শ্রী মৃন্ময় নন্দী কর্ত্তৃক সকল ভক্ত👣চরণে👣অসংখ্যকোটি 🙇প্রণাম🙇 ক্লিক করুন 👇

শ্রী মৃন্ময় নন্দী কর্ত্তৃক সকল ভক্ত👣চরণে👣অসংখ্যকোটি 🙇প্রণাম🙇 ক্লিক করুন 👇

শ্রীশ্রীজগন্নাথ ও শ্রীশ্রীগৌরাঙ্গ 🌷 সপ্তম ভাগ 🌻 শ্রীযুক্ত রাজর্ষি গোপালচন্দ্র আচার্য‍্য চৌধুরী প্রণীত ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📝 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 https://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/02/jagannath7.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🔙 পূর্ব লীলা 👉 শ্রীশ্রীজগন্নাথ ও শ্রীশ্রীগৌরাঙ্গ 🌷 ষষ্ঠ ভাগ 🌻 শ্রীযুক্ত রাজর্ষি গোপালচন্দ্র আচার্য‍্য চৌধুরী প্রণীত ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📝 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/01/jagannath6.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 শ্রীশ্রীজগন্নাথ ও শ্রীশ্রীগৌরাঙ্গ 🌷 সপ্তম ভাগ 🌻 শ্রীযুক্ত রাজর্ষি গোপালচন্দ্র আচার্য‍্য চৌধুরী প্রণীত ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📝 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 https://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/02/jagannath7.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 শ্রীশ্রীজগন্নাথ ও শ্রীশ্রীগৌরাঙ্গ 🌷 সপ্তম ভাগ 🌻 শ্রীযুক্ত রাজর্ষি গোপালচন্দ্র আচার্য‍্য চৌধুরী প্রণীত ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📝 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 https://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/02/jagannath7.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(৬১)শ্রীশ্রীজগন্নাথ ও শ্রীশ্রীগৌরাঙ্গ*
              *🌿নীলাচলে মহাপ্রভু🌿*
            *শঙ্কর বা গোবর্দ্ধন মঠ*
             ^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^
*🍀মহাত্মা শঙ্করাচার্য‍্য কলিযুগে ২৬২২ অব্দে ও ২৬৩১ যুধিষ্ঠিরাব্দে, বৈশাখী শুক্ল-পঞ্চমী তিথিতে,দাক্ষিণাত‍্যে কেরল-দেশান্তর্গত কাপটী-গ্রামবাসী শ্রীশিবগুরু-নামক ব্রাহ্মণের অংশে সীতাদেবীর গর্ভে অবতীর্ণ হন।মঠাম্নায় গ্রন্থে,শঙ্করাচার্য‍্যের আবির্ভাব কাল,যুধিষ্ঠিরাব্দ ২৬৩১ নির্ণীত হয়েছে।বিক্রমাদিত‍্যের সম্বৎ-আরম্ভ সময়ে,যুধিষ্ঠিরাব্দ বা কলির অতীতাব্দ ৩৫০ হয়েছিল।যে সব পন্ডিত পাশ্চাত‍্য শিক্ষায় শিক্ষিত, কিন্তু উক্ত গ্রন্থ-সমূহে অনভিজ্ঞ,তাঁরা অনুমান করেন যে, শঙ্করাচার্য‍্য সপ্তম বা অষ্টম শতাব্দীর লোক।এই বিষয় নিয়ে অনেক আলোচনা হয়েছে, কিন্তু একেবারে নিঃসন্দিগ্ধরূপে মীমাংসিত না হলেও তাঁর আবির্ভাব কাল যে,সপ্তম বা অষ্টম শতাব্দীর বহু পূর্বে,তা স্থির হয়েছে।সংস্কৃত-পদ‍্যে রচিত পুরীস্থ শঙ্করমঠের "গুরুপরম্পরা" নামক (মঠাম্নায়) গ্রন্থে দেখা যায় যে,শ্রীস্বামী শঙ্কর হতে আরম্ভ করে, বতর্মান শ্রীমধুসূদন তীর্থ স্বামী পর্যন্ত ১৪৩ পুরুষ অতীত হয়েছে।পদ্মপাদাচার্য‍্য হতে আরম্ভ করে, জ্ঞানানন্দ পর্যন্ত উনিশ পুরুষ মধ্যে, এই মঠের স্বামীরা "অরণ‍্য" উপাধিতে ভূষিত ছিলেন। জ্ঞানানন্দ, শিষ্য না করে,মানবলীলা সম্বরণ করায়, কিছুকাল এই মঠের "আসন" শূন‍্য ছিল।অনন্তর,তীর্থ নামক একজন স্বামী,কাশীধাম হতে এসে,এই মঠের অধিকারী হয়েছিলেন।সেই সময়,এই মঠের মোহন্তদের "তীর্থ" উপাধি হয়েছে।এই মঠের পঞ্চম পুরুষ,স্বামী বামদেব "পঞ্চদশী" গ্রন্থের রচয়িতা ; একাদশ পুরুষ স্বামী শ্রীধর,গীতা প্রভৃতি গ্রন্থ গুলির ব‍্যাখ‍্যা-কর্তা।এই শ্রীধর, গীতার টীকাকার শ্রীধর কিনা, তা সন্দেহজনক ; কারণ গীতার টীকাকার শ্রীধর স্বামীর টীকার ভাব অনুসারে বুঝা যায়, তিনি পরম বৈষ্ণব কৃষ্ণভক্ত ছিলেন। তিনি যে জ্ঞান-বাদী ছিলেন,তা কিছুতেই মনে করতে পারিনা।মঠাম্নায় লিখিত শ্রীধর,অন‍্য কোন মহাপুরুষ হতে পারেন।এই মঠের ত্রিষষ্ঠিতম (৬৩) পুরুষ,স্বামী রামচন্দ্রতীর্থ "সিদ্ধান্ত পঞ্জিকা" ব‍্যাকরণের রচয়িতা বলে, গুরুপরম্পরা গ্রন্থে প্রকাশ।এর মধ্যে যে সময় "আসন" শূন‍্য ছিল,তাও দুই এক পুরুষের কম হবে না। সুতরাং এই গোবর্দ্ধন মঠ,দুই হাজার বৎসর স্থাপিত হয়েছে বলে অনুমান করা যায়। বোধহয় এই সমস্ত গ্রন্থ, সময় -নির্দ্ধারক আধুনিক পন্ডিতগণের হস্তগত হয় নাই ; যদি হত, তাহলে প্রত‍্যক্ষ প্রমাণ পরিত‍্যাগ করে,অনুমানকে স্থাপন করবার জন্য,ইঁনারা এতদূর বদ্ধপরিকর হতেন না।মঠাম্নায়ে নির্দ্ধারিত যে শকাব্দ, আমরা তাইই গ্রহণ করলাম।*
*🌻এই মহাপুরুষের প্রতিভা বাল‍্য বয়স হতেই উদভাসিত হতে আরম্ভ হয়েছিল।পাঁচ বৎসর বয়সেয় তাঁর উপনয়ন সংস্কার হয়, এবং তার কয়েক বৎসর পরে, তিনি সন্ন‍্যাস আশ্রম গ্রহণ করেন।এই অল্প বয়সের মধ্যে,তাঁর এত পান্ডিত‍্য লাভ হয় যে,এই সময়ে তিনি গীতা, উপনিষদ, ব্রহ্মসূত্র প্রভৃতি ষোলটি গ্রন্থের ষোলটি ভাষ‍্য প্রণয়ন করেন, এবং শ্রীত্রোটকাচার্য‍্য নামক চারজন মহাপন্ডিতকে সন্ন‍্যাস-দীক্ষা দেন।প্রথমে বদরি-নারায়ণে জ‍্যোতির্ম্মঠ স্থাপন করেন, তারপর আরও তিন মঠ স্থাপিত হয়।এইগুলির মধ্যে গোবর্দ্ধন মঠ সর্বশেষে স্থাপিত হয়। শ্রীপদ্মপাদাচার্য‍্য এই মঠের সেবকরূপে অভিষিক্ত হন। শ্রীমৎ শঙ্করাচার্য‍্য এই চারটি মঠ স্থাপনের পর, দিগবিজয়ে বাহির হন। তিনি কুমারিকা হতে হিমালয় পর্যন্ত,তাঁর বৈদিক-ধর্ম বিস্তার করেন, এবং বৌদ্ধদের মত খন্ডন করেন। বৈষ্ণব মতাবলম্বী গৃহস্থাশ্রমী মহাপন্ডিত কাশ্মীরবাসী মন্ডন-মিশ্রের সঙ্গে তুমুল বিচার হয়।মন্ডনমিশ্রের পত্নী পরম বিদুষী "উভয়-ভারতী" এই বিচারে মধ‍্যস্থ ছিলেন।*
*🔷দেখুন, ভারতবর্ষের কতদূর অধঃপতন হয়েছে!বর্তমান স্ত্রী-শিক্ষার কতদূর অবনতি হয়েছে, এবং তখন স্ত্রীশিক্ষা বা কতদূর উন্নত অবস্থায় ছিল। কতদূর পান্ডিত‍্যলাভ করলে শঙ্করাচার্য‍্য এবং মন্ডন-মিশ্রের বিচারে মধ‍্যস্থ হওয়া যায়।তা পাঠক বিবেচনা করে দেখবেন।এই উভয়-ভারতী, স্বয়ং সরস্বতী অবতীর্ণা বলে,কাশ্মীরে পূজিতা হতেন।অনেক বিচারের পর,অবশেষে মন্ডনমিশ্র পরাজিত হন। মন্ডনমিশ্র পরাজিত হলে,উভয়-ভারতী শঙ্করাচার্য‍্যের বিরুদ্ধে বিচার করতে আরম্ভ করেন, এবং রতিশাস্ত্রের প্রশ্নেতে শঙ্করাচার্য‍্য তাঁর কাছে পরাজিত হন।*
*🌳শঙ্করাচার্য‍্য,তাঁর প্রশ্নের উত্তর দিবার জন্য,তাঁর সন্ন‍্যাসী দেহ রেখে, কোন গৃহস্থ রাজার মৃত দেহে প্রবেশ করেন।রাজা পুনর্জীবিত হলেন।এইভাবে কিছুদিন গত হলে,রাজার প্রধানা মহিষী বুঝতে পারলেন যে,তাঁর স্বামীর যেরকম আচরণ ছিল,তিনি,এখন সেই আচরণ অনুযায়ী চলছেন না,ইঁনার আচরণ সম্পূর্ণ আলাদা।এটি দেখে প্রধানা মহিষীর মনে সন্দেহের উদয় হল। সেই সময় প্রচলিত পরকায়-প্রবেশের কথা রাণী অবগত ছিলেন।এখানেও পরকায়-প্রবেশ(একটি মানুষ আরেকটি দেহে প্রবেশ) হয়েছে মনে করে, তিনি রাজ‍্যে যত মৃতদেহ আছে,সমস্ত রাজবাড়ীতে উপস্থিত করবার জন্য ঘোষণা করলেন।এদিকে শঙ্করাচা‍র্য‍্যের পৃর্বদেহ তাঁর শিষ্যদের দ্বারা রক্ষিত হচ্ছিল ; এবং তাঁর শিষ‍্যদের প্রতি আদেশ ছিল, যতদিন পর্যন্ত, তিনি রাজদেহেতে থাকবেন,ততদিন পর্যন্ত,তাঁর স্ব-প্রণীত মোহমূদ্গরের শ্লোক তাঁকে শুনান হবে।কারণ, তিনি রাজদেহে প্রবেশ করে, রাজভোগ গ্রহণ করছিলেন, সুতরাং যদি সাংসারিক ভোগে মুগ্ধ হয়ে পূর্বস্মৃতি ভুলে যান, এইজন‍্য "মূঢ় জহীহি ধনাগমতৃষ্ণাৎ, কুরু তনুবুদ্ধে মনসি বিতৃষ্ণাং" ইত্যাদি তাঁর স্বপ্রণীত বৈরাগ‍্য-উত্তেজক শ্লোক তাঁকে শোনাবার,এইরকম বন্দোবস্ত করেছিলেন।এই সমস্ত শ্লোক অন‍্যত্র উদ্ধৃত হয়েছে বলে, এখানে দেওয়া হল না।রাণীর লোক এইরকম খোঁজখবর করতে আরম্ভ করলেই, শঙ্করাচার্য‍্য বুঝতে পারলেন যে, তাড়াতাড়ি তাঁর ধরা পড়বার সম্ভাবনা।তখন রাজদেহ পরিত‍্যাগ করে, তিনি পূর্ব দেহে প্রবেশ করলেন, রাজারও মৃত‍্যু উপস্থিত হল।তারপর উভয়-ভারতীর প্রশ্নের উত্তর দিবার জন্য সেখানে উপস্থিত হলেন।তখন উভয়েই বুঝতে পারলেন যে,শঙ্করাচার্য‍্য শঙ্করের অবতার, এবং উভয়ভারতী সরস্বতীর অংশে অবতীর্ণা।*
               *ক্রমাগত*
🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 শ্রীশ্রীজগন্নাথ ও শ্রীশ্রীগৌরাঙ্গ 🌷 সপ্তম ভাগ 🌻 শ্রীযুক্ত রাজর্ষি গোপালচন্দ্র আচার্য‍্য চৌধুরী প্রণীত ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📝 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 https://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/02/jagannath7.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(৬২)শ্রীশ্রীজগন্নাথ ও শ্রীশ্রীগৌরাঙ্গ*
          *☘নীলাচলে মহাপ্রভু☘*
            *শঙ্কর বা গোবর্দ্ধন মঠ*
             ∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆
*🍀সুতরাং তাঁদের বিচার এইখানেই শেষ হয়ে গেল,উভয়-ভারতী দেহ রাখলেন।*
*🌺শ্রীশঙ্করাচার্য‍্য কাশীতে গুরুলাভ করেছিলেন বলে, একটি কিম্বদন্তী আছে। শঙ্করাচা‍র্য‍্যের কাশীয় থাকাকালীন কোন ব্রাহ্মণের শিষ্য, শঙ্করাচার্য‍্যদ্বারা তাঁর মৃত‍্যু গণনা করান।শঙ্করাচার্য‍্য গণনাদ্বারা তাঁর বজ্রাঘাতে মৃত‍্যু হবে বলে স্থির করেন, এবং দিন-সময় নির্দিষ্ট করে দেন।সেই ব্রাহ্মণ তাঁর গুরুর কাছে শঙ্করাচার্য‍্যের গণনা বৃত্তান্ত অবগত করান। গুরু বলেন যে,কখনই ঐ তারিখে মৃত‍্যু হবে না,তদনুসারে ব্রাহ্মণ এসে পুনরায় শঙ্করাচার্য‍্যকে জানান। শঙ্করাচার্য‍্য পুনরায় গণনা করে, তাঁর গণনা অভ্রান্ত বলে স্থির করেন, এবং এওও বলে দেন যে,যদি আমার গণনা ভুল হয়,তাহলে আমি তাঁর শিষ‍্যত্ব গ্রহণ করব ; আর যদি আমার গণনা ঠিক হয়, তাহলে তোমার গুরুকে আমার শিষ‍্যত্ব গ্রহণ করতে হবে। গুরুও তাতেই রাজী হলেন।ব্রাহ্মণের মৃত‍্যুর দিন উপস্থিত হল,গুরু ব্রাহ্মণকে সমাধিস্থ করে মাটির নিচে পুঁতে রাখলেন।শঙ্করাচার্য‍্যের নির্দিষ্ট সময় অনুসারে বজ্রপাত হল, এবং ব্রাহ্মণকে যে জায়গায় পোতা হয়েছিল, সেই জায়গায় বজ্র বা বাজ পড়ল। কিন্তু তিনি সমাধিস্থ থাকাতে বজ্রপাতে তাঁর কোনও অনিষ্ট হল না।গুরু পুনরায় তাঁর সমাধি ভঙ্গ করলেন।শঙ্করাচার্য‍্য এই সত্ত্বে পরাস্ত হয়ে, আগের কথা অনুযায়ী বা প্রতিশ্রুতি অনুসারে ঐ গুরুর শিষ‍্যত্ব গ্রহণ করতে বাধ‍্য হলেন, এবং মনঃক্ষোভে তাঁর সমস্ত গ্রন্থ গঙ্গাজলে ফেলে দিলেন।সমস্ত গ্রন্থ গঙ্গাজলে ফেলে দেওয়ায়, তাঁর মনে যে দুঃখ রয়ে গেল, তা কারোর কাছে ব‍্যক্ত করলেন না বটে, কিন্তু গুরুজী তা বুঝতে পারলেন।তিনি শঙ্করাচার্য‍্যকে বললেন, গ্রন্থগুলি নষ্ট হয়েছে বলে,তোমার মনে বড়ই দুঃখ হয়েছে তাই-না?তুমি গঙ্গাদেবীর কাছে গিয়ে, গ্রন্থগুলি ফিরিয়ে দেবার জন্য প্রার্থনা কর, তিনি তোমার সমস্ত গ্রন্থ ফিরিয়ে দিবেন।গুরুর আদেশ অনুসারে শঙ্করাচার্য‍্য গঙ্গাদেবীর কাছে প্রার্থনা করিবামাত্র, সমস্ত গ্রন্থ তাঁর করতলগত হল।তখন তিনি গুরুর প্রভাবে আশ্চর্য‍্যান্বিত হয়ে মনে করলেন,যে গুরুর এতদূর শক্তি,যিনি জীবন দান করতে পারেন,গ্রন্থ নদীতে ফেলে দিলে তাঁর কথামত গঙ্গাদেবী আবার সেই গ্রন্থ ফিরিয়ে দেন, তাঁর কাছে তো অপ্রাপ‍্য কিছুই নাই, আমি সামান্য বিষয়ের জন্য কেন ক্ষোভ প্রকাশ করছি।এই ভেবে গ্রন্থ পুনরায় গঙ্গাজলে ফেলে দিলেন।শঙ্করাচার্য‍্যের ষোল বৎসর মাত্র আয়ু।যখন তিনি বেদান্ত-ভাষ‍্য আরম্ভ করেন, সেই সময়ে তাঁর ষোল বৎসর পূর্ণ হয়। বেদব‍্যাস সেই সময়ে উপস্থিত হয়ে,তাঁর আয়ু আরও ষোল বৎসর বৃদ্ধি করিয়ে বত্রিশ বৎসর পরমায়ু নির্দিষ্ট করে দেন ; এবং বোলে যান যে, এখনও আরও অনেক কাজ বাকী আছে, সুতরাং আরও ষোল বৎসর না হলে, সে কাজ শেষ হবে না। তিনি বত্রিশ বৎসরে জীবনের কাজ শেষ করে, ইহধাম পরিত‍্যাগ করেন।*
*🍀ভারতবর্ষে প্রধান দার্শনিক শঙ্করাচার্য‍্য বেদান্তে বিশুদ্ধাদ্বৈত-মত প্রচার করেন। তিনি "জীব-ব্রহ্মৈক‍্যং" "তত্ত্বমসি" "সোহহং" প্রভৃতি তত্ত্ব শিক্ষা দেন।শ্রীচৈতন‍্য মহাপ্রভু, পুরীধামে সার্বভৌমের সঙ্গে বেদান্ত-বিচারে শঙ্করাচার্য‍্যের মত খন্ডন করেন। কাশীতেও প্রকাশানন্দের সঙ্গে বিচারে, শঙ্করাচার্য‍্যের অদ্বৈতবাদ খন্ডন করেন।মহাপ্রভুর দার্শনিক মত, বেদান্তের বিরোধী না, এটি বেদান্তের শুদ্ধ ব‍্যাখ‍্যা না,অন‍্যতম ব‍্যাখ‍্যা মাত্র। শঙ্করাচার্য‍্য ও মহাপ্রভুর উভয়েরই উদ্দেশ্য অহঙ্কার বা মায়া নিবৃত্তি করা, শঙ্করাচার্য‍্যের উদ্দেশ্য জ্ঞানমার্গ আশ্রয় করে,অহঙ্কার নিবৃত্তি বা বিরতি করা, এবং শ্রীচৈতন‍্যদেবের উদ্দেশ্য, ভক্তিমার্গ অবলম্বন করে অহঙ্কার দূর করা। কিন্তু জ্ঞানমার্গ অবলম্বন করলে,অহংজ্ঞানের বৃদ্ধি করে,সোহহং জ্ঞানে পরিণত করতে হবে। সুতরাং জ্ঞান দ্বারা অহং-জ্ঞানের নিবৃত্তি করতে হবে,এর সঙ্গে যুদ্ধ করে,একেও পরাস্ত করতে হবে। অন‍্যদিকে ভক্তিমার্গের প্রধান আশ্রয়স্থান প্রেম,দীনতা,হীনতা, নিজেকে তুচ্ছ এবং হেয় জ্ঞান করতে হবে, তৃণ হতে নীচজ্ঞান করতে হবে। সুতরাং এই পথ আশ্রয় করলে,অহং জ্ঞানকে অতি সহজেই পরাভূত করা যেতে পারে।*
*🌹জ্ঞানমার্গ এবং ভক্তিমার্গ এর মধ্যে কোনটি সুগম এবং কোনটি দুর্গম, তা রামায়ণের একটি গল্প দ্বারা খুব সুন্দর ভাবেই বুঝান যেতে পারে। মহাবীর হনুমান সীতাদেবীর খোঁজে যখন সাগর-পার করেন,তখন, পথে সমুদ্রমধ‍্যে ডুবে থাকা মৈনাক পর্বত,তাঁর দেহ বিস্তার করে, হনুমানের গতি রোধ করেন। হনুমান এই বাধা অতিক্রম করবার জন্য,প্রকান্ড শরীর ধারণ করলেন।তার পর মৈনাক ক্রমেই তাঁর উত্তুঙ্গ (অতি উচ্চ)শৈলদেহ বা পর্বতদেহ বিস্তার করতে লাগলেন। হনুমানও ক্রমেই তাঁর প্রকান্ড দেহ বিশাল হতে বিশালতর করতে লাগলেন।অবশেষে হনুমান আয়তনে মৈনাক পর্বতকে পরাস্ত করতে না পেরে, একটি মক্ষিকার বা মাছির রূপ ধারণ করে, পর্বতের গায়ে একটি ছিদ্র দিয়ে,তাঁকে অতিক্রম করে গেলেন। হনুমান যদি ক্রমেই তাঁর দেহ বিস্তার করতে থাকতেন, তাহলে হয়ত, তিনি পরিণামে মৈনাক পর্বতকে পরাস্ত করতে পারতেন, কিন্তু তাতে তাঁর বহু সময়ের আবশ্যক হত।তিনি মাছির রূপ ধারণ করায়,বুদ্ধিমত্তার পরিচয় দিয়ে,খুব অল্প সময়ের মধ্যেই,মৈনাক অতিক্রম করতে পেরেছিলেন।*
*🌷জ্ঞানমার্গ অবলম্বন করেও হয়ত,পরিণামে অহংজ্ঞানের সঙ্গে যুদ্ধ করে পরাভূত করা যেতে পারে, কিন্তু তা সময়-সাপেক্ষ। কিন্তু ভক্তিমার্গে অতি সহজেই অল্প সময়ের মধ্যে,অহংজ্ঞানকে পরাভূত করা যায়।*
*🌲প্রকাশানন্দকে পরাভূত করবার জন্য মহাপ্রভুদীনতা ভাব অবলম্বন করে প্রকাশানন্দকে পরাজয় করেছিলেন।হয়ত জ্ঞানমার্গের দ্বারা পরাজয় করতে হলে,প্রকাশানন্দ কিছুতেই পরাজিত হতেন না,তাঁর উপদেশ প্রকাশানন্দের হৃদয়কে স্পর্শ করত না ; কারণ, তাঁর হৃদয় অহঙ্কারে ঢাকা ছিল।তাঁকে জ্ঞান দ্বারা পরাস্ত করতে হলে, সার্বভৌমকে যেরকম ঐশ্বরিক ঐশ্বর্য‍্য দেখিয়ে পরাভব করেছিলেন,এক্ষেত্রেও তাইই করতে হত।শ্রীমন্মহাপ্রভু সে উপায় অবলম্বন না করে,এবার দীনতার দ্বারাই সহজে কার্য‍্যসিদ্ধি করেছিলেন।*
*🌻জ্ঞানী শঙ্করাচার্য‍্য জ্ঞানকেই চরম বলে বিশ্বাস করতেন।তাঁর দর্শনমতে শক্তির কোনও জায়গা ছিল না,তিনি শক্তিকে বিশ্বাস করতেন না। পরে তাঁর এই মত পরিবর্তিত হয়ে যায়। এই সম্বন্ধে একটি সুন্দর গল্প আছে।🔷একদিন শঙ্করাচার্য‍্য মণিকর্ণিকার ঘাটে স্নান করতে যাচ্ছেন, এমন সময় দেখতে পেলেন যে,পথের মধ্যে একটি রুগ্না স্ত্রীলোক পড়ে আছে।বৃদ্ধা অতি কাতর স্বরে শঙ্করাচার্য‍্যকে পথ হতে,তাকে সরিয়ে রাখতে বলল।শঙ্করাচার্য‍্য তখন অত‍্যন্ত অবসন্ন (ক্লান্ত) এবং দুর্বল বোধ করছিলেন ; তিনি বললেন, আমার এখন এত শক্তি নাই যে,তোমাকে পথ থাকে সরিয়ে রাখি।এইকথা শুনে বৃদ্ধা বলল, "কেন, তুমি তো শক্তি বিশ্বাস কর না।" ছদ্মবেশী বৃদ্ধা এই কথা বলে ছদ্মবেশ দূরে রেখে,স্বীয় স্বরূপ (শক্তিমূর্তি)প্রকাশিত করলেন।এতে শঙ্করাচার্য‍্য বিস্ময়-বিহ্বল-চিত্তে ভক্তি গদগদ কন্ঠে শক্তিদেবীর স্তব করতে আরম্ভ করেন,পরে এই স্তবরাজি দ্বারা "আনন্দলহরী" গ্রন্থ প্রণয়ন করেন।*
🦚🦚🦚🪷🪷🪷🪔🦚🦚🦚🪷🪷🪷
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 শ্রীশ্রীজগন্নাথ ও শ্রীশ্রীগৌরাঙ্গ 🌷 সপ্তম ভাগ 🌻 শ্রীযুক্ত রাজর্ষি গোপালচন্দ্র আচার্য‍্য চৌধুরী প্রণীত ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📝 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 https://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/02/jagannath7.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(৬৩)শ্রীশ্রীজগন্নাথ ও শ্রীশ্রীগৌরাঙ্গ*
            *🐚নীলাচলে মহাপ্রভু🐚*
                *টোটা--গোপীনাথ*
                  *🌼শ্বেতগঙ্গা🌼*
                ◆◆◆◆◆◆◆◆
*🍀এটি জগন্নাথের মন্দির হতে দক্ষিণ দিকে,প্রায় দেড় মাইল দূরে সমুদ্রেতীরে অবস্থিত। জগন্নাথের মন্দিরের দক্ষিণদ্বারের সামনে দিয়ে, যে রাস্তাটি গিয়েছে, ঐ রাস্তায় কিছুদূর গিয়ে,বামধারে যে রাস্তাটি দক্ষিণ দিকে গলির ভিতর প্রবেশ করেছে,সেই রাস্তায় কিছুদূর গিয়ে,চামুন্ডাদেবীর মন্দিয পাওয়া যায়। আরও কিছুদূর গিয়ে হরচন্ডীর মন্দির পাওয়া যায়। আর অল্প কিছুদূর গেলেই,ডান ধারের মন্দিরে,বলদেব এবং দুইধারে রেবতী ও রুক্মিণী আছেন।বামধারের মন্দিরে শ্রীশ্রীরাধামাধব,মদনমোহন ও গৌর-গদাধর আছেন।*
*🍀টোটা-গোপীনাথ নাম হবার কারণ এই যে, "টোটা" অর্থ বাগান। বাগানের মধ্যে গোপীনাথ আছেন বলে,ইঁহাকে "টোটা গোপীনাথ" বলা হয়।কেউ বলেন,সমুদ্রের তটে আছেন বলিয়া "তটে গোপীনাথ" শব্দের অপভ্রংশ "টোটা গোপীনাথ"।আর এক ব‍্যাখ‍্যা এই,মহাপ্রভু গোপীনাথের শরীরে প্রবেশ করেছিলেন,তাতে তাঁর উরুদেশ ফেটে যায়, তা হতে নাম হল টোটা গোপীনাথ।পান্ডারা এখনও ঐ ফাটাস্থান দেখিয়ে বলে,এই স্থান দিয়ে মহাপ্রভু প্রবেশ করেছিলেন।এই ফাটাস্থান দেখাতে পান্ডারা পাঁচ সিকা নিয়ে থাকে।একথা সত‍্যমিথ‍্যা আমাদের বিচার্য‍্য নয়,যা প্রবাদ আছে তাইই বলা হল।অন‍্যান‍্য গ্রন্থে মহাপ্রভু জগন্নাথের শরীরে প্রবেশ করেন, এইরকম দেখা যায়।এই উভয় বিষয়ের মধ্যে কোনটি সত‍্য,তা বলা যায় না।*
*🌻গদাধর এই টোটাগোপীনাথের সেবাইত ছিলেন।শ্রীগৌরাঙ্গ তাঁকে এই ঠাকুর সেবার জন্য নিয়োগ করেছিলেন,তার চিহ্ন-স্বরূপ এখানে গৌর-গদাধর-মূর্তি বতর্মান আছেন।এই গোপীনাথ প্রাঙ্গণে গদাধর ভাগবত পাঠ করতেন।শ্রীগৌরাঙ্গ, নিত‍্যানন্দ এবং তাঁর গণ ভাগবত শুনতেন, এবং অশ্রুবিসর্জন করতেন।ভাগবত পাঠান্তে সমুদ্রতীরে বসে নাম-জপ করতেন।*
*গদাধর ভাগবত-পাঠ করছেন ও প্রভু নিজে, নিত‍্যানন্দ মহাপ্রভুর সহ,ভক্তগণ পরিবৃত হয়ে পাঠ শুনছেন,এই অবস্থার প্রতিমূর্তি,রাজা প্রতাপরুদ্র চিত্রকর দ্বারা অঙ্গন করিয়েছেন।সেই মূর্তি হতে প্রতিকৃতি তুলে,শ্রীবাসাচার্য‍্য নবদ্বীপে আনিয়েছিলেন।শ্রীবাসাচার্য‍্যের শিষ‍্যদের বংশধর হতে রাজা নন্দকুমার তাঁর প্রতিকৃতি পান।সেই প্রতিমূতি হতে ফটো তুলে,তার হাপটোন ছবি দেওয়া গেল।*
*টোটা-গোপীনাথের মন্দিরের সামনেই একটি পর্বত আছে।সেটি বর্তমানে বালির স্তূপাকার হয়ে রয়েছে।এই পর্বতের নাম চটক পর্বত।এই পর্বত দর্শন করে,শ্রীগৌরাঙ্গদেব বৃন্দাবনের গোবর্দ্ধন পর্বত মনে করে,ভাবাবিষ্ট হয়েছিলেন।এই পর্বত দেখে তাঁর গিরিগোবর্দ্ধন মনে পড়েছিল, এবং সমুদ্র দেখে যমুনা-ভ্রম হয়েছিল।এই পর্বত হতে গৌরহরি ভাবে মাতোয়ারা হয়ে, সমুদ্রে ঝাঁপ দিয়ে ডুবেছিলেন ; পরে জালিয়াদের জালে লাগাতে,তারা তাঁকে তুলেছিল।তার পর ভক্তগণের হরিনাম-সংকীর্তনের পর,তাঁর চৈতন‍্য লাভ হয়।নীলাচলে তিনি এইরকম বহুলীলা করেছিলেন।অনেক গ্রন্থে দেখা যায়,সমুদ্রে পতিত হওয়ার পরেই, তিনি লীলা সম্বরণ করেন।এই মত একেবারেই চরমভুল।এর পরেও তিনি অনেক লীলা করেছিলেন।*
*🌼🌼🌼শ্বেতগঙ্গা🌼🌼🌼*
◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆
*🍀জগন্নাথ-মন্দিরের দক্ষিণ দরজার সামনে দিয়ে,দক্ষিণ দিকে যে রাস্তাটি গিয়েছে, এই রাস্তায় কিছু দূর গেলে,বাম-পার্শ্বে,রামদাস মঠ পাওয়া যায়।সেই মঠে রঘুনাথজীর মূর্তি আছেন।এই মঠের কাছেই রাঘবদাস মঠ নামে,আর একটি মঠ আছে।এটি হতে কিছু দূরে এগিয়ে গেলেই বারাহী-দেবীর মন্দির দেখতে পাওয়া যায়।তার পর চিটকি-মঠ, তাতে রাধামোহন বিরাজিত আছেন। রাস্তার বামদিকে একটা গলি গিয়েছে,সেখান থেকে খানিকটা এগিয়ে গেলে, শ্বেতগঙ্গা নামক বিস্তৃত সরোবর দেখা যাবে।এর দক্ষিণতীরস্থ একটি ছোট মন্দিরে শ্বেত-মাধব বিরাজিত আছেন।শ্বেত-মাধব সম্বন্ধে এইরকম প্রবাদ আছে যে, শ্বেত রাজা ত্রেতাযুগে শত বৎসর অনশনে থেকে শ্রীশ্রীজগন্নাথদেবের পূজা-অর্চনা দ্বারা বর লাভ করে ভগবানের স্বারূপ‍্য লাভ করেন ; এবং তদীয় আদি অবতার মৎস‍্যমূর্তির সহিত,নির্মল স্ফটিকবৎ শ্বেতমাধবরূপে শ্বেতগঙ্গার খুব কাছেই অবস্থিতি করছেন।ইঁনার দর্শনে মহাপুণ‍্য হয়।শ্বেতগঙ্গার জল পাপ-নাশক ও অতি পবিত্র। জগন্নাথতীর্থে যাত্রিগণ,অনবধানতা-নিবন্ধন (অসাবধানতার কারণ) প্রসাদে পাদস্পর্শ করে, যে অপরাধ করে থাকেন,এই জল-স্পর্শে সেই অপরাধ হতে মুক্ত হন।যাত্রিগণ জগন্নাথ হতে ফিরবার সময়ে, এই জল মাথায় নিয়ে পবিত্র হন।শ্বেতগঙ্গা সরোবরটি অতি সুন্দর ;চারদিকে পাথরের সিঁড়ি আছে।এই সরোবরটি অতি গভীর।মধ‍্যস্থলে ছোট একটি মন্দির আছে।এর উত্তর-পশ্চিম-কোণে একটি জল তুলবার কল আছে ; এবং তাতে চুঙ্গী (নল) বসিয়ে জল তুলে নর্দমা পরিস্কার প্রভৃতি কাজ করা হয়।*
🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 শ্রীশ্রীজগন্নাথ ও শ্রীশ্রীগৌরাঙ্গ 🌷 সপ্তম ভাগ 🌻 শ্রীযুক্ত রাজর্ষি গোপালচন্দ্র আচার্য‍্য চৌধুরী প্রণীত ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📝 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 https://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/02/jagannath7.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(৬৪)শ্রীশ্রীজগন্নাথ ও শ্রীশ্রীগৌরাঙ্গ*
            *🔵নীলাচলে মহাপ্রভু🔵*
        *সার্বভৌম বা গঙ্গামাতা-মঠ*
                *কাধমোচন শিব*
         **************************
*🍀এই শ্বেত-গঙ্গার দক্ষিণ-তীরে সার্বভৌমের বাড়ী, বাড়ীটি প্রকান্ড। একটি মন্দিরের ভিতর রাধারমণ, রাধাবিনোদ,রাধামোহন ও সোনার গৌরাঙ্গ প্রতিষ্ঠিত আছেন।শ্রীশ্রীচৈতন‍্য মহাপ্রভু সার্বভৌমের কাছে বেদান্ত শুনেছিলেন।এই মন্দিরের যে জায়গায় মহাপ্রভু সার্বভৌমের কাছে বেদান্ত শুনেছিলেন, সেই স্থানের দেওয়ালে মহাপ্রভুর একটি ষড়্ ভূজ মূর্তি ও সার্বভৌমের একটি মূর্তি অঙ্কিত আছে।মহাপ্রভু ও সার্বভৌমের বেদান্ত বিষয়ে বিচার, এবং সার্বভৌমকে যে মহাপ্রভু অবশেষে ষড়্ ভুজ মূর্তি প্রদর্শন করিয়েছিলেন,তা আগেই বলা হয়েছে।*
*মহাত্মা বাসুদেব সার্বভৌমের জন্মস্থান নবদ্বীপ।ইনি সেই সময়ে একজন অদ্বিতীয় পন্ডিত ছিলেন বলেই,মহারাজ প্রতাপরুদ্র ইঁনাকে বঙ্গদেশ হতে অনেক যত্নসহকারে আনিয়ে,নিজের দ্বার-পন্ডিত নিযুক্ত করেছিলেন।রাজা প্রতাপরুদ্র তাঁকে বহু সম্মান করতেন।যখন শ্রীচৈতন‍্যদেব প্রথম পুরুষোত্তমে এসে,মন্দিরে প্রবেশ করে, জগন্নাথদেবকে আলিঙ্গন করতে উদ‍্যত হন, তখন পান্ডাগণ কর্তৃক বাধাপ্রাপ্ত হয়ে,মণিকোঠায় অজ্ঞান হয়ে পড়েন, তখন সার্বভৌম ভট্টাচার্য্য মহাপ্রভুকে নিজ গৃহে নিয়ে যান, এবং শুশ্রূষা দ্বারা তাঁর মোহ দূর করেন।তারপরে, প্রভুর ভক্তগণ সেখানে গিয়ে মিলিত হলে, তাঁদের কাছে মহাপ্রভুর পরিচয় পেয়ে নিজ বাড়ীতে বিশেষ যত্ন সহকারে গৌরহরির সেবা করেন।*
*মহাপ্রভুর সঙ্গে বেদান্ত-বিচারে পরাস্ত হয়ে,তাঁর ষড়্ ভুজমূর্তি দর্শনের পর,জ্ঞানী ও তার্কিক-শিরোমণি সার্বভৌম,নিজেকে অপরাধী মনে করে,মহাপ্রভুর কাছে স্তুতিবাদ করে বললেন, "আমি শুষ্ক-জ্ঞানী ও তার্কিক ছিলাম, কেবল তোমার করুণাতেই আমি তোমাকে চিনলাম।পরশমণিকে সবাই চিনতে পারে না,চিনতে হলে একটি লোহা দ্বারা স্পর্শ করতে হয়। প্রভো!শুষ্ক তর্ক শুষ্ক জ্ঞানের আলোচনা করে,কঠিন লোহার আকারে পরিণত হয়েছিলাম।তুমি আমাকে স্পর্শ করে পবিত্র সুবর্ণ করলে। সুতরাং আমি এখন চিনতে পারলাম,তুমি পরশমণি=*
*🌷সার্বভৌম হইল প্রভুর ভক্ত একজন।*
*🌷মহাপ্রভুর সেবা বিনা নাহি অন‍্য মন।।*
*🌷শ্রীকৃষ্ণ-চৈতন‍্য শচীসুত গুণধাম।*
*🌷এই ধ‍্যান,এই জপ, এই লয় নাম।।*
*🌷সার্বভৌম বলে আমি তার্কিক কুবুদ্ধি।*
*🌷তোমার প্রসাদে মোর হৈল সম্পদ সিদ্ধি।।*
*🌷মহাপ্রভু বিনে কেহ নাহি দয়াময়।*
*🌷কাকেরে গরুড় করে ঐছে কোন হয়।।*
*🌷তার্কিক শৃগাল সঙ্গে ভেউ ভেউ করি।*
*🌷সেই দুখে এবে সদা কহি কৃষ্ণ হরি।।*
*🌷কাঁহা বহির্মুখ-তার্কিক-শিষ‍্যগণ সঙ্গ।*
*🌷কাঁহা এই সখ‍্য-সুধা-সমুদ্র-তরঙ্গ।।*
*🍀মহাপ্রভু সার্বভৌমের স্তুতিবাদে সন্তুষ্ট হয়ে, সমস্ত বৈষ্ণবগণের নাম গ্রহণ করে, প্রসাদ বিতরণ করতে লাগলেন।*
*🌷তবে প্রভু সব বৈষ্ণবের নাম লঞা।*
*🌷প্রসাদ দেন যেন কৃপা-অমৃত সিঞ্চিয়া।।*
*🌺সার্বভৌমের মনের সন্দেহ গিয়েছে কিনা, এবং মসাপ্রসাদে সম্পূর্ণ বিশ্বাস হয়েছে কিনা, জানবার জন্য মহাপ্রভু খুব সকালবেলা সার্বভৌম নিদ্রা হতে উঠবার পূর্বে,মহাপ্রসাদ সহ তাঁর গৃহদ্বারে উপস্থিত হয়ে,তাঁর নিদ্রা ভঙ্গ করলেন। ভট্টাচার্য্য গৃহ হতে বাহির হওয়ামাত্রই, তাঁর হাতে মহাপ্রসাদ অর্পণ করলেন, তিনিও অবিচলিত চিত্তে মহাপ্রসাদ ভক্ষণ করতে করতে বলতে লাগলেন, "শুষ্কং পর্য‍্যুষিতং বাপি নীতম্বা দূরদেশতঃ, ইত্যাদি।*
*☘জগন্নাথক্ষেত্রে এখন পর্যন্ত সার্বভৌমের কীর্তি ষড়্ ভুজমূর্তি মন্দিরের দক্ষিণে, এবং মন্দিরের ভিতরে দেখতে পাওয়া যায়।*
*🔴🔴🔴কাধমোচন শিব🔴🔴*
◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆
*🌳জগন্নাথদেবের মন্দিরের দক্ষিণ-দ্বারে,যে রাস্তা পশ্চিমদিকে লোকনাথ পর্যন্ত গিয়েছে,এই রাস্তার পশ্চিমদিকে একটু এগিয়ে গেলেই, বামপার্শ্বে কপাল-মোচন শিবের মন্দির দেখা যায়।*
*রুদ্রদেব ব্রহ্মার পঞ্চমমুন্ড ছেদন করে,ব্রহ্মান্ড মধ্যে কোথাও সেই ব্রহ্মকপাল রাখবার উপযুক্ত জায়গা না পেয়ে, শেষে শঙ্খের দ্বিতীয়াবর্ত্ত স্থানে রেখেছিলেন।তদবধি (সেই সময় থেকে ),সেই ব্রহ্মকপাল, কপালমোচন-শিব-রূপে অবস্থিত আছেন,ইঁনাকে দর্শন ও পূজা করলে ব্রহ্মহত‍্যার পাপ নাশ হয়।এই মন্দিরে কপাল-মোচন মহাদেব আছেন। সেই জায়গায় আর একটি মন্দিরে গণেশ আছেন।সেই স্থানে একটি কূপ আছে,তার নাম মণিকর্ণিকা।সেই জায়গায় পার্বতী কুন্ড আছে, এবং পার্বতী আছেন।একদিকে ষড়ানন আছেন,এবং আর এক দিকে গণেশ আছেন।এর কিছু দূর পশ্চিমে একটি মন্দির আছে,তাতে বনাম্র-শিব আছেন। আর কিছুদূর গিয়ে,ডানদিকে পুলিশ স্টেশ আছে।তার সামনে একটি কূপ আছে।সেই কূপ পুরী গোস্বামীর কূপ বলে প্রসিদ্ধ।*
🔷🔷🔷🔷🔷🔷🔷🔷🔷🔷🔷🔷🔷
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 শ্রীশ্রীজগন্নাথ ও শ্রীশ্রীগৌরাঙ্গ 🌷 সপ্তম ভাগ 🌻 শ্রীযুক্ত রাজর্ষি গোপালচন্দ্র আচার্য‍্য চৌধুরী প্রণীত ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📝 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 https://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/02/jagannath7.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(৬৫)শ্রীশ্রীজগন্নাথ ও শ্রীশ্রীগৌরাঙ্গ*
             *🔷নীলাচলে মহাপ্রভু🔷*
                *পুরী-গোস্বামীর কূপ*
                       *লোকনাথ*
                 ☆☆☆☆☆☆☆☆☆
*☘এটিকে পরমানন্দ-পুরী গোস্বামীর কূপ বলে।পরমানন্দ পুরী,প্রভুর জ‍্যেষ্ঠ ভ্রাতার স্থানীয় ; এমন কি বিশ্বরূপের এক অংশ তাঁতে বিরাজিত, এরকম কথাও অনেকে বলে থাকেন।মহাপ্রভু পুরীকে অত‍্যন্ত মান‍্য করতেন।আবার পুরীর যথাসর্বস্ব ধন মহাপ্রভু।পুরী আপন মঠে বাস করতেন-- সেখানে একটি কূপ খনন করা হয়েছিল।কূপের জল খুবই খারাপ,সকলেই জানত, মহাপ্রভুও তা জানতেন। কিন্তু এক সময়ে, কোনও বাসনা পূরণ করার জন্য, শ্রীচৈতন‍্যদেব সেখানে কূপের কাছে গিয়ে জিজ্ঞাসা করলেন,কূপের জল কেমন হয়েছে। পুরী বললেন,অতি অভাগিয়া কূপ, জল খুবই খারাপ, কেবল কাদাময়। গৌরহরি এইকথা শুনে বললেন,একি অবিচার!পুরী গোঁসাইয়ের কূপের জল ভাল না,শ্রীজগন্নাথ কি কৃপণতা করবার আর জায়গা পেলেন না?পুরী গোঁসাইয়ের কূপের জল স্পর্শ করলে জীব উদ্ধার হবে, তাই বুঝি জগন্নাথ মায়া করে জল এত খারাপ করেছেন।এই কথাগুলি বলে হাসতে হাসতে কূপের কাছে দাঁড়িয়ে দুই বাহু তুলে মহাপ্রভু বললেন, হে জগন্নাথ! আমাকে এই বর দাও,যে তোমার আজ্ঞায় গঙ্গাদেবী এই কূপে প্রবেশ করেন। গৌরহরি কৌতূক করেই এই কথাগুলি বললেন, তাঁর ভক্তগণও কতক সেই ভাবে হরিধ্বনি করে উঠলেন। মহাপ্রভু বাসায় ফিরে গেলেন।পরদিন সকালবেলায় পরমানন্দপুরী দেখেন যে,তাঁর কূপ অতি পবিত্র জলে পূর্ণ হয়েছে।*
*🌷আশ্চর্য‍্য দেখিয়া হরি বলে ভক্তগণ।*
*🌷পুরী-গোঁসাই হইল আনন্দে অচেতন।।*
*🌹সকলেই বুঝলেন যে, কূপে স্বয়ং শ্রীগঙ্গাদেবী আগমন করেছেন।তখন ভক্তগণ মিলে গঙ্গার স্তব ও পাঠ করতে করতে,কূপ প্রদক্ষিণ করতে আরম্ভ করলেন।এই সংবাদ পেয়ে ভক্তবৎসল গৌরহরিও আসিলেন, এবং সকলে মিলে সেই কূপে স্নান করলেন। এই কূপের ভিতর উত্তরদিকে, একটি পাথর খন্ডে এই কয়েকটি কথা লেখা রয়েছে,যথা=*
               *পুরী গোস্বামীর কূপ।*
                   *খনিত চৈঃ তং*
                         *চৈঃ ৪১৮।*
            *সংস্কর্ত্রী দাসী মৃণালিনী।*
*🌹যাই হোক, এই রাস্তায় পশ্চিমদিকে কিছুদূর গেলে একটি হনুমানের মূর্তি দেখতে পাওয়া যায় ; পরে কিছুদূর গেলে লোকনাথের বাড়ী দেখা যায়।*
*🌻🌻🌻লোকনাথ🌻🌻🌻*
🌹🌹🌹🌹🌹🌹🌹🌹🌹
*🍀ইনি সমুদ্রের নিকটবর্তী স্থানে অবস্থিত।ইঁহার চারিদিকে প্রাচীর দিয়ে ঘেরা ; মন্দিরের পূর্ব ও উত্তর দিকে দুইটি দরজা আছে।দরজা দিয়ে প্রবেশ করলেই,প্রথমে একটি অঙ্গন পাওয়া যায়।এই অঙ্গন কতকগুলি বৃক্ষদ্বারা শোভিত। পরে অন‍্য একটি দরজা দিয়ে ভেতরে প্রবেশ করতে হয়।প্রথমে ছোট একটা মন্দির পাওয়া যায়,তাতে চন্দ্রদেব ও সূর্য‍্যদেব আছেন।আর অন‍্য একটি মন্দিরে গণেশ আছেন।মাঝখানে লোকনাথের মন্দির।প্রথম স্তম্ভের উপরে বৃষ দর্শন, দুইটি কোঠা পার হয়ে,তৃতীয় কোঠাতে একটি গর্তের মধ্যে অন্ধকার -পূর্ণ জায়গায় লোকনাথ বিরাজ করছেন।ভিতর বড়ই অন্ধকারপূর্ণ, প্রবেশ করা অত‍্যন্ত কঠিন।এর সামনেই একটি মন্দিরে প্রকান্ড একটি ছবি অঙ্কিত আছে, তাকে বৈকুন্ঠেশ্বর বলে থাকে।*
*লোকনাথের মন্দির-সংলগ্ন উত্তরদিকে ছোট একটি অঙ্গন আছে,তাতে ছোট একটি পাদপদ্ম মন্দির আছে।তার সম্মুখে পার্বতীর মন্দির।উত্তরদিকে একটি মন্দিরে একটি বৃষ বা ষাঁড় আছে।পূর্বকোণে একটি মন্দিরে পঞ্চপান্ডব অর্থ‍্যাৎ পঞ্চমহাদেব আছেন। উত্তরদিকের দরজা দিয়ে বাহির হলেই, সামনে একটা সরোবর আছে,তার নাম পার্বতী সরোবর।*
*🌺শ্রীরামচন্দ্র,যখন সীতাদেবীর উদ্ধারের জন্য লঙ্কাভিমুখে গমন করতে করতে, নীলাচলের পশ্চিমে, শবর-দীপকের বন-মধ‍্যে উপস্থিত হন, তখন সেখানে অন‍্য শিবলিঙ্গ না পেয়ে শবরদের দেওয়া লাউ প্রতিষ্ঠা করে পূজা অর্চনা করেছিলেন। লাউ দিয়ে পূজা করেছিলেন বলে,তাঁকে লাউকানাথ বা লোকনাথ বলে।প্রতি বৎসর শিবরাত্রিতে এখানে মহামেলা হয়।উড়িয়াগণ জগন্নাথ অপেক্ষা লোকনাথকে বেশী ভয় করেন।কাউকেও শপথ করাবার সময় জগন্নাথের শপথ না করিয়ে, লোকনাথের শপথ করান।তাঁদের বিশ্বাস জগন্নাথ খুব বেশী দয়ালু বলে, অন‍্যায়কারীর শাস্তি প্রায় দেন না ; কিন্তু লোকনাথের কাছে সেরকম হবার সম্ভাবনা নাই।লোকনাথ খুব তাড়াতাড়ি অন‍্যায়কারীকে সমুচিত শাস্তি দিয়ে থাকেন।প্রবাদ আছে যে,অন‍্যায়কারীকে লোকনাথ তাঁর সর্প পাঠিয়ে দেন।*
🙏🌷🦚🪷🙏🌷🛕🦚🪷🙏🌷🦚🪷
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 শ্রীশ্রীজগন্নাথ ও শ্রীশ্রীগৌরাঙ্গ 🌷 সপ্তম ভাগ 🌻 শ্রীযুক্ত রাজর্ষি গোপালচন্দ্র আচার্য‍্য চৌধুরী প্রণীত ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📝 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 https://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/02/jagannath7.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(৬৬)শ্রীশ্রীজগন্নাথ ও শ্রীশ্রীগৌরাঙ্গ*
           *🔷নীলাচলে মহাপ্রভু🔷*
           *🌹মার্কন্ডেয়-সরোবর*
           *🌳মৃত‍্যুঞ্জয়-লিঙ্গ*
           *🌻মার্কন্ডেশ্বর মহাদেব*
           *🍀চক্রতীর্থ*
           *🌲আঠার নালা*
      ◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆
*🍁মার্কন্ডেয় সরোবর জগন্নাথের মন্দিরের উত্তরদিকে প্রায় এক মাইল দূরে অবস্থিত।মার্কন্ডেয় যেতে,পথে একটি মঠ পাওয়া যায়,তার নাম "বরিসন্ত মঠ"।এই মঠে রামচন্দ্র ও নরসিংহ আছেন।অল্প কিছুদূরে আর একটি মন্দির আছে,তাতে শিব আছেন।এর পর মার্কন্ডেয় সরোবর।সরোবরটি সুবিস্তৃত ও পাথর দিয়ে চারিদিক বাঁধানো, এর মধ‍্যস্থলে একটি বেদীর মত হয়ে আছে।এটি অতি পবিত্র তীর্থ বলে ক্ষেত্র-মাহাত্ম‍্যে বর্ণিত রয়েছে।এই জায়গায় মার্কন্ডেয় মুনি তপস‍্যা করেছিলেন বলে,এই সরোবরের নাম মার্কন্ডেয় সরোবর।এখানে কতকগুলি মন্দির আছে,তার মধ‍্যস্থলে যে বড় মন্দিরটি,তাতে মার্কন্ডেশ্বর মহাদেব বিরাজিত আছেন।তাঁর চারিদিক পাথরে বাঁধান রয়েছে,মধ‍্যস্থলে একটি কুন্ড মধ্যে তিনি বিরাজ করছেন।তাঁর চতুর্দিকে কতকগুলি মন্দির আছে।পঞ্চপান্ডবের মন্দির,তাতে পাঁচটি শিব আছেন ; গণেশের মন্দির,তার সামনেই একটি মহাদেব আছেন ; পার্বতীর মন্দির--উত্তরদিকে এক জায়গায় দুইটি মহাদেব আছেন,গণেশের মন্দির--শিব-মন্দির, একটি সাধুর মন্দির আছে,তাতে অনেক দেবতা আছেন-- জগন্নাথ,বলরাম,সুভদ্রা,নৃসিংহ, রাধাকৃষ্ণ,গোপাল,নারায়ণ-চক্র,বিষ্ণুমূর্তি প্রভৃতি আছেন।এই সরোবরের অন‍্য একটি নাম আছে,"হরির খাত বা মার্কন্ডেশ্বর সরোবর"।মহর্ষি মার্কন্ডেয় ভগবান কর্তৃক তীর্থ নির্মাণের আদেশ পেয়ে,অক্ষয়-বটের বায়ু-কোণে সুদর্শন-চক্র দ্বারা এই সরোবর নির্মাণ করেছিলেন।প্রতি বৎসর বারুণী উপলক্ষ্যে এখানে স্নান করতে হয়।*
*🌻🌻🌻মৃত‍্যুঞ্জয়-লিঙ্গ🌻🌻*
▪▪▪▪▪▪▪▪▪
*🍀হরির খাতের তীরে,মহর্ষি মার্কন্ডেয় কর্তৃক ভগবানের দ্বিতীয় মূর্তি মৃত‍্যুঞ্জয়-লিঙ্গ প্রতিষ্ঠিত হন। তিনি এই বিগ্রহের পূজা দ্বারা মৃত‍্যুকে জয় কোরে,অন্তিমে মোক্ষ প্রাপ্ত হন। এই লিঙ্গ দর্শনে ও পূজনে মানুষ মৃত‍্যুকে জয় করতঃ,অনন্তকাল চরম শান্তিলাভ করে।*
*🌻🌻মার্কন্ডেশ্বর-মহাদেব🌻🌻*
☆☆☆☆☆☆☆☆☆☆☆☆☆☆
*🍀ইনি মার্কন্ডেয়-সরোবর-তীরে প্রতিষ্ঠিত।মহারাজ ইন্দ্রদ‍্যুম্ন ইঁনার পাষাণময় মন্দির নির্মাণ করে দিয়েছিলেন।ইঁনাকে দর্শন করলে অশ্বমেধ-যজ্ঞের ফল লাভ হয়।*
*🌻🌻🌻চক্রতীর্থ🌻🌻🌻*
∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆
*🍀এটি পুরী মন্দির হতে প্রায় তিন মাইল দূরে অবস্থিত।সমুদ্রতীর দিয়েও চক্রতীর্থে যাওয়া যায়।সমুদ্রের কাছে একটি কুন্ডে জল আছে,তাকে চক্রতীর্থ বলে,এই চক্রতীর্থের কিছু উপরদিকে কয়েকটি মন্দির আছে।একটি মন্দিরে চক্রনারায়ণ আছেন ও তাঁর বামধারে মহালক্ষ্মী ও ডানদিকে নৃসিংহ আছেন।সেই জায়গায় বৃন্দাদেবীর একটি মূর্তি আছে,তাঁর মাথার উপর একটি তুলসী বৃক্ষ রয়েছে। প্রবাদ আছে যে,এই জায়গায় জগন্নাথের জন্ম হয়, এই নারায়ণ-চক্র তার সাক্ষী-স্বরূপ বিরাজ করছেন। আর একটি মন্দির আছে,তাতে গৌরীশঙ্কর মহাদেব আছেন।অল্পদূরে অন‍্য একটি মন্দির আছে,তাতে হনুমানজী আছেন।প্রবাদ আছে যে,এই হনুমান জগন্নাথের আদেশে সমুদ্রকে রক্ষা করছেন।এই হনুমানের অন‍্য একটি নাম বেড়ী-হনুমান।এটিকে বেড়ীদিয়ে ভগবান্ এইখানে রেখে দিয়েছেন।কাছেই একটি জায়গায় ছোট ছোট সমাধির মত আছে।জনশ্রুতি আছে যে,ব্রহ্মহরিদাস এইখানে সাধন করেছিলেন। কিন্তু চৈতন‍্যচরিতামৃত গ্রন্থে এর কোন প্রমাণ পাওয়া যায় না।*
*🌹🌹🌹আঠার নালা🌹🌹🌹*
◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆
*🍀এই আঠার-নালা জগন্নাথের মন্দির হতে উত্তর দিকে অবস্থিত।আঠার নালার কাছে আলম্বা-দেবীর মন্দির আছে।*
*আঠার নালা একটি প্রকান্ড সাঁকো,এই সাঁকোর ভিতর দিয়ে আঠারটি নালা আছে বলিয়া, এর নাম আঠার নালা।আঠার নালা একটি তীর্থ বলে প্রসিদ্ধ।এখানে এই সেতু সম্বন্ধে কিম্বদন্তী আছে যে,পুরীর নিকট দিয়ে যে নদী গিয়েছে,তার সঙ্গে সমুদ্রের যোগ ছিল।এই নদী এত ভীষণ ছিল যে,তা পার হবার জন্য,সাঁকো তৈরী করতে ইচ্ছে করলেন, কিন্তু কিছুতেই কৃতকার্য‍্য হতে পারলেন না।তখন,রাজা ভগবানের আদেশ-অনুসারেতাঁর আঠারটি পুত্র এই জায়গায় কেটে দেওয়ায়,এই সেতু বা সাঁকো তৈরী করতে পারলেন।এই সাঁকোর এক একটি নালাতে একটি করে পুত্র-সন্তানকেটে দেওয়া হয়েছিল। আবার এই সম্বন্ধে অন‍্য একটি জনশ্রুতি আছে যে,এই জায়গায় কিছুতেই লোক পার হতে পারে না বলে ইন্দ্রদ‍্যুম্ন রাজার মনে বড় কষ্ট হল। এই পারে না আসিলে শ্রীজগন্নাথদেব দর্শন হয় না। রাজা ভক্ত ও পরম বৈষ্ণব ছিলেন।ভক্তবৎসল ভক্তের কষ্ট দেখে, ভক্তের ইচ্ছা পূর্ণ করবার জন্য এই জায়গাটি বাঁধিয়ে দিলেন।এই সাঁকো বহুকালের বলে শোনা যায়। এখানে এখন কেবল নদীর রেখাটি মাত্র রয়েছে।*
🌷🌷🌷🌷🌷🌷🪷🌷🌷🌷🌷🌷🌷
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 শ্রীশ্রীজগন্নাথ ও শ্রীশ্রীগৌরাঙ্গ 🌷 সপ্তম ভাগ 🌻 শ্রীযুক্ত রাজর্ষি গোপালচন্দ্র আচার্য‍্য চৌধুরী প্রণীত ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📝 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 https://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/02/jagannath7.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(৬৭)শ্রীশ্রীজগন্নাথ ও শ্রীশ্রীগৌরাঙ্গ*
           *🛕নীলাচলে মহাপ্রভু🛕*
           *🌲🌲ভুবনেশ্বর🌲🌲*
    *🌻বিন্দু-হ্রদ বা বিন্দু-সরোবর*
         *🌹খন্ডগিরি ও উদয়গিরি*
    ΠΠΠΠΠΠΠΠΠΠΠΠΠΠΠΠΠ
*🌲ভুবনেশ্বর=ত্রিতাপহারী বিশ্বেশ্বর কাশী জনাকীর্ণ দেখে, নির্জনে থাকতে বাসনা করে,ভুবনেশ্বরের "একাম্রকাননে" এসে উপস্থিত হলেন।নীলাদ্রী-মহোদয়াদি গ্রন্থে ইঁনার মাহাত্ম্য বিশেষভবর্ণিত আছে। একটি আমগাছ দশমাইল ব‍্যাপিয়া রয়েছে বলিয়া,এটিকে একাম্রকানন বলে।এখানে বিন্দু-হ্রদ নামে একটি হ্রদ আছে।বিন্দুহ্রদ দেখতে খুবই সুন্দর।সেই হ্রদে স্নান করে,ভুবনেশ্বর প্রভুকে দর্শন করলে,জীব অজ্ঞানকৃত পাপ হতে মুক্ত হয়।এই প্রভুর মন্দির, প্রথমে সুনিপুণ ব্রহ্মা কর্তৃক নির্মিত হয়েছিল।বহুকাল পরে সেই মন্দির ভেঙ্গে যাওয়াতে,উড়িষ‍্যার স্বাধীন রাজা ললাটেন্দু-কেশরী ৫৮৮ শকাব্দে, পুনরায় এই মন্দিরের সংস্কার করেন।এই মন্দির দেখতে অতি সুন্দর।মন্দিরের কারুকার্য‍্য জগন্নাথের মন্দির অপেক্ষা অপেক্ষাকৃত সুন্দর।এই কারুকার্য‍্য দেখলে, ভারতে প্রাচীন শিল্পের প্রশংসা না করে থাকা যায় না।এখানকার প্রসাদ জগন্নাথের প্রসাদের মত,অন‍্য জাতির স্পৃষ্ট হলেও পবিত্র ব্রাহ্মণাদির গ্রহণ যোগ্য।ভুবনেশ্বরের মন্দির দীর্ঘে ৫২০ ফুট,প্রস্থে ৪৬৫ ফুট।এর এক কোণে ভগবতীদেবীর মন্দির আছেন। ভুবনেশ্বরের নিত‍্য পূজাপদ্ধতি জগন্নাথের পূজাপদ্ধতির মত।ভুবনেশ্বরের মন্দির, ভুবনেশ্বর স্টেশন হতে সোয়া-দুই মাইল কিম্বা আড়াই মাইল দূরে হবে।*
🐚🐚🐚🐚🐚🐚🐚🐚🐚🐚🐚🐚🐚
*🌻বিন্দু-হ্রদ বা বিন্দু-সরোবর🌻*
^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^
*🍀এটি অতি পবিত্র তীর্থ। পৃথিবীর সব তীর্থ হতে বিন্দু বিন্দু করে জল এসে,এই সরোবরকে পূর্ণ করেছিল, সেই জন্যই একে বিন্দু-সরোবর বলে। ভারতবর্ষে যেরকম চারটি ধাম আছে, তদ্রূপ এখানেও,চারটি সরোবর আছে।যথা=বিন্দু-সরোবর,মানস-সরোবর, পম্পা-সরোবর ও নারায়ণ-সরোবর। এই চারটি প্রত‍্যেকেই অতি পবিত্র তীর্থ।প্রবাদ আছে যে,কোন সময়ে ভগবতী অসুর-দলন করে ক্লান্ত হয়ে,এই জায়গায় ঘুমিয়ে পড়েন,তারপর জাগরিত হয়ে মহাদেবের কাছে জল চান।মহাদেব তখন ত্রিশূল দিয়ে এই সরোবর খনন করেন।*
*🌷বিন্দুং বিন্দুং সমাহৃত‍্য নির্ম্মিতস্ত্বং পিণাকিনা।*
*🌷বৃজিনং হর মে সর্ব্বং বিন্দুসাগর তে নমঃ।।*
*🌹ভুবনেশ্বরের মন্দির ছাড়া,এখানে বহু শিবমন্দির আছে।বোধ হয় কাশী ছাড়া এত বেশী শিবমন্দির আর কোথাও নাই। অনেক মন্দিরের মধ্যে প্রধান মন্দিরগুলি=*
*🙏কোটি-তীর্থেশ্বর,🙏ব্রহ্মেশ্বর, 🙏সিদ্ধেশ্বর,🙏কেদারেশ্বর,🙏যমশ্বর,🙏গোয়ালিনীশানেশ্বর, 🙏জলেশ্বর🙏মুক্তেশ্বর🙏একাম্রেশ্বর ইত্যাদি।কেদার-গৌরীর নিকটে,গৌরী-কুন্ড, মরিচাকুন্ড,দুগ্ধকুন্ড, এরকম চারটি কুন্ড আছে। এই কুন্ডে, পর্বতের কোন দূরের ঝরণার জল মাটির উপর দিয়ে গড়াতে গড়াতে শেষে এই কুন্ডে এসে পড়ে।এই কুন্ডের জল খুবই স্বাস্থ‍্যকর, এবং দুগ্ধ-সন্নিভ(সমান) বলে একে দুগ্ধকুন্ডও বলে।এই কুন্ডের জল পান করলে প্রটের অসুখ দূর হয়।পুরীতে যেমন পেটের অসুখ বাড়ে, এখানে আবার এই কুন্ডের জলে তা দূরীভূত হয়।স্বাস্থ‍্যকর স্থান বলিয়া, অনেকে আজকাল ভুবনেশ্বরে বাড়ী করছেন।*
এই কুন্ডের জল পান করলে পেটের অসুখ দূর হয়।

*⛰খন্ডগিরি ও উদয়গিরি*
       ^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^
*🍀খন্ডগিরি ও উদয়গিরি অতি মনোরম স্থান, প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের লীলানিকেতন।এখানে বহু গুহা বিদ‍্যমান(বর্তমান) আছে,দেখলে মনে হয়,এইখানে এক সময়ে বহু সাধু বাস করতেন।এখানে যেমন বহু শিবমন্দির আছে,সেইরকম বহু আশ্রমও দেখা যায়।এই জায়গায় এক সময়ে বৌদ্ধদের আধিপত্য ছিল,তার অনেক চিহ্ন পাওয়া যায়।এই জায়গা ভুবনেশ্বর হতে তিনমাইল দূরে অবস্থিত।খন্ডগিরির উচ্চতা ১২৪ ফিট, উদয়গিরির উচ্চতা খন্ডগিরি অপেক্ষা কিছুটা বেশী।প্রাকৃতিক সৌন্দর্য্যে এই দুই জায়গা অতীব রমণীয়।*
🗻🏔️🗻🏔️🗻🏔️🗻🏔️🗻🏔️🗻🏔️🗻

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 শ্রীশ্রীজগন্নাথ ও শ্রীশ্রীগৌরাঙ্গ 🌷 সপ্তম ভাগ 🌻 শ্রীযুক্ত রাজর্ষি গোপালচন্দ্র আচার্য‍্য চৌধুরী প্রণীত ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📝 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 https://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/02/jagannath7.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(৬৮)শ্রীশ্রীজগন্নাথ ও শ্রীশ্রীগৌরাঙ্গ*
           *🦚নীলাচলে মহাপ্রভু🦚*
            *🔥সাক্ষী--গোপাল🔥*
           ☆☆☆☆☆☆☆☆☆☆
*☘একসময় দুই বিপ্র তীর্থ-পর্য‍্যটনে বাহির হন।বড় বিপ্র বৃন্দাবনে গিয়ে অত‍্যন্ত অসুস্থ হয়ে পড়েন,ছোট বিপ্র খুব যত্ন সহকারে সেবা শুশ্রূষা করে,তাঁকে সুস্থ করে তুলেন।এতে বড় বিপ্র অত‍্যন্ত সন্তুষ্ট হয়ে,তাঁর সঙ্গে নিজ কন‍্যার বিয়ে দিতে ইচ্ছুক হন, এবং ছোট বিপ্রের কাছে তাঁর এই মত প্রকাশ করেন।শোনার পর ছোট বিপ্র বললেন, "আমা অপেক্ষা আপনারা বংশ-মর্য‍্যাদায় অনেক বড় বা শ্রেষ্ঠ,অতএব কেমন করে এই বিয়ে করতে পারি?তখন বড় বিপ্র বললেন,সে যাই হোক, আমি অবশ্যই তোমার সঙ্গে আমার কন্যার বিয়ে দিব।ছোট বিপ্র বললেন,যদি আপনার একান্তই এইরকম ইচ্ছে হয়ে থাকে,তাহলে আপনি যেরকম প্রতিশ্রুতি করলেন,তার সাক্ষী রাখা আবশ্যক ; কারণ,আপনার পুত্রগণের প্রতিবাদে আপনি হয়ত,পরে এই বিয়ে অস্বীকার করতে পারেন।বড় বিপ্র তখন সাক্ষী কোথায় পায় ভাবছেন ; ছোট বিপ্র বললেন, "এই যে সাক্ষী গোপাল আছেন--ইঁনাকে আমরা সাক্ষী মানব"।তখন বড় বিপ্র সেই ঠাকুরের সামনে,ছোট বিপ্রকে তাঁর কন‍্যা সম্প্রদান করবেন বলে প্রতিজ্ঞা করলেন।*
*🍀তারপর তাঁরা বাড়ী ফিরে আসিলেন।যা আশঙ্কা করেছিলেন তাইই হল।বড় বিপ্রের পুত্রগণ তাঁর প্রতিজ্ঞার কথা শুনে,অত‍্যন্ত ক্রুব্ধ হলেন,তাঁরা কিছুতেই এরকম কুলের মর্য‍্যাদা-নাশক কাজ করতে দিবেন বলে কৃতসঙ্কল্প হলেন।পিতাও তখন পুত্রদের ভয়ে অত‍্যন্ত সন্ত্রস্ত হয়ে পড়লেন।এদিকে ছোট বিপ্র,বড় বিপ্রের প্রতিজ্ঞার কথা পুনঃ পুনঃ স্মরণ করাতে আরম্ভ করলেন, কিন্তু বৃদ্ধ আর কোনরকম জবাব করেন না।বড় বিপ্রের পুত্ররা ছোট বিপ্রকে বললেন,আপনারা যে প্রতিজ্ঞা করেছেন,তার সাক্ষী কে?তখন ছোট বিপ্র বলিল, "স্বয়ং গোপালজী এই প্রতিজ্ঞার সাক্ষী আছেন"।পুত্রগণ বলল,"গোপালজী কী এই প্রতিজ্ঞার সাক্ষী দিবেন?ছোট বিপ্র বললেন,অবশ‍্যই দিবেন"।বড় বিপ্রের পুত্রগণ ভাবল গোপালজী তো কথা বলেন না,অতএব তিনি সাক্ষী দিবেন না,বিয়েও তখন হবে না।এইরকম মনে করে তাঁরা ছোট বিপ্রকে বললেন,যদি তোমার গোপালজী সাক্ষী দেন, তবে অবশ্যই বিয়ে হবে,নচেৎ হবে না।* 
*ছোট বিপ্র এই কথা শুনে,ব্রজধামে চলিলেন, এবং গোপালজীর কাছে উপস্থিত হয়ে,সমস্ত কথা জানালেন এবং বললেন,"গোপালজী সাক্ষ দিবার জন্য তোমাকে যেতে হবে।" তখন গোপালজী মৃদু হাস‍্য করে বললেন,"বিগ্রহের কি চলবার ক্ষমতা আছে? ছোট বিপ্র বললেন,বিগ্রহ কি কথা কয়?যখন কথা বলতে পারো,তখন চলতেও পারবে।বিশ্বাসে মেলায় বস্তু তর্কে বহুদূর। ভক্তের কাছে তর্কে পরাস্ত হয়ে গোপালজী বললেন,এ কথা সত‍্য, কিন্তু পথে চলার সময় তুমি পেছনের দিকে চাইতে পারবে না।যখনই তুমি পেছনের দিকে চাইবে, তখনই আমি জায়গায় থেকে যাব, আর কোথাও যাব না।তখন ছোট বিপ্র জিজ্ঞাসা করলেন,তুমি যে আমার পেছন পেছন আসছ,তা আমি কিসে বুঝব?ঠাকুর বললেন, আমার নূপুরধ্বনি তুমি শুনতে পাবে।তার পর ছোট বিপ্র আগে আগে যেতে লাগলেন, ভগবান নূপুরের রুণু রুণু শব্দ করতে করতে,তাঁর পেছন পেছন চলতে লাগলেন।ছোট ব্রাহ্মণ নূপুরধ্বনি শুনে আনন্দভরে যাচ্ছেন,যখন পুরীধামে আসিলেন,তখন নূপুরের ভিতর বালি ঢুকে আর শব্দ হল না, শব্দ বন্ধ হল,আর নূপুরধ্বনি শোনা গেল না।অমনি ঠাকুরের পশ্চাৎ আগমনে সন্দেহ করে,ব্রাহ্মণ ফিরে তাকালেন ; গোপালজীও চিরকালের মত ঐ স্থানে থেকে গেলেন।এই জায়গা হতে তাঁর নিজ গ্রাম বেশী দূর না।নিজ গ্রামে গিয়ে সাক্ষী দিবার জন্য গোপালজীর আগমন বার্তা জানালেন,গ্রামের সমস্ত লোকজন গোপালজীকে দেখতে গমন করলেন, এবং গোপালজীর কাছে বড় বিপ্রের অঙ্গীকার বার্তা জেনে,সকলেই হৃষ্টচিত্তে ছোট ব্রাহ্মণের সঙ্গে বড় ব্রাহ্মণের কন‍্যার বিয়ে দিলেন।এই সময় হতে এস্থানের নাম "সাক্ষী গোপিল" হ'ল। সাক্ষী গোপাল পুরী হতে ছয়মাইল দূরে অবস্থিত। অদ‍্যাপি ছোট ব্রাহ্মণের ও বড় ব্রাহ্মণের বংশধরগণ বতর্মান আছেন।সাক্ষীগোপাল গোপাল মূতি নহেন, ইনি ত্রিভঙ্গঠাম মুরলীধর শ্রীকৃষ্ণমূর্তি।এই জায়গায় সাক্ষী গোপালের নবযৌবনের দিন খুব বড় উৎসব হয়।*
🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙌🙏🙏🙏🙏🙏🙏
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 শ্রীশ্রীজগন্নাথ ও শ্রীশ্রীগৌরাঙ্গ 🌷 সপ্তম ভাগ 🌻 শ্রীযুক্ত রাজর্ষি গোপালচন্দ্র আচার্য‍্য চৌধুরী প্রণীত ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📝 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 https://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/02/jagannath7.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(৬৯)শ্রীশ্রীজগন্নাথ ও শ্রীশ্রীগৌরাঙ্গ*
            *🌸নীলাচলে মহাপ্রভু🌸*
             *মাধবদাস বা মাধোদাস*
             °°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°
*🍀এই ভক্তের নাম উল্লেখ না করলে,বোধ হয়, শ্রীজগন্নাথদেবের সন্তুষ্টি হবে না।তাঁর ভালোবাসার জন্য এই ভক্তের জীবনী এখানে সংযুক্ত করছি।ইনি শ্রীশ্রীজগন্নাথদেবের অতি প্রিয় পাত্র, সখ‍্য-ভাবে ইঁনার ভজন।ইনি আহারের জন্য কিছু মাত্র চেষ্টা করতেন না, অজগর বৃত্তি অবলম্বন করে থাকতেন।*
*এই সময়ে তিনি এইরকম উপবাসে আছেন, এমন সময়ে তাঁর ভোজনের জন্য স্বয়ং লক্ষ্মীদেবী জগন্নাথের থালাতে ভোজন সামগ্রী এনে,তাঁর সামনে দিয়েছিলেন। তিনি বুঝতে পারলেন,স্বয়ং লক্ষ্মী তাঁর ভোজনের জন্য জগন্নাথের থালাতে ভোজন-সামগ্রী এনে তাঁর সম্মুখে দিয়েছেন।মাধবদাস তা গ্রহণ করলেন।থালাটি সেখানে পড়ে রইল।সকাল বেলা পান্ডারা থালা না পেয়ে চারিদিকে খুঁজতে আরম্ভ করলেন,অবশেষে মাধবদাসের কাছে থালা দেখতে পেলেন।তাঁরা মাধোদাসকে চোর মনে করে,অত‍্যন্ত প্রহার করলেন।শ্রীজগন্নাথের সোনার থালা এখানে, নিশ্চয়ই মাধব চুরি করেছে!মাধব দাসকে এত প্রহার করল, তাতে ভ্রূক্ষেপ নাই।রাত্রিযোগে ভগবান পান্ডাকে স্বপ্নে দেখা দিয়ে বললেন, "মাধোদাসকে যে তোরা প্রহার করেছিস, তার সমস্তই আঘাত আমার অঙ্গে লেগেছে।এই থালা স্বয়ং লক্ষ্মীদেবী মাধবকে দিয়েছিলেন,তাঁর প্রতি এইরকম ব‍্যবহার,যেন আর কখনও করা না হয়।সেই হতে মাধোদাস জগন্নাথের বাড়ীতেই বাসস্থান করলেন।*
*একদিন শীতকালে মাধোদাসের গায়ে লেপ নাই,ভগবান্ তাঁর লেপ মাধোদাসের গায়ে পরিয়ে দিলেন।এখন পান্ডারা বুঝেছেন যে,এটি ভগবানের খেলা।আর একদিন রাত্রিতে জগন্নাথদেব মাধবকে বললেন,আমার সঙ্গে এসো।মাধোদস তাঁর সঙ্গে সঙ্গে চললেন,উভয়েই এক মহাজনের বাগানে প্রবেশ করলেন।শ্রীজগন্নাথ স্বয়ং কাঁঠাল পাড়তে গাছে উঠলেন।মাধবদাস বললেন, আমি গাছে উঠতে পারব না,-- এই চুরি করা তোমারই কাজ। তুমি মাখন সর ক্ষীর দধি কতকিছু চুরি করেছ,আবার গোপিনীদের বস্ত্র হরণ করেছ, এ যুগে তুমি এবার কাঁঠাল চরি কর। ঠাকুর কাঁঠাল পাড়লেন, কিন্তু কাঁঠালটি মাটিতে পড়লে শব্দেতে বাগানের মালীরা জেগে উঠিল, এবং সেই স্থানে এসে উপস্থিত হলেন।ঠাকুর মালীদের সাড়া পেয়ে তিনি অদৃশ্য হলেন। মাধোদাস বন্দী হলেন। মালীরা চোর বলে তাঁকে কিছু প্রহারও করল।মাধোদাস কেবলই বলেন, "যে চোর তাকে ধরতে পারলে না "। কিন্তু তাঁর কথায় কেউই বিশ্বাস করতে পারল না। রাত্রি প্রভাত হল।মন্দির খুলে পান্ডারা দেখেন জগন্নাথের অঙ্গের বসন নাই, তখনই তাঁর খোঁজ আরম্ভ হল।পান্ডারা বস্ত্র খোঁজ করতে করতে সেই বাগানে উপস্থিত হলেন, এবং মাধোদাসকে বন্দী অবস্থায় দেখতে পেলেন।মাধোকে সেই অবস্থায় দেখে,তাঁরা সমস্ত কথা বুঝতে পারলেন।তাঁরা দেখলেন,ঠাকুরের বস্ত্র বাগানের বেড়ায় লেগে রয়েছে, তখন আর কিছু বুঝতে বাকী রইল না, প্রকৃত চোর স্থির হল।বাগানের কর্তৃপক্ষীয়েরা তখন বাগানের সমস্ত দ্রব‍্যাদি নিয়ে জগন্নাথদেবকে উপহার দিতে লাগলেন।*
*এদিকে মাধবদাস রেগে শরীর কাঁপছে।জগন্নাথদেব তাঁর প্রতি এইরকম ছলনা করলেন,এটিই তাঁর ক্রোধের কারণ।জগন্নাথের কাছে গিয়ে তিনি জগন্নাথকে নানারকম ভর্ৎসনা করতে আরম্ভ করলেন।এত বৎসর কেটে গেল এখনও তোমার চঞ্চলতা দূর হল না। তুমি তোমার পুরাতন অভ‍্যাস ছাড়তে পার নাই।পূর্বে দ্বাপরযুগে গোপিনীদের বস্ত্র হরণ করেছ,মাখন ক্ষীর সর চুরি করেছ,সেই অভ‍্যাস বশত, এখন আবার কাঁঠাল চুরি করলে?নিজে করেছিলে তাই ভাল, আমাকে আবার বিপন্ন করলে কেন?এইরকম তিরস্কারে জগন্নাথ বেদস্তুতি অপেক্ষাও আনন্দ লাভ করলেন।*
*☘একসময় মাধবদাসের রক্ত-আমাশয়ের পীড়া হয়ে ছিল।অত‍্যন্ত মলত‍্যাগের বেগ হওয়ায়,জলপাত্র না নিয়েই তিনি তাড়াতাড়ি ছুটলেন।শৌচের সময় ভাবলেন, জলতোআনা হয়নি। এমন সময়*
*একজন লোক জলপূর্ণ ঘটী নিয়ে উপস্থিত হলেন।তখন মাধবদাস জিজ্ঞাসা করলেন, "তুমি কে হে বাপু, আমাকে জল যোগাচ্ছ?তখন লোকরূপী ভগবান বললেন, আমি তোমার জগন্নাথ।" মাধব তখন বললেন,তোমার যদি এতই দয়া,তবে আমার রোগটা সারিয়ে দিলেই তো পার। তাহলে আর তোমাকে জল যোগাবার কষ্ট ভোগ করতে হয় না।তখন জগন্নাথ বললেন,তোমার ভোগ শেষ হয়নি,ভোগ শেষ না হলে আমি ব‍্যাধি সারাতে পারি না।*
*🌷মা ভুক্তং ক্ষীয়তে কর্ম্ম কল্পকোটি শতৈরপি।*
*🌻এটি দ্বারা ভগবান দেখালেন, যে তিনি ভক্তাধীন এবং ভোগ শেষ না হলে,কর্ম শেষ হয় না।*
🙏🙏🙏🙏🙏🙏🐚🙏🙏🙏🙏🙏🙏
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 শ্রীশ্রীজগন্নাথ ও শ্রীশ্রীগৌরাঙ্গ 🌷 সপ্তম ভাগ 🌻 শ্রীযুক্ত রাজর্ষি গোপালচন্দ্র আচার্য‍্য চৌধুরী প্রণীত ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📝 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 https://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/02/jagannath7.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(৭০)শ্রীশ্রীজগন্নাথ ও শ্রীশ্রীগৌরাঙ্গ*
            *📿নীলাচলে মহাপ্রভু*
            *🙌রায় রামানন্দ🙌*
            ********************
*🍀জগন্নাথ-মাহাত্ম‍্য সম্বন্ধে আলোকরতে গেলে,এই মহাপুরুষের সম্বন্ধে আলোচনার সবিশেষ প্রয়োজন।জগন্নাথের ইতিহাসে ইনি একজন বিশেষ স্মরণীয় ব‍্যক্তি। আধ‍্যাত্মিক ভাবে দেখতে গেলে ইঁনার মত লোক তখন ছিল না।ইনি প্রতাপরুদ্রের মন্ত্রী ছিলেন,বিদ‍্যানগরে ইঁনার প্রধান আবাসস্থান ছিল।কেউ কেউ বলেন যে,ইঁনার পূর্ব-পুরুষের বাসস্থান বর্দ্ধমান জেলায় ছিল।যাইহোক,সেই বিষয়ের বিচার এইখানে নিষ্প্রয়োজন। আমরা এই গ্রন্থে বিদ‍্যানগরই রায় রামানন্দের আবাসস্থান বলে নির্দিষ্ট হয়েছে। তিনি কায়স্থ,কি ক্ষত্রিয়,এই সম্বন্ধে নানা মত চলছে,শ্রীচৈতন‍্যচরিতামৃতে তিনি কায়স্থ বলে উল্লিখিত হয়েছেন। বহুস্থানে তাঁকে শূদ্র বলে থাকেন। ভক্তপ্রবর শ্রীযুক্ত রসিকমোহন বিদ‍্যাভূষণ মহাশয় যে,রায় রামানন্দকে ক্ষত্রিয় বলে প্রমাণ করেছেন, এ সম্বন্ধে তাঁর সঙ্গে একমত হতে পারলাম না।রায় রামানন্দ ক্ষত্রিয়ই হন বা কায়স্থই হন, এতে কিছু আসে যায় না ; কারণ, তিনি যে গৌরবে গৌরবান্বিত,যে সম্মানে সম্মানিত,যে অলঙ্কারে ভূষিত,তাতে জাতির ভেদাভেদে তাঁর সম্মানের কিছু কম-বেশী হয় না। সুতরাং শ্রীচৈতন‍্যচরিতামৃতে যা লেখা আছে,তাইই আমরা পাঠকের সামনে উপস্থিত করছি।*
*🌷রামানন্দ রায় আছে গোদাবরী-তীরে।*
*🌷অধিকারী হয়েন তিঁহো বিদ‍্যানগরে।।*
*🌷শূদ্র বিষয়ী জ্ঞানে উপেক্ষা না করিবে।*
*🌷আমার বচনে তাঁরে অবশ‍্য মিলিবে।।*
*🌷সন্ন‍্যাসী পন্ডিত-গণের করিতে গর্ব নাশ।*
*🌷নীচ শূদ্র দ্বারা করে ধর্মের প্রকাশ।।*
*🌷ভক্তিতত্ত্ব প্রেম কহে রায়ে করি বক্তা।*
*🌷আপনি প্রদ‍্যুম্ন-মিশ্র সহ হয় শ্রোতা।।*
*🌹বিদুরও জাতিতে শূদ্র ছিলেন ; সুতরাং জাতিতে,ভক্তিতত্ত্বে এবং মন্ত্রিত্বে তিনি বিদুর সমান।বিদুর যদিও শূদ্র জাতীয় ছিলেন, কিন্তু তিনি ভক্তিদ্বারা ভগবান শ্রীকৃষ্ণকে এত বাধ‍্য করেছিলেন যে,তাঁর পত্নী পদ্মাবতী ভগবানকে কলার খোসাও খাইয়েছিলেন।*
*🌷নানোপচার-কৃত-পূজন মার্ত্তব ন্ধোঃ,*
*🌷প্রেম্নৈব ভক্তহৃদয়ং সুখবিদ্রুতং স‍্যাৎ।*
*🌷যাবৎ ক্ষুদন্তি জঠরে জঠরা পিপাসা,*
*🌷তাবৎ সুখায় ভবতো ননু ভক্ষ‍্য-পেয়ে।।*
*🌺দুর্য‍্যোধন বহু উপচারে সেবাদ্বারা ভগবানের ভালোবাসা লাভ করতে পারেননি ; কিন্তু বিদুর এবং বিদুর-পত্নী সামান্য খাদ‍্য দিয়েই শ্রীকৃষ্ণকে পরিতুষ্ট করেছিলেন। সুতরাং প্রেমই একমাত্র বস্তু, যা দ্বারা ভক্ত ও ভগবানের হৃদয় দ্রবীভূত হয়।*
*🌳এখন বিদুরের সঙ্গে রায় রামানন্দের তুলনা করে দেখা যাক। ভক্তপ্রবর বিদুর দুর্য‍্যোধনের মন্ত্রী ছিলেন,রামানন্দও প্রতাপরুদ্রেরমন্ত্রী ছিলেন।বিদুর ভক্তিতে ভগবানকে বেঁধেছিলেন,রায় রামানন্দও মহাপ্রভুকে দূরদেশে তাঁর বাড়ীতে আকর্ষণ করে নিয়ে গিয়েছিলেন। সুতরাং ভক্তিতে,মন্ত্রিত্বে এবং জাতিত্বে উভয়ের সাদৃশ‍্য(তুল‍্যতা)দেখা যাচ্ছে ; কিন্তু আমরা রামানন্দকে প্রেমেতে উচ্চ স্থান দিতে চায়।বিদুর দাস‍্য-ভাবের ভক্ত ছিলেন ; রামানন্দ সখ‍্যভাবের অধিকারী। মহাপ্রভু যখন শ্রীমতীর ভাবে বিভোর থাকতেন, তখন রামানন্দকে বিশাখা বলে সম্বোধন করতেন। সুতরাং মহাপ্রভুর সঙ্গে রায় রামানন্দের ব্রজভাবের সখীসম্বন্ধ। দাস‍্য-ভাব অপেক্ষা সখীভাব উচ্চতর।এই হিসাবে বিদুর অপেক্ষা রামানন্দের শ্রেষ্ঠত্ব মনে করি।*
*🌷যার যেই ভাব সেই সর্ব্বোত্তম।*
*🌷তটস্থ হইয়া বিচারিলে আছে্র তারতম‍।।(চৈঃচঃ)*
*🌹ইতিপূর্বে লিখেছি যে, রায় রামানন্দ গৌরবান্বিত,সম্মানিত ও অলঙ্কৃত ; এই তিনটি বিশেষণ দ্বারা তাঁকে বিশেষিত করা হয়েছে। তাঁর কি সম্মান,কি গৌরব ও কি অলঙ্কার ছিল,যাতে তিনি এত উচু পদ লাভ করতে পারেন।রায় রামানন্দের দুই অবস্থা,একদিকে মহাসংসারী, অন‍্যদিকে মহাসাধু।বাইরের লোকের কাছে তিনি রাজমন্ত্রী, নানা জাঁকজমকে বাস করতেন। সাংসারিক লোক কেউ বুঝতে পারত না যে,এতদূর প্রগাঢ় ভক্তি তাঁর ভিতরে লুকিয়ে রয়েছে।যাঁদের বিশেষ অন্তর্দৃষ্টি ছিল,কেবল তাঁদের কাছেই তিনি ধরা দিতেন,তাঁরাই এই অতলস্পর্শী ভাব বুঝতে পারতেন। তাই মহাপ্রভু দেখা-মাত্রই বুঝতে পেরে,তাঁকে আলিঙ্গন করেছিলেন। সাংসারিক লোকের কাছে তিনি মন্ত্রী বলে সুখ‍্যাতি লাভ করেছিলেন।অন‍্যদিকে মহাপুরুষদের কাছেও কৃষ্ণভক্ত বলে বিখ‍্যাত ছিলেন। সুতরাং ইনি উভয়দিকেই গৌরব ও সম্মান লাভ করেছিলেন।কৃষ্ণভক্ত বলে যিনি জগতে খ‍্যাত,তাঁর আর অন‍্য যশের প্রয়োজন নাই।*
*🌷কীর্ত্তিগণ মধ্যে জীবের কোন বড় কীর্ত্তি।*
*🌷কৃষ্ণ-প্রেম-ভক্ত বলি যাহার হয় খ‍্যাতি।।*
*🌹শ্রীমতী রাধারাণী যখন অভিসারে গমন করেছেন, তখন সখীরা বলছেন, তুই অমনি করে যাসনি,তোকে সাজিয়ে দিই।তখন শ্রীমতী রাইধনি বলছেন, "আমার অলঙ্কারের দরকার কি?কৃষ্ণনামই আমার সর্বাঙ্গের আভরণ, আমি অন‍্য গহনা চাই না।আমার হাতের অলঙ্কার কৃষ্ণসেবা,পায়ের অলঙ্কার তাঁর কাছে যাওয়া,চক্ষুর অলঙ্কার তাঁর রূপ-দর্শন, কর্ণের অলঙ্কার তাঁর গুণ-শ্রবণ, মুখের অলঙ্কার তাঁর নাম-কীর্তন। সুতরাং আমার অন‍্য অলঙ্কারের আর প্রয়োজন নাই।রামানন্দেরও এই অলঙ্কার।এই অলঙ্কার যাঁর ভূষণ,তাঁর অন‍্য অলঙ্কারের কিছু দরকার নাই।*
*🍁রামানন্দ সাংসারিক হিসাবে, মন্ত্রীত্বের গৌরবে গৌরবান্বিত ; কৃষ্ণভক্তের কাছে তিনি কৃষ্ণভক্ত বলে খ‍্যাত ও সম্মানিত, আর কৃষ্ণসেবা তাঁর অলঙ্কার, সুতরাং সেই অলঙ্কারে তিনি অলঙ্কৃত বা ভূষিত।*
🌻🌻🌻🌻🌻🌻🌹🌻🌻🌻🌻🌻🌻
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🔜 ক্রমাগত 👉 শ্রীশ্রীজগন্নাথ ও শ্রীশ্রীগৌরাঙ্গ 🌷 অষ্টম ভাগ 🌻 শ্রীযুক্ত রাজর্ষি গোপালচন্দ্র আচার্য‍্য চৌধুরী প্রণীত ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📝 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/02/jagannath8.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

    📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝
    ꧁👇📖 সূচীপত্র ✍️ শ্রী জয়দেব দাঁ 📖👇



✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧


✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

   ✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️ 
নিবাস- বাঁশবাড়ী, কীর্তন মন্দিরের পাশে, পোঃ- বাঁশবাড়ী, থানা- ইংরেজ বাজার, জেলা- মালদহ, পশ্চিমবঙ্গ, পিন কোড- ৭৩২১০১।

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

  *••••┉❀꧁👇🏠Home Page🏠👇꧂❀┅••••* 


✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

    *••••━❀꧁👇 📖 সূচীপত্র 📖 👇꧂❀┅••••* 



✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

     *••••━❀꧁👇📚 PDF গ্রন্থ 📚👇꧂❀┅••••* 


✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
    *••••┉━❀꧁ 🙏 রাধে রাধে 🙏 ꧂❀━┅••••* 
                   শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য প্রভু নিত্যানন্দ
              হরে কৃষ্ণ হরে রাম শ্রীরাধেগোবিন্দ।।
  *••••┉━❀꧁ 🙏 জয় জগন্নাথ 🙏 ꧂❀━┅••••*
              হরে কৃষ্ণ হরে কৃষ্ণ কৃষ্ণ কৃষ্ণ হরে হরে
              হরে রাম হরে রাম রাম রাম হরে হরে॥
  *••••┉━❀꧁ 🙏 জয় রাধাকান্ত 🙏 ꧂ ❀━┅••••*
   🌷❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀🌷
   🏵️❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀🏵️
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧







adds