শ্রী মৃন্ময় নন্দী কর্ত্তৃক সকল ভক্ত👣চরণে👣অসংখ্যকোটি 🙇প্রণাম🙇 ক্লিক করুন 👇

শ্রী মৃন্ময় নন্দী কর্ত্তৃক সকল ভক্ত👣চরণে👣অসংখ্যকোটি 🙇প্রণাম🙇 ক্লিক করুন 👇

শ্রীগৌরাঙ্গ মহাপ্রভু 🥀 সংক্ষিপ্ত কথন 🙏 ষষ্ঠ ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/07/mohaprobhu6.html

  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
  *••••┉❀꧁👇🏠Home Page🏠👇꧂❀┅••••* 
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
    *••••━❀꧁👇 📖 সূচীপত্র 📖 👇꧂❀┅••••* 
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
     *••••━❀꧁👇📚 PDF গ্রন্থ 📚👇꧂❀┅••••* 
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
  *•❀꧁ 📖সূচীপত্র 🙏 শ্রী জয়দেব দাঁ 📖 ꧂❀•* 
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
            ꧁ শ্রীগৌরাঙ্গ মহাপ্রভু 🙏 প্রথম ভাগ 
          ꧁ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ ꧂
       এই লিংকে ⬇️⬇️⬇️🙏⬇️⬇️⬇️ ক্লিক করুন 
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧         
       ꧁ শ্রীগৌরাঙ্গ মহাপ্রভু 🙏 দ্বিতীয় ভাগ 
          ꧁ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ ꧂
       এই লিংকে ⬇️⬇️⬇️🙏⬇️⬇️⬇️ ক্লিক করুন 
 ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧         
       ꧁ শ্রীগৌরাঙ্গ মহাপ্রভু 🙏 তৃতীয় ভাগ 
          ꧁ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ ꧂
       এই লিংকে ⬇️⬇️⬇️🙏⬇️⬇️⬇️ ক্লিক করুন 
 ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧      
 
১২৬. গৌরসুন্দরের দার্শনিক দৃষ্টিভঙ্গি 🙇 শ্রীগৌরাঙ্গ মহাপ্রভু 🥀 সংক্ষিপ্ত কথন 🙏 ষষ্ঠ ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/07/mohaprobhu6.html

  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
*(১২৬)গৌরাঙ্গপ্রভু সংক্ষেপ কথন*
 *গৌরসুন্দরের দার্শনিক দৃষ্টিভঙ্গি*
  ^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^
        *পড় শ্লোক সাধ‍্যের নির্ণয়।"*
*🍀মহাপ্রভু কেবলমাত্র রামানন্দের অনুভূতি জানতে চাইলেন না। "পড় শ্লোক"বলে শাস্ত্রের সিদ্ধান্তও জানতে চাইলেন। শাস্ত্রের বাণীর সঙ্গে নিজ অনুভবকে মিলিয়ে বলতে বললেন, কেন না,বিদ্বদনুভূতি(পন্ডিতসমাজের অনুভূতি ও আপ্তবাক‍্য (নিজে থেকে পাওয়া গেছে শুদ্ধ কথা) এর উপর আর প্রমাণ নাই। যেমন জিজ্ঞাসার কৌশল, তেমনই উত্তরের চাতুর্য‍্য। উত্তরদাতা প্রশ্ন পাবার সঙ্গে সঙ্গে অন্তরের সবখানি কথা বলে শেষ করেননি।পদ্ম যেমন ক্রমে ফোটে,বাইরের পাপড়ি শক্ত, ক্রমে কোমলতর ; কিঞ্জলটি (পুষ্প পরাগটি) সম্পূর্ণ ফুটলে,বাহির হয়ে পড়ে,রায় মহাশয়ের উত্তরও সেইরকম ধীরে আত্ম বিকাশ করেছে।বিকাশের ক্রমেতে শাস্ত্রে যে বিভিন্ন সাধ‍্যতত্ত্বের নির্দেশ আছে তাদের মধ্যে একটা নিবিড় যোগাযোগ ও পর্য‍্যায়ভেদ স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।এমন স্তর-সমাবেশ ও বিন‍্যাস-ভঙ্গি শাস্ত্রে আর কোথাও দেখা যায় না।*
*☘প্রথমে রামরায়="স্বধর্ম আচরণকে" সাধ‍্য বলে উল্লেখ করলেন। "বর্ণাশ্রমাচাররতা" ইত‍্যাদি বিষ্ণুপুরাণের শ্লোক দ্বারা নিজমত দৃঢ় করলেন।বক্তার বক্তব‍্য এই যে,চারবর্ণ ও চার আশ্রম নিয়ন্ত্রিত সমাজে যিনি যে ভূমিতে আছেন তিনি যদি সেই ভূমির নির্দিষ্ট কর্তব‍্য যথাযথ পালন করেন,তাহলে সমাজ শৃংখলাও অক্ষুণ্ণ থাকে,সমাজের মধ্যে মানুষের জন্মগ্রহণের উদ্দেশ্যও সফল হয়। ভগবানও প্রীত হন। গীতাতেও দেখা যায় ভগবান অর্জুনকে ক্ষত্রিয়চিত স্বধর্ম পালন করতে পুনঃপুনঃ নির্দেশ দিয়েছেন। "স্বধর্মে নিধনং শ্রেয়ঃ" বলে স্বধর্মের জয়গাথা গেয়েছেন।বহু শতাব্দী পূর্বে এক সময় গ্রীকজাতি দার্শনিক চর্চায় অতি উন্নত ভূমিতে আরোহণ করেছিল।গ্রীক দার্শনিক শ্রেষ্ঠ প্লেটোর (Plato) রিপাবলিক (Republic) গ্রন্থ বিশ্ববিখ‍্যাত।ঐ গ্রন্থে ধর্ম কি এটা নিয়ে দীর্ঘ বিচার আছে।বহু গবেষণার পরে শেষে সিদ্ধান্ত হয়েছে --,সমাজ শৃংখলায় যার যে নির্দিষ্ট কর্ম তার যথাযথ প্রতিপালই ধর্ম। বর্তমান সময় বর্ণ-ধর্ম ও আশ্রম-ধর্ম নানাপ্রকারে ক্ষুণ্ণ হয়ে গিয়েছে।তথাপি রামরায়ের সিদ্ধান্তের তাৎপর্য‍্য এইভাবে গ্রহণ করা যায় যে,নানারকম ঘটনার ঘাত প্রতিঘাতে যে যেখানে গিয়ে স্থিত হয়েছে ; সেইখানেই তার কতিপয় নির্দিষ্ট কর্তব‍্য আছে।যে কর্তব‍্যগুলি সামনে এসে পড়েছে তা সুষ্ঠুভাবে সুনির্বাহ করাই তার লক্ষ‍্য হওয়া উচিত।রামরায়ের এই সাধ‍্য ভূমিকে Socio-ehical summun Bonum বলা চলে।*
     🙌🙌🙌🙌🙌🙌🙌

 ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧       

১২৭. গৌরসুন্দরের দার্শনিক দৃষ্টিভঙ্গি 🙇 শ্রীগৌরাঙ্গ মহাপ্রভু 🥀 সংক্ষিপ্ত কথন 🙏 ষষ্ঠ ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/07/mohaprobhu6.html

  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
*(১২৭)গৌরাঙ্গপ্রভু সংক্ষেপ কথন*
  *গৌরসুন্দরের দার্শনিক দৃষ্টিভঙ্গি*
   =======================
*🌷রামানন্দ রায়ের কথা শুনে মহাপ্রভু "ইহ বাহ‍্য" বলে মন্তব‍্য করলেন এবং "আগে কহ আর" বলে মহত্তর সাধ‍্যের কথা শুনতে ইচ্ছা প্রকাশ করলেন।"বাহ‍্য" অর্থ বাইরের কথা।বাইরের কথা বলে যে সিদ্ধান্তকে অগ্রাহ‍্য করা হয়েছে এমন কিছু নয়।মন্দিরের বাইরের দরজা তো দরজায় বটে,অতিক্রম করতেই হবে প্রবেশকারীর।সামাজিক নৈতিক কর্তব‍্য তো করতেই হবে।কর্ম অকর্ম বিকর্ম বিচার বড়ই সুকঠিন।ফলাকাঙ্খা যদি কর্মের প্রেরক(নিয়োগ) হয়,কর্মের উদ্দেশ্য যদি থাকে স্বার্থসিদ্ধি, তাহলে সে কর্ম যতই সুন্দর হোক প্রকৃত সুন্দর নয়। কর্তব‍্য পালনের মূলে ফলাকাঙ্খা ও কর্তৃত্বাভিমান থাকতে পারে। সুতরাং যে ভূমিকায় দাঁড়ালে কর্ম সুষ্ঠু হয় তাইই উন্নততর সাধ‍্যভূমি হবে।পূর্বে প্লেটোর কথা বলা হয়েছে তিনিও স্বধর্ম পালনকে চরম তত্ত্ব বলেননি,বলেছেন এর পরও কিছু আছে।সেটি সে কি তা সুস্পষ্ট করেননি।*
*🍀গৌরহরির অন্তর বুঝে রামরায় বললেন,"কৃষ্ণ কর্মার্পণ সাধ‍্যসার"।এই কথা বলে গীতার "যৎ করোষি " (৯|২৭) শ্লোক প্রমাণ স্বরূপ উপস্থাপন করলেন।তাৎপর্য‍্য হল এই যে, কর্ম করে শ্রীকৃষ্ণে অর্পণ করলেই প্রকৃত কর্ম করা হয়।যে কর্মের ফল অর্পণ  ভগবচ্চারণে হয়নি,আত্মসুখের জন্যই নিয়োজিত হয়েছে,সে কর্ম ব‍্যর্থ,কুকর্মের তুল‍্য।গীতাতেও অর্জুনকে তাইই বলেছিলেন,"কর্মে তোমার অধিকার,ফলে নহে।যা করো,যা খাও,যে যজ্ঞ করো,যে তপস‍্যা করো,সব কর্মের ফলই আমাকে সমর্পণ করো।*
*🍁স্বধর্ম পালনাদি কাজ যদি ভগবানের উদ্দেশ্যে সমর্পিতভাবে করা যায় তাহলেই তা ঠিক ঠিক করা হয়।কর্মের ফল দ্বারা কর্মের বিচার নয়।ফলের বড় এবং ছোট দ্বারা কর্ম বড় ছোট নয়।কর্মের বিচার কর্মীর অন্তরের প্রেরণায়(উৎসাহে)।ঐ প্রেরণায় যদি ভগবানের প্রতি অর্পণ বুদ্ধি থাকে তাহলেই কর্ম কর্মযোগ পদবাচ‍্য ও মহান হয়ে থাকে।সাধ‍্যের এই ভূমিকে Super ethical বলা যায়।নীতির ভূমির মধ্যে নীতি অসম্পূর্ণ। নীতিকে ছাড়িয়ে আধ‍্যাত্মিক ভূমিকাতে গিয়েই নীতি সার্থকতা লাভ করে।*
*🌺রামরায়ের কথা শুনে মহাপ্রভু কহিলেন, "এহো বাহ‍্য আগে কহ আর"। গৌরহরি এই সাধ‍্যকেও বাহ‍্য তোরণ বললেন (এইসব বাইরের কথা,অন্তরের কথা বলো)।যেন অন্দরের দিকে অগ্রসর হয়ে উত্তর দিতে বললেন। কর্মফল ভগবানে অর্পণ করলেও অনেক সময় কর্তৃত্বাভিমান (এইসব কর্ম আমি করেছি এই অহং ভাব থেকেই যায় )যায় না।কর্ম করার কর্তৃত্ব ও অর্পণ করার কর্তৃত্ব থেকেই যায়। কর্ম অর্পণকারী ব‍্যক্তিরও অহংকার-বিমূঢ় অবস্থা ঘুচে না।যতক্ষণ অহং আছে ততক্ষণ অহংকার থাকবে। যদি কোন কৌশলে অহংকে একেবারে নির্বাসিত (নিজের মন থেকে বা নিজের ঘর থেকে একেবারেই বহিস্কার) করা যায়, তাহলেই ফলাসক্তি-ত‍্যাগী ও কর্ম-সন্ন‍্যাসী হওয়া যায়।তার ফলেই কর্মযোগ হয়।*
🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏

 ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧       

১২৮. গৌরসুন্দরের দার্শনিক দৃষ্টিভঙ্গি 🙇 শ্রীগৌরাঙ্গ মহাপ্রভু 🥀 সংক্ষিপ্ত কথন 🙏 ষষ্ঠ ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/07/mohaprobhu6.html

  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
*(১২৮)গৌরাঙ্গমহাপ্রভু সংক্ষেপ কথন*
      *গৌরহরির দার্শনিক দৃষ্টিভঙ্গি*
       +++++++++++++++++++++
*🌷অহঙ্কারকে নির্বাসন দেওয়া যাবে কোথায়?যেখানে দেওয়া যাবে সেইখান হতেই সে আবার ফিরে আসবে।একটি মাত্র জায়গা আছে, যেখানে দিলে সে আর ফিরে আসতে পারবে না, শ্রীরামরায় জানেন।জেনেও মহাপ্রভুর অন্তর বুঝে বললেন="স্বধর্ম ত‍্যাগ সর্বসাধ‍্যসার"। সঙ্গে সঙ্গে গীতার "সর্বধর্মান পরিত‍্যজ‍্য মামেকং শরণং ব্রজ" (১৮|৬৬) শ্লোক উচ্চারণ করলেন।আত্ম নির্বাসনের জায়গা হল ভগবদ্ উচ্চারণে।সেই জায়গায় নিজেকে সমর্পণ করে দিলে সে চিরতরে গেল।কর্ম করে ফলের আশা নয়,কর্ম করবার আগে আত্ম-অর্পণ।আগের ভূমিকায় ফলদানের কথা ছিল।এখানে আত্মদানের কথা হচ্ছে।নিজেকে যে দিয়েছে তার আর স্বধর্ম কি?স্ব থাকলে তো স্বধর্ম।সেই সর্বেশ্বরে "স্ব" সমর্পণের ফলে স্বধর্ম আর নেই!অথবা স্বধর্ম ত‍্যাগ করবার ফলেই ধর্মকর্ম বা কর্তব‍্যের বোঝা বা উপাধিবিহীন "স্ব" কে তাঁর চরণে সমর্পণ করা সম্ভব।* *এই আত্মসমর্পণের (Self dedication) আদর্শ গীতার পরম সংবাদ।আত্ম না থাকাই আত্মকর্ম নাই।এই কর্মহীনের কর্মই নিরবদ‍্য(নিখুঁত বা অনবদ‍্য)। বিশ্বনিয়ন্তার হাতের খেলোয়ার হয়ে সে কর্ম করে।পাপ,পুণ‍্য,ধর্মাধর্ম দুয়ের অতীত হয়ে তার কর্ম বিরাজমান থাকে।কর্ম যেখানে মরে গেল,সেইখানেই সে বেঁচে রইল। এই সমর্পণের সাধ‍্যভূমিতে দাঁড়িয়েও মহাপ্রভু বললেন, "এহো বাহ‍্য আগে কহ আর" পুনরায় বললেন।এই ভূমিকেও বর্হিদ্বার বলবার কারণ এই যে,সমর্পণটি পূর্ণাঙ্গ হতে গেলে সেটি জ্ঞানপূর্বক হওয়া প্রয়োজন।তিনিই যে একমাত্র শরণ‍্য এটি জেনেই শরণাগতি নিতে হবে। "সর্বধর্মান্ পরিত‍্যজ‍্য" শ্লোকে তার কোন ইঙ্গিত নাই।*
🙏🙏🙏🙏🙏🙏🪔🙏🙏🙏🙏🙏🙏


 ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧       

১২৯. গৌরসুন্দরের দার্শনিক দৃষ্টিভঙ্গি 🙇 শ্রীগৌরাঙ্গ মহাপ্রভু 🥀 সংক্ষিপ্ত কথন 🙏 ষষ্ঠ ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/07/mohaprobhu6.html

  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
*(১২৯) গৌরাঙ্গমহাপ্রভু সংক্ষেপ কথন*
     *গৌরসুন্দরের দার্শনিক দৃষ্টিভঙ্গি*
°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°
*🍀অধিকন্তু (তাছাড়া), শরণাগতি গ্রহণে কোনও আশা ভরসা বা লোভ লালসা কারণ থাকলে পূর্ণাঙ্গতা হবে না।উক্ত শ্লোকে ভরসে দেওয়া হয়েছে, "অহং ত্বাং সর্বপাপেভ‍্যো মোক্ষয়িষ‍্যামি মা শুচঃ" অর্থ‍্যাৎ হে অর্জুন!তুমি যদি সকল ধর্ম ছেড়ে আমার শরণাগত হও,তাহলে আমি তোমাকে সর্ব পাপ হতে মুক্তি দিব। তোমার শোকের আর কোন কারণ থাকবে না।যদি এই কথার ভরসায় কেউ শরণাগতি গ্রহণ করে তাহলে তার ঐ কাজ সর্বাঙ্গ-সুন্দর হবে না। আরও সূক্ষ্ম কথা এই যে, সব ছেড়ে শরণাগত হও এই উপদেশ শুনে যিনি শরণাগতি নিবেন,তাঁর শরণাগতি অনবদ‍্য(নির্দোষ) হবে না।অন্তরের স্বতঃ (নিজে থেকে) আকর্ষণে যাঁদের আত্ম সর্বতোভাবে সমর্পিত হয়ে যাবে তাদের পক্ষে উপদেশের প্রয়োজনীয়তা থাকবে না, ভরসাপাবার আবশ‍্যকতা থাকবে না। ব্রজে যাঁদের সর্বসমর্পণ হয়েছিল,তাঁদের পাপ-পূণ‍্যের ভাবনা ছিল না,মুক্তি-মোক্ষের আশা ছিল না। সেটি হয়েছিল যে পরাভক্তির বলে, মহাপ্রভু রামরায়কে সেই দিকে নিয়ে যেতে চাইছেন।মহাপ্রভুর অন্তরের আকুতি অনুভব করে রামরায় গন্তব‍্যের দিকে মুখ ফিরিয়ে আরেক পা অগ্রসর হলেন। এ যেন শুক্লপক্ষের চন্দ্রমা।প্রতিদিন এক-কলা করে বাড়ছে।রামরায় বললেন-- জ্ঞানমিশ্রা ভক্তি সাধ‍্য সার। এই কথা বলেই ভগবদুক্তি শ্লোক পাঠ করলেন=*
*"ব্রহ্মভূতঃ প্রসন্নাত্মঃ ন শোচতি না কাঙ্খাতি।*
*সমঃ সর্বেষু ভূতেষু মদ্ভক্তিং লভতে পরাম্।।(১৮|৫৪)"*
*🌻একমাত্র জ্ঞানভূমিতেই সর্বধর্ম কর্মের লয় হতে পারে। "সর্ব কর্মালিয়ং পার্থ জ্ঞানে পরিসমাপ‍্যতে"= জ্ঞানভূমিতে একেবারে লয় পেয়ে ভক্তি ভূমিতে সেটি আবার নবজন্ম পরিগ্রহ করবে।ইহাই এই সাধ‍্য ভূমিকার হার্দ (আন্তরিক)।* *এই জন্যই "জ্ঞানমিশ্রা ভক্তি" বললেন।এই স্তরে (Complite self surrender) সাধ‍্য বিদ‍্যমান।*


 ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧      
 
১৩০. গৌরসুন্দরের দার্শনিক দৃষ্টিভঙ্গি 🙇 শ্রীগৌরাঙ্গ মহাপ্রভু 🥀 সংক্ষিপ্ত কথন 🙏 ষষ্ঠ ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/07/mohaprobhu6.html

  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
*(১৩০)গৌরাঙ্গমহাপ্রভু সংক্ষেপ কথন*
    *গৌরসুন্দরের দার্শনিক দৃষ্টিভঙ্গি*
▪▪▪▪▪▪▪▪▪▪▪▪▪
*🌹একমাত্র শরণ‍্য তিনি,এই জ্ঞান হলেই শরণাগতি জাগবে।একমাত্র ভক্তিই শরণ‍্যের দিকে টেনে নিয়ে যাবে।অন‍্য কোনও উপদেশ বা ভরসা বাণী নয়।এই জ্ঞান-মিশ্রা ভক্তি ভূমিতে আরোহণ করলেই আগের উক্তি "সর্বধর্মান পরিত‍্যজ‍্য" মন্ত্রের প্রতিপাদ‍্য অবস্থাটিপূর্ণাঙ্গতা পাওয়া যাবে।।*
*🌷তাতে আপনাকে অর্পণ না করে পারি না,তাই সমর্পণ,তার ফল পাপপূর্ণ কিম্বা স্বর্গ-নরক সে বিবেচনা নাই।এইভাবে সমর্পণে পূর্ণতা আসিলেই ভক্ত সাধক পরব্রহ্মের সাধর্ম‍্য প্রাপ্ত হয়ে ব্রহ্মভূত হবে।তখন ভক্ত-ভগবানের প্রাণের স্পন্দন এক হয়ে যাবে।তখন সে তদ্গত(একাগ্র বা নিমগ্ন) ব্রহ্মগত,ব্রহ্মভূত,ব্রহ্মময়।অগ্নি প্রবেশে লৌহ যেমন অগ্নিময়, ভক্তির উদয়ে চিত্ত তখন চিরপ্রসন্ন সদা আনন্দময়।জ্ঞানের উদয়ে সর্বভূতে সমদৃষ্টি সর্বাত্মময়।এ আত্মময়,আনন্দময়,ব্রহ্মময় অবস্থাই সাধ‍্যসার। শ্রীরামরায় গীতার সর্বোচ্চ শিখরে দাঁড়িয়ে মহাপ্রভুর শ্রীমুখের দিকে চাইলেন,গীতার উন্নততম সাধ‍্য-পীঠের দিকে দৃষ্টিপাত করে সুগম্ভীর কন্ঠে করুণাময় গৌরহরি মহাপ্রভু বললেন,"এহো বাহ‍্য আগে কহ আর"।কেন,কি জন্য মহাপ্রভু এমন কথা বললেন--,এইবার বিবেচনা করব।*
    💧💧💧💧💧💧💧💧💧


 ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧       

১৩১. সাধ‍্যতত্ত্ব 🙇 শ্রীগৌরাঙ্গ মহাপ্রভু 🥀 সংক্ষিপ্ত কথন 🙏 ষষ্ঠ ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/07/mohaprobhu6.html

  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
*(১৩১)গৌরাঙ্গমহাপ্রভু সংক্ষেপ কথন*
          *🙏🙏সাধ‍্যতত্ত্ব🙏🙏*
.       ************************
*🌷গীতার সর্বোচ্চ ভূমি জ্ঞান-মিশ্রা-ভক্তি। রামানন্দ রায় তাইই সাধ‍্যসার বলেছেন।মহাপ্রভু শ্রীগৌরসুন্দর ঐ সাধ‍্যকেও "এহ বাহ‍্য "বলে আরও আগে কিছু আছে শুনতে চাইছেন।পরমরসিক মহাপ্রভু সুরসিক রামরায় বুঝতে পেরেছেন যে রসিকরাজ গৌরহরি "জ্ঞান-কর্মাদ‍্যনাবৃতং" উত্তমা ভক্তির কথা শুনতে চাইছেন।*
*☘রামরায় জানেন যে,সমগ্র মহাভারতও তদন্তর্গতং ভগবদ্ গীতা রচনা শেষ করেই বেদব‍্যাস চিত্তের প্রশান্তিলাভ করেন নাই।পরে দেবর্ষি নারদের কৃপায় শ্রীমদ্ভাগবত গ্রন্থ-প্রকট করে পরমশিন্তির সন্ধান লাভ করেন।রামরায় তাই গীতার সর্বোচ্চ সিঁড়িতে দাঁড়িয়ে ভাগবতের দুয়ারে পদক্ষেপ করলেন।ভাগবতের ব্রহ্মস্তুতির "জ্ঞানে প্রয়াসমুদপাস‍্য" ইত‍্যাদি শ্লোকের আশ্রয়ে দাঁড়িয়ে বলে উঠিলেন=*
*"রায় কহে জ্ঞানশূন‍্যা ভক্তি সাধ‍্যসার।"*
*🍁জ্ঞানমিশ্রা ও জ্ঞানশূন‍্যা এই দুইটি ভক্তি ভূমিকার পার্থক্য বুঝতে হবে।শব্দ দুইটি শোনার পর সঙ্গে সঙ্গে আপাততঃ মনে হয়,প্রথমটি হতে দ্বিতীয়টি কিছু লঘু।কারণ,প্রথমটিতে জ্ঞান আছে, দ্বিতীয়টিতে নাই।একটি বস্তু কমে যাওয়ায়,ভূমিটা দুর্বল হয়ে যাবার কথা।রামরায় তবে কি আগে যাবার প্রচেষ্টায় পিছিয়ে পড়লেন? এ আপাত(উপস্থিত সময় ) প্রতীতি বস্তুতঃ যথার্থ নয়।জ্ঞানমিশ্রা ভক্তিতে, ভক্তির সঙ্গে জ্ঞান আছে এটিত ঠিকই।কিন্তু জ্ঞানশূন‍্যা ভক্তিতে সে জ্ঞান নাই তা নহে।এই না-থাকা,লুপ্ত হয়ে নয়,পূর্ণতায় পৌছিয়াই। জ্ঞানপূর্ণ অর্থ জ্ঞানের ক্রিয়াশূন‍্য। পূর্ণতায় পৌঁছিলে জ্ঞান ক্রিয়াহীন হয়। কলসি যতক্ষণ জলে পূর্ণ না হয় ততক্ষণই তার শব্দ থাকে।জ্ঞান যতক্ষণ চরমভূমিতে না যায় ততক্ষণই তার সত্তার অভিব‍্যক্তি থাকে।জ্ঞান যে আছে ; এটি যে বুঝতে পারা যাচ্ছে, ইহা হতেই স্থির জানা গেল যে,জ্ঞান চরম সীমান্তে পৌঁছে নাই।পূর্ণ কলসী আর শূন‍্য কলসী এই দুইয়ে একটা সাদৃশ‍্য আছে।উভয়েই শব্দহীন।একান্ত জ্ঞানহীনের ভক্তি আর জ্ঞানবানের ভক্তি দুইয়ে সাদৃশ‍্য আছে। গাভীর বৎস-প্রীতি আর ব্রজজননীর গোপাল-প্রীতি এদের মধ্যে অনেক সাদৃশ‍্য(তুল‍্যতা)।*
🙌🙌🙌🙌🙌🙌🙌🙌🙌🙌🙌🙌🙌


 ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
       
১৩২. সাধ‍্যতত্ত্ব 🙇 শ্রীগৌরাঙ্গ মহাপ্রভু 🥀 সংক্ষিপ্ত কথন 🙏 ষষ্ঠ ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/07/mohaprobhu6.html

  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
*(১৩২)গৌরাঙ্গপ্রভু সংক্ষেপ কথন*
             *🙏🙏সাধ‍্যতত্ত্ব🙏🙏*
          =====================
*🌻ভগবানকে ভগবান জেনেই ভক্তি করতে হবে,একথা সত‍্য।কিন্তু এটি অপেক্ষা অধিকতর সত‍্য কথা হল যে, যতক্ষণ তাঁকে ভগবান বলে জানছি, ততক্ষণ ভক্তি গাঢ় হচ্ছে না। তিনি ভগবান,এই ঐশ্বর্য‍্য বুদ্ধি ভক্তিকে "শিথিল" করে দিচ্ছে।মহাপ্রভু শিথিল ভক্তির কথা শুনতে চাইছেন না।গাঢ় ভক্তির জন্যই তাঁর আকুতি।জল মাটি অপেক্ষা গাঢ়,মাটি অপেক্ষা কাষ্ঠখন্ড গাঢ়তর।আবার কাষ্ঠখন্ড অপেক্ষা লৌহখন্ড গাঢ়তম।এর কারণ এই যে,জলে হাতটি অবলীলাক্রমে(অনায়াসে) প্রবেশ করান যায়,মাটিতে একটি শলাকা (সরু কাঠি)সজোরে প্রবেশ করান যায়,লৌহখন্ডে কিছুই প্রবেশ করান যায় না।অন‍্যবস্তু প্রবেশ করবার অবকাশ(ফাঁক) যেখানে যত কম,তা তত গাঢ়। "তিনি ভগবান "এই বুদ্ধিটি ভক্তির মধ্যে প্রবেশ করবার অবসর যতক্ষণ আছে ততক্ষণ তা গাঢ়তম নয়।যে ভক্তির মধ্যে ভগবদ্ অনুসন্ধান প্রবেশ করাবার বিন্দুমাত্র ফাঁক নাই,তাইই গাঢ়তম ভক্তি বা শুদ্ধাভক্তি। এই শুদ্ধাভক্তির দিকেই প্রেমময় মহাপ্রভুর দৃষ্টি।*
*🍀এখানে একটা সমস‍্যা দাঁড়াল। "স্বধর্মত‍্যাগ" এর জায়গা হতে "জ্ঞানমিশ্রা" এর জায়গায় আসিবার কালে বলা হয়েছে যে,একমাত্র শরণ‍্য তিনি এই জ্ঞান হতেই শরণাগতি হবে।এখন পুনরায় বলা হচ্ছে যে,জ্ঞান থাকা পর্যন্ত ভক্তি শুদ্ধা হবে না। জ্ঞান না থাকলেও ভক্তি আসবে না,আবার জ্ঞান থাকা পর্য‍্যন্তও ভক্তি স্বরূপে পৌঁছিবে না।*
*🍁এ কথার সমাধান এই যে,জ্ঞান হতেই ভক্তি (আরোপ সিদ্ধা ভক্তি)দেখা দিবে,কিন্তু জ্ঞানশূন‍্যা হয়েই আপনাকে (নিজেকে) স্বরূপতঃ প্রকাশ করবে।জ্ঞানশূন‍্যা হবে জ্ঞানকে সরিয়ে দিয়ে নয়।নিবিড়তর ভাবে জ্ঞানকে আত্মসাৎ (নিজের হস্তগত) করেই ভক্তি জ্ঞানশূন‍্যা হবে।জ্ঞান এত বেশী যে,না থাকার তুল‍্য।জ্ঞানের পরাকাষ্ঠায় (চরম সীমায়)জ্ঞানী জ্ঞানহীন শিশুসম।*
*🌺কর্ম কর্মার্পণে পূর্ণতায় পৌঁছিয়ে বিদায় নিচ্ছে।তারপর জ্ঞান এসেছে। পূর্ণতায় পৌঁছিয়ে জ্ঞান এবার বিদায় নিচ্ছে, শুদ্ধাভক্তিকে সিংহাসনে প্রতিষ্ঠিত করে যাচ্ছে।জ্ঞানকর্মের আবরণ শূন‍্যা ভক্তিই উত্তমা ভক্তি। শুদ্ধা-ভক্তিতে কর্মজ্ঞানের অত‍্যন্তাভাব এই বিশ্বাস ভুল। কর্মজ্ঞান পূর্ণতমতায় আপনাদের (নিজেদের) বিসর্জন দেয় শুদ্ধাভক্তিতে।জ্ঞান কর্মের নদী ভক্তি সাগরে এসে নিজেদের নামগোত্র হারিয়ে ফেলে।*
🪷🪷🪷🪷🪷🪷🪔🪷🪷🪷🪷🪷🪷


 ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧      
 
১৩৩. সাধ‍্যতত্ত্ব 🙇 শ্রীগৌরাঙ্গ মহাপ্রভু 🥀 সংক্ষিপ্ত কথন 🙏 ষষ্ঠ ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/07/mohaprobhu6.html

  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
*(১৩৩)গৌরাঙ্গমহাপ্রভু সংক্ষেপ কথন*
          *🙌🙌সাধ‍্যতত্ত্ব🙌🙌*
      °°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°
*🌺যে আপন নয় তার জন্যই কর্ম করি এবং করি যে তা জানি।যে আপন নয় তাকে জানি, আমি জানি যে তাও জানি।যে অতি আপন তার জন্য যা করি তা কিন্তু কর্ম নয়।করতে হয় করি কিন্তু নিষ্ঠার সঙ্গে নয় যাকে বলে দায়সারা কর্ম।তাকে যে জানি,তা জানা নয়।যারা সচল তারাই আমার আপন,মন্দিরে যে বসে আছেন করতে হয় করি ঐ আর কি। আমি যেমন আমার দেহকে জানি।আমার ডান হাত যেমন আমার বাম হাতের সেবা করে।খোকাকে প্রতিবেশীরা ভালবাসে ভাল ছেলে বলে, মা ভালবাসে তার খোকা বলে ভালছেলে বলে নয়। ভগবানকে ভগবান বলে যারা ভক্তি করে তারা প্রতিবেশী।কৃষ্ণকে আপনজন বলে যারা  ভালবাসে তারা ঘরের লোক বলে। এই ঘরের লোকের মত তাঁকে পাওয়ায় মহাপ্রভুর হার্দ (হৃদ‍্যতা)।তাই জ্ঞান-মিশ্রাকে বাহ‍্য বলেছেন।এই ঘরোয়া ভক্তির সন্ধান ভাগবতে পাওয়া যায়।রামরায়ও মহাপ্রভুর অন্তর বুঝতে পেরে গীতার জ্ঞানভক্তির সমুচ্চয়(সংগ্রহ)ছেড়ে ভাগবতের শুদ্ধাভক্তির ভূমিতে প্রবেশ করেছেন।*
*☘রামানন্দ ব্রহ্মস্তুতির যে শ্লোকটি তুলেছিলেন, তার মধ্যে একটি অভিনব সঙ্কেত আছে।শ্লোকটির ভাবার্থ এই যে, ব্রহ্মা বলছেন-- হে প্রভু!যারা তত্ত্বজ্ঞান লাভের চেষ্টা সর্বতোভাবে ত‍্যাগ করে ভক্তসঙ্গে বাস করে কায়মনোবাক‍্যে তোমার কথা শোনে,মনন করে,উচ্চারণ করে তোমার মধুরিমা আস্বাদনেই জীবন ধারণ করে, তুমি সর্বত্র অজিত হলেও এই ত্রিভুবনে একমাত্র তাদের দ্বারাই "জিত" হয়ে থাকো।*
*🌹"যে প্রায়শোহজিত জিতোহপ‍্যসি তৈস্ত্রিলোক‍্যাং।" যিনি সর্বত্র অজিত তিনি এতাদৃশ(এইরকম) ভক্তের কাছে পরাজিত। এই কথাটির মধ্যেই অভিনব সংবাদটি রয়েছে।ভক্তির দ্বারে ভগবান পরাজিত হন, কখন হন?যতক্ষণ ভক্ত তাঁকে ভগবান বলে জানে ততক্ষণ হন না।যখন তত্ত্বজ্ঞানে অনুসন্ধানশূন‍্য অবস্থা আসে তখনই হন।*
*🍁এইরকম হবার একটি বিশেষ কারণ আছে।ভগবান নিজ ভগবত্তার ভূমিতে থাকলে কুত্রাপি (কোথাও বা কোনখানে) "পরাজিত"হতে পারেন না।যদি কোন রকমে ভগবান নিজেকে হারিয়ে ফেলেন,ভগবত্ত্ব ভূমিতে না থাকেন, তাহলেই তাঁর পরাজয় সম্ভব।ভক্ত যতক্ষণ তাঁকে ভগবান বলে জানেন ততক্ষণ তিনি ভগবানই থাকেন।নিজেকে ভুলতে পারেন না।এটি ভগবানের একটি বিশেষ স্বভাব।*
*"আমাকে তো যে যে ভক্ত ভজে যে যে ভাবে।*
*তারে সে সে ভাবে ভজি এ মোর স্বভাবে।।"*
💧💧💧💧💧💧💧💧💧💧💧💧💧


 ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧       
১৩৪. সাধ‍্যতত্ত্ব 🙇 শ্রীগৌরাঙ্গ মহাপ্রভু 🥀 সংক্ষিপ্ত কথন 🙏 ষষ্ঠ ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/07/mohaprobhu6.html
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
*(১৩৪)গৌরাঙ্গপ্রভু সংক্ষেপ কথন*
          *🙏🙏সাধ‍্যতত্ত্ব🙏🙏*
          """""""""""""""""""""""""""""""""""
*আমাকে তো যে যে ভক্ত ভজে যে যে ভাবে।*
*তারে সে সে ভাবে ভজি এ মোর স্বভাবে।।*
*🌹এই কথাটিই গীতায় "যে যথা মাং প্রপ‍্দ‍্যন্তে "শ্লোকে ঘোষিত হয়েছে।ভক্ত যতক্ষণ তাঁকে ভগবান বলে জেনেছেন,ততক্ষণ তিনি ভুলতে পারছেন না যে তিনি ভগবান সুতরাং কারও দ্বারা "জিত" হবার সম্ভাবনা হচ্ছে না।*
*🍀জ্ঞান-মিশ্রা ভক্তি ভূমিতে ভগবান।সর্বত্রই অজিত,কখনও জিত নহেন।তাই মহাপ্রভু "বাহ‍্য" বলেছেন।এখানে বাহ‍্য বলতে বাইরের কথা অন্তরের কথা নয়।বাইরের কথায় আর যাই হোক না কেন পরিপূর্ণ ভাবে ভক্তি আসতে পারে না।পরিপূর্ণ ভক্তি না আসিলে কৃষ্ণসেবায় প্রবেশ করতে পারবে না।যাইহোক, যেই মাত্র ভক্ত ভুলে গেল যে তিনি ভগবান, তৎক্ষণাৎ তিনিও ভুলে গেলেন যে তিনি ভগবান।অর্থ‍্যাৎ তিনি আত্মহারা হয়ে গেলেন।তখনই তিনি ভক্তের ভক্তির অধীনতা স্বীকার করেন। সুতরাং জ্ঞান-শূন‍্যা ভক্তিতেই-অজিত "জিত" হয়ে থাকেন।তাই মহাপ্রভুর অন্তর জেনে রামরায় জ্ঞানশূন‍্যা ভক্তির কথা বললেন।এই জ্ঞানশূন‍্যা তাতেই জ্ঞানের পরিপূর্ণতা।জ্ঞানের পরি-পূর্ণতায় কর্মের চরিতার্থতা। সুতরাং এই ভূমিকাতেই পূর্ব পূর্ব স্থরগুলির সার্থকতা।*
*🌷এইরকমে ভাগবতীয় ভূমিতে প্রবেশ করে রায় রামানন্দ মহাপ্রভুর শ্রীমুখের দিকে তাকিয়ে রইলেন।রঙ্গনপদ্মে ঈষৎ হাসি ফুটল।বৃষস্কন্ধখানি একটুখানি দক্ষিণে হেলিয়ে গৌরহরি কহিলেন--"এহো হয়"।*
*☘জ্ঞানশূন‍্যা ভক্তিই যে উত্তমাভক্তি এবং তাইই যে সাধ‍্য এই সিদ্ধান্তে মহাপ্রভু আপন সম্মতি জানালেন।সম্মতি জানিয়েও বললেন, "আগে কহ আর" বলে আরও নিগূঢ় সাধ‍্যের কথা শুনতে আগ্রহ প্রকাশ করলেন।*
👣👣👣👣👣👣👣👣👣👣👣👣👣

 ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧       
১৩৫. সাধ‍্যতত্ত্ব 🙇 শ্রীগৌরাঙ্গ মহাপ্রভু 🥀 সংক্ষিপ্ত কথন 🙏 ষষ্ঠ ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/07/mohaprobhu6.html
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
*(১৩৫)গৌরাঙ্গপ্রভু সংক্ষেপ কথন*
     *🙏🙏🙏সাধ‍্যতত্ত্ব🙏🙏🙏*
     ======================
*🍀শ্রীরামরায় উত্তর করলেন, "প্রেমভক্তি সর্বসাধ‍্যসার।" জ্ঞানশূন‍্যা ভক্তি আর প্রেমভক্তি,কথা প্রায় একই। তবে কিঞ্চিৎ পার্থক্য আছে। জ্ঞান-শূন‍্যায় জ্ঞান নাই বটে, কিন্তু জ্ঞান যে নাই তার জ্ঞান আছে।অন্ধকার ঘরে যদি চোখ খুলে বসে থাকি তাহলে অন্ধকার যে আছে তা দেখতে পাই। অর্থ‍্যাৎ কিছু যে দেখবার নাই ইহা যেন দেখি।আর চোখ যদি বুজে থাকি তাহলে দেখবার   যে কিছুই নাই তাও দেখি না।জ্ঞান শূন‍্যতায় জ্ঞানাভাস আছে।প্রেমভক্তির ভূমিকায় তাও নাই।*
*☘অন্ধকার ঘরে চোখ বুজে যেমন নিজের অন্তরকেই দেখতে চেষ্টা পাই,প্রেমভক্তির ভূমিকাতেও সেইরকম ভক্তিদেবীর অভ‍্যন্তরটি দর্শন লাভ করি।জ্ঞান-শূন‍্যা ভক্তি পর্যন্ত ভক্তিদেবীর বাইরের অঙ্গ প্রত‍্যঙ্গগুলিই যেন ব‍্যক্ত হয়, তাঁর অন্তরের দিকটা প্রেমভক্তির ভূমিকাতেই প্রকট হয়ে উঠে।জ্ঞান শূন‍্যায় ভক্তির ফুটন্ত ফুল দেখি।প্রেমভক্তিতে ফুটন্ত ফুলের অন্তরে মন মাতানো সৌরভটি ভোগ করি। প্রেমভক্তির বুকে লুকানো সেই সৌরভটি হল কৃষ্ণতৃষ্ণা।শ্রীকৃষ্ণকে আস্বাদন করবার জন্য দারুণ ক্ষুধা প্রেমভক্তির ভূমিতে ব‍্যক্ত হয়ে উঠে।এই তথ‍্যটি সুপরিস্ফুট করবার জন্য রায় মহাশয় অনুকূল শ্লোক উচ্চারণ করলেন=*
*"নানোপচার-কৃত পূজনমার্তবন্ধোঃ।*
*প্রেম্নৈব ভক্ত হৃদয়ং সুখবিদ্রুতং স‍্যাৎ।।*
*যাবৎ ক্ষুধস্তি জঠরে জঠরা পিপাসা।*
*তাবৎ সুখায় ভবতো ননু ভক্ষ‍্যপেয়ে।।"*
*🌷যত উপচারেই পূজা হোক না কেন, হৃদয়ের শুদ্ধ প্রেম যেরকম শ্রীকৃষ্ণকে গলিয়ে বা তুষ্ট করতে পারে,তেমন আর কিছুতেই পারে না।উদরে বলবতী ক্ষুধা পিপাসা থাকলেই খাদ‍্য পানীয় আনন্দদায়ক।*
*🍁সত‍্য সত‍্যই ক্ষুধা তৃষ্ণা না থাকলে সামনে সুন্দর সুন্দর খাদ‍্য পানীয় কেবল দর্শনের সামগ্রী,রসনার তৃপ্তিদায়ক নয়, শরীরের পুষ্টিকারকও নয়।তদ্রুপ জ্ঞানশূন‍্য ভক্তি-ভূমিতে শ্রীকৃষ্ণের সৌন্দর্য কেবল প্রশংসার সামগ্রী ; আস্বাদনের বা সম্ভোগের নয়।ভোগ করতে হলে চাই ক্ষুধা।এই ক্ষুধাই প্রেমভক্তির প্রাণ, তাই মহাপ্রভু আরও আগে শুনতে চাইলে রামরায় জ্ঞানশূন‍্যার পর প্রেমভক্তির কথা বললেন।*
🙌🙌🙌🙌🙌🙌🌹🙌🙌🙌🙌🙌🙌

 ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧       
১৩৬. সাধ‍্যতত্ত্ব 🙇 শ্রীগৌরাঙ্গ মহাপ্রভু 🥀 সংক্ষিপ্ত কথন 🙏 ষষ্ঠ ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/07/mohaprobhu6.html
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
*(১৩৬)গৌরাঙ্গপ্রভু সংক্ষেপ কথন*
        *🙏🙏সাধ‍্য----তত্ত্ব🙏🙏*
       ^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^
*🌻প্রেমভক্তির সাধ‍্যভূমির আরও একটি বিশেষত্ব আছে,যা জ্ঞান শূন‍্যা ভক্তি ভূমিতে নাই।জ্ঞানশূন‍্যা ভক্তি পর্যন্ত সাধ‍্যবস্তু শাস্ত্রবিধি মত চেষ্টা বা সাধন দ্বারা লাভ হতে পারে।শাস্ত্রাক্ত পথে ও মতে আচরণ অনুষ্ঠানের ফলে সেটির প্রাপ্তি হতে পারে। কিন্তু প্রেমভক্তি বস্তু কোন প্রকার প্রয়াসসাধ‍্য সামগ্রী নয়।সেটি একান্তভাবেই প্রসাদ-লব্ধ।প্রচেষ্টায় নয়,কৃপাতেই সেটি লাভ হতে পারে*
*🍀এই কৃপাটির প্রকাশ অন্তরে লোভরূপে। মিষ্টান্ন ভান্ডারের সাজানো মিঠাই যেমন চিত্তে লোভের উদয় করায় সেইরকম শ্রীকৃষ্ণের নিরুপম সৌন্দর্য মাধুর্য‍্য অন্তরে লোভ সৃষ্টি করে।শ্রীকৃষ্ণের রূপের বর্ণনায় বৈষ্ণব মহাজনেরা লিখেছেন= "প্রতি অঙ্গে পিরীতি পসার।" ঐ প্রীতি রসের পসরা এমনি চিত্তাকর্ষকভাবে সুসজ্জিত যে,তাঁর দর্শনে অন্তরে লোভের উৎপত্তি হয়!এই লোভই বস্তুকে মিলিয়ে দেয়।* *কথাটি আরও স্পষ্ট করে বলা প্রয়োজন।দোকানেতে সাজানো মিষ্টান্ন,সব সময় লোভ না-ও জন্মাতে পারে। কিন্তু কেউ যদি মিঠাই কিনে আমাকে দেখিয়ে আমার সামনে বার বার খায়, তখন তার প্রতি লোভ সংবরণ করা বেশ একটু কঠিন হয়ে পড়ে।সেরকম কোন ভক্ত যখন কৃষ্ণ মাধুর্য‍্য আস্বাদন করে,আস্বাদন করতে করতে মন প্রাণ তাঁর কৃষ্ণ ভক্তি রসভাবিত হয়ে পড়ে,আনন্দে হৃদয় দুলতে থাকে,তখন তারদর্শনে বা মননে হৃদয়ে লোলোপতা জেগে উঠা স্বাভাবিক।ঐ লালসাই প্রেমভক্তির প্রাণ,ঐ লালসাই বস্তু প্রাপ্তির পক্ষে "একলং মূল‍্যং"।একমাত্র দাম।ইহা ছাড়া কোটি জন্মার্জিত আর কোন প্রকার সুকৃতিই নাই,যারদ্বারা পরাৎপর(সর্বশ্রেষ্ঠ) বস্তু শ্রীকৃষ্ণের আস্বাদন করাতে পারে।অন্তরে এই তথ‍্যটিকে প্রকাশ করবার জন্যই আরও একটি শ্লোক উচ্চারণ করলেন।*
*"কৃষ্ণভক্তিরসভাবিতা মতিঃ,*
*ক্রীয়তাং যদি কুতোহপি লভ‍্যতে।*
*তত্র লৌল‍্যমপি মূল‍্যমেকলং,*
*জন্মকোটি সুকৃতৈর্নলভ‍্যতে।।"*
*☘সম্মতি সূচক ইঙ্গিত করে আনন্দময় মহাপ্রভু মধুর হাসি হাসলেন, বললেন-- "এহো হয় "। কৃষ্ণ তৃষ্ণাময় প্রেমভক্তিই জীবের পরমসাধ‍্য হতে আর সংশয় কি থাকতে পারে?তথাপি নিগূঢ়তর রহস‍্য আস্বাদন মানসে মহাপ্রভু বললেন=*
*"রায়------,আগে কহ আর।"*
*🍀কৃষ্ণ-তৃষ্ণাময়,প্রেমভক্তির পর গৌরহরি আর কি শুনতে চাইছেন,রসবেতা রামানন্দ তা অন্তরে অনুভব করে উত্তর করলেন= "রায় কহে দাস‍্য প্রেম সর্বসাধ‍্যসার।" প্রেমভক্তি সরসীর মত।স্রোত নেই,বিশিষ্ট(অসাধারণ) কোন সম্বন্ধের অনুভূতি জাগলেই সরোবরে প্রবাহ(স্রোত)খেলে।স্রোতস্বিনী হয়ে বহে চলে,সম্বন্ধানুরাগ হয়ে প্রেমভক্তির রসনা প্রাপ্ত হয়।প্রেমভক্তি বীণার তার,সম্বন্ধের একনিষ্ঠতা তাতে ঝঙ্কার।প্রেমভক্তি মূক,সম্বন্ধের ফোধ তাকে মুখর করে।দাস-প্রভু সম্বন্ধেই প্রেমভক্তির একটি বিশিষ্ট রূপ ফুটে উঠে।ভক্তি যেন নিরাকার,সম্বন্ধ তাকে রূপবান করে।*
🙏🙏🙏🙏🙏🙏👣🙏🙏🙏🙏🙏🙏


 ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧       
১৩৭. সাধ‍্যতত্ত্ব 🙇 শ্রীগৌরাঙ্গ মহাপ্রভু 🥀 সংক্ষিপ্ত কথন 🙏 ষষ্ঠ ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/07/mohaprobhu6.html
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
*(১৩৭)গৌরাঙ্গপ্রভু সংক্ষেপ কথন*
           *🙏সাধ‍্য------তত্ত্ব🙏*
        ??????????????????????
*☘শান্ত প্রেমভক্তি দাস‍্যে এসে রস সাগর মুখে গতিশীলা হয়।গতিমত্তাতে প্রেমভক্তির অশেষ বিচিত্রতা আত্মপ্রকাশ করে।সম্বন্ধ নিষ্ঠ প্রেমভক্তির কথা মহাপ্রভু শুনতে চান বুঝে রামরায় ভাগবতের শ্লোক তুলে এই সাধ‍্যভূমিকে স্থাপন করলেন=*
*"যন্নাম শ্রুতিমাত্রেণ পুমান্ ভবতি নির্মলঃ।*
*তস‍্য তীর্থপদঃ কিম্বা-দাসানামবশিষ‍্যতে।।"*
*🍁যাঁর নামটি মাত্রে শুনলেই ত্রিভুবন পবিত্র হয়,যাঁর শ্রীচরণে সর্বতীর্থ সতত বিরাজমান,তাঁকেই যারা  একমাত্র প্রভু বলে নিজেকে তাঁর দাসানুদাস স্বরূপে স্থিত করেছেন তাদের প্রাপ‍্যবস্তু আর কি বাকী থাকতে পারে? বস্তুতঃ জীবমাত্রেই স্বরূপ হল কৃষ্ণদাস। কৃষ্ণদাস‍্যই জীবের চরম পরম আকাঙ্খনীয় বস্তু।এটি পেলে আর কিছু পাওয়ার বাকী থাকে না।মহাপ্রভুও তাই "এহো হয় " বলে রায় মহাশয়কে সর্বতোভাবে সমর্থন করলেন।সমর্থন করেও মহাপ্রভু বললেন,রামরায়! "আগে কহ আর" এইকথা পুন বলে গূঢ়তর রহস্যের আস্বাদন লালসে তৃষ্ণাতুরের মত রামরায়ের বদনপানে তাকিয়ে রইলেন।*
*🌹দাস‍্য প্রেম সাধ‍্যসার বলে রামানন্দ রায় শ্রীমদ্ভাগবতের একটি শ্লোক উচ্চারণ করে শ্রীশ্রীমহাপ্রভুর বদন-পদ্মের প্রতি দৃষ্টিপাত করলেন।মহাপ্রভু মস্তক দুলিয়ে রামরায়ের সিদ্ধান্তের সম্মতিজ্ঞাপন করে মহাপ্রভু বললেন "আগে কহ আর", মহাপ্রভুর অন্তর বুঝে রায় মহাশয় কহিলেন "সখ‍্যপ্রেম সর্বসাধ‍্য সার"।দাস‍্য প্রেমের পর কেন মহাপ্রভু আরো "আগে" শুনতে চাইলেন এবং রামরায় কেন সখ‍্য প্রেমের কথা বললেন এটি আলোচনার বিষয়।* *আগেই বলা হয়েছে সম্বন্ধ জ্ঞান স্পষ্ট না হলে প্রীতির রূপটি প্রস্ফুটিত হয় না।সম্বন্ধের অনুভূতিই নিরাকার ভালবাসাকে রূপবান করে।রূপায়িত না হলে প্রীতি প্রিয়ের সুখ-বিধানে পর্য‍্যাপ্ত হয় না।"তুমি প্রভু আমি দাস" এই সম্বন্ধজ্ঞানে প্রতিষ্ঠিত হওয়ায় কৃষ্ণ প্রীতির একটি বিশিষ্ট আকৃতি পরিব‍্যক্ত হয়ে উঠিল।*
*🌳"দাস‍্যপ্রেম"কথাটিতে ইসা বুঝতে হবে যে "আমি দাস,কৃষ্ণ প্রভু" এই অনুভবে তাঁকে ভালবাসা।কৃষ্ণকে ভালবাসাই কিন্তু জীবের চরম সাধ‍্য নহে।ভালবেসে তাঁর সেবা করা,সেবা করে তাঁর সুখবিধান করা এটিই জীবের পরম পুরুষার্থ।নিজেকে সম্পূর্ণ বিসর্জন দিয়ে প্রিয়ের সুখেতে বিভোর হওয়ায় শেষ লক্ষ্য।*
👣👣👣👣👣👣🙏👣👣👣👣👣👣

 ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧       
১৩৮. সাধ‍্যতত্ত্ব 🙇 শ্রীগৌরাঙ্গ মহাপ্রভু 🥀 সংক্ষিপ্ত কথন 🙏 ষষ্ঠ ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/07/mohaprobhu6.html
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
*(১৩৮)গৌরাঙ্গপ্রভু সংক্ষেপ কথন*
          *🙌সাধ‍্য-------তত্ত্ব🙌*
         ^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^
*🌻সেব‍্য সেবকের মধ্যে ব‍্যবধান যত বেশী হবে সেবায় আত্মবিসর্জন তত বাধাপ্রাপ্ত হবে।বড়ত্ব বুদ্ধি যত প্রবল হবে সেবাকার্য‍্যে সঙ্কোচ তত বৃদ্ধিপ্রাপ্ত হবে,অর্থ‍্যাৎ নিজেকে যত বড় মনে করবে সেবাকর্মে তত অল্পভাব হতে থাকবে।সঙ্কোচ,প্রীতির প্রসারতায় ক্ষুন্নতা আনবে।সর্বাঙ্গীন সেবার সম্ভাবনা থেমে যাবে।বস্তুতঃ ব‍্যবধানের বোধ আত্মদানের পূর্ণতার পথে বাধা হয়ে দাঁড়াবে।দাস মনে করে কৃষ্ণ আমার প্রভু "কৃষ্ণ মোর প্রভু ত্রাতা জীবের হয় জ্ঞান "।প্রভু হলেই তিনি ভৃত‍্য অপেক্ষা অনেক বড়।বড়োর ও ছোটর মধ্যে ব‍্যবধান বেশ বৃহৎ।বড় যিনি তার সেবাতে ছোটজনের একটা সঙ্কোচভাব থাকলে আত্মবিসর্জনটি সর্বাঙ্গসুন্দর হতে পারে না।*
*🌳অধিকন্তু,দাসের প্রকৃত কাজ সেবা করা নয়।আজ্ঞা পালনই দাসের সর্বপ্রধান কর্তব‍্য।প্রভুর আজ্ঞা যদি এমন হয় যে,তা তৎসন্নিধানে বাস করে সেবার বাধক,তাহলে দাসকে আজ্ঞাপালনই করতে হবে,আজ্ঞা লঙ্ঘন করে মনের সাধ মতন সেবা করা চলবে না।প্রীত‍্যাধিকে আজ্ঞা লঙ্ঘনেও কৃষ্ণের সুখাতিশয় হয়ে থাকে। "প্রেমে আজ্ঞা লঙ্ঘিলে হয় কোটি সুখ পোষ"।*
*🍁তবে সে প্রেম দাস‍্য প্রেম নয়।ভৃত‍্যের আজ্ঞা লঙ্ঘনের অধিকার নাই।মহাবীর হনুমানের দাস‍্য-প্রেম।প্রভু শ্রীরামের শ্রীঅঙ্গ স্পর্শ করে সেবা অধিকার তার নাই। শ্রীরামের শ্রীচরণতলে বসে পদসেবার ভাগ‍্যই তার নিয়ত কাম‍্য।তাতেও বঞ্চিত হতে হয়,যদি প্রভু রাম আজ্ঞা করেন, "যাও হনুমান, সীতার অনুসন্ধানে অগ্রসর হও"।*
          *ক্রমাগত*

 ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧       
১৩৯. সাধ‍্যতত্ত্ব 🙇 শ্রীগৌরাঙ্গ মহাপ্রভু 🥀 সংক্ষিপ্ত কথন 🙏 ষষ্ঠ ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/07/mohaprobhu6.html
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
*(১৩৯)গৌরাঙ্গপ্রভু সংক্ষেপ কথন*
          *🙏সাধ‍্য--------তত্ত্ব🙏*
         *************************
*🍀শ্রীকৃষ্ণের সুখবিধানে ঐ সকল দাসোচিত বাধা যাতে বিন্দুমাত্র না থাকে এমন একটি উন্নততর প্রীতির ভূমিতে শ্রীরামরায়কে তুলবার জন্য মহাপ্রভুর অন্তরের আকুতি।মর্মী ভক্ত রামানন্দ মহাপ্রভুর অন্তরের আগ্রহে বুঝতে পেরে বলে উঠলেন, "সখ‍্য প্রেম সর্বসাধ‍্য সার", এইকথা বলেই রামরায় সখ‍্যপ্রেমের শ্লোক উচ্চারণ করলেন শ্রীমদ্ভাগবত হতে।মহারাজ পরীক্ষিত প্রতি শ্রীশুকদেব মুখোক্তি "ইত্থং সতাং ব্রহ্মসুখানুভূত‍্যা", ইত‍্যাদি যারা শান্তরসের তত্ত্বজ্ঞ ভক্ত,তাদের কাছে শ্রীকৃষ্ণ মাত্র ব্রহ্মসুখানুভূতিরূপে অনুভব।যারা দাস‍্যভাগবত ভক্ত, তাদের কাছে শ্রীকৃষ্ণ পরম আরাধ‍্যতম দেবতা রূপে বিরাজমান।যারা মায়াবদ্ধ অজ্ঞলোক, তাদের কাছে শ্রীকৃষ্ণ অতি সাধারণ নরশিশুরূপে প্রতীয়মান বা অনুভূত।বৃন্দাবনের পূত চরিত্র ব্রজবালকগণের কাছে সাধারণ লীলাসঙ্গী শ্রীকৃষ্ণ নিত‍্য অশেষবিধ খেলা ধূলার সঙ্গী, খেলার সাথী।*
*🍁ব্রজে বালকগণের শ্রীকৃষ্ণে সখ‍্য প্রেম।শ্রীকৃষ্ণ যে কত বড় এই জ্ঞান তাঁদের নেই।প্রেমই ঐ জ্ঞানকে আবৃত করে রেখেছে। "ভূপি কোন বড়লোক তুমি আমি সম"। এটিই হল তাঁদের অন্তঃস্থলের অনুভূতি।দাস‍্যের ব‍্যবধান বোধ,বড়োত্বের জন্য সঙ্কোচ সখ‍্যপ্রেম ঘুচিয়ে দিয়েছে।গোপ বালকগণ কৃষ্ণকে কাঁধে করেছে,শ্রীকৃষ্ণের কাঁধে উঠেছে।উচ্ছিষ্ট ফল খাওয়েছে, খেয়েছে।সখ‍্যরসকে বলা হয়েছে বিশ্রম্ভ প্রধান।বিশ্রম্ভ শব্দের অর্থ অভেদ-মনন।সখ‍্যরসের এমনই সামর্থ‍্য যে শ্রীকৃষ্ণের সঙ্গে সখীদের একটা অভিন্নতার বোধ জাগিয়ে দেয়। সখার কাছে তাঁর নিজ দেহে ও কৃষ্ণদেহে বিন্দুমাত্র ভেদ বুদ্ধি থাকে না।নিজ চরম নিজ গায়ে ঠেকলে যেমন উদ্বেগের কারণ হয় না,কৃষ্ণ-গায়ে ঠেকলেও সেইরকম উদ্বেগ হয় না।আমার উচ্ছিষ্ট আমার মুখে খাওয়াও যা কৃষ্ণমুখে খাওয়াও তাই।এই দুই মুখে কোন ভেদ বুদ্ধি কৃষ্ণ সখার অন্তরে জাগে না। এই অভিন্ন মননই সখ‍্য প্রেমের প্রাণস্বরূপ।শ্রীরামরায়ের উত্তরে শ্রীমহাপ্রভুর অঙ্গ পুলকিত হল,পরম উল্লাসভরে কহিলেন--রায়! এহোত্তম। ইহাই শ্রেষ্ঠ সাধ‍্য। এই প্রেমের উদয়ে আত্ম সম্বন্ধীয় সমস্ত ভাবনার সম্পূর্ণ নিরসন ঘটে,আত্ম বিসর্জন পূর্ণ হয় এবং কৃষ্ণ সুখসাধন চিন্তাই এক ও অদ্বিতীয় রূপে বিরাজমান থাকে।*
🌻🌻🌻🌻🌻🌻🌻🌻🌻🌻🌻🌻


 ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧       
১৪০. সাধ‍্যতত্ত্ব, বাৎসল‍্য প্রেম 🙇 শ্রীগৌরাঙ্গ মহাপ্রভু 🥀 সংক্ষিপ্ত কথন 🙏 ষষ্ঠ ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/07/mohaprobhu6.html
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
*(১৪০)গৌরাঙ্গপ্রভু সংক্ষেপ কথন*
           *সাধ‍্যতত্ত্ব,বাৎসল‍্য প্রেম*
           """""""""""""""""""""""""""""""""""
*🌷সখ‍্য প্রেমের কথন শুনে শ্রীমহাপ্রভু ভীষণ আনন্দিত হয়ে শ্রীরামরায়ের দিকে তাকিয়ে রইলেন। কিন্তু নয়নের কোণে আরও নিবিড়তর আস্বাদন লালসা প্রকাশ করে স্নিগ্ধ কন্ঠে কহিলেন, "রায়! "আগে কহ আর "।মর্মীভক্ত রামরায় মহাপ্রভুর অন্তর বুঝে বললেন--, "বাৎসল‍্য প্রেম সর্বসাধ‍্য সার"। এইকথাটি বলতেই রামরায়ের স্মরণে জাগল শ্রীমদ্ভাগবতের মৃত্তিকাভক্ষণ ও দামবন্ধন লীলা। কারণ এই দুই লীলাতেই বাৎসল‍্য প্রেমের পরাকাষ্ঠা প্রকাশ হয়েছে।এ লীলাকথা থেকে দুইটি শ্লোক উচ্চারণ করলেন নিজ সিদ্ধান্তের অনুকূলে।তারমধ‍্যে একটি মহারাজ পরীক্ষিতের উক্তি,অপরটি শ্রীশুকদেব গোস্বামীর উক্তি। গৌরহরি শোনার পর নিজমুখেই "উত্তম" বলে পুনঃ "আবার আগে" শুনিবার আগ্রহ করলেন কেন?এই তত্ত্বটি একটু ভাবতে হবে।রামরায়ের উত্তরে দিক দর্শনীটি থাকাই প্রেমের ঠাকুর মহাপ্রভুর হার্দ কি তা ভাবনা করা অসম্ভব হয়ে পড়ত।প্রভু স্বয়ং  নিজ তৃষ্ণার পানীয় রামরায়ের কাছ হতে আদায় করে নিয়েছেন। "অন্তরে প্রেরণ কর জিহ্বায় কহাও বাণী"। মহাপ্রভু নিজেই সুযোগ করে দিয়েছেন বলেই ভাবনা করা যাচ্ছে।নতুবা এই সব কথা এতই গূঢ় যে, "বুঝিবে রসিকজন না বুঝিবে মূঢ়"। প্রীতিরসের ভূমিটি এমনই অপূর্ব যে,সেটির আস্বাদন-মাধুর্য‍্যে কেবল যে ভক্তই আত্মহারা তা নয়,ভগবানও ভক্তের মাধুর্য‍্যের সাগরে নিজেকে হারিয়ে ফেলেন।এই আত্মহারা অবস্থাটি ভক্ত-ভগবানের প্রীতিতে চরমতা প্রাপ্ত হয়ে থাকে।*
*🌺এই সখ‍্যরসে সখা কৃষ্ণকে নিজের সমান মনে করে।ছোট মনে করতে পারে না।কৃষ্ণ কোন অন‍্যায় করতে পারে,কোন ভুল করতে পারে এমন ভাবনা সখাদের মনে ভুলেও আসে না।কৃষ্ণকে শিক্ষা দেওয়া প্রয়োজন,উপদেশ দেওয়া দরকার,অন‍্যায় কর্ম করলে শাসন করা আবশ‍্যক এইরকম চিন্তা-সখ‍্যরসের প্রিয়গণের হৃদয়ে কখনও জাগরিত হয় না।এই সব ভাবসম্পদ বাৎসল‍্য রসের রত্ন পেটিকাতে সংরক্ষিত।*
*🌳শুদ্ধ বাৎসল‍্যরসে নিমজ্জিত নন্দ ও যশোদা জগৎপালককে বালক মনে করেন।ভূমাকে(অখিল ব্রহ্মান্ডের অধিপতিকে)ক্ষুদ্র মনে করেন,স্বয়ম্ভুকেঔরসজাত পুত্র মনে করেন।অনাবিল গুণের মণিকে বহুবিধ দোষ ত্রুটির জন্য তাড়ণ, তিরস্কার এমন কি রজ্জুদ্বারা উদুখলে বেঁধে রেখে প্রহার পর্যন্ত করতে দ্বিধা বোধ করেন না।যথাকালে উপযুক্ত ভাবে শাসন না হলে,গোপাল পরিণত বয়সে অত‍্যন্ত দুর্দমনীয় হয়ে উঠবে, সুতরাং আমি জননী,তাকে শাসন করা আমার একান্ত কর্তব‍্য এই ভাবনাই জননীকে কৃষ্ণশাসনে উদ্যোগী করে।এই অধিকার সখ‍্যরসের ভক্তের নাই। যেমন আবেশ (বিহ্বলতা বা ভাবাবেগ) জনক-জননীর, ঠিক তেমন আবেশ মাতৃ-পিতৃভক্ত গোপালের।বাৎসল‍্যরসের মহাবিষ্টতায় ভগবান আপনি (নিজে) ভগবত্ব হারা হয়ে বালক রূপে লীলা আস্বাদন করেন।নিজকৃত অন‍্যায়ের জন্য লজ্জিত ; শঙ্কিত ও সঙ্কুচিত হন।শাসন তিরস্কার এড়াবার জন্য কখনও মিথ‍্যাকথা বলেন,কখনও মায়ের ভয়ে দ্রুত পালিয়ে যান।এইরূপে ভগবানের আপন হারা ভাবটি পরাকাষ্ঠা প্রাপ্ত হয় বাৎসল‍্য রসের উদ্বেলিত সাগরে।*
          🔥🔥🔥🔥🔥


 ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧       
১৪১. সাধ‍্যতত্ত্ব, বাৎসল‍্য প্রেম 🙇 শ্রীগৌরাঙ্গ মহাপ্রভু 🥀 সংক্ষিপ্ত কথন 🙏 ষষ্ঠ ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/07/mohaprobhu6.html
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
*(১৪১)গৌরাঙ্গপ্রভু সংক্ষেপ কথন*
         *সাধ‍্যতত্ত্ব,বাৎসল‍্য প্রেম*
         ***************************
*🍀অনন্ত কোটি ব্রহ্মার শিরোস্থিত মুকুটের মণি কিরণ নিয়ত উদ্ভাসিত শ্রীকৃষ্ণের পাদপদ্ম।সেই শ্রীকৃষ্ণ গোষ্ঠের পথে গোপরাজ নন্দের পেছন পেছন তাঁর পাদুকা মাথায় ধরে ছুটতে থাকেন।এই বাৎসল‍্য রসের মাধুর্য‍্য দর্শনে স্বতঃই (নিজে থেকে )বলতে ইচ্ছা হয়=অহো।নন্দরাজের কি ভাগ‍্য!*
*🌼শ্রীকৃষ্ণ মৃত্তিকা ভক্ষণ করেছেন।মায়ের তিরস্কারের ভয়ে তা গোপন করতে চান।শেষে মুখবিবরে বিশ্ব-জগৎ প্রকট করে জননীকে দেখান।পরে বৈষ্ণবীমায়া করে মায়ের বিশ্বদর্শন ভাব মন থেকে দূর করে মাতৃকোলে উঠে স্তনপান করেন।মাতৃস্তন হতে অফুরন্ত ক্ষীর ধারা ক্ষরণ হতে থাকে।গোপালের মুখবিবরে দুধের জায়গা না হয়ে গাল বেয়ে গড়িয়ে পড়ে।মাতা বস্ত্রাঞ্চল দিয়ে মুখ মুছিয়ে দেন।যে মুখগহ্বরে বিশ্ব-ব্রহ্মান্ডের স্থান পেল,সেখানে মাতৃস্তন দুধের জায়গা হয় না!এই নিরুপম মাধুর্য‍্য দর্শনে মনে স্বাভাবিক জিজ্ঞাসা জাগে "অহো"! হরি যার স্তন পান করেছেন,সেই যশোদা জননীর কি অনির্বচনীয় ভাগ‍্য।পরে গোপাল ক্রোধ করে জননীর দধিভান্ড ভেঙ্গেছেন।অন‍্যায়ের শাস্তি দিবার জন্য মা যশোমতী বন্ধন করতে চেষ্টা করেছেন, অনেকবার অক্ষম হয়েছেন, শেষে মায়ের চরম অবস্থা দেখে বাৎসল‍্যপ্রেমের বন্ধনে নিজ থেকে বন্ধন স্বীকার করলেন।তৎকালীন নিরুপম সৌন্দর্য দর্শন করে, শ্রীশুকদেব মন্তব‍্য করছেন,মাতা আজ মুক্তিদাতাকে বন্ধন করেছেন! যিনি সকলের মুক্তিদাতা আজ তিনি বাধা পড়লেন জননীর কাছে বাৎসল‍্য প্রেমের জোরে।এই ভাগ‍্য সংসারের আর কেউ পায় নাই।বাৎসল‍্য প্রেমের মধুরিমা শ্রবণে মহাপ্রভু পরমানন্দ-মধু -সমুদ্রে নিমজ্জিত হলেন। উৎফুল্ল বদনে কহিলেন--,রায়!এহোত্তম, যে প্রেমে মুক্তিদাতা বন্ধন গ্রহণ করেন,সেই প্রেমই সাধ‍্যসার।পরিপূর্ণ সম্মতি জানিয়েও অতঃপর আরও গূঢ়তম অন্তঃপুরে প্রবেশ করবার বাসনায় বললেন--, রামরায়! "আগে কহ আর "।প্রেমময় মহাপ্রভুর দৃষ্টিভঙ্গী হতে অন্তরের লালসাটি ইঙ্গিতে বুঝতে পেরে সর্বভক্ত শিরোমণি শ্রীরামানন্দ রায় কহিলেন, "কান্তা প্রেম সর্বসাধ‍্য সার"।*
🦚🦚🦚🦚🦚🦚🙏🦚🦚🦚🦚🦚🦚


 ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧       
১৪২. সাধ‍্যতত্ত্ব, কান্তা প্রেম 🙇 শ্রীগৌরাঙ্গ মহাপ্রভু 🥀 সংক্ষিপ্ত কথন 🙏 ষষ্ঠ ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/07/mohaprobhu6.html
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
*(১৪২)গৌরাঙ্গপ্রভু সংক্ষেপ কথন*
               *সাধ‍্যতত্ত্ব,কান্তা প্রেম*
            **************************
*🍀এই সিদ্ধান্তকে দৃঢ়ভাবে স্থাপন করবার জন্য ব্রজদর্শনে প্রেমাপ্লুত চিত উদ্ধব মহাশয়ের কন্ঠোক্তি এই ভাগবতের শ্লোক উচ্চারণ করলেন। শ্লোকে শ্রীউদ্ধব মহাশয় ব্রজসুন্দরীগণের পরমোৎকর্ষ বর্ণনা করেছেন।ব্রজাঙ্গনা গণের যে জাতীয় আস্বাদন রাসোৎসবে প্রকট হয়েছিল তা ভাষার অতীত।অন‍্য কারও পক্ষে তা সর্বতোভাবেই অলভ‍্য।স্বর্ণকমলের মত অঙ্গকান্তি বিশিষ্ট বৈকুন্ঠেশ্বরী শ্রীলক্ষ্মীদেবীরও ঐ জাতীয় আস্বাদন হয় নি।অন‍্য কার----ও হয়-ই নাই আর হবারও নাই।লক্ষ্মীদেবী যদিও শ্রীনারায়ণের বক্ষঃস্থলে সর্বদা বিরাজ করেন,তথাপি ব্রজাঙ্গনাগণের মত আস্বাদনের চমৎকারিতা তাঁর দেখা যাইনি।পিপাসাহীন ব‍্যক্তি সরসীর কাছে থাকলেই যে বেশীজল পান করতে পাবে এমন কোন কথা নয়।যার যেরকম পিপাসা তার সেরকম আস্বাদন।লক্ষ্মীতে ব্রজগোপীকার মত প্রেমময়ী আকুল পিপাসা দেখা যাইনি।লক্ষ্মীর প্রেমে শ্রীনারায়ণের প্রতি ঈশ্বর-বুদ্ধি থাকায় তা সঙ্কোচপূর্ণ।গোপীকার শ্রীকৃষ্ণে ঈশ্বর-বুদ্ধি না থাকায় তাঁদের ভাব বিশুদ্ধ ও সংকোচ-শূন‍্য।শ্রীলক্ষ্মীনারায়ণে তদীয়তা বুদ্ধি।শ্রীনারায়ণের বহু সেবিকার মধ্যে আমি একজন এই বুদ্ধিতে প্রীতি দুর্বল।ব্রজাঙ্গনাগণের শ্রীকৃষ্ণে মদীয়তা বুদ্ধি থাকায় শ্রীকৃষ্ণ আমারই, এই অনুভব প্রীতিতে পরম শক্তিশালী করে।শ্রীলক্ষ্মীদেবী শ্রীনারায়ণের অপেক্ষা করেন।গোপীকারা শ্রীকৃষ্ণের অপেক্ষা করেন না। বরং শ্রীকৃষ্ণই তাঁদের অপেক্ষা করেন।সেই উদ্দেশ্যেই উদ্ধব "অস‍্য ভূমদন্ড গৃহীতকন্ঠ" কথাটি বলেছেন। কথাটির তাৎপর্য‍্য এই যে,গোপীকারা শ্রীকৃষ্ণের কন্ঠ ধারণ করেননি। শ্রীকৃষ্ণই ব্রজাঙ্গনাগণের কন্ঠদেশ আশ্রয় করেছিলেন।তাঁদের প্রেমের প্রবল স্রোতবেগে ভেসে না যান, এই জন্যই যেন তাঁদের কন্ঠদেশকে অবলম্বন করে রাসরসে হাবুডুবু খেয়েছিলেন। শ্রীপাদ শ্রীজীব গোস্বামী  ওই লিখেছেন=*
*"রাসলীলা জয়ত‍্যেষা জগদেক মনোহরা।*
*যস‍্যাং শ্রীব্রজদেবীনাং শ্রীতোহপি মহিমাস্ফুটঃ।।"*
*🌹জগতের একমাত্র মনোহারিণী শ্রীরাসলীলার জয় হোক।যে রাসলীলায় লক্ষ্মীদেবী হতে ব্রজদেবীর মাহাত্ম্য ব‍্যক্ত হয়েছিল*।
*🌻এই কান্তাপ্রেমকে মহাপ্রভু "সাধ‍্যাবধি" বলেছিলেন।যদি চ সখ‍্য, বাৎসল‍্য ও কান্তা প্রেম তিনই উত্তম, তথাপি কান্তারতি সাধ‍্যের অবধি।এর কারণ বলেছেন="পূর্ব পূর্ব রসের গুণ পরে পরে হয় "।*
             *ক্রমাগত🙏*


 ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧       
১৪৩. সাধ‍্যতত্ত্ব, কান্তা প্রেম 🙇 শ্রীগৌরাঙ্গ মহাপ্রভু 🥀 সংক্ষিপ্ত কথন 🙏 ষষ্ঠ ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/07/mohaprobhu6.html
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
*(১৪৩)গৌরাঙ্গপ্রভু সংক্ষেপ কথন*
               *সাধ‍্যতত্ত্ব,কান্তাপ্রেম*
            °°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°
*☘শান্তরসের দুইটি গুণ,কৃষ্ণ-নিষ্ঠা ও কৃষ্ণ ভিন্ন তৃষ্ণা ত‍্যাগ।দাস‍্যরসে এই দুইটি গুণ তো আছেই কিন্তু আছে সেবানিষ্ঠা, যা শান্ত ভক্তে নাই।সখ‍্যরসে দাস‍্যের তিনটি গুণতো আছে কিন্তু আরও আছে অসংকোচ অভিন্ন মননে সেবা ; যা দাস‍্যে সম্ভব নয়। বাৎসল‍্যরসে সখ‍্যরসের চারটি গুণ তো আছেই, কিন্তু আরও আছে মনতাধিক‍্যে তাড়ন,তিরস্কার, যাসখ‍্য রসে সম্ভব নয়।কান্তারতিতে বাৎসল‍্যের পাঁচটি গুণ তো আছেই আরও আছে নিজ আস্বাদনে কৃষ্ণসেবা, যা বাৎসল‍্যে প্রকট হতে পারে না।*
*🌷সাধ‍্য শব্দের অর্থ বিচারে প্রারম্ভেই বলা হয়েছে সমগ্র জীবনের চরমতম লক্ষ‍্যটিই সাধ‍্য-- মহাপ্রভু তারই নির্ণয় শুনতে ইচ্ছা করেছেন।এতক্ষণে তা বলা হল।স্বধর্ম পালন,কর্মাপণ,ধর্মাপণ,ও জ্ঞানমিশ্র ভক্তি এই চারটি কক্ষাকে বলেছেন "বাহ‍্য"।জ্ঞানশূন‍্য ভক্তি প্রেমভক্তি ও দাস‍্যপ্রেম এই তিনটিকে বলেছেন "হয়", সখ‍্যপ্রেম ও বাৎসল‍্য প্রেমকে বলেছেন "উত্তম" কান্তাপ্রেমকে বলেছেন "অবধি" মহাপ্রভু কহে " এই সাধ‍্যবধি সুনিশ্চয়"।*
*🌺চার,তিন,দুই, এক এই দশটি ভূমি।ক্রমোর্ধভাবে যেন দোলমঞ্চের মত সাজান।ভিত্তিতে চারটি।সর্ব উচ্চে একটি।পূর্ব পূর্ব ভূমির পর পর ভূমিকায় সার্থকতা। পূর্ববর্তী ছয়টি স্তরের যা শাশ্বত মাধুর্য‍্য,তা দশম বা শিখর ভূমিস্থিত "অবধিতে"পরিণতি প্রাপ্ত।পরিপক্ক ফলে যেমন বৃক্ষের শিকড়,কান্ত,শাখা পত্রের সার্থকতা,সাধ‍্যবধি কান্তাপ্রেমে সেইরকম কর্ম,ধর্ম,জ্ঞানভক্তি ও পরাভক্তির পরম চরিতার্থতা। সর্বপ্রকার সাধন মার্গের লক্ষ্যে আত্ম উপলব্ধি--আত্ম স্বরূপে স্থিতি। গৌরগত বৈষ্ণবাচার্য‍্যেরা বলেন যে,কেবল জ্ঞান, কর্মযোগ নিয়ে যুগ যুগ চেষ্টা করলেও আত্ম উপলব্ধি বা স্বরূপে স্থিতি লাভ হয় না।একমাত্র শুদ্ধ প্রেমভক্তি পথে শ্রীকৃষ্ণচরণে সম্পূর্ণভাবে আত্মসমর্পণেই আত্ম উপলব্ধি পূর্ণতা লাভ করে,আপনাকে সম্পূর্ণরূপে পাওয়া যায়।প্রিয়তম শ্রীকৃষ্ণ সেবার্থে নিজেকে সম্পূর্ণভাবে বিলিয়ে দিয়েই স্বরূপে স্থিতি হতে হবে। অথবা স্বরূপে স্থিত হলেই সেবায় সমর্পণ পূর্ণাঙ্গ হবে।দুই একই কথা।*
🪷🪷🪷🪷🪷🪷🙏🪷🪷🪷🪷🪷🪷


 ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧       
১৪৪. সাধ‍্যতত্ত্ব, কান্তা প্রেম 🙇 শ্রীগৌরাঙ্গ মহাপ্রভু 🥀 সংক্ষিপ্ত কথন 🙏 ষষ্ঠ ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/07/mohaprobhu6.html
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
*(১৪৪)গৌরাঙ্গপ্রভু সংক্ষেপ কথন*
               *সাধ‍্যতত্ত্ব,কান্তাপ্রেম*
           **************************
*🌷আত্মসমর্পণ পরমাত্মার কাছেই সম্ভব।অংশের কাছে অংশতঃ সমর্পণ হতে পারে।পূর্ণাঙ্গ সমর্পণ একমাত্র পূর্ণতম বিগ্রহ লীলাপুরুষোত্তমের কাছে সম্ভব হতে পারে।অতএব সর্বতোভাবে আত্মদানের পাত্রটি একমাত্র ব্রজরাজনন্দন ছাড়া আর কেউ হতে পারেন না।যেমন লৌকিকে একই নারী পুত্রকে বাৎসল‍্যে ভালবাসে,সখীকে সখ‍্যরসে ভালবাসে ; স্বামীকে কান্তাপ্রেমে ভালবাসে।তিন জায়গায় তাঁর জীবনের তিনটি অংশ ব‍্যক্ত হয়। কোথাও মাতা,কোথাও সখী,কোথাও পত্নী।মাতৃত্ব,সখীত্ব,পত্নীর এক অখন্ড নারীত্বের তিনটা দিক মাত্র। এই তিনের কোন জায়গাই সে আপনার সমগ্র সত্তার অনুভব করতি পারে না। ঐরকম করতে হলে এমন একটি প্রীতির পাত্র প্রয়োজন, যিনি পিতা,মাতা,পুত্র,ভাই সখা সখী স্বামী যা কিছু সর্বস্বরূপে স্থিত।ঐরকম একটি সর্বরসের পাত্র মিলিলে সেখানে আত্মবিসর্জনে সামগ্রিক ভাবে অখন্ড আত্ম উপলব্ধি হতে পারে। কিন্তু ঐরকম একটি পাত্র বিশ্বজগতে কোথাও নাই। ব্রজেন্দ্রনন্দন শ্রীকৃষ্ণ ছাড়া অখিলরসের অমৃত ঘন বিগ্রহ আর দ্বিতীয়টি নাই। সম্পূর্ণভাবে পূর্ণ প্রেমে আত্মদানের একমাত্র পাত্র তিনিই।আবার প্রত‍্যেক রসেই আত্ম নিবেদন আংশিক।একমাত্র কান্তাপ্রেমে পূর্ব পূর্ব সকল সকল রসের গুণ অচ্ছেদ‍্য ভাবে বিদ‍্যমান থাকায় ঐ রসেই সর্বাঙ্গীন আত্মদান সম্ভব। সুতরাং কান্তপ্রেমে গোপীকার কৃষ্ণচন্দ্রের সর্বাঙ্গীন সেবায় অখন্ড আত্ম উৎসর্গেই সাধ‍্যের অবধি অভিব‍্যক্ত।*
              🙏🙏🙏🙏🙏


 ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧       
১৪৫. সাধ‍্যতত্ত্ব, কান্তা প্রেম 🙇 শ্রীগৌরাঙ্গ মহাপ্রভু 🥀 সংক্ষিপ্ত কথন 🙏 ষষ্ঠ ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/07/mohaprobhu6.html
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
*(১৪৫)গৌরাঙ্গপ্রভু সংক্ষেপ কথন*
            *সাধ‍্যতত্ত্ব-----কান্তাপ্রেম*
           ^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^
*🌺আমার আমিত্ব পূর্ণাঙ্গভাবে কৃষ্ণে সমর্পণে সর্বতোভাবে কৃষ্ণময় হয়ে যায়।তখন আমিই আর থাকে না।শ্রীকৃষ্ণই থাকেন।আবার কৃষ্ণেয় সুখবিধানের জন্য আমি তখন পূর্ণভাবেই বিদ‍্যমান।এইরকমে আমার সত্তার সম্পূর্ণ লোপ ও সম্পূর্ণ স্থিতি (অবস্থান)একই কালে সম্ভব হয়।এই আপাত বিরোধী দার্শনিক তত্ত্বই গৌর পার্ষদগণের দান,অচিন্ত‍্য ভেদাভেদবাদের অন্তস্থলে নিহিত।কান্তাপ্রেমকে সাধ‍্যাবধি বলিয়া মহাপ্রভু "আরও আগে" শুনতে চাইলেন=*
*প্রভু কহে এই সাধ‍্যাবধি সুনিশ্চয়।*
*কৃপা করি কহ যদি আগে কিছু হয়।।*
*🍁"অবধির" পর "আরও আগে" শুনতে চাওয়ার আকুতি কেন?সাধ‍্যের অবধির পর শ্রীগৌরসুন্দর  সাধ‍্য-শিরোমণি শুনতে চাইলেন। সাধ‍্য শিরোমণি হচ্ছেন একমাত্র শ্রীরাধাঠাকুরাণী।তিনি নিখিল গোপীকুলের মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠা।শতকোটি গোপী একত্র হলেও শ্রীকৃষ্ণচন্দ্রকে আনন্দ দিতে শ্রীরাধার সমতুল‍্য হয় না।রামানন্দ রায় শ্রীজয়দেবের গীতগোবিন্দের শ্লোক প্রমাণ রূপ উপস্থাপন করে এর প্রমাণ দিলেন। শ্রীরাধাকৃষ্ণের বিলাস মাধুর্য‍্য প্রেমময় মহাপ্রভু শুনতে ইচ্ছা করলেন।রামরায় নিজকৃত এক গীত গাইলেন।প্রেমাস্বাদনের চমৎকারিতায় করুণাময় রসময় গৌরহরি রামানন্দের মুখ চেপে ধরলেন=আর বলতে দিলেন না। রামরায়ের গানটির তাৎপর্য‍্য এই যে শ্রীরাধাকৃষ্ণের পরস্পর আকর্ষণ প্রথম পূর্বরাগ দিয়ে আরম্ভ হয় তারপর তা বৃদ্ধি পেতে পেতে চরম পরিপাকে মহাভাব স্বরূপে পরিণত হয়।তখন বিলাসে এমন একটি অবস্থা হয় যে তাঁদের মধ্যে রমণ রমণী,পুরুষ নারী এই ভেদ ভাব সব দূরীভূত হয়।গভীর প্রেম তাঁদেরকে একত্র করে মিলিয়ে দেয়। তখন অভিন্নতা থেকেও একীভূত হয়।*
*নিধুবনে মাতল,     তনু তনু মিলন,*
           *টুটল চিরন্তন ভেদ।*
*মনসিজ বিশিখ, খিল জনু লাগল*
      *তনু তনু লখই না ভেদ।।*
*🌷এই যে চরম বিলাসে ভেদে অভেদ অনুভূতি এটিই মহাপ্রভুর স্বরূপ।তিনি অচিন্ত‍্যভেদাভেদের ঘনীভূত বিগ্রহ।রামরায়ের এই গানে পরম করুণাময় গৌরহরি ধরা পড়ে যাবেন,এই ভয়ে স্বহস্তে তাঁর(রামরায়ের) মুখ আচ্ছাদন করে দিলেন। শ্রীরাধাকৃষ্ণ পরস্পরের মাধুর্য‍্য  আস্বাদনে নিমগ্ন ও সুদীপ্ত সাত্ত্বিক ভাবে সমালঙ্কৃত মহাভাবমাধুরীর ঘনীভূত বিগ্রহই শ্রীকৃষ্ণচৈতন‍্যমহাপ্রভু স্বয়ং ইনিই নিখিল সাধ‍্যের শিরোমণি।এই বিগ্রহটি ও মিলন বৈচিত্র্য মহাপ্রভু রামানন্দ রায়কে দর্শন করেয়েছিলেন।*
👣👣👣👣👣👣🙏👣👣👣👣👣👣


 ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧       
১৪৬. সাধন---তত্ত্ব 🙇 শ্রীগৌরাঙ্গ মহাপ্রভু 🥀 সংক্ষিপ্ত কথন 🙏 ষষ্ঠ ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/07/mohaprobhu6.html
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
*(১৪৬)গৌরাঙ্গ মহাপ্রভু সঃ কথন*
          *🙏🙏সাধন---তত্ত্ব🙏🙏*
          """""""""""""""""""""""""""""""""""""""""
*🍀সাধ‍্যের শিরোমণি রাধাপ্রেম এই কথা গৌরসুন্দরের হয়ে রায় রামানন্দের আলোচনায় প্রতিপাদিত (যুক্তি প্রমাণের দ্বারা নির্ধারণ ) হ'ল।এখন যে উপায়ে ঐ সাধ‍্যবস্তু লাভ করতে হবে,তাঁরই সাধন।সেই বিষয় কিছু আলোচনা প্রয়োজন।*
*☘শ্রীগৌরহরির শিক্ষায় জীবের স্বরূপ হচ্ছে "কৃষ্ণ দাস" দাসের মধুর রসে অধিকার হয় না।সীতারামের মিলন সুখের লেশমাত্র অনুধ‍্যানও (সর্বদা চিন্তা বা স্মরণও) হনুমানের পক্ষে সুদূরপরাহত(অসম্ভবপ্রায়)।এখন একটি কঠিন প্রশ্ন দেখা দিচ্ছে।কৃষ্ণ দাস‍্যে স্থিত জীবের সাধ‍্যশিরোমণি রাধাপ্রেম আস্বাদনে অধিকার হবে কিরকমে?শ্রীগৌরসুন্দর জগতে এসেছেন রাধাপ্রেমধন অকাতরে জীব জগতকে বিতরণ করতে।যে বস্তুতে যার অধিকার নাই তৎসন্নিধানে(তারকাছে) সেই বস্তু বিতরণের সার্থকতা কোথায়? এই কথার উত্তর দিতে হলে জীবের স্বরূপটি আরও গভীর ভাবে আলোচনা করতে হবে।জীব তটস্থা শক্তি। বহিরঙ্গা মায়া শক্তির প্রভাবে সে বহির্মুখী হয়।অন্তরঙ্গা স্বরূপ শক্তির করুণায় সে অন্তর্মুখী হয়। স্বরূপ শক্তির আশ্রয় অনুগত‍্যেই জীবের জীবনের পূর্ণতম সার্থকতার উপলব্ধি হয়। সুতরাং রহস‍্যময় সংবাদটি হচ্ছে এই যে,জীবের স্বরূপ তত্ত্বত কৃষ্ণদাস হলেও রসতঃ শ্রীরাধাদাস‍্য।জীব স্বরূপাশক্তি শ্রীরাধার দাসী।রাধাদাস‍্য লাভেই জীবের পরম চরিতার্থতা।গৌরসুন্দরের প্রিয় পার্ষদ শ্রীরঘুনাথ দাসগোস্বামী প্রভৃতির ভজনে এই রহস‍্য সুপরিস্ফুট(সুন্দর স্পষ্টভাবে প্রকাশিত)।জীবের রাধাদাস‍িত্বের সংবাদটি একটি কথার কথা মাত্র নয়।জীবের দাসত্বও থাকবে মধুর রসের আস্বাদনও থাকবে কেবলমাত্র রাধাদাসীত্বের পরিচয় দ্বারাই এটি সম্ভব।শ্রীরাধার দাসীদের বলে সখী। সখীগণের একটি বিশেষ প্রকার-ভেদকে বলে মঞ্জরী।সখী বা মঞ্জরীর মধ্যে কিঞ্চিৎ পার্থক্য আছে।*
*সখীগণ রাধা কল্পলতার পুষ্প-পত্র স্থানীয়া।মঞ্জরীগণ লতার জীবনশক্তি স্বরূপা।লতার অঙ্গ-প্রত‍্যঙ্গ হলেও পত্রপুষ্পের কিঞ্চিৎ নিজ স্বতন্ত্র আছে।পত্রপুষ্পের সত্তা ছাড়াও লতার সত্তার সম্ভাবনা আছে।কিন্তু লতার জীবনী শক্তির লতাছাড়া বিদ‍্যমানতা নাই।অতএব শ্রীরাধাগোবিন্দের অন্তরঙ্গ সেবার সখীগণ অপেক্ষা মঞ্জরীগণের অধিকার অনেক বেশী। এই মঞ্জরীগণের আনুগত‍্যময় দাসীত্বেই জীবের প্রকৃত স্বরূপের পরাকাষ্ঠা অবস্থা বিরাজিত।তাই গৌরসুন্দর সনাতন শিক্ষায় রাগানুগা সাধনের রহস্যময় পথ বলেছিলেন।*
*🌷মনে নিজ সিদ্ধদেহ করিয়া ভাবন।*
*🌷রাত্রি দিনে করে ব্রজে কৃষ্ণের সেবন।।*
*🌺সিদ্ধদেহ বলতে মঞ্জরী-দাসী অভিমানবিশিষ্ট দেহ।এই দেহ জীবের সচ্চিদানন্দময় মাধুর্য‍্য ঘন দেহ।এই সাধনের দুইটি অঙ্গ,বাহ‍্য বা বাহির ও অন্তর।*
*🌷বাহ‍্য অন্তর ইহার দুইত সাধন।*
*🌳"বাহ‍্য সাধক-দেহে করে শ্রবণ কীর্তন" যার হৃদয়ে কৃষ্ণ-অনুরাগ আছে এমন ভক্তের মুখে ব্রজের রাগাত্মিকা ভক্তির প্রেমময় লীলাকথা শুনতে শুনতে সেবা পাবার জন্য যদি কারও চিত্তে লোভের উদয় হয়, "সেই গোপীভাবামৃত যার লোভ হয় " সেই ব‍্যক্তিই মঞ্জরীদাস‍্যে ভজন করতে পারে।বাইরের সাধনে প্রিয়তম "আপন" হবে।অন্তরের ভজনে আপনজনের সঙ্গে সেবায় আনুগত‍্যময়ী তন্ময়তা আসবে।মঞ্জরী চাহে শ্রীরাধার সুখ।শ্রীরাধা চাহেন শ্রীকৃষ্ণের সুখ।সাধক রাধাদাসী মঞ্জরী মাধ‍্যমে শ্রীকৃষ্ণের সুখ বিধান করবে।আনুগত‍্যময়ী একাত্মতায় কিশোরীর সঙ্গে নবকিশোরের নিত‍্য মিলনানন্দ আপনি (নিজে)আস্বাদন করবে।এই মিলন আনন্দের ঘনীভূত মূর্তিই আমার শ্রীগৌরাঙ্গসুন্দর।*
🦚🦚🦚🦚🦚🦚🙏🦚🦚🦚🦚🦚🦚


 ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧       
১৪৭. মাতৃভক্ত শিরোমণি নিমাইচাঁদ 🥀 সংক্ষিপ্ত কথন 🙏 ষষ্ঠ ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/07/mohaprobhu6.html
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
*(১৪৭)গৌরাঙ্গ মহাপ্রভু সঃ কথন*
    *মাতৃভক্ত শিরোমণি নিমাইচাঁদ*
    ××××××××××××××××××××××××
*🍀নিরন্তর ব্রজভাব সাগরে তন্ময় বা বিভোর থেকেও গৌরসুন্দর জন্মভূমি নদীয়া ও গর্ভধারিণী শচীমায়ের কথা ভুলেননি।অনন‍্য সাধারণ মাতৃভক্তির আদর্শ ছিলেন মহাপ্রভু গৌরহরি।প্রত‍্যেক বৎসর পন্ডিত জগদানন্দকে মহাপ্রভু নবদ্বীপে পাঠিয়ে দেন, উদ্দেশ্য-- জননীকে আশ্বাস দিবেন। জগদানন্দ মহাপ্রভু শ্রীমুখে বলেছেন, নবদ্বীপ যাও। মাকে নমস্কার দিও।আমার নামে মায়ের পাদপদ্ম ধরে দন্ডবৎ করিও।করে, বলিও-- তুমি যাকে মনে মনে ডাক, সে নিত‍্য এসে তোমার শ্রীচরণ বন্দনা করে যায়।যেদিন তোমার ইচ্ছা হয় তাকে আহার করাতে সেইদিনই আমি অতি অবশ‍্যই যাই।গিয়ে মায়ের দেওয়া দ্রব‍্যাদি আহার আদরে গ্রহণ করি। মাকে বলিও--আমি তাঁর সেবে ছেড়ে সন্ন‍্যাসী হয়েছি। আমি বাউল হয়েছি।আমার ধর্ম নাশ করেছি।আমার এই মহা অপরাধ জননী যেন গ্রহণ না করেন।আমি সর্বদা মায়েরই অধীন।মায়েরই পুত্র মায়ের আদেশেই নীলাচলে আছি।যতকাল বাঁচব এখানেই থাকব।জগদানন্দ যাবার সময় তার হাতে মহাপ্রভু মায়ের জন্য উত্তম বস্ত্র পাঠান।জগন্নাথের মহাপ্রসাদ পাঠান।অবশ‍্য সকল ভক্তদেরও পাঠান।মায়ের জন্য বিশেষ করে আলাদাভাবে অতিযত্নে উত্তম প্রসাদ পাঠান।জগদানন্দ নদীয়াতে শচীমাকে সব কথা বলেন, মা,কোন কোন দিন গৌরহরি আমাদের দেওয়া প্রসাদ খান না, বলেন-- "মাতা আজি খাওয়াইল আকন্ঠ পুরিয়া"।মহাপ্রভু বলেন, আমি যাই ভোজন করি মা জানেন না। বুঝতে পারেন না।আমি সাক্ষাতে যাই মা মনে করেন স্বপ্ন দেখেন।জগদানন্দের কথা শুনে শচীমা বলেন, বাবা জগদানন্দ!আমি যেদিন একটু ভাল ব‍্যঞ্জনাদি রন্ধন করি সেদিন খুব ইচ্ছা হয় নিমাইকে এসব খাওয়াইব।তারপর দেখি নিমাই খাচ্ছে। কিন্তু নিজের চোখকে বিশ্বাস হয় না।"পাছে জ্ঞান হয়  মুই দেখিনু স্বপন"।জগদানন্দের মুখে নিমাইয়ের কথা শুনে মায়ের বিশ্বাস হল,যা দেখেন তাইই সত‍্যই।নিমাইয়ের ভক্তি কথা শুনে জননী অভিভূত হলেন।জগদানন্দ যতদিন নবদ্বীপে থাকেন রাতদিন শচীমায়ের পাশে বসে গৌরহরির লীলাখেলার কথা বলেন।এতে মায়ের আনন্দের সীমা থাকে না। পুত্র বিরহ বেদনা ভুলে যান।মাতৃভক্ত মহাপ্রভু এইজন‍্য প্রতি বৎসর জগদানন্দকে নবদ্বীপ পাঠান।*
🙏🙏🙏🙏🙏🙏🌻🙏🙏🙏🙏🙏🙏


 ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧       
১৪৮. অদ্বৈতাচার্য‍্যের তরজা 🥀 সংক্ষিপ্ত কথন 🙏 ষষ্ঠ ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/07/mohaprobhu6.html
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
*(১৪৮)গৌরাঙ্গ মহাপ্রভু সঃ কথন*
            *অদ্বৈতাচার্য‍্যের তরজা*
            ©®©®®©®©®©®©
*🌵জগদানন্দ পন্ডিত যখন নবদ্বীপ যান তখনই শ্রীঅদ্বৈতাচার্য‍্যের সঙ্গে দেখা করেন।এইবার দেখা করতে গেলে একটি অভূতপূর্ব ঘটনা ঘটিল। জগদানন্দের মাধ‍্যমে আচার্য‍্যগোঁসাই মহাপ্রভুকে একটি প্রহেলী তরজা পাঠালেন।এরকম আর কোনদিনই করেননি।তরজাটিতে এই কয়টি কথা মাত্র=*
*🌷বাউলকে কহিও লোক হইল বাউল।*
*🌷বাউলকে কহিও হাটে না বিকায় চাউল।।*
*🌷বাউলকে কহিও কাজে নাহিক আউল।*
*🌷বাউলকে কহিও ইহা কহিয়াছে বাউল।।*
*🌹তরজা শুনে জগদানন্দ হাসিলেন,নীলাচলে পৌঁছিয়ে মহাপ্রভুকে জানালেন।মহাপ্রভুও তরজা শুনে ঈষৎ হাসিলেন।তারপর বললেন--,"তার সেই আজ্ঞা"। স্বরূপদামোদর তর্জা ও মহাপ্রভুর উত্তর শুনে জিজ্ঞাসা করলেন-- এই তর্জার অর্থ কি?মহাপ্রভু উত্তর দিলেন--, "আচার্য‍্য অতি উত্তম পূজক।তিনি অসীম শাস্ত্রের বিধি বিধানে অতি নিপুণ। উপাসনা করতে হলে সবার আগে দেবতাকে আবাহন করতে হয়।পূজা শেষ হলে আবার দেবতাকে বিসর্জন দিতে হয় "। এই কথা বলে গৌরহরি আবার বললেন, "তর্জার কি যে অর্থ আমিও বুঝি নাই।মহাযোগেশ্বর অদ্বৈত আচার্য‍্যই এইরকম তর্জা বলতে সমর্থ। এর কি যে অর্থ তা আমি বুঝতে পারি না।মহাপ্রভুর উত্তর শুনে সকল ভক্তগণ বিস্মিত হলেন।স্বরূপ দামোদর বিমনা হলেন।ভাবনিধি মহাপ্রভুর কৃষ্ণ বিরহ বেদনা সেই হতে দ্বিগুণ বাড়তে লাগল।*
👣👣👣👣👣👣👣👣👣👣👣👣


 ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧       
অন্তিম পর্ব 👉 ১৪৯. শ্রীশ্রীগৌরসুন্দরের অপ্রকট লীলা 🥀 সংক্ষিপ্ত কথন 🙏 ষষ্ঠ ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/07/mohaprobhu6.html
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
*(১৪৯)গৌরাঙ্গ মহাপ্রভু সঃ কথন*
*শ্রীশ্রীগৌরসুন্দরের অপ্রকট লীলা*
😭😭😭😭😭😭😭😭😭😭
*💧এসব লীলার কভু নাহি পরিচ্ছেদ।*
*💧"আবির্ভাব" "তিরোভাব" মাত্র কহে বেদ।।*
*🌻শ্রীগৌরহরির মহা আবির্ভাব ১৪০৭ শকে ফাল্গুন মাসে পূর্ণিমা তিথিতে।সন্ন‍্যাস গ্রহণ ১৪৩১ শকে মাঘ মাসে উত্তরায়ণ সংক্রান্তি দিবসে। তিরোভাব ১৪৫৫ শকে আষাঢ় মাসে,সপ্তমী তিথিতে।লীলাজীবন ৪৭ বৎসর ০৪ মাস। কেউ কেউ একবছর পরেও বলেন*
*🍀শ্রীগৌরহরির প্রত‍্যেকটি দিনই শ্রীজগন্নাথদেব দর্শন করতে যেতেন।আজও দর্শনে বাহির হয়েছেন। তৃতীয় প্রহর বেলায় কাশীমিশ্রের গৃহ হতে বাহির হয়েছেন।মন্দিরে প্রবেশ করে শ্রীজগন্নাথের শ্রীবদনপানে চাহিবা মাত্রই মন্দিরের কপাটগুলি বন্ধ হয়ে গেল।কেন এমন হল? ইচ্ছাময়ের ইচ্ছাই একমাত্র কারণ।শ্রীজগন্নাথের শ্রীমুখারবিন্দ দর্শন করতে করতে প্রেমময় মহাপ্রভু দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে কহিলেন=*
*🍁কৃপাকর জগন্নাথ পতিত পাবন।*
*🍁কলিযুগ আইল এই দেহত শরণ।।*
*🍀এইকথা বলেই গৌরহরি জগন্নাথদেবকে বক্ষে চেপে ধরে আলিঙ্গন করলেন।সেই ভাবেই শ্রীজগন্নাথবিগ্রহে বিলীন হয়ে গেলেন।*
*🌷এ বোল বলিয়া সেই ত্রিজগত রায়।*
*🌷বাহু ভিড়ি আলিঙ্গন তুলিল হিয়ায়।।*
*🌷তৃতীয় প্রহর বেলা রবিবার দিনে।*
*🌷জগন্নাথে লীন প্রভু হইলা আপনে।।*
*🌻লীলা গ্রন্থকারগণের মধ্যে একমাত্র শ্রীলোচনদাস শ্রীচৈতন‍্যমঙ্গল গ্রন্থে একেবারে শেষ অধ‍্যায়ে এই লীলার বর্ণনা দিয়াছেন।আষাঢ় মাসের সপ্তমী তিথিতে শ্রীজগন্নাথদেবের গুন্ডিচা মন্দিরেই থাকা সম্ভব।রথ দ্বিতীয়ার পরবর্তী সপ্তমী যদি হয় তাহলে সেদিন জগন্নাথদেব গুন্ডিচা মন্দিরেই ছিলেন।এইকথা ঠিক হলে সচল অচল পুরুষোত্তমের মহামিলন গুন্ডিচা মন্দিরেই সংঘটিত হয়েছিল। শ্রীলোচনদাসজীর বর্ণনাও তাইই বলে=*
*🍀গুঞ্জা বাড়ী মধ্যে প্রভু হৈল অদর্শন।*
*🌹একজন প্রত‍্যক্ষ দ্রষ্টার কথাও উল্লেখ করেছেন।গুঞ্জা বাড়ীতে একজন ব্রাহ্মণ পান্ডা ছিলেন।তিনি এই লীলা সাক্ষাৎ দর্শন করেছিলেন।*
*🌺গুঞ্জা বাড়ীতে ছিল পান্ডা যে ব্রাহ্মণ।*
*🌺সাক্ষাৎ দেখিল গৌর প্রভুর মিলন।।*
*🌲মন্দিরের দরজাগুলি বন্ধ হওয়ায় যে সকল ভক্তগণ বাইরে পড়েছিলেন তাঁরা ঐ ব্রাহ্মণকে দেখেছিলেন।তারা ঐ ব্রাহ্মণকে বললেন=*
*🌷বিপ্রে দেখি ভক্ত কহে শুনহ পড়িছা।*
*🌷ঘুচাহ কপাট প্রভু দেখিতে বড় ইচ্ছা।।*
*🌹তিনি কপাট খুললেন,ভক্তগণের আর্তি দেখে। তিনি তাঁদের কাছে সব কথা বললেন।*
*🌻নিশ্চয় করিয়া কহি শুন ভক্তগণ।*
*🌹সুতরাং কোন সংশয়ের অবকাশ নাই।আমরা শুধু একটা কথা ভাবি।যে শ্রীদেহখানিতে শ্রীগৌরসুন্দর মিলিয়ে গেলেন রাজা প্রতাপরুদ্র সেই বিগ্রহখানিকে বিশেষ যত্ন সহকারে রেখে দিলেন না কেন?যদি দিতেন তাহলে আমরা হতভাগ‍্য জীবগণ সেই মিলিত বিগ্রহ দর্শন স্পর্শন করে ধন‍্য হতে পারতাম।শ্রীশ্রীপ্রভু জগবন্ধু সুন্দর বহুতীর্থ পর্য‍্যটন করেছেন। নীলাচল ধামে কখনও যাননি।কোন ভক্ত, না যাবার কারণ জিজ্ঞাসা করলে প্রভু অতীব গম্ভীর ভাবে উত্তর দিয়েছিলেন=*
*🔥ওখানে গেলে এ দেহ গলে যাবে রে।*
*🌻এই বেদনাপূর্ণ ভাষাও প্রমাণ করে যে শ্রীলোচনদাসজীর বর্ণিত কাহিনী একেবারেই সত‍্য। সুতরাং অপ্রকট লীলার মধ্যে ভক্তগণের আস্বাদন ব্রজের পুরুষোত্তম ও নদীয়ার পুরুষোত্তমের মিলন মধুরিমা। অকস্মাৎ গৌরসুন্দরের বিরহে প্রিয় পার্ষদগণের কি অবস্থা হল?তাঁরা দিন দিন ক্ষীণতর হতে লাগলেন ঘন ঘন রুদ্ধশ্বাস ফেলতে লাগলেন।শ্রাবণের ধারার মত নয়নে অশ্রুপাত হতে লাগল।প্রিয়তমের গুণ স্মরণ করে আকুল ভাবে বিলাপ করতে লাগলেন।তাঁদের বিলাপ ফাক‍্য কবি কর্ণপুরের ভাষায় বলি=*
*🌷হা গৌরাঙ্গ প্রিয়তম হা হা হা প্রভো দীনবন্ধো।*
*🌷হা হা কষ্টং নিজ-ধন-জন-প্রাণ-জাতি-স্বরূপ*।।
*ইত্থং ভূয়ঃ করুণ-করুণঃ ক্রন্দতাং বাক্ প্রবন্ধ।*
*শ্চিত্তং ভিত্তীরপিচ শতধা হস্ত সঘঃ করোতি।।* *(১|১৫)*
*🌹হে প্রাণপ্রিয়!হে দীননাথ! হে প্রভো!হে গৌরাঙ্গ!হে করুণাময়! তুমি আমাদের ধন জন প্রাণ ও জাতি স্বরূপ হয়ে  আমাদেরকে পরিত‍্যাগ করে কোথায় গেলে?এই বিলাপের করুণ স্বর যাঁদের কানে প্রবেশ করল তাঁদেরও হৃদয় ভিত্তি শতধা বিদীর্ণ হতে লাগল।*
😭😭😭😭😭😭😭😭😭😭😭😭
*🙏শ্রীগৌরাঙ্গ মহাপ্রভু সংক্ষেপ কথন এখানেই বিরাম হইল, লেখার মধ্যে বানান, ভুল ভ্রান্তি হলে মার্জনা করবেন।জয় জয় নিতাই গৌর সীতানাথ প্রেমানন্দে হরি হরি হরিবল🙌।*
 ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
   ✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️ 
নিবাস- বাঁশবাড়ী, কীর্তন মন্দিরের পাশে, পোঃ- বাঁশবাড়ী, থানা- ইংরেজ বাজার, জেলা- মালদহ, পশ্চিমবঙ্গ, পিন কোড- ৭৩২১০১।
 ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
    *••••┉━❀꧁ 🙏 রাধে রাধে 🙏 ꧂❀━┅••••* 
                   শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য প্রভু নিত্যানন্দ
              হরে কৃষ্ণ হরে রাম শ্রীরাধেগোবিন্দ।।
  *••••┉━❀꧁ 🙏 জয় জগন্নাথ 🙏 ꧂❀━┅••••*
              হরে কৃষ্ণ হরে কৃষ্ণ কৃষ্ণ কৃষ্ণ হরে হরে
              হরে রাম হরে রাম রাম রাম হরে হরে॥
  *••••┉━❀꧁ 🙏 জয় রাধাকান্ত 🙏 ꧂ ❀━┅••••*
   💮❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀💮
   💮❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀💮
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧



শ্রীগৌরাঙ্গ মহাপ্রভু 🥀 সংক্ষিপ্ত কথন 🙏 পঞ্চম ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/07/mohaprobhu5.html

 ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧       
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
  *••••┉❀꧁👇🏠Home Page🏠👇꧂❀┅••••* 
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
    *••••━❀꧁👇 📖 সূচীপত্র 📖 👇꧂❀┅••••* 
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
     *••••━❀꧁👇📚 PDF গ্রন্থ 📚👇꧂❀┅••••* 
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
  *•❀꧁ 📖সূচীপত্র 🙏 শ্রী জয়দেব দাঁ 📖 ꧂❀•* 
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
            ꧁ শ্রীগৌরাঙ্গ মহাপ্রভু 🙏 প্রথম ভাগ 
          ꧁ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ ꧂
       এই লিংকে ⬇️⬇️⬇️🙏⬇️⬇️⬇️ ক্লিক করুন 
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧         
       ꧁ শ্রীগৌরাঙ্গ মহাপ্রভু 🙏 দ্বিতীয় ভাগ 
          ꧁ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ ꧂
       এই লিংকে ⬇️⬇️⬇️🙏⬇️⬇️⬇️ ক্লিক করুন 
 ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧         
       ꧁ শ্রীগৌরাঙ্গ মহাপ্রভু 🙏 তৃতীয় ভাগ 
          ꧁ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ ꧂
       এই লিংকে ⬇️⬇️⬇️🙏⬇️⬇️⬇️ ক্লিক করুন 
 ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧       

১০১. শ্রীহরিদাস নির্য‍্যাণ(৪) 😭 শ্রীগৌরাঙ্গ মহাপ্রভু 🥀 সংক্ষিপ্ত কথন 🙏 পঞ্চম ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/07/mohaprobhu5.html

  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
*(১০১)গৌরাঙ্গপ্রভু সংক্ষেপ কথন*
            *শ্রীহরিদাস নির্য‍্যাণ*
           °°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°
*🍀হরিদাস ঠাকুরের অবস্থাটি দেখে সকলের মনে পড়ল ভাগবতশাস্ত্রে বর্ণিত ভীষ্মদেবের নির্য‍্যাণের কথা। ভক্তবৎসল‍্যতার ঘনীভূত মূর্তি শ্রীগৌরাঙ্গ সুন্দর ভক্তরাজের দেহখানি নিজকোলে তুলে নিয়ে অঙ্গন ভরে নাচতে বেড়াতে লাগলেন কীর্তনের সঙ্গে সঙ্গে সমান তালে মহাপ্রভুকে ক্লান্ত দেখে স্বরূপ দামোদর মহাপ্রভুর সামনে করজোড়ে দাঁড়ালেন।মহাপ্রভু নিরস্ত(বিরত) হলেন।ভক্তবরের শ্রীদেহ বিমানে চড়িয়ে কীর্তন করতে করতে সমুদ্রতীরে নিয়ে যাওয়া হল।মহাপ্রভু একই ভাবে সঙ্গে নাচছেন। কীর্তনানন্দও চলছে।সমুদ্রতীরে নিয়ে গিয়ে মহাপ্রভু ভক্তের দেহ নিজ হাতে স্নান করালেন।স্নান শেষ করে একটি মহামূল‍্যবান বাণী বললেন= "আজি হতে এই সমুদ্র মহাতীর্থ হল"।সমুদ্র তো চিরকালই তীর্থ,কারণ সকল পবিত্র নদী সমুদ্রে গিয়ে মিলেছে।আজ তীর্থ,মহাতীর্থে পরিণত হল, শ্রীহরিদাসের অপ্রকৃত দেহস্পর্শে। হরিদাস কখনও সমুদ্রে নেমে স্নান করতেন না।ভয়ে সমুদ্রজলে পা লাগবে।হরিদাসের অঙ্গ বহে জল পড়ছে।চরণ বহে যে জল পড়ছেতা সকলে হাত পেতে পান করতে লাগলেন।বাসুদেব সার্বভৌম প্রমুখ ব্রাহ্মণ ভক্তগণও।জগন্নাথের মন্দির হতে প্রসাদী বস্ত্র আসিল।তা মহাপ্রভু হরিদাসের অঙ্গে জড়িয়ে দিলেন ও প্রসাদী চন্দন মাখিয়ে দিলেন।শ্রীমুখে হরিবোল হরিবোল উচ্চারণ করতে করতে স্বয়ং ভগবান গৌরহরি নিজ হাতে হরিদাসকে সমাহিত (সমধিস্থ) করে অঙ্গে বালু দিয়ে ঢাকলেন।তার উপর পিন্ড বাধাইলেন। আবার তা ঘিরে ঘিরে কীর্তন চলিল।হরিধ্বনি কোলাহলে পৃথিবী যেন পূর্ণ হয়ে গেল।*
*🙌জয় শ্রীনামাচার্য‍্য হরিদাসের জয়🙌*

 ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧       

১০২. শ্রীহরিদাসের মহোৎসব (৫) 😭 শ্রীগৌরাঙ্গ মহাপ্রভু 🥀 সংক্ষিপ্ত কথন 🙏 পঞ্চম ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/07/mohaprobhu5.html

  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
*(১০২)গৌরাঙ্গপ্রভু সংক্ষেপ কথন*
            *শ্রীহরিদাসের মহোৎসব*
          ^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^
*🌻সমুদ্রতীরে লোকারণ‍্য।তুমুলভাবে কীর্তন চলছে। এর মধ্যে মহাপ্রভুর অন্তর্ধ‍্যান। কখন কোন দিক দিয়ে গেলেন মহাপ্রভু,কেউ লক্ষ্য করতে পারলেন না। মহাপ্রভু শ্রীমন্দিরের সিংহদ্বারে ছুটে এসেছেন।আনন্দবাজারে অন্ন-ব‍্যঞ্জন বিক্রি হয়।পসারিদের সামনে দাঁড়িয়ে নিজ বহির্বাসের আঁচল পেতে মহাপ্রভু চাহিছেন।বলছেন,আমি আমার হরিদাসের নির্য‍্যাণ (মুক্তি বা মোক্ষ) মহোৎসব করব।সকলে আমাকে মহাপ্রসাদ ভিক্ষা দিন।কি কারুণ‍্যের দৃশ‍্য। ভক্ত বৎসলতা যেন মূর্তি ধরে দাঁড়িয়ে আছে। ভক্তগণ করজোড়ে মহাপ্রভুকে গম্ভীরায় পাঠিয়ে দিলেন।নিজেরা ভিক্ষা করে ক্রয় করে বহু প্রসাদান্ন নিয়ে গম্ভীরায় আসিলেন।কাশীমিশ্র অনেক প্রসাদ পাঠালেন। ভক্তগণের পাতে মহাপ্রভু নিজ হাতে প্রসাদ পরিবেশন করতে আরম্ভ করলেন। মহাপ্রভু আগে গ্রহণ না করলে তো কেউই সেবা নিবেন না। তাই স্বরূপের অনুনয়ে মহাপ্রভু বসিলেন। সেদিন গৌরহরির ভিক্ষার নিমন্ত্রণ ছিল কাশী মিশ্রের গৃহে। কাশী মিশ্র নিজেই প্রসাদ নিয়ে গম্ভীরায় আসিলেন।সকল বৈষ্ণবগণ সঙ্গে শ্রীগৌরাঙ্গ মহোৎসবে প্রসাদ নিতে বসিলেন।সকলে আকন্ঠ প্রসাদ নিলেন।তারপর নিজ শ্রীহস্তে ভক্তগণকে মালাচন্দন পরিয়ে দিয়ে বললেন, "আজিকার হরিদাসের এই বিজয়োৎসব যারা দর্শন করেছে, যারা তার শ্রীঅঙ্গে বালুকা দিয়েছে,যারা এই মহোৎসবে প্রসাদ নিয়েছে, সকলের অচিরে শ্রীকৃষ্ণপাদপদ্ম প্রাপ্তি ঘটবে।এই বর দিলাম। নিজে পরম দৈন‍্যে ভক্ত বিরহে ব‍্যথিত-কন্ঠে কহিলেন, "করুণাময় কৃষ্ণ কৃপা করে আমাকে হরিদাসের মতো ভক্তের সঙ্গ দিয়েছিলেন।আজ সেই সঙ্গ ভঙ্গ হল।শ্রীকৃষ্ণের ইচ্ছেতেই হল। হরিদাস যখন ইচ্ছা করিল আমাকে ছেড়ে চলে যাবে,তখন আমার শক্তি হল না হরিদাসকে রেখে দিই। হরিদাস ছিল এই বিশ্বজগতের একটি মহারত্ন।তাকে হারিয়ে বিশ্বজগৎ রত্ন হারা হল।মধুর বাণী শুনে ভক্তবর্গ আনন্দ সমুদ্রে ডুবে গেলেন।জয় হরিদাস,জয় হরিদাস,জয় জয় হরিদাস ধ্বনি দিতে দিতে সকলে গৃহে গমন করলেন।*
*🙌জয় নামাচার্য‍্য হরিদাসের জয়🙌*

 ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧       

১০৩. শ্রীহরিদাসের মহোৎসব (৬) 😭 শ্রীগৌরাঙ্গ মহাপ্রভু 🥀 সংক্ষিপ্ত কথন 🙏 পঞ্চম ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/07/mohaprobhu5.html

  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
*(১০৩)গৌরাঙ্গপ্রভু সংক্ষেপ কথন*
            *হরিদাস ঠাকুরের কথা*
            °°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°
*🌻ঠাকুর হরিদাসের অভূতপূর্ব তিরোভাবের কথা বলা হল,তার পূর্বে জীবন সম্বন্ধে কিছু বলা প্রয়োজন। গৌরসুন্দর সেই সব কথা ভক্তসমক্ষে পঞ্চমুখে গাহিয়াছেন, যত বলেন তত সুখী হন।*
*হরিদাসের গুণ কহিবে প্রভু হৈলা পঞ্চমুখ।*
*কহিতে কহিতে প্রভুর বাঢ়ে মহাসুখ।।*
*🍀খুলনা জেলায় বুড়ন গ্রামে মুসলমানের গৃহে লালন পালন।তার গুরু কে জানা যায় না।কোথা হতে ভক্তি সম্পদ লাভ করলেন তা কাওকেই বলেন নাই।অনেকে বলেন অদ্বৈতাচার্য‍্য তাঁর গুরু। কিন্তু আচার্য‍্যের সঙ্গে মিলন হবার আগেই তিনি ছিলেন নামে প্রেমে মাতোয়ারা। যশোহর জেলার বেনাপোল গ্রামের বনের মধ্যে একটি ছোট কুটিরে তিনি বাস করতেন।প্রাতঃস্নান,তুলসীসেবা ও নাম জপ,নামকীর্তন ইহাই ছিল ভজন।মাসে এককোটি নাম করবেন ইহা ছিল তাঁর ব্রত।বনগাঁয়ের জমিদার রামচন্দ্র খাঁন গাঁয়ের লোক তাঁকে ভক্তি না করে, হরিদাস ঠাকুরকে ভক্তি করে,এটি খাঁনের অসহ‍্য।লক্ষহীরা নামে এক বারবনিতাকে পাঠাল হরিদাসের কাছে চরিত্র নষ্ট করতে। লক্ষহীরা পরপর তিনদিন রাত গেল হরিদাসের কুটিরে। তিনি সর্বদাই নামজপে নিমগ্ন।তার মতলব সাধনের সময়ই পাওয়া গেল না। বরং হরিদাসের মুখে নাম শুনতে শুনতে লক্ষহীরা অনুতপ্ত হয়ে চরণে পড়ে কেঁদে পড়িল।হরাদাস তাকে মন্ত্র দিয়ে নিজ ভজন কুটিরে তাকে ছেড়ে দিয়ে চাঁদপুর চলে যান। তারপর লক্ষহীরা হল ভিখারিনী কৃষ্ণ দাসী।নিত‍্য তিনলক্ষ নাম জপ করে।হরিদাস মুসলমান হয়ে হিন্দুর আচরণ করে নালিশ গেল মুলুকপতির কাছে।মুলুকপতির হুকুম,হরিনাম ত‍্যাগ কর। নৈলে বাইশ বাজারে বেত মারা হবে।হরিদাস বললেন, "খন্ড খন্ড হয়ে দেহ যদি যায় প্রাণ।তভো আমি বদনে না ছাড়িব হরিনাম।।" ধীর প্রশান্ত নীরব হয়ে বাইশবাজারে বেত্রাঘাত সহ‍্য করলেন কিন্তু মরলেন না।কোন হাহুতাশ করলেন না।শুধু শ্রীহরিকে বললেন যারা মারছে তাদের ক্ষমা করো।হরিদাসের মৃতকল্প দেহ জলে ফেলে দিল। তিনি ভেসে গিয়ে ফুলিয়ায় উঠলেন। আবার ভজন আরম্ভ করলেন। হরিদাসের গোফার গর্তে এক সাপ।তার বিষের জ্বালায় সমাগত লোকদের দেহ জ্বলে।হরিদাস সর্পকে বললেন, "এ গোফায় হয় তুমি থাক নয় আমি থাকি।" ভীষণ বিষধর সর্প।হরিদাসের কথা শুনে বাহির হয়ে চলে গেল।নবদ্বীপে সাতপ্রহরিয়া ভাবের সময় মহাপ্রভু গৌরসুন্দর দেখিয়েছিলেন, হরিদাসের পিঠের বেতের দাগগুলো সবই তাঁর পিঠে।নীলাচলে থাকাকালে গৌরসুন্দর-- সিদ্ধ বকুলে নিজ সান্নিধ‍্যে হরিদাসের থাকার ও প্রসাদের ব‍্যবস্থা করে দিয়েছিলেন।তাঁর সম্বন্ধে মহাপ্রভু বলেছেন,"হরিদাস ছিল পৃথিবীর শিরোমণি।তাহা বিনে রত্নশূন‍্য হইল মেদিনী।।"*
🙌🙌🙌🙌🙌🙌🙌🙌🙌🙌🙌🙌🙌🙌

 ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧       

১০৪. জগদানন্দের মান 🌼 শ্রীগৌরাঙ্গ মহাপ্রভু 🥀 সংক্ষিপ্ত কথন 🙏 পঞ্চম ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/07/mohaprobhu5.html

  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
*(১০৪)গৌরাঙ্গপ্রভু সংক্ষেপ কথন*
            *জগদানন্দের মান*
             ******************
*🌷পন্ডিত জগদানন্দ মহাপ্রভুর অসীম প্রেমের পাত্র।সকল ভক্তই মহাপ্রভুর শ্রীচরণ কাছে অবনত মাথায় থাকেন। মহাপ্রভুর কোন কথায় বা কাজে অভিমান করবার সামর্থ‍্য নাই।সেই সামর্থ‍্য জগদানন্দের আছে।তাই ভক্তসমাজ তাঁকে বলেন সত‍্যভামার অবতার। মহাপ্রভুর আদেশে জগদানন্দ নবদ্বীপ ধামে গিয়েছেন। গৌরহরি স্বয়ং জননীকে প্রসাদী বস্ত্র দিয়েছেন,তা নিবেদন করলেন,জগদানন্দ বললেন মা,মাঝে মাঝে মহাপ্রভু আহার করেন না। বলেন,আমার নবদ্বীপ হতে মায়ের রান্না আকন্ঠ খেয়ে আসিলাম।মা বললেন-- বাবা,মাঝে মাঝে যেন এইরকম তোকে দেখি।মনে হয় আমার নিমাই খাচ্ছে।শেষে স্বপ্ন বলে ভাবি। তোমার কথায় বুঝলাম স্বপ্ন নয় সত‍্যই। মহাপ্রভুর শ্রীদেহ নবনী অপেক্ষাও সুকোমল।তাতে তেল মাখেন না।মাঝে মধ্যে কেমন যেন রুক্ষ রুক্ষ দেখা যায়। জগদানন্দের ইচ্ছা গৌরহরির শ্রীঅঙ্গে তেল মাখাবেন।শিবানন্দ সেনের গৃহে কয়েকদিন থেকে মনের মত চন্দনাদি সুগন্ধী তেল তৈরী করে এক গাগরী (কলসি)ভরে মাথায় করে বহন করিয়া নীলাচলে আসিলেন।গোবিন্দের কাছে তেল ভান্ড রেখে বললেন-- নিত‍্য গৌরহরির শ্রীঅঙ্গে দিও। গোবিন্দ মহাপ্রভুকে জানালেন, জগদানন্দ এক কলসী সুগন্ধি তেল এনেছেন আপনার জন্য।শুনে মহাপ্রভু অসন্তোষ প্রকাশ করে বললেন-- সন্ন‍্যাসীর তেলে অধিকার নাই। জগন্নাথ মন্দিরে দিয়ে দাও।সেখানে প্রদীপ জ্বলবে।জগদানন্দের পরিশ্রম সার্থক হবে।তেল সম্বন্ধে গৌরাঙ্গের যে উক্তি তা গোবিন্দদাস জগদানন্দকে জানিয়ে দিলেন। জগদানন্দ মৌন থাকলেন--কিছু বললেন না।দিন দশেকের পর গোবিন্দ আবার মহাপ্রভুকে তেলের কথা বললেন।শুনে মহাপ্রভু ক্রোধে বললেন, "একজন মর্দনিয়া রাখ, তেল মর্দন করতে।আমার হবে সর্বনাশ!তোমাদের হবে পরিহাস।"পরদিন সকালে গৌরহরি জগদানন্দকে কহিলেন,তোমার আনা তেল আমি ব‍্যবহার করব না। তেল শ্রীমন্দিরে দাও, প্রদীপ জ্বলবে।তখন জগদানন্দ তীব্রভাবে বললেন-- কে বলেছে আমি গৌড় হতে তেল এনেছি, এইকথা বলেই ঘর হতে তেলের কলসী এনে মহাপ্রভুর সামনে আঙ্গিনার মধ্যে ভেঙ্গে ফেললেন।তেলপাত্র ভেঙ্গে জগদানন্দ নিজ ঘরে গিয়ে কপাট খিল দিয়ে শুয়ে থাকলেন।একদিন দুইদিন একইভাবে গেল।তৃতীয় দিনে মহাপ্রভু স্বয়ং জগদানন্দের দুয়ারে এসে বললেন--আমি আজ তোমার এখানে ভিক্ষা নিব,তুমি উঠে রন্ধন কর।জগদানন্দ উঠে যথাযথ রন্ধনাদি করলেন।মহাপ্রভু মধ‍্যাহ্নে আসিলেন।চরণ প্রক্ষালন করে জগদানন্দ বসতে দিলেন ও আহার্য‍্য পাতে পরিবেশন করতে লাগলেন। গৌরহরি বললেন, "দুইটি পাতে অন্নব‍্যঞ্জন বাড়। তোমাতে আমাতে একত্র ভোজন করব।" জগদানন্দ তাতে রাজী হলেন না,বললেন--তুমি আগে সেবা কর, সেবা করতে করতে গৌরচাঁদ বললেন, আহা!কি উত্তম পাক!আপনি কৃষ্ণ খাবেন বলিয়া তোমার হাতে এ উত্তম পাক(রন্ধন)করিয়েছেন।জগদানন্দ বললেন--যে খাবে সেই পাককর্তা। বলতে বলতে পন্ডিত প্রভুর পাতে দিতে লাগলেন, মহাপ্রভু ভয়ে ভয়ে সেবা করতে লাগলেন আর বলতে লাগলেন-- "রাগ করে রাঁধলে রান্না বেশী ভাল হয় "। জগদানন্দর ভয়ে অন‍্যদিন হতে মহাপ্রভু আজ দশগুণ আহার করলেন।আর সেবা করতে না পেরে সবিনয়ে বললেন--"দশগুণ খাইয়েছ, এখন সমাধান কর"।গৌরহরি উঠিলেন।গোবিন্দকে বসিয়ে রাখলেন, যাতে জগদানন্দ প্রসাদ পায়, জগদানন্দ বললেন=গোবিন্দ! তুমি গিয়ে প্রভুর চরণসেবা কর। বলবে আমি ভোজনে বসিলাম।মহাপ্রভু গোবিন্দকে আবার ফিরিয়ে দিয়ে বললেন, পন্ডিত সেবায় বসিলে তুমি এসে আমার চরণসেবা করিও। জদানন্দের "প্রেমবিবর্ত" বিশ্বজগতে অতুলনীয়। মহাপ্রভু কলার শরলাতে শয়ন করেন দেখে জগদানন্দ তুলা দিয়ে একটি বালিশ তৈরী করিয়ে দিলেন।গৌরহরি কিছুতেই তা গ্রহণ করলেন না।রাগ করে বিদ্রূপের ভাষায় বললেন=*
*"এখন একখানি ভাল খাট আনহ পাড়িতে।*
*জগদানন্দ চাহে আমায় বিষয় ভুঞ্জাইতে।।"*
*🌹তখন স্বরূপ দামোদর অনেকগুলো কদলীর শুকনো পত্র আনলেন।তা নখে চিড়ে আরও সূক্ষ্ম করলেন।তা মহাপ্রভুর বহার্বাসে তরিয়া দিয়ে দুইটি বালিশ করলেন। গৌরহরি তা গ্রহণ করলেন।*
*"তাতে শয়ন করেন প্রভু,দেখি সবে সুখী।*
*জগদানন্দ মনে ক্রোধ,বাহিরে মহাদুঃখী।।"*
*🌻সন্ন‍্যাস জীবনে মহাপ্রভুর কঠোরতা অতীব শিক্ষাপ্রদ।শাস্ত্রের নিয়ম কখনো লঙ্ঘন করেন নাই। কাউকেও কিছু শিক্ষা দিতে হলে আপনি আচরণ করাই উত্তম।*
🙌🙌🙌🙌🙌🙌🙌🙌🙌🙌🙌🙌🙌

 ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧       

১০৫. কালিদাসের প্রতি কৃপা 🌼 শ্রীগৌরাঙ্গ মহাপ্রভু 🥀 সংক্ষিপ্ত কথন 🙏 পঞ্চম ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/07/mohaprobhu5.html

  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
*(১০৫)গৌরাঙ্গপ্রভু সংক্ষেপ কথন*
           *কালিদাসের প্রতি কৃপা*
             ^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^
*🍀প্রতিদিন মহাপ্রভু শ্রীজগন্নাথদেব দর্শনে যান।গোবিন্দ যায় গৌরহরির সঙ্গে জলের করঙ্গ নিয়ে।সিংহদ্বারের উত্তরদিকে কবাটের আড়ে একটি গর্ত আছে।সেই গর্তে মহাপ্রভু নিত‍্য পাদ প্রক্ষালন করে বাইশ পাউস-বাইশটি সিঁড়ি পার হয়ে শ্রীমন্দিরে উঠেন ও জগন্নাথ  দর্শন করেন। গোবিন্দকে গৌরহরি নিষেধ করে দিয়েছেন আমার পা ধোয়া জল যেন কেউ গ্রহণ  না করে।অতি অন্তরঙ্গ ভক্তেরা ছল চাতুরী করে কখনও কখনও ঐ চরণামৃত গ্রহণ করেন।অন‍্য কেউ পায় না।একদিন মহাপ্রভু শ্রীচরণ প্রক্ষালন করছেন কবাটের আড়ালে।এতবড় ভাগ‍্যবান সে লাভ করল কোন সুকৃতির ফলে তা বলছি।কালিদাসের সঙ্কল্প ছিল সকল বৈষ্ণবের অধরামৃত গ্রহণ করবে।ব্রাহ্মণ হোক,শূদ্র হোক, ছোট হোক,বড় হোক কোন বাছ বিচার নাই।বৈষ্ণব পেলেই তাঁর উচ্ছিষ্ট খাবেন তিনি।নীলাচলের যত বৈষ্ণব আছেন সকলের উচ্ছিষ্ট তিনি খেয়েছেন।একমাত্র বাকী সে হল ঝড়ু ঠাকুর।ঝড়ু পরম ভক্ত জাতিতে ভুঁই মালী। কিছুতেই সে নিজের উচ্ছিষ্ট কালিদাসকে দিবে না।আর কালিদাস প্রতিজ্ঞা করেছেন, ঝড়ু ঠাকুরের উচ্ছিষ্ট খাবেনই।ঝড়ু ঠাকুর হেঁটে চলে গেলে সেই জায়গা হতে মাটি তুলে গায়ে মাখল। কালিদাস, ঝড়ু ও তাঁর পত্নীকে আম দিয়ে আসিলেন।তাঁরা আম খেয়ে আটি চুষে গর্তে ফেলে দিল।কালিদাস আড়ালে লুকিয়ে ছিলেন।গর্ত হতে আমের চোকা ও আঁটি এনে চুষতে লাগলেন।চুষতে চুষতে প্রেমের উল্লাস হল।সর্বজ্ঞ শিরোমণি জানেন কালিদাসের বৈষ্ণবে কত প্রীতি।বৈষ্ণবের উচ্ছিষ্টে কত তার মনের নিষ্ঠা।এই গুণ নিয়ে মহাপ্রভু তাকে নিজ পাদোদক দিয়ে কৃপা করলেন। মহাপ্রভু জগন্নাথ দর্শন করে গম্ভীরায় এসে ভোজন করলেন।তারপর মহাপ্রভুর ইঙ্গিতে গোবিন্দ কালিদাসকে গৌরহরির শেষপাত্র দিলেন।*
*বৈষ্ণবের শেষ ভক্ষণের এতেক মহিমা।*
*কালিদাসে পাওয়াইল প্রভুর কৃপা সীমা।।*
👌👌👌👌👌👌👌👌👌👌👌👌👌

 ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧       

১০৬. রঘুনাথ ভট্টের প্রতি কৃপা 🌼 শ্রীগৌরাঙ্গ মহাপ্রভু 🥀 সংক্ষিপ্ত কথন 🙏 পঞ্চম ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/07/mohaprobhu5.html

  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
*(১০৬)গৌরাঙ্গপ্রভু সংক্ষেপ কথন*
          *রঘুনাথ ভট্টের প্রতি কৃপা*
           °°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°
*🌹শ্রীতপন মিশ্রের পুত্র রঘুনাথ ভট্ট।গৌরসুন্দর যখন বঙ্গদেশ ভ্রমণে গিয়ে  ছিলেন তখন তপন মিশ্রের প্রতি কৃপা হয়েছিল।মহাপ্রভুর আদেশে তপন মিশ্র কাশীতে বাস করছেন।মহাপ্রভু যখন কাশীতে গেলেন তখন তপন মিশ্রের গৃহে নিত‍্য ভিক্ষা করতেন।সেই সময় তাঁর পুত্র রঘুনাথ মহাপ্রভুর দর্শন ও স্পর্শন পেয়ে ধন‍্য হয়েছে।এখন সব কাজকর্ম ছেড়ে নীলাচলে মহাপ্রভুর শ্রীচরণ সান্নিধ‍্যে আসিলেন। গৌরসুন্দর রঘুনাথকে আলিঙ্গন করে আপন করে নিলেন।মহাপ্রভু বললেন, "ভাল হইল আইলা--দেখ কমল লোচন"। রঘুনাথ ভট্ট পাককার্য‍্যে অতি সুনিপুণ, তাঁর অমৃত সম রান্না গৌরহরি গ্রহণ করতেন। রঘুনাথ ভট্ট আটমাস গৌরাঙ্গসুন্দরের সান্নিধ্যে রইলেন।বিদায় দিবার সময় মহাপ্রভু তিনটি কথা বলে দিলেন=বিবাহ করিও না,বৃদ্ধ পিতা-মাতার সেবা কর ও বৈষ্ণবের কাছে ভাগবত অধ‍্যয়ন কর। রঘুনাথ ভট্ট মহাপ্রভুর তিনটি আদেশ নিষ্ঠার সঙ্গে পালন করেন।পিতা-মাতা কাশী প্রাপ্তির পর উদাসীন হয়ে আবার নীলাচলে শ্রীকৃষ্ণচৈতন‍্যদেবের কাছে আসিলেন।আবার আটমাস থাকলেন।তারপর মহাপ্রভু আদেশ দিলেন "বৃন্দাবনে যাও রূপ-সনাতনের সঙ্গে থাকবে। ভাগবত পড়বে, কৃষ্ণনাম নিবে, কৃষ্ণ কৃপা পাবে। ভক্ত রঘুনাথ মহাপ্রভুর আদেশ পালন করলেন।শ্রীপাদ রূপ-সনাতনের সঙ্গ-ফলে একজন শ্রেষ্ঠ ভাগবত পাঠক হলেন।যখন পাঠ করতেন পাঠে সাত্ত্বিক বিকার হত। তাঁর কন্ঠস্বর ছিল কোকিলের মত।সঙ্গীতেও অধিকার ছিল। এইসব মিলিয়ে তাঁর ভাগবত ব‍্যাখ‍্যান মধুময় হল।সকলই মহাপ্রভুর অসীম কৃপার বা করুণার শক্তিতে।মহাপ্রভুর আদরের গোস্বামীদের মধ্যে তিনি অন‍্যতমরূপে পরিগণিত হলেন।*
🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏

 ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧       

১০৭. গজপতির প্রতি কৃপা 🌼 শ্রীগৌরাঙ্গ মহাপ্রভু 🥀 সংক্ষিপ্ত কথন 🙏 পঞ্চম ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/07/mohaprobhu5.html

  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
*(১০৭)গৌরাঙ্গপ্রভু সংক্ষেপ কথন*
         *গজপতির প্রতি কৃপা*
          ••••••••••••••••••••••••••••••••
*🌷মহারাজ প্রতাপরুদ্রের একান্ত ইচ্ছা শ্রীশ্রীগৌরসুন্দরকে মধুর নৃত্যকালিন অবস্থায় দেখতে কিন্তু তিনি দেখা দেন না।মহারাজ, সার্বভৌম প্রমুখ ভক্তগণকে বললেন-- তোমরা আমাকে দর্শন করাও,তোমরাই আমার সব, তবে মহাপ্রভুর অগোচরে।যখন গৌরহরি বাহ‍্যজ্ঞানশূন‍্য হয়ে নৃত্য করেন থখন দর্শনের ভাগ‍্য দিও।এই যুক্তি স্থির হল। দৈবে একদিন গৌরহরি আপন মনে একাকী নৃত্য করছেন।রাজা সংবাদ পেয়ে একাকী আড়ালে দাঁড়িয়ে দর্শন করতে লাগলেন। রাজা দেখলেন অদ্ভুত ভাবাবেশ।শ্রীনয়নে অবিরাম ধারা পাত হচ্ছে।ক্ষণে ক্ষণে কম্প,স্বেদ,রোমাঞ্চ,বৈবণ‍্য দেখা দিচ্ছে।ক্ষণে ক্ষণে ভীষণ ভাবে আছাড় খেয়ে মাটিতে পড়ে যান।মাঝে মাঝে হুঙ্কার গর্জন করেন। কখনও আকুল হয়ে রোদন করেন। সোনার দন্ডের মত হাতদুটি উর্ধে তুলে কত ভঙ্গী করে নৃত্য করেন।*
*🌹এই প্রাণমনোহারী নৃত্য দর্শন করে গজপতি প্রতাপরুদ্র পরম আনন্দ লাভ করলেন।কিন্তু একটি ব‍্যাপারে রাজার মনটা কেমন কেমন হল।মহাপ্রভুর নাসিকায় দিব‍্যধারা বইতেছিল, শ্রীমুখ হতে লালা পড়ছিল। ধূলায়,লালায় ; নাসিকাধারায় সকল অঙ্গ ব‍্যপ্ত হয়েছিল।ইহা দেখে রাজার মন কেমন একটা সন্দেহের উদয় হল।রাজা গৃহে গিয়ে শয়ন করেছেন।নিদ্রিত হয়ে স্বপ্ন দেখছেন। রাজা যেন মন্দিরে জগন্নাথের সামনে গিয়েছেন, দেখেন কি জগন্নাথের সর্বাঙ্গ ধূলাময়।দুই নয়নে গঙ্গাধারা।নাসিকায় জল পড়ে।মুখের লালা ঝরে।এইসব মিলে শ্রীদেহ ভিজে যাচ্ছে। রাজা স্বপ্নেই ভাবছেন জগন্নাথের একি খেলা!রাজা জগন্নাথকে স্পর্শ করতে ইচ্ছে করলেন। জগন্নাথ বললেন=তোমার দেহ কস্তুরী,কর্পূর গন্ধ বাসিত,আমার শরীর ধূলালালাময়। এই স্পর্শ করা তোমার যোগ্য নহে।একটু পরেই রাজা দেখেন জগন্নাথের সিংহাসনেই ধূলা লালাময় শ্রীচৈতন‍্যদেব বসে আছেন। স্বপ্ন ভাঙ্গিল=*
*আপনে শ্রীজগন্নাথ চৈতন্য গোসাঞি।*
*রাজা জানিলেন,ইথে কিছু ভেদ নাই।।*
🙌🙌🙌🙌🙌🙌🙌🙌🙌🙌🙌🙌🙌

 ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧    
   
১০৮. শ্রীঅদ্বৈত গৃহেপ্রভুর ভিক্ষা 🌼 শ্রীগৌরাঙ্গ মহাপ্রভু 🥀 সংক্ষিপ্ত কথন 🙏 পঞ্চম ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/07/mohaprobhu5.html

  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
*(১০৮)গৌরাঙ্গপ্রভু সংক্ষেপ কথন*
           *শ্রীঅদ্বৈত গৃহেপ্রভুর ভিক্ষা*
           ^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^
*🌷একদিন শ্রীঅদ্বৈতাচার্য‍্য মহাপ্রভুকে নিজ গৃহে ভিক্ষার জন্য আমন্ত্রণ করলেন। স্বয়ং অদ্বৈতাচার্য‍্য, সীতাদেবীর সঙ্গে রন্ধন করলেন,গৌড়দেশ হতে নীলাচলে যে সব দ্রব‍্য গৌরসুন্দরের জন্য আনিয়েছিলেন তা সব পরাপাটি করে রন্ধন করলেন। আচার্য‍্যের অন্তরের ইচ্ছা শ্রীচৈতন‍্যদেব সকল দ্রব‍্য গ্রহণ করুন।মহাপ্রভু যদি মোহন্ত সন্ন‍্যাসী গোষ্ঠী সঙ্গে নিয়ে আসেন তবে তো ভাগের ভাগ কিছুই খাবেন না।যদি মহাপ্রভু একা আসেন তাহলে আমার মনের কামনা সিদ্ধ হয়। এই কামনা পূর্ণ হবার কোন সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছিল না। হঠাৎ মধ‍্যাহ্নকালে একটা ভীষণ ঝড়বৃষ্টি আরম্ভ হল।অসম্ভব হাওয়া শিলাবৃষ্টিপাত হল।ঝড় বন‍্যায় কে কোন দিকে থাকল তা ঠিক করা গেল না।অদ্বৈতাচার্য‍্য সব সেবার দ্রব‍্য সাজিয়ে সবার উপর তুলসীপত্র দিয়ে মহাপ্রভু যাতে একাকী আসেন সেইজন‍্য ধ‍্যান করতে বসলেন।*
*সত‍্য গৌরচন্দ্র অদ্বৈতের ইচ্ছাময়*।
*একেশ্বর মহাপ্রভু হইলা বিজয়।।*
*অদ্বৈতাচার্য‍্য পরমানন্দে শ্রীচৈতন‍্যদেবকে সেবা করালেন।অদ্বৈত যত দ্রব‍্য দিলেন সবই মহাপ্রভু সেবা করলেন।আচার্য‍্যের ইচ্ছে পূরণ হল। মধুর হাসি হেসে মহাপ্রভু বললেন=*
*প্রভু বোলে আর কেন লুকাও আচার্য‍্য।*
*যত ঝড় বৃষ্টি সব তোমারি যে কার্য‍্য।।*
🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏

 ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧      
 
১০৯. সীতানাথ তুমি হারিলা 🌼 শ্রীগৌরাঙ্গ মহাপ্রভু 🥀 সংক্ষিপ্ত কথন 🙏 পঞ্চম ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/07/mohaprobhu5.html

  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
*(১০৯)গৌরাঙ্গপ্রভু সংক্ষেপ কথন*
           *সীতানাথ তুমি হারিলা*
            ~~~~~~~~~~~~~~~~
*🍀শ্রীশ্রীগৌরসুন্দর নীলাচলে গম্ভীরায় বসে আছেন।শ্রীঅদ্বৈতাচার্য‍্য এসে মহাপ্রভুকে নমস্কার করে সামনে বসিলেন।মহাপ্রভু জিজ্ঞাসা করলেন= আচার্য‍্য এখন কোথা হতে আসিলা? আচার্য‍্য বললেন=জগন্নাথ জীউর মন্দির হতে আসিলাম।শ্রীবদন দর্শন করে পাঁচ সাতবার প্রদক্ষিণ করে তোমার কাছে এলাম।শুনেই মহাপ্রভু রসের বদনে মধুর হাসি হেসে হাতে তালি দিয়ে বললেন=*
*""আচার্য‍্য তুমি হারিলা হারিলা।"*
*⭐আচার্য‍্য একটু অবাক হয়ে শুধালেন,মহাপ্রভু কি হারালাম? কোন সম্পত্তি তো নাই হারাব কি?সহাস‍্য বদনে মহাপ্রভু বললেন= যখন তুমি প্রদক্ষিণ করতে জগন্নাথের পেছন দিকে গেলে তখন তো শ্রীবদন চন্দ্র দৈখতে পেলে না। শ্রীবদন দর্শনের যে সৌন্দর্য্য তা হতে বঞ্চিত হলে।আমি যখন দেখি দেখতেই থাকি।আর কোনদিকে চক্ষু যায় না।*
*"আমি যতক্ষণ দেখি দেখি জগন্নাথ।*
*আমার লোচন আর না যায় কোথাত।।*
*কি দক্ষিণে কি বা বামে কিবা প্রদক্ষিণে।*
*আর নাহি দেখো জগন্নাথ মুই বিনে।।*
*🌺শুনে আচার্য‍্য গোসাঞি করজোড় করে কহিলেন এ ব‍্যাপারে তোমার কাছে চিরদিন হেরেছি, আর হারব।তুমি যা বললে এ কথা বলার মত অধিকারী এই জগতে তুমি ছাড়া আর দ্বিতীয়টি নাই।*
*"এ কথার অধিকারী আর ত্রিভুবনে।*
*সত‍্য কহিলাঙ এই,নাহি তোমা বিনে।।*
🙏🙌🙏🙌🙏🙌🙏🙌🙏🙌🙏🙌🙏

 ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧       

১১০. নিতাই চাঁদের প্রতি আবেদন 🌼 শ্রীগৌরাঙ্গ মহাপ্রভু 🥀 সংক্ষিপ্ত কথন 🙏 পঞ্চম ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/07/mohaprobhu5.html

  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
*(১১০)গৌরাঙ্গপ্রভু সংক্ষেপ কথন*
       *নিতাই চাঁদের প্রতি আবেদন*
       ^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^
*🍀একদিন শ্রীগৌরসুন্দর নিভৃতে শ্রীনিতাই সুন্দরকে বললেন--,শ্রীপাদ! তুমি শীঘ্র নবদ্বীপে চলে যাও। তুমি না গেলে আমার প্রতিজ্ঞা নষ্ট হয়ে যায়। আমার প্রতিজ্ঞা জানতো?*
*"প্রতিজ্ঞা করিয়াছি আমি নিজ মুখে।*
*মুর্খ নীচ দরিদ্র ভাসাব প্রেমসুখে।।"*
*☘তুমিও যদি আমার মতো মুনিধর্ম ধরে নীলাচলে থাক,তাহলে আমার প্রতিজ্ঞা কি ভাবে পূর্ণ হবে। তুমি যদি আমার কথা সত‍্য করতে চাও তাহলে অবিলম্বে গৌড়দেশে বিজয় কর।*
*"মুর্খ নীচ পতিত দুঃখিত যত জন।*
*ভক্তি দিয়া কর গিয়া সবার মোচন।।"*
*🙏শ্রীমন্মহাপ্রভুর আজ্ঞা শিরে ধারণ করে শ্রীনিত‍্যানন্দ প্রভু নিজগণসহ গৌড়দেশে যাত্রা করলেন।তাঁর প্রিয়বর্গ রামদাস,গদাধর দাস, রঘুনাথ  বেদওঝা,কৃষ্ণদাস পন্ডিত,পরমেশ্বর দাস,পুন্দর পন্ডিত প্রভৃতি নিতাইগতপ্রাণ এই ভক্তগণ শ্রীশ্রীনিতাইচাঁদের সঙ্গে গৌড় দেশে বিজয় করলেন।নিতাইচাঁদ গৌর প্রচার আরম্ভ করলেন। গৌড়দেশে নিত‍্যানন্দ এসে গায়ক মাধব ঘোষ,গোবিন্দ ঘোষ, বাসুদেব ঘোষ তিন ভাই এসে যোগ দিলেন।অবধূত নিতাইচাঁদের নৃত‍্যকালে পদভরে ধরণী টলমল করে। নাচতে নাচতে যার প্রতি শুভ দৃষ্টিপাত করেন "সে-ই প্রেমে ঢলে পড়য় পৃথিবীতে "।*
*"পরিপূর্ণ প্রেমরস প্রভু নিত‍্যানন্দ।*
*সংসার তরিতে করিলেন শুভারম্ভ।।*
  *🙌জয় জয় নিতাইচাঁদের জয়🙌*

 ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧    
   
১১১. বাপ--পুন্ডরীক 🌼 শ্রীগৌরাঙ্গ মহাপ্রভু 🥀 সংক্ষিপ্ত কথন 🙏 পঞ্চম ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/07/mohaprobhu5.html

  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
*(১১১)গৌরাঙ্গপ্রভু সংক্ষেপ কথন*
        *🌲🌲বাপ--পুন্ডরীক🌲🌲*
       ^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^
*🍀নবদ্দীপ ধামে যখন লীলা বিলাসে মত্ত ছিলেন তখন একদিন গৌরহরি "বাপ পুন্ডরীক, বাপ পুন্ডরীক" বলে ডেকেছিলেন।ভক্তগণ কেউ ঐ ডাকের অর্থ বুঝতে পারছেন না।পরে বুঝেছিলেন, বৃষভানুরাজার অবতার পুন্ডরীক বিদ‍্যানিধিকে মহাপ্রভু শ্রীরাধার ভাবে ভাবিতা হয়ে বাপ বাপ বলে ডেকেছিলেন। বিদ‍্যানিধির নিবাস চট্টগ্রাম জেলার মেখল নামক স্থানে।তিনি গৌরহরির আকর্ষণে নবদ্বীপ আসেন ও এক ভক্তগৃহে গোপনে থাকেন।মুকুন্দের বাড়ীও ঐ একই জায়গায়।তিনি বিদ‍্যানিধিকে চিনতেন। তিনি একদিন গদাধরকে নিয়ে বিদ‍্যানিধির দর্শনে গেলেন।বিদ‍্যানিধির বসন ভূষণ শয‍্যা দাসদাসী মালা সুগন্ধী আতরের ঘটা দেখে গদাধরের মনে অশ্রদ্ধা হল।গদাধরের মনের ভাব বুঝে মুকুন্দ একটা ভাগবতের শ্লোক উচ্চারণ করলেন--, শ্লোকটি পূতনা মোক্ষণ লীলার।লীলাকথা বলে শুকদেব মন্তব‍্য করেছেন।করুণাময় মহাপ্রভু পূতনার মত পাপীয়সীকেও বৈকুন্ঠে ধাত্রী গতি দিতে পারেন।তাঁর পাদপদ্ম ছাড়া আর কার স্মরণ নিব।শ্লোক শুনে বিদ‍্যানিধি ভাবোন্মাদ হলেন। __ দয়ালুং শরণং ব্রজেম বলিয়া ধূলায় গড়াগড়ি এবং কাঁদতে লাগলেন।সময় ঐশ্বর্য‍্যময় সাজসজ্জা ছিন্নভিন্ন হয়ে গেল।বিদ‍্যানিধি এতবড় বৈষ্ণব দেখে গদাধর পূর্বকৃত অশ্রদ্ধার জন্য অনুতপ্ত হলেন।মহাপ্রভুকে জানালেন, গৌরহরি বললেন, "গদাধর পুন্ডরীকের শিষ‍্যত্ব গ্রহণ কর।গদাধর পন্ডিত তাহাই করেছিলেন। নীলাচলে এসে গদাধর বললেন--, মহাপ্রভু আমি আমারি ইষ্টমন্ত্র একজনকে বলেছিলাম। তদবধি আমার আর কিছু স্ফুর্তি হয় না।তুমি আবার আমাকে সেই মন্ত্র দান কর।মহাপ্রভু বললেন-- তোমার গুরু বিদ‍্যানিধি খুব শীঘ্রই আসছেন।যা করতে হয় উনি করবেন। সত‍্য সত‍্যই বিদ‍্যানিধি আসিলেন।"বাপ আইলা বাপ আইলা" বলে মহাপ্রভু গৌরহরি উল্লসিত হলেন।মহাপ্রভুর ইচ্ছায় গদাধর পুনরায় ইষ্টমন্ত্র তাঁর নিকট হতে শুনে নিলেন।*
🙌🙌🙌🙌🙌🙌🙌🙌🙌🙌🙌🙌🙌

 ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧       

১১২. প্রেমনিধির------শাস্তি 🌼 শ্রীগৌরাঙ্গ মহাপ্রভু 🥀 সংক্ষিপ্ত কথন 🙏 পঞ্চম ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/07/mohaprobhu5.html

  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
*(১১২)গৌরাঙ্গপ্রভু সংক্ষেপ কথন*
          *প্রেমনিধির------শাস্তি*
         °°°°°°°°°°°°°°°°°°°°•°°°°°°°°
*🍁শ্রীপুন্ডরীক বিদানিধি বৃষভানু রাজার অবতার।গদাধর শ্রীরাধা ভাবময়।বর্ষাণে পিতা-কন‍্যা--নদীয়ায় হলেন গুরু-শিষ‍্য।ভক্তগণ বিদ‍্যানিধিকে বলেন "প্রেমনিধি"।প্রেমনিধি স্বরূপ দামোদরের বন্ধু, নবদ্বীপ হতে বন্ধুত্ব।একদিন দুই বন্ধু জগন্নাথের "ওঢ়ল ষষ্ঠী" যাত্রা দর্শন করছেন। জগন্নাথকে সেবকরা অধৌত পান্ডুয়া বস্ত্র পরাল দেখে প্রেমনিধি দোষদৃষ্টি করলেন। রাত্রে স্বপ্নে জগন্নাথ বলরাম দুইভাই আসিলেন।দুইভাই প্রেমনিধিকে দুইগালে দুই চড় দিয়ে কহিলেন=*
*"আমি যে করিয়া আছি যাত্রার নির্বন্ধ।*
*তাহাতেও ভাব অনাচারের সম্বন্ধ।।"*
*🙏স্বপ্নেই প্রেমনিধি "অপরাধ ক্ষমা কর" বলতে লাগলেন।ঘুম ভাঙ্গলে দেখেন শ্রীহস্তের চড়ের দশা দুই গালে।সকালে স্বরূপ দামোদর এসে ডাকলেন, এত বেলা হয়ে  গেল ওঠ না কেন ; চল জগন্নাথ দর্শনে যাই। শ্রীপ্রেমনিধি বললেন=*
*"ভালদিন হৈল মোর আজি সুপ্রভাত।*
*মুখ কপোলের ভাগ‍্যে বাজিল শ্রীহাত।।"*
*🍀পুন্ডরীক প্রেমনিধির মত এই প্রেমভক্তির প্রভাব,কেউ কোনদিন কোনও কালে শোনে নাই।এই জন্যই তো স্বয়ং প্রভু গৌরহরি ইঁনাকে উচ্চকন্ঠে ""বাপ,বাপ"" বলে ডাকতেন। গৌর গৌরভক্তের মহিমা বিশ্বে জয়যুক্ত হোক।*
🙌🙌🙌🙌🙌🙌🙌🙌🙌🙌🙌🙌🙌
 ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧    
   
১১৩. দেবদাসীর--------গান 🌼 শ্রীগৌরাঙ্গ মহাপ্রভু 🥀 সংক্ষিপ্ত কথন 🙏 পঞ্চম ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/07/mohaprobhu5.html

  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
*(১১৩)গৌরাঙ্গপ্রভু সংক্ষেপ কথন*
          *দেবদাসীর--------গান*
        °°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°
*একদিন গৌরসুন্দর যমেশ্বর টোটা যাচ্ছিলেন। হঠাৎ শুনলেন গুর্জরীরাগে সুমধুর কন্ঠে কেউ গীত-গোবিন্দ গান করছেন।দূর হতে গান শুনেই মহাপ্রভুর ভাবাবেশ হ'ল।অমনি যে গান গাইছেন তার সঙ্গে মিলিত হবার জন্য গৌরসুন্দর বেগে ধাবমান হলেন। সোজা চলেছেন, পথ বিপথ জ্ঞান নেই।পথে চলতে চলতে পথেই সিজের (মনসাগাছের)কাঁটা পায়ে ফুটল।পায়ে কাঁটা ফুটেছে, রক্ত বাহির হচ্ছে মহাপ্রভুর কোন বোধ নাই।গীত-গোবিন্দের মধুর পদের টানে মহাপ্রভুকে পাগল করেছে। আর পেছন পেছন গোবিন্দ ছুটেছেন, মহাপ্রভুর সঙ্গ ধরে চলতে পারছেন না,গৌরহরি বাতাসের বেগে চলেছেন।অনেক কষ্টে ধেয়ে গিয়ে মহাপ্রভুকে ধরে ফেললেন।গোবিন্দ বললেন-- প্রভু! যিনি গান গাইছেন উনি দেবদাসী।স্ত্রীলোক গান গাইছেন শুনে মহাপ্রভুর বাহ‍্যজ্ঞান ফিরিল।গৌরহরি বললেন=গোবিন্দ!তুমি আমার জীবন রক্ষা করেছ। স্ত্রীলোক স্পর্শ হলে আমার মৃত‍্যু হইত।*
       *🙌জয় গৌরহরি🙌*

 ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧       

১১৪. আদিবশ‍্যা নারী 🌼 শ্রীগৌরাঙ্গ মহাপ্রভু 🥀 সংক্ষিপ্ত কথন 🙏 পঞ্চম ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/07/mohaprobhu5.html

  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
*(১১৪)গৌরাঙ্গপ্রভু সংক্ষেপ কথন*
          *আদিবশ‍্যা  নারী*
           ****************
*🍀একদিন শ্রীগৌরাঙ্গসুন্দর শ্রীজগন্নাথদেব দর্শন করছেন।গরুড় স্তম্ভের পেছনে দাঁড়িয়ে মহাপ্রভু দর্শন করেন।"গরুড়" ভগবানের শ্রেষ্ঠ ভক্ত।ভক্ত লঙ্ঘন করে গৌরহরি দর্শন করেন না।গরুড় স্তম্ভ হতে জগন্নাথ বিগ্রহের আসন বেশ দূরে।এই ফাঁকা জায়গায় দাঁড়িয়ে হাজার হাজার লোক শ্রীজগন্নাথদেবকে দর্শন করেন। একজন উড়িষ‍্যা বাসিনী মহিলা ভিড়ের মধ্যে শ্রীজগন্নাথের বদন দেখতে না পেয়ে গরুড়ের উপর চড়ে এক পা মহাপ্রভুর কাঁধের উপর দিয়ে জগন্নাথ দর্শন করতে লাগলেন।গোবিন্দ গৌরহরির সঙ্গে ছিলেন, গোবিন্দ তা দেখেই আস্তেব‍্যস্তে সেই মহিলাকে সরিয়ে দেবার চেষ্টা করতে লাগলেন।করুণাময় মহাপ্রভু তখন গোবিন্দকে বললেন "ভক্তকে নামিও না"।আদিবশ‍্যা (শ্রীজগন্নাথ দর্শনে এমন বশীভূত হয়েছেন যে হিতাহিত জ্ঞান হারিয়ে ফেলেছেন)এই স্ত্রীলোকটিকে কিছু বলিও না। করুক প্রাণভরে শ্রীজগন্নাথদেবকে দর্শন করুক। খানিকক্ষণ পরে সেই মহিলা মাটিতে নামলেন।শ্রীমন্মহাপ্রভুর পায়ে প্রণাম করলেন। তখন মহাপ্রভু বললেন ""এত আর্তি জগন্নাথ মোরে নাহি দিলা""।এর দেহমন প্রাণ জগন্নাথে আবিষ্ট।আমার কাঁধের উপর পা দিয়েছে তা তার জ্ঞান নাই।*
*অহো ভাগ‍্যবতী এই,বন্দি ইহার পায়।*
*ইহার প্রসাদে ঐছে আমার বা হয়।।*
       🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏

 ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧       

১১৫. দিব‍্য-উন্মাদ-ভাব 🌼 শ্রীগৌরাঙ্গ মহাপ্রভু 🥀 সংক্ষিপ্ত কথন 🙏 পঞ্চম ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/07/mohaprobhu5.html

  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
*(১১৫)গৌরাঙ্গপ্রভু সংক্ষেপ কথন*
            *দিব‍্য-উন্মাদ-ভাব*
            ^^^^^^^^^^^^^^^^^
*🍀একদিন মহাপ্রভু সমুদ্রে যাচ্ছেন।দূর হতে চটকপর্বত দেখলেন।চটকপর্বত দেখেই ব্রজের সেই গোবর্ধন-গিরি বলে ভ্রম হল।সেই মুহূর্তেই সেদিকে ছুটলেন।গৌরহরির শ্রীমুখে একটি ভাগবতের শ্লোক।শ্লোকটিতে গোবর্ধন গিরিরাজের মহিমা কীর্তিত হয়েছে।মহাপ্রভুর সঙ্গে সঙ্গে গোবিন্দ থাকতেন, অবস্থা দেখে গোবিন্দ পেছন পেছন ধাবমান হলেন। কিছু কিছুতেই মহাপ্রভুর নাগাল পাচ্ছেন না।প্রথমে মহাপ্রভু বায়ুগতিতে ছুটেছেন।তারপর হঠাৎ স্তম্ভ ভাব আসিল।তখন আর চলতে শক্তি নেই বললেই চলে। শ্রীমন্মহাপ্রভু যখন ব্রজের ভাবে বিভাবিত হয়ে যান তখন আর বাহ‍্যজ্ঞান থাকে না,চলন শক্তি হ্রাস পাই।যখন আর চলতে পারছিলেন না হঠাৎ মাটিতে পড়ে গেলেন।সেই সময় মহাপ্রভুর শ্রীঅঙ্গের প্রত‍্যেকটি লোমকূপে মাংস ব্রহ্মের আকার ধারণ করেছে।তার উপর কদম্ব ফুলের মত রোমাঞ্চ উঠেছে।প্রত‍্যেকটি লোমকূপে রক্তের ধারা ঘামের মত প্রবাহিত হচ্ছে।কন্ঠে খর-খর শব্দ।কোন বর্ণ বা কথার উচ্চারণ হচ্ছে না।দুই নয়নে গঙ্গার স্রোতের মত অশ্রুধারা ঝরছে।শ্রীঅঙ্গ শঙ্খের মত সাদা হয়ে গিয়েছে।কদলী পাতার মত কাঁপছেন। গোবিন্দ কাছে এলেন।কি করবেন ভেবে পাচ্ছেন না।দিশাহারা হয়ে করঙ্গের জল সর্বাঙ্গে ছিটিয়ে দিলেন। বহির্বাস দিয়ে সারা গায়ে বাতাস করছেন।দেখা গেল তখন স্বরূপ দামোদর,গদাধর পন্ডিত, জগদানন্দ,রামাই,নন্দাই, পুরী--ভারতী,খঞ্জ ভগবানাচার্য‍্য সকলেই সমুদ্রতীরে ছুটে এসেছেন।মহাপ্রভুর শ্রীঅঙ্গে সুদীপ্ত অষ্ট সাত্ত্বিক ভাব অতি আশ্চর্য‍্য ভাবে ফুটে উঠেছে।মহাপ্রভুর এই দশা দেখে সকলে ক্রন্দন করতে লাগলেন। ভক্তগণ আর কি করবেন? তখন সকলে মিলে উচ্চৈঃস্বরে কীর্তন আরম্ভ করলেন।কেউ কেউ শীতল জল দিয়ে দেহ পরিস্কার করতে লাগলেন।অনেকক্ষণ ধরে কীর্তন হতে হতে তার মধ্যে মহাপ্রভু "হরিবোল" বলে হুঙ্কার করে উঠে বসিলেন। সকলে আনন্দে হরিধ্বনি করলেন।গৌরহরি স্বরূপকে লক্ষ্য করে বললেন "গোবর্ধন হতে আমাকে এখানে কে আনিল? শ্রীকৃষ্ণের মধুর লীলা দেখছিলাম,আবার হারালাম।আমি গোবর্ধনে গিয়েছিলাম।গোবর্ধনের চারিদিকে ধেনুবৎস চরছিল। শ্রীকৃষ্ণ বাঁশী বাজাচ্ছিলেন।বেণুধ্বনি শুনে শ্রীরাধাঠাকুরাণী ছুটে আসিলেন।আহা!কি যে তাঁর রূপ--, কি যে তাঁর ভাব বর্ণনা করা যায় না। শ্রীরাধাকে নিয়ে শ্রীকৃষ্ণ এক গিরি কন্দরে প্রবেশ করলেন।সখীগণ ফুল তুলতে গেলেন।সেই সময় তোমরা আমাকে ধরে এখানে আনলে।শ্রীকৃষ্ণের লীলা পেয়েও দেখতে পেলাম না।পাওয়া রত্ন হারালাম।কি দুঃখ!*
*🌳যারা প্রকৃত পদ-পদাবলী পরিবেশন করেন, গিরি গোবর্ধন লীলায় গৌরচন্দ্রিকায় পরিবেশন করা যাবে।🌳*
      🌲🌲🌲🌲🌲🌲
 ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧       

১১৬. দিব‍্যোন্মাদ(দীর্ঘাকৃতি ধারণে) 🌼 শ্রীগৌরাঙ্গ মহাপ্রভু 🥀 সংক্ষিপ্ত কথন 🙏 পঞ্চম ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/07/mohaprobhu5.html

  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
*(১১৬)গৌরাঙ্গপ্রভু সংক্ষেপ কথন*
     *দিব‍্যোন্মাদ(দীর্ঘাকৃতি ধারণে)*
     ^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^
*🙏গম্ভীরার ভিতর প্রকোষ্ঠে (কনুই থেকে মণিবন্ধ বা কবজি পর্য‍্যন্ত দেহাংশ, করতল বাদে পুরোবাহু) মহাপ্রভু শয়নে আছেন।স্বরূপ দামোদর বাইরে দরজায় শুয়ে আছেন।সমস্ত রাত্রিই বেশ জোর কন্ঠে নাম-সংকীর্তন শুনছেন। হঠাৎ কীর্তনের আওয়াজ না পেয়ে স্বরূপদামোদর কবাট খুললেন।দেখলেন গৌরহরি ঘরে নাই। অথচ, তিনদিকে তিন কবাট বন্ধ আছে।*
*🍁সঙ্গে আরও যাঁরা ছিলেন সকলে চিন্তিত হয়ে চারিদিকে খুঁজাখুঁজি করতে লাগলেন।অতি ব‍্যাকুল ভাবে খুঁজতে খুঁজতে হঠাৎ পেলেন কোথায়? সিংহদ্বারের উত্তর দিকে। এক জায়গায় মহাপ্রভু পড়ে আছেন। শ্রীদেহের কি অবস্থা বর্ণনা করবার উপায় নাই।গৌরহরির দেহ বিশাল দেহ।চেতনাহীন দেহ।নাসিকায় শ্বাস বহে না।এক একখানা হাত তিন তিনহাত লম্বা।অস্থি সন্ধি সব ছিন্নভিন্ন হয়ে আছে।হাত,পা,কটির অস্থি সন্ধিগুলি এক এক বিঘত ফাঁক হয়ে গিয়েছে।উপরে চর্মমাত্র আছে।সন্ধিগুলি দীর্ঘ হয়ে রয়েছে।মুখে ফেনা লালা পড়ছে।উর্ধনয়নে চৈতন‍্যদেব উর্ধদিকে চেয়ে আছেন।সর্বিঙ্গে পুলক কদম্ব।দেখে সকল ভক্তের প্রাণ বেদনায় কেঁদে উঠিল।দেখে সকল ভক্তের "দেহ ছাড়ে প্রাণ"।স্বরূপ গোঁসাঞি তখন খুবই জোরে কীর্তন আরম্ভ করলেন।বহুক্ষণে শ্রীকৃষ্ণনাম হৃদয়ে পশিল।হরিবোল বলিয়া শ্রীমন্মহাপ্রভু গর্জন করে উঠলেন।দেখতে দেখতে যথাযোগ্য আগের মত শরীর হ'ল।*
*🙌জয় জয় শ্রীমন্মহাপ্রভুর জয়🙌*

 ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧   
    
১১৭. দিব‍্যোন্মাদ্ (কুষ্মান্ডাকৃতি ধারণে) 🌼 শ্রীগৌরাঙ্গ মহাপ্রভু 🥀 সংক্ষিপ্ত কথন 🙏 পঞ্চম ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/07/mohaprobhu5.html

  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
*(১১৭)গৌরাঙ্গপ্রভু সংক্ষেপ কথন*
*দিব‍্যোন্মাদ্ (কুষ্মান্ডাকৃতি ধারণে)*
^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^
*🌺শ্রীশ্রীপ্রভু গৌরহরির এখন সবর্দাই উন্মাদের মত অবস্থা। কখনও কখনও প্রেমের আবেশে প্রলাপ উক্তি করেন।একদিন রায় রামানন্দ ও স্বরূপের সঙ্গে মহাপ্রভু কৃষ্ণকথায় অর্ধরাত্রি কাটালেন। যখন গৌরহরির যে ভাবের উদয় হয় সেই ভাবানুরূপ শ্লোক বা পদাবলী,রায় রামানন্দ গান করেন। কখনও চন্ডীদাস, বিদ‍্যাপতি, শ্রীশ্রীগীত গোবিন্দের মধুর পদ শোনান।মাঝে মাঝে মহাপ্রভু নিজেই শ্লোক বলেন। আবার বিলাপ করে শ্লোকের অর্থ ব‍্যাখ‍্যান করেন।*
*🍀অর্ধরাত্রি কেটে গেছে। ভাবনিধি মহাপ্রভু শয়ন করেছেন।স্বরূপ দামোদর,রামরায় স্ব স্ব গৃহে বিশ্রাম করছেন।গম্ভীরার দুয়ারে গোবিন্দ শয়ন করেছেন। হঠাৎ ভাবনিধি গৌরহরি শ্রীকৃষ্ণের বেণুধ্বনি শুনে ছুটে বাহির হয়ে গিয়েছেন।তিন দুয়ারের কবাট বন্ধ।যেমনি ছিল তেমনি আছে। সিংহদ্বারের দক্ষিণে তৈলঙ্গী গাভীগুলি থাকে।মহাপ্রভু সেই পর্য‍্যন্ত ছুটে গিয়ে মূর্ছিত হয়ে পড়েছেন। গোবিন্দ মহাপ্রভুর কোন শব্দ না পেয়ে কপাট খুলে স্বরূপদামোদরকে ডাকলেন। তিনি ভক্তগণকে নিয়ে দেউটি (প্রদীপ) জ্বালিয়ে মহাপ্রভুকে খোঁজ করতে লাগলেন। কতক্ষণ পর গৌরহরিকে গিয়ে পেলেন।তৈলঙ্গী গাভীগণের মধ্যে মহাপ্রভু পড়ে আছেন।হাত পা পেটের মধ্যে ঢুকে গিয়েছে।গৌরহরির দেহটি একটি কুষ্মান্ড (কুমড়ো) ফলের আকার ধারণ করেছে।শ্রীমুখ বহে ফেনা পড়ছে।অষ্টসাত্ত্বিকের ভাবগুলি স্পষ্ট ভাবে সর্বাঙ্গে পুলকাবলী শোভা পাচ্ছে।দুইনয়ন বহে অশ্রুধারা প্রবাহিত হচ্ছে।গাভীগুলি চারদিকে ঘুরে ঘুরে মহাপ্রভুর শ্রীঅঙ্গের মধুর গন্ধ গ্রহণ করছে।*
*☘সকলের বহু যত্নেও গৌরহরি প্রকৃতিস্থ হলেন না।অর্থ‍্যাৎ স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে এলেন না।মহাপ্রভুকে তুলে  গম্ভীরায় আনা হল। উচ্চৈঃস্বরে নামকীর্তন আরম্ভ হল।অনেকক্ষণ পরে ভাবনিধি গৌরহরির চেতনা ফিরে এলো।চেতনা আসিলে হস্ত-পদ বাহির হয়ে আসিল।শরীর আগের মত  যথাযোগ্য হল।*
*🍁তখন মহাপ্রভু বললেন,স্বরূপ!তোমরা আমাকে কোথায় এনেছ। আমি শ‍্যামসুন্দরের বেণুধ্বনি শুনে বৃন্দাবনে গিয়েছিলাম। ধ্বনি শুনে শ্রীরাধারাণী কুঞ্জে ছুটে আসিলেন।শ্রীকৃষ্ণসহ কুঞ্জগৃহে প্রবেশ করলেন।তাঁর পেছন পেছন আমি প্রবেশ করলাম।আহা! কত লীলা বিহার, কত হাস‍্য পরিহাস আস্বাদন করলাম।ঠিক সেই-সময়ে তোমরা সকলে কোলাহল করে জোরকরে আমাকে এখানে নিয়ে আসিলে। আহা! আহা!সেই ধ্বনি সেই অমৃতবাণী আর শুনতে পেলাম না। আমার কি দুর্ভাগ্য।*
*😭জয় নিতাই, এমন সৌভাগ্য আমার কবে হবে😭।*

 ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧     
  
১১৮. দিব‍্যোন্মাদ ভাব (জালিয়ার জালে) 🌼 শ্রীগৌরাঙ্গ মহাপ্রভু 🥀 সংক্ষিপ্ত কথন 🙏 পঞ্চম ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/07/mohaprobhu5.html

  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
*(১১৮)গৌরাঙ্গপ্রভু সংক্ষেপ কথন*
     *দিব‍্যোন্মাদ ভাব (জালিয়ার জালে)*
•••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••
*🍀আর একদিন মহাপ্রভু আইটোটা হতে সমুদ্র দর্শন করে যমুনা ভ্রমে ছুটলেন।কোনদিক হতে কোনদিকে গেলেন ভক্তগণ কিছুই ঠিক করতেপারলেন না।গৌরহরি কোথায় গেলেন মন্দিরে, গেলেন অন‍্য কোন দেবালয়ে, গেলেন গুন্ডিচার দিকে, গেলেন চটকপর্বতে,গেলেন কোনারকের দিকে, কোনদিকে কোথায় গেলেন, তবে কি সমুদ্রে ঝাঁপ দিয়ে পড়লেন! প্রিয়গণ পাগলের মত এদিক ওদিক সেদিক খোঁজ করতে লাগলেন।খুঁজতে খুঁজতে রাত্রিশেষ হয়ে আসিল।সকলেই ভাবলেন মহাপ্রভু অন্তর্ধান করেছেন।সকলেই বিষাদে বিহ্বল।স্বরূপদামোদর জন কতক ভক্ত নিয়ে সমুদ্র তীরে পূর্বদিকে চলতে লাগলেন। হঠাৎ দেখেন এক জালিয়া কাঁধে জাল নিয়ে আসছে।সে হরি হরি বলে কখনও হাসছে কখনও কাঁদছে কখনও নাচছে। স্বরূপদামোদর তাকে জিজ্ঞাসা করলেন, এদিকে কোন মানুষ দেখেছ? জালিয়া বলল, না মানুষ দেখি নাই।জাল বাহিতে একটি মরা দেহ আমার জালে উঠেছে। তাকে দেখে আমার মনে ভয় লেগেছে।সে একটা ভূত হবে।তার গায়ে আমার গা স্পর্শ হবার সঙ্গে সঙ্গে ভূত আমার মধ্যে ঢুকে গিয়েছে। আমার শরীর কাঁপছে, চোখে জল পড়ছে। নিশ্চয়ই কোন ব্রহ্মদৈত‍্য হবে।কারণ চেহারাটা অদ্ভুত।দেহটা দৈর্ঘে পাঁচ সাত হবে।দেখে মনে হল এক একটি হাত তিন তিন হাত।অস্থি সন্ধিগুলো ছুটে গিয়েছে।চামড়া নড়বড় করছে।মরার মত পড়ে আছে  কিন্তু মুখে গোঁ গোঁ শব্দ করছে। স্বরূপ গোসাঞি বুঝলেন-- এ আর কেউই নয়।মহাপ্রভুই হবেন।জালিয়াকে বললেন-- আমি ওঝা,ভূত ছাড়িয়ে দিব। এই বলে তার পিঠে তিন চাপড় মেরে বললেন "ভূত পালিয়েছে"।এখন তুমি দেখিয়ে দাও, যাকে তুমি জালে পেয়েছ সে ব্রহ্মদৈত‍্য নয়,শ্রীমন্মহাপ্রভু।জালিয়া বলল না-না মহাপ্রভু নয়। আমি তাকে বহুবার দেখেছি। এ তার রূপ নয়।একটা বিকৃত আকার। স্বরূপ বললেন=সেটি তার প্রেমের বিকার।তুমি তাকে দেখিয়ে দাও। জালিয়া তখন মহাপ্রভুকে দেখিয়ে দিল।অতি দীর্ঘকৃতি।জলে দেহ শ্বেতবর্ণ ধারণ করেছে।ধরে আনবার উপায় নাই কারণ অতি শিথিল।তখন সকলে মিলে বহির্বাসে শোয়ান হল।বালু ছড়ান হল।শুকনো কৌপীন পড়ান হল।সকলে মিলে উচ্চৈঃস্বরে কীর্তন আরম্ভ করলেন। কতক্ষণে গৌরহরির কর্ণে কীর্তনের ধ্বনি প্রবেশ করল।হুঙ্কার করে মহাপ্রভু গর্জিয়ে উঠলেন।উঠতেই শ্রীদেহ স্বাভাবিক হল।তখন অর্ধবাহ‍্য দশায় মহাপ্রভু আকাশের দিকে তাকিয়ে প্রলাপ উক্তি করেন, ভক্তগণ শুনতে থাকেন।*
*🌹মহাপ্রভু বলছেন, আমি দেখলাম ব্রজেন্দ্রনন্দন সখাগণ সঙ্গে জলক্রীড়া করছেন।তীরে থেকে এক সখী আমাকে জলক্রীড়ারঙ্গ দেখাতে লাগলেন।দেখলাম শ্রীকৃষ্ণ গোপীগণকে নিয়ে যমুনার জলে অবগাহন(স্নান)করলেন।প্রথমে পরস্পর জল ফেলাফেলি করতে লাগলেন।কৃষ্ণ গোপীদের দেহে,গোপীরা কৃষ্ণের দেহে জল ছুড়তে লাগলেন। "জলাজলির" পর "করাকরি"।পরস্পর হাত ধরে টানাটানি, গোপী কৃষ্ণের, কৃষ্ণ গোপীর। "করাকরির" পর "মুখামুখি" কৃষ্ণ গোপীমুখে চুম্বন করেন,গোপী কৃষ্ণ মুখে চুম্বন করেন।মুখামুখির পর "হৃদাহৃদি"। কৃষ্ণ নিজ বক্ষ গোপীর বক্ষে লগ্ন করেন।গোপী নিজ বক্ষ কৃষ্ণ বক্ষে লগ্ন করেন। শ্রীকৃষ্ণ রাধাকে অগাধ জলে নিয়ে গিয়ে ছেড়ে দেন।শ্রীরাধা শ্রীকৃষ্ণের গলা ধরে জলে ভাসেন।যত গোপী তত কেষ্ণ নিয়ে খেলা করেন।প্রত‍্যেক গোপীর পার্শে এক কৃষ্ণ।স্বর্ণ পদ্ম গোপী দেহ।নীল পদ্ম কৃষ্ণ দেহ।তাতে পুনঃ পুনঃ ঠেকাঠেকি হচ্ছে। গোপীগণের বক্ষোজ কৃষ্ণ স্পর্শ করতে চাহেন।গোপী হাত দিয়ে তা ঠেকিয়ে রাখেন।কি যে অপরূপ দৃশ্য।রসের সমুদ্র যেন উথলিয়ে উঠে,একমনে এই লীলা দর্শন করছিলাম। তখন তোমরা আমাকে ডাকলে।আর সব কোথায় চলে গেল। অহো!*
*কাঁহা যমুনা বৃন্দাবন, কাঁহা কৃষ্ণ গোপীগণ,*
        *সেই সুখ ভঙ্গ করাইলা।*
🙌🙌🙌🙌🙌🙌🙌🙌🙌🙌🙌🙌🙌
 ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧       

১১৯. দিব‍্যোন্মাদ দশা,হা-হা-কৃষ্ণা তুমি গেলি কতি 🌼 শ্রীগৌরাঙ্গ মহাপ্রভু 🥀 সংক্ষিপ্ত কথন 🙏 পঞ্চম ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/07/mohaprobhu5.html

  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
*(১১৯)গৌরাঙ্গপ্রভু সংক্ষেপ কথন*
*দিব‍্যোন্মাদ দশা,হা-হা-কৃষ্ণা তুমি গেলি কতি।*
^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^
*🍀মহাপ্রভু সর্বদা বিরহিনী রাধা ভাবে বিভোর, গম্ভীরার মধ্যে শয়ন করে গৌরহরির মন সর্বদা বিরহ তাপে জর্জরিত।কেবল হাহাকার "কাঁহা কৃষ্ণ" তুমি গেলি কতি।নয়নে একবিন্দু নিদ্রা নেই।কৃষ্ণ বিরহে ব‍্যাকুল হয়ে গম্ভীরার ভিতরে মুখ ঘষতে থাকেন।মুখ,গাল,নাক ক্ষত বিক্ষত হয়ে যায়।রক্তধারা বহিতে থাকে।কি যে ঘটছে নিজে জানেন না। যখন গোঁ গোঁ শব্দ করেন তখন স্বরূপ দামোদর দীপ জ্বালিয়ে ঘরে এসে দেখেন শ্রীবদনের কি মর্মান্তিক দৃশ্য। মহাপ্রভুকে শয়ন করান।স্বরূপ জিজ্ঞাসা করেন-- মুখের অবস্থা কি রকমে এমন হল? মহাপ্রভু বলেন, "আমি উদ্বেগে ঘরে থাকতে পারি না।দরজা খুঁজে পাই না। খুঁজতে খুঁজতে মুখ দেওয়ালে চারিদিকে লাগে।তাই অমন অবস্থা।ক্ষত হয়েছে।রক্ত পড়ছে।তখন জানতে পারি নাই। স্বরূপ অনেক ভেবে এক বুদ্ধি করলেন।শঙ্কর পন্ডিতকে মহাপ্রভুর সঙ্গে শোয়ালেন।শঙ্কর মহাপ্রভুর শ্রীচরণতলে শয়ন করলেন।তার উপর গৌরহরি শ্রীচরণ প্রসারণ করলেন।শঙ্করের নতুন নাম হল মহাপ্রভুর পাদোপধান।শঙ্কর মহাপ্রভুর শ্রীচরণ সংবাহন করেন।গৌরহরি একটু নিদ্রা গেলে শঙ্কর শ্রীচরণতলে শয়ন করেন।শঙ্করের গায়ের কাপড় সরে গেলে, মহাপ্রভু উঠে নিজের কাঁথা তার গায়ে জড়িয়ে দেন।শঙ্করের ভয়ে ভাবনিধি গৌরসুন্দর আর যখন তখন উঠে বাইরে যেতে পারেন না  বা দেয়ালে মুখ ঘষতে পারেন না।*
🙌🙏🙌🙏🙌🙏🙌🙏🙌🙏🙌🙏🙏

 ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧      
 
১২০. শিক্ষার্থক আস্বাদন(১) 🌼 শ্রীগৌরাঙ্গ মহাপ্রভু 🥀 সংক্ষিপ্ত কথন 🙏 পঞ্চম ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/07/mohaprobhu5.html

  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
*(১২০)গৌরাঙ্গপ্রভু সংক্ষেপ কথন*
           *💧শিক্ষার্থক আস্বাদন💧*
         ****************************
*🍀নীলাচল লীলায় বিপ্রলম্ভ রসের আস্বাদনই প্রধান।সর্বদাই কৃষ্ণবিরহে বিহ্বল শ্রীগৌরসুন্দর।স্বরূপ দামোদর আর রামানন্দ রায় সঙ্গে দিনরাত রসগীত আস্বাদন করেন।কি উপায়ে কৃষ্ণ পাবো ইহাই সর্বদা ভাবনা। কিছুতেই কৃষ্ণ পাবো না এই নিরাশায় মহাপ্রভু ম্রিয়মাণ(মরণাপন্ন)। হঠাৎ মনে হল,না,কৃষ্ণ পাবার উপায় তো আছে। ভাগবত শাস্ত্র ঘোষণা করেছেন--, "যজ্ঞৈঃ সঙ্কীর্তনপ্রায়ৈ র্যজন্তি হি-সুমেধসঃ।"🌷সংকীর্তন যজ্ঞে যে কৃষ্ণের আরাধনা করে সেই সুমেধা(স্মরণশক্তি)তাঁর চরণ লাভ করে।ভাগবতেয় এই শ্লোক মনে পড়তেই গৌরহরির হর্ষোদয় হল।তাহলে কৃষ্ণ পাবো নিশ্চয়ই পাবো।অতীব হর্ষোন্বিত মনে স্বরূপ রামরায়কে সম্বোধন করে মহাপ্রভু বলে উঠলেন=*
*হর্ষে প্রভু কহে শুন স্বরূপ রামরায়*।
*নাম সংকীর্তন কলৌ পরম উপায়।।*

*নাম সংকীর্তন দ্বারা সকল অনর্থের নাশ হয়।*
*নাম সংকীর্তন দ্বারা সকল প্রকার শুভের উদয় হয়।*
*নাম সংকীতনের দ্বারা শ্রীকৃষ্ণের প্রেমের উল্লাস হয়।*
*এইকথা বলেই একটি শ্লোক উচ্চারণ করলেন=*
*"চেতোদর্পণমার্জনং ভবমহাদাবাগ্নি নির্বাপণং,*
*শ্রেয়ঃ কৈরবচান্দ্রিকাবিতরণং বিদ‍্যাবধূজীবনম্,*
*আনন্দাম্বুধিবর্ধনং প্রতিপদং পুর্ণামৃতাস্বাদনণং,*
*সর্বাত্মস্নপনং পরং বিজয়তে শ্রীকৃষ্ণসংকীর্তনম্।।*
*🍁শ্রীকৃষ্ণকীর্তন চিত্তরূপ দর্পণের মার্জনাকারী,মল নাশক।এই সংসার মহাদাবাগ্নির মত তাপ দেয়।কৃষ্ণ কীর্তন সেই তাপ নির্বাপন করে।কুমুদ ফুটে চাঁদের আলোকে।কৃষ্ণ কীর্তনের আলোক সকল প্রকার মঙ্গল রূপ কুমুদের প্রস্ফুটনে সহায়কারী।বিদ‍্যারূপ বধূর জীবন স্বরূপ কৃষ্ণ কীর্তন।সেটি আনন্দ সমুদ্রের বর্ধক, নামের প্রতিটি অক্ষর অমৃতাস্বাদনদায়ক।সকল আত্মার স্নিগ্ধতা আপাদক।সেই শ্রীকৃষ্ণ কীর্তন সর্বোপরি জয়যুক্ত থাকুক।*

 ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧       

১২১. শিক্ষার্থক আস্বাদন(২) 🌼 শ্রীগৌরাঙ্গ মহাপ্রভু 🥀 সংক্ষিপ্ত কথন 🙏 পঞ্চম ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/07/mohaprobhu5.html

  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
*(১২১)গৌরাঙ্গপ্রভু সংক্ষেপ কথন*
      *(০২)শিক্ষার্থক------আস্বাদন*
       ****************************
*শ্রীনামের শক্তিতে কৃষ্ণপ্রেম লাভ হয়।প্রেমামৃতের আস্বাদন হয়, শ্রীকৃষ্ণকে পাওয়া যায়। কৃষ্ণ সেবামৃত সাগরে পুরোপুরি ভাবে ডুবে যাওয়া যায়।এত শক্তি নামের, বলতে বলতে আর একটি শ্লোক শ্রীমুখ হতে উচ্চারিত হল=*
*নাম্নামকারী বহুধা নিজসর্বশক্তি,*
*স্তাত্রার্পিতা নিয়মিতঃ স্মরণে ন কালঃ।*
*এতাদৃশী তব কৃপা ভগবন্মমাপি,*
*দুদ্দৈবমীদৃশমিহাজনি নানুরাগঃ।।"*
*🍀শ্রীহরির নাম অনেক, যার যেরকম ভাব ও বাঞ্জা সেই রকম ভাবের অনেক নামের প্রকাশ করেছেন শ্রীহরি।প্রত‍্যেক নামেই সর্বশক্তি অর্পণ করেছেন। ভগবানের নামে কোন কালাকাল নেই, শুচি অশুচি বিচার নেই।যখন ইচ্ছা,যে ভাবে ইচ্ছা সেইভাবেই নাম করা যায়। তোমার এত করুণা -- তথাপি আমার দুর্ভাগ‍্য এমন নামেতে জীবকুলের অনুরাগ হল না।কিভাবে নাম করলে নামের সকল ফল পাওয়া যায় তা বললেন তৃতীয় শ্লোকে=*
*"তৃণাদপি সুনিচেন তরোরিব সহিষ্ণুনা।*
*অমানিনা মান দেন কীর্তনীয়ঃ সদা হরিঃ।।"*
*🌱তৃণ অপেক্ষা নীচ হয়ে,বৃক্ষের মতন সহিষ্ণু(সহনশীল বা ক্ষমাশীল) হয়ে,অপরকে সম্মান দিয়ে, নিজে মান না চাহিয়া যে ব‍্যক্তি কৃষ্ণকীর্তন করেন সেই কীর্তনের সমগ্র ফল লাভ করে।*
*🌷বলতে বলতে মহাপ্রভুর দৈন‍্যের (দীনতার) উদয় হল।কৃষ্ণের কাছে শুদ্ধাশুদ্ধি ভিক্ষা করতে লাগলেন=*
*"ন ধনং ন জনং ন সুন্দরীং কবিতাং বা জগদীশ কাময়ে।*
*মম জন্মনি জন্মনীশ্বরে ভগবতাদ্ভক্তিরহৈতুকী ত্বয়ি।।"*
*🙏প্রভু হরি হে! তোমার কাছে কিছুই চাহি না। ধন,জন,যুবতী বা কাব‍্যামৃতাস্বাদন কিছুর প্রতিই কামনা নাই। কেবল শুদ্ধাভক্তি চাই।হে কৃষ্ণ! কৃপা করে শুধু তাই-ই দাও।নিজেকে সংসারী জীব ভেবে মহাপ্রভু অতি দৈন‍্যে দাস‍্যভক্তি কামনা করছেন।গৌরহরি বলেছেন--,আমি তো তোমার নিত‍্য দাস, তোমাকে ভুলে ভবসাগরে হাবুডুবু খাচ্ছি।কৃপা করে আমাকে তোমার পদধূলি সদৃশ(সমান)কর,দান কর সেবা দাও🙏।*
*"অয়ি নন্দতনুজ কিঙ্করং,পতিতং মাং বিষমে-ভবাম্বুধৌ।*
*কৃপয়া তব পাদপঙ্কজস্থিতধূলিসদৃশং বিচিন্তয়।।"*
*🍀শ্রীকৃষ্ণপদে অনুরাগই জীবের শ্রেষ্ঠ সম্পদ।ঐ সম্পদ যার নাই সেই প্রকৃত দরিদ্র।আমার এই দরিদ্র জীবন ব‍্যর্থ কৃষ্ণ-প্রেমধন বিনা।হে কৃষ্ণ!তুমি আমাকে নাম-কীর্তন লালসা দান কর,প্রেম দান কর,যাতে তোমার নাম নিতেই নয়নে অশ্রুধারা বহে,কন্ঠ গদগদ হয়,পুলকে অঙ্গ পরিপূর্ণ হয় =*
*"নয়নং গলদশ্রুধারয়া,বদনং গদগদরুদ্ধয়া গিরা।*
*পুলকৈর্নিচিতং বপুঃ কদা তব নাম গ্রহণে ভবিষ‍্যতি।।"*
*😭বলতে বলতে করুণাময় গৌরহরির চিত্তে বিরহ স্ফূর্তি হল।পুনঃ বলছেন,কৈ!পাইনি তো কৃষ্ণধন।কৈ তাঁরজন‍্য আমার মনে বেদনা কোথায়?আর্তি কোথায়?হ গোবিন্দ!কবে তোমার প্রতি পুণ‍্যপ্রেম হবে,কবে তোমার বিরহে একটি নিমেষে শতযুগের মত মনে হবে।(আমার ভাবনিধি পতিতপাবন গৌরহরি রাধা ভাব-এ ভাবিত হয়ে এই কথাগুলি বলছেন,একমাত্র জীবকে শিক্ষা দেবার জন‍্য)।কবে তোমার অভাবে নয়ন হতে বর্ষাধারার মত অশ্রু ঝরবে?কবে তোমা হারা হয়ে সমস্ত জগৎশূন‍্য মনে হবে?*
*"যুগায়িতং নিমিষেন চক্ষুযা প্রাবৃষায়িতম্।*
*শূন‍্যায়িতং জগৎ সর্বং গোবিন্দ বিরহেণ মে।।"*
*🌹এই সব কথা বলতে বলতে শ্রীগৌরাঙ্গচাঁদের চিত্ত কৃষ্ণবিরহে তুষানলের(জ্বলন্ত তুষের আগুনের, বা চাপা থেকেও যা দীর্ঘকাল জ্বলতে থাকে।),মত দগ্ধীভূত হতে লাগলেন।শ্রীগৌরসুন্দরই শ্রীকৃষ্ণ, শ্রীকৃষ্ণই কিন্তু শ্রীরাধাভাবে সমাবৃত(সম্পূর্ণ ঢাকা) তনু।সর্বদাই নিজেকে কৃষ্ণহারা রাধা ভাবছেন।যখন কৃষ্ণ বিরহে অতি কাতর তখন যেন সখীগণ পরামর্শ দিচ্ছেন-- এমন হৃদয়হীন শ‍্যামকে উপেক্ষা (অবহেলা)কর,ত‍্যাগ কর।*
             *ক্রমাগত*
 ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧       

১২২. শিক্ষার্থক আস্বাদন(৩) 🌼 শ্রীগৌরাঙ্গ মহাপ্রভু 🥀 সংক্ষিপ্ত কথন 🙏 পঞ্চম ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/07/mohaprobhu5.html

  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
*(১২২)গৌরাঙ্গপ্রভু সংক্ষেপ কথন*
     *(০৩)শিক্ষার্থক--আস্বাদন*
      ^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^
*🌷উত্তরে কহিছেন ভানুর নন্দিনী--*
*"আশ্লিষ‍্য বা পাদরতাং পিনষ্টুমদর্শনান্মমর্নহতাং করোতু বা*।
*যথা তথা বা বিদধাতু লম্পটঃ মৎ প্রাণনাথস্তু স এব নাপরঃ।।"*
*🍁আমি শ্রীকৃষ্ণের চরণ সেবিকা দাসী।তিনি আমাকে আলিঙ্গন করে আত্মসাৎ করুন কিংবা দর্শন না দিয়ে আমার দেহপ্রাণ তাপ-দগ্ধই করুন,কিংবা যেখানে সেখানে বিচরণ করে যার তার সঙ্গে বিহারে রত থাকুন--,তাতে আমার কিছু যায় আসে না-- যে সব কথা আমি মনের কোণেও জায়গা দিই না।আমার অনুধ‍্যান একটি মাত্র মহাসত‍্য-- "তিহঁ মোর প্রাণনাথ"। আর কেহ নয়। শুদ্ধপ্রেমের লক্ষণ শ্রীরাধার এই অপূর্ব কথা শ্রীগৌরসুন্দর আস্বাদন করছেন।এই আস্বাদনের তুলনা নাই।*
*🌻স্বয়ং গৌরহরির মত আর কে আছে।তাই শ্লোকদ্বয় তাতেই মূর্ত। নিরন্তর কেঁদে বলতেন-- আমার শ্রীকৃষ্ণে এক বিন্দু প্রেম নাই।তবে যে কান্দি তাঁহা নিজ সৌভাগ্য লোককে জানাবার জন্য, এইরকম কথা বলবার মত পুরুষ ঐ একটি ছাড়া সমস্ত বিশ্বে আর কেউ নাই।সারা রাত্রি জাগরণ,দেয়ালে মুখঘর্ষণ উন্মাদের মত প্রধাবন-- এই দিব‍্য অবস্থা যা শ্রীগৌরসুন্দরের স্বরূপে প্রকটিত হয়েছে তা অভূতপূর্ব,অনস্বাদিতপূর্ব তুলনাবিহীন।শেষ শ্লোকের মূর্তি মাদনাখ‍্য মহাভাবময়ী শ্রীশ্রীরাধা ঠাকুরাণী স্বয়ং। তারই ভাবে সম্পূর্ণ ভাবে বিভাবিত তনু বলে শ্রীগৌরাঙ্গসুন্দরের শ্রীমুখে ঐরকম কথা উচ্চারিত হয়েছে।*

 ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧     
  
১২৩. শিক্ষার্থক আস্বাদন(৪) 🌼 শ্রীগৌরাঙ্গ মহাপ্রভু 🥀 সংক্ষিপ্ত কথন 🙏 পঞ্চম ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/07/mohaprobhu5.html

  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
*(১২৩)গৌরাঙ্গপ্রভু সংক্ষেপ কথন*
     *(০৪)শিক্ষার্থক--আস্বাদন*
      ^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^
*☘শ্রীকৃষ্ণ উজ্জ্বলরসের সুখ-সম্পদের মূর্তি।আর আমি তার শ্রীপাদপদ্মের দাসীর অনুদাসী।তিনি আমাকে বক্ষে ধরে আত্মসাৎ করুন, কিংবা অদর্শনে দেহমন প্রাণ জর্জরিত করুন,তিনি আমার প্রাণেশ্বর প্রাণসর্বস্বধন। আমি নিজ দুঃখকে দুঃখ ভাবি না,তার সুখই আমার সুখের মূল নিদান (কারণ)।আমাকে হাজার দুঃখ দিয়েও যদি তার সুখ হয়,তবে সেই দুঃখ আমার সর্বশ্রেষ্ঠ সুখ।তিনি কখনও আমাকে প্রাণেশ্বরী বললেও আমি অন্তরে জানি যে আমি তার শ্রীচরণের অধমা সেবিকা-দাসীর দাসী।*
*🍀বিশুদ্ধ প্রেমের এই লক্ষণ একমাত্র শ্রীরাধাতেই বিরাজমান,সেই রাধা ভা--বে ভাবিত মন শ্রীগৌরহরিএইসব কথা উচ্চারণ করে বিশ্ব জগতের মাঝে নির্মল বিশুদ্ধ প্রেমের সর্বোত্তম দৃষ্টান্ত প্রকটন করেছেন। মহাপ্রভুর সংক্ষিপ্ত লীলা কাহিনী ও শিক্ষার কথা বলা হল।উপসংহারে (শেষাংশে) তাঁর দার্শনিক দৃষ্টিভঙ্গির কথা বলব। দার্শনিক দৃষ্টির কথা সাধ‍্যতত্ত্ব ও সাধনতত্ত্ব এই দুইভাগে আলোচিত হবে।এই অষ্ট শ্লোকে কেবল যে মহাপ্রভুর শিক্ষাই আছে তা নয়, এই শিক্ষা মহাপ্রভুর নিজ লীলাজীবন ও পার্ষদগণের লীলাজীবনের মধ্যে বাস্তবায়িত হয়েছে।*
           🙏🙏🙏🙏🙏

 ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧     
  
১২৪. শিক্ষার্থক আস্বাদন(৫) 🌼 শ্রীগৌরাঙ্গ মহাপ্রভু 🥀 সংক্ষিপ্ত কথন 🙏 পঞ্চম ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/07/mohaprobhu5.html

  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
*(১২৪)গৌরাঙ্গপ্রভু সংক্ষেপ কথন*
         *(৫)শিক্ষার্থক আস্বাদন*
           **************************
*🍀প্রথম শ্লোকে হরিনামের মহামাহাত্ম‍্য কীর্তিত।এর বাস্তব দৃষ্টান্ত জগাই-মাধাইর জীবনে।এরা দুইভাই কিরকম ছিল ------*
*🍀হেন পাপ নিহি,যাহা না করে দুই জন।*
*🍀ডাকা চুরি মদ‍্য মাংস করয় ভক্ষণ।।*
*🌹শ্রীনামের মহাশক্তিতে তাদের দুই ভাইর সকল পাপ-তাপ দূর হয়ে গেল।চিত্ত দর্পণ সুমার্জিত হল।অন্তরের দাবদাহন দূর হল।তাদের সম্বন্ধে বলা হয়েছে, তারা হল পতিত পাবন।মহাপাতকরা জীবপাবন হল।বুঝা গেল তাদের "সর্বাত্মস্নপনং" হয়েছিল।দ্বিতীয় শ্লোকের বক্তব‍্য কিভাবে নাম করতে হয়। তৃণের মত নিচু,বৃক্ষের মত সহিষ্ণু,অমানীকে মান দিতে হবে, দৃষ্টান্ত ঠাকুর হরিদাস। দৈন‍্য বিনয়ের খনি ছিলেন হরিদাস ঠাকুর।যারা প্রহার করেছিল তাদের তিনি মঙ্গলকামনা করেছিলেন।সর্বদাই নামানন্দে ডুবে থাকতেন।কীর্তনীয়র সদা হরিঃ এই শিক্ষার তিনি মূর্ত বিগ্রহ।*
*🍀"হরিনাম বিদ‍্যা বধূর জীবন" এই সত‍্য মুক্তি পেয়েছিল সন্ন‍্যাসীর গুরু প্রবোধানন্দ সরস্বতীপাদের জীবনে।তাঁর অগাধ জ্ঞান বন্ধ‍্যা(বন্ধন যোগ‍্য বা ফলহীন) ছিল।তা জীবন পেল একমাত্র হরিনাম কীর্তনের শক্তিতে।*
*🍀তৃতীয় শ্লোকে "নামে সর্বশক্তি আছে " এই কথার মূর্তি কাশীবাসী সন্ন‍্যাসীরা।যারা ছিল নামে ভজনে  ভক্তিযাজনে একেবারেই বহির্মুখ তারা হয়ে গেল হরিনামের মাতোয়ারা।*
*🍀চতুর্থ শ্লোকে অহৈতুকী ভক্তি ছাড়া আর কিছু কামনা করি না, ধনজন,কবিতা, সুন্দরী কিছুই কাম‍্য নয়--,এই মন্ত্রের মূর্তি শ্রীরঘুনাথ দাস গোস্বামী। পিতার বিপুল ধনৈশ্বর্য‍্য, সুন্দরী ষোড়শী পত্নী--,কোন কিছুর প্রতি তাঁর একবিন্দু আকর্ষণ ছিল না।এই মত সর্বত‍্যাগী ও নিষ্ঠাময় ভজন অনুরাগী দাসগোস্বামীর মত আর দেখা যায় না।*
*🍀পঞ্চম শ্লোকে=হে নন্দনন্দন! আমি বিষম ভবসমুদ্রে পড়ে আছি, আমাকে তোমার পাদপদ্মের ধূলিকণার মত মনে করে জায়গা দিও।এই শ্লোকের মূর্তি শ্রীপাদ সনাতন গোস্বামী।তিনি দন্তে তৃণ ধরে মহাপ্রভুর পদে লুটিয়ে পড়লেন, করুণাময় পতিতপাবন গৌরহরি তাঁকে আলিঙ্গন করে  বললেন, "তোমা স্পর্শী পবিত্র হতে।মহাপ্রভু স্বয়ং বলেছেন, সনাতন তোমার ত্রিতাপ নাই,তবু তাঁর বিনয় দৈন‍্য ছিল অপরিসীম। "উত্তম হইয়া আপনাকে হীন করি মানে"।এর উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত শ্রীপাদ সনাতন গোস্বামী। কবে গোবিন্দ বলে নয়ন জলে ভাসিব, তাঁর বিরহে জগৎ শূন‍্য দেখিব। এই ষষ্ঠ,সপ্তম শ্লোকের বর্ণনার মূর্তি স্বয়ং শ্রীগৌরসুন্দর।বর্ষার মেঘের মত সতত।অশ্রুধারায় ভাসমান,কৃষ্ণ বিরহে সর্বদা তুষানলে দহ‍্যমান,এই নিখিল বিশ্বে আর কোথায় কে আছে?*
🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏
 ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧      
 
১২৫. গৌরসন্দরের দার্শনিক দৃষ্টিভঙ্গি 🌼 শ্রীগৌরাঙ্গ মহাপ্রভু 🥀 সংক্ষিপ্ত কথন 🙏 পঞ্চম ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/07/mohaprobhu5.html

  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
*(১২৫)গৌরাঙ্গপ্রভু সংক্ষেপ কথন*
*গৌরসন্দরের দার্শনিক দৃষ্টিভঙ্গি*
•••••••••••••••••••••••••••••••••••••••
*🌹সাধ‍্যতত্ত্ব সম্বন্ধে ভিন্ন ভিন্ন আচার্য‍্যের ভিন্ন ভিন্ন অনুভব আছে।মহাপ্রভুর হার্দটি(স্নেহ,প্রণয়টি) আমাদের অনুসন্ধানের বিষয়।সেটি শ্রীচৈতন‍্য চরিতামৃত শ্রীগ্রন্থে নানাজায়গায় ছড়ানো রয়েছে।সর্বাপেক্ষা অধিক বা বেশী সুশৃঙ্খলভাবে সেটি সজ্জিত আছে, ঐ গ্রন্থের মধ‍্যলীলার অষ্টম পরিচ্ছেদে রায় রামানন্দ সংবাদ।উক্ত পরিচ্ছেদে অবিলম্বেই মহাপ্রভুর দার্শনিক দৃষ্টিভঙ্গিটি জানতে হবে।সাধ‍্যতত্ত্ব সম্বন্ধে মহাপ্রভুর হার্দটি কি তাইই খুঁজতে হবে।আমাদেরকে আর খুঁজতে হবে না।মহাপ্রভু নিজেই খুঁজে রামরায়ের মুখ হতে বাহির করেছেন।শাস্ত্রে যেখানেই দুইজনের মধ্যে আলোচনা,সেখানেই জ‍্যেষ্ঠ ব‍্যক্তি বক্তা,কনিষ্ঠ ব‍্যক্তি শ্রোতা।গুরুদেব বলবেন,শিষ‍্য শুনবেন,শুক উপদেষ্টা,পরীক্ষিৎ উপদিষ্ট।শ্রীকৃষ্ণ দাতা,অর্জুন গ্রহীতা।এটিই স্বাভাবিক।*
*🍀শ্রীরামানন্দ সংবাদে উক্ত স্বাভাবিক নীতির বিপরীত দেখা যায়।এখানে কনিষ্ঠ ব‍্যক্তি বক্তা,জ‍্যেষ্ঠ ব‍্যক্তি জিজ্ঞাসু শ্রোতা।ভক্ত বলছেন, ভগবান শুনছেন,এ যেন গীতার উল্টো পিঠ, কুরুক্ষেত্রের অন্তরের দিক,যিনি তৃষ্ণা মিটাবেন,তিনিই তৃষ্ণাতুর।যিনি ভান্ডারী,তিনিই ভিখারী।এ এক গভীর রহস‍্য।*
*🌷সাধন,ভজন,সাধ‍্যের অভিমুখে প্রধাবন,সাধ‍্যপ্রাপ্তি এ সব কাজ মূলতঃ ভক্তেরই। ভগবানের নয়।প্রেমভক্তি বস্তুটি ভক্তেরই সম্পদ।যার সম্পদ যার অনুভবের সামগ্রী,আস্বাদনের বস্তু।তাঁর মুখেই তো সেই কথা সব থাকে বেশী শ্রোত্র- মনোভিরাম(শুনে মনে চরম আনন্দ লাভ হয় )।ভক্তিরসে ভক্তেরই অপরোক্ষ অনুভূতি, ভগবানের তো অনুমিতি (অনুমান) মাত্র।মধু-মাধুরীর গুণগাঁথা মধুকর মুখেই মধুরতম।যদি চ মধুর আদি নিবাস=পদ্মকোষে। কবিরাজ গোস্বামী অপর একটি দৃষ্টান্ত দিয়েছেন। জল সাগরেরই,দিয়েছে সে গোপনে সঞ্চার করে মেঘকে।সেই সাগরই আবার শুক্তি কপাট খুলে স্বাতী নক্ষত্রের বৃষ্টির ফোঁটা পাবার আশায় হাঁ করে আছে।সেটি পেলেই মুক্তাধন বাড়বে সাগর সম্পদশালী হবে,দেওয়া বস্তুই ফিরে পাওয়া, কিন্তু লোভনীয় সুদের সঙ্গে।*
*🌳গৌর বারিধি,রামরায় বারিদকে ভক্তি সিদ্ধান্ত-বারি উজার করে দিয়ে আবার শূন‍্য হৃদয়ে যাচ্ঞা করছেন। পেয়ে লাভবান হবেন এই লোভে।জলধি দেয় জল, পাই মুক্তা,গৌর কৃপানিধি সঞ্চার করেছেন কৃপা ; গ্রহণ করবেন ভক্তের আস্বাদিত ভক্তিরস সিদ্ধান্ত।দাতা শিরোমণি করপুট পেতে রাম রায়ের কাছে ভিক্ষা চাইলেন।*
   *"পড় শ্লোক সাধ‍্যের নির্ণয়।"*
    *আজ এই পর্যন্ত থাক।*
 ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
   ✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️ 
নিবাস- বাঁশবাড়ী, কীর্তন মন্দিরের পাশে, পোঃ- বাঁশবাড়ী, থানা- ইংরেজ বাজার, জেলা- মালদহ, পশ্চিমবঙ্গ, পিন কোড- ৭৩২১০১।
 ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
    *••••┉━❀꧁ 🙏 রাধে রাধে 🙏 ꧂❀━┅••••* 
                   শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য প্রভু নিত্যানন্দ
              হরে কৃষ্ণ হরে রাম শ্রীরাধেগোবিন্দ।।
  *••••┉━❀꧁ 🙏 জয় জগন্নাথ 🙏 ꧂❀━┅••••*
              হরে কৃষ্ণ হরে কৃষ্ণ কৃষ্ণ কৃষ্ণ হরে হরে
              হরে রাম হরে রাম রাম রাম হরে হরে॥
  *••••┉━❀꧁ 🙏 জয় রাধাকান্ত 🙏 ꧂ ❀━┅••••*
   💮❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀💮
   💮❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀💮
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧

adds