শ্রী মৃন্ময় নন্দী কর্ত্তৃক সকল ভক্ত👣চরণে👣অসংখ্যকোটি 🙇প্রণাম🙇 ক্লিক করুন 👇

শ্রী মৃন্ময় নন্দী কর্ত্তৃক সকল ভক্ত👣চরণে👣অসংখ্যকোটি 🙇প্রণাম🙇 ক্লিক করুন 👇

পরমেশ্বর ভগবান ❤️ শ্রীগৌরাঙ্গসুন্দরের❤️ শুভাতিশুভ আবির্ভাব তিথি 👣 সর্বসিদ্ধিকরী সর্বশুভপ্রদ সর্বাশুভহরণকারী ফাল্গুনী পূর্ণিমা তিথি ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী দীপ বাগুই 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/03/gouranga.html

 
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧    
꧁ শ্রীগৌরাঙ্গসুন্দরের শুভাতিশুভ আবির্ভাব তিথি ꧂
           ꧁ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী দীপ বাগুই ꧂
       এই লিংকে ⬇️⬇️⬇️🙏⬇️⬇️⬇️ ক্লিক করুন 
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
꧁ MrinmoyNandy.blogspot.com 👉 সূচীপত্র ꧂
       এই লিংকে 👇👇👇🙏👇👇👇 ক্লিক করুন 
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
 ꧁ টিকা বা অন্যান্য ধর্মীয় লিখনী 🙏 সূচীপত্র ꧂
      ꧁ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী দীপ বাগুই  ꧂
      এই লিংকে 👇👇👇🙏👇👇👇 ক্লিক করুন 
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧


সর্বসিদ্ধিকর সর্বশুভপ্রদ সর্বাশুভহরণকারী ফাল্গুনী পূর্ণিমা তিথি* :

*পরমেশ্বর ভগবান শ্রীগৌরাঙ্গসুন্দরের শুভাতিশুভ আবির্ভাব তিথি* :

*বিনম্র নিবেদন* 

*মহাপ্রভুর আবির্ভাবের কারণ ও তাৎপর্য*
 

স্বয়ং ভগবান গোবিন্দ ভক্তকে প্রেমরস আস্বাদন করাবেন এই অভিপ্রায়ে যেমন গৌরাঙ্গ রূপে আবির্ভূত হয়েছেন, তেমনি নিজেও প্রেমরসে অভিষিক্ত হবেন এই বাসনাও তাঁর মনে ছিল প্রবল। হ্লাদিনী বিলাসরূপী নিজলীলাশক্তি শ্রীমতি রাধারাণীর অন্তরের প্রেমরস তিনি আস্বাদন করবেন। তাই তিনি গৌর রূপে এসেছেন।কৃষ্ণদাসকবিরাজ গোস্বামী বলেছেন
*#শ্রীরাধায়াঃ_প্রণয়মহিমা_কীদৃশো_বানয়ৈবা* -
*#স্বাদ্যো_যেনাদ্ভূতমধুরিমা_কীদৃশো_বা_মদীয়ঃ* ।
*#সৌখ্যঞ্চাস্যা_মদনুভবতঃ_কীদৃশং_বেতি_লোভাৎ*
*#তদ্ভাবাঢ্য_সমজনি_শচীগর্ভসিন্ধৌ_হরীন্দুঃ* ।।
অর্থাৎরাধারাণির প্রণয়মহিমা কিরূপ? শ্রীকৃষ্ণের অদ্ভুত প্রেমমাধুর্য্য যা রাধারাণী আস্বাদন করেন সেই প্রেমমাধুর্য্যই বা কেমন? এবং কৃষ্ণপ্রেম আস্বাদন করে রাধারানীই বা কিরকম সুখ লাভ করেন? এই তিনটি বিষয়ে জানার আগ্রহ নিয়ে কৃষ্ণ শচীমায়ের গর্ভে গৌর রূপে আবির্ভূত হলেন।

প্রথম কারণ: কৃষ্ণ পরমেশ্বর ভগবান । জগতের সমস্ত কার্যের কারণ তিনি।তাঁর ইচ্ছা ব্যতীত জগতে একটি গাছের পাতাও নড়ে না। অথচ সেই তিনি ভগবান হয়েও বৃষভানু রাজনন্দিনীর প্রণয়মহিমা বুঝতে পারলেন না? কি আশ্চর্য! এতে আশ্চর্য হবার কিছু নেই ।কারণ ভগবান চিরকাল ভক্তকে নিজের থেকেও উঁচুতে বসাতে ভালোবাসেন।আর রাধারাণীর থেকে বড় ভক্ত আর কে বা আছে এই জগতে? তাই কৃষ্ণ ভগবান হয়েও ভক্ত রাধিকার প্রেমমহিমা বুঝতে অসমর্থ ।আসলে সবটাই তাঁর লীলা।তিনি যদি প্রেমের মহিমা দ্বাপরেই বুঝে যাবেন তাহলে কলিযুগে তিনি গৌররূপে কিভাবে আবির্ভূত হবেন? তাই গৌররূপে আবির্ভাবের সার্থকতার জন্য তিনি রাধার প্রণয়মহিমা বুঝেও বুঝলেন না। 

দ্বিতীয় কারণ: কৃষ্ণের অদ্ভুত প্রেমমাধুর্য্য যা রাধারাণী আস্বাদন করেন সেই প্রেমমাধুর্য্যই বা কেমন তা কৃষ্ণ জানেন না।নিজের জিনিসকে নিজে জানবেন না তাতো হতে পারে না।নিজের প্রেমমাধুর্য্য কীরূপ কৃষ্ণ তা খুব ভালোভাবেই জানেন।কিন্তু সেই প্রেমকে কৃষ্ণ নিজের হৃদয় দিয়ে নয় রাধারাণীর হৃদয় দিয়ে বুঝতে চান।তাই তিনি বললেন -"যা রাধারাণী আস্বাদন করেন সেই প্রেমমাধুর্য্য কীরূপ?" ধরা যাক একজন মানুষ কে দেখতে কিরকম সেটা সেই মানুষ নিজে কখনোই বুঝতে পারেন না যতক্ষণ না সে আয়নার কাছে আসছে।কৃষ্ণের কাছে তাঁর হৃদয়ের আয়না হল রাধারাণী। যাঁর মধ্যে দিয়ে তিনি নিজেকে দেখতে পান।নিজের প্রেমমাধুর্য্যও রাধারাণীর চোখ দিয়ে নতুনভাবে প্রতিভাত হয় ভগবানের কাছে। তাই রাধারাণির হৃদয় দিয়ে তিনি নিজের প্রেমমাধুর্য্য অনুভব করতে চাইলেন।

তৃতীয় কারণ: কৃষ্ণপ্রেম অনুভব করে রাধারানি কত সুখী হন সেই সুখের পরিমাণ-পরিমাপও কৃষ্ণ জানেন না।ধরা যাক মিছরি একপ্রকার মিষ্ট খাদ্যবস্তু।কিন্তু সবার কাছে তা সমান মিষ্টি নাও হতে পারে।সুতরাং রাধারাণীর কাছে তাঁর প্রেমের মিষ্টতা কতটা সেটা তিনি জানতে চান। ভালোবাসা জিনিসটা এমন যা রাধারাণীর কাছে একরকম, কুব্জার কাছে একরকম আবার সত্যভামা আদি দ্বারকার মহিষীদের কাছে আরেকরকম।তাহলে কৃষ্ণ কেন শুধু রাধারাণীর ভালোবাসাজাত সুখ অনুভব করতে চাইছেন?? কুব্জা বা সত্যভামা এঁদের প্রেমজাত সুখ কেন অনুভব করতে চাইছেন না?? 
তাহলে বিস্তৃতে আসা যাক।কুব্জার প্রেমের স্বভাব এইরকম যে আমার প্রেমে কৃষ্ণ সুখী হোক বা না  হোক আমি যেন কৃষ্ণ কে ভালোবেসে সুখ পাই।সত্যভামার প্রেমের স্বভাব এইরকম যে আমিও কৃষ্ণ কে ভালোবাসব আর কৃষ্ণও আমাকে ভালোবাসবে।সুতরাং এই দুই এর ভালোবাসাতেই স্বার্থ আছে। নিঃস্বার্থ প্রেম নয়।কিন্তু বৃষভানু রাজ নন্দিনীর প্রেমের স্বভাব কিরকম? আমি কৃষ্ণকে ভালোবেসে যত দুঃখই পাই না কেন কৃষ্ণ যেন আমাকে ভালোবেসে সুখ পায় ।এই নিঃস্বার্থ ভালবাসা একমাত্র রাধারাণীর মধ্যেই আছে।তাই কৃষ্ণ রাধারাণীর প্রেমের সুখ জানতে চান।
এখানে একটি প্রশ্ন জাগতে পারে। একটু আগেই বলা হল যে রাধারাণী যত দুঃখই পান না কেন ...আবার বলা হচ্ছে কৃষ্ণ জানতে চান রাধারাণীর সুখ।একবার বলা হল রাধারাণীর দুঃখ আবার বলা হল রাধারাণীর সুখ।এই আপাত বিরোধিতা কিভাবে সম্ভব? 
রাধারাণী কৃষ্ণবিরহজনিত দুঃখকেই সুখ বলে জানেন।কৃষ্ণের সুখেই তাঁর সুখ।কৃষ্ণ যদি নিজ বিরহজনিত বেদনা দিয়ে রাধারাণীর অন্তরকে বিদ্ধ করে সুখ পান তাহলে রাধারাণী শত দুঃখে দুঃখী হয়েও প্রকৃত সুখী কারণ তাঁর প্রাণের প্রিয়জন টি যে সুখে আছেন ।এর থেকে সুখের খবর আর কি হতে পারে? তাই রাধারাণীর দুঃখই রাধারাণীর সুখ।সুখ আর দুঃখ রাধারাণীর কাছে আলাদা নয়।একটি মুদ্রার এপিঠ আর ওপিঠ।প্রাণেশ্বরী দুঃখেও সুখী, আবার সুখেও দুঃখী। এখানে অনুভবের বৈচিত্র্যী রয়েছে। বিরহে একান্ত মিলনের সংস্মরণ জনিত আনন্দ, আর মিলনে হারাই হারাই ভাব সেখানেও দুঃখ। এই দুঃখ বা পীড়া নবকালকূটের গর্বকেও পরাভূত করে। প্রেমের গতি বিপরীতমুখী।যেমন বরফ হাতে নিলে মনে হয় যেন হাতটা পুড়ে যাচ্ছে, সেই প্রকার প্রেমানন্দের অত্যন্ত ঘনীভূত রূপ এই দুঃখ। এ বলে বোঝাবার নয়, যার হয়েছে সেই জানে। *#এই_প্রেমা_যার_মনে_তার_বিক্রম_সেই_জানে*। সে সান্দ্রানন্দ বিশেষাত্মা হয়ে যায়,যা কৃষ্ণকেও আকর্ষণ করে। আমার বিরহেও রাধারাণী কি সুখ পায়, কি তার আস্বাদন, এটাই কৃষ্ণ জানতে চান।এইসুখ জানতে চাওয়ার ইচ্ছে প্রকাশ পাওয়াই মহাপ্রভুর আবির্ভাবের অন্তরঙ্গ কারণ।

উপরিউক্ত তিনটি কারণের ওপর কৃষ্ণের আগ্রহ জন্মেছে।তাই তিনি রাধারাণীর ভাবকান্তি অঙ্গীকার করে নবদ্বীপে আমাদের প্রাণের ঠাকুর রূপে এসেছেন। এখন এলেই তো হবে না।যে কারণে তাঁর আসা সেই রস আস্বাদন তাকে নিজেকে করতে হবে।তাই তিনি জীবনের অন্তিম বর্ষগুলিতে গম্ভীরার ঐ ছোট্ট ঘরটির মধ্যে থেকে রাধাপ্রেম আস্বাদন করতেন।তিনি তো সাক্ষাত কৃষ্ণ ।রাধার কান্তি ধারণ করায় তাঁর গাত্রবর্ণ কৃষ্ণবর্ণ না হয়ে স্বর্ণবর্ণ হয়েছে।তাই গৌররূপীগোবিন্দ বৃন্দাবনরূপীগম্ভীরা তে বসে কেবলমাত্র রাধারাণীর ভাবরস আস্বাদন করেছেন ।মহাপ্রভুর প্রধান পার্ষদ শ্রীস্বরূপদামোদর গোস্বামী এই রস আস্বাদনের বর্ণনা নিজকৃত গ্রন্থে দিয়েছেন।

এখন ভগবান একা একা নিজেই নিজের প্রেমরস আস্বাদন করবেন তা তো হয় না।তাহলে তো তিনি স্বার্থপর হয়ে পড়লেন।তিনি তো স্বার্থপর হতে পারেন না।তাই তিনি প্রেমরস নিজেও আস্বাদন করলেন ভক্তদেরকেও করালেন।ব্যাপারটা অনেকটা এইরকম।ধরাযাক রাধাকৃষ্ণের প্রেমরস হল মধু।মহাপ্রভু দুহাত ভরে সেই মধু পান করছেন,আর ভক্তরা বসে আছে তাঁর পায়ের কাছে এই আশায় যে , মধু খেতে খেতে কখন মহাপ্রভুর দুহাতের আঙুলের ফাঁক দিয়ে সেই মধু টপটপ করে বিন্দুর আকারে মাটিতে পড়বে।বুদ্ধিমান ভক্তরা মহাপ্রভুর হাতের তলাতেই নিজেদের হাত পেতে রেখেছেন। প্রেমরসরূপী মধু মাটিতে পড়ার আগেই ভক্তের হাতে পড়বে এবং ভক্তরা পরমানন্দে গ্রহণ করবে ভগবানের অধরামৃত। তাইতো মহাপ্রভু শুধু নিজে নয়, সেই প্রেমরস মধুপান করালেন রূপ-সনাতনকে,পান করালিন রায় রামানন্দ কে, পান করালেন ঠাকুর হরিদাস কে।ভক্ত কে তিনি প্রেমমধু পান করিয়েই ছাড়বেন। দায় যেন তাঁর । আমাদের কোনো দায় নেই।কিন্তু তিনি দায়িত্বশীল অভিভাবক।যা ভালো তা নিজে আস্বাদন করে সন্তানরূপী ভক্তদের দেবেন। আজো দিচ্ছেন।
*#অদ্যাপিহ_সেই_লীলা_করে_গোরারায়।
*#কোনো_কোনো_ভাগ্যবান_দেখিবারে_পায় ।।
আমাদের শুধু তাঁর পদপ্রান্তে গিয়ে হাত পেতে বসে থাকতে হবে।মধুর বিন্দু আপনা হতেই তাঁর হাতের আঙুলের  ফাঁক দিয়ে গড়িয়ে আমাদের হাতে পড়বে। দরকার শুধু শরণাগতি।
*জয় নিতাই!*
*🌹🌹🙏🙏🌹🌹*
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧      
 ✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️
নিবাস-বাগুইপাড়া, বাগুইআটি,  উত্তর চব্বিশ পরগনা, কোলকাতা-৭০০১৫৯
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
    *••••┉━❀꧁ 🙏 রাধে রাধে 🙏 ꧂❀━┅••••* 
                   শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য প্রভু নিত্যানন্দ
              হরে কৃষ্ণ হরে রাম শ্রীরাধেগোবিন্দ।।
  *••••┉━❀꧁ 🙏 জয় জগন্নাথ 🙏 ꧂❀━┅••••*
              হরে কৃষ্ণ হরে কৃষ্ণ কৃষ্ণ কৃষ্ণ হরে হরে
              হরে রাম হরে রাম রাম রাম হরে হরে॥
  *••••┉━❀꧁ 🙏 জয় রাধাকান্ত 🙏 ꧂ ❀━┅••••*
   💮❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀💮
   💮❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀💮
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧

adds