শ্রী মৃন্ময় নন্দী কর্ত্তৃক সকল ভক্ত👣চরণে👣অসংখ্যকোটি 🙇প্রণাম🙇 ক্লিক করুন 👇

শ্রী মৃন্ময় নন্দী কর্ত্তৃক সকল ভক্ত👣চরণে👣অসংখ্যকোটি 🙇প্রণাম🙇 ক্লিক করুন 👇

ভগবানের নামের মাহাত্ম 🙏 শ্রী মৃন্ময় নন্দী কর্ত্তৃক সকল ভক্ত চরণে অসংখ্যকোটি প্রণাম 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2022/03/blog-post_25.html

  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
                ꧁ ভগবানের নামের মাহাত্ম ꧂ 
       এই লিংকে 👇👇👇🙏👇👇👇 ক্লিক করুন 
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
  ꧁ টিকা বা অন্যান্য ধর্মীয় লিখনী 🙏 সূচীপত্র ꧂
       এই লিংকে 👇👇👇🙏👇👇👇 ক্লিক করুন 
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
ঈশ্বরঃ পরমঃ কৃষ্ণঃ সচ্চিদানন্দবিগ্রহঃ ।
অনাদিরাদির্গোবিন্দঃ সর্ব্বকারণকারণম্।।

হরের্নাম হরের্নাম হরের্নামৈব কেবলম্ ।
কলৌ নাস্ত্যেব নাস্ত্যেব নাস্ত্যেব গতিরন্যথা ।।
(বৃহন্নারদীয় পুরাণ)

কলিকালে নামরূপে কৃষ্ণ অবতার ।
নাম হৈতে হয় সর্বজগৎ-নিস্তার ।।
দার্ঢ্য লাগি ‘হরে র্নাম-উক্তি তিনবার ।
জড় লোক বুঝাইতে পুনঃ ‘এব’-কার ।।
‘কেবল’ শব্দে পুনরপি নিশ্চয়-করণ ।
জ্ঞান-যোগ-তপ-কর্ম-আদি নিবারণ ।।
অন্যথা যে মানে, তার নাহিক নিস্তার ।
নাহি, নাহি, নাহি-তিন উক্ত ‘এব’-কার ।।
(চৈঃ চঃ আ ১৭/২১-২৫)

এই মহামন্ত্র জপ্য ও কীর্তনীয়
আপনে সবারে প্রভু করে উপদেশে ।
কৃষ্ণ-নাম মহা-মন্ত্র শুনহ হরিষে- ।।
‘হরে কৃষ্ণ হরে কৃষ্ণ কৃষ্ণ কৃষ্ণ হরে হরে ।
হরে রাম হরে রাম রাম রাম হরে হরে ।।
প্রভু বলে, - “কহিলাম এই মহামন্ত্র ।
ইহা জপ’ গিয়া সবে করিয়া নির্বন্ধ ।।
ইহা হৈতে সর্ব-সিদ্ধি হইবে সবার ।
সর্বক্ষণ বল’ ইথে বিধি নাহি আর ।।
কি ভোজনে, কি শয়নে, কিবা জাগরণে ।
অহর্নিশি চিন্ত কৃষ্ণ বলহ বদনে ।।
দশ-পাঁচ মিলি’ নিজে দ্বারেতে বসিয়া ।
কীর্তন করহ সবে হাতে তালি দিয়া ।।
সন্ধ্যা হৈলে আপনার দ্বারে সবে মিলি’ ।
কীর্তন করেন সবে দিয়া করতালি ।।
এই মত নগরে নগরে সংকীর্তন ।
করাইতে লাগিলেন শচীর নন্দন।।
(চৈঃ ভাঃ মধ্যঃ)
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
                ꧁ ভগবানের নামের মাহাত্ম ꧂ 
       এই লিংকে 👇👇👇🙏👇👇👇 ক্লিক করুন 
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
সর্বদা শ্রীমুখে ‘হরে কৃষ্ণ হরে হরে’ ।
বলিতে আনন্দ ধারা নিরবধি ঝরে ।।
(চৈঃ ভাঃ আ ১/১৯৯)

কৃষ্ণনাম-মহামন্ত্রের এই ত’ স্বভাব ।
যেই জপে, তার কৃষ্ণে উপজয়ে ভাব ।।
(চৈঃ ভাঃ আ ৭/৮৩)

 ব্রহ্মা কর্তৃক হরে কৃষ্ণ নাম মাহাত্ম্য বর্ণন:-
পদ্মপুরাণে উত্তরখন্ডের ৭১ তম অধ্যায়ে পরমেশ্বর ভগবানের দিব্য নামের মহিমা খুব সুন্দরভাবে বর্ণনা করা হয়েছে। একসময় নারদ মুনি পিতা ব্রহ্মার সঙ্গে সাক্ষাৎ করার লক্ষ্যৈ সিদ্ধ-চারণ-সেবিত মেরু পর্বতের শিখরে গমন করেন। সেখানে গিয়ে নারদ মুনি ব্রহ্মাকে নকস্কারপূর্বক বললেন- হে প্রভু, পরমেশ্বর ভগবানের নামের যেরূপ শক্তি আছে, আপনি তা কৃপাপূর্বক বলুন। তাঁর নাম মহিমা কী প্রকার? যিনি সেই অব্যয় পুরুষ, তিনিই সাক্ষাৎ বিশ্বেশ্বর নারায়ণ, হরি, পরমাত্মা ও সর্বজীবের অন্তর্যামী হৃষিকেশ। এই অসার কলিযুগে মূঢ় নরগণ মায়ামোহিত হয়েই ভগবান অধোক্ষজকে জানতে পারে না। 

অস্মিন্ কলৌ বিশেষণ নামোচ্চারণপূর্ব্বকম্। 
ভক্তিঃ কার্য্যা যথা বৎস তথা ত্বং শ্রোতুমর্হসি।।৯।।
দৃষ্টং পরেষাং পাপানামনুক্তানাং বিশোধনম্।
বিষ্ণোর্জিষ্ণোঃ প্রযত্নেন স্মরণং পাপনাশনম্।।১০।।
মিথ্যা জ্ঞাত্বা ততঃ সর্ব্বং হরের্নাম পঠন্ জপন্।
সর্ব্বপাপবিনির্ম্মুক্তো যাতি বিষ্ণোঃ পরং পদম্।।১১।।
যে বদন্তি নরা নিত্যং হরিরিত্যক্ষরদ্বয়ম্।
তস্যোচ্চারণমাত্রেণ বিমুক্তাস্তে ন সংশয়ঃ।।১২।।
প্রায়শ্চিত্তানি সর্ব্বাণি কৃষ্ণানুস্মরণং পরম। 
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
                ꧁ ভগবানের নামের মাহাত্ম ꧂ 
       এই লিংকে 👇👇👇🙏👇👇👇 ক্লিক করুন 
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
ব্রহ্মা বললেন, হে বৎস, এই কলিযুগে নামোচ্চারণপূর্বক ভগবানে যাতে বিশেষভাবে ভক্তি স্থাপন করতে হয়, তুমি তা শ্রবণ করো। দেখা যায়, যত্নপূর্বক জয়শীল বিষ্ণুর স্মরণ মাত্রই অন্য অনুক্ত পাপসকলও ক্ষয় প্রাপ্ত হয়। যে ব্যক্তি মিথ্যা বুঝিয়াও হরির নাম পাঠ ও জপ করে, সেও সর্বপাপ হতে মুক্ত হয়ে বিষ্ণুর পরম পদে উপনীত হয়ে থাকে। যেসকল নর “হরি-এই অক্ষরদ্বয় নিত্য উচ্চারণ করে, সেই উচ্চারণ মাত্রই সে মুক্ত হয়, সন্দেহ নেই। কৃষ্ণানুস্মরণই পরম প্রায়শ্চিত্তস্বরূপ। মানব প্রাতে, মধ্যাহ্নে ও সায়াহ্নে নারায়ণ স্মরণ করে তৎক্ষাৎ পাপমুক্ত হয়ে থাকে। 

বিষ্ণুর স্মরণমাত্রই সমস্ত ক্লেশ দুরীভূত হয়। বিষ্ণুর নাম কীর্তনে স্বর্গপ্রাপ্তি এবং মুক্তিপ্রাপ্তিও হয়ে থাকে। জপ, হোম ও অর্চনাদি ব্যাপারে বাসুদেবেই যার মন নিবিষ্ট, তার অনুষ্ঠিত জপাদি চতুর্দশ ইন্দ্রের অধিকারকাল পর্যন্ত অক্ষয় বলে জানবে। কোথায় পুনরাবৃত্তি লক্ষণ স্বর্গগমন আর কোথায়ই বা মুক্তিমূলক বাসুদেবনাম-জপ! যেখানে ‘নমো নারায়ণায়’ বলে আবর্তবিস্তারপূর্বক প্রাচী সরস্বতী প্রতিভাত হচ্ছেন, সেই মুখই পরম তীর্থ। 

অতএব, দিবারাত্র বিষ্ণুস্মরণেই নর ক্ষীণকলিকল্মষ হয়ে নরকে প্রয়াণ করে না। হে সুব্রত, এটি আমি ত্রিসত্য করেই বলছি। 
নামোচ্চারণমাত্রেণ মহাপাপাৎ প্রমুচ্যতে। 
রাম রামেতি রামেতি রামেতি চ পুনর্জপন।।২০।।

নর নামোচ্চারণ মাত্রই মহাপাপ হতে মুক্ত হয়। বারবার রাম রাম জপ করলে চন্ডাল ব্যক্তিও শুদ্ধচিত্ত হয়ে থাকে। নামোচ্চারণ মাত্রই মানবের কুরুক্ষেত্র, গয়া, কাশী ও দ্বারকা প্রভৃতি সবতীর্থের সেবা করা হয়। 

কৃষ্ণ কৃষ্ণেতি কৃষ্ণেতি ইতি বা যো জপন্ পঠন
ইহ লোকং পরিত্যজ্য মোদতে বিষ্ণুসন্নিধৌ।

যিনি কৃষ্ণ কৃষ্ণ কৃষ্ণ এই নাম জপ ও কীর্তন করেন তিনি অন্তে ইহলোক পরিহারপূর্বক কৃষ্ণসন্নিধানে বিহার করে থাকেন। হে বিপ্র, যে জন সর্বদা সহর্ষে ‘নৃসিংহ’ এই নাম জপ ও পাঠ করেম সেই মহাভাগবত পুরুষ মহাপাপ হতেও মুক্ত হয়ে থাকেন। 

ধ্যায়ন্ কৃতে যজন্ যজ্ঞৈস্ত্রেতায়াং দ্বাপরেহর্চ্চয়ন
যদাপ্নোতি তদাপ্নোতি কলৌ সঙ্কীর্ত্ত্য কেশবম্
এতজজ্ঞাত্বা নিমগ্নাশ্চ জগদাত্মনি কেশবে।।২৫।।

সত্য যুগে ধ্যান, ত্রেতায় যজ্ঞানুষ্ঠান ও দ্বাপরে অর্চনা করে নর যে ফল প্রাপ্ত হয়, কলিকালে কেবল কেশবনামোচ্চারণেই সেই ফল হয়ে থাকে। এটি বুঝতে পেরে জনগণ বিশ্বাত্মা কেশবে চিত্ত নিবেশ করবে; এতেই তারা সর্ব পাপ হতে মুক্ত হয়ে বিষ্ণুর পরম পদে উপনীত হবে। মৎস, কূর্ম, বরাহ, নৃসিংহ, বামন, পরশুরাম, রামচন্দ্র, কৃষ্ণ, বুদ্ধ এবং কল্কি পৃথিবীতে ভগবানের এই দশাবতার কীর্তিত, তাঁদের নামোচ্চারণমাত্র ব্রহ্মহত্যাকারীও শুদ্ধিলাভ করে। প্রভাতে যে কোনোরূপে বিষ্ণুর নাম পাঠ, জপ ও ধ্যান করলে নর মুক্তি প্রাপ্ত হয়, এতে সন্দেহ মাত্র নাই। উইকিপিডিয়াতে এই সম্বন্ধে বর্ণনা করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, কলিসন্তরণ উপনিষদে ব্রহ্মা নারদকে বলেন, পরমেশ্বর ভগবান শ্রীকৃষ্ণের দিব্য নামসমন্বিত যে হরেকৃষ্ণ মহামন্ত্র- 

হরে কৃষ্ণ হরে কৃষ্ণ কৃষ্ণ কৃষ্ণ হরে হরে। 
হরে রাম হরে রাম রাম রাম হরে হরে। 

এই মহামন্ত্র নিত্য জপকীর্তন করাই এই কলিযুগের যুগধর্ম। হরি শব্দের অর্থ ‘যিনি হরণ করেণ’ অর্থাৎ ভগবান আমাদের সকল জড়-জাগতিক কামনা বাসনা হরণ করে শুদ্ধ ভক্তি দান করেন।
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
                ꧁ ভগবানের নামের মাহাত্ম ꧂ 
       এই লিংকে 👇👇👇🙏👇👇👇 ক্লিক করুন 
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
 শ্রীশিবজি শ্রীনারদমুনির কাছে হরিনাম মাহাত্ম্য বর্ণন
একসময়, স্বর্গের মন্দাকিনীর তীরে শ্রীনারদমুনি মহাদেবের কাছে শ্রীকৃষ্ণমন্ত্র লাভ করলেন। তারপর নারদ ও মহাদেব শিব এব স্থানে এসে পৌছলেন যেখানে পার্বতীদেবী, কার্ত্তিক ও গণেশ বসেছিলেন। সেখানে মহাকাল, নন্দী, বীরভদ্র, সিদ্ধ মহর্ষিগণ ও সনকাদি মুনিগণ এসে বসলেন। বাক্যালাপে প্রসঙ্গ ক্রমে নারদমুনি মহাদেবকে বললেন, হে ভগবান, যে জ্ঞান কর্মফলচক্তে আবদ্ধ করায় না, যে জ্ঞান সর্ববেদের সার, সেই বিষয়ে আমার প্রতি প্রসন্ন হয়ে আমাকে বলুন।

মহাদেব বললেন, হে নারদ, পঞ্চরাত্র নামে এক অনুপম জ্ঞান পূর্বে গোলেকে বিরজার তটে পরমেশ্বর শ্রীকৃষ্ণ ব্রহ্মাকে প্রদান করেছিলেন, তারপর নিরাময় ব্রহ্মলোকে ব্রহ্মা আমাকে সেই জ্ঞান প্রদান করেন, সেই সর্ব-অভীষ্ট সর্বজ্ঞানপ্রদ পবিত্র জ্ঞান আমি তোমাকে দান করছি, পরে তুমি ব্যাসদেবকে প্রদান করবে। আর সেই ব্যাসদেব তার পুত্র শুকদেবকে দান করবে।

হে নারদ, এই জ্ঞান সবার আদি, সর্ববেদের সার, অতি মনোহর। জগৎ সংসারে যত মত আছে, যত মন্ত্র আছে, যত কর্ম আছে, যত কর্মচক্র আছে, সেই সমস্ত কিছুর সারাৎসার, সর্বকর্মচক্রের মুক্তির পন্থা হচ্ছে একমাত্র পরমেশ্বর ভগবান শ্রীকৃষ্ণের পাদপদ্মসেবা। নিখিল মহাবিশ্বে একমাত্র শ্রীকৃষ্ণই নিত্য বিদ্যমান। আর অন্য সমস্ত কিছুই তাঁর প্রয়োজন সিদ্ধির জন্যই উৎপন্ন হয়েছে। বিশ্বের সবাই তাঁরই মায়ায় মোহিত। এক কৃষ্ণ তাঁর অনন্ত রূপ, তাঁর অনন্ত গুণ, তাঁর অনন্ত কীর্তি এবং তাঁর অনন্ত জ্ঞান।

হে নারদ, তাঁর সৃষ্ট জড় বিচিত্র বিশ্বও অনন্ত। এই বিশ্বের সব জায়গা ক্ষুদ্র, বৃহৎ, মধ্যম শ্রেণীর নানা জাতীয় জীবে পরিপূর্ণ। সেই জীবগুলি কর্মশীল। কর্মের ফলস্বরূপ তারা সুখ-দুঃখ ভোগ করছে। সবান্তরাত্মা ভগবান প্রত্যেক জীবের সাক্ষীরূপে বিদ্যমান। জীবের বুদ্ধি আছে। সেই বুদ্ধিশক্তি নিদ্রা, তন্দ্রা, দয়া, শ্রদ্ধা, তুষ্টি, পুষ্টি, ক্ষমা,ক্ষুধা, লজ্জা, তৃষ্ণা, ইচ্ছা, চিন্তা, জরা, প্রভৃতি নাম ধারণ করে।

অনুচরেরা যেমন রাজার অনুগামী হয়, সেরকম এই সব শক্তি জীবের অনুগামী হয়ে থাকে। চিন্তা ও জরা সর্বদা জীবের শোভা ও পুষ্টির ব্যাঘাত করে। ব্রহ্মান্ডমধ্যে জীব যে স্থুল দেহ ধারণ করে কর্ম করছে সেই দেহটি পাঞ্চভৌতিক অর্থাৎ মাটি, জল, আগুন, বাতস ও আকাশ দিয়ে তৈরি। এই দেহ ধ্বংস হলে দেহটি পঞ্চভূতের মধ্যে মিশে যায়। প্রায় জীবই এই জগৎ সংসারে ভ্রান্তিবশে মায়ামোহিত হয়ে রোদন করতে থাকে। কিন্তু যারা সাধু ব্যক্তি, তাঁরা নিত্য সত্য অভয়প্রদ এবং জন্মমৃত্যুজরা-অপহারী শ্রীকৃষ্ণের চরণকমল সেবা করেন।

হে নারদ, এই বিশ্ব স্বপ্নের মতো অনিত্য। অতএব এতে বিমোহিত না হয়ে আনন্দের সঙ্গে শ্রীকৃষ্ণের পাদপদ্ম ভজনা করো। এই হচ্ছে প্রথম জ্ঞান।

এবার দ্বিতীয় জ্ঞানের কথা শ্রবণ করো। জ্ঞানী ব্যাক্তিরা মুক্তি বাসনা করেন। সাধূ পন্ডিত ব্যক্তিদের পরামামুক্তি সততেই বাঞ্চিত। কিন্তু সমস্ত মুক্তি শ্রীকৃষ্ণভক্তির কাছে অত্যন্ত তুচ্ছ বিষয়। মুক্তি কৃষ্ণভক্তির ষোলভাগের একভাগও আকর্ষণীয় নয়। কৃষ্ণভক্ত-সংসর্গের ফলে কারও হৃদয়ে ঐকান্তিক কৃষ্ণভক্তি জাগ্রত হয়।

মাঠের মাঝে বৃক্ষের বীজ যেমন অঙ্কুরিত হয় জল পেলে, তেমনই হৃদয় মধ্যে ভক্তিবৃক্ষের অঙ্কুর প্রকাশিত হয় ভক্তসঙ্গ পেলে। ভক্তসঙ্গে কৃষ্ণকথা আলাপে ভক্তি জাগ্রত হয়। আবার রৌদ্র মধ্যে অঙ্কুর যেমন শুকিয়ে যায়, তেমনই অভক্তজনের সঙ্গে সর্বদা সংলাপে ভক্তি শুষ্কতা প্রাপ্ত হয়। এই জন্যে বুদ্ধিমান ব্যক্তিরা সর্বদা ভক্তজনের সঙ্গে আলাপ করেন।

হে নারদ, সোনা যেমন নিকৃষ্ট ধাতুর সংযোগে মলিনতা প্রাপ্ত হয়, তেমনই সৎ ব্যক্তিও সংসারের দুর্বুদ্ধি লোকের সংস্পর্শে মন্দ হয়ে যায়। এজন্য সর্বদা নিরন্তর ভক্তিপূর্বক শ্রীকৃষ্ণভজনে ‍যুক্ত থাকাই কর্তব্য।

ভক্তিপূর্বক কৃষ্ণভক্ত বৈষ্ণবের কাছ থেকে তার কৃষ্ণমন্ত্র গ্রহণ করা উচিত। কখনও অভক্ত অবৈষ্ণবের কাছ থেকে নয়। সংসারে যারা কৃষ্ণনিন্দুক, কৃষ্ণবিমুখ, কৃষ্ণভক্ত নিন্দুক, তারা অশুচি ও পাপিষ্ঠ। কৃষ্ণমন্ত্রে দীক্ষিত ব্যক্তি শত পুরুষ সহ নেজেকে উদ্ধার করে।
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
                ꧁ ভগবানের নামের মাহাত্ম ꧂ 
       এই লিংকে 👇👇👇🙏👇👇👇 ক্লিক করুন 
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
হে নারদ, পূর্বে কৃষ্ণের আলয় গোলোকে বিরজাতীরে ক্ষীরের মতো অমল জলে আমি শ্রীকৃষ্ণ মন্ত্র জপ করেছি। নিত্য আমি কৃষ্ণমত্র জপ করি। পার্বতী, কার্তিক গনেশ সবসময়ই কৃষ্ণনাম কীর্তন করে থাকে।

হে নারদ, লোকে দুর্দিনের অভিজ্ঞতার কথা বলে ও স্মরণ করে। মেঘে আচ্ছন্ন অন্ধকার দিনকে আমি দুর্দিন বলি না। যেই দিন কৃষ্ণকথা হয় না, আমি সেই দিনকে দুর্দিন বলে থাকি। লোকে কোনও কর্মে অসফল হলে দুঃখিত হয়, হাহুতাশ করে। কিন্তু হে নারদ, যেই দিন ক্ষণকালও অমৃত্যতুল্য কৃষ্ণকথা হয় না, শ্রীকৃষ্ণের কীর্তনবিহীন সেই দিনটিকে নিষ্ফল বলে মানি এবং কাল সেদিনের অনর্থক আয়ু হরণ করে। কৃষ্ণকথাই আনন্দময়, কৃষ্ণকথাই মঙ্গলময়।

হে নারদ, সাপেরা গরুড়কে দেখলে যেমন পালিয়ে যায়, পাপরাশিও তেমনই কৃষ্ণতীর্তনকারীর কাছ থেকে পালিয়ে যায়। পূর্বে ব্রহ্মা শ্রীকৃষ্ণের কাছ থেকে কৃষ্ণমন্ত্র লাভ করেন, তাতে সৃষ্টির কারণভূত নির্মল জ্ঞান প্রাপ্ত হন। বিধাতা নাম প্রাপ্ত হন। কৃষ্ণমন্ত্র কোটিবার জপ করতে করতে অনন্দদেবের সহস্র মস্তক হয়।

হে নারদ, পূর্বে একসময় কৃষ্ণপ্রিয়া রাধিকার গর্ভে এক স্বর্ণময় ডিম্ব উৎপন্ন হয়, গোলোকধাম থেকে আগত সেই ডিম্ব দ্বিখন্ডিত হয়ে ভেঙ্গে যায় এবং মহার্ণবে পতিত হয়। সেই ডিম্ব থেকে মহাবিষ্ণু আবির্ভূত হয়ে মহাজলে শয়ন করলেন। মহাবিষ্ণুর লোমকূপ থেকে আলাদা আলাদা ভাবে পৃথক জলরাশি উদ্ভব হয়ে সর্বত্র পরিব্যাপ্ত হল। সেগুলি সপ্ত আবরণীযুক্ত এক-একটি ব্রহ্মান্ড।

ব্রহ্মান্ডের মধ্যে মধ্যস্থানে ভূলোক। ভূলোকের ঊর্ধ্বদিকে যথাক্রমে ভুবর্লোক, স্বর্গলোক, জনলোক, মহর্লোক, তপোলোক ও সত্যলোক। আর ভুলোকের নিম্নদিকে যথাক্রমে অতল, বিতল, সুতল, তলাতল, মহাতল, রসাতল ও পাতাললোক রয়েছে। সত্যলোকের বামদিকে ধ্রুবলোক, পাতাললোকের ডানদিকে নরক লোক রয়েছে।

হে নারদ, মধ্যস্থানের ভূলোকে ভারতবর্ষ বিখ্যাত। ভারতবর্ষের মধ্যে বৃন্দাবনে শ্রীকৃষ্ণের আবির্ভাব হয়। ভারতবর্ষ যেরূপ মাহাত্ম্যপূর্ণ, অন্য স্থান ততটা নয়। বহু পুণ্যফলে কারও ভারতবর্ষে মনুষ্য জন্ম লাভের সৌভাগ্য হয়। মানুষদের মধ্যে তাঁরাই মহান বা বিদ্ধান, যাঁরা শ্রীকৃষ্ণ পাদপদ্ম ভজনা করেন। মানবজীবন পেয়েও জীব যদি শ্রীকৃষ্ণভজনা না করে তবে তার চেয়ে আর বিড়ম্বনা কি? শ্রীকৃষ্ণভজনহীন তার জন্ম অনর্থক, তার গর্ভযাতনা বৃথা, তার অনিত্য শরীর নিষ্ফল, তার জীবন ব্যর্থ। সে জীবম্মৃত।

হে নারদ, এই ভারতে যে ব্যক্তি প্রত্যহ শ্রীহরির পাদোদক ও নৈবদ্য ভক্ষণ করেন, কৃষ্ণমন্ত্র গ্রহণ করেন, তিনি জীবম্মুক্ত হন। তাঁর পদধুলিতে পৃথিবী পবিত্রা হন।

 
হে নারদ, এবার তৃতীয় জ্ঞানের কথা শ্রবণ করো। শ্রীকৃষ্ণের অনন্ত গুণের কথা কেউই বর্ণনা করতে সমর্থ নয়। যা তুমি শুনতে পাবে, সবই কিঞ্চিৎ কথা মাত্র। আমি শুধু এইটুকু জানি যে, শ্রীকৃষ্ণ অপেক্ষা আর কেউই আদিপুরুষ নেই, আর কেউই পরম আরাধ্য নেই। তাঁর অপেক্ষা জ্ঞানী বা যোগীও কেউ নেই। তাঁর অপেক্ষা সবার পরিপালক জনকও আর কেউ নেই। তাঁর অপেক্ষা বলবানম কীর্তিমান, দয়ালু ও ভক্তবৎসল আর কেউ নেই। যে মায়াদেবী অনন্ত কোটি ব্রহ্মান্ডকে মোহিত করেন তিনিও শ্রীকৃষ্ণের সম্মুখে স্তব করতে অক্ষম এবং অতি ভীতা হন। বাক্যের অধিষ্ঠাত্রী স্বরস্বতীদেবীও শ্রীকৃষ্ণের স্তব করতে সমর্থ না হয়ে জড়প্রায় হয়ে যান।

আরও পড়ুনঃ ভগবান শ্রীকৃষ্ণের সকল লীলা কাহিনী-শ্রীমদ্ভাগবত

হে নারদ, স্বয়ং শ্রীকৃষ্ণ জীবের হিত বাসনায় গুরুরূপ ধারণ করে থাকেন কিংবা কাউকে তাঁর প্রতিনিধি করে প্রেরণ করেন। গুরুদেব তুষ্ট হলে স্বয়ং ভগবানও তুষ্ট হন। ভগবান তুষ্ট হলে ত্রিজগৎ তুষ্ট হয়। গুরুই ব্রহ্মা, গুরুই বিষ্ণু, গুরুই মহাদেব। হরি রুষ্ট হলে গুরুদেব সন্তুষ্ট হয়ে তাঁর অনুগামীকে রক্ষা করতে সমর্থ হন। কিন্তু গুরুদেব রুষ্ট হলে কেউই তাকে রক্ষা করতে সমর্থ নয়।

হে নারদ, যা থেকে কৃষ্ণভক্তি জন্মে তাকেই মন্ত্র বলা যায়। কৃষ্ণই বন্ধু, কৃষ্ণই পিতা। আর কৃষ্ণভক্তিই মৈত্রী ও জননী। গুরুদেব কৃষ্ণপ্রাপ্তির পথ প্রদর্শন করান। হে নারদ, তুমি প্রকৃতির অতীত রাধানাথ শ্রীকৃষ্ণকে ভজনা করো। জগতে যে ব্যক্তি শ্রীকৃষ্ণভক্তি অনুশীলন শিক্ষা না দিয়ে অন্য পথ প্রদর্শন করেন, তিনি কখনই গুরু নন। তাঁকে পারমার্থিক গুরুরুপে কখনই গ্রহণ করা উচিত নয়। অধিকন্তু তাঁকে মহা শত্রু বলে মনে করা কর্তব্য। কৃষ্ণভক্তি পন্থা অনুসরণহীন ব্যক্তি যিনি গুরুর আসনে অধিষ্ঠিত হয়ে নিত্য আরাধিত হন, তিনি শিষ্যহত্যার ফল লাভ করেন। আর সেই তথাকথিত শিষ্যের জন্মও বিফল হয়।

এই আমি তোমাকে চতুর্থ জ্ঞানের কথা বললাম।

নারদ প্রশ্ন করলেন, হে ভগবান, ভক্তরা কৃষ্ণভক্তি করে, যোগীরা জ্যোতির ধ্যান করে, এই দুইয়ের মধ্যে কোনটি যথার্থ পথ?
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
                ꧁ ভগবানের নামের মাহাত্ম ꧂ 
       এই লিংকে 👇👇👇🙏👇👇👇 ক্লিক করুন 
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
হরে কৃষ্ণ মহামন্ত্র জপ করার নিয়ম

শিব বললেন, যাঁরা নিগুণ ব্রহ্মে বিলীন হতে চায়, তারাই ব্রহ্মজ্যোতির ধ্যান করে। তাঁরা ভগবানের শরীর বা আকার স্বীকার করে না। কেননা শরীর মানেই জড়, ব্রহ্ম মানেই চিন্ময়; দেহমাত্রই গুণে আসক্ত, অতএব নিগুণ চিন্ময়ত্বের সম্ভাবনা নেই- এই জ্ঞান তারা কেবল ব্রহ্মজ্যোতির ধ্যান করে। কিন্তু সনৎকুমার প্রভৃতি আমাদের দ্বারা তা আদৌ সম্মত নয়। সমস্ত ব্রহ্মজ্যোতির উৎস হচ্ছেন সনাতন পুরুষ শ্রীকৃষ্ণ। তাই ভক্তরা শ্রীকৃষ্ণের ধ্যান করেন, নিরাকার ব্রহ্মজ্যোতির ধ্যান করেন না। শ্রীকৃষ্ণের অঙ্গজ্যোতিই নিরাকার বলা যায়। সর্বদা শ্রীকৃষ্ণের ধ্যান-আরাধনা করাই যথার্থ পন্থা।
             *••••┉━❀꧁ চার যুগের মহামন্ত্র ꧂❀━┅••••*
সত্যযুগ:-
"নারায়ণ পরাবেদা নারায়ণ পরাক্ষরা। 
নারায়ণ পরামুক্তি নারায়ণ পরাগতি"॥
ত্রেতাযুগ:-
"রাম নারায়ণানন্ত মুকুন্দ মধুসূদন। 
কৃষ্ণ কেশব সংসারে হরে বৈকুণ্ঠ বামন"॥
দ্বাপরযুগ:-
"হরে মুরারে মধুকৈটভারে ।
গোপাল গোবিন্দ মুকুন্দ সৌরে।।
যজ্ঞেশ্বর নারায়ণ কৃষ্ণ বিষ্ণু।
 নিরাশ্রয়ং মাং জগদীশ রক্ষ"॥
 কলিযুগ:-
"হরে কৃষ্ণ হরে কৃষ্ণ কৃষ্ণ কৃষ্ণ হরে হরে।
হরে রাম হরে রাম রাম রাম হরে হরে" ।।
 ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧      
👇👇👇এই লিখনী 📚 PDF 📚 ক্লিক করুন 👇👇👇
 
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
    *••••┉━❀꧁ 🙏 রাধে রাধে 🙏 ꧂❀━┅••••* 
                   শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য প্রভু নিত্যানন্দ
              হরে কৃষ্ণ হরে রাম শ্রীরাধেগোবিন্দ।।
  *••••┉━❀꧁ 🙏 জয় জগন্নাথ 🙏 ꧂❀━┅••••*
              হরে কৃষ্ণ হরে কৃষ্ণ কৃষ্ণ কৃষ্ণ হরে হরে
              হরে রাম হরে রাম রাম রাম হরে হরে॥
  *••••┉━❀꧁ 🙏 জয় রাধাকান্ত 🙏 ꧂ ❀━┅••••*
   💮❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀💮
   💮❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀💮
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧



শ্রীশ্রীকৃষ্ণচৈতন্য মহাপ্রভু ও শ্রীশ্রীরাধাকান্ত দেবের নিত্য সেবার জন্য যিনি দ্বাপর যুগে মথুরা নগরীতে কুব্জা নামে খ্যাত তিনি কলিকালে কাশী মিশ্র 🙏 শ্রী মৃন্ময় নন্দী কর্ত্তৃক সকল ভক্ত চরণে অসংখ্যকোটি প্রণাম ➡️ http://mrinmoynandy.blogspot.com/2022/03/blog-post_86.html


  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
꧁ শ্রীশ্রীকৃষ্ণচৈতন্য মহাপ্রভু ও শ্রীশ্রীরাধাকান্ত দেবের নিত্য সেবার জন্য যিনি দ্বাপর যুগে মথুরা নগরীতে  কুব্জা নামে খ্যাত  তিনি কলিকালে কাশী মিশ্র꧂
       এই লিংকে ⬇️⬇️⬇️🙏⬇️⬇️⬇️ ক্লিক করুন 
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
  ꧁ টিকা বা অন্যান্য ধর্মীয় লিখনী 🙏 সূচীপত্র ꧂
       এই লিংকে ⬇️⬇️⬇️🙏⬇️⬇️⬇️ ক্লিক করুন 
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
꧁ MrinmoyNandy.blogspot.com 👉 সূচীপত্র ꧂
       এই লিংকে ⬇️⬇️⬇️🙏⬇️⬇️⬇️ ক্লিক করুন 
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
শ্রীকাশী মিশ্র ছিলেন  শ্রীশ্রীকৃষ্ণচৈতন্য মহাপ্রভুর একজন ঘনিষ্ঠ পার্ষদ এবং তৎকালীন সময়ে  উড়িষ্যার রাজা প্রতাপ রুদ্রের রাজগুরু ছিলেন। আমরা হয়তো অনেকেই তাঁর নাম শুনেছি, তাই স্বভাবতই আমাদের প্রশ্ন আসতে পারে যে, দ্বাপর যুগে তিনি কে ছিলেন! এর উত্তর খুঁজতে আমাদের সেই দ্বাপর যুগে যেতে হবে।

কুব্জা, একটি মেয়ে। যিনি খুঁড়িয়ে হাঁটতেন, গায়ের রং কালো, সবার নিকট ছিলেন অপছন্দের। তিনি ভাবতেন, “কৃষ্ণ তো সব গোপীদের কাছে নিত্য সাক্ষাতে যায়। আমার কাছেও প্রত্যহ যদি একটা বার আসতো তাহলে আমি মোনের মতো শৃঙ্গার করতাম তাহার"। অন্তর্যামী ভগবান শ্রীকৃষ্ণ তাহার সকল কথা জানতে পারলেন। তাই ভগবান শ্রীকৃষ্ণ মথুরা নগরীতে কিছু মুহুর্ত সাক্ষাত করেন কুব্জার সহিত লীলা প্রকাশের নিমিত্তে এবং আশীর্বাদ প্রদান করেন তাহার সকল মোনের ইচ্ছা পূরণ হবে।

কলিযুগে কুব্জা কাশী মিশ্র হয়ে জন্ম গ্রহণ করলেন তাহার দ্বাপর যুগের সকল মোনের ইচ্ছা পূরণের উদ্দেশ্যে, আর স্বয়ং শ্রীশ্রীকৃষ্ণ চৈতন্য মহাপ্রভু একদিন নয়, দুই দিন নয় প্রায় ১৮ টি বছর ধরে তাঁর সহিত তাহার গৃহে অতিবাহিত করেছেন এবং নিত্য নিত্য গভীর বা গম্ভীর লীলার ভাব প্রকাশ করেছেন। 

শ্রীশ্রীকৃষ্ণচৈতন্যমহাপ্রভু দক্ষিণ দেশে ভ্রমণ করতে যাবার পূর্বে  শ্রী কাশী মিশ্র তাহাকে বললেন, “প্রভূ তোমার উদ্দেশ্য পূরণ হয়ে গেলেই পুরীতে ফিরে আসবে এবং আমার গৃহে অবস্থান করবেন, আপনার জন্য আমি যথার্থ ভজনের স্থান ঠিক করে রেখে দেবো।”

শ্রীশ্রীকৃষ্ণচৈতন্য মহাপ্রভু কথা দিলেন যে, ফিরে আসার পর তিনি তাহার গৃহে অতিবাহিত করিবেন। এই ঘরের নামটাই হচ্ছে "শ্রী গম্ভীরা"। “ঘরের মধ্যে ঘর”। সেই স্থানেই দীর্ঘদিন মহাপ্রভু তাহার জীবনের সন্যাস লীলা অতিবাহিত করেছেন।

দ্বাপর যুগে কুব্জার মনে বাসনা ছিল শ্রীভগবান কৃষ্ণকে নিত্য চন্দনের শৃঙ্গারে সুশোভিত করা এবং স্বয়ং ভগবানের নিত্য সেবক রূপে প্রাপ্তি লাভ তাই স্বয়ং শ্রীশ্রীরাধাকান্ত দেবকে প্রাপ্তি লাভ করেন এই কলিযুগে  শৃঙ্গারের লাগি, এবং নিত্য সেবক রুপে শ্রীশ্রীকৃষ্ণচৈতন্য মহাপ্রভুকে প্রাপ্তি লাভ করেন।  তা আজ কাশি মিশ্রর বাড়ি যা বর্তমানে " *শ্রীশ্রীরাধাকান্ত মঠ বা শ্রীশ্রীগম্ভীরা* " নামে পরিচিত।
 ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧   
  ⬇️⬇️⬇️এই লিখনী 📚 PDF 📚 ক্লিক করুন⬇️⬇️⬇️

  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
    *••••┉━❀꧁ 🙏 রাধে রাধে 🙏 ꧂❀━┅••••* 
                   শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য প্রভু নিত্যানন্দ
              হরে কৃষ্ণ হরে রাম শ্রীরাধেগোবিন্দ।।
  *••••┉━❀꧁ 🙏 জয় জগন্নাথ 🙏 ꧂❀━┅••••*
              হরে কৃষ্ণ হরে কৃষ্ণ কৃষ্ণ কৃষ্ণ হরে হরে
              হরে রাম হরে রাম রাম রাম হরে হরে॥
  *••••┉━❀꧁ 🙏 জয় রাধাকান্ত 🙏 ꧂ ❀━┅••••*
   💮❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀💮
   💮❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀💮
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧



শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য মহাপ্রভুর ১০৮ নাম 🙏 সংগৃহীত 🙏 শ্রী মৃন্ময় নন্দী কর্ত্তৃক সকল ভক্ত চরণে অসংখ্যকোটি প্রণাম 🙇 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2022/03/blog-post_22.html

  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য মহাপ্রভুর ১০৮ নাম 🙏 সংগৃহীত 🙏 শ্রী মৃন্ময় নন্দী কর্ত্তৃক সকল ভক্ত চরণে অসংখ্যকোটি প্রণাম 🙇 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2022/03/blog-post_22.html
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
  ꧁ টিকা বা অন্যান্য ধর্মীয় লিখনী 🙏 সূচীপত্র ꧂
       এই লিংকে ⬇️⬇️⬇️🙏⬇️⬇️⬇️ ক্লিক করুন 
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
              ꧁ স্তত্রম- বন্দনা- গীত- আরতি ꧂
       এই লিংকে 👇👇👇🙏👇👇👇 ক্লিক করুন 
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
꧁ MrinmoyNandy.blogspot.com 👉 সূচীপত্র ꧂
       এই লিংকে ⬇️⬇️⬇️🙏⬇️⬇️⬇️ ক্লিক করুন 
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
জয় জয় গৌরহরি জয় কৃপাসিন্ধু।
জয় জগন্নাথ-সুত জয় দীনবন্ধু।
জয় শ্রীচৈতন্য জয় গৌরসুন্দর।
সর্বজনে কর কৃপা করূনাসাগর।
বিষ্ণুপ্রিয়া প্রাণধন শ্রীশচীনন্দন।
কালভয়হারী প্রভু কমলনয়ন।
সংকীর্তন -জন্মদাতা শ্রীকৃষ্ণ চৈতন্য।
সংকীর্তন যজ্ঞে যেই ভজে সেই ধন্য।
চৈতন্যাবতারে বহে প্রেমামৃত বন্যা।
সর্বজীব প্রেমে ভাসে ধরা হল ধন্যা।
এ বন্যায় যে না ভাসে সেইজন ছার।
কোটি কল্পে তবে তার নাহিক নিস্তার।
নামী হতে নাম বড় সর্বশাস্ত্রে কয়।
তাই সদা নাম কর না রেখে সংশয়।

১. শচীমাতা নাম রাখে প্রাণের নিমাই।
২. অদ্বৈত রাখিল নাম জগৎ গোসাঁই।
৩. সীতাদেবী নাম রাখে অজ্ঞান-নাশন।
৪. মালিনী রাখিল নাম জীবের জীবন।
৫. শ্রীবাস রাখিল নাম দারিদ্রভঞ্জন।
৬. ঈশান রাখিল নাম কাঙ্গালের ধন।
৭. নিত্যানন্দ নাম রাখে মহানন্দদাতা।
৮. রত্নগর্ভ নাম রাখে প্রভুপ্রেমদাতা।
৯. গদাধর নাম রাখে গদাধরপ্রাণ।
১০. গোপীনাথ নাম রাখে শৃঙ্খলমোচন।
১১. নীলাম্বর নাম রাখে দেববিশ্বম্ভর।
১২. কেশব কাশ্মীরী নাম রাখে শ্রুতিধর।
১৩. শ্রীরূপ রাখিল নাম রূপের জীবন।
১৪. সনাতন নাম রাখে নিত্য-সনাতন।
১৫. শ্রীজীব রাখিল নাম ভকত-বৎসল।
১৬. গোপাল ভট্ট নাম রাখে দুর্বলের বল।
১৭. নারদ রাখিল নাম অবতার-সার।
১৮. ত্রিপুরারি নাম রাখে গোরা-অবতার।
১৯. পদ্মযোনি নাম রাখে অনাদির আদি।
২০. অনুপম নাম রাখে সর্বগুণ নিধি।
২১. মুরারি রাখিল নাম ভক্তের জীবন।
২২. নন্দন আচার্য বলে ভুবনমোহন।
২৩. লক্ষীপ্রিয়া নাম রাখে প্রভুপ্রাণপতি।
২৪. মুকুন্দ রাখিল নাম অগতির গতি।
২৫. শ্রীধর রাখিল নাম গঙ্গার জনক।
২৬. চাপাল রাখিল নাম রোগ-বিনাশক।
২৭. নিস্তারিণী নাম রাখে দুর্জন দলন।
২৮. কালাকৃষ্ণ বলে ভক্ত-উদ্ধারন।
২৯. তৈর্থিক ব্রাহ্মন বলে অষ্টভুজহরি।
৩০. গৌরীদাস নাম রাখে ভবেরকাণ্ডারী।
৩১. পুণ্ডরীক নাম রাখে জগতের গুরু।
৩২. বৈষ্ণবেরা নাম রাখে বাঞ্ছাকল্পতরু।
৩৩. চাঁদকাজী নাম রাখে সত্যের দিশারী।
৩৪. নরহরি নাম রাখে প্রেমের ভাণ্ডারী।
৩৫. হরিদাস নাম রাখে পরম মঙ্গল।
৩৬. রামানন্দ নাম রাখে চিত্ত-বিমোহন।
৩৭. গরুড় পণ্ডিত বলে সর্পভয়হারী।
৩৮. ঈশ্বর পুরী নাম রাখে কৃষ্ণ-অবতারী।
৩৯. রঘুনাথ দাস বলে হ্নদয়ের ধন।
৪০. সার্বভৌম নাম রাখে গর্ববিনাশন।
৪১. শ্রীরাম রাখিল নাম পরম প্রকাশ।
৪২. গঙ্গাধর নাম রাখে কর্মবদ্ধনাশ।
৪৩. জগদানন্দ নাম রাখে ক্রোধ-নিবারন।
৪৪. বলভদ্র নাম রাখে জীবউদ্ধারন।
৪৫. ছোট হরিদাস নাম রাখে দণ্ডকারী।
৪৬. নদেবাসী নাম রাখে নদীয়াবিহারী।
৪৭. অমোঘ রাখিল নাম প্রভুপ্রাণদাতা।
৪৮. শ্রীকান্ত রাখিল নাম সর্বচিত্তজ্ঞাতা।
৪৯. প্রদ্যুম্ন রাখিল নাম নৃসিংহাবতার।
৫০. বিদ্যাবাচস্পতি নাম রাখে সারাৎসার।
৫১. নারায়ণী নাম রাখে প্রভুপ্রাণধন।
৫২. তপন মিশ্র নাম রাখে ভকতরঞ্জন।
৫৩. সুবুদ্ধি রাখিল নাম প্রভুবুদ্ধিদাতা।
৫৪. গঙ্গাদাস নাম রাখে হরিনামদাতা।
৫৫. প্রতাপরুদ্র নাম রাখে অভিলাষ-পুন্যকারী।
৫৬. স্বরূপ রাখিল নাম প্রভু আজ্ঞাকারী।
৫৭. নীলাচলবাসী নাম রাখে জগন্নাথ।
৫৮. ভবানন্দ নাম রাখে অনাথের নাথ।
৫৯. বক্রেশ্বর নাম রাখে নাচনের গুরু।
৬০. শুক্লাম্বর নাম রাখে ভক্তিকল্পতরু।
৬১. গোবিন্দ রাখিল নাম হ্নদয়বিহারী।
৬২. সদাশিব নাম রাখে ভবভয়হারী।
৬৩. গদাধর দাস কহে কাজী-উদ্ধারন।
৬৪. গোবর্দ্ধন নাম রাখে সংসার মোচন।
৬৫. চন্দ্রশেখর নাম রাখে দেবজ্যোতির্ময়।
৬৬. প্রকাশানন্দ নাম রাখে জগৎ-বিজয়।
৬৭. শিবানন্দ নাম রাখে ভক্তগনপ্রাণ।
৬৮. পুরন্দর নাম রাখে পুরুষ-প্রধান।
৬৯. সনাতন মিশ্র বলে অকলঙ্কচন্দ্র।
৭০. কাশীমিশ্র নাম রাখে ঈশ্বর-স্বতন্ত্র।
৭১. জগাই রাখিল নাম পতিতপাবন।
৭২. মাধাই রাখিল নাম পাপী-উদ্ধারণ।
৭৩. বাসুদেব নাম রাখে ব্যাধি-নিবারণ।
৭৪. রামাই রাখিল নাম কমললোচন।
৭৫. বিষ্ণুপ্রিয়া নাম রাখে ত্রিলোকের স্বামী।
৭৬. ছাত্রগণ বলে অধ্যাপক-শিরোমণি।
৭৭. বুদ্ধিমন্ত নাম রাখে নবদ্বীপচন্দ্র।
৭৮. মুকুন্দ সঞ্জয় বলে পুরুষ-স্বতন্ত্র।
৭৯. নারায়ণ পণ্ডিত বলে নরনারায়ণ।
৮০. ভট্ট রঘুনাথ বলে কৃষ্ণপ্রেমধন।
৮১. বিদ্যানিধি নাম রাখে গৌরাঙ্গসুন্দর।
৮২. ভবানী রাখিল নাম সর্বযজ্ঞেশ্বর।
৮৩. পরমানন্দ পুরী নাম রাখে পরাৎপর।
৮৪. শঙ্কর পণ্ডিত বলে কাঙাল-ঈশ্বর।
৮৫. মাধবীদাসী নাম রাখে করুণাবতার।
৮৬. গোপীনাথ বলে জীবের নিস্তার।
৮৭. রঘুপতি নাম রাখে ভকত-আশ্রয়।
৮৮. কাশীশ্বর নাম রাখে প্রভু দয়াময়।
৮৯. সারঙ্গ রাখিল নাম দর্পচুর্নকারী।
৯০. ব্রহ্মানন্দ নাম রাখে গর্বনাশীহরি।
৯১. জ্যোতিষী রাখিল নাম জগৎ-আশ্রয়।
৯২. রাঘব রাখিল নাম সবৈশ্বর্যময়।
৯৩. কন্যাগণ নাম রাখে প্রভুবরদ্দাতা।
৯৪. হিরণ্য রাখিল নাম সর্বসিদ্ধিদাতা।
৯৫. শিখি মাইতি নাম রাখে অখিলেরপতি।
৯৬. বাসুঘোষ নাম রাখে আত্মার সাবথী।
৯৭. মাথুর ব্রাহ্মণ বলে জগৎউদ্ধার।
৯৮. লোকনাথ নাম রাখে পাপীর নিস্তার।
৯৯. ভক্তগণ নাম রাখে ঠাকুরদয়াল।
১০০. শচীর সখীরা বলে শচীর দুলাল।
১০১. পুরনারী নাম রাখে রমনীমোহন।।
১০২. দুঃখীদাসী নাম রাখে দুঃখনিবারণ।
১০৩. শ্রীমান রাখিল নাম মহাভাগবত।
১০৪. রামদাস বলে বাসুদেবামৃতপদ।
১০৫. কেশব ভারতী বলে শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য।
১০৬. কালীদাস নাম রাখে বৈষ্ণবাগ্রগন্য।
১০৭. সজ্জনেরা নাম রাখে পরম ঈশ্বর।
১০৮. দুর্জ্জনেরা নাম রাখে মহাভয়ঙ্কর।

গৌরনাম নিতাই নাম বড়ই মধুর।
যেইজন গৌরাঙ্গ ভজে সে বড় চতুর।
নাম ভজ নাম চিন্ত নাম কর সার।
কলিযুগে নাম বিনা গতি নাই আর।।

গৌরনাম হৈতে হয় সংসার মোচন।
গৌর নাম হৈতে পায় গৌরাঙ্গচরন।
নাম বিনা কলিকালে আর নাই ধর্ম।
সর্বমন্ত্র সার নাম এই শাস্ত্রমর্ম।।

ছাড়িয়া সংসার শোক করহ কীর্তন।
প্রেমসুখে কর যাবে ভবের বন্ধন।
কীর্তন আগমবেদ হয় ব্রহ্মজ্ঞান।
রাজসূয় অশ্বমেধ আর গঙ্গাস্নান।।

কীর্তন বৈকুণ্ঠপদ সর্বপাপক্ষয়।
কীর্তন রসের ভক্তি সর্বস্থানে জয়।
শত ভার সুবর্ন গো কোটি কন্যাদান।
জপ তপ কেহ নয় নামের সমান।।
 
দান ব্রত তপ শৌচ বেদ-অধ্যয়ন।
গৌরাঙ্গভজন বিনা ভাই সব অকারণ।
গৌরাঙ্গভজনে হয় সবে অধিকারী।
কিবা বিপ্র কিবা শূদ্র কি পুরুষ নারী।।

একান্ত সরলভাবে ভজ গৌরজন।
তবে পাইবে ভাই শ্রীকৃষ্ণচরন।
গৌরজন সঙ্গ কর গৌরাঙ্গ বলিয়া।
নিত্যানন্দ নাম বল নাচিয়া নাচিয়া।।

অচিরে পাইবে ভাই নামপ্রেমধন।
যাহা বিলাইতে প্রভুর নদে আগমন।
এক মনে গাও সদা চৈতন্যের নাম।
সদা শান্তি পাবে আর জুড়াইবে প্রাণ।।

গৌরনাম গায় কিংবা করয়ে শ্রবণ।
অন্তিমে সেজন পায় গৌরাঙ্গচরন।
দীন ভক্তদাস গৌরহরির কৃপায়।
তাঁরই সুধামাখা নাম প্রেম ভরে গায়।।
সংগৃহীত
 ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧     ⬇️⬇️⬇️এই লিখনী 📚 PDF 📚 ক্লিক করুন⬇️⬇️⬇️
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
    *••••┉━❀꧁ 🙏 রাধে রাধে 🙏 ꧂❀━┅••••* 
                   শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য প্রভু নিত্যানন্দ
              হরে কৃষ্ণ হরে রাম শ্রীরাধেগোবিন্দ।।
  *••••┉━❀꧁ 🙏 জয় জগন্নাথ 🙏 ꧂❀━┅••••*
              হরে কৃষ্ণ হরে কৃষ্ণ কৃষ্ণ কৃষ্ণ হরে হরে
              হরে রাম হরে রাম রাম রাম হরে হরে॥
  *••••┉━❀꧁ 🙏 জয় রাধাকান্ত 🙏 ꧂ ❀━┅••••*
   💮❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀💮
   💮❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀💮
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧



শ্রীমদ্ভগবদ্গীতা (অষ্টাদশ অধ্যায়-মোক্ষযোগ) 🙏 শ্রী মৃন্ময় নন্দী কর্ত্তৃক সকল ভক্ত চরণে অসংখ্যকোটি প্রণাম 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2022/03/blog-post_64.html

  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
  *꧁শ্রীমদ্ভগবদ্গীতা (অষ্টাদশ অধ্যায়-মোক্ষযোগ)꧂*
       এই লিংকে 👇👇👇🙏👇👇👇 ক্লিক করুন 
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
 ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
          ꧁ 👇শ্রীমদ্ভগবদ্গীতা 🙏 সূচীপত্র👇 ꧂
 ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧     
 অর্জুন উবাচ-
সন্ন্যাসস্য মহাবাহো তত্ত্বমিচ্ছামি বেদিতুম্।
ত্যাগস্য চ হৃষীকেশ পৃথক্কেশিনিসূদন।।১।।
অনুবাদঃ অর্জুন বললেন- হে মহাবাহো! হে হৃষীকেশ! হে কেশিনিসূদন! আমি সন্ন্যাস ও ত্যাগের তত্ত্ব পৃথকভাবে জানতে ইচ্ছা করি।

শ্রীভগবান উবাচ-
কাম্যানাং কর্মণাং ন্যাসং সন্ন্যাসং কবয়ো বিদুঃ। 
সর্বকর্মফলত্যাগং প্রাহুস্ত্যাগং বিচক্ষণাঃ।।২।।
অনুবাদঃ পরমেশ্বর ভগবান বললেন-পন্ডিতগণ কাম্য কর্মসমূহের ত্যাগকে সন্নাস বলে জানেন এবং বিচক্ষণ ব্যাক্তিগণ সমস্ত কর্মফল ত্যাগকে ত্যাগ বলে থাকেন।

 ত্যাজ্যং দোষবদিত্যেকে কর্ম প্রাহুর্মনীষিণঃ।
যজ্ঞদানতপঃকর্ম ন ত্যাজ্যমিতি চাপরে।।৩।।
অনুবাদঃ এক শ্রেণীর মনীষীগণ বলেন যে, কর্ম দোষযুক্ত,সেই হেতু তা পরিত্যজ্য। অপর এক শ্রেণীর পন্ডিত যজ্ঞ, দান, তপস্যা প্রভৃতি কর্মকে অত্যাজ্য বলে সিদ্ধান্ত করেছেন।

নিশ্চয়ং শৃণু মে তত্র ত্যাগে ভরতসত্তম। 
ত্যাগো হি পুরুষব্যাঘ্র ত্রিবিধঃ সংপ্রকীর্তিতঃ।।৪।।
অনুবাদঃ হে ভরতসত্তম! ত্যাগ সম্বন্ধে আমার নিশ্চয় সিদ্ধান্ত শ্রবণ কর। হে পুরুষব্যাঘ্র! শাস্ত্রে ত্যাগও তিন প্রকার বলে কীর্তিত হয়েছে।

যজ্ঞদানতপঃকর্ম ন ত্যাজ্যং কার্যমেব তৎ। 
যজ্ঞো দানং তপশ্চৈব পাবনানি মনীষিণাম্।।৫।।
অনুবাদঃ যজ্ঞ, দান ও তপস্যা ত্যাজ্য নয়, তা অবশ্যই করা কর্তব্য। যজ্ঞ, দান ও তপস্যা মনীষীদের পর্যন্ত পবিত্র করে।

এতান্যপি তু কর্মাণি সঙ্গং ত্যক্ত্বা ফলানি চ।
কর্তব্যানীতি মে পার্থ নিশ্চিতং মতমুত্তমম্।।৬।।
অনুবাদঃ হে পার্থ! এই সমস্ত কর্ম আসক্তি ও ফলের আশা পরিত্যাগ করে কর্তব্যবোধে অনুষ্ঠান করা উচিত। ইহাই আমার নিশ্চিত উত্তম অভিমত।

নিয়মতস্য তু সন্ন্যাসঃ কর্মণো নোপপদ্যতে।
মোহাত্তস্য পরিত্যাগস্তামসঃ পরিকীর্তিতঃ।।৭।।
অনুবাদঃ কিন্তু নিত্যকর্ম ত্যাগ করা উচিত নয়। মোহবশত তার ত্যাগ হলে, তাকে তামসিক ত্যাগ বলা হয়।

দুঃখমিত্যেব যৎ কর্ম কায়ক্লেশভয়াত্ত্যজেৎ। 
স কৃত্বা রাজসং ত্যাগং নৈব ত্যাগফলং লভেৎ।।৮।।
অনুবাদঃ যিনি নিত্যকর্মকে দুঃখজনক বলে মনে করে দৈহিক ক্লেশের ভয়ে ত্যাগ করেন, তিনি অবশ্যই সেই রাজসিক ত্যাগ করে ত্যাগের ফল লাভ করেন না।

কার্যমিত্যেব যৎ কর্ম নিয়তং ক্রিয়তেহর্জুন। 
সঙ্গং ত্যক্ত্বা ফলং চৈব স ত্যাগঃ সাত্ত্বিকো মতঃ।।৯।।
অনুবাদঃ হে অর্জুন! আসক্তি ও ফল পরিত্যাগ করে কর্তব্যবোধে যে নিত্যকর্মের অনুষ্ঠান করা হয়, আমার মতে সেই ত্যাগ সাত্ত্বিক।

ন দ্বেষ্ট্যকুশলং কর্ম কুশলে নানুষজ্জতে। 
ত্যাগী সত্ত্বসমাবিষ্টো মেধাবী ছিন্নসংশয়ঃ।।১০।।
অনুবাদঃ সত্ত্বগুণে আবিষ্ট, মেধাবী ও সমস্ত সংশয়-ছিন্ন ত্যাগী অশুভ কর্মে বিদ্বেষ করেন না এবং শুভ কর্মে আসক্ত হন না।

ন হি দেহভৃতা শক্যং ত্যক্তুং কর্মাণ্যশেষতঃ।
যন্ত কর্মফলত্যাগী স ত্যাগীত্যভিধীয়তে।।১১।।
অনুবাদঃ অবশ্যই দেহধারী জীবের পক্ষে সমস্ত কর্ম পরিত্যাগ করা সম্ভব নয়, কিন্তু যিনি সমস্ত কর্মফল পরিত্যাগী, তিনিই বাস্তবিক ত্যাগী বলে অভিহিত হন।

অনিষ্টমিষ্টং মিশ্রং চ ত্রিবিধং কর্মণঃ ফলম্।
ভবত্যত্যাগিনাং প্রেত্য ন তু সন্ন্যাসিনাং ক্কচিৎ।।১২।।
অনুবাদঃ যাঁরা কর্মফল ত্যাগ করেননি, তাঁদের পরলোকে অনিষ্ট, ইষ্ট ও মিশ্র-এই তিনি প্রকার কর্মফল ভোগ হয়। কিন্তু সন্ন্যাসীদের কখনও ফলভোগ করতে হয় না।

পঞ্চৈতানি মহাবাহো কারণানি নিবোধ মে।
সাংখ্যে কৃতান্তে প্রোক্তানি সিদ্ধয়ে সর্বকর্মণাম্।।১৩।।
অনুবাদঃ হে মহাবাহো! বেদান্ত শাস্ত্রের সিদ্ধান্তে সমস্ত কর্মের সিদ্ধির উদ্দেশ্যে এই পাঁচটি কারণ নির্দিষ্ট হয়েছে, আমার থেকে তা অবগত হও।

অধিষ্ঠানং তথা কর্তা করণং চ পৃথগবিধম্।
বিবিধাশ্চ পৃথক্ চেষ্টা দৈবং চৈবাত্র পঞ্চমম্।।১৪।।
অনুবাদঃ অধিষ্ঠান অর্থাৎ দেহ, কর্তা, নানা প্রকার কারণ অর্থাৎ ইন্দ্রিয়সমূহ, বিবিধ প্রচেষ্টা ও দৈব অর্থাৎ পরমাত্মা এই পাঁচটি হচ্ছে কারণ।

শরীরবাঙ্মনোভির্যৎ কর্ম প্রারভতে নরঃ।
ন্যায্যং বা বিপরীতং বা পঞ্চৈতে তস্য হেতবঃ।।১৫।।
অনুবাদঃ শরীর, বাক্য ও মনের দ্বারা মানুষ যে কর্ম আরম্ভ করে, তা ন্যায্যই হোক অথবা অন্যায্যই হোক, এই পাঁচটি তার কারণ।

তত্রৈবং সতি কর্তারমাত্মনং কেবলং তু যঃ।
পশ্যত্যকৃতবুদ্ধিত্বান্ন স পশ্যতি দুর্মতিঃ।।১৬।।
 অনুবাদঃ অতএব, কর্মের পাঁচটি কারণের কথা বিবেচনা না করে যে নিজেকে কর্তা বলে মনে করে, বুদ্ধির অভাববশত সেই দুর্মতি যথাযথভাবে দশন করতে পারে না।

যস্য নাহংকৃতো ভাবো বুদ্ধির্যস্য ন লিপ্যতে। 
হত্বাপি স ইমাল্লোকান্ন হন্তি ন নিবধ্যতে।।১৭।।
অনুবাদঃ যাঁর অহঙ্কারের ভাব নেই এবং যাঁর বুদ্ধি কর্মফলে লিপ্ত হয় না, তিনি এই সমস্ত প্রাণীকে হত্যা করেও হত্যা করেন না এবং হত্যার কর্মফলে আবদ্ধ হন না।

জ্ঞানং জ্ঞেয়ং পরিজ্ঞাতা ত্রিবিধা কর্মচোদনা।
কারণং কর্ম কর্তেতি ত্রিবিধঃ কর্মসংগ্রহঃ।।১৮।।
অনুবাদঃ জ্ঞান, জ্ঞেয় ও পরিজ্ঞাতা- এই তিনটি কর্মের প্রেরণা, করণ, কর্ম ও কর্তা-এই তিনটি কর্মের আশ্রয়।

জ্ঞানং কর্ম চ কর্তা চ ত্রিধৈব গুণভেদতঃ।
প্রোচ্যতে গুণসংখ্যানে যথাবচ্ছৃণু তান্যপি।।১৯।।
অনুবাদঃ প্রকৃতির তিনটি গুণ অনুসারে জ্ঞান, কর্ম ও কর্তা তিন প্রকার বলে কথিত হয়েছে। সেই সমস্তও যথাযথ রূপে শ্রবণ কর।

সর্বভূতেষু যেনৈকং ভাবমব্যয়মীক্ষতে।
অবিভক্তং বিভক্তেষু তজজ্ঞানং বিদ্ধি সাত্ত্বিকম্।।২০।।
অনুবাদঃ যে জ্ঞানের দ্বারা সমস্ত প্রানীতে এক অবিভক্ত চিন্ময় ভাব দর্শন হয়, অনেক জীব পরস্পর ভিন্ন হলেও চিন্ময় সত্তায় তারা এক, সেই জ্ঞানকে সাত্ত্বিক বলে জানবে।

পৃথক্ত্বেন তু যজজ্ঞানং নানাভাবান্ পৃথগবিধান্।
বেত্তি সর্বেষু ভুতেষু তজজ্ঞানং বিদ্ধি রাজসম্।।২১।।
অনুবাদঃ যে জ্ঞানের দ্বারা সমস্ত প্রাণীতে ভিন্ন ভিন্ন ধরনের আত্মা অবস্থিত বলে পৃথকরূপে দর্শন হয়, সেই জ্ঞানকে রাজসিক বলে জানবে।

যত্তু কৃৎস্নবদেকস্মিন কার্যে সক্তমহৈতুকম্।
অতত্ত্বার্থবদল্পং চ তত্তামসমুদাহৃতম্।।২২।।
অনুবাদঃ আর যে জ্ঞানের দ্বারা প্রকৃত তত্ত্ব অবগত না হয়ে, কোন একটি বিশেষ কার্যে পরিপূর্ণের ন্যায় আসক্তির উদয় হয়, সেই তুচ্ছ জ্ঞানকে তামসিক জ্ঞান বলে কথিত হয়।
নিয়তং সঙ্গরহিতমরাগদ্বেষতঃ কৃতম্।
অফলপ্রেপ্সুনা কর্ম যত্তৎসাত্ত্বিকমুচ্যতে।।২৩।।
অনুবাদঃ ফলের কামনাশূন্য ও আসক্তি রহিত হয়ে রাগ ও দ্বেষ বর্জনপূর্বক যে নিত্যকর্ম অনুষ্ঠিত হয়, তাকে সাত্ত্বিক কর্ম বলা হয়।

যত্তু কামেপ্সুনা কর্ম সাহঙ্কারেণ বা পুনঃ।
ক্রিয়তে বহুলায়াসং তদ্ রাজসমুদাহৃতম।।২৪।।
অনুবাদঃ কিন্তু ফলের আকাঙ্ক্ষাযুক্ত ও অহঙ্কারযুক্ত হয়ে বহু কষ্টসাধ্য করে যে কর্মের অনুষ্ঠান হয়, সেই কর্ম রাজসিক বলে অভিহিত হয়।

অনুবদ্ধং ক্ষয়ং হিংসামনপেক্ষ্য চ পৌরুষম্।
মোহাদারভ্যতে কর্ম যত্তত্তামসমুচ্যতে।।২৫।।
অনুবাদঃ ভাবী বন্ধন, ধর্ম জ্ঞানাদির ক্ষয়, হিংসা এবং নিজ সামর্থ্যের পরিণতির কথা বিবেচনা না করে মোহবশত যে কর্ম অনুষ্ঠিত হয়, তাকে তামসিক কর্ম বলা হয়।
 
মুক্তাসঙ্গোহনহংবাদী ধৃত্যুৎসাহসমন্বিতঃ।
সিদ্ধ্যসিদ্ধ্যোর্নির্বিকারঃ কর্তা সাত্ত্বিক উচ্যতে।।২৬।।
অনুবাদঃ সমস্ত জড় আসক্তি থেকে মুক্ত, অহঙ্কারশুন্য, ধৃতি ও উৎসাহ সমন্বিত এবং সিদ্ধি ও অসিদ্ধিতে নির্বিকার- এরূপ কর্তাকেই সাত্ত্বিক বলা হয়।

রাহী কর্মফলপ্রেপ্সুর্লুব্ধো হিংসাত্মকোহশুচিঃ।
হর্ষশোকান্বিতঃ কর্তা রাজসঃ পরিকীর্তিতঃ।।২৭।।
অনুবাদঃ কর্মাসক্ত, কর্মফলে আকাঙ্ক্ষী, লোভী, হিংসাপ্রিয়, অশুচি, হর্ষ ও শোকযুক্ত যে কর্তা, সে রাজসিক কর্তা বলে কথিত হয়।

অযুক্তঃ প্রাকৃতঃ স্তব্ধঃ শঠো নৈষ্কৃতিকোহলসঃ।
বিষাদী দীর্ঘসূত্রী চ কর্তা তামস উচ্যতে।।২৮।।
অনুবাদঃ অনুচিত কার্যপ্রিয়, জড় চেষ্টাযুক্ত, অনম্র, শঠ, অন্যের অবমাননাকারী, অলস, বিষাদযুক্ত ও দীর্ঘসূত্রী যে কর্তা, তাকে তামসিক কর্তা বলা হয়।

 বুদ্বের্ভেদং ধৃতেশ্চৈব গুণতন্ত্রিবিধং শৃণু।
প্রোচ্যমানমশেষেণ পৃথক্ত্বেন ধনঞ্জয়।।২৯।।
অনুবাদঃ হে ধনঞ্জয়! জড়া প্রকৃতির ত্রিগুণ অনুসারে বুদ্ধির ও ধৃতির যে ত্রিবিধ ভেদ আছে, তা আমি বিস্তারিতভাবে ও পৃথকভাবে বলছি, তুমি শ্রবণ কর।

প্রবৃত্তিং চ নিবৃত্তিং চ কার্যাকার্যে ভয়াভয়ে।
বন্ধং মোক্ষং চ যা বেত্তি বুদ্ধিঃ সা পার্থ সাত্ত্বিকী।।৩০।।
অনুবাদঃ হে পার্থ! যে বুদ্ধির দ্বারা প্রবৃত্তি ও নিবৃত্তি, কার্য ও অকার্য, ভয় ও অভয়, বন্ধন ও মুক্তি-এই সকলের পার্থক্য জানতে পারা যায়, সেই বুদ্ধি সাত্ত্বিকী।

যয়া ধর্মমধর্মং চ কার্যং চাকার্যমেব চ।
অযথাবৎ প্রজানাতি বুদ্ধিঃ সা পার্থ রাজসী।।৩১।।
অনুবাদঃ যে বুদ্ধির দ্বারা ধর্ম ও অধর্ম, কার্য ও অকার্য আদির পার্থক্য অসম্যক্ রূপে জানতে পারা যায়, সেই বুদ্ধি রাজসিকী।

অধর্মং ধর্মমিতি যা মন্যতে তমসাবৃতা।
সর্বার্থান্ বিপরীতাংশ্চ বুদ্ধিঃ সা পার্থ তামসী।।৩২।।
অনুবাদঃ হে পার্থ! যে বুদ্ধি অধর্মকে ধর্ম এবং সমস্ত বস্তুকে বিপরীত বলে মনে করে, তমসাবৃত সেই বুদ্ধিই তামসিকী।

ধৃত্যা যয়া ধারয়তে মনঃপ্রাণেন্দ্রিয়ক্রিয়াঃ।
যোগেনাব্যভিচারিণ্যা ধৃতিঃ সা পার্থ সাত্ত্বিকী।।৩৩।।
অনুবাদঃ হে পার্থ! যে অব্যভিচারিণী ধৃতি যোগ অভ্যাস দ্বারা মন, প্রাণ ও ইন্দ্রিয়ের ক্রিয়াসকলকে ধারণ করে, সেই ধৃতিই সাত্ত্বিকী।

যয়া তু ধর্মকামার্থান্ ধৃত্যা ধারয়তেহর্জুন।
প্রসঙ্গেন ফলাকাঙ্ক্ষী ধৃতিঃ সা পার্থ রাজসী।।৩৪।।
অনুবাদঃ হে অর্জুন! হে পার্থ! যে ধৃতি ফলাকাঙ্ক্ষার সহিত ধর্ম, অর্থ ও কামকে ধারণ করে, সেই ধৃতি রাজসী।

যয়া স্বপ্নং ভয়ং শোকং বিষাদং মদমেব চ।
ন বিমুঞ্চতি দুর্মেধা ধৃতিঃ সা পার্থ তামসী।।৩৫।।
অনুবাদঃ হে পার্থ! যে ধৃতি স্বপ্ন, ভয়, শোক, বিষাদ, মদ আদিকে ত্যাগ করে না, সেই বুদ্ধিহীনা ধৃতিই তামসী।

সুখং ত্বিদানীং ত্রিবিধং শৃণু মে ভরতর্ষভ।
অভ্যাসাদ্ রমতে যত্র দুঃখান্তং চ নিগচ্ছতি।।৩৬।।
অনুবাদঃ হে ভরতর্ষভ! এখন তুমি আমার কাছে ত্রিবিধ সুখের বিষয় শ্রবণ কর। বদ্ধ জীব পুনঃ পুনঃ অভ্যাসের দ্বারা সেই সুখে রমণ করে এবং যার দ্বারা সমস্ত দুঃখের অন্তলাভ করে থাকে।

যত্তদগ্রে বিষমিব পরিণামেহমৃতোপমম্।
তৎসুখং সাত্ত্বিকং প্রোক্তমাত্মবুদ্ধিপ্রসাদজম্।।৩৭।।
অনুবাদঃ যে সুখ প্রথমে বিষের মতো কিন্তু পরিণামে অমৃততুল্য এবং আত্মনিষ্ঠ বুদ্ধির নির্মলতা থেকে জাত, সেই সুখ সাত্ত্বিক বলে কথিত হয়।

বিষয়েন্দ্রিয়সংযোগাদযত্তদগ্রেহমৃতোপমম্।
পরিণামে বিষমিব তৎসুখং রাজসং স্মৃতম্।।৩৮।।
অনুবাদঃ বিষয় ও ইন্দ্রিয়ের সংযোগের ফলে যে সুখ প্রথমে অমৃতের মতো এবং পরিণামে বিষের মতো অনুভূত হয়, সেই সুখকে রাজসিক বলে কথিত হয়।

যদগ্রে চানুবন্ধে চ সুখং মোহনমাত্মনঃ।
নিদ্রালস্যপ্রমাদোত্থং তত্তামসমুদাহৃতম্।।৩৯।।
অনুবাদঃ যে সুখ প্রথমে ও শেষে আত্মার মোহজনক এবং যা নিদ্রা, আলস্য ও প্রমাদ থেকে উৎপন্ন হয়, তা তামসিক সুখ বলে কথিত হয়।

ন তদস্তি পৃথিব্যাং বা দিবি দেবেষু বা পুনঃ।
সত্ত্বং প্রকৃতিজৈর্মুক্তং যদেভিঃ স্যাৎ ত্রিভির্গুণৈঃ।।৪০।।
অনুবাদঃ এই পৃথিবীতে মানুষদের মধ্যে অথবা স্বর্গে দেবতাদের মধ্যে এমন কোন প্রাণীর অস্তিত্ব নেই, যে প্রকৃতিজাত এই ত্রিগুণ থেকে মুক্ত।

ব্রাহ্মণক্ষত্রিয়বিশাং শূদ্রাণাং চ পরন্তপ।
কর্মাণি প্রবিভক্তানি স্বভাবপ্রভবৈর্গুণৈ।।৪১।।
অনুবাদঃ হে পরন্তপ! স্বভাবজাত গুণ অনুসারে ব্রাহ্মণ, ক্ষত্রিয়, বৈশ্য ও শূদ্রদের কর্মসমূহ বিভক্ত হয়েছে।

শমো দমস্তপঃ শৌচং ক্ষান্তিরার্জবমেব চ।
জ্ঞানং বিজ্ঞানমাস্তিক্যং ব্রহ্মকর্ম স্বভাবজম্।।৪২।।
অনুবাদঃ শম, দম, তপ, শৌচ, ক্ষান্তি, সরলতা, জ্ঞান, বিজ্ঞান ও আস্তিক্য-এগুলি ব্রাহ্মণদের স্বভাবজাত কর্ম।

শৌর্যং তেজো ধৃতির্দাক্ষ্যং যুদ্ধে চাপ্যপলায়নম্।
দানমীশ্বরভাবশ্চ ক্ষাত্রং কর্ম স্বভাবজম্।।৪৩।।
অনুবাদঃ শৌর্য, তেজ, ধৃতি, দক্ষতা, যুদ্ধে অপলায়ন, দান ও শাসন ক্ষমতা-এগুলি ক্ষত্রিয়ের স্বভাবজাত কর্ম।

কৃষিগোরক্ষ্যবাণিজ্যং বৈশ্যকর্ম স্বভাবজম্।
পরিচর্যাত্মকং কর্ম শূদ্রস্যাপি স্বভাবজম্।।৪৪।।
অনুবাদঃ কৃষি, গোরক্ষা ও বাণিজ্য এই কয়েকটি বৈশ্যের স্বভাবজাত কর্ম এবং পরিচর্যাত্মক কর্ম শূদ্রের স্বভাবজাত।

স্বে স্বে কর্মণ্যভিরতঃ সংসিদ্ধিং লভতে নরঃ।
স্বকর্মনিরতঃ সিদ্ধিং যথা বিন্দতি তচ্ছৃণু।।৪৫।।
অনুবাদঃ নিজ নিজ কর্মে নিরত মানুষ সিদ্ধি লাভ করে থাকে। স্বীয় কর্মে যুক্ত মানুষ যেভাবে সিদ্ধি লাভ করে, তা শ্রবণ কর।

যতঃ প্রবৃত্তির্ভূতানাং যেন সর্বমিদং ততম্।
স্বকর্মণা তমভ্যর্চ্য সিদ্ধিং বিন্দতি মানবঃ।।৪৬।।
অনুবাদঃ যাঁর থেকে সমস্ত জীবের পূর্ব বাসনারূপ প্রবৃত্তি হয়, যিনি এই সমগ্র বিশ্বে ব্যাপ্ত আছেন, তাঁকে মানুষ তার নিজের কর্মের দ্বারা অর্চন করে সিদ্ধি লাভ করে।

শ্রেয়ান্ স্বধর্মো বিগুণ পরধর্মাৎ স্বনুষ্ঠিতাৎ।
স্বভাবনিয়তং কর্ম কুর্বন্নাপ্নোতি কিল্বিষম্।।৪৭।।
অনুবাদঃ উত্তম রূপে অনুষ্ঠিত পরধর্ম অপেক্ষা অসম্যক রূপে অনুষ্ঠিত স্বধর্মই শ্রেয়। মানুষ স্বভাব-বিহিত কর্ম করে কোন পাপ প্রাপ্ত হয় না।

সহজং কর্ম কৌন্তেয় সদোষমপি ন ত্যজেৎ।
সর্বারম্ভা হি দোষেণ ধূমেনাগ্নিরিবাবৃতাঃ।।৪৮।।
অনুবাদঃ হে কৌন্তেয়! সহজাত কর্ম দোষযুক্ত হলেও ত্যাগ করা উচিত নয়। যেহেতু অগ্নি যেমন ধূমের দ্বারা আবৃত থাকে, তেমনই সমস্ত কর্মই দোষের দ্বারা আবৃত থাকে।

অসক্তবুদ্ধিঃ সর্বত্র জিতাত্মা বিগতস্পৃহঃ।
নৈষ্কর্ম্যসিদ্ধিং পরমাং সন্ন্যাসেনাধিগচ্ছতি।।৪৯।।
অনুবাদঃ জড় বিষয়ে আসক্তিশূন্য বুদ্ধি, সংযতচিত্ত ও ভোগস্পৃহাশূন্য ব্যক্তি স্বরূপত কর্ম ত্যাগপূর্বক নৈষ্কর্মরূপ পরম সিদ্ধি লাভ করেন।

সিদ্ধিং প্রাপ্তো যথা ব্রহ্ম তথাপ্নোতি নিবোধ মে।
সমাসেনৈব কৌন্তেয় নিষ্ঠা জ্ঞানস্য যা পরা।।৫০।।
অনুবাদঃ হে কৌন্তেয়! নৈষ্কর্ম সিদ্ধি লাভ করে জীব যেভাবে জ্ঞানের পরা নিষ্ঠারূপ ব্রহ্মকে লাভ করেন, তা আমার কাছে সংক্ষেপে শ্রবণ কর।

বুদ্ধ্যা বিশুদ্ধয়া যুক্তো ধৃত্যাত্মানং নিয়ম্য চ। 
শব্দাদীন্ বিষয়াংস্ত্যক্ত্বা রাগদ্বেষৌ ব্যুদস্য চ।।৫১।।
বিবিক্তসেবী লঘ্বাশী যতবাক্কায়মানসঃ। 
ধ্যানযোগপরো নিত্যং বৈরাগ্যং সমুপাশ্রিতঃ।।৫২।।
অহঙ্কারং বলং দর্পং কামং ক্রোধং পরিগ্রহম্।
বিমুচ্য নির্মমঃ শান্তো ব্রহ্মভূয়ায় কল্পতে।।৫৩।।
অনুবাদঃ বিশুদ্ধ বুদ্ধিযুক্ত হয়ে মনকে ধৃতির দ্বারা নিয়ন্ত্রিত করে, শব্দ আদি ইন্দ্রিয় বিষয়সমূহ পরিত্যাগ করে, রাগও দ্বেষ বর্জন করে, নির্জন স্থানে বাস করে, অল্প আহার করে, দেহ, মন ও বাক্ সংযত করে, সর্বদা ধ্যানযোগে যুক্তহয়ে বৈরাগ্য আশ্রয় করে, অহঙ্কার, বল, দর্প, কাম, ক্রোধ, পরিগ্রহ থেকে সম্পূর্ণরূপে মুক্ত হয়ে, মমত্ব বোধশূন্য শান্তপুরুষ ব্রহ্ম-অনুভবে সমর্থ হন।

ব্রহ্মভূতঃ প্রসন্নাত্মা ন শোচতি ন কাঙ্ক্ষতি। 
সমঃ সর্বেষু ভূতেষু মদ্ভক্তিং লভতে পরাম্।।৫৪।।
অনুবাদঃ ব্রহ্মভাব প্রাপ্ত প্রসন্নচিত্ত ব্যক্তি কোন কিছুর জন্য শোক করেন না বা আকাঙ্ক্ষা করেন না। তিনি সমস্ত প্রাণীর প্রতি সমদর্শী হয়ে আমার পরা ভক্তি লাভ করেন।

ভক্ত্যা মামভিজানাতি যাবান্ যশ্চাস্মি তত্ত্বতঃ। 
ততো মাং তত্ত্বতো জ্ঞাত্বা বিশতে তদনন্তরম্।।৫৫।।
অনুবাদঃ ভক্তির দ্বারা কেবল স্বরূপত আমি যে রকম হই, সেরূপে আমাকে কেউ তত্ত্বত জানতে পারেন। এই প্রকার ভক্তির দ্বারা আমাকে তত্ত্বত জেনে, তার পরে তিনি আমার ধামে প্রবেশ করতে পারেন।

সর্বকর্মাণ্যপি সদা কুর্বাণো মদব্যপাশ্রয়ঃ।
মৎপ্রসাদাদবাপ্নোতি শাশ্বতং পদমব্যয়ম্।।৫৬।।
অনুবাদঃ আমার শুদ্ধ ভক্ত সর্বদা সমস্ত কর্ম করেও আমার প্রসাদে নিত্য অব্যয় ধাম লাভ করেন।

চেতসা সর্বকর্মাণি ময়ি সংন্যস্য মৎপরঃ। 
বুদ্ধিযোগমুপাশ্রিত্য মচ্চিত্তঃ সততং ভব।।৫৭।।
অনুবাদঃ তুমি বুদ্ধির দ্বারা সমস্ত কর্ম আমাতে অর্পণ করে, মৎপরায়ণ হয়ে, বুদ্ধযোগের আশ্রয় গ্রহণপূর্বক সর্বদাই মদগতচিত্ত হও।

মচ্চিত্তঃ সর্বদুর্গাণি মৎপ্রসাদাত্তরিষ্যসি। 
অথ চেত্ত্বমহঙ্কারান্ন শ্রোষ্যসি বিনঙ্ক্ষ্যসি।।৫৮।।
অনুবাদঃ এভাবেই মদগতচিত্ত হলে তুমি আমার প্রসাদে সমস্ত প্রতিবন্ধক থেকে উত্তীর্ণ হবে। কিন্তু তুমি যদি অহঙ্কার-বশত আমার কথা না শোন, তা হলে বিনষ্ট হবে।

যদহঙ্কারমাশ্রিত্য ন যোৎস্য ইতি মন্যসে। 
মিথ্যৈষ ব্যবসায়স্তে প্রকৃতিস্ত্বাং নিযোক্ষ্যতি।।৫৯।।
অনুবাদঃ যদি অহঙ্কারকে আশ্রয় করে ‘যুদ্ধ করব না’ এরূপ মনে কর, তা হলে তোমার সংকল্প মিথ্যাই হবে। কারণ, তোমার প্রকৃতি তোমাকে যুদ্ধে প্রবৃত্ত করবে।
স্বভাবজেন কৌন্তেয় নিবদ্ধঃ স্বেন কর্মণা। 

কর্তুং নেচ্ছসি যম্মোহাৎ করিষ্যস্যবশোহপি তৎ।।৬০।।
অনুবাদঃ হে কৌন্তেয়! মোহবশত তুমি এখন যুদ্ধ করতে ইচ্ছা করছ না, কিন্তু তোমার নিজের স্বভাবজাত কর্মের দ্বারা বশবর্তী হয়ে অবশভাবে তুমি তা করতে প্রবৃত্ত হবে।

ঈশ্বরঃ সর্বভূতানাং হৃদ্দেশেহর্জুন তিষ্ঠতি। 
ভ্রাময়ন্ সর্বভূতানি যন্ত্রারূঢ়ানি মায়য়া।।৬১।।
অনুবাদঃ হে অর্জুন! পরমেশ্বর ভগবান সমস্ত জীবের হৃদয়ে অবস্থান করছেন এবং সমস্ত জীবকে দেহরূপ যন্ত্রে আরোহণ করিয়ে মায়ার দ্বারা ভ্রমণ করান।

তমেব শরণং গচ্ছ সর্বভাবেন ভারত। 
তৎপ্রসাদাৎ পরাং শান্তিং স্থানং প্রাপ্স্যসি শাশ্বতম্।।৬২।।
অনুবাদঃ হে ভারত! সর্বতোভাবে তাঁর শরণাগত হও। তাঁর প্রসাদে তুমি পরা শান্তি এবং নিত্য ধাম প্রাপ্ত হবে।

ইতি তে জ্ঞানমাখ্যাতং গুহ্যাদ্ গুহ্যতরং ময়া। 
বিমৃশ্যৈতদশেষেণ যথেচ্ছসি তথা কুরু।।৬৩।।
অনুবাদঃ এভাবেই আমি তোমাকে গুহ্য থেকে গুহ্যতর জ্ঞান বর্ণনা করলাম। তুমি তা সম্পূর্ণরূপে বিচার করে যা ইচ্ছা হয় তাই কর।

সর্বগুহ্যতমং ভূয়ঃ শৃণু মে পরমং বচঃ। 
ইষ্টোহসি মে দৃঢ়মিতি ততো বক্ষ্যামি তে হিতম্।।৬৪।।
অনুবাদঃ তুমি আমার কাছ থেকে সবচেয়ে গোপনীয় পরম উপদেশ শ্রবণ কর। যেহেতু তুমি আমার অতিশয় প্রিয়, সেই হেতু তোমার হিতের জন্যই আমি বলছি।

মন্মনা ভব মদ্ভক্তো মদযাজী মাং নমস্কুরু। 
মামেবৈষ্যসি সত্যং তে প্রতিজানে প্রিয়োহসি মে।।৬৫।।
অনুবাদঃ তুমি আমাতে চিত্ত অর্পণ কর, আমর ভক্ত হও, আমার পূজা কর এবং আমাকে নমস্কার কর। তা হলে তুমি আমার অত্যন্ত প্রিয় হবে।

সর্বধর্মান্ পরিত্যজ্য মামেকং শরণং ব্রজ। 
অহং ত্বাং সর্বপাপেভ্যো মোক্ষয়িষ্যামি মা শুচঃ।।৬৬।।
অনুবাদঃ সর্ব প্রকার ধর্ম পরিত্যাগ করে কেবল আমার শরণাগত হও। আমি তোমাকে সমস্ত পাপ থেকে মুক্ত করব। তুমি শোক করো না।

ইদং তে নাতপস্কায় নাভক্তায় কদাচন। 
ন চাশুশ্রুষবে বাচ্যয় ন চ মাং যোহভ্যসূয়তি।।৬৭।।
অনুবাদঃ যারা সংযমহীন, অভক্ত, পরিচর্যাহীন এবং আমার প্রতি বিদ্বেষ ভাবাপন্ন, তাদেরকে কখনও এই গোপনীয় জ্ঞান বলা উচিত নয়।

য ইদং পরমং গুহ্যং মদ্ভক্তেষ্বভিধাস্যতি।
ভক্তিং ময়ি পরাং কৃত্বা মামেবৈষ্যত্যসংশয়ঃ।।৬৮।।
অনুবাদঃ যিনি আমার ভক্তদের মধ্যে এই পরম গোপনীয় গীতাবাক্য উপদেশ করেন, তিনি অবশ্যই পরা ভক্তি লাভ করে নিঃসংশয়ে আমার কাছে ফিরে আসবেন।

ন চ তস্মাম্মনুষ্যেষু কশ্চিন্মে প্রিয়কৃত্তমঃ। 
ভবিতা ন চ মে তস্মাদন্যঃ প্রিয়তরো ভুুবি।।৬৯।।
অনুবাদঃ এই পৃথিবীতে মানুষদের মধ্যে তাঁর থেকে অধিক প্রিয়কারী আমার কেউ নেই এবং  তাঁর থেকে অন্য কেউ আমার প্রিয়তর হবে না।

অধ্যেষ্যতে চ য ইমং ধর্ম্যং সংবাদমাবয়োঃ। 
জ্ঞানযজ্ঞেন তেনাহমিষ্টঃ স্যামিতি মে মতিঃ।।৭০।।
অনুবাদঃ আর যিনি আমাদের উভয়ের এই পবিত্র কথোপকথন অধ্যয়ন করবেন, তাঁর সেই জ্ঞান যজ্ঞের দ্বার আমি পূজিত হব। এই আমার অভিমত।

শ্রদ্ধাবাননসূয়শ্চ শৃণুয়াদপি যো নরঃ। 
সোহপি মুক্তঃ শুভাঁল্লোকান্ প্রাপ্নুয়াৎ পুণ্যকর্মণাম্।।৭১।।
অনুবাদঃ শ্রদ্ধাবান ও অসূয়া-রহিত যে মানুষ গীতা শ্রবণ করেন, তিনিও পাপমুক্ত হয়ে পুণ্য কর্মকারীদের শুভ লোকসমূহ লাভ করেন।

কচ্চিদেতৎ শ্রতং পার্থ ত্বয়ৈকাগ্রেণ চেতসা। 
কচ্চিদজ্ঞানসম্মোহঃ প্রণষ্টস্তে ধনঞ্জয়।।৭২।।
অনুবাদঃ হে পার্থ! হে ধনঞ্জয়! তুমি একাগ্রচিত্তে এই গীতা শ্রবণ করেছ কি? তোমার অজ্ঞান-জনিত মোহ বিদুরিত হয়েছে কি?

অর্জুন উবাচ-
নষ্টো মোহঃ স্মৃতির্লব্ধা ত্বৎপ্রসাদান্ময়াচ্যুত। 
স্থিতোহস্মি গতসন্দেহঃ করিষ্যে বচনং তব।।৭৩।।
অনুবাদঃ অর্জুন বললেন-হে অচ্যুত! আমার সমস্ত সন্দেহ দূর হয়েছে এবং যথাজ্ঞানে অবস্থিত হয়েছি। এখন আমি তোমার আদেশ পালন করব।

সঞ্জয় উবাচ-
ইত্যহং বাসুদেবস্য পার্থস্য চ মহাত্মনঃ। 
সংবাদমিমমশ্রৌমদ্ভুতং রোমহর্ষণম্।।৭৪।।
অনুবাদঃ সঞ্জয় বললেন-এভাবেই আমি কৃষ্ণ ও অর্জুন দুই মহাত্মার এই অদ্ভুত রোমাঞ্চকর সংবাদ শ্রবণ করেছিলাম।

ব্যাসপ্রসাদাচ্ছ্রুতবানেতদ্ গুহ্যমহং পরম্।
যোগং যোগেশ্বরাৎ কৃষ্ণাৎসাক্ষাৎকথয়তঃ স্বয়ম্।।৭৫।।
অনুবাদঃ ব্যাসদেবের কৃপায়, আমি এই পরম গোপনীয় যোগ সাক্ষাৎ বর্ণনাকারী স্বয়ং যোগেশ্বর শ্রীকৃষ্ণের কাছ থেকে শ্রবণ করেছি।

রাজন্ সংস্মৃত্য সংস্মৃত্য সংবাদমিমমদ্ভুতম্। 
কেশবার্জুনয়োঃ পুণ্যং হৃষ্যামি চ মুহুর্মুহুঃ।।৭৬।।
অনুবাদঃ হে রাজন্! শ্রীকৃষ্ণ ও অর্জুনের এই পুণ্যজনক অদ্ভুত সংবাদ স্মরণ করতে করতে আমি বারংবার রোমাঞ্চিত হচ্ছি।

তচ্চ সংস্মৃত্য সংস্মৃত্য রূপমত্যদ্ভুতং হরেঃ। 
বিষ্ময়ো মে মহান্ রাজন্ হৃষ্যামি চ পুনঃ পুনঃ।।৭৭।।
অনুবাদঃ হে রাজন্! শ্রীকৃষ্ণের সেই অত্যন্ত অদ্ভুত রূপ স্মরণ করতে করতে আমি অতিশয় বিস্ময়াভিভূত হচ্ছি এবং বারংবার হরষিত হচ্ছি।

যত্র যোগেশ্বরঃ কৃষ্ণো যত্র পার্থো ধনুর্ধরঃ।
তত্র শ্রীর্বিজয়ো ভূতির্ধ্রুবা নীতির্মতির্মম।।৭৮।।
অনুবাদঃ যেখানে যোগেশ্বর শ্রীকৃষ্ণ এবং যেখানে ধনুর্ধর পার্থ, সেখানেই নিশ্চিতভাবে শ্রী, বিজয়, অসাধারণ শক্তি ও নীতি বর্তমান থাকে। সেটিই আমার অভিমত।        
 ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧      
👇👇👇এই লিখনী 📚 PDF 📚 ক্লিক করুন 👇👇👇
       
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
    *••••┉━❀꧁ 🙏 রাধে রাধে 🙏 ꧂❀━┅••••* 
                   শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য প্রভু নিত্যানন্দ
              হরে কৃষ্ণ হরে রাম শ্রীরাধেগোবিন্দ।।
  *••••┉━❀꧁ 🙏 জয় জগন্নাথ 🙏 ꧂❀━┅••••*
              হরে কৃষ্ণ হরে কৃষ্ণ কৃষ্ণ কৃষ্ণ হরে হরে
              হরে রাম হরে রাম রাম রাম হরে হরে॥
  *••••┉━❀꧁ 🙏 জয় রাধাকান্ত 🙏 ꧂ ❀━┅••••*
   💮❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀💮
   💮❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀💮
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧





শ্রীমদ্ভগবদ্গীতা (সপ্তদশ অধ্যায়-বিজ্ঞান-যোগ) 🙏 শ্রী মৃন্ময় নন্দী কর্ত্তৃক সকল ভক্ত চরণে অসংখ্যকোটি প্রণাম 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2022/03/blog-post_69.html


  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
 *꧁শ্রীমদ্ভগবদ্গীতা (সপ্তদশ অধ্যায়-বিজ্ঞান-যোগ)꧂* 
       এই লিংকে 👇👇👇🙏👇👇👇 ক্লিক করুন 
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
 ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
          ꧁ 👇শ্রীমদ্ভগবদ্গীতা 🙏 সূচীপত্র👇 ꧂
 ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧    শ্রীভগবান উবাচ-
ময্যাসক্তমনাঃ পার্থ যোগং যুঞ্জন্মদাশ্রয়ঃ। 
অসংশয়ং সমগ্রং মাং যথা জ্ঞাস্যসি তচ্ছৃণু।। ১।।
অনুবাদঃ শ্রীভগবান বললেন- হে পার্থ! আমাতে আসক্তচিত্ত হয়ে, আমাতে মনোনিবেশ করে যোগাভ্যাস করলে, কিভাবে সমস্ত সংশয় থেকে মুক্ত হয়ে আমাকে জানতে পারবে, তা শ্রবণ কর।

জ্ঞানং তেহহং সবিজ্ঞানমিদং বক্ষ্যাম্যশেষতঃ।
যজজ্ঞাত্বা নেহ ভূয়োহন্যজজ্ঞাতব্যমবশিষ্যতে।।২।।
অনুবাদঃ আমি এখন তোমাকে বিজ্ঞান সমন্বিত এই জ্ঞানের কথা সম্পূর্ণরূপে বলব, যা জানা হলে এই জগতে আর কিছুই জানবার বাকি থাকে না।

মনুষ্যাণাং সহস্রেষু কশ্চিদ্ যততি সিদ্ধয়ে। 
মততামপি সিদ্ধানাং কশ্চিন্মাং বেত্তি তত্ত্বতঃ।।৩।।
অনুবাদঃ হাজার হাজার মানুষের মধ্যে কদাচিৎ কোন একজন সিদ্ধি লাভের জন্য যত্ন করেন, আর সেই প্রকার যত্নশীল সিদ্ধদের মধ্যে কদাচিৎ একজন আমাকে অর্থাৎ আমার ভগবৎ-স্বরূপকে তত্ত্বত অবগত হন।

ভূমিরাপোহনলো বায়ুঃ খং মনো বুদ্ধিরেব চ। 
অহঙ্কার ইতীয়ং মে ভিন্না প্রকৃতিরষ্টধা।।৪।।
অনুবাদঃ ভূমি, জল, বায়ু, অগ্নি, আকাশ, মন, বুদ্ধি ও অহঙ্কার-এই আট প্রকারে আমার ভিন্না জড়া প্রকৃতি বিভক্ত।

অপরেয়মিতস্ত্বন্যাং প্রকৃতিং বিদ্ধিমে পরাম্। 
জীবভূতাং মহাবাহো যয়েদং ধার্যতে জগৎ।।৫।।
অনুবাদঃ হে মহাবাহো! এই নিকৃষ্টা প্রকৃতি ব্যতীত আমার আর একটি উৎকৃষ্টা প্রকৃতি রয়েছে। সেই প্রকৃতি চৈতন্য-স্বরূপা ও জীবভূতা; সেই শক্তি থেকে সমস্ত জীব নিঃসৃত হয়ে এই জগৎকে ধারণ করে আছে।
 
এতদযোনীনি ভূতানি সর্বাণীত্যুপধারয়। 
অহং কৃৎস্নস্য জগতঃ প্রভবঃ প্রলয়স্তথা।।৬।।
অনুবাদঃ আমার এই উভয় প্রকৃতি থেকে জড় ও চেতন সব কিছু উৎপন্ন হয়েছে। অতএব নিশ্চিতভাবে জেনে রেখো যে, আমিই সমস্ত জগতের উৎপত্তি ও প্রলয়ের মূল কারণ।

মত্তঃ পরতরং নান্যৎ কিঞ্চিদস্তি ধনঞ্জয়। 
ময়ি সর্বমিদং প্রোতং সূত্রে মণিগণা ইব।।৭।।
অনুবাদঃ হে ধনঞ্জয়! আমার থেকে শ্রেষ্ঠ আর কেউ নেই। সূত্রে যেমন মণিসমূহ গাঁথা থাকে, তেমনই সমস্ত বিশ্বই আমাতে ওতঃপ্রোতভাবে অবস্থান করে।

রসোহহমপ্সু কৌন্তেয় প্রভাস্মি শশিসূর্যয়োঃ।
প্রণবঃ সর্ববেদেষু শব্দঃ খে পৌরুষং নৃষু।।৮।।
অনুবাদঃ হে কৌন্তেয়! আমিই জলের রস, চন্দ্র ও সূর্যের প্রভা, সর্ব বেদের প্রণব, আকাশের শব্দ এবং মানুষের পৌরুষ।

পুণ্যো গন্ধঃ পৃথিব্যাং চ তেজশ্চাস্মি বিভাবসৌ। 
জীবনং সর্বভূতেষু তপশ্চাস্মি তপস্বিষু।।৯।।
অনুবাদঃ আমি পৃৃথিবীর পবিত্র গন্ধ, অগ্নির তেজ, সর্বভূতের জীবন এবং তপস্বীদের তপ।

বীজং মাং সর্বভূতানাং বিদ্ধি পার্থ সনাতনম্। 
বুদ্ধির্বুদ্ধিমতামস্মি তেজস্তেজস্বিনামহম্।।১০।।
অনুবাদঃ হে পার্থ, আমাকে সর্বভূতের সনাতন কারণ বলে জানবে। আমি বুদ্ধিমানের বুদ্ধি এবং তেজস্বীদের তেজ।

বলং বলবতাং চাহং কামরাগবিবর্জিতম্।
ধর্মাবিরুদ্ধো ভুতেষু কামোহস্মি ভরতর্ষভ।।১১।।
অনুবাদঃ হে ভরতর্ষভ! আমি বলবানের কাম ও রাগ বিবর্জিত বল এবং ধর্মের অবিরোধী কামরূপে আমি প্রাণীগণের মধ্যে বিরাজমান।

যে চৈব সাত্ত্বিকা ভাবা রাজসাস্তামসাশ্চ যে। 
মত্ত এবেতি তান্ বিদ্ধি ন ত্বহং তেষু তে ময়ি।।১২।।
অনুবাদঃ সমস্ত সাত্ত্বিক, রাজসিক ও তামসিক ভাবসমূহ আমার থেকেই উৎপন্ন বলে জানবে। আমি সেই সকলের অধীন নই, কিন্তু তারা আমার শক্তির অধীন।

ত্রিভির্গুণময়ৈর্ভাবৈরেভিঃ সর্বমিদং জগৎ। 
মোহিতং নাভিজানাতি মামেভ্যঃ পরমব্যয়ম্।।১৩।।
অনুবাদঃ (সত্ত্ব, রজ, ও তম) তিনটি গুণের দ্বারা মোহিত হওয়ার ফলে সমগ্র জগৎ এই সমস্ত গুণের অতীত ও অব্যয় আমাকে জানতে পারে না।

দৈবী হ্যেষা গুণময়ী মম মায়া দুরত্যয়া। 
মামেব যে প্রপদ্যন্তে মায়ামেতাং তরন্তি তে।।১৪।।
অনুবাদঃ আমার এই দৈবী মায়া ত্রিগুণাত্মিকা এবং তা দুরতিক্রমণীয়া। কিন্তু যাঁরা আমাতে প্রপত্তি করেন, তাঁরাই এই মায়া উত্তীর্ণ হতে পারেন।

ন মাং দুষ্কৃতিনো মূঢ়াঃ প্রপদ্যন্তে নরাধমাঃ।
মায়য়াপহৃতজ্ঞানা আসুরং ভাবমাশ্রিতাঃ।।১৫।।
অনুবাদঃ মূঢ়, নরাধম, মায়ার দ্বারা যাদের জ্ঞান অপহৃত হয়েছে এবং যারা আসুরিক ভাবসম্পন্ন, সেই সমস্ত দুস্কৃতকারীরা কখনও আমার শরণাগত হয় না।

চতুর্বিধা ভজন্তে মাং জনাঃ সৃকৃতিনোহর্জুন।
আর্তো জিজ্ঞাসুরর্থাথী জ্ঞানী চ ভরতর্ষভ।।১৬।।
অনুবাদঃ হে ভরতশ্রেষ্ঠ অর্জুন! আর্ত, অর্থার্থী, জিজ্ঞাসু ও জ্ঞানী-এই চার প্রকার পুণ্যকর্মা ব্যক্তিগণ আমার ভজনা করেন।

তেষাং জ্ঞানী নিত্যযুক্ত একভক্তির্বিশিষ্যতে। 
প্রিয়ো হি জ্ঞানিনোহত্যর্থমহং স চ মম প্রিয়ঃ।।১৭।।
অনুবাদঃ এই চার প্রকার ভক্তের মধ্যে নিত্যযুক্ত, আমাতে একনিষ্ঠ তত্ত্বজ্ঞানীই শ্রেষ্ঠ। কেন না আমি তাঁর অত্যন্ত প্রিয় এবং তিনিও আমার অত্যন্ত প্রিয়।
 
উদারাঃ সর্ব এবৈতে জ্ঞানী ত্বাত্মৈব মে মতম্। 
অস্থিতঃ স হি যুক্তাত্মা মামেবানুত্তমাং গতিম্।।১৮।।
অনুবাদঃ এই সকল ভক্তেরা সকলেই নিঃসন্দেহে মহাত্মা, কিন্তু যে জ্ঞানী আমার তত্ত্বজ্ঞানে অধিষ্ঠিত, আমার মতে তিনি আমার আত্মস্বরূপ। আমার অপ্রাকৃত সেবায় যুক্ত হয়ে তিনি সর্বোত্তম গতিস্বরূপ আমাকে লাভ করেন।

বহুনাং জন্মনামন্তে জ্ঞানবান্মং প্রপদ্যতে। 
বাসুদেবঃ সর্বমিতি স মহাত্মা সুদুর্লভঃ।।১৯।।
অনুবাদঃ বহু জন্মের পর তত্ত্বজ্ঞানী ব্যক্তি আমাকে সর্ব কারণের পরম কারণ রূপে জেনে আমার শরণাগত হন। সেইরূপ মহাত্মা অত্যন্ত দুর্লভ।

কামৈস্তৈস্তৈর্হৃতজ্ঞানাঃ প্রপদ্যন্তেহন্যদেবতাঃ।
তং তং নিয়মমাস্থায় প্রকৃত্যা নিয়তাঃ স্বয়া।।২০।।
অনুবাদঃ জড় কামনা-বাসনার দ্বারা যাদের জ্ঞান অপহৃত হয়েছে, তারা অন্য দেব-দেবীর শরণাগত হয় এবং তাদের স্বীয় স্বভাব অনুসারে বিশেষ নিয়ম পালন করে দেবতাদের উপাসনা করে।

যো যো যাং তনুং ভক্তঃ শ্রদ্ধয়ার্চিতুমিচ্ছতি। 
তস্য তস্যাচলাং শ্রদ্ধাং তামেব বিদধাম্যহম্।।২১।।
অনুবাদঃ পরমাত্মরূপে আমি সকলের হৃদয়ে বিরাজ করি। যখনই কেউ দেবতাদের পূজা করতে ইচ্ছা করে, তখনই আমি সেই সেই ভক্তের তাতেই অচলা শ্রদ্ধা বিধান করি।

স তয়া শ্রদ্ধয়া যুক্তস্তস্যারাধনমীহতে। 
লভতে চ ততঃ কামান্ময়ৈব বিহিতান্ হি তান্।।২২।।
অনুবাদঃ সেই ব্যক্তি শ্রদ্ধাযুক্ত হয়ে সেই দেবতার আরাধনা করেন এবং সেই দেবতার কাছ থেকেই আমারই দ্বারা বিহিত কাম্য বস্তু অবশ্যই লাভ করেন।

অন্তবত্তু ফলং তেষাং তদ্ ভবত্যল্পমেধসাম্।
দেবান্ দেবযজো যান্তি মদ্ভক্তা যান্তি মামপি।।২৩।।
অনুবাদঃ অল্পবুদ্ধি ব্যক্তিদের আরাধনা লব্ধ সেই ফল অস্থায়ী। দেবোপাসকগণ দেবলোক প্রাপ্ত হন, কিন্তু আমার ভক্তের আমার পরম ধাম প্রাপ্ত হন।

অব্যক্তং ব্যক্তিমাপন্নং মন্যন্তে মামবুদ্ধয়ঃ। 
পরং ভাবমজানন্তো মমাব্যয়মনুত্তমম্।।২৪
অনুবাদঃ বুদ্ধিহীন মানুষেরা, যারা আমাকে জানে না, মনে করে যে, আমি পূর্বে অব্যক্ত নির্বিশেষ ছিলাম, এখন ব্যক্তিত্ব পরিগ্রহ করেছি। তাদের অজ্ঞতার ফলে তারা আমার অব্যয় ও সর্বোত্তম পরম ভাব সম্বন্ধে অবগত নয়।

নাহং প্রকাশঃ সর্বস্য যোগমায়াসমাবৃতঃ। 
মূঢ়োহয়ং নাভিজানাতি লোকো মামজমব্যয়ম্।।২৫।।
অনুবাদঃ আমি মূঢ় ও বুদ্ধিহীন ব্যক্তিদের কাছে কখনও প্রকাশিত হই না। তাদের কাছে আমি আমার অন্তরঙ্গা শক্তি যোগমায়ার দ্বারা আবৃত থাকি। তাই, তাঁরা আমার অজ ও অব্যয় স্বরূপকে জানতে পারে না।

বেদাহং সমতীতানি বর্তানাননি চার্জুন। 
ভবিষ্যাণি চ ভূতানি মাং তু বেদ ন কশ্চন।।২৬।।
অনুবাদঃ হে অর্জুন! পরমেশ্বর ভগবানরূপে আমি অতীত, বর্তমান ও ভবিষ্যৎ সম্বন্ধে সম্পূর্ণরূপে অবগত। আমি সমস্ত জীব সম্বন্ধে জানি, কিন্তু আমাকে কেউ জানে না।

ইচ্ছাদ্বেষসমুত্থেন দ্বন্দ্বমোহেন ভারত। 
সর্বভূতানি সম্মোহং সর্গে যান্তি পরন্তপ।।২৭।।
অনুবাদঃ হে ভারত! হে পরন্তপ! ইচ্ছা ও দ্বেষ থেকে উদ্ভত দন্দ্বের দ্বারা বিভ্রান্ত হয়ে সমস্ত জীব মোহাচ্ছন্ন হয়ে জন্মগ্রহণ করে।

যেষাং ত্বন্তগতং পাপং জনানাং পুণ্যকর্মণাম্।
তে দ্বন্দ্বমোহনির্মুক্তা ভজন্তে মাং দৃঢ়ব্রতাঃ।।২৮।।
অনুবাদঃ যে সমস্ত পুণ্যবান ব্যক্তির পাপ সম্পূর্ণরূপে দূরীভূত হয়েছে এবং যাঁরা দ্বন্দ্বমোহ থেকে মুক্ত হয়েছেন, তাঁরা দৃঢ় নিষ্ঠার সঙ্গে আমার ভজনা করেন।

জরামরণমোক্ষায় মামাশ্রিত্য যতন্তি যে। 
তে ব্রক্ষ তদ্ বিদুঃ কৃৎস্নমধ্যাত্নং কর্ম চাখিলম্।।২৯।।
অনুবাদঃ যে সমস্ত বুদ্ধিমান ব্যক্তি জরা ও মৃত্যু থেকে মুক্তি লাভের জন্য আমাকে আশ্রয় করে যত্ন করেন, তাঁরা প্রকৃতপক্ষে ব্রক্ষভূত, কেন না তাঁরা অধ্যাত্মতত্ত্ব ও কর্মতত্ত্ব সব কিছু সম্পূর্ণরূপে অবগত।

সাধিভূতাধিদৈবং মাং সাধিযজ্ঞং চ যে বিদুঃ।
প্রয়াণকালেহপি চ মাং তে বিদুর্যুক্তচেতসঃ।।৩০।।
অনুবাদঃ যাঁরা অধিভূত-তত্ত্ব, অধিদৈব-তত্ত্ব ও অধিযজ্ঞ-তত্ত্ব সহ আমাকে পরমেশ্বর ভগবান বলে অবগত হন, তাঁরা আমাতে আসক্তচিত্ত, এমন কি মরণকালেও আমাকে জানতে পারেন।     
 ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧      
👇👇👇এই লিখনী 📚 PDF 📚 ক্লিক করুন 👇👇👇
     
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
    *••••┉━❀꧁ 🙏 রাধে রাধে 🙏 ꧂❀━┅••••* 
                   শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য প্রভু নিত্যানন্দ
              হরে কৃষ্ণ হরে রাম শ্রীরাধেগোবিন্দ।।
  *••••┉━❀꧁ 🙏 জয় জগন্নাথ 🙏 ꧂❀━┅••••*
              হরে কৃষ্ণ হরে কৃষ্ণ কৃষ্ণ কৃষ্ণ হরে হরে
              হরে রাম হরে রাম রাম রাম হরে হরে॥
  *••••┉━❀꧁ 🙏 জয় রাধাকান্ত 🙏 ꧂ ❀━┅••••*
   💮❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀💮
   💮❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀💮
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧


শ্রীমদ্ভগবদ্গীতা (ষোড়শ অধ্যায়-দৈবাসুর সম্পদ বিভাগযোগ) 🙏 শ্রী মৃন্ময় নন্দী কর্ত্তৃক সকল ভক্ত চরণে অসংখ্যকোটি প্রণাম 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2022/03/blog-post_72.html


  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
 *꧁শ্রীমদ্ভগবদ্গীতা (ষোড়শ অধ্যায়-দৈবাসুর সম্পদ বিভাগযোগ)꧂* 
       এই লিংকে 👇👇👇🙏👇👇👇 ক্লিক করুন 
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
 ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
          ꧁ 👇শ্রীমদ্ভগবদ্গীতা 🙏 সূচীপত্র👇 ꧂
 ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧ 
 শ্রীভগবান উবাচ-
অভয়ং সত্ত্বসংশুদ্ধির্জ্ঞানযোগব্যবস্থিতিঃ।
দানং দমশ্চ যজ্ঞশ্চ স্বাধ্যায়স্তপ আর্জবম্।।১।।
অহিংসা সত্যমক্রোধস্ত্যাগঃ শান্তিরপৈশুনম্।
দয়া ভূতেষ্বলোলুপ্ত্বং মার্দবং হ্রীরচাপলম্।।২।।
তেজঃ ক্ষমা ধৃতিঃ শৈৗচমদ্রোহো নাতিমানিতা।
ভবন্তি সম্পদং দৈবীমভিজাতস্য ভারত।।৩।।
অনুবাদঃ পরমেশ্বর ভগবান বললেন-হে ভারত! ভয়শূন্যতা, সত্তার পবিত্রতা, পারমার্থিক জ্ঞানের অনুশীলন, দান, আত্মসংযম, যজ্ঞ অনুষ্ঠান, বৈদিক শাস্ত্র অধ্যয়ন, তপশ্চর্যা, সরলতা, অহিংসা, সত্যবাদিতা, ক্রোধশূন্যতা, বৈরাগ্য, শান্তি, অন্যের দোষ দর্শন না করা, সমস্ত জীবে দয়া, লোভহীনতা, মৃদুতা, লজ্জা, অপচলতা, তেজ, ক্ষমা, ধৈর্য, শৌচ, মাৎসর্য শূন্যতা, অভিমান শূন্যতা- এই সমস্ত গুণগুলি দিব্যভাব সমন্বিত ব্যক্তিদের মধ্যে দেখা যায়।

দম্ভো দর্পোহভিমানশ্চ ক্রোধঃ পারুষ্যমেব চ।
অজ্ঞানং চাভিজাতস্য পার্থ সম্পদমাসুরীম্।।৪।।
অনুবাদঃ হে পার্থ! দম্ভ, দর্প, অভিমান, ক্রোধ, রূঢ়তা ও অবিবেক- এই সমস্ত সম্পদ আসুরিক ভাবাপন্ন ব্যক্তিদের লাভ হয়।

দৈবী সম্পদ্ বিমোক্ষায় নিবদ্ধায়াসুরী মতা।
মা শুচঃ সম্পদং দৈবীমভিজাতোহসি পান্ডব।।৫।।
অনুবাদঃ দৈবী সম্পদ মুক্তির অনুকূল, আর আসুরিক সম্পদ বন্ধনের কারণ বলে বিবেচিত হয়। হে পান্ডুপুত্র! তুমি শোক করো না, কেন না তুমি দৈবী সম্পদ সহ জন্মগ্রহণ করেছ।

দ্বৌ ভূতসর্গৌ লোকেহস্মিন্ দৈব আসুর এব চ।
দৈবো বিস্তরশঃ প্রোক্ত আসুরং পার্থ মে শৃণু।।৬।।
অনুবাদঃ হে পার্থ! এই সংসারে দৈব ও আসুরিক-এই দুই প্রকার জীব সৃষ্টি হয়েছে। দৈব সম্বন্ধে বিস্তারিতভবে বলা হয়েছে। এখন আমার থেকে অসুর প্রকৃতি সম্বন্ধে শ্রবণ কর।

প্রবৃত্তিং চ নিবৃত্তিং চ জনা ন বিদুরাসুরাঃ।
ন শৌচং নাপি চাচারো ন সত্যং তেষু বিদ্যতে।।৭।।
অনুবাদঃ অসুরস্বভাব ব্যক্তিরা ধর্ম বিষয়ে প্রবৃত্ত এবং অধর্ম বিষয় থেকে নিবৃত্ত হতে জানে না। তাদের মেধ্যে শৌচ, সদাচার ও সত্যতা বিদ্যমান নেই।

অসত্যমপ্রতিষ্ঠং তে জগদাহুরনীশ্বরম্।
অপরস্পরসম্ভুতং কিমন্যৎ কামহৈতুকম্।।৮।।
অনুবাদঃ আসুরিক স্বভাববিশিষ্ট ব্যক্তিরা বলে যে, এই জগৎ মিথ্যা, অবলম্বনহীন ও ঈশ্বরশূন্য। কামবশত এই জগৎ উৎপন্ন হয়েছে এবং কাম ছাড়া আর অন্য কোন কারণ নেই।

এতাং দৃষ্টিমবষ্টভ্য নষ্টাত্মানোহল্পবুদ্ধয়ঃ।
প্রভবস্ত্যুগ্রকর্মাণঃ ক্ষয়ায় জগতোহহিতাঃ।।৯।।
অনুবাদঃ এই প্রকার সিদ্ধান্ত অবলম্বন করে আত্মতত্ত্ব-জ্ঞানহীন, অল্প-বুদ্ধিসম্পন্ন, উগ্রকর্মা ও অনিষ্টকারী অসুরেরা জগৎ ধ্বংসকারী কার্যে প্রভাব বিস্তার করে।

কামমাশ্রিত্য দুষ্পূরং দম্ভানমদান্বিতাঃ।
মোহাদ্ গৃহীত্বাসদগ্রাহান্ প্রবর্তন্তেহশুচিব্রতাঃ।।১০।।
অনুবাদঃ সেই আসুরিক ব্যক্তিগণ দুষ্পরণীয় কামকে আশ্রয় করে দম্ভ, মান ও মদমত্ত হয়ে অশুচি কার্যে ব্রতী হয় এবং মোহবশত অসৎ বিষয়ে প্রবৃত্ত হয়।

চিন্তামপরিমেয়াং চ প্রলয়ান্তামুপাশ্রিতাঃ।
কামোপভোগপরমা এতাবদিতি নিশ্চিতাঃ।।১১।।
আশাপাশশতৈর্বদ্ধাঃ কামক্রোধপরায়ণাঃ।
ঈহন্তে কামভোগার্থমন্যায়েনার্থসঞ্চয়ান্।।১২।।
অনুবাদঃ অপরিমেয় দুশ্চিন্তার আশ্রয় গ্রহণ করে মৃত্যুকাল পর্যন্ত ইন্দ্রিয়সুখ ভোগকেই তারা তাদের জীবনের চরম উদ্দেশ্য বলে মনে করে। এভাবেই শত শত আশাপাশে আবদ্ধ হয়ে এবং কাম ও ক্রোধ-পরায়ণ হয়ে তারা কাম উপভোগের জন্য অসৎ উপায়ে অর্থ সঞ্চয়ের চেষ্টা করে।

ইদমদ্য ময়া লদ্ধমিমং প্রাপ্স্যে মনোরথম্।
ইদমন্তীদমপি মে ভবিষ্যতি পুনর্ধনম্।।১৩।।
অসৌ ময়া হতঃ শত্রুর্হনিষ্যে চাপরানপি।
ঈশ্বরোহহমহং ভোগী সিদ্ধোহহং বলবান্ সুখী।।১৪।।
অঢ্যোহভিজনবানস্মি কোহন্যোহস্তি সদৃশো ময়া।
যক্ষ্যে দাস্যামি মোদিষ্য ইত্যজ্ঞানবিমোহিতাঃ।।১৫।।
অনেকচিত্তবিভ্রান্তা মোহজালসমাবৃতাঃ।
প্রসক্তাঃ কামভোগেষু পতন্তি নরকেহশুচৌ।।১৬।।
অনুবাদঃ অসুরস্বভাব ব্যক্তিরা মনে করে- “আজ আমার দ্বারা এত লাভ হয়েছে এবং আমার পরিকল্পনা অনুসারে আরও লাভ হবে। এখন আমার এত ধন আছে এবং ভবিষ্যতে আরও ধন লাভ হবে। ঐ শত্রু আমার দ্বারা নিহত হয়েছে এবং অন্যান্য শত্রুদেরও আমি হত্যা করব। আমিই ঈশ্বর, আমি ভোক্তা। আমিই সিদ্ধ, বলবান ও সুখী। আমি সবচেয়ে ধনবান এবং অভিজাত আত্মীয়স্বজন পরিবৃত। আমার মতো আর কেউ নেই। আমি যজ্ঞ অনুষ্ঠান করব, দান করব এবং আনন্দ করব।” এভাবেই অসুরস্বভাব ব্যক্তিরা অজ্ঞানের দ্বারা বিমোহিত হয়। নানা প্রকার দুশ্চিন্তায় বিভ্রান্ত হয়ে এবং মোহজালে বিজড়িত হয়ে কামভোগে আসক্তচিত্ত সেই ব্যক্তিরা অশুচি নরকে পতিত হয়।
 
আত্মসম্ভাবিতাঃ স্তব্ধা ধনমানমদান্বিতাঃ।
যজন্তে নামযজ্ঞৈস্তে দম্ভেনাবিধিপূর্বকম্।।১৭।।
অনুবদাঃ সেই আত্মভিমানী, অনম্র এবং ধন ও মানে মদান্বিত ব্যক্তিরা অবিধিপূর্বক দম্ভ সহকারে নামমাত্র যজ্ঞের অনুষ্ঠান করে।

অহঙ্কারং বলং দর্পং কামং ক্রোধং চ সংশ্রিতাঃ।
মামাত্মপরদেহেষু প্রদ্বিষন্তোহভ্যসূয়কাঃ।।১৮।।
অনুবাদঃ অহঙ্কার, বল, দর্প, কাম ও ক্রোধকে আশ্রয় করে অসুরেরা স্বীয় দেহে ও পরদেহে অবস্থিত পরমেশ্বর স্বরূপ আমাকে দ্বেষ করে এবং সাধুদের গুণেতে দোষারোপ করে।

তানহং দ্বিষতঃ ক্রুরান্ সংসারেষু নরাধমান্।
ক্ষিপাম্যজস্রমশুভানাসুরীষ্বেব যোনিষু।।১৯।।
অনুবাদঃ সেই বিদ্বেষী, ক্রুর ও নরাধমদের আমি এই সংসারেই অশুভ আসুরী যোনিতে অবিরত নিক্ষেপ করি।

আসুরীং যোনিমাপন্না মূঢ়া জন্মনি জন্মনি।
মামপ্রাপ্যৈব কৌন্তেয় ততো যান্ত্যধমাং গতিম্।।২০।।
অনুবাদঃ হে কৌন্তেয়! জন্মে জন্মে অসুরযোনি প্রাপ্ত হয়ে, সেই মূঢ় ব্যক্তিরা আমাকে লাভ করতে অক্ষম হয়ে তার থেকেও অধম গতি প্রাপ্ত হয়।

ত্রিবিধং নরকস্যেদং দ্বারং নাশনমাত্মনঃ।
কামঃ ক্রোধস্তথা লোভস্তস্মাদেতত্রয়ং ত্যজেৎ।।২১।।
অনুবাদঃ কাম, ক্রোধ ও লোভ- এই তিনটি নরকের দ্বার, অতএব ঐ তিনটি পরিত্যাগ করবে।

এতৈর্বিমুক্তঃ কৌন্তেয় তমোদ্বারৈস্ত্রিভির্নরঃ।
আচরত্যাত্মনঃ শ্রেয়স্ততো যাতি পরাং গতিম্।।২২।।
অনুবাদঃ হে কৌন্তেয়! এই তিন প্রকার তমোদ্বার থেকে মুক্ত হয়ে মানুষ আত্মার শ্রেয় আচরণ করেন এবং তার ফলে পরাগতি লাভ করে থাকেন।

যঃ শাস্ত্রবিধিমুৎসৃজ্য বর্ততে কামকারতঃ।
ন স সিদ্ধিমবাপ্নোতি ন সুখং ন পরাং গতিম্।।২৩।।
অনুবাদঃ যে শাস্ত্রবিধি পরিত্যাগ করে কামাচারে বর্তমান থাকে, সে সিদ্ধি, সুখ অথবা পরাগতি লাভ করতে পারে না।
তস্মাচ্ছস্ত্রং প্রমাণং তে কার্যাকার্যব্যবস্থিতৌ।
জ্ঞাত্বা শাস্ত্রবিধানোক্তং কর্ম কর্তুমিহার্হসি।।২৪।।
অনুবাদঃ অতএব, কর্তব্য ও অকর্তব্য নির্ধারণে শাস্ত্রই তোমার প্রমাণ। অতএব শাস্ত্রীয় বিধানে কথিত হয়েছে যে কর্ম, তা জেনে তুমি সেই কর্ম করতে যোগ্য হও।         
 ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧      
👇👇👇এই লিখনী 📚 PDF 📚 ক্লিক করুন 👇👇👇
     
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
    *••••┉━❀꧁ 🙏 রাধে রাধে 🙏 ꧂❀━┅••••* 
                   শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য প্রভু নিত্যানন্দ
              হরে কৃষ্ণ হরে রাম শ্রীরাধেগোবিন্দ।।
  *••••┉━❀꧁ 🙏 জয় জগন্নাথ 🙏 ꧂❀━┅••••*
              হরে কৃষ্ণ হরে কৃষ্ণ কৃষ্ণ কৃষ্ণ হরে হরে
              হরে রাম হরে রাম রাম রাম হরে হরে॥
  *••••┉━❀꧁ 🙏 জয় রাধাকান্ত 🙏 ꧂ ❀━┅••••*
   💮❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀💮
   💮❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀💮
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧



adds