শ্রী মৃন্ময় নন্দী কর্ত্তৃক সকল ভক্ত👣চরণে👣অসংখ্যকোটি 🙇প্রণাম🙇 ক্লিক করুন 👇

শ্রী মৃন্ময় নন্দী কর্ত্তৃক সকল ভক্ত👣চরণে👣অসংখ্যকোটি 🙇প্রণাম🙇 ক্লিক করুন 👇

শ্রীশ্রীঅভিরাম লীলা রহস্য 🌹 শ্রীদ্বাদশ গোপালের প্রথম গোপাল অভিরাম গোপালের অদ্ভুত বৃত্তান্ত 🏵️ প্রথম ভাগ 🌷 শ্রীশ্রীঅভিরাম লীলাস্থলী 🙏 শ্রীপাঠ কৃষ্ণনগর, খানাকুল 🙇 রচয়িতা 📝 শ্রীমৎ কিশোরী দাস বাবাজী 🙇 শ্রী মৃন্ময় নন্দী কর্ত্তৃক সকল ভক্ত চরণে অসংখ্যকোটি প্রণাম 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/02/abhiram-gopal.html


══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

শ্রীশ্রীঅভিরাম লীলা রহস্য 🌹 শ্রীদ্বাদশ গোপালের প্রথম গোপাল অভিরাম গোপালের অদ্ভুত বৃত্তান্ত 🏵️ প্রথম ভাগ  🌷 শ্রীশ্রীঅভিরাম লীলাস্থলী 🙏 শ্রীপাঠ কৃষ্ণনগর, খানাকুল 🙇 রচয়িতা 📝 শ্রীমৎ কিশোরী দাস বাবাজী 🙇 শ্রী মৃন্ময় নন্দী কর্ত্তৃক সকল ভক্ত চরণে অসংখ্যকোটি প্রণাম 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/02/abhiram-gopal.html

══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧


══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

১. শ্রীনিত্যানন্দ প্রভু তিনি আর ধৈর্য্য রাখতে পারছেন না। তিনি হুঙ্কার দিতে লাগলেন -- শ্রীদাম, শ্রীদাম? 📖  শ্রীশ্রীঅভিরাম লীলা রহস্য 🌹 শ্রীদ্বাদশ গোপালের প্রথম গোপাল অভিরাম গোপালের অদ্ভুত বৃত্তান্ত 🏵️ প্রথম ভাগ  🌷 শ্রীশ্রীঅভিরাম লীলাস্থলী 🙏 শ্রীপাঠ কৃষ্ণনগর, খানাকুল 🙇 রচয়িতা 📝 শ্রীমৎ কিশোরী দাস বাবাজী 🙇 শ্রী মৃন্ময় নন্দী কর্ত্তৃক সকল ভক্ত চরণে অসংখ্যকোটি প্রণাম 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/02/abhiram-gopal.html

══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
আনুমানিক ১৪০০ শকে শ্রীপাদ অভিরাম গোপাল ঠাকুরের আবির্ভাব, শ্রীপাদ অভিরাম গোপাল ঠাকুর শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য মহাপ্রভুর প্রিয়তম পার্ষদ ছিলেন এবং নিত্যানন্দ পারিষদ ছিলেন। ত্রেতাযুগে শ্রীরামচন্দ্রের লীলায় ইনি ভরত এবং দ্বাপর যুগে ইনি ভগবান শ্রীকৃষ্ণের প্রথম সখা এবং দ্বাদশ গোপালের প্রথম গোপাল শ্রীদাম ছিলেন। ইনি নানা নামে ভক্ত সমাজের কাছে পরিচিত ছিলেন অভিরাম গোপাল , অভিরাম ঠাকুর, রামদাস, রাম ইত্যাদি নামে খ্যাত ছিলেন। প্রাচীণ গ্রন্থ সমূহে শ্রীদ্বাদশ গোপালের প্রথম গোপাল অভিরাম গোপালের অদ্ভুত বৃত্তান্ত লিখিত আছে। এইরুপ লীলা সহজে মহাপ্রভুর অন্যান্য পারিষদ গণের সম্বন্ধে দেখা যায় না। যখন নিত্যানন্দ প্রভু প্রাণ কৃষ্ণের অন্বেষণে চার দিকে ছুটে বেড়াচ্ছেন তখন শ্রীধাম বৃন্দাবনে শ্রীপাদ ঈশ্বর পুরী তাহাকে দেখিতে পায় এবং তাহার মনের সকল দুঃখ কষ্ঠের কথা বুঝতে পারেন, এবং তেনার জানায় তাহার প্রাণের ভাই কানাই নদীয়া পুরীতে শ্রীধাম নবদ্বীপে শচী সন্তান রুপে অবতীর্ন হয়েছেন এবং স্বয়ং ভগবান শ্রীকৃষ্ণই গৌরসুন্দর রুপে অবতীর্ন হয়েছেন। এই সময় শ্রীপাদ ঈশ্বর পুরীর কথায় আনন্দে উদ্ভাসিত হয়ে নিত্য করতে লাগলেন, যে তাহার ভাই কানাইয়ের তিনি সন্ধান পেয়েছেন। আর, এই মুহূর্তে তাহার সকল পূর্বলীলা স্বারণ হয়েছে , এবং আবেগের সহিত তিনি হুঙ্কার দিতে লাগলেন -- "হায়, শ্রীদাম কোথায়"?, তাহাকে যে সেই সংবাদ দিতেই হবে। এই আনন্দ সংবাদ পেয়ে শ্রীনিত্যানন্দ প্রভু তিনি আর ধৈর্য্য রাখতে পারছেন না। তিনি হুঙ্কার দিতে লাগলেন -- শ্রীদাম, শ্রীদাম?

দ্বাপরে লীলাবসানে শ্রীকৃষ্ণ অপ্রকট হইলে চিরতেজস্বী শ্রীদাম দারুণ অভিমানে একটি সংকল্প করিয়া শ্রীবৃন্দাবনস্থ গোবর্দ্ধনগিরি গুহায় নিভৃতে প্রেমসমাধিমগ্ন হইয়া রহিলেন। আকুল আবেশে তিনি তাঁহার প্রাণকোটিপ্রিয় শ্রীকৃষ্ণের সহিত মিলিত হইলেন। এমনি করিয়া দিনের পর দিন, মাসের পর মাস, বর্ষের পর বর্ষ, যুগের পর যুগ অতিবাহিত হইল - সে প্রেম সমাধি আর ভঙ্গ হয় নাই। আজ সহসা বলরামস্বরূপী শ্রীনিত্যানন্দের উদ্দাম-প্রেমআহ্বানে গোবর্দ্ধনগিরি ভেদ করিয়া যেন জড়বৎ শ্রীদামের দেহে চৈতন্য সঞ্চার করিয়াছিল । বাস্তবিক কিন্তু শ্রী অভিরাম গোস্বামী - নিত্যসিদ্ধ পরিকর; নিত্যসিদ্ধ পরিকরদের দেহ-ইন্দিয়াদি শুদ্ধ সত্ত্বময়, অপ্রাকৃত, সচ্চিদানন্দঘন; তাঁহাদের চিত্তের ভক্তি বা শ্রীকৃষ্ণ প্রীতিও শুদ্ধসত্ত্বময়ী - স্বরূপশক্তিরই বৃত্তি বিশেষ। 
🚩🚩🚩🚩🚩🚩🚩🚩🚩🚩🚩🚩🚩🚩🚩🚩🚩
══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

২. শ্রীদাম তখন - শ্রীপাদ নিত্যানন্দের আহ্বানধ্বনি লক্ষ্য করিয়া গোবর্দ্ধণগিরি কন্দর হইতে সেই সপ্তহস্ত পরিমিত দেহে আসিয়া মিলিত হইলেন। 📖  শ্রীশ্রীঅভিরাম লীলা রহস্য 🌹 শ্রীদ্বাদশ গোপালের প্রথম গোপাল অভিরাম গোপালের অদ্ভুত বৃত্তান্ত 🏵️ প্রথম ভাগ  🌷 শ্রীশ্রীঅভিরাম লীলাস্থলী 🙏 শ্রীপাঠ কৃষ্ণনগর, খানাকুল 🙇 রচয়িতা 📝 শ্রীমৎ কিশোরী দাস বাবাজী 🙇 শ্রী মৃন্ময় নন্দী কর্ত্তৃক সকল ভক্ত চরণে অসংখ্যকোটি প্রণাম 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/02/abhiram-gopal.html

══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
শ্রীদাম তখন - শ্রীপাদ নিত্যানন্দের আহ্বানধ্বনি লক্ষ্য করিয়া গোবর্দ্ধণগিরি কন্দর হইতে সেই সপ্তহস্ত পরিমিত দেহে আসিয়া মিলিত হইলেন। শ্রীপাদ নিত্যানন্দ শ্রীদামকে প্রাণকানাইর সংবাদ দিলেন। শ্রীদাম তখন আনন্দিত হইলেন, কিন্তু দাদা বলাইর দেহ এত খর্ব কেন বুঝিতে পারিলেন না। তখন নিতাইচাঁদ স্বীয় ইচ্ছাশক্তির দ্বারা তাঁহাকে কালোপযোগী খর্ব (সাৰ্দ্ধচতুহস্ত প্রমাণ দীর্ঘ)
করিয়া দিলেন। এবং -
“কহিলেন – এই হইয়াছে কলিকাল ।
ঘুমায়ে রহিলি, মূর্খ! জাতিতে গোয়াল।।
পূর্ব শুদ্ধ-সখা-ভাব হয় সর্বকাল।
অতএব নাম হইল অভিরাম গোপাল।।

দাদা বলাইর কথা শুনিয়া তিনিও ভাবিলেন -
“ব্রজেতেকৃষ্ণ বহু সেবন করিলা।
তখন আমাতে কৃষ্ণ আপনি কহিলা।।
এহেক ভাবিয়া মনে, করেন ভ্রমণ।
যেখানে বিগ্রহ আছে, করেন দর্শন।।”
[ অভিরাম লীলামৃত ]
🚩🚩🚩🚩🚩🚩🚩🚩🚩🚩🚩🚩🚩🚩🚩🚩🚩

══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

৩. শ্রীমদ্ অভিরাম গোস্বামীর পত্নীর নাম কি ❓❓ 📖  শ্রীশ্রীঅভিরাম লীলা রহস্য 🌹 শ্রীদ্বাদশ গোপালের প্রথম গোপাল অভিরাম গোপালের অদ্ভুত বৃত্তান্ত 🏵️ প্রথম ভাগ  🌷 শ্রীশ্রীঅভিরাম লীলাস্থলী 🙏 শ্রীপাঠ কৃষ্ণনগর, খানাকুল 🙇 রচয়িতা 📝 শ্রীমৎ কিশোরী দাস বাবাজী 🙇 শ্রী মৃন্ময় নন্দী কর্ত্তৃক সকল ভক্ত চরণে অসংখ্যকোটি প্রণাম 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/02/abhiram-gopal.html

══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
শ্রীমদ্ অভিরাম গোস্বামী অতীবতেজস্বী ছিলেন। বহুস্থানে ভ্রমণকালে কত বিগ্রহ ও শালগ্রাম শিলা যে তাঁহার প্রণামে চূর্ণ হইয়া গিয়াছে, তাহার ইয়াত্তা নাই। যে সমস্ত বিগ্রহে প্রকৃত বস্তু ছিল না - সেইগুলি চূর্ণ হইয়া গিয়াছিল। ইনি নিত্যানন্দ প্রভুর সাতটি পুত্রকে প্রণাম করিয়া প্রণষ্ট করেন। পরে শ্রীবীরভদ্র গোস্বামী জন্মগ্রহণ করিয়া ইঁহার প্রণাম সহ্য করিলে শ্রী অভিরাম গোস্বামী আনন্দে তাঁহাকে শ্রীগৌরাঙ্গের দ্বিতীয় কলেবর বলিয়া স্বীকার করেন। শ্রীল অভিরাম প্রভু ভ্রমণ করিতে করিতে তখনকার কাজিপুরে
(খানাকুল কৃষ্ণনগরে) উপস্থিত হইলেন। একদা এই স্থানে ভাবাবেশে এক বিশাল কাষ্ঠখন্ড গ্রহণ করিয়া বংশী অনুমানে ফুৎকার দিলেন। শ্রীভগবন্নিত্য পার্ষদ-প্রবরের ফুৎকারে সেই বংশী বাদন করেন। এই কাষ্ঠ ষোলশাঙ্গের অর্থাৎ বত্রিশ জন লোকের বহনোপযোগী ছিল।

“গোপীনাথ মহাপ্রভূবিজয়তে যত্রাহভিরামঃ পুরা,
শ্রীদামা শতবাহ্য দারু মুরলীং কৃত্বা সমবাদয়ৎ।।”
[ শ্রীবৈষ্ণবমহাজনাস্বাদিতঃ ]

“অভিরাম গোস্বামীর প্রতাপ প্রচন্ড।
যাঁরে দেখি কাঁপে সদা দুর্জয় পাষন্ড।।
অভিরাম পূর্বে শ্রীদাম খানাকুলে স্থিতি।।”
[ পাঠ পৰ্য্যটন, সাঃ পঃ পঃ ১০৮ পৃঃ ]

অতঃপর প্রভু খানাকুলে কৃষ্ণনগরে বাস করিয়া বিপ্রগৃহে বিবাহ করেন। ইহার পত্নীর নাম শ্রীমালিনী দেবী।

“প্রভু নিত্যানন্দ বলরামের ইচ্ছাতে।
করিল বিবাহ বিজ্ঞ বিপ্রের গৃহেতে।।”
[ ভক্তি রত্নাকর ]


 ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧

৪. জাহ্নবীদেবীর আদেশে শ্রীনিবাস আচার্য্য প্রভুর গমন খানাকুল নামক স্থানে শ্রীঅভিরাম প্রভুর সনে 📖  শ্রীশ্রীঅভিরাম লীলা রহস্য 🌹 শ্রীদ্বাদশ গোপালের প্রথম গোপাল অভিরাম গোপালের অদ্ভুত বৃত্তান্ত 🏵️ প্রথম ভাগ  🌷 শ্রীশ্রীঅভিরাম লীলাস্থলী 🙏 শ্রীপাঠ কৃষ্ণনগর, খানাকুল 🙇 রচয়িতা 📝 শ্রীমৎ কিশোরী দাস বাবাজী 🙇 শ্রী মৃন্ময় নন্দী কর্ত্তৃক সকল ভক্ত চরণে অসংখ্যকোটি প্রণাম 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/02/abhiram-gopal.html

  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
অভিরাম প্রভু কাজীপুরে বাস করাতে - ঐ স্থান শ্রীপাট খানাকুল নামে অভিহিত হয়। শ্রীশ্রী অভিরাম লীলামৃত ও শ্রীশ্রী অভিরাম পটল নামক গ্রন্থদ্বয়ে শ্রীপাদ অভিরাম প্রভু ও তদীয় শক্তি শ্রীমালিনী দেবী সম্বন্ধে নানা অলৌকিকলীলার বর্ণনা আছে। শ্রীল অভিরাম প্রভু খানাকুলে প্রত্যাদেশ পাইয়া শ্রীশ্রীগোপীনাথ বিগ্রহকে মৃত্তিকাভ্যন্তর হইতে উত্তোলন করিয়া প্রতিষ্ঠা করেন। যে স্থান হইতে শ্রীশ্রীগোপীনাথ বিগ্রহকে উত্তোলন করেন তাহা ‘রামকুন্ড’ নামে খ্যাত। 
(ভক্তি রত্নাকর)

বৈষ্ণবগ্রন্থে অনেক স্থলেই শ্রীঅভিরাম ও শ্রীরামদাস এক বলিয়া উল্লিখিত হইয়াছে।

সাধারণতঃ তাহাই মনে হয়, কিন্তু ‘গৌরপদতরঙ্গিণী’ গ্রন্থে লিখিত আছে - জগদীশ্বর গুপ্ত - রামদাসকে শ্রীঅভিরামের নামান্তর বলিয়া উল্লেখ করিয়াছেন, কিন্তু তাহা নহে। ‘শ্রী অভিরাম লীলামৃত’ গ্রন্থে দৃষ্ট হয় যে, শ্রীগৌরসুন্দর এই শ্রীল অভিরাম গোপালকে শ্রীবৃন্দাবন হইতে নবদ্বীপে আনয়নের জন্য অনুরোধ করিলে তিনি তখন শ্রীমন্মহাপ্রভুর সঙ্গে স্বয়ং আগমন না করিয়া শক্তি সঞ্চার দ্বারা ‘রামদাস’ মূর্ত্তি প্রকাশ পূৰ্ব্বক নবদ্বীপে প্রভুর সঙ্গে গমন করিয়া নৃত্য-কীৰ্ত্তনে জগৎ মোহিত ও পাষন্ড দলন করিয়াছিলেন। শ্রীশ্রী অভিরামের স্বরূপ রামদাস শ্রীনিত্যানন্দ শাখা, এবং স্বয়ং শ্রীপাদ অভিরাম গোপাল - শ্রীচৈতন্য শাখা।

শ্রীনিবাস আচার্য্য প্রভুর শান্তিপুর, খড়দহ প্রভৃতি স্থান দর্শন প্রসঙ্গে ‘প্রেমবিলাস’ গ্রন্থে বিবৃতি পাওয়া যায় শ্রীনিবাস আচার্য্য জাহ্নবীমাতার বাৎসল্যরসে অভিসিঞ্চিত হইয়া কয়েকদিন পরমসুখে খড়দহে অবস্থান করিযা মাতার নিকট শ্রীবৃন্দাবন গমনের অনুমতি পাইলে - মাতা জাহ্নবীদেবী তাঁহাকে প্রথমে শ্রী অভিরাম প্রভুর সন্নিধানে গমন করিতে আদেশ করিলেন। শ্রীনিবাস তাঁহাদের পদধূলি মস্তকে ধারণ করিয়া খানাকুল অভিমুখে গমন করিলেন। শ্রীনিবাস অপূর্ব্ব বৈরাগ্য-বেশ, মোহনমূৰ্ত্তি, আত্মসুখে বীতস্পৃহ - তাই না, সহায়হীন অবস্থায় যেখানেই তিনি গিয়াছেন কি শ্রীক্ষেত্র - কি নবদ্বীপে সর্ব্বত্রই গৌরভক্তমন্ডলী তাঁহাকে বক্ষে ধারণ করিয়া পরম প্রীতির হিল্লোলে ভাসিয়াছেন। সে কি এক ভক্তি-ঢলঢল প্রেমাশ্রুপরিপুরিত মূরতি, খানাকুলে আসিয়া শ্রীনিবাস যেন পাগলের মত শ্রীঅভিরাম প্রভুর ভবন খুঁজিয়া বেড়াইতেছেন। এমন সময়ে জনৈক সুপ্রবীণ ব্রাহ্মণ তাঁহাকে শ্রীঅভিরামের ভবন সন্নিধানে লইয়া গেলেন। 


 ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧

শ্রীঅভিরাম গোস্বামী প্রেমদানের নিমিত্ত যে চাবুক ব্যাবহার করতেন তাহার নাম কি ❓  📖  শ্রীশ্রীঅভিরাম লীলা রহস্য 🌹 শ্রীদ্বাদশ গোপালের প্রথম গোপাল অভিরাম গোপালের অদ্ভুত বৃত্তান্ত 🏵️ প্রথম ভাগ  🌷 শ্রীশ্রীঅভিরাম লীলাস্থলী 🙏 শ্রীপাঠ কৃষ্ণনগর, খানাকুল 🙇 রচয়িতা 📝 শ্রীমৎ কিশোরী দাস বাবাজী 🙇 শ্রী মৃন্ময় নন্দী কর্ত্তৃক সকল ভক্ত চরণে অসংখ্যকোটি প্রণাম 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/02/abhiram-gopal.html

  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
তাঁহারা শ্রীঅভিরাম গোপালের দর্শন প্রত্যাশায় তাহার ভবন দ্বারে বসিয়া রহিলেন। শ্রীপাদ অভিরাম প্রভুর শালগ্রাম শিলার দেবত্ব পরীক্ষা করিয়া বিরতি বোধ করিতেন না। শ্রীঅভিরাম প্রভু নিজ ভবনেই। অবস্থান করিতেছিলেন। এবং শ্রীনিবাসের আগমন সংবাদও তাহার অজ্ঞাত ছিল না। কিন্তু তিনি শ্রীনিবাসের ধৈর্য্য পরীক্ষার জন্য গৃহাভ্যন্তর হইতে বহিরাগমন করিলেন না। শ্রীনিবাসের মনে বিন্দুমাত্র বিরক্তি নাই। ক্রমে বেলা দ্বিপ্রহর অতীত হইল - তখন শ্রীঅভিরাম প্রভু অতিথি সৎকারের জন্য দশকড়া কড়ি মাত্র পাঠাইয়া দিলেন। সেই কড়ি শ্রীনিবাস পরম আগ্রহে মস্তকে ধারণ করিয়া তাহার বিনিময়ে বিপণি হইতে‌ তুণ্ডুলাদি সংগ্রহ করিয়া দারুকেশ্বর নদীতীরে যাইয়া রন্ধানাদি সমাপনান্তে শ্রীকৃষ্ণকে ভোগ নিবেদনকরিতেছেন; এমন সময় শ্রীঅভিরাম প্রেরিত চারিজন অতিথিরূপে তাঁহার নিকট উপস্থিত হইল। শ্রীঅভিরাম প্রভু তাঁহাকে পরীক্ষা করিতে চাহেন, কিন্তু শ্রীনিবাস তাহাতে একটুও চিন্তিত নহেন। তিনি এই সামান্য মাত্র প্রসাদ অতিথিগণকে বিতরণ করিয়া নিজে কিঞ্চিত মাত্র গ্রহণ করিলেন। অতিথিগণ প্রসাদ পাইয়া তৃপ্তিলাভ করিয়াছিলেন। ইঁহাদের মধ্যে স্বয়ং অভিরাম গোস্বামী ছদ্মবেশে ছিলেন। তিনি তাঁহার মাধুর্যে মুগ্ধ হইয়া আলিঙ্গনপূর্ব্বক সাদরে গৃহে আনিলেন। শ্রীঅভিরাম-গৃহিণী শ্রীমালিনীদেবী তাঁহাকে পুত্রবৎ স্নেহে গ্রহণ করিলেন। শ্রীঅভিরাম গোস্বামী শ্রীনিবাসকে প্রেমদান নিমিত্ত তাঁহার জয়মঙ্গল চাবুক দ্বারা তাঁহাকে তিনবার আঘাত করিলেন। তখন শ্রীমালিনীদেবী, যিনি – “ব্রজে বৃন্দাসমা জ্ঞাতাং, ইদানিং মালিনীস্মৃতা” - সেই লীলাসহচরী মালিনীদেবী তাড়াতাড়ি তাঁহার হাত ধরিয়া বলিলেনঃ-

.........................ধৈর্য্য ধর গোঁসাই।
কৈলে অনুগ্রহ যে তাহার সীমা নাই।।
শ্রীনিবাস বালক, নারিবে স্থির হৈতে।
প্রেমে মত্ত হৈলে, নারিবে কার্য সাধিতে।।”
***************
[ ভক্তি রত্নাকর ]


  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧

৬. শ্রীশ্রীঅভিরাম গোপাল ঠাকুর শ্রীকৃষ্ণ লীলায় কে ছিলেন ❓  📖  শ্রীশ্রীঅভিরাম লীলা রহস্য 🌹 শ্রীদ্বাদশ গোপালের প্রথম গোপাল অভিরাম গোপালের অদ্ভুত বৃত্তান্ত 🏵️ প্রথম ভাগ  🌷 শ্রীশ্রীঅভিরাম লীলাস্থলী 🙏 শ্রীপাঠ কৃষ্ণনগর, খানাকুল 🙇 রচয়িতা 📝 শ্রীমৎ কিশোরী দাস বাবাজী 🙇 শ্রী মৃন্ময় নন্দী কর্ত্তৃক সকল ভক্ত চরণে অসংখ্যকোটি প্রণাম 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/02/abhiram-gopal.html

  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
এই চাবুককস্পর্ষে শ্রীনিবাস প্রেমে অধির হইলেন। তিনি শ্রীঅভিরাম গোস্বামীর অনুগ্রহে খানাকুলের সমগ্র ভক্তের সহিত পরিচিত হন। খানাকুলে কয়েকদিবস থাকিয়া তিনি শ্রীঅভিরাম গোস্বামীর পদধূলি লইয়া শ্রীখন্ডে সরকার ঠাকুরের নিকট ফিরিয়া আসিলেন।

বাস্তবিক পরম দয়ালু প্রভুর লীলা - অনন্ত-অপার। কতই বা বর্ণনা করি সাদৃশ জীবের কথা। অল্প-ভব-শেষ-সমকাদি যে লীলার পার পায় নাই - কলিকুলুষহারী প্রভুর আমার সখ্যরসের নিগূঢ় আবেশমাধুরীমুগ্ধ শ্রীসিদ্ধ কৃষ্ণদাস পাদ তদীয় শ্রীসাধনামৃত চন্দিকায়” যে ভাবে পরিস্ফুট করিয়াছেন, তাহা অতি অনবদ্য। 

পরম অদ্ভূত এই লীলার বৈচিত্র ও রসমাধুর্যের উচ্ছাস অফুরন্ত সিন্ধুবৎ অপার-অগাধ। সহৃদয় পাঠকবর্গ। এইবার শ্রীগ্রন্থাস্বাদনে শ্রীশ্রীঅভিরাম ঋতুর লীলামাধুরীর অবিরাম অমিয় নির্ঝরে আবগাহন করুন- ইহাই প্রাণের আকুতি।

শ্রীশ্রীঅভিরাম গোপালের প্রকাশ রহস্য:-
কলিযুগে পাবন শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য মহাপ্রভু। যিনি সপার্ষদে অবতীর্ণ হইয়া ব্রহ্মাদির আরাধিত এজপ্রেম-সম্পদ আচন্ডালে বিতরণ করতঃ জীব জগতেকে ধন্য করিয়াছিলেন, আর তাঁহার এই অপ্রাকৃত প্রেমলালীয় যাঁহারা সহায়ক ছিলেন, তাঁহাদের মধ্যে শ্রীঅভিরাম গোপাল অন্যতম। ব্রজের শ্রীদাম সখা শ্রীঅভিরাম গোপাল নাম ধারণ করিয়া শ্রীগৌরাঙ্গদেবের প্রেমলীলায় বিচরণ করিয়াছিলেন।

তথাহি - শ্রীগৌরগণোদ্দেশ দীপিকা - ১২৬ শ্লোকঃ-
“পুরা শ্রীদামনামাসীদভিরামোহধুনা মহান্।
দ্বাত্রিংশতা জনৈরেব বাহ্যং কাষ্ঠমুবাহ যঃ।।”

ব্রজের শ্রীদামসখা দ্বাপরযুগের গোপদেহ লইয়া শ্রীমন্মহাপ্রভুর আহ্বানে গৌড়দেশে আগমন করেন এবং কৃষ্ণনগরে শ্রীপাট স্থাপন করিয়া জগতে বহু অলৌকিক লীলার প্রকাশ করেন। তাই শ্রীপাট কৃষ্ণনগর গৌড়ীয় বৈষ্ণবগণের মহাতীর্থ।

শ্রীমন্মহাপ্রভু সৰ্ব্বধামময় শ্রীধাম নবদ্বীপে প্রকট হইয়া কতদিনে সঙ্কীর্তন বিলাস আরম্ভ করিলেন। প্রভু নিত্যানন্দদি প্রিয় পরিপরগণ ক্রমে ক্রমে আসিয়া মিলিত হইতে লাগিলেন। কিন্তু প্রাণের শ্রীদাম আসিয়া মিলন না করায় প্রভু শ্রীগৌরাঙ্গদের অত্যন্ত বিচলিত হইলেন। একদিন নিত্যানন্দকে সম্বোধন করিয়া বলিলেন, “শ্রীদাম ব্যতিরেকে আমার লীলার সৌষ্ঠব হইতেছে না। তুমি বৃন্দাবন হইতে শ্রীদাম আনয়ন করিয়া আমার জীবন রক্ষা কর।” তখন নিত্যানন্দ প্রভুকে সান্ত্বনা করিয়া শ্রীদামকে আনিবার জন্য বৃন্দাবনে চলিলেন।

তহাহি - শ্রী অভিরাম লীলামৃত :-
“সান্ত্বনা করিয়া তারে করেন গমন।
খুঁজিতে খুঁজিতে গেলা যথা গোবৰ্দ্ধন।।
নীলধড়া পরিচূড়া গুহাতে আছিল ৷
হেনকালে নিত্যানন্দ ডাকিতে লাগিল।।”


  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧

৭. শ্রীশ্রীঅভিরাম গোপাল ঠাকুরের নামকরণ কে করেছিলেন ❓❓❓  📖  শ্রীশ্রীঅভিরাম লীলা রহস্য 🌹 শ্রীদ্বাদশ গোপালের প্রথম গোপাল অভিরাম গোপালের অদ্ভুত বৃত্তান্ত 🏵️ প্রথম ভাগ  🌷 শ্রীশ্রীঅভিরাম লীলাস্থলী 🙏 শ্রীপাঠ কৃষ্ণনগর, খানাকুল 🙇 রচয়িতা 📝 শ্রীমৎ কিশোরী দাস বাবাজী 🙇 শ্রী মৃন্ময় নন্দী কর্ত্তৃক সকল ভক্ত চরণে অসংখ্যকোটি প্রণাম 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/02/abhiram-gopal.html

  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
প্রভু নিত্যানন্দ বৃন্দবনে গমন করতঃ গোবর্দ্ধনে গিয়া ‘শ্রীদাম! শ্রীদাম!’ বলিয়া ঘন ঘন ডাকিতে লাগিলেন। ডাক শুনিয়া শ্রীদাম বাহিরে আসিলেন। তারপর নিত্যানন্দকে তাহার পরিচয় জিজ্ঞাসা করিলে নিত্যানন্দ বলিলেন ‘আমি পূর্ব্বের বলাই। শ্রীকৃষ্ণের আদেশে তোমায় লইতে আসিয়াছি।’ শ্রীদাম বলিলেন, ‘যদি তোমার বাক্য সত্য হয় তাহা হইলে তুমি আমি সমান। আমি করতালি দিয়া দৌড়াইব। যদি তুমি আমায় ধরিতে পার তবে বুঝিব তুমি বলাই।' এই বলিয়া শ্রীদাম গোবর্দ্ধনের চতুর্দিকে বেড়িয়া চারিবার ঘুরিলেন।

তথাহি – তত্রৈব -
“দৌড়িতে লাগিলা তিঁহো গোবৰ্দ্ধন বেড়িয়া।
চারিবার ঘোড়াইয়া দেখেন চাহিয়া।।
মালশাটা মারি শ্রীদাম পাছুপানে চায় ৷
নিকটেতে বলরামে দেখিবারে পায়।।
তখন ভভাবিলা মনে বটে বলরাম।
বড় দুঃখ পাইলে ভাই করহ বিশ্রাম।।”

তখন অভিরাম নিত্যানন্দকে বলিলেন, ‘এই কলিকালে তোমার পূর্ব্ববেশ না দেখিয়া আমার মনে সংশয় হইয়াছিল। সেইজন্য তোমাকে চারিবার ঘুরাইলাম। তুমি ভিন্ন এরূপ শক্তি অন্য কেহ ধরিতে পারে না। তবে এখন বল তোমার আগমনের কারণ কি?’ তখন প্রভু নিত্যানন্দ বলিলেন, ‘তোমায় না দেখিয়া কৃষ্ণ অচৈতন্য হইয়াছে।’ শ্রীদাম বলিল, ‘শ্রীকৃষ্ণ কোথায়?’ নিতাই প্রভু গৌরাঙ্গদেবের লীলারহস্যাদি সমস্ত বলিলেন। তখন শ্রীদাম বলিলেন, ‘ভাই আমি সেখানে যাইব না। সেখানে গর্ভবাসে আমায় বহু কষ্ট পাইতে হইবে।’ নিতাই বলিলেন, ‘আগে শ্রীকৃষ্ণের সহিত মিলন কর পরে পরামর্শ করিয়া কাজ করিবে। তোমাকে দেহ পরিবর্ত্তন করিতে হইবে না। তুমি এই বেশ ধারণ করিয়া থাকিবে।' তখন শ্রীদাম হাস্য সহকারে বলিলেন, ‘দৌড়াইতে আমার চরণ ভারি হইয়া গিয়াছে। আমি হাঁটিতে পারিতেছি না। তুমি আমায় স্কন্ধে করিয়া লইয়া চল।' নিতাই বলিলেন, ‘তুমিত আগেই চলিয়াছ; দৌড়াইতে চরণ ভারি হইয়াছে। ফলে তোমার মত আমারও চরণ ভারি হইয়া গিয়াছে।' এইমত দুইজনে কতক্ষণ রসালাপ করিয়া শ্রীদাম নিত্যানন্দের সঙ্গে নদীয়ায় আসিলেন। প্রভু গৌরাঙ্গের সহিত মিলন করিয়া পূর্ব্বভাবানুরাগে দোঁহে বিভোর হইলেন। তখন প্রভু শ্রীদামের নামকরণ করিলেন।

তথাহি – তত্রৈব -
“শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য নাম তেঁহ সে আমার।
এবে অভিরাম বলি খ্যাতি যে তোমার।।
নিত্যানন্দে ডাকি তবে বলেন হাসিয়া।
আজি হৈতে ডাক সবে অভিরাম ভায়া।।
এই নাম রাখিলাম করিয়া নিশ্চয়।
শ্রীদাম আমায় কভু ভিন্ন ভেদ নয়৷৷
অভিরাম চৈতন্য এবে একই শরীর।
পশ্চাতে জানিবে তাহা যেই ভক্ত ধীর।।”


  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧

৮. কিভাবে ঠাকুর অভিরাম পূর্ব্বস্বরূপ হইতে লীলা উপযোগী দেহ ধারণ করিলেন ❓❓❓  📖  শ্রীশ্রীঅভিরাম লীলা রহস্য 🌹 শ্রীদ্বাদশ গোপালের প্রথম গোপাল অভিরাম গোপালের অদ্ভুত বৃত্তান্ত 🏵️ প্রথম ভাগ  🌷 শ্রীশ্রীঅভিরাম লীলাস্থলী 🙏 শ্রীপাঠ কৃষ্ণনগর, খানাকুল 🙇 রচয়িতা 📝 শ্রীমৎ কিশোরী দাস বাবাজী 🙇 শ্রী মৃন্ময় নন্দী কর্ত্তৃক সকল ভক্ত চরণে অসংখ্যকোটি প্রণাম 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/02/abhiram-gopal.html

  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
তারপর শ্রীগৌরাঙ্গদেব বলিলেন, ‘অভিরামের এত দীর্ঘতা শোভা পায় না।’ ইঙ্গিত পাইয়া প্রভু নিত্যানন্দ অভিরামকে সম্বোধন করিয়া বলিলেন, ‘ভাই অভিরাম, যে ভাবে পূর্ব্বে বংশীবটের তলে খেলা করিতাম সেইভাবে দুই ভাই দুই করে তোমার স্কন্ধে ধরিয়া দোলনাই দুলিব - এই আমার বাঞ্ছা।' এই বলিয়া দুইজনে স্কন্ধে ধরিয়া দোলায় দুলিতে লাগিলেন।

তথাহি - শ্রীঅভিরাম অষ্টকে
“গৌরহস্তভ্রান্তি নিত্যানন্দ হস্ত স্কন্ধকঃ।
পূর্ব্বজন্ম দীর্ঘগর্ব্ব গৌরভাবপোষকঃ।।
অদ্ভুত আত্মবৈভব লোকহর্ষবন্ধনঃ।
মাম্পুনাতু সোহভিরাম নাম ভক্তিবন্দনঃ।।”

এইভাবে ঠাকুর অভিরাম পূর্ব্বস্বরূপ হইতে লীলা উপযোগী দেহ ধারণ করিলেন। কতকদিবস নদীয়ায় অবস্থান করতঃ শ্রীগৌরাঙ্গদেবকে সঙ্গে লইয়া বৃন্দাবনে চলিলেন। তথায় কতদিন অবস্থায় করিয়া নিজশক্তি রামদাস মহান্তকে প্রকাশ করতঃ শ্রীগৌরচন্দ্রের সঙ্গে নদীয়ায় পাঠাইলেন। তারপর নিজশক্তিস্বরূপা এক কন্যায় সৃষ্টি করিয়া সিন্ধুকে আবদ্ধ করতঃ যমুনার জলে ভাসাইয়া দিলেন। তারপর আপনি প্রেম-অনুরাগে ভ্রমণ করিতে লাগিলেন। ভাবিলেন, এই নবগূঢ় অবতারে প্রভু কাহাকে কিরূপ শক্তি প্রদান করিয়া কোথায় রাখিয়াছেন, তাহা একবার পরীক্ষা করিয়া দেখিব। তারপর অভিরাম শ্রীবিগ্রহ প্রণাম করিয়া ভ্রমণ করিতে লাগিলেন।

  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧

৯. শ্রীপাট খানাকুলের লীলারহস্য❗ ঠাকুর অভিরাম লীলা প্রকাশের সহায়তার জন্য শক্তিলূপা দেবীকে নিজশক্তিস্বরূপা রূপে সৃষ্ঠি করেন, তাহার নাম কি ❓ ❓❓ 📖  শ্রীশ্রীঅভিরাম লীলা রহস্য 🌹 শ্রীদ্বাদশ গোপালের প্রথম গোপাল অভিরাম গোপালের অদ্ভুত বৃত্তান্ত 🏵️ প্রথম ভাগ  🌷 শ্রীশ্রীঅভিরাম লীলাস্থলী 🙏 শ্রীপাঠ কৃষ্ণনগর, খানাকুল 🙇 রচয়িতা 📝 শ্রীমৎ কিশোরী দাস বাবাজী 🙇 শ্রী মৃন্ময় নন্দী কর্ত্তৃক সকল ভক্ত চরণে অসংখ্যকোটি প্রণাম 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/02/abhiram-gopal.html

  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
শ্রীপাট খানাকুলের লীলারহস্য
ঠাকুর অভিরাম লীলা প্রকাশের সহায়তার জন্য শক্তিলূপা শ্রীমালিনী দেবীকে সৃষ্টি করিলেন।

তথাহি - শ্রীঅভিরাম লীলামৃতে - ৩য় পরিচ্ছদে -
“ভাবিতে ভাবিতে পুনঃ করেন সৃজন।
শক্তিতে হইলা কন্যা অপূৰ্ব্ব কথন।।
যমুনার স্রোত বহে দক্ষিণ হইয়া।
সিন্ধুকে ভরিয়া কন্যা দিলেন ভাসাইয়া।।
সিন্ধুকে সহিতে কন্যা কাজীপুর আইলা।
তটেতে লাগিয়া সিন্ধুক তথাই রহিলা।।
প্রবেশ হইবামাত্র দেখে তাঁর শক্তি।
ভুবনে ঘোষয়ে সব যাঁহার খিয়াতি।।
মালির মালঞ্চ সেই তটেতে আছিলা।
পরশ করিবামাত্র চমৎকার হৈলা।।
পুষ্পবৃক্ষ বলে সব আনন্দিত হইয়া।
দ্বাদশ বৎসর মোরা ছিলাম শুকাইয়া।।
সিন্ধুক পরশে মোরা পাইনু জীবন।
সিন্ধুক ভিতরে বুঝি আছে সাধুজন।।
বৃক্ষগণ বলে ভাই শুনহ বচন।
সাধুর পরশে দেখ নবীন যৌবন।।
‘সাধু’ ‘সাধু’ বলিতে হৈল নবীন মঞ্জরী।
সাধুর মাহাত্ম্য কিছু বলিতে না পারি।।
সার্থক হইল মোদের স্থাবর জনম।
বহু পুণ্য ফলে হৈল সবার তারণ।।

ঠাকুর অভিরাম খানাকুলে লীলা প্রকাশের সূচনা করিলেন। বৃন্দাবন হইতে নিজশক্তিস্বরূপা এক কন্যা সৃষ্টি করিয়া সিন্ধুকে আবদ্ধ করতঃ যমুনায় ভাসাইয়া দিলে সেই সিন্ধুক ভাসিতে ভাসিতে কাজীপুরের নদীতটে ভিড়িল। সেইখানে একটি বাগান ছিল। দৈববশে সেই বাগানের বৃক্ষাদি দ্বাদশ বৎসর শুকাইয়া ছিল। সিন্ধুক তীরে স্পর্শ করিবামাত্রই সেই বৃক্ষসকল নব-পল্লবিত হইল। বাগানের বৃক্ষ-সকলের প্রাণসঞ্চার বাক্য শুনিয়া মালী তথায় উপনীত হইলেন। অত্যাশ্চর্য্য দৃশ্য দেখিয়া মালী স্তব করিতে লাগিলেন। মালী সমস্ত বাগান ভ্রমণ করিয়া নদীতটে পৌঁছিবা মাত্রই মূৰ্চ্ছিত হইলেন। এদিকে মালীর বিলম্ব দেখিয়া অন্যান্য মালীগণ তাঁহাকে অন্বেষণ করিতে করিতে তথায় উপনীত হইলেন এবং নব-পল্লবিত বাগান দেখিয়া আশ্চৰ্য্যান্বিত হইলেন। তখন তাঁহারা কোন কারণ বুঝিতে না পারিয়া বৃক্ষগণতে স্তব প্রণামাদি করতঃ এই অপ্রত্যাশিত রহস্যের কারণ জিজ্ঞাসা করিলেন দৈবপ্রভাবে প্রভাবান্বিত বৃক্ষগণ বলিলেন, ‘এক সাধুর পরশে আমরা নবজীবন প্রাপ্ত হইয়াছি।'

  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧

১০. অভিরাম ঠাকুরের লীলা প্রকাশের সহায়তার জন্য শক্তিলূপা দেবী মালিনী  📖  শ্রীশ্রীঅভিরাম লীলা রহস্য 🌹 শ্রীদ্বাদশ গোপালের প্রথম গোপাল অভিরাম গোপালের অদ্ভুত বৃত্তান্ত 🏵️ প্রথম ভাগ  🌷 শ্রীশ্রীঅভিরাম লীলাস্থলী 🙏 শ্রীপাঠ কৃষ্ণনগর, খানাকুল 🙇 রচয়িতা 📝 শ্রীমৎ কিশোরী দাস বাবাজী 🙇 শ্রী মৃন্ময় নন্দী কর্ত্তৃক সকল ভক্ত চরণে অসংখ্যকোটি প্রণাম 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/02/abhiram-gopal.html
   
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
তখন মালীগণ বলিলেন, 'সেই সাধু কোথায় আছেন আমাদের কৃপাপূর্ব্বক দর্শন করান।' বৃক্ষগণ বলিলেন, ‘নদীর তীরে সাধুর আগমন হইয়াছে, তোমরা তথায় গিয়া দর্শন করতঃ জীবন সফল কর।' বৃক্ষগণে বাক্যে মালীগণ নদীর তীরে উপনীত হইয়া দৈবাগত সিন্ধুক ও মুচ্ছিত অবস্থায় পতিত মালীকে দেখিতে পাইলেন। মালীগণ ভাবিলেন, নিশ্চয়ই এই সিন্ধুক দর্শন করিয়াই মালী মুচ্ছিত হইয়াছে। ইহারই মধ্যে হয়ত সেই সাধুর আগমন ঘটিয়াছে। যাহা হউক তাঁহারা মালীর সমীপে আসিয়ে তাঁহাকে চেতন করতঃ তাঁহার অচেতনের কারণ জিজ্ঞাসা করিলেন। মালী বলিলেন, আমি সাধু দর্শনের উদ্দেশ্যে বহু ভ্রমণ করিয়া এই সিন্ধুক দর্শন করিবামাত্রই অচেতন হইয়া পড়িয়াছিলাম। এই বার্তা শ্রবণ করতঃ মালীগণ সকলে নদী হইতে সেই সিন্ধুকটিকে তীরে উত্তোলন করিয়া ঘরে আনিলেন। তারপর সিন্ধুকটি খুলিতেই এক দিব্য কন্যারত্নের দর্শন পাইলেন। মালীগণের আনন্দের সীমা রহিল না। তাঁহারা মহানন্দে স্থান সংস্কার করিয়া কন্যাকে অতীব যত্নসহকারে আসনে বসাইলেন। তারপর তাঁহার শ্রীচরণ ধৌত করিয়া সবংশে পান করিলেন। তখন দেবী বলিলেন, 'আমার বহুদিন ভোজন হয় নাই; তোমরা এখন আমায় কিছু খাইতে দাও। মালীগণ তাঁহার পরিচয় জানিতে চাহিলে কন্যা বলিলেন, ‘অগ্রে ভোজন করিয়া শেষে সমস্ত বলিব।' তখন কন্যার নির্দেশমত মালীগণ মিষ্টান্নাদি আনিলে কন্যা শ্রীকৃষ্ণে নিবেদন করিয়া ভোজন করিলেন। তারপর কন্যা আপনার পরিচয় প্রদান প্রসঙ্গে বলিতে লাগিলেন, 'আমি বৃন্দাবন হইতে ভাসিয়া আসিয়াছি। অভিরামের শক্তি বলিয়া আমায় জানিবে। শুষ্ক মালঞ্চ দেখিয়া আমি এইস্থানে ভিড়িলাম। আমার পরশমাত্রই বৃক্ষসকল নবজীবন লাভ করিল। তারপর তোমরা আমায় আনয়ন করিয়াছ। এখন আমার একটি কথা তোমরা শ্রবণ কর।'

তথাহি - তত্রৈব -
“আমার বচন ইবে শুন মালীগণ।
সবার আশ্রিত ইবে হইনু এখন।।
কন্যাবত স্নেহ সেবা করিবে প্রচার।
মালিনী বলিয়া নাম রাখহ আমার।।”
══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

                   🙏 জয় শ্রীশ্রী গোপীনাথ 🙏

══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🔜 ক্রমাগত 👉 শ্রীশ্রীঅভিরাম লীলা রহস্য 🌹 শ্রীদ্বাদশ গোপালের প্রথম গোপাল অভিরাম গোপালের অদ্ভুত বৃত্তান্ত 🏵️ দ্বিতীয় ভাগ  🌷 শ্রীশ্রীঅভিরাম লীলাস্থলী 🙏 শ্রীপাঠ কৃষ্ণনগর, খানাকুল 🙇 রচয়িতা 📝 শ্রীমৎ কিশোরী দাস বাবাজী 🙇 শ্রী মৃন্ময় নন্দী কর্ত্তৃক সকল ভক্ত চরণে অসংখ্যকোটি প্রণাম 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/04/abhiram-gopal1.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

   📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝
     ꧁👇📖সূচীপত্র 🙏 শ্রী মৃন্ময় নন্দী📖👇



✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧


✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

  *••••┉❀꧁👇🏠Home Page🏠👇꧂❀┅••••* 


✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

    *••••━❀꧁👇 📖 সূচীপত্র 📖 👇꧂❀┅••••* 



✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

     *••••━❀꧁👇📚 PDF গ্রন্থ 📚👇꧂❀┅••••* 


✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
    *••••┉━❀꧁ 🙏 রাধে রাধে 🙏 ꧂❀━┅••••* 
                   শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য প্রভু নিত্যানন্দ
              হরে কৃষ্ণ হরে রাম শ্রীরাধেগোবিন্দ।।
  *••••┉━❀꧁ 🙏 জয় জগন্নাথ 🙏 ꧂❀━┅••••*
              হরে কৃষ্ণ হরে কৃষ্ণ কৃষ্ণ কৃষ্ণ হরে হরে
              হরে রাম হরে রাম রাম রাম হরে হরে॥
  *••••┉━❀꧁ 🙏 জয় রাধাকান্ত 🙏 ꧂ ❀━┅••••*
   🌷❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀🌷
   🏵️❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀🏵️
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧








শ্রীশ্রীঅভিরাম লীলা রহস্য 🙏 প্রথম ভাগ 🙏 শ্রীদ্বাদশ গোপালের প্রথম গোপাল অভিরাম গোপালের অদ্ভুত বৃত্তান্ত 🙏 রচয়িতা 🙏 শ্রীমৎ কিশোরী দাস বাবাজী 🙏 শ্রী মৃন্ময় নন্দী কর্ত্তৃক সকল ভক্ত চরণে অসংখ্যকোটি প্রণাম 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/02/abhiram-gopal.html


  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
    ꧁ শ্রীশ্রীঅভিরাম লীলা রহস্য 🙏  প্রথম ভাগ 
শ্রীদ্বাদশ গোপালের প্রথম গোপাল অভিরাম গোপালের অদ্ভুত বৃত্তান্ত 🙏 শ্রীশ্রীঅভিরাম লীলাস্থলী 🙏 শ্রীপাঠ কৃষ্ণনগর, খানাকুল 🙏
   ꧁ রচয়িতা 🙏 শ্রীমৎ কিশোরী দাস বাবাজী ꧂
       এই লিংকে ⬇️⬇️⬇️🙏⬇️⬇️⬇️ ক্লিক করুন 
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
     🏠Home Page🏠⬇️⬇️🙏⬇️⬇️📚PDF গ্রন্থ📚
꧁ MrinmoyNandy.blogspot.com 👉 সূচীপত্র ꧂
       এই লিংকে ⬇️⬇️⬇️🙏⬇️⬇️⬇️ ক্লিক করুন 
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧   
  ꧁ টিকা বা অন্যান্য ধর্মীয় লিখনী 🙏 সূচীপত্র ꧂
       এই লিংকে ⬇️⬇️⬇️🙏⬇️⬇️⬇️ ক্লিক করুন 
   ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
🚩🚩🚩🚩🚩🚩🚩🚩🚩🚩🚩🚩🚩🚩🚩🚩🚩🚩
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
            ꧁ ১. শ্রীশ্রীঅভিরাম লীলা রহস্য 
শ্রীদ্বাদশ গোপালের প্রথম গোপাল অভিরাম গোপালের অদ্ভুত বৃত্তান্ত 🙏 শ্রীশ্রীঅভিরাম লীলাস্থলী 🙏 শ্রীপাঠ কৃষ্ণনগর, খানাকুল 🙏
   ꧁ রচয়িতা 🙏 শ্রীমৎ কিশোরী দাস বাবাজী ꧂
       এই লিংকে ⬇️⬇️⬇️🙏⬇️⬇️⬇️ ক্লিক করুন 
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
১. শ্রীনিত্যানন্দ প্রভু তিনি আর ধৈর্য্য রাখতে পারছেন না। তিনি হুঙ্কার দিতে লাগলেন -- শ্রীদাম, শ্রীদাম?
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
আনুমানিক ১৪০০ শকে শ্রীপাদ অভিরাম গোপাল ঠাকুরের আবির্ভাব, শ্রীপাদ অভিরাম গোপাল ঠাকুর শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য মহাপ্রভুর প্রিয়তম পার্ষদ ছিলেন এবং নিত্যানন্দ পারিষদ ছিলেন। ত্রেতাযুগে শ্রীরামচন্দ্রের লীলায় ইনি ভরত এবং দ্বাপর যুগে ইনি ভগবান শ্রীকৃষ্ণের প্রথম সখা এবং দ্বাদশ গোপালের প্রথম গোপাল শ্রীদাম ছিলেন। ইনি নানা নামে ভক্ত সমাজের কাছে পরিচিত ছিলেন অভিরাম গোপাল , অভিরাম ঠাকুর, রামদাস, রাম ইত্যাদি নামে খ্যাত ছিলেন। প্রাচীণ গ্রন্থ সমূহে শ্রীদ্বাদশ গোপালের প্রথম গোপাল অভিরাম গোপালের অদ্ভুত বৃত্তান্ত লিখিত আছে। এইরুপ লীলা সহজে মহাপ্রভুর অন্যান্য পারিষদ গণের সম্বন্ধে দেখা যায় না। যখন নিত্যানন্দ প্রভু প্রাণ কৃষ্ণের অন্বেষণে চার দিকে ছুটে বেড়াচ্ছেন তখন শ্রীধাম বৃন্দাবনে শ্রীপাদ ঈশ্বর পুরী তাহাকে দেখিতে পায় এবং তাহার মনের সকল দুঃখ কষ্ঠের কথা বুঝতে পারেন, এবং তেনার জানায় তাহার প্রাণের ভাই কানাই নদীয়া পুরীতে শ্রীধাম নবদ্বীপে শচী সন্তান রুপে অবতীর্ন হয়েছেন এবং স্বয়ং ভগবান শ্রীকৃষ্ণই গৌরসুন্দর রুপে অবতীর্ন হয়েছেন। এই সময় শ্রীপাদ ঈশ্বর পুরীর কথায় আনন্দে উদ্ভাসিত হয়ে নিত্য করতে লাগলেন, যে তাহার ভাই কানাইয়ের তিনি সন্ধান পেয়েছেন। আর, এই মুহূর্তে তাহার সকল পূর্বলীলা স্বারণ হয়েছে , এবং আবেগের সহিত তিনি হুঙ্কার দিতে লাগলেন -- "হায়, শ্রীদাম কোথায়"?, তাহাকে যে সেই সংবাদ দিতেই হবে। এই আনন্দ সংবাদ পেয়ে শ্রীনিত্যানন্দ প্রভু তিনি আর ধৈর্য্য রাখতে পারছেন না। তিনি হুঙ্কার দিতে লাগলেন -- শ্রীদাম, শ্রীদাম?

দ্বাপরে লীলাবসানে শ্রীকৃষ্ণ অপ্রকট হইলে চিরতেজস্বী শ্রীদাম দারুণ অভিমানে একটি সংকল্প করিয়া শ্রীবৃন্দাবনস্থ গোবর্দ্ধনগিরি গুহায় নিভৃতে প্রেমসমাধিমগ্ন হইয়া রহিলেন। আকুল আবেশে তিনি তাঁহার প্রাণকোটিপ্রিয় শ্রীকৃষ্ণের সহিত মিলিত হইলেন। এমনি করিয়া দিনের পর দিন, মাসের পর মাস, বর্ষের পর বর্ষ, যুগের পর যুগ অতিবাহিত হইল - সে প্রেম সমাধি আর ভঙ্গ হয় নাই। আজ সহসা বলরামস্বরূপী শ্রীনিত্যানন্দের উদ্দাম-প্রেমআহ্বানে গোবর্দ্ধনগিরি ভেদ করিয়া যেন জড়বৎ শ্রীদামের দেহে চৈতন্য সঞ্চার করিয়াছিল । বাস্তবিক কিন্তু শ্রী অভিরাম গোস্বামী - নিত্যসিদ্ধ পরিকর; নিত্যসিদ্ধ পরিকরদের দেহ-ইন্দিয়াদি শুদ্ধ সত্ত্বময়, অপ্রাকৃত, সচ্চিদানন্দঘন; তাঁহাদের চিত্তের ভক্তি বা শ্রীকৃষ্ণ প্রীতিও শুদ্ধসত্ত্বময়ী - স্বরূপশক্তিরই বৃত্তি বিশেষ। 
🚩🚩🚩🚩🚩🚩🚩🚩🚩🚩🚩🚩🚩🚩🚩🚩🚩
 ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
           ꧁ ২. শ্রীশ্রীঅভিরাম লীলা রহস্য 
শ্রীদ্বাদশ গোপালের প্রথম গোপাল অভিরাম গোপালের অদ্ভুত বৃত্তান্ত 🙏 শ্রীশ্রীঅভিরাম লীলাস্থলী 🙏 শ্রীপাঠ কৃষ্ণনগর, খানাকুল 🙏
   ꧁ রচয়িতা 🙏 শ্রীমৎ কিশোরী দাস বাবাজী ꧂
       এই লিংকে ⬇️⬇️⬇️🙏⬇️⬇️⬇️ ক্লিক করুন 
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
২. শ্রীদাম তখন - শ্রীপাদ নিত্যানন্দের আহ্বানধ্বনি লক্ষ্য করিয়া গোবর্দ্ধণগিরি কন্দর হইতে সেই সপ্তহস্ত পরিমিত দেহে আসিয়া মিলিত হইলেন। 
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
শ্রীদাম তখন - শ্রীপাদ নিত্যানন্দের আহ্বানধ্বনি লক্ষ্য করিয়া গোবর্দ্ধণগিরি কন্দর হইতে সেই সপ্তহস্ত পরিমিত দেহে আসিয়া মিলিত হইলেন। শ্রীপাদ নিত্যানন্দ শ্রীদামকে প্রাণকানাইর সংবাদ দিলেন। শ্রীদাম তখন আনন্দিত হইলেন, কিন্তু দাদা বলাইর দেহ এত খর্ব কেন বুঝিতে পারিলেন না। তখন নিতাইচাঁদ স্বীয় ইচ্ছাশক্তির দ্বারা তাঁহাকে কালোপযোগী খর্ব (সাৰ্দ্ধচতুহস্ত প্রমাণ দীর্ঘ)
করিয়া দিলেন। এবং -
“কহিলেন – এই হইয়াছে কলিকাল ।
ঘুমায়ে রহিলি, মূর্খ! জাতিতে গোয়াল।।
পূর্ব শুদ্ধ-সখা-ভাব হয় সর্বকাল।
অতএব নাম হইল অভিরাম গোপাল।।

দাদা বলাইর কথা শুনিয়া তিনিও ভাবিলেন -
“ব্রজেতেকৃষ্ণ বহু সেবন করিলা।
তখন আমাতে কৃষ্ণ আপনি কহিলা।।
এহেক ভাবিয়া মনে, করেন ভ্রমণ।
যেখানে বিগ্রহ আছে, করেন দর্শন।।”
[ অভিরাম লীলামৃত ]
🚩🚩🚩🚩🚩🚩🚩🚩🚩🚩🚩🚩🚩🚩🚩🚩🚩
 ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
           ꧁ ৩. শ্রীশ্রীঅভিরাম লীলা রহস্য 
শ্রীদ্বাদশ গোপালের প্রথম গোপাল অভিরাম গোপালের অদ্ভুত বৃত্তান্ত 🙏 শ্রীশ্রীঅভিরাম লীলাস্থলী 🙏 শ্রীপাঠ কৃষ্ণনগর, খানাকুল 🙏
   ꧁ রচয়িতা 🙏 শ্রীমৎ কিশোরী দাস বাবাজী ꧂
       এই লিংকে ⬇️⬇️⬇️🙏⬇️⬇️⬇️ ক্লিক করুন 
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
৩. শ্রীমদ্ অভিরাম গোস্বামীর পত্নীর নাম কি ❓❓
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
শ্রীমদ্ অভিরাম গোস্বামী অতীবতেজস্বী ছিলেন। বহুস্থানে ভ্রমণকালে কত বিগ্রহ ও শালগ্রাম শিলা যে তাঁহার প্রণামে চূর্ণ হইয়া গিয়াছে, তাহার ইয়াত্তা নাই। যে সমস্ত বিগ্রহে প্রকৃত বস্তু ছিল না - সেইগুলি চূর্ণ হইয়া গিয়াছিল। ইনি নিত্যানন্দ প্রভুর সাতটি পুত্রকে প্রণাম করিয়া প্রণষ্ট করেন। পরে শ্রীবীরভদ্র গোস্বামী জন্মগ্রহণ করিয়া ইঁহার প্রণাম সহ্য করিলে শ্রী অভিরাম গোস্বামী আনন্দে তাঁহাকে শ্রীগৌরাঙ্গের দ্বিতীয় কলেবর বলিয়া স্বীকার করেন। শ্রীল অভিরাম প্রভু ভ্রমণ করিতে করিতে তখনকার কাজিপুরে
(খানাকুল কৃষ্ণনগরে) উপস্থিত হইলেন। একদা এই স্থানে ভাবাবেশে এক বিশাল কাষ্ঠখন্ড গ্রহণ করিয়া বংশী অনুমানে ফুৎকার দিলেন। শ্রীভগবন্নিত্য পার্ষদ-প্রবরের ফুৎকারে সেই বংশী বাদন করেন। এই কাষ্ঠ ষোলশাঙ্গের অর্থাৎ বত্রিশ জন লোকের বহনোপযোগী ছিল।

“গোপীনাথ মহাপ্রভূবিজয়তে যত্রাহভিরামঃ পুরা,
শ্রীদামা শতবাহ্য দারু মুরলীং কৃত্বা সমবাদয়ৎ।।”
[ শ্রীবৈষ্ণবমহাজনাস্বাদিতঃ ]

“অভিরাম গোস্বামীর প্রতাপ প্রচন্ড।
যাঁরে দেখি কাঁপে সদা দুর্জয় পাষন্ড।।
অভিরাম পূর্বে শ্রীদাম খানাকুলে স্থিতি।।”
[ পাঠ পৰ্য্যটন, সাঃ পঃ পঃ ১০৮ পৃঃ ]

অতঃপর প্রভু খানাকুলে কৃষ্ণনগরে বাস করিয়া বিপ্রগৃহে বিবাহ করেন। ইহার পত্নীর নাম শ্রীমালিনী দেবী।

“প্রভু নিত্যানন্দ বলরামের ইচ্ছাতে।
করিল বিবাহ বিজ্ঞ বিপ্রের গৃহেতে।।”
[ ভক্তি রত্নাকর ]
 ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
           ꧁ ৪. শ্রীশ্রীঅভিরাম লীলা রহস্য 
শ্রীদ্বাদশ গোপালের প্রথম গোপাল অভিরাম গোপালের অদ্ভুত বৃত্তান্ত 🙏 শ্রীশ্রীঅভিরাম লীলাস্থলী 🙏 শ্রীপাঠ কৃষ্ণনগর, খানাকুল 🙏
   ꧁ রচয়িতা 🙏 শ্রীমৎ কিশোরী দাস বাবাজী ꧂
       এই লিংকে ⬇️⬇️⬇️🙏⬇️⬇️⬇️ ক্লিক করুন 
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
৪. জাহ্নবীদেবীর আদেশে শ্রীনিবাস আচার্য্য প্রভুর গমন খানাকুল নামক স্থানে শ্রীঅভিরাম প্রভুর সনে 🙏   ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
অভিরাম প্রভু কাজীপুরে বাস করাতে - ঐ স্থান শ্রীপাট খানাকুল নামে অভিহিত হয়। শ্রীশ্রী অভিরাম লীলামৃত ও শ্রীশ্রী অভিরাম পটল নামক গ্রন্থদ্বয়ে শ্রীপাদ অভিরাম প্রভু ও তদীয় শক্তি শ্রীমালিনী দেবী সম্বন্ধে নানা অলৌকিকলীলার বর্ণনা আছে। শ্রীল অভিরাম প্রভু খানাকুলে প্রত্যাদেশ পাইয়া শ্রীশ্রীগোপীনাথ বিগ্রহকে মৃত্তিকাভ্যন্তর হইতে উত্তোলন করিয়া প্রতিষ্ঠা করেন। যে স্থান হইতে শ্রীশ্রীগোপীনাথ বিগ্রহকে উত্তোলন করেন তাহা ‘রামকুন্ড’ নামে খ্যাত। 
(ভক্তি রত্নাকর)

বৈষ্ণবগ্রন্থে অনেক স্থলেই শ্রীঅভিরাম ও শ্রীরামদাস এক বলিয়া উল্লিখিত হইয়াছে।

সাধারণতঃ তাহাই মনে হয়, কিন্তু ‘গৌরপদতরঙ্গিণী’ গ্রন্থে লিখিত আছে - জগদীশ্বর গুপ্ত - রামদাসকে শ্রীঅভিরামের নামান্তর বলিয়া উল্লেখ করিয়াছেন, কিন্তু তাহা নহে। ‘শ্রী অভিরাম লীলামৃত’ গ্রন্থে দৃষ্ট হয় যে, শ্রীগৌরসুন্দর এই শ্রীল অভিরাম গোপালকে শ্রীবৃন্দাবন হইতে নবদ্বীপে আনয়নের জন্য অনুরোধ করিলে তিনি তখন শ্রীমন্মহাপ্রভুর সঙ্গে স্বয়ং আগমন না করিয়া শক্তি সঞ্চার দ্বারা ‘রামদাস’ মূর্ত্তি প্রকাশ পূৰ্ব্বক নবদ্বীপে প্রভুর সঙ্গে গমন করিয়া নৃত্য-কীৰ্ত্তনে জগৎ মোহিত ও পাষন্ড দলন করিয়াছিলেন। শ্রীশ্রী অভিরামের স্বরূপ রামদাস শ্রীনিত্যানন্দ শাখা, এবং স্বয়ং শ্রীপাদ অভিরাম গোপাল - শ্রীচৈতন্য শাখা।

শ্রীনিবাস আচার্য্য প্রভুর শান্তিপুর, খড়দহ প্রভৃতি স্থান দর্শন প্রসঙ্গে ‘প্রেমবিলাস’ গ্রন্থে বিবৃতি পাওয়া যায় শ্রীনিবাস আচার্য্য জাহ্নবীমাতার বাৎসল্যরসে অভিসিঞ্চিত হইয়া কয়েকদিন পরমসুখে খড়দহে অবস্থান করিযা মাতার নিকট শ্রীবৃন্দাবন গমনের অনুমতি পাইলে - মাতা জাহ্নবীদেবী তাঁহাকে প্রথমে শ্রী অভিরাম প্রভুর সন্নিধানে গমন করিতে আদেশ করিলেন। শ্রীনিবাস তাঁহাদের পদধূলি মস্তকে ধারণ করিয়া খানাকুল অভিমুখে গমন করিলেন। শ্রীনিবাস অপূর্ব্ব বৈরাগ্য-বেশ, মোহনমূৰ্ত্তি, আত্মসুখে বীতস্পৃহ - তাই না, সহায়হীন অবস্থায় যেখানেই তিনি গিয়াছেন কি শ্রীক্ষেত্র - কি নবদ্বীপে সর্ব্বত্রই গৌরভক্তমন্ডলী তাঁহাকে বক্ষে ধারণ করিয়া পরম প্রীতির হিল্লোলে ভাসিয়াছেন। সে কি এক ভক্তি-ঢলঢল প্রেমাশ্রুপরিপুরিত মূরতি, খানাকুলে আসিয়া শ্রীনিবাস যেন পাগলের মত শ্রীঅভিরাম প্রভুর ভবন খুঁজিয়া বেড়াইতেছেন। এমন সময়ে জনৈক সুপ্রবীণ ব্রাহ্মণ তাঁহাকে শ্রীঅভিরামের ভবন সন্নিধানে লইয়া গেলেন। 
 ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
           ꧁ ৫. শ্রীশ্রীঅভিরাম লীলা রহস্য 
শ্রীদ্বাদশ গোপালের প্রথম গোপাল অভিরাম গোপালের অদ্ভুত বৃত্তান্ত 🙏 শ্রীশ্রীঅভিরাম লীলাস্থলী 🙏 শ্রীপাঠ কৃষ্ণনগর, খানাকুল 🙏
   ꧁ রচয়িতা 🙏 শ্রীমৎ কিশোরী দাস বাবাজী ꧂
       এই লিংকে ⬇️⬇️⬇️🙏⬇️⬇️⬇️ ক্লিক করুন 
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
শ্রীঅভিরাম গোস্বামী প্রেমদানের নিমিত্ত যে চাবুক ব্যাবহার করতেন তাহার নাম কি ❓ 
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
তাঁহারা শ্রীঅভিরাম গোপালের দর্শন প্রত্যাশায় তাহার ভবন দ্বারে বসিয়া রহিলেন। শ্রীপাদ অভিরাম প্রভুর শালগ্রাম শিলার দেবত্ব পরীক্ষা করিয়া বিরতি বোধ করিতেন না। শ্রীঅভিরাম প্রভু নিজ ভবনেই। অবস্থান করিতেছিলেন। এবং শ্রীনিবাসের আগমন সংবাদও তাহার অজ্ঞাত ছিল না। কিন্তু তিনি শ্রীনিবাসের ধৈর্য্য পরীক্ষার জন্য গৃহাভ্যন্তর হইতে বহিরাগমন করিলেন না। শ্রীনিবাসের মনে বিন্দুমাত্র বিরক্তি নাই। ক্রমে বেলা দ্বিপ্রহর অতীত হইল - তখন শ্রীঅভিরাম প্রভু অতিথি সৎকারের জন্য দশকড়া কড়ি মাত্র পাঠাইয়া দিলেন। সেই কড়ি শ্রীনিবাস পরম আগ্রহে মস্তকে ধারণ করিয়া তাহার বিনিময়ে বিপণি হইতে‌ তুণ্ডুলাদি সংগ্রহ করিয়া দারুকেশ্বর নদীতীরে যাইয়া রন্ধানাদি সমাপনান্তে শ্রীকৃষ্ণকে ভোগ নিবেদনকরিতেছেন; এমন সময় শ্রীঅভিরাম প্রেরিত চারিজন অতিথিরূপে তাঁহার নিকট উপস্থিত হইল। শ্রীঅভিরাম প্রভু তাঁহাকে পরীক্ষা করিতে চাহেন, কিন্তু শ্রীনিবাস তাহাতে একটুও চিন্তিত নহেন। তিনি এই সামান্য মাত্র প্রসাদ অতিথিগণকে বিতরণ করিয়া নিজে কিঞ্চিত মাত্র গ্রহণ করিলেন। অতিথিগণ প্রসাদ পাইয়া তৃপ্তিলাভ করিয়াছিলেন। ইঁহাদের মধ্যে স্বয়ং অভিরাম গোস্বামী ছদ্মবেশে ছিলেন। তিনি তাঁহার মাধুর্যে মুগ্ধ হইয়া আলিঙ্গনপূর্ব্বক সাদরে গৃহে আনিলেন। শ্রীঅভিরাম-গৃহিণী শ্রীমালিনীদেবী তাঁহাকে পুত্রবৎ স্নেহে গ্রহণ করিলেন। শ্রীঅভিরাম গোস্বামী শ্রীনিবাসকে প্রেমদান নিমিত্ত তাঁহার জয়মঙ্গল চাবুক দ্বারা তাঁহাকে তিনবার আঘাত করিলেন। তখন শ্রীমালিনীদেবী, যিনি – “ব্রজে বৃন্দাসমা জ্ঞাতাং, ইদানিং মালিনীস্মৃতা” - সেই লীলাসহচরী মালিনীদেবী তাড়াতাড়ি তাঁহার হাত ধরিয়া বলিলেনঃ-

.........................ধৈর্য্য ধর গোঁসাই।
কৈলে অনুগ্রহ যে তাহার সীমা নাই।।
শ্রীনিবাস বালক, নারিবে স্থির হৈতে।
প্রেমে মত্ত হৈলে, নারিবে কার্য সাধিতে।।”
***************
[ ভক্তি রত্নাকর ]
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
꧁ (০৬) শ্রীশ্রীঅভিরাম লীলা রহস্য 🙏  প্রথম ভাগ 
শ্রীদ্বাদশ গোপালের প্রথম গোপাল অভিরাম গোপালের অদ্ভুত বৃত্তান্ত 🙏 শ্রীশ্রীঅভিরাম লীলাস্থলী 🙏 শ্রীপাঠ কৃষ্ণনগর, খানাকুল 🙏
   ꧁ রচয়িতা 🙏 শ্রীমৎ কিশোরী দাস বাবাজী ꧂
       এই লিংকে ⬇️⬇️⬇️🙏⬇️⬇️⬇️ ক্লিক করুন 
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
শ্রীশ্রীঅভিরাম গোপাল ঠাকুর শ্রীকৃষ্ণ লীলায় কে ছিলেন ❓
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
এই চাবুককস্পর্ষে শ্রীনিবাস প্রেমে অধির হইলেন। তিনি শ্রীঅভিরাম গোস্বামীর অনুগ্রহে খানাকুলের সমগ্র ভক্তের সহিত পরিচিত হন। খানাকুলে কয়েকদিবস থাকিয়া তিনি শ্রীঅভিরাম গোস্বামীর পদধূলি লইয়া শ্রীখন্ডে সরকার ঠাকুরের নিকট ফিরিয়া আসিলেন।

বাস্তবিক পরম দয়ালু প্রভুর লীলা - অনন্ত-অপার। কতই বা বর্ণনা করি সাদৃশ জীবের কথা। অল্প-ভব-শেষ-সমকাদি যে লীলার পার পায় নাই - কলিকুলুষহারী প্রভুর আমার সখ্যরসের নিগূঢ় আবেশমাধুরীমুগ্ধ শ্রীসিদ্ধ কৃষ্ণদাস পাদ তদীয় শ্রীসাধনামৃত চন্দিকায়” যে ভাবে পরিস্ফুট করিয়াছেন, তাহা অতি অনবদ্য। 

পরম অদ্ভূত এই লীলার বৈচিত্র ও রসমাধুর্যের উচ্ছাস অফুরন্ত সিন্ধুবৎ অপার-অগাধ। সহৃদয় পাঠকবর্গ। এইবার শ্রীগ্রন্থাস্বাদনে শ্রীশ্রীঅভিরাম ঋতুর লীলামাধুরীর অবিরাম অমিয় নির্ঝরে আবগাহন করুন- ইহাই প্রাণের আকুতি।

শ্রীশ্রীঅভিরাম গোপালের প্রকাশ রহস্য:-
কলিযুগে পাবন শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য মহাপ্রভু। যিনি সপার্ষদে অবতীর্ণ হইয়া ব্রহ্মাদির আরাধিত এজপ্রেম-সম্পদ আচন্ডালে বিতরণ করতঃ জীব জগতেকে ধন্য করিয়াছিলেন, আর তাঁহার এই অপ্রাকৃত প্রেমলালীয় যাঁহারা সহায়ক ছিলেন, তাঁহাদের মধ্যে শ্রীঅভিরাম গোপাল অন্যতম। ব্রজের শ্রীদাম সখা শ্রীঅভিরাম গোপাল নাম ধারণ করিয়া শ্রীগৌরাঙ্গদেবের প্রেমলীলায় বিচরণ করিয়াছিলেন।

তথাহি - শ্রীগৌরগণোদ্দেশ দীপিকা - ১২৬ শ্লোকঃ-
“পুরা শ্রীদামনামাসীদভিরামোহধুনা মহান্।
দ্বাত্রিংশতা জনৈরেব বাহ্যং কাষ্ঠমুবাহ যঃ।।”

ব্রজের শ্রীদামসখা দ্বাপরযুগের গোপদেহ লইয়া শ্রীমন্মহাপ্রভুর আহ্বানে গৌড়দেশে আগমন করেন এবং কৃষ্ণনগরে শ্রীপাট স্থাপন করিয়া জগতে বহু অলৌকিক লীলার প্রকাশ করেন। তাই শ্রীপাট কৃষ্ণনগর গৌড়ীয় বৈষ্ণবগণের মহাতীর্থ।

শ্রীমন্মহাপ্রভু সৰ্ব্বধামময় শ্রীধাম নবদ্বীপে প্রকট হইয়া কতদিনে সঙ্কীর্তন বিলাস আরম্ভ করিলেন। প্রভু নিত্যানন্দদি প্রিয় পরিপরগণ ক্রমে ক্রমে আসিয়া মিলিত হইতে লাগিলেন। কিন্তু প্রাণের শ্রীদাম আসিয়া মিলন না করায় প্রভু শ্রীগৌরাঙ্গদের অত্যন্ত বিচলিত হইলেন। একদিন নিত্যানন্দকে সম্বোধন করিয়া বলিলেন, “শ্রীদাম ব্যতিরেকে আমার লীলার সৌষ্ঠব হইতেছে না। তুমি বৃন্দাবন হইতে শ্রীদাম আনয়ন করিয়া আমার জীবন রক্ষা কর।” তখন নিত্যানন্দ প্রভুকে সান্ত্বনা করিয়া শ্রীদামকে আনিবার জন্য বৃন্দাবনে চলিলেন।

তহাহি - শ্রী অভিরাম লীলামৃত :-
“সান্ত্বনা করিয়া তারে করেন গমন।
খুঁজিতে খুঁজিতে গেলা যথা গোবৰ্দ্ধন।।
নীলধড়া পরিচূড়া গুহাতে আছিল ৷
হেনকালে নিত্যানন্দ ডাকিতে লাগিল।।”
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
꧁ (০৭) শ্রীশ্রীঅভিরাম লীলা রহস্য 🙏  প্রথম ভাগ 
শ্রীদ্বাদশ গোপালের প্রথম গোপাল অভিরাম গোপালের অদ্ভুত বৃত্তান্ত 🙏 শ্রীশ্রীঅভিরাম লীলাস্থলী 🙏 শ্রীপাঠ কৃষ্ণনগর, খানাকুল 🙏
   ꧁ রচয়িতা 🙏 শ্রীমৎ কিশোরী দাস বাবাজী ꧂
       এই লিংকে ⬇️⬇️⬇️🙏⬇️⬇️⬇️ ক্লিক করুন 
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
শ্রীশ্রীঅভিরাম গোপাল ঠাকুরের নামকরণ কে করেছিলেন ❓❓❓
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
প্রভু নিত্যানন্দ বৃন্দবনে গমন করতঃ গোবর্দ্ধনে গিয়া ‘শ্রীদাম! শ্রীদাম!’ বলিয়া ঘন ঘন ডাকিতে লাগিলেন। ডাক শুনিয়া শ্রীদাম বাহিরে আসিলেন। তারপর নিত্যানন্দকে তাহার পরিচয় জিজ্ঞাসা করিলে নিত্যানন্দ বলিলেন ‘আমি পূর্ব্বের বলাই। শ্রীকৃষ্ণের আদেশে তোমায় লইতে আসিয়াছি।’ শ্রীদাম বলিলেন, ‘যদি তোমার বাক্য সত্য হয় তাহা হইলে তুমি আমি সমান। আমি করতালি দিয়া দৌড়াইব। যদি তুমি আমায় ধরিতে পার তবে বুঝিব তুমি বলাই।' এই বলিয়া শ্রীদাম গোবর্দ্ধনের চতুর্দিকে বেড়িয়া চারিবার ঘুরিলেন।

তথাহি – তত্রৈব -
“দৌড়িতে লাগিলা তিঁহো গোবৰ্দ্ধন বেড়িয়া।
চারিবার ঘোড়াইয়া দেখেন চাহিয়া।।
মালশাটা মারি শ্রীদাম পাছুপানে চায় ৷
নিকটেতে বলরামে দেখিবারে পায়।।
তখন ভভাবিলা মনে বটে বলরাম।
বড় দুঃখ পাইলে ভাই করহ বিশ্রাম।।”

তখন অভিরাম নিত্যানন্দকে বলিলেন, ‘এই কলিকালে তোমার পূর্ব্ববেশ না দেখিয়া আমার মনে সংশয় হইয়াছিল। সেইজন্য তোমাকে চারিবার ঘুরাইলাম। তুমি ভিন্ন এরূপ শক্তি অন্য কেহ ধরিতে পারে না। তবে এখন বল তোমার আগমনের কারণ কি?’ তখন প্রভু নিত্যানন্দ বলিলেন, ‘তোমায় না দেখিয়া কৃষ্ণ অচৈতন্য হইয়াছে।’ শ্রীদাম বলিল, ‘শ্রীকৃষ্ণ কোথায়?’ নিতাই প্রভু গৌরাঙ্গদেবের লীলারহস্যাদি সমস্ত বলিলেন। তখন শ্রীদাম বলিলেন, ‘ভাই আমি সেখানে যাইব না। সেখানে গর্ভবাসে আমায় বহু কষ্ট পাইতে হইবে।’ নিতাই বলিলেন, ‘আগে শ্রীকৃষ্ণের সহিত মিলন কর পরে পরামর্শ করিয়া কাজ করিবে। তোমাকে দেহ পরিবর্ত্তন করিতে হইবে না। তুমি এই বেশ ধারণ করিয়া থাকিবে।' তখন শ্রীদাম হাস্য সহকারে বলিলেন, ‘দৌড়াইতে আমার চরণ ভারি হইয়া গিয়াছে। আমি হাঁটিতে পারিতেছি না। তুমি আমায় স্কন্ধে করিয়া লইয়া চল।' নিতাই বলিলেন, ‘তুমিত আগেই চলিয়াছ; দৌড়াইতে চরণ ভারি হইয়াছে। ফলে তোমার মত আমারও চরণ ভারি হইয়া গিয়াছে।' এইমত দুইজনে কতক্ষণ রসালাপ করিয়া শ্রীদাম নিত্যানন্দের সঙ্গে নদীয়ায় আসিলেন। প্রভু গৌরাঙ্গের সহিত মিলন করিয়া পূর্ব্বভাবানুরাগে দোঁহে বিভোর হইলেন। তখন প্রভু শ্রীদামের নামকরণ করিলেন।

তথাহি – তত্রৈব -
“শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য নাম তেঁহ সে আমার।
এবে অভিরাম বলি খ্যাতি যে তোমার।।
নিত্যানন্দে ডাকি তবে বলেন হাসিয়া।
আজি হৈতে ডাক সবে অভিরাম ভায়া।।
এই নাম রাখিলাম করিয়া নিশ্চয়।
শ্রীদাম আমায় কভু ভিন্ন ভেদ নয়৷৷
অভিরাম চৈতন্য এবে একই শরীর।
পশ্চাতে জানিবে তাহা যেই ভক্ত ধীর।।”
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
꧁ (০৮) শ্রীশ্রীঅভিরাম লীলা রহস্য 🙏  প্রথম ভাগ 
শ্রীদ্বাদশ গোপালের প্রথম গোপাল অভিরাম গোপালের অদ্ভুত বৃত্তান্ত 🙏 শ্রীশ্রীঅভিরাম লীলাস্থলী 🙏 শ্রীপাঠ কৃষ্ণনগর, খানাকুল 🙏
   ꧁ রচয়িতা 🙏 শ্রীমৎ কিশোরী দাস বাবাজী ꧂
       এই লিংকে ⬇️⬇️⬇️🙏⬇️⬇️⬇️ ক্লিক করুন 
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
৮. কিভাবে ঠাকুর অভিরাম পূর্ব্বস্বরূপ হইতে লীলা উপযোগী দেহ ধারণ করিলেন ❓❓❓
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
তারপর শ্রীগৌরাঙ্গদেব বলিলেন, ‘অভিরামের এত দীর্ঘতা শোভা পায় না।’ ইঙ্গিত পাইয়া প্রভু নিত্যানন্দ অভিরামকে সম্বোধন করিয়া বলিলেন, ‘ভাই অভিরাম, যে ভাবে পূর্ব্বে বংশীবটের তলে খেলা করিতাম সেইভাবে দুই ভাই দুই করে তোমার স্কন্ধে ধরিয়া দোলনাই দুলিব - এই আমার বাঞ্ছা।' এই বলিয়া দুইজনে স্কন্ধে ধরিয়া দোলায় দুলিতে লাগিলেন।

তথাহি - শ্রীঅভিরাম অষ্টকে
“গৌরহস্তভ্রান্তি নিত্যানন্দ হস্ত স্কন্ধকঃ।
পূর্ব্বজন্ম দীর্ঘগর্ব্ব গৌরভাবপোষকঃ।।
অদ্ভুত আত্মবৈভব লোকহর্ষবন্ধনঃ।
মাম্পুনাতু সোহভিরাম নাম ভক্তিবন্দনঃ।।”

এইভাবে ঠাকুর অভিরাম পূর্ব্বস্বরূপ হইতে লীলা উপযোগী দেহ ধারণ করিলেন। কতকদিবস নদীয়ায় অবস্থান করতঃ শ্রীগৌরাঙ্গদেবকে সঙ্গে লইয়া বৃন্দাবনে চলিলেন। তথায় কতদিন অবস্থায় করিয়া নিজশক্তি রামদাস মহান্তকে প্রকাশ করতঃ শ্রীগৌরচন্দ্রের সঙ্গে নদীয়ায় পাঠাইলেন। তারপর নিজশক্তিস্বরূপা এক কন্যায় সৃষ্টি করিয়া সিন্ধুকে আবদ্ধ করতঃ যমুনার জলে ভাসাইয়া দিলেন। তারপর আপনি প্রেম-অনুরাগে ভ্রমণ করিতে লাগিলেন। ভাবিলেন, এই নবগূঢ় অবতারে প্রভু কাহাকে কিরূপ শক্তি প্রদান করিয়া কোথায় রাখিয়াছেন, তাহা একবার পরীক্ষা করিয়া দেখিব। তারপর অভিরাম শ্রীবিগ্রহ প্রণাম করিয়া ভ্রমণ করিতে লাগিলেন।
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
꧁ (০৯) শ্রীশ্রীঅভিরাম লীলা রহস্য 🙏  প্রথম ভাগ 
শ্রীদ্বাদশ গোপালের প্রথম গোপাল অভিরাম গোপালের অদ্ভুত বৃত্তান্ত 🙏 শ্রীশ্রীঅভিরাম লীলাস্থলী 🙏 শ্রীপাঠ কৃষ্ণনগর, খানাকুল 🙏
   ꧁ রচয়িতা 🙏 শ্রীমৎ কিশোরী দাস বাবাজী ꧂
       এই লিংকে ⬇️⬇️⬇️🙏⬇️⬇️⬇️ ক্লিক করুন 
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
শ্রীপাট খানাকুলের লীলারহস্য❗ ঠাকুর অভিরাম লীলা প্রকাশের সহায়তার জন্য শক্তিলূপা দেবীকে নিজশক্তিস্বরূপা রূপে সৃষ্ঠি করেন, তাহার নাম কি ❓ ❓❓
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
শ্রীপাট খানাকুলের লীলারহস্য
ঠাকুর অভিরাম লীলা প্রকাশের সহায়তার জন্য শক্তিলূপা শ্রীমালিনী দেবীকে সৃষ্টি করিলেন।

তথাহি - শ্রীঅভিরাম লীলামৃতে - ৩য় পরিচ্ছদে -
“ভাবিতে ভাবিতে পুনঃ করেন সৃজন।
শক্তিতে হইলা কন্যা অপূৰ্ব্ব কথন।।
যমুনার স্রোত বহে দক্ষিণ হইয়া।
সিন্ধুকে ভরিয়া কন্যা দিলেন ভাসাইয়া।।
সিন্ধুকে সহিতে কন্যা কাজীপুর আইলা।
তটেতে লাগিয়া সিন্ধুক তথাই রহিলা।।
প্রবেশ হইবামাত্র দেখে তাঁর শক্তি।
ভুবনে ঘোষয়ে সব যাঁহার খিয়াতি।।
মালির মালঞ্চ সেই তটেতে আছিলা।
পরশ করিবামাত্র চমৎকার হৈলা।।
পুষ্পবৃক্ষ বলে সব আনন্দিত হইয়া।
দ্বাদশ বৎসর মোরা ছিলাম শুকাইয়া।।
সিন্ধুক পরশে মোরা পাইনু জীবন।
সিন্ধুক ভিতরে বুঝি আছে সাধুজন।।
বৃক্ষগণ বলে ভাই শুনহ বচন।
সাধুর পরশে দেখ নবীন যৌবন।।
‘সাধু’ ‘সাধু’ বলিতে হৈল নবীন মঞ্জরী।
সাধুর মাহাত্ম্য কিছু বলিতে না পারি।।
সার্থক হইল মোদের স্থাবর জনম।
বহু পুণ্য ফলে হৈল সবার তারণ।।

ঠাকুর অভিরাম খানাকুলে লীলা প্রকাশের সূচনা করিলেন। বৃন্দাবন হইতে নিজশক্তিস্বরূপা এক কন্যা সৃষ্টি করিয়া সিন্ধুকে আবদ্ধ করতঃ যমুনায় ভাসাইয়া দিলে সেই সিন্ধুক ভাসিতে ভাসিতে কাজীপুরের নদীতটে ভিড়িল। সেইখানে একটি বাগান ছিল। দৈববশে সেই বাগানের বৃক্ষাদি দ্বাদশ বৎসর শুকাইয়া ছিল। সিন্ধুক তীরে স্পর্শ করিবামাত্রই সেই বৃক্ষসকল নব-পল্লবিত হইল। বাগানের বৃক্ষ-সকলের প্রাণসঞ্চার বাক্য শুনিয়া মালী তথায় উপনীত হইলেন। অত্যাশ্চর্য্য দৃশ্য দেখিয়া মালী স্তব করিতে লাগিলেন। মালী সমস্ত বাগান ভ্রমণ করিয়া নদীতটে পৌঁছিবা মাত্রই মূৰ্চ্ছিত হইলেন। এদিকে মালীর বিলম্ব দেখিয়া অন্যান্য মালীগণ তাঁহাকে অন্বেষণ করিতে করিতে তথায় উপনীত হইলেন এবং নব-পল্লবিত বাগান দেখিয়া আশ্চৰ্য্যান্বিত হইলেন। তখন তাঁহারা কোন কারণ বুঝিতে না পারিয়া বৃক্ষগণতে স্তব প্রণামাদি করতঃ এই অপ্রত্যাশিত রহস্যের কারণ জিজ্ঞাসা করিলেন দৈবপ্রভাবে প্রভাবান্বিত বৃক্ষগণ বলিলেন, ‘এক সাধুর পরশে আমরা নবজীবন প্রাপ্ত হইয়াছি।'
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
꧁ (১০) শ্রীশ্রীঅভিরাম লীলা রহস্য 🙏  প্রথম ভাগ 
শ্রীদ্বাদশ গোপালের প্রথম গোপাল অভিরাম গোপালের অদ্ভুত বৃত্তান্ত 🙏 শ্রীশ্রীঅভিরাম লীলাস্থলী 🙏 শ্রীপাঠ কৃষ্ণনগর, খানাকুল 🙏
   ꧁ রচয়িতা 🙏 শ্রীমৎ কিশোরী দাস বাবাজী ꧂
       এই লিংকে ⬇️⬇️⬇️🙏⬇️⬇️⬇️ ক্লিক করুন 
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
তখন মালীগণ বলিলেন, 'সেই সাধু কোথায় আছেন আমাদের কৃপাপূর্ব্বক দর্শন করান।' বৃক্ষগণ বলিলেন, ‘নদীর তীরে সাধুর আগমন হইয়াছে, তোমরা তথায় গিয়া দর্শন করতঃ জীবন সফল কর।' বৃক্ষগণে বাক্যে মালীগণ নদীর তীরে উপনীত হইয়া দৈবাগত সিন্ধুক ও মুচ্ছিত অবস্থায় পতিত মালীকে দেখিতে পাইলেন। মালীগণ ভাবিলেন, নিশ্চয়ই এই সিন্ধুক দর্শন করিয়াই মালী মুচ্ছিত হইয়াছে। ইহারই মধ্যে হয়ত সেই সাধুর আগমন ঘটিয়াছে। যাহা হউক তাঁহারা মালীর সমীপে আসিয়ে তাঁহাকে চেতন করতঃ তাঁহার অচেতনের কারণ জিজ্ঞাসা করিলেন। মালী বলিলেন, আমি সাধু দর্শনের উদ্দেশ্যে বহু ভ্রমণ করিয়া এই সিন্ধুক দর্শন করিবামাত্রই অচেতন হইয়া পড়িয়াছিলাম। এই বার্তা শ্রবণ করতঃ মালীগণ সকলে নদী হইতে সেই সিন্ধুকটিকে তীরে উত্তোলন করিয়া ঘরে আনিলেন। তারপর সিন্ধুকটি খুলিতেই এক দিব্য কন্যারত্নের দর্শন পাইলেন। মালীগণের আনন্দের সীমা রহিল না। তাঁহারা মহানন্দে স্থান সংস্কার করিয়া কন্যাকে অতীব যত্নসহকারে আসনে বসাইলেন। তারপর তাঁহার শ্রীচরণ ধৌত করিয়া সবংশে পান করিলেন। তখন দেবী বলিলেন, 'আমার বহুদিন ভোজন হয় নাই; তোমরা এখন আমায় কিছু খাইতে দাও। মালীগণ তাঁহার পরিচয় জানিতে চাহিলে কন্যা বলিলেন, ‘অগ্রে ভোজন করিয়া শেষে সমস্ত বলিব।' তখন কন্যার নির্দেশমত মালীগণ মিষ্টান্নাদি আনিলে কন্যা শ্রীকৃষ্ণে নিবেদন করিয়া ভোজন করিলেন। তারপর কন্যা আপনার পরিচয় প্রদান প্রসঙ্গে বলিতে লাগিলেন, 'আমি বৃন্দাবন হইতে ভাসিয়া আসিয়াছি। অভিরামের শক্তি বলিয়া আমায় জানিবে। শুষ্ক মালঞ্চ দেখিয়া আমি এইস্থানে ভিড়িলাম। আমার পরশমাত্রই বৃক্ষসকল নবজীবন লাভ করিল। তারপর তোমরা আমায় আনয়ন করিয়াছ। এখন আমার একটি কথা তোমরা শ্রবণ কর।'

তথাহি - তত্রৈব -
“আমার বচন ইবে শুন মালীগণ।
সবার আশ্রিত ইবে হইনু এখন।।
কন্যাবত স্নেহ সেবা করিবে প্রচার।
মালিনী বলিয়া নাম রাখহ আমার।।”
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
꧁ (১১) শ্রীশ্রীঅভিরাম লীলা রহস্য 🙏  প্রথম ভাগ 
শ্রীদ্বাদশ গোপালের প্রথম গোপাল অভিরাম গোপালের অদ্ভুত বৃত্তান্ত 🙏 শ্রীশ্রীঅভিরাম লীলাস্থলী 🙏 শ্রীপাঠ কৃষ্ণনগর, খানাকুল 🙏
   ꧁ রচয়িতা 🙏 শ্রীমৎ কিশোরী দাস বাবাজী ꧂
       এই লিংকে ⬇️⬇️⬇️🙏⬇️⬇️⬇️ ক্লিক করুন 
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
কন্যা নিজ প্রকট ঐতিহ্য জগতকে জানাইবার জন্যই মালীগণের কন্যারূপে মালিনী নাম ধারণ করিলেন। এভাবে মালিনী দেবী মালীগণের পরিচর্য্যায় কতককাল অতিবাহিত করিলেন। এদিকে গ্রামবাসীগণ কন্যার প্রকাশ কাহিনী কাজীর নিকটে সবিশেষ কহিলেন। তখন কাজী কন্যাসহ সিন্ধুক আনিতে লোক পাঠাইলেন। মালীগণ সংবাদ পাইয়া বিস্মিত হইলেন। তারপর দূতগণ পৌছিলে মালীগণ দূতের সঙ্গে কাজীর গৃহে উপনীত হইলেন। মালীগণ তাহাদের আনয়নের কারণ জিজ্ঞাসা করিলে কাজী বলিলেন, 'তোমরা সিন্ধুকসহ বহু সম্পদ পাইয়াছ। তাহা কোন বিচারে নিজেদের ঘরে রাখিয়াছ? তাহা সমস্ত আমাকে অর্পন কর।' মালীগণ বলিল, 'আমরা একটি সিন্ধুক পাইয়াছি। তাহা এখনই আনিয়া দিব।' কাজী বলিল, 'তাহাতে কি ধন ছিল?' তখন মালীগণ মনে মনে চিন্তা করিলেন, ‘কাজীর মনের অভিপ্রায় কি তাহা বুঝা দুঃসাধ্য; কোন দুষ্ট ব্যক্তি আসি কাজীকে বলিয়াছে। যাহা হউক প্রাণ থাকিতে আমরা কাজীর হস্তে কন্যাকে অর্পন করিব না।' এই যুক্তি সাব্যস্ত করিয়া মালীগণ বলিল, 'সিন্ধুকে একটি দিব্য কন্যারত্ন ছিল।' তখন ক্রোধে কাজী বলিল, ‘আমি সিন্ধুকসহ সেই কন্যাকে চাই।' কাজীর অভিপ্রায় বুঝিয়া মালীগণ সবিনয়ে বলিলেন, ‘আপনি যবন হইয়া দেবকন্যা বাঞ্ছা করিতেছেন? এই মহৎ অপরাধে প্রায় গ্রাম উজাড় হইবে। তৎসঙ্গে আপনিও রক্ষা পাইবেন না। তারপর মালীগণ কন্যার অপ্রাকৃত মহিমারাশির বর্ণন করিলেন। মালীগণের হিতবাক্যে কাজীর ভাবান্তর ঘটিল। তখন কাজী আপনারগণকে বলিলেন, ‘আমি না বুঝিয়া দুষ্টগণের বাক্যে মালীগণকে বহু কষ্ট দিয়াছি। আমার মহাঅপরাধ হইয়াছে। তোমরা এখনই মালীগণকে মুক্ত কর। আজ্ঞামাত্র পাত্রগণ মালীগণকে মুক্ত করিলে কাজী স্তুতিনতি সহকারে সবিনয়ে মালীগণকে বলিলেন, 'আমি হিন্দুর দেবতায় নিজ কন্যারূপে সেবা করিব। তোমরা নিঃসন্দেহে আমার গৃহে আনয়ন কর।’ কাজীর ভাবান্তর ঘটায় মালীগণ অন্তরে মহানন্দ লাভ করিলেন। তখন তাঁহারা বলিলেন, 'আমরা গিয়া দেবীকে অনুরোধ করব। যদি তিনি কৃপা-পরবশ হইয়া স্বেচ্ছায় আপনার গৃহে আসেন, তাহা হইলে অবশ্য আমরা লইয়া আসিব। মালীগণ মুক্ত হইয়া মহানন্দে গৃহে আসিলেন। তারপর দেবীর সমীপে কাজীর অভিপ্রায় ব্যক্ত করিলেন। তখন দেবী বলিলেন, “তোমরা কোন চিন্তা করিও না। আমি ঐ স্থানে অবস্থান করিয়া লীলার প্রকাশ করিব। তোমরা কাজীর সমীপে আমার আগমনবার্ত্তা কহিয়া আমার নির্দেশটি বলিবে। আমি কাজীর গোগৃহে অবস্থান করিব আর মিষ্টান্ন ভোজন করিব। কাজী সহাস্তে যেন গোগৃহ মাৰ্জ্জন করেন।' তখন মালীগণ কাজীর সমীপে উপনীত হইয়া দেবীর নির্দেশ জ্ঞাপন করিলেন। কাজী মহানন্দে স্বহস্তে গোগৃহ মার্জ্জনে প্রবৃত্ত হইলেন। কাজীর ভাবের অভিব্যক্তি দেখিয়া মালীগণ মহানন্দে দেবীকে কাজীর ভবনে আনয়ন করিতেছেন। দেবীর আগমনবাৰ্ত্তা শুনিয়া গ্রামবাসীগণ আসিয়া কাজীকে বলিলেন, ‘এতদিনে আপনার সৌভাগ্যের প্রকাশ ঘটিয়াছে। মালীগণ কন্যা লইয়া আসিতেছে। আপনি শীঘ্ৰ গিয়া দেবীকে সাদর অভ্যর্থনা জানাইয়া স্বগৃহে আনয়ন করুন।' তখন কাজী মহানন্দে পুষ্পরথ সাজাইয়া সপার্ষদে কন্যাকে আনিতে চলিলেন। পথে সাক্ষাৎ ঘটিলে কাজী সাষ্টাঙ্গে প্রণাম করিযা স্তবাদি করিতে লাগিলেন। কন্যা কাজীর স্তবে সন্তুষ্ট হইয়া রথারোহণে চলিলেন। তারপর কন্যা কাজীর গৃহে উপনীত হইলে মালীগণ কন্যাকে কাজীর গোগৃহে অধিষ্ঠান করাইয়া জল দ্বারা শ্রীচরণ ধৌত করিলেন। মালীগণের নির্দেশে কাজী দূত মারফৎ পসারীগণকে ডাকাইয়া বলিলেন, “তোমরা প্রত্যহ প্রভূত মিষ্টান্ন আনিয়া দিবে। আমার গৃহে সাধুর আগমন ঘটিয়াছে, তাঁহাকে নিত্য ভোজন করাইব।' অতঃপর কাজী ও পসারীগণ মালিনী দেবীকে --প্রণামাদি করিলেন। কাজী কন্যাকে মালীগণ দ্বারা নতুন বস্ত্র পরিধান করাইয়া মিষ্টান্ন ভোজন করাইলেন। কন্যার আদেশে মালীগণ প্রসাদ গ্রহণ করিয়া সকলকে বিতরণ করিয়া দিলেন। তখন সকলে জয় জয় ধ্বনি দিতে দিতে প্রসাদ পাইয়া প্রণামাদি করিলেন। তারপর কাজী কন্যার শ্রীচরণে লুণ্ঠিত হইয়া সবিনয়ে বহুত কাকুতি সহকারে বলিলেন, ‘আমি বহু অপরাধ করিয়াছি। আপনি আমায় নিজগুণে করুণা করিয়া ক্ষমা করুন।' কন্যা বলিলেন, ‘তুমি মালীগণের সমীপে অপরাধ করিয়াছ। তাঁহারা ক্ষমা না করিলে তোমার অপরাধ স্খলন হইতে পারে না।' তখন কাজী শীঘ্র মালীগণের সমীপে গমন করিয়া সকাতরে ক্ষমা প্রার্থনা করিলেন। মালীগণ বলিলেন, ‘চরণ ছাড়, তুমি ও আমরা এখন এক। তোমার আর কোন অপরাধ নাই। এখন কন্যারত্নে দর্শন করিয়া জীবন ধন্য কর। 
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
꧁ (১২) শ্রীশ্রীঅভিরাম লীলা রহস্য 🙏  প্রথম ভাগ 
শ্রীদ্বাদশ গোপালের প্রথম গোপাল অভিরাম গোপালের অদ্ভুত বৃত্তান্ত 🙏 শ্রীশ্রীঅভিরাম লীলাস্থলী 🙏 শ্রীপাঠ কৃষ্ণনগর, খানাকুল 🙏
   ꧁ রচয়িতা 🙏 শ্রীমৎ কিশোরী দাস বাবাজী ꧂
       এই লিংকে ⬇️⬇️⬇️🙏⬇️⬇️⬇️ ক্লিক করুন 
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
তখন কাজী মালীগণকে কন্যারত্নের সেবাকার্য্যে নিযুক্ত করিলেন। মালীগণের  সংসারের ব্যয়ভার কাজী বহন করিতে লাগিল। এইভাবে শ্রীঅভিরাম গোপালের শক্তিরূপা কন্যা শ্রী মালিনী দেবী কাজীপুরে আগমন করতঃ কাজীর কন্যারূপ পরিহগ্রহ। করিয়া কাজীর গৃহে অবস্থান করিতে লাগিলেন। আর মালীগণ তাঁহার সেবক হইয়া মহানন্দে সেবা করিতে লাগিলেন। কতদিনে বিল্লোক গ্রামে কাজী সৈন্যগণের বিদায়ের কালে মালিনী দেবী কাজীপুরের নাম খানাকুল স্থাপন করেন।
- তথাহি -
“এতেক শুনিয়া কন্যা বলেন বচন।
খানাকুল হৈল নাম কাজীপুর এখন।।”

এদিকে শ্রীঅভিরাম গোপাল নিজশক্তিরূপা কন্যাকে লীলা প্রকাশের জন্য পাঠাইয়া আপনি এক অভিনব ভাবের উদ্দীপন করিলেন।
তথাহি - তত্রৈব -
“ভ্রমণ করিব সব বিগ্রহ দেখিয়া।
দেখি কেবা কোনরূপে আছেন বসিয়া।।
একে একে সবাকার করিব দর্শন।
চৈতন্যের মনোবৃত্তি বুঝিব এখন।।
দেখি কার কত শক্তি দিয়াছে চৈতন্য।
দুই কাৰ্য্য হেতু আমি হৈব অবতীর্ণ।।
ব্রজেতে শ্রীকৃষ্ণে বহু সেবন করিলা।
তখন আমাকে কৃষ্ণ আপনি কহিলা।।
তোমার সমান বন্ধু নাহি কোনজনে।
বশ যে হইনু দেখ তোমার সেবনে।।
বলরাম আদি করি যত সখাগণ।
সবার অপেক্ষা শক্তি দিলাম এখন।।
এমন পীরিতি সেই শ্রীকৃষ্ণ সহিত।
মনে না করিয়া গেলা হইয়া বিস্মিত।
বুঝিব এবে তাঁর প্রিয় হয় কেবা
কাহার প্রেমেতে বশ পাইলেন সেবা।।
সেববাশ হয়া সেই প্রেমেতে চলিলা।
অতেব আমারে তিঁহ বিস্মৃত হইলা।।
এতেক ভাবিয়া মনে করেন ভ্রমণ।
যেখানে বিগ্রহ আছে করেন দর্শন।।
দর্শন করিয়া তাঁরে বলেন হাসিয়া।
কেবা কোনরূপে আছে দেখিব কষিয়া।।”
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
                   🙏 জয় শ্রীশ্রী গোপীনাথ 🙏
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
                               🙏 ক্রমশ 🙏
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
    *••••┉━❀꧁ 🙏 রাধে রাধে 🙏 ꧂❀━┅••••* 
                   শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য প্রভু নিত্যানন্দ
              হরে কৃষ্ণ হরে রাম শ্রীরাধেগোবিন্দ।।
  *••••┉━❀꧁ 🙏 জয় জগন্নাথ 🙏 ꧂❀━┅••••*
              হরে কৃষ্ণ হরে কৃষ্ণ কৃষ্ণ কৃষ্ণ হরে হরে
              হরে রাম হরে রাম রাম রাম হরে হরে॥
  *••••┉━❀꧁ 🙏 জয় রাধাকান্ত 🙏 ꧂ ❀━┅••••*
   💮❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀💮
   💮❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀💮
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧




লিখনী সম্পূর্ণ হলে PDF LINK দেওয়া হবে 🙏🙏🙏




adds