপ্রভুর বৈরাগ্য সকলের আদর্শ হলেও নারীসমাজ ভাবতো আমরা কি আর ঐরকম সন্ন্যাস নিয়ে গৃহত্যাগী হয়ে তপস্যা করতে পারি?
 এ জন্যই বিষ্ণুপ্রিয়াদেবী জগৎকে দেখিয়ে গেলেন, নারী হয়েও কেমনভাবে সন্ন্যাসিনী না হয়েও গৃহকোণে বসে তপস্যার দ্বারা ভগবানকে প্রাপ্ত করা যায়। তাঁর ত্যাগের আদর্শ জগতে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকলো যা যুগে যুগে মানুষকে অনুপ্রাণিত করবে।

আমরা যদি তার মত বৈরাগ্য আচরণ নাও করতে না পারি তথাপি সেই কথা স্মরণ করে যদি দু'ফোটা চোখের জল পড়ে তাতেও লাভ হবে এবং তাকে আদর্শ করে সেই লক্ষ্য স্থির করে এগোনোর চেষ্টা করলে, একদিন না একদিন তিনি তা অবশ্যই পূর্ণ করবেন। কেননা
 *#তাগাৎ_শান্তিরনন্তরম্"* 
ত্যাগ-বৈরাগ্য ছাড়া তাকে কখনোও পাওয়া সম্ভব নয়। সে ত্যাগ এজন্মে হোক অথবা দশ জন্ম পরে, সেই স্তরে উন্নীত না হওয়া পর্যন্ত তাকে পাওয়া অসম্ভব।
তাই এখন থেকেই লক্ষ্য স্থির করে বাস্তব লক্ষ্যের(ultimate goal) দিকে অগ্রসর হওয়ার চেষ্টা করাই মনে হয় বুদ্ধিমানের কাজ।তার শরণ নিয়ে যাত্রা শুরু করলে তিনিই শক্তি দেবেন পথ চলার।

 এই হৃদয়বিদারক-বিরহবেদনা অসহ্য বোধ হওয়ায় অন্যান্য গ্রন্থকারগণ এনার বিষয়ে বিশেষ কিছু লিখতে সমর্থ হন নাই।

বিষ্ণুপ্রিয়ার বিরহ-ব্যথা যখন চরম  পর্যায়ে পৌঁছালো।প্রান আর ধারণ করা যায় না। দুই সখী কাঞ্চনা ও বকুলা দিনরাত পরিচর্যা করেন।  অনেক প্রকারে সান্ত্বনা দেন। দিন-রাত কেঁদে কেঁদে চোখ ফুলে গেল। ভোজনে রুচি নাই।প্রাণ যায় আর কি! এমন সময় কিঞ্চিৎ তন্দ্রাবেশে দেখছেন, মহাপ্রভু এসে বলছেন- "যে নিমগাছ তলায় আমার জন্ম হয়েছিল, সেই নিমগাছ থেকে আমার মূর্তি তৈরি কর। 
বিষ্ণুপ্রিয়াদেবী বললেন - আমি কি করে মূর্তি তৈরি করব? আমিতো কিছুই  জানি না। ভাস্কর কোথায় পাব?

 মহাপ্রভু বললেন - তোমার কোন চিন্তা নেই।মূর্তি তৈরীর ভাস্কর ও চলে আসবে। 
বিষ্ণুপ্রিয়াদেবীর ঘুম ভেঙে গেল। তিনি মূর্তি তৈরিতে উদ্যোগী হলে,স্বেচ্ছায় ভাস্কর এসে মূর্তি তৈরি করে দিয়ে চলে গেলেন।

১৫১৪ খ্রিস্টাব্দে মহাসমারোহে বিগ্রহ প্রতিষ্ঠা মহোৎসব সমাধান হলেন। এখন থেকে বিষ্ণুপ্রিয়াদেবী তার প্রাণনাথের সেবায় নিজেকে উৎসর্গ করলেন। কিঞ্চিৎ বিরহ ব্যথার উপশম হল।

মহাপ্রভুর অন্তর্ধানের পর থেকেই দেবীর শরীর জীর্ণ-শীর্ণ হতে লাগল। দেহধারণ করার বাসনাও ক্রমশঃ ক্ষীণ হয়ে আসতে লাগল। দেখতে দেখতে গৌর-পূর্ণিমা সমাগত হল। প্রাণনাথের জন্মদিনে বিরহ-সিন্ধু উদ্বেলিত হল, তার তরঙ্গাঘাত সহনের ক্ষমতা হারিয়ে ফেললেন। মঙ্গল আরতি সমাপ্ত হলে দেবী শ্রীমন্দিরে প্রবেশ করলেন, ভিতর থেকে দ্বার বন্ধ হয়ে গেল। সবার অলক্ষ্যে দেবী শ্রীবিগ্রহের সহিত লীন হয়ে গেলেন। মহাপ্রভু নীলাচলে শ্রীবিগ্রহের সাথে লীন হয়ে গিয়েছিলেন। বিষ্ণুপ্রিয়াদেবীও ঠিক সেইভাবে গৌরাঙ্গের (ধামেশ্বর মহাপ্রভু) বিগ্রহের সহিত লীন হয়ে গেলেন।

 পরম পূজ্যপাদ শ্রীহরিদাস গোস্বামী মহাশয় বিষ্ণুপ্রিয়াদেবীর ভ্রাতৃবংশীয় শ্রীনৃত্যগোপাল গোস্বামী মহাশয়ের নিকট স্বয়ং শ্রবণ করে তা সম্পূর্ণরূপে নির্ভরযোগ্য হিসাবে গ্রহণ করেছেন।

 ব্রাহ্মমুহূর্তে প্রভুর জন্মদিনে।
 দারুমূর্ত্তে লীন দেবী হইলা আপনে।।

 আবির্ভাব ১৪৯৬ খ্রিস্টাব্দে মাঘী শুক্লা পঞ্চমী তিথিতে এবং তিরোভাব ১৫৭৩ খ্রিস্টাব্দের ফাল্গুনী পূর্ণিমা তিথিতে ৭৭ বছর বয়সে অপ্রকট হন।

*জয় শচীনন্দন জয় গৌরহরি‌।
বিষ্ণুপ্রিয়ার প্রাণনাথ নদীয়া বিহারী।।

🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏
GOPISARAN DAS

http­//MrinmoyNandy.blogspot.com/2022/12/blogéôépost_30.html
 ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
 
 ✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️
           ꧁ লিখনী সেবা- শ্রী গোপীশরণ দাস ꧂
নিবাস-শ্রীশ্রীনিত্যানন্দ প্রভুর জন্মস্থান, একচক্রা, বীরভূম, পশ্চিমবঙ্গ। 
 ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏
আমায় দেওয়া ওনার এই অমূল্য লিখনী সেবা, তা সকলের মধ্যে প্রকাশ করলাম। ওনার এই অমূল্য দান সমগ্র বৈষ্ণব সমাজ অনন্তকাল মনে রাখিবে।
🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
    *••••┉━❀꧁ 🙏 রাধে রাধে 🙏 ꧂❀━┅••••* 
                   শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য প্রভু নিত্যানন্দ
              হরে কৃষ্ণ হরে রাম শ্রীরাধেগোবিন্দ।।
  *••••┉━❀꧁ 🙏 জয় জগন্নাথ 🙏 ꧂❀━┅••••*
              হরে কৃষ্ণ হরে কৃষ্ণ কৃষ্ণ কৃষ্ণ হরে হরে
              হরে রাম হরে রাম রাম রাম হরে হরে॥
  *••••┉━❀꧁ 🙏 জয় রাধাকান্ত 🙏 ꧂ ❀━┅••••*
   💮❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀💮
   💮❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀💮
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧



adds