শ্রী মৃন্ময় নন্দী কর্ত্তৃক সকল ভক্ত👣চরণে👣অসংখ্যকোটি 🙇প্রণাম🙇 ক্লিক করুন 👇

শ্রী মৃন্ময় নন্দী কর্ত্তৃক সকল ভক্ত👣চরণে👣অসংখ্যকোটি 🙇প্রণাম🙇 ক্লিক করুন 👇

শ্রীশ্রীবিষ্ণুপ্রিয়া দেবী 🙏 তৃতীয় ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/03/bishnupriya3.html

✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
         ꧁ শ্রীশ্রীবিষ্ণুপ্রিয়া দেবী 🙏 তৃতীয় ভাগ 
          ꧁ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ ꧂
        এই লিংকে ⬇️⬇️⬇️🙏⬇️⬇️⬇️ ক্লিক করুন 
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
    🏠Home Page🏠⬇️⬇️🙏⬇️⬇️📚PDF গ্রন্থ📚
꧁ MrinmoyNandy.blogspot.com 👉 সূচীপত্র ꧂
       এই লিংকে ⬇️⬇️⬇️🙏⬇️⬇️⬇️ ক্লিক করুন 
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
  ꧁ JoydebDaw.blogspot.com 🙏 সূচীপত্র 🙏 ꧂
         ꧁ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ ꧂
     এই লিংকে ⬇️⬇️⬇️🙏⬇️⬇️⬇️ ক্লিক করুন 
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
꧁ শ্রীশ্রীবিষ্ণুপ্রিয়া দেবী 🙏 সূচীপত্র 🙏 প্রথম ভাগ ꧂
          ꧁ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ ꧂
       এই লিংকে ⬇️⬇️⬇️🙏⬇️⬇️⬇️ ক্লিক করুন 
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
         ꧁ শ্রীশ্রীবিষ্ণুপ্রিয়া দেবী 🙏 দ্বিতীয় ভাগ 
          ꧁ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ ꧂
        এই লিংকে ⬇️⬇️⬇️🙏⬇️⬇️⬇️ ক্লিক করুন 
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
 ꧁ ১৩১.  শ্রীশ্রীবিষ্ণুপ্রিয়া দেবী 🙏 তৃতীয় ভাগ 
          ꧁ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ ꧂
        এই লিংকে ⬇️⬇️⬇️🙏⬇️⬇️⬇️ ক্লিক করুন 
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
*(১৩১)🙌শ্রীশ্রীবিষ্ণুপ্রিয়াদেবী🙌*
*😪😪শ্রীমতীর বিষম বিরহ😪😪*
########################
*🌻বাহ‍্যজ্ঞানশূন‍্যা হয়ে শ্রীমতী মনের আবেগে সন্ন‍্যাসিনী সেজেছেন।যাঁর স্বামী সন্ন‍্যাসী,তাঁর স্ত্রীকেও সন্ন‍্যাসিনী হতে হয়,এ জ্ঞানে বিষ্ণুপ্রিয়া সন্ন‍্যাসিনীর বেশে পাগলিনী সেজেছেন।শচীমায়ের এই দৃশ্য দেখে হৃদয় বিদীর্ণ হয়েছে, পুত্রবধূর এই বেশ দেখে বৃদ্ধার মনে নূতন শোকের সৃজন হয়েছে,তাঁর হৃদয়ে নিমাইচাঁদের  বিরহাগুণ নূতন করে দ্বিগুণ জ্বলে উঠেছে।মন আগুনে তিনি জ্বলেপুড়ে মরছেন। কিন্তু শ্রীমতী তাঁর মনের ভাব বুঝতে দিচ্ছেন না। শচীমা সহ‍্যগুণের পরাকাষ্ঠা দেখিয়ে শ্রীগৌরাঙ্গ-জননী নামের সার্থকতা সম্পাদন করলেন। 🙌লেখকের অভিন্নহৃদয় বন্ধুবর বৈষ্ণব শ্রীমান্ সত‍্যকিঙ্কর কুন্ডু মহাশয় একটি কবিতা শচীদেবীর তাৎকালিক মনের ভাব বিশেষ সুব‍্যক্ত হয়েছে বলে দেওয়া হল।*
                    *(০১)*
*বউমা!  বউমা! হয়ে পাগলিনী,*
        *কি বেশ ধ'রেছ জননী!*
*(আহা)সোনারকমল বল না আমায়,*
        *কেন গো সেজেছ যোগিনী!*
*খুলিয়া ফেলেছ সোনার-ভূষণ,*
*পরণে কেন মা গৈরিক বসন,*
*ননীর শরীরে বিভূতি মেখেছ,*
     *হেরিয়া ফাটে গো পরাণি।*
*(আহা)হিয়ার মানিক বল না আমায়,*
      *কেন গো সেজেছ যোগিনী।।*
                       *(০২)*
*কুটিল কুন্তল রুখু রুখু হ'য়ে,*
        *কেন মা পড়েছ বদনে।*
*(আহা)কার অনুরাগে হেন দশা তোর,*
            *বল্ না আমায় সদনে।*
*করে জপমালা গায়ে নামাবলী,*
*সজল নয়ন হরি হরি বলি,*
*কে কাঁদালে তোয় সুখের কোরকে,*
             *পরাণ বাঁধিয়া পাষাণে।*
*(আহা)কার অনুরাগে হেন দশা তোর,*
              *বল না আমার সদনে।*
                     *(০৩)*
*কমল আননে স্বরগের জ‍্যোতি,*
         *উঠেছে যেন মা ফুটিয়া।*
*(আহা)গোলোকের প্রেম ঝলকে ঝলকে,*
         *যেন মা আসিছে ছুটিয়া।*
*উজলিত দিশি মহিমা-কিরণে,*
*গৃহ আলোকিত সুপীত-বরণে,*
*শান্তির শীকর রূপের ঝলসে,*
           *সংসার গিয়াছে ভুলিয়া।*
*(আহা)গোলোকের প্রেম ঝলকে ঝলকে,*
              *যেন গো আসিছে ছুটিয়া।।*
                 *(০৪)*
*মনে হয় তুমি নহ মা মানবী,*
             *স্বরগের দেবী আসিয়া।*
*(আহা)গাও হরিনাম মধুর ররাবে,*
            *দুখিনী ভবনে পশিয়া।*
*যত চাই মাগো তোর মুখ পানে,*
*তত চাই ভুলে আপনার প্রাণে,*
*কে তুমি কে তুমি নবীনা যোগিনী,*
             *বল মা সন্তাপ নাশিয়া।*
*(আহা)নাম শুনে তোর নিটোল বদনে,*
              *পুলকে যেতেছি ভাসিয়া।।*
                  *(০৫)*
*সম্বর   সম্বর   ওরূপ   জননী!*
          *ওরূপে    পরাণ  চমকে।*
*(আহা)ঐ রূপে সাজি নিমাই আমার,*
               *ছাড়িয়া গিয়াছে পলকে।।*
*তোমারে পাইয়া ভুলেছি তাহারে,*
*তুমিও কি যাবে ছাড়িয়া আমারে,*
*খোল্ মা!খোল্ মা!যোগিনীর সাজ,*
             *এস মা! হৃদয়-ফলকে।*
*(আহা)জ্বলে যায় বুক,বউমা আমার,*
               *বিষাদ অনল ঝলকে।।*
🙌🙌🙌🙌🙌🙌🙌🙌🙌🙌🙌🙌🙌
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
 ꧁ ১৩২.  শ্রীশ্রীবিষ্ণুপ্রিয়া দেবী 🙏 তৃতীয় ভাগ 
          ꧁ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ ꧂
        এই লিংকে ⬇️⬇️⬇️🙏⬇️⬇️⬇️ ক্লিক করুন 
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
*(১৩২)🙏শ্রীশ্রীবিষ্ণুপ্রিয়াদেবী🙏*
*😪😪শ্রীমতীর বিষাদ বিরহ😪😪*
^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^
                   *(০৬)*
*দেবী চেয়ে ভাল মানবী আমার,*
               *সংসার-সাগর-তরণী।*
*(আহা)গোরা মাখা আছে তনুতে তোমার,*
               *পাগলী আমার জননী।।*
*পীযূষচুম্বিত পাপিয়ার স্বরে,*
*মা!মা!মা!মা! ব'লে ডাক গো আমারে।*
*ভুলে যাই জ্বলা ক্ষণিকের তরে,*
          *শোন মা সুচারু হাসিনী।*
*(আহা)গোরা-মাখা-আছে তনুতে তোমার,*
           *পাগলিনী আমার জননী।।*
                      *(০৭)*
*আয় মা! আয় মা!আয় মা! বুকেতে,*
           *আর না ছাড়িব ভুলিয়া।*
*(আহা)দেখ মা!দেখ মা!বিষাদ-অনলে,*
             *পরাণ যেতেছে জ্বলিয়া।।*
*আয় মা! পরাই সুনীল বসন,*
*আয় মা!পরাই কনক-ভূষণ,*
*আয় ক'রে দিই কবরী বন্ধন,*
                 *গৈরিক বসন খুলিয়া।*
*(আহা)জুড়া মা!আমার ব‍্যথিত জীবন,*
          *জননী! জননী! বলিয়া।।*
*🌻শচীমা শ্রীমতীর কাছে আর বেশীক্ষণ থাকতে পারলেন না।শ্রীমতীর সন্ন‍্যাসিনী মূর্তি তিনি আর দেখতে পারছেন না।শচীমা উঠে কাঁদতে কাঁদতে নিজ ঘরের ভিতরে গেলেন।শ্রীমতী বুঝলেন,মা আমার ভীষণ ব‍্যথা পেয়েছেন,তিনি আর বসে থাকতে পারলেন না, তাড়াতাড়ি বেশ পরিবর্তন করে শচীমার নিকট গমন করলেন।গিয়ে দেখলেন বৃদ্ধা মা ভূমিশয‍্যায় শয়ন করে নীরবে রোদন করছেন।বিষ্ণুপ্রিয়া তাঁর নিকটে বসে শাশুড়ির পিঠে হাত দিলেন, কিন্তু শচীমা উঠতে পারলেন না,শয়ন করেই ডান হাত বাড়িয়ে পুত্রবধূর গলা জড়িয়ে ধরলেন।শ্রীমতীর উষ্ণ অশ্রুজলে শচীমায়ের গাত্রবসন সিক্ত হয়ে অঙ্গ স্পর্শ করল।তখন তিনি আর স্থির থাকতে পারলেন না।উঠে বসে শচীমা শ্রীমতীর নয়ন আঁচল দিয়ে মুছিয়ে দিলেন। তিনি নয়ন মুছতে মুছতে বললেন,মাগো! আমরা এ জনম কেবল কাঁদতেই এসেছি।কেঁদে কেঁদে জীবন কাটাইব।পূর্বে বলেছি,রোদনই আমাদের ভজন।তুমিও কাঁদ,আমিও কাঁদি।আমাদের কান্নাতেই জগৎজীব কাঁদবে,তারা উদ্ধার হবে।নিমাই আমার যখন গৃহে ছিল, বাছা আমার রাতদিন কাঁদত,নয়নজলে তাঁর বক্ষ ভেসে যেত।আমি ভাবতাম, নিমাই আমার এত কাঁদে কেন? নিজে আচরিয়া নিমাই আমার জীবকে ধর্মশিক্ষা দিবার জন্য গৃহত‍্যাগী হয়ে সন্ন‍্যাসী হয়েছে।নিজে কেঁদে অপরকে কাঁদিতে শিখিয়েছেন।মা! তোমার স্বামী  মানুষ নহেন, তিনি যা শিক্ষা দিয়েছেন,তাই করো।কেঁদে কেঁদে তাঁকে ডাক,সঙ্গে আমিও ডাকি, তাহলেই তাঁকে পাব।*
*🍀শচীমায়ের কথাগুলি শ্রবণ করে বিষ্ণুপ্রিয়া নীরবে রোদন করতে লাগলেন,শচীমাও পুত্রবধূর সঙ্গে যোগ দিলেন।শচী ও বিষ্ণুপ্রিয়ার অশ্রুজলে কলিহত জীবের পাপ ধৌত হল।মহাপ্রভুর মনোবাঞ্জা পূর্ণ হল।শ্রীগৌরাঙ্গ একদিন নিতাইচাঃদকে বলেছিলেন=*
*🌿🌿ব্রজের খেলা বনভ্রমণ।*
*😭😭নদের খেলা এবার কেবল রোদন।।*
*😭😭😭😭😭😭😭😭😭😭😭😭😭
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
 ꧁ ১৩৩.  শ্রীশ্রীবিষ্ণুপ্রিয়া দেবী 🙏 তৃতীয় ভাগ 
          ꧁ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ ꧂
        এই লিংকে ⬇️⬇️⬇️🙏⬇️⬇️⬇️ ক্লিক করুন 
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
*(১৩৩)💧শ্রীশ্রীবিষ্ণুপ্রিয়াদেবী💧*
*🙏শচীমা-শ্রীমতী ও দামোদর পন্ডিত🙏*
🙌🙌🙌🙌🙌🙌🙌🙌🙌🙌🙌🙌🙌
*"পাষাণে কুটিব মাথা অনলে পশিব।*
*গৌরাঙ্গ-সুখের নিধি কোথা গেলে পাব"।।চৈঃমঃ।।*
*🌼প্রায় পাঁচ বৎসর হ'ল শ্রীগৌরহরি গৃহত‍্যাগী হয়েছেন,এক্ষণে শ্রীমতী  বিষ্ণুপ্রিয়া দেবীর বয়ঃক্রম ১৮|১৯ বৎসর,শ্রীমতী এখন পূর্ণ যুবতী,রূপরাশি উছলিয়ে পড়ছে,বাল‍্য-স্বভাব আর নেই।শ্রীমতী এখন স্থিরচিত্তা ও গম্ভীরা, বেশী কথা বা বৃথা কথা তিনি কহেন না।কদাচিৎ কোন মরমী সখির সঙ্গে দুই একটি মনের কথা বলে প্রাণ শীতল করেন,পাঁচ বৎসর অবধি প্রাণবল্লভের জন্য দিনরাত্রি কাঁদছেন, সর্বত‍্যাগিনী হয়েছেন। শ্রীগৌরকথা, প্রাণনাথের গুণগাথা, হৃদয়নাথের রূপচিন্তা,শ্রীকৃষ্ণচৈতনের শ্রীচরণধ‍্যান, এই সব কাজে বিষ্ণুপ্রিয়া দেবীর সবিশেষ অনুরাগ। শ্রীমতীর প্রধানা সখী কাঞ্চনা সদা সর্বদা তাঁর নিকটে থাকেন।একদিন শ্রীগৌরপ্রিয়া সখীকে সম্বোধন করে বলছেন, সখী!এক একদিন করে কত মাস,কত বৎসর গেল, কৈ? আমার হৃদয়েশ্বর শ্রীগৌরাঙ্গ তো আসিলেন না?আমি এখনও যে তাঁর আশাপথ চেয়ে আছি।এ ছার জীবন তাঁর দর্শন আশাতেই রেখেছি।কেঁদে কেঁদে আমি প্রায় অন্ধ হতে বসেছি। আমার প্রাণবল্লভ কি এ সবকিছুই জানতে পারছেন না? এসব সমাচার কি কেউ তাঁকে দেয় নাই?*
*🙏শ্রীরাধিকার উক্তি বিদ‍্যাপতির একটি পদে শ্রীমতী বিষ্ণুপ্রিয়ার মনের ভাবটি বড় সুস্পষ্ট ব‍্যক্ত হয়েছে বলে এস্থলে উদ্ধৃত হল।*
   *সজনি!কো কহু,আওব মাধাই।*
*বিরহ-পয়োধি, পার কিয়ে পাওব,*
      *মঝু মনে নাহি পাতিয়াই।।*
*এখন তখন করি,দিবস গোঁঙারনু,*
      *দিবস দিবস করি সা সা।*
*মাস মাস করি,   বরিখ গোঙায়নু,*
     *খোয়লু এ তনুক আশা।।*
*বরিখ বরিখ করি, সময় গোঙায়লু,*
     *খোয়লু জীবনক আশে।*
*হিম কর কিরণে,নলিনী যদি জারব,*
    *কি করব মাধবি মাসে।।*
*অঙ্কুরে-তপন তাপে, যদি জারব,*
     *কি করব বারিদ মেহে।*
*ইহ নব-যৌবন,  বিরহে গোঙায়ব,*
     *কি করব সো পিয়া লেহে।।*
*ভণয়ে বিদ‍্যাপতি,শুন বর-যুবতী,*
     *অব-- নাহি হোত নিরাশ।*
*সো ব্রজনন্দন,     হৃদয় আনন্দন,*
     *ঝটিতে মিলব তুয়া পাশ।।*
*🌻কাঞ্চনা লোকমুখে শুনেছেন, শ্রীগৌরাঙ্গ একবার জননী ও জন্মভূমি দর্শন করতে নবদ্বীপে আসিবেন।সখিকে সেই আশা রজ্জুতে ঝুলিয়ে রেখেছেন।এখন বসন্তকাল,নবপল্লবে বৃক্ষ-লতা শোভিত হয়েছে।মৃদুমন্দ মলয় সমীরণে বিরহিণীর প্রাণ আকুল করছে। পূর্ণিমার চন্দ্র নির্মল গগনে বসে ভুবনে মধুর হাসিরাশি ছড়াচ্ছেন। সন্ধ‍্যারাত্রে সুস্নিগ্ধ জ‍্যোৎস্নার আলোকে বসে শ্রীমতী বিষ্ণুপ্রিয়া ও কাঞ্চনা গৌরবিরহ-কথা বলছেন।বিষ্ণুপ্রিয়া বাণবিদ্ধ মৃগীর(হরিণের) ন‍্যায় গৌর-বিরহবাণে ছটফট করছেন। কাছে বসে কাঞ্চনা এই বিরহব‍্যাধির ঔষধ প্রয়োগ করছেন। ঔষধের গুণে সময়ে সময়ে অবশ‍্য ব‍্যাধির উপকার হচ্ছে। কিন্তু ব‍্যাধিটা তো অনেকদিনের, বড় উৎকট ও দুরারোগ‍্য বলে ঔষধের ফল ততটা হচ্ছে না।ব‍্যবস্থিত ঔষধগুলিও বড় উত্তম।কবিরাজটিও বড় বিজ্ঞ, ও চতুর, রোগিনীর মন বুঝে সময়োপযোগী ঔষধ প্রয়োগ করছেন।*
*🙌🙌🙌🙌🙌🙌🙌🙌🙌🙌🙌🙌🙌
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
 ꧁ ১৩৪.  শ্রীশ্রীবিষ্ণুপ্রিয়া দেবী 🙏 তৃতীয় ভাগ 
          ꧁ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ ꧂
        এই লিংকে ⬇️⬇️⬇️🙏⬇️⬇️⬇️ ক্লিক করুন 
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
*(১৩৪)🙌শ্রীশ্রীবিষ্ণুপ্রিয়াদেবী🙌*
*💧শচীমা-শ্রীমতী ও দামোদর পন্ডিত💧
🙌🙌🙌🙌🙌🙌🙌🙌🙌🙌🙌
*🍀বিষ্ণুপ্রিয়া দেবীর এই গৌরবিরহ ব‍্যাধিটি কবিরাজ কাঞ্চনা বিশেষ দক্ষতার সহিত চিকিৎসা করে আসছেন।এ ব‍্যাধির চিকিৎসক শ্রীমতীকাঞ্চনা দেবী, ইহার ঔষধ শ্রীগৌরকথা,গৌরলীলামৃত পান এ ব‍্যাধির পথ‍্য ; গৌর-রূপ-গুণবর্ণন এ ব‍্যাধির ঔষধের অনুপান। চিকিৎসা ভালই হচ্ছে, যেমন রোগ তেমনি ঔষধ খাওয়াচ্ছেন।কাজেই রোগের অনেক উপশম হতে লাগিল।শচীমা পুত্রবধূর ব‍্যাধি আরোগ‍্যের জন্য কবিরাজ শিরোমণি কাঞ্চনাকে নিযুক্ত করে নিশ্চিন্তে আছেন।তবে মাঝে মধ্যে রোগিনীর শুশ্রূষার জন্য বৃদ্ধা শচীমাকেও বিষ্ণুপ্রিয়ার কাছে যেতে হয়।পথ‍্যাদির ব‍্যবস্থা করতে হয়।শচীমাকেও কখনও কখনও কবিরাজ সাজতে হয়।যখন কাঞ্চনা শ্রীমতীর কাছে থাকেন না,শাশুড়ী পুত্রবধূ নির্জনে বসে গৌরকথা আরম্ভ করেন,তার আর কথা শেষ হয় না, সমস্ত রাত্রি জাগরণে কেটে যায়। সুতরাং ব‍্যাধির বৃদ্ধি হয়।রোগিনীর মূর্ছার সম্ভাবনা হয়।তখন শচীমা ব‍্যতিব‍্যস্ত হয়ে কাঞ্চনাকে ডাকতে হয়। এইভাবে এক,দুই তিন করতে করতে পাঁচ বৎসর অতীত হতে চলিল, তবুও শ্রীমীতর রোগের বিশেষ কোন উপকার দেখা গেন না, বরণ দিন দিন বৃদ্ধি হতে লাগিল।শ্রীমতীর শরীর ক্রমশঃ শীর্ণ হতে লাগল।ইহা দেখে শচীমা ও বৈদ‍্যরাজ কাঞ্চনার মনে বিষম ভয় উপস্থিত হল।বিষ্ণুপ্রিয়ার শরীরে সেই কান্তি নাই,বদনে সে শোভা নাই,প্রফুল্ল কুসুমসম অতি সুন্দর মুখখানি যেন শুকিয়ে গিয়েছে।পরিধানের মলিন বসনে সর্ব অঙ্গ আবৃত করে শ্রীগৌরবিরহিণী ভূমিশয‍্যায় শয়ন করে আছেন, আর মধ্যে মধ্যে "হা নাথ" "হা নাথ" হা গৌরাঙ্গ" বলে দীর্ঘ নিঃশ্বাস ফেলছেন। শচীমা কাছে যান,কাঞ্চনা আছেন, তিনি সখিকে অনেক বুঝাবার চেষ্টা করেন, বুঝিয়ে বলেন, সখি! অনেক কেঁদেছ, আর কাঁদিও না, একটু বিরাম নাও? নিশ্চয়ই তোমার প্রাণবল্লভের দর্শন পাবে। তিনি শীঘ্রই জননী ও জন্মভূমি দর্শনে আসিবেন, আর একটু অপেক্ষা কর? শ্রীমতী এই কথাগুলি শুনে মনে মনে ভাবলেন, তাতে আমার কি?প্রভু তো এ হতভাগিনীকে দর্শন দিবেন না, এ পাপিনীর মুখ দর্শন করবেন না, করলে তাঁর ধর্মনাশ হবে!শ্রীমতী মনের কথা মনেই রাখলেন। কাঞ্চনাকে অতি ধীরে ধীরে বললেন, সখি! এমন দিন কবে হবে? প্রাণবল্লভ এই হতভাগিনীর জন‍্যই গৃহত‍্যাগ করেছেন।(এই যে যার মনে একবার যদি কোন কুভাবনা প্রবেশ করে, সেই ভাবনা যদি নিজে হতে নিজেই দূর না করে তবে, পৃথিবীতে এমন কোন ঔষধ নেই যে সেই ঔষধ দ্বারা সেই রোগ দূরীভূত করতে পারে।) শ্রীমতী বললেন,এই পাপিনী জীবিত থাকতে তিনি নবদ্বীপে আসিবেন বলে বোধ হয় না।তখন শ্রীমতীকে প্রবোধ দিয়ে কাঞ্চনা বললেন,🍀মহাপ্রভুর সংবাদ নিয়ে শ্রীদামোদর পন্ডিত এসেছেন।মহাপ্রভু বলে দিয়েছেন,তিনি শীঘ্রই নবদ্বীপে আসিবেন।🍀*
*🌻এ দিকে শচীমা পুত্র-বিরহ-শোকে দিবারাত্রি কেঁদে কেঁদে চক্ষুরত্ন দুইটি হারাতে বসেছেন।শ্রীমতী বিষ্ণুপ্রিয়া দেবীর রূপযৌবন তাঁর বক্ষের শেলস্বরূপ।শ্রীগৌরহরি এই শেল জননীর বক্ষে মেরেছেন।শচীমা ব্রজের যশোদার ভাবেই মত্ত থাকেন।নিমাই আমার নীলাচলে গিয়েছে,শচীমা ভাবেন,শ্রীকৃষ্ণ মথুরায় রাজা হয়ে সবই ভুলে গিয়েছেন।যত যোগী,সন্ন‍্যাসী, অবধূত দেখেন, তাঁদের পেছন পেছন ছুটে গিয়ে জিজ্ঞাসা করেন "তোমরা কি গো একটি সোনার কচি ছেলে সন্ন‍্যাসী দেখেছ"?তার নাম শ্রীকৃষ্ণচৈতন‍্য, সর্বদাই তাঁর মুখে কৃষ্ণনাম,কাঁচা সোনার মত তাঁর দেহের বর্ণ,সর্বদা নয়নে তাঁর জলধারা।*
*🙌🙌🙌🙌🙌🙌🙌🙌🙌🙌🙌🙌🙌
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
 ꧁ ১৩৫.  শ্রীশ্রীবিষ্ণুপ্রিয়া দেবী 🙏 তৃতীয় ভাগ 
          ꧁ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ ꧂
        এই লিংকে ⬇️⬇️⬇️🙏⬇️⬇️⬇️ ক্লিক করুন 
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
*(১৩৫)💧শ্রীশ্রীবিষ্ণুপ্রিয়াদেবী💧*
*🌹শচীমা-শ্রীমতী ও দামোদর পন্ডিত🌹*
🙌🙌🙌🙌🙌🙌🙌🙌🙌🙌🙌🙌
*🌻সর্বদা নয়নে তাঁর জলধারা।সেটি আমার সোনার বাছা নিমাইচাঁদ। তোমরা কি তাঁকে দেখেছ?*
*নীলাচল পুরে,       গতায়াত করে,*
          *সন্ন‍্যাসী বৈরাগী যারা।*
*তাহা সভাকারে,   কান্দিয়া সুধায়,*
         *শচী পাগলিনী পারা।।*
*তোমরা কি এক, সন্ন‍্যাসী দেখেছ*
*শ্রীকৃষ্ণচৈতন‍্য নাম,তারে কি ভেটেছ?*
*বয়স   নবীন,         গলিত কাঞ্চন,*
       *জিনি তনুখানি গোরা।*
*হরেকৃষ্ণ নাম,      বোলয়ে সঘনে,*
       *নয়নে গলয়ে ধারা।।*
*🌼শচীমা পাগলিনীর মত দৌড়ায়ে গিয়ে সকলকে এইকথা জিজ্ঞাসা করেন ; কিন্তু কেউই বলে না যে এমন নবীন সন্ন‍্যাসীটিকে কোথাও দেখেছি। বৃদ্ধা বয়সে মধ্যে মধ্যে শ্রীবাস পন্ডিতের বাড়ী ছুটে গিয়ে দেখে আসেন, তাঁর হারাধন নিমাই সেখানে এসেছে কি না?কখন গঙ্গাতীরে বসে নিমাই!নিমাই! নিমাইরে! বাপরে!? কোথায় গেলি রে?বলে উচ্চৈঃস্বরে রোদন করে তখন নবদ্বীপবাসীর হৃদয় ফেটে যায়, এই বৃদ্ধ বয়সে এত কষ্ট!শচীমায়ের করুণ রোদনে পশুপক্ষী বৃক্ষলতাদিও বিচলিত হয়।ভাগীরথী দারুণ মনস্তাপে উছলিয়ে উছলিয়ে ফুঁপিয়ে ফুঁপিয়ে কাঁদতে থাকেন।নদীয়াবাসীর তো কথায় নাই।তারা শচীমায়ের দুঃখে ব‍্যাকুল হয়ে ছুটে গিয়ে তাঁকে কোলে তুলে গৃহে রেখে আসেন।এইরূপে বৃদ্ধা শচীমা ও শ্রীমতীর দুঃখে দিন কাটছে।দেখতে দেখতে পাঁচ বছর হয়ে গেল,তবুও দুঃখের লাঘব না হয়ে বরণ বেড়েই চলেছে।মহাপ্রভুর পুরাতন ভৃত‍্য বৃদ্ধ ঈশান শচীমা ও বিষ্ণুপ্রিয়ার রক্ষণাবেক্ষণ করেন, প্রভুর গৃহের কর্তা দামোদর পন্ডিত, প্রভুর জননী ও ঘরণীর তত্ত্বাবধান করেন।তিনি প্রতি বৎসরই অন‍্যান‍্য ভক্তগণ সঙ্গে মহাপ্রভুকে দর্শন করতে নীলাচলে গমন করেন।তিনিই শচীমায়ের ও শ্রীমতীর সমাচার মহাপ্রভুকে দেন এবং মহাপ্রভুর সমুদয় সংবাদ এনে দেবীদ্বয়কে জ্ঞাত করান।শচীদেবীর প্রদত্ত দ্রব‍্যাদি পরম আনন্দের সহিত ও সমাদরে দামোদর পন্ডিত মস্ততে বহন করে মহাপ্রভুর নিকটে নিয়ে যান এবং মহাপ্রভুকে দিয়ে কৃতকৃতার্থ হন। ভক্তগণের সঙ্গে তাঁদের পরিবারবর্গও মধ্যে মধ্যে শ্রীক্ষেত্র-দর্শন উপলক্ষ‍্য করে মহাপ্রভুর শ্রীচরণ দর্শন করতে যান।তারমধ‍্যে শ্রীবাসের পত্নী মালিনী এবং মহাপ্রভুর মাসী চন্দ্রশেখর আচার্য‍্যেরত্নের পত্নী প্রধানা।প্রভুর জননী ও ঘরণীর সমস্ত কথায় ইঁহারা মহাপ্রভুর কর্ণগোচর করবার জন্য চেষ্টা করেন এবং নীলাচলে প্রভুর প্রত‍্যেক কাজগুলি দেখে ও শুনে এসে শচীমা ও শ্রীমতীকে বলেন, শুনে তাঁরা তৃপ্ত হন।দামোদরের কাছে সবকথা শুনতে পান না, কেবল বাহ‍্যিক সন্ন‍্যাস জীবনের সবকথা বলেন, আর মহাপ্রভুর উৎকট ও কঠোর বৈরাগ‍্যের কথাগুলি খুলেতাঁদের বলেন না।দামোদর প্রতি বৎসর নীলাচলে গমন করেন, মালিনী বা শচীদেবীর ভগ্নী তা পারেন না। কাজে কাজে দামোদরই শচী-বিষ্ণুপ্রিয়ার নিকট যথানিয়মে প্রতি বৎসর মহাপ্রভুর সংবাদ এনে দেন।এক বৎসরকাল দেবীদ্বয়কে মহাপ্রভুর সংবাদের আশায় পথপানে তাকিয়ে থাকতে হয়। মধ্যে মধ্যে মহাপ্রভু দামোদরের হাতে জননীর জন‍্য শ্রীশ্রীজগন্নাথদেবের প্রসাদের সঙ্গে অন‍্যান‍্য কিছু দ্রব‍্যাদিও পাঠিয়ে দেন।রাজা পট্টবস্ত্র বান্ধিয়া দেন। মহাপ্রভু রাজদত্ত সেই পট্টবস্ত্র মস্তকে করে রথাগ্রে নৃত্য করেন।রাজাপ্রতাপরুদ্র জানেন মহাপ্রভু কখনও সে বস্ত্র ব‍্যবহার করবেন না, মহাপ্রভুর ভক্তগণও তা ব‍্যবহার করবেন না,তবে কি জন্য এই বহুমূল‍্য পট্টবস্ত্রখানি প্রতি বৎসর তিনি প্রভুকে দেন?রাজা প্রতাপরুদ্র জানেন, মহাপ্রভুর জননী ও ঘরণী নবদ্বীপে আছেন, ব‍ৎসরে বৎসরে মহাপ্রভুর দেশের লোক মহাপ্রভুর শ্রীচরণ দর্শন করতে নীলাচলে আসেন,তাঁদের হাতে মহাপ্রভু প্রসাদ ও দ্রব‍্যাদি পাঠান। মনে মনে রাজা প্রতাপরুদ্র ভাবেন, যদি অন‍্য দ্রব‍্যাদি ও প্রসাদের সঙ্গে এই শাড়ীখানি কোন ভাবে মহাপ্রভুর গৃহে গিয়ে পড়ে এবং তাঁর ঘরণীর শ্রীঅঙ্গে উঠে,তাহলে তাঁর জীবন সার্থক হবে,তিনি কৃতার্থ হবেন। রাজা প্রতাপরুদ্র দেখেন, মহাপ্রভু মহাবিরক্ত সন্ন‍্যাসী, মৃত্তিকানির্মিত করঙ্গ,ছিন্ন কৌপীন ও কম্বল তাঁর সম্বল।*
*🌹তাঁকে রাজবেশে সাজাবার বড় সাধ,তা পূর্ণ হবার নহে, তাই প্রভু-পত্নীকে যদি বস্ত্রালঙ্কারে সাজাতে পারেন,তার চেষ্টায় থাকেন,সেইজন‍্যই এই বহুমূল‍্য বস্ত্রদান।রাজার এই মনের ভাবটি অবশ‍্য কাঊকেও বলতে সাহস করেন না।মনের কথা মনেই রাখেন, মহাপ্রভু আমার অন্তর্য‍্যামী, ভক্তের মনের কথা ও বাসনা জানতে পেরেছেন।চতুর শিরোমণি শ্রীগৌর ভগবান ভক্তের মনের অভিলাষ পূর্ণ করবার জন‍্যই দামোদরকে দিয়ে রাজদত্ত পট্টবস্ত্রখানি প্রতি বৎসরই জননীর কাছে পাঠিয়ে দিয়ে থাকেন।মহাপ্রভু মুখে কিছু বলেন না, মহাপ্রভুর ভক্তগণ সকল দ্রব‍্যই অতি যত্ন সহকারে রক্ষা করেন, মহাপ্রভু যেন কিছুই জানেন না, অথচ তাঁর মনোমত কার্য‍্য হচ্ছে,ইহাকেই বলে শ্রীভগবানের চাতুরী "কৌশলীর কৌশল"।*
🙌🙌🙌🙌🙌🙌🙌🙌🙌🙌🙌🙌🙌
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
 ꧁ ১৩৬.  শ্রীশ্রীবিষ্ণুপ্রিয়া দেবী 🙏 তৃতীয় ভাগ 
          ꧁ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ ꧂
        এই লিংকে ⬇️⬇️⬇️🙏⬇️⬇️⬇️ ক্লিক করুন 
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
*(১৩৬)🙏শ্রীশ্রীবিষ্ণুপ্রিয়াদেবী🙏*
*শচীমা-শ্রীমতী ও দামোদর পন্ডিত*
🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏
*🌻তিনি চতুরের শিরোমণি,তাঁর চাতুরীর মধ্যে প্রবেশ করবার কারও সাধ‍্য নেই। শ্রীগৌরহরি শ্রীমতীর জন্য বস্ত্র প্রসাদ অবশ্যই পাঠাবেন, এতে বিস্মিত হবার কোন কারণ নেই। তিনি প্রকাশ করে কিছু বলেন না, কিন্তু নবদ্বীপের লোক আসিলেই গৃহের সব সমাচার নিবিষ্টচিত্তে শ্রবণ করেন। বিশেষতঃ শ্রীমতীর কথা তাঁর বড় ভাল লাগে, তাই জগদানন্দ শ্রীক্ষেত্রে গিয়ে যখন মহাপ্রভুকে প্রণাম করে সকলের দুঃখের কথা জ্ঞাপন করেন, তিনি প্রথমে নদীয়ার কথা শুনতে চাইলেন এবং তদুত্তরে জগদানন্দ যখন শচীমাতা ও শ্রীমতীর কথা বিশেষ করে বর্ণনা করতে লাগলেন, মহাপ্রভু নিবিষ্টচিত্তে শ্রীমতীর কথাগুলি সবই শুনেন।জগদানন্দ বলছেন আর কাঁদছেন ; মহাপ্রভু নীরবে বিনতবদনে শ্রবণ করছেন=*
*তবে করজোড়েতে পন্ডিত ক্রমে বোলে।*
*নদীয়ার ভক্তগণ আছয়ে কুশলে*।।
*শচীমাতার বাৎসল‍্যতা নিরুপম হয়।*
*তোমার মঙ্গল লাগি দেবে আরাধয়।।*
*সাধুস্থানে আশীর্বাদ লহয়ে মাগিয়া।*
*আশীষ করয়ে নিজে উর্ধবাহু হঞা।।*
*বিষ্ণুপ্রিয়া মাতার কথা কি কহিমু আর।*
*তান ভক্তি নিষ্ঠা দেখি হইনু চমৎকার।।*
*শচীমাতা সেবা করেন বিবিধ প্রকার।*
*সহস্রেক জনে নারে ঐছে করিবার।।*
*প্রত‍্যহ প্রত‍্যূষে গিয়া শচীমাতা সহ*।
*গঙ্গাস্নান করি আইসেন নিজ গৃহ*।।
*দিনান্তেহ আর কভু না যান বাহিরে।*
*চন্দ্র সূর্য‍্য তান মুখ দেখিতে না পারে।।*
*প্রসাদ লাগিয়া যত ভক্তবৃন্দ যায়।*
*শ্রীচরণ বিনা মুখ দেখিতে না পায়।।*
*তান কন্ঠধ্বনি কেহ শুনিতে না পারে।*
*মুখপদ্ম ম্লান সদা চক্ষে জল ঝরে।।*
*শচীমাতার পাত্রশেষ মাত্র সে ভুঞ্জিয়া।*
*দেহরক্ষা করে ঐছে সেবার লাগিয়া।।*
*শচী-সেবাকার্য‍্য সারি পাইলে অবসর।*
*বিরলে বসিয়া নাম করে নিরন্তর*।।
*হরিনামামৃতে তান মহারুচি হয়।*
*সাধ্বী-শিখি-মণি শুদ্ধ প্রেমপূর্ণ কায়।।*
*তব শ্রীচরণে তাঁর গাঢ় নিষ্ঠা হয়।*
*তাহান কৃপাতে পাইনু তাঁর পরিচয়।।*
*তব রূপ-সাম‍্য চিত্রপট নির্মাইলা।*
*প্রেমভক্তি মহামন্ত্রে প্রতিষ্ঠা করিলা।।*
*সেই মূর্তি নিভৃতে করেন সুসেবন।*
*তব পাদপদ্মে করি আত্মসমর্পণ*।।
*তান সদ্ গুণ শ্রীঅনন্ত কহিতে না পারে।*
*এক মুখে মুঞি কত কহিমু তোমারে।।*
                              *(অঃ প্রঃ)*
*🌼মহাপ্রভু অন্তরঙ্গ ভক্তগণে বেষ্টিত হয়ে বসেছিলেন।শ্রীমতী কথা শুনতে শুনতে তা ভুলে গিয়ে ছিলেন।মহাপ্রভু ভাবছিলেন, তিনি নির্জনে বসে আছেন, জগদানন্দ তাঁকে প্রিয়াজীর কথা শুনাচ্ছেন,আর কেউ জানতে পারছেন না।মহাপ্রভুর নয়নদ্বয় দিয়ে নীরবিন্দু পড়ছিল, তা অন‍্য কেউ দেখতে পেলেন না, কিন্তু প্রভু জগদানন্দকে ফাঁকি দিতে পারলেন না।শ্রীমতীর কথা বিরাম হলেই প্রভু যেন একটু লজ্জিত হয়ে বাহ‍্য-বিরক্তির সঙ্গে জগদানন্দকে কহিলেন=*
*মহাপ্রভু কহে আর না কহ এই বাত।*
*শান্তিপুরে আচার্য‍্যের কহ সুসংবাদ।।*
                                   *(অঃ প্রঃ)*
*🌻চতুর শিরোমণি শ্রীগৌরহরির চাতুরী দেখে জগদানন্দ একটু হেসে অদ্বৈতাচার্য‍্যের কথা বলতে লাগলেন।*
*🌹শ্রীমতী বিষ্ণুপ্রিয়া দেবী রাজা প্রতাপরুদ্রের দেওয়া পট্টবস্ত্র পরিধান করেন কি না, তা প্রকাশ নাই।মহাপ্রভুর প্রেরিত দ্রব‍্য শ্রীমতীর শিরোধার্য‍্য,শ্রীমতী তা মস্তকে ধারণ করে কৃতার্থ মনে করেন।দাসীকে মহাপ্রভু স্মরণ করেছেন, এই ভেবে প্রেমাশ্রু বর্ষণ করেন।তাঁর দুঃখরাশির মধ্যে এই একবিন্দু সুখ।হয়ত বস্ত্রগুলি শ্রীমতী অতি যত্নে রক্ষা করেন।মহাপ্রভুর প্রেরিত দ্রব‍্যসামগ্রী শ্রীমতীর মহামূল‍্য ধন।বৃদ্ধা শাশুড়ির আজ্ঞা বিষ্ণুপ্রিয়া অবহেলা করতে পারেন না, শচীমা কখনও কখনও আহ্লাদ করে পুত্রবধূকে সেই বস্ত্র পরিধান করিয়ে দেন, অলঙ্কার পরিয়ে দেন, কিন্তু সে কেবল গৃহের ভিতরে।বস্ত্রালঙ্কার পরিধান করে শ্রীমতী কখনও গৃহের বাহির হতেন না।শোকতাপে জর্জরিতা শাশুড়ীর আদেশ মাথা পেতে গ্রহণ করতেন। কিন্তু বস্ত্রালঙ্কার পরিধান করে মনে বিন্দুমাত্র সুখ পেতেন না।*
🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
 ꧁ ১৩৭.  শ্রীশ্রীবিষ্ণুপ্রিয়া দেবী 🙏 তৃতীয় ভাগ 
          ꧁ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ ꧂
        এই লিংকে ⬇️⬇️⬇️🙏⬇️⬇️⬇️ ক্লিক করুন 
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
*(১৩৭)💧শ্রীশ্রীবিষ্ণুপ্রিয়াদেবী💧*
*শচীমা-শ্রীমতী ও দামোদর পন্ডিত*
^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^
*🌻বিষ্ণুপ্রিয়া বস্ত্রালঙ্কার পরিধান করে মনে বিন্দুমাত্র সুখ পেতেন না।যত শীঘ্রই পারেন,বস্ত্রালঙ্কার উন্মোচন করে রেখে দিতেন।অন্তর্য‍্যামী মহাপ্রভু নীলাচলে বসে মনশ্চক্ষে দেখতেন,তাঁর প্রাণপ্রিয়া পট্টবস্ত্র পরিধান করেছেন,রাজা প্রতাপরুদ্রও দেখতেন,তাঁর প্রভুপত্নী বস্ত্রালঙ্কারে ভূষিতা হয়েছেন,প্রভুর ও প্রভুভক্তের উভয়ের মনের সাধ পূর্ণ হত।শ্রীমতী বিষ্ণুপ্রিয়া যদি তা জানতে পারতেন বা বুঝতে পারতেন যে,এ কার্য‍্যে রসিকচূড়ামণি শ্রীগৌরহরির সম্মতি রয়েছে এবং তিনি ইহাতে সুখানুভব করেন,তাহলে তিনি শ্রীঅঙ্গ হতে বস্ত্রালঙ্কার উন্মোচন করতে পারতেন না।প্রাণবল্লভ যাতে সুখী হন,তাইই শ্রীমতীরকর্তব‍্য।🍀বলরাম দাস রচিত শচীদেবীর উক্তি প্রভু-প্রেরিত শাড়ী সম্বন্ধে একটি পদ এস্থলে উদ্ধৃত হল।*
*কোথা গেলি বিষ্ণুপ্রিয়া,শীঘ্র আয় মা চলিয়া,*
      *ক্ষেত্র হ'তে সমাচার এলো।*
*নিমাই মোর স্মরিয়াছে,কত কিনা পাঠিয়েছে,*
      *শচী পাছে বধূ দাঁড়াইল।।*
*দামোদর শচী আগে,শ্রীমহান্রসাদ রাখে,*
       *আর রথে বহুমূল‍্য শাড়ী।*
*নন্দোৎসব দিনে রাজা,বস্ত্রে করে প্রভু-পূজা,*
     *প্রভু উহা পাঠায়েছেন বাড়ী।।*
*শচী বলে বিষ্ণুপ্রিয়া,ধর শাড়ী পর গিয়া,*
     *পাঠায়েছে নিমাই তোর লাগি।*
*বাড়ীতে আসিতে নারে,সদা তোমা মনে করে,*
     *সে তোমার সুখ-দুঃখ ভাগী।।*
*দেবী শাড়ী করি বুকে,বলিলেন জননীকে,*
      *শাড়ী তুমি বিলাইয়া দাও।*
*বলে বলরাম দাস,ছাড় গো দুঃখিনী বেশ,*
     *শাড়ী পরি আগেতে দাঁড়াও।।*
*🌻নীলাচল হতে সংবাদ আসিল,মহাপ্রভু দক্ষিণ দেশ ভ্রমণ করে সুস্থ শরীরে পুনরায় নীলাচলে ফিরে এসেছেন এবং ভাল আছেন। দামোদর,মহাপ্রভুর দূত,দামোদর নীলাচল হতে এসেছেন,শচীমাকে প্রভু-দত্ত প্রসাদ দিয়ে তাঁর পুত্রের(নিমাইচাঁদের) সকল বৃত্তান্ত কহিলেন।বাৎসল‍্যময়ী প্রেমময়ী মা শচী দেবী এক এক করে পুত্রের সমস্ত করে দামোদরকে জিজ্ঞাসা করছেন আর তদুত্তরে দামোদর যা বলছেন,তা অত‍্যন্ত মনোযোগ সহকারে শ্রবণ করছেন।মায়ের মন, বলছেন,নিমাই কেমনটি হয়েছে?শরীর দুর্বল হয়নি তো?বাছা ভাল করে আহার করে না বোধ হয়?রাত্রিতে ঘুমায় কি না?কে তাকে রন্ধন করে খাওয়ায়?রাত্রে নিমাইয়ের কাছে কে শয়ন করে?নিমাই তাদের প্রতি তুষ্ট কি না? প্রভৃতি বাৎস‍্য ভাবপূর্ণ স্নেহমাখা কথোপকথনে দামোদরকে নিয়ে শচীমা অনেকক্ষণ কাটালেন।বিরহিনী বিষ্ণুপ্রিয়া অন্তরালে দাঁড়িয়ে উৎকর্ণ হয়ে সবকথা শুনছেন।দামোদর পন্ডিত এক এককরে শচীমায়ের সমস্ত প্রশ্নের উত্তর দিলেন এবং কহিলেন, মহাপ্রভু বড় আনন্দে আছেন।নিমাই আমার ভাল আছেন,সুখে আছেন,নীলাচলে আনন্দে আছেন, সকলে তাঁর যশোগান করছেন,"জয় নবদ্বীপ চন্দ্রের জয়" বলে সমগ্র গৌড়বাসী তাঁর পুত্রের জয়গান করছেন,এতে শচীমায়ের মনে ভীষণ আনন্দ হচ্ছে। তিনি শুনলেন, তাঁর পুত্রের কৃপায় কত পাপক্লিষ্ট জীব উদ্ধার হল,কলি-ক্লিষ্ট জীবের উদ্ধারের একটি সহজ-সাধ‍্য সাধনপথ উন্মুক্ত হল, এই ভেবে বৃদ্ধা শচীমায়ের মনে অপার আনন্দ হচ্ছে। তিনি আর এখন নিজের স্বার্থপরতার দিকে তাকাচ্ছেন না।*
🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
 ꧁ ১৩৮.  শ্রীশ্রীবিষ্ণুপ্রিয়া দেবী 🙏 তৃতীয় ভাগ 
          ꧁ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ ꧂
        এই লিংকে ⬇️⬇️⬇️🙏⬇️⬇️⬇️ ক্লিক করুন 
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
*(১৩৮)💧শ্রীশ্রীবিষ্ণুপ্রিয়াদেবী💧*
*শচীমা-শ্রীমতী ও দামোদর পন্ডিত*
🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏
*🌻তাঁর (শচীদেবীর) গর্ভজাত পুত্রের দ্বারা কলিহত জীবের ভববন্ধন মুক্ত হবার পথ পরিস্কৃত হচ্ছে,জীব উদ্ধার হচ্ছে, ইহা শুনে শচীমায়ের মনে বড় সুখ হ'ল।শ্রীমতী বিষ্ণুপ্রিয়া দেবী এখনও পূর্ববৎ(আগের মতই) কাতরা,বিষাদিতা ও মর্মাহতা হয়ে দিন যাপন করছেন।পতি-বিরহ-বিধুরা শ্রীমতী মনকে এতদিনেও প্রবোধ দিতে পারেননি। তাঁর মন কিছুতেই মানছে না ; কোন সুখেই সুখী হতে চাই না।চাই কেবল প্রাণবল্লভের সঙ্গ-সুখ, প্রাণ-গৌরদর্শন, আর তাঁর শ্রীচরণ-সেবা। হয়ত শ্রীমতীর ভাগ‍্যে তা নাই, তিনি জানেন ও বুঝেন,সেই দুঃখেই বিষ্ণুপ্রিয়া জীয়ন্তে মরা হয়ে আছেন।কোন বিষয়েতাঁর মনে আনন্দ হতে পারে না।শচীমা বৃদ্ধা হয়েছেন,সংসারতত্ত্ব সবই বুঝেছেন, পুত্রের প্রসাদে তাঁর জ্ঞান-চক্ষু উন্মীলিত হয়েছে,তিনি এখন মন স্থির করতে পারেন।শ্রীমতীর কথা স্বতন্ত্র, তিনি ভাবেন,তাঁর প্রাণবল্লভ সকলকে কৃপা করে উদ্ধার করছেন,জগতের যত পাপী-তাপী তাঁর কৃপায় কৃতার্থ হ'ল,কেবল তাঁর ভিখারিণী দাসী তাঁর কৃপায় বঞ্চিত। তিনি একটিবার কেবলমাত্র প্রাণবল্লভের দর্শন-ভিখারিণী,কৃপা করে তা দিলেন না,প্রভুকে দর্শন করে সকলে পাপমুক্ত হল, তাঁর পদরজ স্পর্শের অধিকারী সকলেই,বঞ্চিত কেবলমাত্র এই হতভাগিনী বিষ্ণুপ্রিয়া।হয়ত শ্রীমতীর এই দুঃখ যাবার নহে,এই দুঃখের কথা মনে হলেই শ্রীমতীর হৃদয় ফেটে যায়।ইহ জগতের সাংসারিক সুখের সর্বোচ্চস্থান অধিকার করে শ্রীমতী এক্ষণে সর্বনিম্নে পতিতা হয়েছেন ; রাজরাণী ভিখারিণী হয়েছেন।হয়ত ভিখারিণীও তাঁর অপেক্ষায় শতগুণে সুখী হয়।কারণ,তারও শ্রীগৌরাঙ্গ দর্শনে বাধা নাই। শ্রীমতী অনন্ত দুঃখ সমুদ্রে পতিত হয়ে কূল-কিনারা পাচ্ছেন না।এই দুঃখ-রাশির মধ্যে তাঁর একমাত্র সুখ,প্রাণনাথের নাম করলেই "হা নাথ,হা গৌর,হা গৌরাঙ্গ! বলে অনুরাগে ডাকলেই তিনি তাঁর প্রাণবল্লভকে সম্মুখে দেখতে পান। চর্ম-চক্ষে তিনি মহাপ্রভুর দর্শন পান না বটে,বাহ‍্যেন্দ্রিয় দ্বারা সেবা করতে পারেন না বটে, কিন্তু শ্রীমতী মনশ্চক্ষে সেই ভুবনমোহন রসিকচূড়ামণি শ্রীগৌর ভগবানকে সর্বদাই দেখতে পান এবং সিদ্ধ দেহে তাঁর সেবা করে কৃতার্থ হন।দুটি চক্ষু মুদিত করে শ্রীমতী যখন প্রাণনাথের ধ‍্যানে বসেন,তখনি তিনি তাঁর হৃদয় কন্দরে হৃদয়ের ধন শ্রীগৌরহরিকে দর্শন করে অতুল সুখ অনুভব করেন।ইহা যে মহাপ্রভুর আশীর্বাদ, মহাপ্রভু যখন গৃহত‍্যাগের বাসনা করেন, তখন একদিন শ্রীমতীকে বিষ্ণুপ্রিয়াকে বলেছিলেন=*
*শুন দেবী বিষ্ণুপ্রিয়া,তোমারে কহিল ইহা,*
     *যখন যে তুমি মনে কর।*
*আমি যথা তথা যাই,থাকিব তোমার ঠাঁই,*
     *এই সত‍্য করিলাম দৃঢ়।।চৈঃমঃ।।*
*🌻মহাপ্রভু সত‍্যরক্ষা করেছেন, শ্রীমতী কেঁদে ডাকলেই তিনি এসে সামনে উপস্থিত হন।বুঝি দেবীর নয়নজল দেখতে তাঁর বড় ভাল লাগে।(যাঁরা প্রকৃত ভক্তিপথে আছেন, তাঁদের সকলের একই কথা, না কাঁদিলে ভগবান সম্মুখে দেখা দেন না।)দরদর ধারাসিক্ত শ্রীমতীর অনিন্দ‍্য বদনচন্দ্রখানি দেখলে মহাপ্রভুর মনে বোধ হয়,অধিকতর সুখ হয়।*
*🌻তাই যখনই বিষ্ণুপ্রিয়া "হা নাথ, হা গৌরাঙ্গ " বলে কাঁদেন,যখনই দেবীর নয়নজলে বক্ষ ভেসে যায়,তখনই মহাপ্রভু তাঁর পদ্মহস্ত দিয়ে তাঁর নয়নবারি মুছিয়ে দিতে আগমন করেন।শ্রীগৌরহরি জননীকেও বলেছিলেন=*
*যে দিন দেখিতে মোরে চাহ অনুরাগে।*
*সেইক্ষণ তুমি মোর দরশন পাবে*।। *চৈঃমঃ।।*
*🌻এস্থলে "অনুরাগ" কথাটি বলবার একটু তাৎপর্য‍্য আছে।মহাপ্রভু প্রেমের অবতার,কারুণ‍্য রসই মহাপ্রভুর অতি প্রিয়।প্রেম-ভক্তি,করুণা মাখা,শ্রীগৌরাঙ্গ করুণাময়।*
🙌🙌🙌🙌🙌🙌🙌🙌🙌🙌🙌🙌🙌
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
 ꧁ ১৩৯.  শ্রীশ্রীবিষ্ণুপ্রিয়া দেবী 🙏 তৃতীয় ভাগ 
          ꧁ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ ꧂
        এই লিংকে ⬇️⬇️⬇️🙏⬇️⬇️⬇️ ক্লিক করুন 
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
 *(১৩৯)🙌শ্রীশ্রীবিষ্ণুপ্রিয়াদেবী🙌*
*শচীমা-শ্রীমতী ও দামোদর পন্ডিত*
💧💧💧💧💧💧💧💧💧💧💧
*🌻করুণার প্রগাঢ় আবেগে সর্বদা মহাপ্রভু বিহ্বল থাকতেন।কেউ কখন তাঁর শুষ্ক নয়ন দেখেনি।শ্রীগৌরাঙ্গ অনুরাগী ভক্তরূপে স্বয়ং আচরিয়া জীবকে অনুরাগ-ভজনের শিক্ষা দিয়ে গিয়েছিলেন।প্রেম-ভক্তি-পূর্ণ ভক্তের নয়নজলই অনুরাগভজনের মূলমন্ত্র। প্রেমাশ্রুজলে ভক্তি সহকারে শ্রীগৌ ভগবানের শ্রীপাদপদ্ম ধৌত করতে হবে,নয়নজলে তাঁর শ্রীচরণকমলে অর্ঘ‍্য দিতে হবে, তাহলে তাঁর দর্শন মিলবে।প্রেম-ভক্তি গৌর-ভক্তের-নয়ন জলে পুষ্ট হয়।ভগবৎ-প্রেমে হৃদয় গলিত না হলে নয়নে জল আসে না। যিনি কাঁদতে পারেন,তাঁর হৃদয়ে শ্রীগৌর ভগবান আছেন,যাঁর নয়নে জল আসে না,তাঁর মানব আকার আছে বটে,হৃদয় নেই।হৃদয় না থাকলে গলবে কি?নয়নে জল আসবে কেন?*
*🍀শ্রীমতী বিষ্ণুপ্রিয়া প্রাণবল্লভের আদেশ যথাযথ পালন করে আসছেন।তাই তিনি এত কাঁদেন, সর্বদা নয়নজল দিয়ে মহাপ্রভুর পাদপদ্ম ধৌত করেন।এই অনুরাগ ভজনের ফলে মহাপ্রভু শ্রীমতীকে দর্শন দেন,স্বহস্তে বিষ্ণুপ্রিয়াদেবীর নয়ন জল মুছিয়ে দেন।এ সব অনুরাগ ভজনের ফল, অতি গুহ‍্য কথা।ইহা কেউ জানতে পারে না, শ্রীমতীও কারো কাছেই বলেন না,(এই যে ভজনের কথা)।কিন্তু এসব কথা শ্রীমতীর মরমী সখি কাঞ্চনাকেও বলেন না।শ্রীমতী শ্রীগৌরহরিকে এইভাবে ভজন করে মনে সুখ পান।এই সুখ টুকু আছে বলেই তিনি জীবিত আছেন।শচীমায়ের অনুরাগ ভজন অন‍্যরকম।কখন কখন বিষ্ণুপ্রিয়ার মনে হয়,তাঁর প্রাণনাথ সর্বজনপূজ‍্য,জগৎমান‍্য সন্ন‍্যাসীঠাকুর।তাঁর কৃপাবিন্দু প্রাপ্তির লালসায়,তাঁর কৃপাকরুণা প্রার্থী হয়ে কতশত পন্ডিত,কতশত কুলীন ব্রাহ্মণ, কতশত রাজা মহারাজা,তাঁর শরণাগত হয়েছেন,লক্ষ লক্ষ নরনারী তাঁর প্রাণবল্লভের নামে আনন্দে পুলকিত হয়ে জয়ধ্বনি করছে, তাঁর অপরূপ রূপরাশিতে বিমুগ্ধ হয়ে তাঁর অনুগমন করছে।এমন জগৎপূজ‍্য স্বামী যাঁর, তিনি নিশ্চয়ই পরম সৌভাগ্যবতী রমণী। এমন স্বামীকে নিয়ে কি ঘরকন্না করা যায়, কারণ তিনি বহুবল্লভ, তিনি জগতের স্বামী। তিনি ত্রিভুবনপতি।তাঁকে কে গৃহে বেঁধে রাখবে?এই সমস্ত কথা যখন বিষ্ণুপ্রিয়ার মনে উদয় হয়, এত দুঃখের মধ্যেও তখন তাঁর মনে একটু সুখ বোধ হয়।বিষ্ণুপ্রিয়া এক্ষণে বুঝেছেন, শ্রীগৌরসুন্দর কেবল মাত্র তার স্বামী নহেন। তিনি নরনারী উভয়েরই স্বামী, অখিল ব্রহ্মান্ডপতি, অনন্ত কোটি ব্রহ্মান্ডের অধিপতি। তিনি পতিত অধমের পিতা,দীন দুঃখীর পালক।তাঁকে গৃহে বেঁধে কি রাখা যায়? তাহলে জগতের মঙ্গল কিসে হবে?জীব উদ্ধার কার্য‍্য কি করে সুসিদ্ধ হবে।*
🤚✋🤚✋🤚✋🤚✋🤚✋🤚✋🤚
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
 ꧁ ১৪০.  শ্রীশ্রীবিষ্ণুপ্রিয়া দেবী 🙏 তৃতীয় ভাগ 
          ꧁ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ ꧂
        এই লিংকে ⬇️⬇️⬇️🙏⬇️⬇️⬇️ ক্লিক করুন 
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
*(১৪০)💧শ্রীশ্রীবিষ্ণুপ্রিয়াদেবী💧*
*শচীমা-শ্রীমতী ও দামোদর পন্ডিত*
~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~
*🌼শ্রীগৌরহরি গৃহে থাকলে শ্রীগৌরাঙ্গ অবতারের মূল উদ্দেশ্য সাধন হত না।কৃপা করে মহাপ্রভুই এই জ্ঞানটি শ্রীমতীকে দিয়েছেন।মহাপ্রভুই এই দিব‍্য জ্ঞানদাতা।তবে বিষ্ণুপ্রিয়ার বড় দুঃখ সকলেই শ্রীগৌরহরির দর্শন পাচ্ছেন,তাঁর সঙ্গসুখে মানবজীবন চরিতার্থ করছেন,তাঁর সেবায় অধিকার পাচ্ছেন,বিষ্ণুপ্রিয়াকে কেন শ্রীকৃষ্ণচৈতন‍্য এ সুখে বঞ্চিতা করলেন।এর মর্ম এখনও তিনি বুঝতে পারেননি বলেই এত দুঃখ।শ্রীগৌর ভগবানই শ্রীমতীকে এ দুঃখ দূরীকরণের উপায় বলে দিবেন, বিষ্ণুপ্রিয়ার দুঃখ তিনিই দূর করে দেবেন।সর্ব-দুঃখহারী বিষ্ণুপ্রিয়াবল্লভ শ্রীগৌর ভগবানের শ্রীচরণে অধম অকৃতী গ্রন্থকারের করযোড়ে নিবেদন,শ্রীমতীর এই দুঃখটি দূর করে দিয়ে তাঁর ভক্তবৃন্দের প্রাণ রক্ষা করুন।শ্রীমতীর দুঃখে পাষাণও বিগলিত হয়।শ্রীমতীর দুঃখ আর সহ‍্য করতে পারছি না।তাঁর শ্রীচরিত লিখতে আরম্ভ করে পর্যন্ত রাত্রিদিন কাঁদছে।যত দিন দেহে প্রাণ থাকবে,ততদিন কাঁদবে।হে সর্ব-দুঃখহারী গৌরভগবান্, হে বিষ্ণুপ্রিয়াবল্লভ! তোমার কাছে প্রাণ খুলে এই নিবেদনটি করলাম।অধমের প্রার্থনাটি শুনবে কি?তোমাকে তোমার ভক্ত-বৃন্দ নিজজন-নিঠুর বলে থাকে।হে দীন দয়াল!ভক্তবৎসল!দীন শরণ!নিজজনকে তুমি এত কষ্ট কেন দাও?এতে তোমার কি সুখ হয়?নিজজন কি তোমার ভক্ত নয়?তারা যে তোমাকে ভিন্ন অন‍্য কাউকেও জানে না।শ্রীমতী বিষ্ণুপ্রিয়া দেবীর ক্রন্দনে তোমার হৃদয় বিগলিত হচ্ছে না? তুমি লোকশিক্ষার জন্য, স্বয়ং আচরণ করে জীবকে ধর্ম-শিক্ষা দিবার জন্য এত নিঠুরালি করছ!তা বেশ!নিজজনকে প্রাণে মেরে লাভ কি?বিষ্ণুপ্রিয়ার অবস্থা একবার এসে দেখ দেখি,ঠাকুর তাঁর দশাটি কি হয়েছে? যদি প্রাণে মারবার বাসনা থাকে,মন থেকে এই কথাটি বল না কেন?সকল জ্বালা একেবারে ফুরিয়ে যায়।হে মহাপ্রভু!অধমাধম লেখকের ধৃষ্টতা অপরাধ ক্ষমা করবে।বড় দুঃখেই প্রাণ খুলে তোমার শ্রীচরণে মনের কথাটি নিবেদন করলাম,অপরাধ নিও না।*
🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🌿
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
 ꧁ ১৪১.  শ্রীশ্রীবিষ্ণুপ্রিয়া দেবী 🙏 তৃতীয় ভাগ 
          ꧁ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ ꧂
        এই লিংকে ⬇️⬇️⬇️🙏⬇️⬇️⬇️ ক্লিক করুন 
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
*(১৪১)🙌শ্রীশ্রীবিষ্ণুপ্রিয়াদেবী🙌*
*🙏মহাপ্রভুর জন্ম-ভূমি-দর্শন🙏*
°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°
      *🌻শচীমায়ের উক্তি🌻*
*পুন নবদ্বীপে আইল আমার নিমাই।*
*ধরিয়া রাখহ লোক কিছু দোষ নাই।।* *(চৈঃমঃ)*

*🍀পাঁচ বৎসর অতীত হল শ্রীগৌরসুন্দর নবদ্বীপ আঁধার করে গৃহত‍্যাগ করেছেন।সন্ন‍্যাসধর্মের নিয়ম অনুসারে জননী ও জন্মভূমি প্রত‍্যেক সন্ন‍্যাসীর জীবনে একবার মাত্র দর্শন করতে হয়।সেই জন্য শ্রীশ্রীকৃষ্ণ-চৈতন‍্য দেব জননী ও জন্মভূমি দর্শন করতে নবদ্বীপে আসছেন,এইকথা সর্বত্র প্রচারিত হয়েছে।তিনি ভাগীরথীর পরপারে কুলিয়া গ্রামে এসেছেন।*
*🌻শ্রীচৈতন‍্য মঙ্গলে পায়🌻*
*গঙ্গাস্নান করি প্রভু রাঢ় দেশ দিয়া*।
*ক্রমে ক্রমে উত্তরিলা নগর কুলিয়া।।*
*জন্মস্থান দেখিব এ সন্ন‍্যাসীর ধর্ম।*
*নবদ্বীপ নিকটে গেলা এই তার মর্ম।।*
*🍀নবদ্বীপ এবং তার নিকটবর্তী জায়গায় লক্ষ লক্ষ লোক এসে মহাপ্রভুকে ঘিরে ফেলেছে।চতুর্দিকে কোলাহল, কুলের কুলবধূ সকল শ্রীগৌরাঙ্গ-দর্শনে চলেছেন।হরিধ্বনিতে দিঙমন্ডল পরিপূর্ণ। "জয় নবদ্বীপ-চন্দ্রের জয়"! জয় শ্রীগৌরাঙ্গের জয়! সকলের মুখে একই ধ্বনি।নদীয়ার আবাল-বৃদ্ধ-বনিতা গঙ্গাতীরে প্রভু-দর্শনে এসেছেন।তাদের সকল শোক-দুঃখ দূর হয়েছে।*
*🌻শ্রীচৈতন‍্য মঙ্গলে দেখা যায় 🌻*
*প্রভু আগমন শুনি নদীয়ার লোক*।
*পুন লেউটিলা সভে পাসরিল শোক।।*
*হা হা গোরাচাঁদ বলি অনুরাগে ধায়।*
*কুবধূ ধায় তারা পাছু নাহি চায়।।*
*🌼শচীমা ও শ্রীমতী বিষ্ণুপ্রিয়া দেবী এ শুভ সংবাদ পেয়েছেন।শচীমায়ের আনন্দের সীমা নেই।তিনি আনন্দবিহ্বল হয়ে উর্ধমুখে ছুটেছেন। তিনি চেতনাশূন‍্য হয়ে চলেছেন=*
*বিহ্বল চেতন শচী ধায় উর্ধমুখে।*
*এ ভূমি আকাশ যার ডুবিয়াছে শোকে।।ঐ*
*🌺অনেক দিএর পর আজি নিমাইচাঁদের মুখখানি দেখবেন,সেই আনন্দে শচীদেবীর হৃদয় নৃত্য করছে।বাছার মুখখানি তিনি বহুদিন দেখেন নাই।দুঃখিনী জননীকে নিমাইচাঁদের আবার মনে পড়বে,জননীকে দেখতে বা দেখা দিতে আবার তিনি নবদ্বীপে আসিবেন,এ আশা শচীমা কখনও করেন নাই। গৌরহরি দর্শনে দলে দে নরনারী গঙ্গাতীর অভিমুখে ছুটছেন।বলা যায় নবদ্বীপের সমস্ত লোক একত্র হয়েছে।পথ ঘাট জনাকীর্ণ, নদীয়ার পথে যেন জনস্রোত চলছে।পথ পাওয়া দুষ্কর*
*🌻শ্রীচৈতন‍্য ভাগবতে পায়🌻*
*পথ নাহি পায় কেহ লোকের গহনে।*
*বন জঙ্গল ভাঙ্গি যায় প্রভুর দর্শনে।।*
*🌻বৃদ্ধা শচীমা পুত্রবধূকে সঙ্গে করে গঙ্গাস্নানের নাম করে সেই জনস্রোতের মধ‍্য দিয়ে নদীয়ার পথে বাহির হয়েছেন।হাজার হাজার লোক বলছে,মহাপ্রভু জননী ও জন্মভূমি দর্শন করতে আসিয়াছেন, তিনি স্বয়ং এসে জননীকে দর্শন দিবেন, কিন্তু তা শচীমায়ের বিশ্বাস হচ্ছে না।আশার উপর নির্ভর করে তিনি আর গৃহে থাকতে পারলেন না, শ্রীমতী বিষ্ণুপ্রিয়া দেবীকে নিয়ে এই জনস্রোতের মধ্যে বাহির হয়েছেন। শ্রীমতী এক্ষণে পূর্ণ যুবতী,এই লোকের ভিড়ে তাঁকে নিয়ে পথে বাহির হওয়া বড়ই দুঃসাহসের কাজ, শচীমা তা বিলক্ষণ জানেন।জেনে শুনে তিনি কেন এই দুঃসাহসিক কাজে ব্রতী হলেন,তার কিছু তাৎপর্য‍্য আছে।সন্ন‍্যাসী স্ত্রীর মুখদর্শন করতে নেই, তাই বলে স্ত্রী কেন সন্ন‍্যাসী স্বামীর শ্রীচরণ দর্শনসুখে বঞ্চিত হবে? বৃদ্ধা শচীমা ইচ্ছা করেই বিষ্ণুপ্রিয়াকে সঙ্গে নিয়েছেন।শচীমায়ের মনে ভয়, পাছে নিমাই জন্মভূমি ও জননী দর্শন করেই পলায়ন করেন,পাছে অনাথিনী বিষ্ণুপ্রিয়া তাঁর পতিদেবতার শ্রীচরণ দর্শনে বঞ্চিতা হয়, এই ভেবেই তিনি এই দুঃসাহসিক কাজে প্রবৃত্ত (রত) হয়েছেন। সঙ্গে মহাপ্রভুর পুরাতন ভৃত‍্য ঈশান আছেন।তিনি সর্বাগ্রে চলেছেন।শ্রীমতী শাশুড়ির হাত ধরে চলেছেন।শচীমায়ের এক হাতে একগাছি যষ্ঠি, ঈশান ও শচীমার মধ‍্যস্থলে বিষ্ণুপ্রিয়া দেবী।তাঁর নয়নদুটি শাশুড়ির চরণের উপর নজর দিয়ে চলেছেন, পাছে আমার চরণ না ঠেকে।অন‍্য কোন দিকে তাঁর দৃষ্টি নেই।*
🙌🙌🙌🙌জয় মহাপ্রভু🙌🙌🙌🙌
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
 ꧁ ১৪৫.  শ্রীশ্রীবিষ্ণুপ্রিয়া দেবী 🙏 তৃতীয় ভাগ 
          ꧁ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ ꧂
        এই লিংকে ⬇️⬇️⬇️🙏⬇️⬇️⬇️ ক্লিক করুন 
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
*(১৪৫)🙌শ্রীশ্রীবিষ্ণুপ্রিয়াদেবী🙌*
*মহাপ্রভুর জননী ও জন্মভূমি দর্শন*
▪ ▪ ▪ ▪ ▪ ▪ ▪
*🌻কিছুক্ষণের পর আর মহাপ্রভুকে দেখা গেল না, তিনি পুনরায় অদৃশ্য হলেন।সকলেই হা-হুতাশ হৃদয়ে গৃহাভিমুখে ফিরলেন। জনস্রোত কমে গেলে ধীরে ধীরে শচীমা ও শ্রীমতী ঈশানের সঙ্গে গৃহে ফিরলেন।গৃহে এসে শাশুড়ি ও পুত্রবধূ মিলে প্রাণের আবেগে অনেকক্ষণ পর্যন্ত রোদন করলেন।শ্রীবলরাম দাস রচিত শ্রীমতীর উক্তি একটি অতি সুন্দর পদ এস্থলে উদ্ধৃত হ'ল।গঙ্গার তীরে দাঁড়িয়ে শ্রীমতী বিষ্ণুপ্রিয়া শাশুড়ীকে সম্বোধন করে বলছেন=*
         *ও মা! ধর ধর আমারে।*
*কেন বা আনিলে সুরধূনীতীরে,*
*ওপারে কুলিয়া দেখ নয়ন ভরে,*
*লক্ষ লক্ষ লোক হরি হরি বলে,*
     *কেন মা জননী!বল আমারে।।*
*লক্ষ লক্ষ লোক হরি ব'লে নাচে,*
*বুঝি তোর পুত্র ওখানে বিরাজে,*
*উহু মরি মরি দেখিবারে নারি,*
     *এ দুঃখ আমার কহিব কারে।*
*পাপী তাপী হ'লো শ্রীচরণভোগী,*
*জগতে বিষ্ণুপ্রিয়া সে বিয়োগী,*
*দাসীরে দন্ড দিবার লাগি এই অবতার।*
*চল চল মাগো! আমায় নিয়ে চল,*
*লুকাইয়া চল ঝাঁপিয়া অঞ্চল,*
*ঐ যে দেখা যায় দীঘল অঙ্গ,*
*ঐ তো আমার প্রাণনাথ শ্রীগৌরাঙ্গ।*
*সোনার অঙ্গেতে কৌপীন পড়েছে,*
*চির দিন দুঃখ অবধি পেয়েছে,*
*তোমার মায়ায় মা আবার এসেছে,*
         *বাড়ী ডাকি আন।*
*বলরাম দাসের বিদরে বুক,*
*জীবের লাগিয়া প্রভুর এই দুখ,*
*ধিক্ ধিক্ ধিক্ জীব তোরে ধিক্,*
*হেন দুঃখ দেহ চিরবন্ধু জনে।।*
*🌼শচী দেবীর এক্ষণে বয়ঃক্রম (বয়স) ৭২ বৎসর, তিনি অতি কষ্টে চলাফেরা করেন।গঙ্গাতীর হতে গৃহে ফিরে তিনি ভূমিশয‍্যায় শয়ন করেছেন, আর উঠিতে পারছেন না।বিষ্ণুপ্রিয়া শাশুড়ির কাছে বসে কাঁদছেন।সকলেই বলছে,মহাপ্রভু জননীকে দর্শন করতে এসেছেন, কোথায় তিনি তো নবদ্বীপে আসিলেন না!এই জন‍্য সকলেই মহাপ্রভুর দর্শন লালসায় উৎকণ্ঠিত।বৃদ্ধা শচীমা "নিমাই রে! তুই কোথায় রে? একবার দেখা দিয়ে প্রাণ জুড়া রে"। বলে উচ্চৈঃস্বরে রোদন করছেন।গঙ্গাতীর হতে ফিরে আসতে তাঁর মন চাইছিল না। কেবলমাত্র শ্রীমতী বিষ্ণুপ্রিয়ার জন্য শচীমায়ের ঘরে ফিরে আসতে হল।পুত্রবধূ সঙ্গে না থাকলে তিনি গঙ্গার ওপারে গিয়ে নিমাইকে ধরতেন, কথা বলতেন, এবং ঘরে নিয়ে আসিতেন।তাঁর পুত্র ঘরে এসে তাঁকে দেখা দিয়ে যাবেন, একথা শচীমায়ের একেবারে বিশ্বাস হচ্ছে না।পুত্রের জন্য তিনি পাগলিনী হয়ে বাহ‍্যজ্ঞানশূন‍্যা হয়েছেন।তিনি পুত্রবধূকে জিজ্ঞাসা করছেন, বাছা আমার নিমাই কি তোমার ঘরে শুয়ে আছে? একবার তারে ডেকে দাও দেখি? বিষ্ণুপ্রিয়া একথা শুনে আর স্থির থাকতে পারলেন না, তাঁর মাথা ঘুরে উঠিল।তিনি শোকে আকুল হলেন এবং ধূলায় পড়ে আছড়ে আছড়ে কাঁদতে লাগলেন।শচীমা বিষ্ণুপ্রিয়ার অবস্থা দেখে নিজের ভ্রম বুঝতে পারলেন এবং শ্রীমতীর ভনে অনর্থক কষ্ট দিয়াছেন, বলে নিজেকে লজ্জিতা হয়ে বললেন, মা! আমার ভুল হয়েছিল,বয়স হয়েছে মা,কখন কি বলছি আমি নিজেই জানিনা। আমার পোড়া কপাল মা, আমার মন একেবারেই ঠিক নেই। এক্ষণে শচীমা পুত্রমুখ-দর্শন লালসায় ছটফট করছেন।আর যেন বিলম্ব সইছে না।তারপরে শ্রীমতীকে কোলে করে তিনি বলছেন, মা!তুমি ঘরে সুস্থির হয়ে থাক।আমি গিয়ে ওপার থেকে আমার নিমাইকে ঘরে নিয়ে আসি, আমি না গেলে বোধহয় সে আসিবে না।শচীমা এইকথা বলেই তখনি আবার ভাবছেন, আমি যাব,যদি আমার সঙ্গে দেখা করেই বাছা পালিয়ে যায়, তাহলে অভাগিনী বিষ্ণুপ্রিয়ার অদৃষ্টে স্বামী দর্শন সুখ ঘটবে না।আমি না গেলেও নিমাই অবশ্যই আসবে। নিমাই আমার বড় মাতৃভক্ত ছেলে।এতদূর এসে আমাকে দেখা না দিয়ে সে কি যেতে পারবে? শচীমায়ের মনে কখন যে কি ভাব উৎপন্ন হচ্ছে স্বয়ং তিনিই জানেন। যাইহোক এইরকম ভেবে বৃদ্ধা মা মনকে প্রবোধ দিচ্ছেন।শ্রীমতী কিছুতেই মনকে সান্ত্বনা দিতে পারছেন না। তিনি ভাবছেন, আমার জন‍্যই তিনি নবদ্বীপে এসেও জননীকে দেখা দিলেন না।তিনি গৃহে না থাকলে তাঁর সন্ন‍্যাসী স্বামী অনায়াসে নবদ্বীপে এসে মায়ের সঙ্গে মিলিত হতেন।পাছে সন্ন‍্যাসীর স্ত্রীর মুখ দর্শন ঘটে, এবং ধর্মনাশ হয়, এই ভয়েই তিনি আসতে পারছেন না। যদি তাইই হয়,তবে আমি বাপের বাড়ি চলে যায়। বলরাম দাস বলছেন=*
*আমারে দেখিলে যদি ধর্মনষ্ট হয়।*
*আমি নয় রহিতাম বাপের আলয়।।*
*🌻শ্রীমতী এক একবার মনে করছেন, তাঁর নিজের অদৃষ্টে যা ঘটেছে,তার তো আর কোন উপায় নাই। তাঁর জন্য বৃদ্ধা শাশুড়ী কেন কষ্ট পান,তিনি পিতৃগৃহে যাবার জন্য শাশুড়ীকে বললেন। মনের গুহ‍্য কথাটিও না বলে থাকতে পারলেন না। শচীমা এইকথা শুনেই বড় মনস্তাপ পেলেন।বিষ্ণুপ্রিয়ার গলা জড়িয়ে ধরে কাঁদতে কাঁদতে বললেন, মা! তুমি বাপের বাড়ি গেলে আমি কাকে নিয়ে থাকব? তুমিই এখন আমার অন্ধের যষ্ঠি। তোমাকে দেখে আমি নিমাইচাঁদের দুর্জয় শোক সংবরণ করি। নিমাই আমার তোমাকেও দেখা দিবে, আমার কথা বিশ্বাস কর? শ্রীমতী আর কিছু বলতে পারলেন না।*
*🙏বানান ভুল ক্ষমা করবেন🙏*
🙌🙌🙌🙌🙌🙌🙌🙌🙌🙌🙌🙌🙌
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
 ꧁ ১৪৬.  শ্রীশ্রীবিষ্ণুপ্রিয়া দেবী 🙏 তৃতীয় ভাগ 
          ꧁ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ ꧂
        এই লিংকে ⬇️⬇️⬇️🙏⬇️⬇️⬇️ ক্লিক করুন 
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
*(১৪৬)🙌শ্রীশ্রীবিষ্ণুপ্রিয়াদেবী🙌*
*🙏শ্রীমন্মহাপ্রভুর নবদ্বীপে আগমন🙏*
💧💧💧💧💧💧💧💧💧💧💧💧
*🌻গ্রন্থকারের নিজের রচনা🌻*
^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^
*শচির আঙ্গিনা,উজল করিয়া।*
*কে-গো তুমি আছ,দ্বারে দাঁড়াইয়া।।*
*দন্ড-কমন্ডলু , ধরিয়াছ করে।*
*পরেছ কৌপীন,জীবোদ্ধার তরে*।।
*কে গো তুমি যতি,প্রশান্ত মূরতি।*
*স্থির নয়নে, চাহ কার প্রতি।।*
*বহিতেছে বারি, উছলি নয়ন।*
*ভাসিয়া বক্ষ, তিতিছে বসন।।*
*বুঝেছি বুঝেছি ,তুমি গৌরহরি।*
*নদীয়ার চাঁদ, নদীয়া বিহারী।।*
*দেখিতে জননী, জনমভূমি।*
*নীলাচল হ'তে ,আসিয়াছ তুমি।।*
*চেয়ে দেখ প্রভু,কি দশা মায়ের।*
*শুন শুন ওই,রোল রোদনের।।*
*🌻শ্রীমতী বিষ্ণুপ্রিয়া দেবী শচীমাতার কথা শুনে কিছু আশ্বস্তা হলেন। কিছুক্ষণ পরে কাঞ্চনা এসে বিষ্ণুপ্রিয়ার কাছে বসলেন দেখে শচীমা আমার নিশ্চিন্ত হয়ে নিজ ঘরে গিয়ে একটু শয়ন করলেন।নিদ্রার তন্দ্রা আসতে না আসতেই স্বপ্ন দেখলেন,তাঁর নিমাইচাঁদ দ্বারে দাঁড়িয়ে তাঁকে "মা"! "মা"! বলে ডাকছেন।অমনি বৃদ্ধা শচীমা তাড়াতাড়ি উঠে বাইরের দরজায় দেখলেন,কোথাও কেউ নেই। হুতাশ হয়ে পুনরায় ঘরে ফিরে গিয়ে শুয়ে পড়লেন।শ্রীমতী বিষ্ণুপ্রিয়া বা কাঞ্চনা এর কিছুই জানতে পারলেন না।কাঞ্চনা যখন বিষ্ণুপ্রিয়ার কাছে এসেছিলেন তাঁকে দেখে শ্রীমতী কেঁদে ফেললেন, মনের কথাগুলি প্রকাশ করলেন।কথাগুলি বলার ফলে মনের ব‍্যথা কিঞ্চিৎ কমল ও মন কিছু শান্ত হল।সখির গলা জড়িয়ে শ্রীমতী নীরবে রোদন করতে লাগলেন। (এই পার্থিব জগতে এমন কেউ আছেন বা শোনা গেছে যে পাঁচ বৎসর অতিক্রম হয়ে গেছে মহাপ্রভু গৃহত‍্যাগ করেছেন, সেই শোক বলুন, বিরহ বলুন বা হৃদয়ের ব‍্যথা বলুন এইভাবে প্রকাশ পেয়েছে?)।আর বলছেন, সখী!আর আমি কী বলব?তুমি তো সকলি জান।এই হতভাগিনীর জন‍্যই আমার প্রাণনাথ গৃহত‍্যাগী হয়েছেন।(পূর্বেই লিখেছি, যদি কোন এক ব‍্যথা মনে গেথে যায়,নিজে থেকে যদি ভুলে না যায় তবে কোন বৈদ‍্যরাজ তা বাহির করতে পারেন না )।এখনও সেই কথা সখীকে বলছেন।আমারই জন্য তিনি এতদূর এসেও জননীকে দর্শন দিতে কুন্ঠিত।আমার মতো পাপী জগতে আর কে আছে।মনে হয় আমার মরণই মঙ্গল।মরমের ভিতর হতে কে যেন বিষ্ণুপ্রিয়াকে বলে দিল, অমন কথা মুখে আনিও না, মরলেই তো সব ফুরিয়ে যাবে।আশা টুকু পর্য‍্যন্ত যাবে।তখনি আবার শ্রীমতী সখী কাঞ্চনাকে বলছেন,না সখী!আমি মরতে পারব না। মরলে তো আমার প্রাণনাথের গুণগাথা ও লীলাকথা শুনতে পাব না, তাঁর শ্রীচরণ দর্শন দূরে থাকুক তাঁর কথা শুনেলেই যে আমি কৃতার্থ হই, আহা!তাঁর মধুমাখা নাম শুনলেই যে আমি কত সুখী হই।না,না,সখী! আমি এ সুখ ছেড়ে মরতে পারব না।সখী!সখী!আমার মরা হবে না।জীবাধম গ্রন্থকার রচিত শ্রীমতীর উক্তি একটি পদ এ স্থলে উদ্ধৃত হল।*
*সখি!গৌর-বিরহ পয়োধি,কিসে হব পার,*
              *তাই ভাবি নিরবধি।*
*দিন দিন করি,বরিষ গোঁয়ায়নু,*
            *না মিলল গৌর-নিধি।।*
*গৌর গৌর করি,জনম বহি গেলা,*
            *দরশন নাহি ভেল।*
*সুধা দিয়া দগদগি,হলো মোর সার,*
              *পরাণে বিধিল শেল।।*
     *মরনে কি পাব তারে।*
*গৌর-বিরহ নদী,বহে খর ধার,*
                *কি করি যাইব পারে।।*
*🌻বরিষ=বৎসর, গোঁয়ায়নু= কেটে গেল।*
                    *(০২)*
*সখি! মরিতে তো পারিব না।*
*কি জানি যদি বা,ভুলি গোরা রূপ,*
                *ভসম হইবে সাধনা।।*
*(ওগো) মরিলে আমি যে কাঁদিতে পাব না,*
                 *সাধিতে পাব-না গৌর।*
*কাঁদিয়া কাঁদিয়া যা' কিছু করেছি,*
                  *সকলি যাইবে মোর।।*
🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏
বসিতেছে হয়ে গেছে, বহিতেছে হবে।
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
 ꧁ ১৪৭. শ্রীশ্রীবিষ্ণুপ্রিয়া দেবী 🙏 তৃতীয় ভাগ 
          ꧁ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ ꧂
        এই লিংকে ⬇️⬇️⬇️🙏⬇️⬇️⬇️ ক্লিক করুন 
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
*(১৪৭)🌿শ্রীশ্রীবিষ্ণুপ্রিয়াদেবী🌿*
*মহাপ্রভুর নবদ্বীপে আগমন*
°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°
*🌻গ্রন্থকার রচিত আরও দুইখানি পদ=*
       *সখি! চাহি না আমি মরণ।*
*(ওগো)মরিলে যে আমি পূজিতে পাব না,*
                  *শ্রীগৌরধনের চরণ।।*
   *চিরদিন আমি কাঁদিয়া সাধিব,*
                  *দীরঘ জীবন ধরিয়া।*
*নিশিদিন পিব, পিয়াইব আর,*
             *গৌর-বিরহ অমিয়া।।*
*বিনাইয়া গাব গৌরগুণ গান,*
             *কান্দিয়া ভাসাব ধরা।*
*সখি!গৌর-বিরহে ছাড়িতে নারিব,*
                *হবে না আমার মরা।।*
             *(০৪)*
*মরণের সঙ্গে যদি গৌর-বিরহ যায়,*
              *তবে আমি পারি মরিতে।*
*ধা পেলাম গোরা যদি,পেয়েছি বিরহ তার,*
          *নাহি পারি তারে ছাড়িতে।।*
*(ওগো সখি)পারিব না আমি মরিতে।*
*🍀কাঞ্চনা বিষ্ণুপ্রিয়ার অতি প্রিয় মর্মী সখি,আপনারা সকলেই জানেন, শ্রীমতী কোন কথায় মর্মী সখির নিকট গোপন করেন না। হৃদয়ের বেদনা প্রাণ খুলে সখিকেই বলে থাকেন।শ্রীমতীর মনে আজও দারুণ দুঃখ, তার কারণ পূর্বে উল্লেখ করেছি।তাঁর প্রাণবল্লভের শ্রীমুখ দর্শনের আশা, তাঁর পক্ষে অসম্ভব মনে করে সখি কাঞ্চনাকে সম্বোধন করে শ্রীমতী বলছেন=*
*সজনি!অব কি হেরব গোরা মুখ।*
*গণি গণি মাহ,বরিখ অব পূরল,*
     *ইথে পুন বিদরয়ে বুক।।*
*তোমারে কহিয়ে পুন,মরমক বেদন,*
      *চিত মাহা কর বিশোয়াস।*
*গৌর-বিরহ জ্বরে,ত্রিদোষ হইয়া জারে,*
       *তাহে কি ঔষধ অবকাশ।।*
              *(গীতকর্তা ভুবন দাস)*
*🌻কাঞ্চনা বিষ্ণুপ্রিয়াকে সান্ত্বনা দিয়ে বলছেন, সখী!তোমার প্রাণনাথ তোমার শাশুড়ীকে একদিন বলেছিলেন=*
*কিবা ভক্ত কিবা বিষ্ণুপ্রিয়া কিবা তুমি।*
*যে ভজিবে কৃষ্ণ তার কোলে আছি আমি।।*
                             *(শ্রীচৈঃমঃ)*
*🍀অতএব সখী!তুমি সদাসর্বদা শ্রীকৃষ্ণ-ভজন কর। তোমার প্রাণবল্লভ নিজেই এসে দেখা দেবেন।এসো আমরা দুইজনে বসে মালা গাঁথি।দেখ,কত যুথী,যাতি,মালতী পুষ্পচয়ন করে এনেছি।সুন্দর করে মালা গেঁথে আজ শ্রীকৃষ্ণের কন্ঠে পরাইয়া দাও।শ্রীকৃষ্ণ-ভজনেই তুমি তোমার হৃদয়েশ্বরের দেখা পাবে।তাঁর উপদেশ মত শ্রীকৃষ্ণভজন কর।*
*সখি হে!হাম ইহ কছু নাহি জানি।*
*গৌর-চরণ-যুগ, বিমল সরোরুহ,*
        *হৃদি করি অনুখণ ধ‍্যান।।*
                   *(গীতকর্তা ভুবনদাস)*
*🌺শ্রীমতী বিষ্ণুপ্রিয়া বললেন, আমি আমার প্রাণেশ্বর গৌরসুন্দর ভিন্ন অন‍্য কাউকেও জানি না। তিনিই আমার শ্রীকৃষ্ণ, তিনিই আমার ভজনধন।*আমার স্বামী ভজনই শ্রীকৃষ্ণ-ভজন।এইসব কথা শুনে আর কাঞ্চনা কিছু বলতে পারলেন না।বুঝলেন বিষ্ণুপ্রিয়ার হৃদয়ে গৌর বিরহানল প্রজ্বলিত হয়ে উঠেছে, এ সময়ে অন‍্য কোন কথা তাঁর কর্ণে প্রবেশ করবে না।কাঞ্চনা অতি চতুরা,অমনি নিজের কথা উল্টিয়ে নিয়ে বললেন,সখি! তোমার প্রাণবল্লভই তো শ্রীকৃষ্ণ,তা কি তুমি এতদিন বুঝতে পারো নাই?অন‍্যের কাছে তিনি আত্মগোপন করে থাকতে পারেন, তোমার কাছে তা পারেন না, তাই তোমাকে তিনি গৃহত‍্যাগের কিছুদিন পূর্বে স্বরূপ দেখিয়েছিলেন।তুমি সেই চতুর্ভূজ শঙ্খ,চক্র,গদা ও পদ্মধারী শ্রীভগবানের মূর্তি দর্শন করে কি বুঝতে পার নাই তোমার হৃদয়েশ্বর সামান্য মানুষ নহেন? তিনি ত্রিজগতের স্বামী, জগন্নাথ,সাক্ষাৎ শ্রীকৃষ্ণ।তিনিনিজে আত্মগোপন করে কৌশলে তোমাকে শ্রীকৃষ্ণভজন করতে বলে গেছেন।প্রিয় সখীর কথাগুলো শ্রীমতী অত‍্যন্ত মনোযোগ সহকারে শুনলেন, এবং ধীরে ধীরে উত্তর করলেন,সখী! আমার পতিদেবতাকে, আমার প্রাণবল্লভকে আমি মানুষ বলেই জানি।লোকে তাঁকে যাই বলুকনা কেন, তিনি আমার প্রাণবল্লভ সেই শচীমায়ের দুলাল গৌরহরি।সখি! আমার প্রাণগৌরকে তুমি শ্রীভগবান বলিও না,তাতে আমি সুখ পাই না। ভগবানকে পাওয়া বড়ই কঠিন। আমার হৃদয়ের ধন প্রাণনাথকেই যখন পেলাম না,তিনি আমার আপন ধন, আমার ঘরের ধন যখন পরের হল, তখন সেই অমূল‍্য ধন ভগবানকে পাবো কি করে? সোজা কথা আমি স্বামী ভিন্ন অন‍্য কিছু জানি না। আমার পতিদেবতায় আমার সর্বস্ব ধন।তিনি শ্রীকৃষ্ণই হন,আর শ্রীভগবানই হন, আমার কাছে তিনি সেই নবীন নাগর রসিকশেখর নটবর প্রাণবল্লভ শ্রীগৌরাঙ্গসুন্দর ভিন্ন আর কিছু নহে।*
*🙌জয় শ্রীগৌরাঙ্গসুন্দর-বিষ্ণুপ্রিয়ার জয়🙌*
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
 ꧁ ১৪৮.  শ্রীশ্রীবিষ্ণুপ্রিয়া দেবী 🙏 তৃতীয় ভাগ 
          ꧁ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ ꧂
        এই লিংকে ⬇️⬇️⬇️🙏⬇️⬇️⬇️ ক্লিক করুন 
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
*(১৪৮)🙏শ্রীশ্রীবিষ্ণুপ্রিয়াদেবী🙏*
*👣শ্রীমন্মহাপ্রভুর নবদ্বীপে আগমন👣*
^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^
*🌻কাঞ্চনা দেখছেন বিষ্ণুপ্রিয়ার বদনমন্ডলে দিব‍্য জ‍্যোতি প্রতিভাত হচ্ছে।তাঁর সেই সুবিশাল নয়নদ্বয়ে পুলকাশ্রু টল টল করছে। মুক্তাফল সদৃশ দুই এক ফোঁটা অশ্রুজল শ্রীমতীর বক্ষঃস্থলে পড়ে বসনাঞ্চল ভিজে যাচ্ছে।তাঁর আর কথা বলবার শক্তি নাই,সখির অঙ্গে শ্রীঅঙ্গ রেখে বিষ্ণুপ্রিয়া প্রায় মূর্ছিত হয়ে অনেকক্ষণ রইলেন।কাঞ্চনা সময় বুঝে গৌরকথা তুললেন,এই ব‍্যাধির এই ঔষধ তা মরম সখী ভালভাবেই জানেন।এ ব‍্যাধির চিকিৎসা তিনি অনেকদিন থেকে করে আসছেন। শ্রীগৌরাঙ্গের নটবর বেশের একটি পদের কথা কাঞ্চনা ধীরে ধীরে সখীকে শুনাচ্ছেন=*
      *গৌররূপ সদাই পড়িছে মোর মনে।*
*নিরবধি থুইয়া বুকে,সে রস ধাধস সুখে,*
     *অনিমিখে দেখউ নয়নে।।*
*পরিয়া পাটের জোড়,বান্ধিয়া চিকুর ওর,*
      *তাহে নানা ফুলের সাজনি।*
*পরিসর হিয়া ঘন, লেপিয়াছে চন্দন,*
      *দেখিয়া জিউ করিনু নিছনি।।*
*মৃগমদ চন্দন , কুসুম চতুঃসম,*
   *সাজিয়া কে দিল ভালে ফোঁটা।*
*আছুক অন‍্যের কাজ,মদন মুগধ ভেল,*
     *রহল যুবতী কুলের খোঁটা।।*
*সরবস দেহ, অবশ সকল সেহ,*
     *না পালটে মোর আঁখি পাপ।*
*হিয়ায় গৌরাঙ্গ রূপ,কেশর লেপিয়া গো,*
     *ঘুচাইমু যত মনের তাপ।।*
*কামিনী হইয়া , কামনা করিয়া,*
       *কাম সরোবরে মরি।*
*গোবিন্দ দাসে, কহয়ে তবে সে,*
        *দুঃখের সাগরে তরি।।*
*🌻শ্রীবিষ্ণুপ্রিয়ার কর্ণে কাঞ্চনা সুমধুর কন্ঠস্বরে গৌর-গুণগান অমৃত-বর্ষণ করিল।তিনি জড়বৎ সখির অঙ্গে নিজ অঙ্গ দিয়ে প্রাণবল্লভের রূপরসসুধা পান করছেন আর মনে মনে ভাবছেন এইত সময়। মহাপ্রভু এখানেই আছেন।নবদ্বীপচন্দ্র নবদ্বীপেই বিরাজমান।রসোল্লাসের এইত উপযুক্ত সময়।প্রাণবল্লভ প্রবাসে ছিলেন,এক্ষণে গৃহে এসেছেন, এই আনন্দে বিষ্ণুপ্রিয়ার হৃদয়ে রসোল্লাসের তরঙ্গ উঠেছে।কাঞ্চনার রস সঙ্গীতে শ্রীমতীর সর্বঅঙ্গ পুলকিত হয়েছে।দুই সখীতে মিলে নির্জনে শীগৌরলীলার রসাস্বাদন করতে লাগলেন।সখির সঙ্গে গৌরপ্রিয়া তখন নিগূঢ় প্রেমরসতত্ত্ব বলতে লাগলেন। মনের আনন্দে উভয়েই আত্মহারা হয়েছেন।তাঁর প্রাণবল্লভ যে সন্ন‍্যাসী তা শ্রীমতী একেবারেই বিস্মৃত হয়ে গিয়েছেন। প্রবাসী স্বামী গৃহে আসছেন জানলে বিরহিনী স্ত্রী যেমন পতিদর্শন লালসায় উদ্বিগ্ন হন ও উৎকন্ঠিতচিত্তে আশাপথ নিরীক্ষণ করে থাকেন,শ্রীমতীর পক্ষেও তাইই ঘটেছে।পতিদেবতা গৃহে আসিলে,কি করবেন,কি বলবেন,কিছুই স্থির করতে পারছেন না।কাঞ্চনা সখীর মনের অবস্থা বুঝতে পেরে মরমী সখীকে বললেন,সখী! তোমার মনচোরাকে এবার গৃহে পেলে যেন আর ছেড়ে দিও না।তিনি অবশ্যই তোমার নিকট আসিবেন। তুমি তাঁকে দর্শন করেই যেন একেবারে প্রেমে গলে প্রাণবল্লভের সঙ্গে মিলে মিশে এক হয়ে যেও না।একটু অভিমান করিও।দু'এক কথা শুনিয়ে দিও। তিনি তোমাকে বড়ই দুঃখ দিয়াছেন।কাঞ্চনার মনের ভাবটি গীতকর্তা বিদাপতির একটি প্রাচীন পদে অতি পরিস্ফূট হয়েছে। আস্বাদন করুন=* *শ্রীকৃষ্ণলীলা লিপিবদ্ধ করবার সময়,"সখী শিক্ষা " পর্যায়ে এই পদটি লিপিবদ্ধ করেছিলাম।*
*শুন শুন সুন্দরী! হিত উপদেশ।*
*হাম শিখাওব বচন বিশেষ।।* 
*পহিলহি বৈঠবি শয়নক সীম।*
*আধ নেহারবি বঙ্কিম গীম।।*
*যব পিয়ে পরশব ঠেলবি পাণি।*
*মৌন ধরবি কছু না কহবি বাণী।।*
*🌻পুরো পদটি গ্রন্থকার লিপিবদ্ধ করেন নাই। যাইহোক,শ্রীমতী বিষ্ণুপ্রিয়া দেবী সখি কাঞ্চনার রসকথা শুনে অনেক দিনের পর একটু মৃদুমন্দ হাসিলেন। হৃদয়ে প্রবল আনন্দের বেগ এসেছে।সে আনন্দের তরঙ্গ সখি কাঞ্চনার হৃদয়েও ঘাত প্রতিঘাত করছে।পূর্ণানন্দে বিভোর হয়ে উভয়েরই আত্মবিস্মৃতি ঘটেছে।শ্রীমতী যে সন্ন‍্যাসিনীর পত্নী, স্বামীসঙ্গ- সুখে তিনি যে চিরকালের জন্য বঞ্চিতা, এসব কথা কিছুই তাঁর মনে নেই।তাঁর মনে পূর্ব স্মৃতি উদয় হয়েছে। শ্রীগৌরাঙ্গ-বক্ষ-বিলাসিনী স্বামী-সোহাগিনী শ্রীমতী বিষ্ণুপ্রিয়া দেবীর মনে আজ আনন্দ আর ধরছে না। তিনি সখিকে বলছেন,সখী! আজ আমি চারিদিকে শুভচিহ্ন দেখছি।আমার প্রাণনাথ যেন আজই আমার কাছে আসবেন বলে বোধ হচ্ছে।*
👣🙏👣🙏👣🙏👣🙏👣🙏👣🙏🙏
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
 ꧁ ১৪৯.  শ্রীশ্রীবিষ্ণুপ্রিয়া দেবী 🙏 তৃতীয় ভাগ 
          ꧁ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ ꧂
        এই লিংকে ⬇️⬇️⬇️🙏⬇️⬇️⬇️ ক্লিক করুন 
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
*(১৪৯)💧শ্রীশ্রীবিষ্ণুপ্রিয়াদেবী💧*
*শ্রীমন্মহাপ্রভুর নবদ্বীপে আগমন*
🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏
*🌻আমার প্রাণবল্লভ যেন আজিই আমার নিকটে আসবেন বলে বোধহয়। আসিলে আমি কি করব?কি বলব? তোমার কথামত কাজ করতে পারব কী?শ্রীমতীর উক্তি শ্রীবলরাম দাস রচিত একটি সুন্দর পদ আস্বাদন করুন।*
*কি লাগি বল না, আনন্দ ধরে না,*
         *অঙ্গ কাঁপে থর থর।*
*চারিদিকে সখি, শুভচিহ্ন দেখি,*
         *বুঝি এল প্রাণেশ্বর।।*
     *আঙ্গিনায় দাঁড়াবেন হরি।ধ্রু।*
*ঘোমটা টানিব , দ্রুত ঘরে যাব,*
        *রুণু রুণু রব করি।।*
*ঘরে লুকাইয়া, শ্রীমুখে চাহিয়া,*
        *দেখিব পরাণ ভরি।*
*দেখিবারে মোরে, উঁকি বারে বারে,*
        *মারিবেন গৌরহরি।।*
*নয়নে নয়ন, হইলে মিলন,*
        *বল কি করিব সখি।*
*বলরাম বলে, হইবে তা'হলে,*
        *লজ্জায় নমিত মুখী।।*
*🌻শ্রীমতী বিষ্ণুপ্রিয়া দেবী ও তাঁর প্রিয় সখি কাঞ্চনা উভয়েই প্রেমরসে ডুবে আছেন।শ্রীমতী সকল কিছু ভুলে গিয়েছেন ; মর্মী অন্তরঙ্গা সখি কাঞ্চনার সঙ্গে শ্রীগৌরাঙ্গলীলার নিগূঢ় রস রসাস্বাদন করছেন। বহিরঙ্গ লোকের সহিত এমন করে রসাস্বাদন করে সুখ হয় না।এমন করতেও নাই।*
*🍀অন্তরঙ্গ সঙ্গে কর রস আস্বাদন।*
*🌺শ্রীমতী তাই প্রাণ খুলে সখি কাঞ্চনার সঙ্গে মনের কথা বলে বিমল প্রেমানন্দ উপভোগ করছেন। মহাপ্রভুর নবদ্বীপ আগমনের উদ‍্যোগ পর্বে কাঞ্চনা-বিষ্ণুপ্রিয়া-সংবাদের প্রথম অধ‍্যায় শেষ হল। এক্ষণে কৃপাময় পাঠক একবার বৃদ্ধা শচীমায়ের নিকট চলুন।*
*🌻বৃদ্ধা শচীমা পুত্র-বিরহ-কাতরা,বড় দুঃখিনী। শ্রীগৌরাঙ্গ নবদ্বীপে এসেছেন।শুক্লাম্বর ব্রহ্মচারীর গৃহে উঠেছেন।নবদ্বীপ শুদ্ধ লোক এ সংবাদ পেয়েছেন।শচীমা ও শ্রীমতী এ শুভ সংবাদ পেয়েছেন।শচীমা আনন্দে বিহ্বল হয়ে পাগলিনীর মতো উর্ধমুখে শুক্লাম্বর ব্রহ্মচারীর গৃহাভিমুখে ছুটেছেন।পথে কারও সঙ্গে দেখা হচ্ছে, তিনি তাকেই বলছেন "ওগো"! নবদ্বীপে আবার আমার নিমাইচাঁদ এসেছেন। তোমরা দয়া করে নিমাইকে ধরে রাখ।আর যেতে দিও না,এইকথা বলে ছুটতে ছুটতে শচীমা মহাপ্রভু যেখানে আছেন, সেখানে গিয়ে উপস্থিত হলেন।* *শ্রীচৈতন‍্য মঙ্গলে পায়*
*🍀এই মনে কহিতে কহিতে গেলা তথা।*
*🍀দেখিলত গৌরচন্দ্র বসি আছে তথা।।*
*🌻বাৎসল‍্যময়ী শচীমা পাঁচ বৎসরের পর অদ‍্য পুত্র-মুখ দর্শন করলেন।আমার গৌরহরির মুন্ডিত মস্তক ও সন্ন‍্যাস-বেশ আর একবার তিনি দেখেছিলেন সে শান্তিপুরে অদ্বৈত ভবনে। সে আজ পাঁচ বৎসর পূর্বের কথা।মহাপ্রভুর নূতন সন্ন‍্যাস বেশ।তিনি যেমন নিমাই তেমনই ছিলেন,কেবল মাত্র বেশ পরিবর্তন।এক্ষণে মহাপ্রভুর অবয়বের অনেক পরিবর্তন লক্ষিত হচ্ছে।তাঁর শ্রীঅঙ্গ ধূলি-ধূসরিত,বদনমন্ডল প্রশান্ত,দেহ কিছু ক্ষীণ হয়েছে,চক্ষের দৃষ্টি জ‍্যোতিপূর্ণ অথচ গভীর দুঃখ-ব‍্যঞ্জক। শচীদেবী এক দৃষ্টে পুত্রের প্রতি অঙ্গ নিরীক্ষণ করছেন,আর পূর্ব-কথা স্মরণ করে আকুল প্রাণে কাঁদছেন।মহাপ্রভু নীরব।শচীমা পুত্রকে বললেন, "বাপ নিমাই!আর তোর সন্ন‍্যাসে কাজ নাই।যা করেছিস বেশ করেছিস।মাতৃ-বধ করে তোর যে কি ধর্ম-সাধন হবে জানি না।আগে মাকে বধ কর।পরে তোর যা ইচ্ছা হয় করিস।*
*🍀শচী বোলে মোর বোল শুনরে নিমাই।*
*🍀ঘর আইস আমার সন্ন‍্যাসে কাজ নাই।।*
*🍀সন্ন‍্যাস করিয়া ধর্ম রাখিবিত পাছু।*
*🍀মোর বধ আগে লাগে আর সব আছু।।*
*🍀বিহ্বল চেতন শচী কান্দে উভরায়।*
*🍀সকল শরীর খানি এক দৃষ্টে চায়।।*
*🍀বাপু বাপু বলি অঙ্গ পরশিতে চায়।*
*🍀আর সব থাক বাপু হাত দেও গায়।।*
*🍀শ্রীঅঙ্গে লেগেছে ধূলা ফেলাও ঝাড়িয়া।*
*এ বোল বলিয়া পড়ে অঙ্গ আছাড়িয়া।।*
                              *(শ্রীচৈঃমঃ)*
😭😭😭😭😭😭😭😭😭😭😭😭😭
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
 ꧁ ১৫০. শ্রীশ্রীবিষ্ণুপ্রিয়া দেবী 🙏 তৃতীয় ভাগ 
          ꧁ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ ꧂
        এই লিংকে ⬇️⬇️⬇️🙏⬇️⬇️⬇️ ক্লিক করুন 
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
*(১৫০)🙌শ্রীশ্রীবিষ্ণুপ্রিয়াদেবী🙌*
*মহাপ্রভুর নবদ্বীপে আগমন*
•••••••••••••••••••••••••••••••••••
*🍀শচীমা আমার শ্রীগৌরাঙ্গের অঙ্গে ধূলি দেখে ধূলায় পড়ে অঙ্গ আছাড়িয়া আছাড়িয়া কাঁদতে লাগলেন।মহাপ্রভু গভীরভাবে নীরবে বসে আছেন।শচীমা ভূমি থেকে উঠে পুত্রকে বলছেন=*
*🍀পুন উঠি বলে বাপু শুন মোর বোল।*
*🍀নালাউ হিয়ার সাধ ধরি দাও কোল।।চৈঃমঃ।।*
*😭শচীমায়ের ক্রন্দনে উপস্থিত সকল ভক্তগণ শোকে বিহ্বল হয়ে রোদন করতে লাগলেন।এই দৃশ্য দেখে পরম গম্ভীর শ্রীগৌরহরিও বিচলিত হলেন।জননীন করুণ ক্রন্দন রোলে মহাপ্রভুর হৃদয় বিগলিত হল।*
*🍀শচীর কান্না দেখি পৃথিবী বিদরে।*
*🍀আছুক মানুষের কাজ এ পাষাণ ঝুরে।।*
*🍀চতুর্দিকে লোক সব কান্দিয়া বিকল।*
*🍀কাছ না ছাড়য়ে কেহ পাসরিয়া ঘর।।*
*🍀লোকের কান্দনা দেখি মায়ের ব‍্যগ্রতা।*
*🍀মনে অনুমানে প্রভু কি কহিব কথা।।চৈঃমঃ।।*
*🌻তখন নিমাইচাঁদ জননীকে কি বলবেন স্থির করতে পারছেন না।অনেকক্ষণ নীরবে থেকে গম্ভীরভাবে মধুর বচনে জননীকে সম্বোধন করে বলতে লাগলেন, মা!তুমি আর কেঁদো না।তোমার অনুমতি ক্রমেই তোমার নিমাই সন্ন‍্যাস গ্রহণ করেছে।আমাকে পুত্র বলে তোমার এখনও মিছা মায়া যায় নাই, এ বড় দুঃখের ও আশ্বর্য‍্যের বিষয়।এই সংসারে মায়ার এমনি প্রভাবই বটে।*
*🍀মায়েরে প্রবোধ দিতে প্রভু ভাবে মনে।*
*🍀না কান্দ না কান্দ বোলে মধুর বচনে।।*
*🍀সন্ন‍্যাস করিতে আজ্ঞা করিলা আপনে।*
*🍀এখন বিকল হঞা কান্দ কি কারণে।।*
*🍀পুত্র বলি মিছা মায়া না ঘুচিল তোর।*
*🍀ঐছন দুরন্ত মায়া এ সংসার ঘোর।।চৈঃমঃ।।*
*🌼শচীদেবী পুত্রের উপদেশ পূর্ণ কথাগুলি মনঃসংযোগের সঙ্গে শুনলেন।শুনে কিছুক্ষণ নিস্তব্ধ রইলেন।নিমাইচাঁদের মুখের দিকে তাকিয়ে কি যেন ভাবতে লাগলেন।তাঁর পুত্র বলছেন,তাঁকে পুত্র-জ্ঞানে মিছা মায়া কেন করছ?এর অর্থ কি? নিমাই কি তবে আমার পুত্র নহে!তবে সে কে? আমি তো তাকে পুত্র ভিন্ন আর কিছু জানি না।এইরকম একটি চিন্তার স্রোত প্রবলবেগে শচীমায়ের হৃদয়ের উপর দিয়ে চলে গেল।অল্পক্ষণ পরেই তিনি চিত্ত স্থির করে নিমাইয়ের মুখপানে তাকিয়ে মনের ভাব প্রকাশ করে বললেন ঃ--*
*🍀মোর পুত্র বলি জন্ম লইলে পৃথিবীতে।*
*🍀জগতের লোক মোরে করিত পূজিতে।।*
*🍀তুমি সবলোক-বন্ধু ত্রিজগতে পূজি।*
*🍀তোমার সে স্নেহ মায়া শাস্ত্রে ভাল বুঝি।।*
*🍀যে হউ সে হউ মোর তুমি হও পুত্র।*
*🍀জন্মে জন্মে রহু মোর এই কর্ম-সূত্র।।চৈঃমঃ।।*
*🌻শচীদেবী নিমাইকে বলছেন, "বাপ নিমাই! তুমি যে হও সে হও,তোমাকে যে যাই বলুক, তুমি বাপ্ আমারই পুত্র।জন্ম জন্ম যেন আমার এই সম্বন্ধ,এই কর্ম-সূত্র বজায় থাকে।আমি যেন তোমাকে জন্মে জন্মে পুত্ররূপে পাই।তোমারই জননী বলে আমি জগতে পূজিতা।তোমারই মা বলে আমি জগন্মাতা।একটিবার মা বলে ডাকলেই এই হতভাগিনী কৃত কৃতার্থ হয়, স্বর্গের চন্দ্র যেন হাতে পাই। তোমার এ মায়া আমি কিছুতেই কাটাতে পারব না।তোমার এই মায়ার বন্ধনই আমার কর্ম এবং ধর্ম। নিমাই রে!বাপ রে!তুমি আমাকে এই মায়া-পাশ কাটাতে পরামর্শ দিচ্ছ?তা হতে পারে না। তোমার মায়ায় আমার সাধনা। পুন বলি, তোমার মায়া আমি কাটাতে পারব না।তাহলে আমি লক্ষ্যভ্রষ্ট হব, আমার চিরজীবনের সাধন-ফল নষ্ট হবে।* *আমি পাতকগ্রস্তা হব। এ পরামর্শ আমাকে দিও না।*
💧💧💧💧💧💧💧💧💧💧💧💧💧
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
                                   *ক্রমশ*
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
         ꧁ শ্রীশ্রীবিষ্ণুপ্রিয়া দেবী 🙏 চতুর্থ ভাগ 
          ꧁ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ ꧂
        এই লিংকে ⬇️⬇️⬇️🙏⬇️⬇️⬇️ ক্লিক করুন 
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
   ✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️
নিবাস- বাঁশবাড়ী, কীর্তন মন্দিরের পাশে, পোঃ- বাঁশবাড়ী, থানা- ইংরেজ বাজার, জেলা- মালদহ, পশ্চিমবঙ্গ, পিন কোড- ৭৩২১০১।
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
    *••••┉━❀꧁ 🙏 রাধে রাধে 🙏 ꧂❀━┅••••* 
                   শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য প্রভু নিত্যানন্দ
              হরে কৃষ্ণ হরে রাম শ্রীরাধেগোবিন্দ।।
  *••••┉━❀꧁ 🙏 জয় জগন্নাথ 🙏 ꧂❀━┅••••*
              হরে কৃষ্ণ হরে কৃষ্ণ কৃষ্ণ কৃষ্ণ হরে হরে
              হরে রাম হরে রাম রাম রাম হরে হরে॥
  *••••┉━❀꧁ 🙏 জয় রাধাকান্ত 🙏 ꧂ ❀━┅••••*
   💮❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀💮
   💮❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀💮
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧


শ্রীশ্রীবিষ্ণুপ্রিয়া দেবী 🙏 তৃতীয় ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/03/bishnupriya3.html

✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
         ꧁ শ্রীশ্রীবিষ্ণুপ্রিয়া দেবী 🙏 তৃতীয় ভাগ 
          ꧁ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ ꧂
        এই লিংকে ⬇️⬇️⬇️🙏⬇️⬇️⬇️ ক্লিক করুন 
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
    🏠Home Page🏠⬇️⬇️🙏⬇️⬇️📚PDF গ্রন্থ📚
꧁ MrinmoyNandy.blogspot.com 👉 সূচীপত্র ꧂
       এই লিংকে ⬇️⬇️⬇️🙏⬇️⬇️⬇️ ক্লিক করুন 
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
  ꧁ JoydebDaw.blogspot.com 🙏 সূচীপত্র 🙏 ꧂
         ꧁ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ ꧂
     এই লিংকে ⬇️⬇️⬇️🙏⬇️⬇️⬇️ ক্লিক করুন 
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
꧁ শ্রীশ্রীবিষ্ণুপ্রিয়া দেবী 🙏 সূচীপত্র 🙏 প্রথম ভাগ ꧂
          ꧁ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ ꧂
       এই লিংকে ⬇️⬇️⬇️🙏⬇️⬇️⬇️ ক্লিক করুন 
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
         ꧁ শ্রীশ্রীবিষ্ণুপ্রিয়া দেবী 🙏 দ্বিতীয় ভাগ 
          ꧁ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ ꧂
        এই লিংকে ⬇️⬇️⬇️🙏⬇️⬇️⬇️ ক্লিক করুন 
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
 ꧁ ১৩১.  শ্রীশ্রীবিষ্ণুপ্রিয়া দেবী 🙏 তৃতীয় ভাগ 
          ꧁ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ ꧂
        এই লিংকে ⬇️⬇️⬇️🙏⬇️⬇️⬇️ ক্লিক করুন 
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
*(১৩১)🙌শ্রীশ্রীবিষ্ণুপ্রিয়াদেবী🙌*
*😪😪শ্রীমতীর বিষম বিরহ😪😪*
########################
*🌻বাহ‍্যজ্ঞানশূন‍্যা হয়ে শ্রীমতী মনের আবেগে সন্ন‍্যাসিনী সেজেছেন।যাঁর স্বামী সন্ন‍্যাসী,তাঁর স্ত্রীকেও সন্ন‍্যাসিনী হতে হয়,এ জ্ঞানে বিষ্ণুপ্রিয়া সন্ন‍্যাসিনীর বেশে পাগলিনী সেজেছেন।শচীমায়ের এই দৃশ্য দেখে হৃদয় বিদীর্ণ হয়েছে, পুত্রবধূর এই বেশ দেখে বৃদ্ধার মনে নূতন শোকের সৃজন হয়েছে,তাঁর হৃদয়ে নিমাইচাঁদের  বিরহাগুণ নূতন করে দ্বিগুণ জ্বলে উঠেছে।মন আগুনে তিনি জ্বলেপুড়ে মরছেন। কিন্তু শ্রীমতী তাঁর মনের ভাব বুঝতে দিচ্ছেন না। শচীমা সহ‍্যগুণের পরাকাষ্ঠা দেখিয়ে শ্রীগৌরাঙ্গ-জননী নামের সার্থকতা সম্পাদন করলেন। 🙌লেখকের অভিন্নহৃদয় বন্ধুবর বৈষ্ণব শ্রীমান্ সত‍্যকিঙ্কর কুন্ডু মহাশয় একটি কবিতা শচীদেবীর তাৎকালিক মনের ভাব বিশেষ সুব‍্যক্ত হয়েছে বলে দেওয়া হল।*
                    *(০১)*
*বউমা!  বউমা! হয়ে পাগলিনী,*
        *কি বেশ ধ'রেছ জননী!*
*(আহা)সোনারকমল বল না আমায়,*
        *কেন গো সেজেছ যোগিনী!*
*খুলিয়া ফেলেছ সোনার-ভূষণ,*
*পরণে কেন মা গৈরিক বসন,*
*ননীর শরীরে বিভূতি মেখেছ,*
     *হেরিয়া ফাটে গো পরাণি।*
*(আহা)হিয়ার মানিক বল না আমায়,*
      *কেন গো সেজেছ যোগিনী।।*
                       *(০২)*
*কুটিল কুন্তল রুখু রুখু হ'য়ে,*
        *কেন মা পড়েছ বদনে।*
*(আহা)কার অনুরাগে হেন দশা তোর,*
            *বল্ না আমায় সদনে।*
*করে জপমালা গায়ে নামাবলী,*
*সজল নয়ন হরি হরি বলি,*
*কে কাঁদালে তোয় সুখের কোরকে,*
             *পরাণ বাঁধিয়া পাষাণে।*
*(আহা)কার অনুরাগে হেন দশা তোর,*
              *বল না আমার সদনে।*
                     *(০৩)*
*কমল আননে স্বরগের জ‍্যোতি,*
         *উঠেছে যেন মা ফুটিয়া।*
*(আহা)গোলোকের প্রেম ঝলকে ঝলকে,*
         *যেন মা আসিছে ছুটিয়া।*
*উজলিত দিশি মহিমা-কিরণে,*
*গৃহ আলোকিত সুপীত-বরণে,*
*শান্তির শীকর রূপের ঝলসে,*
           *সংসার গিয়াছে ভুলিয়া।*
*(আহা)গোলোকের প্রেম ঝলকে ঝলকে,*
              *যেন গো আসিছে ছুটিয়া।।*
                 *(০৪)*
*মনে হয় তুমি নহ মা মানবী,*
             *স্বরগের দেবী আসিয়া।*
*(আহা)গাও হরিনাম মধুর ররাবে,*
            *দুখিনী ভবনে পশিয়া।*
*যত চাই মাগো তোর মুখ পানে,*
*তত চাই ভুলে আপনার প্রাণে,*
*কে তুমি কে তুমি নবীনা যোগিনী,*
             *বল মা সন্তাপ নাশিয়া।*
*(আহা)নাম শুনে তোর নিটোল বদনে,*
              *পুলকে যেতেছি ভাসিয়া।।*
                  *(০৫)*
*সম্বর   সম্বর   ওরূপ   জননী!*
          *ওরূপে    পরাণ  চমকে।*
*(আহা)ঐ রূপে সাজি নিমাই আমার,*
               *ছাড়িয়া গিয়াছে পলকে।।*
*তোমারে পাইয়া ভুলেছি তাহারে,*
*তুমিও কি যাবে ছাড়িয়া আমারে,*
*খোল্ মা!খোল্ মা!যোগিনীর সাজ,*
             *এস মা! হৃদয়-ফলকে।*
*(আহা)জ্বলে যায় বুক,বউমা আমার,*
               *বিষাদ অনল ঝলকে।।*
🙌🙌🙌🙌🙌🙌🙌🙌🙌🙌🙌🙌🙌
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
 ꧁ ১৩২.  শ্রীশ্রীবিষ্ণুপ্রিয়া দেবী 🙏 তৃতীয় ভাগ 
          ꧁ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ ꧂
        এই লিংকে ⬇️⬇️⬇️🙏⬇️⬇️⬇️ ক্লিক করুন 
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
*(১৩২)🙏শ্রীশ্রীবিষ্ণুপ্রিয়াদেবী🙏*
*😪😪শ্রীমতীর বিষাদ বিরহ😪😪*
^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^
                   *(০৬)*
*দেবী চেয়ে ভাল মানবী আমার,*
               *সংসার-সাগর-তরণী।*
*(আহা)গোরা মাখা আছে তনুতে তোমার,*
               *পাগলী আমার জননী।।*
*পীযূষচুম্বিত পাপিয়ার স্বরে,*
*মা!মা!মা!মা! ব'লে ডাক গো আমারে।*
*ভুলে যাই জ্বলা ক্ষণিকের তরে,*
          *শোন মা সুচারু হাসিনী।*
*(আহা)গোরা-মাখা-আছে তনুতে তোমার,*
           *পাগলিনী আমার জননী।।*
                      *(০৭)*
*আয় মা! আয় মা!আয় মা! বুকেতে,*
           *আর না ছাড়িব ভুলিয়া।*
*(আহা)দেখ মা!দেখ মা!বিষাদ-অনলে,*
             *পরাণ যেতেছে জ্বলিয়া।।*
*আয় মা! পরাই সুনীল বসন,*
*আয় মা!পরাই কনক-ভূষণ,*
*আয় ক'রে দিই কবরী বন্ধন,*
                 *গৈরিক বসন খুলিয়া।*
*(আহা)জুড়া মা!আমার ব‍্যথিত জীবন,*
          *জননী! জননী! বলিয়া।।*
*🌻শচীমা শ্রীমতীর কাছে আর বেশীক্ষণ থাকতে পারলেন না।শ্রীমতীর সন্ন‍্যাসিনী মূর্তি তিনি আর দেখতে পারছেন না।শচীমা উঠে কাঁদতে কাঁদতে নিজ ঘরের ভিতরে গেলেন।শ্রীমতী বুঝলেন,মা আমার ভীষণ ব‍্যথা পেয়েছেন,তিনি আর বসে থাকতে পারলেন না, তাড়াতাড়ি বেশ পরিবর্তন করে শচীমার নিকট গমন করলেন।গিয়ে দেখলেন বৃদ্ধা মা ভূমিশয‍্যায় শয়ন করে নীরবে রোদন করছেন।বিষ্ণুপ্রিয়া তাঁর নিকটে বসে শাশুড়ির পিঠে হাত দিলেন, কিন্তু শচীমা উঠতে পারলেন না,শয়ন করেই ডান হাত বাড়িয়ে পুত্রবধূর গলা জড়িয়ে ধরলেন।শ্রীমতীর উষ্ণ অশ্রুজলে শচীমায়ের গাত্রবসন সিক্ত হয়ে অঙ্গ স্পর্শ করল।তখন তিনি আর স্থির থাকতে পারলেন না।উঠে বসে শচীমা শ্রীমতীর নয়ন আঁচল দিয়ে মুছিয়ে দিলেন। তিনি নয়ন মুছতে মুছতে বললেন,মাগো! আমরা এ জনম কেবল কাঁদতেই এসেছি।কেঁদে কেঁদে জীবন কাটাইব।পূর্বে বলেছি,রোদনই আমাদের ভজন।তুমিও কাঁদ,আমিও কাঁদি।আমাদের কান্নাতেই জগৎজীব কাঁদবে,তারা উদ্ধার হবে।নিমাই আমার যখন গৃহে ছিল, বাছা আমার রাতদিন কাঁদত,নয়নজলে তাঁর বক্ষ ভেসে যেত।আমি ভাবতাম, নিমাই আমার এত কাঁদে কেন? নিজে আচরিয়া নিমাই আমার জীবকে ধর্মশিক্ষা দিবার জন্য গৃহত‍্যাগী হয়ে সন্ন‍্যাসী হয়েছে।নিজে কেঁদে অপরকে কাঁদিতে শিখিয়েছেন।মা! তোমার স্বামী  মানুষ নহেন, তিনি যা শিক্ষা দিয়েছেন,তাই করো।কেঁদে কেঁদে তাঁকে ডাক,সঙ্গে আমিও ডাকি, তাহলেই তাঁকে পাব।*
*🍀শচীমায়ের কথাগুলি শ্রবণ করে বিষ্ণুপ্রিয়া নীরবে রোদন করতে লাগলেন,শচীমাও পুত্রবধূর সঙ্গে যোগ দিলেন।শচী ও বিষ্ণুপ্রিয়ার অশ্রুজলে কলিহত জীবের পাপ ধৌত হল।মহাপ্রভুর মনোবাঞ্জা পূর্ণ হল।শ্রীগৌরাঙ্গ একদিন নিতাইচাঃদকে বলেছিলেন=*
*🌿🌿ব্রজের খেলা বনভ্রমণ।*
*😭😭নদের খেলা এবার কেবল রোদন।।*
*😭😭😭😭😭😭😭😭😭😭😭😭😭
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
 ꧁ ১৩৩.  শ্রীশ্রীবিষ্ণুপ্রিয়া দেবী 🙏 তৃতীয় ভাগ 
          ꧁ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ ꧂
        এই লিংকে ⬇️⬇️⬇️🙏⬇️⬇️⬇️ ক্লিক করুন 
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
*(১৩৩)💧শ্রীশ্রীবিষ্ণুপ্রিয়াদেবী💧*
*🙏শচীমা-শ্রীমতী ও দামোদর পন্ডিত🙏*
🙌🙌🙌🙌🙌🙌🙌🙌🙌🙌🙌🙌🙌
*"পাষাণে কুটিব মাথা অনলে পশিব।*
*গৌরাঙ্গ-সুখের নিধি কোথা গেলে পাব"।।চৈঃমঃ।।*
*🌼প্রায় পাঁচ বৎসর হ'ল শ্রীগৌরহরি গৃহত‍্যাগী হয়েছেন,এক্ষণে শ্রীমতী  বিষ্ণুপ্রিয়া দেবীর বয়ঃক্রম ১৮|১৯ বৎসর,শ্রীমতী এখন পূর্ণ যুবতী,রূপরাশি উছলিয়ে পড়ছে,বাল‍্য-স্বভাব আর নেই।শ্রীমতী এখন স্থিরচিত্তা ও গম্ভীরা, বেশী কথা বা বৃথা কথা তিনি কহেন না।কদাচিৎ কোন মরমী সখির সঙ্গে দুই একটি মনের কথা বলে প্রাণ শীতল করেন,পাঁচ বৎসর অবধি প্রাণবল্লভের জন্য দিনরাত্রি কাঁদছেন, সর্বত‍্যাগিনী হয়েছেন। শ্রীগৌরকথা, প্রাণনাথের গুণগাথা, হৃদয়নাথের রূপচিন্তা,শ্রীকৃষ্ণচৈতনের শ্রীচরণধ‍্যান, এই সব কাজে বিষ্ণুপ্রিয়া দেবীর সবিশেষ অনুরাগ। শ্রীমতীর প্রধানা সখী কাঞ্চনা সদা সর্বদা তাঁর নিকটে থাকেন।একদিন শ্রীগৌরপ্রিয়া সখীকে সম্বোধন করে বলছেন, সখী!এক একদিন করে কত মাস,কত বৎসর গেল, কৈ? আমার হৃদয়েশ্বর শ্রীগৌরাঙ্গ তো আসিলেন না?আমি এখনও যে তাঁর আশাপথ চেয়ে আছি।এ ছার জীবন তাঁর দর্শন আশাতেই রেখেছি।কেঁদে কেঁদে আমি প্রায় অন্ধ হতে বসেছি। আমার প্রাণবল্লভ কি এ সবকিছুই জানতে পারছেন না? এসব সমাচার কি কেউ তাঁকে দেয় নাই?*
*🙏শ্রীরাধিকার উক্তি বিদ‍্যাপতির একটি পদে শ্রীমতী বিষ্ণুপ্রিয়ার মনের ভাবটি বড় সুস্পষ্ট ব‍্যক্ত হয়েছে বলে এস্থলে উদ্ধৃত হল।*
   *সজনি!কো কহু,আওব মাধাই।*
*বিরহ-পয়োধি, পার কিয়ে পাওব,*
      *মঝু মনে নাহি পাতিয়াই।।*
*এখন তখন করি,দিবস গোঁঙারনু,*
      *দিবস দিবস করি সা সা।*
*মাস মাস করি,   বরিখ গোঙায়নু,*
     *খোয়লু এ তনুক আশা।।*
*বরিখ বরিখ করি, সময় গোঙায়লু,*
     *খোয়লু জীবনক আশে।*
*হিম কর কিরণে,নলিনী যদি জারব,*
    *কি করব মাধবি মাসে।।*
*অঙ্কুরে-তপন তাপে, যদি জারব,*
     *কি করব বারিদ মেহে।*
*ইহ নব-যৌবন,  বিরহে গোঙায়ব,*
     *কি করব সো পিয়া লেহে।।*
*ভণয়ে বিদ‍্যাপতি,শুন বর-যুবতী,*
     *অব-- নাহি হোত নিরাশ।*
*সো ব্রজনন্দন,     হৃদয় আনন্দন,*
     *ঝটিতে মিলব তুয়া পাশ।।*
*🌻কাঞ্চনা লোকমুখে শুনেছেন, শ্রীগৌরাঙ্গ একবার জননী ও জন্মভূমি দর্শন করতে নবদ্বীপে আসিবেন।সখিকে সেই আশা রজ্জুতে ঝুলিয়ে রেখেছেন।এখন বসন্তকাল,নবপল্লবে বৃক্ষ-লতা শোভিত হয়েছে।মৃদুমন্দ মলয় সমীরণে বিরহিণীর প্রাণ আকুল করছে। পূর্ণিমার চন্দ্র নির্মল গগনে বসে ভুবনে মধুর হাসিরাশি ছড়াচ্ছেন। সন্ধ‍্যারাত্রে সুস্নিগ্ধ জ‍্যোৎস্নার আলোকে বসে শ্রীমতী বিষ্ণুপ্রিয়া ও কাঞ্চনা গৌরবিরহ-কথা বলছেন।বিষ্ণুপ্রিয়া বাণবিদ্ধ মৃগীর(হরিণের) ন‍্যায় গৌর-বিরহবাণে ছটফট করছেন। কাছে বসে কাঞ্চনা এই বিরহব‍্যাধির ঔষধ প্রয়োগ করছেন। ঔষধের গুণে সময়ে সময়ে অবশ‍্য ব‍্যাধির উপকার হচ্ছে। কিন্তু ব‍্যাধিটা তো অনেকদিনের, বড় উৎকট ও দুরারোগ‍্য বলে ঔষধের ফল ততটা হচ্ছে না।ব‍্যবস্থিত ঔষধগুলিও বড় উত্তম।কবিরাজটিও বড় বিজ্ঞ, ও চতুর, রোগিনীর মন বুঝে সময়োপযোগী ঔষধ প্রয়োগ করছেন।*
*🙌🙌🙌🙌🙌🙌🙌🙌🙌🙌🙌🙌🙌
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
 ꧁ ১৩৪.  শ্রীশ্রীবিষ্ণুপ্রিয়া দেবী 🙏 তৃতীয় ভাগ 
          ꧁ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ ꧂
        এই লিংকে ⬇️⬇️⬇️🙏⬇️⬇️⬇️ ক্লিক করুন 
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
*(১৩৪)🙌শ্রীশ্রীবিষ্ণুপ্রিয়াদেবী🙌*
*💧শচীমা-শ্রীমতী ও দামোদর পন্ডিত💧
🙌🙌🙌🙌🙌🙌🙌🙌🙌🙌🙌
*🍀বিষ্ণুপ্রিয়া দেবীর এই গৌরবিরহ ব‍্যাধিটি কবিরাজ কাঞ্চনা বিশেষ দক্ষতার সহিত চিকিৎসা করে আসছেন।এ ব‍্যাধির চিকিৎসক শ্রীমতীকাঞ্চনা দেবী, ইহার ঔষধ শ্রীগৌরকথা,গৌরলীলামৃত পান এ ব‍্যাধির পথ‍্য ; গৌর-রূপ-গুণবর্ণন এ ব‍্যাধির ঔষধের অনুপান। চিকিৎসা ভালই হচ্ছে, যেমন রোগ তেমনি ঔষধ খাওয়াচ্ছেন।কাজেই রোগের অনেক উপশম হতে লাগিল।শচীমা পুত্রবধূর ব‍্যাধি আরোগ‍্যের জন্য কবিরাজ শিরোমণি কাঞ্চনাকে নিযুক্ত করে নিশ্চিন্তে আছেন।তবে মাঝে মধ্যে রোগিনীর শুশ্রূষার জন্য বৃদ্ধা শচীমাকেও বিষ্ণুপ্রিয়ার কাছে যেতে হয়।পথ‍্যাদির ব‍্যবস্থা করতে হয়।শচীমাকেও কখনও কখনও কবিরাজ সাজতে হয়।যখন কাঞ্চনা শ্রীমতীর কাছে থাকেন না,শাশুড়ী পুত্রবধূ নির্জনে বসে গৌরকথা আরম্ভ করেন,তার আর কথা শেষ হয় না, সমস্ত রাত্রি জাগরণে কেটে যায়। সুতরাং ব‍্যাধির বৃদ্ধি হয়।রোগিনীর মূর্ছার সম্ভাবনা হয়।তখন শচীমা ব‍্যতিব‍্যস্ত হয়ে কাঞ্চনাকে ডাকতে হয়। এইভাবে এক,দুই তিন করতে করতে পাঁচ বৎসর অতীত হতে চলিল, তবুও শ্রীমীতর রোগের বিশেষ কোন উপকার দেখা গেন না, বরণ দিন দিন বৃদ্ধি হতে লাগিল।শ্রীমতীর শরীর ক্রমশঃ শীর্ণ হতে লাগল।ইহা দেখে শচীমা ও বৈদ‍্যরাজ কাঞ্চনার মনে বিষম ভয় উপস্থিত হল।বিষ্ণুপ্রিয়ার শরীরে সেই কান্তি নাই,বদনে সে শোভা নাই,প্রফুল্ল কুসুমসম অতি সুন্দর মুখখানি যেন শুকিয়ে গিয়েছে।পরিধানের মলিন বসনে সর্ব অঙ্গ আবৃত করে শ্রীগৌরবিরহিণী ভূমিশয‍্যায় শয়ন করে আছেন, আর মধ্যে মধ্যে "হা নাথ" "হা নাথ" হা গৌরাঙ্গ" বলে দীর্ঘ নিঃশ্বাস ফেলছেন। শচীমা কাছে যান,কাঞ্চনা আছেন, তিনি সখিকে অনেক বুঝাবার চেষ্টা করেন, বুঝিয়ে বলেন, সখি! অনেক কেঁদেছ, আর কাঁদিও না, একটু বিরাম নাও? নিশ্চয়ই তোমার প্রাণবল্লভের দর্শন পাবে। তিনি শীঘ্রই জননী ও জন্মভূমি দর্শনে আসিবেন, আর একটু অপেক্ষা কর? শ্রীমতী এই কথাগুলি শুনে মনে মনে ভাবলেন, তাতে আমার কি?প্রভু তো এ হতভাগিনীকে দর্শন দিবেন না, এ পাপিনীর মুখ দর্শন করবেন না, করলে তাঁর ধর্মনাশ হবে!শ্রীমতী মনের কথা মনেই রাখলেন। কাঞ্চনাকে অতি ধীরে ধীরে বললেন, সখি! এমন দিন কবে হবে? প্রাণবল্লভ এই হতভাগিনীর জন‍্যই গৃহত‍্যাগ করেছেন।(এই যে যার মনে একবার যদি কোন কুভাবনা প্রবেশ করে, সেই ভাবনা যদি নিজে হতে নিজেই দূর না করে তবে, পৃথিবীতে এমন কোন ঔষধ নেই যে সেই ঔষধ দ্বারা সেই রোগ দূরীভূত করতে পারে।) শ্রীমতী বললেন,এই পাপিনী জীবিত থাকতে তিনি নবদ্বীপে আসিবেন বলে বোধ হয় না।তখন শ্রীমতীকে প্রবোধ দিয়ে কাঞ্চনা বললেন,🍀মহাপ্রভুর সংবাদ নিয়ে শ্রীদামোদর পন্ডিত এসেছেন।মহাপ্রভু বলে দিয়েছেন,তিনি শীঘ্রই নবদ্বীপে আসিবেন।🍀*
*🌻এ দিকে শচীমা পুত্র-বিরহ-শোকে দিবারাত্রি কেঁদে কেঁদে চক্ষুরত্ন দুইটি হারাতে বসেছেন।শ্রীমতী বিষ্ণুপ্রিয়া দেবীর রূপযৌবন তাঁর বক্ষের শেলস্বরূপ।শ্রীগৌরহরি এই শেল জননীর বক্ষে মেরেছেন।শচীমা ব্রজের যশোদার ভাবেই মত্ত থাকেন।নিমাই আমার নীলাচলে গিয়েছে,শচীমা ভাবেন,শ্রীকৃষ্ণ মথুরায় রাজা হয়ে সবই ভুলে গিয়েছেন।যত যোগী,সন্ন‍্যাসী, অবধূত দেখেন, তাঁদের পেছন পেছন ছুটে গিয়ে জিজ্ঞাসা করেন "তোমরা কি গো একটি সোনার কচি ছেলে সন্ন‍্যাসী দেখেছ"?তার নাম শ্রীকৃষ্ণচৈতন‍্য, সর্বদাই তাঁর মুখে কৃষ্ণনাম,কাঁচা সোনার মত তাঁর দেহের বর্ণ,সর্বদা নয়নে তাঁর জলধারা।*
*🙌🙌🙌🙌🙌🙌🙌🙌🙌🙌🙌🙌🙌
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
 ꧁ ১৩৫.  শ্রীশ্রীবিষ্ণুপ্রিয়া দেবী 🙏 তৃতীয় ভাগ 
          ꧁ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ ꧂
        এই লিংকে ⬇️⬇️⬇️🙏⬇️⬇️⬇️ ক্লিক করুন 
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
*(১৩৫)💧শ্রীশ্রীবিষ্ণুপ্রিয়াদেবী💧*
*🌹শচীমা-শ্রীমতী ও দামোদর পন্ডিত🌹*
🙌🙌🙌🙌🙌🙌🙌🙌🙌🙌🙌🙌
*🌻সর্বদা নয়নে তাঁর জলধারা।সেটি আমার সোনার বাছা নিমাইচাঁদ। তোমরা কি তাঁকে দেখেছ?*
*নীলাচল পুরে,       গতায়াত করে,*
          *সন্ন‍্যাসী বৈরাগী যারা।*
*তাহা সভাকারে,   কান্দিয়া সুধায়,*
         *শচী পাগলিনী পারা।।*
*তোমরা কি এক, সন্ন‍্যাসী দেখেছ*
*শ্রীকৃষ্ণচৈতন‍্য নাম,তারে কি ভেটেছ?*
*বয়স   নবীন,         গলিত কাঞ্চন,*
       *জিনি তনুখানি গোরা।*
*হরেকৃষ্ণ নাম,      বোলয়ে সঘনে,*
       *নয়নে গলয়ে ধারা।।*
*🌼শচীমা পাগলিনীর মত দৌড়ায়ে গিয়ে সকলকে এইকথা জিজ্ঞাসা করেন ; কিন্তু কেউই বলে না যে এমন নবীন সন্ন‍্যাসীটিকে কোথাও দেখেছি। বৃদ্ধা বয়সে মধ্যে মধ্যে শ্রীবাস পন্ডিতের বাড়ী ছুটে গিয়ে দেখে আসেন, তাঁর হারাধন নিমাই সেখানে এসেছে কি না?কখন গঙ্গাতীরে বসে নিমাই!নিমাই! নিমাইরে! বাপরে!? কোথায় গেলি রে?বলে উচ্চৈঃস্বরে রোদন করে তখন নবদ্বীপবাসীর হৃদয় ফেটে যায়, এই বৃদ্ধ বয়সে এত কষ্ট!শচীমায়ের করুণ রোদনে পশুপক্ষী বৃক্ষলতাদিও বিচলিত হয়।ভাগীরথী দারুণ মনস্তাপে উছলিয়ে উছলিয়ে ফুঁপিয়ে ফুঁপিয়ে কাঁদতে থাকেন।নদীয়াবাসীর তো কথায় নাই।তারা শচীমায়ের দুঃখে ব‍্যাকুল হয়ে ছুটে গিয়ে তাঁকে কোলে তুলে গৃহে রেখে আসেন।এইরূপে বৃদ্ধা শচীমা ও শ্রীমতীর দুঃখে দিন কাটছে।দেখতে দেখতে পাঁচ বছর হয়ে গেল,তবুও দুঃখের লাঘব না হয়ে বরণ বেড়েই চলেছে।মহাপ্রভুর পুরাতন ভৃত‍্য বৃদ্ধ ঈশান শচীমা ও বিষ্ণুপ্রিয়ার রক্ষণাবেক্ষণ করেন, প্রভুর গৃহের কর্তা দামোদর পন্ডিত, প্রভুর জননী ও ঘরণীর তত্ত্বাবধান করেন।তিনি প্রতি বৎসরই অন‍্যান‍্য ভক্তগণ সঙ্গে মহাপ্রভুকে দর্শন করতে নীলাচলে গমন করেন।তিনিই শচীমায়ের ও শ্রীমতীর সমাচার মহাপ্রভুকে দেন এবং মহাপ্রভুর সমুদয় সংবাদ এনে দেবীদ্বয়কে জ্ঞাত করান।শচীদেবীর প্রদত্ত দ্রব‍্যাদি পরম আনন্দের সহিত ও সমাদরে দামোদর পন্ডিত মস্ততে বহন করে মহাপ্রভুর নিকটে নিয়ে যান এবং মহাপ্রভুকে দিয়ে কৃতকৃতার্থ হন। ভক্তগণের সঙ্গে তাঁদের পরিবারবর্গও মধ্যে মধ্যে শ্রীক্ষেত্র-দর্শন উপলক্ষ‍্য করে মহাপ্রভুর শ্রীচরণ দর্শন করতে যান।তারমধ‍্যে শ্রীবাসের পত্নী মালিনী এবং মহাপ্রভুর মাসী চন্দ্রশেখর আচার্য‍্যেরত্নের পত্নী প্রধানা।প্রভুর জননী ও ঘরণীর সমস্ত কথায় ইঁহারা মহাপ্রভুর কর্ণগোচর করবার জন্য চেষ্টা করেন এবং নীলাচলে প্রভুর প্রত‍্যেক কাজগুলি দেখে ও শুনে এসে শচীমা ও শ্রীমতীকে বলেন, শুনে তাঁরা তৃপ্ত হন।দামোদরের কাছে সবকথা শুনতে পান না, কেবল বাহ‍্যিক সন্ন‍্যাস জীবনের সবকথা বলেন, আর মহাপ্রভুর উৎকট ও কঠোর বৈরাগ‍্যের কথাগুলি খুলেতাঁদের বলেন না।দামোদর প্রতি বৎসর নীলাচলে গমন করেন, মালিনী বা শচীদেবীর ভগ্নী তা পারেন না। কাজে কাজে দামোদরই শচী-বিষ্ণুপ্রিয়ার নিকট যথানিয়মে প্রতি বৎসর মহাপ্রভুর সংবাদ এনে দেন।এক বৎসরকাল দেবীদ্বয়কে মহাপ্রভুর সংবাদের আশায় পথপানে তাকিয়ে থাকতে হয়। মধ্যে মধ্যে মহাপ্রভু দামোদরের হাতে জননীর জন‍্য শ্রীশ্রীজগন্নাথদেবের প্রসাদের সঙ্গে অন‍্যান‍্য কিছু দ্রব‍্যাদিও পাঠিয়ে দেন।রাজা পট্টবস্ত্র বান্ধিয়া দেন। মহাপ্রভু রাজদত্ত সেই পট্টবস্ত্র মস্তকে করে রথাগ্রে নৃত্য করেন।রাজাপ্রতাপরুদ্র জানেন মহাপ্রভু কখনও সে বস্ত্র ব‍্যবহার করবেন না, মহাপ্রভুর ভক্তগণও তা ব‍্যবহার করবেন না,তবে কি জন্য এই বহুমূল‍্য পট্টবস্ত্রখানি প্রতি বৎসর তিনি প্রভুকে দেন?রাজা প্রতাপরুদ্র জানেন, মহাপ্রভুর জননী ও ঘরণী নবদ্বীপে আছেন, ব‍ৎসরে বৎসরে মহাপ্রভুর দেশের লোক মহাপ্রভুর শ্রীচরণ দর্শন করতে নীলাচলে আসেন,তাঁদের হাতে মহাপ্রভু প্রসাদ ও দ্রব‍্যাদি পাঠান। মনে মনে রাজা প্রতাপরুদ্র ভাবেন, যদি অন‍্য দ্রব‍্যাদি ও প্রসাদের সঙ্গে এই শাড়ীখানি কোন ভাবে মহাপ্রভুর গৃহে গিয়ে পড়ে এবং তাঁর ঘরণীর শ্রীঅঙ্গে উঠে,তাহলে তাঁর জীবন সার্থক হবে,তিনি কৃতার্থ হবেন। রাজা প্রতাপরুদ্র দেখেন, মহাপ্রভু মহাবিরক্ত সন্ন‍্যাসী, মৃত্তিকানির্মিত করঙ্গ,ছিন্ন কৌপীন ও কম্বল তাঁর সম্বল।*
*🌹তাঁকে রাজবেশে সাজাবার বড় সাধ,তা পূর্ণ হবার নহে, তাই প্রভু-পত্নীকে যদি বস্ত্রালঙ্কারে সাজাতে পারেন,তার চেষ্টায় থাকেন,সেইজন‍্যই এই বহুমূল‍্য বস্ত্রদান।রাজার এই মনের ভাবটি অবশ‍্য কাঊকেও বলতে সাহস করেন না।মনের কথা মনেই রাখেন, মহাপ্রভু আমার অন্তর্য‍্যামী, ভক্তের মনের কথা ও বাসনা জানতে পেরেছেন।চতুর শিরোমণি শ্রীগৌর ভগবান ভক্তের মনের অভিলাষ পূর্ণ করবার জন‍্যই দামোদরকে দিয়ে রাজদত্ত পট্টবস্ত্রখানি প্রতি বৎসরই জননীর কাছে পাঠিয়ে দিয়ে থাকেন।মহাপ্রভু মুখে কিছু বলেন না, মহাপ্রভুর ভক্তগণ সকল দ্রব‍্যই অতি যত্ন সহকারে রক্ষা করেন, মহাপ্রভু যেন কিছুই জানেন না, অথচ তাঁর মনোমত কার্য‍্য হচ্ছে,ইহাকেই বলে শ্রীভগবানের চাতুরী "কৌশলীর কৌশল"।*
🙌🙌🙌🙌🙌🙌🙌🙌🙌🙌🙌🙌🙌
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
 ꧁ ১৩৬.  শ্রীশ্রীবিষ্ণুপ্রিয়া দেবী 🙏 তৃতীয় ভাগ 
          ꧁ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ ꧂
        এই লিংকে ⬇️⬇️⬇️🙏⬇️⬇️⬇️ ক্লিক করুন 
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
*(১৩৬)🙏শ্রীশ্রীবিষ্ণুপ্রিয়াদেবী🙏*
*শচীমা-শ্রীমতী ও দামোদর পন্ডিত*
🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏
*🌻তিনি চতুরের শিরোমণি,তাঁর চাতুরীর মধ্যে প্রবেশ করবার কারও সাধ‍্য নেই। শ্রীগৌরহরি শ্রীমতীর জন্য বস্ত্র প্রসাদ অবশ্যই পাঠাবেন, এতে বিস্মিত হবার কোন কারণ নেই। তিনি প্রকাশ করে কিছু বলেন না, কিন্তু নবদ্বীপের লোক আসিলেই গৃহের সব সমাচার নিবিষ্টচিত্তে শ্রবণ করেন। বিশেষতঃ শ্রীমতীর কথা তাঁর বড় ভাল লাগে, তাই জগদানন্দ শ্রীক্ষেত্রে গিয়ে যখন মহাপ্রভুকে প্রণাম করে সকলের দুঃখের কথা জ্ঞাপন করেন, তিনি প্রথমে নদীয়ার কথা শুনতে চাইলেন এবং তদুত্তরে জগদানন্দ যখন শচীমাতা ও শ্রীমতীর কথা বিশেষ করে বর্ণনা করতে লাগলেন, মহাপ্রভু নিবিষ্টচিত্তে শ্রীমতীর কথাগুলি সবই শুনেন।জগদানন্দ বলছেন আর কাঁদছেন ; মহাপ্রভু নীরবে বিনতবদনে শ্রবণ করছেন=*
*তবে করজোড়েতে পন্ডিত ক্রমে বোলে।*
*নদীয়ার ভক্তগণ আছয়ে কুশলে*।।
*শচীমাতার বাৎসল‍্যতা নিরুপম হয়।*
*তোমার মঙ্গল লাগি দেবে আরাধয়।।*
*সাধুস্থানে আশীর্বাদ লহয়ে মাগিয়া।*
*আশীষ করয়ে নিজে উর্ধবাহু হঞা।।*
*বিষ্ণুপ্রিয়া মাতার কথা কি কহিমু আর।*
*তান ভক্তি নিষ্ঠা দেখি হইনু চমৎকার।।*
*শচীমাতা সেবা করেন বিবিধ প্রকার।*
*সহস্রেক জনে নারে ঐছে করিবার।।*
*প্রত‍্যহ প্রত‍্যূষে গিয়া শচীমাতা সহ*।
*গঙ্গাস্নান করি আইসেন নিজ গৃহ*।।
*দিনান্তেহ আর কভু না যান বাহিরে।*
*চন্দ্র সূর্য‍্য তান মুখ দেখিতে না পারে।।*
*প্রসাদ লাগিয়া যত ভক্তবৃন্দ যায়।*
*শ্রীচরণ বিনা মুখ দেখিতে না পায়।।*
*তান কন্ঠধ্বনি কেহ শুনিতে না পারে।*
*মুখপদ্ম ম্লান সদা চক্ষে জল ঝরে।।*
*শচীমাতার পাত্রশেষ মাত্র সে ভুঞ্জিয়া।*
*দেহরক্ষা করে ঐছে সেবার লাগিয়া।।*
*শচী-সেবাকার্য‍্য সারি পাইলে অবসর।*
*বিরলে বসিয়া নাম করে নিরন্তর*।।
*হরিনামামৃতে তান মহারুচি হয়।*
*সাধ্বী-শিখি-মণি শুদ্ধ প্রেমপূর্ণ কায়।।*
*তব শ্রীচরণে তাঁর গাঢ় নিষ্ঠা হয়।*
*তাহান কৃপাতে পাইনু তাঁর পরিচয়।।*
*তব রূপ-সাম‍্য চিত্রপট নির্মাইলা।*
*প্রেমভক্তি মহামন্ত্রে প্রতিষ্ঠা করিলা।।*
*সেই মূর্তি নিভৃতে করেন সুসেবন।*
*তব পাদপদ্মে করি আত্মসমর্পণ*।।
*তান সদ্ গুণ শ্রীঅনন্ত কহিতে না পারে।*
*এক মুখে মুঞি কত কহিমু তোমারে।।*
                              *(অঃ প্রঃ)*
*🌼মহাপ্রভু অন্তরঙ্গ ভক্তগণে বেষ্টিত হয়ে বসেছিলেন।শ্রীমতী কথা শুনতে শুনতে তা ভুলে গিয়ে ছিলেন।মহাপ্রভু ভাবছিলেন, তিনি নির্জনে বসে আছেন, জগদানন্দ তাঁকে প্রিয়াজীর কথা শুনাচ্ছেন,আর কেউ জানতে পারছেন না।মহাপ্রভুর নয়নদ্বয় দিয়ে নীরবিন্দু পড়ছিল, তা অন‍্য কেউ দেখতে পেলেন না, কিন্তু প্রভু জগদানন্দকে ফাঁকি দিতে পারলেন না।শ্রীমতীর কথা বিরাম হলেই প্রভু যেন একটু লজ্জিত হয়ে বাহ‍্য-বিরক্তির সঙ্গে জগদানন্দকে কহিলেন=*
*মহাপ্রভু কহে আর না কহ এই বাত।*
*শান্তিপুরে আচার্য‍্যের কহ সুসংবাদ।।*
                                   *(অঃ প্রঃ)*
*🌻চতুর শিরোমণি শ্রীগৌরহরির চাতুরী দেখে জগদানন্দ একটু হেসে অদ্বৈতাচার্য‍্যের কথা বলতে লাগলেন।*
*🌹শ্রীমতী বিষ্ণুপ্রিয়া দেবী রাজা প্রতাপরুদ্রের দেওয়া পট্টবস্ত্র পরিধান করেন কি না, তা প্রকাশ নাই।মহাপ্রভুর প্রেরিত দ্রব‍্য শ্রীমতীর শিরোধার্য‍্য,শ্রীমতী তা মস্তকে ধারণ করে কৃতার্থ মনে করেন।দাসীকে মহাপ্রভু স্মরণ করেছেন, এই ভেবে প্রেমাশ্রু বর্ষণ করেন।তাঁর দুঃখরাশির মধ্যে এই একবিন্দু সুখ।হয়ত বস্ত্রগুলি শ্রীমতী অতি যত্নে রক্ষা করেন।মহাপ্রভুর প্রেরিত দ্রব‍্যসামগ্রী শ্রীমতীর মহামূল‍্য ধন।বৃদ্ধা শাশুড়ির আজ্ঞা বিষ্ণুপ্রিয়া অবহেলা করতে পারেন না, শচীমা কখনও কখনও আহ্লাদ করে পুত্রবধূকে সেই বস্ত্র পরিধান করিয়ে দেন, অলঙ্কার পরিয়ে দেন, কিন্তু সে কেবল গৃহের ভিতরে।বস্ত্রালঙ্কার পরিধান করে শ্রীমতী কখনও গৃহের বাহির হতেন না।শোকতাপে জর্জরিতা শাশুড়ীর আদেশ মাথা পেতে গ্রহণ করতেন। কিন্তু বস্ত্রালঙ্কার পরিধান করে মনে বিন্দুমাত্র সুখ পেতেন না।*
🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
 ꧁ ১৩৭.  শ্রীশ্রীবিষ্ণুপ্রিয়া দেবী 🙏 তৃতীয় ভাগ 
          ꧁ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ ꧂
        এই লিংকে ⬇️⬇️⬇️🙏⬇️⬇️⬇️ ক্লিক করুন 
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
*(১৩৭)💧শ্রীশ্রীবিষ্ণুপ্রিয়াদেবী💧*
*শচীমা-শ্রীমতী ও দামোদর পন্ডিত*
^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^
*🌻বিষ্ণুপ্রিয়া বস্ত্রালঙ্কার পরিধান করে মনে বিন্দুমাত্র সুখ পেতেন না।যত শীঘ্রই পারেন,বস্ত্রালঙ্কার উন্মোচন করে রেখে দিতেন।অন্তর্য‍্যামী মহাপ্রভু নীলাচলে বসে মনশ্চক্ষে দেখতেন,তাঁর প্রাণপ্রিয়া পট্টবস্ত্র পরিধান করেছেন,রাজা প্রতাপরুদ্রও দেখতেন,তাঁর প্রভুপত্নী বস্ত্রালঙ্কারে ভূষিতা হয়েছেন,প্রভুর ও প্রভুভক্তের উভয়ের মনের সাধ পূর্ণ হত।শ্রীমতী বিষ্ণুপ্রিয়া যদি তা জানতে পারতেন বা বুঝতে পারতেন যে,এ কার্য‍্যে রসিকচূড়ামণি শ্রীগৌরহরির সম্মতি রয়েছে এবং তিনি ইহাতে সুখানুভব করেন,তাহলে তিনি শ্রীঅঙ্গ হতে বস্ত্রালঙ্কার উন্মোচন করতে পারতেন না।প্রাণবল্লভ যাতে সুখী হন,তাইই শ্রীমতীরকর্তব‍্য।🍀বলরাম দাস রচিত শচীদেবীর উক্তি প্রভু-প্রেরিত শাড়ী সম্বন্ধে একটি পদ এস্থলে উদ্ধৃত হল।*
*কোথা গেলি বিষ্ণুপ্রিয়া,শীঘ্র আয় মা চলিয়া,*
      *ক্ষেত্র হ'তে সমাচার এলো।*
*নিমাই মোর স্মরিয়াছে,কত কিনা পাঠিয়েছে,*
      *শচী পাছে বধূ দাঁড়াইল।।*
*দামোদর শচী আগে,শ্রীমহান্রসাদ রাখে,*
       *আর রথে বহুমূল‍্য শাড়ী।*
*নন্দোৎসব দিনে রাজা,বস্ত্রে করে প্রভু-পূজা,*
     *প্রভু উহা পাঠায়েছেন বাড়ী।।*
*শচী বলে বিষ্ণুপ্রিয়া,ধর শাড়ী পর গিয়া,*
     *পাঠায়েছে নিমাই তোর লাগি।*
*বাড়ীতে আসিতে নারে,সদা তোমা মনে করে,*
     *সে তোমার সুখ-দুঃখ ভাগী।।*
*দেবী শাড়ী করি বুকে,বলিলেন জননীকে,*
      *শাড়ী তুমি বিলাইয়া দাও।*
*বলে বলরাম দাস,ছাড় গো দুঃখিনী বেশ,*
     *শাড়ী পরি আগেতে দাঁড়াও।।*
*🌻নীলাচল হতে সংবাদ আসিল,মহাপ্রভু দক্ষিণ দেশ ভ্রমণ করে সুস্থ শরীরে পুনরায় নীলাচলে ফিরে এসেছেন এবং ভাল আছেন। দামোদর,মহাপ্রভুর দূত,দামোদর নীলাচল হতে এসেছেন,শচীমাকে প্রভু-দত্ত প্রসাদ দিয়ে তাঁর পুত্রের(নিমাইচাঁদের) সকল বৃত্তান্ত কহিলেন।বাৎসল‍্যময়ী প্রেমময়ী মা শচী দেবী এক এক করে পুত্রের সমস্ত করে দামোদরকে জিজ্ঞাসা করছেন আর তদুত্তরে দামোদর যা বলছেন,তা অত‍্যন্ত মনোযোগ সহকারে শ্রবণ করছেন।মায়ের মন, বলছেন,নিমাই কেমনটি হয়েছে?শরীর দুর্বল হয়নি তো?বাছা ভাল করে আহার করে না বোধ হয়?রাত্রিতে ঘুমায় কি না?কে তাকে রন্ধন করে খাওয়ায়?রাত্রে নিমাইয়ের কাছে কে শয়ন করে?নিমাই তাদের প্রতি তুষ্ট কি না? প্রভৃতি বাৎস‍্য ভাবপূর্ণ স্নেহমাখা কথোপকথনে দামোদরকে নিয়ে শচীমা অনেকক্ষণ কাটালেন।বিরহিনী বিষ্ণুপ্রিয়া অন্তরালে দাঁড়িয়ে উৎকর্ণ হয়ে সবকথা শুনছেন।দামোদর পন্ডিত এক এককরে শচীমায়ের সমস্ত প্রশ্নের উত্তর দিলেন এবং কহিলেন, মহাপ্রভু বড় আনন্দে আছেন।নিমাই আমার ভাল আছেন,সুখে আছেন,নীলাচলে আনন্দে আছেন, সকলে তাঁর যশোগান করছেন,"জয় নবদ্বীপ চন্দ্রের জয়" বলে সমগ্র গৌড়বাসী তাঁর পুত্রের জয়গান করছেন,এতে শচীমায়ের মনে ভীষণ আনন্দ হচ্ছে। তিনি শুনলেন, তাঁর পুত্রের কৃপায় কত পাপক্লিষ্ট জীব উদ্ধার হল,কলি-ক্লিষ্ট জীবের উদ্ধারের একটি সহজ-সাধ‍্য সাধনপথ উন্মুক্ত হল, এই ভেবে বৃদ্ধা শচীমায়ের মনে অপার আনন্দ হচ্ছে। তিনি আর এখন নিজের স্বার্থপরতার দিকে তাকাচ্ছেন না।*
🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
 ꧁ ১৩৮.  শ্রীশ্রীবিষ্ণুপ্রিয়া দেবী 🙏 তৃতীয় ভাগ 
          ꧁ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ ꧂
        এই লিংকে ⬇️⬇️⬇️🙏⬇️⬇️⬇️ ক্লিক করুন 
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
*(১৩৮)💧শ্রীশ্রীবিষ্ণুপ্রিয়াদেবী💧*
*শচীমা-শ্রীমতী ও দামোদর পন্ডিত*
🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏
*🌻তাঁর (শচীদেবীর) গর্ভজাত পুত্রের দ্বারা কলিহত জীবের ভববন্ধন মুক্ত হবার পথ পরিস্কৃত হচ্ছে,জীব উদ্ধার হচ্ছে, ইহা শুনে শচীমায়ের মনে বড় সুখ হ'ল।শ্রীমতী বিষ্ণুপ্রিয়া দেবী এখনও পূর্ববৎ(আগের মতই) কাতরা,বিষাদিতা ও মর্মাহতা হয়ে দিন যাপন করছেন।পতি-বিরহ-বিধুরা শ্রীমতী মনকে এতদিনেও প্রবোধ দিতে পারেননি। তাঁর মন কিছুতেই মানছে না ; কোন সুখেই সুখী হতে চাই না।চাই কেবল প্রাণবল্লভের সঙ্গ-সুখ, প্রাণ-গৌরদর্শন, আর তাঁর শ্রীচরণ-সেবা। হয়ত শ্রীমতীর ভাগ‍্যে তা নাই, তিনি জানেন ও বুঝেন,সেই দুঃখেই বিষ্ণুপ্রিয়া জীয়ন্তে মরা হয়ে আছেন।কোন বিষয়েতাঁর মনে আনন্দ হতে পারে না।শচীমা বৃদ্ধা হয়েছেন,সংসারতত্ত্ব সবই বুঝেছেন, পুত্রের প্রসাদে তাঁর জ্ঞান-চক্ষু উন্মীলিত হয়েছে,তিনি এখন মন স্থির করতে পারেন।শ্রীমতীর কথা স্বতন্ত্র, তিনি ভাবেন,তাঁর প্রাণবল্লভ সকলকে কৃপা করে উদ্ধার করছেন,জগতের যত পাপী-তাপী তাঁর কৃপায় কৃতার্থ হ'ল,কেবল তাঁর ভিখারিণী দাসী তাঁর কৃপায় বঞ্চিত। তিনি একটিবার কেবলমাত্র প্রাণবল্লভের দর্শন-ভিখারিণী,কৃপা করে তা দিলেন না,প্রভুকে দর্শন করে সকলে পাপমুক্ত হল, তাঁর পদরজ স্পর্শের অধিকারী সকলেই,বঞ্চিত কেবলমাত্র এই হতভাগিনী বিষ্ণুপ্রিয়া।হয়ত শ্রীমতীর এই দুঃখ যাবার নহে,এই দুঃখের কথা মনে হলেই শ্রীমতীর হৃদয় ফেটে যায়।ইহ জগতের সাংসারিক সুখের সর্বোচ্চস্থান অধিকার করে শ্রীমতী এক্ষণে সর্বনিম্নে পতিতা হয়েছেন ; রাজরাণী ভিখারিণী হয়েছেন।হয়ত ভিখারিণীও তাঁর অপেক্ষায় শতগুণে সুখী হয়।কারণ,তারও শ্রীগৌরাঙ্গ দর্শনে বাধা নাই। শ্রীমতী অনন্ত দুঃখ সমুদ্রে পতিত হয়ে কূল-কিনারা পাচ্ছেন না।এই দুঃখ-রাশির মধ্যে তাঁর একমাত্র সুখ,প্রাণনাথের নাম করলেই "হা নাথ,হা গৌর,হা গৌরাঙ্গ! বলে অনুরাগে ডাকলেই তিনি তাঁর প্রাণবল্লভকে সম্মুখে দেখতে পান। চর্ম-চক্ষে তিনি মহাপ্রভুর দর্শন পান না বটে,বাহ‍্যেন্দ্রিয় দ্বারা সেবা করতে পারেন না বটে, কিন্তু শ্রীমতী মনশ্চক্ষে সেই ভুবনমোহন রসিকচূড়ামণি শ্রীগৌর ভগবানকে সর্বদাই দেখতে পান এবং সিদ্ধ দেহে তাঁর সেবা করে কৃতার্থ হন।দুটি চক্ষু মুদিত করে শ্রীমতী যখন প্রাণনাথের ধ‍্যানে বসেন,তখনি তিনি তাঁর হৃদয় কন্দরে হৃদয়ের ধন শ্রীগৌরহরিকে দর্শন করে অতুল সুখ অনুভব করেন।ইহা যে মহাপ্রভুর আশীর্বাদ, মহাপ্রভু যখন গৃহত‍্যাগের বাসনা করেন, তখন একদিন শ্রীমতীকে বিষ্ণুপ্রিয়াকে বলেছিলেন=*
*শুন দেবী বিষ্ণুপ্রিয়া,তোমারে কহিল ইহা,*
     *যখন যে তুমি মনে কর।*
*আমি যথা তথা যাই,থাকিব তোমার ঠাঁই,*
     *এই সত‍্য করিলাম দৃঢ়।।চৈঃমঃ।।*
*🌻মহাপ্রভু সত‍্যরক্ষা করেছেন, শ্রীমতী কেঁদে ডাকলেই তিনি এসে সামনে উপস্থিত হন।বুঝি দেবীর নয়নজল দেখতে তাঁর বড় ভাল লাগে।(যাঁরা প্রকৃত ভক্তিপথে আছেন, তাঁদের সকলের একই কথা, না কাঁদিলে ভগবান সম্মুখে দেখা দেন না।)দরদর ধারাসিক্ত শ্রীমতীর অনিন্দ‍্য বদনচন্দ্রখানি দেখলে মহাপ্রভুর মনে বোধ হয়,অধিকতর সুখ হয়।*
*🌻তাই যখনই বিষ্ণুপ্রিয়া "হা নাথ, হা গৌরাঙ্গ " বলে কাঁদেন,যখনই দেবীর নয়নজলে বক্ষ ভেসে যায়,তখনই মহাপ্রভু তাঁর পদ্মহস্ত দিয়ে তাঁর নয়নবারি মুছিয়ে দিতে আগমন করেন।শ্রীগৌরহরি জননীকেও বলেছিলেন=*
*যে দিন দেখিতে মোরে চাহ অনুরাগে।*
*সেইক্ষণ তুমি মোর দরশন পাবে*।। *চৈঃমঃ।।*
*🌻এস্থলে "অনুরাগ" কথাটি বলবার একটু তাৎপর্য‍্য আছে।মহাপ্রভু প্রেমের অবতার,কারুণ‍্য রসই মহাপ্রভুর অতি প্রিয়।প্রেম-ভক্তি,করুণা মাখা,শ্রীগৌরাঙ্গ করুণাময়।*
🙌🙌🙌🙌🙌🙌🙌🙌🙌🙌🙌🙌🙌
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
 ꧁ ১৩৯.  শ্রীশ্রীবিষ্ণুপ্রিয়া দেবী 🙏 তৃতীয় ভাগ 
          ꧁ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ ꧂
        এই লিংকে ⬇️⬇️⬇️🙏⬇️⬇️⬇️ ক্লিক করুন 
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
 *(১৩৯)🙌শ্রীশ্রীবিষ্ণুপ্রিয়াদেবী🙌*
*শচীমা-শ্রীমতী ও দামোদর পন্ডিত*
💧💧💧💧💧💧💧💧💧💧💧
*🌻করুণার প্রগাঢ় আবেগে সর্বদা মহাপ্রভু বিহ্বল থাকতেন।কেউ কখন তাঁর শুষ্ক নয়ন দেখেনি।শ্রীগৌরাঙ্গ অনুরাগী ভক্তরূপে স্বয়ং আচরিয়া জীবকে অনুরাগ-ভজনের শিক্ষা দিয়ে গিয়েছিলেন।প্রেম-ভক্তি-পূর্ণ ভক্তের নয়নজলই অনুরাগভজনের মূলমন্ত্র। প্রেমাশ্রুজলে ভক্তি সহকারে শ্রীগৌ ভগবানের শ্রীপাদপদ্ম ধৌত করতে হবে,নয়নজলে তাঁর শ্রীচরণকমলে অর্ঘ‍্য দিতে হবে, তাহলে তাঁর দর্শন মিলবে।প্রেম-ভক্তি গৌর-ভক্তের-নয়ন জলে পুষ্ট হয়।ভগবৎ-প্রেমে হৃদয় গলিত না হলে নয়নে জল আসে না। যিনি কাঁদতে পারেন,তাঁর হৃদয়ে শ্রীগৌর ভগবান আছেন,যাঁর নয়নে জল আসে না,তাঁর মানব আকার আছে বটে,হৃদয় নেই।হৃদয় না থাকলে গলবে কি?নয়নে জল আসবে কেন?*
*🍀শ্রীমতী বিষ্ণুপ্রিয়া প্রাণবল্লভের আদেশ যথাযথ পালন করে আসছেন।তাই তিনি এত কাঁদেন, সর্বদা নয়নজল দিয়ে মহাপ্রভুর পাদপদ্ম ধৌত করেন।এই অনুরাগ ভজনের ফলে মহাপ্রভু শ্রীমতীকে দর্শন দেন,স্বহস্তে বিষ্ণুপ্রিয়াদেবীর নয়ন জল মুছিয়ে দেন।এ সব অনুরাগ ভজনের ফল, অতি গুহ‍্য কথা।ইহা কেউ জানতে পারে না, শ্রীমতীও কারো কাছেই বলেন না,(এই যে ভজনের কথা)।কিন্তু এসব কথা শ্রীমতীর মরমী সখি কাঞ্চনাকেও বলেন না।শ্রীমতী শ্রীগৌরহরিকে এইভাবে ভজন করে মনে সুখ পান।এই সুখ টুকু আছে বলেই তিনি জীবিত আছেন।শচীমায়ের অনুরাগ ভজন অন‍্যরকম।কখন কখন বিষ্ণুপ্রিয়ার মনে হয়,তাঁর প্রাণনাথ সর্বজনপূজ‍্য,জগৎমান‍্য সন্ন‍্যাসীঠাকুর।তাঁর কৃপাবিন্দু প্রাপ্তির লালসায়,তাঁর কৃপাকরুণা প্রার্থী হয়ে কতশত পন্ডিত,কতশত কুলীন ব্রাহ্মণ, কতশত রাজা মহারাজা,তাঁর শরণাগত হয়েছেন,লক্ষ লক্ষ নরনারী তাঁর প্রাণবল্লভের নামে আনন্দে পুলকিত হয়ে জয়ধ্বনি করছে, তাঁর অপরূপ রূপরাশিতে বিমুগ্ধ হয়ে তাঁর অনুগমন করছে।এমন জগৎপূজ‍্য স্বামী যাঁর, তিনি নিশ্চয়ই পরম সৌভাগ্যবতী রমণী। এমন স্বামীকে নিয়ে কি ঘরকন্না করা যায়, কারণ তিনি বহুবল্লভ, তিনি জগতের স্বামী। তিনি ত্রিভুবনপতি।তাঁকে কে গৃহে বেঁধে রাখবে?এই সমস্ত কথা যখন বিষ্ণুপ্রিয়ার মনে উদয় হয়, এত দুঃখের মধ্যেও তখন তাঁর মনে একটু সুখ বোধ হয়।বিষ্ণুপ্রিয়া এক্ষণে বুঝেছেন, শ্রীগৌরসুন্দর কেবল মাত্র তার স্বামী নহেন। তিনি নরনারী উভয়েরই স্বামী, অখিল ব্রহ্মান্ডপতি, অনন্ত কোটি ব্রহ্মান্ডের অধিপতি। তিনি পতিত অধমের পিতা,দীন দুঃখীর পালক।তাঁকে গৃহে বেঁধে কি রাখা যায়? তাহলে জগতের মঙ্গল কিসে হবে?জীব উদ্ধার কার্য‍্য কি করে সুসিদ্ধ হবে।*
🤚✋🤚✋🤚✋🤚✋🤚✋🤚✋🤚
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
 ꧁ ১৪০.  শ্রীশ্রীবিষ্ণুপ্রিয়া দেবী 🙏 তৃতীয় ভাগ 
          ꧁ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ ꧂
        এই লিংকে ⬇️⬇️⬇️🙏⬇️⬇️⬇️ ক্লিক করুন 
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
*(১৪০)💧শ্রীশ্রীবিষ্ণুপ্রিয়াদেবী💧*
*শচীমা-শ্রীমতী ও দামোদর পন্ডিত*
~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~
*🌼শ্রীগৌরহরি গৃহে থাকলে শ্রীগৌরাঙ্গ অবতারের মূল উদ্দেশ্য সাধন হত না।কৃপা করে মহাপ্রভুই এই জ্ঞানটি শ্রীমতীকে দিয়েছেন।মহাপ্রভুই এই দিব‍্য জ্ঞানদাতা।তবে বিষ্ণুপ্রিয়ার বড় দুঃখ সকলেই শ্রীগৌরহরির দর্শন পাচ্ছেন,তাঁর সঙ্গসুখে মানবজীবন চরিতার্থ করছেন,তাঁর সেবায় অধিকার পাচ্ছেন,বিষ্ণুপ্রিয়াকে কেন শ্রীকৃষ্ণচৈতন‍্য এ সুখে বঞ্চিতা করলেন।এর মর্ম এখনও তিনি বুঝতে পারেননি বলেই এত দুঃখ।শ্রীগৌর ভগবানই শ্রীমতীকে এ দুঃখ দূরীকরণের উপায় বলে দিবেন, বিষ্ণুপ্রিয়ার দুঃখ তিনিই দূর করে দেবেন।সর্ব-দুঃখহারী বিষ্ণুপ্রিয়াবল্লভ শ্রীগৌর ভগবানের শ্রীচরণে অধম অকৃতী গ্রন্থকারের করযোড়ে নিবেদন,শ্রীমতীর এই দুঃখটি দূর করে দিয়ে তাঁর ভক্তবৃন্দের প্রাণ রক্ষা করুন।শ্রীমতীর দুঃখে পাষাণও বিগলিত হয়।শ্রীমতীর দুঃখ আর সহ‍্য করতে পারছি না।তাঁর শ্রীচরিত লিখতে আরম্ভ করে পর্যন্ত রাত্রিদিন কাঁদছে।যত দিন দেহে প্রাণ থাকবে,ততদিন কাঁদবে।হে সর্ব-দুঃখহারী গৌরভগবান্, হে বিষ্ণুপ্রিয়াবল্লভ! তোমার কাছে প্রাণ খুলে এই নিবেদনটি করলাম।অধমের প্রার্থনাটি শুনবে কি?তোমাকে তোমার ভক্ত-বৃন্দ নিজজন-নিঠুর বলে থাকে।হে দীন দয়াল!ভক্তবৎসল!দীন শরণ!নিজজনকে তুমি এত কষ্ট কেন দাও?এতে তোমার কি সুখ হয়?নিজজন কি তোমার ভক্ত নয়?তারা যে তোমাকে ভিন্ন অন‍্য কাউকেও জানে না।শ্রীমতী বিষ্ণুপ্রিয়া দেবীর ক্রন্দনে তোমার হৃদয় বিগলিত হচ্ছে না? তুমি লোকশিক্ষার জন্য, স্বয়ং আচরণ করে জীবকে ধর্ম-শিক্ষা দিবার জন্য এত নিঠুরালি করছ!তা বেশ!নিজজনকে প্রাণে মেরে লাভ কি?বিষ্ণুপ্রিয়ার অবস্থা একবার এসে দেখ দেখি,ঠাকুর তাঁর দশাটি কি হয়েছে? যদি প্রাণে মারবার বাসনা থাকে,মন থেকে এই কথাটি বল না কেন?সকল জ্বালা একেবারে ফুরিয়ে যায়।হে মহাপ্রভু!অধমাধম লেখকের ধৃষ্টতা অপরাধ ক্ষমা করবে।বড় দুঃখেই প্রাণ খুলে তোমার শ্রীচরণে মনের কথাটি নিবেদন করলাম,অপরাধ নিও না।*
🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🌿
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
 ꧁ ১৪১.  শ্রীশ্রীবিষ্ণুপ্রিয়া দেবী 🙏 তৃতীয় ভাগ 
          ꧁ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ ꧂
        এই লিংকে ⬇️⬇️⬇️🙏⬇️⬇️⬇️ ক্লিক করুন 
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
*(১৪১)🙌শ্রীশ্রীবিষ্ণুপ্রিয়াদেবী🙌*
*🙏মহাপ্রভুর জন্ম-ভূমি-দর্শন🙏*
°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°
      *🌻শচীমায়ের উক্তি🌻*
*পুন নবদ্বীপে আইল আমার নিমাই।*
*ধরিয়া রাখহ লোক কিছু দোষ নাই।।* *(চৈঃমঃ)*

*🍀পাঁচ বৎসর অতীত হল শ্রীগৌরসুন্দর নবদ্বীপ আঁধার করে গৃহত‍্যাগ করেছেন।সন্ন‍্যাসধর্মের নিয়ম অনুসারে জননী ও জন্মভূমি প্রত‍্যেক সন্ন‍্যাসীর জীবনে একবার মাত্র দর্শন করতে হয়।সেই জন্য শ্রীশ্রীকৃষ্ণ-চৈতন‍্য দেব জননী ও জন্মভূমি দর্শন করতে নবদ্বীপে আসছেন,এইকথা সর্বত্র প্রচারিত হয়েছে।তিনি ভাগীরথীর পরপারে কুলিয়া গ্রামে এসেছেন।*
*🌻শ্রীচৈতন‍্য মঙ্গলে পায়🌻*
*গঙ্গাস্নান করি প্রভু রাঢ় দেশ দিয়া*।
*ক্রমে ক্রমে উত্তরিলা নগর কুলিয়া।।*
*জন্মস্থান দেখিব এ সন্ন‍্যাসীর ধর্ম।*
*নবদ্বীপ নিকটে গেলা এই তার মর্ম।।*
*🍀নবদ্বীপ এবং তার নিকটবর্তী জায়গায় লক্ষ লক্ষ লোক এসে মহাপ্রভুকে ঘিরে ফেলেছে।চতুর্দিকে কোলাহল, কুলের কুলবধূ সকল শ্রীগৌরাঙ্গ-দর্শনে চলেছেন।হরিধ্বনিতে দিঙমন্ডল পরিপূর্ণ। "জয় নবদ্বীপ-চন্দ্রের জয়"! জয় শ্রীগৌরাঙ্গের জয়! সকলের মুখে একই ধ্বনি।নদীয়ার আবাল-বৃদ্ধ-বনিতা গঙ্গাতীরে প্রভু-দর্শনে এসেছেন।তাদের সকল শোক-দুঃখ দূর হয়েছে।*
*🌻শ্রীচৈতন‍্য মঙ্গলে দেখা যায় 🌻*
*প্রভু আগমন শুনি নদীয়ার লোক*।
*পুন লেউটিলা সভে পাসরিল শোক।।*
*হা হা গোরাচাঁদ বলি অনুরাগে ধায়।*
*কুবধূ ধায় তারা পাছু নাহি চায়।।*
*🌼শচীমা ও শ্রীমতী বিষ্ণুপ্রিয়া দেবী এ শুভ সংবাদ পেয়েছেন।শচীমায়ের আনন্দের সীমা নেই।তিনি আনন্দবিহ্বল হয়ে উর্ধমুখে ছুটেছেন। তিনি চেতনাশূন‍্য হয়ে চলেছেন=*
*বিহ্বল চেতন শচী ধায় উর্ধমুখে।*
*এ ভূমি আকাশ যার ডুবিয়াছে শোকে।।ঐ*
*🌺অনেক দিএর পর আজি নিমাইচাঁদের মুখখানি দেখবেন,সেই আনন্দে শচীদেবীর হৃদয় নৃত্য করছে।বাছার মুখখানি তিনি বহুদিন দেখেন নাই।দুঃখিনী জননীকে নিমাইচাঁদের আবার মনে পড়বে,জননীকে দেখতে বা দেখা দিতে আবার তিনি নবদ্বীপে আসিবেন,এ আশা শচীমা কখনও করেন নাই। গৌরহরি দর্শনে দলে দে নরনারী গঙ্গাতীর অভিমুখে ছুটছেন।বলা যায় নবদ্বীপের সমস্ত লোক একত্র হয়েছে।পথ ঘাট জনাকীর্ণ, নদীয়ার পথে যেন জনস্রোত চলছে।পথ পাওয়া দুষ্কর*
*🌻শ্রীচৈতন‍্য ভাগবতে পায়🌻*
*পথ নাহি পায় কেহ লোকের গহনে।*
*বন জঙ্গল ভাঙ্গি যায় প্রভুর দর্শনে।।*
*🌻বৃদ্ধা শচীমা পুত্রবধূকে সঙ্গে করে গঙ্গাস্নানের নাম করে সেই জনস্রোতের মধ‍্য দিয়ে নদীয়ার পথে বাহির হয়েছেন।হাজার হাজার লোক বলছে,মহাপ্রভু জননী ও জন্মভূমি দর্শন করতে আসিয়াছেন, তিনি স্বয়ং এসে জননীকে দর্শন দিবেন, কিন্তু তা শচীমায়ের বিশ্বাস হচ্ছে না।আশার উপর নির্ভর করে তিনি আর গৃহে থাকতে পারলেন না, শ্রীমতী বিষ্ণুপ্রিয়া দেবীকে নিয়ে এই জনস্রোতের মধ্যে বাহির হয়েছেন। শ্রীমতী এক্ষণে পূর্ণ যুবতী,এই লোকের ভিড়ে তাঁকে নিয়ে পথে বাহির হওয়া বড়ই দুঃসাহসের কাজ, শচীমা তা বিলক্ষণ জানেন।জেনে শুনে তিনি কেন এই দুঃসাহসিক কাজে ব্রতী হলেন,তার কিছু তাৎপর্য‍্য আছে।সন্ন‍্যাসী স্ত্রীর মুখদর্শন করতে নেই, তাই বলে স্ত্রী কেন সন্ন‍্যাসী স্বামীর শ্রীচরণ দর্শনসুখে বঞ্চিত হবে? বৃদ্ধা শচীমা ইচ্ছা করেই বিষ্ণুপ্রিয়াকে সঙ্গে নিয়েছেন।শচীমায়ের মনে ভয়, পাছে নিমাই জন্মভূমি ও জননী দর্শন করেই পলায়ন করেন,পাছে অনাথিনী বিষ্ণুপ্রিয়া তাঁর পতিদেবতার শ্রীচরণ দর্শনে বঞ্চিতা হয়, এই ভেবেই তিনি এই দুঃসাহসিক কাজে প্রবৃত্ত (রত) হয়েছেন। সঙ্গে মহাপ্রভুর পুরাতন ভৃত‍্য ঈশান আছেন।তিনি সর্বাগ্রে চলেছেন।শ্রীমতী শাশুড়ির হাত ধরে চলেছেন।শচীমায়ের এক হাতে একগাছি যষ্ঠি, ঈশান ও শচীমার মধ‍্যস্থলে বিষ্ণুপ্রিয়া দেবী।তাঁর নয়নদুটি শাশুড়ির চরণের উপর নজর দিয়ে চলেছেন, পাছে আমার চরণ না ঠেকে।অন‍্য কোন দিকে তাঁর দৃষ্টি নেই।*
🙌🙌🙌🙌জয় মহাপ্রভু🙌🙌🙌🙌
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
 ꧁ ১৪৫.  শ্রীশ্রীবিষ্ণুপ্রিয়া দেবী 🙏 তৃতীয় ভাগ 
          ꧁ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ ꧂
        এই লিংকে ⬇️⬇️⬇️🙏⬇️⬇️⬇️ ক্লিক করুন 
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
*(১৪৫)🙌শ্রীশ্রীবিষ্ণুপ্রিয়াদেবী🙌*
*মহাপ্রভুর জননী ও জন্মভূমি দর্শন*
▪ ▪ ▪ ▪ ▪ ▪ ▪
*🌻কিছুক্ষণের পর আর মহাপ্রভুকে দেখা গেল না, তিনি পুনরায় অদৃশ্য হলেন।সকলেই হা-হুতাশ হৃদয়ে গৃহাভিমুখে ফিরলেন। জনস্রোত কমে গেলে ধীরে ধীরে শচীমা ও শ্রীমতী ঈশানের সঙ্গে গৃহে ফিরলেন।গৃহে এসে শাশুড়ি ও পুত্রবধূ মিলে প্রাণের আবেগে অনেকক্ষণ পর্যন্ত রোদন করলেন।শ্রীবলরাম দাস রচিত শ্রীমতীর উক্তি একটি অতি সুন্দর পদ এস্থলে উদ্ধৃত হ'ল।গঙ্গার তীরে দাঁড়িয়ে শ্রীমতী বিষ্ণুপ্রিয়া শাশুড়ীকে সম্বোধন করে বলছেন=*
         *ও মা! ধর ধর আমারে।*
*কেন বা আনিলে সুরধূনীতীরে,*
*ওপারে কুলিয়া দেখ নয়ন ভরে,*
*লক্ষ লক্ষ লোক হরি হরি বলে,*
     *কেন মা জননী!বল আমারে।।*
*লক্ষ লক্ষ লোক হরি ব'লে নাচে,*
*বুঝি তোর পুত্র ওখানে বিরাজে,*
*উহু মরি মরি দেখিবারে নারি,*
     *এ দুঃখ আমার কহিব কারে।*
*পাপী তাপী হ'লো শ্রীচরণভোগী,*
*জগতে বিষ্ণুপ্রিয়া সে বিয়োগী,*
*দাসীরে দন্ড দিবার লাগি এই অবতার।*
*চল চল মাগো! আমায় নিয়ে চল,*
*লুকাইয়া চল ঝাঁপিয়া অঞ্চল,*
*ঐ যে দেখা যায় দীঘল অঙ্গ,*
*ঐ তো আমার প্রাণনাথ শ্রীগৌরাঙ্গ।*
*সোনার অঙ্গেতে কৌপীন পড়েছে,*
*চির দিন দুঃখ অবধি পেয়েছে,*
*তোমার মায়ায় মা আবার এসেছে,*
         *বাড়ী ডাকি আন।*
*বলরাম দাসের বিদরে বুক,*
*জীবের লাগিয়া প্রভুর এই দুখ,*
*ধিক্ ধিক্ ধিক্ জীব তোরে ধিক্,*
*হেন দুঃখ দেহ চিরবন্ধু জনে।।*
*🌼শচী দেবীর এক্ষণে বয়ঃক্রম (বয়স) ৭২ বৎসর, তিনি অতি কষ্টে চলাফেরা করেন।গঙ্গাতীর হতে গৃহে ফিরে তিনি ভূমিশয‍্যায় শয়ন করেছেন, আর উঠিতে পারছেন না।বিষ্ণুপ্রিয়া শাশুড়ির কাছে বসে কাঁদছেন।সকলেই বলছে,মহাপ্রভু জননীকে দর্শন করতে এসেছেন, কোথায় তিনি তো নবদ্বীপে আসিলেন না!এই জন‍্য সকলেই মহাপ্রভুর দর্শন লালসায় উৎকণ্ঠিত।বৃদ্ধা শচীমা "নিমাই রে! তুই কোথায় রে? একবার দেখা দিয়ে প্রাণ জুড়া রে"। বলে উচ্চৈঃস্বরে রোদন করছেন।গঙ্গাতীর হতে ফিরে আসতে তাঁর মন চাইছিল না। কেবলমাত্র শ্রীমতী বিষ্ণুপ্রিয়ার জন্য শচীমায়ের ঘরে ফিরে আসতে হল।পুত্রবধূ সঙ্গে না থাকলে তিনি গঙ্গার ওপারে গিয়ে নিমাইকে ধরতেন, কথা বলতেন, এবং ঘরে নিয়ে আসিতেন।তাঁর পুত্র ঘরে এসে তাঁকে দেখা দিয়ে যাবেন, একথা শচীমায়ের একেবারে বিশ্বাস হচ্ছে না।পুত্রের জন্য তিনি পাগলিনী হয়ে বাহ‍্যজ্ঞানশূন‍্যা হয়েছেন।তিনি পুত্রবধূকে জিজ্ঞাসা করছেন, বাছা আমার নিমাই কি তোমার ঘরে শুয়ে আছে? একবার তারে ডেকে দাও দেখি? বিষ্ণুপ্রিয়া একথা শুনে আর স্থির থাকতে পারলেন না, তাঁর মাথা ঘুরে উঠিল।তিনি শোকে আকুল হলেন এবং ধূলায় পড়ে আছড়ে আছড়ে কাঁদতে লাগলেন।শচীমা বিষ্ণুপ্রিয়ার অবস্থা দেখে নিজের ভ্রম বুঝতে পারলেন এবং শ্রীমতীর ভনে অনর্থক কষ্ট দিয়াছেন, বলে নিজেকে লজ্জিতা হয়ে বললেন, মা! আমার ভুল হয়েছিল,বয়স হয়েছে মা,কখন কি বলছি আমি নিজেই জানিনা। আমার পোড়া কপাল মা, আমার মন একেবারেই ঠিক নেই। এক্ষণে শচীমা পুত্রমুখ-দর্শন লালসায় ছটফট করছেন।আর যেন বিলম্ব সইছে না।তারপরে শ্রীমতীকে কোলে করে তিনি বলছেন, মা!তুমি ঘরে সুস্থির হয়ে থাক।আমি গিয়ে ওপার থেকে আমার নিমাইকে ঘরে নিয়ে আসি, আমি না গেলে বোধহয় সে আসিবে না।শচীমা এইকথা বলেই তখনি আবার ভাবছেন, আমি যাব,যদি আমার সঙ্গে দেখা করেই বাছা পালিয়ে যায়, তাহলে অভাগিনী বিষ্ণুপ্রিয়ার অদৃষ্টে স্বামী দর্শন সুখ ঘটবে না।আমি না গেলেও নিমাই অবশ্যই আসবে। নিমাই আমার বড় মাতৃভক্ত ছেলে।এতদূর এসে আমাকে দেখা না দিয়ে সে কি যেতে পারবে? শচীমায়ের মনে কখন যে কি ভাব উৎপন্ন হচ্ছে স্বয়ং তিনিই জানেন। যাইহোক এইরকম ভেবে বৃদ্ধা মা মনকে প্রবোধ দিচ্ছেন।শ্রীমতী কিছুতেই মনকে সান্ত্বনা দিতে পারছেন না। তিনি ভাবছেন, আমার জন‍্যই তিনি নবদ্বীপে এসেও জননীকে দেখা দিলেন না।তিনি গৃহে না থাকলে তাঁর সন্ন‍্যাসী স্বামী অনায়াসে নবদ্বীপে এসে মায়ের সঙ্গে মিলিত হতেন।পাছে সন্ন‍্যাসীর স্ত্রীর মুখ দর্শন ঘটে, এবং ধর্মনাশ হয়, এই ভয়েই তিনি আসতে পারছেন না। যদি তাইই হয়,তবে আমি বাপের বাড়ি চলে যায়। বলরাম দাস বলছেন=*
*আমারে দেখিলে যদি ধর্মনষ্ট হয়।*
*আমি নয় রহিতাম বাপের আলয়।।*
*🌻শ্রীমতী এক একবার মনে করছেন, তাঁর নিজের অদৃষ্টে যা ঘটেছে,তার তো আর কোন উপায় নাই। তাঁর জন্য বৃদ্ধা শাশুড়ী কেন কষ্ট পান,তিনি পিতৃগৃহে যাবার জন্য শাশুড়ীকে বললেন। মনের গুহ‍্য কথাটিও না বলে থাকতে পারলেন না। শচীমা এইকথা শুনেই বড় মনস্তাপ পেলেন।বিষ্ণুপ্রিয়ার গলা জড়িয়ে ধরে কাঁদতে কাঁদতে বললেন, মা! তুমি বাপের বাড়ি গেলে আমি কাকে নিয়ে থাকব? তুমিই এখন আমার অন্ধের যষ্ঠি। তোমাকে দেখে আমি নিমাইচাঁদের দুর্জয় শোক সংবরণ করি। নিমাই আমার তোমাকেও দেখা দিবে, আমার কথা বিশ্বাস কর? শ্রীমতী আর কিছু বলতে পারলেন না।*
*🙏বানান ভুল ক্ষমা করবেন🙏*
🙌🙌🙌🙌🙌🙌🙌🙌🙌🙌🙌🙌🙌
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
 ꧁ ১৪৬.  শ্রীশ্রীবিষ্ণুপ্রিয়া দেবী 🙏 তৃতীয় ভাগ 
          ꧁ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ ꧂
        এই লিংকে ⬇️⬇️⬇️🙏⬇️⬇️⬇️ ক্লিক করুন 
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
*(১৪৬)🙌শ্রীশ্রীবিষ্ণুপ্রিয়াদেবী🙌*
*🙏শ্রীমন্মহাপ্রভুর নবদ্বীপে আগমন🙏*
💧💧💧💧💧💧💧💧💧💧💧💧
*🌻গ্রন্থকারের নিজের রচনা🌻*
^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^
*শচির আঙ্গিনা,উজল করিয়া।*
*কে-গো তুমি আছ,দ্বারে দাঁড়াইয়া।।*
*দন্ড-কমন্ডলু , ধরিয়াছ করে।*
*পরেছ কৌপীন,জীবোদ্ধার তরে*।।
*কে গো তুমি যতি,প্রশান্ত মূরতি।*
*স্থির নয়নে, চাহ কার প্রতি।।*
*বহিতেছে বারি, উছলি নয়ন।*
*ভাসিয়া বক্ষ, তিতিছে বসন।।*
*বুঝেছি বুঝেছি ,তুমি গৌরহরি।*
*নদীয়ার চাঁদ, নদীয়া বিহারী।।*
*দেখিতে জননী, জনমভূমি।*
*নীলাচল হ'তে ,আসিয়াছ তুমি।।*
*চেয়ে দেখ প্রভু,কি দশা মায়ের।*
*শুন শুন ওই,রোল রোদনের।।*
*🌻শ্রীমতী বিষ্ণুপ্রিয়া দেবী শচীমাতার কথা শুনে কিছু আশ্বস্তা হলেন। কিছুক্ষণ পরে কাঞ্চনা এসে বিষ্ণুপ্রিয়ার কাছে বসলেন দেখে শচীমা আমার নিশ্চিন্ত হয়ে নিজ ঘরে গিয়ে একটু শয়ন করলেন।নিদ্রার তন্দ্রা আসতে না আসতেই স্বপ্ন দেখলেন,তাঁর নিমাইচাঁদ দ্বারে দাঁড়িয়ে তাঁকে "মা"! "মা"! বলে ডাকছেন।অমনি বৃদ্ধা শচীমা তাড়াতাড়ি উঠে বাইরের দরজায় দেখলেন,কোথাও কেউ নেই। হুতাশ হয়ে পুনরায় ঘরে ফিরে গিয়ে শুয়ে পড়লেন।শ্রীমতী বিষ্ণুপ্রিয়া বা কাঞ্চনা এর কিছুই জানতে পারলেন না।কাঞ্চনা যখন বিষ্ণুপ্রিয়ার কাছে এসেছিলেন তাঁকে দেখে শ্রীমতী কেঁদে ফেললেন, মনের কথাগুলি প্রকাশ করলেন।কথাগুলি বলার ফলে মনের ব‍্যথা কিঞ্চিৎ কমল ও মন কিছু শান্ত হল।সখির গলা জড়িয়ে শ্রীমতী নীরবে রোদন করতে লাগলেন। (এই পার্থিব জগতে এমন কেউ আছেন বা শোনা গেছে যে পাঁচ বৎসর অতিক্রম হয়ে গেছে মহাপ্রভু গৃহত‍্যাগ করেছেন, সেই শোক বলুন, বিরহ বলুন বা হৃদয়ের ব‍্যথা বলুন এইভাবে প্রকাশ পেয়েছে?)।আর বলছেন, সখী!আর আমি কী বলব?তুমি তো সকলি জান।এই হতভাগিনীর জন‍্যই আমার প্রাণনাথ গৃহত‍্যাগী হয়েছেন।(পূর্বেই লিখেছি, যদি কোন এক ব‍্যথা মনে গেথে যায়,নিজে থেকে যদি ভুলে না যায় তবে কোন বৈদ‍্যরাজ তা বাহির করতে পারেন না )।এখনও সেই কথা সখীকে বলছেন।আমারই জন্য তিনি এতদূর এসেও জননীকে দর্শন দিতে কুন্ঠিত।আমার মতো পাপী জগতে আর কে আছে।মনে হয় আমার মরণই মঙ্গল।মরমের ভিতর হতে কে যেন বিষ্ণুপ্রিয়াকে বলে দিল, অমন কথা মুখে আনিও না, মরলেই তো সব ফুরিয়ে যাবে।আশা টুকু পর্য‍্যন্ত যাবে।তখনি আবার শ্রীমতী সখী কাঞ্চনাকে বলছেন,না সখী!আমি মরতে পারব না। মরলে তো আমার প্রাণনাথের গুণগাথা ও লীলাকথা শুনতে পাব না, তাঁর শ্রীচরণ দর্শন দূরে থাকুক তাঁর কথা শুনেলেই যে আমি কৃতার্থ হই, আহা!তাঁর মধুমাখা নাম শুনলেই যে আমি কত সুখী হই।না,না,সখী! আমি এ সুখ ছেড়ে মরতে পারব না।সখী!সখী!আমার মরা হবে না।জীবাধম গ্রন্থকার রচিত শ্রীমতীর উক্তি একটি পদ এ স্থলে উদ্ধৃত হল।*
*সখি!গৌর-বিরহ পয়োধি,কিসে হব পার,*
              *তাই ভাবি নিরবধি।*
*দিন দিন করি,বরিষ গোঁয়ায়নু,*
            *না মিলল গৌর-নিধি।।*
*গৌর গৌর করি,জনম বহি গেলা,*
            *দরশন নাহি ভেল।*
*সুধা দিয়া দগদগি,হলো মোর সার,*
              *পরাণে বিধিল শেল।।*
     *মরনে কি পাব তারে।*
*গৌর-বিরহ নদী,বহে খর ধার,*
                *কি করি যাইব পারে।।*
*🌻বরিষ=বৎসর, গোঁয়ায়নু= কেটে গেল।*
                    *(০২)*
*সখি! মরিতে তো পারিব না।*
*কি জানি যদি বা,ভুলি গোরা রূপ,*
                *ভসম হইবে সাধনা।।*
*(ওগো) মরিলে আমি যে কাঁদিতে পাব না,*
                 *সাধিতে পাব-না গৌর।*
*কাঁদিয়া কাঁদিয়া যা' কিছু করেছি,*
                  *সকলি যাইবে মোর।।*
🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏
বসিতেছে হয়ে গেছে, বহিতেছে হবে।
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
 ꧁ ১৪৭. শ্রীশ্রীবিষ্ণুপ্রিয়া দেবী 🙏 তৃতীয় ভাগ 
          ꧁ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ ꧂
        এই লিংকে ⬇️⬇️⬇️🙏⬇️⬇️⬇️ ক্লিক করুন 
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
*(১৪৭)🌿শ্রীশ্রীবিষ্ণুপ্রিয়াদেবী🌿*
*মহাপ্রভুর নবদ্বীপে আগমন*
°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°
*🌻গ্রন্থকার রচিত আরও দুইখানি পদ=*
       *সখি! চাহি না আমি মরণ।*
*(ওগো)মরিলে যে আমি পূজিতে পাব না,*
                  *শ্রীগৌরধনের চরণ।।*
   *চিরদিন আমি কাঁদিয়া সাধিব,*
                  *দীরঘ জীবন ধরিয়া।*
*নিশিদিন পিব, পিয়াইব আর,*
             *গৌর-বিরহ অমিয়া।।*
*বিনাইয়া গাব গৌরগুণ গান,*
             *কান্দিয়া ভাসাব ধরা।*
*সখি!গৌর-বিরহে ছাড়িতে নারিব,*
                *হবে না আমার মরা।।*
             *(০৪)*
*মরণের সঙ্গে যদি গৌর-বিরহ যায়,*
              *তবে আমি পারি মরিতে।*
*ধা পেলাম গোরা যদি,পেয়েছি বিরহ তার,*
          *নাহি পারি তারে ছাড়িতে।।*
*(ওগো সখি)পারিব না আমি মরিতে।*
*🍀কাঞ্চনা বিষ্ণুপ্রিয়ার অতি প্রিয় মর্মী সখি,আপনারা সকলেই জানেন, শ্রীমতী কোন কথায় মর্মী সখির নিকট গোপন করেন না। হৃদয়ের বেদনা প্রাণ খুলে সখিকেই বলে থাকেন।শ্রীমতীর মনে আজও দারুণ দুঃখ, তার কারণ পূর্বে উল্লেখ করেছি।তাঁর প্রাণবল্লভের শ্রীমুখ দর্শনের আশা, তাঁর পক্ষে অসম্ভব মনে করে সখি কাঞ্চনাকে সম্বোধন করে শ্রীমতী বলছেন=*
*সজনি!অব কি হেরব গোরা মুখ।*
*গণি গণি মাহ,বরিখ অব পূরল,*
     *ইথে পুন বিদরয়ে বুক।।*
*তোমারে কহিয়ে পুন,মরমক বেদন,*
      *চিত মাহা কর বিশোয়াস।*
*গৌর-বিরহ জ্বরে,ত্রিদোষ হইয়া জারে,*
       *তাহে কি ঔষধ অবকাশ।।*
              *(গীতকর্তা ভুবন দাস)*
*🌻কাঞ্চনা বিষ্ণুপ্রিয়াকে সান্ত্বনা দিয়ে বলছেন, সখী!তোমার প্রাণনাথ তোমার শাশুড়ীকে একদিন বলেছিলেন=*
*কিবা ভক্ত কিবা বিষ্ণুপ্রিয়া কিবা তুমি।*
*যে ভজিবে কৃষ্ণ তার কোলে আছি আমি।।*
                             *(শ্রীচৈঃমঃ)*
*🍀অতএব সখী!তুমি সদাসর্বদা শ্রীকৃষ্ণ-ভজন কর। তোমার প্রাণবল্লভ নিজেই এসে দেখা দেবেন।এসো আমরা দুইজনে বসে মালা গাঁথি।দেখ,কত যুথী,যাতি,মালতী পুষ্পচয়ন করে এনেছি।সুন্দর করে মালা গেঁথে আজ শ্রীকৃষ্ণের কন্ঠে পরাইয়া দাও।শ্রীকৃষ্ণ-ভজনেই তুমি তোমার হৃদয়েশ্বরের দেখা পাবে।তাঁর উপদেশ মত শ্রীকৃষ্ণভজন কর।*
*সখি হে!হাম ইহ কছু নাহি জানি।*
*গৌর-চরণ-যুগ, বিমল সরোরুহ,*
        *হৃদি করি অনুখণ ধ‍্যান।।*
                   *(গীতকর্তা ভুবনদাস)*
*🌺শ্রীমতী বিষ্ণুপ্রিয়া বললেন, আমি আমার প্রাণেশ্বর গৌরসুন্দর ভিন্ন অন‍্য কাউকেও জানি না। তিনিই আমার শ্রীকৃষ্ণ, তিনিই আমার ভজনধন।*আমার স্বামী ভজনই শ্রীকৃষ্ণ-ভজন।এইসব কথা শুনে আর কাঞ্চনা কিছু বলতে পারলেন না।বুঝলেন বিষ্ণুপ্রিয়ার হৃদয়ে গৌর বিরহানল প্রজ্বলিত হয়ে উঠেছে, এ সময়ে অন‍্য কোন কথা তাঁর কর্ণে প্রবেশ করবে না।কাঞ্চনা অতি চতুরা,অমনি নিজের কথা উল্টিয়ে নিয়ে বললেন,সখি! তোমার প্রাণবল্লভই তো শ্রীকৃষ্ণ,তা কি তুমি এতদিন বুঝতে পারো নাই?অন‍্যের কাছে তিনি আত্মগোপন করে থাকতে পারেন, তোমার কাছে তা পারেন না, তাই তোমাকে তিনি গৃহত‍্যাগের কিছুদিন পূর্বে স্বরূপ দেখিয়েছিলেন।তুমি সেই চতুর্ভূজ শঙ্খ,চক্র,গদা ও পদ্মধারী শ্রীভগবানের মূর্তি দর্শন করে কি বুঝতে পার নাই তোমার হৃদয়েশ্বর সামান্য মানুষ নহেন? তিনি ত্রিজগতের স্বামী, জগন্নাথ,সাক্ষাৎ শ্রীকৃষ্ণ।তিনিনিজে আত্মগোপন করে কৌশলে তোমাকে শ্রীকৃষ্ণভজন করতে বলে গেছেন।প্রিয় সখীর কথাগুলো শ্রীমতী অত‍্যন্ত মনোযোগ সহকারে শুনলেন, এবং ধীরে ধীরে উত্তর করলেন,সখী! আমার পতিদেবতাকে, আমার প্রাণবল্লভকে আমি মানুষ বলেই জানি।লোকে তাঁকে যাই বলুকনা কেন, তিনি আমার প্রাণবল্লভ সেই শচীমায়ের দুলাল গৌরহরি।সখি! আমার প্রাণগৌরকে তুমি শ্রীভগবান বলিও না,তাতে আমি সুখ পাই না। ভগবানকে পাওয়া বড়ই কঠিন। আমার হৃদয়ের ধন প্রাণনাথকেই যখন পেলাম না,তিনি আমার আপন ধন, আমার ঘরের ধন যখন পরের হল, তখন সেই অমূল‍্য ধন ভগবানকে পাবো কি করে? সোজা কথা আমি স্বামী ভিন্ন অন‍্য কিছু জানি না। আমার পতিদেবতায় আমার সর্বস্ব ধন।তিনি শ্রীকৃষ্ণই হন,আর শ্রীভগবানই হন, আমার কাছে তিনি সেই নবীন নাগর রসিকশেখর নটবর প্রাণবল্লভ শ্রীগৌরাঙ্গসুন্দর ভিন্ন আর কিছু নহে।*
*🙌জয় শ্রীগৌরাঙ্গসুন্দর-বিষ্ণুপ্রিয়ার জয়🙌*
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
 ꧁ ১৪৮.  শ্রীশ্রীবিষ্ণুপ্রিয়া দেবী 🙏 তৃতীয় ভাগ 
          ꧁ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ ꧂
        এই লিংকে ⬇️⬇️⬇️🙏⬇️⬇️⬇️ ক্লিক করুন 
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
*(১৪৮)🙏শ্রীশ্রীবিষ্ণুপ্রিয়াদেবী🙏*
*👣শ্রীমন্মহাপ্রভুর নবদ্বীপে আগমন👣*
^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^
*🌻কাঞ্চনা দেখছেন বিষ্ণুপ্রিয়ার বদনমন্ডলে দিব‍্য জ‍্যোতি প্রতিভাত হচ্ছে।তাঁর সেই সুবিশাল নয়নদ্বয়ে পুলকাশ্রু টল টল করছে। মুক্তাফল সদৃশ দুই এক ফোঁটা অশ্রুজল শ্রীমতীর বক্ষঃস্থলে পড়ে বসনাঞ্চল ভিজে যাচ্ছে।তাঁর আর কথা বলবার শক্তি নাই,সখির অঙ্গে শ্রীঅঙ্গ রেখে বিষ্ণুপ্রিয়া প্রায় মূর্ছিত হয়ে অনেকক্ষণ রইলেন।কাঞ্চনা সময় বুঝে গৌরকথা তুললেন,এই ব‍্যাধির এই ঔষধ তা মরম সখী ভালভাবেই জানেন।এ ব‍্যাধির চিকিৎসা তিনি অনেকদিন থেকে করে আসছেন। শ্রীগৌরাঙ্গের নটবর বেশের একটি পদের কথা কাঞ্চনা ধীরে ধীরে সখীকে শুনাচ্ছেন=*
      *গৌররূপ সদাই পড়িছে মোর মনে।*
*নিরবধি থুইয়া বুকে,সে রস ধাধস সুখে,*
     *অনিমিখে দেখউ নয়নে।।*
*পরিয়া পাটের জোড়,বান্ধিয়া চিকুর ওর,*
      *তাহে নানা ফুলের সাজনি।*
*পরিসর হিয়া ঘন, লেপিয়াছে চন্দন,*
      *দেখিয়া জিউ করিনু নিছনি।।*
*মৃগমদ চন্দন , কুসুম চতুঃসম,*
   *সাজিয়া কে দিল ভালে ফোঁটা।*
*আছুক অন‍্যের কাজ,মদন মুগধ ভেল,*
     *রহল যুবতী কুলের খোঁটা।।*
*সরবস দেহ, অবশ সকল সেহ,*
     *না পালটে মোর আঁখি পাপ।*
*হিয়ায় গৌরাঙ্গ রূপ,কেশর লেপিয়া গো,*
     *ঘুচাইমু যত মনের তাপ।।*
*কামিনী হইয়া , কামনা করিয়া,*
       *কাম সরোবরে মরি।*
*গোবিন্দ দাসে, কহয়ে তবে সে,*
        *দুঃখের সাগরে তরি।।*
*🌻শ্রীবিষ্ণুপ্রিয়ার কর্ণে কাঞ্চনা সুমধুর কন্ঠস্বরে গৌর-গুণগান অমৃত-বর্ষণ করিল।তিনি জড়বৎ সখির অঙ্গে নিজ অঙ্গ দিয়ে প্রাণবল্লভের রূপরসসুধা পান করছেন আর মনে মনে ভাবছেন এইত সময়। মহাপ্রভু এখানেই আছেন।নবদ্বীপচন্দ্র নবদ্বীপেই বিরাজমান।রসোল্লাসের এইত উপযুক্ত সময়।প্রাণবল্লভ প্রবাসে ছিলেন,এক্ষণে গৃহে এসেছেন, এই আনন্দে বিষ্ণুপ্রিয়ার হৃদয়ে রসোল্লাসের তরঙ্গ উঠেছে।কাঞ্চনার রস সঙ্গীতে শ্রীমতীর সর্বঅঙ্গ পুলকিত হয়েছে।দুই সখীতে মিলে নির্জনে শীগৌরলীলার রসাস্বাদন করতে লাগলেন।সখির সঙ্গে গৌরপ্রিয়া তখন নিগূঢ় প্রেমরসতত্ত্ব বলতে লাগলেন। মনের আনন্দে উভয়েই আত্মহারা হয়েছেন।তাঁর প্রাণবল্লভ যে সন্ন‍্যাসী তা শ্রীমতী একেবারেই বিস্মৃত হয়ে গিয়েছেন। প্রবাসী স্বামী গৃহে আসছেন জানলে বিরহিনী স্ত্রী যেমন পতিদর্শন লালসায় উদ্বিগ্ন হন ও উৎকন্ঠিতচিত্তে আশাপথ নিরীক্ষণ করে থাকেন,শ্রীমতীর পক্ষেও তাইই ঘটেছে।পতিদেবতা গৃহে আসিলে,কি করবেন,কি বলবেন,কিছুই স্থির করতে পারছেন না।কাঞ্চনা সখীর মনের অবস্থা বুঝতে পেরে মরমী সখীকে বললেন,সখী! তোমার মনচোরাকে এবার গৃহে পেলে যেন আর ছেড়ে দিও না।তিনি অবশ্যই তোমার নিকট আসিবেন। তুমি তাঁকে দর্শন করেই যেন একেবারে প্রেমে গলে প্রাণবল্লভের সঙ্গে মিলে মিশে এক হয়ে যেও না।একটু অভিমান করিও।দু'এক কথা শুনিয়ে দিও। তিনি তোমাকে বড়ই দুঃখ দিয়াছেন।কাঞ্চনার মনের ভাবটি গীতকর্তা বিদাপতির একটি প্রাচীন পদে অতি পরিস্ফূট হয়েছে। আস্বাদন করুন=* *শ্রীকৃষ্ণলীলা লিপিবদ্ধ করবার সময়,"সখী শিক্ষা " পর্যায়ে এই পদটি লিপিবদ্ধ করেছিলাম।*
*শুন শুন সুন্দরী! হিত উপদেশ।*
*হাম শিখাওব বচন বিশেষ।।* 
*পহিলহি বৈঠবি শয়নক সীম।*
*আধ নেহারবি বঙ্কিম গীম।।*
*যব পিয়ে পরশব ঠেলবি পাণি।*
*মৌন ধরবি কছু না কহবি বাণী।।*
*🌻পুরো পদটি গ্রন্থকার লিপিবদ্ধ করেন নাই। যাইহোক,শ্রীমতী বিষ্ণুপ্রিয়া দেবী সখি কাঞ্চনার রসকথা শুনে অনেক দিনের পর একটু মৃদুমন্দ হাসিলেন। হৃদয়ে প্রবল আনন্দের বেগ এসেছে।সে আনন্দের তরঙ্গ সখি কাঞ্চনার হৃদয়েও ঘাত প্রতিঘাত করছে।পূর্ণানন্দে বিভোর হয়ে উভয়েরই আত্মবিস্মৃতি ঘটেছে।শ্রীমতী যে সন্ন‍্যাসিনীর পত্নী, স্বামীসঙ্গ- সুখে তিনি যে চিরকালের জন্য বঞ্চিতা, এসব কথা কিছুই তাঁর মনে নেই।তাঁর মনে পূর্ব স্মৃতি উদয় হয়েছে। শ্রীগৌরাঙ্গ-বক্ষ-বিলাসিনী স্বামী-সোহাগিনী শ্রীমতী বিষ্ণুপ্রিয়া দেবীর মনে আজ আনন্দ আর ধরছে না। তিনি সখিকে বলছেন,সখী! আজ আমি চারিদিকে শুভচিহ্ন দেখছি।আমার প্রাণনাথ যেন আজই আমার কাছে আসবেন বলে বোধ হচ্ছে।*
👣🙏👣🙏👣🙏👣🙏👣🙏👣🙏🙏
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
 ꧁ ১৪৯.  শ্রীশ্রীবিষ্ণুপ্রিয়া দেবী 🙏 তৃতীয় ভাগ 
          ꧁ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ ꧂
        এই লিংকে ⬇️⬇️⬇️🙏⬇️⬇️⬇️ ক্লিক করুন 
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
*(১৪৯)💧শ্রীশ্রীবিষ্ণুপ্রিয়াদেবী💧*
*শ্রীমন্মহাপ্রভুর নবদ্বীপে আগমন*
🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏
*🌻আমার প্রাণবল্লভ যেন আজিই আমার নিকটে আসবেন বলে বোধহয়। আসিলে আমি কি করব?কি বলব? তোমার কথামত কাজ করতে পারব কী?শ্রীমতীর উক্তি শ্রীবলরাম দাস রচিত একটি সুন্দর পদ আস্বাদন করুন।*
*কি লাগি বল না, আনন্দ ধরে না,*
         *অঙ্গ কাঁপে থর থর।*
*চারিদিকে সখি, শুভচিহ্ন দেখি,*
         *বুঝি এল প্রাণেশ্বর।।*
     *আঙ্গিনায় দাঁড়াবেন হরি।ধ্রু।*
*ঘোমটা টানিব , দ্রুত ঘরে যাব,*
        *রুণু রুণু রব করি।।*
*ঘরে লুকাইয়া, শ্রীমুখে চাহিয়া,*
        *দেখিব পরাণ ভরি।*
*দেখিবারে মোরে, উঁকি বারে বারে,*
        *মারিবেন গৌরহরি।।*
*নয়নে নয়ন, হইলে মিলন,*
        *বল কি করিব সখি।*
*বলরাম বলে, হইবে তা'হলে,*
        *লজ্জায় নমিত মুখী।।*
*🌻শ্রীমতী বিষ্ণুপ্রিয়া দেবী ও তাঁর প্রিয় সখি কাঞ্চনা উভয়েই প্রেমরসে ডুবে আছেন।শ্রীমতী সকল কিছু ভুলে গিয়েছেন ; মর্মী অন্তরঙ্গা সখি কাঞ্চনার সঙ্গে শ্রীগৌরাঙ্গলীলার নিগূঢ় রস রসাস্বাদন করছেন। বহিরঙ্গ লোকের সহিত এমন করে রসাস্বাদন করে সুখ হয় না।এমন করতেও নাই।*
*🍀অন্তরঙ্গ সঙ্গে কর রস আস্বাদন।*
*🌺শ্রীমতী তাই প্রাণ খুলে সখি কাঞ্চনার সঙ্গে মনের কথা বলে বিমল প্রেমানন্দ উপভোগ করছেন। মহাপ্রভুর নবদ্বীপ আগমনের উদ‍্যোগ পর্বে কাঞ্চনা-বিষ্ণুপ্রিয়া-সংবাদের প্রথম অধ‍্যায় শেষ হল। এক্ষণে কৃপাময় পাঠক একবার বৃদ্ধা শচীমায়ের নিকট চলুন।*
*🌻বৃদ্ধা শচীমা পুত্র-বিরহ-কাতরা,বড় দুঃখিনী। শ্রীগৌরাঙ্গ নবদ্বীপে এসেছেন।শুক্লাম্বর ব্রহ্মচারীর গৃহে উঠেছেন।নবদ্বীপ শুদ্ধ লোক এ সংবাদ পেয়েছেন।শচীমা ও শ্রীমতী এ শুভ সংবাদ পেয়েছেন।শচীমা আনন্দে বিহ্বল হয়ে পাগলিনীর মতো উর্ধমুখে শুক্লাম্বর ব্রহ্মচারীর গৃহাভিমুখে ছুটেছেন।পথে কারও সঙ্গে দেখা হচ্ছে, তিনি তাকেই বলছেন "ওগো"! নবদ্বীপে আবার আমার নিমাইচাঁদ এসেছেন। তোমরা দয়া করে নিমাইকে ধরে রাখ।আর যেতে দিও না,এইকথা বলে ছুটতে ছুটতে শচীমা মহাপ্রভু যেখানে আছেন, সেখানে গিয়ে উপস্থিত হলেন।* *শ্রীচৈতন‍্য মঙ্গলে পায়*
*🍀এই মনে কহিতে কহিতে গেলা তথা।*
*🍀দেখিলত গৌরচন্দ্র বসি আছে তথা।।*
*🌻বাৎসল‍্যময়ী শচীমা পাঁচ বৎসরের পর অদ‍্য পুত্র-মুখ দর্শন করলেন।আমার গৌরহরির মুন্ডিত মস্তক ও সন্ন‍্যাস-বেশ আর একবার তিনি দেখেছিলেন সে শান্তিপুরে অদ্বৈত ভবনে। সে আজ পাঁচ বৎসর পূর্বের কথা।মহাপ্রভুর নূতন সন্ন‍্যাস বেশ।তিনি যেমন নিমাই তেমনই ছিলেন,কেবল মাত্র বেশ পরিবর্তন।এক্ষণে মহাপ্রভুর অবয়বের অনেক পরিবর্তন লক্ষিত হচ্ছে।তাঁর শ্রীঅঙ্গ ধূলি-ধূসরিত,বদনমন্ডল প্রশান্ত,দেহ কিছু ক্ষীণ হয়েছে,চক্ষের দৃষ্টি জ‍্যোতিপূর্ণ অথচ গভীর দুঃখ-ব‍্যঞ্জক। শচীদেবী এক দৃষ্টে পুত্রের প্রতি অঙ্গ নিরীক্ষণ করছেন,আর পূর্ব-কথা স্মরণ করে আকুল প্রাণে কাঁদছেন।মহাপ্রভু নীরব।শচীমা পুত্রকে বললেন, "বাপ নিমাই!আর তোর সন্ন‍্যাসে কাজ নাই।যা করেছিস বেশ করেছিস।মাতৃ-বধ করে তোর যে কি ধর্ম-সাধন হবে জানি না।আগে মাকে বধ কর।পরে তোর যা ইচ্ছা হয় করিস।*
*🍀শচী বোলে মোর বোল শুনরে নিমাই।*
*🍀ঘর আইস আমার সন্ন‍্যাসে কাজ নাই।।*
*🍀সন্ন‍্যাস করিয়া ধর্ম রাখিবিত পাছু।*
*🍀মোর বধ আগে লাগে আর সব আছু।।*
*🍀বিহ্বল চেতন শচী কান্দে উভরায়।*
*🍀সকল শরীর খানি এক দৃষ্টে চায়।।*
*🍀বাপু বাপু বলি অঙ্গ পরশিতে চায়।*
*🍀আর সব থাক বাপু হাত দেও গায়।।*
*🍀শ্রীঅঙ্গে লেগেছে ধূলা ফেলাও ঝাড়িয়া।*
*এ বোল বলিয়া পড়ে অঙ্গ আছাড়িয়া।।*
                              *(শ্রীচৈঃমঃ)*
😭😭😭😭😭😭😭😭😭😭😭😭😭
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
 ꧁ ১৫০. শ্রীশ্রীবিষ্ণুপ্রিয়া দেবী 🙏 তৃতীয় ভাগ 
          ꧁ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ ꧂
        এই লিংকে ⬇️⬇️⬇️🙏⬇️⬇️⬇️ ক্লিক করুন 
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
*(১৫০)🙌শ্রীশ্রীবিষ্ণুপ্রিয়াদেবী🙌*
*মহাপ্রভুর নবদ্বীপে আগমন*
•••••••••••••••••••••••••••••••••••
*🍀শচীমা আমার শ্রীগৌরাঙ্গের অঙ্গে ধূলি দেখে ধূলায় পড়ে অঙ্গ আছাড়িয়া আছাড়িয়া কাঁদতে লাগলেন।মহাপ্রভু গভীরভাবে নীরবে বসে আছেন।শচীমা ভূমি থেকে উঠে পুত্রকে বলছেন=*
*🍀পুন উঠি বলে বাপু শুন মোর বোল।*
*🍀নালাউ হিয়ার সাধ ধরি দাও কোল।।চৈঃমঃ।।*
*😭শচীমায়ের ক্রন্দনে উপস্থিত সকল ভক্তগণ শোকে বিহ্বল হয়ে রোদন করতে লাগলেন।এই দৃশ্য দেখে পরম গম্ভীর শ্রীগৌরহরিও বিচলিত হলেন।জননীন করুণ ক্রন্দন রোলে মহাপ্রভুর হৃদয় বিগলিত হল।*
*🍀শচীর কান্না দেখি পৃথিবী বিদরে।*
*🍀আছুক মানুষের কাজ এ পাষাণ ঝুরে।।*
*🍀চতুর্দিকে লোক সব কান্দিয়া বিকল।*
*🍀কাছ না ছাড়য়ে কেহ পাসরিয়া ঘর।।*
*🍀লোকের কান্দনা দেখি মায়ের ব‍্যগ্রতা।*
*🍀মনে অনুমানে প্রভু কি কহিব কথা।।চৈঃমঃ।।*
*🌻তখন নিমাইচাঁদ জননীকে কি বলবেন স্থির করতে পারছেন না।অনেকক্ষণ নীরবে থেকে গম্ভীরভাবে মধুর বচনে জননীকে সম্বোধন করে বলতে লাগলেন, মা!তুমি আর কেঁদো না।তোমার অনুমতি ক্রমেই তোমার নিমাই সন্ন‍্যাস গ্রহণ করেছে।আমাকে পুত্র বলে তোমার এখনও মিছা মায়া যায় নাই, এ বড় দুঃখের ও আশ্বর্য‍্যের বিষয়।এই সংসারে মায়ার এমনি প্রভাবই বটে।*
*🍀মায়েরে প্রবোধ দিতে প্রভু ভাবে মনে।*
*🍀না কান্দ না কান্দ বোলে মধুর বচনে।।*
*🍀সন্ন‍্যাস করিতে আজ্ঞা করিলা আপনে।*
*🍀এখন বিকল হঞা কান্দ কি কারণে।।*
*🍀পুত্র বলি মিছা মায়া না ঘুচিল তোর।*
*🍀ঐছন দুরন্ত মায়া এ সংসার ঘোর।।চৈঃমঃ।।*
*🌼শচীদেবী পুত্রের উপদেশ পূর্ণ কথাগুলি মনঃসংযোগের সঙ্গে শুনলেন।শুনে কিছুক্ষণ নিস্তব্ধ রইলেন।নিমাইচাঁদের মুখের দিকে তাকিয়ে কি যেন ভাবতে লাগলেন।তাঁর পুত্র বলছেন,তাঁকে পুত্র-জ্ঞানে মিছা মায়া কেন করছ?এর অর্থ কি? নিমাই কি তবে আমার পুত্র নহে!তবে সে কে? আমি তো তাকে পুত্র ভিন্ন আর কিছু জানি না।এইরকম একটি চিন্তার স্রোত প্রবলবেগে শচীমায়ের হৃদয়ের উপর দিয়ে চলে গেল।অল্পক্ষণ পরেই তিনি চিত্ত স্থির করে নিমাইয়ের মুখপানে তাকিয়ে মনের ভাব প্রকাশ করে বললেন ঃ--*
*🍀মোর পুত্র বলি জন্ম লইলে পৃথিবীতে।*
*🍀জগতের লোক মোরে করিত পূজিতে।।*
*🍀তুমি সবলোক-বন্ধু ত্রিজগতে পূজি।*
*🍀তোমার সে স্নেহ মায়া শাস্ত্রে ভাল বুঝি।।*
*🍀যে হউ সে হউ মোর তুমি হও পুত্র।*
*🍀জন্মে জন্মে রহু মোর এই কর্ম-সূত্র।।চৈঃমঃ।।*
*🌻শচীদেবী নিমাইকে বলছেন, "বাপ নিমাই! তুমি যে হও সে হও,তোমাকে যে যাই বলুক, তুমি বাপ্ আমারই পুত্র।জন্ম জন্ম যেন আমার এই সম্বন্ধ,এই কর্ম-সূত্র বজায় থাকে।আমি যেন তোমাকে জন্মে জন্মে পুত্ররূপে পাই।তোমারই জননী বলে আমি জগতে পূজিতা।তোমারই মা বলে আমি জগন্মাতা।একটিবার মা বলে ডাকলেই এই হতভাগিনী কৃত কৃতার্থ হয়, স্বর্গের চন্দ্র যেন হাতে পাই। তোমার এ মায়া আমি কিছুতেই কাটাতে পারব না।তোমার এই মায়ার বন্ধনই আমার কর্ম এবং ধর্ম। নিমাই রে!বাপ রে!তুমি আমাকে এই মায়া-পাশ কাটাতে পরামর্শ দিচ্ছ?তা হতে পারে না। তোমার মায়ায় আমার সাধনা। পুন বলি, তোমার মায়া আমি কাটাতে পারব না।তাহলে আমি লক্ষ্যভ্রষ্ট হব, আমার চিরজীবনের সাধন-ফল নষ্ট হবে।* *আমি পাতকগ্রস্তা হব। এ পরামর্শ আমাকে দিও না।*
💧💧💧💧💧💧💧💧💧💧💧💧💧
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
                                   *ক্রমশ*
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
         ꧁ শ্রীশ্রীবিষ্ণুপ্রিয়া দেবী 🙏 চতুর্থ ভাগ 
          ꧁ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ ꧂
        এই লিংকে ⬇️⬇️⬇️🙏⬇️⬇️⬇️ ক্লিক করুন 
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
   ✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️
নিবাস- বাঁশবাড়ী, কীর্তন মন্দিরের পাশে, পোঃ- বাঁশবাড়ী, থানা- ইংরেজ বাজার, জেলা- মালদহ, পশ্চিমবঙ্গ, পিন কোড- ৭৩২১০১।
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
    *••••┉━❀꧁ 🙏 রাধে রাধে 🙏 ꧂❀━┅••••* 
                   শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য প্রভু নিত্যানন্দ
              হরে কৃষ্ণ হরে রাম শ্রীরাধেগোবিন্দ।।
  *••••┉━❀꧁ 🙏 জয় জগন্নাথ 🙏 ꧂❀━┅••••*
              হরে কৃষ্ণ হরে কৃষ্ণ কৃষ্ণ কৃষ্ণ হরে হরে
              হরে রাম হরে রাম রাম রাম হরে হরে॥
  *••••┉━❀꧁ 🙏 জয় রাধাকান্ত 🙏 ꧂ ❀━┅••••*
   💮❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀💮
   💮❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀💮
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧


adds