শ্রী মৃন্ময় নন্দী কর্ত্তৃক সকল ভক্ত👣চরণে👣অসংখ্যকোটি 🙇প্রণাম🙇 ক্লিক করুন 👇

শ্রী মৃন্ময় নন্দী কর্ত্তৃক সকল ভক্ত👣চরণে👣অসংখ্যকোটি 🙇প্রণাম🙇 ক্লিক করুন 👇

শ্রীকৃষ্ণের পূর্বরাগ 🌷 শ্রীকৃষ্ণ লীলা ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📝 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2025/07/purbarag.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

শ্রীকৃষ্ণের পূর্বরাগ 🌷 শ্রীকৃষ্ণ লীলা ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📝 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2025/07/purbarag.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*🌻শ্রীকৃষ্ণের পূর্বরাগ গৌরচন্দ্রিকা*

                  *🌺🌺পদ🌺🌺*
*১| বিরস বয়ানে গৌর কেন আছ বসি।*
*কাটান--,আমার ভাবনিধি----ই-ই-ই-ই-ই-ই-ই-ই--*
*ভাবনিধি শ্রীগৌরাঙ্গ---------------*
*আহা মরি--ই-ই-ই-ই আরে--এ-এ- এ---এ-এ-এ*
*ওকি আ---হা-----আহা--রে--এ-এ-এ-এ*
                   *মধ‍্যম*
*২| নয়নের জলে তোমার----আরে কিবা*
*নয়নের ও ও ও জলে তোমার,আ-আ-আ-আ*
*মুখ বুক ভা-----সে--------------*
     *আজ কেনো এমন হলে-------*
*নয়নের জলে তোমার -------------------*
*শিকলি=আহা মরি রে------এ-এ-এ-এ-এ-এ-এ*
*প্রেমাধীন গৌরচন্দ্র, পূরব লীলা রঙ্গ-----*
*আজ পূরবের ভাব মনে হয়ে,*
*সেই পূবরের ভাব মনে হয়ে মনে হয়ে,*
*দুটি নয়ন জলে ভেসে যায় -------*
*কাটান--আজ নয়ন জলে ভেসে যায় রে- এ-এ-এ-এ*
*ভাবনিধি,ভাবনিধি শ্রীগৌরাঙ্গ।*
*(গৌর আমার) পূরবের ভাব মনে হয়ে রে*
*নয়ন জলে-----নয়ন জলে ভেসে যায় রে।*
*রাগিনী--,আহা মরি রে---- আহা মরি রে---এ-এ-এ-এ-এ*
*আ----আ-আ-আ-আ-----------*
*বিরস বয়ানে গৌর কেন আছ বসি।*
*নয়নের জলে তোমার মুখ বুক যায় ভাসি।।*
                  *বড় একতালী*
*ভেসে যায় রে----------------*
*দুটি নয়ন জলে বয়ান---*
*সেই পূরবের ভাবে বিভোর হয়ে।।*
*আমার ) ভাবনিধি শ্রীগৌরাঙ্গ।।*
                   *ঝাঁতি*
                     *পদ*
*সুমধুর হরিনাম বদনে না স্ফুরে।*
*আখর=বলতে নারে রে।*
*এই সুমধুর হরিনাম।*
*মনেহয় বুঝি)ভাবে কন্ঠ রোধ হয়েছে।*
*🍀কথা=নবদ্বীপ সুধাকর শ্রীমন্ গৌরসুন্দর আমার পূরবের ভাবে বিভাবিত হয়ে, সুরধূনী গঙ্গার কুলে একটি নির্জন জায়গায় গৌরীদাসকে সঙ্গে নিয়ে বসে আছেন। গৌরীদাস বলছেন--,*
*গৌর হে--- প্রাণ গৌর আমার তোমার বদন চেয়ে---*
                   *পদ*
*দেখিলে তোমার মুখ হৃদয় বিদরে।।*
*আখর=গৌর হে, একবার বল না কেন হে,*
*সুমধুর হরিনাম,*
*দুটি হেমদন্ড বাহু তুলে।*
*🍀কথা=ভাবাবিষ্ট পদকর্তা বলছেন, আমার গৌরসুন্দর যে পূরবের ভাবে বিভোর হয়েছেন, এই পূরবের ভাবটি কি? না পূরবের ভাবটি হল মধুর শ্রীবৃন্দাবন লীলার ভাব।*
*তাহলে মধুর শ্রীবৃন্দাবনে গৌরসুন্দর আমার কে ছিলেন?*
*আখর= এই তো সেই রে,*
*আমাদের) বৃন্দাবনের রাধা বল্লভ,*
*প্রেম) আস্বাদিতে নদীয়ায় এলেন।*

*🍀কথা=তাহলে মধুর শ্রীবৃন্দাবনে যদি গৌরসুন্দর আমার রাধা বল্লভ ছিলেন, সেই রাধা বল্লভের অঙ্গ বরণটি ছিল কেমন? না, উজ্জ্বল নীলকান্তমণি সদৃশ নবঘন শ‍্যামবর্ণ।সেই বরণটি গৌরসুন্দর আমার কোথায় রাখলেন?*
*আখর=লুকায়ে রেখেছে,*
*অন্তরে নীলকান্তমণি,*
*বাইরে)রাধাভাব স্বরূপিনী।*
*🍀কথা=তাহলে বতর্মান যে শ্রীমন্ গৌরসুন্দর, এই গৌরসুন্দরের রূপ মাধুর্য‍্য তত্ত্বটি কি? না,মাধুর্য‍্যময় গৌর রূপের তত্ত্বটি হ'ল----*
*🌻কৃষ্ণ সন্দর্ভ গ্রন্থে উল্লেখ আছে,*
*🌷অন্তঃকৃষ্ণং বহির্গৌরং দর্শিতাঙ্গাদি বৈভবম্।*
*🌷কলৌ সংকীর্তনা _______ কৃষ্ণ চৈতন‍্যমাশ্রিতা।।*
*🌻অর্থ‍্যাৎ যিনি অন্তরে কৃষ্ণ,বাহিরে শ্রীমতী রাধিকার অঙ্গাদির বৈভব রূপ গৌরদেহ ধারণ করে কলিযুগে অবতীর্ণ হয়েছেন।এই কলিযুগে সংকীর্তন যজ্ঞদ্বারা সেই শ্রীকৃষ্ণচৈতন‍্যের স্মরণ গ্রহণ করি।*
*আখর=অবতীর্ণ হয়েছেন,*
*যুগল মূরতি খানি,*
*হরিনাম আর প্রেম নিয়ে।*
*২|আখর=অবতীর্ণ হয়েছেন,*
*প্রেমময় করবেন বলে,*
*এই স্থাবর জঙ্গম কীট পতঙ্গ।*
*🍀কথা=তাহলে এই হরিনাম যজ্ঞদ্বারাই শ্রীমন্মহাপ্রভুকে লাভ করা যায়। গৌর-ধনে ধনী হবার এ একটি পথ তো পাওয়া গেল।*
*আচ্ছা যাদের এই হরিনাম যজ্ঞ করবার মত সামর্থ নাই, তাদের কি গৌর লাভ হবে না?তাদের জন্ম কি বৃথায় যাবে?তাদের কি গৌর লাভ করার কোন উপায়ই কি নাই?*
*না, আছে, তাদেরও উপায় আছে।গৌরসুন্দর যে আমার কাঙালের ঠাকুর,তাই তাদের উপায়, বিষ্ণুপুরাণে উল্লেখ আছে--*
*ধ‍্যায়ন কৃতে যজন যজ্ঞৈস্ত্রেতায়াং দাপরেহর্চ্চয়ন।*
*যদ্ প্নোতি তদা প্নোতি কলৌ সংকীর্ত্ত কেশবম্।।*
*🌻অর্থ‍্যাৎ= সত‍্যযুগে ধ‍্যান,ত্রেতাযুগে যজ্ঞ,দ্বাপরযুগে অর্চ্চন দ্বারা যে ফল লাভ করা গিয়েছে, কলিযুগে কেবল একমাত্র হরিনাম সংকীর্তন দ্বারা একটিবার মাত্র গৌর হরিবোল বলে ডাকলেই সেই ফল লাভ হয়ে থাকে।*
*🌺তাই ভাবাবিষ্ট পদকর্তা জগতের লোককে ডেকে ডেকে বলছেন--,*
*আখর=তোমরা একবার) গৌরহরি বলরে,*
*আমার)গৌর কাঙাল যারা আছে,*
*প্রেমানন্দে বাহু তুলে,*
*গৌর)হরিবোল হরিবোল বলে।*

*🍀কথা=আবার এই হরিবোল বলিলে কি হয়,কি হয় না--*
*হ শব্দে শ্রীরাধিকার পদযুগ শোভা।*
*রি শব্দে মনোহরা কুচযুগ লোভা।।*
*বোল শব্দে হয় বিদ‍্যুৎ আকার।*
*রাধাকৃষ্ণ একদেহে সাক্ষাৎ শৃঙ্গার।।*
*আখর=একবার)হরিবোল বল রে,*
*প্রেমানন্দে বাহু তুলে,*
*গৌর তোমার হলাম বলে।*
                  *পদ*
*দশনে অধর ধরি লহু লহু চাপ।*
*কিসের লাগিয়া গৌর ঘন ঘন কাঁপ।।*
*আখর=কাঁপছ কেন গো,*
*বল তোমার কি হয়েছে,*
*ওহে প্রাণের গৌরহরি।*
*আখর=খুলে বলো হে,*
*তোমার মরম কথা,*
*কেন তুমি এমন হ'লে।*
                 *পদ*
*কি ভাব পরেছে মনে কহনা আমারে।*
*বাসুদেব ঘোষে ইথে কি বলিতে পারে।।*
                *জামালী*
*প্রথমে বৃন্দাবনের ব‍্যাখ‍্যা,*
*পূর্বরাগ কাকে বলে তার তিন প্রকার ব‍্যাখ‍্যা,*
*তার পরে অনুক্ষণ পদ আরম্ভ হবে।*
*🌻অতি সংক্ষেপে গৌরচন্দ্রিকা এখানেই রইল।*

*🌻শ্রীকৃষ্ণের পূর্বরাগ ব্রজলীলা🌻*
                   *পদ*
*অনুক্ষণ হেরিয়ে তোহে আনচিত।*
*কাটান=সখা---কেন---কেন এমন-- হলে ভাই,*
*বল কি তোর ব‍্যাধি----- হইল রে----,*
*সখা কেন--- ও-ও-ও-ও-ও*
*🍀কথা=সখারে সত‍্য কথা বলছি তোর চিত্ত মন যেন কেমন হয়েছে।*
*রাগিনী= সখারে------এ-এ-এ-এ-এ*
*অনুক্ষণ হেরিয়ে তোহে---- তোহে আনচিত---,*
*আখর=একবার)খুলে বল ভাই।*
*তোর) মরম কথা একবার।*
*যদি)মরম সখা বলে জানিস।*
*🍀কথা=সখারে-- আমি বেশ দেখছি তোর,*
*আখর=মনে)মন নাই রে।*
   *মন)কারে যেন দিয়েছিস ভাই।*
*তোর বদন দেখলেই বুঝা যাচ্ছে।*
*🍀কথা=সখা! মন যদি কাউকে দিয়েই থাকিস তবে আমার কাছে খুলে বল।কেননা তোর বদন দেখেই বেশ বুঝতে পারছি। তারপর আরও লক্ষণ দেখছি---*
                 *ঝাঁতি*
                   *পদ*
*দূরে গেও মুরলীক আলাপন গীত।।*
                  *বড় একতালী*
*আখর=বাঁশী কেন)বাজাস নে বাজাস নে----*
*তোর)সাধের বাঁশী ধূলায় পরে----*
*যে মুরলী)বিনা আন জানিস না ভাই।*
*আখর=বাঁশী)করে কর করে কর---*
      *ওরে ও মুরলী ধর---*
*নইলে করের শোভা হয় না ভাই।।*
*🌻কর=হাত ।*
*দূরে গেও মুরলীক আলাপন গীত।।*
*মরম না কহ কাহে পরাণ সাঙ্গাতি।*
*🍀কথা=সখারে আমি এতদিনে জানিলাম তুই যে আমায় মরম সখা বলে ডাকিস, এ সম্বন্ধ তোর অন্তরের নয়।যদি এ সম্বন্ধ তোর অন্তরের হয়, তবে---*
*আখর=বলিস না কেন ভাই।*
*তোর)মরম কথা মরমকে খুলে।*
*ওরে আমার মরম সখা।।*
                        *পদ*
*তুয়া মুখ হেরি জ্বলত মঝু ছাতি।।*
                 *বড় একতালী*
*ফেটে যে যায় রে।*
*আমার এই পাষাণ হৃদয়।*
*তোর)বদন পানে চাইতে গেলেই।।*
*তুয়া মুখ হেরি জ্বলত মঝু ছাতি।।*

*🌻ভাবাবিষ্ট পদকর্তা বলছেন--*
*সুবলের,কানাইয়ের সঙ্গে সম্বন্ধটি কি? না,সম্বন্ধটি হল সখা, কেমন সখা।*
*🌷এই সখা কয় প্রকার ও কি কি?*
*চেটক,বিট,বিদূষক,পীঠমর্দ্দ ও প্রিয়নর্ম্ম। ইহাদের গুণ হল---*
*পরিহাস বাক‍্য কথনে নিপুণতা,সবসময় গাঢ় অনুরাগিত্ব, দেশকালের অভিজ্ঞতা,গোপীগণ রুষ্ট হলে প্রসন্নতা করা,নিগূঢ় মন্ত্রণা দেওয়া ইত্যাদি ইহাদের গুণ।*

*🍀কথা=ভঙ্গুর ও ভৃঙ্গার এঁরাই ছিলেন চেটক সখা।ভারতী ও কড়ার এঁরাই ছিলেন বিট সখা।বসন্তাদি ও মধুমঙ্গল বিদূষক সখা ছিলেন।শ্রীদাম কানাইয়ের পীঠমর্দ্দ সখা ছিলেন। আর সুবল হলেন কৃষ্ণের প্রিয়নর্ম্ম সখা। কেমন----- না,*
*শ্রীউজ্জ্বলনীলমণি গ্রন্থে পাই--*
*🌷আত‍্যান্তিক রহস‍্যজ্ঞ সখী ভাব সমাশ্রিতঃ।*
*🌷সর্বেভঃ প্রণয়িভ‍্যোহসৌ প্রিয় নর্ম্ম সখোবরঃ।।*
*🌷স গোকুলেতু সুবলস্তথা স‍্যাদর্জ্জুদয়।*
*🌻অর্থ‍্যাৎ=যে ব‍্যক্তি অত‍্যন্ত রহস‍্যজ্ঞ ও সখী ভাবাশ্রিতা, এবং প্রণয়ীগণ মধ্যে অত‍্যন্ত প্রিয়, তাকে প্রিয়নর্ম্ম বা মরম সখা বলে। এই সখায় হলেন গোকুল মধ্যে সুবল।আর দ্বারকায় হলেন অর্জুন।ইর সব সখা হল কৃষ্ণের সখা।*
*🌹এই সুবলসখা,কানাইয়ের বদন মলিন দেখে,নিজে অত‍্যন্ত ব‍্যাথিত অন্তরে ঘন ঘন কানাইকে বক্ষে জড়িয়ে ধরে জিজ্ঞাসা করছেন--*
                 *পদ*
*মরকত জিনিয়া যো কলেবর কাঁতি।*
*🍀কথা=ওরে ভাই কানাই! মরকত মণিকে জয় করেও যে তোর কান্তি শোভা,শুকনো নীলোৎপলের মত মলিন দেখছি কেন?*
                 *পদ*
*সো অব ঝামর কুলয় ভাতি।।*
*আখর=কেন মলিন হয়েছে।*
           *বদন কমল কেন।*
*মনে হয় ) কোন বা চাঁদের কিরণ লেগেছে।।*
*🍀কথা=ঐ কথা শুনে পদকর্তা চিন্তা করছেন যে,আমরা তো জানি বৃন্দাবনে একটি মাত্রই চাঁদ।তাহলে এ আবার কোন চাঁদের কিরণ লেগেছে। কিছুক্ষণ চিন্তা করে পদকর্তা বলছেন, ও---- বুঝেছি-----*
*আখর= কিরণ লেগেছে।*
       *ভানু কুল চন্দ্রিমার।*
*তাইতো বদন কমল মলিন হয়েছে।।*
                   *পদ*
*হেরইতে নিরমল লোচন জোর।*
*কো জানে কইছে করত হিয়া মোর।।*
*আখর=হিয়া) ফেটে যায় রে ।*
            *সখারে তোর বদন দেখে।*
*আমি) আর যে ধৈরজ ধরতে নারি।।*
                    *পদ*
*শুনইতে ঐছন সহচর বাণী।*
*ছোড়ি নিশ্বাস উলটায়ল পাণি।।*
*🍀কথা=সুবলের মুখে সুবলের ঐ কথা শুনতে শুনতে কানাই দীর্ঘ নিশ্বাস পরিত‍্যাগ করে হাতটি সুবলের হাতের উপর উলটিয়ে ফেললেন।*
                    *পদ*
*দূর অবগাহ মরম অভিলাষ।*
*সমুঝিয়া কহে ঘনশামর দাস।।*
*🍀কথা=পদকর্তা ঘনশ‍্যাম দাস বলছেন, ও সুবল! তুমি স্থির হও,এইবার তোমার সখা কিছু বলবে। এইবার সুবলের হাত ধরে কানাই বলছেন--*
*🔷সুরে= ভাই সুবলরে------ কাউকে যেন বলিস না ভাই, তুই আমার মরম সখা, তোর কাছে সবকথা খুলে বলছি।*
*আখর=যেন, বলিস না ভাই।*
          *ওরে আমার মরম সখা।*
     *তুই জানবি আর আমি জানি।*
 *যেন,আন জনে না জানে ভাই।।*
*🔷সুরে কথা=সুবল রে----- প্রথমদিনের কথা বলছি ভাই---*
                *তাল-আড়*
*ও---------কালিয়-------দমন--ও-ও-ও-ও-ও-ও*
*দমন ও-ও-ও-ও দিন----ও-ও-ও-ও-ও*
*দমন দিন মা--------হ*
*সখারে----এ-এ-এ-এ-এ-এ-এ-এ*
*কাটান=সেই দিনের-------সেইদিনের কথা*
       *কিবা বলবো ভাই-----*
*ভাইরে) সেইদিন হতে---------------*
      *আমার দশা এমন হল ভাই----।*


*শ্রীকৃষ্ণের পূর্বরাগ দ্বিতীয় পদ*
☆☆☆☆☆☆☆☆☆☆☆☆☆

     *তাল ঠুংরি,দাস পাহিড়া মিশ্রণ*
      °°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°
*🌷কালি দমন দিন মাহ।*
*🌷কালিন্দীকুল কদম্বক ছাহ।।*

*সুরে=সখারে------ যেদিন আমি কালিদহে কালিয় নাগকে দমন করিলাম।*
*যখন আমি কালিয় নাগের মাথায় চড়ে দাঁড়িয়ে ছিলাম তখন----*
             *তাল মধ‍্যম*
 *আমি)কুলের পানে চেয়ে দেখলাম রে,*
*কালিন্দী কুলে)কদম্বের ছায়ায়।*
*যখন)নাগের মাথায় দাঁড়িয়ে ছিলাম।*
*🌻সেইদিন হতে আমাতে ) আর আমি নাই ভাই।*
                  *ঠুংরি*
*🌷কত শত ব্রজ নববালা।*
*আখর=দেখি)দাঁড়ায়ে আছে রে--*
     *কালিন্দী কুল আলা করে।*
    *আমা পানে চেয়ে চেয়ে।।*
                *দাস পাহিড়া*
                  °°°°°°°°°°°°
*🌷পেখলু জনু থির বিজুরিক মালা।*
               *তাল মধ‍্যম*
                °°°°°°°°°°°
*দেখলাম কত) শোভা করে দাঁড়ায়ে আছে রে,*
*কালিন্দীর)একুল ওকুল আলা করে,*
*মালাদৃশ স্থির বিজুরী।।*
*কথা সুরে=সুবল রে-----, আমি যেদিন কালিয় নাগকে দমন করলাম, কালিয় নাগের মাথায় চড়ে যখন দাঁড়িয়ে ছিলাম, তখন কালিন্দীর কুলপানে চেয়ে দেখলাম যে ব্রজের যত রমণীগণ সবাই আমাকে দেখবার জন্য কালিন্দীকুলে সারিবদ্ধ ভাবে এসে দাঁড়িয়ে আছে। ঐ রমণী দল মধ্যে---*
*🌷তোহে কহোঁ সুবল সাঙ্গাতি।*
*🌷তব ধরি হাম না জানি দিবা রাতি।।*
*🌷তহি ধনি মণি দুই চারি।*
*🍀কথা=ওরে সাঙ্গাতি, ঐ রমণী কুল মধ্যে দুই-চারটি মণি সদৃশ অর্থ‍্যাৎ দুই চারি মানে চারকে দুই দিয়ে গুণ করলে আট হয়, সেই আটজন রমণী দেখলাম।*
*🌷তহি মন-মোহিনী এক নারী।।*
                    *দাস পাহিড়া*
*আখর=তার কথা কিবা বলব ভাই।*
*সে--যে)রমণীর শিরোমণি।*
*তার রূপের চটায়)মনপ্রাণ হরে নিল।।*
                    *তাল বিষম পঞ্চম*
*সো রহু মঝু------- সো রহু মঝু--------*
     *মঝু মনে-----------পৈঠি------*
*কাটান=ঐ রমণী আমার হিয়ায় জাগে।*
*🍀কথা=ঐ রমণী আমার মন মধ্যে প্রবেশ করে।*
                *মধ‍্যম*
*আখর=আমার হৃদয় জুড়ে বসে আছে রে-----*
      *মন প্রাণ ভুলায়ে------*
*সেই হতে)আমাতে আর আমি নাই রে।*
    *মনপ্রাণ সব হরে নিয়েছে।।*
*সুরে= সো রহু মঝু মনে পৈঠি।*
*মনসিজ ধূমে ঘুম নাহি দিঠি।।*
*অনুক্ষণ তহিক সমাধি।*
*কো জানে কৈছন বিরহ বেয়াধি।।*
*সুরে কথা= সখা রে------- সেই হতে-------*
*সুরে= দিনে দিনে ক্ষীণ ভেল দেহা।*
*গোবিন্দ দাস কহ ঐছে নব লেহা।।*
*🌻 পদের ব‍্যাখ‍্যা এই ভাবেও হবে।*
*শ্রীরাধার শ্রীমুখমাধুরী দর্শন করে প্রথমানুরাগী শ্রীকৃষ্ণ একেবারে মুগ্ধ হয়ে আত্ম বিস্মৃতি হয়েছিলেন।সুবলের স্নেহময় কথা শুনে মনের আবেগ সামান‍্য প্রশমিত হল ও কৃষ্ণ কথা বলতে লাগলেন। নবানুরাগী কানাই বলছেন,ভাইরে সুবল!কালিয় নাগকে যেদিন আমি দমন করেছিলাম সেইদিন হতেই আমার এই দশা ঘটেছে।দেখলাম কালিন্দী কুলে কদম্বতরুর ছায়াতে ব্রজের অনেক পরমা সুন্দরী নববালিকাগণ অপরূপ শোভা বিস্তার করে শ্রীযমুনার দুইকুল আলো করে রয়েছে।তাদের অঙ্গকান্তি দেখে মনে হল যেন স্থির বিদ‍্যুৎমালা বলে আমার ভ্রান্তি হয়েছিল।ওরে আমার সুবল সখা!তোকে সত‍্য কথায় বলছি, (তব ধরি)তদবধি বা সেইথেকে আমার নিশিদিশি (দিনরাত্রি) জ্ঞান নাই।আহা! কি অপরূপ রূপ দর্শন করলাম, কেবল সেই চিন্তাতেই মুগ্ধ হয়ে পড়েছি।*
*ওরে আমার মরম সখা সুবল! বলবার কথা নই, তুই আমার অন্তরঙ্গ সখা, তাই তোকে বলছি।এ আমার উপাসনার কথা, আমার ভজনের কথা,তুই আমার প্রিয়নর্ম্ম সখা মরমসখা কাউকে যেন বলিস না, গোপনে রাখিস। সেই (ধনি) ধন‍্যারমণীগণ মধ্যে তাদের শিরোমণি মুকুট স্বরূপা পরমাসুন্দরী দুই-চারটি রমণী ছিল,আবার তার মধ্যে মনমোহিনী একটি নারীকে দেখা মাত্রই সে আমার মনের ভিতর প্রবেশ করে আমার মন হরণ করেছে,আমি তারপর হতে সবসময়ই কেবল তারই (সমাধি) ধ‍্যান করছি,মরমসখা আমার,আমাতে আর আমি নেই।বিরহ ব‍্যাধির যন্ত্রণা কেমন তা কে জানে।*
*ওরে সখা!এই দেখ, আগে কেমন ছিলাম,এখন কেমন হয়েছি।সবসময় আমার দেহ ক্ষীণ (ক্ষয়)হচ্ছে, আমার জীবনের আশা নাই,ভাবাবিষ্ট পদকর্তা সখীভাবে উত্তর দিচ্ছেন, নতূন প্রেমের দশা এইরকমই হয়। লেহ=প্রেম।*
*🌻পেখলু=দেখলাম, জনু=যেন, সমাধি=ধ‍্যান,পৈঠি=প্রবেশ করেছে, দিঠি=দৃষ্টি ।* 
     *দ্বিতীয় পদের বিরাম।*



*🌻শ্রীকৃষ্ণের পূর্বরাগ তৃতীয় পদ "শ্রীরাধার বয়ঃসন্ধি---*
*🍀পৌগন্ড গত হয়ে কৈশোরে প্রবেশ।পৌগন্ড অর্থ‍্যাৎ পাঁচ বৎসর হতে দশ বৎসর বয়সকে পৌগন্ড বলা হয়।আবার দশ হতে পনের বৎসর বয়সকে কৈশোর বলা হয়।*
*🌷বাল‍্যঞ্চ পঞ্চম বর্ষ পৌগন্ড দশমাবধি।*
*🌷আঃ পঞ্চদশ কৈশোরং যৌবনাঞ্চ ততোপরং।।*
              *তাল বড় দোঠুকি*
                       *পদ*
*গেলি কামিনী,গজহু গামিনী-----------*
    *বিহসি পালটি নেহা-----নেহারিরে,*
             *ওরে মরম সখা-------*
*কাটান=সেই রমণী চলে গেল------------*
*যাবার সময়)আমা পানে চেয়ে গেল।*
*সেই রমণী)গজ গমনে চলে গেল।।*
                  *ছোট দোঠুকি*
                    °°°°°°°°°°°°°°
*গেলি কামিনী, গজহু গামিনী,*
         *বিহসি পালটি নেহারি।*
*ইন্দ্র জালক, কুসুম সায়ক,*
         *কুহকী ভেলি বরনারী।।*
*আখর=কুহক)লাগায়ে গেল রে।*
          *আমার)নয়নে কুহক।*
       *ইন্দ্রজাল বিস্তার করে।*
 *আমার মন প্রাণ সব হরে নিয়ে।।*
*🍀কথা= আর একদিন ব্রজের পথে, ঐ অপরূপা রমণীকে যেতে দেখলাম,সেই যে চলে যা---চ্ছে, সেই যাবার ভঙ্গি! আহা! কত না ভঙ্গি, যেন গজ গমনে অর্থ‍্যাৎ হাতী যেমন ধীর গতিতে হেলেদুলে চলে,সেই রমণী গজ গমনে চলে গেল, তারপর কি হল জানিস! আফার যেতে যেতে ঘুরে দাঁড়িয়ে আমার দিকে চেয়ে যেন একটি ইন্দ্রজাল বিস্তার করে কুহক লাগায়ে চলে গেল----আবার-----*
                *পদ*
*জোরি ভূজযুগ, মোঢ়ি বেঢ়ল,*
         *ততহিঁ নয়ন সুছন্দ।*
*🍀কথা=ওরে মরম সখা তোকে আর কি বলব, আবার পথে যেতে যেতে ভূজযুগ (হাত দুটি)একটি মোড়া দিয়ে নিজের থুতনি ধরে আমা পানে চেয়েছিল।তাতে শোভাটি যা দেখলাম, তার------*
*আখর=তার)তুলনা মেলে না।*
        *চাঁদ বদনীর শোভার।*
  *সেই হতে)আমাতে আর আমি নাই।।*
*🍀কথা=ঐ অপরূপা রমণীর তুলনা মেলে না,তথাপি জোর করে তুলনা দিয়ে বলছি,শোভাটি হয়েছিল কেমন?*
                  *পদ*
*দাম চম্পকে, কাম পূজল,*
        *যৈছে শারদ চন্দ।*
*🍀কথা=শোভাটি যেন, চম্পকফুল দামের দ্বারা কামদেব শরদের পূর্ণ চন্দ্রিমাকে--------*
*আখর=যেন)পূজা করিছে ।*
        *কামদেব)চম্পকফুল দামের দ্বারা।*
      *শরদের পূর্ণ চন্দ্রিমাকে।।*
                    *পদ*
*উরহি অঞ্চল, ঝাঁপি চঞ্চল,*
       *আধ পয়োধর হেরি।*
*🍀কথা=ঐ রমণী যখন দুটিহাত মোড়া দিয়েছিল,তখন বামদিকের বসন অঞ্চল পবন পরশে উরেছিল।তখন আমি ঐ অপরূপা রমণীর বামদিকের অর্ধ পয়োধরদর্শন করেছিলাম। এই দর্শনে-----*
*আখর= আমায় পাগল করিলে।*
       *আমি)আর ধৈরজ ধরতে নারি।*
    *ঐ রমণীর দর্শন বিনে।।*
*🍀কথা= ঐ পয়োধরের উপরে নীল বসন অঞ্চলের শোভা দেখে মনে হল----*
                   *পদ*
*পবন পরাভবে, শারদ ঘন জনু,*
       *বেকত কয়ল সুমেরু।।* 
*🍀কথা=শারদের ঘন মেঘে সুমেরু পর্বত আচ্ছাদিত অবস্থায় থাকে।আবার যখন পবন পরশে ঐ মেঘ দূরীভূত হয়,তখন যেমন শোভাটি হয় সেরকম শোভা যুক্ত ঐ রমণীর আধ পয়োধর দেখলাম, (ব্রজের প্রেম কিন্তু নিষ্কাম প্রেম,প্রাকৃত জগতের প্রেমের মত ব্রজের প্রেম নয়,প্রাকৃত বুদ্ধি দ্বারা ব্রজরস আস্বাদন হয় না, ব্রজরস আস্বাদন করতে হ'লে চিন্ময় বুদ্ধির দ্বারা বা প্রেমের দ্বারা আস্বাদন করতে হবে )।*
                    *পদ*
*পুনহি দরশনে, জীবন জুড়াইব,*
          *টুটব বিরহক ওর।*
*🍀কথা=সখারে------,আর একবার যদি ঐ রমণীকে দেখতে পেতাম তাহলে----*
*আখর=আমি জুড়াইতাম রে ।*
      *আমার মন প্রাণ সবকিছু।*
  *আর একবার,দেখা পেলে পরে।*
*আমার মন প্রাণ ভরে যেত----।।*
                   *পদ*
*চরণে যাবক, হৃদয়ে পাবক,*
       *দহই সব অঙ্গ মোর।*
*🍀কথা=ওরে আমার মরম সুবল! ঐ রমণীকে যখন দেখলাম,তখন আমার যেন মনপ্রাণ হারিয়ে গেল,তখন নিরূপায় হয়ে ঐ রমণীর চরণে আশ্রয় নিলাম বা লক্ষ্য করলাম,কেন?না,ঐ রমণীর রূপের ছটায় বিপদে পরে অন‍্য উপায় না দেখে,তখন আমি----*
               *ছোট দাস পাহিড়া ছুট*
*আখর=ঐ চরণে স্মরণ নিলাম।*
     *অন‍্য উপায় না দেখিয়ে ।*
*ঐ চরণ পদ্মের দাস হলাম বলে।।*
*🍀কথা=সখারে! আমি বিপদাপন্ন হয়ে যে স্থান নিয়েছিলাম,সেই স্থানে স্মরণ নিয়ে আমার বিপদ আরো দ্বিগুণ হল।কেননা,ঐ চরণের যে যাবক (আলতা)সে পাবক (অগ্নি) সদৃশ (তুল‍্য) হয়ে অর্থ‍্যাৎ আগুন হয়ে আমার হৃদয় হতে আরম্ভ করে সর্বাঙ্গ দহন করতে লাগল।*
                    *পদ*
*ভণয়ে বিদ‍্যাপতি, শুনহ সাঙ্গাতি,*
         *চিত থির নাহি হোয়।*
*সে যে রমণী, পরম গুণমণি,*
        *পুন কি মিলব মোয়।।*
*🌹কোন কীর্তনীয়া বয়ঃসন্ধির কথা আগে বলেন, আবার দূতীগমনের কথা বলেন।দূতী (বিশাখা) বিশাখা না আসিলে প্রকৃত বয়ঃসন্ধির বর্ণন হয় না।পরবর্তী পদ থেকে বিষয়বস্তু জানা যাবে।*

*🌻এমনি ভাবে নির্জনে বসে সুবল ও কৃষ্ণ কথা বলেছেন, এমন সময়ে---*
   *🌹পরের পদ আস্বাদন।*



*শ্রীকৃষ্ণের পূর্বরাগ চতুর্থ পদ*

               *ছোট দোঠুকি*
                 °°°°°°°°°°°°°°
                    *পদ*
*🌷সুবল নাগরে কহিছে কথা।*
*🌷বিশাখা সুন্দরী আইল তথা।।*
*🍀কথা=* *শ্রীরাধার আরেক অন্তরঙ্গা সখী বিশাখা রাধার পূর্বরাগের দশা দেখে বড়ই ব‍্যথিত হয়ে এ-বনে ও-বনে নাগরকে (শ্রীকৃষ্ণকে) খোঁজ করে বেড়াচ্ছেন। খোঁজ করতে করতে এক স্থানে উপস্থিত হয়ে বৃক্ষের আড়াল থেকে কিছু কিছু কথা শুনে বিশাখার সাহস হল যে, ভাবনা নিয়ে আমি খোঁজ করে করে এখানে এসেছি তা আমার মনোবাসনা পূর্ণ হবে।তাই তিনি শ‍্যামনাগরের কাছে উপস্থিত হলেন।বিশাখার পানে লক্ষ্য করে ভাবাবিষ্ট পদকর্তা বলছেন----*
*আখর=রসের কারিকর এলো রে।*
         *মাধুর্য‍্যময় রসের।*
  *রসের,ভিয়ান করবে বোলে।।*
*🌻ভিয়ান=রসগোল্লা সন্দেশ ইত্যাদি তৈরী করার কাজ।*
*🍀আর এখানে প্রেম-মাধুর্য‍্য রস।*
*🍀অর্থ‍্যাৎ আখের রস হতে যেমন চিনি তৈরী করা হয়।*
                     *পদ*
*🌷কি কথা কহিছ সুবল সনে।*
*🍀কথা=ও-------শ‍্যামনাগর-------এই--------নিরজনে বসে সুবলের সনে কি কথা বলছ।*
                     *পদ*
*🌷কহিতে কহিতে কান্দিছ কেনে।।*
*🌷কি কথা কহিছ নাগর রাজ।*
*🍀কথা=ও-------শ‍্যামনাগর----এই নির্জনে বসে কি কথা বলছ? মনে হয় ---*
*🍀কথা=বুঝতে পেরেছি তোমাদের দুইজনেতে গভীর ষড়যন্ত্র হচ্ছে মনে হয়,আজকে রাত্রে অর্থ‍্যাৎ কোন গৃহস্থের বাড়ীতে বা খেতে চুরি করে ফসল খাওয়াবে। বিশাখা এতকথা বলার পরও কৃষ্ণ একটিও কথা বলছেন না।তখন বিশাখা সখি বলছেন ও তাহলে-----*
*আখর= চুরি করবে-----*
     *এই বৃন্দাবনের কারবা ঘরে।*
 *তোমাদের, বদন দেখেই বুঝা যাচ্ছে।।*
*🍀কথা=তা যাই হোক,যদি কারও ঘরে চুরি করবার সাধ থাকে তাহলে ঐ সুবলকে কাছে বোলে কোন লাভ হবে না। তুমি আমায় বলো।*
                   *পদ*
*🌷কি কথা কহিছ নাগর রাজ।*
*🌷আমারে কহনা মনের কাজ।।*
*আখর= আমি,সেই বাড়ীর দাসী।*
           *আমি, সন্ধান বলে দেব।*
  *যে ঘরে,রত্নের ভান্ডার আছে।।*
                     *পদ*
*🌷মনের মরম কহিবা যবে।*
*🌷বেদনা বাটিয়া লইব তবে।।*
*🌷শুনিয়া সুবল কহয়ে ভাষা।*
*🌷ধীবরে ঘেরিল মীনের বাসা।।*
*🍀কথা=সুবল বলছেন, ও বিশাখা! কানাই আর কি বলবে,ওর দশা দেখছ না?*
*🙏সুবলের মুখের কথা শুনে সখীভাবে ভাবাবিষ্ট হয়ে পদকর্তা বলছেন, সরোবর মধ্যে মীনের (মাছের) যে বাসা,ঐ বাসা ধীবর (জেলে) জাল দিয়ে ঘিরে ফেলেছে। কেন-না,মীনকে ধরবে বোলে। অর্থ‍্যাৎ শ‍্যামসুন্দরের নয়ন পথে রাধারাণীর রূপের জাল প্রবেশ করে শ‍্যামের হৃদয় সরোবরে যে মন অর্থ‍্যাৎ মন সদৃশ যে সে মীন আছে অর্থ‍্যাৎ মনের স্বভাব চঞ্চল, মীনের স্বভাবও চঞ্চল, ঐ মনরূপী মীনকে ধরবার জন্য রাই-রূপের জালে ঘিরে ফেলেছে।*
                    *পদ*
*🌷শুনি দূতী মুখে ধরয়ে পাণি।*
*🌻পাণি অর্থ‍্যাৎ হাত বা কর।*
*🍀কথা=দূতীর কথা শুনে, দূতী শব্দের অর্থ,যে দ্বৈত পক্ষের অর্থ‍্যাৎ উভয় পক্ষের কাজ করেন।তাই দূতীর কথা শুনে শ‍্যামনাগর সকাতরে দূতীর হাতখানা ধরেছে মাত্র।*
                 *পদ*
*🌷শুনি দূতী মুখে ধরয়ে পাণি।*
*🌷এ যদুনন্দন কহয়ে জানি।।*
*🍀কথা=শ‍্যামনাগর দূতীর হাত দুখানি ধরে বলছেন,*
*🍁সুরে=সখী-------------আমার-------------মনের---------কথা, তোমার----------কাছে--------------বলি শোন।*
*একদিন বৃন্দা--বনের----------- বৃন্দাবনের---------- পথে যেতে----------দেখলাম।*
                  *তাল আড়*
                    *পদ*



*শ্রীকৃষ্ণের পূর্বরাগ পঞ্চম পদ*

               *তাল আড়*
                   *পদ*
       *🌷অপরূপ পেখলু রামা।*
*কাটান=তার রূপের------------ তার রূপের তুলনা নাই গো।*
*সেই রমণী ------------- আমার মন প্রাণ হরে নিল গো।*
    *তাল কয়ালী বা ছোট দোঠুকি)*
*🌷অপরূপ পেখলু রামা।*
*কনক লতা, অবলম্বনে উয়ল,*
       *হরিণী হীন হিমধামা।।*
*🍀কথা=তদ্ভাবাবিষ্ট পদকর্তা বলছেন, একটি স্বর্ণ লতাকে আশ্রয় করে কলঙ্কহীন পূর্ণচন্দ্র উদিত রয়েছে।উয়ল=উদিত। হরিণীহীন=কলঙ্কশূন‍্য।হিমধামা= চন্দ্র। (এখানে শ্রীরাধিকার শ্রীঅঙ্গ স্বর্ণলতারূপে ও তাঁর শ্রীবদন চন্দ্ররূপে বলা হয়েছে)।*
*আখর=চাঁদ উঠেছে।*
         *ষোল কলায় পূর্ণ।*
        *চাঁদের তুলনা হয় না।।*
                 *পদ*
*🌷গিরিযুগ কনক,পয়োধর উপর,*
*🍀কথা=শ‍্যামসুন্দর বলছেন--,*
*সখী!ঐ রমণীর গিরি সদৃশ বা তুল‍্য দু'টি পয়োধর পলশ করে গলায় একটি হার দেখলাম----*
*আখর=তার,কতই বা শোভারে।*
     *আমার,মনপ্রাণ আকুল কইল।*
*ঝলমল ঝলমল ঝলমল করে।।*
*ঐ রমণীর অঙ্গের ছটা লেগে।।*
                    *পদ*
*🌷কাম কম্বুভরি, কনক শম্ভুপরি,*
           *ঢারত সুরধূনী ধারা।।*
*🍀কথা=দেখলাম ঐ রমণীর গলায় গজমতি হার,দু'টি পয়োধর পরশ করে পরে আছে,তা শোভাটি কেমন? যেন দেখে মনে হল, এই কি সুবর্ণ নির্মিত শম্ভুর বাণলিঙ্গ মূর্তির উপরে কন্দর্প শঙ্খ দ্বারা সুরধূনীর জলধারা ঢালছে। কাম=কন্দর্প, কম্বু=শঙ্খ।*
                 *পদ*
*নয়ন নলিনী দৌ, অঞ্জনে রঞ্জিত,*
        *ভাঙ্গ বিভঙ্গী বিলাস।*
*🍀কথা=দেখলাম,ঐ ধনী শিরোমণির নয়ন যুগল যেন দুইটি নলিনী।তেমনি সুন্দর, স্নিগ্ধ-উজ্জ্বল ও চিত্তাকর্ষক তার উপরে আবার অঞ্জনের বা কাজলের দ্বারা সুরঞ্জিত বা সুশোভিত এবং ভঙ্গীম ভ্রূ বিলাসিত।*




*🌻🌻🌻পদ🌻🌻🌻*

*চকিত চকোর, জোর বিহি বান্ধল,*
       *কেবল কাজর পাশ।।*
*🍀কথা=সখী! দেখে মনে হল যেন বিহি (বিধাতা)দুইটি চঞ্চল চকোরকে কেবল কাজলের দড়ি বেঁধে রেখেছে। জোর যুগল=জোড়া।*
                    *পদ*
*প্রথম বয়সী ধনী,মুনি মন মোহিনী,*
       *গজবর জিনি গতি মন্দা।*
*সিন্দুর তিলকভানু,তড়িত লতা জনু,*
       *উয়ল পূনমীকো চন্দা।।*
*পয়সি প্রয়াগে, যাগশত জাগাই,*
         *সো পাওয়ে বহুভাগি।*
*🍀কথা=আহা! প্রথম যৌবনোচিত তারুণ‍্যামৃত মাখা,তার সেই সুকুমার দেহসৌন্দর্য‍্য এবং গজেন্দ্র বিজয়ী মন্দ মনোহর গতিভঙ্গি দেখলে মুনিজনেরও মন বিমোহিত হয়।আর সুন্দরীর সুন্দর ললাট উপরে বিরাজিত সিন্দুর বিন্দুটি দেখলে মনে হয় যেন প্রভাতের সূর্য‍্য সদা উদিত হয়ে রয়েছে।সখি!তোমাকে আগেই বলেছি তার দেহলতার উপরে বদনখানি যেন চাঁদ উদয় হয়ে রয়েছে,তাতে সিন্দুরের বিন্দু দেখে আমার মনে হল,যেন একগাছি বিদ‍্যুতের লতা কোন অসাধারণ শক্তির প্রভাবে চন্দ্র ও সূর্য‍্যের একসঙ্গে সংঘটন করেছে।আহা!যদি কেউ সর্বকামনা তীর্থরাজ প্রয়াগের জলে শতযজ্ঞ সমাধান করেও (জাগিয়ে)এমন রমণীরত্ন লাভ করতে পারে তবুও সে বহু ভাগ‍্যবান।*
                    *পদ*
*বিদ‍্যাপতি কহ, গোকুল নায়ক,*
        *গোপী জন অনুরাগী।।*
*🍀কথা=ঐ কথাগুলি শুনে সখীভাবাবেশ পদকর্তা বিদ‍্যাপতি উত্তর দিচ্ছেন,হে গোকুলের নায়ক তুমিই যথার্থ গোপী অনুরাগী বটে।*
*কিন্তু ঐ প্রধান গোপী শ্রীমতী রাধারাণীকে পেতে হলে, বতর্মান তোমার সামনে যে গোপিনী আছেন তার অনুগত হও, আবার জগৎপানে লক্ষ্য করে বলছেন---*
*যদি কারও ঐ বৃন্দাবন বিলাসিনী শ্রীমতী রাধারাণীর শ্রীচরণ পাবার সাধ থাকে তবে--*
                    *তাল মধ‍্যম*
*আখর=এবার,গোপী অনুগত------- অনুগত হও গো------, সৎগুরুর চরণ হিয়ায় ধরে,*
*যদি,বৃন্দাবনে যেতে---------- হিয়া কাঁদে।*
*🍀কথা=পরমভক্ত তুলসীদাস বলেছেন।*
*সৎগুরু পাওয়ে,ভেদ বাতাওয়ে,*
       *জ্ঞান কারো উপদেশ।*
*কয়লাকে ময়লা, ছোড়ে যব,*
      *আগ করে পরবেশ।।*
*🍀আবার চৈতন‍্যচরিতামৃতে শ্রীকবিরাজ গোস্বামীপাদ বলেছেন--*
*🌷গোপী অনুগত বিনে ঐশ্বর্য‍্য গুণে।*
*🌷ভজিলেও নাহি পায় ব্রজের ব্রজেন্দ্রনন্দনে।।*
*🌻শ্রীগুরু কৃপা মাথায় ধরে বৈষ্ণবের সঙ্গ লাভ করলেই একটি ভাবযোগ‍্য দেহ লাভ হয়, এবং ঐ ভাবযোগ‍্য দেহ লাভ করে গোপী অনুগত হয়ে বৃন্দাবনে যাও। কেন না--*
*🌷গোপীকা জানেন কৃষ্ণ মনের বাঞ্জিত।*
*🌷প্রেম সেবা পরিপাটী ইষ্ট সমাহিত।।*
         *তাছাড়াও------*
*🌷কোন ভাগ‍্যে কোন জীবের শ্রদ্ধা যদি হয়।*
*🌷তবেত সেই জীব সাধু সঙ্গ করয়।।*



*🌷সাধু সঙ্গ হইতে হয় শ্রবণ কীর্তন।*
*🌷সাধন ভক্তে হয় সর্বানর্থ নিবর্তন।।*
*🌷অনর্থ নিবৃত্তি হৈতে ভক্তে নিষ্ঠা হয়।*
*🌷নিষ্ঠা হইতে শ্রবণাদ‍্যে রুচি উপজয়।।*

*🌷রুচি হৈতে ভক্তে হয় আসক্তি প্রচুর।*
*🌷আসক্তি হৈতে চিত্তে জন্মে কৃষ্ণ প্রীত‍্যঙ্কুর।।*
*🌷সেই রতি গাঢ় হয়ে ধরে প্রেম নাম।*
*🌷সেই প্রেমে পায় যেন সর্বানন্দ ধাম।।*
*🍀কথা=তাই পদকর্তা বলেছেন, হে গোকুল নায়ক তোমার গোপীতে অনুরাগ হয়েছে বটে।*
*🍁আখর=তোমার, অনুরাগের বালাই যাই।*
*এমন নইলে কি জগৎ ভাসে।*
*যাইরে অনুরাগের বালাই যাই।।*





*শ্রীকৃষ্ণের পূর্বরাগ পদ ছয়, "স্নানকালে দর্শন"*

                *বড় দোঠুকি*
                        *পদ*
   *সজনি ও ধনি কে কহ বটে।*
*কাটান= কত শত ধনি দেখলাম।*
  *কিন্তু) এ ধনির তুলনা হয় না।*
        *সারা বৃন্দাবন মাঝে।।*
                   *ছোট দোঠুকি*
*🌷সজনি ও ধনি কে কহ বটে।*
*গোরোচনা গোরি,নবীনা কিশোরী,*
         *নাহিতে দেখিনু ঘাটে।।*
*🍀কথা=সখী!আর একদিনের কথা বলছি শোন।আর একদিন যমুনার ঘাটে সিনান (স্নান)করতে দেখলাম, কেমন করে,না-----*
                   *পদ*
*যমুনার তীরে, বসি তার নীরে,*
          *পায়ের উপরে পা।*
*আখর=বসে আছে গো।*
       *যমুনার)তীরে নীরে।*
    *যমুনার কুল আলো করে।।*
*🍀কথা=শ্রীযমুনার দুইটি কুল আলো করে যমুনার ঘাটে বসে অঙ্গ মার্জনা করছেন।*
                     *পদ*
*অঙ্গের বসন, করিয়া আসন,*
      *সে ধনি মাজিছে গা।।*
*🍀কথা=যমুনার তীরে বসে অঙ্গ মার্জনা করছেন। সুবল বলছেন, ভাই কানাই! তুই তখন কোথায় ছিলি? কৃষ্ণ বলছেন,আমি তখন কদম্বের আড়াল থেকে দেখছিলাম।*
*🍁সুরে কথা=সখি-----------যখন----------- আমি যমুনার কুল পানে লক্ষ্য করলাম------------ তখন------------ আমার মনে হল যে একখানা,*
*আখর= সোনার প্রতিমা।*
        *যমুনার জলের কাদায়*
         *কতই না শোভা তার।।*
*🍀কথা=সুবল বলছে,তা ভাই, তুই যা বলছিস, তোর দেখতে ভুল হয়েছে, কেননা,সোনার প্রতিমা ঘাটের কুলে আসবে কেমন করে? তখন কানাই বলছেন সখীকে----*
*🍁সুরে কথা=সখী------------ আমার মনে হল-----------এই-------- বৃন্দাবনে----------হয়ত--------কে---হ,*
*🍀কথা=ঐ সোনার প্রতিমা খানি তৈরী করেছিল। কেননা,সেবা করবে বলিয়া, কিন্তু হয়ত সেবাকার্য‍্য চালাতে না পেরে----------এই--------যমুনার জলে------ঐ প্রতিমা বিসর্জনের জন্য এনেছিল,*
*🍁সুরে কথা = কিন্তু ঐ প্রতিমার বদন পানে চেয়ে চিন্তা করেছেন যে,আমি না হয় সেবা চালাতে পারলাম না,তাই বলে এমন সোনার প্রতিমা জলে বিসর্জন দিব না। এই ঘাটের কুলেই রেখে যাই।যদি কেউ এই প্রতিমা সেবা করবার জন্য নিয়ে যাই,তাহলে নিজ ঘরে নিয়ে গিয়ে প্রাণভরে সেবা করবে।তাই ভেবে ঐ সোনার প্রতিমাখানি ঘাটের কুলে রেখে গিয়েছে। আমার মনে হলঐ প্রতিমা নিয়ে গিয়ে নিজ ঘরে সোনার খাটে বসিয়ে আমি---*
                *দাস পাহিড়া*
*আখর=প্রাণ ভরে সেবা করিব।*
     *প্রতিমার,যুগল চরণ হিয়ায় ধরে।*
      *আমি তোমার হলেম বলে।।*
                 *পদ*
*কিবা সে দুগুলি, শঙ্খ ঝলমলি,*
         *সরু সরু শশিকলা।*
*মাজিতে উদয়, শুধু সুধাময়,*
       *দেখিয়া হইনু ভোলা।।*
*🍀কথা=ঐ যমুনার তীরে এবং নীরে বসে অঙ্গ মার্জনা করছে।*
*🌹সুরে=সখী----------- তারপর ঐ রমণী যমুনার জলে নেমে---------- যমুনায় সাঁতার দিতে লাগিল।তখন আমি ভাল ভাবে তাকিয়ে দেখলাম যমুনার কালো জলে, শুধু ঐ রমণীর দেহখানি যমুনার কালো জলে ভাসছে।শোভা দেখে আমার মনে হল,*
   *তাল-- কাটা দশকুশী ১৮মাত্রা*
    ◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆
*যেন সোনার কমল-----------কমল জলে ভাসে-----এ-এ-এ-এ-এ-এ, শ্রীযমুনার কালো জলে----------, দেখে মনে হল,*
*🔆শিকলি=সখারে------------------*
*১)আকন্ঠ বপু পৈষে জলে,*
*মুখ মাত্র তার ভাসে জলে,*
*যমুনার তরঙ্গে যখন ধনির বদন কমল দোলে,*
*তার রূপ তরঙ্গে আমার হিয়া দোলে লাবণ‍্যের বন‍্যায় মন আমার ভেসে গেল।। তা দেখে আমার মনে হল--*
*২)সখারে-------------------------*
*মন যখন আমার ভেসে গেল,*
*তার পেছন পেছন আমার ধৈর্য‍্য লজ্জা কুল মান সবই গেল,*
*ঐ রমণীর জন্য আমাকেও ভাসতে হল,*
*তখন প্রেমলতাকে আশ্রয় করে দাঁড়িয়ে দেখলাম,*
*আমার মন ভাসতে ভাসতে সেই সোনার কমলে লাগলো।*
*৩)আবার ভাবলাম মনকে ফিরে পেতে হলে আমিও ভেসে যাইনা কেন, সেই ধনির লাবণ‍্যের বন‍্যার জলে ভেসে গিয়ে সেই সোনার কমলের মূল চরণকমল তুনে এনে,হৃদি সরোবরের জলে রাখব।*
*কাটান=অমনি ধনি চলে গেল।*
       *আমার সর্বস্ব হরণ করে।*
                *দাস পাহিড়া*
*আখর=সোনার কমল জলে ভাসছে।*
*ঐ কমলে যমুনার, একুল ওকুল আলো করে।*
*ঐ সাথে আমার, মনপ্রাণ সব হরণ করে।।*


*🍀কথা=সুবল দেখছেন তাঁর মরম সখা যেন কেমন হয়ে যাচ্ছে। তখন তাড়াতাড়ি বলছে ভাই কানাই!তখন তোর মন কি বলিল? কানাই ধৈর্য‍্য ধারণ করে বললেন, তখন মনে হল,যমুনার জলও কালো, আমার অঙ্গের বরণও কালো। যমুনার জলের মধ্যে ঐ সোনার পদ্মটি যেমন শোভা বিস্তার করেছে, আমার এই হৃদয়ে যদি ঐ সোনার কমল দোলাতে পারি,তাহলে আমার হৃদয়েও তেমনি শোভা বিস্তার করবে।তাই আমার মনে হল---*
                  *তাল--মধ‍্যম*
*আখর=ঐ কমল তুলে হৃদয়ে-------দোলাই হে।*
                              *ওগো সখি--*
*আর, নিরজনে বসে-----নয়ন ভরে দেখি।*
*মন প্রাণ সব বিকায়ে-- নয়ন ভরে দেখি।*
*আমি তোমার হলেম বলে,নয়ন ভরে দেখি।।*
*🍀কথা সুরে= তারপর ঐ রমণী যমুনায় স্নান করে,যখন যমুনার জল হতে উঠে জল পরিত‍্যাগ করছে, তখন আর একটি অবস্থা দেখলাম, যমুনা যেন ঐ রমণীর চরণ পানে চেয়ে রইল। পদকর্তা ঐ অবস্থা দেখে বলছেন, ও শ‍্যামনাগর!ঐ রমণী যখন স্নান করে উঠলেন, যমুনা------সত‍্যই------তাঁর--,*
*আখর=চরণ ছাড়া হতে চায় না,*
*যেন, পিছু পাছু যাইতে লাগল,*
*বলে,আমি ভাগ‍্য গুণে পেয়েছি রে,*
*চরণ হতে,আমায় বঞ্চিত করো নাহে।।*
                        *পদ*
*সিনাঞে উঠিতে, নিতম্ব তটেতে,*
         *পড়িছে চিকুররাশি।*
*কান্দিয়া আন্ধার, কনক চান্দার,*
       *শরণ লইল আসি।।*
*🌻কনক চান্দার=সোনার চাঁদের।*
*আখর=দেখলাম,আঁধার কাঁদছে।*
  *কনক চাঁদের,শরণ নিয়েছে।*
    *আমি তোমার হলেম বলে।।*
*🍀 সুরে=সখিরে-------দেখলাম ঐ রমণী স্নান করে উঠে যখন পথে চলেছেন তখন কালো আঁধার তুল‍্য যে চুলরাশি,ঐ চুল হতে জল নিঙ্গারি নিঙ্গারি পরছে।তা দেখে মনে হল যেন আঁধার কেঁদে কেঁদে সোনার চাঁদের শরণ নিয়েছে।আমার তখন মনে হল, ঐ রমণীর চুলগুলিও কালো, আমার বরণও কালো,ঐ সঙ্গে গিয়ে আমিও---*
*আখর=শরণ নিই গো।*
          *ঐ রমণীর চরণ তলে।*
       *চরণ সেবা করব বলে।।*
                 *পদ*
*চলে নীল শাড়ী,নিঙ্গারি নিঙ্গারি,*
        *পরাণ সহিতে মোর।*
*🍀কথা=ঐ রমণী এক পা করে চলতে লাগল আর আমা পানে চায়তে লাগল, আর ঐ নীলশাড়ীর আঁচল একবার করে মোড়া দিতে লাগল, ঐ দেখে আমার মনে হল---*
*আখর= নিঙ্গারি নিল রে।*
       *আমার,মন প্রাণ সব।*
    *নিঙ্গারিয়া নিয়ে গেল।।*
               *পদ*
*সেই হৈতে মোর,হিয়া নহে থির,*
         *মনমথ জ্বরে ভোর।।*
*কহে চন্ডীদাসে,বাশুলী আদেশে,*
         *শুনহে নাগর চাঁদা।*
*🍀কথা=বাশুলীর আদেশ ক্রমে সখী অনুগত হয়ে পদকর্তা চন্ডীদাস বলছেন----*
                       *পদ*
*সে যে বৃষভানু, রাজার নন্দিনী,*
        *নাম বিনোদিনী রাধা।।*

*🔵যতক্ষণ "নাম শ্রবণ" না হবে, ততক্ষণ "রাধা নাম" উচ্চারণ করা যাবে না, মহাজনগণের উক্তি।*

*🍀কথা=ভাবাবিষ্ট পদকর্তা বাশুলী দেবীর আদেশ ক্রমে আর ঐ বিশাখা সখির ইঙ্গিতে ঐ শ‍্যামনাগরের অবস্থা দেখে অর্থ‍্যাৎ নামটি শুনিলে শ‍্যামনাগর হয়ত কিছুটা শান্তিও পাবেন। আবার নামীকে পাবার উপায়ও হবে।(নাম জপ না করিলে নামীকে কখনও পাওয়া যাবে না)।তাই মাধুর্য‍্যময়ী সুখামাখা "রাধা" নামটি বিশাখা শ্রীকৃষ্ণকে শুনিয়ে দিলেন।রাধানাম শোনা মাত্রই কৃষ্ণ দূতীর হাত ধরে বলছেন---*
                  *দাস পাহিড়া*
*আখর=রাধানাম আমায় কে শুনাইলে রে।*
*এমন নাম তো কভূ শুনি নাই রে।*
*রাধানামে,মন প্রাণ সব হরে নিলে।।*
*🍀কথা=পদকর্তা বলছেন, ও শ‍্যামনাগর তুমি----*
              *দাস পাহিড়া*
*আখর=রাধা নাম ধরে কাঁদ কাঁদ রে।*
*কাঁদলে নামী নিকট হবে।*
*যদি, কাঁদার মত কাঁদতে পার।*
    *রাধা রাধা রাধা বলে।।*
*🔴শ্রীকৃষ্ণের প্রথম ভাগ বিরাম হল।*



*🌻শ্রীকৃষ্ণের পূর্বরাগ দ্বিতীয়, গৌরচন্দ্রিকা।*
☆☆☆☆☆☆☆☆☆☆☆☆☆☆☆☆☆
*🍀সোমতাল-----২৮ মাত্রা🍀*
      °°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°
                  *পদ*
*আরে মোর আরে মোর গোরা দ্বিজমণি।*

*কাটান=আমার ভাবনিধি  ভাবনিধি শ্রীগৌরাঙ্গ আহা মরি আরে-------,*
*ওকি-----------আ--------হা--------আহা  রে------------- ।*
                 *তাল মধ‍্যম*
                  ◆◆◆◆◆
                      *পদ*
*রাধা রাধা বলি কাঁদে---------------
   *আরে কিবা রাধা রাধা বলি কাঁদে------,*
*রাধা রাধা বলি কাঁদে------লোটায় ধরণী------*
       *কেন গৌর এমন হলো-------*
*আহা মরিরে--------------------,*
*প্রেমাধীন গৌরচন্দ্র,পূরব লীলা রঙ্গ,*
*সেই পূরবের ভাব মনে হয়ে, সেই পূবরের ভাব উদয় হয়ে -----*
*নয়ন জলে ভেসে যায়,*
*ভাবনিধি গৌর আমার ----------*

*কাটান=পূরবে ভাবে বিভোর হয়েরে--------*
*ভাবনিধি---------- ভাবনিধি গৌর আমার ------*

*রাগিনী=আহা মরিরে------ আহা মরি রে----------------*
*আ---আ---আ---আ----আ--------*
*আরে মোর আরে মোর গোরা দ্বিজ মণি।*
*রাধা রাধা বলি কান্দে লোটায় ধরণী।।*
               *তাল--বড় একতালী*
*আখর=ভেসে যে যায় রে ।*
       *দুটি, নয়ন জলে গৌর ।*
   *পূরবের ভাব বিভোর হয়ে।*
       *ভাবনিধি শ্রীগৌরাঙ্গ।।*
*🍀নবদ্বীপ সুধাকর শ্রীমন্ গৌরসুন্দর আমার সুরধূনী গঙ্গার কুলে নির্জন জায়গায় গৌরীদাসের সঙ্গে পূরবস্থিত ভাবে বিভোর হয়ে--*
*রাধা রাধা বলি কান্দে লোটায় ধরণী।।*
*আখর=গড়াগড়ি যায় রে ।*
        *নদীয়ার ধূলোয়।*
     *রাধা রাধা রাধা বলে।।*
*🍀কথা=সখীভাবে আবিষ্ট পদকর্তা গৌর বদন পানে চেয়ে চেয়ে বলছেন যে,গৌরসুন্দর আমার পূরবের ভাবে বিভোর হয়েছেন,সেই পূরবের ভাবটি কি?*

*রাধাকৃষ্ণ এক আত্মা দুই দেহ ধরি।*
*অন‍ন‍্যে বিলসয় রস আস্বাদন করি।।*
*সেই দুই এক এবে চৈতন‍্য গোঁসাই।*
*লীলারস আস্বাদিতে হইলা এক ঠাঁই।।*
*🌻এই সম্বন্ধে আরও কিছু বলিবার থাকলে অবশ্যই বলিবে।*
*🍀আবার শ্রীচৈতন‍্য চরিতামৃতে শ্রীপাদ কবিরাজ গোস্বামী উল্লেখ করেছেন--*
*🌷আপনি আচরি ধর্ম জীবেরে শিখায়।*
*🌷নিজে না আচরিলে ধর্ম শিখান না যায়।।*
*🍁সুরে=তাই গৌরসুন্দর আমার-----, হাতে ধরে গলে ধরে এমনকি আচন্ডালের গলে ধরে, নিজে ভাব আস্বাদন করে---,পরে--*
*আখর=বিলায়ে দিতেছে।*
         *অপ্রাকৃত মধুর প্রেম।*
    *যা হয় নাই আর হবার নাই।।*.
*🍀কথা=শ্রীমন্ মহাপ্রভুর ভাবের এমনি গতি যে---*
*আখর="রা" বলিতে কাঁদেরে।*
          *"ধা"বলিতে ধূলোয় পরে।*
    *রাধা, বলতেই ধূলোয় গড়ি যায়।*
  *নামে প্রেম বিভোর হয়ে।*
    *ধূলোয় গড়াগড়ি যায়।।*
*🍀কথা=জগৎসুন্দর চিরসুন্দর গৌরসুন্দর আমার রাধাভাবে এমনি বিভোর যে "রা" শব্দ উচ্চারণ করতেই কেঁদে আকুল,আবার "ধা" শব্দ বলিবা মাত্র ধূলোয় পরছেন।আর যখন দুটি অক্ষর একত্রিত করে রাধা নাম বলছেন তখনি পাগলের মত ধূলোয় পরে গড়াগড়ি যাচ্ছেন,আবার---*
                     *পদ*
*রাধা নাম জপে গোরা পরম যতনে।*
*আখর= জপিতে লাগলো।*
    *রাধা, মূরতি হৃদে জাগায়ে।*
      *সুধামাখা রাধা নাম।।*
            .          *পদ*
*সুরধূনী ধারা বহে অরুণ নয়নে।।*
*🍀কথা=গৌরসুন্দরের এই অবস্থা দরশন করে ভাবাবিষ্ট পদকর্তা বলছেন, হে জগৎবাসী, দেখ দেখ কি অপূর্ব ভাব,গৌরসুন্দরের নয়ন হতে যেন সুরধূনীর ধারা বিগলিত হচ্ছে।দেখে মনে হচ্ছে যেন --*
*আখর= কি অপূর্ব ভাব রে।*
      *যেন, কদম্ব ফুটেছে।*
*গৌর অঙ্গের,পুলকা বলির শোভা।।*
*যাইরে শোভার বালাই যাইরে।।*
   *ভাব কাননে, কদম্ব ফুটেছে।।*
                   *পদ*
*পুলকে পূরল তনু গদ গদ বোল।*
*আখর= কথা, বলতে নারে রে।*
       *কি যেন কি বলিতে চায়।*
*মহা ভাবে, কন্ঠ রোধ হয়েছে।।*
*🍀কথা=এমত অবস্থা দরশন করে পদকর্তা বলছেন--*
                   *পদ*
*বাসু কহে গোরা কেন এত উতরোল।।*
       
                  *জামালী।*
*গৌরচন্দ্রিকা এখানেই রইল।*



*ব্রজলীলায় প্রবেশ করে পূর্বরাগের ব‍্যাখ‍্যা ও শ্রীকৃষ্ণের অবস্থা বর্ণনা করতে হবে, তারপর নাম শ্রবণের পরবর্তী গাইতে হবে।*

*🌻তাল-মধ‍্যম,(অথবা বিরাম দশকুশী)*

*আমায়, রাধা নাম কে শুনাইলে----*
*রাধা নাম কে শুনাইলে--এ-এ-এ-এ-এ*
    *সুধা মাখা, রাধা নাম ও-----*

*ঐ নামে কত মধু আছে -----*
*সুধা মাখা রাধা নামও*
*মন প্রাণ সব ব‍্যাকুল কৈলে----*

*🍀কথা=এমনি ভাবে কাঁদতে কাঁদতে বিশাখার করে বা হাতে ধরে শ‍্যামনাগর বলছেন---, সখীরে---,আর একদিনের কথা বলছি শোন।*
            *তাল=বড় দোঠুকী*
                   *পদ*
*থির বিজুরি,       বরণ গোরি,*
         *পেখলু ঘাটের কুলে।*
*কাটান=ঘাটের কুলে থির বিজুরী।*
*তার বরণের যাই বলিহারি।*
*ঐ রৃপ যে দেখেছে সেইত জানে।।*
                       *পদ*
*কানড়া ছান্দে,   কবরী বান্ধে,*
        *নব মল্লিকার মিলে।।*
*আখর=তার কবরীর কতই শোভা।*
*চিকুর যেন মেঘের আভা।*
*তাতে ফুলো তোড়ার শোভা।।*
*আহা মরি  কি মাধুরী।।*
                  *পদ*
*সই   মরম   কহিনু    তোরে।*

*আখর=আমি)মরম কথা তোরে বলিলাম।*
*তুই  মরম  সখী বোলে।*
*আন জনে জানবে কেনে।।*
                 *পদ*
*আড়  নয়নে,     ঈষৎ হাসিয়া,*
       *আকুল করিল মোরে।।*
*🍀কথা=আমি চেয়ে দেখলাম, শ্রীকৃষ্ণ বলছেন যে,যখন আমি চেয়ে দেখলাম।সঙ্গে সঙ্গে সুবল বলছেন, ভাই কানাই! কাজটি ভাল করিসনি ভাই। গোবিন্দ বলছেন কেন? সুবল বলছেন,সে হল পরনারী, আর তুই পরপুরুষ, তুই পর পুরুষ হয়ে পরনারীরপানে চেয়ে,কাজ ভাল করিসনি।তখন কানাই বলছেন, কথা সত‍্য বটে, কিন্তু সে না হয় পরনারী, তার পানে চাওয়া আমার ঠিক হয় নাই, কিন্তু সে---*
*আখর= চাইলো কেনো ।*
        *আমা পানে সে ।*
      *আমি হলেম পরপুরুষ।*
   *তার)কূলের কি ভয় নাই।।*



*পদ*
*ফুলের গেড়ুয়া, লুফিয়ে ধরয়ে,*
        *সঘনে দেখায় পাশ।*
*উচ কুচ যুগ,     বসন ঘুচায়ে,*
        *মুচকি মুচকি হাস।।*
*🍀কথা সুরে= সখিরে------- দুটি হাতে দুটি ফুলের তোড়া নিয়ে ------------লুফিয়ে লুফিয়ে ধরে, আর এক-পা এক-পা করে চলে, তাতে ঐ রমণীর ঘন ঘন পাশ দেখতে পেলাম।*
*এতদ্দর্শনে----তখন আমি চরণ পানে চাহিলাম, চেয়ে দেখি----*
                        *পদ*
*চরণ কমলে,      মল্ল তোরল,*
         *সুন্দর যাবক রেহা।*
*কহে চন্ডীদাসে, হৃদয় উল্লাসে,*
       *পুন কি হইবে দেখা।।*
*আখর= ভাগ‍্যে কখন হবে।*
     *ঐ রমণীর দেখা ভাগ‍্যে।।*
   *আমার মনপ্রাণ জুড়াইতে।।*   

            *(তাল=তেওট)*
              *পরের পদ*
*পথে জড়িজড়ি, দেখিনু নাগরী,*
         *সখির সহিতে যায়।*
*কাটান=*
*পথে) জড়াজড়ি করে যায় রে।*
*সখি সাথে)পথে জড়াজড়ি করে যায় রে।*
*হেসে হেসে)জড়াজড়ি করে যায় রে।।*
*সখির গলে ধরে)জড়াজড়ি করে যায় রে।।*
*পথ আলো করে )জড়াজড়ি করে যায় রে।।*
                       *পদ*
*পথে জড়াজড়ি,দেখিনু নাগরী,*
         *সখির সহিতে যায়।*
*🍀কথা=সখি, ঐ রমণী আজ বেলি-আবসানের সময় নিজ সখীর সঙ্গে, সখীর গলা জড়ায়ে ধরে, আমা পানে চেয়ে চেয়ে মুচকি মুচকি হেসে, সখির সঙ্গে জড়াজড়ি করতে করতে ব্রজের পথ আলো করে চলে গেল।*
                     *পদ*
*সকল অঙ্গ,          মদন রঙ্গ,*
       *হসিত বদনে চায়।*
*🍀কথা=এইকথা শুনে, বিশাখা বলছেন, হে শ‍্যামনাগর! তোমার সব কথায় শুনলাম। এখন মনের কথাটি কি,খুলে বলো?*
                     *পদ*
*সই    কেমন   মোহিনী   সেহ।*
*🍀কথা=বিশাখা আবার বলেছেন, আঃ---,তোমার সব কথা শুনেছি, তুমি এবার তোমার মনের কথাটি বলো? শ‍্যামনাগর তখন বিশাখার হাত ধরে বলছেন, সখি---*
                    *পদ*
*যদি সহায় পাই,    এমতি  হয়,*
     *তা সঞে করিয়ে লেহ।।*
*🍀কথা=    ওগো সখী!*
*আখর=তুমি)আমার সহায় হওগো।*
  *তোমার)হাতে ধরি বিনয় করি।*
*তুমি আমায় ঐ)রতনমণি মিলিয়ে দিবে।।*
*🍀কথা= আহা!কি যে অপূর্ব শোভা দর্শন করলাম।*
                    *পদ*
*নীল  মুকুতা,     হার  বেকতা,*
     *শোভিত দেখিনু ভাল।*
*আখর=আমি)মতি ছাড়া হয়েছি।*
     *গজ মতি নিরখিয়ে।।*
                      *২ নমুনা*
*আমায়)আমায় মতি ছাড়া করেছে।*
    *দুই মতি মিলিত হয়ে।*
     *শ্রীমতী আর গজমতি।।*
                   *পদ*
*যেন তারাগণ,    উদিত গগন,*
      *চাঁদেরে বেড়িয়া জাল।।*
*কুচ যে মন্ডলি, কনক কটোরি,*
        *বনিলে কেমন ধাতা।*
*হাসির  রাশি,         মনে  খুশী,*
       *দান করে যদি দাতা।।*
    *🍀কথা=ঐ----রমণী*
*আখর=যদি আমায়) ধন‍্য করিত।*
       *সেবি অধিকার দিয়ে।*
*আমি) দাস হয়ে সেবা করিতাম।।*
                     *পদ*
*চন্ডীদাস কয়ে, যদি দান হয়ে,*
       *কি জানি মাগিবা তায়।*
*ছটার  ঝলকে,   পরাণ চমকে,*
      *তিমিরে নাগয়ে ভয়।।*
*🍀কথা= সখী ভাবাবিষ্ট পদকর্তা বলছেন, সাধারণ জগতে দেখা যায় যে,কোন বস্তুর ছটায় অন্ধকার পালিয়ে যায়। হে শ‍্যামসুন্দর! আমাদের রাধারাণীর রূপের ছটায় তিমির সদৃশ তোমার অঙ্গের বরণ, ঐ বরণ নিয়ে যেন তুমিও পালিয়ে যেও না সাবধান।*
*🌹এবার বিশাখা সখী বলছেন, হে শ‍্যাম নাগর!তুমি সব কথা বললে, আর আমিও সব কথা শুনলাম। কিন্তু আমার কথা---*




*তৃতীয় পদ, শ্রীকৃষ্ণের পূর্বরাগ*
*🌻🌻তাল=দাস পারিয়া* 
*শুন শুন সুন্দর নাগর রাজ।*
*সো ধনী বৈঠয়ে গুরুজন মাঝ।।*
                 *দাস পারিয়া*
                   °°°°°°°°°°°°
*আখর=সদায়)গুরুজনার মাঝে থাকে।*
*সে যে )আদরিণী গরবিনী।*
     *গাম্ভীর্য‍্য--শালিনী।।*
*🍀কথা=আরও বলি শোন, তুমি যে ঐধনিকে লাভ করবার জন্য আকুল হয়েছ, তা ঐ ধনিকে লাভ করা মুখের কথা নয়, কেন--না-*
*🌹টুকগান- তাল-কাটা দশকুশী*
*🏵সে যে ধনি-----রমণী----- রম------নি মু----কুট----ওহ  ওহ  ওহ---মণি----ধন‍্যা ধনি ----- রাজনন্দিনী------ও-রূপে----গুণে---------এই ত্রিভূ-------বনে----- এই----মধুরশ্রী-------বৃন্দা--বনে-- নাম হল তার-----রাই-রঙ্গিনী--, শ‍্যাম হে---------*
*শিকলি=যদ‍্যপি তোমার রূপে আপ‍্যায়িত করে ত্রিভূবন, সত‍্য কথা বটে, মেনে নিলাম-------, কিন্তু আমাদের রাধার রূপে------ জুড়ায় তোমার দুইটি নয়ন হে আমাদের রাধা-----রমণি মুকুট------,*
        *🍀 শ‍্যাম  হে---------*
*যদ‍্যপি তোমার বাঁশীর সুরে অনন্তকোটি জগৎ ভুলে সত‍্য কথা বটে,মেনে নিলাম---,* *কিন্তু আমাদের রাধার বচনে----- জুড়ায় তোমার দুইটি শ্রবণ হে আমাদের রাধা রমণি মুকুটমণি------*
           *শ‍্যাম-----হে-------*
*যদ‍্যপি তোমার রসে জগৎ সুরস সত‍্য কথা বটে,মেনে নিলাম, কিন্তু আমাদের রসবতীর রসে------ শ‍্যাম তোমায় কৈল সুরস হে আমাদের রাধা----*

*যদ‍্যপি তোমার বচনে জগৎ হয় সন্তুষ্ট, সত‍্য কথা বটে,মেনে নিলাম---, কিন্তু আমাদের রাধার বচনে শ‍্যাম তোমায় সন্তুষ্ট করে হে রসিক নাগর---*

*যদ‍্যপি তোমার যশে হয় জগৎ সুযশ,কথা সত‍্য বটে,এও মেনে নিলাম---, কিন্তু আমাদের রাধার যশে শ‍্যাম তোমায় কৈল বশ, হে আমাদের রাধা।*

*যদ‍্যপি তোমার অঙ্গ গন্ধে জগৎ সুগন্ধ, কথা সত‍্য বটে, এও মেনে নিলাম, কিন্তু আমাদের রাধার শ্রীঅঙ্গগন্ধে তোমার মন-প্রাণে লাগে ধন্দ হে আমাদের রাধা।*

*কাটান=এমন ধনি------আর নাই-----আর নাই--------,* 
*এই না মধুর------এই না মধুর বৃন্দাবনে।*
*সে যে, রমণীর মুকুট মণি হে--*
*এই না মধুর-----এই না মধুর বৃন্দাবনে।*
             *তাল=লোফা*
                   *পদ*
*মুগধি গোঙারি কবহুঁ নাহি সঙ্গ।*
*শুনইতে রোখব ঐছন রঙ্গ।।*

*🍀কথা=শ‍্যাম নাগর! তোমার এই প্রস্তাব যে তার কাছে বলব, এই প্রস্তাব করলেই বোধহয় আমার উপর ক্রোধান্বিতা হয়ে উঠবে।*
                *তাল=মধ‍্যম*
                      
*তখন, আমার দশা কিবা হবে হে------*
                 *ওহে শ‍্যামসুন্দর।*
*বিপরীত বাণী শুনলে পরে,*
*এই ব্রজ হতে তারিয়ে দিবে।।*
                     *লোফা*
                       *পদ*
*বিপরীত বাণী কহলি তুহুঁ মোয়।*
*কৈছনে ঐছন সাহস হোয়।।*
*🍀সুরে=তবে এক অনুভব আছয়ে তায়।*
*বিহি যদি তোঁহে কিছু করয়ে সহায়।।*
*মাধবি কুঞ্জ কুসুম অনুপাম।*
*তাহা তুঁহু যাই করহ বিশ্রাম।।*

*সুরে=হাম অব যাইয়ে রাইক ঠাম।*
*গোবিন্দ দাস করত পরণাম।।*




*🌻চতুর্থ পদ🌻*

*🌷অলখিতে সহচরি মিলল যাই।*
*🌷কো নাহি জানল চলল লুকাই।।*
*🍀কথা=পদকর্তা বলছেন বিশাখার------*
                   *দাস পারিয়া*
*আখর=আনন্দ উথলি পরে।*
    *যুগল সেবা পাবার আশে।*
*যদি) রাইকে মিলাইতে পারে।।*
                    *পদ*
*প্রিয় সহচরি হেরি রাই হাসি বোল।*
*করে ধরি আনি বৈঠায়লি কোল।।*

*সুরে=এ সখি কাহে আয়লি তুঁহু গোই।*
*নিকপটে কহবি না রাখবি সোই।।*
                 *জলদ দাস পারিয়া*
*🍀রাধারাণী বলছেন---*
*আখর=মনের কথা খুলে বল সই।*
*আমার)মনপ্রাণ কেমন কেমন কেমন করছে।*
*ঐ নাগর) আমার ভাগ‍্যে মিলবে কিনা।।*
*🍀কথা=বিশাখা বলছেন, রাই আগে ধৈর্য‍্য ধরে শোন।*
                 *ছুট--দোঠুকি*
*🌷চতুর সুনাগরি আদর জানি।*
*🌷মরম নিবেদয়ে লহু লহু বাণী।।*
*🌷যব তুঁহু যমুনা করত সিনান।*
*🌷তব তোহে দেখল নাগর কান।।*

*সুরে=মোহে পুছল চতুর মুরারি।*
*হাম কহলু বৃষভানু কুমারী।।*
*🍀কথা=বিশাখা বলছেন, রাইধনি! তোমার নাম ধাম পরিচয় জিজ্ঞাসা করিলে,আমি বললাম যে বৃষভানুনন্দিনী আয়ান ঘরণী, নাম তার সুধামুখী রাধা।*
                   *পদ*
*শুনইতে নাম মুরছি ভেল সোই।*
*গোবিন্দ দাস নিবেদয়ে তোয়।।*
*🍀কথা=রাধারাণী বলছেন--,*
*🌻সুরে= সখিরে------ তুই-----ঐ---নাগরের কাছে ---- আমার পরিচয় কেন বললি। ঐ সুনাগরের কাছে  আমি যখন যেতে পারব না রে সখি, কেননা, একে আমার গুরুদুরুজন, তারপর আমার কুলের ভয়, আর যাই কিছু বল আমি প্রেম বুঝি না সখি---, কাজ তুই ভাল করিস নাই, কেননা,আমি হলেম রাজনন্দিনী।*
*এই কথাগূলি শুনে বিশাখা ক্রোধ করে বলছেন, রাধে----*




*🌻পঞ্চম পদ🌻*

*🌷শুনলো রাজার ঝি।*
*🌷তোরে কহিতে আসিয়াছি।।*
*🍀কথা=এতই যদি তোর মনে ছিল,তবে----*
                     *পদ*
*কানু হেন ধন, পরাণে বধিলা,*
      *এ কাজ করিলা কি।।*
*আখর=তারে তুই)বধ করিলি।*
     *এখন বড় সাধু হ'লি।*
*তুই আমার )করে ধরে কাঁদিলি কেনে।।*
*🍀কথা=রাধে------,তোর মনে যদি এতই কূলের ভয় তাহলে--,*
                     *পদ*
*বেলি অবসান কালে,*
*গিয়াছিলি নাকি জলে।*
*তাহারে দেখিয়া,মুচকি হাসিয়া,*
      *ধরিলা সখির গলে।।*
*আখর=কেন চেয়ে ছিলি রাই।*
*ঐ) পর পরুষের বদন পানে।*
     *তুই যে বড় কুলবধূ।।*
               *(দুই নম্বর)*
*ইঙ্গিতে তারে, আশা দেওয়া হয়েছে।*
*আপন সখির গলে ধরে।*
*আমি তোমার হলেম বলে।।*
                    *পদ*
*দেখাঞা বয়ানচাঁদে, ফেলিলা বিষম ফাঁদে।*
*আখর=তুই, দেখালি কেন রাই।*
       *তোর বদন চাঁদে।*
  *তুই কি জানিস না রাই।।*
*তোর বদন দেখলে জগৎ ভোলে।।*
*🍀কথা=বিশাখা শান্ত স্থির কন্ঠে রাইকে বূঝায়ে, শেষে রাইধনির করে ধরে বলছেন, দেখ রাই---*
                    *পদ*
*গোপতে বরদা সেবি,*
*তোকে বর দেন দেবা দেবী,*

*আখর=কত সেবে ছিলি রাই।*
*অতি, সযতনে বরদা পদ।*
*ঐ নাগরকে পাবার আশে।।*
                  *পদ*
*থোরি দরশনে, আশ না পূরল,*
      *ভণে বিদ‍্যাপতি কবি।।*

*🌻পদকর্তা বলছেন,*
*আখর=তারে এইবার, দরশন দাও রাই।*
*যার,লাগী তোমার প্রাণ কাঁদে।*
*নইলে, নাগর ধৈর্য‍্য ধরতে নারে।।*

*🍀কথা=সখি বলছেন, রাই তুই অতুলনীয়া রূপলাবণ‍্যা লাভ করেছিস।তাতে আবার, নবযৌবনা।শ‍্যামনাগরও অপূর্ব রূপবাণ ও নবযৌবন যুক্ত পুরুষ। তাই বলি তুই একটিবার দয়া কর।আমাদের সকলের আশা পূর্ণ হোক। দেখ রাই! এই মানব জীবন সবাই পায় কিন্তু আবার ভাবাবিষ্ট পদকর্তা বলছেন--*

*স্থাবর বিংশতি লক্ষঞ্চ নব লক্ষঞ্চ জলচরা।*
*ক্রিমিনাং রৌদ্র লক্ষঞ্চ দশ লক্ষঞ্চ অন্ডজা।।*
*পশুনাং ত্রিশ লক্ষঞ্চ চতুর লক্ষঞ্চ বানরা।*
*ততহি মনুষা যাতা কুৎসিৎ আদি দ্বিলক্ষঞ্চকম্।।*

*🌻অর্থ‍্যাৎ=এই মানব জনম পাবার আগে,স্থাবর জনিত বিশলক্ষ জন্ম কেটে গেছে।তারপরে নয়লক্ষ জন্ম জলচর রূপে কেটে গেছে।তারপর কৃমিকীট রূপে এগারলক্ষ জন্ম কেটে গিয়েছে।এর পরেই হল পশু জন্ম।এই পশু জন্মের মধ্যে বহু পশুর কর্ম হল বোঝ বহন করা,যে গাড়ীতে কুড়ি মণ ভারী বোঝা দিলে গরু বা মহিষ টিনতে পারে না,সেখানে চল্লিশ মণ বোঝা চাপিয়ে দিয়ে পশুর পিঠে নিদারুণ কষাঘাত করছে, তখন পশুর কি অবস্থা হয়।*
*🍀সুরে=তখন-------সেই পশুর মুখে কোন ভাষা নেই---------, শুধু -------------হাম্বা হাম্বা বলছে-------, অর্থ‍্যাৎ হাম্বা বলতে "হা গোবিন্দ "বলে ডাকছে--------আর বলছে গোবিন্দ হে----------তুমি---------এইবার এই পশু জনম হতে----------আমাকে উদ্ধার কর।*
*🍀কথা=আমাকে মানব জনম দাও, আমি প্রাণভরে যেন তোমার নাম-কীর্তন করতে পারি।এইভাবে গোবিন্দকে ডাকতে ডাকতে বানর যোনিতে চারলক্ষ জন্ম কেটে গেল।তারপর মানব জনম পাওয়া গেল বটে কিন্তু তাতে গোবিন্দ ভজন হল না,কেন না---*
*🌷ততহি মনুষা যাতা কুৎসিতাদি দ্বিলক্ষকম্।*
*🌻অর্থ‍্যাৎ এই যে দুইলক্ষ জনম মানব আকারে পাওয়া গেল বটে,কেমন,বিকলাঙ্গ অবস্থায়,কেমন বিকলাঙ্গ অবস্থা?*
*🌻সুরে=চক্ষু আছে--------- কিন্তু তাতে দৃষ্টিশক্তি নাই,তারফলে গোবিন্দ দর্শন হল না। (বোবা),আবার বদন আছে কিন্তু কথা বলতে পারে না,তাতে ভগবদ্ গুণানুকীর্তন করতে পারেনা।আবার দেখ, কর্ণ আছে, কিন্তু শুনতে পায় না,হরিগুণগান শুনতে পায়না, পদ বা পা আছে কিছু পঙ্গু,হরিমন্দিরে পায়ে হেঁটে যেত পারেনা,এইরকম নানাভাবে বিব্রত হয়।সেই দেহ দ্বারা গোবিন্দ ভজন হয় না।এরপরে গোবিন্দকে ডাকতে ডাকতে যে জন্ম হয়,তখন দশমাস দশদিন মাতৃগর্ভে কাটে সেই সময় জীব---*
*🌷হেট মুন্ডে উর্দ্ধ পদে রহয়ে বন্ধনে।*
*🌷তখন পড়য়ে তার কৃষ্ণ কথা মনে।।*
*আখর=   মনে পরে রে।*
         *বন্ধন দশার তখন।*
       *হেট মুন্ডে উর্দ্ধ পদে।।*

*🌻কথা=মুক্ত হলেই সব ভুলে যায়,কেন?না অসার বস্তু সার মনে করে গ্রহণ করে আর সারটি হারিয়ে ফেলে, সে কারণে জীবের----*
*আখর=  চৈতন‍্য হয় না।*
 *বারে বারে আসা যাওয়া।*
  *সেই কুম্ভিপাক নরকে।।*
*🍀কথা=তারপরেই সুন্দর সুঠাম গোবিন্দ ভজনের দেহ লাভ হয়। তাই বিশাখা বলছেন,দেখ রাই! মানব জীবন সবাই পায় কিন্তু---*
          *🌻কথায় বলতে হবে*
                    *ষষ্ঠ পদ*
*🌷জীবন চাহি যৌবন বড় রঙ্গ।*
*🌷তবে যৌবন যব সুপুরুষ সঙ্গ।।*
*🌷সুপুরুখ প্রেম কবহুঁ নাহি ছোড়ি।*
*🌷দিনে দিনে চাঁদ কলাসম বাড়ি।।*
*🍀কথা=দেখ রাই! জীবনের চাইতে যৌবন বড়। যদি সুপুরুষের সঙ্গ লাভ হয়। সুপুরুষের প্রেম দিন দিন চাঁদের মত বৃদ্ধি পায়।*
*🍀কথায় বলতে হবে, (পদ)*
*🌷তুঁহু যৈছে নাগরী কানু রস কন্দ।*
*🌷বড় পূণ‍্যে রসবতী মিলে রসবন্ত।।*
*🌷তুঁহু যদি কহসি করিয়ে অনুসঙ্গ।*
*🌷চৌরি পিরীতি হয়ে লাখগুণ রঙ্গ।।*
*🍀এই চোর পিরীতি নিতিগুণ কেন বললেন? না--,এই পতি ও উপপতি, এই অপ্রাকৃত প্রেমে অর্থ‍্যাৎ এই প্রেম মধ্যে উপপতিকেই শ্রেষ্ঠ বলেছেন, কেন? বা কার পক্ষ--না,শ্রীগোবিন্দের পক্ষে, তার প্রমাণ উজ্জ্বলনীলমণি গ্রন্থে উল্লেখ আছে যে -----*
*🌻সতের নম্বর শ্লোকে নায়ক ভেদ প্রকরণম্---*
*🌷রাগেনোন্নঙ্খয়ন্ ধর্মং পরকীয়া বলার্থিনা।*
*🌷তদীয় প্রেম বসতির্বুধৈরুপপতিঃ স্মৃতঃ।।*
*🌻অর্থ‍্যাৎ=যে ব‍্যক্তি আসক্তি বশতঃ ধর্ম লক্ষণ করে যে রমণী বা পুরুষ পরপতি বা পরপুরুষের প্রতি অনুরাগী হয়,রসপন্ডিতগণ তাকেই উপপতি বলে বর্ণনা করেছেন।*
*🏵আবার এই উপপতি বা পরনারীর মধ্যে বিশুদ্ধতা আছে।কেমন,না,স্বকীয়া এবং পরকীয়া। যেমন--স্বকীয়া----*
*🌺চার নম্বর শ্লোক,হরিপ্রিয়া প্রকরণম্--*
*🌷কর গ্রহ বিধিং প্রাপ্তাঃ পত‍্যুরা দেশ তৎপরাঃ।*
*🌷পাতিপ্রত‍্যাদ্ বিচলাঃ স্বকীয়াঃ কথিতা ইহ।।*
*🌻অর্থ‍্যাৎ পাণিগ্রহণের রীতি অনুসারে পাওয়া পতির আজ্ঞানুবর্তিনী এবং পাতিব্রতা ধর্ম হতে কিছুতেই বিচলিত হন না,রসশাস্ত্রে তাদেরকে স্বকীয়া নায়িকা কহে।*
*🏵শ্রীকৃষ্ণের ১৬১০৮ জন মহিষী দ্বারকায় সুপ্রসিদ্ধ আছেন। ইহাদের প্রত‍্যেকেরই হাজার হাজার সখী ও দাসী আছেন।সখীগণ মহিষীগণের তুল‍্য রূপগুণশালিনী,দাসীগণ কিন্তু তদপেক্ষা অনেক কম।ঐ মহিষীগণ মধ্যেও আবার রুক্মিণী সত‍্যভামা জাম্ববতী কালিন্দী শৈব‍্যা ভদ্রা কৌশল‍্যা ও মাদ্রী এই আটজন প্রধানা।ইঁহাদের মধ্যেও আবার রুক্মিণী,সত‍্যভামাই সর্বশ্রেষ্ঠা বলা হয়েছে।রুক্মিণী ঐশ্বর্য‍্যে শ্রেষ্ঠা এবং সত‍্যভামা সৌভাগ্যে শীর্ষস্থান লাভ করেছেন।*
*🌹পরকীয়া কাকে বলে? ঐ উজ্জ্বলনীলমণি গ্রন্থে হরিপ্রিয়া প্রকরণম্, ১৭ নম্বর শ্লোক।*
*🌷রাগেণৈবার্পিতাত্মানো লোক যুগ্নানপেক্ষিনা।*
*🌷ধর্মেণাস্বীকৃতা যান্ত পরকীয়া ভবন্তিঃ তাঃ।।*
*🌼অর্থ‍্যাৎ যে সব স্ত্রীগণ ইহলোক বা পরলোক সম্বন্ধীয় ধর্ম অপেক্ষা না করে কেবলমাত্র আসক্তি বশতঃ পরপুরুষের প্রতি নিজেকে আত্মসমর্পণ করে  অথচ যাঁদেরকে বিবাহবিধি অনুসারে স্বীকার করা হয় নাই রসশাস্ত্রে তাঁরাই পরকীয়া বলে কীর্তিত।*
*🌻উক্ত পরকীয়া পেমে উত্তম নায়ক এবং উত্তম নায়িকা হওয়া চাই।তাতে যে প্রেম উৎপত্তি হয়,সে প্রেম কাকে বলে? উজ্জ্বলনীলমণি গ্রন্থে ৬৩ নং শ্লোক-----*
*🌷সর্বথা ধ্বংস রহিতং সত‍্যপি ধ্বংস কারণে।*
*🌷যদ্ভাব বন্ধনং যূনোঃ স প্রেমা পরিকীর্ত্তিতঃ।।*
*🌻অর্থ‍্যাৎ নায়ক নায়িকার রতির ধ্বংস কারণ উপস্থিত হলেও সর্বপ্রকারেই ধ্বংস রহিত যে নিশ্চলরূপে বন্ধন (সুসংশ্লিষ্টতা) তাকে "প্রেম" বলে কীর্তন করা হয়।*
*🌲এই প্রেম একমাত্র* *শ্রীবৃন্দাবনের শ্রীরাধা ও শ্রীকৃষ্ণেই*
*প্রযোজ‍্য।(আর এই প্রেম আস্বাদ করতে হলে----*

*🌷বর্ত্তিতব‍্যং শমিচ্ছদ্ভির্ভক্ত বল্ল তু কৃষ্ণবৎ।*
*🌷ইত‍্যেবং ভক্তি শাস্ত্রানাং তাৎপর্য‍্যস‍্য বিনির্ণয়ঃ।।*
*🌻অর্থ‍্যাৎ যারা কল‍্যাণ ইচ্ছা করবেন বা ভক্তিময় কামনা করবেন তাঁরা যেন ভক্তভিব অবলম্বন করবেন, কখনও যেন কৃষ্ণতুল‍্য আচরণ করবেন না। শ্রেষ্ঠ ব‍্যক্তি যে সমস্ত আচরণ করেন,ইহলোকেরা তদানুগামী হলে দুর্গতি অনেক কম হয়, উদাহরণে বলছেন--*
*🌹রুদ্র ব‍্যতীত অন‍্য ব‍্যক্তি বিষভক্ষণ করলে যেমন ত‍ৎক্ষণাৎ ধ্বংস প্রাপ্ত হয়, ঠিক তদ্রূপ যে কোন ব‍্যক্তি কৃষ্ণতুল‍্য কার্য‍্য বা আচরণ করলে তৎক্ষণাৎ তার কৃষ্ণভক্তি দূরীভূত হয়ে ধ্বংস প্রাপ্ত হয়।(অনুসরণ কর, অনুকরণ নহে)।*
*🏵তাই বিশাখা সেই উত্তম প্রেম উৎপত্তি কারণে রাইধনিকে কৃষ্ণ সঙ্গে মিলনের জন্য বহু প্রকার চেষ্টা করছেন।বিশাখা আবার বুঝিয়ে বলছেন, রাই----*
                     *পদ*
*🌷সুপুরুখ ঐছন নাহি জগ মাঝ।*
*🌷আর তাহে অনুরত বরজ সমাজ।।*

*🌷বিদ‍্যাপতি কহ ইথে নাহি লাজ।*
*🌷রূপগুণবতিকা ইহ বড় কাজ।।*

*🙏সংস্কৃত শ্লোকের মধ্যে বানান ভুল হতে পারে, কারণ আমি যে গ্রন্থ থেকে লিখিলাম কিছু কিছু লেখা বুঝা যাচ্ছিল না।*

*সপ্তম-পদ*
*🍀কথা=এইবার রাইধনি বলছেন সখিরে--------*
                     *পদ*
         *দাস---পারিয়া*
*নাহি জানি প্রেম রস নাহি রতি রঙ্গ।*
*কেমনে মিলিব হাম ঐ সুপুরুখ সঙ্গ।।*
*আখর=আমি কভূ প্রেম জানি না।*
*আমি) আহিরিনী গোয়ালিনী।*
*আমি)রতি রসের কিবা জানি।।*
                  *পদ*
*তোহারি বচনে যদি করব পিরীত।*
*হাম শিশু মতি তাহে অপযশ ভীত।।*
                     *কয়ালী*
*সখিহে অব হাম কি বোলব তোয়।*
*তা সঞে রভস কবহুঁ নাহি হোয়।।*
                  *দাস পারিয়া*
*সো বর নাগর নব অনুরাগ।*
*পাঁচ শরে মদন মনোরথ জাগ।।*

*🍀কথা=শ্রীমতী রাইধনি বলছেন,সখিরে! এ' যে এক নব অনুরাগী নাগর।তারপর পঞ্চ শরে সজ্জিত নাগর (পঞ্চশর অর্থ‍্যাৎ মদনের পাঁচটি বাণ--,মদন,মাদন, শোষণ,স্তম্ভন ও মোহন। এই পঞ্চশরেই সুসজ্জিত শ‍্যামনাগর। তা এই শ‍্যামনাগর আমায়----*
                  *পদ*
*দরশনে আলিঙ্গন দেয়ব সোই।*
*জীউ নিকসব যব রাখব কোই।।*
*বিদ‍্যাপতি কহ মিছই তরাস।*
*শুনহ তাক নহ ঐছে বিলাস।।*


*🌻অষ্টম পদ🌻*
   *🍀জলদ দাস পারিয়া অথবা ছোট দোঠুকি।*

*হে দেহে সুন্দরী,প্রেমের আগরি,*
          *শুনহ নাগর কথা।*
*নিকুঞ্জে আসিয়া,তোহারি লাগিয়া,*
        *কাঁদিয়া আকুল তথা।।*
*আখর=শ‍্যামনাগর) কুঞ্জদ্বারে বসে আছে।*
*নয়ন  জলে  বয়ান  ভাসছে।*
      *তোমার পথ নিরখিয়ে।।*

*🏵সুরে=*
*রাই রাই করি,   ফূকারি ফুকারি,*
           *পড়িল ভূমির তলে।*
*ধরি মোর করে,কহয়ে কাতরে,*
      *কেমনে সো ধনি মেলে।।*
             *তাল=মধ‍্যম*
*আমি) তার বদন ভুলতেনারি রে------.*
         *ও-----বিনোদিনী-------*
*তার জলে ভরা) দুটী নয়ন-----*
*🏵সুরে=*
*প্রেম অমিয়া,  বাঢ়াও উহারে,*
     *তোহারে কে করে বাধা।*
*চন্ডীদাসে কহে,রাখি কুল শীল,*
      *পুরাহ মনের সাধা।।*

*🌻🌻নবম পদ, মিলন,*
              *তাল=কয়ালী বা সুরে*
  *কানুক শেষ দশা শুনিয়া রাই।*
*কাতর বদনে সখি মুখ চাই।।*

*আখর=ধৈরজ, ধরতে নারে রে।*
*সখির  কথা  শুনে  ধৈরজ।*
*শ‍্যামের  বদন  হিয়ায় জাগে।।*
*ঐছন ইঙ্গিত সহচরি পাই।*
*আনন্দে মগন বেশ বনাই।।*

*আখর=আনন্দ  ধরে  না।*
        *অন্তরঙ্গা সখীগণের।*
*রাধার, বদন পানে চেয়ে চেয়ে।।*
                  *দুই নম্বর*          *সাজাইতে  লাগিল।*
*রাধার, যে অঙ্গে যা লাগে ভাল।*
        *শ‍্যামের মন ভুলাইতে।।*
                   *পদ*
*সুখময় কূঞ্জহি করল পয়ান।*
               *জলদ দাস পারিয়া*
*আখর=রাধারাণী, আগের পদ পিছে ফেলে।*
     *থর থর অন্তর কাঁপে।*
     *ঘরে গুরুজনার ভয়ে।।*
                *পদ*
*পন্থহি  কতবিধ করু অনুমান।।*
*🍀কথা=রাইধনি মনে মনে চিন্তা করছেন।*
                     *পদ*
*আকুল নাগর হিম অতি ভীত।*
*আখর=ভয়ে, আমার অন্তর কাঁপিছেরে।*
*ঐ নাগরের সঙ্গে সঙ্গ করতে।*
*হিয়া আমার কাঁপিছে রে।।*
                  *পদ*
*নাহি জানি রভস পহিলে পিরীত।।*
                  *ছোট দোঠুকি*
*ঐছন ভাবিতে মিলল তায়।*
*ধায় কহলি দূতি নাগর রায়।।*
*দূর কর বিরহ আওল ধনি রাই।*
*চমকি উঠিল জনু জীবন পাই।।*
*🍀কথা=সখি বলছেন, ও শ‍্যামনাগর! ঐ--------দেখ,*

*আখর=মোদের, রাধা এলো রে।*
*কুঞ্জ  বন   আলো  করে।*
*আনন্দের আর সীমা নাই।*
*রাইধনির, বদনপানে চেয়ে চেয়ে।।*
                   *পদ*
*আনন্দে আগুসরি আওল কান।*
*কুঞ্জ মাঝে সবে করল পয়ান।।*
*আখর=কুঞ্জ, আলো হল রে।*
    *রাই অঙ্গের ছটা লেগে।*
*আজ, আনন্দের আর সীমা নাই।।*
                    *পদ*
*সুন্দরী মুগধিনি বচন না কহই।*
*সহচরী আঁচর ধরি তহি রহই।।*
*আখর=রাইধনি, কথা বলতে নারে রে।*
*সখির, আঁচল ধরে দাঁড়ায়ে রইল।*
*যেন, আর যে ধৈরজ ধরতে নারে।।*
                   *পদ*
*পহিলে সমাগম রাধা কান।*
*মোহন দূরহি দুহুঁক গুণ গান।।*
      *পদ দশম,ছোট-দোঠুকি*
*শুন শুন সুন্দর কানাই।*
*তোঁহে সঁপলু ধনি রাই।।*
        *জলদ  দাস পারিয়া*
*আখর=*
*এই তো আমরা সঁপে দিলাম।*
*আমাদের, রত্নের খনি রাইধনি।*
*হে শ‍্যাম,রসিকেন্দ্র চূড়ামণি।*
*আমরা রাই, রতন মণি দান কৈলাম।।*

*🙏এখানেই গান বিরাম দেওয়া যেতে পারে, নতুবা---*
            *আর একটি পদ*

*কমলিনী কমল কলেবর।*
*আখর=তুলনা হয় না।*
          *আমাদের রাই তনুর।*
  *এ যে কমল হতেও কমলিনী।।*
                   *পদ*
*তুহু সে ভোখিল মধুকর।।*
                  *দাস পারিয়া*
*আখর=*
*স-যতনে মধুপান কৈরো।*
*যেন উদ্বেগ নাহি পায়।*
*আমাদের, বৃষভানু রাজনন্দিনী।।*
                  *পদ*
*সহজে করবি মধু পান।*
*ভূলই জনু পাঁচ বাণ।।*
*পরবোধি পয়ধর পরশিহ।*
*আখর=*
*সদাই তুমি মিনতি করবে।*
*তোমার, বাসনা পূরণ হবে।*
*রাই মোদের পরশমণি।।*
*পরশে আশা পূরণ হবে।।*
                   *পদ*
*কুঞ্জরে ভেল সরোরুহ।।*
*গণই তে মতিম হারি।*
*🍀কথা=হে শ‍্যামসুন্দর! প্রথমে তুমি রাইধনির গলে যে গজমতির হার আছে, ঐ হারটির মতি গণনা করবে। তারপর----*
                   *পদ*
*ছলে পরশিবে কুচ ভারা।।*
*না বুঝয়ে রতি রণ রঙ্গ।*
*আখর=*
*রাই,  রতি রণ কিছুই বুঝে নারে।*
*অতি অবলা সরলা বালা।*
*নাহি জানে প্রেমের ছলা।।*
                  *পদ*
*খেনে উনমতি খেনে ভঙ্গ।।*
*শিরীষ কুসুম জিনি তনু।*
*থোরে সহবি ফুল ধনু।।*
*বিদ‍্যাপতি কবি গাওয়ে।*
*দোতীক মিনতি তুয়া পায়ে।।*

*জয়নিতাই গৌর হরিবল, এখানেই শ্রীকৃষ্ণের পূর্বরাগ পর্যায় রইল, ভূল ভ্রান্তি মাজনীয়🙏*

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

    📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝
    ꧁👇📖 সূচীপত্র ✍️ শ্রী জয়দেব দাঁ 📖👇



✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧


✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

   ✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️ 
নিবাস- বাঁশবাড়ী, কীর্তন মন্দিরের পাশে, পোঃ- বাঁশবাড়ী, থানা- ইংরেজ বাজার, জেলা- মালদহ, পশ্চিমবঙ্গ, পিন কোড- ৭৩২১০১।

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

  *••••┉❀꧁👇🏠Home Page🏠👇꧂❀┅••••* 


✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

    *••••━❀꧁👇 📖 সূচীপত্র 📖 👇꧂❀┅••••* 



✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

     *••••━❀꧁👇📚 PDF গ্রন্থ 📚👇꧂❀┅••••* 


✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
    *••••┉━❀꧁ 🙏 রাধে রাধে 🙏 ꧂❀━┅••••* 
                   শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য প্রভু নিত্যানন্দ
              হরে কৃষ্ণ হরে রাম শ্রীরাধেগোবিন্দ।।
  *••••┉━❀꧁ 🙏 জয় জগন্নাথ 🙏 ꧂❀━┅••••*
              হরে কৃষ্ণ হরে কৃষ্ণ কৃষ্ণ কৃষ্ণ হরে হরে
              হরে রাম হরে রাম রাম রাম হরে হরে॥
  *••••┉━❀꧁ 🙏 জয় রাধাকান্ত 🙏 ꧂ ❀━┅••••*
   🌷❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀🌷
   🏵️❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀🏵️
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧


যোগিনী একাদশীর ব্রত মাহাত্ম্য 🙇 সংগৃহীত 🙇 শ্রী মৃন্ময় নন্দী কর্ত্তৃক সকল ভক্ত চরণে অসংখ্যকোটি প্রণাম 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2025/06/yogini.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 যোগিনী একাদশীর ব্রত মাহাত্ম্য   🙇 সংগৃহীত 🙇 শ্রী মৃন্ময় নন্দী কর্ত্তৃক সকল ভক্ত চরণে অসংখ্যকোটি প্রণাম 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2025/06/yogini.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

আষাঢ় মাসের কৃষ্ণপক্ষের একাদশী যোগিনী একাদশী নামে পরিচিত। বিষ্ণু পুরাণ এবং পদ্মপুরাণের একাদশী মাহাত্ম্য অনুসারে, যোগিনী একাদশী উপবাস পালন করলে ৮৮ হাজার ব্রাহ্মণকে ভোজন করানোর সমতুল্য পুণ্য লাভ হয়। যে একাদশী তিথি পালন করলে দেবী সাধক বা ভক্তের মনে সংযম অর্থাৎ চিত্তবৃত্তি রোধ করে তাকে পৌঁছে দেন কৈবল্যধামে, তিনি হলেন শ্রীশ্রীযোগিনী একাদশী দেবী।

যোগিনী একাদশীতে বৈষ্ণব সমাজের লোকেরা উপবাস রাখেন এবং আচার-অনুষ্ঠানের মাধ্যমে লক্ষ্মী নারায়ণ- এর পুজো করেন। এর পাশাপাশি শুভ কাজে সাফল্য লাভের জন্য বিশেষ ব্যবস্থাও গ্রহণ করা হয় এই দিনে।ধর্মীয় বিশ্বাস অনুসারে, ভক্তিপূর্ণ হৃদয়ে একাদশীর উপবাস করলে জীবনে কখনও অর্থের অভাব হয় না।

যোগিনী একাদশী ভগবান বিষ্ণুর উপাসনার জন্য নিবেদিত। পদ্মপুরাণে, যোগিনী একাদশীর কাহিনী হেমমালী যক্ষ এবং পুলস্ত্য মুনির মধ্যে সংলাপের আকারে বর্ণিত হয়েছে। ভগবান শ্রীকৃষ্ণ যুধিষ্ঠিরকে তার প্রশ্নের উত্তরে এই একাদশীর কথা বর্ণনা করেছিলেন।এটি রাজা কুবেরের সেবক হেমমালীর পাপ থেকে মুক্তির গল্প, যেখানে তিনি যোগিনী একাদশী উপবাস পালন করে মোক্ষ লাভ করেছিলেন।

সারা বছরে ২৪টি একাদশী উপবাস রাখা হয়। এই একাদশীতে ভগবান বিষ্ণুর উদ্দেশ্যে পুজো করলে শুভ ফল পাওয়া যায়। কিছু ভক্ত নির্জলা উপবাসও করেন, যা খুবই কঠিন।ভক্তদের বিশ্বাস, যে ব্যক্তি এই একাদশীর উপবাস রাখে, তার উপর ভগবান বিষ্ণুর পাশাপাশি মা লক্ষ্মীর আশীর্বাদ থাকে।

পুরাণের কথা। অলকাপুরীর রাজা ছিলেন শিবভক্ত কুবের। তার সেবাকার্যে নিযুক্ত ছিলেন হেমমালী যক্ষ।

হেমমালীর প্রতিদিনের কর্তব্য ছিল মানসরোবর হ্রদে গিয়ে তার গুরু কুবেরের জন্য ফুল নিয়ে আসা, যা দিয়ে তিনি শিবের পূজা করতেন।

হেমমালীর পত্নী ছিলেন অতি রূপবতী বিশালাক্ষী। একদিন, ফুল তুলে আসার সময়,হেমামালী সরাসরি তার গুরুর কাছে ফিরে না গিয়ে সংসারে অতিরিক্ত আসক্তির জন্য পূজার ফুল নিয়ে তার স্ত্রীর কাছে চলে যান। স্ত্রীর সাথে প্রেমময় সম্পর্কে মগ্ন হয়ে, তিনি কুবেরের বাড়িতে ফিরে যেতে ভুলে যান।

যখন হেমামালী তার স্ত্রীর সাথে আনন্দ উপভোগ করছিলেন, তখন কুবের তার প্রাসাদে স্বাভাবিকভাবেই শিবের পূজা শুরু করেছিলেন এবং শীঘ্রই আবিষ্কার করলেন যে দুপুরের পূজায় কোনও ফুল নিবেদনের জন্য প্রস্তুত নেই। এত গুরুত্বপূর্ণ উপচার না পাওয়ায় মহান কোশাদ-যক্ষ (দেবতাদের কোষাধ্যক্ষ) ক্রুদ্ধ হয়ে উঠলেন এবং তিনি একজন যক্ষ দূতকে জিজ্ঞাসা করেছিলেন, ‘কেন হেমমালী প্রতিদিনের মতো আজ ফুল নিবেদন করে আসেননি?’ যক্ষ কুবেরকে বললেন, ‘হে প্রভু, হেমমালী তার স্ত্রীর সাথে সহবাস উপভোগ করতে এতটাই ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন, পুজার ফুল আনার কথা ভুলে গেছেন।’

এই কথা শুনে কুবের অত্যন্ত রেগে গেলেন এবং তৎক্ষণাৎ নীচু হেমমালীকে তাঁর সামনে ডেকে পাঠালেন। কর্তব্যে অবহেলা এবং স্ত্রীর দেহের প্রতি অতিরিক্ত ধ্যানমগ্ন থাকার অনুভূতি বুঝতে পেরে অত্যন্ত লজ্জিত হলেন। হেমামালী অত্যন্ত ভয়ে তাঁর প্রভুর কাছে গেলেন। হেমমালী প্রথমে প্রণাম করলেন এবং তারপর তাঁর প্রভুর সামনে দাঁড়ালেন।

কুবেরের চোখ রাগে লাল হয়ে গিয়েছিল এবং ঠোঁট ক্রোধে কাঁপছিল। অত্যন্ত ক্রোধে কুবের হেমামালীকে চিৎকার করে বললেন, ‘ওহে পাপী, বদমাশ! ওহে ধর্মীয় নীতি বিনাশকারী! তুই আমার আরাধ্য শঙ্করকে অবজ্ঞা করে ভার্যাকে নিয়ে ইন্দ্রিয় তর্পণ করছিস! আমার অভিশাপে তুই শ্বেতকুষ্ঠ ব্যাধিতে আক্রান্ত হবি,পত্নীর সঙ্গে তোর বিয়োগ হবে।’

কুবেরের অভিশাপে হেমমালী কুষ্ঠে আক্রান্ত হয়ে পৃথিবীতে ফিরে এলো। দেহ পুঁজ রক্তে ভরে গেছিল,শ্বেত কুষ্ঠরোগের ভয়াবহ যন্ত্রণায় অসুস্থ হয়ে পড়লেন।প্রবল কষ্টে তিনি জঙ্গলে ঘুরে বেড়াচ্ছিলেন কিন্তু শিব ভক্তের প্রভাবে স্মরণশক্তি ছিল তার প্রখর।

শীত ও গ্রীষ্ম উভয় ঋতুতেই তিনি কষ্ট ভোগ করেছিলেন, কিন্তু বিশ্বাসের সাথে তিনি স্বয়ং ভগবান শিবের উপাসনা চালিয়ে যাওয়ার কারণে, তাঁর চেতনা সম্পূর্ণরূপে স্থির এবং স্থির ছিল।

এখানে-সেখানে, পাহাড়-পর্বত ও সমতল ভূমি পেরিয়ে ঘুরে বেড়ানোর পর, হেমমালী অবশেষে হিমালয় পর্বতমালার বিশাল বিস্তৃতিতে উপস্থিত হন। সেখানে তিনি মহান সাধু মার্কণ্ডেয় ঋষির সংস্পর্শে আসার সৌভাগ্য লাভ করেন, যিনি ছিলেন শ্রেষ্ঠ তপস্বী, যাঁর আয়ুষ্কাল ব্রহ্মার সাত দিন পর্যন্ত বিস্তৃত বলে জানা যায়।

মার্কন্ডেয় ঋষি তাঁর আশ্রমে শান্তিতে বসে ছিলেন, দ্বিতীয় ব্রহ্মার মতোই তাঁকে উজ্জ্বল দেখাচ্ছিল। অত্যন্ত পাপী বোধ করে হেমমালী মহৎ ঋষির থেকে দূরে দাঁড়িয়ে বিনীতভাবে প্রণাম ও মনোনীত প্রার্থনা করলেন। সর্বদা অন্যদের কল্যাণে আগ্রহী, মার্কন্ডেয় ঋষি কুষ্ঠরোগীকে দেখে তাকে কাছে ডেকে বললেন, “ওহে, তুমি কী ধরণের পাপকর্ম করে এই ভয়াবহ দুর্দশা ভোগ করেছ?”

এই কথা শুনে হেমামালী বেদনার্ত ও লজ্জিত হয়ে  বললেন,’ হে মুনিবর আমি ভগবান কুবেরের একজন যক্ষ দাস, এবং আমার নাম হেমমালী। আমার প্রভুর শিবের পূজার জন্য মানস সরোবর হ্রদ থেকে ফুল তোলা আমার প্রতিদিনের কাজ ছিল, কিন্তু একদিন আমি অবহেলা করেছিলাম এবং নৈবেদ্য নিয়ে ফিরে আসতে দেরি করেছিলাম কারণ আমি আমার স্ত্রীর সাথে শারীরিক সুখ উপভোগ করার জন্য কামুক আবেগে আচ্ছন্ন হয়ে পড়েছিলাম।

যখন আমার প্রভু জানতে পারলেন যে আমি কেন উপাসনার দ্রব্য যোগাড় করিনি,তখন তিনি প্রচণ্ড ক্রোধে আমাকে অভিশাপ দিলেন।  কিন্তু সৌভাগ্যবশত আমি আপনার দেখা পেয়েছি। আমাকে দয়া করে আশীর্বাদ করুন ।কারণ আমি জানি যে আপনার মতো ঋষিরা পরমেশ্বর ভগবানের মতোই করুণাময় এবং সর্বদা তাদের হৃদয়ে অন্যদের স্থান দেয়। হে ঋষিগণ, দয়া করে আমাকে সাহায্য করুন!’

হেমমালী কৃতজ্ঞতায় মাটিতে লুটিয়ে পড়লেন এবং বারবার তাঁকে বিনীত প্রণাম জানালেন। মার্কণ্ডেয় ঋষি হেমমালীকে তাঁর পায়ের কাছে তুলে নিলেন, তাঁকে বললেন,” সামনেই আষাঢ় মাসের কৃষ্ণপক্ষের একাদশী যোগিনী।হেমমালী তুমি যদি ভক্তিভরে,কর্তব্যপরায়ণতার সাথে একাদশী উপবাস পালন  করো, তবে এর প্রভাবে তুমি আবার একজন সুদর্শন যক্ষ হয়ে উঠবে।’

মহর্ষির কথা শুনে হেমমালী ব্রতের নিয়মাবলী জেনে যথাযথভাবে যোগিনী ব্রত পালন করলেন। আর সেই ব্রতের প্রভাবে ব্যাধি হতে মুক্ত হলেন। তিনি পুনরায় অলকাপুরীতে গিয়ে পত্নীর সঙ্গে মিলিত হলেন।

ভগবান শ্রীকৃষ্ণ উপসংহারে বললেন, “তাহলে, হে যুধিষ্ঠির, তুমি সহজেই বুঝতে পারছো যে যোগিনী একাদশীর উপবাস অত্যন্ত শক্তিশালী এবং শুভ। ৮৮ হাজার ব্রাহ্মণকে খাওয়ানোর মাধ্যমে যে পুণ্য লাভ হয়, তা কেবল যোগিনী একাদশীর কঠোর উপবাস পালনের মাধ্যমেও লাভ হয়। যে ব্যক্তি এই পবিত্র একাদশীর উপবাস করে, তাঁকে একাদশী দেবী অতীতের পাপের স্তূপ ধ্বংস করে ধার্মিক করে তোলেন। হে রাজা, আমি তোমাকে যোগিনী একাদশীর পবিত্রতা ব্যাখ্যা করেছি।”

পুজো বিধি: যোগিনী একাদশীতে ভগবান বিষ্ণুর পুজো করার বিধান রয়েছে। এর সঙ্গে সঙ্গে অশ্বত্থ গাছেরও পুজো করা উচিত। এই দিনে সকালে ঘুম থেকে উঠে স্নান করা উচিত। এর পরে হলুদ পোশাক পরা শুভ।

তারপর ভগবান বিষ্ণুর ধ্যান করুন এবং উপবাসের সংকল্প নিন। এর পরে, পদ্ধতি অনুসারে তাঁর পুজো করুন এবং যোগিনী একাদশী উপবাসের ব্রত কথা পাঠ করুন। এরপরে, শ্রী হরি বিষ্ণুর আরতি করুন। এই দিনে, আপনি অভাবী লোকদের খাবার এবং সাধ্যমত দান করতে পারেন, এতে ভগবান বিষ্ণু সন্তুষ্ট হন।

যোগিনী একাদশীর ব্রতের নিয়ম: যোগিনী একাদশী ব্রতের দিন খাবার খাওয়া উচিত নয়। যারা একাদশী উপবাস করেন না তাদেরও ভাত খাওয়া উচিত নয়। এই দিনে চুল, নখ এবং দাড়ি কাটার ভুল করবেন না। যোগিনী একাদশীর দিন ব্রাহ্মণদের কিছু দান করা উচিত। একাদশীর উপবাস ভাঙার পর খাবার দান করা শুভ বলে মনে করা হয়।।

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

   📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝
     ꧁👇📖সূচীপত্র 🙏 শ্রী মৃন্ময় নন্দী📖👇



✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧


✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

  *••••┉❀꧁👇🏠Home Page🏠👇꧂❀┅••••* 


✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

    *••••━❀꧁👇 📖 সূচীপত্র 📖 👇꧂❀┅••••* 



✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

     *••••━❀꧁👇📚 PDF গ্রন্থ 📚👇꧂❀┅••••* 


✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
    *••••┉━❀꧁ 🙏 রাধে রাধে 🙏 ꧂❀━┅••••* 
                   শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য প্রভু নিত্যানন্দ
              হরে কৃষ্ণ হরে রাম শ্রীরাধেগোবিন্দ।।
  *••••┉━❀꧁ 🙏 জয় জগন্নাথ 🙏 ꧂❀━┅••••*
              হরে কৃষ্ণ হরে কৃষ্ণ কৃষ্ণ কৃষ্ণ হরে হরে
              হরে রাম হরে রাম রাম রাম হরে হরে॥
  *••••┉━❀꧁ 🙏 জয় রাধাকান্ত 🙏 ꧂ ❀━┅••••*
   🌷❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀🌷
   🏵️❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀🏵️
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧









পান্ডবা নির্জলা একাদশী 🌙 উন্মিলনী মহাদ্বাদশী ব্রত মাহাত্ম্য 🙇 সংগৃহীত 🙇 শ্রী মৃন্ময় নন্দী কর্ত্তৃক সকল ভক্ত চরণে অসংখ্যকোটি প্রণাম 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2025/06/nirjala.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕  পান্ডবা নির্জলা একাদশী 🌙 উন্মিলনী মহাদ্বাদশী ব্রত মাহাত্ম্য 🙇 সংগৃহীত 🙇 শ্রী মৃন্ময় নন্দী কর্ত্তৃক সকল ভক্ত চরণে অসংখ্যকোটি প্রণাম 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2025/06/nirjala.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
জৈষ্ঠ শুক্লপক্ষের এই একাদশী ব্রত সম্পর্কে ব্রহ্মবৈবর্ত পুরাণে শ্রীভীমসেন-ব্যাসসংবাদে বর্ণিত হয়েছে। 

মহারাজ যুধিষ্ঠির বললেন--হে জনার্দন! আমি অপরা একাদশীর সমস্ত মাহাত্ম্য শ্রবণ করলাম এখন জ্যৈষ্ঠ শুক্লপক্ষের একাদশীর নাম ও মাহাত্ম্য কৃপাপূর্বক আমার কাছে বর্ণনা করুন। 

শ্রীকৃষ্ণ বললেন, এই একাদশীর কথা মহর্ষি ব্যাসদেব বর্ণনা করবেন। কেননা তিনি সর্বশাস্ত্রের অর্থ ও তত্ত্ব পূর্ণরূপে জানেন। 

রাজা যুধিষ্ঠির ব্যাসদেবকে বললেন--হে মহর্ষি দ্বৈপায়ন! আমি মানুষের লৌকিক ধর্ম এবং জ্ঞানকান্ডের বিষয়ে অনেক শ্রবণ করেছি। আপনি যথাযথ ভাবে ভক্তি বিষয়িনী কিছু ধর্মকথা এখন আমায় বর্ণনা করুন।

শ্রী ব্যাসদেব বললেন--হে মহারাজ! তুমি যেসব ধর্মকথা শুনেছ, এই কলিযুগের মানুষের পক্ষে সে সমস্ত পালন করা অত্যন্ত কঠিন। যা সুখে, সামান্য খরচে, অল্প কষ্টে সম্পাদন করা যায় অথচ মহাফল প্রদান করে এবং সমস্ত শাস্ত্রের সারস্বরূপ সেই ধর্মই কলিযুগে মানুষের পক্ষে করা শ্রেয়। সেই ধর্মকথাই এখন আপনার কাছে বলছি। 

উভয় পক্ষের একাদশী দিনে ভোজন না করে উপবাস করবে। দ্বাদশী দিনে স্নান করে শুচিশুদ্ধ হয়ে নিত্যকৃত্য সমাপনের পর শ্রীকৃষ্ণের অর্চন করবে। এরপর ব্রাহ্মণদেরকে প্রসাদ ভোজন করাবে। অশৌচাদিতেও এই ব্রত কখনও ত্যাগ করবে না। যে সকল ব্যক্তি স্বর্গে যেতে চায়, তাদের সারাজীবন এই ব্রত পালন করা উচিত। পাপকর্মে রত ও ধর্মহীন ব্যক্তিরাও যদি এই একাদশী দিনে ভোজন না করে, তবে তারা যমযাতনা থেকে রক্ষা পায়। 

শ্রী ব্যাসদেবের এসব কথা শুনে গদাধর ভীমসেন অশ্বথ্থ পাতার মতো কাঁপতে কাঁপতে বলতে লাগলেন--হে মহাবুদ্ধি পিতামহ! মাতা কুন্তী, দ্রৌপদী, ভ্রাতা যুধিষ্ঠির, অর্জুন, নকুল, সহদেব এরা কেউই একাদশীর দিনে ভোজন করে না। আমাকেও অন্নগ্রহণ করতে নিষেধ করে। কিন্তু দুঃসহ ক্ষুধাযন্ত্রণার জন্য আমি উপবাস করতে পারি না। 

ভীমসেনের এই কথায় ব্যাসদেব বলতে লাগলেন--যদি স্বর্গাদি দিব্যধাম লাভে তোমার একান্ত ইচ্ছা থাকে, তবে উভয় পক্ষের একাদশীতে ভোজন করবে না। 

তদুত্তরে ভীমসেন বললেন--আমার নিবেদন এই যে, উপবাস তো দূরের কথা, দিনে একবার ভোজন করে থাকাও আমার পক্ষে অসম্ভব। কারণ আমার উদরে 'বৃক' নামে অগ্নি রয়েছে। ভোজন না করলে কিছুতেই সে শান্ত হয় না। তাই প্রতিটি একাদশীর পালনে আমি একেবারেই অপারগ। 

হে মহর্ষি! বছরে একটি মাত্র একাদশী পালন করে যাতে আমি দিব্যধাম লাভ করতে পারি এরকম কোন একাদশীর কথা আমাকে নিশ্চয় করে বলুন। 

তখন ব্যাসদেব বললেন--জ্যৈষ্ঠ মাসের শুক্লপক্ষের একাদশী তিথিতে জলপান পর্যন্ত না করে সম্পূর্ণ উপবাস করবে। তবে আচমনে দোষ হবে না। ঐ দিন অন্নাদি গ্রহণ করলে ব্রত ভঙ্গ হয়। 

একাদশীর দিন সূর্যোদয় থেকে দ্বাদশীর দিন সূর্যাস্ত পর্যন্ত জলপান বর্জন করলে অনায়াসে বারোটি একাদশীর ফল লাভ হয়। বছরের অন্যান্য একাদশী পালনে অজান্তে যদি কখনও ব্রতভঙ্গ হয়ে যায়, তা হলে এই একটি মাত্র একাদশী পালনে সেই সব  দোষ দূর হয়। দ্বাদশী দিনে ব্রাহ্ম মুহূর্তে স্নানাদিকার্য সমাপ্ত করে শ্রীহরির পূজা করবে। সদাচারী ব্রাহ্মণদের বস্ত্রাদি দান সহ ভোজন করিয়ে আত্মীয়স্বজন সহ নিজে ভোজন করবে। এরূপ একাদশী পালনে যে প্রকার পুণ্য সঞ্চিত হয়, এখন তা শ্রবন কর। 

সারা বছরের সমস্ত একাদশীর ফলই এই একটিমাত্র ব্রত উপবাসে লাভ করা যায়। শঙ্খ, চক্র, গদা, পদ্মধারী ভগবান শ্রীকৃষ্ণ আমাকে বলছেন--'বৈদিক ও লৌকিক সমস্ত ধর্ম পরিত্যাগ করে যারা একমাত্র আমার শরণাপন্ন হয়ে এই নির্জলা একাদশী ব্রত পালন করে তারা সর্বপাপ মুক্ত হয়।'

বিশেষত কলিযুগে ধন-সম্পদ দানের মাধ্যমে সদ্ গতি বা স্মার্ত সংস্কারের মাধ্যমেও যথার্থ কল্যাণ লাভ হয় না। কলিযুগে দ্রব্যশুদ্ধি নেই। কলিতে শাস্ত্রোক্ত সংস্কার বিশুদ্ধ হয় না। তাই বৈদিক ধর্ম কখনও সুসম্পন্ন হতে পারে না। 

হে ভীমসেন!  তোমাকে বহু কথা বলার আর প্রয়োজন কি? তুমি উভয় পক্ষের একাদশীতে ভোজন করবে না। যদি তাতে অসমর্থ হও তবে জ্যৈষ্ঠ মাসের শুক্লপক্ষের একাদশীতে অবশ্যই নির্জলা উপবাস করবে। এই একাদশী ব্রত ধনধান্য ও পুণ্যদায়িনী। যমদূতগন এই ব্রত পালনকারীকে মৃত্যুর পরও স্পর্শ করতে পারে না। পক্ষান্তরে বিষ্ণুদূতগন তাঁকে বিষ্ণুলোকে নিয়ে যান। 

শ্রী ভীমসেন ঐদিন থেকে নির্জলা একাদশী ব্রত পালন করতে থাকায় এই একাদশী 'পান্ডবা নির্জলা বা ভীমসেনী একাদশী' নামে প্রসিদ্ধ হয়েছে। এই নির্জলা একাদশী তিথিতে পবিত্র তীর্থে স্নান, দান, জপ, কীর্তন ইত্যাদি যা কিছু মানুষ করে তা অক্ষয় হয়ে যায়। যে ব্যক্তি ভক্তি সহকারে এই একাদশী মাহাত্ম্য পাঠ বা শ্রবণ করেন তিনি বৈকুণ্ঠধাম প্রাপ্ত হন।

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

   📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝
     ꧁👇📖সূচীপত্র 🙏 শ্রী মৃন্ময় নন্দী📖👇



✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧


✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

  *••••┉❀꧁👇🏠Home Page🏠👇꧂❀┅••••* 


✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

    *••••━❀꧁👇 📖 সূচীপত্র 📖 👇꧂❀┅••••* 



✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

     *••••━❀꧁👇📚 PDF গ্রন্থ 📚👇꧂❀┅••••* 


✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
    *••••┉━❀꧁ 🙏 রাধে রাধে 🙏 ꧂❀━┅••••* 
                   শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য প্রভু নিত্যানন্দ
              হরে কৃষ্ণ হরে রাম শ্রীরাধেগোবিন্দ।।
  *••••┉━❀꧁ 🙏 জয় জগন্নাথ 🙏 ꧂❀━┅••••*
              হরে কৃষ্ণ হরে কৃষ্ণ কৃষ্ণ কৃষ্ণ হরে হরে
              হরে রাম হরে রাম রাম রাম হরে হরে॥
  *••••┉━❀꧁ 🙏 জয় রাধাকান্ত 🙏 ꧂ ❀━┅••••*
   🌷❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀🌷
   🏵️❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀🏵️
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧










adds