*(১২২)কৃত্তিবাসী রামায়ণ সংক্ষিপ্ত*
"""""""""""""""""""""""""""""""""""""""""""""""""""
*🌻অযোধ্যায় কালপুরুষের আগমন ও লক্ষ্মণ বর্জন,কালপুরুষ=অতিবল নামক মুনির দূত)🌻*
^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^
*🌻সন্ন্যাসীর বেশ ধারণ করে অযোধ্যানগরীতে প্রবেশ করলেন কালপুরুষ।সভায় মহারাজাধিরাজ শ্রীরামচন্দ্র বসে আছেন।কালপুরুষ মহারাজের সঙ্গে সাক্ষাৎ প্রার্থী।আর দ্বার রক্ষকে আছেন স্বয়ং অনুজ লক্ষ্মণ।কালপুরুষ লক্ষ্মণকে বললেন, আমি ব্রহ্মার দূত, ব্রহ্মা পাঠালেন আমি মহারাজাধিরাজ রামচন্দ্রের সঙ্গে কথোপকথন আছে।রামের কাছে গিয়ে লক্ষ্মণ সম্ভ্রমে জোড়হাত করে বললেন,ব্রহ্মার দূত এসেছেন,রাম বললেন,যথা সম্মানের সহিত ভেতরে নিয়ে এসো।*
*🍀পাদ্য অর্ঘ্য দিয়া রাম দিলেন আসন।*
*🍀যোড়হস্তে জিজ্ঞাসেন কহ প্রয়োজন।।*
*🌻তখন কালপুরুষ বললেন যে,আমি যে কথা বলব যেন অন্য কেউ শুনতে না পায়, তাই ভেতরে আমি আর আপনি ছাড়া অন্য কেহ থাকবে না, অন্য কাউকে প্রবেশ করতে নিষেধ।তখন রাম লক্ষ্মণকে বললেন,*
*🍀শ্রীরাম বলেন শুন প্রাণের লক্ষ্মণ।*
*🍀সাবধানে থাক না আইসে কোনজন।।*
*🍀অধিক কি কহিব যে দ্বার পানে চায়।*
*🍀তাহাকে ত্যজিব আমি জানিহ নিশ্চয়।।*
*🍀এই সত্য কহিলাম দূতের গোচরে।*
*🍀সাবধানে লক্ষ্মণ রহিবে তুমি দ্বারে।।*
*🌻কালপুরুষ বলতে লাগলেন,বিধাতার নির্বন্ধ খন্ডন করা যায় না।আপনি এগার হাজার বৎসরের বেশী সময় মর্ত্যে রয়েছেন, আর বৈকুন্ঠ নগরী শূন্য হয়ে রয়েছে, তাই শূন্যস্থান পূরণ করবার জন্য আপনাকে আমি নিতে এসেছি,*
*🍀সংসারের লোক নাশি মোর দূতে আনে।*
*🍀তোমারে লইতে আমি আইনু আপনে।।*
*🌻রামচন্দ্র বললেন, যম তুমি যা কহিবে আমি তাই করব। আমি সংসার ছেড়ে বৈকুন্ঠে গমন করব।*
*🍀দৈবের নির্বন্ধ আছে না যায় খন্ডন।*
*🍀ব্রহ্মার মায়াতে দুবাসার আগমন।।*
*🌻দ্বারে লক্ষ্মণ বসে আছেন, দুর্বাসামুনি বললেন, রামচন্দ্রকে বলো আমি এসেছি।লক্ষ্মণ যোড়হাত করে বললেন,ব্রহ্মার দূত এসেছেন তাঁর সঙ্গে কথা বলছেন, এবং বলেছেন আমি যেন কাউকে প্রবেশ করতে না দেয়।এইকথা শুনে দুর্বাসামুনি ক্রোধান্বিত বলতে লাগলেন আমি এই অযোধ্যানগরী পুড়িয়ে ছারখার করে দিব।মুনির ক্রোধ দেখে লক্ষ্মণ চিন্তা করছেন, আমি রামের কাছে গেলেই আমাকে বর্জন করবেন আর না গেলে মুনি শাপ দিবেন।*
*🍀দেখিয়া মুনির কোপ লক্ষ্মণের ত্রাস।*
*🍀ভাবেন আমার লাগি হয় সর্বনাশ।।*
*🍀বুঝি রাম করিবেন আমারে বর্জন।*
*🍀এড়াইতে নারি আমি ললাট লিখন।।*
*🌻আমার জন্য আমি অযোধ্যা ধ্বংস হতে দিব না, আমি বর্জন হলেও তো অযোধ্যা বাঁচবে বলে ভেতরে গেলেন এবং দুর্বাসামুনির কথা বললেন।কালপুরুষকে বিদায় করলেন এবং মুনির সঙ্গে কথা বলতে লাগলেন।* *রাম বললেন কি কারণে আগমন যদি কৃপা করে বলেন।দুর্বাসা বললেন আমি এক বছর ধরে অনাহারে আছি, আমায় উৎকৃষ্ট ভোজন দাও।তখন রাম বললেন, অনাহার আপনার মুখ্য কারণ নয়, দুর্বাসা বললেন, তুমি লক্ষ্মণকে ত্যাগ কর, কারণ তুমি তোমার কথা রাখ।তুমি বলেছিলে দূতের সঙ্গে কথা বলা কালিন যদি লক্ষ্মণ ভেতরে আসে তাহলে বর্জন করবে, মনে আছে? শ্রীরাম বললেন,*
*🍀শ্রীরাম বলেন সীতা আর রাজ্য ধন।*
*🍀ইহার অধিক মোর ভাই যে লক্ষ্মণ।।*
*🍀সকলি ত্যজিতে পারি জানকী সুন্দরী।*
*🍀লক্ষ্মণ বিহনে আমি রহিতে না পারি।।*
*🌻তখন সেই সভায় বশিষ্ঠ, নারদ ও অন্যান্য কিছু মুনিগণ এসেছিলেন, তাঁরা বললেন,*
*🍀সত্য যদি পাল তবে বর্জহ লক্ষ্মণে।*
*🍀মুনিরা বলিছে রাম কি ভাবিছ মনে।।*
*🌻তুমি সত্যের জন্য বনবাসে গেলে, পিতার মৃত্যু হল, দেখতে পেলে না।সত্যের জন্য সীতাকে বনবাসে দিলে, সত্যের জন্য সীতার অগ্নি পরীক্ষা করলে মনে নাই।অতএব তুমি সত্য পালন কর।তখন লক্ষ্মণ নিজে এসে বললেন,*
*🍀হেনকালে শ্রীরামেরে বলেন লক্ষ্মণ।*
*🍀আমারে র্বিয়া কর সত্যের পালন।।*
*🌻শ্রীরাম অনিচ্ছাকৃতভাবে অনুজ লক্ষ্মণকে বর্জন করতে সিদ্ধান্ত নিলেন, দুই ভাই আলিঙ্গন করতে লাগলেন এবং নয়নজলে বক্ষ ভাসালেন। অযোধ্যানগরে শোকের ছায়া পড়ল,🍀হাহাকার রোদন উঠিল চতুর্দিক।বিলাপ করেন রাম বর্ণিতে অধিক।।🍀রাম বলছেন লোক অপবাদে সীতাকে বর্জন করলাম কিন্তু কি অপরাধে তোমায় বর্জন করতে হল?রাম বললেন,ভরত তুমি রাজসিংহাসনে বসো।ভরত বললেন আমি তোমার সঙ্গে যাব, অতএব সিংহাসন আমার জন্য নহে।তারপর শত্রুঘ্নকে আনতে দূত পাঠালেন মথুরায়।দূত মথুরায় গিয়ে বলল, শ্রীরাম স্বর্গে গমন করবেন এবং তাঁর সকলেই যাবেন,তাই আপনাকে সিংহাসনে বসিতে হবে।ছয়দিন পর শত্রুঘ্ন এলেন, বললেন, আমি আপনার সঙ্গে স্বর্গে যাব, অনুমতি দিন। এইকথা চারিদিকে ছড়িয়ে পড়লে তিনকোটি রাক্ষস সঙ্গে নিয়ে এলেন বিভীষণ, বললেন প্রভু আমরা আপনার সঙ্গে স্বর্গপুরী যাব।তারপর সুগ্রীব,অঙ্গদ,নল,নীল সহ বহু কপি এলো,যত নর-নারী, এসে বলল আমরাও আপনার সঙ্গে থাকব।অতঃপর হনুমান এলেন, বললেন প্রভু! আমায় সঙ্গ ছাড়া করবেন না, আমি আপনার দাস, আমায় কৃপা করুন।*
*🌻হনুমান পুনঃ বললেন আমি স্বর্গবাস চাহিনা, কেবল আপনার সঙ্গে থাকতে চায়।*
*🍀হনুমান বলে নাহি চাহি স্বর্গবাস।*
*🍀তোমার যে গুণ শুনি এই অভিলাষ।।*
*🍀শ্রীরাম তোমার নাম হইবে যেখানে।*
*🍀সেইখানে সুস্থির থাকিব রাত্রিদিনে।।*
*🌻তখন শ্রীরাম বললেন,হনুমান মনে রেখ, তুমি আর আমি আলাদা নয়,যেখানে তুমি সেখানে আমি,তুমি ব্রহ্মার বরে চারযুগ অমরত্ব পেয়েছ।আমার পরিবর্তে তুমি পৃথিবী পালন করো।জাম্ববানকেও বললেন তুমিও তো চারযুগ অমর থাকবে, ব্রহ্মার কল্যাণে।সর্বশেষ লবকুশকে,*
*🍀বিভীষণে আনি রাম করে সমর্পণ।*
*🍀লব কুশে রাজা করি করেন গমন।।*
*🙏বানান ভুল ক্ষমা করবেন🙏*
*ক্রমাগত*