✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
꧁ ভক্তচরিত নকুল ব্রহ্মচারী ꧂
এই লিংকে 👇👇👇🙏👇👇👇 ক্লিক করুন
꧁ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ ꧂
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
꧁ টিকা বা অন্যান্য ধর্মীয় লিখনী 🙏 সূচীপত্র ꧂
এই লিংকে 👇👇👇🙏👇👇👇 ক্লিক করুন
꧁ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ ꧂
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
*শ্রীপাট কালনার কাছাকাছি পিয়ারিগঞ্জে নকুর ব্রহ্মচারীর কুটির।পূর্বে নাম ছিল প্রদ্যুম্ন,নৃসিংহের উপাসক।মহাপ্রভু তার নাম দিয়েছিলেন নৃসিংহানন্দ। কালনার অম্বিকায় নকুল ব্রহ্মচারীর দেহে মহাপ্রভুর আবেশ হল।জীব নিস্তারের তিনটি উপায়,সাক্ষাৎ-দর্শন,আবির্ভাব ও আবেশ।নকুল ব্রহ্মচারীর মধ্যে এই আবেশ উপস্থিত হল, আবিষ্ট হয়ে গ্রহ গ্রস্তের মত নকুল কখনো হাসে কখনো কাঁদে,কখনো গা করে,কখনো বা নাচে উন্মত্ত হয়ে।মহাপ্রভুর মতই তাঁর গাত্রবর্ণ গৌর হয়ে গেল।সর্বদাই প্রেমাবেশে মহাপ্রভুর মত সকলকে কৃষ্ণনাম নিত বলছেন, বলছেন নাম ছাড়া আর উপায় নেই, একেবারেই ঠিক মহাপ্রভুর মতই বাচন-ভঙ্গি। দেশের লোক নকুলকে দেখতে ভিড় করল,আর কী আশ্চর্য্য,যে দেখ সেই প্রেমোদ্দাম হয়ে ওঠে। শিবানন্দ সেনের ইচ্ছে হল পরীক্ষা করে দেখি সত্যিই কী এ মহাপ্রভুর আবেশ কিনা।মহাপ্রভু তো সর্বজ্ঞ, সত্যি-সত্যি মহাপ্রভুর আবেশ হলে নকুলও তো সর্বজ্ঞ হয়ে উঠবে।দেখি আমি লুকিয়ে থাকলে নকুল আমার নাম ধরে ডাকতে পারে কিনা।দেখি বলতে পারে কিনা আমার ইষ্টমন্ত্র কী?এমন সময় নকুল বললেন,শিবানন্দ দূরে অপেক্ষা করছে,তাকে কেহ তাকে ডেকে নিয়ে এস তো। শিবানন্দ!শিবানন্দ! হাঁকডাক শুরু হয়ে গেল।শিবানন্দ কে?শিবানন্দ কোথায়?তোমাকে ব্রহ্মচারী ডাকছেন।শিবানন্দ এসে প্রণাম করে নকুলের পাশে বসলেন হাসিমুখে।পাশে বসে ভালোই করেছ, বললেন নকুল। এখন,তোমার ইষ্টমন্ত্র কী,তাই তোমাকে কানে কানে বলে দেই।চারি অক্ষর গৌরগোপাল মন্ত্রেই তোমার দীক্ষা,কী,ঠিক নয়? ঠিক।এতক্ষণে শিবানন্দের বিশ্বাস হল।মহাপ্রভু নীলাচল থেকে বৃন্দাবনে যাচ্ছেন,গৌরপথে এসেছেন কুলিয়ায়।মনে মনে পথ তৈরী করছেন নকুল, মহাপ্রভুর বৃন্দাবনে যাবার পথ।কল্পনায় চিত্র আঁকছেন।আগে মণিরত্ন দিয়ে পথ তৈরী করলেন।সে রত্নবাঁধা পথও বোধহয় মহাপ্রভুর চরণে কঠিন লাগবে,তাই তার উপর নির্বৃন্ত ফুলের শয্যা বিছিয়ে দিলেন।পথের দুইধারে বকুলগাছ পুঁতে দিলেন,বকুল গাছের ছায়ায় পথ বেশ শীতল থাকবে।ফুলের গন্ধে বাতাস আমোদ করে বেড়াবে।মহাপ্রভুর তত ক্লান্তি লাগবে না।পথের কাছাকাছি কতকগুলো পুকুরও কেটে দিলেন,স্বচ্ছ জল সুধার মত স্বাদু,মহাপ্রভু ইচ্ছেমত স্নান-পান করতে পারবেন। আর বৃক্ষে বৃক্ষে কী সুন্দর পাখীর কাকলি,তাতে প্রাণে আনন্দ জাগাবে,উৎসাহ জাগবে।মনে হবে পাখীর কন্ঠেও কৃষ্ণনামের মধু ঝরছে।*
*🌻কল্পনায় পথ করতে করতে কানাইর-নাটশালা পর্যন্ত এসেই থেমে গেলেন নকুল।তার বেশী আর মন অগ্রসর করতে পারলেন না।নকুল বললেন,মহাপ্রভুর এবার বৃন্দাবনে যাওয়া হবে না, তাঁকে কানাইর নাটশলা থেকেই ফিরতে হবে।নকুল যা বলেছিল সত্যিই তাই হল,কানাইর নাটশালা থেকেই মহাপ্রভু ফিরে গেলেন।নকুলে শুধু মহাপ্রভুর আবেশই হল না,নকুলের সামনে মহাপ্রভুর আবির্ভাবও হল। শ্রীকান্ত, শিবানন্দের ভাগ্নে,একবার রথযাত্রার অনেক আগেই মহাপ্রভুকে দেখবার উৎকণ্ঠায় চলে এসেছে নীলাচলে।*
*ভক্তচরিত নকুল ব্রহ্মচারী শেষ অংশ*
~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~
*শ্রীকান্ত শিবানন্দের ভাগনে,একবার রথযাত্রার অনেক আগেই মহাপ্রভুকে দর্শন করবার উৎকণ্ঠায় চলে এসেছেন নীলাচলে।দুইমাস থাকবার পর মহাপ্রভু তাকে বললেন, বাংলা দেশে ফিরে যাও,আরও বললেন,সবাইকে বলে দিও,এ বছর কেহ যেন না আসে।কেউ আসবে না?শ্রীকান্তের বুকে যেন ব্যথা বাজল।না, কেননা আমিই যাব এবার পৌষমাসে।তোমার মামা শিবানন্দের গৃহে উঠব, মহাপ্রভু বললেন।সত্যি?শ্রীকান্ত উল্লাস করে উঠলেন।সেখানে জগদানন্দ আছে,সে আমার জন্য রন্ধন করতে পারবে। শ্রীকান্ত ফিরে এসে সংবাদ রাষ্ট্র করে দিলেন।যাঁরা যাঁরা নীলাচলে যাবার উদ্যোগ করেছিলেন তাঁরা সকলেই স্থির হলেন। মহাপ্রভু নিজে আসছেন এর মত আর সুখকর কী আছে?*
*🌻পৌষমাস পড়তেই শিবানন্দ মহাপ্রভুর ভিক্ষার উপচার সংগ্রহ করতে লাগলেন।কিন্তু কই,মাস যে কেটে যায়,মহাপ্রভু এলেন কই?শিবানন্দ ম্রিয়মান হয়ে রইলেন,জগদানন্দেরও একই অবস্থা।মহাপ্রভু তাঁর হাতের রন্ধন খেতে চেয়েছিলেন, সে কি তবে রন্ধন করা ছেড়ে দেবেন? একদিন নকুল এসে উপস্থিত,এই যে নৃসিংহানন্দ এসেছ,শিবানন্দ সসম্ভ্রমে অভ্যর্থনা করলেন।কিন্তু তোমরা নিরানন্দ কেন? শিবানন্দ বললেন তাদের দুঃখের কথা।মহাপ্রভু আসবেন বলে এলেন না।এখানে সেবা নেবেন বলে আর সেবা দেওয়া হল না।নকুল বললেন,চিন্তা কোরো না।আমি তিনদিনের মধ্যে মহাপ্রভুকে এখানে নিয়ে আসব।দুইদিন ধ্যান করবার পর নকুল বললেন,মহাপ্রভু পানিহাটি পর্যন্ত এসেছেন,আগামীকাল মধ্যাহ্নে এখানে আসবেন।ভিক্ষের যোগাড় করো।আমি রন্ধন করব।বহুতর ব্যঞ্জন পিঠে ক্ষীর সাজালেন নকুল।প্রথম জন স্বয়ং মহাপ্রভু, দ্বিতীয় জন জগন্নাথ, তৃতীয় জন তাঁর নিজের ইষ্টদেব নৃসিংহ।তিনজনকে ভোগ সমর্পণ করে আবার ধ্যানে বসলেন নকুল।হাঁ, হাঁ,কি করো? কী করো? নকুল চেঁচিয়ে উঠলেন।তুমি তিন থালাই সেবা নাও কী করে?জগন্নাথদেবের সঙ্গে তোমার ঐক্য, তুমি না হয় তাঁর ভোগ খেলে। কিন্তু নৃসিংহের ভোগ তুমি খাও কী করে?*
*কিন্তু মহাপ্রভু আবির্ভূত হয়ে নকুলকে দেখালেন জগন্নাথের সঙ্গে যেমন তাঁর ভেদ নেই,নৃসিংহের সঙ্গেও তেমনি ভেদ নেই।নকুল তা মনে মনে বুঝতেন এখন চোখের সামনে প্রত্যক্ষ করলেন। তোমার মহাপ্রভুর ব্যবহার দেখ, শিবানন্দকে উদ্দেশ্য করে বললেন নকুল, আমার নৃসিংহেরও ভোগ খেয়ে গেলেন, জগন্নাথেরও ভোগ খেলেন, কিন্তু আমার নৃসিংহেরটি সেবা করেন কি করে? আমার নৃসিংহ আজ উপবাসী রইল।এ সব কি বলছে নকুল?এ সব কি সে প্রেমাবেশে বলছে? এ সব কি তাঁর কল্পনার কারুকার্য্য? নইলে শিবানন্দ দেখতে পেলেন না কেন? জগদানন্দেরই বা কি অপরাধ? তবুও নকুলকে শিবানন্দ অগ্রাহ্য করতে পারলেন না। নৃসিংহের জন্য সমস্ত যোগাড় করলেন, পুন ভোগ লাগালেন নকুল। শিবানন্দের সংশয়ের কথা মহাপ্রভু জানতে পেরেছেন।পরের বছর যখন শিবানন্দ নীলাচলে গেলেন তখন মহাপ্রভু বললেন, গত বছর পৌষমাসে তোমাদের গৃহে গিয়ে কি সুন্দর সেবা করলাম।নৃসিংহানন্দ খুবই সুন্দর রন্ধন করেছিল।কত সম্মান করে আমার সেবা দিল।এতক্ষণে শিবানন্দের সুদৃঢ় বিশ্বাস হল। নকুলের প্রতি তার বিশ্বাস সুদৃঢ় হল।* *ভক্তি যেখানে ভগবান সেখানে।*
*🙏বানান, ভুল মার্জনীয়🙏*
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
👇👇👇এই লিখনী 📚 PDF 📚 ক্লিক করুন 👇👇👇
✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️
꧁ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ📱7001138871꧂
নিবাস- বাঁশবাড়ী, কীর্তন মন্দিরের পাশে, পোঃ- বাঁশবাড়ী, থানা- ইংরেজ বাজার, জেলা- মালদহ, পশ্চিমবঙ্গ, পিন কোড- ৭৩২১০১।
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏
আমায় দেওয়া ওনার এই অমূল্য লিখনী সেবা, তা সকলের মধ্যে প্রকাশ করলাম। ওনার এই অমূল্য দান সমগ্র বৈষ্ণব সমাজ অনন্তকাল মনে রাখিবে।
🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
*••••┉━❀꧁ 🙏 রাধে রাধে 🙏 ꧂❀━┅••••*
*••••┉━❀꧁ 🙏 রাধে রাধে 🙏 ꧂❀━┅••••*
শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য প্রভু নিত্যানন্দ
হরে কৃষ্ণ হরে রাম শ্রীরাধেগোবিন্দ।।
*••••┉━❀꧁ 🙏 জয় জগন্নাথ 🙏 ꧂❀━┅••••*
হরে কৃষ্ণ হরে কৃষ্ণ কৃষ্ণ কৃষ্ণ হরে হরে
হরে রাম হরে রাম রাম রাম হরে হরে॥
*••••┉━❀꧁ 🙏 জয় রাধাকান্ত 🙏 ꧂ ❀━┅••••*
💮❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀💮
💮❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀💮
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
