✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
꧁ দণ্ডমহোৎসব ꧂
꧁ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী গোপীশরণ দাস ꧂
এই লিংকে ⬇️⬇️⬇️🙏⬇️⬇️⬇️ ক্লিক করুন
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
🏠Home Page🏠⬇️⬇️🙏⬇️⬇️📚PDF গ্রন্থ📚
꧁ MrinmoyNandy.blogspot.com 👉 সূচীপত্র ꧂
এই লিংকে ⬇️⬇️⬇️🙏⬇️⬇️⬇️ ক্লিক করুন
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
꧁ Gopisharan.blogspot.com 🙏 সূচীপত্র ꧂
꧁ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী গোপীশরণ দাস ꧂
এই লিংকে ⬇️⬇️⬇️🙏⬇️⬇️⬇️ ক্লিক করুন
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
*#দণ্ডমহোৎসব।*
আজ জৈষ্ঠ শুক্লা ত্রয়োদশীতে পানিহাটিতে বৈষ্ণব চূড়ামনি রঘুনাথ দাস গোস্বামীর দণ্ডমহোৎসব।প্রতিবছর দুরদুরান্ত থেকে অগনিত ভক্ত ভিড় জমান এই উৎসবে,চলে সারা দিন হরিনাম সঙ্কীর্তন।
এই উৎসবটি উদ্ভবের পিছনে একটি সুন্দর কাহিনী রয়েছে,
*শ্রীচৈতন্য কৃপা হৈতে, রঘুনাথ দাস চিতে,
পরম বৈরাগ্য উপজিলা।
দারা গৃহ সম্পদ, নিজ রাজ্য অধিপদ,
মল প্রায় সকল
ত্যজিলা।।*
ঐশ্বর্য মন্ডিত সপ্ত গ্রামের রাজার একমাত্র পুত্র হয়েছিলেন বৈষ্ণবকূল-চূড়ামনি শ্রীলরঘুনাথ দাস গোস্বামী। ইন্দ্রেরমতো বিপুল ঐশ্বর্য হেলায় পরিত্যাগ করে, অপ্সরার মতো রূপসী পত্নী কে ত্যাগ করে,তিনি শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভুর অপ্রাকৃত মহিমার প্রতি আকৃষ্ট হয়েছিলেন। মহাপ্রভু যখন শান্তিপুরে এসেছিলেন, তখন পিতার অনুমতি নিয়ে শ্রীল রঘুনাথ তাঁর দর্শন লাভ করতে যান। তখন মহাপ্রভূ তাঁকে নির্দেশ দিয়েছিলেন ঘরে
গিয়ে অনাসক্ত চিত্তে পিতার বিষয়-আশয় দেখাশোনা করতে হবে এবং তারই মাঝে নিষ্ঠা সহকারে শ্রীশ্রীরাধাকৃষ্ণের ভজনচর্চা চালিয়ে যাওয়া উচিত হবে। রঘুনাথ তখনই মহাপ্রভুর আদেশ মেনে নিয়েছিলেন এবং পিতার বৈষয়য়িক কর্তব্য কর্ম ঠিক ঠিক মেনে চলতে থাকেন।কিন্তু মনের মধ্যে তাঁর সদা-জাগ্রত ছিল আরও ব্যাপকভাবে সেবার অভিলাষ, শ্রীমন্মহাপ্রভু ও নিত্যানন্দ প্রভুর আরও সাক্ষাৎ সান্নিদ্ধ্য লাভের আকুলতা।
অত্যন্ত প্রসিদ্ধ এই পানিহাটি গ্রাম।
রাঘব ভবনে বিরাজে গৌর ভগবান।।
রঘুনাথ দাস গোস্বামী উদ্ধারের তরে।
দণ্ড মহোৎসব লীলা নিত্যানন্দ করে।।
একদিন নিত্যানন্দ প্রভু পানিহাটি গ্রামে এসেছেন শুনে রঘুনাথ সেখানে যান, তাঁর দর্শন লাভের জন্য আকুল আগ্রহে।গঙ্গার তীরে যেখানে ভক্তদের সাথে শ্রীনিত্যানন্দ প্রভু বসে ছিলেন, সেখানে তিনি উপস্থিত হয়ে দুর থেকে দেখলেন-গঙ্গাতটে আলোকিত করে একটি বৃক্ষমূলে ভক্তপরিবৃত হয়ে শ্রীনিত্যানন্দ প্রভু বসে আছেন।রঘুনাথ তাঁকে দেখেই দূর থেকে সাষ্টাঙ্গে দন্ডবৎ জানালেন। সম্ভ্রান্ত ধনাঢ্য জমিদার শ্রীগোবর্ধন দাসের পুত্র
রঘুনাথ পানিহাটিতে এসেছেন, সেই খবর পেয়ে সারা গ্রামে সাড়া পড়ে গেল।ভক্তরা সেই সমাচার শ্রীনিত্যানন্দ প্রভুর শ্রীচরনে নিবেদন করেছিলেন। তিনি রঘুনাথের নাম শুনে বলে ওঠেন,
*ওরে চোরা!এতদিনে দর্শন দিলি! আয়, আয়, আজ তোরে দণ্ড দেব।*
নিত্যানন্দ প্রভু রঘুনাথকে *চোর* সম্মোধন কেন করলেন? রঘুনাথ তার কি চুরি করেছিল?
মহাপ্রভু নিজেকে অর্পণ করে দিয়েছিলেন নিত্যানন্দের কাছে। বলেছিলেন - তুমি আমাকে, যাকে দিবে, আমি তারি হব অবিচারে।
তাই নিতাই এর অভিমান - গৌর আমার নিজের ধন।
আমার ধন আমাকে না জানিয়ে রঘুনাথ ভোগ করতে গিয়েছিল অনেকবার।
এজন্যই চোরা সম্বোধন করলেন।
দয়াল নিতাই দণ্ড দিয়ে কৃপা করলেন।
নিত্যানন্দ প্রভু এভাবে ডাক দিলেও শ্রীরঘুনাথ সঙ্কোচবশত দূরে দূরে থাকছিলেন।তখন শ্রীনিত্যানন্দ প্রভু তাঁকে জোর করে কাছে টেনে এনে তাঁর মাথায় তাঁর শ্রীপাদপদ্ম স্পর্শ করে তাঁকে কৃপা করেন এবং বলেছিলেন,
"*নিকটে না আইস, চোরা,ভাগ দূরে দূরে।আজি লাগি পাঞাছি, দণ্ডিমু তোমারে।।*”
শ্রীনিত্যানন্দ প্রভুর চরণস্পর্শ লাভ করে রঘুনাথদাসের সব বন্ধন যেন কেটে গেল,দ্বিধাদ্বন্দ থেকে তিনি মুক্ত হয়ে গেলেন। হাসিমুখে শ্রীনিত্যনন্দ প্রভু বলেছিলেন শ্রীরঘুনাথ দাসকে-
“দধি চিড়া ভক্ষণ করাহ মোর গণে।
”শুনি ’আনন্দিত হৈল রঘুনাথ মনে।।
সেই নির্দেশ লাভ করে রঘুনাথ বৈষ্ণব- সেবার অধিকার অর্জনের পরামানন্দে তৎক্ষনাৎ গ্রামে গ্রামে লোকজন পাঠিয়ে দিলেন চিঁড়া,দই, দুধ, সন্দেশ, চিনি, কলা,ইত্যাদি সংগ্রহের উদ্দেশ্যে। এক মহামহোৎসবের সূচনা হয়েছিল সেইদিন। প্রতি গ্রাম থেকে অসংখ্য ব্রাহ্মণ এবং সজ্জন ব্যক্তিরা সমবেত হলেন। অলৌকিক ও অপ্রত্যাশিতভাবে শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভুও সেদিন
সেখানে আবির্ভূত হয়েছিলেন। সেই চিঁড়া-দধি ভোজন উৎসবটি দেখে সকলেরই মনে হচ্ছিল যে শ্রীকৃষ্ণেরই বনভোজন-লীলায় তাঁর সখাগণ চারিদিক থেকে এসে মিলিত হয়েছেন! বৈষ্ণব সেবা এবং সেই সাথে শ্রীকৃষ্ণের লীলা স্মরণের উপযোগী এমন পারমার্থিক তাৎপর্যপূর্ণ উৎসব আজও পানিহাটিতে প্রতি বৎসর মহাসমারোহে উদ্যাপিত হয়ে থাকে, এবং সকলেই উপলব্ধি করে থাকেন যে, এই উৎসবের মাধুর্য উপভোগের অভিলাষে শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভু এবং শ্রীনিত্যানন্দপ্রভু সহ তাঁদের সমস্ত পার্ষদবর্গ আজও দণ্ড মহোৎসবের দিনক্ষণে চিন্ময় রূপে অবশ্যই উপস্থিত থাকেন।
নিত্যানন্দ প্রভু ছোটবেলা থেকেই যে সাম্যবাদী মনোভাবাপন্ন ছিলেন। তা আজ আর একবার প্রমাণিত করলেন। ধনীর ধন আপামর জনসাধারণের মাঝে বিলিয়ে দিয়ে সাম্যবাদের শুভ উদ্বোধন করলেন। এখান থেকেই তার সাম্যবাদের জয়যাত্রা শুরু হয় অর্থাৎ সকলেই তার সমপ্রাণতা অনুভব করেন এবং তার প্রতি বিশেষভাবে আকৃষ্ট হন।
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
নিবাস-শ্রীশ্রীনিত্যানন্দ প্রভুর জন্মস্থান, একচক্রা, বীরভূম, পশ্চিমবঙ্গ।
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
*••••┉━❀꧁ 🙏 রাধে রাধে 🙏 ꧂❀━┅••••*
*••••┉━❀꧁ 🙏 রাধে রাধে 🙏 ꧂❀━┅••••*
শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য প্রভু নিত্যানন্দ
হরে কৃষ্ণ হরে রাম শ্রীরাধেগোবিন্দ।।
*••••┉━❀꧁ 🙏 জয় জগন্নাথ 🙏 ꧂❀━┅••••*
হরে কৃষ্ণ হরে কৃষ্ণ কৃষ্ণ কৃষ্ণ হরে হরে
হরে রাম হরে রাম রাম রাম হরে হরে॥
*••••┉━❀꧁ 🙏 জয় রাধাকান্ত 🙏 ꧂ ❀━┅••••*
💮❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀💮
💮❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀💮
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧