✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
꧁🌻🌼🌻বেঙ্কট ভট্ট 🌻🌼🌻꧂
এই লিংকে 👇👇👇🙏👇👇👇 ক্লিক করুন
꧁ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ ꧂
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
꧁ টিকা বা অন্যান্য ধর্মীয় লিখনী 🙏 সূচীপত্র ꧂
এই লিংকে 👇👇👇🙏👇👇👇 ক্লিক করুন
꧁ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ ꧂
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
*দাক্ষিণ্যাত্যে শ্রীরঙ্গম-নিবাসী বৈষ্ণব, লক্ষ্মী-নারায়ণের উপাসক।মহাপ্রভু শ্রীরঙ্গক্ষেত্রে পৌঁছলে বেঙ্কটভট্ট মহাপ্রভুকে বহু সমাদর করে নিজের বাড়িতে নিয়ে গেলেন।সকলে তাঁর পদ ধৌত করলেন এবং পাদোদক পান করলেন।অতঃপর ভিক্ষা গ্রহণ করে মহাপ্রভু কিছুটা সুস্থ হ'লে ভট্ট বললেন,চাতুর্মাস্য সামনে এসে পড়েছে,কৃপা পূর্বক এই চার মাস এই অধমের গৃহে থাকুন।কৃষ্ণকথা শুনিয়ে আমাদের নিস্তার করুন।মহাপ্রভু সম্মতি প্রদান করলেন।ভট্টগৃহে শুরু হ'ল শ্রীকৃষ্ণনামগান, শ্রীকৃষ্ণকথাপ্রসঙ্গ। মহাপ্রভু প্রত্যহ কাবেরী নদীতে স্নান করে শ্রীরঙ্গম দর্শন করেন, এবং নৃত্য করেন প্রেমাবেশে।সেই সময় হাজার হাজার লোক এসে সমবেত হয় মহাপ্রভুকে দর্শন করতে,শ্রীকৃষ্ণের নাম,কথায় লুব্ধ(মুগ্ধ)হয়ে।মহাপ্রভুর সৌন্দর্য্য আর প্রেমাবেশ দেখে সমস্ত শোক-দুঃখ ভুলে যায়।কৃষ্ণনাম ছাড়া আর আন কথা তাদের মুখে আসে না।(সাধু সঙ্গ সাধু সঙ্গ সর্ব শাস্ত্রে কয়।লবমাত্র সাধুসঙ্গ কৃষ্ণ প্রাপ্তি হয়।)* *শ্রীরঙ্গমে সেই অবস্থায় হল।🌻🌻একদিন শ্রীরঙ্গের মন্দিরে গিয়েছেন মহাপ্রভু,দেখলেন এক বৈষ্ণব ব্রাহ্মণ তন্ময়(বিভোর) হয়ে গীতা অধ্যয়ন করছেন।অর্থ বা ব্যাকরণের ধার ধারেন না,উচ্চারণও অশুদ্ধ।যারা শুনছেন প্রত্যেকেই উপহাস করছেন, কিন্তু ব্রাহ্মণের কোন চাঞ্চল্য নেই।তিনি আন্তরিক আনন্দরসে ভরপুর।তাঁর এই সকল ভাবধারা দেখে মহাপ্রভুও আনন্দে ভরে উঠলেন। ব্রাহ্মণকে জিজ্ঞেস করলেন,কোন্ শ্লোকের কোন্ অর্থ জেনে তোমার এত সুখ?ব্রাহ্মণ মুগ্ধের মতো তাকালেন মহাপ্রভুর দিকে।বললেন,আমি মূর্খ,আমি শব্দার্থও জানিনা।আমার পাঠ শুদ্ধ হচ্ছে না অশুদ্ধ হচ্ছে সে বিচারেও আমার ক্ষমতা নেই।আমার গুরুদেব আমাকে গীতা পাঠ করতে বলেছেন তাই পাঠ করে যাচ্ছি।* *যতক্ষণ অধ্যয়ন করি,দেখছি অর্জুনের রথে শ্যামলসুন্দর শ্রীকৃষ্ণ একহাতে চাবুক আরেক হাতে রজ্জু নিয়ে বসে অর্জুনকে হিতোপদেশ শোনাচ্ছেন।অধ্যয়ন করলেই শ্রীকৃষ্ণকে দেখতে পায় বলে পড়া ছাড়তে পারি না।* *মহাপ্রভু বললেন,গীতা পাঠে তোমারই সত্যিকারের অধিকার।তুমিই গীতার সার অর্থ বুঝতে পেরেছ। এইকথা বলে মহাপ্রভু তাঁকে আলিঙ্গন করলেন।মহাপ্রভুর চরণ ধরে ব্রাহ্মণ বললেন,অর্জুনের রথে শ্রীকৃষ্ণকে দেখে আমার যে কি সুখ, কিন্তু তোমাকে দেখে তার দ্বিগুণ সুখ হচ্ছে, আমার মনের কথা বললাম। আমার মনে হচ্ছে তুমিই সেই রথের শ্রীকৃষ্ণ।মহাপ্রভু বললেন,এমন কথা ভুলেও মুখেও এনো না।কিন্তু তার মনের কথা বাইরে কারো কাছে প্রকাশ না করলেও ব্রাহ্মণ মহাপ্রভুর সঙ্গ ছাড়লেন না,ছায়ার মতো মহাপ্রভুর সঙ্গে ফিরতে লাগলেন।🌻🌻ভট্টের গৃহে অন্তরঙ্গ অতিথি হয়ে নিরন্তর (সব সময়)থাকার দরুণ মহাপ্রভুর সঙ্গে ভট্টের সখ্যভাব জন্মাল।* *আর সখ্যভাবের লক্ষণই হাস্য-পরিহাস।ভট্টের মতে নারায়ণই স্বয়ং ভগবান আর লক্ষ্মী পতিব্রতা শিরোমণি।তাই লক্ষ্মী-নারায়ণই তার একমাত্র উপাস্য।* *কিন্তু এই লক্ষ্মীই বৃন্দাবনে শ্রীকৃষ্ণসঙ্গ পাবার জন্যে বৈকুন্ঠের সুখৈশ্বর্য্য ত্যাগ করে কঠোর তপস্যা করেছিলেন।সেই প্রসঙ্গের ইঙ্গিত করে মহাপ্রভু একদিন ভট্টকে প্রশ্ন করলেন,তোমার লক্ষ্মীনারায়ণের বক্ষ-বিলাসিনী,সাধ্বী-শিরোমণি আর আমার কৃষ্ণ গোয়ালা,গরু চরায়। তাহলে তোমার লক্ষ্মী সেই কৃষ্ণের সঙ্গলাভের জন্য বা ইচ্ছায় বৈকুন্ঠের সুখভোগ ছেড়ে কেন ব্রতনিয়ম ধারণ করে তপস্যা করতে বসলেন?* *ভট্ট বললেন,কৃষ্ণ আর নারায়ণ স্বরূপে অভিন্ন।কৃষ্ণে রূপলীলা বৈদগ্ধমাধুর্য্য বেশী।লক্ষ্মী যদি কৌতুকচ্ছলে সেই কৃষ্ণের সঙ্গ-সান্নিধ্য অভিলাষ করে,তাহলে তাঁর পাতিব্রতা ক্ষুণ্ণ হয় না।
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
*মহাপ্রভু বললেন,ক্ষুণ্ণ যে হয় নাতা আমি মানি।কিন্তু শাস্ত্রে বলে লক্ষ্মী তপস্যা করেও রাসলীলায় শ্রীকৃষ্ণসঙ্গ পেলেন না।কেন পেলেন না?তপস্যা করে দেবতারা পর্যন্ত পেল কিন্তু তোমার লক্ষ্মী পেল না কেন?* *বলো কারণ কি?আমি ক্ষুদ্র জীব,আমি তার কি জানি।তুমিই বলতে পারো কেন তুমি লক্ষ্মীকে সঙ্গ দাওনি।তোমার লীলামর্ম বুঝি আমার এমন সাধ্য কী?মহাপ্রভু মৃদু হেসে বললেন,শ্রীকৃষ্ণ স্বয়ং ভগবান।নারায়ণ তাঁর বিলাসমূর্তি।শ্রীকৃষ্ণের এই এক অদ্ভুত স্বভাব সে নিজের মাধুর্য্যে সকলকে সব সময়েই আকর্ষণ করে থাকেন,মানুষ থেকে স্থাবর-জঙ্গম পযর্ন্ত,এমন কি নিজেকেও। এই বৈশিষ্ট্য কিন্তু নারায়ণের নেই।কৃষ্ণকে ব্রজজনেরা ঈশ্বর মনে করেন না,আপনজন মনে করেন।গোপীভাব ভজন করে গোপীদেহ প্রাপ্ত না হ'লে শ্রীকৃষ্ণের প্রেয়সী হওয়া যায় না।শ্রীকৃষ্ণের মাধুর্য্য লক্ষ্মীকেও আকৃষ্ট করেছে,নারায়ণের সাধ্য নেইসেই আকর্ষণ থেকে লক্ষ্মীকে বিরত করেন। কিন্তু লক্ষ্মীগোপী-দেহে না চেয়ে দেবী-দেহেই কৃষ্ণসঙ্গ চেয়েছিলেন।তাই তাঁর সে আকাঙ্খা নিষ্ফল হ'ল।* *ভট্টের গর্ব পরিহাসচ্ছলে খর্ব করলেন মহাপ্রভু।দেখালেন বা বোঝালেন লক্ষ্মী নারায়ণের ভজন নয়,শ্রীকৃষ্ণভজনই সর্বশ্রেষ্ঠ ভজন।এই সব কথা শোনার পর ভট্টের মুখখানি ম্লান হয়ে গিয়েছিল।তখন মহাপ্রভু তাঁর সিদ্ধান্তের গূঢ়ার্থ উন্মোচন করলেন।* *বললেন,তুমি দুঃখিত হইও না,শাস্ত্র সিদ্ধান্ত শোন।কৃষ্ণ আর নারায়ণ যেমন এক,গোপী আর লক্ষ্মীও তেমনি এক।লক্ষ্মী দেবী-দেহে কৃষ্ণসঙ্গ পায় নি বটে কিন্তু গোপীদেহে পেয়েছে।গোপী দেহে লক্ষ্মীই তো রাধিকা।* *নারায়ণ যেমন কৃষ্ণের বিলাস,লক্ষ্মীও তেমনি রাধিকার বিলাস।তাই রাধা যখন কৃষ্ণসঙ্গ পাই,তখন লক্ষ্মীও কৃষ্ণসঙ্গই পাই।* *ঈশ্বরত্বে কোন ভেদ নেই।একই ঈশ্বর ভক্তের ধ্যান-অনুরূপ একই বিগ্রহে নানা রূপ ধারণ করেন।ভক্তের ধ্যান-ভেদে বিগ্রহের রূপভেদ হলেও অচ্যুত অচ্যুতই থাকেন,নিজেকে ন্যূন করেন না।* *মহাপ্রভুর কথা শুনে ভট্ট প্রসন্ন হলেন।বললেন,ঈশ্বরের তো অগাধ লীলা, সে বিষয়ে আমার কিছুই জানা নেই বললেই চলে।তোমার কথাই বুঝতে পারলাম,তুমিই সাক্ষাৎ ঈশ্বর। তুমি যা বলছ আমি তাই সত্য বলে মানছি।বুঝতে পারছি লক্ষ্মী নারায়ণ আমাকে পূর্ণ কৃপা করেছেন, তাই তোমার চরণ-দর্শন পেলাম।এখন আমি বুঝতে পারলাম শ্রীকৃষ্ণভক্তিই সর্বশ্রেষ্ঠ ভজন।চাতুর্মাস্য পূর্ণ হ'লে মহাপ্রভু শ্রীরঙ্গম ত্যাগ করে চললেন দক্ষিণে।সঙ্গে সঙ্গে চললেন বেঙ্কটভট্ট আর তার পুত্র কিশোর গোপাল ভট্ট।মহাপ্রভু অনেক বুঝিয়ে বেঙ্কটভট্টকে ফিরিয়ে দিলেন, কিন্তু গোপাল ভট্ট ফিরতে চাইছেন না,সে কাঁদে লাগল,আমি আপনার সঙ্গে যাব, আপনার মতো সন্ন্যাসী হব।* *এতদিন মহাপ্রভুর অন্তরঙ্গ সেবা করেছে গোপাল। মহাপ্রভুর কৃপায় তার মধ্যে জেগেছে প্রেমভক্তি।পিতৃব্য প্রবোধানন্দের কাছে বিদ্যাশিক্ষা করেছে।প্রবোধানন্দকেই মহাপ্রভু বলে দিয়েছিলেন যথাকালে গোপালকে বৃন্দাবনে পাঠিয়ে দিও।কিন্তু তা এখন কি!মহাপ্রভু তাকে বুঝিয়ে বললেন,যতদিন পিতা মাতা বেঁচে আছেন ঘরে থেকে তাঁদের সেবা করো। পরে কোরো সংসার ত্যাগ।এই গোপালই ষড় গোস্বামীর এক গোস্বামী, গোপালভট্ট গোস্বামী।*
*🙏বানান ভুল ভ্রান্তি মার্জনীয়🙏*
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
👇👇👇এই লিখনী 📚 PDF 📚 ক্লিক করুন 👇👇👇
✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️
꧁ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ📱7001138871꧂
নিবাস- বাঁশবাড়ী, কীর্তন মন্দিরের পাশে, পোঃ- বাঁশবাড়ী, থানা- ইংরেজ বাজার, জেলা- মালদহ, পশ্চিমবঙ্গ, পিন কোড- ৭৩২১০১।
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏
আমায় দেওয়া ওনার এই অমূল্য লিখনী সেবা, তা সকলের মধ্যে প্রকাশ করলাম। ওনার এই অমূল্য দান সমগ্র বৈষ্ণব সমাজ অনন্তকাল মনে রাখিবে।
🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
*••••┉━❀꧁ 🙏 রাধে রাধে 🙏 ꧂❀━┅••••*
*••••┉━❀꧁ 🙏 রাধে রাধে 🙏 ꧂❀━┅••••*
শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য প্রভু নিত্যানন্দ
হরে কৃষ্ণ হরে রাম শ্রীরাধেগোবিন্দ।।
*••••┉━❀꧁ 🙏 জয় জগন্নাথ 🙏 ꧂❀━┅••••*
হরে কৃষ্ণ হরে কৃষ্ণ কৃষ্ণ কৃষ্ণ হরে হরে
হরে রাম হরে রাম রাম রাম হরে হরে॥
*••••┉━❀꧁ 🙏 জয় রাধাকান্ত 🙏 ꧂ ❀━┅••••*
💮❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀💮
💮❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀💮
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧