শ্রী মৃন্ময় নন্দী কর্ত্তৃক সকল ভক্ত👣চরণে👣অসংখ্যকোটি 🙇প্রণাম🙇 ক্লিক করুন 👇

শ্রী মৃন্ময় নন্দী কর্ত্তৃক সকল ভক্ত👣চরণে👣অসংখ্যকোটি 🙇প্রণাম🙇 ক্লিক করুন 👇

শ্রীশ্রীজগন্নাথ ও শ্রীশ্রীগৌরাঙ্গ 🌷 নবম ভাগ 🌻 শ্রীযুক্ত রাজর্ষি গোপালচন্দ্র আচার্য‍্য চৌধুরী প্রণীত ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📝 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/02/jagannath9.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🔙 পূর্ব লীলা 👉 শ্রীশ্রীজগন্নাথ ও শ্রীশ্রীগৌরাঙ্গ 🌷 অষ্টম ভাগ 🌻 শ্রীযুক্ত রাজর্ষি গোপালচন্দ্র আচার্য‍্য চৌধুরী প্রণীত ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📝 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/02/jagannath8.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 শ্রীশ্রীজগন্নাথ ও শ্রীশ্রীগৌরাঙ্গ 🌷 নবম ভাগ 🌻 শ্রীযুক্ত রাজর্ষি গোপালচন্দ্র আচার্য‍্য চৌধুরী প্রণীত ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📝 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/02/jagannath9.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 শ্রীশ্রীজগন্নাথ ও শ্রীশ্রীগৌরাঙ্গ 🌷 নবম ভাগ 🌻 শ্রীযুক্ত রাজর্ষি গোপালচন্দ্র আচার্য‍্য চৌধুরী প্রণীত ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📝 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/02/jagannath9.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(৮১)শ্রীশ্রীজগন্নাথ ও শ্রীশ্রীগৌরাঙ্গ*
           *🔵নীলাচলে মহাপ্রভু🔵*
                *👣গম্ভীরা-লীলা👣* 
                  ▪▪▪▪▪
*🌻যথা রাগ=*
*পট্টবস্ত্র অলঙ্কারে, সমর্পিয়া সখী-করে,*
           *সূক্ষ্ম-শুক্ল-বস্ত্র-পরিধান।*
*কৃষ্ণ লইয়া কান্তাগণ,কৈল জলাবগাহন,*
           *জল-কেলি রচিল সুঠাম।।* *সখী হে,দেখ কৃষ্ণের জল-কেলি রঙ্গে।*
*কৃষ্ণ মত্ত-করিবর,চঞ্চল-কর-পুষ্কর,*
    *গোপীগণ করিণীর সঙ্গে।।*
*আরম্ভিল জলকেলি,অন‍্যান‍্যে জল ফেলাফেলি,*
     *হুড়াহুড়ি বর্ষে জল-ধার।*
*সবে জয় পরাজয়,নাহি কিছু নিশ্চয়,*
        *জলযুদ্ধ বাড়িল অপার।।*
 ☆ ☆ ☆ ☆
*কৃষ্ণ রাধায় লৈয়া বলে,গেলা কন্ঠ-মগ্ন-জলে,*
   *ছাড়িল তাঁহা যাহা অগাধ পাণি।*
*তিঁহ কৃষ্ণ-কন্ঠ ধরি,ভাসে জলের উপরি,*
    *গজোদঘাতে যৈছে কমলিনী।।*
*যত গোপ-সুন্দরী,কৃষ্ণ তত রূপ ধরি,*
       *সবার বস্ত্র করিল হরণ।*
*যমুনা-জল নির্মল,অঙ্গ করে ঝলমল,*
        *সুখে কৃষ্ণ করে দরশন।।*
☆ ☆ ☆ ☆
*পুনরপি কৈল স্নান,শুষ্ক বস্ত্র পরিধান,*
        *রত্ন-মন্দিরে কৈল আগমন।*
*বৃন্দাকৃত সম্ভার,গন্ধপুষ্প অলঙ্কার,*
        *বন‍্যবেশ করিল রচন।।*
*গঙ্গাজল অমৃত কেলি,পীযূষ গ্রন্থি কর্পূর কেলি,*
       *সরপুলি অমৃত পদ্ম চিনি।*
*খন্ড খিরিসা বৃক্ষ,ঘরে করি নানা ভক্ষ‍্য,*
       *রাধা যাহা কৃষ্ণ লাগি আনি।।*
*ভক্ষ‍্যের পরাপাটী দেখি,কৃষ্ণ হৈল মহাসুখী,*
      *বসি কৈল বন‍্য ভোজন।*
*সঙ্গে লঞা সখীগণ,রাধা কৈল ভোজন,*
       *দোঁহে কৈল মন্দিরে শয়ন।।*
*কেহ করে বীজন,কেহ পাদ-সম্বাহন,*
        *কেহ করায় তাম্বুল ভক্ষণ।*
*রাধাকৃষ্ণ নিদ্রা গেলা,সখীগণ শয়ন কৈলা,*
       *দেখি আমার সুখী হৈল মন।।*
*হেনকালে মোরে ধরি,মহা কোলাহল করি,*
       *তুমি সব ইঁহা লঞা আইলা।*
*কাঁহা যমুনা বৃন্দাবন,কাঁহা কৃষ্ণ গোপীগণ,*
       *সে সুখ ভঙ্গ করাইলা।।*
*🌻মহাপ্রভু বিরহের গভীর তরঙ্গে তরঙ্গায়িত হয়ে,কেবল যে বিরহের ভাবেই উচ্ছলিত হতেন,তা নয়,এই বিরহের ভিতরেই আবার কখনও মান, কখনও মাথুর, কখনও পূর্বরাগ, কখনও বা রাস, এইরকম নানা ভাব উপস্থিত হত।এ-পর্যন্ত বিরহ অবস্থায় মহাপ্রভুর যে সমস্ত লীলা হয়েছে, যথা-- রাসস্থলী দর্শন,স্বপ্নে রাধাকৃষ্ণ ও গোপীগণের জলকেলি দর্শন ইত্যাদি-- তা চৈতন‍্যচরিতামৃত হতে উদ্ধৃত করা হয়েছে।এর সমস্তেরই মূল ভাব বিরহ।কৃষ্ণ-দর্শনে এই বিরহের পর্য‍্যবসান (সমাপ্তি) হয়, আবার কৃষ্ণের অদর্শন হয়,আবার বিরহ উপস্থিত হয়। এর ভিতরেই দশ দশার সমস্ত ভাব উপস্থিত হয়।ক্রমাগত এইরকম বিরহের ভাবে জ্বরজ্বর হয়ে, মহাপ্রভুর দেহ ক্ষীণ ও মলিন হতে লাগল।শ্রীমতীর যেমন বিরহেতে "উঠিলে বসতে নারে" এইরকম অবস্থা হয়েছিল ; মহাপ্রভুরও ঠিক সেইরকম অবস্থা হয়েছিল। শ্রীমতীর এই সমস্ত অবস্থা জয়দেব,বিদ‍্যাপতি,চন্ডীদাস প্রণীত গ্রন্থে,কৃষ্ণ-কর্ণামৃত ও অন‍্যান‍্য গ্রন্থে বর্ণিত আছে।স্বরূপদামোদর গাইতেন ও রায় রামানন্দ শ্লোক পাঠ করতেন। চন্ডীদাস ও বিদ‍্যাপতি হতে দুই-চারটি পদের উল্লেখ করছি, তাতে পাঠক বুঝতে পারবেন শ্রীমতীর কি অবস্থা হয়েছিল। মহাপ্রভুও শ্রীমতীরাধারাণীর ভাবে বিভাবিত হয়ে এই সমস্ত দশা প্রাপ্ত হতেন।*
*🙏বিদ‍্যাপতির পদ===*
   *কতদিন মাধব রহব মথুরাপুর,*
         *কবে ঘুচব বিহি বাম।*
*দিবস লিখি লিখি,নখর খোয়াইনু,*
        *বিছুরল গোকুল নাম।*
   *হরি হরি কাহে কহব এ সংবাদ।*
           *সোঙরি সোঙরি উহু,*
           *ক্ষীণ ভেল মঝু দেহ,*
     *জীবনে আছয়ে কিবা সাধ।*
   *পূরব পিয়ারী নারী হাম আছনু,*
            *অব দরশন হুঁ সন্দেহ।*
*ভ্রমর ভ্রমরী ভ্রমি,সবহুঁ কুসুমে রমি,*
        *না তেজই কমলিনী লেহ।*
*আশা নিগড় করি,জীউ কত রাখব,*
     *অবহি যে করত পরাণ।*
*বিদ‍্যাপতি কহ, আশাহীন নহ,*
        *আওব সে বর কান।।*
▪▪▪▪▪▪▪▪▪▪▪
   *সজনি কো কহু আওব মাধাই।*
*বিরহ-পয়োধি-পার কিয়ে পাওব,*
      *মধু-বনে নাহি পাতিয়াই।*
*এখন তখন করি,দিবস গোঙায়নু,*
         *ছোড়নু জীবক আশা।*
*বরিখ বরিখ করি,সময় গোঙায়নু,*
      *খোয়নু এ তনুক আশে।*
*হিমকর-কিরণে, নলিনী যদি জারব,*
        *কি করবি মাধব-মাসে।।*
*অঙ্কুর তপন, তাপে যদি জারব,*
       *কি করব বারিদ মেহে।*
*ইহ নব যৌবন, বিরহে গোঙাইব,*
     *কি করব সো-পিয়া লেহে।।*
*ভণয়ে বিদ‍্যাপতি, শুন বর যুবতি,*
      *অব নাহি হোত নিরাশ।*
*সো ব্রজ-নন্দন, হৃদয়-আনন্দন,*
       *ঝটিতি মিলব তুয়া পাশ।।*
*🌹এইরকমে বিরহের ভাবে শ্রীমতীর দেহ ক্ষীণ হয়েছে, এবং জীবনের আশায় নিরাশা এসেছে।মহাপ্রভুরও এই দশাই হয়েছিল। তিনিও নখে লিখতেন।*
*🌷ভূমির উপরে বসি নিজ নখে ভূমি লিখে।*
*🌷অশ্রু-গঙ্গা নেত্রে বহে কিছু নাহি দেখে।।*
                       *(শ্রীচৈঃচঃ)*
             *ক্রমাগত*
🤣🤣🤣🤣🤣🤣🤣🤣🤣🤣🤣🤣🤣
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 শ্রীশ্রীজগন্নাথ ও শ্রীশ্রীগৌরাঙ্গ 🌷 নবম ভাগ 🌻 শ্রীযুক্ত রাজর্ষি গোপালচন্দ্র আচার্য‍্য চৌধুরী প্রণীত ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📝 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/02/jagannath9.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(৮২)শ্রীশ্রীজগন্নাথ ও শ্রীশ্রীগৌরাঙ্গ*
           *🍀নীলাচলে মহাপ্রভু🍀*
             *▪গম্ভীরা লীলা▪*
               ▪▪▪▪▪▪
*🍀আর একটি পদ উদ্ধৃত করছি=*
*🌷কে মোরে মিলাইয়া দিবে সে চাঁদ বয়ান ;*
*🌷আঁখি তিরপিত হবে জুড়াবে পরাণ।*
*🌷কে মোরে মিলাইয়া দিবে নন্দসুত কান ;*
*🌷 রতন ভূষণ দিব বাটিয়া পরাণ।*
*🌷আমি উঠি বসি করি কত পোহাইনু রাতি।*
*🌷হিয়া মোর নাহি ফাটে নিলাজ স্ত্রী-জাতি।*
*🌷কেহ ত বলেনা মোরে ঘরে এল পিয়া।*
*🌷কত আর রাখিব প্রাণ আশায় বাঁধিয়া।।*
*🌻ভাটিয়ারি সুরে নৌকার মাঝিরা সচরাচর যে সমস্ত গান করে থাকে,তাদের মধ্যে অনেকগুলি অত‍্যন্ত স্বাভাবিক এবং অতি গভীর-ভাবব‍্যঞ্জক। তার মধ্যে একটি নিচে উদ্ধৃত করছি।*
*🌷ও বিশাখে শ‍্যামকে দেখা প্রাণ যাবার কালে।*
*🌷বুঝি কৃষ্ণ বিনে প্রাণ মোর যায় গো সই।*
*তোমরা মোর প্রিয় সখী,বসে আছ অষ্টসখী (গো),*
 *তোদের কাছে মোর মনের কথা কই গো সই।*
*হস্ত দিয়ে দেখ বুকে,প্রাণ আছে কেমন সুখে (গো),*
*কুমারের প'ণের মত জ্বলছে দিবানিশি গো সই।*
*আমি কেন একা যাব,কৃষ্ণকে যে সঙ্গে নিব (গো),*
  *বড় যতন করে রতন পেয়েছি গো সই।*
*আমার প্রাণ অন্ত হলে,না পোড়াইও দাবানলে,*
*আমার এ দেহ বেঁধে রেখ, তাউর-তমাল-ডালে গো সই।*
*🌻রায়-রামানন্দ কোন শ্লোক পড়তেন এবং স্বরূপদামোদর কোন গান গাইতেন,তার স্থিরতা নাই।মহাপ্রভুর যখন যে ভাব হ'ত,সেই ভাবের অনুকূল যে গান,তাইই গাইতেন।মহাপ্রভু এই সময়ে বিরহের ভাব-তরঙ্গে ভাসছেন,আমরাও সেই জন্য বিরহ-ভাবাত্মক যে সব গান তাইই উদ্ধৃত করলাম।এই গান দ্বারা মহাপ্রভুর প্রাণের অবস্থা এবং ভাবের অবস্থা পাঠকের হৃদয়ে অঙ্কিত করে দেওয়ায় প্রধান উদ্দেশ্য।তারজন‍্য কৃষ্ণ-কর্ণামৃতে বিল্বমঙ্গল কৃত একটি স্তব উদ্ধৃত হ'ল।*
*🌷হে দেব হে দয়িত হে ভুবনৈকবন্ধো,*
*🌷হে কৃষ্ণ হে চপল হে করুণৈক-সিন্ধো।*
*🌷হে নাথ হে রমণ হে নয়নাভিরাম,*
*🌷হা হা কদা নু ভবিতাসি পদং দৃশোর্ম্মে।।*
*উন্মাদের লক্ষণ, করায় কৃষ্ণ-স্ফুরণ,*
          *ভাবাবেশে উঠে প্রণয় মান।*
*সোল্লুন্ঠ বচন-রীতি,মান গর্ব ব‍্যাজ স্তুতি,*
          *কভু নিন্দা কভু ত সম্মান।।*
☆ ☆ ☆ ☆
*তোমার চপল মতি,না হয় একত্র স্থিতি,*
    *তাতে তোমার নাহি কিছু দোষ।*
*তুমি ত করুণাসিন্ধু,আমার প্রাণের বন্ধু,*
       *তোমায় মোর নাহি কভু রোষ।।*
*তুমি নাথ ব্রজপ্রাণ,ব্রজের কর পরিত্রাণ,*
      *বহু কার্য‍্যে নাহি অবকাশ।*
*তুমি আমার রমণ,সুখ দিতে আগমন,*
       *এ তোমার বৈদগ্ধ‍্য-বিলাস।।*
*মোরবাক‍্য নিন্দা মানি,কৃষ্ণ ছেড়ে গেল জানি,*
      *শুন মোর এ স্তুতি-বচন।*
*নয়নের অভিরাম,তুমি মোর ধনপ্রাণ,*
        *হা হা পুন দেহ দরশন।।*
*স্তম্ভ কম্প প্রস্বেদ,বৈবর্ণ‍্য অশ্রু স্বরভেদ,*
        *দেহ হইল পুলকে ব‍্যাপিত।*
*হাসে কাঁদে নাচে গায়,উঠি ইতি উতি ধায়,*
         *ক্ষণে ভূমে পড়িয়া মূর্ছিত।।*
*মূর্ছায় হইল সাক্ষাৎকার,উঠি করে হুহুঙ্কার,*
       *কহে এই আইলা মহাশয়।*
*কৃষ্ণের মাধুরী গুণে,নানা ভ্রম হয় মনে,*
       *শ্লোক পড়ি করায় নিশ্চয়।।*
*🌻"হে দেব,হে দয়িত" ইত্যাদি বিল্বমঙ্গলের এই স্তোত্র দ্বারা শ্রীমতীর উন্মাদের লক্ষণ বর্ণনা করে,কৃষ্ণ ভাবাবেশে সময়ে সময়ে তাঁর উপর প্রণয়-মানের সঞ্চার হচ্ছে।মানগর্ভ ব‍্যাজ-স্তুতি(ছলকপট-স্তুতি) দ্বারা,কভু নিন্দা,কভু সম্মান দেখান হচ্ছে।পরবর্তী কবিতা দ্বারা পূর্ব শ্লোকের ভাবের ব‍্যাখ‍্যা করা হয়েছে।মহাপ্রভুর দিব‍্যোন্মাদের অবস্থায়,এক সময়ে নানা ভাবের প্রকাশ পেত তাইই দেখাচ্ছেন=*
*ঔৎসুক‍্য চাপল‍্য দৈন‍্য,রোষামর্ষ আদি সৈন‍্য,*
        *প্রেমোন্মাদ সবার কারণ।*
*মত্তগজ ভাবগণ,প্রভুর দেহ ইক্ষুবন,*
       *গজযুদ্ধ বনের দলন।।*
*প্রভুর হইল দিব‍্যোন্মাদ,তনু মনের অবসাদ,*
        *ভাবাবেশে করে সম্বোধন।।*
*🌻মহাপ্রভু বিরহের অবস্থায় চন্ডীদাসের গান শুনতে ভালবাসতেন।তারই দুই একটি উদ্ধৃত করছি=*
*🌷বিরহ-কাতরা,বিনোদিনী রাই,*
           *পরাণে বাঁচে না বাঁচে।*
*🌷নিদান দেখিয়া,আসিনু হেথায়,*
        *কহিনু তোহারি কাছে।।*
     *যদি দেখিবে তোমার প‍্যারী।*
*চল এইক্ষণে, রাধার শপথ,*
        *আর না করিও দেরী।।*  
*কালিন্দী-পুলিনে,কমলের শেজে,*
        *রাখিয়া রাইয়ের দেহ।*
*কোন সখী অঙ্গে,লিখে শ‍্যাম নাম,*
          *নিশ্বাস হেরয়ে কেহ।।*
*কেহ কহে তোর, বঁধূয়া আসিল,*
        *সে কথা শুনিয়া কানে।*
*মেলিয়া নয়ন, চৌদিকে নেহারে,*
    *দেখিয়া না সহে প্রাণে।।*
*যখন হইনু, যমুনা পার,*
     *দেখিনু সখীরা মেলি।*
*যমুনার জলে, রাখে অন্তর্জ্জলে,*
        *রাই দেহ হরি বলি।।*
*দেখিতে যদ‍্যপি, সাধ থাকে তব,*
          *ঝাঁট্ চল ব্রজে যাই।*
*বলে চন্ডীদাসে, বিলম্ব হইলে,*
     *আর না দেখিবে রাই।।*
*🌻শ্রীমতীর এই অবস্থা চন্ডীদাসের গানের দ্বারা বর্ণনা করে,শ্রীশ্রীমহাপ্রভুর কি অবস্থা হয়েছিল,তাইই বর্ণনা করা হ'ল। ইতিপূর্বে "ও বিশাখে" ইত্যাদি যে গানটি লিখিত হয়েছে,তা দ্বারা বিরহে যে,কি তীব্র যাতনা প্রকাশ পাচ্ছে, বিরহে যে মৃত‍্যু পর্যন্ত হতে পারে,তাওও দেখান হল।গানটি গ্রাম‍্য ভাষায় লিখিত হলেও ভাবে মুগ্ধ হতে হয়। পাঠক,রাধার এবং ভাবনিধি গৌরহরির ভাবব‍্যঞ্জক আরও কয়েকটি গান শুনুন।*
      *🌷বঁধূ,কি আর বলিব আমি।*
*জীবনে মরণে, জনমে জনমে,*
         *প্রাণপতি হইও তুমি।।*
*তোমার চরণে, আমার পরাণে,*
         *বাঁধিনু প্রেমের ফাঁসি।*
*সব সমর্পিয়া, একমন হইয়া,*
        *নিশ্চয় হইলাম দাসী।।*
*ভাবিয়া দেখিনু, এ তিন ভুবনে,*
        *আর মোর কেহ আছে?*
*রাধা বলি কেহ, সুধাইতে নাই,*
         *দাঁড়াব কাহার কাছে।।*
*এ কুলে ও কুলে, দুকুলে গোকুলে,*
          *আপনা বলিব কায়?*
*শীতল বলিয়া, শরণ লইনু,*
          *ও দুটী কমল পায়।।*
*না ঠেলহ ছলে, অবলা অখলে,*
           *যে হয় উচিত তোর।*
*ভাবিয়া দেখিনু, প্রাণনাথ বিনে,*
       *গতি যে নাহিক মোর।।*
*আঁখির নিমিখে, যদি নাহি দেখি,*
           *তরাসে পরাণে মরি।*
*চন্ডীদাস কহে, পরশ রতন,*
       *গলায় গাঁথিয়া পরি।।*
                  *ক্রমাগত*
🔻🔺🔻🔺🔻🔺🔻🔺🔻🔺🔻🔺🔻
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 শ্রীশ্রীজগন্নাথ ও শ্রীশ্রীগৌরাঙ্গ 🌷 নবম ভাগ 🌻 শ্রীযুক্ত রাজর্ষি গোপালচন্দ্র আচার্য‍্য চৌধুরী প্রণীত ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📝 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/02/jagannath9.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(৮৩)শ্রীশ্রীজগন্নাথ ও শ্রীশ্রীগৌরাঙ্গ*
            *🌲নীলাচলে মহাপ্রভু🌲*
                *🌼গম্ভীরা-লীলা🌼*
                  ******************
*🌻শ্রীধাম ব্রজবৃন্দাবনে শ্রীমতী রাধারাণীর যে-ভাব হয়েছিল, শ্রীমন্মহাপ্রভুর গম্ভীরাতে সেই ভাব প্রকটন করেছেন। শ্রীচন্ডীদাসের পদটি শুনুন=*
   *সখী হে ফিরিয়া আপন ঘরে যাও।*
*জীয়ন্তে মরিয়া যেই,আপনারে খাইয়াছে,*
        *তারে তুমি কি আর সুধাও।।*
*নয়ন-পুতলী করি,লইনু মোহন রূপ,*
       *হিয়ার মাঝারে করি প্রাণ।*
*পিরীতি-আগুন জ্বালি,সকলি পোড়ায়েছি,*
       *জাতি কুল শীল অভিমান।।*
*না জানিয়া মূঢ় লোকে,কত কিনা বলে মোকে,*
       *না করিয়া শ্রবণ-গোচরে।*
*স্রোতের বিথার জলে,এ তনু ভাসাইনু,*
     *কি করিবে কুলের কুক্কুরে।।*
*খাইতে শুইতে রইতে,আন নাহি লয় চিতে,*
      *কানু বিনে আন নাহি ভায়।*
*মুরারি গুপত কহে,পিরীতি এমতি হলে,*
       *তার গুণ তিন লোকে গায়।।*
                *চন্ডীদাসের পদ*
                 ◆◆◆◆◆◆◆
*শ‍্যামসুন্দর, স্মরণ আমার,*
        *শ‍্যাম শ‍্যাম সদা সার।*
*শ‍্যাম সে জীবন, শ‍্যাম প্রাণ ধন,*
        *শ‍্যাম সে গলার হার।।*
*শ‍্যাম সে বেশর,শ‍্যাম বেশ মোর,*
        *শ‍্যাম শাড়ী পরি সদা।*
*শ‍্যাম তনু মন, ভজন পূজন,*
        *শ‍্যাম দাসী হলো রাধা।।*
*শ‍্যাম ধন বল, শ‍্যাম জাতি কুল,*
       *শ‍্যাম সে সুখের নিধি।*
*শ‍্যাম হেন ধন, অমূল‍্য রতন,*
          *ভাগ‍্যে মিলাইল বিধি।।*
*কোকিল ভ্রমর, করে পঞ্চস্বর,*
        *বঁধূয়া পেয়েছি কোলে।*
*হিয়ার মাঝারে, রাখিহ শ‍্যামেরে,*
         *দ্বিজ চন্ডীদাসে বলে।।*
🌹🌹🌹🌹🌹🌹🌹🌹🌹🌹🌹🌹
         *তুমি সে আমার প্রাণ!*
*দেহ মন আদি, তোহারে সঁপেছি,*
         *কুল শীল জাতি মান।।*
*অখিলের নাথ, তুমি হে কালিয়া,*
         *যোগীর আরাধ‍্য ধন।*
*গোপ গোয়ালানী,হাম অতি হীনা,*
       *না জানি ভজন পূজন।।*
*পিরীতি-রসেতে, ঢালি তনু মন,*
       *দিয়াছি তোমার পায়।*
*তুমি মোর পতি,তুমি মোর গতি,*
        *মন নাহি আন ভায়।।*
*কলঙ্কী বলিয়া, ডাকে সব লোকে,*
       *তাহাতে নাহিক দুঃখ।*
*তোমার লাগিয়া, কলঙ্কের হার,*
       *গলায় পরিতে সুখ।।*
*সতী বা অসতী, তোমাতে বিদিত,*
        *ভাল মন্দ নাহি জানি।*
*কহে চন্ডীদাস, পাপপুণ‍্য সম,*
        *তোহারি চরণ খানি।।*
🦚🦚🦚🦚🦚🦚🦚🦚🦚🦚
*পিরীতি নগরে, বসতি করিব,*
        *পিরীতে বাঁধিব ঘর।*
*পিরীতি দেখিয়া, পড়শী করিব,*
        *তা বিনে সকলে পর।।*
*পিরীতি দ্বারের, কবাট করিব,*
         *পিরীতে বাঁধিব চাল।*
*পিরীতে মজিয়া, সদাই থাকিব,*
         *পিরীতে গোঙাব কাল।।*
*পিরীতি পালঙ্কে, শয়ন করিব,*
         *পিরীতি শিথান মাথে।*
*পিরীতি বালিশে,আলিস ত‍্যজিব,*
        *থাকিব পিরীতি সাথে।।*
*পিরীতি সরসে, সিনান করিব,*
         *পিরীতি-অঞ্জন লব।*
*পিরীতি ধরম, পিরীতি করম,*
         *পিরীতে পরাণ দিব।।*
*পিরীতি নাসার, বেশর করিব,*
        *দুলিবে নয়ন কোণে।*
*পিরীতি অঞ্জন, লোচনে পরিব,*
       *দ্বিজ চন্ডীদাস ভণে।।*
🦜🦜🦜🦜🦜🦜🦜🦜🦜🦜
*কাল জল ঢালিতে সই কালা পড়ে মনে।*
 *নিরবধি দেখি কালা শয়নে স্বপনে।।*
*কাল কেশ এলাইয়া বেশ নাহি করি।*
*কাল অঞ্জন আমি নয়ানে না পরি।।*
**আলো সই মুঞি শুনিলাম নিদান।*
*বিনোদ বঁধূয়া বিনে না রহে পরাণ।।*
 *মনের দুঃখের কথা মনে সে রহিল।*
*কুটিল সে শ‍্যামশেল বাহির নহিল।।*
  *চন্ডীদাস কহে রূপ শেলের সমান।*
 *নাহি বাহিরায় শেল দগধে পরাণ।।*
*🌻উপরে চন্ডীদাসের যে সমস্ত পদাবলী উদ্ধত করা হল,তাতে পাঠক বুঝতে পারবেন যে, শ্রীগৌরাঙ্গসুন্দর ও শ্রীমতীর ভাব একইরকম।শ্রীমতী রাধিকার যে দশটি ভাব হয়েছিল, শ্রীমন্মহাপ্রভুরও সেই সমস্ত ভাব হয়েছিল।স্বর্গীয় কৃষ্ণকমল গোস্বামী মহাশয়ও,মহাপ্রভুর ও শ্রীমতীরাধারাণীর ভাবের সাম‍্য দেখাবার জন্য দিব‍্যোন্মাদ ভাব বর্ণন করেছেন।তাঁর রচিত কয়েকটি গান উদ্ধৃত করা গেল =*
▪▪▪▪▪▪▪▪▪▪
*এখন আমার বেঁচে আর ফল কি বল,সজনি!*
*আমার বিচ্ছেদ জ্বালায়, প্রাণ জ্বালায়,*
 *কিবা দিবা কি রজনী, গো সজনি!*
*কৃষ্ণ-শূন‍্য বৃন্দারণ‍্য,জীবন হ'লো প্রেমশূন‍্য,*
        *আমার যথা গৃহ তথারণ‍্য,*
*মরিলে বাঁচি এখনি---গো সজনি!*
                *ক্রমাগত*
🌻🌻🌻🌻🌻🌻🌹🌻🌻🌻🌻🌻🌻
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 শ্রীশ্রীজগন্নাথ ও শ্রীশ্রীগৌরাঙ্গ 🌷 নবম ভাগ 🌻 শ্রীযুক্ত রাজর্ষি গোপালচন্দ্র আচার্য‍্য চৌধুরী প্রণীত ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📝 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/02/jagannath9.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(৮৪)শ্রীশ্রীজগন্নাথ ও শ্রীশ্রীগৌরাঙ্গ*
           *🔺নীলাচলে মহাপ্রভু🔺*
               *🌹গম্ভীরা-লীলা🌹*
                  ~~~~~~~~~~
*🍀শ্রীকৃষ্ণ যে চিন্তাধারা নিয়ে শ্রীগৌরাঙ্গ হয়ে অবতীর্ণ হয়েছিলেন, তা গম্ভীরায় পরিপূর্ণ করেছিলেন। ব্রজে শ্রীমতী যে ভাব নিয়ে শ্রীকৃষ্ণের সেবা করেছিলেন, তা শ্রীমন্মহাপ্রভু প্রকট করেছেন।*
▪▪▪▪▪▪▪▪▪▪
*সখি,আমি এই ব্রজমাঝে রমণী সমাজে,*
  *ছিলাম শ‍্যাম-গরবিনী গো, সজনি ;*
*হলো দারুণ বিধি বাম,হারাইলাম শ‍্যাম,*
     *হ'লাম প্রেম-কাঙ্গালিনী গো,সজনি।*
*সখি গরল খাইয়ে মরি,কিংবা বিষধর ধরি,*
   *নইলে অনলে প্রবেশ করি,*
   *ত‍্যজিব জীবন এখনি,সজনি।*
*যখন বিরলে বসিয়ে নয়ন মুদে দেখি,*
   *তখন যেন প্রাণ-সই গো।*
*ও সে নটবর বেশে দাঁড়ায় এসে দেখি।*
*দিয়ে গলে পীতাম্বর,বলে পীতাম্বর রাধে বিধুমুখী!*
  *একবার বদন তুলে নয়ন মেলে দেখ দেখি।*
*অমনি দেখি বলে যদি আঁখি মেলে দেখি।*
*দেখি দেখি করি পুনঃ নাহি দেখি,*
*না দেখিলে দেখি দেখিলে না দেখি,*
    *একি দেখি বল দেখি!*
*🌻শ্রীমন্মহাপ্রভুরই মত কৃষ্ণকমল গোস্বামীর রাধা,এই বলে পাগলিনীর মত ধাবিতা হয়ে,অতি করুণ-স্বরে বিলাপ করতে লাগলেন।*
*কোথা রইলে প্রাণনাথ ওহে নিঠুর মুরলী-বদন।*
*দেখা দিয়ে প্রাণ রাখ ওহে নিঠুর মুরলী-বদন।।*
*🌻মহাপ্রভুও শ্রীকৃষ্ণ অন্বেষণে বাহ‍্যজ্ঞানশূন‍্য-- দিগ্ বিদিক জ্ঞান নেই। স্বরূপদামোদর,রামানন্দ প্রভৃতি ভক্তবৃন্দ তাঁকে রক্ষণাবেক্ষণ ও সান্ত্বনা করেছেন--এই চিত্র গোস্বামী মহাশয়ের "রাই উন্মাদিনী" তে রাধা চরিত্রে অতি পরিস্ফুট হয়েছে।প্রেমোন্মাদিনী শ্রীমতী কৃষ্ণ অন্বেষণে দিশাহারা হয়ে গমন করছেন=*
*🌹আর ললিতা বলতে লাগলেন--*
  *ধীরে ধীরে চল্ গজগামিনী।*
*অমন করে যাসনে্ যাসনে্ যাসনে্ গো ধনি।*
*(তোরে বারে বারে বারণ করি রাই)*
*(ধীরে ধীরেচল গজগামিনী)*
*একে বিষাদে তোর কৃশ তনু,*
*মরি মরি হাঁটিতে কাঁপিছে জানু (গো),*
*তুই কি আগে গেলে কৃষ্ণ পাবি।*
        *(চঞ্চলা হইলি কেন?)*
*না জানি কোন গহন বনে প্রাণ হারাবি।।*
    *কত কন্টক আছে গো বনে,*
   *ও রাই ফুটিবে দুটি চরণে!*
   *কত বিজাতি ভুজঙ্গ আছে,*
*ও তোর কমল-পদে দংশে পাছে (গো)*
         *গহন-কানন-মাঝে।*
  *হল নয়ন-ধারায় পিছল পথ,*
     *(আর কাঁদিসনে গো,বিনোদিনী)*
*বলি যাসনে্ রাধে এত দ্রুত (গো)*
*মোদের কাঁধে দুটি বাহু থুয়ে ;*
*কমলিনী চল গো পথ নিরখিয়ে।*
   *(আমরা তো তোর সঙ্গে যাব)*
*🌻গোস্বামী মহাশয়ের আর একটি গান উদ্ধৃত করা হল।এতে মেঘ দেখে শ্রীমতীর কৃষ্ণভ্রম বর্ণিত হয়েছে।*
*কি ভাবিয়া মনে,দাঁড়ায়ে ওখানে (এস হে)*
  *একবার নিকুঞ্জ-কাননে কর পদার্পণ।*
*একবার আসিয়ে সমক্ষে,দেখিলে সচক্ষে,*
  *জানবে সবে কত দুঃখে রক্ষে করেছি জীবন।*
☆               ☆               ☆               ☆              ☆
    *ভাল ভার বঁধূ ভালত আছিলে,*
   *ভাল ভাল সময় আসি দেখা দিলে ;*
*আর ক্ষণেক পরে দেখা দিলে সখা দেখা হত না।*
*তোমার বিরহে সবার হ'ত যে মরণ।*
*আমার মত তোমার অনেক রমণী,*
*তোমার মত আমার তুমিই গুণমণি ;*
*যেমন দিনমণির কত কমলিনী,*
*কিন্তু কমলিনীগণের একই দিনমণি।*
*🌻শ্রীমতীর প্রার্থনায় মেঘ কাছে আসবার নয়--মেঘ চলতে লাগল ; শ্রীমতী কৃষ্ণভ্রমে তাকে ব‍্যাকুল ভাবে বলতে লাগলেন---*
*ওহে তিলেক দাঁড়াও দাঁড়াও হে,*
*অমন করে যাওয়া উচিত নয়।*
      *দাঁড়াও হে দুঃখিনীর বঁধূ--*
      *ওহে যে যার শরণ লয়---*
*নিঠুর বঁধূ,বল তারে কি বধিতে হয়।*
*🌻মহাপ্রভুর ভাবের অবধি নাই। বিরহের পর মূর্ছা হত ; তার পর কৃষ্ণদর্শন। যখন তাঁর কৃষ্ণ দর্শন করে তৃপ্তি-লাভ না হত,তখন বিধিকে নিন্দা করতেন। যথা চৈতন‍্যচরিতামৃতে=*
*🌷এ মাধুর্য‍্যামৃত সদা যেই পান করে।*
*🌷তৃষ্ণা শান্তি নহে,তৃষ্ণা বাড়ে নিরন্তরে।।*
*🌷অতৃপ্ত হইয়া করে বিধির নিন্দন।*
*🌷অবিদগ্ধ বিধি ভাল না জানে সৃজন।।*
*🌷কোটি নেত্র নাহি দিল সবে দিল দুই।*
*🌷তাহাতে নিমেষ!কৃষ্ণ কি দেখিব মুঞি।।*
*💧কৃষ্ণকমল গোস্বামীরও রচিত এই ভাবের একটি গান আছে, যথা=*
*কি হেরিব শ‍্যাম,      রূপ নিরুপম,*
      *নয়ন তো মম মনোমত নয়।*
*যখন নয়নে নয়ন,      মন সহ মন,*
         *হ'তেছিল সম্মিলন---*
*নয়ন পলক দিল হেন সুখের সময়*।
*শ‍্যাম দরশনে আমার ত্রিবিধ বৈরি*।
*বল কেমনে ওরূপ নয়ন-ভরে হেরি।*
*ঘরে গুরু লোক,      নয়ন-পলক,*
    *আমার মুখেতে উপজে শোক।*
*তাহে আনন্দ মদন দুই দুরাশয়।*
*সখি যে হেরিবে কৃষ্ণানন,*
 *তারে কোটি নেত্র না দেয় কেন।*
    *যদি ছিল বা দুইটি নয়ন,*
    *তাহে কৈল পক্ষ আচ্ছাদন।*
    *(বিধি সৃজন জানে না--)*
*সখি কি তপ করিয়া মীন।*
*পেল দুইটি চক্ষু পক্ষ্ম-হীন।।*
*আমি সেই তপ করি,*
*মীনের মত নেত্র ধরি,*
*হেরি হরি পরাণ ভরিয়া।*
*দিল পক্ষ্ম তাহে নাহি ছিল ক্ষতি।*
*যদি দিত আঁখির উড়িতে শকতি*।।
*তবে চকোরের মত,সে লাবণ‍্যামৃত,*
    *আঁখি উড়ি উড়ি পান করিত।*
*তবে পিয়াসা মিটিত,হেন মনে লয়।*
*🍀তুন্ডে তান্ডবিনী রতিং বিতনুতে তুন্ডাবলী-লব্ধয়ে,*
*🍀কর্ণক্রোড়-করম্বিনী ঘটয়তে কর্ণার্ব্বুদেভ‍্যঃ স্পৃহাং।*
*🍀চেতঃপ্রাঙ্গণ-সঙ্গিনী বিজয়তে সর্বেন্দ্রিয়াণাম্ কৃতিম্,*
*🍀নো জানে জনিতা কিয়দ্ভিরমৃতৈঃ কৃষ্ণেতি বর্ণদ্বয়ী।।*
*🌻এই শ্লোকের দ্বারাও বিধিকে নিন্দা করা হচ্ছে।এমন অমৃতময় নাম জপবার জন্য,বিধি একটি মাত্র জিহ্বা দিয়েছেন।এই নাম জপ করবার জন্য অসংখ্য রসনা না হলে স্পৃহার নিবৃত্তি হয় না বা বাসনা পূরণ হয় না।বিধি দুইটি মাত্র কান দিয়েছেন,তাতে শ্রবণ-পিপাসা নিবৃত্ত হয় না ; অর্ব্বুদ কান কেন হল না, এই বলে দুঃখ প্রকাশ করা হয়েছে। কৃষ্ণকমল গোস্বামীর গানের দ্বারাও সেই ভাবেই বিধিকে নিন্দা করা হয়েছে।বাস্তবিক এই ভাব ব‍্যক্ত করবার জন্য কোনও ভাষা নাই ; কোনও ইন্দ্রিয় নাই। যখন একটি ইন্দ্রিয়,কোনও গভীর ভাব ব‍্যক্ত করতে চেষ্টা করে,আর সেই ইন্দ্রিয়ের শক্তিতে কুলায় না,তখনই এইরকম মনে হয় যে,হাজার জিহ্বা ইত্যাদি হলে,এই ভাব ব‍্যক্ত করা যেত।*
                     *ক্রমাগত*
🦚🦚🦚🦚🦚🦚🙏🦚🦚🦚🦚🦚🦚
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 শ্রীশ্রীজগন্নাথ ও শ্রীশ্রীগৌরাঙ্গ 🌷 নবম ভাগ 🌻 শ্রীযুক্ত রাজর্ষি গোপালচন্দ্র আচার্য‍্য চৌধুরী প্রণীত ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📝 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/02/jagannath9.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(৮৫)শ্রীশ্রীজগন্নাথ ও শ্রীশ্রীগৌরাঙ্গ*
         *💐নীলাচলে মহাপ্রভু💐*
             *💐গম্ভীরা-লীলা💐*
           💐💐💐💐💐💐💐
*🌹শ্রীমন্মহাপ্রভুর ভাবের অবধি নেই।দ্বাদশ বৎসর ব‍্যাপী কত ভাবেই যে,মহাপ্রভু প্রেমের বিকার প্রকাশ করেছেন,তা লিখে শেষ করা যায় না।বিরহই তার কেন্দ্রস্থল,সেখান হতেই সমস্ত ভাবের উদয় হয়েছে।এই ভাব প্রকাশ করবার জন্য,বিদ‍্যাপতি ও জয়দেব গোস্বামী হতে কিছু উদ্ধৃত করছি।*
*🌷মাধব পেখনু সে ধনি রাই।*
*🌷চিত-পুতলী জনু এক দিঠে চাই।।*
*🌷বেঢ়ল সকল সখী চৌপাশা।*
*🌷অতি ক্ষীণ শ্বাস বহত তহ নাসা।।*
*🌷অতি ক্ষীণ তনু জনু কাঞ্চন রেহা।*
*🌷হেরইতে কোই না ধন নিজ দেহা।।*
*🌷কঙ্কণ বলিয়া গলিত দুই হাত।*
*🌷খুলল কবরী না সম্বরী মাথ।।*
*🌷চেতন মূরছন বুঝই না পারি।*
*🌷অনুক্ষণ ঘোর বিরহ-জ্বর জারি।।*
*🌷বিদ‍্যাপতি কহে নিরদয় দেহ।*
*🌷তেজল অব জগজন-অনুলেহ।।*
🔺🔺🔺🔺🔺🔺🔺🔺🔺🔺🔺
     *মাধব কত পরবোধব রাধা।*
*হা হরি হা হরি,কহত হি বেরি বেরি,*
       *অব জীউ করব সমাধা।।*
*ধরণী ধরিয়া ধনি,যতন হি বৈঠত,*
      *পুনহি উঠই নাহি পারা।*
*সহজহি বিরহিনী, জগমাহা তাপিনী,*
     *বৈরি মদন-শর বিরহা।।*
*অরুণ-নয়ান-লোরে,তিতল কলেবরে,*
      *বিলোলিত দীঘল কেশা।*
*মন্দির বাহির, করইতে সংশয়,*
      *সহচরিগণ তহি শেষা।।*
*কি কহব খেদ, ভেদ জনু অন্তর,*
       *ঘন ঘন উতপত শ্বাস।*
*ভণয়ে বিদ‍্যাপতি,সোই কলাবতী,*
       *জীবন বন্ধন আশ পাশ।।*
*ভাব-সম্মিলনে আনন্দ হয়েছে,সাময়িক বিরহে নিবৃত্তি হয়েছে, তাই বিদ‍্যাপতি প্রকাশ করেছেন=*
*🌷কি কহব রে আনন্দ ওর।*
*🌷 চিরদিনে মাধব মন্দিরে মোর।।*
*🌷পাপ সুধাকর যত দুঃখ দেল।*
*🌷পিয়া-মুখ-দরশনে তত সুখ ভেল।।*
*🌷আঁচর ভরিয়া যদি মহানিধি পাই।*
*🌷তব হাম পিয়া দূরদেশে না পাঠাই।।*
*🌷শীতের ওঢ়নী পিয়া গিরীষের বা,।*
*🌷বরিষার ছত্র পিয়া দরিয়ার না,।*
*🌷 ভণয়ে বিদ‍্যাপতি শুন বরনারি।*
*🌷 সুজনক দুঃখ দিবস দুই চারি।।*
          *জয়দেব গোস্বামী*
       ▪▪▪▪▪▪▪
*পশ‍্যতি দিশি দিশি রহসি ভবন্তম্,*
*ত্বদধর-মধুর-মধুনি পিবন্তম্।*
*নাথ হরে সীদতি রাধা বাস-গৃহে।*
*ত্বদভিসরণ-রভসেন স্খলন্তী,*
*পততি পদানি কিয়ন্তি চলন্তী।*
*বিহিত-বিশদ-বিস-কিশলয়-বলয়া,*
*জীবতি পরমিহ তব রতি-কলয়া।*
*মুহুরবলোকিত-মন্ডন লীলা,*
*মধুরিপুরহমিতি ভাবন-শীলা।*
*ত্ত্বরিতমুপৈতি ন কথমভিসারম্,*
*হরিরিতি বদতি সখীমনুবারম্।*
*শ্লিষ‍্যতি চুম্বতি জলধর-কল্পম্,*
*হরিরুপগত ইতি তিমিরমনল্পম্।*
*ভবতি বিলম্বিনি বিগলিত-লজ্জা,*
*বিলপতি রোদিতি বাসক-সজ্জা।*
*শ্রীজয়দেব-কবেরিদ-মুদিতম্,*
*রসিকজনং তনুতামতি মুদিতম্।*

*এবং ব্রতঃ স্থপ্রিয়-নামকীর্ত্ত‍্যা,*
*জাতানুরাগো দ্রুতচিত্ত উচ্চৈঃ।*
*হসত‍্যথো রোদিতি রৌতি গায়-*
*ত‍্যুন্মাদবন্নৃ ত‍্যতি লোক-বাহ‍্যঃ।।*
*🌻এই মহাভাবের লক্ষণ শ্রীমতীরাধারাণীর যেরকম হয়েছিল, শ্রীমন্মহাপ্রভুরও সেইরকম হত।মহাপ্রভু কখনও ভক্তের ভাব অঙ্গীকার করে,দীনভাবে প্রেমভিক্ষা করছেন, যথা চৈতন‍্যচরিতামৃতে=*
*🌷অতি দৈন‍্যে পুনঃ মাগে দাস‍্য-ভক্তিদান।*
*🌷আপনাকে করে সংসারী জীব অভিমান।।*
*🌻মহাপ্রভুর এই যে ফিভোর অবস্থা,এতেও তিনি ধর্ম প্রচারের জন্য নাম সংকীর্তন সম্বন্ধে উপদেশ দিতে ভুলেন নাই।*
                  *ক্রমাগত*
🔻🔻🔻🔻🔻🔻🔻🔻🔻🔻🔻🔻🔻
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 শ্রীশ্রীজগন্নাথ ও শ্রীশ্রীগৌরাঙ্গ 🌷 নবম ভাগ 🌻 শ্রীযুক্ত রাজর্ষি গোপালচন্দ্র আচার্য‍্য চৌধুরী প্রণীত ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📝 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/02/jagannath9.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(৮৬)শ্রীশ্রীজগন্নাথ ও শ্রীশ্রীগৌরাঙ্গ*
          *☘নীলাচলে মহাপ্রভু☘*
             *🌺গম্ভীরা-লীলা🌺*
             ▪▪▪▪▪▪
*শ্রীমন্মহাপ্রভু বিভিন্ন বিরহের পদাবলী আস্বাদন করতেন,যেমনটি শ্রীমতী ব্রজে করেছিলেন।*
🌲🌲🌲🌲🌲🌲🌲🌲🌲🌲🌲🌲
*কদম্বের বন হৈতে,কিবা শব্দ আচম্বিতে,*
        *আসিয়া পশিল মোর কানে।*
*অমৃত নিছিয়া ফেলি,কি মাধুর্য‍্য পদাবলী,*
      *কি জানি কেমন করে মনে।।*
*(সখীরে)নিশ্চয় করিয়া কহি তোরে।*
*হাহা কুলাঙ্গনাগণ,গ্রহিবারে ধৈর্য‍্যগণ,*
         *যাহে হেন দশা হইল মোরে।।*
*শুনিয়া ললিতা কহে,অন‍্য কোন শব্দ নহে,*
        *মোহন-মুরলীধ্বনি এহ।*
*সে শব্দ শুনিয়া কেনে,হৈলা তুমি বিমোহনে,*
        *রহ নিজ চিতে ধরি থেহ।।*
*রাই কহে কেবা জন,মুরলী বাজায় যেন,*
          *বিষামৃতে একত্র করিয়া।*
*জল নহে হিমে জনু,কাঁপাইছে সব তনু,*
        *শীতল করিয়া মোর হিয়া।।*
*অস্ত্র নহে মন ফুটে,কাটারিতে যেন কাটে,*
       *ছেদন না করে হিয়া মোর।*
*তাপ নহে উষ্ণ অতি,পোড়ায় আমার মতি,*
       *চন্ডীদাস ভাবি না পায় ওর।।*
*🌻মহাপ্রভুর এই যে বিভোর অবস্থা,এতেও তিনি ধর্ম প্রচারের জন্য নাম-সংকীর্তন সম্বন্ধে উপদেশ দিতে ভুলেন নাই।যথা চৈতন‍্যচরিতামৃতে=*
*🌷নানা ভাব উঠে প্রভুর হর্ষ শোক রোষ।*
*🌷দৈন‍্য উদ্বেগ আদি উৎকণ্ঠা সন্তোষ।।*
*🌷সেই সেই ভাবে নিজে শ্লোক পড়িয়া।*
*🌷শ্লোকের অর্থ আস্বাদয়ে দুই বন্ধু লৈয়া।।*
*🌷কোন দিন কোন ভাবে শ্লোক-পঠন।*
*🌷সেই শ্লোক আস্বাদিতে রাত্রি জাগরণ।।*
*🌷হর্ষে প্রভু কহে শুন স্বরূপ রাম রায়।*
*🌷নাম-সংকীর্তন-কেলি পরম উপায়।।*
*🌷সংকীর্তন-যজ্ঞে কলৌ কৃষ্ণ-আরাধন।*
*🌷সেইত সুমেধা পায় কৃষ্ণের চরণ।।*
*🌷নাম-সংকীর্তন হয় সর্বানর্থ-নাশ।*
*🌷সর্বশুভোদয় কৃষ্ণে পরম উল্লাস।।*
*🌷সর্বশক্তি নামে দিল করিয়া বিভাগ।*
*🌷আমার দুর্দ্দৈব,নামে নাহি অনুরাগ।।*
*🌷যেরূপে লইলে নাম প্রেম উপজয়।*
*🌷তাহার লক্ষণ শুন স্বরূপ রামরায়।।*
*🌷"তৃণাদপি সুনীচেন তরোরিব সহিষ্ণুনা।*
*🌷অমানিনা মান দেন কীর্তনীয়ঃ সদা হরিঃ।।*
*🌻দ্বাদশ বৎসর ব‍্যাপী মহাপ্রভু যে লীলা করেছেন,তা ভাষায় বর্ণনাতীত ; আমরা আর কি লিখিব?মহাপ্রভুর ভাব এবং শ্রীমতীর ভাবের একত্ব দেখাবার জন্য, শ্রীপাদ কবিরাজ গোস্বামীর একটি পয়ার উদ্ধৃত করছি=*
*🌷উদ্বেগে দিবস না যায় ক্ষণে যুগ সম।*
*🌷বর্ষার মেঘ-প্রায় অশ্রু বর্ষে নয়ন।।*
*🌷গোবিন্দ-বিরহে শূন‍্য হইল ত্রিভুবন।*
*🌷তুষানলে পোড়ে যেন না যায় জীবন।।*
*🌷কৃষ্ণ উদাসীন হইল করিতে পরীক্ষণ।*
*🌷সখী সব কহে,"কৃষ্ণে কর উপেক্ষণ"।।*
*🌷এতেক চিন্তিতে রাধার নির্মল হৃদয়।*
*🌷স্বাভাবিক প্রেমার স্বভাব করিল উদয়।।*
*🌷ঈর্ষা,উৎকন্ঠা,দৈন‍্য,প্রৌঢ়ি, বিনয়।*
*🌷এত ভাবে এক ঠাঁই করিল উদয়।।*
*🌷এত ভাবে রাধার মন অস্থির হইল।*
*🌷সখীগণ আগে প্রৌঢ়ি শ্লোক যে পড়িল।।*
*🌷সেই ভাবে প্রভু সেই শ্লোক উচ্চারিল।*
*🌷শ্লোক উচ্চারিতে তদ্রূপ আপনি হইল।।*
*🌺প্রৌঢ়ি=যৌবন ও বার্ধক‍্যের মাঝামাঝি অবস্থা।*
*🌹শ্লোক যথা=*
*🌷আশ্লিষ‍্য বা পাদব্রতাং পিনষ্টু মা-*
*🌷মদর্শনান্মর্ম্মহতাং করোতু বা।*
*🌷যথা তথা বা বিদধাতু লম্পটো,*
*🌷মৎপ্রাণনাথস্তু সএব নাপরঃ।।*
*🌻তিনি আমাকে আলিঙ্গন করে পাদসেবাতেই নিয়োগ করুন, বা মহাদুঃখে ফেলে দিয়ে চূর্ণবিচূর্ণ করুন, কিম্বা আমাকে দর্শনসুখে বঞ্চিত রেখে নিদারুণ মর্মপীড়াই প্রদান করুন, কিম্বা বহুবল্লভ হয়ে যথেচ্ছা বিহারই করুন,হে সখি!তিনি পর না,আমারই প্রাণনাথ।এই বলে আবার কৃষ্ণকর্ণামৃতের শ্লোক উচ্চারণ করে প্রার্থনা করছেন=*
*🌷অয়ি দীনদয়ার্দ্রনাথ হে,*
*🌷মথুরানাথ কদাবলোক‍্যসে।*
*🌷হৃদয়ং ত্বদলোক-কাতরং,*
*🌷দয়িত ভ্রাম‍্যতি কিং করোম‍্যহং।।*
*🌻দীন আমরা,আমাদের হৃদয়ও যেন দীনদয়ার্দ্রনাথ মথুরানাথের জন্য ব‍্যাকুল হয়ে কৃতার্থ হয়।শ্রীমন্মহাপ্রভুর চরণে এই প্রার্থনা করি,আমরা এইখানেই মহামহীয়সী পরম-ভাবময়ী, রসময়ী গম্ভীরা-লীলার দিগ্ দর্শনমাত্র করেই উপসংহার করলাম।*
🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 শ্রীশ্রীজগন্নাথ ও শ্রীশ্রীগৌরাঙ্গ 🌷 নবম ভাগ 🌻 শ্রীযুক্ত রাজর্ষি গোপালচন্দ্র আচার্য‍্য চৌধুরী প্রণীত ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📝 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/02/jagannath9.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(৮৭)শ্রীশ্রীজগন্নাথ ও শ্রীশ্রীগৌরাঙ্গ*
         *🔷নীলাচলে মহাপ্রভু🔷*
            *শ্রীজয়দেব গোস্বামী*
             ******************
*🍀এখন আমরা আর এক মহাপুরুষের কথা উল্লেখ করব,যাঁর সহিত শ্রীশ্রীজগন্নাথদেবের বিশেষ একটি লীলা-প্রসঙ্গের সংযোগ রয়েছে। ইঁনার নাম শ্রীজয়দেব।ইঁনার জন্মভূমি নিয়ে মতান্তর আছে।কেউ বলেন,ইঁনার জন্মভূমি কটক জেলায় ; কেউ বলেন,বর্দ্ধমানের অন্তর্গত কেন্দুবিল্ব গ্রাম। এই কেন্দুবিল্ব গ্রামে জয়দেবের স্মৃতির জন্য বাৎসরিক উৎসব হয়ে থাকে। সুতরাং কেন্দুবিল্বই ইঁনার জন্মভূমি, তা একরকম প্রমাণিত হয়েছে।ইনি লক্ষ্মণ সেনের সমকালীন এবং তাঁর সভাপন্ডিত ছিলেন।তাঁর গীতগোবিন্দ গ্রন্থে তিনি লিখেছেন=*
*বাচঃ পল্লবয়ত‍্যুমাপতিধরঃ সন্দর্ভশুদ্ধাং গিরং।*
*জানীতে জয়দেব এব শরণঃ শ্ল‍্যাঘ‍্যোদুরূহদ্রুতে।।*
*শৃঙ্গারোত্তর-সৎপ্রমেয়-রচনৈরাচার্য‍্য গোবর্দ্ধনস্পর্দ্ধী।*
*কোহপি ন বিশ্রুতঃ শ্রুতিধরো ধোয়ী কবিঃ ক্ষ্মাপতেঃ।।*
*🌻এই শ্লোকের দ্বারা আমরা বুঝতে পারি--উমাপতি,শরণ,ধোয়ী, গোবর্দ্ধনাচার্য‍্য ও জয়দেব প্রভৃতি কবিগণ সমকালীন।ইঁনারা লক্ষ্মণসেনের সভাপন্ডিত, সুতরাং জয়দেবও যে,এই সভার সঙ্গে বিশেষ ভাবে চরম সম্পর্ক ছিল তা বুঝা যায়। অন‍্যান‍্য গ্রন্থের মতামতের সঙ্গে একবাক‍্যতা করলে,তিধি যে,লক্ষ্মণ সেনের সভাপন্ডিত ছিলেন,তাতে আর সন্দেহ থাকে না। গোবর্দ্ধন পন্ডিত লক্ষ্মণসেনের রাজত্বের ইতিহাস লিখতে গিয়েও জয়দেব সম্বন্ধে উল্লেখ করেছেন।ভক্তমাল-লেখক বনমালী দাস তাঁর রচিত জয়দেব-চরিত গ্রন্থে জয়দেবের বাসস্থান কেন্দুবিল্বতেই নির্ণয় করেছেন।অদ‍্যাবধিও কেন্দুবিল্বে জয়দেবের বাসস্থান বলে, মকর-সংক্রান্তিতে সমস্ত লোক সমবেত হন এবং অজয় নদে স্নান করেন।*
*🍀🌖এইরকম চির-প্রসিদ্ধ জনপ্রবাদের বিরুদ্ধে অন‍্য কোনও বিশেষ প্রমাণ পাওয়া যায় না,যাতে জয়দেবের বাসভূমি অন‍্য জায়গায় কল্পনা করা যেতে পারে। গীতগোবিন্দের শ্লোক পাঠ করলে সহজেই মনে হয়,এটি যেন বাংলা রচনা ; কেবল সংস্কৃতের বিভক্তি যুক্ত হয়েছে।যদি তিনি বাঙ্গালী না হতেন,তাহলে তাঁর রচনা এরকম হত কি না সন্দেহ। কেউ কেউ জয়দেবের বাসভূমি যে উড়িষ‍্যাতে বলেন,সে মত সমর্থন করবার বিশেষ কোন প্রমাণ পাওয়া যায় না। সুতরাং আমরাও শ্রীজয়দেবের জন্মভূমি বাংলাদেশেয় ধরে নিলাম।*
*🍀যদিও জয়দেবের জন্মভূমি বাংলাদেশ, তবুও এই মহাপুরুষের প্রকৃত পূজা এবং এই সাধুপুরুষের প্রকৃত-তত্ত্ব বাঙ্গালী বুঝতে পারেনি।উড়িষ‍্যাতে জয়দেব যেরকম ভাবে পূজিত হতেন, এবং এখনও হচ্ছেন, আমাদের দেশে শ্রীজয়দেবকে সেরকম ভাবে কে পূজা করে?রাজা হতে সামান্য প্রজা পর্যন্ত,শ্রীজয়দেবের রচিত গীতগোবিন্দের গান গেয়ে থাকে, এবং শ্রীজগন্নাথের মন্দিরে নিত্য এই গীতগোবিন্দ গীত হয়ে থাকে।*
*🍀এখন আমরা শ্রীজয়দেবের ঐতিহাসিক অংশ ছেড়ে দিয়ে,তাঁর যে প্রকৃত গুণ,যে গুণে তিনি চিরস্মরণীয় হয়েছেন,যে গুণেতে ভক্তমন্ডলী অদ‍্যাবধি তাঁকে পূজা করছেন,তারই একটু আলোচনা করব।*
*শ্রীজয়দেব একজন পরমভক্ত বৈষ্ণব ছিলেন।তাঁর সম্বন্ধে যে সব আশ্চর্য‍্য ঘটনা বর্ণিত আছে,তা বিংশ শতাব্দীর শিক্ষিত যুবকদের অনেকে বিশ্বাস নাও করতে পারেন। বিশ্বাস না করলে,এই সমস্ত বিষয়ে বিশ্বাস জন্মানও কঠিন, এবং তারজন‍্য আমরা প্রয়াসীও হব না। "বিশ্বাসে মিলয়ে কৃষ্ণ তর্কে বহুদূর", এটিই আমাদের বিশ্বাস ; সুতরাং অনর্থক বাগ্ বিতন্ডা করে বুঝাবার চেষ্টা করানতে ফল নাই। শ্রীজয়দেবেরও এই বিশ্বাস ছিল, প্রমাণ স্বরূপ গীতগোবিন্দের একটি শ্লোক উদ্ধৃত করছি=*
*🌷যদি হরি-স্মরণে সরসং মনো,*
*🌷যদি বিলাস-কলাসু কুতূহলম্।*
*🌷মধুর-কোমল-কান্ত-পদাবলীং,*
*🌷শৃণু তদা জয়দেব-সরস্বতীম্।।*
*🌹শ্রীজয়দেব গোস্বামীর বাল‍্য-জীবন সম্বন্ধে আমরা বিশেষ কিছুই জানি না।জয়দেবের বাল‍্য জীবনের পর,যখন ভক্তির জীবন আরম্ভ হল,তখনই তাঁকে পুরীধামে দেখতে পাই।যখন তাঁর ভক্তির সৌরভ চারিদিকে ছড়িয়ে পরতে থাকে, তখনই বিশ্ববাসী তাঁকে চিনতে পারলেন।শ্রীজয়দেব একাধারে ভক্ত, কবি এবং গায়ক ; কাজেই তাঁর পরিচিত হওয়ার অতি সহজ সুযোগ ছিল। ভক্তেরা সাধারণতঃ প্রচ্ছন্ন (আবৃত বা গুপ্ত) থাকতে চান, বাইরের জগতের সঙ্গে তাঁরা সম্পর্ক কম রাখেন। কিন্তু জয়দেবের সম্বন্ধে তা ঘটতে পারল না। তিনি প্রত‍্যহই তাঁর গীতগোবিন্দের গান রচনা করতেন, এবং প্রত‍্যেকদিনই শ্রীজগন্নাথদেবকে গেয়ে শুনাতেন।যদিও মানুষকে শুনাবার জন্য তাঁর বাসনা ছিল না, ভগবানকে শুনানই তাঁর মূল উদ্দেশ্য ছিল ; কিন্তু একে জয়দেবের মনোহারিণী কবিতা, তাতে জয়দেবের ভক্তিমিশ্রিত কন্ঠ-- উভয়ে মিলে সেই গান এত সুমধুর হয়েছিল যে,সমস্ত মানুষ তা শুনবার জন্য ব‍্যাকুল হল।*
*এইভাবে শ্রীজয়দেব বাইরে প্রকাশিত হলেন। পুরীধামময় তাঁর নাম ব‍্যাপ্ত হয়ে পড়ল, কন্ঠে কন্ঠে তাঁর আলোচনা হতে লাগল।জয়দেবের গানের কথা অল্পদিনের মধ্যেই রাজ-দরবারে পৌঁছিল।রাজা স্বয়ং এসে সেই গান শুনবার জন্য মন্দিরে উপস্থিত হলেন।এখন হতে জয়দেব পুরীর রাজার বিশেষ প্রিয়পাত্র হলেন।যদিও রাজার সহিত বিশেষ ঘনিষ্ঠতা হল, কিন্তু বিষয়ীর সঙ্গে থাকাতেও তাঁর সাধন ভজনের কোন বিঘ্ন হল না।এই সময়ে তিনি "গীতগোবিন্দের মান" লিখছিলেন।এই সম্বন্ধে তাঁর জীবনের অনেকগুলি ঘটনা প্রসিদ্ধ আছে।*
*শ্রীজয়দেব যখন গীতগোবিন্দের কৃষ্ণলীলা গানে উন্মত্ত ছিলেন,সেই সময়ে দক্ষিণদেশ হতে এক হরিভক্ত ব্রাহ্মণ শ্রীজগন্নাথদেবের কাছে উপনীত হন।তাঁর সঙ্গে পদ্মাবতী নামে দ্বাদশ বৎসরের তাঁর একটি কন‍্যা ছিল।বহুকাল পর্যন্ত এই ব্রাহ্মণ নিঃসন্তান ছিলেন।একদা শ্রীজগন্নাথ দর্শন উপলক্ষ্যে পুরুষোত্তমক্ষেত্রে এসে, সেই ব্রাহ্মণ একান্তমনে প্রার্থনা করলেন যে,জগন্নাথদেব কৃপা করে,যদি তাঁকে একটি পুত্র বা কন‍্যা সন্তান প্রদান করেন,তবে পুত্র হলে দাস এবং কন‍্যা হলে দাসী করে শ্রীজগন্নাথদেবকে অর্পণ করবেন।*
                 *ক্রমাগত*
🛕🛕🛕🛕🛕🛕🙏🛕🛕🛕🛕🛕🛕
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 শ্রীশ্রীজগন্নাথ ও শ্রীশ্রীগৌরাঙ্গ 🌷 নবম ভাগ 🌻 শ্রীযুক্ত রাজর্ষি গোপালচন্দ্র আচার্য‍্য চৌধুরী প্রণীত ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📝 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/02/jagannath9.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(৮৮)শ্রীশ্রীজগন্নাথ ও শ্রীশ্রীগৌরাঙ্গ*
            *🔺নীলাচলে মহাপ্রভু*
            *🔻শ্রীজয়দেব গোস্বামী*
                 ◆◆◆◆◆◆◆◆◆
*🍀অতঃপর,কালক্রমে শ্রীজগন্নাথদেবের কৃপায় তাঁর এক কন‍্যা-সন্তান জন্মগ্রহণ করল।ব্রাহ্মণ তার নাম পদ্মাবতী রাখলেন।এখন পদ্মাবতীর বয়স বারো বৎসর। সেই পদ্মাবতীকে জগন্নাথদেবের কাছে সমর্পণ করবার জন্য,ব্রাহ্মণ আজ এইখানে উপস্থিত হয়েছেন। রাত্রে শ্রীজগন্নাথদেব ব্রাহ্মণকে স্বপ্নে আদেশ করলেন, "ওহে ব্রাহ্মণ, তোমার প্রতিজ্ঞা পূর্ণ হয়েছে ; আমি তোমার কন‍্যা গ্রহণ করলাম ; কিন্তু তুমি আমার এক আদেশ পালন কর।অজয়-নদের তীরে কেন্দুবিল্ব নামে এক গ্রাম আছে।সেখানে আমার অংশে ব্রাহ্মণ-কুলে জয়দেব নামে একজন হরিভক্ত জন্মগ্রহণ করেছেন।তুমি সেখানে গিয়ে, তাঁকে তোমার কন‍্যা সম্প্রদান কর।তাহলে আমি পরম সন্তুষ্ট হব।*
*🍀এই আদেশ শিরোধার্য‍্য করে,ব্রাহ্মণ কেন্দুবিল্বে উপস্থিত হলেন, এবং ভক্ত-শিরোমণি শ্রীজয়দেবকে কন‍্যা সম্প্রদান করলেন।ইতিপূর্বে শ্রীশ্রীজগন্নাথদেব স্বপ্নে পদ্মাবতীকে গ্রহণ করবার জন্য,জয়দেবকে আদেশ করেছিলেন। তদনুসারে তিনি পদ্মাবতীকে গ্রহণ করলেন। কিন্তু ভগবানের নিকট প্রার্থনা করলেন=*
*🌷স্বপ্নে জয়দেব কহে যে আজ্ঞা তোমার।*
*🌷তোমার যে আজ্ঞা তাহা মোর অঙ্গীকার।।* 
*🌷মোর এক নিবেদন শুন দয়াময়।*
*🌷প্রার্থনা করিয়ে যদি কার্য‍্যসিদ্ধি হয়।।*
*🌷কৃষ্ণ-লীলা-গ্রন্থ এক বর্ণন করিব।*
*🌷রাধাকৃষ্ণ-মূর্ত্তি রাখি তোমারে সেবিব।।*
*🌷এই দুই বাঞ্জা যদি পূরাহ আমার।*
*🌷তবে জানি মোর প্রতি সুদৃষ্টি তোমার।।*
*🌷প্রভু কহে দুই বাঞ্জা হইবে পূরণ।*
*🌷গীতগোবিন্দ-গ্রন্থ তুমি করহ রচন।।*
*কৃষ্ণ-লীলা সর্ব যাহা কেহ নাহি জানে।*
*🌷অনায়াসে জানিবে তুমি আপনার মনে।।*
*🌷সেই গ্রন্থ শুনিলে ভক্তের আনন্দ জন্মাব।*
*🌷সেবা যে করিবে তাহার নির্ণীত কহিব।।*
*🌷এই কেন্দুবিল্ব মোর পুরাতন ধাম।*
*🌷কত দিন কর তুমি ইহাতে বিশ্রাম।।*
*🌻শ্রীবনমালী দাসের এই জয়দেব-চরিত অনুসারে,জয়দেব যে কখনও পুরীধামে গিয়েছেন,এইরকম বুঝা যায় না।পক্ষান্তরে চন্দ্রদত্ত-কৃত সংস্কৃত ভক্তমাল-গ্রন্থে শ্রীজয়দেবের জন্মভূমি পুরীতে নির্দেশ করা হয়েছে।জয়দেব যে কখনও বঙ্গদেশে এসেছেন,কিম্বা বৃন্দাবনে গিয়েছেন, তিনি এরকম কোনও উল্লেখ করেননি। সুতরাং ইঁনাদের পরস্পর বিরোধ দেখা যায়। বনমালী দাসের উক্তি যদি সত‍্য হয়,তাহলেও জয়দেব যে পুরীতে কোনও সময়ে গিয়েছেন,তা অস্বীকার করার উপায় নাই। কারণ জয়দেবের ঘটনাবলী এবং তাঁর গীতগোবিন্দ পুরীধামে এতই প্রচলিত যে,জয়দেব সে জায়গায় কতদিন পর্যন্ত বাস না করলে,এরকম প্রসিদ্ধি লাভ করতে পারতেন না।এই উভয়ের পরস্পর বিরোধের মীমাংসা পাঠক করবেন।আমরা কেবল উভয়ের মত অবলম্বনে যে সমস্ত ঘটনা ঘটেছে,তাইই লিপিবদ্ধ করেছি।*
*🌷ঠাকুর বলেন স্বপ্নে আজ্ঞা মোরে হইল।*
*🌷বিবাহ করিব কন‍্যা অঙ্গীকার কৈল।।*
*🌷কিন্তু এক চমৎকার স্বপ্নেতে দেখিল।*
*🌷রাধাকৃষ্ণ-মূর্ত্তি সেবা প্রভু মোরে দিল।।*
*🌷কদম্বখন্ডীর ঘাটে অজয় কিনারে।*
*🌷এক হাঁটু জল মধ্যে তাহে শোভা করে।।*
*🌷চল শীঘ্র সবে যাব তাঁহা দরশন।*
*🌷তাঁহারে আনিলে মোর বাঞ্জিত পূরণ।।*
*🌻অতঃপর,সমস্ত গ্রামবাসী ও জয়দেব একত্র হয়ে,অজয় নদের তীরে উপস্থিত হলেন।*
*🌷হেন কালে জয়দেব ঠাকুর মহাশয়।*
*🌷অজয়ের জলে গেল হইয়া হৃষ্টময়।।*
*🌷এক হাঁটু জল মধ্যে তাহে হাত দিলা।*
*🌷সিংহাসনে প্রতিমা দুই হাতে উঠাইলা।।*
*🌷রূপ দেখি সর্বলোকের বিস্ময় হইল।*
*🌷সাক্ষাৎ রাধাকৃষ্ণ যেন অবতীর্ণ হইল।।*
*🌻সেইসময়ে বর্দ্ধমানের রাজা এই দুই বিগ্রহ স্থাপন করে প্রতিষ্ঠা করেন, এবং বহু অর্থব‍্যয়ে শ্রীশ্রীরাধামাধবের চারমহল পুরী নির্মাণ করাইয়ে,অষ্টকালীন সেবার সুবন্দোবস্ত করেন।তখন জয়দেব পদ্মাবতীর শুভ-পরিণয় কার্য‍্য সুসম্পন্ন করেন।এখন হতে জয়দেব ও পদ্মাবতী শ্রীশ্রীরাধামাধবের সেবায় নিযুক্ত রইলেন।বনমালী দাস তাঁদের নিত‍্য-কার্য‍্য সম্বন্ধে এইরকম লিখেছেন, যথা=*
*🌷রাত্রিশেষে উঠি মঙ্গল-আরতি করিয়া।*
*🌷প্রাতঃকালে সুকুসুম আনেন তুলিয়া।।*
*🌷পদ্মাবতী নানারঙ্গে গাঁথে ফুলহার।*
*🌷গীত-গোবিন্দ রচে গ্রন্থ কৃষ্ণ-লীলা-সার।।*
*🌷নিত‍্য সেবা করয়ে আনন্দিত দুইজন।*
*🌷 এই মত বহুদিন করিল সেবন।।*
*🌷গীত-গোবিন্দ-গ্রন্থ রসের সাগর।*
*🌷বর্ণন করয়ে যবে সেবা অবসর।।*
*🌻এরপর গীত-গোবিন্দ লেখার উপলক্ষ্যে,যে অলৌকিক ঘটনা ঘটেছিল,তাতে বনমালী দাস ও ভক্তমাল প্রভৃতি রচয়িতা অন‍্যান‍্য গ্রন্থকার সকলেই একমত।কেবল বিশেষের মধ্যে এই,-- কেউ এই ঘটনার স্থল কেন্দুবিল্বে নির্দেশ করেন, কেউ বা পুরীতে নির্দেশ করেন।একদিন জয়দেব "মান" লিখতে বসে "স্মর-গরল-খন্ডনং মম শিরশি মন্ডনং" এই পর্যন্ত লিখেছিলেন, তখন আর লেখনী অগ্রসর হল না। যথা বনমালী দাস=*
*🌷"স্মর-গরল-খন্ডনং মম শিরশি মন্ডনং"*
*🌷এই অর্দ্ধ উক্তি লিখি আর না লিখিলা।*
*🌷পূর্ণ নাহি হয় কলি ভাবিতে লাগিলা।।*
*🌷শ্রীরাধিকার মানে কৃষ্ণের দগ্ধ হয় অঙ্গ।*
*🌷স্তুতি-বাণী কহে চাহে রাধা-অঙ্গ-সঙ্গ।।*
*🌷তুয়া সঙ্গ বিনা মোর মদনের শরে।*
*🌷শরের গরলে অঙ্গ খন্ড খন্ড করে।।*
*🌷মান ত‍্যজি কৃপা করি পরশ মোরে তুমি।*
*🌷মদন-অনল হইতে রক্ষা পাই আমি।।*
*🌷এত বলি নিজ শির নম্র করি যায়।*
*🌷পাদ-পদ্ম দেহ মাথে এই সে আশয়।।*
                     *ক্রমাগত*
👣👣👣👣👣👣👣👣👣👣👣👣👣
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 শ্রীশ্রীজগন্নাথ ও শ্রীশ্রীগৌরাঙ্গ 🌷 নবম ভাগ 🌻 শ্রীযুক্ত রাজর্ষি গোপালচন্দ্র আচার্য‍্য চৌধুরী প্রণীত ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📝 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/02/jagannath9.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(৮৯)শ্রীশ্রীজগন্নাথ ও শ্রীশ্রীগৌরাঙ্গ*
          *🔵নীলাচলে মহাপ্রভু🔵*
        *🌻শ্রীজয়দেব গোস্বামী🌻*
        🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏
*🌷কৃষ্ণ চাহে পাদ-পদ্ম মস্তকে ধরিতে।*
*🌷কেমতে লিখিব ইহা বিস্ময় এই চিতে।।*
*🌷এই ভাবি পদের শেষ লিখিতে নারিল।*
*🌷কি লিখিব কি লিখিব চিন্তিতে লাগিল।।*
*🌷উদ্বিগ্ন হইয়া অতি গ্রন্থ ঝাঁপি দিলা।*
*🌷গঙ্গাস্নান করিবারে ঠাকুর চলিলা।।*
*🌷উদ্বিগ্ন হইয়া যবে গঙ্গাস্নানে গেলা।*
*🌷অন্তর্য‍্যামী নন্দসুত সকল জানিলা।।*
*🌷ভকতের মনোবাঞ্জা সিদ্ধ করিবারে।*
*🌷জয়দেব মূর্ত্তি ধরি আইলা তার ঘরে।।*
*🌷স্নান করি জয়দেব আইসে যেন মতে।*
*🌷সেইরূপে দাঁড়াইলা পদ্মার সাক্ষাতে।।*
*🌷স্বামী-জ্ঞানে পদ্মাবতী পাদ প্রক্ষালিল।*
*🌷কেশে করি পাদ-পদ্ম দুখানি মুছিল।।*
*🌷দিব‍্য পীত বস্ত্র তাঁরে পরিবারে দিলা।*
*🌷আনন্দিত হইয়া প্রভু আসনে বসিলা।।*
*🌷সর্ব্বাঙ্গে লেপন দেবী করিলা চন্দন।*
*🌷গন্ধ পুষ্প দিয়া পূজা করিল চরণ।।*
*🌷প্রত‍্যহ করেন দেবী সেই আচরণে।*
*🌷সেই মত কৈলা দেবী নিজ পতিজ্ঞানে।।*
*🌷জয়দেব-রূপে প্রভু সেবা কাজে গেলা।*
*🌷রাধা-মাধবেরে লইয়া স্নান করাইলা।।*
*🌷পূজা আদি করি দিলা নৈবেদ‍্য সেবন।*
*🌷তন্ডুল শর্করা গব‍্য আদি দ্রব‍্যগণ।।*
*🌷রাধা-মাধবেরে ভোগ প্রভু সমর্পিলা।*
*🌷তাম্বুলাদি দিয়া ভোগ আরতি করিলা।।*
*🌷আরতি করাইয়া পুনঃ করাইল শয়ন।*
*🌷তার পর কইল প্রভু চামর-ব‍্যজন।।*
*🌷তার পর অন্তঃপুরে প্রসাদ আনিল।*
*🌷সেই থালে বসি প্রভু ভোজন করিল।।*
*🌷ভোজন করিয়া প্রভু কৈলা আচমন।*
*🌷আসনে বসিয়া কৈল তাম্বুল সেবন।।*
*🌷তার পর গিয়ে গ্রন্থের ঝাঁপ ঘুচাইলা।*
*🌷পদের শেষ হয় নাই গ্রন্থেতে দেখিলা।।*
*🌻অতঃপর শ্রীজয়দেব-বেশে শ্রীকৃষ্ণ নিজ হাতে "স্মর-গরল-খন্ডনং মম শিরসি মন্ডনং" পংক্তির পরে "দেহি পদপল্লবমুদারম্" এই পংক্তিটি লিখে পালঙ্কে শয়ন করে রইলেন।পদ্মাবতী শ্রীকৃষ্ণের উচ্ছিষ্ট-পূর্ণ ভোজনপাত্রে বসে প্রসাদান্ন ভোজন করছেন,এমন সময়, প্রকৃত জয়দেব ভিজা কাপড়ে গৃহে ফিরে এসে দেখলেন-------*
*🌷ভোজন করয়ে পদ্মা দেখি আচম্বিত।*
*🌷আশ্চর্য‍্য দেখিয়া মনে হইলা বিস্মিত।।*
*🌷পদ্মাবতী নিকটেতে আসি দাঁড়াইলা।*
*🌷অন্তরে দুঃখিত হইয়া কহিতে লাগিলা।।*
*🌷অনুচিত কর্ম তোমার দেখি পদ্মাবতী।*
*🌷জ্ঞানবান্ হঞা তোমার এমত কুমতি।।*
*🌷ঈশ্বরের সেবা নহে ভোগ-সমর্পণ।*
*🌷স্বচ্ছন্দেতে অগ্রভাগ করিলা ভোজন।।*
*🌷সচ্চরিত্রা সুলক্ষণা নাহি তুয়া সম।*
*🌷আজি কেনে কিবা দোষে হৈলা মতিভ্রম।।*
*🌷এত শুনি পদ্মাবতী হইলা চমকিত।*
*🌷আজি কেন প্রভু মোরে বল অনুচিত।।*
*🌷আজি যবে স্নান করি আইলা আপনি।*
*🌷পূর্বমত পূজা আমি কৈলা দ্বিজমণি।।*
*🌷তার পর সেবা পূজা আপনি করিলা।*
*🌷রাধা-মাধবের ভোগ তুমি সমর্পিলা।।*
*🌷প্রসাদান্ন থালে তুমি ভোজন করিলা।*
*🌷তারপরে গ্রন্থ খুলি তাহাতে লিখিলা।।*
*🌷তাম্বুল ভোজন করি করিলা শয়ন।*
*🌷এ সকল করি পুনঃ হৈলা বিস্মরণ।।*
*🌷পুনঃ স্নান করি আইলা লাগে হেন মত।*
*🌷পরিহাস কর কিম্বা ভ্রম হৈল নাথ।।*
*🌷তোমার প্রসাদি অন্ন করি এ ভোজন।*
*🌷আজ্ঞা কৈলা অগ্রভাগ করহ ভক্ষণ।।*
*🌷যে সব কহিলা প্রভু পরিহাস-বাণী।*
*🌷লজ্জা পাই তোমার কৌশল-বাক‍্য শুনি।।*
*🌹তখন শ্রীজয়দেব গোস্বামী ভাবলেন=*
*🌷মিথ‍্যা কথা পদ্মাবতী কভু নাহি কহে।*
*🌷এমত কুচ্ছিত কর্ম তারে শোভা নহে।।*
*🌻তখন শ্রীজয়দেব ভাবলেন, তবে কি----------, হয়ত স্বয়ং শ্রীকৃষ্ণই জয়দেব-বেশে দেখা দিয়ে,পদ্মাবতীকে কৃতার্থ করেছেন। এই মনে করে তিনি খুব তাড়াতাড়ি গৃহের ভিতরে গেলেন,গিয়ে=*
*🌷এক চিত্তে গ্রন্থ-পাত খুলিল ঠাকুর।*
*🌷অর্দ্ধকলি ছিল পদ হয়েছে পূর।।*
*🌷অর্দ্ধকলি পূর্বে কৈল জয়দেব সার।*
*🌷কৃষ্ণ-হস্তে দেখি পদপল্লবমুদার।।*
*🌷পদ পূর্ণ দেখি মনে হইল প্রত‍্যয়।*
*🌷কৃষ্ণ পূর্ণ কৈল মম মনের আশয়।।*
*🌷শয়নে আছে তো প্রভু মনে অভিপ্রায়।*
*🌷মন্দির ভিতরে প্রভু দেখিবারে পায়।।*
*🌷কৃষ্ণ-অঙ্গ-পরিমলে পালঙ্ক পূরিল।*
*🌷মনোহর সুগন্ধেতে নাসিকা মাতিল।।*
*🌷শয়নের চিহ্ন সব দেখিল শয‍্যাতে।*
*🌷শয‍্যা মাত্র আছে কৃষ্ণ না পায় দেখিতে।।*
*🌷উনমত হইয়া দ্বিজ নাচিতে লাগিলা।*
*🌷মোর গৃহে আসি প্রভু পুনঃ কোথা গেলা।।*
*🌷মহাভাব হইল দেহ পুলকাঙ্গময়।*
*🌷পুলকিত হৈল অঙ্গ শিখা উর্দ্ধ হয়।।*
*🌷নয়নে বহয়ে ধারা প্রেমের তরঙ্গে।*
*🌷উর্দ্ধ বাহু করি নাচে করে কত ঢঙ্গে।।*
*🌷শয‍্যা দেখি প্রেম-ময়ে করিয়া ভকতি।*
*🌷করজোড়ে স্তব পাঠ করে স্তুতি নতি।।*
*🌷উচ্চৈঃস্বরে ডাকে রাধা-মাধব বলিয়া।*
*🌷পদ্মারে কৃতার্থ কৈলা আমারে ভান্ডিয়া।।*
                       *ক্রমাগত*
👣👣👣👣👣👣🙏👣👣👣👣👣👣
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 শ্রীশ্রীজগন্নাথ ও শ্রীশ্রীগৌরাঙ্গ 🌷 নবম ভাগ 🌻 শ্রীযুক্ত রাজর্ষি গোপালচন্দ্র আচার্য‍্য চৌধুরী প্রণীত ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📝 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/02/jagannath9.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(৯০)শ্রীশ্রীজগন্নাথ ও শ্রীশ্রীগৌরাঙ্গ*
           *🌳নীলাচলে মহাপ্রভু🌳*
            *শ্রীজয়দেব-পদ্মাবতী*
            ☆☆☆☆☆☆☆☆☆
*🍀তার পর শ্রীজয়দেব গোস্বামী বাহ‍্যজ্ঞান ফিরে পেলেন।*
*🌷বাহির হইয়া আইলা পদ্মার নিকটে।*
*🌷স্তুতি-বাক‍্য কহিতে লাগিলা অকপটে।।*
*🌷তুমি মহা-ভাগ‍্যবতী সফল জীবন।*
*🌷কৃষ্ণ-পাদপদ্ম তুমি দেখিলা নয়ন।।*
*🌷কৃষ্ণ-অঙ্গ পরশিয়া লেপিলা চন্দন।*
*🌷ধন‍্য তুমি মহা-প্রসাদ করিলা ভোজন।।*
*🌷সেই প্রসাদ সনকাদি শম্ভু বাঞ্জা করে।*
*🌷হেন প্রসাদ তুয়া গুণে আমার মন্দিরে।।*
*🌷এত বলি পদ্মা-সঙ্গে করয়ে ভোজন।*
*🌷পুনঃ পুনঃ প্রাসাদেরে করএ বন্দন।।*
*🌷ইহা দেখি পদ্মাবতী হইলা বিস্ময়।*
*🌷জোড়-হস্ত করি কহে করিয়া বিনয়।।*
*🌷এই প্রসাদান্ন থাল উচ্ছিষ্ট আমার।*
*🌷উচ্ছিষ্ট ভোজন কর কোন ব‍্যবহার।।*
*🌷দ্বিজমণি কহে তুমি অপরাধ কৈলা।*
*🌷কৃষ্ণ-অধরামৃত তুমি উচ্ছিষ্ট করিলা।।*
*🌷মহাপ্রসাদান্ন কভু উচ্ছিষ্ট না হয়।*
*🌷শ্বান-মুখ হৈতে পড়ে ব্রহ্মা নিতে ধায়।।*
  ☆ ☆ ☆ ☆ ☆
*🌷এত শুনি পদ্মাবতীর বিস্ময় ঘুচিল।*
*🌷একত্রে আনন্দে দোঁহে প্রসাদ খাইল।।*
*🌻এ ছাড়াও শ্রীজয়দেবের সম্বন্ধে আরও বহু অলৌকিক ঘটনা আছে। সমস্ত ঘটনার উল্লেখ করলে, গ্রন্থ বেড়ে যায়। আর দুই-একটি মাত্র ঘটনার উল্লেখ করে, আমরা শ্রীজয়দেবের কাহিনী শেষ করব।*
*🍀সংস্কৃত ভক্তমাল-গ্রন্থে,গীত-গোবিন্দ ও জয়দেবের মাহাত্ম্য-বর্ণন প্রসঙ্গে এই গল্পটির উল্লেখ আছে।আগেও আমরা ইহার উল্লেখ করেছি।🌹পুরীধামের নিকটবর্তী কোনও জায়গায় এক শাক-বিক্রয়কারিণী বাস করত।সে কোনও ুঢ়ুঢ় বেগুন তুলতে তুলতে গীতগোবিন্দ গাইছিল, তা শুনে শ্রীজগন্নাথদেবের আসন টলিল।তিনি আর স্থির থাকতে পারলেন না, ছুটে এসে সেই জমিতে উপস্থিত হলেন, এবং তার পেছন পেছন ফিরতে লাগলেন। বেগুনের কাঁটার আঁচড় লেগে তাঁর পীত-বসন ছিন্ন ভিন্ন হয়ে গেল।পরদিন পান্ডারা যখন শ্রীমন্দিরের দ্বার-উদঘাটন করলেন,তখন দেখা গেল বসনে বেগুন কাঁটা লেগে আছে, এবং জায়গা জায়গায় কাপড় ছিঁড়ে গিয়েছে।এই অদ্ভুত ব‍্যাপার দেখে,পান্ডারা চরম আশ্চর্য‍্য হয়ে রাজাকে খবর দিলেন।রাজা শ্রীমন্দিরে উপস্থিত হয়ে এই অদ্ভুত ব‍্যাপারের কোন কারণ স্থির করতে পারলেন না। তিনি ও পান্ডারা শ্রীমন্দিরে হত‍্যে (অভীষ্ট লাভের আশায় আমৃত‍্যু দেবমূর্তির সামনে পড়ে থাকা )দিলেন।পরে তাঁরা স্বপ্নযোগে দেখতে পেলেন,জগন্নাথদেব আবির্ভূত হয়ে বলছেন, "শাক-বিক্রয়কারিণীর গীতগোবিন্দ-গানে আকৃষ্ট হয়ে,আমি তার পেছন পেছন ঘুরেছিলাম, তাতেই আমার কাপড় বেগুনের কাঁটায় ছিঁড়ে গিয়েছে।"রাজা পর দিন সকালবেলায় ঐ শাক-বিক্রয়কারিণীকে আনালেন, এবং তার সৌভাগ্যের প্রশংসা করে, তার সুখে জীবন-যাপধের বন্দোবস্ত করলেন, এবং প্রত‍্যহ প্রভুর সামনে গীতগোবিন্দ গানের আদেশ করলেন। সেই নিয়ম-অনুসারে অদ‍্যাবধিও প্রভুর সম্মুখে গীতগোবিন্দ গান হয়ে আসছে।*
*জয়দেব এবং পদ্মাবতীর বৃন্দাবনে যাবার ঠিক হল।তাঁদের সেবিত ঠাকুর রাধামাধব-বিগ্রহ বৃন্দাবধের দীর্ঘ রাস্তার পক্ষে অত‍্যন্ত বড় মূর্তি ; সুতরাং এই বিগ্রহ কি করে নিয়ে যাবেন,এইজন‍্য তাঁরা অত‍্যন্ত চিন্তিত হয়ে পড়লেন।শ্রীশ্রীরাধামাধব স্বপ্নযোগে আদেশ করলেন,আমাকে ছেড়ে যেও না। তোমাদের নিয়ে যাবার সুবিধার জন্য,আমি অত‍্যন্ত লঘু হ'ব। জয়দেব এইরকম আদিষ্ট হয়ে অত‍্যন্ত আহ্লাদিত হলেন।রাধামাধবকে তাঁর পুটুলির মধ্যে রেখে বৃন্দাবনে নিয়ে গেলেন।এইভাবে ভগবান ভক্তবাৎসল‍্যের পরিচয় দিলেন।*
*🍀জয়দেব ও পদ্মাবতী কর্তৃক রাধামাধবের সেবা এবং পদ্মাবতীর পাতিব্রত‍্য-ধর্ম-সম্বন্ধে আরও আখ‍্যায়িকা রয়ে গেল, তার উল্লেখ করতে পারলাম না। জয়দেবের প্রতি পদ্মাবতীর এতই আসক্ত ছিল যে,তাঁর মৃত‍্যুকথা শুনিবামাত্র পদ্মাবতী প্রাণত‍্যাগ করেছিলেন।জয়দেবের সাধন-বলে কিন্তু তিনি পুনর্জীবন লাভ করেন।*
*ভগবান ভক্তের কাছে যে কতদূর অধীন হন, জয়দেবের জীবনী পাঠ করলে তার সবিশেষ উপলব্ধি হয় ; এবং ভগবান যে ভক্তের বাঞ্জা-কল্পতরু তাহাও প্রমাণিত হয়।এই গীতগোবিন্দ কাব‍্য শ্রীশ্রীজগন্নাথদেবের যেরকম প্রিয়, শ্রীচৈতন‍্যদেবেরও সেরকম অতি প্রিয় ছিল।গম্ভীরালীলাতে,চন্ডীদাস,বিদাপতির পদাবলী,জয়দেবের গীতগোবিন্দ, রায় রামানন্দের জগন্নাথ-বল্লভ নাটক,কবিকর্ণপুরের কৃষ্ণকর্ণামৃত এই গুলিই তাঁর ভাব উদ্দীপনার সহায় ছিল।এই বিষয় গম্ভীরালীলায় বর্ণিত হয়েছে।জয়দেবে প্রেমিকের প্রেম,ভক্তের ভক্তি,সুকবির কবিত্ব, সুগায়কের মধুর গীতি, একাধারে দেখতে পাই।এরকম দুর্লভ চরিত্র অতি অল্পই পাওয়া যায়।*
*🍀জয়দেবের মাতা পিতার পরিচয়,তাঁর স্বরচিত গীতগোবিন্দে এইরকম দেখা যায়,যথা=*
*🌷শ্রীভোজদেব-প্রভবস‍্য বামা-দেবীসুত-শ্রীজয়দেবকস‍্য।*
*🌷পরাশরাদি-প্রিয়বন্ধু-কন্ঠে শ্রীগীতগোবিন্দ-কবিত্বমস্তু।।*
*🙏শ্রীজয়দেব গোস্বামী পর্ব এখানেই রইল।*
👣👣👣👣👣👣🙏👣👣👣👣👣👣
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 শ্রীশ্রীজগন্নাথ ও শ্রীশ্রীগৌরাঙ্গ 🌷 নবম ভাগ 🌻 শ্রীযুক্ত রাজর্ষি গোপালচন্দ্র আচার্য‍্য চৌধুরী প্রণীত ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📝 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/02/jagannath9.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(৯১)শ্রীশ্রীজগন্নাথ ও শ্রীশ্রীগৌরাঙ্গ*
              *নীলাচলে মহাপ্রভু*
                *শ্রীশ্রীগঙ্গামাতা*
              *****************
*🍀আর এক ভক্তের কথা বলি। তাঁর নাম গঙ্গামাতা।ইহাঁর বৃত্তান্ত পূর্বে উল্লেখ করা হয়নি, নাম উল্লেখ করা হয়েছে মাত্র, সুতরাং ইহাঁর বৃত্তান্ত না লিখলে আকাঙ্ক্ষার তৃপ্তি হয় না। বিশেষ করে ইনি শ্রীজগন্নাথের অতি নিজ জন।আর ইহাঁর নামে পুরীতে এক মঠও পরিচিত, এই মঠকে গঙ্গামাতা-মঠ বলে।*
*বৈষ্ণবগ্রন্থে পঞ্চরসের অবতারণা করেছেন,শান্ত,দাস‍্য, সখ‍্য,বাৎস‍ল‍্য ও মধুর।ইনি বাৎসল‍্য রসেতে শ্রীশ্রীজগন্নাথদেবকে সেবা করতেন।জগন্নাথের যেরকম সেবা ভোগ হয়ে থাকে তাঁর মনের মত না হওয়ায় তিনি নিজ গৃহে দ্রব‍্যাদি তৈরী করে জগন্নাথকে খাওয়াবেন,এটি তাঁর মনের সাধ, কিন্তু কি করে এই সাধ পূর্ণ হয়?পান্ডারা তার বিরোধী।অন‍্য জায়গা হতে তৈরী করে খাদ্য দ্রব‍্য আনলে,তা পান্ডারা ভোগের জন্য গ্রহণ করেন না,অন‍্যের ভোগ দিবারও অধিকার নাই।*
*এখন গঙ্গামাতার তীব্র সাধ হয়েছে তাঁর জগন্নাথকে একটু অন‍্য খাবার খাওয়াবেন,বহুদিন যাবৎ জগন্নাথ মাছের ঝোল খায় না,কেবল নিরামিষ খেয়ে থাকেন,ভক্তের প্রাণে এটি কেমন করে সহ‍্য হয়,এই রসের যে ভাব এটি বেদ-বিধির অগোচর।তাই গঙ্গামাতা সমস্ত বিধিশাস্ত্র উল্লঙ্ঘন করে রাগানুগামার্গে জগন্নাথকে মাছের ঝোল খাওয়াবেন।*
*এখন কেমন করে এই সাধ পূর্ণ হয় তাই ভাবতে লাগলেন।পান্ডারা টের পেলে অনর্থ ঘটাবে, অথচ না দিলেও নয়, সুতরাং সমস্ত বাধা বিপত্তিকে তুচ্ছ করে, নিজ ঘরে জগন্নাথের জন্য মনের মতন করে রন্ধন করলেন, এবং অতি সাবধানে গোপনে হাড়িতে ভরে তার মুখ ঢেকে পরিধেয় বস্ত্রের নিচে কোমরের সঙ্গে বাঁধলেন,তার উপরে বস্ত্র পরিধান করে ওড়না দ্বারা সর্বাঙ্গ ঢেকে নিলেন।যেন কেউ টের না পায় যে তাঁর সঙ্গে কোন দ্রব‍্য আছে।এই ভাবে মন্দিরে যাত্রা করলেন।*
*যারা গোপনে কোন কাজ করতে চায়,তাদের প্রাণে সবসময়ই আশঙ্কা থাকে কেউ বা টের পেল! এই ভাবটি মুখেতেও প্রকাশিত হয়। সুতরাং গঙ্গাদেবী আশঙ্কা চিত্তে ধীরে ধীরে মন্দিরের ভিতরে প্রবেশ করলেন। ভগবানের কিরকম ইচ্ছা বুঝা যায় না,ভক্তের ভক্তি পরীক্ষা করবার জন্য অতি কঠিন ভাব ধারণ করেন।*
*মন্দিরের মধ্যে গঙ্গামাতা প্রবেশ করেছেন,হঠাৎ বাতাসে তাঁর বস্ত্রাবরণ উড়িয়ে ফেলল।পরিধেয় বস্ত্রের তলে কোন বস্তু আছে বলে পান্ডাদের সন্দেহ হল।একে তাঁর শঙ্কিত ভাব,অন‍্য বস্ত্রাবরণের উচ্চতা এই উভয় কারণেই তাদের নজর আকর্ষণ করল এবং সন্দেহযুক্ত হয়ে তাঁকে ধরে ফেলল।গঙ্গামাতা ছড়িদারদের হাত ছাড়িয়ে যাবার অনেক চেষ্টা করলেন ; কিছুতেই ছড়িদারদের হাত ছাড়াতে পারলেন না। তাদের সঙ্গে একরকম ধস্তাধস্তি করাতে বস্ত্রে ঢাকা হাড়ি ভেঙ্গে গেল, গঙ্গামাতা মূর্ছিত হলেন,সমস্ত ব‍্যাপার প্রকাশিত হলে ছড়িদারদের শত শত ছড়ি চারদিক হতে তাঁর গায়ে পড়ল।গঙ্গামাতা মূর্ছিতা,তার উপরে বেত্রাঘাতে মৃতপ্রায়।এইমত অবস্থায় তাঁকে তাঁর কুটিরে আনা হল। গঙ্গামাতার এই অবস্থা দেখে অনেক ভক্ত হাহাকার করতে লাগলেন।ছড়িদারদের অব‍্যাহত বেত্র কিছুতেই নিবারিত হবার নয়।যাই হোক,বহু কষ্ট পাওয়ার পর শ্রীজগন্নাথদেবের দয়া হল।ভক্তের মহিমা প্রকাশ করতে হবে।তাই সেবকদের প্রতি আদেশ হল গঙ্গামাতা আমার পরমভক্ত তাকে যে প্রহার করেছে তা সবই আমার গায়ে আঘাত করা হয়েছে। অতএব তাকে তাড়াতাড়ি নিয়ে এসো, এবং সে যেভাবে আমাকে খাওয়াতে চেয়েছিল, সেই সব দ্রব‍্য দ্বারা আমার ভোগ লাগাতে দাও,আমি তাতেই অত‍্যন্ত সন্তুষ্ট হব।তদনুসারে সেবকগণ তাঁর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করে শ্রীজগন্নাথের আদেশ জ্ঞাপন করল।*
*গঙ্গামাতা সেবকদের কাছে ভক্তবৎসল ভগবানের দয়ার কথা শুনে তাঁর সমস্ত অভিমান এবং দুঃখ ভুলে গেলেন।আনন্দে বিহ্বল হলেন।নবানুরাগে পুনরায় নানারকম দ্রব‍্যাদি তৈরী করতে লাগলেন।আজ তাঁর বহুদিনের সাধ মিটিয়ে জগন্নাথকে খাওয়াবেন,এই আনন্দে তিনি বিভোর।সমস্ত সামগ্রী তৈরী করে জগন্নাথের কাছে নিয়ে গেলেন।*
*🍀মা যশোমতী শ্রীকৃষ্ণকে যেরকম বাৎসল‍্য ভাবে খাওয়াতেন,কর্ম্মা বাই যেভাবে খিচুরী খাইয়েছিলেন, আজ গঙ্গামাতাও বাৎসল‍্য ভাবেতে জগন্নাথকে খাওয়ালেন।অদ‍্য হতে গঙ্গামাতা পুরীতে প্রসিদ্ধ হলেন।*
🌺🌲🌳🍀🌹🥀☘🍁🌿💮🌸
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 শ্রীশ্রীজগন্নাথ ও শ্রীশ্রীগৌরাঙ্গ 🌷 নবম ভাগ 🌻 শ্রীযুক্ত রাজর্ষি গোপালচন্দ্র আচার্য‍্য চৌধুরী প্রণীত ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📝 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/02/jagannath9.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(৯২)শ্রীশ্রীজগন্নাথ ও শ্রীশ্রীগৌরাঙ্গ*
       *😭নীলাচলে মহাপ্রভু😭*
      *😭মহাপ্রভুর অপ্রকট😭*
   😭😭😭😭😭😭😭
*🍀শ্রীমন্মহাপ্রভু দীর্ঘ দ্বাদশ বৎসর গম্ভীরাতে লীলা করেছেন, বিরহের দুঃখে বিভোর ছিলেন। যদিও বিরহকে দুঃখ বলা যায়,বাস্তবিক বিরহ দুঃখ না,সুখের চরমসীমা, প্রেমের শেষ অবস্থা।এতে সুখের এবং দুঃখের একত্র মিশ্রণ ; এই ব‍্যাপারে সুখেরও অবধি নাই, দুঃখেরও অবধি নাই,বিষামৃতে একত্র মিলন।*
*পিরীত সুখের, সাগর দেখিয়া,*
        *নাহিতে নামিলাম তায়।*
*নাহিয়া উঠিয়া,ফিরিয়া চাহিতে,*
       *লাগিল দুঃখের বায়।।*
*কিবা নিরমল,প্রেম-সরোবর,*
        *নিরমল তার জল।*
*দুঃখের মকর,ফিরে নিরন্তর,*
       *প্রাণ করে টলমল।।*
*গুরুজন জ্বালা, জলের শিহালা,*
       *পড়শী জীয়ল মাছে।*
*কুল পাণীফল,কাঁটা যে সকল,*
        *সলিল বেড়িয়া আছে।।*
*কলঙ্ক পানায়,সদা লাগে গায়,*
        *ছাঁকিয়া খাইল যদি।*
*অন্তর বাহিরে, কুটু কুটু করে,*
       *সুখে দুঃখ দিল বিধি।*
*কহে চন্ডীদাস,শুন বিনোদিনী,*
      *সুখ দুঃখ দুটি ভাই।*
*সুখের লাগিয়া, যে করে পিরীতি,*
       *দুঃখ যায় তার ঠাঁই।।*
*🌻যে এই পিরীতি করে,যদিও সে দিন-রাত্রি পুড়ে মরে,তবু  ইহার "লেহা" ছেড়ে উঠতে পারে না।দিন রাত এই দুঃখে জড়িয়ে থাকতেই যেন সুখ বোধ করে। যাইহোক, এতক্ষণ পাঠকবর্গকে এই সুখ দুঃখের ভিতরে জড়িয়ে রেখেছিলাম।এখন এই স্তর পরিত‍্যিগ করে,আমরা গভীরতর শোকের স্রোতে পাঠককে ভাসাতে বাধ‍্য হচ্ছি।গম্ভীরালীলার পরই, মহাপ্রভু ১৪৫৫ শকের আষাঢ় মাসের সপ্তমী তিথিতে,আটচল্লিশ বৎসর বয়সে অপ্রকট হন।নবদ্বীপের ভক্তগণ রাসের সময় সকলে এসেছেন।মহাপ্রভু তাঁদের দ্বারা পরিবেষ্টিত হয়ে বৃন্দাবনের কথা কহিতেছেন। যথা শ্রীচৈতন‍্যমঙ্গলে=*
*🌷হেন কালে মহাপ্রভু কাশীমিশ্র ঘরে।*
*🌷বৃন্দাবন-কথা কহে আনন্দ অন্তরে।।*
*🌻মহাপ্রভুর তিরোভাব সম্বন্ধে পুরীধামে দুই রকমের কিম্বদন্তী প্রচলিত আছে।অদ‍্যাপি টোটাগোপীনাথের ঠাকুর দর্শন করতে গেলে, পান্ডারা ঠাকুরের জানুদেশে ফাটা জায়গা দেখিয়ে বলে যে,এই স্থান দিয়ে মহাপ্রভু গোপীনাথের দেহে প্রবেশ করেছেন।গোপীনাথের দেহে প্রবেশ করতে হলে যে, ফাটা স্থান দিয়ে প্রবেশ করতে হবে, এইরকম কোন প্রয়োজন দেখা যায় না।তবে ঈশ্বরের ইচ্ছা কি,তা কিছু বুঝা যায় না।ভক্তদের কাছে এই ঘটনা চিরস্মরণীয় করার জন্য, যদি মহিপ্রভুর ইচ্ছা হয়ে থাকে,তাহলে সবই সম্ভবে।পান্ডামহলে এইরকমই শুনা যায় যে,তিনি গোপীনাথের দেহে প্রবেশ করেছিলেন। কিন্তু অমিয়নিমাই চরিত ষষ্ঠখন্ডে, মহাপ্রভুর অপ্রকট হওয়া সম্বন্ধে,স্বর্গীয় শিশিরবাবু যে আলোচনা করেছেন,তাতে তিনি প্রমাণিত করেছেন যে,মহাপ্রভু শ্রীজগন্নাথের দেহেই লীন হয়েছেন।যথা অমিয় নিমাই চরিত ষষ্ঠ খন্ডে উদ্ধৃত চৈতন‍্যমঙ্গলে=*
*🌷ভক্তি ইচ্ছা দেখি কহে পড়িছা তখন।*
*🌷গুঞ্জা-বাড়ির মধ্যে প্রভুর হইল অদর্শন।।*
*🌷সাক্ষাতে দেখি গৌর প্রভুর মিলন।*
*🌷নিশ্চয় করিয়া কহি শুন সর্বজন।।*
*শিশিরবাবুর নিজের মতও উদ্ধৃত করলাম,আমাদের মহাপ্রভু যাবার বেলা আমাদেরকে জগন্নাথদেবের হাতে হাতে সঁপে দিয়ে গিয়েছেন।সঁপে দিয়ে আবার সেই জগন্নাথের হৃদয়ে প্রবেশ করলেন।*
*আমাদের মহাপ্রভু জগন্নাথেই বিলীন হন,অথবা গোপীনাথেই বিলীন হন,তাঁর ভিতরেই,তিনি বিলীন হলেন,এটি নিশ্চিত হল।জগন্নাথময় গৌরভক্ত-বৃন্দের ভিতরে মহা ক্রন্দনের রোল উঠে গেল।এইকথা শুনামাত্র স্বরূপ,তাঁর প্রাণসর্বস্ব গৌরাঙ্গকে হারিয়ে,আর জীবন রাখতে পারলেন না।তিনি বুক ফেঁড়ে প্রাণ ত‍্যাগ করলেন।শ্রীগৌরাঙ্গের তিরোভাবে যে কি দুঃখ হয়েছিল, কেবল গৌর-ভক্তেরাই তার অনুভূতি করতে পারবেন।আমাদের বুঝাবার চেষ্টা বৃথা!যদিও এই সমস্ত ভক্ত ইন্দ্রিয়-বিজয়ী,পরমজ্ঞানী, তবুও মহাপ্রভুর তিরোভাবে এত ব‍্যাকুল হলেন কেন,কেউ কেউ এইরকম প্রশ্ন করতে পারেন। এই প্রেমের রাজ‍্যে জ্ঞানের কঠোরতা নাই,অথচ,জড়-জগতের সাধারণ জীবের মত স্নেহ মমতা হতে একটু স্বতন্ত্র।এই সব ভক্তের হৃদয় কর্তব‍্য পালনে বজ্র হতেও কঠিন,আবার সময়ে কুসুম হতেও সুকোমল।*
*🙏শ্রীশ্রীজগন্নাথ ও শ্রীশ্রীগৌরাঙ্গ (নীলাচলে মহাপ্রভু) এখানেই বিরাম হ'ল। বানান, ভুল ভ্রান্তি হয়ত অনেক হয়েছে, নিজগুণে ক্ষমা করবেন।*
😭😭😭😭😭😭😭😭😭😭😭😭😭
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

    📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝
    ꧁👇📖 সূচীপত্র ✍️ শ্রী জয়দেব দাঁ 📖👇



✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧


✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

   ✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️ 
নিবাস- বাঁশবাড়ী, কীর্তন মন্দিরের পাশে, পোঃ- বাঁশবাড়ী, থানা- ইংরেজ বাজার, জেলা- মালদহ, পশ্চিমবঙ্গ, পিন কোড- ৭৩২১০১।

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

  *••••┉❀꧁👇🏠Home Page🏠👇꧂❀┅••••* 


✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

    *••••━❀꧁👇 📖 সূচীপত্র 📖 👇꧂❀┅••••* 



✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

     *••••━❀꧁👇📚 PDF গ্রন্থ 📚👇꧂❀┅••••* 


✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
    *••••┉━❀꧁ 🙏 রাধে রাধে 🙏 ꧂❀━┅••••* 
                   শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য প্রভু নিত্যানন্দ
              হরে কৃষ্ণ হরে রাম শ্রীরাধেগোবিন্দ।।
  *••••┉━❀꧁ 🙏 জয় জগন্নাথ 🙏 ꧂❀━┅••••*
              হরে কৃষ্ণ হরে কৃষ্ণ কৃষ্ণ কৃষ্ণ হরে হরে
              হরে রাম হরে রাম রাম রাম হরে হরে॥
  *••••┉━❀꧁ 🙏 জয় রাধাকান্ত 🙏 ꧂ ❀━┅••••*
   🌷❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀🌷
   🏵️❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀🏵️
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

শ্রীশ্রীজগন্নাথ ও শ্রীশ্রীগৌরাঙ্গ 🌷 অষ্টম ভাগ 🌻 শ্রীযুক্ত রাজর্ষি গোপালচন্দ্র আচার্য‍্য চৌধুরী প্রণীত ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📝 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/02/jagannath8.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🔙 পূর্ব লীলা 👉 শ্রীশ্রীজগন্নাথ ও শ্রীশ্রীগৌরাঙ্গ 🌷 সপ্তম ভাগ 🌻 শ্রীযুক্ত রাজর্ষি গোপালচন্দ্র আচার্য‍্য চৌধুরী প্রণীত ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📝 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 https://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/02/jagannath7.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 শ্রীশ্রীজগন্নাথ ও শ্রীশ্রীগৌরাঙ্গ 🌷 অষ্টম ভাগ 🌻 শ্রীযুক্ত রাজর্ষি গোপালচন্দ্র আচার্য‍্য চৌধুরী প্রণীত ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📝 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/02/jagannath8.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧


✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 শ্রীশ্রীজগন্নাথ ও শ্রীশ্রীগৌরাঙ্গ 🌷 অষ্টম ভাগ 🌻 শ্রীযুক্ত রাজর্ষি গোপালচন্দ্র আচার্য‍্য চৌধুরী প্রণীত ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📝 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/02/jagannath8.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(৭১)শ্রীশ্রীজগন্নাথ ও শ্রীশ্রীগৌরাঙ্গ*
            *🌳নীলাচলে মহাপ্রভু🌳*
               *🌻রায় রামানন্দ🌻*
               <><><><><><><><>
*🍀রায় রামানন্দ বিষয়ী-সমাজে সুপ্রসিদ্ধ মন্ত্রী ও প্রগাঢ় পন্ডিত বলে খ‍্যাত ছিলেন।পূর্বে মন্ত্রী-নিয়োগ সম্বন্ধে নিয়ম ছিল,যাঁরা নানা-শাস্ত্র বিশারদ,পন্ডিত,স্বধর্মনিষ্ঠ,শুচি ও পবিত্র-চরিত্র, রাজনৈতিক-বিষয়ে অভিজ্ঞ,তাঁরাই মন্ত্রীপদে নিযুক্ত হতেন।রায় রামানন্দও সেই শ্রেণীর মন্ত্রী ছিলেন।রায় রামানন্দের পান্ডিত‍্যের পরিচয়,তাঁর লিখিত জগন্নাথ-বল্লভ নামক নাটকে প্রকাশিত হয়েছে।*
*চন্ডীদাস বিদ‍্যাপতি,রায়ের নাটক-গীতি,*
       *কর্ণামৃত শ্রীগীত-গোবিন্দ।*
*স্বরূপ-রামানন্দ সনে,মহাপ্রভু রাত্রিদিনে,*
       *গায় শুনে পরম আনন্দ।।*
*🌻রায়ের নাটক-গীতিই জগন্নাথবল্লভ নাটক।এস্থলে উক্ত নাটকের দুই একটি গান উদ্ধৃত করা যাচ্ছে=*
*মৃদুতর-মারুত-বেল্লিত-পল্লব-বল্লী-বলিত-শিখন্ডম্।*
*তিলক-বিড়ম্বিত-মরকত-মণিতল-বিম্বিত-শশধর-খন্ডম্।।*
              *যুবতি-মনোহর-বেশম্।*
*কলয় কলানিধিমিব ধরণীমনু পরিণত-রূপ-বিশেষম্।।*
*খেলা-দোলায়িত-মণি-কুন্ডল-রুচি-রুচিরানন-শোভম্।*
*হেলা-তরলিত-মধুর-বিলোচন-জনিত-বধূজন-লোভম্।।*
*গজপতি-রুদ্র-নরাধিপ-চেতসি জনয়তুমুদমনুবারম্।*
*রামানন্দ-রায়-কবি-ভণিতং মধুরিপু-রূপমুদারম্।।*
*🌻শ্রীলোচনদাস ঠাকুর এটির যে বঙ্গানুবাদ করেছেন, তা নিচে দেওয়া হল।*
     *যুবতী-মনোহর ওনা বেশ গো।*
*অবনী-মন্ডলে সখি,চাঁদের উদয় যেন,*
       *সুধাময় রূপের বিশেষ গো।।*
*চূড়ার উপরে শোভে,নানা ফুলদাম গো,*
       *তাহে উড়ে ময়ূরের পাখা।*
*যেন,চাঁদের উপরে চাঁদ,উদয় করিল গো,*
       *ললাটে চন্দন-বিন্দু রেখা।।*
*সঘনে দোলায় কানে,মকর-কুন্ডল গো,*
       *কুলবতীর কুল মজাইতে।*
*উহার নয়ন-কুসুমশর,মরমে পশিল গো,*
       *ধৈরয ধরিতে নারে চিতে।।*
*এমন সুন্দর রূপ,কোথা হ'তে এল গো,*
      *মনোভব ভুলিল দেখিয়া।*
*লোচন মজিল সই,ও রূপ সাগরে গো,*
       *কি বা সে নাগর বিনোদিয়া।।*
*🌻জগন্নাথবল্লভের আর একটি গান উদ্ধৃত করা যাচ্ছে।*
    *চিকুর-তরঙ্গিত-ফেণপটলমিব,*
           *কসুমং দধতী কামং।*
   *নটদপসব‍্যদৃশা দিশতীব চ,*
         *নর্ত্তিতুমতনুমবামম্।।*
              *রাধা মাধববিহরা।*
*হরিমুপগচ্ছতি, মন্থর-পদগতি,*
      *লঘু লঘু তরলিত-হারা।।*
*শঙ্কিত-লজ্জিত-, রসভর-মধুর-,*
              *দৃগন্ত-লবেন।*
*মধু-মথনং প্রতি, সমুপহরন্তী,*
         *কুবলয়-দাম রসেন।।*
*গজপতি-রুদ্র-নরা-,ধিপমধুনাতন-,*
        *মদনং মধুরেণ।*
*রামানন্দ-রায়-কবি,ভণিতং সুখয়তু,*
        *রস-বিসরেণ।।*
*🍀শ্রীরামানন্দ রায়ের সঙ্গে শ্রীশ্রীজগন্নাথদেবের যেরকম ঘনিষ্ঠ সম্বন্ধ,শ্রীশ্রীগৌরাঙ্গদেবের সঙ্গেও সেইরকম সম্বন্ধ। সুতরাং শ্রীরামানন্দের চরিত্র আলোচনা করতে গেলেই,মহাপ্রভুর সঙ্গে,যে লীলা-কথোপকথন হয়েছিল,তাও তাঁর জীবনের প্রধান অঙ্গ।*
*🌷সহজে চৈতন‍্যচরিত ঘন-দুগ্ধ-পূর।*
*🌷রামানন্দ-চরিত্র তাহা খন্ড প্রচুর।।*
*🌷রাধাকৃষ্ণ-লীলা তাতে কর্পূর মিলন।*
*🌷ভাগ‍্যবান্ যে বা সেই করে আস্বাদন।।*
*শ্রীপাদ কবিরাজ কৃষ্ণদাস গোস্বামীর শ্রীচৈতন‍্যচরিতামৃত গ্রন্থে,রায় রামানন্দ ও শ্রীগৌরাঙ্গের মিলন-লীলা যেরকম ভাবে বর্ণিত হয়েছে,তা অতি অপূর্ব।এতে অতি নিগূঢ়তম ব্রজরহস‍্য জগতের কাছে প্রকাশিত হয়েছে,তাতে প্রেমতত্ত্ব,রসতত্ত্ব, রাধাতত্ত্ব ও কৃষ্ণতত্ত্ব এই মিলন-লীলায় প্রকাশিত হয়েছে। তার কিঞ্চিৎ অংশ এখানে উদ্ধৃত করে,রায় রামানন্দের জীবনীর দিগদর্শন করান হল।*
🙏🙏🙏🙏🙏🙏🌹🙏🙏🙏🙏🙏🙏
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 শ্রীশ্রীজগন্নাথ ও শ্রীশ্রীগৌরাঙ্গ 🌷 অষ্টম ভাগ 🌻 শ্রীযুক্ত রাজর্ষি গোপালচন্দ্র আচার্য‍্য চৌধুরী প্রণীত ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📝 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/02/jagannath8.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(৭২)শ্রীশ্রীজগন্নাথ ও শ্রীশ্রীগৌরাঙ্গ*
           *📿নীলাচলে মহাপ্রভু📿*
                   *রায় রামানন্দ*
                *****************
*🍀শ্রীমন্মহাপ্রভু সার্বভৌমকে উদ্ধার করেই,দক্ষিণ-তীর্থ-যাত্রায় গমনের জন্য উৎকণ্ঠিত হলেন।*
*🌷নিত‍্যানন্দ কহে ঐছে কৈছে হয়।*
*🌷একাকী যাইবে তুমি কে ইহা সহয়।।*
*🌷এক দুয়ে সঙ্গে চলুক না পড়ে হট রঙ্গে।*
*🌷যারে কহ সেই দুই চলুক তোমার সঙ্গে।।*
*🌷প্রভু কহে,তুমি সব রহ নীলাচলে।*
*🌷দিন কত তীর্থ আমি ভ্রমিব একলে।।*
*🌷নিত‍্যানন্দ প্রভু কহে যে আজ্ঞা তোমার।*
*🌷দুঃখ সুখ যে হোক কর্তব‍্য আমার।।*
*🌷কিন্তু এক নিবেদন করি আর বার।*
*🌷বিচার করিয়া তাহা কর অঙ্গীকার।।*
*🌷কৃষ্ণদাস নাম এই সরল ব্রাহ্মণ।*
*🌷ইঁহা সঙ্গে করি লহ এই নিবেদন।।*
*ভক্তবৎসল মহাপ্রভু স্বীকার করলেন এবং সার্বভৌমের কাছে বিদায় নিতে চললেন। কিন্তু তাঁর আগ্রহে আরও কিছুদিন থাকতে হল।*
*🌷স্বতন্ত্র ঈশ্বর তুমি করিবে গমন*।
*🌷দিন কত রহ দেখি তোমার চরণ।।*
*🌷তাঁহার বিষয়ে প্রভু শিথিল হইল মন।*
*🌷রহিলা দিবস কত না করি গমন।।*
*🌹তখন সার্বভৌম ভট্টাচার্য্য বললেন,যদি আমাদেরকে উপেক্ষা করে,দক্ষিণতীর্থে যাত্রা করেন,তাহলে একটি নিবেদন -- বিদ‍্যানগরে শ্রীরায় রামানন্দ,রাজা প্রতাপরুদ্রের অমাত‍্য,অতি সুপন্ডিত এবং পরমভক্ত।তাঁর মত রসিক,প্রেমিক ও ভক্ত আর নাই।তিনি আপনার কৃপালাভের উপযুক্ত পাত্র।আপনি কৃপা করে,তাঁকে দর্শন দান করেন,এটিই আমার নিবেদন,বিষয়ী বলে তাঁকে উপেক্ষা করবেন না। যথা চৈতন‍্য চরিতামৃতে----*
*🌷তবে সার্বভৌম কহে প্রভুর চরণে।*
*🌷অবশ‍্য পালিবে প্রভু মোর নিবেদনে।।*
*🌷রামানন্দ রায় আছে গোদাবরী-তীরে।*
*🌷অধিকারী হয়েন তিঁহ বিদ‍্যানগরে।।*
*🌷শূদ্র বিষয়ী জ্ঞানে উপেক্ষা না করিবে।*
*🌷আমার বচনে তাঁরে অবশ‍্য মিলিবে।।*
*🌷তোমার সঙ্গের যোগ্য তিঁহ একজন।*
*🌷পৃথিবীতে রসিক ভক্ত নাহি তাঁর সম।।*
*🌷পান্ডিত‍্য আর ভক্তি-রস দোহের তিঁহ সীমা।*
*🌷সম্ভাষিলে জানিবে তুমি তাঁহার মহিমা।।*
*🌷অলৌকিক বাক‍্য চেষ্টা তাঁর না বুঝিয়া।*
*🌷পরিহাস করিয়াছি তাঁরে বৈষ্ণব জানিয়া।।*
*🌷তোমার প্রসাদে এবে জানিনু তাঁর তত্ত্ব।*
*🌷সম্ভাষিলে জানিবে তাঁর যেমন মহত্ত্ব।।*
*🌷অঙ্গীকার করি প্রভু তাহার বচন।*
*🌷তারে বিদায় দিতে তারে কৈল আলিঙ্গন।।*
*🌷এত বলি মহাপ্রভু করিয়া গমন*।
*🌷মূর্ছিত হইয়া পড়িল তাহে সার্বভৌম।।*
*🌷তারে উপেক্ষিয়া কৈল শীঘ্র গমন।*
*🌷কে বুঝিতে পারে মহাপ্রভুর চিত্তমন।।*
*🌷মহানুভবের চিত্তের স্বভাব এই হয়।*
*🌷পুষ্প-সম কোমল কঠিন বজ্রময়।।*
*🌹বজ্রাদপি কঠোরাণি মৃদূনি কুসুমাদপি।*
*🌹লোকেত্তরাণাং চেতাংসি কো নু বিজ্ঞাতুমর্হতি।।*
                     *(উত্তর-রামচরিত)*
*🌻যদিও মহাপ্রভুর দাক্ষিণাত‍্য ভ্রমণ আমাদের গ্রন্থের বিষয় নয়, কিন্তু রায় রামানন্দের সম্মিলনের অনুরোধে, একবার পাঠকদের বিদ‍্যানগর যেতে হবে।শুনুন যে, কি অপূর্ব তত্ত্ব রামানন্দ এবং মহাপ্রভুর আলাপে প্রকটিত হয়েছে।আমাদের বিশ্বাস যে,এরকম সংক্ষেপে এরকম গভীর তত্ত্বের আলোচনা এবং মীমাংসা,অন‍্য কোন শাস্ত্রে পর্য‍্যালোচিত হয়নি। মহাপ্রভু নীলাচল হতে সার্বভৌমাদি সকল ভক্তের কাছ হতে বিদায় হয়ে, গোদাবরীর দিকে চললেন।জগন্নাথ হতে বিদ‍্যানগর পর্যন্ত,মহাপ্রভু যেখানে যে দেবালয়ে উপস্থিত হতেন,সেইখানেই,ভাবের আবেশে নাম সংকীর্তনাদি করতে থাকতেন।একে তাঁর শ্রীমূর্তি অতি সুন্দর,তাতে আবার ভাবের আবেশ।রূপলাবণ‍্য যেন উছলিয়ে পড়ছে।এই রূপ দেখামাত্রই,সমস্ত গ্রামের লোক,প্রত‍্যহ তাঁকে দেখবার জন্য, এবং নাম শুনার জন্য সমবেত হত*।
*🌳প্রথমে তিনি আলালনাথে উপস্থিত হলেন।এই আলালনাথে চতুর্ভুজ নারায়ণ-মূর্তি স্থাপিত।এই মূতি অতি সুন্দর।এইরকম বহু জায়গায় বহু দেবালয়ে উপস্থিত হয়ে,নামকীর্তন করলেন এবং সমস্ত দেশেই তাঁর ধর্ম প্রচার করতে লাগলেন।তাঁর প্রচারে কোন কষ্ট নাই,বাগবিতন্ডা নাই,যেন মহাপ্রেমের প্রবাহেতে সমস্ত দেশ ভাসিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন।দক্ষিণদেশে ধর্মপ্রচারই তাঁর ভ্রমণের উদ্দেশ্য।তাঁর দর্শন-মাত্রই সমস্ত দেশ বৈষ্ণব হল।*
*🍀এই ভাবে তিনি রামানন্দকে দেখবেন বলে বিদ‍্যানগরে উপস্থিত হলেন।গোদাবরী-তীরে মহাপ্রভু আসন পেতে বসিলেন,ধ‍্যানস্থ হয়ে নাম করছেন, এমন সময় রায় রামানন্দ তাঁর তুরী,ভেরী,ডঙ্কা বাজিয়ে স্নানের জন্য নদীর ঘাটে আসছেন।নদীর তীরে এসে,এই নবীন সন্ন‍্যাসীর রূপ দেখেই,তিনি মোহিত হলেন। তিনি সন্ন‍্যাসীর বহিরাবরণ দেখে ভুলবার লোক ছিলেন না।অনেক সন্ন‍্যাসীকে তিনি উপদেশ দিতেন, কিন্তু এই নবীন সন্ন‍্যাসীকে দেখামাত্রই যেন,চিরপরিচিতের মত তিনি গ্রহণ করলেন।তাঁর মন-প্রাণ যেন টেনে নিলেন, পরিচয়ের প্রয়োজন হল না--অমনি পরস্পর পরস্পরকে আলিঙ্গন করলেন ; এবং প্রেমে বিভোর হয়ে উভয়েই মূর্ছিত হলেন। কিছুসময় পরে উভয়েই চৈতন‍্য লাভ করলেন।*
🌻🌻🌻🌻🌻🌻🌹🌻🌻🌻🌻🌻🌻
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 শ্রীশ্রীজগন্নাথ ও শ্রীশ্রীগৌরাঙ্গ 🌷 অষ্টম ভাগ 🌻 শ্রীযুক্ত রাজর্ষি গোপালচন্দ্র আচার্য‍্য চৌধুরী প্রণীত ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📝 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/02/jagannath8.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(৭৩)শ্রীশ্রীজগন্নাথ ও শ্রীশ্রীগৌরাঙ্গ*
          *🐚নীলাচলে মহাপ্রভু🐚*
             *🌷রায় রামানন্দ🌷*
               🪷🪷🪷🪷🪷
*🍀তখন মহাপ্রভু রায় রামানন্দকে বলছেন, যথা চৈতন‍্যচরিতামৃতে=*
*🌷সার্বভৌম সঙ্গে মোর মনঃ নির্মল হইল।*
*🌷কৃষ্ণভক্তি তত্ত্বকথা তাঁহারে পুছিল।।*
*🌷তিঁহো কহে আমি নাহি জানি কৃষ্ণকথা।*
*🌷সবে রামানন্দ জানে তিঁহো নাহি হেথা।।*
*🌷তোমার ঠাঁই আইলাম তোমার মহিমা শুনিয়া।*
*🌷তুমি মোরে স্তুতি কর সন্ন‍্যাসী জানিয়া।।*
*🌷কিবা বিপ্র কিবা ন‍্যাসী শূদ্র কেনে নয়।*
*🌷যেই কৃষ্ণ-তত্ত্ববেত্তা সেই গুরু হয়।।*
*🌷সন্ন‍্যাসী বলিয়া মোরে না কর বঞ্চন।*
*🌷রাধাকৃষ্ণ তত্ত্ব কহি পূর্ণ কর মন।।*
*🌻এখন, অকৈতব বা অকপট কৃষ্ণ-প্রেমের যে মহাতত্ত্ব,তা মহাপ্রভু রাম রায়ের মুখে প্রকটন করছেন।সেই তত্ত্ব এখানে কিছু আলোচনা করা যাচ্ছে=*
*🌷প্রভু কহে আইলাম শুনি তোমার গুণ।*
*🌷কৃষ্ণ-কথা শুনি শুদ্ধ করাইতে মন।।*
*🌷যৈছে শুনিল তৈছে দেখিল তোমার মহিমা।*
*🌷রাধাকৃষ্ণ-প্রেমরস জ্ঞানের তুমি সীমা।।*
*🌻এই কথার পর মহাপ্রভু তাঁকে সন্ধ‍্যার পর আসতে বললেন,রায় রামানন্দও সন্ধ‍্যার পর আসবেন বলে প্রতিশ্রুত হলেন, এবং মহাপ্রভুর পদপ্রান্তে লুটিয়ে পড়লেন।মহাপ্রভু তাঁকে বিদায় দিয়ে,এক ভক্ত ব্রাহ্মণের  বাড়ীতে গমন করলেন।উভয়েই অতি উৎকণ্ঠার সহিত দিবাভাগ অতিবাহিত করলেন। মহাপ্রভু ভাবছেন,কতক্ষণে রামরায় আসবে এবং তার মুখে কৃষ্ণপ্রেমের তত্ত্ব শুনে পরিতৃপ্ত হবেন।অন‍্যদিকে রাম রায়ও ভাবছেন,কতক্ষণে সন্ধ‍্যা হবে  এবং কতক্ষণে এই অসামান্য মহাপুরুষের সঙ্গলাভ করে কৃতার্থ হবেন।দিন কেটে গেল,সন্ধ‍্যা আসিল-- পরমভক্ত রামরায় মহাপ্রভুর চরণোপ্রান্তে উপস্থিত হয়ে,দীনভাবে বসিলেন।তখন ধর্মকথা আরম্ভ হল।মহাপ্রভু বললেন, তোমার মুখে ধর্মকথা শুনবার জন্য পিপাসু হয়ে,এইখানে উপস্থিত হয়েছি। যথা চরিতামৃতে=*
*🌷প্রভু কহে রায় কহ সাধ‍্যের নির্ণয়।*
*🌷রায় কহে স্বধর্মাচরণে কৃষ্ণভক্তি হয়।।*
*🌷বর্ণাশ্রমচারবতা পুরুষেণ পরঃ পুমান্।*
*🌷বিষ্ণুরারাধ‍্যতে পন্থা নান‍্যস্তৎ-তোষ-কারণম্।।*
  *(শেষ দুটি,বিষ্ণুপুরাণ হতে*)
*🌻বর্ণশ্রমচারী পুরুষ কর্তৃকই সেই পরম পুরুষ বিষ্ণু আরাধিত হন।এতেই তাঁর পরিতুষ্টি হয় ; এছাড়াও তাঁর পরিতোষের আর দ্বিতীয় উপায় নাই।*
*🌷প্রভু কহে এহ বাহ‍্য আগে কহ আর।*
*🌷রায় কহে কৃষ্ণে কর্মার্পণ সর্ব-সাধ‍্যসার।।*
*🌻প্রমাণ যথা=* *গীতা হতে,*
*🌷যৎ করোষি যদশ্নাসি যজ্জুহোসি দদাসি যৎ।*
*🌷যৎ তপস‍্যসি কৌন্তেয় তৎ কুরুষ্ব মদর্পণং।।*
*🌻ভগবান বলছেন,হে কৌন্তেয়, তুমি যা কর,যা আহার কর, যা হবন কর,যা দান কর,যা তপস‍্যা কর,তা আমাতেই অর্পণ কর।*
*🌹মহাপ্রভু এই গীতার শ্লোকেও তৃপ্ত হতে পারলেন না,বললেন, এটিও বাহ‍্য অর্থ‍্যাৎ বাইরের কথা, অন্তর তত্ত্ব নহে।*
*🌷প্রভু কহে এহ বাহ‍্য আগে কহ আর।*
*🌷রায় কহে সর্বধর্ম-ত‍্যাগ সর্ব-সাধ‍্য-সার।।*
*🍀প্রমাণ যথা=গীতা*
*🌷সর্বধর্মান্ পরিত‍্যজ‍্য মামেকং শরণং ব্রজ।*
*🌷অহং ত্বাং সর্বপাপেভ‍্যো মোক্ষয়িষ‍্যামি মাশুচঃ।।*
*🌻ভগবান বলছেন, "সব ধর্ম পরিত‍্যাগ করে,একমাত্র আমারই শরণাপন্ন হও।আমিই তোমাকে সকল পাপ হতে রক্ষা করব।তারজন‍্য শোক করিও না।সর্বধর্ম পরিত‍্যাগ করে একমাত্র আমার শরণাপন্ন হও, ইহা দ্বারা গীতার অন‍্য শ্লোকে যে বলেছেন=*
*🌷যেহপ‍্যন‍্যদেবতা ভক্তা যজন্তে শ্রদ্ধয়ান্বিতাঃ।*
*🌷তেহপি মামেব কৌন্তেয় ভজন্ত‍্যবিধিপূর্বকম্।।*
*🌻সেই বিষয়েরই উল্লেখ করেছেন।অন‍্যান‍্য দেবতার ভজনা করে যে ফল পাবে, একমাত্র আমাকে ভজনা করলে,তা অপেক্ষা অনেকবেশী ফল লাভ করবে।*
*🌺অনেকে আশঙ্কা করতে পারেন যে,নিত‍্য-নৈমিত্তিকাদির অনুষ্ঠানে পাপশ্রুতি আছে,সেই আশঙ্কার নিবৃত্তির জন্য ভগবান বলেছেন, "অহং ত্বাং সর্বপাপেভ‍্যো মোক্ষয়িষ‍্যামি মাশুচঃ"--- তোমার কোনও ভয় নাই,আমি তোমাকে সব পাপ হতে মুক্ত করব।*
*🌹এইকথা শুনেও মহাপ্রভু তৃপ্তি হল না,আবার বললেন, এরপর কি আছে বলো।*
*🌷প্রভু কহে এহ বাহ‍্য আগে কহ আর।*
*🌷রায় কহে জ্ঞান-মিশ্রা ভক্তি সাধ‍্য-সার।।*
*🌻প্রমাণ যথা=*
*🌷ব্রহ্মভূতঃ প্রসন্নাত্ম ন শোচতি ন কাঙ্খতি।*
*🌷সমঃ সর্বেষু ভূতেষু মদভক্তিং লভতে পরাম্।।*
*🌻সর্বভূতে ব্রহ্মজ্ঞান,সদা প্রসন্নচিত্ত,কোন অনুশোচনা নাই, আকাঙ্ক্ষা নাই,সর্বভূতে সমজ্ঞান, এই অবস্থা লাভ হলে,পরাভক্তিলাভের অধিকারী হওয়া যায়।*
*🍀এখন পাঠক বিবেচনা করুন, আমরা গীতার চরম সীমায় উপস্থিত হয়েছি ; তবুও মহাপ্রভুর তৃপ্তি হচ্ছে না, তিনি এতেও বলছেন এহ বাহ‍্য, আগে কহ আর!*
*🌷প্রভু কহে এহ বাহ‍্য আগে কহ আর।*
*🌷রায় কহে জ্ঞান-শূন‍্য-ভক্তি সাধ‍্য-সার।।*
*☘প্রমাণ যথা,ভক্তিরসামৃতসিন্ধুতে=*
*🌷অন‍্যাভিলাষিতাশূন‍্যং জ্ঞানকর্মাদ‍্যনাবৃতম্।*
*🌷আনুকূল‍্যেন কৃষ্ণানুশীলনং ভক্তিরুত্তমা।।*
*🌻জ্ঞানমিশ্রা ভক্তিতে মহাপ্রভু সন্তুষ্ট হলেন না দেখে,রামরায় জ্ঞান-কর্ম-বর্জিত ভক্তির অবতারণা করলেন।এইকথা শুনে শ্রীগৌরহরি বললেন,এটি হয়।এখন তাঁরা ভক্তি-রাজ‍্যে ছাড়িয়ে প্রেম-রাজ‍্যে প্রবেশ করলেন।*
*🌷প্রভু কহে এহ হয় আগে কহ আর।*
*🌷রায় কহে দাস‍্য-ভক্তি সবাসাধ‍্যসার।।*
*🍀যথা=*
*🌷যন্নামশ্রুতিমাত্রেণ পুমান্ ভবতি নির্মলঃ।*
*🌷তস‍্য তীর্থপদঃ কিংবা দাসানামবশিষ‍্যতে।।*
*🌻যাঁর নাম শ্রুতিমাত্রে (শুনামাত্র) লোক নির্মল ও নিষ্পাপ হয়ে যায়। এই জগতে যে তাঁর দাস হয়,তার আর কি অভাব থাকে। শ্রীভগবানের দাসগণের পক্ষে সমস্তই হস্তস্থিত আমলকবৎ করতলগত।*
*🌳দাস‍্যভক্তির কথা শুনে মহাপ্রভু বললেন,এটিও হয়,এর উপরে যা থাকে তা বল।*
*🌷প্রভু কহে এহ হয় আগে কহ আর।*
*🌷রায় কহে সখ‍্য-প্রেম সর্বসাধ‍্য সার।।*
*🍀চরিতামৃতে যথা=*
*🌷সখা শুদ্ধ-সখ‍্যে কর স্কন্ধ আরোহণ।*
*🌷তুমি কোন বড়লোক তুমি আমি সম।।*
*🌻এই প্রেমের প্রধান দৃষ্টান্তস্থল ব্রজ-বালকগণ।এই ভাবে "ভগবান" বোধ  নাই, শ্রীকৃষ্ণ এবং গোপ বালকদের মধ্যে সমান ভাব।মহাপ্রভু এই ব্রজরসের কথা শুনে আহ্লাদিত হলেন।পুনঃ বলছেন=*
*🌷প্রভু কহে এহোত্তম আগে কহ আর।*
*🌷রায় কহে বাৎসল‍্য-প্রেম সর্বসাধ‍্য সার।।*
*☘শ্রীমদ্ভাগবত বলেছেন=*
*🌷নন্দঃ কিমকরোদ্ ব্রহ্মণ্ শ্রেয় এব মহোদয়ম্।*
*🌷যশোদা বা মহাভাগা পাপৌ যস‍্যাস্তনং হরিঃ।।*
         *ক্রমাগত*
🦚🦚🦚🦚🦚🦚🙏🦚🦚🦚🦚🦚🦚
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 শ্রীশ্রীজগন্নাথ ও শ্রীশ্রীগৌরাঙ্গ 🌷 অষ্টম ভাগ 🌻 শ্রীযুক্ত রাজর্ষি গোপালচন্দ্র আচার্য‍্য চৌধুরী প্রণীত ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📝 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/02/jagannath8.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(৭৪)শ্রীশ্রীজগন্নাথ ও শ্রীশ্রীগৌরাঙ্গ*
            *🔷নীলাচলে মহাপ্রভু🔷*
              *🙏রায় রামানন্দ🙏*
                 °°°°°°°°°°°°°°°°°°°
*🍀শ্রীমদ্ভাগবতে বলেছেন= নন্দগোপ কি মহৎ কাজই করেছিলেন,যাতে ভগবানকে পুত্ররূপে পেয়েছেন ; মহাভাগ‍্যবতী যশোদাই বা কি তপস‍্যা করেছিলেন,যার ফলে পূর্ণব্রহ্ম হরি তাঁর স্তনপান করলেন।সখ‍্যেতে ভক্তের সঙ্গে ভগবান সমানভাবে খেলা করে থাকেন ; এইভাবে বিভোর হয়ে গোপবালকগণ উচ্ছিষ্ট ফল, শ্রীকৃষ্ণের মুখে তুলে দিয়েছেন।বাৎসল‍্যপ্রেমেতে নিজে ছোট হয়ে ভক্তকে অনেক বড় করে রাখেন।এই প্রেমেতে শ্রীকৃষ্ণ ব্রজধামে নন্দের "বাধা"(খড়ম বা পাদুকা)বহন করেছিলেন,এই ভাবেতে শ্রীমতী যশোমতী তাঁকে হাতে লাঠি নিয়ে তাড়া করেছিলেন,মায়ের ভয়ে ভগবান পালিয়ে বেড়িয়েছেন,যে মুনি-ঋষিগণ তাঁকে পাবার জন্য হাজার হাজার বৎসর তপস‍্যা করেও পান না,সেই ভগবান বাৎসল‍্য প্রেমে ভয়ে ছুটে পালাচ্ছেন।দড়ি দিয়ে তাঁকে উদুখলে বেঁধে ছিলেন।এই প্রেমেতে ঈশ্বর বোধ একেবারে থাকে না।ভক্ত স্নেহপরবশ হয়ে,নিজেকে পিতামাতার ভাবে এবং ভগবানকে পুত্রভাবে সেবা করে থাকেন।ব্রজধামে ব্রজেশ্বরী,ব্রজরাজ নন্দ,রোহিণী,উপনন্দ প্রভৃতি সকলে, এই রসের ভক্ত ছিলেন। কেবল যে, ব্রজধামেই এই রসের রসিক ছিলেন,তা নয়, অন‍্য সময়েও এইরকম ভক্তের আবির্ভাব দেখা যায়।ভক্তমাল গ্রন্থে এইরকম একজন স্ত্রীলোক-ভক্তের কথা লিখিত আছে।তিনি যশোমতী কর্তৃক কৃষ্ণের উদুখলে বন্ধনের বিষয় শুনে অচৈতন‍্য হন।যশোমতী কৃষ্ণের কোমল অঙ্গে কি করে এত আঘাত দিলেন,এইকথা ভাবতে ভাবতে তিনি প্রাণত‍্যাগ করলেন।এই বাৎসল‍্য রসেতে মহাপ্রভু অত‍্যন্ত সন্তুষ্ট হলেন, এবং তাঁর আকাঙ্ক্ষা আরও বাড়তে লাগিল, তিনি বললেন অতঃপর কি আছে বল।*
*🌷প্রভু কহে এহোত্তম আগে কহ আর।*
*🌷রায় কহে মধুর ভাব সর্ব সাধ‍্য সার।।*
*🍁যথা চৈতন‍্যচরিতামৃতে=*
*🌷পরিপূর্ণ কৃষ্ণ-প্রাপ্তি এই প্রেম হইতে।*
*🌷এই প্রেমের কহে ভাগবতে।।*
*🌷এই প্রেমের অনুরূপ না পারি ভজিতে।*
*🌷অতএব ঋণ হয় কহে ভাগবতে।।*
*🌹ন পারয়েহহং নিরবদ‍্যসংযুজাং,*
*🌹স্বসাধুকৃত‍্যং বিবুধায়ুষাপিবা।*
*🌹যা মাহভজন্ দুর্জ্জর-গেহ-শৃঙ্খলাঃ,*
*🌹সংবৃশ্চ‍্য তদ্বঃ প্রতিযাতু সাধুনা।।*
*🌳গোপীদের অনুরূপ (মতন)ভজন করতে অসমর্থ হয়ে, ভগবান গোপীদের কাছে প্রেম-ঋণে আত্মবিক্রয় করেছিলেন ; অতএব কান্ত-ভাবই সর্ব-সাধ‍্য-সার।*
*🌻এইরসের দৃষ্টান্ত ব্রজগোপী ছাড়া অন‍্য কোথাও দেখা যায় না।এঁদের মধ্যে,আবার শ্রীমতী মহাভাবস্বরূপিনী রাধাঠাকুরাণী সর্বশ্রেষ্ঠা।তাঁর ভাবে বা প্রেমে ঋণী হয়ে,শ্রীকৃষ্ণ বৃন্দাবনে দাসখত দিয়েছিলেন।শ্রীরাধার প্রেমই সাধ‍্য-শিরোমণি।তার প্রমাণ কথা যথা পদ্মপুরাণে=*
*🌷যথা রাধা প্রিয়া বিষ্ণোস্তস‍্যাঃ কুন্ডং প্রিয়ং তথা।*
*🌷সর্বগোপীষু সৈবৈকা বিষ্ণোরত‍্যন্তবল্লভা।।*
*🌻শ্রীমতী যেমন শ্রীকৃষ্ণের প্রিয়া,তার কুন্ডও শ্রীকৃষ্ণের সেইরকম প্রিয়।সকল গোপীর মধ্যে শ্রীমতী রাধিকাই শ্রীকৃষ্ণের প্রিয়তমা।এই জন্যই ত্রিজগতে রাধাপ্রেমের উপমা নাই।*
*☘এইভাবে শ্রীরামরায় বললেন,কান্তাভাবে কৃষ্ণভজন সর্বাপেক্ষা উচ্চতম।মহাপ্রভু এর পর স্বীকার করলেন, এটিই সাধ‍্য-সাধনের চরমসীমা বটে।তবু রামরায় বললেন,এর পরেও যে কোন তত্ত্ব আছে,তা আমি জানি না,তবে তোমার কৃপা হলে কিম্বা তুমি জানালে বলতে পারি।এ পর্যন্ত তুমি যা বলিয়েছ আমি তাই বলেছি, সবই তোমার কৃপায়। যথা চৈতন‍্যচরিতামৃতে=*
*🌷তোমার শিক্ষায় পড়ি যেন শুকের পাঠ।*
*🌷সাক্ষাৎ ঈশ্বর তুমি কে বুঝে তোমার নাট।।*
*🌷হৃদয়ে প্রেরণ করাও জিহ্বায় কহাও বাণী।*
*🌷কি করিয়ে ভালমন্দ কিছুই না জানি।।*
*🌻মহাপ্রভু প্রত‍্যুত্তরে বললেন, আমাকে সন্ন‍্যাসী বলে বঞ্চনা তুমি করিও না।রামরায় বললেন,*
*🌷আমি নট তুমি সূত্র-ধার।*
*🌷যেমতে নাচাও তৈছে চাহি নাচিবার।।*
*🌷মোর জিহ্বা বীণাযন্ত্র তুমি বীণাধারী।*
*🌷তোমার মনে যেই উঠে তাহাই উচ্চারি।।*
*🌻এই কথা বলে, অনেক চিন্তার পর বললেন,আর স্বরচিত একটি গান আছে,তা শুনাচ্ছি।*
*🌷পহিলহি রাগ নয়নভঙ্গ ভেল।*
*🌷অনুদিন বাঢ়ল অবধি না গেল।।*
*🌷না সো রমণ না হাম রমণী।*
*🌷দুঁহু মন মনোভব পেষল জানি।।*
*🌷এ সখি সে সব প্রেম-কাহিনী।*
*🌷কানুঠামে কহবি বিছুরল জানি।।*
*🌷না খোঁজলু দূতী না খোঁজলু আন।*
*🌷দুঁহুকে মিলনে মধ্যেত পাঁচ-বাণ।।*
*🌷অব শোই বিরাগ তুঁহু ভেলি দূতী।*
*🌷সুপুরুখ প্রেমক ঐছন রীতি।।*
*🌻এই গীতের বা পদের অর্থ অতি গভীর।শ্রীল রাধামোহন ঠাকুর মহাশয় এইরকম ব‍্যাখ‍্যা করেছেন,-- তাঁর ব‍্যাখ‍্যা অনুসারে অনুবাদ করছি।নায়ক নায়িকার নয়ন-ভঙ্গি দ্বারা পূর্বরাগের সঞ্চার হল।এই পূর্বরাগ তাঁর প্রত‍্যেকদিন বাড়তে লাগল,তার শেষ হল না।তিনি আমার পতি ও আমি তাঁর পত্নী,এইরকম ভাবেতে আমাদের প্রণয়ের সঞ্চার হয়নি ; তথাপি আমাদের উভয়ের মন কন্দর্পের দ্বারা পিষ্ট হয়ে মিলিত হল,এই আমি জানি।অতএব এইসব কথা শ্রীকৃষ্ণকে বলবে।তুমি শ্রীকৃষ্ণের বিস্মরণশীল দূতী--তোমাদের স্ব-ভাব, ভুলে যাওয়া ; তাই তুমিও ভুলে যেতে পার।যখন আমাদের প্রেমের সঞ্চার হয়েছিল,তখন,দূতী অথবা অন‍্য কেউ আমাদের মিলন করায় নাই, কেবল কামদেবই আমাদের মিলনের মধ‍্যস্থ-স্বরূপ ছিলেন।এখন, প্রেমের শিথিলতা হয়েছে,তাই তুমি দূতী হয়েছ।সুপুরুষের এই রীতি।*
*🌻এই পদটিতে বহু তত্ত্ব নিহিত আছে।প্রথম দুই পংক্তি দ্বারা প্রেমের নিত‍্যত্ব প্রমাণিত হয়েছে।তার পরের পংক্তিতে "না সো রমণ,না হাম রমণী" এই পদ দ্বারা রাধাগোবিন্দের স্ত্রীপুরুষস্তাদি-রাহিত‍্য বর্ণিত হয়েছে। "দুঁহু মন মনোভব পেষল জানি" এই পংক্তি দ্বারা শ্রীউজ্জ্বল নীলমণিকার (শ্রীপাদ রূপ গোস্বামী) প্রেম-বিলাস-বিবর্ত্ত-প্রতিপাদনার্থ যে একটি শ্লোক উল্লেখ করেছেন,তারই প্রতিধ্বনি বলে মনে হয়। শ্লোক যথা=*
*রাধায়া ভবতশ্চ চিত্তজতুণী স্বেদৈর্বিলাপ‍্য ক্রমাদ্।*
*যুঞ্জন্নদ্রিনিকূঞ্জকুঞ্জরপতে নির্ধূতভেদভ্রমম্।।*
*চিত্রায় স্বয়মন্বরঞ্জয়দিহ ব্রহ্মান্ডহর্ম্ম‍্যোদরে।*
*ভূয়োভির্ন বরাগহিঙ্গুলভরৈঃ শৃঙ্গার-কারু-কৃতী।।*
*🌻শ্রীউজ্জ্বল নীলমণি গ্রন্থেতে মহাভাবের উদাহরণে বৃন্দা শ্রীকৃষ্ণকে বলছেন-- হে গোবর্দ্ধনপতি,শৃঙ্গার-রসরাজ! তুমি অতি সুপন্ডিত শিল্পী। তোমার এবং শ্রীরাধার অন্তর এবং বাহির সাত্ত্বিক-বৃত্তিদ্বারা (মনের ধর্ম শক্তি বা প্রবণতা দ্বারা) দ্রব (তরল)করে, উভয়ের চিত্তকে অভিন্নভাবে সংযোজিত করেছ,যেন ব্রহ্মান্ডরূপ মন্দির মধ্যে চিত্র বা ছবি করবার জন্য,নবানুরাগ হিঙ্গুলের দ্বারা (পারদ-গন্ধক মেশানো ঘোর লাল পদার্থ) রঞ্জিত হয়েছে।*
           *ক্রমাগত*
❤❤❤❤❤❤🙏❤❤❤❤❤❤
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 শ্রীশ্রীজগন্নাথ ও শ্রীশ্রীগৌরাঙ্গ 🌷 অষ্টম ভাগ 🌻 শ্রীযুক্ত রাজর্ষি গোপালচন্দ্র আচার্য‍্য চৌধুরী প্রণীত ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📝 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/02/jagannath8.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(৭৫)শ্রীশ্রীজগন্নাথ ও শ্রীশ্রীগৌরাঙ্গ*
            *🌼নীলাচলে মহাপ্রভু🌼*
                *💧রায় রামানন্দ💧*
                  ⭐⭐⭐⭐⭐⭐
*🍀এই শ্লোক দ্বারা রাধাকৃষ্ণের-প্রেমের একত্ব প্রমাণিত হয়েছে, "দুঁহু মন মনোভব পেষল জানি" এটি দ্বারাও উক্ত ভাবেরই অভিব‍্যক্তি হয়েছে।তাই শ্রীচৈতন‍্যচরিতামৃতকার লিখেছেন=*
*🌷রাধা পূর্ণশক্তি কৃষ্ণ পূর্ণশক্তিমান।*
*🌷দুই বস্তু ভেদ নহে,শাস্ত্র পরমাণ।।*
*🌷রাধাকৃষ্ণ ঐছে সদা একই স্বরূপ।*
*🌷লীলারূপ আস্বাদিতে ধরে দুই রূপ।।*
*🌷মহাভাব-স্বরূপা শ্রীরাধা ঠাকুরাণী।*
*🌷সর্বগুণখনি, কৃষ্ণকান্তা-শিরোমণি।।*
*🍀এই রসতত্ত্ব শুনে মহাপ্রভু বললেন,এই কথা আর প্রকাশ করিও না।এইকথা বলে মহাপ্রভু শ্রীহস্তে মুখ আচ্ছাদন করলেন।*
*🌷প্রভু কহে সাধ‍্য-বস্তু-অবধি এই হয়।*
*🌷তোমার প্রসাদে ইহা জানিল নিশ্চয়।।*
*🌻তারপর,মহাপ্রভু এই কথা ছেড়ে,সাধনের কথা জিজ্ঞাসা করছেন,শ্রীকৃষ্ণ-তত্ত্ব,শ্রীরাধা-তত্ত্ব কি,তার ব‍্যাখ‍্যা করে আমার কৌতূহল নিবৃত্ত কর।। এই তত্ত্ব সবিস্তারে লিখিলে গ্রন্থের কলেবর অত‍্যন্ত বৃদ্ধি হয়, সুতরাং আর অগ্রসর হতে পারলাম না।আর কয়েকটি কথা লিখেই এই তত্ত্ব বিরাম দিব।এখন,রামরায় মহাপ্রভুকে এক নিগূঢ় তত্ত্ব জিজ্ঞাসা করছেন--,সে প্রশ্নটি এই, যথা চরিতামৃতে=*
*🌷পহিলে দেখিনু তোমা সন্ন‍্যাসী-স্বরূপ।*
*🌷এবে তোমা দেখি মুই শ‍্যাম-গোপরূপ।।*
*🌷তোমার সম্মুখে দেখি কাঞ্চন পঞ্চালিকা।*
*🌷তার গৌর-কান্ত‍্যে তোমার শ‍্যাম অঙ্গ ঢাকা।।*
*🌷তাতে এক প্রকট দেখি সবংশীবদন।*
*🌷নানাভাবে চঞ্চল তাহে কমল-নয়ন।।*
*🌷এইমত দেখি তোমা হয় চমৎকার।*
*🌷অকপটে কহ প্রভু কারণ ইহার।।*
*🌻রামানন্দ রায়,ইতিমধ‍্যে একদিন পূজায় বসে,তাঁর ইষ্টধ‍্যান করছিলেন ; ধ‍্যানে সহসা শ‍্যামরূপ ভাবতে ভাবতে সন্ন‍্যাসীবেশধারী শ্রীগৌরাঙ্গমূর্তি তাঁর ইষ্টমূর্তিতে মিশে গেলেন।শ‍্যামসুন্দরের পরিবর্তে গৌরসুন্দর হৃদয়ে উদিত হলেন।শ্রীরামরায় বিস্মিতভাবে চোখ খুললেন। আবার পুনরায় ধ‍্যানস্থ হয়ে দেখলেন--,এই মূর্তি হৃদয়পট অধিকৃত করে বসে আছে।এখনও তাঁর এই ঘটনা স্মরণ হল।শ্রীমুখ হতে এই কথা পরিস্কার করবার জন্য, এবং জগৎবাসীকে জানাবার জন্য,পূর্বোক্তরূপ প্রশ্ন জিজ্ঞাসা করলেন।মহাপ্রভুর এইকথার উত্তরে, প্রকৃত কথা না বলে,অন‍্যভাবে উত্তর দিলেন।*
*🌷কৃষ্ণ প্রতি তোমার অতি গাঢ় প্রেম হয়।*
*🌷প্রেমের স্বভাব এই জানিহ নিশ্চয়।।*
*🌷মহাভাগবত দেখে স্থাবর জঙ্গম।*
*🌷তাহা তাহা হয় তার শ্রীকৃষ্ণস্ফূরণ।।*
*🌷স্থাবর জঙ্গম দেখে না দেখে তাঁর মূর্তি।*
*🌷 সর্বত্র হয় নিজ ইষ্টদেব-স্ফূর্তি।।*
*🌷রাধাকৃষ্ণে তোমার মহা প্রেমা হয়।*
*🌷যাহা তাহা রাধাকৃষ্ণ তোমারে স্ফূরয়।।*
*🌻ভক্তাধীন ভগবান, ভগবান কখনই তাঁর মহিমা প্রকাশ করেন না।তবে রামরায় যে উত্তর দিলেন,চৈতন‍্য চরিতমৃত হতে তাওও উদ্ধৃত করেছি।*
*🌷রায় কহে প্রভু তুমি ছাড় ভারি ভুরি।*
*🌷মোর আগে নিজ তুমি না করিও চুরি।।*
*🌷রাধার ভাবকান্তি করি অঙ্গীকার।*
*🌷নিজ রস আস্বাদিতে করিয়াছ অবতার।।*
*🌷নিজ গূঢ় কার্য‍্য তোমার প্রেম আস্বাদন।*
*🌷অনুসঙ্গে প্রেমময় কৈলা ত্রিভুবন।।*
*🌻এইবার চতুরের শিরোমণি গৌরহরি ধরা পড়লেন, আর গোপন থাকতে পারলেন না। ব্রজগোপীদের কাছে শ্রীকৃষ্ণ চতুর্ভুজ মূর্তি ধরে,যেমন লুকাতে পারলেন না, আবার তাঁর দ্বিভুজ মুরলী-ধর মূর্তি ধরতে হল।এখানেও তাইই হল।যথা চরিতামৃতে=*
*🌷তবে হাসি তাঁরে প্রভু দেখাইলা স্বরূপ।*
*🌷 রসরাজ মহাভাব দুই একরূপ।।*
*🌷দেখি রামানন্দ হইল আনন্দে মূর্ছিত।*
*🌷ধরিতে না পারে দেহ পড়িলা ভূমিত।।*
*🌻এইক্ষণ রামরায়যা দেখলেন,তা রসরাজ মহাভাব দুই একরূপ।এই ভাব দেখিয়ে মহাপ্রভু তাঁকে আলিঙ্গন করে বললেন, যথা চরিতামৃতে=*
*🌷আলিঙ্গন করি প্রভু কৈল আস্বাসন।*
*🌷তোমা বিনা এইরূপ না দেখে কোন জন।।*
*🌷মোর তত্ত্ব লীলারস তোমার গোচরে।*
*🌷অতএব এইরূপ দেখাইনু তোমারে।।*
*🌻মহাপ্রভু রামরায়কে বললেন, রামরায়!তুমি এইকথা কারও কাছে প্রকাশ করিও না-- তুমি এক বাতুল, আর আমি এক বাতুল।এইভাবে সমস্ত প্রেমতত্ত্ব,সাধনতত্ত্ব,রায় রামানন্দ বুঝতে পারলেন, এখন তিনি বিদ‍্যানগর ত‍্যাগ করে দক্ষিণ অভিমুখে যাবেন।রামরায় মহাপ্রভুকে আরও কয়েকদিন থাকতে অনুরোধ করলেন। মহাপ্রভু বলিলেন=*
*🌷নীলাচলে তুমি আমি রব এক সঙ্গে।*
*🌷সুখে গোঙায়িব কাল কৃষ্ণ-কথা রঙ্গে।।*
*🌹রামরায়ের প্রার্থনা অনুসারে মহাপ্রভু আরও কয়েকদিন রইলেন, এবং পরমার্থতত্ত্ব সম্বন্ধে আলোচনা হল।চৈতন‍্যচরিতামৃতে রায় রামানন্দ ও মহাপ্রভুতে আরও কিছু প্রশ্নোত্তর উল্লেখ আছে,তা উদ্ধৃত করছি।*
*🌷কীর্ত্তিগণ-মধ‍্যে জীবের কোন বড় কীর্ত্তি।*
*🌷কৃষ্ণপ্রেম-ভক্ত বলি যাহার হয় খ‍্যাতি।।*
*🌷সম্পত্তির মধ্যে জীবের কোন সম্পত্তি গণি।*
*🌷রাধাকৃষ্ণ-প্রেম যার সেই মহাধনী।।*
*🌷দুঃখ মধ্যে কোন দুঃখ হয় গুরুতর।*
*🌷কৃষ্ণ-ভক্ত-বিরহ বিনা দুঃখ নাহি আর।।*
*❤এইরকম অনেক কথা হল।কথায় কথায় ভাবের তরঙ্গ এত উথলিয়ে উঠিল যে,রামরায় মহাপ্রভুর পদপ্রান্তে নিপতিত হলেন, এবং গৌরহরি তাঁকে ভাবাবেশে আলিঙ্গন দিয়ে হৃদয়ে ধারণ করলেন। এখন রামরায়ের বিরহের পালা।*
             *ক্রমাগত*
😭😭😭😭😭😭😭😭😭😭😭😭😭
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 শ্রীশ্রীজগন্নাথ ও শ্রীশ্রীগৌরাঙ্গ 🌷 অষ্টম ভাগ 🌻 শ্রীযুক্ত রাজর্ষি গোপালচন্দ্র আচার্য‍্য চৌধুরী প্রণীত ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📝 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/02/jagannath8.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(৭৬)শ্রীশ্রীজগন্নাথ ও শ্রীশ্রীগৌরাঙ্গ*
             *🌸নীলাচলে মহাপ্রভু🌸*
                     *রায় রামানন্দ*

*🍀মহাপ্রভু অতঃপর রামরায়কে বললেন, এখন আমি দাক্ষিণাত‍্য যাব, আমাকে ছেড়ে দাও। আমি সত্বরই দাক্ষিণাত‍্য ঘুরে আসছি ; তুমি বিষয় ছেড়ে প্রস্তুত হতে থাক।আমরা অবশিষ্ট কাল নীলাচলে দুইজনে একত্রে থাকব এবং রসময়  রাধাকৃষ্ণ-তত্ত্ব-কথায় পরমসুখে দিন যাপন করব। যথা চৈতন‍্যচরিতামৃতে=*
*🌷বিষয় ছাড়িয়া তুমি যাহ নীলাচলে।*
*🌷আমি তীর্থ করি পহল আসিব অল্পকালে।।*
*🌷দুইজনে নীলাচলে রব একসঙ্গে।*
*🌷সুখে কাল গোঙায়িব কৃষ্ণকথা-রঙ্গে।।*
*🌻রামানন্দ রায় এই কথা শুনে,অত‍্যন্ত মর্মাহত হয়ে,মৃত-প্রায়-হলেন, নয়নজলে দেহ ভেসে গেল --একেবারে বিহ্বল হয়ে পড়লেন--ধৈর্য‍্য রাখতে পারলেন না। মহাপ্রভু তাঁকে সান্ত্বনা করে ঘরে পাঠিয়ে দিলেন।তৎপর দিন মহাপ্রভু বিদ‍্যানগর পরিত‍্যাগ করে দক্ষিণাভিমুখে প্রস্থান করলেন।বিরহ-কাতর রামানন্দ রায় দিনরাত্রী মহাপ্রভুর ধ‍্যানে ডুবে রইলেন।মহাপ্রভু দাক্ষিণাত‍্যে গেলেন। আমরা আর তাঁর সঙ্গে যাব না।মহাপ্রভু দাক্ষিণাত‍্য পরিভ্রমণ করে,দুই বৎসর পরে পুনরায় বিদ‍্যানগরে উপস্থিত হলেন ; রায় রামানন্দের দীর্ঘ-বিরহের অবসান হল।শ্রীচৈতন‍্যচরিতামৃতে এইরকম বর্ণনা আছে।*
*🌷সপ্ত গোদাবরী দেখি তীর্থ বহুতর।*
*🌷পুনরপি আইলা প্রভু বিদ‍্যানগর।।*
*🌷রামানন্দ রায় শুনি প্রভুর আগমন।*
*🌷আনন্দে আসিয়া কৈল প্রভুর মিলন।।*
*🌷দন্ডবৎ হইয়া পড়ে চরণ ধরিয়া।*
*🌷আলিঙ্গন করে প্রভু তারে উঠাইয়া।।*
*🌷দুইজনে প্রেমাবেশে করয়ে ক্রন্দন।*
*🌷প্রেমাবেশে শিথিল হ'ল দুজনার মন।।*
*🌻শ্রীমন্মহাপ্রভু বিদ‍্যানগরে কয়েকদিন থাকবার পর, নীলাচলে গমন করলেন।রায় রামানন্দও বিষয়-কার্য‍্য ত‍্যাগ করে,নীলাচলে মহাপ্রভুর সহিত উপস্থিত হলেন। যথা চরিতামৃতে=*
*🌷রায় কহে তোমার আজ্ঞা রাজাকে কহিল।*
*🌷তোমার ইচ্ছায় রাজা মোরে বিষয় ছাড়াইল।।*
*🌷আমি কহিনু আমা হতে না হয় বিষয়।*
*🌷চৈতন‍্যচরণে রব যদি আজ্ঞা হয়।।*
*🌷তোমার নাম শুনি রাজা আনন্দিত হইল।*
*🌷আসন হইতে উঠি মোরে আলিঙ্গন কৈল।।*
*🌷তোমার নাম শুনি হইল মহা-প্রেমাবেশ।*
*🌷মোর হাতে ধরি কহে পিরীতি বিশেষ।।*
*🌷তোমার যে বর্ত্তন তুমি খাই সে বর্ত্তন।*
*🌷নিশ্চিন্ত হইয়া সেব প্রভুর চরণ।।*
*🌻মহাপ্রভুর সহিত পুনর্ম্মিলনের পর উভয়েই পুরীতে গেলেন।ইতঃপর রামরায়ের সমস্ত জীবন মহাপ্রভুর গম্ভীরা-লীলাতেই পর্য‍্যবসিত হয়েছিল,(মহাপ্রভুর শেষদিন পর্যন্ত সঙ্গে ছিলেন )। অতএব,তাঁর সম্বন্ধে স্বতন্ত্ররূপে আর লিখবার প্রয়োজন নাই। এখন,মহাপ্রভুকে নিয়ে তাঁর কাজ। মহাপ্রভু ভাবে বিভোর--রায় রামানন্দও সেই ভাবে বিভাবিত। কিন্তু তাঁর সব সময়েই চিন্তা,মহাপ্রভু কোথায় যান--সমুদ্রে পড়েন, কি মূর্ছিত হন, আর চিন্তা,কি ভাবে মহাপ্রভুকে একটু সুস্থ রাখা যায় -- তিনি কৃষ্ণ-বিরহে দিনরাত্রি অস্থির।*
*🌷কাঁহা  কর  কাহা  যাও।*
*🌷কাহা  গেলে  কৃষ্ণ  পাও।।*
*🌻এই ভাব অনুযায়ী শ্লোক পাঠ করেন, এবং স্বরূপদামোদর গান দ্বারা গৌরহরির মন শান্ত করেন।*
*🌹রামানন্দের সঙ্গে প্রদ‍্যুম্ন মিশ্রের কৃষ্ণকথা-প্রসঙ্গ ইতঃপূর্বে লিখিত হয়েছে ; সুতরাং এই স্থলে তার পুনরুক্তি নিষ্প্রোয়োজন।*
🙌🙌🙌🙌🙌🙌🙌🙌🙌🙌🙌🙌🙌
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 শ্রীশ্রীজগন্নাথ ও শ্রীশ্রীগৌরাঙ্গ 🌷 অষ্টম ভাগ 🌻 শ্রীযুক্ত রাজর্ষি গোপালচন্দ্র আচার্য‍্য চৌধুরী প্রণীত ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📝 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/02/jagannath8.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(৭৭)শ্রীশ্রীজগন্নাথ ও শ্রীশ্রীগৌরাঙ্গ*
           *🔷নীলাচলে মহাপ্রভু🔷*
             *🌲গম্ভীরা--লীলা🌲*
             *******************
*🌻মহাপ্রভু দাক্ষিণাত‍্য-ভ্রমণ শেষ করে,পুরীধামে এসেছেন।কাশীমিশ্রের বাড়ীতে মহাপ্রভু এখন বাস করেন।ভক্তগণ আবার মহাপ্রভুর ফিরে আসাতে পুনর্জীবন লাভ করেছেন।রায় রামানন্দও এখন সংসার ত‍্যাগ করে,মন্ত্রীর দায়িত্ব হতে,প্রতাপরুদ্রের নিকট আবসর গ্রহণ করে, মহাপ্রভুর চরণ-প্রান্তে নিয়ত বাস করছেন।এখন তাঁর অন‍্য সেবা নাই,অন‍্য কাজ নাই, মহাপ্রভুই তাঁর যথাসর্বস্ব। গম্ভীরা কাশীমিশ্রের বাড়ীর মধ্যে একটি কোঠার নাম।কোঠাটি খুবই ছোট, এই জন্যই বোধ হয় এটিকে "গম্ভীরা" বলে। অর্থ‍্যাৎ গহ্বরের সহিত সাদৃশ‍্য আছে বলেই,গম্ভীরা।এই জায়গা মহাপ্রভুর দ্বাদশবর্ষ ব‍্যাপক লীলাক্ষেত্র।*
*🌹মহাপ্রভুর ভাব এখন ক্রমশই গভীর হতে গভীরতর হচ্ছে-- ভাবে দিবানিশি বিভোর থাকেন।অভ‍্যাস বশতঃ সামান্য আহার নিদ্রা করে থাকেন, কিন্তু তখনও ভাবের বিরাম নাই।এই সময়ে বিরহের ভাব অত‍্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছিল--শ্রীমতীর কৃষ্ণবিরহে যে ভাব হয়েছিল,মহাপ্রভুও সেই ভাবে বিভোর, দিন রাত্রি কেবলই অশ্রুবিসর্জন। এটির ভিতর কতভাব হয়েছে,কতকথা হয়েছে,তা কে বর্ণনা করতে পারে?সামান‍্যরূপ দিগ্ দর্শন জন্য কিছু আভাস দিতে রত হলাম।*
*🍀এখন মহাপ্রভু দিনের বেলায় একটু অন‍্যমনা থাকেন,দশজনের সঙ্গে আলাপ করতে হয়,কীর্তন শুনেন,শাস্ত্রীয় কথা হয়,টোটা-গোপীনাথে গদাধরের ভাগবত-পাঠ শুনেন, এইভাবে দিন একরকমে কেটে যায়। কিন্তু রাত্রি হলে, মহাপ্রভুর বিরহভাব গভীর হতে থাকে। সারা রাত্রি কখনও কাঁদেন,কখনও প্রলাপ করেন, কখনও বা এত হৃদয়বিদারক শোক প্রকাশ করেন যে,যাঁরা কাছে থাকেন,তাঁরাও তা সহ‍্য করতে পারেন না। কৃষ্ণবিরহে যে এত দুঃখ আছে,তা যাঁরা কখনও কিছু আস্বাদন না করেছেন,তাঁরা উপলব্ধি করতে পারবেন না।যত রকমের কষ্ট আছে, কৃষ্ণ-বিরহের মত,এত কষ্ট কিছুতেই নাই।*
*🌷কৃষ্ণের বিয়োগে গোপীর দশদশা হয়।*
*🌷 সেই দশ দশা হয় প্রভুর উদয়।।*
*🌻শ্রীমতী রাধারাণীর ব্রজে এই দশ দশা হয়েছিল।মহাপ্রভুও সেই ভাবে বিভাবিত, তিনিও কৃষ্ণবিরহে এই সমস্ত দশা প্রাপ্ত হতেন।*
*🌷পেটের ভিতর হস্তপদ কুর্ম্মের আকার।*
*🌷মুখে ফেণ পুলকাঙ্গ নেত্রে অশ্রুধার।।*
*🌷অচেতন রহিয়াছেন যেন কুষ্মান্ড ফল।*
*🌷বাহিরে জড়িমা অন্তরে আনন্দ-বিহ্বল।।চৈঃচঃ*
*🌷প্রভু পড়িয়া আছেন দীর্ঘ হাত পাঁচ ছয়।*
*🌷অচেতন দেহ নাসায় শ্বাস নাহি বয়।।*
*🌷উন্মাদ প্রলাপ চেষ্টা করে রিত্রি দিনে।*
*🌷রাধা-ভাবাবেশে বিরহ বাড়ে অনুক্ষণে।।*
*🌷আচম্বিতে স্ফূরে কৃষ্ণের মথুরা-গমন।*
*🌷উদঘূর্ণা দশা হইল উন্মাদ-লক্ষণ।।*
*🌷রামানন্দের গলা ধরি করেন প্রলাপন।*
*🌷স্বরূপে পুছেন জানি নিজ সখীজন।।*
*🌷পূর্বে যেমন বিশাখাকে রাধিকা পুছিলা।*
*🌷সেই শ্লোক পড়ি প্রলাপ করিতে লাগিলা।।চৈঃচঃ।।*
*🌻তথাহি ললিত-মাধবে=*
*"ক্ব নন্দকুল-চন্দ্রমাঃ ক্ব শিখিচন্দ্রিকালঙ্কৃতিঃ।*
*ক্ব মন্দমুরলীরবঃ ক্বনু সুরেন্দ্রনীলদ‍্যুতিঃ।।*
*ক্ব রাসরস-তান্ডবী ক্ব সখি জীববক্ষ‍ৌষধি।*
*র্নিধির্মম সুহৃত্তমঃ ক্ব বত হা হতা ধিগবিধিং।।*
*🌹কোনও সময় বা,স্বরূপ ও রামরায়ের গলা ধরে মহাপ্রভু বলছেন=*
*এই মত গৌর-রায়,বিষাদে করে হায় হায়,*
        *হা হা কৃষ্ণ গেলে তুমি কতি।*
*গোপী-ভাব হৃদয়ে,তার বাক‍্য বিলাপয়ে,*
     *গোবিন্দ দামোদর মাধবেতি।।*
*তবে স্বরূপ রামরায়,করিয়া নানা উপায়,*
       *মহাপ্রভুর করে আশ্বাসন।*
*গায়েন মঙ্গল-গীত,প্রভুর কি যাইতে চিত,*
       *প্রভুর কিছু স্থির হইল মন।।*
*🌷এই মত বিলাপেতে অর্দ্ধরাত্রি গেল।*
*🌷গম্ভীরাতে স্বরূপ গোঁসাই প্রভুকে শোয়াইল।।*
*🌷প্রেমাবেশে মহাপ্রভুর গরগর মনঃ।*
*🌷নাম-সংকীর্তন করি করেন জাগরণ।।*
*🌷বিরহে ব‍্যাকুল প্রভু উদ্বেগে উঠিলা।*
*🌷গম্ভীরা-ভিতরে মুখ ঘষিতে লাগিলা।।*
*🌷মুখে গন্ডে নাকে ক্ষত হইল অপার।*
*🌷ভাবাবেশে না জানে প্রভু পড়ে রক্তধার।।*
*🌷উন্মাদ-দশায় প্রভুর স্থির নহে মন।*
☆ ☆ ☆ ☆ ☆
*🌷যেই করে,যেই বলে উন্মাদ-লক্ষণ।।*
*🌷 এই মত মহাপ্রভু রজনীদিবসে।*
*🌷প্রেমসিন্ধুতে মগ্ন রহি কভু ডুবে ভাসে।।*
*🌷এককালে বৈশাখের পূর্ণমাসী দিনে।*
*🌷রাত্রিকালে মহাপ্রভু চলিলা উদ‍্যানে।।*
*🌷জগন্নাথ-বল্লভ নাম উদ‍্যান-প্রধানে।*
*🌷প্রবেশ করিলা প্রভু লইয়া ভক্তগণে।।*
*মহাপ্রভু একসময়ে প্রলাপের (অবস্থায় কৃষ্ণ-দর্শন করেছিলেন)।*
*🌷 এখনি দেখিনু---*
*🌷আপনার দুর্দ্দৈবে পুনঃ হারাইনু।*
*🌷চঞ্চল স্বভাব কৃষ্ণের না রয় একস্থানে,*
*🌷দেখা দিয়ে মন হরি করি অন্তর্দ্ধানে।*
                 *ক্রমাগত*
😭😭😭😭😭😭🙏😭😭😭😭😭😭
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 শ্রীশ্রীজগন্নাথ ও শ্রীশ্রীগৌরাঙ্গ 🌷 অষ্টম ভাগ 🌻 শ্রীযুক্ত রাজর্ষি গোপালচন্দ্র আচার্য‍্য চৌধুরী প্রণীত ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📝 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/02/jagannath8.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(৭৮)শ্রীশ্রীজগন্নাথ ও শ্রীশ্রীগৌরাঙ্গ*
           *📿নীলাচলে মহাপ্রভু*
               *👣গম্ভীরা--লীলা*
                ∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆
*🌻শ্রীকৃষ্ণ অন্তর্হিত হ'লে, শ্রীকৃষ্ণচৈতন‍্য অত‍্যন্ত অধীর হয়ে পড়লেন ; তখন, তিনি স্বরূপগোসাঞিকে বললেন=*
*🌷স্বরূপ গোঁসাইকে কহে গাও এক গীত।*
*🌷যাতে আমার হৃদয়ের হয়ত সম্বিত।।*
*🌷স্বরূপ গোসাঞি তবে মধুর করিয়া।*
*🌷গীত-গোবিন্দের পদ গায় প্রভুকে শুনাইয়া।।*
*🌻তথাহি গীতগোবিন্দে সখীর প্রতি শ্রীরাধার উক্তি=*
*🌷রাসে হরিমিহ বিহিত-বিলাসং।*
*🌷স্মরতি মনো মম কৃতপরিহাসং।।*
*🌹হে সখী!যিনি এই বৃন্দাবনে মহাসমারোহে নানান খেলা পরিহাস করেছিলেন,আজ সেই ব্রজরাজের কথায় আমার মনে পড়ছে।*
*🌷স্বরূপ গোসাঞি যবে এই পদ গাইলা।*
*🌷উঠি প্রেমাবেশে প্রভু নাচিতে লাগিলা।।*
*🌷সেই পদ পুনঃ পুনঃ করান গায়ন।*
*🌷পুনঃ পুনঃ আস্বাদয়ে করেন নর্ত্তন।।*
*🌻এই ভাবে মহাপ্রভু নৃত‍্য ছাড়ছেন না দেখে, স্বরূপদামোদর গান বন্ধ করে দিলেন। এই দিন মহাপ্রভুকে এই ভাবে শান্ত করলেন।*
*🌷কৃষ্ণ-বিচ্ছেদে-বিভ্রান্ত‍্যা মনসা বপুষা ধিয়া।*
*🌷যদ্ যদ্ ব‍্যধত্তো গৌরাঙ্গস্তল্লেশঃ কথ‍্যতেহধুনা।।*
                *(শ্রীপাদ কৃষ্ণদাস কবিরাজ)*
*🌻শ্রীকৃষ্ণ-বিচ্ছেদ-জনিত ভুল-বশতঃ গৌরাঙ্গ মনে, শরীরে এবং বুদ্ধিতে,যে যে ভাব-চেষ্টা প্রকাশ করেছিলেন, সংপ্রতি তৎসমুদায়ের কিঞ্চিৎ কথিত হচ্ছে।*
*🌷জয় জয় শ্রীচৈতন‍্য স্বয়ং ভগবান;*
*🌷জয় জয় গৌরচন্দ্র!ভক্তগণ-প্রাণ।*
*🌷জয় জয় নিত‍্যানন্দ! চৈতন‍্য-জীবন ;*
*🌷জয়াদ্বৈতাচার্য‍্য জয় গৌর-প্রিয়তম।*
*🌷শ্রীস্বরূপ শ্রীবাসাদি প্রিয় ভক্তগণ।*
*🌷শক্তি দেহ করি যেন চৈতন‍্য-বর্ণন।।*
*🌷প্রভুর বিরহোন্মাদ ভাব-গম্ভীর ;*
*🌷বুঝিতে না পারে কেহ যদ‍্যপি হয় ধীর।*
*🌷বুঝিতে না পারি যাহা বর্ণিতে কে পারে?*
*🌷সেই বুঝে,বর্ণে,চৈতন‍্য শক্তি দেন যারে।*
*🌷স্বরূপ গোঁসাই আর রঘুনাথ দাস ;*
*🌷সে কালে এই দুই রহে মহাপ্রভুর পাশে ;*
*🌷আর সব কড়চা-কর্ত্তা রহে দূর-দেশে।*
*🌷ক্ষণে ক্ষণে অনুভবি এই দুই জন।*
*🌷সংক্ষেপ বাহুল‍্যে করে কড়চা গ্রহণ।*
*🌷স্বরূপ সূত্র-কর্ত্তা রঘুনাথ বৃত্তিকার ;*
*🌷তার বাহুল‍্য বর্ণি পাঁজি টীকা ব‍্যবহার।*
*🌷তাতে বিশ্বাস করি শুন ভাবের বর্ণন ;*
*🌷হইবে ভাবের জ্ঞান,পাইবে প্রেম-ধন।*
*🌷কৃষ্ণ মথুরায় গেলে গোপীর যে দশা হইল ;*
*🌷কৃষ্ণ-বিচ্ছেদে প্রভুর সে দশা উপজিল।*
*🌷উদ্ধব-দর্শনে যৈছে রাধার বিলাপ ;*
*🌷ক্রমে ক্রমে হৈল প্রভুর সে উন্মাদ বিলাপ*
*🌷রাধিকার ভাবে প্রভুর সদা অভিমান ;*
*🌷সেই ভাবে আপনাকে হয় রাধাজ্ঞান।*
*🌷দিব‍্যোন্মাদে ঐছে হয়,কি ইহা বিস্ময়।*
*🌷অধিরূঢ়-ভাবে দিব‍্যোন্মাদ প্রলাপ হয়।।*
*🌻শেষ দ্বাদশ বৎসর*
     °°°°°°°°°°°°°°°°°°°°
*🌷শেষ যে রহিল প্রভুর দ্বাদশ বৎসর।*
*🌷কৃষ্ণের বিরহ-স্মৃতি হয় নিরন্তর।।*
*🌷শ্রীরাধিকার চেষ্টা যৈছে উদ্ধব-দর্শনে।*
*🌷এই মত দশা প্রভুর হয় রাত্রি দিনে।।*
*🌷নিরন্তর হয় প্রভুর বিরহ-উন্মাদ।*
*🌷ভ্রম-ময় চেষ্টা সদা প্রলাপময় বাদ।।*
*🌷রোমকূপে রক্তোদ্গম দন্ত সব হালে।*
*🌷ক্ষণে অঙ্গ ক্ষীণ ক্ষণে অঙ্গ হালে।।*
*🌻এই বারো-বৎসর মহাপ্রভুর নানা ভাবের উদয় হত। যা দেখতেন,তাতেই বৃন্দাবনের স্ফূর্তি হত। কখনও বিরহে কাঁদতে কাঁদতে মনে করছেন, এই বুঝি কৃষ্ণ আসিলেন।*
      *🌷পড়ে পাতার উপর পাত।*
      *🌷বুঝি এল প্রাণনাথ।।*
*🌻রামরায় ও স্বরূপকে ললিতা বিশাখা মনে করে,তিনি তখন বলছেন=*
*সুখের রাতি, জ্বালাও বাতি,*
       *মন্দির কর আলা।*
*কুসুম তুলিয়া, বোঁটা ফেলি দিয়া,*
      *গাঁথ হে মালতী-মালা।।*
*🌹তখন বাসর শয‍্যা তৈরী হল ; এখন শ্রীমতীকে সাজাতে হয়। মহাপ্রভু বললেন, "আমাকে আর সাজাতে হবে না। তোমরা কি জাননা, আমার গায়ে সমস্ত অলঙ্কার আছে? আমার ভূষণের অভাব কি?*
*🔵যথা মহাজন পদ=*
☆ ☆ ☆ ☆
*🌷আমি পরেছি শ‍্যাম-নামের হার।।*
*🌷হস্তের ভূষণ আমার চরণ-সেবন।*
*🌷বদনের ভূষণ আমার শ‍্যাম-গুণ-গান।।*
*🌷কর্ণের ভূষণ আমার নাম-শ্রবণ।*
*🌷নয়নের ভূষণ আমার রূপ-দরশন।।*
*🌷যদি তোরা সাজাবি মোরে।*
*🌷কৃষ্ণ-নাম লিখ মোর অঙ্গ ভরে।।*
*🌹এখন ভাবছেন, শ্রীকৃষ্ণ আসিলে কি করবেন, তিনি মনে করলেন, "সহজে কথা বলব না"।*
*🌷আমার আঙ্গিনায় আওবে যবে রসিয়া।*
*🌷পালটী চলব হাম ঈষৎ হাসিয়া।।*
*🌻এই ভাব মনে হওয়াতেই মহাপ্রভু সামান্য হাসতে লাগলেন।এই ভাবে বিভোর আছেন--তখন তিনি সখীদেরকে বলছেন, "দেখ দেখি সখি,সে এলো কি না? মহাপ্রভুই তখন বলছেন--আর আসিল না।" আবার কোনও একটা শব্দ হলেই চমকিয়ে উঠছেন, ভাবছেন এই বুঝি এলো। এরকম উৎকণ্ঠায় রাত্রি শেষ হল।*
                 *ক্রমাগত*
🐚🐚🐚🐚🐚🐚🐚🐚🐚🐚🐚🐚🐚
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 শ্রীশ্রীজগন্নাথ ও শ্রীশ্রীগৌরাঙ্গ 🌷 অষ্টম ভাগ 🌻 শ্রীযুক্ত রাজর্ষি গোপালচন্দ্র আচার্য‍্য চৌধুরী প্রণীত ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📝 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/02/jagannath8.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(৭৯)শ্রীশ্রীজগন্নাথ ও শ্রীশ্রীগৌরাঙ্গ*
             *▪নীলাচলে মহাপ্রভু▪*
                *▫গম্ভীরা-লীলা▫*
                 ▪ ▪▪▪▪▪▪
*🌼যখন দেখলেন প্রভাত হল, অমনি পুনঃ শ্রীমতীর ভাবে বলতে লাগলেন=*
           *সখীরে কহিছে ধনী।*
*বাহির হইয়া, দেখ লো সজনি*
         *বঁধূর শবদ শুনি।।*
*পুনঃ কহে রাই, না আসিল বঁধূ,*
         *মরমে রহিল ব‍্যথা।*
*কি বুদ্ধি করিব, পাষাণে ধরিয়া,*
         *ভাঙ্গিব আপন মাথা।।*
*ফুলের এ ডালা, ফুলের এ মালা,*
         *সেজ বিছাইনু ফুলে।*
*সব হ'ল বাসি, আর কেন সই,*
         *ভাসাগে যমুনা জলে।।*
*😭শ্রীকৃষ্ণ-বিরহে সাধারণত অষ্ট সাত্ত্বিক ভাবের উদয় হয়,তাইই পুস্তকাদিতে পাঠ করি। কিন্তু মহাপ্রভু অষ্ট সাত্ত্বিক ভাবের উপর, আবার সময় সময়,অত‍্যদ্ভুত অলৌকিক কুষ্মান্ডাকার (কুমড়োর আকার)হয়ে যেতেন। শ্রীচৈতন‍্যচরিতামৃতে এই বিষয়ের যেরকম বর্ণনা আছে,তা নিচে দেওয়া হল।*
*🌷জয় জয় শ্রীচৈতন‍্য জয় নিত‍্যানন্দ।*
*🌷 জয়াদ্বৈত-চন্দ্র জয় ভক্ত-বৃন্দ।।*
*🌷এই মত মহাপ্রভু রাত্রি দিবসে।*
*🌷উন্মাদের চেষ্টা প্রলাপ করে প্রেমাবেশে।।*
*🌷একদিন প্রভু স্বরূপ-রামানন্দ-সঙ্গে।*
*🌷অর্দ্ধ-রাত্রি গোঙাইলা কৃষ্ণকথা-রঙ্গে।।*
*🌷যবে যেই ভাব প্রভু করয়ে উদয়।*
*🌷ভাবানুরূপ গীত গায় স্বরূপ মহাশয়।।*
*🌷বিদ‍্যাপতি,চন্ডীদাস,শ্রীগীত-গোবিন্দ।*
*🌷ভাবানুরূপ শ্লোক পড়ে রায় রামানন্দ।।*
*🌷মধ‍্যে মধ্যে আপনি প্রভু শ্লোক পড়িয়া।*
*🌷শ্লোকের অর্থ করেন প্রলাপ করিয়া।।*
*🌷এই মতে নানা ভাবে অর্দ্ধ রাত্রি হইলা।*
*🌷গোসাঞিকে শয়ন করাই দোঁহে ঘরে গেলা।।*
*🌷গম্ভীরার দ্বারে গোবিন্দ করিলা শয়ন।*
*🌷অর্দ্ধরাত্রি প্রভু করে নাম সংকীর্তন।।*
*🌷আচম্বিতে শুনে প্রভু কৃষ্ণবেণু-গান।*
*🌷ভাবাবেশে প্রভু তাঁহা করিল পয়ান।।*
*🌷তিন দ্বারে কপাট তৈছে আছে ত লাগিয়া।*
*🌷ভাবাবেশে প্রভু গেলা বাহির হইয়া।।*
*🌷সিংহদ্বারের দক্ষিণে আছে তেলেঙ্গা গাভীগণ।*
*🌷তাঁহা যাই পড়িলা প্রভু হইয়া অচেতন।।*
*🌷এথা গোবিন্দ প্রভুর শব্দ না পাইয়া।*
*🌷স্বরূপেরে বোলাইল কপাট খুলিয়া।।*
*🌷স্বরূপ গোসাঞি সঙ্গে লইয়া ভক্তগণ।*
*🌷দিয়াটি জ্বালিয়া করে প্রভুর অন্বেষণ।।*
*🌷ইতি উতি অন্বেষিয়া সিংহদ্বারে গেলা।*
*🌷গাভীগণ-মধ‍্যে যাই প্রভুরে পাইলা।।*
*🌷পেটের ভিতর হস্তপদ কুর্ম্মের আকার।*
*🌷মুখে ফেণ পুলকাঙ্গ নেত্রে অশ্রুধার।।*
*🌷অচেতন পড়িয়াছে যেন কুষ্মান্ড ফল।*
*🌷বাহিরে জড়িমা,অন্তরে আনন্দ বিহ্বল।।*
*🌷গাই সব চৌদিকে শুঁকে প্রভুর শ্রীঅঙ্গ।*
*🌷দূর কৈলে নাহি ছাড়ে মহাপ্রভুর সঙ্গ।।*
*🌷অনেক করিল যত্ন না হইল চেতন।*
*🌷প্রভু উঠাইয়া ঘরে আনিল ভক্তগণ।।*
*🌷উচ্চ করি শ্রবণে করে নাম সংকীর্তন।*
*🌷অনেক ক্ষণে মহাপ্রভু পাইল চেতন।।*
*🌷চেতন পাইল হস্তপদ বাহির আইল।*
*🌷পূর্ব্ববৎ যথাযোগ্য শরীর হইল।।*
*🌷উঠিয়া বসিয়া প্রভু চাহে ইতি উতি।*
*🌷স্বরূপেরে কহে তুমি আমা আনিলে কতি?*
*🌷বেণু-শব্দ শুনি আমি গেলাম বৃন্দাবন।*
*🌷দেখি গোষ্ঠে বেণু বাজায় ব্রজেন্দ্র-নন্দন।।*
*🌷সঙ্কেত বেণুনাদে রাধা গেলা কুঞ্জঘরে।*
*🌷কুঞ্জেতে চলিলা কৃষ্ণ ক্রীড়া করিবারে।।*
*🌷তাঁর পাছে পাছে আমি করিনু গমন।*
*🌷ভূষণ-ধ্বনিতে আমার হরিল শ্রবণ।।*
*🌷গোপীগণ সহ বিহার হাস পরিহাস।*
*🌷কন্ঠ-ধ্বনি উক্তি শুনি মোর কর্ণোল্লাস।।*
*🌷হেন কালে তুমি সব কোলাহল করি।*
*🌷আমা ইহা লইয়া আইলা বলাৎকারে ধরি।।*
*🌷শুনিতে না পাইনু ভূষণ-মুরলীর ধ্বনি।*
*🌷শুনিতে না পাইনু সেই অমৃত-সম বাণী।।*
*🌷ভাবাবেশে স্বরূপে কহে গদগদ বাণী।*
*🌷কর্ণ-তৃষ্ণায় মরি আমি,রসামৃত শুনি।।*
*🌷স্বরূপ গোঁসাই প্রভুর ভাব জানিয়া।*
*🌷ভাগবতের শ্লোক পড়ে মধুর করিয়া।।*
*🌻আর একদিন,সেইরকম শ্রীমতীর ভাবে বিভাবিত হয়ে মহাপ্রভু রামানন্দের কন্ঠ ধরে বলছেন=*
                 *ক্রমাগত*
❤❤❤❤❤❤❤❤❤❤❤❤❤
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 শ্রীশ্রীজগন্নাথ ও শ্রীশ্রীগৌরাঙ্গ 🌷 অষ্টম ভাগ 🌻 শ্রীযুক্ত রাজর্ষি গোপালচন্দ্র আচার্য‍্য চৌধুরী প্রণীত ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📝 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/02/jagannath8.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(৮০)শ্রীশ্রীজগন্নাথ ও শ্রীশ্রীগৌরাঙ্গ*
          *🔺নীলাচলে মহাপ্রভু🔺*
             *🔻গম্ভীরা--লীলা🔻*
                 ▪▪▪▪▪
*এত কহি গৌর হরি,দুজনায় কন্ঠ ধরি,*
          *কহে শুন স্বরূপ রামরায়।*
*কাঁহা করো কাঁহা যাও,কাঁহা গেলে কৃষ্ণ পাও,*
         *দুহে মোরে কহ সে উপায়।।*
*🌷দুই জনে প্রভুকে করেন আশ্বাসন।*
*🌷স্বরূপ গায় রায় করে শ্লোক-পঠন।।*
*🌷কর্ণামৃত বিদ‍্যাপতি শ্রীগীত-গোবিন্দ।*
*🌷ইহার শ্লোক প্রভুর বাড়ায় আনন্দ।।*
*🌷একদিন মহাপ্রভু সমুদ্রে যাইতে।*
*🌷পুষ্পের উদ‍্যান তথা দেখে আচম্বিতে।।*
*🌷বৃন্দাবন-ভ্রমে তথা পশিল যাইয়া।*
*🌷প্রেমাবেশে বুলে তাহা কৃষ্ণ অন্বেষিয়া।।*
*🌷রাসে রাধা লইয়া কৃষ্ণ অন্তর্দ্ধান হইল।*
*🌷পাছে সখীগণ যৈছে চাহি বেড়াইল।।*
*🌷সেই ভাবাবেশে প্রভু প্রতি তরুলতা।*
*🌷শ্লোক পড়ি পড়ি বলে যায় যথা তথা।।*
*🌹এইভাবে মহাপ্রভুর দিন যায় রাত্রি আসে।ভক্তগণ সকলেই ব‍্যস্ত-- মহাপ্রভু কখন কি করেন।মহাপ্রভুর সঙ্গে সকল সময়েই কেউ কেউ থাকেন। রাত্রিতে রায় রামানন্দ,স্বরূপ,গোবিন্দ,শঙ্কর ইঁনারাই থাকেন।এত সতর্কতার ভিতরেও শ্রীচৈতন‍্য মহাপ্রভু একদিন, সমস্ত কপাট বন্ধ,এরকম অবস্থায় রাত্রিতে বাইরে চলে গিয়েছেন, এই ঘটনা চৈতন‍্যচরিতামৃতে যেরকম বিবৃত আছে,তা সংক্ষেপে লিখছি=*
*🌷রামানন্দ রায় তবে গেলা নিজঘরে।*
*🌷স্বরূপ গোঁসাই গোবিন্দ শুইলেন দ্বারে।।*
*🌷সব রাত্র মহাপ্রভু করেন জাগরণ।*
*🌷উচ্চ করি করেন নাম-সংকীর্তন।।*
*🌷শব্দ না পাইয়া স্বরূপ কবাট কইল দূরে।*
*🌷তিন দ্বার দেওয়া আছে প্রভু নাই ঘরে।।*
*🌷চিন্তিত হইল সবে প্রভু না দেখিয়া।*
*🌷প্রভু চাহি বুলে সবে দিয়াটি জ্বালিয়া।।*
*🌷সিংহদ্বারের উত্তর দিশায় আছে এক ঠাঁই।*
*🌷তার মধ‍্যে পড়িয়াছে চৈতন‍্য গোঁসাই।।*
*🌷দেখি স্বরূপ গোঁসাই আদি আনন্দিত হইলা।*
*🌷প্রভুর দশা দেখি পুনঃ চিন্তিত হইলা।।*
☆ ☆ ☆ ☆ ☆ ☆
*🌷এইত কহিল প্রভুর অদ্ভুত বিকার।*
*🌷যাহার শ্রবণে লোকে লাগে চমৎকার।।*
*🌷লোকে নাহি দেখে ঐছে শাস্ত্রে নাহি শুনি।*
*🌷হেন ভাবে ব‍্যক্ত করে ন‍্যাসি-চূড়ামণি।।*
*🌷শাস্ত্র-লোকাতীত যেই যেই ভাব হয়।*
*🌷ইতর লোকের তাতে না হয় নিশ্চয়।।*
☆ ☆ ☆ ☆ ☆ ☆
*🌷একদিন মহাপ্রভু সমুদ্রে যাইতে।*
*🌷চটক পর্বত দেখিলেন আচম্বিতে।।*
*🌷গোবর্দ্ধন-শৈল-জ্ঞানে আবিষ্ট হৈলা।*
*🌷পর্বত-দিকেতে প্রভু ধাইয়া চলিলা।।*
☆ ☆ ☆ ☆ ☆ ☆
*🌷বৈষ্ণব দেখিয়া প্রভুর অর্দ্ধবাহ‍্য হইল।*
*🌷স্বরূপ গোঁসাইকে কিছু কহিতে লাগিল।।*
*🌷গোবর্দ্ধন হইতে মোরে কে ইঁহা আনিল।*
*🌷পাইয়া কৃষ্ণের লীলা দেখিতে না পাইল।।*
*🌷ইহা হইতে আজি মুই গেনু গোবর্দ্ধনে।*
*🌷দেখো যদি কৃষ্ণকরে গোধন-চারণে।।*
*🌷গোবর্দ্ধন-চারি-কৃষ্ণ বাজাইল বেণু।*
*🌷গোবর্দ্ধনের চৌদিকে চরয়ে সব ধেনু।।*
*🌷বেণুনাদ শুনি এল রাধা ঠাকুরাণী।*
*🌷সব-সখীগণ-সঙ্গে করিয়া সাজনী।।*
*🌷রাধা লইয়া কৃষ্ণ প্রবেশিলা কন্দরাতে।*
*🌷সখীগণ চাহি কেহ ফুল উঠাইতে।।*
*🌷হেনকালে তুমি সব কোলাহল কৈলা।*
*🌷তাঁহা হইতে ধরি মোরে ইঁহা লৈয়া আইলা।।*
*🌷কেন বা আনিলে মোরে বৃথা দুঃখ দিতে।*
*🌷পাইয়া কৃষ্ণের লীলা না পাইনু দেখিতে।।*
*🌷এত বলি মহাপ্রভু করেন ক্রন্দন।*
*🌷তাঁর দশা দেখি বৈষ্ণব করেন রোদন।।*
*🌻সেই বাগান দেখে শ্রীচৈতন‍্যদেবের নিধুবন, নিকুঞ্জবনের কথা মনে পড়ত, চটক পর্বত দেখে গোবর্দ্ধনের কথা মনে হত, সমুদ্র দেখে যমুনার কথা স্ফূর্তি পাইত।একদিন সমুদ্র দেখে,যমুনা ভ্রমে তাতে ঝাঁপ দিয়েছিলেন। এই ঘটনা আমরা শ্রীচৈতন‍্যচরিতামৃতে পাই।*
*🌺পরে জালিয়ার জালে মহাপ্রভুকে পাওয়া গিয়েছিল।*
*🌷প্রেমাবেশে পড়িল তিঁহ সমুদ্রের জলে।*
*🌷তারে তুমি উঠাইলে আপনার জালে।।*
☆ ☆ ☆ ☆ ☆
*🌷শুনি সেই জালিয়া আনন্দিত হইল।*
*🌷সবা লইয়া গেল মহাপ্রভুকে দেখাইল।।*
*🌷ভূমিতে পড়িয়া আছে দীর্ঘ শব-কায়।*
*🌷জলে শ্বেত-তনু বালু লাগিয়াছে গায়।।*
*🌻তারপর সকলে মিলে উচ্চস্বরে সংকীর্তন করে মহাপ্রভুর চেতনা ফিরালেন।*
*🌷কতক্ষণে প্রভুর কানে শব্দ প্রবেশিল।*
*🌷হুঙ্কার করিয়া প্রভু তবহি উঠিল।।*
☆ ☆ ☆ ☆ ☆ ☆
*🌷অর্দ্ধবাহ‍্যে কহে প্রভু প্রলাপ-বচনে।*
*🌷আভাষে কহেন সব শুনে ভক্তগণে।।*
*কালিন্দী দেখিয়া আমি গেলাম বৃন্দাবন।*
*🌷দেখি জলকেলি করে ব্রজেন্দ্র-নন্দন।।*
*🌷রাধিকাদি গোপীগণ সঙ্গে একত্র মিলি।*
*🌷যমুনায় মহারঙ্গে করে জলকেলি।।*
*🌷তীরে রহি দেখি আমি সখীগণ সঙ্গে।*
*🌷এক সখী সখীগণে দেখায় সে রঙ্গে।*
                 *ক্রমাগত*
🙌🙌🙌🙌🙌🙌🌹🙌🙌🙌🙌🙌🙌
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🔜 ক্রমাগত 👉 শ্রীশ্রীজগন্নাথ ও শ্রীশ্রীগৌরাঙ্গ 🌷 নবম ভাগ 🌻 শ্রীযুক্ত রাজর্ষি গোপালচন্দ্র আচার্য‍্য চৌধুরী প্রণীত ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📝 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/02/jagannath9.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

    📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝
    ꧁👇📖 সূচীপত্র ✍️ শ্রী জয়দেব দাঁ 📖👇



✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧


✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

   ✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️ 
নিবাস- বাঁশবাড়ী, কীর্তন মন্দিরের পাশে, পোঃ- বাঁশবাড়ী, থানা- ইংরেজ বাজার, জেলা- মালদহ, পশ্চিমবঙ্গ, পিন কোড- ৭৩২১০১।

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

  *••••┉❀꧁👇🏠Home Page🏠👇꧂❀┅••••* 


✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

    *••••━❀꧁👇 📖 সূচীপত্র 📖 👇꧂❀┅••••* 



✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

     *••••━❀꧁👇📚 PDF গ্রন্থ 📚👇꧂❀┅••••* 


✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
    *••••┉━❀꧁ 🙏 রাধে রাধে 🙏 ꧂❀━┅••••* 
                   শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য প্রভু নিত্যানন্দ
              হরে কৃষ্ণ হরে রাম শ্রীরাধেগোবিন্দ।।
  *••••┉━❀꧁ 🙏 জয় জগন্নাথ 🙏 ꧂❀━┅••••*
              হরে কৃষ্ণ হরে কৃষ্ণ কৃষ্ণ কৃষ্ণ হরে হরে
              হরে রাম হরে রাম রাম রাম হরে হরে॥
  *••••┉━❀꧁ 🙏 জয় রাধাকান্ত 🙏 ꧂ ❀━┅••••*
   🌷❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀🌷
   🏵️❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀🏵️
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧







adds