✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
꧁ সুবুদ্ধি রায় ꧂
এই লিংকে 👇👇👇🙏👇👇👇 ক্লিক করুন
꧁ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ ꧂
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
꧁ টিকা বা অন্যান্য ধর্মীয় লিখনী 🙏 সূচীপত্র ꧂
এই লিংকে 👇👇👇🙏👇👇👇 ক্লিক করুন
꧁ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ ꧂
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
*🌻🌻🌻সুবুদ্ধি রায়🌻🌻🌻*
💐💐💐💐💐💐💐💐💐
*🌻প্রকৃত নাম সুবুদ্ধি ভাদুড়ি, পিতার নাম শ্রীকৃষ্ণ ভাদুড়ি। সুবুদ্ধি রায় এককালে গৌড়ের অধিকারী ছিলেন,তাঁর অধীনে চাকুরি করত হুসেন শাহ।হুসেন শাহকে একদিন ডেকে বললেন,একটি দীঘি খনন করতে হবে,অতি সুন্দর ভাবে একটি দীঘি খনন করবার ভার তোমায় দিলাম,দেখ যেন কোন কাজে ছিদ্র না হয়।দীঘি খনন করার প্রায় শেষ দিকে সুবুদ্ধি রায় দেখলেন কর্মের মধ্যে ক্রটি রয়েছে, তখন সুবুদ্ধি রায় হুসেন শাহকে কর্মের অপরাধের জন্য চাবুক প্রহার করলেন। পিঠের আঘাত এত গভীর হল যে ক্ষত শুকোলেও দাগ কিন্তু মিলিয়ে গেল না।কালক্রমে হুসেন শাহ গৌড়ের নবাব হলেন।প্রথম প্রথম সুবুদ্ধি রায়কে সে বহু সম্মান দেখালেন,করলেন অনেক পরিতোষ।কিন্তু একদিন হুসেন শাহ-র স্ত্রী দেখতে পেল সেই পিঠের কালো দাগ। স্বামীকে জিজ্জেস করল,এ দাগ কিসের? হুসেন শাহ আর সেইদিনের কথাগুলি ডেকে রাখতে পারলেন না, বলেই ফেললেন,সুবুদ্ধি রায় আমাকে চাবুক প্রহার করেছিলেন, কিন্তু আমার দোষেই,শুনে স্ত্রী ক্রোধান্বিত হয়ে বলল,যাও তুমিও সুবুদ্ধি রায়কে চাবুক প্রহার কর,এখুনি?তারপর তাকে প্রয়োজনে বধ কর? হুসেন শাহ বললেন,তা আমি পারব না,সুবুদ্ধি রায় আমার পূর্ব মনিব,আমার পালনকর্তা,পিতৃতুল্য,তাঁকে প্রাণে মারা অধর্ম হবে।তখন স্ত্রী বলল,তাহলে জাতে মার? শাহ বললেন,জাতে মারলে তো তিনি প্রাণে বাঁচবেন না। কিন্তু স্ত্রী কিছুতেই নিবৃত্ত হল না,স্বামীকে দিনরাত উত্তেজিত,উত্ত্যক্ত করতে লাগল। তারপর সুবুদ্ধি রায়কে ডেকে এনে তার মুখে "করোয়ার" জল ঢেলে দিল হুসেন শাহ। সুবুদ্ধি রায়ের জাত গেল, প্রায়শ্চিত্তের জন্য তিনি কাশীতে এসে পন্ডিতদের কাছে বিধান চাইলেন।কেউ বললেন,তপ্ত ঘৃত খেয়ে প্রাণত্যাগ করাই একমাত্র প্রায়শ্চিত্ত। আবার কেহ বললেন,নিজের ইচ্ছেই তো তিনি করোয়ার জল খাননি, ও অবস্থায় অতবড় শাস্তি অবিধেয়।কী করবেন,কোথায় যাবেন, সুবুদ্ধি রায় অস্থির চিত্তে দিন যাপন করতে লাগলেন।ভগবানের অসীম কৃপায়, এমন সময়ে বৃন্দাবনের পথে কাশীতে মহাপ্রভু এলেন। সুবুদ্ধি রায় জানতে পারলেন যে কোন এক নবীন সন্ন্যাসী কাশীতে এসেছেন,তাঁর সঙ্গে সাক্ষাৎ করে সুবুদ্ধি রায়, সুবুদ্ধি চাইলেন। মহাপ্রভু বললেন, তুমি বৃন্দাবনে যাও, নিরন্তর হরি স্মরণ কর, এই হরিস্মরণই শ্রেষ্ঠ প্রায়শ্চিত্ত। অনুক্ষণ কৃষ্ণনাম কীর্তন করো,এই নামাভাসেই তোমার সমস্ত পাপদোষ যাবে, আর নাম করতে করতেই শ্রীকৃষ্ণচরণ পাবে।*
*🌻হরিনাম পরম পাবন।অশুচিকে শুচি করে,অতীর্থকে তীর্থ করে। হেলায়, অশ্রদ্ধায় এমন কি বাক্য-পূরণেও নামোচ্চারণ করলে ফল লাভ হয়।*
*খাইতে শুইতে যথা তথা নাম লয়*
*দেশ কাল নিয়ম নাহি সর্বসিদ্ধি হয়।।*
*🌻শুধু নাম নহে,নামাভ্যাসেও হবে। "রত্ন যেখানেই রাখো,সিন্দুকেই হোক বা ছাইয়ের গাদায়ই হোক,তার সমান মূল্য"। পুরো নাম তো বটেই,নামবদ্ধ নামের অক্ষরগুলোও অপ্রাকৃত চিন্ময়।তাই নামের মত নামাভ্যাসেও প্রচণ্ড শক্তি। শূকরের দন্তে আহত হয়ে যবন "হারাম" "হারাম" বলে ডেকে মুক্তি পেয়েছিল।বলছে শূকর, ডাকা হচ্ছে রামকে।একেই বলে নামাভ্যাসে মুক্তি।নামাভ্যাসেই যদি এত শক্তি তাহলে স্পষ্ট নামোচ্চারণ যে প্রত্যক্ষ ফল দেবে তাতে আর কারও সন্দেহ থাকতে পারে? নামের উচ্চারণ যদি অশুদ্ধ হয়, এমনকি অসম্পূর্ণও হয়, কিছু এসে যাবে না,ঐ ভ্রমে ও ন্যূনতায়ও নামপ্রভাব অম্লান থাকবে।সমস্ত প্রারব্ধ পাপেরও নাশ এই নামেই।আর নাম এবং নামী অভিন্ন বলে নামীর যেমন মহিমা,নামেরও তেমনি।*
*ক্রমশ*
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
꧁ সুবুদ্ধি রায় ꧂
এই লিংকে 👇👇👇🙏👇👇👇 ক্লিক করুন
꧁ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ ꧂
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
*সুবুদ্ধি রায় শ্রীমন্মহাপ্রভুর কথামত বৃন্দাবনের দিকে যাত্রা করলেন।প্রয়াগ অযোধ্যা হয়ে পৌঁছলেন নৈমিষারণ্যে। সেখান থেকে মথুরায়।মথুরায় এসে শুনলেন মহাপ্রভু ব্রজভূমি দর্শন করে ফিরে গেছেন। সুবুদ্ধি রায় ভেবেছিলেন,আর একবার হয়ত মহাপ্রভুর সঙ্গে সাক্ষাৎ হবে! কিন্তু তা হল না।বৃন্দাবনে পৌঁছে কী করে তিনি জীবিকা নির্বাহ করবেন! জঙ্গল থেকে শুকনো কাঠ এনে বাজারে বিক্রি করতে লাগলেন।কাঠ এনে কি করেন?দড়ি দিয়ে বেঁধে,কাঁধে করে বহে,বেচে পায় কত?এক বোঝা মাত্র পাঁচ পয়সা, খদ্দের সদয় হলে বড়জোর ছয় পয়সা। তার থেকে এক পয়সা দিয়ে চানা-চাবানা কিনে নিজে খায় আর বাকী পয়সা বেনের দোকানে জমিয়ে রাখেন।জমা পয়সায় গরীব দুঃখী,সাধু-সন্ন্যাসীর সেবা করেন।আর যদি সে বাঙ্গালী বৈষ্ণব হন,তাহলে তাঁর জন্যে অঙ্গে মাখবার তেল কেনে,শুখা রুটির পরিবর্তে দুটি অন্নের যোগাড় করেন, নিজের জন্য কিন্তু সেই শুকনো চানার বেশী কিছু নয়, না কখনো না।*
*🌻যে সুবুদ্ধি রায় একদিন অধিকারী ছিলেন,কত দাস-দাসী ছিল,কত তাঁর ভোগের উপকরণ, আজ সে কিনা এক পয়সার চানা কিনে খেয়ে দিনযাপন করছেন।মহাপ্রভুর কৃপায় তিনি বৈরাগ্য ভূষণ লাভ করেছেন।পরাপেক্ষা নেই,নিজেতেই নিজের নির্ভর,নেই বিন্দুমাত্র অপ্রসাদ।যেটুকু সঞ্চয় সেটুকুও নিজের ভোগের জন্য নহে, দীনদরিদ্র,বৈষ্ণব সেবার জন্য।শ্রীরূপ ও অনুপম মথুরায় এলেন, সংবাদ পেয়ে তিনি দেখা করতে গেলেন। দুইভাইকে দ্বাদশবন ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে দেখালেন। কিন্তু মাসখানেকের বেশী তাঁরা থাকতে পারলেন না, পরে শ্রীসনাতন গোস্বামী কাশীতে এসেছেন সংবাদ পেয়ে চললেন কাশীগঙ্গাতীরের পথ দিয়ে মহাপ্রভু গিয়েছেন শুনে তাঁরা সেই পথ ধরলেন।ওদিকে সনাতন গোস্বামী বৃন্দাবন যাত্রা করলেন রাজপথ দিয়ে,উভয়ের উল্টো পথযাত্রা।তাই কারোর সঙ্গে কারো দেখা হল না।প্রয়াগে পৌঁছে শ্রীরূপ ও অনুপম খবর পেলেন শ্রীসনাতন মথুরায় গিয়েছেন আর সনাতন মথুরায় পৌঁছে জানলেন, যদিও শ্রীরূপ ও অনুপম মথুরায়ই ফিরছিলেন,তাঁরা তখন প্রয়াগে।সনাতন গোস্বামীকে পেয়ে সুবুদ্ধি রায়ের আনন্দ আর ধরে না। কিন্তু কঠোর তপস্বী,মহাবিরক্ত সনাতনের দেহসুখে স্পৃহা নেই, তাই সুবুদ্ধির স্নেহ-ব্যবহার তাঁর কাছে লোভনীয় নয়।যিনি তীব্র বৈরাগ্যে প্রতিষ্ঠিত, কী হবে তাঁর দেহস্বাচ্ছন্দে? বৃন্দাবনে পরবর্তীকালে যে আনন্দনিকেতন গড়ে উঠেছিল তার ভিত্তির প্রথম প্রস্তর সুবুদ্ধি রায়।*
*🙏বানান, ভুল মার্জনীয়🙏*
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
👇👇👇এই লিখনী 📚 PDF 📚 ক্লিক করুন 👇👇👇
✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️
꧁ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ📱7001138871꧂
নিবাস- বাঁশবাড়ী, কীর্তন মন্দিরের পাশে, পোঃ- বাঁশবাড়ী, থানা- ইংরেজ বাজার, জেলা- মালদহ, পশ্চিমবঙ্গ, পিন কোড- ৭৩২১০১।
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏
আমায় দেওয়া ওনার এই অমূল্য লিখনী সেবা, তা সকলের মধ্যে প্রকাশ করলাম। ওনার এই অমূল্য দান সমগ্র বৈষ্ণব সমাজ অনন্তকাল মনে রাখিবে।
🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
*••••┉━❀꧁ 🙏 রাধে রাধে 🙏 ꧂❀━┅••••*
*••••┉━❀꧁ 🙏 রাধে রাধে 🙏 ꧂❀━┅••••*
শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য প্রভু নিত্যানন্দ
হরে কৃষ্ণ হরে রাম শ্রীরাধেগোবিন্দ।।
*••••┉━❀꧁ 🙏 জয় জগন্নাথ 🙏 ꧂❀━┅••••*
হরে কৃষ্ণ হরে কৃষ্ণ কৃষ্ণ কৃষ্ণ হরে হরে
হরে রাম হরে রাম রাম রাম হরে হরে॥
*••••┉━❀꧁ 🙏 জয় রাধাকান্ত 🙏 ꧂ ❀━┅••••*
💮❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀💮
💮❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀💮
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧