শ্রী মৃন্ময় নন্দী কর্ত্তৃক সকল ভক্ত👣চরণে👣অসংখ্যকোটি 🙇প্রণাম🙇 ক্লিক করুন 👇

শ্রী মৃন্ময় নন্দী কর্ত্তৃক সকল ভক্ত👣চরণে👣অসংখ্যকোটি 🙇প্রণাম🙇 ক্লিক করুন 👇

শ্রীস্বরূপদামোদর 🌷 সপ্তম ভাগ 🌻 ভক্তপ্রবর শ্রীরসিকমোহন চক্রবর্তী ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📝 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/02/swarup7.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🔙 পূর্ব লীলা 👉 শ্রীস্বরূপদামোদর 🌷 ষষ্ঠ ভাগ  🌻 ভক্তপ্রবর শ্রীরসিকমোহন চক্রবর্তী ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📝 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/02/swarup6.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 শ্রীস্বরূপদামোদর 🌷 সপ্তম ভাগ  🌻 ভক্তপ্রবর শ্রীরসিকমোহন চক্রবর্তী ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📝 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/02/swarup7.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 শ্রীস্বরূপদামোদর 🌷 সপ্তম ভাগ  🌻 ভক্তপ্রবর শ্রীরসিকমোহন চক্রবর্তী ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📝 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/02/swarup7.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(৬১)🙌শ্রীস্বরূপ-দামোদর🙌*
         *শ্রীস্বরূপ ও শ্রীবিদ‍্যানিধি*
          °°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°
*🍀মহাপ্রভুর ভক্তবন্ধু-বিরহে এইরকম ব‍্যাকুলতা অনেক স্থলেই বর্ণিত আছে।শ্রীকবিকর্ণপুর শ্রীচৈতন‍্যচরিতামৃত মহাকাব‍্যের ১৯শ সর্গেও শ্রীস্বরূপের অদর্শনে শ্রীচৈতন‍্যদেবের এইরকম ব‍্যাকুলতার বর্ণনা করেছেন।সেটির মর্ম এই যে মহাপ্রভু গৌড়ে যেতে উদ‍্যত হলেন।গৌরহরির ইচ্ছা,শ্রীস্বরূপ কীর্তন গাইবেন, আর তিনি নিজেও তাঁর সঙ্গে সঙ্গে গাইতে গাইতে নাচতে নাচতে জগন্নাথের কাছে গৌড়ে যাবার বিদায় চাইবেন,এই মনে করে শেষ রাত্রিতে মহাপ্রভু পথে গিয়ে স্বরূপের প্রতীক্ষা করতে লাগলেন, কিন্তু দৈববশতঃ শ্রীস্বরূপ সেই সময়ে মিলিত হতে পারলেন না।তাঁর জন্য গৌরহরির আর উৎকণ্ঠার সীমা রইল না।তিনি সিংহদ্বারে বসে স্বরূপদামোদরের জন্য ব‍্যাকুল হয়ে পড়লেন। যথা শ্রীচৈতন‍্যচরিতামৃত মহাকাব‍্যে=*
*🌷গায়ং গায়ং গমিষ‍্যামি জগন্নাথং বিলোকিতুম্।*
*🌷দামোদরোহসৌ মৎসঙ্গে গায়ন্ স্থাস‍্যতি নিশ্চিতম্।।*
*🌷ইত‍্যসৌ রজনী শেষে প্রথমাবসয়ং বিভোঃ।*
*🌷নিজকীর্তন সংহষৈ র্গচ্ছন্ পথি বভৌ প্রভুঃ।।*
*🌷দৈবাদ্দামোদরঃ সোহহয়ং মিলিতোনাভবৎতদা।*
*🌷সিংহদ্বারে ক্ষণং তস্থৌ তমপেক্ষ স্বয়ং প্রভুঃ।।*
*🌻এই উপলক্ষ্যে গ্রন্থকার লিখেছেন=*
*🌷ভাবাভাবাভিভাবাভিভবভাবে বভৌ ভবঃ।*
*🌷বিভাবেমম্ভাবভাবে বভূবভূমি বৈভবম্।।*
*🌻উল্লিখিত শ্লোকটি দ্ব‍্যক্ষর চিত্রকাব‍্য।এর পদচ্ছেদ,অন্বয় ও ব‍্যাখ‍্যা মূলগ্রন্থে দ্রষ্টব‍্য। অর্থ এই যে স্বরূপ-দামোদরের অভাবজনিত বিরহে মহাপ্রভু ব‍্যাকুল হলেন।এতে স্বরূপদামোদরের জন্ম সফল এবং মহাগৌরবময় হল।ফলে এই যে যাঁর বিরহে সাক্ষাৎ বিদ‍্যানিধির জন্য মহাপ্রভুর বিরহ-বিলাপে শ্রীবিদ‍্যানিধির জন্ম সফল ও গৌরবময় হয়েছিল।(স্বয়ং ভগবান যাঁর জন্য বিরহ-ব‍্যাকুল হন, সত‍্যই সেই ভক্তের এই মানবজনম পরিপূর্ণ ভাবে সফল)।*
*🌹শ্রীস্বরূপের প্রিয়বন্ধু প্রেমনিধি শ্রীপুন্ডরীক বিদ‍্যানিধির জন্য সদ‍্যঃপুত্র শোকাকুল জননীর মত ভক্তবৎসল শিরোমণি শ্রীমন্মহাপ্রভু কেঁদে কেঁদে আকুল হন।মহাপ্রভু কার জন্য এরকম ব‍্যাকুলভাবে কাঁদছেন, ভক্তগণ তা প্রথমে বুঝতে পারলেন না।গৌরহরি কৃষ্ণ-কৃষ্ণ বলে সময়ে সময়ে রোদন করে থাকেন, পুন্ডরীক নাম শুনে তাঁরা প্রথমে মনে করলেন, শ্রীকৃষ্ণস্ফূর্তিই বুঝি বা শ্রীচৈতন‍্যের এরকম রোদনের কারণ। কিন্তু মহাপ্রভু শুধু পুন্ডরীক বলে রোদন করছেন না। তিনি পুন্ডরীক বিদ‍্যানিধি বলে রোদন করছেন না। সুতরাং ভক্তগণ কিছুই বুঝে উঠতে পারলেন না।কেননা,শ্রীবিদ‍্যানিধির নাম তাঁরা জানতেন না। কিন্তু সকলেই বিচার করে এটুকু বুঝলেন যে গৌরচন্দ্র তাঁর কোন প্রিয় ভক্তের জন্যই এরকম ব‍্যাকুল ভাবে রোদন করছেন।শচীতনয় রোদনে একান্ত বিভোর। কাজেই তাঁকে তখন কেউ রোদনের কারণ জিজ্ঞাসা করলেন না।তাঁর কান্না থামল,তিনি কিঞ্চিৎ সুস্থ হলেন।তখন তাঁরা জিজ্ঞাসা করলেন "প্রভু তুমি কোন ভক্তের জন্য কাঁদছিলে, খুলে বলো ; তুমি যাঁর জন্য রোদন কর, তাঁর জন্ম সফল,তিনি ধন‍্যাতিধন‍্য।তাঁর কথা শুনলে আমরাও ধন‍্য হব। ভক্তগণের প্রার্থনায় গৌরহরি শ্রীপুন্ডরীক বিদ‍্যানিধির চরিত্র তাঁদের কাছে প্রকাশ করেন।শ্রীচৈতন‍্যভাগবতে সাক্ষাৎ শ্রীভগবানের শ্রীমুখ নিঃসৃত শ্রীপুন্ডরীক বিদ‍্যানিধি-চরিত্র এইরকম কীর্ত্তিত হয়েছে ঃ---*
*🌷প্রভু বলে তোমরা সকলে ভাগ‍্যবান।*
*🌷শুনিতে হইল ইচ্ছা তাহার আখ‍্যান।।*
*🌷 পরম অদ্ভুত তান সকল চরিত্র।*
*🌷তার নাম শ্রবণেও সংসার পবিত্র।।*
*🌷বিষয়ীর প্রায় তান সব পরিচ্ছদ।*
*🌷চিনিতে না পারে কেহ তিনি যে বৈষ্ণব।।*
*🌷চাটিগ্রামে জন্ম বিপ্র পরম পন্ডিত।*
*🌷পরম স্বধর্ম সর্বলোক অপেক্ষিত।।*
*🌻শ্রীপুন্ডরীক বিদ‍্যানিধি জাতিতে ব্রাহ্মণ, পরম ভক্ত, অথচ ব্রাহ্মণত্ব-নিষ্ঠ তিনি লোকাপেক্ষাত‍্যাগী উদাসীন বৈষ্ণব ছিলেন না।শ্রীবিদ‍্যানিধি লোকাপেক্ষা রাখতেন,সামাজিক নিয়ম মেনে চলতেন,অথচ অন্তরে অন্তরে সর্ববিষয়েই জনকরাজার মত নিস্পৃহ ছিলেন। তিনি বিষয়ীর মত বিচরণ করতেন,বিষয়ীর মত পোষাক ব‍্যবহার করতেন,তাঁর সাংসারিক অবস্থা খুবই ভাল ছিল। সে পরিচয় পরে প্রকাশ করা যাবে।ফলে তাঁর হৃদয়ে শ্রীকৃষ্ণভক্তি-সিন্ধু-প্রবাহ সবসময়ই তরঙ্গে তরঙ্গে নৃত্য করত,তিনি ভক্তির জাহ্নবী প্রবাহে সবসময়ই ভেসে বেড়াতেন।তাই গৌরহরি বলেছেন=*
*🌷কৃষ্ণভক্তি-সিন্ধু মাঝে ভাসে নিরন্তর।*
*🌷অশ্রুকম্প পুলকে বেষ্টিত কলেবর।।*
*🌻তাঁর বৈধীভক্তির পরিচয় প্রকাশ করে শ্রীচৈতন‍্যদেব তাঁর গুণখ‍্যাপন করেছেন।শ্রীশ্রীগঙ্গার প্রতি তাঁর ভক্তি প্রকৃতই অদ্ভুত।লোকে পবিত্রতার জন্য গঙ্গাস্নান করে, কিন্তু পরমভক্ত শ্রীবিদ‍্যানিধি গঙ্গাস্নান করতেন না।দিবাভাগে গঙ্গা দর্শন করতেন না। গঙ্গার প্রতি এত ভক্তি থাকা সত্ত্বেও বিদ‍্যানিধি গঙ্গাস্নান করতেন না। কেন, এবং দিনেরবেলাই বা গঙ্গদর্শন করতেন না কেন, তার কারণ গৌরচন্দ্রের শ্রীমুখের কথায় শুনুন=*
*🌷গঙ্গাস্নান না করেন পাদস্পর্শ ভয়ে।*
*🌷গঙ্গার দর্শন করেন নিশার সময়ে।।*
*🌷গঙ্গায় যে সর্বলোক করে অনাচার।*
*🌷কুল‍্যাদি দন্তধাবন কেশ-সংস্কার।।*
*🌷এ সকল দেখিয়া পায়েন মনোব‍্যথা।*
*🌷এতেক দেখেন গঙ্গা নিশায় সর্বথা।।*
*🌻গঙ্গায় স্নান করলে পা গঙ্গার জলে স্পর্শ হবে।গঙ্গা সাক্ষাৎ ব্রহ্মসনাতনী,সেই গঙ্গাদেহে পা-স্পর্শ হবে,বিদ‍্যানিধি এই জন্য গঙ্গায় অবগাহন (স্নান) করতেন না।দিনেরবেলা গঙ্গা দর্শন করতেন না কেন?গঙ্গাস্নান করতে গিয়ে লোকে গঙ্গায় বড় কদাচার করে, মুখের কুল‍্যাদি,(মুখে জল নিয়ে কুলকুচি করে গঙ্গায় ফেলে),গঙ্গায় দাঁত মেজে মুখ ধোয়, কেশ সংস্কার করে অর্থ‍্যাৎ মাথায় সাবান দিয়ে গঙ্গার জলে ধোয়, এ সব অনাচার দেখে তাঁর মনে অত‍্যন্ত ব‍্যথা হত।এমন ধর্মভীরুতা ; এমন সজীব ধর্মভাব এখনকার দিনে কখনই দেখা যায় না।তাঁর আর এক বিচিত্র গঙ্গাভক্তি এই ছিল যে দেবার্চনা করার আগেই তিনি গঙ্গাজল পান করতেন।তাঁর বিশ্বাস এই যে গঙ্গাজল সাক্ষাৎ দ্রবব্রহ্ম।গঙ্গাজল পানে জীব পবিত্র হয়,পশুভাব ও জীবভাব দূরে যায়,দেবভাবের উদয় হয়, সুতরাং দেবার্চনার অধিকার জন্মে। সম্ভবত এই বিশ্বাসেই তিনি পূজার আগে গঙ্গাজল পান করতেন।যথা শ্রীচৈতন‍্যভাগবতে=*
*🌷বিচিত্র বিশ্বাস আর এক শুন তান।*
*🌷দেবার্চনা পূর্বে করে গঙ্গাজল পান।।*
*🌷তবে সে করেন পূজা আদি নিত‍্যকর্ম।*
*🌷ইহা সর্ব পন্ডিতের বুঝালেন ধর্ম।।*
*🌻মহাপ্রভু এইভাবে শ্রীবিদ‍্যানিধির চরিত্র বর্ণন করে কেঁদে কেঁদে বলতে লাগলেন,তাঁরে না দেখলে আমার আর স্বস্তি নাই।তোমরা কৃষ্ণভক্ত, তোমাদের চিত্তের আকর্ষণে অবশ্যই তিনি এখানে আসতে পারেন, তোমরা আকর্ষণ করে যত তাড়াতাড়ি সম্ভব তাঁকে এনে দাও।এই বলে ভাবনিধি গৌরহরি আবার আবিষ্ট হলেন এবং উচ্চৈঃস্বরে পুন্ডরীক বলে কাঁদতে লাগলেন।ফলে কি প্রকারে ভক্তের মাহাত্ম্য বিস্তার করতে হয় স্বয়ং শ্রীভগবানই তার একমাত্র শিক্ষাগুরু। শ্রীপুন্ডরীক বিদ‍্যানিধি অচিরেই নবদ্বীপে এসেছিলেন।*
*🍀স্বয়ং শ্রীগদাধরের শ্রীমুখে শ্রীপাদ বৃন্দাবনদাস ঠাকুর প্রেমনিধি বিদ‍্যানিধির মাহাত্ম্য শুনেছিলেন।শ্রীচৈতন‍্যভাগবতের অন্তলীলায় গ্রন্থকার স্বীয় রচনাতেই তা ব‍্যক্ত করে গিয়েছেন, যথা=*
*🌷যেরূপ কৃষ্ণের প্রিয়পাত্র বিদ‍্যানিধি।*
*🌷গদাধর শ্রীমুখের কথা কিছু লিখি।।*
*🌻গ্রন্থকার শ্রীবিদ‍্যানিধির অনেক কাহিনী কীর্তন করে লিখেছেন=*
*🌷আর কি কহিব প্রেমনিধির মহিমা।*
*🌷যার শিষ‍্য গদাধর--এই প্রেম সীমা।।*
*🌷যার কীর্ত্তি বাখানে অদ্বৈত শ্রীনিবাস।*
*🌷যার কীর্ত্তি বলেন মুরারি হরিদাস।।*
*🌷হেন নাহি বৈষ্ণব যে তানে না বাখানে।*
*🌷পুন্ডরীক শুদ্ধ ভক্ত কায়বাক‍্য মনে।।*
*🌷অহঙ্কার তান দেহে নাহি তিলমাত্র।*
*🌷না জানি অদ্ভুত কি চৈতন‍্য কৃপাপাত্র।।*
*🌻ফলে এইরকম মহাভক্ত না হলে কি বিদ‍্যানিধি শ্রীস্বরূপের বন্ধু হতে পারতেন?শ্রীবিদ‍্যানিধির কাছে শ্রীগদাধর পন্ডিত মন্ত্রগ্রহণ বৈষ্ণব ইতিহাসের এক মহান্ ব‍্যাপার এবং ভক্তিরাজ‍্যের এক বিচিত্র ঘটনা।*
👣👣👣👣👣👣🙏👣👣👣👣👣👣
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 শ্রীস্বরূপদামোদর 🌷 সপ্তম ভাগ  🌻 ভক্তপ্রবর শ্রীরসিকমোহন চক্রবর্তী ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📝 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/02/swarup7.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(৬২)🙌শ্রীস্বরূপ-দামোদর🙌*
  *শ্রীবিদ‍্যানিধি ও গদাধর পন্ডিত*
   ☆☆☆☆☆☆☆☆☆☆☆☆☆
*🙏শ্রীমন্মহাপ্রভুর আকর্ষণে বিদ‍্যানিধির হৃদয় নবদ্বীপ যাব বলে চঞ্চল হয়ে উঠিল।তিনি সেই নীরব আহ্বানে ব‍্যাকুল হলেন,তাঁর বোধ হল তিনি যেন এক মুহূর্তও বিলম্ব করতে পারছেন না।ক্ষণমাত্র দেরী না করে তিনি শ্রীধাম নবদ্বীপ অভিমুখে যাত্রা করলেন-- সঙ্গে রাজার ঠাট--বহু লোক জন --বহু আসবাব। শ্রীবিদ‍্যানিধি সুপন্ডিত।ছাত্রগণ ও ভক্তগণ তাঁর সঙ্গে সঙ্গেই নবদ্বীপ আসিলেন।বিদ‍্যানিধি যে প্রেমনিধি নবদ্বীপবাসী লোকেরা তা আগে বুঝতে পারেননি।সকলেই মনে করতেন পুন্ডরীক বিদ‍্যানিধি একজন প্রধান বিষয়ী--জমিদার--অতি সম্পত্তিশালী লোক।পুন্ডরীক বিদ‍্যানিধির প্রকৃত সম্পত্তি(শ্রীকৃষ্ণভক্তি সম্পত্তি) তখনও কারও জ্ঞানগোচর হয়নি। কিন্তু শ্রীমুকুন্দদত্ত ও বাসুদেব দত্ত বিদ‍্যানিধি মহাশয়কে খুব ভালভাবেই জানতেন।কেননা,চট্টগ্রাম তাঁদেরও জন্মভূমি।মুকুন্দের সঙ্গে গদাধরের বড় বন্ধুভাব।দুইজন একসঙ্গে চলাফেরা করেন,একত্র কৃষ্ণকথার প্রসঙ্গ করেন,একত্র কীর্তন করেন। কোথাও কোন নতূন ব‍্যাপার দেখলে বা শুনলে একে অন‍্যকে না বলে স্থির থাকতে পারে না, দুইজনে যেন অভেদ-আত্মা।শ্রীবিদ‍্যানিধি এসেছেন, মুকুন্দ তাঁর সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে গেলেন,তাঁর ভক্তির মন্দাকিনী তরঙ্গ তুফানে মুকুন্দ আনন্দরসে ডুবে গেলেন,তাঁর প্রিয়তম শ্রীগদাধর পন্ডিতের কাছে উপস্থিত হয়ে বললেন পন্ডিত এখানে এক অদ্ভুত বৈষ্ণব এসেছেন,দেখবে যদি চলো ;দেখলে তুমি বড় আনন্দ পাবে, আমি তোমাকে আজ আনন্দিত করব,দেখিও,আমাকে সেবক বলে স্মরণ রাখতে ভুলিও না।*
*🌻গদাধর পরম ভক্তবৈষ্ণব,গম্ভীর,শান্ত,সুশীল ও সুপন্ডিত।প্রিয় বন্ধু মুকুন্দ দত্তের কথা শুনে তাঁর কৌতূহল বাড়িল। তিনি বললেন আর ক্ষণার্দ্ধ বিলম্বও সইছে না,এখুনি চল।এই বলে দুইবন্ধু কৃষ্ণ কৃষ্ণ বলে শ্রীবিদ‍্যানিধি মহাশয়ের বাসা অভিমুখে যাত্রা করলেন।অচিরেই বিদ‍্যানিধি মহাশয়ের বাসায় উপস্থিত হলেন।গদাধর পন্ডিত মুকুন্দ দত্তের ইঙ্গিতে বিদ‍্যানিধি মহাশয়কে দেখে নমস্কার করলেন।বিদ‍্যানিধি মহাশয় গদাধর পন্ডিতকে দেখেই প্রীতি লাভ করলেন যথা শ্রীচৈতন‍্যভাগবতে=*
*🌷বিষ্ণু ভক্তি তেজোময় দেখি কলেবর।*
*🌷আকৃতি প্রকৃতি দুই পরম সুন্দর।।*
*🌻তিনি মুকুন্দ দত্তের কাছে গদাধরের নাম ও পরিচয়াদি জিজ্ঞাসা করলেন।মুকুন্দদত্ত গদাধরের যে পরিচয় প্রদান করেন,শ্রীচৈতন‍্যভাগবতে তা এরকম বর্ণিত আছে।*
*🌷মুকুন্দ বলেন শ্রীগদাধর নাম।*
*🌷শিশু হৈতে সংসারে বিরক্ত ভাগ‍্যবান।।*
*🌷মাধব মিশ্রের পুত্র কহি ব‍্যবহারে।*
*🌷সকল বৈষ্ণব প্রীতি বাসেন ইহারে।।*
*🌷ভক্তি পথে রত,সঙ্গ ভক্তের সহিতে।*
*শুনিয়া তোমার নাম আইল দেখিতে।।*
*🌻দুই কথাতেই অতি সুন্দর পরিচয় দিয়ে মুকুন্দ দত্ত নীরব হলেন। বিদ‍্যানিধি মহাশয় আকৃতি দেখে যে প্রকৃতির অনুমান করেছিলেন সে অনুমান যথার্থ, তিনি অত‍্যন্ত সন্তুষ্ট হলেন।শ্রীগদাধরের এই পরিচয় পেয়ে তিনি সমাদর করে গদাধরের সঙ্গে আলাপ করতে লাগলেন।গদাধর বিদ‍্যানিধির সঙ্গে আলাপ করতে রত হলেন বটে, কিন্তু তাঁর দৃষ্টি বিদ‍্যানিধি মহাশয়ের ঘরের বিলাস-উপকরণ গুলির উপর দেখতে লাগলেন।তিনি দেখলেন--বিদ‍্যানিধি মহাশয় যেন এক রাজাধীরাজ।তাঁর খাটখানির মত এমন সুন্দর খাট নবদ্বীপের কোনও বড়লোকের ঘরে তিনি এ যাবৎ দেখতে পাননি,খাটের ঝকঝকে্ বার্ণিশ,এমন সুন্দর হিঙ্গুলে রঙ, পিতলের কাজ, খাটের বাহার কত? খাটের উপর এক চন্দ্রাতপ,তার উপরে আরও একটি চন্দ্রাতপ,আবার তার উপরে আরও একটি চন্দ্রাতপ।খাটের উপরে দুগ্ধ-ফেননিভ সুকোমল সূক্ষ্ম বসনের কোমল শয‍্যা, চারপাশে পট্ট বস্ত্র-আচ্ছাদিত অতি মনোরম বালিশ, গদাধর বিদ‍্যানিধি মহাশয়ের বিলাসিভোগ‍্য এই শয‍্যা দেখছেন আর মনে মনে ভাবছেন--এ-কি ব‍্যাপার,বৈষ্ণবের এরকম বিলাস-শয‍্যা কেন?শয‍্যা দেখতে দেখতে ঘরের মেঝের উপরে তাঁর নজর পড়ল, সেখানে দেখেন ঝকঝকে ছোট বড় চার-পাঁচটি ঝারি, সুমার্জিত পিতলের বাটা,সে বাটায় পাকা পান নানান উপকরণের সঙ্গে শোভা পাচ্ছে।দুই পাশে দুইটি আলবাটি।বিদ‍্যানিধি মহাশয় পান খাচ্ছেন,আর কথা বলছেন,তাঁর ঠোঁট দুইটি পাকা তেলাকুচের রঙ ধারণ করেছে, আর রসময়ী রসনাটি ওষ্ঠ অপেক্ষাও যে রক্তরাগে খুবই সুন্দরী তা দেখাবার জন্যই যেন এক একবার ওষ্ঠভেদ করে বাহির হচ্ছে।গদাধর নৈষ্ঠিক বৈষ্ণব,বিষয়-বিরক্ত যতি ব্রহ্মাচারীর মত কঠোর ব্রতাবলম্বী। বিদ‍্যানিধি মহাশয়ের তাম্বুল-বিলাস দেখে তাঁর হাসে পেল, কিন্তু সে হাসি তিনি চেপে রাখলেন।*
*🍀এখন তেমন গরম বলেও কিছু নাই,তবুও দুই পাশ হতে দুইজন ভৃত‍্য ময়ূরপুচ্ছের মনোহর পাখা দিয়ে তাঁর অঙ্গে বাতাস দিচ্ছে।কপালে চন্দনের উর্দ্ধ ত্রিপুন্ড,তার মধ্যে ফাগুর বিন্দু-- সে ফাগু আবার সুগন্ধ মিশিত।তাঁর চুলের পরিপাট‍্যও অতি চমৎকার,সুগন্ধি আমলকী ছাড়া তাঁর কেশ সংস্কার হয় না। দেহখানি সুঠাম ও নধর, দেখলে বোধহয় যেন এক রাজপুত্র।আঙ্গিনায় একটি দোলা। দোলা দেখে গদাধর বুঝলেন, পুন্ডরীক মহাশয়ের শ্রীপদযুগলের স্পর্শসুখ বোধহয় বসুন্ধরার ভাগ‍্যে কখনও ঘটেনি।ফলে বিদ‍্যানিধি মহাশয়ের এই সব বিলাসি-ভোগ‍্য নানান বিচিত্র বৈভব-সন্দর্শনে আজন্মবিরক্ত গদাধরের হৃদয়ে কেমন এক সন্দেহ জন্মিল।আলাপে তাঁর সুখ বোধ হল না, গদাধরের আর স্ফূর্তি রইল না।তিনি মনে মনে ভাবতে লাগলেন, মুকুন্দের এ কি রঙ্গ!মুকুন্দ এই বৈষ্ণবটিকে দেখাতে এত বলে আমাকে এখনো নিয়ে আসিল কেন?ইনি যদি বৈষ্ণব,তবে ঘোর বিষয়ী কে? দূর হতে গদাধরের কথা শুনে একটু ভক্তির উদ্রেক হয়েছিল বটে, কিন্তু সাক্ষাৎ দেখে এখন আর ভক্তির লেশমাত্রও রইল না।*
🙏🙏🙏🙏🙏🙏🌻🙏🙏🙏🙏🙏🙏
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 শ্রীস্বরূপদামোদর 🌷 সপ্তম ভাগ  🌻 ভক্তপ্রবর শ্রীরসিকমোহন চক্রবর্তী ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📝 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/02/swarup7.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(৬৩)🙌শ্রীস্বরূপ-দামোদর🙌*
         *শ্রীবিদ‍্যানিধি ও গদাধর*
          ◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆
*🍀যথা শ্রীচৈতন‍্যভাগবতে =*
*🌷ভাল ত বৈষ্ণব,সব বিষয়ীর বেশ।*
*🌷দিব‍্য ভোগ দিব‍্য বাস দিব‍্য গন্ধ কেশ।।*
*🌷শুনিয়া ত ভাল ভক্তি আছিল ইহানে।*
*🌷যে ছিল সে ভক্তি এবে গেল দরশনে।।*
*🌻ফলে গদাধর স্ফূর্তিহীন হলেন, তাঁর ইচ্ছা তিনি এখানে আর থাকতে চান না।মুকুন্দ দত্ত গদাধরের সবসময়েরই সঙ্গী।গদাধরের মনে যখন যে ভাবের উদয় হয়,মুকুন্দ গদাধরের মুখ দেখেই তা বুঝতে পারেন।মুকুন্দ বুঝলেন গদাধর ঠকেছেন অর্থ‍্যাৎ গদাধর বিদ‍্যানিধির বাইরের বেশ দেখে প্রতারিত হয়েছেন। মুকুন্দ মনে করলেন পুন্ডরীক বিদ‍্যানিধির ভক্তিরস আস্বাদনে তার প্রিয়বন্ধু পূজ‍্যপাদ গদাধর বঞ্চিত হবেন কেন? বিদ‍্যানিধির অন্তর-চরিত্র-চিত্রপট গদাধরের সমক্ষে প্রকটিত করার জন্য মুকুন্দ ভক্তি-মহিমসূচক দুইটি শ্লোক গানের স্বরে উচ্চারণ করলেন=*
*🌷অহো বকী যং স্তনকালকূটম্,*
*🌷জিঘাংসয়া পায়য়দপ‍্য সাধ্বী,*
*🌷লেভে গতিং ধাত্র‍্যোচিতাং ততোহন‍্যম্,*
*🌷কং বা দয়ালুং শরণং ব্রজেমঃ,*
*🌷পূতনা লোকবালঘ্নীং রাক্ষসী রুধীরাশনা।*
*🌷জিঘাংসয়াপি হরয়ে স্তনং দত্বাপি সদ্গতিম্।।*
*🌻অর্থ‍্যাৎ "অহো বকী রাক্ষসী পূতনা হত‍্যা করবার জন্য স্তনে কালকূট মেখে যাঁকে পান করাল,, কিন্তু তাতেও যিনি সেই রাক্ষসীকে ধাত্রীর মত সদ্গতি প্রদান করলেন, বল দেখি,তিনি ছাড়া আর কোন দয়ালুর শরণাপন্ন হব। অপরন্তু লোকের শিশু সন্তান বিনাশ করাই যার স্বভাব,সেই রুধীরাশনা পূতনা রাক্ষসী হত‍্যা করার জন্য হরিকে বা গোপালকে স্তনদান করে সদ্গতি লাভ করল।*
*🌺মুকুন্দ গানের স্বরে ভক্তি মাহাত্ম্যসূচক শ্রীমদ্ভাগবতের এই শ্লোক দুইটি পাঠ করা মাত্রই বিদ‍্যানিধি কেঁদে উঠলেন,আত্মহারা হলেন,নয়নজলে বুক ভেসে সুচিক্কণ সুন্দর শয‍্যা ভিজে গেল,সহসা অষ্ট সাত্ত্বিক ভাব ঝড়ের মত তাঁর শ্রীঅঙ্গে প্রকাশ পেল--দেহে কম্প,নয়নে অজস্র জলধারা,সর্বাঙ্গে স্বেদবিন্দু ও পুলক এবং পর্য‍্যায়ক্রমে মূর্ছা ও হুঙ্কারে তাঁর দেহ অধীর হয়ে পড়ল। তিনি বোল বোল বলে গর্জন করতে লাগলেন,একেবারেই উন্মত্ত ও আত্মহারা ; বিন্দুমাত্রও বাহ‍্যজ্ঞান রইল না।খাট হতে গড়িয়ে মাটিতে পড়ে গেলেন তাঁর উন্মত্ততা উপস্থিত হল,ইতস্তত(এদিক-ওদিক) পা ছড়াছড়ি করে ঘরের সব জিনিসপত্র ভেঙ্গে চুরমার হয়ে গেল,পানের বাটা ও পান পদাঘাতে চারিদিকে ছড়িয়ে পড়ল,মাথার সুচিক্কণ সুন্দর সুগন্ধি দ্রব‍্যমাখা সুবাসিত কেশ ধূলায় ধূসরিত হয়ে উঠিল। তিনি প্রেমাবেশে পাগলেরমত হয়ে পরিহিত বস্ত্র দুইহাতে চিরতে বা ছিড়তে লাগলেন।অবশেষে ধূলায় লুটিয়ে "হা কৃষ্ণ,হা কৃষ্ণ" বলে কাঁদতে আরম্ভ করলেন।আর বলতে লাগলেন আমার হৃদয়, পাষাণ হতেও কঠিন, হে কৃষ্ণ! তুমি এমন পরম দয়াল,আর তোমার প্রতি আমার ভক্তি হ'ল না।এই বলে মহা গড়াগড়ি দিয়ে এক একবার উঠেন, আর ধড়াস করে আছাড় খেয়ে পড়তে থাকেন-- ভাব-বিকারে ভয়ংকর কম্প উপস্থিত হল,দশজনে ধরেও তাঁকে স্থির রাখতে পারলেন না।যথা শ্রীচৈতন‍্যভাগবতে=*
*🌷বস্ত্র শয‍্যা ঝারি বাটি সকর সম্ভার।*
*🌷পদাঘাতে সব গেল,কিছু নাহি আর।।*
☆ ☆ ☆ ☆
*🌷কোথা গেল সেবা দিব‍্য কেশ সংস্কার।*
*🌷ধূলায় লুটায়ে করে ক্রন্দন অপার।।*
*🌷অনুতাপ করিয়া কান্দয়ে উচ্চৈঃস্বরে।*
*🌷মুঞি সে বঞ্চিত হৈনু হেন অবতারে।।*
*🌷মহা গড়াগড়ি দিয়া যে পড়ে আছাড়।*
*🌷সভে মনে করে কিবা চূর্ণ হৈল হাড়।।*
*🌻শ্রীবিদ‍্যানিধির প্রেম বিকারে এইরকম উন্মত্ত হয়ে কিছুক্ষণ দেহ ছড়াছড়ির পর প্রেমানন্দে মূর্ছিত হয়ে পড়লেন। শরীর একেবারে নিষ্পন্দ হয়ে পড়ল। তিনি শ্রীকৃষ্ণের প্রেমানন্দ-সাগরে একেবারেই ডুবে গেলেন।যথা শ্রীচৈতন‍্যভাগবতে=*
*🌷এইমত কতক্ষণ প্রেম প্রকাশিয়া।*
*🌷আনন্দে মূর্ছিত হৈঞা রহিল পড়িয়া।*
*🌷তিলমাত্র ধাতু নাহি সকল শরীরে।*
*🌷ডুবিলেন বিদ‍্যানিধি আনন্দ-সাগরে।।*
*🌻বিদ‍্যানিধির ভক্তির এই বিশাল ভাব দেখে গদাধর অবাক হলেন,তাঁর মনে ভয়,ভক্তি,বিস্ময় ও কৃতজ্ঞতার উদয় হল।তাঁর ভয়ের কারণ এই যে তিনি প্রথমে বিদ‍্যানিধির বিলাসিজন সেব‍্য দ্রব‍্যাদি দেখে তাঁকে বিলাসী ভেবেই মনে মনে অবজ্ঞা করেছিলেন, মহদবজ্ঞা অপরাধজনক,এটি ভক্তি পথের দারুণ কাঁটা, তাই গদাধর বললেন=*
*🌷হেন জনেরে আমি অবজ্ঞা করিনু।*
*🌷কোন্ বা অশুভক্ষণে দেখিতে আইনু।।*
*🌹বিদ‍্যানিধির এই ভক্তি-প্রবাহ দেখে তাঁর প্রতি গদাধরের একান্ত ভক্তি জন্মিল।প্রিয়বন্ধু মুকুন্দ যে প্রকৃতই বন্ধুর কাজ করেছেন,এটি মনে করে গদাধর মুকুন্দকে আনন্দে জড়িয়ে ধরে নয়নজলে তাঁর বক্ষ ভিজিয়ে গদাধর বললেন=*
*🌷মুকুন্দ,আমার তুমি কৈলে বন্ধুকার্য‍্য।*
*🌷দেখাইলা ভক্তি,বিদ‍্যানিধি ভট্টাচার্য্য।।*
*🌻তাঁর বিস্ময়ের কারণ এই যে তিনি মহাপ্রভুর ভক্তিভাব খুব কাছ হতে দেখেছেন, কিন্তু গদাধর জানেন, মহাপ্রভু স্বয়ং ভগবান, জনসাধারণের শিক্ষার জন্যই লীলা করেন। কিন্তু মানুষের ভক্তিভাবে এরকম বিশাল সাত্ত্বিক বিকার উপস্থিত হতে পারে, গদাধর তা আর কখনও দেখেননি। সুতরাং এদৃশ‍্য তাঁর পক্ষে প্রকৃতই বিস্ময়ের হেতু হল, তাই তিনি বললেন=*
*🌷এমত বৈষ্ণব কিবা আছে ত্রিভুবনে।*
*🌷ত্রৈলোক‍্য পবিত্র হয়,এ ভক্ত দর্শনে।।*
*🌷আজি আমি এড়াইনু পরম শঙ্কটে।*
*🌷সেহো যে কারণে তুমি আছিলা নিকটে।।*
*🍀গদাধর এরকম নিজের হৃদয়ের ভাব প্রিয়তম বন্ধু মুকুন্দের কাছে ব‍্যক্ত করলেন।ফলে মুকুন্দের বুদ্ধি প্রভাবেই গদাধর বিদ‍্যানিধির বিশুদ্ধ ভক্তি-ভাব বুঝতে পারলেন। তিনি বুঝলেন বিদ‍্যানিধির বিলাস উপাদানের সঙ্গে তাঁর মনের কিছুমাত্র সম্বন্ধ নাই। নির্মুক্ত আকাশে ঘনকৃষ্ণ মেঘমালার যতটুকু সম্বন্ধ, উড্ডীয়ন ধূলি রাশির সঙ্গে আকাশের যেটুকু সম্বন্ধ, বিদ‍্যানিধির মনের সঙ্গে তার বিলাসীভোগ‍্য বস্তুরাশির ততটুকু সম্বন্ধও নাই।গদাধরের মনে প্রকৃতই অনুতাপ হল ; কেন না,এমন যে মহাভক্ত, তাঁর প্রতি তিনি আপন মনে কুসন্দেহের স্থান দিয়েছিলেন। গদাধর মনে করলেন এই বৈষ্ণব অপরাধের প্রায়শ্চিত্ত করতে হবে। তিনি মনে মনে বলতে লাগলেন=*
                      *ক্রমাগত*
🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙌🙏🙏🙏🙏🙏🙏
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 শ্রীস্বরূপদামোদর 🌷 সপ্তম ভাগ  🌻 ভক্তপ্রবর শ্রীরসিকমোহন চক্রবর্তী ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📝 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/02/swarup7.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(৬৪)🙌শ্রীস্বরূপ-দামোদর🙌*
           *শ্রীবিদ‍্যানিধি ও গদাধর*
           ***********************
*🍀তিনি মনে মনে বলতে লাগলেন=*
*🌷এ পথে প্রবিষ্ট যত সব ভক্তগণ।*
*🌷উপদেষ্টা অবশ‍্য করেন একজন।।*
*🌷এ পথেতে আমি উপদেষ্টা নাহি করি।*
*🌷ইহানেই আমি মন্ত্র উপদেষ্টা ধরি।।*
*🌷ইহানে অবজ্ঞা যেই করিয়াছি মনে।*
*🌷শিষ‍্য হৈলে সব দোষ ক্ষমিবে আপনে।।*
*🌻শাস্ত্রে লেখা আছে বৈষ্ণব অপরাধ অতি ভয়ংকর অপরাধ। সাক্ষাৎ শ্রীভগবান ও বৈষ্ণব অপরাধীর নিস্তার করতে পারেন না,ভক্তিরাজ‍্যে সেরকম বিধান নাই।যাঁর কাছে অপরাধী হওয়া যায়, তিনি ছাড়া অন‍্যে সেই অপরাধ হতে মুক্তি দিতে পারেন না। সুতরাং সুপন্ডিত গদাধর অতি উত্তম পরামর্শ স্থির করে তৎক্ষণাৎ প্রিয়বন্ধু মুকুন্দকে তা জানালেন।বলা বাহুল‍্য যে মুকুন্দ এই প্রস্তাবে অতি আহ্লাদিত হলেন।*
*এদিকে বিদ‍্যানিধি মহাশয় দুই প্রহর পর্যন্ত আনন্দ সুধাসাগরে নিষ্পন্দ ভাবে ডুবে ছিলেন।পরে ধীরে ধীরে তাঁর বাহ‍্যজ্ঞানের সঞ্চার হল,তিনি তাকিয়ে দেখেন,সামনে পদ-পার্শ্বে মুকুন্দ ও গদাধর।নয়নজলে গদাধরের অঙ্গ ভিজে যাচ্ছে, পূর্ণ বিকসিত কমলদলে মত গদাধরের নয়নকমলে অশ্রুধারার বিরাম নাই।গদাধরের প্রেম দেখে বিদ‍্যানিধি মহাশয় বড়ই আনন্দ লাভ করলেন,তাঁকে বুকে জড়িয়ে ধরলেন।গদাধর পিতার বক্ষে পুত্রের মত বিদ‍্যানিধি মহাশয়ের হৃদয়ে মাথা রেখে আনন্দে নিষ্পন্দ (স্থির) হলেন। মুকুন্দ,গদাধরের মনের বাসনা বিদ‍্যানিধি মহাশয়ের কাছে খুলে বললেন।উপযুক্ত শিষ্য না হলে শাস্ত্রে মন্ত্র দেওয়ার নিষেধ আছে,মুকুন্দ এটি জানতেন,তাই তিনি বিদ‍্যানিধি মহাশয়ের কাছে গদাধর-চরিত্রের প্রকৃত পরিচয় দিয়ে বললেন=*
*🌷বিষ্ণুভক্তি,বিরক্তি,শৈশবে বৃদ্ধ রীত।*
*🌷মাধব মিশ্রের কুল নন্দন উচিত।।*
*🌷শিশু হইতে ঈশ্বরের সঙ্গে অনুচর।*
*🌷গুরু-শিষ‍্য যোগ্য -- পুন্ডরীক গদাধর।।*
*🌷আপনি বুঝিয়া চিত্তে একশুভ দিনে।*
*🌷নিজ ইষ্ট মন্ত্র দীক্ষা করাহ আপনে।।*
*🌻বিদ‍্যানিধি মহাশয় অতি আনন্দের সঙ্গে মুকুন্দের এই প্রস্তাবে সম্মত হলেন। তিনি বললেন,বিধাতার কৃপায় আমি মহারত্ন পেলাম,বহুভাগ‍্য ফলেই এমন সুশিষ‍্য লাভ হয়ে থাকে। তিনি শুক্লাদ্বাদশীতে গদাধরের দীক্ষার দিন স্থির করে দিলেন!গদাধর বিদ‍্যানিধির শ্রীপাদপদ্মে প্রণাম করে মুকুন্দের সঙ্গে সেদিনের জন্য বিদায় গ্রহণ করলেন।শ্রীগদাধর,বিদ‍্যানিধি মহাশয়ের ভবন হতে এসে রাত্রিতে শ্রীমন্মহাপ্রভুর সঙ্গে সাক্ষাৎ করলেন এবং তাঁর কাছে বিদ‍্যানিধির প্রেমভক্তির কথা তুললেন।মুকুন্দও তাঁর সঙ্গে ছিলেন।শ্রীভগবানের এমনই বিধান শ্রীপুন্ডরীক বিদ‍্যানিধি মহাশয়ও তখনই শ্রীমন্মহাপ্রভুকে দর্শন করবার জন্য আগমন করলেন।বিদ‍্যানিধি মহাশয়কে ঘরের বাহির হতে হলে দোলা চাই,লোকজন চাই, নানারকম আসবাব চাই-- সে এক নবাবি কান্ড, রাজ-রাজড়ার ঠাঁট! কিন্তু রাত্রিযোগে বিদ‍্যানিধি একাকী মহাপ্রভুর গৃহে এসে সমুপস্থিত হলেন। তিনি মহাপ্রভুর দর্শনের জন্য কিরকম উৎকণ্ঠিত হয়েছিলেন তা বর্ণনা করা সত‍্যিই অসম্ভব।গৌরহরির গৃহে এসে উপস্থিত হওয়া মাত্রই ছিন্নমূল তরুর মত মূর্ছিত হয়ে পড়লেন,গৌরচন্দ্রকে প্রণামও করতে পারলেন না। শ্রীপাদ বৃন্দাবনদাস ঠাকুর লিখেছেন=*
*🌷দন্ডবৎ প্রভুরে না পারিলা করিতে।*
*🌷আনন্দে মূর্ছিত হৈয়া পড়িলা ভূমিতে।।*
*🙌আনন্দের আবেগে বিদ‍্যানিধির হৃদয়ে স্থান না পেয়ে সর্বশরীরে সঞ্চারিত হল,সমস্ত শরীরে ব‍্যাপ্ত হয়েও সে বেগের কম হল না।আনন্দ বেগভরে বিদ‍্যানিধির দেহ অবশ ও অবসন্ন হয়ে পড়ল, মহাপ্রভুকে প্রণাম করতে উদ‍্যত হয়েই অমনি মূর্ছিত হয়ে পড়লেন।কিছু সময় পরে তাঁর চেতনার সঞ্চার হল। তিনি অনুতাপ করে কাঁদতে লাগলেন।বিদ‍্যানিধি মহাপ্রভুকে সাক্ষাৎ শ্রীকৃষ্ণ বলে চিনেছেন তাই তিনি নির্বেদ(আত্মগ্লানি ও ঔদাসীন‍্য,বা সংসারের অসারত্ব উপলব্ধি করে যে বিরক্তি জন্মে,নির্বেদ সঞ্চার হলে অশ্রুত‍্যাগ,বিবর্ণতা,দীর্ঘনিশ্বাস,দৈন‍্য ও চিন্তা জন্মে।বিচ্ছেদ,হিংসা,মহাদুঃখ অকার্য‍্যের করণ ও কর্তব‍্যের অকরণ জন‍্য শোচনা,আর অপমান এই সমস্ত কারণে নির্বেদের সঞ্চার হয়ে থাকে ) ও বিষাদমিশ্র প্রার্থনা বাক‍্যে অনুতাপ প্রকাশ করে বললেন=*
*🌷কৃষ্ণ রে জীবন মম কৃষ্ণ মোর বাপ।*
*🌷মুঞি অপরাধীরে কতবা দেহ তাপ।।*
*🌷সর্ব জগতের বাপ উদ্ধার করিলে।*
*🌷সবে মাত্র মোরে তুমি একেলা বঞ্চিলে।।*
*🌻এই বলেই তিনি অঝোর নয়নে কাঁদতে আরম্ভ করলেন,তাঁর করুণ রোদন রোলে উপস্থিত ভক্তমাত্রেরই প্রাণ বিগলিত হয়ে পড়ল,সকলেরই নয়ন হতে অশ্রুধারা প্রবাহিত হতে লাগল। কিন্তু ইনি কে,তা কেউ চিনতে পারলেন না,কিন্তু মহাপ্রভু উঠে বিদ‍্যানিধিকে স্বীয় (নিজ) বক্ষে জড়িয়ে ধরলেন এবং কেঁদে বললেন "বাপ পুন্ডরীক", তুমি এতদিন আমাকে ছেড়ে কোথা ছিলে?আজ আমার নয়ন সফল হল,আজ আমি তোমাকে দেখতে পেলাম।এই কথা বলে মহাপ্রভুও কাঁদতে লাগলেন।ভক্তগণ বুঝতে পারলেন ইনিই সেই পুন্ডরীক বিদ‍্যানিধি।তখন প্রেমের এক প্রবল প্রবাহ বইতে লাগল,সকলেই আনন্দ অশ্রুতে পরিপ্লাবিত হলেন।মহাপ্রভুর আনন্দ ধারায় তাঁর বক্ষঃস্থলে বিদ‍্যানিধি মহাশয় পরিস্নাত হলেন।*
                 *ক্রমাগত*
👣👣👣👣👣👣🙏👣👣👣👣👣👣
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 শ্রীস্বরূপদামোদর 🌷 সপ্তম ভাগ  🌻 ভক্তপ্রবর শ্রীরসিকমোহন চক্রবর্তী ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📝 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/02/swarup7.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(৬৫)🙌শ্রীস্বরূপ-দামোদর🙌*
           *শ্রীবিদ‍্যানিধি ও গদাধর*
            🍁🍁🍁🍁🍁🍁🍁
*🌼গঙ্গা মহাপ্রভুর পাদোদক মাত্র।শ্রীগঙ্গা জীবের তাপ দূর করতে পারেন, হৃদয় পবিত্র করতে পারেন,জীবকে স্বর্গের সুখ প্রদান করতে পারেন। কিন্তু মহাপ্রভুর নয়নজল সাক্ষাৎ প্রেম-প্রবাহ, প্রেম-গঙ্গা।এর কণামাত্র স্পর্শ হলেও জীব শ্রীবৃন্দাবন-সুখসম্পত্তির অনন্ত অক্ষয় অধিকার লাভ করতে সমর্থ হয়। মহাপ্রভুর যুগল নয়ন-কমল হতে প্রেমসুধা ধারায় ধারায় প্রবাহিত হতে লাগল, সে প্রবাহে বিদ‍্যানিধি স্নান করলেন।কাঙ্গাল,মানিক পেলে যেমন আত্মহারা হয়ে যায়,কোথায় সে মানিক লুকাবে সেই ভাবনাই অস্থির হয়,বিদ‍্যানিধি মহাপ্রভুকে পেয়ে যেন প্রাণ অপেক্ষাও অনেক বেশী প্রিয় ধন পেলেন।বিদ‍্যানিধির ইচ্ছা তাঁকে চিরদিনের জন্য নিজ হৃদয়ে লুকিয়ে রাখেন। তিনি তাঁকে প্রেমভক্তিভরে অতি আদরে জড়িয়ে ধরলেন।ভক্তগণ দেখলেন ভক্তবাঞ্জাপূরণকারী মহাপ্রভু যেন বিদ‍্যানিধির শরীরে লীন হয়ে পড়েছেন।এইভাবে একপ্রহর সময় অতিবাহিত হল,গৌরহরির বাহ‍্যজ্ঞান হল।তিনি হরি হরি বলে জেগে উঠিলেন আর অত‍্যন্ত আনন্দ সহকারে বলতে লাগলেন=*
*🌷আজি কৃষ্ণ বাঞ্জা সিদ্ধি করিলা আমার।*
*🌷আজি পাইলাম সর্ব মনোরথ সার।।*
*🌹শ্রীভগবানের সঙ্গে ভক্তের মিলন,এটি ভক্তিরাজ‍্যের যেমন এক আকর্ষণ ব‍্যাপার, আবার ভক্তের সঙ্গে ভগবানের মিলনও তেমনি এক আকর্ষণ ব‍্যাপার।কৃষ্ণ-আকর্ষণী ভক্তি দ্বারা ভক্ত ভগবানের সঙ্গে সম্মিলিত হন, আবার ভাগবতী কৃপাকর্ষণে ভগবান নিজ ভক্তকে বুকে নিয়ে ভক্তিরাজ‍্যের পরিধি বিস্তার করেন।শ্রীভগবান লাভের জন্য ভক্তজীবের যেমন আকাঙ্ক্ষা ও আনন্দ, ভক্ত-লাভেও ভগবানের তেমনি আকাঙ্ক্ষা ও আনন্দ।ভক্তিরাজ‍্যের এই মহাভাব অনির্বচনীয় ও অচিন্ত‍্য।তাই মহাপ্রভু বললেন,আজ আমার মনোরথ সিদ্ধ হল,আজ কৃষ্ণ আমার বাঞ্জাপূর্ণ করলেন। ভক্তের ভগবান এবং ভগবানের ভক্ত এই দুই নিয়েই ভক্তিরাজ‍্যের পূর্ণতা।গৌরহরি এই লীলায় এই মহাসত‍্য জগতে প্রচার করলেন।*
*🌹সব বৈষ্ণবের সঙ্গে তিনি বিদ‍্যানিধির পরিচয় ও মিলন করিয়ে দিলেন।তখন মহা সংকীর্তন আরম্ভ হল।তরঙ্গে তরঙ্গে আনন্দ-প্রবাহ প্রবাহিত হতে লাগল, ভক্তগণ আনন্দে ডুবে গেলেন।কিছুক্ষণ পরে শ্রীকীর্তন বিরতি হল, কিন্তু বিদ‍্যানিধির যে আনন্দ মূর্ছায় মূর্ছিত হয়েছিলেন, তাঁর আর চেতনার সঞ্চার হল না। দেহে ক্ষণে ক্ষণে প্রেম-পুলক ও স্বেদাদি সাত্ত্বিক চিহ্ন সব উজ্জ্বলভাবে প্রকাশিত হতে লাগল।বিদ‍্যানিধির এই অপূর্ব প্রেমভাব দেখে সবাই অবাক ও বিমুগ্ধ হলেন।মহাপ্রভু বললেন, এর নাম পুন্ডরীক বিদ‍্যানিধি। কিন্তু বিধাতা যেন প্রেমভক্তি বিতরণ করার জন্যই এই শ্রীমূর্তির গঠন করেছেন, সুতরাং "প্রেমনিধিই" এর প্রকৃত পদবী হল।যথা শ্রীচৈতন‍্যভাগবতে=*
*🌷ইঁহার পদবী পুন্ডরীক প্রেমনিধি।*
*🌷প্রেমভক্তি বিতরিতে গড়িলেন বিধি।।*
*🌻মহাপ্রভু প্রেমনিধির হাত তুলে তুলে প্রেমনিধির গুণবর্ণন করতে লাগলেন, আর ঘন ঘন হরিধ্বনি করতে লাগলেন।ভক্ত-দর্শন যে কত মঙ্গলজনক,কত পুণ‍্যময় মহাপ্রভু ভক্তদের সামনে ভক্ত মাহাত্ম্য প্রকাশ করে বলতে লাগলেন, যথা ভাগবতে=*
*🌷প্রভু বলে আজি শুভ প্রভাত আমার।*
*🌷আজি মহামঙ্গল সে বাসি আপনার।।*
*🌷নিদ্রা হৈতে আজি উঠিলাম শুভক্ষণে।*
*🌷দেখিলাম প্রেমনিধি সাক্ষাৎ নয়নে।।*
*🌻শ্রীভগবানের মাহাত্ম্য ভক্তেরই বিদিত, আর ভক্তের মহিমা প্রকটন করতে শ্রীভগবানই সমর্থ। সুতরাং মহাপ্রভু ছাড়া ভক্ত-মহিমা এরকম ভাবে প্রকটন করতে আর কার সাধ‍্য।মহাপ্রভু বললেন আজ আমার সুপ্রভাত, কেন না আজ প্রকৃত ভক্তের দর্শন পেলাম।আজ আমার মহামঙ্গল,কেননা,ভক্তদর্শনের মত মঙ্গল জগতে আর কি হতে পারে? প্রেনিধি বিদ‍্যানিধির দর্শনে মহাপ্রভুর হৃদয়ে আজ আনন্দ ধরছে না,যিনি সাক্ষাৎ সরস্বতীর প্রবর্ত্তক, আজ ভক্ত মহিমাকীর্তনে তাঁরও বাক‍্য যেন ব‍্যাকুল ও অসমর্থ হয়ে পড়ছেন।ভক্তরাজ‍্যের এই ভাব অভক্তদের অজ্ঞেয়,দুষ্প্রাপ‍্য ও দুর্বোধ‍্য।*
*🌹যাইহোক,কিছুক্ষণ পরে প্রেমনিধি মহাশয়ের বাহ‍্যজ্ঞানের সঞ্চার হল। তিনি যেন জেগে উঠলেন!চেয়ে দেখেন সামনে মহাপ্রভু!তাঁকে ভক্তিবিহ্বল ভাবে প্রণাম করলেন, অদ্বৈতাচার্য‍্য মহাশয়ও সেখানে ছিলেন,তাঁকেও প্রণাম করলেন।অন‍্যান‍্য ভক্তগণকে যথাযথ প্রেমসম্ভাষণ করলেন।ভক্তগণ বিদ‍্যানিধির দর্শনে পরমানন্দে মগ্ন হলেন।প্রেমনিধির সন্দর্শনে সেই সময়ে ভক্তগণের মধ্যে ভক্তির আবির্ভাব হয়েছিল।শ্রীগৌরাঙ্গ লীলা-লেখক ব‍্যাসদেব শ্রীমদ্ বৃন্দাবন ঠাকুর মহাশয় তাঁর প্রকৃত বর্ণনা করতে না পেরে লিখেছেন=*
*🌷ক্ষণেক যে হৈল প্রেম ভক্তি আবির্ভাব।*
*🌷তাহা বর্ণিবারে পাত্র ব‍্যাস মহাভাগ।।*
*🌻আনন্দ-তরঙ্গ একটু শান্ত হলে পর গদাধর মহাপ্রভুর কাছে তাঁর নিজের কথা তুললেন।তিনি বললেন "মুকুন্দের সঙ্গে যখন আমি তাঁকে দর্শন করতে যাই,তখন প্রথমে উনার ব‍্যবহার দেখে আমার মনে অবজ্ঞা জন্মে। তাতে আমার বৈষ্ণব অপরাধ হয়েছে।উনার শিষ‍্যত্ব স্বীকার না করা পর্যন্ত সে অপরাধের প্রায়শ্চিত্ত অন‍্য কিছুতেই হবে না।আমি উনার শিষ্য হলে উনি অবশ্যই আমাকে ক্ষমা করবেন। সুতরাং আমি উনার শিষ্য হতে বাসনা করছি।এজন‍্য আমি আপনার অনুমতি প্রার্থনা করছি।বলা বাহুল‍্য যে মহাপ্রভু অতীব আনন্দের সহিত অনুমতি প্রদান করলেন।কয়েকদিন পরে শুক্লপক্ষের দ্বাদশী তিথিতে গদাধর আনন্দ চিত্তে প্রেমভক্তিভরে প্রেমনিধি পুন্ডরীকের কাছে দীক্ষামন্ত্র গ্রহণ করলেন।এহেন প্রেমনিধিই শ্রীস্বরূপ দামোদরের প্রিয়তম বন্ধু।ইনিই নাকি পূর্বলীলায় শ্রীরাধার পিতা বৃষভানু রাজা। তাই হয়ত তাঁর বাইরে রাজভাব।তাই মহাপ্রভু ইঁনাকে "বাপ" বলে সম্বোধন করেন।শ্রীপাদ বৃন্দাবন দাস ঠাকুর লিখেছেন পুন্ডরীক বিদ‍্যানিধির আর অন‍্য মহিমা কীর্তন করার প্রয়োজন কি? তিনি গদাধরের গুরু এই বলিলেই তাঁর মাহাত্ম্যের পরিচয় দেওয়া হয়।যথা শ্রীচৈতন‍্যভাগবতে=*
*🌷কি কহিব আর পুন্ডরীকের মহিমা।*
*🌷গদাধর শিষ্য যার,ভক্তের সেই সীমা।।*
*🌷যোগ‍্য গুরু শিষ্য --পুন্ডরীক-গদাধর।*
*🌷দুই কৃষ্ণ চৈতন‍্যের প্রিয় অনুচর।।*
*🙏পুন্ডরীক-গদাধরের মিলন কাহিনী পরম প্রেমভক্তি প্রদায়িনী।তাই শ্রীবৃন্দাবনদাস লিখেছেন=*
*🌷পুন্ডরীক গদাধর দুইয়ের মিলন।*
*🌷যে পড়ে যে শুনে তার মিলে প্রেমধন।।*
*🍀পরমভক্ত শ্রীমদ্ বৃন্দাবনদাস ঠাকুরের বাক‍্য ঋষি-সত্তমের বাক‍্য।তাঁর একটি কথাও মিথ‍্যা হবার নয়।এ প্রসঙ্গ প্রকৃতই প্রেমভক্তি পূর্ণ।*
   *বিদ‍্যানিধি-গদাধর বিরতি*
     🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏
👣👣👣👣👣👣👣👣👣👣👣👣👣
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 শ্রীস্বরূপদামোদর 🌷 সপ্তম ভাগ  🌻 ভক্তপ্রবর শ্রীরসিকমোহন চক্রবর্তী ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📝 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/02/swarup7.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(৬৬)🙌শ্রীস্বরূপ-দামোদর🙌*
             *🌹বন্ধু-সমাগম🌹*
              🌹🌹🌹🌹🌹
*🌻শ্রীস্বরূপদামোদরের প্রিয়তম বন্ধুর নিকট শ্রীগদাধর মন্ত্রদীক্ষা গ্রহণ করেন।যিনি গদাধরের ইষ্টদেবতা-- গদাধরের দীক্ষাগুরু তাঁর চরিত্র পাঠে হৃদয়ে অতুল আনন্দের সঞ্চার হবে এতে আর বৈচিত্র্য কি?বিশেষকরে বন্ধুর চরিত্র কীর্তন দ্বারা শ্রীস্বরূপেরই মাহাত্ম্য প্রকাশ করা হবে এটিই মনে করে এই প্রসঙ্গে শ্রীবিদ‍্যানিধি মহাশয়ের চরিত্রকীর্তন অতি প্রয়োজনীয় বলে বোধ হচ্ছে।*
*🍀নীলাচলে শ্রীবিদ‍্যানিধি মিলন-প্রসঙ্গ আমাদের বতর্মান প্রবন্ধের লক্ষ্য।এই জায়গায় বহুদিন পরে প্রেমনিধি শ্রীবিদ‍্যানিধি ও রসময় শ্রীস্বরূপদামোদর, এই উভয় বন্ধুর পুনর্মিলন সংঘটিত হয়।শ্রীবিদ‍্যানিধির নীলাচলে শুভাগমন-সংবাদ শ্রীমন্মহাপ্রভুর ভবিষ্যদ্বাণীতে সর্বপ্রথমে গদাধর জানতে পান।যে সূত্রে শ্রীগদাধর তাঁর দীক্ষাগুরু শ্রীপ্রেমনিধির আগমনবার্তা জানতে পান,শ্রীচৈতন‍্যভাগবতে তা এইরকম বিবৃত আছে,তদ্ যথা=*
*🌷একদিন গদাধর দেব প্রভু স্থানে।*
*🌷কহিলেন পূর্বমন্ত্র দীক্ষার কারণে।।*
*🌷ইষ্ট মন্ত্র আমি যে কহিনু কার প্রতি।*
*🌷সেই হইতে আমার না স্ফূরে ভাল মতি।।*
*🌷সেই মন্ত্র তুমি মোরে কহ পুনর্বার।*
*🌷তবে মনে প্রসন্নতা হইবে আমার।।*
*🌻শ্রীগদাধরের দীক্ষামন্ত্র মনে মনে বলতে পারছে না,তাই তিনি মহাপ্রভুর কাছে সেই মন্ত্রস্মৃতির প্রার্থনা করলেন, সাধারণ লোকের মনে হতে পারে এই প্রার্থনা আদৌ যুক্তসঙ্গত না।কেন না,শ্রীবিদ‍্যানিধি কি মন্ত্র প্রদান করেছিলেন,তা মহাপ্রভুর জানবার কোন সম্ভাবনা নাই।দীক্ষাগুরু যে মন্ত্রদান করেন,অন‍্যে তা জানতে বা শুনতে পায় না, এটিই প্রচলিত রীতি।বিশেষকরে দীক্ষামন্ত্র একজনেরই দিবার অধিকার, অন‍্যের সে অধিকার নেই। সুতরাং গদাধর শাস্ত্রজ্ঞ পন্ডিত হয়েও এমন অশাস্ত্রজ্ঞের মত প্রার্থনা করলেন কেন?*
*🍁সাধারণ বুদ্ধির এই ধারণা ভ্রমাত্মিকা (বলা যায় চরম ভুল)।কেন না,শ্রীগদাধর মহাপ্রভুকে সর্বজ্ঞচূড়ামণি,সর্বেশ্বর,সর্বগুরু এবং সকলের আত্মস্বরূপ বলেই জানতেন। সুতরাং তাঁর গুরু হতে মহাপ্রভু ভিন্ন, এ ধারণা গদাধরের ছিল না এবং সর্বজ্ঞ চূড়ামণি যে তাঁর দীক্ষামন্ত্র জানতে পারেন না,গদাধরের এই ক্ষীণ বিশ্বাসও ছিল না।মহাপ্রভুই অনন্তকোটি ব্রহ্মান্ডের পরমগুরু এই বিশ্বাসই তাঁর ছিল।কাজেই তিনি সরলভাবে মন্ত্র-স্ফূর্তির জন্য গৌরহরির কাছে প্রার্থনা করলেন। কিন্তু সর্বজ্ঞশিরোমণি মহাপ্রভু সৎশাস্ত্রসিদ্ধান্ত সংস্থাপন ও দৃঢ়ীকরণের জন্য অবতীর্ণ। সুতরাং তাঁর প্রবর্তিত ধর্মের সঙ্গে সৎশাস্ত্রের বিরোধ হতে পারে না। মন্ত্রদাতা গুরু ছাড়া অন‍্যের কাছে পুনর্বার দীক্ষামন্ত্র গ্রহণ করা যায় না শাস্ত্রের এটিই সিদ্ধান্ত।এটির অন‍্যথাচরণ করলে পূর্বগুরুর কাছে চরমভাবে অপরাধী হতে হয়, এই লৌকিক ধর্মের মর্য‍্যাদা সংরক্ষণের জন্য মহাপ্রভু বললেন "তোমার দীক্ষাগুরু বতর্মান থাকতে অন‍্যের কাছে তুমি মন্ত্রস্মৃতি লাভের প্রার্থনা করতে পার না,তাতে তোমার অপরাধ হবে। যথা শ্রীচৈতন‍্য-ভাগবতে=*
*🌷প্রভু বলে তোমার যে উপদেষ্টা আছে।*
*🌷সাবধান তথা অপরাধী হও পাছে।।*
*🌷মন্ত্রের কি দায়-- প্রাণ আমার তোমার।*
*🌷উপদেষ্টা থাকিতে না হয় ব‍্যবহার।।*
*🌻বলা বাহুল‍্য সর্বশাস্ত্রের প্রবর্তক ও সর্বশাস্ত্রের মীমাংসক শ্রীমন্মহাপ্রভুর এই সিদ্ধান্ত হিন্দুমাত্রেরই স্মরণ রেখে চলা কর্তব‍্য।যাইহোক,এই কথাগুলি শুনে গদাধর বললেন, তিনি এখানে উপস্থিত নন, বিশেষকরে তাঁতে ও আপনাতে প্রভেদ কি?আপনি সর্বাত্মস্বরূপ। তাঁতে ও আপনাতে আমার কোন আলাদাভাব নাই।এইজন‍্যই এরকম প্রার্থনা করেছি।করুণাময় মহাপ্রভু বললেন,তোমার গুরুদেব খুব তাড়াতাড়ি এখানে আসিবেন।তোমার মন সততই তাঁকে টানছে, তিনি তোমার আকর্ষণে আর কি স্থির থাকতে পারেন?আমাকে দেখার উপলক্ষ্য করে তিনি দশদিনের মধ্যে এখনো এসে উপস্থিত হবেন।*
*🍀সর্বজ্ঞ চূড়ামণি গৌরসুন্দরের কথায় সফল হল।নির্দিষ্ট দিনের মধ্যে শ্রীপ্রেমনিধি মহাশয় নীলাচলে মহাপ্রভুর পদপ্রান্তে উপস্থিত হলেন।শ্রীবিদ‍্যানিধি মহাশয় শ্রীমন্মহাপ্রভুকে "বাপ" বলে আহ্বান করতেন।দেখামাত্রই "বাপ এসেছে,বাপ এসেছে" বলে মহাপ্রভু আনন্দে অধীর হয়ে উঠলেন।শ্রীবিদ‍্যানিধি মহাশয় প্রকৃতই প্রেমনিধি। তাঁকে দেখে ভক্তবৎসল প্রেমময় মহাপ্রভুর প্রেম উথলিয়ে উঠিল।শ্রীচৈতন‍্যভাগবতকার লিখেছেন=*
*🌷প্রেমনিধি প্রেমে হৈলা আনন্দে বিহ্বল।*
*🌷পূর্ণ হৈল হৃদয়ের সকল মঙ্গল।।*
*🌷শ্রীভক্তবৎসল গৌরচন্দ্র নারায়ণ।*
*🌷প্রেমনিধি বক্ষে করি করেন রোদন।।*
*🌷সকল বৈষ্ণববৃন্দ কান্দে চারি ভিতে।*
*🌷বৈকুন্ঠ স্বরূপ সুখ মিলিল সাক্ষাতে।।*
*🌷ঈশ্বর সহিত যত আছে ভক্তগণ।*
*🌷প্রেমনিধি প্রীতে প্রেম বাড়ে অনুক্ষণ।।*
*🌻🌻বসন্তের ঞউদয়ে যেমন সমস্ত জগৎ প্রফুল্ল হয়, চন্দ্রোদয়ে যেমন আকাশ ও জগৎ সেই সুধামাখা কিরণে হেসে উঠে, শ্রীপ্রেমনিধি বিদ‍্যানিধি যখন যেখানে যেতেন সেইখানেই ভক্তগণের হৃদয়ে প্রেমসিন্ধু উছলিয়ে উঠিত।নীলাচলে শ্রীপুন্ডরীক প্রেমনিধি উদিত হওয়া মাত্রই প্রেমেশ্বর মহাপ্রভু ভক্তগণের সঙ্গে মহাপ্রেমে মেতে উঠলেন। মহাসংকীর্তনের মহাতরঙ্গ প্রবাহিত হল।এমন সময়ে মহাপ্রভুর দ্বিতীয় স্বরূপ,শ্রীস্বরূপ-দামোদর এসে উপস্থিত হলেন,দেখলেন তাঁর প্রিয়তম বন্ধু শ্রীবিদ‍্যানিধি কীর্তনে নৃত্য করছেন।দীর্ঘকাল পরে দুই বন্ধুর দেখা হল,এইভাবে দেখার পর উভয়ের গাঢ় আলিঙ্গন অবশ‍্য সম্ভাব‍্য। কিন্তু তা হওয়ার যো নেই।শ্রীবিদ‍্যানিধি গৃহী,আর তাঁর বন্ধু শ্রীস্বরূপ সন্ন‍্যাসী। সুতরাং বিদ‍্যানিধি মহাশয় তাঁর বন্ধু শ্রীস্বরূপের চরণধূলি গ্রহণ করতে মাথা নত করলেন, কিন্তু স্বরূপদামোদর তাতে সম্মতি না হয়ে বিদ‍্যানিধি মহাশয়কে বাধা দিয়ে নিজেই তাঁর চরণধূলি গ্রহণ করতে মাথা নোয়ালেন এবং হাত বাড়ালেন।এইভাবে কীর্তন স্থলে উভয় বন্ধু দুই মল্লের মত একে অপরকে প্রণামরূপ মহাসমরে রত হলেন, কিন্তু কেউ কাউকেও পরাজিত করতে পারলেন না।দুই বন্ধুর এই বিচিত্র রঙ্গতরঙ্গ দেখে মহারঙ্গে শ্রীগৌরাঙ্গসুন্দর হাসতে লাগলেন, যথা শ্রীচৈতন‍্যচরিতামৃতে=*
*🌷দামোদর স্বরূপ তাঁহার পূর্বসখা।*
*🌷চৈতন‍্যের অগ্রে দুইজনে হইল দেখা।।*
*🌷 দুই জনে চাহিল দুঁহার পদধূলি।*
*🌷দোঁহে ধরাধরি ঠেলাঠেলি ফেলাফেলি।।*
*🌷কেহ কারে নাহি পারে দুই মহাবলী।*
*🌷দেখিয়া হাসেন গৌরাঙ্গ কুতূহলী।।*
*🌻ফলে কেউই কার চরণধূলি নিতে পারলেন না,অবশেষে একে অপরকে বক্ষে ধারণ করে প্রেমবেগভরে অশ্রুজলে দুইজনেই ভিজিলেন।*
                       *ক্রমাগত*
👣👣👣👣👣👣🙏👣👣👣👣👣👣
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 শ্রীস্বরূপদামোদর 🌷 সপ্তম ভাগ  🌻 ভক্তপ্রবর শ্রীরসিকমোহন চক্রবর্তী ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📝 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/02/swarup7.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(৬৭)🙌শ্রীস্বরূপ-দামোদর🙌*
             *🌻বন্ধু-সমাগম🌻*
             🌻🌻🌻🌻🌻🌻
*🍀তারপর, মহাপ্রভুর আদেশে শ্রীবিদ‍্যানিধি কিছুদিন শ্রীধামে থাকবার সঙ্কল্প করলেন।শ্রীগদাধর এই সময়ে তাঁর দীক্ষামন্ত্র-উদ্ধার করে নিলেন।সমুদ্রতটে যমেশ্বর নামক জায়গায় মহাপ্রভু ও শ্রীবিদ‍্যানিধি মহাশয়ের বাসা নির্দিষ্ট করে দিলেন।*
*শ্রীস্বরূপদামোদর অনেক সময়ই তাঁর বন্ধুর কাছে থেকে কৃষ্ণকথায় সময় অতিবাহিত করতেন, উভয়ে একসঙ্গে বেড়াতেন, আবার সময়ে একসঙ্গে কৃষ্ণকথা রঙ্গে বিভোর থাকতেন, একত্র শ্রীজগন্নাথ ও মহাপ্রভু দর্শন করতেন ও কীর্তনানন্দে প্রমত্ত হতেন।গৃহী বৈষ্ণব ও সন্ন‍্যাসী এই পার্থক্য প্রকৃত বৈষ্ণবতায় বিন্দুমাত্রও পরিলক্ষিত হয় না,শ্রীবিদ‍্যানিধি ও স্বরূপদামোদরের বন্ধুভাবে সহবাসে এই উক্তির উত্তম দৃষ্টান্ত প্রকৃতই প্রোজ্জ্বলভাবে প্রকাশ পেল।*
*দেখতে দেখতে "ওড়ন" ষষ্ঠীর দিন এসে উপস্থিত হল।ওড়ন ষষ্ঠী শ্রীক্ষেত্রে এক মহোৎসব।এই তিথিতে শ্রীজগন্নাথদেব নতূন বস্ত্র পরিধান করেন।সে বস্ত্র ধৌত করে ব‍্যবহার হয় না, সেটিতে মাড় থাকে।শ্রীবিদ‍্যানিধির মনে এটি দেখে কিঞ্চিৎ খটকা বাঁধিল।বিদ‍্যানিধি মনে করলেন নীলাচলের এ আবার কি ব‍্যবহার?মাড় বস্ত্র অশুদ্ধ।উড়িয়া সেবকগণ শ্রীজগন্নাথকে এই অশুদ্ধ কাপড় দেন কেন?আর কারও কাছে এই প্রশ্ন করতে সাহস হল না। তাঁর প্রিয়বন্ধু স্বরূপের কাছে তাঁর আর গোপন করবার কি আছে?তিনি স্বরূপকে জিজ্ঞাসা করলেন "সখে এ কিরকম"? জগন্নাথদেবকে "মন্ড বস্ত্র" দেওয়া হয় কেন? এদেশে তো শ্রুতি,স্মৃতি প্রভৃতি শাস্ত্রের অভাব নাই অথচ মন্ড বস্ত্র না কেচে দেওয়ার কারণ কি?শ্রীস্বরূপ বললেন,এটি এই জায়গার দেশাচার।বোধ হয় এটি যেন ভগবানেরই অভিপ্রায়, নচেৎ রাজাই বা এতে নিষেধ না করেন কেন?বিদ‍্যানিধি বললেন,ভাল,ভগবান যা ইচ্ছে করেন তাইই করুন, তিনি স্বতন্ত্র,নিষেধ বিধির বাইরে। কিন্তু দেখছি আজ সকলেই মন্ড বস্ত্র ব‍্যবহার করছেন, প্রজা,পান্ডা,পরিছা,বেহারা সকলেরই এক সাজ।ঈশ্বরের ব‍্যবহার মানুষে করেন কেন?মন্ডবস্ত্র অপবিত্র। ঈশ্বর স্বতন্ত্র,তাঁর পবিত্রতা-অপবিত্রতার বিচার না থাকুক, কিন্তু সেবকগণের এই বিচার থাকা একান্তই কর্তব‍্য। মন্ডবস্ত্র স্পর্শ করলে হাত ধুতে হয়, নচেৎ হাত অশুদ্ধ থাকে।এঁরা শ্রুতি স্মৃতি শাস্ত্রাচার জেনেও এরকম কাজ করেন?দেখছি,রাজাও অবাধে এই মন্ডবস্ত্র নিজের মাথায় বেঁধেছেন।*
*তখন স্বরূপ বললেন, আমার মনে হয় ওড়ন-যাত্রায় বুঝি মন্ডবস্ত্র ব‍্যবহারে দোষ নাই।সাক্ষাৎ পরম ব্রহ্ম জগন্নাথরূপে অবতীর্ণ। সুতরাং এখানে বিধি-নিষেধেরও বিচার নাই।*
*শ্রীবিদ‍্যানিধি বললেন,পরমব্রহ্ম জগন্নাথ স্বতন্ত্র ও বিধি-নিষেধাতীত। সুতরাং বিধি-নিষেধ-লঙ্ঘনে তাঁর আবার দোষ কি? তোমার একথা ঠিক। কিন্তু এ লোকগুলোও যে তাঁর দেখা দেখি ব্রহ্ম হয়ে গেল! সামাজিক লোকমাত্রেই লোক-ব‍্যবহার মেনে চলা উচিত। কিন্তু দেখছি এই উড়িয়াগুলো লোক ও ব‍্যবহার ত‍্যাগ করে একেবারেই ব্রহ্ম-অবতার হয়ে উঠিল! যথা ভাগবতে=*
*🌷তান দোষ নাহি বিধি-নিষেধ লঙ্ঘিলে।*
*🌷এগুলাও ব্রহ্ম হইল থাকি নীলাচলে।।*
*🌷ইঁহারা ছাড়িলেক লোক ব‍্যবহার।*
*🌷সবে হইলেন ব্রহ্মরূপ অবতার।।*
*🌻এইরকম কথোপকথনে উভয়েই হাসতে হাসতে বাসায় চলে গেলেন।*
*🍀আমরা আগেই বলেছি, শ্রীবিদ‍্যানিধি গৃহস্থ বৈষ্ণব।তিনি মহাপ্রেমিক হলেও সামাজিক ব‍্যবস্থা ও লৌকিক ব‍্যবহার সবসময়ই মেনে চলেন।ওড়ন ষষ্ঠীর মন্ডবস্ত্র ব‍্যবহার দেখে জগন্নাথ সেবকদের কাজও তিনি দোষজনক বলে মনে করলেন। কিন্তু দয়াময় তাঁর প্রিয়জনের হৃদয়ে এই ভ্রান্তি রাখবেন কেন? অতি অল্প সময়ের মধ্যেই তাঁর এই ভুল ভেঙ্গে গেল। কিন্তু যেভাবে এই ভুল দূর হল তা অতি অদ্ভুত ও বিচিত্র।সে বিবরণ এইরকম=*
*🍁শ্রীবিদ‍্যানিধি মহাশয় সন্ধ‍্যার পরে প্রসাদাদি পেয়ে মহাপ্রভুর কাছে উপস্থিত হলেন। এই সব কথা মহাপ্রভুর কাছে কিছু বললেন না,বলবার বিষয়ও না।কেবল এক শ্রীস্বরূপ ছাড়া অন‍্য কেউই মন্ডবস্ত্র সম্বন্ধে তাঁর মন্তব‍্য শুনতে পাননি। শ্রীস্বরূপও এই কথা মহাপ্রভুকে বলেননি।দুই বন্ধুর রঙ্গরসের কথা, এটি অন‍্যের কাছে বলবার প্রয়োজনও ছিল না। কিন্তু সর্বজ্ঞচূড়ামণি মহাপ্রভুর কাছে বিদ‍্যানিধির ভুলের বিষয় অজানা থাকবার না। তিনি অন্তর্য‍্যামী। সুতরাং বিদ‍্যানিধি শ্রীজগন্নাথদেবের সেবকগণের যে নিন্দাবাদ ও তাঁদেরকে লক্ষ্য করে যে বিদ্রূপ উক্তি করেছেন অন্তর্য‍্যামী মহাপ্রভু স্বতঃই (নিজে থেকেই) তা জানতে পারলেন। বিদ‍্যানিধির ভুল চিন্তাধারা এই অপরাধ হতে তাঁর নিস্তার করার জন্য ভগবান এক অদ্ভুত ব‍্যবস্থা করলেন।সন্ধ‍্যার পরে বিদ‍্যানিধি মহাপ্রভুর সদনে উপস্থিত হলেন, শ্রীকৃষ্ণ কথার প্রসঙ্গ হলে, তিনি সেইখানেই ঘুমিয়ে পড়লেন।অন‍্যান‍্য ভক্তগণও ঘুমিয়ে পড়লেন।রাত্রিশেষে বিদ‍্যানিধি মহাশয় এক ভয়ংকর স্বপ্ন দেখে জেগে উঠলেন,গালে হাত দিয়ে ফুলা অনুভব করলেন,আর স্বপ্নের ঘটনা ভাবতে লাগলেন।রাত্রি প্রভাত হল,সকলে উঠে নিজ নিজ স্থানে চলে গেলেন, কিন্তু বিদ‍্যানিধি মহাশয় আর ঘরের বাইরে হলেন না,তিনি বসে এক মনে কেবল স্বপ্নের কথায় ভাবতে লাগলেন।আর ফুলা গালে হাত বুলাচ্ছেন।প্রত‍্যহ সকালে বিদ‍্যানিধি স্বরূপের সঙ্গে একত্র শ্রীজগন্নাথ দর্শন করতেন। কিন্তু এ দিন বেলা হল, স্বরূপ তাঁর বন্ধুকে তবুও না দেখতে পেয়ে নিজেই তাঁর খোঁজে বাহির হলেন।দেখতে পেলেন বিদ‍্যানিধি মহাশয় এত বেলাতেও শয‍্যা ত‍্যাগ করেননি,বসে বসে কেবল কি জানি কি ভাবছেন। স্বরূপ বললেন, "আজ তোমার হয়েছে কি?এত বেলা হয়েছে, এখনও শয‍্যা ছাড়তে পারনি, জগন্নাথ দর্শনের বেলা হল যে।*
*বিদ‍্যানিধি হাতের ইঙ্গিতে স্বরূপকে ডেকে বললেন, ভাই!একবার এদিকে এসো, আমার পাশে বস,সব কথায় বলব,আগে আমার গাল দেখে নাও।*
*শ্রীস্বরূপ তাঁর বন্ধুর গালের দিকে তাকিয়ে অবাক ও মর্মাহত হয়ে বললেন "তাইতো এ হয়েছে কি?গাল দুইটি ফুলে একেবারে যে ঢোল হয়েছে। এ কি"? তখন বিদ‍্যানিধি হেসে বললেন,এটি আমার মহাপ্রভুর কৃপা--পাপের প্রায়শ্চিত্ত।মন্ডকাপড় দেখে যে অবজ্ঞা করেছিলাম, এটি সেই পাপের দন্ড কিন্তু দন্ড অতি অদ্ভুত।শুনবে কি?কৃষ্ণকথা শুনতে শুনতে মনের আনন্দে ঘুমিয়ে গেছি, শেষরাত্রিতে হঠাৎ স্বপ্ন দেখলাম, শ্রীজগন্নাথ, বলরাম দুই ভাই উগ্রমূর্তিতে এ অধমের সামনে উপস্থিত।উপস্থিত হয়ে আর কোন কথা নাই,দু'ভাই আমাকে ধরে "সপাং সপাং" করে গালে চাপড় মারতে লাগলেন। "কৃষ্ণ,বাপ ক্ষমা কর বলে পদতলে পড়ে জিজ্ঞাসা করলাম, বাপ! কোন অপরাধে আমার এই দন্ড," যথা ভাগবতে=*
*🌷কোন্ অপরাধে মোরে মারহ গোসাঞি।*
*🌷প্রভু বলে তোর অপরাধের অন্ত নাই।।*
*🌷মোর জাতি মোর সেবকের জাতি নাই।*
*🌷সকল জানিলা তুমি রহি এই ঠাঞি।।*
*🌷তবে কেন রহিয়াছ জাতি নাশা স্থানে।*
*🌷জাতি রাখি চল তুমি আপন ভবনে।।*
*🌷আমি যে করিয়াছি যাত্রার নির্বন্ধ।*
*🌷তাহাতেও ভাবে অনাচারের সম্বন্ধ।।*
*🌷আমাকে করিলা ব্রহ্ম সেবক নিন্দিয়া।*
*🌷মান্ডুয়া কাপড় স্থানে দোষ সৃষ্টি দিয়া।।*
*🙏আমি এইকথা শুনে আরও ভয় পেলাম,শ্রীচরণে মাথা রেখে বলতে লাগলাম,প্রভো!বড় অপরাধ করেছি এখন ক্ষমা কর,আর এমন অপরাধ করব না। যে মুখে তোমার সেবকের নিন্দা করেছিলাম,সে মুখের উত্তম দন্ড হয়েছে।আমার সৌভাগ্য, অতি সুপ্রভাত,তাই আজ আমার গালে আমার মুখে তোমার শ্রীহস্তের স্পর্শ হল।"*
*শ্রীজগন্নাথ বললেন, "তুমি সেবক, এই জন্যই তোমার প্রতি এই কৃপাদন্ড প্রদর্শিত হল।এই বলে দুই ভাই চলে গেলেন।আমি জাগলাম। জেগে গালে হাত দিয়ে দেখি প্রকৃতই গাল ফুলে উঠেছে।মনে বড় আনন্দ বোধ হল। আমার মহা অপরাধের জন্য জগন্নাথ যে আমাকে এত অল্প দন্ড দিয়েই অব‍্যাহতি প্রদান করলেন,এতেই নিজেকে বড় ভাগ‍্যবান বলে মনে করলাম।আমি বুঝেছি আমার প্রতি দয়াময় শ্রীজগন্নাথদেবের মহাকৃপা।নচেৎ এই অপরাধে আমাকে নিশ্চিতই অন্ধকূপে পড়তে হত।*
*শ্রীস্বরূপ তাঁর প্রিয়তম বন্ধু বিদ‍্যানিধির সৌভাগ্যের কথা শুনে অবাক ও উল্লাসিত হলেন।সখার সম্পদে সখার আনন্দোল্লাস বেড়ে উঠিল।স্বরূপ বললেন,ভাই! এমন অদ্ভুত দন্ডের কথা আর কখনও শুনা যায় না।*
*🌷স্বপ্নে আসি শাস্তি করে আপনে সাক্ষাতে।*
*🌷আর শুনি নাই সব দেখিল তোমাতে।।*
*🍀শ্রীপুন্ডরীক বিদ‍্যানিধির প্রতি স্বপ্নে এই কৃপাদন্ডের কথায় অভক্তের বিশ্বাস না হলেও এইরকম ঘটনা যুক্তি তর্কের বাইরে না।বিদ‍্যানিধি ভগবানের একান্ত নিজজন। সুতরাং তাঁর প্রতি এইরকম দন্ড আশ্চর্য‍্যের বিষয় না।শ্রীস্বরূপের কথা বলতে হলে তাঁর বন্ধু ও শিষ‍্যাদির কথা না বললে প্রস্তাব অসম্পূর্ণ থেকে যায়। সুতরাং প্রিয়তম বন্ধুর চরিত্রের অংশ মাত্র স্পর্শ করেই এ প্রস্তাবের উপসংহার করা হল।*
🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 শ্রীস্বরূপদামোদর 🌷 সপ্তম ভাগ  🌻 ভক্তপ্রবর শ্রীরসিকমোহন চক্রবর্তী ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📝 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/02/swarup7.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(৬৮)🙌শ্রীস্বরূপ-দামোদর🙌*
          *শ্রীস্বরূপ ও তাঁর শিষ্য*
          *********************
*🌻শ্রীস্বরূপ-দামোদরের চরিতামৃতের সঙ্গে শ্রীমদ্ রঘুনাথ দাস গোস্বামীর চরিতামৃত ওতপ্রোতভাবে বিজড়িত।শ্রীরঘুনাথ শ্রীস্বরূপের প্রিয়তম শিষ‍্য,সহচর,অন্তরঙ্গ ভক্ত এবং পুত্রবৎ স্নেহের পাত্র, এমন কি "স্বরূপের রঘুনাথ " বলেই পরিচিত।মহাপ্রভুর ভক্তগণের মধ্যে আরও কিছু রঘুনাথের উল্লেখ আছে।তন্মধ‍্যে একজন পূজ‍্যতম শ্রীমদ্ রঘুনাথ ভট্ট। বন্দনায় ইনিই ভট্ট-রঘুনাথ বলে প্রখ‍্যাত।অন‍্য--বৈদ‍্য রঘুনাথ।এছাড়াও রঘুনাথপুরী,রঘুনাথতীর্থ ও দ্বিজ রঘুনাথ প্রভৃতি নামের উল্লেখ দেখতে পাওয়া যায়।শ্রীপাদ কবিরাজ গোস্বামী শ্রীচৈতন‍্যচরিতামৃতের আদিলীলায় অতি সংক্ষেপে এই ভজন-আদর্শ চরিতের সারমর্ম কয়েকটি কথায় বিশদভাবে প্রকাশিত করেছেন,যথা=*
*🌷মহাপ্রভুর প্রিয়ভৃত‍্য রঘুনাথ দাস।*
*🌷সর্বত‍্যাগী কৈল প্রভুর পদতলে বাস।।*
*🌷প্রভু সমর্পিল তারে স্বরূপের হাতে।*
*🌷প্রভুর গুপ্তসেবা কৈল স্বরূপের সাথে।।*
*🌷ষোড়শ বৎসর কৈল অন্তরঙ্গ সেবন।*
*🌷স্বরূপের অন্তর্ধ‍্যানে আইল বৃন্দাবন।।*
   ☆ ☆ ☆ ☆ ☆ ☆
*🌷অন্নজল ত‍্যাগ কৈল অন‍্য কথন।*
*🌷পল দুইতিন মাঠা করেন ভক্ষণ।।*
*🌷সহস্র দন্ডবৎ করেন,লয়ে লক্ষ নাম।*
*🌷দুই সহস্র বৈষ্ণবের নিত‍্য পরণাম।।*
*🌷রাত্রিদিনে রাধাকৃষ্ণ মানসে সেবন।*
*🌷প্রহরেক মহাপ্রভুর চরিত্র কথন।।*
*🌷তিন সন্ধ‍্যা রাধাকৃষ্ণ আপতিত স্নান।*
*🌷ব্রজবাসী বৈষ্ণবের করে আলিঙ্গ-মান।।*
*🌷সার্দ্ধ সপ্তপ্রহর করে ভক্তির সাধনে।*
*🌷চারিদন্ড নিদ্রা সেহ নহে কোনদিনে।।*
*🌻এইরকম সাধন-ভজন-মহিমায় ইনি বৈষ্ণব-সমাজে চিরপূজিত।এমন কি শ্রীমৎ রঘুনাথ জাতিতে শূদ্র হয়েও ভূবনপাবন ছয় গোস্বামীর অন‍্যতম বলে বৈষ্ণবগণের সভক্তি বন্দনার পাত্র, যথা বৈষ্ণব-বন্দনার মুখবন্ধে=*
*🙏জয়রূপ সনাতন ভট্ট রঘুনাথ।*
*🙏শ্রীজীব গোপাল ভট্ট দাস রঘুনাথ।।*
*🙏এই ছয় গোঁসাইয়ের করি চরণ বন্দন।*
*🙏যাহা হৈতে বিঘ্ননাশ অভীষ্ট পূরণ।।*
*🌻শ্রীমৎ রঘুনাথ দাসগোস্বামী বৈরাগ‍্যের প্রকটমূর্তি,সাধন-ভজনের অদ্বিতীয় আদর্শ এবং প্রেমভক্তির মহাসাগর।এই ভুবনপাবন ভজন-আদর্শের চরিত্র গঠন-- শ্রীপাদ স্বরূপ-দামোদরের শিক্ষাগুরুতা নৈপুণ‍্যেরই গৌরবকীর্তি।*
*🍀দাস রঘুনাথ মহাপ্রভুর শ্রীচরণ আশ্রয় লাভের আশায় তাঁর চরণে উপস্থিত হলে মহাপ্রভু এই একান্ত অন্তরঙ্গ,পরম স্নেহাস্পদ ভক্তের হাতে ধরে রঘুনাথকে শ্রীপাদ স্বরূপদামোদরের কাছে সমর্পণ করেন এবং "স্বরূপের রঘুনাথ" বলেই নামকরণ, যথা শ্রীচৈতন‍্যচরিতামৃতে=*
*🌷রঘুনাথের ক্ষীণতা মালিন‍্য দেখিয়া।*
*🌷স্বরূপেরে কহে কৃপা আর্দ্র চিত্ত হৈঞা।।*
*🌷এই রঘুনাথে আমি সঁপিনু তোমারে।*
*🌷পুত্র ভৃত‍্যরূপে ইহায় কর অঙ্গীকারে।।*
*🌷তিন রঘুনাথ নামে হয় আমা স্থানে।*
*🌷স্বরূপের রঘুনাথ আজি হৈতে ইহার নামে।।*
*🌷এত কহি রঘুনাথের হস্তেতে ধরিয়া।*
*🌷স্বরূপের হস্তে তারে দিল সমর্পিয়া।।*
*🌷স্বরূপ কহে প্রভুর যে আজ্ঞা হইল।*
*🌷এত কহি রঘুনাথে পুনঃ আলিঙ্গিল।।*
*🌻শ্রীপাদ স্বরূপের সঙ্গে রঘুনাথের কি সম্বন্ধ, এস্থলে অতি স্পষ্টভাবেই তা ব‍্যক্ত হয়েছে।মহাপ্রভু তাঁর "দ্বিতীয় স্বরূপ"কে বলছেন, "এই রঘুনাথকে আজ আমি তোমার হাতে সমর্পণ করলাম। রঘুনাথ আমার বড় প্রিয়, তুমি রঘুনাথকে পুত্রের মত স্নেহ করিও। রঘুনাথ তোমাকে পিতারসম জ্ঞান করবে, এবং ভৃত‍্যের ন‍্যায় তোমার সেবা করবে।এ রঘুনাথ আজ হতে তোমার হল,আজ হতে এই রঘুনাথ "স্বরূপের রঘুনাথ " নামে সকলের কাছে পরিচিত হবে।এই বলে মহাপ্রভু রঘুনাথের হাতে ধরে স্বরূপের হাতে সমর্পণ করলেন।একেই বলে হাতে হাতে সঁপে দেওয়া।*
*🍀দান কাকে বলে? "স্বস্বত্বধ্বংস-পরসত্ত্বোৎপত্তিফলক ত‍্যাগের" নামই দান। রঘুনাথ মহাপ্রভুর শ্রীচরণে আত্মসমর্পণ করলেন,মহাপ্রভু রঘুনাথকে নিজজন বলে অঙ্গীকার করলেন। রঘুনাথ তখন মহাপ্রভুর নিজ বস্তু হলেন।যাতে যাঁর স্বত্ব (নিজ অধিকার) নাই, তিনি তার দান বিক্রয়ের অধিকারী নন। রঘুনাথ জগতের সমস্ত সুখ ভোগাদি পরিত‍্যাগ করে শ্রীমন্মহাপ্রভুর শ্রীচরণে আত্মসমর্পণ করেন।ভক্তবৎসল গৌরহরি এই প্রিয়তম ভক্তরত্নকে স্বরূপের হাতে সমর্পণ করে বলেন, স্বরূপ আমার এই প্রিয় বস্তু আজ হতে তোমার হ'ল,তুমি রঘুনাথকে নিজ পুত্রসম স্নেহ করিও। শ্রীপাদ স্বরূপ "যে আজ্ঞা" বলে শ্রীরঘুনাথকে বক্ষে জড়িয়ে ধরে আলিঙ্গন করলেন।শ্রীপাদ সন্ন‍্যাসী।আজ মহাপ্রভুর আজ্ঞায় আকুমার সন্ন‍্যাসী স্বরূপ-দামোদর একটি পুত্ররত্ন লাভ করলেন। এই সময় হতে শ্রীমদ্ রঘুনাথ দাস গোস্বামী "স্বরূপের রঘুনাথ "বলেই ভক্তসমাজে বিখ‍্যাত হয়েছিলেন।ভক্তিরত্নাকর রচয়িতাও "গুরু-শিষ‍্য" উভয়ের স্মৃতিসূচক এই পবিত্র মধুর নামের উল্লেখ করেছেন, যথা=*
*🌷"স্বরূপের রঘুনাথে" দর্শন না পাইয়া।*
*🌷কান্দে শ্রীনিবাস অতি ব‍্যাকুল হইয়া।।*
*🌻শ্রীপাদ স্বরূপের হাতে চিরসুন্দর জগৎসুন্দর পরমভাগবত শিরোমণি ভক্তবৎসল মহাপ্রভু যে শ্রীমৎ রঘুনাথকে সমর্পণ করেছিলেন, রঘুনাথ স্বরচিত "শ্রীকৃষ্ণচৈতন‍্য কল্পবৃক্ষ" নামক স্তোত্রে তা ব‍্যক্ত করে রেখেছেন,যথা=*
*🌷মহাসম্পদ্দাবাদপি পতিত মুদ্ধৃত‍্য কৃপয়া।*
*🌷স্বরূপে য স্বীয় কুজনমপি মাং ন‍্যস‍্য মুদিতঃ।।*
*🌷উরোগুঞ্জাহারং প্রিয়মপিচ গোবর্দ্ধনশিলাম্।*
*🌷দদৌ মে গৌরাঙ্গো হৃদয় উদয়ন্মাং মদয়তি।।*
*🌻অর্থ‍্যাৎ যিনি এহেন পতিত ও কুজনকে মহাসম্পত্তিরূপ দাবানল হতে কৃপাগুণে উদ্ধার করলেন এবং স্বীয়স্বরূপ শ্রীপাদ দামোদর-স্বরূপের হাতে সমর্পণ করে পরম আহ্লাদিত হলেন,আরও বক্ষের প্রিয় গুঞ্জাহার ও গোবর্দ্ধন শিলা আমাকে প্রদান করলেন সেই শ্রীগৌরাঙ্গ আমার হৃদয়ে উদিত হয়ে পরম-আনন্দ প্রদান করছেন।*
👣👣👣👣👣👣👣👣👣👣👣👣👣
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 শ্রীস্বরূপদামোদর 🌷 সপ্তম ভাগ  🌻 ভক্তপ্রবর শ্রীরসিকমোহন চক্রবর্তী ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📝 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/02/swarup7.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(৬৯)🙌শ্রীস্বরূপ-দামোদর🙌*
            *শ্রীস্বরূপ ও তাঁর শিষ্য*
             👌👌👌👌👌👌👌
*🍀শ্রীপাদ স্বরূপ-দামোদর এই সময় হতে রঘুনাথের আধ‍্যাত্মিক জীবনের উন্নতি সাধনের সমস্ত ভার গ্রহণ করলেন। রঘুনাথও শ্রীস্বরূপকে পিতৃরূপে ও শিক্ষাগুরুরূপে পেয়ে অতীব যত্নসহকারে তাঁর সেবা করতে রত হলেন।মহাপ্রভু রঘুনাথকে বলে দিলেন শ্রীপাদ স্বরূপই তোমার শিক্ষাগুরু।*
*🌹শ্রীমদ্ রঘুনাথ দাস গোস্বামী নীলাচলে সকলের প্রিয় ছিলেন।শ্রীপাদ স্বরূপ-দামোদর রঘুনাথের শিক্ষাগুরু।দীক্ষাগুরু প্রেমবান্ শ্রীযদুনন্দন আচার্য‍্য যথা শ্রীচৈতন‍্যচন্দ্রোদয় নাটকে=*
*🌷আচার্য‍্যো যদুনন্দনঃ সুমধুরঃ শ্রীবাসুদেব প্রিয়।*
*🌷স্তচ্ছিষ‍্যো রঘুনাথ ইত‍্যধিগুণঃ প্রাণিধিকো মাদৃশাং।।*
*🌷শ্রীচৈতন‍্য কৃপাতিরেক সততং স্নিগ্ধঃ স্বরূপপ্রিয়ো।*
*🌷বৈরাগ‍্যেকনিধি র্ন কস‍্যবিদিতো নীলাচলেতিষ্ঠাত্তাম্।।*
*🌻অর্থ‍্যাৎ শ্রীবাসুদেবের প্রিয়তম প্রেমবান্ যদুনন্দন আচার্য‍্যের শিষ‍্য নানান গুণের নিদান রঘুনাথ দাস আমাদের প্রাণাধিক।নীলাচলস্থিত জনগণের মধ্যে এমন কে আছেন,যিনি শ্রীকৃষ্ণচৈতন‍্যের কৃপাস্নিগ্ধ স্বরূপ-দামোদরের অত‍্যন্ত প্রিয় ও বৈরাগ‍্যের সাগর সেই রঘুনাথ দাসকে না জানেন।*
*🌻তাঁর কাছে সাধ‍্য-সাধন-তত্ত্ব শিক্ষা করিও।এই সব তত্ত্ব স্বরূপ যেমন জানেন, আমিও তেমন জানি না।যথা শ্রীচৈতন‍্যচরিতামৃতে=*
*🌷হাসি মহাপ্রভু রঘুনাথেরে কহিল।*
*🌷তোমার উপদেষ্টা করি স্বরূপেরে দিল।।*
*🌷সাধ‍্য সাধন তত্ত্ব শিখ ইহার স্থানে।*
*🌷আমি তত নাহি,জানি ইঁহ যত জানে।।*
*🌹মহাপ্রভুর অন্তরঙ্গ পারিষদগণের মধ্যে সাধ‍্য-সাধন-তত্ত্ব সম্বন্ধে শ্রীপাদ স্বরূপদামোদর ও শ্রীরায় রামানন্দের নাম বিশেষ উল্লেখযোগ্য।রসের ভজন কিরকম,স্বরূপ ও রামরায় দ্বারাই মহাপ্রভু তা জগতে প্রচার করেন।ভক্তমহিমা প্রকাশ করতে মহাপ্রভু অদ্বিতীয়।শ্রীচরিতামৃতে লেখা আছে =*
*🌷ভক্ত-মহিমা বাড়াইতে,ভক্ত সুখ দিতে।*
*🌷মহাপ্রভু সম আর নাহি ত্রিজগতে।।*
*🌻আরও এক কথা এই যে তাঁর যে ভক্ত দ্বারা তিনি যে কাজ সাধন করেছেন,তাঁদের প্রত‍্যেকেরই বিশিষ্টতা আছে।ব্রজের মধুররসের ভজনতত্ত্বে শ্রীপাদ স্বরূপদামোদরের বিশিষ্টতাই সূচিত হয়েছে।মহাপ্রভু স্বয়ং বলেছেন "আমি তত নাহি জানি ইঁহ যত জানে"।(প্রকৃত বৈষ্ণবজনের কথা, প্রকৃত বৈষ্ণব কখনও নিজ ভাব প্রকাশ করেন না),যাইহোক, অন‍্যত্রও এটির প্রমাণ পাওয়া যায়।বল্লভ ভট্টের অভিমান দূর করবার জন্য মহাপ্রভু তাঁর অন্তরঙ্গ পার্ষদগণের উল্লেখ করে বলেন, "স্বরূপের কাছেই আমি ব্রজের মধুররসের জ্ঞান লাভ করেছি।যথা শ্রীচৈতন‍্যচরিতামৃতে অন্ত‍্যলীলার ৭ম পরিচ্ছেদে=*
*🌷দামোদর-স্বরূপ প্রেমরস মূর্তিমান।*
*🌷যার সঙ্গে হৈল ব্রজের মধুর রসের জ্ঞান।।*
*🌷শুদ্ধপ্রেম ব্রজদেবীর কামগন্ধ হীন।*
*🌷কৃষ্ণ-সুখ তাৎপর্য‍্য এই ভাব চিহ্ন।।৭।।*
*🌷গোপীগণের শুদ্ধ ভাব ঐশ্বর্য‍্য জ্ঞানহীন।*
*🌷প্রেমেতে ভর্ৎসনা করে এই তার চিহ্ন।।৮।।*
*🌷সর্বোত্তম ভজন ইঁহার সর্বভক্তি জিনি।*
*🌷অতএব কৃষ্ণ কহে আমি তার ঋণী।।৯।।*
*🌷ঐশ্বর্য‍্য ভাব হৈতে কেবল ভাব প্রধান।*
*🌷পৃথিবীতে ভক্ত নাহি উদ্ধব সমান।।*
*🌷তিঁহ যার পদধূলি করেন প্রার্থন।১০।*
*🌷স্বরূপের সঙ্গে পাইনু এসব শিক্ষণ।।*
*🌹যত্তে সুজাত চরণাম্বুরুহং স্তনেষু,*
*🌹ভীতা শনৈঃ প্রিয়দধী মহিকর্কশেযু,*
*🌹তেনাটবী মটসি তদ্ ব‍্যথতে ন কিংম্বিৎ,*
*🌹কূর্পাদিভির্ভ্রমতিধী র্ভবদায়ুষাং নঃ।৭।*
                  *(১০অধ‍্যায় শ্রীমদ্ভাগবত )*
*🌲পতিসুতান্বয় ভ্রাতৃবন্ধবা নতি,*
*🌲বিলঙ্ঘ‍্যতেহন্ত‍্যচ‍্যুতাগতাঃ,*
*🌲গতিবিদ স্তবোদ্গীত মোহিতাঃ,*
*🌲কিতব যোষিতঃ ক স্তজেন্নিশি।৮।*
*🌺ন পারয়েহহং নিরবদ‍্যসংযুজাম্,*
*🌺স্ব সাধুকৃত‍্য বিবুধাযুযা পিবা,*
*🌺যামাভজন্ দুর্জ্জরগেহশঙ্খলাঃ,*
*🌺 সংবৃশ্চ তদ্বপ্রতিবাতু সাধুনা।৯।*
*🍀আসামহোচরণরেণু যুষামহস‍্যাং,*
*🍀বৃন্দাবনে কিমপিগুল্মষধিনাম্,*
*🍀যাদুস্তজ স্বজন আর্য‍্য পথঞ্চহিত্বা,*
*🍀ভেজর্মুকুন্দ পদবীং শ্রুতিভির্বিমৃগ‍্যামু।১০।*
*🌻এই যে সারগর্ভ ভজনতত্ত্বের উল্লেখ করা হল,এটিই ব্রজের মধুর রসের ভজন।বৈরাগ‍্য অন্তে প্রেম-ভক্তির সবিশেষ স্ফূর্তিতেই এই ভজনে অধিকার জন্মে। এই ভজনের অন‍্য নাম "অন্তরঙ্গ সেবা" বা "গুপ্ত সেবা"।শ্রীমদ্ রঘুনাথ দাস তাঁর শিক্ষাগুরু শ্রীপাদ স্বরূপদামোদরের কাছেই এই নিগূঢ় ব্রজরসের শিক্ষালাভ করেছিলেন,যথা চরিতামৃতে, আদিলীলার দশম পরিচ্ছেদে=*
*🌷প্রভু সমর্পিল তারে স্বরূপের হাতে।*
*🌷প্রভুর গুপ্ত সেবা কৈল স্বরূপের সাথে।।*
*🌷ষোড়শ বৎসর কৈল অন্তরঙ্গ সেবন।*
*🌷স্বরূপের অন্তর্দ্ধান আইল বৃন্দাবন।।*
*🌻যিনি মহাপ্রভু দ্বারা শ্রীস্বরূপের হাতে ভজনসাধন-শিক্ষার জন্য সমর্পিত হলেন, স্বয়ং মহাপ্রভু যাঁকে শ্রীপাদ স্বরূপের সঙ্গে পুত্রসম ও ভৃত‍্যসম সম্বন্ধে সম্বন্ধ করে দিলেন,যিনি ষোল বৎসরকাল স্বরূপের সঙ্গে একটানা ভাবে অন্তরঙ্গ ভজন করলেন--,শ্রীপাদ স্বরূপের পুত্রেরমত, প্রিয়তম শিষ্য,নিয়তানুচর এবং সহচর শ্রীমদ্ রঘুনাথ দাস গোস্বামীর চরিতামৃত বিশ্বব্রহ্মান্ডের সাধক মাত্রেরই অবশ‍্য আস্বাদ‍্য।স্বরূপদামোদরের শিক্ষা প্রভাবে রঘুনাথ দাস গোস্বামীর চরিত্র-বিকাশ নীলাচল লীলার এক গূঢ় রহস‍্যময় ব‍্যাপার। সাধারণ জ্ঞানে এটির ধারণা অসম্ভব, গুরুকৃপা ছাড়া এটি বুঝা সত‍্যিই অসম্ভব,লৌকিক ভাষায় সেটির প্রকাশ তো একেবারেই অসম্ভব। আমাদের উদ্দেশ্য -- কেবল তাঁর কথা স্মরণ করা, কেবল তাঁর নাম করে আত্মশোধন করা, সুতরাং এই পবিত্র চরিত্রের কণামাত্র স্পর্শ করেই এখানে ক্ষান্ত করলাম।*
👣👣👣👣👣👣🙏👣👣👣👣👣👣
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 শ্রীস্বরূপদামোদর 🌷 সপ্তম ভাগ  🌻 ভক্তপ্রবর শ্রীরসিকমোহন চক্রবর্তী ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📝 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/02/swarup7.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(৭০)🙌শ্রীস্বরূপ-দামোদর🙌*
 *শ্রীস্বরূপ-দামোদর ও শ্রীমন্মহাপ্রভু*
☆☆☆☆☆☆☆☆☆☆☆☆☆☆
*🍀শ্রীগৌরাঙ্গলীলার শেষ বারো-বৎসরের মহাবিরহ ব‍্যাপার অচিন্ত‍্য,অত‍্যদ্ভুত ও অলৌকিক।বিপ্রলম্ভরসের সেই সাগর-তরঙ্গবর্ণন মহাভক্ত কবির পক্ষেও অসম্ভব। স্বয়ং শ্রীপাদ কবিরাজ গোস্বামী লিখেছেন=*
*🌷কোটি যুগ পর্য‍্যন্ত যদি লিখয়ে গণেশ।*
*🌷একদিনের লীলার তবু নাহি পায় শেষ।।*
  ☆ ☆ ☆ ☆
*🌷ক্ষণে ক্ষণে উঠে প্রেমার তরঙ্গ অনন্ত।*
*🌷জীব ছার কাঁহা তার পাইবেক অন্ত।।*
*🌷শ্রীকৃষ্ণচৈতন‍্য যাহা করে আস্বাদন।*
*🌷সবে এক জানে তাহা স্বরূপাদি গণ।।*
*🌷জীব হৈঞা করে যেই তাহার বর্ণন।*
*🌷আপন শোধিতে তার লৈয়ে এক কণ।।*
*🌻শ্রীরাধার ভাবে বিভাবিত হয়ে শ্রীগৌরাঙ্গসুন্দর এই দ্বাদশ বৎসর সময় স্বরূপ ও রামরায়ের সঙ্গে যে অলৌকিক ভাবে কৃষ্ণরস-আস্বাদন করেন,তাতে পরম ভক্তেরও বুদ্ধি-প্রবেশ হয় না, বর্ণনা করা তো দূরের কথা!শ্রীপাদ কবিরাজ লিখেছেন=*
*🌷দ্বাদশ বৎসর ঐছে দশা রাত্রি দিনে।*
*🌷কৃষ্ণরস আস্বাদয়ে দুই বন্ধুসনে।।*
*🌷সেই সব লীলারস আপনে অনন্ত।*
*🌷সহস্র বদনে বর্ণে নাহি পায় অন্ত।।*
 ☆ ☆ ☆ ☆
*🌷প্রভুর গম্ভীর লীলা না পারি বুঝিতে।*
*🌷বুদ্ধি-প্রকাশ নাহি,না পারি বর্ণিতে।।*
*🌻ফলে গম্ভীরলীলা ধারণার অগম‍্য (প্রবেশ করা খুবই কঠিন ),তবুও আত্মশোধনের জন্য শ্রীস্বরূপ ও শ্রীমন্মহাপ্রভু প্রবন্ধে এ সম্বন্ধে কিছু বলবার বাসনা ছিল। কিন্তু সে মহাসমুদ্রের কথা তুললে সংক্ষেপে কোন কথায় বলতে পারব না।মহাপ্রভুর কৃপানুমতি পেলে দ্বিতীয় খন্ডে তাঁর-সম্বন্ধে কিঞ্চিৎ বলা যাবে। যে পর্যন্ত মহাপ্রভু তা না করাবেন তাবৎ চিত্তে শান্তি অনুভব করতে পারব না।এই প্রস্তাবের কেফল নাম উল্লেখ করেই রাখা যাচ্ছে মাত্র।*
*🍀শ্রীপাদ স্বরূপ শ্রীমন্মহাপ্রভুর চির সহচর।ব্রজলীলার মর্ম সখী ললিতা নবদ্বীপ-লীলায় স্বরূপদামোদর-রূপে ভক্তজন সামনে অবতীর্ণ হন।নবদ্বীপে শ্রীগৌরাঙ্গের রাধাভাব প্রচ্ছন্ন বা আবৃত বা গুপ্ত।ললিতা সখীও তখন প্রচ্ছন্ন ভাবেই মহাপ্রভুর শ্রীচরণপ্রান্তে অবস্থান করতেন।শ্রীচৈতন‍্যচরিতামৃতে লেখা আছে =*
*🌷পুরুষোত্তম আচার্য‍্য তার নাম পূর্বাশ্রমে।*
*🌷নবদ্বীপে ছিলা তেঁহ প্রভুর চরণে।।*
*🍀পুরুষোত্তম শাস্ত্র অধ‍্যয়ন করতেন, কৃষ্ণকথা বলতেন ও শ্রবণ করতেন, কিন্তু নবদ্বীপ লীলায় পুরুষোত্তম আচার্য‍্যের নাম লীলাগ্রন্থে বড় বিশদভাবে প্রকাশিত হয়নি, হবার কথাও নই।কেননা,নিগূঢ় ব্রজরসাস্বাদিনী ব্রজের নর্ম্ম সখীর পক্ষে বহিরঙ্গ লীলায় প্রকাশিত হওয়া রসনিয়মের ক্রম-বিরুদ্ধ। কিন্তু পুরুষোত্তম অতি গুপ্তভাবে সবসময়ই শ্রীগৌরাঙ্গচরণ সন্দর্শন করতেন, নীরবে নির্জনে রসালাপ করতেন। মহাপ্রভুর সন্ন‍্যাসের পর শ্রীপাদ পুরুষোত্তম কাশীতে গিয়ে সন্ন‍্যাস গ্রহণ করলেন, এবং বেদান্ত পাঠ করতে আদেশ পেলেন। কিন্তু মহাপ্রভুর বিরহে তাঁর প্রাণ সবসময়ই ব‍্যাকুল থাকত। তিনি আর বেশী সময়ে কাশীধামে থাকতে পারলেন না। ১৪৩৪ শকাব্দের প্রারম্ভে শ্রীমন্মহাপ্রভু দক্ষিণদেশ পরিভ্রমণ করে নীলাচলে ফিরে আসিলেন। এই সময়েই পুরুষোত্তম সন্ন‍্যাসীবেশে শ্রীগৌরাঙ্গের শ্রীচরণপ্রান্তে উপস্থিত হলেন।সন্ন‍্যাসাশ্রমে তাঁর হয়েছিল -- শ্রীস্বরূপ।গ্রন্থের উপক্রমে যথাশক্তি লেখা হয়েছে।শ্রীপাদ স্বরূপ গোস্বামীর হৃদয় যে সবসময়ই মহাপ্রভুর জন্য ব‍্যাকুল থাকত,তা তাঁর প্রথম কথাতেই জানা যায়।শ্রীস্বরূপ মহাপ্রভুর চরণতলে বসে বললেন, "প্রমাদবশতঃই তোমায় ছেড়ে অন‍্যত্র গিয়েছিলাম। তোমার চরণ ছাড়া হয়ে আমি থাকতে পারি কি? মহাপ্রভুও স্বরূপের জন্য কি-জানি-কি-জন‍্য প্রতীক্ষা করছিলেন। তিনি স্বরূপকে একরকম আকৃষ্ট করেই শ্রীচরণান্তিকে আনিয়েছিলেন। মহাপ্রভু বললেন, যথা শ্রীচৈতন‍্যচরিতামৃতে=*
*🌷তুমি যে আসিবে,তাহা স্বপ্নেই জানিলুঁ।*
*🌷ভাল হলো,অন্ধ যেন দুই নেত্র পাইল।।*
*🌻ভাবনিধি গৌরহরির এই কথার ভাব অতি গম্ভীর।মহাপ্রভুর শেষ বারো বৎসরের লীলায় বিপ্রলম্ভ-রসের পূর্ণ প্রবাহ পরিলক্ষিত হয়।সেই সময় কাছাকাছি হওয়ায় শ্রীরাধাভাববিভাবিত রসরাজ নর্ম্মসখী ললিতার জন্য প্রতীক্ষা করছিলেন।দুঃসহ শ্রীকৃষ্ণবিরহে শ্রীচৈতন‍্যদেব আমার নয়নজলে বক্ষ ভাসাতেন,অধীর হতেন, বিহ্বল হয়ে পড়তেন।নর্ম্মসখী ছাড়া এ অবস্থার আর উপায় কি?সেই বিষম বিরহে স্বরূপ ও রামরায়ের কৃষ্ণকথায় মহাপ্রভু প্রাণ-রক্ষা করতেন।*
*🌷কাঁহা করোঁ কাঁহা পাঙ ব্রজেন্দ্রনন্দন*
*🌷কাহা মোর প্রাণনাথ মুরলীবদন।।*
*🌷কাহারে কহিব কেবা জানে মোর দুঃখ।*
*🌷ব্রজেন্দ্রনন্দন বিনা ফাটে মোর বুক।।*
*🌻এইরকম কথা বলে মহাপ্রভু ধেয়ে যেতেন,আছাড় খেয়ে পড়তেন, অজ্ঞান হতেন।তখন স্বরূপ মহাপ্রভুকে কোলে কোরে,কৃষ্ণকথায় তাঁর সান্ত্বনা করতেন।গম্ভীরা লীলার হৃদয় বিদারি বৃত্তান্ত পাঠ করতেই প্রাণ আকুল হয়,হৃদয় অবসন্ন বা অবসাদ হয়ে পড়ে=*
*🌷গম্ভীরা ভিতরে রাত্রি নিদ্রা নাহি নব*
*🌷ভিত্ত‍্যে মুখ শির ঘষে ক্ষত হয় সব।।*
 ☆ ☆ ☆ ☆
*🌷মুখে লালা ফেন প্রভুর উত্তান নয়ন।*
*🌷দেখিতেই সব ভক্তের দেহ ছাড়ে প্রাণ।।*
*🌷প্রতি রোমকূপে মাংস ব্রণের আকার।*
*🌷তার উপরে রোমোদ্গম কদম্ব প্রকার।।*
*🌷প্রতি রোমে প্রস্বেদ পড়ে রুধিরের ধার।*
*🌷 কন্ঠ ঘর্ঘর নাহি বর্ণের উচ্চার।।*
*🌷দুই নেত্র ভরি অশ্রু বহয়ে অপার।*
*🌷সমুদ্রে মিলিল যেন গঙ্গা যমুনাধার।।*
*🌷বৈবর্ণ‍্য শঙ্খ প্রায় শ্বেত হৈল অঙ্গ।*
*🌷তায় কম্প উঠে যেন সমুদ্র তরঙ্গ।।*
*🌻এই ভীষণ সময়ে স্বরূপই হৃদয়ে আবেগে চাপা দিয়ে তার প্রাণের থেকেও বেশী ভালবাসার মানুষটিকে কানে কৃষ্ণনামের মধুর ধ্বনি করতেন।অন্তর্দ্দশায় শ্রীমতী রাধিকার কানে মৃতসঞ্জীবন শ্রীকৃষ্ণনাম সুধাবর্ষণ করলেই যেমন শ্রীমতীর বিরহ দশা থেকে খানিকটা বেড়িয়ে স্বাভাবিক হতেন, এটি শ্রীমতী ললিতার নির্দিষ্ট সেবা ছিল ব্রজে।শ্রীনবদ্বীপ লীলায় শ্রীপাদ স্বরূপ শ্রীমন্মহাপ্রভুর শ্রীকৃষ্ণবিরহে এইরকম সেবায় বারো বৎসর যেভাবে অতিবাহিত করেন,তা বর্ণনাতীত।অবশেষে একদিন ধরাধাম অন্ধকার করে শ্রীশচীনন্দন গৌরহরি সহসা অপ্রকট হলেন।মহাপ্রভুর অন্তর্দ্ধানের পরে তাঁর দ্বিতীয় স্বরূপের নির্য‍্যাণের পরেই শ্রীমৎ রঘুনাথ দাস গোস্বামী নীলাচল ছেড়ে শ্রীবৃন্দাবন অভিমুখে যাত্রা করলেন।প্রেমানন্দময় নীলাচলের মহামহোৎসব বন্ধ হল, রসের প্রবাহ থেমে গেল, চারিদিক মহাশূন‍্যের মত হতে লাগল।অবশিষ্ট দুই-চারজন ভক্ত শোকের উষ্ণ নিশ্বাস ফেলতে ফেলতে বিরহের হৃদয় বিদারি হা-হুতাশে "হা গৌরাঙ্গ" বলে জীবনের অবশিষ্ট দিন অতিবাহিত করে এ জগৎ হতে অন্তর্হিত হলেন।হায়রে! এমন চাঁদের হাট দেখতে দেখতে ভেঙ্গে চূরমার হয়ে গেল।জগৎ যেন হঠাৎ এক ভীষণ অন্ধকারে ডুবে গেল।*
😭😭😭😭😭😭😭😭😭😭😭😭😭
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🔜 ক্রমাগত 👉 শ্রীস্বরূপদামোদর 🌷 অষ্টম ভাগ  🌻 ভক্তপ্রবর শ্রীরসিকমোহন চক্রবর্তী ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📝 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/02/swarup8.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

    📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝
    ꧁👇📖 সূচীপত্র ✍️ শ্রী জয়দেব দাঁ 📖👇꧂



✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧


✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

   ✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️ 
নিবাস- বাঁশবাড়ী, কীর্তন মন্দিরের পাশে, পোঃ- বাঁশবাড়ী, থানা- ইংরেজ বাজার, জেলা- মালদহ, পশ্চিমবঙ্গ, পিন কোড- ৭৩২১০১।

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

  *••••┉❀꧁👇🏠Home Page🏠👇꧂❀┅••••* 


✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

    *••••━❀꧁👇 📖 সূচীপত্র 📖 👇꧂❀┅••••* 



✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

     *••••━❀꧁👇📚 PDF গ্রন্থ 📚👇꧂❀┅••••* 


✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
    *••••┉━❀꧁ 🙏 রাধে রাধে 🙏 ꧂❀━┅••••* 
                   শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য প্রভু নিত্যানন্দ
              হরে কৃষ্ণ হরে রাম শ্রীরাধেগোবিন্দ।।
  *••••┉━❀꧁ 🙏 জয় জগন্নাথ 🙏 ꧂❀━┅••••*
              হরে কৃষ্ণ হরে কৃষ্ণ কৃষ্ণ কৃষ্ণ হরে হরে
              হরে রাম হরে রাম রাম রাম হরে হরে॥
  *••••┉━❀꧁ 🙏 জয় রাধাকান্ত 🙏 ꧂ ❀━┅••••*
   🌷❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀🌷
   🏵️❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀🏵️
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧







শ্রীশ্রীজগন্নাথ ও শ্রীশ্রীগৌরাঙ্গ 🌷 নবম ভাগ 🌻 শ্রীযুক্ত রাজর্ষি গোপালচন্দ্র আচার্য‍্য চৌধুরী প্রণীত ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📝 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/02/jagannath9.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🔙 পূর্ব লীলা 👉 শ্রীশ্রীজগন্নাথ ও শ্রীশ্রীগৌরাঙ্গ 🌷 অষ্টম ভাগ 🌻 শ্রীযুক্ত রাজর্ষি গোপালচন্দ্র আচার্য‍্য চৌধুরী প্রণীত ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📝 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/02/jagannath8.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 শ্রীশ্রীজগন্নাথ ও শ্রীশ্রীগৌরাঙ্গ 🌷 নবম ভাগ 🌻 শ্রীযুক্ত রাজর্ষি গোপালচন্দ্র আচার্য‍্য চৌধুরী প্রণীত ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📝 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/02/jagannath9.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 শ্রীশ্রীজগন্নাথ ও শ্রীশ্রীগৌরাঙ্গ 🌷 নবম ভাগ 🌻 শ্রীযুক্ত রাজর্ষি গোপালচন্দ্র আচার্য‍্য চৌধুরী প্রণীত ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📝 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/02/jagannath9.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(৮১)শ্রীশ্রীজগন্নাথ ও শ্রীশ্রীগৌরাঙ্গ*
           *🔵নীলাচলে মহাপ্রভু🔵*
                *👣গম্ভীরা-লীলা👣* 
                  ▪▪▪▪▪
*🌻যথা রাগ=*
*পট্টবস্ত্র অলঙ্কারে, সমর্পিয়া সখী-করে,*
           *সূক্ষ্ম-শুক্ল-বস্ত্র-পরিধান।*
*কৃষ্ণ লইয়া কান্তাগণ,কৈল জলাবগাহন,*
           *জল-কেলি রচিল সুঠাম।।* *সখী হে,দেখ কৃষ্ণের জল-কেলি রঙ্গে।*
*কৃষ্ণ মত্ত-করিবর,চঞ্চল-কর-পুষ্কর,*
    *গোপীগণ করিণীর সঙ্গে।।*
*আরম্ভিল জলকেলি,অন‍্যান‍্যে জল ফেলাফেলি,*
     *হুড়াহুড়ি বর্ষে জল-ধার।*
*সবে জয় পরাজয়,নাহি কিছু নিশ্চয়,*
        *জলযুদ্ধ বাড়িল অপার।।*
 ☆ ☆ ☆ ☆
*কৃষ্ণ রাধায় লৈয়া বলে,গেলা কন্ঠ-মগ্ন-জলে,*
   *ছাড়িল তাঁহা যাহা অগাধ পাণি।*
*তিঁহ কৃষ্ণ-কন্ঠ ধরি,ভাসে জলের উপরি,*
    *গজোদঘাতে যৈছে কমলিনী।।*
*যত গোপ-সুন্দরী,কৃষ্ণ তত রূপ ধরি,*
       *সবার বস্ত্র করিল হরণ।*
*যমুনা-জল নির্মল,অঙ্গ করে ঝলমল,*
        *সুখে কৃষ্ণ করে দরশন।।*
☆ ☆ ☆ ☆
*পুনরপি কৈল স্নান,শুষ্ক বস্ত্র পরিধান,*
        *রত্ন-মন্দিরে কৈল আগমন।*
*বৃন্দাকৃত সম্ভার,গন্ধপুষ্প অলঙ্কার,*
        *বন‍্যবেশ করিল রচন।।*
*গঙ্গাজল অমৃত কেলি,পীযূষ গ্রন্থি কর্পূর কেলি,*
       *সরপুলি অমৃত পদ্ম চিনি।*
*খন্ড খিরিসা বৃক্ষ,ঘরে করি নানা ভক্ষ‍্য,*
       *রাধা যাহা কৃষ্ণ লাগি আনি।।*
*ভক্ষ‍্যের পরাপাটী দেখি,কৃষ্ণ হৈল মহাসুখী,*
      *বসি কৈল বন‍্য ভোজন।*
*সঙ্গে লঞা সখীগণ,রাধা কৈল ভোজন,*
       *দোঁহে কৈল মন্দিরে শয়ন।।*
*কেহ করে বীজন,কেহ পাদ-সম্বাহন,*
        *কেহ করায় তাম্বুল ভক্ষণ।*
*রাধাকৃষ্ণ নিদ্রা গেলা,সখীগণ শয়ন কৈলা,*
       *দেখি আমার সুখী হৈল মন।।*
*হেনকালে মোরে ধরি,মহা কোলাহল করি,*
       *তুমি সব ইঁহা লঞা আইলা।*
*কাঁহা যমুনা বৃন্দাবন,কাঁহা কৃষ্ণ গোপীগণ,*
       *সে সুখ ভঙ্গ করাইলা।।*
*🌻মহাপ্রভু বিরহের গভীর তরঙ্গে তরঙ্গায়িত হয়ে,কেবল যে বিরহের ভাবেই উচ্ছলিত হতেন,তা নয়,এই বিরহের ভিতরেই আবার কখনও মান, কখনও মাথুর, কখনও পূর্বরাগ, কখনও বা রাস, এইরকম নানা ভাব উপস্থিত হত।এ-পর্যন্ত বিরহ অবস্থায় মহাপ্রভুর যে সমস্ত লীলা হয়েছে, যথা-- রাসস্থলী দর্শন,স্বপ্নে রাধাকৃষ্ণ ও গোপীগণের জলকেলি দর্শন ইত্যাদি-- তা চৈতন‍্যচরিতামৃত হতে উদ্ধৃত করা হয়েছে।এর সমস্তেরই মূল ভাব বিরহ।কৃষ্ণ-দর্শনে এই বিরহের পর্য‍্যবসান (সমাপ্তি) হয়, আবার কৃষ্ণের অদর্শন হয়,আবার বিরহ উপস্থিত হয়। এর ভিতরেই দশ দশার সমস্ত ভাব উপস্থিত হয়।ক্রমাগত এইরকম বিরহের ভাবে জ্বরজ্বর হয়ে, মহাপ্রভুর দেহ ক্ষীণ ও মলিন হতে লাগল।শ্রীমতীর যেমন বিরহেতে "উঠিলে বসতে নারে" এইরকম অবস্থা হয়েছিল ; মহাপ্রভুরও ঠিক সেইরকম অবস্থা হয়েছিল। শ্রীমতীর এই সমস্ত অবস্থা জয়দেব,বিদ‍্যাপতি,চন্ডীদাস প্রণীত গ্রন্থে,কৃষ্ণ-কর্ণামৃত ও অন‍্যান‍্য গ্রন্থে বর্ণিত আছে।স্বরূপদামোদর গাইতেন ও রায় রামানন্দ শ্লোক পাঠ করতেন। চন্ডীদাস ও বিদ‍্যাপতি হতে দুই-চারটি পদের উল্লেখ করছি, তাতে পাঠক বুঝতে পারবেন শ্রীমতীর কি অবস্থা হয়েছিল। মহাপ্রভুও শ্রীমতীরাধারাণীর ভাবে বিভাবিত হয়ে এই সমস্ত দশা প্রাপ্ত হতেন।*
*🙏বিদ‍্যাপতির পদ===*
   *কতদিন মাধব রহব মথুরাপুর,*
         *কবে ঘুচব বিহি বাম।*
*দিবস লিখি লিখি,নখর খোয়াইনু,*
        *বিছুরল গোকুল নাম।*
   *হরি হরি কাহে কহব এ সংবাদ।*
           *সোঙরি সোঙরি উহু,*
           *ক্ষীণ ভেল মঝু দেহ,*
     *জীবনে আছয়ে কিবা সাধ।*
   *পূরব পিয়ারী নারী হাম আছনু,*
            *অব দরশন হুঁ সন্দেহ।*
*ভ্রমর ভ্রমরী ভ্রমি,সবহুঁ কুসুমে রমি,*
        *না তেজই কমলিনী লেহ।*
*আশা নিগড় করি,জীউ কত রাখব,*
     *অবহি যে করত পরাণ।*
*বিদ‍্যাপতি কহ, আশাহীন নহ,*
        *আওব সে বর কান।।*
▪▪▪▪▪▪▪▪▪▪▪
   *সজনি কো কহু আওব মাধাই।*
*বিরহ-পয়োধি-পার কিয়ে পাওব,*
      *মধু-বনে নাহি পাতিয়াই।*
*এখন তখন করি,দিবস গোঙায়নু,*
         *ছোড়নু জীবক আশা।*
*বরিখ বরিখ করি,সময় গোঙায়নু,*
      *খোয়নু এ তনুক আশে।*
*হিমকর-কিরণে, নলিনী যদি জারব,*
        *কি করবি মাধব-মাসে।।*
*অঙ্কুর তপন, তাপে যদি জারব,*
       *কি করব বারিদ মেহে।*
*ইহ নব যৌবন, বিরহে গোঙাইব,*
     *কি করব সো-পিয়া লেহে।।*
*ভণয়ে বিদ‍্যাপতি, শুন বর যুবতি,*
      *অব নাহি হোত নিরাশ।*
*সো ব্রজ-নন্দন, হৃদয়-আনন্দন,*
       *ঝটিতি মিলব তুয়া পাশ।।*
*🌹এইরকমে বিরহের ভাবে শ্রীমতীর দেহ ক্ষীণ হয়েছে, এবং জীবনের আশায় নিরাশা এসেছে।মহাপ্রভুরও এই দশাই হয়েছিল। তিনিও নখে লিখতেন।*
*🌷ভূমির উপরে বসি নিজ নখে ভূমি লিখে।*
*🌷অশ্রু-গঙ্গা নেত্রে বহে কিছু নাহি দেখে।।*
                       *(শ্রীচৈঃচঃ)*
             *ক্রমাগত*
🤣🤣🤣🤣🤣🤣🤣🤣🤣🤣🤣🤣🤣
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 শ্রীশ্রীজগন্নাথ ও শ্রীশ্রীগৌরাঙ্গ 🌷 নবম ভাগ 🌻 শ্রীযুক্ত রাজর্ষি গোপালচন্দ্র আচার্য‍্য চৌধুরী প্রণীত ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📝 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/02/jagannath9.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(৮২)শ্রীশ্রীজগন্নাথ ও শ্রীশ্রীগৌরাঙ্গ*
           *🍀নীলাচলে মহাপ্রভু🍀*
             *▪গম্ভীরা লীলা▪*
               ▪▪▪▪▪▪
*🍀আর একটি পদ উদ্ধৃত করছি=*
*🌷কে মোরে মিলাইয়া দিবে সে চাঁদ বয়ান ;*
*🌷আঁখি তিরপিত হবে জুড়াবে পরাণ।*
*🌷কে মোরে মিলাইয়া দিবে নন্দসুত কান ;*
*🌷 রতন ভূষণ দিব বাটিয়া পরাণ।*
*🌷আমি উঠি বসি করি কত পোহাইনু রাতি।*
*🌷হিয়া মোর নাহি ফাটে নিলাজ স্ত্রী-জাতি।*
*🌷কেহ ত বলেনা মোরে ঘরে এল পিয়া।*
*🌷কত আর রাখিব প্রাণ আশায় বাঁধিয়া।।*
*🌻ভাটিয়ারি সুরে নৌকার মাঝিরা সচরাচর যে সমস্ত গান করে থাকে,তাদের মধ্যে অনেকগুলি অত‍্যন্ত স্বাভাবিক এবং অতি গভীর-ভাবব‍্যঞ্জক। তার মধ্যে একটি নিচে উদ্ধৃত করছি।*
*🌷ও বিশাখে শ‍্যামকে দেখা প্রাণ যাবার কালে।*
*🌷বুঝি কৃষ্ণ বিনে প্রাণ মোর যায় গো সই।*
*তোমরা মোর প্রিয় সখী,বসে আছ অষ্টসখী (গো),*
 *তোদের কাছে মোর মনের কথা কই গো সই।*
*হস্ত দিয়ে দেখ বুকে,প্রাণ আছে কেমন সুখে (গো),*
*কুমারের প'ণের মত জ্বলছে দিবানিশি গো সই।*
*আমি কেন একা যাব,কৃষ্ণকে যে সঙ্গে নিব (গো),*
  *বড় যতন করে রতন পেয়েছি গো সই।*
*আমার প্রাণ অন্ত হলে,না পোড়াইও দাবানলে,*
*আমার এ দেহ বেঁধে রেখ, তাউর-তমাল-ডালে গো সই।*
*🌻রায়-রামানন্দ কোন শ্লোক পড়তেন এবং স্বরূপদামোদর কোন গান গাইতেন,তার স্থিরতা নাই।মহাপ্রভুর যখন যে ভাব হ'ত,সেই ভাবের অনুকূল যে গান,তাইই গাইতেন।মহাপ্রভু এই সময়ে বিরহের ভাব-তরঙ্গে ভাসছেন,আমরাও সেই জন্য বিরহ-ভাবাত্মক যে সব গান তাইই উদ্ধৃত করলাম।এই গান দ্বারা মহাপ্রভুর প্রাণের অবস্থা এবং ভাবের অবস্থা পাঠকের হৃদয়ে অঙ্কিত করে দেওয়ায় প্রধান উদ্দেশ্য।তারজন‍্য কৃষ্ণ-কর্ণামৃতে বিল্বমঙ্গল কৃত একটি স্তব উদ্ধৃত হ'ল।*
*🌷হে দেব হে দয়িত হে ভুবনৈকবন্ধো,*
*🌷হে কৃষ্ণ হে চপল হে করুণৈক-সিন্ধো।*
*🌷হে নাথ হে রমণ হে নয়নাভিরাম,*
*🌷হা হা কদা নু ভবিতাসি পদং দৃশোর্ম্মে।।*
*উন্মাদের লক্ষণ, করায় কৃষ্ণ-স্ফুরণ,*
          *ভাবাবেশে উঠে প্রণয় মান।*
*সোল্লুন্ঠ বচন-রীতি,মান গর্ব ব‍্যাজ স্তুতি,*
          *কভু নিন্দা কভু ত সম্মান।।*
☆ ☆ ☆ ☆
*তোমার চপল মতি,না হয় একত্র স্থিতি,*
    *তাতে তোমার নাহি কিছু দোষ।*
*তুমি ত করুণাসিন্ধু,আমার প্রাণের বন্ধু,*
       *তোমায় মোর নাহি কভু রোষ।।*
*তুমি নাথ ব্রজপ্রাণ,ব্রজের কর পরিত্রাণ,*
      *বহু কার্য‍্যে নাহি অবকাশ।*
*তুমি আমার রমণ,সুখ দিতে আগমন,*
       *এ তোমার বৈদগ্ধ‍্য-বিলাস।।*
*মোরবাক‍্য নিন্দা মানি,কৃষ্ণ ছেড়ে গেল জানি,*
      *শুন মোর এ স্তুতি-বচন।*
*নয়নের অভিরাম,তুমি মোর ধনপ্রাণ,*
        *হা হা পুন দেহ দরশন।।*
*স্তম্ভ কম্প প্রস্বেদ,বৈবর্ণ‍্য অশ্রু স্বরভেদ,*
        *দেহ হইল পুলকে ব‍্যাপিত।*
*হাসে কাঁদে নাচে গায়,উঠি ইতি উতি ধায়,*
         *ক্ষণে ভূমে পড়িয়া মূর্ছিত।।*
*মূর্ছায় হইল সাক্ষাৎকার,উঠি করে হুহুঙ্কার,*
       *কহে এই আইলা মহাশয়।*
*কৃষ্ণের মাধুরী গুণে,নানা ভ্রম হয় মনে,*
       *শ্লোক পড়ি করায় নিশ্চয়।।*
*🌻"হে দেব,হে দয়িত" ইত্যাদি বিল্বমঙ্গলের এই স্তোত্র দ্বারা শ্রীমতীর উন্মাদের লক্ষণ বর্ণনা করে,কৃষ্ণ ভাবাবেশে সময়ে সময়ে তাঁর উপর প্রণয়-মানের সঞ্চার হচ্ছে।মানগর্ভ ব‍্যাজ-স্তুতি(ছলকপট-স্তুতি) দ্বারা,কভু নিন্দা,কভু সম্মান দেখান হচ্ছে।পরবর্তী কবিতা দ্বারা পূর্ব শ্লোকের ভাবের ব‍্যাখ‍্যা করা হয়েছে।মহাপ্রভুর দিব‍্যোন্মাদের অবস্থায়,এক সময়ে নানা ভাবের প্রকাশ পেত তাইই দেখাচ্ছেন=*
*ঔৎসুক‍্য চাপল‍্য দৈন‍্য,রোষামর্ষ আদি সৈন‍্য,*
        *প্রেমোন্মাদ সবার কারণ।*
*মত্তগজ ভাবগণ,প্রভুর দেহ ইক্ষুবন,*
       *গজযুদ্ধ বনের দলন।।*
*প্রভুর হইল দিব‍্যোন্মাদ,তনু মনের অবসাদ,*
        *ভাবাবেশে করে সম্বোধন।।*
*🌻মহাপ্রভু বিরহের অবস্থায় চন্ডীদাসের গান শুনতে ভালবাসতেন।তারই দুই একটি উদ্ধৃত করছি=*
*🌷বিরহ-কাতরা,বিনোদিনী রাই,*
           *পরাণে বাঁচে না বাঁচে।*
*🌷নিদান দেখিয়া,আসিনু হেথায়,*
        *কহিনু তোহারি কাছে।।*
     *যদি দেখিবে তোমার প‍্যারী।*
*চল এইক্ষণে, রাধার শপথ,*
        *আর না করিও দেরী।।*  
*কালিন্দী-পুলিনে,কমলের শেজে,*
        *রাখিয়া রাইয়ের দেহ।*
*কোন সখী অঙ্গে,লিখে শ‍্যাম নাম,*
          *নিশ্বাস হেরয়ে কেহ।।*
*কেহ কহে তোর, বঁধূয়া আসিল,*
        *সে কথা শুনিয়া কানে।*
*মেলিয়া নয়ন, চৌদিকে নেহারে,*
    *দেখিয়া না সহে প্রাণে।।*
*যখন হইনু, যমুনা পার,*
     *দেখিনু সখীরা মেলি।*
*যমুনার জলে, রাখে অন্তর্জ্জলে,*
        *রাই দেহ হরি বলি।।*
*দেখিতে যদ‍্যপি, সাধ থাকে তব,*
          *ঝাঁট্ চল ব্রজে যাই।*
*বলে চন্ডীদাসে, বিলম্ব হইলে,*
     *আর না দেখিবে রাই।।*
*🌻শ্রীমতীর এই অবস্থা চন্ডীদাসের গানের দ্বারা বর্ণনা করে,শ্রীশ্রীমহাপ্রভুর কি অবস্থা হয়েছিল,তাইই বর্ণনা করা হ'ল। ইতিপূর্বে "ও বিশাখে" ইত্যাদি যে গানটি লিখিত হয়েছে,তা দ্বারা বিরহে যে,কি তীব্র যাতনা প্রকাশ পাচ্ছে, বিরহে যে মৃত‍্যু পর্যন্ত হতে পারে,তাওও দেখান হল।গানটি গ্রাম‍্য ভাষায় লিখিত হলেও ভাবে মুগ্ধ হতে হয়। পাঠক,রাধার এবং ভাবনিধি গৌরহরির ভাবব‍্যঞ্জক আরও কয়েকটি গান শুনুন।*
      *🌷বঁধূ,কি আর বলিব আমি।*
*জীবনে মরণে, জনমে জনমে,*
         *প্রাণপতি হইও তুমি।।*
*তোমার চরণে, আমার পরাণে,*
         *বাঁধিনু প্রেমের ফাঁসি।*
*সব সমর্পিয়া, একমন হইয়া,*
        *নিশ্চয় হইলাম দাসী।।*
*ভাবিয়া দেখিনু, এ তিন ভুবনে,*
        *আর মোর কেহ আছে?*
*রাধা বলি কেহ, সুধাইতে নাই,*
         *দাঁড়াব কাহার কাছে।।*
*এ কুলে ও কুলে, দুকুলে গোকুলে,*
          *আপনা বলিব কায়?*
*শীতল বলিয়া, শরণ লইনু,*
          *ও দুটী কমল পায়।।*
*না ঠেলহ ছলে, অবলা অখলে,*
           *যে হয় উচিত তোর।*
*ভাবিয়া দেখিনু, প্রাণনাথ বিনে,*
       *গতি যে নাহিক মোর।।*
*আঁখির নিমিখে, যদি নাহি দেখি,*
           *তরাসে পরাণে মরি।*
*চন্ডীদাস কহে, পরশ রতন,*
       *গলায় গাঁথিয়া পরি।।*
                  *ক্রমাগত*
🔻🔺🔻🔺🔻🔺🔻🔺🔻🔺🔻🔺🔻
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 শ্রীশ্রীজগন্নাথ ও শ্রীশ্রীগৌরাঙ্গ 🌷 নবম ভাগ 🌻 শ্রীযুক্ত রাজর্ষি গোপালচন্দ্র আচার্য‍্য চৌধুরী প্রণীত ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📝 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/02/jagannath9.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(৮৩)শ্রীশ্রীজগন্নাথ ও শ্রীশ্রীগৌরাঙ্গ*
            *🌲নীলাচলে মহাপ্রভু🌲*
                *🌼গম্ভীরা-লীলা🌼*
                  ******************
*🌻শ্রীধাম ব্রজবৃন্দাবনে শ্রীমতী রাধারাণীর যে-ভাব হয়েছিল, শ্রীমন্মহাপ্রভুর গম্ভীরাতে সেই ভাব প্রকটন করেছেন। শ্রীচন্ডীদাসের পদটি শুনুন=*
   *সখী হে ফিরিয়া আপন ঘরে যাও।*
*জীয়ন্তে মরিয়া যেই,আপনারে খাইয়াছে,*
        *তারে তুমি কি আর সুধাও।।*
*নয়ন-পুতলী করি,লইনু মোহন রূপ,*
       *হিয়ার মাঝারে করি প্রাণ।*
*পিরীতি-আগুন জ্বালি,সকলি পোড়ায়েছি,*
       *জাতি কুল শীল অভিমান।।*
*না জানিয়া মূঢ় লোকে,কত কিনা বলে মোকে,*
       *না করিয়া শ্রবণ-গোচরে।*
*স্রোতের বিথার জলে,এ তনু ভাসাইনু,*
     *কি করিবে কুলের কুক্কুরে।।*
*খাইতে শুইতে রইতে,আন নাহি লয় চিতে,*
      *কানু বিনে আন নাহি ভায়।*
*মুরারি গুপত কহে,পিরীতি এমতি হলে,*
       *তার গুণ তিন লোকে গায়।।*
                *চন্ডীদাসের পদ*
                 ◆◆◆◆◆◆◆
*শ‍্যামসুন্দর, স্মরণ আমার,*
        *শ‍্যাম শ‍্যাম সদা সার।*
*শ‍্যাম সে জীবন, শ‍্যাম প্রাণ ধন,*
        *শ‍্যাম সে গলার হার।।*
*শ‍্যাম সে বেশর,শ‍্যাম বেশ মোর,*
        *শ‍্যাম শাড়ী পরি সদা।*
*শ‍্যাম তনু মন, ভজন পূজন,*
        *শ‍্যাম দাসী হলো রাধা।।*
*শ‍্যাম ধন বল, শ‍্যাম জাতি কুল,*
       *শ‍্যাম সে সুখের নিধি।*
*শ‍্যাম হেন ধন, অমূল‍্য রতন,*
          *ভাগ‍্যে মিলাইল বিধি।।*
*কোকিল ভ্রমর, করে পঞ্চস্বর,*
        *বঁধূয়া পেয়েছি কোলে।*
*হিয়ার মাঝারে, রাখিহ শ‍্যামেরে,*
         *দ্বিজ চন্ডীদাসে বলে।।*
🌹🌹🌹🌹🌹🌹🌹🌹🌹🌹🌹🌹
         *তুমি সে আমার প্রাণ!*
*দেহ মন আদি, তোহারে সঁপেছি,*
         *কুল শীল জাতি মান।।*
*অখিলের নাথ, তুমি হে কালিয়া,*
         *যোগীর আরাধ‍্য ধন।*
*গোপ গোয়ালানী,হাম অতি হীনা,*
       *না জানি ভজন পূজন।।*
*পিরীতি-রসেতে, ঢালি তনু মন,*
       *দিয়াছি তোমার পায়।*
*তুমি মোর পতি,তুমি মোর গতি,*
        *মন নাহি আন ভায়।।*
*কলঙ্কী বলিয়া, ডাকে সব লোকে,*
       *তাহাতে নাহিক দুঃখ।*
*তোমার লাগিয়া, কলঙ্কের হার,*
       *গলায় পরিতে সুখ।।*
*সতী বা অসতী, তোমাতে বিদিত,*
        *ভাল মন্দ নাহি জানি।*
*কহে চন্ডীদাস, পাপপুণ‍্য সম,*
        *তোহারি চরণ খানি।।*
🦚🦚🦚🦚🦚🦚🦚🦚🦚🦚
*পিরীতি নগরে, বসতি করিব,*
        *পিরীতে বাঁধিব ঘর।*
*পিরীতি দেখিয়া, পড়শী করিব,*
        *তা বিনে সকলে পর।।*
*পিরীতি দ্বারের, কবাট করিব,*
         *পিরীতে বাঁধিব চাল।*
*পিরীতে মজিয়া, সদাই থাকিব,*
         *পিরীতে গোঙাব কাল।।*
*পিরীতি পালঙ্কে, শয়ন করিব,*
         *পিরীতি শিথান মাথে।*
*পিরীতি বালিশে,আলিস ত‍্যজিব,*
        *থাকিব পিরীতি সাথে।।*
*পিরীতি সরসে, সিনান করিব,*
         *পিরীতি-অঞ্জন লব।*
*পিরীতি ধরম, পিরীতি করম,*
         *পিরীতে পরাণ দিব।।*
*পিরীতি নাসার, বেশর করিব,*
        *দুলিবে নয়ন কোণে।*
*পিরীতি অঞ্জন, লোচনে পরিব,*
       *দ্বিজ চন্ডীদাস ভণে।।*
🦜🦜🦜🦜🦜🦜🦜🦜🦜🦜
*কাল জল ঢালিতে সই কালা পড়ে মনে।*
 *নিরবধি দেখি কালা শয়নে স্বপনে।।*
*কাল কেশ এলাইয়া বেশ নাহি করি।*
*কাল অঞ্জন আমি নয়ানে না পরি।।*
**আলো সই মুঞি শুনিলাম নিদান।*
*বিনোদ বঁধূয়া বিনে না রহে পরাণ।।*
 *মনের দুঃখের কথা মনে সে রহিল।*
*কুটিল সে শ‍্যামশেল বাহির নহিল।।*
  *চন্ডীদাস কহে রূপ শেলের সমান।*
 *নাহি বাহিরায় শেল দগধে পরাণ।।*
*🌻উপরে চন্ডীদাসের যে সমস্ত পদাবলী উদ্ধত করা হল,তাতে পাঠক বুঝতে পারবেন যে, শ্রীগৌরাঙ্গসুন্দর ও শ্রীমতীর ভাব একইরকম।শ্রীমতী রাধিকার যে দশটি ভাব হয়েছিল, শ্রীমন্মহাপ্রভুরও সেই সমস্ত ভাব হয়েছিল।স্বর্গীয় কৃষ্ণকমল গোস্বামী মহাশয়ও,মহাপ্রভুর ও শ্রীমতীরাধারাণীর ভাবের সাম‍্য দেখাবার জন্য দিব‍্যোন্মাদ ভাব বর্ণন করেছেন।তাঁর রচিত কয়েকটি গান উদ্ধৃত করা গেল =*
▪▪▪▪▪▪▪▪▪▪
*এখন আমার বেঁচে আর ফল কি বল,সজনি!*
*আমার বিচ্ছেদ জ্বালায়, প্রাণ জ্বালায়,*
 *কিবা দিবা কি রজনী, গো সজনি!*
*কৃষ্ণ-শূন‍্য বৃন্দারণ‍্য,জীবন হ'লো প্রেমশূন‍্য,*
        *আমার যথা গৃহ তথারণ‍্য,*
*মরিলে বাঁচি এখনি---গো সজনি!*
                *ক্রমাগত*
🌻🌻🌻🌻🌻🌻🌹🌻🌻🌻🌻🌻🌻
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 শ্রীশ্রীজগন্নাথ ও শ্রীশ্রীগৌরাঙ্গ 🌷 নবম ভাগ 🌻 শ্রীযুক্ত রাজর্ষি গোপালচন্দ্র আচার্য‍্য চৌধুরী প্রণীত ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📝 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/02/jagannath9.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(৮৪)শ্রীশ্রীজগন্নাথ ও শ্রীশ্রীগৌরাঙ্গ*
           *🔺নীলাচলে মহাপ্রভু🔺*
               *🌹গম্ভীরা-লীলা🌹*
                  ~~~~~~~~~~
*🍀শ্রীকৃষ্ণ যে চিন্তাধারা নিয়ে শ্রীগৌরাঙ্গ হয়ে অবতীর্ণ হয়েছিলেন, তা গম্ভীরায় পরিপূর্ণ করেছিলেন। ব্রজে শ্রীমতী যে ভাব নিয়ে শ্রীকৃষ্ণের সেবা করেছিলেন, তা শ্রীমন্মহাপ্রভু প্রকট করেছেন।*
▪▪▪▪▪▪▪▪▪▪
*সখি,আমি এই ব্রজমাঝে রমণী সমাজে,*
  *ছিলাম শ‍্যাম-গরবিনী গো, সজনি ;*
*হলো দারুণ বিধি বাম,হারাইলাম শ‍্যাম,*
     *হ'লাম প্রেম-কাঙ্গালিনী গো,সজনি।*
*সখি গরল খাইয়ে মরি,কিংবা বিষধর ধরি,*
   *নইলে অনলে প্রবেশ করি,*
   *ত‍্যজিব জীবন এখনি,সজনি।*
*যখন বিরলে বসিয়ে নয়ন মুদে দেখি,*
   *তখন যেন প্রাণ-সই গো।*
*ও সে নটবর বেশে দাঁড়ায় এসে দেখি।*
*দিয়ে গলে পীতাম্বর,বলে পীতাম্বর রাধে বিধুমুখী!*
  *একবার বদন তুলে নয়ন মেলে দেখ দেখি।*
*অমনি দেখি বলে যদি আঁখি মেলে দেখি।*
*দেখি দেখি করি পুনঃ নাহি দেখি,*
*না দেখিলে দেখি দেখিলে না দেখি,*
    *একি দেখি বল দেখি!*
*🌻শ্রীমন্মহাপ্রভুরই মত কৃষ্ণকমল গোস্বামীর রাধা,এই বলে পাগলিনীর মত ধাবিতা হয়ে,অতি করুণ-স্বরে বিলাপ করতে লাগলেন।*
*কোথা রইলে প্রাণনাথ ওহে নিঠুর মুরলী-বদন।*
*দেখা দিয়ে প্রাণ রাখ ওহে নিঠুর মুরলী-বদন।।*
*🌻মহাপ্রভুও শ্রীকৃষ্ণ অন্বেষণে বাহ‍্যজ্ঞানশূন‍্য-- দিগ্ বিদিক জ্ঞান নেই। স্বরূপদামোদর,রামানন্দ প্রভৃতি ভক্তবৃন্দ তাঁকে রক্ষণাবেক্ষণ ও সান্ত্বনা করেছেন--এই চিত্র গোস্বামী মহাশয়ের "রাই উন্মাদিনী" তে রাধা চরিত্রে অতি পরিস্ফুট হয়েছে।প্রেমোন্মাদিনী শ্রীমতী কৃষ্ণ অন্বেষণে দিশাহারা হয়ে গমন করছেন=*
*🌹আর ললিতা বলতে লাগলেন--*
  *ধীরে ধীরে চল্ গজগামিনী।*
*অমন করে যাসনে্ যাসনে্ যাসনে্ গো ধনি।*
*(তোরে বারে বারে বারণ করি রাই)*
*(ধীরে ধীরেচল গজগামিনী)*
*একে বিষাদে তোর কৃশ তনু,*
*মরি মরি হাঁটিতে কাঁপিছে জানু (গো),*
*তুই কি আগে গেলে কৃষ্ণ পাবি।*
        *(চঞ্চলা হইলি কেন?)*
*না জানি কোন গহন বনে প্রাণ হারাবি।।*
    *কত কন্টক আছে গো বনে,*
   *ও রাই ফুটিবে দুটি চরণে!*
   *কত বিজাতি ভুজঙ্গ আছে,*
*ও তোর কমল-পদে দংশে পাছে (গো)*
         *গহন-কানন-মাঝে।*
  *হল নয়ন-ধারায় পিছল পথ,*
     *(আর কাঁদিসনে গো,বিনোদিনী)*
*বলি যাসনে্ রাধে এত দ্রুত (গো)*
*মোদের কাঁধে দুটি বাহু থুয়ে ;*
*কমলিনী চল গো পথ নিরখিয়ে।*
   *(আমরা তো তোর সঙ্গে যাব)*
*🌻গোস্বামী মহাশয়ের আর একটি গান উদ্ধৃত করা হল।এতে মেঘ দেখে শ্রীমতীর কৃষ্ণভ্রম বর্ণিত হয়েছে।*
*কি ভাবিয়া মনে,দাঁড়ায়ে ওখানে (এস হে)*
  *একবার নিকুঞ্জ-কাননে কর পদার্পণ।*
*একবার আসিয়ে সমক্ষে,দেখিলে সচক্ষে,*
  *জানবে সবে কত দুঃখে রক্ষে করেছি জীবন।*
☆               ☆               ☆               ☆              ☆
    *ভাল ভার বঁধূ ভালত আছিলে,*
   *ভাল ভাল সময় আসি দেখা দিলে ;*
*আর ক্ষণেক পরে দেখা দিলে সখা দেখা হত না।*
*তোমার বিরহে সবার হ'ত যে মরণ।*
*আমার মত তোমার অনেক রমণী,*
*তোমার মত আমার তুমিই গুণমণি ;*
*যেমন দিনমণির কত কমলিনী,*
*কিন্তু কমলিনীগণের একই দিনমণি।*
*🌻শ্রীমতীর প্রার্থনায় মেঘ কাছে আসবার নয়--মেঘ চলতে লাগল ; শ্রীমতী কৃষ্ণভ্রমে তাকে ব‍্যাকুল ভাবে বলতে লাগলেন---*
*ওহে তিলেক দাঁড়াও দাঁড়াও হে,*
*অমন করে যাওয়া উচিত নয়।*
      *দাঁড়াও হে দুঃখিনীর বঁধূ--*
      *ওহে যে যার শরণ লয়---*
*নিঠুর বঁধূ,বল তারে কি বধিতে হয়।*
*🌻মহাপ্রভুর ভাবের অবধি নাই। বিরহের পর মূর্ছা হত ; তার পর কৃষ্ণদর্শন। যখন তাঁর কৃষ্ণ দর্শন করে তৃপ্তি-লাভ না হত,তখন বিধিকে নিন্দা করতেন। যথা চৈতন‍্যচরিতামৃতে=*
*🌷এ মাধুর্য‍্যামৃত সদা যেই পান করে।*
*🌷তৃষ্ণা শান্তি নহে,তৃষ্ণা বাড়ে নিরন্তরে।।*
*🌷অতৃপ্ত হইয়া করে বিধির নিন্দন।*
*🌷অবিদগ্ধ বিধি ভাল না জানে সৃজন।।*
*🌷কোটি নেত্র নাহি দিল সবে দিল দুই।*
*🌷তাহাতে নিমেষ!কৃষ্ণ কি দেখিব মুঞি।।*
*💧কৃষ্ণকমল গোস্বামীরও রচিত এই ভাবের একটি গান আছে, যথা=*
*কি হেরিব শ‍্যাম,      রূপ নিরুপম,*
      *নয়ন তো মম মনোমত নয়।*
*যখন নয়নে নয়ন,      মন সহ মন,*
         *হ'তেছিল সম্মিলন---*
*নয়ন পলক দিল হেন সুখের সময়*।
*শ‍্যাম দরশনে আমার ত্রিবিধ বৈরি*।
*বল কেমনে ওরূপ নয়ন-ভরে হেরি।*
*ঘরে গুরু লোক,      নয়ন-পলক,*
    *আমার মুখেতে উপজে শোক।*
*তাহে আনন্দ মদন দুই দুরাশয়।*
*সখি যে হেরিবে কৃষ্ণানন,*
 *তারে কোটি নেত্র না দেয় কেন।*
    *যদি ছিল বা দুইটি নয়ন,*
    *তাহে কৈল পক্ষ আচ্ছাদন।*
    *(বিধি সৃজন জানে না--)*
*সখি কি তপ করিয়া মীন।*
*পেল দুইটি চক্ষু পক্ষ্ম-হীন।।*
*আমি সেই তপ করি,*
*মীনের মত নেত্র ধরি,*
*হেরি হরি পরাণ ভরিয়া।*
*দিল পক্ষ্ম তাহে নাহি ছিল ক্ষতি।*
*যদি দিত আঁখির উড়িতে শকতি*।।
*তবে চকোরের মত,সে লাবণ‍্যামৃত,*
    *আঁখি উড়ি উড়ি পান করিত।*
*তবে পিয়াসা মিটিত,হেন মনে লয়।*
*🍀তুন্ডে তান্ডবিনী রতিং বিতনুতে তুন্ডাবলী-লব্ধয়ে,*
*🍀কর্ণক্রোড়-করম্বিনী ঘটয়তে কর্ণার্ব্বুদেভ‍্যঃ স্পৃহাং।*
*🍀চেতঃপ্রাঙ্গণ-সঙ্গিনী বিজয়তে সর্বেন্দ্রিয়াণাম্ কৃতিম্,*
*🍀নো জানে জনিতা কিয়দ্ভিরমৃতৈঃ কৃষ্ণেতি বর্ণদ্বয়ী।।*
*🌻এই শ্লোকের দ্বারাও বিধিকে নিন্দা করা হচ্ছে।এমন অমৃতময় নাম জপবার জন্য,বিধি একটি মাত্র জিহ্বা দিয়েছেন।এই নাম জপ করবার জন্য অসংখ্য রসনা না হলে স্পৃহার নিবৃত্তি হয় না বা বাসনা পূরণ হয় না।বিধি দুইটি মাত্র কান দিয়েছেন,তাতে শ্রবণ-পিপাসা নিবৃত্ত হয় না ; অর্ব্বুদ কান কেন হল না, এই বলে দুঃখ প্রকাশ করা হয়েছে। কৃষ্ণকমল গোস্বামীর গানের দ্বারাও সেই ভাবেই বিধিকে নিন্দা করা হয়েছে।বাস্তবিক এই ভাব ব‍্যক্ত করবার জন্য কোনও ভাষা নাই ; কোনও ইন্দ্রিয় নাই। যখন একটি ইন্দ্রিয়,কোনও গভীর ভাব ব‍্যক্ত করতে চেষ্টা করে,আর সেই ইন্দ্রিয়ের শক্তিতে কুলায় না,তখনই এইরকম মনে হয় যে,হাজার জিহ্বা ইত্যাদি হলে,এই ভাব ব‍্যক্ত করা যেত।*
                     *ক্রমাগত*
🦚🦚🦚🦚🦚🦚🙏🦚🦚🦚🦚🦚🦚
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 শ্রীশ্রীজগন্নাথ ও শ্রীশ্রীগৌরাঙ্গ 🌷 নবম ভাগ 🌻 শ্রীযুক্ত রাজর্ষি গোপালচন্দ্র আচার্য‍্য চৌধুরী প্রণীত ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📝 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/02/jagannath9.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(৮৫)শ্রীশ্রীজগন্নাথ ও শ্রীশ্রীগৌরাঙ্গ*
         *💐নীলাচলে মহাপ্রভু💐*
             *💐গম্ভীরা-লীলা💐*
           💐💐💐💐💐💐💐
*🌹শ্রীমন্মহাপ্রভুর ভাবের অবধি নেই।দ্বাদশ বৎসর ব‍্যাপী কত ভাবেই যে,মহাপ্রভু প্রেমের বিকার প্রকাশ করেছেন,তা লিখে শেষ করা যায় না।বিরহই তার কেন্দ্রস্থল,সেখান হতেই সমস্ত ভাবের উদয় হয়েছে।এই ভাব প্রকাশ করবার জন্য,বিদ‍্যাপতি ও জয়দেব গোস্বামী হতে কিছু উদ্ধৃত করছি।*
*🌷মাধব পেখনু সে ধনি রাই।*
*🌷চিত-পুতলী জনু এক দিঠে চাই।।*
*🌷বেঢ়ল সকল সখী চৌপাশা।*
*🌷অতি ক্ষীণ শ্বাস বহত তহ নাসা।।*
*🌷অতি ক্ষীণ তনু জনু কাঞ্চন রেহা।*
*🌷হেরইতে কোই না ধন নিজ দেহা।।*
*🌷কঙ্কণ বলিয়া গলিত দুই হাত।*
*🌷খুলল কবরী না সম্বরী মাথ।।*
*🌷চেতন মূরছন বুঝই না পারি।*
*🌷অনুক্ষণ ঘোর বিরহ-জ্বর জারি।।*
*🌷বিদ‍্যাপতি কহে নিরদয় দেহ।*
*🌷তেজল অব জগজন-অনুলেহ।।*
🔺🔺🔺🔺🔺🔺🔺🔺🔺🔺🔺
     *মাধব কত পরবোধব রাধা।*
*হা হরি হা হরি,কহত হি বেরি বেরি,*
       *অব জীউ করব সমাধা।।*
*ধরণী ধরিয়া ধনি,যতন হি বৈঠত,*
      *পুনহি উঠই নাহি পারা।*
*সহজহি বিরহিনী, জগমাহা তাপিনী,*
     *বৈরি মদন-শর বিরহা।।*
*অরুণ-নয়ান-লোরে,তিতল কলেবরে,*
      *বিলোলিত দীঘল কেশা।*
*মন্দির বাহির, করইতে সংশয়,*
      *সহচরিগণ তহি শেষা।।*
*কি কহব খেদ, ভেদ জনু অন্তর,*
       *ঘন ঘন উতপত শ্বাস।*
*ভণয়ে বিদ‍্যাপতি,সোই কলাবতী,*
       *জীবন বন্ধন আশ পাশ।।*
*ভাব-সম্মিলনে আনন্দ হয়েছে,সাময়িক বিরহে নিবৃত্তি হয়েছে, তাই বিদ‍্যাপতি প্রকাশ করেছেন=*
*🌷কি কহব রে আনন্দ ওর।*
*🌷 চিরদিনে মাধব মন্দিরে মোর।।*
*🌷পাপ সুধাকর যত দুঃখ দেল।*
*🌷পিয়া-মুখ-দরশনে তত সুখ ভেল।।*
*🌷আঁচর ভরিয়া যদি মহানিধি পাই।*
*🌷তব হাম পিয়া দূরদেশে না পাঠাই।।*
*🌷শীতের ওঢ়নী পিয়া গিরীষের বা,।*
*🌷বরিষার ছত্র পিয়া দরিয়ার না,।*
*🌷 ভণয়ে বিদ‍্যাপতি শুন বরনারি।*
*🌷 সুজনক দুঃখ দিবস দুই চারি।।*
          *জয়দেব গোস্বামী*
       ▪▪▪▪▪▪▪
*পশ‍্যতি দিশি দিশি রহসি ভবন্তম্,*
*ত্বদধর-মধুর-মধুনি পিবন্তম্।*
*নাথ হরে সীদতি রাধা বাস-গৃহে।*
*ত্বদভিসরণ-রভসেন স্খলন্তী,*
*পততি পদানি কিয়ন্তি চলন্তী।*
*বিহিত-বিশদ-বিস-কিশলয়-বলয়া,*
*জীবতি পরমিহ তব রতি-কলয়া।*
*মুহুরবলোকিত-মন্ডন লীলা,*
*মধুরিপুরহমিতি ভাবন-শীলা।*
*ত্ত্বরিতমুপৈতি ন কথমভিসারম্,*
*হরিরিতি বদতি সখীমনুবারম্।*
*শ্লিষ‍্যতি চুম্বতি জলধর-কল্পম্,*
*হরিরুপগত ইতি তিমিরমনল্পম্।*
*ভবতি বিলম্বিনি বিগলিত-লজ্জা,*
*বিলপতি রোদিতি বাসক-সজ্জা।*
*শ্রীজয়দেব-কবেরিদ-মুদিতম্,*
*রসিকজনং তনুতামতি মুদিতম্।*

*এবং ব্রতঃ স্থপ্রিয়-নামকীর্ত্ত‍্যা,*
*জাতানুরাগো দ্রুতচিত্ত উচ্চৈঃ।*
*হসত‍্যথো রোদিতি রৌতি গায়-*
*ত‍্যুন্মাদবন্নৃ ত‍্যতি লোক-বাহ‍্যঃ।।*
*🌻এই মহাভাবের লক্ষণ শ্রীমতীরাধারাণীর যেরকম হয়েছিল, শ্রীমন্মহাপ্রভুরও সেইরকম হত।মহাপ্রভু কখনও ভক্তের ভাব অঙ্গীকার করে,দীনভাবে প্রেমভিক্ষা করছেন, যথা চৈতন‍্যচরিতামৃতে=*
*🌷অতি দৈন‍্যে পুনঃ মাগে দাস‍্য-ভক্তিদান।*
*🌷আপনাকে করে সংসারী জীব অভিমান।।*
*🌻মহাপ্রভুর এই যে ফিভোর অবস্থা,এতেও তিনি ধর্ম প্রচারের জন্য নাম সংকীর্তন সম্বন্ধে উপদেশ দিতে ভুলেন নাই।*
                  *ক্রমাগত*
🔻🔻🔻🔻🔻🔻🔻🔻🔻🔻🔻🔻🔻
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 শ্রীশ্রীজগন্নাথ ও শ্রীশ্রীগৌরাঙ্গ 🌷 নবম ভাগ 🌻 শ্রীযুক্ত রাজর্ষি গোপালচন্দ্র আচার্য‍্য চৌধুরী প্রণীত ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📝 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/02/jagannath9.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(৮৬)শ্রীশ্রীজগন্নাথ ও শ্রীশ্রীগৌরাঙ্গ*
          *☘নীলাচলে মহাপ্রভু☘*
             *🌺গম্ভীরা-লীলা🌺*
             ▪▪▪▪▪▪
*শ্রীমন্মহাপ্রভু বিভিন্ন বিরহের পদাবলী আস্বাদন করতেন,যেমনটি শ্রীমতী ব্রজে করেছিলেন।*
🌲🌲🌲🌲🌲🌲🌲🌲🌲🌲🌲🌲
*কদম্বের বন হৈতে,কিবা শব্দ আচম্বিতে,*
        *আসিয়া পশিল মোর কানে।*
*অমৃত নিছিয়া ফেলি,কি মাধুর্য‍্য পদাবলী,*
      *কি জানি কেমন করে মনে।।*
*(সখীরে)নিশ্চয় করিয়া কহি তোরে।*
*হাহা কুলাঙ্গনাগণ,গ্রহিবারে ধৈর্য‍্যগণ,*
         *যাহে হেন দশা হইল মোরে।।*
*শুনিয়া ললিতা কহে,অন‍্য কোন শব্দ নহে,*
        *মোহন-মুরলীধ্বনি এহ।*
*সে শব্দ শুনিয়া কেনে,হৈলা তুমি বিমোহনে,*
        *রহ নিজ চিতে ধরি থেহ।।*
*রাই কহে কেবা জন,মুরলী বাজায় যেন,*
          *বিষামৃতে একত্র করিয়া।*
*জল নহে হিমে জনু,কাঁপাইছে সব তনু,*
        *শীতল করিয়া মোর হিয়া।।*
*অস্ত্র নহে মন ফুটে,কাটারিতে যেন কাটে,*
       *ছেদন না করে হিয়া মোর।*
*তাপ নহে উষ্ণ অতি,পোড়ায় আমার মতি,*
       *চন্ডীদাস ভাবি না পায় ওর।।*
*🌻মহাপ্রভুর এই যে বিভোর অবস্থা,এতেও তিনি ধর্ম প্রচারের জন্য নাম-সংকীর্তন সম্বন্ধে উপদেশ দিতে ভুলেন নাই।যথা চৈতন‍্যচরিতামৃতে=*
*🌷নানা ভাব উঠে প্রভুর হর্ষ শোক রোষ।*
*🌷দৈন‍্য উদ্বেগ আদি উৎকণ্ঠা সন্তোষ।।*
*🌷সেই সেই ভাবে নিজে শ্লোক পড়িয়া।*
*🌷শ্লোকের অর্থ আস্বাদয়ে দুই বন্ধু লৈয়া।।*
*🌷কোন দিন কোন ভাবে শ্লোক-পঠন।*
*🌷সেই শ্লোক আস্বাদিতে রাত্রি জাগরণ।।*
*🌷হর্ষে প্রভু কহে শুন স্বরূপ রাম রায়।*
*🌷নাম-সংকীর্তন-কেলি পরম উপায়।।*
*🌷সংকীর্তন-যজ্ঞে কলৌ কৃষ্ণ-আরাধন।*
*🌷সেইত সুমেধা পায় কৃষ্ণের চরণ।।*
*🌷নাম-সংকীর্তন হয় সর্বানর্থ-নাশ।*
*🌷সর্বশুভোদয় কৃষ্ণে পরম উল্লাস।।*
*🌷সর্বশক্তি নামে দিল করিয়া বিভাগ।*
*🌷আমার দুর্দ্দৈব,নামে নাহি অনুরাগ।।*
*🌷যেরূপে লইলে নাম প্রেম উপজয়।*
*🌷তাহার লক্ষণ শুন স্বরূপ রামরায়।।*
*🌷"তৃণাদপি সুনীচেন তরোরিব সহিষ্ণুনা।*
*🌷অমানিনা মান দেন কীর্তনীয়ঃ সদা হরিঃ।।*
*🌻দ্বাদশ বৎসর ব‍্যাপী মহাপ্রভু যে লীলা করেছেন,তা ভাষায় বর্ণনাতীত ; আমরা আর কি লিখিব?মহাপ্রভুর ভাব এবং শ্রীমতীর ভাবের একত্ব দেখাবার জন্য, শ্রীপাদ কবিরাজ গোস্বামীর একটি পয়ার উদ্ধৃত করছি=*
*🌷উদ্বেগে দিবস না যায় ক্ষণে যুগ সম।*
*🌷বর্ষার মেঘ-প্রায় অশ্রু বর্ষে নয়ন।।*
*🌷গোবিন্দ-বিরহে শূন‍্য হইল ত্রিভুবন।*
*🌷তুষানলে পোড়ে যেন না যায় জীবন।।*
*🌷কৃষ্ণ উদাসীন হইল করিতে পরীক্ষণ।*
*🌷সখী সব কহে,"কৃষ্ণে কর উপেক্ষণ"।।*
*🌷এতেক চিন্তিতে রাধার নির্মল হৃদয়।*
*🌷স্বাভাবিক প্রেমার স্বভাব করিল উদয়।।*
*🌷ঈর্ষা,উৎকন্ঠা,দৈন‍্য,প্রৌঢ়ি, বিনয়।*
*🌷এত ভাবে এক ঠাঁই করিল উদয়।।*
*🌷এত ভাবে রাধার মন অস্থির হইল।*
*🌷সখীগণ আগে প্রৌঢ়ি শ্লোক যে পড়িল।।*
*🌷সেই ভাবে প্রভু সেই শ্লোক উচ্চারিল।*
*🌷শ্লোক উচ্চারিতে তদ্রূপ আপনি হইল।।*
*🌺প্রৌঢ়ি=যৌবন ও বার্ধক‍্যের মাঝামাঝি অবস্থা।*
*🌹শ্লোক যথা=*
*🌷আশ্লিষ‍্য বা পাদব্রতাং পিনষ্টু মা-*
*🌷মদর্শনান্মর্ম্মহতাং করোতু বা।*
*🌷যথা তথা বা বিদধাতু লম্পটো,*
*🌷মৎপ্রাণনাথস্তু সএব নাপরঃ।।*
*🌻তিনি আমাকে আলিঙ্গন করে পাদসেবাতেই নিয়োগ করুন, বা মহাদুঃখে ফেলে দিয়ে চূর্ণবিচূর্ণ করুন, কিম্বা আমাকে দর্শনসুখে বঞ্চিত রেখে নিদারুণ মর্মপীড়াই প্রদান করুন, কিম্বা বহুবল্লভ হয়ে যথেচ্ছা বিহারই করুন,হে সখি!তিনি পর না,আমারই প্রাণনাথ।এই বলে আবার কৃষ্ণকর্ণামৃতের শ্লোক উচ্চারণ করে প্রার্থনা করছেন=*
*🌷অয়ি দীনদয়ার্দ্রনাথ হে,*
*🌷মথুরানাথ কদাবলোক‍্যসে।*
*🌷হৃদয়ং ত্বদলোক-কাতরং,*
*🌷দয়িত ভ্রাম‍্যতি কিং করোম‍্যহং।।*
*🌻দীন আমরা,আমাদের হৃদয়ও যেন দীনদয়ার্দ্রনাথ মথুরানাথের জন্য ব‍্যাকুল হয়ে কৃতার্থ হয়।শ্রীমন্মহাপ্রভুর চরণে এই প্রার্থনা করি,আমরা এইখানেই মহামহীয়সী পরম-ভাবময়ী, রসময়ী গম্ভীরা-লীলার দিগ্ দর্শনমাত্র করেই উপসংহার করলাম।*
🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 শ্রীশ্রীজগন্নাথ ও শ্রীশ্রীগৌরাঙ্গ 🌷 নবম ভাগ 🌻 শ্রীযুক্ত রাজর্ষি গোপালচন্দ্র আচার্য‍্য চৌধুরী প্রণীত ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📝 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/02/jagannath9.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(৮৭)শ্রীশ্রীজগন্নাথ ও শ্রীশ্রীগৌরাঙ্গ*
         *🔷নীলাচলে মহাপ্রভু🔷*
            *শ্রীজয়দেব গোস্বামী*
             ******************
*🍀এখন আমরা আর এক মহাপুরুষের কথা উল্লেখ করব,যাঁর সহিত শ্রীশ্রীজগন্নাথদেবের বিশেষ একটি লীলা-প্রসঙ্গের সংযোগ রয়েছে। ইঁনার নাম শ্রীজয়দেব।ইঁনার জন্মভূমি নিয়ে মতান্তর আছে।কেউ বলেন,ইঁনার জন্মভূমি কটক জেলায় ; কেউ বলেন,বর্দ্ধমানের অন্তর্গত কেন্দুবিল্ব গ্রাম। এই কেন্দুবিল্ব গ্রামে জয়দেবের স্মৃতির জন্য বাৎসরিক উৎসব হয়ে থাকে। সুতরাং কেন্দুবিল্বই ইঁনার জন্মভূমি, তা একরকম প্রমাণিত হয়েছে।ইনি লক্ষ্মণ সেনের সমকালীন এবং তাঁর সভাপন্ডিত ছিলেন।তাঁর গীতগোবিন্দ গ্রন্থে তিনি লিখেছেন=*
*বাচঃ পল্লবয়ত‍্যুমাপতিধরঃ সন্দর্ভশুদ্ধাং গিরং।*
*জানীতে জয়দেব এব শরণঃ শ্ল‍্যাঘ‍্যোদুরূহদ্রুতে।।*
*শৃঙ্গারোত্তর-সৎপ্রমেয়-রচনৈরাচার্য‍্য গোবর্দ্ধনস্পর্দ্ধী।*
*কোহপি ন বিশ্রুতঃ শ্রুতিধরো ধোয়ী কবিঃ ক্ষ্মাপতেঃ।।*
*🌻এই শ্লোকের দ্বারা আমরা বুঝতে পারি--উমাপতি,শরণ,ধোয়ী, গোবর্দ্ধনাচার্য‍্য ও জয়দেব প্রভৃতি কবিগণ সমকালীন।ইঁনারা লক্ষ্মণসেনের সভাপন্ডিত, সুতরাং জয়দেবও যে,এই সভার সঙ্গে বিশেষ ভাবে চরম সম্পর্ক ছিল তা বুঝা যায়। অন‍্যান‍্য গ্রন্থের মতামতের সঙ্গে একবাক‍্যতা করলে,তিধি যে,লক্ষ্মণ সেনের সভাপন্ডিত ছিলেন,তাতে আর সন্দেহ থাকে না। গোবর্দ্ধন পন্ডিত লক্ষ্মণসেনের রাজত্বের ইতিহাস লিখতে গিয়েও জয়দেব সম্বন্ধে উল্লেখ করেছেন।ভক্তমাল-লেখক বনমালী দাস তাঁর রচিত জয়দেব-চরিত গ্রন্থে জয়দেবের বাসস্থান কেন্দুবিল্বতেই নির্ণয় করেছেন।অদ‍্যাবধিও কেন্দুবিল্বে জয়দেবের বাসস্থান বলে, মকর-সংক্রান্তিতে সমস্ত লোক সমবেত হন এবং অজয় নদে স্নান করেন।*
*🍀🌖এইরকম চির-প্রসিদ্ধ জনপ্রবাদের বিরুদ্ধে অন‍্য কোনও বিশেষ প্রমাণ পাওয়া যায় না,যাতে জয়দেবের বাসভূমি অন‍্য জায়গায় কল্পনা করা যেতে পারে। গীতগোবিন্দের শ্লোক পাঠ করলে সহজেই মনে হয়,এটি যেন বাংলা রচনা ; কেবল সংস্কৃতের বিভক্তি যুক্ত হয়েছে।যদি তিনি বাঙ্গালী না হতেন,তাহলে তাঁর রচনা এরকম হত কি না সন্দেহ। কেউ কেউ জয়দেবের বাসভূমি যে উড়িষ‍্যাতে বলেন,সে মত সমর্থন করবার বিশেষ কোন প্রমাণ পাওয়া যায় না। সুতরাং আমরাও শ্রীজয়দেবের জন্মভূমি বাংলাদেশেয় ধরে নিলাম।*
*🍀যদিও জয়দেবের জন্মভূমি বাংলাদেশ, তবুও এই মহাপুরুষের প্রকৃত পূজা এবং এই সাধুপুরুষের প্রকৃত-তত্ত্ব বাঙ্গালী বুঝতে পারেনি।উড়িষ‍্যাতে জয়দেব যেরকম ভাবে পূজিত হতেন, এবং এখনও হচ্ছেন, আমাদের দেশে শ্রীজয়দেবকে সেরকম ভাবে কে পূজা করে?রাজা হতে সামান্য প্রজা পর্যন্ত,শ্রীজয়দেবের রচিত গীতগোবিন্দের গান গেয়ে থাকে, এবং শ্রীজগন্নাথের মন্দিরে নিত্য এই গীতগোবিন্দ গীত হয়ে থাকে।*
*🍀এখন আমরা শ্রীজয়দেবের ঐতিহাসিক অংশ ছেড়ে দিয়ে,তাঁর যে প্রকৃত গুণ,যে গুণে তিনি চিরস্মরণীয় হয়েছেন,যে গুণেতে ভক্তমন্ডলী অদ‍্যাবধি তাঁকে পূজা করছেন,তারই একটু আলোচনা করব।*
*শ্রীজয়দেব একজন পরমভক্ত বৈষ্ণব ছিলেন।তাঁর সম্বন্ধে যে সব আশ্চর্য‍্য ঘটনা বর্ণিত আছে,তা বিংশ শতাব্দীর শিক্ষিত যুবকদের অনেকে বিশ্বাস নাও করতে পারেন। বিশ্বাস না করলে,এই সমস্ত বিষয়ে বিশ্বাস জন্মানও কঠিন, এবং তারজন‍্য আমরা প্রয়াসীও হব না। "বিশ্বাসে মিলয়ে কৃষ্ণ তর্কে বহুদূর", এটিই আমাদের বিশ্বাস ; সুতরাং অনর্থক বাগ্ বিতন্ডা করে বুঝাবার চেষ্টা করানতে ফল নাই। শ্রীজয়দেবেরও এই বিশ্বাস ছিল, প্রমাণ স্বরূপ গীতগোবিন্দের একটি শ্লোক উদ্ধৃত করছি=*
*🌷যদি হরি-স্মরণে সরসং মনো,*
*🌷যদি বিলাস-কলাসু কুতূহলম্।*
*🌷মধুর-কোমল-কান্ত-পদাবলীং,*
*🌷শৃণু তদা জয়দেব-সরস্বতীম্।।*
*🌹শ্রীজয়দেব গোস্বামীর বাল‍্য-জীবন সম্বন্ধে আমরা বিশেষ কিছুই জানি না।জয়দেবের বাল‍্য জীবনের পর,যখন ভক্তির জীবন আরম্ভ হল,তখনই তাঁকে পুরীধামে দেখতে পাই।যখন তাঁর ভক্তির সৌরভ চারিদিকে ছড়িয়ে পরতে থাকে, তখনই বিশ্ববাসী তাঁকে চিনতে পারলেন।শ্রীজয়দেব একাধারে ভক্ত, কবি এবং গায়ক ; কাজেই তাঁর পরিচিত হওয়ার অতি সহজ সুযোগ ছিল। ভক্তেরা সাধারণতঃ প্রচ্ছন্ন (আবৃত বা গুপ্ত) থাকতে চান, বাইরের জগতের সঙ্গে তাঁরা সম্পর্ক কম রাখেন। কিন্তু জয়দেবের সম্বন্ধে তা ঘটতে পারল না। তিনি প্রত‍্যহই তাঁর গীতগোবিন্দের গান রচনা করতেন, এবং প্রত‍্যেকদিনই শ্রীজগন্নাথদেবকে গেয়ে শুনাতেন।যদিও মানুষকে শুনাবার জন্য তাঁর বাসনা ছিল না, ভগবানকে শুনানই তাঁর মূল উদ্দেশ্য ছিল ; কিন্তু একে জয়দেবের মনোহারিণী কবিতা, তাতে জয়দেবের ভক্তিমিশ্রিত কন্ঠ-- উভয়ে মিলে সেই গান এত সুমধুর হয়েছিল যে,সমস্ত মানুষ তা শুনবার জন্য ব‍্যাকুল হল।*
*এইভাবে শ্রীজয়দেব বাইরে প্রকাশিত হলেন। পুরীধামময় তাঁর নাম ব‍্যাপ্ত হয়ে পড়ল, কন্ঠে কন্ঠে তাঁর আলোচনা হতে লাগল।জয়দেবের গানের কথা অল্পদিনের মধ্যেই রাজ-দরবারে পৌঁছিল।রাজা স্বয়ং এসে সেই গান শুনবার জন্য মন্দিরে উপস্থিত হলেন।এখন হতে জয়দেব পুরীর রাজার বিশেষ প্রিয়পাত্র হলেন।যদিও রাজার সহিত বিশেষ ঘনিষ্ঠতা হল, কিন্তু বিষয়ীর সঙ্গে থাকাতেও তাঁর সাধন ভজনের কোন বিঘ্ন হল না।এই সময়ে তিনি "গীতগোবিন্দের মান" লিখছিলেন।এই সম্বন্ধে তাঁর জীবনের অনেকগুলি ঘটনা প্রসিদ্ধ আছে।*
*শ্রীজয়দেব যখন গীতগোবিন্দের কৃষ্ণলীলা গানে উন্মত্ত ছিলেন,সেই সময়ে দক্ষিণদেশ হতে এক হরিভক্ত ব্রাহ্মণ শ্রীজগন্নাথদেবের কাছে উপনীত হন।তাঁর সঙ্গে পদ্মাবতী নামে দ্বাদশ বৎসরের তাঁর একটি কন‍্যা ছিল।বহুকাল পর্যন্ত এই ব্রাহ্মণ নিঃসন্তান ছিলেন।একদা শ্রীজগন্নাথ দর্শন উপলক্ষ্যে পুরুষোত্তমক্ষেত্রে এসে, সেই ব্রাহ্মণ একান্তমনে প্রার্থনা করলেন যে,জগন্নাথদেব কৃপা করে,যদি তাঁকে একটি পুত্র বা কন‍্যা সন্তান প্রদান করেন,তবে পুত্র হলে দাস এবং কন‍্যা হলে দাসী করে শ্রীজগন্নাথদেবকে অর্পণ করবেন।*
                 *ক্রমাগত*
🛕🛕🛕🛕🛕🛕🙏🛕🛕🛕🛕🛕🛕
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 শ্রীশ্রীজগন্নাথ ও শ্রীশ্রীগৌরাঙ্গ 🌷 নবম ভাগ 🌻 শ্রীযুক্ত রাজর্ষি গোপালচন্দ্র আচার্য‍্য চৌধুরী প্রণীত ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📝 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/02/jagannath9.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(৮৮)শ্রীশ্রীজগন্নাথ ও শ্রীশ্রীগৌরাঙ্গ*
            *🔺নীলাচলে মহাপ্রভু*
            *🔻শ্রীজয়দেব গোস্বামী*
                 ◆◆◆◆◆◆◆◆◆
*🍀অতঃপর,কালক্রমে শ্রীজগন্নাথদেবের কৃপায় তাঁর এক কন‍্যা-সন্তান জন্মগ্রহণ করল।ব্রাহ্মণ তার নাম পদ্মাবতী রাখলেন।এখন পদ্মাবতীর বয়স বারো বৎসর। সেই পদ্মাবতীকে জগন্নাথদেবের কাছে সমর্পণ করবার জন্য,ব্রাহ্মণ আজ এইখানে উপস্থিত হয়েছেন। রাত্রে শ্রীজগন্নাথদেব ব্রাহ্মণকে স্বপ্নে আদেশ করলেন, "ওহে ব্রাহ্মণ, তোমার প্রতিজ্ঞা পূর্ণ হয়েছে ; আমি তোমার কন‍্যা গ্রহণ করলাম ; কিন্তু তুমি আমার এক আদেশ পালন কর।অজয়-নদের তীরে কেন্দুবিল্ব নামে এক গ্রাম আছে।সেখানে আমার অংশে ব্রাহ্মণ-কুলে জয়দেব নামে একজন হরিভক্ত জন্মগ্রহণ করেছেন।তুমি সেখানে গিয়ে, তাঁকে তোমার কন‍্যা সম্প্রদান কর।তাহলে আমি পরম সন্তুষ্ট হব।*
*🍀এই আদেশ শিরোধার্য‍্য করে,ব্রাহ্মণ কেন্দুবিল্বে উপস্থিত হলেন, এবং ভক্ত-শিরোমণি শ্রীজয়দেবকে কন‍্যা সম্প্রদান করলেন।ইতিপূর্বে শ্রীশ্রীজগন্নাথদেব স্বপ্নে পদ্মাবতীকে গ্রহণ করবার জন্য,জয়দেবকে আদেশ করেছিলেন। তদনুসারে তিনি পদ্মাবতীকে গ্রহণ করলেন। কিন্তু ভগবানের নিকট প্রার্থনা করলেন=*
*🌷স্বপ্নে জয়দেব কহে যে আজ্ঞা তোমার।*
*🌷তোমার যে আজ্ঞা তাহা মোর অঙ্গীকার।।* 
*🌷মোর এক নিবেদন শুন দয়াময়।*
*🌷প্রার্থনা করিয়ে যদি কার্য‍্যসিদ্ধি হয়।।*
*🌷কৃষ্ণ-লীলা-গ্রন্থ এক বর্ণন করিব।*
*🌷রাধাকৃষ্ণ-মূর্ত্তি রাখি তোমারে সেবিব।।*
*🌷এই দুই বাঞ্জা যদি পূরাহ আমার।*
*🌷তবে জানি মোর প্রতি সুদৃষ্টি তোমার।।*
*🌷প্রভু কহে দুই বাঞ্জা হইবে পূরণ।*
*🌷গীতগোবিন্দ-গ্রন্থ তুমি করহ রচন।।*
*কৃষ্ণ-লীলা সর্ব যাহা কেহ নাহি জানে।*
*🌷অনায়াসে জানিবে তুমি আপনার মনে।।*
*🌷সেই গ্রন্থ শুনিলে ভক্তের আনন্দ জন্মাব।*
*🌷সেবা যে করিবে তাহার নির্ণীত কহিব।।*
*🌷এই কেন্দুবিল্ব মোর পুরাতন ধাম।*
*🌷কত দিন কর তুমি ইহাতে বিশ্রাম।।*
*🌻শ্রীবনমালী দাসের এই জয়দেব-চরিত অনুসারে,জয়দেব যে কখনও পুরীধামে গিয়েছেন,এইরকম বুঝা যায় না।পক্ষান্তরে চন্দ্রদত্ত-কৃত সংস্কৃত ভক্তমাল-গ্রন্থে শ্রীজয়দেবের জন্মভূমি পুরীতে নির্দেশ করা হয়েছে।জয়দেব যে কখনও বঙ্গদেশে এসেছেন,কিম্বা বৃন্দাবনে গিয়েছেন, তিনি এরকম কোনও উল্লেখ করেননি। সুতরাং ইঁনাদের পরস্পর বিরোধ দেখা যায়। বনমালী দাসের উক্তি যদি সত‍্য হয়,তাহলেও জয়দেব যে পুরীতে কোনও সময়ে গিয়েছেন,তা অস্বীকার করার উপায় নাই। কারণ জয়দেবের ঘটনাবলী এবং তাঁর গীতগোবিন্দ পুরীধামে এতই প্রচলিত যে,জয়দেব সে জায়গায় কতদিন পর্যন্ত বাস না করলে,এরকম প্রসিদ্ধি লাভ করতে পারতেন না।এই উভয়ের পরস্পর বিরোধের মীমাংসা পাঠক করবেন।আমরা কেবল উভয়ের মত অবলম্বনে যে সমস্ত ঘটনা ঘটেছে,তাইই লিপিবদ্ধ করেছি।*
*🌷ঠাকুর বলেন স্বপ্নে আজ্ঞা মোরে হইল।*
*🌷বিবাহ করিব কন‍্যা অঙ্গীকার কৈল।।*
*🌷কিন্তু এক চমৎকার স্বপ্নেতে দেখিল।*
*🌷রাধাকৃষ্ণ-মূর্ত্তি সেবা প্রভু মোরে দিল।।*
*🌷কদম্বখন্ডীর ঘাটে অজয় কিনারে।*
*🌷এক হাঁটু জল মধ্যে তাহে শোভা করে।।*
*🌷চল শীঘ্র সবে যাব তাঁহা দরশন।*
*🌷তাঁহারে আনিলে মোর বাঞ্জিত পূরণ।।*
*🌻অতঃপর,সমস্ত গ্রামবাসী ও জয়দেব একত্র হয়ে,অজয় নদের তীরে উপস্থিত হলেন।*
*🌷হেন কালে জয়দেব ঠাকুর মহাশয়।*
*🌷অজয়ের জলে গেল হইয়া হৃষ্টময়।।*
*🌷এক হাঁটু জল মধ্যে তাহে হাত দিলা।*
*🌷সিংহাসনে প্রতিমা দুই হাতে উঠাইলা।।*
*🌷রূপ দেখি সর্বলোকের বিস্ময় হইল।*
*🌷সাক্ষাৎ রাধাকৃষ্ণ যেন অবতীর্ণ হইল।।*
*🌻সেইসময়ে বর্দ্ধমানের রাজা এই দুই বিগ্রহ স্থাপন করে প্রতিষ্ঠা করেন, এবং বহু অর্থব‍্যয়ে শ্রীশ্রীরাধামাধবের চারমহল পুরী নির্মাণ করাইয়ে,অষ্টকালীন সেবার সুবন্দোবস্ত করেন।তখন জয়দেব পদ্মাবতীর শুভ-পরিণয় কার্য‍্য সুসম্পন্ন করেন।এখন হতে জয়দেব ও পদ্মাবতী শ্রীশ্রীরাধামাধবের সেবায় নিযুক্ত রইলেন।বনমালী দাস তাঁদের নিত‍্য-কার্য‍্য সম্বন্ধে এইরকম লিখেছেন, যথা=*
*🌷রাত্রিশেষে উঠি মঙ্গল-আরতি করিয়া।*
*🌷প্রাতঃকালে সুকুসুম আনেন তুলিয়া।।*
*🌷পদ্মাবতী নানারঙ্গে গাঁথে ফুলহার।*
*🌷গীত-গোবিন্দ রচে গ্রন্থ কৃষ্ণ-লীলা-সার।।*
*🌷নিত‍্য সেবা করয়ে আনন্দিত দুইজন।*
*🌷 এই মত বহুদিন করিল সেবন।।*
*🌷গীত-গোবিন্দ-গ্রন্থ রসের সাগর।*
*🌷বর্ণন করয়ে যবে সেবা অবসর।।*
*🌻এরপর গীত-গোবিন্দ লেখার উপলক্ষ্যে,যে অলৌকিক ঘটনা ঘটেছিল,তাতে বনমালী দাস ও ভক্তমাল প্রভৃতি রচয়িতা অন‍্যান‍্য গ্রন্থকার সকলেই একমত।কেবল বিশেষের মধ্যে এই,-- কেউ এই ঘটনার স্থল কেন্দুবিল্বে নির্দেশ করেন, কেউ বা পুরীতে নির্দেশ করেন।একদিন জয়দেব "মান" লিখতে বসে "স্মর-গরল-খন্ডনং মম শিরশি মন্ডনং" এই পর্যন্ত লিখেছিলেন, তখন আর লেখনী অগ্রসর হল না। যথা বনমালী দাস=*
*🌷"স্মর-গরল-খন্ডনং মম শিরশি মন্ডনং"*
*🌷এই অর্দ্ধ উক্তি লিখি আর না লিখিলা।*
*🌷পূর্ণ নাহি হয় কলি ভাবিতে লাগিলা।।*
*🌷শ্রীরাধিকার মানে কৃষ্ণের দগ্ধ হয় অঙ্গ।*
*🌷স্তুতি-বাণী কহে চাহে রাধা-অঙ্গ-সঙ্গ।।*
*🌷তুয়া সঙ্গ বিনা মোর মদনের শরে।*
*🌷শরের গরলে অঙ্গ খন্ড খন্ড করে।।*
*🌷মান ত‍্যজি কৃপা করি পরশ মোরে তুমি।*
*🌷মদন-অনল হইতে রক্ষা পাই আমি।।*
*🌷এত বলি নিজ শির নম্র করি যায়।*
*🌷পাদ-পদ্ম দেহ মাথে এই সে আশয়।।*
                     *ক্রমাগত*
👣👣👣👣👣👣👣👣👣👣👣👣👣
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 শ্রীশ্রীজগন্নাথ ও শ্রীশ্রীগৌরাঙ্গ 🌷 নবম ভাগ 🌻 শ্রীযুক্ত রাজর্ষি গোপালচন্দ্র আচার্য‍্য চৌধুরী প্রণীত ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📝 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/02/jagannath9.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(৮৯)শ্রীশ্রীজগন্নাথ ও শ্রীশ্রীগৌরাঙ্গ*
          *🔵নীলাচলে মহাপ্রভু🔵*
        *🌻শ্রীজয়দেব গোস্বামী🌻*
        🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏
*🌷কৃষ্ণ চাহে পাদ-পদ্ম মস্তকে ধরিতে।*
*🌷কেমতে লিখিব ইহা বিস্ময় এই চিতে।।*
*🌷এই ভাবি পদের শেষ লিখিতে নারিল।*
*🌷কি লিখিব কি লিখিব চিন্তিতে লাগিল।।*
*🌷উদ্বিগ্ন হইয়া অতি গ্রন্থ ঝাঁপি দিলা।*
*🌷গঙ্গাস্নান করিবারে ঠাকুর চলিলা।।*
*🌷উদ্বিগ্ন হইয়া যবে গঙ্গাস্নানে গেলা।*
*🌷অন্তর্য‍্যামী নন্দসুত সকল জানিলা।।*
*🌷ভকতের মনোবাঞ্জা সিদ্ধ করিবারে।*
*🌷জয়দেব মূর্ত্তি ধরি আইলা তার ঘরে।।*
*🌷স্নান করি জয়দেব আইসে যেন মতে।*
*🌷সেইরূপে দাঁড়াইলা পদ্মার সাক্ষাতে।।*
*🌷স্বামী-জ্ঞানে পদ্মাবতী পাদ প্রক্ষালিল।*
*🌷কেশে করি পাদ-পদ্ম দুখানি মুছিল।।*
*🌷দিব‍্য পীত বস্ত্র তাঁরে পরিবারে দিলা।*
*🌷আনন্দিত হইয়া প্রভু আসনে বসিলা।।*
*🌷সর্ব্বাঙ্গে লেপন দেবী করিলা চন্দন।*
*🌷গন্ধ পুষ্প দিয়া পূজা করিল চরণ।।*
*🌷প্রত‍্যহ করেন দেবী সেই আচরণে।*
*🌷সেই মত কৈলা দেবী নিজ পতিজ্ঞানে।।*
*🌷জয়দেব-রূপে প্রভু সেবা কাজে গেলা।*
*🌷রাধা-মাধবেরে লইয়া স্নান করাইলা।।*
*🌷পূজা আদি করি দিলা নৈবেদ‍্য সেবন।*
*🌷তন্ডুল শর্করা গব‍্য আদি দ্রব‍্যগণ।।*
*🌷রাধা-মাধবেরে ভোগ প্রভু সমর্পিলা।*
*🌷তাম্বুলাদি দিয়া ভোগ আরতি করিলা।।*
*🌷আরতি করাইয়া পুনঃ করাইল শয়ন।*
*🌷তার পর কইল প্রভু চামর-ব‍্যজন।।*
*🌷তার পর অন্তঃপুরে প্রসাদ আনিল।*
*🌷সেই থালে বসি প্রভু ভোজন করিল।।*
*🌷ভোজন করিয়া প্রভু কৈলা আচমন।*
*🌷আসনে বসিয়া কৈল তাম্বুল সেবন।।*
*🌷তার পর গিয়ে গ্রন্থের ঝাঁপ ঘুচাইলা।*
*🌷পদের শেষ হয় নাই গ্রন্থেতে দেখিলা।।*
*🌻অতঃপর শ্রীজয়দেব-বেশে শ্রীকৃষ্ণ নিজ হাতে "স্মর-গরল-খন্ডনং মম শিরসি মন্ডনং" পংক্তির পরে "দেহি পদপল্লবমুদারম্" এই পংক্তিটি লিখে পালঙ্কে শয়ন করে রইলেন।পদ্মাবতী শ্রীকৃষ্ণের উচ্ছিষ্ট-পূর্ণ ভোজনপাত্রে বসে প্রসাদান্ন ভোজন করছেন,এমন সময়, প্রকৃত জয়দেব ভিজা কাপড়ে গৃহে ফিরে এসে দেখলেন-------*
*🌷ভোজন করয়ে পদ্মা দেখি আচম্বিত।*
*🌷আশ্চর্য‍্য দেখিয়া মনে হইলা বিস্মিত।।*
*🌷পদ্মাবতী নিকটেতে আসি দাঁড়াইলা।*
*🌷অন্তরে দুঃখিত হইয়া কহিতে লাগিলা।।*
*🌷অনুচিত কর্ম তোমার দেখি পদ্মাবতী।*
*🌷জ্ঞানবান্ হঞা তোমার এমত কুমতি।।*
*🌷ঈশ্বরের সেবা নহে ভোগ-সমর্পণ।*
*🌷স্বচ্ছন্দেতে অগ্রভাগ করিলা ভোজন।।*
*🌷সচ্চরিত্রা সুলক্ষণা নাহি তুয়া সম।*
*🌷আজি কেনে কিবা দোষে হৈলা মতিভ্রম।।*
*🌷এত শুনি পদ্মাবতী হইলা চমকিত।*
*🌷আজি কেন প্রভু মোরে বল অনুচিত।।*
*🌷আজি যবে স্নান করি আইলা আপনি।*
*🌷পূর্বমত পূজা আমি কৈলা দ্বিজমণি।।*
*🌷তার পর সেবা পূজা আপনি করিলা।*
*🌷রাধা-মাধবের ভোগ তুমি সমর্পিলা।।*
*🌷প্রসাদান্ন থালে তুমি ভোজন করিলা।*
*🌷তারপরে গ্রন্থ খুলি তাহাতে লিখিলা।।*
*🌷তাম্বুল ভোজন করি করিলা শয়ন।*
*🌷এ সকল করি পুনঃ হৈলা বিস্মরণ।।*
*🌷পুনঃ স্নান করি আইলা লাগে হেন মত।*
*🌷পরিহাস কর কিম্বা ভ্রম হৈল নাথ।।*
*🌷তোমার প্রসাদি অন্ন করি এ ভোজন।*
*🌷আজ্ঞা কৈলা অগ্রভাগ করহ ভক্ষণ।।*
*🌷যে সব কহিলা প্রভু পরিহাস-বাণী।*
*🌷লজ্জা পাই তোমার কৌশল-বাক‍্য শুনি।।*
*🌹তখন শ্রীজয়দেব গোস্বামী ভাবলেন=*
*🌷মিথ‍্যা কথা পদ্মাবতী কভু নাহি কহে।*
*🌷এমত কুচ্ছিত কর্ম তারে শোভা নহে।।*
*🌻তখন শ্রীজয়দেব ভাবলেন, তবে কি----------, হয়ত স্বয়ং শ্রীকৃষ্ণই জয়দেব-বেশে দেখা দিয়ে,পদ্মাবতীকে কৃতার্থ করেছেন। এই মনে করে তিনি খুব তাড়াতাড়ি গৃহের ভিতরে গেলেন,গিয়ে=*
*🌷এক চিত্তে গ্রন্থ-পাত খুলিল ঠাকুর।*
*🌷অর্দ্ধকলি ছিল পদ হয়েছে পূর।।*
*🌷অর্দ্ধকলি পূর্বে কৈল জয়দেব সার।*
*🌷কৃষ্ণ-হস্তে দেখি পদপল্লবমুদার।।*
*🌷পদ পূর্ণ দেখি মনে হইল প্রত‍্যয়।*
*🌷কৃষ্ণ পূর্ণ কৈল মম মনের আশয়।।*
*🌷শয়নে আছে তো প্রভু মনে অভিপ্রায়।*
*🌷মন্দির ভিতরে প্রভু দেখিবারে পায়।।*
*🌷কৃষ্ণ-অঙ্গ-পরিমলে পালঙ্ক পূরিল।*
*🌷মনোহর সুগন্ধেতে নাসিকা মাতিল।।*
*🌷শয়নের চিহ্ন সব দেখিল শয‍্যাতে।*
*🌷শয‍্যা মাত্র আছে কৃষ্ণ না পায় দেখিতে।।*
*🌷উনমত হইয়া দ্বিজ নাচিতে লাগিলা।*
*🌷মোর গৃহে আসি প্রভু পুনঃ কোথা গেলা।।*
*🌷মহাভাব হইল দেহ পুলকাঙ্গময়।*
*🌷পুলকিত হৈল অঙ্গ শিখা উর্দ্ধ হয়।।*
*🌷নয়নে বহয়ে ধারা প্রেমের তরঙ্গে।*
*🌷উর্দ্ধ বাহু করি নাচে করে কত ঢঙ্গে।।*
*🌷শয‍্যা দেখি প্রেম-ময়ে করিয়া ভকতি।*
*🌷করজোড়ে স্তব পাঠ করে স্তুতি নতি।।*
*🌷উচ্চৈঃস্বরে ডাকে রাধা-মাধব বলিয়া।*
*🌷পদ্মারে কৃতার্থ কৈলা আমারে ভান্ডিয়া।।*
                       *ক্রমাগত*
👣👣👣👣👣👣🙏👣👣👣👣👣👣
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 শ্রীশ্রীজগন্নাথ ও শ্রীশ্রীগৌরাঙ্গ 🌷 নবম ভাগ 🌻 শ্রীযুক্ত রাজর্ষি গোপালচন্দ্র আচার্য‍্য চৌধুরী প্রণীত ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📝 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/02/jagannath9.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(৯০)শ্রীশ্রীজগন্নাথ ও শ্রীশ্রীগৌরাঙ্গ*
           *🌳নীলাচলে মহাপ্রভু🌳*
            *শ্রীজয়দেব-পদ্মাবতী*
            ☆☆☆☆☆☆☆☆☆
*🍀তার পর শ্রীজয়দেব গোস্বামী বাহ‍্যজ্ঞান ফিরে পেলেন।*
*🌷বাহির হইয়া আইলা পদ্মার নিকটে।*
*🌷স্তুতি-বাক‍্য কহিতে লাগিলা অকপটে।।*
*🌷তুমি মহা-ভাগ‍্যবতী সফল জীবন।*
*🌷কৃষ্ণ-পাদপদ্ম তুমি দেখিলা নয়ন।।*
*🌷কৃষ্ণ-অঙ্গ পরশিয়া লেপিলা চন্দন।*
*🌷ধন‍্য তুমি মহা-প্রসাদ করিলা ভোজন।।*
*🌷সেই প্রসাদ সনকাদি শম্ভু বাঞ্জা করে।*
*🌷হেন প্রসাদ তুয়া গুণে আমার মন্দিরে।।*
*🌷এত বলি পদ্মা-সঙ্গে করয়ে ভোজন।*
*🌷পুনঃ পুনঃ প্রাসাদেরে করএ বন্দন।।*
*🌷ইহা দেখি পদ্মাবতী হইলা বিস্ময়।*
*🌷জোড়-হস্ত করি কহে করিয়া বিনয়।।*
*🌷এই প্রসাদান্ন থাল উচ্ছিষ্ট আমার।*
*🌷উচ্ছিষ্ট ভোজন কর কোন ব‍্যবহার।।*
*🌷দ্বিজমণি কহে তুমি অপরাধ কৈলা।*
*🌷কৃষ্ণ-অধরামৃত তুমি উচ্ছিষ্ট করিলা।।*
*🌷মহাপ্রসাদান্ন কভু উচ্ছিষ্ট না হয়।*
*🌷শ্বান-মুখ হৈতে পড়ে ব্রহ্মা নিতে ধায়।।*
  ☆ ☆ ☆ ☆ ☆
*🌷এত শুনি পদ্মাবতীর বিস্ময় ঘুচিল।*
*🌷একত্রে আনন্দে দোঁহে প্রসাদ খাইল।।*
*🌻এ ছাড়াও শ্রীজয়দেবের সম্বন্ধে আরও বহু অলৌকিক ঘটনা আছে। সমস্ত ঘটনার উল্লেখ করলে, গ্রন্থ বেড়ে যায়। আর দুই-একটি মাত্র ঘটনার উল্লেখ করে, আমরা শ্রীজয়দেবের কাহিনী শেষ করব।*
*🍀সংস্কৃত ভক্তমাল-গ্রন্থে,গীত-গোবিন্দ ও জয়দেবের মাহাত্ম্য-বর্ণন প্রসঙ্গে এই গল্পটির উল্লেখ আছে।আগেও আমরা ইহার উল্লেখ করেছি।🌹পুরীধামের নিকটবর্তী কোনও জায়গায় এক শাক-বিক্রয়কারিণী বাস করত।সে কোনও ুঢ়ুঢ় বেগুন তুলতে তুলতে গীতগোবিন্দ গাইছিল, তা শুনে শ্রীজগন্নাথদেবের আসন টলিল।তিনি আর স্থির থাকতে পারলেন না, ছুটে এসে সেই জমিতে উপস্থিত হলেন, এবং তার পেছন পেছন ফিরতে লাগলেন। বেগুনের কাঁটার আঁচড় লেগে তাঁর পীত-বসন ছিন্ন ভিন্ন হয়ে গেল।পরদিন পান্ডারা যখন শ্রীমন্দিরের দ্বার-উদঘাটন করলেন,তখন দেখা গেল বসনে বেগুন কাঁটা লেগে আছে, এবং জায়গা জায়গায় কাপড় ছিঁড়ে গিয়েছে।এই অদ্ভুত ব‍্যাপার দেখে,পান্ডারা চরম আশ্চর্য‍্য হয়ে রাজাকে খবর দিলেন।রাজা শ্রীমন্দিরে উপস্থিত হয়ে এই অদ্ভুত ব‍্যাপারের কোন কারণ স্থির করতে পারলেন না। তিনি ও পান্ডারা শ্রীমন্দিরে হত‍্যে (অভীষ্ট লাভের আশায় আমৃত‍্যু দেবমূর্তির সামনে পড়ে থাকা )দিলেন।পরে তাঁরা স্বপ্নযোগে দেখতে পেলেন,জগন্নাথদেব আবির্ভূত হয়ে বলছেন, "শাক-বিক্রয়কারিণীর গীতগোবিন্দ-গানে আকৃষ্ট হয়ে,আমি তার পেছন পেছন ঘুরেছিলাম, তাতেই আমার কাপড় বেগুনের কাঁটায় ছিঁড়ে গিয়েছে।"রাজা পর দিন সকালবেলায় ঐ শাক-বিক্রয়কারিণীকে আনালেন, এবং তার সৌভাগ্যের প্রশংসা করে, তার সুখে জীবন-যাপধের বন্দোবস্ত করলেন, এবং প্রত‍্যহ প্রভুর সামনে গীতগোবিন্দ গানের আদেশ করলেন। সেই নিয়ম-অনুসারে অদ‍্যাবধিও প্রভুর সম্মুখে গীতগোবিন্দ গান হয়ে আসছে।*
*জয়দেব এবং পদ্মাবতীর বৃন্দাবনে যাবার ঠিক হল।তাঁদের সেবিত ঠাকুর রাধামাধব-বিগ্রহ বৃন্দাবধের দীর্ঘ রাস্তার পক্ষে অত‍্যন্ত বড় মূর্তি ; সুতরাং এই বিগ্রহ কি করে নিয়ে যাবেন,এইজন‍্য তাঁরা অত‍্যন্ত চিন্তিত হয়ে পড়লেন।শ্রীশ্রীরাধামাধব স্বপ্নযোগে আদেশ করলেন,আমাকে ছেড়ে যেও না। তোমাদের নিয়ে যাবার সুবিধার জন্য,আমি অত‍্যন্ত লঘু হ'ব। জয়দেব এইরকম আদিষ্ট হয়ে অত‍্যন্ত আহ্লাদিত হলেন।রাধামাধবকে তাঁর পুটুলির মধ্যে রেখে বৃন্দাবনে নিয়ে গেলেন।এইভাবে ভগবান ভক্তবাৎসল‍্যের পরিচয় দিলেন।*
*🍀জয়দেব ও পদ্মাবতী কর্তৃক রাধামাধবের সেবা এবং পদ্মাবতীর পাতিব্রত‍্য-ধর্ম-সম্বন্ধে আরও আখ‍্যায়িকা রয়ে গেল, তার উল্লেখ করতে পারলাম না। জয়দেবের প্রতি পদ্মাবতীর এতই আসক্ত ছিল যে,তাঁর মৃত‍্যুকথা শুনিবামাত্র পদ্মাবতী প্রাণত‍্যাগ করেছিলেন।জয়দেবের সাধন-বলে কিন্তু তিনি পুনর্জীবন লাভ করেন।*
*ভগবান ভক্তের কাছে যে কতদূর অধীন হন, জয়দেবের জীবনী পাঠ করলে তার সবিশেষ উপলব্ধি হয় ; এবং ভগবান যে ভক্তের বাঞ্জা-কল্পতরু তাহাও প্রমাণিত হয়।এই গীতগোবিন্দ কাব‍্য শ্রীশ্রীজগন্নাথদেবের যেরকম প্রিয়, শ্রীচৈতন‍্যদেবেরও সেরকম অতি প্রিয় ছিল।গম্ভীরালীলাতে,চন্ডীদাস,বিদাপতির পদাবলী,জয়দেবের গীতগোবিন্দ, রায় রামানন্দের জগন্নাথ-বল্লভ নাটক,কবিকর্ণপুরের কৃষ্ণকর্ণামৃত এই গুলিই তাঁর ভাব উদ্দীপনার সহায় ছিল।এই বিষয় গম্ভীরালীলায় বর্ণিত হয়েছে।জয়দেবে প্রেমিকের প্রেম,ভক্তের ভক্তি,সুকবির কবিত্ব, সুগায়কের মধুর গীতি, একাধারে দেখতে পাই।এরকম দুর্লভ চরিত্র অতি অল্পই পাওয়া যায়।*
*🍀জয়দেবের মাতা পিতার পরিচয়,তাঁর স্বরচিত গীতগোবিন্দে এইরকম দেখা যায়,যথা=*
*🌷শ্রীভোজদেব-প্রভবস‍্য বামা-দেবীসুত-শ্রীজয়দেবকস‍্য।*
*🌷পরাশরাদি-প্রিয়বন্ধু-কন্ঠে শ্রীগীতগোবিন্দ-কবিত্বমস্তু।।*
*🙏শ্রীজয়দেব গোস্বামী পর্ব এখানেই রইল।*
👣👣👣👣👣👣🙏👣👣👣👣👣👣
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 শ্রীশ্রীজগন্নাথ ও শ্রীশ্রীগৌরাঙ্গ 🌷 নবম ভাগ 🌻 শ্রীযুক্ত রাজর্ষি গোপালচন্দ্র আচার্য‍্য চৌধুরী প্রণীত ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📝 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/02/jagannath9.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(৯১)শ্রীশ্রীজগন্নাথ ও শ্রীশ্রীগৌরাঙ্গ*
              *নীলাচলে মহাপ্রভু*
                *শ্রীশ্রীগঙ্গামাতা*
              *****************
*🍀আর এক ভক্তের কথা বলি। তাঁর নাম গঙ্গামাতা।ইহাঁর বৃত্তান্ত পূর্বে উল্লেখ করা হয়নি, নাম উল্লেখ করা হয়েছে মাত্র, সুতরাং ইহাঁর বৃত্তান্ত না লিখলে আকাঙ্ক্ষার তৃপ্তি হয় না। বিশেষ করে ইনি শ্রীজগন্নাথের অতি নিজ জন।আর ইহাঁর নামে পুরীতে এক মঠও পরিচিত, এই মঠকে গঙ্গামাতা-মঠ বলে।*
*বৈষ্ণবগ্রন্থে পঞ্চরসের অবতারণা করেছেন,শান্ত,দাস‍্য, সখ‍্য,বাৎস‍ল‍্য ও মধুর।ইনি বাৎসল‍্য রসেতে শ্রীশ্রীজগন্নাথদেবকে সেবা করতেন।জগন্নাথের যেরকম সেবা ভোগ হয়ে থাকে তাঁর মনের মত না হওয়ায় তিনি নিজ গৃহে দ্রব‍্যাদি তৈরী করে জগন্নাথকে খাওয়াবেন,এটি তাঁর মনের সাধ, কিন্তু কি করে এই সাধ পূর্ণ হয়?পান্ডারা তার বিরোধী।অন‍্য জায়গা হতে তৈরী করে খাদ্য দ্রব‍্য আনলে,তা পান্ডারা ভোগের জন্য গ্রহণ করেন না,অন‍্যের ভোগ দিবারও অধিকার নাই।*
*এখন গঙ্গামাতার তীব্র সাধ হয়েছে তাঁর জগন্নাথকে একটু অন‍্য খাবার খাওয়াবেন,বহুদিন যাবৎ জগন্নাথ মাছের ঝোল খায় না,কেবল নিরামিষ খেয়ে থাকেন,ভক্তের প্রাণে এটি কেমন করে সহ‍্য হয়,এই রসের যে ভাব এটি বেদ-বিধির অগোচর।তাই গঙ্গামাতা সমস্ত বিধিশাস্ত্র উল্লঙ্ঘন করে রাগানুগামার্গে জগন্নাথকে মাছের ঝোল খাওয়াবেন।*
*এখন কেমন করে এই সাধ পূর্ণ হয় তাই ভাবতে লাগলেন।পান্ডারা টের পেলে অনর্থ ঘটাবে, অথচ না দিলেও নয়, সুতরাং সমস্ত বাধা বিপত্তিকে তুচ্ছ করে, নিজ ঘরে জগন্নাথের জন্য মনের মতন করে রন্ধন করলেন, এবং অতি সাবধানে গোপনে হাড়িতে ভরে তার মুখ ঢেকে পরিধেয় বস্ত্রের নিচে কোমরের সঙ্গে বাঁধলেন,তার উপরে বস্ত্র পরিধান করে ওড়না দ্বারা সর্বাঙ্গ ঢেকে নিলেন।যেন কেউ টের না পায় যে তাঁর সঙ্গে কোন দ্রব‍্য আছে।এই ভাবে মন্দিরে যাত্রা করলেন।*
*যারা গোপনে কোন কাজ করতে চায়,তাদের প্রাণে সবসময়ই আশঙ্কা থাকে কেউ বা টের পেল! এই ভাবটি মুখেতেও প্রকাশিত হয়। সুতরাং গঙ্গাদেবী আশঙ্কা চিত্তে ধীরে ধীরে মন্দিরের ভিতরে প্রবেশ করলেন। ভগবানের কিরকম ইচ্ছা বুঝা যায় না,ভক্তের ভক্তি পরীক্ষা করবার জন্য অতি কঠিন ভাব ধারণ করেন।*
*মন্দিরের মধ্যে গঙ্গামাতা প্রবেশ করেছেন,হঠাৎ বাতাসে তাঁর বস্ত্রাবরণ উড়িয়ে ফেলল।পরিধেয় বস্ত্রের তলে কোন বস্তু আছে বলে পান্ডাদের সন্দেহ হল।একে তাঁর শঙ্কিত ভাব,অন‍্য বস্ত্রাবরণের উচ্চতা এই উভয় কারণেই তাদের নজর আকর্ষণ করল এবং সন্দেহযুক্ত হয়ে তাঁকে ধরে ফেলল।গঙ্গামাতা ছড়িদারদের হাত ছাড়িয়ে যাবার অনেক চেষ্টা করলেন ; কিছুতেই ছড়িদারদের হাত ছাড়াতে পারলেন না। তাদের সঙ্গে একরকম ধস্তাধস্তি করাতে বস্ত্রে ঢাকা হাড়ি ভেঙ্গে গেল, গঙ্গামাতা মূর্ছিত হলেন,সমস্ত ব‍্যাপার প্রকাশিত হলে ছড়িদারদের শত শত ছড়ি চারদিক হতে তাঁর গায়ে পড়ল।গঙ্গামাতা মূর্ছিতা,তার উপরে বেত্রাঘাতে মৃতপ্রায়।এইমত অবস্থায় তাঁকে তাঁর কুটিরে আনা হল। গঙ্গামাতার এই অবস্থা দেখে অনেক ভক্ত হাহাকার করতে লাগলেন।ছড়িদারদের অব‍্যাহত বেত্র কিছুতেই নিবারিত হবার নয়।যাই হোক,বহু কষ্ট পাওয়ার পর শ্রীজগন্নাথদেবের দয়া হল।ভক্তের মহিমা প্রকাশ করতে হবে।তাই সেবকদের প্রতি আদেশ হল গঙ্গামাতা আমার পরমভক্ত তাকে যে প্রহার করেছে তা সবই আমার গায়ে আঘাত করা হয়েছে। অতএব তাকে তাড়াতাড়ি নিয়ে এসো, এবং সে যেভাবে আমাকে খাওয়াতে চেয়েছিল, সেই সব দ্রব‍্য দ্বারা আমার ভোগ লাগাতে দাও,আমি তাতেই অত‍্যন্ত সন্তুষ্ট হব।তদনুসারে সেবকগণ তাঁর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করে শ্রীজগন্নাথের আদেশ জ্ঞাপন করল।*
*গঙ্গামাতা সেবকদের কাছে ভক্তবৎসল ভগবানের দয়ার কথা শুনে তাঁর সমস্ত অভিমান এবং দুঃখ ভুলে গেলেন।আনন্দে বিহ্বল হলেন।নবানুরাগে পুনরায় নানারকম দ্রব‍্যাদি তৈরী করতে লাগলেন।আজ তাঁর বহুদিনের সাধ মিটিয়ে জগন্নাথকে খাওয়াবেন,এই আনন্দে তিনি বিভোর।সমস্ত সামগ্রী তৈরী করে জগন্নাথের কাছে নিয়ে গেলেন।*
*🍀মা যশোমতী শ্রীকৃষ্ণকে যেরকম বাৎসল‍্য ভাবে খাওয়াতেন,কর্ম্মা বাই যেভাবে খিচুরী খাইয়েছিলেন, আজ গঙ্গামাতাও বাৎসল‍্য ভাবেতে জগন্নাথকে খাওয়ালেন।অদ‍্য হতে গঙ্গামাতা পুরীতে প্রসিদ্ধ হলেন।*
🌺🌲🌳🍀🌹🥀☘🍁🌿💮🌸
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 শ্রীশ্রীজগন্নাথ ও শ্রীশ্রীগৌরাঙ্গ 🌷 নবম ভাগ 🌻 শ্রীযুক্ত রাজর্ষি গোপালচন্দ্র আচার্য‍্য চৌধুরী প্রণীত ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📝 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/02/jagannath9.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(৯২)শ্রীশ্রীজগন্নাথ ও শ্রীশ্রীগৌরাঙ্গ*
       *😭নীলাচলে মহাপ্রভু😭*
      *😭মহাপ্রভুর অপ্রকট😭*
   😭😭😭😭😭😭😭
*🍀শ্রীমন্মহাপ্রভু দীর্ঘ দ্বাদশ বৎসর গম্ভীরাতে লীলা করেছেন, বিরহের দুঃখে বিভোর ছিলেন। যদিও বিরহকে দুঃখ বলা যায়,বাস্তবিক বিরহ দুঃখ না,সুখের চরমসীমা, প্রেমের শেষ অবস্থা।এতে সুখের এবং দুঃখের একত্র মিশ্রণ ; এই ব‍্যাপারে সুখেরও অবধি নাই, দুঃখেরও অবধি নাই,বিষামৃতে একত্র মিলন।*
*পিরীত সুখের, সাগর দেখিয়া,*
        *নাহিতে নামিলাম তায়।*
*নাহিয়া উঠিয়া,ফিরিয়া চাহিতে,*
       *লাগিল দুঃখের বায়।।*
*কিবা নিরমল,প্রেম-সরোবর,*
        *নিরমল তার জল।*
*দুঃখের মকর,ফিরে নিরন্তর,*
       *প্রাণ করে টলমল।।*
*গুরুজন জ্বালা, জলের শিহালা,*
       *পড়শী জীয়ল মাছে।*
*কুল পাণীফল,কাঁটা যে সকল,*
        *সলিল বেড়িয়া আছে।।*
*কলঙ্ক পানায়,সদা লাগে গায়,*
        *ছাঁকিয়া খাইল যদি।*
*অন্তর বাহিরে, কুটু কুটু করে,*
       *সুখে দুঃখ দিল বিধি।*
*কহে চন্ডীদাস,শুন বিনোদিনী,*
      *সুখ দুঃখ দুটি ভাই।*
*সুখের লাগিয়া, যে করে পিরীতি,*
       *দুঃখ যায় তার ঠাঁই।।*
*🌻যে এই পিরীতি করে,যদিও সে দিন-রাত্রি পুড়ে মরে,তবু  ইহার "লেহা" ছেড়ে উঠতে পারে না।দিন রাত এই দুঃখে জড়িয়ে থাকতেই যেন সুখ বোধ করে। যাইহোক, এতক্ষণ পাঠকবর্গকে এই সুখ দুঃখের ভিতরে জড়িয়ে রেখেছিলাম।এখন এই স্তর পরিত‍্যিগ করে,আমরা গভীরতর শোকের স্রোতে পাঠককে ভাসাতে বাধ‍্য হচ্ছি।গম্ভীরালীলার পরই, মহাপ্রভু ১৪৫৫ শকের আষাঢ় মাসের সপ্তমী তিথিতে,আটচল্লিশ বৎসর বয়সে অপ্রকট হন।নবদ্বীপের ভক্তগণ রাসের সময় সকলে এসেছেন।মহাপ্রভু তাঁদের দ্বারা পরিবেষ্টিত হয়ে বৃন্দাবনের কথা কহিতেছেন। যথা শ্রীচৈতন‍্যমঙ্গলে=*
*🌷হেন কালে মহাপ্রভু কাশীমিশ্র ঘরে।*
*🌷বৃন্দাবন-কথা কহে আনন্দ অন্তরে।।*
*🌻মহাপ্রভুর তিরোভাব সম্বন্ধে পুরীধামে দুই রকমের কিম্বদন্তী প্রচলিত আছে।অদ‍্যাপি টোটাগোপীনাথের ঠাকুর দর্শন করতে গেলে, পান্ডারা ঠাকুরের জানুদেশে ফাটা জায়গা দেখিয়ে বলে যে,এই স্থান দিয়ে মহাপ্রভু গোপীনাথের দেহে প্রবেশ করেছেন।গোপীনাথের দেহে প্রবেশ করতে হলে যে, ফাটা স্থান দিয়ে প্রবেশ করতে হবে, এইরকম কোন প্রয়োজন দেখা যায় না।তবে ঈশ্বরের ইচ্ছা কি,তা কিছু বুঝা যায় না।ভক্তদের কাছে এই ঘটনা চিরস্মরণীয় করার জন্য, যদি মহিপ্রভুর ইচ্ছা হয়ে থাকে,তাহলে সবই সম্ভবে।পান্ডামহলে এইরকমই শুনা যায় যে,তিনি গোপীনাথের দেহে প্রবেশ করেছিলেন। কিন্তু অমিয়নিমাই চরিত ষষ্ঠখন্ডে, মহাপ্রভুর অপ্রকট হওয়া সম্বন্ধে,স্বর্গীয় শিশিরবাবু যে আলোচনা করেছেন,তাতে তিনি প্রমাণিত করেছেন যে,মহাপ্রভু শ্রীজগন্নাথের দেহেই লীন হয়েছেন।যথা অমিয় নিমাই চরিত ষষ্ঠ খন্ডে উদ্ধৃত চৈতন‍্যমঙ্গলে=*
*🌷ভক্তি ইচ্ছা দেখি কহে পড়িছা তখন।*
*🌷গুঞ্জা-বাড়ির মধ্যে প্রভুর হইল অদর্শন।।*
*🌷সাক্ষাতে দেখি গৌর প্রভুর মিলন।*
*🌷নিশ্চয় করিয়া কহি শুন সর্বজন।।*
*শিশিরবাবুর নিজের মতও উদ্ধৃত করলাম,আমাদের মহাপ্রভু যাবার বেলা আমাদেরকে জগন্নাথদেবের হাতে হাতে সঁপে দিয়ে গিয়েছেন।সঁপে দিয়ে আবার সেই জগন্নাথের হৃদয়ে প্রবেশ করলেন।*
*আমাদের মহাপ্রভু জগন্নাথেই বিলীন হন,অথবা গোপীনাথেই বিলীন হন,তাঁর ভিতরেই,তিনি বিলীন হলেন,এটি নিশ্চিত হল।জগন্নাথময় গৌরভক্ত-বৃন্দের ভিতরে মহা ক্রন্দনের রোল উঠে গেল।এইকথা শুনামাত্র স্বরূপ,তাঁর প্রাণসর্বস্ব গৌরাঙ্গকে হারিয়ে,আর জীবন রাখতে পারলেন না।তিনি বুক ফেঁড়ে প্রাণ ত‍্যাগ করলেন।শ্রীগৌরাঙ্গের তিরোভাবে যে কি দুঃখ হয়েছিল, কেবল গৌর-ভক্তেরাই তার অনুভূতি করতে পারবেন।আমাদের বুঝাবার চেষ্টা বৃথা!যদিও এই সমস্ত ভক্ত ইন্দ্রিয়-বিজয়ী,পরমজ্ঞানী, তবুও মহাপ্রভুর তিরোভাবে এত ব‍্যাকুল হলেন কেন,কেউ কেউ এইরকম প্রশ্ন করতে পারেন। এই প্রেমের রাজ‍্যে জ্ঞানের কঠোরতা নাই,অথচ,জড়-জগতের সাধারণ জীবের মত স্নেহ মমতা হতে একটু স্বতন্ত্র।এই সব ভক্তের হৃদয় কর্তব‍্য পালনে বজ্র হতেও কঠিন,আবার সময়ে কুসুম হতেও সুকোমল।*
*🙏শ্রীশ্রীজগন্নাথ ও শ্রীশ্রীগৌরাঙ্গ (নীলাচলে মহাপ্রভু) এখানেই বিরাম হ'ল। বানান, ভুল ভ্রান্তি হয়ত অনেক হয়েছে, নিজগুণে ক্ষমা করবেন।*
😭😭😭😭😭😭😭😭😭😭😭😭😭
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

    📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝
    ꧁👇📖 সূচীপত্র ✍️ শ্রী জয়দেব দাঁ 📖👇



✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧


✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

   ✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️ 
নিবাস- বাঁশবাড়ী, কীর্তন মন্দিরের পাশে, পোঃ- বাঁশবাড়ী, থানা- ইংরেজ বাজার, জেলা- মালদহ, পশ্চিমবঙ্গ, পিন কোড- ৭৩২১০১।

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

  *••••┉❀꧁👇🏠Home Page🏠👇꧂❀┅••••* 


✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

    *••••━❀꧁👇 📖 সূচীপত্র 📖 👇꧂❀┅••••* 



✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

     *••••━❀꧁👇📚 PDF গ্রন্থ 📚👇꧂❀┅••••* 


✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
    *••••┉━❀꧁ 🙏 রাধে রাধে 🙏 ꧂❀━┅••••* 
                   শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য প্রভু নিত্যানন্দ
              হরে কৃষ্ণ হরে রাম শ্রীরাধেগোবিন্দ।।
  *••••┉━❀꧁ 🙏 জয় জগন্নাথ 🙏 ꧂❀━┅••••*
              হরে কৃষ্ণ হরে কৃষ্ণ কৃষ্ণ কৃষ্ণ হরে হরে
              হরে রাম হরে রাম রাম রাম হরে হরে॥
  *••••┉━❀꧁ 🙏 জয় রাধাকান্ত 🙏 ꧂ ❀━┅••••*
   🌷❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀🌷
   🏵️❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀🏵️
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

adds