✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
*••••┉❀꧁👇🏠Home Page🏠👇꧂❀┅••••*
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
*••••━❀꧁👇 📖 সূচীপত্র 📖 👇꧂❀┅••••*
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
*••••━❀꧁👇📚 PDF গ্রন্থ 📚👇꧂❀┅••••*
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
*•❀꧁ 📖সূচীপত্র 🙏 শ্রী জয়দেব দাঁ 📖꧂❀•*
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
🚩 পূর্ব লীলা 👇
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
꧁ মনোশিক্ষা 🙏 প্রথম ভাগ 🙏 শ্রী প্রেমানন্দ দাস ꧂
꧁ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ ꧂
এই লিংকে ⬇️⬇️⬇️🙏⬇️⬇️⬇️ ক্লিক করুন
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
꧁ মনোশিক্ষা 🙏 দ্বিতীয় ভাগ 🙏 শ্রী প্রেমানন্দ দাস ꧂
꧁ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ ꧂
এই লিংকে ⬇️⬇️⬇️🙏⬇️⬇️⬇️ ক্লিক করুন
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
꧁৫১.মনোশিক্ষা🙏তৃতীয় ভাগ🙏শ্রী প্রেমানন্দ দাস꧂
꧁ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ ꧂
এই লিংকে ⬇️⬇️⬇️🙏⬇️⬇️⬇️ ক্লিক করুন
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
*(৫১)💚💚মনোশিক্ষা💚💚*
*এ মন! এ বড়ি লাগয়ে ধন্দ।*
*অসত পচালে, কত না আরতি,*
*হরিনামে রুচি মন্দ।।*
*বেপার বাণিজ্য, করিছ করিবা,*
*দিবস-রজনী কও।*
*তিলেকে পলকে, "শ্রীহরি" বলতে,*
*তাহে কি যাতনা পাও।।*
*ভোজন সারিয়া, আলিস করহ,*
*তখন কি কাজ আছে।*
*পড়িয়া পড়িয়া, তাহাই জপ না,*
*জান নি কি হবে পাছে।।*
*হাঁচড়ি পাঁচড়ি, মুটরি করিছ,*
*শমন গণিছে তাই।*
*চলিতে ফিরিতে, কখন পাছাড়ে,*
*তখন খাবে কি ছাই।।*
*দেখিয়া শুনিয়া, তবু না বুঝিলি,*
*কি মদে হইলি ভোর।*
*'এ মোর ও মোর', কেবল করিছ,*
*মরণ আছে কি তোর।।*
*বদন ভরিয়া, হরি না বলিলি,*
*শমন তরিবি কিসে।*
*কহে প্রেমানন্দ , এ দোষ কাহার,*
*ডুবিলি আপন দোষে।।*
*🌺মুটকি করিছ=কেবল পাপের বোঝাই বাঁধছো।পাছাড়ে=পেড়ে ফেলবে।তরিবি=এড়াইবি।*
*🌻জীবিকা নির্বাহের উদ্দেশ্যে,নিজের ভোগ বিলাস সুখ স্বাচ্ছন্দের প্রয়োজনে, দিন রাত্রি বিরামহীন পরিশ্রমে মন! তোমার বিন্দুমাত্র ক্লান্তি নেই।অথচ সামান্য হরিনাম সাধনা করতে গেলে তোমার কাতরতার অন্ত নেই।এতে বড়ই আশ্চর্য্য লাগে।হরিনাম সাধনার জন্য স্বতন্ত্র অবসরের প্রয়োজন নেই।যে কোন অবস্থায় যে কোন কর্মের মধ্যে থেকে হরিনাম সাধনা অনায়াসেই করা যায়।তাতে যোগী ঋষিগণেরও দুর্লভ শ্রীকৃষ্ণভক্তি অতি সহজেই পাওয়া যায়।শাস্ত্রের বাণী=*
*"খাইতে শুইতে যথা তথা নাম লয়*।
*দেশ কাল নিয়ম নাই সর্বসিদ্ধি হয়।।*
*🌻কলিযুগে নাম-সাধনার এত সহজ অধিকার পেয়ে হরিনাম না করায়,সংসার কর্মের প্রাধান্য দেওয়ায়, নরকের পথ প্রশস্ত হচ্ছে।এত কিছু জেনেও যদি না কর তাহলে এই দোষ তোমার।*
🙌🙌🙌🙌🙌🙌🙌🙌🙌🙌🙌🙌🙌
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
꧁৫২.মনোশিক্ষা🙏তৃতীয় ভাগ🙏শ্রী প্রেমানন্দ দাস꧂
꧁ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ ꧂
এই লিংকে ⬇️⬇️⬇️🙏⬇️⬇️⬇️ ক্লিক করুন
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
*(৫২)💐💐মনো শিক্ষা 💐💐*
☆☆☆☆☆☆☆☆☆☆☆☆☆☆
*এ মন! এই কি তোমার কো'ট।*
*অসতে ধাইবি, সৎ না ছুঁইবি,*
*এ তোর বিষম হঠ।।*
*কত না কু-বোল, মিছা গন্ডগোল,*
*করিছ গায়ের জোরে।*
*তবু তো কখন, ভরিয়া বদন,*
*"হরি" না বলিলি ওরে।।*
*কি সুখে ভুলিছ,কাতে বা মজিছ,*
*তুমি কি বুঝিছ ছাই।*
*যে কাজ করিছ, আপনা হারিছ,*
*বিফলে কাটিছ আই।।*
*জানিছ এখন, আমি একজন,*
*শরীর দেখিছ বড়।*
*জান না কখন , ছাড়িবে পবন,*
*কবে বা চিতায় চড়।।*
*যাদের সুখেতে ,আপন-বুকেতে,*
*পাথর ঠেলিছ হেলে।*
*তারা বা কেমন , ধরিলে শমন,*
*বাহিরে ঠেলিয়া ফেলে।।*
*তখন কি ঘরে, রাখিতে না পারে,*
*তাহে না সোহাগ বড়।*
*কহে প্রেমানন্দ ,না বল "গোবিন্দ",*
*নরকে মজিবে দঢ়।।*
*🍀কো'ট=জেদ।হঠ=জেদ।আই =আয়ু। ছাড়িবে পবন=মরে যাবে বা চিরতরে নিশ্বাস বন্ধ হবে।হেলে=অনায়াসে। সোহাগ=আদর।*
*🌻ওরে মন! মানুষের জন্ম পেয়ে, মানুষের সমাজে বাস করে,মানব ধর্মের কথা শ্রবণ করে, মহতের দর্শন পেয়ে,ও সঙ্গ করেও তুমি তোমার জেদ ধরে বসে আছো।মন! তোমার এই হঠকারিতা মোটেও উচিৎ নয়।দিন রাত্রি প্রয়োজনে অপ্রয়োজনে অকথা-কুকথা বলে চলেছ,কত গন্ডগোল,চিৎকার,গায়ের জোরে গলা ফাটিয়ে করে চলেছ, তাতে তোমার কোন কষ্ট বোধ হয় না।যিনি সর্বরসধাম শ্রীহরিনাম দুই-একবার বলতেও তোমার কত কষ্ট বোধ কর।ঐ শোন শাস্ত্র কি বলছেন=*
*কৃষ্ণের অধরামৃত,কৃষ্ণ গুণ চরিত,*
*সুধাসার-স্বাদু-বিনিন্দন।*
*তার স্বাদ যে না জানে,জন্মিয়া না মৈল কেনে,*
*সে রসনা ভেক-জিহ্বা সম।।*
*🌻মানবদেহের বাগিন্দ্রিয়ের অর্থ্যাৎ জিহ্বার একমাত্র কর্ম ও ধর্ম হল ইতর (খারাপ) বস্তুতে ভোগাসক্তি বিস্মরণকারী পরমপুরুষ শ্রীকৃষ্ণের অধরামৃত আস্বাদন এবং ত্রিতাপ জ্বালা নিবারক সর্বেন্দ্রিয় শীতলকারী শ্রীকৃষ্ণনাম গুণ-লীলা কীর্তন।এবার স্বেচ্ছাচারী মনের বশবর্তী হয়ে যদি মানুষের জিহ্বা শ্রীকৃষ্ণের অধরামৃত আস্বাদন না করে ও কৃষ্ণকথা না বলে বা কৃষ্ণকথা না শুনে তাহলে সে জিহ্বা ভেক জিহ্বা অর্থ্যাৎ ব্যাঙের জিহ্বার মত।ব্যাঙ যেমন চিৎকার করে,তার চিৎকার শুনে সাপ সেখানে আসে ও সেই ব্যাঙকে খেয়ে ফেলে।তদ্রূপ মানুষের যে রসনা হরিকথা না বলে সবসময় অসৎ প্রসঙ্গে অজস্র কথা বলে, পরিণামে যমরূপী সর্প এসে তাকে সহজে গ্রাস করে।তাই মন! কিছু পারো বা না পারো সর্বদা হরিনাম করো।কৃষ্ণ সম্বন্ধ বিনা সৎ অসৎ সকল কর্মেই আয়ু হরণ হয়ে থাকে। কিন্তু শ্রীকৃষ্ণের উদ্দেশ্যে ক্ষণকাল অতিবাহিত করলে সেই কাল বা আয়ু কখনোই হরণ হয় না।যাদের সুখ-স্বাচ্ছন্দ্য বিধানের জন্য মন! তোমার প্রবল দৈহিক শক্তি প্রকাশ করে মহাভার পাথরকে ঠেলে নিয়ে যেতে আনন্দ পাও,সেই মহাশক্তিশালী দেহ যখন প্রাণহীন হয়ে পড়বে তখন তোমার অতি প্রিয় স্বজনেরা আর তোমাকে সোহাগ করবে না।তোমারই রক্তজল করা পরিশ্রমে গড়ে তোলা মোজাইক করা শীততাপ নিয়ন্ত্রিত (এয়ার কন্ডিশন) ঘরে রাখবে না ; ঘর থেকে,অতি নরম সুখের বিছানা হতে নামিয়ে টেনে বাহির করে বাঁশের খাটলিতে শুইয়ে দিবে। কৃষ্ণ ভজনহীন মানবজীবনের এই চরম পরিণতির কথা ভেবে মন! ওরে মন! তুমি শ্রদ্ধায় শ্রীকৃষ্ণ ভজন কর শ্রীকৃষ্ণ নাম কর।*
*🙌🙌🙌জয় শ্রীরাধাগোবিন্দের জয়🙌🙌
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
꧁৫৩.মনোশিক্ষা🙏তৃতীয় ভাগ🙏শ্রী প্রেমানন্দ দাস꧂
꧁ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ ꧂
এই লিংকে ⬇️⬇️⬇️🙏⬇️⬇️⬇️ ক্লিক করুন
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
*(৫৩)💐💐মনো শিক্ষা 💐💐*
<><><><><><><><><><><><><>
*ওরে মন! কেন হেন এ বড় আশ্চর্য্য।*
*বাণিজ্য করতে এলি,হারাইলি জুয়া খেলি,*
*কি করিতে কিবা কর কার্য্য।।*
*যে চিন্তা পরম ধন,তাতে তোর অযতন,*
*যাহা হইতে তরিবি সংসার।*
*তাতে "কৃষ্ণ" "কৃষ্ণপ্রেম", পাইয়া অমূল্য হেম,*
*কেন চিন্তা কদর্য্য-মাঝার।।*
*পূর্বে মুনিগণ যত,বৃষ্টি বা আতপ কত,*
*সহি ক্ষুধা গ্রীষ্ম শীত।*
*চিন্তা দিয়া হরি-পদে, পাইয়াছে নিরাপদে,*
*সেই কর, কিন্তু বিপরীত।।*
*দেখ কত বৃষ্টি বাতে,গ্রীষ্ম কী আতপ-শীতে,*
*কত না করিছ পরিশ্রম।*
*স্ত্রী পুত্র সংসার লাগি,চিন্ত যেন সদা যোগী,*
*বুঝ ভাই! একি নহে ভ্রম।।*
*যার লাগি এত দুর্গতি,সে বা কোথা তুমি কথি,*
*আপনি ভাঙ্গ আপনি মুন্ড।*
*সেই চিন্তা কর ক্ষয়,যাহাকে নরক কয়,*
*কত আর পাবে যম-দন্ড।।*
*প্রেমানন্দ কহে মন,শুন এই নিবেদন,*
*চিন্ত 'হরিচরণ' সুসত্য।*
*অসার-সংসার-সার, হরিনামে রত যার,*
*'হরি' বিনা সকলি অনিত্য।।*
*🌻মন! ভবের বাজারে এসে সৎ ব্যবসায়ী হতে পারলে না।অসৎ জুয়াখেলা ব্যবসায় অল্পদিনে ধনী হবার মোহে পড়ে যথা-সর্বস্ব হারিয়ে ফেললে, এটাই বড় আশ্চর্য্য।যে চিন্তা করলে সংসার যাতনা হতে পরিত্রাণ পাওয়া যায়,সেই শ্রীকৃষ্ণ প্রেমরূপ উজ্জ্বল হেম বা সোনার চিন্তা না করে তুমি ভোগ বিলাসাদি পাশবিক চিন্তায় ডুবে আছ।সেই চিন্তা পরিপূরার্থে দিনরাত কত না পরিশ্রম করে চলেছ।ভেবে দেখ প্রাচীনকালে মুনিগণ, ঋষিগণ বছরের পর বছর ধরে প্রবল বৃষ্টিপাতে, প্রচন্ড সূর্য্যতাপে,আবরণশূন্য জায়গায়, অনাহার অনিদ্রায়,জলপান না করে, কঠোর সাধনায় শ্রীহরি চিন্তা করে শ্রীহরি চরণ প্রাপ্ত হতেন।মন! তুমিও কিন্তু বিষয় চিন্তা রূপায়িত করতে কত প্রখর রোদ-ঝড়-বৃষ্টি-অনাহার অনিদ্রা মান অপমান সমালোচনা সহ্য করছো।কিন্তু ঋষিগণের কষ্ট স্বীকার ও পরিশ্রম শ্রীহরি সম্বন্ধে হবার জন্য ভগবদ্ প্রাপ্তির প্রেমানন্দে তাঁদের জীবন ধন্য হয়।আর একই কষ্ট এবং পরিশ্রম শ্রীহরি বিষয়ক না হবার জন্য তোমার জন্ম নরক যন্ত্রণায় হচ্ছে দুর্বিসহ। মহাজন বাক্যে আছে =*
*শীত আতপ, বাত বরিখণে,*
*এদিন যামিনী জাগিরে।*
*বিফলে সেবন, কৃপণ দুরজন,*
*চপল সুখ লব লাগিরে।।*
*🌻অতি ক্ষণস্থায়ী একবিন্দু সুখানুভূতি পাবার জন্য রোদ বৃষ্টি ঝড় ঝঞ্ঝা ক্ষুধা পিপাসা সহ্য করে দিনরাত জেগে জেগে মানুষ নির্বিচারে কত পরিশ্রম করে।অতি কৃপণ দুর্জন আত্মীয় স্বজনের সেবা করে। কিন্তু এই সুখ যতক্ষণ দেহ, ততক্ষণই অনুভব হয়।দেহান্তে এ সুখের অস্তিত্ব থাকে না।তাই বুদ্ধিমান শাস্ত্রজ্ঞ ব্যক্তি একমাত্র শ্রীহরিভক্তি লাভের জন্যই সকল প্রকার কষ্ট সহ্য করে থাকেন।তাই বলি মন! তুমি এইভাবে বৃথা পরিশ্রম করে দুর্লভ মানব জীবনকে নরকগামী করে দিও না।অসার সংসারের একমাত্র সারবস্তু শ্রীহরানামে সচেষ্ট হও।*
*জয় নিতাই গৌর হরিবোল*
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
꧁৫৪.মনোশিক্ষা🙏তৃতীয় ভাগ🙏শ্রী প্রেমানন্দ দাস꧂
꧁ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ ꧂
এই লিংকে ⬇️⬇️⬇️🙏⬇️⬇️⬇️ ক্লিক করুন
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
*(৫৪)💐💐মনো শিক্ষা 💐💐*
•••••••••••••••••••••••••••••••••••••••
*ওরে মন!ভাবিয়া না বুঝ আপনাকে।*
*যার লাগি দুঃখ কর, স্বদেশে বিদেশে ফির,*
*সেজন কি সুখ দিবে তোকে।।*
*যাবৎ সামর্থ্য আছে, তাবৎ তোমার কাছে,*
*যাবৎ আনিয়া দেহ অর্থ।*
*যখন সে গন্ধ নাই,ডাকিলে না শুনে ভাই,*
*না পুছে দেখিলে অসমর্থ।।*
*অবস্থা দেখিয়া হাসে, ভাল কথা মন্দ বাসে,*
*বাঁকা-মুখে ও নাক-তোলাই।*
*ক্ষুধায় দেয় না ভাত, তাতে আর কটু বাত,*
*কহে একি হইল বালাই।।*
*দিনে দিনে খাট রতি,কিসে আর পিতা পতি,*
*পরিজনে না কর বড়াই।*
*যেবা আগে যোড়-হাতে, তারা শুনায় নির্ঘাতে,*
*এ সময়ে বন্ধু কে রে ভাই।।*
*পরকে আপন করি, ভেবে মলি জন্ম ভরি,*
*কে তুমি,তোমার আছে কেবা।*
*প্রেমানন্দ কহে মতি,'কৃষ্ণ' বিনা নাহি গতি,*
*কহ "কৃষ্ণ"-- এ দুঃখ তরিবা।।*
*🌻বাঁকা-তোলাই=মুখ বাঁকায় ও নাক সিটকায়। বালাই=জঞ্জাল। নির্ঘাতে=অতি কর্কশভাবে।🌻*
*🌹মন!তুমি আজ পর্যন্ত বুঝতে পারলে না,যাদেরকে সুখ দেবার জন্য কত দেশ-বিদেশে ঘুরে বেড়াচ্ছ তারা কিন্তু তোমার সুখের কথা বিন্দুমাত্রও ভাবে না।যতক্ষণ তোমার অর্থ উপার্জনের সামর্থ্য আছে,ততক্ষণই তোমার আদর।আর অর্থ উপার্জনের ক্ষমতা ফুরিয়ে গেলে,পরিজনের হাতে অর্থ তুলে দিতে না পারলে, তখন সবার কাছে ঘৃণিত এবং অবাঞ্জিৎ। কোন প্রয়োজনে কাউকে কাছে ডাকলে মুখ বাঁকা করে নাক তুলে পালিয়ে যায়।ক্ষুধায় ঠিকমত খেতে দেয় না।ব্যাধির যন্ত্রণায় চিৎকার করতে থাকলে তাঁরা সমবেদনা প্রকাশ না করে অশিষ্ট ভাষায় বকাবকি করে ধমক দেয়।জীবনের এই বাস্তব পরিস্থিতির কথা অনুভব করে শাস্ত্র জানিয়ে দিয়েছেন =*
*🍀যাবৎ বিত্ত উপার্জন শক্ত্যো তাবৎ নিজ পরিবার অনুরক্ত।*
*তদনু চ জরয়া জর্জর দেহে কোহপি ন পৃচ্ছতি বার্তাং গেহে।।*
*🌻বিত্ত (অর্থ) উপার্জনেই মানুষের সমাদর।উপার্জন ক্ষমতা হারিয়ে গেলে অতি প্রিয়জনেরাও খোঁজ খবর পর্য্যন্ত নেয় না। শুধু তাই নয়,আর্থিক সামর্থ্য থাকাকালে যারা ভীত সন্ত্রস্ত হয়ে জোড়হাত করে দূরে দাঁড়িয়ে থাকত,অর্থহীন হয়ে পড়লে তারাই মাথায় লাথি মারতেও সঙ্কোচিত হয় না। মন! এতকিছু বুঝেও তুমি কেন এখনও অনুভব করতে নারলে না। তোমার প্রকৃত নিজজন কে? মানুষের যথার্থ আপনজন কে? এ নিয়ে একটি সুন্দর দৃষ্টান্ত আছে। ওরে মন!তুমি তা শোন -------*
*🌹এক ধনী ব্যক্তি তার একমাত্র সন্তান ও পুত্রবধূ।তার বিশাল ব্যবসা।প্রতিদিন প্রচুর অর্থাগম হয়।ভাগ্যের পরিহাসে সেই ধনী ব্যক্তির হল গলিত কুষ্ঠ ব্যাধি।হাত পায়ের আঙ্গুলগুলো খুলে গেল। সুন্দর নাকটিও ব্যাধিতে খুলে গেল।ক্রমে ক্রমে ব্যবষা পরিচালনার ক্ষমতাও হারিয়ে গেল। তদানীন্তনকালে কুষ্ঠ ব্যাধির জন্য সুচিকিৎসাও ছিল না। সুযোগ্য পুত্র একটি স্বতন্ত্র ঘরে তার পিতাকে রেখে সেবা শুশ্রূষা করতে লাগল।এইভাবে সুদীর্ঘ চৌদ্দ বৎসর অতিবাহিত হল।একদিন গভীর রাত্রে ব্যবসায়ীর পুত্র ঘরে ফিরেছে,পুত্রবধূ বলছে, তোমার ঘরে ফিরতে এত দেরী হল কেন? সে বলল, বাবার পরিস্থিতি ভাল নয়,বাবার জন্য ঔষধ খুঁজতে এত দেরী হয়ে গেল।বিরক্তি প্রকাশ করে সেই গৃহবধূ বললে,"রাখ তোমার বাবা"! আজ চৌদ্দ কি পধের বৎসর হল বিয়ে হবার পর থেকে তোমার বাবাকে টানছি।না কোথাও যেতে পারলাম, না কোথাও কিছু দেখলাম, না একটু আমোদ-প্রমোদ করলাম, জানিনা আরো কত বৎসর এইভাবে পচা শরীরটাকে দেখতে হবে।এমন কোন ঔষধ নেই যে খাইয়ে দিলে তোমার বাবা তাড়াতাড়ি বিদায় হয়।আর এতে আমরাও নিষ্কৃতি পাই।কথাগুলো শুনে ধনীপুত্র একটি দীর্ঘ নিঃশ্বাস ফেলল।আক্ষেপের সঙ্গে বললে--, ঠিকই বলেছ! বাবার জন্য আমিও কোথাও যেতে পারি না।নিশ্চিন্তে কোন কাজে মনও বসাতে পারি না। শুধু মনে হয়, বাবার এই ভাবে বেঁচে থাকার চাইতে মৃত্যু হওয়াই ভাল।পাশের ঘরেই ছিল সেই কুষ্ঠ ব্যাধিগ্রস্ত পিতা।ব্যাধির যন্ত্রণায় তার চোখে ঘুম নেই।পাশের ঘরের পুত্র ও পুত্রবধূর এই কথোপকথন শুনে অত্যন্ত মর্মাহত হল। অনুশোচনায় তার দুই চোখে নেমে এলো অশ্রুবাদল।সে মনে মনে ভাবতে লাগল আমারই কষ্টার্জিত অর্থের দ্বারা এই বিলাস বহুল বাড়ী, বিশাল ব্যবসা-বাণিজ্য।আমার ঔরসজাত একমাত্র সন্তান।যার শৈশবকালে আমি নিজে না খেয়ে আমার খাবার আমি পুত্রের মুখে তুলে দিতাম। যার সুখ-স্বাচ্ছন্দের জন্য পরমাসুন্দরী পুত্রবধূ এনেছি।যারা আমার গৃহে বসবাস করছে, যারা আমারই উপার্জিত অর্থ ভোগ করছে, আজ কিনা তারা আমার দীর্ঘায়ু কামনা না করে আমার মৃত্যু কামনা করছে।হায়!হায়!এরা তো তাহলে আমার প্রকৃত হিতাকাঙ্খী নয়, আমার আপনজনও নয়। আমি বৃথাই এদের উপর নির্ভর করে নিশ্চিন্তে আছি।এইসব কথা ভাবতে ভাবতে তার হৃদয়ে জাগল বৈরাগ্য।*
*😭তখনি হাতে পায়ে ক্ষতস্থানে কাপড় জড়ায়ে একটা লাঠি ধরে ঘর ছেড়ে ধীরে ধীরে বেরিয়ে গেল। সঙ্গে নিল লক্ষ টাকার থলি।জগতে প্রকৃত হিতাকাঙ্ক্ষী বা আপনজনের অনুসন্ধানে এইভাবে সে বেরিয়ে পড়ল। কোথায় যাবে,কার কাছে যাবে, কিছুই জানে না।এইভাবে চলতে চলতে বেলা যখন এক প্রহর, তখন দেখছে এক ভিখারী হন হন করে ভিক্ষার উদ্দেশ্যে চলছে।সেই ধনী ব্যক্তি ভিখারীকে ডেকে বলল, ভাই! তোমাকে দেখে মনে হচ্ছে তুমি দুর্ভাগ্য পীড়িত একজন ভিখারী। তোমার মত আমিও একজন হতভাগা।তোমার অর্থ নাই, আমার আশ্রয় নাই। আমার কাছে একলক্ষ টাকা আছে। এতে তোমার অর্থাভাব যাবে? তোমাকে ভিক্ষা করতে হবে না, আর এর বিনিময়ে আমাকে একটু আশ্রয় দিবে, আর একটু অন্ন-জল দিবে।তাহলে তোমার অর্থাভাবও যাবে, আমার আশ্রয়ের অভাবও দূর হবে।ভিখারী এই সমস্ত কথা শুনে বৃদ্ধ রোগগ্রস্ত ব্যক্তির দিকে তাকিয়ে বললে, তোমার লক্ষটাকাকেও প্রণাম, তোমাকেও প্রণাম ; অর্থের বিনিময়ে তোমার পচা শরীরের বোঝা আমি বইতে পারব না।এই বলে হন হন করে চলে গেল।গৃহ ছাড়া লক্ষ্যহীন রোগাক্রান্ত বৃদ্ধ পথিক হতাশার খর ঝঞ্ঝাবাতে বিধ্বস্ত, স্তব্ধ হয়ে দাঁড়িয়ে রইল।অনুভব করল অনন্ত সীমাহীন পথই তার একমাত্র আশ্রয়।এবার সে ভারাক্রান্ত হৃদয়ে চলতে লাগল।বেলা তখন দ্বিপ্রহর (মধ্যাহ্নকাল)। তারপরে গ্রীষ্মকাল ; প্রচণ্ড রৌদ্রের তাপ ছড়াতে ছড়াতে দিনের ঠাকুর সূর্য্যদেব মাথার উপরে দাঁড়িয়েছে।প্রখর রৌদ্রের তাপে দেহের ক্ষতস্থানে তীব্র যন্ত্রণা হতে লাগল।বেদনায় অস্থীর হয়ে কাতরাতে কাতরাতে সে চলেছে।চোখের দৃষ্টিশক্তি স্পষ্ট নয়।পথে ছিল একটি গর্ত, ভাল দেখতে না পেয়ে মুখ থুবড়ে ঐ গর্তে পড়ে গেল।দুর্বল দেহে আর সে উঠতে পারল না।নিজের এই অসহায়তায় কান্নায় ভেঙ্গে পড়ল।বলতে লাগল,জগতে সত্যিই আপন বলতে কারো কেউ নাই।মুখ থুবড়ে পড়ে কাঁদতে কাঁদতে হঠাৎ তার মনে হল--, পরমেশ্বর ভগবান তিনি তো আছেন!জীবনে তার কথা তো একবারও ভাবিনি।এমন সময় হঠাৎ পিছন হতে গাঢ় মমতা মাখানো কন্ঠে কে যেন ডাকতে লাগল। বন্ধু!বন্ধু! তুমি অমন করে কাঁদছো কেন? আমি তো তোমার জন্য রয়েছি, সারা জীবনই তোমার সঙ্গে আছি।তুমি আমাকে পেছনে রেখেছ তাই আমাকে দেখতে পাও না।পথে পড়ে থাকা সেই কথাগুলি শোনামাত্রই তার হৃদয়ে এক অদ্ভুত আনন্দের উদয় হল।মনে হল যথার্থই বন্ধু বটে!কিন্তু মুখ ঘুরিয়ে দেখে অদেখা অজানা অথচ অতি চিরপরিচিত অসময়ের বন্ধুকে একটুখানি দেখবে,সে সামর্থ্য নেই।কাঁদতে কাঁদতে বলল-- হে বন্ধু! আমি তোমাকে দেখতে পাচ্ছি না। তোমার রূপটি কেমন?হে বন্ধু! এই অসময়ে কেন তুমি আমায় ডাকছো? পিছন হতে আবার সেই মধুমাখা কন্ঠস্বর ভেসে এলো।আমি তোমাকে নিতে এসেছি, তোমার রোগগ্রস্ত বৃদ্ধ অকর্মণ্য দেহকে আমি সাদরে নেব। কিন্তু বন্ধু! তার বিনিময়ে তুমি আমায় কিছু দেবে তো?বৃদ্ধ বললে, আমার কাছে একলক্ষ টাকা আছে। আমি তোমাকে তাই দিব।উত্তরে সেই বন্ধু বললে,না, আমি কোন অর্থকড়ি নেব না। তুমি সারাজীবন যা বলনি তা যদি একবার বল, তাহলে সবার কাছে অবাঞ্জিত,অবহেলিত তোমার দেহ ও তোমাকে জন্ম জন্মান্তরের জন্য নিয়ে নেব।একথা শুনে অসহায় সেই বৃদ্ধটি বিস্মিত হয়ে বললে-- সারা জীবন এমন কি বলি নাই, যার জন্য আমার এত ঘনিষ্ঠ বন্ধু হয়েও আমাকে নিতে পারবে না। তাই পুনরায় বলল, হে বন্ধুবর!সারা জীবন ধরে প্রয়োজনে অপ্রয়োজনে অজস্র কথা বলেছি,অজস্র শব্দ উচ্চারণ করেছি, কিন্তু তার মধ্যে এমন কি বলি নাই যার জন্য তুমি আমাকে গ্রহণ করবে না!পেছন হতে উত্তর এলো তুমি কোনদিন শ্রদ্ধাভরে হরিনাম বলোনি। তাই তোমাকে গ্রহণ করার সূত্র আমি পাচ্ছি না। তুমি যদি এখনি অস্পষ্ট ভাবেও "হরি" শব্দ উচ্চারণ কর, তাহলে এক্ষুনি তোমাকে চির আপন করে নেব।*
*😭একথা শোনামাত্র আত্ম-ধিক্কারে বৃদ্ধটির হৃদয় হাহাকার করে উঠল। বেদনাহত হৃদয়ে বারবার "হরিবোল হরিবোল" বলতে লাগল।প্রবল আকাঙ্ক্ষা জাগল চির-অসহায়ের একমাত্র সহায় সে বন্ধুকে দেখার জন্য। কিন্তু হায় বহু চেষ্টা করেও সে উঠতে পারল না ও মুখও ফেরাতে পারল না।ব্যাকুলতায় "হরিবোল" বলার ফাঁকে ফাঁকে সে শুনতে পেল চিত্তমন উন্মাদনকারী অতি স্নিগ্ধ সুমধুর নূপুর ধ্বনি। নাকে ভেসে এলো তুলসী চন্দন কস্তুরী কুঙ্কুম অগুরু ও প্রস্ফুটিত পদ্মের অপার্থিব গন্ধ।গলিত কুষ্ঠের ক্ষতে ভরা বার্ধক্যের জরাগ্রস্ত দেহে অদ্ভুত রোমাঞ্চ শিহরণ জেগে উঠল।সহসা সম্মুখে এসে দাঁড়ালেন ভুবনভোলা এক মূরতি নিয়ে সর্বকারণের কারণ স্বয়ং ভগবান শ্রীকৃষ্ণ। এসে শুধু দাঁড়ালেন না প্রাণঢালা ভালবাসা ছড়াতে ছড়াতে দুটি বাহু বাড়িয়ে সেই বৃদ্ধ জরাতুর গলিত কুষ্ঠরোগীকে কোটি চন্দ্র সুশীতল পরিসর বক্ষে তুলে নিলেন।শ্রীকৃষ্ণের স্পর্শ পাওয়া মাত্রই তাঁর গলিত কুষ্ঠ দূর হয়ে গেল।বার্ধক্যের জড়তা অন্তর্হিত হল।নব যৌবনের কমনীয়তা দেহ হল সুঠাম সুন্দর, মন হল চির পবিত্র, শুদ্ধস্বচ্ছ গঙ্গাজলের ন্যায়।অনাদিকালের নিজ জন হারা ভ্রান্ত পথিক একবার 🙌হরিবল🙌 বলার বিনিময়ে খুঁজে পেলেন একান্ত আপনজনকে।*
*🌻শ্রীগোবিন্দ বললেন=বন্ধু! তুমি চিরকালের আমারই হলে। তবে যথাবস্থিত দেহের পরমায়ুকাল শেষ হয়নি। এখনও এই দেহে তোমাকে বেলকিছু দিন থাকতে হবে। তুমি আমার নিত্যধাম বৃন্দাবনে গিয়ে শ্রীগুরুদেবের চরণ আশ্রয় করে তাঁর আনুগত্যে আমার ভজন কর। সময় হলে আমার কাছে নিয়ে আসব।এই বলে বন্ধুরূপী গোবিন্দ অন্তর্ধান করলেন। সেই ধনী ব্যক্তিও আর সংসারে ফিরে গেলেন না, শ্রীবৃন্দাবনের উদ্দেশ্যে রওনা দিলেন।*
*🌹উল্লিখিত দৃষ্টান্ত হতে সুস্পষ্টভাবে প্রতীয়মান হল শ্রীকৃষ্ণ বিনা জীবের অন্য কোন আপনজন নেই। হে মন! তুমি শ্রীকৃষ্ণকে আপন করে তাঁর ভজন কর।🙏*
*🙌🙌🙌🙌হরি হরি হরিবল🙌🙌🙌🙌
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
꧁৫৫.মনোশিক্ষা🙏তৃতীয় ভাগ🙏শ্রী প্রেমানন্দ দাস꧂
꧁ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ ꧂
এই লিংকে ⬇️⬇️⬇️🙏⬇️⬇️⬇️ ক্লিক করুন
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
*(৫৫)🌱🌱মনো শিক্ষা 🌱🌱*
"""""""""""""""""""""""""""""""""""""""""""""""
*এ মন! তোমার কপালে ঝাঁটা।*
*কহ না কি বুঝি, আপন-পথেতে,*
*আপনি দিয়াছ কাঁটা।।*
*"শ্রীহরি" ভজিতে,সংসারে আইলি,*
*ভুলিয়া রহিলি তাই।*
*কাদের লাগিয়া, লটর-পটর,*
*দেখ না ক'দিন ভাই।।*
*আপন বলিয়া , যা তুমি জেনেছ,*
*সে তোর আপন কবে।*
*সুখের সময়, সকলি আপন,*
*বিপদে কেহ না তবে।।*
*স্ত্রী পুত্র বান্ধব, সে তো বহুদূর,*
*দেহেতে বৈসয়ে যারা।*
*দেহ ছাড়ি আগে, ইন্দ্রিয় পালাবে,*
*তা হৈতে আপন কারা।।*
*শমন আইলে, কারে না পাইবে,*
*তোমায় আমায় জুড়ি।*
*আঁটিয়া সাঁটিয়া, বান্ধিয়া লইবে,*
*এ দেহ রহিবে পড়ি।।*
*বুঝিয়া সুজিয়া, এখনো বদনে,*
*"হরি হরি" বল ভাই।*
*কসে প্রেমানন্দ, শমন তরিতে,*
*কিছুই ভাবনা নাই।।*
*🌷জগতে দুইটি বস্তু।শ্রেয় আর প্রেয়।শ্রেয় বস্তু প্রাপ্তিতে মানবত্মা হয় পূর্ণানন্দময়। ভগবদ্ সেবানন্দে জীবসত্ত্বা হয় সার্থক ও মহাধন্য। কিন্তু সেই শ্রেয় বস্তুকে পেতে প্রাথমিকভাবে অনেক কষ্ট সহ্য করতে হয়। প্রথমে দুঃখ কষ্ট পরিণামে অনন্ত সুখ,অপার আনন্দ, শ্রেয়তত্ত্বের এই বৈশিষ্ট্য।*
*🍀বিরীত পক্ষে প্রেয়বস্তু প্রাপ্তিতে মানুষের আত্মা কর্মফলের বন্ধনে উত্তরোত্তর আবদ্ধ হতে থাকে। কখনো দুর্বিসহ বেদনাময় নরকভোগ,কখনো কীট-পতঙ্গাদি পশুযোনিতে গিয়ে নানা প্রকার যন্ত্রণা ভোগ, অথচ এই প্রেয়বস্তু অতি সহজ লভ্য, জড় ভোগাসক্ত মনের অতীব রুচিকর। তাই প্রেয়বস্তু পাবার জন্য স্বাভাবিকভাবে মন ভীষণ উন্মুখ থাকে।প্রথমে মধুর,চরম রুচিকর হলেও পরিণামে অনন্ত দুঃখ। প্রেয়তত্ত্বের এইটাই হল প্রধান বৈশিষ্ট্য।*
*🌹রোগাক্রান্ত ব্যক্তি কু-পথ্যের প্রতি বেশী আসক্তি প্রকাশ করে।তাই দেখে বিজ্ঞ চিকিৎসক যদি রোগীর প্রীতি বিধানের জন্য লোভনীয় কু-পথ্য ব্যবহারের অনুমোদন করেন তাহলে রোগীর মনে ক্ষণিক সুখ হলেও পরিণাম ভয়ংকর মৃত্যু।সেই জন্য রোগ নিরাময় ও সুস্থ দেহের লাভের স্বার্থে যতই অরুচিকর হোক, যতই ভাল না লাগুক, ঔষধের সঙ্গে সু-পথ্য ব্যবহার করতে বাধ্য করা হয়।প্রয়োজন হলে রোগীকে শাসনও করতে হয়।*
*🌻কলিযুগের মানুষের মন ভব রোগাক্রান্ত। জাগতিক রূপ,রস, গন্ধ, শব্দ ও স্পর্শ এই পাঁচ প্রকার বিষয় হল কু-পথ্য। এই কু-পথ্য ভোগে মন ভীষণ সুখ পায়। তাই আপাত মধুর বিষয়ভোগে মনের স্বাভাবিক আসক্তি ও প্রচেষ্টা। ভব রোগের অভিজ্ঞ চিকিৎসক সাধু-গুরু-বৈষ্ণবগণ ভব ব্যাধিগ্রস্ত মনকে কিছুতেই বিষয়ভোগের অনুমতি দেন না।ফলে অনেক সময় বিবেকহীন জেদী মন নিজের দৈহিক আত্মিক মৃত্যু জেনেও দুর্বার লালসার স্রোতে ভাসতে ভাসতে বিষয়ভোগে সচেষ্ট হয়।তখন সেই মনের প্রতি সমবেদনা বা সহানুভূতি না দেখিয়ে শাসন করা ও ধিক্কার দেওয়া ছাড়া অন্য কোন পথ থাকে না।*
*💐এইমত অবস্থায় মহাজনগণ রোগী-ভোগী মনকে বলছেন ওরে মন! প্রিয় বস্তুর ভোগাসক্তির মোহে পড়ে শাশ্বত আনন্দময় শ্রেয় প্রাপ্তির পথে তুমি নিজে নিজেই কাঁটা বিছিয়ে চলেছ। তোমার এই স্বেচ্ছাকৃত দুষ্কর্মের জন্য তোমার কপালে সন্মার্জনীর(ঝাঁটা) ঘা মারতে ইচ্ছে হচ্ছে। তুমি যাদেরকে নিয়ে সুখভোগ করবে ভাবছ, সেই আত্মীয়স্বজন কিন্তু তোমার সুখের কথা বিন্দুমাত্রও ভাবে না।এমনকি যাদের সহায়তায় সুখভোগ করতে ব্যস্ত হয়েছ, তোমার নিজদেহের সেই ইন্দ্রিয়গণ সুখের চরম তৃপ্তি হতে না হতে একে একে তোমাকে ছেড়ে পালাবে। তখন অনুভব করবে আমি কি করলাম, আমার শ্রীহরি ছাড়া আমার আর কেউ নেই। তাই বলি ওরে অবুঝ মন! সময় থাকতে তুমি শ্রীহরিনাম কর।*
*🙌হরেকৃষ্ণ হরেকৃষ্ণ কৃষ্ণ কৃষ্ণ হরে হরে।হরেরাম হরেরাম রাম রাম হরে হরে।।🙏🙏🙏*
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
꧁৫৬.মনোশিক্ষা🙏তৃতীয় ভাগ🙏শ্রী প্রেমানন্দ দাস꧂
꧁ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ ꧂
এই লিংকে ⬇️⬇️⬇️🙏⬇️⬇️⬇️ ক্লিক করুন
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
*(৫৬)💐💐মনো শিক্ষা 💐💐*
^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^
*এ মন! আর বা আপন কারা।*
*দেখ না দেহেতে, যতেক ইন্দ্রিয়,*
*আপন না হয় তারা।।*
*যেসব তোমার, অনুচর হইয়া,*
*যা কর করয়ে তাই।*
*বিপদ সময়ে, কারে না পাইবে,*
*সরিয়ে দাঁড়াবে ভাই।।*
*যে কর সে কর, কর না এখন,*
*কে তোর আছয়ে ছাড়া।*
*শমন বান্ধিয়া , যখন শুধাবে,*
*সাক্ষী দিয়া হবে খাড়া।।*
*যে তনু তোমার, আপন জানিয়া,*
*গরবে না পাও ঠাঁই।*
*জান না কখন, সে তনু ছাড়িলে,*
*পুড়িয়ে করিবে ছাই।।*
*পরের সহিতে , এতেক আরতি,*
*কখনো যে তোর নয়,*
*কে তুমি কাহার, বিচার করিয়া,*
*আপনা চিনিতে হয়।।*
*এমন জনমে , "হরি" না ভজিলি,*
*ফেরেতে পড়িলি ভাই।*
*কহে প্রেমানন্দ, আবার চৌরাশি,*
*কবে বা ফিরিতে যাই।।*
*🌻খুব সহজ কথা তাই ব্যাখ্যা দিলাম না।*
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
꧁৫৭.মনোশিক্ষা🙏তৃতীয় ভাগ🙏শ্রী প্রেমানন্দ দাস꧂
꧁ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ ꧂
এই লিংকে ⬇️⬇️⬇️🙏⬇️⬇️⬇️ ক্লিক করুন
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
*(৫৭)💐💐মনো শিক্ষা 💐💐*
<><><><><><><><><><><><><>
*ওরে মন!কার হৈয়া কহিছ কাহার।*
*জন্মিলি ভারত ভূমে,তবু না ভাঙ্গিল ঘুমে,*
*জন্মিতেই গর্ভে পুনর্বার।।*
*গর্ভে বিষ্ঠা কৃমিময়, জঠারাগ্নি জ্বালাচয়,*
*নাড়ীতে বন্ধন হস্ত পদ।*
*নড়িতে না ছিল শক্তি, কত তোর দুঃখ আর্তি,*
*কাহা হৈতে তরিলি প্রমাদ।।*
*যাহা বলেছিলে ভাই,এবে তার কিছু নাই,*
*মায়ায় গিলিছে আর বার।*
*সংসার-বাসনা-বিট্,বেড়ি স্ত্রী-পুত্রাদি-কীট,*
*দেখ না কাটিছে অনিবার।।*
*দুর্বাসনা নাড়ী-বন্ধ,অজ্ঞান-তামসে অন্ধ,*
*জঞ্জাল দহন অতিশয়।*
*কেন দগ্ধ হও ইথে,মায়ের উদর হৈতে,*
*বাহির হৈতে ভাব না উপায়।।*
*জননী-উদর হৈতে,রক্ষা করি পৃথিবীতে,*
*যে এনেছে চিন্ত সে "গোবিন্দ"।*
*কৃষ্ণ কহ অবিরত,মায়া হৈতে হবে মুক্ত,*
*আপনি ঘুচিবে কর্ম-বন্ধ।।*
*মাতৃ-গর্ভে ছিল স্মৃতি,তাতে পেলি অব্যাহতি,*
*এবে কেন ভুল রে পামর।*
*প্রেমানন্দ কহে মতি,করিয়া কৃষ্ণ-স্মৃতি,*
*মায়া হৈতে হও রে অন্তর।।*
*🌷জগতে দুটি মুখ্য জ্ঞাতব্য বিষয়।তা হল "আমি কে" এবং "আমি কার"। এই দুটি তত্ত্বের সম্যক পরিচিতি লাভ করলে জীবনের লক্ষ লক্ষ সমস্যা সমাধান হয়ে যায়।মানব দেহ-মনের অন্তরালে যে চৈতন্য সত্ত্বার অস্তিত্ব আছে,সেই অস্তিত্বকে জানা-ই আত্মতত্ত্ব জ্ঞান।পরিদৃশ্যমান জগতে চেতন অচেতন ত্রৈকালিক (ভূত, ভবিষ্যৎ,বর্তমান) সৃষ্ট বস্তুর ও জীবের একমাত্র সত্ত্বাধিকারী যে পরমেশ্বর ভগবান তাঁকে বিশেষভাবে জানবার নামই হল পরতত্ত্ব জ্ঞান।এই দুই তত্ত্বজ্ঞানের মধ্যেই অতি গূঢ় অজানা অনন্ত বিশ্বরহস্য অন্তর্নিহিত আছে বা লুকিয়ে আছে।নিজেকে "জানা" ও শ্রীভগবানকে জানা হলে বিশ্বজ্ঞান লাভ হয়।*
*❄উপনিষদে আছে,আত্মানং বিদ্ধি।*
*🌻অর্থ্যাৎ জীবনের সবকিছু জানবার আগে নিজেকে জানো। তেমনি শ্রীমদ্ভাগবতগীতার বাণীতে আছে, "তৎ বিদ্ধি"।তুমি তাঁকে জানো।বাকী জ্ঞান আনুষঙ্গিকভাবে লাভ হবে।*
*🌺এবার জানতে হবে "আমি" বলতে কাকে বুঝায়?দেহটাই যদি আমি হই, কিম্বা মনটা যদি আমি হই, তাহলে আমার দেহ,আমার মন এরকম বলা হত না।এতে বুঝা গেল, আমি একটি স্বতন্ত্রসত্ত্বা।আধ্যাত্মিক গবেষকগণ সেই সত্ত্বাকে বিভিন্ন দিক থেকে বিভিন্নভাবে নিজ নিজ ধারণা নিয়ে তা ব্যাখ্যা করেছেন।সর্বশেষে ভগবান শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য মহাপ্রভু "আমি কে" তার পরিচয় জানাতে গিয়ে বললেন=*
*জীবের স্বরূপ হয় নিত্য কৃষ্ণ দাস*।
*কৃষ্ণের তটস্থা শক্তি ভেদাভেদ প্রকাশ।।*
*🌹শ্রীমন্মহাপ্রভুর এই সিদ্ধান্তের দ্বারা পরিস্কার জানা গেল, আমি শ্রীকৃষ্ণের নিত্যদাস।শুধু তাই নয় উল্লিখিত উক্তিতে আমার দেহ-মনের প্রকৃত সত্ত্বাধিকারী কে তাও জানা গেল।আমরা অজ্ঞানতা বশত বুঝতে পারি না "আমি" কার? পিতা, পুত্রের জন্ম দিয়ে বলেন ঐ দেহটা আমার, মা গর্ভে ধারণ ও প্রতিপালন করে বলেন পুত্রকন্যার দেহের উত্তরাধিকারিণী আমি।বিদ্যালয়ে ভর্তি হলে শিক্ষকমহাশয় বলেন ছাত্রটি আমার।চাকরি পেলে উপরওয়ালা (বস) বলে ও আমার অধীনে চাকরি করে ও আমার লোক।বিয়ে হলে, স্বামী বলে স্ত্রীর দেহ আমার আর স্ত্রী বলে স্বামীর দেহ আমার।আবার দুষ্কর্মের জন্য পুলিশের অধীনে গেলে পুলিশ বলে ওটা আমার দেহ বা আসামী, জেল হাজতে গেলে জেলারসাহেব বলে ওটা আমার কয়েদি।পুত্র কন্যা হলে তারা বলে বাবা-মা আমাদের।দুরারোগ্য ব্যাধিতে আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসাধীন থাকলে ডাক্তারবাবু বলেন,ওই দেহটা এখন আমার। বৃদ্ধ বৃদ্ধা হয়ে পড়লে আত্মীয়স্বজন বলে আমাদের দেহ।শেষে মৃত্যুর সময় যখন ঘনিয়ে আসে, তখন যমরাজ বলেন ওটা কারো নয় আমারই দেহ।মৃত্যুর পর প্রাণহীন হয়ে পড়লে শিয়াল-কুকুর-কাক-শকুনি আদি বলে ঐ দেহে আমাদের অধিকার।আমরা যথেচ্ছ ভোগ করব।*
*🌴তাহলে দেখা গেল, এইভাবে জন্মের পর হতে এই অনিত্য দেহের প্রকৃত অধিকারী বা ওয়ারিশ কে তার কোন নিশ্চয়তা নেই।একটি বেওয়ারিশ শরীরকে নিয়ে কেবল আমার আমার করে মরছি।সত্য সত্য আমার কে এবং আমি কার? তা আমরা মোটেও বুঝতে পারি না।তাহলে প্রকত পক্ষেই কি এই দেহের কোন সত্ত্বাধিকারী নেই?*
*🌼একটু অন্তর্দৃষ্টি দিয়ে অনুসন্ধান করলে দেখা যাবে আমার দেহ-মনের একজন মালিক আছেন।তিনি সাধারণ মালিক নন।তাঁর বুকভরা অনন্ত ভালোবাসা অফুরন্ত করুণা।মাতৃগর্ভে বিষ্ঠা কৃমিময়ে,জঠরাগ্নির তাপে উত্তপ্ত অন্ধকারাচ্ছন্ন কুঠরীতে আমরা যখন ছিলাম তখন তিনিই আমাদের রক্ষণাবেক্ষণ করেছেন,সেই সময়ে গর্ভাশয়ে সাতমাস বয়সে তিনিই আবার মুক্তির মহামন্ত্র প্রদান করেন।গর্ভ যন্ত্রণায় কাতর হয়ে ভগবদ্ উপাসনার সংস্কার বিশিষ্ট জীব তাঁর কাছে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হয়, ভূমিষ্ঠ হবার পরে ভগবানের সেবা করবে বলে, এতে করুণা পরবশ হয়ে ভগবান জননীর জঠর হতে জীবদেহকে নির্বিঘ্নে পৃথিবীতে নিয়ে আসেন।এইখানে আসার পরে প্রাণ রক্ষার জন্য মাতৃবক্ষে অমৃতদান করলেন, অর্থ্যাৎ মাতৃদুগ্ধ।সদ্যজাত দেহে দেন মাতৃদুগ্ধ পান করার সংস্কার।*
*🍀এ সব গেল দেহ সংরক্ষণের কথা,জীবের পারমার্থিক কল্যাণ সাধনের জন্যও তাঁর মমতা মাখানো প্রচেষ্টার অন্ত নেই।মহাজন বাক্যে আছে =*
*গুরু রূপে ঘরে ঘরে,দীক্ষা দেন সবাকারে,*
*বৈষ্ণব রূপেতে দেন শিক্ষা।*
*শাস্ত্ররূপে কহে জ্ঞান,আত্মারূপে অধিষ্ঠান,*
*দেখ তার কারে বা উপেক্ষা।।*
*🌻জগতে যে যতই আপন হোক না কেন সর্বতভাবে জীবকে কেউই ভালবাসতে পারে না।তাই ভগবান শ্রীকৃষ্ণই আমাদের যথার্থ সত্ত্বাধিকারী।আমরা বুঝি বা না বুঝি, আমরা জানি বা না জানি আমরা প্রত্যেকেই শ্রীকৃষ্ণের নিত্যদাস এবং শ্রীকৃষ্ণ হচ্ছেন আমাদের আশ্রয়।বহির্মুখী মায়ার দ্বারা জীবের জ্ঞান আচ্ছন্ন থাকে বলে এই তত্ত্ব উপলব্ধি হয় না।শ্রীকৃষ্ণের অভয় পদে শরণাগত হয়ে তাঁকে দিবানিশি স্মরণ করা।ভগবান শ্রীকৃষ্ণ নিজেই তা বলে দিয়েছেন =*
*"মামেব যে প্রপদ্যন্তে মায়ামেতাং তরন্তি তে"।*
*🌼অর্থ্যাৎ হে অর্জুন!আমাতে পূর্ণ শরণাগত হতে পারলে অনায়াসে আমার দৈবীমায়াকে অতিক্রম করা যায়।শ্রীভগবানের উক্তিতে জানা গেল শ্রীকৃষ্ণ কেবল জীবের আপনজনই নয়, মায়াবন্ধন খন্ডনকারীও বটেন।*
🌻🌻🌻🌻🌻🙏🙏🙏🌻🌻🌻🌻🌻
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
꧁৫৮.মনোশিক্ষা🙏তৃতীয় ভাগ🙏শ্রী প্রেমানন্দ দাস꧂
꧁ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ ꧂
এই লিংকে ⬇️⬇️⬇️🙏⬇️⬇️⬇️ ক্লিক করুন
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
*(৫৮)💐💐মনো শিক্ষা 💐💐*
========================
*ওরে মন! বিচারিয়া দেখ না রে ভাই।*
*যদি কর অন্য কাম,মুখে লৈতে কৃষ্ণনাম,*
*তাতে কেবা দিয়াছে দোহাই।।*
*মুখ জিহ্বা আপনার,সে কি কার লাগে ধার,*
*তবে কর অপেক্ষা কাহার।*
*বাক্য বশ কৃষ্ণ-নাম,থাকিতে নরকধাম,*
*চল তবে অদ্ভুত কি আর।।*
*যদি মুখ কোন ছলে,কখন না কৃষ্ণ বলে,*
*হেন মুখ শ্বান-মুখপ্রায়।*
*রাত্রিদিনে ভুখে মরে,উচ্ছিষ্ট চর্বণ করে,*
*কি লাগি সে বৃথা ধরে কায়।।*
*যে মুখেতে অবিরাম,উচ্চারয়ে কৃষ্ণনাম,*
*সে না মুখ চন্দ্রের সমান।*
*দেখিলে শীতল করে,কৃষ্ণ নামামৃত ঝরে,*
*সাধু-নেত্র-চকোরের প্রাণ।।*
*কভু সে বদন ভরি,না বলিলি কৃষ্ণ হরি,*
*যম থোবে নরকের কুন্ডে।*
*মারিবে ডাঙ্গসের বাড়ি,কৃমিতে খাইবে বেড়ি,*
*বিষ্ঠায় পূরিবে সেই তুঙ্গে।।*
*প্রেমানন্দ কহে মন,এই মোর নিবেদন,*
*কাতর হইয়া বলি অতি।*
*কেন বৃথা কর্মে মত্ত,কৃষ্ণ কহ অবিরত,*
*এড়াইবে শমন-দুর্গতি।।*
*🌻মন! তুমি নিরপেক্ষভাবে অতি সূক্ষ্ম দৃষ্টি দিয়ে বিচার করে দেখ শ্রীকৃষ্ণ স্মরণ করতে এবং শ্রীকৃষ্ণ নাম করতে,দেহযাত্রা নির্বাহের প্রয়োজনীয় কর্মকে ত্যাগ করার দরকার হয় না।যে কোন কাজের মধ্যে দেহকে ব্যস্ত রেখে মুখে-জিহ্বায় অনায়াসে হরিনাম করা যায়।এতে কোন বাঁধা বিপত্তির অপেক্ষা নেই।যেহেতু জিহ্বা জীবের একান্ত নিজস্ব ইন্দ্রিয়,কারো কাছ থেকে অস্থায়ীভাবে ধার করে নেবার কোন জায়গায় নেই একান্ত নিজের।বাকও নিজের বশে।*
*কৃষ্ণনা করার এত স্বাধীনতা পেয়েও যে মুখ কোন ছলেও কৃষ্ণনাম হরিনাম করে না,সেই হরিনাম বিহীন মুখ দেখতে যতই সুন্দর হোক অথবা অতি স্নিগ্ধ সুমিষ্ট বাক্য বিন্যাসে অভ্যস্ত হোক তা অপবিত্র শ্মশান তুল্য।সে মুখ দর্শনে অমঙ্গল আরো ঘনিয়ে আসে। আবার যে মুখ সকল কাজের মধ্যে থেকেও অবিরাম সুমধুর হরিনাম-কৃষ্ণনামে মুখরিত,সেই মুখখানি সাধারণ মানুষের কাছে দেখতে যতই কুৎসিত হোক,প্রকৃতপক্ষে তা পূর্ণ চন্দ্রের মত সুন্দর ও শীতলতাদায়ী।তাঁর দর্শনমাত্রে সর্ব সুমঙ্গল উদয় হয়, অন্তর আত্মা হয় সুশীতল।নামামৃত সুধা ক্ষরণশীল মুখচন্দ্র দর্শনে স্বজনগণের নয়ন চকোর পরিতৃপ্ত হয়।সামান্য মুখের কথা মাত্র এই হরিনাম।ওরে মন! তুমি অবহেলা করে মুখে যদি কৃষ্ণনাম না কর, তাহলে মৃত্যুর পরে তোমার ঐ মুখে, তোমার ঐ জিহ্বায় নরককুন্ডের অতি কদর্য্যবিষ্ঠা যমমহারাজ পুরে দিবে।সেই জন্য কাতর হয়ে মন তোমাকে বলি, তোমার দেহকে সকল কর্মে নিয়োজিত রেখে মুখে অবিরত কৃষ্ণ, কৃষ্ণ বল।ঐ শোন সাধুগণ বলছেন।*
*হাতে কর গৃহ কর্ম মুখে বল হরি।*
*অনায়াসে তরে যাবে ভবসিন্ধু বারি।।*
*🌹তুন্ডে=মুখে।শ্বান=কুকুর।*
*জয় জয় শ্রীরাধাকৃষ্ণের জয়🙏*
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
꧁৫৯.মনোশিক্ষা🙏তৃতীয় ভাগ🙏শ্রী প্রেমানন্দ দাস꧂
꧁ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ ꧂
এই লিংকে ⬇️⬇️⬇️🙏⬇️⬇️⬇️ ক্লিক করুন
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
*(৫৯)🙏🙏মনো-শিক্ষা🙏🙏*
°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°
*এ মন! নিতান্ত জানিহ ভাই।*
*হরি না জানিয়া, লাখ জান যদি,*
*সে জানা কেবল ছাই।।*
*হরিনাম-সুধা, জিহ্বায় না পিয়ে,*
*কি রস চাখিছ আর।*
*চিনি কলা ক্ষীর, মিছরিতে রতি,*
*দেখ না কি ফল তার।।*
*হরিনাম-মণি , হৃদে না করিয়া,*
*কি ভূষা ভূষিছ গায়।*
*সোনায় রূপায়,জড়িয়া থাকিলে,*
*যমে কি ছাড়িবে তায়।।*
*ঘোড়ায় দোলায়,চড়িয়া ফিরিছ,*
*ধূলা না পরশে পায়।*
*জান না পবন, ছাড়িবে যখন,*
*ভূমেতে লোটাবে কায়।।*
*বাহিরে বেড়া'তে, ডরে ডরাইছ,*
*দোসর তেসর চাও।*
*শমন নগরে, যখন চলিবা,*
*তখন ক'জন পাও।।*
*ভুলায়ে ভুলিয়া, কুপথে যাইছ,*
*উদ্দেশ না পাও তবে।*
*কহে প্রেমানন্দ, তখন জানিবে,*
*শমন বান্ধিবে যবে।।*
*☘দোসর-তেসর=তোমার সঙ্গে একজন বা দুইজন। ভুলায়ে ভুলিয়া = মিথ্যা জিনিসে সত্য-জ্ঞানে ভ্রান্ত করে।উদ্দেশ=পথের সন্ধান।*
*🌻ওরে চঞ্চল মন!জানবার পিপাসা নিয়ে বহুমুখী জ্ঞান অর্জনের জন্য তুমি কত না চেষ্টা করে চলেছ।তুমি ভেবেছ বিশ্বের সমস্ত জ্ঞান অধিগত করতে পারলে সমাজে শ্রেষ্ঠ জ্ঞানী বলে সম্মানিত হবে। মন! তোমার এ ধারণা সম্পূর্ণ ভূল।শ্রীহরিকে না জেনে না চিনে যতই জ্ঞান সঞ্চয় কর না কেন সব জ্ঞানই অপূর্ণ।সে সব জ্ঞানের দ্বারা পার্থিব জগতের কল্যাণ সাধন হলেও যম যাতনা থেকে নিষ্কৃতি পাওয়া যাবে না।ভবসিন্ধু অতিক্রম করাও যাবে না।শ্রীভগবানকে জানলেই জ্ঞানের পরিপূর্ণতা আসবে।শাস্ত্রের বাণীতে জানা যায় শ্রীভগবান হলেন=*
*🍀পূর্ণানন্দময় চিন্ময় পূর্ণতত্ত্ব।*
☆ ☆ ☆ ☆ ☆
*🍀অদ্বয় জ্ঞান তত্ত্ব ব্রজে ব্রজেন্দ নন্দন।*
*🙏শ্রীহরিই হলেন সকল জ্ঞানের চরমাবধি।ভগবদ্ তত্ত্বজ্ঞান লাভ করলে আর জ্ঞান অর্জনের পিপাসা থাকে না, প্রয়োজনীয়তাও থাকে না।তখন জ্ঞেয় বস্তুর প্রাপ্তিতে চিন্ময় আনন্দ সমুদ্রে চিত্ত চিরকালের জন্য ডুবে থাকে। মন! তুমি বৃথা পার্থিব জ্ঞান অনুসন্ধানের চেষ্টা ত্যাগ করে সচ্চিদানন্দময় শ্রীভগবানকে জানবার চেষ্টা কর।*
*🌻জাগতিক খাদ্য দ্রব্যে আছে বিচিত্র রকমের সুস্বাদ। আপন আপন রুচি অনুসারে আমরা প্রত্যেকেই সুস্বাদু বিভিন্ন প্রকার খাদ্যদ্রব্য খেতে ভালবাসি তাইনা?খাওয়ার লালসাই দেশ-বিদেশে ছুটেও বেড়ায়।খাদ্যদ্রব্যেযতই আস্বাদনীয়তা থাকুক না কেন স্বেদের মোহে পড়ে প্রয়োজনের অতিরিক্ত আহার্য্য, পানীয় ভোগ করলে ক্ষণকালের জন্য স্বাদ প্রাপ্তির লালসা নিবৃতি হয় বটে, কিন্তু মৃত্যুমুখী ব্যাধিতে আক্রান্ত হতে হয়।জগতের সব খাদ্য পদার্থ প্রাকৃত জড়।তাই তার বিকৃতি আছে,পচন আছে।পক্ক অপক্ক বিচার আছে।পাচিত অপাচিত বিচার আছে।এইসব বিচারের জন্য স্বাদেরও তারতম্য ঘটে।অপর পক্ষে হরিনাম শব্দ মাত্র হলেও স্বাদে ভরা খাদ্যবস্তুর মতো তারও পরম স্বাদ আছে। জাগতিক স্বাদের তৃপ্তি বা পূর্ণতা থাকলেও অপ্রাকৃত নামাস্বাদে আস্বাদন লালসা বাড়তেই থাকে।অবিশ্রান্তভাবে হরিনাম উচ্চারণ করতে থাকলে ভৌজ্যবস্তু ভোজনে যেমন ব্যাধির উদ্ভব হয়, তেমন ব্যাধিতে আক্রান্ত হতে হয় না, বরং হরিনামের মহিমায় অপরাধজাত পাপজাত ব্যাধিপীড়া আপনা হতেই নাশ হয় বুঝলে মন?হরিনামে যে অদ্ভুত আস্বাদনীয়তা আছে তা মহাজন বাণী হতে জানা যায়।*
*🍀মুখে লইতে কৃষ্ণনাম,*
*🍀নাচে তুন্ড অবিরাম,*
*🍀 আরতি বাড়য়ে অতিশয়।*
*🍀নাম সুমাধুরী পিয়ে,*
*🍀ধরিবারে নারি হিয়ে,*
*🍀অনেক তুন্ডের বাঞ্জা হয়।।*
*🍀না জানি কি অমৃত দিয়া,*
*🍀বিধি নিরমিল ইহা,*
*🍀কৃষ্ণ এই দু-আখর করি।।*
*🌻তুন্ড শব্দে জিহ্বা বা রসনা।মুখে কৃষ্ণনাম উচ্চারণ করার সঙ্গে সঙ্গে অভূতপূর্ব আস্বাদন মাধুর্য্যের মত্ততায় জিহ্বা বা তুন্ড অবিরাম নাচতে থাকে। কৃষ্ণনাম মাধুর্য্য আস্বাদনের লালসাও দ্রুত দ্রুত বাড়তে থাকে।শেষে কত কত রসনা পাবার জন্য বিধাতার কাছে প্রার্থনা জানাতে হয়।নাম আস্বাদনকারীর মনে এক বিস্ময় জন্মে,বিধাতা অমৃত হতেও কোটি গুণ আস্বাদ্য কোন বস্তু দিয়ে কৃষ্ণনাম সৃজন করেছেন।মানবদেহে সৃষ্ট রসনার সার্থকতা একমাত্র কৃষ্ণনাম আস্বাদনে।*
*🌹জাগতিক আস্বাদ্য ভোজ্যবস্তু দেহের ক্ষুধা মিটিয়ে দিতে পারে কিন্তু পারমার্থিক ক্ষুধা পিপাসা তৃপ্ত করতে পারে না।অপ্রাকৃত কৃষ্ণনাম পারমার্থিক ক্ষুধা পিপাসা তৃপ্ত করেই ক্ষান্ত হয় না,দৈহিক ক্ষুধা পিপাসাকেও চিরকালের জন্য বিস্মৃত করে দেয়। হে মন! তুমি শ্রীকৃষ্ণনাম মাধুর্য্য আস্বাদনে তৎপর হও।*
*🌺হরিনাম শুধু পরম আস্বাদ্য নয়, সমুজ্জ্বল ভূষণও বটে।হরিনাম-মণি হৃদয়ে ধারণ করলে নামভূষণের উজ্জ্বল আলোকে নামকারী আরো সুন্দর হয়।হরিনামাক্ষর দেহে লেখা থাকলে তাকে আর যমালয়ে যেতে হয় না।অথচ বহুমূল্য মণিমাণিক্যখচিত রত্ন হার, স্বর্ণ রৌপ্যের বহুপ্রকার অলঙ্কার দেহে জড়িয়ে থাকলে যম কিন্তু তাকে রেহাই দিবে না। ওরে লোভী মন! এখনও সময় আছে,এই চিন্তা করে তুমি হরিনাম ভূষণে ভূষিত হও। ধূলিকণা লেগে দেহ মলিন হবে, মন! তাই তুমি বহুমূল্য পাদুকা পায়ে দিয়ে বিলাসবহুল গাড়ীতে চলাফেরা কর।যেদিন এদেহ প্রাণ শূন্য হবে, সেদিন মাটির দেহ মাটিতেই মিশে যাবে। দেহের যদি এই শেষ পরিণতি হয়,তাহলে ধূলোকে এত ভয় কেন? হরিনাম সাধনার পূর্ণফল পেতে হলে ধূলোমাটির সঙ্গে নিবিড় সম্বন্ধ রাখতে হবে। সাধুগণ সেই কামনাই নিরন্তর করেন।*
*🍀ত্যেজিয়া শয়ন সুখ বিচিত্র পালঙ্ক।*
*🍀কবে ব্রজের ধূলায় ধূসর হবে অঙ্গ।।*
*🌻মন! তুমি কোথাও বেড়াতে কিম্বা কাজের প্রয়োজনে যেতে হলে সঙ্গী ছাড়া যেতে চাও না। কিন্তু একদিন এমন আসবে,সেদিন নিজের ইচ্ছা না থাকলেও মৃত্যুর দ্বার দিয়ে অজানা অন্ধকার পথে বাধ্যতা-মূলক-ভাবে তোমাকে যেতেই হবে, সেদিন তো কোন সঙ্গী তুমি পাবে না। সুতরাং মন! তুমি ভুল পথে না গিয়ে এখন হতেই শ্রীহরির শরণাগত হও।( জয় নিতাই গৌর হরিবল🙏)*
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
꧁৬০.মনোশিক্ষা🙏তৃতীয় ভাগ🙏শ্রী প্রেমানন্দ দাস꧂
꧁ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ ꧂
এই লিংকে ⬇️⬇️⬇️🙏⬇️⬇️⬇️ ক্লিক করুন
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
*(৬০)💧💧মনো শিক্ষা 💧💧*
°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°
*ওরে মন! কত বা ভাঁড়াবে নিতি।*
*'এ মোর' ও মোর করি,দিন যে দেয় পাড়ি,*
*ঘুমেতে পরিয়া কাট রাতি।।*
*আজ কাল করি আর,পক্ষ যে করিছ পার,*
*এ পক্ষ ও পক্ষ করি মাস।।*
*এ মাস ও মাস করি,অয়ন ফেলিলে ঠেলি,*
*এ বর্ষ ও বর্ষ করি,করিছ জনম ভরি,*
*কবে তোর ঘুচিবে জঞ্জাল।*
*কবে অবসর হবে,কবে হরিনাম লবে,*
*যবে আসি দাঁড়াবে কাল।।*
*কফেতে করিবে বল,বাতিক হৈবে কাল,*
*পিত্ত কোথা রহিবে লুকাই।*
*কন্ঠ হবে অবরোধ,কোথায় থাকবে বোধ,*
*'হরিনাম' লবে কে-রে ভাই।।*
*এখন অভ্যাস কর,"হরি হরি" সদা স্ফুর,*
*জিহ্বাকে করিয়া লহ বশ।*
*আপনি নাচিবে তুন্ড,ঘুচিবে যম দন্ড,*
*না হইবে শরীর অবশ।।*
*প্রেমানন্দ কহে এই,মরিলে না মরে সেই,*
*"কৃষ্ণ কৃষ্ণ" সদা যার মুখে।*
*কোথা তার কর্ম-বন্ধ, প্রেমে মত্ত সদানন্দ,*
*গতায়াত মাত্র নিজ-সুখে।।*
*🌷পক্ষ=পনেরদিন।অয়ন=ছয়মাস। তুন্ড=জিহ্বা বা রসনা। গতায়াত= জন্ম-মৃত্যু।কফেতে=সর্দিতে। বাতিক = বায়ু।*
*🌻ওরে মন! তুমি হরিভজনের প্রতিশ্রুতি দিয়ে হরি ভজন না করে সর্বদা আমাকে ফাঁকি দিচ্ছ। এইভাবে তোমার ফাঁকিবাজী কতদিন চলবে।এখন-তখন করে অর্থ উপার্জনে,আহার নিদ্রায়,দৈহিক সম্ভোগাদিতে দিন অতিবাহিত করছ।নিশ্চিন্ত মনে হরিভজন করার অবসর খুঁজতে গিয়ে পক্ষ,মাস,বছরের পর বছর অতিবাহিত করে চলেছ। কিন্তু জেনে রাখ মন! অনিত্য সংসারে দায়িত্ব কর্তব্য তোমাকে সেই অবসর কখনোই দেবে না।যদিও বা অবসর মিলে তখন দৈহিক সামর্থ্য থাকবে না। কফের প্রাবল্যে শ্বাস,প্রশ্বাস হবে অসচ্ছল, বাতে আক্রান্ত হবে দেহের সন্ধিস্থল, কন্ঠ অবরোধ হবে,জিহ্বা আড়ষ্ট হবে, তখন হরি ভজনের প্রবল ইচ্ছা থাকলেও, হাতে প্রচুর সময় থাকলেও হরি ভজন সম্ভব হবে না। তাই দৈনিক সামর্থ্য থাকতে থাকতে হরিভজনে অভ্যস্ত হও।জিহ্বাকে হরিনাম উচ্চারণে অভ্যস্ত করে রাখ।তাহলে তোমার দেহের মৃত্যু হলেও আত্মিক মৃত্যু হবে না।সকল প্রকার কর্ম-বন্ধন নাশ হবে।কৃষ্ণের ইচ্ছাতে এ সংসারে সানন্দে যাতায়াত করবে।*
🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏
*এ মাস ও মাস করি,করিছ জনম ভরি,*
*অয়নে অয়নে বার মাস।।*
°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°
এই কথা কয়টি যোগ করবে।
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
꧁৬১.মনোশিক্ষা🙏তৃতীয় ভাগ🙏শ্রী প্রেমানন্দ দাস꧂
꧁ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ ꧂
এই লিংকে ⬇️⬇️⬇️🙏⬇️⬇️⬇️ ক্লিক করুন
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
*(৬১)🌓🌓মনো শিক্ষা 🌓🌓*
^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^
*ওরে মন!স্বর্গ বা নরক বুঝ কোথা।*
*যে যেমন কর্ম করে,তেমনি ভুঞ্জায় তারে,*
*ভাবিয়া দেখিলে সব হেথা।।*
*কেহ ঘোড়ায় দোলায় ফেরে,কেহ স্কন্ধে বহে কারে,*
*ছত্র ধরি কেহ চলে পথে।*
*কেহ কর্ম-অনুসারে,জন্ম ভরি কারাগারে,*
*কারো বিষ্ঠা কেহ বহে মাথে।।*
*শত সহস্রাযুত লক্ষ,কেহ পালে দিয়া ভক্ষ্য,*
*উদর ভরিতে কেহ নারে।*
*এখানে দেখিছ যেবা,পরে যা তা জানে কেবা,*
*বিধাতার মনে সে বিচারে।।*
*দেবতা গন্ধর্ব যক্ষ,প্রেত পিশাচ দৈত্য রক্ষ,*
*স্বভাবে সকল পরচার।*
*যাহার যেমন মত,সেই কর্মে অনুরত,*
*সেইমত ভক্ষ্য সবাকার।।*
*কৃষ্ণ পারিষদ ভক্ত,কৃষ্ণ-কর্মে সদা রত,*
*কভু লিপ্ত নহে এ সংসারে।*
*সে রহে মায়ার পার,তাতে কার অধিকার,*
*নিত্য-সঙ্গ নিত্যপরিবারে।।*
*কৃষ্ণ-লীলা-গুণ-নাম,রাত্রিদিনে অবিরাম,*
*শ্রবণ কীর্তন সদানন্দ।*
*প্রেমানন্দ কহে মতি,হ'য়ে তাঁর অনুগতি,*
*"কৃষ্ণ" কহি ছিঁড় কর্ম-বন্ধ।।*
*🌻ওরে মন!সৎ-অসৎ সুকর্ম-দুষ্কর্ম প্রভৃতির জন্য মৃত্যুর পরে যে কর্মফল ভোগ করতে না হয়,এই দেহে এই জীবনে কর্মফলের পরিণাম ভোগ করতে হয়।সমাজের দিকে তাকালেই তা অনুভব করা যায়।কেউ শীততাপ নিয়ন্ত্রিত গাড়িতে চড়ে বেড়ায়,কেউ চিরকাল জেলখানায় সারাজীবন পচে মরে।কেউ নিজের পেটের খাবার জোগাড় করতে পারে না।আবার কেউ একজনেই বহু বহু মানুষের আহার অনায়াসে সংস্থান করে দেয়।কেউ সুগন্ধি ফুলের ডালি মাথায় বয়ে বাজারে নিয়ে যায়। কেউ জন্মাবধি পরের বিষ্ঠা মূত্র মাথায় বহন করে। শুধু তাই নয়,আহার বিহার, স্বভাব আচরণ দেখলে বুঝা যায়। দেবতা, গন্ধর্ব,প্রেত,পিশাচ,দৈত্য প্রভৃতিও এই জগতে জন্মগ্রহণ করে কর্মফল ভোগ করছে। একমাত্র শ্রীকৃষ্ণ ভক্তগণ এ জগতে ও পরজগতে শ্রীকৃষ্ণ সেবানন্দে বিভোর হয়ে থাকেন।তাঁদের কর্মফল ভোগ করতে হয় না। তাঁরা সংসারে থাকলেও মায়ার বন্ধনে আবদ্ধ হয় না।মন!তুমি সেই কৃষ্ণভক্তগণের আনুগত্যে শ্রীকৃষ্ণনাম অনুশীলন কর।*
🙌🙌🙌🙌🙌🙌🙌🙌🙌🙌🙌🙌🙌
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
꧁৬২.মনোশিক্ষা🙏তৃতীয় ভাগ🙏শ্রী প্রেমানন্দ দাস꧂
꧁ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ ꧂
এই লিংকে ⬇️⬇️⬇️🙏⬇️⬇️⬇️ ক্লিক করুন
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
*(৬২)💐💐মনোশিক্ষা💐💐*
~~~~~~~~~~~~~~~
*এ মন!বল রে "গোবিন্দ"-নাম।*
*আজ কাল করি,কি আর ভাবছ,*
*কবে তোর ঘুচবে কাম।।*
*কাল সে করিবা, তুমি যে বলছ,*
*আজ তা কর না ভাই।*
*আজ যা করবে, তা কর এখনি,*
*কি জানি কখন যাই।।*
*এহেন কলিতে , মানুষ--জনম,*
*এমন আর বা কাতে।*
*"হরিনাম" দিয়া , জগত তরিলা,*
*শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য যাতে।।*
*সে তিন যুগের, আচার বিচার,*
*এখন সে সব রাখ।*
*বদন ভরিয়া, গৌরহরি--বলো,*
*যুগের ধরম দেখ।।*
*রসনা বদন, বশের ভিতরে,*
*কেবল বলিলে হয়।*
*আলিস করিয়া , নরকে যাইবে,*
*কার বা এ অপচয়।।*
*শমন--কিঙ্কর , অঙ্গুলি গণিছে,*
*জান না কখন পাড়ে।*
*কহে প্রেমানন্দ, তখন কি হবে,*
*আসিয়া চড়িলে ঘাড়ে।।*
*🌹মন! আজ করবে, কাল করবে বলে বৃথা সময় অপচয় না করে প্রাণভরে গোবিন্দ নাম কর।সুদুর্লভ মানব জনম,তাতে আবার ক্ষণস্থায়ী, সেই ক্ষণস্থায়ী জীবন আবার বিভিন্ন অনর্থে পরিপূর্ণ। সুতরাং জাগতিক দায়িত্ব কর্তব্য শেষ করে শ্রীহরিভজন করবে হয়ত এমন সুযোগ কখনোই পাবে না।এ যুগ শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য মহাপ্রভুর যুগ। অতি অল্পমাত্র ভজন সাধনের দ্বারা এ যুগে ব্রহ্মাদিরও অলভ্য প্রেমভক্তি মানবমাত্রেই লাভ করতে পারবে।জীব অভ্যেসের দাস, একবার চেষ্টা করেই দেখ না মন! সত্য,ত্রেতা,দ্বাপর তিনযুগের কষ্টসাধ্য ধ্যান যোগাদির কোন প্রয়োজন নেই। মন!তোমার জিহ্বা তোমার বশে রয়েছে।অলসতা করে নরকের দরজা প্রশস্ত না করে বদনে শ্রীহরিনাম কর।*
*🙏🙏🙏🙏হরিবোল🙏🙏🙏🙏🙏*
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
*(৬৩)🔥🔥মনো-শিক্ষা🔥🔥*
^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^
*মনকে সুপথে চালিত*
^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^
*এ মন!এহো না ঘুচিল ভুল।*
*কে তুমি কি কর,আপনা না জানি,*
*রহিলা ভবের কূল।।*
*মায়াতে ভুলিয়া, কুপথে ধাইছ,*
*সুপথে চলিতে নার।*
*চক্ষে আন্ধি যেন, কলুর বলদ,*
*তেমনি ঘুরিয়া মর।।*
*ভারত-ভূমেতে , মানুষ-জনম,*
*কত না সাধনে পেলি।*
*শমন আসিয়া , এবার বান্ধিলে,*
*এ তোর শতেক গালি।।*
*সব যুগ হৈতে, দেখ না কলির,*
*মাহাত্ম্য গুণের পার।*
*হেলায় শ্রদ্ধায় , "হরি" বল যদি,*
*যমের কি অধিকার।।*
*পূরবে শমন, কহিয়া দিয়াছে,*
*আপন দূতের ঠাঁই।*
*"হরি" যে বলয়ে, প্রণাম করিয়ে,*
*সেদিক ছাড়বে ভাই।।*
*ওরে দুরাচার, এহেন নামেতে,*
*কেন-না করলি রতি।*
*কহে প্রেমানন্দ, হায় কি করম,*
*কি হবে তব গতি।।*
*🌹আন্ধি=ঠুলি,কলুর বলদের চোখে যা বাধা হয়।*
*এ•••••••গালি=তা হ'লে তোকে শত ধিক্।*
*গুণের পার=অসীম গুণধর।*
*🌻মানুষকে তার ভুল বুঝিয়ে দিলে সে বুঝে এবং সেই ভুল কাজ আর করে না। কিন্তু এত চেষ্টার পরেও মন! তোমার ভুল তুমি বুঝতে পারলে না। কলুর বলদ যেমন চোখে ঠুলি বেঁধে কেবল ঘুরতে ঘুরতে মরে, তেমনি ওরে অবুঝ মন! মায়ার ঠুলি চোখে লাগিয়ে, ভাল-মন্দ বোধশূন্য হয়ে মন! তুমি ঘুরে ঘুরে জীবন পাত করছ।যে যুগে তাচ্ছিল্য ভরে "হরি" শব্দ উচ্চারণ করলেই মুক্তি পাওয়া যায়, সে যুগে জন্মগ্রহণ করে তাঁর মহিমা বুঝলে না।যমরাজ তাঁর দূতগণকে আগে হতে সাবধান করে রেখেছেন, যাঁর মুখে একবার "হরিনাম" উচ্চারণ হয়েছে তাঁকে আমার ভবনে আনবে না।তাঁকে প্রণাম করে সে দিক পরিত্যাগ করবে।হরিনামের এমন মহিমা জেনেও দুরাচার মন! তোমার ত্রিতাপ হরা হরিনামের প্রতি রতি হল না।*
*জয় জয় নিতাই গৌর হরিবল🙏*
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
*(৬৪)🔥🔥মনো-শিক্ষা🔥🔥*
°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°
*ওরে মন!এবে তোর এ কেমন রীত।*
*যে কর্মে আইলি হেথা,সে সব রহিল কোথা,*
*এবে যে দেখিয়ে বিপরীত।।*
*কৃষ্ণকর্ম লাগি কর,তাহে কেন বর্বর,*
*সে করে পরের ধন হর।*
*🌹কর=হাত🌹* *করে=হাতে।*
*সে অবশ নহে কেনে,কি সুসার বহু দানে,*
*তাহে আর কর বা না কর।।*
*মুখে কবে 'হৃষিকেশ', তাহে যদি সাধু দ্বেষ,*
*তবে বক্র মুখ কেনে নও।*
*অগ্নি দিয়া হেন মুখ,পো'ড়ালে না ঘুচে দুখ,*
*তাহে "কৃষ্ণ" কও বা না কও।।*
*ভ্রমিতে কৃষ্ণের তীর্থ,পদের না এহি কৃত্য,*
*তাহে যদি পর-দ্বারে চল।*
*কি কাজ পদের এই, পঙ্গু কেনে নহে সেই,*
*তবে তীর্থে গেল বা না গেল।।*
*কৃষ্ণ-লীলা-গুণ-কথা, কর্ণেতে শুনিবে যথা,*
*তাহে যদি কু-কথায় ভোর।*
*যদি আর সাধু-নিন্দা, শুনিয়া বাড়য়ে শ্রদ্ধা,*
*সে কান বধির হোক তোর।।*
*গুরু-কৃষ্ণ-বৈষ্ণব-মূর্তি, দেখিয়া করিয়া আর্তি,*
*সে যদি দেখয়ে পরদারে।*
*অসন্তোষ সাধু দেখি,কেন বিধি হেন আঁখি,*
*আশু অন্ধ না করে তাহারে।।*
*তুমি কৃষ্ণ-স্মৃতি কাজ,পড়ুক তোর মুন্ডে বাজ,*
*কেনে আর নহে সর্বনাশ।*
*প্রেমানন্দ কহে মন, 'কৃষ্ণ' কহ অনুক্ষণ,*
*কেনে ভুল আপনার প্রভু।*
*মুখে "হরি হরি"বল, সদাই আনন্দে দোল,*
*তিন-লোকে দুঃখ নহে কভু।।*
*🌹হর=চুরি কর। পঙ্গু=খোঁড়া। বধির=কালা।পর-দার=পরস্ত্রী। আশু=শীঘ্র।*
*🌻মন! তোমার এ কি বিপরীত আচরণ?যে কর্ম করতে এই সংসারে এলে তা যথার্থ ভাবে করছ না।গোপনে ছলে বলে পরের ধন (সম্পদ) হরণ করে বাইরে অকাতরে দান করছ, আর ভাবছ, তোমার কোন পাপ হচ্ছে না। এ ধারণা কিন্তু যথার্থ নয়। পরধন হরণ করে যতই দান কর,সবই বৃথা। মন! মুখে যতই হরিনাম কর,যদি সাধু নিন্দা ত্যাগ না করতে পারো, তাহলে সে হরিনামে কখনোই উদ্ধার হতে পারবে না। সাধু নিন্দাকারী মুখ আগুনে পোড়ালেও দুঃখ যায় না।প্রায়শ্চিত্তও হয় না। মন! তোমার দুটি পা চালিয়ে যতই কৃষ্ণতীর্থ ভ্রমণ কর,যদি পরনারী সঙ্গ করার কু-অভ্যাস ছাড়তে না পারো,তাহলে তীর্থভ্রমণ সবই বৃথা।ঐ পা তীর্থে গিয়েও পঙ্গুপদের মত নিস্ফল।তীর্থযাত্রাও মূল্যহীন, পরিশ্রম মাত্র সার। যে দুটি কর্ণ আমরা পেয়েছি, প্রেমভক্তিদায়ক শ্রীকৃষ্ণ কথা শ্রবণের জন্য,সেই কান যদি সাধু নিন্দা শুনতে আগ্রহী হয় বা তৎপর হয়, তাহলে সে কান বধির হওয়াই ভাল। মহাজন কথায় আছে =*
*কৃষ্ণের মধুর বাণী,অমৃতের তরঙ্গিণী,*
*তার প্রবেশ নাই যে শ্রবণে।*
*কানাকড়ি ছিদ্র সম,জানিও সেই শ্রবণ,*
*তার জন্ম হইল অকারণ।।*
*🌷মন! তোমার যে নয়ন নরকের দ্বার স্বরূপ দুশ্চরিত্রা পরনারীর অনিত্য রূপ দেখে আনন্দ পায়, অথচ সর্বমঙ্গল প্রদানকারী শ্রীগুরুদেব, ভগবান শ্রীকৃষ্ণ এবং পতিতপাবন বৈষ্ণববিগ্রহ দর্শনে বিরক্তি প্রকাশ করে,সে নয়ন অন্ধ হওয়াই উচিত। শাস্ত্রবাণী=*
*বংশীগানামৃত ধাম, লাবণ্যামৃতের জন্মস্থান,*
*যে না দেখে সে চাঁদ বদন।*
*সে নয়নে কিবা কাজ, পড়ু তার মুন্ডে বাজ,*
*সে নয়ন রহে কি কারণ।।*
*🍀সার্বিকভাবে দেহের ইন্দ্রিয়গণ যদি শ্রীকৃষ্ণমুখী না হয়,হাজার গুণী হয়েও তাঁর বেঁচে থাকা অকারণ ; বরং অনুশোচনার গ্লানি নিয়ে বজ্রপাতে মৃত্যুই শ্রেয়।তাই বলি মন! আপন প্রভু শ্রীকৃষ্ণকে ভুলিও না।হরিনামের দ্বারা তাঁকে সর্বক্ষণ স্মরণে রেখো।তিন লোকে তোমার কোন দুঃখ থাকবে না।*
🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
*(৬৫)🌹🌹মনো শিক্ষা 🌹🌹*
×××××××××××××××××××××××
*ওরে মন!কৃষ্ণ-কৃপা দেখ না নয়নে।*
*তুমি কৃষ্ণ-চিন্তা ছাড়ি,মর হে নরকে পড়ি,*
*তেঁহ চিন্তে তোমার কারণে।।*
*গুরু রূপে ঘরে ঘরে,মন্ত্র দিয়ে সবাকারে,*
*বৈষ্ণব-রূপেতে দেয় শিক্ষা।*
*শাস্ত্র-রূপে দেয় জ্ঞান,আত্ম-রূপে অধিষ্ঠান,*
*দেখ তাঁর কারে বা উপেক্ষা।।*
*যুগে যুগে অবতরি,ধর্মের স্থাপন করি,*
*দুষ্কৃতির করেন সংহার।*
*যিনি এ মমতা করে,কি সুখে ভুলেছ তাঁরে,*
*ধিক্ ধিক্ জনম তোমার।।*
*শুন রে পামর মন,বৃথা চিন্ত ধন জন,*
*ইহা কি চিন্তিলে পাই কভু।*
*তুমি চিন্ত নিজুদরে,তাঁর চিন্তা জগ-তরে,*
*যাঁর সৃষ্টি রাখিবে সে প্রভু।।*
*আপনার অংশে ধরা,পৃষ্ঠে ধরি সহে ভারা,*
*মূল-দ্বারে সিঞ্চে সিন্ধু-জলে।*
*কালোচিত ফল ফুল,কারো দন্ড কারো মূল,*
*শস্যাদি জন্মা'য়া সৃষ্টি পালে।।*
*সাধে লৈয়া মায়া-বন্ধ,কেনে ঘুচাও সে সম্বন্ধ,*
*যে হরি করুণা এতরূপে।*
*প্রেমানন্দ কহে সুখে,'কৃষ্ণ কৃষ্ণ'কহ মুখে,*
*উদ্ধার পাইবে ভব-কূপে।।*
*💧মন ! তুমি জগত চিন্তামণি শ্রীকৃষ্ণের চিন্তা না করে অনিত্য বস্তুর চিন্তায় মগ্ন রয়েছ।এই চিন্তার পরিণাম যে দুঃসহ নরকভোগ তা তো তুমি জানো না।আত্মসুখের জন্য শ্রীকৃষ্ণের ভাবনা ত্যাগ করে থাকলেও দেখ মন! চির আপনজন শ্রীগোবিন্দ কিন্তু সর্বতোভাবে জীবের চিন্তা অতীতে করেছেন, বতর্মানেও করছেন এবং ভবিষ্যতেও করবেন।আমরা তাঁকে পাবার জন্য কিছুই আকুলি ব্যাকুলি হই না, কিন্তু তিনি আমাদের জন্য দুটো হাত বাড়িয়ে বারংবার বলছেন ওরে তোরা আর বিপথে গমন করিস না, আমার ডাক শোন।যদি বল তার প্রমাণ কি?তার প্রমাণ কিন্তু বহু আছে। মোটামুটি জেনে রেখো। জীবের মায়াবন্ধন খন্ডনের জন্য তিনি দীক্ষা গুরুরূপে দীক্ষমন্ত্র প্রদান করেন।মহান্ত বৈষ্ণবরূপে ভজন শিক্ষা দেন।শাস্ত্ররূপে তিনিই আবার তত্ত্বজ্ঞান প্রদান করেন।আত্মারূপে জীবদেহে সেই শ্রীকৃষ্ণই অবস্থান করেন।কত প্রকারে কত ভাবে তিনি জীবের জন্য চিন্তা করে চলেছেন। নিজের সেবা-অধিকার দিয়ে অনন্তকালের জন্য দাস করে নেবার প্রচেষ্টা করে চলেছেন।এতেও তাঁর শান্তি নাই,আপন ভক্তগণের সাধন ভজনের নিশ্চিন্ত করে দিতে প্রতিকূলাচারী অধার্মিকগণকে নাশের জন্য যুগে যুগে অবতীর্ণ হন।আহা!জীবের লাগি তাঁর কত মমতা।হে পামর মন!এ হেন দয়াল প্রভুর চিন্তা না করে, কেবল পেটের চিন্তা করে মরছো। তোমার চিন্তা তোমার পেটের চিন্তার জন্য আর শ্রীগোবিন্দের চিন্তা, সারা বিশ্বব্রহ্মান্ডের জন্য।নিজের অঙ্গ-পৃষ্ঠে পৃথিবী ধারণ করে আছেন।এই সুন্দর পৃথিবীতে সুন্দর ফুল, সুন্দর ফল,কত প্রকার শস্যরাশি, জীবের জন্য তিনিই সৃষ্টি করেছেন। মন ! একবারও কি এইসব করুণার দিকে তোমার দৃষ্টি পড়ে না? মায়ার সঙ্গে সম্বন্ধ করে কেন শ্রীকৃষ্ণ সম্বন্ধ ভুলে থাকছো?আমার কথা শুন,মন ! তুমি সবসময় কৃষ্ণ কৃষ্ণ বলো।*
*🙌জয় জয় নিতাই গৌর হরিবোল🙌*
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
*(৬৬)🌹🌹মনো শিক্ষা 🌹🌹*
*কৃষ্ণ বহির্মুখ জীবকে কৃষ্ণকথা বলানো।*
^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^
*এ মন !এ মোর আইসে হাস।*
*কোঁচের কড়িতে, যাহারে কিনিলি,*
*সে তোরে করিল দাস।।*
*🍀কোঁচের কড়ি=গাঁটের টাকায়।*
*গলে দড়ি দিয়া, সদাই নাচাইছে,*
*সুখ না বাসিছ তাতে।*
*যেন বানরিয়া, বানর নাচায়,*
*তালি বাজিয়ে হাতে।*
*আপনার সুখে, আদর বাড়ায়ে,*
*উত্তম কাজেতে বাধা।*
*দিবস রজনী , যেন খাটাইছে,*
*ধোপার ঘরের গাধা।।*
*কি সুখে মজিয়া, নিজেকে বেচিলি,*
*পাছু না দেখিলি চাই।*
*স্বরগে উঠিয়া , নরকে ইচ্ছিস্,*
*বুঝিয়া দেখ না ভাই।।*
*সবার উপরে , মানুষ-জনম,*
*এ যদি বিফলে যায়।।।*
*কু-যোনি যতেক, ভ্রমিয়া বেড়াবে,*
*আর কিসে কূল পায়।।*
*ঘরে ঘরে ওরে, নগরে নগরে,*
*রবির সুতের থানা।*
*🍀রবির সুতের থানা=যমের আড্ডা*
*কহে প্রেমানন্দ , 'হরি হরি ' বল,*
*কখন দেয় বা হানা।।*
*🌹হায় অবোধ মন! তোমার অদ্ভুত আচরণ দেখে অতি দুঃখের মধ্যেও হাসি পায়।দৈহিক ভোগবিলাসের দ্বারা জীবনকে সার্থক করার মিথ্যা চেষ্টায় নিজের অর্থ ব্যয়ে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয়ে মায়ার দাস হলে।গ্রাম্য বাজীকর যেমন বনের বানরকে বশ করে তাকে দিয়ে কত রকম খেলা দেখায় ; স্বাধীন বানর তার স্বাধীন সত্ত্বা হারিয়ে বাজীকরের খেলার উপাদান হয়ে থাকে, মন ! তুমি তেমনি মায়া বাজীকরের হাতের খেলনা-পুতুল হয়ে থাকলে।দিনরাতবাজী দেখিয়ে মরলে,আর অর্থ উপার্জন করল অন্যজন। তুমি কোনভাবেই উপকৃত হতে পারছ না।গাধা যেমন বহু মূল্যবান বস্তু, অনেক সু-স্বাদু দ্রব্য পিঠে বয়ে নিয়ে যায় অথচ তা কখনোই ভোগ করতে পারে না। অনন্ত প্রকার জীবদেহের মধ্যে সর্বোৎকৃষ্ট জীব হল মানবদেহ। শ্রীভগবানও এই দেহকে অঙ্গীকার করে তাঁর সর্বোত্তম লীলা করে থাকেন।দেবগণও এই দেহ এবং জন্মকে পাবার জন্য সর্বদা আকাঙ্ক্ষা করেন।তুমি সর্বশ্রেষ্ঠ এ মানব জনম লাভ করে মায়ার কবলে পড়ে জন্ম বিফল করিও না।মায়ার প্রভাবে পড়লে বারবার যমালয়ে গমনাগমন করতে হয়।বিভিন্ন প্রকার নিঃকৃষ্ট যোনি ভ্রমণ করতে হয়। মন ! তুমি সর্বক্ষণ হরি হরি বল,তাহলে মায়ার প্রভাব হতে মুক্ত থাকতে পারবে।*
*🙌জয় নিতাই গৌর হরিবল🙌*
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
*(৬৭)🌹🌹মনো শিক্ষা 🌹🌹*
====================
*ওরে মন!কি গুমান তনু-চায় চড়ি*
*কোন সুখে ভুলিয়াছ,বিচারিয়া দেখ পাছ,*
*ভবসিন্ধু দিতে হবে পাড়ি।।*
*দেখ না মায়ার পাক,নৌকা যেন ফিরে চাক,*
*ইহা কি বুঝিতে নার' ভাই।*
*দুর্বাসনা-কুবাতাসে, এ ঢেউ আকাশ স্পর্শে,*
*ধন জন যার ক্ষমা নাই।।*
*কামাদি এই মাতোয়াল,তারে,কৈলি কেরোয়াল,*
*পাকাইয়া ফিরাইছে তরি।*
*যে বেটা কুবুদ্ধি পাজী,তারে করিয়াছ মাঝি,*
*না জানি কখন ডুবে মরি।।*
*ভবি তরিবারে চাও,সুবুদ্ধি-কান্ডারী লও,*
*দশেন্দ্রিয় কেরোয়াল করি।*
*হরি-গুণ গাইয়া সারী,বাইচ দিয়ে দে রে পাড়ি,*
*মধ্যে মধ্যে বলি 'হরি হরি'।।*
*জীর্ণ না হৈতে নাও,আগুতেই পাড়ি দাও,*
*পার না হৈয়া কর ঠাকুরাল।*
*আগে না হইলে পার,পিছে কি করবি আর,*
*নৌকা বা থাকবে কত কাল।।*
*বহুদূর পারাবার, বিলম্ব না কর আর,*
*দাঁড়ী মাঝি হইবে দুর্বল।*
*প্রেমানন্দ কহে মন,তবে কিবা প্রয়োজন,*
*যদি নৌকা ঘাটে হয় তল।।*
*🌻মানব শরীর একটি নৌকা বিশেষ। দেহস্থিত মন ও আত্মা এই নৌকার আরোহী।দেহ তরণী যতই সুদৃঢ় হোক তা কিন্তু ক্ষণ-ভঙ্গুর জরা ব্যাধির সম্ভাবনাময়। দেহ নৌকা পাওয়ার মূল উদ্দেশ্য ভব সমুদ্র অতিক্রম করা।প্রমোদ-ভ্রমণ নয়। মন! তুমি এখন কোটি জন্মের দুর্লভ এই দেহতরী পেয়ে ভবসিন্ধু অতিক্রম করার চিন্তা না করে মিথ্যা অহংকার করছো কেন?একে তো ক্ষণভঙ্গুর (অতি অল্প সময়ের মধ্যে ভেঙ্গে যাওয়া) দেহতরী তাতে নানা প্রকার বিপদ সমাকুল(অতিকাতর) ভবসিন্ধু। সুতরাং তোমার অহংকারের কোন মূল্য নেই। ত্রিগুণ বিশিষ্টা বিক্ষেপাবরণাত্মিকা বৃত্তি সম্পন্না মায়া হচ্ছে ভবসমুদ্রের ঘূর্ণাবর্ত। গভীর জলের এই ঘুরপাকে নৌকা দৈবক্রমে এসে পড়লে আর কোন দিকেই এগোয় না।কুমোরের চাকের মত ঘুরতে থাকে।ভবসমুদ্র নানাপ্রকার দুর্বসনার প্রবল বায়ুবেগে উত্তাল তরঙ্গ সমাকুল বা অতিকাতর।এ মত অবস্থায় মন! তুমি কু-বুদ্ধিরূপ মাঝির হাতে নৌকার দায়িত্ব দিয়ে অকালে নৌকাকে ডুবিয়ে দেবার নিশ্চিত ব্যবস্থা করেছ। ওরে মন! ভবসমুদ্র অতিক্রম করারই যদি বাসনা থাকে, তাহলে সুবুদ্ধিরূপ শুভাকাঙ্ক্ষী সুদক্ষ কান্ডারীকে নৌকার দায়িত্ব দাও।তাহলেসে হরিনামের সারিগান গাইতে গাইতে শ্রীগুরুদেবের শ্রীচরণতলে বসে দশ ইন্দ্রিয় কেরোয়াল বেয়ে অনায়াসে ভবসমুদ্র পার করে দিবে।জগতের সব বস্তুরই ক্ষয় আছে।মানবদেহ ক্ষয় বা জরাগ্রস্ত হবার আগেই সংসার পারাবার(সমুদ্র) পার হয়ে জীবের নিত্য গন্তব্যস্থল শ্রীমধুবৃন্দাবনে পৌঁছতে হবে। ওরে অবুঝ মন! তুমি আর দেরী করিও না।সংসার সমুদ্রের দুরত্ব সুদীর্ঘ।এই সুদীর্ঘ পথ দীর্ঘকাল ধরে নৌকা বেয়ে নিয়ে যেতে মাঝি এবং দাঁড়ী দুর্বল হয়ে পড়বে। সুতরাং মন!তার আগেই তোমাকে পারে যেতে হবে।*
*🌹তনু-নায়=দেহরূপ নৌকা, দিতে হবে পাড়ি=পার হতে হবে,পাক=ঘূর্ণী, ক্ষমা=রক্ষা,কেরোয়াল=হাল বা হাইল, পাকাইয়া=ঘুর দিয়ে,কান্ডারী=মাঝি, পারাবার=সমুদ্র, ঘাটে হয় তল=ঘাটেই ডুবে যায়।*
*🙌জয় জয় নিতাই গৌর হরিবোল🙌*
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
*(৬৮)🌹🌹মনো--শিক্ষা🌹🌹*
^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^
*🌹দেহরূপ--নগরে🌹*
******************
*ওরে মন! তনু পত্তনে আছ রঙ্গে।*
*শমন দমন-কর্তা,না জান তাহার বার্তা,*
*তিলেকে ভাঙ্গিবে এনা ঢঙ্গে।।*
*কুবুদ্ধি মাতোয়াল সনে,কুযুক্তি যে রাত্রিদিনে,*
*কুসঙ্গে হইয়া মাতোয়াল।*
*কামাদি এ বাটপাড়,তার সঙ্গে করি গড়,*
*ডাকা-চুরি কর সর্বকাল।।*
*অধিকারী ধর্মরাজ, না সহে অধর্ম কাজ,*
*সাবধান না হ'লি তাহাতে।*
*যতেক ইন্দ্রিয়গণ, লৈয়া এই পরিজন,*
*সৎ-সঙ্গে ঘুচাও অনাচারে।*
*কৃষ্ণভক্তি-ধন দিয়া,পরিতোষ মায়া জায়া,*
*সুবুদ্ধি তনয় আনি ঘরে।।*
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
*(৬৯)🌹🌹মনো শিক্ষা 🌹🌹*
*মনকে চেতনা জাগানোর জন্য*
*********************************
*এ মন !তুমি সে কেবল ভূত।*
*কুসঙ্গ-শ্মশানে, সতত বসিছ,*
*পাইয়া পরম যুত।।*
*মল মূত্র যত , অসৎ পচাল,*
*এ তোর ভক্ষণ সুখে।*
*' রাম কৃষ্ণ হরি, "গোপাল গোবিন্দ",*
*বলিতে নারিছ মুখে।।*
*যে কর তোমার, গোবিন্দ - পূজনে,*
*তীরথ ভ্রমিতে পায়।*
*সে দুই রাখিলে, চুরিয়ে দারিয়ে,*
*তবে কি উল্টা নয়।।*
*যত না করিছ, সাধুর হেলন,*
*সে তোর অনল মুখে।*
*দেখ না তাহাতে , আপনি দহিছ,*
*এমতি গোঙাবি দুখে।।*
*কৃষ্ণের বসতি , সাধুর হৃদয়ে,*
*সুখের বিশ্রাম ভূমি।*
*এমন দুর্দৈব , তাঁহার পরশ,*
*করিতে নারিছ তুমি।।*
*শ্রীহরি--চরণ, করহ-----শরণ,*
*গয়া গঙ্গা সব তাতে।*
*কহে প্রেমানন্দ, তবে সে উদ্ধার,*
*নহিলে বা হবে কাতে।।*
*🍀যুত=যো---মজা।দারিয়ে=পরস্ত্রী গমনে। পরশ=স্পর্শ।নারিছ=পারছ না। কাতে =কিসে। তীরথ=তীর্থ।*
*🌹মন ! তুমি মানবাত্মা হয়ে ভূত প্রেতের স্বভাব বিশিষ্ট হলে। ভূত যেমন শ্মশানে থাকে, তেমনি তুমি কু-সঙ্গ শ্মশানে সর্বদা বাস কর।ভূত-প্রেত মলমূত্র খায়। তুমিও ত্রিতাপ হরা শ্রীকৃষ্ণের নাম পরিত্যাগ করে অসৎ পচালরূপ কদর্য্যবস্তু দিবানিশি ভক্ষণ কর। আবার তোমার সুন্দর দুটি হাত শ্রীগোবিন্দ সেবার জন্য,তোমার সুন্দর দুটি পা গোবিন্দ লীলাস্থলী ভ্রমণের জন্য। তুমি ও দুটি ইন্দ্রিয়ের দ্বারা ভাল কাজ না করে অসৎ উদ্দেশ্য সাধনের জন্য নিয়োজিত করে রেখেছ।একি তোমার বিপরীত কর্ম নয়?তুমি সর্বদা সাধুর নিন্দা সমালোচনা কর।এতে তোমার বৈষ্ণব অপরাধরূপ ভয়ংকর আগুনে দগ্ধীভূত হতে হবে।সাধুগণের হৃদয়ে পরমানন্দঘন মূরতি শ্রীকৃষ্ণ নিত্য বিরাজ করেন।তাঁদের দর্শন স্পর্শনে মহাপাতকী অনায়াসে উদ্ধার হয়।এ হেন সাধুগণের পদরজকণা স্পর্শে রুচি হয় না।তাই বলি মন ! ভূত প্রেতের কুৎসিত স্বভাব পরিত্যাগ করে শ্রীহরির শ্রীচরণে শরণ নাও।ঐ চরণে গয়া গঙ্গাদি সর্বতীর্থ বিরাজিত।শরণাগত হতে পারলেই অতি সহজে উদ্ধার হওয়া যাবে।*
*🙌জয় জয় নিতাই গৌর হরিবোল🙌*
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
*(৭০)🌻🌻মনো শিক্ষা 🌻🌻*
*আলসতা থেকে ভক্তিপথে আনয়ন*
^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^
*এ মন! কি সুখে যাইচ নিঁদ।*
*শমন-কিঙ্কর, সে চোর আসিয়া,*
*কবে বা কাটয়ে সিঁদ।।*
*দিনে দিনে ঘর, আউল বাউল,*
*খসিছে দশন-টাটী।*
*ছাউনি-বন্ধন, নসর পসর,*
*হেলিয়া পড়িছে কাঠি।।*
*দেখ না যে তোর, পালিত ইন্দ্রিয়,*
*অলপে অলপে সরে।*
*যখন আসিয়া, চোর সান্ধাইবে,*
*কেহ না থাকিবে ঘরে।।*
*কামাদি-রিপুকে, আপনা জানিয়া,*
*তাদের ঊরুতে মাথা।*
*ঘরের সম্পদ, যে করে জাহির,*
*চোরের সহিত মিতা।।*
*মায়ায় ভুলায়ে, যে তোর অঙ্গনে,*
*কুহুর আন্ধার রাতি।*
*সব পরিজনে, ডাকিয়া জাগ না,*
*জ্বালাইয়া স্বজ্ঞান-বাতি।।*
*সাধুর সহিতে, "হরি-কথা কহি",*
*রজনী কর না ভোর।*
*কহে প্রেমানন্দ, তে ভয় কাহার,*
*জাগন-ঘরে কি চোর।।*
*🌹যাইচ=যাচ্ছ।নিঁদ=নিদ্রা। নসর পসর=জীর্ণ হয়ে যাওয়া।*
*🌷মন ! তুমি দেহরূপ গৃহে অনিত্য সুখ-স্বাচ্ছন্দ্যে তুষ্ট হয়ে মায়া নিদ্রায় নিশ্চিন্তে সময় কাটাচ্ছ।ঐ দেখ যমরাজের অনুচরগণ তোমার দেহগৃহে দিবানিশি সিঁদ (সুড়ঙ্গ)কেটে চলেছে।দিনে দিনে দেহ ঘর জীর্ণ হয়ে পড়ছে।দেহ রক্ষক ইন্দ্রিয়গণ তারাও একে একে সরে পড়ছে।কামাদি রিপুগণের সঙ্গে তুমি বন্ধুত্ব পাতিয়েছ।তারা সত্য ও ধর্মরূপ সম্পদকে হরণ করে দেহগৃহে চোর প্রবেশের পথকে প্রশস্ত করছে। ওরে অবুঝ মন ! তাই বলি অজ্ঞানতার অন্ধকারে মায়া নিদ্রায় নিদ্রিত না থেকে হৃদয়ে কুঠরিতে ভক্তিতত্ত্ব জ্ঞানের প্রদীপ জ্বেলে দাও।সাধুগণের সঙ্গে অন্তর বাহির শীতল করা কৃষ্ণকথা রসে দিন রাত্রি জাগরণ কর।তাহলে তোমার ঐ দেহঘরে যম অনুচররূপ চোর কখনো প্রবেশ করতে পারবে না।*
🙌🙌🙌🙌🙌🙌
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
*(৭১)🌹🌹মনোশিক্ষা🌹🌹*
*মনুষ্যের চেতনতা*
*********************
*এ মন! আর কি বলিব তোরে।*
*মানুষ দুর্লভ, জনম পাইয়া*
*এবার ভাঁড়ালি মোরে।।*
*এ তনু-গৃহের, তুমি সে গৃহস্থ,*
*সকলি তোমার যত।*
*আশা লজ্জা দুই, তোমার গৃহিণী,*
*আশাতে হইলি রত।।*
*কামাদি করিয়া, তাহাতে জন্মিল,*
*আশার নন্দন ছ'টি।*
*লালিয়া পালিয়া, তাদের বাড়ালি,*
*যমকে যাইতে ভাঁটি।।*
*বিবেক বলিয়া, লজ্জার কুমার,*
*কভু না বসালি ক্রোড়ে।*
*যাহার প্রসাদে, শমন তরিবে,*
*তাহারে খেদালি দূরে।।*
*বিদ্যা-নামে আর,লজ্জার দুহিতা,*
*যতন না কৈলি তায়।*
*অবিদ্যা বলিয়া, আশার জননী,*
*বিকালি তাহার পায়।।*
*আশা-আশাসুত , অবিদ্যা ঘুচায়ে,*
*"শ্রীহরি" স্মরণ কর।*
*কহে প্রেমানন্দ,বিবেকে ডাকিয়ে,*
*এখনো সামালো ঘর।।*
*🌺ভাঁড়ালি=ভুলালি। ভাঁটি=আনুকূল্য।ক্রোড়ে=কোলে। খেদালি=তাড়ালি। দুহিতা=কন্যা।*
*🌻মন !তুমি দুর্লভ মানব জনম পেয়ে বারবার আমাকে ভুলে থাকছ।তোমাকে আর কতই বলব।দেহরূপ গৃহের তুমি একমাত্র মালিক বা গৃহস্থ।গৃহস্থের যেমন গৃহিণী থাকে তেমনি এক এক করে তোমার দুইটি স্ত্রী।একজন হল আশা, অপর একজন হল লজ্জা।তারমধ্যে প্রথমা স্ত্রী আশাতেই তোমার বেশী আসক্তি।(বড় বাড়ী হবে,গাড়ী হবে,প্রচুর টাকাপয়সা হবে,রাজার মত পায়ের উপর পা রেখে আরামে দিন যাপন করব এই আশা) এই আশার গর্ভে ছয়টি সন্তান। কাম,ক্রোধ,লোভ,মোহ,মদ্ ও মাৎসর্য্য। ওরে মন !তুমি এদের প্রতিপালন করে যমরাজের আনুকূল্য করছো অর্থ্যাৎ যমরাজকে কাছে ডাকছ।লজ্জাদেবীর গর্ভজাত সন্তান, বিবেকের প্রতি স্নেহকাতর হলে নরক যন্ত্রণা হতে নিষ্কৃতি পেতে, (অসৎ সঙ্গ, অখাদ্য কুখাদ্যকে জায়গা দিয়ে যিনি সত্য বিবেককে ভুলে গেছ?)বিদ্যা নামে লজ্জার কন্যা তার প্রতিও তুমি যত্নশীল হলে না। আশার জননী অবিদ্যার পায়ে নিজেকে বিক্রি করে দিলে! এর ভয়ংকর পরিণামের কথা ভাবলে না। ওরে অবুঝ মন! এখনো সময় আছে, বহু পুরুষচারিণী (দুষ্ট চরিত্রা নারী) কুচরিত্রা আশা, কামাদি ছয়জন আশার পুত্র এবং অবিদ্যারূপ আশার জননীকে পরিত্যাগ করে সর্বসুখ নিকেতন শ্রীহরির শরণ কর।দেহগৃহের গৃহস্থলীর সমস্ত দায়িত্ব লজ্জা পুত্র বিবেকের উপরে ন্যস্ত সমর্পিত)কর, তাহলে তোমার গৃহস্থলী জীবন সার্থক হবে।*
*🙌জয় জয় নিতাই গৌর হরিবোল🙌*
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
*(৭২)🌹🌹মনো শিক্ষা🌹🌹*
*মানুষ হয়ে অমানুষিক আচরণ*
*****************************
*এ মন! কি কৈলি মানুষ হয়ে।*
*উদর লাগিয়া, কুক্কুর সমান,*
*সতত ফিরিলি ধেয়ে।।*
*সুখে বা দুখে বা, নিজ-পরিজন,*
*তা তোর এড়ান নাই।*
*শ্রীগুরু--বৈষ্ণব, গোবিন্দ--সেবন,*
*কেবল বঞ্চিত ভাই।।*
*পূরব--জনমে , যেমন করেছ,*
*ভাবিয়া দেখহ তবে।*
*কি জানি কি পূণ্যে, মানুষ হয়েছ,*
*এবার তাহা না হবে।।*
*দিলে সে পাইবা,পাইলে সে দিবা,*
*না পা'লি না দিলি ভাই।*
*দিতে না পারিলি,নিতে কি আলিস,*
*ইহাও শকতি নাই।।*
*দেওয়া লওয়া দুই,কিছু না করিলি,*
*তে কেনে আইলি ভবে।*
*বসিয়া খাইতে , ইহা যে ঘুচিবে,*
*আবার চৌরাশী হবে।।*
*লহ লহ হরি, নাম লও রে ভাই,*
*সকল ধনের খনি।*
*কহে প্রেমানন্দ , জগতে অক্ষয়,*
*হও না এ ধনে ধনী।।*
*💧মন ! তুমি মানুষের দেহ ধারণ করেছ, অথচ মোটেও মানুষের ধর্ম পালন করছ না। কুকুরাদি পশুর মতো আহার-নিদ্রা-ভয়-মৈথুন নিয়ে ব্যস্ত রয়েছ।কখনো সুখে কখনো দুঃখে অনিত্য আত্মীয় পরিজনের সেবা করে চলেছ, অথচ যাদের সেবা করবার জন্য সেবাযোগ্য মানবদেহ নিয়ে এই পৃথিবীর বক্ষে এসেছ,সেই শ্রীগুরুদেব, পতিতপাবন বৈষ্ণবগণ এবং শ্রীশ্রীরাধাগোবিন্দের সেবা হতে নিজেকে দূরে সরিয়ে রেখেছ।অনিত্য সুখের আশায় তুমি অনেক কিছু পেতে চাও। কিন্তু পূর্ব জন্মের কর্ম অনুসারে তোমার যা পাওনা তাই তো পাবে? দেখ মন!সংসারে দুইটি কাজ, একটি দেওয়া,(যতদিন দিতে পারবে তোমার সম্মান যশ সব ঠিক থাকবে)আর একটি নেওয়া। দিলে পাওয়া যায় আর পেলে দেওয়া যায়।যদি বল কি দিবে আর কি নিবে,তার উত্তরে মহাজনের ভাষায় বলি গভীর ভাবে শোনো=*
*তুলসী!ইয়ে জগমে আকর কর লে দোন কাম।*
*দেনে কো টুকরা ভালা লেনে কো হরিনাম।।*
*🙏পরম সাধক তুলসী দাসজী নিজের মনকে বলছেন হে তুলসীদাস! তুমি এই জগতে এসে সৎ উদ্দেশ্যে সৎ পাত্রে অতি কিঞ্চিৎ পরিমাণ হলেও ব্যবহার যোগ্য উত্তম বস্তু দান কর। আর সর্বক্ষণ হরিনাম গ্রহণ কর।তাহলে তোমার এই জগতে আসা যাওয়া সার্থক হবে।*
*🌻 মন ! মহাজনের এই বাণী অনুসারে দিলেও না,প্রাণ ভরে হরিনাম নিলেও না।ফলে পুনরায় চৌরাশী লক্ষ যোনিতে গমনাগমন করতে হবে।এই পরিণামের কথা ভেবে মন!তুমি সর্বক্ষণ হরিনাম লও।হরিনাম ধনের উপরে আর জগতে কোন ধন নাই।এ ধন অব্যয়,অক্ষয়।*
🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
*(৭৩)🦚🦚মনো শিক্ষা🦚🦚*
*সদ্বিবেচনা উপদেশ*
""""""""""""""""""""""""""""""""
*ওরে মন!এ তনু-রাজ্যের তুমি রাজা।*
*যতেক ইন্দ্রিয়গণ,সে সব প্রধান জন,*
*পালিতে উচিত হয় প্রজা।।*
*সুবুদ্ধি কুবুদ্ধি মাত্র,এ তোমার দুই পাত্র,*
*রাজ্য সঁপিলি কার করে।*
*কুবুদ্ধি করিয়া লুট,রাজ্য যে করিল ভুট,*
*অসৎ বৈ সৎ না আচরে।।*
*কামাদি কদর্য্য যত,তারা পীড়ে অবিরত,*
*দমন করিতে নার তারে।*
*কুবুদ্ধির সঙ্গে মিলি,দিয়া তারা করতালি,*
*ডাকা চুরি করে ঘরে ঘরে।।*
*রাজমন্ত্রী করে পাপ,রাজা প্রজা পায় তাপ,*
*রাজ্য তার হয় ছারখার।*
*তুমি হও অধিকারী,তবোপর কেবা ভারী,*
*যে যেমন কর প্রতিকার।।*
*যদি মোর কথা লও,সুবুদ্ধির পানে চাও,*
*প্রজাগণ সঁপ তার হাতে।*
*পালন করিবে সুখে,এড়াইবে সব দুখে,*
*ধর্মের প্রভাব হবে যাতে।।*
*যে প্রভু তোমার রাজা,করহ তাঁহার পূজা,*
*পরমাত্মা-রূপে সে ' গোবিন্দ।*
*প্রেমানন্দ কহে মন,"কৃষ্ণ" কহ অনুক্ষণ,*
*প্রজা ল'য়ে করহ আনন্দ।।*
*🌷সঁপিলি=অর্পণ করলি। ভুট= লোপাট বা ছারখার। পীড়ে =পীড়ন করে। ডাকা= ডাকাত। সঁপ=অর্পণ কর।* *পাত্র=মন্ত্রী।নার=পার না।ভারী= কর্তা।প্রতিকার=বিহিত।*
*🌹দেশে যেমন রাজা থাকে,তার পাত্র-মিত্র প্রভৃতি থাকে ; তাঁদের মাধ্যমে দেশের প্রজাগণকে প্রতিপালন করে থাকেন। মন! তুমিও এই দেহ-রাজ্যের রাজা।ইন্দ্রিয়গণ তোমার প্রজা।সু-বুদ্ধি ও কু-বুদ্ধি নামক তোমার দুই মন্ত্রী।তুমি সু-বুদ্ধিরূপ মন্ত্রীকে রাজ্য পালনের দায়িত্ব না দিয়ে কু-বুদ্ধি মন্ত্রীকে রাজ্য পরিচালনার ভার ছেড়ে দিয়েছ? এতে প্রজাগণের সুখ ও স্বাচ্ছন্দ্যর কথা না ভেবে রাজ কোষাগারে ধন বৃদ্ধি না করে কু-বুদ্ধি মন্ত্রী কাম,ক্রোধাদি কু-সঙ্গীদের সহায়তায় তার স্বার্থ সিদ্ধি করে চলেছে।রাজমন্ত্রীর এ হেন অপকর্মের পরিণাম প্রজাগণকে ভোগ করতে হয়, রাজাকেও ভোগ করতে হয়।তাই বলি চঞ্চল মন!তুমি কু-বুদ্ধি মন্ত্রীর প্রতি দুর্বল চিত্ত না হয়ে সু-বুদ্ধি মন্ত্রীর উপরে রাজ্যের ভার অর্পণ কর।তাতে রাজা-প্রজা উভয়েরই সুখ ও আনন্দ হবে।জগতের সব রাজারই উপরে একজন রাজাধিরাজ মহারাজ রয়েছেন।তাঁর কথা সবাই শোনে ও সবাই মানে।তিনি হলেন পরমেশ্বর ভগবান শ্রীকৃষ্ণ।তুমি সেই শ্রীকৃষ্ণের শ্রীচরণে আশ্রয় গ্রহণ করে অনুক্ষণ কৃষ্ণনাম করতে করতে ইন্দ্রিয়গণরূপ প্রজা নিয়ে কৃষ্ণ প্রেমানন্দে রাজ্য পরিচালনা কর।*
🦚🦚🦚🦚🦚🦚🪔🦚🦚🦚🦚🦚🦚
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
*(৭৪)🪔🪔মনো শিক্ষা 🪔🪔*
*🪷মনকে আচরণ বিধি শিক্ষা🪷*
^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^
*ওরে মন!তুমি বা কেমন মালাকার।*
*নিরন্তর বৈস যায়,অবধান নাহি তায়,*
*এ তনু আরামে কি সুসার।।*
*রোপী ভক্তি পুষ্পশ্রেণী,শ্রবণ কীর্তন-পানী,*
*সিঞ্চিতে আলিস কর তায়।*
*সংসার-বাসনা-সূর্য্য,তার কি প্রতাপ শৌর্য্য,*
*দেখ তরু সে তাপে শুকায়।।*
*যতেক ইন্দ্রিয়গণ,সব তোর পরিজন,*
*নিযুক্ত করহ সব তাতে।*
*রাত্রিদিনে অবিরাম,কুরু সবে এই কাম,*
*সিঞ্চিয়া বাড়াও ভালমতে।।*
*সাধুসঙ্গ-ঘেরা করি,স্বজ্ঞান-প্রহরী ধরি,*
*সাবধানে থাকিয়া তাহায়।*
*কাম-ক্রোধ-আদি ছাগ,খেদাড়িয়া দিবে তাক,*
*জালী শাখা পল্লব চাবায়।।*
*পুষ্প হবে বিকশিত,দিক হবে সুবাসিত,*
*সন্তোষে লইয়া পরিজন।*
*অঞ্জলী অঞ্জলী ভরি,পরমাত্মা-রূপে হরি,*
*তাঁর পদে কর সমর্পণ।।*
*প্রেমানন্দ কহে মন, কৃষ্ণ পূজ অনুক্ষণ,*
*লোভের সুতায় গাঁথ মালা।*
*কৃষ্ণে দিয়া এ উদ্যান, চাহিলে রে প্রেমধন,*
*আপনি ঘুচিবে সব জ্বালা।।*
*🪷নিরন্তর=সবসময়। অবধান= মনোযোগের সঙ্গে।কুরু=কর।*
*🌻মন ! তোমার এই দেহখানিই হল পুষ্পোদ্যান বা কুসুমোদ্যান।আর কুসুমোদ্যানের তুমি মালাকার বা মালী।কোন উদ্যান বা কানন মালীর প্রধান কর্তব্য হল তার অধিকৃত (অধিকার পাওয়া) উদ্যানে সুগন্ধি বা খুব ভাল ভাল কুসুমের চাষ করে সেই কুসুমের দ্বারা জগদীশ্বর শ্রীকৃষ্ণের পূজো করা। ওরে মন! তুমি কিন্তু মালী হয়েও নিষ্ঠা সহকারে উদ্যানের কর্ম করছো না,মালী হয়েছ,উদ্যান পেয়েছ,কোটি জন্মের সুকৃতির ফলে ভক্তিলতার বীজও তুমি পেয়েছ।এবার যথার্থ বিধান অনুসারে সেই বাগানের ফুলের চাষ করা উচিত।মহাজন বাণীতে আছে=*
*🍀ব্রহ্মান্ড ভ্রমিতে কোন্ ভাগ্যবান জীব।*
*🍀গুরু কৃষ্ণ প্রসাদে পায় ভক্তিলতা বীজ।।*
*🍀মালী হৈয়া সেই বীজ করে আরোপণ।*
*🍀শ্রবণ কীর্তন জল করয়ে সিঞ্চন।।*
*🌷বীজ বপন করে তাতে নিয়মিত জল সিঞ্চন না করলে বীজ অঙ্কুরিত হয় না। মন!তুমি নিরন্তর ভক্তিলতার মূলে শ্রবণ-কীর্তনরূপ জল সিঞ্চন কর।সংসার বাসনারূপ সূর্য্যের প্রখর তাপ,সর্বক্ষণ জল সিঞ্চন না করলে এই দুর্লভ লতা খুব তাড়াতাড়ি শুকিয়ে যাবে।তোমার পঞ্চ জ্ঞানেন্দ্রিয়,পঞ্চ কর্মেন্দ্রিয়, এই দশজন নিজ পরিগণকে অবিরাম জল সিঞ্চনে নিযুক্ত কর।হ্যাঁ-- শুধু জল সিঞ্চন করলেই হবে না,ভক্তিলতাকে আবরণে রাখতে হবে।কাম,ক্রোধ, লালসাদি ছাগল মেষ ও বৈষ্ণব অপরাধরূপ পাগলা হাতী লতার কচি পল্লব ছিড়ে ফেলে দেয়,খেয়ে ফেলে। মহাজন বাণীতে আছে =*
*🍀যদি বৈষ্ণব অপরাধ ওঠে হাতী মাতা।*
*🍀উপাড়ে বা ছিন্ডে তার শুকি যায় পাতা।।*
*তাতে মালী যত্ন করি করে আবরণ।*
*অপরাধ হস্তী যৈছে না হয় উদ্গম।।*
*🌺মন! তুমি হয়ত ভাবছো জগতের ফুল-ফলের বাগান বাঁশ,কাঠ, লোহা, ইট, বালি, সিমেন্ট প্রভৃতি বস্তু দিয়ে বেড়া দেওয়া যায়।ভক্তিলতার বাগান কোন বস্তু দিয়ে ঘেরা যাবে? হ্যাঁ= সর্বদা সাধুসঙ্গই হল এই বাগানের দুর্ভেদ্য আবরণ।এই আবরণের দ্বারা ভক্তিতত্ত্ব জ্ঞানরূপ দ্বারীকে পাহারায় যদি নিযুক্ত রাখতে পারো, তাহলে কখনোই ভক্তিলতার অনিষ্ট সাধন হবে না।যথা সময়ে লতায় চিত্র বিচিত্র বর্ণের সুগন্ধি পুষ্প প্রস্ফুটিত হবে।তখন মন!তুমি ইচ্ছেমত কুসুমাঞ্জলী শ্রীকৃষ্ণের শ্রীচরণে অর্পণ করে এবং শ্রীকৃষ্ণ সেবা বাসনা লোভের সুতায় মালা গেঁথে শ্রীগোবিন্দের গলায় পরিয়ে জীবনের সকল প্রকার জ্বালার নিবৃত্তি করতে পারবে।*
🙏🪔🙏🪔🙏🪔🙏🪔🙏🪔🙏🪔🪷
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
*(৭৫)🪷🪷মনো শিক্ষা🪷🪷*
*পূর্ব পূর্ব জন্মের বিবরণ*
^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^
*এ মন! তুমি কি ভেবেছ সুখ।*
*সুপথ ছাড়িয়া, কুপথে গমন,*
*এ তোর কেমন বুক।*
*স্থাবর-যোনিতে, ক্রমে যে জনম,*
*হইয়া বিংশতি লক্ষ।*
*জল-জন্তু মাঝে, নব লক্ষ আর,*
*জলেই বসতি ভক্ষ্য।।*
*একাদশ লক্ষ, কৃমিকীটে জনম*
*দশ লক্ষ যোনি পক্ষ।*
*পশুর মাঝারে, ক্রমে ত্রিশ লক্ষ*
*মানব চতুর লক্ষ।।*
*মানুষে আসিয়া,কুৎসিত দ্বি-লক্ষ,*
*শূদ্রাদি দ্বিশতবার।*
*ব্রাহ্মণ-কুলেতে, পরে একবার,*
*যা-সম নাহিক আর।।*
*কতেক কলপ, ভ্রমিয়া মানুষ,*
*এমন জনমে পাপ।*
*শমনে বান্ধিয়া, পুন না ফেলাবে,*
*আবার তোমারে বাপ।।*
*বদন ভরিয়া, "হরি হরি" বল,*
*অসৎ ভাবনা ছাড়।*
*কহে প্রেমানন্দ, তবে সে চতুর,*
*এ সব যাতনা এঢ়।।*
*🌹বুক শব্দে ধারণা। স্থাবর-যোনিতে =বৃক্ষ- লতাদি-রূপে।কুৎসিত =হাড়ি ডোমাদি নীচকুলে।এঢ়=দূর কর।*
*🦚মন ! তুমি সু-পথ অর্থ্যাৎ সাধু-সঙ্গ এবং আচার্য্য নির্দেশিত পথ পরিত্যাগ করে কু-পথে ইন্দ্রিয় চরিতার্থ করে তাকে প্রকৃত সুখ মনে করে বসে আছো, তোমার এ কেমন ধারণা? ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য পদার্থের মাধ্যমে যে সুখ পাওয়া যায়,তা কিন্তু প্রকৃত সুখ নয়। শাস্ত্রের ভাষায়----*
*"যে হি সংস্পর্শজা ভোগা দুঃখ যোনয় এব তে।*
*আদ্যন্তবন্তঃ কৌন্তেয় ন তেষু রমতে বুধঃ।।"*
*🌸হে কৌন্তেয় বা অর্জুন!রূপরসাদি বিষয় হতে উৎপন্ন সব সুখ সর্বদা দুঃখেরই কারণ।এগুলির আদি আছে, অন্ত আছে ; এবং ক্ষণিকের জন্য।সেজন্য জ্ঞানীগণ এতে প্রীতি লাভ করেন না।*
*🍀শাস্ত্রের এই বাণী হতে জানা গেল, ইন্দ্রিয় স্পর্শজাত সুখ প্রকৃত সুখ নয়।একমাত্র পশুগণই ইন্দ্রিয় সুখকে সুখ মনে করে এবং সেই সুখে তৎপর থাকে। মন! তুমি তো পশু নও। তুমি সৃষ্টির মুকুটমণি মানব।এই মানুষ জনম পেতে চৌরাশী লক্ষ যোনি জীব দেহকে অতিক্রম করতে হয়েছে। স্থাবর যোনি অর্থ্যাৎ বৃক্ষলতা-তৃণাদি কুড়ি লক্ষবার, সর্বশেষ যখন তুলসী বৃক্ষ হয়ে জনম হল সাধু-গুরু-বৈষ্ণবের কৃপায় সেই পত্র শ্রীযুগলচরণে দেবার পরপরই বৃক্ষজনম হতে মুক্তি।জলজন্তু নয়লক্ষবার,শেষ জনমে যখন শামুক হয়ে জন্ম হল,শামুক শঙ্খ হল, সেই শঙ্খধ্বনি ভগবানের সেবায় লাগার সঙ্গে সঙ্গে জলজন্তু জনম হতে মুক্তি। কৃমিকীটাদি এগারোলক্ষবার জনম হল,সর্বশেষ যখন মৌমাছি হয়ে জন্ম হল,প্রতি ফুলে ফুলের মধু সংগ্রহ করে মৌচাক তৈরী হল, সেই মধু শ্রীভগবানের সেবায় লাগলে, কৃমিকীটাদি জন্ম হতে মুক্তি।পক্ষী যোনিতে দশলক্ষবার জন্ম হল,ময়ূর হয়ে যখন জন্ম হল, সেই ময়ূরের পাখা দিয়ে ভগবানের আরতি হলে পক্ষী জনম হতে মুক্তি হল।পশুযোনিতে ত্রিশ লক্ষবার জন্ম হল, শেষ গাভী হয়ে জন্ম হল, সেই গাভীর দুধ হতে ক্ষীর,সর,নবনী, মাখন ও দধি শ্রীভগবানের সেবায় লাগলে পশু জন্ম হতে মুক্তি হল। এবং মানবাকৃতি বিশিষ্ট দেহে চারলক্ষবার জন্মগ্রহণ করতে হয়েছে।এই চারলক্ষ মানব জনমের মধ্যে মনুষ্যত্বের চেতনা শূন্য কুৎসিত জন্মে দুইলক্ষবার জন্মগ্রহণ করতে হয়েছে।বাকী দুইলক্ষবার জন্মের মধ্যে শাস্ত্রজ্ঞানহীন শূদ্রাদিরূপে দুইশতবার জন্ম নিতে হয়েছে।অবশিষ্ট এক লক্ষ অষ্টনব্বই হাজার জড় বিদ্যা অভিমান সম্পন্ন মানবজন্ম অতিক্রান্ত করে স্বয়ং ভগবানের নিত্য আবির্ভাব ভূমিতে শ্রীকৃষ্ণ ভজনের সুকৃতি নিয়ে পূর্ণ মানুষরূপে জন্মগ্রহণ হয়েছে।এভাবে কোটি কোটি বৎসর দেহ হতে দেহান্তরে গমনাগমন করতে করতে ভগবদ্ উপাসনার সার্বিক সম্ভাবনাময় এই মানবদেহ লাভ করে ইন্দ্রিয় চরিতার্থতারূপ পাপ কর্মে লিপ্ত হচ্ছো? ভক্তি সুকৃতিধারী মানবের সৌভাগ্যের দুর্লভত্ব। মন ! একবার ভেবে দেখ? শ্রীচৈতন্যচরিতামৃতে পাওয়া যায় =*
*🍀এই মত ব্রহ্মান্ড ভরি অনন্ত জীবগণ।*
*🍀চৌরাশী লক্ষ যোনিতে করয়ে ভ্রমণ।।*
☆ ☆ ☆ ☆ ☆
*🍀তারমধ্যে স্থাবর জঙ্গম দুই ভেদ।*
*🍀জঙ্গমে তীর্য্যক-জল-স্থল চর বিভেদ।।*
*🍀তার মধ্যে মনুষ্যজাতি অতি অল্পতর।*
*🍀তার মধ্যে ম্লেচ্ছ-পুলিন্দ-বৌদ্ধ শবর।।*
*🍀বেদ নিষ্ঠ মধ্যে অর্ধেক অর্ধেক বেদ মুখে মানে।*
*🍀বেদ নিষিদ্ধ পাপ করে ধর্ম নাহি গণে।।*
*🍀ধর্মাচারী মধ্যে বহুত কর্মনিষ্ঠ।*
*কোটি কর্মনিষ্ঠ মধ্যে এক জ্ঞানী শ্রেষ্ঠ।।*
*🍀কোটি জ্ঞানী মধ্যে হয় একজন মুক্ত।*
*🍀কোটি মুক্ত মধ্যে দুর্লভ এক কৃষ্ণ ভক্ত।।*
*🌻উল্লিখিত শ্রীচৈতন্যচরিতামৃতের বাণী হতে সহজ ভাবেই বুঝা গেল কৃষ্ণভক্তি লাভের সম্ভাবনা কত দুর্লভ। ওরে চঞ্চল মন ! তুমি এমন দুর্লভ জন্মকে ব্যর্থ করিও না।দুইটি বাহুতুলে বদনভরে সর্বক্ষণ হরিনাম কর।তাহলে প্রকৃতভাবে তোমার বুদ্ধিমত্তার পরিচয় পাওয়া যাবে।*
*🍀বিঃ দ্রঃ--- শাস্ত্রে চৌরাশী লক্ষ যোনির ক্রম নিম্নলিখিত ভাবে দেওয়া আছে তাহল=*
*🌹জলজ যোনি=নয় লক্ষবার।*
*🌹স্থাবর যোনি =বিশ লক্ষবার।*
*🌹কৃমিকীট যনোনি=এগারো লক্ষবার।*
*🌹পক্ষী যোনি=দশ লক্ষবার।*
*🌹মানুষ যোনি=চার লক্ষবার।*
*🙌সকলে দুইটি বাহুতুলে বলুন জয় নিতাই গৌর সীতানাথ প্রেমানন্দে হরিবোল🙌*
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️
꧁ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ📱7001138871꧂
নিবাস- বাঁশবাড়ী, কীর্তন মন্দিরের পাশে, পোঃ- বাঁশবাড়ী, থানা- ইংরেজ বাজার, জেলা- মালদহ, পশ্চিমবঙ্গ, পিন কোড- ৭৩২১০১।
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
*••••┉━❀꧁ 🙏 রাধে রাধে 🙏 ꧂❀━┅••••*
*••••┉━❀꧁ 🙏 রাধে রাধে 🙏 ꧂❀━┅••••*
শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য প্রভু নিত্যানন্দ
হরে কৃষ্ণ হরে রাম শ্রীরাধেগোবিন্দ।।
*••••┉━❀꧁ 🙏 জয় জগন্নাথ 🙏 ꧂❀━┅••••*
হরে কৃষ্ণ হরে কৃষ্ণ কৃষ্ণ কৃষ্ণ হরে হরে
হরে রাম হরে রাম রাম রাম হরে হরে॥
*••••┉━❀꧁ 🙏 জয় রাধাকান্ত 🙏 ꧂ ❀━┅••••*
💮❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀💮
💮❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀💮
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧


.jpeg)
