꧁ রামায়ণ 🙏 তুলসী দাস 🙏 দ্বিতীয় ভাগ ꧂
꧁ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ ꧂
এই লিংকে ⬇️⬇️⬇️🙏⬇️⬇️⬇️ ক্লিক করুন
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
🏠Home Page🏠⬇️⬇️🙏⬇️⬇️📚PDF গ্রন্থ📚
꧁ MrinmoyNandy.blogspot.com 👉 সূচীপত্র ꧂
এই লিংকে ⬇️⬇️⬇️🙏⬇️⬇️⬇️ ক্লিক করুন
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
꧁ টিকা বা অন্যান্য ধর্মীয় লিখনী 🙏 সূচীপত্র ꧂
꧁ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ ꧂
এই লিংকে ⬇️⬇️⬇️🙏⬇️⬇️⬇️ ক্লিক করুন
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
꧁ রামায়ণ 🙏 তুলসী দাস 🙏 সূচীপত্র ꧂
꧁ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ ꧂
এই লিংকে ⬇️⬇️⬇️🙏⬇️⬇️⬇️ ক্লিক করুন
http://mrinmoynandy.blogspot.com/2022/11/blog-post_66.html ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
꧁(১০১) রামায়ণ 🙏 তুলসী দাস 🙏 দ্বিতীয় ভাগ ꧂
꧁ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ ꧂
এই লিংকে ⬇️⬇️⬇️🙏⬇️⬇️⬇️ ক্লিক করুন
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
*(১০১)🌿তুলসী দাস রামায়ণ🌿*
*🌻বাল্মীকিমুনি মনে মনে শ্রীরামচন্দ্রের প্রতি দেহ মন প্রাণ সমর্পণ🌻*
"""""""""""""""""""""""""""""""""""""""""'"''''''''''''"""'''""'"'""""''''''
*বাল্মীকিমুনি বললেন,আপনি জিজ্ঞাসা করেছেন যে আপনি কোথায় থাকবেন? কিন্তু আমি জিজ্ঞাসা করতে সঙ্কোচ বোধ করছি যে আপনি দয়া করে আমাকে বলে দিন যে আপনি কোথায় নেই!তখন আমি আপনাকে নিবাস স্থান না হয় সন্ধান করে দেব।মুনির প্রেমরসসিঞ্চিত কথা শুনে প্রভু শ্রীরাম নরদেহে আগমনের উদ্দেশ্যই পন্ড হয়ে যেতে পারে মনে করে সঙ্কুচিত হলেন আর মনে মনে হাসলেন।বাল্মীকি মুনিও হেসে অমৃতরসরঞ্জিত সুমিষ্ট কথায় বললেন,হে রামচন্দ্র!শুনুন,এখন আমি সীতাদেবী ও লক্ষ্মণকে নিয়ে বসবাস করবার অতি উত্তম নিবাসস্থানের সন্ধান দিচ্ছি।যাদের সমুদ্রসম শ্রবণ আপনার সমধুর বাণীরূপ নদনদী দ্বারা অবিরাম সিঞ্চিত হয়েও কখনো পূর্ণ তৃপ্ত হয় না তাই উত্তম নিবাসস্থান।যারা নেত্রকে চাতক করে আপনার দর্শনরূপ মেঘের জন্য নিত্য ব্যাকুল, তাদের হৃদয়ই আপনার উত্তম নিবাসস্থান।যারা বড় নদী,সমুদ্র ও সরোবরের জলকে উপেক্ষা করে আপনার সৌন্দর্য্যরূপ মেঘের এক বিন্দু জলেই সুখী হয়,হে শ্রীরঘুনন্দন! সেই ভক্তেদের হৃদয়রূপ সুখাবাসে আপনি অনুজ লক্ষ্মণ ও সীতাদেবীকে নিয়ে নিবাস করুন। আপনার নিত্য সচ্চিদানন্দময় স্বরূপের কোন অঙ্গের ক্ষণিক দর্শন লাভের সম্মুখে পৃথিবী স্থূল,স্বর্গ সূক্ষ্ম ও ব্রহ্মলোকের (কারণের) সৌন্দর্য্যও যে দাঁড়াতে পারে না।*
*🌺আপনার লীলারূপ মানস সরোবরে যে হংসীসম আপনার গুণরূপ মণিমুক্ত চয়নে নিত্যযুক্ত থাকে,হে রামচন্দ্র!আপনি তার হৃদয়ে নিবাস করুন।যার নাসিকা প্রভুর পবিত্র ও সুগন্ধিত পুষ্পাদি সুন্দর প্রসাদকে সতত সাদরে গ্রহণ করে, আর যে আপনাকে নিবেদন করে আহার্য গ্রহণ করে, আর আপনার প্রসাদরূপেই বস্ত্রালঙ্কার ধারণ করে তার মনই আপনার উত্তম নিবাসস্থান। যাদের মস্তক দেবতা,গুরু ও ব্রাহ্মণসকল দর্শন করে সবিনয়ে সপ্রেম অবনমিত হয়,যাদের হস্ত নিত্য শ্রীরামচন্দ্রের শ্রীচরণের পূজার্চনায় নিত্যযুক্ত থাকে আর যাদের অন্তরে কেবল রামচন্দ্রের কৃপার উপর ভরসা তাদের মনই আপনার উত্তম নিবাসস্থান।আর যাদের চরণ শ্রীরামের তীর্থ অভিমুখে ধাবিত হয় হে রামচন্দ্র!আপনি তার মনে সতত নিবাস করুন।যারা নিত্য আপনার মহামন্ত্রকে জপ করে আর সপরিবারে আপনার পূজা করে, যারা বহুবিধ ভাবে তর্পণ ও যজ্ঞ করে আর ব্রাহ্মণদের আহার করিয়ে প্রভূত দানাদি সম্পাদন করে তাঁদের পরিতুষ্ট করে আর গুরুদেবকে আপনার থেকেও শ্রেয় বড় জ্ঞান করে সর্বতোভাবে সম্মান প্রদর্শন করে তাঁর সেবাপূজা করে আপনি তাদের মনরূপ মন্দিরে সীতাদেবী ও রঘুকুলকে আনন্দ প্রদানকারী আপনারা উভয়ে নিবাস করুন।*
*ক্রমাগত*
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
꧁(১০২) রামায়ণ 🙏 তুলসী দাস 🙏 দ্বিতীয় ভাগ ꧂
꧁ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ ꧂
এই লিংকে ⬇️⬇️⬇️🙏⬇️⬇️⬇️ ক্লিক করুন
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
*(১০২)🌿তুলসী দাস রামায়ণ🌿*
*🌲বাল্মীকিমুনি শ্রীরামের প্রশংসা🌲*
°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°
*🌻যারা এই সকল শুভকর্ম সম্পাদন করে কেবল শ্রীরাম চরণে প্রীতিরূপ ফল কামনা করে,তাদের মনমন্দিরে সীতাদেবীকে নিয়ে রঘুকুলকে আনন্দ প্রদানকারী আপনারা দুইজনে নিত্য বিরাজমান থাকুন। যাদের কাম,ক্রোধ,মদ,অভিমান ও মোহ নেই ; যাদের লোভ,ক্ষোভ নেই,রাগ-দ্বেষ নেই,যাদের কপট দম্ভ, মায়া নেই হে রঘুনাথ!আপনি তাদের হৃদয়ে নিবাস করুন।যারা সকলের প্রিয় ও সকলের হিতাকাঙ্খী, যাদের সুখ ও দুঃখে সমদর্শন, মান-অপমানে যারা নির্বিকার, যারা সত্য ও প্রিয় বচন বিচার করেই থাকে ও শয়নে জাগরণে আপনারই শরণাগত এবং যাদের আপনার আশ্রয় ছাড়া অন্য কোনো আশ্রয়ের প্রয়োজন নেই, হে শ্রীরাম!আপনি তাদের মনে নিত্য বসবাস করুন।যারা পরনারীকে জন্মদাত্রী মাতাসম ও পরদ্রব্যকে বিষ থেকে বিষাক্ত জ্ঞান করে,যারা অন্যের সম্পত্তি দেখে প্রসন্ন হয় আর অন্যের বিপদ দেখে বিশেষভাবে দুঃখিত হয়,তাদের মনই আপনার নিবাস স্থানরূপে শুভ ও উত্তম।*
*🌹হে তাত!যাদের স্বামী,সখা,পিতা,মাতা,ও গুরু সবই স্বয়ং আপনি, তাদের মনরূপ মন্দিরে সীতাদেবী সহিত ভ্রাতৃযুগল আপনারা সতত নিবাস করুন। যারা দোষ না দেখে অন্যের গুণসকল গ্রহণ করে, গো,ব্রাহ্মণের হিতাকাঙ্খী ও সংকট মোচনে সতত যত্নবান, নীতি নির্ধারণে জগতে সুনিপুণ,তাদের হৃদয়ে আপনি সীতাদেবী সঙ্গে সতত নিবাস করুন। যে নিজের দোষ সম্বন্ধে সাবধান থেকে সতত আপনার লীলা সংকীর্তনে নিত্যযুক্ত, যে সর্বতোভাবে আপনার উপরই সম্পূর্ণভাবে নির্ভরশীল আর যে রামভক্তদের উপর বিশেষ প্রীতি ধারণ করে, তার হৃদয়ে আপনি সীতাদেবীর সহিত নিবাস করুন।জাতিধর্ম,ধনসম্পদ,খ্যাতি, প্রিয় পরিবার আর সুখভোগ্য আবাস, এই সকল পরিহার করে যে কেবল আপনাকেই চিত্তে ধারণ করে থাকে, হে রঘুনাথ!আপনি তার হৃদয়ে বাস করুন।যে সর্বত্র ধনুর্বাণধারী আপনাকে প্রত্যক্ষ করে স্বর্গ,নরক ও মোক্ষে সমজ্ঞান ধারণ করে আর আপনার সেবা পূজায় নিত্যযুক্ত থাকে আপনি তার হৃদয়ে আপনার নিবাসস্থান করুন। কামনা-বাসনা বিবর্জিত আপনার উপর স্বাভাবিক প্রীতি ধারণকারী ব্যক্তির মধ্যে আপনি নিবাস করুন ; তাই আপনার নিবাসস্থান হোক।এইভাবে মুনিবর বাল্মীকি শ্রীরামচন্দ্রকে তাঁর উত্তম নিবাসস্থানের খোঁজ দিলেন।তাঁর প্রেমময় কথাগুলি শ্রীরামের মনে প্রীতি সঞ্চার করল।অতঃপর মুনি বললেন,হে সূর্য্যকুল নায়ক!শুনুন।এইবার আমি বতর্মান পরিস্থিতিতে একটি সুখ স্বাচ্ছন্দযুক্ত আশ্রমের কথা বলছি। আপনার পক্ষে চিত্রকূট পর্বত অতি উত্তম নিবাসস্থান হবে। সেখানে আপনি সকল সুবিধা পাবেন। পর্বতমালা ও বনাঞ্চলে সেই স্থান অনুপম সৌন্দর্য্যশালী।সেটি হস্তী, সিংহ,মৃগ,পক্ষী আদির বিচরণ ভূমি বলেও পরিচিত।চিত্রকূটে অত্রি ঋষি ও তাঁর পত্নী অনুসূয়ার তপোবলে আনীত পবিত্র মন্দাকিনী নদী আপনি পাবেন।এই মন্দাকিনী সর্বপাপ হরণকারী রূপে পরিচিতা।চিত্রকূটে অত্রি আদি শ্রেষ্ঠ মুনিদের আশ্রম আছে। তাঁরা যোগ,জপ ও তপস্যায় শরীরপাতে নিত্যযুক্ত থাকেন।হে শ্রীরাম!চলুন সেইখানে।আপনি সেইখানে উপনীত হয়ে মুনিগণের তপস্যাকে সাফল্যমন্ডিত করুন আর পর্বতরাজ চিত্রকূটকে গৌরবান্বিত করুন।*
*🙏বানান ভুল ক্ষমা করবেন🙏*
*ক্রমশ*
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
꧁(১০৩) রামায়ণ 🙏 তুলসী দাস 🙏 দ্বিতীয় ভাগ ꧂
꧁ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ ꧂
এই লিংকে ⬇️⬇️⬇️🙏⬇️⬇️⬇️ ক্লিক করুন
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
*(১০৩)🌿তুলসী দাস রামায়ণ🌿*
*🍀চিত্রকূট পর্বতে উপস্থিত 🍀*
^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^
*🌻মহামুনি বাল্মীকি চিত্রকূটের অপার মহিমার কথা সবিস্তারে শ্রীপ্রভুকে বললেন।তখন সীতাদেবী সঙ্গে দুইভাই চিত্রকূট পর্বতে উপনীত হয়ে নদী শ্রেষ্ঠ মন্দাকিনীতে স্নান করলেন।শ্রীরাম বললেন, ভাই লক্ষ্মণ! এই জায়গাটি যে সুন্দর তাতে সন্দেহ নেই।এইবার একটা থাকবার জায়গা খুঁজে বাহির করা হোক।তখন লক্ষ্মণ পয়স্বিনী নদীর উত্তরে উচ্চ বেলাভূমির দিকে তাকিয়ে বললেন, ধনুকাকৃতি এক জলপ্রবাহ একে ঘিরে রেখেছে। নদী মন্দাকিনী সেই ধনুকের জ্যা এবং শম,দম,দান তার শরসকল।স্বয়ং চিত্রকূটই সেই অটল শিকারী যার যার কোন লক্ষ্য ভ্রষ্ট হয় না।সে সম্মুখ সমরে বধ করে থাকে।এইরকম কথা বলে লক্ষ্মণ জায়গাটি দেখলেন।জায়গাটি দেখে শ্রীরাম প্রসন্ন হলেন।লক্ষ্মণ ও সীতাকে নিয়ে রামচন্দ্র তৃণ ও পত্রদল দ্বারা নির্মিত কুটিরে অনুপম শোভার আধার হলেন।মনে হচ্ছিল যেন কন্দর্প মুনিবেশ ধারণ করে পত্নী রতি ও বসন্তঋতুকে নিয়ে শোভায়মান রয়েছেন।*
*🌼তখন সেই স্থানে দেবতা,কিন্নর,নাগ ও দিকপতিদের আগমন হল।চিত্রকূটে তাঁদের দেখতে পেয়ে রামচন্দ্র নরলীলা হেতু সকলকে প্রণাম নিবেদন করলেন।দেবতাগণ নয়ন সার্থক করে নরলীলায় যুক্ত শ্রীপ্রভুকে দর্শন করে ধন্য হলেন।পুষ্পবৃষ্টি করে দেব প্রতিনিধি নিবেদন করলেন, হে নাথ!আজ আপনার দর্শন লাভ করে,আমরা সনাথ হলাম। অতঃপর তাঁরা কাতরভাবে নিজেদের নিজেদের দুঃসহ দুঃখের কথা নিবেদন করলেন,আর দুঃখ সমাপনের আর বিলম্ব নেই জেনে প্রসন্ন হয়ে নিজ নিজ স্থানে গমন করলেন।শ্রীরঘুনন্দনের চিত্রকূটে আগমন হয়েছে শুনে বহু মুনি ঋষিগণের আগমন হল।রঘুকুলের চন্দ্র শ্রীরাম মুনিদের আসতে দেখে প্রসন্ন হলেন আর তাঁদের দন্ডবৎ প্রণাম নিবেদন করলেন।মুনিগণ এসে শ্রীরামকে বক্ষে নিলেন আর সাফল্য কামনা করে আশীর্বাদ দিলেন।সীতাদেবী, লক্ষ্মণ ও রামচন্দ্রের দর্শন লাভ করে তাঁরা বুঝলেন যে তাঁদের সাধনা সফল হয়েছে।তারপর বিদায় দান কালে শ্রীরাম মুনিদের যথাযোগ্য সম্মান প্রদর্শন করলেন।শ্রীরাম কাছেই আছেন জেনে মুনিগণ নিজ নিজ আশ্রমে নির্ভয়ে যোগ জপ তপস্যায় নিত্যযুক্ত হয়ে গেলেন। শ্রীরাচন্দ্রের সংবাদ যখন কোল-ভীলগণ পেল তারা এমন আনন্দ হল যেন তারা গৃহে বসেই অগাধ ধনসম্পত্তি লাভ হয়েছে।তারা অনেক অনেক কন্দ ও ফলমূল পত্রপাত্রে নিয়ে শ্রীরাম নিকটে চলল।তারা শ্রীরাচন্দ্রের সামনে এসে উপস্থিত হল ও রামচন্দ্রকে সম্ভুখে দেখে মুগ্ধ চিত্তে একদৃষ্টে একভাবে দাঁড়িয়ে রইল।প্রভু শ্রীরাম তাদের সকলকে প্রেমপ্রীতিতে পরিপূর্ণ দেখে প্রিয় সম্ভাষণ সহকারে সকলকে সম্মান প্রদর্শন করলেন।তারা বারে বারে শ্রীরামকে প্রণাম নিবেদন করে হাতজোড় করে বলল= হে নাথ!আপনাকে দর্শন করে আমরা কি আনন্দ পেয়েছি তা প্রকাশ করতে পারছি না।*
*🙌জয় শ্রীরাম🙌*
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
꧁(১০৪) রামায়ণ 🙏 তুলসী দাস 🙏 দ্বিতীয় ভাগ ꧂
꧁ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ ꧂
এই লিংকে ⬇️⬇️⬇️🙏⬇️⬇️⬇️ ক্লিক করুন
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
*(১০৪)🌿তুলসী দাস রামায়ণ🌿*
*🌻চিত্রকূটে বসবাস 🌻*
"""""""""""""""""""""""""""""""""""''''"
*🍀লক্ষ্মণ সর্বক্ষণ সীতারামের শ্রীচরণ প্রত্যক্ষ করে আনন্দে ছিলেন। তাঁদের তাঁর উপর বিশেষ প্রীতির কথা মনে করে স্বপ্নেও তাঁর পিতামাতা,ভ্রাতা ও গৃহের কথা মনে পড়ত না।শ্রীরামের সঙ্গে সীতাদেবীও সুখে সময় কাটাচ্ছিলেন।তাঁর তখন অযোধ্যাপুরী,আত্মীয়স্বজন, ঘরবাড়ির কথা মনেও পড়ত না।তিনি চকোরীসম শ্রীরামের চন্দ্রবদনের দিকে তাকিয়ে সতত প্রসন্নচিত্ত থাকতেন।স্বামীর প্রেম তাঁর উপর দিনে দিনে বৃদ্ধি পাচ্ছে দেখে সীতাদেবী আনন্দে বিভোর হয়ে থাকতেন, যেন তিনি দিবাকালের চকোরী।সীতাদেবীর মন শ্রীরাম চরণে অতিশয় অনুরক্ত থাকত তাই অরণ্য তখন তাঁর কাছে সহস্র অযোধ্যার চেয়েও প্রিয় ছিল।প্রিয়তম শ্রীরাম সঙ্গে থাকায় সীতাদেবীর পর্ণকুটীরও পরম প্রিয় মনে হত।সেখানকার মৃগ ও পাখীসকল তাঁর আত্মীয়স্বজনসম প্রিয় হয়ে গিয়েছিল।মুনিস্ত্রীদের তিনি শ্বশ্রূমাতার,শ্রেষ্ঠ মুনিদের শ্বশুরমহাশয়ের মর্য্যাদা দিতেন।কন্দ ফল-মূল আহারই তাঁর অমৃতসম লাগত।স্বামীদেবতা সঙ্গলাভে তাঁর কুশ ও পত্রদল নির্মিত শয্যা সহস্র কামদেবের শয্যাসম সুখপ্রদানকারী ছিল।যাঁর কৃপা কটাক্ষে জীব লোকপাল হয়ে যায়,তাঁকে ভোগ বিলাস কি কখনো মোহিত করতে পারে? যে প্রভু শ্রীরামকে স্মরণ করেই ভক্তজন সকল ভোগবিলাস তৃণবৎ ত্যাগ করে থাকেন সেই শ্রীরামের প্রিয়ভার্য্যা সীতাদেবীর এই ভোগবিলাস ত্যাগ আশ্চর্য্যের কথা কেন হবে?*
*🌼শ্রীরঘুনাথের কথা ও কাজে এক লক্ষ্য থাকত যে তাতে যেন সীতাদেবী ও লক্ষ্মণ সুখানুভূতি লাভ করেন।শ্রীভগবান পৌরাণিক কথা ও কাহিনী বলে তাঁদের মনোরঞ্জন করতেন।অযোধ্যার কথা মনে পড়লেই প্রভু শ্রীরাম অশ্রুসজল নয়ন হয়ে উঠতেন।পিতা-মাতা, আত্মীয়স্বজন, ভ্রাতা আর ভরতের প্রেম, সদাচার ও সেবাভাবের কথায় কৃপাসিন্ধু প্রভু শ্রীরাম দুঃখিত হয়ে পড়তেন কিন্তু সময় প্রতিকূল মনে করে তিনি সামলে নিতেন।শ্রীরামকে ব্যাকুল হতে দেখে সীতা ও লক্ষ্মণ ব্যাকুল হয়ে পড়তেন।ছায়া তো কায়াকে অনুসরণ করবেই।তখন ধীর,কৃপালু ও ভক্তহৃদয়ে শীতলতা প্রদানকারী চন্দনরূপ রঘুকুল বিনোদন শ্রীরাম প্রিয় পত্নী ও অনুজ লক্ষ্মণকে ব্যাকুল হতে দেখে তাঁদের কিছু পবিত্র কথা বলতে শুরু করতেন বা শ্রবণ করে লক্ষ্মণ ও সীতা সুখানুভূতি লাভ করতেন। চিত্রকূটের পর্ণকুটীরে লক্ষ্মণ ও সীতার সঙ্গে শ্রীরাম তখন পূর্ণ মহিমায় বিরাজমান থেকে পরম শোভমান। তাঁদের অমরাবতীর ইন্দ্র, শচী ও পুত্র জয়ন্ত সম আনন্দে বিরাজমান থাকতে দেখা যেত।*
*💐চক্ষুর পলকযুগল যেমনভাবে চক্ষুগোলোককে সযত্নে সতত আগলে রাখে, তেমনভাবেই শ্রীরামচন্দ্র,সীতাদেবী ও লক্ষ্মণকে সতত আগলে রাখতেন।এদিকে লক্ষ্মণ সীতা ও শ্রীরামকে অথবা লক্ষ্মণ ও সীতাদেবী শ্রীরামকে এমনভাবে সেবা করতেন যেন মনে হত যে কোনো অবিবেকী ব্যক্তি সতত নিজ দেহের পরিচর্য্যায় ব্যস্ত। এইভাবে পশুপক্ষী, দেবতা ও তপস্বীদের কল্যাণকারী প্রভু শ্রীরাম সুখে বনবাসে কালযাপন করতে লাগলেন।🙏তুলসীদাস বলেন, আমার সাধ্যানুসারে শ্রীরামের বনবাস গমনের অনুপম সুন্দর বিবরণ দিলাম।এইবার আমরা অযোধ্যায় গমন করব যেখানে মন্ত্রী সুমন্ত্র অতীব দুঃখ নিয়ে ফিরে এসেছেন।প্রভু শ্রীরামের কাছ থেকে বিদায় গ্রহণ করে নিষাদরাজ গুহক রথসহ মন্ত্রী সুমন্ত্রকে দেখল।মন্ত্রী সুমন্ত্রকে ব্যাকুল দেখে গুহকের যে কষ্ট হল তা বলে বোঝানো যাবে না। নিষাদরাজকে একা ফিরে আসতে দেখে মন্ত্রী সুমন্ত্র "হা রাম,হা রাম" হা সীতা, হা লক্ষ্মণ! বলে বিলাপ করতে করতে ব্যাকুল হয়ে ভূমিতে লুটিয়ে পড়লেন।রথের অশ্বগণ দক্ষিণ দিকে তাকিয়ে যে দিকে শ্রীরাম গমন করছিলেন, ডেকে উঠছিল।তারা যেন পাখা ছাড়া পাখী হয়ে পড়েছিল।*
*🌻জয় শ্রীরাম🌻*
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
꧁(১০৫) রামায়ণ 🙏 তুলসী দাস 🙏 দ্বিতীয় ভাগ ꧂
꧁ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ ꧂
এই লিংকে ⬇️⬇️⬇️🙏⬇️⬇️⬇️ ক্লিক করুন
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
*(১০৫)🌿তুলসী দাস রামায়ণ🌿*
*🌻চিত্রকূটে শ্রীরাম,লক্ষ্মণ ও সীতা🌻*
•••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••
*🌹অশ্বগণ জল-ঘাস খাওয়া ভুলে গিয়েছিল।তাদের চোখ দিয়ে অবিরাম অশ্রু বাহির হচ্ছিল।শ্রীরামের অশ্বগণের এই অবস্থা প্রত্যক্ষ করে নিষাদগণ ব্যাকুল হয়ে উঠল। কিছু পরে ধৈর্য্য ধরে নিষাদরাজ বলল,হে শ্রীসুমন্ত্র!বিষাদ পরিহার করুন।আপনি তো পন্ডিত ও পরমার্থ জ্ঞানসম্পন্ন ব্যক্তি। বিধাতা প্রতিকূল জেনে ধৈর্য্যধারণ তো করতেই হবে।নানা কথাবার্তা বলে,বুঝিয়ে শেষে প্রায় জোর করে নিশাদ মন্ত্রী সুমন্ত্রকে রথে তুলে দিল।সুমন্ত্র তখন এতই শোকাতুর যে তিনি রথ চালাতে পারছিলেন না। তাঁর অন্তরে যে তখন তীব্র শ্রীরামের বিরহ বেদনা। রথের অশ্বগণ কষ্ট ছটফট করছিল আর সঠিক পথে চলতে পারছিল না।তাদের দেখে মনে হচ্ছিল যেন বন্য খচ্চরাদিকে ধরে এনে রথ টানাবার কাজে নিযুক্ত করা হয়েছে।মন্ত্রী ও অশ্বগণকে বিধ্বস্ত দেখে নিষাদরাজ গুহক বিষাদগ্রস্ত হয়ে পড়ল।তখন সে সারথিকে সাহায্য করবার জন্য তার চারজন উত্তম সেবককে নিযুক্ত করল।নিষাদরাজ গুহক সুমন্ত্রকে যাত্রা আরম্ভ করিয়ে দিয়ে বিদায় নিল।তার বিরহ ও দুঃখের বর্ণনা দেওয়া কঠিন।গুহকের চারজন সেবক রথ নিয়ে অযোধ্যার দিকে যাত্রা করল।যখনই তাদের দৃষ্টি সুমন্ত্র ও রথের অশ্বগণের উপর পড়ছিল তারাও ক্ষণে ক্ষণে বিষাদগ্রস্ত হয়ে পড়ছিল।দুঃখে দীনহীন ও কাতর হয়ে সুমন্ত্র ভাবছেন যে রঘুনাথ বিহীন জীবন বেকার।এই অধম নরদেহ তো বিনষ্ট হবেই।রামচন্দ্রের বিরহে তাহলে তা বিনষ্ট হয়ে যশ অর্জন কেন করছে না!এই প্রাণ কেবল অপযশ আর পাপ কুড়োতে বসে রইল।এখনও প্রাণ কেন দেহ ত্যাগ করে যাচ্ছে না?ওরে মন্দ মন!তুই এক অতি উত্তম সময় হাতছাড়া করলি।এখনও হৃদয় দ্বিখন্ডিত হয়ে যাচ্ছে না কেন? সুমন্ত্র হাত কচলে মাথা চাপড়ে হা-হুতাশ করতে লাগলেন।তাঁকে দেখে মনে হচ্ছিল যেন কোনো এক কৃপণ তার সমস্ত মূলধন হারিয়ে বসে আছে অথবা যেন এক শৌর্য্যবীর্য্যসম্পন্ন উত্তম বীরযোদ্ধা রণক্ষেত্র ছেড়ে পলায়ন করে যাচ্ছে।*
*🍁সুমন্ত্রের অত্যধিক ব্যাকুলতায় বুদ্ধি বিভ্রান্ত হয়ে ছিল।তাঁর ওষ্ঠ শুষ্ক আর মুখ শুকিয়ে গিয়ে ছিল।প্রাণ দেহ ছেড়ে যেতে পারছিল না।কারণ তখনও তাঁর হৃদয়ে একটি ক্ষীণ আশা জাগ্রত ছিল যে বেঁচে থাকলে চতুর্দশ বৎসর পর আবার শ্রীভগবানের দর্শন লাভ হতে পারে।সুমন্ত্রের বদনমন্ডল তখন বিবর্ণ,তার দিকে তাকানো যাচ্ছিল না।তাঁকে দেখে মনে হচ্ছিল যেন তিনি মাতাপিতাকে হত্যা করে এসেছেন। রাম বিরহের গ্লানি তাঁর মনে তখন ছেয়ে ছিল যেন তিনি এক পাপী হয়ে নরকগমন চিন্তা করছেন।তখন তাঁর কথা বলার অবস্থায় ছিল না।অযোধ্যায় ফিরে তিনি কি দেখবেন,কি বলবেন সেই চিন্তায় ব্যাকুল হয়ে ছিলেন।*
*🙏বানান ভুল মার্জনীয়*
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
꧁(১০৬) রামায়ণ 🙏 তুলসী দাস 🙏 দ্বিতীয় ভাগ ꧂
꧁ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ ꧂
এই লিংকে ⬇️⬇️⬇️🙏⬇️⬇️⬇️ ক্লিক করুন
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
*(১০৬)🌿তুলসী দাস রামায়ণ🌿*
*🌻মন্ত্রী সুমন্ত্রের শ্রীরাম প্রেম🌻*
▪▪▪▪▪▪▪▪▪▪
*🌻অযোধ্যায় রথ ফিরে এলো, মন্ত্রী মনে মনে ভাবছেন,রথে যদি শ্রীরাম লক্ষ্মণ ও সীতাদেবীকে দেখতে না পান তাহলে প্রজাগণ আমাকে না জানি কি বলবে।প্রজাগণ ছুটে এসে শ্রীরামচন্দ্রের কথা শুধোবে তখন কি উত্তর দেব! যখন অতিশয় দুঃর্খাত জননীগণ জিজ্ঞাসা করবেন তখন হে বিধাতা!আমি তাঁদের কী উত্তর প্রদান করব? যখন লক্ষ্মণের জননী আমাকে জিজ্ঞাসা করবেন তখন আমি তাঁকে কোন সুখবর দেব?শ্রীরামের জননী যখন বৎসহারা প্রসূতি গাভীসম ছুটে এসে জিজ্ঞাসা করবেন তখন তাঁকে আমি কেমন করে বলব যে শ্রীরামচন্দ্র,শ্রীলক্ষ্মণ ও সীতাদেবী বনবাসে চলে গিয়েছেন!সকলের প্রশ্নের উত্তরে আমাকে সেই ভয়ানক দুঃসংবাদ দিয়ে যেতে হবে, হায়!অযোধ্যায় আমার জন্য এই সুখ অপেক্ষা করছিল! তখন দুঃখিত ভারাক্রান্ত মহারাজ স্বয়ং,যাঁর প্রাণ শ্রীরঘুনাথের দর্শন লাভের আশায় এখনও দেহ ছেড়ে যায়নি,আমাকে জিজ্ঞাসা করবেন তখন কোন মুখে আমি বলব যে আমি রাজকুমারদের সকুশলে বনবাসে পৌঁছে দিয়ে ফিরে এসেছি।শ্রীলক্ষ্মণ,সীতা ও শ্রীরামচন্দ্রের বনগমনের এই সংবাদ শ্রবণ করেই মহারাজ তৃণসম তুচ্ছ জ্ঞান করে প্রাণকে দেহমুক্ত করে দেবেন।*
*🍁প্রিয়তম শ্রীরাম রূপ জলের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন হতেই এই কর্দমসম আমার হৃদয় ফেটে চৌচির হয়ে গেল না।তাই আমি জানি যে বিধাতা আমাকে এই দেহ "যন্ত্রণাশরীর"দিয়েছেন পাপী জীবদের নরকে যন্ত্রণা ভোগের জন্য "যন্ত্রণাশরীর" দেওয়া হয়, যা কষ্ট ভোগ সম্পূর্ণ না হলে মরে না।সুমন্ত্র পথে এইরূপ বিলাপরত ছিলেন।রথ দ্রুতগতিতে তমসা নদীর তীরে পৌঁছল।মন্ত্রীমশায় সবিনয়ে তখন নিষাদগণকে বিদায় দিলেন।তারাও বিষাদগ্রস্ত হয়ে মন্ত্রী সুমন্ত্রের চরণে প্রণাম করে ফিরে গেল।সুমন্ত্র গ্লানি হেতু অযোধ্যায় প্রবেশ করতে সংকোচ বোধ করছিলেন যেন তিনি গুরু,ব্রাহ্মণ অথবা গোহত্যা করে এসেছেন।এক বৃক্ষতলে বসে তাঁর দিন কাটল।সন্ধ্যা আগমনে তিনি নগরে প্রবেশ করবার সুযোগ পেলেন। অন্ধকারে মুখ লুকিয়ে মন্ত্রী অযোধ্যায় প্রবেশ করলেন।রথকে রাজপ্রাসাদের দ্বারে রেখে তিনি নিঃশব্দে রাজপ্রাসাদে প্রবেশ করলেন। সংবাদ পেয়ে কিছু সংখ্যক প্রজা রাজপ্রাসাদের দ্বারে রথ দেখতে একত্রিত হল।মন্ত্রীমশায় একা ফিরেছেন দেখে অন্তঃপুর শোকসন্তপ্ত হয়ে পড়ল।সুমন্ত্র শুনলেন যে আর্তনাদ করতে করতে রাণীসকল প্রশ্ন করছেন। তিনি বাকশক্তিহীন হয়ে পড়েছিলেন।রাণীদের উত্তর দেবার ক্ষমতা হারিয়ে ফেলেছিলেন।*
*🙏বানান ভুল মার্জনীয়🙏*
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
꧁(১০৭) রামায়ণ 🙏 তুলসী দাস 🙏 দ্বিতীয় ভাগ ꧂
꧁ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ ꧂
এই লিংকে ⬇️⬇️⬇️🙏⬇️⬇️⬇️ ক্লিক করুন
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
*(১০৭)🌿তুলসী দাস রামায়ণ🌿*
*🌻মন্ত্রীর মানসিক অবস্থা 🌻*
^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^
*🌻মন্ত্রী সুমন্ত্রের এমন অবস্থা যে,তিনি কানেও শুনছিলেন না,চোখেও দেখতে পাচ্ছিলেন না, অতি কষ্টে তিনি যাকে পেলেন তাকেই শুধোলেন, বল, রাজামহাশয় এখন কোথায়?মন্ত্রীমহাশয়কে বিহ্বলচিত্ত দেখে দাসীগণ তাঁকে রাণী কৌশল্যার মহলে নিয়ে গেল।সুমন্ত্র দেখলেন মহারাজকে সুধা জ্যোৎস্না ছাড়া চন্দ্রসম লাগছিল।মহারাজ মলিন উদাস হয়ে ভূমিতে পড়ে ছিলেন।তাঁর আসন,শয্যা ও অলঙ্কার কিছুই ছিল না। তিনি ঘন ঘন নিঃশ্বাস ফেলে চিন্তা সাগরে মগ্ন হয়ে ছিলেন তাঁকে দেখে স্বর্গের অধিকার হারা যযাতির কথা মনে পড়ে যায়।ক্ষণে ক্ষণে মহারাজ দীর্ঘনিঃশ্বাস ফেলছিলেন।তাঁর অবস্থা তখন গৃধ্ররাজ জটায়ুর ভ্রাতা সম্পাতীর ডানা দগ্ধ হয়ে গিয়ে ভূমিতে পড়ে যাওয়া সম ছিল।মহারাজ বারে বারে রাম!রাম! হা প্রিয়তম রাম!বলেই যাচ্ছিলেন।আবার মাঝে মধ্যে হা রাম!হা লক্ষ্মণ! হা জানকী!বলছিলেন।তারপর মন্ত্রী সুমন্ত্র রাজামহাশয়কে দেখতে পেয়ে দন্ডবৎ প্রণাম নিবেদন করে বললেন, মহারাজের জয় হোক!মহারাজ দীর্ঘজীবী হন!মন্ত্রীর কন্ঠস্বর শুনেই ব্যাকুলচিত্ত হয়ে বললেন,সুমন্ত্র!বলো,শ্রীরাম কোথায়?*
*🙏তারপর মহারাজ সমন্ত্রকে বক্ষে জড়িয়ে ধরলেন, এবং সস্নেহে কাছে বসিয়ে সজল নয়নে মহারাজ জিজ্ঞাসা করলেন,হে আমার প্রিয় সখা!শ্রীরামের কুশল বার্তা বলো।শ্রীরাম,লক্ষ্মণ ও সীতা এখন কোথায়? তাদের ফিরিয়ে আনতে পারলে, না তারা বনবাসেই চলে গেল? রাজার প্রশ্নগুলি শুনে সুমন্ত্রের নয়নযুগল অশ্রুপূর্ণ হয়ে উঠিল।শোকাকুল রাজা আবার জিজ্ঞাসা করলেন-- আরে!সীতা,রাম ও লক্ষ্মণের বার্তা তো বলো?তখনও মহারাজ শ্রীরামের রূপ,গুণ,সদাচার ও স্বভাবের কথা স্মরণ করে বিভোর ছিলেন। তিনি আবার বলতে লাগলেন, আমি রাজা করে দেবার কথা দিয়ে তাকে যখন বনবাসে দিলাম তখন তার মুখ হর্ষ বা বিষাদ কিছুই দেখলাম না, এমন পুত্রের সঙ্গে বিচ্ছেদের পরেও আমার প্রাণ দেহ ছেড়ে গেল না।আমার মত পাপিষ্ঠ বোধহয় আর কেউ নেই।*
*🌺হে সখা!শ্রীরাম,জানকী ও লক্ষ্মণ যেখানে আছে আমাকেও সেইখানে নিয়ে চলো।নয়তো,এইবার বোধহয় আমার প্রাণ দেহ ছেড়ে যাবার জন্য প্রস্তুতি হচ্ছে। মহারাজ বারে বারে মন্ত্রীকে বলতে লাগলেন আমার প্রিয়তম পুত্রদের কথা তো বলো, হে সখা! তুমি এখনই ব্যবস্থা কর যাতে আমি শ্রীরাম,লক্ষ্মণ ও সীতাকে নয়নে দেখতে পাই।তাদের দেখবার জন্য আমার মন বড়ই উতলা হয়েছে। মন্ত্রী ধৈর্য্যধারণ করে সবিনয়ে বললেন, হে মহারাজ!আপনি তো জ্ঞানী ও পন্ডিত। হে দেব!আপনি শৌর্য্য বীর্য্যসম্পন্ন ও উত্তম ধৈর্যবান ব্যক্তিত্ব। আপনি সতত সাধু সেবনে তৎপর ছিলেন।জন্ম-মৃত্যু,সুখ-দুঃখ,লাভ-ক্ষতি, প্রিয়দের সঙ্গে মিলন-বিচ্ছেদ এই সব হে প্রভু!কাল ও কর্মের অধীন থেকে রাত্রি ও দিনসম চক্রাকারে ঘটতেই থাকে।মূর্খগণ সুখে আনন্দিত ও দুঃখে কাতর হয়ে থাকে কিন্তু ধীর ব্যক্তি তা সমান জ্ঞান করে থাকেন। হে সকলের হিতাকাঙ্খী মহারাজ!বিবেক বিচার করে ধৈর্য্য ধারণ করুন।মহারাজ!শোক পরিহার করুন।*
*🍁শ্রীরামের অবস্থানের প্রথম ও দ্বিতীয় দিন যথাক্রমে তমসা ও গঙ্গানদীর তীরে কেটেছে।সীতাদেবীর সঙ্গে ভ্রাতৃযুগল স্নান করে জল পান করে কাটিয়েছেন। কেবট(নিষাদরাজ) তাঁদের খুব সেবা করেছেন।সেই রাত্রি তাঁদের শৃঙ্গবপুরে কেটেছিল। দ্বিতীয় দিন প্রভাতে বটের আঠা আনলেন আর তা দিয়ে দুইভাই মস্তকে জটাজুটের কিরীট তৈরী করে নিলেন।*
*🙏🙏বানান ভুল মার্জনীয়🙏🙏*
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
꧁(১০৮) রামায়ণ 🙏 তুলসী দাস 🙏 দ্বিতীয় ভাগ ꧂
꧁ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ ꧂
এই লিংকে ⬇️⬇️⬇️🙏⬇️⬇️⬇️ ক্লিক করুন
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
*(১০৮)🌿তুলসী দাস রামায়ণ🌿*
*🍀মন্ত্রী সুমন্ত্রের বনের বিবরণ🍀*
~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~
*🌹অতঃপর শ্রীরামসখা নিষাদরাজ গুহক একটি নৌকার ব্যবস্থা করলেন।প্রথমে সীতাদেবী উঠলেন তারপর শ্রীরাম স্বয়ং উঠিলেন। এদিকে লক্ষ্মণ ধনুর্বাণাদি সুরক্ষিত রেখে অগ্রজের অনুমতি নিয়ে নৌকায় উঠলেন।আমাকে অতিশয় ব্যাকুল হতে দেখে শ্রীরাম ধৈর্য্য ধারণ করে মৃদু স্বরে বললেন, হে তাত!পিতাকে আমার প্রণাম দেবেন আর আমার হয়ে বারে বারে তাঁর শ্রীপাদপদ্ম ধারণ করে সবিনয় বলবেন, হে পিতৃদেব! আপনি আমার জন্য একটুও চিন্তা করবেন না। আপনার কৃপায়, অনুগ্রহে ও পুণ্যে বনে ও পথে আমাদের মঙ্গল হবে। হে পিতৃদেব! আপনার অনুগ্রহে আমি বনেও সর্বপ্রকারের সুখ পেতেই থাকব আর শেষে আপনার আদেশ উত্তমরূপে পালন করে আপনার শ্রীচরণ দর্শন করবার জন্য নির্বিঘ্নে ফিরে আসব। মাতাদের চরণে আমার শতকোটি প্রণাম।(তুলসীদাস বলছেন যে শ্রীরামচন্দ্র আরো বললেন, আপনার সতত এই চেষ্টা থাকবে যাতে পিতৃদেব কৌশলরাজ কুশলে থাকেন।)গুরুদেব বশিষ্ঠদেবের শ্রীপাদপদ্মে দন্ডবৎ প্রণাম আর একটি বিশেষ অনুরোধ নিবেদন করবেন, কৌশলরাজ পিতৃদেবকে এমনই উপদেশ দেবেন যাতে তিনি আমার চিন্তা যেন না করেন।*
*🌼হে তাত!প্রজাদের ও আত্মীয়স্বজনদের আমার হয়ে সবিনয়ে অনুরোধ করবেন ; আমার সর্বশ্রেষ্ঠ মঙ্গলাকাঙ্খী সেই-ই যে মহারাজ সতত সূখী রাখবার চেষ্টায় নিত্যযুক্ত থাকবে।ভরত ফিরে এলে আমার বার্তা তাকে দেবেন, রাজপদ লাভ করেও নীতিতে অবিচল থাকতে হবে ; কায়মনোবাক্যে প্রজাদের পালন করবে আর সকল মাতাদের সমান মর্য্যাদা দান করে সেবা করবে। হে ভ্রাতা!পিতা,মাতা ও স্বজনদের সেবা করে ভ্রাতৃত্ব বোধকে শেষ পর্যন্ত নির্বাহ করে যাবে।হে তাত!রাজাকে (পিতৃদেবকে) এমন ভাবে রাখবে যাতে তিনি যেন কখনো কোনো ভাবে আমার জন্য চিন্তিত না হয়ে পড়েন। শ্রীলক্ষ্মণ একটু কঠোর কথা বলে ফেলেছিলেন কিন্তু শ্রীরাম তাঁকে বিরত করে আমাকে দিয়ে বারে বারে শপথ করিয়ে বললেন যেন আমি লক্ষ্মণের ছেলেমানুষীর কথা বলে না ফেলি। সীতাদেবীও প্রণাম করে কিছু বলতে শুরু করেছিলেন কিন্তু ভাবাতিশয্যে তা বলতে পারেননি। তাঁর বাক্যরোধ হয়ে গিয়েছিল,নয়নযুগল সজল হয়ে উঠেছিল আর অঙ্গে রোমাঞ্চ অনুভূতি দেখা গিয়েছিল।*
*🙌জয় শ্রীরামচন্দ্রের জয়🙌*
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
꧁(১০৯) রামায়ণ 🙏 তুলসী দাস 🙏 দ্বিতীয় ভাগ ꧂
꧁ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ ꧂
এই লিংকে ⬇️⬇️⬇️🙏⬇️⬇️⬇️ ক্লিক করুন
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
*(১০৯)🌿তুলসী দাস রামায়ণ🌿*
*🌻মন্ত্রী সুমন্ত্রের কথন🌻*
^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^
*🌻তখনই শ্রীরঘুবীরের মনোভাব বুঝে কেবট(কৈবর্ত বা জেলে)ওপারে যাবার জন্য নৌকা ছেড়ে দিল।এইভাবে রঘুকুলতিলক শ্রীরাম চলে গেলেন ; আমি বুকে বজ্র(পাথর) রেখে দাঁড়িয়ে তা দেখতে থাকলাম।জীবিত থেকে শ্রীরামচন্দ্রের এই বার্তা নিয়ে ফিরে আসা যে আমার পক্ষে কত কষ্টকর ছিল,তা সহজেই বুঝতে পারছেন।মন্ত্রী আর কিছু বলতে সক্ষম হলেন না।সারথি সুমন্ত্রর কথা শুনেই মহারাজ ভূমিতে লুটিয়ে পড়লেন।তাঁর বক্ষে তখন অতি ভয়ানক প্রদাহ।ব্যাকুল চিত্তে তিনি ছটফট করতে লাগলেন।তাঁর অবস্থা বর্ষার প্রথম জলের স্পর্শ লাভ করা মৎস্য সম হল।রাণীগণ বিলাপ করতে করতে রোদনাকুল হয়ে পড়লেন।সেই সমস্যা বর্ণনাতীত জটিল হয়ে পড়েছিল।বিলাপ বচন সব এত করুণ অবস্থা সৃষ্টি করেছিল যে তা দেখে দুঃখও দুঃখিত হয় আর ধৈর্য্যের ধৈর্য্যচ্যুতি ঘটে।*
*🍀মহারাজের অন্তঃপুরের রোদন ও বিলাপ ধ্বনি অযোধ্যা নগরকে শোকাকুল করে দিল।মনে হচ্ছিল যেন,বিশাল পক্ষী সমাবেশের উপর রাত্রিকালে হঠাৎ ভয়াবহ বজ্রপাত হয়েছে। মহারাজের প্রাণ প্রায় তখন কন্ঠাগত হয়ে গেল।তিনি মণিহারা ফণীসম ব্যাকুল হয়ে পড়লেন।তাঁর ইন্দ্রিয় সমুদয় একে একে নিঃস্তব্ধ হতে লাগল,তাঁর অবস্থা তখন জলবিহীন জলাশয়ের কমলবনসম। মহারাণী কৌশল্যা যখন দেখলেন যে মহারাজ দুঃখে অত্যন্ত কাতর হয়ে পড়েছেন, তিনি বুঝতে পারলেন যে সূর্য্যবংশের সূর্য্য অস্তাচলে গমন করতে উদ্যত হয়েছেন। তখন রামজননী কৌশল্যা চিত্তে ধৈর্য্য ধরে সময়ানুকুল কথা বললেন। তিনি বললেন,হে নাথ!ভেবে দেখুন, শ্রীরামের সাময়িক বিচ্ছেদ এক সাগর।সেই অপার সমুদ্রে অযোধ্যা একটি জাহাজ যা কর্ণধাররূপে আপনার নিয়ন্ত্রাধীন।প্রিয়জন সকল আত্মীয়স্বজন ও প্রজাকুল যাত্রীরূপে সে জাহাজে আরূঢ়।আপনি ধৈর্য্য ধারণ করলে সকলেই সে দুস্তর সাগর লঙ্ঘন করতে সমর্থ হবে, অন্যথায় সকলেই ডুবে মরবে। হে প্রিয় পতিদেবতা আমার!আমার মিনতি শুনে ধৈর্য্য ধারণ করুন তাহলেই আবার একদিন আমরা রাম লক্ষ্মণ ও সীতাকে কাছে পাব।*
*🌹প্রিয় রাণী কৌশল্যার কোমল কথা শুনে মহারাজ চোখ খুলে দেখলেন।ছটফট করা মৎস্যের উপর যেন ঠাণ্ডা জলের ছিটে দেওয়া হল। ধৈর্য্য ধরে মহারাজ উঠে বসলেন আর বললেন, সমুদ্র!বল।কৃপালু শ্রীরাম কোথায়?লক্ষ্মণ কোথায়? আমার প্রিয় পুত্রবধূ সীতা কোথায়?মহারাজ ব্যাকুল হয়ে নানারূপ খেদোক্তি করতেই থাকলেন। রাত্রি যুগসম দীর্ঘ মনে হতে লাগল।তা যেন আর শেষ হতে চাইছিল না।তখন মহারাজের অন্ধমুনি (শ্রবণকুমারের পিতা) অভিশাপের কথা মনে পড়ল। তিনি তখন সেই কাহিনী সবিস্তারে কৌশল্যাকে বললেন। সেই ঘটনা বর্ণনা করে রাজামহাশয় ব্যাকুল হয়ে উঠলেন আর বললেন ধিক সে জীবন যা আমায় প্রেমপ্রীতির বন্ধনকে স্বীকার করে না।!শ্রীরাম ছাড়া জীবন যাপনে আমাকে ধিক! আমি আর এই দেহ রেখে কি করব?হা রঘুকুলকে আনন্দ প্রদানকারী আমার প্রাণপ্রীয় রাম!তোমায় ছেড়ে অনেকদিন কেটে গেল।হা জানকী!হা লক্ষ্মণ! হা রঘুবর! হা পিতার চিত্তরূপ চাতকের হিতাকাঙ্খী মেঘ।*
🌿🌿🌿🌿🌿🌿🌿🌿🌿🌿🌿🌿🌿
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
꧁(১১০) রামায়ণ 🙏 তুলসী দাস 🙏 দ্বিতীয় ভাগ ꧂
꧁ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ ꧂
এই লিংকে ⬇️⬇️⬇️🙏⬇️⬇️⬇️ ক্লিক করুন
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
*(১১০)🌿তুলসী দাস রামায়ণ🌿*
*🌻ভরতকে আনার জন্য বশিষ্ঠমুনি দ্বারা দূত প্রেরণ🌻*
▪▪▪▪▪▪▪▪▪▪▪▪▪▪
*🌻বারে বারে রামনাম উচ্চারণ করতে করতে মহারাজ দশরথ রাম বিরহে দেহত্যাগ কর অমৃতলোকে গমন করলেন।🍀*
*🌺রাজা দশরথের জন্ম ও মৃত্যুর ফল লাভ হল।তাঁর নির্মল যশোগান সকল ব্রহ্মান্ডে পরিব্যাপ্ত হল।তিনি জীবিত অবস্থায় শ্রীরামচন্দ্রের চন্দ্রবদন দেখে আর মৃত্যুতে শ্রীরামচন্দ্রের বিরহকে সৌন্দর্যময় করলেন।শোকাতুর রাণীগণ ব্যাকুল হয়ে রোদন করতে লাগলেন। তাঃরা রাজার রূপ,সদাচার,বল ও বীর্য্যেরবর্ণনা করে বিলাপ করতে থাকলেন আর বারে বারে ভূমিতে লুটিয়ে পড়তে থাকলেন।দাসদাসীগণ ব্যাকুল হয়ে বিলাপ করতে লাগলেন।প্রজাগণ ঘরে ঘরে কাঁদতে লাগল।তারা বলল,ধর্মের পরাকাষ্ঠা,রূপ ও গুণের আধার সূর্য্যবংশের সূর্য্য অস্তমিত হলেন।সকলেই কৈকেয়ীর উদ্দেশ্যে কটুকথা বলতে লাগল।তারা বলল,কৈকেয়ী ভুবন সকলকে নেত্রহীন করল।সকালবেলা জ্ঞানী মহামুনিদের আগমন হল।তখন মহামুনি বশিষ্ঠদেব সময়ানুকূল বহু ইতিহাসের বিবরণ দিয়ে সকলের শোক নিবারণ করলেন।মহামুনি বশিষ্ঠদেব নৌকাতে তেল পূর্ণ করে রাজার দেহ তাতে সংরক্ষণ করে রাখলেন।অতঃপর তিনি দূতদের ডেকে বললেন,তোমরা প্রস্তুত হয়ে এখনই ছুটে ভরতের কাছে যাও।রাজার মৃত্যু সংবাদ যেন কেউ জানতে না পারে।সেখানে গমন করে ভরতকে শুধু এইটুকু বলবে ; গুরুদেব তোমাদের দুইভাইকে ডেকে পাঠিয়েছেন।এবারে মুনির আদেশ পেয়ে দূত ছুটে গেল। এদিকে অযোধ্যায় অনর্থ ঘটে গেল আর মাতুলালয়ে শ্রীভরত চতুর্দিকে অমঙ্গলের চিহ্ন দেখতে লাগলেন।নিদ্রাকালে তিনি ভয়ানক দুঃস্বপ্ন দেখতেন আর জেগে উঠে সেই স্বপ্ন হেতু অসংখ্য দুশ্চিন্তায় পরিপূর্ণ হতেন।অনিষ্ট দূর করবার জন্য তিনি প্রতিদিন ব্রাহ্মণ ভোজন করিয়ে তাঁদের দানাদি করতেন। তিনি বহু বিধি পালন করে রুদ্রাভিষেক করতেন আর মহাদেবকে স্মরণ করে তাঁর কাছে পিতামাতা, আত্মীয়স্বজন ও ভ্রাতাদের কুশল ক্ষেম প্রার্থনা করতেন।ভরত এইভাবে চিন্তায় দিন অতিবাহিত করছিলেন।তখনই অযোধ্যার দূত এসে তাঁকে গুরুদেবের আদেশবার্তা দিল।তিনি তখনই ভ্রাতাসহ গণপতিকে স্মরণ করে অযোধ্যা অভিমুখে যাত্রা করলেন। বায়ুসম দ্রুতগতিতে অশ্বগণ রথকে অযোধ্যার দিকে নিয়ে চলল।ভ্রাতৃযুগল পথের নদী,পর্বতমালা ও বনাঞ্চল লঙ্ঘন করে এগিয়ে যেতে লাগলেন।ভরতের কিছুই যেন ভাল লাগছিল না। তিনি আরো তাড়াতাড়ি যেতে পারলে খুশী হতেন।মুহূর্ত্য বৎসর সম কাটছিল।রথ নগরের উপকন্ঠে উপস্থিত হল।নগরে প্রবেশকালে অমঙ্গল সূচক চিহ্ন দেখা যেতে লাগল। বায়স সব জায়গায় জায়গায় জটলা করে কর্কশভাবে ডাকছিল।গাধা শিয়াল সবাই প্রতিকূল আচরণ করছিল।তাদের অবস্থা দেখে ভরতের মন আতঙ্কিত হয়ে উঠতে লাগল। অযোধ্যার সরোবর,নদী,অরণ্য,উদ্যান সবই যেন তাঁর শ্রীহীন লাগছিল।অযোধ্যাকে তাঁর স্বাভাবিক বলে মনে হচ্ছিল না। রামচন্দ্র বিরহে ক্সিষ্ট পশু-পক্ষী অশ্ব গজ সকলকে ভয়ানক দুঃখিত মনে হচ্ছিল আর তাদের দিকে তাকানো যাচ্ছিল না।নরনারী নির্বিশেষে অযোধ্যায় প্রজাগণ সকলেই অতীব দুঃখিত বলে মনে হচ্ছিল যেন তারাসকল সম্পদহারা হয়েছে।*
😪😪😪😪😪😪😪😪😪😪😪😪😪
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
꧁(১১১) রামায়ণ 🙏 তুলসী দাস 🙏 দ্বিতীয় ভাগ ꧂
꧁ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ ꧂
এই লিংকে ⬇️⬇️⬇️🙏⬇️⬇️⬇️ ক্লিক করুন
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
*(১১১)🌿তুলসী দাস রামায়ণ🌿*
*🍀ভরতকে আনার জন্য বশিষ্ঠদেব দ্বারা দূত প্রেরণ🍀*
°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°
*🌻পথে প্রজাদের সঙ্গে দেখা হল কেউ কিছু বলল না।তারা চুপচাপ নমস্কার করে চলে গেল।ভরতের মনে তখন ভয় ও বিষাদ ঘিরে ছিল।তাই তিনি কাউকে কোন কথা জিজ্ঞাসা করতে ভরসা পেলেন না। পথ সবই শুষ্ক লাগছিল।সেদিকে তাকানো যাচ্ছিল না।সবদিকে যেন দাবানলের স্পর্শ ছিল। পুত্র আসছে শুনে সূর্য্যবংশ কমলের জন্য জ্যোৎস্নারূপ রাণী কৈকেয়ী অত্যন্ত আনন্দিত হলেন।সন্তানকে বরণ করে নেওয়ার জন্য রাণী কৈকেয়ী দ্বারে ছুটে গেলেন।দুইভাইকে দরজায় আধ্যায়ন করে তিনি তাদের নিজের মহলে নিয়ে এলেন।ভরত পরিবারকে দুঃখিত দেখলেন ; যেন কমলবনে হিম পড়েছে। একমাত্র রাণী কৈকেয়ী শুধু ব্যতিক্রম,যেন কিরাত রমণী অরণ্যে অগ্নি সংযোগ করে আনন্দ করছে।পুত্রকে চিন্তিত ও বিষাদগ্রস্ত দেখে তিনি জিজ্ঞাসা করলেন, আমার পিতা মাতা সকলে ভাল আছে তো? ভরত তখন সেখানকার সমাচার দিলেন। অতঃপর তিনি অযোধ্যার কথা জানতে চাইলেন।ভরত বললেন, পিতৃদেব কোথায়?অন্য মাতাগণ কোথায়?সীতা আর আমার রাম-লক্ষ্মণ ভাই দুইজন কোথায়?*
*🍀পুত্রের স্নেহময় প্রশ্নাদি শুনে নয়নে কপটাশ্রু পূর্ণ করে পাপিষ্ঠা কৈকেয়ী সেই সকল কথা বললেন যা ভরতের কান ও মনকে শূল সম বিদ্ধ করল। তিনি বললেন,হে তাত!আমি সকল কাজেই সাফল্য পেয়েছি।কেবল বেচারি মন্থরা আমার সাহায্যে ছিল।মধ্যে বিধাতা একটু গোলমাল করে দিলেন আর রাজামহাশয় পরলোকগমন করলেন।এইকথা শুনেই ভরত বিষাদে যেন বিহ্বল হয়ে পড়লেন। যেন সিংহের গর্জন শুনে হাতি ভয় পেয়ে গেল।তিনি "পিতা, পিতা, হা পিতা" বলে অত্যন্ত ব্যাকুল হয়ে ভূমিতে পড়ে গেলেন। ভরত বিলাপ করতে লাগলেন, আর হে পিতা! মৃত্যুকালে আপনাকে দেখতেও পেলাম না। হায়! আপনি যাবার সময়ে আমাকে শ্রীরামের হাতে তুলে দিয়েও গেলেন না। অল্পক্ষণের মধ্যেই তিনি নিজেকে সামলে নিয়ে জিজ্ঞাসা করলেন,মা!পিতার হঠাৎ মৃত্যুর কারণটা বলো।পুত্র জানতে চাইছে দেখে কৈকেয়ী বলতে লাগলেন।তিনি যেন মর্মস্থান কেটে তাতে বিষ প্রয়োগ করে দিলেন। কুটিলা কঠোর কৈকেয়ী হাসিমুখে আদ্যোপান্ত কৃতকার্য্যের বিবরণ দিলেন।*
*☘রামচন্দ্রের বনবাসে গমনের কথা ভরতকে পিতার মৃত্যুর কথাও বিস্মরণ করাল।সকল অশান্তির মূলে তাঁর নাম জড়িত জেনে তিনি মৌন ও হতবাক হয়ে বসে থাকলেন। পুত্র সামনে ব্যাকুল হয়ে বসে কৈকেয়ী তাকে বোঝাতে তৎপর হলেন যা কাটা ঘায়ে নুনের ছিটে দেবার মতন হল।তিনি বললেন,হে তাত! পিতার মৃত্যুতে কী চিন্তার কারণ আছে? তিনি তো সুকৃতি ও যশ অর্জন করে প্রচুর ভোগ করেই গিয়েছেন। তিনি বেঁচে থাকতেই জন্মের সকল ফল লাভ করেছেন আর অবশেষে স্বর্গারোহণ করেছেন।তাই তাঁর জন্য শোকের কি প্রয়োজন? এইবার শোক ভুলে প্রজাপালন করে রাজ্যসুখ ভোগ করো। রাজকুমার ভরত এইবার ভয়ানক ভয় পেয়ে গেলেন। যেন পাকা ঘায়ে জ্বলন্ত অঙ্গার স্পর্শ হল।তিনি এইবার ধৈর্য্য ধরে গভীর নিশ্বাস নিয়ে বললেন, ওরে পাপিষ্ঠা!তুই সব দিক দিয়ে বংশের সর্বনাশ ডেকে আনলি! হায়! যদি তোর এইরকম অতি জঘন্য অভিরুচি ছিল, তুই তাহলে জন্মগ্রহণ করতেই আমাকে মেরে ফেললি না কেন? তুই গাছ কেটে পাতায় জল ঢালছিস!মাছকে রক্ষা করবার জন্য তারই জল তুলে ফেলে দিচ্ছিস। অর্থ্যাৎ আমার ভাল করতে গিয়ে আমার খারাপ করছিস।*
*🙏বানান ভুল মার্জনীয়🙏*
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
꧁(১১২) রামায়ণ 🙏 তুলসী দাস 🙏 দ্বিতীয় ভাগ ꧂
꧁ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ ꧂
এই লিংকে ⬇️⬇️⬇️🙏⬇️⬇️⬇️ ক্লিক করুন
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
*(১১২)🌿তুলসী দাস রামায়ণ🌿*
*ভরত-কৌশল্যা সংবাদ এবং দশরথের অন্ত্যেষ্টি ক্রিয়া*
•••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••
*🌻আমি সূর্য্যবংশ সমবংশ, রাজা দশরথ পিতা ও রাম লক্ষ্মণ সম ভ্রাতা লাভ করলাম। কিন্তু হে জননী! আমার জন্মদাত্রী শেষকালে পাপিষ্ঠা তুই হইলি? কি আর বলব! বিধাতার বিধান তো আর বদল করা যায় না। ওরে কুমতি!তোর মনে যখন এই দুরভিসন্ধি জাগল তখনই তোর হৃদয় কেন ছিন্নভিন্ন হয়ে গেল না?বর চাইবার সময়ে তোর একটুও কষ্ট হল না?জিভ খসে পড়ল না?রাজা তোকে বিশ্বাস কেমন করে করলেন?বুঝি বা মৃত্যু সমাগত দেখে বিধাতা তাঁর বুদ্ধি বৈকল্য ঘটিয়েছিলেন।নারী তো সকল কপট,পাপ ও দুষ্টবুদ্ধির ভান্ডার।তার গতি প্রকৃতির চরিত্র বিধাতারও অজানা।আর রাজাও ছিলেন সহজ সরল সদাচারী ও ধর্ম পরায়ণ।তিনি দুরূহ নারীচরিত্রের গতি-প্রকৃতি জানবেন কেমন করে?জীবজন্তুদের জগতে এমন কেউ আছে যে শ্রীরঘুনাথকে প্রাণসম ভালবাসে না? এমন শ্রীরামচন্দ্রকেও তোর শত্রু মনে হল?তুই কে?আমাকে সত্য বল!তুই যা তাই থাক।এখন মুখে কালি লেপন করে আমার সম্মুখ থেকে দূর হয়ে যা। তোর মত রামবিদ্বেষীর থেকে বিধাতা আমায় সৃষ্টি করলেন!অথবা আমি যে রামবিদ্বেষী তা বিধাতা প্রমাণ করে দিলেন!আমার সম পাপী জগতে আর নাই!তোকে আমি শুধু শুধু দায়ী করছি।কৈকেয়ী মাতার কু-অভিসন্ধি শত্রুঘ্নকে উত্তপ্ত করে তুলল ; তাঁর অঙ্গে যেন অগ্নিসংযোগ হয়ে গেল। কিন্তু তাঁর তখন কিছুই করবার উপায় নেই।এমন সময়ে উত্তম বস্ত্রালঙ্কারে সুসজ্জিতা কুব্জার (মন্থরার) উপস্থিত হল।তাকে উৎসব বেশে দেখে শত্রুঘ্ন ক্রোধে ফেটে পড়লেন। জ্জলন্ত অগ্নিতে যেন ঘৃতাহুতি পড়ল। তিনি তার কুঁজে এক প্রচণ্ড পদাঘাত করলেন। সে চিৎকার করে মুখ থুবড়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়ল।তার কুঁজ ভাঙল,মাথা ফাটল,দাঁত চূর্ণবিচূর্ণ হল আর মুখ দিয়ে রক্তক্ষরণ হতে লাগল।কুব্জা ব্যথায় ব্যথিত হয়ে বলল, হায় ভগবান!আমি আবার কি করলাম? ভালো করতে গিয়ে এই ব্যবহার কপালে জুটল। আপাদমস্তক দুষ্ট মন্থরার এই কথা শুনে শত্রুঘ্ন তার মাথার চুল ধরে টেনে নিয়ে যেতে লাগলেন।তখন দয়ানিধি ভরত ছুটে এসে তাকে তাঁর হাত থেকে মুক্ত করলেন। অতঃপর ভ্রাতৃযুগল তড়িঘড়ি মাতা কৌশল্যার কাছে ছুটে গেলেন। রাণী কৌশল্যাদেবী মলিন বসন পরিধান করে ছিলেন।দুঃখভার তাঁকে বিবর্ণ ও কৃশদেহ করে দিয়েছিল।তাঁকে দেখে মনে হচ্ছিল যেন সুবর্ণবর্ণ কল্পদ্রুম অরণ্যে হিমপাত হয়েছে। ভরতকে আসতে দেখে মাতা কৌশল্যা উঠতে গেলেন কিন্তু মাথা ঘুরে পড়ে গেলেন। তাঁর খারাপ অবস্থা দেখে ভরত ব্যাকুল হলেন আর তাঁর চরণে প্রণাম করলেন।অতঃপর ভরত বললেন, মা আমার!পিতৃদেব কোথায়?তাঁর কাছে যাব। সীতাদেবী ও আমার রাম-লক্ষ্মণ ভ্রাতৃযুগল কোথায়?তাঁদের কাছে যাব। জগতে কৈকেয়ীর জন্ম হল কেন?যদিবা জন্মিল তো বন্ধ্যা হল না কেন? সেই কুলকলঙ্কিনী, অযশস্কর প্রিয়জনবিদ্বেষী কৈকেয়ী আমার গর্ভধারিণী! আমার মত হতভাগ্য ত্রিভুবনে বিরল! মা আমার!সেই তোমার এই অবস্থার জন্য দায়ী। জানতে পারলাম,পিতৃদেব স্বর্গগত আর শ্রীরঘুবীর অরণ্যে! সকল গোলমালের মূলে কেতুসম আমি!ধিক্ আমাকে। আমি বাঁশবনে অগ্নি হয়ে দুঃসহ জ্বালা, দুঃখ ও দোষের ভাগী হলাম।ভরতের সহজ সরল কথা শুনে মা কৌশল্যা নিজেকে স্থির করে নিয়ে উঠে বসলেন।তিনি ভরতকে বক্ষে জড়িয়ে ধরলেন। তাঁর নয়নদ্বয়ে বারিধারা পড়তে লাগল।*
*🙏তুলসীদাস রামায়ণে ভাষার কিছু তারতম্য রয়েছে, বুঝে নেবেন।*
🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
꧁(১১৩) রামায়ণ 🙏 তুলসী দাস 🙏 দ্বিতীয় ভাগ ꧂
꧁ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ ꧂
এই লিংকে ⬇️⬇️⬇️🙏⬇️⬇️⬇️ ক্লিক করুন
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
*(১১৩)🌿তুলসী দাস রামায়ণ🌿*
*🍀বশিষ্ঠ-ভরত সংবাদ,রামকে ফিরিয়ে আনার জন্য চিত্রকূট যাওয়ার প্রস্তুতি🍀*
••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••
*🌻সহজ সরল মাতা কৌশল্যাদেবী সস্নেহে ভরতকে কোলে টেনে নিলেন।মনে হল যেন স্বয়ং রামচন্দ্র ফিরে এসেছেন।অতঃপর তিনি লক্ষ্মণের অনুজ শত্রুঘ্নকেও বক্ষে টেনে নিলেন।মাতৃহৃদয়ের শোক ও স্নেহ তাঁর হৃদয় থেকে উপচে পড়ছিল।মহারাণী কৌশল্যার আচরণ দেখে সকলেই সাধুবাদ দিয়ে বলল, এই না হলে তিনি শ্রীরামচন্দ্রের গর্ভধারিণী! তিনি ভরতকে কোলে তুলে তার চোখের জল মুছিয়ে দিয়ে পরম স্নেহে বললেন, বাছা আমার! আমার কথা শোনো। সময় অনুকূল নয় তাই ধৈর্য্য ধারণ করো আর শোক পরিহার করো।কাল ও কর্মের গতি অপ্রতিরোধ্য জেনে হৃদয় থেকে দুঃখ আর গ্লানি পরিহার করো।বাপ আমার!কাউকে দোষ দিয়ে কি হবে? এখন বিধি সর্বতোভাবে বাম। না হলে, এত দুঃখ পেয়েও আমি এখনও বেঁচে থাকি? আরও কপালে কি আছে জানি না। 🍀হে তাত!পিতৃ আদেশ পালন করে বস্ত্রালঙ্কার ত্যাগ না করে রাম শ্রীরঘুবীর অঙ্গে বল্কল বস্ত্র ধারণ করল।তখন তাঁর চিত্তে বিষাদ বা উল্লাস কিছুই ছিল না।শ্রীরঘুবীর তখনও শান্ত সৌম্য প্রসন্নবদন।মনে আসক্তি অথবা দ্বেষের চিহ্নমাত্রও ছিল না।সকলের সঙ্গে যথাযোগ্য ব্যবহার করে রঘুবীরের বনবাস যাত্রাও হয়ে গেল।সব জেনে শুনে সীতাও রঘুবীরের সঙ্গদান করল।শ্রীরামচরণে পরম আসক্তকে কোন মতে রাখা গেল না।সংবাদ শুনেই লক্ষ্মণও গেল।রঘুনাথের সকলকে প্রণাম নিবেদন করে সীতা ও লক্ষ্মণকে নিয়ে যাত্রা আরম্ভ হয়ে গেল।শ্রীরাম,লক্ষ্মণ ও সীতার বনবাস যাত্রা আমার চোখের সামনে হল।আমি তাদের সঙ্গে নিজেকে অথবা নিজের প্রাণকে পাঠালাম না কেবল দর্শনরূপে আমি সব দেখে গেলাম।অভাগা জীব তবুও দেহ ছেড়ে যাবার নাম পর্যন্ত করল না।এই হল আমার তাদের উপর প্রেম বৃত্তান্ত!তা আমাকে লজ্জায় মাটিতে মিশিয়েও দিল না।আমি নাকি রামজননী!দেহ কখন রাখতে হয় আর কখন ত্যাগ করতে হয় তা তো মহারাজই দেখিয়ে দিয়ে গেলেন। আমার হৃদয় যে শত শত বজ্রসম কঠোর! এতক্ষণ মাতা কৌশল্যার কথা শুনে ভরত শোকে মুহ্যমান হয়ে পড়লেন।তাঁদের অবস্থা দেখে সমগ্র অন্তঃপুরই শোকবিহ্বল হয়ে পড়ল।রাজমহল শোকমহলে পরিণত হল।🍀*
*🌻ভরত ও শত্রুঘ্নকে বিলাপ করতে দেখে মাতা কৌশল্যা তাঁদের বক্ষে টেনে নিলেন। তিনি নানাবিধ কথা বলে তাঁদের শান্ত করবার চেষ্টা করলেন ; বহু জ্ঞানগর্ভ উপদেশও দিলেন।ভরত তখন মাতাদের বেদ ও পুরাণাদি বর্ণিত বহু মনোজ্ঞ উপাখ্যানাদি বলে শান্ত করতে প্রয়াসী হলেন। অবশেষে তিনি ছলরহিত থেকে হাতজোড় করে সহজ সরল কথায় বললেন,পিতা-মাতা-পুত্র- বধের পাপ, গোশালা ও ব্রাহ্মণবসতি দহনের পাপ, নারী ও শিশু হত্যার পাপ, মিত্র ও রাজাকে বিষ প্রদান করে বধ করবার পাপ বা কায়মনোবাক্যে করলে জ্ঞানীগুণীজন তাকে পাতক ও উপপাতক আখ্যা দিয়ে থাকেন, হে বিধাতা!তাতে যদি আমার সমর্থনও থাকে তাহলে হে মাতা!সেই সকল পাপই আমার উপর যেন আরোপ করা হয়।*
*🌼জয় শ্রীরাম🌼*
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
꧁(১১৪) রামায়ণ 🙏 তুলসী দাস 🙏 দ্বিতীয় ভাগ ꧂
꧁ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ ꧂
এই লিংকে ⬇️⬇️⬇️🙏⬇️⬇️⬇️ ক্লিক করুন
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
*(১১৪)🌿তুলসী দাস রামায়ণ🌿*
*বশিষ্ঠ-ভরত সংবাদ এবং দশরথের অন্ত্যেষ্টি ক্রিয়া।*
▪ ▪ ▪ ▪ ▪ ▪ ▪ ▪ ▪
*🌻যারা শ্রীহরির ও শ্রীশঙ্করের পূজার্চনা ত্যাগ করে ভূতপ্রেতদের পূজার্চনা ও ভজনা করে,হে মাতা!শ্রীরামের বনবাসে যদি আমার বিন্দুমাত্রও সমর্থন থাকে তাহলে বিধাতা যেন আমাকে সেই ভূতপ্রেত পূজার্চনায় যুক্ত ব্যক্তিদের গতি প্রদান করেন।*
*🍀যারা বিদ্যা অর্থের বিনিময়ে বিক্রয় করে ও ধর্মকে অর্থোপর্জনে ব্যবহার করে, যারা শত্রুতা করে অপরের পাপ প্রকাশ্যে প্রচার করে ; যারা কপট,কুটিল ও কলহপ্রিয় আর ক্রোধসম্পন্ন ; যারা বেদবিদ্বেষী ও বিশ্ববিরোধকারী ; যারা লোভী ও লম্পট আর লালসাযুক্ত ; যারা কেবল পরসম্পদ ও পরস্ত্রীর উপর দৃষ্টিপাত করে তারা সকলেই পাপী। হে জননী!শ্রীরামের বনবাস প্রেরণে যদি আমার সম্মতি কখনো হয় তাহলে যেন আমি তাদের প্রাপ্য শাস্তি পাই।যার সাধুসঙ্গে বিতৃষ্ণা, যে অভাগা পরমার্থ পথ বিমুখ ; যে মানবজন্ম লাভ করেও শ্রীহরির ভজনা করে না ; যার হরি ও হর সংকীর্তনে প্রীত নেই ; যারা সজ্ঞানে বেদবিরোধী পথ অবলম্বন করে ; যে প্রবঞ্চক হয়ে সাধুবেশে জগৎকে ছলনা করে, তারা সকলেই পাপী।যদি শ্রীরামের বনবাস প্রেরণের সামান্যতম অভিসন্ধিও আমার জ্ঞাত থাকে,তাহলে ভগবান শঙ্কর যেন তাদের প্রাপ্য শাস্তি আমাকেও দেন। ভরতের স্বভাবসিদ্ধ সহজ সরল সত্য কথা শুনে মাতা কৌশল্যা বললেন, হে তাত!তুমি কায়-মনো-বাক্যে সর্বদাই শ্রীরামের প্রিয়।*
*🌷আমি জানি যে,শ্রীরাম তোমার প্রাণাধিক প্রিয় আর শ্রীরঘুনাথও তোমাকে প্রাণাধিক ভালবাসেন। যদিও চন্দ্রের বিষক্ষরণ আর হিমের অগ্নিবর্ষণ কার্য সম্ভব হয়,জলচর প্রাণীদের জলে বিতৃষ্ণা হয় আর তত্ত্বজ্ঞান লাভের পরও মোহ না হয়, কিন্তু তুমি কখনো রামের প্রতিকূল হতে পারবে না।শ্রীরামের বনবাসে তোমার সম্মতি আছে,এইরকম যে বলে সে স্বপ্নেও সুখ পাবে না আর শুভগতি লাভ করবে না।মাতা কৌশল্যা এইরকম বলে ভরতকে বক্ষে তুলে নিলেন।স্নেহাধিক্যে তাঁর স্তন দুগ্ধ চুয়ে পড়তে লাগল আর নয়নযুগল প্রেমাশ্রু প্লাবিত হল।বসে বসেই বিলাপ করতে করতে রাত্রি অবসান হয়ে গেল।দিবাগমনে শ্রীবামদেব ও গুরু বশিষ্ঠদেবের আগমন হল।তাঁরা এসেই মন্ত্রীদের ও প্রজ্ঞাবান ব্যক্তিদের ডেকে পাঠালেন। অতঃপর মুনি বশিষ্ঠদেব ভরতকে সময়ানুকূল সুন্দর পরমার্থ উপদেশ প্রদান করলেন।গুরু বশিষ্ঠদেব বললেন,হে তাত!সংযতচিত্ত হয়ে করণীয় কর্তব্য পালন কর।গুরুদেবের আদেশ শিরোধার্য্য করে ভরত উঠে দাঁড়ালেন আর সকলকে প্রস্তুতি গ্রহণ করবার নির্দেশ দিলেন। শাস্ত্রবিধি পালন করে মহারাজের দেহকে স্নান করানো হল আর উত্তম বিমান (শবাধার) নির্মাণ করা হল। চন্দন,অগুরু ছাড়া আরো অনেক প্রকারের ধূপধুনা,কস্তুরী,গুগগুল আদি সুগন্ধি দ্রব্যাদি বহু পরিমাণে এল।সরযূ নদীর তীরে সুন্দর চিতা রচনা করা হল,যাকে দেখে স্বর্গের সোপান মনে হচ্ছিল।এইভাবে দাহ ক্রিয়া সম্পন্ন করা হল।অতঃপর নিয়ম মতো সকলে স্নান করে তিলাঞ্জলি প্রদান করলেন।বেদ,স্মৃতি ও পুরাণ অনুসারে ভরত পিতার শ্রাদ্ধাদি দশগাত্র (দশ দিন ধরে বিধি মত সকল কার্য্যাদি)সম্পন্ন করলেন।গুরুদেব বশিষ্ঠদেব বলে গেলেন আর ভরত তা পালনও করে গেলেন। তিনি শুদ্ধ হয়ে বিধিপূর্বক দানাদি কার্য্যও সম্পন্ন করলেন।দানসামগ্রী রূপে গাভী,অশ্ব ও গজের সঙ্গে অন্যান্য দ্রব্যাদিও ছিল।*
*🌻এই গ্রন্থের লিখনি একটু অন্য রকম বুঝে নেবেন।*
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
꧁(১১৫) রামায়ণ 🙏 তুলসী দাস 🙏 দ্বিতীয় ভাগ ꧂
꧁ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ ꧂
এই লিংকে ⬇️⬇️⬇️🙏⬇️⬇️⬇️ ক্লিক করুন
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
*(১১৫)🌿তুলসী দাস রামায়ণ🌿*
*☘বশিষ্ঠ-ভরত সংবাদ,রামকে ফিরিয়ে আনার জন্য চিত্রকূট যাবার প্রস্তুতি☘*
▪▪▪▪▪▪▪▪▪▪▪▪▪
*🌻পিতার আত্মার শান্তির জন্য ভরত যে সকল কাজ করলেন তার সুখ্যাতি শত মুখে বলেও শেষ করা যাবে না।তদনন্তর এক শুভ দিনে গুরুদেব মুনিবর বশিষ্ঠদেব আবার এলেন আর মন্ত্রীদের ও অন্যান্য প্রজ্ঞাবান ব্যক্তিদের ডেকে পাঠালেন। রাজসভায় সকলে নিজ নিজ আসনে বসলেন।তখন মুনিবর বশিষ্ঠদেব সেই রাজসভায় দুইভাই ভরত ও শত্রুঘ্নকে ডেকে পাঠালেন।মহামুনি বশিষ্ঠদেব ভরতকে ডেকে তাঁর কাছে বসিয়ে রাজধর্ম সম্বন্ধে নীতি উপদেশ দান করলেন।প্রথমেই মুনিবর মহারাণী কৈকেয়ী-কৃত কুটিল কার্যসব সবিস্তারে সকলকে বললেন।অতঃপর তিনি মহারাজের ধর্মপরায়ণতা ও সত্যনিষ্ঠার প্রশংসা করলেন যার জন্য তাঁকে প্রাণ পর্যন্ত বিসর্জন দিতে হল।যখন মুনিরাজ বশিষ্ঠদেব শ্রীরামচন্দ্রের গুণ,সদাচার ও স্বভাবের কথা বলছিলেন তখন তাঁর নয়ন সজল হয়ে উঠেছিল আর তিনি অঙ্গে পুলক শিহরণ অনুভূতি লাভ করছিলেন।অতঃপর তিনি লক্ষ্মণ ও সীতার প্রেমের প্রশংসা করলেন।এইসময় তাঁর মতন জ্ঞানী মুনিবরও শোকমগ্ন ও স্নেহ বিগলিত হয়ে পড়লেন।মহামুনি বশিষ্ঠদেব তখন বিষণ্ণচিত্তে বললেন, হে ভরত! শোনো।কালের প্রতিপত্তি অপরিসীম।বিধাতাই লাভ-ক্ষতি, জীবন-মৃত্যু, যশ-অপযশ নিয়ন্ত্রণ করে থাকেন। তাই দোষ কাকেই দেব আর কার উপরেই ফা আক্ষেপ করব? হে তাত!ভেবে দেখ!রাজা দশরথের শোক করা উচিত নয়।শোক তো সেই ব্রাহ্মণের জন্য করলে ভাল হয় যে বেদের শিক্ষা ভুলে গিয়ে ধর্ম ত্যাগ করে বিষয় রসে মজে আছে।চিন্তা তো সেই রাজার জন্য করলে ভাল হয় যে নীতিজ্ঞান বিসর্জন দিয়ে প্রজাদের প্রাণসম ভালবাসে না।সেই বৈশ্য নিন্দনীয় যে ধনসম্পদযুক্ত হয়েও কৃপণ হয়ে অতিথি সৎকার করে না।এমনকী দেবাদিদেব মহাদেবকেও ভক্তি করে না।সেই শূদ্রের আবরণ নিন্দনীয় যে সতত ব্রাহ্মণদের অপমান করাতে,বাকচাতুর্য্যে,সম্ভান লাভের কামনায় ও জ্ঞানের অহঙ্কারে নিত্যযুক্ত থাকে।যদি কোন নারী পাতিব্রত্য ধর্মহীন,কুটিল,কলহপ্রিয় ও স্বেচ্ছাচারী হয় তাহলে তার সম্বন্ধে ভাবনা চিন্তার কারণ আছে।ব্রহ্মচারী যদি ব্রহ্মচর্য্যব্রত পালন না করে গুরুদেবের আদেশ লঙ্ঘন করে তাহলে তার আচরণ নিয়ে শোকের কারণ থাকে। মোহগ্রস্ত কর্মত্যাগী গৃহস্থ সতত নিন্দার যোগ্য ও শোকের পাত্র।আর যদি সন্ন্যাসী জগৎপ্রপঞ্চে নিত্যযুক্ত থেকে জ্ঞানবৈরাগ্য বিরহিত হয়ে পড়ে তাহলে তার সম্বন্ধেও ভাববার কারণ আছে।*
*🌼বানপ্রস্থ আশ্রমে যদি তপস্যার চেয়ে ভোগে সুখের অনুভূতি থাকে তাসে শোকের যোগ্য।যে ব্যক্তি কেবল অপরের দোষ দেখে বেড়ায়,অকারণে ক্রোধ প্রকাশ করে আর মাতা-পিতা, গুরু, আত্মীয়স্বজনের সকলের বিরোধিতা করে যায়,তার আচরণ শোক চিন্তার যোগ্য। অপরের অনিষ্ট করায় আনন্দলাভকারী, নিজ দেহের পরিচর্য্যায় নিত্যযুক্ত অতিশয় নির্দয় ব্যক্তি সতত নিন্দনীয় ও শোকের যোগ্য।আর যদি কেউ কপটতা ত্যাগ করে হরিভক্তিতে নিত্যযুক্ত না থাকে তাহলে সেটি খুবই চিন্তার কথা। কৌশলরাজ দশরথের প্রভাব চতুর্দশ লোকে পরিব্যাপ্ত, তাঁর সম্বন্ধে চিন্তা শোক করার কি আছে?হে ভরত! তোমার নিতার মতন রাজা পূর্বে হয়নি,এখন নেই আর ভবিষ্যতেও হবে না।ব্রহ্মা,বিষ্ণু,মহেশ্বর,ইন্দ্র ও দিকপালগণ সকলেই মহারাজ দশরথের গুণকীর্তনে সতত নিত্যযুক্ত থাকেন।*
🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
꧁(১১৬) রামায়ণ 🙏 তুলসী দাস 🙏 দ্বিতীয় ভাগ ꧂
꧁ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ ꧂
এই লিংকে ⬇️⬇️⬇️🙏⬇️⬇️⬇️ ক্লিক করুন
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
*(১১৬)🌿তুলসী দাস রামায়ণ🌿*
*🌲অযোধ্যাবাসীদের নিয়ে ভরত, শত্রুঘ্নের বন-গমন।*
▪▪▪▪▪▪▪▪▪▪▪▪▪
*🌻হে তাত!(তাত শব্দের অর্থ,পিতা, পিতৃব্য,পিতার ভাই,পিতৃতুল্য গুরুজন, পুত্র বা পুত্রতুল্য ব্যক্তিকে স্নেহ সম্ভাষণ।)তুমিই বলো।যে মহারাজের পুত্রগণ শ্রীরামচন্দ্র,লক্ষ্মণ, ভরত ও শত্রুঘ্নের মতো অগাধ গুণযুক্ত ও পবিত্র, তার গুণগান কেউ কেমন করে করবে।অথবা তাঁর গুণগান করবার আদৌ কোন প্রয়োজন আছে কি? মহারাজ সবদিক দিয়েই ভাগ্যবান ছিলেন।তাঁর জন্য আর বিষাদগ্রস্ত হয়ে থাকার মানে হয় না।এইকথা ভালভাবে বুঝে ভাবনাচিন্তা পরিহার করে আর মহারাজের আদেশ শিরোধার্য্য করে নাও।মহারাজ তোমাকে রাজত্ব দিয়েছেন। পিতার আদেশ পালন করাই তোমার কর্তব্য। তিনি তো সত্য রক্ষায় রামচন্দ্রকে ত্যাগ করেছেন আর রাম-বিরহ-অগ্নিতে নিজেকে পর্যন্ত আহুতি দিয়ে গিয়েছেন। রাজার কাছে সত্য প্রাণ থেকে প্রিয় ছিল।তাই হে তাত!পিতৃসত্য রক্ষা করা তোমারও কর্তব্য। রাজার আদেশ শিরোধার্য্য করো,তাতেই তোমার মঙ্গল হবে।পরশুরাম পিতৃ আজ্ঞা পালন করে মাতাকে বধ করেছিলেন, এই ঘটনা সকলেই জানে। রাজা যযাতির পুত্র পিতাকে যৌবন দান করেছিলেন।পিতৃ আজ্ঞা পালন করে তাদের পাপও হয়নি,অপযশও হয়নি।*
*ঔচিত্য(উচিৎ) বিকারে অনর্থক কালক্ষেপ না করে যে পিতৃ আজ্ঞা পালনে তৎপর হয় সে ইহলোকে সুখ ও সুযশ ভোগ করে ও পরলোকে ইন্দ্রপুরীতে বাস করে। রাজার কথা অবশ্যই সত্য কর।শোক পরিহার করে প্রজাপালন কার্য্যে নিত্যযুক্ত হও। এইরূপ করলে রাজা স্বর্গে তুষ্ট হবেন ও তোমরাও পুণ্য ও সুযশ সঞ্চয় হবে। তোমার তো দোষী হবার কোন সম্ভাবনাই নেই।পিতা যাকে রাজত্ব দেন সেই রাজা হয়,একথা তো বেদ স্বীকৃত ও স্মৃতি পুরাণাদি সকল শাস্ত্রসম্মত।তাই গ্লানি পরিহার করে রাজ্য শাসন কর।আমাকে তোমার হিতাকাঙ্খী বলেই জানবে। তুমি পিতৃ আজ্ঞা পালন করে প্রজাপালন করছ শুনে রামচন্দ্র ও সীতাদেবী খুব আনন্দ পাবেন। তোমার প্রজাপালন কার্য্যকে কোন বিজ্ঞব্যক্তি অনুচিত আখ্যা দেবেন না। তোমার কৌশল্যাদি মাতাগণ প্রজাদের সুখী দেখে সুখ অনুভব করবেন।রামচন্দ্রের উপর প্রীতির কথা জেনে এই কার্য্যে সকলেই তোমার প্রশংসাই করবে। আর রামচন্দ্র যখন ফিরে আসবেন তখন তাঁকে রাজ্য সমর্পণ করে পরম প্রীতির সহিত তাঁর সেবা করবে।*
*মন্ত্রীমহাশয় তখন হাতজোড় করে বললেন,এখন আপনার গুরুদেবের আদেশ পালন করাই হবে অবশ্য কর্তব্য ; আর রঘুনাথ ফিরে এলে যা ভালো মনে হয় তাই করবেন।মাতা কৌশল্যাও ধৈর্য্য ধারণ করে বললেন, হে পুত্র!গুরুদেবের আদেশ তো পথ্যসম সময়োচিত বিধানস্বরূপ।তাঁর আদেশকে শিরোধার্য্য করে তাতেই মঙ্গল নিহিত এই জ্ঞানে তা পালনে তৎপর হও।কালের বিধানকে মনে নিয়ে বিষাদ ত্যাগ করা প্রয়োজন।রঘুনাথ বনবাসে আর মহারাজ স্বর্গে রাজত্ব করতে গমন করেছেন।হে তাত!আর তুমি কিনা কাতর হয়ে পড়ছ।হে পুত্র!তুমি যে আত্মীয়স্বজন,প্রজা,মন্ত্রী আর মাতাদের একমাত্র অবলম্বন স্বরূপ। প্রতিকূল সময় ও বিধিবাম তাই ধৈর্য্য ধারণ তো করতেই হবে।বাছা আমার! গুরুদেবের কথা শিরোধার্য্য কর।প্রজা পালন কর,আত্মীয় স্বজনদের দুঃখ হরণ কর।ভরত গুরুদেবের কথা, মন্ত্রীর অভিনন্দন সবই শুনলেন।সকলেই তাঁর কাছে শীতল চন্দন প্রলেপসম ছিল।অতঃপর তিনি সদাচার,স্নেহ ও সরলতা রসসিক্ত মাতা কৌশল্যার সুমিষ্ট কথাও শুনলেন। সহজ সরল সুমিষ্ট,মাতা কৌশল্যার কথা শুনে ভরত ব্যাকুল হয়ে উঠলেন।নয়নের জল হৃদয়ের বিরহরূপী নবীন অঙ্কুরকে সিঞ্চন করতে লাগল।নয়নের জল তাঁর বিরহ দুঃখকে বৃদ্ধি করে ব্যাকুল করে তুলল।তাঁর অবস্থা দেখে সকলের দেহবোধও লোপ পেল।তুলসীদাস বললেন, স্বাভাবিক প্রেমের পরাকাষ্ঠা ভরত সকলের সাদর প্রশংসা অর্জন করলেন।*
*🙏🙏বানান ভুল মার্জনীয়🙏🙏*
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
꧁(১১৭) রামায়ণ 🙏 তুলসী দাস 🙏 দ্বিতীয় ভাগ ꧂
꧁ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ ꧂
এই লিংকে ⬇️⬇️⬇️🙏⬇️⬇️⬇️ ক্লিক করুন
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
*(১১৭)🌿তুলসী দাস রামায়ণ🌿*
*👥অযোধ্যাবাসীদের নিয়ে ভরত ও শত্রুঘ্নর বনে গমন👥*
▪▪▪▪▪▪▪▪▪▪▪▪▪
*🌹ধৈর্য্যের পরাকাষ্ঠা ভরত তখন অতিশয় শান্তচিত্তে তাঁর কমলহস্ত জোড় করে অতি মিষ্ট বচনে সকলকে উত্তর দিলেন। গুরুদেব আমায় সময়োচিত উপদেশ দান করেছেন যা প্রজা ও মন্ত্রীসকলের অনুমোদন লাভও করেছে। অবশ্য কর্তব্য জেনেই মাতাও আদেশ দান করেছেন। আমি সবই শিরোধার্য্য করে তেমনই করতে ইচ্ছুক।কারণ গুরু,পিতা,মাতা,পতি ও মিত্র সকলের কথা প্রসন্নচিত্তে ঠিক জেনে গ্রহণ করতে হয়।ঔচিত্য বিচার করতে গেলে তা ধর্ম অবমাননার দোষে দুষ্ট হয় আর তা পাপের বোঝা বৃদ্ধি করে। আপনারা তো আমাকে সেই সুন্দর শিক্ষা দিয়েছেন যা পালন করলে আমার মঙ্গল হবে।আমি তা সম্যকভাবে হৃদয়ঙ্গম করতে সচেষ্ট হলেও চিত্ত যে তাতে পরিতৃপ্ত হতে পারবে না।এখন আপনারা আমার অনুরোধ শুনুন আর বিচার করে তার বিহিত করুন।উত্তর দিচ্ছি বলে অপরাধ নেবেন না।সাধু ব্যক্তিগণ কি কখনো সন্তপ্ত ব্যক্তির দোষ ধরেন!*
*🌻পিতৃদেব স্বর্গগত,অগ্রজ শ্রীরামচন্দ্র বনবাসে আর আপনারা আমাকে রাজত্ত্ব পরামর্শ দিচ্ছেন।তাতে আপনারা আমার কল্যাণ প্রত্যক্ষ করছেন অথবা সমাজের কোন মহৎ কর্ম সম্পাদনের কথা চিন্তা করছেন।আমার কল্যাণ তো কেবল সীতাপতি রামচন্দ্রের সেবার মধ্যেই নিহিত যা মাতার কৌটিল্য আমার কাছ থেকে কেড়ে নিয়েছে। অনেক ভেবেছি কিন্তু আর কোন উপায়েই যে আমার কল্যাণ হওয়া সম্ভব নয়। লক্ষ্মণ,শ্রীরাম ও সীতাদেবীর শ্রীচরণ দর্শন লাভ রহিত এই রাজ্যলাভ তো শোক সাগরসম আনন্দহীন।আমার কাছে রাজত্বের মূল্য এক কানাকড়িও নয়। বস্ত্র ছাড়া অলঙ্কার তো বোঝা হয় আর বৈরাগ্য ছাড়া ব্রহ্মবিচার যে অর্থহীন। রুগ্নদেহে ভোগ কি হয়?শ্রীহরির ভক্তি বিনা জপ ও যোগ হয় কী? প্রাণ ছাড়া দেহ সুন্দর হয় কী?তেমনই শ্রীরঘুনাথ না থাকলে আমার কাছে সবই অর্থহীন। আপনারা আমাকে অনুমতি দিন আমি শ্রীরামচন্দ্রের কাছে গমন করি। আমার কল্যাণের যে এই একটিমাত্র পথই খোলা আছে।আমার মনে হয়, আমাকে রাজা করে দিয়ে আপনারা আপনাদের মঙ্গলই চেয়েছেন।তা আপনারা স্নেহের বশীভূত হয়েই করেছেন।*
*🌼আমি কৈকেয়ী পুত্র,কুটিলগামী, রামবিমুখ নির্লজ্জ ও নরাধম। আমাকে রাজা করে দিয়ে আপনারা মোহের বশীভূত হয়েই সুখের কল্পনা করছেন।আমার এই কথাগুলি সত্য বলেই জানবেন।বিচার না হয় সব শুনেই করবেন।কোন ধর্মজ্ঞ ব্যক্তিরই রাজা হওয়া উচিৎ।আপনারা যদি হঠকারিতা করে আমাকে রাজত্ব দেন তাহলে তখনই এই পৃথিবী রসাতলে চলে যাবে। আমার মত পাপের আগার আর কে আছে যার জন্য সীতাদেবী ও রামচন্দ্রকে বনবাসে যেতে হয়েছে? রাজামহাশয় তো শ্রীরামকে বনে পাঠিয়ে দিয়ে স্বয়ং স্বর্গে গমন করলেন! আর আমি হলাম সেই শঠ ও প্রবঞ্চক যে সকল অনর্থের কেন্দ্রবিন্দুতে থেকেও সুস্থ চিত্তে সেই সকল কথা শুনে যাচ্ছে! শ্রীরাম শূন্য অযোধ্যা নগরকে দেখে ও জগতের সকলের উপহাসের পাত্র হয়েও এই প্রাণ দেহে আকড়ে আছে। কারণ এই প্রাণ শ্রীরামচন্দ্ররূপ বিষয় রসে আদৌ আসক্ত নয়।এই প্রাণ যে লোভী ; রাজ্য ও ভোগের জন্য লালায়িত! আমার প্রস্তরসম কঠোর হৃদয়ের কথা আর কত বলব!তার কাঠিন্য যে বজ্রকেও হার মানায়। কৈকেয়ীজাত এই দেহের সঙ্গে প্রেমপ্রীতি ধারণকারী এই পামর প্রাণ নিঃসন্দেহে অত্যন্ত অভাগা। যখন প্রিয়জনের বিরহেও আমার প্রাণ প্রিয় লাগছে তাহলে অদূর ভবিষ্যতে আমার আরও কত কিছু দেখাশুনা বাকী আছে! তিনি লক্ষ্মণ, শ্রীরাম আর সীতাদেবীকে বনবাসে পাঠিয়েছেন। স্বামীকে স্বর্গে পাঠিয়ে তাঁর উপকার করেছেন ; নিজে বৈধব্য ও অপযশ কুড়িয়েছেন ; প্রজাদের শোক সন্তপ্ত করেছেন আর আমাকে সুখ,সুযশ ও রাজ্য দেবার ব্যবস্থা করেছেন!কৈকেয়ী তো সব কাজ করেই ফেলেছেন!এর চেয়ে আর বড় উপকার কে করবে! আবার আপনারাও আমাকে রাজা করে দিয়ে আমার কল্যাণ চেষ্টা করছেন। কৈকেয়ীর সন্তানরূপে জগতে জন্মগ্রহণ করে আমার আবার অনুচিত কী থাকতে পারে! বিধাতা ত সব ব্যবস্থা দেখছি করেই রেখেছেন। সেই আগুনে প্রজারা ও পাঁচজন আপনারা ঘি ঢেলে সাহায্য কেন করছেন। যে গ্রহের কুদৃষ্টির শিকার ও বায়ুরোগে পীড়িত, তাকে যদি বৃশ্চিক দংশন করে তারপর তাকে মদ্যপান করানো এটি কোন ধরণের চিকিৎসা?*
🙌🙌🙌জয় শ্রীরাম🙌🙌🙌🙌🙌🙌🙌
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
꧁(১১৮) রামায়ণ 🙏 তুলসী দাস 🙏 দ্বিতীয় ভাগ ꧂
꧁ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ ꧂
এই লিংকে ⬇️⬇️⬇️🙏⬇️⬇️⬇️ ক্লিক করুন
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
*(১১৮)🌿তুলসী দাস রামায়ণ🌿*
*🌲অযোধ্যাবাসীদের নিয়ে ভরত ও শত্রুঘ্নর বন-গমন🌲*
▪▪▪▪▪▪▪▪▪▪▪▪▪
*🌻কৈকেয়ীজাতরূপে আমার যা প্রাপ্য চতুর বিধাতা আমাকে তা অঢেল দিয়েছেন কিন্তু "দশরথপুত্র" ও "শ্রীরামানুজ" রূপে গর্ব বোধ করবার অধিকার বিধাতা আমাকে বৃথাই দিয়েছেন।সকলে আপনারা আমার রাজ্যাভিষেকের কথা বলেছেন।রাজার আদেশ সকলের মঙ্গলের জন্য হয়।আপনাদের যার যা অভিরুচি সেই অনুসারে কথা বলেছেন।সকলকে আলাদাভাবে উত্তর দেওয়া আমার পক্ষে কেমন করে সম্ভব! আমার কুমাতা কৈকেয়ী ও আমাকে বাদ দিয়ে,আচ্ছা বলুন তো,এই কাজ ভাল হয়েছে? স্থাবর-জঙ্গম বিশ্বচরাচরে আমাকে বাদ দিয়ে আর কে এমন আছে যার শ্রীশ্রীসীতারাম প্রাণাধিক প্রিয় নয়।যা অত্যন্ত ক্ষতিকর,সকলে তাতেই লাভ দেখছেন।এখন আমার কপাল খারাপ,দোষ কাকে দিব? আপনাদের কথাগুলি আপনাদের দিক থেকে সঠিক, কারণ আপনারা সংশয়, সদাচার ও প্রেমে অভিভূত হয়ে রয়েছেন।*
*🌹সমগ্র বিশ্ব জানে যে গুরুদেব জ্ঞানের সাগর, বিশ্ব তাঁর করতলগত আমলকীবৎ। তিনিও আমার রাজ্যাভিষেকের কথা বলেছেন।সত্য এই যে বিধিবাম হলে সবই প্রতিকূল হয়ে যায়।একমাত্র শ্রীরাম ও সীতাদেবী ছাড়া জগতে আর কেউ একথা বলবে না যে এই অনর্থ রচনায় আমার সম্মতি ছিল না।আমি তা শুনে সুখে গলাধঃকরণ করব! জল যেখানে তার তলাতেই তো কাদা থাকে। নিন্দার ভীতি আমার নেই, অন্যলোকের চিন্তাও নাই। আমার চিত্তে এক দুঃসহ দাবানলের জ্বালা যে শ্রীসীতারামের দুর্গতির কারণ শেষকালে আমি স্বয়ং হলাম। শ্রীরামের চরণের সেবার অধিকার সুনিশ্চিত করে ভ্রাতা লক্ষ্মণই জীবন সার্থক করল।আমার জন্ম তো শ্রীরামকে বনবাসে পাঠানোর জন্যই হয়েছিল।অভাগা আমি কেবল হা-হুতাশ করে মরছি।🙏বিনম্র চিত্তে আমি আমার নিদারুণ দুঃখের কথা নিবেদন করছি। আমার অন্তরের বেদনা শ্রীরঘুনাথের চরণযুগল দর্শন না করে প্রশমিত হবে না। আমি অন্য কোন পথ দেখতে পাচ্ছি না।শ্রীরামচন্দ্র ছাড়া আমার অন্তরের বেদনা অন্য কেউই বুঝতে সক্ষম হবে না। আমি মনে মনে ঠিক করে রেখেছি যে আগামীকাল সকালবেলাই শ্রীরামচন্দ্রের কাছে গমন করব।যদিও আমি মন্দ ও অপরাধী আর সকল অনর্থের জন্য দায়ী তবুও আমার বিশ্বাস যে আমি প্রভু রামচন্দ্রের সম্মুখে গিয়ে শরণাগত হয়ে দাঁড়ালে তিনি আমাকে ক্ষমা করবেন আর কৃপা করবেন।শ্রীরাম সদাচার, সহজ সরল স্বভাব, কৃপা ও স্নেহের আগার। তিনি কখনো শত্রুরও অনিষ্ট করেননি। আমি দোষী হলেও তাঁর সামনে শিশু ও সেবক মাত্র।এতেই আমার পরম কল্যাণ নিহিত জেনে আপনারা সকলে প্রীতিপূর্বক আমাকে অনুমতি ও আশীর্বাদ দিন যাতে আমার নিবেদন শুনে আর আমাকে নিজ সেবক মনে করে প্রভু রামচন্দ্র রাজধানীতে ফিরে আসেন।যদিও আমি কুমাতাজাত,দুষ্ট ও দোষযুক্ত তবুও আমার দৃঢ় বিশ্বাস যে রামচন্দ্র আমাকে তাঁর একান্ত আপন জেনে ত্যাগ করবেন না। ভরতের সব কথা সকলের কাছে গ্রহণযোগ্য বলে বিবেচিত হল।কথাগুলি যেন শ্রীরামচন্দ্র প্রেমামৃতসিক্ত।শ্রীরাম বিরহরূপ ভীষণ বিষের জ্বালায় সকলের অর্ধমৃত হয়ে ছিল, বীজমন্ত্র যেন তাদের পুনরুজ্জীবিত করল।মাতাগণ,মন্ত্রী,গুরুদেব, প্রজাগণ অতিশয় প্রেমে ব্যাকুল হয়ে পড়লেন। সকলেই ভরতের প্রশংসা করে বললেন,যেন শ্রীরামচন্দ্র প্রেমের সাক্ষাৎ প্রতিমূর্তি। হে তাত ভরত! তোমার মুখেই এইকথা শোভা পায় কারণ রামচন্দ্র যে তোমার প্রাণসম প্রিয়।মাতার কুটিলতার কথা মনে রেখে যদি কোন অধম মূর্খামী করে তোমাকে সন্দেহ করে তাহলে সেই দুষ্টের কোটি পুরুষসহ শতকল্প পর্যন্ত নরকে স্থান হবে।সর্পের পাপ ও অবগুণ সর্পমণি কখনো গ্রহণ করে না। মণি তো বিষ হরণ করে আর দুঃখ-দারিদ্রতাকে ভস্মসাৎ করে।*
🙏🙏🙏
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
꧁(১১৯) রামায়ণ 🙏 তুলসী দাস 🙏 দ্বিতীয় ভাগ ꧂
꧁ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ ꧂
এই লিংকে ⬇️⬇️⬇️🙏⬇️⬇️⬇️ ক্লিক করুন
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
*(১১৯)🌿তুলসী দাস রামায়ণ🌿*
*👥অযোধ্যাবাসীদের নিয়ে ভরত ও শত্রুঘ্নর বনে গমন👥*
▪▪▪▪▪▪▪▪▪▪▪▪▪
*🌻সকল গুরুজন ব্যক্তিগণ বললেন, হে ভরত!শ্রীরামচন্দ্রের সঙ্গে মিলিত হবার জন্য অবশ্যই গমন করা উচিৎ।শোকসাগরে নিমজ্জিত প্রজাদের আপনি এক পরম অবলম্বন দিলেন। যেমন মেঘ গর্জন শ্রবণ করে চাতক ও ময়ূর আনন্দিত হয়ে থাকে তেমনই সকলে আনন্দে পরিপূর্ণ হয়ে গেল।আগামী প্রাতেই বন-গমন যাত্রা সঙ্কল্প ভরতকে প্রানসম প্রিয় করে তুলল।প্রজাগণ নিজ নিজ গৃহে প্রত্যাগমনের পূর্বে মুনিবর বশিষ্ঠদেব ও ভরতকে প্রণাম নিবেদন করল।বিদায় নিয়ে পথে তারা ভরতের সদাচার ও স্নেহের উচ্ছসিত প্রশংসা করে বলল, ধন্য ভরত!তাঁর ভ্রাতৃপ্রীতি জগতে অক্ষয় হয়ে রইল।সঙ্কল্প যে উৎকৃষ্ট তা সকলেই বলল।সকলেই ভরতের সঙ্গে যাবার জন্য প্রস্তুত হতে লাগল।গৃহের সুরক্ষার জন্য যাদের গৃহে থাকতে বলা হল,তারা মনে করল যে তাদের বিনা অপরাধে শাস্তি দেওয়া হল।কারণ তারা শ্রীরাম চরণ দর্শন হতে বঞ্চিত হল।শ্রীরামচরণ দর্শনের জন্য কেউ কেউ বলল,গৃহ সুরক্ষার কী দরকার?অনেকেই তো রয়েছে আমাদের সঙ্গে নিন।আমাদের জীবনের সার্থকতা যাতে লাভ হয় তাই করাই তো ভালো।যে ধন-সম্পদ, গৃহ,সুখ,মিত্র,মাতা-পিতা শ্রীরামচন্দ্রের চরণযুগলের দর্শন করতে প্রসন্নতা সহকারে সহায়ক হয় না তা তো ধ্বংস হয়ে যাওয়াতেই মঙ্গল।খেদ প্রকাশ করল যারা বনে যেতে পারছেন না।যাদের সঙ্গে নিয়ে যাবার কথা সেই প্রজাদের ঘরে ঘরে বহুরকমের বাহন সজ্জিত করে পাঠিয়ে দেওয়া হল, সকলেই আনন্দে ডগমগ,কারণ প্রভাতেই যাত্রারম্ভ।ভরত ফিরে গিয়ে বিচারে রত হলেন, নগর,অশ্ব,গজ,অট্টালিকা ও ধনসম্পদ সবই ত শ্রীরামচন্দ্রের।যদি তার সুরক্ষার ব্যবস্থা না করে অমনি চলে যায় তাহলে তো তার পরিণাম ভাল হবে না। ভরত তাঁর বিশ্বস্ত সেবকদের ডেকে পাঠালেন।ভরত তাদের বুঝিয়ে দিয়ে ধর্মের উপদেশ দিলেন।অতঃপর তিনি সেবকদের যথাযোগ্য কার্য্যে নিযুক্ত করে দিলেন।ব্যবস্থা সম্পন্ন করে ও রক্ষকদের কাজে নিযুক্ত করে, ভরত শ্রীরামজননী কৌশল্যামাতার কাছে গমন করলেন।প্রেমতত্ত্বজ্ঞানী ভরত মাতাগণকে শ্রীরামচন্দ্রের অদর্শনে অত্যন্ত দুঃখিত জেনে তাঁদের জন্য সুখাসনযুক্ত শিবিকার ব্যবস্থা করতে বললেন।প্রজাগণের আর্তচিত্তে চখাচখীসম সূর্য্যোদয়ের জন্য প্রতীক্ষায় রাত্রি জাগরণ করেই প্রভাতের সূচনা হল।ভরত তখন প্রবীণ ও বিচক্ষণ মন্ত্রীদের ডেকে পাঠালেন।ভরত তাঁদের বললেন,আপনারা রাজ্যাভিষেকের জন্য প্রয়োজনীয় বস্তুসব নিয়ে চলুন। অরণ্যের মধ্যেই মুনিবর বশিষ্ঠদেব শ্রীরামচন্দ্রের রাজ্যাভিষেক কর্ম সম্পন্ন করবেন।সব ব্যবস্থা এখনই করা প্রয়োজন।তাঁর কথা শুনে মন্ত্রীগণ তাঁকে অভিনন্দন করলেন আর তৎক্ষণাৎ অশ্ব,রথ,গজ সজ্জিত করতে তৎপর হলেন।সর্বাগ্রে মুনিবর বশিষ্ঠদেব ও অরুন্ধতি,অগ্নহোত্র সম্পাদনের সমস্ত সামগ্রী নিয়ে রথে চড়ে যাত্রা করলেন।অতঃপর তপস্বী ও তেজস্বী ব্রাহ্মণগণ নানারকম বাহনে যাত্রা করলেন।প্রজাগণও রথে চড়ে চিত্রকূট উদ্দেশ্যে যাত্রা করল।আর সুন্দর শিবিকায় রাণীগণ চড়ে বসলেন।*
🌲☘🍀🌿🌴🍀☘🌲🌿🌴☘🍀🌲
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
꧁(১২০) রামায়ণ 🙏 তুলসী দাস 🙏 দ্বিতীয় ভাগ ꧂
꧁ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ ꧂
এই লিংকে ⬇️⬇️⬇️🙏⬇️⬇️⬇️ ক্লিক করুন
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
*(১২০)🌿তুলসী দাস রামায়ণ🌿*
*🌻অযোধ্যাবাসীদের নিয়ে ভরত ও শত্রুঘ্নর বনে গমন🌻*
▪▪▪▪▪▪▪▪▪▪▪▪▪
*🌻বিশ্বাসী সেবকদের নগর রক্ষার কার্য্যে নিযুক্ত করে অন্য সকলকে যাত্রা আরম্ভ করিয়ে শ্রীসীতারামের চরণযুগল স্মরণ করে দুইভাই ভরত ও শত্রুঘ্ন যাত্রা আরম্ভ করলেন। শ্রীরামচন্দ্রের দর্শন করবার জন্য অদম্য বাসনায় প্রজাগণ ক্ষিপ্রগতিতে এগিয়ে যেতে লাগল।তাদের দেখে মনে হচ্ছিল যেন পিপাসায় কাতর হাতিরদল জলাশয় দেখে তার দিকে ছুটে চলেছে। শ্রীসীতারাম সর্বসুখ ত্যাগ করে,অরণ্যে বাস করছেন এই কথা চিন্তা করে অনুজ শত্রুঘ্নসহ ভরত পদব্রজেই চলতে লাগলেন।ভরতের প্রীতি সকলকে মুগ্ধ করল।তখন সকলেই যে যার বাহন অশ্ব,গজ, রথ আদি থেকে নেমে পায়ে হেঁটে যেতে লাগলেন।তখন শ্রীরামজননী মাতা কৌশল্যা নিজ শিবিকা ভরতের সম্মুখে দাঁড় করিয়ে মিষ্ট বচনে বললেন, বাছা আমার!বালাই ষাট!রথে উঠে বসো, না হলে যে সকলের কষ্ট হচ্ছে। তোমরা হেঁটে গেলে যে অন্যান্যরাও হেঁটে যাবে।তারা সকলে শোকে কৃশ ; হেঁটে যাবার অবস্থায় নেই।মাতৃ আদেশ শিরোধার্য্য করে তাঁর চরণ ধূলি মাথায় নিয়ে দুইভাই আবার রথে উঠে বসলেন।যাত্রা বিরতি যথাক্রমে প্রথম ও দ্বিতীয় দিনে তমসা ও গোমতী নদীর তীরে হল।*
*🌺কেউ কেবল দুগ্ধপান করে রইল আর অন্য কেউ ফলাহারেই ক্ষুধা নিবৃত্তি করল।নদীর তীরে রাত্রি যাপন করে প্রভাতে আবার যাত্রা শুরু হল।অতঃপর সকলে শৃঙ্গবেরপুর উপনীত হলেন।ভরতের আগমন বার্তা নিষাদরাজ গুহককে চিন্তিত করে তুলল। সে এইভাবে চিন্তা করল, ভরতের বনে আগমন কেন? কোন উদ্দেশ্যে?যাইহোক, এইরকম চিন্তা ভাবনা করে নিষাদরাজ গুহক তাঁর সৈন্যসামন্তকে প্রস্তুত থাকতে বলল।সে আদেশ দিল,সকলে সাবধান। নৌকাগুলি জলে ডুবিয়ে দিয়ে দাও এবং পারাপারের ঘাট বন্ধ করে দাও। সুসজ্জিত হয়ে সব ঘাট অবরোধ করে যুদ্ধে মৃত্যুর জন্য প্রস্তুত হও। আমি সম্মুখ সমরে ভরতকে গঙ্গার ওপারে যেতে বাধা দিব।দেহে প্রাণ থাকতে প্রভু রামচন্দ্রের ক্ষতি, ও ভরতকে ওপারে যেতে দিব না।( গুহকের মনে কোন অবিশ্বাসের ছায়া ঘিরে ধরেছে, হয়ত মনে করছে দুইভাই রামচন্দ্রকে মেরে ফেলবে।) এই চিন্তা করেই এতসব।*
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
꧁(১২১) রামায়ণ 🙏 তুলসী দাস 🙏 দ্বিতীয় ভাগ ꧂
꧁ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ ꧂
এই লিংকে ⬇️⬇️⬇️🙏⬇️⬇️⬇️ ক্লিক করুন
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
*(১২১) 🌿তুলসী দাস রামায়ণ🌿*
*ভরত ও শত্রুঘ্নর বনে গমন*
""""""""""""""""""""""""""""""""""""""""""
*🌻গুহকের মনে সন্দেহ যে ভরত ও শত্রুঘ্ন হয়ত শ্রীরামচন্দ্রের ক্ষতি করবে ভেবে তার মধ্যে শত্রু মনোভাব জেগে উঠেছে।তাই বলছে,যুদ্ধক্ষেত্রে মৃত্যুবরণ তাও আবার গঙ্গাতীরে!ক্ষণভঙ্গুর দেহের বিনাশ তো অবশ্যম্ভাবী।শ্রীরামচন্দ্রের ভাই ভরত তো রাজা আর আমি হলাম অধম সেবক।আমি প্রভুর সেবায় যুদ্ধ করব তাতে যা হয় হবে। আমি রঘুনাথের জন্য প্রাণ ত্যাগ করব।মরলে আমি রামচন্দ্রের কাছে থেকে নিত্যসেবার অধিকারী লাভ করব।নিষাদ বলল ভাই চটপট প্রস্তুত হয়ে নাও, আমার কথায় ভয় পেও না,তখন সকলে উৎসাহিত হয়ে বলল হে নাথ!আমরা প্রস্তুত।অতঃপর তারা পরস্পরকে সাহস জোগাতে লাগল। নিষাদরাজকে প্রণাম করে নিষাদ প্রজাগণ তাঁর আদেশ পালনে গমন করল।সকলেই শৌর্য্যবীর্য্য সম্পন্ন, যুদ্ধে তাদের স্বাভাবিক উৎসাহ ছিল।শ্রীরামের পাদপদ্মের পাদুকার স্মরণ করে তারা সকলে আকারে ক্ষুদ্র তূণীর নিয়ে ধনুকে জ্যা রোপন করল। যোদ্ধাগণ বর্ম ও শিরস্ত্রাণ ধারণ করে নিল আর কুঠার,ভল্ল,সড়কি সব গুছিয়ে নিল।তরবারি চালনায় কুশল যোদ্ধাগণ অতি উৎসাহে লাফাতে লাগল, যেন আকাশ স্পর্শ করবে। যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত হয়ে নিষাদগণ ছোট ছোট দলে বিভাজিত হয়ে অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে নিষাদরাজের কাছে এসে নতমস্তকে দাঁড়াল।বীর যোদ্ধাদের দেখে সন্তুষ্ট হয়ে নিষাদরাজ গুহক তাদের নাম নিয়ে সকলকে উৎসাহিত করল।*
*🍀গুহক তাদের বলল, ভাইসকল! মৃত্যু সামনে এলেও বিভ্রান্ত হবে না।আমাদের সামনে আজ এক গুরুদায়িত্ব এসেছে।তাই শুনে নিষাদগণ উজ্জীবিত হয়ে বলল, হে মহাবীর! আমরা আছি ধৈর্য্য ধরে দেখুন কি হয়।*
*🌺হে নাথ!প্রভু শ্রীরামচন্দ্রের কৃপায় আর আপনার পরাক্রমে আমরা ভরতের সৈন্যসামন্ত, অশ্বাদি সব কিছু নিশ্চিহ্ন করে দিব।আমরা প্রাণ থাকতে রণক্ষেত্র ছেড়ে যাব না।রণঢঙ্কা নিনাদ শুরু করো, এমন সময়ে বাম দিক থেকে হাঁচি পড়ল। মঙ্গলামঙ্গল বিশারদ তাকে শুভ আখ্যা প্রদান করল অর্থ্যাৎ জয় নিশ্চিত।এমন সময়ে এক বৃদ্ধের কথা শোনা গেল, ভরতের সঙ্গে সাক্ষাৎ করা প্রয়োজন। তিনি শ্রীরামচন্দ্রকে রাজি করাতে এসেছেন। লক্ষ্মণ দেখে মনে হচ্ছে বিরোধ তো আদৌ নেই। বৃদ্ধের কথা নিষাদরাজের মনপুত হল।সে বলল,বৃদ্ধের কথায় ঠিক বলে মনে হচ্ছে।না ভেবে চিন্তে কিছু করে বসলে মূর্খগণের মতো পরে অনুতাপ করতে হয়।শ্রীভরতের স্বভাব ও সদাচার না জেনে যুদ্ধের জন্য এগিয়ে যাওয়া ক্ষতির সম্ভাবনা বেশী। অতএব ভাই সকল!তোমরা আপাতত ঘাট গুলিকে অবরোধ করে রাখ। আমি আগে ভরতের মনোভাব ও আগমনের উদ্দেশ্য কি জেনে আসি।তিনি কোন উদ্দেশ্য নিয়ে বনে এসেছেন।যদি দেখি তাঁর স্বভাব সুন্দর, তখন ব্যবস্থা নেব।গুহক তখন কন্দ,ফলমূল,পক্ষী,মৃগ আদি উপহার নিয়ে গমন করবার সময় মঙ্গলজনক শুভ চিহ্ন দেখা গেল।নিষাদরাজ মুনিবর বশিষ্ঠদেবকে দেখে নিজ পরিচয় দান করে দূর থেকে তাঁকে দন্ডবৎ প্রণাম নিবেদন করল।মুনিবর বশিষ্ঠদেব গুহককে শ্রীরামের প্রিয় জেনে আশীর্বাদ দিলেন আর ভরতকে বুঝিয়ে বললেন ; এই ব্যক্তি শ্রীরামের ভক্ত ও সখা।শ্রীরামের সখা সামনে শুনেই অনুরাগে ভরত রথ থেকে নেমে এসে গুহকের দিকে এগিয়ে এলেন।গুহক তখন তাঁকে নিজের নাম ধাম জাতি বলে ভূমিতে লুটিয়ে পড়ে প্রণাম করল।*
✋🤚✋🤚✋🤚✋🤚✋🤚✋🤚✋
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
꧁(১২২) রামায়ণ 🙏 তুলসী দাস 🙏 দ্বিতীয় ভাগ ꧂
꧁ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ ꧂
এই লিংকে ⬇️⬇️⬇️🙏⬇️⬇️⬇️ ক্লিক করুন
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
*(১২২)🌿তুলসী দাস রামায়ণ🌿*
*🌲🌴বন-গমনে ভরত ও শত্রুঘ্ন🌲🌴*
▪▪▪▪▪▪▪▪▪▪▪▪
*🌻তাঁকে দেখে দন্ডবৎ প্রণাম নিবেদন করতে দেখে শ্রীভরত নিষাদরাজ গুহককে তুলে বক্ষে জড়িয়ে ধরলেন।তখন গুহক আনন্দে আত্মহারা হয়ে উঠল ; মনে হচ্ছিল যেন তিনি সাক্ষাৎ শ্রীলক্ষ্মণের সঙ্গে মিলিত হয়েছেন।ভরত প্রীতি পূর্বক গুহককে আলিঙ্গন দান করলেন। দেবতাগণ ধন্য ধন্য বলে পুষ্পবৃষ্টি করতে লাগলেন। আর যারা ছিল তারা বলল, শাস্ত্রবিধান ও লোকাচার অনুসারে যে সব দিক দিয়ে পতিত অর্থ্যাৎ নিচজাতি, আর যার ছায়া স্পর্শ করলে স্নান করবার বিধান দেওয়া হয় এমন ব্যক্তি সেই নিষাদকে বক্ষে জড়িয়ে ধরে আলিঙ্গন দান করে শ্রীরামচন্দ্রের অনুজ শ্রীভরত আনন্দ ও প্রেমে মগ্ন হয়ে, দেহে রোমাঞ্চ পুলক অনুভব করছেন।যারা জৃম্ভনকালেও "রাম রাম" বলেন অর্থ্যাৎ আলস্যেও যাঁদের মুখে রাম নাম উচ্চারিত হয়, আর যাইহোক পাপ তাদের নিকট আসতে ভয় পায়।আর এই গুহককে তো স্বয়ং শ্রীরামচন্দ্রও আলিঙ্গন দান করে তাকে বংশানুক্রমে পবিত্রতা প্রদানকারী করে দিয়েছেন।কর্মনাশা নদী, গঙ্গায় মিলিত হলে তার পৃথক অস্থিত্ব থাকে না। এমন কে আছে যে তখন তার জল মস্তকে ধারণ করে না। বাল্মীকি মুনির কথা তো সকলেই জানেন, যিনি "মরা মরা" উচ্চারণ করতে করতেই ব্রহ্মজ্ঞানী হয়ে গিয়েছিলেন।🍀মূর্খ এবং পামর চন্ডাল,শবর,যবন,কোল ও কিরাতও রামনাম উচ্চারণ করলে পরম পবিত্র হয়ে ত্রিভুবনে খ্যাতি লাভ করে।🍀*
*🌻এই রীতি যুগ যুগান্তর ধরে চলে আসছে তাই তাতে আশ্চর্য্য হবার কারণ আদৌ নেই।শ্রীরঘুবীরের মহিমা কীর্তন কে করেননি? এইভাবে দেবতাগণ রামনাম মাহাত্ম্য কীর্তন করতে লাগলেন। শ্রীরামসখা নিষাদরাজ গুহকের সঙ্গে পরম প্রীতি পূর্বক মিলিত হয়ে ভরত তার কুশল মঙ্গল জিজ্ঞাসা করলেন।ভরতের আচরণ ও প্রেম গুহককে প্রেমময় করে তুলল।গুহকের মনে সঙ্কোচ, প্রেম ও আনন্দের যুগপৎ সমন্বয় হয়েছিল। সে দেহ,মন,প্রাণ অর্পণ করে একদৃষ্টে তাকিয়ে দাঁড়িয়ে ভরতকে দেখতে লাগল। অতঃপর সে ধৈর্য্য সহকারে নিজেকে সামলে নিয়ে ভরতের শ্রীপাদবন্দনা করে নিবেদন করল, হে প্রভু!আপনার শ্রীপাদপদ্ম দর্শন করে ধন্য হলাম। প্রভু আমার যে পেশা,আমি যে কুলে জন্মগ্রহণ করেছি আর প্রভু শ্রীরামচন্দ্রের মহিমা বিচার করে অর্থ্যাৎ কোথায় আমি ঘৃণ্য কর্মে লিপ্ত অধম জাতির জীব আর কোথায় অনন্তকোটি ব্রহ্মান্ডের প্রভু ভগবান শ্রীরামচন্দ্র! কিন্তু তিনি আমার মতন অধমকেও নিজ অহৈতুকী কৃপায় আপন করে নিয়েছেন। এইরকম ভেবে,যে রঘুবীরের পাদপদ্মের ভজনায় নিত্যযুক্ত হয় না সে তো জগতে বিধাতা দ্বারা বঞ্চিতই বলতে হবে।*
*🍀আমি কপটচারী,ভীরু,দুর্বুদ্ধি ও অধম জাতি ; লোকাচারে ও শাস্ত্রমতে আমি সর্বতোভাবে পতিত। কিন্তু যখন থেকে শ্রীরাম আমাকে আপন করে নিয়েছেন তখন থেকেই আমি দূষণ থেকে জতের ভূষণ হয়ে গিয়েছি। গুহকের প্রীতি ও সবিনয় নিবেদন শুনে ভরতানুজ শত্রুঘ্ন আবার তাকে আলিঙ্গন করলেন। গুহক তারপর নিজের পরিচয় দান করে সুমিষ্ট বচনে রাণীমাতাদের সাদর অভিনন্দন করল।রাজমাতাসকল গুহককে লক্ষ্মণতুল্য জ্ঞান করে আশীর্বাদ দিয়ে বললেন, তুমি শত লক্ষ বৎসর সুখে বেঁচে থাকো। প্রজাগণ গুহককে দেখে সুখী হল,মনে হল যেন তারা লক্ষ্মণকেই দেখছে।তারপর গুহক সকলকে নিয়ে এগিয়ে চলল।*
🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
꧁(১২৩) রামায়ণ 🙏 তুলসী দাস 🙏 দ্বিতীয় ভাগ ꧂
꧁ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ ꧂
এই লিংকে ⬇️⬇️⬇️🙏⬇️⬇️⬇️ ক্লিক করুন
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
*(১২৩)🌿তুলসী দাস রামায়ণ🌿*
*শ্রীভরত ও শত্রুঘ্নসহ অনেকের বনে গমন*
▪▪▪▪▪▪▪▪▪▪▪▪▪
*🌻নিষাদরাজের ইঙ্গিতে সেবকগণ পরিস্থিতি অনুকূল বুঝতে পারল আর তারা অবরোধের স্থান ত্যাগ করল। অতঃপর তারা অতিথিদের থাকবার জন্য সুবন্দোবস্ত করল।শৃঙ্গবেরপুর দেখে ভরতের বেশ ভাল লাগল।তারপর নিষাদের সাহায্য নিয়ে ধীরে ধীরে চলতে লাগলেন।চলতে চলতে ভরত সহ সকলে গঙ্গানদীর তীরে উপনীত হলেন।যে জায়গায় শ্রীরামচন্দ্র স্নান ও সান্ধ্যবন্দনা করেছিলেন, সে রামঘাটে তিনি প্রণাম করলেন।তখন ভরতের মনে হচ্ছিল যেন তিনি আগেই শ্রীরামচন্দ্রের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন।গঙ্গাবারি তো ব্রহ্মবারি।তা দর্শন করে সকলেই আনন্দ পেলেন।গঙ্গানদীতে স্নান করে হাত জোড় করে প্রার্থনা করলেন, হে মাতা! আশীর্বাদ দাও যেন আমাদের শ্রীরামচন্দ্র পদে প্রেম অবিচল থাকে। ভরত বললেন, হে গঙ্গামাতা! আপনার বালিকণা তো সর্বসুখদাতা ; সেবকের তা কামধেনু স্বরূপ।আমি হাত জোড় করে বর চাইছি শ্রীসীতারাম চরণে যেন আমার স্বাভাবিক প্রীতি অক্ষয় থাকে। সেখানকার কর্ম শেষ করে অস্থায়ী বাসস্থান ত্যাগ করে সকলে এগিয়ে চললেন।রামজননী মাতা কৌশল্যার কাছে গেলেন।চরণ সেবা ও সুমধুর কথায় ভরত মাতাদের সেবা করলেন। অতঃপর সেই কার্য্যে অনুজ শত্রুঘ্নকে নিযুক্ত করে তিনি নিজেই নিষাদরাজ গুহককে ডাকলেন। সখা গুহকের হাত ধরে বললেন, আমাদের সেই জায়গায় নিয়ে চলো যেখানে সীতাদেবী,শ্রীরাম ও লক্ষ্মণ রাত্রিযাপন করেছিলেন।ভরতের কথা শুনে গুহক সেখানে নিয়ে গেলে ভরতের নয়নযুগল অশ্রুসজল হয়ে উঠল।*
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
🙏 ক্রমশ 🙏
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️
꧁ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ📱7001138871꧂
নিবাস- বাঁশবাড়ী, কীর্তন মন্দিরের পাশে, পোঃ- বাঁশবাড়ী, থানা- ইংরেজ বাজার, জেলা- মালদহ, পশ্চিমবঙ্গ, পিন কোড- ৭৩২১০১।
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏
আমায় দেওয়া ওনার এই অমূল্য লিখনী সেবা, তা সকলের মধ্যে প্রকাশ করলাম। ওনার এই অমূল্য দান সমগ্র বৈষ্ণব সমাজ অনন্তকাল মনে রাখিবে।
🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
*••••┉━❀꧁ 🙏 রাধে রাধে 🙏 ꧂❀━┅••••*
শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য প্রভু নিত্যানন্দ
হরে কৃষ্ণ হরে রাম শ্রীরাধেগোবিন্দ।।
*••••┉━❀꧁ 🙏 জয় জগন্নাথ 🙏 ꧂❀━┅••••*
হরে কৃষ্ণ হরে কৃষ্ণ কৃষ্ণ কৃষ্ণ হরে হরে
হরে রাম হরে রাম রাম রাম হরে হরে॥
*••••┉━❀꧁ 🙏 জয় রাধাকান্ত 🙏 ꧂ ❀━┅••••*
💮❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀💮
💮❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀💮
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧



