শ্রী মৃন্ময় নন্দী কর্ত্তৃক সকল ভক্ত👣চরণে👣অসংখ্যকোটি 🙇প্রণাম🙇 ক্লিক করুন 👇

শ্রী মৃন্ময় নন্দী কর্ত্তৃক সকল ভক্ত👣চরণে👣অসংখ্যকোটি 🙇প্রণাম🙇 ক্লিক করুন 👇

বৈষ্ণব রস-সাহিত‍্য প্রথম শাখা 🙇 পরম বৈষ্ণব খগেন্দ্র নাথ মিত্র 📖 ষষ্ঠ ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/12/sahityo6.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🔙 পূর্ব লীলা 👉 বৈষ্ণব রস-সাহিত‍্য প্রথম শাখা 🙇 পরম বৈষ্ণব খগেন্দ্র নাথ মিত্র 📖 পঞ্চম ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/11/sahityo5.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 👉 বৈষ্ণব রস-সাহিত‍্য প্রথম শাখা 🙇 পরম বৈষ্ণব খগেন্দ্র নাথ মিত্র 📖 ষষ্ঠ ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/12/sahityo6.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 👉 রায় রামানন্দ🌷 বৈষ্ণব রস-সাহিত‍্য প্রথম শাখা 🙇 পরম বৈষ্ণব খগেন্দ্র নাথ মিত্র 📖 ষষ্ঠ ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/12/sahityo6.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(৫১) 🙏বৈষ্ণব রস-সাহিত‍্য🙏*
           *🙏রায় রামানন্দ🙏*
           ***********************
*🍁জগন্নাথ-বল্লভে রাধা পরকীয়া নায়িকা=*
*🌷দয়িতা দয়িতস্তস‍্যা বালেয়ং কুলপালিকা।*
*🌷অকান্ডে কিমসৌ মুগ্ধে ধত্তামাচারবিপ্লবং।।*
                 *(জঃ বঃ নাঃ ২য় অঙ্ক)*
*🌻শ্রীরূপ গোস্বামীর নাটকেও তাইই। বিদগ্ধমাধবে মুখরা শ্রীকৃষ্ণকে বলছেন, চঞ্চল!"অভিমন‍্যোঃ সহধর্মিণী পত্নী তব বন্দনীয়া"।শ্রীরাধা অভিমন‍্যুর (আয়ানের) পত্নী অতএব তোমার নমস‍্যা।*
*🌹এই পরকীয়াতত্ত্ব সম্বন্ধে উভয়ের ঐক‍মত‍্য কি আকস্মিক?অথবা রামানন্দের প্রভাবের ফল? জগন্নাথ- বল্লভে ললিতা বিশাখা নেই, রাধার সখীর নাম মদনিকা ও শশীমুখী।মদনিকা এবং পৌণমাসী উভয়েই বয়োজ‍্যেষ্ঠা এবং লীলার প্রধান প্রযোজনকর্ত্রী।জগন্নাথবল্লভের বিদূষক রতিকন্দল,শ্রীরূপ গোস্বামীর নাটকে মধুমঙ্গলে পরিণত হয়েছেন। কিন্তু গানের দিক দিয়ে জগন্নাথবল্লভ যথেষ্ট জনপ্রিয়তার দাবী করতে পারে!জগন্নাথবল্লভ পঞ্চাঙ্ক নাটক যথা=পূর্বরাগ,ভাবপরীক্ষা, ভাবপ্রকাশ, রাধাভিসার ও রাধাসঙ্গম। প্রথম অঙ্কে চারটি করে ১২টি,চতুর্থ অঙ্কে পাঁচঠি এবং পঞ্চম অঙ্কে চারটি গান আছে।এর মধ্যে অনেকগুলো গান পদকল্পতরুতে উদ্ধৃত হয়েছে এবং কীর্তনের আসরেও অদ‍্যাপি শুনতে পাওয়া যায়।যথা="কেলিবিপিনং প্রবিশতি রাধা",রাধা মধুর বিহারা (অভিসার); "গোপকুমার সমাজমিমং সখি পৃচ্ছ কদানুগতোহহং (রূপানুরাগ) ইত্যাদি।*
*🍁এই গানের অনেকগুলিই শ্রীজয়দেবের অনুকরণে রচিত। জয়দেবের প্রভাব কোন বৈষ্ণব কবিই অতিক্রম করতে পারেননি।জগন্নাথ বল্লভের মত ছোট নাটকটিতে বিংশত‍্যধিক (কুড়িটির বেশী) গানের সমাবেশ দেখলে জয়দেবের কথায় বেশী করে মনে পড়ে।তবে শ্রীজয়দেব যেমন শৃঙ্গার রসের মধ‍্য দিয়েই শ্রীকৃষ্ণলীলা আস্বাদন করেছেন, রামানন্দ সেরকম করেননি।পঞ্চম অঙ্কে (রাধাসঙ্গম)মাত্র শ্রীরাধাকৃষ্ণের বিহার মদনিকার দ্বারা বর্ণিত হয়েছে, তাও বেশ গাম্ভীর্য‍্যপূর্ণ। আগেই বলেছি, রামানন্দের ভাষায় শ্রীজয়দেবের শব্দ-অলঙ্কারের প্রভাব সুস্পষ্ট। দৃষ্টান্তস্বরূপ=*
*🌻মঞ্জুতর গুঞ্জদলি কুঞ্জমতি ভীষণং।*
*🌻মন্দ মরুদন্তরগ গন্ধ কৃত দূষণং।।*
*🌹অথবা, রাধিকে পরিহর মাধবে রাগময়ে ইত্যাদি পদ নেয়া যেতে পারে। আবার চন্ডীদাসের প্রভাব রামরায়ের কাব‍্যে না থাকবারই কথা। কারণ চন্ডীদাস বাঙ্গালী কবি।তথাপি তাঁর রাধাপ্রেমের আকুতি দেখলে চন্ডীদাসের কথা মনে স্মরণ হয়। বিশেষ যখন তিনি বলেছেন=*
*🌻তন্মন‍্যে বিরহে নবৈব বিধুরা কান্তস‍্য যোগে যথা।*
*🌹চন্ডীদাসের অমর চিত্র "দুহুঁ কোরে দুহুঁ কাঁদে বিচ্ছেদ ভাবিয়া" অবশ্যই মনে পড়বে।বিদ‍্যাপতির প্রভাবও রায় রামানন্দের উপর লক্ষ্য করা যায়।তাঁর প্রেমবিলাসবিবর্তের পদটি=*
*🌷পহিলহি রাগ নয়ন ভঙ্গ ভেল।*
*🌹নিশ্চয়ই বিদ‍্যাপতির অনুকরণে লিখিত।রামরায় গানে যে অত‍্যন্ত সুপন্ডিত ছিলেন,এ সম্বন্ধে সংশয় নাই।তাঁর অনেকগুলির জনপ্রিয়তার এটিও একটি হেতু।আর একজন বিখ‍্যাত কবি সেইজন‍্যই তাঁর সংস্কৃত গানগুলিকে বাংলা রূপ দিতে অনুপ্ররিত হয়েছিলেন।জগন্নাথবল্লভের শ্লোক ও সঙ্গীত অবলম্বন করে শ্রীলোচনদাস চল্লিশটি পদ রচনা করেছিলেন।পদগুলি অতি সুললিত এবং জায়গায় জায়গায় কাব‍্য-সৌন্দর্য‍্যে মূল কবিকে ছাড়িয়ে গিয়েছে।লোচনদাসের পদেও ব্রজবুলি ভাষার যথেচ্ছ ব‍্যবহার লক্ষ্য করবার বিষয়।তাঁর চল্লিশটি পদের মধ্যে তেরটি ব্রজবুলি ভাষায়।*
*🍀রামানন্দের শ্রেষ্ঠ কৃতিত্ব তাঁর সংলাপে,যেখানে তিনি মহাপ্রভুর প্রশ্নের উত্তরে সাধ‍্যের স্থাপন করেছেন।অদ‍্যাপি এই সাধ‍্যসাধনতত্ত্ব বৈষ্ণবসমাজে ভক্তিধর্মের দৃঢ় ভিত্তি বলে গণ‍্য হয়।বস্তুতঃ এই প্রসিদ্ধ সাধ‍্য সাধনতত্ত্ব-বিচারের মত প্রেমধর্ম-ব‍্যাখ‍্যা আর কোথাও দেখা যায় না। রামানন্দ ছিলেন "রাধাকৃষ্ণ প্রেমরসের জ্ঞানের সীমা"।কাজেই তাঁর এই তত্ত্বব‍্যাখ‍্যা বৈষ্ণবধর্মের নির্যাস বলে আদৃত হয়েছে।*
*🍁এই সুপরিচিত সাধ‍্য-বিচারের মধ্যে মাত্র দুইটি বিষয়ের প্রতি আমি দৃষ্টি আকর্ষণ করোএ চাই।প্রথমতঃ কান্তা-ভাবের ভজন এই প্রথম স্পষ্টভাবে অঙ্গীকৃত হল। ভগবান যে প্রিয়তম, একথা বৃহদারণ‍্যক এবং নারায়ণীর উপনিষদে উক্ত হয়েছে। ব্রজের গোপীরা যে শ্রীকৃষ্ণকে প্রাণকান্তারূপে ভজনা করেছিলেন, এটিও শ্রীমদ্ভাগবতে বর্ণিত হয়েছে। কিন্তু এ পর্যন্ত ভক্তিধর্মের যে ব‍্যাখ‍্যা প্রচলিত ছিল তাতে মধুর বা উজ্জ্বল রসের জায়গা স্বীকৃত হয়নি। সেইজন‍্যই শ্রীচৈতন‍্যদেব যে ভক্তি-সাধনা প্রবর্তিত করলেন তাকে "অনর্পিতচরীং চিরাৎ" বলা হয়েছে।(যা পূর্বে কোনযুগে বা কোনকালে এইভাবে প্রেভক্তি প্রদান করেননি)। তিনি মধুর রস-সমন্বিত ভক্তির প্রবর্তক,এটি যদি স্বীকার করা যায়,তবে তার প্রেরণা এই দাক্ষিণাত‍্য দেশ হতে এসেছিল এটি না মেনে উপায় নাই। (◆অধুনালুপ্ত "উদয়ন" পত্রিকায় (কার্ত্তিক ১৩৪১) বাংলার প্রেমধর্ম শীর্ষক প্রবন্ধে আমি এর বিস্তৃত ব‍্যাখ‍্যা দিয়েছিলাম। রায় বাহাদুর রমাপ্রসাদ চন্দ উদয়নে (পৌষ ১৩৪১) তার প্রতিবাদ করেন,আমার প্রত‍্যুক্তি (বসুমতি বৈশাখ ১৩৪২) দ্রষ্টব‍্য)।*
*☘দ্বিতীয়তঃ এই তত্ত্বের বিশ্লেষণ প্রসঙ্গে রামানন্দ রায় স্বরচিত একটি পদ গান করেন=*
*🌷পহিলহি রাগ নয়নভঙ্গ ভেল।*
*🌷অনুদিন বাঢ়ল অবধি না গেল।।*
*🌷না সো রমণ না হাম রমণী।*
*🌷দুহুঁ মন মনোভব পেষল জানি।। ইত্যাদি।।*
*🌹এই পদটির ব‍্যাখ‍্যার অনেক কথা এবং জনৈক সুধী সমালোচক ভ্রমে পতিত হয়েছেন।অর্থ‍্যাৎ ভুল পথে চালিত হয়েছেন।তাঁরা মনে করেন যে, "না সো রমণ" ইত্যাদির দ্বারা বিপরীত বিহারের ইঙ্গিত করা হয়েছে। কিন্তু বস্তুতঃ তা নয়।রায় রামানন্দ এখানে কান্তা-প্রেমের শ্রেষ্ঠত্ব প্রতিপাদন করে এমন এক অনির্বচনীয় অবস্থার আভাস দিচ্ছেন,যেখানে কান্ত ও কান্তা,নায়ক ও নায়িকা, ভক্ত ও ভগবান একাত্মা হয়ে যান ; কোনও রূপ ভেদ থাকে না, এটিই কান্তা প্রেমের চরম পরিণতি।(◆প্রেমবিলাস-বিবর্তের ব‍্যাখ‍্যা সম্বন্ধে ভারতবর্ষে (আষাঢ় ১৩৪৪) আমি যে আলোচনা করেছিলাম এবং শ্রদ্ধেয় শ্রীযুক্ত রাধাগোবিন্দ নাথ যে প্রত‍্যুত্তর (ভাদ্র ১৩৪৪) দিয়েছিলেন তা দ্রষ্টব‍্য)।*
*🌹বৈষ্ণবদের এই প্রেমবিলাসবিবর্ত এক অপূর্ব বস্তু।রামরায় যেরকম ভয়ে ভয়ে এটি ব‍্যাখ‍্যা করেছেন,তাতে মনে হয় যে,প্রেমের এই অভেদতত্ত্ব অত‍্যন্ত নিগূঢ় এবং রহস‍্যমন্ডিত মর্মকথা। কান্তা-প্রেমের শ্রেষ্ঠত্ব প্রতিপাদন করে বক্তা মনে করলেন যে,এ প্রসঙ্গেই এটিই চরম হল। কিন্তু =*
*🌷প্রভু কহে এহ হয় আগে কহ আর।*
*🌷রায় কহে আর বুদ্ধিগতি নাহিক আমার।।*
*🌷যেবা প্রেম-বিলাস-বিবর্ত এক হয়।*
*🌷তাহা শুনি তোমার সুখ হয় কি না হয়।।*
*🌻সন্দেহ-দোলায়িত রায় রামানন্দ এরই ব‍্যাখ‍্যাস্বরূপ নিজকৃত এক পদ গাইলেন; "পহিলহি রাগ নয়নভঙ্গ ভেল"।এই গান শুনে মহাপ্রভুর প্রশ্ন নিরস্ত হয়ে গেল।তিনি উদ‍্যত-ফণ অজগরের মত দুলতে লাগলেন এবং পরিশেষে=(প্রেমে প্রভু স্বহস্তে তার মুখ আচ্ছাদিল)। "প্রেমবিলাসবিবর্ত অর্থে এখানে এমন একটি অবস্থার ইঙ্গিত করা হচ্ছে তত্ত্ব হিসাবে যার উপরে আর নাই।"বিবর্ত্ত" অর্থে ভ্রম, অর্থ‍্যাৎ যেমন শুক্তিতে মুক্তাভ্রম, রজ্জুতে সর্পভ্রম।প্রেমের জগতে ভেদ--ভ্রম,অভেদই--সত‍্য অর্থ‍্যাৎ প্রেমবিলাসে যে দ্বৈতত্ত্ব দেখতে পাওয়া যায়,তা প্রাথমিক প্রেমের পরাকাষ্ঠা হয় তখন,যখন প্রেমিক ও প্রেমাস্পদের আর কোনও ভেদ থাকে না।*
*পিরীতি লাগিয়া, আপনা ভুলিয়া,*
        *পরেতে মিশিতে পারে।*
*পরকে আপন, করিতে পারিলে,*
       *পিরীতি মিলয়ে তারে।।*
*দুই ঘুচাইয়া, এক অঙ্গ হও,*
       *থাকিলে পিরীতি আশ।*
*পিরীতি সাধন, বড়ই কঠিন,*
       *কহে দ্বিজ চন্ডীদাস।।*
*🌹এই অভেদতত্ত্বই প্রকটিত হয়েছে "রসরাজ-মহাভাবে'র একত্বে। "রসরাজ মহাভাব" দুই একরূপ। (চৈঃচঃ) এই রসরাজ মহাভাবের জীবন্ত বিগ্রহ 🙏রায় রামানন্দের সম্মুখে বিরাজমান। অর্থ‍্যাৎ রামানন্দ সর্বশেষে যখন রাধাকৃষ্ণতত্ত্ব হতে গৌরাঙ্গতত্ত্বে এসে পড়লেন, তখন মহাপ্রভু স্বহস্তে তাঁর মুখ আচ্ছাদন করলেন। এই====*
*🌷ব‍্যাধিকরণতরা বানন্দবৈবশ‍্যতো বা,*
*🌷প্রভুরথ করপদ্মেনাস‍্যমস‍্যাপ‍্যধত্ত।*
       *(চৈতন‍্যচন্দ্রোদয়নাটকং, ৭ম অঙ্ক)*
*🌻কবিকর্ণপুর বিপ্রের মুখ দিয়ে সার্বভৌমের প্রশ্নের উত্তরে এইকথা বলিয়েছিলেন কিন্তু এই তত্ত্ব অতি নিগূঢ়। এখানে কবিকর্ণপুর এটিকে চাপা দিয়েছেন মাত্র।*
🙏🙏🙏🙏🙏🙏🌷🙏🙏🙏🙏🙏🙏
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 👉 বৈষ্ণব রস-সাহিত‍্য প্রথম শাখা 🙇 পরম বৈষ্ণব খগেন্দ্র নাথ মিত্র 📖 ষষ্ঠ ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/12/sahityo6.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(৫২) বৈষ্ণব রস-সাহিত‍্য*
                  *পদাবলী*
            *বাদল---অভিসার*
         ☆☆☆☆☆☆☆☆☆☆
*⚪বর্ষার ঘনায়মান মেঘপুঞ্জ দেখলে প্রণয়ীর চিত্ত আকুল হয়।বাদল মেঘ সেইজন‍্য প্রেমের কাব‍্যে অমর হয়ে আছে। প্রিয়াবিরহ-কাতর যক্ষের কাছে ধূমজ‍্যোতিঃ-সলিল-মরুৎ- সন্নিপাতমাত্র মূর্তিমান হয়ে উঠেছিল এবং প্রেমের যোগ্য দূতরূপে বৃত (কর্মে বরণ করা ) হয়েছিল। ঘটকর্পরও মেঘকে দূত করে প্রোষিত ভর্তার উদ্দেশ্যে প্রেরণ করেছিলেন।পরমভক্ত শ্রীজয়দেব তাঁর অমর কাব‍্য আরম্ভ করেছিলেন মেঘেরই পুণ‍্য নাম নিয়ে। "মেঘৈর্মেদুরমম্বরং" স্মরণ করলে আজও নীল যমুনার কুলে তমাল বনরাজি-শ‍্যামলিত মেঘমেদুর সন্ধ‍্যার একটি সুন্দর চিত্রপট চোখের সামনে ভেসে উঠে।*
*☘আর তেমন মেঘ করে না কি?তেমন করে গুর-গুর দেয়া ডাকে না কি? কই, এখন আর তেমন করে পরাণবন্ধুয়া আঙ্গিনার কোণে প্রণয়িনীর জন্য বৃষ্টির ধারার মধ্যে দাঁড়িয়ে তো প্রতিক্ষা করেন না!*
*🌷এ ঘোর রজনী মেঘের ঘটা,*
                *কেমনে আইলে বাটে।*
*🌷আঙ্গিনার কোণে বন্ধুয়া তিতিছে,*
                 *দেখিয়া পরাণ ফাটে।।*
*🌺ঘরে গুরুজন,আমি যে তাঁদের দৃষ্টি এড়িয়ে বাহির হতে পারলাম না!তিনি আমার জন্য আঙ্গিনায় দাঁড়িয়ে ভিজে সারা হলেন।কত কষ্ট তাঁকে দিলাম,তাই ভেবে আকুল হচ্ছি।*
*🌷ঘরে গুরুজন ননদী দারুণ,*
                     *বিলম্বে বাহির হৈলুঁ।*
*🌷আহা মরি মরি সঙ্কেত করিয়া,*
                     *কত না যন্ত্রণা দিলুঁ।।*
*🌺আমি সঙ্কেত করে তাঁকে এনে এত কষ্ট দিলাম! কিন্তু তিনি তো সে অসহ দুঃখকে দুঃখ মনে করেন না। আমার জন্য বৃষ্টির মধ্যে দাঁড়িয়েও তিনি সুখী!আহা!এমন প্রেম আর হয় না।*
*🌷আপনার দুখ সুখ করি মানে,*
                     *আমার দুখের দুখী।*
*🌷চন্ডীদাস কয় বন্ধুর পিরীতি,*
                    *শুনিয়া জগত সুখী।।*
*🌺এই প্রীতি নিয়েই বৈষ্ণবের কাব‍্য। সামান্য নায়ক-নায়িকার নিতান্ত সাধারণ প্রেম উপলক্ষ্য করে কখনও শ্রেষ্ঠ কাব‍্য রচিত হতে পারে না।শ্রীরাধাকৃষ্ণের এ পিরীতির কথা শুনে "জগৎ সুখী"। এমন আর হয় না।মুরারি গুপ্ত চন্ডীদাসেরই প্রতিধ্বনি করে বলেছিলেন=*
*খাইতে শুইতে রৈতে,আন নাহি লয় চিতে,*
         *বন্ধু বিনা আন নাহি ভায়।*
*মুরারি গুপুতে কহে,পিরীতি এমতি হৈলে,*
         *তার গুণ তিন লোকে গায়।।*
*🌹প্রেমাস্পদ আহারে-বিহারে, শয়নে-স্বপনে, নিদ্রা-জাগরণে যার চিত্তকে নিঃশেষে অধিকার করেছেন,তার প্রেমের কথা শুনতে শুনাতে,বলতে বলাতে প্রাণ গলে মধুময় হয়ে যায়। এই তো প্রেম। এঁরই নাম শ্রীরাধা।যুগে যুগে মানুষ এই প্রেমের ধ‍্যান করেছেন,এই পিরীতের স্বপ্ন দেখেছে,ইঁনারই নাম শ্রীরাধা।*
*গগনে অব ঘন, মেহ দারুণ,*
        *সঘনে দামিনী ঝলকই।*
*কুলিশ পাতন, শবদ ঝন ঝন,*
        *পবন খরতর বলগই।।*
*🍀এমন দুর্দিনে আমার প্রাণকান্ত সঙ্কেতকুঞ্জে গিয়েছেন।আমি কি ঘরে বসে আরাম করতে পারি?আমাকে না গেলেই নই।ঐ শুনছ না, থেকে থেকে বাঁশী বাজছে? আজ ঐ বাঁশী শুনে বোধ হচ্ছে--,নায়কের মনেও মাঝে মাঝে সন্দেহের দোলা লাগছে--, সুকুমারী বালিকা এই দুরন্ত বর্ষায় এত দূর পথ অতিক্রম করে কেমন করে আসবে?*
*🌷পাঁতর মা ভেল আঁতর বারি।*
*🌷কৈছে পঙারব সো সুকুমারী।।*
                         *(গোবিন্দদাস)*
*প্রান্তর আজ বর্ষার জলে অন্তর (সুদূর) হয়ে পড়েছে।এই জলপ্লাবন অতিক্রম করে সে সুকুমারী আসতে পারবে কি?*
*🌺সখিরা শ্রীমতীকে নিষেধ করছেন, এমন দুর্যোগে যেও না।শেষে কি প্রেমের জন্য প্রাণ হারাবে? ঘরের বাইরে দুয়ার রুদ্ধ হয়েছে।পথ পিছল,চলা শঙ্কাজনক।ঐ দেখ,দূর হতে বর্ষা ঝেঁপে আসছে।দুরন্ত বর্ষায় কি তোমার সূক্ষ্ম নীল শাড়ীতে জল মানবে? অন্ধকারে গা ঢাকা দিয়ে যাবে বলে একটি নীলশাড়ী পরেছ দেখছি!*
*🌷মন্দির বাহির কঠিন কপাট।*
*🌷চলইতে শঙ্কিল পঙ্কিল বাট।।*
*🌷তহিঁ অতি দূরতর বাদল দোল*।
*🌷বারি কি বারই নীল নিচোল।।*
*🍁আর সে তো এখানে নয়। মানসগঙ্গার অপর পারে, যেখানে তোমার প্রাণবল্লভ আছেন,সেখানে এমন দারুণ বর্ষায় কি যাওয়া যায়*?
*সুন্দরি কৈছে করবি অভিসার।*
*হরি রহ মানস সুরধূনী পার।।*☆
*☆রায় বাহাদুর ডাক্তার দীনেশচন্দ্র সেন ইহার আধ‍্যাত্মিক ব‍্যাখ‍্যা দিয়েছেন।হরি মনোরাজ‍্যের অপর পারে বাস করেন, ইত্যাদি (বৃহৎবঙ্গ)। "মানসগঙ্গা"নামে বৃন্দাবনে যে একটি সরোবর আছে,তা বোধ হয় তাঁর স্মরণ ছিল না। বৈষ্ণবপদাবলীর আধ‍্যাত্মিক ব‍্যাখ‍্যা অবশ‍্য সর্বত্র করা যায়। কিন্তু তাতে কাব‍্যরস একেবারে উড়ে যায়।*
*🌻শুধু তাইই নহে ; বর্ষার গতিক চেয়ে দেখ। বিদ‍্যুৎ চমকাচ্ছে, মনে হয় যেন দশদিকে আগুন লাগিয়ে দিচ্ছে।চেয়ে দেখতেই চোখের মণি ঠিকরিয়ে বা ঝলসিয়ে যায়।ঐ শোন ঘন ঘন অশনিপাত।শুনলেই প্রাণ কেঁপে উঠে! এই দুর্যোগে অভিসারে যাবে?*
*🌷দশ দিশ দামিনী দহন বিথার।*
*🌷হেরইতে উচকই লোচন তার।।*
*🌷ঘন ঘন ঝন ঝন বজর নিপাত*।
*🌷শুনইতে শ্রবণে মরমে মরি যাত।।*
*কিন্তু হলে কি হবে? অনুরাগের গতিই বিচিত্র। সখীরা বুঝালে কি অনুরাগিনী ফিরবে? কেউ যদি ধনুতে শর বা তীর যোজনা করে,তবে আকর্ণ সন্ধান করলেও সে বাণ ধনুত‍্যাগ করতে পারে, না-ও করতে পারে। কিন্তু যে বাণ ধনুত‍্যাগ করেছে, সে বাণকে আর কি শত চেষ্টা করেও ফেরানো যায়*?
*🌷গোবিন্দদাস কহ ইথে কি বিচার।*
*🌷ছুটল বাণ কিয়ে যতনে নিবার।।*
*🌹মহাভাবস্বরূপিণী কৃষ্ণানুরাগিনী শ্রীমতী রাধাঠাকুরাণী সখীদের কথায় তাঁর অভিসার-সঙ্কল্প ত‍্যাগ করলেন না। তিনি বলিলেন=*
*কুলবতী কঠিন কপাট উদঘাটলুঁ,*
             *তাহে কি কাঠ কি বাধা।*
*কুল মরিয়াদ সিন্ধু সঙ্গে পঙারলু,*
            *তাহে কি তটিনী অগাধা।।*
*🌻কুলবতী সতী তার দুস্ত‍্যজ কুলধর্ম ত‍্যাগ করতে পারিল, আর কাঠের কবাট তার গমনে বাধা সৃষ্টি করতে পারে?কুলমর্য‍্যাদারূপ সিন্ধু আমি হেলায় গোস্পদের মত পার হলাম,আর ক্ষুদ্র তটিনী (মানসগঙ্গা) আমার কাছে দুস্থর হবে?সখী!তোমরা আমার মন পরীক্ষা করছ মাত্র ; তোমরা তো আমাকে ভালভাবেই জানো,আর আমাকে পরীক্ষা করিও না।প্রিয়তম কি যে আকুল হৃদয়ে আমার পথ চেয়ে আছেন,তা ভেবে আমার প্রাণ কেঁদে উঠছে।*
   *🌷সখি হে মঝু পরীখন কর দূর।*
*কৈছে হৃদয় করি,পন্থ হেরত হরি,*
     *সোঙরি সোঙরি মন ঝুর।।*
*🌻সখী! আমার জন্য তোমরা ভাবিও না।কোটি কুসুম-শরেযার হৃদয় জর্জরিত,বর্ষায় তার কি করবে? যার হৃদয় বিরহ-দহনে অহর্নিশি পুড়ে ছাই হচ্ছে,বজ্রপাত তার পক্ষে কি এতই কষ্টদায়ক?যাঁর পদে আমার মন-প্রাণ,তিল-তুলসী দিয়ে সমর্পণ করেছি,তাঁর কাছ হতে দেহের কথা আর কি ভাবিব?*
*কোটি কুসুমশর, বরিখয়ে যছুপর,*
      *তাহে কি জলদজল লাগি।*
*প্রেম দহন দহ, যাক হৃদয়ে সহ,*
      *তাহে কি বজরক আগি।।*
*যছু পদতলে হাম,জীবন সোঁপলু,*
      *তাহে কি তনু অনুরোধ।*
*গোবিন্দ দাস, কহই ধনি অভিসর,*
        *সহচরী পাওল বোধ।।*
*👣তুমি অভিসার কর। আর কিছু বলতে হবে না ; এবারে সখীগণ বুঝতে পেরেছেন।সখীগণ আর বাধা দিবার চেষ্টা করলেন না।শ্রীমতী তখন নূপুর খুলে রাস্তায় বাহির হলেন।নূপুরের ধ্বনিতে প্রতিবেশী জাগবে। আর প্রাণকান্তের জন্য অভিসারে মঞ্জীরের বা নূপুরের প্রয়োজন কি?শুধু গতি-বাধা জন্মাবে বৈ তো নয়। যা কিছু বাধা জন্মাতে পারে, বিলম্ব ঘটাতে পারে,অনুরাগবতী সে সমস্ত একে একে পরিত‍্যাগ করলেন। প্রথমে লীলাকমল ফেলে দিলেন।পরে মাথার মোতির মালা খুলে ফেললেন। তারপরে গলার মণিময় হার ছুঁড়ে ফেললেন।"দূর কর সোতিনী মোতিম হার"। কেবল নীল শাড়ীটি অঙ্গে রইল, অলঙ্কারের ভার হতে মুক্ত হয়ে সুন্দরী অভিসারে চলিলেন।*
*🌷রস ধাধর্সে চলু পদ দুই চারি।*
*🌷লীলাকমল তেজল বরনারী।।*
*🌷পরিহরি মৌলিক মালতি মাল।*
*🌷তেজল মণিময় গীমক হার।।*
  ☆ ☆ ☆ ☆ ☆ ☆
*🌷বেশ-শেষ রহু নীলিম বাস।*
*🌷মিললি নিকুঞ্জে কহ গোবিন্দদাস।।*
*🌹কিন্তু পথে নানা বিঘ্ন ঘটিল। "তরল জলধর বরিখে ঝর ঝর" অমনি বিদ‍্যুৎ চমকালো। অভিসারিনী মনে করলেন, কেউ পথের ধারে স্ফটিকস্তম্ভ রোপণ করেছে।পিছল পথ,পরতে পরতে স্ফটিকস্তম্ভ বিদ‍্যুদ্দামবিদ্ধ বিপুল জলধারা ধরতে গেলেন।উদ‍্যত-ফণ সাপের মাথার মণি দেখে মনে করলেন বুঝি কেউ দীপ জ্বেলেছে,তাঁর অভিসারে বাধা দিবার জন্য।অমনি বামহাতে সেই দীপ আবরণ করলেন। কিন্তু তখনি বুঝলেন এ তো দীপ নয়, এ যে ভীষণ সর্পের মাথার মণি!তখনই সমস্ত শরীর কেঁপে উঠিল।বুঝি সাপের ছোঁবলে আজ প্রাণ যায়! প্রাণ যায় যাক এতে দুঃখ নেই, কিন্তু বঁধূর সঙ্গে দেখা হল না, এ বড় দুঃখ কেমন করে সইব?*
*হেরি দামিনী, ফটিক তরু জানি,*
       *চমকি ধরু নীরধার রে।।*
*দেখি ফণি মণি, দীপ জ্বলু জানি,*
       *বাম কর দেয় ঝাঁপি রে।*
*জানি যুবতী, এহি ফণি পতি,*
      *সঘনে তনু উঠে কাঁপি রে।।*
*🌻কিন্তু বন্ধু তো নিশ্চিন্ত নাই আমার জন্য। এই চিন্তা করতে করতে পথে চলেছেন শ্রীমতী। অপরদিকে শ্রীকৃষ্ণ মনে মনে বলছেন, আমার প্রিয়তমা যেভাবেই হোক কেন সে আমার সঙ্গে দেখা করবেই, এতই মনের জোর শ্রীকৃষ্ণের।রাধারাণী পথ চলতে চলতেই পথেই অর্ধপথে প্রাণবঁধূর সঙ্গে মিলন হল। মিলন যে হবে সেকথা একেবারেই জানা, গোবিন্দ দাস ভাবছেন যে,যখন পথ মধ্যেই সাক্ষাৎ হয়ে গেল,আর কষ্ট দিবার প্রয়োজন কি? দুষ্ট মন্মথ এইভাবে প্রেম পরীক্ষা করে। (বৈষ্ণব পদাবলী, ৬১৪ পৃষ্ঠা, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ‍্যায়)।*
*🌷গুণি-গুণি আকুল চলল মুরারি।*
*🌷মীলল আধ পন্থে বরনারী।।*
*🌷গোবিন্দদাস কহই পুন ধন্দ।*
*🌷প্রেম পরীখত মনমথ মন্দ।।*
*🙏এখানেই "বাদল অভিসার" রইল।*
👣👣👣👣👣👣🙏👣👣👣👣👣👣
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 👉 বৈষ্ণব রস-সাহিত‍্য প্রথম শাখা 🙇 পরম বৈষ্ণব খগেন্দ্র নাথ মিত্র 📖 ষষ্ঠ ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/12/sahityo6.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(৫৩)🙌বৈষ্ণব রস-সাহিত‍্য🙌*
            *🍒ঝুলন--লীলা🍒*
         🌳🌳🌳🌳🌳🌳🌳🌳
*🌻হিন্দুদের পূজাপার্বণ সম্বন্ধে আলোচনা করলে দেখা যায় যে, কৃষিকার্য‍্যের সঙ্গে তাদের কিছু-না-কিছু যোগ আছে। ভারতবর্ষ কৃষিপ্রধান দেশ,কাজেই আমাদের আমোদ-প্রমোদ পূজাপার্বণ কৃষিকর্মের প্রতি লক্ষ্য রেখে অনুষ্ঠিত হয়।রাবণবধের জন্য শ্রীরামচন্দ্রকে অকালবোধন করতে হয়েছিল ; সেই কারণে আমাদের প্রধান উৎসব দূর্গাপূজা শরতেই সম্পন্ন হয়।রাবণবধের প্রয়োজনীয়তা থাক বা না থাক,ঐ সময়ে কৃষীজীবিগণের প্রচুর অবসর। সেইজন‍্য উৎসবের দেশব‍্যাপী আয়োজন।দূর্গাপূজার নাম সেইজন‍্য দূর্গোৎসব। অন‍্য কোনও পূজার এরকম আনন্দবহ নামকরণ হয়নি। দূর্গোসবের পরে পরপর লক্ষ্মীপূজা,শ‍্যামাপূজা,কার্তিকপূজা, জগদ্ধাত্রীপূজা,নবান্ন প্রভৃতি। বৈষ্ণবগণ তাঁদের উৎসবের পরিকল্পনায় আর একটু অগ্রসর হয়েছেন বলে বোধ হয়। প্রকৃতিকে তাঁরা ধর্মকর্মের সঙ্গে গেঁথে নিয়েছেন।এটিই স্বাভাবিক, কারণ বৈষ্ণবগণ ধর্মের প্রয়োজনে কাব‍্য ও অলঙ্কারশাস্ত্রকে জুড়ে দিয়েছেন।যাঁদের দেবতা অখিলরসামৃতমূর্তি, ভজন যাঁদের "রম‍্যা কাচিৎ উপাসনা" সাধ‍্য যাঁদের প্রেম,তাঁদের সৌন্দর্য্যবোধ কিছু প্রবল থাকবে, এইই তো আশা করা যায়। বৈষ্ণবদের তিনটি প্রধান উৎসব তিন চন্দ্রমা-শালিনী পূর্ণিমা রজনীতে অনুষ্ঠিত হয়।প্রাবৃট (বর্ষাকাল) পূর্ণিমায় ঝুলন, শারদীয়া পূর্ণিমায় রাস, ফাল্গুনী পূর্ণিমায় হোলি। ভগবানের এই তিনটি লীলায় মনোমুগ্ধকর।প্রত‍্যেকটিতেই আনন্দের হিল্লোল বহে যায়। সৌন্দর্য্য আনন্দের একটি অপরিহার্য‍্য উপাদান। সৌন্দর্য্যকে বাধা দিলে আনন্দের অনেকটাই অসম্পূর্ণ থেকে যায়। ভক্ত ভগবানকে দেখেন প্রকৃতির অফুরন্ত সৌন্দর্য্যের মধ্যে। যে সৌন্দর্য্য ইন্দ্রিয়াতীত,অতীন্দ্রিয়,নয়নমনের অগোচর,তাতে ব্রহ্মবিদ পরমহংসগণ তৃপ্ত হন।শ্রীকৃষ্ণের লীলা-কথা হৃৎকর্ণ-রসায়ন,আপামর সাধারণ সকলের পক্ষেই মধুর।স্বভাবশোভাও সকলের উপভোগ‍্য,সকলেরই অধিগম‍্য বা শিক্ষণীয়।কাজেই এই স্বভাবশোভার মধ্যে ভগবানকে পেলেও পাওয়া যেতে পারে। প্রাকৃতিক সৌন্দর্য্য যদি ভগবদ্ ভক্তির উদ্দীপনা জোগাতে না পারে, তবে আর কিসে পারবে?আকাশে যখন রামধনু আঁকে,তখন মনে পড়ে সেই মোহনচূড়া।উপাস‍্য তখন নবমেঘের অন্তরালে রূপায়িত হয়ে উঠেন সেই ইন্দ্রধনুর অপরূপ রঙের বাহারে।*
*🌷আকাশ চাহিতে কিবা,*
             *ইন্দ্রের ধনুকখানি,*
                  *নবমেঘে করিয়াছে শোভা।*
                           *(জ্ঞানদাস)*
*🍀যমুনার কালো জলে চাঁদের আলো পড়ে চিকমিক করছে। অমনি ভক্তের মনে পড়ে গেল,কৃষ্ণের কালো অঙ্গে সোনার অলঙ্কারের কথা।*
*🌷আভরণ বরণ কিরণে অঙ্গ ঢর ঢর,*
 *কালিন্দী জলে যৈছে চান্দকি চলনা।*
                     *(নয়নানন্দ)*
*🔷নীল আকাশে মেঘ করেছে, তাতে বিদ‍্যুৎ খেলছে। গোধূলি বেলায় ঝাঁকে ঝাঁকে বকের সারি সেই আকাশের বুকে মালা দুলিয়েছে (অস্তম্ভতোরণস্রজাং=কালিদাস)। এমন সময় পূর্বাকাশে পূর্ণচন্দ্র দেখা দিলেন।এ চিত্র কেমন লাগে? এই সৌন্দর্য্য স্মরণ করিয়ে দেয় না কি সেই ভগবানকেই, যাঁর নীলকান্তোপম অঙ্গে পীতবসন ঝলমল করছে,যাঁর সুপ্রসর বক্ষে মালতীর মালা দুলছে,যাঁর ললাটে চন্দনবিন্দু শোভা পাচ্ছে?*
*উজোর হার উর,পীত বসন ধর,*
        *ভাল হি চন্দন বিন্দু।*
*মিলিত বলাকিনী,তড়িত জড়িত ঘন,*
       *উপরে উজোরল ইন্দু।।*
                   *(ঘনশ‍্যাম দাস)*
*🌺কেউ কেউ বলেন,বাংলা কবিতায় স্বভাব-শোভার বর্ণনা নাই। কিন্তু বৈষ্ণব কবিতা পড়লে সে ধারণা বেশীক্ষণ টিকবে পারে না।ঝুলন লীলায় বর্ষার শোভা যেভাবে বর্ণিত হয়েছে,তাতে সৌন্দর্য্য অনুভূতির যে কোনও ত্রুটি আছে এমন বোধ হয় না।বর্ষার বর্ণনা বর্ষাভিসারেও আছে, স্বপ্নদর্শনেও আছে। বর্ষাভিসারে শ্রীমতী অভিসারে যাচ্ছেন প্রকৃতির দারুণ বিপ্লবের মধ্যে।*
*🌷দশদিশ দামিনী দহন বিথার।*
*🌷হেরইতে উচকই লোচন তার।।*
*🌷ঘন ঘন ঝন ঝন বজর নিপাত*।
*🌷শুনইতে শ্রবণে মরমে মরি যাত।।*
                           *(গোবিন্দদাস)*
*🍁সখিরা অনেক নিষেধ করল, কিন্তু অভিসার ব‍্যাহত হল না। শ্রীমতী চলিলেন=*
*🌷তরল জলধর বরিখে ঝর ঝর*।
*🌷গগনে গরজে ঘন ঘোর।।* *(কবিশেখর)*
*🌹শ্রীমতী প্রাণবন্ধুকে স্বপ্নে দেখলেন সে এক বর্ষার রজনীতে। "স্বর্গে মর্ত‍্যে স্বপনের গুপ্ত আনাগোনা" বর্ষার নিভৃত নিশীথেই সবচেয়ে বেশী বোধ হয়। মনে পড়ে,ইংরেজ কবি স্বপ্নের নিভৃত নিকেতন নির্মাণ করেছেন বর্ষার বারিধারার মাঝখানে ; নিঝুম রাত, টিপ টিপ করে বৃষ্টি পড়ছে, দূরে কুকুর ডাকছে একঘেয়ে রবে,প্রতিধ্বনি মিলাচ্ছে দূর আকাশের কোলে।☆Spenser : Faery Quene, Canto 1. এই তো স্বপ্নের বিলাসভূমি। শ্রীরাধিকাও স্বপ্ন দেখছেন এক শ্রাবণ রজনীতে। গুর্ গুর্ মেঘ ডাকছে, মন্দ মন্দ বৃষ্টিপাত হচ্ছে,রাত্রি ঝাঁ ঝাঁ করছে ; ঝিল্লীর রবে নিস্তব্ধতা নিবিড় হয়ে উঠছে।দূরে পর্বতের উপর ময়ূরের কেকাধ্বনি শোনা যাচ্ছে,ভেকের দল বর্ষার উৎসবে মেতে উঠেছে।*
*রজনী শাঙন ঘন,ঘন দেয়া গরজন,*
        *রিমিঝিমি শবদে বরিষে।*
☆ ☆ ☆ ☆ ☆ ☆
*শিখরে শিখন্ড রোল,মত্ত দাদুরী বোল,*
       *কোকিল কুহরে কুতূহলে।*
*ঝিঁ ঝাঁ ঝিনিকি বাজে, ডাহুকী সে গরজে,*
       *স্বপন দেখিলুঁ হেনকালে।।*
                              *(জ্ঞানদাস)*
🦚🦚🦚🪷🪷🪷🌷🌷🌷🌸🌸🌸🪔
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 👉 বৈষ্ণব রস-সাহিত‍্য প্রথম শাখা 🙇 পরম বৈষ্ণব খগেন্দ্র নাথ মিত্র 📖 ষষ্ঠ ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/12/sahityo6.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(৫৪)🌹বৈষ্ণব রস-সাহিত‍্য🌹*
         *🍒ঝুলন---লীলা🍒🍒*
       🌲🌲🌲🌲🌲🌲🌲🌲🌲
*🌳বৈষ্ণব কবিগণ শাঙন বা শ্রাবণ ঘন বিভাবরীর(যে সূর্য‍্যকে আবরণ করে,বা রাত্রির) মোহে মুগ্ধ।কি মিলনে,কি বিরহে কবিমাত্রেরই মনে পড়ে বর্ষার মেঘমেদুর আকাশ ; যমুনার কুল,বনভূমি, তমালছায়ায় শ‍্যামায়মান, রাত্রির সমাগত,মেঘে মেঘে গগন ছেয়ে গিয়েছে, আহা কি চমৎকার পরিবেশ!শ্রীরাধামাধবের নিভৃত কেলি-বিলাসের এমন সুন্দর উদ্দীপনময়ী প্রাকৃতিক অবস্থা আর হতে পারে না।শ্রীজয়দেবের বহুপূর্বে কালিদাস নির্বাসিত যক্ষকে এমনই এক বাদল ঘন সন্ধ‍্যায় বিরহের অশ্রুতে প্লাবিত করেছিলেন। আষাঢ়ের প্রথম দিনে মেঘাড়ম্বর দেখে বিরহী যক্ষ ব‍্যাকুল,বিচলিত,বিভ্রান্ত হয়েছিল। এমন প্রত‍্যাসন্ন (আকাঙ্খাযুক্ত) শ্রাবণের বাদল দিনে প্রণয়িণী যার কন্ঠলগ্না,সে ভাগ‍্যবানের হৃদয়ও কাতর হয়ে উঠে, সুদূর প্রোষিত (প্রবাসী)কান্তের তো কথায় নাই!এই আষাঢ়ের প্রথম দিনে মেঘবর্ষার বর্ণনা দেখে আমার মনে হয় কবিকুলতিলক বাংলা দেশের সঙ্গে সুপরিচিত ছিলেন। বাংলাদেশ নহিলে পয়লা আষাঢ়ের স্নিগ্ধ মাধুরী আর কোথায়ও এমনভাবে অনুভব করা যেত কি?যাইহোক, কালিদাস তাঁর মেঘদূতে মিলন ও বিরহের উদ্দীপক রূপে বর্ষাকে প্রেমের দেউলে চির-প্রতিষ্ঠিত করে গিয়েছেন। বিদ‍্যাপতিও এই বর্ষার ছবি এমন করে এঁকেছেন যে জগতে তার তুলনা মালা কঠিন।*
*গগনে অব ঘন- মেহ দারুণ,*
       *সঘন দামিনি ঝলকই।*
*কুলিশ পাতন, শবদ ঝন ঝন,*
       *পবন খরতর বলগই।।*
*☘বিরহ-বর্ণনায় এই বর্ষার সমাবেশ আরও সুন্দর হয়েছে। শ্রীমতী রাইধনি আজ একাকিনী নিতান্ত নিঃসঙ্গভাবে কাটাচ্ছেন। "দোসর জন নাহি সঙ্গ "। এমন সময়ে বর্ষা নামিল। "বরিষা পরবেশ,পিয়া গেও দুর দেশ, রিপু ভেল মত্ত অনঙ্গ"। প্রিয়সঙ্গ লালসা প্রবল হ'ল।*
     *সজনি আজু শমন-দিন হোয়।*
*নব নব জলধর, চৌদিকে ঝাঁপল,*
    *হেরি জিউ নিকসয়ে মোয়।।*
*❤প্রাণ বাহির হয়ে যাচ্ছে।প্রিয় যে নেই এমন বর্ষার নিশিতে, এ দুঃখের কি আর অবধি আছে?*
  *সখী হে হামার দুখের নাহি ওর।*
*এ ভরা বাদর, মাহ ভাদর,*
             *শূন‍্য মন্দির মোর।।*
*⚪এই "শূন‍্য মন্দির" কথাটির মধ্যে যেন জগতের হাহাকার পুঞ্জীভূত হয়ে উঠেছে।*
*ঝম্পি ঘন গর, জন্তি সন্ততি,*
     *ভুবন ভরি বরি খন্তিয়া।*
*কান্ত পাহুন, কাম দারুণ,*
       *সঘনে খরশর হন্তিয়া।।*
*🏞চারিদিকে মেঘ ঝেঁপেছে ও মুহুর্মুহু গর্জন করছে।ভুবন ভরে বর্ষণ নেমেছে। আমার প্রাণকান্ত প্রবাসে বা অনেকদূরে রয়েছে আর দারুণ অনঙ্গ আমার প্রতি খরতর শর বর্ষণ করছে।( স্মরণ রাখা ভাল যে,ব্রজেরলীলা নিষ্কামলীলা, অপ্রাকৃতিকলীলা, আমরা প্রাকৃতিক, বুঝতে যেন ভুল না হয়,আমরা মাতৃ শোণিত ও পিতৃ শুক্র দ্বারা জন্ম হয়েছে, আমরা কোনদিনই কামদেবের সামনে দাঁড়াতে পারব না, কিন্তু ব্রজের গোপিনীগণ কামদেবকে উচিত শিক্ষা দিয়েছিলেন, মনে রাখতে হবে)। [ঐ বারিধারা আমাকে কন্দর্পশরে জর্জরিত করছে]।*
*কুলিশ কত শত, পাত মুদিত,*
         *ময়ূর নাচত মাতিয়া।*
*মত্ত দাদুরী, ডাকে ডাহুকী,*
         *ফাটি যাওত ছাতিয়া।।*
*তিমির দিগভরি, ঘোর যামিনী,*
      *অথির বিজুরিক পাঁতিয়া।*
*বিদ‍্যাপতি কহ, কৈসে গোঙায়বি,*
       *হরি বিনে দিন রাতিয়া।।*
*🌹এমন সুন্দর বোধ আর কোনও দেশের কবিতায় নেই।এরকম শব্দচিত্র কোনও ভাষায় কখনও অঙ্কিত হয়নি। "হরি বিনে" এই দীর্ঘ দিন-রাত্রি কেমন করে অতিবাহিত করব? বিল্বমঙ্গল ঠাকুর আর একদিন এমনই কাতর কন্ঠে বলেছিলেন=*
*🌷অমূন‍্যধন‍্যানি দিনান্তরাণি হরে ত্বদলোকনমন্তরেণ।*
*🌷অনাথবন্ধো করুণৈকসিন্ধো হা হন্ত হা হন্ত কথং নয়ামি।।*
*🙏হে হরি!তোমার অদর্শনে এই অধন‍্য দিনগুলি কিভাবে কাটাব? হায়!হায়!হে অনাথের বন্ধু!করুণার সাগর!বলে দাও বিরহের এই দীর্ঘ দিনগুলি কেমন করে যাপন করব?*
*যাক্ আর বিরহের কথা আর বলব না। ঝুলনলীলার মধ‍্য দিয়ে বৈষ্ণব কবিগণ যে মিলনের সুর গেয়েছেন, তারই এক আধটি তান যদি ধরতে পারি,সেই চেষ্টা করব।যমুনার কুলে, বটবৃক্ষের ডালে নবীন লতা দিয়ে সুন্দর একটি হিন্দোলা টাঙ্গানো হয়েছে। তাতে নানারকম বর্ষার কুসুম দিয়ে মনোহর সজ্জা করা হয়েছে।ভ্রমরকুল ঝাঁকে ঝাঁকে সেই পুষ্পপুঞ্জে পড়ছে,উড়ছে,গুন গুন গান করছে। শুক,পিক,পাপিয়া সেই হিন্দোলা ঘিরে ঘিরে উড়ে বেড়াচ্ছে ও কলধ্বনি করছে=*
*🌷হিন্দোলা রচিত কুসুমপুঞ্জ,*
*🌷অলিকুল তাহে বিহরে গুঞ্জ,*
*🌷সারি শুক পিক বেঢ়ল কুঞ্জ,*
*🌷ঘেরি ঘেরি ঘেরি বোল রি।*
*⚪আজ পূর্ণিমা রজনী, "চাঁদ উজোর রাতিয়া"।মাঝে মাঝে মেঘ এসে সে স্নিগ্ধ জোছনাকে মৃদুতর, স্নিগ্ধতর করে দিচ্ছে--, "গগন হি মগন স-ঘন রজনীকর আনন্দে করত নেহারি"। শুধু যে মেঘের দল আকাশের নীল সরোবরে সাঁতার দিচ্ছে আর তার ফাঁকে ফাঁকে চাঁদ উঁকি দিচ্ছেন,তা নহে।অল্প অল্ট বৃষ্টিও হচ্ছে=*
*🏞বুন্দ সুন্দর নেনি নেনি।*
*🍁এই "নেনি নেনি" বৃষ্টির বালাই যাই! প্রাচীন সাহিত‍্যে কোথাও এই খন্ড খন্ড করা ইলশে গুড়ির বর্ণনা দেখতে পাই না। কিন্তু ঝুলনলীলার পক্ষে এমনই এক বর্ষার রাত্রি চাই,ঝড়ঝঞ্ঝা দুর্যোগ চাই না।*
*বারিদ গরজি, গরজি সব ঘেরল,*
           *বুন্দ বুন্দ করু পাত।*
*কহ শিবরাম, মলয়াচল দুহুঁ পর,*
       *মৃদু মৃদু করতহি বাত।।*
*❤ফোঁটা ফোঁটা বৃষ্টির সঙ্গে মলয় বাতাস বহিছে।ময়ূর কেকারব করছে, চকোর-চাতক-শুক-পিক মধুর গান করছে,অলি-ঝঙ্কারেকানন ভরেছে। নদীর কূলে ব‍্যাঙ ডাকছে,আর সেই ধ্বনির সঙ্গে ধ্বনি মিশিয়ে গগনে গুর্ গুর্ দেয়া ডাকছে।*
*বদত মোর, চকোর চাতক,*
       *কীর কোইল অলিগণি।*
*রটত দরদা-, তোয়ে দাদুরী,*
        *অম্বুদাম্বরে গরজনি।।*
                            *(শিবরাম)*
*"পরম সুঘড় শিরোমণি" অখিল কলাগুরু শ্রীকৃষ্ণচন্দ্র এমনই দিনে ঝুলনায় বসেছেন।সখীগণ ব্রীড়াসঙ্কুচিতা রাধাকেও তুলে দিলেন। তখন সেই লতার ডুরি ধরে সখীরা দোলা দিতে লাগলেন। এটিই "নওল-নওলী" রাধাকৃষ্ণের ঝুলন।*
*🌷কিয়ে অপরূপ ঝুলন কেলি,*
      *শ‍্যাম হৃদয়ে হৃদয় মেলি,*
                      *রাধা রহু লাগি।*
                            *(উদ্ধবদাস)*
*🌹শ্রীমতী ঝুলনার ঝোঁকে যত চমকাতে লাগলেন, নায়কশ্রেষ্ঠ শ্রীকৃষ্ণ তত তাঁকে আলিঙ্গন পাশে আবদ্ধ করলেন।*
*🌺ঝুলনা-ঝমকে চমকে রাই,*
*🌺বিহসি মাধব ধরল তাই,*
*🌺আনন্দে অবশ পরশ পাই,*
           *🌺চাপি করত কোলে রি।*
                          *(কৃষ্ণদাস)*
*🌹কিছুক্ষণ পরে তিনি দোলনার দুলুনিতে অভ‍্যস্ত হলেন। কিন্তু সখীরা যখনই কৌতুকে "অতিহুঁ বেগে" দোলা দোলাচ্ছেন, তখনই রাইধনি উৎকণ্ঠিত হয়ে সখীগণকে অনুনয় করছেন, তোমরা একটু ধীরে ধীরে ঝুলাও,পাছে আমার প্রাণবন্ধু পড়ে যান।*
*🌷ঝুলায়ত সখীগণ করতালি দিয়া।*
*🌷সুবদনী কহে পাছে গিরয়ে বন্ধুয়া।।*
                         *(জগন্নাথদাস)*
*🙏বৈষ্ণব কবিগণ বর্ষার ছন্দে ঝুলন-গীতি রচনা করে পরম উপভোগের সামগ্রী করে তুলেছেন। কিন্তু লীলার মাধুর্য‍্য সকলের প্রাণে সমান আনন্দ দান করে না।শ্রীরাধামাধব কোন এক অতীত যুগে বর্ষার ঘনায়মান সন্ধ‍্যায় ঝুলনায় ঝুলেছিলেন,শুধু এইটুকুমাত্র স্মরণ করে তাঁরা ভগবল্লীলারসে অবগাহন করতে পারেননি।তাঁদের সন্ধানী চিত্ত তত্ত্বের দিক ধাবিত হয়।লীলা যে নিত‍্য বস্তু তা তাঁরা বুঝতে পারেন না।তাঁরা লীলার ফুলপাতা সরিয়ে ফলের খোঁজ করেন।তাঁদের তৃপ্তিবিধানের জন্য লীলার মধ্যে তত্ত্ব অন্বেষণ করতে হয়।*
*☘শ্রীকৃষ্ণের মুখ‍্যলীলা তিনটি।একটি রাসলীলা।এতে তত্ত্ব হিসাবে আছে বিশ্বের অফুরন্ত আনন্দের উৎসব।রাস অর্থই প্রকৃষ্ট রস।রস এব রাসঃ।রাসের আর এক অর্থ অবশ‍্য চক্রাকারে নৃত্য।চক্রধারীর রাসমন্ডলী বা রাসচক্র আনন্দের সীমাহীন পৌনঃপুনিকতা (যা পুন পুন উৎপন্ন হয় ),অনন্ত বিস্তৃত পুলকোচ্ছাস। বিশ্বের যেখানে যা কিছু সু,যা কিছু মধুর,যা কিছু আনন্দের সব তাঁরই বিকাশ। "আনন্দাদ্ধিবখল্বিয়ানি ভূতানি জায়ন্তে"।*
*🍀তাঁর আর একটি লীলা হোলি। হোলিলীলার তত্ত্ব তার বাইরের লাল রঙেই ঘোষিত হয়েছে।হোলি বা দোল ফাগের উৎসব।যার হৃদয় অনুরাগে অরুণ হয় না,ফাল্গুনের অধীর পুলক যার প্রাণে অনুরাগের ফাগ মাখিয়ে দেয় না,তার পক্ষে হোলি উৎসব ব‍্যর্থ।বিজয়া দশমী যেমন শাক্তদের পক্ষে এক পরম মৈত্রীর মালন মহোৎসব, হোলিও তেমনই বৈষ্ণবদের এক সার্বজনীন মহা মিলনক্ষেত্র। প্রীতির পিচকারি যখন লাখে লাখে ছুটে,তখন গালাগালিও কটু না হয়ে উপভোগের সামগ্রী হয়। "স্তুতি নিন্দা সকলই মধুর"। ঝুলনলীলা অপেক্ষাকৃত আধুনিক হলেও প্রাচীনকাল হতে এর ইঙ্গিত রয়েছে। ভগবানের আন্দোলন লীলা সমস্ত ছন্দ,সমস্ত গতি,সমস্ত জীবপ্রবাহের উত্থান-পতনের প্রতীক।বিশ্বে যে ছন্দ অনন্ত মাধুর্য‍্যে অনুরণিত হয়ে উঠেছে,তারই আভাস ঝুলনে পাওয়া যায়।ছন্দ নহিলে বিশ্ব যে এক মুহূর্ত‍্য চলে না।সমস্ত বিশ্বব্রহ্মান্ড ছন্দে চলছে,যদি সে ছন্দের ব‍্যতিক্রম কখনও ঘটে,তবে দিনরাত্রির ক্রমভঙ্গ হবে,সূর্য‍্য,চন্দ্র,গ্রহ,নক্ষত্র পরস্পর পরস্পরের পথ রোধ করে চুরমার হবে।সমস্ত বিশ্বে সঙ্গীতের,কাব‍্যের প্রধান সম্পদ,সুষমা,গৌরব তার বিচিত্র ছন্দ।সঙ্গীত,কাব‍্য না হলেও মানুষ বাঁচতে পারে, কিন্তু প্রাণের স্পন্দন পর্যন্ত সবই যে ছন্দ।সে ছন্দচ‍্যুতি যখন ঘটে,তখন প্রাণ নিষ্কৃতি লাভ করে মরণে,গতি মূর্ছিত হয় পাষাণের চিরস্তব্ধ স্থাবরতায়।নীহারিকাপুঞ্জ হতে আরম্ভ করে জগতের কীট পতঙ্গ অণু-পরমাণু পর্যন্ত সবই ছন্দে সুরে সৌন্দর্য‍্যে বাঁধা।তারই সূত্রডুরি ধরে আনন্দময়কে আমরা দোলায় ঝুলনে।*
🙏🌸🌷🦚🪷🙏🪔🌸🌷🦚🪷🦚🙏
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 👉 বৈষ্ণব রস-সাহিত‍্য প্রথম শাখা 🙇 পরম বৈষ্ণব খগেন্দ্র নাথ মিত্র 📖 ষষ্ঠ ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/12/sahityo6.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(৫৫) 🌹বৈষ্ণব রস-সাহিত‍্য🌹*
          *🌹🌹রাসলীলা🌹🌹*
          🌹🌹🌹🌹🌹🌹🌹🌹
*🌹শ্রীকৃষ্ণের যত লীলা আছে,তার মধ্যে রাসলীলা সর্বোৎকৃষ্ট, তা সকল কীর্তনীয়াগণের জানা।তার কারণ এই নয় যে আমাদের লৌকিক দৃষ্টিতে রাসলীলাটি বেশী উপভোগ‍্য।কারণ এই যে,আনন্দময়ের বিকাশ এই লীলাটিতে পরাকাষ্ঠা প্রাপ্ত হয়েছে।এটি "সর্বলীলা উৎসব মুকুটমণি"।*
*পরব্রহ্মকে লাভ করবার যে বিবিধ পন্থা আছে ইহা সর্বজনবিদিত।কেউ মনে করেন যাগযজ্ঞের দ্বারা ভগবানকে লাভ করা যায় ; কেউ মনে করেন, তিনি তত্ত্বজ্ঞান লভ‍্য। আবার কেউ কেউ মনে করেন যে,তিনি পরম আস্বাদ‍্য।তাঁর চিন্তনে,মননে,ধ‍্যানে হৃদয়ের আনন্দ উথলিয়ে উঠে।যাঁরা যাগযজ্ঞের দ্বারা ভগবানকে লাভ করতে বা পরম পদ পেতে ইচ্ছে করেন,তাঁরা বলেন, "অশ্বমেধ যজ্ঞ করলে স্বর্গ লাভ হয় "।যাঁরা বিজ্ঞানবাদী,তাঁদের মতে সত‍্যং জ্ঞানং অনন্তং ব্রহ্ম।ইঁনারা নির্বিশেষ,নির্বিকল্প, ত্রিগুণাতীত ব্রহ্ম স্বরূপ চিন্তা করে এক অখন্ড জ্ঞানময় রাজ‍্য লাভ করেন ; সেখানে সকল ভেদ দূরীভূত হয়ে গিয়ে কৈবল‍্য প্রাপ্তি ঘটে।ব্রহ্মভূত এই আত্মা দুঃখ শোকের অতীত,তার সমস্ত বাসনা আকাঙ্ক্ষা ভস্মীভূত হয়ে গিয়েছে। "ব্রহ্মভূতঃ প্রসন্নাত্ম ন শোচতি ন কাঙ্খতি"।*
*🍀কিন্তু একদিন ঋষি বলে উঠলেন যে ব্রহ্ম শুধু জ্ঞানময় নহেন ; তাঁকে জানলে যে সব সংশয়ের অবসান হয়, সব বন্ধনের মোচন হয়, শুধু তাইই নয় ; তিনি আনন্দ স্বরূপ। "রসো বৈ সঃ"। তাঁকে জানলে আনন্দে হৃদয় ভরে যায়।তাঁকে পাবার জন্য, ধরবার জন্য হৃদয়ে লোভ জন্মে। সাহিত‍্যদর্পণকারের মতে রস অর্থে যা আস্বাদন করা যায়। কিন্তু আমাদের আস্বাদ‍্য কি? স্থূলভাবে দেখতে গেলে আস্বাদ‍্য--,কটু,তিক্ত,কষায়,লবণ,অম্ল ও মধুর।এর সাধন আমাদের জিহ্বা।সেইজন‍্য তার নাম রসনা।সমস্ত জন্তুরই রসনা আছে। কাজেই এর আস্বাদন অত‍্যন্ত স্থূল।এই প্রাথমিক স্তরের উপরে উঠবার যোগ‍্যতা কেবল মানুষেরই আছে।সেজন‍্য মানুষের পক্ষে অন‍্য একটি বিরাট রাজ‍্যের দ্বার খুলে গিয়েছে।তার নাম আধ‍্যাত্মিক রাজ‍্য। এ রাজ‍্যে অন‍্য কোনও জীবের প্রবেশ অধিকার নাই।এই আধ‍্যাত্মিক রাজ‍্যের বাহ‍্যপ্রকাশ সাহিত‍্য।সাহিত‍্যে আস্বাদনের উপকরণ বহু।অলঙ্কার শাস্ত্র এবং মনোবিজ্ঞান সেগুলিকে শ্রেণীবদ্ধ করে বলেছেন রস নয়প্রকার=শৃঙ্গার বা আদি,বীর,রৌদ্র, করুণ,হাস‍্য,ভয়ানক,বীভৎস,অদ্ভুদ ও শান্ত।কারও মতে বাৎসল‍্য রসও গণনীয়।এই সব রসের মূলতত্ত্ব খোঁজ করলে দেখা যায় যে,এর মধ্যে একটি সামগ্রী অন্তর্নিহিত আছে যা সমস্ত সাহিত‍্যসৃষ্টি ও কল্পনার বিলাসকে আস্বাদ‍্য করে তুলে।তার নাম আনন্দ। সত‍্যং জ্ঞানং আনন্দং ব্রহ্ম।যে আনন্দ হতে সমস্ত ভূতনিবহ জন্মলাভ করে,যে আনন্দ লাভ করে তারা আহ্লাদিত হয়,আবার যে আনন্দে তারা বিলীন হয়,সেই আনন্দই তো ব্রহ্ম।এই আনন্দ না হলে প্রাণীকুল বাঁচে না। মানুষের আত্মা আনন্দের সন্ধানেই ব‍্যাপৃত। পরব্রহ্মকে যখন আনন্দময়,মাধুর্য‍্যময়,পরম আস্বাদ‍্য বলে জানা গেল তখনই তো তিনি রূপে রসে মূর্তিমান হয়ে উঠলেন। ঈশ্বরঃ পরমঃ কৃষ্ণঃ সচ্চিদানন্দবিগ্রহঃ। তিনি মূর্তিধারী পরম মনোহর, সুন্দর রূপশ্রী-সমন্বিত পুরুষ।সুন্দর বলেই তিনি কৃষ্ণ।কারণ তাঁর আকর্ষণী শক্তিতে বিশ্ব বিমুগ্ধ।তাহলেই বুঝলাম যে,একদিকে ভগবান তাঁর অনন্ত সৌন্দর্য্য মাধুর্য‍্য বিস্তার করে দাঁড়িয়েছেন,অন‍্যদিকে সমস্ত বিশ্বের চিত্ত লোলুপ হয়ে তাঁর দিকে অনন্তকাল হতে ধাবিত হচ্ছে। এটিই রাসের মর্মকথা বলে বোধ হয়।*
*🌹এই তত্ত্বের স্ফুরণ লীলায়।তত্ত্ব আর লীলা আপাত দৃষ্টিতে পৃথক বলে মনে হয়। কিন্তু একটু চিন্তা করে দেখলে বুঝা যায় যে,এই দুইয়ের মধ্যে অপূর্ব সামঞ্জস্য বিদ‍্যমান রয়েছে।তত্ত্ব না জানলে লীলা শুষ্ক ইতিহাসের উপাদান হয়ে পড়ে।আবার লীলায় প্রবেশ না করলে তত্ত্ব নীরস তর্কে পর্যবসিত হবার আশঙ্কা থাকে।ভগবদগীতা ভক্তিতত্ত্বের সমুদ্র ; মহাভারত লীলার খনি। এই তত্ত্ব ও লীলার মধ্যে সামঞ্জস্য বিধান করে বৈষ্ণবগণ তাঁদের ধর্মমত স্থাপন করেছেন।এ দুইয়ের মধ্যে যে বিরোধ আছে,তা তাঁরা কখনও স্বীকার করেন না। আমাদের অবস্থা অন‍্যরকম।আমরা যখন বৈদান্তিকের দৃষ্টি নিয়ে শ্রীকৃষ্ণলীলা বুঝতে যাই, তখন লীলার অসঙ্গতিতে ক্ষুব্ধ হয়ে পড়ি। আর যখন ঐতিহাসিকের দৃষ্টি নিয়ে লীলার আলোচনা করতে যাই,তখন খৃষ্টান ধর্মযাজকের মতো লীলার কামায়নপরতা (Eroticism) প্রমাণ করতে রত হই।◆(বঙ্কিমচন্দ্র বলেন, রাসলীলা গোপীগণের ঈশ্বরোপসনা। একদিকে অনন্ত সুন্দরের সৌন্দর্য্য বিকাশ আর একদিকে অনন্ত সুন্দরের উপাসনা••••••••••••*
*◆যাকে হীরেন্দ্রনাথ দত্ত মহাশয় একজায়গায় বলেছেন-----, It is eroticism run wild--রাসলীলা ৬৫ পৃষ্ঠা।)*
*🌻মনে রাখতে হবে,কৃষ্ণলীলাকে বিষয়বস্তু করে আমাদের দেশে নানা পুরাণ,কাব‍্য ও সঙ্গীত রচিত হয়েছে।*
*বিশেষ করে পুরাণগুলিতে ধর্ম ও কাব‍্যের সংমিশ্রণ দেখতে পাওয়া যায়।রস না হলে কাব‍্য হয় না।রসের মধ্যে আদিরস শ্রেষ্ঠ--,আদ‍্য এব পরোরসঃ।সেইজন‍্য শ্রীজয়দেবের গীতগোবিন্দ আমাদের দেশে সর্বত্র ধর্মগ্রন্থে।সম্মান লাভ করতে পেরেছেন। শ্রীজয়দেব শুধু শ্রীকৃষ্ণলীলা বর্ণন করতে বসেন নাই, তিনি চেয়েছেন শৃঙ্গাররসের আদর্শরূপে শ্রীকৃষ্ণকে চিত্রিত করতে।তাঁর কাব‍্যে শ্রীকৃষ্ণ মূর্তিমান শৃঙ্গাররস, শৃঙ্গাররসের অধিদেবতা। শৃঙ্গার রস কাকে বলে তা অলঙ্কারশাস্ত্রে ব‍্যাখ‍্যা করেছেন।সেই অলঙ্কারশাস্ত্রসম্মত রসকে প্রাকৃত নায়ক নায়িকার রভসকেলির মধ‍্য দিয়ে না ফুটিয়ে জয়দেব গোস্বামী রাধাকৃষ্ণের লীলায় প্রকাশ করেছেন।আমাদের বিংশ শতাব্দীর নৈতিক কান্ডজ্ঞান তাতে পদে পদে বাধাপ্রাপ্ত হয়।আমরা ভাবি যে,যিনি এমন সুন্দর দশাবতার স্তোত্র গ্রথিত করেছেন,যিনি প্রতি সঙ্গীতের শেষে শ্রীকৃষ্ণকে একান্ত ভক্তির সহিত প্রণাম করেছেন,তাঁর হস্তে ভগবানের লীলা এমন কামকলায় পরিণত হল কেমন করে?*
*☘এ শুধু আমাদের দেশে নয়, ইউরোপেও ভগবানের সম্বন্ধে নানা বিরুদ্ধ কল্পনা কল্পিত হয়ে মানুষের মনকে উদভ্রান্ত করে দিয়েছে।একজন প্রসিদ্ধ দার্শনিক অন‍্য এক দার্শনিকের ব্রহ্মের সম্বন্ধে বলেছেন যে,"অনন্ত" এমনই একটি বিরাট ড্রেন যাতে সব রকমের বিরোধের স্রোত একত্র বহে চলছে।☆His Infinite is a grand sewer in which all contradictions flow together--- Hegel on Spinoza's Doctrine of Substance.☆*
*ভগবান এক অথচ বহু,তিনি অসীম অথচ সসীম, তিনি অরূপ অথচ পরম রূপবান, তিনি পরম দয়াল আবার কঠিন করাল, তিনি সমস্ত ধর্মের আদর্শ প্রতিষ্ঠাতা সংস্থাপয়িতা, আবার সমস্ত নীতির উচ্ছেদকর্তা! তিনি শুদ্ধ বুদ্ধ অপাপবিদ্ধ, অথচ তিনি ঘরে ঘরে মাখন চুরি করেছেন, স্তনপালচ্ছলে নারীবধ করেছেন, তপস‍্যার জন্য শূদ্রের শিরশ্ছেদ করেছেন, অসংখ্য নরনারী নিয়ে কেলি করেছেন। সুতরাং ইতিহাস বা চরিত্রনীতির দিক দিয়ে ভগবানের লীলা বুঝতে পারা যায় না। কিন্তু আমাদের দেশে এইসব বিরোধী ধর্ম ভগবানে আরোপিত হলেও, আমাদের ধর্মবুদ্ধির স্রোত কখনও রুদ্ধ হয়নি, কখনও বাধা প্রাপ্ত হয়নি।তার কারণ তর্কে তাঁকে না পেলেও আমরা তাঁকে পেয়েছি যোগে,পেয়েছি ধ‍্যানে,পেয়েছি বিশ্বাসে। এখানে একটি কথা বলা আবশ্যক মনে করি।বৈষ্ণবগণ অধিকারবাদ মানেন।তাঁদের মতে সকলের সকল বিষয়ে অধিকার নাই।যাঁদের যে রসে অধিকার সেই রসের অনুশীলন নিয়েই তাঁরা থাকবেন, অন‍্য রসের কথায় তাঁদের প্রয়োজন নেই। প্রথমতঃ অন্তরঙ্গ বহিরঙ্গ ভেদে অধিকারী দুই প্রকার।রাসলীলা প্রভৃতি অন্তরঙ্গ ভক্তেরই আস্বাদ‍্য ; এতে বহিরঙ্গের প্রবেশ অধিকার নেই। বৈষ্ণবদের মধ্যেও এমন অনেক ভক্ত আছেন যাঁরা শৃঙ্গার বা মধুর রসের গান শুনেন না।রাধাকৃষ্ণের প্রেমলীলা শুনলে তাঁরা ত‍ৎক্ষণাৎ সে জায়গা ত‍্যাগ করেন।তাঁরা সখ‍্য,বাৎসল‍্য প্রভৃতি রসের অধিকারী। আবার দেখেছি অনেকে মধুর রস বা প্রেমলীলার আস্বাদনে বিভোর হয়ে পড়েন,কারও কারও সম্বিৎ থাকে না।এর মধ্যেও আবার অধিকার ভেদ আছে। বিপ্রলম্ভের যে চার প্রকার রস বিভাগ আছে যথা পূর্বরাগ,মান, প্রেমবৈচিত্ত‍্য ও প্রবাস,তার মধ্যে প্রবাস বা বিরহ কেউ কেউ শুনতে চান না।*
🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 👉 বৈষ্ণব রস-সাহিত‍্য প্রথম শাখা 🙇 পরম বৈষ্ণব খগেন্দ্র নাথ মিত্র 📖 ষষ্ঠ ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/12/sahityo6.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(৫৬) 🙏বৈষ্ণব রস-সাহিত‍্য*
           *🌻🌻রাসলীলা🌻🌻*
       🌻🌻🌻🌻🌻🌻🌻🌻
*🌹রাসলীলা সম্বন্ধে আলোচনা করতে গিয়ে যদি কেবল রিরংসা (রমণেচ্ছা) নিয়ে ভগবচ্চরিত্রে দোষারোপ করতে রত হওয়া যায়, তাহলেই সমস্ত কর্তব‍্যের অবসান হয় না।কৃষ্ণলীলার মধ্যে রাসলীলাই সব নহে, অন‍্যান‍্য অনেক লীলা আছে। "রাস" চৌষট্টি রসের মধ্যে একটি বটে। এছাড়াও সখ‍্য, বাৎসল‍্য প্রভৃতি রসেরও বহু লীলা রয়েছে।সে সবই যে কামায়ন প্রচুর এমন নয়।তার পর যে বিরহে বৃন্দাবন লীলার অবসান,তাতেও কি কামায়নের প্রাচুর্য‍্য আছে? যে বিরহে কাব‍্য-লক্ষ্মী অশ্রুবিসর্জন করে কুল পাননি, যে বিরহে কবিগণ বেদনার গীত রচনা করে ধন‍্য হয়েছেন, সে বিরহেও কি কামের বৈজয়ন্তী উড়েছে? যদি তা না হয়,তবে রাসলীলাকে পৃথক করে দেখা উচিত না ; পরন্তু সমস্ত লীলার সঙ্গে মিলিয়ে বিচার করতে হবে। ☆হীরেন্দ্রনাথ দত্ত বেদান্তরত্ন প্রণীত "রাসলীলা" দ্রষ্টব‍্য।*
*🍀শ্রীকৃষ্ণ পরমরূপবান পুরুষ ; তাঁকে দৈখলে সাধ হয় সমস্ত ইন্দ্রিয় যদি নয়নে পরিণত হ'ত!এইরকম দেখে কি হয়?রমণীরা কামমোহিত হয়। দলে দলে তাঁর শ্রীচরণে আত্মদান করেন।*
*কহে দ্বিজ চন্ডীদাসে,কুলবতী কুল নাশে,*
      *আপনার যৌবন যাচায়।*
*🍁স্ত্রীলোকের সাররত্ন যে যৌবন,তাও ডালি (উপঢৌকন) দিতে ইচ্ছা করে।এটিই রূপের প্রভাব।রূপ যদি অন‍্যের হৃদয়ে প্রতিবিম্বিত হয়ে লালসা না জন্মায়,তবে সে রূপ রূপই না। এই রূপ দেখে বা রূপের কথা শুনে যে অনুরাগ হয়,তাহাই পূর্বরাগ। রূপ দেখে রতি জন্মে। রতি গাঢ় হলে ধরে প্রেম নাম। মিলনই তার পরিণাম।এটি আধ‍্যাত্মিক মিলন মাত্র নয়, এটি সর্বাত্মা,সর্বেন্দ্রিয়,সর্বাঙ্গের মিলন আকাঙ্ক্ষা করে।সেই জন্য একটি অনবদ‍্য কাব‍্য সম্ভব হয়েছে।*
*🌷রূপ লাগি আঁখি ঝুরে গুণে মন ভোর।*
*🌷প্রতি অঙ্গ লাগি কান্দে প্রতি অঙ্গ মোর।।*
*🌻তাঁর প্রতি অঙ্গে যেন অনঙ্গের তরঙ্গ খেলছে। সুতরাং অবাধ অফুরন্ত চিরন্তন মিলন ব‍্যতীত এ প্রেম চরিতার্থতা লাভ করে না। তাই মিলনের জন‍্য দৈহিক আত্মিক সর্ববিধ লালসা। কোথায়ও এতটুকু উহ‍্য (অপ্রকটিত )নাই, অভাব নাই বা ফাঁক নাই।এ যে আত্মহারা,পাগল করা,সর্বস্থপণ প্রেম।এখানে দেহের মনের প্রাণের আত্মার সর্বগ্রাসী ক্ষুধা। কাজেই দেহ পশ্চাতে ফেলে মন ছুটিল আগে, যখন বাঁশী বাজিল, তখন=*
*🌹শুনত গোপী প্রেম রোপি,*
              *মনহিঁ মনহিঁ আপনা সোঁপি,*
              *তাঁহি চলত যাঁহি বোলত,*
                  *মুরলীক কল-লোলনী*।
                        *(গোবিন্দদাস)*
*যেখানে দূরে বাঁশী বাজছে সেখানে গিয়ে কৃষ্ণ দর্শনে তো বিলম্ব ঘটবে। তাই ব্রজগোপীগণ মনে মনে আত্মসমর্পণ করতে করতে ছুটলেন। এখানে অর্থ এত স্পষ্ট যে আধ‍্যাত্মিক ব‍্যাখ‍্যা করতে গেলে কাব‍্যরস সব মাটি হয়ে যাবে কিন্তু ইঙ্গিতের অভাব নাই! হাজার হাজার ব্রজগোপিনী ছুটলেন বাঁশীরবের সন্ধানে। কিন্তু কেউ কাউকেও দেখতে পেলেন না। বলা বাহুল‍্য সাধন পথের পথিক অনেক। কিন্তু সকলেই আপন মনে পথ চলেন।কেউ কাউকে দেখতে পান না।*
*🌷তত হি বেলি সখিনী মেলি,*
*🌷কেহু কাহুক পথ না হেরি।*
*🍀কাব‍্য রসটুকু বজায় থাকল অথচ অব‍্যর্থ ইঙ্গিতও রইল।শরতের পূর্ণচন্দ্র শোভা পাচ্ছে,রাশি রিশি মল্লিকা ফুল ফুটেছে, যমুনার কালো জলে চন্দ্র কিরণের রজত ঢেউ খেলছে, ফুলে ফুলে অগণিত ভ্রমর গুঞ্জন করছে,ময়ূর ময়ূরী পুচ্ছ প্রসারিত করে নৃত্য করছে।এমনই সময় ব্রজগোপীদের ভ্রমাভিসার। কৃষ্ণ যমুনার কুলে নীপমূলে ললিত ভঙ্গীতে দাঁড়িয়ে বাঁশী বাজাচ্ছেন। গোপীকুল থমকিয়ে দাঁড়িয়ে সে রূপ দেখিল,সে বাঁশী শুনল,তারা মাধুর্য‍্যের ঝর্ণাধারা প্রাণ ভরে পান করে পাগল হ'ল।শ্রীকৃষ্ণ তাদেরকে অনেক নীতি কথা বলে নিবৃত্ত হতে বললেন।তোমাদের পতিরা গৃহে রয়েছেন,তাঁদের সঙ্গ ত‍্যাগ করে অসময়ে তোমরা বনে আসিলে কেন?এমন অধর্ম করতে নাই ইত্যাদি।ব্রজগোপীরা যে উত্তর দিলেন,তার সারার্থ উপনিষদে পাওয়া যায় ; "পতিঃ পতীনাং তুমি যে পতিরও পতি,জগৎপতি "।পুত্র-কন‍্যা সংসার কি ছার! তুমি যে প্রেয়ো পুত্রাৎ প্রেয়ো বিত্তাৎ,প্রেয়োহন‍্যস্মাৎ। কিন্তু আমরা এখানে তত্ত্বের গহনে প্রবেশ করতে চাই না। আমরা এই শারদীয় রাসের কাব‍্য আস্বাদন করতে পারলেই যথেষ্ট মনে করি। ভাগবত,হরিবংশ,ব্রহ্মপুরাণ, বিষ্ণুপুরাণ, ব্রহ্মবৈবর্ত্তপুরাণ (প্রচলিত) এখানে কাব‍্য কথায় ফুটিয়ে তুলতে চেয়েছেন। শ্রীজয়দেব গোস্বামী এই শরৎকালীন রাস পরিত‍্যাগ করে বসন্ত-বন বর্ণন আরম্ভ করে বসন্ত রাসের প্রবন্ধ করেছেন।ভাগবত এবং গীতগোবিন্দ উভয়েরই ইচ্ছা বোধহয় এই যে,অনবদ‍্য নৈসর্গিক শোভার মধ্যে এই সুন্দর কাব‍্য প্রসঙ্গের অবতারণা করবেন।উভয়েই শৃঙ্গার রসের আতিশয‍্য বর্ণনা করেছেন। এটি কাব‍্যের দিক দিয়ে অনিবার্য‍্য। কারণ রূপানুরাগ, অভিসার ও মিলনের পরে এই রাসেই আনন্দলীলার পরাকাষ্ঠা দেখাতে হবে।কাব‍্যের দিক দিয়ে এর সার্থকতা দুইটি। প্রথম=প্রেমিক প্রেমিকার প্রণয়ের উৎকর্ষ বুঝাতে হলে ভিন্ন গত‍্যন্তর নাই।রাসে শ্রীকৃষ্ণ গোপাঙ্গনাগণের মধ্যে শ্রীরাধাকে নিয়ে অন্তর্হিত হয়েছিলেন। কেননা=*
*🌷অনেনারাধিতো নূনং ভগবান্ হরিরীশ্বরঃ।*
*🌹শ্রীগীতগোবিন্দে বসন্তঋতুতে যখন শ্রীকৃষ্ণ অন‍্যান‍্য গোপীদের সঙ্গে ক্রীড়া করছিলেন, তিনিই শ্রীরাধার রূপ হৃদয়ে নিয়ে অন‍্য ব্রজসুন্দরীগণের সঙ্গ ত‍্যাগ করলেন।এতে রাধার প্রতি প্রেমাতিশয‍্য সূচিত হল।*
*🌷রাধামাধায় হৃদয়ে তত‍্যাজ ব্রজসুন্দরীঃ।*
*🌻কেনই বা না করবেন? শ্রীকৃষ্ণকে অন‍্য রমণীর সঙ্গে বিহার করতে দেখেও শ্রীরাধা তাঁর পূর্ব প্রীতি স্মরণ করে আনন্দলাভ করলেন।*
*🌷রাসে হরিমিহ বিহিতবিলাসম্।*
*🌷স্মরতি মনোমম কৃতপরিহাসম্।।*
*🍀শরৎকালীন রাসে তিনি আমার সঙ্গে যে সব লীলাবিলাস প্রকাশ করেছিলেন, আমার সঙ্গে যে হাস‍্য পরিহাস করেছিলেন, তাইই স্মরণ করে আমি তাঁরই মিলন কামনা করছি।*
*☘আগেই বলেছি যে,লীলার সঙ্গে তত্ত্বের সামঞ্জস্য বিধান এই সব কবির এক অনন‍্যসাধারণ নৈপূণ‍্য।বহুবল্লভ যিনি,তাঁকে পেতে হলে একান্ত আনুগত‍্যের প্রয়োজন।কবি কৌশলে তাইই দেখিয়ে তাঁর বসন্তসময়বনবর্ণনা সমন্বিত রাসলীলাকে পরম উপভোগ‍্য করে তুললেন।ভাগবতে রাসের মধ্যে শ্রীকৃষ্ণের অন্তর্ধানও এই সমন্বয়ের উদাহরণ।প্রেম পরম রমণীয় সামগ্রী বটে। কিন্তু অভিমান থাকলে প্রেম সর্বাঙ্গসুন্দর হয় না।সেই জন‍্যই রাসের অন্তর্ধান।গোপীগণ কৃষ্ণের সঙ্গে রমণ করে সৌভাগ্যগর্বে স্ফীত হয়ে উঠলেন। তাই তিনি =*
*🌷প্রশমায় প্রসাদায় তত্রৈবান্তরধীয়ত।*
*👌তাদেরকে কৃপা করবার জন‍্যই অন্তর্ধান করলেন। আবার শ্রীরাধাকে সঙ্গে নিয়ে কৃষ্ণ যখন বনান্তরালে গেলেন পুষ্প তুলে, কেশ বেঁধে এবং অন‍্যান‍্য বিলাস রচনা করে যখন আনন্দে বিচরণ করছিলেন, তখন রাধার মনে গর্ব হল যে আমিই সর্বাপেক্ষা প্রেয়সী। তিনি বললেন আমি আর চলতে পারছি না, আমাকে কাঁধে করে যেখানে ইচ্ছা সেখানে নিয়ে চল। নয় মাং যত্র তে মনঃ। ইহা বলাতে কৃষ্ণপ্রেমগরবিণী রাধার কি খুব বেশী অপরাধ হল? মনে তো হয় না। কিন্তু শ্রীকৃষ্ণের অন্তর্ধান বিধান করে কবি এখানে যে বিরহরসের অবতারণা করলেন,তা পরম উপভোগ‍্য হয়েছে।তত্ত্বের সঙ্গে মিলিয়ে কবি তুলির দুই-এক টানে যে চিত্রটি ফুটিয়ে তুলেছেন,তাতে রাসের নিরবচ্ছিন্ন অনাবিল আনন্দ যেন শতগুণে বেড়ে গেছে।তত্ত্বের দিক দিয়ে শ্রীকৃষ্ণ পরমপুরুষ,শ্রীরাধা ভক্ত, মূর্তিমান মহাভাব।কাব‍্যের দিক দিয়ে শ্রীকৃষ্ণ বহুবল্লভ নায়ক,শ্রীরাধিকা প্রেমিকা। শ্রীকৃষ্ণ রসিকেন্দ্রচূড়ামণি, শ্রীরাধা রসিকাশিরোমণি। নব নব সৌন্দর্য্য মাধুর্য‍্যের মধ‍্য দিয়ে শ্রীকৃষ্ণলীলা যেন অবারিত স্রোতে বহে গিয়েছে। কবিত্বের দিক ছেড়ে দিয়ে কেবল তত্ত্বের দিক দিয়েও রাসলীলা আস্বাদন করা যেতে পারে। বিশ্বের মধ্যে যা কিছু সুন্দর যা কিছু উপভোগ‍্য, তা তো ভগবানেরই বিভূতি। যেখানে একটু আলো,একটু গীতিগন্ধ, যেখানে একটু সৌন্দর্য্য সেখানেই আনন্দময় ভগবানের কিরণ-সম্পাত। তাই বিশ্ব আলোকে পুলকে মেতে উঠেছে, তাই এত হাসি,এত গান,এত কলরব। এদের কারও তো স্বাধীন সত্তা নাই।সমস্তই ভগবানের আনন্দময় বিকাশের কণা।*
*🌷তমেব ভান্তং অনুভাতি সর্বং তস‍্য ভাসা সর্বমেব বিভাতি।*
*🔥সূর্য‍্য চন্দ্র তাঁকে আলোকিত করে না।চন্দ্রের কৌমূদীতে পৃথিবী আলোকিত।সে চন্দ্র আবার সূর্য‍্যের কিরণে উদভাসিত। কিন্তু সূর্য‍্যচন্দ্র যাঁর কিরণে উদভাসিত, তিনিই ব্রহ্ম। এই যে বিশ্বে বর্ণের খেলা,সূর্য‍্য অস্ত গেলে বর্ণ থাকে কোথায়? এই যে বিশ্বে এত আনন্দ,এত হাসি, এটি ভগবানেরই লীলা খেলা।রাসলীলা তারই কাব‍্য,তারই ইতিহাস।*
*বৈষ্ণবগণ রাধাগোবিন্দের প্রেমের আদর্শকে উচ্চতম কোঠায় স্থাপন করতে চেষ্টার ত্রুটি করেন নাই। শ্রীরূপ গোস্বামী বসন্ত রাসের বর্ণনায় কি সুন্দর ভাবে এই প্রেমের মহিমা ব‍্যক্ত করেছেন।বসন্তরাসে গোপীরা দলবদ্ধ হয়ে শ্রীকৃষ্ণ অন্বেষণে ছুটেছেন, শ্রীকৃষ্ণ বেগতিক দেখে কুঞ্জের অভ‍্যন্তরে গিয়ে আত্মগোপন করলেন। তিনি চতুর্ভূজ নারায়ণ মূর্তি ধরে বসিলেন।তখন গোপীগণ তাঁকে দেখে প্রণাম করিল এবং বলল, ঠাকুর আমাদের কৃষ্ণ কোথায়?তার সন্ধান বলে দিয়ে আমাদের দুঃখ দূর কর।*
*🌷নমো নারায়ণ দেব করহ প্রসাদ।*
*🌷কৃষ্ণসঙ্গ দেহ মোরে খন্ডাহ বিষাদ।।*
*🙏তুমি নারায়ণ তোমাকে প্রণাম করি। কিন্তু আমরা তোমাকে চাই না, বল, বল, আমাদের কৃষ্ণ কোথায়? কৃষ্ণ চুপ করে থাকলেন।পরে শ্রীরাধা যখন আসিলেন, তখন আর তাঁর ছদ্মবেশ রইল না,তাঁর অতিরিক্ত দুটি হাত মিলিয়ে গেল।*
*🌷সা শক‍্যা প্রভবিষ্ণুনাপি হরিণ*
*🌷নাসীচ্চতুর্বাহুতা। --- উঃ নীলমণি।*
*🌹লীলার দিক দিয়ে এর অর্থ হল প্রেমের এই লুকোচুরি খেলায় কৃষ্ণ হলেন পরাভূত। আর তত্ত্বের দিক দিয়ে এর অর্থ হল এই যে,প্রেমের কাছে ঐশ্বর্য‍্য (ঈশ্বরত্ব) টিকতে পারে না।চতুর্বাহুত্ব ঐশ্বর্য‍্যের লক্ষণ।দ্বিভূজ মুরলীধর কৃষ্ণ প্রেমের অধিদেবতা।এখানে কি কামায়নতার প্রাচুর্য? "উত্তুঙ্গ অনঙ্গতরঙ্গে'র" মধ‍্য দিয়ে যে সত‍্যটি বৈষ্ণবগণ বলতে চেয়েছেন,তা কি ঐ তরঙ্গকে অতিক্রম করতে পারেনি? আর একটা কথা বলে এ প্রবন্ধ শেষ করব।ভাগবতে,ব্রহ্মবৈবর্তে বা গীতগোবিন্দে যে আদিরসের প্রবাহ দেখতে পাওয়া যায় শ্রীচৈতন‍্য পরবর্তী বৈষ্ণব সাহিত‍্যে তা অনেক সংযত হয়েছে।সেখানে রিরংসার কথা বড় একটা নাই, আছে প্রেম,আছে নৃত‍্যগীত আমোদ আহ্লাদ।*
*🌷বাজত তাল রবাব পখোয়াজ,*
                *নাচত যুগল কিশোর।*
*🌷অঙ্গ হেলাহেলি নয়ন ঢুলাঢুলি,*
              *দুহুঁ মুখ দুহুঁ হেরি ভোর।।*
*🙌রাস অর্থে এই নৃত্য। রাস অর্থে যেমন রসের প্রগাঢ়তা বুঝায়,তেমনি আর এক অর্থে মন্ডলাকারে নৃত্য বুঝায়।ব্রজ গোপীরা বাঁশীর স্বরে আত্মহারা হয়ে যমুনাতীরে নীপকুঞ্জে মিলিলেন।কৃষ্ণ তাঁদের আকুলতা দেখে রাসমন্ডলী রচনা করলেন।রাস বা হল্লীশ অর্থে মন্ডলী বন্ধন করে নৃত্য --, কৃষ্ণ, মধ‍্যস্থলে, ব্রজ গোপীরা তাঁকে ঘিরে চক্রাকারে আবর্তিত হতে লাগিল। এই নৃত্যকে সম্পূর্ণরূপে সার্থক করবার জন্য যোগেশ্বর কৃষ্ণ নিজেকে বহুতে পরিণত করলেন এবং প্রত‍্যেক গোপীর পার্শ্বে দাঁড়ালেন। এইভাবে কবির কাব‍্যে এক অপূর্ব চিত্র উদঘাটিত হল।*
*🌷তত্রাতিশুশুভে তাভি র্ভগবান দেবকীসুতঃ।*
*🌷মধ‍্যে মণীনাং হৈমানাং মহামরকতো যথা।।* 
*🌻একটি স্বর্ণময় মণি তার পাশেই একটি মরকত, একটি মেঘখন্ড তার পাশেই একটি বিদ‍্যুৎ, একটি চাঁদ তার পাশেই আঁধার, চমৎকার চিত্র এই কাব‍্যের রস আস্বাদন করতে করতে অপূর্ব অপার্থিব আনন্দে মন ভরে যায়।ধর্মতত্ত্বও মনে পড়ে না,নীতিকথাও ভাল লাগে না ভুলিয়ে দেয় এই রাসলীলা কি ; কামক্রীড়া না প্রেমোৎসব?*
*🌹🌹এখানেই রইল, জয় শ্রীরাধেশ‍্যাম🙏*
🦚🦚🦚🦚🦚🦚🌷🦚🦚🦚🦚🦚🦚
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 👉 বৈষ্ণব রস-সাহিত‍্য প্রথম শাখা 🙇 পরম বৈষ্ণব খগেন্দ্র নাথ মিত্র 📖 ষষ্ঠ ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/12/sahityo6.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(৫৭)🌕বৈষ্ণব রস-সাহিত‍্য🌕*
          *👬হোলি উৎসব👬*
          🔴🔵🔴🔵🔴🔵🔴
*🔷হোলি শব্দ হোলাকা বা হোলিকা শব্দ হতে এসেছে।হোলাকা একটি উৎসবের নাম!ফাল্গুনী পূর্ণিমার দিন উত্তর-পশ্চিমে যে বহ্ন‍্যুৎসব হয়,তার নাম হোলাকা।বঙ্গদেশে এই উৎসব পূর্ণিমার পূর্বদিন অনুষ্ঠিত হয়।এই অনুষ্ঠানে একটি পর্ণকুটীর নির্মাণ করে তাতে, অথবা খড়ের একটি পুতুল গড়ে তাতে অগ্নিসংযোগ করা হয়।কোন কোনও জায়গায় একে চাঁচর বা মেড়া পোড়ান বলে। এরকম করবার তাৎপর্য‍্য কি,তা বলা যায় না।দীপাবলীতে বা দীপালীতে প্রদীপ দানের ব‍্যবস্থা বা কোন কোনও জায়গায় আকাশ প্রদীপের ব‍্যবস্থার একটা সঙ্গত কারণ পাওয়া যায়। অর্থ‍্যাৎ ঐ সময়ে কীট-পতঙ্গের অত‍্যন্ত প্রাদুর্ভাব হয়,দীপালীতে সেই কীটপতঙ্গ ভীষণ উপদ্রব করে বলে সেই অগ্নিতে তারা নাশপ্রাপ্ত হয়।হোলির সময়ে বহ্ন‍্যুৎসবের যে কি কারণ থাকতে পারে,তা কিন্তু সঠিক বুঝা যায় না।হয়ত এমন হতে পারে যে,ফাল্গুনে ফসল উঠে গেলে তৃণগুল্ম জঞ্জাল ও বৃক্ষের গলিত পত্র অনেক জমা হয়,সেগুলিকে পোড়াবার একটি যৌথ ব‍্যবস্থা এই বহ্ন‍্যুৎসব। কিন্তু এটি অপেক্ষাও স্বাভাবিক কারণ মনে হয় এই যে,প্রায় প্রাচীন কাল হতে সর্বজাতির মধ্যে উৎসব বিশেষে আগুন নিয়ে খেলবার রীতি দেখা যায়।এমন হতে পারে যে,হিন্দুদের মধ্যেও সেই সার্বজনীন রীতির প্রমাণ এই বহ্ন‍্যুৎসব।মহরমের সময় মুসলমানদের আগুন নিয়ে যে খেলা করে,তাও এই প্রথারই অনুবর্তন। কিন্তু হোলাকা বা হোলিকা শব্দ হতে কি করে অগ্নির উৎসব আসতে পারে,তা বুঝতে পারা যায় না। একটি প্রবাদ আছে যে,হোলিকা নামে এক রাক্ষসী ছিল।সে যমুনা পারে বাস করত ও ছেলে ধরে উদর পূরণ করত।শ্রীকৃষ্ণ সেই রাক্ষসীকে বধ করে যমুনাপুলিনে বালুরাশি তার রক্তে রঞ্জিত করে দিয়েছিলেন।হোলির আবির খেলা তারই স্মৃতি বহন করছে। অন‍্য একটি কিংবদন্তী বলে যে,হোলিকা রাক্ষসীকে বধ করা হয়নি।গালাগালি দিয়ে তাকে তাড়িয়ে দেওয়া হয়েছিল। ভূত-প্রেত ছাড়াবার সময় নানা অশ্লীল গালি দিবার প্রথা আছে।আদিমকাল হতে এরকম একটি ধারণা চলে আসছে যে,ভূত-প্রেত,রাক্ষসী,দানবী অশ্লীল গালাগালি সহ‍্য করতে না পেরে সে জায়গা ত‍্যাগ করে।এটি সতে হলে ভূত-প্রেতের রুচি শিষ্টতর বলতে হবে।হোলিতে এখনও অশ্রাব‍্য গালিবর্ষণের রীতি দেখতে পাওয়া যায়, কিন্তু তা হিন্দুস্থানীদের কোনও কোনও শাখার মধ্যে নিবদ্ধ। বৈষ্ণব পদাবলীতে হোরি বা হোলি প্রসঙ্গে গালাগালির উল্লেখ আছে ঃ---*
*ব্রজবনিতা যত, রিঝি ঋঝায়ত,*
          *রহগারি মৃদু ভাষ।*
*🍀গোপালচম্পূতে শ্রীজীব গোস্বামীও এই কথা বলেছেন--,*
*🌷সকেলিগালিরীতিময়গীতিকোলাহলৈঃ! পূর্বচম্পূ।*
*🍁পুরাণে এই উৎসবের কোনও ইতিহাস পাওয়া যায় না।ভাগবতে এর উল্লেখ নেই।শ্রীজয়দেব গোস্বামী বসন্তরাসের বর্ণনা করেছেন সত‍্য, কিন্তু হোলির কোনও প্রসঙ্গ গীতগোবিন্দে নেই।চন্ডীদাসের হোলির পদ দেখতে পাওয়া যায় না। বিদ‍্যাপতিতেও দেখেছি বলে মনে হয় না। আমার বোধহয়, উত্তর-পশ্চিম হতে এই উৎসব আমাদের দেশে এসেছে।হোলি বা হোরি নামটি হিন্দির মত, ফগুয়া বা ফাগ হিন্দী শব্দ। সংস্কৃত শব্দ ফল্গু আছে এবং হোলির উৎসবকে ফল্গু উৎসব বলে।রঘুনন্দন শ্রীচৈতন‍্যদেবের সমসাময়িক। সুতরাং দেখা যাচ্ছে যে,ষোড়শ শতাব্দীতে হোলি উৎসবের প্রচলন বঙ্গদেশে ছিল।শ্রীপাদ সনাতন গোস্বামীর পদেও আছে=*
*ভদ্রালম্বিত, শৈব‍্যোদীরিত,*
         *রক্ত-রজোভরধারী।* 
*পশ‍্য সনাতন-, মূর্তিরিয়ং ঘন,*
         *বৃন্দাবন-রুচিকারী।।*
*🌻ভদ্রা সহকৃত শৈব‍্যা কর্তৃক উৎক্ষিপ্ত রক্তবর্ণ ফল্গুচূর্ণধারী শ্রীকৃষ্ণকে দেখ।ইনি নিত‍্য শাশ্বত-মূর্তি-বিশিষ্ট ও বৃন্দাবনের প্রতি অত‍্যন্ত অনুরাগশীল!এই কবিতা হতে বুঝা যায় যে,সে সময়ে বৃন্দাবনে ফাগ খেলিবার প্রথা সুবিদিত ছিল। শ্রীজীব গোস্বামী গোপালচম্পূর পূর্বচম্পূতে লিখেছেন=*
*অপি বাত! জনতাসু হোরিকায়াং,*
*হরিমভিসস্রুরহো! ব্রজস‍্য নার্য‍্যঃ!*
*🍀ব্রজরমণীগণ শ্রীহরিকে হোলির উৎসবে (রঙ্গগোলালে) অভিষিক্ত করেছিলেন।*
*🌺শ্রীচৈতন‍্যের সমকালীন প্রসিদ্ধ পদকর্তা ও গায়ক বাসুদেব ঘোষের একটি পদে পাওয়া যায় =*
*🌷দেখ দেখ ঋতুরাজ বসন্ত সময়।*
*🌷সহচর সঙ্গে বিহরে গোরা রায়।।*
*🌷ফাগু খেলে গোরাচাঁদ নদীয়া নগরে।*
*🌷যুবতীর চিত হরে নয়নের শরে।।*
*🌷সহচর মেলি ফাগু দেয় গোরা গায়।*
*🌷কুঙ্কুম পিচকা লেই পিছে পিছে ধায়।।*
*🌹বাসুদেব ঘোষের অন‍্য একটি পদে আছে =*
*🌷আজুরে কনকাচলে নীলাচলে গোরা।*
*🌷গোবিন্দের সঙ্গে ফাগু রঙ্গে ভেল ভোরা।।*
*🌻এখানে নীলাচলে হেমগিরি সদৃশ শ্রীগৌরাঙ্গ শ্রীজগন্নাথের সঙ্গে ফাগ খেলছেন, এটিই বর্ণিত হয়েছে। সাধারণতঃ গৌরচন্দ্রিকায় সুরধূনী তীরই হোলির ক্রীড়াক্ষেত্র। কিন্তু বাসুদেব ঘোষের উপরি উক্ত পদে এবং গোবিন্দ দাসের আর একটি পদে শ্রীগৌরাঙ্গের হোলিলীলা নীলাচলে বর্ণিত হয়েছে।পদ দুইটির সাদৃশ‍্য দেখে মনে হয় যে,গোবিন্দ দাসের পদ অল্টবিস্তর পরিবর্তন করে কেউ বাসুদেব ঘোষের নাম দিয়েছেন মনে হয়। হোলির যে সব গৌরচন্দ্রিকায় নরহরি নাম আছে,সেগুলি নরহরি চক্রবর্তীর রচিত বলেই মনে হয়।*
*🍀যাইহোক,শ্রীচৈতন‍্যের সময়ে যে,হোলিলীলার প্রচলন ছিল, সে সম্বন্ধে সন্দেহ নাই।এই সময়ে বা এর অদূরবর্তী প্রাক্কালে হোলিলীলা বৈষ্ণব কাব‍্যসাহিত‍্যে ও বাঙ্গালীর সমাজে প্রবেশ লাভ করেছিল বলেই বোধহয়।*
🔴🔵🌕⚪🔴🔵🌕⚪🔴🔵🌕⚪🔴
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 👉 বৈষ্ণব রস-সাহিত‍্য প্রথম শাখা 🙇 পরম বৈষ্ণব খগেন্দ্র নাথ মিত্র 📖 ষষ্ঠ ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/12/sahityo6.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(৫৮)🔴বৈষ্ণব রস-সাহিত‍্য🔴*
             *🌺হোলি লীলা🌺*
          🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺
*🌻বহু পূর্বে বসন্ত-পঞ্চমীতে মদন-মহুৎসব অনুষ্ঠিত হত। "রত্নাবলীতে" এই মদন-মহোৎসবের বর্ণনা আছে।এই উৎসবে স্ত্রী-পুরুষ মিলে পটবাসক বা পিঠালি কুঙ্কুমচন্দনে সুবাসিত করে পরস্পরের প্রতি নিক্ষেপ করত।শৃঙ্গ ভরে জল নিয়ে যুবক-যুবতীরা পরস্পরকে অভিসিঞ্চিত করিত।শৃঙ্গ শব্দের সঙ্গে ইংরেজি Syringe শব্দের ভাষাগত সাদৃশ‍্য দেখে মনে হয়,খৃষ্টীয় সপ্তম শতাব্দীতে আমাদের দেশে পিচকারীর ব‍্যবহার ছিল। প্রসঙ্গতঃ বলা যেতে পারে যে, পিচকারীর কোনও সাধু প্রতিশব্দ আমরা এ পর্যন্ত আবিস্কার করতে পারিনি।এই অর্থে শৃঙ্গ শব্দের প্রচলন নাই বললেও চলে।পিচকারী সম্ভবতঃ হিন্দী হতে এসেছে। আমরা বাংলা সাহিত‍্যে সেটিকে স্থান দিয়েছি অথবা কিছু পরিবর্তন করে নিয়েছি, যথা--,পিচকিরি,পিচকা, পেচকা ইত্যাদি। এই পিচকারী,পটবাস বা আবির,কুঙ্কুমচন্দন,জল-নিক্ষেপ প্রভৃতি সমস্তই মদন-মহোৎসবই পরে বসন্তলীলা বা হোলিলীলায় পরিণতি লাভ করেছে।*
*🍁মদন-মহোৎসবে অশ্লীলতার নামগন্ধ ছিল না।এখন "মদন" বলতেই আমরা সঙ্কুচিত হয়ে পড়ি। সেই জন্য মদন-মহোৎসবকে মনে করি বুঝি Bacchanalian revelry জাতীয় কিছু হবে। কিন্তু আমাদের দেশে মদন চিরদিনই প্রেমের দেবতা। এ মদন অন্ট নয়, পরন্তু পরম রূপবান্। রূপ ও প্রেমের সম্বন্ধ অতি নিবিড়। মদনের সখা বসন্ত এবং সেইজন‍্য বসন্তের আগমনের সঙ্গে মদনের বিজয়যাত্রা আরম্ভ হয়।বসন্তকালই মদনোৎসবের সময়।এখানে একটু লক্ষ্য করবার বিষয় এই যে,আমাদের দেবতারা চরিত্র বিষয়ে সব সময়ে সাবধান না হলেও মদনের সম্বন্ধে সাধারণতঃ কোনও অপবাদ দেওয়া হয় না।যাইহোক, বসন্তোৎসবে আমরা মদনের পরিবর্তে মদনমোহনকে সিংহাসনে স্থাপন করেছি।মদনমোহন শুধু প্রেমের দেবতা নহেন,তিনি সমস্ত বিশ্বের অধিদেবতা। তিনি একদিকে মন্মথেরও মন্মথ, "সাক্ষান্মথমন্মথ", অন‍্যদিকে "অনাদিরাদিগোবিন্দঃ সর্বকারণকারণম্"।কাজেই বসন্তোৎসব আর্য‍্যাবর্তের প্রায় সর্বত্রই অনুষ্ঠিত হয়।হোলির উৎসব,বহ্ন‍্যুৎসব, ফল্গুৎসব সমস্ত এই বসন্তোৎসবের অঙ্গীভূত হয়েছে। হোলি,বাসন্তী পূর্ণিমায় অনুষ্ঠিত হয়। আমাদের দেশে প্রাকৃতিক সৌন্দর্য্য উপভোগের সঙ্গে পূজা পার্বণ অনুষ্ঠান জুড়ে দেওয়ায়,এটি অনেকটা বাধ‍্যতামূলক হয়েছে।ইউরোপে স্বভাবশোভার বোধ জনসাধারণের মধ্যে অষ্টাদশ শতাব্দীর পূর্বে ছিল না বললেই চলে।ফরাসি দার্শনিক ও সাম‍্যবাদী "রুসোর" রচনা পাঠ করে লোক স্বভাব-শোভা সম্বন্ধে সজাগ হয়ে উঠে। কিন্তু আমাদের দেশের লোক স্মরণাতীত কাল হতে পূজা-অর্চনা-ব্রত-উৎসবের মধ‍্য দিয়ে নিসর্গ-দেবীর পদে অঞ্জলী দিয়ে আসছে।বসন্তকালের নির্মল প্রফুল্ল রাকা রজনীতে (পূর্ণিমা রজনীতে) হোলির ব‍্যবস্থা, শরৎকালের নির্মল মেঘমুক্ত আকাশে যখন পূর্ণচন্দ্রের আবির্ভাব হয়,তখন ঘুমাবে কে?সে দিন কোজাগর লক্ষ্মীপূজো, সে রাত্রিতে ঘুমাতে নেই।ঘুমালে যে অমন রাত্রিটি বিফল হয়ে যায়।হেমন্তকালের স্নিগ্ধ জোছনা নিশীথে রাসলীলা,বর্ষার মেঘের ফাঁকে ফাঁকে পূর্ণচন্দ্রের ক্ষণে ক্ষণে আবির্ভাব, ঝুলনের দোলায় বড় সুন্দর মানায়।গ্রীষ্মের রজনীতে পূর্ণচন্দ্রের উদয়ে জগৎ জুড়ায়,বনে বনে ফুল ফোটে,সুবাস ছড়ায়।সে সময়ে শ্রীকৃষ্ণের ফুলদোল।কুহু রজনীর ঘন অন্ধকারেরও একটি গম্ভীর,ভীতিজনক সৌন্দর্য্য আছে, সে দিনও ফাঁক যাইনি।করালিনী কালীর পূজার জন্য ঐরকম কুহু যামিনীই প্রশস্ত।*
*🌹ভগবানের লীলা বিচিত্র রহস‍্যময়। তিনি কি লীলা করেন, তা ভক্ত ছাড়া অন‍্য কেউ বলতে পারেন না।*
*🌷অনুগ্রহায় ভক্তানাং মানুষং দেহমাশ্রিতঃ।*
*🌷ক্রিয়তে তাদৃশী ক্রীড়া যাঃ শ্রত্বা তৎপরোভবেৎ।।*
*🌻ভগবান মানুষের রূপ পরিগ্রহ করে মানুষী লীলা করেন।যাঁরা মনে করেন যে, ভগবান মানুষের মত লীলা কখনও করতে পারেন না, তিনি অনন্ত,অসীম,অশব্দ,অস্পর্শ,অরূপ ; তাঁদেরকে কিছু বলবার নাই।তাঁদের পক্ষে লীলামাত্রই অলীক।লীলাবাদের প্রতিকূল ব‍্যক্তির সংখ্যা অল্প নয়। যুক্তির দ্বারা লীলাবাদ প্রতিষ্ঠিত করবার চেষ্টা বিড়ম্বনা। লীলাবাদ রহস‍্যবাদের সঙ্গে জড়িত।এই Mysticism বিভিন্ন অনুপাতে সব ধর্মের মধ্যেই আছে। রূপক Symbolism ছাড়াও ধর্ম হয় না। সুতরাং কেবল ন‍্যূনাধিকের ব‍্যাপার-- all a difference of degree. মানবাত্মার সঙ্গে প্রেময়ের সম্বন্ধ বুঝতে বুঝাতে ভক্তগণ প্রাণান্ত চেষ্টা করে গিয়াছেন। কিন্তু ভাগবতের কথাটির মত মূল‍্যবান কথা খুব কমই শোনা যায়। "ক্রিয়তে তাদৃশী ক্রীড়াঃ যাঃ শ্রুত্বা তৎপরোভবেৎ"। তিনি সেই সব লীলা করেন, যা শুনলে মন তাঁর দিকে ধাবিত হয়। ভগবানের জীবনচরিত কেউ লিখে নাই, তাঁর জীবনের কোনও সন তারিখযুক্ত প্রামাণিক ইতিহাস রচিত হয়নি, কোনও শিলালিপিতে বা তাম্রশাসনে তাঁর কার্যকলাপ উৎকীর্ণ হয়নি। ভগবান এক অনন্ত মাধুর্য‍্যপূর্ণ চিন্তামণিধামের অধীশ্বর।সে চিন্তামণিধামের নাম বৃন্দাবন--, পরম পবিত্র রমণীয় উপবন।সে রাজ‍্য,সে জগৎ আমাদের ধূলিমলিন কলুষকলঙ্কিত সংসারের মত নয়।*
*🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 👉 বৈষ্ণব রস-সাহিত‍্য প্রথম শাখা 🙇 পরম বৈষ্ণব খগেন্দ্র নাথ মিত্র 📖 ষষ্ঠ ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/12/sahityo6.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(৫৯)🔶বৈষ্ণব রস-সাহিত‍্য🔶*
            *🔷হোলি লীলা🔷*
         ❤❤❤❤❤❤❤❤
*🌹সে চিন্তামণিধাম কেবল চিন্তার দ্বারা,ধ‍্যানের দ্বারা যোগের দ্বারা লভ‍্য।*
*🌷পরম পুরুষোত্তম স্বয়ং ভগবান।*
*🌷কৃষ্ণ যাঁহা ধনী সেই বৃন্দাবনধাম।।*
*🌷চিন্তামণিময় ভূমি চিন্তামণি-ভবন।*
*🌷চিন্তামণিগণ দাসী চরণ ভূষণ*।।
*🌷কল্টবৃক্ষলতা যাঁহা সাহজিক বন।*
*🌷পুষ্পফল বিনে কেহ না মাগে অন‍্য ধন।।*
*🌷অনন্ত কামধেনু যাঁহা চরে বনে বনে।*
*🌷দুগ্ধ মাত্র দেন কেহ না মাগে অন‍্য ধনে।।*
*🌷সহজ লোকের কথা যাহা দিব‍্যগীত।*
*🌷সহজ গমন করে নৃত্য প্রতীত*।।
*🌷সর্বত্র জল যাঁহা অমৃতসমান।*
*🌷চিদানন্দ জ‍্যোতি স্বাদ‍্য যাঁহা মূর্তিমান।।*
*🍁শ্রীকৃষ্ণ যেখানে বাস করেন,সে-ই চিন্তামণিধাম--সে-ই বৃন্দাবন ; যেখানে ভূমি,গৃহ সমস্ত চিন্তামিময়। চিন্তামণি নামক বহুমূল‍্য রত্ন সেখানে দাসীগণের চরণভূষণ।সেখানে প্রতিবৃক্ষ,প্রতি ধেনু কামধেনু।সেখানে কেউ ফল ফুল দুগ্ধ ছাড়া অন‍্য ধনের কামনা করে না। সেখানে সহজ গমনই নৃত‍্য, সহজ বচনই দিব‍্য সঙ্গীত। সেখানে জল অমৃত এবং যে চিদানন্দজ‍্যোতি যোগীগণের ধ‍্যানেরও অতীত,তাইই পরম আস্বাদ‍্য মূর্তি পরিগ্রহ করে বিরাজ করছেন।*
*🌺এ হেন বৃন্দাবন ভগবানের প্রেমলীলা স্থল হলেও হতে পারে। সেই চিন্তামনিধাম বৃন্দাবন,সেই যমুনার কুল,সেই মালতী,যূথী,জাতির গন্ধভরা বসন্ত-সমীরণ। এখানে ভগবানের বিহার কল্পনা করা যেতেও পারে। এখানেই "অপরূপ দুহুঁ জন অতনু-বিলাস"।ইঁনাদের বিলাসে দেহের সন্ধান মাত্র নাই,তাই অতনু-বিলাস।উভয়ের তনু শুধুই প্রেমে গড়া।প্রেমের আকৃতি এই যে, পুরাতনকে নূতন করে সৃষ্টি করে,অথবা প্রেমের চোখে সবই নূতন,তাই চির বসন্তে=*
*🌷বিহরে শ‍্যাম নবীন কাম,*
*🌷নবীন বৃন্দাবিপিন ধাম,*
*🌷সঙ্গে নবীন নাগরীগণ,*
               *নবঋতুপতি রাতিয়া।*
*🌷নবীন গান নবীন তান,*
*🌷নবীন নবীন ধরই মান,*
*🌷নৌতুন গতি নৃত্যতি অতি,*
            *নবিন নবিন ভাতিয়া।।*
*🌻আজ সবই নূতন বোধ হচ্ছে।এমনই নবীন বসন্তে,নবীন বৃন্দাবনে, নবীন সহচরীগণকে নিয়ে নবীনকিশোর হোলি খেলা পাতিলেন। সমবয়ঃ সখাগণের সঙ্গে হোলি খেলতে খেলতে ব্রজ-যুবরাজ চলেছেন।পৌর্ণমাসী সব ব্রজললনাগণকে সাবধান করে দিলেন =*
*🌷আজ কোই কুলবতী নাহি বাহিরাব।*
*🌷যমুনা সিনানে কোই নাহি যাব।।*
*🌷বিপতি পড়ল আজু যুবতি সমাজ।*
*🌷সখাগণ সঙ্গে খেলই যুবরাজ*।।
*🌹হোলি খেলার ধূম পড়ে গিয়েছে।পথগুলি ব্রজ-বালকরা ঘিরে ফেলেছে, কারও পালাবার যো নাই। পিচকারী নিয়ে সকলে এমন ভাবে রঙ্গগোলাল ফেলছে, যেন মাথার উপর দারুণ বর্ষণ হচ্ছে, তাই পদকর্তা বলছেন=*
*🌷কহ গোবর্দ্ধন রহ গৃহমাহ।*
*🌷কোই জনি মন্দির ছোড়ি বাহিরাহ।।*
*🌺শ্রীমতীরাইধনি ঘরে বসে ভাবছেন, আহা! এমন আনন্দের দিনে বাইরে যেতে পারব না?*
*🌷ইহ দিনে কৈছে রহিতে কহ ঘর মাহা।*
*🌷সো সুখে হোই নৈরাশ।।*
*🌻আমরা সব সখী মিলে হোলি খেলা দেখতে যাবই। এতে লজ্জা করলে চলবে না।শ্রীমতী রাধিকা গুরুজনের নিকট হতে অনুমতি নিয়ে বাহির হয়ে পড়লেন। কিন্তু এক বিপদ হ'ল--,শুনতে পেলেন পদ্মাসখী সঙ্গে করে আসছেন,তাঁরা প্রাণনাথের সঙ্গে হোলি খেলবেন।এতক্ষণ বুঝি তাঁদের মিলন হয়ে গেল।*
*🌷বংশীবট তট মীলন ভেল বুঝি,*
               *ফাগু যন্ত্র করি হাত।*
     *🌷সজনি ইহ দারুণ পরমাদ।*
*🌷ঐছন ভাতি রচন করি চল সখি,*
          *যাই করিয়ে সব বাদ।।*
*🌹চল,আমরা তাহাদের সঙ্গে যুদ্ধ করি। তার পরে•••••••••••*
*🌷সভে মিলি ফাগু তিমির করি বেঢ়ব,*
                 *লখই না পারই কোই।।*
*🌷ঐছনে কানু লেই সভে আওব,*
                 *তুরিতহিঁ নিধুবন পাশ।*
*🌷গোবর্দ্ধন কহ আনন্দে খেলহ,*
                     *পদ্মা পাউ নৈরাশ।।*
*🍁আমরা সকলে মিলে এমন করে আবিরে অন্ধকার করে দিব যে, কেউই কিছু দেখতে পাবে না।তখন আমরা কৌশল করে সত্বর কৃষ্ণকে নিধুবনের কাছে আনিব। পদ্মা নিরাশ হয়ে ফিরে যাবে।*
*🌷ফাগুরাজে সকল করল আঁধিয়ার।*
*🌷নারি-পুরুষ কোই লখই না পার।।*
*🌷ঐছনে কানুক মাঝহি ঘেরি।*
*🌷আনলুঁ নিধুবনে সো নাহি হেরি।।*
🔴⚪🌕🔵🔶🔷🔷🔶🔴⚪🌕🔵🙌
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 👉 বৈষ্ণব রস-সাহিত‍্য প্রথম শাখা 🙇 পরম বৈষ্ণব খগেন্দ্র নাথ মিত্র 📖 ষষ্ঠ ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/12/sahityo6.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(৬০)🌳বৈষ্ণব রস-সাহিত‍্য🌲*
      *🔷🔶হোলি লীলা 🔶🔷*
   ▪▪▪▪▪▪▪▪▪▪
*🌻ঐসময় হোলিতে দুই দলে আবির কুঙ্কুমের যুদ্ধ চলত।লাখে লাখে পিচকারী ছুটত।শ‍্যাম-অঙ্গ লালে লাল হয়ে যেত।শ্রীরাধিকার দলের সেনাপতি হতেন প্রধানা সখিরা-- ললিতা বিশাখা। শ্রীকৃষ্ণের দলের সেনাপতি হতেন বটু অর্থ‍্যাৎ মধুমঙ্গল ও সুবল। সাধারণতঃ গোপীরা জয়লাভ করতেন ও মধুমঙ্গলকে যাচ্ছে-তাই করে ছাড়ত।সম্ভবত তাঁকে এমন করে আবির ও রঙ মাখাতেন চেনা বড়ই দায় হত।হোলীলীলার খন্ড কাব‍্যে মধুমঙ্গল বিদূষক। ললিতমাধব,জন্নাথবল্লভ প্রভৃতি নাটকেও মধুমঙ্গলই বিদূষকের ভূমিকা গ্রহণ করেন।তিনি কিছু লোভী ব‍্যক্তি, প্রেমের আবেদন অপেক্ষা ক্ষুধার তাড়নাই তাঁর পক্ষে বেশী আগ্রহের বিষয়।ব্রজ-গোপীরা তাঁকে নিয়ে হাস‍্য-পরিহাস করতে ভালবাসেন। মধুমঙ্গল সুতরাং এই রমণীব‍্যূহের কাছে পরাজয় সম্ভাবনা মাত্রেই সেখান থেকে পালিয়ে যাবার রাস্তা খুঁজতেন।গোপীরাও তাঁকে ধরে নানারকম লাঞ্জিত ও বিড়ম্বিত করতে দ্বিধা বোধ করেন না।যাইহোক=*
*🌷মধুমঙ্গল সহ সুবলা পলাওল,*
                  *বল্লভী দাস জয় গায়।*
*🍀কিন্তু শ্রীকৃষ্ণের অবস্থা তখন সঙ্কটজনক। কর বা হাত হতে মুরলী মাটিতে পড়ে গড়াগড়ি যাচ্ছে ; শিখিপুচ্ছচূড়া আউলিয়ে পড়েছে।দুই হাতে তিনি চোখ রগড়াতে ব‍্যস্ত ; ততক্ষণে লক্ষ লক্ষ পিচকারী তাঁকে রঙ্গগোলালে স্নান করাচ্ছে। কিন্তু একজন তাঁর দুরবস্থা দেখে ছল ছল নয়নে তাঁর দিকে তাকিয়ে আছেন।সখীদের আনন্দে শ্রীরাধা সম্পূর্ণ যোগ দিতে পারছেন না। কখনও =*
*🌷চুয়া চন্দন গোরী দেয় শ‍্যামের গায়।*
*🌺কখনও বা বসনাঞ্চল দিয়ে তাঁর নয়ন বয়ন(বদন) মুছিয়ে দিচ্ছেন।*
*🌷শ‍্যামেরে বিভোর দেখি রসবতী রাই।*
*🌷অরুণ বসন দিয়া ওমুখ মুছাই।।*
*☘কিন্তু জয়ের আশা তখনও মেটেনি। তাই বলছেন=*
*🌷এস বঁধূ আরবার খেলাই হে ফাগুয়া।*
*যদি বল একা আমি,বহু সঙ্গের সঙ্গী তুমি,*
       *সযুথে বিশাখা হউক তুয়া।।*
*🌻বিশাখা তার দল সহ তোমার পক্ষে যাক। তোমার পিচকারী না থাকে,বলো কত চাই? আমি তোমায় দিব।রঙ না থাকে,তাওও দিব। তোমার কৃপায় আমাদের রঙের (অর্থ‍্যাৎ অনুরাগের) অভাব নাই। ফাগের রঙে গগন পবন লাল হয়ে গেল। যমুনার জল,নীলোৎপল, কোকিল, ময়ূর,বৃক্ষলতা সব লাল হল।*
*🌷ফাগু খেলাইতে ফাগু উঠিল গগনে!*
*🌷বৃন্দাবনের তরুলতা রাতুল বরণে।।*
*🌷রাঙ্গা ময়ূর নাচে গাছে রাঙ্গা কোকিল গায়।*
*🌷রাঙ্গা ফুলে রাঙ্গা ভ্রমর রাঙ্গা মধু খায়।।*
*🌹এই যে সব লালে লাল হল, এ রঙ কি শুধু বাইরে রইল?প্রাণে কি সে অরুণিমার পরশ লাগল না?বৈষ্ণব কবি প্রাণের ঠাকুরকে শুধু ফাগ মাখিয়েই তৃপ্ত হতে পারেননি। তাই তিনি বলছেন, উভয় মনে মনে লাল হচ্ছেন=*
*🌷নিরখত বয়ন, নয়ন পিচকারী,*
      *প্রেম গোলাল মনহি মন লাগ।*
*🍀প্রেমিক যুগল উভয়ে উভয়ের মুখের দিকে যে সতৃষ্ণ দৃষ্টি নিক্ষেপ করছেন,সে দৃষ্টি ঐ পিচকারীর ধারারই মত অব‍্যর্থ।সহজেই অরুণ দৃষ্টির অনুরাগ ভরা চাহনিতে মুহুর্মুহু উভয়ে লাল হয়ে উঠছেন। এদিকে=*
*🌷অরুণ তরুণ তরু অরুণহি ধরণী।*
*🌷স্থল জলচর সবে ভেল এক বরণী।।*
*🌷অরুণহি নীরে অরুণ অরবিন্দ*।
*🌷অরুণ হৃদয় ভেল দাস গোবিন্দ।।*
*🌹অন‍্যদিকে রাধাগোবিন্দের মনের মধ্যে প্রেমের হোলি খেলা চলছে=*
*🌷ফাগু রঙ্গ তহিঁ নব অনুরাগ।*
*🔵সে হোলি-খেলায় নব অনুরাগ হ'ল ফাগ, নয়নের দৃষ্টি হল পিচকারী ধারা।তনু মন দুই যুক্ত করে শৃঙ্গ বা পিচকারী হল=*
*🌻খেলত তনু মন জোরি ভোরি দুহুঁ।*
*🍀পিচকারীতে একটি নল ও একটি দন্ড বা Piston লাগে।এ ক্ষেত্রে দেহ হল নল, মন হল দন্ড।গুলাল বা গোলাল তৈরী করতে আতর গোলাপের প্রয়োজন হয় ; এ প্রেমের খেলায় "দুহুঁ অঙ্গ পরিমল চূয়া-চন্দন" হল।এইভাবে হোলিখেলা প্রেমে এবং প্রেমের লীলা হোলিখেলায় পরিণত হয়ে বৃন্দাবনে আনন্দের ফোয়ারা ছুটল।বৃন্দাবন যখন আবিরে লাল,অর্থ‍্যাৎ ফাগ বৃষ্টিতে অন্ধকার,তখন এই হোলি খেলতে খেলতে =*
*🌷বন্ধুয়া আমার হিয়ার মাঝারে,*
                    *কেহ না দেখিতে পায়।*
*🌳আমরাও কিশোর-কিশোরীকে হৃদয়ের মধ্যে অনুরাগে অভিসিঞ্চিত করে আজ সেই চিন্তামণিধামের হোলিলীলা স্মরণ করি🙏।*
*🙌 জয় জয় শ্রীরাধা শ‍্যামের জয়, জয় সকল সখা-সখীর জয়।*
❤❤❤❤❤❤🌻❤❤❤❤❤❤
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🔜 ক্রমাগত 👉 বৈষ্ণব রস-সাহিত‍্য প্রথম শাখা 🙇 পরম বৈষ্ণব খগেন্দ্র নাথ মিত্র 📖 সপ্তম ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/12/sahityo7.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

    📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝
    ꧁👇📖 সূচীপত্র ✍️ শ্রী জয়দেব দাঁ 📖👇



✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧


✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

   ✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️ 
নিবাস- বাঁশবাড়ী, কীর্তন মন্দিরের পাশে, পোঃ- বাঁশবাড়ী, থানা- ইংরেজ বাজার, জেলা- মালদহ, পশ্চিমবঙ্গ, পিন কোড- ৭৩২১০১।

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

  *••••┉❀꧁👇🏠Home Page🏠👇꧂❀┅••••* 


✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

    *••••━❀꧁👇 📖 সূচীপত্র 📖 👇꧂❀┅••••* 



✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

     *••••━❀꧁👇📚 PDF গ্রন্থ 📚👇꧂❀┅••••* 


✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
    *••••┉━❀꧁ 🙏 রাধে রাধে 🙏 ꧂❀━┅••••* 
                   শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য প্রভু নিত্যানন্দ
              হরে কৃষ্ণ হরে রাম শ্রীরাধেগোবিন্দ।।
  *••••┉━❀꧁ 🙏 জয় জগন্নাথ 🙏 ꧂❀━┅••••*
              হরে কৃষ্ণ হরে কৃষ্ণ কৃষ্ণ কৃষ্ণ হরে হরে
              হরে রাম হরে রাম রাম রাম হরে হরে॥
  *••••┉━❀꧁ 🙏 জয় রাধাকান্ত 🙏 ꧂ ❀━┅••••*
   🌷❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀🌷
   🏵️❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀🏵️
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧







শ্রীগৌরাঙ্গ চরিত 📖 নবম ভাগ 🏵️ শ্রী শশীভূষণ বসু ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 https://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/12/gouranga9.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🔙 পূর্ব লীলা 👉 শ্রীগৌরাঙ্গ চরিত 📖 অষ্টম 🏵️ শ্রী শশীভূষণ বসু ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/11/gouranga8.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 👉 শ্রীগৌরাঙ্গ চরিত 📖 নবম 🏵️ শ্রী শশীভূষণ বসু ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 https://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/12/gouranga9.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 👉 শ্রীগৌরাঙ্গ চরিত 📖 নবম 🏵️ শ্রী শশীভূষণ বসু ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 https://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/12/gouranga9.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(৮১)🙏শ্রীগৌরাঙ্গের চরিতসুধা*
                   *নানা তীর্থ ভ্রমণ*
                 ◆◆◆◆◆◆◆◆◆
*🌲এই চন্ডালু পর্বত-পরিবেষ্টিত অরণ‍্যের মধ্যে সুরেশ্বর নামক এক সন্ন‍্যাসী শিষ্যসহ বাস করতেন।এ-স্থান অতি রমণীয়। গিরিগাত্র বহে নির্ঝরিণী কুল কুল রবে বহে যাচ্ছে।অরণ‍্যবাসী সন্ন‍্যাসীগণ এই রমণীয় ভূমি ত‍্যাগ করে অন‍্য কোথাও গমন করতেন না।গ্রামবাসীরা তাপসদের জন্য আহার-সামগ্রী দিয়ে আসিত।শ্রীচৈতন‍্যদেব এই রমণীয় স্থানে তিনদিন থেকে,সন্ন‍্যাসী সুরেশ্বরকে হরিপ্রেমে মত্ত করে পদ্মকোটে গমন করলেন। পদ্মকোটে অষ্টভূজা ভগবতীর মন্দির আছে।মহাপ্রভু তথায় গমন করে ভক্তিভরে দেবীর অর্চনা করলেন।তাঁকে দর্শন করবার জন্য বহুলোক সেখানে আগমন করলে, তিনি সকলকে সংসার ও মানব-দেহের নশ্বরতা ও আত্মার অমরত্ব বিষয়ে উপদেশ দান করলেন।*
*🍁উপদেশান্তে তিনি হরিধ্বনি করে নৃত্য করতে লাগলেন, তখন চারিদিক যেন প্রতিধ্বনিত হতে লাগল। "কোন বৈষ্ণব লেখক বলেন", তাঁর মুখ-বিনিঃসৃত হরিনামের প্রভাবে বালক-যুবক প্রভৃতি সকলেই হরিপ্রেমে মত্ত হয়ে উঠিল ; অষ্টভূজা দেবী আনন্দে দুলিতে লাগলেন।বায়ু পদ্মগন্ধ বহন করতে লাগল, আকাশ হতে পুষ্পবৃষ্টি বর্ষিত হতে লাগল,সকলে পুষ্প নিয়ে খেলা করতে লাগল।যখন শ্রীচৈতন‍্যদেবের ভক্তি-প্রবণতায় পদ্মকোট আলোড়িত হচ্ছে,তখন এক অন্ধজন,তাঁর কাছে উপস্থিত হয়ে,তাঁর চরণে প্রণত হয়ে বলিল,প্রভো!তুমি মানব নহ,ভগবতী স্বয়ং স্বপ্নে আমার কাছে এইকথা প্রকাশ করেছেন।সেই অন্ধজন শ্রীচৈতন‍্যদেবকে মানবের পরিত্রাতা জ্ঞানে স্তবস্তুতি করতে লাগলেন। কথিত আছে=শ্রীচৈতন‍্যদেব করুণাপরবশ হয়ে দুই বাহুপাশে তাকে আলিঙ্গন করলেন।তাঁর অঙ্গস্পর্শে সেই অন্ধজনের চক্ষু দৃষ্টি ফিরে পেলেন, এবং শ্রীমন্মহাপ্রভুর মোহন মূর্তি দর্শনে এমনই বিমোহিত হয়ে পড়ল যে, সে অচৈতন‍্য হয়ে পড়ল।মহাপ্রভুর পরশে চেতনা ফিরলে পুরোপুরি ভাবে অন্ধত্ব দূর হল।*
*👣তার পর শ্রীচৈতন‍্যদেব পদ্মকোট পরিত‍্যাগ করে ত্রিপত্র নগরে গমন করলেন। সেখানে অনেক শৈবধর্মাবলম্বী বসবাস করতেন।শৈবদের গুরু ছিলেন ভর্গদেব একজন বিখ‍্যাত দার্শনিক বলে প্রসিদ্ধি লাভ করেছিলেন।শ্রীচৈতন‍্যের ভক্তিভাব দেখে ভর্গদেব বিমোহিত হয়ে তাঁকে ঈশ্বরাবতার বলে মহাপ্রভুর চরণে পতিত হলেন।শ্রীচৈতন‍্য বৃদ্ধ সুপন্ডিত ভর্গদেবের কথা শুনে প্রতিবাদ করে বললেন, " আমি সামান্য মাবন ছাড়া আর কিছুই নয়। আমি তীর্থস্থান দর্শন করবার জন্য বেড়িয়েছি এবং এখানে এসে পৌঁছেছি।তোমরা সকলে হরিগুণ কীর্তন করো,আনন্দে নৃত্য করো,তাহলেই আমার প্রাণ আনন্দে পরিপূর্ণ হবে।শৈব ধর্মাবলম্বী ভর্গদেব ও তাঁর শিষ‍্যবৃন্দ শ্রীচৈতন‍্য প্রদর্শিত ভক্তিমার্গ গ্রহণ করে, হরিগুণ কীর্তনে নিজেদের রসনা যুক্ত করলেন।হরিনামের ধ্বনিতে ও শ্রীগৌরাঙ্গদেবকে দর্শন করবার জন্য হাজার হাজার লোক তাঁর কাছে আগমন করে তাঁর অমানুষিক ভক্তিভাব দেখে বিমুগ্ধ হয়ে,বৈষ্ণবধর্ম গ্রহণ করতে লাগলেন।শ্রীচৈতন‍্যদেব এক সপ্তাহকাল সেখানে থেকে সকলকে হরিপ্রেমে মাতোয়ারা করে সে স্থান পরিত‍্যাগ করলেন।ভর্গদেব তাঁর অনুগত ভক্তের ন‍্যায় তাঁর পেছন পেছন গমন করতে লাগলেন। হাজার হাজার লোকে হরিনামের ধ্বনিতে চারিদিক যেন আলোড়িত করে তুলিল। কিন্তু চৈতন‍্যদেব ভর্গদেবের নিকট হতে বিদায় নিলে, বহু সংখ্যক তরলমতি বালক সেখানে উপস্থিত হল।কেউ বলল,"ভাই, ও ক্ষেপা,এসো আমরা সকলে "হরি হরি বোলে তাঁকে আরও ক্ষেপিয়ে তুলি"।বালকেরা আমোদ করবার জন্য শ্রীকৃষ্ণচৈতন‍্যের পেছনে হরি হরি বলে নৃত্য করতে করতে গমন করতে লাগল।মহাপ্রভুও বালকদের উচ্চ হরিধ্বনির সঙ্গে নিজের কন্ঠ মিশিয়ে হরি হরি বলে আনন্দে নৃত্য করতে লাগলেন।*
*🌷আরম্ভিল ক্ষেপাইতে যত শিশুগণ।*
*🌷সেই সঙ্গে নাচে প্রভু শচীর নন্দন।।*
                              *(গোঃ দাস)*
*🌲শ্রীচৈতন‍্যদেব ত্রিপত্র নগর হতে ঝারিবনে প্রবেশ করলেন।কত পাখী এই নিস্তব্ধ বিজন বনে বৃক্ষের শাখায় বসে মুক্তকন্ঠে গান করছে।ভক্তচূড়ামণি শচীনন্দন গৌরহরি জনকোলাহলশূন‍্য এই অরণ‍্যের মধ‍্য দিয়ে প্রফুল্ল হৃদয়ে হরিগুণ কীর্তন করতে করতে চলতে লাগলেন।এ অরণ‍্যে কেবল গোবিন্দদাসই তাঁর একমাত্র সঙ্গী।গোবিন্দদাস তাঁর কড়চায় লিখেছেন,এ অরণ‍্যের মধ্যে কেবল মাত্র ফল খেয়েই তাঁরা ক্ষুধা নিবৃত্তি করতেন।তিনদিন পরে একদল সন্ন‍্যাসীর সঙ্গে তাঁদের সাক্ষাৎ হল, শ্রীচৈতন‍্যদেব গোবিন্দকে সঙ্গে নিয়ে তাঁদের সহিত শ্রীরঙ্গধামে গমন করলেন। সেখানে শ্রীরঙ্গনাথ দর্শন ও নৃত্য কীর্তনাদি করলে,বেঙ্কট ভট্ট নামে এক ব্রাহ্মণ তাঁকে নিজ ভবনে নিমন্ত্রণ করলেন।ভট্ট তাঁর ভক্তিভাব দেখে এত প্রীত হলেন যে,তিনি তাঁকে চারমাস কাল নিজ ভবনে বাস করবার জন্য অনুরোধ করেন।মহাপ্রভুও তাঁর অনুরোধ রক্ষা করতঃ চারমাস সেখানে অবস্থিতি করে, গোদাবরীতে স্নান ও নাম কীর্তনাদি করে সময় অতিবাহিত করলেন।মহাপ্রভু যখন বেঙ্কট ভট্টের বাড়ীতে ছিলেন,তখন ভট্টের "গোপাল" নামে একটি অল্পবয়স্ক পুত্র,শ্রীচৈতন‍্যের রূপমাধুরী ও মধুর ব‍্যবহারে তাঁর প্রতি অত‍্যন্ত অনুরাগী হয়ে উঠেছিল।বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে গোপালের ভক্তিভাব ক্রমে বেড়ে যেতে লাগল।তিনি পিতা-মাতার স্বর্গারোহণের পর সংসার পরিত‍্যাগ করে শ্রীচৈতন‍্যদেবের পথ অনুসরণ করে ভক্তসঙ্গে ও হরিগুণ কীর্তনে জীবন অতিবাহিত করেন।ইঁনিই ষড়্ গোস্বামীর একজন গোপালভট্ট গোস্বামী।*
*🌺শ্রীরঙ্গক্ষেত্রে এক ব্রাহ্মণ একটি দেবমন্দিরে বসে অতি নিষ্ঠার সহিত নিত‍্য গীতা পাঠ করতেন। কিন্তু তাঁর পাঠ উচ্চারণ ও ব‍্যাখ‍্যা অশুদ্ধ হত বলে লোকে তাঁকে বিদ্রূপ করত।একদিন মহাপ্রভু তাঁর গীতা পাঠ শোনার জন্য গমন করলেন।গমন করে দেখলেন,ব্রাহ্মণ ভক্তির সহিত গীতা পাঠ করছেন।পাঠ করতে করতে যেন তিনি ভাবসাগরে ডুবে যাচ্ছেন,তাঁর নয়ন হতে বারিধারা বহিছে ; তাঁর শরীর ক্ষণে ক্ষণে শিহরিয়ে উঠছিল।গৌরহরি তা দেখে পাঠক ব্রাহ্মণকে জিজ্ঞাসা করলেন, তুমি গীতা পাঠের সময় কোথা হতে এত আনন্দ লাভ কর?ব্রাহ্মণ তদুত্তরে বললেন, "আমি যখন গীতা পাঠ করি, তখন দেখি,অর্জুনের রথে নবদূর্বাদল ঘনশ‍্যাম শ্রীকৃষ্ণ স্বয়ং রজ্জু ধরে বসে রয়েছেন, আর অর্জুনকে উপদেশ দান করছেন। আমি যতক্ষণ পাঠ করি, ততক্ষণই সেই মনোহর দৃশ্যই আমার চোখের সামনে প্রকাশিত থাকে।এই জন্য গীতা পাঠ আর ছাড়তে পারি না। শ্রীচৈতন‍্যদেব তাঁর কথা শুনে বললেন, সত‍্যই তুমিই গীতা পাঠের যথার্থ অধিকারী, এই বলে তিনি ব্রাহ্মণকে গাঢ় আলিঙ্গন দান করলেন।মহাপ্রভুর আলিঙ্গনে ব্রাহ্মণও পরম ভক্তি লাভ করে মহাপ্রভুর শ্রীচরণে দন্ডবৎ প্রণাম করে বললেন,"আমি তোমার মধ্যেও সেই শ্রীকৃষ্ণকে দর্শন করছি🙏।*
*🍀তারপর মহাপ্রভু নানাস্থানে ভ্রমণ করতে করতে পুনানগরে এসে উপস্থিত হলেন এবং ত‍্যসচ্ছর নামে সরোবরের তটস্থ একটি বকুল গাছের তলায় বসিলেন।পুনানগর বহু পন্ডিতের আবাসভূমি।সেখানে নবদ্বীপের মত বহু চতুষ্পাঠীতে বহু ছাত্র অধ‍্যয়ন করিত। গীতা ও ভাগবত শাস্ত্রে অনেকেই সুদক্ষ বলে প্রসিদ্ধি লাভ করতেন।এই জ্ঞানচর্চার জায়গায় তিনি উপস্থিত হলে একজন ব্রহ্মবাদী পন্ডিত এসে তাঁর সঙ্গে শাস্ত্র বিচারে রত হলেন। কিন্তু মহাপ্রভু তাঁকে বিচারে পরাস্ত করলেন।জ্ঞান বিচারে লোককে পরাস্ত করা তাঁর উদ্দেশ্য নহে, ভগবদ্ভক্তির মধুর রসাস্বাদন করানোই তাঁর প্রধান উদ্দেশ্য।তাঁর ভক্তি ভাবের নানান লক্ষণ দেখে ক্রমে বিষ্ণুভক্ত ও অন‍্যান‍্য লোকেরা সমবেত হতে লাগল।মহাপ্রভুর অপূর্ব কৃষ্ণপ্রেমানুরাগ দেখে, কোন লোক জলাশয়ের দিকে আঙ্গুল দেখিয়ে বলল, "তোমার কৃষ্ণ এই জলাশয়ের জলের ভিতর বাস করছেন"।এইকথা বলিবা মাত্র তিনি যেন অস্থির হয়ে পড়লেন এবং সেই কৃষ্ণধন লাভ করবার জন্য জলে ঝাঁপ দিলেন।তৎক্ষণাৎ দর্শকবৃন্দের মধ‍্য হতে বহু ব‍্যক্তি মহাপ্রভুর উদ্ধারের জন্য সরোবর মধ্যে ঝাঁপ দিয়ে মহাপ্রভুকে জল থেকে উপরে উঠাল।তাই মহাপ্রভুর সাথী গোবিন্দ দাস বলেছেন=*
*🌷এইবারে মহাপ্রভু শুনি তাঁর বাণী।*
*🌷প্রেমাবেশে জলে ঝাঁপ দিলেন আপনি।।*
*🌷সরোবর মধ্যে পড়ি বহুতর লোক।*
*🌷ডাঙ্গায় প্রভুরে তুলি করে নানা শোক।।*
*🌺যে-ব‍্যক্তি কথায় গৌরহরি জলে ঝম্প প্রদান করেছিলেন, তাকে সকলেই তিরস্কার করতে লিগল। কিন্তু মহাপ্রভু অতি বিনীতভাবে মধুর বচনে বললেন, কেন তোমরা সকলে ঐ ব‍্যক্তিকে ভর্ৎসনা করছ, এমন কোন জায়গা নাই যে, যেখানে কৃষ্ণ বিরাজ করেন না?তিনি যে জলে স্থলে সর্বত্রই বিরাজমান।যে ব‍্যক্তি, কৃষ্ণকে এই পৃথিবীর সব জায়গায় দর্শন করেন,তিনিই যথার্থ ভক্ত। তাই গোবিন্দ দাস তাঁর কড়চায় লিখেছেন=
*🌷যেইজন বলেছিল কৃষ্ণ আছে জলে।*
*🌷সমস্ত পন্ডিত তারে মন্দ কথা বলে।।*
*🌷প্রভু বলে কেন বৃথা ভর্ৎস মহারাজে।*
*🌷জলে স্থলে শূন‍্যে কৃষ্ণ নিয়ত বিরাজে।।*
*🌷আশে পাশে কৃষ্ণ কৃষ্ণ জগময়।*
*🌷যেই দেখিবারে পায় সেই ভক্ত হয়।।*
*🌹শ্রীকৃষ্ণচৈতন‍্যদেব এখানে ভগবানের সর্বব‍্যাপিত্ব সম্বন্ধে কেমন পরিস্কার মতই প্রকাশ করেছেন।তাঁর ইষ্ট দেবতা শ্রীকৃষ্ণ কোন বিশেষ স্থলে বা দেশে আবদ্ধ নহেন। এটিই তিনি প্রকাশ করিলেন।*
*🙏🙏🙏🙏🙏🙏🌻🙏🙏🙏🙏🙏🙏
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 👉 শ্রীগৌরাঙ্গ চরিত 📖 নবম 🏵️ শ্রী শশীভূষণ বসু ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 https://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/12/gouranga9.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(৮২)🙏শ্রীগৌরাঙ্গের চরিতসুধা*
               *👌পতিতোদ্ধার👌*
            👌👌👌👌👌👌👌
*🍀শ্রীমন্মহাপ্রভু এবারে জিজুরী নগরে গমন করলেন।এখানে খান্ডবা নামে এক দেবতার মন্দির ছিল।এই দেবতার সেবার জন্য অনেক অনূঢ়া (কুমারী নারী) এখানে বাস করত।খান্ডবার সেবা দাসীরা আজীবন চিরকুমারী থেকে খান্ডবার পত্নী বলে পরিচয় দিতেন।এঁরা মুরারী নামে কথিত হত।চির-কৌমার্য‍্য বড় কঠিন ব্রত।এই নারীরা মানব-স্বভাব-দুর্বলতা বশতঃ চরিত্রের পবিত্রতা রক্ষা করতে না পেরে অসৎ পথ অবলম্বনে জীবন ধারণ করিত। কিন্তু এদের কলঙ্কিত চরিত্রের কথা চারিদিকে ছড়িয়ে পড়েছিল।কোন বিপদসঙ্কুল স্থানে যেতে লোকে স্বভাবতই যেমন ভীত হয়,সচ্চরিত্র ব‍্যক্তিরাও এদের পল্লীতে গমন করতে সেইরকম ভীত হতেন।জিজুরী নগরে অবস্থান কালীন,এই চিরকুমারীদের অপবাদের কথা শুনে শ্রীচৈতন‍্যদেবের প্রাণ কেঁদে উঠিল। তিনি তাদের কাছে যাবার জন্য ব‍্যাকুল হয়ে উঠলেন।এমন সুন্দর পবিত্রচেতা যুবকপুরুষ এই নরকতুল‍্য জায়গায় কিভাবে গমন করবেন, এই মনে করে,সকলেই তাঁকে সেখানে যেতে নিষেধ করলেন।যিনি বিশ্ববিজয়ী ভগবানের মধুর নাম কীর্তন করে মানবকে পবিত্রতার পথে পরিচালিত করবার জন্য অবতীর্ণ হয়েছেন,তিনি কি এই বিপথগামিনী নারীদের চরিত্রস্খলনের কথা শুনে স্থির থাকতে পারেন?মহাপ্রভু কারো কথায় কর্ণপাত না করে তাদেরবাসস্থানে উপনীত হলেন।ইতঃপূর্বেই জিজুরী নগরে শ্রীচৈতন‍্যদেবের গভীর নিষ্ঠার কথা ছড়িয়ে পড়েছিল।তিনি সেখানে উপস্থিত হলে, দেবদাসী মুরারীরা,তাঁকে দর্শন করবার জন্য গমন করল।মলিন পঙ্কিলময় স্থানে যেমন শ্বেত শতদল শোভা পায়,মুরারীদের মধ্যে ভগবদ্ভক্ত,নির্মলচরিত্র শচীকুমার সেইরকম শোভা পেতে লাগলেন।মুরারীগণ এই নবাগত সন্ন‍্যাসীর দেবোপম সৌন্দর্য্য দেখে বিমোহিত হয়ে গেল।চৈতন‍্যদেব সকলকে পবিত্র হরিনাম গ্রহণ করে পাপের হাত হতে মুক্তিলাভ করতে বললেন, নামের স্বর্গীয় অনলশিখায় নিজেদের পাপরাশি ভস্ম করতে লাগল।ইন্দিরাবাঈ নামে এক নারী মহাপ্রভুর কথা শুনে করজোড়ে নিজের কলঙ্কিত জীবনের কথা উল্লেখ করে অশ্রুসিক্ত নয়নে কাঁদতে কাঁদতে বলল,প্রভো!আমাকে তোমার পদধূলি দিয়ে উদ্ধার কর।এই বলে ইন্দ্রিরা মাটিতে পড়ে গড়াগড়ি দিতে দিতে নিজ অঙ্গ ধূলায় ধূসরিত করে ফেলল।শ্রীগৌরাঙ্গ বেশ জানতেন,পতিতপাবন ভগবানের নামই পাপীর নবজীবন লাভের একমাত্র উপায়।তিনি তাঁকে সেই পাপতাপহিরী ভগবানের নাম গ্রহণ করতে বললেন।ইন্দিরা অকপট হৃদয়ে,পরম ভক্তিভরে সেই হরিনাম গ্রহণ করে উদ্ধার হয়ে গেল।*
*🙌ইন্দিরার এই অপূর্ব পরিবর্তন দেখে,তার সঙ্গিনীরাও সেই পবিত্র হরিনাম গ্রহণে নিজেদের জীবন সার্থক করতে লাগল।অতি অল্প সময়ের মধ্যে শ্রীচৈতন‍্যদেব মুরারীদের মধ্যে এক অপূর্ব পরিবর্তন আনয়ন করলেন। পরদিন প্রভাতে জিজুরী নগর হতে তিনি "চোরানন্দি" বনে গমনের ইচ্ছা প্রকাশ করলে,সকলে তাঁকে সেখানে যেতে নিষেধ করিল।তারা বলল, "ঐ বনে এক ভয়ানক দস‍্যু বাস করে,তার নাম নারোজী।তার সঙ্গীরাও ভীষণ প্রকৃতির লোক।পল্লীবাসীরা সকলে নারোজীর ভীষণ চরিত্রের কথা বর্ণনা করে তাঁর মনে আতঙ্কের সঞ্চারকরতে চেষ্টা করল, এবং বলল,সে বনে গমন করলে,তোমার জীবনের আর আশা থাকবে না। কিন্তু করুণাময় পতিতপাবন গৌরহরি সকলের নিষেধ বাক‍্য না শুনে,সেই বিপদসঙ্কুল নিবিড় জঙ্গলে প্রবেশ করে এক বৃক্ষতলে বসিলেন।মহাপ্রভুকে দেখে,অরণ‍্যবাসী নারোজীর দুই একজন করে শিষ্য সমবেত হতে লাগল।ক্রমে দস‍্যুপতি নারোজীর কাছে এই নবাগত সন্ন‍্যাসীর আগমনবার্তা সংবাদ উপস্থিত হল।দস‍্যুপতি নারোজী তার রাজ‍্যমধ‍্যে সন্ন‍্যাসীর আগমনবার্তা শুনে, কৌতূহলপরবশ হয়ে তাঁকে দেখবার জন্য সেখানে আগমন করল।নারোজী সেখানে আসিলে,তার অনুচরেরাও ক্রমে ক্রমে সকলে তথায় এসে সমবেত হল।শ্রীকৃষ্ণচৈতন‍্য নিজভাবে বিভোর হয়ে হরিগুণ কীর্তনে রত রয়েছেন।দস‍্যুদলপতি তাঁর এইরকম ভাব দেখে মুগ্ধ হয়ে তাঁকে নিজের বাসভবনে যাবার জন্য অনুরোধ করল।মহাপ্রভু তার কথায় স্বীকৃত না হয়ে বললেন, বৃক্ষতলই আমার বিশ্রামের উপযুক্ত স্থান।তখন নিরোজীর আদেশে তার সঙ্গীসাথীরা শ্রীচৈতন‍্যের কাছে নানান খাদ‍্যদ্রব‍্য আনয়ন করিল।মহাপ্রভুর সামনে খাদ‍্যদ্রব‍্য রাখল বটে,কিন্তু সেইদিকে দৃষ্টিপাত করলেন না।হরি-প্রেম-সুধা পান করে তিনি ক্ষুধা তৃষ্ণা বিস্মৃত হয়ে রয়েছেন।বনজাত নানাপ্রকার ফলমূল ও বিবিধ খাদ‍্যদ্রব‍্য তাঁর সামনে সজ্জিত করা হলে,তিনি নৃত্য করতে আরম্ভ করলেন।নৃত‍্য করতে করতে পদাঘাতে খাদ‍্যসামগ্রী চারিদিকে ছড়িয়ে পড়ল।নারোজী দাঁড়িয়ে সবই দেখছে, আর ধীরে ধীরে তার হৃদয়ের অন্তস্থলে অতীত পাপের স্মৃতি উদিত হয়ে,অনুতাপানলে তার হৃদয় দগ্ধ করে দিচ্ছে।সেকি আর স্থির থাকতে পারে?দস‍্যুপতি কাঁদতে কাঁদতে শ্রীচৈতন‍্যদেবের চরণ ধরে বলল,প্রভো! আমার বয়স হয়েছে,এজীবনে অনেক পাপ করেছি, এ হাতে অনেক নিরপরাধী লোকের জীবন নাশ করেছি,আজ অন্তর্দাহে হৃদয় জ্বলে যাচ্ছে, আমায় উদ্ধার কর। আমি তোমার সঙ্গে যিব এবং দাসের ন‍্যায় তোমার সেবা করব।কাতর প্রাণে এইসব কথা বলে নারোজী কৌপীন পরে শ্রীকৃষ্ণচৈতন‍্যদেবের অনুগামী হল। এই দৃশ্য দেখে নারোজীর অন‍্যান‍্য সাথীরা কে কোথায় চলে গেল। শ্রীগৌরাঙ্গের প্রভিবে চোরানন্দ বন দস‍্যু নারোজী শূন‍্য হয়ে পড়ল।*
🙌🙌🙌🙌🙌🙌🙌🙌🙌🙌🙌🙌🙌
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 👉 শ্রীগৌরাঙ্গ চরিত 📖 নবম 🏵️ শ্রী শশীভূষণ বসু ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 https://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/12/gouranga9.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(৮৩)🙏শ্রীগৌরাঙ্গের চরিতসুধা*
            *👥পতিতোদ্ধার👥*
          ☆☆☆☆☆☆☆☆☆☆
*গৌরসুন্দর নারোজীকে উদ্ধার করে খান্ডলা গমন করলেন।গোবিন্দ দাস তো তাঁর সঙ্গের সঙ্গী ; নারোজীও মহাপ্রভুর সেবা করবার জন্য সঙ্গে চলিল।তাঁরা সেখানে গমন করলে বহু লোক এসে তাঁদের কাছে সমবেত হল, এবং চৈতন‍্যদেবের ভক্তির উচ্ছ্বাস দেখে বিমুগ্ধ হয়ে,সকলেই তাকে আপন ভবনে নিয়ে যাবার জন্য অনুরোধ করল।কেউ বলল,আমি তাঁকে আগে দেখেছি,তিনি আমার গৃহে যাবেন, কেউ বলল,আমি ভিক্ষা নিয়ে এসেছি, আমি তাঁকে নিয়ে যাব।এইভাবে পরস্পরের মধ্যে বিবাদ বেধে গেল।মহাপ্রভু কারো ভবনে গমন করলেন না। ভিক্ষালব্ধ দ্রব‍্যাদিতে তাঁরা দিন কাটালেন ; তিনি প্রেমে বিভোর হয়ে অশ্রুসিক্ত নয়নে যখন হরিনাম কীর্তন করতে লাগলেন,তাঁর সেই অশ্রুধারা যখন বক্ষস্থল বহে প্রবাহিত হতে লাগল,তখন নারোজী যে হাতে পূর্বে পথিকের অর্থ লুন্ঠন করে তার জীবন বিনাশ করেছে,আজ সেই হাতে ভক্ত চূড়ামণি শ্রীচৈতন‍্যের নয়নের অশ্রুধারা মুছাতে লাগল।নিশি অবসানে মহাপ্রভু নাসিক নগরে গমন করলেন। কথিত আছে,এখানে লক্ষ্মণ সূর্পনখার নাসিকা ছেদন করেছিলেন।নাসিক হয়ে তিনি পঞ্চবটি বনে গমন করলেন। এই রামায়ণোল্লিখিত বনে প্রবেশ করে তিনি চোখ বন্ধ করে বসিলেন।গোবিন্দ দস বলেন,তাঁর প্রশান্ত মুখমন্ডল হতে যেন এক অপূর্ব জ‍্যোতিঃ বাহির হতে লাগল। তদ্দর্শনে আমি বিমুগ্ধ হয়ে সে মুখের দিকে তাকিয়ে রইলাম।এদিকে নারোজী ফলমূল নিয়ে উপস্থিত হল।মহাপ্রভু অগ্রে কিছু আহার করলেন,গোবিন্দ ও নারোজী প্রসাদ লাভ করলেন।রজনী প্রভাতে গৌরসুন্দর পঞ্চবটী বন ত‍্যাগ করে দমননগর হয়ে সুরথ রাজার রাজ‍্যে গমন করে অষ্টভূজা দেবী দর্শন করলেন।*
*🍁দেবীর মন্দিরে এক সন্ন‍্যাসী বসবাস করতেন।সন্ন‍্যাসী শ্রীচৈতন‍্যের ভাব দেখে বললেন,আমি তোমার মত সাধুপুরুষ জীবনে আর কখনও দেখিনি।তুমি বলো,আমি কিভাবে ভগবানকে লাভ করব ও এই ভব-সাগর উত্তীর্ণ হব।শ্রীচৈতন‍্যদেব তাঁকে তত্ত্বজ্ঞানের উপদেশ বলছেন,এমন সময় এক ব্রাহ্মণ দেবীর কাছে "বলি" দিবার জন্য একটা ছাগ নিয়ে উপস্থিত হল।মহাপ্রভু তাকে ছাগবলির বিরুদ্ধে নানান যুক্তি দিয়ে নিরীহ ছাগের জীবন রক্ষা করলেন। ব্রাহ্মণ,জীবের প্রতি মহাপ্রভুর দয়ার কথা শুনে,বলিদানে নিবৃত্ত হল।*
*🍀তৎপর তিনি তাপ্তী ও নর্মদা তীরস্থ দেবমন্দিরগুলি দর্শন করে বরদা নগরে গমন করলেন।এখানে নারোজী ভীষণ জ্বরে আক্রান্ত হয়ে পড়ল।পতিতপাবন গৌরহরি দয়ার অবতারস্বরূপ নারোজীর গায়ে স্নেহভরে হাত বুলাতে লাগলেন। তার জীবনের গণা দিন ফুরিয়ে আসিল। তিনদিন পরে মহাপ্রভুর মুখের দিকে তাকিয়ে হরিনাম করতে করতে চিরদিনের জন্য চক্ষু নিমীলিত করল=*
*🌷নারোজী মরণকালে জোড় হাত করি।*
*🌷তাকায়ে প্রভুর দিকে বলে হরি হরি।।*
*🍀যাঁর দেবোপম জীবনের প্রভাবে নারোজী,বহুদিনের পাপ ও অধর্মের পথ পরিত‍্যাগ করে ভগবানের পবিত্র নাম গ্রহণ করেছিল, তিনি তার মৃতদেহ কোলে ধারণ করলেন, এবং তারপরে তাকে সমাধিস্থ করে হরিনম কীর্তন করতে লাগলেন।*
*🌲সেখান হতে অন‍্যান‍্য স্থান ভ্রমণ করে দ্বারকাভিমুখে যাত্রা করলেন।যেতে যেতে তিনি যোগা নামক একটি গন্ড গ্রামে এসে উপস্থিত হলেন।এখানে এসে তিনি একটি বৃক্ষতলে বসিলে, তিনি ভাবে উন্মত্তপ্রায় হয়ে হরিনাম কীর্তন করতে লাগলেন।সামান‍্য সময়ের মধ্যে তাঁর প্রেমোন্মত্ততার কথা চারিদিকে প্রচারিত হল।গ্রামবাসীদের আগমনে সেস্থান পরিপূর্ণ হয়ে গেল। বালাজী নামক একজন লোক চৈতন‍্যদেবের ভক্তির ভাব দেখে তাঁকে কপট বলে তিরস্কার করতে লাগল, এবং তাতেও সন্তুষ্ট না হয়ে অবশেষে তাঁকে প্রহার করতে উদ‍্যত হল।তখন উপস্থিত দর্শকগণ এই পাষন্ডকে চরমভাবে তিরস্কার করে তার এরকম দুর্ব‍্যবহার হতে নিবৃত্ত করতে চেষ্টা করল। কিন্তু প্রেমাবতার শ্রীচৈতন‍্যদেব সকলকে সম্বোধন করে বললেন,ভাই!হরিনাম বিহনে এর অন্তর শুকিয়ে গিয়েছে।তোমরা সেই নামরসে এর প্রাণ শীতল করতে যত্নবান হও।*
*এইকথা বলে তিনি ঐ লোকটির কাছে গিয়ে তাকে মহামন্ত্র হরিনাম করতে বললেন।আগুনে জল দিলে যেমন আগুন নিভে যায়, হরিনামের প্রভিবে বালাজীর দুষ্ট প্রবৃত্তি সব নিমেষে প্রশমিত হয়ে গেল।তখন বালাজী মহাপ্রভুর চরণে প্রণত হল।হরিনামে বালাজী নবজীবন লাভ করল।*
*সেখানকার এক পল্লীতে বারামুখী নামে এক কুলটা নারী বাস করত।বারামুখী পরমাসুন্দরী নারী।তার রূপে মুগ্ধ হয়ে অনেক ধনী ব‍্যক্তি তার বাড়ীতে গমন করে নিজেদের অপবিত্র বাসনা পরিতৃপ্ত করত।বারামুখী যেমন রূপবতী তেমনি ঐশ্বর্য‍্যশালিনী ছিল।সে এক রমণীয় বাড়িতে বাস করত, এবং অনেক দাসদাসী সর্বদা তার পরিচর্যায় রত থাকত।যে বৃক্ষতলে বসে মহাপ্রভু হরিনাম কীর্তনে রত ছিলেন,তারই কিছু দূরে বারামুখীর বাড়ী।সে আপন ভবনের জানালা হতে দেখল,এক পরম যুবাপুরুষ বৃক্ষতলে হরিনাম কীর্তন করছে।বারামুখী শুনেছিল, বহু লোকের মধ্যে বালাজী এই সাধুপুরুষের প্রতি অতি অভদ্র ও অন‍্যায় ব‍্যবহার করেছিল, অথচ ইনি কিছু মাত্র বিরক্তির ভাব প্রকাশ না করে,তার কানে কি এক মন্ত্র প্রদান করলেন,যাঁর গুণে সে নিমেষের মধ্যে চরম পরিবর্তন দেখা গেল। এ সকল ঘটনায় বিলাসিনী,বিপথগামিনী বারামুখীর কাছে কে যেন স্বর্গের দ্বার উদঘাটিত করে দিল।সে নিজ জীবনের পাপের কালিমা ধৌত করবার জন্য পাপের দুর্গন্ধময় স্থান পরিত‍্যাগ করে স্বর্গের পারিজাতের সুগন্ধে প্রাণকে আমোদিত করবার উদ্দেশ্যে ব‍্যাকুল হৃদয়ে নিজ ভবন হতে বাহির হয়ে পড়ল ; এবং বহুজনাকীর্ণ লোকের মধ্যে গমন করে,শ্রীচৈতন‍্যদেবের কাছে এসে বলল,তুমিই হরি,তুমিই কৃষ্ণ, আমি অধম পাতকী, আমায় পরিত্রাণ কর। শ্রীচৈতন‍্য তাকে বললেন, তুমি এই জায়গায় তুলসীর কানন করে, হরিনাম জপে ও সে নাম কীর্তনে জীবন অতিবাহিত কর।বারবিলাসিনী বারামুখী সকলে সামনে তার বড় বড় কেশ কেটে ফেলল, এবং অঙ্গের সমস্ত আভরণ ও সুন্দর পরিধেয় বস্ত্র পরিত‍্যাগ করে সন্ন‍্যাসিনীর বেশ ধারণ করল।*
*🙌🙌🙌🙌🙌🙌🙌🙌🙌🙌🙌🙌🙌
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 👉 শ্রীগৌরাঙ্গ চরিত 📖 নবম 🏵️ শ্রী শশীভূষণ বসু ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 https://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/12/gouranga9.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(৮৪)🌻শ্রীগৌরাঙ্গের চরিতসুধা*
              *👥পতিতোদ্ধার👥*
            ^*^*^*^*^*^*^*^*^*^*^*
*🍀সন্ন‍্যাসিনীর বেশ ধারণ করল। মিরাবাঈ নামে তার এক দাসী ছিল।বারামুখী সকলের সামনে তাকে নিজের সমস্ত সম্পত্তি দান করে দিল ও তাকে ধর্মে মতি রাখবার কথা বলল। বারামুখী হরিপ্রেমানুরাগিনী হয়ে সন্ন‍্যাসিনীর মত জীবন অতিবাহিত করতে লাগল।*
*🍁গোবিন্দ দাসের কড়চায় মিরার প্রতি নবকৃষ্ণপ্রেমানুরাগিনী বারামুখী উপদেশটি এরকম ভাবে বর্ণিত হয়েছে।*
*🌷কান দিয়া শুন মিরা আমার বচন।*
*🌷তোমারে দিলাম মোর যত আছে ধন।*
*🌷ভালরূপ সেবা কোরো অতিথি আইলে।*
*🌷হরিনামে মন দিও বসিয়া বিরলে।।*
*🌷না করিবে পাপ কর্ম মোর দিব‍্য লাগে।*
*🌷ভজিবে শ্রীরাধাকৃষ্ণ প্রেম অনুরাগে।।*
☆ ☆ ☆ ☆ ☆
*🌷প্রভুর কৃপায় মোর কেটেছে বন্ধন।*
*🌷আজ হইতে বাসস্থান তুলসী কানন।।*
*🌷এত বলি বারামুখী লয়ে জপমালা।*
*🌷তুলসী কানন করে ভুলি সব জ্বালা।।*
*🍀শ্রীচৈতন‍্যের অপূর্ব শক্তির পরিচয় আজ এখানে প্রকাশিত হয়েছে।মহাপাপীর উদ্ধার সাধনে গৌরহরি যেন যাদুকরের মত কাজ করে গিয়েছেন। মহাপ্রভু বারামুখীকে উদ্ধার করে সোমনাথে যাত্রা করলেন।সেখানে গমন করে,মন্দিরের ভগ্নাবশেষ দেখে ব‍্যথিত হৃদয়ে বলতে লাগলেন, হায়! মুসলমানেরা কি সর্বনাশই করেছে! (সেই সময় মুসলমান রাজত্ব ছিল)সোমনাথের উদ্দেশ্যে তিনি ব‍্যাকুল ও অশ্রুপূর্ণ লোচনে বলতে লাগলেন, দেব!তোমার অদর্শনে আমার প্রাণ যে ভীষণ কষ্ট পাচ্ছে, কোথায় লুকিয়ে আছ একবার এসো,তোমাকে দেখে হৃদয় শীতল করি।ভারতের এই প্রসিদ্ধ স্থান হতে শ্রীচৈতন‍্যদেব জুনাগড়,গৃনার পর্বত,ঝারিখন্ড প্রভৃতি স্থান দর্শন করে দ্বারকায় গমন করলেন।শ্রীকৃষ্ণের লীলাক্ষেত্র দ্বারকানগরীতে গমন করে,তাঁর ভাবসিন্ধু যেন উথলিয়ে উঠতে লাগল, তিনি তথায় মন্দির প্রদক্ষিণ করে যখন প্রেমভরে মধুর হরিনাম কীর্তন করতে লাগলেন, তখন দ্বারকাবাসীরা তাঁকে কোন একজন সর্বত‍্যাগী সন্ন‍্যাসী বলে মনে করেননি,তাঁকে ভগবানের অবতার বলে বিশ্বাস করেছিল। তিনি এক সপ্তাহকাল এই প্রসিদ্ধ তীর্থক্ষেত্রে থেকে, হরিপ্রেমরসে সকলের চিত্ত অভিষিক্ত করে নীলাচলাভিমুখে যাত্রা করলেন।পথে দর্শনীয় দুই-একটি স্থান দর্শন করে তিনি পুনরায় বিদ‍্যানগরে এসে উপস্থিত হলেন।দক্ষিণ যাত্রার প্রারম্ভে যাঁর সঙ্গে ভক্তিতত্ত্ব প্রসঙ্গে সপ্তাহকালের বেশী সময় কাটিয়েছিলেন,সেই রাজা রামানন্দ রায় মহাপ্রভুর আগমনবার্তা শুনে তাঁর সামনে উপস্থিত হলেন, এবং ভক্তিভরে শ্রীমন্মহাপ্রভুর শ্রীচরণে প্রণিপাত করলেন।মহাপ্রভু প্রেমভরে তাঁকে প্রেমালিঙ্গন দান করে বললেন, রায়! আমার সঙ্গে চলো, উভয়ে নীলাদ্রিনাথকে দর্শন করি।রায় রামানন্দ কয়েকদিন পরে যেতে স্বীকৃত হলেন। মহাপ্রভু পরদিন গোবিন্দের সঙ্গে যাত্রা করে ক্রমে আলালনাথে এসে উপস্থিত হলেন, এবং নীলাচলে ভক্তদেরকে পৌঁছানোর সমাচার পাঠালেন।*
🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙌🙏🙏🙏🙏🙏🙏
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 👉 শ্রীগৌরাঙ্গ চরিত 📖 নবম 🏵️ শ্রী শশীভূষণ বসু ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 https://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/12/gouranga9.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(৮৫)🙏শ্রীগৌরাঙ্গ চরিতসুধা*
             *নীলাচলে প্রত‍্যাবর্তন*
             <><><><><><><><><>
*🍀আলালনাথে মহাপ্রভুর আগমনবার্তা শুনে,ভক্তগণ আনন্দে উৎফুল্ল হয়ে উঠলেন।নিত‍্যানন্দ,জগদানন্দ,দামোদর পন্ডিত, গোপীনাথ প্রভৃতি ভক্তগণ তাঁকে আনবার জন্য মহোল্লাসে আলালনাথের দিকে ধাবিত হলেন।ভক্তগণসহ তিনি যখন পুরুষোত্তমের সাগরতটে উপনীত হলেন,তখন সার্বভৌম ভট্টাচার্য্য সমুদ্র উপকুলে উপনীত হয়ে ভক্তিভরে মহাপ্রভুর শ্রীচরণে দন্ডবৎ প্রণাম করলেন।গৌরহরি ভক্তগণসহ শ্রীজগন্নাথ দর্শনে গমন করে সেখানে ক্ষণকাল নৃত্য কীর্তনাদিতে সময় অতিবাহিত করলে, সার্বভৌম তাঁকে সঙ্গে নিয়ে আপন ভবনে গমন করলেন। গৌরসুন্দর সার্বভৌম গৃহে গমন করলে, ভক্তগণ বহুদিন পরে গৌরচন্দ্রের দর্শন অভিলাষী হয়ে ভট্টাচার্য্য ভবনে আগমন করলেন, গৌরহরি সেই রাত্রি ভক্তদেরকে নিয়ে তীর্থভ্রমণ প্রসঙ্গে অতিবাহিত করলেন।*
*🍁যখন শ্রীচৈতন‍্যদেব নীলাদ্রি ছেড়ে দক্ষিণদেশ ভ্রমণে বাহির হয়েছিলেন, তখন একদিন উৎকলের রাজা প্রতাপরুদ্র সার্বভৌম ভট্টাচার্য্যকে ডেকে বললেন,শুনেছি, গৌড়দেশ হতে এক অলোকসামান‍্য (অলৌকিক) মহাপুরুষ নীলাচলে আগমন করে তোমাকে ভক্তিপথে আনয়ন করেছেন, আমি সেই ভক্তচূড়ামণিকে একবার দর্শন করতে ইচ্ছা করি।রাজার গৌরসুন্দরের দর্শন অভিলাষের কথা শুনে,ভট্টাচার্য‍্য মহাশয় বললেন, "তিনি বিরক্ত সন্ন‍্যাসী,তিনি রাজদর্শনে কখনই সম্মতি দান করবেন না, বিশেষ করে তিনি এক্ষণে তীর্থ দর্শন মানসে দক্ষিণদেশে গমন করেছেন"।উৎকলাধিপতি গৌরচাঁদের দক্ষিণদেশ তীর্থ ভ্রমণের কথা শুনে সার্বভৌমকে বললেন, "পুরুষোত্তমের মত তীর্থে আগমন করে তিনি আবার কেন অন‍্যত্র তীর্থ দর্শনে বাহির হলেন?রাজার এই কথায় তিনি বললেন, মহাপুরুষদের লীলাই এইরকম।তবে মহাপ্রভুর উদ্দেশ্য, তীর্থস্থান সব পবিত্র ও পাতকী উদ্ধার করা।তিনি জীব উদ্ধারের জন্যই অবতীর্ণ হয়েছেন। প্রতাপরুদ্র সার্বভৌমের নিকট হতে মহাপ্রভুর পাতকী তারণের কথা শুনে বললেন, "তুমি তাঁকে কেন এখান হতে অন‍্যত্র যেতে দিলে? তাঁর চরণ ধরে কেন তাঁকে এখানে রাখতে যত্ন করলে না? সার্বভৌম ভট্টাচার্য্য বললেন, আমার পূর্ণ বিশেষ,তিনি তো মানব নন, তিনি শ্রীকৃষ্ণের অবতার।তবে তিনি তীর্থ দর্শন করে পুনরায় এই স্থানেই প্রত‍্যাগমন করবেন।রাজা তাঁর আগমনের কথা শুনে প্রফুল্ল হৃদয়ে বললেন,আমি যেন অন্তত একবার তাঁর দর্শন করে জীবন সফল করতে পারি। তখন সার্বভৌম বললেন, তিনি এখানে প্রত‍্যাগমন করলে তাঁর থাকবার জন্য একটি স্বতন্ত্র নির্জন বাসস্থান দেওয়া আবশ্যক।রাজা মহাপ্রভুর নির্জন বাসস্থানের কথা শুনে ভট্টাচার্য্য মহাশয়কে কাশীমিশ্রের ভবনে একটি নির্জন ঘরে রাখবার জন্য বললেন।কারণ কাশীমিশ্রের বিশাল গৃহ আছে, লোক সংখ‍্যাও তেমন বাস করে না, চিন্তা করে এটিই নির্জন স্থান মনোনীত করলেন। ভট্টাচার্য্য রাজাদেশে এই প্রস্তাব নিয়ে কাশীমিশ্রের ভবনে উপস্থিত হলে,কাশীমিশ্র আনন্দ সহকারে বললেন, মহাপ্রভু আমার বাড়ীতে পদার্পণ করবেন, এ আমার পরম সৌভাগ্য।*
*🌺ইতঃমধ‍্যে মহাপ্রভু সার্বভৌমের সঙ্গে একদিন শ্রীজগন্নাথ দর্শন করার জন্য গমন করেন।মন্দিরে অন‍্যান‍্য ভক্তগণ মিলিত হলে, মহাপ্রভু সকলকে প্রেমালিঙ্গন দান করলেন। শ্রীজগন্নাথ দর্শনান্তে সার্বভৌম গৌরহরিকে কাশীমিশ্রের ভবনে নিয়ে আসিলেন।আগে থেকে সেখানে তাঁর একটি নির্জন ঘর নির্দিষ্ট ছিল।সাধনোপযোগী এই ঘর দেখে মহাপ্রভু বড়ই প্রীতিলাভ করলেন। এখানে আগমন করলে, গৃহস্বামী মিশ্র মহাশয় ভক্তিভরে তাঁর চরণে দন্ডবৎ প্রণাম করলেন।অলিকুলের ন‍্যায় ভক্তগণ এসে কাশীমিশ্রের ভবন পূর্ণ করতে লাগলেন।ভক্তগণ তাঁর সঙ্গে প্রেমালাপনে পরম আপ‍্যায়িত হতে লাগলেন। চন্দ্রমা যেমন তারকাবেষ্টিত হয়ে শোভা পায়,গৌরচাঁদ সেইরকম ভক্তগণ সঙ্গে বসে রয়েছেন, এমন সময়ে রায় রামানন্দের পিতা ভবানন্দ রায়,তাঁর চারপুত্রকে নিয়ে সেখানে উপস্থিত হলেন, এবং পুত্রগণসহ মহাপ্রভুর চরণে প্রণাম করলেন। মহাপ্রভু ভবানন্দকে আলিঙ্গন করে বললেন, "রামানন্দের মত পুত্ররত্ন তুমি লাভ করেছ, তুমি সাক্ষাৎ পান্ডু সদৃশ, এবং তোমার পত্নী কুন্তী সদৃশা, তোমার পঞ্চপুত্রও পঞ্চ পান্ডবের মত।ভবানন্দ গৌরহরির কথা শুনে বললেন, প্রভো!আমি বিষয়ী অধম, আমি আমার বিত্ত ও পঞ্চপুত্র তোমারই চরণে সমার্পণ করলাম।ভবানন্দ তারপর তাঁর পুত্রদের মধ্যে বাণীনাথকে তাঁর সেবার জন্য নিয়োগ করে বললেন, আমার এই পুত্র বাণীনাথ তোমার পরিচর্য‍্যার জন্য তোমার কাছে রইল,তোমার সেবার জন্য যখন যেরকম ইচ্ছা হবে অসঙ্কোচে একে তাইই আদেশ করবে।*
*মহাপ্রভুভবানন্দের কথা শুনে বললেন, "তুমি আমার আত্মীয়ের মত,তোমার কাছে আমার আবার সঙ্কোচ কি?আর কয়েকদিন পরে রামানন্দকে এখানে আনিব।এইসব স্নেহপূর্ণ কথা বলে তিনি ভবানন্দকে আলিঙ্গন করলে,ভবানন্দ বিদায় গ্রহণ করলেন।ভবানন্দ বাণীনাথকে তাঁর সেবার জন্য কাছে রেখে গেলেন।*
*👣মহাপ্রভুর ফিরে আসার কথা গৌড়দেশে লোক দেওয়া হল।শোকাতুরা শচীমা পুত্র দক্ষিণদেশ ভ্রমণের পর নীলাচলে আগমন করেছেন শুনে উতপ্ত হৃদয়ে খানিকটি শান্তি লাভ করলেন।প্রেরিত জন নবদ্বীপের বৈষ্ণবাগ্রগণ‍্য অদ্বৈতচার্য‍্যের ভবনে গমন করে এই শুভ সংবাদ দিলেন।সেখান থেকে এই বার্তা চারিদিকে ছড়িয়ে পড়ল।শ্রীচৈতন‍্যের নীলাচলে ফিরে এসেছেন তার জন্য অদ্বৈত-ভবনে তিনদিন ধরে মহোৎসব হল।শ্রীবাসাদি ভক্তদের আনন্দের আর সীমা রইল না।ভক্তগণ অদ্বৈত-ভবনে সমবেত হয়ে নীলাচলে যাবার যুক্তি করতে লাগলেন।তাঁরা সকলেই নীলাচলে যাবার মনস্থ করে শচীদেবীর কাছে গমন করে তাঁর অনুমতি গ্রহণ করলেন।খুলীনগ্রাম হতে সত‍্যরাজ, রামানন্দ,মুকুন্দ,নরহরি,রঘুনন্দন নীলাচলে যাবার জন্য অদ্বৈতাচার্য‍্যের ভবনে আগমন করলেন।সেই সময় পরমানন্দপুরী নীলাচল যাবার মানসে নবদ্বীপধামে এসে শচীমায়ের গৃহে আতিথ‍্য গ্রহণ করেন।শচীমা তাঁকে পরমাদরে আপন ঘরে বসিয়ে স্বহস্তে রন্ধনাদি করে ভোজন করালেন। পরমানন্দপুরী ভক্তগণের নীলাচল গমনের পূর্বেই সেখানে গমন করে,শ্রীচৈতন‍্যের নিকট উপস্থিত হলেন।মহাপ্রভুও তাঁকে পেয়ে আনন্দ সহকারে আপন বাসগৃহের কাছে একটি নির্জন কক্ষে থাকবার ব‍্যবস্থা করে দিলেন।পরমানন্দপুরী নীলাচল গমনের কয়েকদিন পরে স্বরূপদামোদর নীলাচলে মহাপ্রভুর নিকট আগমন করলেন।ইঁনার পূর্বের নাম পুরুষোত্তম আচার্য‍্য।*
🙌🙌🙌🙌🙌🙌🙌🙌🙌🙌🙌🙌🙌
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 👉 শ্রীগৌরাঙ্গ চরিত 📖 নবম 🏵️ শ্রী শশীভূষণ বসু ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 https://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/12/gouranga9.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(৮৬)🙏শ্রীগৌরাঙ্গের চরিতসুধা*
           *নীলাচলে প্রত‍্যাবর্তন*
        ^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^
*🌺যখন মহাপ্রভু সন্ন‍্যাস গ্রহণ করেন, তখন ইনিও সন্ন‍্যাসধর্ম গ্রহণ করবার পর শিখা সূত্র পরিত‍্যাগ করতঃ বারাণসী ধামে গমন করেন, এবং সেখানে বেদ বেদান্ত প্রভৃতি অধ‍্যয়ন করে,শাস্ত্রাদিতে বিশেষ ব‍্যুৎপত্তি লাভ করেন।ইনি যেমন সুপন্ডিত তেমনি আবার সুগায়ক ছিলেন।স্বরূপ দামোদর,বিদ‍্যাপতি, চন্ডীদাস,গীতগোবিন্দ প্রভৃতি রসোদ্দীপক গ্রন্থ সকল পাঠ করে শ্রীচৈতন‍্যদেবকে শুনাতেন।স্বরূপ দামোদর সঙ্গীতে গন্ধর্ব ও বিদ‍্যাতে বৃহস্পতির ন‍্যায় ছিলেন। শ্রীচৈতন‍্য দামোদরকে পেয়ে পরম প্রীতি লাভ করলেন,এবং তাঁকে আলিঙ্গন করে বললেন, "আমি স্বপ্ন দেখেছিলাম তুমি আজ এখানে এসেছ,যা দেখেছিলাম, তাইই আজ ফলিল।অন্ধ দুই চক্ষু ফিরে পেলে যেমন আনন্দ অনুভব করে,আজ তোমাকে দেখে আমার তেমনি আনন্দ হচ্ছে।তারপর স্বরূপ নিত‍্যানন্দ পরমানন্দপুরী প্রভৃতির চরণ বন্দনা করলে,তাঁরাও প্রেমভরে তাঁকে আলিঙ্গন দান করলেন।*
*🌹একদিন মহাপ্রভু ভক্তদের সঙ্গে বসে ধর্মপ্রসঙ্গে সময় অতিবাহিত করছেন,এমন সময়ে শ্রীপাদ ঈশ্বরপুরীর ভৃত‍্য বা শিষ্য এসে তাঁর চরণে দন্ডবৎ প্রণাম করে বললেন,পুরীগোঁসাই আমাকে আপনার সেবার জন্য পাঠিয়েছেন।আমার নাম গোবিন্দ।সার্বভৌম ভট্টাচার্য্য মহাপ্রভুকে জিজ্ঞাসা করলেন, "পুরীগোঁসাই শূদ্র ভৃত‍্য কিরূপে রাখেন?" গৌরহরি বললেন, "ভগবৎ-কৃপা যিনি লাভ করেছেন,তাঁর কাছে জাতিকুলাদির কোন বিচার থাকে না "।পুরীগোঁসাই শ্রীচৈতন‍্যদেবের গুরুদেব ; তিনি গুরুদেবের ভৃত‍্যকে কিভাবে নিজের পরিচর্য‍্যায় নিযুক্ত করবেন, চৈতন‍্যদেব ভট্টাচার্য্যকে এ বিষয় বিচার করবার জন্য জিজ্ঞাসা করলেন। ভট্টাচার্য্য বললেন, "গুরুদেবের আদেশ শিরোধার্য‍্য "।তখন মহাপ্রভু গোবিন্দকে প্রেমভরে আলিঙ্গন করে,তাঁর সেবা করবার অনুমতি দান করলেন।*
*ইতিমধ‍্যে একদিন মুকুন্দ দত্ত বললেন,প্রভো!ব্রহ্মানন্দ ভারতী আপনার সঙ্গে সাক্ষাৎ করবার জন্য আগমন করেছেন। ব্রহ্মানন্দ ভারতী মৃগচর্ম পরিধান করেছিলেন।মহাপ্রভু সন্ন‍্যাসীর এরকম বেশ দেখে দুঃখিত হলেন। তিনি যেন ভারতীকে দেখেও দেখেন নাই ; গৌরহরি মুকুন্দকে জিজ্ঞাসা করলেন, "কৈ ব্রহ্মানন্দ ভারতী কোথায়?মুকুন্দ বললেন, ভারতী গোঁসাই তো এই আপনার কাছেই দাঁড়িয়ে রয়েছেন।শ্রীচৈতন‍্যের এরকম কথা শুনে ভারতী বুঝলেন,চর্মাম্বর পরিধানের জন্যই মহাপ্রভু বিরক্ত হয়েছেন। তিনি তৎক্ষণাৎ পরিধেয় বস্ত্র পরিত‍্যাগ করে সন্ন‍্যাসীর পরিধেয় বহির্বাস পরিধান করলেন।তখন গৌরসুন্দর তাঁর চরণ বন্দনা করলে,ভারতীগোঁসাই তাঁর ভূয়সী গুণানুবাদ করে বললেন, "এই পুরুষোত্তমে দুই ব্রহ্ম প্রকাশিত হয়েছেন, শ্রীজগন্নাথ অচল, আর তুমি সচল ব্রহ্ম।*
*মহিপ্রভুর আগমনবার্তা পুরুষোত্তের সব জায়গায় প্রচারিত হয়ে পড়েছিল।উৎকলাধিপতি রাজা প্রতাপরুদ্র তাঁর শুভাগমনবার্তা শুনে,শ্রীচৈতন‍্যচন্দ্রের শ্রীমুখচন্দ্র দর্শন অভিলাষে ব‍্যাকুল হয়ে উঠলেন।সার্বভৌম-ভট্টাচার্য‍্য গোরাচাঁদের নিকট গমন করে বিনীত ভাবে বললেন,প্রভো!রাজা প্রতাপরুদ্র আপনার দর্শন লালসায় ব‍্যাকুল হয়ে আমাকে আপনার কাছে তদ্বিষয় জ্ঞাপনার্থ আদেশ করেছেন। সার্বভৌমের কাছ হতে এইকথা শুনে মহাপ্রভু কানে আঙ্গুল দিয়ে বললেন, সার্বভৌম!আমি সন্ন‍্যাসী,নারীদর্শন আর রাজদর্শন আমি উভয়ই সমান মনে করি ; তুমি আর কখনও এরকম প্রার্থনা আমাকে জানাবে না। আর যদি কখনও এরকম কর, তাহলে আমি আর নীলাচল পরিত‍্যাগ করে চলে যাব,তোমরা আর আমার দেখা পাবে না। সার্বভৌম ভাবলেন, যাঁর প্রেমানন দর্শনে শোক দুঃখ সব দূরে যায়, শুষ্ক হৃদয়ে ভগবদ্ভক্তির ঢেউ উথলিত হয়,যে প্রার্থনায় তাঁহা হতে বঞ্চিত হতে হবে,সেরকম প্রার্থনা মুখে আর কখনও আনিব না।নিরাশ হৃদয়ে তিনি রাজার কাছে উপস্থিত হয়ে মহাপ্রভুর রাজদর্শনের আপত্তির কথা জ্ঞাপন করলেন। কথা শুনে রাজা অতিশয় ক্ষুণ্ণ হলেন।এমন সাক্ষাৎ দেবদর্শনে তিনি বঞ্চিত থাকবেন?যাঁর দর্শনে হাজার হাজার নরনারী নবজীবন লাভ করছে,তিনিই কেবল সে দর্শনের অনধিকারী হয়ে,জীবন ধারণ করবেন?এইসব চিন্তা করে অত‍্যন্ত দুঃখিত মনে বললেন, "তিনি পাপীর পরিত্রাণের জন্য ধরাধামে অবতীর্ণ হয়েছেন ; তিনি চরম দুরন্ত জগাই-মাধাইকে মুক্তির পথ দেখিয়ে উদ্ধার করলেন, কেবল প্রতাপরুদ্রকে করুণা হতে বঞ্চিত রাখবেন এই প্রতিজ্ঞা করেই কি তিনি অবতার হয়েছেন? মহাপ্রভুর যদি এই পণ হয়, যে তিনি রাজদর্শন করবেন না, আমারও প্রতিজ্ঞা এই, তাঁর দর্শন না পেলে আমিও এই পাপজীবন রাখব না প্রাণ বিসর্জন করব।যদি এ জীবনে তাঁর দর্শনই না পেলাম,তাহলে এ রাজ‍্যেরই বা আমার কি প্রয়োজন? সার্বভৌম ভট্টাচার্য্য শ্রীচৈতন‍্যের প্রতি রিজার ঐকান্তিক অনুরাগ দেখে বিস্মিত হয়ে বললেন, "আপনি একেবারে তাঁর দর্শন লাভে বঞ্চিত হবেন মনে করবেন না, তিনি করুণাময়, নিশ্চয়ই তিনি আপনার দর্শন-লালসা পূর্ণ করবেন। তবে আপনি এক কাজ করুন, রথযাত্রার সময় কাছিয়ে আসছে,এ সময় মহাপ্রভু ভক্তগণ সঙ্গে প্রেমোল্লাসে মত্ত হয়ে কীর্তনকারীদের দলের অগ্রবর্তী হয়ে নৃত্য করতে করতে অবশেষে পুষ্পোদ‍্যানে প্রবেশ করবেন, আপনি সে সময় রাজবেশ পরিত‍্যাগ করে দীনবেশধারী হয়ে ভাগবতের শ্লোক উচ্চারণ করতে করতে তাঁর শ্রীচরণে লুটিয়ে পড়বেন। প্রভু এ সময় হরি-রস-গানে একেবারে বাহ‍্যজ্ঞানশূন‍্য হয়ে থাকেন, দেখবেন, তখন নিজ বাহু প্রসারণ করে আপনাকে প্রেমালিঙ্গন দান করবেন। সভাপন্ডিত সার্বভৌমের কাছ হতে এই আশার বাণী শুনে রাজা অত‍্যন্ত আনন্দিত হয়ে জিজ্ঞাসা করলেন, রথযাত্রা কবে? ভট্টাচার্য্য বললেন, আর বেশীদিন নাই, তিনদিন মাত্র বাকী আছে।*
🙏🌷🪔🦚🌸🪷🙏🌷🪔🦚🦜🌸
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 👉 শ্রীগৌরাঙ্গ চরিত 📖 নবম 🏵️ শ্রী শশীভূষণ বসু ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 https://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/12/gouranga9.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(৮৭)🙌শ্রীগৌরাঙ্গের চরিতসুধা*
        *রথ-উৎসব ও ভক্ত সম্মিলন*
      🙌🙌🙌🙌🙌🙌🙌🙌🙌
*🍀শ্রীচৈতন‍্যদেব একদিন প্রেমবিহ্বল চিত্তে একাকী আলালনাথে চলে যান।সার্বভৌম* *ভট্টাচার্য্য এই খবর শুনে তাড়াতাড়ি সেখানে গমন করে অনুনয় বিনয় সহকারে তাঁকে ফিরিয়ে আনলেন, ইতিমধ্যে গৌড়দেশ হতে বহুভক্ত স্নানযাত্রা উপলক্ষ্যে গৌরসুন্দরের সঙ্গে আনন্দোৎসব করবার* *জন্য,নীলাচলে প্রথমে সাগরের উপকূলে এসে উপস্থিত হলেন। গোপীনাথ আচার্য‍্য তাঁদের* *আগমনবার্তা রাজা প্রতাপরুদ্রকে জানিয়ে বললেন,গৌড় হতে দুইশ ভক্ত আগমন করেছেন,তাঁদের ভোজন ও বাসস্থানের ব‍্যবস্থা করা প্রয়োজন।রাজা নিজের লোকজনকে ডেকে নবাগত ভক্তগণের সবরকম ব‍্যবস্থা করবার আদেশ দিলেন এবং ভক্তগণকে দেকা-শোনা করবার জন্য গোপীনাথ ও সার্বভৌমকে নিয়ে নিজ* *ভবনের ছাদের উপর উঠিলেন।এদিকে ভক্তগণ সারিবদ্ধ হয়ে হরিনাম কীর্তন করতে রাজবাড়ীর নিকটবর্তী হলে,* *গোপীনাথ প্রতাপরুদ্রকে ছাদের উপর হতে প্রধান প্রধান ভক্তদের দেখাতে লাগলেন।গৌরহরি ভক্তদের আগমন বার্তা শুনে আনন্দিত হয়ে স্বরূপদামোদর ও গোবিন্দকে তাঁদের অভ‍্যর্থনার জন্য শীঘ্র যেতে বললেন।তাঁরা পুষ্পমাল‍্য হাতে নিয়ে সেখানে গমন করলেন এবং সবার প্রথমে সর্বজন পূজ‍্য শ্রীঅদ্বৈতাচার্য‍্যের গলায় মালা পরিয়ে উভয়েই দন্ডবৎ প্রণাম করলেন।রাজা প্রতাপরুদ্র* *গোপীনাথকে জিজ্ঞাসা করলেন, যাঁর গলায় প্রথমে মালা পরান হল, এই দেবোপম(দেবতুল‍্য)ব‍্যক্তি কে?* *গোপীনাথ বললেন, "ইনি নবদ্বীপের বৈষ্ণবাগ্রগণ‍্য অদ্বৈতাচার্য‍্য।মহাপ্রভুর অত‍্যন্ত শ্রদ্ধা ও ভক্তির পাত্র "।গোপীনাথ এইভাবে রাজাকে একে একে শ্রীবাস,বক্রেশ্বর আচার্য‍্যরত্ন, গঙ্গাদাস পন্ডিত,মুরারি গুপ্ত,বাসুদেব দত্ত,শিবানন্দ সেন,রাঘব পন্ডিত, শুক্লাম্বর ভট্টাচার্য্য প্রভৃতি মহাপ্রভুর ভক্তগণকে পরিচয় দিতে লাগলেন।*
*উৎকলাধিপতি ভক্তদের নৃত্য,মধুর কীর্তন,তাঁদের অনুপম দিব‍্যলাবণ‍্যযুক্ত মুখজ‍্যোতিঃ দেখে বিমোহিত হয়ে সার্বভৌমকে বললেন, ইঁনাদের শ্রীমুখমন্ডলে রবিকরের উজ্জ্বল জ‍্যোতির ন‍্যায় এমন উজ্জ্বল ভাব আমি তো আর কোথাও দেখিনি। এ সব বৈষ্ণব যেন নরলোকের অতীত (মনুষ‍্য নহে এমন দেবতা) বলেই আমার বোধ হচ্ছে।গোপীনাথাচার্য‍্য রাজার কথা শুনে অতি মধুর বচনে বললেন,রাজন!এ সব শ্রীকৃষ্ণচৈতন‍্যের অতুলনীয় ভগবদ্ভক্তির প্রভাবেরই পরিচয় মাত্র। নামসংকীর্তন তাঁরই সৃষ্টি ; মানবকে ভগবৎ-প্রেমের মধুর নামে নিমগ্ন করবার জন্যই তিনি মানব-দেহ ধারণ করে এই মর্ত্ত‍্যলোকে অবতরণ করেছেন।*
*গৌড়ভক্তগণ হরিগুণ কীর্তন করতে করতে ভক্তের শিরোমণি গৌরচাঁদের নিকট গমন করতে লাগলেন।এমন সময় তাঁদেরকে অভ‍্যর্থনা করবার জন্য অগ্রসর হলেন, এবং ভক্তদেরকে প্রেমালিঙ্গন করতে লাগলেন। মুকুন্দ দত্তের ভাই বাসুদেব দত্তকে দেখে তাঁর গায়ে হাত রেখে বললেন, তোমার জন্য দক্ষিনদেশ হতে দুইটি গ্রন্থ এনেছি।মহাপ্রভু ভক্তদলের মধ্যে সবাইকে দেখলেন কিন্তু হরিদাসকে না দেখতে পেয়ে জিজ্ঞাসা করলেন, আমার হরিদাস কোথায়?সকলে বলল,হরিদাস দূরে রাজপথের এক পাশে বসে আছেন। ভক্তগণ হরিদাসের কাছে গিয়ে,তাঁকে মহাপ্রভুর কাছে যাবার জন্য অনেক অনুনয় বিনয় করতে লিগলেন, কিন্তু তিনি কিছুতেই সম্মত হলেন না।বললেন, আমি অতি নীচ জাতি ও অতি অধম, শ্রীমন্দিরের কাছে যাবার আমার কোন অধিকার নাই।*
*🙏এমন সময় কাশীমিশ্রের দুইজন লোক এসে মহাপ্রভুর চরণ বন্দনা করে বললেন,ভক্তদের থাকবার জন্য বাসা ঠিক হয়েছে।গৌরহরি একথা শুনে গোপীনাথকে বললেন,তুমি এদের নিয়ে বাসায় নিয়ে যাও এবং বাণীনাথকে মহাপ্রসাদ নিয়ে বাসায় যেতে বলো।তারপর মহাপ্রভু কাশীমিশ্রকে বললেন, আমার বাসার কাছে পুষ্পোদ‍্যানের মধ্যে একটি নির্জন কুটীর আছে, সেই ঘরটি আমাকে দিতে হবে আমার বিশেষ প্রয়োজন আছে।তখন কাশীমিশ্র মহাপ্রভুর কথা শুনে বললেন, প্রভো!তোমারই তো সব,আমাকে জিজ্ঞাসা করবার প্রয়োজন কি?তোমার যা ইচ্ছে তুমি তাইই করবে বা নিবে।*
*🍁তারপর মহাপ্রভু ভক্তগণকে বললেন,তোমরা নিজ নিজ বাসায় গমন করে নিজনিজ দ্রব‍্যাদি ভাল করে গুছিয়ে রেখে সমুদ্রে স্নানাদি করে আমার বাসায় আসবে।সেখানেই ভোজন করা যাবে।গোপীনাথাচার্য‍্য সকলকে তাঁদের নির্দ্ধারিত বাসায় নিয়ে গেলেন।*
*ইতিমধ‍্যে গৌরসুন্দর হরিদাসকে আনবার জন‍্য তাঁর কাছে গমন করলেন।মহাপ্রভুকে দেখে তিনি ভক্তিভরে তাঁর চরণে প্রণাম করলেন।উভয়ে প্রেমাবেশে ক্রন্দন করতে লাগলেন।মহাপ্রভু তাঁকে প্রামালিঙ্গন করলে হরিদাস বললেন,প্রভো!তুমি আমাকে ছুঁইও না ; আমি অধম নীচ জাতি। শ্রীচৈতন‍্যদেব বললেন,হরিদাস!তুমি পরম ভক্ত। তুমি সর্বদা হরিনাম জপে রত থাক, তোমাকে স্পর্শ করলে,আমার দেহ পবিত্র হবে, উঠ,তুমি উঠ, আমার সঙ্গে এসো ; আমার ঘরের কাছেই পুষ্পোদানের মধ্যে একটি নির্জন কুটীর আছে, তুমি সেইখানেই থাকবে।এই কথা বলে তিনি তাঁকে সঙ্গে করে কাশীমিশ্রের পুষ্পোদ‍্যানের মধ্যে নির্জন কুটীরে নিয়ে গেলেন।*
🙏🙏🙏🙏🙏🙏🌻🙏🙏🙏🙏🙏🙏
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 👉 শ্রীগৌরাঙ্গ চরিত 📖 নবম 🏵️ শ্রী শশীভূষণ বসু ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 https://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/12/gouranga9.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(৮৮)🙏শ্রীগৌরাঙ্গের চরিতসুধা*
       *রথ উৎসব ও ভক্ত সম্মিলন*
       ••••••••••••••••••••••••••••••••••
*🍀এদিকে ভক্তগণ সমুদ্রে স্নান করে মহাপ্রভুর বাসভবনে উপস্থিত হলেন।প্রসাদান্ন আগে থেকেই বাণীনাথ এনেছিলেন।মহাপ্রভু সকলকে বসিয়ে স্বহস্তে পরিবেশন করতে লাগলেন। তিনি তিন তিনজনের খাদ‍্যদ্রব‍্য এক একজনের পাতে দিতে লাগলেন। কিন্তু তিনি স্বয়ং আহারে বসলেন না বলিয়া,কেউই আর অন্নগ্রাস মুখে না তুলে বসে রইলেন।দামোদর মহাপ্রভুকে বললেন, তুমি না বসিলে,কেউই আহার করবেন না, সকলেই হাত তুলে বসে আছেন। মহাপ্রভুর প্রাণের হরিদাস কুটীরে বসে রয়েছেন,তিনি তাঁকে একাকী ফেলে রেখে কি আহার করতে পারেন? অবশেষে গোবিন্দকে তাঁর জন্য প্রসাদান্ন নিয়ে যেতে আদেশ করে,স্বরূপের অনুরোধে ভক্তদের সঙ্গে আহারে বসিলেন। সকলে প্রেমোল্লাসে হরিধ্বনি করে উঠলেন।ভক্তেরা সুন্দর সুন্দর শুভ্র তন্ডুলের অন্ন,বিবিধ ব‍্যঞ্জন ও পিষ্টক পায়স প্রভৃতি আনন্দ সহকারে ভোজন করলেন। ভোজন সম্পূর্ণ হলে মহাপ্রভু সকলের গলায় মালা ও অঙ্গে চন্দন দিলেন। সন্ধ‍্যা সমাগত হল।গৌড়ীয় ভক্তগণ পুনরায় গৌরহরির বাসায় মিলিত হলেন।রায় রামানন্দও আগমন করলেন।এই সময় শ্রীজগন্নাথদেবের আরতি হয়ে থাকে।গৌরচন্দ্র তাঁর ভক্তবৃন্দ ও অন‍্যান‍্য লোকদের নিয়ে শ্রীজগন্নাথদেবের আরতি দেখবার জন্য মন্দিরে গমন করলেন।মন্দিরের প্রাঙ্গণ ধূপ ধূনোর সুন্দর সুগন্ধে আমোদিত হল,গৌরসুন্দর ভক্তবৃন্দ সহ সেখানে গমন করলেন ;পান্ডারা সকলকে মালা ও চন্দন দিয়ে সম্ভাষণ করলেন।মহাপ্রভুর ভক্তগণ চারদলে বিভক্ত হয়ে কীর্তন আরম্ভ করলেন।চারদলের মধ্যে আটটি মৃদঙ্গ ও বত্রিশ জোড়া করতাল বাজতে লাগল।শ্রীঅদ্বৈত,নিত‍্যানন্দ,বক্রেশ্বর ও শ্রীবাস এক একজন এক একটি দলের অধিনায়ক হয়ে কীর্তন করতে লাগলেন।মহাপ্রভু সব দলের মধ্যেই এক একবার গমন করে কীর্তনকারীদের সঙ্গে নৃত্য করতে করতে কীর্তন করতে লাগলেন।শত শতলোকের কন্ঠধ্বনির সঙ্গে মৃদঙ্গ ও করতালের রব মিশ্রিত হয়ে এক মহামধুর ধ্বনিতে যেন চারিদিক মুখরিত হতে লাগল।*
*🌹উৎকলবাসীরা গৌড়ীয়দের সংকীর্তনের মধুর ধ্বনিতে আর গৃহে থাকতে পারল না ; চারিদিক হতে* *ছুটে এসে নীলাচলাধিপতি শ্রীজগন্নাথদেবের মন্দির-প্রাঙ্গণ পূর্ণ* *হয়ে গেল।তারকাবেষ্টিত চন্দ্রমা সম গৌরচাঁদ ভক্তগণ সহ নৃত্য* *করছেন, অশ্রুধারায় তাঁর গন্ডস্থল ভেসে যাচ্ছে,*
*এই দৃশ্য দেখে,সকলেই যেন নয়নজলে ভেসে যাচ্ছে।ইতিপূর্বে পুরুষোত্তমে এরকম মধুর সংকীর্তন আর কেউ কখন শুনে নাই।গৌড়ীয় ভক্তদের নৃত্য ও কীর্তনাদি শোনার জন্য কেবল যে জনসাধারণেই ব‍্যাকুল হয়ে ছুটে আসিল তা নয়, রাজা প্রতাপরুদ্রও নিজের পারিষদবর্গ সহ প্রাসাদোপরি আরোহণ করে বিস্ময়াচিত্তে ভক্তদের কীর্তন দর্শন ও শ্রবণ করতে লাগলেন। কীর্তন শুনে, সংকীর্তনের জনক শ্রীগৌরাঙ্গের সঙ্গে সাক্ষাৎ করবার বাসনা তাঁর হৃদয়ে আরো উদ্দীপ্ত হয়ে উঠল।বহুক্ষণ ধরে কীর্তনান্তে গৌরহরি ভক্তগণসহ নিজ বাসায় আগমন করলে,সন্ধ‍্যাকালীন ভোজনের জন্য প্রসাদান্ন আনা হল। স্বহস্তে সকলকে বিতরণ করে দিলেন।আহারান্তে সকলে নিজ নিজ বাসায় গমন করলেন। মহাপ্রভু যখন দক্ষিনদেশ হতে ফিরে আসেন, তখন হতেই রাজা প্রতাপরুদ্র তাঁর দর্শন লালসায় উৎকণ্ঠিত হয়ে উঠেন। তিনি কটক হতে নিজের বাসনা পূর্ণ করবার জন্য সার্বভৌমকে একটি পত্র লেখেন।পত্রের মর্ম এই, তুমি প্রভুকে জানাবে যে,তাঁকে দর্শন করবার জন্য আমার মন অত‍্যন্ত ব‍্যাকুল হয়েছে ; গৌরহরি যদি আমাকে তাঁর শ্রীচরণ দর্শনে বঞ্চিত করেন,তাহলে আমি এ রাজ‍্য পরিত‍্যাগ করে পথের ভিখারী হব। সার্বভৌম রাজার চিঠি পেয়ে,বড় চিন্তিত হলেন ; তিনি পত্রটি নিয়ে মহাপ্রভুর ভক্তদের দেখালেন।* *সকলেই রাজার পত্র দেখে মহাপ্রভুকে কিভাবে এইকথা জানাবেন, এবং কিভাবেই বা তাঁর সঙ্গে রাজার সাক্ষাৎ হবে,এই চিন্তায় ব‍্যাকুল হয়ে পড়লেন।*
*উৎকন্ঠিত চিত্তে তাঁরা সকলেই মহাপ্রভুর কাছে উপস্থিত হলেন।তাঁর সম্মুখে উপস্থিত হয়ে কেউ আর কিছু সাহস করে বলতে পারেন না।গৌরহরি ভক্তবৃন্দের সমবেত আগমন দেখে,তাঁদের বললেন, তোমরা খি আমায় কিছু বলবে? তখন নিত‍্যানন্দ না বলে থাকতে পারলেন না, তিনি বললেন, "বলতে সঙ্কোচ হয় তবুও বলছি, রাজা প্রতাপরুদ্র বহুদিন হতে তোমার দর্শনাভিলাষী হয়েছেন ; তিনি তোমার দর্শন না পেলে রাজ‍্য সম্পদ ত‍্যাগ করে সন্ন‍্যাসী হবেন।" গৌহরি সন্ন‍্যসী হলেও তাঁর হৃদয় হতে স্নেহ মমতা পরিপূর্ণ ভাবে রয়েছে।রাজার ব‍্যাকুলতার কথা শুনে তাঁর প্রাণ দ্রবীভূত হল।তিনি বললেন, শ্রীপাদ তুমি সবই ভাল বুঝ,আমি আর কি বলব। নিতাইচাঁদ বললেন, "যে ব‍্যক্তি তোমাকে একবার দেখবার জন্য এত ব‍্যাকুলতা করেছেন,তাঁর অভিলাষ যদি পূর্ণ করবার জন্য কোন আপত্তি থাকে,তাহলে অন্ততঃ যদি তোমার একটি বহির্বাস তাঁকে দাও,তাতেও খানিক তাঁর প্রাণ শীতল হতে পারে। মহাপ্রভু তাঁর প্রস্তাবে রিজী হলে,নিত‍্যানন্দ গোবিন্দের কাছ হতে মহাপ্রভুর একটি বহির্বাস নিয়ে রাজাকে পাঠিয়ে দিলেন। মহাপ্রভুর স্নেহের চিহ্নস্বরূপ এই বহির্বাস পেয়ে উৎকলাধিপতির প্রাণে শান্তি লাভ করল, কিন্তু মহাপ্রভুকে দর্শন করবার আশা আরো জেগে উঠিল।*
🙌🙌🙌🙌🙌🙌🙌🙌🙌🙌🙌🙌🙌
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 👉 শ্রীগৌরাঙ্গ চরিত 📖 নবম 🏵️ শ্রী শশীভূষণ বসু ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 https://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/12/gouranga9.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(৮৯)🙏শ্রীগৌরাঙ্গের চরিতসুধা*
      *রথ--উৎসব ও ভক্ত সম্মিলন*
    ∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆
*🍀এমন সময় রায় রামানন্দ মহাপ্রভুর নিকট উপস্থিত হয়ে রাজাকে দর্শন দিবার জন্য বিনীতভাবে নিবেদন করলেন।মহাপ্রভু রামরায়কে সন্ন‍্যাসীর পক্ষে রাজদর্শনের অপকারিতা সম্বন্ধে বুঝিয়ে দিলেন।রামরায় বললেন, "যদি রাজাকে দর্শন দিতে না চাও, তবে তাঁর পুত্রকে তোমার দর্শন লাভের অনুমতি দাও"।গৌরহরি তাঁর কথায় সম্মত হলেন।প্রতাপরুদ্রের নিকট এ সংবাদ পাঠানো হল।রাজা মহাপ্রভুর এই কৃপাতে পরম আনন্দিত হয়ে তাঁর কাছে নিজের পুত্রকে পাঠিয়ে দিলেন।রাজপুত্রের নবীন বয়স,সুগঠন,সুন্দর শ‍্যামল রূপ দর্শনে মহাপ্রভুর হৃদয়ে স্নেহের সঞ্চার হল।তিনি নিজের দুইবাহু প্রসারণ করে প্রেমভরে তাঁকে আলিঙ্গন করলেন। মহাপ্রভুর অঙ্গ স্পর্শে রাজপুত্রের অঙ্গেও স্বেদ কম্প প্রভৃতি ভক্তির লক্ষণ সব প্রকাশ পেতে লাগল ; নয়নাশ্রুতে তাঁর বক্ষঃস্থল ভেসে গেল,যেন এক অভূতপূর্ব আনন্দে তাঁর মুখমন্ডল উদ্ভাসিত হয়ে উঠিল।রাজপুত্র প্রেমাবিষ্ট হয়ে পড়লেন।কিছুক্ষণ পরে রামরায় তাঁকে সঙ্গে করে প্রতাপরুদ্রের কাছে উপস্থিত হলেন।পুত্রের প্রতি শ্রীচৈতন‍্যের স্নেহের কথা শুনে তিনি নিজেকে চরম ভাগ‍্যবান মনে করলেন এবং পুত্রকে আলিঙ্গন করে প্রেমাবিষ্ট হয়ে পড়লেন।*
*🌺দেখতে দেখতে রথযাত্রার দিন এগিয়ে এলো।শ্রীচৈতন‍্য,কাশীমিশ্র পড়িছাপাত্র ও সার্বভৌমকে ডেকে গুন্ডিচা মন্দির পরিস্কার করবার জন্য অনুমতি প্রার্থনা করলেন।রথযাত্রার সময় শ্রীজগন্নাথদেব এই মন্দিরে কয়েকদিন অবস্থিতি করেন। রথযাত্রা উৎসব উপলক্ষ্যে মহাপ্রভু এই মন্দির সংস্কার করতে চাইলে,কাশীমিশ্র প্রভৃতি সকলেই আনন্দের সঙ্গে অনুমতি দান করলেন।রথোৎসবের সময় গুন্ডিচামন্দির পরিস্কার করবার জন্য গৌরহরি অনুমতি পেয়ে আনন্দ সহকারে এই কাজে রত হলেন। তিনি ভক্তদের অঙ্গ চন্দনে চর্চিত ও তাঁদের গলায় মালা পরিয়ে দিলেন।তাঁরা সকলেই সম্মার্জনী হাতে নিয়ে দেবমন্দির নিষ্ঠার সঙ্গে পরিস্কার করতে লাগলেন। ভক্তেরা শত কলস পূর্ণ জল এনে মন্দির ধৌত করতে লাগলেন।মহাপ্রভু সকলের সঙ্গে মিলিত হয়ে হরিধ্বনি করতে করতে মন্দির পরিস্কার করতে লাগলেন।এমন সময়ে শ্রীচৈতন‍্যের কোন এক ভক্ত ঐকান্তিক অনুরাগ বশতঃ জলপূর্ণ কলস নিয়ে আগে মহাপ্রভুর শ্রীচরণে ঢেলে তাঁর চরণদ্বয় ধৌত করে সেই পবিত্র পাদোদক পান করলেন।শ্রীচৈতন‍্য এরকম ব‍্যবহারে অত‍্যন্ত অসন্তুষ্ট হয়ে স্বরূপদামোদরকে ডেকে বললেন, দেখ স্বরূপ! এ ব‍্যক্তি দেবতার মন্দির ধৌত করতে এসে আমার চরণ ধৌত করে সেই পাদোদক পান করল এ কি উচিত?দেবমন্দিরে গৌড়ীয়ার এরকম কাজের জন্য আমিই অপরাধী হলাম।স্বরূপদামোদর এইকথা শোনামাত্র তক্ষুনি সেখান হতে গৌড়ীয়াকে বাহির করে দিলেন।*
*সে নিজের দোষ স্বীকার করে,সচল জগন্নাথের নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করলে,প্রেমার্দ্রচিত্তে গৌরহরির প্রাণ দ্রবীভূত হয়ে গেল।তিনি প্রসন্নচিত্তে আবার তাকে আগের মত ভক্তদের সঙ্গে গুন্ডিচামন্দির ধৌত করবার জন্য বললেন।শত শত জলপূর্ণ কলসের জলে ও ঝাড়ু দ্বারা ভক্তগণ মন্দিরতল ও খাপরার(ভাঙ্গা কলসি,মাটির হাড়ি ইত্যাদির টুকরো) দ্বারা মন্দিরের উপরিভাগ ধৌত করতে লাগলেন।মন্দিরের চারদিক সুন্দরভাবে পরিস্কার হয়ে গেল।গুন্ডিচা সংস্কারকার্য‍্যে সম্মার্জনী (ঝাড়ু) হাতে মহাপ্রভুই অগ্রণী হয়ে সকলকে শিক্ষা দান ও ভক্তগণ সঙ্গে অক্লান্ত পরিশ্রম করে অবশেষে ক্ষণকাল বিশ্রামান্তে ভক্তগণের সহিত কীর্তন করতে লাগলেন। ভগবানের মধুময় নামের মধুর হিল্লোলে ভক্তদের হৃদয়-সরোবরে যেন প্রেমের তরঙ্গ উত্থিত হতে লাগল।শ্রীচৈতন‍্যদেব ভক্তদের সঙ্গে নৃত্য করতে লাগলেন। কিন্তু অদ্বৈতাচার্য‍্যের পুত্র গোপাল প্রেমাবিষ্ট হয়ে ভূতলে লুটিয়ে পড়লেন। গৌরচাঁদ আচার্য‍্যপুত্রকে প্রেমাবিষ্ট হয়ে ভূতলে পড়েছিলেন দেখে ব‍্যস্থতার সঙ্গে তাকে কোলে তুলে নিলেন।গোপাল তখন সংজ্ঞাহীন হয়ে পড়েছিলেন।গোপালের পিতা সন্তানের এরকম অবস্থা দেখে অত‍্যন্ত চিহ্নিত হয়ে নানান উপায়ে তার চেতনা ফেরানোর চেষ্টা করতে লাগলেন। কিন্তু কিছুতেই কৃতকার্য‍্য হলেন না,তখন করুণাময় গৌরহরি মূর্ছিত গোপালের বক্ষে স্নেহভরে হাত রেখে বললেন, গোপাল উঠ?মহাপ্রভুর হস্ত স্পর্শে গোপালের মূর্ছা তিরোহিত হয়ে গেল।*
*গোপাল উঠে বসলেন। নৃত্য কীর্তনাদি বিরাম হলে তাঁরা সকলে স্নানাদি করে উদ‍্যান মধ্যে প্রবেশ করলেন।সেখানে বাণীনাথ প্রসাদান্ন এনে উপস্থিত করলেন,বহু বহু ভক্ত শ্রেণীবদ্ধ হয়ে ভোজনের জন‍্য বসলে,স্বরূপদামোদর,জগদানন্দ, দামোদর, প্রভৃতি কয়েকজন ভক্ত পরিবেশন করবার জন্য প্রস্তুত হলেন।*
🙏🙏🙏🙏🙏🙏🌷🙏🙏🙏🙏🙏🙏
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 👉 শ্রীগৌরাঙ্গ চরিত 📖 নবম 🏵️ শ্রী শশীভূষণ বসু ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 https://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/12/gouranga9.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(৯০)🙏শ্রীগৌরাঙ্গের চরিতসুধা*
     *রথ-উৎসব ও ভক্ত সম্মিলন*
     <><><><><><>>>>>>>>><>
*🍀সকল ভক্তগণ নানারকম ব‍্যঞ্জন, পিষ্টক,পায়স ভোজন করতে করতে আনন্দ আর ধরে না ; তাঁরা এই আনন্দোৎসবে সেই আনন্দময় বিধাতা শ্রীহরিকে স্মরণ করে তাঁর নামের ধ্বনিতে চারিদিক মুখরিত করে তুললেন। তারপর রথযাত্রার দিন শ্রীগৌরাঙ্গ ভক্তবৃন্দসহ শ্রীজগন্নাথদেবের মন্দিরের দিকে গমন করলেন। জগন্নাথদেবকে রথারোহণ করান হলে, বাদ‍্যধ্বনি হতে লাগল ; শত শত কন্ঠ হতে মহাপ্রভুর মহিমাধ্বনি উত্থিত হতে লাগল ; উৎকলাধিপতি প্রতাপরুদ্র ঝাড়ু হাতে পথ পরিস্কার ও তদুপরি সুবাসিত চন্দন জল ছিটাতে লাগলেন এবং মহাপ্রভুর ভক্তদের অঙ্গে চন্দন ও গলায় ফুলের মালা পরিয়ে দিলেন। ভক্তসঙ্গে যে সংকীর্তনের মধুর ধ্বনিতে তিনি পুরুষোত্তমবাসীদের অন্তরে ভক্তির উদ্দীপনা করছিলেন, আজ এই মহোৎসবে সেই পাপতাপহারী হরিনাম কীর্তন করবার জন্য তিনি ভক্তদেরকে চার দলে বিভক্ত করলেন।ভক্তগণ কীর্তন করতে করতে গমন করতে লাগলেন।রথ বলগন্ডিতে উপস্থিত হলে,ভক্তেরা বিশ্রামের জন্য একটি পুষ্পোদ‍্যানে প্রবেশ করলেন।মহাপ্রভুও কীর্তন ও নর্তনে অত‍্যন্ত ক্লান্ত হয়ে পড়েছিলেন।তিনি বিশ্রামের জন্য এক সোপানের উপর শয়ন করলে, রামরায়ের পরামর্শ অনুসারে রাজা প্রতাপরুদ্র বৈষ্ণবের বেশে মহাপ্রভুর শ্রীচরণ ধরে ভাগবতের এই শ্লোক আবৃত্তি করলেন=*
*🌷তব কথামৃতং তপ্ত জীবনং,*
*🌷কবিভি রীড়িতং কল্মাষাপহং ;*
*🌷শ্রবণ মঙ্গলং শ্রীমদাততং,*
*🌷ভুবি গৃণান্তি যে ভূরিদা জনাঃ।*
*🌻গোপীগণ শ্রীকৃষ্ণকে বলছেন, হে প্রিয়তম! তোমার কথামৃত তাপিতজনের জীবন স্বরূপ ব্রহ্মজ্ঞ ব‍্যক্তিদের সংপূজিত এবং পাপনাশক ; সেটি শুনিলে মঙ্গল হয় এসেটি শান্তিপ্রদ ; এই ধরাতলে যারা নরনারীকে সেটি পান করাতে পরেন,তাঁরাই ভূরিদ অর্থ‍্যাৎ প্রকৃত দাতার ন‍্যায় বহু দান করে থাকেন।*
*🍁শ্লোক শুনে মহাপ্রভুর হৃদয় প্রেমরসে পরিপূর্ণ হয়ে গেল, তিনি প্রেমভরে তাঁকে (রাজাকে) আলিঙ্গন করলেন। মহাপ্রভু তাঁর পরিচয় জিজ্ঞাসা করলে, ছদ্মবেশী রাজা বললেন, "আমি আপনার দাসানুদাস হতে ইচ্ছে করি"।*
*🍀শ্রীচৈতন‍্যচরিতামৃতে পাই=*
*🌷"ভূরিদা" "ভূরিদা" বলি করি আলিঙ্গন।*
*🌷ইহা নাহি জানে ইহো হয় কোন জন।।*
☆ ☆ ☆ ☆ ☆
*🌷প্রভু বলে কে তুমি?করিলা মোর হিত।*
*🌷আচম্বিতে আসি পিয়াও কৃষ্ণলীলামৃত।।*
*🌷রাজা কহে আমি তোমার দাসের দাস।*
*🌷ভৃত‍্যেরে ভৃত‍্য কর এই মোর আশ।।*
*🌹এদিকে বাণীনাথ নানান প্রসাদ দ্রব‍্য এনে উপস্থিত করলেন।সকলেই হরিধ্বনি করতে করতে প্রসাদান্ন ভোজন করলেন। তারপরে সংকীর্তন করতে করতে ভক্তগণ গুন্ডিচামন্দিরে রথ নিয়ে গেলেন।এখানে প্রতিবৎসর শ্রীজগন্নাথ নয়দিন অবস্থিতি করেন। শ্রীজগন্নাথ গুন্ডিচায় আসিলে, গৌরহরি কোন ভক্তের অনুরোধে আইটোটায় এসে বাস করেন, এবং জগন্নাথদেবের মন্দিরে পুনরাগমন পর্যন্ত এই নয়দিন নানা গৃহস্থের বাড়িতে ভোজন এবং সন্ধ‍্যাকালে গুন্ডিচায় কীর্তনাদি করে আনন্দে সময় অতিবাহিত করেন।*
*🙌গৌড়ীয় ভক্তগণ চারমাস কাল পুরুষোত্তমে বাস করে স্বদেশে প্রত‍্যাগমনের সময় মহাপ্রভুর কাছে বিদায়ের জন্য উপস্থিত হলেন। গৌরসুন্দরের সঙ্গে তাঁদের অচ্ছেদ‍্য (পৃথক করা যায় না এমন) সম্বন্ধ ; তিনি সবার আগে প্রবীণ অদ্বৈতাচার্য‍্যকে সকলের মধ্যে হরিগুণ কীর্তনের জন্য আদেশ করলেন ; নিত‍্যানন্দকে বললেন, তুমি গৌড়দেশে গমন করে পরম রত্ন ভক্তিধন বিতরণ কর। শ্রীবাস পন্ডিতের গলা জড়িয়ে ধরে আলিঙ্গন করে বললেন, তোমার গৃহে আমি যেমন নৃত্য কীর্তনাদি করতাম, এখন তেমনিই করব, কিন্তু তুমি ছাড়া অন‍্য কেউ তা দেখতে পাবে না। মাতৃবৎসল শ্রীগৌরহরি জগন্নাথদেবের প্রসাদ ও একটি বস্ত্র নিয়ে শ্রীবাসের হাতে দিয়ে বললেন, তুমি আমার জননীকে এই বস্ত্র ও প্রসাদান্ন দিয়ে দিবে।আর মাকে বলবে, আমি সন্ন‍্যাসধর্ম গ্রহণ করে তাঁর সেবা করতে পারলাম না।তিনি যেন বাতুল বলে আমার সব অপরাধ ক্ষমা করেন। তবে আমি তাঁর শ্রীচরণ দর্শন করবার জন্য মধ্যে মধ্যে তাঁর কাছে গমন করে থাকি।তিনি একদিন থালায় অন্ন ও নানান ব‍্যঞ্জনাদি রেখে, জননী আমার, আমার নিমাই এই সব ব‍্যঞ্জন অত‍্যন্ত ভালবাসিত, এই বলে কাঁদতে লাগলেন, আমি সেসময় সেখানে গিয়ে সে সমস্ত ভোজন করি, তিনি ক্ষণেক পরে শূন‍্য পাত্র দেখে অবাক হয়ে গেলেন, মকরতে লাগলেন,তবে কি আমার ভ্রম হয়েছে,আমি কি অন্ন ব‍্যঞ্জন থালাতে দিই নি?বিজয়া দশমীতে এই ঘটনা ঘটেছিল, তুমি জননীকে এসব কথা বলিও।*
*শিবানন্দ সেনকে বললেন,তুমি প্রতি বৎসর রথযাত্রার সময় গৌড়ীয় ভক্তদেরকে সঙ্গে নিয়ে এখানে আসবে।এ কাজের ভারতোমারই উপর রইল। আর এক কথা,তুমি বাসুদেব দত্তের প্রতি দৃষ্টি রাখবে ; বাসুদেব বড় উদার।অর্থ হাতে আসিলেই তা ব‍্যয় করে ফেলে, গৃহস্থ ব‍্যক্তির সঞ্চয় করা প্রয়োজন।কুলীন গ্রামবাসী রামানন্দ ও সত‍্যরাজ খাঁ মহাপ্রভুর চরণে প্রণাম করে জিজ্ঞাসা করলেন,প্রভো! আমরা বিষয়ী,সংসারে কিভাবে সাধন ভজন করব? প্রভু বললেন,নিরন্তর নামসংকীর্তন করবে।সত‍্যরাজ আবার জিজ্ঞাসা করলেন,প্রভো! বৈষ্ণব কিভাবে চিনব?শ্রীচৈতন‍্যদব বললেন,যাঁর রসনা হতে সদাসর্বদা কৃষ্ণনাম উচ্চারিত হয়,তাঁকেই বৈষ্ণব বলে জানবে।*
🙌 🙌 🙌 🙌 🙌 🙌 🙌 🙌 🙌 🙌 🙌 🙌
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🔜 ক্রমাগত 👉 শ্রীগৌরাঙ্গ চরিত 📖 দশম ভাগ 🏵️ শ্রী শশীভূষণ বসু ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/12/gouranga10.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

   ꧁👇 📖 সূচীপত্র ✍️ শ্রী জয়দেব দাঁ 📖 👇꧂



✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧


✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

   ✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️ 
নিবাস- বাঁশবাড়ী, কীর্তন মন্দিরের পাশে, পোঃ- বাঁশবাড়ী, থানা- ইংরেজ বাজার, জেলা- মালদহ, পশ্চিমবঙ্গ, পিন কোড- ৭৩২১০১।

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

  *••••┉❀꧁👇🏠Home Page🏠👇꧂❀┅••••* 


✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

    *••••━❀꧁👇 📖 সূচীপত্র 📖 👇꧂❀┅••••* 



✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

     *••••━❀꧁👇📚 PDF গ্রন্থ 📚👇꧂❀┅••••* 


✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
    *••••┉━❀꧁ 🙏 রাধে রাধে 🙏 ꧂❀━┅••••* 
                   শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য প্রভু নিত্যানন্দ
              হরে কৃষ্ণ হরে রাম শ্রীরাধেগোবিন্দ।।
  *••••┉━❀꧁ 🙏 জয় জগন্নাথ 🙏 ꧂❀━┅••••*
              হরে কৃষ্ণ হরে কৃষ্ণ কৃষ্ণ কৃষ্ণ হরে হরে
              হরে রাম হরে রাম রাম রাম হরে হরে॥
  *••••┉━❀꧁ 🙏 জয় রাধাকান্ত 🙏 ꧂ ❀━┅••••*
   🌷❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀🌷
   🏵️❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀🏵️
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧





adds